মিয়া গোলাম পরওয়ার: উন্নয়নে সরকার চরম বৈষম্য করছে

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সরকার উন্নয়নের কাজে ভূগোলভিত্তিক বৈষম্য করছে এবং উত্তরাঞ্চলের জন্য সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক করার আবেদন যৌক্তিক ও জরুরি। শনিবার সকালে পঞ্চগড় যাওয়ার পথে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে সৈয়দপুরে নামে তিনি এবং সেখানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বললেন।

মর্যাদার সঙ্গে তিনি বলেন, সৈয়দপুর বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক হওয়া বৃহত্তর রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলের বহুদিনের দাবি। যদি নির্বাচনী সুবিধা বা নির্দিষ্ট এলাকার স্বার্থ বিবেচনায় এটিকে অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়, তাহলে তা অন্যায় হবে।

সে সময়ে তাঁর সঙ্গে ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হালিম, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আইনজীবী আতিউর রহমান এবং সহ-সভাপতি গোলাম রব্বানী।

জামায়াত নেতা আরও বলেন, নির্বাচিত এমপিদের প্রভাবেই নানা উন্নয়নকাজ নির্দিষ্ট এলাকায়集中 হচ্ছে—কোথাও নতুন উপজেলা, কোথাও বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে—যা সার্বিক জাতীয় স্বার্থের বিপরীত। এসব প্রকল্প ভৌগোলিকভাবে সমভাবে ছড়ানো উচিত ছিল বলে তাঁর দাবি।

এক সমকথনে তিনি বললেন, “প্রবাদ আছে, যে যায় লঙ্কায় সেই হয় রাবণ।” বাস্তবে এখন সেই অবস্থাই লক্ষ্য করছেন তিনি। তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক দলগুলো ৭০ শতাংশ জনমত উড়িয়ে দিয়ে প্রতারণামূলক রাজনীতিতে লিপ্ত হয়েছে। নির্বাচনের আগে যাঁরা “হ্যাঁ” বা সমর্থনে ছিলেন, এখন তাঁরা গণভোটের রায় অস্বীকার করছেন—এটি জনগণের সঙ্গে বিরাট একটি প্রতারণা বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি জানান, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কথা বলা হলেও কাজে তা দেখা যাচ্ছে না এবং এভাবে জনস্বার্থে ব্যাকপাস খেললে দেশের ক্ষতিই হবে।

সংবাদমাধ্যম নিয়ে বলিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সময় যারা স্বাধীন সাংবাদিকতার কথা বলেছিল, এখন তাদেরই মধ্যে অনেকেই বিভিন্ন গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ, সাংবাদিকদের চাকরি থেকে বরখাস্ত এবং হয়রানির সঙ্গে জড়িত। বিশেষ করে সরকারের সমালোচক সাংবাদিকদের টার্গেট করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বিমানবন্দরে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মাওলানা আব্দুল মুনতাকিম, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আন্তাজুল ইসলাম এবং জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মনিরুজ্জামান জুয়েল। এছাড়া সৈয়দপুর উপজেলার জামায়াতের আমির শফিকুল ইসলাম, সেক্রেটারি মাজহারুল ইসলাম, শহর আমির শরফুদ্দিন খান, সেক্রেটারি মাওলানা ওয়াজেদ আলী, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের শহর সভাপতি আব্দুল মোমিনসহ শতাধিক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

সবশেষে তিনি সফরসঙ্গীদের নিয়ে সড়কপথে পঞ্চগড়ের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন।