Author: bangladiganta

  • আফগানদের হারিয়ে সুপার ফোরের আশা বজায় রাখলো বাংলাদেশ

    আফগানদের হারিয়ে সুপার ফোরের আশা বজায় রাখলো বাংলাদেশ

    তানজিদ হাসানের দুর্দান্ত হাফ সেঞ্চুরির জোরে প্রথম ১০ ওভারে বাংলাদেশ ৮৭ রান তুলেছিলো, তবে এরপর ব্যাটিংয়ে তারা ঠিকঠাক করার রাখতে পারেনি। এই কারণে ভালো শুরু পাবার পরও ১৫৪ রানে আউট হতে পারেনি বাংলাদশের ব্যাটসম্যানরা। লক্ষ্য অনুযায়ী দ্রুত রান সংগ্রহের চেষ্টায় আফগানরা নিয়মিত উইকেট হারাতে শুরু করে। নাসুম আহমেদ ও রিশাদের দুর্দান্ত স্পিনে তাদের ১৪৬ রানে আটকে দেয় বাংলাদেশ। এর ফলে, আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ৮ রানে জেতা বাংলাদেশ সুপার ফোরে খেলার স্বপ্ন টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হয় লিটন-তাসকিন আহমেদের দল।

    আফগানিস্তান শুরুতেই নাজুক পরিস্থিতিতে পড়ে। ইনিংসের প্রথম বলেই সেদিকউল্লাহ অটলের উইকেট হারায় তারা। নাসুম আহমেদের লেংথ ডেলিভারিতে ব্যাকফুটে গিয়ে খেলার চেষ্টায় লেগ বিফোরে আউট হন বাঁহাতি ওপেনার সেদিকউল্লাহ। একই ওভারে সেখানে মেইডেন হয় এবং উইকেটও পান নাসুম। দ্বিতীয় ওভারে বাংলাদেশ পেলো সুযোগ, ইব্রাহিম জাদরান কাট করতে গিয়ে কাটা পড়েন।

    দ্বিতীয় ওভারে স্ট্রাইক পান রিশাদ, তিনি বেশ কিছু ভালো ডেলিভারি করেন এবং ইব্রাহিমকে ফিরিয়ে দেন। ইব্রাহিমের ১২ বলে ৫ রানের ইনিংস এভাবেই শেষ হয়। আফগানরা প্রথম পাওয়ার প্লে-তে ২৭ রানে এগোতে পারেনি। তবে গুরবাজ ও গুলবাদিন বড় শট খেলার জন্য উঠে আসে, যদিও রিশাদ তাদের প্রথম জোড়া আউট করেন গুলবাদিনকে লিডিং এজে ক্যাচ করে। এরপর গুরবাজের ক্যাচ ইভেন্টে মহামূল্যবান হয়ে ওঠে।

    মোহাম্মদ নবি সঙ্গে কিছুটা ঝড় তুললেও শেষ পর্যন্ত রানের জগতে কিছুটা নীচে পড়ে। তাকে ফিরিয়েছেন মুস্তাফিজ। নবি ১৫ বলে ১৫ রানে আউট হন। এরপর আজমতউল্লাহ ওমরজাই স্বভাবতই ব্যাটে ঝড় তোলে। তিনি প্রথমে সাইফের চার ও দুই ছক্কা মারেন, পরে তাসকিনের ওভারে আবার ছক্কা মারেন। তবে ওমরজাইকে তাসকিন ফিরিয়ে দেন। করিম জানাতের রান আউটের পর রশিদ ও গাজানফারকেও ফেরান মুস্তাফিজ। আফগানদের রানের ঝুড়ি শেষ হয় ১৪৬।

    অন্যদিকে, টস জিতে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ শুরু থেকেই উজ্জীবিত হয়। পাওয়ার প্লেতে এক উইকেটও হারায়নি তারা। ওপেনার তানজিদ হাসান ও সাইফের দুর্দান্ত সূচনায় বাংলাদেশ দ্রুত শুরু করে। বিশেষ করে, তানজিদ মাত্র ২৮ বলে সাতটি ছোড়া উড়ান নিয়ে হাফ সেঞ্চুরি করেন যা বাংলাদেশের বড় সংগ্রহের পথ দেখায়। তবে অন্য ব্যাটাররা অনুকরণে সক্ষম হয় না, ফলে সংগ্রহ থামে ১৫৪ রানে।

    বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের দুরন্ত চাপের মধ্যে দুটি জোড়া উইকেট নেয় আফগান স্পিনার রশিদ ও নূর আহমেদ, তারা মাত্র ৮ ওভারে ৪৯ রান খরচ করে। এই স্পিনারদের বোলিংয়ের ফলে বাংলাদেশ উড়ন্ত সূচনা সংগ্রহ করলেও ফলাফল আশা অনুযায়ী হয়নি। সাইফ ২৮ বলে ৩০ রান করে বিদায় নেন, তবে অন্যপ্রান্তে তানজিদ ঝোড়ো ব্যাটিং চালিয়ে যান। তিনি ঢুকে পড়েন নিজের সপ্তম টি-টোয়েন্টি হাফ সেঞ্চুরিতে। ১০ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ হয় ৮৭/১, যা দলকে ভালো অবস্থানে নিয়ে যায়।

