Author: bangladiganta

  • আফগানিস্তানে ট্রাক, মোটরসাইকেল ও বাসের সংঘর্ষে নিহত ৭১ জন

    আফগানিস্তানে ট্রাক, মোটরসাইকেল ও বাসের সংঘর্ষে নিহত ৭১ জন

    আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ হেরাতে একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে ট্রাক ও মোটরসাইকেলের ভয়াবহ সংঘর্ষে কমপক্ষে ৭১ জন নিহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে অন্তত ১৭ জন শিশু ও অপ্রাপ্তবয়স্ক রয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছেন হেরাত প্রাদেশিক সরকারের মুখপাত্র আব্দুল্লাহ মুত্তাকি।

    হেরাত প্রাদেশিক পুলিশের কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইউসুফ সাইদি জানান, নিহতদের মধ্যে বাসটির যাত্রীরা সবাই আফগান নাগরিক, যারা ইরান থেকে কাবুলের দিকে যাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনার জন্য বাসের বেপরোয়া গতি ও চালকের অসতর্কতা দায়ী বলে মনে করা হচ্ছে।

    অফগানিস্তানে দীর্ঘ দিন ধরে চলা সংকট ও যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে, আশির দশকে সোভিয়েত বাহিনীর আফগানিস্তানে দেওয়া সামরিক অভিযান চলাকালে হাজার হাজার আফগান শরণার্থী ইরানে আশ্রয় গ্রহণ করেন। এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে, চলতি বছরের শুরুর দিকে ইরানের সরকারের নির্দেশে এঁরা নিজেদের দেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন। জানুয়ারির প্রথম দিকে পর্যায়ক্রমে ১০ লাখ ৬০ হাজারের বেশি আফগান দেশে ফিরে আসেন।

    সোমবারের এই দুর্ঘটনার আগের যাত্রীরা ও লক্ষ্য করে আসা বাসটি ওরা শরণার্থী হিসেবে ইরানে বাস করতেন। সরকারের নির্দেশনা অনুসারে, তারা এবার আফগানিস্তানে ফিরে আসছিলেন।

    সাইদি জানান, বেপরোয়া গতিতে চলতে থাকা বাসটির সাথে প্রথমে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এ সময় কিছুক্ষণ পরই একটি জ্বালানিবাহী ট্রাকের সাথে বাসটির মুখোমুখি ঘটে এবং এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। এর ফলে ঘটনাস্থলেই নয়, পরে বিস্ফোরণে আরও অনেক হতাহতের ঘটনা ঘটে।

    নিহতদের মধ্যে ট্রাক চালক, তার সহকারি, মোটরসাইকেল চালক ও যাত্রী সহ মোট ৬৭ জনই বাসের যাত্রী ছিলেন। তবে unfortunate কেউ কেউ আহত হয়েছেন। সাইদি জানিয়েছেন, ঘটনাটি ঘটার পর মাত্র তিনজন যাত্রী বেঁচে থাকতেই পারেন।

    অভিযোগ ও ইতিহাস থেকে জানা যায়, আফগানিস্তানে সড়ক দুর্ঘটনা খুবই সাধারণ। দুর্বল সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা, খাড়া পাহাড়ি রাস্তা এবং চালকদের অসতর্কতা হামেশা বড় বড় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। উল্লেখ্য, ডিসেম্বর মাসে একটি জ্বালানি ট্যাংকার ট্রাকের সাথে বাসের সংঘর্ষে ৫২ জন নিহত হয়েছিলেন।

  • ২০২৬ সালের পবিত্র রমজান কি কখন শুরু হবে?

    ২০২৬ সালের পবিত্র রমজান কি কখন শুরু হবে?

    পবিত্র ও মহিমান্বিত মাস রমজান উপলক্ষে বিশ্বের মুসলিমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন। এই মাসটি শুধুমাত্র ইবাদত কিংবা আল্লাহর সান্নিধ্য অর্জনের জন্য নয়, এটি পারিবারিক সম্পর্কের আরও গভীরতা আনতে, মানুষের মধ্যে ভালোবাসা এবং সৌহার্দ্য ছড়াতে বিশেষ গুরুত্ব ভাগ করে নেয়। ২০২৬ সালেও এই বিশেষ মাসের জন্য মুসল্লিরা প্রস্তুত হচ্ছেন।

    গালফ নিউজের একটি প্রতিবেদনে জানা গেছে, জ্যোতির্বিদদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে রমজান মাসের শুরু হতে পারে ১৭ ফেব্রুয়ারি। এর আগে, আরব বিশ্বের বেশির ভাগ দেশে রমজানের চাঁদ দেখা যেতে পারে রমজানের প্রথম রাতে। তবে রমজানের সূচনা ও শেষের নির্ধারিত তারিখ চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করছে, যার জন্য আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রয়োজন।

    আরবি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, শাবানের ২৯তম দিনেই রমজানের চাঁদ দেখা হয় এবং এর পরে রমজান মাস শুরু হয়। প্রত্যেক দেশের আলাদা চাঁদ দেখা কমিটি বা ধর্মীয় সংস্থা চন্দ্র দেখে রমজান মাসের শুরু ও শেষের তারিখ ঘোষণা করে থাকে। চন্দ্র মাসগুলো সূর্য-ক্যালেন্ডারের থেকে ছোট হওয়ায় প্রতি বছরই এগুলোর তারিখ অল্প একটু পিছিয়ে যায়। এর ফলে মুসল্লিরা শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা, বা বসন্তের মতো বিভিন্ন ঋতুতেই এই মহিমান্বিত মাসের অভিজ্ঞতা পান।

    বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সূচি অনুযায়ী, ২০২৬ সালে রমজান শুরু হতে পারে ১৭ ফেব্রুয়ারি। তবে চূড়ান্ত ঘোষণা চাঁদ দেখার উপর ভিত্তি করেই হবে।

    সূত্র: গালফ নিউজ।

  • বিএনপি মানুষের সেবা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ক্ষমতায় যেতে চায়: এড. মনা

    বিএনপি মানুষের সেবা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ক্ষমতায় যেতে চায়: এড. মনা

    মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এড. শফিকুল আলম মনা বলেছেন, বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে ১৬ বছর ধরে ফ্যাসিস্টবিরোধী সফল আন্দোলনের ফলে ২০০৭ সালে সরকার উৎখাতের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। এই আন্দোলনের কারণে ফ্যাসিস্ট শাসক শেখ হাসিনার পতন হয়েছে এবং তিনি দেশের বাইরে পালিয়ে গেছেন। দেশের মানুষ এখন মুক্তি পেয়েছেন। এই সফল আন্দোলনের মূল নায়ক তারেক রহমান। বিএনপি হচ্ছে সাধারণ মানুষের দল, যারা ভোটের অধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘ দিন সংগ্রাম করে আসছে। তারা সেবা দিয়ে মানুষের হৃদয় জয় করে ক্ষমতায় উঠে আসতে চায় এবং জনগণের কল্যাণে কাজ করতে চায়।

    গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ২৪নং ওয়ার্ড বিএনপি’র উদ্যোগে সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামকে অধিকাংশ চেতনা ও ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার চেষ্টাকারীরা আসলে সত্যিকারের মুক্তিযুদ্ধ ও সালামাতের ইতিহাসকে অস্বীকার করছে। বলা হচ্ছে, দেশটি আবার নতুন করে স্বাধীন হয়েছে; কিন্তু বাস্তবে আমরা ৭১ সালে অর্জিত স্বাধীনতাকেই অপরিহার্য মনে করি। মূলত ৭১ এর পরাজিত শক্তিরাই এখন দ্বিতীয় স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখাচ্ছে, যা পুরোপুরি ভুল। তারা মুক্তিযুদ্ধের জন্য শহীদদের আত্মাহুতি ও সম্ভ্রমহানি অপমানিত করছে। তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ’৭১ এর পরাজিত শক্তির সঙ্গে আপস করার কোনও স্থান নেই।

