চলমান কারখানা রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান পোশাক মালিকরা

দেশের তৈরি পোশাক খাতে বন্ধ কারখানার ঝুঁকি বাড়ার প্রেক্ষাপটে বর্তমানে চালু থাকা শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো টিকিয়ে রাখতে প্রধানমন্ত্রী থেকে জরুরি নীতিগত এবং অর্থনৈতিক সহায়তা চেয়েছেন খাতের উদ্যোক্তারা।

আজ সোমবার সচিবালয়ের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর শীর্ষ নেতারা প্রধানমন্ত্রীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন। বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু ও বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমের নেতৃত্বে এক প্রতিনিধিদল বৈঠকে অংশ নেয়।

বৈঠকে উদ্যোক্তারা বলেছিলেন, বিদ্যমান ব্যাংক ঋণের বোঝা, এনবিআরের রাজস্ব-কর সংক্রান্ত জটিলতা, জ্বালানির অনিশ্চিত সরবরাহ ও বৈশ্বিক বাজারের অনিশ্চয়তা—এসব মিলিয়ে চলমান কারখানাগুলোও ভেঙে পড়ার পথে। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আরও অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার আশংকা রয়েছে। তাই তারা নীতিগত ভর্তুকি, আর্থিক সহজলভ্যতা ও জরুরি বানিজ্য সহায়তা চেয়েছেন যাতে পরিচালনায় থাকা ফ্যাক্টরিগুলো বন্ধ না হয়ে যায়।

ব্যাংকিং ও এনবিআর সংক্রান্ত সমস্যা আলোচনায় গুরুত্ব পায়। উদ্যোক্তারা ঋণ, শুল্ক, ট্যাক্স ও কাস্টমস সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কথা তুলে ধরলে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ ব্যাংক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমাধান নেওয়ার আশ্বাস দেন। তিনি ব্যবসায়ীদের এসব সমস্যা লিখিতভাবে জমা দেওয়ার অনুরোধও করেন যাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যায়।

বৈঠকের পরে বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, “শিল্প টিকিয়ে রাখতে এখন সবচেয়ে জরুরি ব্যাংকিং ও নীতিগত সহায়তা। বন্ধ কারখানা পুনরায় চালু করার পাশাপাশি বর্তমানে সচল কারখানাগুলো রক্ষা করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী আমাদের উদ্বেগ গুরুত্ব সহকারে শুনেছেন, যা উদ্যোক্তাদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।”

বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, “বর্তমান বৈশ্বিক পরিবেশে পোশাক খাত নানা চাপের মোকাবিলা করছে; আমরা সেই বাস্তব সমস্যা তুলে ধরেছি। প্রধানমন্ত্রী আমাদের কথা গুরুত্ব দিয়ে শুনেছেন এবং সমাধানে আশ্বাস দিয়েছেন—এটি ইতিবাচক।”

প্রতিনিধিদল সরকারের এলডিসি উত্তরণ পিছিয়ে দেওয়ার উদ্যোগের কথাও স্বাগত জানায়। তাদের মতে, যদি জাতিসংঘে এই উদ্যোগ অনুমোদিত হয়, তা বাংলাদেশের রপ্তানির উপর আর্থিক সুবিধা কিছু সময়ের জন্য বজায় রাখতে সাহায্য করবে এবং শিল্পখাতকে প্রস্তুতির সময় দেবে।

সভায় প্রধানমন্ত্রী রপ্তানি বহুমুখীকরণের ওপর জোর দেন এবং উদ্যোক্তাদের প্রচলিত পোশাকপণ্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সিল্ক, ম্যান-মেইড ফাইবারভিত্তিক পণ্যসহ নতুন খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরামর্শ দেন। তিনি এসব পরিবর্তনকে সমর্থন করে নীতিগত সহযোগিতারও আশ্বাস দেন।

জ্বালানি সংকটের বিষয়টিও আলোচ্য ছিল। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, গ্যাস ও বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহ উৎপাদন ব্যয় বেড়ে দিচ্ছে এবং সময়মতো উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে; এতে সরকারের ইতিবাচক ভূমিকা প্রয়োজন। সভায় সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকারের পক্ষ থেকেও এ বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

বৈঠকে শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারসহ বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতারা উপস্থিত ছিলেন।