Author: bangladiganta

  • আবাসিক হোটেল থেকে টিকটকার মাহিয়া মাহি আটক

    আবাসিক হোটেল থেকে টিকটকার মাহিয়া মাহি আটক

    বরিশাল নগরীর একটি আবাসিক হোটেল থেকে জনপ্রিয় টিকটকার মাহিয়া মাহিকে আটক করেছে কোতয়ালী মডেল থানার পুলিশ। ঘটনাটি ঘটে গত বুধবার (২৭ আগস্ট) দিবাগত মধ্যরাতে, যখন নগরীর পোর্ট রোড এলাকার হোটেল রোডেলাতে অভিযান চালানো হয়।

    পুলিশের সূত্র জানিয়েছে, নিয়মিত নিরাপত্তা ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য নগরীর বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে অভিযান চালানো হচ্ছিল। এ সময় হোটেল রোডেলার এক কক্ষে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেওয়া একজন পুরুষ ও মাহিয়া মাহিকে দেখতে পায় পুলিশ। তার পাশাপাশি এক তরুণীকেও আটক করা হয়েছে।

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, মাহিয়া মাহি কোনো প্রকার বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। এর ফলে তাঁকে আটক করে সম্পত্তির নিরাপত্তা ও আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে থানায় নিয়ে আসা হয়।

    কোতয়ালি মডেল থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা হোটেল রোডেলাতে অভিযান চালিয়ে দুই তরুণী ও এক যুবককে আটক করেছি। যেখানে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিদের ব্যাপারে এখন তদন্ত চলছে।’ এ ঘটনাটি স্থানীয় পরিবেশে বেশ আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

  • বাগেরহাটে অনূর্ধ্ব ১৭ ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ সংঘটিত হলো

    বাগেরহাটে অনূর্ধ্ব ১৭ ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ সংঘটিত হলো

    তরুণদের উৎসব ২০২৫ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতার সফল সমাপ্তি ঘটলো গতকাল। উক্ত প্রতিযোগীতায় স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৭৬ জন খুদে খেলোয়াড় অংশ নেয়। অনূর্ধ্ব ১৭ বালিকা বিভাগে সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রথম স্থান অর্জন করে এবং বালক বিভাগে বৈটপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন হিসেবে দেখা দেয়।

    পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম মুস্তাফিজুর রহমান। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক আহমেদ কামরুল হাসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ভাস্কর দেবনাথ বাপ্পি এবং বাগেরহাট সদর সার্কেল-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ শামীম হোসেন।

    অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধান অতিথি, who বলেন, এই ধরনের প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার পাশাপাশি সুস্থ বিনোদনের পথ দেখায়। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এ ধরনের খেলাধুলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মোবাইলের প্রতি আসক্তি কমবে।

    বিশেষ অতিথি ভাস্কর দেবনাথ বাপ্পি বলেন, যারা বিতর্কে নিয়োজিত থাকে তারাও ভালো ছাত্র হয়, এবং যারা খেলাধুলা করে তারা সুস্থ, সুন্দর ও উন্নত নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে। এছাড়া, অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাটের জেলা তথ্য অফিসের উপ-পরিচালক মঈনুল ইসলাম, জেলা পরিসংখ্যান অফিসের উপ-পরিচালকসহ অন্যান্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটবৃন্দ।

  • বুলবুলের পরিকল্পনা: নতুন সাকিব-তামিমদের খুঁজে বের করার উদ্যোগ

    বুলবুলের পরিকল্পনা: নতুন সাকিব-তামিমদের খুঁজে বের করার উদ্যোগ

    চট্টগ্রামে সম্প্রতি শুরু হয়েছে একটি নতুন আঞ্চলিক ক্রিকেট টুর্নামেন্ট, যা দেশের ক্রিকেটের বিকাশ ও স্থিতিশীলতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল এই উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এ সময় বোর্ডের পরিচালক আকরাম খান ও সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার উপস্থিত ছিলেন। এই টুর্নামেন্টটি বিসিবির অন্যতম লক্ষ্য হলো দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ক্রিকেটের কার্যক্রম বিস্তৃত করা এবং বিকেন্দ্রীকরণ প্রক্রিয়াকে সফল করা। এতে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে যে, আঞ্চলিক পর্যায়ে ক্রিকেট কাঠামো কার্যকর হলে জেলা পর্যায়ের প্রতিভাবান ক্রিকেটাররা নিয়মিত খেলতে পারবে, যারা এখনো জাতীয় পর্যায়ে সুযোগ থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। হাবিবুল বাশার বলেন, আঞ্চলিক ক্রিকেট চালু হলে স্থানীয় লিগ ও টুর্নামেন্টের সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হবে। এর ফলে ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে সুযোগের সীমাবদ্ধতা দূর হবে এবং অন্য সব অঞ্চলের প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা নিজেদের দক্ষতা দেখানোর সুযোগ পাবে। তিনি আরো মন্তব্য করেন, রিজিওনাল ক্রিকেট চালু হলে হিডেন প্রতিভাবানরা আর অজেয় থাকবেন না; তারা টুয়েন্টি-ওয়ানডে ও অন্যান্য প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে নিজেদের পরিচয় তৈরি করতে পারবে। আকরাম খান এই টুর্নামেন্টকে ‘পাইলট প্রকল্প’ হিসেবে উল্লেখ করে বললেন, ‘আমরা এটি ছোটো একটি ঝুঁকি নিয়ে শুরু করেছি। এটা এখন এক ধরনের সিজন না হলেও ভবিষ্যতের জন্য একটি পথ খুলে দিয়েছে।’ তিনি জানান, চট্টগ্রামের ১১টি জেলা আগে কখনো একসঙ্গে খেলেনি, আজ থেকে তারা একটি সুযোগ পাচ্ছে। এটি কেবল চট্টগ্রামের খেলোয়াড়দের জন্যই না, বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্যও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিসিবির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল আগামী দিনের সাকিব ও তামিমদের খুঁজে আনার ক্ষেত্রে স্কুল ক্রিকেটের গুরুত্বের উপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, ক্রিকেট বোর্ডের নিয়ন্ত্রণ সেন্ট্রাল হলেও আঞ্চলিক ক্রিকেটের সাথে সমন্বয় হলে এর বিস্তার আরও আরও বাড়বে। বিকেন্দ্রীকরণ শুধু প্রতিযোগিতা নয়, প্রতিটি জেলায় নিজস্ব প্লাটফর্ম তৈরি করতে সাহায্য করবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, আগামী দিনে সাকিব, তামিম, মুশফিক, রিয়াদের মতো প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা এখনও স্কুলে থাকাকালীনই খুঁজে বের করা সম্ভব, এজন্য এবার আমরা স্কুল ক্রিকেটের পুনঃসংগঠন ও উন্নতিতে গুরুত্ব দেব।

  • জাতীয় দলে খেলতে হলে আগে দেশে ফিরে আইনি সমস্যা মিটাতে হবে: তামিম

    জাতীয় দলে খেলতে হলে আগে দেশে ফিরে আইনি সমস্যা মিটাতে হবে: তামিম

    বাংলাদেশের ক্রিকেটের দুই বড় তারকা, তামিম ইকবাল এবং সাকিব আল হাসান। এক সময় তাদের মধুর বন্ধুত্বের কথা শোনা গেলেও আজকের দিনে তারা দুই মেরুতে অবস্থান করে। বিভিন্ন খবর প্রকাশ পেয়েছে, যেখানে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্বের কথাও উঠে এসেছে। রাজনৈতিক কারণে সাকিব দেশের বাইরে এক বছর বা তার বেশি সময় ধরে আছেন, অন্যদিকে তামিম বোর্ডের সঙ্গে যোগদান করে নির্বাচনে লড়তে যাচ্ছেন।

    সাকিব দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাইরে থাকায় জাতীয় দলের বাইরে থাকছেন। অন্যদিকে, তামিম বোর্ড সভাপতি নির্বাচিত হলে প্রশ্ন ওঠে, সাকিব কি আবার মাঠে ফিরতে পারবেন? তবে অনেকের মত, পরিস্থিতির উন্নতি হওয়া এখনও অনেক দূর। সম্প্রতি ডেইলি ক্রিকেটের একটি পডকাস্টে খোলামেলাভাবে এই বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন তামিম। তিনি বলেছেন, ‘সে একজন সক্রিয় ক্রিকেটার। সে বাংলাদেশের একজন ক্রিকেটার। যদি সে এখন ফিট থাকে, অনুশীলন চালিয়ে যেতে পারে, এবং নির্বাচকরা তাকে দলে নেওয়ার যোগ্য মনে করেন, তবে অবশ্যই সে নির্বাচিত হবে। তবে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা আমার হাতে নেই। এখানে আইনি বিষয়ও জড়িয়ে আছে।’

