Author: bangladiganta

  • বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক তিন গভর্নর ও ছয় ডেপুটি গভর্নরের ব্যাংক হিসাব তলব

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক তিন গভর্নর ও ছয় ডেপুটি গভর্নরের ব্যাংক হিসাব তলব

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক তিন গভর্নর ও ছয় ডেপুটি গভর্নরসহ বেশ কয়েকজন ব্যাংক কর্মকর্তার হিসাব সংক্রান্ত সব তথ্য ইতিমধ্যেই তলব করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। এই উদ্যোগটি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুরোধে নেওয়া হয়েছে, এবং দেশের সব তফসিলি ব্যাংককে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে।

    আজ বুধবার (১৩ আগস্ট) বিএফআইইউর একজন কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। চিঠিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, যাদের হিসাবের তথ্য চাওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান, ফজলে কবির ও আব্দুর রউফ তালুকদার। উল্লেখ্য, আতিউর রহমান সরকার পতনের পর দেশ ছাড়েন, আর আব্দুর রউফ তালুকদার পলাতক অবস্থায় গত বছর ৭ আগস্ট ই-মেইলের মাধ্যমে পদত্যাগ করেন।

    অপরদিকে, তালিকায় থাকা আরও কিছু সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন এস কে সুর চৌধুরী, মো. মাসুদ বিশ্বাস, আবু হেনা মো. রাজী হাসান, এস এম মনিরুজ্জামান, কাজী ছাইদুর রহমান ও আবু ফরাহ মো. নাছের। উল্লেখ্য, এস কে সুর চৌধুরী ও মাসুদ বিশ্বাস বর্তমানে দুর্নীতির অভিযোগে কারাগারেও আছেন।

    চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার ফরম, লেনদেনের বিস্তারিত বিবরণ, কেওয়াইসি (Know Your Customer) ফরমসহ সব ধরনের তথ্য তিন কর্মদিবসের মধ্যে পাঠাতে হবে। যদি কোনো অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে থাকে, তারও তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অতীতের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আর্থিক কার্যক্রম নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ব্যাংক হিসাবের তথ্য সংগ্রহের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করছে সংশ্লিষ্টরা।

  • প্রবাসী আয়ে ইতিবাচক ধারা, ১৭ দিনে এসেছে দেড় বিলিয়ন ডলার

    প্রবাসী আয়ে ইতিবাচক ধারা, ১৭ দিনে এসেছে দেড় বিলিয়ন ডলার

    চলতি আগস্ট মাসে দেশে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ে আশাতীত ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। মাসের প্রথম ১৭ দিনে মোট দেড় বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স প্রবাহ হয়েছে, যা বাংলাদেশ মানে প্রায় ১৬১ কোটি ৯০ লাখ ডলার। এটি যদি এ ধারা অব্যাহত থাকে, তাহলে আগস্ট মাসটি সম্ভবত গত বছরের জুলাই মাসের রেমিট্যান্সের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়, আগস্টের প্রথম ১৭ দিনে অন্তর্জাতিকভাবে পাঠানো এই রেমিট্যান্সের পরিমাণ ১৬১ কোটি ৯০ হাজার ডলার। এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো থেকে এসেছে ৪৯ কোটি ৩৩ লাখ ডলার। বিশেষ করে দুটি ব্যাংকের মধ্যে একটি ব্যাংকের (কৃষি ব্যাংক) মাধ্যমে এসেছে ১৫ কোটি ডলার, আর বেসরকারি ব্যাংকগুলো থেকে এসেছে ৯৬ কোটি ২৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার। এছাড়া বিদেশি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৩১ লাখ ৩০ হাজার ডলার।

    উল্লেখ্য, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ২৪৭ কোটি ৭৯ লাখ ১০ হাজার ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩০ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা। তবে, সেপ্টেম্বর ও জানুয়ারি মাসে কিছু ব্যাংক থেকে রেমিট্যান্সের প্রবাহ স্থগিত ছিল। এ সময়ের মধ্যে কিছু ব্যাংকের মাধ্যমে কোনও রেমিট্যান্স আসেনি, এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, কমিউনিটি ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান ও স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া।

