Blog

  • সোনার দাম কমল, প্রতি ভরি এখন কত?

    সোনার দাম কমল, প্রতি ভরি এখন কত?

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) দেশের বাজারে সোনার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রতি ভরি সোনারের দাম সর্বোচ্চ ২,২৫৮ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে।

    সংগঠনটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরি দাম সোমবার (৪ মে) ছিল দুই লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা; এখন তা নেমে এসেছে দুই লাখ ৪০ হাজার ৩৩৭ টাকায়। নতুন এই দর মঙ্গলবার (৫ মে) সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

    বাজুস জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার দাম কমাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাজারেও মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। বেঁধে দেওয়া দর অনুসারে অন্যান্য মানের সোনার দামগুলো হল: ২১ ক্যারেট প্রতি ভরি দুই লাখ ২৯ হাজার ৪৩১ টাকা, ১৮ ক্যারেট প্রতি ভরি এক লাখ ৯৬ হাজার ৬৫৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি এক লাখ ৬০ হাজার ১৪৭ টাকা।

    রুপার দাম এই সমন্বয়ে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ২২ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরি দাম ৫ হাজার ৪৮২ টাকা; ২১ ক্যারেট ৫ হাজার ১৯০ টাকা; ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৪৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা।

    আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটেও সোনার বাজার ওঠানামা করছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের উত্তেজনার প্রভাবে বিশ্ববাজারে সোনার দাম বাড়তে থাকলেও পরে স্বল্পটা মানিয়ে নেওয়া হয়েছে। গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্রে জানানো হয়েছে, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম প্রায় ৪,৫০০ ডলারে নেমে এসেছে। এর আগের দিকে এই দাম ছিল বেশি — ৩০ জানুয়ারি প্রায় ৫,২০০ ডলার এবং ২৯ জানুয়ারি ছিল প্রায় ৫,৫৫০ ডলার।

  • বাজুসের ঘোষণা: টানা দ্বিতীয়বার বাড়ল সোনার দাম

    বাজুসের ঘোষণা: টানা দ্বিতীয়বার বাড়ল সোনার দাম

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) টানা দ্বিতীয়বার সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সর্বোচ্চ এক ভরি সোনার দাম সর্বোচ্চ ২ হাজার ২১৬ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। নতুন মূল্য আজ সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভালো মানের ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরির দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকায়। গতকাল এই দাম ছিল দুই লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা, ফলে এক দিনে দাম বেড়েছে ২ হাজার ২১৬ টাকা।

    অন্য কেটাগরিগুলোতে নির্ধারিত দামগুলো হলো: ২১ ক্যারেট প্রতি ভরিতে দুই লাখ ৩৩ হাজার ৫৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেট প্রতি ভরিতে দুই লাখ ২১৩ টাকা (প্রতিটি ক্ষেত্রে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত অনুসারে) এবং সনাতনী পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম এক লাখ ৬৩ হাজার ৬৩ টাকা।

    সোনার পাশাপাশি রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। নির্ধারিত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের হিসেবে এক ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ৭৭৪ টাকা, ২১ ক্যারেটের রুপার দাম ৫ হাজার ৫৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৪ হাজার ৭২৪ টাকা এবং সনাতনী পদ্ধতির রুপার দাম ৩ হাজার ৫৫৮ টাকা।

    বাজুস জানিয়েছে, তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার দাম বাড়ায় স্থানীয় বাজারে মূল্যসমন্বয় করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে 최근 ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল পাল্টাপাল্টি উত্তেজনার কারণে সোনার দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকায় দেশীয় দরও ওঠানামা করছে। বিশ্ববাজার ওয়েবসাইট গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্রে জানানো হয়েছে, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৪ হাজার ৭০০ ডলার। সূত্রে আরও বলা হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে আগে ৩০ জানুয়ারি আউন্সপ্রতি দাম ছিল ৫ হাজার ২০০ ডলার এবং ২৯ জানুয়ারি ৫ হাজার ৫৫০ ডলার ছিল।

    গত মাসের শেষের দিকে বিশ্ববাজারে সোনার দাম দ্রুত বাড়তে থাকায় দেশের বাজারেও রেকর্ড মাত্রায় বৃদ্ধির ঘটনা ঘটেছিল। ২৯ জানুয়ারি একবারে প্রতি ভরিতে ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়ানোর পর ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম একসময় ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায় পৌঁছেছিল—এখানেই দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দেখা গিয়েছিল।

