বরিশাল নগরীর একটি আবাসিক হোটেল থেকে টিকটকার মাহিয়া মাহিকে গ্রেপ্তার করেছে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ। ঘটনার সময় তারা ডিউটিরত পুলিশ কর্তব্যে ছিল, এবং বুধবার (২৭ আগস্ট) মধ্যরাতে পোর্ট রোড এলাকার হোটেল রোদেলা থেকে তাঁদের আটক করা হয়। পুলিশ সূত্র জানায়, নিয়মিত অভিযান চলাকালে নগরীর বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে অভিযান চালানোর সময় হোটেল রোদেলার একটি কক্ষে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে একজন পুরুষের সঙ্গে দেখা যায় মাহিয়া মাহিকে। এ সময় তাদের সংঙ্গ গোপন করে অন্য একজন তরুণীও সেখানে ছিল। প্রাথমিকভাবে, মাহিয়া মাহি ও ঐ ব্যক্তি কোন বৈধ পরিচয়পত্র দেখাতে পারেননি। এই কারণে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একসাথে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। কোতয়ালী মডেল থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, ‘হোটেল রোডেলার ওই কক্ষ থেকে দুই তরুণী ও একজন পুরুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে এই ব্যক্তিরা কারা, তার পরিচয় পাওয়ার জন্য খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।’ এই ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, বিশেষ করে টিকটক ভিত্তিক জনপ্রিয়তা ও তার কর্মকাণ্ডের জন্য। পুলিশ বলছে, আনুষ্ঠানিক তদন্ত চলমান রয়েছে।
Author: bangladiganta
-

সাবিনা ইয়াসমিনকে জাতীয় সম্মাননা প্রদান
বাংলাদেশের জনপ্রিয় ও বরেণ্য সংগীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন মঙ্গলবার রাতে এক বিশাল অনুকরণীয় সম্মাননা পেয়েছেন। এই স্মরণযোগ্য ঘটনাটি ঘটেছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় জাতীয় নাট্যশালার মিলনায়তনে। এই অনুষ্ঠানে মোড়কে তুলে দেওয়া হয় বিশেষভাবে সম্মাননা।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, যিনি সাবিনা ইয়াসমিনকে উত্তরীয় পরিয়ে ও ক্রেস্ট দিয়ে সম্মাননা জানিয়েছেন। তিনি তাঁর ভাষণে বলেন, “আজকে যে শিল্পীকে আমরা সম্মাননা প্রদান করছি, তিনি আমাদের দেশের কিংবদন্তি, গর্বের একজন প্রতীক।”
এছাড়াও এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, যারা এই শিল্পীর অবদানকে সম্মান ও সম্বর্ধনা জানান।
প্রায় ষোলো বছর ধরে সংগীত জীবনে নিষ্ঠা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে আসা সাবিনা ইয়াসমিনের জন্য এটি এক বিশেষ দিন। যদিও কিছু অসুস্থতার কারণে তিনি কিছুদিন থেকে অপেক্ষাকৃত দূরে ছিলেন গণমাধ্যমের থেকে, তবে এই রোববারের অনুষ্ঠানে তিনি সম্পূর্ণরূপে ফিরে এসেছেন চেনা গানে। তাদের গান, স্মৃতি ও সুরে এক অসাধারণ সন্ধ্যা উপভোগ করেন উপস্থিত দর্শকদের। পাশাপাশি, অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত হয় তাঁর ওপর নির্মিত ডকুমেন্টারি ‘শুধু গান গেয়ে পরিচয়,’ যা শিল্পীর জীবনের নানা দিক ফুটিয়ে তোলে। এই রাতটি যেন হয় এক গর্বের ও স্মরণীয় অধ্যায়।
-

বাংলাদেশকে সম্মান করলেও আত্মবিশ্বাসে ভরপুর হংকংয়ের আশা
আগামী বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, এশিয়া কাপের ম্যাচে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকছে অপেক্ষাকৃত কম শক্তির দল হংকং, তবে দলটি বাংলাদেশকে আগাম হুমকি হিসেবেও দেখছে। হংকং এই ম্যাচে জয় তুলে পয়েন্ট সংগ্রহের লক্ষ্য নিয়ে আত্মবিশ্বাসীভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে।
