খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে, বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি এসআইএম নাজমুর রহমান সজিব, বেসরকারি সংস্থা এ্যাডামসের প্রজেক্ট ম্যানেজার মাহবুবুর রহমান, বাপসার প্রকল্প ম্যানেজার গোলাম রসুল ও সূর্য্যরে হাসি নেটওয়ার্কের ক্লিনিক ম্যানেজার নাসরিন আক্তার। এ অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য কর্মীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করেন কেসিসি’র প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ শরীফ শাম্মীউল ইসলাম।
Blog
-

খুলনায় তাঁতী দলের নেতাকে নির্মমভাবে হত্যা
খুলনা মহানগরীর খালিশপুরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের এক নেতাকে নিষ্ঠুরভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। ঘটনাটি ঘটে শনিবার (১১ এপ্রিল) রাত সোয়া বারোটার দিকে নাটিশ্বর নয়াবাটি এলাকায়। নিহতের নাম সোনামিয়া (৩৮), তিনি স্থানীয় নয়াবাটি এলাকার বাসিন্দা এবং খালিশপুর থানা তাঁতী দলের আহ্বায়ক ছিলেন।
খালিশপুর থানা পুলিশ নিশ্চিত করেছেন, ঘটনার সত্যতা। স্থানীয় সূত্রমতে, সোনামিয়া তার নিজস্ব চায়ের দোকানে ছিলেন। তখনই অতর্কিতে মোটরসাইকেলে করে এসে তিনজন দুর্বৃত্ত দোকানে প্রবেশ করে। তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। প্রাণে বাঁচানোর জন্য তিনি পাশের একটি বাসায় আশ্রয় নিলেও, হামলাকারীরা তাকে সেখানে গিয়েও আক্রমণ করে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে খালিশপুরের একটি ক্লিনিকে নেয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন, যেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অঞ্চলের মানুষ জানান, হামলাকারীদের মধ্যে দুইজন মুখোশ পরিধান করে ছিল এবং অন্য একজন হেলমেট পরেছেন। তারা ধারালো অস্ত্র নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
খালিশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, নিহতের মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এদিকে, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার সুদর্শন কুমার রায় জানান, হত্যার মূল কারণ উদ্ঘাটন ও জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশ দল কাজ করছে।
-

খেলাধুলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সুস্থ ও সতেজ মনোভাব গড়ে তোলার গুরুত্ব 강조 হুইপ বকুল
লেখাপড়ার পাশাপাশি সুস্থ দেহ ও মনোস্তাজের জন্য খেলাধুলার গুরুত্ব অপরিসীম উল্লেখ করে জাতীয় সংসদের হুইপ ও খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল বলেছেন, বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের কেবল পাঠ্যবইয়ের শিক্ষায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, বরং মেধার সঠিক বিকাশের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আহ্বান জানিয়ে বলেন, খুলনাসহ সমগ্র দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গৌরব ও সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখতে তরুণ প্রজন্মকে মেধা, মনন ও নেতৃত্বের গুণাবলি নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।
শনিবার বিকেলে খুলনা সরকারি মহিলা কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। নগরীর বয়রাস্থ কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ সাইফুর রহমান।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে হুইপ বকুল বলেন, খুলনা সরকারি মহিলা কলেজকে দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। তিনি আশ্বাস দেন, কলেজের নতুন একাডেমিক ভবন, আধুনিক ক্যাম্পাস ও হোস্টেলসহ সামগ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনা সুপরিকল্পিতভাবে সম্পন্ন হবে। এই লক্ষ্যে, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) স্থাপত্য বিভাগের বিশেষজ্ঞ টিমের সাহায্যে দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক ডিজাইনে নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। হুইপ আরও জানান, শীঘ্রই এই কলেজের উন্নয়ন প্রকল্পের দ্রুত দৃশ্যমান কাজ শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হুইপের সরাসরি মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। তিনি বিভিন্ন বিভাগের ছাত্রীদের সঙ্গে মিলিত হয়ে তাদের শিক্ষাজীবনের সমস্যা, অভাব-অভাবের কথা শোনেন এবং দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন। আলোচনা শেষে তিনি ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরকারি বিএল কলেজের অধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম, মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ আবদুল গফ্ফার, শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক প্রফেসর মোঃ রেজাউল করিম, প্রফেসর শেখ আইরিন মুজিব, প্রফেসর মোঃ রবিউল ইসলামসহ কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
অপরদিকে, একই দিনে বিকেল সাড়ে ৫টায় হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল নগরীর জিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথিরূপ উপস্থিত হয়েছেন এবং সেখানকার শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন।
-

জিডিপির প্রবৃদ্ধি ফের নিম্নমুখী
চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার আবারও কমে গেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, অক্টোবর-ডিসেম্বরে জিডিপির বৃদ্ধি ছিল মাত্র ৩.০৩ শতাংশ, যা আগের প্রান্তিকে ছিল ৪.৯৬ শতাংশ। এর আগে, গত অর্থবছরের একই সময়ে প্রবৃদ্ধি ছিল ৩.৩৫ শতাংশ। অর্থাৎ, এ দুই সময়ের তুলনায় বর্তমান প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি বেশ কম হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতির জন্য আন্তর্জাতিক বৈশ্বিক ঘটনার পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকটও দায়ী। সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায়, যার ফলে যুদ্ধের ঝুঁকি বেড়ে গেছে এবং গ্যাস, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে। এই পরিস্থিতির জন্য বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছে, যা বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশের জন্য অশুভ সংকেত। এর প্রভাব পড়েছে দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রমে, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন পরিকল্পনায় বাধা সৃষ্টির মাধ্যমে প্রবৃদ্ধি কমছে। বিবিএসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এই সময়ে শিল্প খাতে সবচেয়ে কম প্রবৃদ্ধি হয়েছে, যেখানে প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ১.২৭ শতাংশ। অন্যদিকে, কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি ৩.৬৮ শতাংশ এবং সেবা খাতে ৪.৪৫ শতাংশ হয়েছে। এর আগে, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি ছিল সর্বোচ্চ ৬.৮২ শতাংশ। তবে, দ্বিতীয় প্রান্তিকে শিল্পের প্রবৃদ্ধির হার ধীরে ধীরে কমে আসছে। জানা যায়, জিডিপিতে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখে শিল্প খাত, কিন্তু এর প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার কারণে সার্বিক পরিকল্পনা অনুযায়ী লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। তবে কৃষি ও সেবা খাতের উন্নয়ন এখনও অব্যাহত রয়েছে। মোটকথা, বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের কারণে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির ধারা কিছুটা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যা অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ভবিষ্যতে সতর্কবার্তা বয়ে আনছে।
-

সোনার দাম আবার বেড়েছে, ভরিতে আড়াই লাখের বেশি মূল্য
দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে সোনার দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার পর আজ থেকেই নতুন দাম কার্যকর হচ্ছে। জনপ্রিয় ২২ ক্যারেটের সোনার ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) এখন নির্ধারিত হয়েছে ২ লাখ ৫২ হাজার ৪০৯ টাকা, যা পূর্বের দাম থেকে সাড়ে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বেশি। এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে। বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এই নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, অন্যান্য ক্যারেটের সোনার দামও বেড়েছে। ২১ ক্যারেটের ভরি হবে ২ লাখ ৪০ হাজার ৯২০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৬ হাজার ৫১১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৮ হাজার ১৯৫ টাকায়। আরও গুরুত্বপূর্ন বিষয় হলো, রুপার দামও বাড়ছে। ভরিতে ৩৫০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের রুপার দাম নির্ধারিত হয়েছে ৫ হাজার ৮৯০ টাকা। একইভাবে, ২১ ক্যারেটের রুপা ভরি হবে ৫ হাজার ৫৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৪ হাজার ৭৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ৩ হাজার ৬১৬ টাকায়। এই দাম বৃদ্ধির ফলে বাজারে সোনার ও রুপার বিক্রেতাদের জন্য নতুন দিকনির্দেশনা তৈরি হয়েছে, যা ক্রেতাদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
-

যদি যুদ্ধ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকে, তাহলে মূল্যস্ফীতির হার ১২% ছাড়াতে পারে
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব আরও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমবে এবং জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। এসব কারণে ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের মূল্যস্ফীতির হার এখনকার ৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ১২ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। পাশাপাশি, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হবে, কারণ আমদানির চাহিদা বেড়ে গেলে রিজার্ভের ব্যবহারে বৃদ্ধি হবে। বর্তমানে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আনুমানিক ৩১.১২ বিলিয়ন ডলার থেকে কিছুটা কমে ২৪.২৪ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ২,৪২৪ কোটি ডলারে নেমে আসতে পারে বলে প্রাথমিক ধারণা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
প্রসঙ্গত, যদি যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম এই বছর প্রথম প্রান্তিকে ৭০ শতাংশ এবং দ্বিতীয় প্রান্তিকে অন্তত ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়, তবে দেশের বাজারে দাম সামঞ্জস্য করতে হবে। এছাড়া, ডলারের বিপরীতে টাকার মান যদি ধীরে ধীরে হারায়—প্রথমত ৫ শতাংশ এবং পরে আরও ৫ শতাংশ অবমূল্যায়ন হয়—তাহলে ডিসেম্বরের মধ্যে মূল্যস্ফীতির হার ১১.৬৭ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। এই সময়ের জন্য মূল্যস্ফীতির ভিত্তি ধরা হয়েছে ৯.৫৬ শতাংশ। একই সময়ের জন্য বৈদেশিক মুদ্রার ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়েছে ৩ হাজার ২৭২ কোটি ডলার।
এছাড়া, যদি চলতি বছর প্রথম প্রান্তিকে ডলারের বিপরীতে টাকার মান ৫ শতাংশ অবমূল্যায়িত হয় এবং দ্বিতীয় প্রান্তিকে আরও ১০ শতাংশ অবমূল্যায়ন হয়, তাহলেও জ্বালানি তেলের অপ্রত্যাশিত মূল্যবৃদ্ধি হলে দেশের মূল্যস্ফীতির হার আরও বেশি বাড়তে পারে, যা কিনা ১২.২৮ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। এর পাশাপাশি, রিজার্ভের পরিমাণ কমে যেতে পারে উল্লেখিত সময়ের মধ্যে ২ হাজার ৪২৪ কোটি ডলার পর্যন্ত।
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সব হিসাবই বিভিন্ন অনুমান ও ধারণার ভিত্তিতে প্রস্তুত, যেখানে জ্বালানি তেল ও ডলারের দামে বড় ধরনের অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন না হলে, ডিসেম্বরের মধ্যে মূল্যস্ফীতির হার ১০ শতাংশের বেশি হবে না। তবে, যদি আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ে, তাহলে আমদানি খরচ বাড়বে এবং রিজার্ভে চাপ বাড়বে। এ পরিস্থিতিতে, সরকার যদি অভ্যন্তরীণভাবে রাজস্ব বাড়ায় ও জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখে, তবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