    তবে মধ্যভাগে কিছুটা চাপের মুখে পড়ে। তাওহীদ হৃদয় ২০ বলে ২৬ রানসহ আউট হন, আর শামীম হোসেন ১১ বলে ১১ রান করেন। শেষের দিকে জাকের ব্যাটে চাপ বাড়িয়ে ১২ রানে ১৩ বলে ১২ রান করেন। নুরুল হাসান সোহান ৬ বলে ১২ রান করে দলের রান ১৫২ পার করেন। অবশেষে, বাংলাদেশ সংগ্রহ করে ১৫৪ রান, যা তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটা সংগ্রহ।

  • পাকিস্তানি কিংবদন্তি সূর্যকুমারকে ‘শূকর’ বললেন

    পাকিস্তানি কিংবদন্তি সূর্যকুমারকে ‘শূকর’ বললেন

    ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের মধ্যে সাধারণত উত্তেজনা থাকেই, তবে এবার এই উত্তেজনার মাঝে একটি নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সব কিছু শুরু হয় গত রোববার দুবাইয়ে এশিয়া কাপের এক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে, যেখানে ভারত পাকিস্তানকে হারালো। এই জয়ের নায়ক ছিলেন ভারতের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। কিন্তু ম্যাচের পরের ঘটনাগুলি যেন আলোচনার শিরোনামে উঠে এসেছে, তা খেলার উত্তেজনাকে ছাপিয়ে গেছে।

    জয়ের পর সূর্যকুমার খেলোয়াড়রা সঙ্গে হাত মিলাননি, সেটি নিয়ে অনেকেরই সমালোচনা হয়েছে। টসের সময়ও পাকিস্তানের অধিনায়ক সালমান আলী আগার সঙ্গে তিনি কুশল বিনিময় করেননি। এই আচরণকে অনেকেই অখেলোয়াড়সুলভ বলে সমালোচনা করেছেন।

    এই বিতর্কের মাঝে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার মোহাম্মদ ইউসুফের হাত ধরে। এক টিভি আলোচনায় তিনি সূর্যকুমারকে ‘শূকর’ বলে গালি দেন। সঞ্চালক বারবার তাকে থামানোর চেষ্টা করলেও, ইউসুফ নিজেও যেন থামতে রাজি হননি। তিনি বলেছিলেন, ‘ভারত সিনেমার দুনিয়া থেকে বের হতে পারছে না। তারা আম্পায়ার ও ম্যাচ রেফারির মাধ্যমে জিতছে। এটা নিঃসন্দেহে লজ্জাজনক!’ এরপর তিনি আরও গালাগাল করতে থাকেন।

    এই মন্তব্য মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায় এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় শুরু হয়। ভারতের ক্রিকেট ভক্তরা ইউসুফের এই অশোভন আচরণের জন্য রীতিমতো ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

    ঘটনার দীর্ঘপরবর্তী সময়ে, ইউসুফ এক্স-এ (সাবেক টুইটারে) একটি পোস্টে বলেন, ‘আমি কাউকে অসম্মান করতেই চাইনি। আবেগে তার কথাগুলো বলে ফেলেছি। তবে এরকম পরিস্থিতি মনে করে দেখুন, যখন ইরফান পাঠান আফ্রিদিকে ‘ঘেউ ঘেউ করা কুকুর’ বলে ডেকেছিলেন, তখন ভারতের মিডিয়া সেটাকে প্রশংসা করেছিল!’

    ইউসুফ যে ঘটনা উল্লেখ করছেন, সেটি ২০০৬ সালের পাকিস্তান সফরে ইরফান পাঠানের এক পুরনো সাক্ষাৎকার থেকে নেওয়া। সেখানে পাঠান বলেছিলেন, ‘আফ্রিদি অনেকক্ষণ ধরে ঘেউ ঘেউ করছে, নিশ্চয়ই কুকুরের মাংস খেয়েছে।’ এরপর থেকে আফ্রিদি আর কখনো তার সঙ্গে কোনো বাকবিতণ্ডা করেননি। এই ঘটনাগুলি ফুটে উঠেছে শুধু ক্রীড়া নয়, বরং রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্কের পর্যায়ে।

  • বাংলাদেশের সামনে সুপার ফোরে যেতে গুরুত্বপূর্ণ সমীকরণ

    বাংলাদেশের সামনে সুপার ফোরে যেতে গুরুত্বপূর্ণ সমীকরণ

    এশিয়া কাপের ১৭তম আসরে জীবনের অন্তরবর্তীতেই বাঁচার জন্য একমাত্র পথ হলো আফগানিস্তানকে হারানো। এই জয়ে বাংলাদেশ প্রথম শর্ত পূরণ করেছে, তবে এখনো নিশ্চিত নয় তাদের সুপার ফোরের টিকিট। পঞ্চম ম্যাচের ফলাফলের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করছে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। ফলে, বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে সহজ সমাধান হলো শ্রীলঙ্কার জয় বা তার ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়া। যদি এভাবে শ্রীলঙ্কা জিতে বা ম্যাচ বাতিল হয়, তাহলে চার পয়েন্ট নিয়ে সরাসরি সুপার ফোরে পৌঁছে যাবে বাংলাদেশ।

    অন্যদিকে, যদি জিতে যায় আফগানিস্তান, তাহলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে যাবে। তিন দলের পয়েন্ট হবে সমান—৪—এবং তখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে নেট রান রেটের হিসাব। আফগানিস্তানের বর্তমান রেট +২.১৫০, শ্রীলঙ্কার +১.৫৪৬ এবং বাংলাদেশের -০.২৭০।

    এখন কী হতে পারে তার কিছু সম্ভাব্য চিত্র হলো: যদি আফগানিস্তান আগে ব্যাট করে ২০০ রান করে, আর শ্রীলঙ্কা ১২৮ রান করতে পারে—তাহলে সরাসরি বাংলাদেশ সুপার ফোরে নিশ্চিত হবে। আবার, আফগানিস্তান যদি ১৫০ রান করে, তবে শ্রীলঙ্কাকে করতে হবে কমপক্ষে ৮৪ রান।

    অন্যদিকে, যদি শ্রীলঙ্কা আগে ব্যাট করে, তাহলে আফগানিস্তান জিততেই হবে ১১-১২ ওভারেই, তখনই বাংলাদেশের সুপার ফোরে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

    সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এই সময়ে বাংলাদেশ শেষ চারের জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। ক্রিকেটপ্রেমীরা এখন শুধুমাত্র তাকিয়ে আছেন সুপার ফোরে বাংলাদেশের পথের জন্য শ্রীলঙ্কা-আফগানিস্তান ম্যাচের ফলাফলের দিকে।

  • অসহযোগিতা ও সমঝোতার মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের এশিয়া কাপে প্রত্যাবর্তন

    অসহযোগিতা ও সমঝোতার মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের এশিয়া কাপে প্রত্যাবর্তন

    পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)শেষ পর্যন্ত এশিয়া কাপ থেকে নিজেদের উপস্থিতি ধরে রাখার জন্য কঠোর অবস্থান থেকে সাময়িক পিছু হটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভারতীয় ক্রিকেটারদের সাথে হাত মেলানোর অস্বীকৃতিতে প্রতিবাদ জানিয়ে পিসিবি দ্ব্যর্থহীনভাবে অভিযোগ তোলে যে, ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফটের ভূমিকা ছিল এই ঘটনায়। তারা দাবি করে, যদি তাদের এই অভিযোগ মানা না হয়, তবে তারা এই টুর্নামেন্ট থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করবে। যদিও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) তাদের এই অভিযোগ নাকচ করে দেয়। এরফলে, নিজস্ব দাবিতে অনড় থাকা পিসিবি একটি সংবাদ সম্মেলনও বাতিল করে দেয়, যেখানে তারা তাদের মূল বক্তব্য উপস্থাপন করার কথা ছিল।

    এর মধ্যেই ক্রিকবাজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করমর্দন বিতর্ক ও সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতির উত্তরণে গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা হয়েছে। আইসিসি-প্রস্তাবিত আলোচনার ফলে এই চাপ কমে এসেছে এবং এশিয়া কাপের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশার আলো দেখা যাচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও ওমানের ক্রিকেট বোর্ড এই আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করছে বলে জানা গেছে।

    সূত্রের মতে, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) দাবির প্রেক্ষিতে—অ্যান্ডি পাইক্রফটকে টুর্নামেন্ট থেকে সরানোর দাবি আইসিসি মানেনি। তবে, জানা যাচ্ছে যে, আজ (বুধবার) পাকিস্তান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পরবর্তী ম্যাচে পাইক্রফটের বদলে অন্য আইসিসির রেফারি, রিচি রিচার্ডসন, দায়িত্ব নেবেন। তবে, পাইক্রফট টুর্নামেন্টের ম্যাচ অফিসিয়াল হিসেবে থাকবেন। এটি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।

    প্রাথমিকভাবে, পিসিবি কঠোর অবস্থান নিলেও, শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতির অবনতি এড়াতে তাদের পিছু হটতে হয়। পাকিস্তানের অভিযোগ ছিল যে, ভারতীয় ম্যাচে পাইক্রফট পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করেছিলেন। যদিও আইসিসি এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে। এরপর ওমান ও ইউএই বোর্ডের কর্মকর্তারা আলোচনা চালিয়ে যান এবং পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধানে কিছু ‘ফেস সেভিং’ পরিবর্তন আনা হয়।

    অবশ্য, এখনো পিসিবি বা আইসিসি থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষনা আসেনি, তবে গতকাল (মঙ্গলবার) পিসিবির মুখপাত্র আমির মীর জানিয়েছেন, “আলোচনThings চলছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আজই জানানো হবে। পাকিস্তানের স্বার্থ বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” উল্লেখ্য, পিসিবির প্রধান মহসিন নাকভি ইসলামাবাদ থেকে লাহোরে ফেরার পর বোর্ডের একটি জরুরি বৈঠক হয়। সেখানে সরকারের পর্যায়ে আলোচনা বাকিটা বিষয় নিয়ে চর্চা হয়, যেখানে করমর্দন বিতর্ক, পরিস্থিতির প্রভাব এবং আইসিসির সঙ্গে সম্পর্কের অচলাবস্থার বিশদভাবে আলোচনা হয়।

  • বিসিবি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা

    বিসিবি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা

    আগামী ৪ অক্টোবর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর জন্য গত সপ্তাহে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়, যা নির্বাচনের পরিচালনা করবে।

    সম্প্রতি, বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) পূর্ণাঙ্গ ভোটের tফসিল প্রকাশ করা হয়েছে। নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু হবে ২০ সেপ্টেম্বর থেকে, যার মধ্যে রয়েছে ভোটার তালিকা প্রকাশ, মনোনয়নপত্র বিতরণ ও জমা, যাচাই-বাছাই, চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা, ভোটদান এবং ফলাফল ঘোষণা।

    বিশদ বিবরণে জানা যায়:
    – ২০ সেপ্টেম্বর: ভোটার তালিকার খসড়া প্রকাশ ও আপত্তি গ্রহণ শুরু
    – ২১ সেপ্টেম্বর, দুপুর ১টার মধ্যে আপত্তি দাখিলের সময়সীমা
    – ২১ সেপ্টেম্বর বিকাল সাড়ে ৪টায়: চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হবে
    – ২২-২৩ সেপ্টেম্বর: মনোনয়নপত্র বিতরণ
    – ২৫ সেপ্টেম্বর: মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন
    – ২৬ সেপ্টেম্বর: মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ও বৈধ প্রার্থী তালিকা প্রকাশ
    – ২৭ সেপ্টেম্বর: আপিল ও শুনানি
    – ২৮ সেপ্টেম্বর: প্রার্থিতা প্রত্যাহার ও বৈধ প্রার্থীদের তালিকা স্থির করা হবে
    – ২৮ সেপ্টেম্বর: ডাক ও ই-ব্যালট বিতরণ
    – ৪ অক্টোবর: ভোটগ্রহণ ও প্রাথমিক ফলাফল ঘোষণা
    – ৫ অক্টোবর: চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা

    এটি প্রত্যাশা করা হচ্ছে, এ তফসিলের মাধ্যমে বোর্ড নির্বাচনের সব প্রক্রিয়া স্বচ্ছতা ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে।

  • গাজায় ভয়াবহ সামরিক অভিযান, ইসরায়েল নতুন করে একা হয়ে পড়ছে

    গাজায় ভয়াবহ সামরিক অভিযান, ইসরায়েল নতুন করে একা হয়ে পড়ছে

    গাজায় ভয়াবহ সামরিক অভিযানে নিযুক্ত হয়ে আরও একা হতে চলছে ইসরায়েলি সরকার। ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে গাজা শহরে শুরু হয় ইসরায়েলি সেনাদের বিতর্কিত স্থল অভিযান। পরদিন সকালে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা করেন, এই মুহূর্তটি ইসরায়েলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিমান হামলা এবং কামানবর্ষণের মাধ্যমে নির্বিচার হামলার পাশাপাশি, ইসরায়েলি সেনারা শহরের কেন্দ্রীয় এলাকাগুলোর দিকে অগ্রসর হচ্ছেন। দুই ডিভিশন শহরটির কাছে অবস্থান নেওয়া হয়েছে, আর রিজার্ভ টিমের დამატি ডিভিশন প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এখন পর্যন্ত সেনারা শহরের উপকণ্ঠে অবস্থান করছেন, এবং তিন দিক থেকে গাজা শহরকে ঘিরে রেখেছেন। বেসামরিক নাগরিকদের জন্য পশ্চিমে উপকূলীয় সড়কটি খোলা রাখা হয়েছে যাতে তারা দ্রুত দক্ষিণের দিকে পালাতে পারেন। তবে অনেক বাসিন্দা এখান থেকে যাচ্ছেন না। আনুমানিক দুই থেকে সাড়ে তিন লাখ মানুষ শহর ছেড়ে গেলেও, এখনও প্রায় ছয় লাখ মানুষ অপারগভাবে অবস্থান করছেন। বহু পরিবার বারবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং স্বজন হারিয়েছে। পরিবহন এবং তাঁবুর দামে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি হওয়ায় নিরাপদে দক্ষিণে পালানো অনেকের জন্য এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে, ক্রমাগত বোমাবর্ষণে সত্ত্বেও অনেক মানুষ গাজা শহরেই থাকছেন। এই পরিস্থিতি মনে হয় প্রথম বড় আক্রমণের পুনরাবৃত্তি, যেখানে ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় ধ্বংসযজ্ঞ চালায় এবং হামাসকে নিশ্চিহ্ন করার প্রতিশ্রুতি দেয়। ইতিমধ্যে দুই বছরে অন্তত ৬৪ হাজার ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছে, যার বেশিরভাগই সাধারণ মানুষ। বাড়ি বাড়ি ধ্বংসের পাশাপাশি বহু এলাকায় মানুষ অনাহারে ভুগছেন। এ পরিস্থিতিতে ইসরায়েলে নতুন করে যুদ্ধবিরোধী মনোভাব বেড়ে উঠছে। ২২ মাস আগে গাজায় প্রথম হামলার সময় জনসমর্থন ছিল বেশ সমর্থনযোগ্য। কিন্তু বর্তমানে সাধারণ ইসরায়েলিরা বেশীরভাগই যুদ্ধ চালিয়ে যেতে না পেরে, বরং যুদ্ধবিরতির পক্ষে। সামরিক প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইইয়াল জামিরও মনে করেন, হামাসকে পুরোপুরি ধ্বংস করা সম্ভব নয় এবং দীর্ঘমেয়াদী এই লড়াইয়ে জিম্মিদের জীবনও ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তিনি সুপারিশ করেন, যুদ্ধবিরতি রাখা উচিত, যাতে জিম্মিদের মুক্তি সহজ হয়। আশঙ্কা করা হচ্ছে, গাজায় অভিযান চলাকালে কিছু জিম্মিকে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। নেতানিয়াহুর বাসভবনের সামনে জেরুজালেমে জিম্মিদের স্বজনরা বিভিন্ন সময় বিক্ষোভ করেছেন, তাঁদের অভিযোগ, এই পদক্ষেপ সন্তানদের প্রাণের ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। আন্তর্জাতিক চাপও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইসরায়েলের রাজনৈতিক এবং সামরিক নেতাদের মধ্যে মতপার্থক্য নতুন কিছু নয়, তবে এইবার বাস্তবতা ভিন্ন। নেতানিয়াহু সব ভেবে ফেলেছেন, কারণ তার টিকে থাকার জন্য অত্যন্ত দক্ষিণপন্থি মিত্রদের সমর্থন প্রয়োজন। অন্যদিকে, জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের বিশেষজ্ঞ প্যানেল ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ এনেছে। ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ, যেমন ফ্রান্স এবং যুক্তরাজ্য, দ্রুত ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নও ইসরায়েলের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি পুনর্বিবেচনা করার হুমকি দিয়েছে। আমেরিকা এখনো ইসরায়েলকে সমর্থন দিচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্রুত হামাসকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, সব বন্ধ করে জিম্মিদের মুক্তি দিতে হবে। তবে কূটনীতিক মহলের ধারণা, এই অভিযান শেষ পর্যন্ত পুরোপুরি হামাসের ক্ষমতাহানিই দুর্বল করতে পারেনা, তাহলে ওয়াশিংটন চাপ দিয়ে যুদ্ধবিরতি আনায়ত্ত করতে চাইবে। এই নতুন আক্রমণ গাজায় ইসরায়েলের জন্য বিজয় নয়, বরং আরও রক্তক্ষয়, ফিলিস্তিনের অসহনীয় দুর্ভোগ এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একাকিত্ব বাড়াবে।