মূলত, টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের কারণে হংকং নিজেদের ক্ষমতায় ভরসা রাখছে। দলের কয়েকজন ক্রিকেটার যদি ভালো খেলেন, তবে বাংলাদেশের বিপক্ষে জয় সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন অলরাউন্ডার নিজাকাত খান। তিনি বললেন, আমরা এই বিশ্বাসে ভরপুর। আমাদের দলে এমন খেলোয়ার রয়েছে যারা একাই ম্যাচ বদলে দিতে পারে। টি-টোয়েন্টিতে নির্দিষ্ট দিনে যে খেলোয়াড় ভালো পারফরমেন্স করবেন, সেই দলই জিতবে। এই খেলা ২-৩ ওভারের, তাতে যদিও কারো পারফরমেন্স পুরো ম্যাচের ফল বদলে দিতে পারে। টি-টোয়েন্টি সত্যিই এক রহস্যময় খেলা। কখন কি হবে, কেউ জানে না। আমাদের দল প্রস্তুত, এবং আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে খেলার জন্য উত্তেজিত।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে আতঙ্কের কোনো স্থান নেই। নির্দিষ্ট দিনে ভালো খেললে জেতাই অবধারিত। শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেললেও বা দুর্বল মনে হলেও ফলাফল পরিবর্তন হতে পারে। অতীতেও আমরা এমন দেখেছি। আমাদের লক্ষ্য হলো প্রথম বল থেকে নিজেদের সর্বোচ্চ দেওয়া। মুখিয়ে আছি খেলার জন্য।
হংকং মনে করে, বাংলাদেশিরা কষ্টেই সহজে হারানো যাবে না। বিশেষ করে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন লিগে খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, যা তাদের বাড়তি তকৎ দেয়। নিজাকাত খান বলেন, ওদের অনেক ভালো ও অভিজ্ঞ ক্রিকেটার রয়েছে। তারা বিভিন্ন টি-টোয়েন্টি লিগে খেলেছেন। এই খেলা আতঙ্কের কিছু নেই। নির্দিষ্ট দিনে যদি খেলোয়ারটি ভালো করেন, জেতা সম্ভব। শক্তিশালী বা দুর্বল দলের সঙ্গে খেললেও এই কথা প্রযোজ্য। অতীতেও দেখা গেছে, আমরা এমন পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছি। আমরা আমাদের সেরাটা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত, প্রথম বল থেকে শুরু করে। খেলার জন্য মুখিয়ে আছি।
অতীতের এক অনুকরণীয় মুহূর্তে, ২০১৪ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিপক্ষে হংকং দুই উইকেটে জয় পেয়েছিল। সেই ম্যাচে নিজাকাত নিজ তিন উইকেট নিয়েছিলেন, যখন বাংলাদেশ প্রথমে ব্যাট করে ১০৮ রান করে। হংকং তখন সেটি টপকিয়ে আরো দুই বল হাতে রেখেই জিতেছিল।
নিজাকাত উল্লেখ করেন, ওই ম্যাচটি ছিল খুব বিশেষ একটি ঘটনা। বাংলাদেশকে দেশের মাটিতে হারানো খুব কঠিন। আমি ঐ ম্যাচের কথা এখনও মনে রেখেছি, আমরা খুব ভালো খেলেছিলাম। তখন বাংলাদেশ অনেক ভালো খেলছিল, কিন্তু আমরা আমাদের স্পিনের মাধ্যমে ম্যাচে ফিরি। এরপর ব্যাটিংয়ে আমরা ম্যাচ জিতে ফেলি। এটা ছিল আমাদের জন্য এক স্মরণীয় জয়। আমি তখন খুব ভালো বল করেছিলাম, নাদিম আহমেদের সঙ্গে আমার বোলিং জুটিও ছিল। এরপর বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ ধসে পড়ে, এবং আমরা সেখান থেকে ফিরে আসি।
-

অচল কাঠমান্ডু, আজ বাংলাদেশ দলের ফেরা হচ্ছে না
নেপালে সরকারের বিরোধী আন্দোলনের কারণে দেশটির পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে। এর ফলে আজ বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের দ্বিতীয় প্রীতি ম্যাচটি বাতিল করা হয়। ম্যাচটি দশরথ রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু গতকালই সেটি অনুষ্ঠিত হয়নি। তবে এই পরিস্থিতির कारण বাংলাদেশ দলের ফুটবলাররা এখন ঠিক সময়ে দেশে ফিরে আসতে পারছেন না। বাংলাদেশি হাইকমিশন তরফ থেকে সবাইকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, দেশটিতে বাইরে বের হওয়া থেকে বিরত থাকতে।