    সাকিবের বিরুদ্ধে নানা ধরনের মামলা রয়েছে, যার মধ্যে একটি হত্যার মামলা পর্যন্ত রয়েছে। সুতরাং এই পরিস্থিতিতে, তামিম মনে করেন, ‘দেশে ফিরতে হলে সাকিবকে আগে আইনি বিষয়গুলো সমাধান করতে হবে। যদি সে মামলার সামনে দাঁড়িয়ে সেটা মোকাবিলা করতে পারে এবং জাতীয় দলের অনুশীলনে যোগ দিতে পারে, তাহলে তার জন্য দরজা খোলা থাকবে। সে আমেরিকান বা পর্তুগিজ ক্রিকেটার নয়, সে বাংলাদেশের।’

    তামিম আরও বলেন, ‘জাতীয় দলে খেলতে হলে অবশ্যই সাকিবকে আগে দেশে ফিরতে হবে। মামলা চালানো বা উঠে যাওয়া বোর্ডের অধীন নয়, সেটি সাকিবের ব্যক্তিগত বিষয়। দেশে ফিরতে, অনুশীলন চালিয়ে যেতে সেটা তারই সিদ্ধান্ত। আমি এটি বলে দিতে পারি যে, এটা তার ক্যারিয়ার ও দেশের জন্য দরকার। তবে সব কিছু তার সিদ্ধান্ত, আমি বলতে পারি না।’

  • ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে জাতীয় ক্রিকেট লিগ

    ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে জাতীয় ক্রিকেট লিগ

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ঘোষণা করেছে জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল) এর দ্বিতীয় আসরের সময়সূচি। এই প্রতিযোগিতা শুরু হবে ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে, যার প্রথম ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে রাজশাহীতে। এরপর খুলনা ও চট্টগ্রামের ম্যাচ দিয়ে টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক সূচনা হবে, যা চলবে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে। প্রথম দুই রাউন্ডের খেলা অনুষ্ঠিত হবে রাজশাহী ও বগুড়ায়, এরপর বাকি ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে সিলেটে। মোট ১৩ রাউন্ডের এই প্রতিযোগিতায় প্রতিদিন দুটি করে ম্যাচ খেলানো হবে। প্রধান ভেন্যু হিসেবে ব্যবহৃত হবে রাজশাহী এসকেএস স্টেডিয়াম, বগুড়ার এসসিএস স্টেডিয়াম ও সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম। গ্রুপ পর্বের শীর্ষ চার দল নকআউট পর্বে উঠবে, যা শুরু হবে ৩০ সেপ্টেম্বর সিলেটে। এর পর ৩ অক্টোবর সন্ধ্যা ৫টায় অনুষ্ঠিত হবে টুর্নামেন্টের ফাইনাল। এই আসরকে তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য নিজেদের প্রমাণ করার বিশাল মঞ্চ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে তারা নিজেদের দক্ষতা ও প্রতিভা প্রদর্শনের সুযোগ পাবে।

  • খুলনা জেলা মহিলা ফুটবল দলকে অনূর্ধ্ব-১৪ জাতীয় চ্যাম্পিয়ন করার জন্য জেলা প্রশাসকের সৌজন্য সাক্ষাৎ

    খুলনা জেলা মহিলা ফুটবল দলকে অনূর্ধ্ব-১৪ জাতীয় চ্যাম্পিয়ন করার জন্য জেলা প্রশাসকের সৌজন্য সাক্ষাৎ

    জেএফএ কাপ অনূর্ধ্ব-১৪ জাতীয় মহিলা ফুটবলে খুলনা বিভাগীয় চ্যাম্পিয়ন হয়ে গর্বিত করেছে খুলনা জেলা মহিলা ফুটবল দল। এই অনন্য সফলতা উদযাপন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার দুপুরে দলটির খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের উপদেষ্টা ও জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুল ইসলাম। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই সাক্ষাৎতে উপস্থিত ছিলেন ক্রীড়া অফিসার মোঃ আলিমুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইউসুফ আলী, কোষাধ্যক্ষ মোঃ নুরুল ইসলাম খান কালু, কার্যনির্বাহী সদস্য এম এ জলিল, মনিরুজ্জামান মহসীন ও এজাজ আহমেদ। এগিয়ে থাকা এই স্মরণীয় দিনটি উদযাপন করে খুলনা দল, যারা ১৯ আগস্ট মাগুরা জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে মাগুরা জেলা অনূর্ধ্ব-১৪ মহিলা ফুটবল দলকে ৩-১ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। এই প্রতিযোগিতায় খেলোয়াড়রা ছিলেন: লাকি, ইসরাম খান, বিপাশা আক্তার তিশা, জৈতি রায় মুন্নী, আলো খাতুন, রিমা সরকার, দিয়া মন্ডল, তানিশা আক্তার তন্নী, ঐশ্বর্য্য বাছাড়, খাদিজা খাতুন, সুমি খাতুন, সানজিদা সুলতানা ও দৃষ্টি মন্ডল। জেলা প্রশাসক তাদের এই সাফল্যকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এই অগ্রগতি খুলনার জন্য সত্যিই গৌরবের। খেলাধুলা মনকে সতেজ করে ও শরীরের উন্নতি ঘটায়, তাই সবাইকে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে আরও উন্নতি সাধন করতে হবে।