    অর্থবছর ২০২৪-২৫ এর মার্চ মাসে সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল, যা দেশের রেকর্ড। ওই বছরটি ছিল দেশের জন্য গৌরবময় কারণ, প্রবাসী আয় এই অর্থবছরে মোট ৩০.৩৩ বিলিয়ন ডলার ছিল, যা আগের বছর থেকে ২৬.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ২৩.৯১ বিলিয়ন ডলার।

    মাসভিত্তিক রেমিট্যান্সের প্রবাহ এইভাবে ছিল: জুলাই ১৯১.৩৭ কোটি ডলার, আগস্ট ২২২.১৩ কোটি ডলার, সেপ্টেম্বর ২৪০.৪১ কোটি ডলার, অক্টোবর ২৩৯.৫০ কোটি ডলার, নভেম্বর ২২০ কোটি ডলার, ডিসেম্বরে ২৬৪ কোটি ডলার, জানুয়ারিতে ২১৯ কোটি ডলার, ফেব্রুয়ারিতে ২৫৩ কোটি ডলার, মার্চে ৩২৯ কোটি ডলার, এপ্রিলে ২৭৫ কোটি ডলার, মে-তে ২৯৭ কোটি ডলার ও জুনে ২৮২ কোটি ডলার।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারের প্রদত্ত প্রণোদনা ও প্রবাসী আয়ের সহজের জন্য নেওয়া নানা পদক্ষেপের কারণে এই ইতিবাচক প্রবাহ অব্যাহত রয়েছে।

  • দেশ যেন চরমপন্থি ও মৌলবাদের কেন্দ্রবিন্দু না হয়: তারেক রহমান

    দেশ যেন চরমপন্থি ও মৌলবাদের কেন্দ্রবিন্দু না হয়: তারেক রহমান

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশকে কখনোই চরমপন্থি ও মৌলবাদের অভয়ারণ্য হিসেবে রূপান্তরিত হতে দেব না। তাঁর এই প্রত্যাশা সব দলের ও জনগণের মধ্যে ঐক্য ও সচেতনতা বৃদ্ধি করে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে একটি জবাবদিহি রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেয়। তিনি বলেন, দেশের মালিকানা শুধুমাত্র জনগণের হাতে, তাই ভোটাধিকার ও গণতন্ত্রের বিকাশে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

    রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘গণতন্ত্র উত্তরণে কবি সাহিত্যকদের ভূমিকা ও করণীয়’ শীর্ষক এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তারেক রহমান এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, মানুষ ভোটের অধিকার রক্ষা করে শুধু ভোটাধিকার কেই নয়, সেই সাথে মুক্ত আকাশে বাকস্বাধীনতা ও সমালোচনার সামর্থ্য নিশ্চিত করতে পারে।

    প্রজন্মের গণআন্দোলনের উল্লেখ করে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, যে স্বৈরাচার দেশের জনগণ কিছুদিন আগে বিতাড়িত করেছে, সেই স্বৈরাচারের আবার ফিরে আসা রোধে সবাইকে সচেষ্ট থাকতে হবে। তিনি আরও বলেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের প্রতি বিএনপি দৃঢ় অঙ্গীকারবদ্ধ, এবং বিভিন্ন মতাবলম্বী কবি-সাহিত্যিকেরা দেশের উন্নয়ন ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এককভাবে ভিন্ন হলেও মূলত লক্ষ্য একই।

    তারেক রহমান কবি-সাহিত্যিকদের প্রশংসা করে বলেন, তাঁরা সাধারণ মানুষের অনুভূতি সুন্দর করে তুলে ধরেন এবং শিল্পীদের মতো দেশের মেধা ও মনোভাবের প্রতিচ্ছবি। তিনি শেক্সপিয়র, ওয়ার্ডসওয়ার্থ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, তাঁরা নিজেকে জাতির মুখপাত্রে পরিণত করেছেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ‘প্রথম বাংলাদেশ’ গানকে দলের সঙ্গীত করার পেছনেও এই উচ্চতার অনুপ্রেরণা ছিল, বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    এই মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি মোহন রায়হান এবং সঞ্চালনায় ছিলেন বিএনপি’র নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, ভাইস চেয়ারম্যান কবি নুরুল ইসলাম মনি ও অন্যান্য কবি-সাহিত্যিক ও দলের নেতাকর্মীরা।

  • জুলাই সনদের ভিত্তিতে নির্বাচন চায় জামায়াত-এনসিপি, বিএনপি ভিন্ন অবস্থানে

    জুলাই সনদের ভিত্তিতে নির্বাচন চায় জামায়াত-এনসিপি, বিএনপি ভিন্ন অবস্থানে

    রাজনৈতিক দলগুলো বহু দফা আলোচনা শেষে জুলাই সনদের খসড়া প্রস্তুত করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে পাঠিয়েছে। এই কমিশন ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে জুলাই সনদ ঘোষণার পরিকল্পনা করছে, তবে বাস্তবায়ন নিয়ে এখনো বৈচিত্র্যময় মতবাদ ও সংকটের মুখোমুখি হয়েছে দলগুলোর মধ্যে। বিবিসি বাংলার রিপোর্টে জানা গেছে, বিএনপি মনে করে, নির্বাচিত সংসদই এই সনদ বাস্তবায়ন করবে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন ও গণঅধিকার পরিষদ ভাষ্য দিয়েছেন, এই সনদ গঠনে গণভোট বা গণপরিষদ নির্বাচন কিংবা অধ্যাদেশের মাধ্যমে কার্যকরী আদালতের রায় ও প্রাধান্য থাকবে। ফলে, এই পরিস্থিতিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন দলগুলোর মতামতের দিকে তাকিয়ে আছে। সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, “এ সিদ্ধান্ত আসলে রাজনৈতিক দলগুলোরই সিদ্ধান্ত, আমরা কোনো চাপ প্রয়োগ করব না।” এছাড়াও, তারা দলগুলোর সঙ্গে চূড়ান্ত আলোচনা করে এই প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে। বিএনপি যদিও এর আগে অনড় অবস্থানে ছিল, এখন তারা আলোচনায় আগ্ৰহী বলে জানিয়েছে। বিএনপি স্ট্যান্ডার্ড কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, “আমরা মনে করি, এ আলোচনা মধ্য দিয়ে একটা সমাধানে আসা সম্ভব। আমরা অংশগ্রহণ করব।” অন্যদিকে, এনসিপি ও জামায়াতে ইসলামীর মেনে নেয়া এখন বলছেন, আগামী নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ করার লক্ষ্যে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন জরুরি। তারা দ্রুত এই সনদ গণভোট বা গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে সম্পন্ন করার তাগিদ দিচ্ছেন। দীর্ঘ আলোচনার পরে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন দলগুলোর মতামত ও যৌথ ধারণা অনুযায়ী খসড়া প্রস্তুত করেছে, যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জনগণের অভিপ্রায়ের ভিত্তিতে এই সনদ তৈরি করা হয়েছে। এই সনদ প্রচলিত আইন বা আদালতের রায়ের ওপর ভিত্তি করে প্রাধান্য পাবে এবং এর জন্য একটি বিশেষ সাংবিধানিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। কমিশনের লক্ষ্য, এই সনদের আইনি ভিত্তি দৃঢ় করিয়ে আদালতে প্রশ্ন তোলার অপশন বন্ধ রাখা। এই বিষয়গুলো নিয়ে তারা গত সপ্তাহে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেছে। জুলাই সনদকে সর্বোচ্চ আইনি ভিত্তি দেওয়ার জন্য কমিশনের পক্ষ থেকে বিশেষ পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে, যেখানে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের জন্য আইনি ও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের একটি প্যানেল সৃষ্টি করা হয়েছে। অধ্যাপক রীয়াজ বলছেন, “সাবেক বিচারপতি, আইনের শিক্ষক, সিনিয়র আইনজীবীদের মতামত নিচ্ছি। তাদের কাছ থেকে এখন একটা অপশন আসবে।” এই প্যানেল জুলাই সনদের আইনগত ভিত্তি ও বাস্তবায়নের ব্যাপারে বিভিন্ন পরামর্শ দেবে, যা দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার জন্য উপস্থাপন হবে। এ বিষয়ক বিশেষজ্ঞ প্যানেলটি আগামী ২৫ অগাস্টের পরে দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করবে। রীয়াজ যোগ করেছেন, “আগামী সংসদে কীভাবে আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি করা যাবে, সেটাই মূল বিষয়। এ ক্ষেত্রে, জুলাই সনদের আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি হলে তা সংসদ নির্বাচনের আগে বা পরে কার্যকর হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” সম্প্রতি, ৫ अगस्त অন্তর্বর্তী সরকারের ঘোষণাপত্রে জুলাই বিষয়ক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যদিও কিছু দল, যেমন এনসিপি ও জামায়াতে ইসলামী, এই ঘোষণায় হতাশা প্রকাশ করছে এবং বলে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অচিরে গণভোট বা অধ্যাদেশের মাধ্যমে কার্যকর করা দরকার। মূলত, ঐকমত্য কমিশন প্রথমে যে খসড়া অঙ্গীকারনামা তৈরি করে ছিল, তা অনুযায়ী, নির্বাচিত সরকারের দুই বছরের মধ্যে এই সনদ বাস্তবায়নের কথা বলা হয়। বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, “আমরা মনে করি, এই সিদ্ধান্ত এবং যে বিষয়গুলো একমত হয়েছে, তা আসলে পরবর্তী সংসদই বাস্তবায়ন করবে।” অন্যদিকে, জামায়াত, এনসিপি, ইসলামিক আন্দোলন ও গণঅধিকার পরিষদ এই সরকারের সময়েই গণভোট বা অধ্যাদেশের মাধ্যমে এই সনদ বাস্তবায়ন চায়। এনসিপি বলছে, জুলাই অভ্যুত্থানে অনেক প্রাণহানির পর যে সংস্কার প্রস্তাবনা তৈরি হচ্ছে, যদি তা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ছাড়া বাস্তবায়ন না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে তার বাস্তবায়নের ব্যাপারে শঙ্কা সৃষ্টি হতে পারে। এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, “জুলাই সনদকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় আইনি ভিত্তি দিয়ে গঠিত হওয়া উচিত। গণপরিষদ নির্বাচনই আমাদের মূল সমাধান। যদি বর্তমান সরকার এই সনদকে আইনিভাবে মঞ্জুর না করে বাধা দেয়, তাহলে আমরা কঠোর আন্দোলনে যাব।” একই অবস্থানে আছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতারাও। তারা বলছেন, “সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সংস্কার জরুরি এবং এটা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতিশ্রুতি। এজন্য, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন অপরিহার্য। না হলে আমাদের আন্দোলনে নামো লাগবে।” তবে বিএনপি এই বিষয়ে একটু কৌশলী রূপে অবস্থান নিয়েছে। তারা জানায়, চলতি মাসে আলোচনার জন্য যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, তাতে অংশ নেবে এবং প্রস্তাবনা শুনবে। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আমরা ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে যাব। তারা কি প্রস্তাব দেয়, সেগুলো নিয়ে আলোচনা হবে, আর বাস্তবায়নের জন্য অন্য কোনো বিকল্প প্রস্তাব আসে কি না সেটাও দেখা হবে।” এরপর, বিভিন্ন সংস্কার কমিশন ও ঐকমত্য কমিশন গঠন করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আরও কিছু সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করে গেছে। প্রথম পর্বে ৮৪টি বিষয় নিয়ে ঐকমত্য হয়, যেখানে বেশ কিছু প্রস্তাবের ওপর ভিন্ন মত থাকলেও বেশির ভাগ সিদ্ধান্তে ঐকমত্য প্রকাশিত হয়েছে। দ্বিতীয় পর্বে আরও ২০টি মৌলিক সংস্কার বিষয় আনা হয়, যার মধ্যে ১১টি বিষয়ে ঐকমত্য-মত ও ৯টি বিষয়ে ভিন্নমত প্রকাশিত হয়। সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, “এই জুলাই সনদ মূলত একটি রাজনৈতিক ডকুমেন্ট, যা ঐকমত্যের ভিত্তিতেই তৈরি হয়েছে।” তবে, এই খসড়ায় কিছু কিছু বিষয় রয়েছে যেখানে দলগুলো একমত নয়, সেগুলোর বিস্তারিত দলগত নোট অব ডিসেন্ট দেয়া হয়েছে। সবশেষে, বিবিসি বাংলার রিপোর্ট অনুযায়ী, এই পুরো প্রক্রিয়া ও আলোচনা চলছে এখনো, যেখানে রাজনৈতিক মতামত ও আইনি দিক ধারাবাহিকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

  • জামায়াতের দাবি, আগামী ১৩ ডিসেম্বর নির্বাচনের তারিখ চায় ডা. তাহের

    জামায়াতের দাবি, আগামী ১৩ ডিসেম্বর নির্বাচনের তারিখ চায় ডা. তাহের

    প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের উদ্দেশ্যে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুলাহ মুহাম্মদ তাহের বলেছেন, ‘আপনি বলেছেন, সংস্কার সম্পন্ন হলে নির্বাচন হবে। তাহলে এখন কেন সংস্কার নিয়ে টালবাহানা করছেন? আমরা কি ৩০ দিন চড়ুইভাতি খেলার জন্য গিয়েছিলাম? এটা কি কোনও খেলা বা হাড্ডুডু? আমাদের জন্য এটা অত্যন্ত গুরুত্বের। আমরা বিষয়টিকে খুব সিরিয়াসলি নিচ্ছি।’

    রোববার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত একটি সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন, যেখানে দলের ‘জুলাই ঘোষণা ও জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি প্রদান ও আমাদের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা হয়।

    সৈয়দ আব্দুলাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, ‘আমরা বহুবার বলেছি, সংস্কার করতে হবে। প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন—সংস্কার, দৃশ্যমান বিচার এবং তারপর নির্বাচন। আমরা সেই কথায় আছি। তবে আপনি এখন শুধু কমিশন গঠন করে দিয়েছেন, বাস্তবায়ন করেননি। আমরা বারবার ঐকমত্যে পৌঁছেছি, এবার তার বাস্তবায়নের দায়িত্বও আপনার। আপনি বাস্তবায়ন না করেই তারিখ ঘোষণা করেছেন।’

    তিনি আরও বলেন, ‘তারিখের ব্যাপারে আমরা দ্বিমত পোষণ করছি না। আমি অনুরোধ করবো—তারিখটি আগাহে নিয়ে আসুন, যেন তা ১৩ ডিসেম্বর হয়। জামায়াতে ইসলামী চাই আগামী ১৩ ডিসেম্বর নির্বাচনের তারিখ।’

    উপস্থিত নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘অসুবিধা থাকলেও, আমাদের কোনও অসুবিধা নেই। ডিসেম্বর, জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারি—যে কোনও মাসে নির্বাচন হলেও কোনও সমস্যা নেই। এর জন্য আমরা সবসময় প্রস্তুত।’

    তাহের বলেন, ‘এখন কি এটা কোনও খেলা? জনগণের আন্দোলনের ফলে যাদের উপর আস্থা রেখে জাতি তাদের ক্ষমতায় বসিয়েছিল, আজ সেই লোকেরা জাতির প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ।’

    তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘যারা আপনাদের ক্ষমতায় বসিয়েছে, তাদের মর্মে অন্তর্দৃষ্টি থাকা উচিত। জনগণ কি মরে গেছে? অতি জরুরি অবস্থায়ও জনতার ভোটের জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। ওরা যে কোনওভাবে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে পারে—সেজন্য আমরা সবাই সাবধান থাকি।’

  • ফজিলাতুন্নেছা হলে মনোনয়ন ফরম নিতে বাধা দিয়ে মব সৃষ্টি ছাত্রদলের অভিযোগ

    ফজিলাতুন্নেছা হলে মনোনয়ন ফরম নিতে বাধা দিয়ে মব সৃষ্টি ছাত্রদলের অভিযোগ

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নির্বাচন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের ওপর বাধা এবং বিশৃঙ্খলার বিষয়টি নিয়ে ছাত্রদল আজ সোমবার (১৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি ও সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির ঢাবি শাখার সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় এবং সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন অভিযোগ করেন, বিভিন্ন হল থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের সময় কিছু শিক্ষার্থী প্রশাসনের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন এবং ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থীদের ওপর হামলার চেষ্টা চালান। এতে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায় এবং শিক্ষার্থীরা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহে বাধা পেয়ে হল থেকে বের হয়ে যাওয়ার জন্য বাধ্য হন। প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পালিত মা ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের নামে নামকরণ হওয়া এই হলের নির্বাচনে এ ধরনের অশান্তি ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি খুবই দুঃখজনক বলে তারা দাবি করেন।
    সংগঠনের নেতারা বলেন, গণতান্ত্রিক নির্বাচনের জন্য সবাইকে সমান সুযোগ প্রদান ও পরিবেশ সৃষ্টি করতে হলে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা দরকার। কিন্তু এই ঘটনার মাধ্যমে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যথাসর্বোচিত ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। তারা আরও জানান, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে এই ধরনের অঘটন আর না ঘটে। সংগঠনটি পাশাপাশি আশঙ্কা প্রকাশ করে, কিছু অসাধু ছাত্র সংগঠন ও রাজনৈতিক দল স্থানীয়ভাবে প্রভাব বিস্তার ও বিরাজনীতিকরণের মাধ্যমে নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।
    নাহিদুজ্জামান শিপন বলেন, অভ্যুত্থানের পর বছর পার হয়েও এখনও কিছু ছাত্রলীগের ক্যাডার বিভিন্ন হলের মধ্যে অবস্থান করছে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। আবার মালিহা বিনতে খান, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের ছাত্রদল আহ্বায়ক, জানান, হলের মধ্যে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নেই এবং তারা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে গেলে কিছু শিক্ষার্থী বাধা দেয় এবং গায়ে হাত তোলারও চেষ্টা করে। তিনি প্রশাসনের কাছে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
    সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা প্রধানমন্ত্রীর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে নিরপেক্ষ, পরিচ্ছন্ন ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সম্পূর্ণ ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিতের জন্য সরকারের দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন অশান্তি আর না ঘটে।

  • শিবির ঘোষণা করছে ডাকসু নির্বাচনের প্যানেল

    শিবির ঘোষণা করছে ডাকসু নির্বাচনের প্যানেল

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। সংগঠনের এই ঘোষণা অনুযায়ী, ভিপি (সহ-সভাপতি) পদে মনোনীত হয়েছেন কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক ও ঢাবি শাখার সাবেক সভাপতি আবু সাদিক কায়েম। সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান শিবির শাখার সভাপতি এস এম ফরহাদ, এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন শাখার সেক্রেটারি মহিউদ্দিন খান।

    ১৮ আগস্ট সোমবার, মনোনয়ন ফর্ম সংগ্রহের পর চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তরের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সম্পাদক মো. নূরুল ইসলাম সাদ্দাম এই প্যানেল ঘোষণা করেন। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য ২৮ সদস্যের একটি পূর্ণাঙ্গ প্যানেল প্রস্তুত করা হয়েছে। এই প্যানেলে ভিপি হিসেবে আবু সাদিক কায়েম, সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এস এম ফরহাদ এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মহিউদ্দিন খান মনোনীত হয়েছেন। এছাড়া, ফাতিমা তাসনীম জুমা, যারা মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন ইনকিলাব মঞ্চ থেকে যুক্ত, তারা প্যানেলের সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

    বিভিন্ন পদে অন্যরা হলেন: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক ইকবাল হায়দার; কমনরুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক উম্মে সালমা; আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক খান জসীম (যিনি এই বছরের জুলাইয়ে চোখ হারানোর ঘটনা ঘটিয়েছেন); সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক নুরুল ইসলাম সাব্বির; ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন; ছাত্র পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ; সমাজসেবা সম্পাদক শরিফুল ইসলাম মুয়াজ; গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক সাজ্জাদ হোসাইন খান; ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম; স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মিনহাজ; মানবাধিকার ও আইন বিষয়ক সম্পাদক সাখাওয়াত জাকারিয়া। এছাড়া, আরও ১৩টি পদও রয়েছে এই প্যানেলে।

  • থাইল্যান্ডের দুই চিকিৎসকের বাংলাদেশে সেবা বন্ধের নোটিশ

    থাইল্যান্ডের দুই চিকিৎসকের বাংলাদেশে সেবা বন্ধের নোটিশ

    বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) তাদের নিবন্ধন না থাকার কারণে থাইল্যান্ডের দুই চিকিৎসকের বাংলাদেশে চিকিৎসা সেবা প্রদান কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। রোববার রেজিস্ট্রার ডাঃ মোঃ লিয়াকত হোসেনের স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, সামিটিভেজ হাসপাতালের চিকিৎসক নাত্তিপাত জুথাচারোয়েনং ও ল্যান্টম টনভিচিয়েন এই সরকারের অনুমতি ছাড়া বাংলাদেশে কোনো ধরনের চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করেননি। এ কারণে তাদের সকল ধরনের চিকিৎসা সেবা প্রদান বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, বিএমডিসির নির্দেশে তাদের বুকিং বাতিল করতে বলা হয়েছে।এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেসবুকে “ফ্লাইমেট” নামে একটি পেজ থেকে ওই দুই চিকিৎসকের ছবি ব্যবহৃত একটি বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়, যেখানে বলা হয়, “আপনার শিশুর কি হার্টের সমস্যা? থাইল্যান্ডের সামিটিভেজ হাসপাতালের শিশু হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ আসছেন ঢাকা! বিদেশি চিকিৎসকের সরাসরি পরামর্শ নিন।” এই বিজ্ঞাপনটি বিএমডিসির দৃষ্টি এলে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়।প্রজ্ঞাপনে আরও লেখা হয়, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল আইনের ২০১০ অনুযায়ী, বিদেশি চিকিৎসক বা চিকিৎসক দলকে বাংলাদেশে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কাউন্সিল থেকে অস্থায়ী নিবন্ধন নিতে হয়। তবে, এই দুই চিকিৎসক এই নিয়ম মানেননি, ফলে তাদের কার্যক্রম আইনগতভাবে অবৈধ বলে গণ্য হবে। তাই তাদের দ্বারা পরিচালিত চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ کرنے প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।বিএমডিসির রেজিস্ট্রার ডাঃ মোঃ লিয়াকত হোসেন বলেন, “আমরা জানতে পেরেছি, অনুমোদন ছাড়াই সেমিনারের নামে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা হয়েছে। যদিও তারা দাবি করে, কোনো কনসালটেশন দেওয়া হবে না, কিন্তু অতীতে এরকম মিথ্যা দাবি করে বাংলাদেশে এসে চিকিৎসায় যুক্ত হওয়ার উদাহরণ রয়েছে, যা আইনসম্মত নয়।” এই বিষয়ে ফ্লাইমেটের মালিক নিলয় সাইদুর বলেন, “বিদেশি চিকিৎসকদের আনতে বিএমডিসি থেকে নিবন্ধন নিতে হয়, এটা আমাদের জানা ছিল না। দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অসংখ্য বিদেশি চিকিৎসক এসে রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন, তখন বিএমডিসি কিছু বলেনি। তবে আমরা এই অনুষ্ঠানটি বাতিল করেছি।”

  • সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি

    সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি

    বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর দেশের চারটি সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত জারির নির্দেশ দিয়েছে। এর পাশাপাশি, বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরা নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থাকা বা ছোট মাছ ধরার কাজে বাধা না দিয়ে সতর্ক থাকতে বলেছে। সোমবার বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ শাহনাজ সুলতানা এ সতর্কবার্তা দেন।

    আবহাওয়া অফিস জানায়, উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওড়িশ্যার উপকূলের কাছাকাছি পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগরে একটি অস্থির লঘুচাপ তৈরি হয়েছে, যা সুস্পষ্ট লঘুচাপে রূপান্তরিত হতে পারে। এই অবস্থায়, আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর ও এর সংলগ্ন এলাকায় দ্রুত বায়ুচাপের পার্থক্য তৈরি হচ্ছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্র বন্দরগুলোর ওপর ঝড়ো হাওয়া বা দমকা বাতাস বইতে পারে।

    এই পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরা নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

  • সব উপজেলা হাসপাতালে সাপের কামড়ের অ্যান্টিভেনম সরবরাহের নির্দেশ

    সব উপজেলা হাসপাতালে সাপের কামড়ের অ্যান্টিভেনম সরবরাহের নির্দেশ

    সরকারি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এবং হাইকোর্টের নির্দেশে দেশের সব উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণে সাপের কামড়ের অ্যান্টিভেনম সরবরাহের আদেশ জারি করা হয়েছে। এই নির্দেশনা মূলত সাপের দংশনে আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত ও কার্যকর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সচেষ্ট হওয়ার জন্য জারি করা হয়েছে। হাইকোর্টের প্রাথমিক শুনানিতে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি সৈয়দ জাহেদ মনসুরের বেঞ্চ এই নির্দেশ প্রদান করেন, যেখানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দ্রুত এটি বাস্তবায়নের জন্য সতর্ক করা হয়েছে। জনস্বার্থে দায়ের করা এই রিটের শুনানিতে এডভোকেট মীর এ কে এম নুরন্নবী উপস্থিত ছিলেন, যারা বিষয়টির গুরুত্ব ও জরুরি প্রয়োজনতা তুলে ধরেন। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী ও স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও এই অর্ডার অনুসারে অ্যান্টিভেনমের যথাযথ সরবরাহ এবং ব্যবহার নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    গত রোববার (১৭ আগস্ট) ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালের তথ্য ও পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে হাইকোর্টে এ রিট দায়ের করা হয়, যেখানে দেখা যায়, গত ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সময়ে মোট ৩৮ জনের সাপের কামড়ে মৃত্যু হয়েছে। এই পাঁচ মাসে সাপের দংশনে মোট ৬১০ জন রোগী চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ৪১৬ জন রোগী সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়েছেন, যার মধ্যে বিষধর সাপের দংশন ৯১টি এবং চন্দ্রবোড়া (রাসেলস ভাইপার) দংশনে ১৮টি। এদের মধ্যে পাঁচজন রোগী মারা গেছেন।

    সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশে সর্পদংশন একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে স্বীকৃত, যেখানে ২০২২ সালে চার লাখের বেশি মানুষ এই সমস্যায় আক্রান্ত হন এবং সাড়ে সাত হাজারের বেশি মৃত্যু হয়। প্রধান বিষধর সাপগুলো হলো গোখরা, ক্রেইট, চন্দ্রবোড়া ও রাসেলস ভাইপার। বিশেষ করে চন্দ্রবোড়ার উপস্থিতি ও তার দুষ্প্রাপ্যতা এখন সমস্যা হিসেবে দেখা দেয়। বাংলাদেশে বিষধর এই সর্পদের জন্য মূল চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহৃত অ্যান্টিভেনম তৈরি হয় বলবত: ভারতে, তবে দেশে এখনো এটি উৎপাদিত হয় না। বর্তমানে অ্যান্টিভেনম আমদানি করে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে সরবরাহ করা হয়।

    স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অ্যান্টিভেনমের সময়োচিত ব্যবহার এবং দ্রুত চিকিৎসা সেবা সরবরাহের মাধ্যমে সর্পদংশনে মৃত্যুর হার কমানো সম্ভব। তবে এই জন্য সরকারের অ্যান্টিভেনম সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও ব্যবহারের জন্য স্পষ্ট নীতিমালা ও কার্যক্রমের প্রয়োজন রয়েছে। সাধারণ মানুষকেও সর্পদংশনের বিষয়ে সচেতন করতে বিভিন্ন প্রচারনা চালানো হচ্ছে। সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রত্যাশা, এই নির্দেশনা কার্যকরের মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নত ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।