Author: bangladiganta

  • নগরীতে অস্ত্র ও গুলিসহ চার মামলার আসামি গ্রেফতার

    নগরীতে অস্ত্র ও গুলিসহ চার মামলার আসামি গ্রেফতার

    খুলনায় পুলিশ অস্ত্র, গুলি এবং চারটি সন্ত্রাসী মামলার এক গুরুত্বপূর্ণ আসামি তানভীর ইসলাম নিলয়কে গ্রেফতার করেছে। বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টার সময় নগরীর রূপসা স্ট্যান্ডের কাছ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। নিলয় এলাকার একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী, মনির হোসেনের ছেলে, এবং সে খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেনেড বাবুর সাথে যোগসাজশে থাকার কথা পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

    খুলনা থানার অফিসার ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনার দিন দুপুরে ইউনুস নামে এক যুবক চাঁদার জন্য স্টান্ডরোডে ডাকে আসেন। এরপর একজন অপার্যায়ী চাঁদা না দিতে চাইলে তার উপর হামলা চালানো হয়। স্থানীয়রা সংবাদ দেন, এর পরেই পুলিশ দরজা খুলে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং ভিকটিম ইউনুুসকেকে উদ্ধার করে। এ সময় পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে নিলয়কে হাতেনাতে আটক করে।

    পরবর্তী সময়ে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তার ঘর থেকে একটি সুটার গান ও এক গুলি উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় থানায় একটি মামলা রুজু করার প্রস্তুতি চলছে।

    শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, এর আগে তিনি সোনাডাঙ্গা থানায় অফিসার ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী পলাশ ও তার গ্রুপের বেশকিছু সদস্যকে গ্রেফতার করেছেন। খুলনায় দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি তার প্রথম বড় অভিযান, যার মাধ্যমে তিনি দৃঢ়ভাবে ঘোষণা দেন, এলাকায় কোন সন্ত্রাসীদের স্থান হবে না।

  • জনসংখ্যা বাড়লেও স্বাস্থ্যসেবা ও পরিষেবা ঝুঁকিতে: ফিরোজ সরকার

    জনসংখ্যা বাড়লেও স্বাস্থ্যসেবা ও পরিষেবা ঝুঁকিতে: ফিরোজ সরকার

    খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ ফিরোজ সরকার বলেছেন, দেশের জনসংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার ফলে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জেও পড়ে যাচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা এবং পরিষেবাগুলো। তিনি একমত প্রকাশ করে বলেন, এই অতিরিক্ত জনসংখ্যার জন্য স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থা গঠন অপরিহার্য। এ ধরনের প্রকল্পের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সম্ভাব্যতা যাচাই এবং এর সুষ্ঠু কার্যকরী মনিটরিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সোমবার দুপুরে নগর ভবনের শহিদ আলতাফ মিলনায়তনে ‘‘ক্লাইমেট স্মার্ট ওয়াশ সিস্টেম ইন খুলনা সিটি কর্পোরেশন’’ শীর্ষক প্রকল্পের পরিচিতি অনুষ্ঠানকালে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। ইউনিসেফের অর্থায়ন ও কারিগরি সহযোগিতায় খুলনা সিটি কর্পোরেশন ও খুলনা ওয়াসা এই প্রকল্প যৌথভাবে বাস্তবায়ন করবে। তিনি আরও বলেন, প্লাস্টিক পানির ব্যবহার কমানোর পাশাপাশি মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে সজাগ থাকতে হবে। হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে নির্গত বর্জ্যর সঙ্গে অন্য বর্জ্য মিশে যায়, যা একজনের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি সৃষ্টি করে। নার্স ও ক্লিনারদের প্রশিক্ষণে এমন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন। এছাড়া, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও লবণাক্ত পানির প্রভাবে কৃষি উৎপাদন হ্রাস পাওয়ায় আশপাশের গ্রামীণ ও উপকূলীয় এলাকার মানুষ শহরে আসছে। তারা বিভিন্ন বস্তিতে বাসস্থান গ্রহণ করছে, যেখানে পানি সরবরাহ, স্বাস্থ্যসেবা, স্যানিটেশন ও শিক্ষা ক্ষেত্রে ব্যাপক সমস্যা দেখা দিয়েছে। ফলে মহিলাসহ শিশুরা পানিবাহিত রোগ, চর্মরোগ, শ্বাসকষ্ট এবং প্রজনন সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতায় আক্রান্ত হচ্ছে। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো এমন বস্তিবাসীদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা, স্যানিটেশন ও হাইজিনের মান উন্নত করা। প্রাথমিকভাবে, নিরাপদ পানীয় জল সরবরাহের জন্য ওয়াটার এটিএম বুথ, দূষিত পানি পরিশোধনাগার ও মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এতে প্রায় ৮০ হাজার মানুষ উপকৃত হবেন বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) শরীফ আসিফ রহমান। উপস্থিত ছিলেন প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, যোগাযোগ কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কোহিনুর জাহান, পরিকল্পনা অফিসার আবির উল জব্বার, বাজেট কর্মকর্তা মোঃ মনিরজ্জামান, নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মোঃ মাসুদ করিম, আর্কিটেক্ট রেজবিনা খানম, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোল্লা মারুফ রশিদ, ওয়ার্ডের বিভিন্ন কর্মকর্তাগণ। এছাড়াও খুলনা ওয়াসা, ইউনিসেফ ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্যরা এই সভায় উপস্থিত ছিলেন।

  • নির্বাচন অফিস ঘেরাও ৩য় দিন অব্যাহত, নেতাকর্মীরা তাবু টানিয়ে অবস্থান করছেন

    নির্বাচন অফিস ঘেরাও ৩য় দিন অব্যাহত, নেতাকর্মীরা তাবু টানিয়ে অবস্থান করছেন

    বাগেরহাটে চারটি সংসদীয় আসন ধরে রাখতে ও তাদের আওতায় আনতে গত তিনদিন ধরে জেলা নির্বাচন অফিসের ঘেরাও ও অবরোধ অব্যাহত রেখেছেন বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা। বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেই তারা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে একটি তাবু লাগিয়ে অবস্থান নিয়েছেন। সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে মিছিল নিয়ে সেখানে জড়ো হতে শুরু করে।

    আসন্ন দুর্গাপূজার শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির নেতারা। তারা জানিয়েছেন, তাদের দাবি মানা না হলে এ আন্দোলন চলবে এবং প্রয়োজনে আরো কঠোর আন্দোলন করতে তারা প্রস্তুত। এই প্রতিবাদে তারা বলছেন, না মানা পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

    সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির কো-অভিনেতা ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ সালাম বলেন, “আজ তৃতীয় দিন চলছে জেলা নির্বাচন অফিস ঘেরাও ও অবস্থান ধর্মঘট। আমরা ইতিমধ্যে আদালতে রিট দায়ের করেছি, আদালত প্রাথমিকভাবে ১০ দিনের রুল জারি করেছে। আমাদের দাবি মানা না হলে আন্দোলন চালিয়ে যাব।” তিনি আরও জানিয়েছেন, প্রয়োজনে অসহযোগ আন্দোলন চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন।

    অপরদিকে, বাগেরহাটে চারটি সংসদীয় আসন সংক্রান্ত ঘোষণা নিয়ে হাইকোর্ট এক রুল জারি করেছেন। এতে জানতে চাওয়া হয়েছে, কেন এই চারটি আসন বহাল থাকবে না এবং কেন এক আসন কমিয়ে তিনটি করা হবে না। একইসঙ্গে, কেন নির্বাচনী গেজেটে এই পরিবর্তন অবৈধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। আদালত আগামী ১০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

    গত ৩০ জুলাই দুপুরে নির্বাচনের জন্য প্রাথমিকভাবে বাগেরহাটের চার আসনই থাকছে বলে ঘোষণা দেয়া হয়। এরপর থেকেই এলাকায় আন্দোলন শুরু হয়। চারটি আসন বহাল রাখার দাবিতে নির্বাচন কমিশনের শুনানিতেও অংশগ্রহণ করেন বাগেরহাটবাসী। কিন্তু ৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন শুধু সীমানা পরিবর্তন করে তিনটি আসনই চূড়ান্ত করে ঘোষণা করে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে স্থানীয় নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, এতে সাধারণ মানুষের আকাঙ্খা ও দাবিকে উপেক্ষা করা হয়েছে।

    চূড়ান্ত গেজেটে বাগেরহাটের আসনগুলো হলো: বাগেরহাট-১ (বাগেরহাট সদর, চিতলমারী, মোল্লাহাট), বাগেরহাট-২ (ফকিরহাট, রামপাল, মোংলা) ও বাগেরহাট-৩ (কচুয়া, মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা)।

    প্রাথমিক অবস্থা অনুযায়ী, আগে এই চারটি আসন ছিল: বাগেরহাট-১ (চিতলমারী, মোল্লাহাট, ফকিরহাট), বাগেরহাট-২ (বাগেরহাট সদর, কচুয়া), বাগেরহাট-৩ (রামপাল, মোংলা) ও বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা)। দীর্ঘদিন ধরে এই চারটি আসনের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল।

  • মোংলায় ৬৮৮ পিস ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারী আটক

    মোংলায় ৬৮৮ পিস ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারী আটক

    কোস্ট গার্ড ও পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে মোংলা বন্দরের পুরাতন আবাসিক এলাকার একটি বাড়ি থেকে ৬৮৮ পিস ইয়াবা ও এক নারী মাদক কারবারীকে আটক করেছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের মিডিয়া অফিসার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মুনতাসির ইবনে মহসিন এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

    অভিযানটি গোপন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ঘটেছে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর বুধবার দুপুরের পর, কোস্ট গার্ডের নৌবাহিনী ও মোংলা থানার পুলিশ সম্মিলিতভাবে মোংলা পোর্টের পুরাতন আবাসিক এলাকা, কবরস্থান রোড সংলগ্ন এলাকায় এক বিশেষ অভিযান চালায়। এ সময় শুমী বেগম নামে এক নারী মাদক কারবারীকে গ্রেফতার করা হয়। তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৩ লাখ ৪৪ হাজার টাকার সমান মূল্যবান ৬৮৮ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

    আটককৃত শুমী বেগম ও জব্দদ্রব্যের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাকে মোংলা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

    কোস্ট গার্ড এর কর্মকর্তা লে: কমান্ডার মুনতাসীর ইবনে মহসিন জানান, মাদক ব্যাবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের সতর্ক ও কঠোর পদক্ষেপ চালিয়ে যাবে, যাতে মাদক প্রবেশ ও মোটরসাইকেল বন্ধ করা যায় এবং সমাজকে মাদকমুক্ত করা সম্ভব হয়।

  • মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীদের জন্য হেলমেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক : কেএমপি কমিশনার

    মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীদের জন্য হেলমেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক : কেএমপি কমিশনার

    খুলনা মহানগর পুলিশের (কেএমপি) কমিশনার মো: জুলফিকার আলী হায়দার স্পষ্ট করেছেন, সব মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীকে অবশ্যই হেলমেট পরতে হবে। তিনি সবাইকে একযোগে কাজ করে খুলনার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং সুনিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। বুধবার সকালে বয়রাস্থ পুলিশ লাইন্সে অনুষ্ঠিত কেএমপির কল্যাণ সভায় এই নির্দেশনা দেন তিনি। সভার শুরুতে গত সভার প্রস্তাবনা ও তার বাস্তবায়ন পরিস্থিতি আলোচনা হয়। পাশাপাশি, কমিশনার বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশের সদস্যদের দাবি-দাওয়ার দ্রুত সমাধানে নির্দেশনা দেন। বিবৃতি দিতে গিয়ে তিনি বলেন, সকল স্তরে পুলিশের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আন্তরিকতার সাথে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। পুলিশ লাইন্সের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়েও তিনি প্রশংসা করেন। পুলিশ সদস্যদের শারীরিক সুস্থতা ও রোগ প্রতিরোধের জন্য মৌসুমি ফল খাওয়ার পরামর্শ দেন। সভায় খুলনা বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা: সৈয়দ একেএমএন করিম জানান, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মতো রোগের প্রতিরোধে সতর্কতা অবলম্বন ও দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার গুরুত্ব রয়েছে। দীর্ঘ চাকরি শেষে দুই পুলিশ সদস্য অবসরে গেলে, তাদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও উপহার দিয়ে সম্মানিত করা হয়। তারা সুস্থ থাকবেন ও দীর্ঘায়ু লাভ করবেন এই কামনা জানানো হয়। সভায় অতিরিক্ত কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ, মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা অংশ নেন।

  • স্বর্ণের দাম reaches সর্বোচ্চ পর্যায়ে, ভবিষ্যত অস্থিরতার আশঙ্কা

    স্বর্ণের দাম reaches সর্বোচ্চ পর্যায়ে, ভবিষ্যত অস্থিরতার আশঙ্কা

    বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম এখন একটি নতুন শিখরে পৌঁছেছে, যা বেশ কয়েক বছরworker পরিণত হয়েছে। এর পেছনে মূল কারণ হিসেবে প্রকাশ পাচ্ছে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের upcoming সিদ্ধান্তের প্রত্যাশা। মার্কিন ডলার দুর্বল হয়ে পড়ায় স্বর্ণের মূল্য বেড়ে গেছে, বিশেষ করে ফেডের বৈঠকের আগে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

  • পাঁচ ব্যাংক একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত, প্রশাসক নিয়োগের প্রস্তুতি চলছে

    পাঁচ ব্যাংক একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত, প্রশাসক নিয়োগের প্রস্তুতি চলছে

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন চূড়ান্ত করেছে পাঁচটি শরিয়াভিত্তিক বেসরকারি ব্যাংককে একীভূত করার সিদ্ধান্ত। এই একীভূতকরণ প্রক্রিয়া পরিচালনা করতে একটি পাঁচ সদস্যের প্রশাসক টিম গঠন করা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে মঙ্গলবার একটি বিশেষ বোর্ড সভার শেষে মুখপাত্র মোঃ আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানান, সভায় সভাপতিত্ব করেন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। এই সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের বোর্ড সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

    মুখপাত্র জানান, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর বোর্ড সদস্যরা একীভূতকরণের বিষয়ে সর্বসম্মত হয়েছেন। এই প্রক্রিয়া বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রণীত ‘ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ’ অনুযায়ী সম্পন্ন হবে। আরিফ হোসেন খান বলেন, মার্জার বা একীকরণ এক দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া, যা সম্পন্ন হতে সময় লাগবে প্রায় দুই বছর। তবে এখন থেকে এর প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত, এবং খুব শিগগিরই এই প্রকল্প দৃশ্যমান হবে।

    প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে, একটি পাঁচ সদস্যের প্রশাসক টিম গঠন করা হবে যা এই বিষয়ের দেখভাল করবে। তিনি আরও জানান, ব্যাংকগুলো দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করবে বর্তমান ব্যবস্থাপনা টিম। প্রতিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তার পদে বহাল থাকবেন। তবে এই একীকরণ প্রক্রিয়ায় ব্যাংকদের পর্ষদ বা বোর্ড বাতিল করা হবে না, বরং ধীরে ধীরে তারা নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে। এই প্রশাসক টিম নিয়মিত তাদের অগ্রগতি ও আপডেট বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত ডেপুটেমেন্টে জানাবে।

    এছাড়াও, সভায় ব্যাংক রেজুলেশন অর্ডিন্যান্স ও বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন নিয়ম নিয়ে আলোচনা হয়। গত মঙ্গলবার ব্যাংকগুলো মূলত আলোচনা করে খেলাপি ঋণ আদায়, বিভিন্ন উদ্যোগ ও সিদ্ধান্তসমূহ।

    সরকারের সিদ্ধান্তের আলোকে, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংক একীভূত হয়ে নতুন একটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংক গঠন করা হবে, যার সম্ভবত নাম হবে ‘ইউনাইটেড ইসলামী ব্যাংক’। এই ব্যাংকের লাইসেন্স ইস্যু করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

    গত ২ সেপ্টেম্বর থেকে তিন দিন ধরে এই পাঁচ ব্যাংকের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ফার্স্ট সিকিউরিটি, গ্লোবাল ইসলামী ও ইউনিয়ন ব্যাংক বোর্ড একীভূত হওয়ার পক্ষে মত দিয়েছে। অন্যদিকে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক বিরোধিতা করে।

    একীভূত করার প্রক্রিয়ায়, গত ৭ সেপ্টেম্বর সরকার ৩৫ হাজার কোটি টাকার মূলধন বরাদ্দ দিয়েছে, যার মধ্যে ২০ হাজার ২০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। এই সব সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট সকলের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।

  • বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও ৩১ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম

    বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও ৩১ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম

    দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও বৃদ্ধি পেয়ে ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী, এই রিজার্ভ বর্তমানে ২৬.০৮ বিলিয়ন ডলার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর আগে, দেশের রিজার্ভ ছিল ৩০.৫৯ বিলিয়ন ডলার, যেখানে বিপিএম-৬ অনুযায়ী মূল রিজার্ভ ছিল ২৫.৭৫ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক তথ্যে জানা গেছে, দেশের মোট গ্রস রিজার্ভ এখন ৩১.০১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। তবে, দেশের প্রকৃত বা নিট রিজার্ভের হিসাব আলাদা, যা শুধু আইএমএফকে জানানো হয় এবং প্রকাশ করা হয় না; এই হিসাব অনুযায়ী রিজার্ভ এখন ২১ বিলিয়ন ডলার পার হয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, দেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আসার অন্যতম কারণ হলো প্রবাসী আয়, রফতানি থেকে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা, বিদেশি বিনিয়োগ এবং অন্যান্য বৈদেশিক ধারকদের মাধ্যমে ডলার আসা। এরপর দেশ থেকে বিদেশে ঋণ পরিশোধ, বেতন-ভাতা ও নানা খাতে ব্যয় হওয়া ডলার দেশের রিজার্ভ কমিয়ে দেয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ের বৈদেশিক মুদ্রার পরিস্থিতি ইতিবাচক, কারণ রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি এবং রেমিট্যান্স প্রবাহের কারণে বৈদেশিক মুদ্রার অস্থিরতা কমেছে।

    উল্লেখ্য, এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করতে হয়নি, বরং ব্যাংকগুলো থেকে ডলার সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চলমান সময়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ সেপ্টেম্বর পাঁচটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছ থেকে ১৩.৪ কোটি ডলার এবং ২ সেপ্টেম্বর আট ব্যাংকের কাছ থেকে ৪.৭৫ কোটি ডলার কোলাকৃত হয়।

    গত অর্থবছর অর্থাৎ ২০২৪-২৫ সালে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩০.৩৩ বিলিয়ন ডলার, যা মোট দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুতের বড় অবদান। এই অর্থ পৌঁছায় মোট ২৪৭.৭৯ কোটি ডলার জুলাই মাসে এবং ২৪২.২ কোটি ডলার আগস্ট মাসে। অন্যান্য মাসের রেমিট্যান্সের পরিমাণও দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।

    অতিরিক্তে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রেমিট্যান্স ছিল ২৩.৯১ বিলিয়ন ডলার। বিগত বছরগুলোর তুলনায় রেমিট্যান্স প্রবাহ বরাবরই ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১৩ সালে দেশের রিজার্ভ ছিল মাত্র ১৫.৩২ বিলিয়ন ডলার, যা পরবর্তী বছরগুলোতে ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২১ সালে ৪৮.০৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। এরপর বৈদেশিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনে রিজার্ভ কিছুটা কমলেও, বর্তমানে পুনরায় বৃদ্ধি পাচ্ছে।

  • স্বর্ণের দাম রেকর্ড গড়ার পর পতন

    স্বর্ণের দাম রেকর্ড গড়ার পর পতন

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। দীর্ঘ আট দফা মূল্যবৃদ্ধির পরে আজ থেকে নতুন দাম কার্যকর হচ্ছে। চাহিদা ও বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের জন্য সুখবর।

    নতুন দাম অনুযায়ী, সবচেয়ে মানসম্পন্ন ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৮৮ হাজার ১৫২ টাকা নির্ধারিত হয়েছে। এর আগে গত মাসে অন্তত দুই দফা ও চলতি মাসে ছয় দফা দাম বেড়ে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছিল, যা ছিল ১ লাখ ৮৯ হাজার ৬২২ টাকা। এই দামে স্বর্ণের চাহিদা কমতে শুরু করেছে, যা স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের জন্য ইতিবাচক খবর।

    বাজুসের এই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সম্প্রতি দেশের স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের মূল্য কমে গেছে। এর ফলে নতুন দাম নির্ধারণের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

    নতুন দামে, ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৮৮ হাজার ১৫২ টাকা, ২১ ক্যারেটে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৬০২ টাকা, ১৮ ক্যারেটে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৯४১ টাকা এবং সনাতন প্রথায় এক ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ২৭ হাজার ৬৭৪ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।

    অপরিবর্তিত থাকছে রুপার দাম, যেখানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৪৭৬ টাকা, ২১ ক্যারেটে ৩ হাজার ৩১৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটে ২ হাজার ৮৪৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতিতে ২ হাজার ১৩৫ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।

    বাজুসের তথ্যানুসারে, স্বর্ণ বিক্রির ক্ষেত্রে সরকারের নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুসের নির্ধারিত ৬ শতাংশ ন্যূনতম মজুরি যোগ করতে হবে। তবে গহনা তৈরির ডিজাইন ও মান অনুযায়ী মজুরির হারে পরিবর্তন আসতে পারে, যা ব্যবসায়ীদের জন্য স্বাভাবিক।

  • পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দুই কোম্পানির শেয়ার কারসাজির দুর্নীতি, জরিমানা ও নিষেধাজ্ঞা

    পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দুই কোম্পানির শেয়ার কারসাজির দুর্নীতি, জরিমানা ও নিষেধাজ্ঞা

    পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দুটি কোম্পানির শেয়ার লেনদেনে কারসাজির মাধ্যমে সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) মোট ৪৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা জরিমানা আরোপ করেছে। এ সিদ্ধান্ত ৯৭২তম কমিশন সভায় নেওয়া হয়, যেখানে সভাপতিত্ব করেন বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নিউ লাইন ক্লোথিংস লিমিটেডের শেয়ার কারসাজির দায়ে মোট পাঁচজনের বিরুদ্ধে অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়েছে। এই ব্যক্তিরা হলেন মোঃ রিয়াজ মাহমুদ সরকার (১ কোটি ১৪ লাখ টাকা), আবুল বাসার (৪ কোটি ২ লাখ টাকা), সরকার প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিশিং (৪ কোটি ২৮ লাখ টাকা), মোঃ সেলিম (১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা) এবং জামিল (২ কোটি ২০ লাখ টাকা)। এই শাস্তির কারণে তাদেরকে ২০২১ সালের ২৪ মে থেকে ৫ জুলাইয়ের মধ্যে শেয়ার কারসাজির জন্য জরিমানা করা হয়।

    অন্যদিকে, পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের শেয়ার কারসাজিতে সংশ্লিষ্টতার জন্য এনআরবি ব্যাংকের তৎকালীন সিনিয়র অর্থ কর্মকর্তা মোহাম্মাদ কামরুল হাসানকে ৭৫ লাখ টাকার অর্থদণ্ড করা হয়েছে। তার সাথে এছাড়াও তাকে পদচূড়ান্ত ও চাকরি থেকে অবাঞ্ছিত করে পাঁচ বছর পুঁজিবাজারে অংশগ্রহণের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, কোম্পানির শেয়ার কারসাজির জন্য শেখ ফকরুল আহমেদকে ৩০ কোটি ৩২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এই অপরাধে তাদেরকে ২০২১ সালের ২৪ মে থেকে ৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দণ্ডিত করা হয়।

    এছাড়া, ফরচুন সুজ লিমিটেডের শেয়ার কারসাজির ঘটনায় ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, এই শেয়ার কারসাজিতে জড়িত থাকায় পুঁজিবাজারের আলোচিত ব্যক্তি মোঃ আবুল খায়ের হিরু ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরিষদে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।