  • ইসরায়েলের গাজা অভিযান ‘যুদ্ধক্ষেত্র’ ঘোষণা, নিহতের সংখ্যা ছাড়ালো ৬৩ হাজার

    ইসরায়েলের গাজা অভিযান ‘যুদ্ধক্ষেত্র’ ঘোষণা, নিহতের সংখ্যা ছাড়ালো ৬৩ হাজার

    গাজা উপত্যকা এখন এক বিশাল যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে, কারণ দখলদার ইসরায়েল গাজা সিটিকে সম্পূর্ণভাবে ‘যুদ্ধক্ষেত্র’ ঘোষণা করেছে। শহরটিতে এর আগে কোনও বিরতি ছাড়াই গৃহীত সামরিক কার্যক্রম এখন তীব্রতর হয়েছে। শুক্রবার ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানায়, তারা সেখানে ব্যাপক প্রাথমিক অভিযান শুরু করেছে এবং ভবিষ্যতেও ত্রাণ সহায়তার জন্য কোনও বিরতি দেওয়া হবে না। বিভিন্ন সূত্রে বলা হচ্ছে, গাজায় ঘরে ঘরে যুদ্ধের ধাক্কা চলমান, আর জীবনযাত্রা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।

    ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর আরবি মুখপাত্র আভিচায় আদ্রি এক্সে তার এক পোস্টে লিখেছেন, ‘আমরা অপেক্ষা করছি না। গাজা সিটিতে এখন শুরু হয়েছে ব্যাপক অভিযান এবং হামলার প্রথম পর্যায়। আমরা শক্তির সঙ্গে উপকণ্ঠে দখল ও ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছি।’ এর আগে, গাজায় বিশ্লেষণ করে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ঘোষণা দিয়েছিল যে, কৌশলগত বিরতিটি বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। তারা জানায়, “আজ শনিবার সকাল ১০টার পর থেকে গাজা সিটিতে আর কোনও বিরতি কার্যকর থাকবে না। এখন থেকে শহরটি পুরোপুরি একটি ভয়ংকর যুদ্ধক্ষেত্র।” প্রথমে ২৪ ঘণ্টার জন্য সাময়িক বিরতি দিয়ে ইসরায়েল গাজায় হামলা বন্ধ রেখেছিল, তবে সেটি পরবর্তীতে বাতিল করে দেয়া হয়।

    অন্তর্বর্তী সময়ে, জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর আহ্বানে গাজায় ত্রাণ পৌঁছানোর জন্য সাময়িক বিরতি চালু থাকলেও ক্ষতিগ্রস্ত শহরে এখন ঘরবাড়ি, স্কুল ও হাসপাতালসহ সর্বত্র যুদ্ধের থাবা। আগস্টের শুরুর দিক থেকে শুরু করে ইসরায়েল গাজায় বরাবরই বোমাবর্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে, আর শহরটির উপকণ্ঠে তাদের ট্যাংক অবস্থান নিয়েছে। এসব হামলায় নিরীহ ফিলিস্তিনি সাধারণ জীবনযাত্রা কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে উঠেছে।।

    প্রতিরোধের জন্য শহরটিতে প্রতিদিনই দ্রুত নিহতের সংখ্যা বাড়ছে। গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট নিহতের সংখ্যা ৬৩ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। শুক্রবার, তারা টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় গাজায় আরও ৫৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন বেশি সংখ্যক মানুষ, যার সংখ্যাটা এখন ২২৪ জন।

    অথচ, এসব ক্ষয়ক্ষতির মধ্যেও নিরীহ মানুষজনের জীবন বাঁচানোর জন্য ত্রাণ কার্যক্রম চললেও অনেকের চোখে আজও শান্তির দেখা মেলেনি। যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষে নিহতের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৩,০২৫ জন, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী ও শিশু। আহতের সংখ্যা এখন ১ লাখ ৫৯ হাজার ৪৯০ জন।

