হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির, প্রবীণ ইসলামী চিন্তাবিদ আলামা শাহ মুহিব্বুলাহ বাবুনগরী বলেছেন, যদি আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে, তাহলে ইসলামের মূল আস্থা ও ভিত্তিকে ধ্বংস করতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, জামায়াত কওমী মাদ্রাসার দুশমন। বাবুনগরী সতর্ক করে দিয়ে বলেন, আল্লাহ না করুন, যদি কোনোভাবে ফেরাউন জাতির কেউ সরকারে আসতে পারে, তাহলে দেওবंदी কওমী পন্থা এবং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের (আলীয়া ও সুন্নিয়াত) মাদ্রাসাগুলোর অস্তিত্ব থাকতেই পারবে না। তিনি স্পষ্টভাবে এই কথাটা প্রকাশ করেন। আমি কসম করে বলতে পারি, এই বিষয়গুলো আপনি নিজেও দেখবেন। আল্লাহ আমাদের তাওফীক দিন, আল্লাহ আমাদের সাহায্য করুন। বাবুনগরী গত বৃহস্পতিবার হাটহাজারী ডাকবাংলো মাঠে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে এই সব কথা বলেন। এই সমাবেশে হেফাজত ইসলামের সাবেক আমির আলামা জুনাইদ বাবুনগরীর স্মরণসভায় শতাধিক আলেম ও ওলামা অংশ নেন, যেখানে আরও বক্তৃতা দেন মাওলানা সালাউদ্দিন নানুপুরী, মাওलানা মামুনুল হক, মাওলানা হারুন ইজহার প্রমুখ। Sources: শীর্ষ নিউজ অনলাইন।
Author: bangladiganta
-

জামায়াতের ৫ দফা গণদাবি ঘোষণা এবং সমতুল্য কর্মসূচি
জাতীয় সনদের ভিত্তিতে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের দাবি সহ মোট পাঁচ দফা মূল প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে, যা নিয়ে বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামী আগামী তিন দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। দলের নেতা ও নেত্রীবৃন্দের নেতৃত্বে এই দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, ভবিষ্যৎ নির্বাচনে নিজস্ব স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে পিআর পদ্ধতি চালু, সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি, এবং দুর্নীতি, গণহত্যা ও জুলুমের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া। পাশাপাশি, তারা সরকারি দলের সঙ্গে সম্পর্কিত জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম বন্ধেরও দাবি তুলেছে।
আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকায় দলটির উদ্যোগে বড় ধরনের বিক্ষোভ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ১৯ সেপ্টেম্বর বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরে আরেকটি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সমাবেশ এবং ২৬ সেপ্টেম্বর জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিক্ষোভ মিছিল করা হবে। এই কর্মসূচিগুলোর আওতায় দলটির নেতৃবৃন্দ এই দাবিগুলোর বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে আহ্বান জানিয়েছেন।
সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মগবাজারে আল-ফালাহ মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের এ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, জামায়াত ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজন করতে চায়, যেখানে উভয় সংসদীয় কক্ষে প্রোপোরশনাল রাউন্ড পদ্ধতি চালু হওয়া দরকার।
তিনি বলেন, ‘আমরা অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য সকলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার মাঠ তৈরি করতে চাই। সরকারি কর্তৃত্বের অপতৎপরতা, দুর্নীতি ও গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি, স্বৈরাচারী দলীয় স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধের দাবি তুলতে চাই।’
তাহের আরও বলেন, ‘আমরা নির্বাচন বেড়ে যাওয়ার জন্য এ দাবি তুলছি না, বরং নির্বাচনের প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয়তার জন্য দাবি করছি। আমাদের দাবি এটাই যে, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন যেন হয়, যা আইন মেনে নেওয়া হবে।’
প্রতিটি দল নিজস্ব কর্মসূচিকে ধারাবাহিকভাবে সম্পন্ন করবে বলে জানিয়েছেন, তবে এখনই তারা একটি যুগপৎ আন্দোলনের কথা বলছেন না। বছরজুড়ে বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন উঠেছে, কি কারণে এই দাবিগুলো মূলত নির্বাচন পিছানোর জন্য তা উৎসাহিত হয়, সেই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই দাবি সময়মতো সমাধান সম্ভব।
আলোচনায় তিনি বলেন, ‘নির্বাচনী নানা অনিয়ম, যেমন কালো টাকার ব্যবহার, পেশিশক্তি প্রয়োগ ইত্যাদি বন্ধে পিআর পদ্ধতি জরুরি। জনগণের দাবির প্রতি মনোযোগ না দিলে, গণআন্দোলনের বিকল্প নেই।’ তিনি স্পষ্ট করে বলছেন, ‘আমরা নির্বাচন থেকে পিছপা নই, বরং দাবি মানা হওয়ার জন্য প্রস্তুত।’
অন্যদিকে, একই দাবিতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসও আগামী ১৯ ও ২৬ সেপ্টেম্বর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি চালানোর ঘোষণা দিয়েছে। এই দলের নেতা মাওলানা মামুনুল হক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ‘নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ও বিচারক সংক্রান্ত বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পাবে। পাশাপাশি, জুলাই গণহত্যার বিচারও দৃশ্যমান করতে হবে। ’
তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই ঘোষণাপত্রের মতো জুন সনদকেও কাগজে কলমে ব্যর্থ হতে দেয়া হবে না। যুগপৎ আন্দোলনের মাধ্যমেই দাবি বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা চলছে।’ এই সকল দাবিকে বাস্তবায়নে তারা সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
-

ইসলামী আন্দোলনের তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহম্মাদ রেজাউল করীম, পীর সাহেব চরমোনাই, সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পুরানো পল্টনে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যতের কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দেশকে স্বৈরতন্ত্রের কবল থেকে মুক্ত করতে, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের জন্য রক্ত দেওয়া ছাত্র-জনতাকে সম্মানিত করতে, দেশের দীর্ঘ ৫৪ বছর ধরে জমা থাকলো বিভিন্ন জঞ্জাল দূর করতে, ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করতে, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুসংহত করে স্বাধিকার ও স্বাধীনতা বজায় রাখতে ও দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে শুদ্ধ করতে হলে তিনটি মূল বিষয়—সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন—একসাথে কার্যকর করতে হবে। তিনি আরও বলেন, ইতিহাসের এই সমসাময়িক সময়ের জন্য জুলাইতে ঘোষিত ‘সংস্কার-বিচার ও নির্বাচন’ এই আদর্শ অনুসরণ করা অপরিহার্য। তবে দুর্ভাগ্যবশত, এখনকার পরিস্থিতিতে এই গুরুত্ব না দিয়ে শুধুই নির্বাচন প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে দেশকে আগের অশুভ স্বৈরতন্ত্রের দিকে ফিরিয়ে নেওয়ার ভয় সৃষ্টি করে।
-

হেফাজতে ইসলামের আমিরের বক্তব্যের প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামের কড়া নিন্দা
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যকরি পরিষদের সহকারী সচিব ও প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এড. এহসানুল মাহবুব জুবায়ের হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর একটি বিবৃতির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি সোমবার এক বিবৃতিতে বলেন, সম্প্রতি একটি দৈনিকে প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে মাওলানা বাবুনগরী দাবি করেছেন, যদি জামায়াত সরকারে আসে, তাহলে কওমি মাদ্রাসা, দেওবন্দি ও সুন্নিয়া মাদ্রাসার অস্তিত্ব রক্ষিত থাকবেন না। এই বক্তব্যটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং মনগড়া, এতে সত্যের কোনো লেশমাত্র নেই। একজন সম্মানের আলেমের মুখ থেকে এ ধরনের অসত্য বিষয় প্রকাশ হাওয়ায় তিনি গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন এবং এই ধরনের মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানান। এড. মাহবুব জুবায়ের বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি নিয়মতান্ত্রিক ও ইসলামী উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দল, যিনি দেশের একাধিক মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানা প্রতিষ্ঠা করে ইসলামের খেদমত করে আসছে। দলটির নেতাকর্মীরা কওমি, দেওবন্দি বা সুন্নিয়া মাদ্রাসার বিরুদ্ধে কোনো ভাষ্য দেননি। পরিসংখ্যানেও দেখা যায়, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত জামায়াতের দুই মন্ত্রী ক্ষমতায় ছিলেন, যারা কখনো কওমি বা দেওবন্দি মাদ্রাসার বিরোধিতার পক্ষে কিছু বলেননি বরং এই ধরনের মাদ্রাসার জন্য সহায়ক হিসেবে কাজ করেছেন। এই সমস্ত বিষয় দেখে স্পষ্ট, মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর আশঙ্কা অমূলক ও ভিত্তিহীন। তিনি বলেন, এ ধরনের অপপ্রচারণা চালিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা বন্ধ করতে হবে। আর এড. এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সকলকে আহ্বান জানাচ্ছেন, জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও মনগড়া মন্তব্য না করার এবং দৈনিক ইনকিলাব কর্তৃপক্ষের কাছে এই প্রতিবাদ যথাযথভাবে প্রকাশ করে বিভ্রান্তি দূর করার জন্য।
-

এনসিপির প্রস্তাব: জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণপরিষদ নির্বাচন দরকার
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। এই আলোচনায় দুটি বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে। একটি হলো, কিছু বিষয় সংবিধানের সঙ্গে সম্পর্কিত নয় এবং সেগুলো অর্ডিন্যান্স বা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা সম্ভব। তবে, দেশের রাষ্ট্র কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয় রয়েছে যা সংবিধানের সাথে গভীরভাবে জড়িয়ে এবং যেখানে মৌলিক পরিবর্তন প্রয়োজন। এই পরিবর্তনগুলো শুধু সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সম্ভব কিনা, তা নিয়ে আমাদের মধ্যে কিছু আশঙ্কা রয়েছে।
রোববার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাংগঠনিক আলোচনা চালানোর সময় এসব কথা বলেন আখতার হোসেন। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সভাপতি ও সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
আখতার হোসেন আরও বলেন, বাংলাদেশের হাইকোর্টে সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তন নিয়ে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে, যার ফলে কিছু সংশোধনী বাতিলও হয়েছে। এজন্য, আমরা প্রশ্ন তুলে বলেছি, কীভাবে আমাদের করা পরিবর্তনগুলো টেকসই ও কার্যকর করা যায়, তার জন্য কি উপায় থাকতে পারে। বিশেষ করে, রাজনীতিক দলগুলোর উচিত ঐকমত্যে পৌঁছানো যাতে এগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়।
তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন যে, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো সম্ভবত একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্তে আসতে পারবে। এজন্য তিনি দেশের সংগঠনগুলোর সহমত প্রক্রিয়া আরও কার্যকরি করে তুলতে সরকারের উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জরুরি আবেদন জানিয়ে বলেন, কমিশনের মেয়াদ বৃদ্ধি করে এই প্রক্রিয়া দ্রুত ও সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব। এর মাধ্যমে, রাজনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে আমাদের সমঝোতা ও উদ্যোগ আরও সুদৃঢ় হবে এবং লক্ষ্য অর্জনে অগ্রগতি আসবে।
-

নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন: যেখানে সবাই সমান অধিকার পাবে
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, তিনি একটি সমতা নির্ভর এবং মানবিক রাষ্ট্র গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য হলো একটি রাষ্ট্র নির্মাণ করা, যেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর চৌকস পাহারার মধ্যে নয়, বরং সবাই স্বাধীনভাবে নিজের ধর্ম পালন করতে পারবে। তিনি নিশ্চিত করেছেন, কোনো নাগরিকের ধর্ম, পরিচয় বা বিশ্বাসের ভিত্তিতে বৈষম্য থাকবে না।
৬ই সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সকালবেলা ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির পরিদর্শনে এসে তিনি এসব কথা বলেন। পরিদর্শনের সময় তিনি পূজা আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সভা-সভার আয়োজন করেন। ড. ইউনূস বলেন, ‘আমরা যদি নিজেদের মধ্যে বিভক্ত হয়ে পড়ি, তবে জাতি হিসেবে আমরা ব্যর্থ হবো। কিন্তু আমরা তা চাই না। আমাদের লক্ষ্য হলো এমন একটি বাংলাদেশ তৈরি করা, যেখানে প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার সমান হবে। এখানে কেউ সংখ্যাগরিষ্ঠ বা সংখ্যালঘু বলে বিবেচিত হবে না, সবাই মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপন করবে।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব হলো—সকল ধর্ম, সকল বিশ্বাসকে সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখা। ধর্মের পার্থক্য থাকতে পারে, তবে রাষ্ট্রের কাছে সব নাগরিকের মর্যাদা সমান।
বিশ্ব সম্প্রদায়ের জন্য মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গড়ার আহ্বান জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, ‘আমরা যদি সত্যিকার অর্থে একটি শান্তিপূর্ণ ও মানবিক বাংলাদেশ চাই, তাহলে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’ গত ১৫ সেপ্টেম্বর, সোমবার তিনি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বিভিন্ন পূজা উদযাপন কমিটির নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তারা তাঁকে আসন্ন দুর্গোত্সবের জন্য পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানালে, তিনি সেটি গ্রহণ করে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে যান।
সাক্ষাত্কালে ড. ইউনূস বলেন, ‘আপনাদের সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছে সবসময়ই থাকে, কিন্তু সবসময় সেটা হয়ে ওঠে না। পূজার সময়টায় অন্তত বছরব্যাপী একবার দেখা হয়, এই মুহূর্তটা আমার জন্য বড়ই প্রাপ্তি।’
তিনি পূজা প্রস্তুতি সম্পর্কে খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি বলেন, ‘সরকার সব ধর্মীয় উৎসব সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নে পালনে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে।’ এদিকে, হিন্দু ধর্মীয় নেতারা জানিয়েছেন যে, গত বছরের তুলনায় এবার আরও আশি হাজারের বেশি নতুন পূজামণ্ডপ নির্মিত হচ্ছে, যা পূজার প্রস্তুতিকে আরও জোরদার করেছে।
-

এনবিআরে ১৮২ কর্মকর্তার দপ্তর বদল, দুই কর্মকর্তা বরখাস্ত
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এর আওতায় ১৮২ জন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তার দফতর পরিবর্তন করা হয়েছে। এ ছাড়া, এক যুগ্ম কর কমিশনারকে বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান এবং একটি কর পরিদর্শককে সাময়িকভাবে বরখাস্তের নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তগুলো এনবিআর ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানানো হয়েছে।
নবম্যাবার, এনবিআর-এর দ্বিতীয় সচিব (কাস্টমস ও ভ্যাট প্রশাসন) তানভীর আহম্মেদ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই ১৮২ কর্মকর্তা বদলির তথ্য প্রকাশ করা হয়। এই বদলি কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী ও স্বচ্ছ করার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
অপরদিকে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ও এনবিআর থেকে আলাদা পৃথক আদেশে আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এক চিঠির মাধ্যমে জানা গেছে যে, কর অঞ্চল-১৬ এ কর্মরত যুগ্ম কর কমিশনার মো. জাহাঙ্গীর আলমকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। তার চাকরির সময় সম্পন্ন হওয়ায় এবং জনস্বার্থে অবসর গ্রহণের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সরকার সেই অনুযায়ী, সরকারি চাকরি আইনের ২০১৮ এর ৪৫ ধারার অধীন থেকে তাকে অবসর দিয়েছে এবং এর দ্বারা তাকে প্রাপ্য সমস্ত সুবিধা প্রদান করা হবে।
অন্যদিকে, গাজীপুরের কর পরিদর্শক কাজী নূরে সোহেলাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান স্বাক্ষরিত এই আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তার বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’ এর অভিযোগ আনা হয়েছে।
আদেশে বলা হয়েছে যে, এই অভিযোগের ভিত্তিতে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর ৩ (খ) ও ৩ (গ) অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, তাকে 귀প্রতিষ্ঠান থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে গাজীপুর কর কমিশনের কার্যালয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বরখাস্তকালে তিনি বিধির অনুসারে খোরাকি ভাতা পাবেন। এই আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং জনস্বার্থে জারি করা হয়েছে।
-

বগুড়ায় প্রবাসীর স্ত্রী ও ছেলেকে হত্যা
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার সাদুল্যাপুর বটতলা গ্রামে দুর্বৃত্তদের হামলায় প্রবাসীর স্ত্রী ও তার ছেলে নির্মমভাবে খুন হয়েছে। এই ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ভোরের দিকে যখন তাদের রক্তাক্ত মরদেহ বাড়ির ভিতরে পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয়রা খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
নিহতরা হলেন প্রবাসী ইদ্রিস আলীর স্ত্রী রানী বেগম (৪০) এবং তার ছেলে ইমরান হোসেন (১৮)। ইমরান বর্তমানে নিশিন্দারা ফকির উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র।
পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্র বলছে, সোমবার গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা বাড়ির মধ্যে প্রবেশ করে তাদের কুপিয়ে হত্যা করে। সকালে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা জানালা দিয়ে মরদেহ দেখে আতঙ্কित হয়ে পুলিশে খবর দেন। পরে পিবিআইয়ের ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। মৃতদেহ দুটির মধ্যে বারান্দায় রানী বেগমের রক্তাক্ত দেহ পাওয়া যায়, এবং অন্য কক্ষে ছিল ইমরানের লাশ। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
প্রতাক্ষ্য স্বজনরা জানিয়েছেন, এই হত্যাকাণ্ডের সময় দুর্বৃত্তরা ঘর থেকে একটি মোটরসাইকেল, কিছু নগদ টাকা এবং প্রায় তিন ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে গেছে। এই ঘটনায় স্থানীয়রা আতঙ্কে রয়েছেন, পুলিশী তদন্ত চলছে।
-

তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের রেকর্ড, স্বাস্থ্য ও অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশ ক্রমেই এক পর্যায়ে পৌঁছে যাচ্ছে যে পরিস্থিতি ‘হটস্পট’ হিসেবে পরিচিত। বিশ্বে তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার একেবারে শীর্ষে থাকতে থাকা বাংলাদেশ এখন দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে, যার ফলাফল শুধুমাত্র পরিবেশের ক্ষতি নয়, বরং দেশের মানুষের স্বাস্থ্য ও অর্থনীতির জন্যও ব্যাপক ঝুঁকি তৈরি করছে। আজ ১৬ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার, রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও অর্থনীতিতে তাপের প্রভাব’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন প্রধান উপদেষ্ঠার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সৈয়দুর রহমান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র অপারেশনস অফিসার মিস ইফফাত মাহমুদ ও স্বাস্থ্যের Field Expert ওয়ামেকের সিনিয়র বিশেষজ্ঞ ডা. আ. রাজা।
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৮০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ১.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি অনুভূত তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে ৪.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা জনজীবনের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার রিপোর্ট অনুসারে, ২০১৫ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত দশকের সবচেয়ে গরম বছর ছিল, যেখানে পয়েন্টে পয়েন্টে তাপমাত্রা আগের তুলনায় ব্যাপক বৃ্দ্ধি পেয়েছে। রাজধানী ঢাকায় ১৯৮০ থেকে শুরু করে ২০২৩ সাল পর্যন্ত গড় তাপমাত্রা বেড়েছে ১.৪ ডিগ্রি, যা দেশের গড়ের তুলনায় অনেক বেশি।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অপরিকল্পিত নগরায়ন, বৃক্ষনিধন এবং কংক্রিটের অর্ধেক বাড়তি ব্যবহার ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কারণে শহরগুলো আজ ভয়াবহ তাপপ্রবাহের শিকার। এর ফলশ্রুতিতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রায় দেহের স্বাভাবিক কার্যকলাপ ব্যাহত হচ্ছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, গরমের প্রভাবে শারীরিক ও মানসিক রোগের প্রকোপ বাড়ছে। দীর্ঘস্থায়ী কাশি, শীতের তুলনায় গরমে আরও বেশি দেখা যাচ্ছে। ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রায় এসব রোগের ঝুঁকি ২২.৭ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। গরমের সময় তাপজনিত ক্লান্তি, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসের প্রকোপও বেড়ে যাচ্ছে। ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপে এসব ঝুঁকি প্রায় দ্বিগুণ হয়। নারী ও ৫ বছরের নিচের শিশুরা বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ।
মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকেও তাপপ্রবাহের ক্ষতিকর প্রভাব দেখা যাচ্ছে। গ্রীষ্মে বিষণ্ণতা ও উদ্বেগের হার শীতের চেয়ে বেশি। গরমের কারণে বিষণ্ণতা ২৩.৮ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে, উদ্বেগের হার বাড়ে ৩৭.১ শতাংশ।
অর্থনৈতিক দিক থেকেও ক্ষতি হচ্ছে মারাত্মকভাবে। ২০২৪ সালে তাপপ্রবাহের কারণে দেশের কর্মদিবস নষ্ট হয়েছে প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকা মূল্যের। এর আর্থিক ক্ষতি দাঁড়িয়েছে ১.৩৩ থেকে ১.৭৮ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত, যা দেশের মোট জিডিপির শতকরা ০.৩ থেকে ০.৪ ভাগের সমান। বিশ্লেষকদের মতে, ২০৩০ সালের মধ্যে এই ক্ষতি ৪.৯ শতকরা হারে বৃদ্ধি পেয়ে জিডিপির বড় অংশে পৌঁছে যাবে।
বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরেই যেতে পারে যদি দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হয়। প্রতিবেদনটি পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ প্রদান করেছে, যার মধ্যে রয়েছে:
১. জাতীয় প্রস্তুতি ও সমন্বিত পদক্ষেপ জোরদার করা,
২. স্বাস্থ্যসেবা প্রস্তুত ও গরমের জন্য বিশেষ জরুরি ব্যবস্থা,
৩. গরম মোকাবিলায় প্রযুক্তি ও সহনশীল আবাসন ব্যবস্থা ব্যবহার,
৪. আবহাওয়া তথ্যের যথাযথ ব্যবস্থাপনা ও সতর্কতা সিস্টেম চালু,
৫. জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য আন্তর্জাতিক সাহায্য ও অর্থায়ন সংগ্রহ।বিশ্বব্যাপী এই তাপপ্রবাহ এখন শুধু দেশের ব্যাপার নয়, বরং এটি এখন একটি বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ও অর্থনীতি সংকট। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোতে এর গুরুত্ব অনেক বেশি। নগর পরিকল্পনা, সবুজায়ন, স্বাস্থ্যসেবা ও নীতিমালা আরও গুরুত্ব দিতে হবে ত্বরণে। রাজনীতিবীদ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যদি একযোগে কাজ করে তাহলে এই ভয়াবহ সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব।
-

পাবনায় প্রধান শিক্ষক ভারতীয় নাগরিক; নানা অভিযোগ উঠল
পাবনা সদর উপজেলার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী সুপ্রিম ভারতীয় নাগরিক হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন জালিয়াতা করে শ্বশুরের নামে সরকারি জমি লিজ নেওয়ার এবং সেটি নিজের নামে দখলের।
অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন সুখ রঞ্জন চক্রবর্তী, যিনি পাবনা সদর উপজেলার বালিয়াহালট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার দক্ষিণ ব্যারাকপুর শহরের দমদমের সূর্যসেন পল্লির নির্মল কুমারের ছেলে। তবে তার বসবাস পাবনা শহরের ২ নম্বর ওয়ার্ডে। তার ভারতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর ০০০০/০০৮০২/৭৬৩৯৭ এবং আধার কার্ডের নম্বর ৪০৫০২২৩৪৩৩৫১।
জানা গেছে, সুখ রঞ্জন চক্রবর্তী বাংলাদেশ সরকারের চাকরির নিয়মনীতি উপেক্ষা করে সরকারি স্কুলে প্রধান শিক্ষক হিসেবে চাকরি করছেন, অন্যদিকে তিনি ভারতের নাগরিক। এছাড়া তিনি ভারতে জমি কিনেছেন, ফ্ল্যাট বাড়ি করেছেন। তার স্ত্রী ও বড় ছেলে এখনো ভারতেই থাকে। ছোট ছেলে, যিনি বাক প্রতিবন্ধী, ভাতা পান, সেই ভাড়াটিও থাকেন পাবনাতে। মাঝে মাঝে তিনি ও তার পরিবার ভারতে যান দীর্ঘ সময়ের জন্য।
অভিযোগের মধ্যে আরও রয়েছে, শ্বশুর দীপক কুমার রায়ের নামে সরকারি জমি জালিয়াতি করে 자신의 নামে নেয়ার চেষ্টা।
শ্বশুরের শ্যালক সুমন কুমার রায় বলেন, ‘আমার বাবা শহরের মুরগি পট্টিতে সরকারি জমি লিজ নিয়েছিলেন। বাবা মারা গেলে সেই জমি আমার মায়ের নামে লিজ দেয়া হয়। তারও পরে, মা মারা যাওয়ার পরে, আমি ছাড়া অন্য কেউ জানতে না পেরে, আমার বোনকেই উত্তরসূরি হিসেবে জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করতে বলা হয়। এখন আমার বাড়ি থেকে উচ্ছেদের জন্য নানা চেষ্টা চালাচ্ছে।’
অভিযুক্ত সুখ রঞ্জন চক্রবর্তী এ সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘এই সব অভিযোগ মিথ্যা, এগুলো কাগজপত্র বানানো। আমার স্ত্রীর ও সন্তানের সঙ্গে ভারতে গেছে। আমার সঙ্গে তাদের কোনও যোগাযোগ নেই। আমি প্রমাণ হিসেবে সব ডকুমেন্টস দেখাতে পারবো।’
এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল কবীর জানিয়েছেন, তাদের কাছে অভিযোগ ও প্রমাণ এসেছে। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। আশা করছেন, শিগগিরই রিপোর্ট হাতে পেয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে সংশ্লিষ্টরা।
