Author: bangladiganta

  • শেখ হাসিনার মতো আচরণ করবেন না: বাঁধন

    শেখ হাসিনার মতো আচরণ করবেন না: বাঁধন

    গত ১৫ আগস্ট রাজধানীর ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে গণপিটুনির শিকার হন আজিজুর রহমান নামের এক রিকশাচালক। তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যু বার্ষিকী পালন করতে গিয়েছিলেন, সেই সময় জনরোষের শিকার হন। জনতা তাকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে তুলে দেয়।

    তিনি এ বিষয়ে আরও জানান, গতকাল (১৬ আগস্ট) শনিবার একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইশরাত জেনিফার জেরিনের আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এই ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে এই ঘটনার জন্য আজিজুর রহমানের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করছেন।

    এ ঘটনায় নিজের ফেসবুক পোস্টে অভিনেত্রী বাঁধন লিখেছেন, “আপনাদের কে মানুষের পছন্দ-অপছন্দ নিয়ন্ত্রণের অধিকার দেয়া হয়েছে? শেখ হাসিনার মতো আচরণ করবেন না— দেখেছেন তো তার শেষ কোথায় দাঁড়িয়েছে? তার পতনের পর আশা করেছিলাম মানুষের মধ্যে কিছু শিক্ষা হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই একই আচরণ এখনও অব্যাহত রয়েছে।”

    তিনি আরও যোগ করেন, “তোমরা বলতে পারেন, কারা কি করতে পারবে বা পারবে না? মানুষের নিজস্ব বিবেক ও বিচার-বুদ্ধি আছে। কেউ যদি নিজস্ব ইচ্ছায় শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়, সেটি তার ন্যায়সঙ্গত অধিকার। এর জন্য আপনি সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না বা এর উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারেন না। কাউকে শ্রদ্ধা জানানোর কারণে তাকে ‘ভুল’ বলবেন না। নিজের মতামত না মিললেও অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা উচিত।”

    বাঁধন বলছেন, “একটা কথা বলি—আপনাদের সস্তা মানসিকতা দেখে আমি হাসি। এক সময় গুজব ছড়ানো হয়েছিল, ‘আমি জুলাই বিদ্রোহের সময় ছাত্রদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য ২০০ কোটি টাকা পেয়েছি। এখন শোনা যাচ্ছে, আমরা শেখ মুজিব নিয়ে পোস্ট করার জন্য মাত্র ২০,০০০ টাকা পেয়েছি!’ এভাবে হাস্যকর ব্যাপার কি সত্যিই কেউ এতো বড় ঝুঁকি নেয় শুধুমাত্র কিছু টাকার জন্য?”

    তিনি আরও বলেন, ‘এখন বুঝে রাখুন, মিথ্যা, সস্তা গুজব বা হুমকি দিয়ে মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। সময় বদলে গেছে, সোশ্যাল মিডিয়া রয়েছে, বিশ্বায়ন হয়েছে। মানুষ এখন সব কিছু বুঝে শুনে। একজন সত্যিকার নেতা মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করে না, অনুপ্রেরণা দেয়। তিনি গোপনীয়তা রক্ষা করেন না, কথায় বিশ্বাস গড়ে তোলে। গুজব ছড়ায় না, বিশ্বাসের ভিত্তি তৈরি করে।’

    অভিনেত্রী বলেন, ‘ক্ষমতার মোহে বিভ্রান্ত হবেন না। মনে করবেন না এখনো আপনি মানুষকে নাড়াচাড়া করে চালাতে পারবেন। এই নিয়ন্ত্রণের সুতো অনেক আগে কেটে গেছে। জেগে উঠুন, নইলে ইতিহাস আরও কঠোর শিক্ষা দিয়ে আপনাকে শিক্ষা দেবে।’

    সবশেষে বাঁধন লিখেছেন, ‘একজন সত্যিকার নেতা এবং মানবিক মানুষ হওয়া জরুরি। নইলে আপনি শেষমেশ শেখ হাসিনার মতো এক ব্যর্থ প্রতিলিপিতে পরিণত হবেন। বিশ্বাস করুন, এই ট্র্যাজেডির দ্বিতীয় পর্বের দরকার নেই।’

  • সুপারম্যান খ্যাত অভিনেতা টেরেন্স স্ট্যাম্প মারা গেছেন

    সুপারম্যান খ্যাত অভিনেতা টেরেন্স স্ট্যাম্প মারা গেছেন

    বিলিওনিয়ার এবং সুপারম্যানের খ্যাতি পাওয়া ব্রিটিশ অভিনেতা টেরেন্স স্ট্যাম্প আর নেই। তার মৃত্যু হয় রোববার, ১৭ আগস্ট, সকালে, বয়স ছিল ৮৭ বছর। এ খবর নিশ্চিত করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা, যদিও মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম যেমন এপি ও এনবিসি থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

    টেরেন্স স্ট্যাম্প বিশ্বজুড়ে তার অভিনয় ক্ষমতার জন্য পরিচিত, বিশেষ করে তিনি ‘সুপারম্যান’ এবং ‘সুপারম্যান ২’ সিনেমায় খলনায়ক জেনারেল জোডের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। ১৯৭৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম ‘সুপারম্যান’ সিনেমায় ও ১৯৮০ সালে আসা সিক্যুয়ালেও তিনি এই সংকীর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেন। এই অনবদ্য কাজের জন্য তিনি দর্শকদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নিয়েছেন।

    ‘সুপারম্যান’ ফ্র্যাঞ্চাইজি ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভাগ। এই চরিত্রে তার অভিনয় তাকে বিশ্বব্যাপী খ্যাতি এনে দিয়েছিল। তার মৃত্যু খবরে পশ্চিমা শোবিজ অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার সহকর্মী ও ভক্তরা শোক প্রকাশ করে মরহুমের জন্য সমবেদনা জানাচ্ছেন।

    টেরেন্স স্ট্যাম্প লন্ডনে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬২ সালে তিনি ‘বিলি বাড’ সিনেমায় আত্মপ্রকাশ করেন, যা তার ক্যারিয়ারের সূচনালগ্নে সাড়া ফেলে দেয়। প্রথমেই তিনি সেরা পার্শ্ব অভিনেতা হিসেবে অস্কার ও বাফটা অ্যাওয়ার্ডে মনোনয়ন পান। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের মন জয় করেছেন।

    ১৯৯৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘দ্য অ্যাডভেঞ্চারস অব প্রিসিলা, কুইন অব দ্য ডেজার্ট’ চলচ্চিত্রে তিনি ট্রান্সজেন্ডার চরিত্র ‘বার্নাডেট’ হিসেবে তার অভিনয় প্রশংসিত হয়। ক্যারিয়ারের শেষ দিকে তিনি থ্রিলার, কমেডি এবং ফ্যান্টাসি-অ্যাডভেঞ্চার ঘরানার ছবিতে আরো অভিনয় করেন। তাঁর এই অসামান্য কর্মযজ্ঞ সিনেমা শিল্পে অনন্ত প্রেরণা হয়ে থাকবে।

  • আফ্রিদির সঙ্গে ইরফানের তর্কের গল্প: কুকুরের মাংস খেয়েছে বলে আঙুল তোলে আফ্রিদি

    আফ্রিদির সঙ্গে ইরফানের তর্কের গল্প: কুকুরের মাংস খেয়েছে বলে আঙুল তোলে আফ্রিদি

    প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়দের মধ্যে তর্ক ও বাদানুবাদের ঘটনা কখনো কখনো মাত্রা ছাড়িয়ে যেতে দেখা যায়। এরই এক উদাহরণ শেয়ার করেছেন সাবেক ভারতীয় অলরাউন্ডার ইরফান পাঠান। তিনি জানান, ২০০৬ সালে পাকিস্তান সফরে গিয়ে তার সঙ্গে শহীদ আফ্রিদির একটি উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছিল। ওই সময়ই ইরফান বলেন, আফ্রিদি কুকুরের মাংস খেয়েছে বলে পোড়াকণ্ঠে মন্তব্য করেন, যার কারণেই সে দীর্ঘক্ষণ এভাবে চিৎকার করছে।

    সম্প্রতি ‘দ্য ল্যালানটপ’ কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরফান সেই ঘটনার বিস্তারিত উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ২০০৬ সালে পাকিস্তান সফরে ছিলেন তারা। করাচি থেকে লাহোরে ফিরছিলেন দুই দল ক্রিকেটার। সেই সময়েই হঠাৎ আফ্রিদি তার দিকে এগিয়ে আসে। মাথায় হাত দিয়ে চুল এলোমেলো করে দিতে শুরু করে এবং প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয়, “কেমন আছো, বাচ্চা?” ইরফান তখন জবাব দেন, “তুমি আমার বাবা হয়েগো কখন?” এই আচরণ ছিল খুবই বাচ্চাদের মতো। আফ্রিদি তখন আর বাঁচে না, বাজে কথা বলতে শুরু করে এবং কাছের একটি সিটে বসে পড়ে।

    সেসময় পাশে ছিলেন পাকিস্তানি অলরাউন্ডার আবদুল রাজ্জাক। এ নিয়েও ইরফান বলেন, “আমি তখন তাকে প্রশ্ন করি, এখানকার কোথায় কি ধরনের মাংস পাওয়া যায়। তখন সে বলল, বিভিন্ন ধরনের মাছ-মাংসের কথা। আমি তখন জানতে চাই, কুকুরের মাংস কি পাওয়া যায় কি না। এই সময় আফ্রিদিও আশেপাশে ছিল। রাজ্জাক শুনে শক খেয়ে বলে, ‘ইরফান, তুমি এটা কেন বললে?’ আমি তখন বলি, ‘সে কুকুরের মাংস খেয়েছে, সেই জন্যই এত দীর্ঘ আওয়াজ করছে।’

    ইরফান আরও জানান, তখন আফ্রিদি রাগে লাল হয়ে যায়। তবে কিছু বলে ওঠেনি। তবে আবার কিছু বলতে গেলে, আমি তাকে বলতে থাকি, ‘দেখো, সে আবারও (কুকুরের মতো) আওয়াজ করছে।’ এরপর আর মুখ খোলা রাখেনি। এই ঘটনাটির পর থেকে আফ্রিদি বুঝতে পারে যে, কখনও মুখোমুখি তর্কে আমি হারব না। ফলে এরপর থেকে আর তার সঙ্গে তর্কে জড়ায়নি।”

  • বাংলাদেশের রান পাহাড়ে চাপা পড়েছে পাকিস্তান

    বাংলাদেশের রান পাহাড়ে চাপা পড়েছে পাকিস্তান

    পাকিস্তানের আধিপত্যশীল ব্যাটিংয়ের ফলে বাংলাদেশের জন্য কঠিন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। পাকিস্তান ক্রিকেট দলের শো-ডাউন শুরুতেই উজ্জ্বল উদাহরণ দেখিয়েছে, যেখানে তারা নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ২২৭ রান সংগ্রহ করেছে। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৬২ রান করেছেন ইয়াসির খান, যিনি দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে দলের বিপর্যয় পতন রুখে দিচ্ছেন। বাংলাদেশের হয়ে ৩৪ রানে এক উইকেট লাভ করেছেন হাসান মাহমুদ। জবাবে বাংলাদেশ শুরুতেই চাপের মুখে পড়ে, প্রথম ওভারেই অভিজ্ঞ নাঈম শেখকে হারায় ৫ রানে। যদিও প্রতিপক্ষের আক্রমণের মাঝে সাইফ হাসান ও জিশান আলমের উত্তেজনাপূর্ণ ব্যাটিংয়ে কিছুটা আশা দেখাচ্ছিলো, যা জোড়া উইকেট জুটিতে ৮৬ রান যোগ করেছেন। সাইফ ৩২ বলে ৫৭ রান করে ব্যক্তিগত ফিফটি তুলে নেন। তবে তার বিদায়ের পর আর কেউই আধিপত্যের মান বজায় রাখতে পারেনি। আফিফ হোসেন ও মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনের দ্রুত পতনের কারণে বাংলাদেশ অপ্রতিদ্বন্দ্বী অসঙ্গতিতে পড়ে, যার ফলে তারা পুরোপুরি আউট হয়ে যায়। এর আগে, পাকিস্তানের উদ্বোধনী ব্যাটার খাজা নাফি ও ইয়াসির খান দুর্দান্ত সূচনা করেন, তাদের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে শক্ত ভিত্তি তৈরি হয় দলটির জন্য। খাজা ৩১ বলে ৬১ রান করে আউট হলেও ইয়াসির বেশিদূর যাননি, তবে ৪০ বলের বিপুল ৬২ রান করেন। তারপর, তিনে নামা আব্দুল সামাদ ২৭ বলে অপরাজিত ৫০ রান করেন। এই ব্যাটসম্যানদের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে পাকিস্তান নির্ধারিত লক্ষ্য ছুঁই ছুঁই করে ফেলেছে। বাংলাদেশের জন্য এটি একটি কঠিন পরিস্থতি, যা তাদের পরবর্তী ম্যাচে উন্নতি করতে সাহস দেয়।

  • উয়েফা সুপার কাপ ফাইনালে ফিলিস্তিন শিশু হত্যার প্রতিবাদ জানাল

    উয়েফা সুপার কাপ ফাইনালে ফিলিস্তিন শিশু হত্যার প্রতিবাদ জানাল

    ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি আগ্রাসন চলমান রয়েছে বছরের পর বছর ধরে। প্রতিদিনই মৃত্যুর খবর শোনা যায়, যার মধ্যে শিশুর সংখ্যাই বেশি। এই ব্যাপক মানবিক সংকটের প্রতি বিশ্ববাসীর পাশাপাশি ক্রীড়াজগতের দৃষ্টিগোচর হয়েছে উয়েফার উদ্যোগ।

    ইতালির উদিনেতে অনুষ্ঠিত ব্লুনার্জি স্টেডিয়ামে গতকাল রóbবার টটেনহাম হটস্পার ও প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) এর মধ্যবর্তী ফাইনাল ম্যাচের আগে, মাঠে ‘শিশু ও বেসামরিক মানুষ হত্যা বন্ধ করো’ শিরোনামে ব্যানার প্রদর্শন করে উয়েফা। এই ব্যানারটি দুটি দলের ফুটবলাররা সারিবদ্ধ দাঁড়িয়ে থাকা সময় উপস্থাপন করা হয়, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বার্তার প্রতিফলন।

    সেই দিনই নয়, ফাইনালের শুরুতেই সেই প্রতিবাদ আরও দৃঢ়ভাবে প্রকাশ পায়। ম্যাচে অংশ নেওয়া দুটি দলের ফুটবলাররা ক্রীড়াক্ষেত্রে জীবনের ঝুঁকি ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতীক হিসেবে, গাজা উপত্যকার দুটি শিশুকে পদক প্রদান অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে অংশ নেন। উয়েফার পক্ষ থেকে সেই দুই শিশু গাজা থেকে তাদের সঙ্গে যোগ দেন। তাদেরকে নিয়মিত উয়েফা ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে আধিকারিকভাবে স্বীকৃতি দেয়া হয়, যা ন্যায্যতা ও মানবতার প্রতীক।

    উয়েফার এই উদ্যোগের মধ্যে দিয়ে বোঝানো হয়েছে, সৌভাগ্য ও মানবিক মূল্যবোধের জন্য αυτήও গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে যখন মানবতা ঝুঁকির মুখে। ম্যাচের সময় বা কোনও সময়ে স্টেডিয়ামে রাজনৈতিক বার্তা বা নমনীয়তা প্রদর্শনের ব্যাপারে উয়েফার কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে, ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুপার কাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইরাক ও আফগানিস্তানের শরণার্থী শিশুকেও আনানো হয়েছিল। তবে, সেখানে নির্দিষ্ট কোনও দেশের যুদ্ধের উল্লেখ ছিল না।

    এছাড়াও, ৭ আগস্ট ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (পিএফএ) জানিয়েছিল যে, সুলেইমান নামে একটি শিশু, যিনি ‘ফিলিস্তিনের পেলে’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন, দক্ষিণ গাজা উপত্যকার একটি হামলায় নিহত হয়েছেন। তার মৃত্যুর খবর জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে প্রবল প্রতিধ্বনি তুলে, মোহাম্মদ সালাহসহ বহু ফুটবল তারকা এই বিষয়টি নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। সালাহ তার সোশ্যাল মিডিয়ায় সুলেইমানের ছবি পোস্ট করে লিখেছিলেন, “আপনাদের কি বলতে পারবেন সে কোথায়, কীভাবে এবং কেন মারা গিয়েছে?”

