Author: bangladiganta

  • যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের পরিবারের মধ্যে কলহ, স্ত্রীসহ চারজনকে গুলি করে হত্যা

    যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের পরিবারের মধ্যে কলহ, স্ত্রীসহ চারজনকে গুলি করে হত্যা

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে পারিবারিক বিরোধের জেরে এক ভারতীয় স্বামী-স্ত্রীসহ চারজন আত্মীয়কে গুলি করে হত্যা করেছেন। এ ঘটনা হয়েছে আটলান্টার কাছাকাছি লরেন্সভিল শহরের এক বাড়িতে, যার খবর ভারতের মিশনের মাধ্যমে এনডিটিভির প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে।

    স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যে জানা যায়, ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার ভোরে। রাতের অন্ধকারে ওই বাড়িতে অন্ধকারের মধ্যে গুলির ঘটনা ঘটে, যেখানে চারজন নিহত হন। এ সময় ওই বাড়িতে তিনটি শিশু উপস্থিত ছিল, যারা নিজেদের রক্ষায় এক আলমারির ভেতরে লুকিয়ে পড়েছিল।

    স্থানীয় পুলিশ ও তদন্তকারী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বলা হচ্ছে অভিযুক্তের নাম বিজয় কুমার (৫১), তিনি আস্থান্তার বাসিন্দা। গুলির ঘটনায় চারজন নিহত হন, তারা হলেন অভিযুক্তের স্ত্রী মীমু ডোগরা (৪৩), তাঁর ভাই গৌরব কুমার (৩৩), নিধি চন্দর (৩৭) ও হরিশ চন্দর (৩৮)।

    অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে চারটি গুরুতর হামলার (অ্যাগ্রাভেটেড অ্যাসাল্ট), চারটি হত্যার (ফেলনি মার্ডার), চারটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হত্যার (ম্যালিস মার্ডার) এবং শিশুদের প্রতি নিষ্ঠুরতার অভিযোগ।

    প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, শুক্রবার ভোর আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটের দিকে ব্রুক আইভি কোর্টের ১০০০ ব্লকে ফোনকল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বাড়ির ভিতরে গিয়ে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে, যারা সবাই গুলিবিদ্ধ। পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ওই সময় বাড়িতে তিনটি শিশু ছিল, যারা নিজেদের রক্ষা করতে আলমারির নিচে লুকিয়ে পড়ে।

    শিশুরা একটির মাধ্যমে জরুরি সেবা ৯১১-এ কল করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়, যার ফলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে। ভবন ও পরিস্থিতি দেখে মনে হয়, শিশুগুলোর কোনও আহত হওয়ার তথ্য নেই, পরে পরিবারের একজন সদস্য তাদের উদ্ধার করেন।

    অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পরিচালিত তদন্ত আরম্ভ হয়েছে, এ ঘটনায় পরিবার ও বন্ধুবান্ধব শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি সব ধরনের সহায়তা দেয়া হচ্ছে।

  • যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে বেরিয়ে গেল

    যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে বেরিয়ে গেল

    জাতিসংঘের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির মানবিক ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বুধবার স্থানীয় সময় নিশ্চিত করেছে, সব ধরনের কার্যক্রম পুরোপুরি সম্পন্ন হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের এক পরিকল্পনা ছিল, তিনি চেয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্র ডব্লিউএইচও থেকে বেরিয়ে যেতে। প্রথমবারের মতো তিনি প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরই এই সংস্থাসহ সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তখন তা সফল হয়নি। তবে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনে, তিনি নির্বাহী আদেশে এ সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেন। এতে করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়, যেখানে বের হওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই এক বছর আগে নোটিশ দেওয়া এবং সব পাওনা পরিশোধের শর্ত ছিল। এখনও পর্যন্ত, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে মার্কিন সরকারের নামে ২৬০ মিলিয়ন ডলার অর্থের বকেয়া রয়েছে, যদিও আইনজ্ঞরা মনে করেন, হয়তো এই অর্থ তারা শিগগিরই পরিশোধ করবে না। সংস্থাটির একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যতক্ষণ না যুক্তরাষ্ট্র এই অর্থ পরিশোধ করে, ততক্ষণ দেশের অবস্থান পরিবর্তন সম্ভব নয়। আইন অনুযায়ী, এটি সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা কম। অন্যদিকে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সব ধরনের অর্থায়ন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং তাদের সংস্থায় কর্মরত বা দায়ীত্বরত সবাইকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। পাশাপাশি, সংস্থার বিভিন্ন কমিটি, পরিচালনা পর্ষদ, শাসন কাঠামো ও কারিগরি দলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অংশগ্রহণ আর থাকছে না। এই খবরের সূত্র: সিএনএন।

  • সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে এগোতে হবে রাষ্ট্রের পুনর্গঠন ও মেরামতের জন্য

    সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে এগোতে হবে রাষ্ট্রের পুনর্গঠন ও মেরামতের জন্য

    খুলনা-২ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ব্যাপক নির্বাচনী প্রচারণা ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, দেশের গণতন্ত্রকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা, জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনা এবং একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র গঠনের জন্য সব ধর্মের মানুষকে একত্রে দাঁড়াতে হবে। মুসলমান, হিন্দু, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ ধর্মের মানুষরা হাজার বছর ধরে এ দেশে শান্তিপূর্ণভাবে বাস করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও এ শান্তিপূর্ণ পরিবেশ অব্যাহত রাখতে হবে। তবে গত ১৫ বছরে জনগণ ভোট দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। আন্দোলন, সংগ্রাম ও শহীদদের ত্যাগের মাধ্যমে এ দেশের ভোটাধিকার ফিরে পাওয়া গেছে, যা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি যথাযথভাবে ব্যবহার করতে হবে।

    গতকাল শুক্রবার সকালে খুলনা নিউ মার্কেট কাঁচাবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করেন প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু। এ সময় তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর দেশের জন্য তাদের লড়াই চালিয়েছেন, দেশের ইতিহাসে জনপ্রিয় তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এবং বর্তমান বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে চলমান আন্দোলন সংগ্রাম দীর্ঘ সময়ের। মূল লক্ষ্য ছিল মানুষের ভোটের অধিকার আবারো প্রতিষ্ঠা করা এবং জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠা করা। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে একটি অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের প্রত্যাশা রচনা করেছেন। এই নির্বাচনের সাফল্য দেশের গণতন্ত্রের স্থায়িত্বের জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত বলে তিনি মনে করেন।

    শোকার্ত শহরতলির শঙ্খ মার্কেট এলাকায় রিকশা-ভ্যান শ্রমিক দলের একটি নির্বাচনী সভায় সভাপতিত্ব করেন হোসেন ইমাম চৌধুরী পল্টু এবং পরিচালনা করেন খন্দকার আইয়ুব আলী। সেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। নগর বিএনপি সভাপতি এড. শফিকুল ইসলাম মনা উপস্থিত ছিলেন সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে। এছাড়াও অন্যান্য নেতৃবৃন্দরা তাদের বক্তব্যে লড়াই এবং দেশের উন্নয়নে জনগণের অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

    বেলাতে বাদ মাগরিব, খুলনা-২ এর ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব বানিয়াখামার এলাকায় খাদেমুল ইসলাম মাদ্রাসার সামনে বালুর মাঠে নির্বাচনীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ওয়ার্ড বিএনপি নেতা হাসান মেহেদী রিজভী। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। সভায় বক্তব্য দেন খুলনা মহানগর বিএনপি সভাপতি এড. এস এম শফিকুল আলম মনা ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

