মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সম্মেলনের আগে ডলার দুর্বল হয়ে পড়ায় স্বর্ণের দাম নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, এই বৈঠকে সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা রয়েছে, যা স্বর্ণের মূল্য আরও বৃদ্ধি করতে পারে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে স্পট স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্সে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৬৯৬ দশমিক ০২ ডলারে, যা শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি। দিনের শুরুতে দাম ছিল ৩ হাজার ৬৯৭ দশমিক ৭০ ডলার। তবে ২০২৬ সালে স্বর্ণের দাম চার হাজার ডলার অতিক্রম করার আগে এক শক্তিশালী সংশোধনের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে, বলে ব্যবসায়ী ও শিল্প বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন। ইউবিএস বিশ্লেষক জিয়োভান্নি স্টাউনোভো বললেন, দুর্বল ডলার কিছুটা ভূমিকা রাখলেও মূল বিষয় হলো, ফেড রিজার্ভ এই সপ্তাহে সুদের হার কমাবে, এই প্রত্যাশা বাজারে জোরদার। নির্বাহী সংস্থার ‘ফেডওয়াচ’ টুলের তথ্য অনুযায়ী, ব্যবসায়ীরা নিশ্চিত হচ্ছেন যে, বৈঠক শেষে দুই দিনের মধ্যে ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদের হার কমতে পারে এবং ৫০ বেসিস পয়েন্ট হারে কমানোরও সামান্য সম্ভবনা রয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলেছেন, ফেডের চেয়ার পাওয়েলকে আরও বড় করে সুদের হার কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন। সুইসকোট ব্যাংকিং গ্রুপের বিশ্লেষক কার্লো আলবার্তো দে কাসা মন্তব্য করেন, ব্যবসায়ীরা আশা করছে যে, ফেড আগামী বছরও সুদের হার কমিয়ে যেতে থাকবে, যা স্বর্ণ ব্যবসাকে সমর্থন করবে। স্টাউনোভো বলেন, ফেডের বিবৃতি প্রকাশের সময় আরও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে, বিশেষ করে যদি বাজারে অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন, সুদের হার কমানোর সঙ্গে কড়া বার্তা আনা হচ্ছে। ট্রাম্পের এই আগ্রহের কারণে, তিনি মনে করেন, আগামী মাসগুলোতে স্বর্ণের দাম আরও বাড়বে।
Author: bangladiganta
-

পাঁচ ব্যাংক একীভূত: প্রশাসক নেতৃত্বে নতুন সংস্থা গঠনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
সমস্যাগ্রस्त শরিয়াভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংককে একীভূত করার সিদ্ধান্ত নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক চূড়ান্তভাবে অনুমোদন দিয়েছে। এই রূপান্তর প্রক্রিয়ার তত্ত্বাবধানে থাকবে একটি পাঁচ সদস্যের প্রশাসক দল, যা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত বিশেষ বোর্ড সভার পরে মুখপাত্র মোঃ আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে, গভার্নর আহসান এইচ মনসুরের সভাপতিত্বে সভায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বোর্ড সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
মুখপাত্র জানান, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর বোর্ড সভায় সবাই একমত হয়েছেন যে, এই একীভূতকরণ প্রক্রিয়া অবশ্যই সম্পন্ন করতে হবে। এর জন্য ‘ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ’ অনুসারে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া চালু হবে, যা দীর্ঘমেয়াদী সময়সাপেক্ষ। তবে, এই কার্যক্রমের শুরু প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন বলে জানান তিনি, এবং শিগগিরই এটি বাস্তবায়ন হবে।
প্রক্রিয়াটির অগ্রগতি নিশ্চিত করতে, একটি পাঁচ সদস্যের প্রশাসক দল গঠন করা হবে, জানানো হয়েছে। তবে, ব্যাংকগুলোর দৈনিক কার্যাবলী চালানো হবে আগের মতোই থাকছে, অর্থাৎ বর্তমানে নিয়োজিত ব্যবস্থাপনা দলই থাকবে ব্যাংকের পরিচালনায়। পাশাপাশি, প্রতিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তার পদে বহাল থাকবেন।
প্রাসঙ্গিক আরেকটি বিষয় হলো, এই একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার কারণে ব্যাংকের বোর্ডগুলো বাতিল হবে না, তবে ধীরে ধীরে তারা নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে। পরিচালনা কার্যক্রম পরিচালনা করবে একটি নিয়মিত নির্দিষ্ট দল, যারা বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে কাজ করবে। তারা সময়ে সময়ে কার্যাবলীর অগ্রগতি সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংককে আপডেট দেবে।
