Author: bangladiganta

  • সোনার দাম ভরিতে বাড়লো ৩,৪৫৩ টাকা

    সোনার দাম ভরিতে বাড়লো ৩,৪৫৩ টাকা

    বাংলাদেশের বাজারে আবারও বৃদ্ধি পেলো সোনার দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) আজ শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) রাতে এক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানিয়েছে, ভরি অনুযায়ী ২২ ক্যারেটের সোনার দাম ৩ হাজার ৪৫৩ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৫ হাজার ৫৯৭ টাকা। এর আগে এই দামের নির্ধারণ ছিল ২ লাখ ১২ হাজার ১৪৪ টাকা। এই পরিবর্তন আগামী রোববার থেকে কার্যকর হবে।

    বাজারে তেজাবি সোনার দাম কমে যাওয়ার কারণে এ নতুন দাম ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ১৫ হাজার ৫৯৭ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৫ হাজার ৮০০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৭৬ হাজার ৩৯৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার প্রতি ভরি দাম ১ লাখ ৪৬ হাজার ৮৩৮ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।

    অতিরিক্ত আগে, ২২ ক্যারেটের সোনার দাম ছিল ২ লাখ ১২ হাজার ১৪৪ টাকা, ২১ ক্যারেট ২ লাখ ২ হাজার ৪৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৭৩ হাজার ৫৭২ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির দামে এক ভরি সোনার বিক্রয় মূল্য ছিল ১ লাখ ৪৪ হাজার ৪২৪ টাকা।

    বাজুস জানিয়েছে, সোনার বিক্রয় মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে যোগ করতে হবে সরকার-নির্ধারিত ৫% ভ্যাট এবং বাজুসের নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬%, তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে এই মজুরির হার কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।

    এছাড়া, সোনার দাম সম্প্রসারিত হয়েছে রুপার দামেও। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারিত হয়েছে ৪ হাজার ৫৭২ টাকা, ২১ ক্যারেটে ৪ হাজার ৩৬২ টাকা, ১৮ ক্যারেটে ৩ হাজার ৭৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতিতে প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৮০০ টাকা।

    অতিরিক্ত আগে, ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ছিল ৪ হাজার ২৪৬ টাকা, ২১ ক্যারেট ছিল ৪ হাজার ৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটে ৩ হাজার ৪৭৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতিতে এই মূল্য ছিল ২ হাজার ৬০১ টাকা।

  • দেশের এবং বিদেশের মোট ৬৬১৪৬ কোটি টাকার সম্পদ সংযুক্ত ও অবরুদ্ধ

    দেশের এবং বিদেশের মোট ৬৬১৪৬ কোটি টাকার সম্পদ সংযুক্ত ও অবরুদ্ধ

    বিদেশে পাচার করা অর্থ উদ্ধার ও প্রভাবিত সম্পদগুলোর বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। দেশের মধ্যে ও বিদেশে মোট ৬৬ হাজার ১৪৬ কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ সংযুক্ত ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। এর মধ্যে বিদেশে পাচার করা অর্থের মাত্র ৫৫ হাজার ৬৩৮ কোটি টাকার সম্পদ উদ্ধার এবং সংযুক্ত করা হয়, যেখানে আরও ১০ হাজার ৫০৮ কোটি টাকার সম্পদ। এই তথ্য সোমবার অনুষ্ঠিত জাতীয় সমন্বয় কমিটির সভা শেষে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়। মূল লক্ষ্য হলো মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়নের মত অপরাধগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকরিতাকে আরও শক্তিশালী করা, এবং এ জন্য বিভিন্ন দিক-নির্দেশনা ও নীতি প্রণয়ন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। এসময় বক্তারা নির্ধারিত আইন, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর কিছু ধারা যুগোপযোগী করে সংশোধনের সিদ্ধান্ত নেন, যাতে কার্যকারিতা আরও বৃদ্ধি পায়। এ ছাড়া, বিদেশে পাচার করা অর্থ ও সম্পদ উদ্ধারে অগ্রাধিকারভিত্তিক ১১টি কেসের ওপর নজরদারি ও তদন্ত কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। ইতিমধ্যে, এই কেসগুলোতে ১০৪টি মামলা দায়ের, ১৪টিতে চার্জশিট দাখিল এবং ৪টি মামলায় রায় দেওয়া হয়েছে। সরকার আরও বলেছে, দেশে এবং বিদেশে সংযুক্ত সম্পদগুলো গণনা করে দেখানো হয়েছে, যেখানে দেশে ৫৫ হাজার ৬৩৮ কোটি টাকার সম্পত্তি এবং বিদেশে ১০ হাজার ৫০৮ কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। সর্বমোট এই দুটি ক্ষেত্রের সম্পদই ৬৬ হাজার ১৪৬ কোটি টাকার। এছাড়া অতি দ্রুত অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মামলা নিষ্পত্তির লক্ষ্যে কর্মাকর্তা ও দেশের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে, বাংলাদেশ এখন ভবিষ্যতে মানিলন্ডারিং ও অর্থপাচারে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে আরও দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ, যার মূল্যায়ন করছে এশিয়া প্যাসিফিক গ্র“প অন মানিলন্ডারিং (এপিজি)। আগামী ২০২৭-২০২৮ মেয়াদে এপিজি পরিচালিত মিউচুয়াল ইভ্যালুয়েশন সম্পন্ন হবে, যা বাংলাদেশের উন্নত মানদণ্ডে যাওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সভায় উপস্থিত ছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ সচিব, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব, ন্যাশনাল ট্যাক্স বোর্ডের চেয়ারম্যান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, অন্যান্য দপ্তরের প্রতিনিধিরা, এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর কর্মকর্তা। সব মিলিয়ে, এই সভার লক্ষ্য হলো অর্থপাচার ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে আরও সুদৃঢ় করে তোলা।

  • কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১৩ ব্যাংকের কাছ থেকে অতিরিক্ত ১৪ কোটি ডলার কিনলো

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১৩ ব্যাংকের কাছ থেকে অতিরিক্ত ১৪ কোটি ডলার কিনলো

    চলতি ডিসেম্বর মাসে দেশের প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই বাড়তির ফলে ব্যাংকগুলোতে ডলারের উদ্বৃত্ত সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে অর্থনীতির স্বস্তি বজায় রাখতে এবং বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ-চাহিদার ভারসাম্য রক্ষায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক গতকাল (সোমবার) একদফা ১৩টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১৪ কোটি ডলার কিনেছে।

    মাল্টিপল প্রাইস অকশন (এমপিএ) পদ্ধতিতে এই ক্রয় অভিযান অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ডলারের এক্সচেঞ্জ রেট ছিল প্রতি ডলার ১২২ টাকা ২৯ পয়সা থেকে ১২২ টাকা ৩০ পয়সা। এভাবে চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক মোট ২ হাজার ৮০৪ মিলিয়ন, অর্থাৎ ২.৮০ বিলিয়ন ডলার ক্রয় করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডিসেম্বরের প্রথম দশ দিনে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ১২৯ কোটি ডলার। গতবছর একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ১০৯ কোটি ১০ লাখ ডলার। অর্থাৎ, প্রবাসী আয় ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

    বর্তমান অর্থবছরের জুলাই থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে এসেছে ১ হাজার ৪৩৩ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ১ হাজার ২২৩ কোটি ডলার। এর ফলে, এই সময়ে প্রবাসী আয় প্রায় ১৭ শতাংশ বাড়িয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন উদ্যোগ, বিভিন্ন প্রণোদনা ও ব্যাংকিংখাতের উন্নতিসহ অন্যান্য পদক্ষেপ প্রবাসী আয়ের পরিমাণ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এর ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিস্থিতি অনেকটাই স্বস্তিকর হয়ে উঠেছে।

    এদিকে, সম্প্রতি সমাপ্ত নভেম্বর মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা পাঠিয়েছেন প্রায় ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলার। এর আনুমানিক সমান দামে বাংলাদেশের মুদ্রায় এই অর্থ পরিণত হয় প্রায় ৩৫ হাজার ২৫২ কোটি টাকায়।

  • আওয়ামী লীগ বিনা শর্তে ক্ষমা চেয়ে বলেছিলেন ‘আমরা ভালো হয়ে গেছি’

    আওয়ামী লীগ বিনা শর্তে ক্ষমা চেয়ে বলেছিলেন ‘আমরা ভালো হয়ে গেছি’

    অধ্যাপক জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগের তিন দফায় ক্ষমতায় আসা সময়ের নানা অন্ধকার ও অপ্রাপ্তি তুলে ধরে তিনি মন্তব্য করেন যে, তারা ছোপ ছোপ রক্ত আর হাজারো লাশ দিয়ে গঠিত এই দেশকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করেছে। তিনি বলেন, ১৯৯১ সালে ক্ষমতায় আসার আগে আওয়ামী লীগ হাতজোড় করে জাতির কাছে ক্ষমা চেয়েছিল, বলেছে, ‘অতীতে আমাদের দল বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে যে অন্যায় ও জুলুম করেছে, আমরা বিনা শর্তে ক্ষমা চাই। একবার ক্ষমতায় দিন, আমরা ভালো হয়ে যাবো। এখন দেশের জন্য কিছু করতে চাই।’ এ সময় তার সাথে তসবিহ ছিল এবং মাথায় ঘোমটা পরা ছিল।তিনি বলেন, আজকের দিনে জনগণ তাদের বদলানোর আশায় ছিল। কিন্তু তারা বোঝেনি, ক্ষমতায় আসার পর তাদের প্রকৃত রূপ আবার প্রকাশ পেয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামে বলেন, ‘আমাদের দল যদি এক জনকেও হত্যা করে, তবে তার বদলে দশটি লাশ ফেলে দিতে হবে।’ এই হুঁশিয়ারি যে দায়িত্বজ্ঞানহীন ছিল, তা স্পষ্ট। তিনি বলেছিলেন অশান্তি ও হত্যাকাণ্ডের কারণে একই সময়ে নদী, খাল, বিলে অজস্র লাশ পড়ে থাকত।আওয়ামী লীগের ইতিহাসে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি থেকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত একনায়কতন্ত্র চালু ছিল, যার ভয়াবহতা মানুষ প্রত্যক্ষ করেছে। জনগণ আশা করেছিল, এই ভয়াবহ অভ্যুত্থান থেকে আওয়ামী লীগ শিক্ষা নেবে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ’৭২ থেকে ’৭৫ পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিল। এরপর তারা ১৯৯৬ সালে আবার ক্ষমতায় এসে ক্ষমা চায় হাতে তসবিহ নিয়ে। ২০০৯ সালে আবার সরকারে আসে। এই তিনবারের শাসনামলে দেশের একাধিক এলাকার মানুষ নিহত হয়, নারীদের ইজ্জত লুণ্ঠিত হয়। তিনি নোয়াখালী সদরে এক মানুষের মা-বোনের ইজ্জত লুণ্ঠনের ঘটনা উল্লেখ করেন।একাত্তরের ইতিহাস সরাসরি তুলে ধরে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে দেশের ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক সবাই বুক চিতিয়ে পাকিস্তানি হানাদারবাহিনীর বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে স্বপ্ন দেখেছিল, দেশের সব বৈষম্য দূর হবে ও সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠা হবে। কিন্তু স্বাধীনতার পরে শাসকগোষ্ঠীর অবহেলায় এসব স্বপ্ন ভেঙে যায়। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পর দেশে সেনা, আধা সামরিক বাহিনী, পুলিশ থাকলেও রক্ষীবাহিনী গঠন করে নারীদের ইজ্জত লুণ্ঠিত হয়। মন্ত্রী ছেলেরা ব্যাংক লুটে লিপ্ত হয়। ৭৪ সালে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষে শত শত মানুষ লাশ পড়ে থাকত, তাদের দাফনের জন্য প্রাথমিক ব্যবস্থা ছিল না। তারা শ্লোগান দিয়েছিল সোনার বাংলা গড়ার, কিন্তু পরিণতিতে দেশ শ্মশানে পরিণত হয়। এর ফলশ্রুতিতে তাদের কার্যক্রম দুনিয়া ত্যাগ করে।তিনি যুবকদের উদ্দেশে বলেন, অতীতের সব খারাপ রাজনীতি পায়ে ঠেলে দিতে হবে। এখন দেশের রাজনীতি স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে থাকতে হবে। এমন রাজনীতি যা বিশ্বের কাছে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে, চাঁদাবাজ, ধর্ষণকারীদের বিপক্ষে।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা কেবল আমাদের দলের জয় চাই না, ১৮ কোটি মানুষ যেন বিজয় অর্জন করে, এই বিজয়ের জন্য যারা বাধা দেবে, তাদের এই যুবসমাজ লাথি মেরে সরিয়ে দেবে।’ তিনি নির্বাচনি কমিশনের উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা কোনো উপকার চাই না। তবে যদি কমিশন কারও প্রতি কিছু বিষয়েও তোষামোদি করে, তা আমরা সহ্য করব না। আমরা চাই, নিরপেক্ষভাবে নিরবচ্ছিন্নভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক, আপনারা নিজের শপথের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকেন।’

  • নাহিদ ইসলামের জানালেন একাত্তর ও চব্বিশের দালালদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান

    নাহিদ ইসলামের জানালেন একাত্তর ও চব্বিশের দালালদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান

    জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আমরা স্বাধীন ভূখণ্ড পেয়েও বিগত ৫৪ বছর ধরে ইতিহাসের নানা সময়ে বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে বারবার প্রতারণা করা হয়েছে। তিনি বলেন, একাত্তর ও চব্বিশের দালালদের বিরুদ্ধে আমাদের তরুণসমাজসহ দেশের সাধারণ মানুষ একত্রে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়িয়ে আছেন। এগিয়ে গেলে আমাদের বিজয় অবশ্যই আসবে।

    আজ মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর), মহান বিজয় দিবসের বিভিন্ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদ বীরদের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বিকেলে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব আক্তার হোসেন, উত্তরাঞ্চলের সংগঠক সারজিস আলম, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীসহ অন্যান্য নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

    নাহিদ ইসলাম অতীতের স্মৃতি তুলে ধরে বলেন, ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পণ করে বাংলাদেশ স্বাধীনতা ঘোষণা করে। এই ভূখণ্ডের মানুষের মুক্তি, সম্মান ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য তারা জীবন উৎসর্গ করেছিল। দীর্ঘ সময় ধরে দেশের সাধারণ মানুষ, তরুণেরা যুদ্ধের মাধ্যমে মানবাধিকার, সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা সংগ্রাম চালিয়েছেন। তিনি তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ব্যক্ত করেন।

    তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য পূরণ হয়নি বলে নানা সময়ে অভিযোগ উঠে আসছে। তিনি অভিযোগ করেন, মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত প্রতিশ্রুতি ও লক্ষ্য বাস্তবায়িত হয়নি। বরং দেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম হয়েছে বলে মন্তব্য করেন। এ কারণে, তিনি ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থান ও গণবিপ্লবের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, যা মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে ইয়ংভাবে একত্রিত হয়ে বাস্তবায়িত হবে।

    ভবিষ্যৎ নির্বাচন ও দেশের পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, বর্তমান বাংলাদেশে নানা অপচেষ্টা চালিয়ে দেশের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করার চেষ্টায় লিপ্ত শক্তিগুলো। তিনি বলেন, দেশের মানুষ শান্তি ও স্থিতিশীলতা চায়, আইন-শৃঙ্খলার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সবাই একযোগে কাজ করছে। পাশাপাশি, তিনি অভিযোগ করে বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারের অপদর্শনায় অনেক অপরাধী ও হত্যাকারীরা এখনো শনাক্ত ও গ্রেপ্তার হয়নি।

    তিনি বলেন, আমাদের নিরাপত্তা নিজেকেই নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের মধ্যে সংগঠন আরও শক্তিশালী করতে আহ্বান জানিয়ে বলেন, ৫ আগস্টের পরে আমরা এ দায়িত্ব নিজেকেই নি:শর্তে গ্রহণ করেছি। বর্তমানে দেশে কি পরিস্থিতি চলছে, সেটিও বিবেচনা করে বলেন, সরকারের উপর নির্ভরশীল হয়ে থাকা সম্ভব নয়।

    সংঘর্ষ ও ভোট যেন গণভোট হিসেবে বিবেচিত হয়—এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, عوامকে সচেতন থাকতে হবে। আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে পারফরম্যান্সের মূল উদ্দেশ্য হলো গণভোট। এই ভোটের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে সংস্কার ও পরিবর্তনের গণজোয়ার তৈরি হবে—এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, এনসিপির প্রার্থীরা জনগণের দোড়গোড়ায় গিয়ে ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে সংস্কার সমর্থন করবেন।

    ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন, বাংলাদেশকে নতুন দৃষ্টিতে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। তিনি দৃঢ় প্রত্যয় প্রকাশ করেন, ভৌতিক পূর্ববর্তী অবস্থা ফিরে যাবে না। এই বিজয় তথা নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দান করে, দেশের যুবকদের ও সাধারণ জনগণের একতার বার্তা প্রচার করে তারা ভবিষ্যৎমুখী শাসননীতির পথ উন্মোচন করবেন।

    তিনি শেষ পর্যন্ত বলেন, ’৭১ ও ’২৪ এর দালালদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের তরুণ-তরুণীরা এখনো একত্রে। সামনে আমাদের বিজয় আসবে, সেই চেতনাকে নানা পথ ধরে এগিয়ে নিয়ে যাব। এই অদম্য ঐক্য ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমরা একদিন দেশের সত্যিকার মুক্তি ও সমৃদ্ধি অর্জন করব।’

  • তারেক রহমান বললেন, ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার প্রত্যাশা

    তারেক রহমান বললেন, ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার প্রত্যাশা

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্প্রতি নিজেই আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশের ফেরার তারিখ উল্লেখ করেছেন। তিনি একান্তই বিশ্বাস ব্যক্ত করে বলেছেন, ইনশাআল্লাহ, তিনি সেদিনই দেশে ফিরে যাবেন। দীর্ঘ আটাশ বছর দেশের বাইরে থাকলেও তিনি এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন कि খুব শিগগিরই তিনি নিজ দেশে ফিরবেন এবং দলের সঙ্গে থাকবেন।

    এই ঘোষণা তিনি মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) লন্ডনে অনুষ্ঠিত যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত বিজয় দিবসের আলোচনা সভায় দেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, এই দিনটি আমাদের জন্য অত্যंत গুরুত্বপূর্ণ— একদিকে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের স্মৃতি, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের প্রিয় দলের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের সময়। তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের সঙ্গে প্রায় ১৮ বছর কাজ করেছি, কিন্তু এবার আমি আশা করি, আগামী ২৫ ডিসেম্বর ইনশাআল্লাহ, আমি দেশে ফিরে আসব।’

    তিনি আরও বলেন, দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এখনো থেমে নেই। ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা ষড়যন্ত্র করেছিল, ১৯৭৫ সালের ১৭ নভেম্বর জাতির স্বাধিকার আক্রমণে যারা শামিল হয়েছিল, ৮১ এবং ৯৬ এর সাম্প্রদায়িক ষড়যন্ত্রকারীরা— সবাই এখনও সক্রিয়। তিনি বলেন, ‘‘এখনো তাদের ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে। আপনাদের সতর্ক থাকতে হবে।’’

    বিএনপি নেতা আরও মন্তব্য করেন, স্বৈরশাসক সরকার অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকাআঁই এদিক-সেদিক পাচার করেছে। তিনি বলেন, বিএনপি স্বপ্ন দেখায় না, বরং বিশ্বাস করে, স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে।

    নেতাদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সামনে কাজগুলো সহজ হবে না। তবে একসাথে থাকলে তিনি বিশ্বাস করেন, দেশের জন্য তাদের পরিকল্পনাগুলো সফল হবে এবং সুস্পষ্ট পথে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে।

    তিনি বলেন, দুমাসের মধ্যে বাংলাদেশের প্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচনের দিন আসছে। এই সময়ত, জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করাই বিএনপির দায়িত্ব, আর সঙ্গে সেই সঙ্গে দেশের জন্য স্পষ্ট পরিকল্পনা তুলে ধরাও গুরুত্বপূর্ণ।

    তারেক রহমান আরও বলেন, তিনি কোনো স্বপ্ন দেখছেন না, বরং পরিকল্পনায় আছেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, দেশকে উদ্ধার করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বঙ্গমাতা খালেদা জিয়া। বিএনপি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, আগামী নির্বাচনে দেশের মানুষ তাদের ভোট দেবে এবং তারা সরকার গঠন করতে সক্ষম হবে।

    ২০০৭ সালের এক-এগারো’র রাজনৈতিক অস্থিরতায় তারেক রহমান গ্রেফতার হয়েছিলেন। এরপর, ২০০৮ সালে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার জন্য পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাজ্যে যান। এরপর থেকে তিনি সেখানেই রয়েছেন।

  • খুনিদের ফেরত না দিলে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক থাকবে না

    খুনিদের ফেরত না দিলে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক থাকবে না

    বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীরা যদি ভারতে পালিয়ে থাকেন, তবে তাদের ফেরত ছাড়া ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো ধরনের সম্পর্ক থাকা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, এই লড়াই শুধুমাত্র এক জন নেতার হত্যার বিচার নয়, বরং দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ রক্ষা করার গুরত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক সংগ্রাম।

    গত বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে শাহবাগে ইনকিলাব মঞ্চের সমাবেশে সংহতি জানাতে এসে নাহিদ ইসলাম এই মন্তব্য করেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াও।

    নাহিদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশের সাধারণ মানুষ শুধুমাত্র আওয়ামী লীগকেই নয়, দেশের দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর ভারতীয় আধিপত্যেও প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন। ১৯৭১ সালের পর থেকেই বরাবরই প্রতিবেশী দেশ ভারত বাংলাদেশে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আধিপত্য কায়েমের চেষ্টা চালাচ্ছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলন এই ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধেই সংগঠিত হয়েছে।

    তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই সংগ্রাম থেকে পিছু হটার কোনো সুযোগ নেই।

    নাহিদ আরও বলেন, শরিফ ওসমান হাদির রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লড়াই শাহবাগ থেকে শুরু হয়েছিল। তার মূল সংগ্রাম ছিল ভারতীয় ও বৈদেশিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার সংগ্রাম।

    তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আমরা শুধু আওয়ামী লীগকে সংশোধনই করিনি, বরং দেশের প্রতিষ্ঠিত ভারতীয় আধিপত্যের বিরুদ্ধেও মানুষের অদম্য প্রতিরোধের রায় দিয়েছি। এই আন্দোলনকে তিনি একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার উল্লেখযোগ্য অংশ বলেও অভিহিত করেন।

    নাহিদ আন্দোলনকারীদের চলমান কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এলে প্রয়োজনে কঠোরভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, আন্দোলনের ভেতর থেকে অপপ্রচারের চেষ্টা—যেন নাশকতা বা স্যাবোটেজ—তোমাদের ব্যর্থ করতে পারে। এজন্য জাতিকে ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

    বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা শাহবাগ মোড়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর পদত্যাগ দাবি করে। দফায় দফায় স্লোগান দিয়ে মঞ্চ উত্তপ্ত হয়ে উঠে। এই সময় ডাকসুর সাবেক ও বর্তমান ছাত্রনেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

    অন্যদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পৃথকভাবে বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দেয়েছিল জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। পরিস্থিতির উত্তেজনা এড়াতে শাহবাগ ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনী আরও বেশি শক্তি মোতায়েন করেছে।

  • তারেক রহমানের অনুরোধ: আমাকে বিদায় দিতে কেউ এয়ারপোর্টে যাবেন না

    তারেক রহমানের অনুরোধ: আমাকে বিদায় দিতে কেউ এয়ারপোর্টে যাবেন না

    দেশে ফেরার আগেই দলের নেতাকর্মীদের কাছে এক গুরুত্বপূর্ণ অনুরোধ জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) লন্ডনে যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত বিজয় দিবসের স্মরণসভায় তিনি এই আবেদন জানান। অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আজকের এই আয়োজনের মূল দুটি বিষয়—একটি ১৬ ডিসেম্বর আমাদের বিজয় দিবস, আর অন্যটি অনেক দিন ধরে থাকা একটি সম্পর্কের অব্যাহততা। আমি বলছি, আগামী ২৫ ডিসেম্বর ইনশাআল্লাহ আমি দেশে ফিরে আসব।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমার সকলের কাছে সেটা আপনারা দোয়া করবেন, আল্লাহর রহমতে আমি ফিরে আসতে পারব। তবে, আমার এই অনুরোধ, দয়া করে কেউ যেন ২৫ ডিসেম্বর এয়ারপোর্টে যান না। কারণ, যদি কেউ যান, সেটা একটি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে। এতে দেশের মানসম্মান অক্ষুণ্ণ থাকবে না, দলের মর্যাদাও ক্ষুণ্ণ হবে।’ তিনি জানান, যারা এ দিন এয়ারপোর্টে যাবেন না, তারাও দেশের স্বার্থে এই প্রত্যাশা রাখছেন। কিন্তু যারা এ অনুরোধের অন্যথা করবেন, তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য সেখানে গিয়েছেন বলে তিনি ধারণা করেন। এর আগে, গত শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছিলেন, তারেক রহমান ২৫ ডিসেম্বরে ঢাকায় ফিরবেন এবং দলের পক্ষ থেকে তাকে গস্থ স্বাগত জানানো হবে। সেই রাতে গুলশানে বিএনপি প্রধানের কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন তারেক রহমান। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের অন্যান্য নেতারা। বৈঠক শেষে জনান হয়, বিএনপির এই নেতাকর্মীদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমান দেশে আসছেন—এ সুখবর সবাই উচ্ছ্বসিত ও স্বাগত জানাচ্ছেন। তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন। তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নেওয়ার পরিকল্পনা অনুযায়ী ৫ ডিসেম্বর ঢাকা এসেছেন। বর্তমানে তিনি বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। ২০০৭ সালের এক-এগারোর পর তারেক রহমান গ্রেফতার হন। পরে, ২০০৮ সালে চিকিৎসার জন্য পরিবারসহ সপরিবারে যুক্তরাজ্যে যান এবং সেখান থেকেই দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে একাধিক মামলা হয়, এর মধ্যে পাঁচটি মামলায় সাজা হয়েছে।

  • অভিযোগের প্রাথমিক দাখিলের মাধ্যমে কাদের ও অন্য নেতাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ

    অভিযোগের প্রাথমিক দাখিলের মাধ্যমে কাদের ও অন্য নেতাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ

    অরাজনৈতিক ব্যানারে শুরু হওয়া ২৪শে জুলাইয়ের আন্দোলন দমন করতে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ো আওয়ামী লীগ। আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে উসকানি-ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনা চালানো হয় এবং মাঠে নামে আওয়ামী লীগের কার্্য সরাসরি। বিশেষ করে, কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যিনি ছাত্র-জনতাকে কঠোরভাবে দমন করার নির্দেশনা দেন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনকে। সেই নির্দেশনার একটি ফোনালাপ সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে উঠে এসেছে। বলাবাহুল্য, জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বৃহস্পতিবার আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছেন প্রসিকিউশন। এর মধ্যে, ওবায়দুল কাদেরসহ সাত নেতার নাম উল্লেখ রয়েছে। পরে, সংশ্লিষ্ট আদালত অভিযোগগুলো গৃহীত করে, তাদের গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করেন ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী। অন্য সদস্যরা হলেন- অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মোঃ মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। অভিযোগের তালিকায় আরও আছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। প্রসিকিউশন প্রধান গাজী এমএইচ তামিম প্রথম শুনানি করেন, যেখানে সাত আসামির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ শোনা হয়। এর মধ্যে, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে তিনটি মূল অভিযোগ আনা হয়: নির্দেশ দেওয়া, প্ররোচনা ও উসকানি। প্রথম অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১১ জুলাই ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন কাদের, যেখানে তিনি শিক্ষার্থীদের কোটা বিরোধী আন্দোলন কঠোরভাবে দমন করার নির্দেশ দেন। কথোপকথনে উনি বলেন, ‘মারো না কেন ওদের, প্রশ্রয় দাও কেন,’ যা উজ্জীবিত করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের। আরও জানা গেছে, ১৪ জুলাই এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার বক্তব্যে সমর্থন দেন ওবায়দুল কাদের, যেখানে তিনি আন্দোলনকারীদের রাজাকারদের নাতিপুতি আখ্যায়িত করে উসকানি দেন। পরের দিন, ১৫ জুলাই, ছাত্রলীগের রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের উসকানির জন্য এক সংবাদ সম্মেলনে আত্মস্বীকৃত রাজাকারের জবাব দেয়ার কথা বলেন কাদের। ১৬ জুলাই, ধানমন্ডির দলীয় কার্যালয় থেকে তিনি ছাত্র-জনতাদের উপর হামলা চালাতে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে অর্থ সহায়তা করেন ও নিজেও বিভিন্ন উসকানিমূলক কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত থাকেন। তেমনি, তিনি ইন্টারনেট সেবার গতি কমানোর নির্দেশ দেন এবং চট্টগ্রামের তৎকালীন মেয়রকে হত্যাযজ্ঞে উসকানি দেয়ার মতো কার্যক্রমেও জড়িত ছিলেন। এই ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রের ফলে ১৬ জুলাই রংপুরের আবু সাঈদসহ ছয়জন ও চট্টগ্রামে অনেক মা-বাবা শহীদ হন। অন্য অভিযোগগুলোতে বলা হয়, ১৭ জুলাই সারাদেশের কর্মী-সমর্থকদের প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহবান জানান কাদের। এর পরের দিন, ১৯ জুলাই, তিনি গুলির মাধ্যমে কঠোর পরিস্থিতি সৃষ্টি ও কারফিউয়ের কথা বলেছিলেন। এছাড়া, অন্যান্য শীর্ষ নেতাদেরও উসকানি দেন তিনি। এসমস্ত কর্মকাণ্ডের ফলস্বরূপ, ১৮ ও ১৯ জুলাই দেশের বেশিরভাগ হত্যাকাণ্ড ঘটে। ৩ আগস্ট থেকে ৫ আগস্টের ঘটনাগুলিও এই অভিযোগের ধারে উঠে এসেছে, যেখানে তিনি শীর্ষ নেতাদের নিয়ে বরঞ্চ আন্দোলন বাতিলের প্রস্তুতি নেন। এইসব কর্মকাণ্ডের মধ্যে হত্যাকাণ্ড, হত্যাচেষ্টা ও অন্যান্য অপরাধ উল্লেখ করা হয়েছে, যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বাকি আসামিদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে, ষড়যন্ত্রে নেতা হিসেবে বাহাউদ্দীন নাছিমের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য। ৪ আগস্ট এক সমাবেশে তিনি আন্দোলনকারীদের জামায়াত, শিবির, রাজাকার ও আল-বদর তকমা দিয়ে উসকানি দেন। মোহাম্মদ আলী আরাফাতকো আওয়ামী লীগের ‘হাইব্রিড নেতা’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে, কারণ তিনি সবসময় নাক গলাতে থাকেন এবং উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। ১৫ জুলাই, তিনি অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন, যেখানে তার নেতৃত্বে ৩০০ জন আহত হন। ১৯ জুলাই, তিনি গুলি চালানোর মতো পরিস্থিতিও সৃষ্টি করেন। বিভিন্ন বৈঠকে নেতাকর্মীদের উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। এইসব উসকানির মধ্য দিয়ে, ৬৯ জন ছাত্র-জনতা শহীদ হন ও আরও অনেকে আহত হন। ছাত্রলীগের সম্মিলিত বক্তব্যে বলা হয়, তারা রাজাকার বলতে দ্বিধা করেন না এবং এর প্রতিশোধ নিবে। ১৫ জুলাই, ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইনান সরাসরি আন্দোলনে অংশ নেন। এর ফলে, ১৬ জুলাই ছাত্রলীগ ও পুলিশের হামলায় ছয়জন শহীদ হন। ছাত্র-জনতাদের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্রমূলক কার্যকলাপে জড়িত থাকার জন্য, ২৯ ডিসেম্বরের জন্য শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। এরপর, সংশ্লিষ্ট আইনের ভিত্তিতে অভিযোগগুলো পড়ে শোনা হয় এবং সবার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

  • তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনে ৭ রুটে বিশেষ ট্রেনের অনুরোধ রিজার্ভের জন্য

    তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনে ৭ রুটে বিশেষ ট্রেনের অনুরোধ রিজার্ভের জন্য

    বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগামী ২৫ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে ঢাকায় ফিরে আসার সূবর্ণ সুযোগের কথা বিবেচনা করে, দলের পক্ষ থেকে নেতাকর্মীদের সুবিধার্থে বিশেষ ট্রেন ও বগি রিজার্ভের জন্য রেল মন্ত্রণালয়কে আবেদন জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার দলটির পক্ষে সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই চিঠি প্রেরণ করেন।

    চিঠিতে বলা হয়, প্রতীকীভাবে, বিএনপি’খুব দ্রুত এগিয়ে এসে জানিয়ে দেয় যে, তারেক রহমান ২৫ ডিসেম্বর যুক্তরাজ্য থেকে ঢাকা ফিরবেন। এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল সংখ্যক ছাত্র-জনতা ঢাকায় আসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাদের নিরাপদ ও সুবিধাজনক পথে পৌঁছানোর জন্য, দলটি বিভিন্ন রুটে বিশেষ ট্রেন বা অতিরিক্ত বগি রিজার্ভ করার আবেদন জানাচ্ছে।

    সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত ভাড়া পরিশোধের শর্তে, এই রিজার্ভেশনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চায় বিএনপি। উল্লেখ করা হয়েছে, কক্সবাজার থেকে ঢাকা, সিলেট থেকে ঢাকা, জামালপুর-ময়মনসিংহ থেকে ঢাকা, টাঙ্গাইল থেকে ঢাকা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-রাজশাহী থেকে ঢাকা, পঞ্চগড়-নীলফামারী-পার্বতীপুর থেকে ঢাকা, এবং কুড়িগ্রাম-রংপুর থেকে ঢাকা রুটে একাধিক বিশেষ ট্রেন বা অতিরিক্ত বগি সরবরাহের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    বলেন, এই উদ্যোগ নেতাকর্মীদের সহযেেগিতায় অনন্য একটি পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য হবে, এবং এই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তারা আন্তরিকভাবে অপেক্ষা করছেন।