    দৈনিক দিনব্যাপী নির্বাচনী গণসংযোগে বিভিন্ন স্থান odw উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপু, শের আলম সান্টু, মাহবুব হাসান পিয়ারু, একরামুল হক হেলাল, কে এম হুমায়ুন কবির, নিয়াজ আহমেদ তুহিন, কামরান হাসান, মহিবুল্লাহ শামীম, এড. হালিমা আক্তার, আব্দুর জব্বার, মেশকাত আলী, রিয়াজুর রহমান, মোস্তাফিজুর রহমান বাবলু, জাকারিয়া লিটন, মাজেদা খাতুন, মোফাজ্জেল হোসেন ও আরও অগণিত নেতাকর্মী। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের উন্নয়নে সকল ধর্মের মানুষের ঐক্য ও অংশগ্রহণ অপরিহার্য এবং সকলে একসঙ্গে এগিয়ে গেলে দেশের আরও সমৃদ্ধ ভবিষ্যত রচনা সম্ভব হতে পারে।

  • রাজনৈতিক নিপীড়নের শেষের পথে ভোটের বিকল্প নেই

    রাজনৈতিক নিপীড়নের শেষের পথে ভোটের বিকল্প নেই

    সম্প্রতিক রাজনৈতিক মন্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব মোঃ মঈনুল ইসলাম বলেছেন, একটি বড় রাজনৈতিক দলের নেতা জামায়াতকে কুফুরি ও শিরকের সঙ্গে তুলনা করে যে দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অজ্ঞতাপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন, তা শুধু রাজনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন নয়, বরং ইসলামের মৌলিক শিক্ষার সরাসরি অবমাননা। দুঃশাসন, দুর্নীতি ও রাজনৈতিক নিপীড়নের নিরন্তর কার্যকলাপের অবসান ঘটানোর জন্য দাড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার কোন বিকল্প নেই—এমনটাই তিনি উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, দেশে অর্থনীতিতে প্রকাশ্য লুটপাট, বিচারব্যবস্থাকে দলীয় কারবারে পরিণত করা, হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার, এবং ভিন্ন মত প্রকাশের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সহিংসতা চালিয়ে দেশকে এক ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করেছে বর্তমান শাসন ব্যবস্থা। এই ধ্বংসাত্মক বাস্তবতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ আজ ১০ দলের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। গতকাল শুক্রবার সকালেঃ ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলায় একাধিক গণসংযোগ ও পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

    ডুমুরিয়া উপজেলার গুটুদিয়া ইউনিয়নের আরাফাত আবাসিক এলাকা, আল আকসা, ফলইমারা, শিবপুর, বাদুরগাছা এলাকায় গভীর গণসংযোগ ও উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মুন্সি মঈনুল ইসলাম, অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য এডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্লা, হরিণটানা থানার কর্মপরিষদ সদস্য লিখন হোসেন, মতিয়ার রহমান, আব্দুর রশীদ মল্লিক, শহিদুল ইসলাম, ডাঃ ইলিয়াস হোসেন, তাজুল ইসলাম, আমীর হোসাইন, সালাহ উদ্দিন, আবদুল্লাহ আল মামুন, রাসেল গাজী, রফিকুল ইসলাম, মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ ও আবু মুহসীন প্রমুখ। পরে সেক্রেটারি জেনারেলকে ফুলের তোড়া দিয়ে বিএনপির নাসির গাজী নেতৃত্বাধীন কয়েকজন জামায়াতে যোগ দেন। এরপর বাদুরগাছা উঠান বৈঠকেও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন। বিকেলে ফুলতলা উপজেলা স্বাধীনতা চত্বরে আয়োজন করা হয় গণমিছিল ও সমাবেশ। পরে ৬নং ওয়ার্ডের আটরা-গিলাতলা এলাকার উঠান বৈঠকেও মিয়া গোলাম পরওয়ার প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেন।

  • ধর্মীয় অপব্যাখ্যা ও মিথ্যা ফতোয়া দিয়ে ভোট কেনা যাবে না

    ধর্মীয় অপব্যাখ্যা ও মিথ্যা ফতোয়া দিয়ে ভোট কেনা যাবে না

    বিএনপির কেন্দ্রীয় ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, আসন্ন নির্বাচনে বিজয় লাভের জন্য ধর্মীয় মিথ্যা ফতোয়া বা অপব্যাখ্যা দিয়ে সাধারণ মানুষের ভোট কেনা আর সম্ভব নয়। বর্তমানে ভোটাররা বেশ সচেতন হয়ে উঠেছেন এবং তারা প্রকৃত উন্নয়ন এবং অধিকার আদায়কে সমর্থন করে কথা বলতে জানেন। রাজনীতির অপব্যবহার করে ধর্মকে ঢাল করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সাধারণ মানুষের মনোভাব পরিবর্তনের দিন শেষ। খুলনার জনগণ সততা আর সাহসিকতার পক্ষে একযোগে রায় দিচ্ছেন। তিনি অভিযোগ করেন, একটি পক্ষ পরাজয়ের ঝুঁকি জেন নানা রকম বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দিতে চাইছে, যা অবশ্যই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থী।

    গতকাল শুক্রবার, ১৪নং বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের আয়োজনে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও ওয়ার্ড বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সৈয়দ জহর মীরের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় বক্তৃতায় বকুল আরও বলেন, মিথ্যা ফতোয়া দিয়ে ভোট নেওয়ার কৌশল এখন আর কার্যকর নয়। বরং যারা ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে জনমত পরিবর্তন করার চেষ্টা করে, তাদের জনগণ ভোটের মাধ্যমে প্রত্যাখ্যান করবে। তিনি খুলনাবাসীর অধিকার রক্ষা ও অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।

    বায়তুল নাজাত জামে মসজিদের সভাপতি আবু সুফিয়ান নান্নুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদী, সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক মো. চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেন, প্রবীণ রাজনীতিবিদ স.ম. আবদুর রহমান, খালিশপুর থানার বিএনপি সভাপতি এড. মোহাম্মদ আলী বাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লবুর রহমান কুদ্দুস, খালিশপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আলাউদ্দিন তালুকদার প্রমুখ।

    অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ১৪নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি হায়দার আলী তরফদার, নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক লুৎফর রহমান, জংশন বাজারের সভাপতি মো. কোরবান মীর, সমাজ সেবক মীর আব্বাস আলী, বিএল কলেজের সাবেক প্রভাষক অধ্যাপক আনোয়ারুল ইকবাল, অগ্রণী ব্যাংকের সাবেক ম্যানেজার খন্দকার কামাল উদ্দিন আহমেদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহিন আজাদ।

    অনুষ্ঠান শেষে জাতীয় এই দোয়া ও প্রার্থনামঞ্চে বেগম খালেদা জিয়া এবং সৈয়দ জহর মীরের রুহের মাগফিরাত কামনা ও দেশের কল্যাণের জন্য বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন বায়তুল নাজাত জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা আব্দুস সাত্তার। এর মধ্যে স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষ বিপুল সংখ্যায় অংশ নেন।

  • খুলনা-৪ আসনে বিএনপি প্রার্থী আজিজুল বারী হেলালের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা

    খুলনা-৪ আসনে বিএনপি প্রার্থী আজিজুল বারী হেলালের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ কে সামনে রেখে খুলনা-৪ আসনের (রূপসা, তেরখাদা ও দিঘলিয়া) বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল তার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। শনিবার, ২৪ জানুয়ারি এই পরিকল্পনাগুলো তুলে ধরেন তিনি। ইশতেহারে তিনি রূপসা, তেরখাদা ও দিঘলিয়া উপজেলাভিত্তিক মোট ৭৪টি উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি স্থান দেন।

    আজিজুল বারী হেলাল বলেন, নদী ও প্রকৃতিরোপিত এই জনপদের দেরিতে দেখা দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধান ও একটি প্রগতিশীল, নিরাপদ ও আধুনিক খুলনা-৪ গড়ে তোলাই তার মূল লক্ষ্য। তিনি অবকাঠামো উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, কৃষি, শিল্পায়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়ে আসছেন।

    তিনি বলেছেন, তাঁর গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে ভৈরব নদীর ওপর দ্বিতীয় সেতু নির্মাণ, নির্মিত না হওয়া নগরঘাট ও রেলিগেট সেতুর কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা, নদীভাঙন রোধে টেকসই বাঁধ নির্মাণ এবং রূপসা উপজেলায় ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপন করে সুপেয় পানির সরবরাহ নিশ্চিত করা। এছাড়াও, রূপসা ফেরিঘাটের টোলমুক্ত করা এবং আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও তিনি চেয়েছেন।

