ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার পলিয়ানপুর সীমান্তের ইছামতী নদীতে গত চার দিন ধরে দুটি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ ও বিজিবি সূত্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে পলিয়ানপুর সীমান্তের শূন্য রেখা থেকে প্রায় ১০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অবস্থিত ইছামতী নদী থেকে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে, গত সোমবার রাতে (সোমবার, ৯ এপ্রিল) একই সীমান্তে, আনুমানিক ৪৫ বছর বয়সী এক অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ পাওয়া যায়।
উদ্ধারকৃত ব্যক্তির পরিচয় জানাতে পারছে না পুলিশ ও বিজিবি। তবে জানা গেছে, মরদেহটি গোপালগঞ্জ জেলার কোড়ালিপাড়া থানার দেবেন্দ্রনাথ জয়ধর নামে এক ব্যক্তির ছেলে রথীকান্ত জয়ধর (৪৬) এর বলে মনে হচ্ছে। অন্যদিকে, অন্য মরদেহটির পরিচয় এখনও নিশ্চিত হয়নি।
স্থানীয়রা বলছেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে যখন এলাকাবাসী নদীর দিকে খোঁজ নিতে যান, তখন দূরগন্ধ পেয়ে ঘরে থাকা কচুরিপানার নিচে ভাসমান অবস্থায় একটি মরদেহ দেখতে পান। এরপর তারা পুলিশের সঙ্গে বিজিবিকে খবর দেন।
মহেশপুর ৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রফিকুল আলম জানান, বৃহস্পতিবার উদ্ধারকৃত মরদেহটির স্থান থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে, ১৩ এপ্রিল আরেকটি মরদেহ পাওয়া হয়েছিল। সেই মরদেহের পরিচয় এখনো জানা যায়নি, তবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি কিছুদিন আগে ডুবে ছিল। মরদেহটি পানির নিচে থাকায় পচে ফুলে গেছে এবং উপুড় হয়ে ভাসছিল। তিনি জানান, ১৩ এপ্রিল উদ্ধার করা মরদেহের বিষয়ে বিজিবি বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে, তবে এখনো কর্তৃত্বের মধ্যে কাউকে শনাক্ত করা যায়নি।
কোটচাঁদপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সায়েম ইউসুফ বলেন, বৃহস্পতিবার উদ্ধারকৃত মরদেহের শার্টের পকেটে একটি পাসপোর্ট পাওয়া গেছে। সেই পাসপোর্টের মাধ্যমে মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগও করা হয়েছে। তবে, পাসপোর্টে ভিসা বা গেটওয়ে পাসের তথ্য যাচাই করা হয়নি। মরদেহের সুরতহাল শেষে তা ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, ১৩ এপ্রিল উদ্ধারকৃত অজ্ঞাত মরদেহটির এখনও পরিচয় শনাক্ত হয়নি। এ ব্যাপারে পুলিশ ভারতের সঙ্গে যোগাযোগের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন। সব মিলিয়ে, মহেশপুর সীমান্তে এই চার দিনে দুটি মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
