Author: bangladiganta

  • বাগেরহাটে অনূর্ধ্ব ১৭ ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ

    বাগেরহাটে অনূর্ধ্ব ১৭ ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ

    তারুণ্যের উৎসব ২০২৫ উদযাপন উপলক্ষে অনুষ্ঠিত ছিল একটি বিশাল ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতা, যা গতকাল সমাপ্তি ঘটে পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে। এই প্রতিযোগিতায় বাগেরহাটের ১৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৭৬ জন খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করে। অনূর্ধ্ব ১৭ বালিকা বিভাগের চ্যাম্পিয়ন হয় সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, আর বালক বিভাগের শীর্ষে উঠে বৈটপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়।

    পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম মুস্তাফিজুর রহমান। এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক আহমেদ কামরুল হাসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন জেলা পরিষদ-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ভাস্কর দেবনাথ বাপ্পি ও বাগেরহাট সদর সার্কেল-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ শামীম হোসেন।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, এই প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের মধ্যে খেলাধুলার গুরুত্ব ও ধৈর্য্য বাড়াবে, পাশাপাশি মোবাইলের অতিরিক্ত ব্যবহার কমাতে সহায়তা করবে। বিশেষ অতিথি ভাস্কর দেবনাথ বাপ্পি অভিব্যক্ত করে বলেন, যারা বিতর্কে অংশ নেয় তারা বেশ ভালো ছাত্র হয়ে উঠতে পারেন, আর যারা খেলার মাধ্যমে সুস্থ জীবন গড়েন, তারা একজন উন্নত ও সুন্দর নাগরিক হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলাখেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, যেমন জেলা তথ্য অফিসের উপ-পরিচালক মঈনুল ইসলাম, জেলা পরিসংখ্যান অফিসের উপ-পরিচালক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ।

  • পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারে কংগ্রেস কার্যালয়ে বিজেপি হামলা ও সংঘর্ষ

    পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারে কংগ্রেস কার্যালয়ে বিজেপি হামলা ও সংঘর্ষ

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার রাজ্যে কংগ্রেস কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় অভিযোগ উঠেছে বিজেপি কর্মী সমর্থকদের বিরুদ্ধে। এই হামলার সূচনা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তার প্রয়াত মাকে অশালীন ভাষায় কটাক্ষের মাধ্যমে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হতে তা স্পষ্ট হয়েছে যেখানে দেখা যায়, দুই দলের কর্মীরা দলীয় পতাকাসহ ডান্ডা দিয়ে একে অপরের উপর আঘাত চালাচ্ছেন। এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন। তবে এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। কংগ্রেস এই ঘটনাকে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

    ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন ‘ভোটার অধিকারের যাত্রা’ কার্যক্রমের সময় দরভাঙ্গায় এক কংগ্রেস নেতার গায়ে দলের পতাকা জড়ানো একজন ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীকে অশালীন ভাষায় কটু মন্তব্য করেন। এই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর বিজেপি থানায় এফআইআর দায়ের করে এবং কংগ্রেসের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানায়। দরভাঙ্গা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।

    বিহারেও শনিবার পাটনায় বিজেপি রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করে। এ সময় কংগ্রেস কর্মীরাও মাঠে আঘাত হানে, ফলে পরিস্থিতি মারামারিতে দখল হয়ে যায়। পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা করলেও পাটনায় এখনও চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছে।

    অপরদিকে, এই উত্তেজনা কলকাতার দিকে ছড়িয়ে পড়ে। শহরের জাতীয় কংগ্রেসের রাজ্য সদরদপ্তর বিধান ভবনের সামনে শুক্রবার বিক্ষোভের আয়োজন করে বিজেপি। বিক্ষোভ চলাকালীন কিছু বিজেপি সমর্থক কংগ্রেস দপ্তরে ঢুকে ভাঙচুর চালায় এবং অগ্নিসংযোগের অভিযোগ ওঠে। এর পাশাপাশি, রাহুল গান্ধীর ছবি ও বিভিন্ন ব্যানার-পোস্টার ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান প্রদেশ কংগ্রেস।

    কংগ্রেসের মুখপাত্র সৌম্য আইচ রায় বলেন, “রাজনীতিতে দেউলিয়া ব্যক্তিরাই এই ধরনের কাজ করতে পারে। বিজেপি সব সময় ইন্ধন দেয় আমাদের বিরুদ্ধে গোপন চোরাচালানের জন্য। এই সময় তারা দপ্তর খালি পাওয়ায় সুযোগ নিয়ে দুষ্কর্ম করছে। আমরা প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই দোষীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার।”

    বিহার কংগ্রেসের নেতা অশুতোষ পাল্টা অভিযোগ করেন, এই ঘটনার পেছনে সরকারেরই ইন্ধন রয়েছে এবং নীতীশ কুমারও ভুল করছেন। তিনি আরও বলেন, “আমরা জবাব দেবো।”

    অন্যদিকে, বিজেপি নেতা নীতিন নবীন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “মা সম্মান নিয়ে যা হয়েছে তার বদলা বাংলার প্রতিটি ছেলে নিবে। এর জবাব আমরা অবশ্যই দেব।”

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সোশ্যাল মিডিয়াতে কড়া ভাষায় নিন্দা জানিয়ে বলেন, “রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেসের রাজনীতি নিচের দিকে নেমে গেছে। একজন গরিব মায়ের সন্তান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, এটাই তাদের সহ্য হয় না। প্রধানমন্ত্রী ও তার প্রয়াত মাকে নিয়ে এই ভাষা লজ্জাজনক এবং গণতন্ত্রে কলঙ্ক।”

    বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডা বলেন, “এ ধরনের অশালীন হামলা সব সীমা পার হয়েছে। রাহুল গান্ধী ও তৈজস্বী যাদবের ক্ষমা চাওয়া উচিত।”

    বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী ও তার প্রয়াত মাকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য বেআইনি ও অনুচিত, যাতে সহ্য করা হবে না।”

  • থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অপসারণে আদালতের সিদ্ধান্ত

    থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অপসারণে আদালতের সিদ্ধান্ত

    থাইল্যান্ডের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী পেতোংতার্ন সিনাওয়াত্রাকে দেশের সাংবিধানিক আদালত ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছে। এই পদক্ষেপের কারণ হিসেবে প্রকাশ পেয়েছে তার বিরোধপূর্ণ একটি ফোনকলের রেকর্ড, যেখানে তিনি কম্বোডিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের সঙ্গে কথা বলতেন। এই ফোনকলের রেকর্ড ফাঁস হওয়ার পরই তার সরকারে অবনতি ঘটে এবং আদালত তার পদ স্থগিত করে। আজ, শুক্রবার ২৯ আগস্ট, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করে তাকে সম্পূর্ণরূপে ক্ষমতাচ্যুত করা হলো।

    পেতোংতার্ন ২০২৪ সালের আগস্টে দেশের সবচেয়ে কম বয়সে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন, তখন তার বয়স ছিল মাত্র ৩৩ বছর। এক বছরের মধ্যে তিনি ক্ষমতা হারালেন, যা ইতিহাসে বিরল ঘটনা। তিনি একজন প্রভাবশালী নারী নেতা এবং সিনাওয়াত্রা পরিবারের সদস্য।

    ফোনকলের রেকর্ডে দেখা যায়, পেতোংতার্ন তাকে কম্বোডিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী হুন সেনকে ‘আঙ্কেল’ বলে সম্বোধন করেন। সেই সময় তিনি তার দেশের সেনাবাহিনী নিয়ে সমালোচনা করে বলেন, দেশের সেনাদের জন্যই কম্বোডিয়ার এক সেনা নিহত হয়েছে। এই ফোনকল প্রকাশ পেতেই ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এর কয়েক মাসের মধ্যেই, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার সেনাবাহিনীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যা ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছে।

    ১৫ জুনের ওই ফোনকলের মধ্যে আরও বলা হয়, ‘যেকোনো কিছু চাইলে আমাকে বলবেন। আমি বিষয়টি দেখব।’ এই কথাটি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। দরবারে এই ফোনকলের রেকর্ড ভাইরাল হওয়ার সময় দুই দেশের সীমান্তে কঠোর উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এ সময় স্বাভাবিকভাবেই জনগণের মধ্যে জাতীয়তাবাদও বাড়তে শুরু করে। সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়, বিরোধী দল অভিযোগ তোলে যে, পেতোংতারা গোপনে তাদের স্বার্থে কাজ করছেন। তখন তিনি জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হন এবং বলেন, এই ধরনের কথোপকথন তিনি উত্তেজনা প্রশমনের জন্য বলেছেন।

    রায় ঘোষণা শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে পেতোংতার্ন বলেছিলেন, তিনি দেশের স্বার্থে কাজ করেছেন। তিনি দাবি করেন, তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল দেশের মঙ্গল, কোনও ব্যক্তিগত লাভ নয়। তিনি আরও বলেন, আমি দেশের নাগরিক ও সেনাদের রক্ষা করতে চেয়েছি। এই রায় থাইল্যান্ডের রাজনীতিতে নতুন পরিবর্তনের সূচনা করেছে, যেখানে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।

    তবে, গত ১ জুলাই আদালত তার প্রধানমন্ত্রীর পদ স্থগিত করে দেয়, যদিও তিনি এখনও সংস্কৃতি মন্ত্রী হিসেবে রয়েছেন। ২০০৮ সালের পর, এটি পঞ্চমবার যখন থাইল্যান্ডের মূল ক্ষমতাধর নেতাদের মধ্যে কেউ না কেউ আদালতের রায়ে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনা সার্বিকভাবে দেশের রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ছাপ ফেলেছে।

  • ভারতীয় নৌবাহিনী রোহিঙ্গাদের সমুদ্রে ফেলে দিচ্ছে অভিযোগ

    ভারতীয় নৌবাহিনী রোহিঙ্গাদের সমুদ্রে ফেলে দিচ্ছে অভিযোগ

    নৌবাহিনীর এক অভিযানে অভিযোগ উঠেছে যে ভারতীয় জাহাজে করে মিয়ানমারের নিপীড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সদস্যদের সমুদ্রে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। এই অভিযোগ কতিপয় ৪০ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীর কাছ থেকে এসেছে, যারা জানিয়েছেন, তাদেরকে দিল্লিতে আটক করে নৌবাহিনীর জাহাজে উঠিয়ে সাগর পাড়ি দেওয়ার পর অবশেষে উপযুক্ত পরিচয় ছাড়াই তাদেরকে ফেলে দেওয়া হয়।

    বর্তমানে, মিয়ানমার যে ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের মধ্যে আছে, তার মধ্যে এই রোহিঙ্গাদের ভবিষ্যত একেবারে অনিশ্চিত। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের এই কার্যক্রম তাদের জীবনকে অনেক বেশি ঝুঁকিতে ফেলেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৯ আগস্ট প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৯ মে দিনটি ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন যখন নুরুল আমিন তার ভাইয়ের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত সবল আলাপ করেন। উজাড় হওয়া এই ফোনালাপে তিনি জানতে পারেন, তার ভাই খাইরুলসহ পরিবারের আরও চারজনের বিরুদ্ধে ভারতীয় সরকারের সিদ্ধান্তে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তারা দীর্ঘ সময় ধরে প্রাণভয়ে এলোপাথারি পালিয়ে এসেছেন, কারণ বর্তমানে মিয়ানমার ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের মধ্যে রয়েছে, যেখানে সেনা অভ্যুত্থানের কারণে ২০২১ সাল থেকে নিয়মিত সংগ্রাম চলছে।

    আমিন বলেন, “আমার বাবা-মা ও পুরো পরিবারের কী অবস্থায় আছেন, এই কষ্টের কথা আমি ভাবতেই পারছি না।”

    বিবিসি তাদের অনুসন্ধান এবং তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে জানতে পেরেছে, এবং মিয়ানমারে এই রোহিঙ্গাদের খুঁজে পেয়েছে। বেশিরভাগই আশ্রয় নিয়েছেন বেহু আর্মির কাছে,যদিও তারা মূলত জান্তার সেনাদের বিরোধী গোষ্ঠী।

    ভিডিও কলের মাধ্যমে সৈয়দ নূর জানিয়েছেন, “আমরা এখানে খুবই অরক্ষিত, চারপাশের পরিস্থিতি যেন যুদ্ধক্ষেত্র।“ তার সঙ্গে আরও ছয়জন রোহিঙ্গা ছিলেন আশ্রয়ের ওই কাঠের আশ্রয়ে।

    শরণার্থীদের ভাষ্য ও স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী, তাদেরকে বিমানযোগে বঙ্গোপসাগরের এক দ্বীপে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর নৌবাহিনীর জাহাজে তোলা হয় এবং অবশেষে আন্দামান সাগরে ফেলে দেওয়া হয়। যদিও লাইফ জ্যাকেটের ব্যবস্থাও ছিল, তারা পরে সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হয়েছে। বর্তমানে, তারা আবার মিয়ানমারে ফেরার অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি। এই দেশ থেকে বরাবরই নিপীড়ন এড়াতে তারা পালিয়ে এসেছে।

    জন নামে একজন রোহিঙ্গা তার ভাইকে জানিয়েছেন, ‘আমাদের হাত বাঁধা, চোখ মুছে জাহাজে তোলে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর তাকে সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়’।

    আতঙ্ক shared করে নুরুল আমিন বলেন, ‘মানুষকে এভাবে সমুদ্রে ফেলে দেওয়া যায়? এখনও মানবতা বেঁচে আছে বলে আমি মনে করি, কিন্তু ভারতের সরকারের মধ্যে মানবতা খুঁজে পাই না’।

    জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদনকারীর মতে, টমাস অ্যান্ড্রুজ এই অভিযোগের ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করেছেন। তিনি জেনেভায় ভারতের মিশনকে এই বিষয়ে প্রমাণও জমা দিয়েছেন, যদিও এখনও কোনও উত্তর পাননি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও যোগাযোগের চেষ্টা চলছে, কিন্তু কোনো স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

    ভারতে থাকা রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি ইতোমধ্যেই অত্যন্ত সংকটাপন্ন। তারা সরকারিভাবে শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি পায়নি; বরং অবৈধ অভিবাসী হিসেবেই বিবেচিত। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ভারতে বর্তমানে প্রায় ২৩ হাজার ৮০০ রোহিঙ্গা থাকলেও, মানবাধিকার সংস্থাগুলির মতে, প্রকৃত সংখ্যা ৪০ হাজারের বেশি।

    ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর ভয়ঙ্কর অভিযানের পর, লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। বর্তমানে বাংলাদেশের মধ্যে তাদের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১ মর্যাদাক্রমে।

    বিবিসি জানিয়েছে, চলতি বছরের ৬ মে দিল্লির বিভিন্ন স্থানে বসবাসরত ৪০ জন রোহিঙ্গাকে থানা ডেকে নেওয়া হয়। তাদের ছবি ও আঙুলের ছাপ নেওয়ার জন্য বলা হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরে, তাদের শহরের একটি আটক কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়।

    আ Min বলেন, সে সময় তার ভাই ফোন করে জানায়, তাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং আইনি সহায়তা ও জাতিসংঘের সংস্থাকে খবর দিতে বলে। এরপর ৭ মে তাদের হিন্দান বিমানবন্দরে পৌঁছে, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপে পাঠানো হয়। সেখানে বাসে করে তাদের নিয়ে যাওয়া হয়, কায়দা ছিল “ভারতীয় নৌবাহিনী” লেখা।

    সৈয়দ নূর বলেন, “বাসে উঠতেই আমাদের হাত প্লাস্টিকের খাপ দিয়ে বাঁধা হয়, মুখও কালো কাপড় দ্বারা ঢেকে দেওয়া হয়। কিছুক্ষণের মধ্যে তাদের একটি জাহাজে তোলা হয়, যেখানে তারা প্রায় ১৪ ঘণ্টা ছিল। খাওয়ানো হয়েছিল ভাত, ডাল আর পনির, তবে এ সময় তাদের অনেককে মারধর, অপমান এবং অমানবিক আচরণের শিকার হয়। সাঁতরাতে সক্ষম হওয়া বেশিরভাগই এখন আবার মিয়ানমারে ফিরতে চাইছে।

    অপর এক রোহিঙ্গা ফয়াজ উল্লাহ তার আঘাতের দাগ দেখিয়ে বলেন, তাকে মারধর, ঘুষি, চড় ও বাঁশ দিয়ে আঘাত করা হয়। তাকে জিজ্ঞেস করা হয়, “ভারতে অবৈধভাবে এসো কি করে?”

    এমনকি, কয়েকজন খ্রিস্টান রোহিঙ্গা এই অভিযানে ছিলেন, যারা জিজ্ঞেস করা হয় কেন ইসলাম ছেড়ে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেছেন এবং হিন্দু হিসেবে না। এমনকি, তাদের খতনা হয়েছে কি না তাও পরীক্ষা করা হয়।

    বিবিসির অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, তাদের মধ্যে একজনকে কাশ্মিরের পেহেলগামে ঘটানো হামলার সঙ্গে জড়িত হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়, যদিও এ ব্যাপারে কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

    ৮ মে সন্ধ্যায়, তাদেরকে ছোট ছোট রাবার নৌকায় তুলে সমুদ্রে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে হ্যান্ড লাইফ জ্যাকেট পরানো ছিল। বলা হয়, তারা ইন্দোনেশিয়ায় পৌঁছেছে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারা মিয়ানমারে ছিল।

    পরদিন ভোরে স্থানীয় জেলেরা তাদের খোঁজ পান এবং ফোন ব্যবহার করে তাদের পরিবারের খবর জানিয়ে দেন। এরপর থেকে বহটি আর্মি এই রোহিঙ্গাদের খাবার ও আশ্রয় দিয়ে চলেছে, কিন্তু তাদের পরিবারের আতঙ্ক দূর হয়েছে না।

    জাতিসংঘ সতর্ক করে দিয়েছে, ভারত রোহিঙ্গাদের আন্দামান সাগরে ফেলে দিয়ে তাদের জীবনকে ‘চরম ঝুঁকি’তুলি ফেলেছে।

    গত ১৭ মে, নুরুল আমিনসহ তার একজন স্বজন ভারতের সুপ্রিম কোর্টে রিট করে, যেখানে অনুরোধ করা হয় তাদের ফিরিয়ে আনা, নির্বাসন বন্ধ ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার। তবে, ভারতের বিচারপতি এই অভিযোগগুলোকে ‘অবাস্তব কল্পনা’ বলে উড়িয়ে দেন। মামলার শুনানি হয় ২৯ সেপ্টেম্বর, তখন সিদ্ধান্ত হবে, রোহিঙ্গারা কি শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি পাবে এবং তাদের ফেরত পাঠানো যাবে কি না।

    ভারতের রোহিঙ্গা কমিউনিটিতে এ ঘটনায় প্রবল আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ কেউ গোপন হয়েছে, অনেকে বাড়িতে থাকছে না। নুরুল আমিন বলছেন, “আমার শুধু ভয় কাজ করে, যে কোনো সময় আমাদেরকেও ধরে নিয়ে সমুদ্রে ফেলে দেবে। তাই এখন আমি ঘর থেকে বের হতে পারছি না।”

    অবশেষে, জাতিসংঘের প্রতিনিধি অ্যান্ড্রুজ বলেন, “রোহিঙ্গারা ভারতে থাকতে চায়নি। তারা এসেছে ভয়াবহ সহিংসতা থেকে পালিয়ে, জীবন বাঁচানোর জন্য। তারা সত্যিই এই দেশে থাকতে এসেছিল।”

  • শুল্ক দিয়ে ভারত আমাদের হত্যা করেছে: ট্রাম্প

    শুল্ক দিয়ে ভারত আমাদের হত্যা করেছে: ট্রাম্প

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ভারতের শুল্কনীতি নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, ভারতের শুল্কের কারণে আমেরিকা বহু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেন তাদের দ্বারা হত্যা করা হচ্ছে। বর্তমানে ভারত ওয়াশিংটনকে কোনও নতুন শুল্ক আরোপ না করার প্রস্তাব দিয়েছে, যা দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও শুল্কনীতির উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। খবর এনডিটিভির।

    মঙ্গলবার দ্য স্কট জেনিংস রেডিও শোতে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ভারতের শুল্ক আরোপের কারণে আমাদের বিপর্যয় ঘটে। চীন আমাদের ওপর শুল্ক আরোপ করে থাকলেও ভারত আমাদের ক্ষতি করছে বেশি। তিনি আরও বলেন, ভারত আমাদের ওপর শুল্ক দিয়ে আমাদের হত্যা করছে এবং ব্রাজিলও একই পথ অনুসরণ করছে।

    ট্রাম্প দাবি করেন, শুল্ক বিষয়ে তিনি বিশ্বের অন্য যেকোনো ব্যক্তির চেয়ে বেশি জানেন। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র যখন ভারতের উপর শুল্ক আরোপ করল, সেই সময় থেকেই ভারত শুল্ক কমানো শুরু করে।

    তিনি ভারতের অন্যতম শুল্ক আরোপকারী দেশ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ভারতের কাছে তারা জানিয়েছে, এখন থেকে আর কোনও শুল্ক থাকবে না। তিনি বললেন, শুল্কের গুরুত্ব বোঝানোর জন্য, যদি আমরা শুল্ক আরোপ না করতাম, তাহলে তারা এ ধরনের প্রস্তাব দিত না। এর ফলে, শুল্ক থাকা জরুরি, কারণ এতে করে আমাদের অর্থনৈতিক শক্তি বৃদ্ধি পাবে।

    তবে এটি প্রথমবার নয় যখন ট্রাম্প এই ধরনের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এর আগে, সোমবার তিনি বলেছিলেন, দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক এতদিন ছিল একপাক্ষিক। এই সম্পর্ককে তিনি একপাক্ষিক বিপর্যয় বলে আখ্যা দেন। ট্রাম্প বলেন, এখন ভারত শুল্ক কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে, কিন্তু এটি অনেক দেরিতে এসেছে।

    অন্যদিকে, মার্কিন একটি আপিল আদালত ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ককে অবৈध বলে রায় দিয়েছে। এর জবাবে ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালের মাধ্যমে বলেছেন, আদালত ভুলভাবে শুল্ক প্রত্যাহার করার কথা বললেও, তারা জানে যে শেষ পর্যন্ত আমেরিকা জিতবে।

    ভারতের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম শুল্ক ৫০ শতাংশ আরোপ করেছে। এর মধ্যে রাশিয়ার কাছ থেকে কেনা তেলের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্কও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই শুল্ক আরোপকে নয়াদিল্লি ‘অন্যায্য ও অযৌক্তিক’ বলেছে।

  • গাজা সিটিকে ‘যুদ্ধক্ষেত্র’ ঘোষণা দিল ইসরায়েল, নিহতের সংখ্যা ছাড়ালো ৬৩ হাজার

    গাজা সিটিকে ‘যুদ্ধক্ষেত্র’ ঘোষণা দিল ইসরায়েল, নিহতের সংখ্যা ছাড়ালো ৬৩ হাজার

    গাজা উপত্যকার বৃহৎ শহর গাজা সিটিকে দখলদার ইসরায়েল এখন ‘যুদ্ধক্ষেত্র’ ঘোষণা করেছে। শুক্রবার ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) তাদের প্রথমবিন্দু অভিযানের শুরু করেছে। এ ছাড়া, এখন থেকে গাজা সিটিতে আর কোনও বিরতি দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে আইডিএফ।

    ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর আরবি মুখপাত্র আভিচায় আদ্রি এক পোস্টে জানিয়েছেন, ‘আমরা অপেক্ষা করছি না। এখন থেকেই আমরা গাজা সিটিতে হামলার প্রথম পর্যায় শুরু করেছি। গাজার উপকণ্ঠে যুক্তিসঙ্গত শক্তি নিয়ে অভিযান চালাচ্ছি।’ এর আগে, গাজায় কৌশলগত বিরতি বাতিলের ঘোষণা দিয়ে ইসরায়েল জানায়, ‘আজ সকাল ১০টা থেকে গাজা সিটিতে আর কোনো সামরিক বিরতি কার্যকর থাকবে না। এখন থেকে গাজা একেবারে যুদ্ধক্ষেত্র, যেখানে ঝুঁকি বাড়ছে।’

    গত মাসে, আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে ইসরায়েল সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গাজায় ‘কৌশলগত বিরতি’ ঘোষণা করেছিল। এটি জাতিসংঘসহ অন্যান্য সংস্থার অনুরোধে ফিলিস্তিনিদের প্রয়োজনীয় ত্রাণ পৌঁছানোর জন্য করা হয়েছিল। তবে, আগস্টের শুরু থেকেই ইসরায়েল গাজা শহরের বিভিন্ন জায়গায় অবিরাম বোমাবর্ষণ অব্যাহত রেখেছে, শহরটির উপকণ্ঠে তাদের ট্যাংকও অবস্থান করছে।

    ইসরায়েলির এই অজস্র হামলায় প্রতিদিনই বেড়ে চলেছে নিরীহ ফিলিস্তিনিদের প্রাণহানি। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৬৩,২৫১ ছাড়িয়ে গেছে। শুক্রবার, টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় গাজায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৫৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ২৪৪ জন। এই সময়ের মধ্যে হাসপাতালে আনা হয়েছে আহতদের সংখ্যা।

    গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত নিহতের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৩,০২৫। সেই সঙ্গে আহতের সংখ্যা বেড়ে ১,৫৯,৪৯০ এ পৌঁছেছে। সম্প্রতি, অনাহার ও অপুষ্টির কারণে আরও ৫ জনের মৃত্যুর খবর এসেছে। এ নিয়ে চলতি বছরেই এই কারণে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৩২২ জনে, যার মধ্যে ১২১ জন শিশু।

    পাশাপাশি, গত ২৪ ঘণ্টায় মানবিক সাহায্য পৌঁছানোর চেষ্টা করেও ২৩ জন হতাহত হয়েছেন। এখন পর্যন্ত, সাহায্য নিতে গিয়ে নিহতের সংখ্যা ২,০০২,০৩ জন এবং আহতের সংখ্যা ১৬,০২২৮। অনেক ফিলিস্তিনি এখনো নিখোঁজ।

    বিশেষ করে, ২৭ মে গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করার পর থেকে, প্রতিদিনই তাদের চারটি ত্রাণ কেন্দ্রে প্রাণহানি বা হামলার ঘটনা ঘটছে।

    সূত্র: আল জাজিরা।

  • বিজয়ের জন্য জামায়াতের নেতৃত্বে সরকার গঠনের প্রস্তাব: ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে

    বিজয়ের জন্য জামায়াতের নেতৃত্বে সরকার গঠনের প্রস্তাব: ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, একটি দেশের উন্নতি ও অগ্রগতি মূলত তার ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নতির উপর নির্ভর করে। তাই সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো উদ্যোক্তাদের জন্য একটি নিরাপদ ও সুস্থ পরিবেশ সৃষ্টি করা, যেখানে ব্যবসায়ীরা নির্বিঘ্নে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন। তিনি বলেন, যদি একজন সরকার এই দায়িত্ব পালন করতে পারে, তাহলে ব্যবসায়ীরা নিরাপদে তাঁদের ব্যবসা চালাতে পারবেন এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নতিতে অবদান রাখতে পারবেন।

    পরওয়ার আরো বলেন, দুর্ভাগ্যবশত আমাদের দেশে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অধিক মুনাফার লোভে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কালোবাজারি করে জিনিসপত্রের কৃত্রিম সংকট তৈরি করেন, ফলে দ্রব্যমূল্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। তবে সৎ, ন্যায্য এবং বিবেকসম্পন্ন মানুষ এ রকম কর্মকাণ্ডে জড়িত হন না। জামায়াতের মূল লক্ষ্য হলো, এই দেশের সৎ ও নৈতিক মানুষদের দ্বারা ব্যবসা পরিচালিত হওয়া।

    তিনি আরো উল্লেখ করেন, বর্তমানে ব্যবসায়ী সমাজের উপর এক ধরনের চ Roadে চাঁদাবাজি এবং অমানবিক ঘটনা চলমান, যেখানে অনেক ব্যবসায়ী চাঁদা না দেওয়ায় হামলার শিকার হন বা প্রাণ হারাতে পারেন, যা জাহেলিয়াতের অন্ধকার যুগকেও হার মানায়। আমরা এই বর্বর সমাজ চাই না। বরং আশা করি, আল্লাহর রহমত ও জনগণের любвиয়ে যদি জামায়াত সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়, তাহলে ব্যবসায়ীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি হবে। চাঁদাবাজি ও হিংসাত্মক অপরাধের অবসান ঘটবে, কোন ব্যবসায়ী জীবনের নিরাপত্তা হারাবেন না এবং পালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না।

    এসময়, তিনি ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করার আহ্বান জানান। বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় ফুলতলা বাজারের গামছা চান্দিনায় অনুষ্ঠিত ব্যবসায়ী ও সমাজের মানুষের সাথে মতবিনিময় সভায় এই বক্তব্য দেন তিনি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্যবসায়ী মোঃ শাহজাহান মোল্লা। উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মুন্সী মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মিয়া গোলাম কুদ্দুস, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক গাওসুল আযম হাদী, বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ ও ব্যবসায়ী-সামাজিক ব্যক্তিত্বগণ।

    এছাড়া, ডুমুরিয়া অঞ্চলে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার শুক্রবার দিনব্যাপী জনসংযোগ ও ভোটার সমাবেশে অংশ নেন। হাসানপুর সরকারি প্রাইমারি স্কুল মাঠে এই সমাবেশে জনপ্রতিনিধি, নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন জামায়াতের খুলনা জেলা সেক্রেটারি মুন্সী মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মিয়া গোলাম কুদ্দুস, বিভিন্ন স্থানীয় নেতা, ছাত্র-শিবিরের কেন্দ্রীয় ও উপজেলা নেতৃবৃন্দ। এটি বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চায় অর্থাৎ, এক সুসংগঠিত ও ন্যায্য নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের অগ্রগতি নিশ্চিত করতে জামায়াতের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

  • সাতক্ষীরায় পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ভারতে আটক ১৫ বাংলাদেশি ফেরত দিল বিএসএফ

    সাতক্ষীরায় পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ভারতে আটক ১৫ বাংলাদেশি ফেরত দিল বিএসএফ

    সাতক্ষীরার সীমান্তে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ভারতে আটক নারী ও শিশুসহ ১৫ বাংলাদেশি নাগরিককে বাংলাদেশ সীমান্তে ফিরিয়ে দেয় বিএসএফ। বৃহস্পতিবার রাতে সোয়া ৮টার সময়, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার তলুইগাছা সীমান্তের জিরো লাইনের কাছে এ পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পরে রাত সোয়া ১০টার দিকে বিজিবির ক্যাম্পে আটক ব্যক্তিদের সাতক্ষীরা সদর থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এর আগে, ওই বাংলাদেশিরা স্বেচ্ছায় ভারতীয় বিএসএফের হাকিমপুর ক্যাম্পে গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন।

    আটক বাংলাদেশিরা হলেন, সাতক্ষীরা শ্যামনগর উপজেলার পশ্চিম কৈখালী গ্রামের আব্দুর রব সরদারের ছেলে মোঃ সেকেন্দার হোসেন (৩৩), নকিপুর গ্রামের কালাচাঁদ গাজীর ছেলে মোঃ আব্দুল্লাহ গাজী (৩৮), যোগেন্দ্রনগর গ্রামের মোঃ সুজাত আলী গাজীর মেয়ে ঝর্ণা খাতুন (৩৮), কালিঞ্চি গোলাখালী এলাকার মিকাইল মোল্যার স্ত্রী মোছা: নাজমা বিবি (৩৩), তাঁর মেয়ে মাহেরা আক্তার (৬), ছেলে নাজমুল হাসান নাইম (১৬), মেয়ে মিনা (১৩), নওয়াবেঁকীর পূর্ব বিড়ালক্ষী গ্রামের আবিয়ার রহমান শেখের মেয়ে মোছা: মাফুজা খাতুন (৩৪), তাঁর মেয়ের নাম তাহিয়া সুলতানা (১০), ছেলে মাফুজ রহমান (২), খুলনার বাটিয়াঘাটা উপজেলার কৃষ্ণনগর, জলমা এলাকার মৃত জিয়ারুল ইসলামের স্ত্রী মর্জিনা বেগম (৪৪), মেয়ে হাসিনা খাতুন (১০) এবং পিরোজপুর জেলার খানাকুনিয়ারী গ্রামের ಇಲায়াস মোল্যার ছেলে রুহুল আমিন (৪০), তার স্ত্রী শেফালী বেগম (৩৫) ও মেয়ে সুমাইয়া আক্তার (৭)।

    বিজিবি সূত্র জানায়, অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের দায়ে মঙ্গলবার রাত ২৬ আগস্ট হাকিমপুর চেকপোস্ট এলাকা থেকে বিএসএফ ১৫ বাংলাদেশিকে আটক করে। দুই দিন পরে, বৃহস্পতিবার রাতে, পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের ফেরত পাঠানো হয়। বৈঠকে ছিলেন বিএসএফের আমুদিয়া কোম্পানির কমান্ডার ইনস্পেক্টর দিদাজ্যোতি ডলি এবং সাতক্ষীরা বিজিবির তলুইগাছা বিওপি কমান্ডার আবুল কাশেম। পরে, রাত সোয়া ১০টার দিকে বিজিবি তাদের আটককৃত ব্যক্তিদের সাতক্ষীরা সদর থানায় হস্তান্তর করে।

    পূর্বে, তলুইগাছা বিওপি এক সাধারণ ডায়েরী করেন, যেখানে উল্লেখ করা হয়, ‘‘অবৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রবেশের জন্য মঙ্গলবার রাতে আটক করা হয় ১৫ জনকে।’’

    আটকাদের মধ্যে অনেকেরই অভিযোগ, তারা প্রায় ১৬ মাস আগে সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। তারা কোনঠাসা হয়ে আত্মরক্ষা ও দিনমজুরির জন্য বিভিন্ন সময় রাজারহাট ও নিউটাউন এলাকায় থাকতেন। সম্প্রতি ভারতীয় পুলিশ তাদের ব্যাপক ধরপাকড় শুরু করে, তাই তারা দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। এ জন্য তারা স্বেচ্ছায় বিএসএফ ক্যাম্পে আত্মসমর্পণ করেন। ক্যাম্পে দুই দিন আটক থাকার পর, পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের বিজিবির হাতে তুলে দেওয়া হয়। এরপর, তাদেরকে সদর থানায় সোপর্দ করা হয়।

    সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি শামিনুল হক নিশ্চিত করে জানান, ‘‘বিএসএফের হস্তান্তরিত ১৫ জনের মধ্যে ১৪ জনকে তাদের স্বজনের কাছে তুলে দেওয়া হয়েছে। বাকি একজনের পরিবারের লোক আসলে তাকে শুক্রবার হস্তান্তর করা হবে।’’

  • রূপসার পল্লীতে সরকারি রাস্তা দখল, ইট তৈরির জন্য অপব্যবহার

    রূপসার পল্লীতে সরকারি রাস্তা দখল, ইট তৈরির জন্য অপব্যবহার

    খুলনার আঠারোবেঁকী নদীর কোলঘেঁষে রূপসার নেহালপুর মিস্ত্রিপাড়ার একটি সরকারি রাস্তাকে জোরপূর্বক দখল করে ইট তৈরির পট (মাটি দিয়ে তৈরি ইটের খোপ) বানিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, মেসার্স এমএনএস ব্রিক্সস নামের একটি প্রতিষ্ঠান রাস্তার অংশ কেটে সেটিকে কাজে লাগাচ্ছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং তারা রাস্তাটি দ্রুত পুনরুদ্ধার করার দাবি জানিয়েছেন।

    নেহালপুর গ্রামের বাসিন্দা রাজিব বিশ্বাস বলেন, সব সময়ের জন্য জনস্বার্থে রাস্তাটি দখলমুক্ত করা জরুরি। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অবিলম্বে রাস্তা উদ্ধার না হলে কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। অন্য এক বাসিন্দা মোঃ সুজন একথা বলেন, এ রাস্তাটির দখলমুক্ত না হলে পর্যায়ক্রমে মানববন্ধন করে প্রতিবাদ জানানো হবে।

    হাবিবুর রহমান বলেন, এই রাস্তাটি দ্রুত দখলমুক্ত না হলে এলাকার বিশিষ্টজনদের সমন্বয়ে কঠোর আন্দোলনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সনাতন ধর্মাবলম্বী বিভিন্ন ব্যক্তি মৃত্যুকালে তাদের সৎকারের জন্য এই রাস্তা দিয়ে শ্মশানে আসতেন, কিন্তু ইট তৈরির জন্য দখল করে নেয়া হলে এই সেবা ব্যাহত হচ্ছে এবং রাস্তাটির অবস্থা দিন দিন ক্ষয়িষ্ণু হয়ে পড়ছে।

    প্রাথমিকভাবে, স্থানীয় বাসিন্দা ও ক্রীড়া সংগঠক সাধন দে জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই রাস্তাটি ছিল জনসাধরণের মালিকানাধীন। কিন্তু দখলের কারণে এলাকাবাসীর দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে। রাস্তাটি ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে এবং এর অবস্থা বেশ উদ্বেগজনক।

    এদিকে, এমএনএস ব্রিক্সসের ম্যানেজার মিজানুর রহমান দাবি করেন, তাদের মালিক মিঠু সাহেব পাঁচ বছরের জন্য এই ইটভাটার জন্য সরকারি রাস্তা ভাড়ায় নিয়েছেন। তিনি বলেন, সরকার ইচ্ছা করলে রাস্তাটি পুনরায় উদ্ধার করতে পারে, এতে কোনো সমস্যা নেই।

    অপরদিকে, নৈহাটী গ্রামের সার্ভেয়ার মোঃ খবিরুদ্দিন জানায়, এই রাস্তা জেলা পরিষদের অধীনস্থ সরকারি রাস্তা। এই রাস্তায় দিয়েই বিভিন্ন গ্রামবাসী নেহালাপুর খেয়াঘাট ও বাজারে আসা-যাওয়া করতেন। তবে, বর্তমানে এর সীমানা নির্ধারণের জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সীমানা চিহ্নিত করে লাল পতাকা টানিয়ে দিয়েও আর কোন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়নি।

    খুলনা জেলা যুবদলের সদস্য ও স্থানীয় বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুক্তাদির বিল্লাহ বলেন, জনসাধারণের চলাচলের গুরুত্বপূর্ন এই রাসটিকে দখল করে রেখেই দীর্ঘদিন ধরে ইট তৈরির কাজ অব্যাহত রয়েছে। তিনি দ্রুত রাস্তাটি পুনরুদ্ধার করার দাবি জানান।

    স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সাবেক সিবিআই ব্রিকসের মালিক আঃ সাত্তার বছরখানেক ধরে এ রাস্তাটিকে দখল করে রেখেছেন। তিনি সরকারি রাস্তার ব্যবহার নিষেধ করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। ঔর সঙ্গে স্তর অনুসারে, সেদিন তাঁরা দখল উচ্ছেদের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে নানা পদক্ষেপ নিলেও ফল পাইনি। গত দুই বছর ধরে, বর্তমান মালিক মোঃ মিঠু তাঁর ইটভাটাকে পাঁচ বছরের জন্য লিজ নিয়ে এই রাস্তাকে দখল করে রেখেছেন। সংলাপে শক্তিশালী হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়ে স্থানীয় প্রশাসনও কিছু পদক্ষেপ নিলেও, তা কার্যকর হয়নি।

    উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সানজিদা আক্তার রিক্তা বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও বিশ্লেষণ করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তারা বলίζουν, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই রাস্তা মেরামত ও পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।

  • রূপসায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে যুবক নিহত

    রূপসায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে যুবক নিহত

    খুলনার রূপসা উপজেলায় ঘটে গেলো এক হৃদয় বিদারক ঘটনা, যেখানে নৃশংশ গুলির মুক্তি ভয়াবহ আত্মঘাতী সন্ত্রাসীদের হাতে এক যুবক প্রাণ হারিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে এ ঘঠনা ঘটে। নিহত ইমরান হোসেন মানিক, বয়স ৩৪ বছর, রূপসা উপজেলার বাগমারা গ্রামের মোঃ বেলায়েত হোসেনের পুত্র।

    রূপসা থানার ডিউটি অফিসার জনি আহমেদ জানান, এ রাতে ইমরান একটি ভ্যানযোগে ইলাপুরের দিকে যাচ্ছিলেন। ঠিক তখনি দুর্বৃত্তরা তার গতিরোধ করে, এবং পরপর দুটি গুলি ছোড়ে। এক গুলির আঘাতে তার মাথা বিঁধে যায়, যা ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যুর কারণ হয়।

    গুলির শব্দ শুনে স্থানীয় মানুষরা দ্রুত এগিয়ে এসে আহত অবস্থায় ইমরানের মরদেহ দেখতে পান এবং সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দু’টি খালি গুলির খোসা উদ্ধার করে। পরে তার মরদেহ সুরতহাল করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এই হত্যাকাণ্ডটি এলাকার শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে।