Blog

  • চিতলমারীতে জামায়াত নেতা হত্যা: দোকানে ঝগড়া থেকে হত্যা

    চিতলমারীতে জামায়াত নেতা হত্যা: দোকানে ঝগড়া থেকে হত্যা

    বাগেরহাটের চিতলমারীতে জুস ক্রয়কে কেন্দ্র করে মোঃ মোজাহিদ মোল্লা (৪২) নামে এক মুদি দোকানীকে ক্রেতা কুপিয়ে হত্যা করেছে। বুধবার (৭ মে) ভোর ৭টার দিকে উপজেলার হিজলা ইউনিয়নের হিজলা পশ্চিমপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত মোজাহিদ মোল্লা ওই এলাকার সরোয়ার মোল্লার ছেলে এবং বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর হিজলা ইউনিয়ন শাখার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা মশিউর রহমান এবং স্থানীয় জামায়াত ও আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন, শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। অপ্রত্যাশিত এই হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি ঘটনার উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নিহতের স্বজনরা জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে মোজাহিদ বাড়ির সামনে একটি দোকানে বসে ছিলেন। সেই সময় বায়জিদ শেখ নামের একজন তার হাতে থাকা জুস ক্রয় করেন। জুস হাতে নিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা ভালো না।’ এই কথা শুনে মোজাহিদ জুসটি খেয়ে বলেন, ‘এটা খারাপ না।’ দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হলে উত্তেজনা আরও বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে বায়জিদ তাঁর হাতে থাকা হাসুয়া (ঘাস কাটা কাস্তে) দিয়ে মোজাহিদ মোল্লার গলায় কোপ দেয়। এতে গুরুতর আহত হন মোজাহিদ, তাকে দ্রুত চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, ঘটনার সময় মোজাহিদ দোকানে বসে ছিলেন। বায়জিদ তার কাছে থেকে জুসটি নেওয়ার পর বলে, ‘এটা ভালো না।’ কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে, বায়জিদ হাসুয়া দিয়ে মোজাহিদকে কোপ দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বায়জিদ শেখকে গ্রেফতার করে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। নিহতের পরিবারে রয়েছে তার স্ত্রী ও তিন সন্তান—হাফিজ, ফারিয়া ও ফারহানা। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, হত্যাকাণ্ডের পরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় গণতান্ত্রিক শান্তি বজায় রাখতে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

  • খুলনা মহিলার মানববন্ধনে মেলার প্রতিবাদ: খেলার মাঠের অবনতি রোধের আহ্বান

    খুলনা মহিলার মানববন্ধনে মেলার প্রতিবাদ: খেলার মাঠের অবনতি রোধের আহ্বান

    খুলনা বিভাগের মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে মেলার বিরুদ্ধে খুলনা ক্রীড়াঙ্গনের উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (৭ মে) এ কর্মসূচি পালিত হয়। অভিমত প্রকাশকারী বক্তারা বলেন, ‘খেলার মাঠে মেলা নয়’—এটাই এখন তাদের মূল প্রতিপাদ্য। তারা বলেন, যুব সমাজকে মোবাইলের বেশি আসক্তি ও মাদক থেকে রক্ষা করতে খেলার মাঠের গুরুত্ব অপরিসীম, যেখানে শিশু, কিশোর ও যুবকরা সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগ পায়। কিন্তু সম্প্রতি এসব খেলার মাঠে মেলা বসানো শুরু হওয়ায় অবক্ষয় শুরু হয়েছে।
    বক্তারা আরও বলেন, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক একজন খেলোয়াড় ছিলেন। তিনি ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, জেলা পর্যায়ে খেলার মাঠে মেলা বসানো যাবে না। এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে খুলনায় ক্রীড়াঙ্গন এখন ব্যথিত এবং প্রতিবাদে ফেটে পড়েছে।
    মানববন্ধনের নেতৃত্বে ছিলেন দক্ষ ক্রীড়া সংগঠক, সাবেক জেলা ক্রীড়া সংস্থার এডহক কমিটির সদস্য আরাফাত রহমান কোকো। তিনি বলেন, ‘খেলার মাঠকে অবক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে।’ এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন খুলনা টাউন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও ক্রীড়াসংঘের সচিব মোঃ তরিকুল ইসলাম, অন্য দলের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন ক্লাবের কর্মকর্তারা ও খেলোয়াড়রা। বিভিন্ন স্কুল ও যুব সংগঠনের প্রতিনিধিরাও এতে অংশ নিয়েছেন। কর্মসূচি শেষে বক্তারা অবিলম্বে মাঠে মেলা বন্ধের দাবি তুলে পরিস্থিতির সচেতনতা বৃদ্ধিতে উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান, যেন ভবিষ্যতে শিশুদের জন্য নিরাপদ ও সুস্থ খেলার পরিবেশ নিশ্চিত হয়।

  • কেসিসি তেল চুরির বিরুদ্ধে তিন দফা কমিটি গঠন

    কেসিসি তেল চুরির বিরুদ্ধে তিন দফা কমিটি গঠন

    খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) কর্তৃপক্ষ তেল চুরির কারণে চক্রের তদন্তে আরও সক্রিয় হয়েছেন। এই লক্ষ্যে তারা তিন দফায় আলাদা কমিটি গঠন করেছে। সর্বশেষ, গত ৪ মে তিন সদস্যের একটি কমিটি তৈরি করা হয়, যার নেতৃত্বে রয়েছেন কেসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মোঃ আনিসুজ্জামান। এর সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত আছেন কেসিসির কনজারভেন্সি অফিসার মোহাম্মদ আনিসুর রহমান ও উপসহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ সেলিমুল আজাদ।

    প্রথম কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেয়া হয় ৪ মে, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরার স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে। এতে জানানো হয়, ১৯ মার্চ দুপুর সোয়া বারোটার দিকে খালিশপুরের এসটিএস এর ভিতর একটি ব্যাক হুইল লোডার জ্বালানি তেল চুরির অভিযোগ উঠলে, প্রশাসকের নির্দেশে ঘটনাস্থলে গিয়ে জব্দ করা হয় তেলসহ যানবাহনটি। দ্রুত তদন্তের জন্য তিন সদস্যের এই কমিটি গঠন করা হয়, এবং পঞ্চাশির মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়।

    ঘটনার পর, কমিটিতে একজন সদস্যের উপস্থিতি নিয়ে আপত্তি ওঠায়, ওই সদস্যকে বাদ দিয়ে নতুন কমিটি গঠন করা হয়। বাদ পড়েন কেসিসির এস্ট্রেট অফিসার গাজী সালাউদ্দিন। পরিবর্তে, আবার সদস্য হিসেবে যোগ দেয়া হয় নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আনিসুজ্জামানকে।

    দ্বিতীয় দফায় গঠিত কমিটির প্রধান হন মোঃ আনিসুজ্জামান। তবে, কমিটির অন্য একজন সদস্য, কনজারভেন্সি অফিসার মোঃ অহেদুজ্জামান ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে কমিটি থেকে পদত্যাগ করেন। ফলে, তদন্তের সময়সীমা পাঁচ কর্মদিবস শেষ না হওয়ার আগেই আবার কমিটি পুনর্গঠন করা হয়।

    উল্লেখ্য, এর পূর্বে, সাবেক মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান এর সময় দুই ড্রাম চোরাই তেলসহ দু’জনকে আটক করে কেসিসি। কিন্তু, সেই তদন্তের রিপোর্ট এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। অনেকে মনে করেন, যদি সেই তদন্ত রিপোর্ট পুনরায় খতিয়ে দেখা হয়, তবে চোরাই চক্রের মূল মুখোশ উন্মোচন সম্ভব হবে।

    নতুন কমিটির অন্যতম সদস্য কনজারভেন্সী অফিসার মোঃ আনিসুর রহমান এই ব্যাপারে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি এ ঘটনায় বাদী। কিন্তু আমাকে কীভাবে কমিটির সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, সেটি আমাদের জন্য খুব অবাক বলেই মনে হয়েছে।’

  • প্রাইজবন্ডের ১২৩তম ড্র, বিজয়ীদের পুরস্কার ঘোষণা

    প্রাইজবন্ডের ১২৩তম ড্র, বিজয়ীদের পুরস্কার ঘোষণা

    ১০০ টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ডের ১২৩তম ড্রটি অনুষ্ঠিত হলো বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে। এ অনুষ্ঠানে ছয় লাখ টাকার প্রথম পুরস্কার বিজয়ী হলো সিরিজ নম্বর ০০০১০৩৫, যা দুর্লভ একটি নম্বর। দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছেন ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা, এর নম্বর ০০৪৭৭৪৮। তৃতীয় পুরস্কার হিসেবে দুইটি নম্বর শুনানো হয়, যথাক্রমে ০৫৩৮২৮৯ და ০৬৭৫৩৮২, প্রত্যেকের মূল্য এক লাখ টাকা। এছাড়া চতুর্থ পুরস্কার পেয়েছেন দুজন—নম্বর ০৪০০৪৫১ ও ০৫৬৭৬৪৪, প্রত্যেকের মূল্য ৫০ হাজার টাকা।

