Author: bangladiganta

  • বাংলাদেশের শুল্ক মুক্ত চাল আমদানির ঘোষণা ভারতের বাজারে বড় প্রভাব ফেলেছে

    বাংলাদেশের শুল্ক মুক্ত চাল আমদানির ঘোষণা ভারতের বাজারে বড় প্রভাব ফেলেছে

    বাংলাদেশের সদ্য ঘোষিত শুল্কমুক্ত চাল আমদানির সিদ্ধান্তের ফলে ভারতের বাজারে চালের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। গত দুই দিনে ভারতে চালের দাম প্রায় ১৪ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে। এর আগে বাংলাদেশ সরকার খাদ্য সরবরাহের স্থিতিশীলতা ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য ৫ লাখ টন চালের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করে নেয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারতের বড় বড় চাল ব্যবসায়ীরা অধিক লাভের আশায় বাংলাদেশে চাল রপ্তানি শুরু করেছেন। এর ফলে ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে চালের সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে একটি সাময়িক ভারসাম্যহীনতা দেখা দিয়েছে, যা ইকোনমিক টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ, উত্তর প্রদেশ ও অন্যান্য দক্ষিণ ভারতের ব্যবসায়ীরা এর আগে খবর পেয়েছিলেন যে বাংলাদেশ সরকার চালের ওপর থেকে ২০ শতাংশ আমদানির শুল্ক সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করবে। তারা তাই পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্তের কাছেই চালের গুদাম প্রস্তুত করে রেখেছিলেন। গত বুধবার বাংলাদেশ সরকারের ঘোষণা আসার পর থেকে ভারত থেকে ট্রাকে করে চাল বাংলাদেশে রপ্তানি শুরু হয়।

    এই শুল্ক প্রত্যাহারের ফলে ভারতের খুচরা বাজারে চালের দাম এই মুহূর্তে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে। স্বর্ণা চালের দাম প্রতি কেজি ৩৪ থেকে বেড়ে ৩৯ রুপি, মিনিকেটের দাম ৪৯ থেকে ৫৫ রুপি, রতœা চালের দাম ৩৬-৩৭ থেকে ৪১-৪২ রুপি এবং সোনা মাসুরি চালের কেজি ৫২ থেকে ৫৬ রুপি পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

    রাইসভিলা নামে এক চাল রপ্তানিকারক সংস্থার সিইও সুরজ আগরওয়াল বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) শুল্ক প্রত্যাহারের খবর পেয়েই ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের ট্রাকগুলো বাংলাদেশে চালানোর জন্য রওনা দিয়েছে। তিনি জানান, লজিস্টিক সুবিধা ও খরচ কমানোর জন্য পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্তের মাধ্যমে চাল রপ্তানি লাভজনক, ফলে উত্তর প্রদেশ ও দক্ষিণ ভারতের মিলাররা এই পথ ব্যবহার করছেন।

    অন্ধ্রপ্রদেশের চাল মিলার সিকে রাও বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকালেই আমার ট্রাকগুলো বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে।’

    বাংলাদেশের এই শুল্ক মুক্ত চাল আমদানির মূল লক্ষ্য হলো অভ্যন্তরীণ বাজারে চালের দাম স্থিতিশীল রাখা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে ভোক্তাদের স্বস্তি দেওয়া। গত অর্থবছরে (২০২৪-২৫) দেশে চালের দাম ১৬ শতাংশ বেড়েছিল, তখন বাংলাদেশে ১৩ লাখ টন চাল আমদানি করতে হয়েছিল।

    চাল রপ্তানিকারক সংস্থার হালদার ভেঞ্চার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেশব কুমার হালদার বলেন, বিশ্ববাজারে চালের সরবরাহ উদ্বৃত্ত থাকায় আমদানির জন্য বিভিন্ন দেশের গুদামজাত মজুত পর্যাপ্ত। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের এই রপ্তানি অর্ডার ভারতের বাজারকে মন্দা থেকে তুলতে সাহায্য করবে, কারণ এটি নতুন চাহিদা সৃষ্টি করেছে এবং বৈশ্বিক মূল্যহ্রাসকে আংশিকভাবে পুষিয়ে দিচ্ছে।’

  • সরকারি চাকুরিজীবীদের জন্য করমুক্ত ৪২ ধরনের আয়

    সরকারি চাকুরিজীবীদের জন্য করমুক্ত ৪২ ধরনের আয়

    সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক হলেও কিছু আয়কর থেকে মুক্ত থাকছে। অর্থাৎ, নির্দিষ্ট ৪২ ধরনের আয়ের উপর তারা কর দিতে হবে না, যা জানা গেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আয়কর নির্দেশিকা থেকে। এই নির্দেশিকা অনুযায়ী, যেসব আয় করমুক্ত ঘোষিত হয়েছে, তাতে রয়েছে চিকিৎসা ভাতা, নববর্ষ ভাতা, বাড়িভাড়া ভাতা, শ্রান্তি ও বিনোদন ভাতা, শিক্ষাসহায়ক ভাতা, কার্যভার ভাতা, পাহাড়ি ভাতা, ভ্রমণ ভাতা, যাতায়াত ভাতা, টিফিন ভাতা, পোশাক ভাতা, আপ্যায়ন ভাতা, ধোলাই ভাতা, বিশেষ ভাতা, প্রেষণ ভাতা, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে প্রেষণ ভাতা, জুডিশিয়াল ভাতা, চৌকি ভাতা, ডোমেস্টিক এইড অ্যালাউয়েন্স, ঝুঁকি ভাতা, অ্যাকটিং অ্যালাউয়েন্স, মোটরসাইকেল ভাতা, আর্মরার অ্যালাউয়েন্স, নিঃশর্ত যাত্রা ভাতা, টেলিকম অ্যালাউয়েন্স, ক্লিনার অ্যালাউয়েন্স, ড্রাইভার অ্যালাউয়েন্স, মাউন্টেড পুলিশ অ্যালাউয়েন্স, পিবিএক্স অ্যালাউয়েন্স, সশস্ত্র শাখা ভাতা, বিউগলার অ্যালাউয়েন্স, নার্সিং অ্যালাউয়েন্স, দৈনিক বা খোরাকি ভাতা, ট্রাফিক অ্যালাউয়েন্স, রেশন মানি, সীমান্ত ভাতা, ব্যাটম্যান ভাতা, ইন্সট্রাকশনাল অ্যালাউয়েন্স, নিযুক্তি ভাতা, আউটফিট ভাতা ও গার্ড পুলিশ ভাতা। তবে মূল বেতন, উৎসব ভাতা ও বোনাস সম্পূর্ণ করযোগ্য আয়ের মধ্যে গণ্য হবে এবং এ সব আয়ের ওপর নির্ধারিত হারে আয়কর দিতে হবে।

    অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার এনবিআর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায় that ২০২৫-২৬ কর বছর জন্য ৪ আগস্ট থেকে অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিলের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রথম ১০ দিনে এই বছর ৯৬,৯৪৫ জন করদাতা ই-রিটার্ন দাখিল করেছেন, যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। গত বছরের তুলনায় এই বছরের দৈনিক গড় ই-রিটার্ন দাখিলের সংখ্যা প্রায় পাঁচগুণ বেড়েছে, যা এটির জনপ্রিয়তা ও করদাতাদের উদ্বুদ্ধ করার একটি দৃষ্টান্ত।

  • পিআর পদ্ধতিতে জনগণের অধিকার পূরণ হবে না: মির্জা ফখরুল

    পিআর পদ্ধতিতে জনগণের অধিকার পূরণ হবে না: মির্জা ফখরুল

    সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচনে জনগণের পূর্ণ অধিকার নিশ্চিত হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ এই পদ্ধতিতে ভোট দেওয়ার সংস্কৃতি গড়ে ওঠেনি এবং বিএনপি এই পদ্ধতির পক্ষে নয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চিকিৎসা শেষে থাইল্যান্ডের ব্যাংকক থেকে দেশে ফেরার সময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলাকালে এ কথা জানান মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য একমাত্র উপায় হচ্ছে রেজুলেশন ও সব দলের অংশগ্রহণে সুস্থ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের আয়োজন। দেশের মানুষ এখন নির্বাচনের জন্যই অপেক্ষা করছে, কারণ সংকটের একমাত্র সমাধান হলো দ্রুত নির্বাচন। তিনি আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ভালোভাবে সম্পন্ন হওয়া দরকার, যাতে সব অংশগ্রহণকারী অংশ নিতে পারে। তিনি বলছেন, দেশের মানুষ এখনই চায় নির্বাচনের মাধ্যমে পরিবর্তন, এবং যারা সংস্কার চায় না, সেটি তাদের দলেরই ব্যাপার।

  • ফ্যাসিবাদ রুখতে সংবিধান আর লিখিত বিধি যথেষ্ট নয়: তারেক রহমান

    ফ্যাসিবাদ রুখতে সংবিধান আর লিখিত বিধি যথেষ্ট নয়: তারেক রহমান

    বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, সংবিধান কিংবা লিখিত বিধি-বিধান দিয়েই ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। ফ্যাসিবাদ মোকাবিলায় রাষ্ট্র এবং রাজনীতিতে শক্তিশালী জনগণের উপস্থিতি আবশ্যক। তিনি বলেন, জনগণকে রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী করে তুলতেই হবে, তখনই হয়ত ফ্যাসিবাদের বিকল্প নেই। মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

    তারেক রহমান বলেন, সরাসরি ভোটের মাধ্যমে জনগণের প্রতিনিধির নির্বাচন শুরু হওয়া থেকে রাষ্ট্র এবং জনগণের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। জনগণ যদি কল্যাণমূলক এবং রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় না হন, তাহলে রাষ্ট্র এবং সরকার বিশ্লেষণীয় শক্তিশালী হতে পারে না। তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন বিধিনিষেধ এবং শর্ত আরোপ করে জনগণের রাজনৈতিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা হলে গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।

    তিনি ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তির মধ্যে বিভেদ এড়ানোর আর্জি জানিয়ে বলেন, একাত্তর ছিল স্বাধীনতার সংগ্রাম, আর চব্বিশ ছিল স্বাধীনতা রক্ষা করার লড়াই। শহীদদের অসীম ত্যাগের বিনিময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়ে থাকা এক ফ্যাসিস্টের পতন ঘটে, আর এখন ফ্যাসিবাদ বিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি নিজেদের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় বিতর্কে লিপ্ত হচ্ছে। এর ফলে শহীদদের আত্মত্যাগের মূল্য অবহেলিত হচ্ছে। গণতান্ত্রিক ইনসাফের ভিত্তিতে দেশ গড়ে তোলাই এখন মানবিক লড়াইয়ের মূল লক্ষ্য, যাতে শহীদদের আত্মত্যাগ সার্থক হয়।

    তিনি তরুণ প্রজন্মকে উদ্দেশে করে বলেন, কথার রাজনীতি নয়, কাজে মনোযোগী হওয়ার সময় এসেছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ এবং স্থিতিশীল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হলে আমাদের প্রচলিত রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি। প্রতিহিংসা বা ফ্যাসির রাজনীতি বাদ দিয়ে রাষ্ট্রীয় পরিস্থিতি উন্নয়নে বাস্তবমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে।

    অंतত, বিএনপি’র নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে তিনি জানান, এমন কোনো কর্মকাণ্ডে যেন শামিল না হন, যা জনমনে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি করে। দলের অভ্যন্তরে ঐক্য বজায় রাখতে ও দেশের গণতান্ত্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সবকিছুতে সচেতন থাকতে হবে।

  • সালাহউদ্দিন আহমদ: জুলাই সনদের সূচনা, দফা নিয়ে আপত্তি ও নির্বাচন পরিকল্পনা

    সালাহউদ্দিন আহমদ: জুলাই সনদের সূচনা, দফা নিয়ে আপত্তি ও নির্বাচন পরিকল্পনা

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই সনদের চূড়ান্ত খসড়ার সূচনা এবং তিনটি দফা—২, ৩ ও ৪—সংক্রান্ত ব্যাপারে দলের আপত্তি রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, খসড়া সনদের সূচনায় অসত্য তথ্য দেওয়া হয়েছে। আজ (১৯ আগস্ট) রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি।

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “কিছু বিষয় আলোচনা এড়ানো হয়েছে বা সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। খসড়া সনদের মধ্যে এমন কিছু বিষয় রাখা হয়েছে যা বিতর্ক সৃষ্টি করছে। বিএনপি সমস্ত বিষয় পর্যালোচনা করে জাতীয় ঐক্যমত কমিশনে তাদের মতামত দেবে। যদিও বলা হয় যে, আগামী সংসদ গঠনের দুই বছরের মধ্যে সংবিধান সংশোধনী সম্পন্ন করা যাবে, কিন্তু চূড়ান্ত খসড়ায় তার উল্লেখ নেই।”

    তিনি আরও বলেন, “জুলাই সনদের ৮৪ দফার মধ্যে যেসকল দফায় সব রাজনৈতিক দল একমত হয়েছে, সেই সব দফার বাস্তবায়ন কীভাবে হবে, পাশাপাশি যেসমস্ত বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট বা মতান্তর আসছে, সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত কি হবে—এসব বিষয়ের দ্রুত সমাধান জরুরি। বিএনপি এসব বিষয়ে পর্যালোচনা করে কমিশনে মতামত দেবে।”

    সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে তিনি বলেন, “নব্য সনদে বেশ কিছু বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট দেওয়া হয়েছে। অনেক বিষয়ই বাস্তবায়নে আদেশ বা নির্বাহী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মোকাবিলা সম্ভব। তবে, সংবিধান সংশোধন ও ঐক্যমত প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সব বিষয়ের সমাধান আগামী সংসদ কর্তৃক তাদের দুই বছরের মেয়াদে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। পুরনো সনদে এমন ঘোষণা থাকলেও নতুন সনদে তা নেই। এছাড়াও, দ্বিতীয় দফা আলোচনা শেষে অঙ্গীকারনামায় সনদকে সংবিধানের উপরে স্থান দেওয়া হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক নীতিমালা অনুযায়ী অনুচিত। একথা বলেও যে, সনদ সংবিধানের উপরে থাকতে পারে—এটি ভবিষ্যতের জন্য স্পষ্ট খারাপ নজির তৈরি করবে।”

    নির্বাচন প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “নির্বাচন ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী উপদেষ্টা নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছেন, এবং নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। সম্প্রতি বেশ কয়েকজন উপদেষ্টা এই বিষয়ে শক্তিশালী বার্তা দিয়েছেন। তাই, আমরা এতে কোনও সংশয় 없।”

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, “যারা বিভিন্ন সময় মাঠে বক্তৃতা করে নির্বাচন নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করার চেষ্টা করছেন, তা কেবল কৌশলগত। তারা হয়তো কিছু রাজনৈতিক পক্ষকে চাপ দেওয়ার জন্য এ ধরনের কথন বলছে, তবে এ বিষয়ে আমাদের কোনও আপত্তি নেই।”

  • ডাকসুতে ছাত্রদলের প্যানেল ঘোষণা, ভিপি আবিদুল ও জিএস তানভীর

    ডাকসুতে ছাত্রদলের প্যানেল ঘোষণা, ভিপি আবিদুল ও জিএস তানভীর

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল তাদের নির্বাচনী প্যানেল ঘোষণা করেছে। এই প্যানেলে ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন আবিদুল ইসলাম খান, জিএস পদে মনোনয়ন পেয়েছেন শেখ তানভীর বারী হামিম এবং এজিএস পদে আছেন তানভীর আল হাদী মায়েদ।

    বুধবার (২০ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলা ভাস্কর্যের পাশে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি এ ঘোষণা দেয়। সংবাদ সম্মেলনে তারা জানায়, আন্দোলন চলাকালীন ১৫ জুলাই ঢাবিতে আহত সানজিদা আহমেদ তন্বীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্যানেলের গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে তারা প্রার্থী দিচ্ছে না।

    অন্যদিকে, বিভিন্ন সম্পাদকীয় পদে মনোনয়ন পেয়েছেনঃ
    – মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক : আরিফুল ইসলাম
    – বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক : এহসানুল ইসলাম
    – কমনরুম, পাঠকক্ষ ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক : চেমন ফারিয়া ইসলাম মেঘলা
    – আন্তর্জাতিক সম্পাদক : মো. মেহেদী হাসান
    – সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক : আবু হায়াত মো. জুলফিকার জিসান
    – গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক : খালি (সানজিদা আহমেদ তন্বীর সম্মানে)
    – ক্রীড়া সম্পাদক : চিম চিম্যা চাকমা
    – ছাত্র পরিবহন সম্পাদক : মো. সাইফ উল্লাহ (সাইফ)
    – সমাজসেবা সম্পাদক : সৈয়দ ইমাম হাসান অনিক
    – ক্যারিয়ার উন্নয়ন সম্পাদক : মো. আরকানুল ইসলাম রূপক
    – স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক : আনোয়ার হোসাইন
    – মানবাধিকার ও আইন সম্পাদক : মো. মেহেদী হাসান মুন্না

    সদস্য পদে নির্বাচিত হবেন : মো. জারিফ রহমান, মাহমুদুল হাসান, নাহিদ হাসান, মো. হাসিবুর রহমান সাকিব, মো. শামীম রানা, ইয়াসিন আরাফাত আলিফ, মুনইম হাসান অরূপ, রঞ্জন রায়, সোয়াইব ইসলাম ওমি, মেহেরুন্নেসা কেয়া, ইবনু আহমেদ, সামসুল হক আনান ও নিত্যানন্দ পাল।

    সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসিরুদ্দিন নাসির শিক্ষকদের ও আওয়ামী দোসর ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আহ্বান জানান।

  • অপরাজেয় ৭১ ও অদম্য ২৪ নামে প্যানেল দিল তিন ভিন্ন বিরোধী ছাত্রসংগঠন

    অপরাজেয় ৭১ ও অদম্য ২৪ নামে প্যানেল দিল তিন ভিন্ন বিরোধী ছাত্রসংগঠন

    আজ বুধবার (২০ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনটি বামপন্থী ছাত্রসংগঠন তাদের নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ঘোষণা করেছে। সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন (একাংশ), সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগ-বিসিএলের সমর্থিত নেতারা। ঘোষণা অনুযায়ী, এই ১৫ সদস্যের প্যানেলের বাইরে আরও সদস্য সংযুক্ত হবে পরে। ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাহির শাহরিয়ার এই প্যানেলটি ঘোষণা করেন। এই প্যানেলের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপরাজেয় ৭১ ও অদম্য ২৪’। এতে প্রধান প্রার্থীরা হলেন, বিতর্কিত ভিপি পদে নাঈম হাসান হৃদয়, সাধারণ সম্পাদক পদে এনামুল হাসান অনয় এবং অ্যাসিস্টেণ্ট জেনারেল সেক্রেটারি (এজিএস) পদে অদিতি ইসলামের নাম। এসব পদে তারা নির্বাচিত হতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এই প্যানেল নতুন উদ্যোগে ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব দেবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছেন।

  • নতুন মামলায় গ্রেফতার পলক-আতিক, কিরণের রিমান্ড মঞ্জুর

    নতুন মামলায় গ্রেফতার পলক-আতিক, কিরণের রিমান্ড মঞ্জুর

    জুলাই মাসের আন্দোলনের সময় ঢাকার মোহাম্মদপুরে হোসেন নামে এক ট্রাক চালকের মৃত্যু ঘটনার ধারাবাহিক মামলায় সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহম্মেদ পলক এবং উত্তরা পূর্ব থানার এসআই আতিককে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। আজ বুধবার (২০ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এম এ মিজবাহ উর রহমানের আদালত এ আদেশ দেন।

    এর আগে আদালতে পলক ও আতিককে গ্রেফতার করার জন্য আবেদন জানানো হয়। উল্লেখ্য, গত ৪ জুন তাদের সাত দিনের রিমান্ডের জন্য আবেদন করা হয়েছিল। শুনানির দিন বুধবার এ দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। তেমনি কিরণের বিরুদ্ধে ৬ দফা ধার্য্য ছিল এবং তার রিমান্ডের শুনানি আজকেরদিনে অনুষ্ঠিত হয়।

    সকাল সাড়ে ১০ টায় শুনানি শুরু হয়। প্রথমে পলককে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেওয়া হয়। এরপর আতিক ও কিরণের মামলার শুনানি চলে। রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের বৈধতা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, গত বছর ১৮ জুলাই সারাদেশে মোট বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়। ছাত্র ও সাধারণ জনগণ রাস্তায় নেমে আসে। এই সময়ে উত্তরা এলাকায় শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন দলের সদস্যরা হামলা চালায়। হামলাকারীরা গুলি করে প্রাণহানি ঘটায়, বিশেষ করে কিরণ সহ অন্যান্যরা। কিরণ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত রয়েছে। তদন্তের সুবিধার্থে তার রিমান্ডে নেওয়া জরুরি, তাই সর্বোচ্চ সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুরের দাবি করেন তিনি।

    অপরদিকে, কিরণের পক্ষে আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীন রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন জানান। তিনি বলেন, গত ৪ জুন রিমান্ডের আবেদন করা হলেও আজ প্রায় ১১৭ দিন পরে শুনানি হচ্ছে, যা আইনগতভাবে প্রশ্নাতীত। তিনি জানান, তিনি এই ঘটনায় জড়িত নন। তাঁর জন্য বর্তমান পরিস্থিতি খুবই কঠিন। তাই রিমান্ড বাতিল করে জামিনের জন্য আবেদন করেন।

    প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে এসআই আতিকুর রহমান বলেন, এই আসামিকে আদালতে হাজির করতে ছয়বার প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট ইস্যু করা হয়েছে, কিন্তু অনিবার্য কারণে তার উপস্থিতি সম্ভব হয়নি। জেল সুপারকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়েছে। আজ তাকে আদালতে হাজির করা হয়।

    অথচ, আদালত কিরণের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ও আতিকের গ্রেফতার দেখানোর আবেদনও অনুমোদন দেন।

    অভিযোগের বিবরণে জানা যায়, আন্দোলনের সময় ১৮ জুলাই উত্তরা পূর্ব থানার চার নম্বর সেক্টরে এক ব্যবসায়ী ইশতিয়াক মাহমুদসহ অন্যরা অংশগ্রহণ করেন। ওই দিন তিনি ও অন্যরা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের হামলার শিকার হয়। গুলিবর্ষণে ইশতিয়াকের পেটে গুলি লাগে, তিনি দ্রুত এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

    তাছাড়া, ২৯ অক্টোবর ইশতিয়াক মাহমুদ বাদী হয়ে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ ১২৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

    মোহাম্মদপুরে ১৯ জুলাই গুলিতে ট্রাকচালক হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় তার মা রিনা বেগম ৩১ আগস্ট মামলা দায়ের করেন।

  • জুলাই মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৮০ জনের মৃত্যু: বিআরটিএ

    জুলাই মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৮০ জনের মৃত্যু: বিআরটিএ

    জুলাই ماهে দেশজুড়ে মোট ৪২৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৩৮০ জন, আহত হয়েছেন আরও ৫৪২ মানুষ। বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) এর চেয়ারম্যান আবু মমতাজ סাদ উদ্দিন আহমেদের স্বাক্ষরিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে জানানো হয়, এসব দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান সংগ্রহ করা হয়েছে বিভাগীয় অফিসের মাধ্যমে।

  • সব চ্যালেঞ্জ মুখোমুখি, সুস্থ ও স্বনির্ভর প্রজন্ম গড়ে তুলতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা

    সব চ্যালেঞ্জ মুখোমুখি, সুস্থ ও স্বনির্ভর প্রজন্ম গড়ে তুলতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা

    প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, যে কোনো পরিস্থিতিতে, যতই চ্যালেঞ্জিং হোক না কেন, আমাদের সুস্থ ও স্বনির্ভর প্রজন্ম গড়ে তুলতে হবে। আজ বুধবার (২০ আগস্ট) বাংলাদেশে অসংক্রামক রোগের প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য একসঙ্গে উদ্যোগ গ্রহণ এবং এর বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আন্তঃমন্ত্রণালয় সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য প্রকাশিত ‘যৌথ ঘোষণাপত্র’ স্বাক্ষরের অনুষ্ঠানে তিনি এই কথা বলেন।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই অনুষ্ঠানের গুরুত্ব খুবই বেশি কারণ এটি স্বাস্থ্য খাতের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুকে কেন্দ্র করে। তিনি উল্লেখ করেন, উন্নত জাতি গঠন ও দেশের সামগ্রিক অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হলে দক্ষ ও কর্মক্ষম মানবসম্পদ তৈরি অপরিহার্য। না হলে ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে দেশের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়িত সম্ভব নয়। তাই, যে কোনো পরিস্থিতি হোক বা যতই চ্যালেঞ্জিং হোক, আমাদের অবশ্যই সুস্থ ও শক্তিশালী প্রজন্ম গড়ে তুলতে হবে।

    তিনি আরও বলেন, এই লক্ষ্য অর্জনে সরকারি, বেসরকারি, সুশীল সমাজ, আন্তর্জাতিক ও সমাজসেবা সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা—সকলের সক্রিয় অংশগ্রহণ দরকার। পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে অসংক্রামক রোগ দিন দিন বিস্তৃত হয়ে চলেছে। বাংলাদেশের স্থান ও জনগোষ্ঠীর অবস্থান ভৌগোলিক ও সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই পরিস্থিতি আরও সংকটময় করে তুলেছে। এ কারণে এটি দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত জরুরি বিষয়, যা শুধু স্বাস্থ্য খাতেরই না, বরং দেশের অর্থনীতি, সামাজিক নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়নেও গভীরভাবে জড়িত।

    ড. ইউনূস সাধারণত: বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২২ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর ৭১ শতাংশ ঘটে অসংক্রামক রোগের কারণে, যেখানে ৫১ শতাংশ মারা যান ৭০ বছরের নিচে, যাকে আমরা অকাল মৃত্যু বলে থাকি। দেশের ব্যক্তিগত চিকিৎসা ব্যয়ের অনেকাংশই যাচ্ছে এই রোগের কারণে। একজনের ক্যানসার বা অন্যান্য গুরুতর রোগ হলে পরিবারকে অনেক অর্থ সংগ্রহ করতে হয় এবং অনেক সময় বিদেশ থেকে উচ্চমূল্যে চিকিৎসা করাতে হয়। একারণে দেশের অনেক অর্থ খরচ হয় বিদেশী চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে। এজন্য অত্যন্ত জরুরি, রোগের প্রতিরোধ এবং নিয়ন্ত্রণের জন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

    তিনি উল্লেখ করেন, এই কাজের জন্য একা স্বাস্থ্য বিভাগ সক্ষম নয়; সকল মন্ত্রণালয়কে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। খাদ্য, কৃষি, শিক্ষা, ক্রীড়া, স্থানীয় সরকার, গণপূর্ত—প্রত্যেকটি খাতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। প্রত্যেকখাতে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও উদ্যোগ গ্রহণের দরকার। এ জন্য কিছু সুনির্দিষ্ট বিষয় চিহ্নিত করে তার উপর জোরদার নজরদারি ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

    প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, জনস্বাস্থ্য রক্ষায় সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তবে শুধুমাত্র সচেতন থাকলেও কাজ হয় না; বাস্তবতা হলো জীবনের প্রতিটি দিকের উপর এর প্রভাব পড়ছে। তরুণ সমাজের ওপর তামাকের বিরুদ্ধে সচেতনতা জরুরি, না হলে আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় পড়বে।

    সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হয়ে চিনি বা অন্য খাদ্য উপাদানের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি। নাগরিক সমাজ, যুবশক্তি ও নারীদের স্বাস্থ্যবান্ধব নীতিমালা ও কার্যক্রমের অগ্রাধিকার দিতে হবে। পাশাপাশি জনসচেতনতা সৃষ্টি, স্বাস্থ্যসম্মত জীবনধারা এবং দায়িত্বশীল নাগরিক আচরণ গড়ে তুলতে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে বলেন।

    তিনি বলেন, ‘যৌথ ঘোষনা’ বাস্তবায়নে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক কারিগরি সহযোগিতা দরকার। তিনি বিশ্বাস করেন, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ মডেল থেকে এই উদ্যোগের সফলতার সম্ভাবনা বেশি। এ জন্য স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সংশ্লিষ্ট সবাইকে উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান। স্বাক্ষরকারী মন্ত্রণালয়গুলোকে সহযোগিতা নিশ্চিত করতে বলেন এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

    একই সঙ্গে, তিনি বলেন, প্রতিটি কর্মপরিকল্পনার সফল বাস্তবায়নের জন্য গভীর মনিটরিং, উপযুক্ত জনবল ও পর্যাপ্ত অর্থায়ন অপরিহার্য। সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ বিষয়গুলো নিশ্চিত করার জন্য সচেতনতা বাড়াতে আহ্বান জানান।

    অবশেষে, তিনি বলেন, ‘যৌথ ঘোষণা’ স্বাক্ষর মাধ্যমে আমরা দেশের জনস্বাস্থ্য নিরাপত্তায় একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করলাম। এটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এক আন্তরিক উদ্যোগ। এর সফল বাস্তবায়নে বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য আরও উন্নত হবে এবং এটি দেশের টেকসই উন্নয়ন এবং এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।