এছাড়াও, এই বোর্ড সভায় ব্যাংক রেজুলেশন অর্ডিন্যান্স ও বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্ডার বিষয়ক আলোচনা হয়েছে, যেন খেলাপি ঋণ আদায়সহ অন্যান্য বিষয়গুলো আরও স্বচ্ছ ও কার্যকরীভাবে পরিচালিত হয়।
সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামি ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংককে একীভূত করে গঠিত হবে একটি ঐক্যবদ্ধ, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংক, যার নাম হবে ‘ইউনাইটেড ইসলামি ব্যাংক’। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই নতুন ব্যাংকের জন্য লাইসেন্স ইস্যু করবে।
উল্লেখ্য, গত ২ সেপ্টেম্বর থেকে তিন দিন ধরে এই পাঁচ ব্যাংকের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ফার্স্ট সিকিউরিটি, গ্লোবাল ইসলামী ও ইউনিয়ন ব্যাংকের পর্ষদ একীভূত হওয়ার পক্ষে মত দেন। অন্যদিকে, সোশ্যাল ইসলামী ও এক্সিম ব্যাংক এই প্রক্রিয়ায় বিরোধিতা জানান।
এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে, গত ৭ সেপ্টেম্বর, সরকার ৩৫ হাজার কোটি টাকার গভীর মূলধন বরাদ্দ প্রদান করে, যার মধ্যে ২০ হাজার ২০০ কোটি টাকা ইতিমধ্যে অর্থায়ন করা হয়েছে।
-

বাংলাল মার্কিন ডলার রিজার্ভ আবারও ছাড়াল ৩১ বিলিয়ন ডলার
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়ে ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। জাতীয় অর্থনীতি ও ব্যাঙ্কিং বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নিয়ম অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুসারে এই রিজার্ভের পরিমাণ এখন ২৬ দশমিক ০৮ বিলিয়ন ডলার। এর আগে, দেশের গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩০ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার, আর আইএমএফের হিসাব মতে এই সংখ্যা ছিল ২৫ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার। তবে বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর নিট বা প্রকৃত রিজার্ভের হিসাব রয়েছে, যেখানে এই সংখ্যা ২১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই রিজার্ভের বৃদ্ধি মূলত প্রবাসী আয়, রফতানি অর্থ, বিদেশি বিনিয়োগ ও ঋণ দ্বারা পরিচালিত। দেশে বর্তমানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্সের প্রবাহে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে, যা বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশ ব্যাংককে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করতে হয়নি, বরং ব্যাংকগুলো থেকে ডলার সংগ্রহ করা হয়েছে। গত ৪ সেপ্টেম্বর পাঁচটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছ থেকে ১৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার, আর ২ সেপ্টেম্বর আট ব্যাংকের কাছ থেকে ৪ কোটি ৭৫ লাখ ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
অর্থনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক দিক নির্দেশ করবে। চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৪৭ কোটি ৭৯ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশের মোট অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা বহন করছে। আগস্টের পুরো মাসে এই সংখ্যা ছিল ২৪২ কোটি ২০ লাখ ডলার। উল্লেখ্য, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মার্চ মাসে সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা দেশের ইতিহাসে রেকর্ড। সামগ্রিকভাবে, গত বছরে প্রবাসী আয় ছিল ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ২৬ শতাংশ বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, দশ বছর আগে ২০১৩ সালের জুন শেষে দেশের রিজার্ভ ছিল মাত্র ১৫ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার। সেই সময় থেকে ধারাবাহিকভাবে this অর্থনীতি গতিপথে এগিয়ে এসেছে। ২০২০ সালে এই পরিমাণ ৩৯ বিলিয়নে পৌঁছে যায়, এরপর কোভিড-১৯ পরিস্থিতির মধ্যেও এই সংখ্যা আরও বেড়ে ২০২১ সালের আগস্টে ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়। তবে এরপর থেকে রিজার্ভে কিছুটা কমে আসছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের শেষে রিজার্ভ ছিল ৩১ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলার।
-

স্বর্ণের দাম রেকর্ডে পতন, আবার কমলো মূল্যে
বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) ঘোষণা করেছে যে, দেশের বাজারে দীর্ঘদিন ধরে চলা দর বৃদ্ধির পর অবশেষে স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছে। এর ফলে প্রতি ভরি স্বর্ণের মূল্য সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪৭০ টাকা মূল্যছাড়ে নির্ধারিত হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, সবচেয়ে মানসম্পন্ন ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের এক ভরি now খুচরা মূল্য ১ লাখ ৮৮ হাজার ১৫২ টাকা হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে। উল্লেখ্য, গত মাসে দু’বার ও চলতি মাসে স্বর্ণের দাম ছয় দফা বাড়িয়ে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৮৯ হাজার ৬২২ টাকা দরে পৌঁছে যায়। বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) এই ঘোষণা প্রকাশ করা হয়, যা বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হবে।
বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশের বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের মূল্য কমে গিয়েছে, যার কারণে স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের এক ভরি দাম ১ লাখ ৮৮ হাজার ১৫২ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৭৯ হাজার ৬০২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ভরি ৫৩ হাজার ৯৪১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ২৭ হাজার ৬৭৪ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।
এছাড়া, রুপার দাম অপরিবর্তিত থাকছে। দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ৩ হাজার ৪৭৬ টাকা, ২১ ক্যারেট ৩ হাজার ৩১৩ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ হাজার ৮৪৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ২ হাজার ১৩৫ টাকা।
বাজুসের আরএকটি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই সরকার-নির্ধারিত ৫% ভ্যাট ও বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬% যোগ করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মান অনুযায়ী মজুরির হার ভিন্ন হতে পারে।
-

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দুই কোম্পানির শেয়ার কারসাজিতে জরিমানা
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দুটি কোম্পানির শেয়ার লেনদেনে কারসাজির মাধ্যমে সিকিউরিটিজ আইন লঙ্গনের জন্য বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) মোট ৪৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা জরিমানা আরোপ করেছে। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত বিএসইসির ৯৭২তম কমিশন সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিশনের চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নিউ লাইন ক্লোথিংস লিমিটেডের শেয়ার কারসাজির জন্য পাঁচজনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এই ব্যক্তির মধ্যে মোঃ রিয়াজ মাহমুদ সরকারকে ১ কোটি ১৪ লাখ টাকা, আবুল বাসারকে ৪ কোটি ২ লাখ টাকা, সরকার প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিশিংয়ের জন্য ৪ কোটি ২৮ লাখ টাকা, মোঃ সেলিমকে ১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা এবং জামিলের জন্য ২ কোটি ২০ লাখ টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়। এই শাস্তি ২০২১ সালের ২৪ মে থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত সময়কালে তাদের শেয়ার কারসাজির জন্য দেওয়া হয়েছে।
অপরদিকে, পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের শেয়ার লেনদেনে কারসাজির জন্য এনআরবি ব্যাংকের তৎকালীন প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মোহাম্মাদ কামরুল হাসানকে ৭৫ লাখ টাকা জরিমানার পাশাপাশি পদগ্রহণ, চাকরি থেকে বরখাস্ত এবং পুঁজিবাজারের সব ধরনের অংশগ্রহণ থেকে ৫ বছর নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বীমা কোম্পানিটির শেয়ার কারসাজির দায়ে শেখ ফকরুল আহমেদকে ৩০ কোটি ৩২ লাখ টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়। এই অভিযোগে তাদেরকে ২০২১ সালের ২৪ মে থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দায়েরকৃত শেয়ার লেনদেনের কারসাজির জন্য জরিমানা করা হয়।
একই সভায় ফরচুন সুজ লিমিটেডের শেয়ার লেনদেনে কারসাজির বিষয়টি তদন্তের জন্য বিনিয়োগকারী সংস্থা ও দুর্নীতি দমন কমিশনকে অনুসন্ধান ও তদন্ত প্রতিবেদন পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া, এই ঘটনায় জড়িয়ে থাকা পুঁজিবাজারের আলোচিত ব্যক্তি মোঃ আবুল খায়ের হিরু ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগেও চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত firmness করা হয়েছে।
-

প্রধান উপদেষ্টা নিউইয়র্ক সফরে ফখরুল, তাহেরসহ চার রাজনীতিবিদের সাথে যাচ্ছেন
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে অংশগ্রহণের জন্য প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ یونূস আগামী ২১ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে নিউইয়র্কের জন্য ঢাকা ত্যাগ করবেন। তাঁর এই গুরুত্বপূর্ণ সফরে তার সঙ্গে থাকবেন চারজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনীতিবিদ। তারা হলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতে ইসলামের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুলাহ মুহাম্মদ তাহের, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
বুধবার বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোঃ তৌহিদ হোসেন এ তথ্য জানান। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে যোগদানের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরতেই এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, দেশের চলমান পরিস্থিতির কারণে চারজন রাজনীতিবিদ প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন। তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা ২১ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইটে দেশের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করবেন এবং ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক পৌঁছাবেন। তিনি ফিরবেন ২ অক্টোবর।
২৬ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রধান উপদেষ্টা তার ভাষণ প্রদান করবেন। এসব ভাষণে তিনি গত এক বছরে দেশে ঘটে যাওয়া সংস্কারগুলো ও ভবিষ্যতে অনুষ্ঠিত হবে এমন নির্বাচন নিয়ে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন।
এছাড়া, এই বছর পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের জন্য বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। কারণ, ৩০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির সভাপতিত্বে ‘হাই লেভেল কনফারেন্স অন দ্য সিচুয়েশন অব রোহিঙ্গা মুসলিমস এন্ড অ্যাথার মাইনোরিটিজ ইন মিয়ানমার’ শীর্ষক একটি উচ্চ পর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হবে। এই সভা রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে, গত মাসে কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক অংশীদার ও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি অংশীদার সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল যাতে দ্রুত সমস্যা সমাধানে কার্যকর পরিকল্পনা গৃহীত হতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার, সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহমদ প্রমুখ।
-

দায়িত্বশীল নেতৃত্বের মাধ্যমে আস্থা ও উন্নয়নে মনোযোগ বিএনপির
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে আমাদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো দেশের প্রতিটি ভোটারদের আস্থা পুনরায় প্রতিষ্ঠা। তিনি আরও উল্লেখ করেন, তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখে দলটি তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে সংগঠনের ভিত্তিকে শক্তিশালী করছে। এই প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা চাই স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বিশ্বাস জোড়াতেল করা।
বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই কথা ব্যক্ত করেন তিনি। তারেক রহমান লিখেছেন, নানা অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে সাত হাজারের বেশি দলের সদস্যের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও অসদাচরণের কারণে অনেককে বহিষ্কার করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে অনেক কষ্টের হলেও, বাস্তবতা বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া অপরিহার্য ছিল। তিনি বলেন, শৃঙ্খলা দুর্বলতা নয়, বরং আমাদের শক্তির পরিচায়ক; সদস্যদের দায়বদ্ধতা তৈরি করে আমরা আবারও প্রমাণ করতে চাই যে, বিএনপি সততার প্রতি আন্তরিক।
তারেক রহমান আরও জানান, তরুণরা রাজনীতিকে শুধুমাত্র ক্ষমতার খেলার মাঠ হিসেবে দেখে না, বরং এটি একটি বৃহৎ গণতান্ত্রিক ক্ষেত্র যেখানে সবার অংশগ্রহণ অপরিহার্য। তিনি বলেন, আগামী প্রজন্মের জন্য আধুনিক ও সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্র গড়ে তোলার জন্য বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এর জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পেশা সৃষ্টি, জলবায়ু পরিবর্তন, এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির মতো ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে নীতিমালা গড়ে উঠছে। নারীর সমParticipateতায়ন বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অগ্রগতি আসবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, দেশের বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো ভিন্ন ধরনের, তাই আমাদের পদক্ষেপও হতে হবে নতুন চিন্তার ভিত্তিতে। তবে ইতিহাসে বিশ্বাস রেখে এগিয়ে যেতে চান। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়েছিলেন, যারা জনগণের সংখ্যাশক্তিকে শক্তি হিসেবে কাজে লাগিয়েছিলেন। আর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালিয়েছিলেন। তারা দুজনের সেই লড়াই ও প্রত্যাশাকে সামনে রেখে নতুন যুগে এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ঐতিহ্যবাহী, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও ভবিষ্যতপ্রোড পন্থায় এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি জানান, তরুণরা বাস্তব সুযোগ চায়, তারা কুচক্রী বুলি নয়। তারা চায় স্থিতিশীলতা, বিশৃঙ্খলা নয়। বিশ্ব نیز প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ একটি বিশ্বাসযোগ্য ও মর্যাদাসম্পন্ন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হোক। এসব লক্ষ্য পূরণে বিএনপি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
অंतিমে, তিনি সকল নেতা-কর্মী ও সহকর্মীদের একত্রিত হয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকুন, শৃঙ্খলা রক্ষায় অবিচল থাকুন। নিজের ওপর আস্থা রাখতে বলেতো, তার একটাই বার্তা — একসাথে আমরা প্রমাণ করবো যে, বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহি মূলক রাষ্ট্র তৈরি সম্ভব। ইনশাআল্লাহ, আমাদের স্বপ্নের বাংলাদেশের নির্মাণে আসুন, একসাথে এগিয়ে যাই।
-

বিএনপি ৭ হাজারের বেশি সদস্যকে পদচ্যুত ও বহিষ্কার: তারেক রহমান
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জানিয়েছেন, দলের মধ্যে বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে এখন পর্যন্ত ৭ হাজারেরও বেশি সদস্যের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আজ বৃহস্পতিবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে এ তথ্য প্রকাশ করেন।
তারেক রহমান উল্লেখ করেন, দলীয় নীতি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নানা অপ্র ক্লান্তির মধ্যেও এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। তিনি জানান, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি এবং অসদাচরণের অভিযোগে অনেককে পদচ্যুত ও বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি বলেন, এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ ছিল না, তবে বর্তমান পরিস্থিতির জন্য এটি খুবই জরুরি ছিল। তার মতে, শৃঙ্খলা হালকা কোনো দুর্বলতা নয়, বরং আমাদের শক্তির ভিত্তি।
তিনি আরও বলেন, দলের সদস্যদের দায়বদ্ধতা ও আন্তরিকতার মাধ্যমে বিএনপি প্রমাণ করবে, তারা সততার ব্যাপারে অঙ্গীকারবদ্ধ। ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নিজের মানদণ্ড প্রতিষ্ঠা করে বিএনপি নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিষ্কারভাবে বোঝাচ্ছে।
তারেক রহমান আশা প্রকাশ করেন, তরুণ প্রজন্মের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে দলটি কঠোর পরিশ্রম করছে। গ্রাম থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত দলটির সাংগঠনিক কাঠামো আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে, যাতে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়।
