Blog

  • পাঁচ দেশের বাংলাদেশের কূটনীতিকদের একযোগে প্রত্যাহার

    পাঁচ দেশের বাংলাদেশের কূটনীতিকদের একযোগে প্রত্যাহার

    বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আজ রোববার (৮ মার্চ) আধা সরকারি আদেশে পর্তুগাল, পোল্যান্ড, মেক্সিকো, মালদ্বীপ এবং যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত সকল বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারকে একযোগে প্রত্যাহার করে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এই আদেশ অনুযায়ী, তাঁদের সবাইকে অবিলম্বে ঢাকা সদর দপ্তরে যোগদানের জন্য বলা হয়েছে।

    বিশেষ করে, পর্তুগাল, পোল্যান্ড, মেক্সিকো ও মালদ্বীপে নিযুক্ত চারজন রাষ্ট্রদূতকে তাঁদের চলমান দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং ঢাকায় ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। এই চারজন হলেন ড. এম. মাহফুজুল হক (পর্তুগাল), মো. ময়নুল ইসলাম, এনডিসি (পোল্যান্ড), এম মুশফিকুল ফজল আনসারী (মেক্সিকো), এবং ড. মো. নাজমুল ইসলাম (মালদ্বীপ)।

    একই ঘোষণায়, যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মিজ্ আবিদা ইসলামকেও প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাঁকেও দ্রুত লন্ডন থেকে ছেড়ে এসে ঢাকায় ফিরিয়ে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের দূতাবাসে সতর্কতা ও সার্বভৌমত্ব বজায় রাখা লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

  • সাবেক আইজিপি বেনজীরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

    সাবেক আইজিপি বেনজীরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

    জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। আজ রোববার ঢাকার মহানগর বিশেষ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ দেন।

    মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণের জন্য নির্ধারিত শুনানির পরে, আদালত বেনজীরের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ স্বীকার করে নিয়েছেন। আসামি পলাতক থাকায় তার খোঁজ নিতে এবং গ্রেপ্তার করতে এই পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি, পরোয়ানা জারি সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩০ মার্চ তারিখ ধার্য করা হয়।

    অ্যাকসেসটি নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন।

    দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম বিষয়টি জানান, তিনি এই গোপনীয়তা মামলার বাদী। ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর মামলাটি দায়ের করা হয়। তদন্তের পর, ২০২৩ সালের ৩০ নভেম্বর, বিষয়টি উত্থাপন করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তিনি। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বেনজীর আহমেদ তার দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ৬ কোটি ৪৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৫ টাকার স্থাবর সম্পদ ও ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ টাকার অস্থাবর সম্পদ ঘোষণা করেন।

    তদন্তে দেখা যায়, তার নামে বৈধ আয়ের উৎস হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে ৬ কোটি ৫৯ লাখ ৪২ হাজার ৬৬৮ টাকা। তবে, হিসাব করে দেখা যায়, তার একক বা যৌথ ব্যাংক হিসাব, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য স্থানে আয় থেকে বেশ কিছু অস্বাভাবিক সম্পদ বা বিনিয়োগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। মোট আড়াই কোটি টাকারও বেশি অর্থের অস্বাভাবিক অটোবর্ণ ও সম্পদ রয়েছে, যা তার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত।

    অভিযোগপত্রে বলা হয়, এই অশান্তি, প্রকৃতি ও মালিকানা গোপন করে বেনজীর বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে, ব্যবসা ও বিনিয়োগে টাকা সরিয়ে নেন। এই অর্থের উৎস হলো অবৈধ, যা তিনি গোপন করেছেন। এর ফলে, তিনি বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও যৌথ বিনিয়োগে অসাধুভাবে অর্থ স্থানান্তর করেছেন।

  • ঈদের সরকারি ছুটি বাড়ল, পরিপত্র জারি

    ঈদের সরকারি ছুটি বাড়ল, পরিপত্র জারি

    জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় রবিবার (৮ মার্চ) এক পরিপত্রে ঘোষণা করেছে, আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরের সরকারি ছুটি এক দিন বাড়ানো হয়েছে। পরিপত্রটি মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব এ বি এম আবু বাকার ছিদ্দিক স্বাক্ষরিত।

    পরিপত্রে বলা হয়েছে, সরকার কর্তৃক পূর্ব নির্ধারিত শব-ই-কদর ও ঈদুল ফিতরের ছুটির মধ্যবর্তী ১৮ মার্চ (বুধবার) নির্বাহী আদেশে এক দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হলো। এই সময়ে সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে।

    সূত্রের খবর, গত ৫ মার্চ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ঈদের সরকারি ছুটি এক দিন বাড়ানোর প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয় এবং পরে তা অনুমোদন করা হয়।

    চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২১ মার্চ পবিত্র ঈদুল ফিতর পালিত হতে পারে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় আগেই ১৯ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত পাঁচ দিনের ছুটি নির্ধারণ করেছিল। ১৮ মার্চ এক দিন যোগ হওয়ায় এখন সরকারি ছুটি ১৮ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত শোভিত হবে, ফলে আনুষ্ঠানিক ছুটির সংখ্যা পাঁচ থেকে ছয় দিনে বৃদ্ধি পেয়েছে।

    চূড়ান্ত ঈদের তারিখ চাঁদ দেখা সাপেক্ষে নির্ধারিত হবে; সেক্ষেত্রে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরবর্তী নির্দেশনা জারি করবে।

  • ফেব্রুয়ারিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৩২ জন নিহত: রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদন

    ফেব্রুয়ারিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৩২ জন নিহত: রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদন

    রোববার (৮ মার্চ) রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জানায়, গত ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে মোট ৫১৭টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছিল। এসব দুর্ঘটনায় ৪৩২ জন নিহত এবং ১,০৬৮ জন আহত হয়েছেন। একই সময় ৮টি নৌ দুর্ঘটনায় ৩ জন নিহত এবং ৯ জন আহত হয়; আর ৪৩টি রেল ট্র্যাক দুর্ঘটনায় ২৮ জন নিহত এবং ১৪ জন আহত হয়েছেন।

    ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমানের পাঠানো ‘ফেব্রুয়ারি মাসের সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিবেদন’ ওই তথ্যগুলো উপস্থাপন করেছে। প্রতিবেদনের জন্য প্রতিষ্ঠানটি ৯টি জাতীয় দৈনিক, ৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং নিজস্ব তথ্যভাণ্ডার ব্যবহার করেছে।

    নিহতদের যানবাহনভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে মোটরসাইকেল চালক এবং আরোহীদের মধ্যে—১৭৪ জন। এছাড়া বাসের যাত্রী ২২ জন, ট্রাক/পিকআপ/ট্রাক্টর/লরি আরোহী ২৪ জন, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস আরোহী ১৬ জন, থ্রি-হুইলারের (ইজিবাইক/সিএনজি/অটোরিকশা/অটোভ্যান/লেগুনা) আরোহী ৬৪ জন, স্থানীয়ভাবে তৈরি ছোট যানবাহনের আরোহী (নসিমন/ভটভটি/আলমসাধু/টমটম/মাহিন্দ্র) ২৩ জন এবং বাইসাইকেল আরোহী ৭ জন নিহত হয়েছেন।

    অঞ্চনভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায় দুর্ঘটনাগুলো ঘটেছে— ১৫৭টি জাতীয় মহাসড়কে, ২১৩টি আঞ্চলিক সড়কে, ৫৬টি গ্রামীণ সড়কে, ৮৪টি শহরের সড়কে এবং ৭টি অন্যান্য স্থানে। দুর্ঘটনার ধরণ অনুযায়ী সবচেয়ে বেশিটিই ছিল মুখোমুখি সংঘর্ষ—১১৩টি; নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ২২৮টি; পথচারী চাপা বা ধাক্কা দেওয়া ১০৪টি; যানবাহনের পেছনে আঘাত ৬৮টি এবং ৪টি অন্যান্য কারণে ঘটেছে।

    জেলা ও বিভাগের পরিসংখ্যানে ঢাকা বিভাগে দুর্ঘটনা ২৩.৫৯% এবং প্রাণহানি ২৫.২৩% ভাগে ছিল সবচেয়ে বেশি। রাজশাহী বিভাগের জয়েন অনুপাত যথাক্রমে ১৪.৭০% দুর্ঘটনা ও ১৪.৮১% প্রাণহানি; চট্টগ্রাম বিভাগে ১৭.৯৮% দুর্ঘটনা ও ১৬.৮৯% প্রাণহানি; খুলনায় ১৩.১৫% দুর্ঘটনা ও ১৩.১৯% প্রাণহানি; বরিশালে ৫.৪১% দুর্ঘটনা ও ৫.০৯% প্রাণহানি; সিলেটে ৭.১৫% দুর্ঘটনা ও ৬.৭১% প্রাণহানি; রংপুরে ১১.৬০% দুর্ঘটনা ও ১২.০৩% প্রাণহানি; ময়মনসিংহে ৬.৩৮% দুর্ঘটনা ও ৬.০০% প্রাণহানি দেখা গেছে।

    অন্যদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে মোট ১২২টি দুর্ঘটনায় ১০৯ জন নিহত হয়েছে, যা সর্বোচ্চ। বরিশাল বিভাগে সবচেয়ে কম—২৮টি দুর্ঘটনায় ২২ জন নিহত হয়েছেন। রাজধানী ঢাকায় গত মাসে ৩২টি দুর্ঘটনায় ১৭ জন নিহত এবং ৪৬ জন আহত হয়েছেন।

    প্রতিবেদন সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে তুলে ধরেছে— ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, বেপরোয়া গতিবেগ, চালকদের দায়িত্বহীন মনোভাব, অদক্ষতা ও শারীরিক বা মানসিক অসুস্থতা, বেতনের অনিশ্চয়তা ও অনিয়মিত কর্মঘণ্টা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহনের চলাচল, তরুণদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, জনসাধারণের মধ্যে ট্রাফিক নিয়ম অজানা বা মানার অভাব, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বিআরটিএ’র সক্ষমতার ঘাটতি এবং গণপরিবহনে চাঁদাবাজি।

    ফাউন্ডেশন several সুপারিশ করেছে— দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ জোরদার করা, চালকদের বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট করা, বিআরটিএ’র সক্ষমতা বৃদ্ধি, পরিবহন মালিক-শ্রমিক, যাত্রী ও পথচারীর ওপর ট্রাফিক আইন বাধাহীনভাবে প্রয়োগ নিশ্চিত করা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন বন্ধ করে এসবের জন্য আলাদা সার্ভিস রোড নির্মাণ, পর্যায়ক্রমে সব মহাসড়কে রোড ডিভাইডার স্থাপন, গণপরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ করা, রেল ও নৌপরিবহন সংস্কার করে সড়কপথের ওপর চাপ হ্রাস করা, টেকসই পরিবহন কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন এবং সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ যথাযথভাবে প্রয়োগ করা।

    রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলেছে, উল্লিখিত সুপারিশ বাস্তবায়ন না করলে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির আশঙ্কা অব্যাহত থাকবে এবং প্রতিনিয়ত পথকারি জনহানির বিষয়টি রোধ করা কঠিন হবে।

  • মনিরা-মিতু-নুসরাতের নেতৃত্বে ‘জাতীয় নারীশক্তি’ আত্মপ্রকাশ

    মনিরা-মিতু-নুসরাতের নেতৃত্বে ‘জাতীয় নারীশক্তি’ আত্মপ্রকাশ

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সূত্রে বৃহস্পতিবার নয়—আজ রোববার, আন্তর্জাতিক নারী দিবস ৮ মার্চ—রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে দলের সহযোগী সংগঠন ‘‘জাতীয় নারীশক্তি’’ আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করেছে। দলীয় আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এই ঘোষণা করেন।

    নাহিদ ইসলাম জানান, সংগঠনটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বিএনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন; সদস্যসচিব হয়েছেন ডা. মাহমুদা আলম মিতু এবং মুখ্য সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন নুসরাত তাবাসসুম।

    এনসিপির সহযোগী সংগঠন হিসেবে কাজ করলেও জাতীয় নারীশক্তি নারীসুরক্ষা, নারী অধিকার, বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং সাইবার বুলিংসহ বিভিন্ন নারীকেন্দ্রিক ইস্যুতে স্বাধীনভাবে এগিয়ে আসবে বলে organisers জানান।

    নাহিদ ইসলাম অনুষ্ঠানকালে বলেন, ইতিহাস জানায়—নারীদের অধিকার আদায়ে প্রত্যেকটি অর্জন আন্দোলন ও সংগ্রামের ফল। ভোটাধিকার থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক ও সামাজিক অধিকার—এসবের জন্য নারীদের বারবার লড়াই করতে হয়েছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ থেকে সাম্প্রতিক জুলাই আন্দোলন—সব আন্দোলনেই নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ছিলেন।

    তিনি আরও স্মরণ করান, জুলাই আন্দোলনের সূচনালগ্নে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ছাত্রীদের ওপর হামলার ঘটনা জাতীয় কর্মসূচিকে একটি নতুন মাত্রা দিয়েছে। কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় অনেক নারী শিক্ষার্থী অগ্রভাগে ছিলেন—তাই তারা বিশেষভাবে টার্গেট হয়েছিল।

    নাহিদ বলেন, ‘‘জুলাই আন্দোলনে বিপুলসংখ্যক নারী রাস্তায় ছিলেন; তবু পরবর্তী সময়ে রাজনীতিতে নারীর উপস্থিতি কম দেখা গেছে। সামাজিক বাস্তবতা, পারিবারিক চাপ এবং অনলাইন সাইবার বুলিং এসবের অন্যতম কারণ। অনেক নারী কর্মী এসব কারণে রাজনীতি ছেড়েছেন।’’

    তার অভিজ্ঞতায় আলাদা একটি প্ল্যাটফর্মের প্রয়োজন রয়েছে, যেখানে নারী নিজেদের ইস্যু নিয়ে কথা বলে সংগঠিত হতে পারবে—এই চিন্তা থেকেই জাতীয় নারীশক্তি জন্মেছে বলে তিনি জানান। তিনি আরও বলেন, ‘‘জুলাই আন্দোলনে নারীরা বড় স্টেকহোল্ডার ছিলেন; তাদের কণ্ঠস্বর রাজনীতিতে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতে হবে। জাতীয় নারীশক্তি হারিয়ে যাওয়া সেই নারী কণ্ঠগুলোকে আবার সামনে আনার চেষ্টা করবে।’’

    অনুষ্ঠানে নাহিদ সরকারকে নারী সংক্রান্ত সহিংসতা ও সাইবার বুলিং বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বানও জানান এবং বলে দেন, দলমত নির্বিশেষে যেকোনো অপরাধীকে সংবিধান ও আইনের আওতায় আনতে হবে।

    উল্লেখ্য, আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানের পাশাপাশি ‘‘সাম্প্রতিককালে নারীর প্রতি ক্রমবর্ধমান সহিংসতার প্রতিকার এবং ধর্ষণের বিচার’’ শীর্ষক একটি আলোচনা সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। মনিরা শারমিন ও নুসরাত তাবাসসুম অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন; শারীরিক অসুস্থতার কারণে মাহমুদা আলম মিতু উপস্থিত থাকতে পারেননি। অনুষ্ঠানে সাবেক স্থানান্তরকালীন সরকারের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার এবং জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন নারীও উপস্থিত ছিলেন।

    সংগঠনের নেতারা জানান, অচিরেই জাতীয় নারীশক্তির পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে এবং সারাদেশে সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করে জনসম্মুখে তাদের উদ্যোগগুলো নেওয়া হবে। সংগঠনটি উল্লেখ করেছে—নারীর নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার ও সমতা নিশ্চিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য।

  • সংগঠনগত শৃঙ্খলা ভঙ্গ: দিঘলিয়ার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাজ্জাদ বহিষ্কার

    সংগঠনগত শৃঙ্খলা ভঙ্গ: দিঘলিয়ার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাজ্জাদ বহিষ্কার

