Blog

  • চট্টগ্রাম-মোংলা বন্দর ও শিপিং করপোরেশনে দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের তদন্ত

    চট্টগ্রাম-মোংলা বন্দর ও শিপিং করপোরেশনে দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের তদন্ত

    দুর্নীতি এবং নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর, মোংলা বন্দর ও বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের বিভিন্ন প্রকল্পে তদারকিতে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রোববার (১৫ মার্চ) দুদক সূত্রে জানা যায়, উপ-পরিচালক নাজমুচ্ছায়াদাতকে প্রধান করে এসব প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত ৪টি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    দুদকের প্রাথমিক তথ্যে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বর্তমান চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে একাধিক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ এসেছে। বিশেষত তিনি শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন তখন ২ হাজার ৪৮৬ কোটি টাকার ব্যয়ে ছয়টি জাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়; পরে বাস্তবে কেবল চারটি জাহাজ কেনার ফলে প্রায় ৪৮৬ কোটি টাকার আর্থিক অসঙ্গতি দেখা যায়।

    অন্যদিকে মোংলা বন্দরের পশুর চ্যানেল সংরক্ষণ ড্রেজিং প্রকল্পে ১ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকার বরাদ্দেও বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এই দুটি বড় প্রকল্পের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রকল্প ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার তথ্য-নথি খতিয়ে দেখছে দুদকের তদন্তকারী টিম।

    দুদক সূত্র জানায়, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো থেকে প্রাসঙ্গিক নথিপত্র তলব করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তের মাধ্যমে আর্থিক অনিয়ম ও দায়ী ব্যক্তিদের দায়বদ্ধ করা হচ্ছে—ঐতিহ্যগতভাবে দেশের বন্দরগুলোর স্বচ্ছতা ও সরকারি তহবিলের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করাই এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য।

  • নতুন গাইডলাইন: ক্রেডিট কার্ডের সর্বোচ্চ ঋণসীমা বেড়ে ৪০ লাখ

    নতুন গাইডলাইন: ক্রেডিট কার্ডের সর্বোচ্চ ঋণসীমা বেড়ে ৪০ লাখ

    ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড পরিচালনা আরও সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ ও গ্রাহকবান্ধব করার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন গাইডলাইন জারি করেছে। এতে ক্রেডিট কার্ডের সর্বোচ্চ ঋণসীমা বৃদ্ধির সঙ্গে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, গ্রাহক অধিকার সুরক্ষা ও বিরোধ নিষ্পত্তির মতো বিষয়গুলোতে নতুন নির্দেশনা রাখা হয়েছে বলে রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানান।

    দৈনন্দিন খরচ এবং মূল্যপরিশোধে নগদ বহনের বিকল্প হিসেবে ব্যক্তিগত পর্যায়ে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। ব্যবহার ও সেবার পরিধি প্রসারিত হওয়ায় এই খাতে বিদ্যমান জটিলতা দূর করে নতুন বৈশিষ্ট্য যোগ করা জরুরি হয়ে পড়েছিল। সেই প্রয়োজনে পূর্বের নীতিমালা হালনাগাদ করে একটি পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    নতুন গাইডলাইনে প্রধানত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে, গ্রাহকের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে, দায়িত্বশীল ঋণদানে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে এবং নগদবিহীন লেনদেনের জন্য স্বচ্ছ পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। গাইডলাইনে ক্রেডিট কার্ড কার্যক্রমের বিস্তৃত দিকগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—গাইডলাইনের প্রযোজ্যতা ও সংজ্ঞা, কার্ডের প্রকারভেদ, গ্রাহকের যোগ্যতার মানদণ্ড, ক্রেডিট সীমা ও সুদের হার নির্ধারণ, কার্ড ইস্যু ও বিপণন পদ্ধতি, বিলিং ও আদায় প্রক্রিয়া, গ্রাহকের তথ্যের গোপনীয়তা ও অধিকার সুরক্ষা, বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা, পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