    এবার ৮৪টি সিরিজের মধ্যে ৪৬টি নম্বর পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। এই ড্র সাধারণ পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়, যেখানে প্রত্যেক সিরিজের জন্য একই নম্বর নির্বাচন করা হয়। প্রাইজবন্ডের আওতাভুক্ত সিরিজগুলো হলো—কক, কখ, কগ, কঘ, কঙ, কচ, কছ, কজ, কঝ, কঞ, কট, কঠ, কড, কঢ, কথ, কদ, কন, কপ, কফ, কব, কম, কল, কশ, কষ, কস, কহ, খক, খখ, খগ, খঘ, খঙ, খচ, খছ, খজ, খঝ, খঞ, খট, খঠ, খড, খঢ, খথ, খদ, খন, খপ, খফ, খব, খম, খল, খশ, খষ, খস, খহ, গক, গখ, গগ, গঘ, গঙ, গচ, গছ, গজ, গঝ, গঞ, গট, গথ, গড, গঢ, গথ, গদ, গন, গফ, গব, গম, গল, গশ, গষ, গপ, গস, গহ, ঘক, ঘখ, ঘগ, ঘঘ, ঘঙ, ঘচ৷

    প্রাথমিকভাবে, আরও ৪০ জনকে ১০ হাজার টাকার পুরস্কার হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তাদের নম্বরগুলো হলো—০০২১৭৪৯, ০২১৭৪১৯, ০৪৬১৪৭২, ০৫৮৮৯৬৬, ০৭৪৯৭৪০, ০০২২১৮১, ০২৪৬০৪৫, ০৪৬২০৫৬, ০৫৯৬৩৪৬, ۰৭৫۹۹۰৮, ০০৫৬৩৭৮, ০২৯৬৪০২, ০৪৭৮০১৫, ০৬০০৪৪০, ০৭৭২৭৭৩, ০০৯২৩৫৬, ০৩১১১৩০, ০৪৮০৫৬৭, ০৬০৭৩৪৯, ০৮১৩৬৫৯, ০১৪৪۵৬৭, ০৩৫৬৯৪২, ০৫১২০২৪, ০৬৩৯৩৬৭, ০৮৪৮০৪৬, ০১৫৫৩৯৮, ০৩৯৩২৭৭, ০৫৫১২২১, ০৬৪২০০২, ০৮৪৯৬১৪, ০১৫৫৯৩৪, ০৪১৩৫০১, ০৫৬৪৭৬০, ০৬৫০১১৯, ০৯২২৫৯৭, ০১৭৫৭৯২, ০৪৫২৪৪১, ০৫৭৩৮৬৫, ০৬৮৮৭৭৩, এবং ০৯৪৭৬৬৫। এই সংখ্যা মিলল প্রাইজবন্ডের ড্রয়ের মাধ্যমে বিজয়ীদের মধ্যে।

  • এপ্রিলের ২৯ দিনে মোট রেমিট্যান্স ছাড়াল ৩ বিলিয়ন ডলার

    এপ্রিলের ২৯ দিনে মোট রেমিট্যান্স ছাড়াল ৩ বিলিয়ন ডলার

    চলতি এপ্রিল মাসের ২৯ দিনেই দেশের ব্যক্তিপর্যায়ে রেমিট্যান্স পাঠানোর পরিমাণ ছুঁইছে তিন বিলিয়ন ডলার (৩০০ কোটি ডলার)—একটি ঐতিহাসিক milestone। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এ মাসের প্রথম ২৯ দিনে মোট ৩০০ কোটি ২০ লাখ ডলার দেশে এসে পৌঁছেছে, যা দৈনিক গড়ে ১০ কোটি ৩৫ লাখ ডলার রেমিট্যান্স প্রবাহের সূচক।

    বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবাহ একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক অবস্থানের সংকেত, যা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছে। রাজধানীর অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে এ ধরনের রেমিট্যান্সের যথেষ্ট প্রভাব পড়েছে।

    আরিফ হোসেন খান আরো জানান, শুধু ২৯ এপ্রিলেই দেশে এসেছে ৯৪ কোটি ডলার রেমিট্যান্স, যা গত বছরের একই সময়ে (এপ্রিল ২০২৫) ছিল ২৬০ কোটি ৮০ লাখ ডলার। এই সমন্বিত প্রবাহ দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রতিফলন।

    দেখা যাচ্ছে, এপ্রিলের এই পরিস্থিতি গত মার্চের রেকর্ডকেও ছাপিয়ে গেছে। মার্চ মাসে ৩১ দিনে মোট রেমিট্যান্স এসেছিল ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার (৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার)। এর আগে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসেও দেশের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছিল, যেখানে জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার এবং ফেব্রুয়ারি ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স দেশে এসেছিল।

    এই ধারা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশে অর্থনীতির ভবিষ্যৎ আরো উজ্জ্বল হবে বলেই সাধারণ মত।

  • এপ্রিলে রেমিট্যান্সে নতুন উচ্চতা, ৩১৩ কোটি ডলার প্রবাহ

    এপ্রিলে রেমিট্যান্সে নতুন উচ্চতা, ৩১৩ কোটি ডলার প্রবাহ

    সদ্য বিদায়ী April মাসে দেশের অর্থনীতিতে বিশাল অঙ্কের রেমিট্যান্স প্রবাহ দেখা গেছে। এ মাসে দেশের প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন মোট ৩১২ কোটি ৭০ লাখ ডলার, যা স্বর্ণাক্ষরে লিখে রাখা সময়ের ইতিহাসে এক নতুন রেকর্ড। প্রতিদিন গড়ে দেশের শেয়ারবাজারে প্রবাসীর মার্চেন্টের হাতে এসে পৌঁছেছে প্রায় ১০ কোটি ৪২ লাখ ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি বলেছেন, এপ্রিল মাসে দেশের রেমিট্যান্সের পরিমাণ সাম্প্রতিক অতীতে সর্বোচ্চ। এর আগে মার্চ মাসে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার, যা দেশের ইতিহাসে এক মাসের সর্বোচ্চ রেকর্ড। অন্য মাসগুলোতেও প্রবাহ ছিল উল্লেখযোগ্য: জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে যথাক্রমে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ও ৩০২ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার, ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার, নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার। অক্টোবর ও সেপ্টেম্বর মাসে এসেছিল যথাক্রমে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার ও ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার, আর আগস্ট ও জুলাইয়ে যথাক্রমে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার ও ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

    বর্ষশেষে, ২০২৩-২৪ অর্থবছর জুড়ে দেশের প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন মোট ৩০.৩২ বিলিয়ন বা তিন হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ ডলার, যা দেশের ইতিহাসে একটি নতুন সর্বোচ্চ রেকর্ড। এই প্রবাহ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে রয়েছে এবং মুদ্রানীতির বহুমুখী শক্তিকে আরও সুসংহত করছে।

  • বাংলাদেশে সোনার নতুন দাম জানানো হলো

    বাংলাদেশে সোনার নতুন দাম জানানো হলো

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) দেশীয় বাজারে সোনার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবার প্রতি ভরি সোনার মূল্য সর্বোচ্চ ২ হাজার ২৫৮ টাকা করে কমানো হয়েছে। ফলে, ভালো মানের (২২ ক্যারেট) সোনার ভরি এখন দাম ধার্য হয়েছে দুই লাখ ৪০ হাজার ৩৩৭ টাকায়, যা আগের তুলনায় প্রায় দুই হাজার ১৫৮ টাকা কম। সোমবার (৪ মে) ছিল এই দামের মূল্য, কিন্তু মঙ্গলবার (৫ মে) সকাল থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়।

    সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দাম কমার ফলে স্থানীয় বাজারে সোনার দামও কমে এসেছে। যেখানে আগে ২২ ক্যারেটের সোনার এক ভরি বিকোত দাম ছিল ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা, এখন তা নির্ধারিত হয়েছে ২ লাখ ৪০ হাজার ৩৩৭ টাকায়। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের সোনার মূল্য ২৯১ টাকার হ্রাস পেয়ে এখন ২ লাখ ২৯ হাজার ৪৩১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য হিসাব করা হয়েছে ১৯৬ হাজার ৬৫৫ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার প্রতি ভরি দাম নির্ধারিত হয়েছে ১৬০ হাজার ১৪৭ টাকায়।

    অপরদিকে, বছরজুড়ে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম বেড়েই চলেছে, বিশেষ করে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধের কারণে। বিশ্ববাজারে এখন প্রতি আউন্স সোনার দাম কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৫০০ ডলার। এর আগের দিন ৩০ জানুয়ারি এই দর ছিল ৫ হাজার ২০০ ডলার, আর ২৯ জানুয়ারি ছিল ৫ হাজার ৫৫০ ডলার। গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্রে জানা যায়, এই দামার এপ্রগতিসমূহের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক দামে সোনার মূল্যের চাপ কমে আসছে।

  • সোনার দাম আবারও বেড়ে ভয়ানক উল্লম্ফনে

    সোনার দাম আবারও বেড়ে ভয়ানক উল্লম্ফনে

    বাংলাদেশের জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) আবারো ঘোষণা করেছে টানা দ্বিতীয় দফায় সোনার দাম বাড়ানোর। এতে করে প্রতি ভরি সোনার দাম সর্বোচ্চ ২ হাজার ২১৬ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে আজ থেকে মানসম্পন্ন (২২ ক্যারেট) সোনার ভরি দাম আবারও পাঠ owing করে ২ লাখ ৪৪ হাজার টাকায় পৌঁছেছে, যা গতকাল ছিল ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকার তুলনায় বেশি।

    বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল ১০টার দিকে বাজুস এ নতুন দাম এবং দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেয়। সংগঠনটি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশেও এই দাম সমন্বয় করা হয়েছে।

    নতুন দাম অনুযায়ী, সেরা মানের ২২ ক্যারেটের সোনার এক ভরি নির্ধারিত হয়েছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা। এছাড়া অন্যান্য ক্যারেটের দাম হলো ২১ ক্যারেটের জন্য ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ২ লাখ ২১৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার জন্য ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৩ টাকা প্রতি ভরি।

    রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে, যা একইভাবে প্রভাব ফেলেছে বাজারে। ২২ ক্যারেটের রুপার দাম এখন ৫ হাজার ৭৭৪ টাকা, ২১ ক্যারেটের ৫ হাজার ৫৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৪ হাজার ৭২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৩ হাজার ৫৫৮ টাকার মধ্যে নির্ধারিত হয়েছে।

    বিশ্ববাজারে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি পায়, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের মূল্য ৪ হাজার ৭০০ ডলার ছুঁই ছুঁই করছে। এর আগে জানুয়ারি মাসে তা ছিল ৫ হাজার ২০০ ডলার এবং ২৯ জানুয়ারি ৫ হাজার ৫৫০ ডলার ছিল।

    গত মাসের শেষের দিকে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম অপ্রত্যাশিতভাবে অনেক বেড়ে যায়। এর ফলশ্রুতিতে, বাংলাদেশেও মূল্য বৃদ্ধি দেখা যায়। ২৯ জানুয়ারি সকালের অন্যতম বড় অবনমনটি ছিল, যখন বাজুস একবারে ভরিপ্রতি ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়িয়ে দেয়, ফলে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছে যায় এক ভরি সোনার দাম, যা এখন ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। এই দামে কোন কিছুর তুলনা নেই, এবং এটি দেশের বাজারে সর্বোচ্চ মূল্য হিসেবে স্থান করে নিয়েছে।

  • দাম বৃদ্ধির পর তেলপাম্পে যানবাহনের লাইন উধাও হয়ে ভাবনা জাগিয়েছেন আখতার

    দাম বৃদ্ধির পর তেলপাম্পে যানবাহনের লাইন উধাও হয়ে ভাবনা জাগিয়েছেন আখতার

    জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ যানবাহন লাইনের উপস্থিতি দেখা গেলেও এখন সেই লাইনগুলো উধাও হয়ে গেছে। এই পরিবর্তন নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব এবং রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতারের হোসেন। তিনি বলছেন, যখন তেলের দাম বাড়ানো হয় তখন বিশাল সংখ্যক যানবাহন লাইনে দাঁড়ায়। কিন্তু দাম বৃদ্ধির পড়ে সেই দীর্ঘ যানবাহনের লাইন এখন দেখা না গেলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের জন্ম হয়। শনিবার রাজধানী ঢাকায় বাংলামোটরে অবস্থিত রূপায়ন ট্রেড সেন্টারে অনুষ্ঠিত ‘জ্বালানি, অর্থনীতি, মানবাধিকার, সংস্কার ও গণভোট’ শীর্ষক জাতীয় কনভেনশনের সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

  • সংস্কার নিয়ে সরকার প্রতারণা করছে, সনদ বাস্তবায়ন বাধ্যতামূলক

    সংস্কার নিয়ে সরকার প্রতারণা করছে, সনদ বাস্তবায়ন বাধ্যতামূলক

    সংস্কার নিয়ে বিএনপি সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে বলে অভিযোগ উঠছে। নির্বাচনের আগে যেসব প্রতিশ্রুতি তারা দিয়েছিল, তার তোয়াক্কা না করে এখন সেগুলো থেকে সরে এসে বরং নিজেদের স্বার্থে বিভিন্ন অপ্রয়োজনীয় ও প্রত্যাখ্যানমূলক সিদ্ধান্ত কার্যকর করছে। অনেকে মনে করছেন, এভাবে চলতে থাকলে এই সরকার একদিকে কর্তৃত্ববাদী শাসনে পরিণত হবে, অন্যদিকে গণতন্ত্রের ভিত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সরকারের এই নিপীড়নমূলক পদক্ষেপ, বিশেষ করে জুলাইয়ে সংসদীয় সনদ বাস্তবায়ন বাধ্যতামূলক করার প্রক্রিয়া, দ্রুতই সম্পন্ন করতে হবে গ্রাহকদের নয়নের জন্য।

    রোববার (৩ মে) রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের মুক্তিযোদ্ধা হলে আয়োজন করা হয় ‘জ্বালানি, অর্থনীতি, মানবাধিকার, সংস্কার ও গণভোট’ শীর্ষক জাতীয় কনভেনশন। এতে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)’র সদস্যসচিব আখতার হোসেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন এনসিপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির সহ-প্রধান সারোয়ার তুষার।

    আলোচনায় অংশ নেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক হান্নান মাসউদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী ও সমাজবিজ্ঞানী মির্জা হাসান।

    হান্নান মাসউদ বলেন, সংসদের প্রথম অধিবেশনের পর থেকেই আমি বলেছি, এটি একটি প্রতারণামূলক ও প্রবঞ্চনার সংসদ। আমি কেন এই সংসদে এসেছি এবং আমি কি পেয়েছি? যা আইন করে সরকরের ক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে, সেগুলোকে তারা আইন হিসেবে রূপান্তর করেছে। কিন্তু যেগুলো সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করবে, সেগুলো তারা বাতিল করে দিয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ভোট চুরি করে নির্বাচিত স্থানীয় প্রতিনিধিদের সরানোর জন্য একটি অদলবদল অধ্যাদেশ জারি করেছিল। পরে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় এসে এই অধ্যাদেশ আইনে পরিণত হয়, যার ফলে স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিরা অপসারণের জন্য পদ্ধতিগত কোনো বাধা থাকছে না। এতে বিরোধী দলের কাউকে অপসারণ করে পছন্দমতো প্রশাসক বসানো সহজ হয়ে যাবে।

    এনসিপির এই নেতা বলেন, আমাদের কিছু দ্বিমত থাকলেও, বিএনপি সরকারের প্রস্তাবিত পুলিশ কমিশন গঠনের বিষয়টি ইতোমধ্যেই বাস্তবায়িত হয়েছে। তবে সরকারের দৃষ্টিতে তা এখন আর পছন্দ নয়। তারা গুম কমিশন বাতিল করেছে এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপির পক্ষে ছিল। সংবিধান সংস্কার বিষয়ে বিএনপি সরে গেছে, তাই আমরাও আবার নতুন সংবিধানের দাবিতে সশক্তভাবে ফিরে যাবো।

    রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী মন্তব্য করেন, ১৯৯১ সালে রাজনৈতিক দলগুলো সম্মিলিতভাবে সংস্কারের জন্য যে প্রস্তাব দিয়েছিল, বিএনপি ক্ষমতায় এসে তার বেশির ভাগই কার্যকর করেনি। ২৪ অক্টোবরের অভ্যুত্থানের পরের পরিস্থিতি কি হয়েছিল তা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা একটি প্রতারণামূলক দলের সাথে কাজ করছি, যারা প্রথম থেকেই পরিকল্পনা করে আমাদের স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে। বাংলাদেশের এলিট শ্রেণী, বিশেষ করে সিভিল-মিলিটারি ও বুরোক্রেসি ক্ষমতা ছাড়তে চায় না, তাই তারা সংস্কারকে ভণ্ডুল করছে।

    তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সংসদে দেয়া বক্তৃতার উদাহরণ দিয়ে বলেন, কানাডায় যদি কোনও মন্ত্রী এমন মিথ্যা কথা বলতেন, তবে তার সদ্য পদত্যাগ করতেই হত।

    সমাজবিজ্ঞানী মির্জা হাসান বলেন, জুলাইয়ের সনদ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য ঘটনা। যার মূল ধারণা হলো, রাষ্ট্রের প্রধান তিন অঙ্গ- বিচার বিভাগ, শাসন বিভাগ ও কার্য নির্বাহী বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা।

    তিনি বলেন, সাংবিধান সংস্কার কমিটির প্রথম দিকের বেশ কিছু প্রস্তাব ছিল রেডিকেল, যেখানে বলা হয়েছিল যে, এক ব্যক্তি একসাথে সরকারপ্রধান ও দলের প্রধান হতে পারবে না। তবে বিএনপির চাপের কারণে কিছু আপস হয়েছে। এরপরও যা রক্ষা পেয়েছে, তা ছিল বড় অর্জন। اگر এগুলো বাস্তবায়ন করতে পারতাম, তাহলে আওয়ামী লীগের নানা দোষত্রুটি এড়ানো যেত।

    এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার জানান, বিএনপি সরকার সংস্কার করতে চায় না। তারা নানা পন্থায় বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। প্রথম অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তৃতার পর বোঝা গেছে, বিএনপি আর সংস্কার চায় না। দলীয় ও নির্বাচনী ইশতেহারে থাকা সংস্কারের প্রতিশ্রুতিও তারা বাস্তবায়ন করতে এখন আগ্রহী নয়। তারা দলীয়করণ, অধ্যাদেশ বাতিলসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংবিধান লঙ্ঘন করছে।

    তিনি বলেন, অনেকের যুক্তি হলো, আমাদের সরকার বিধায় আমরা যেখানে চাই সেখানে নিজেদের লোক বসাবো। কিন্তু সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয় লোক বসানো যায় না। যদিও বিএনপি এ ব্যাপারে অনেক ক্ষেত্রে দলীয় লোক বসানোর চেষ্টা করছে, তবে রাষ্ট্রপতি শপথ গ্রহণের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে কেউ বিএনপির মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে না।

    আখতার হোসেন বলেন, বিএনপি সরকার আর সংস্কার করতে চায় না, তারা ক্ষমতা এককভাবে রাখতে দুর্বার চেষ্টা চালাচ্ছে। তারা সর্বদা নেট অব ডিসেন্টের কথাগুলো বলছে, কিন্তু মূল আলোচনা বা ঐকমত্যের ক্ষেত্রে সবাই একমত। যদি কারো অন্য মত থাকে, তা উল্লেখ করতে বলে। তবে মূল বিষয়ের প্রতিনিধি হিসেবে গণভোটের প্রশ্নে কোনও মতভেদ নেই।

    তিনি আরও বলেন, বিএনপি চারটি প্রশ্নে একাংশের আপত্তি দেখাচ্ছে। তবে গণভোটের প্রশ্নগুলো ছিল স্পষ্ট, যেখানে উল্লেখ ছিল উচ্চকক্ষের কাঠামো, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও বিচারিক ও প্রশাসনিক নিয়োগের নীতিমালা। এসব বিষয়ে সবাই একমত হলেও, কিছু বিষয় রাজনৈতিক দলগুলো তাদের শিলমোহর দিয়েই বাস্তবায়ন করবে।

    আখতার হোসেন প্রশ্ন করেন, সবশেষ কি সংস্কারগুলো কি দেশের জন্য ক্ষতিকর? না কি এগুলো দেশের সংবিধানিক গাঠনিক কাঠামোকে মজবুত করবে? তখন উপস্থিত সবাই মনে করে, কেবল সংশোধন করতে গেলেই কেবল কাঠামোর ক্ষতি হয় কি না। তবে আমরা সংসদের মধ্য দিয়ে সংযুক্তিকরণের মাধ্যমে যে সংশোধনী প্রস্তাব গুঁড়ো করছি, সেটাই ছিল যৌক্তিক। কিন্তু এখন বিএনপি সেই পথে সরে গেছে।