খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ এন্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি (এফএমআরটি) বিভাগের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘Harnessing the Potential of Phytobiotics by Metagenomics and Immunogenomics approaches for Green Solutions of Aquaculture Pathogens in the Southwest Coastal Bangladesh’ শীর্ষক হিট সাব প্রকল্পের ইনসেপশন কর্মশালা। সোমবার সকালে নগরীর কেন্দ্রীয় গবেষণাগারের সম্মেলনকক্ষে এই কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য প্রফেসর ড. রেজাউল করিম, যাঁর বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলে চিংড়ি ও মাছের বিভিন্ন রোগ সম্প্রতি বড় এক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে এ খাতের জন্য। এ পরিস্থিতির মোকাবেলায় ফাইটোবায়োটিকস, মেটাজেনোমিকস এবং ইমিউনোজেনোমিকসের মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে টেকসই ও পরিবেশবন্ধু সমাধান বের করার ব্যাপারে দৃষ্টি দিতে হবে বলে তিনি জোর দেন। এতে করে উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্যও রক্ষা সম্ভব হবে। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. নাজমুল আহসান, যিনি বলেন, দেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় অন্যতম। এখানকার শিক্ষকরা নিয়মিত গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখছেন। এই প্রকল্পের গবেষণাগুলো ফলপ্রসূ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, এই অঞ্চলের একোয়াকালচারের ব্যাপক চাহিদাকে সামনে রেখে গবেষণার ফলাফল আমাদের গর্বের বিষয় হবে। প্রকল্পের ফান্ড ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা নিয়ম কানুন মেনে কাজ করার আহ্বানও জানান তিনি। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. হারুনর রশীদ খান, जिन्होंने বলেন, দেশের গবেষণা ক্ষেত্রে কৃষি ও মৎস্য খাতে অনেক সফলতা এসেছে। তবে এক্ষেত্রে অনেক ক্ষেত্রেই অনিয়ন্ত্রিত রাসায়নিক ব্যবহারে মানবস্বাস্থ্যের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এই গবেষণার মাধ্যমে প্রকৃতি-সন্মত সমাধান গড়ে উঠলে দেশে ও আন্তর্জাতিকভাবে এটি গুরুত্ব রাখবে। ডঃ শেখ মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে এই কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তর খুলনা বিভাগের উপ পরিচালক বিপুল কুমার বসাক। প্রজেক্টের ফ্রেমওয়ার্ক ও কাজের পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন এএসপিএম প্রফেসর ড. গোলাম সরোয়ার, এবং স্বাগত বক্তব্য দেন প্রজেক্টের আরআরপি প্রফেসর ড. শিকদার সাইফুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন শিক্ষার্থী মোঃ আব্দুর রহমান ও নবনিতা রায়। উদ্বোধনী পরবর্তী ধাপে মুক্ত আলোচনা পর্ব অনুষ্ঠিত হয় যেখানে সভাপতিত্ব করেন প্রজেক্টের সদস্য প্রফেসর ড. সমীর কুমার সাধু এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন প্রজেক্টের এএসপিএম প্রফেসর ড. অলোকেশ কুমার ঘোষ। এতে অংশগ্রহণ করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা।
Blog
-

নগরীতে বিএনপি’র উদ্যোগে নববর্ষের বর্ণাঢ্য উৎসব
নগরীতে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপনে বর্ণাঢ্য আয়োজন করেছেন বিএনপি। এই বিশেষ দিনটি উদযাপন করতে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ১ বৈশাখ, অর্থাৎ ১৪ এপ্রিল, সকাল সাড়ে ৬টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বর্ষবরণ শুরু হবে। এর পরে সকাল সাড়ে ৭টায় পালন করা হবে পান্তা উৎসব, এবং সকাল সাড়ে ৮টায় শুরু হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের מגוון আয়োজন। এই সকল অনুষ্ঠান কেডি ঘোষ রোডের বিএনপি কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত হবে। এই অনুষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় রয়েছে বিএনপি খুলনা মহানগর এবং সহযোগীতায় রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা জাসাস খুলনা মহানগর। আয়োজকদের মতে, এই উৎসবের মূল লক্ষ্য হলো ঐতিহ্য ও নান্দনিকতায় সমৃদ্ধ এক স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়কে উচ্ছ্বসিত করে তোলা। নতুন উদ্যম, আশা ও স্বপ্ন নিয়ে পহেলা বৈশাখকে স্বাগত জানাতে সকলকে এই সার্বজনীন উৎসবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। জাসাস খুলনা মহানগর এর আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার নূর ইসলাম বাচ্চু ও সদস্য সচিব (ভারপ্রাপ্ত) কাজী জলিল সকলকে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য শুভ কামনা জানিয়েছেন।
-

চিকিৎসা সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ
খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলি আসগার লবি বলেছেন, সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় উন্নত ও সহজলভ্য চিকিৎসা সেবার লক্ষ্য নিয়ে বর্তমান সরকার দৃঢ় প্রত্যয়বদ্ধ। তিনি বলেন, এটি শুধুমাত্র মোটিভেশন বা আশ্বাস নয়, বরং কার্যকর পরিকল্পনা ও পরিশ্রম দরকার যাতে সাধারণ মানুষ সত্যিই উপকৃত হন। অসহায় দুঃস্থ মানুষদের চোখের দৃষ্টি ফেরানো এবং তাদের জীবনমান উন্নত করতে দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম চালিয়ে যেতে হবে। সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন এবং সততার সঙ্গে কাজ করলে এই চক্ষু হাসপাতালই একদিন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম আধুনিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত হবে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান এই হাসপাতালকে আরও সুন্দর, সুশোভিত ও আধুনিক করে তুলতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। গতকাল সোমবার সকাল ১১টায় শিরোমনিস্থ বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় ডাঃ রফিকুল ইসলাম বাবলুর সভাপতিত্বে অন্যান্য বক্তা, উপস্থিত ছিলেন মীরকায়শেদ আলী, ইকবাল হোসেন, কাজী মিজানুর রহমান, এস এ রহমান বাবুল, আবু সাঈদ হাওলাদার আব্বাস, হাসিবুল হাসান, মোলা সোহাগ, শেখ আব্দুস সালাম, জাহাঙ্গীর খোকা, এম নুরুল ইসলাম ও ঝর্ণা আকতারসহ অনেকে। সভার শেষে সংসদ সদস্য আলি আসগার লবি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আকরাম হোসেনের কবর জিয়ারত করেন এবং রুহের মাগফেরাত কামনা করে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেন। এর পাশাপাশি বিকেল ৪টায় ডুমুরিয়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে দুস্থ ও অসহায় মানুষদের মধ্যে নগদ অর্থ বিতরণও করেন।
-

নগরবাসীর জন্য কেসিসি প্রশাসকের বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে নগরবাসীর প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখ আমাদের প্রাচীন বাংলার চিরন্তন কৃষ্টি ও সংস্কৃতির অন্যতম অনুষঙ্গ। এই বর্ষবরণের উৎসব আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে জীবন্ত ও সমুজ্জ্বল করে তোলে। নিজস্ব সংস্কৃতির ধারাকে ধরে রেখে বিকশিত করাই আমাদের ফরজ, যাতে দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আরও গভীররূপে রূপান্তরিত হয়। কেসিসি প্রশাসক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দে সবাইকে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধির কামনা করেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, আগের বছর যেখানে নানা দুঃখ-বেদনা আর ব্যর্থতা এলো, সেখানে নতুন বছরে আমাদের প্রত্যাশা হোক নতুন স্বপ্ন, উৎসাহ ও প্রাণবন্ত আবেগে জীবন শুরু করা। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, নতুন বছরের প্রতিটি দিন হবে সাফল্য ও সচ্ছলতার প্রতীক, যা সকলের জীবনে সুখ ও সমৃদ্ধির বার্তা নিয়ে আসবে।
-

বাংলাদেশে ৮ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি দুই লাখ কোটি টাকার বেশি
চলতি অর্থবছরের (২০২৫-২৬) প্রথম আট মাসে দেশে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ছাড়িয়েছে দুই লাখ কোটি টাকা। বিশেষ করে রপ্তানির তুলনায় আমদানি এতটাই বেশি হয়েছে যে, এর ফলে দেশের বৈদেশিক বাণিজ্য পরিস্থিতি চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়ে এসেছে। দেশের আমদানি বেশি হওয়ার জন্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি, যা গত কিছু সময়ে ব্যাপকভাবে বেড়েছে। পাশাপাশি, আমদানি আরও বাড়ছে ভোজ্যতেল, চিনি, ডাল, ছোলা এবং খেজুরের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অধিক চাহিদার কারণে। অন্যদিকে, একই সময় রপ্তানি প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমে আসায় বাণিজ্য ঘাটতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক লেনদেনের হিসাব অনুযায়ী, প্রথম আট মাসে দেশের ব্যবসায়ীরা চার হাজার ৬১৭ কোটি ডলার (প্রায় ৪৬ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার) পণ্য আমদানি করেছেন, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ শতাংশের বেশি বেশি। তবে, এই সময়ে পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩০ দশমিক ০৩ বিলিয়ন ডলার, যা গত অর্থবছরের তুলনায় ২ দশমিক ৬ শতাংশ কম। অর্থাৎ, আমদানি ও রপ্তানির মধ্যে বৈষম্যই মূল কারণ that the প্রথম আট মাসে বাণিজ্য ঘাটতি বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে একই সময়ে রপ্তানি আয় কমে যাওয়ায় দেশের বাণিজ্য ঘাটতি আরও তীব্র আকার নিচ্ছে। তারা মনে করছেন, অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে দেশের আমদানি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি রপ্তানি বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। না হলে অর্থনৈতিক সংকটের আশঙ্কা রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে দেশের পণ্য আমদানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৬ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৪৩ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, এই সময়ে দেশের রপ্তানি আয় হয়েছে ৩০ দশমিক ০৩ বিলিয়ন ডলার, যা গত অর্থবছরের চেয়ে ২ দশমিক ৬ শতাংশ কম। এই পার্থক্যই বোঝায় কেন বাণিজ্য ঘাটতিতে বড় ধরনের বৃদ্ধি ঘটেছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বর্তমানে দেশের করেন্ট অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স সামান্য ঋণাত্মক থাকলেও, ধারাবাহিক বড় ঘাটতি হলে এটি অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির শেষে এই ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০০ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১৪৭ কোটি ডলার। এর পাশাপাশি, সামগ্রিক লেনদেন (অর্থাৎ ওভারঅল ব্যালান্স) ভালো অবস্থায় রয়েছে। এই সময়ের সামগ্রিক লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৪৩ কোটি ডলার, যা গত বছরে একই সময় ছিল ঋণাত্মক ১১৫ কোটি ডলার।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্সও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রথম আট মাসে তারা ২২০৫ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ২১ শতাংশ বেশি।
অপর দিকে, দেশি ব্যবসায়ীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খবর হলো, প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগ (এফডিআই) কিছুটা বেড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে এফডিআই দাঁড়িয়েছে ১০৬ কোটি ডলার, যা চলতি অর্থবছরে কমে এসেছে ৮৭ কোটি ডলারে। তবে, শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ (পোর্টফোলিও ইনভেস্টমেন্ট) গত কয়েক মাসে নেতিবাচক অবস্থায় গিয়ে পড়েছে। প্রথম আট মাসে শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ কমে গেছে, যা আগের অর্থবছরেও একই ধারা অব্যাহত ছিল। -

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম পড়তে শুরু করেছে
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর থেকে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। সোমবার বিশ্ববাজারে মূল্যবান ধাতুটির দাম প্রায় এক সপ্তাহের最低 স্তরে এসে দাঁড়িয়েছে। এই খবর প্রকাশ করেছে রয়টার্স।
বিশ্লেষকদের ধারণা, শক্তিশালী ডলারের চাপের কারণে এই পতন ঘটছে। তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা আবারও বাড়ছে। একই সঙ্গে চলতি বছর সুদের হার কমানোর সম্ভাবনাও কমে গেছে। এর ফলে স্বর্ণসহ অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দাম আবারো চড়াই-উতাড়াই শুরু হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুর ১২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত স্পট গোল্ডের দাম ০.৪% কমে প্রায় প্রতি আউন্স ৪,৭২৬.৬৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর আগে দিন শুরুর সময় এটি ৭ এপ্রিলের পর সর্বনিম্ন ৪,৬৪৩ ডলারে নেমেছিল। জুনের ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচার ০.৮% কমে ৪,৭৪৮.৭০ ডলারে পৌঁছেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডলার সূচক ০.৩% শক্তিশালী হয়েছে এবং তেলের দাম আবার ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের উপরে উঠেছে। এসময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালী অবরোধের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে খবরও রয়েছে। এই সব কারণেও স্বর্ণের দাম কমার প্রবণতা দেখা যেতে পারে।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, শান্তি আলোচনার ব্যর্থতা যুদ্ধবিরতির আশা কমিয়ে দিয়েছে। এর ফলে ডলার ও তেলের দাম বাড়ছে, যা স্বর্ণের ওপর আবারও চাপ সৃষ্টি করছে।
২৮ ফেব্রুয়ারির পরে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল-ইরান সংকট শুরু হওয়ার পর থেকে স্পট গোল্ডের দাম ১১% এর বেশি কমেছে। সাধারণত মুদ্রাস্ফীতি ও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা স্বর্ণের চাহিদা বাড়ায়, তবে উচ্চ সুদের হার স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
শক্তিশালী ডলার থাকায় অন্যান্য মুদ্রাধারীরা ডলার-নির্ধারিত স্বর্ণ কেনা আরও ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে। ওয়াটারার মন্তব্য করেন, যখন তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে উঠছে, তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা দেখছে, যা স্বর্ণের পারফরম্যান্সকে দুর্বল করে।
ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা খুবই কম, কারণ জ্বালানির উচ্চ মূল্য স্বর্ণের মূল্যবৃদ্ধি বাধা দিতে পারে। এছাড়া, মুদ্রানীতিতে শিথিলতার সুযোগ কমে যাওয়ায় মূল্যবান ধাতুগুলোর ওপর চাপ আরও বাড়ছে।
-

বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন রেফারেন্স রেট চালু করে সুদহার নির্ধারণে স্বচ্ছতা আনলো
বাংলাদেশ ব্যাংক সুদহার নির্ধারণে আরও বেশি স্বচ্ছতা, নির্ভরযোগ্যতা এবং আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে নতুন দুটি মানি মার্কেট রেফারেন্স রেট চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রকাশিত এক সার্কুলারে এই তথ্য জানানো হয়। সার্কুলারে বলা হয়, দেশে বিভিন্ন ধরনের ঋণচুক্তি, বন্ড, ডেরিভেটিভসসহ অন্যান্য ফাইন্যান্সিয়াল পণ্য ও চুক্তিতে সুদের হার নির্ধারণে একটি কার্যকর, গ্রহণযোগ্য এবং বাজারভিত্তিক বেঞ্চমার্কের প্রয়োজন দীর্ঘ দিন ধরে অনুভূত হচ্ছিল। এই পরিস্থিতিতে, প্রকৃত আন্তঃব্যাংক লেনদেনের ওপর ভিত্তি করে প্রতিদিন দুটি মানি মার্কেট রেফারেন্স রেট নির্ধারণ ও প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই দুই রেটের নাম হলো ‘বাংলাদেশ ওভারনাইট ফিন্যান্সিং রেট’ (বিওএফআর) এবং ‘ঢাকা ওভারনাইট মানি মার্কেট রেট’ (ডিওএমএমআর)। সার্কুলারে আরও জানানো হয়েছে, এই রেফারেন্স রেটগুলো প্রতিদিনের কার্যদিবসে নির্ধারণ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। রেট নির্ধারণের পদ্ধতিও ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে, যাতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সহজেই অনুসরণ করতে পারে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সুদহার নির্ধারণে স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি বাজারে আরও বেশি নমনীয়তা ও আন্তর্জাতিক মানের পরিষেবা নিশ্চিত হবে।
-

দেশের রিজার্ভ আরও বৃদ্ধি পেলো
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এখন মোট ৩৪ হাজার ৬৬০ দশমিক ৯৯ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৩৪ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সোমবার ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৪,৬৬০.৯৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল (আইএমএফ) এর হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী দেশের রিজার্ভের পরিমাণ হয়েছে ২৯,৯৭৭.৮৯ মিলিয়ন ডলার।
এর আগে, ৯ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৪,৬৪৫.০৪ মিলিয়ন ডলার, এবং বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভ ছিল ২৯,৯৫২.৬৬ মিলিয়ন ডলার।
উল্লেখ্য, নিট রিজার্ভ বা প্রকৃত মজুতের পরিমাণ নির্ণয় করা হয় আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুসারে। মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদী দায় বিয়োগ করার পর যা অবশিষ্ট থাকে সেটিই নিট বা প্রকৃত রিজার্ভ হিসেবে গণ্য হয়।
-

ছেঁড়া-ফাটা নোট না বদলে ব্যাংকের বিরুদ্ধে শাস্তি নিশ্চিত
দেশজুড়ে ছেঁড়া, ফাটকা, ত্রুটি সম্পন্ন ও ময়লাযুক্ত নোটের ব্যবহার বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক নেয়া হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সাধারণ মানুষের জন্য বাধ্যতামূলক করেছে যে, সব তফসিলি ব্যাংকের শাখাগুলোতে ছেঁড়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত নোট গ্রহণ করতে হবে এবং একই সঙ্গে নতুন বা পুনঃপ্রচলনযোগ্য নোট সরবরাহ করতে হবে। এর উদ্দেশ্য হলো দর্শনীয় ও নিরাপদ নগদ লেনদেনে সবসময় ভাঙা বা ক্ষতিগ্রস্ত নোটের ব্যবহার কমানো। এবার এর জন্য কঠোর নির্দেশনা জারি করে ব্যাংকগুলোকে সতর্ক করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। শনিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাজারে এখনও ছেঁড়া বা ময়লাযুক্ত নোটের আধিক্য রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন লেনদেনে অসুবিধা সৃষ্টি করছে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ক্লিন নোট পলিসি’ বাস্তবায়নে ব্যাংকগুলোকে আরও বেশি সক্রিয় হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে। বিশেষ করে ৫, ১০, ২০ এবং ৫০ টাকার মতো ছোট মূল্যমানের নোট নিয়মিতভাবে গ্রহণ ও নির্ধারিত কাউন্টার থেকে বিনিময় করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। গ্রাহকদের কাছে সেই ধরনের ক্ষতিগ্রস্ত নোটের বদলে ব্যবহারযোগ্য বা নতুন নোট দেওয়ার নির্দেশও জারি করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্ট করে বলেছে, যদি কোনো ব্যাংকের শাখা এ ধরনের পরিষেবা দিতে অনিচ্ছাকৃতভাবে গাফিলতি করে বা উদ্যোগ নেয় না, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা, যেহেতু এটি ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারার ক্ষমতাবলে জারি হয়েছে এবং তা অবিলম্বে কার্যকর করা হবে। বোঝা যাচ্ছে, এ পদক্ষেপের মাধ্যমে সাধারণ গ্রাহকদের সুবিধার পাশাপাশি ব্যাংকিং ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
-

ইডেন কলেজ, গোপালগঞ্জ ও অন্যান্য কলেজের ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত
কেন্দ্রীয় ছাত্রদল মেয়াদ শেষে চলে গেছে ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, গোপালগঞ্জ জেলা, ঢাকা মেডিকেল কলেজ, সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও ঢাকা ডেন্টাল কলেজের ছাত্রদলের বিভিন্ন কমিটি। শনিবার কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক ও সহ-সভাপতির পদমর্যাদার মোঃ জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, উল্লেখিত সব কলেজ ও জেলার কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় তা কার্যত বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে বলা হয় যে, শিগগিরই এসব ইউনিটের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে।
এ ছাড়া, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন বলে জানানো হয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে নতুন কমিটি তৈরির জন্য প্রস্তুতিসভা শুরু হয়েছে এবং দ্রুত নতুন নেতাদের নেতৃত্বে এসব সংগঠন পুনর্গঠন হবে বলে প্রত্যাশা করা হয়।