  • ঘর-বাড়ি থেকে ফিলিস্তিনিদের উৎখাতের চেষ্টা করছে ইসরায়েল

    ঘর-বাড়ি থেকে ফিলিস্তিনিদের উৎখাতের চেষ্টা করছে ইসরায়েল

    গাজা উপত্যকা এখন পুরোপুরি ধ্বংসের স্তূপে পরিণত হয়েছে, চারদিকে বোমা বর্ষণের ফলে বাড়ি-ঘর, দামাল লাশ এবং রক্তে ভিজে রয়েছে পথের প্রকৃতি। এই পরিস্থিতিতে গাজা সিটির বাসিন্দারা জীবন বাঁচানোর জন্য মরিয়া হয়ে ছুটছেন, চেষ্টা করছেন কোথায় যেন নিরাপদ আশ্রয় পেতে।

    বহুকালের ধর্ষণ ও হত্যাযজ্ঞের পর ইসরায়েলি সেনাবাহিনী একটি অস্থায়ী গেটওয়ে খুলে দিয়েছে গাজার মানুষরা যেন পালাতে পারেন। তবে, এ সুযোগ মাত্র ৪৮ ঘণ্টার জন্য। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা, বিবিসি, এপি, সিএনএন ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    সালাহউদ্দিন সড়ক দিয়ে দক্ষিণের দিকে যাবার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লক্ষ লক্ষ মানুষকে এই পথ দিয়ে যেতে হবে, কিন্তু কোথায় যাবে তার কোনও চূড়ান্ত নির্দেশনা বা গন্তব্য এখনো নিশ্চিত নয়। অজানা ভবিষ্যতের দিকে ছুটে চলা মানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এগিয়ে যাওয়া, যেন এটি মুক্তির পথ নয়, বরং এক অনিশ্চিত জীবনযুদ্ধ।

    ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র অ্যাভিচাই আদ্রি জানিয়েছেন, বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত ৪৮ ঘণ্টা কল্যাণে সালাহউদ্দিন সড়ক ব্যবহার করে গাজা সিটির বাসিন্দারা দক্ষিণে যেতে পারবেন। তবে, এই রুটটি সরাসরি অন্য দিকে যাচ্ছে না; এটি একটি নেটজেরিম করিডর দিয়ে গাজাকে বিভক্ত করে রেখেছে, যা ২০২৪ সালে ইসরায়েল নিরাপত্তা অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করে। এই পথটি মূল রাস্তার তুলনায় প্রায় ১.৬ কিলোমিটার দীর্ঘ। আদ্রি আরও জানিয়েছেন, শহরের কেন্দ্রীয় সালাহউদ্দিন সড়কের ভেতর দিয়ে অন্য একটি বিকল্প পথও খোলা হবে।

    গাজার শেখ রাদওয়ান এলাকার ৩২ বছর বয়সি মা লিনা আল-মাঘরেবী বিবিসিকে বলেছেন, তাঁতের খরচ জোগানোর জন্য গহনা বিক্রি করতে হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই কূটকৌশলটি আসলে গাজাবাসীদের মুক্তির পথ নয়, বরং অবরুদ্ধ জনগোষ্ঠীকে আরও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেওয়ার পরিকল্পনা। কারণ, পথে গেলেও তাদের জীবনের নিশ্চয়তা আপাতত নেই।

    অবশ্য, এই ঘোষণা আসার আগেই শহরটিতে ইসরায়েলির হামলা আরও বাড়ছে। মঙ্গলবার থেকে শুরু হয় ব্যাপক স্থল অভিযান। গাজা সিটির উত্তর-পশ্চিমের শেখ রাদওয়ান এলাকায় বোমা ভর্তি রোবট দিয়ে আঘাত হেনেছে ইসরায়েলি সেনারা। শহরজুড়ে তীব্র হামলা অব্যাহত থাকায় অসংখ্য বাসিন্দা ঘর থেকে বের হয়ে আসছে।

    গাজা সিটির আল-রানতিসি শিশুহাসপাতালেও চলেছে ইসরায়েলি বর্বরতা। হাসপাতালে হামলার নিন্দা জানিয়ে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা এ ধরনের ধারাবাহিক হামলার শিকার হয়েছে; তবে এতে হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ধারণা করা হচ্ছে, কমপক্ষে ৪০ জন রোগী হাসপাতালে থেকে পালিয়ে এসেছে।

    এছাড়াও, দেইর আল-বালাহতে গুলিবর্ষণ ও আর্মড হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি সেনারা। গত ২৪ ঘণ্টায় গাজায় আরও ৫১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই গাজা সিটির বাসিন্দা।

    গাজায় চলমান এ মার্কিন-প্রচণ্ড স্থলহামলায় দুই ডিভিশনের প্রায় ২০ হাজার সেনা অংশ নিয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এতে শহরের সুযোগ-সুবিধা যেমন দ্রুত বন্ধ হয়ে গেছে, তেমনি টেলিফোন ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় পুরো শহরটি বিশ্ব থেকে আলাদা হয়ে গেছে।

    অন্যদিকে, ইসরায়েলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা করছে ইউরোপীয় কমিশন, যা ইসরায়েলের সঙ্গে বিশেষ বাণিজ্য সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলবে। মূলত, ২০২৪ সালে ইসরায়েল ও ইউরোপের মধ্যে মোট বাণিজ্যের ৩৭ শতাংশই এই সুবিধাজনক বাণিজ্য চুক্তির আওতায়।

    ইউরোপীয় বৈদেশিক নীতি প্রধান কাজা কাল্লাস বলেছেন, এই পদক্ষেপ ইসরায়েলের জন্য বিপদ ডেকে আনবে। তবে, এটি কার্যকর করতে হলে ইউরোপের সব সদস্য দেশের সম্মতিপ্রাপ্ত সমর্থন দরকার, যা সহজ নয়।

    এদিকে, গাজার অবরুদ্ধ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে মানবিক সহায়তা জোরদার করতে আহ্বান জানিয়েছেন বিভিন্ন মানবাধিকার ও সাহায্য সংস্থার নেতারা। তারা বলছেন, চলমান যুদ্ধের কারণে এখানে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৬৪ হাজার ৯৬৪ জন, আহত হয়েছেন ১ লাখ ৬৫ হাজার ৩২১ জন। এই ভয়াবহ সংকটে গাজা পুনরুদ্ধারে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের প্রয়োজন রয়েছে।

  • পাকিস্তান-সৌদি আরবের মধ্যে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর: আক্রান্ত হলে একসঙ্গে রক্ষা করবে দু’দেশ

    পাকিস্তান-সৌদি আরবের মধ্যে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর: আক্রান্ত হলে একসঙ্গে রক্ষা করবে দু’দেশ

    পাকিস্তান ও সৌদি আরব গতকাল বুধবার একটি ঐতিহাসিক কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তি অনুযায়ী, যদি কোনো এক দেশকে আগ্রাসনের মুখোমুখি হতে হয়, তাহলে সেটিকে উভয় দেশের বিরুদ্ধে আখ্যায়িত করে দেখা হবে। অর্থাৎ, এক দেশের ওপর আঘাত এলে উভয় দেশের স্বার্থে মনোভাব প্রকাশ করে রক্ষা করতে এগিয়ে আসবে। এই বিষয়টি জানা গেছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের প্রতিবেদনে।

    প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সৌদি আরব সফরের সময়ে এই চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এদিন তাঁকে আল-ইয়ামামা প্রাসাদে সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান স্বাগত জানান। চুক্তি স্বাক্ষরের পর যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘প্রায় আট দশকের অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে এবং ইসলামি সংহতি ও ভ্রাতৃত্বের স্বার্থে দুই দেশ এই কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।’

    বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এই চুক্তি দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা সম্পর্ককে আরও জোরদার করবে এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তিতে অবদান রাখবে। এর মূল লক্ষ্য হলো, কোনও এক দেশের ওপর আঘাত মানে দুই দেশের বিরুদ্ধে আঘাত হিসেবে বিবেচনা হবে এবং দু’দেশই একসঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন একটি অগ্রগতি, কারণ আগে পাকিস্তান ও সৌদি আরব বিভিন্ন প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যুক্ত হলেও, এবার সম্পূর্ণ নতুন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে — যেখানে এক দেশের ওপর আঘাত হলে তা উভয়ের উপরই আঘাত হিসেবে গণ্য হবে।

    এই কর্যক্রম শুধুমাত্র পাকিস্তান-সৌদি সম্পর্ককেই দৃঢ় করছে না, বরং পুরো মুসলিম বিশ্ব ও দক্ষিণ এশিয়ার জন্যই বড় প্রভাব ফেলবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। এটিকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    বিশ্লেষকেরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে আঞ্চলিক অস্থিরতা, ইসরায়েলের হামলা, দোহা সম্মেলন এবং মুসলিম বিশ্বে স্বৌরভ ও সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে এই চুক্তির গুরুত্ব অনেক। এটি প্রমাণ করে, সৌদি আরব এখন পাকিস্তানকে অন্যতম নির্ভরযোগ্য ও শক্তিশালী অংশীদার হিসেবে দেখে।

    শাহবাজ শরিফ আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সৌদি যুবরাজকে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও আতিথেয়তার জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি দু’পবিত্র মসজিদির স্বর্গদ্বার ও বাদশাহ সালমানের সুস্বাস্থ্য এবং সৌদি জনগণের উন্নতি ও সমৃদ্ধির জন্য দোয়া করেন। সৌদি বাদশাহও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও জনগণের জন্য সুখ, স্বস্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেছেন।

    বৈঠকে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির, প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মোহাম্মদ আসিফ এবং অর্থমন্ত্রী মোহাম্মদ আওরঙ্গজেব উপস্থিত ছিলেন।

  • ভারতীয় বিশ্লেষকদের মত, জনগণ ভোট যাকে দেবে, তাকেই মানতে হবে

    ভারতীয় বিশ্লেষকদের মত, জনগণ ভোট যাকে দেবে, তাকেই মানতে হবে

    আপ্রত্যাশিত দলবদল বা পালাবদলের কারণে অনেকক্ষেত্রে দিল্লির মনোভাব যেমন পরিবর্তিত হয়েছে, এখন ভারতের বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের জনগণ যেই প্রার্থী বা দলকে তাদের ভোট দেবে, তার সঙ্গে মানানসই হতে হবে। বাংলাদেশের পরবর্তী নির্বাচনের পরিস্থিতি বিশ্লেষকরা ধৈর্য্যধার্য করে দেখার পরামর্শ দিচ্ছেন, এখনই কোনো ধরনের প্ররোচনায় অতি দ্রুত প্রতিক্রিয়া শুরুকরার পরিবর্তে অপেক্ষা করাই উত্তম। ভারতের সাবেক শীর্ষজন্য আমলা ও প্রসার ভারতী বোর্ডের প্রাক্তন সিইও জহর সরকার বিশ্বাস বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি আমাদের বুঝতে হবে এবং এ ব্যাপারে মানতেই হবে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে নির্বাচনের ফলাফল যা-ই হোক না কেন, আমাদের উচিত অপেক্ষা করে দেখা, কোনও তৎপরতা বা হস্তক্ষেপ এড়ানো।

    বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি ভারতের দিল্লির ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও বিশ্লেষকদের অংশগ্রহণে বাংলাদেশের পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এই আলোচনায় উঠে এসেছে ভারতে কী ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া উচিত এবং ভবিষ্যতের সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন মতামত। তবে বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, এ অনুষ্ঠানে বিস্তারিতভাবে কখন ও কীভাবে আলোচনা হয়েছে, তা জানানো হয়নি।

    জহর সরকার বিশ্বাস আরও বলেন, যদি বাংলাদেশে নতুন সরকার ভারতের স্বার্থের বিরুদ্ধে যেতে থাকে, তবে তা আমাদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের সরকার একটি কেয়ারটেকার সরকার, যাদের জন্য অকারণে গুলি চালানো বা অতিরিক্ত আঘাতের প্রয়োজন নেই। নির্বাচন সম্পন্ন হলে তারা স্বাভাবিকভাবেই ক্ষমতা গ্রহণ করবে।

    অপরদিকে, হর্ষবর্ধন শ্রিংলা, ভারতের সাবেক হাইকমিশনার, বলছেন, যদি বাংলাদেশে ভুল করে কোনো সরকার ক্ষমতায় আসে, তবে তার নিরাপত্তা ও স্বার্থের জন্য এর পরিণতি কি হতে পারে, তা ভেবে তিনি উদ্বিগ্ন। তিনি বলেন, আমরা অবশ্যই আমাদের স্বার্থের জন্য প্রতিরক্ষা চালিয়ে যাব, তবে সবার সঙ্গে সহযোগিতা করার স্পিরিটও বজায় রাখব। তবে ভারতের স্বার্থ রক্ষায় আমাদের কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে বলে তিনি মনে করেন। তিনি আরও বলেন, যেখানে আমাদের সীমান্ত সংলগ্ন দেশগুলো তারা বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ সমস্যা থাকলেও, তখনও আমাদের স্বার্থের প্রশ্ন আসে।

    আলোচনা সভায় অংশ নেওয়া অন্য একজন বিশেষজ্ঞ বলা হয়েছেন, ওপি জিন্দাল ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক শ্রীরাধা দত্ত। তিনি বলছেন, সাম্প্রতিক ঢাকা সফরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তিনি দেখেছেন আয়ত্তের বাইরে যাচ্ছে জামায়াতের শক্তি। তিনি ধারণা করছেন, আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরাসরি অংশ নাও করতে পারে, আর ভারতেরও সেই বাস্তবতা বুঝতে হবে।

    শ্রীরাধা দত্তের বিশ্লেষণে উঠে আসে, গত তিনটি নির্বাচন বিতর্ক বা বিএনপি প্রত্যাখ্যানের মধ্যে পরিচালিত হওয়ার কারণে ভারতের দৃষ্টিতে তারা নাদুর্বল হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে এ পরিস্থিতি স্বীকার করে নিতে হবে, ভালো বা মন্দ, সেটি ওরা নিজেরাই ঠিক করবে। এর ফলে, বিভিন্ন দল ও নেতাদের মালিকানা ও মর্যাদা দেওয়ার জন্য রাজনীতিতে নমনীয়তা দেখাতে হবে।

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দেশের রাজনৈতিক শক্তিবৃদ্ধি এবং জামায়াতে ইসলামী নতুন করে শক্তিশালী হওয়ার লক্ষণ দৃশ্যমান। বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েও জামায়াতের প্রভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা তাদের অপরাধের জন্য নতুন রূপে প্রকাশিত হচ্ছে। হালনাগাদ ঢাকা সফরে, জামায়াতের নেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের সঙ্গে সাক্ষাতের পর, শ্রীরাধা দত্ত বলেছেন, তিনি তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, যদি সরকার গড়ার জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক দল পাওয়া যায়, তাহলে কি তারা শরিয়া আইন চালু করতে চান। তিনি উল্লেখ করেছেন, তারা কখনোই এ ব্যাপারে স্পষ্টভাবে বলেনি যে তারা সরকার এলে শরিয়া আইন আনতে চায়।

    শ্রীরাধা দত্তের মতে, জামায়াতের আসলে রয়েছে এক ‘চার্ম অফেনসিভ’, যা দেখানো হয় অপ্রতিরোধ্য ও মারমুখী শক্তি হিসেবে, কিন্তু বাস্তবে তাদের কার্যকলাপ ভিন্ন। ভারতেও এটা স্পষ্ট, জামায়াতের মূল পরিচয় মুসলিম ব্রাদারহুডের অংশ, যেখানে সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ও হর্ষবর্ধন শ্রিংলার মত বিশ্লেষকরা মনে করেন, জামায়াত কখনোই বাস্তবে পাল্টাবে না।

  • পাকিস্তান-সৌদি প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে ভারতের প্রতিক্রিয়া

    পাকিস্তান-সৌদি প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে ভারতের প্রতিক্রিয়া

    পাকিস্তান ও সৌদি আরব দুটি দেশ সম্প্রতি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তি অনুযায়ী, যদি কোনো এক দেশের ওপর আঘাত হানা হয়, তাহলে সেটি উভয় দেশের জন্য আগ্রাসন হিসেবে গণনা করা হবে। এই বিবৃতি দুদেশের মধ্যে সুদীর্ঘকাল ধরে চলে আসা একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারিত্বের নতুন চেহারা দেখিয়েছে। চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো একে অপরের প্রতিরক্ষা শক্তি জোরদার করা এবং কোন ধরনের হামলার বিরুদ্ধে যৌথভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা। খবরটি জানিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, এই পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে ভারতের সক্রিয় নজরদারি ও গভীর চিন্তাচরণ চলছে। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, “আমরা দেখেছি যে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে এই কৌশলগত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এটি একটি দীর্ঘদিনের অপ্রকাশিত সমঝোতার আনুষ্ঠানিক রূপ। আমরা এই চুক্তির প্রভাব খতিয়ে দেখছি, সেটি আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা, আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, তা বিশ্লেষণ করছি। আমাদের দায়িত্ব, যেন দেশের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে ও সর্বস্তরে নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।” এর আগে, সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বাড়ি আল-ইয়ামামায় পাকিস্তান ও সৌদি আরবের যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, এই চুক্তি ঐতিহাসিক সম্পর্কের ভিত্তিতে, যেখানে ইসলামী ভ্রাতৃত্ব ও দীর্ঘদিনের সম্পর্কের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। এই চুক্তির মাধ্যমে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করার পাশাপাশি, একে অপরের বিরুদ্ধে যেকোনো আক্রমণের মোকাবিলায় যৌথ প্রতিরোধ গড়ে তোলার লক্ষ্য আছে। খবরটি প্রকাশের সময়ে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির উপস্থিত ছিলেন। বিশেষত, এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে যখন কাশ্মিরের পেহেলগামে হামলা এবং এর পরবর্তী ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের ঝুঁকি বেড়ে গেছে। অন্যদিকে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারত-সৌদি সম্পর্ক বেশ দৃঢ় হয়ে উঠছে। মোদির তিনবারের সৌদি সফর এবং ২০১৬ সালে তাঁকে দেওয়া ‘কিং আবদুল আজিজ স্যাশ’ সম্মাননা এই সম্পর্কের গভীরতা প্রমাণ করে। বর্তমানে, সৌদি আরব ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। এই সম্পর্কের উন্নতি ও গভীরতা উভয়ের মধ্যে গভীর সমঝোতা ও সহযোগিতা বাড়াচ্ছে।