Blog

  • ডিএসসিতে লড়াইয়ের ইঙ্গিতে আসিফ মাহমুদ, দিলেন দুই প্রতিশ্রুতি

    ডিএসসিতে লড়াইয়ের ইঙ্গিতে আসিফ মাহমুদ, দিলেন দুই প্রতিশ্রুতি

    ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র পদে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বিতার আলোচনা তীব্র হয়ে উঠেছে। শনিবার (২ মে) বিকেলে নিজের ফেসবুক পেজে পোস্ট করে সাবেক উপদেষ্টা ও এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ইঙ্গিত দিয়ে সংবাদমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে সকলকে ভাবাতে বাধ্য করেছেন যে তিনি ওই সিটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন।

    সংবাদে আগে থেকেই নাম উঠে আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েমের স্থানীয়ভাবে মেয়র প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে আছে। একই পরিস্থিতিতে আসিফ মাহমুদের এই ঘোষণা রাজনৈতিক বিতর্ক ও আগ্রহ আরও বাড়িয়েছে।

    পোস্টে আসিফ মাহমুদ দুটি প্রধান প্রতিশ্রুতি জানিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচিত হলে ঢাকা দক্ষিণের বাসিন্দাদের আর ময়লার জন্য আলাদা কোনো বিল দিতে হবে না। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এমনভাবে চলবে যে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা কোনো আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন না। অর্থাৎ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার খরচ নাগরিকদের ওপর চাপানো থেকে বিরত রেখে কর্মীদের অধিকার ও আয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে—এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

    আসিফ মাহমুদ অতীতবর্হিভাবে যুক্ত ছিলেন জাতীয় সংসদ বা সরকারের অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্বে। তার বিরুদ্ধে এবং তার ব্যক্তিগত সহকারীর বিরুদ্ধে আগেও নানা অভিযোগ উঠেছিল, যা তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

    এখনও তিনি সরাসরি দলীয় মনোনয়ন কিংবা উৎসাহী প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেননি; তবু দিলা ইঙ্গিত ও বক্তব্য থেকেই রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে যে তিনি এনসিপি থেকে কিংবা অন্যভাবে ঢাকা দক্ষিণের মেয়রপ্রার্থী হতে পারেন। স্থানীয় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ভোটপ্রক্রিয়া কীভাবে রূপ নেবে, সেটাই এখন দেখার।

  • রাকিবুল-নাছির স্বাক্ষরেই ছাত্রদলের ২৯টি কমিটি ঘোষণা

    রাকিবুল-নাছির স্বাক্ষরেই ছাত্রদলের ২৯টি কমিটি ঘোষণা

    ছাত্রদল একযোগে ২৯টি কমিটি ঘোষণা করেছে। এসব কমিটি দেশের সাতটি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, মেডিকেল কলেজ, জেলা ও মহানগর স্তরে গঠন করা হয়েছে। কিছু কমিটি নতুন, আর বাকিগুলো পূর্ণাঙ্গ, আংশিক পূর্ণাঙ্গ বা বর্ধিত করা হয়েছে।

    শনিবার (২ মে) কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন স্বাক্ষরিত পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এসব কমিটি অনুমোদন করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিটি কমিটির সার্বিক কাঠামো ও কার্যনির্বাহী পর্যায়ের বিষয়ে তথ্য দেওয়া হয়েছে।

    বিশ্ববিদ্যালয় (সাতটি)

    – বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়: পূর্ণাঙ্গ কমিটি

    – বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়: আংশিক পূর্ণাঙ্গ কমিটি

    – রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়: পূর্ণাঙ্গ কমিটি

    – রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়: আংশিক পূর্ণাঙ্গ কমিটি

    – কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়: আংশিক কমিটি

    – পুণ্ড্র ইউনিভার্সিটি: আংশিক পূর্ণাঙ্গ কমিটি

    – জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়: বর্ধিত কমিটি

    মহানগর (নয়টি)

    – ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদল: পূর্ণাঙ্গ কমিটি

    – ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদল: পূর্ণাঙ্গ কমিটি

    – ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদল: পূর্ণাঙ্গ কমিটি

    – ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রদল: পূর্ণাঙ্গ কমিটি

    – ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রদল: পূর্ণাঙ্গ কমিটি

    – ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদল: পূর্ণাঙ্গ কমিটি

    – ময়মনসিংহ উত্তর জেলা ছাত্রদল: পূর্ণাঙ্গ কমিটি

    – জামালপুর মহানগর ছাত্রদল: পূর্ণাঙ্গ কমিটি

    – কুমিল্লা মহানগর ছাত্রদল: আংশিক পূর্ণাঙ্গ কমিটি

    জেলা (পাঁচটি)

    – নেত্রকোনা জেলা ছাত্রদল: পূর্ণাঙ্গ কমিটি

    – নরসিংদী জেলা ছাত্রদল: পূর্ণাঙ্গ কমিটি

    – হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদল: পূর্ণাঙ্গ কমিটি

    – খাগড়াছড়ি জেলা ছাত্রদল: পূর্ণাঙ্গ কমিটি

    – মানিকগঞ্জ জেলা ছাত্রদল: পূর্ণাঙ্গ কমিটি

    কলেজ (পাঁচটি)

    – জয়পুরহাট সরকারি কলেজ: আংশিক পূর্ণাঙ্গ কমিটি

    – ঢাকা কলেজ: বর্ধিত কমিটি

    – আনন্দমোহন কলেজ: পূর্ণাঙ্গ কমিটি

    – নারায়ণগঞ্জ হাজী মিছির আলী ডিগ্রি কলেজ: আংশিক কমিটি

    – নারায়ণগঞ্জ কলেজ: আংশিক পূর্ণাঙ্গ কমিটি

    মেডিকেল কলেজ (তিনটি)

    – ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ: আংশিক কমিটি

    – সিরাজগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ: আংশিক কমিটি

    – জামালপুর মেডিক্যাল কলেজ: আংশিক কমিটি

    কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব জানিয়েছে, এসব কমিটি স্থানীয় সংগঠন শক্তিশালী করতে, ছাত্রদলের কার্যক্রম সম্প্রসারণে এবং আগামী কর্মসূচি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কমিটি গঠনের মাধ্যমে ছাত্রদের সংগঠিত করা ও সংগঠনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ আছে।

  • প্রাইজবন্ডের ১২৩তম ড্র: ছয় লাখ টাকার বিজয়ী নির্ধারণ

    প্রাইজবন্ডের ১২৩তম ড্র: ছয় লাখ টাকার বিজয়ী নির্ধারণ

    ১০০ টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ডের ১২৩তম ড্র অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার অফিসের সম্মেলন কক্ষে ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন চৌধুরী-এর সভাপতিত্বে এই ড্র আয়োজন করা হয়।

    ফলাফল সংক্ষেপে:

    প্রথম পুরস্কার (৬ লাখ টাকা): বিজয়ী নম্বর ০০০১০৩৫।

    দ্বিতীয় পুরস্কার (৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা): বিজয়ী নম্বর ০০৪৭৭৪৮।

    তৃতীয় পুরস্কার (প্রতি পুরস্কার ১ লাখ টাকা): বিজয়ী দুইটি নম্বর — ০৫৩৮২৮৯ ও ০৬৭৫৩৮২।

    চতুর্থ পুরস্কার (প্রতি পুরস্কার ৫০ হাজার টাকা): বিজয়ী দুইটি নম্বর — ০৪০০৪৫১ ও ০৫৬৭৬৪৪।

    এই ড্রটি একক সাধারণ পদ্ধতিতে (অর্থাৎ প্রত্যেক সিরিজের জন্য একই নম্বর) পরিচালিত হয়েছে। প্রচলনযোগ্য ১০০ টাকার মোট ৮৪টি সিরিজের মধ্যে এবারে ৪৬টি সাধারণ নম্বর পুরস্কারের যোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছে। আওতাভুক্ত সিরিজগুলো হলো: কক, কখ, কগ, কঘ, কঙ, কচ, কছ, কজ, কঝ, কঞ, কট, কঠ, কড, কঢ, কথ, কদ, কন, কপ, কফ, কব, কম, কল, কশ, কষ, কস, কহ, খক, খখ, খগ, খঘ, খঙ, খচ, খছ, খজ, খঝ, খঞ, খট, খঠ, খড, খঢ, খথ, খদ, খন, খপ, খফ, খব, খম, খল, খশ, খষ, খস, খহ, গক, গখ, গগ, গঘ, গঙ, গচ, গছ, গজ, গঝ, গঞ, গট, গঠ, গড, গঢ, গথ, গদ, গন, গফ, গব, গম, গল, গশ, গষ, গপ, গস, গহ, ঘক, ঘখ, ঘগ, ঘঘ, ঘঙ এবং ঘচ।

    পঞ্চম পুরস্কার হিসেবে ১০ হাজার টাকা করে ৪০ জন পাবেন। তাদের বিজয়ী নম্বরগুলো হলো:

    ০০২১৭৪৯, ০২১৭৪১৯, ০৪৬১৪৭২, ০৫৮৮৯৬৬, ০৭৪৯৭৪০, ০০২২১৮১, ০২৪৬০৪৫, ০৪৬২০৫৬, ০৫৯৬৩৪৬, ০৭৫৯৯০৮, ০০৫৬৩৭৮, ০২৯৬৪০২, ০৪৭৮০১৫, ০৬০০৪৪০, ০৭৭২৭৭৩, ০০৯২৩৫৬, ০৩১১১৩০, ০৪৮০৫৬৭, ০৬০৭৩৪৯, ০৮১৩৬৫৯, ০১৪৪৫৬৭, ০৩৫৬৯৪২, ০৫১২০২৪, ০৬৩৯৩৬৭, ০৮৪৮০৪৬, ০১৫৫৩৯৮, ০৩৯৩২৭৭, ০৫৫১২২১, ০৬৪২০০২, ০৮৪৯৬১৪, ০১৫৫৯৩৪, ০৪১৩৫০১, ০৫৬৪৭৬০, ০৬৫০১১৯, ০৯২২৫৯৭, ০১৭৫৭৯২, ০৪৫২৪৪১, ০৫৭৩৮৬৫, ০৬৮৮৭৭৩ এবং ০৯৪৭৬৬৫।

    বিস্তারিত ফলাফল ও পরবর্তী ড্র সংক্রান্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।

  • এপ্রিলের ২৯ দিনে রেমিট্যান্স ৩.০০২ বিলিয়ন ডলার

    এপ্রিলের ২৯ দিনে রেমিট্যান্স ৩.০০২ বিলিয়ন ডলার

    চলতি এপ্রিলে প্রথম ২৯ দিনে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ৩ বিলিয়ন ২ লাখ ডলার ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী এ সময়ে দেশে মোট ৩০০ কোটি ২০ লাখ ডলার (প্রায় ৩.০০২ বিলিয়ন ডলার) রেমিট্যান্স এসেছে, যা দিনে গড়ে প্রায় ১০ কোটি ৩৫ লাখ ডলার।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বৃহস্পতিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিশেষ করে ২৯ এপ্রিলই দেশে এসেছে প্রায় ৯৪ কোটি ডলার রেমিট্যান্স।

    গত বছরের একই সময়ে (এপ্রিল ২০২৫) এই সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৬০ কোটি ৮০ লাখ ডলার, তাই এ বছরের এ প্রবাহ আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে। উল্লেখ্য, মার্চ মাসে রেকর্ড ভাঙা রেমিট্যান্স এসেছে—মার্চের ৩১ দিনে মোট ৩.৭৫ বিলিয়ন ডলার বা ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার।

    এ বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসেও রেমিট্যান্স তিন বিলিয়ন ডলারের ওপরে ছিল। জানুয়ারিতে প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার এবং ফেব্রুয়ারি মাসে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার।

    রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হওয়ায় এ ধরনের প্রবাহ অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও পরিবার-পরিজনের আয়ের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রেমিট্যান্স প্রবাহ পর্যবেক্ষণ করছে।

  • হরমুজ অবরোধে সতর্ক সংকেত: বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকটের আশঙ্কা

    হরমুজ অবরোধে সতর্ক সংকেত: বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকটের আশঙ্কা

    ইরান-ইসরাইল ও মার্কিন সংঘাতে হরমুজ প্রণালী কৌশলগতভাবে বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্বের রাসায়নিক সার সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। তেল ও গুরুত্বপূর্ণ চালানগুলোর প্রধান পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সার আমদানি-রপ্তানি প্রায় পুরোপুরি আটকে পড়েছে, ফলে বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি হচ্ছে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, সার সরবরাহ না হলে বিশ্ববাজারে সারদর দ্রুত বাড়বে এবং তীব্র ঘাটতিও দেখা দেবে। এই ঘাটতি কৃষিতে সরাসরি প্রভাব ফেলবে; তাদের হিসাব অনুযায়ী বিশ্বব্যাপী ফসলের উৎপাদন কয়েক অঞ্চলে প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। উৎপাদন কমলেই তা ঘরে-বাইরে কৃষিপণ্যের দামে তীব্র উঠতি চাপ সৃষ্টি করবে।