    আরও আরও মৃত্যুর খবর আসছে, বিশেষ করে অনাহার ও অপুষ্টির কারণে গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ পর্যন্ত ক্ষুধাজনিত কারণে নিহতের মোট সংখ্যা ৩২২ জনে দাঁড়িয়েছে, যার বেশিরভাগই শিশু। পাশাপাশি চলমান যুদ্ধের ফলে মানবিক সহায়তা নেয়ার জন্য গাজায় গিয়ে জীবন দিয়ে যেতে হয়েছে ২৩ জন ফিলিস্তিনিকে। আপাতত, ২৭ মে থেকে এই পর্যন্ত যাদের সাহায্য পেতে গিয়ে নিহতের সংখ্যা ২ হাজার ২০৩ জন এবং আহত হয়েছেন মোট ১৬ হাজার ২২৮ জন। এই পরিস্থিতিতে এখনও প্রচুর মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

    উল্লেখ্য, গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) চলতি বছরের ২৭ মে থেকে ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করে, এরপর থেকে প্রায় প্রতিদিনই এই কেন্দ্রগুলোর কাছে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে গাজায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হয়ে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়ে উঠছে। সূত্র: আল জাজিরা।

  • পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারে কংগ্রেস কার্যালয়ে বিজেপির হামলা ও সংঘর্ষ

    পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারে কংগ্রেস কার্যালয়ে বিজেপির হামলা ও সংঘর্ষ

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার রাজ্যে কংগ্রেস কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এই হামলার পেছনে মূল কারণ ছিল বিজেপি কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও উত্তেজনা, যা মূলত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তার প্রয়াত মাকে নিয়ে অশালীন মন্তব্যের জের ধরে সৃষ্টি হয়েছে।

    পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে ভিডিও ফুটেজ দেখা গেছে, যেখানে দেখা যায় দুই দলের কর্মীরা নিজেদের দলীয় পতাকার ডাণ্ডা দিয়ে একে অপরকে মারধর করছেন। এই সংঘর্ষে বেশ কিছু নেতৃত্ব ও সাধারণ কর্মী আহত হয়েছেন। তবে এখনো কোনও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। কংগ্রেস এতে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

    ঘটনার সূত্রপাত হয়, যখন দরভাঙায় এক ব্যক্তি ভোটার অধিকারের ‘যাত্রা’ চলাকালীন কংগ্রেসের পতাকা গায়ে জড়িয়ে থাকা অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীকে অশ্লীল ভাষায় তরজা করে। এই ঘটনা সরাসরি ভিডিওতে ধরা পড়ে, যা পরবর্তীতে ভাইরাল হয়। এর জেরে বিজেপি থানায় এফআইআর দায়ের করে ও কংগ্রেসের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানায়।

    দরভাঙা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হয়েছে। এক্স-এ দারভাঙা পুলিশ লিখেছে, ‘সিমরি থানায় একটি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে এবং একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’

    বিহারেও এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি ছড়িয়ে পড়ে। পাটনা শহরে শুক্রবার বিজেপি রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানায়। সেই সময় কংগ্রেস সমর্থকরাও উত্তেজিত হয়ে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায় এবং মারপিট শুরু হয়। পুলিশ বিশাল সংখ্যক বাহিনী মোতায়েন করে পরিস্থিতি সমঝোতা করার চেষ্টা করে, তবে শহরের অবস্থা এখনও উত্তপ্ত।

    অপর দিকে, কলকাতার জাতীয় কংগ্রেসের অফিসের সামনে শুক্রবার এক বিক্ষোভ সমাবেশ হয়। সেখানে বিজেপির কিছু সমর্থক কংগ্রেস দপ্তরে ঢুকে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালানোর অভিযোগ উঠেছে। তারা রাকেশ সিংয়ের নেতৃত্বে মুখোশে থাকা কয়েকজন ভবনের বাইরে ভাঙচুর করে। তাদের হাতে নাচে থাকা রাহুল গান্ধীর ছবি ও ব্যানার দেখতে পাওয়া গেছে। এ ঘটনা তীব্র নিন্দা জানিয়েছে প্রদেশ কংগ্রেস। অভিযোগ দায়ের হয়েছে এন্টালি থানায়।

    প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র সৌম্য আইচ রায় বলেন, ‘রাজনীতিতে যারা দেউলিয়া, তাদের এই ধরনের কাজ করার সাহস হয় না। একমাত্র বিজেপির নেতা-নেত্রীরা নিজেদের চুরি ও দুর্নীতির রঙ ঢাকতে এইসব অপকর্ম করে। তারা আমাদের দলের ওপর রাগ প্রকাশ করছে, যখন পুরো দেশ জুড়ে তারা নানা দুর্নীতির অভিযোগে ধরা পড়ছে। এই ঘটনার জন্য প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’

    বিহার কংগ্রেসের নেতা অশুতোষ অভিযোগ করেছেন, এই ঘটনায় সরকারের মদদ রয়েছে। তিনি বলেন, ‘নীতীশ কুমার ভুল করেছেন, আমরা এর জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত।’

    অপর দিকে, বিজেপি নেতা নীতিন নবীন হুঁশিয়ারি দেন, ‘মায়ের অপমানের বদলা বাংলার প্রতিটি ছেলে বিজেপিকে দেবে। এর জবাব আমরা অবশ্যই দেব।’

    স্বরաստ্রমন্ত্রী অমিত শাহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কঠোর ভাষায় নিন্দা প্রকাশ করে লেখেন, ‘রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেসের রাজনীতি অতি নিচে নেমে এসেছে। একজন গরিব মায়ের সন্তান ১১ বছর ধরে দেশের প্রধানমন্ত্রী, তাকে অপমানের এই ভাষা মানা যায় না। এটি লজ্জাজনক এবং গণতন্ত্রের প্রতি কলঙ্ক।’

    বিজেপির সভাপতি জে পি নাড্ডা বলেছেন, ‘এ ধরনের অশালীন আক্রমণ সীমা লঙ্ঘন করেছে। রাহুল গান্ধী ও তেজস্বী যাদবের উচিত ক্ষমা চাওয়া।’

    বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারও এ ঘটনাকে অবজ্ঞা করে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও তার প্রয়াত মায়ের বিরুদ্ধে এই ধরনের অশ্লীল মন্তব্য অবশ্যই নিন্দনীয়। আমি এর কড়া প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

  • থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতোংতার্ন সিনাওয়াত্রা ক্ষমতাচ্যুত

    থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতোংতার্ন সিনাওয়াত্রা ক্ষমতাচ্যুত

    থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতোংতার্ন সিনাওয়াত্রাকে দেশটির সাংবিধানিক আদালত সম্পূর্ণভাবে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছে। তার এই পদচ্যুতির পেছনে মূল কারণ হলো একটি ফোনকলের রেকর্ড প্রকাশ, যেখানে তাকে কম্বোডিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী হুন সেনকে ‘আঙ্কেল’ বলে উল্লেখ করা হয়। এই ফোনকলের রেকর্ড ফাঁস হওয়ার পর থেকেই সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। ফোনে তিনি তার দেশের সেনাবাহিনী সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করেন এবং কম্বোডিয়ার সেনার প্রাণহানির জন্য তাদের প্রতি গালি দেন। এই পরিস্থিতির অবনতি ঘটে, যে সময় থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়ার মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়, এমনকি রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষও শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এই সংঘর্ষ বন্ধ হয়। পরে এই ফোনকলের বিষ্ময়কর রেকর্ড ভাইরাল হলে গোটা দেশজুড়ে ব্যাপক বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিরোধী দলগুলো অভিযোগ তোলে, পেতোংতার্ন গোপনে থাইল্যান্ডের স্বার্থের আপোস করছেন বলে। তিনি তখন ক্ষমা চেয়ে বলেন, তার উদ্দেশ্য ছিল উত্তেজনা প্রশমনের জন্য। এই সব ঘটনা শেষে, ১৫ জুনের ওই ফোনকলের ভিত্তিতে তিনি অংশবিশেষ বলেন, “যে কোনো কিছু চাইলে আমাকে বলবেন, আমি দেখব।” এরপর নির্মম সত্যটি সামনে আসে, দেশটির আদালত ১ জুলাই তার প্রধানমন্ত্রীপদ স্থগিত করে। যদিও তিনি মন্ত্রিসভায় সংস্কৃতিমন্ত্রী হিসেবে থাকছেন। এভাবে ২০০৮ সাল থেকে পাঁচজন প্রধানমন্ত্রী আদালতের রায়ে ক্ষমতা থেকে সরানো হয়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। প্রধানমন্ত্রী পেতোংতার্নের এই অস্থির পরিস্থিতি বাংলাদেশের জনগণের জন্য একটি সতর্কবার্তা, যে দেশের নেতৃত্বে ধীর ও সুসংগঠিত পদক্ষেপ জরুরি।

  • ভারত নৌবাহিনীর জাহাজে করে রোহিঙ্গাদের সমুদ্রে ফেলে দিচ্ছে অভিযোগ

    ভারত নৌবাহিনীর জাহাজে করে রোহিঙ্গাদের সমুদ্রে ফেলে দিচ্ছে অভিযোগ

    নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে মিয়ানমারের নিপীড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সদস্যদের সমুদ্রে ফেলে দেওয়ার অসংখ্য অভিযোগ উঠেছে ভারতের বিরুদ্ধে। এসব দাবি করেছেন ৪০ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী, যারা বলছেন, তাদের রাজধানী দিল্লি থেকে আটক করে নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে সাগরে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার ফলে এখন আবার অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি হচ্ছে এ সমস্ত রোহিঙ্গারা, যারা মিয়ানমারের ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের মধ্যে আশ্রয় খুঁজতে পালিয়ে এসেছেন। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের এই নীতির কারণে রোহিঙ্গাদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বিবিসির একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, শুক্রবার (২৯ আগস্ট) তারা একাধিক সাক্ষাৎকার ও তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে এই ঘটনা ধাপে ধাপে বিশ্লেষণ করেছে।

    এপ্রেমে, ৯ মে তার সাথে শেষ বার কথা বলেন নুরুল আমিন, তাঁর ভাই খাইরুলের সাথে। ফোনালাপটা সংক্ষিপ্ত হলেও তা ছিল ভয়ংকর। জানাতে পারেন, ভারতের সরকারের দ্বারা তাদের খুমছে ফেরত পাঠানো হয়েছে, তাদের পরিবার ও স্বজনরা কী দুর্দশার মধ্যে আছেন, তা কল্পনাও করতে পারছেন না তিনি। বর্তমানে মিয়ানমারে চলমান গৃহযুদ্ধের মধ্যে রোহিঙ্গাদের জন্য এর থেকে বড় দুঃখ আর কিছু হতে পারে না। জান্তার কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠী লড়াই করছে, ফলে এই পরিস্থিতিতে পুনর্মিলনের সম্ভাবনা অনেকটাই দূর্বল।

    দিল্লিতে বসবাসকারী ২৪ বছর বয়সী আমিন বলেন, “আমাদের বাবা-মা ও স্বজনরা কীভাবে কষ্টে আছেন, সেটা আমি ভাবতে পারছি না।” বিবিসির অনুসন্ধানে জানা গেছে, তাদের দিল্লি থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার তিন মাসের মধ্যে বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গাকে দেখা গেছে মিয়ানমারে। অধিকাংশই আশ্রয় নিয়েছেন বৌদ্ধরাই ও অন্যান্য প্রতিরোধ সংঘঠনের কাছে, যারা জান্তার বাহিনী বিরুদ্ধে লড়াই করছে।

    ভিডিও কলে সাক্ষাৎকারে সৈয়দ নূর বলেন, “আমরা এখানে নিরাপদ নই। পুরো এলাকা যেন যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ।” তিনি আরও জানান, অন্য ছয়জনের সঙ্গে আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছেন। শরণার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের আনা হয় এক বিমানে, যেখানে তাদের দ্বারা লাইফ জ্যাকেট পরানো হয়। এরপর নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। তারা বলছে, ঐ যুদ্ধজাহাজে প্রায় ১৪ ঘণ্টা ছিলো, খেতে পাওয়া যেতো ভাত, ডাল আর পনির। তবে সেই সময় অনেককে মারধর ও অপমান করা হয়।

    সৈয়দ নূর জানান, “আমার উপর বাঁশ দিয়ে আঘাত করা হয় আর কেঁদে চিৎকার করতে হয়েছিল। আমাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, কেন অবৈধভাবে ভারতে এসেছি?” এই রোহিঙ্গাদের মধ্যে ১৫ জন খ্রিস্টান ছিলেন, যাঁরা জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, কেন তারা ইসলাম থেকে খ্রিস্টধর্মে পরিণত হয়েছে। এ ছাড়াও, তাদের মধ্যে একজনকে কাশ্মীরের পেহেলগামের হামলার জন্য জড়িত বলে অপপ্রচার করা হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এসব রোহিঙ্গারা মূলত শহর থেকে পালিয়ে আসছে।

    ৮ মে সন্ধ্যায়, তাদের ছোট রাবার নৌকায় করে সমুদ্রে নামানোর পরিকল্পনা করা হয়। হাতে লাইফ জ্যাকেট ছিল, বলা হয়েছিল তারা ইন্দোনেশিয়ায় পৌঁছেছে। কিন্তু বাস্তবতা ছিল ভিন্ন— তারা আসলে মিয়ানমারে ছিল। এর পর, ৯ মে ভোরে স্থানীয় জেলেরা তাদের খুঁজে পায়। তারা তাদের ফোন ব্যবহারের অনুমতি দেয়, এবং এখান থেকে স্বজনদের খবর দেন। এরপর, বৌদ্ধরাই তাদের জন্য খাদ্য ও আশ্রয় সরবরাহ করে। তবে ভারতে থাকা পরিবারগুলো আতঙ্কে রয়েছেন, তাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে গেছে।