    স্বাস্থ্যখাতে, তিনি দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালে রূপান্তর, রূপসায় ১০০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ এবং তেরখাদায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। শিক্ষা খাতে, যোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও লাইব্রেরির ব্যবস্থা, পাশাপাশি বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্র চালুর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।

    কর্মসংস্থান বাড়ানোর জন্য তিনি ইপিজেড নির্মাণ, আইটি ও ফ্রিল্যান্সিং ট্রেনিং সেন্টার, কোল্ড স্টোরেজ, দুধ প্রক্রিয়াজাতকরণ প্ল্যান্ট ও ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়ে এসেছেন। কৃষকদের জন্য বিনামূল্যে বীজ ও সার, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি এবং সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

    এছাড়া, মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস নির্মূলের জন্য জিরো টলারেন্স নীতি, নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা ও পরিবেশ সংরক্ষণের ওপর জোর দেওয়া হয়।

    অंतিম হিসেবে, আজিজুল বারী হেলাল বলেন, খুলনা-৪ আসনকে একটি আদর্শ ও উন্নত জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি এসব পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য খান রবিউল ইসলাম রবি, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোল্লা খায়রুল ইসলাম, জিএম কামরুজ্জামান টুকু, অধ্যাপক মনিরুল হক বাবুল, শেখ আব্দুর রশিদ, আব্দুস সালাম, আছাফুর রহমান, আশরাফুল ইসলাম নুর, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আতাউর রহমান রনু, গোলাম মোস্তফা তুহিন, রূপসা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোল্লা সাইফুর রহমান, তেরখাদা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক চৌধুরী কাওছার আলী, আবু সাঈদ, সেতারা সুলতানা, গোলাম ফারুক, শেখ আবু সাঈদ, ফখরুল ইসলাম চৌধুরী, শরিফ নাইমুল ইসলাম, আবুল কাশেম, রেজাউল ইসলাম রেজা, মো. রয়েল, খালেদা পারভিন সিনথিয়া, শিহাবুল ইসলাম সিহাবসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • ধর্মের বিভেদের বৈরিতা না করে সকল মানুষের উন্নয়নই হবে মূল লক্ষ্য

    ধর্মের বিভেদের বৈরিতা না করে সকল মানুষের উন্নয়নই হবে মূল লক্ষ্য

    খুলনা-৪ আসনে ধানের শীষ প্রার্থী ও বিএনপির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল সম্প্রতি এক জনসভায় বলেন, ধর্মীয় ভেদাভেদ না করে সব ধর্মের মানুষের জন্য সমান উন্নয়ন ঘটানো হবে। তার ভাষায়, কে কোন ধর্মের মানুষ সেটা বড় বিষয় নয়, সবাই আন্তরিকভাবে বাস করবে এবং সুযোগ-সুবিধা পাবে। তিনি উল্লেখ করেন, খুলনা-৪ আসন বিভিন্ন ধর্মের মানুষে গড়া এবং এখানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় করা হবে। ধর্মের নামে যেন কোনো বৈষম্য ও বিভাজন না চলে সেজন্য সবধরনের ট্রেন্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    এই জনসভা সংগঠিত হয় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আই এর জনপ্রিয় উপস্থাপিকা দীপ্তি চৌধুরীর উপস্থিতিতে, যার সার্বিক পরিচালনায় পুরো অনুষ্ঠানটি পরিচালিত হয়। এর আয়োজন করা হয় রূপসার শ্রীফলতলা ইউনিয়নের পালেরহাট মাঠে শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত।

    অনুষ্ঠান চলাকালীন তিনি নারীর নিরাপত্তা আরও নিশ্চিত করতে ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহ রোধে সাবধানতা অবলম্বনের আহ্বান জানান। নারীর সম্মান, নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় তিনি বলেন, একজন নারীর উন্নয়নই সমগ্র সমাজের উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি। মেয়েদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রত্যেক পরিবারের সচেতনতা বৃদ্ধি দরকার।

    মাদক ও সন্ত্রাস দমন করতে তিনি বলেন, ধর্মীয় চর্চা ও শিক্ষা ছাড়া এই সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, পরিবার থেকে শুরু করে ছোট বড় সবাইকে নিয়মিত ধর্মীয় অনুশীলন করতে হবে এবং ক্রীড়া ও সংস্কৃতির মাধ্যমে তরুণ সমাজকে সুস্থ ও রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধ করে তুলতে হবে। নির্বাচনী প্রশ্নে তিনি বললেন, বিএনপি সরকার গঠনে তিনটি উপজেলা আধুনিক স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। খেলাধুলা যুবকদের অপরাধ থেকে দূরে রাখে, এটি একটি সুস্থ জাতি গঠনের জন্য অপরিহার্য।

    সাংবাদিক কৃষ্ণ গোপাল সেনের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি নির্বাচিত বা না-ই হই, আমার হটলাইন সার্বক্ষণিক চালু থাকবে, আর সরকারের আমলে অভিযোগের ভিত্তিতে সকলের অধিকার রক্ষা করা হবে। তিনি রূপসার সাংবাদিকদের জন্য আধুনিক প্রেসক্লাব গঠনের ওপর গুরুত্ব দেন এবং বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ, তাদের জন্য স্বাধীন ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।

    ভূমি অফিসের অনিয়মের অভিযোগে তিনি সবাইকে অনুরোধ করেন, পরিষ্কারভাবে দালাল ও অর্থনৈতিক লেনদেন মুক্ত ভূমি অফিস গড়ে তোলা। ভবিষ্যতে এই ধরনের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন।

    অতীতে বারবার মিথ্যা মামলা ও কারাবরণের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাহস না থাকলে নেতৃত্ব ও জনসেবা সম্ভব নয়। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সব ধরনের ত্যাগ স্বীকারে তিনি প্রস্তুত। দুর্নীতি ও অন্যায়বিরোধী অপ্রতিরোধ্য অবস্থানই তার রাজনীতির মূল ভিত্তি হবে বলে জানান।

    অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার শতাধিক মানুষ অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জেলা ও উপজেলা নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। অনুষ্ঠানে গাইলেন দেশের বরেণ্য গায়ক কুদ্দুস বয়াতী।

  • গভর্নর বললেন, রাজনৈতিক পরিবর্তন আসছে, বিনিয়োগ বাড়বে অর্থনীতি ক্রমশ উন্নতির দিকে

    গভর্নর বললেন, রাজনৈতিক পরিবর্তন আসছে, বিনিয়োগ বাড়বে অর্থনীতি ক্রমশ উন্নতির দিকে

    বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, দেশে সামনের দিনগুলোতে রাজনৈতিক পরিবর্তন আসছে, যার ফলে দেশের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তিনি আর্থিক অবস্থা আরও সুদৃঢ় হবে এবং বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়বে বলেও সতর্ক করেন। বাদামের মতো শুয়ে থাকা অর্থনীতির গতি এখন ধীরে ধীরে বাড়ছে এবং চলতি অর্থবছরে দেশের রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন।

    সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর গুলশানের মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) এর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। এই অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথির ভাষণ দেন।

    গভর্নর বলেন, দেশে তারল্য সংকট ধীরে ধীরে কমছে। অল্প কিছুদিন আগে অর্থনীতিকে চাপের মধ্যে ফেলেছিল তারল্যের অভাব; যেমন অক্সিজেনের না থাকায় শ্বাসকষ্ট হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এখন সেই চাপ কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। আগে ব্যাংকগুলো ঝুঁকি এড়িয়ে বেশি মুনাফা করত, যা সরকারী মাধ্যমে মারাত্মক প্রভাব ফেলেছিল। এখন ব্যাংকগুলোকে কঠোর পরিশ্রম করে সঠিক ঋণগ্রহীতাদের খুঁজে বের করতে হবে।

    তিনি আরও জানান, দেশের বৈদেশিক মুদ্রা পরিস্থিতি এখন খুবই ইতিবাচক। চলতি অর্থবছরে রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন। বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও শিল্পপণ্যদ্রব্যের দাম কমে যাওয়ায় আমদানির চাপ কিছুটা কমে গেছে।

    সুদের হার নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও বিনিময় হার মোটামুটি স্থিতিশীল। বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার কিনতে শুরু করেছে, ইতিমধ্যে ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে যা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সহায়তাকেও ছাড়িয়ে যায়। এর পাশাপাশি ব্যাংকিং বাজারে ৪৫ হাজার কোটি টাকা নতুনভাবে ঋণ ছাড় হয়েছে, যা তারল্য বাড়িয়েছে।

    গভর্নর বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং অর্থনৈতিক ধাক্কার প্রভাব মোকাবিলায় সবাই সহায়তা পাচ্ছে, কোনো দল বা গোষ্ঠীর ওপর ভিত্তি করে বৈষম্য করা হয়নি। তার আরও জানান, তাড়াহুড়ো করে সুদের হার কমানো উচিত নয়, কারণ এতে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার ও লেনদেনের ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বর্তমানে মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশের উপরে থাকলেও এর কমে ৫ শতাংশের নিচে নামানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। উর্ধ্বগামী মূল্যস্ফীতির কারণে কিছু সময় লাগছে, তবে যদি এটি ১ শতাংশ কমে যায়, তবে সুদের হার কিছুটা কমানো হবে। বেশ কিছু বড় ঋণগ্রহীতাদের জন্য ইতিমধ্যে সুদের হার প্রায় ২ শতাংশ কমে গেছে।

    আন্তর্জাতিক বাজারের তথ্য বিশ্লেষণে প্রতিদিন উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সি ডেটা সংগ্রহ করা হয়, যাতে বিনিময় হার, সুদের হার, রিজার্ভ, রেমিট্যান্স ও আমদানি-রপ্তানির তথ্য অন্তর্ভুক্ত। উল্লেখযোগ্যভাবে, গত সোমবার রেমিট্যান্স এসেছে ১৭০ মিলিয়ন ডলার থেকে বেশি, যা আগে থেকে ৬৯ শতাংশ বেশি। মাসিক, সাপ্তাহিক ও ত্রৈমাসিক অর্থনৈতিক ডেটা এখন সহজে বিশ্লেষণ করা সম্ভব হচ্ছে, যা দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বোঝার জন্য সহায়ক।

    অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন এমসিসিআই এর সভাপতি কামরান টি রহমান। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে ব্রিটিশ হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার জেমস গোল্ডম্যান, পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও সিইও ড. এম মাসরুর রিয়াজ, পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) চেয়ারম্যান ড. জাইদি সাত্তার প্রমুখ।

  • নিপ্পন পেইন্টকে উন্নত ট্রানজ্যাকশন ব্যাংকিং সেবা দেবে ব্র্যাক ব্যাংক

    নিপ্পন পেইন্টকে উন্নত ট্রানজ্যাকশন ব্যাংকিং সেবা দেবে ব্র্যাক ব্যাংক

    নিপ্পন পেইন্ট বাংলাদেশ-কে উন্নত ও আধুনিক ট্রানজ্যাকশন ব্যাংকিং সেবা প্রদান করতে ব্র্যাক ব্যাংক একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি করেছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হচ্ছে নিপ্পন পেইন্টের ডিলার ও ডিস্ট্রিবিউটরদের জন্য রিসিভেবল ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী ও কার্যকরী করে তোলা, যাতে ট্রানজ্যাকশন কার্যক্রম আরও দক্ষ ও স্বচ্ছ হয়।