    রাষ্ট্রসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)-র প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো টোরেরো আল জাজিরাকে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, পরিস্থিতি প্রতিদিনই জটিল হয়ে উঠছে। সারঝুঁটির ফলে অনেক দেশের নির্দিষ্ট বীজবপনের সময়সীমা হারানো শুরু হয়েছে — বিশেষ করে এশিয়ার বেশ কিছু দেশে ইতিমধ্যেই ফসল বোনার অনুকূল সময় শেষ হয়ে গেছে। সময়োপযোগী সার না পেলে তারা প্রয়োজনীয় কাজগুলো করতে পারবে না, যা পরবর্তী ফসলের ফলনকে মারাত্মকভাবে কমিয়ে দেবে।

    টোরেরো উল্লেখ করেন, বড় রপ্তানিকারক দেশগুলো—যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিল—অবশ্যই পরিস্থিতি মোকাবেলায় তাদের চাষাবাদের ধরনে পরিবর্তন আনতে পারে। সারের অভাবে তারা গম ও ভুট্টা কমিয়ে সয়াবিনের মতো ফসলের দিকে ঝুঁকতে পারে, কারণ সয়াবিন মাটিতে নাইট্রোজেন ধরে রাখতে সহায়তা করে এবং পরবর্তী চাষে সার প্রয়োজন কমায়।

    আরও একটি জটিলতা হলো জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রভাব। অপরিশোধিত তেলের দর বাড়লে কৃষকরা উৎপাদিত ফসল খাবার হিসাবে না রেখে জৈব জ্বালানি বা বায়োফুয়েল তৈরিতে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এমন পরিবর্তন খাদ্য সরবরাহকে আরও সংকীর্ণ করবে এবং খাদ্যের ওপর মূল্যচাপ বাড়াবে।

    অর্থনীতিবিদ টোরেরো সতর্ক করে বলেন, ইতিমধ্যে গম ও সয়াবিনের দাম বিশ্ববাজারে বাড়তে শুরু করেছে; চলতি বছরের শেষার্ধে এই প্রবণতা আরও স্পষ্ট হবে এবং আগামী বছরে কৃষিপণ্যের দাম একটি বড় লাফে উপরে যেতে পারে। খাদ্য ও জ্বালানির মূল্য একসঙ্গে বাড়লে বিশ্বের প্রধান অংশে মূল্যস্ফীতি তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী হবে।

    বিশ্বজুড়ে খাদ্য নিরাপত্তা রক্ষায় দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ না হলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ঝুঁকি আরও ঘনীভূত হবে। সরবরাহশৃঙ্খল সরিয়ে নেওয়া, ভাণ্ডার তৈরি ও প্রয়োজনীয় সরবরাহ চ্যানেল খোলা রাখার ওপর নীতিনির্ধারকদের তৎপর হবার আহ্বান করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

    সূত্র: আল জাজিরা।

  • যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন: লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ১৩ জন নিহত

    যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন: লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ১৩ জন নিহত

    লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগে আজ ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে ১৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন। নাবাতিয়েহ জেলার হাব্বুশ এলাকায় শুক্রবারে এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নয়জন নিহত হন এবং আরও অন্তত ১০ জন গুরুতরভাবে আহত হন। আহতদের মধ্যে একজন নারী ও একটি শিশু রয়েছেন।

    লেবাননের সরকার বলেছে যে টাইর শহর ও এর আশপাশের কয়েকটি এলাকায় একই সময়ে সংঘঠিত হামলায় আরও চার জনের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও এবতাসি সূত্রে পাওয়া তথ্যে হতাহত ও নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে।

    আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুসারে, গত ২ মার্চ থেকে চলতি ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে নিহতের সংখ্যা এখন ২৬০০ ছাড়িয়েছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে কারণ এ হামলা একই সময়ে অহরহ প্রতিশোধ ও পাল্টা হামলার চক্রকে জোরদার করছে।

    সূত্রের খবরে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের মধ্যভূমিতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর হামলার পরে তেহরানসমর্থিত শিয়াগোষ্ঠী হিজবুল্লাহ পাল্টা আঘাত করে। এর জবাবে তেল আবিব ভূমি ও আকাশে বৈরুতসহ লেবাননের বিস্তীর্ণ এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা শুরু করে।

