Blog

  • তরুণদের উদ্দেশে নাহিদ: সারাদেশে নির্বাচন প্রস্তুতি নিন — এনসিপি থাকবে আপনার পাশে

    তরুণদের উদ্দেশে নাহিদ: সারাদেশে নির্বাচন প্রস্তুতি নিন — এনসিপি থাকবে আপনার পাশে

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন যে ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করছে। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি সারাদেশের তরুণদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনারা সারাদেশে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন। এনসিপি আপনাদের সমর্থন জানাবে।”

    অনুষ্ঠনায় যোগদানরতদের স্বাগত জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এনসিপির সমর্থনে তরুণদের শক্তির জয় গড়বে বলেই তার আশাবাদ। এই কর্মসূচিটি বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা ইসহাক সরকারের, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতনি ফেরসামিন হক ইকবালসহ কয়েকজনের এনসিপিতে যোগদানের পরিপ্রেক্ষিতে আয়োজন করা হয়েছিল।

    বক্তৃতায় নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, জাতীয় নির্বাচনে সরকার গঠনের পর জনগণের গণভোটকে অস্বীকার করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, গত জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানপরবর্তী ঐতিহ্য (‘লিগ্যাসি’) থেকে বিচ্ছিন্ন করে নির্বাচনের আচরণকে একটি সাধারণ ক্ষমতার হস্তান্তরের পর্যায়ে নামিয়ে আনা হয়েছে। সংবিধান ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারমূলক অধ্যাদেশগুলো এই সরকার একে একে বাতিল করে দিচ্ছে এবং ব্যাংক লুটেরাদের জন্য সুবিধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। পাশাপাশি দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নানাভাবে দলীয়করণ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

    বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও পেশিশক্তি ও ক্ষমতার রাজনীতির নবোৎপত্তি ঘটছে বলে সতর্ক করে নাহিদ বলেন, ‘‘ফ্যাসিবাদ বা কোনো নতুন কিংবা পুরাতন স্বৈরশাসন ফিরে এলে জনগণ আবারো সংগঠিত হবে। জনগণ এনসিপির ছায়াতলে ঐক্যবদ্ধ হবে—আমরা এর প্রমাণ সারা দেশ থেকেই পাচ্ছি।’’

    দেশজুড়ে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথা তুলে ধরে এনসিপি আহ্বায়ক আরও বলেন, ‘‘প্রতি সপ্তাহে আমাদের যোগদান কর্মসূচি চলবে। আমরা সারাদেশের রাজনীতিসচেতন মানুষ ও তরুণদের আহ্বান জানাচ্ছি — আমাদের সবারই দায়িত্ব আছে। যারা রাজনীতি করতে চান, যারা পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেন, তারা ঐক্যবদ্ধ হোন। এনসিপি আপনাদের ধারণ করে সামনে এগিয়ে যেতে চায়।’’

    বক্তৃতায় নাহিদ বর্তমান সরকারকে ক্রমে ব্যর্থতার পথে আখ্যায়িত করে বলেন, ‘‘অর্থনীতি টালমাটাল, দেশের গণতন্ত্র নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে ঐক্যবদ্ধভাবে জনগণের পাশে না দাঁড়ালে আমাদের আর কোনো উপায় থাকবে না। আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি, ইনশাআল্লাহ।’’

    যোগদানসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা ইসহাক সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগদান করেছেন। এ ছাড়া শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতনি ফেরসামিন হক ইকবাল (ফ্লোরা), কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা ও রেলের অনিয়ম নিয়ে আন্দোলনকারী মহিউদ্দিন রনি এনসিপিতে যোগদান করেছেন। ফেরসামিন বিদেশে থাকায় অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত থাকতে পারেননি; অন্যরা মঞ্চে ছিলেন এবং নাম ঘোষণার পর ইসহাক সরকার, নুরুজ্জামান কাফি ও মহিউদ্দিন রনিকে ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে নাহিদ ইসলামসহ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

  • জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় পোশাক খাতে ক্রয়াদেশ স্থগিত, উদ্বেগ বাড়ছে

    জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় পোশাক খাতে ক্রয়াদেশ স্থগিত, উদ্বেগ বাড়ছে

    দেশে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকটকে কেন্দ্র করে বিদেশি ক্রেতারা নতুন ক্রয়াদেশ দেওয়া স্থগিত করছেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম (পারভেজ) চৌধুরী। তিনি সতর্ক করেছেন যে, এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে তৈরি পোশাক খাতসহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান খাত বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

    বিসিআই সভাপতি বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় বলেন, বিশ্ববাজারের অস্থিরতা এবং দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে আগামী জুলাই ও আগস্ট মাসের জন্য যে অনেক ক্রয়াদেশ থাকত, তা ইতোমধ্যেই ধীরগতির হয়ে পড়েছে। বড় ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো নেতিবাচক সঙ্কেত দিচ্ছে এবং কিছু অর্ডার ভারতসহ অন্য দেশে স্থানান্তরের প্রক্রিয়াও দেখা যাচ্ছে।

    তিনি আরও জানান, যেসব বিদেশি প্রতিষ্ঠানের ঢাকা অফিস পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করলেও তাদের শীর্ষ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীরা নতুন অর্ডার দেওয়ার বিষয়ে এখন অনেক বেশি সতর্ক। এর ফলে সরবরাহ চেইন এবং রফতানি আয় দুটোই ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

    আনোয়ার-উল আলম বর্তমান কর কাঠামোকে ব্যবসাবান্ধব বলেননি। তিনি বলেন, লাভ-লোকসান নির্বিশেষে এক শতাংশ হারে ন্যূনতম কর পরিশোধের বাধ্যবাধকতা অনেক প্রতিষ্ঠানের ওপর বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে, বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে। কোনো সময়ে লাভ না থাকলেও কর দিতে হচ্ছে, যা ব্যবসা চালিয়ে যেতেই কঠিনতা সৃষ্টি করছে। সেই কারণেই তিনি ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস এবং রপ্তানি আয়ের ওপর উৎস কর কমানোর আবেদন জানিয়েছেন।

    তবে এনবিআর চেয়ারম্যান মোঃ আবদুর রহমান খান প্রস্তাবিত উৎস কর কমানোর পরামর্শ ফিরিয়ে দিয়েছেন। এছাড়া আয়কর আইন ২০২৩-এর ১৪৭ ধারা প্রসঙ্গে বিসিআই সভাপতি বলেন, কর যাচাইয়ের নামে প্রতিষ্ঠানগুলোর কম্পিউটার সিস্টেম বা নথিপত্র জব্দ করার অবারিত ক্ষমতা ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করছে এবং ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে।

    প্রাক-বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) দাবি জানিয়েছে ব্যাংক আমানতের মুনাফার ওপর বর্তমান উৎস কর ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হোক এবং নিট সম্পদের ওপর আরোপিত সারচার্জ ধাপে ধাপে বাতিল করা হোক। প্রসঙ্গত, ব্যবসায়ীরা করের বোঝা বাড়ানো না করে ব্যবসা-সহায়ক কাঠামো গড়ে তুলতে সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়েছে।

    শিল্প উদ্যোক্তারা মনে করেন, যদি জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল না থাকে এবং কর কাঠামো সহজীকরণ না করা হয়, তাহলে দেশের রপ্তানি খাতের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা আরও দুর্বল হবে। ফলে সরাসরি প্রভাব পড়বে কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক মুদ্রা আয়েও। তাঁরা বলেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সেক্টরের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

  • এপ্রিলের প্রথম ২২ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ২.৪২ বিলিয়ন ডলার

    এপ্রিলের প্রথম ২২ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ২.৪২ বিলিয়ন ডলার

    রেমিট্যান্স প্রবাহের ইতিবাচক ধারা চলতি এপ্রিলেও অব্যাহত রয়েছে। চলতি মাসের প্রথম ২২ দিনে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন প্রায় ২.৪২ বিলিয়ন (২৪১ কোটি ৭০ লাখ) মার্কিন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংক বুধবার (২৩ এপ্রিল) এই তথ্য জানিয়েছে।

    বর্তমান বাজারদর প্রতি ডলার ১১২ টাকা ধরে হিসাব করলে এ রেমিট্যান্সের পরিমাণ প্রায় ২৯ হাজার ৪৮৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা বলে দেখায় ব্যাংকের হিসাব। গত বছরের একই সময়ে প্রাপ্ত রেমিট্যান্স ছিল ২০৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার, তাই এবারের এপ্রিলের প্রথম ২২ দিনে গত বছরের একই সময়ের চেয়ে বর্ধিত হয়েছে ৩৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার বা প্রায় ৪ হাজার ৪৪০ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

    দেশে ইতিহাসের সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় এসেছিল চলতি বছরের মার্চে; ওই মাসে প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এর আগে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছে গত বছরের মার্চে (৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলার), তৃতীয় সর্বোচ্চ ছিল ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে (৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার) এবং চতুর্থ উচ্চতম আয় ছিল চলতি বছরের জানুয়ারিতে (৩১৭ কোটি ডলার)।

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকট দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়া সম্ভব। তাই তারা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্ত অবস্থানে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন, যাতে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলা করা যায়।

  • ফ্লোরিডায় নিখোঁজ নাহিদা ‘মারা গেছেন’ দাবি ভাইয়ের; আরেক শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার

    ফ্লোরিডায় নিখোঁজ নাহিদা ‘মারা গেছেন’ দাবি ভাইয়ের; আরেক শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার

    যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে নিখোঁজ থাকছেন বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা (বৃষ্টি)। তার পরিবার—বিশেষত ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত—ফেসবুক পোস্টে দাবি করেছেন, পুলিশ তাদের জানিয়েছে নাহিদা মারা গেছেন।

    শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে ফেসবুকে দেয়া পোস্টে প্রান্ত লিখেছেন, ‘আমাদের বোন আর আমাদের মাঝে নেই, ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।’ বিবিসি বাংলাকে প্রান্ত বলেন, পুলিশ তাকে ফোন করে মৃত্যুর খবর জানায়। তিনি বলেন, বাসার ভেতরে রক্তে ভেজা একটি মৃতদেহের অংশের সঙ্গে ডিএনএ মিল পেয়েছে। তবে কি পূর্ণাঙ্গ মরদেহ পাওয়া যাবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়—এই তথ্যও প্রান্ত জানিয়েছেন।

    হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় যে ভিডিও প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড সেতু এলাকায় তল্লাশি কাজ চলছে এবং ডুবুরি দল সেতুর আশপাশের পানিতে অনুসন্ধান চালাচ্ছে।

    পূর্বে নিখোঁজ আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল হাসান লিমনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) হিলসবোরোর আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ফ্লোরিডার টাম্পার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ থেকে জামিলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

    নিহত জামিল ছিলেন ইউএসএফ (ইউনিভার্সিটি অফ সাউথ ফ্লোরিডা)-এর ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি শিক্ষার্থী। নাহিদা কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং–এ পিএইচডি করছিলেন। তাদের দুজনকেই সর্বশেষ ১৬ এপ্রিল দেখা গিয়েছে বলে পরিবার জানিয়েছে।

    জামিল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একটি অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে শেরিফের দফতর জানিয়েছে। পুলিশ গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম হিশাম আবুঘরবেহ বলে উল্লেখ করেছে। তার বিরুদ্ধে প্রমাণ নষ্ট করা এবং অনুমোদনহীনভাবে মরদেহ সরানো বা লুকানোর মতো অভিযোগ আনা হয়েছে।

    শেরিফের দফতর জানায়, গ্রেফতার হিশামের বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, সাধারণ প্রহার, কাউকে অনায়ে আটক রাখা, তথ্য-প্রমাণ নিধনের চেষ্টা, পুলিশের কাছে কারও মৃত্যুর খবর না জানানো ও বেআইনি ভাবে মৃতদেহ সরানো বা নাড়াচাড়া করার মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ পদক্ষেপ হিসেবে করা হয়েছে।

    এই দুই শিক্ষার্থীর নিখোঁজ ও একের মৃত্যুর খবরে ফ্লোরিডায় থাকা প্রবাসী সমাজে শোক এবং উদ্বেগের ছায়া নেমে এসেছে। কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত ঘটনার অন্যান্য তথ্য প্রকাশ করেছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। পরিবার ও কমিউনিটির মানুষ দ্রুত এবং পুরো সত্য উদঘাটনের প্রত্যাশা করছে।

