যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য শাহীন চাকলাদারের বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। সোমবার (১১ মে) চার্জশিটের ওপর শুনানি শেষে জেলা ও দায়রা জজ মাহমুদা খাতুন এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের অতিরিক্ত পিপি নূর আলম পান্নু।
মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের রাজনৈতিক-৪ শাখা সব অস্ত্রের লাইসেন্স স্থগিত করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। ওই নির্দেশনায় লাইসেন্সধারীদের সব অস্ত্র ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু শাহীন চাকলাদার তার লাইসেন্সকৃত পিস্তল (নম্বর-৬৯৪৪৬) জমা দেননি।
এসআই তারেক মোহাম্মদ আল নাহিয়ান তদন্ত করে জানতে পারেন, তৎপরতায় সেই দিনেই শাহীন চাকলাদার ওই অস্ত্রটি নিয়ে আত্মগোপনে চলে যান। বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে যে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে অস্ত্রসহ পালিয়ে যাওয়ায় তিনি সন্ত্রাসী ও দুষ্কৃতকারীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে অস্ত্রটি অবৈধ কাজে ব্যবহার করতে পারেন।
কোতোয়ালি থানার এসআই সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে ২০২৫ সালের ২৮ মে কোতোয়ালি থানায় অস্ত্র আইনে মামলা করেন। তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহীনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। পরবর্তীতে মামলাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বদলি করা হয় এবং আজ চার্জশিটের শুনানির পর আদালত তা গ্রহণ করে পলাতক আসামি শাহীন চাকলাদারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার নির্দেশ দেন।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ২২ জানুয়ারি দুদকের মামলায় শাহীন চাকলাদারকে চার বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। ২০২৪ সালের ছাত্রজোড়ার সময় ৫ আগস্ট দায়ের ঘটনায় যশোর শহরের চিত্রামোড়ে তাঁর মালিকানাধীন একটি হোটেলে আগুন লাগানো হয় এবং পরে কাজীপাড়ার বাসভবনেও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, অগ্নিসংযোগের আগে তিনি সপরিবারে আত্মগোপনে চলে গেছেন।
জনশ্রুতি আছে যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর শাহীন চাকলাদার ভারতে, কলকাতায় অবস্থান করছেন—তবে এ সংক্রান্ত দাবিগুলো এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণিত নয়। আদালত চলতি আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করায় তাকে গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করতেই এই পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
