Author: bangladiganta

  • রূপসার পল্লীতে সরকারি রাস্তা দখল এবং ইট তৈরির ব্যবসা: এলাকাবাসীর করুণ আকুতি

    রূপসার পল্লীতে সরকারি রাস্তা দখল এবং ইট তৈরির ব্যবসা: এলাকাবাসীর করুণ আকুতি

    খুলনাসহ রূপসার আঠারোবেঁকী নদীর কোলঘেঁষা নেহালপুর মিস্ত্রিপাড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি রাস্তা দীর্ঘ দিন ধরে জবরদখল ও অবৈধভাবে ইট তৈরির জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। এই রাস্তা দিয়ে প্রথমদিকে জনগণ বিনা বাধায় চলাচল করলেও, সম্প্রতি এর দখলদাররা মাটি দিয়ে তৈরি ইটের পট বানিয়ে ব্যবসা চালু করায় সাধারণ মানুষ ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছ, নেহালপুরের প্রাইভেট কোম্পানি এমএনএস ব্রিক্সের মালিক মিঠু ও তার ব্যবসায়ীরা এই রাস্তা জোড়পূর্বক দখল করেছেন এবং সেখানে ইটভাটা চালু করেন। এর আগে সিবিআই ব্রিক্সের সাবেক মালিক সাত্তারও একইভাবে সরকারি রাস্তা দখলে এনে অবিচল ব্যবসা চালিয়ে গেছেন। কিছুদিন আগে উপজেলা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা মাটি পরিমাপ করে সীমানা নির্ধারণ করে লাল পতাকা টানালেও কোন বাধা দেয়া হয়নি। এলাকাবাসী ও স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, এটি ঐতিহ্যবাহী ও জনঝুঁকিপূর্ণ একটি রাস্তা যা বহু বছর ধরে ব্যবহার হয়ে আসছিল। দুর্ভাগ্যবশত, দখলদাররা রাস্তাটি সরিয়ে না নেওয়ায় সাধারণ জনগণের চলাচল ও প্রাকৃতিক স্বাভাবিক ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটছে। এলাকাবাসীর মত, আপৎকালীন পরিস্থিতিতে রাস্তাটি পুনরুদ্ধার করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। সচেতন মহল ও স্থানীয় জনগণের একত্রিত আর্জি, অবিলম্বে এই রাস্তা দখল মুক্ত করে নাগরিক সুবিধার জন্য সচল রাখার দাবি জানানো হয়েছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য, ব্যবসায়ী ও সরকারি কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও এখনো কার্যত কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। সরকারি রাস্তার রক্ষণাবেক্ষণ ও দখল মুক্ত করার জন্য প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। সংশ্লিষ্ট সবাই এ দাবি মান্য করে, এই গুরুত্বপূর্ণ জনচলাচলের রাস্তা দ্রুত দখলমুক্ত করে জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য মুক্ত করে দেয়ার জন্য প্রত্যাশা করছেন সাধারণ মানুষ।

  • তিন বছরে দারিদ্র্য হার বেড়ে ২৮%, খাবারে খরচ বেশি

    তিন বছরে দারিদ্র্য হার বেড়ে ২৮%, খাবারে খরচ বেশি

    তিন বছরের ব্যবধানে দেশের দারিদ্র্য হার কোনো উন্নতি না হওয়ার পরিবর্তে বরং আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে দেশের দারিদ্র্যের হার প্রায় ২৮ শতাংশ, অর্থাৎ ২৭ দশমিক ৯৩। গত ২০২২ সালে সরকারের হিসাব অনুযায়ী এই হার ছিল মাত্র ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিশিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) গত সোমবার প্রকাশিত এক গবেষণায় এই চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এই গবেষণার শিরোনাম ছিল ‘ইকনোমিক ডায়নামিক্স এ্যান্ড মুড অ্যাট হাউজহোল্ড লেবেল ইন মিড ২০২৫’। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এলজিইডি মিলনায়তনে এর ফলাফলের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংশ্লিষ্ট গবেষকরা। পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিলুর রহমান এই গবেষণার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। গবেষণায় দেখা গেছে, অতি দারিদ্র্যের হারও এই সময়ে বেড়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০২২ সালে এই হার ছিল ৫ দশমিক ৬ শতাংশ, যা ২০২৫ সালে এসে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ। এর অর্থ হলো, গত তিন বছরে দেশের দারিদ্র্যের পরিস্থিতি অবনতি হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১৮ শতাংশ পরিবার যে কোনও মুহূর্তে গরিব হয়ে যেতে পারে। এই গবেষণা মে মাসে ৮ হাজার ৬৭টি পরিবারের ৩৩,২০৭ জন ব্যক্তির মতামতের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়।

    গবেষণায় আরও দেখা গেছে যে, দেশের তিনটি মূল সংকটের প্রভাব এখনো চলমান। এগুলো হলো- কোভিড মহামারির ধাক্কা (২০২০-২০২২), মূল্যস্ফীতি এবং রাজনৈতিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা। এই পরিস্থিতিতে, গত বছরের আগস্টের আগে যেখানে মানুষদের মধ্যে ৮.৫৪ শতাংশ সেবা নিতে ঘুষ দিয়েছেন, সেখানে এই হার এখন কমে ৩.৬৯ শতাংশে এসেছে। তবে এখনও অনেক সরকারি দপ্তর এবং পুলিশের সঙ্গে মানুষজনের ঘুষ লেনদেন অব্যাহত রয়েছে।

    শহরের পরিবারগুলোর আয় কমছে, কিন্তু খরচ বেড়ে গেছে বলে জানান গবেষকরা। শহরের একটি গড় পরিবার মাসিক গড় আয় ৪০,৫৭৮ টাকা, যেখানে খরচ হয় ৪৪,৯৬১ টাকা। ২০২২ সালে এই গড় আয় ছিল ৪৫,৫৭৮ টাকা। অন্যদিকে, গ্রামে পরিবারের গড় আয় কিছুটা বাড়লেও খরচও বেড়েছে। গ্রামাঞ্চলের একটি পরিবারের গড় মাসিক আয় এখন ২৯ হাজার ২০৫ টাকা, যেখানে খরচ হয় ২৭ হাজার ১৬২ টাকা। ২০২২ সালে এই পরিবারের আয় ছিল ২৬ হাজার ১৬৩ টাকা। সার্বিকভাবে জাতীয়ভাবে দেখা যায়, এক পরিবারের গড় মাসিক আয় ৩২ হাজার ৬৮৫ টাকা, আর খরচ ৩২ হাজার ৬১৫ টাকা। সঞ্চয়ের কোনও জায়গা নেই বললেই চলে।

    পিপিআরসির গবেষণায় আরও দেখানো হয়েছে, এক পরিবারের মাসিক খরচের প্রায় ৫৫ শতাংশ খরচ হয় খাদ্য খাতে। একটি পরিবার প্রতি মাসে গড়ে ১০ হাজার ৬১৪ টাকা খাবার খরচ করে। এর পাশাপাশি শিক্ষা, চিকিৎসা, যাতায়াত ও বাসস্থানেও খরচ হয় যথাক্রমে যথাক্রমে ১৮২২, ১৫৫৬, ১৪৭৮ এবং ১৮৯ টাকা।

    হোসেন জিলুর রহমান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষুদ্র অর্থনীতির তুলনায় সরাসরি সামষ্টিক অর্থনীতির দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি বল became, অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় জনমুখী ভাবনা খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে। শুধু জিডিপি বৃদ্ধির ওপর নির্ভর না করে, আমাদের সমতা, ন্যায়বিচার, বৈষম্যহীনতা ও নাগরিককল্যাণের দিকে মনোযোগ বাড়ানো দরকার।

    তিনি আরও বলেন, বর্তমানে আমাদের জন্য পাঁচটি ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্রের ওপর বিশেষ নজর দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, দীর্ঘমেয়াদী রোগের বোঝা দিন দিন বাড়ছে, যা মোকাবেলার জন্য নতুন सामाजिक নিরাপত্তা কর্মসূচি প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, নারী প্রধান পরিবারগুলো সমাজের সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা স্তরে রয়েছে, এদের জন্য বিশেষ সহায়তা জরুরি। তৃতীয়ত, ঋণের বোঝা বৃদ্ধি পেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। চতুর্থত, খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা ধীরে ধীরে বাড়ছে, যা উদ্বেগের কারণ। পঞ্চমত, স্যানিটেশন সংকট সমাধান করা জরুরি, কারণ এখনো প্রায় ৩৬ শতাংশ মানুষ নন-স্যানিটারি টয়লেট ব্যবহার করছে, এটি এই লক্ষ্য অর্জনে বড় বাধা।

    অপরদিকে, হোসেন জিলুর রহমান বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এখন আমাদের অন্যতম চ্যালেঞ্জ। বেকারত্বের আগুনে পুড়ে যাচ্ছে বহু যুবক এবং সাধারণ মানুষ। তাই দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া ও বক্তৃতার পাশাপাশি বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণের দরকার রয়েছে। আমাদের জরুরি পরিকল্পনাগুলোর মধ্যে রয়েছে এই সমস্যা সমাধানে ব্যাপক ও সুদৃঢ় পদক্ষেপ।

  • বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবার ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়ালো

    বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবার ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়ালো

    দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও সক্রিয় হয়ে ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বুধবার সন্ধ্যার পর দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রের তথ্যানুযায়ী, গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩১.৩৩ বিলিয়ন ডলার। একইসময়, আন্তর্জাতিক অর্থ সংস্থার (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম ৬ অনুযায়ী রিজার্ভ হচ্ছে ২৬.৩১ বিলিয়ন ডলার।

    এর আগে, গত রোববার দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩০.৮৬ বিলিয়ন ডলার, আর আইএমএফের পদ্ধতিতে হিসাব করে তা ছিল ২৫.৮৭ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

    উল্লেখ্য, গত জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশ এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নে (আকু) ২.০২ বিলিয়ন ডলার পরিশোধের পর দেশটির রিজার্ভ কিছুটা কমে যায়। তখন গ্রস রিজার্ভ হয়েছিল ২৯.৫৩ বিলিয়ন ডলার, আর বিপিএম ৬ অনুযায়ী রিজার্ভ ছিল ২৪.৫৬ বিলিয়ন ডলার।

    অপরদিকে, রেমিট্যান্সবান্ধব প্রবৃদ্ধি, রপ্তানি আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থার ঋণের কারণে, গত জুনের শেষে দেশের রিজার্ভ দিয়ে বাংলাদেশের মোট মূল্য ছিল ৩১.৭২ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২২ সালের ২৮ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে, মার্চ ২০২৩ এর শুরুতে রিজার্ভ ৩২ বিলিয়ন ডলার নিচে নেমে গিয়েছিল। একই সময়ে, বিপিএম ৬ অনুযায়ী রিজার্ভ ছিল ২৬.৬৯ বিলিয়ন ডলার, আর কেন্দ্রীয় ব্যাংক অনুযায়ী জুনে তা ছিল ২৪.৭৫ বিলিয়ন ডলার।

    উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রিজার্ভের মাইলফলক ২০২১ সালের আগস্টে অর্জিত হয়েছিল, যখন রিজার্ভ ছিল ৪৮ বিলিয়ন ডলার। এরপর ধারাবাহিক ভাবে কমে গিয়ে, ২০২৩ সালের জুলাই শেষে রিজার্ভ ছিল প্রায় ২০.৪৮ বিলিয়ন ডলার। সরকার পতনের পর থেকে অর্থপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের কারণে ডলারের প্রাপ্যতা বাড়তে শুরু করে। এছাড়াও, হুন্ডি মারফত অবৈধ অর্থপ্রবাহ কমে যাওয়ার কারণে, প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বেড়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসী আয় প্রায় ২৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩০.৩৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

  • বাংলাদেশে ৬ মাসে ১.২৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব পেয়েছে সরকার

    বাংলাদেশে ৬ মাসে ১.২৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব পেয়েছে সরকার

    বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এবং সরকারের অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থা জানিয়েছেন, গত জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত মোট ১.২৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের প্রস্তাব পেয়েছে দেশ। আজ বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) রাজধানীর প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বিনিয়োগ সমন্বয় কমিটির ৫ম সভায় এই তথ্য তুলে ধরা হয়।

    প্রধান উপদেষ্টা আন্তর্জাতিক বিষয় সংক্রান্ত বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে এতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।

    সভায় জানানো হয়, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে অধিকাংশ প্রস্তাবই বিদেশি বিনিয়োগের, যার পরিমাণ ৪৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এছাড়া দেশীয় বিনিয়োগ এসেছে ৭০০ মিলিয়ন ডলার এবং যৌথ বিনিয়োগের প্রস্তাব রয়েছে মোট ৮৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই প্রস্তাবের মধ্যে সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৩৩০ মিলিয়ন ডলার, এসেছে নানা চীনা প্রতিষ্ঠান থেকে। এছাড়া সিঙ্গাপুর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছে বলে সভায় জানানো হয়।

    বিডার পক্ষ থেকে বলা হয়, এই মোট প্রস্তাবের মধ্যে এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে ২৩১ মিলিয়ন ডলার, যা মোট প্রস্তাবের প্রায় ১৮ শতাংশ। বিশ্বজুড়ে এ রূপান্তরের গড় হার ১৫ থেকে ২০ শতাংশের মধ্যে।

    বৈঠকে চট্টগ্রাম বন্দরে রয়েছে কন্টেইনার জটের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হয়। বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা প্রায় সাড়ে ছয় হাজার কন্টেইনারের জন্য বর্তমান সরকারের সময় গতি ফিরিয়ে আনতে গত দুই মাসে ১ হাজার কন্টেইনার নিলামে বিক্রি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী মাসে আরো ৫০০ কন্টেইনার নিলামে তোলার পরিকল্পনা চলছে এবং উদ্বোধন-হস্তান্তর কার্যক্রম চলমান।

    অন্যদিকে, বাংলাদেশ বিজনেস পোর্টাল (বিবিপি) চালু করার অগ্রগতির বিষয়েও আলোচনা হয়, যেখানে বিডা, বেজা, বেপজা ও বিসিক এর পরিষেবাগুলিকে একত্রিত করতে এই অনলাইন প্ল্যাটফর্মের কাজ প্রায় শেষের দিকে এবং সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে এর সফট লঞ্চিং হবে। পুরোপুরি চালু হবে সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ।

    সভার শেষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজ সহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • ডাক বিভাগের অধীনে থাকবে না ‘নগদ’, শিগগিরই বিজ্ঞাপন আসছে

    ডাক বিভাগের অধীনে থাকবে না ‘নগদ’, শিগগিরই বিজ্ঞাপন আসছে

    বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন যে মোবাইল অর্থনৈতিক পরিষেবা (এমএফএস) খাতে প্রতিযোগিতা ও উন্নয়ন বৃদ্ধির জন্য সরকার নগদকে বেসরকারিকরণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তারা এই খাতে আরও উন্নত ও কার্যকরী ব্যবস্থা প্রদানের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। তিনি বলেন, আমরা এই খাতের কার্যক্রম ও প্রতিযোগিতা আরও বাড়ানোর জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নিতে চাই। এজন্য সর্বোচ্চ পর্যায়ে আমরা নগদকে বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি এবং বিনিয়োগকারীদের এই উদ্যোগে আনা হবে। বুধবার ঢাকার সোনারগাঁও হোটেলে আইসিএমএবি ও মাস্টারকার্ডের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ক্যাশলেস বাংলাদেশ সামিটে তিনি এ কথা বলেন। গভর্নর আরও বলেন, ‘প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যেই আমরা এ বিষয়ে বিজ্ঞাপন দিই।’ তিনি আরও জানিয়েছেন যে, বর্তমানে ডাক বিভাগের অধীনে পরিচালিত নগদ পরিষেবাকে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে। কারণ, এখন ডাক বিভাগের পক্ষে এটি চালানো তার উপযুক্ত নয়। গভর্নর আশাবাদ ব্যক্ত করেন, যেন তিনি নগদকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে পারেন, যাতে এটি মোবাইল অর্থনৈতিক সেবা খাতে একটি প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। তিনি আশা করেন, এই পরিবর্তনের মাধ্যমে নগদ আরও শক্তিশালী ও কার্যকরী হয়ে উঠবে, যা দেশের আর্থিক শ্লথতাকে আরও গতিশীল করবে। সূত্র: শীর্ষনিউজ।

  • ন্যূনতম কর আইনকে কালো আইনেরূপে দেখছেন এনবিআর চেয়ারম্যান

    ন্যূনতম কর আইনকে কালো আইনেরূপে দেখছেন এনবিআর চেয়ারম্যান

    ন্যূনতম কর আইনকে তিনি একেবারেই কালো আইন বলছেন। এ বিষয়ে সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এনবিআর চেয়ারম্যান মোঃ আবদুর রহমান খান বলেন, ন্যূনতম কর নিয়ে অনেক সমালোচনা শুনেছি। সত্যি বলতে, এটি একটি কালো আইন, যার স্বীকৃতি আসতেই হবে। ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে করের ভিত্তি মূলত মুনাফার ওপর হওয়া উচিত। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে মিনিমাম কর নির্ধারণের মাধ্যমে করের হার ঠিক রাখা হচ্ছে, যা নানা ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করছে। এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে, অর্থাৎ কর আহরণ আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর হলে, আমরাও বাস্তবায়ন সহজ করতে পারব। বর্তমানে আমরা ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করতে বেশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কারণ, যদি ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে করের হার কম করা না হয়, তাহলে রাজস্ব আদায় কঠিন হয়ে পড়বে।

    সংলাপে বক্তারা বলেন, করছাড়ের প্রবণতা বাড়ার কারণে দেশীয় অর্থনৈতিক গুরুত্ব অনুযায়ী কর-জিডিপি অনুপাত অপর্যাপ্ত রয়েছে। এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, আমরা অনেক করছাড় দিচ্ছি, কারণ আমাদের বড় দেশ, বড় কর্মীসংখ্যা রয়েছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টির স্বার্থে এই করছাড় অব্যাহত রয়েছে। তবে এর ফলে করের জিডিপি অনুপাত বাড়ছে না। তিনি ধারণা দেন, অনেক সময় ট্যাক্স হিল্ড, ট্যাক্স এক্সেম্পশন দেওয়ায় মানুষ এই খাতগুলোতে বেশি মনোযোগ দেয় না। এটা চলতে থাকলে, কর-জিডিপি অনুপাত ভবিষ্যতেও বাড়বে না।

    চলমান ঋণের বোঝা দানা বাঁধছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দেশের জন্য দরকারি অর্থ সংগ্রহে ব্যর্থ হলে, পরবর্তী প্রজন্মের ওপর ঋণের বোঝা চাপবে, বলে সতর্ক করেন। ইতিমধ্যে পাকিস্তানের কর-জিডিপি অনুপাত বহু নিচে নেমে গেছে—গতবছরে ছিল ৭.৪%, এখন মাত্র ৬.৬%। এই হার অনুযায়ী, দেশের উন্নয়ন ও ঋণের সুদ পরিশোধ কঠিন হয়ে পড়ছে। তাই দক্ষ ও স্বচ্ছ কর ব্যবস্থা সৃষ্টি অপরিহার্য বলে তিনি মনে করেন।

    এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, তিনি একটি জাতীয় অটোমেটেড কর ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন। এতে সবকিছুই ডিজিটাল পদ্ধতিতে হবে, ম্যানুয়াল পদ্ধতি যেন আর চালু না থাকে। এতে ভ্যাট ও কর রিটার্ন দ্রুত ও সঠিকভাবে নেওয়া সম্ভব হবে। পাশাপাশি অডিটের মান উন্নয়নে জোর দিচ্ছেন, যাতে প্রকৃত ছবি স্পষ্ট হয়। বর্তমানে অডিট ম্যানুয়াল পদ্ধতি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যাতে অডিটের জন্য নিরপেক্ষতা ও ঝুঁকি ভিত্তিক পদ্ধতি প্রবর্তন করা যায়। এর মাধ্যমে করদাতা ও কর কর্মকর্তাদের মধ্যে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।

    করদাতাদের জন্য কর বৃদ্ধি ও রিফান্ড প্রসেসের অটোমেটেড ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনাও তিনি ব্যক্ত করেন। তার মতে, করের আওতা বাড়লে কর হার ও ভ্যাট হার কমানো সম্ভব হবে, আর রিফান্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালানো জরুরি।

    প্রসঙ্গত, এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৮২% ব্যবসায়ী বর্তমানে ব্যবহৃত কর হারকে ‘অন্যায্য’ বলে মনে করেন এবং ব্যবসার উন্নয়নে এটি বাধা সরিষা। সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীরা মত দিয়েছেন, কর কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নেই ও দুর্নীতি প্রচলিত সমস্যা। বেশিরভাগ ব্যবসায়ী নিয়মিত কর দাবিকে কেন্দ্র করে কর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। আশা করি, এই পরিস্থিতি উন্নত হলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন আরো ত্বরান্বিত হবে।

  • মির্জা ফখরুলের অভিযোগ, উদারপন্থার রাজনীতি সরিয়ে উগ্রবাদ আনার চেষ্টা চলছে

    মির্জা ফখরুলের অভিযোগ, উদারপন্থার রাজনীতি সরিয়ে উগ্রবাদ আনার চেষ্টা চলছে

    দেশে উদারপন্থী রাজনীতি সরিয়ে উগ্রবাদী রাজনীতি প্রতিষ্ঠার এক গভীর ষড়যন্ত্র চলছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে ‘রক্তাক্ত জুলাই’ শিরোনামের একটি বইয়ের প্রকাশনায় এই মন্তব্য করেন তিনি। বইটির লেখক সৈয়দা ফাতেমা সালাম, যা ইতি প্রকাশন প্রকাশ করেছে।

    মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের মধ্যে আমরা আছি। সেই ষড়যন্ত্রের লক্ষ্য হলো, গণতন্ত্রের মূলধারা—উদারপন্থী ও মধ্যপন্থি রাজনীতি ও গণতন্ত্র—কে সরিয়ে দেয়া এবং এর পরিবর্তে একভিন্ন সাম্প্রদায়িক ও উগ্রবাদী রাজনীতির সূচনা করা। এই পন্থা দেশের জন্য খুবই ক্ষতিকর হবে। আমাদেরকের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে উদারপন্থী গণতন্ত্রকে ফিরে আনতে হবে।

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচনের বাধ্যতামূলক উপস্থিতি জরুরি। বর্তমান পরিস্থিতিতে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি বাড়ছে, তারা সন্দেহ করছে—কখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, কি হবে নির্বাচনের ব্যাপারে। তিনি বলেন, নির্বাচন অবশ্যম্ভাবী, এবং যা ঘোষণা করা হয়েছে, সেটা সময় মতো অনুষ্ঠিত হবে। কারণ, নির্বাচন না হলে দেশের ক্ষতি মহা, এবং এই দুর্যোগে যেন ফ্যাসিবাদ ফিরে আসে, সেটি আরও সম্ভাবনা বাড়াবে।

    মির্জা ফখরুল সোচ্চারভাবে বলছেন, বিভিন্ন দেশ ও মহলে এই ফ্যাসিবাদী প্রবণতাকে পুনরায় মোকাবিলা করার চেষ্টা চলছে। তাই, অন্যতম প্রধান দাবি হলো দ্রুত ও সুষ্ঠু নির্বাচন। এতে দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে পুনর্বহাল করা সম্ভব—এমনটাই তার অভিমত। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন—নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা একটি সুশাসন, স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার পথে এগিয়ে যাব।

  • ইসির নির্বাচনী রোডম্যাপে বিএনপি আনন্দিত

    ইসির নির্বাচনী রোডম্যাপে বিএনপি আনন্দিত

    আগামী ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন (ইসি) নতুন নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে, যা বিএনপি দলটি ইতিবাচকভাবে স্বাগত জানিয়েছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই কথা জানিয়েছেন বৃহস্পতিবার বিকেলে গণমাধ্যমে দেওয়া এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায়। তিনি বলেছেন, ‘রোডম্যাপ ঘোষণাটি আমাদের জন্য আশাব্যঞ্জক। এটি দেখিয়ে দেয় কমিশন ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে ভোট আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমাদের মূল্যবান বার্তা হলো, আমরা খুশি এবং আমাদের মনোভাব খুবই ইতিবাচক।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘জনগণের জন্য এটি একটি সুসংবাদ এবং আমাদের প্রত্যাশা খুব দ্রুত একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’ এই রোডম্যাপের মাধ্যমে মানুষ এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে, কবে নাগাদ নির্বাচন হবে এবং কোন পথে দেশ এগোবে। বিএনপি মহাসচিবের মূল্যবান মন্তব্যের পাশাপাশি দলটির সিনিয়র নেতা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিকেলে বনানীতে এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘নির্বাচনের এই রোডম্যাপ ঘোষণা দেশের জন্য একান্তই শুভ সংকেত। এর মাধ্যমে মানুষ নিজেদের মতামত প্রকাশের সুযোগ পাবে। সবাই আশা করছে, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়েই নতুন সরকার গঠন হবে এবং সংসদ প্রতিষ্ঠা পাবে, যা জনগণের জন্য দায়বদ্ধ এবং জবাবদিহির মধ্যে থাকবে। তিনি ভবিষ্যতেও অর্থনীতি দ্রুত সুদৃঢ় হবে এবং দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন আরও ত্বরিত হবে বলে মন্তব্য করেন। অন্যদিকে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য এ রোডম্যাপ ঘোষণা দেশের প্রত্যাশা পূরণ করেছে। এই সিদ্ধান্তটি সময়োপযোগী এবং সরকারের পক্ষ থেকেও এর সমর্থন ছিল। এখন সরকারের উচিত, এই রোডম্যাপ অনুযায়ী দ্রুত নির্বাচনের আয়োজন করা হয়, যাতে জনগণের আশা পূরণ হয়। তাদের এই প্রতিক্রিয়া ইতিবাচক এবং ভবিষ্যতে একটি নতুন সরকারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তাঁরা।

  • সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে দেশ মহাবিপর্যয়ের দিকে এগোবে: আবদুল্লাহ তাহের

    সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে দেশ মহাবিপর্যয়ের দিকে এগোবে: আবদুল্লাহ তাহের

    জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেছেন, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন না হলে দেশ ভয়াবহ বিপর্যয়ের দিকে এগিয়ে যাবে। বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা উল্লেখ করেন।

    তাঁরা বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় এসে বলেছিলো যে, তারা দেশের সংস্কার চালাবে এবং জনগণও সেই পরিবর্তন চায়। কিন্তু এই সংস্কার প্রসেসে কিছু দল নোট অফ ডিসেন্ট দেখাচ্ছে, যা বোঝায় যে তারা সংস্কার চায় না। এ বিষয়টি অশুভ ষড়যন্ত্রের অংশ বলে তিনি অভিহিত করেন। তিনি বলেন, আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বীকৃতি দিয়েছি, এবং এই স্বীকৃতি অনুযায়ী সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে একটি সুষ্ঠু, ন্যায্য নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে।

    তিনি আরও বলেন, ইতিমধ্যে রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়েছে, তবে নির্বাচনী পদ্ধতি স্পষ্ট করতে হবে। তাঁরা পিআর (প্রিপারেটিভ রেজিস্ট্রেশন) পদ্ধতিতে নির্বাচনের পক্ষপাতী। তাঁরা বলেন, তারা কখনো আওয়ামী জাহেলিয়াতের পথে ফিরে যেতে চান না। যারা এই ফেয়ার পিআর পদ্ধতির বিরোধিতা করছে, তারাও কেন্দ্র দখল ও ভোট জালিয়াতির পরিকল্পনা করছে। গড়পরতা সিদ্ধান্ত না হলে দেশ মহাবিপর্যয়ের মুখে পড়বে।

    আবদুল্লাহ তাহের আরও বলেন, যারা পিআর পদ্ধতি চান, আসুন আলোচনা করি। দেশের স্বার্থে যা কল্যাণকর, সেটাই নেওয়া হবে। তবে মতের সংঘর্ষ পরিস্থিতি উন্নতি না এনে শুধু সমস্যা বাড়ায়। তাই তিনি নির্বাচন কমিশনকে আহ্বান জানান, পিআর পদ্ধতি ভিত্তিক নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা করার জন্য।

    তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের জন্য সময়কাল নিয়ে তাঁদের কোনও আপত্তি ছিল না। তবে সংস্কার শেষ না করেই নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। তাঁরা চান, সরকারের ঘোষিত তারিখে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। তবে নির্বাচনের আগে থাকা প্রতিবন্ধকতাগুলোর সমাধান করা জরুরি বলে তিনি জোর দেন।

  • নির্বাচনী রোডম্যাপ নিয়ে দু-একটি দল ধোঁয়াশা সৃষ্টি করছে: সালাহউদ্দিন আহমদ

    নির্বাচনী রোডম্যাপ নিয়ে দু-একটি দল ধোঁয়াশা সৃষ্টি করছে: সালাহউদ্দিন আহমদ

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, কিছু রাজনৈতিক দল নির্বাচনী রোডম্যাপের বিষয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। তিনি স্পষ্ট-ақ বলেছেন, যদি কোনও সংশয় বা বিভ্রান্তি থাকে, তাহলে আসুন আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করি। কোনোভাবেই ঐক্য ভেঙে যাওয়া উচিত নয়; বরং আলোচনা ও কথোপকথনের মাধ্যমে দইয়ে বিভাজন ও দোদুল্যমানতা দূর করতে হবে।

    সালাহউদ্দিন বলেন, আমরা আমাদের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছি যাতে ভবিষ্যতে কেউ গুম হয় না। একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমি বলতে চাই, যদি জনগণ আমাদের ক্ষমতায় আনার সুযোগ দেয়, তাহলে গুমের মতো নেক্কারজনক ঘটনাগুলো রোধ করতে আমরা সব ধরনের ব্যবস্থা নেব। আমরা একটি বাংলাদেশ গড়তে সংগ্রাম করছি যেখানে কেউ গুমের শিকার হয়ে রাস্তায় দাঁড়াতে হবে না।

    শুক্রবার ২৯ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম দিবস উপলক্ষে গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্মরণে ‘মায়ের ডাক’ সংগঠনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় এই সব কথা বলেন তিনি।

    সালাহউদ্দিন আরো বলেন, আমার ভাগ্য ভালো যে, আমি আপনাদের সাথে কথা বলতে পারছি। আমার অনেক সহকর্মীর সেই সৌভাগ্য হয়নি।

    অপরাধের জন্য বিগত সরকারের কোনো অনুশোচনা নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন। বরং, জুলাই মাসে গণঅভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে তারা নানা অপবাদ ও অপরাধের অভিযোগ তোলে। এমন পরিস্থিতিতে জনগণ কি তাদের রাজনীতি পুনরায় স্বাগত জানাবে? তারা ক্ষমা চাইনি এবং এখনও চাইতে নারাজ।

    তিনি আবারও উল্লেখ করেন, কয়েকটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনী রোডম্যাপ নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। যদি কোনো সংশয় থাকে, তাহলে আসুন আলোচনা করি। ঐক্য ভাঙার কোনও সুযোগ নেই; বরং আলোচনার মাধ্যমে সকল বিভ্রন্তি দূর করতে হবে।

    আলোচনা সভায় হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পরে গুম হওয়া কয়েকজন ব্যক্তি ফিরে এসেছে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন আরও অনেকের ফিরে আসার সম্ভাবনা ছিল, কিন্তু এখনও কিছুই পারেননি সরকার। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার অনেক আশ্বাস দিয়েছিল—যাদের গুম হয়েছে তাদের ফিরিয়ে আনা হবে বা অন্তত তাদের তথ্য দিয়ে বিচার শুরু করা হবে। এখনো তারা কিছুই আদায় করেনি।

    গুম থেকে ফিরে আসা শায়রুল ইসলাম বলেছেন, তিনি ২০১৭ সালের মার্চে গুম হন। এরপর তিনি আরও চারজনের সঙ্গে পরিচয় হয়, যারা একই সময়ে গুম হয়েছিল। তিনি জানান, তিনি ও অন্য একজন ফিরে এলেও তিনজন এখনও নিখোঁজ। তার নামে একটি মামলাও করা হয়েছে, যেখানে তার বিচার হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, মামলাটি থেকে অব্যাহতি চাচ্ছেন, কারণ তিনি বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় আছেন। তিনি জানিয়েছেন, গুমের জন্য দায়ী ব্যক্তিরা এখনো সরকারের চাকরিতে থাকছেন।

    আরেক স্মরণীয় ঘটনা হলো, ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবরে বিএনপির আন্দোলনের সময় মুগদা থানার শ্রমিকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ফজলুর রহমান কাজল আটক হন। পুলিশ হেফাজত অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার ছেলে সজল বলেন, তার বাবার চায়ের দোকান ছিল। ২৮ তারিখে তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বিভিন্ন থানার মাধ্যমে পুলিশ পল্টন ও কাশিমপুর কারাগারে স্থানান্তর করে। সেখানে তার বাবার সঙ্গে দেখা করতে পারেনি পরিবারের সদস্যরা। শোনেন, তার বাবা মারা গেছেন হাসপাতালে, তবে পরিস্থিতি অত্যন্ত দুর্ব্যবহারের ছিল।

    সজল কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তার বাবাকে ধরা থেকে শুরু করে নির্যাতন চালানো হয়েছে। আটকের পরে তার বাবার সঙ্গে সাক্ষাৎ পর্যন্ত হয়নি। এই কষ্ট ও দুর্ব্যবহার তার মনে গভীর আঘাত করেছে।