Author: bangladiganta

  • তুহিনের অভিযোগ: স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি আবারো সক্রিয় হয়ে উঠেছে

    তুহিনের অভিযোগ: স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি আবারো সক্রিয় হয়ে উঠেছে

    খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও খুলনা-২ আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশী শফিকুল আলম তুহিন বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি আবারো সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা বিভিন্ন গোপন বৈঠক এবং ষড়যন্ত্রমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রस्त করার চেষ্টা চালাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই শক্তিগুলো সবসময়ই গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও নির্বাচন পরিচালনাকে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিতে প্রভাবিত করার পাঁয়তারা করে আসছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় নগরীর মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবে ২৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, স্বাধীনতা বিরোধীরা আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের ভেতরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করার পরিকল্পনা করছে। তুহিন আরও বলেন, স্বাধীনতা বিরোধীরা কখনোই গণতন্ত্র বা মানুষের অধিকারকে সমর্থন করেনি। তাদের সর্বস্তরের ষড়যন্ত্র জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করবে। এই সভায় সভাপতিত্ব করেন ২৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শফিকুল ইসলাম জোয়াদ্দার জলি। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সদর থানা বিএনপির সভাপতি কে এম হুমায়ুন কবির, মোঃ মোস্তফা আলম, শেখ হাফিজুর রহমান, রিপন তরফদার, শাহ আসিফ হোসেন রিংকু, নাজমুস সাকিব, মাহবুবর রহমান লিটু, সৈয়দ আজাদ হোসেন, মোঃ আলী মিঠু, কে.এম বেলাল হোসেন, শেখ বেলাল, নাজমুন নাহার শিখা, জামিলা খাতুন, মোঃ ইব্রাহীম, শিল্পী আক্তার, মোঃ কামরুল ইসলাম, মোঃ নাজমুল হোসেন, নওফেল বিন মাহবুব, সাইফুল ইসলাম হাইসাম, মেহেদি হাসনাত আবির, সৌমেন সাহা ও আরও অনেকে।

  • সরকারের কাছে ৬ মাসে ১.২৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব

    সরকারের কাছে ৬ মাসে ১.২৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব

    বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও অন্যান্য সরকারি সংস্থাগুলোর মাধ্যমে গত জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত মোট ১.২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছে। আজ (০৮ আগস্ট) রাজধানীর প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বিনিয়োগ সমন্বয় কমিটির সভায় এই তথ্য জানানো হয়।

    প্রধান উপদেষ্টা ও আন্তর্জাতিক বিষয় সংক্রান্ত বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।

    ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে আসা বিনিয়োগ প্রস্তাবের মধ্যে একা বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ ৪৬৫ মিলিয়ন ডলার বলে জানানো হয়। এছাড়া, স্থানীয় বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলার, এবং যৌথ বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছে মোট ৮৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ এসেছে চীনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে, যা প্রায় ৩৩০ মিলিয়ন ডলার। সিঙ্গাপুর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান থেকেও উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছে।

    বিডার প্রতিনিধির ভাষ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত এই প্রস্তাবগুলোর মধ্যে ২৩১ মিলিয়ন ডলারের প্রকল্প চূড়ান্তভাবেই অনুমোদন পেয়েছে। অর্থাৎ, প্রথম দফার প্রস্তাব থেকে চূড়ান্ত পর্যায়ে রূপান্তর হয়েছে প্রায় ১৮ শতাংশ। বিশ্বজুড়ে এই রূপান্তর হার গড়ে ১৫ থেকে ২০ শতাংশের কাছাকাছি বলে সভায় জানানো হয়।

    এছাড়াও, চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনারের জট সমস্যা কমানোর উপর আলোচনা হয়েছে। সেখানে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার কন্টেইনার দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকছে। বর্তমান সরকারের সময়ে কন্টেইনারের জট কমানোর জন্য ইতিমধ্যে গত দুই মাসে ১ হাজার কন্টেইনার নিলামে বিক্রি করা হয়েছে। আরেকটী লক্ষ্যে, আগামী মাসে আরও ৫০০ কন্টেইনার নিলামে তোলার কাজ চলমান রয়েছে। কর্মকর্তারা জানান, এই নিলামের পণ্য হস্তান্তরের কাজও সচল।

    বিনিয়োগ প্রক্রিয়া আরও গতিশীল করতে এবং আরও বেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে বাংলাদেশ বিজনেস পোর্টাল (বিবিপি) চালুর অগ্রগতি আলোচনা হয়। জানানো হয়, এই অনলাইন প্ল্যাটফর্মের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে এসেছে এবং আগামী সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে সফট লঞ্চিং হবে। এর পুরোপুরি কার্যকারিতা setembro মাসের শেষের দিকে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

    বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মকর্তাগণ, চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

  • ডাক বিভাগের অধীনে থাকবে না ‘নগদ’, এক সপ্তাহের মধ্যে বিজ্ঞাপন আসছে

    ডাক বিভাগের অধীনে থাকবে না ‘নগদ’, এক সপ্তাহের মধ্যে বিজ্ঞাপন আসছে

    বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন যে মোবাইল আর্থিক সেবার (এমএফএস) খাতে প্রতিযোগিতা বাড়াতে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নগদকে বেসরকারিকরণের। তিনি বলেন, আমরা এই খাতে কার্যক্রম ও প্রতিযোগিতা আরও সুদৃঢ় করতে চাই। এজন্য সর্বোচ্চ পর্যায়ে আমরা নগদকে বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং বিনিয়োগকারীদের কাছে এটি নিয়ে যাব। ধারণা করা হচ্ছে, এক সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে বিজ্ঞাপন দেওয়া হবে।

    গভর্নর আরও জানান, বর্তমানে ডাক বিভাগের অধীনে পরিচালিত নগদকে সেখানে থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে, কারণ ডাক বিভাগের পক্ষে এটি চালানো এখন সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ‘নগদের প্রধান শেয়ারহোল্ডার হিসেবে একটি প্রযুক্তি কোম্পানিকে আনা জরুরি।’ এর মাধ্যমে তিনি আশা প্রকাশ করেন, নগদকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে পারলে এটি এমএফএস খাতে প্রতিযোগীদের সঙ্গে সমান তালে দাঁড়াতে সক্ষম হবে।

    সুত্র: শীর্ষনিউজ।

  • এনবিআর চেয়ারম্যানের মন্তব্য: ন্যূনতম কর একটি কালো আইন

    এনবিআর চেয়ারম্যানের মন্তব্য: ন্যূনতম কর একটি কালো আইন

    জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোঃ আবদুর রহমান খান বলেছেন, ন্যূনতম কর আইন একটি কালো আইন। তিনি উল্লেখ করেন, এই আইনটি ব্যবসায় ও করসংক্রান্ত জটিলতা বাড়িয়ে তোলে। মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানে একটি সংলাপে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

    চেয়ারম্যান আরও জানান, অনেকের মধ্যে ন্যূনতম করের প্রবণতা রয়েছে এবং এই আইন স্বভাবতই কালো; এটি আমাদের স্বীকার করতে হবে। তিনি বলেন, ব্যবসায় করের ভিত্তি হয় মুনাফার ওপর। কিন্তু ন্যূনতম কর নির্ধারণের মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে এই বিষয়টি ঠিক রাখা যায় না। যেখানে কর আহরণের পরিমাণ কমে যেতে পারে, সেখানে বাস্তবায়ন বেশ জটিল হয়ে পড়ে। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, চলতি বছর আমাদের প্রচেষ্টা হবে ব্যবসায়ীদের জন্য সহজ ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করা, কারণ যদি ব্যবসায়ীদের জন্য কার্যকর সুবিধা না দেওয়া যায়, তবে রাজস্ব সংগ্রহও দুরূহ হয়ে দাঁড়াবে।

    সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির সিনিয়র গবেষক মোঃ তামিম আহমেদ।

    চেয়ারম্যান বলেন, করছাড়ের কারণে কর-উৎসকো অনুপাত বাড়ছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, সরকারের অনেক কর ছাড় দেওয়ার ফলে কর সংগ্রহের হার এখনও পুরোপুরি বৃদ্ধি করতে পারছেন না। তিনি বলেন, দেশীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য অটো ট্যাক্স ছাড় ও রেয়াতের ফলে মোট কর-জিডিপি অনুপাত নিরন্তর কমে যাচ্ছে, যা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য ক্ষতিকর।