    ফাইনাল ম্যাচটি ইতিহাসের পৃষ্ঠা উল্টে দেয়। এই ম্যাচে, পিএসজি প্রথমে ২-০ গোলে এগিয়ে থাকলেও, নাটকীয়ভাবে শেষ পর্যন্ত ২-২ ড্র হয়। পরে টাইব্রেকারে টোটেনহামকে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো উয়েফা সুপার কাপ জিতে নেয় পিএসজি। এই ম্যাচের মধ্যে শিক্ষণীয় বার্তা ও মানবতার স্পর্শ ফুটে উঠেছে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মহলে, যা মানবিক সম্ভাব্যতা ও শান্তির ডাক দেয়।

  • এক ম্যাচ পরই বাংলাদেশে ছন্দের পতন

    এক ম্যাচ পরই বাংলাদেশে ছন্দের পতন

    বাংলাদেশের টপ অ্যান্ড টি-টোয়েন্টি দলের জন্য এক ম্যাচের পর আবারও হতাশার খবর এসে পৌঁছেছে। অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া লিগের পার্থ স্কর্চার্স একাডেমির বিরুদ্ধে সোমবার ডারউইনে অনুষ্ঠিত ম্যাচে বাংলাদেশের দল শুরু থেকেই দরাদরি করে গেছে। ব্যাটাররা নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকেন, ফলে পুরো দল ছোট সংগ্রহে আবদ্ধ হয়। ব্যাটসম্যানরা যদি একটু বেশি চেষ্টা করতেন, হয়তো আরও ভালো স্কোর হত, কিন্তু ব্যর্থতার কারণে ম্যাচের পুরো চাপ বাংলাদেশের ওপরই পড়ে। এক ম্যাচের মধ্যে দ্বিতীয়বারই হারিয়েছে বাংলাদেশ দল।

  • বাবর আজম ও মোহাম্মদ রিজওয়ান ছাড়া এশিয়া কাপের পাকিস্তান স্কোয়াড ঘোষণা

    বাবর আজম ও মোহাম্মদ রিজওয়ান ছাড়া এশিয়া কাপের পাকিস্তান স্কোয়াড ঘোষণা

    পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) আগামী সংযুক্ত আরব আমিরাতের ত্রিদেশীয় সিরিজ ও এশিয়া কাপ ২০২৫ এর জন্য ১৭ সদস্যের ক্রিকেট দল ঘোষণা করেছে। এই স্কোয়াডে বাবর আজম ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের মত অভিজ্ঞ ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটারদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, যা ক্রিকেট বিশ্বে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

    দলের অধিনায়ক হিসেবে অলরাউন্ডার সালমান আলী আঘাকে রেখে দলটি সাজানো হয়েছে। দলের অন্যান্য সদস্যরা হলো— অভিজ্ঞ খেলোয়াড় ফখর জামান, শাহীন শাহ আফ্রিদি ও হারিস রউফ। পাশাপাশি তরুণ প্রতিভাবান ক্রিকেটাররা— সাইম আইয়ুব, খুশদিল শাহ ও হুসেইন তালাতকেও সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

    এছাড়া স্কোয়াডে রয়েছে মোহাম্মদ নওয়াজ, মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়র, উইকেটকিপার মোহাম্মদ হারিস, অপ্রকাশিত কিছু তারকা— আবরার আহমেদ, ফাহিম আশরাফ, হাসান আলী, হাসান নওয়াজ, সাহিবজাদা ফারহান, সালমান মির্জা ও শান্তিপূর্ণভাবে দলে সুযোগ পেয়েছেন suliফিয়ান মোকিম।

    সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহতে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজের সূচি অনুযায়ী, পাকিস্তানের প্রতিপক্ষ হবে আফগানিস্তান ও স্বাগতিক আমিরাত। সিরিজটি অনুষ্ঠিত হবে ২৯ আগস্ট থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এরপর ৯ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর আবুধাবি ও দুবাইয়ে চলবে এশিয়া কাপ ২০২৫।

    পিসিবির হাই পারফরম্যান্স বিভাগের পরিচালক আকিব জাভেদ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “এটি মূলত সেই দলের প্রতিচ্ছবি, যারা টানা তিনটি সিরিজে অংশ নিয়েছে। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ধারাবাহিকতা ও জয়ের ধারা বজায় রাখা।”

    সালমান মির্জার দলে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, “যে পারফর্ম করবে, সে-ই অধিকার পাবে খেলার। সালমান বাংলদেশে বেশ ভালো পারফর্ম করেছে।