প্রতিবেদনটি আরও উল্লেখ করে, যদি জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বেশি বাড়ে ও ডলারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে, তবে এটি দেশের মুদ্রাবাজারে দুর্বলতা সৃষ্টি করবে। মুদ্রার বিনিময় হার দুর্বল হয়ে গেলে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন পড়বে, যার ফলে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করতে হতে পারে। এর ফলে রিজার্ভ দ্রুত কমবে, এবং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ক্ষুণ্ন হতে পারে।
এই পরিস্থিতি এড়াতে, রিজার্ভের চাপ কমাতে ও ডলারের সরবরাহ নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিনিময় হার কিছুটা নমনীয় করতে পারে বা ডলারের দাম কিছুটা বাড়ানোরও প্রয়োজন হতে পারে। একই সঙ্গে, দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম সামঞ্জস্য রাখতে হতে পারে, অন্যথায় মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে যাবার আশঙ্কা রয়েছে।
সব মিলিয়ে, দেখা যাচ্ছে যে তেলের দাম বৃদ্ধির সাথে ডলার অবমূল্যায়নের প্রভাব সরাসরি দেশের মূল্যস্ফীতিতে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে, যা ভোক্তার জন্য ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতি মোটের ওপর দেশের অর্থনৈতিক ভারসাম্য ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
-

৮ মাসে বাংলাদেশের বার্ষিক বাণিজ্য ঘাটতি দুই লাখ কোটি টাকায় পৌঁছাল
চলতি অর্থবছরের প্রথম ৮ মাসে বাংলাদেশে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭০৩ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকা। এই পরিমাণ প্রায় দুই গুণ বেশি গত অর্থবছরের একই সময়ে বাণিজ্য ঘাটতির তুলনায়, যেখানে ছিল ১ হাজার ৩৭১ কোটি ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক লেনদেনের সাম্প্রতিক রিপোর্টে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফেব্রুয়ারি মাসে রমজান ও তার আশেপাশে সময়ের কারণে ভোজ্যতেল, চিনি, ডাল, ছোলা ও খেজুরসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি অনেক বেড়েছে। পাশাপাশি, একই সময়ের মধ্যে রপ্তানি আয় অপ্রত্যাশিতভাবে কমে যাওয়ায় বাণিজ্য ঘাটতিতে আরও বাড়তি চাপ পড়ে। এর ফলস্বরূপ, দেশের অর্থনীতি যতদিন পর্যন্ত আমদানি নিয়ন্ত্রণ ও রপ্তানি বৃদ্ধি করতে না পারবে, ততদিন এই সমস্যা আরও জটিল হতে পারে।
সরকারি হিসাব বলছে, জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ের মধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান মোট ৪৬১৭ কোটি ডলার পণ্য আমদানি করেছে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৪৩৭৪ কোটি ডলার। অন্যদিকে, এই সময়ের মধ্যে পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৩০০৬ কোটি ডলার, যেখানে গত বছর এই পরিমাণ ছিল ২৯০৬ কোটি ডলার। এ কারণে আমদানি-রপ্তানি ব্যবধান বেড়ে চলেছে, আর সেই কারণেই প্রথম ৮ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি আরও বৃদ্ধি পায়।
অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, দেশের অর্থনীতি টেকসই রাখতে হলে আমদানি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি রপ্তানি বাড়াতে হবে। অন্যথায়, চলমান চাপের মধ্য থেকে出口ে অপ্রত্যাশিত ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের চলতি হিসাবের ঘাটতি সামান্য হলেও রয়েছে, যা ফেব্রুয়ারি শেষে দাঁড়িয়েছে ১০০ কোটি ডলার। আগের বছরের একই সময়ে সেই ঘাটতি ছিল ১৪৭ কোটি ডলার। খেয়াল করলে দেখা যাবে, সামগ্রিক লেনদেনের (ওভারঅল ব্যালেন্স) অবস্থা ইতিবাচকভাবে উন্নতি হচ্ছে, এই সময়ে তা ৩৪৩ কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের বছর ছিল ঋণাত্মক ১১৫ কোটি ডলার।
প্রবাসীরা অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন, তাদের পাঠানো রেমিটেন্স এই সময়ে ২ হাজার ২৪৫ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২১ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি।
অন্যদিকে, দেশের বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) উজ্জীবিত হলেও, শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ কমে গেছে। গত বছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ের মধ্যে বিদেশি বিনিয়োগ ছিল ১০৬ কোটি ডলার, চলতি অর্থবছরে তা হ্রাস পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৮৭ কোটি ডলারে। এই সংকটজনক পরিস্থিতির কারণে বিদেশি বিনিয়োগের পোর্টফোলিও ধারায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, যেখানে প্রথম ৮ মাসে নিট বিনিয়োগ কমেছে ৮ কোটি ডলার।
-

২০২৪ সালে ব্যাংক খাতে লোকসান ও সিএসআরে বিশ্লেষণ: সংকটের চিত্র
২০২৪ সাল বাংলাদেশ ব্যাংকিং খাতের জন্য ছিল এক কঠিন ও চ্যালেঞ্জে ভরা সময়। বছরজুড়ে অর্থনৈতিক অস্থিরতা, রাজনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি এবং বিভিন্ন প্রভাবের কারণে দেশের বেশিরভাগ ব্যাংকই নিট মুনাফা অর্জনে পিছিয়ে পড়ে। এমনকি, বেশ কিছু ব্যাংকই পুরোপুরি লোকসানে চলে যায়। এর ফলে, ব্যয় কমের পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাতে ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে অর্ধেকেরও বেশি কমে যায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের ৬১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক সামগ্রিকভাবে চরম অর্থনৈতিক চাপে পড়ে সিএসআরের জন্য কেবল ৩৪৫ কোটি ৫ লাখ টাকার ব্যয় করেছে, যা আগের বছরের চেয়ে প্রায় ২৭০ কোটি ৯১ লাখ টাকা বা ৪২ শতাংশ কম। এটি গত দশকে সর্বনিম্ন সিএসআর ব্যয়ের রেকর্ড। এর আগে, ২০১৫ সালে সর্বনিম্ন ব্যয় ছিল ৫২৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকার মতো। অর্থাৎ, এক দশকের মধ্যেই এই খাতে ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় অর্ধেকের বেশি কমে গেছে, যা একটি ভয়ঙ্কর নিম্নমুখী প্রবণতা নির্দেশ করছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য মতে, ২০২৪ সালে সিএসআর খাতে ব্যয় করা হয়েছে মোট ৬১৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা, যা ২০২৩ সালের তুলনায় ৩০৮ কোটি টাকা বা ৩৩ শতাংশ কম। এর আগের বছর ২০২৩ সালে ব্যয় ছিল ৯২৪ কোটি ৩২ লাখ টাকা, এবং ২০২২ সালে ছিল ১,১২৯ কোটি টাকা। এই দুই বছরের মধ্যে মোট সিএসআর ব্যয়ের হার কমে গেছে প্রায় ৫১৩ কোটি টাকা বা ৪৫ শতাংশের বেশি।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের প্রথমার্ধে এই অর্থনৈতিক তুলনায় অবনতির প্রভাব ছিল সর্বোচ্চ। ছাত্র-জনতার আন্দোলন, রাজনৈতিক অস্থিরতা, এবং পরবর্তী সরকারে পরিবর্তনের প্রভাবে ব্যাংকিং খাতে নানা ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি, বিভিন্ন ব্যাংকের মধ্যে অনিয়ম, লুটপাট, অর্থ পাচার ও খেলাপি ঋণের বিষয়গুলো প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে। এর ফলে, ব্যাংকগুলোতে প্রকৃত আর্থিক পরিস্থিতি স্পষ্ট হয়, যেখানে দেখানো মুনাফার বিপরীতে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে শরিয়াভিত্তিক ব্যাংকগুলো বেশ কঠিন পরিস্থিতিতে পড়ে যায়, যেখানে কিছু শিল্পগোষ্ঠীর ঋণ অনিয়ম ও অর্থ পাচারের মাধ্যমে ব্যাংকগুলো বড় ধরনের চাপে পড়ে। এর ফলস্বরূপ, এসব দুর্বল ব্যাংকগুলোর স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সরকারের উদ্যোগে কিছু ব্যাংককে একীভবন বা মিউচুয়াল সমন্বয়ের পরিকল্পনা নেয়া হয়।
