Blog

  • অভ্যন্তরীণ পোস্টাল ভোটের পাঠানো শুরু, ফলাফল নিয়ে ইসি সচিবের আপডেট

    অভ্যন্তরীণ পোস্টাল ভোটের পাঠানো শুরু, ফলাফল নিয়ে ইসি সচিবের আপডেট

    দেশের ভেতরে যারা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন, তাদের জন্য ব্যালট পেপার পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পক্ষ থেকে। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকালে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইসির সচিব আখতার আহমেদ এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

    সচিবের মতে, এবার দেশের অভ্যন্তরে যারা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে চান, তাদের ঠিকানায় আজ থেকেই ব্যালট পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এতে রয়েছেন নির্বাচন দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী, পুলিশ ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এবং কারাগারে থাকা কয়েদিরা।

    তিনি জানান, ব্যালট পেপার পাওয়ার পর দ্রুত ভোট দিয়ে তা নির্বাচনী কর্মকর্তার কাছে ফেরত পাঠানোর প্রয়োজন রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে, অর্থাৎ বিকেল ৪:৩০ মিনিটের মধ্যে এই ব্যালট পৌঁছাতে হবে, যাতে ভোট গণনা করা যায়। অন্যথায়, নির্বাচনের দিন এই ব্যালট গণনায় নেওয়া হবে না। অভ্যন্তরীণ পোস্টাল ব্যালটে প্রার্থীর নাম ও তার প্রতীক উভয়ই থাকবে।

    এছাড়াও, গতকাল বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। তারা ফলাফল প্রকাশের সময়সীমা নিয়ে জানতে চান। ইসির সচিব জানান, মূল কেন্দ্রীয় ফলাফল ৩ থেকে ৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ করা সম্ভব। তবে বিদেশে ভোটগণনা একটু বেশি সময় নেবে কারণ প্রবাসীদের জন্য ব্যবহৃত ব্যালটের দুই পাশে ১১৯টি মার্কা রয়েছে, যা ম্যানুয়ালি স্ক্যান করতে হয়। এটি দ্রুত ফলাফল নিশ্চিতের জন্য প্রয়োজনীয়। কত ভোট জমা পড়ছে, তার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ সম্ভব হবে।

    বিদেশে অবস্থানরত ভোটারদের আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে, সচিব স্পষ্ট করেন, যদি কেউ বিদেশে আচরণবিধি লঙ্ঘন করে থাকেন, তবে তা ব্যক্তিগত অপরাধ হিসেবে দেখা হবে।

  • দুই মামলায় চার্জশিট গ্রহণ; প্রধানসহ ৪১ জনের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

    দুই মামলায় চার্জশিট গ্রহণ; প্রধানসহ ৪১ জনের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

    বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সময় রাজধানীর মোহাম্মদপুরে দুটি হত্যাকাণ্ডের মামলায় আদালত দুইটি চার্জশিট গ্রহণ করেছেন। এতে অভিযুক্ত ৬৪ জনের মধ্যে ৪১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি হিসেবে পলাতক রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম সোমবার (২৬ জানুয়ারি) এ কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। মামলাগুলোর শুনানি ব্যক্তিগতভাবে পরিচালনা করেন প্রসিকিউটর হারুন অর রশীদ ও কাইয়ুম হোসেন নয়ন।

    প্রথমত, হোসেন হত্যা মামলায়, ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুরে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সময় মো. হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। আহত হন দুই ব্যক্তি, সাজ্জাদ ও শাহিন। নিহতের মা মোসা. রীনা বেগম ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট শেখ হাসিনা ও আরও ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তদন্ত শেষে, ২০২৩ সালের ২৩ নভেম্বর মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক মো. আকরামুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এখন পর্যন্ত ২০ জন পলাতক রয়েছেন।

    আরও অভিযুক্তরা মধ্যে রয়েছেন- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খান, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান, আসিফ আহমেদের, তারেকুজ্জামান রাজিব, শেখ বজলুর রহমান ও নুর মোহাম্মদ সেন্টু। এই অভিযুক্তবর্গের মধ্যে কিছু ব্যক্তি কারাগারে রয়েছেন, অন্যরা জামিনে মুক্ত।

    দ্বিতীয়ত, সবুজ হত্যার মামলায়, ৪ আগস্ট মোহাম্মদপুরে ময়ূর ভিলার সামনে গুলিবিদ্ধ হন ২২ বছর বয়সী সবুজ। রাত সাড়ে ১১টার দিকে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ঘটনায়, ১ সেপ্টেম্বর মোহাম্মদপুর থানায় সবুজের ভাই মনির হোসেন ৯৮ জনের নামসহ অজ্ঞাতপরিচয় ৪৫০-৫০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। প্রথমে মামলায় শ্রীযুক্ত শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরের নাম ছিল না, তবে তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ২৭ নভেম্বর শেখ হাসিনা ও আরও ৩০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক মো. মাজহারুল ইসলাম। অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত ২১ জন পলাতক রয়েছেন।

    অভিযোগের মধ্যে আছেন- ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, নুরনবী চৌধুরী শাওন। কয়েকজন কারাগারে রয়েছেন এবং ছয়জন জামিনে আছেন।

  • সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের ভাইয়ের দেশে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ

    সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের ভাইয়ের দেশে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ

    বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অবঃ) আজিজ আহমেদের ভাই আনিস আহমেদের দেশের বাইরে যাওয়ার ওপর আদালত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে যখন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, আজিজ আহমেদ自身 ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও বিদেশে অর্থ পাচার করেছেন। এই প্রসঙ্গে আদালত রোববার ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মোঃ সাব্বির ফয়েজের আদালত এই আদেশ দেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মোঃ রিয়াজ হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। দুদকের পক্ষে সহকারী পরিচালক সাজ্জাত হোসেন বলেন, আনিস আহমেদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল। আদালতে নির্ধারিত আবেদনে বলা হয়, আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে রয়েছে দীর্ঘ দিনের অভিযোগ—তিনি ব্যাংক, হুন্ডি পদ্ধতি ও অন্যান্য মাধ্যমে বিদেশে বিপুল অর্থ পাচার করেছেন। এর পাশাপাশি মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও দুবাইয়ে অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা এবং বাড়ি নির্মাণের অভিযোগও তদন্তাধীন। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, আজিজের সহযোগী তার ভাই আনিস আহমেদ দেশের বাইরে পালানোর চেষ্টা করছেন। সম্প্রতি এ ব্যাপারে তদন্তের স্বার্থে তাঁকে দেশের বাইরে যেতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া জরুরি বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

  • আজিজ আহমেদের ভাই আনিস আহমেদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

    আজিজ আহমেদের ভাই আনিস আহমেদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

    রোববার ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মোঃ সাব্বির ফয়েজের আদালত সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব:) আজিজ আহমেদের ভাই আনিস আহমেদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। এই আদেশ দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দেয়া হয়েছে বলে আদালতের বেঞ্চ সহকারী মোঃ রিয়াজ হোসেন তথ্য নিশ্চিত করেন।

    দুর্নীতির মাধ্যমে নিজ ও পরিবারের সদস্যদের নামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ সংক্রান্ত তদন্তের স্বার্থে আদালত এই নিষেধাজ্ঞার নির্দেশ দেন। দুদক সূত্রে জানা যায়, সংস্থাটির পক্ষে সহকারী পরিচালক সাজ্জাত হোসেন আনিস আহমেদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন।

    আবেদনে বলা হয়েছে, জেনারেল (অব:) আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে নিজ নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং বিভিন্ন ব্যাংক ও হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে উঠেছে যে তিনি মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও দুবাইয়ে ব্যবসা পরিচালনা ও বাড়ি ক্রয়সহ কয়েকটি লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

    বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, আজিজ আহমেদের সহযোগী হিসেবে পরিচিত তাঁর ভাই আনিস আহমেদ বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। সুষ্ঠু ও অবাধ তদন্ত নিশ্চিত করতে আদালত আনিসের দেশত্যাগ রাখা অপরিহার্য বলে বিবেচনা করেছেন। তদন্তকারীদের পর্যবেক্ষণ অনুসারে এই নিষেধাজ্ঞা আইনানুগ প্রক্রিয়া বজায় রেখে অনুসন্ধান সহজতর করবে।

  • গবেষণা: দেশের প্রায় ৪.৮৮ শতাংশ মানুষ মাদক ব্যবহার করে

    গবেষণা: দেশের প্রায় ৪.৮৮ শতাংশ মানুষ মাদক ব্যবহার করে

    সম্প্রতি এক জাতীয় গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে প্রায় ৮২ লাখ মানুষ এক বা একাধিক ধরনের মাদক ব্যবহার করছে — যা দেশের মোট জনসংখ্যার আনুমানিক ৪.৮৮ শতাংশ। গবেষণায় মাদক ব্যবহারকারীদের বড় অংশ তরুণ এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ ১৮ বছর হওয়ার আগেই মাদক গ্রহণ শুরু করে।

    গবেষণার ফলাফল রবিবার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের কনফারেন্স হলে প্রকাশ করা হয়। ‘বাংলাদেশে মাদক অপব্যবহারকারী ব্যক্তিদের সংখ্যা, ধরন ও সংশ্লিষ্ট কারণসমূহ’ শীর্ষক এই গবেষণা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অর্থায়নে বিএমইউ ও রিসার্চ অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট কনসালটেন্টস লিমিটেড (আরএমসিএল) যৌথভাবে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত পরিচালনা করে।

    গবেষণায় দেশের আট বিভাগ থেকে ১৩ জেলা ও ২৬ উপজেলা মিলিয়ে ৫ হাজার ২৮০ জনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এ গবেষণায় পরিমাণগত (কোয়ান্টিটেটিভ) এবং গুণগত (কোয়ালিটেটিভ)অনুমোদিত পদ্ধতি দুটোই ব্যবহার করা হয়েছে।

    বিভাগভিত্তিক তুলনায় ময়মনসিংহে মাদক ব্যবহারের হার সবচেয়ে বেশি (৬.০২ শতাংশ), তার পর রংপুর (৬.০০ শতাংশ) ও চট্টগ্রাম (৫.৫০ শতাংশ)। তুলনামূলকভাবে রাজশাহী (২.৭২ শতাংশ) ও খুলনায় (৪.০৮ শতাংশ) হার কম। সংখ্যার বিচারে সবচেয়ে বেশি মাদক ব্যবহারকারী বাস করেন ঢাকায় — প্রায় ২২.৮৭ লক্ষ; এরপর চট্টগ্রাম (প্রায় ১৮.৭৯ লক্ষ) ও রংপুর (প্রায় ১০.৮০ লক্ষ)। বিভাগের আনুমানিক সংখ্যা দেয়া হয়েছে: বরিশাল ৪,০৪,১১৮, চট্টগ্রাম ১৮,৭৯,৫০৩, ঢাকা ২২,৮৭,৯৭০, খুলনা ৭,২৬,২১০, ময়মনসিংহ ৭,৬০,৮১২, রাজশাহী ৫,৬৬,৫০৯, রংপুর ১০,৮০,৫৮৮ ও সিলেট ৪,৮৮,১৪১।

    প্রকারভেদের বিশ্লেষণে দেখা গেছে গাঁজা সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত—প্রায় ৬১ লক্ষ মানুষ গাঁজা ব্যবহার করে। এরপর রয়েছে ইয়াবা/মেথামফেটামিন (প্রায় ২৩ লক্ষ), মদ (প্রায় ২০ লক্ষ), এবং কোডিনযুক্ত কাশির সিরাপ, ঘুমের ওষুধ ও হেরোইনসহ অন্য পণ্য। গবেষণার প্রধান গবেষক, বিএমইউ’র ডিন অধ্যাপক ডাঃ সাইফউল্লাহ মুন্সী জানান, দেশের মাদক ব্যবহারে গাঁজার দখল সবচেয়ে বেশি, তার পরে ইয়াবা, হেরোইন, ফেন্সিডিল ও কোডিনজাত সিরাপের ব্যবহার লক্ষ্য করা গেছে।

    গবেষণায় আরও দেখা গেছে ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদকগ্রহণকারীর সংখ্যা প্রায় ৩৯ হাজার — এ ধরনের ব্যবহারকারীরা এইচআইভি, হেপাটাইটিসসহ সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হওয়ার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছেন।

    স্থানভিত্তিক বিশ্লেষণে বোঝা গেছে, যদিও শহরে মাদক ব্যবহারকারীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি, গ্রামাঞ্চলেও মাদকের বিস্তার দ্রুত বেড়েছে। গবেষকরা সতর্ক করেছেন, গ্রামীণ এলাকাতেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনকভাবে খারাপ হচ্ছে।

    বয়সভিত্তিক তথ্য বলছে, মাদক ব্যবহারকারীর বেশিরভাগই তরুণ। প্রায় ৩৩ শতাংশ ব্যক্তি ৮ থেকে ১৭ বছর বয়সে শিশু অবস্থায় প্রথম মাদক গ্রহণ শুরু করেছে, আর ৫৯ শতাংশ প্রথম মাদক গ্রহণ শুরু করেছে ১৮–২৫ বছর বয়সে।

    গবেষণাপত্রে মাদকসেবনের প্রধান ঝুঁকিকর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বেকারত্ব, বন্ধুমহলের প্রভাব, আর্থিক অনিশ্চয়তা, পারিবারিক অস্থিরতা, মানসিক চাপ ও অনানুষ্ঠানিক পেশায় যুক্ত থাকা। প্রায় ৯০ শতাংশ ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, মাদক তাদের কাছে সহজলভ্য।

    প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মাদক সমস্যা শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়—এটি একটি বড় জনস্বাস্থ্য সংকট। প্রতিরোধ, চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও সামাজিক পুনঃঅন্তর্ভুক্তির ওপর জোর দেয়া জরুরি। বিএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডাঃ মোঃ শাহিনুল আলম বলেন, মাদক প্রতিরোধে রাজনৈতিক দলগুলোরও বহুমুখী অঙ্গীকার প্রয়োজন; কোনো পরিবারের কেউই নিরাপদ নয়—সবারই ঝুঁকি রয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ হাসান মারুফ জানান, সামাজিক আন্দোলন ও সম্মিলিত উদ্যোগের মধ্য দিয়েই দেশের মানুষকে মাদক মুক্ত করা সম্ভব।

    অনুষ্ঠানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ গোলাম আজম, কো-ইনভেস্টিগেটর অধ্যাপক ডাঃ মোঃ তাজুল ইসলাম, কো-ইনভেস্টিগেটর ফোরকান হোসেন, বিএমইউ’র পরিচালক (হাসপাতাল) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইরতেকা রহমান, অতিরিক্ত পরিচালক (সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল) ডাঃ মোঃ শাহিদুল হাসান বাবুল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