    চুক্তি অনুযায়ী, নিপ্পন পেইন্ট তাদের এপিআই (অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস) ইন্টিগ্রেশন সম্পন্ন করে ব্র্যাক ব্যাংকের ডিজিটাল ট্রানজ্যাকশন ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্ম ‘কর্পনেট’-এর সঙ্গে যুক্ত হবে। এর ফলে, ২০০ জন ডিস্ট্রিবিউটরের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থের তথ্য দ্রুত ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিপ্পন পেইন্টের এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স প্ল্যানিং (ইআরপি) সিস্টেমে দেখা যাবে। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি নগদ প্রবাহের দৃশ্যমানতা বৃদ্ধি করবে, রেকনসিলিয়েশন প্রক্রিয়া সহজ করবে এবং ডিস্ট্রিবিউশনের ফাইন্যান্সিয়াল কন্ট্রোল আরও শক্তিশালী করবে।

    এই চুক্তি স্বাক্ষর Ceremonyটি ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ব্র্যাক ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে ব্র্যাক ব্যাংকের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড হেড অব হোলসেল ব্যাংকিং মো. শাহীন ইকবাল সিএফএ, ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড হেড অব কর্পোরেট, কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইনস্টিটিউশনাল ব্যাংকিং আসিফ বিন ইদ্রিস, হেড অব ট্রানজ্যাকশন ব্যাংকিং অ. কে. এম. ফয়সাল হালিম এবং এরিয়া হেড অব রিলেশনশিপ ইউনিট এস এম মুসা।

    নিপ্পন পেইন্ট বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির জেনারেল ম্যানেজার রাজেশ সিরকার, সিনিয়র ম্যানেজার সালাহ উদ্দিন এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এটি ব্র্যাক ব্যাংকের কর্পোরেট গ্রাহকদের জন্য প্রযুক্তিনির্ভর ট্রানজ্যাকশন সেবা চালু করার প্রতিশ্রুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

    ব্র্যাক ব্যাংক এই উদ্যোগের মাধ্যমে কর্পোরেট গ্রাহকদের জন্য তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ, দক্ষ ও আত্মবিশ্বাসপূর্ণ করে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যাতে তারা টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে এবং দুই পক্ষের উদ্যোগের ফলাফল আরও ফলপ্রসূ হয়ে উঠে।

  • ইতিহাসের সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা, ভরি ২ লাখ ৪৪ হাজার টাকা

    ইতিহাসের সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা, ভরি ২ লাখ ৪৪ হাজার টাকা

    দেশের বাজারে সোনার দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে, যা নতুন এক রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) ঘোষণা দিয়েছে, সম্প্রতি সোনার মূল্য প্রতি ভরি বেড়ে গেছে। বর্তমানে ভালো মানের সোনার দাম ২ লাখ ৪৪ হাজার টাকার ওপরে পৌঁছেছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ মূল্যে বিক্রি হচ্ছে।

    বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এর নতুন দাম আগামী ২১ জানুয়ারি বুধবার থেকে কার্যকর হবে। তারা বলেছে, এই দাম বাড়ার পেছনে মূল কারণ হলো বৈশ্বিক বাজারে স্বর্ণের দামের বৃদ্ধি। বৈশ্বিক বাজারের সূত্র অনুযায়ী, তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দাম আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৭৪৫ ডলার ছাড়িয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির প্রভাব প্রত্যক্ষভাবে স্থানীয় বাজারে এসে পড়েছে। এর ফলে, দেশের স্বর্ণের মান ও দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে চলেছে।

    নতুন দাম অনুযায়ী, সবচেয়ে মানসম্পন্ন বা ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের এক ভরি বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ১২৮ টাকায়। এরপরেই আসে ২১ ক্যারেটের ভরা, যার মূল্য ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৮৮ টাকা। ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের ভরির মূল্য ১ লাখ ৯৯ হাজার ৭৪৬ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরি বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৬৩ হাজার ৮২১ টাকায়।

    সোনার পাশাপাশি, রুপার দামও বেড়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম এখন ৬ হাজার ৫৯০ টাকা। এর পাশাপাশি, ২১ ক্যারেটের রুপা ৫ হাজার ২৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৫ হাজার ৪২৪ টাকা, আর সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম এক ভরি বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৮২ টাকা। এই দাম বৃদ্ধির ফলে বাজারে প্রভাব পড়েছে সব স্তরের ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য।