Blog

  • আইসিসির আশায় বিসিবি সভাপতি: অলৌকিক ঘটনার প্রত্যাশা

    আইসিসির আশায় বিসিবি সভাপতি: অলৌকিক ঘটনার প্রত্যাশা

    বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল আইসিসির সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ যদি ভারতের বাইরে না খেলতে যায়, তবে তারা এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতা থেকে বাদ পড়বে। যদিও এর জন্য আগে থেকেই অনড় অবস্থানে থাকলেও, এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি বিসিবি। তারা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের শাসনকারী সংস্থার কাছ থেকে সময় চেয়ে নিয়েছেন, সরকারের সঙ্গে শেষবারের মত আলোচনা করে বিষয়টি সমাধান করতে চান। বিসিবি মনে করছেন, আইসিসির কাছ থেকে তারা যেন ‘অলৌকিক কিছু’ ঘটানোর আশায় আছেন।

    বুধবার (২১ জানুয়ারি) আইসিসির সঙ্গে এক ভিডিও বৈঠকের পর বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম জানান, বাংলাদেশ তাদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পুনর্বিবেচনা করতে ভারতের বাইরে না খেলার ব্যাপারে আরও ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা সময় চেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি আইসিসিকে বলেছি, সরকারের সঙ্গে শেষবারের মতো আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে চাই। তারা এই অনুরোধে ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে ২৪ বা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে চায়।’

    আমিনুলের মতে, বাংলাদেশে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনই অনুকূল নয়। তিনি বলেন, ‘আমাদের স্পষ্ট position হলো—ভারত আমাদের জন্য নিরাপদ নয়। তাই আমরা শ্রীলংকায় খেলার পক্ষে।’ তিনি আরও জানান, সরকারের প্রতিক্রিয়া পাওয়ার পরে তা আইসিসিকে জানানো হবে। বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশ অনেকটাই অভিপ্রেত, তবে এখন মূল বিষয়ে হলো নিরাপত্তার কারণেই সরকার কীভাবে সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি বলেন, ‘আসলে, ক্রিকেটাররা চান দেশের হয়ে খেলতে, সরকারও চায়। কিন্তু নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে সরকারের চিন্তা-ভাবনা গুরুত্ব পায়।

    এমন পরিস্থিতিতে, আইসিসির কাছ থেকে ‘অলৌকিক কিছু’ ঘটার জন্য তারা প্রত্যাশা করছেন। এছাড়া, ইএসপিএনক্রিকইনফো জানিয়েছে, বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে একমাত্র প্রতিনিধি ছিলেন আমিনুল ইসলাম। তারা বাংলাদেশ তাদের অবস্থান ব্যক্ত করলেও, গ্রুপ পরিবর্তনের প্রস্তাবগুলো গ্রহণ করেনি। বিসিবি আগামিতে আয়ারল্যান্ড বা জিম্বাবুয়ের সঙ্গে তাদের গ্রুপের স্থান বিবেচনা করেছিল, কিন্তু শ্রীলঙ্কা তাদের প্রস্তাব বিরত থেকেছে।

    বর্তমানে বাংলাদেশ রয়েছে গ্রুপ ‘সি’-তে, যেখানে অন্য খেলোয়াড়রা হলো ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নেপাল ও ইতালি। ঢাকায় প্রথম তিনটি ম্যাচ, আর শেষ ম্যাচটি মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ মুক্তির দিন ৭ ফেব্রুয়ারি, যেখানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হবে।

    নিরাপত্তা ইস্যু শুরু হয় ৩ জানুয়ারি। ওই দিন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই কলকাতা নাইট রাইডার্সকে বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দিতে বলেছিল, যদিও এর কারণ প্রকাশ করা হয়নি। ধারণা করা হয়, ভারত-বাংলাদেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের কিছু অবনতির জন্যই এই সিদ্ধান্ত আসে।

    পরের দিন, ৪ জানুয়ারি, বিসিবি সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করে জানায় যে, নিরাপত্তার কারণে বাংলাদেশ দলের ভারতে যাওয়া সম্ভব নয়। তারপর বিভিন্ন বৈঠক হলেও, বোর্ডের অবস্থানে কোনও পরিবর্তন হয়নি। তবে আইসিসি মোস্তাফিজের ইস্যুকে বিশ্বকাপের নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত ধরছেন না। সংস্থার মতে, একটি ঘরোয়া লীগের খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণের ঘটনার সাথে বিশ্বকাপের নিরাপত্তা চিত্রের কোনও সম্পর্ক নেই।

    বিসিবি এখন সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করছে। সময় খুবই কম থাকায়, সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না হলে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ার শঙ্কা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে, বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ড পুরোপুরি নির্ভর করে সরকারের সিদ্ধান্তের উপর। যদি দ্রুত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না হয়, তবে বাংলাদেশ ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা গাঢ় হয়ে উঠছে।

  • বিশ্বকাপ নিয়ে বাংলাদেশের সিদ্ধান্তে জটিলতা সৃষ্টি

    বিশ্বকাপ নিয়ে বাংলাদেশের সিদ্ধান্তে জটিলতা সৃষ্টি

    বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে চলছে তুমুল বিতর্ক। নিরাপত্তা শঙ্কা দেখিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, দল ভারতে গিয়ে এবারের বিশ্বকাপ খেলবে না। তবে আইসিসি (আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল) এই সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ। তারা স্পষ্ট জানিয়েছে, খেলতে হলে ক্রিকেটাররা অবশ্যই ভারতে উপস্থিত হতে হবে, এবং সূচিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না। এমনকি বাংলাদেশের জন্য এক দিনের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে বলা হয়েছে, নইলে অন্য কোনো দল—যেমন স্কটল্যান্ড—কেঁদে উঠতে পারে।

    এই পরিস্থিতিতে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার একটি টেলিভিশন আলোচনায় বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া ২০০৩ সালের বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কা খেলতে গিয়েছিল না, ইংল্যান্ড জিম্বাবুয়েতে গিয়েছিল না, নিউজিল্যান্ড কানাডায় গিয়েছিল না—এগুলো কি তাদের ক্রিকেট বন্ধ করে দিয়েছে? ঠিক একইভাবে, যদি বাংলাদেশ এই বিশ্বকাপে না খেলে, তার মানে বাংলাদেশের ক্রিকেট বন্ধ হয়ে যাবে না।’

    অন্যদিকে, সরকার বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডেকেছে। আজ বিকেলে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এই বৈঠকে নিরাপত্তার পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    অতীতে, বিসিবি আইসিসিকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে যে নিরাপত্তার কারণে ভারতে গিয়ে খেলা সম্ভব নয়। তারা বাংলাদেশের ম্যাচগুলো অন্য কোনো দেশে—যেমন শ্রীলঙ্কা বা অন্য স্থান—আয়োজনের অনুরোধ করেছিল। কিন্তু আইসিসি তা প্রত্যাখ্যান করেছে, বলেছে, নিরাপত্তার ঝুঁকি দেখা যায়নি। এ কারণে সূচিতে পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়, এতে বিশ্বকাপের মর্যাদা ও স্বচ্ছতা ক্ষুণ্ন হবে বলে জানানো হয়েছে।

  • বাংলাদেশ খেলতে না পারলে বিশ্বকাপ বর্জনের সম্ভাবনা পাকিস্তানের

    বাংলাদেশ খেলতে না পারলে বিশ্বকাপ বর্জনের সম্ভাবনা পাকিস্তানের

    বাংলাদেশ যদি ২০২৬ আইসিসি পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় এবং ভারতে খেলতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে পাকিস্তান এই টুর্নামেন্ট বয়কট করতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ। শুক্রবার সংবাদমাধ্যমটি জানায়, নিরাপত্তাজনিত কারণে ম্যাচগুলো ভারত থেকে শ্রীলংকায় সরানোর আবেদন গ্রহণ না করলে বাংলাদেশ সরে যেতে পারে। এর ফলে, ২০০৯ সালের বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তানও একই পথে হাঁটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।সূত্র মতে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আজই (বৃহস্পতিবার) জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের সাথে আলোচনা করে ভারতের পরিবর্তে শ্রীলঙ্কায় বিশ্বকাপ খেলানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। জানা গেছে, বেশ কিছু ক্রিকেটার এই অনুষ্ঠানে দেশের স্বার্থে শ্রীলঙ্কায় খেলার পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে বাংলাদেশ যদি নিজেদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে, তখন পাকিস্তানও একই সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলেও শোনা যাচ্ছে।সম্প্রতি ঢাকানিউজ ও দিল্লির মধ্যে সম্পর্কের চরম টানাপোড়েনের প্রভাব পড়েছে ক্রিকেটেও। আইপিএলের আসন্ন আসরেও বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়ায় দেশের ক্রিকেট কর্তৃপক্ষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। এরপরই বিসিবি আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের ঘোষণা দেয় এবং শ্রীলঙ্কায় নিজেদের ম্যাচ আয়োজনের জন্য জোরালো দাবি তোলে।আইসিসির সর্বশেষ বোর্ড মিটিংয়ে বাংলাদেশের আবেদন নাকচ করে দিয়ে জানানো হয়, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ভারতের বাইরে অন্য কোনও দেশে আয়োজন করা সম্ভব নয়। বার্তা দেয়া হয়, যদি নিরাপত্তার ঝুঁকি না থাকলেও সূচিতে পরিবর্তন আনা হলে ভবিষ্যৎ আইসিসি টুর্নামেন্টের জন্য এটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।এক দিন আগে, আইসিসি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেয় যে, বাংলাদেশ তাদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরিত করার অনুরোধ করলেও সিদ্ধান্ত চূড়ান্তভাবে লৌহপ্রাচীর। বোর্ড ঘোষণা করে, ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত নির্ধারিত সূচিতে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে এবং বাংলাদেশের ম্যাচগুলোও সেখানে হওয়া বৈধ।বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম এক বিবৃতিতে বলেন, তিনি সরকারের সঙ্গে “শেষ আলোচনার” জন্য আইসিসির কাছ থেকে সময় চেয়েছেন। তিনি বলেন, “আইসিসি বলেছে এটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, এবং তারা আমাকে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা সময় দিয়েছে। আমরা সরাসরি ভারতের পরিবর্তে শ্রীলঙ্কায় খেলতে চাই কারণ আমরা মনে করি, ভারত আমাদের জন্য নিরাপদ নয়।” তিনি আরো যোগ করেন, “আমরা সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি এবং আশা করি, কোন অবাক করে দেওয়া সমাধান আসতে পারে। আমাদের খেলোয়াড় ও সরকার সবাই চান বাংলাদেশ বিশ্বকাপে খেলুক, তবে সিদ্ধান্ত নিতে সময় প্রয়োজন।”আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি ভারতের কলকাতায় শুরু হচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। গ্রুপ ‘সি’-তে থাকা বাংলাদেশ এই সময়ে ৭ ফেব্রুয়ারি ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ৯ ফেব্রুয়ারি ইতালি এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে। শেষ ম্যাচটি ১৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ে নেপালের বিপক্ষে।আইসিসির সিদ্ধান্তের পর, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বলেন, “সরকার ও ক্রিকেট বোর্ডের শেষ সিদ্ধান্তের জন্য আমরা এখনো অপেক্ষা করছি। আমরা চাই শ্রীলঙ্কায় খেলতে, কারণ আমাদের নিরাপত্তা বিষয়ে এখনও সন্দেহ রয়েছে। আইসিসিকে আমরা আবারও বলেছি, আমাদের নিরাপত্তার জন্য দেশের পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “আমরা আশা করি, সরকারের মতামত দ্রুত আসবে। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ খেলোয়াড়, সরকার ও বোর্ড সব মিলিয়ে এমন পরিস্থিতিতে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হতো না যদি পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকত। আমরা আশা করি সরকার ও আইসিসি মিলিতভাবে একটি সমাধানে পৌঁছাবে যাতে সবাই খুশি।”

  • বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলতে চায়, তবে ভারতে নয়: বুলবুল

    বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলতে চায়, তবে ভারতে নয়: বুলবুল

    বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ড এখনো ভারতের নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের ব্যাপারে অনড় অবস্থান পালন করছে। আইসিসির বোর্ড সভায় বিসিবিকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয়ার পরও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাদের সিদ্ধান্তে অটল। বোর্ড সভাপতি আমিনুল ইসলাম, ক্রীড়া উপদেস্টা ও কিছু ক্রিকেটারদের সাথে বৈঠকের পর জোর গলায় বলেছেন, বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলতে চায়, কিন্তু সেটা ভারতের পরিবর্তে শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করতে চায়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, তারা এই সিদ্ধান্তে অটল থাকবেন এবং শ্রীলঙ্কায় খেলার জন্য লড়াই চালিয়ে যাবেন।

    গত বৃহস্পতিবার আইসিসি সভার পরিপ্রেক্ষিতে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘আমরা আবারও চেষ্টা করবো কি কি পথ রয়েছে তা আইসিসিকে জানাতে। বাংলাদেশ ক্রিকেট সম্পর্কে আমরা খুব গর্ববোধ করি, কিন্তু বিশ্বক্রিকেটের পরিস্থিতি নিয়ে আমরা দ্বিধায় আছি। আমাদের বিশ্বাস ছিল আইসিসি আমাদের আবেদন মেনে নিয়েছে। তবে এই পরিস্থিতিতে যখন আল্টিমেটাম দেয় হয়েছে, তখনও আমরা আমাদের সব চেষ্টা চালিয়ে যাবো।’

    বুলবুল আরও যোগ করেন, ‘বাংলাদেশের মতো ক্রিকেটপ্রেমী দেশ যদি এই বিশ্বকাপে না খেলে, তাহলে আইসিসির জন্য বড় একটা ক্ষতি হবে। যেখানে ভারত কমনওয়েলথ গেমসে অংশ নেওয়ার জন্য চেষ্টা করছে, সেখানে বাংলাদেশের মতো জনপ্রিয় ক্রিকেটপ্রিয় দেশের না খেলা জনসমর্থকদের জন্য মনঃক্ষুণ্ণকর আর বড় ব্যর্থতা হবে।’

    আইসিসি আলটিমেটাম দেয়ার পরও বুলবুল নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাবো, হাল ছাড়ছি না। আমরা আইসিসির সঙ্গে যোগাযোগ করবো আরও কিছু বিষয় নিয়ে যাতে আমাদের খেলোয়াড়রা বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারে।’

    অবশেষে, তিনি স্পষ্ট করে দেন, ‘আমাদের একটাই চাওয়া, আমরা বিশ্বকাপ খেলতে চাই। এই মুহূর্তে ভারতে যেতে চাই না। আমাদের দল প্রস্তুত। খেলার জন্য শ্রীলঙ্কায় যেতে হবে, সেখানে আমরা খেলতে আগ্রহী।’

  • ভারতে বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্তে অনড় বাংলাদেশ: যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা

    ভারতে বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্তে অনড় বাংলাদেশ: যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা

    গত কয়েক সপ্তাহের নাটকীয় ঘটনাপ্রবাহের পর বাংলাদেশ এখন দুটি সম্ভাব্য পথের মুখোমুখি। আইসিসি তাদেরকে বলেছে, বা ভারতে গিয়ে খেলতে হবে বা আবারও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। এই পরিস্থিতিতে, বাংলাদেশ এখনো ভারতের পরিবর্তে অন্য কোথাও খেলনোর বিকল্প খুঁজে পাওয়ার জন্য প্রস্তুত। তবে তারা আশা ছাড়ছে না; ক্রীড়া ও বোর্ডের কর্মকর্তারা এখনো অন্য কোনও ভেন্যুতে খেলার সুযোগ খুঁজতে আইসিসির সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন।

    আজ বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিশ্বকাপের স্কোয়াডে থাকা ক্রিকেটারদের নিয়ে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উপস্থিত ছিলেন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও বিসিবির কর্মকর্তারা। পরে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে, উপদেষ্টা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলার সিদ্ধান্ত বদলানোর কোন সুযোগ নেই।

    তিনি বলেন, ভারতের পক্ষ থেকে মোস্তাফিজুর রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এরপর বাংলাদেশের সরকার মনে করছে, তাদের নিরাপত্তা ঝুঁকি এখনো কমে যায়নি। এক মাসের মধ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হবে—এমন কোনো আশ্বাসও আইসিসি দিতে পারেনি। তাই এই পরিস্থিতিতে তারা ভারতের পরিবর্তে অন্য ভেন্যু খুঁজে বের করতে উদ্যোগী থাকবেন।

    উপদেষ্টা আরও জানান, তারা আইসিসির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ চালিয়ে যাবেন যাতে বিকল্প ভেন্যু নির্ধারণে সাহায্য করে। তবে, ক্রিকেটারদের সঙ্গে হওয়া বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে সে বিষয়ে কিছু জানাতে চাননি; বললেন, এটিই তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়।

    নিজের মনোভাব ব্যক্ত করে উপদেষ্টা বলেন, আমি নিজেও একজন অতি বড় ক্রিকেট ভক্ত। আমার স্বপ্ন ছিল, বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করবে। কারণ, আমাদের ক্রিকেটাররা কঠোর পরিশ্রম করে এই পর্যায়ে এসেছেন। কিন্তু নিরাপত্তা ঝুঁকি এখানো অপরিবর্তিত থাকায়, সেটা কোনভাবেই পরিবর্তন হচ্ছে না। আমি মনে করি, ঠিক যেখানে মোস্তাফিজের নিরাপত্তার বিষয়টিতে আপত্তি করা হয়েছে, সেখানে অন্য খেলোয়াড়, সাংবাদিক বা দর্শকদের নিরাপত্তাও তেমন নিশ্চয়তা পাচ্ছে না।

    তিনি আরও বলেন, আইসিসি এই বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট উদ্যোগ বা নিশ্চিতকরণ দেয়নি। তারা মূল সমস্যা থেকে আলাদা থেকে গ্রাউন্ড স্ট্যান্ডার্ড নিরাপত্তা protocols নিয়ে আলোচনা করেছে। কিন্তু মূল ঘটনাটির উপর তাদের কোনো অবস্থান নেওয়া হয়নি। ভারত সরকারের পক্ষ থেকেও কোনো সন্তুষ্টি বা নিশ্চিতকরণ আসেনি। ফলে, বাংলাদেশ এই সিদ্ধান্তে অটল থাকছে যে, তারা ভারতে খেলবে না।

    উপদেষ্টা দাবি করেন, আইসিসি তাদের প্রকৃত সত্য বা পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে কোনো বিশ্বাসযোগ্য ব্যবস্থা বা আশ্বাস দেয়নি। এ কারণেই তারা মনে করে, ভারতের নিরাপত্তা এখনও সম্পূর্ণ চ্যালেঞ্জের মুখে। তিনি বলেন, মোস্তাফিজের ক্ষেত্রেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি ভারত, তাহলে বাংলাদেশের অন্য ক্রিকেটার বা সাংবাদিকদের নিরাপত্তা কি হবে? এই প্রশ্নটি তাদের মনোযোগ আকর্ষণ করছে।

    এছাড়াও, তিনি জানান, আইসিসি মূল ঘটনা বা মোস্তাফিজের ঘটনাকে অপ্রাসঙ্গিক করে তার জাতীয় নিরাপত্তা স্ট্যান্ডার্ড নিয়ে আলোচনা করেছে, যা তারা সমর্থন করে না। মূল ঘটনাটির উপর কোনো অবস্থান বা সিদ্ধান্তে তারাও পৌঁছায়নি। ভারত সরকারের পক্ষ থেকেও এই ঘটনার ব্যাপারে বুঝাতে বা নিশ্চয়তা দিতে কোনো চেষ্টা হয়নি।

    সুতরাং, বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত প্রবলভাবে অটল—ভারতে না গিয়ে অন্য ভেন্যুতে খেলবে না। তারা আশা করছে, আইসিসি তাদের নিরাপত্তা বিষয়ক উদ্বেগ বিবেচনা করবে এবং শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হতে পারেন এমন বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। যেখানে নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলা করে ক্রিকেট চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।

    বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও অন্য কর্মকর্তারা বলছেন, তারা এখনও শ্রীলঙ্কাতেই বিশ্বকাপ খেলার জন্য লড়াই চালিয়ে যাবেন। মুস্তাফিজের আইপিএল থেকে বাদ পড়া প্রসঙ্গে, তিনি বলেছেন, এটাকে একান্তই উসকানি হিসেবে দেখানো ভুল। মুস্তাফিজ নিজে সরেননি, ইনজুরিও হয়নি—এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড তাদের এনওসি বাতিল করেনি। নিরাপত্তার আশঙ্কায় তাকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।

    তিনি আরও জানিয়েছেন, ১৯৯৬ ও ২০০৩ বিশ্বকাপে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি থাকায় অন্য ভেন্যুতে খেলতে হয়েছে। তাই তারা এখনও আশা করছেন, সম্ভব হলে বিকল্প ভেন্যুতে খেলার সুযোগ পাবেন। তারা আইসিসির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করে চলেছেন।

    বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে, ক্রিকেটাররা এখানে উপস্থিত ছিলেন এবং তাদের মতামত বা আলোচনায় এখনো স্পষ্ট কিছু বলা হয়নি। তবে, তারা নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকলেও, ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট এই বিষয়গুলো মূলত আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর্যায়ে রয়েছে।

  • শিনজো আবেকে হত্যায় খুনির আমৃত্যু কারাদণ্ড নিশ্চিত

    শিনজো আবেকে হত্যায় খুনির আমৃত্যু কারাদণ্ড নিশ্চিত

    জাপানের আদালত আজীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবেকে হত্যা করার জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিকে। এ হত্যাকাণ্ডের সাড়ে তিন বছর পর বুধবার এই দণ্ডের রায় ঘোষণা করা হয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২২ সালের জুলাই মাসে জাপানের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর নারা-য় একটি নির্বাচনী প্রচার সময় আবে বক্তৃতা দিচ্ছিলেন। এ সময় ৪৫ বছর বয়সী তেতসুইয়া ইয়ামাগামি হাতে তৈরি বন্দুক দিয়ে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। ঘটনাস্থলেই তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওই সময় আবে ছিলেন ৬৭ বছর।

    নারা ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে বিচার শুরুর প্রথম দিনেই, অক্টোবরে, ইয়ামাগামি হত্যা স্বীকার করে নেন। এরপর তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। রায়ের সময় বিচারক শিনিচি তানাকা গুলির ঘটনাকে ‘জঘন্য’ বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, ‘বড় জনসমাবেশে বন্দুক ব্যবহার করা অতিরিক্ত বিপজ্জনক এবং দুষ্কৃতিকারী কর্মকাণ্ড।’

    প্রাথমিকভাবে কাউন্সিলের পক্ষ থেকে ইয়ামাগামির জন্য আজীবন কারাদণ্ডের দাবি জানানো হয়েছিল। তারা জাপানে এরূপ হত্যাকাণ্ডকে ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর অন্যতম মারাত্মক ও নজিরবিহীন ঘটনা’ হিসেবে অভিহিত করে। তবে, ইয়ামাগামির আইনজীবীরা তার জন্য ২০ বছরের কম কারাদণ্ডের আর্জি জানান, যেখানে পারিবারিক সম্পর্ক ও যোগসাজশের বিষয়ও উল্লেখ করা হয়।

    অভিযোগের বিরুদ্ধে আপিলের বিষয়ে, ইয়ামাগামির আইনজীবীরা পরে তার সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন।

  • পাকিস্তানের করাচিতে অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা দাঁড়াল ৬১

    পাকিস্তানের করাচিতে অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা দাঁড়াল ৬১

    পাকিস্তানের বাণিজ্যিক রাজধানী করাচির অন্যতম ব্যস্ত শপিং কমপ্লেক্স গুল প্লাজায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এই পর্যন্ত ৬১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৫ জনের পরিচয় জানা গেছে, শীঘ্রই অন্যদের পরিচয় জানাতে চেষ্টা চলছে।

    করাচির দক্ষিণ জোনের উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক আসাদ রাজা জানান, বুধবার এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, গুল প্লাজার দ্বিতীয় তলায় Dubai Crockery নামের একটি দোকান থেকে ৩০ জনের দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অগ্নিদগ্ধরা সবাই দোকানটির ভেতরে ছিলেন। উদ্ধারকাজ চলাকালীন এই ৩০ জনের মধ্যে ১৫ জনের পরিচয় জানা গেছে, বাকিদের সন্ধানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ ও উদ্ধারকারীরা।

    তিনি আরও জানান, এই ঘটনার ফলে গুল প্লাজায় মোট মৃতের সংখ্যা এখন ৬১। পাশাপাশি এখনও ৪০ জনের বেশি লোক নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

    সম্প্রতি, ১৭ জানুয়ারি শনিবার এই দুর্ঘটনা ঘটে যখন গুল প্লাজার বেসমেন্টে আগুন ওঠে, যা দ্রুত পুরো পাঁচতলা শপিং কমপ্লেক্সে ছড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত। আগুনের ভয়ঙ্কর আকারে বিস্তার ঘটায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের ২৪ ঘণ্টা কঠোর পরিশ্রমের পর পরিস্থিতি দমন সম্ভব হয়।

    উচ্চতর বয়সের এই ৫তলা ভবনটি নির্মাণ হয় ১৯৮০ সালে। এর আয়তন একটি ফুটবল মাঠের চেয়ে বড়, যেখানে প্রায় ১ হাজার ২ শ’ দোকান রয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণে বেশিরভাগ দোকানই ভস্মীভূত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের অনুযায়ী, এত বড় ধরনের আগুন এত আগে কখনো দেখা যায়নি যা করাচিতে এর আগে সংঘটিত হয়নি।

    ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সূত্রে জানা যায়, হতাহত ও নিখোঁজের সংখ্যা এত বেশি হওয়ার অন্যতম কারণ হলো গুল প্লাজার নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট নরম ছিল। করাচি ফায়ার সার্ভিসের একজন কর্মকর্তা জানান, গুল প্লাজায় মোট ২৬টি গেট বা ফটক ছিল, কিন্তু তার মধ্যে মাত্র ২টি খোলা থাকতো। আগুনের সময়ও অধিকাংশ গেট বন্ধ থাকায় বহু মানুষ কমপ্লেক্সের ভিতরে আটকা পড়েন। এছাড়া, মার্কেটের অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রও কাজের অবস্থায় ছিল না।

    বুধবারের ব্রিফিংয়ে উপ-পুলিশ মহাপুরিদর্শক আসাদ রাজা বলেন, ‘প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, আগুনের সময় দোকানের শাটার বন্ধ ছিল, যা নিহতের অন্যতম কারণ। মৃতের মধ্যে দোকানের মালিক ও কর্মচারীরাও রয়েছেন।’ তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, গুল প্লাজায় এই অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে।

    করাচির পুলিশপ্রধান ও পুলিশ কমিশনার সৈয়দ হাসান নাকভি জানিয়েছেন, সিন্ধ রাজ্য সরকার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটি ইতোমধ্যে জায়গায় গিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেছে ও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। সূত্র: এএফপি

  • ট্রাম্পের ৮ দেশের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি থেকে সরে এলো

    ট্রাম্পের ৮ দেশের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি থেকে সরে এলো

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ন্যাটো পরিস্থিতি ও গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত সম্ভাব্য চুক্তির আলোচনাকে কেন্দ্র করে বেশ কিছু পরিবর্তন আনলেন। তিনি জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ন্যাটোর সঙ্গে আলোচনার পর, এখন আর তারা আটটি ইউরোপীয় দেশের ওপর শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন। আগে জানা গিয়েছিল, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এই আট দেশের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করার পরিকল্পনা ছিল।

    দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে (ডব্লিউইএফ) অংশগ্রহণের সময়, ট্রাম্প নিজের ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে বলেন, ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে তার বৈঠক খুবই ফলপ্রসূ ছিল। এই বৈঠকের ভিত্তিতে তারা ভবিষ্যতের জন্য একটি গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত চুক্তির রূপরেখা তৈরি করেছেন। তিনি আরও যোগ করেন, ‘যদি এই সমাধান চূড়ান্ত হয়, তবে তা যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো সদস্য দেশের জন্য একটি অসাধারণ ঘটনা হবে।

    তাঁর ঘোষণা, ‘এই বোঝাপড়ার ভিত্তিতে আমি পহেলা ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা থাকা শুল্ক আরোপ করব না।’ তবে, ট্রাম্প এটাও জানান যে, গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত ‘দ্য গোল্ডেন ডোম’ নামক বিষয়টির ওপর আলোচনা এখনও চলমান রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, অগ্রগতির বিষয়ে পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

    এই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যক্তি অংশ নিচ্ছেন, যারা সরাসরি ট্রাম্পকে জানাবেন।

    এর আগে, দাভোসে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা যুক্তরাষ্ট্রের কাছেই থাকা উচিত। তিনি বলেছিলেন, ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত এই অঞ্চলকে দখলের জন্য কোনও প্রকার চাপ প্রয়োগ করা হবে না। ট্রাম্পের মতে, উত্তর মেরু অঞ্চলের বরফ গলছে এবং প্রতিযোগিতা আরও বেড়েই চলেছে, তাই এই অঞ্চলটি যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    বর্তমানে, ডেনমার্কের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি অনুযায়ী, তারা গ্রিনল্যান্ডে নিজেদের ইচ্ছে মতো সেনা মোতায়েন করতে পারে। বর্তমানে, দ্বীপের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত পিটুফিক ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের শতাধিক সামরিক সদস্য স্থায়ীভাবে অবস্থান করছেন।

    রাশিয়া ও চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির কারণে আর্কটিক অঞ্চলে নিরাপত্তার চাহিদাও বেড়েছে। ট্রাম্প ঐ অঞ্চল নিয়ন্ত্রণের জন্য চাপ দেয়ার পেছনে ন্যাটোর অজুহাত দেখালেও, ডেনমার্ক নিজেও এই অঞ্চলের এক স্বায়ত্তশাসিত দেশ।

    তবে, গ্রিনল্যান্ড কিনে আনার বিষয়ে এখনও কোনও চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত, ট্রাম্প পহেলা ফেব্রুয়ারি থেকে ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্র France, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ড থেকে আসা পণ্যের উপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন। এই শুল্কের হার জুনের মধ্যে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হবে বলে জানান তিনি।

    প্রথমে এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই সব ইউরোপীয় দেশের পাশাপাশি আরও কয়েকটি দেশেও শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ছিল। তবে বুধবার, ন্যাটোর সদস্য এই দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনার পর, ট্রাম্প সংশ্লিষ্ট হুমকি প্রত্যাহার করেন। ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে তিনি বলেছেন, ‘এই বোঝাপড়ার ভিত্তিতে, পহেলা ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা থাকা শুল্ক আমি আরোপ করব না।

    আলোচনার এই পরিবর্তনের পর, ট্রাম্প আরও জানান, তিনি দ্রুত আলোচনা চান গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের জন্য, তবে স্পষ্ট করে বলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র কোনও শক্তি প্রয়োগ করে ভূখণ্ডটি দখল করবে না।

  • যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জামায়াতের বন্ধুত্ব বৃদ্ধি করার উদ্যোগ

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জামায়াতের বন্ধুত্ব বৃদ্ধি করার উদ্যোগ

    বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পথে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী, যে কোনো সময় তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে সফল নির্বাচনী ফলাফল লাভের সম্ভাবনা রয়েছে। এমন ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন সংকেত দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকরা, যারা জামায়াতের সঙ্গে যোগাযোগ ও সম্পর্ক জোরদার করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এই বিষয়টি নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে ওয়াশিংটন পোস্টের একটি বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদন।

    প্রতিবেদনে জানা গেছে, বাংলাদেশের ইতিহাসে একাধিকবার জামায়াতে ইসলামীর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। সর্বশেষ সরকারে আওয়ামী লীগ থাকাকালে দলটির ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর, ছাত্র আন্দোলনের উত্তাপে শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ব্যাপক পরিবর্তনের মুখে পড়েছে।

    জামায়াত আগে শরিয়াভিত্তিক শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, নারীদের কাজের সময় কমানোসহ বেশ কয়েকটি মৌলিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তারা নিজ ভাবমূর্তি বদলানোর চেষ্টা চালাচ্ছে, দুর্নীতিবিরোধী রাজনীতিকে গুরুত্ব দিয়ে মূলধারার রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকরাও ইসলামপন্থি দলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের জন্য প্রস্তুত। এক অডিও রেকর্ডের বরাত দিয়ে জানানো হয়, ১ ডিসেম্বর ঢাকায় নারী সাংবাদিকদের সঙ্গে এক বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের একজন কূটনীতিক বলেছিলেন, বাংলাদেশ এখন আরও বেশি ইসলামপন্থার দিকে ঝুঁকছে, এবং ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জামায়াতের ফলাফল আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভালো হবে।

    কূটনীতিকবৃন্দ আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র জামায়াতে ইসলামীর বন্ধু হিসেবে দেখা চায়। যদি দলটি শরিয়া আইন চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে, তাহলে ওয়াশিংটনের মনোভাব কঠোর হবে। তিনি আরও বলেন, ‘এমন কিছু হলে, আমরা দ্রুত অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করব’।

    সাংবাদিকের উদ্বেগের জবাবে তিনি বলেন, শুধু জামায়াত নয়— হেফাজতে ইসলাম এবং ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের সঙ্গেও যোগাযোগের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি যোগ করেন, ‘আমরা চাই তারা আমাদের বন্ধু হোক, যাতে প্রয়োজনে ফোন করে বলতে পারি, ‘আমরা যা বলেছি, সেটাই কার্যকর করো’।’

    অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, বাংলাদেশে শরিয়া আইন কার্যকর হলে দেশের অর্থনীতি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মনে করেন এই কূটনীতিক। পোশাক শিল্পের ২০ শতাংশ রফতানি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল। যদি নারীদের কাজের সময় সীমা অতিক্রম হয় বা শরিয়া আইন চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে বাংলাদেশের অর্ডারগুলো বন্ধ হবে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য ভয়ঙ্কর। তবে তিনি দাবি করেন, জামায়াত শরিয়া আইন প্রয়োগ করবে না, কারণ উচ্চশিক্ষিত জনগোষ্ঠী ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুণরা এই আইন মানবে না।

    ঢাকায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের মুখপাত্র মনিকা শাই বলেন, ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকটি ছিল নিয়মিত, এবং সেখানে রাজনৈতিক দলের ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র কোনও নির্দিষ্ট দলের পক্ষে নয়, বরং সবাইকে নিয়ে কাজ করে।

    এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর যুক্তরাষ্ট্রবিষয়ক মুখপাত্র মোহাম্মদ রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেছেন, ব্যক্তিগত কূটনৈতিক বৈঠকের বিষয়টি নিয়ে কোনও কথা বলেন না।

    বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের জামায়াতের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ালে ভারত-আলাপের মধ্যে টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে, আটলান্টিক কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যানের মতে, বাংলাদেশে জামায়াতের প্রভাব ভারতের দীর্ঘদিনের উদ্বেগের বিষয়। ভারত মনে করে, জামায়াত পাকিস্তানপন্থী এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি।

    অবশ্য, ওয়াশিংটনের তরফ থেকে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশের নির্বাচন বা পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্কের ওপর বড় কোন প্রভাব ফেলবে না। মার্কিন কূটনীতিকরা মানেন, ঢাকা ও নয়াদিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক আলাদাভাবে পরিচালিত হয়।

  • কাশ্মীরে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ১০ সেনা শহিদ, ২০০ ফুট খাদে ভারতীয় সাঁজোয়া যান খাঁড়া উঠতে গিয়ে পড়েছে

    কাশ্মীরে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ১০ সেনা শহিদ, ২০০ ফুট খাদে ভারতীয় সাঁজোয়া যান খাঁড়া উঠতে গিয়ে পড়েছে

    জম্মু ও কাশ্মীরের ডোডা জেলায় এক মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনায় ১০ ভারতীয় সেনার মৃত্যু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ভাদেরওয়াহ-চাম্বা আন্তঃরাজ্য সড়কের ৯ হাজার ফুট উঁচু খানি টপ এলাকায়, যেখানে ১৭ থেকে ২১ জন জওয়ান বহনকারী একটি সাঁজোয়া যান চলছিল, তখন দুর্ঘটনা ঘটে। গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রায় ২০০ ফুট গভীর খাদে পড়ে যায়।

    সেনাবাহিনী ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, কঠোর আবহাওয়া ও পিচ্ছিল পাহাড়ি পথের কারণে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যান, যার ফলস্বরূপ গাড়িটি খাদে পড়ে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়। দুর্ঘটনার কয়েক মুহুর্তের মধ্যেই সেনা, পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

    পিটিআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে চার জন সেনার মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে আহতদের নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার পথে আরও ছয় সেনা মারা যান।

    এএনআই পরিস্থিতির বিবরণ দেয়ায় জানানো হয়েছে, এই দুর্ঘটনায় আহত ১০ সেনার অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টার করে উধমপুরের সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ডোডার অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার সুমিত কুমার ভূটিয়াল নিশ্চিত করেছেন, আহত সেনাদের জীবন রক্ষার্থে সব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    এই মর্মান্তিক ঘটনার জন্য গভীর শোক প্রকাশ করেছেন জম্মু ও কাশ্মীরের লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি বলেছেন, ‘আমাদের ১০ জন বীর সেনার বিদেহী আত্মার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। তাঁদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ আমাদের নিত্য স্মরণে থাকবে।’ এ ছাড়া ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ও মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ নিহত সেনাদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।