  • ২০ বছর পর দেইর আল-বালাহে স্থানীয় নির্বাচন শুরু

    ২০ বছর পর দেইর আল-বালাহে স্থানীয় নির্বাচন শুরু

    ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার দেইর আল-বালাহ শহরে শনিবার সকাল থেকে পৌরসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। এটি গাজায় দুই দশক ধরে প্রথম কোনো নির্বাচন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    গাজায় সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছিল ২০০৬ সালের ২৫ জানুয়ারি। সেই নির্বাচনে সামাজিক-রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতাসীন হয়েছিল সশস্ত্র ইসলামি গোষ্ঠী হামাস। ক্ষমতায় বসার পর ২০০৭ সালে গাজা থেকে প্রতিপক্ষ ফাতাহকে বিতাড়িত করে হামাস মূলত একতরফা শাসন চালায় এবং পরোক্ষভাবে দীর্ঘদিন যাবৎ উপত্যকায় কোনো নির্বাচন হয়নি।

    রয়টার্সসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর দু’বছরের তীব্র সামরিক অভিযানের পর ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়। ওই যুদ্ধবিরতির এক শর্তে গাজার আধাসামরিক বা রাজনৈতিক শাসন তুলে দিয়ে অরাজনৈতিক একটি টেকনোক্র্যাট প্রশাসন গঠনের কথা বলেছিল বলে রিপোর্টে উল্লেখ আছে। কয়েক মাস আগে সে ধরনের একটি টেকনোক্র্যাট সরকার গঠিত হয় এবং তার অধীনে এই স্থানীয় নির্বাচন আয়োজন করা হচ্ছে।

    পশ্চিম তীরের সরকারে অংশ নেওয়া ফিলিস্তিনি জাতীয় কর্তৃপক্ষ (পিএ) ও তার জোট এই নির্বাচনের মাধ্যমে গাজার রাজনীতিতে পুনরায় প্রবেশের সুযোগ হিসেবে এটি দেখে। ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কিছু দেশের সরকারও গাজার এই স্থানীয় নির্বাচনের পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে এসেছে। তাদের মতে, নির্বাচিত স্থানীয় প্রতিনিধিত্ব শক্তিশালী হলে ফিলিস্তিনি স্বশাসন ও ভবিষ্যত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়াও ত্বরান্বিত হবে।

    কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, দেইর আল-বালাহে নির্বাচন সফল হলে পুরো গাজায় নির্বাচনের সুযোগ ফিরে আসতে পারে এবং দুই দশক পর নির্বাচিত সরকার গঠনের সম্ভাবনা জোরালো হতে পারে।

    গাজার তত্ত্বাবধায়ক টেকনোক্র্যাট প্রশাসন এবং নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে তারা চাইছিল পুরো উপত্যকাতেই স্থানীয় নির্বাচন করাতে, কিন্তু ইসরায়েলি অভিযান শেষে শহরগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ায় ও মलबা-পতন এখনও অপসারণ না হওয়ায় আপাতত এই শহরটিকেই নির্বাচনমঞ্চ হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। দেইর আল-বালাহে অন্যান্য শহরগুলোর তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম ক্ষতি হয়েছে বলে কমিশন জানিয়েছে।

    নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেইর আল-বালাহ পৌর নির্বাচনে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা ৭০,৪৪৯। শহরজুড়ে ১২টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছে; বেশিরভাগ কেন্দ্রই জাতিসংঘের সহায়তায় তাবু স্থাপন করে করা হয়েছে।

    হামাস এই নির্বাচন বয়কট ঘোষণা করেছে, তবে রয়টার্স বলেছে—হামাসের সঙ্গে সম্পর্কিত কয়েকজন ব্যক্তি এ প্রক্রিয়ায় প্রার্থী হয়েছেন।

    স্থানীয়রা সাধারণত এই নির্বাচনকে স্বাগত জানাচ্ছে। এক ভোটার, আদহাম আল-বারদিনি, রয়টার্সকে বলেছেন, “আমি জন্মের পর থেকে নির্বাচন কথাটা শুনে এসেছি; আজ নিজের চোখে দেখতে পারলাম নির্বাচন কী ও কেমন হয়।” অন্যরা বলছেন, দীর্ঘ সময়ে চাপিয়ে দেওয়া বাস্তবতার পরিবর্তনের প্রত্যাশা তাদের ভোটে অংশ নেওয়ার কারণ।