তিনি বলেন, আমরা চাই জনগণের আস্থা পুনর্গঠন, বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে। তারা কেবল ক্ষমতার খেলা দেখতেই চায় না, বরং চায় সব শ্রেণির মানুষের অংশগ্রহণে গড়ে উঠা একটি সঠিক ও মহান সমাজ।
তারেক রহমান আরও জানান, বিএনপিকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করে তোলা হচ্ছে। দল জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেবে এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, তরুণদের কর্মসংস্থান, জলবায়ু পরিবর্তন ও ডিজিটাল প্রযুক্তি নিয়ে ৩১ দফা কর্মসূচির ভিত্তিতে দল চালাবে।
তিনি যোগ করেন, আমরা অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে চাই, যাতে বেশি নারী, তরুণ ও পেশাজীবী নেতৃত্বের অংশগ্রহণ ঘটাতে পারি, ফলে জাতি আরও এগিয়ে যাবে এবং রাজনীতি সেবামূলক হবে।
তারেক রহমান আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বিএনপির পরিচয় হবে সেবা, ন্যায়বিচার ও দক্ষতার প্রতীক। তিনি উল্লেখ করেন, বিভাজন বা সুবিধাভোগের পরিচয় নয়, বরং একটি ন্যায্য, সৎ ও কার্যকরী দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।
প্রসঙ্গত, দেশের বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো সময়ের দাবি অনুযায়ী দলের চালকের পরিবর্তন দাবি করছে। কিন্তু বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সংগ্রামকে অস্বীকার করেন না। তারা সেই সংগ্রামের আলোকে এগিয়ে চলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
তারেক রহমান বলেন, তরুণরা বাস্তব সুযোগ চাই, তারা ভয়াবহ নয়, ফাঁকা বুলি চায় না। জনগণ চায় স্থিতিশীলতা, তারা বিশৃঙ্খলা পছন্দ করে না। তারা চায় বিএনপি একটি বিশ্বাসযোগ্য ও মর্যাদাপূর্ণ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তুলুক।
শেষে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আসুন আমরা একত্রে থাকি, শৃঙ্খলাবদ্ধ থাকি এবং জনগণের সেবায় অঙ্গীকারবদ্ধ থাকি। আমি আপনাদের ওপর আস্থা রাখি, আপনাদেরও আমার প্রতি আনুগত্য প্রত্যাশা করি। এই একতা ও বাস্তবতা দিয়ে আমাদের গণতন্ত্রকে আরও উজ্জ্বল করে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।
-

হেফাজত আমিরের বার্তা: ইসলামী দলগুলোর ঐক্য ও সতর্কতা হওয়া জরুরি
হেফাজত ইসলাম বাংলাদেশের আমির আলআমা শাহ মুহিব্বুলআলাহ বাবুনগরী বলেছেন, আসন্ন নির্বাচনে এমন কাউের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়া উচিত নয় যারা ভ্রান্ত আকিদার আশপাশে রয়েছে। আমাদের পূর্বপুরুষরা এ বিষয়ে কঠোর সতর্কতা দিয়েছেন। তিনি বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে জমিয়তে উলামা ও আলেমদের উদ্যোগে আয়োজিত জাতীয় উলামা মাশায়েখ সম্মেলনে এই বক্তব্য রাখেন।
বলেন, ‘আমাদের সবাইকে অবশ্যই সহিহ আকিদার ভিত্তিতে কাজ করতে হবে। যারা ইসলামের ক্ষতি করবে, তাদের সাথে একজ্জো দেওয়া বা ঐক্যবদ্ধ হওয়া থেকে বিরত থাকা আমাদের জন্য জরুরি। আমরা মনে করি, তারা যারা এমন ভুল ধারণার আওতায় আসছে, তাদের ব্যাপারে আমাদের পূর্বপুরুষরা সতর্ক বার্তা দিয়েছেন। তাদের ভ্রান্ত আকিদা সম্পর্কে অনেক লেখা-পত্রও রচিত হয়েছে। সেজন্য আমাদের উচিত তাদের সঙ্গে জোট বাঁধা বা তাদের সমর্থন না দেয়া।’
আলোচনায় তিনি আরো বলেন, ঢাকায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের অফিস স্থাপন করা দেশের স্বাধীকারের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে। এটি দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য একটি ক্ষতিকর পদক্ষেপ।
বাবুনগরী আরও উল্লেখ করেন, ‘আপনাদের কখনোই এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন না যা ইসলামের ইলম ও ওহির ক্ষতি করে। দাওয়াতে তাবলিগ ও মসজিদ-মাদরাসাগুলো যেনো কোনভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটাও আপনাদের লক্ষ্য হতে হবে।’
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জমিয়তের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা উবায়দুলাহ ফারুক। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন হাটহাজারী মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা খলিল আহমদ কুরাইশী, হেফাজতের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান, বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক এবং জমিয়তের শীর্ষ নেতারা।
-

অন্তর্বর্তী সরকার ছাড়া জনগণের পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন বাধ্যতামূলক: ইসলামী আন্দোলনের তরফ থেকে ঘোষণা
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করিম বলেছেন, যদি কোনও কারণে অন্তর্বর্তী সরকার চাপের মুখে পিআর (প্রতিনিধিত্বমূলক নির্বাচনী ব্যবস্থা) পদ্ধতিতে নির্বাচন না দেয়, তবে জনগণ নিজ উদ্যোগে এই পদ্ধতিতেই নির্বাচন সম্পন্ন করবে। তিনি আরও জানান, পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন নিয়ে বিএনপির কোনও আপত্তি থাকার কথা নয়, কারণ তাদের উচ্চ পর্যায়ের একজন নেতা ইতিমধ্যে দাবি করেছেন, নির্বাচনে তারা শতকরা ৯০ শতাংশ ভোট পেতে পারেন।
বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেইটে দলের বিক্ষোভ মিছিল শেষে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
ফয়জুল করিম বলেন, আমি মনে করি, ভারত এই লক্ষ্যটি পছন্দ করে না। এজন্য ভারতীয় আইনি বুনিয়াদ তৈরি করতে হবে। আপনাদের কি ভারতের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন? অন্তর্বর্তী সরকার কেবল নির্বাচনের জন্যই নয়; এটি আসার আগে তিনটি মূল কাজ সম্পন্ন করতে হবে—সংস্কার, দৃশ্যমান বিচার ব্যবস্থা, এবং নির্বাচন। তিনি দাবি করেন, নির্বাচনের জন্য পিআর পদ্ধতিই উপযুক্ত, কারণ এটি দেশের ৮০ শতাংশ জনগণের পক্ষে দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
তিনি জানান, পিআর পদ্ধতিতে কোনওভাবেই ফ্যাসিবাদ বা অসচ্চরিত্রতা তৈরি হবে না, কালো টাকা সাদা করার সুযোগ থাকবে না এবং ভোট ছিনতাইয়ের সম্ভাবনাও কমে যাবে। এ পদ্ধতিতে নির্বাচিত সংসদে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমন্বয় থাকবে—বাম-ডান, হিন্দু-মুসলিমসহ সকল সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব। ফলে জনগণ রাস্তায় নামার প্রয়োজন হবে না; সকল আন্দোলন সংসদেই হবে। যদি কারও সন্দেহ থেকে থাকে, তাহলে গণভোটের পদ্ধতিও ব্যবহার করা যেতে পারে। জনগণ চাইলে, তাদের ভোটে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের ব্যবস্থা হবে, অন্যথায় হবে না।
মুফতি ফয়জুল করিম আরও বলেন, প্রাথমিক স্কুলে গান ও নাচের শিক্ষক নিয়োগ করা কোনওভাবেই ঠিক নয়। মুসলমানদের করের টাকায় এই ধরনের শিক্ষক নিয়োগ সুসম্পন্ন নয়, যদি কেউ দিতে চায়, তাহলে তাকে মসনদে থাকার দরকার নেই। শিক্ষকদের জন্য মূলত কম্পিউটার ও ধর্মীয় বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
মিছিলের সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা উত্তর মহানগরীর সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ ইমতিয়াজ আলম। উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মুফতি রেজাউল করিম আবরার, সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমদ ইবনে কাউয়ুম, ঢাকা-১১ আসনের এমপি প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
অংশগ্রহণকারীরা শিল্পশক্তি ও গণহত্যার বিচার কেন জরুরি, তা তুলে ধরেন। তারা বলেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত এবং গণহত্যার বিচার দৃশ্যমান করতে হবে। এছাড়া ভারতের তাবেদার ও ফ্যাসিবাদীদের আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্নস্থানে চলমান রাজনৈতিক হামলা সাধারণ মানুষকে ভীতি ও উদ্বেগে ফেলেছে। এ ধরনের অরাজকতা অস্বাভাবিক এবং নিন্দনীয়। দ্রুত হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি ষড়যন্ত্রের পেছনেও অন্যান্য ষড়যন্ত্র আছে কিনা সেটিও খতিয়ে দেখা উচিত।
তারা উল্লেখ করেন, স্বৈরতন্ত্রের অবসান ও গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধারের জন্য নির্বাচনী ব্যবস্থা সংস্কার অপরিহার্য। জনগণের মতামতকে রাষ্ট্রের সিদ্ধান্তে আনতে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো আন্তঃপ্রতিনিধিত্বের (পিআর) পদ্ধতি। এই পদ্ধতিই দীর্ঘদিন ধরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দাবি করে আসছে। এর ধারাবাহিকতা পালন করে তারা সেপ্টেম্বর মাসব্যাপী সারাদেশে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে।
তারা জানিয়েছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন অবশ্যই জুলাইয়ের সনদ অনুযায়ী পিআর পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সব ধরনের আন্দোলন চালিয়ে যাবে।
অতঃপর, তারা ঘোষণা দেন, আগামীকাল শুক্রবার বিভাগীয় শহরগুলোতে ও ২৬ সেপ্টেম্বর সব জেলা ও উপজেলা কেন্দ্রীয় বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি পালন করবে।