    এছাড়াও, ২৪নং কাউন্সিলর কার্যালয়ে ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি শেখ মনিরুজ্জামান মনিরের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন, নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন, সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক সৈয়দা রেহানা ঈসা, সাংগঠনিক সম্পাদক চৌধুরী হাসানুর রশিদ মিরাজ, সদর থানা বিএনপি সভাপতি কে এম হুমায়ূন কবির, নগর যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুল আজিজ সুমন, শ্রমিক দলের সদস্য সচিব শফিকুল ইসলাম শফি, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নাসির উদ্দিনসহ অনেকে।

    এবং আরও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতৃবৃন্দ, যুব নেতারা, মহিলা দলের নেত্রী ও অন্যান্য কর্মী। তাঁরা দেশপ্রেমে উজ্জীবিত ও সংগঠনের কার্যক্রমের মাধ্যমে ইতিহাসের ঐতিহ্য রক্ষায় সম্মিলিতভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।

  • আওয়ামী লীগ দেশের উন্নয়নের নামে লুট করছে : লবি

    আওয়ামী লীগ দেশের উন্নয়নের নামে লুট করছে : লবি

    সাবেক সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক সভাপতি, খুলনা-৫ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী মোহাম্মদ আলি আসগর লবি অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার গত ১৬ বছরে দেশের উন্নয়নের নামে ব্যাপক দুর্নীতি ও লুটপাট চালিয়েছে। তিনি বলেন, বহু গ্রাম রয়েছে ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় যেখানে যোগাযোগের অবস্থা খুবই খারাপ। এ সব উন্নয়নের নামে সরকার সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক সম্পদ লুট করেছে। মঙ্গলবার দুপুরে ডুমুরিয়া উপজেলার সাজিয়াড়া শামছুল উলুম মাদ্রাসায় জোহার নামাজের পরে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই কথা বলেন।

    মো. আলি আসগর লবি আরও জানান, বিলডাকাতিয়া এলাকায় ১ হাজার ৬০০ একর জমির ওপর সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিকল্পনা চলমান রয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে, যা সরাসরি জাতীয় গ্রিডে যোগ হবে। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেয়াল অঞ্চলের মানুষদের জীবনমানের ব্যাপক উন্নয়ন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    তিনি আরও বলেন, উন্নত দেশের মতো বাংলাদেশে কম্পিউটার শিক্ষার ব্যবস্থা করা জরুরি। বিশ্বে বেশ কিছু দেশে কম্পিউটার ব্যবহারে লোক নেওয়া হয়। এই সুযোগ বাংলাদেশেও সৃষ্টি হলে এখানকার তরুণরা বিদেশে চাকরির জন্য আবেদন করতে পারবে। সেই জন্য সাজিয়াড়া মাদ্রাসায় একটি আধুনিক কম্পিউটার ক্লাসরুম তৈরি করে শিশু ও যুবকদের প্রশিক্ষণের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

    অতিরিক্তভাবে, আগামী সংসদ নির্বাচনে খুলনা-৫ আসনে বিপুল সংখ্যক উন্নতমানের মসজিদ ও মাদ্রাসা নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আলি আসগর লবি। তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে তিনি প্রত্যেক গ্রামে উন্নত মানের বিভিন্ন ধর্মীয় এবং শিক্ষামূলক অবকাঠামো নির্মাণ করবেন।

    বক্তৃতায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপি’র সাবেক আহ্বায়ক মোল্যা মোশাররফ হোসেন মফিজ, সাজিয়াড়া মাদ্রাসার সভাপতি অধ্যাপক মুফতি আব্দুল কাইয়ুম জমাদ্দার, সিনিয়র মুহাদ্দিস মাওঃ আব্দুর রহমান, পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন অন্যান্য নেতাকর্মী ও মুসল্লিরা। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন মাওঃ আব্দুল গফফার, মুফতি শহিদুল ইসলাম, বিএনপি নেতা শেখ ফরহাদ হোসেন, খান আবজাল হোসেন, জিন্নাত আলী মোড়ল, আব্দুল মান্নান ও মাওঃ খলিলুর রহমানসহ বিভিন্ন মুসল্লি ও শুভাকাঙ্ক্ষী গণ।

  • পাইকগাছার কালিনগর ভেড়িবাঁধে ভাঙনের আতঙ্ক, ১৩ গ্রাম ঝুঁকিতে

    পাইকগাছার কালিনগর ভেড়িবাঁধে ভাঙনের আতঙ্ক, ১৩ গ্রাম ঝুঁকিতে

    পাইকগাছার দেলুটি উপজেলার কালিনগর ওয়াপদার ভেড়িবাঁধে মারাত্মক ধরণের ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভদ্রা নদীর প্রবল স্রোত এই বাঁধের ৪০০ মিটার এলাকায় ব্যাপক ক্ষতি করেছে। এভাবে অব্যাহত থাকলে যে কোনও মুহূর্তে বাঁধ পুরোপুরি ভেঙে যেতে পারে, ফলে বিস্তীর্ণ এলাকার অসঙ্গতি ও প্লাবনের আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতির কারণে ২২নং পোল্ডারের ১৩টি গ্রামে বসবাসরত হাজার হাজার মানুষ চরম ঝুঁকিতে পড়েছেন। মঙ্গলবার দুপুরে স্থানীয় মানুষগুলো বাঁধের উপরে এক মানববন্ধন కార్యక్రమ করে ক্ষতিগ্রস্ত অংশের দ্রুত মেরামতের আহ্বান জানান।

    দেলুটি উপজেলা একটি দ্বীপের মতো এলাকা, যেখানে ২২নং পোল্ডার দিয়ে বটিয়াঘাটা ও দাকোপ উপজেলার সীমান্তবর্তী ইউনিয়নের বিভিন্ন অংশ রয়েছে। এই পোল্ডারে মোট ৫টি ওয়ার্ডে ১৩টি গ্রাম রয়েছে এবং এখানে প্রায় ১০ হাজারের বেশি মানুষ বাস করেন। কৃষিকাজে, বিশেষ করে তরমুজসহ অন্যান্য ফসলের জন্য এই এলাকা অত্যন্ত সমৃদ্ধ। প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার ফসল যেমন তরমুজ উত্পাদন হয়। চারপাশে নদী থাকায় এবং পানিবন্ধকতা স্থাপনের অভাবে, এই এলাকার মানুষ চরম ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করেন। অতীতে, প্রতি বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগে দুর্বল ভেড়িবাঁধের ভাঙন এবং প্লাবনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। গত বছর ২২ আগস্ট বাঁধের ভেঙে যাওয়ায় পুরো পোল্ডার পানিতে তলিয়ে যায়, বহু মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন শুরু করেন। আশ্রয় কেন্দ্রের সংকটের কারণে অনেকে রাস্তায় বসবাস করতেও বাধ্য হন। বিগত ২০ বছর ধরে এই ভাঙনের প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে, অগণিত ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

    আলোর মধ্যে, এই বছরের ভাঙনের ঘটনা গত বছরের একই স্থানের কিনা জানাতে গেলে, জানা যায় যে, ভাঙনের ক্ষেত্রটি গত বছরের ভাঙনের এক কিলোমিটার উত্তরে, কালিনগর সাধু ঘাটে অমল কবিরাজের বাড়ি থেকে প্রভাষ মন্ডলের বাড়ি পর্যন্ত ৪শ’ মিটার এলাকাজুড়ে নতুন করে বাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে। এটি উদ্বেগজনক কারণ, এই পরিস্থিতিতে এলাকাবাসী পানি প্রবাহের ঝুঁকি মোকাবেলা করতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে, তারা দ্রুত ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ প্রকল্প চালুর দাবি জানান।

    মানববন্ধনে অংশ নেয়া শত শত মানুষ বাঁধের ক্ষতি দ্রুত মেরামত ও টেকসই বাঁধের দাবিতে আলোচনা করেন। দেলুটি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সুকুমার কবিরাজের সভাপতিত্বে এবং ইউপি সদস্য পলাশ কান্তি রায়ের পরিচালনায় এই মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “ত্রাণ নয়, টেকসই ভেড়িবাঁধের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হোক।” বক্তব্য দেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সমরেশ হালদার, ইউপি সদস্যরা রামচন্দ্র টিকাদার, রিংকু রায়, বদিউজ্জামান, মেরি রাণী, স্থানীয় ছাত্র-আরও উপস্থিত ছিলেন অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। বক্তারা আরও বলেন, ভবিষ্যতে যেন আর এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন না হতে হয়, সেজন্য টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি বাঁধের প্রয়োজন।

  • পবিত্র আখেরি চাহার সোম্বা আজ, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা

    পবিত্র আখেরি চাহার সোম্বা আজ, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা

    আজ বুধবার পবিত্র আখেরি চাহার সোম্বা দেশের মুসলিম সম্প্রদায়ে বরাবরই বিশেষ গুরুত্ব ও মর্যাদার সঙ্গে পালিত হয়। এই দিনে মানুষের ধর্মীয় অনুশীলন ও সবার মধ্যে ঐক্যের ভাব জোরদার হয়। তবে সরকারের পক্ষ থেকে এই দিনটি আনুষ্ঠানিকভাবে সাধারণ ছুটি হিসেবে ঘোষণা করে না, এটি একটি ঐচ্ছিক ছুটি। তবে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই দিনটি উপলক্ষে কর্ম বন্ধ থাকছে।

    প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের বার্ষিক ছুটির তালিকায় আখেরি চাহার সোম্বার জন্য একদিনের ছুটি অনুমোদন করেছে। ফলে দেশের সব ধরনের স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আজ বন্ধ থাকবে।

    জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোল্লা মাহফুজ আল-হোসেনের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পবিত্র আখেরি চাহার সোম্বার কারণে ২০ আগস্ট বুধবার সব কেন্দ্রীয় ও অধীনস্ত কলেজ বন্ধ থাকবে।

    এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে নিজ নিজ ঘোষণা দিয়ে明 আজকের দিনের জন্য ছুটির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাজেদা বেগমের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০ আগস্ট বুধবার পবিত্র আখেরি চাহার সোম্বার দিন শ্রেণি পাঠদান বন্ধ থাকবে। পরবর্তী দিন অর্থাৎ ২১ আগস্ট বৃহস্পতিবার থেকে সবকিছু আগের মতো সচল হবে এবং ক্লাস আবার চালু হবে।

  • খুলনায় গ্যাস সরবরাহের জন্য প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি প্রদান

    খুলনায় গ্যাস সরবরাহের জন্য প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি প্রদান

    খুলনায় পাইপ লাইনে গ্যাস সরবরাহের দাবিতে খুলনা নাগরিক সমাজের উদ্যোগে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। এই অপপ্রয়াসের মাধ্যমে নাগরিকরা তাদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষিত আশা সম্পন্ন করার আকর্ষণে পেট্রোবাংলার হস্তক্ষেপ ও কার্যকলাপের স্বচ্ছতা কামনা করেছেন। গত মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় নগর ভবনে খুলনা বিভাগীয় কমিশনার ও কেসিসি প্রশাসক মো. ফিরোজের কাছে এই স্মারকলিপি হস্তান্তর করা হয়। এই সময় উপস্থিত ছিলেন নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক বীরমুক্তিযোদ্ধা এড. আ ফ ম মহসীন, সদস্য সচিব এড. মোঃ বাবুল হাওলাদারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। মূলত, স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয় যে, ২০১২ সালে খুলনায় গ্যাস সরবরাহের জন্য পেট্রোবাংলার অধীনে সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানি ভেড়ামারা থেকে খুলনায় পাইপলাইন বসানোর কাজ শুরু করে। তবে, যথাসময়ে এই প্রকল্পটি অজানা কোনও কারণে স্থগিত ঘোষণা করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট নির্মাণ সামগ্রী সরিয়ে নেওয়া হয়। এর ফলে রাষ্ট্রীয় পরিমাণ অর্থের অপচয় হয় এবং এই প্রকল্পের উন্নয়ন প্রতিযোগিতামূলক মূল্য ও সম্ভাবনা থেকে বঞ্চিত হয়। ভবিষ্যত পরিকল্পনায় ভোলা-বরিশাল-খুলনা রুটে গ্যাস সরবরাহের প্রকল্পেরও স্থগিতাদেশের কারণে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন আটকে যায়, যা স্থানীয় জনগণের আশার ঝলককে হ্রাস করে। এর পাশাপাশি, স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয় যে, খুলনার পুরনো পাটকলগুলো রেহাই না পেয়ে বন্ধ হয়ে যায় এবং শিল্পনগরী হিসেবে এর ঐতিহ্য ধ্বংস হয়। তবে, যদি গ্যাস সরবরাহ সম্ভব হয়, তবে বন্ধ কারখানাগুলোর যান্ত্রিক উন্নতিনির্দেশের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ জমি ও অবকাঠামো পুনরায় সক্ষম হবে। এই অঞ্চলে দেশের দ্বিতীয় বৃহৎ সমুদ্রবন্দর এবং পদ্মাসেতুর নির্মাণের ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হয়েছে। গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত হলে, উৎপাদন খরচ কমবে এবং সেই সঙ্গে নতুন শিল্পকারখানা ও উদ্যোক্তা বৃদ্ধি পাবে। এই অঞ্চলে বিনিয়োগ বাড়বে, দেশের অর্থনীতিতে মূখ্য ভূমিকা রাখবে। স্মারকলিপিতে বলা হয়, একটি দেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে দেশীয় সম্ভাবনাগুলো পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগাতে হবে। খুলনায় শিল্পের প্রসার ও বন্ধ কারখানা চালু হলে, শুধু এই অঞ্চলের মানুষই নয়, সারা দেশের জন্য সুফল আসবে। গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা শুধুমাত্র একটি দয়ার বিষয় নয়, বরং এটি জাতীয় উন্নয়ন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। একটি অবহেলিত ও পিছিয়ে পড়া অঞ্চলকে উপেক্ষা করে উন্নয়ন সম্ভব নয়। সীমিত সম্পদ ও ভূমির সর্বোচ্চ ব্যবহার ও দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্র বন্দরসহ অন্যান্য সুবিধার উন্নয়নই এই অঞ্চলের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারে। বর্তমান সরকারের কাছে আমরা আশা করি, এ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে এবং দেশের সমগ্র উন্নয়নে অবদান রাখার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হবে। গ্রাম থেকে শহর, সবখানেই সমান উন্নয়নের আওতা দরকার, যা দেশের সামগ্রিক অগ্রগতির মূলকাঠামো।

  • বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক তিন গভর্নর ও ছয় ডেপুটি গভর্নরের ব্যাংক হিসাব তলব

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক তিন গভর্নর ও ছয় ডেপুটি গভর্নরের ব্যাংক হিসাব তলব

    বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) সকল তদন্তের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের সাবেক তিন গভর্নর ও ছয় ডেপুটি গভর্নর ও তাদের ব্যাংক হিসাবসংক্রান্ত সব অবস্থা জানতে চেয়ে তা তলব করেছে। এই তথ্যের জন্য পূর্বে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুরোধে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের কাছে চিঠি পাঠানো হয়।

    আজ বুধবার (১৩ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা এই খবর নিশ্চিত করেছেন। চিঠিতে স্পষ্ট করে উল্লেখ করা হয়েছে, যাঁদের হিসাবের তথ্য চাওয়া হয়েছে, তাঁদের মধ্যে আছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান, ফজলে কবির ও আব্দুর রউফ তালুকদার। উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আতিউর রহমান দেশত্যাগ করেন। অন্যদিকে, আব্দুর রউফ তালুকদার গত বছরের ৭ আগস্ট পলাতক অবস্থায় ই-মেইলে তার পদত্যাগের খবর দিয়েছেন।

    অপরদিকে, ব্যাংক হিসাব তলবের এই লিস্টে থাকা অন্য সাবেক ডেপুটি গভর্নররা হলেন এস কে সুর চৌধুরী, সাবেক বিএফআইইউর প্রধান মো. মাসুদ বিশ্বাস, আবু হেনা মো. রাজী হাসান, এস এম মনিরুজ্জামান, কাজী ছাইদুর রহমান ও আবু ফরাহ মো. নাছের। তাঁদের মধ্যে উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ দুর্নীতি মামলায় কারাবন্দী।

    চিঠিতে আরও বলাহয়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার ফরম, লেনদেনের বিস্তারিত বিবরণ, কেওয়াইসি (Know Your Customer) ফরমসহ সব প্রয়োজনীয় তথ্য আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে পৌঁছে দিতে হবে। যদি কোনো হিসাব বন্ধ হয়ে থাকে, সেটিরও তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

    সূত্র অনুযায়ী জানা গেছে, সরকারের পরিবর্তনের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আর্থিক কার্যক্রম নিয়ে তদন্তের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের অন্তর্ভুক্ত। এ কারনে ব্যাংকের হিসাবের তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

  • প্রবাসী আয়ে ইতিবাচক ধারা, ১৭ দিনে এসেছে দেড় বিলিয়ন ডলার

    প্রবাসী আয়ে ইতিবাচক ধারা, ১৭ দিনে এসেছে দেড় বিলিয়ন ডলার

    চলতি আগস্ট মাসে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ে আশাব্যঞ্জক পরিবর্তন দেখা গেছে। বছরের প্রথম ১৭ দিনে দেশি বৈদেশিক উপার্জন এসেছে দেড় বিলিয়ন ডলার (প্রায় ১৬১ কোটি ৯০ লাখ ডলার), যা এর আগে কোনও মাসের তুলনায় উল্লেখযোগ্য। এই পরিমাণ অর্থ স্থানীয় মুদ্রায় প্রায় ১৯ হাজার ৬৪২ কোটি টাকার সমান, যেখানে প্রতি ডলার ধরা হয়েছে ১২২ টাকা। এই ইতিবাচক প্রবণতা অব্যাহত থাকলে, সম্ভবত আগস্ট মাসটি পূর্বের মাস জুলাইকে ছাড়িয়ে যাবে প্রবাসী আয়ে। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, আগস্টের ১৭ দিনে দেশের রেমিট্যান্স এসেছে ১৬১ কোটি ৯০ লাখ ডলার। এর মধ্যে রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৪৯ কোটি ৩৩ লাখ ডলার, আর বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে এই সংখ্যা ৯৬ কোটি ২৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার। এছাড়া, বিদেশি ব্যাংকগুলো থেকেও এসেছে ৩১ লাখ ৩০ হাজার ডলার। এর আগে, ২০২৫-২৬ অর্থবছর শুরুতে জুলাই মাসে রেকর্ড ২৪৭ কোটি ৭৯ লাখ ডলার রেমিট্যান্স প্রবাহিত হয়েছিল, যা প্রায় ৩০ হাজার ২৩৯ কোটি টাকার সমান। তবে, এই মাসে কোনওরকম রেমিট্যান্স আসে নি আটটি ব্যাংকের মাধ্যমে, যার মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক। অন্যদিকে, কেবল বিশিষ্ট বেসরকারি ব্যাংকের মধ্যে কমিউনিটি ব্যাংক, আইসিবি, ইসলামি ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক ও বিদেশি ব্যাংকের মধ্যে হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান ও স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার নাম উল্লেখযোগ্য। গত বছরের মার্চ মাসে রেকর্ড ৩২৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা ছিল সবার أعلى। সার্বিকভাবে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসী আয় মোট ৩০.৩৩ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ২৬.৮ শতাংশ বেশি। এর আগে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এই আয় ছিল ২৩.৯১ বিলিয়ন ডলার। মাসভিত্তিক রেমিট্যান্স প্রবাহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: জুলাইয়ে ১৯১.৩৭ কোটি ডলার, আগস্টে ২২২.১৩ কোটি ডলার, সেপ্টেম্বরে ২৪০.৪১ কোটি ডলার, অক্টোবর ২৩৯.৫০ কোটি ডলার, নভেম্বর ২২০ কোটি ডলার, ডিসেম্বর ২৬৪ কোটি ডলার, জানুয়ারিতে ২১৯ কোটি ডলার, ফেব্রুয়ারিতে ২৫৩ কোটি ডলার, মার্চে ৩২৯ কোটি ডলার, এপ্রিলে ২৭৫ কোটি ডলার, মে’তে ২৯৭ কোটি ডলার এবং জুনে ২৮২ কোটি ডলার। বিশ্লেষকেরা বলছেন, সরকারের প্রণোদনা ও প্রবাসী আয়ের সহজতর সুযোগের কারণে এই ইতিবাচক প্রবাহ অব্যাহত রয়েছে।

  • বাংলাদেশের শুল্ক মুক্ত চাল আমদানির ঘোষণা ভারতের বাজারে বড় প্রভাব ফেলেছে

    বাংলাদেশের শুল্ক মুক্ত চাল আমদানির ঘোষণা ভারতের বাজারে বড় প্রভাব ফেলেছে

    বাংলাদেশের সদ্য ঘোষিত শুল্কমুক্ত চাল আমদানির সিদ্ধান্তের ফলে ভারতের বাজারে চালের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। গত দুই দিনে ভারতে চালের দাম প্রায় ১৪ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে। এর আগে বাংলাদেশ সরকার খাদ্য সরবরাহের স্থিতিশীলতা ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য ৫ লাখ টন চালের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করে নেয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারতের বড় বড় চাল ব্যবসায়ীরা অধিক লাভের আশায় বাংলাদেশে চাল রপ্তানি শুরু করেছেন। এর ফলে ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে চালের সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে একটি সাময়িক ভারসাম্যহীনতা দেখা দিয়েছে, যা ইকোনমিক টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ, উত্তর প্রদেশ ও অন্যান্য দক্ষিণ ভারতের ব্যবসায়ীরা এর আগে খবর পেয়েছিলেন যে বাংলাদেশ সরকার চালের ওপর থেকে ২০ শতাংশ আমদানির শুল্ক সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করবে। তারা তাই পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্তের কাছেই চালের গুদাম প্রস্তুত করে রেখেছিলেন। গত বুধবার বাংলাদেশ সরকারের ঘোষণা আসার পর থেকে ভারত থেকে ট্রাকে করে চাল বাংলাদেশে রপ্তানি শুরু হয়।

    এই শুল্ক প্রত্যাহারের ফলে ভারতের খুচরা বাজারে চালের দাম এই মুহূর্তে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে। স্বর্ণা চালের দাম প্রতি কেজি ৩৪ থেকে বেড়ে ৩৯ রুপি, মিনিকেটের দাম ৪৯ থেকে ৫৫ রুপি, রতœা চালের দাম ৩৬-৩৭ থেকে ৪১-৪২ রুপি এবং সোনা মাসুরি চালের কেজি ৫২ থেকে ৫৬ রুপি পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

    রাইসভিলা নামে এক চাল রপ্তানিকারক সংস্থার সিইও সুরজ আগরওয়াল বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) শুল্ক প্রত্যাহারের খবর পেয়েই ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের ট্রাকগুলো বাংলাদেশে চালানোর জন্য রওনা দিয়েছে। তিনি জানান, লজিস্টিক সুবিধা ও খরচ কমানোর জন্য পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্তের মাধ্যমে চাল রপ্তানি লাভজনক, ফলে উত্তর প্রদেশ ও দক্ষিণ ভারতের মিলাররা এই পথ ব্যবহার করছেন।

    অন্ধ্রপ্রদেশের চাল মিলার সিকে রাও বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকালেই আমার ট্রাকগুলো বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে।’

    বাংলাদেশের এই শুল্ক মুক্ত চাল আমদানির মূল লক্ষ্য হলো অভ্যন্তরীণ বাজারে চালের দাম স্থিতিশীল রাখা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে ভোক্তাদের স্বস্তি দেওয়া। গত অর্থবছরে (২০২৪-২৫) দেশে চালের দাম ১৬ শতাংশ বেড়েছিল, তখন বাংলাদেশে ১৩ লাখ টন চাল আমদানি করতে হয়েছিল।

    চাল রপ্তানিকারক সংস্থার হালদার ভেঞ্চার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেশব কুমার হালদার বলেন, বিশ্ববাজারে চালের সরবরাহ উদ্বৃত্ত থাকায় আমদানির জন্য বিভিন্ন দেশের গুদামজাত মজুত পর্যাপ্ত। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের এই রপ্তানি অর্ডার ভারতের বাজারকে মন্দা থেকে তুলতে সাহায্য করবে, কারণ এটি নতুন চাহিদা সৃষ্টি করেছে এবং বৈশ্বিক মূল্যহ্রাসকে আংশিকভাবে পুষিয়ে দিচ্ছে।’