ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমো আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীকেকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
রোববার (৩ মে) মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনজুরুল ইসলাম তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন। এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার বাড্ডা থানার উপ-পরিদর্শক কাজী ইকবাল হোসেন আসামিকে আদালতে হাজির করে তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আদালত রিমান্ড শুনানির জন্য রোববার দিন ধার্য করেন এবং শুনানির পর বিচারক তদন্তের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগে বলা হয়—ভিক্টিমের বাবার পর্যবেক্ষণে ঘটনার রাতে (রাত ১টার সময়) একটি চ্যাট দেখে তিনি মামলা করেন। তদন্ত কর্মকর্তা দুই পক্ষের চ্যাট পরীক্ষা করেছেন এবং সেখানে মিমো ও সুদীপের সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সুদীপের অন্যদের সঙ্গেও সম্পর্ক ছিল এবং তারা মিমোকে আশ্রয় বা সহায়তা দিয়েছে—যা তদন্তের জন্য যাচাই করা প্রয়োজন। রাষ্ট্রপক্ষ এমন তথ্য উদ্ধারে আসামিকে রিমান্ডে নেওয়ার কথা বলেছে।
আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিলের আবেদন করেন এবং পেনড্রাইভে একটি অডিও রেকর্ডিং আদালতে উপস্থাপন করেন। তাদের যুক্তি, ডিজিটাল যুগে নানা কিছুর অপব্যাখ্যা হতে পারে; রেকর্ড শুনিলে অনেক প্রশ্নের উত্তর মিলবে। তারা বলেন, ভিক্টিমের আগের একটি বিয়ে ছিল, অন্য এক যুবকের সঙ্গেও সম্পর্ক ছিল এবং মানসিকভাবে সমস্যায় ভুগতেন—এসব বিষয় ওই অডিওতে আছে। আইনজীবীরা জানান, মিমোয়ের মা ও বান্ধবীর ২১ মিনিটের এক অডিও রেকর্ড রয়েছে যেখানে বান্ধবী মিমোকে নিয়ে কথোপকথনে ব্যাখ্যা দিচ্ছেন।
আসামিপক্ষ আরও বলেছেন, মামলাকারী ও অডিওর কথোপকথন থেকে বোঝা যায় মিমো মানসিকভাবে অস্থির ছিলেন। এ কারণে পরিবারের অনুরোধে সুদীপ আলাদাভাবে তাকে মানসিক সহায়তা দিতেন এবং কেবল নাটক-পারফরম্যান্সে উন্নতির জন্য সাবলীলভাবে দেখা করতেন। তাদের দাবি, সুদীপ একজন মেধাবী শিক্ষক এবং তাকে রিমান্ডে না রেখে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে চলবে।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৬ এপ্রিল (রোববার) মিমোর সঙ্গে ভিডিও কলে কথা হয়েছিল; সেখান থেকেই তাকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করা হয়েছে—এমন অভিযোগ রয়েছে। গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে, যা যাচাই-বাছাই ও ঘটনার রহস্য উদঘাটনের জন্য রিমান্ড প্রয়োজন বলে তদন্তকারী আবেদন করেছেন।
মুনিরা মাহজাবিন মিমো ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি পরিবারের সঙ্গে বাড্ডায় থাকতেন। তাঁর বাসা থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মিমোকে মৃত ঘোষনা করেন। তার কক্ষে একটি চিরকুটও পাওয়া যায়, যাতে লেখা ছিল: ‘সুদীপ স্যারকে ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে। হানি আর সুদীপ স্যার ভালো থাকো। স্যারের দেওয়া গিফটগুলো ফেরত দেওয়া…’।
দুপুরে মিমোর বাবা মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা মেয়ের আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মামলার পর পুলিশ সুদীপকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করে; একই সঙ্গে তার জামিনের আবেদন করা হয়েছিল যা আদালত নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বর্তমানে তদন্ত চলছে এবং রিমান্ডে থাকা অবস্থায় তদন্ত কর্মকর্তা সুদীপের সঙ্গে সম্পর্ক ও সাক্ষ্য-প্রমাণ যাচাই করবেন বলে জানানো হয়েছে।