  • প্রমোদতরীর যাত্রীদের মধ্যে মার্কিন ও ফরাসি নাগরিকদের দেহে হান্টাভাইরাস শনাক্ত

    প্রমোদতরীর যাত্রীদের মধ্যে মার্কিন ও ফরাসি নাগরিকদের দেহে হান্টাভাইরাস শনাক্ত

    আর্জেন্টিনা থেকে যাত্রা করা একটি বিলাসবহুল প্রমোদতরীতে হান্টাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঘটায় আন্তর্জাতিকভাবে সতর্কতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট দেশের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এটিকে গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছেন।

    ওশুয়াইয়া থেকে ১ এপ্রিল যাত্রা শুরু করা এমভি হন্ডিয়াস নামের ক্রুজযানটিতে থাকা বা এযান থেকে ফিরে আসা করেই এখন পর্যন্ত তিন যাত্রী মারা গেছেন—একজন ডাচ, তার স্ত্রী এবং পরে একজন জার্মান নাগরিক। ডব্লিউএইচও নিশ্চিত করেছে যে মৃতদের একজন ৬৯ বছর বয়সীর শরীরে হান্টাভাইরাস পাওয়া গিয়েছে।

    বৃহস্পতিবার দক্ষিণ আফ্রিকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জাহাজ থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা দুই জনের শরীরে ভাইরাসটির অ্যান্ডিস স্ট্রেইন শনাক্ত হয়েছে—তাদের মধ্যে একজন মার্কিন, একজন ফরাসি নাগরিক। মার্কিন স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানান, প্রত্যাবাসন ফ্লাইটে থাকা আরেকজন মার্কিন নাগরিকেরও হালকা উপসর্গ দেখা গেছে; প্রতিটি আক্রান্তকে অতিরিক্ত সতর্কতা হিসেবে বায়োকনটেইনমেন্ট ইউনিটে নেয়া হয়েছিল।

    ফ্রান্সের স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্টেফানি রিস্ট জানিয়েছে, প্যারিসে একজন নারী আইসোলেশনে আছেন এবং তাঁর অবস্থা খারাপির দিকে গেছে; তাঁর সংস্পর্শে আসা ২২ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তারা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এছাড়া জাহাজের অন্য যাত্রী ও ক্রুদের মধ্যে যোগাযোগস্থাপন ও ট্রেসিং কার্যক্রম চলছে—অনেকে যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ আফ্রিকা, নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাষ্ট্র ও সুইজারল্যান্ডে বিমানযোগে গেছেন বলে জানা গেছে।

    রুট ও যাত্রীসংখ্যা: ওশেনওয়াইড এক্সপেডিশনস পরিচালিত এমভি হন্ডিয়াস ক্রুজটি উশুয়াইয়া থেকে ব্রিটিশশাসিত দক্ষিণ জর্জিয়ার দিকে যাত্রা করছিল; যাত্রায় প্রাথমিকভাবে প্রায় ২৮টি দেশের প্রায় ১৫০ যাত্রী ও ক্রু ছিলেন। যাত্রাটি আটলান্টিকের দূরবর্তী অঞ্চলগুলো অতিক্রম করে বিশেষ অভিজ্ঞতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। জাহাজটি সেন্ট হেলেনায় নোঙর করে কিছু যাত্রী নেমে গেলে তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে। বর্তমানে জাহাজটি কেপ ভার্দের কাছাকাছি তিন দিন নোঙর করার পরে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের দিকে চলছে।

    স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও জাহাজের অপারেটর জানিয়েছেন, নেদারল্যান্ডস থেকে সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞরা আছেন এবং প্রয়োজন হলে কেপ ভার্দে এসে জাহাজে আরোহণ করবেন। কর্তৃপক্ষ দ্রুত পরীক্ষা, আইসোলেশন ও কন্টাক্ট ট্রেসিং করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে।

    হান্টাভাইরাস সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা: হান্টাভাইরাস মূলত ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর মধ্যেই থাকে। মানুষের সংক্রমণ সাধারণত ইঁদুরের প্রস্রাব, মল বা অন্যান্য শরীরিক তরল থেকে তৈরি কণার মাধ্যমে বায়ুতে ছড়িয়ে পরার ফলে শ্বাসের মাধ্যমে ঘটে। খুব বিরলভাবে ইঁদুরের কামড় বা আঁচড় দিয়েও সংক্রমিত হতে পারে।

    এই ভাইরাস দুই ধরনের গুরুতর রোগ সৃষ্টি করতে পারে—হান্টাভাইরাস পালমোনারি সিনড্রোম (HPS), যা শুরুর দিকে ক্লান্তি, জ্বর ও পেশিতে ব্যথা দিয়ে শুরু হয়ে পরে শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত জটিলতায় চলে যেতে পারে; এবং হেমোরেজিক ফিভার উইথ রেনাল সিনড্রোম (HFRS), যা প্রধানত কিডনি আক্রান্ত করে এবং রক্তচাপ কমে, অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ ও কিডনি বিকলতা ঘটাতে পারে। সিডিসি অনুপ্রাণিত হিসেবে উল্লেখ করে যে শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত উপসর্গ দেখা দিলে মৃত্যুহার প্রায় ৩৮ শতাংশ হতে পারে।

    বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো নিয়মিত তথ্য প্রকাশ করছে এবং সংক্রমণ রোধে যে যার জায়গা থেকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করছে। সাধারণ মানুষের জন্য নির্দেশনা হলো—যদি জ্বর, শ্বাসকষ্ট বা অসামান্য ক্লান্তি দেখা দেয় তবে দ্রুত চিকিৎসা নিন এবং মৃদু উপসর্গ হলেও স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে জানান।

    সূত্র: বিবিসি

  • শুভেন্দু: ৪৫ দিনের মধ্যে সীমান্ত বেড়ার জমি বিএসএফকে হস্তান্তর

    শুভেন্দু: ৪৫ দিনের মধ্যে সীমান্ত বেড়ার জমি বিএসএফকে হস্তান্তর

    পশ্চিমবঙ্গ সরকার বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি ৪৫ দিনের মধ্যে ভারতের সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী (বিএসএফ)-কে হস্তান্তর করবে—এমন ঘোষণা দিয়েছেন নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে নেওয়া ছয়টি সিদ্ধান্তের মধ্যে এটিই ছিল অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা।

    শুভেন্দু অধিকারী বলেন, রাজ্যের জনমিতিক চিত্র বদলে গেছে, তাই সীমান্ত নিরাপত্তা শক্তিশালী করার প্রয়োজন রয়েছে। তিনি জানান, ভূমি ও রাজস্ব সচিব এবং রাজ্যের মুখ্যসচিবকে জমি হস্তান্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় জমি ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হবে। তিনি এটাও বলেছিলেন যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিএসএফকে এই হস্তান্তরের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে যে অবৈধ অভিবাসন ঠেকানো ছিল বিজেপির নির্বাচনী প্রচারের একটি কেন্দ্রীয় ইস্যু। নির্বাচনী সময় দলটির দাবি ছিল যে তৎকালীন তৃতীয়মূল সরকার সীমান্ত যথেষ্ট কার্যকরভাবে রক্ষা করেনি, ফলে নিকট প্রতিবেশী বাংলাদেশ থেকে অনেকে অবৈধভাবে দেশভুক্ত হয়েছেন।

    অপর একটি বড় সিদ্ধান্ত ছিল রাজ্যে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবীমা প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’ বাস্তবায়ন করা। শুভেন্দু জানান, প্রধানমন্ত্রী নামযুক্ত সকল কেন্দ্রীয় প্রকল্প রাজ্যজুড়ে কার্যকর করা হবে। এর ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের কয়েক বছরের বিরোধিতির পর এ বিষয়েijakan পরিবর্তন এসেছে।

    শুভেন্দু আরও স্পষ্ট করে বলেন, তাঁর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের গণকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলো বাতিল করবে না। এর মধ্যে রয়েছে বহুল আলোচিত ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ও। মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর তিনি সাংবাদিকদের জানান, রাজ্যে চলমান উপকারভোগীভিত্তিক সব প্রকল্প অব্যাহত থাকবে।

    লক্ষ্মীর ভান্ডার ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার চালিত একটি প্রধান প্রকল্প, যা ২০২১ সালে চালু করা হয়। এই কর্মসূচির মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল নারীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হতো—তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতিভুক্ত ২৫–৬০ বছর বয়সী নারীরা মাসে সর্বোচ্চ ১,২০০ টাকা পান, অন্য শ্রেণির নারীরা মাসে ১,০০০ টাকা পান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই প্রকল্পটি মমতা সরকারের ভোটকৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল, বিশেষ করে নারী ভোটারদের মধ্যে।

    রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট হিসেবে বলা যেতে পারে, গত মাসের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি তৃণমূল কংগ্রেসকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করে ২৯৪ আসনের মধ্যে ২০৭টি আসন পেয়ে রাজ্যে প্রথম বিজেপি সরকার গঠন করেছে। দল নির্বাচনী প্রচারক্রমে ভোটার তালিকা সংশোধন, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং রাজ্যব্যাপী ৯০ লাখ ৮০ হাজার নাম বাদ পড়ার অভিযোগসহ বিভিন্ন ইস্যুতে তীব্র আক্রমণ করে।

    মোটকথা, নবনির্বাচিত সরকার সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলো চালু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে—একই সঙ্গে চলমান সামাজিক সহায়তা প্রকল্পগুলোও বজায় রাখার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

  • শার্শায় কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় দুই বন্ধুর মৃত্যু

    শার্শায় কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় দুই বন্ধুর মৃত্যু

    যশোরের শার্শা উপজেলায় বুধবার ভোরে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। সোমবার (১১ মে) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে নাভারন-সাতক্ষীরা মহাসড়কের উলাশী খাজুরা এলাকায় কাভার্ডভ্যানের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে তোজাম্মেল হোসেন (৪০) ও শাহিন আলম (৪২) নিহত হন।

    নিহত তোজাম্মেল হোসেন উলাশী গ্রামের মৃত আতিয়ার গাইনের ছেলে এবং শাহিন আলম একই গ্রামের সিদ্দিক হোসেনের ছেলে। স্থানীয়রা জানান, তারা ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন এবং দিনের শুরুতে মোটরসাইকেল যোগে নিয়মিত মতো উলাশী থেকে নাভারনের দিকে যাচ্ছিলেন।

    পথিমধ্যে খাজুরা এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগতির একটি মালবাহী কাভার্ডভ্যানের সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই ওই দুই আরোহীর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে এবং স্থানীয়রা দ্রুত ছুটে এসে উদ্বিগ্ন হয়ে উদ্ধার তৎপরতা চালান।

    খবর পেয়ে সেখানকার লোকজন ঘটনাস্থলে ঢুকে দ্রুত পুলিশের কাছে খবর দিলে নাভারন হাইওয়ে থানা পুলিশ পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। নিহতদের সঙ্গে থাকা লোকজন ও স্থানীয়রা ঘটনার পর উত্তেজিত হলে ঘাতক কাভার্ডভ্যানটিকে আটক করে।

    নাভারন হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোপাল কর্মকার জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল নিয়ন্ত্রণে এনেছে এবং ঘাতক কাভার্ডভ্যান জব্দ করা হয়েছে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন আছে এবং ঘটনার সঠিক কারণ তদন্ত করে নেয়া হবে।

    বাস্তবিক ক্ষতি ও পরিবার-পরিজনের শোকের মধ্যে স্থানীয় সূত্রে নিহতদের সমবয়সী বন্ধুদের আকস্মিক মৃত্যু এলাকায় দুঃখের ছাপ ফেলেছে। তদন্তকারীরা দূরবর্তী বিষয়ে স্পষ্টতা পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে পুলিশ জানায়।

  • কৃষকের ঘাম-পরিশ্রমেই দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত: আজিজুল বারী হেলাল

    কৃষকের ঘাম-পরিশ্রমেই দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত: আজিজুল বারী হেলাল

    খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন, বিএনপি সবসময় মানুষের ভোটাধিকার, গণতন্ত্র ও মানবিক মূল্যবোধ রক্ষার রাজনীতি করে। দেশের প্রকৃত উন্নয়ন কেবল বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; প্রকৃত উন্নয়ন তখনই মেলে যখন গ্রামের কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ সক্ষমভাবে উন্নয়নের সুফল ভোগ করতে পারে।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তিই হচ্ছে কৃষি। কৃষকদের ঘাম ও পরিশ্রমের ওপর নির্ভর করেই দেশের খাদ্য安全তা নিশ্চিত হয়। তাই কৃষকদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থার বিস্তার, উন্নত বীজ, সার ও প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ সহজলভ্য করা অত্যন্ত জরুরি।

    এমপি আজ রোববার তেরখাদা উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বিএনপি কৃষকবান্ধব নীতিতে বিশ্বাস করে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করতে কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়া শিক্ষাব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যখাতের উন্নতি ছাড়া কোনো জাতিই স্থায়ীভাবে এগোতে পারে না—শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা আধুনিক ও সহজলভ্য করা উচিত। তরুণ সমাজকে মাদক ও সন্ত্রাস থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানো প্রয়োজন, যোগ করেন তিনি।

    অনুষ্ঠানে তিনি উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ‘অভ্যন্তরীণ বোরো ধান ও চাল সংগ্রহ-২০২৬’ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। পরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ (২০২৫-২০২৬ অর্থবছর) অনুসারে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত দুস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে টিন ও নগদ অর্থ বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

    উপজেলা পরিষদের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এডিপি প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য স্যানিটারি মেশিন, বেঞ্চ, ক্রীড়া সামগ্রী, পিপি মেশিন, ডায়াবেটিক মেশিন, ওয়েট মেশিনসহ শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনও তিনি করেন। এরপর তিনি ছাগলাদাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নবনির্মিত ভবনের উদ্বোধন এবং লস্করপুর সড়কের উদ্বোধন করেন।

    অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন তেরখাদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিস তাহমিনা সুলতানা নীলা। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম নুরুন্নবী, তেরখাদা থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ শহিদুল্লাহ, কৃষি কর্মকর্তা শিউলি মজুমদার, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হানিফ শিকদার, জেলা বিএনপি নেতা জুলফিকার আলী জুলু, এনামুল হক সজল, উপজেলা বিএনপি সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির আহবায়ক চৌধুরী কাওসার আলী, সাবেক আহবায়ক চৌধুরী ফখরুল ইসলাম বুলু, সাবেক সদস্য সচিব এফ এম হাবিবুর রহমান, জেলা কৃষক দল নেতা শেখ আবু সাঈদ, বিএনপি নেতা রবিউল হোসেন, সরদার আব্দুল মান্নান, ইকরাম হোসেন জমাদ্দার, মোল্লা মাহবুবুর রহমান, সাজ্জাদ হোসেন নান্টা, শরিফ নাইমুল হক, মোল্লা হুমায়ূন কবির, মিল্টন হোসেন মুন্সী, বিল্লাল হোসেন, শেখ আজিজুর রহমান আজিবার, আবুল হোসেন বাবু মোল্লা, যুবদল নেতা চৌধুরী আমিনুল ইসলাম মিলু, গোলাম মোস্তফা ভুট্টো, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক সোহাগ মুন্সী, উপজেলা কৃষক দলের আহবায়ক রাজু চৌধুরী, সদস্য সচিব সাবু মোল্লা, ছাত্রদল নেতা সাব্বির আহমেদ টগর, সাবেক ছাত্রদল নেতা আমিনুল ইসলাম আমিন, চৌধুরী আশাবুর রহমান প্রমুখ।

    আজিজুল বারী হেলাল শেষবারে বলেন, ‘‘কৃষি খাতকে শক্তিশালী করা, গ্রামীণ অর্থনীতি গতিশীল করা, শিক্ষা-স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় গুণগত পরিবর্তন আনা এবং তরুণদের জন্য সৃজনশীল সুযোগ সৃষ্টি করাই দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি।’’

  • মেহেদী মিরাজের ফাইফারে বাংলাদেশ পেল ২৭ রানের লিড

    মেহেদী মিরাজের ফাইফারে বাংলাদেশ পেল ২৭ রানের লিড

    বাংলাদেশের করা ৪১৩ রানের প্রতিশ্রুতির সামনে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা দারুণ করেছিল পাকিস্তান। কিন্তু টাইগার স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজের ঝড় এখনও থামেনি — মিরাজের পাঁচ উইকেটে পাকিস্তানকে ৩৮৬ রানে অলআউট করে বাংলাদেশ পেল ২৭ রানের লিড।

    দ্বিতীয় দিনের শেষের দিকে অভিষিক্ত ওপেনার আজান ৮৫ রান করে অপরাজিত ছিলেন; তৃতীয় দিনের শুরুতে তিনি নিজের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। ২১ বছর বয়সী এই ব্যাটারটি হাতেনাতে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন এবং একসময় ফজল হক সঙ্গে ১০৪ রানের জুটি গড়ে দলকে পরিস্থিতি সামলাতে সাহায্য করেন। কিন্তু সেঞ্চুরি করার কিছুক্ষণ পরই তাসকিন আলীর পেসে আজান ফিরিয়ে দিতে সক্ষম হন বাংলাদেশের পেসার তাসকিন আহমেদ।

    এর পর কয়েক ওভারে পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ের ঐ রোল ধস খায়। তাসকিন শান মাসুদকে দ্রুত ফিরিয়ে দেন, এরপর সাদমান ইসলামকে ক্যাচে দেন পাকিস্তানি অধিনায়ক। পরের ওভারেই মিরাজ সৌদ শাকিলকে এলবিডব্লিউ-তে আউট করেন।

    ফজল (৬০, ১২০ বল, ৭ চার ও ১ ছয়) এক পর্যায়ে ভাল লড়াই করেও বেশি দূর যেতে পারেননি; মিরাজের বলে তাইজুলকে ক্যাচ দিলেই তিনি ফিরেন। এদিকে ফজল আগে ১০২ বল খেলে ফিফটি করেছেন।

    পাকিস্তান এক সময়ে এক উইকেটে ২১০ রানের মতো শক্ত অবস্থানেও পৌঁছেছিল। তবে পঞ্চম উইকেটের পর ধীরে ধীরে ধারাভঙ্গ দেখা দেয়। ষষ্ঠ উইকেটে সালমান আগা ও মোহাম্মদ রিজওয়ান যখন মাঠে থাকছিলেন, তখনই তারা ১১৯ রানের জুটি গড়ে দলকে আবার এগিয়ে নিয়ে যান। দুজনই অর্ধশতক সংগ্রহ করেন; রিজওয়ানকে তাইজুল ইসলামের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরাতে পারেন বাংলাদেশের মাঠের এক ফিল্ডার (আউট হন ৫৯ রান করে, ৭৯ বল), আর সালমান আগা করেন ৫৮ (৯৪ বল, ছয় চার ও এক ছয়)।

    শেষ দিকে মিরাজ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন। তার স্পিনে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইন কিছুতেই টিকে থাকতে পারেনি এবং দলটি ৩৮৬ রানে সবকটি উইকেট হারায়।

    এর আগে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ কঠিন সংগ্রহ করেছে—নাজমুল হাসান শান্ত ১০১, মুমিনুল হক ৯১ এবং মুশফিকুর রহিম ৭১ রানের মতো ব্যাটিংয়ে ভর করে টাইগাররা করেছিলেন ৪১৩ রান। পাকিস্তানের পক্ষে মুহাম্মদ আব্বাস বাংলাদেশিরা বিপক্ষে পাঁচ উইকেট শিকার করেন।

    মোটের উপর খেলায় ফেরেনি পাকিস্তান; মিরাজের স্পেল এবং দলীয় সংগঠিত বোলিংয়ে স্বাগতিকরা ক্রীড়াঙ্গণেই বড় একটা সুবিধা নেওয়ার অবস্থায় রয়েছে।

  • নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ১৫ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করল বাংলাদেশ

    নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ১৫ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করল বাংলাদেশ

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে অনুষ্ঠিতব্য আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে। দলে অধিনায়ক হিসেবে রয়েছেন নিগার সুলতানা জ্যোতি, আর সহ-অধিনায়ক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন নাহিদা আক্তার।

    স্কোয়াডে জায়গা হয়নি শারমিন সুলতানার; তাঁর স্থলে দলে ফিরেছেন তাজনেহার। টিমে নতুনভাবে ফিরে আসা তাজনেহার এখন পর্যন্ত আটটি টি-টোয়েন্টিতে মোট ৪৪ রান করেছেন। সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে, তাকে নেওয়ার মূল কারণ ছিল তার ব্যাটিংয়ের বহুমুখী যোগ্যতা — প্রয়োজন অনুসারে এক থেকে ছয় নম্বর পর্যন্ত ব্যাট করতে পারা।

    বিশ্বকাপ শুরুর আগে প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ দল আগামী ২৫ মে এডিনবরা, স্কটল্যান্ডের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়বে। সেখানে তারা স্বাগতিক স্কটল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে একটি ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলবে, যা বিশ্বকাপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতির সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    ত্রিদেশীয় সিরিজ শেষে দল ইংল্যান্ডে লাফবরো যাবে, যেখানে এক বা একাধিক প্রস্তুতিমূলক ম্যাচে অংশ নিয়ে স্থানীয় কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া ও টিম কম্বিনেশন চূড়ান্ত করা হবে। এই প্রস্তুতি পর্বের মূল লক্ষ্য হবে খেলোয়াড়দের মাঠে ধার আনা ও коллектив সমন্বয় গঠন।

    বাংলাদেশের বিশ্বকাপ অভিযানের উদ্বোধনী ম্যাচ হবে ১৪ জুন এজবাস্টনে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ নেদারল্যান্ডস। বিসিবি আশা করছে ভালো প্রস্তুতি ও সুশৃঙ্খল দলগঠনের ফলে বিশ্বপর্যায়ে ভালো অর্জন করবে টাইগ্রেসরা।

    অভিজ্ঞ ও তরুণদের মিশেলে গঠিত দলটিতে রয়েছেন বেশ কয়েকজন নিয়মিত নামের সঙ্গে উদীয়মান ক্রিকেটাররাও। বিসিবি অনুশীলন ও ম্যাচের মধ্য দিয়ে সেরা একাদশ খোঁজার ওপর জোর দিচ্ছে।

    বাংলাদেশ নারী দল (স্কোয়াড): নিগার সুলতানা জ্যোতি (অধিনায়ক), নাহিদা আক্তার (সহ-অধিনায়ক), শারমিন আক্তার সুপ্তা, সোবহানা মোস্তারি, স্বর্ণা আক্তার, রিতু মনি, রাবেয়া খান, ফাহিমা খাতুন, ফারিহা ইসলাম তৃষ্ণা, মারুফা আক্তার, সানজিদা আক্তার মেঘলা, সুলতানা খাতুন, দিলারা আক্তার, জুরাইরিয়া ফেরদৌস ও তাজনেহার।

  • বিশ্বকাপ উদ্বোধনে ঝড় তুলবে ব্ল্যাকপিঙ্কের লিসা

    বিশ্বকাপ উদ্বোধনে ঝড় তুলবে ব্ল্যাকপিঙ্কের লিসা

    আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ—আগামি মাসে শুরু হতে যাচ্ছে ফুটবল উৎসব ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬। সেই উন্মাদনাকে আরও রোমাঞ্চকর করতে উদ্বোধন অনুষ্ঠানের লাইনআপে যোগ দিলেন ব্ল্যাকপিঙ্কের লিসা। কনকাকাফ জানিয়েছে, নারী কে-পপ শিল্পী হিসেবে লিসা উদ্বোধনী মঞ্চে পারফর্ম করবেন।

    কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো যৌথভাবে এ বছর বিশ্বকাপ আয়োজেন করছে। তাই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটিও তিনটি ভিন্ন মঞ্চে ভাগ করে প্রদর্শিত হবে—প্রতিটি হোস্ট দেশের নির্দিষ্ট স্টেডিয়ামে বিশেষ শো হবে।

    সংবাদমাধ্যম দ্য অ্যাথলেটিকের খবরে বলা হয়েছে, লিসা আন্তর্জাতিক ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে পারফরম্যান্স সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন। এ পদক্ষেপ জল্পনা শেষ করে দিয়েছে যে উত্তর আমেরিকার মঞ্চে একজন আন্তর্জাতিক স্তরের কে-পপ তারকা পরিবেশন করবেন। অতীতে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে বিটিএসের জুংকুক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অফিসিয়াল সাউন্ডট্র্যাক ‘ড্রিমার্স’ পরিবেশন করেছিলেন—এবার সেই ধারাবাহিকতাকে এগিয়ে নিচ্ছেন লিসা।

    যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে সোফি স্টেডিয়ামে, যুক্তরাষ্ট্র বনাম প্যারাগুয়ে ম্যাচের আগে লিসা পারফর্ম করবেন। ওই মঞ্চে কেটি পেরি, ফিউচার এবং ডিজে স্নেকও থাকবেন।

    টরন্টোর মঞ্চে পারফর্ম করবেন মাইকেল বুবলে, অ্যালানিস মরিসেট ও অ্যালেসিয়া কারা। আর মেক্সিকো সিটির এস্তাদিও আজতেকায় পারফর্ম করবেন রক ব্যান্ড মানা, আলেহান্দ্রো ফার্নান্দেজ, বেলিন্ডা ও তাইলা।

    প্রতিটি মঞ্চের শো-টাইমের আয়োজনও নির্দিষ্টভাবে করা হয়েছে—যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মঞ্চগুলোতে প্রতিটি শো হবে ১৩ মিনিট, আর মেক্সিকো মঞ্চটি চলবে ১৬ মিনিট ৩০ সেকেন্ড।

    মিউজিক ও খেলার এ মিলন বিশ্বকাপকে আরও উৎসবমুখর করবে বলে অনেকে ধারণা করছেন। লিসাসহ আন্তর্জাতিক তারকাদের অংশগ্রহণ বিশ্বব্যাপী দর্শক ও ভক্তদের জন্য উদ্বোধনী রাত্রিটিকে স্মরণীয় করে তুলবে।

  • ঘোড়ার মাংস বাণিজ্য নিষিদ্ধের দাবি জানিয়ে জয়া আহসানের হাইকোর্ট রিট

    ঘোড়ার মাংস বাণিজ্য নিষিদ্ধের দাবি জানিয়ে জয়া আহসানের হাইকোর্ট রিট

    ঘোড়ার মাংসের বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার নির্দেশনা চেয়ে হাই কোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। রিটটি দায়ের করেছেন বাংলাদেশ অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন, এ কে খান হেলথকেয়ার ট্রাস্ট এবং অভিনেত্রী ও প্রাণী কল্যাণ কর্মী জয়া আহসান। রিটটি করা হয়েছে সোমবার (১১ মে)।

    রিটপত্রের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে রয়েছেন ব্যারিস্টার সাকিব মাহবুব, ড. সিনথিয়া ফরিদ ও অ্যাডভোকেট সাজিদ হাসান। রিটে দাবি করা হয়েছে, অসুস্থ ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রাণীদের মানুষকে খাদ্য হিসেবে প্রতারণামূলকভাবে বাজারজাত করা হচ্ছে; এই অনিয়ম ও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি রোধে উচ্চ আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