    অন্যদিকে, বাদ পড়া দুই তারকা— বাবর আজম ও মোহাম্মদ রিজওয়ান নিয়ে আলোচনা চললেও, আকিব বলেন, “আমরা বলতে চাই না যে বাবর-রিজওয়ান আর ফিরবে না। যারা এখন খেলছে তাদের সুযোগ দেওয়া দরকার। তাদের ক্যারিয়ার চলমান, তাই পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।”

    সাদা বলের প্রধান কোচ মাইক হেসন মনে করেন, “তিন ম্যাচের ছোট পর্যবেক্ষণে কারো মূল্যায়ন করা কঠিন। বাবর প্রথম ম্যাচে ভালো খেলেছে, তবে উন্নতির জন্য জায়গা রয়েছে। বাবর-রিজওয়ান যদি অন্যদের মতো পারফর্ম করে, তবে তারা অবশ্যই ফেরার সুযোগ পাবেন।”

    দলের বিবরণী অনুযায়ী পাকিস্তানের ১৭ সদস্যের স্কোয়াড হলো— সালমান আলী আঘা (অধিনায়ক), আবরার আহমেদ, ফাহিম আশরাফ, ফখর জামান, হারিস রউফ, হাসান আলী, হাসান নওয়াজ, হুসেইন তালাত, খুশদিল শাহ, মোহাম্মদ হারিস (উইকেটকিপার), মোহাম্মদ নওয়াজ, মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়র, সাহিবজাদা ফারহান, সাইম আইয়ুব, সালমান মির্জা, শাহী আফ্রিদি ও সুফিয়ান মোকিম।

    ত্রীদেশীয় সিরিজের সূচি শারজাহতে —
    – ২৯ আগস্ট: আফগানিস্তান বনাম পাকিস্তান
    – ৩০ আগস্ট: আমিরাত বনাম পাকিস্তান
    – ১ সেপ্টেম্বর: আমিরাত বনাম আফগানিস্তান
    – ২ সেপ্টেম্বর: পাকিস্তান বনাম আফগানিস্তান
    – ৪ সেপ্টেম্বর: পাকিস্তান বনাম আমিরাত
    – ৫ সেপ্টেম্বর: আফগানিস্তান বনাম আমিরাত
    – ৭ সেপ্টেম্বর: ফাইনাল

    এশিয়া কাপ ২০২৫ এর সূচি (আবুধাবি ও দুবাই) হলো—
    – ৯ সেপ্টেম্বর: আফগানিস্তান বনাম হংকং
    – ১০ সেপ্টেম্বর: ভারত বনাম আমিরাত
    – ১১ সেপ্টেম্বর: বাংলাদেশ বনাম হংকং
    – ১২ সেপ্টেম্বর: পাকিস্তান বনাম ওমান
    – ১৩ সেপ্টেম্বর: বাংলাদেশ বনাম শ্রীলঙ্কা
    – ১৪ সেপ্টেম্বর: ভারত বনাম পাকিস্তান
    – ১৫ সেপ্টেম্বর: আমিরাত বনাম ওমান, শ্রীলঙ্কা বনাম হংকং
    – ১৬ সেপ্টেম্বর: বাংলাদেশ বনাম আফগানিস্তান
    – ১৭ সেপ্টেম্বর: পাকিস্তান বনাম আমিরাত
    – ১৮ সেপ্টেম্বর: শ্রীলঙ্কা বনাম আফগানিস্তান
    – ১৯ সেপ্টেম্বর: ভারত বনাম ওমান

    অন্ততোর জন্য সাপেক্ষে, ফাইনাল হবে ২৮ সেপ্টেম্বর।

  • যুদ্ধ বন্ধে অস্ত্রবিরতি নয়, ত্রিপক্ষীয় বৈঠক দাবি ট্রাম্পের

    যুদ্ধ বন্ধে অস্ত্রবিরতি নয়, ত্রিপক্ষীয় বৈঠক দাবি ট্রাম্পের

    অর্থাৎ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধ শেষ করার প্রক্রিয়া আর অস্ত্রবিরতি দিয়ে নয়, বরং কেন্দ্রীয়ভাবে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা দরকার। তিনি বলেছেন, বর্তমানে এই অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য রাশিয়া ও ইউক্রেনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করবে। ট্রাম্প এই কথা জানিয়েছেন হোয়াইট হাউসে দুই নেতার এর公共সংবাদ সম্মেলনে। এর আগে তিনি স্থানীয় সময় বেলা ১১টায় হোয়াইট হাউসে যান ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদেমির জেলেনস্কি। কয়েকটি ইউরোপিয় দেশের শীর্ষ নেতাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন, যারা ট্রাম্পের সঙ্গে আলাপচারিতার জন্য অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। ট্রাম্প আরও জানান, ইউক্রেন যদি চায়, তারা যুদ্ধ শেষ করতে পারে। তবে এই জন্য একান্ত দরকার একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক, যেখানে সব পক্ষের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা হবে। তিনি বলেন, সবকিছু যদি ঠিকঠাক চলে, তাহলে খুব শিগগিরই এই বৈঠক আয়োজন করা হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জোর দিয়ে বলেন, শান্তি চুক্তির জন্য ইউক্রেনের ন্যাটোর সদস্য হওয়ার প্রয়োজন নেই। ওয়াশিংটন ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাবে এবং তাদের খুব ভালো সুরক্ষা দেবে। অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদেমির জেলেনস্কি জানান, তিনি এই ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে অংশগ্রহণে আগ্রহী। তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক পরিকল্পনায় ইউক্রেনের সমর্থন রয়েছে ও যুদ্ধের অবসান চান তারা।

  • ট্রাম্প বললেন, ইউক্রেনের ন্যাটো ও ক্রিমিয়ার আশা ছাড়াই শান্তি বার্তা দিন

    ট্রাম্প বললেন, ইউক্রেনের ন্যাটো ও ক্রিমিয়ার আশা ছাড়াই শান্তি বার্তা দিন

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনকে ন্যাটো জোটে যোগদানের Aspirations এবং রাশিয়া দখল করা ক্রিমিয়া পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। আজ সোমবার (১৮ আগস্ট) ওয়াশিংটনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও অন্যান্য ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের আগে তিনি এ ব্যাপারে স্পষ্ট বার্তা দেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর নিশ্চিত করেছে।

    রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে শুক্রবার আলাস্কায় আলোচনার পর ট্রাম্প এবার ইউক্রেনকে চাপ দিচ্ছেন। তিনি চান, কিয়েভ শান্তিচুক্তি মেনে নিয়ে যুদ্ধের অবসান ঘটাক। বর্তমানে লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত ও হাজারো মানুষ নিহত হয়েছে এই সংঘর্ষে।

    হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রথমে নিজের সঙ্গে জেলেনস্কির বৈঠক করবেন, এরপর ব্রিটেন, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, ফিনল্যান্ড, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটো নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। ইউরোপীয় নেতারা একযোগে ওয়াশিংটনে গিয়ে ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানাতে চান।

    রোববার ট্রাম্প তার প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ লিখেছেন, জেলেনস্কি যদি চায়, দ্রুত যুদ্ধ শেষ করতে পারেন। আবার চাইলে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, ওবামার আমলে ক্রিমিয়া গুলিবিহীন দখল হয়েছে, ন্যাটোও ইউক্রেনের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে না।

    এদিকে, ইউক্রেন ও তার মিত্ররা আশঙ্কা করছেন, হয়তো ট্রাম্প মস্কোর সঙ্গে কোনো সমঝোতার জন্য চাপ দিতে পারেন। তবে কিছুটা আশ্বস্ত হয়েছেন, কারণ ট্রাম্প যুদ্ধ শেষের পরবর্তী পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের নিরাপত্তার বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন।

    পুতিনের প্রস্তাব অনুযায়ী, ইউক্রেনের ডনেস্ক অঞ্চলের অবশিষ্ট অংশ ছাড়তে হবে। তবে জেলেনস্কি এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনার পক্ষে। কিন্তু এরপর ট্রাম্প রাশিয়ার দাবির পক্ষে অবস্থান নেন।

    জেলেনস্কি রবিবার রাতে ওয়াশিংটনে পৌঁছে বলেছেন, এই যুদ্ধ দ্রুত ও স্থায়ীভাবে শেষ করতে চায় সবাই। রাশিয়া এই যুদ্ধ শুরু করেছে, তাই তারই শেষ করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় বন্ধুদের সঙ্গে মিলেই শান্তি চান তিনি।

    অন্যদিকে, ইউক্রেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সাতজন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে দুই শিশু রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, হামলায় বহু বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    এদিকে, ইউরোপীয় নেতারা আশঙ্কা করছেন, পুতিন-ট্রাম্প বৈঠকে তাদের বাইরে রাখা হয়েছে বলে। তাই তারা আগে থেকেই জেলেনস্কির সঙ্গে সমন্বয় করেছেন। জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ওয়াদেফুল বলেছেন, বিশ্ব এখন ওয়াশিংটনের দিকেই তাকিয়ে আছে।

    চলতি বছরের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের হোয়াইট হাউজে ফেরার পর থেকে কিয়েভ-ওয়াশিংটনের সম্পর্ক অনেকটাই গড়বড়। তবে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্যের ওপর নির্ভরশীল থাকায় জেলেনস্কি ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

  • অস্ট্রেলিয়া ইসরায়েলি এমপি রথম্যানের ভিসা বাতিল করল, বলল, ‘তোমাকে আমরা চাই না’

    অস্ট্রেলিয়া ইসরায়েলি এমপি রথম্যানের ভিসা বাতিল করল, বলল, ‘তোমাকে আমরা চাই না’

    প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দিকে ঝুঁকে থাকা অস্ট্রেলিয়া কট্টরডানপন্থী ইসরায়েলি সংসদ সদস্য সিমচা রথম্যানের ভিসা বাতিল করেছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় তার সফরের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে, যা গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ। অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক এ বিষয়টি নিজে নিশ্চিত করেছেন।

    ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান রিপোর্ট অনুযায়ী, রথম্যানের ইচ্ছে ছিল অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে ইহুদি স্কুল, সিনাগগ ও ইহুদি সম্প্রদায়ের ওপর চলমান হামলার শিকারদের সঙ্গে দেখা করার। এই সফরের জন্য তিনি আমন্ত্রণ পান অস্ট্রেলিয়ান জিউইশ অ্যাসোসিয়েশন (এজেএ)-এর পক্ষ থেকে। সংস্থাটির প্রধান রবার্ট গ্রেগরি এই সফরকে ‘ভয়ংকরভাবে ইহুদি বিদ্বেষমূলক’ বলে একের পর এক তীব্র নিন্দা জানাচ্ছেন।

    অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক এক বিবৃতিতে বলেন, ‘যারা আমাদের দেশে বিভাজন ও ঘৃণা ছড়িয়ে দিতে চায়, তাদের আমরা গ্রহণ করব না। আমাদের সরকার কঠোর নীতি গ্রহণ করেছে, কেউ যদি ঘৃণা ও বিভাজনের বার্তা ছড়িয়ে আসেন, তাহলে আমাদের দেশে তাদের স্থান নেই।’

    সীমান্ত হিসেবে পরিচিত এই দেশটির ইসরায়েলি সংসদ সদস্য রথম্যান মূলত ইসরায়েলি পার্লামেন্টের সংবিধান, আইন ও বিচারবিষয়ক কমিটির প্রধান এবং সরকারের বিতর্কিত বিচারব্যবস্থার সংস্কারের অন্যতম প্রাণপুরুষ হিসেবে পরিচিত। তার কট্টর ইহুদিবাদী অবস্থানের জন্যও তিনি ব্যাপকভাবে আলোচিত।

    এজেএ জানায়, রথম্যানের সফরটি মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ঘটনার সঙ্গে কোনরূপ যোগসূত্র নেই। তবে গ্রেগরি সতর্ক করে বলেন, ‘ইহুদিদের উচিত অস্ট্রেলিয়ায় আসার আগে অন্তত দুবার ভাবা।’ এর আগে অস্ট্রেলিয়ার লেবার সরকার সাবেক ইসরায়েলি মন্ত্রী আয়েলেট শাকেদ এবং ব্লগার হিলেল ফুল্ডের ভিসাও বাতিল করেছিল। সমালোচকদের মতে, এই সিদ্ধান্তগুলো ইসরায়েলবিরোধী অবস্থানের প্রকাশ।

    সম্প্রতি অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী ক্যানবেরায় ইসরায়েলি নীতির কঠোর সমালোচনা করেন এবং আগামী মাসে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান। রথম্যান এবং ইসরায়েলি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষযে এখনও মন্তব্য দেননি।