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) এর উদ্যোগে, ম্যাচ বাতিলের পর বাংলাদেশের ফুটবলাররা আজই ফ্লাইটে ওঠে ঢাকায় ফিরে আসার পরিকল্পনা করেছিল। বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায় তাদের উড়োজাহাজের কথা ছিল। কিন্তু সেখানে চলমান কারফিউ ও ছাত্র-জনতার রাস্তায় নামে আসার কারণে পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। কাঠমান্ডুতে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে এবং ফুটবলাররা হোটেল থেকে বাইরে আসতে পারেনি। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সব ফ্লাইট আপাতত বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের হোটেলে থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের কারণে নেপালের সরকার প্রধান কেপি শর্মা অলি পদত্যাগ করেছেন। এছাড়াও, পরিস্থিতির অবনতি ও নিরাপত্তার শঙ্কায় অবশেষে ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এই পরিস্থিতিতে যাত্রীদের জন্য দুঃখ প্রকাশ করছে। সোমবারের পর থেকে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় ফ্লাইটের উড্ডয়ন বন্ধ রয়েছে, যা পুরো দেশের বিমান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করেছে।
-

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নিলেন পাকিস্তানের পেসার উসমান শিনওয়ারি
পাকিস্তানের হার্ডহিটার পেসার উসমান শিনওয়ারি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের দীর্ঘ ক্যারিয়ার শেষ করেছেন। দেশের জার্সিতে তিনি একটি টেস্ট, ১৭টি ওয়ানডে এবং ১৬টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন ৩১ বছর বয়সে। তাঁর ক্রিকেট জীবন শুরু হয় ২০১৩ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুবাইয়ে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ দিয়ে, যদিও এই ম্যাচে তিনি মাত্র এক ওভার বল করেছেন এবং উইকেটশূন্যই থাকেন। এরপর তিনি আরও তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলেন। ২০১৭ সালের অক্টোবরে শারজায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তাঁর প্রথম ওয়ানডে অভিষেক হয়। ২০১৯ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলেছেন তাঁর একমাত্র টেস্ট, যা ছিল তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ। মূলত পিঠের চোটের কারণে তিনি এই দীর্ঘ ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে পারেননি, বারবার চোটের কারণে নিয়মিতভাবে দলে থাকাও সম্ভব হয়নি।
-

ফাহমিদুল ও মোরসালিনের জোড়া গোলের ঝোড়ো উৎসবে বাংলাদেশ জয়ী
এএফসি অনূ বয়স ২৩ চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাইপর্বে বাংলাদেশের যেন জ্বলে উঠলো শেষ মুহূর্তে। টানা দুটো ম্যাচে হেরেও মূল পর্বের জন্য সম্ভাবনা শেষ হয়ে গিয়েছিল, তাই এই ম্যাচটি ছিল একপ্রকার নিয়ম-রক্ষা করার। ভিয়েতনামের সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে খেলাটা ছিল মর্যাদাপূর্ণ ঘোষণা দেওয়ার সুযোগ। সেই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বাংলাদেশ ৪-১ গোলে জয়ের স্বাদ নেয়।
প্রথমার্ধে ম্যাচের চিত্র ছিল অনেকটা ভিন্ন। সিঙ্গাপুর প্রথম ৪৫ মিনিটে দুর্দান্ত খেলেছিল এবং বেশ কিছু গোলের সুযোগ মিস করে। বাংলাদেশের গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণ বেশ কিছু অসাধারণ সেভ করেন, যা বাংলাদেশকে ম্যাচে ফিরতে সহায়তা করে। দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণে ঝড় তোলে বাংলাদেশের তরুণরা। ৭০-৮২ মিনিটের মধ্যে ১০ মিনিটে বাংলাদেশ চারটি গোল করে।
এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম গোলটি করেন ইতালির প্রবাসী ফাহমিদুল। প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে ডিফেন্ডারদের পেছনে ফেলে জোরালো একটি শট নেন তিনি, যা সিঙ্গাপুরের গোলরক্ষক এই বলে প্রত্যাখ্যান করতে পারেননি। এটি ছিল ফাহমিদুলের বাংলাদেশের জার্সিতে প্রথম গোল।
তার দুই মিনিটের মধ্যে আল আমিনের উদ্দেশ্যে একটি লং বল পাঠানো হয়। দুর্দান্ত দক্ষতায় সেটি রিসিভ করে দারুণ ফিনিশিং করেন আল আমিন, যার ফলে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়। এরপর আট মিনিটের মধ্যেই মহসিন আহমেদ লং বল থেকে একাকী শটে গোল করেন। এই গোলে দলকে আরও এগিয়ে দেন মহসিন। শেষে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় বাংলাদেশের অধিনায়ক শেখ মোরসালিন। ৮২ মিনিটে তিনি বক্সের উপর দারুণ এক শটে দলকে বড় জয় উপহার দেন। ইনজুরির সময় সিঙ্গাপুর এক গোল করে সম্মান ফিরে দেয়।
বিশেষ উল্লেখ্য, ম্যাচের শেষ দিকে ইংল্যান্ডে থাকা কিউবা মিচেলকেও মাঠে নামান কোচ। এতে করে দলের গতি আরও বাড়ে এবং ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়।
প্রথম দুই ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করতে পারেনি বাংলাদেশ, অথচ আজকের এই জয় অনেক দিন পরে ফিরে এল আনন্দের হাসি। বাফুফের প্রত্যাশা ছিল বাংলাদেশ এবার তাদের পারফরম্যান্স দেখিয়ে এএফসি মূলপর্বে উঠবে। এর জন্য প্রথমবারের মতো বাহরাইনে ২৩ দলের এই আসর আয়োজন করা হয়েছিল, যেখানে বাংলাদেশ ২টি ম্যাচ খেলেছিল। এত সব প্রস্তুতি সত্ত্বেও প্রথম দুই ম্যাচে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স না করলেও, আজকের জয় দেশের ফুটবল প্রেমীদের জন্য অনেকটাই প্রেরণা জোগাবে।
মাস চারেক আগে ঢাকায় এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে বাংলাদেশ সিনিয়র দল ২-১ গোলে সিঙ্গাপুরের কাছে হেরেছিল। আজকের যুবদলের এই জয় যেন সেই হারভোলানো ব্যর্থতার পাহাড় কাটিয়ে নতুন আশার আলো দেখালো। এই জয়ে আগামী মাসে অক্টোবরের হংকং ম্যাচের জন্য অনেকটাই অনুপ্রেরণা পাবে বাংলাদেশ। ক্রিকেটের পাশাপাশি ফুটবলেও এই জয় দেখিয়ে দিল দেশীয় ফুটবল আজও প্রতিযোগিতার লড়াইয়ে টিকে আছে।
-

বিশাল জয় দিয়ে এশিয়া কাপ শুরু আফগানিস্তানের
২০২৫ এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টির প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তান দারুণ বাস্তবতা দেখিয়েছে। আবুধাবিতে হংকংয়ের বিরুদ্ধে টস জিতে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর, আফগানিস্তান শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে। তারা নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৮৮ রান সংগ্রহ করে।
-

ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া বায়রুর পদত্যাগ
ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া বায়রু পার্লামেন্টের সদস্যদের কাছে আস্থা ভোটে পরাজিত হওয়ার পর পদত্যাগ করেছেন। মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর কাছে তার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন তিনি। এই খবর জানিয়েছিল বার্তা সংস্থা এএফপি, যা থেকে জানা যায়, সোমবার বায়রু নিজের আহ্বান করা ওই আস্থা ভোটে শোচনীয়ভাবে হেরে যান। এর ফলে দেশের রাজনীতি অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে এবং মাখোঁর কাঁধে নতুন প্রধানমন্ত্রী খুঁজে বের করার দায়িত্ব এসে পড়ে। প্রেসিডেন্টের কার্যালয় একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, মাখোঁ আশপাশের কয়েক দিনের মধ্যে নতুন প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত করবেন। এই ঘোষণা আসার সঙ্গে সঙ্গে আগাম নির্বাচন নিয়ে জল্পনা-কল্পনা समाप्त হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি এএফপি কে বলেছেন, বায়রু তার পদত্যাগপত্র মাখোঁর কাছে জমা দিয়েছেন। নতুন প্রধানমন্ত্রী এর নাম ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত বায়রু ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
-

নেপালে সেনাবাহিনীর কারফিউ জারি
নেপালে বর্তমান পরিস্থিতি খানিকটা আলাদা রকমের উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে। প্রধানমন্ত্রীর কেপি শর্মা ওলির পদত্যাগের পরও দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসেনি। এখন দেশের শাসনক্ষমতা সেনাবাহিনীর হাতে চলে গেছে, তারা রাস্তায় রাস্তায় টহল দিচ্ছে যাতে অশান্তি রোধ হয়। অবিলম্বে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। বুধবার সকালে বড় ধরনের কোনও অশান্তির ঘটনা না ঘটলেও স্থানীয় বেশ কিছু এলাকায় ছোটখাটো সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বাঁকে জেলার সংশোধনাগারে হামলায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি, দেশটির সেনাবাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, যতক্ষণ না নতুন সরকার গঠন হচ্ছে, তারা দেশটির শাসন ব্যবস্থাপনা চালিয়ে যাবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশের বিভিন্ন জায়গায় কারফিউ জারি করা হয়েছে। ছাত্র-যুবকদের আন্দোলনের প্রভাব পড়েছে দেশজুড়ে, যা সোমবার এবং মঙ্গলবার দফায় দফায় উত্তেজনা সৃষ্টি করে। কাঠমান্ডু থেকে শুরু হওয়া এই বিদ্রোহ দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে নেপালের বিভিন্ন প্রান্তে। হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নামে, হাতে প্ল্যাকার্ড, মুখে স্লোগান, এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। মঙ্গলবার সকাল থেকে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে থাকে। বিক্ষোভকারীদের আগুনে পুড়ে যায় নেপাল পার্লামেন্ট ভবন, ওলি ও তার মন্ত্রিসভার বাসভবন। এমনকি দেশের সুপ্রিম কোর্টেও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সুযোগ নেন দুষ্কৃতকারীরা। অনেক জেলে হামলা চালিয়ে বিবদমান বন্দিরা পালানোর চেষ্টা করেন। নিরাপত্তারক্ষী এবং পালানোর চেষ্টাকারীদের মধ্যে সংঘর্ষে গুলি চালানো হয়। বন্দিদের গুলিতে সাতজন আহত হন, তাদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিত্সাধীন অবস্থায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে বাঁকে জেলার পোখরার জেলেও হামলা চালানো হয়। এখন পর্যন্ত প্রায় ১৬০০ বন্দি বিভিন্ন জেল থেকে পালিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী নানা জায়গায় মোতায়েন করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে সেনাপ্রধান অশোকরাজ সিগডেল বিক্ষোভকারীদের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের উদ্দেশ্য ছিল বিক্ষোভের দাবিপত্র জানা। বুধবার রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পৌডেলর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের প্রতিনিধিদলের আবারও বৈঠক হতে পারে। এই বৈঠকে মধ্যস্থতা করবেন সেনাবাহিনী, যা থেকে একসময় সমাধানের আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, দেশের প্রধান সচিবালয় ভবনের নিয়ন্ত্রণও সেনা গ্রহণ করেছে। লুটপাট বা ভাঙচুরের খবর পেলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে। দেশের নাগরিকের সহযোগিতা চেয়েছে সেনাবাহিনী। অশোকরাজ সেনাপ্রধান সকলের উদ্দেশে বলেছেন, প্রতিবাদ কর্মসূচি থেকে বিরত থাকুন এবং আলোচনায় বসুন যাতে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। তারা নিশ্চিত করেছে যে, দেশের সার্বভৌমত্ব ও নাগরিকের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রাখতে তারা বদ্ধপরিকর। তবে, কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী অস্থির পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে—সেই জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
-

হোয়াইট হাউসের দাবি: কাতারকে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল ইসরায়েলির হামলার বিষয়ে
ইসরায়েলে চালানো হামলার ব্যাপারে কাতারকে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট। তিনি মঙ্গলবার এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে উল্লেখ করেন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এই হামলার আগে তাদের জানিয়েছিলেন যে, তারা শিগগিরই শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কার্যক্রম চালাবে। এ খবরটি তখনই যুক্তরাষ্ট্র জানতে পারে। নেতানিয়াহু সঙ্গে কথা বলার পর সঙ্গে সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্টাফের মাধ্যমে দোহাকে এই হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন।
তথ্য আরও জানানো হয়, কেবল হোয়াইট হাউস নয়, মার্কিন সামরিক বাহিনীর কাতারস্থ ঘাঁটিও দোহাকে সতর্কতা পাঠিয়েছিল। হামলার পর, ট্রাম্প কাতারের নেতাদের সঙ্গে টেলিফোনে কথাও বলেছেন এবং তাদেরকে আশ্বস্ত করেছেন যে ভবিষ্যতে এই ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটবে না।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বিশ্বস্ত মিত্র হলো কাতার। সেখানে মার্কিন সেনাঘাঁটি রয়েছে এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধের সময়ে এই দেশ গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতা করছে। বর্তমানে, এই সংঘর্ষে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও মিসর কার্যকর ভূমিকা পালন করছে।
সম্প্রতি, ট্রাম্প গাজা পরিস্থিতি শান্ত করতে একটি খসড়া প্রস্তাব পাঠিয়েছেন এবং সেই বিষয়ে আলোচনা চলার সময়, কাতারিয়ার এক ভবনে হামাসের শীর্ষ নেতারা বৈঠক করেন। ঠিক সময়ে, ইসরায়েলের বিমান হামলা চালায় ওই ভবনটিকে লক্ষ্য করে। ইসরায়েলির প্রতিরক্ষা বাহিনী বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, এই হামলাটি হামাসের শীর্ষ নেতা খলিল আল হায়া ও পশ্চিম তীর শাখার নেতা জাহের জাবারিনকে হত্যার লক্ষ্যেই চালানো হয়েছিল। তবে সেই লক্ষ্য সফল হয়নি; গত ঘটনার মধ্যে অন্তত ৬ জন নিহত হয়েছেন, এর মধ্যে পাঁচজন হামাসের সাথে সংশ্লিষ্ট বলে জানা গেছে। হামাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিহতদের মধ্যে কোনো উচ্চপদস্থ নেতা ছিল না।
সোমবারের সংবাদ সম্মেলনে ক্যারোলিন লিভিট বলেন, ‘হামাসকে নিশ্চিহ্ন করা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য জরুরি লক্ষ্য, তবে দোহায় ইসরায়েলের এই হামলা সেই লক্ষ্যে পৌঁছাবে না।’ সূত্র: এএফপি।