    পিটিশনকারীরা দেখান যে পূর্বে মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ সত্ত্বেও কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাই তারা হাই কোর্টকে নির্দেশ দিতে অনুরোধ করেছেন—অভিযোগগুলোর তদন্ত, অপরাধীদের সনাক্ত ও বিচারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং গাজীপুরে উন্মোচিত অবৈধ ঘোড়ার মাংস বাণিজ্যের ব্যাপারে পুঙ্খানুপুঙ্খ ও সময়সীমাবদ্ধ তদন্ত রিপোর্ট আদালতে দাখিল করার।

    রিটে আরও বলা হয়েছে, কর্তৃপক্ষকে ৬০ দিনের মধ্যে একটি জাতীয় নির্দেশিকা ও বাস্তবায়নযোগ্য কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দেয়া হোক, বাজেয়াপ্ত ও অসুস্থ ঘোড়াগুলো নিলামে বিক্রি বন্ধ করা হোক এবং উদ্ধারকৃত প্রাণীদের পরিচর্যা ও পুনর্বাসনের জন্য যথাযথ অভয়ারণ্য বা সুবিধা—যা বাংলাদেশ অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন পরিচালনা করবে—স্থাপন করতে বলা হয়েছে।

    পিটিশনকারীরা জোর দিয়ে উল্লেখ করেছেন যে স্থানীয় প্রশাসনিক উদাসীনতায় এসব অবৈধ কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে তা জনস্বাস্থ্যের মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াবে এবং প্রাণীদের ওপর চলমান নিষ্ঠুরতা বন্ধ হবে না, ফলে তাৎক্ষণিক বিচারিক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

    রিটে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের নভেম্বরের প্রথম দিকে গাজীপুরে জেলা প্রশাসন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-১ ও পুলিশের যৌথ অভিযানে একটি কটন (তুলা) কারখানাকে অবৈধ জবাইখানায় রূপান্তরিত করে ব্যাপক ঘোড়ার মাংস বাণিজ্য চালানোর চক্র ধরা পড়ে। ওই অভিযানে প্রায় ৩৬টি গুরুতর অসুস্থ ঘোড়া, ৮টি জবাইকৃত ঘোড়ার মৃতদেহ এবং বিপুল পরিমাণ মাংস উদ্ধার করা হয়, যা বিতরণ ও বিক্রির জন্য প্রস্তুত ছিল।

    উদ্ধারকৃত প্রাণীগুলো অত্যন্ত অনুন্নত ও অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল—প্রচণ্ড অপুষ্টি, চিকিৎসাবিহীন সংক্রমণ, উন্মুক্ত ক্ষত, পোকা-পরজীবী সংক্রমণ, টিউমার ইত্যাদি লক্ষণ দেখা যায়। চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় উঠে এসেছে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া, পরজীবী ও ছত্রাকজনিত দূষণ এবং সন্দেহজনক যক্ষ্মা—যেগুলো প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে ছড়াতে পারে। সেইসব দূষিত মাংস প্রতারণার মাত্রায় মানুষের খাদ্যবস্তু হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছিল; কখনও কখনও তা গরুর মাংস হিসেবে পরিচয় করিয়ে মানুষকে বিভ্রান্তও করা হচ্ছিল।

    যদিও কর্তৃপক্ষ কয়েকবার মনিটরিং ও কড়া নির্দেশনার কথা জানিয়েছে, তবুও বাস্তবে ধারাবাহিকতা নেই—রিটে এই বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। পরে একটি মোবাইল কোর্ট গাজীপুরে ঘোড়ার মাংস বিক্রয় নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেও, দোষীদের শনাক্ত ও কারাগারে পাঠানোর কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

    অভয়ারণ্য- বাংলাদেশ অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন বারবার গাজীপুর পুলিশ ও জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করে তদন্তের জন্য তথ্য ও নথি জমা দিয়েছে। তবু অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। জেলা প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর উদ্ধারকৃত ঘোড়াগুলো অভয়ারণ্য-কে হস্তান্তর করলেও সীমিত সক্ষমতার কারণে সংস্থাটি অতিরিক্ত প্রাণী গ্রহণ করতে পারেনি; পাশাপাশি জানা গেছে বাজেয়াপ্ত অসুস্থ ঘোড়াগুলো নিলামে বিক্রি করা হয়েছে—যা পিটিশনকারীরা বন্ধ করার নির্দেশ চেয়েছেন।

    পিটিশনকারীরা আরও জানান, ২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর তারা সংশ্লিষ্ট সরকারি মন্ত্রণালয়গুলোকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চিঠি পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু কোনো ফলপ্রসূ সাড়া পাননি। এসব কারণ দেখিয়ে জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।