    জাতিসংঘের প্রতিবেদক টমাস অ্যান্ড্রুজ বলেছেন, ভারতে এই ঘটনা মানবাধিকার লঙ্ঘনের সৌজন্যে চরম ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে রোহিঙ্গাদের। তিনি জানিয়েছেন, ভারতের মিশনে এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণও জমা দেওয়া হয়েছে, তবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোন স্পষ্ট উত্তর পায়নি।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতে রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। দেশটি তাদের শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না; বরং অবৈধ অভিবাসী হিসেবে চিহ্নিত করে। বর্তমানে আনুমানিক ২৩,৮০০ রোহিঙ্গা জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর রেজিস্ট্রেড থাকলেও, বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, প্রকৃত সংখ্যা সেখানে ৪০ হাজারের কাছাকাছি।

    ২০১৭ সালে মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর ব্যাপক দমন-পীড়নের ফলে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। বর্তমানে বাংলাদেশে তাদের সংখ্যা প্রায় ১১ লাখের বেশি।

    বিবিসির অনুসন্ধানে জানা গেছে, চলতি বছরের ৬ মে দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় থাকা ৪০ জন রোহিঙ্গাকে থানায় ডেকে নিয়ে আসা হয়, যেখানে তাদের ছবি ও আঙুলের ছাপ সংগ্রহের দাবি করা হয়। দীর্ঘ অপেক্ষার পর, তাদের ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে অ্যানডাম নিকোবর দ্বীপে পাঠানো হয়। সেখানে তাদের বাসে করে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে লেখাও ছিল ‘ভারতীয় নৌবাহিনী’।

    সৈয়দ নূর বলছেন, “বাসে উঠার পরই আমাদের হাত প্লাস্টিকের হাতকড়া দিয়ে বাঁধা হয়, আর মুখ মেকাপের কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পরে, আমাদের এক যুদ্ধজাহাজে তোলা হয়। সেখানে প্রায় ১৪ ঘণ্টা ছিলাম, খেতে পেতাম ভাত, ডাল ও পনির। তবে চালাকচুরি, মারধর ও অপমানের সাক্ষীও হতে হয়েছিল।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের সঙ্গে খুব খারাপ আচরণ করেছে। অনেককে মারধর করা হয়েছে, চড় মারা হয়েছে।”

    ফয়াজুল্লাহ বলে, তিনি হাতে আঘাতের চিহ্ন দেখাতে সক্ষম। তিনি জানিয়েছেন, তার উপর বাঁশ দিয়ে আঘাত করা হয়, চা খাইয়ে দেয়া হয়, আর জিজ্ঞেস করা হয়, “ভারতে অবৈধভাবে কেন এসো?” এর মধ্যে ১৫ জন মত খ্রিস্টান রোহিঙ্গা, তাঁদের জিজ্ঞেস করা হয়, কেন ইসলাম থেকে খ্রিস্টধর্মে ধর্মান্তর করেছেন। এমনকি, তাদের মধ্যে একজনকে কাশ্মীরের হামলার সঙ্গে জড়িত বলে বিবৃতি দেওয়া হয়। তবে এসবের কোনো সম্পর্ক স্বীকার করেননি বা প্রমাণ দেখাননি রোহিঙ্গারা।

    পরবর্তীতে ৮ মে সন্ধ্যায়, তাদের ছোট রাবার নৌকায় করে সমুদ্রে নামানো হয়। হাতে লাইফ জ্যাকেট থাকলেও, তারা জানে না, আসলে তারা মিয়ানমারে ছিলেন। পরের দিন, স্থানীয় জেলেরা তাদের খুঁজে পায়। তারা তাদের ফোন ব্যবহারের অনুমতি দেয়, এবং তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। এরপর, বৌদ্ধরাই তাদের খাদ্য ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে। ভারতে থাকা পরিবারের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন।

    জনস্বার্থে, জাতিসংঘের প্রতিনিধি অ্যান্ড্রুজ বলেন, রোহিঙ্গারা ভারতে থাকতে চায়নি। তারা এসেছে মিয়ানমারের ভয়ঙ্কর সংঘর্ষ ও নিপীড়নে বেড়িয়ে, প্রাণ বাঁচাতে।