    সংঘর্ষের তীব্রতায় এ পর্যন্ত প্রায় ৮ লাখ মানুষ তাদের বাড়িঘর ছেড়ে আশ্রয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। সেখানে মোতায়েন জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে, এবং বিষয়টি নিয়ে ফ্রান্সসহ বিশ্বের প্রায় ৩০টি দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

    আগে গত ১৬ এপ্রিল এক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যাতে দুই পক্ষের সাধারণ মানুষ নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারবে বলে বলা হয়েছিল। তবুও সাম্প্রতিক হামলার ফলে সেই আপোশ সতর্ক সংকেতের মধ্যে পড়েছে এবং হতাহতের ঘটনা আবারও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান-ইসরায়েল-আমেরিকা সম্পর্ক ও মধ্যপ্রাচ্যের ভৌগলিক-রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় লেবাননে আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত উত্তেজনা কমবে না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও তৎপরতার প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভূত হচ্ছে।

  • শৈলকুপায় মেয়ের বিয়ের পাত্রকে ধরে পালালেন মা

    শৈলকুপায় মেয়ের বিয়ের পাত্রকে ধরে পালালেন মা

    ঝিনাইদহের শৈলকুপায় নিজের বড় মেয়ের জন্য পছন্দ করা হবু জামাইয়ের সঙ্গে দুই ছোট সন্তান নিয়ে পালিয়ে গেছেন রিমি খাতুন (৩৫)। ঘটনাটি শনিবার নয়, সোমবার নয়—গত মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) শৈলকুপা উপজেলার চর-ত্রিবেণী গ্রামে ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

    পরিবার সূত্রে জানা যায়, কুমারখালীর রিমি খাতুন প্রায় ১৭ বছর আগে শৈলকুপার ওই গ্রামের গাড়িচালক রাশেদ আলীর (৩৮) সঙ্গে বিয়ে করেন। দাম্পত্য জীবনে তাদের তিন সন্তান হয়। রাশেদের কাজের তাগিদে তিনি অনেকে সময় বাড়ির বাইরে থাকেন।

    প্রতিবেশী ও পারিবারিক বর্ণনা অনুযায়ী, প্রায় এক বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকের মাধ্যমে পার্বতীপুর গ্রামের মামুন হোসেন (২৪) নামে এক যুবকের সঙ্গে পরিচয় হয় রিমির। মামুন নিজেকে সেনাবাহিনীর সদস্য হিসেবে পরিচয় করিয়েছেন বলে জানা গেছে। পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় এবং রিমি এই молодকের নাম তার বড় মেয়ের বিয়ের পাত্র হিসেবে পছন্দ করেন।

    তবে মা ও হবু জামাইয়ের অতিরিক্ত মেলামেশা ও ঘনিষ্ঠতাকে কেন্দ্র করে পরিবারের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। উত্তেজনা এতটাই বৃদ্ধি পায় যে বড় মেয়ে মানসিক চাপ সামলাতে না পেরে আত্মহননের পথ বেছে নেয়—পরবর্তী পরিস্থিতি থেকে বোঝা যায়, মর্মান্তিক ওই ঘটনায় ওই কন্যার মৃত্যুও ঘটে। বড় মেয়ের এমন ঘটনাও পরিবারের টানাপোড়েন কমায়নি।

    সব বিবাদ ও চাপের মধ্যেই রাশেদ বারবার স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে সব ঠিক করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তাতে কোনও ফল হয়নি। অবশেষে গত মঙ্গলবার বাড়িতে স্বামী না থাকা সুযোগে রিমি তার দুই নাবালক সন্তানকে নিয়ে মেয়ের নির্ধারিত পাত্র বলে পরিচিত মামুনের সঙ্গে ঘর ছাড়েন।

    ঘটনার পর ভুক্তভোগী স্বামী রাশেদ আলী শৈলকুপা থানাে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। তিনি তার শিশু সন্তানদের ফেরত নিয়ে আসার এবং ঘটনার ন্যায্য বিচার চান।

    শৈলকুপা থানার ওসি মোঃ হুমায়ুন কবির মোলা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পালিয়ে যাওয়া গৃহবধূর কাছ থেকে শিশু সন্তানদের উদ্ধারের জন্য পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে এবং সকল দিক তল্লাশি করা হচ্ছে।

    স্থানীয়রা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে সম্পর্ক গেড়ে পারিবারিক বন্ধন ভাঙার জটিলতা এবং বাড়তি মেলামেশার কারণে এই ঘটনা ঘটেছে। তদন্ত পর্যায়ে পুলিশ যে তথ্য পাবে, সেই অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • খুলনা প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কমিটি দায়িত্ব গ্রহণ

    খুলনা প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কমিটি দায়িত্ব গ্রহণ

    খুলনা প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কমিটি শুক্রবার সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছে। হুমায়ুন কবীর বালু মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত সভাপতি মো. মোস্তফা সরোয়ার ও সাধারণ সম্পাদক মো. তরিকুল ইসলাম বিদায়ী অন্তর্বতীকালীন কমিটির আহ্বায়ক এনামুল হক ও সদস্য সচিব রফিউল ইসলাম টুটুলের কাছ থেকে অফিসিয়াল দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

    দায়িত্ব গ্রহণ করে নবনির্বাচিত নেতারা ক্লাব পরিচালনা, কার্যক্রম সম্প্রসারণ ও সদস্যদের কল্যাণে কাজ করার আশ্বাস দেন। অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত কমিটির অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। এতে সহ-সভাপতি হিসেবে ছিলেন সোহরাব হোসেন ও মো. জাহিদুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ বিমল সাহা, যুগ্ম-সম্পাদক মো. বেল্লাল হোসেন সজল, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোহাম্মদ মিলন, পাঠাগার, প্রকাশনা ও তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক বশির হোসেন।

    কার্যনির্বাহী সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মো. মাকসুদুর রহমান মাকসুদ, কাজী মোতাহার রহমান, মহেন্দ্রনাথ সেন, সোহেল মাহমুদ ও কে এম জিয়াউস সাদাত।

    এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. সাহেব আলী ও হাসান আহামেদ মোল্লা, ক্লাবের সদস্য ও দৈনিক পূর্বাঞ্চল সম্পাদক মোহাম্মদ আলী সনি, সিনিয়র সদস্য মুহাম্মদ আবু তৈয়ব, এবং সদস্য আতিয়ার পারভেজ, মাহবুবুর রহমান মুন্না, এস এম কামাল হোসেন, এস এম নূর হাসান জনি, গাজী মনিরুজ্জামান, শেখ আল এহসান, উত্তম মন্ডল, দীলিপ কুমার বর্মন, ইয়াসীন আরাফাত রুমী, মো. হেলাল মোল্লা, আব্দুর রাজ্জাক রানা, খলিলুর রহমান সুমন, নাজমুল হক পাপ্পু, আলমগীর হান্নান, সুনীল কুমার দাস, মো. জাকারিয়া হোসেন তুষার, শেখ জাহিদুল ইসলাম, মো. সোহেল রানা, এস এম সাইফুল ইসলাম, মোহাম্মদ মাসরুর মুর্শেদসহ অন্যান্য সাংবাদিকবৃন্দ।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিতরা নবনির্বাচিত কমিটিকে শুভেচ্ছা ও সফলতা কামনা করেন এবং ক্লাবের উন্নয়ন ও সাংবাদিক কল্যাণে তাদের কার্যক্রমে সহায়তার আশ্বাস দেন।

  • প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনে সিলেট থেকে শুরু হলো ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’

    প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনে সিলেট থেকে শুরু হলো ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’

    আজকের সিলেট জেলা স্টেডিয়াম অন্য কোনো দিনকে ছাপিয়ে গিয়েছে—নীরবতা ভেঙে উঠে এসেছে উৎসবের আমেজ। গ্যালারি কানায়-কানায় ভরে গেছে, মাঠে ছোট ছোট ক্রীড়াবিদরা রোমাঞ্চকর প্রদর্শনী দেখাচ্ছে, নিরাপত্তা ও সংবাদকর্মীদের ব্যস্ততা ছড়িয়ে দিয়েছে প্রাণবন্ততা। সব আয়োজনই মিলে একটাই উদ্দেশ্য—দেশব্যাপী নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের উদ্বোধন।

    শনিবার ০২ মে, বেলা ৩টা ৪০ মিনিটে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন বিকেল ৫টা ৮ মিনিটে। একই সময়ে দেশজুড়ে জেলা স্টেডিয়ামগুলো ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিল, মহাদেশের নানা প্রান্ত থেকে হাজার হাজার খুদে ক্রীড়াবিদ অংশ নিয়েছে এই অনুষ্ঠানে।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শিশু-কিশোরদের উদ্দেশ্যে বলেন, আগামী বাংলাদেশের দায়িত্ব নিতে হবে তাদের—তাই পড়াশোনা ও খেলাধুলাকে সমানভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। খেলাধুলার মাধ্যমে দেশকে গড়া এবং দেশের সুনাম বাড়ানো যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

    সরকারের তৃণমূল পর্যায়ে প্রতিভা অন্বেষণের উদ্দেশ্যেই শুরু হয়েছে এই প্রতিযোগিতা। নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ঢাকা থেকে এসেছেন দেশের সেরা ৩২ জন ক্রীড়াবিদ—প্রতিজন বিভিন্ন বিভিন্ন ক্রীড়ায় দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। তারা সবাই এই অনুষ্ঠানের ‘ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর’ হিসেবে ভবিষ্যৎ তারকাদের উৎসাহ দিয়েছেন।

    নতুন কুঁড়ির ইতিহাসও স্মরণীয়—১৯৭৬ সালে যাত্রা শুরু হওয়া ‘নতুন কুঁড়ি’ বিটিভির ১৯৮০-এর দশকে জনপ্রিয় একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছিল, যার মাধ্যমে অনেক প্রতিভা উঠে এসেছিল। বহু বছর পর এখন সেই ব্র্যান্ডটি মঞ্চ থেকে সরিয়ে মাঠে নিয়ে আসা হয়েছে—আর নামও দেওয়া হয়েছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’।

    জানানো হয়েছে, ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের জন্য আয়োজিত এই প্রতিযোগিতা মোট আটটি জনপ্রিয় ইভেন্টে অনুষ্ঠিত হবে। খেলাগুলো প্রথমে উপজেলা পর্যায়ে শুরু হবে; সেখানে বিজয়ীরা জেলা, বিভাগীয় ও সর্বশেষ জাতীয় পর্যায়ে অংশ নেবে। আঞ্চলিক পর্বের খেলা ১৩-২২ মে’র মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।

    দেশকে ১০টি শক্তিশালী অঞ্চলে ভাগ করে প্রতিটি অঞ্চলের জন্য আলাদা জেলা তালিকা তৈরি করা হয়েছে—ঢাকা, ফরিদপুর, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, রংপুর, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ। প্রতিটি পর্যায়ে একটি শক্তিশালী প্রশাসনিক ও বাস্তবায়ন কমিটি সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি তদারকি করবে, যাতে কোনো মেধা অমূল্যায়িত না থাকে।

    প্রতিযোগিতার নিয়মে ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি ও ব্যাডমিন্টন টিম ইভেন্টগুলোতে নকআউট পদ্ধতি থাকবে। দাবায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সুইস লিগ পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। ব্যক্তিগত ইভেন্ট—অ্যাথলেটিক্স, সাঁতার ও মার্শাল আর্ট—হিট বা প্রাথমিক বাছাই ও ফাইনাল রাউন্ডের মাধ্যমে পরাজিত হবে। একজন খেলোয়াড় সর্বোচ্চ দুইটি খেলায় অংশ নিতে পারবে।

    রেজিস্ট্রেশনের সময় সীমা থাকা সত্ত্বেও ১২-২৬ এপ্রিল চলতি ডেডলাইন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মোট ১,৬৭,৬৯৩ জন প্রতিযোগী নিবন্ধন করেছেন। তাদের মধ্যে ছেলে ১,২০,৯৪৯ জন ও মেয়ে ৪৬,৭৪৪ জন। অঞ্চলভিত্তিক হিসেবে ঢাকাই অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি—২৫,৩৮৭ জন; সবচেয়ে কম রেজিস্ট্রেশন হয়েছে ময়মনসিংহ অঞ্চলে—৭,৯৬৬ জন।

    যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেন, নির্বাচনের আগে দলের ইশতেহারে প্রধানমন্ত্রী স্পোর্টসকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন এবং সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যেই ক্রীড়া কার্ড ও ক্রীড়াভাতা চালু করা হয়েছে এবং তা আরও সম্প্রসারিত করা হচ্ছে—এর মাধ্যমে খেলোয়াড়রা অর্থনৈতিক সহায়তা পাচ্ছেন।

    ঢাকা নয়, ঢাকার বাইরে থেকেই উদ্বোধন করার নির্দেশ দেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী—এ কারণে এবারের অনুষ্ঠান সিলেটে আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, ‘‘সবসময়ই শুরু হয় ঢাকা থেকেই; প্রধানমন্ত্রী চাইলেন এটা ঢাকার বাইরে থেকে শুরু হোক—তাই সিলেটকে বেছে নেওয়া হয়েছে।’’

    সরকারি কার্যক্রমের সাথে পরিবারের ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের সহায়তায় এই প্রতিযোগিতা আশা করা হচ্ছে দেশের খেলা চর্চাকে শক্তিশালী করবে এবং ভবিষ্যতের ক্রীড়া তারকার সুফল দেবে।

  • খুলনা এসবিআলী ও সুনামগঞ্জ নান্দনিকের ম্যাচ গোলশূন্য ড্র

    খুলনা এসবিআলী ও সুনামগঞ্জ নান্দনিকের ম্যাচ গোলশূন্য ড্র

    “নতুন প্রতিভার অন্বেষণে” শিরোনামে বসুন্ধরা কিংসের পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলাদেশ ফুটবল সাপোর্টারস ফোরামের আয়োজনে এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সহযোগিতায় ঢাকার কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে শুরু হয়েছে বসুন্ধরা কিংস বিএফএসএফ অনূর্ধ্ব-১৪ একাডেমি কাপ ফুটবল। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ১২টি একাডেমিকে চারটি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। টুর্নামেন্ট ২৯ এপ্রিল শুরু হয়ে ৮ মে পর্যন্ত চলবে।

    গ্রুপবিন্যাসে “ক” গ্রুপে রয়েছে ডিএসএস ক্লাব (নারায়ণগঞ্জ), ফিরোজ কামাল ফুটবল একাডেমি (বাহ্মণবাড়িয়া) ও ময়মনসিংহ উদয়ন জুনিয়র ফুটবল একাডেমি (ময়মনসিংহ)। “খ” গ্রুপে রয়েছেন বাংলাদেশ বয়েজ ক্লাব ফুটবল একাডেমি (চট্টগ্রাম), মনিং স্টার ফুটবল একাডেমি (লালমনিরহাট) ও টঙ্গী ফুটবল একাডেমি (গাজীপুর)। “গ” গ্রুপে অন্তর্ভুক্ত টু স্টার বোদা উপজেলা ফুটবল একাডেমি (পঞ্চগড়), মরহুম ফরহাদ হোসেন তালুকদার স্মৃতি ফুটবল একাডেমি (টাঙ্গাইল) ও গোলাকান্দাইল ফুটবল একাডেমি (রূপগঞ্জ)। “ঘ” গ্রুপে রয়েছে নান্দনিক স্পোর্টস একাডেমি (সুনামগঞ্জ), এসবিআলী ফুটবল একাডেমি (খুলনা) ও হরিয়ান ফুটবল একাডেমি (রাজশাহী)।

    শনিবার সকালে খুলনা রেলওয়ে স্টেশন থেকে জাহানাবাদ এক্সপ্রেসে ২৪ সদস্যের এসবিআলী ফুটবল একাডেমি দলের ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। বিকেলে দলের প্রথম ম্যাচটি ছিলি একই গ্রুপের নান্দনিক স্পোর্টস একাডেমি, সুনামগঞ্জের সঙ্গে। বিকেল ৪টায় মাঠে মাঠে থাকা দুই দলের লড়াই তীব্র হলেও লক্ষ্যভেদে সফল হয়নি কেউই; ফলে খেলাটির ফলাফল অপেক্ষা ঘোষণা করা হলো গোলশূন্য ড্র।

    ম্যাচের ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন এসবিআলী ফুটবল একাডেমির গোলরক্ষক তাজ। দলের টিম ম্যানেজার হিসেবে রয়েছেন মোহাম্মদ ইউসুফ আলী। চীফ কোচ শাহিদুল ইসলাম এবং সহকারী কোচ নুরুল ইসলাম শিমুল দায়িত্বে ছিলেন। দলটিতে থাকা খেলোয়াড়দের মধ্যে আছেন আকাশ, হামিম, হোসাইন, জামিল, রিফাত, ইয়াসিন, শিশির, অন্তর, সুজন, সাব্বির, অংকন, বাইজিদ, সৌরভ, অনিক, রোহিত, তাজ, ইমরান, আবির, নাফিস, রাফি ও আয়ান।

    প্রথম ম্যাচে গোল না হওয়া সত্ত্বেও প্রতিটি দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফরা টুর্নামেন্ট জুড়ে আরও কড়া লড়াই এবং উজ্জ্বল পারফরম্যান্স প্রদর্শন করার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পরবর্তী ম্যাচগুলোও সমানভাবে উত্তেজনাপূর্ণ হওয়ার প্রত্যাশা ছাড়ছে না।