    গবেষকরা শেয়ার করেছেন, অপরাধমূলক কড়া শাস্তি ছাড়াও ব্যাপক জনসচেতনতা, তরুণদের লক্ষ্য করে শিক্ষামূলক কার্যক্রম, সহজলভ্য চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সেবা, এবং মাদক সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত নীতি জরুরি—তবেই এই ক্রমবর্ধমান জনস্বাস্থ্যঝুঁকি সামাল দেয়া সম্ভব হবে।

  • ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভোটকেন্দ্র পাহারা দিতে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিলেন তারেক

    ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভোটকেন্দ্র পাহারা দিতে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিলেন তারেক

    বিএনপি নেতা তারেক রহমান নেতাকর্মী, সমর্থক ও ভোটারদের ভোট গণনা সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত ভোটকেন্দ্র ও ভোট বাক্স পাহারা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। রবিবার বিকেল সাড়ে আটটায় চৌদ্দগ্রামের স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী সমাবেশে তিনি এ আহ্বান জানান।

    সমাবেশে তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের দিন আগে রাতে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়বেন, এরপর ভোটকেন্দ্রের সামনে গিয়ে সবাই মিলে ফজরের জামাতে নামাজ আদায় করবেন এবং ফজরের নামাজের পর সরাসরি ভোটকেন্দ্রের সামনে দাঁড়িয়ে ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত পাহারা দিবেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, যাতে কেউ কোনো ষড়যন্ত্র করতে না পারে, কোনো প্রকার অনিয়ম বা জোরজবরদস্তি না ঘটে তাতে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

    তারেকের বক্তব্যে নেতাকর্মীরা সমর্থন জানালে তিনি ‘আলহামদুলিল্লাহ’ মন্তব্য করেন। সমাবেশে বিকাল থেকেই গ্রাম থেকে ছোট ছোট মিছিল হয়ে নেতা-কর্মীরা মাঠে জমায়েত হতে থাকেন এবং মাগরিবের নামাজের আগেই পুরো মাঠ জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

    কুমিল্লা-১১ আসন (চৌদ্দগ্রাম) এ বছর রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ আখ্যায়িত করেছেন তিনি। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী কামরুল হুদা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, আর জামায়াতের প্রার্থী হচ্ছেন দলের নায়েবে আমীর সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।

    তারেক রহমান জানিয়েছেন, সরকার গঠনে পারলে বিএনপি তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে। কিছু লোক গত কয়েক দিন ধরে সামাজিকভাবে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে বলছে বিএনপি মানুষের সাথে ঠকাচ্ছে—এমন অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘আপনারা আমাকে চেনেন, আমাদের প্রার্থীকে চেনেন। মানুষকে ধোঁকা দিয়ে আমাদের কী লাভ? আমাদের আপনাদের কাছে আসতেই হবে, আমরা রাজনীতি করি—ভোট চাই।’’

    তিনি আরো বলেন, বিএনপি পূর্বে কয়েকবার দেশ পরিচালনা করেছে, তাই অভিজ্ঞতা আছে; পরিকল্পনা গ্রহণ করলে তা কিভাবে ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত করতে হবে সেটাও জানে। চৌদ্দগ্রামকে ‘শস্য ভাণ্ডার’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র চাষীদের জন্য কৃষক কার্ড দেওয়া, মসজিদ-মাদরাসার ইমাম-মোয়াজ্জিনদের সরকারি সম্মানী এবং তাঁদের জন্য অতিরিক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির কথা বলেছেন। এছাড়াও চৌদ্দগ্রামে খাল খননের কাজ করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন ভবিষ্যতে সরকার গঠিত হলে।

    সমাবেশে কথা বলার সময় তারেককে কাশির সমস্যা দেখা দিলে তিনি বলেছিলেন, ‘‘মাথায় ঠান্ডা লেগেছে, জ্বর আসছে—এজন্য জোরে কথা বলতে পারছি না। একটু ধীরে শুনেন।’’ তবে তা সত্ত্বেও তার বক্তব্যে জোরালো ন্যারেটিভ বজায় রেখেছেন।

    তিনি আরও মন্তব্য করেন, বিরোধীরা বিএনপির বিষয়ে বদনাম করছে — করুক, এতে আমাদের আপত্তি নেই; আমাদের কাজ দেশের জন্য, মানুষের জন্য কি করতে পারি সেই পরিকল্পনাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। দল সরকার গঠনে সক্ষম হলে ‘‘ওয়ান-টু-থ্রি’’ পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ শুরু করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন।

    সমাবেশ শেষে তারেক আরও কুমিল্লা ও চাঁদপুরের বিভিন্ন আসনে প্রার্থীদের নিয়ে মৌখিক সমর্থন ও প্রচার করেন। তিনি আগের ও পরের দিন চট্টগ্রাম পলোগ্রাউন্ড ময়দান, ফেনী পাইলট স্কুল মাঠ, চৌদ্দগ্রাম খেলার মাঠ ও সোয়াগাজী ডিগবাজি মাঠে বক্তব্য রাখেন। ভবিষ্যতে দাউদকান্দির কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠ এবং নারায়ণগঞ্জের বালু মাঠেও সমাবেশ ও ভাষণ রাখার কথা রয়েছে।

    সমাবেশে তিনি আবারও ধানের শীষ প্রতীককে জোর দিয়ে দাবি করেন এবং ভোটারদের ওই প্রার্থীকে বিজয়ী করে তোলার আহ্বান জানান।

  • তারেক রহমান: বিএনপি ক্ষমতায় এলে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবে

    তারেক রহমান: বিএনপি ক্ষমতায় এলে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবে

    বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় এলে দলটি যে কোনও মূল্যে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবে। তিনি এ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন শনিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে অনুষ্ঠিত সমাবেশে।

    সভায় তারেক রহমান বলেন, আমরা যত মত পরিকল্পনা গ্রহণ করই না কেন, দুটি বিষয় ঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা না হলে সেই পরিকল্পনা সফল হবে না। তিনি বলেন, অতীতে বিএনপি প্রমাণ করেছে—এই বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণে শুধু বিএনপিই সক্ষম। তিনি এই দুইটি বিষয়কে আখ্যায়িত করেন জনগণের প্রাপ্য অধিকার; বিশেষ করে মানুষের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যাতে তারা নিরাপদে চলাফেরা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও চাকরি নির্বাহ করতে পারে।

    দলের চেয়ারম্যান আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে আইনশৃঙ্খলা কঠোর হাতে নিয়ন্ত্রণ করবে। তিনি উদাহরণ হিসেবে বলেন, অতীতে যখন বিএনপি ক্ষমতায় ছিল তখন অনৈতিক কাজে জড়িত দলের লোকদেরও ছাড় দেওয়া হয়নি। একই নীতি প্রয়োগ করে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে, যাতে খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে।

    তারেক রহমান সমাবেশে উপস্থিত জনতাকে সতর্ক করে বলেন, ‘‘আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি যেন কেউ আমাদের ভোটের অধিকার কেড়ে নিতে না পারে—সেজন্য সকলকে সতর্ক থাকতে হবে।’’ তিনি যোগ করেন, চট্টগ্রামসহ দেশের মানুষ নিরাপদ পরিবেশে বসবাস করতে চায়; একটি নিরাপদ চট্টগ্রাম হলে ব্যবসা-বাণিজ্য আরও গতিশীল হবে এবং জনজীবন স্বাভাবিক হবে।

    শিক্ষা খাতে পরিবর্তনের অঙ্গিকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন, জনগণের সরকার গঠন করলে শিক্ষা ব্যবস্থাকে কার্যকরি ও দক্ষতাভিত্তিক করা হবে। সেখানে শিক্ষার্থীরা শুধু সার্টিফিকেটই পাবেন না, বরং নিজেদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম হবেন এবং সহজে চাকরি পাবেন—এটাই সরকারের লক্ষ্য হবে।

    স্বাস্থ্য খাত নিয়ে তিনি জানান, গ্রামে-গ্রামে নারীর এবং শিশুর স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এক লাখ স্বাস্থ্যসেবী নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হবে। এর ফলে মা-বোন ও শিশুরা ঘরে বসেই প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সেবা পাবে। সম্পূর্ণ শারীরিক অবকাঠামো নির্মাণের পরিবর্তে সেবা পৌঁছে দেওয়া তাদের অগ্রাধিকার হবে।

    দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও কৃষক সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। কৃষি উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের হাতে ‘কৃষক কার্ড’ পৌঁছে দেওয়া হবে, যাতে তারা প্রয়োজনীয় সার, বীজ ও যন্ত্রপাতি পায়। চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা দূর করতে খাল-নালা খনন এবং পুনরুদ্ধারের কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

    চট্টগ্রামের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান সম্পর্কিত পরিকল্পনায় তিনি বলেন, বিএনপির আমলে ইপিজেড তৈরি হয়ে লাখো মানুষকে কাজ করেছে—পুনরায় ক্ষমতায় এলে আরও ইপিজেড স্থাপন করা হবে এবং চট্টগ্রামকে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানীতে রূপান্তর করা হবে।

    তারেক রহমান শনিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামে পৌঁছান। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিজি-১৪৭ তিনি সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে সরাসরি রেডিসন ব্লু হোটেলে যান এবং সেখানে রাত্রিযাপন করেন। দলের সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকালে তিনি তরুণদের সঙ্গে পলিসি ডায়ালগে অংশ নেন এবং পরে পলোগ্রাউন্ডের মহান সমাবেশে যোগ দেন। চট্টগ্রাম সফর শেষে ফেনী, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জে পথসভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

    সমাবেশকে কেন্দ্র করে নগরী কঠোর নিরাপত্তার আওতায় রাখা হয়েছিল; প্রায় দুই হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন হয়েছিল এবং মঞ্চসহ এলাকা তিন স্তরে ভাগ করে রেড, ইয়েলো ও গ্রিন জোন নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

    সমাবেশে তারেক রহমান ব্রিটিশ বাংলায় মতপ্রকাশ ও পরিকল্পনাগুলো তুলে ধরেন এবং জনসমক্ষে আরও একবার বিএনপির প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন যে—দুর্নীতি প্রতিরোধ ও মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষা তাদের সরকারের শীর্ষ অগ্রাধিকার থাকবে।

  • স্বর্ণের দাম ভাঙল সব রেকর্ড: এক ভরি ২ লাখ ৫৭ হাজার ১৯১ টাকা

    স্বর্ণের দাম ভাঙল সব রেকর্ড: এক ভরি ২ লাখ ৫৭ হাজার ১৯১ টাকা

    দেশের বাজারে সোনার দাম নতুন উচ্চতায় পৌঁছে ইতিহাসের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। ২২ ক্যারেট তথা সবচেয়ে ভালো মানের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম বাড়িয়ে ১ হাজার ৫৭৪ টাকা করা হলে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৭ হাজার ১৯১ টাকা।

    এই দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার (পাকা সোনা) মূল্য বাড়াকে জোর দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, এই নতুন দাম সোমবার (২৬ জানুয়ারি) থেকে কার্যকর হবে।

    বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং ও প্রাইস মনিটরিংয়ের বৈঠকে রোববার এই দাম বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডাঃ দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

    বিবরণ অনুযায়ী অন্যান্য মানের সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে এভাবে:

    – ২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি ১ হাজার ৫১৬ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম ২ লাখ ৪৫ হাজার ৫২৭ টাকা।

    – ১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি ১ হাজার ২৮৩ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম ২ লাখ ১০ হাজার ৪১৯ টাকা।

    – সনাতন পদ্ধতি: প্রতি ভরি ১ হাজার ৫০ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম ১ লাখ ৭২ হাজার ৯১৯ টাকা।

    সোনা ছাড়াও রূপার দামও বাড়িয়ে দিয়েছে বাজুস:

    – ২২ ক্যারেট রুপা: প্রতি ভরি ৩৫০ টাকা বাড়িয়ে ৭ হাজার ২৩২ টাকা।

    – ২১ ক্যারেট রুপা: প্রতি ভরি ৪০৮ টাকা বাড়িয়ে ৬ হাজার ৯৪০ টাকা।

    – ১৮ ক্যারেট রুপা: প্রতি ভরি ৩৫০ টাকা বাড়িয়ে ৫ হাজার ৯৪৯ টাকা।

    – সনাতন পদ্ধতি রুপা: প্রতি ভরি ২৩৩ টাকা বাড়িয়ে ৪ হাজার ৪৩২ টাকা।

    গত কয়েক সপ্তাহে সোনার দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে — এ মাসেই ইতোমধ্যে নানা দিনে বাড়ানো হয়েছে দাম; ২২ জানুয়ারি ৮ হাজার ৩৯৯ টাকা, ২১ জানুয়ারি ৫ হাজার ২৪৯ টাকা, ২০ জানুয়ারি ৪ হাজার ১৯৯ টাকা, ১৫ জানুয়ারি ২ হাজার ৬২৫ টাকা, ১৩ জানুয়ারি ৪ হাজার ১৯৯ টাকা এবং ১১ জানুয়ারি ১ হাজার ৫০ টাকা। এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি গ্রাহক ও গহনা ব্যবসায়ীদের ওপর তাত্ক্ষণিক প্রভাব ফেলতে পারে।

  • ট্রাম্পের শুল্কের চেয়েও বেশি বিপজ্জনক হতে পারে চীনের বিশাল বাণিজ্য উদ্বৃত্ত

    ট্রাম্পের শুল্কের চেয়েও বেশি বিপজ্জনক হতে পারে চীনের বিশাল বাণিজ্য উদ্বৃত্ত

    ২০২৬-এর শুরুতেই চীনের সাম্প্রতিক বাণিজ্য পরিসংখ্যান বিশ্ব অর্থনীতির মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। ২০২৫ সাল জুড়ে শুল্কযুদ্ধের চাপ থাকা সত্ত্বেও চীনের রপ্তানি না কমে বেড়েছে এবং দেশটির বার্ষিক বাণিজ্য উদ্বৃত্ত রেকর্ড—প্রায় 1.2 ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার—অন্তর্জাতিকভাবে নজির সৃষ্টি করেছে।

    এই তথ্য প্রকাশিত হতেই কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন কর্নেল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের সিনিয়র ফেলো ঈশ্বর প্রসাদ। তিনি নিউ ইয়র্ক টাইমসে মন্তব্য করেছেন যে, মুক্ত বাণিজ্য রক্ষার দিক থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্কের চেয়েও বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে চীনের এত বড় বাণিজ্য উদ্বৃত্ত। তার যুক্তি—চীনের সস্তা পণ্য শুধু উন্নত দেশগুলোর শিল্পকে নয়, নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলোর শিল্পকেও প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়া কঠিন করে তুলছে; এতে বিশ্ব বাণিজ্যের নিয়ম-নীতি ভঙ্গের ঝুঁকি বাড়ছে।

    অন্যদিকে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসের সাবেক প্রধান সম্পাদক হু সিজিন সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। তিনি মনে করেন, এই উদ্বৃত্ত ওয়াশিংটনের অভিজাত শ্রেণিকে আতঙ্কিত করেছে, কারণ চীনের অর্থনীতি অত্যন্ত স্থিতিস্থাপক এবং কোনো বাণিজ্য যুদ্ধ দিয়েই সহজে দমন করা যায় না। হু সিজিন আরও জানান যে, চীনের পণ্য রপ্তানি জোর করে বা বাধ্য করে নয়—এগুলো বাজারে প্রতিযোগিতায় জিতেছে সততা, সাশ্রয়ী মূল্য ও শ্রমঘন উৎপাদনের কারণে।

    এই রেকর্ড উদ্বৃত্তের পেছনে মূল কারণগুলো স্পষ্ট: শক্তিশালী রপ্তানি প্রবাহ আর দুর্বল আমদানি। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের রপ্তানি প্রায় ২০% কমলেও আফ্রিকা, ল্যাটিন আমেরিকা, আসিয়ান ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে—আফ্রিকায় রপ্তানি বেড়েছে রেকর্ড ২৫.৮%। একদিকে বিশ্বব্যাপী চাহিদা স্থিতিশীল থাকার পাশাপাশি ইউয়ানের দুর্বলতা ও চীনের মুদ্রাসঙ্কোচন চীনা পণ্যের আন্তর্জাতিক মূল্যে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা দিয়েছে।

    অন্যদিকে, ২০২৫ সালে চীনের মোট আমদানি মাত্র 0.5% বাড়ে—রপ্তানির 6.1% বৃদ্ধির তুলনায় অনেক কম। অভ্যন্তরীণ চাহিদার অনির্দিষ্টতা, ভোক্তা গৃহীত ব্যয় কমে যাওয়া ও বিনিয়োগে মন্দা আমদানির মন্থরতার মূল কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে। ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধে ভোক্তা পণ্যের খুচরা বিক্রির বৃদ্ধির হার ধারাবাহিকভাবে কমে আসে; বিশেষ করে নভেম্বর মাসে বৃদ্ধি ছিল কেবল 1.3%, যা গত তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। আবাসন খাতের সংকটও বিনিয়োগকে চাপে রেখেছে এবং ধারণা করা হচ্ছে ১৯৯৮ সালে তথ্য সংগ্রহ শুরু করার পর প্রথমবারের মতো বার্ষিক বিনিয়োগে পতন আসতে পারে।

    আরেকটি উদ্বেগজনক সূচক—২০২৫ সালের সাত মাহে চীনের মাসিক বাণিজ্য উদ্বৃত্ত প্রতিটি মাসেই ১০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল; তুলনায় ২০২৪ সালে এটি কেবল একবার ঘটেছিল। এই ধারাবাহিকতা দেখায় যে, শক্তিশালী রপ্তানি ও কাঁচামাল-নির্ভর আমদানির কমতি কোনো সংক্ষিপ্ত কার্যকর নয়, বরং কাঠামোগত প্রবণতা।

    এই অবস্থার সুবিধা ও অসুবিধা দুটোই রয়েছে। শক্তিশালী রপ্তানি চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে সমর্থন করছে এবং বিশ্বে সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য সরবরাহ করে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করছে—বিশেষ করে উন্নত দেশগুলোর দামের চাপ কমাতে চীনা পণ্যের বড় ভুমিকা থাকতে পারে। কিন্তু উদ্বৃত্তের ধারাবাহিকতা চীনের ওপর রপ্তানিমুখী অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা নির্দেশ করছে। যদি অভ্যন্তরীণ ভোক্তা ও বিনিয়োগ বাড়ানো না যায়, তাহলে চীন এমন এক চক্রে আটকে যেতে পারে যেখানে বৈশ্বিক চাহিদা ভালো থাকা সত্ত্বেও দেশীয় চাহিদা দুর্বল থেকে যায়। আন্তর্জাতিক স্তরেও এ ধরনের ভারসাম্যহীনতা বাণিজ্য অংশীদারদের ক্ষুব্ধ করতে পারে এবং চীনা পণ্যের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ বা শুল্ক আরোপ বাড়িয়ে দিতে পারে।

    আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়াও শুরু হয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা সতর্ক করেছেন যে, যদি চীন রপ্তানিমুখী প্রবৃদ্ধি মডেলে অনড় থাকে, তবে তা বিশ্ব বাণিজ্যে উত্তেজনা বাড়াতে পারে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁও বলছেন, যদি বেইজিং ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্যিক ভারসাম্য নিরসনে ব্যর্থ হয়, তাহলে ইইউকে চীনা পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করতে হতে পারে।