    রয়টার্সকে উল্লিখিত সূত্রের তথ্যকে চিকিৎসা করে এই প্রতিবেদন আয়োজন করা হয়েছে।

  • বাগেরহাটের মল্লিকের বেড় থেকে ‘জাহিদুল গ্যাং’-এর জাহিদুল র‍্যাবের হাতে আটক

    বাগেরহাটের মল্লিকের বেড় থেকে ‘জাহিদুল গ্যাং’-এর জাহিদুল র‍্যাবের হাতে আটক

    বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার মল্লিকের বেড় এলাকার একাধিক মামলায় নামজাদা মোঃ জাহিদুলকে র‍্যাব-৬ খুলনা টোল প্লাজা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাত প্রায় পৌনে ৮টার দিকে তাকে আটক করা হয়।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জাহিদুলের বিরুদ্ধে অন্তত তিনটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। ২০০৯ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে তার বিরুদ্ধে মারামারি, চাঁদাবাজি, ঘের দখল, চুরি, দস্যুতা, নারী নির্যাতন, মামলা ও হত্যা চেষ্টাসহ আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী নানা অভিযোগে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। দীর্ঘদিন পলাতক থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করা যাচ্ছিল না বলে সূত্ররা জানান।

    রামপাল থানার তদন্ত অফিসার সুব্রত বিশ্বাস খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “দীর্ঘদিন পলাতক এই আসামি মোঃ জাহিদুলকে র‍্যাব খুলনা টোল প্লাজা এলাকা থেকে আটক করে রামপাল থানায় হস্তান্তর করেছে। থানায় প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।” তিনি আরও জানান, ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    মামলার বাদিরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আসামি পলাতক থাকায় তারা মানসিক ও সামাজিকভাবে চরম ভোগান্তির মুখে ছিলেন। তাদের দাবী, গ্রেপ্তারের ফলে ন্যায়বিচারের পথে অগ্রগতি হয়েছে এবং দ্রুত সুষ্ঠু বিচার চান তারা।

    স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল এবং এখন দ্রুত সব পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের দাবি তুলেছেন। র‍্যাব ও পুলিশ ঘটনাস্থল ও মামলার বিষয়ে আরও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

  • বাগেরহাটে যৌথ ব্যবসা দখল ও চেক জালিয়াতির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

    বাগেরহাটে যৌথ ব্যবসা দখল ও চেক জালিয়াতির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

    বাগেরহাটের ব্যবসায়ী মোঃ শফিকুল ইসলাম শনিবার (২৫ এপ্রিল) বাগেরহাট প্রেসক্লাবে একটি সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করেছেন যে, তার সঙ্গে যৌথভাবে চালানো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল ও সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টা করা হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে তার আপন ভাই হাফিজুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন।

    সংবাদ সম্মেলনে প্রদত্ত লিখিত বক্তব্যে শফিকুল ইসলাম বলেন, গত ১৭ বছর ধরে তিনি ও তার আপন মামা যৌথভাবে “মোল্লা হার্ডওয়ার স্টোর” নামের ব্যবসাটি পরিচালনা করে আসছেন। ব্যবসার জমির আয়তন ০.৫২৭ একর, যেখানে তিনি এক-তৃতীয়াংশ অংশীদার এবং প্রতিষ্ঠানের “৮ আনা” শেয়ারদার বলে দাবি করেন।

    তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে তার অংশীদার বিভিন্ন কৌশলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিষ্ঠান ও সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করছে। প্রতিষ্ঠানটির ট্রেড লাইসেন্স এবং ব্যাংক হিসাব অংশীদারের নামে থাকায় সে একপক্ষীয়ভাবে আর্থিক লেনদেন করে আসছে এবং বছরের পর বছর তাকে কোনো হিসাব-লাভভাগ না দিয়ে বঞ্চিত করেছে।

    শফিকুল আরও বলেন, অংশীদার প্রতিষ্ঠানটির আড়ালে বিভিন্ন ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে সেই অর্থ ব্যক্তিগত ব্যবসায় ব্যবহার করছেন। এসব থেকে সংগৃহীত লাভ একনের ব্যাক্তিগতভাবে ভোগ করা হচ্ছে, অথচ তিনি দীর্ঘদিন ধরে তার অংশের লভ্যাংশ পাননি।

    তিনি দাবি করেন, হিসাব চাওয়ার প্রত্যুত্তরে তাকে হুমকি দেওয়া হয় এবং জোরপূর্বক ব্যবসা স্থান থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। তার উপর চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে যাতে তিনি তার অংশের সম্পত্তি লিখে দেন; তা না করলে প্রাণনাশেরও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

    শফিকুল আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, কোনো সময় ব্যবসার মালামাল সরিয়ে নিয়ে তাকে তার প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করা হতে পারে। তাই তিনি প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করেছেন—বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ব্যবস্থা করা হোক।

    অপর একটি অভিযোগে তিনি বলেন, পূর্বে হারানো একটি ব্যাংক চেককে ভিত্তি করে সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে প্রায় ৩ কোটি ১৩ লাখ টাকার দাবিতে একটি উকিল নোটিশ পাঠানো হয়েছে, যা তিনি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং চেক জালিয়াতির অংশ বলে উল্লেখ করেন।

    সংবাদ সম্মেলনে শফিকুল ইসলাম প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও ন্যায়বিচার দাবি করে জানান, তিনি উপর্যুক্ত কেলেঙ্কারি ও হয়রানির বিষয়ে দ্রুত তদন্ত ও সঠিক বিধান চান যাতে তার স্বত্ব ও মর্যাদা রক্ষা পায়।

  • আইসিসি শাস্তি দিলো নাহিদা আক্তার ও সারমিন সুলতানাকে

    আইসিসি শাস্তি দিলো নাহিদা আক্তার ও সারমিন সুলতানাকে

    আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের দুজন খেলোয়াড়—নাহিদা আক্তার ও সারমিন সুলতানাকে শাস্তি দিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। দুজনকেই ম্যাচ ফি’র ১০ শতাংশ জরিমানার পাশাপাশি প্রত্যেকের নামের পাশে একটি করে ডিমেরিট পয়েন্ট যুক্ত করা হয়েছে।

    আইসিসির ছাপানো বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নাহিদা আচরণবিধির ২.৫ ধারা ভঙ্গ করেছেন; যার মধ্যে আসে আউট হওয়া কোনো ব্যাটারকে উদ্দেশ্য করে অবমাননাকর ভাষা, আচরণ বা অঙ্গভঙ্গি করা। অপরদিকে সারমিন ২.৮ ধারা ভঙ্গ করেছেন, যা আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশের সঙ্গে সম্পর্কিত।

    ঘটনা ঘটেছে রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলার সময়। সফরকারীদের ইনিংসের ১৭তম ওভারে বাংলাদেশি কিপার-ব্যাটসম্যান চামারি আতাপাত্তু আউট হলে নাহিদা তাঁকে প্যাভিলিয়নের দিকে ইঙ্গিত করে বিদায় জানান—যা আইসিসি বিবেচনায় অনুচিত আচরণ হিসেবে ধরা হয়েছে। এদিকে বাংলাদেশ ইনিংসের ১৬তম ওভারে একটি এলবিডব্লিউ সিদ্ধান্তের পর সারমিন ব্যাট দেখিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং অপেক্ষাকৃত দেরিতে মাঠ ছাড়েন।

    দুই ক্রিকেটারই তাদের দোষ স্বীকার করেছেন এবং আইসিসির আন্তর্জাতিক ম্যাচ রেফারি প্যানেলের সদস্য সুপ্রিয়া রানি দাসের প্রস্তাবিত শাস্তি মেনে নিয়েছেন; তাই অফিসিয়াল শুনানির প্রয়োজন পড়েনি। অভিযোগগুলোর সূচনা করেছিলেন ম্যাচের অন-ফিল্ড আম্পায়ার এলয়িস শেরিডান ও রোকেয়া সুলতানা, তৃতীয় আম্পায়ার হিসেবে ছিলেন ডলি রানি সরকার এবং চতুর্থ আম্পায়ার ছিলেন শাথিরা জাকির জেসি।

    দ্বিতীয় ম্যাচে শ্রীলঙ্কা চার উইকেটে জয় তুলে নিয়ে সিরিজে সমতা ফিরিয়ে আনে। প্রথম ওয়ানডেতে তিন উইকেটে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। দুই ম্যাচে ১-১ হওয়ার ফলে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচটি এখন নির্ধারণী ম্যাচ হিসেবে দাঁড়িয়েছে—ট্রফি জয়ের লড়াই নিয়ে আজ মাঠে নামছে দুদল।

  • ফাইনাল টিকিটের দাম আকাশছোঁয়া: একটির শেডা প্রায় ২৫.৬ কোটি টাকা

    ফাইনাল টিকিটের দাম আকাশছোঁয়া: একটির শেডা প্রায় ২৫.৬ কোটি টাকা

    কয়েক দিনের মধ্যেই মাঠে গড়াবে ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬—তাই উন্মাদনায় কেঁপে উঠেছে ভক্তেরা। তবে ফাইনাল ম্যাচের কিছু টিকিটের দাম শুনে চোখ কপালে ওঠার মতো: আগামী ১৯ জুলাই মেটলাইফ স্টেডিয়ামের গোলপোস্টের ঠিক পেছনের ‘ক্যাটাগরি-১’ আসনের একটি টিকিট পুনর্বিক্রয়ে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে ২,২৯৯,৯৯৮.৮৫ মার্কিন ডলারে—বাংলা টাকায় প্রায় ২৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা। একই ক্যাটাগরির চারটি আসন একসঙ্গে পেতে কয়েক বন্ধু মিলালেও খরচ দাঁড়াবে ১০০ কোটি টাকারও বেশি।

    রোববার প্রকাশিত তালিকায় আরও একটি টিকিট দেখা গেছে একই দামে (২,২৯৯,৯৯৮.৮৫ ডলার); তবে সেটি ‘ক্যাটাগরি-৩’-এর, যা স্টেডিয়ামের ওপরের ডেকে গোলপোস্টের পেছনে অবস্থিত। বিপরীতে, ক্যাটাগরি-১-এর ওই চারটির ঠিক দুই সারি সামনের আসনগুলো পুনর্বিক্রয়ে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র কিছু বেশি অর্থ—প্রায় ১৬ হাজার ডলার। এমনকি মাঠের আরও কাছের কিছু টিকিটও বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২৪ হাজার ডলারে।

    এসবে দেখা যাচ্ছে, এগুলো ফিফার নিজস্ব টিকিট পুনর্বিক্রয় ওয়েবসাইট ‘রিসেল মার্কেটপ্লেস’-এ তালিকাভুক্ত। এটি একটি অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্ম যেখানে টিকিটধারীরা তাদের টিকিট অন্যদের কাছে বিক্রি করতে পারেন; তবে প্ল্যাটফর্মে পুনর্বিক্রয়ের দাম নির্ধারণে ফিফার নিয়ন্ত্রণ নেই—বিক্রেতারা নিজেদের মতোই দাম ঠিক করেন। প্রতিটি লেনদেন থেকে ফিফা ক্রেতা ও বিক্রেতা—উভয়ের কাছ থেকে ১৫ শতাংশ করে কমিশন কেটে নেয়।

    ফিফার এক মুখপাত্র সিএনএন স্পোর্টসকে বলেছেন, “ফিফার রিসেল মার্কেটপ্লেস সমর্থকদের জন্য নিরাপদ, স্বচ্ছ ও সুরক্ষিত পরিবেশে টিকিট কেনাবেচার সুযোগ করে দেয়। এখানে প্রযোজ্য ফি উত্তর আমেরিকার ক্রীড়া ও বিনোদন খাতের প্রচলিত নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।” প্ল্যাটফর্মটি কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক ভক্তদের জন্য উন্মুক্ত থাকলেও স্থানীয় আইনের কারণে মেক্সিকোর নাগরিকরা এখানে গায়ের দামের চেয়ে বেশি মূল্য দাবিতে তালিকাভুক্ত করতে পারবেন না।

    বর্তমান তালিকায় ফাইনাল ম্যাচের সাধারণ টিকিটের সবচেয়ে নিন্ম পুনর্বিক্রয় মূল্য প্রায় ১১ হাজার ডলার, আর হুইলচেয়ার ব্যবহাকারীদের জন্য সংরক্ষিত টিকিটের ন্যূনতম মূল্য দেখা গেছে প্রায় ১৫ হাজার ডলারে। পাশাপাশি অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, ফিফা সম্প্রতি তাদের অফিসিয়াল সাইটে ফাইনালের নতুন কিছু টিকিট ছাড়া হয়েছিলো—এসবের প্রতি টিকিটের মূল্য রাখা হয়েছিল ১০,৯৯০ ডলার।

    ফিফা বলছে, টিকিটের দাম ও ক্যাটাগরি নির্ধারণ করা হয়েছে বাজারের চাহিদা বিবেচনায়; টিকিটগুলো বিভিন্ন ধাপে ছাড়ার সময় সবচেয়ে সাশ্রয়ী ‘ক্যাটাগরি-৪’ এবং অংশগ্রহণকারী দেশগুলোকে বরাদ্দ করে প্রতিটি ম্যাচেই অন্তত ১,০০০টি টিকিট রাখা হয়েছে মাত্র ৬০ ডলারে। তবু ইতিহাসে সবচেয়ে ‘সাশ্রয়ী’ বিশ্বকাপ হিসেবে এ আয়োজনের ঘোষণা থাকা সত্ত্বেও পুনর্বিক্রয় বাজারে দেখা এমন আকাশছোঁয়া দর সাধারণ দর্শকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে—বিশেষত টিকিট ছাড়াও ভ্রমণ, থাকার খরচ বেড়ে যাওয়া নিয়ে।

    উচ্চমূল্যের টিকিট বিক্রির সমালোচনার মাঝেই ফিফা বারবার উল্লেখ করেছে যে সংগঠনটি অলাভজনক এবং এই আয় ফুটবলের উন্নয়নে পুনরায় বিনিয়োগ করা হবে। তবু ভক্তদের কাছে চূড়ান্ত প্রশ্ন রয়ে গেছে: সুখবরটি কি হবে কেবল অনেকেই যে কদাচিৎই টিকিট পৌঁছে দিতে পারবে, নাকি টিকিটের ন্যায্যতা ও সাশ্রয়িতা সকলের জন্য নিশ্চিত করা যাবে?

  • ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই হেরে মারা গেলেন তারিকুজ্জামান তপন

    ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই হেরে মারা গেলেন তারিকুজ্জামান তপন

    ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন — টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা তারিকুজ্জামান তপন আর নেই।

    শুক্রবার রাত সাড়ে আটটার দিকে দীর্ঘদিনের ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। অভিনেতার প্রয়াণের খবর ‘‘অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশ’’ এর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে জানানো হয়। সংঘের শোকবার্তায় বলা হয়েছে, সংগঠনের সম্মানিত সদস্য ও প্রিয় সহকর্মী তপন আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন; সংগঠন তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেছে এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছে।

    পরিবার সূত্রে জানা যায়, তপন দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন। গত ডিসেম্বর মাসে তাঁর খাদ্যনালিতে ক্যান্সার ধরা পড়ে এবং চিকিৎসক জানিয়েছিলেন রোগটি চতুর্থ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। এর মধ্যে তিনি তিন দফা কেমোথেরাপি সম্পন্ন করেছিলেন।

    সাম্প্রতিক সময়ে শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অভিনেতার ছেলে তাছফিক।

    দীর্ঘ কর্মজীবনে তারিকুজ্জামান তপন টেলিভিশন নাটক ও চলচ্চিত্রে বিশেষ করে কৌতুক চরিত্রে দর্শকপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন। ‘আলতা বানু’, ‘ঠিকানা’, ‘জোড়া শালিক’, ‘হাতছানি’সহ অসংখ্য নাটক ও সিনেমায় তার অভিনয় মানুষ মনে রেখেছে। তাঁর প্রয়াণে বিনোদন অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সকল প্রত্যাশা থাকল—ইন্নালিল্লাহি—তার আত্মার শান্তি কামনা করি এবং শোকগ্রস্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই।