ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাভা প্রদেশের পশ্চিম বানদুং অঞ্চলে ভয়াবহ ভূমিধসে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এই মারাত্মক প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ৮২ জন।স্থানীয় সময় শনিবার (২৪ জানুয়ারি) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই घटनাটি ঘটেছে শুক্রবার ভোররাত ২টার দিকে পাসিরলাঙ্গু গ্রামে। স্থানীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার মুখপাত্র আব্দুল মুহারি জানিয়েছেন, নিখোঁজ ব্যক্তিদের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে, তাই উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হচ্ছে।সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ভারী বর্ষণের কারণে পাসিরলাঙ্গুসহ আশপাশের এলাকা প্লাবিত হয়। ফলে ধসের শিকার এলাকাগুলোর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নিখোঁজ ও নিহতের সংখ্যা নিরূপণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলো থেকে মানুষকে দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন, কারণ আরও প্রানহানির আশঙ্কা রয়েছে।এলাকার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ৩০ হেক্টর (প্রায় ৭৪ একর)। আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, কম্পাস সংবাদমাধ্যমের সূত্রে জানা গেছে যে, ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পরিমাণ খুবই ব্যাপক। এর পাশাপাশি, ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া সংস্থা পূর্বাভাস দিয়েছে যে, আগামী এক সপ্তাহ জোড়া ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলতে পারে।
Author: bangladiganta
-

ফরিদপুরে বাস-ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় একটি ভয়াবহ বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত এবং অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনা ঘটে শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ভাঙ্গা প্রাণিসম্পদ অফিসের সামনে।
নিহতরা হলেন, ফরিদপুর সদর উপজেলার ধলার মোড় এলাকার শেখ মজিদের ছেলে নবীন শেখ (২২) এবং ট্রাকের হেলপার রাশেদ (৩০)। এই ব্যক্তিদের বিস্তারিত ঠিকানা এখনো জানা যায়নি।
প্রথমিক তদন্তে জানা গেছে, বরিশাল থেকে ছেড়ে আসা কুষ্টিয়াগামী লিজা পরিবহনের একটি বাস ও একটি ইটভাটার ট্রাকের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এই দুর্ঘটনায় ট্রাকের হেলপার ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান, এবং গুরুতর আহত হন ট্রাকের চালকও বাসের অনেক যাত্রী। আহতের সংখ্যা এখন ১৫ জনের বেশি বলে জানানো হয়েছে।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ওসি হেলাল উদ্দিন জানান, এই ভয়াবহ সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে ট্রাকের হেলপার নিহত হন, পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ট্রাকের চালক মারা যান। এখন এই ঘটনায় প্রাসঙ্গিক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান।
-

সদর দপ্তরের কড়া নির্দেশ: ইউনিট প্রধানরা ছাড়া ছাড়বেন না কেন্দ্রীয় কর্মস্থল
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে, অগ্রিম অনুমতি ছাড়া কোনো ইউনিট প্রধানকে কর্মস্থল ত্যাগ করা শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসাবে ধরা হবে। এটি নিশ্চিত করতে পার্সোনাল ম্যানেজমেন্ট-১ শাখার অতিরিক্ত ডিআইজি খন্দকার শামিমা ইয়াছমিন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে কড়াকড়ি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে কোনো কোনো ইউনিট প্রধান পুলিশ সদর দপ্তরের পূর্বানুমতি ছাড়া তাদের কক্ষে বা প্রতিষ্ঠিত কর্মস্থল ত্যাগ করছেন, যা শৃঙ্খলা পরিপন্থী। তাই ছুটি বা অন্য কোনো কোনও ব্যক্তিগত বা শ অফিসগত কারণে কর্মস্থল ছাড়ার আগে অবশ্যই আইজিপির (ইন্সপেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ) পূর্বানুমতি নিতে হবে বলে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এই নির্দেশনা ডিএমপি কমিশনার, র্যাব মহাপরিচালক, বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ইউনিটের প্রধান, সকল রেঞ্জের ডিআইজি, মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার এবং দেশের প্রতিটি জেলার পুলিশ সুপারদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, বাহিনীর শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীল কার্যক্রম বজায় রাখার জন্য ইউনিট প্রধানদের যথাযোগ্যভাবে আচরণ করা জরুরি। ভবিষ্যতে নির্দেশনা অমান্য করে কর্মস্থল ত্যাগ করলে তাকে শৃঙ্খলাভঙ্গ মনে করে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আরও বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বৃহস্পতিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়েছে। এই حساس সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষভাবে নির্দেশনা দিয়ে বলা হয়েছে যে, নির্বাচনের শেষ পর্যায় পর্যন্ত পুলিশের সব ইউনিট প্রধানদের কর্মস্থল ত্যাগ না করতে হবে।
-

মসজিদের নামে রাস্তায় বা যানবাহনে চাঁদা তোলা নিষিদ্ধ
অর্থসাহায্য আসতে পারবে — কিন্তু রাস্তায় চাঁদা তোলা যাবে না। গত ২১ জানুয়ারি অন্তর্বতী সরকার ‘মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ২০২৫’ গেজেট আকারে প্রকাশ করে। নীতিমালায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে মসজিদ নির্মাণ ও পরিচালনার খরচ জনগণের স্বেচ্ছায় দেওয়া দান, অনুদান, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বিদেশি সংস্থা বা অন্য কোনো বৈধ উৎস থেকে বা্থিকভাবে নির্বাহ করা যাবে। তবে যানবাহন ও রাস্তাঘাটে চাঁদা আদায় করা, উত্তোলন করা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগটি আসে ২০২৪ সালের ২৬ জানুয়ারি এক জাতীয় সংসদের বৈঠকের সময় তৎকালীন ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির পরিপ্রেক্ষিতে। ধর্ম মন্ত্রণালয় বলছে, দেশের মসজিদগুলো সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ ও সমন্বিতভাবে পরিচালিত হওয়া জরুরি—এমন লক্ষ্য থেকেই এই নীতিমালা আনা হয়েছে।
মসজিদ নির্মাণ সংক্রান্ত প্রধান বিধানগুলো
নীতিমালায় বলা হয়েছে, মসজিদ নির্মাণ করতে হবে শারিয়াহ সম্মত স্থানে এবং সেসব জমিতে যেখানে মসজিদের নামে ওয়াকফ, দান, ক্রয়কৃত বা আইন অনুযায়ী যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বরাদ্দকৃত জমি রয়েছে। এই নিয়ম লঙ্ঘন করে যেখানেই মসজিদ তৈরি করা হবে, সেই মসজিদকে উচ্ছেদ করা হবে এবং নির্মাণে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের আইন শাখা জানিয়েছে, শারীয়ত সংক্রান্ত শর্ত পূরণ না করা বা ওয়াকফ/অনুমোদন বহির্ভূত জমিকে ‘অবৈধ’ মনে করা হবে। সরকারের অনুমতি ছাড়া কোনো ব্যক্তিগত বা অন্যান্য ধরনের সম্পত্তিতে মসজিদ করা যাবে না।
নারীদের জন্য পৃথক ব্যবস্থাসহ সামাজিক নিয়ম
নীতিমালায় নারীদের জন্য আলাদা সালাতের কক্ষ বা স্থান ব্যাবস্থার কথাও বলা হয়েছে। মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটি—শরীয়ত সম্মতভাবে—নারীদের জন্য পৃথক সমতল বা কক্ষ করে দেবে যাতে তারা শান্তিতে নামাজ আদায় করতে পারেন।
রাজনীতি ও মসজিদ কর্মী
নীতিমালায় নির্ধারিত হয়েছে, মসজিদে কর্মরতরা কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। এই বিধান মসজিদকে অরাজনৈতিক রাখতে ও সামাজিক একতা রক্ষা করতে সাহায্য করবে।
অরাজনৈতিক ধর্মীয় প্রাসঙ্গিক কর্মসূচি
মসজিদে অরাজনৈতিক দ্বীনি দাওয়াত, তাবলিগের মত ধর্মীয় কার্যক্রম এবং নিয়মিত ওয়াজ পরিচালনা করা যাবে—তবে তা মসজিদের ভেতরে এমন একটি পৃথক স্থানে মাত্রা ও নিয়ম মেনে করা হবে যাতে মসজিদের সালাতকারীদের নামাজ বিঘ্নিত না হয়। এই ব্যবস্থার তদারকিতে সাধারণ সম্পাদক ও মসজিদ কমিটি সমন্বয় করবেন।
ইমামদের দায়িত্ব ও বেতন কাঠামো
নীতিমালায় পেশাদার ইমামদের কাজের পরিধি নির্ধারণ করা হয়েছে—তাফসির, দারুল কোরআন, দারুল হাদিস ও ওয়াজ পরিচালনা করার সুযোগ থাকবে এবং কমিটির সহযোগিতায় এগুলো নিয়মিত চালানো যাবে।
বেতনের ক্ষেত্রে পেশাদার ইমাম ও অন্যান্য কর্মীদের জন্য জাতীয় বেতন স্কেলের নির্দিষ্ট গ্রেড উল্লেখ করা হয়েছে। সিনিয়র পেশাদার ইমাম পাবেন ২০১৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেলের ৫ম গ্রেড অনুযায়ী বেতন; পেশ ইমাম ৬ষ্ঠ গ্রেড; ইমাম ৯ম গ্রেড; প্রধান মুয়াজ্জিন ১০ম গ্রেড; মুয়াজ্জিন ১১তম গ্রেড; প্রধান খাদিম ১৫তম গ্রেড। নিরাপত্তা প্রহরী (দিবা/নৈশ) ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা তেন-ভাতা পাবেন ২০তম গ্রেড অনুযায়ী। আর্থিকভাবে অসচ্ছল বা পঞ্জেগানা মসজিদে করণীয় সামর্থ্য অনুসারে বেতন নির্ধারণ করা যাবে। এই কাঠামো সরকার কর্তৃক জারিকৃত জাতীয় বেতন স্কেলের পরিবর্তনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে আপডেট হবে।
কমিটি ও সময়সীমা
প্রতি মসজিদে ‘মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটি’ থাকবে। সরকারি বা বেসরকারি সংস্থা পরিচালিত মসজিদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংস্থা কমিটি নিয়োগ করবে; সাধারণ মসজিদে কমিটি নির্বাচন করবে মসজিদের মুসল্লিরা। কমিটির মেয়াদ থাকবে তিন বছর; যুক্তিসঙ্গত কারণে এক বছর পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে।
অবৈধ মসজিদ উচ্ছেদ ও আইনগত পদক্ষেপ
অবৈধ স্থানে নির্মিত মসজিদ উচ্ছেদের প্রসঙ্গে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আ.ফ.ম. খালিদ হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘অবৈধ জায়গায় মসজিদ নির্মাণ হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তা উচ্ছেদ করা হবে। ব্যক্তিগতভাবে কেউ উচ্ছেদ করলে তা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘কেউ বন বিভাগের জায়গা, রেলের জায়গা বা অন্য কারও সম্পত্তিতে মসজিদ করে দিলো—এইটা গ্রহণযোগ্য নয়। জমির মালিকানার ব্যাপারে স্পষ্ট না থাকলে সামাজিক সংঘর্ষও দেখা দিতে পারে।’’
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (সংস্থা ও আইন অনুবিভাগ) মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘‘শরিয়াহ সম্মত স্থানে মসজিদ করা না হলে এবং যদি কোনো মসজিদ অবৈধ স্থানে নির্মিত হয়, তাহলে দক্ষ কর্তৃপক্ষ সেটি উচ্ছেদ করতে পারবে; যে কেউ নিজে উচ্ছেদ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে পারে। নির্মাণকারী সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’’
মোটকথা, নতুন নীতিমালা মসজিদের আর্থিক স্বচ্ছতা, প্রশাসনিক নিয়ম ও সামাজিক সমন্বয় নিশ্চিত করতে উদ্দীপ্ত—সাথে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজির মতো অনৈতিক প্রথা বন্ধ করার কঠিন বার্তাও দিয়েছে।
-

কেরানীগঞ্জে বিএনপি নেতা হাসান মোল্লাকে গুলি: মির্জা ফখরুলের তীব্র উদ্বেগ ও নিন্দা
কেরানীগঞ্জে বিএনপির নেতা হাসান মোল্লাকে গুলি করে আহত করার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার দুপুরে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি ঘটনায় দ্রুত ও নিষ্ঠার সঙ্গে তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান এবং এ ধরনের হামলা শুরু করে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ব্যাহত করার চেষ্টা চলছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর আওয়ামী স্বৈরাচারী শাসকগোষ্ঠীর পতনের পর ঘাপটি মেরে থাকা দুষ্কৃতকারীরা আবারও দেশের অস্থিতিশীলতাসহ নানা ধরনের অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘হাসান মোল্লার হামলাকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই; তা না হলে তারা আরও ভয়াবহ নাশকতা পালন করতে পারে।’’
বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, মানুষের ভোটের অধিকার রক্ষা এবং জনজীবন-সম্পত্তি সুরক্ষায় দল-মত নির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তিনি আইনশৃঙ্খলার অবনতিশীল পরিস্থিতি দ্রুত সেরে তোলা এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে সরকারের ভয়ের অবস্থা শূন্য করে তোলার গুরুত্বও তুলে ধরেন।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাত প্রায় ৯টার দিকে ঢাকার কেরানীগঞ্জে উপজেলার হযরতপুর ইউনিয়নে দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপি নেতা হাসান মোল্লাকে (৪২) গুলি করা হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং হামলার কারণ ও দায়ীদের দ্রুত বের করে আনার দাবি উঠেছে।
-

প্রচারণার দ্বিতীয় দিনে ভোটময় উত্তেজনা: অভিযোগ, হামলা ও অসহিষ্ণুতা বাড়ছে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণার দ্বিতীয় দিনে রাজধানীর অলিগলি থেকে জেলা শহর পর্যন্ত রাজনৈতিক পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) শীর্ষ রাজনৈতিক নেতারা দলীয় জনসভায় একে অপরের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ করেছেন এবং একই দিনের কয়েকটি সহিংসতায় ভোটপ্রক্রিয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ আরও বাড়েছে।
তারেক রহমানের জনসভা
বিএনপি চেয়ারম্যান ও ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী তারেক রহমান সন্ধ্যায় ভাসানটেকের বিআরবি স্কুল মাঠে বিশাল নির্বাচনি জনসভায় অংশ নেন। তিনি সেখানে বলেন, ‘‘দেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত সরকার অপরিহার্য। গত ১৫ বছরে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে ‘ডামি’ নির্বাচন করা হয়েছে; এবার জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার সময় এসেছে।’’ তিনি সরাসরি ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে এলাকায় গৃহহীনদের পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতি দেন।
জামায়াতের উত্তর সফর
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান উত্তরাঞ্চলে ব্যস্ত সময় কাটান। পঞ্চগড় চিনিকল মাঠে জনসভা করে তিনি দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁওয়ে সমাবেশে অংশ নেন। দিনাজপুরে তিনি বিএনপিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘‘আমরা চাঁদাবাজি করি না এবং করতে দেবো না। অর্থের বিনিময়ে বিচার কেনা যাবে না; আইন সবার জন্য সমান হবে।’’ একই সময়ে খুলনায় জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার তারেক রহমানের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন।
কেরানীগঞ্জে গুলির ঘটনায় উদ্বেগ
গত রাতে কেরানীগঞ্জে নির্বাচনি কার্যালয়ের পাশে হযরতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসান মোল্লাকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। গুরুতর অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক বিবৃতিতে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘‘নির্বাচন বানচাল করতে একটি বিশেষ গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে এই গুপ্ত হামলা চালাচ্ছে।’’
নারায়ণগঞ্জে ইসলামী আন্দোলনের কথা
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির (চরমোনাই পীর) মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম ফতুল্লার ফাজেলপুরের জনসভায় বলেন, ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিমুক্ত করার সুযোগ এসেছে। তিনি জানান, তারা প্রথমে পাঁচ দল ও পরে আট দলে গঠনের মাধ্যমে ইসলামের আদর্শ বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছেন, তবে কিছু দল এককভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে এবং শরিয়া অনুযায়ী দেশ পরিচালনার আশ্বাস রেখে জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করছে। (নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের প্রার্থী মুফতি ইসমাইল সিরাজীর সমর্থনে এসব বক্তব্য বলা হয়েছে।)
আক্রমণ ও উত্তেজনা: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
ঢাকা-৮ আসনের ১০ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী গণসংযোগে গেলে একটি ভবনের ওপরে থেকে অননুমোদিত ব্যক্তি একে লক্ষ্য করে ডিম ও নোংরা পানি নিক্ষেপ করেন। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। পাটওয়ারী তার কর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান।
নাহিদ ইসলামের হুঙ্কার
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনের ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী নাহিদ ইসলাম বাড্ডার বাঁশতলা এলাকায় সমাবেশে বলেন, ‘‘১০ দলীয় জোটের গণজোয়ার দেখে একটি বড় দল ভয় পেয়েছে এবং বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।’’ তিনি চাঁদাবাজি ও ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে প্রতিহত করার কথা বলেন।
বাক্যযুদ্ধে বিএনপি-জামায়াত
নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের মধ্যে তীব্র বাক্যযুদ্ধ চলছে। ঢাকা-৭ এলাকার বিএনপি প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন একটি সভায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘‘বিএনপি চাইলে ঢাকায় জামায়াত-শিবিরকে রাস্তায় নামতে দেওয়া হবে না।’’
অন্যদিকে খুলনায় জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বিদেশে থাকা কোনো ব্যক্তির বক্তব্যকে তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘‘লন্ডন থেকে কোনো ব্যক্তি আমাদেরকে কুফরি ফতোয়া দিচ্ছেন—এটি অত্যন্ত বাড়াবাড়ি।’’ কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বিএনপি ঘোষিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’কে সমালোচনা করে বলেন, ‘‘কেউ ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে যদি বাসায় যায়, তাকে আটকে রাখার মত পরিস্থিতি তৈরি করবেন না।’’
প্রচারণার তৃতীয় দিনে পরিস্থিতির ওপর সাধারণ মানুষের উদ্বেগ থাকতে পারে। রাজনৈতিক দলগুলোর তীব্র সমালোচনা ও স্থানেম 경ে ঘটে যাওয়া সহিংসতার ঘটনায় নির্বাচন শৃঙ্খলা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক থাকার আহ্বান রয়েছে।
-

সোনার ভরি ছাড়ালো ২ লাখ ৫০ হাজার, দেশে রেকর্ড দাম
একদিনের ব্যবধানে আবারও সোনার দর বাড়ানোর ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। সর্বোচ্চ হিসেবে প্রতি ভরিতে দাম ৮,৩৪০ টাকা বাড়ার পর ভালো মানের সোনার দাম দুই লাখ ৫২ হাজার টাকাকে ছাড়িয়ে গেছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
বাজুস বুধবার (২১ জানুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এই বাড়তি দর ঘোষণা করেছে এবং নতুন দাম আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে বলেছে। সংগঠনটি জানায়, বৈশ্বিক বাজারে শুদ্ধ সোনার দাম বাড়ায় স্থানীয় বাজারেও মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দর বাড়ে—প্রতি আউন্সের দাম ৪,৮০০ ডলার ছাড়িয়েছে।
নতুন তালিকায় সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরির দাম ২,৫২,৪৬৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২১ ক্যারেট প্রতি ভরি ২,৪০,৯৭৮ টাকা, ১৮ ক্যারেট প্রতি ভরি ২,০৬,৫৬৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১,৬৯,৬৫৩ টাকা করা হয়েছে।
সোনার সঙ্গে রুপার দামে ও বৃদ্ধি হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ধরা হয়েছে ৬,৮৮২ টাকা; ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৬,৫৩২ টাকা; ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫,৫৯৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৪,২০০ টাকা।
গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন এই দর আগামীকাল থেকে প্রযোজ্য হবে, তাই সোনা বা রুপা ক্রয়ের পরিকল্পনা থাকলে তা মাথায় রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বাজার সংশ্লিষ্টরা।
-

ইতিহাসের সর্বোচ্চ: প্রতি ভরি সোনার দাম দুই লাখ ৪৪ হাজার ১২৮ টাকা
বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) জানিয়েছে, দেশের স্বর্ণবাজারে রেকর্ড পর্যায়ের দাম ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৫,২৪৯ টাকা বেড়ে ভালো মানের সোনার দাম দুই লাখ ৪৪ হাজার ১২৮ টাকায় পৌঁছেছে — এটি দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সোনার মূল্য।
বাজুস মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানায়। নতুন এই মূল্য ২১ জানুয়ারি বুধবার থেকে কার্যকর হবে। সংগঠনটি জানিয়েছে, বৈশ্বিক বাজারে তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার দর বাড়ায় স্থানীয় বাজারে দাম বাড়তে বাধ্য হয়েছে।
গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি-র মতো আন্তর্জাতিক পোর্টালের তথ্যমতে, বৈশ্বিক বাজারে স্বর্ণের দামও চড়া। প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৪,৭৪৫ ডলারের ওপরের দিকে উঠেছে, যা স্থানীয় মূল্যে প্রভাব ফেলেছে।
নতুন তালিকার অনুযায়ী ২২ ক্যারেটের সবচেয়ে ভালো মানের এক ভরির দাম হয়েছে দুই লাখ ৪৪ হাজার ১২৮ টাকা। অন্যান্য মানের সোনার নতুন দামগুলো হলো: ২১ ক্যারেট প্রতি ভরি দুই লাখ ৩২ হাজার ৯৮৮ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট প্রতি ভরি এক লাখ ৯৯ হাজার ৭৪৬ টাকা। সনাতনী পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৬৩ হাজার ৮২১ টাকা।
সোনার দামের সঙ্গে রূপার দামেও বাড়তি পর্যবেক্ষণ দেখা গেছে। ২২ ক্যারেট রূপার এক ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা। অন্য রকমের রূপার দামগুলো হলো: ২১ ক্যারেট প্রতি ভরি ৫ হাজার ২৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেট প্রতি ভরি ৫ হাজার ৪২৪ টাকা এবং সনাতনী পদ্ধতির প্রতি ভরি রূপার দাম ৪ হাজার ৮২ টাকা।
মোটকথা, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের চড়া দরই কেজিডেভাইস হিসেবে স্থানীয় বাজারে এই দাম বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। রেকর্ড এই মূল্যে কেনাবেচা ও বাজার প্রভাব কেমন হবে, তা আগামী সময়ে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
-

যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে ডব্লিউএইচও থেকে বেরিয়ে গেল
জাতিসংঘের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বেরিয়ে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির মানবিক ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার জানিয়েছে যে সংগঠনের সঙ্গে বিচ্ছেদের সব ধাপ সম্পন্ন করা হয়েছে।
এটি ছিল লাখ বছরের পুরনো রাজনৈতিক লক্ষ্য—প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে ডব্লিউএইচও থেকে বেরোতেই চেয়েছেন। প্রথম প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরে তিনি একবার সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তখন তা সফল হয়নি। তবে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই তিনি এ বিষয়ে নির্বাহী আদেশ জারি করেন, যা আইনিভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে সংস্থা থেকে বের হওয়ার পথে এগিয়ে দিয়েছে।
আইন অনুযায়ী ডব্লিউএইচও থেকে বের হওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে এক বছরের নোটিশ দেওয়া এবং সংগঠনের কোঠাগুলো পরিশোধ করে নেওয়ার শর্ত মেনে চলতে হতো। এখনও সংস্থার কাছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২৬০ মিলিয়ন ডলার বাকি আছে।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র হয়ত এই টাকা পরিশোধ নাও করতে পারে। ডব্লিউএইচওর এক কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছেন যে পাওনা না গেলে আনুষ্ঠানিকভাবে বের হওয়া সমস্যাগ্রস্ত হবে; আইনগত দিক থেকে এটি ঠিকভাবে সম্পন্ন না হলে কোনো রকম বৈধতা মিলবে না। তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে সংগঠনের হাতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ওই অর্থ আদায়ের শক্ত করে কোনো গ্রহণযোগ্য উপায় নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ডব্লিউএইচওকে দেওয়া সকল সরকারি তহবিল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং সেখানে কর্মরত বা দায়িত্বপ্রাপ্ত সমস্ত কর্মী ও ঠিকাদারদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন কমিটি, পরিচালনা পর্ষদ, শাসন কাঠামো এবং কারিগরি ওয়ার্কিং গ্রুপে তার আনুষ্ঠানিক অংশগ্রহণও বাতিল করেছে।
সূত্র: সিএনএন।
-

ভারতে ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে মুসলিম শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যা
আগামী টুয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের চারটি ম্যাচ খেলতে ভারতের মাটিতে যাওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশ দলকে। কিন্তু নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ তুলে বিসিবি mehrfachবার আইসিসিকে চিঠি পাঠিয়ে নিজেরা ম্যাচ স্থানান্তর করার অনুরোধ করে। দীর্ঘ আলোচনার পরও আইসিসি থেকে প্রত্যাশিত সাড়া না পেয়ে বাংলাদেশ দল শেষ পর্যন্ত ভারতে গিয়ে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও বাংলাদেশের নাম প্রত্যাহার করা না হলেও প্রাকটিক্যালভাবে এই বিশ্বকাপে বাংলাদেশের খেলার সম্ভাব্যতা অত্যন্ত কম—এমনটি বলেছেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফারুকী লিখেছেন, ভারতে পাকিস্তান ও ভারতের খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ নেওয়া হলেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আইসিসির অবস্থান ভিন্ন ছিল। তিনি আরও বলেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতে ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহ প্রমাণ করে মানুষকে পিটিয়ে হত্যার খবর প্রকাশ পেয়েছে। ঠিক বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গে জন্মভূমি থাকা এক মুসলিম শ্রমিক মনজুর আলম লস্করকে বাংলাদেশি সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া জানায়—এই ঘটনার কথাই তিনি উদাহরণ হিসেবে টেনেছেন।
বিশ্বকাপ ইস্যুর সূচনা মূলত আইপিএল থেকে মুস্তাফিজকে বাদ দেয়ার ঘটনায়। ভারতের কিছু উগ্র হিন্দু নেতার হুমকির পর নিরাপত্তাজনিত কারণে মুস্তাফিজকে আইপিএল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল—এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই বিসিবি পরে ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলায় নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলেছিল। ফারুকী বলেছেন, এসব ঘটনা যদি দীর্ঘদিন ধরে চালানো বাংলাদেশবিরোধী ঘৃণা প্রচারণার অংশ হিসেবে দেখা যায়, যার ফলশ্রুতিতে মুস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তাহলে ভারতীয় মাটিতে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাস্তব ও গুরুতর বলে মানতে হবে।
টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগণার এক মুসলিম শ্রমিককে অন্ধ্রপ্রদেশে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের নাম মনজুর আলম লস্কর, বয়স ৩২। তিনি উস্থি থানার রাঙ্গিলাবাদ গ্রামের বিষ্ণুপুরের বাসিন্দা ছিলেন এবং প্রায় এক দশক ধরে অন্ধ্রপ্রদেশের কোমারোলুতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন। পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন সেখানে থাকা সত্ত্বেও স্থানীয়রা তাকে বারবার ‘বাংলাদেশি’ আখ্যা দিয়ে হুমকি দিয়ে আসছিল। একপর্যায়ে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়—প্রথমে ২৫ হাজার রুপি দাবি করা হলেও পরে স্ত্রীকে অজানা নম্বর থেকে কল করে ৬ হাজার রুপি পাঠাতে বলা হয়। পরিবারের পাঠানো ৬ হাজার রুপির পরে বুধবার রাতে জানানো হয় যে মনজুরকে হত্যা করা হয়েছে।
মনজুরের বড় ভাই গিয়াসউদ্দিন লস্কর, যিনি রাঙ্গিলাবাদ গ্রামের পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান ও তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা, অভিযোগ করেছেন হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত এবং হিন্দুত্ববাদী উগ্রবাদীদের দ্বারা সংঘটিত। তিনি বলছেন, যে অজ্ঞাত ব্যক্তি ফোন করেছিল এবং তার সহযোগীরাই তার ভাইকে হত্যা করেছে। নিহতের পরিবার পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে অনুরোধ করেছেন অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার ও কেন্দ্রীয় স্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে ঘটনার পূর্ণ তদন্ত ও দোষীদের গ্রেফতার করতে সাহায্য করার।
টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার খবর অনুসারে, গত ডিসেম্বরের শেষ থেকে পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও রহস্যজনক মৃত্যুর একটি ধারাবাহিকতা লক্ষ্য করা গেছে। উশতির তৃণমূল নেতৃত্ব এটিকে পরিকল্পিত সন্ত্রাস বলে আখ্যা দিয়েছে এবং অভিযোগ করেছে যে বিজেপি বা তাদের মিত্র শাসিত রাজ্যগুলো এই তৎপরতা পরিচালনা করছে যাতে সংখ্যালঘু বাঙালি ভাষাভাষীদের চলাচল আতঙ্কিত করা যায়। তৃণমূল এক বিবৃতিতে কেন্দ্রীয় সরকারকে কঠোরভাবে সমালোচনা করে বলেছে, পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্র ব্যর্থ হয়েছে।
ঘটনার খবরে টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবার ও স্থানীয় নেতারা দায়ীদের দ্রুত গ্রেফতার ও যথাযথ তদন্তের দাবি করেছেন, আর এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগ আরও জোরালো হচ্ছে।