    বেইজিং নিজেও নীরবে বসে নেই। গুয়াংডং পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং বলেছেন, আমদানির পরিধি বাড়ানো এবং আমদানি-রপ্তানির মধ্যে সমতা কায়েম করা জরুরি। বাণিজ্যমন্ত্রী ওয়াং ওয়েনতাওও ঘোষণা দিয়েছেন যে, চলতি বছরে বাণিজ্য মেলা ও লক্ষ্যভিত্তিক ক্রয়ের মাধ্যমে আমদানির পরিমাণ বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হবে। পাশাপাশি চীন শুরু করেছে কিছু নীতিগত বদলে—২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে ফটোভোলটাইক পণ্যের ওপর রপ্তানি ভ্যাট রিবেট বাতিল করা হচ্ছে; ব্যাটারি পণ্যের ক্ষেত্রে রিবেটের হারও ধাপে ধাপে কমিয়ে আনা হবে। তদুপরি, চীন ও ইইউয়ের মধ্যে বৈদ্যুতিক যানবাহনের শুল্ক নিয়ে একটি সমঝোতা হয়েছে, যেখানে চীনা নির্মাতারা অ্যান্টি-সাবসিডি শুল্কের বদলে ন্যূনতম মূল্য বজায় রাখার শর্তে ব্যবসা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

    শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন থেকেই যায়—এই বিশাল বাণিজ্য উদ্বৃত্ত কি চীনের ও বিশ্বের জন্য আশীর্বাদ, নাকি অভিশাপ? উত্তর নির্ভর করছে—রপ্তানি থেকে অর্জিত আয় কি চীনের অভ্যন্তরীণ বাজারে ফিরছে, তা কি আমদানিকে ত্বরান্বিত করছে, এবং বাজারগুলো কীভাবে আরও উন্মুক্ত হচ্ছে। বাস্তবে উত্তর সম্ভবত একদম ধ্রুব নয়: হু সিজিনের তুলনায় অতটা আশাব্যঞ্জক নাও হতে পারে, আর প্রসাদের মতো আতঙ্কিত হওয়ার কথাও সবক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে চীনের নীতিতে—কি করে তারা আমদানি বাড়ায়, অভ্যন্তরীণ চাহিদি জাগায় এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের সঙ্গে সমন্বয় করে। সূত্র: বিজনেস টাইমস।

  • বিবিসির প্রখ্যাত সাংবাদিক ও একাত্তরের বন্ধু মার্ক টালি আর নেই

    বিবিসির প্রখ্যাত সাংবাদিক ও একাত্তরের বন্ধু মার্ক টালি আর নেই

    বিবিসির প্রখ্যাত সাংবাদিক ও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের পাশে থাকা মার্ক টালি আর নেই। রোববার দিল্লির একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি; বয়স হয়েছিল ৯০ বছর।

    টালির মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন তাঁর সাবেক সহকর্মী সতীশ জ্যাকব। ব্রিটিশ-ভারতীয় এই সাংবাদিক দীর্ঘ সময় ধরে বিবিসির দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করেছেন এবং দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে খবর সংগ্রহ করতেন। নয়া দিল্লিতে তিনি প্রায় ২০ বছর বিবিসির দক্ষিণ এশিয়া করেসপন্ডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

    ৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে বিবিসি রেডিওতে মার্ক টালির প্রতিবেদনের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। পাকিস্তানি বাহিনীর হত্যাযজ্ঞ ও বাঙালির দুর্দশার চিত্র বিশ্বের শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর রিপোর্টই ছিল অন্যতম প্রধান উৎস। তিনি ১৯৭১ সালের এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে তখনকার পূর্ব পাকিস্তানে এসে ঢাকা থেকে সড়ক পথে রাজশাহী পর্যন্ত যাত্রা করেছিলেন। সেই সফরটি ছিল বিশেষ—পাকিস্তানী কর্তৃপক্ষ তখনই দু’জন সাংবাদিককে বাংলাদেশে আসার অনুমতি দিয়েছিল।

    টালি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘পাকিস্তানি সেনাবাহিনী যখন সীমান্ত পর্যন্ত পৌঁছে এবং মনে করেছিল তারা পরিস্থিতা নিয়ন্ত্রণে রেখেছে, তখন আমাদের ঢুকতে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। আমার সঙ্গে তখন ব্রিটেনের টেলিগ্রাফ পত্রিকার যুদ্ধবিষয়ক সংবাদদাতা ক্লেয়ার হলিংওয়ার্থ ছিলেন।’ তিনি আরও জানিয়েছিলেন, স্বাধীনভাবে প্রতিকূল এলাকার পরিস্থিতি দেখে তাদের রিপোর্টের বিশেষ গুরুত্ব তৈরি হয়েছিল এবং তিনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়ক ধরে রাজশাহীর পথে গ্রামগুলো জ্বলন্ত অবস্থায় দেখেছেন।

    ১৯৩৫ সালের ২৪ অক্টোবর কলকাতার টালিগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন মার্ক টালি। বিবিসি থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হিসেবে কাজ চালিয়ে যান। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১২ সালে তাকে ‘মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা’ দিয়ে সম্মানিত করা হয়েছিল।

    মার্ক টালির নিষ্ঠা ও সাহসী সাংবাদিকতার উদ্যোগ অনেকের কাছে স্মরণীয় থাকছে। একজন আন্তর্জাতিক সাংবাদিক হিসেবে তিনি যে সত্যকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরেছিলেন, সেটাই তাঁর সবচেয়ে বড় কর্মফল এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে তাঁর অনবদ্য অবদান বজায় থাকবে।