ব্যাংকাররা বলছেন, সিএসআর খাতে ব্যয়ের ইতিহাসে রাজনৈতিক পরিবর্তনও খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আগে রাজনৈতিক সরকারের সময় নানা ধাপে ও চাপে ব্যাংকগুলোকে উন্নয়নমূলক কাজে অপচয় বা অতিরিক্ত ব্যয় করতে হতো। অনেক সময় এসব ব্যয় সরাসরি সিএসআর পরিকল্পনার আওতার বাইরে চলে যেত। তবে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলন ও আগস্টের সরকার পরিবর্তনের পরে নানা ধরনের চাপ কমে গেছে এবং ব্যাংকগুলো এখন চিনাকী সিদ্ধান্তে ব্যয় করছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সিএসআর খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য, কারণ রাজনৈতিক প্রভাব ও চাপের কারণে অনেক সময়ে ব্যাংকগুচ্ছ অব্যবহারযোগ্য ও অপ্রয়োজনীয় খাতে অর্থ ব্যয় করে, যা মূল উদ্দেশ্য বা সামাজিক দায়বদ্ধতার ক্ষতি করে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো তাদের নিট মুনাফার একটি নির্দিষ্ট অংশকে সিএসআর খাতে ব্যয় করতে বাধ্য। এর মধ্যে ৩০ শতাংশ শিক্ষা, ৩০ শতাংশ স্বাস্থ্য, এবং ২০ শতাংশ পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ব্যয়ের কথা বলা আছে। বাকি ২০ শতাংশ অন্যান্য সামাজিক কাজের জন্য বরাদ্দ করা যায়। কিন্তু বাস্তবে অনেক ব্যাংক নানা কারণে এই নির্দেশনা মানেনি। ২০২৫ সালে ব্যাংকগুলো মোট ব্যয়ের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৬ শতাংশ ‘অন্য’ খাতে ব্যয় করেছে। শিক্ষায় ব্যয় হয়েছে মাত্র ২৮.৫৩ শতাংশ, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ খাতের জন্য সময় অনুযায়ী প্রয়োজনীয় বরাদ্দ আসেনি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী দেখা যায়, বছরজুড়ে মোট ১১টি ব্যাংক কোনো অর্থ সিএসআরে বরাদ্দ করেনি। এই ব্যাংকগুলো হলো- জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশের কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।
উপসংহারে, ২০২৪ সালে দেশের বেশিরভাগ ব্যাংকের লোকসভা, দুর্বলতা, ও সিএসআর ব্যয়ের ধারাবাহিক হ্রাস একদিকে সবকিছুকে এক ধরনের সংকটের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। ব্যাংকগুলো সঠিক দিশা খুঁজে পাওয়া ও টেকসই উন্নয়ন ও সামাজিক দায়িত্ব পালন করতে কঠিন পরিস্থিতির মোকাবেলা করছে।
-

বিএনপি সরকারের পথনির্দেশ নতুন ফ্যাসিবাদ: জামায়াত আমিরের সতর্কতা
জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকার দেশের প্রতিটি সরকারি প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করে এক ধরনের স্বৈরাচারী শাসন চালাচ্ছে। তিনি এটিকে কার্যত একটি নতুন ফ্যাসিবাদামূলক দৃষ্টান্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা অলিখিত বাকশালের মতোই বলিষ্ঠ এবং চাপের মাধ্যমে সভ্যতা ও গণতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, অন্তরীপে বর্তমানে চালু স্বৈরাচারী শাসনের পতনের পরেও সংশ্লিষ্ট দমনমূলক নীতি অব্যাহত রয়েছে। এই ধরণের অবস্থা থেকে বের হয়ে আসার জন্য তিনি সরকারকে জরুরি সাবধানতা অবলম্বনের পরামর্শ দেন, অন্যথায় আরও কঠোর বিপদ দেখা দিতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেন। জামায়াতের এই নেতা গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতে সংসদে অধিবেশনশেষে সংসদ মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি গুমের প্রতিরোধ, বিচার বিভাগ ও স্থানীয় সরকার সংক্রান্ত বিলগুলো পাসের বিরোধিতা করে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছিলেন। শফিকুর রহমান জানান, আজকের অধিবেশনে এমন কিছু জনবিরোধী বিল উত্থাপন করা হয়, যা সরাসরি সাধারণ মানুষের Hak ও অধিকার কেড়ে নিচ্ছে। বিরোধী দল তাঁদের ক্ষোভ উগরে দিতে গেলে সংসদে তাদের কথা শোনার সুযোগ কমিয়ে দেওয়া হয়। মন্ত্রীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বললেও বিরোধীদের জন্য নির্ধারিত সময় কয়েক মিনিটের বেশি রাখা হয় না, যা সাংসদীয় রীতিনীতির পরিপন্থী এবং বিরোধীদের কণ্ঠরোধের এক অপপ্রয়াস। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে চাইলেও বর্তমান সরকার এমন বিল পাস করছে, যা দিয়ে বিচারক নিয়োগ ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব নির্বাহী বিভাগের হাতে চলে যাচ্ছে। ২০১৮ সালের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিচার বিভাগ কিছুটা স্বাধীন ছিল, তা বর্তমান সরকার বাতিল করে পুরনো ব্যাবস্থায় ফিরছে। এর ফলে বিচার বিভাগের ওপর সরকারের অপ্রতিরোধ্য হস্তক্ষেপ স্পষ্ট হচ্ছে, যা অতীতে বিচারপতি খায়রুল হক ও মানিকের মতো বিচারকদের দলীয়ভাবে নিয়োগ দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছিল। স্থানীয় সরকারের ক্ষেত্রেও একই ধরনের দমনমূলক পরিস্থিতি তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সরিয়ে অংগীসভার প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে ভেঙে দেয়া হচ্ছে। বিএনপি তার ৩১ দফা সংস্কার পরিকল্পনায় স্পষ্ট করে বলেছিল, নিরপেক্ষ পরিস্থিতি ছাড়া প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া যাবে না। কিন্তু বর্তমান সরকার অযৌক্তিক কারণ ছাড়া সব স্তরে দলীয়করণ চালিয়ে যাচ্ছে, যা দেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছে। এদিন শেরপুর ও বগুড়ায় অনুষ্ঠিত উপ-নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা ও স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উত্থাপন করেন জামায়াতের এই নেতা, তিনি বলেন, ১৯৯৪ সালের মাগুরার নির্বাচন যখন কলঙ্কজনক হয়ে ছিল, আজ শেরপুর ও বগুড়ার নির্বাচনে তেমনই পরিস্থিতি দেখাচ্ছে। এই নির্বাচনও একটি নিঃসন্দেহে দুর্নীতিপূর্ণ ও অপ্রতুল বলে তিনি মন্তব্য করেন। এই নির্বাচনে দলের কর্মী খুনের ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আমাদের একজন কর্মী হত্যা করা হয়েছে, আরেকজনের সুস্থতার জন্য দোষীদের দ্রুত শাস্তি দাবি করেন। ডা. শফিকুর রহমান আশ্বাস দেন যে, তারা সংসদে যাবে ও গণতান্ত্রিক অধিকারের পক্ষে কথা বলবে। তবে যদি জনস্বার্থবিরোধী কোন আইন পাস হয়, তারা প্রতিবাদে গর্জে উঠবে। তিনি বলেন, জনগণ অতীতে ফ্যাসিবাদ ও বাকশাল রুখে দিয়েছে, ভবিষ্যতেও যদি কেউ আবার এমন করার অপচেষ্টা করে, জনগণের সঙ্গে নিয়ে তার বিরুদ্ধেই রুখে দাঁড়ানো হবে ইনশাআল্লাহ। এই সংবাদ সম্মেলনে বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ বিভিন্ন শীর্ষ সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
-

বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী নির্বাচন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মনোনয়ন ফরম বিক্রি ও জমা গ্রহণের কার্যক্রম শুরু করেছে। এই আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বেলা ১১টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শুরু হয়। এর উদ্বোধন করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, প্রধানমন্ত্রী ও রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি জানান, আগ্রহী প্রার্থীরা ১২ এপ্রিলের মধ্যে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে জমা দিতে পারবেন। প্রতিটি ফরমের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার টাকা, আর জমা দেওয়ার সময় আগ্রহী প্রার্থীরা ৫০ হাজার টাকা জামানত দেবেন। এই সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক মুনির হোসেন, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, আরিফা সুলতানা রুমা সহ অন্য নেতাকর্মীরা। রিজভী আরো বলেন, দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে, নির্যাতিত ও ত্যাগী নারী নেত্রীদেরই বিএনপি মূল্যায়ন করবে সংরক্ষিত নারী আসনে। তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি গণতন্ত্রের ধারাকে অব্যাহত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাশাপাশি, তিনি জানান, আওয়ামী লীগ শাসনামলে যারা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের মধ্য থেকে প্রার্থী নির্বাচন করা হবে। বিএনপির মুখপাত্র রিজভী বলেন, বিরোধী দল থাকায় বিএনপি নারী নেত্রীদের কারাবরণের পাশাপাশি নানা রকম নির্যাতনের মুখে পড়তে হয়েছে। দলীয় মনোনয়ন বোর্ড এসব বিষয় বিবেচনা করে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করবে—এটাই দলের প্রত্যাশা। তিনি আরও বলেন, প্রার্থী নির্বাচনের সময় শিক্ষকতা, আন্দোলনে ভূমিকা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সংসদে কার্যকরভাবে বক্তব্য দেওয়ার সক্ষমতা বিবেচনা করা হবে।
