২০২৫ এশিয়া কাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে হাত না মেলানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আলি আগা নতুন বিবরণ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, টুর্নামেন্ট শুরুর আগে দুই দলের অধিনায়কদের মধ্যে একাধিকবার সৌজন্যের সূচক হিসেবে হ্যান্ডশেক হয়েছিল—তাই টসের সময় হাত মেলানো এড়িয়ে যাওয়ায় তিনি অপ্রত্যাশিতভাবে বিস্মিত হন।
সালমান জানান, সামাজিক মাধ্যমে ‘নো হ্যান্ডশেক’ ট্রেন্ড ছড়িয়ে পড়ার পর মাঠেও সেই মনোভাব প্রতিফলিত হয়; ভারতীয় অধিনায়ক সুর্যকুমার যাদব টসের সময় হাত মেলাতে অস্বীকার করেন। ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফট তাকে টসের আগেই আলাদা করে জানিয়ে দিয়েছিলেন যে সুর্যকুমার তার সঙ্গে হাত মেলাবেন না—এ কথা শুনে সালমান প্রথমে হতভম্ব হন।
তিনি এআরআই’র এক পডকাস্টে বলেন, ‘‘টুর্নামেন্ট শুরুর আগে আমরা সংবাদ সম্মেলনেও হাত মেলিয়েছি, ট্রফি ফটোশ্যুটেও তেমন একই উদারতা ছিল। তাই টসের সময় আমি স্বাভাবিকভাবেই হাত মেলানোর প্রত্যাশায় ছিলাম। যদিও মাথায় একটা ধারণা ছিল পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হতে পারে, কিন্তু এতদূর গিয়ে হাত মিলানোই হবে না—এটা কল্পনাও করিনি।’’
সালমান আরও জানান, তিনি টসে পাকিস্তান দলের মিডিয়া ম্যানেজারকে সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন। ম্যাচ রেফারি আলাদাভাবে তাকে সতর্ক করে বলেছিলেন ‘‘ওরা এমনটা করতে পারে, কোনো হ্যান্ডশেক হবে না, তাই প্রস্তুত থাকুন।’’ সালমান বলেন, ‘‘আমি বলেছিলাম, হাত না মেলালে না মেলাক—এতে মরার কিছু নেই। কিন্তু ঘটনার ধরনটা আমাকে অবাক করেছিল।’’
ম্যাচ শেষে পাকিস্তান হেরে প্যাভিলিয়নের দিকে গেলে সেখান থেকেও একই আচরণ দেখেন তারা—ফিরে হাত মেলানো হয়নি। এ ঘটনায় সালমান স্পষ্ট করে বলেছেন যে একজন অধিনায়ক হিসেবে তিনি এমন সেটিং করে দেওয়ার পক্ষে নন যেখানে খেলার পরে প্রতিপক্ষকে অভিনন্দনও জানানো হয় না। ‘‘আমি যদি একজন রোল মডেল হয়ে থাকি, তাহলে বাচ্চারা আমাকে দেখে অনুকরণ করবে। তাই হাত না মেলানোর এই মানসিকতা সমর্থন যোগ্য নয়,’’ তিনি যোগ করেছেন।
একই পডকাস্টে পাকিস্তানের পেসার হাসান আলিও উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, এমন পূর্ণদৈর্ঘ্যের উত্তেজনা থাকলে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়েই না হলে ভালো হতো—তার ভাষ্য, ‘‘আমার মনে হয়, ম্যাচটি না হলে ভালো হতো। দুই দল পারস্পরিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে ম্যাচ না করার কথা ভাবতে পারত এবং পয়েন্ট ভাগাভাগি করা যেত।’’
ঘটনাটি ক্রিকেট মহলে বিতর্ক উস্কে দিয়েছে—খেলার ভেতরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা যতই তীব্র হোক, মাঠের শিষ্টাচার বজায় রাখার ওপর অনেকেই জোর দিচ্ছেন।