    একটি গুরুত্বপূর্ণ বদল হলো সর্বোচ্চ ঋণসীমা বৃদ্ধি: আগের ২৫ লাখ টাকার সর্বোচ্চ সীমাকে বাড়িয়ে এখন ৪০ লাখ টাকা করা হয়েছে। একই সঙ্গে অনিরাপদ (অসুরক্ষিত) ঋণের সীমা ১০ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    গাইডলাইনে ক্রেডিট কার্ড সংক্রান্ত গ্রাহক অভিযোগ, অনিয়ম বা জালিয়াতি প্রতিরোধ, কার্ড-ভিত্তিক লেনদেন পরিশোধে সমস্যা ও বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধনও আনা হয়েছে। ব্যাংকগুলোকে অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে যাতে গ্রাহকের নিরাপত্তা ও সেবা প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা যায়।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের লক্ষ্য এই গাইডলাইনের মাধ্যমে ক্রেডিট কার্ড খাতকে আরও নিয়ন্ত্রিত, গ্রাহক-কেন্দ্রিক ও বিরোধমুক্ত করে নগদবিহীন অর্থব্যবস্থার প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা। ব্যাংক ও কার্ড ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন নির্দেশনা মেনে চলার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।

  • কুয়েতে দ্বিতীয় তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলা; দাউ দাউ করে জ্বলছে আগুন

    কুয়েতে দ্বিতীয় তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলা; দাউ দাউ করে জ্বলছে আগুন

    মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি স্থাপনাগুলোর ওপর হামলার ধারাবাহিকতা বজায় আছে। কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (কেপিসি) জানিয়েছে, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মিনা আবদুল্লাহ শোধনাগারের একটি অপারেশনাল ইউনিটে ড্রোন আঘাত হানার ফলে সেখানে তীব্র অগ্নিকাণ্ড সৃষ্টি হয়েছে।

    হামলার পরপরই আগুন ছড়িয়ে পড়লে কর্মীরা দ্রুতই নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে এবং কেপিসি জানায় যে অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আনতে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলেছে, কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং স্থাপনায় সুরক্ষা বজায় রাখতে সব প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

    এর আগে মিনা আল-আহমাদি শোধনাগারেও ড্রোন হামলার খবর আসে; সে ঘটনায় কোম্পানি জানিয়েছে কোনো হতাহত হয়নি। এক দিনের ব্যবধানে দুটি গুরুত্বপূর্ণ শোধনাগারে হামলা হওয়ায় কুয়েতের তেল উৎপাদন ও রপ্তানি সংক্রান্ত নিরাপত্তাকে নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

    নভ কাঠামোর বাইরে, কাতারের রাস লাফান ও ইরানের গ্যাস ক্ষেত্রেও সাম্প্রতিক হামলার খবর মিলেছে, যা পুরো অঞ্চলের জ্বালানি নিরাপত্তাকে আরও নাজুক করে তুলেছে। কুয়েত সরকার এখনো কোনো পক্ষের দায় স্বীকার বা প্রতিপক্ষের নাম ঘোষণা করেনি।

    নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে থাকা এসব ‘জ্বালানি লক্ষ্যভিত্তিক’ হামলা বিশ্ববাজারে তেলের দামের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। মিনা আবদুল্লাহ ও মিনা আল-আহমাদি—উভয় শোধনাগারই কুয়েতের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে; তাই এই ঘটনার সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে সতর্ক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখা হচ্ছে।

  • ট্রাম্প বললেন: ইসরাইল আর ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে হামলা করবে না

    ট্রাম্প বললেন: ইসরাইল আর ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে হামলা করবে না

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের দক্ষিণ পার্স (সাউথ পার্স) গ্যাসক্ষেত্রে ইসরাইলের হামলার সমালোচনা করে বলেছেন, ভবিষ্যতে ইসরাইল সেখানে আর হামলা চালাবে না। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন—যদি ইরান আবার কাতারের জ্বালানি স্থাপনায় আক্রমণ করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওই প্রধান গ্যাসক্ষেত্রকে ব্যাপকভাবে ধ্বংস করার দ্বিধা করবে না।

    ঘটনাগুলোর সূত্রপাত গত বুধবার (১৮ মার্চ), যখন ইসরাইল বার্তা দেয়া হয় যে ইরানের বিস্তীর্ণ উপকূলবর্তী কিছু লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। আক্রমণের মধ্যে ছিল বুশেহর অঞ্চলের আসালুয়েহ বন্দরের নিকটবর্তী সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্র এবং উত্তরাঞ্চলের আনজালি বন্দরের কাছাকাছি নৌবাহিনীকে লক্ষ্য করা হামলা। সাউথ পার্স বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র; এই অঞ্চলে ইরান ও কাতার—উভয় দেশের গ্যাস উত্তোলনের স্থাপনাসমূহ রয়েছে।

    একপর্যায়ে উত্তপ্ত প্রতিস্পন্দে ইরান পাল্টা পদক্ষেপ নিয়ে কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কিছু গ্যাস ও তেল সংক্রান্ত স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এই হামলার জেরে কাতার কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখায়—দেশটি ইরানের দূতাবাসে থাকা মিলিটারি ও সিকিউরিটি অ্যাটাশে এবং তাদের কিছু স্টাফকে অনাগত ঘোষণা করে এবং দ্রুত কাতার ত্যাগ করার নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে সৌদি এবং আবুধাবি থেকে ও সতর্কবার্তা আসে।

    প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে দাবি করেন, ইরানের সাউথ পার্সে ইসরাইল যে হামলা চালিয়েছে তাতে যুক্তরাষ্ট্র ‘‘কিছুই জানত না’’। তবে সিএনএনসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইসরাইল হামলা চালাতে আমেরিকার সঙ্গে সমন্বয় করেছে—এই বিষয়ে সরকারি পর্যায়ে বিবাদ্য তথ্য আছে বলে রিপোর্ট করা হয়েছে।

    ট্রাম্প পোস্টে আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে ঘটা ঘটনাগুলো থেকে উত্পন্ন ক্ষোভের সূত্রেই ইসরাইল ওই স্থাপনায় আঘাত হেয়েছে, এবং তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন আঘাতটি পুরো গ্যাসক্ষেত্রের তুলনায় তুলনামূলকভাবে ছোট একটি অংশে হয়েছে। তিনি কাতারের রাস লাফান এলএনজি স্থাপনায় ইরানের প্রতিশোধাত্মক হামলাকে ‘‘অন্যায় ও অযৌক্তিক’’ আখ্যা দিয়েছিলেন এবং দক্ষিণ পার্সকে ‘‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান’’ হিসেবে উল্লেখ করে জানান, ইসরাইল সেখানে আর হামলা করবে না।

    একই সঙ্গে ট্রাম্প সতর্ক করে দিয়েছেন—যদি তেহরান কাতারের ওপর পুনরায় হামলা চালায়, তাহলো যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওই গ্যাসক্ষেত্রটিকে এমন রকম ধ্বংসাত্মক শক্তিতে আঘাত করবে যা ইরান আগেও দেখেনি বা কল্পনাও করেনি। তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাবের কারণে এমন ধ্বংসযজ্ঞের অনুমোদন তিনি ‘‘চায় না’’, তবে প্রয়োজনে তার অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি দ্বিধা করবেন না।

    কাতারএনার্জির সংবাদভিত্তিক দাবি অনুযায়ী, রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের ফলে বিস্তৃত অগ্নিকাণ্ড ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে ওই স্থাপনাটি হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই খালি করা হয়েছিল; এর পেছনে কারণ হিসেবে ইরানের পূর্বঘোষিত প্রতিশোধ ও সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি দেখানো হয়—ইরান বলেছিলো তারা সাউথ পার্সে হামলার জবাবে উপসাগরীয় কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) এলাকার একাধিক স্থাপনা লক্ষ্য করবে।

    এই সংকলিত ঘটনার পরে মধ্যপ্রাচ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা ও শক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে, এবং অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তা সম্পর্কে আন্তর্জাতিকভাবে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি কিভাবে এগোবে তা নিয়ে কূটনৈতিক চাপ ও সংবাদমাধ্যমের নজর অব্যাহত রয়েছে।

  • কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু সার্কিট হাউস মাঠে ঈদজামাতের প্রস্তুতি পরিদর্শন

    কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু সার্কিট হাউস মাঠে ঈদজামাতের প্রস্তুতি পরিদর্শন

    খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু আজ বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) খুলনা সার্কিট হাউস মাঠে আসন্ন ঈদ-উল-ফিতরের প্রধান জামাত আয়োজনের প্রস্তুতি পরিদর্শন করেছেন।

    পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, খুলনা সার্কিট হাউস মাঠ একটি ঐতিহাসিক ও বৃহৎ আয়োজন ক্ষেত্র; এখানে প্রতিবছর হাজার হাজার নগরবাসী ঈদের নামাজ আদায় করেন। মুসুল্লারা যাতে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে প্রধান জামাতে অংশগ্রহণ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রস্তুতির কাজটির উপর বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, মাঠের প্রস্তুতি আজ সন্ধ্যার মধ্যে প্রায় সম্পন্ন হবে এবং খুলনা সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে নগরবাসী স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তার সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে পারবেন।

    পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মোখতার আহমেদ, রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ রেজাউল হক, কেএমপি পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, কেসিসি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, জেলা প্রশাসক আ. স. ম. জামশেদ খোন্দকার, কেসিসি প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, জেলা প্রশাসন, কেসিসি ও কেএমপি’র অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা।

    ঈদ-উল-ফিতরের জামাতসূচি ঘোষণা করা হয়েছে — খুলনা সার্কিট হাউস মাঠে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৮টায়। দ্বিতীয় জামাত সকাল ৯টায় এবং তৃতীয় জামাত সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে খুলনা টাউন জামে মসজিদে। আবহাওয়া প্রতিকূল থাকলে খুলনা টাউন জামে মসজিদে সকাল ৮টায় প্রথম জামাত, সকাল ৯টায় দ্বিতীয় এবং সকাল ১০টায় তৃতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

    অন্য স্থানগুলোর সময়সূচি অনুযায়ী, খুলনা আলিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন মডেল মসজিদে এবং বয়রা মডেল মসজিদে জামাত শুরু হবে সকাল সাড়ে ৮টায়। খালিশপুর ঈদগাহ ময়দান এবং বসুপাড়া ইসলামাবাদ ঈদগাহ ময়দানে সকাল ৮টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

    বায়তুন নূর জামে মসজিদে দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে—প্রথম জামাতে (সকাল ৮টায়) ইমামতি করবেন খতিব হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ ইমরান উল্লাহ এবং দ্বিতীয় জামাতে (সকাল ৯টায়) ইমামতি করবেন হাফেজ মাওলানা মোঃ জাকির হোসেন।

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক আয়োজনের মধ্যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টায় জামাত অনুষ্ঠিত হবে এবং সেখানে মহিলাদের জন্য পৃথক নামাজের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের জামাত সকাল সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে।

    প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী জনসাধারণকে অনুরোধ করেছে যে তারা সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা মেনে চলবেন এবং উৎসব মর্যাদায় শান্তিপূর্ণভাবে অংশগ্রহণ করবেন।

  • দৌলতপুরে যুবদল নেতা রাশু হত্যায় ইসমাঈল গ্রেফতার

    দৌলতপুরে যুবদল নেতা রাশু হত্যায় ইসমাঈল গ্রেফতার

    নগরীর দৌলতপুরে যুবদল নেতা রাশিকুল আনাম রাশুর হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত হিসেবে ইসমাঈল হোসেন নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বুধবার সন্ধ্যায় দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটি ইউনিয়ন থেকে তাকে আটক করে ডিবি।

    গ্রেফতারের পর ইসমাঈলকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ তৈমুর ইসলাম জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের পর থেকে তারা বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আসছিল এবং সূত্র নিয়োগ করে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছিল। সূত্রের দেয় তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার সন্ধ্যায় সেনহাটি ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে ইসমাঈলকে আটক করা হয়েছে।

    তিনি আরও জানান, কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদে ইসমাঈল অনেক তথ্য দিয়েছে, কিন্তু তদন্তের স্বার্থে তা প্রকাশ করা যাচ্ছে না। গ্রেফতারির পরে হত্যাকাণ্ডের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এমন কয়েকজনকে ডিবি কার্যালয়ে আনা হয় এবং তারা ইসমাঈলকে শনাক্ত করেছে।

    জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ইসমাঈলকে দৌলতপুর থানাに হস্তান্তর করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে দেখা গেছে ইসমাঈলের বিরুদ্ধে খুলনা নগরের বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্র রাখাসহ মারামারি সংক্রান্ত মিলিয়ে মোট ছয়টি মামলা রয়েছে।

    ঘটনার আন্তরিক ও সুবিচারপূর্ণ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত সত্য উদঘাটনের আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ।

  • বাশার প্রধান নির্বাচক, নাঈম সহকারী নির্বাচক হিসেবে চূড়ান্ত

    বাশার প্রধান নির্বাচক, নাঈম সহকারী নির্বাচক হিসেবে চূড়ান্ত

    জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপুর চলতি মাসেই পদচলা শেষ হচ্ছে। পাকিস্তান সিরিজ জয়ের পরই তিনি খেলোয়াড়দের থেকে বিদায় নিয়েছেন। লিপুর মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নতুন প্রধান নির্বাচক ও সহকারী নির্বাচক নির্বাচন করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি), যার জন্য আগেই একটি বিজ্ঞপ্তি আনা হয়েছিল।

    নির্বাচক পদের আবেদনপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময়সীমা ছিল ৮ মার্চ। চাকরির জন্য মোট ১৬ জন সাবেক ক্রিকেটার আবেদন করেন। প্রাথমিক বাছাই ও সাক্ষাৎকারের পর প্রধান নির্বাচক হিসেবে হাবিবুল বাশার সুমনকে নির্বাচিত করা হয়েছে। জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক আগে সহকারী নির্বাচক হিসেবে কাজ করেছেন।

    সহকারী নির্বাচক পদে শুরু থেকেই দুই প্রার্থী—তুষার ইমরান ও নাঈম ইসলাম—প্রধান তালিকায় ছিলেন। তবে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, শেষ পর্যন্ত বাছাই করা হয়েছে নাঈম ইসলামকে। এ প্রসঙ্গে বিসিবি এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি, তবে নাঈমকে চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে তথ্য মেলে।

    নির্বাচক প্যানেল বাছাইয়ে কাজ করেছেন বিসিবির চার পরিচালক: ফারুক আহমেদ, খালেদ মাসুদ পাইলট, নাজমুল আবেদীন ফাহিম ও আব্দুর রাজ্জাক। প্রধান নির্বাচক হিসেবে বাশারের মাসিক বেতন ধার্য করা হতে পারে ৪ লাখ টাকা এবং সহকারী নির্বাচক নাঈমের বেতন হতে পারে ৩ লাখ টাকা। একই ধরনের বেতনই চলতে পারে ইতিমধ্যেই সহকারী নির্বাচক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা হাসিবুল ইসলাম শান্তের ক্ষেত্রেও।

    বিসিবি থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এলে নতুন নির্বাচকপ্যানেল কখন থেকে দায়িত্ব নেওয়া শুরু করবেন—তা জানানো হবে।

  • মুস্তাফিজ-শরিফুলসহ পাঁচ বাংলাদেশিকে পিএসএলের এনওসি

    মুস্তাফিজ-শরিফুলসহ পাঁচ বাংলাদেশিকে পিএসএলের এনওসি

    পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) খেলতে বিসিবি থেকে এনওসি পেয়েছেন বাংলাদেশের পাঁচজন ক্রিকেটার। আগামী ২৬ মার্চ শুরু হওয়া এই ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে তারা অংশ নিতে পারবেন—তবে এনওসি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্তই কার্যকর থাকবে, যা ১২ এপ্রিল পর্যন্ত বলেছে বিসিবি।

    এবারের আসরে বাঁ-হাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে সরাসরি দলে ভিড়িয়েছিল লাহোর কালান্দার্স। নিলামে সফল হন রিশাদ হোসেন, নাহিদ রানা ও পারভেজ হোসেন ইমন। সাম্প্রতিক দুই দিন আগে পাঁচ বাংলাদেশির তালিকায় নাম যোগ করেছেন শরিফুল ইসলামও; এটি তার প্রথম কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের ডাক। সূত্রগুলো বলছে, সবারই এনওসি মঞ্জুর করেছে বিসিবি।

    টিম বণ্টন অনুযায়ী মুস্তাফিজ ও পারভেজ ইমন লাহোর কালান্দার্সের জার্সি পড়বেন। রিশাদ হোসেন খেলবেন রাওয়ালপিন্ডির দলের হয়ে। নাহিদ রানাকে দেখা যেতে পারে পেশোয়ার জালমির জার্সিতে; পেশোয়ারের জালমিতে নাহিদ-শরিফুলের পেস একসঙ্গে মাঠে থাকতে পারে।

    বিসিবির একজন বিশ্বস্ত সূত্র ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন যে এনওসিগুলো দেওয়া হয়েছে, কিন্তু নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ঘরের সিরিজকে মাথায় রেখে ছাড়পত্র ১২ এপ্রিল পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। ফলে নিউজিল্যান্ড সিরিজ শুরু হওয়ার আগে সকল খেলোয়াড় পাকিস্তান থেকে ফেরত আসবেন বলে পরিকল্পনা করা হয়েছে।

    বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন বিসিবি ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান নাজমুল আবেদীন ফাহিমও। তিনি জানিয়েছেন, ওয়ানডে সিরিজে দেশের প্রয়োজনকে আগে রাখবে বোর্ড; যদি মনে করা হয় কেউ পিএসএলে খেললে তার টি-টোয়েন্টি দক্ষতা বাড়বে এবং একই সময় তার বিকল্প আমাদের আছে, তখনই ছাড় দেওয়া হবে।

    পিএসএলের উদ্বোধনী ম্যাচ হবে ২৬ মার্চে, যেখানে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন লাহোর কালান্দার্স মুখোমুখি হবে হায়রাবাদ হিউস্টনের সঙ্গে—অর্থাৎ ওই দিনই মাঠে নামতে পারে মুস্তাফিজ ও ইমন। এরপর ২৮ মার্চ ম্যাচে খেলাবেন রিশাদ, নাহিদ ও শরিফুল; যদি তিনজনই একাদশে থাকেন, তাহলে পেশোয়ার জালমি ও রাওয়ালপিন্ডির মধ্যে মুখোমুখি লড়াইতে বাংলাদেশি প্রতিপক্ষদের দেখা যেতে পারে।

    গুরুত্বপূর্ণ যে, আন্তর্জাতিক অনুযোগ বিবেচনায় রেখে বিসিবি এনওসির মেয়াদ নির্ধারণ করেছে। ফলে পিএসএলে অংশ নেওয়া এই পাঁচ ক্রিকেটারের খেলোয়াড়ি ভবিষ্যত এবং জাতীয় দলে পেশাদারিত্ব বজায় রাখার মধ্যে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।

  • চাঁদরাতে বাবা-ভাইকে নিয়ে প্রথমবার গান প্রকাশ করছেন জাহিদ নিরব

    চাঁদরাতে বাবা-ভাইকে নিয়ে প্রথমবার গান প্রকাশ করছেন জাহিদ নিরব

    জনপ্রিয় সংগীত ও সুরকার জাহিদ নিরব চাঁদরাতে প্রকাশ করতে যাচ্ছেন একটি কাওয়ালী-ধাঁচের গান ‘শুকরিয়া হাসনাহ’, যেখানে প্রথমবারের মতো সঙ্গে আছেন তাঁর বাবা ও ভাইরা। সংগীত জগতে তাঁর সুরে বহু গায়ক গেয়েছেন এবং শ্রোতাপ্রিয় কয়েকটি গান রয়েছে তার। এবার পারিবারিক পরিবেশকে গান হিসেবে উপস্থাপন করলেন তিনি।

    গানটি জাহিদ নিরবের অফিসিয়াল ফেসবুক ও ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তি পাবে। পাশাপাশি প্রাইম ব্যাংক কর্তৃক নিবেদিত ভিডিওটি প্রাইম ব্যাংকের অফিসিয়াল চ্যানেলেও প্রকাশ করা হবে।

    নিজের বাড়ির মঞ্চ ও পারিবারিক পরিবেশকে স্মরণ করে নিরব বললেন, ‘বাসায় আমরা সব সময় একসঙ্গে গান করি। আব্বা হারমোনিয়াম বাজান, আমি মাইক্রোফোনের সামনে গাই—এভাবেই আমার সংগীত জীবনের শুরু।’ তিনি জানান, বড় ভাই জুবায়েদ আল নাঈম তবলা বাজিয়েছেন, ছোট ভাই হাসিবুল নিবিড় গিটার সুর দিয়েছেন এবং মেহেদী হাসান তামজিদ রাবাব হাতে আছেন। নিরব বলেন, ‘মুন্সীগঞ্জের সেই মঞ্চের পরিবেশনা এবার গান আকারে প্রকাশ করছি।’

    গানের কথাকার মঞ্জুর এলাহি বলেন, ‘গানটির কথা অসাধারণ। আমাদের প্রতিদিনের জীবনে যে অসংখ্য নিয়ামত আছে, তার জন্য আমরা কতটা শুকরিয়া জানাই—এমন ভাবনাই এই গানকে চালিত করেছে।’

    জাহিদ নিরব আরও জানান, গানটির আইডিয়া আসলে প্রাইম ব্যাংকের একটি জিঙ্গেল থেকেই। ‘গানটি মূলত প্রাইম ব্যাংক হাসানাহ-এর একটি জিঙ্গেল ছিল। গানের ভাবনা ও কথাগুলো আমার খুব ভালো লাগা যায়, তাই অনুমতি নিয়ে পুরো গানটি তৈরি করেছি,’ তিনি বললেন। ভিডিও নির্মাণে longtime সহকারী কাওসার ইসলাম প্রান্ত ও তাঁর টিমের অবদানও ছিল বড়; নিরব তাদের ভূমিকাকে বিশেষভাবে স্মরণ করেছেন।

    ব্যক্তিগত জীবনে এবারের ঈদটি নিরবের জন্য আলাদা—গত বছর তিনি বিবাহবদ্ধ হয়েছেন এবং এটাই বিয়ের পর তাঁর প্রথম ঈদ। নিরব বলেছেন, ‘এবারের ঈদ আমার জন্য বিশেষ। বিয়ের পর প্রথম ঈদ—সবকিছুই একটু আলাদা লাগছে।’

    কিন্তু বিশ্রামের সময় নেই। নিয়মিত কাজের পাশাপাশি ঈদে নানা প্রকল্প নিয়ে ব্যস্ততাও আছে। ঈদের ছবিতে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর পুরো সংগীত পরিচালনার দায়িত্ব ছিল নিরবের কাঁধে, যেখানে তানিম নূর কাজটিকে অনেক সহজ করেছেন। রায়হান রাফী পরিচালিত সিনেমা ‘প্রেশার কুকার’-এও একটি গান আছে; গানটি কণ্ঠ দিয়েছেন অঙ্কন কুমার এবং কথাও তিনি লিখেছেন।

    নিরব ঈদে কয়েকটি নাটকের গানও করেছেন। ‘তবুও মন’ নাটকে একটি গান আছে এবং ‘এভাবেও হতে পারে প্রেম’ শিরোনামের গানটি লিখেছেন তারিক তুহিন; সুর ও সংগীত দিয়েছেন নিরব, কণ্ঠ দিয়েছেন সালমান ও মাশা। এছাড়া ‘লিলিথ’ নাটকের ‘পিছু ডেকো না’ গানটি তাঁর সুর ও সংগীত নিয়ে হয়েছে; কণ্ঠ দিয়েছেন দোলা রহমান এবং কথাটা লিখেছেন তানিন নিনাত।

    রমজানেও নিরব সংগীতে বেশ সক্রিয় ছিলেন; একাধিক কাজ মুক্তি পেয়েছে। ওয়েবফিল্ম ‘মিউ’-র গান ‘কেন এমন হয়’ এবং শিশুতোষ গান ‘মিউ মিউ মিউ’ তার কাজের মধ্যে রয়েছে। পাশাপাশি জিঙ্গেল ও প্রবাসীদের জন্য প্রাইম ব্যাংকের মিউজিক ভিডিওও করেছেন; তার একটি আনপ্লাগড ভার্সন শিগগিরই প্রকাশ হবে।

    তার নিয়মিত কাজের মধ্যে রয়েছে জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ সিজন ৫—নিরব এখানে মিউজিক ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করছেন এবং ঈদে ধারাবাহিকটির একটি বিশেষ এপিসোড দেখানো হবে। সব মিলিয়ে এবারের ঈদ জাহিদ নিরবের জন্য কাজ ও আনন্দে পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

  • ১৪ শোতে দিলজিৎ দোসাঞ্জের আয় ৯৪৩ কোটি

    ১৪ শোতে দিলজিৎ দোসাঞ্জের আয় ৯৪৩ কোটি

    কনসার্ট কি শুধু গান আর মজাই? না—এটাই এখন শক্তিশালী অর্থনীতির অংশ। ১৪টি শোতে ১৩টি শহর ঘেঁষে অনুষ্ঠিত ডিল-লুমিনাটি ট্যুর তা প্রমাণ করল: মোট আয় প্রায় ৯৪৩ কোটি টাকা।

    ট্যুরের আয়ের ভিতরে টিকিট বিক্রি থেকে এসেছে সবচেয়ে বড় অংশ—প্রায় ২২১ কোটি টাকা। স্পনসরশিপে মিলেছে আনুমানিক ৩৩ কোটি, এবং সরকারের কোষাগারে জমা পড়েছে ১১৪ কোটি টাকার বেশি। প্রতিটি শো আলাদা এক অর্থনৈতিক কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

    সবচেয়ে বড় অবাক করা অংশটা হলো পরোক্ষ আয়: ভক্তদের ভ্রমণ, হোটেল, খাদ্য ও কেনাকাটাসহ মিলিয়ে তৈরি হয়েছে প্রায় ৫৫৩ কোটি টাকার অর্থনৈতিক প্রভাব। সমীক্ষায় দেখা গেছে, দর্শকদের প্রায় ৩৮% অন্য শহর থেকে এসে কয়েকদিন অতিরিক্ত থেকে গিয়েছেন—ফলে স্থানীয় পর্যটন ও ব্যবসা দুটোই ভালো শট পেয়েছে।

    দর্শক উপস্থিতিও চমকপ্রদ: ১৪টি শোয়ে মোট উপস্থিতির সংখ্যা ছিল প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজারের বেশি, আর দিল্লির এক শোতেই ছিল প্রায় ৫৫ হাজার দর্শক। প্রতিটি কনসার্ট হাউসফুল—এবং এই সফলতা দিলজিৎকে বৈশ্বিক ট্যুরিং মানচিত্রে আরও এগিয়ে নিয়ে গেছে।

    কেবল বিনোদন নয়—ট্যুরটি কর্মসংস্থানেও বড় সুযোগ তৈরি করেছে। আয়োজন থেকে শুরু করে লজিস্টিকস, নিরাপত্তা, প্রচার-প্রসারণ, প্রোডাকশন ও ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট—সবখানেই কাজ হয়েছে; মোট মিলিয়ে প্রায় ১ লাখ ১৮ হাজার কর্মঘণ্টা সৃষ্টি হয়েছে।

    সংক্ষেপে, এই ট্যুর দেখিয়েছে কনসার্ট এখন একটা পুরোদমে অর্থনৈতিক ইকোসিস্টেম: গানের মঞ্চই শুধু নয়, শহরগুলোতে ব্যবসা, পর্যটন ও কর্মসংস্থানে এক বিশাল গতি আনতে সক্ষম।