Author: bangladiganta

  • সোনার দাম আরও আকাশছোঁয়া, দেশের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড

    সোনার দাম আরও আকাশছোঁয়া, দেশের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড

    দেশের বাজারে তৃতীয় দফায় আরও বৃদ্ধি পেলো সোনার দাম। ভরিতে ১ হাজার ৫০ টাকা করে যোগ করে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২২ ক্যারেটের সোনার। এখন একটি ভরি (প্রায় ১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ ১৮ হাজার ১১৭ টাকা, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

    বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) রাতে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। আগামী সোমবার (২২ ডিসেম্বর) থেকে কার্যকর হবে এই নতুন দাম।

    বাজুস জানিয়েছে, দেশের বাজারে তেজাবি বা দেশি সোনা কিছুটা কমে যাওয়ায় পরিপ্রেক্ষিতে এই দাম বৃদ্ধি ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে মূল্যবৃদ্ধির পরিমাণ সামারিক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্ধারিত হয়েছে।

    এর আগে, ১৫ ডিসেম্বর দফায় দফায় দেশের সোনার দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। ওই দিন ১ হাজার ৪৭০ টাকা বৃদ্ধি করে ২২ ক্যারেটের ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ১৭ হাজার ৬৭ টাকা।

    নতুন দাম অনুযায়ী, এখন দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম পড়বে ২ লাখ ১৮ হাজার ১১৭ টাকা। এর পাশাপাশি অন্য ক্যারেটের দামের মধ্যে দেখা যাবে: ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৮ হাজার ২০২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৭৮ হাজার ৪৫৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতিতে সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫৯৯ টাকা।

    অপরদিকে, রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৫৭২ টাকায়। এছাড়া আরও অন্যান্য ক্যারেটের দাম এরকম: ২১ ক্যারেটে ৪ হাজার ৩৬২ টাকা, ১৮ ক্যারেটে ৩ হাজার ৭৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতিতে এক ভরি রুপার দাম নির্ধারিত হয়েছে ২ হাজার ৭৯৯ টাকায়।

  • সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কমার সম্ভাবনা জানুয়ারি থেকে

    সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কমার সম্ভাবনা জানুয়ারি থেকে

    অর্থ মন্ত্রণালয় সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার আবারও কমানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের জন্য মূল প্রস্তাবটি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের অনুমোদন পেলে আগামী জানুয়ারি থেকে নতুন হার কার্যকর হবে। এরপর অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) আনুষ্ঠানিক পরিপত্র জারি করবে। সূত্র জানান, বর্তমানে সঞ্চয়পত্রের সর্বোচ্চ মুনাফার হার ১১.৯৮ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ৯.৭২ শতাংশ। নতুন প্রস্তাবে গড়ে একুশে শতকের কাছাকাছি শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা কমানোর কথা বলা হয়েছে। এ বিষয়ে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রস্তাবটি এখনো তার কাছে পৌঁছায়নি। তবে বেসরকারি ব্যাংকিং খাতে ঋণ প্রবাহ বাড়ানোর জন্য ব্যাংকাররা সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কিছুটা কমানোর দাবি জানিয়েছেন। সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। প্রস্তাব অনুযায়ী, অল্প পরিমাণে বিনিয়োগে উচ্চতর মুনাফা এবং বৃহৎ বিনিয়োগে কম মুনাফা নির্ধারণ করা হবে। অর্থাৎ, ৭৫ লাখ টাকার নিচে বিনিয়োগে বেশি মুনাফা দেওয়া হবে, আর এর বেশি বিনিয়োগে হার কম থাকবে। গত ৩০ জুন সরকারের দেশের অর্থনীতির প্রয়োজনীয়তা ও ঋণ ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার নির্ধারণ করা হয়েছিল, যেখানে গড়ে একটু কম মুনাফা ঘোষণা করা হয়েছিল। ছয় মাস পরে আবার সেই হার পুনরায় নির্ধারণের কথা জানানো হয়। এই ছয় মাসের সময়সীমা ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে। আইআরডি সচিব মোঃ আবদুর রহমান খান জানিয়েছেন, মুনাফার হার বাড়বে না বা কমবে—এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। অর্থ বিভাগের সুপারিশ পেলে পরিপত্র জারি করা হবে। জনপ্রিয় পরিবার সঞ্চয়পত্রে বর্তমানে সাড়ে ৭ লাখ টাকার নিচে বিনিয়োগে পাঁচ বছর শেষে মুনাফা ১১.৯৩ শতাংশ এবং এর বেশি বিনিয়োগে ১১.৮০ শতাংশ। এই হার গত ১ জুলাইয়ের আগে ১২ শতাংশের বেশি ছিল। অন্যদিকে পেনশনার সঞ্চয়পত্রে অনুরূপ বিনিয়োগে মুনাফা ১১.৯৮ শতাংশ এবং পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে যথাক্রমে ১১.৮৩ ও ১১.৮০ শতাংশ। তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে, সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে হার ১১.৮২ শতাংশ এবং বেশি বিনিয়োগে ১১.৭৭ শতাংশ। ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের নির্দিষ্ট হিসাবেও একই হার চালু রয়েছে। তবে ইউএস ডলার প্রিমিয়াম ও ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংক সাধারণ হিসাবের মুনাফার হার পরিবর্তন আসছে না। অন্যদিকে, বেসরকারি ব্যাংকের প্রতিনিধিরা বলছেন, সঞ্চয়পত্রের মুনাফা বেশি থাকায় বড় অঙ্কের অর্থ সরকারি খাতে চলে যায়। হার কিছুটা কমলেও সেই অর্থ ব্যাংকিং খাতে প্রবাহিত হবে, যা ঋণ প্রবৃদ্ধি বাড়াতে সহায়ক হবে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই থেকে অক্টোবর) সঞ্চয়পত্র থেকে সরকার ২,৩৬৯ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ করেছে, যা গত অর্থবছরে ঋণাত্মক ছিল। জানা গেছে, অক্টোবরের শেষে সরকারের মোট সঞ্চয়পত্র ঋণের পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকা।

  • রমজানে খেজুর আমদানিতে ৪০ শতাংশ শুল্ক কমালো সরকার

    রমজানে খেজুর আমদানিতে ৪০ শতাংশ শুল্ক কমালো সরকার

    আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে খাদ্য নিরাপত্তা ও সাধারণ মানুষের বাজারে খেজুরের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার উদ্দেশ্যে সরকার বড় ধরনের একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মুসলমানদের ধর্মীয় আচার-আচরণ এবং চাহিদার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে, খেজুর আমদানিতে বিদ্যমান শুল্কের হার ৪০ শতাংশ হ্রাস করা হয়েছে।

    বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, খেজুরের আমদানিতে কাস্টমস ডিউটিকে ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। এই প্রজ্ঞাপন ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর জারি হয় এবং এটি আগামী ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

    এছাড়াও, বাজেটে আলাদা করে অগ্রিম আয়কের বিধিমালা সংশোধন করে, যেসব ফল বা খেজুরের মতো আদর্শ খাদ্য আমদানিতে আগের ১০ শতাংশের অগ্রিম আয়করণ ৫ শতাংশে নামানো হয়েছে। একই সঙ্গে, গত বছর যেখানে অগ্রিম আয়করে ৫০ শতাংশ ছাড় দেওয়া হয়েছিল, তা এই বছরও বহাল রাখা হয়েছে।

    এনবিআর বলছে, এই শুল্ক ও অগ্রিম আয়করে ছাড়ের ফলে রমজানে খেজুরের আমদানিতে বাড়তি সেবা পাওয়া যাবে, যার ফলে বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত হবে। এর ফলে খুচরা পর্যায়ে খেজুরের দাম সহনীয় পর্যায়ে থাকবে বলে তারা আশা করছে।

    বিশেষ করে, রমজান মাসে ইফতারের অন্যতম প্রধান উপকরণ হিসেবে খেজুরের চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। সরকারের এই সিদ্ধান্তে ভোক্তাদের পাশাপাশি আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরাও উপকৃত হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

  • দেশে প্রত্যাবর্তনের পর তারেক রহমানের অংশগ্রহণে নানা কর্মসূচি

    দেশে প্রত্যাবর্তনের পর তারেক রহমানের অংশগ্রহণে নানা কর্মসূচি

    নেতাকর্মীদের জন্য আনে সুখবর, কারণ কিছু সময়ের মধ্যেই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরবেন। দেশের মাটি স্পর্শ করার পরপরই তিনি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন।

    তিনি বলেছেন, এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হবে, যা দেশের মানুষ সহ্য করে দেখবে। তবে এই কর্মসূচির ফলে কিছুটা অসুবিধা হবে বলে তিনি আগেই দুঃখ প্রকাশ করেছেন, কারণ জনদুর্ভোগ এড়ানো সম্ভব হচ্ছে না।

    বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে গুলশানে এক সংবাদ সম্মেলনে সালাহউদ্দিন আহমদ তারেক রহমানের পুরো প্রত্যাবর্তন প্রস্তুতির বিস্তারিত বিবরণ দেন। তিনি জানান, তারেক রহমান বিমানযোগে বাংলাদেশে আসছেন। মধ্যরাতে তিনি নিয়মিত ফ্লাইটে রওনা হবেন এবং বৃহস্পতিবার সকাল ১১:৫০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবেন। বিমানবন্দরে তার জন্য একটি আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা থাকলেও এভারকেয়ারে গিয়ে তিনি খুব সংক্ষিপ্ত ভাষণে সাধারণ জনতার উদ্দেশ্যে কিছু কথা বলবেন। অনুষ্ঠান শেষে তিনি বাসায় ফিরে যাবেন।

    তারেক রহমানের বাংলাদেশে প্রবেশের পরের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২৬ তারিখ জুমার নামাজের আগে তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে এবং সাভার স্মৃতিসৌধে যাবেন। ২৭ তারিখ তিনি নির্বাচন কমিশনে গিয়ে ভোটার ও এনআইডি কার্ডের কার্যক্রম নিশ্চিত করবেন এবং শহীদ ওসমান হাদীর কবর জিয়ারত করবেন। পরে, তিনি পঙ্গু হাসপাতালে আহত যোদ্ধাদের দেখতে যাবেন।

    সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, মানুষ যেন সময় অসম্পূর্ণ হয় এবং অসুবিধায় পড়েন, সেজন্য রাজধানীর কেন্দ্রবিন্দুতে, যেমন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বা মানিক মিয়া এভেনিউতে সমাগম না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বিএনপি সাধারণ মানুষের কষ্টের জন্য আন্তরিকভাবে ক্ষমা চায়। কারণ, বিএনপির এই কার্যক্রমে যারা অংশ নিচ্ছেন, তারা মানুষের দুর্ভোগ বুঝতে পারেন। তিনি আরও বলেন, নির্দেশনা অনুসারে পুরোপুরি চেষ্টা করেও জনসমাগম ও অনুষ্ঠানকে সফল করতে পারছেন না, কারণ মানুষের আবেগ এতটাই বেশি।

    তিনি উল্লেখ করেন, এই বিশাল আয়োজনটি সম্পন্ন করার জন্য ত্রুটির সম্মুখীন হওয়া স্বাভাবিক, তা শৃঙ্খলার সাথে সম্পন্ন করতে হলে আরও শ্রম দিতে হবে। এই জন্য তিনি সবাইকে শৃঙ্খলার মধ্যে থাকতেও আহ্বান জানান।

    প্রস্তুতি সংক্রান্ত বিস্তারিত জানিয়ে, সালাহউদ্দিন বলেন, অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানের জন্য ২০টি মেডিকেল টিম, অ্যাম্বুলেন্স, ছয় শয্যার মেডিকেল ক্যাম্প ও আইসিইউ সুবিধা সম্বলিত অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে এই সমারোহ যেন শৃঙ্খলার মধ্যে হয় এবং মানুষের নিরাপত্তা ও স্বস্তি নিশ্চিত হয়, সেটাই লক্ষ্য।

  • ড. কর্নেল অলি আহমেদ ঘোষনা দিলেন এককভাবে নির্বাচন

    ড. কর্নেল অলি আহমেদ ঘোষনা দিলেন এককভাবে নির্বাচন

    বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ আজ বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে মগবাজারের নিজস্ব কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করেন। তিনি সেখানে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, এবারের সংসদ নির্বাচন তিনি এককভাবে পরিচালনা করবেন, কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আসন সমঝোতা করবেন না।

    অলি আহমেদ বলেন, বিএনপি আমাদের মূল্যায়ন করেনি। আমরা তাদেরকে ১৪ জনের শর্ট লিস্ট দিয়েছিলাম, কিন্তু তারা গুরুত্ব দেয়নি। আমাদের নেতাকর্মীরা দুই ঘণ্টার মতো বসেও মির্জা ফখরুলসহ বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দেখা করতে পারেনি। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি আমাদেরকে অবমূল্যায়ন করেছে এবং এই পরিস্থিতিতে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এককভাবে নির্বাচন করব।

    সংবাদ সম্মেলনের আগে, এলডিপির মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দেন, যা আলোচনায় আসে।

    অলি আহমেদ দৃষ্টান্তমূলক রাজনীতির একজন নেতা। তিনি চারদলীয় জোটের সরকারে মন্ত্রী ছিলেন, তবে জামায়াতের সঙ্গে দ্বন্দ্বের কারণে মন্ত্রিত্ব হারান। এরপর তিনি বিএনপি থেকে বিরতির পথে যান এবং নিজের দল এলডিপি গঠন করেন। এর পরে বেশ কিছু সময় তিনি আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তবে তার ব্যক্তিত্ব ও নীতির কারণে তিনি স্বতন্ত্র পথ বেছে নেন। তাঁর এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তিনি আবারও স্পষ্ট করে দিলেন, এবার তিনি এককভাবেই নির্বাচনে অংশ নেবেন।

  • ঢাকা-১৫ আসনে মনোনয়নপত্র নিলেন জামায়াতের আমির

    ঢাকা-১৫ আসনে মনোনয়নপত্র নিলেন জামায়াতের আমির

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোতে প্রার্থীদের কার্যক্রম বেড়ে গেছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ঢাকা-১৫ আসনে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) আগারগাঁওয়ে রিটার্নিং অফিসারের দপ্তর থেকে তার পক্ষে মনোনয়নপত্র গ্রহণ সম্পন্ন হয়। এই কাজের নেতৃত্বে ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, যারা একটি প্রতিনিধিদল পাঠিয়ে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। ঢাকা-১৩ ও ঢাকা-১৫ আসনের রিটার্নিং অফিসার মো. ইউনুচ আলী নিশ্চিত করে জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জামায়াতের এই নেতা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। এবারের নির্বাচনের জন্য ভোটগ্রহণ হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৯ ডিসেম্বর। এরই মধ্যে নির্বাচনী এলাকাগুলোতে প্রার্থী হওয়ার জন্য ক্রাহি-প্রত্যাশার সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে ঢাকা-১৫ আসনে বিএনপির শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনসহ অন্তত এক ডজন প্রার্থী ইতিমধ্যে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। অন্যদিকে, একই দিনে ঢাকা-১৩ আসন থেকেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক এবং জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ উল্লেখযোগ্য। রিটার্নিং অফিসার সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার মোট ২১ জন সম্ভাব্য প্রার্থী ঢাকা-১৩ ও ঢাকা-১৫ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। ফলে রাজধানীর এই দুই আসনে নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও প্রাঞ্জল ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

  • এনসিপি থেকে পদত্যাগ করলেন কেন্দ্রীয় নেতা, তারেক রহমানকে সমর্থন প্রকাশ

    এনসিপি থেকে পদত্যাগ করলেন কেন্দ্রীয় নেতা, তারেক রহমানকে সমর্থন প্রকাশ

    দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসনের পর বাংলাদেশে ফিরলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান। এই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনের পর, দেশজুড়ে আনন্দের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে থাকলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব মীর আরশাদুল হক। তিনি আজ (২৫ ডিসেম্বর) বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইটে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন, যা সকলের মনোযোগ কাড়ে। তার এই প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে দেশজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। ঠিক এই দিনই, তিনি এনসিপি ছাড়ার ঘোষণা দেন এবং তারেক রহমানের প্রতি সমর্থনের বার্তা প্রকাশ করেন।

    ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আমি মীর আরশাদুল হক, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব, নির্বাহী কাউন্সিলের সদস্য, মিডিয়া সেল ও শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য, পরিবেশ সেল প্রধান এবং চট্টগ্রাম মহানগরের সমন্বয়কারীসহ সব দায়িত্ব থেকে নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছি। আজ আমি এই ঘোষণা দিতে চাই যে, তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে পুনরুত্থানের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ দিন। তিনি বলেন, আমি এনসিপি থেকে পদত্যাগ করছি এবং চট্টগ্রাম-১৬ সংসদীয় আসনে (বাঁশখালী) নির্বাচন করছি না। এই দিনটি নির্বাচিত করেছি কারণ এই দিনটাই সেই ঐতিহাসিক দিন, যখন দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে বাংলাদেশে ফিরলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এটা আমাদের জন্য এক বিশাল স্বাগত ও শুভকামনা।

    তিনি আরও লেখেন, ‘আন্তরিকতার সাথে আমি দুঃখ প্রকাশ করছি যে, এনসিপির শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দলটির নেতারা যে প্রবৃদ্ধির স্বপ্ন ও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন। দলের বর্তমান অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, আমাদের দল এবং নেতাদের পথে ভুল আছে। আমি এই ভুল পথে থাকতে পারছি না। তাই আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আমার এখন থেকে এনসিপির সাথে আর কোনো রাজনৈতিক সম্পর্ক নেই। তবে ব্যক্তিগত সম্পর্ক থাকবে। তাদের প্রতি আমি শুভকামনা রইল।’

    আরও যোগ করেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের পরিস্থিতি নিয়ে আমি খুবই হতাশ। আমি তখন মনে করেছিলাম, এই আন্দোলনের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ হবে, যেখানে মানুষের মৌলিক অধিকার এবং মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু বাস্তবে তা প্রতিফলিত হয়নি। সতেরোটি শহীদ, হাজারো আহত এবং অসংখ্য ত্যাগের পরও একটি শান্তিপূর্ণ ও ন্যায্য বাংলাদেশ দেখিনি। এনসিপি এর জন্য দায়ী। বর্তমানে দেশে বিভাজন, ধর্মের অপব্যবহার ও মুক্তিযুদ্ধের ওপর বিভিন্ন বিতর্ক দেখা যাচ্ছে। কিছু গোষ্ঠী দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করছে। তাই গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার এবং দেশের স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকরাই আজকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। নামকরা তরুণ নেতৃত্ব গড়ে তোলার পাশাপাশি, নতুন উদ্যোগ গ্রহণ এবং বর্তমান দলগুলোকে শক্তিশালী করার প্রয়োজন বলে মনে করি।

    নিজের রাজনৈতিক যাত্রা নিয়ে তিনি বলেন, ‘নিজে সচেতনতার সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছাত্রজীবনে রাজনীতি শুরু করেছি। আমি সব সময় বাংলাদেশের স্বার্থকে নিজের অগ্রাধিকার দিয়েছি। বর্তমান পরিস্থিতিতে, আমার বিশ্বাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ও জোটের জোড়া জয় নিশ্চিত, ফলে সরকার গঠন সম্ভব। দেশের মানুষ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে আমরা একত্রে কাজ করে যেতে চাই।’

    শেষে, তারেক রহমানের নেতৃস্থানীয় কাজের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘তারেক রহমানের নেতৃত্বের উপর আমার বিশ্বাস আরো দৃঢ় হয়েছে। তিনি বর্তমানে একমাত্র নেতা, যিনি ধ্যানধারনা, শিক্ষা, পরিবেশ ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়ে স্পষ্ট লক্ষ্য ও দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করতে পারেন। তরুণদের জন্য এটি এক দারুণ দৃষ্টান্ত। দেশের স্বার্থে, ভবিষ্যতের স্বার্থে, এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য কাজ করতে তারেক রহমানের ভিশন বাস্তবায়নে আমি পুরোপুরি সমর্থন জানাচ্ছি।’

  • তরিক রহমানের জন্য রাজধানীতে আনুষ্ঠানিকতার বাইরেও নানা প্রশ্নের উত্তর দিলেন মাহদী

    তরিক রহমানের জন্য রাজধানীতে আনুষ্ঠানিকতার বাইরেও নানা প্রশ্নের উত্তর দিলেন মাহদী

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দীর্ঘদিনের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ঐতিহাসিক মুহূর্ত হয়ে উঠেছে দেশজুড়ে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গণমাধ্যম, রাজনৈতিক নেতা-নেত্রী এবং সাধারণ মানুষ সবাই নানা প্রশ্ন তুলেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় দলের উপদেষ্টা মাহদী আমিন স্পষ্ট ও বিস্তারিতভাবে উত্তর দিয়েছেন। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) তিনি ফেসবুকে একটি পোস্টে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর পর্ব প্রকাশ করেছেন। এই পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের অন্যতম অনুপ্রেরণা হলো দেশের জন্য গভীর বাসনা ও জাতীয় স্বার্থ। তিনি ব্যাখ্যা করেন, এই প্রত্যাবর্তন শুধুমাত্র একজন নেতার দেশে ফেরার ঘটনা নয়, এটি দেশের মানুষজনের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান, আশা-আকাঙ্ক্ষার এক সংযোগ। এটি গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

    বিদ্যমান পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা বিবেচনায়, মাহদী আমিন জানান, তারেক রহমানের সঙ্গে একই ফ্লাইটে ফিরছেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। ফ্লাইটটি সকাল ১১:৪৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। অবতরণের পরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    তারেক রহমানের প্রথম লক্ষ্য হলো তার অসুস্থ মা-বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে যাওয়া। এই জন্য তিনি সরাসরি বিমান থেকে গুলশানের নিজ বাসায় যাবেন। তবে, আগেভাগেই দায়িত্বশীলতা ও জনসমাগমের কথা বিবেচনা করে তিনি রাজধানীর ‘জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে’ (৩০০ ফিট প্রশস্ত) এলাকার একটি সংক্ষিপ্ত পথ দিয়ে মাত্র কিছু সময়ের জন্য জনগণের সাথে দেখা করবেন ও ধন্যবাদ জানাবেন। এরপর তিনি হাসপাতালে গিয়ে মায়ের পাশে থাকবেন এবং পুনরায় গুলশানে নিজ বাসায় ফিরে যাবেন।

    স্থানীয় ঐতিহাসিক স্থানগুলো উত্তমভাবে এড়ানোর কারণ হিসেবে মাহদী আমিন ব্যাখ্যা করেন, এটি একটি সুস্পষ্ট কৌশলগত ও মানবিক সিদ্ধান্ত। জনদুর্ভোগ কমানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ও স্থানগুলো এক্ষেত্রে এড়ানো হয়েছে। তিনি জানান, রাজধানীর কেন্দ্র থেকে দূরে অবস্থিত এই ৩০০ ফুট প্রশস্ত ‘জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে’ এর এক পাশের সার্ভিস লেনকে নির্বাচিত করা হয়েছে মূল কর্মসূচির জন্য—যেখানে তারেক রহমানের সফর সংশ্লিষ্ট সংক্ষিপ্ত কর্মসূচি সম্পন্ন হবে।

    এটি কোনো সংবর্ধনা বা জনসমাবেশ নয়, এটি এক ধরনের কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সংক্ষিপ্ত কর্মসূচি, যেখানে শুধুমাত্র তারেক রহমানই বক্তা থাকবেন। এই অনুষ্ঠানে দলের নেতাকর্মী থেকে সাধারণ জনগণ—সবাই উপস্থিত থাকবেন। ইতোমধ্যে লাখ লাখ মানুষ বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঢাকায় পৌঁছানোর জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে, নেতাকে এক নজর দেখার আবেগে উদ্বেল।

    জনদুর্ভোগ কমানোর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বেশ কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ২০টি মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে চিকিৎসক, প্যারামেডিক ও ওষুধের ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া, হাসপাতালে যাওয়ার পথে আইসিইউসহ অ্যাম্বুলেন্স ও ব্রেকডাউনের জন্য বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পানির সরবরাহ, স্বেচ্ছাসেবকদের সেবা নিশ্চিত করে জনমনে স্বস্তি দেওয়া হচ্ছে।

    প্রতিবেশী ও বিদেশগামী যাত্রী, রোগী ও জরুরি যানবাহন অবাধে চলাচল নিশ্চিত করতে রাজধানীর প্রবেশপথগুলোতে আলাদা বাস পার্কিং লেনের ব্যবস্থা, অ্যাম্বুলেন্স ও বিদেশফেরত যাত্রীদের জন্য হেল্প ডেস্ক স্থাপন করা হয়েছে। এই সব উদ্যোগের পাশাপাশি, ট্রাফিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য পুলিশ ও ট্রাফিক কর্মকর্তারা নিরলসভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এমনকি এ সব প্রচেষ্টার মধ্যেও প্রতিযোগিতা থাকছে, এবং কিছু অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য বিএনপি ও এর সহযোগীরা আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছে।

    অন্তর্বর্তী সরকারি ও নির্বাচনকালীন ছুটির কারণে, ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের দিন নির্ধারিত হয়েছে। পরে দিনগুলোতেও ছুটি থাকায় মানুষের ভোগান্তি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    নেতাকর্মীদের জন্য নির্দেশনা হিসেবে যোগ করা হয়েছে, শান্তিপূর্ণ আচরণ বজায় রাখতে ও শৃঙ্খলা রক্ষা করতে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করার জন্যও আহ্বান জানানো হয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছর অপেক্ষার পর এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে দেশের সকল প্রান্ত থেকে আসা নেতাকর্মীরা এক সূচনায় মেতে উঠেছেন। বেশিরভাগ নেতাকর্মীকে রাজধানীর প্রবেশমুখগুলো ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকে।

    অবশেষে, তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তনকে বেশকিছু বিশ্লেষক এটি দেশের গণতান্ত্রিক চেতনা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বলে মনে করছেন। এর মাধ্যমে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এক নতুন যুগের সূচনা হবে বলে প্রত্যাশা করছে সবাই। এটি দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা, সহনশীলতা ও ঐক্য বাড়াতে সহায়ক হবে—একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।

  • হাতে নিয়ে দেশের মাটি ছুঁলেন তারেক রহমান, খালি পায়ে হাঁটলেন

    হাতে নিয়ে দেশের মাটি ছুঁলেন তারেক রহমান, খালি পায়ে হাঁটলেন

    দেশের দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন ও অপার অপেক্ষা শেষে অবশেষে দেশের মাটিতে ফিরলেন বিএনপির ভারাভর্তি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পা রাখার মুহূর্তে প্রতিটি মুহূর্তে আবেগ আর অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ ঘটে। বিমানবন্দর থেকে বের হয়ে তিনি প্রথমে জুতা খুলে খালি পায়ে নিজের মাতৃভূমির মাটিতে পা রাখেন। এরপর তিনি হাতে তুলে নেন এক মুঠো দেশের মাটি। প্রিয় স্বদেশের স্পর্শে তিনি গভীর আবেগে আপ্লুত হয়ে যান।

    বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে প্রথমে দুই পায়ের জুতা খুলেন তিনি। এরপর হাতে নেন এক মুঠো দেশের মাটি। দলীয় সূত্রের ভাষ্য, এই ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল না। বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার পর হঠাৎ করে তিনি কয়েকটা গাঁদা ফুলের গাছের পাশে গিয়ে দেশের মাটি স্পর্শ করেন। সেখানে তিনি জুতা খুলে খালি পায়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। পরে নিচু হয়ে মাটি হাতে নেন এবং গভীর স্নেহসহ দেখেন।

    এর আগে, বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তারেক রহমান প্রথমে বিএনপির সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে তিনি তার শাশুড়ি সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানুর সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এ সময়, তার মেয়ে জামাইকে গোপাল ফুলের মালা দিয়ে গর্বের সঙ্গে বরণ করেন সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানু।

    বিমানবন্দর ত্যাগের পর, এক লাল ও সবুজ রঙের বিশেষ বুলেটপ্রুফ বাসে করে তিনি ৩০০ ফুট রোড নামে পরিচিত এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে এভারকেয়ার হাসপাতালের দিকে রওনা হন।

    এদিকে, সেই মুহূর্তে বহু মানুষ, বিএনপির নেতা-কর্মী এবং সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন। তারা তারেক রহমানের বাসে হাত নাড়িয়ে স্বাগত জানান। রাস্তায় তারা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড, ব্যানার এবং জাতীয় পতাকা ধারণ করে উপস্থিত হন। এটি তার দেশের প্রতি গভীর ভালোবাসা এবং স্বতঃস্ফূর্ত স্বাগত প্রকাশের নিদর্শন।

  • আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তারেক রহমানের দেশে ফেরার খবর

    আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তারেক রহমানের দেশে ফেরার খবর

    প্রায় এক দশক দশমিক পাঁচ বছর পর বাংলাদেশে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে তারেক রহমানকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমান অবতরণ করে। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি শুধু স্থানীয় সংবাদমাধ্যম নয়, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোও গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করেছে।

    বিশেষ করে কাতারভিত্তিক মিডিয়া আল জাজিরা প্রথমে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যেখানে বলা হয়, ‘দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসিত থাকার পর বাংলাদেশে ফিরলেন দেশের বিরোধীদলীয় নেতা তারেক রহমান।’ শিরোনামটি স্পষ্ট করে দেয়, তিনি দীর্ঘদিন থেকে দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন।

    ব্রিটিশ সংবাদসংস্থা রয়টার্সের শিরোনামও একই ধরণের—‘নির্বাচনের আগে দেশে ফিরলেন বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী’। এতে তারেক রহমানের দেশের প্রতি প্রত্যাবর্তনের গুরুত্ব জোরপূর্বক তুলে ধরা হয়।

    পাকিস্তানের প্রভাবশाली পত্রিকা দ্য ডন ‘নির্বাচনের আগে ১৭ বছর নির্বাসন শেষে দেশে ফিরলেন বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী’ বলে খবর প্রকাশ করে। এর আগে বিবিসি শিরোনামে লেখা হয়, ‘১৭ বছর পরে ফিরে এলেন বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী।’

    ভারতের বেশ কিছু সংবাদমাধ্যমও এই খবরকে গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করে। এনডিটিভির শিরোনামে বলা হয়, ‘১৭ বছর পর স্ত্রী, সন্তান ও পোষ্য প্রাণী নিয়ে দেশে ফিরলেন তারেক রহমান।’ এছাড়া হিন্দুস্তান টাইমস, দ্য হিন্দুসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এই খবর ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

    প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালের জানুয়ারিতে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর দুর্নীতির অভিযোগে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মামলা হয়। তিনি প্রায় অর্ধযুগ কারাভোগ করেন। ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে অসুস্থতার কারণে সপরিবারে লন্ডনে চিকিৎসার জন্য যান। পরে ওই বছরের ডিসেম্বরে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার সময়, দেশে ফিরার পথ বন্ধ হয়ে যায়। বিভিন্ন মামলায় জর্জরিত থাকায় পুনরায় ফিরতে পারেননি তিনি। অবশেষে, দীর্ঘ এই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে, প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরে এলেন তারেক রহমান।