    তিনি আরও জানান, দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলো নিরবচ্ছিন্ন রাজস্ব আদায়। বর্তমানে দেশের কর-জিডিপি অনুপাত কমে গিয়ে ৬ দশমিক ৬ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে, যা পাকিস্তানের থেকেও কম। এর ফলে রাষ্ট্রের উন্নয়ন কার্যক্রম ও ঋণের বোঝা বাড়ছে। ইচ্ছামতো ঋণ গ্রহণ ও ঋণের সুদ পরিশোধের সমস্যা দেখা দেয়ার পাশাপাশি, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপর ঋণের বোঝা তুলতে হচ্ছে।

    এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতায় একটি নতুন উদ্যোগ নিয়েছি—অটোমেটেড এনবিআর। এর মাধ্যমে সব কর ও ভ্যাট রিটার্ন ডিজিটাল পদ্ধতিতে চালনা করা সম্ভব হবে। এছাড়াও, অডিটের কোয়ালিটি আরও উন্নত করতে অডিটের ম্যানুয়াল পদ্ধতি বন্ধ করে দিয়েছি। এখন থেকে ঝুঁকি ভিত্তিতে অডিট হবে এবং যতদিন পর্যন্ত পুরো সিস্টেম ডিজিটাল না হবে, ততদিন হাতে-কলমে অডিট বন্ধ থাকবে।

    তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, করজাল বা করের সংখ্যা বৃদ্ধি করার মাধ্যমে কর হার ও ভ্যাট হার কমানো সম্ভব। রিফান্ডগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে করদাতাদের অ্যাকাউন্টে চলে যেতে পারে, যা কর সম্পাদনাকে সহজ করবে।

    সংলাপে উপস্থিত এক গবেষণা বলছে, ৮২ শতাংশ ব্যবসায়ী মনে করেন বর্তমান কর হার অন্যায্য এবং ব্যবসার জন্য বড় প্রতিবন্ধক। একই সঙ্গে, বেশিরভাগ ব্যবসায়ী কর কর্মকর্তাদের জবাবদিহির অভাব ও দুর্নীতির বিষয়টিকে বড় সমস্যা হিসেবে তুলে ধরেছেন। ঢাকাসহ আশপাশের অঞ্চলে পরিচালিত ওই সমীক্ষায় দেখা গেছে, ব্যবসায়ীদের বেশিরভাগই নিয়মিত কর দাবির কারণে কর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। কিছু ব্যবসায়ী জানান, স্পষ্ট ব্যাখ্যা বা পূর্বনির্ধারণ ছাড়া কর কর্মকর্তা ইচ্ছেমতো কর আরোপ করেন।

    ভ্যাট সংক্রান্ত পরিস্থিতিও অনেক ব্যবসায়ীর জন্য আবেদন ও পরিচিতি সহায়ক নয়। অংশগ্রহণকারী ৭৩.৫ শতাংশ ব্যবসায়ী জটিল ভ্যাট আইন ও অনির্দিষ্ট নীতিমালা, সহায়তা ও প্রশিক্ষণের অভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, পণ্য ও সেবার শ্রেণিবিন্যাস ও উচ্চ অনুবর্তন ব্যয় তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

    ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের এন্টারপ্রাইজ সার্ভের নির্দেশনা অনুসারে পরিচালিত এই সমীক্ষায় ঢাকাসহ আশপাশের জেলাগুলোর মোট ৩৮৯টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে।

  • তিন বছরে দারিদ্র্য হার বেড়ে প্রায় ২৮%; খাবার খরচ ৫৫% হয়ে গেছে

    তিন বছরে দারিদ্র্য হার বেড়ে প্রায় ২৮%; খাবার খরচ ৫৫% হয়ে গেছে

    তিন বছরের ব্যবধানে দারিদ্র্য হার কমেনি, বরং আরও বেড়েছে। দেশ এখন দারিদ্র্যের হার Proximately ২৭.৯৩% বা প্রায় ২৮%, যা সরকারের হিসাবেও ২০২২ সালে ছিল ১৮.৭%। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিশিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি)-র এক গবেষণায় এই চিত্র উঠে এসেছে। গবেষণার নাম ‘ইকনোমিক ডায়নামিকস অ্যান্ড মুড অ্যাট হাউজহোল্ড লেভেল ইন মিড ২০২৫।’ এই ফলাফল গত সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এলজিইডি মিলনায়তনে প্রকাশিত হয়। পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিলুর রহমান গবেষণার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

    গবেষণায় দেখা গেছে, অতি দারিদ্র্যও বেড়েছে। সরকারের হিসাব অনুযায়ী ২০২২ সালে অতি দারিদ্র্যের হার ছিল ৫.৬%, তবে ২০২৫ সালে এটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯.৩৫%। এর মানে হলো, গত তিন বছরে দারিদ্র্য দেশের অর্থনীতিতে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, এখনও প্রায় ১৮% পরিবার যে কোনো সময় গরিব হয়ে যেতে পারে। এই গবেষণা মে মাসে ৮,০৬৭টি পরিবারের অর্থাৎ ৩৩,২০৭ জন ব্যক্তির মতামতের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়েছে।

    বর্তমান তিন সংকটের প্রভাবও এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। পিপিআরসি বলেছে, দেশে এখন তিনটি বড় ধরনের সংকট চলছে—কোভিড মহামারি (২০২০-২০২২), মূল্যস্ফীতি ও রাজনৈতিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা। এছাড়া, ঘুষ কার্যক্রমও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। গেল বছরের আগস্টের আগে যেখানে ৮.৫৪% মানুষ সেবা নিতে ঘুষ দিত, সেখানে এই হার আগস্টে নেমে এসেছে ৩.৬৯%-এ। তবে সবচেয়ে বেশি ঘুষ যায় সরকারি অফিস, পুলিশ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের কাছে।

    শহরের পরিবারে আয় কমেছে, কিন্তু খরচ বেড়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, শহরের একটি পরিবারের গড় মাসিক আয় ছিল ৪০,৫৭৮ টাকা, যেখানে খরচ হয় ৪৪,৯৬১ টাকা। ২০২২ সালে এই পরিবারের আয় ছিল ৪৫,৫৭৮ টাকা। অন্যদিকে, গ্রামের পরিবারে আয় কিছুটা বেড়েছে, গড় আয় ২৯,০২০৫ টাকা, খরচ ২৭,১৬২ টাকা, যা ২০২২ সালে ছিল ২৬,১৬৩ টাকা। সার্বিকভাবে দেশের সাধারণ পরিবার গড় আয় ৩২,৬৮৫ টাকা হলেও খরচ হয় ৩২,৬১৫ টাকা, যার ফলে সঞ্চয় প্রায় নেই বললেই চলে।

    খাবার খরচ এখন গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ, যা গড়ে ৫৫%। একটি পরিবারের মাসিক মোট খরচের অর্ধেকের বেশি খরচ হয় খাবারে, যা গড়ে ১০,৬১৪ টাকা। এছাড়া, প্রতি মাসে শিক্ষায় ১,৮২২ টাকা, চিকিৎসায় ১,৫৫৬ টাকা, যাতায়াতে ১,৪৭৮ টাকা এবং আবাসনে ১,৮৯ টাকা খরচ হয়।

    হোসেন জিলুর রহমান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষুদ্র অর্থনীতির তুলনায় বড় অর্থনীতি নিয়ে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, দেশের অর্থনীতি পরিকল্পনায় জনমুখী দৃষ্টি খুবই জরুরী। শুধু জিডিপির উন্নয়নই নয়, সমতা, ন্যায়বিচার, বৈষম্যহীনতা ও নাগরিকের কল্যাণ নিশ্চিত করতে আমাদের আরও বেশি আলোচনা ও উদ্যোগ নেওয়া দরকার।

    তাছাড়া, বর্তমান নানা সংকটের মধ্যে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এগুলির মধ্যে প্রথমটি হলো দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝামেলা, যার জন্য নতুন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, নারী প্রধান পরিবারগুলো সমাজের সর্বনিম্ন স্তরে থাকায় তাদের জন্য বিশেষ সহায়তা দরকার। তৃতীয়ত, ঋণের বাড়বাড়ন্ত বড় সমস্যা। চতুর্থত, খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা ক্রমবর্ধমান, যা এখনো ব্যাপক নয়, তবে ধীরে ধীরে বাড়ছে। পঞ্চমত, স্যানিটেশন সংকট রয়েছে, যেখানে বর্তমানে প্রায় ৩৬% মানুষ নন-স্যানিটারি টয়লেট ব্যবহার করছে। এর ফলে নিরাপদ স্যানিটেশনের ব্যবস্থা করে এগিয়ে যাওয়া জরুরি।

    তিনি আরও বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্যও এখন কঠিন বাস্তবতা রয়েছে। বেকারত্বের পরিস্থিতি মারাত্মক হয়ে উঠছে, এজন্য তৎপরভাবে পরিকল্পনা ও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। এবারই সময় উদ্যোগ নেওয়ার, কারণ দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য এই বিষয়ে গভীর আলোচনা এবং পদক্ষেপ জরুরি।

  • বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবার ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়ালো

    বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবার ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়ালো

    দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ফের ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বুধবার দিনের শেষে, বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩১.৩৩ বিলিয়ন ডলারে। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি (বিপিএম৬) অনুযায়ী রিজার্ভ হয়েছে ২৬.৩১ বিলিয়ন ডলার।

    গত রোববারের তুলনায় এই গতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তখন গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩০.৮৬ বিলিয়ন ডলার এবং আইএমএফের হিসাব অনুযায়ী ২৫.৮৭ বিলিয়ন ডলার। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংক।

    উল্লেখযোগ্য হলো, গত জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে, বাংলাদেশ এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নে (আকু) মোট ২.২ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করার পর, গ্রস রিজার্ভ কমে দাঁড়িয়েছিল ২৯.৫৩ বিলিয়ন ডলারে। বিপিএম৬ অনুযায়ী, সেই সময় রিজার্ভ ছিল ২৪.৫৬ বিলিয়ন ডলার।

    অপর দিকে, রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি, রপ্তানি আয়ের বৃদ্ধি এবং বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার ঋণ দেওয়ার কারণে, গত জুন মাসের শেষে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার গ্রস রিজার্ভ বেড়ে হয় ৩১.৭২ বিলিয়ন ডলার, যা গত ২৮ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে, মার্চ ২০২৩ এর শুরুতে রিজার্ভ ছিল ৩২ বিলিয়ন ডলার থেকে কম। জুন শেষে বিপিএম৬ অনুযায়ী রিজার্ভ ছিল ২৬.৬৯ বিলিয়ন ডলার, আর আইএমএফের শর্ত অনুযায়ী, জুনের প্রথম সপ্তাহে তা ছিল ২৪.৭৫ বিলিয়ন ডলার।

    উল্লেখ্য, দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রিজার্ভের রেকর্ড ২০২১ সালের আগস্টে ছিল ৪৮ বিলিয়ন ডলার। তারপর ধাপে ধাপে কমে, গত জুলাইয়ে এটি দাঁড়িয়েছিল প্রায় ২০.৪৮ বিলিয়ন ডলার। সরকার পতনের পরে, অর্থ পাচার রোধ ও অন্যান্য নিয়ন্ত্রণের কারণে ডলারের পরিস্থিতি উন্নতি হয়েছে।

    বিশেষ করে, হুন্ডি প্রবাহ কমে যাওয়ার ফলে, প্রবাসী আয়ের কারণে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসী আয় প্রায় ২৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দেশের মুদ্রা তহবিলে এসে পৌঁছেছে ৩০.৩৩ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত।

  • উদারপন্থার রাজনীতি দূরে সরিয়ে ‘উগ্রবাদ’ আনার ষড়যন্ত্র: মির্জা ফখরুল

    উদারপন্থার রাজনীতি দূরে সরিয়ে ‘উগ্রবাদ’ আনার ষড়যন্ত্র: মির্জা ফখরুল

    দেশে উদারপন্থার রাজনীতি অবমূল্যায়ন করে ‘উগ্রবাদ’ আনয়ন করার ষড়যন্ত্র চলছে—এ stevige উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।শুক্রবার সকালে একটি বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন, যা দেশের বর্তমান পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট করে তোলে। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতাকর্মীরা এবং সাংবাদিকরা। অনুষ্ঠানে ‘রক্তাক্ত জুলাই’ শিরোনামের নতুন বইটির প্রকাশনা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে লেখক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সৈয়দা ফাতেমা সালাম। এই গ্রন্থটি প্রকাশ করেছে ইতি প্রকাশন।মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের মনে রাখতে হবে, দেশে একটি ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনা চলছে। সেই ষড়যন্ত্রের মূল উদ্দেশ্য হলো, এইদেশের ঐতিহ্যবাহী মধ্যপন্থা ও উদারপন্থি গণতান্ত্রিক রাজনীতিকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে না নিয়ে, উগ্ৰবাদী রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করা। এটি আমাদের জন্য খুবই ক্ষতিকর হবে। এজন্য আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে, উদারপন্থি গণতন্ত্রের পক্ষে কাজ করে এই ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে হবে।’তিনি আরও জানান, ‘নির্বাচন না হলে দেশের জন্য খুব বড় ক্ষতি হবে। আমরা জানি, রাজনীতিতে বিভিন্ন মত থাকতেই পারে, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে নাগরিকরা বিভ্রান্তির মধ্যে পড়েছেন। মানুষ নানা প্রশ্নের মধ্যে রয়েছে—যেমন, কি সংসদ নির্বাচন হবে? এই অস্থিরতা ও শঙ্কা বাড়ছে। আমি মনে করি, নির্বাচনের তারিখ যেটি ঘোষণা করা হয়েছে, সেটি সময়মত হওয়া উচিত। কারণ, না হলে দেশের অস্থিতিশীলতা বেড়ে যাবে এবং স্বৈরাচারী শাসনের ফিরে আসার সুযোগ তৈরি হবে। বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক মহলেও এই বিষয়ে আলোচনা চলছে, যারা ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরতন্ত্রের পক্ষে কাজ করছে। তাই, দ্রুত নির্বাচনের প্রয়োজন। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় ফিরে যেতে পারব—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

  • সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে দেশ মহাবিপর্যয়ের মুখে: আবদুল্লাহ তাহের

    সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে দেশ মহাবিপর্যয়ের মুখে: আবদুল্লাহ তাহের

    জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেছেন, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন না হলে দেশ একটি বড় বিপর্যয়ের দিকে এগিয়ে যাবে। বৃহস্পতিবার ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    তাহের আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় এসে বলেছিল তারা দেশের সংস্কার করবেন। দেশের মানুষও এই সংস্কারের জন্য প্রত্যাশী। তবে এই প্রক্রিয়ায় কিছু দল নোট অফ ডিসেন্ট করছে, যা বোঝায় তারা সংস্কার চান না। তিনি প্রশ্ন করেন, তাহলে কি এই সংস্কারপ্রক্রিয়ায় অংশ নেয়া হচ্ছে না? বর্তমানে নানা ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে এই প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করার জন্য। তিনি আরো বলেন, আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গ্রহণ করেছি, একইভাবে সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।

    তাহের উল্লেখ করেন, ইতোমধ্যে রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়েছে, তবে নির্বাচন কেমন পদ্ধতিতে হবে সেটি পরিষ্কার করতে হবে। তিনি পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের পক্ষে মত ব্যক্ত করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা এই ফেয়ার পিআর পদ্ধতির বিরোধিতা করছে, তারা কেন্দ্র দখল এবং ভোট জালিয়াতির পরিকল্পনা করছে। সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে দেশের অবস্থা মহাবিপর্যয়ের দিকে যাবে।

    তিনি আরও বলেন, যারা পিআর পদ্ধতি চান, তাদের আহ্বান জানাই আলোচনা করতে। দেশের জন্য কল্যাণকর যে সিদ্ধান্ত হবে, সেটাই গ্রহণ করা হবে। তবে মতের সংঘর্ষ ভালো কিছু আনে না। তিনি নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান, পিআর পদ্ধতিকে সামনে রেখে একটি রোডম্যাপ ঘোষণা করার জন্য।

    আবদুল্লাহ তাহের বলেন, নির্বাচনের মাস নিয়ে আমাদের কোনো আপত্তি ছিল না। কিন্তু সংস্কার প্রক্রিয়া শেষ না করেই নির্বাচন তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি নির্বাচনের জন্য নির্বাচনী তারিখ চাই, কিন্তু তার আগে যে প্রতিবন্ধকতাগুলো রয়েছে, সেগুলোর সমাধান করতে হবে।

  • নুরের সুস্থতা নিয়ে পরিকল্পনা চলছে: রাশেদ খান

    নুরের সুস্থতা নিয়ে পরিকল্পনা চলছে: রাশেদ খান

    গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের উপর হামলার পর থেকে তার চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যের পরিস্থিতি নিয়ে নানা বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান অভিযোগ করেছেন, তাকে সুস্থ দেখানোর একটি পরিকল্পনা চালু রয়েছে। তিনি বলেন, নুরুল হক নুর এখনো সম্পূর্ণ সুস্থ নয় এবং সেই পরিস্থিতি মিথ্যা প্রচার হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রাশেদ খান এই বিষয়ে বিস্তারিত অভিযোগ করেন।

    তিনি জানান, শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় বর্তমানে নুরুল হক নুর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তার নাক দিয়ে রক্ত পড়ে যাচ্ছে, নাকের আকার পরিবর্তিত হয়েছে, মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, হাঁটতেও পারছেন না এবং মুখ হা-ও করতে পারছেন না। সরকার জানিয়েছে, তার উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশ নিতে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তাকে দ্রুত বিদেশে পাঠানো হবে। তবে, নির্মল পরিস্থিতির যেমন পূর্বে ছিল, এখনো তেমনই অবস্থা বলে তিনি ব্যাখ্যা করেন।

    প্রেস ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে রাশেদ খান বলেন, তারা এখনো নুরুল হক নুরের অবস্থার উন্নতি দেখতে পারেননি এবং তিনি প্লেনে উঠার মতো অবস্থায় নেই। তিনি আরও যোগ করেন, সিঙ্গাপুরে চিকিৎসার জন্য তাদের দাবি দীর্ঘদিনের, এবং পরিস্থিতি অনুকূল হলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তার ট্রিটমেন্ট শুরু হবে।

    তিনি আরও অভিযোগ করেন, গতকাল হাসপাতাল থেকে জানানো হয়েছে যে নুরুল হক নুর সম্পূর্ণ সুস্থ, যা সত্য নয়। তিনি বলেন, বর্তমানে নুরের অবস্থা আরও বেশি গুরুতর, তার নাক থেকে জমাট বাঁধা রক্ত বের হচ্ছে এবং ডাক্তাররা তাকে দেখে দিচ্ছেন। তিনি বলেন, “আমি এখনই তাকে দেখেছি, ডাক্তার ও হাসপাতালের পরিচালকও উপস্থিত ছিলেন। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী তার চিকিৎসা চলছে।” তবে, গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে- নুর সুস্থ হয়ে উঠেছেন, যা তার প্রকৃত حالতের সঙ্গে মিলছে না।

    রাশেদ খান বলেন, তিনি একাধিকবার নুরের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছেন, কিন্তু তিনি এখনো কথা বলতে পারছেন না। তার চোখের নিচে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, মুখ দিয়ে কথা বলতে পারছেন না, মুখের মাড়িতে প্রচণ্ড ব্যাথা এবং মাথায় আঘাতের জন্য তার ব্রেনের কার্যক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত। তিনি বলেন, “নুর এখনো পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেননি, তিনি আগের মতোই আছেন। তাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই আঘাত করা হয়েছিল।”

    রাশেদ খান উল্লেখ করেন, নুরের ওপর হামলার ঘটনা ঘিরে দেশবাসীর মধ্যে ক্রমশ একতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি মনে করেন, সরকারের পক্ষ থেকে একটি শক্তিশালী বার্তা দিতে হবে যে, এই ধরনের হামলা আর সহ্য করা হবে না। তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য ফ্যাসিজমের সঙ্গে জড়িত দলের কার্যক্রমও নিষিদ্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এখনো কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, যা লজ্জাজনক। সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলছেন, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার নির্দেশনা ব্যতীত এই ধরনের ঘটনা ঘটার নয়। তিনি আরও বলেন, নুরুল হক নুরের ওপর এবং তার নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

    শেষে রাশেদ খান দাবি করেন, নুরের সুস্থতা নিয়ে চালানো পরিকল্পনা কোন লাভ দেবে না। সত্যিকার বিচার, হামলাকারীদের শাস্তি এবং তাদের বিরুদ্ধ ব্যবস্থা গ্রহণই যথাযথ পথ। তিনি বলেন, এই ঘটনার জন্য যেসব ব্যক্তি এবং সংগঠন জড়িত, তাদের দ্রুত বিচারে আনতে হবে এবং ফ্যাসিবাদ বিরোধী শক্তিগুলোর কার্যক্রম বন্ধ করতে সরকারকে সক্রিয় হতে হবে।

  • নির্বাচনী রোডম্যাপ নিয়ে কিছু দলের ধোঁয়াশা দূর করার আহ্বান সালাহউদ্দিনের

    নির্বাচনী রোডম্যাপ নিয়ে কিছু দলের ধোঁয়াশা দূর করার আহ্বান সালাহউদ্দিনের

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, কিছু রাজনৈতিক দল ভোটের প্রস্তুতি ও নির্বাচনী রোডম্যাপের নামে ধোঁয়াশা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, যদি কোনও সন্দেহ বা বিভ্রান্তি থাকে, তাহলে আসুন আলোচনার মাধ্যমে তা মুক্ত করি। বিগত দিনগুলোর মতো ফাটল সৃষ্টি বা বিভ্রান্তি ছড়ানোর মানসিকতা এখন আর গ্রহণযোগ্য নয়; বরং ঐক্যবদ্ধভাবে আলোচনা করে সব অজুহাত দূর করতে হবে।

    সালাহউদ্দিন বলেন, আমরা গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করছি এবং এই সংগ্রামের পথ অবশ্যই শান্ত, স্বচ্ছ ও জোরদার হবে। তিনি আরও বলেন, আমাদের স্বপ্ন এমন এক বাংলাদেশ গড়ার, যেখানে গুমের শিকার হয়ে কেউ যেন আর রাস্তায় দাঁড়াতে না হয়। তার বিশ্বাস, জনগণের সচেতনতা ও সক্রিয়তার মাধ্যমে এই স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্ভব। ২৯ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন অন্যান্য নেতারা, যারা গুমের শিকার পরিবারের সাথে দীর্ঘদিন ধরে সংযোগ রেখেছেন।

    সালাহউদ্দিন আরও বলেন, এখন পর্যন্ত সরকার উন্নয়ন ও স্বচ্ছতার দাবিতে কাজ করতে না পেরে অন্যায়ের স্বীকার করে আসছে। তিনি বলেন, অপরাধের জন্য তারা অতীতে ক্ষমা চায়নি; বরং একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালিয়েছে—গণঅভ্যুত্থানের নেতাদের প্রতি দোষারোপ। এ প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, জনগণ কখনো এই ধরনের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হবে না।

    তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী রোডম্যাপের বিষয়ে কিছু দল ধোঁয়াশা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। তিনি আহ্বান জানান, এই সংশয় বা বিভ্রান্তি থাকলে আলোচনা করা উচিত, যাতে সবাই একে অন্যের মনোভাব বুঝে নিতে পারে। তাঁর বিশ্বাস, আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে অন্ধকার করেছে এমন বিভ্রান্তি দূর করা সম্ভব।

    সভায় হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে গুমের শিকার ব্যক্তিদের অনেককে ফিরে পেয়েছেন। তিনি আশা করেছিলেন আরও অনেকের ফিরে আসা সম্ভব হবে, তবে সেটি এখনও সম্ভব হয়নি। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে বলেছিলো, গুমের শিকারদের ফিরিয়ে আনবে, তাদের তথ্য দেবে, যাতে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু এতদিন তালিকায় কিছুই জানা যায়নি।

    গুম থেকে ফিরে আসা শায়রুল ইসলাম বলেন, ২০১৭ সালের মার্চে তিনি গুমের শিকার হন। সেই সময় আরো চারজনের সঙ্গে পরিচয় হয়, তাদের মধ্যে তিনি ও আরেকজন ফিরে আসেন। বাকিরা এখনও নিখোঁজ। তিনি বলেন, আমাকে ফিরে পেয়ে আমি উপলব্ধি করেছি, আমাকে এবং অন্যদের গুম করেছিল যারা এখনো সরকারি চাকরিতে রয়েছে। আমার বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলার সাজাও হয়েছে, যা আমাকে এখনো নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রাখে। আমি এখনো পালিয়ে বেড়াচ্ছি, কারণ আমার সঙ্গে থাকা তিনজন এখনো ফেরত আসেনি।

    অন্যদিকে, ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবরে বিএনপির আন্দোলনের সময় রাজধানীর মুগদা থানার শ্রমিকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ফজলুর রহমান কাজলকে আটক করে পুলিশ; এরপর তার মৃত্যুর খবর আসে। তার ছেলে সজল বলেন, তাদের বাড়ির চায়ের দোকান থেকে বাবাকে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে পল্টন থানায় চালান করে, আবার কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারেও দেখা যায়। সেখানে গিয়ে তারা দেখেন, বাবার অবস্থা খুবই খারাপ। চিকিৎসা করানোর জন্য হাসপাতালে নিয়ে গেলে তিনি মারা যান। বাবার মৃত্যুর পর সজল বলেন, বাবার ওপর দিন দিন নির্যাতন চালানো হত। তিনি আর্থিক, শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন, কারণ তার বাবার সঙ্গে আর দেখা করতে পারেননি।