ইন্দোনেশিয়ার প্রধান দ্বীপ জাভায় তীব্র বৃষ্টিপাতের ফলে প্রকাণ্ড একটি ভূমিধসে কমপক্ষে ১১ জন মারা গেছেন এবং প্রায় ৭৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে রোববার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে।
পশ্চিম জাভার মাউন্ট বুড়াংরাং ঢাল থেকে নামা এই ধসে পাসির লানগু গ্রামের ৩৪টি বাড়ি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। ঘরবাড়ি কাদা, বড় বড় পাথর ও উপকুলীয় গাছের নিচে চাপা পড়ায় বহু মানুষ আটকে পড়েছে। স্থানীয়রা অনেককে তৎক্ষণাতই অস্থায়ী সরকারি আশ্রয়ে সরিয়ে এনেছেন।
উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের মধ্যে থেকে হাতে-কলমে ও কৃষিকাজের সরঞ্জাম ব্যবহার করে আটকে থাকা মানুষদের বের করার চেষ্টা করছেন। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, কাদায় ঢেকে থাকা মরদেহ ও আহতদের বের করতে হাতে খুঁটিনাটি সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে। ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা প্রায় অসম্ভব কারণ ভূমি খুবই নরম ও অস্থিতিশীল; তাই উদ্ধারকর্মীরা কাদা মধ্যে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছেন।
ইন্দোনেশিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট গিবরান রাকাবুমিং রাকা শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেছিলেন যে দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় ভূমি ব্যবস্থাপনা ও পুনর্বিন্যাসকে গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি স্থানীয় প্রশাসন, বিশেষ করে পশ্চিম জাভা ও পশ্চিম বন্দুংকে সতর্ক করে বলেন যে ভূমি পরিবর্তন ও অযত্নের কারণে ঝুঁকি বাড়ছে, সেগুলো মেটাতে ব্যবস্থা নিতে হবে।
বসার্নাস (জাতীয় উদ্ধারদল) প্রধান মোহাম্মদ শাফি জানান যে খারাপ আবহাওয়া ও বিস্তীর্ণ ভূপ্রকৃতি উদ্ধারকার্যকে জটিল করেছে। ধস এখনও চলমান ও ভূপৃষ্ঠ অস্থিতিশীল থাকায় কাজ খুব সতর্কতার সঙ্গে করতে হচ্ছে। তিনি জানান, ড্রোন, খোঁজকারী কুকুর ও সকল উপলব্ধ সম্পদ ব্যবহার করা হচ্ছে, তবে উদ্ধারকাজে আগে নিরাপত্তাই নিশ্চিত করা হবে।
ইন্দোনেশিয়ায় সাধারণত অক্টোবর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত মৌসুমি বৃষ্টিপাত ও উচ্চ জোয়ারের কারণে নানাদিক থেকে বন্যা ও ভূমিধস ঘটে। দেশটি ১৭ হাজারেরও বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত এবং বহু মানুষ পাহাড়ি ও উপকূলীয় এলাকায় বসবাস করে। এই ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ স্থানীয় জনগণের জীবনযাত্রা সরাসরি প্রভাবিত করে এবং উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে সময় বেশি লাগে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও উদ্ধারদল ঘটনাস্থলে সক্রিয়ভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের তাত্ক্ষণিক চিকিৎসা ও আশ্রয়ের বন্দোবস্ত করা হচ্ছে, পাশাপাশি নিখোঁজদের খোঁজে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।