    খুলনা জেলা শাখার অধীনস্থ দিঘলিয়া উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসেনকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শনিবার ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই বহিষ্কারাদেশ কার্যকর করা হয়।

    এর পাশাপাশি কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার অধীনস্ত অষ্টগ্রাম উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আল মাহমুদ মোস্তাককেও একই অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়েছে। দুজনকে বহিষ্কার করার পেছনে মূলত সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুস্পষ্ট অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে।

    বহিষ্কার সংক্রান্ত এই সিদ্ধান্ত আজ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের (বাসদ) সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির অনুমোদন করেন। কেন্দ্রীয় সংসদের নির্ণয় ও উচ্চ নেতৃত্বের অনুমোদনের পরেই ওই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়।

    চালানো হয়নি কোনো বিস্তারিত অভিযোগের বিবরণ বা পদক্ষেপের সময়সূচি; তবে জানানো হয়েছে, সংগঠনের শৃঙ্খলা বজায় রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাংগঠনিক তদন্ত বা আরও কর্মপন্থা গ্রহণ করা হবে কিনা তা পরবর্তীতে ঘোষণা করা হবে।

  • সোনার দাম ভরিতে সর্বোচ্চ ৯ হাজার ২১৪ টাকা কমল

    সোনার দাম ভরিতে সর্বোচ্চ ৯ হাজার ২১৪ টাকা কমল

    আন্তর্জাতিক বাজারে দরপতনের প্রভাব পড়ে দেশে আজ সোনার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। বুধবার (৪ মার্চ) বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৯ হাজার ২১৪ টাকা পর্যন্ত দাম কমানো হয়েছে। নতুন দাম সকাল সাড়ে ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

    বাজুসের বেঁধে দেওয়া মূল্যে ভালো মানের ২২ ক্যারেট সোনার এক ভরি Now দাম হয়েছে দুই লাখ ৬৮ হাজার ২১৪ টাকা; যেখানে গতকাল সেটা ছিল দুই লাখ ৭৭ হাজার ৪২৮ টাকা। একইভাবে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম নির্ধারিত হয়েছে দুই লাখ ৫৬ হাজার ২৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি দুই লাখ ১৯ হাজার ৪৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম এক লাখ ৭৯ হাজার ১৫৯ টাকা।

    সোনার সঙ্গে রুপার দামও নামানো হয়েছে। নতুন অনুযায়ী ২২ ক্যারেট রুপার এক ভরির দাম ৬ হাজার ৫৩২ টাকা, ২১ ক্যারেট ৬ হাজার ২৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার প্রতি ভরি দাম ৪ হাজার ২৪ টাকা।

    বাজুস জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে ‘পিওর গোল্ড’ বা তেজাবি সোনার দর নেমে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারেও মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও রূপার গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্রে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম এখন দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ১৬৪ ডলারে; যেখানে গতকাল এর দাম ছিল ৫ হাজার ৩৫৯ ডলার।

    গত তিনদিন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দর বাড়ছিল। তবে আজ আবার দরপতন দেখা যাচ্ছে। মাসের শেষের দিকে বিশ্ববাজারে সোনার দর বেড়ে যাওয়ার প্রভাব দেশে থেকেও প্রতিফলিত হয়েছিল—গত ২৯ জানুয়ারি বাজুস একবারে ভরিপ্রতি ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়িয়ে ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম রেকর্ডভাবে দুই লাখ ৮৬ হাজার টাকায় পৌঁছে গিয়েছিল, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

    সংক্ষেপে, আন্তর্জাতিক-বাজারের ওঠানামার স্রোতে স্থানীয় বাজারও অস্থির থাকায় সোনাবাজারে দাম দ্রুত বদল করছে; বাজারের এই ওঠানামার উপর চোখ রাখতেই ক্রেতা-বিক্রেতাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

  • জ্বালানি তেলের দাম ২ বছরে সর্বোচ্চ — বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অশনিসংকেত

    জ্বালানি তেলের দাম ২ বছরে সর্বোচ্চ — বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অশনিসংকেত

    মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম গত দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছায়, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধাক্কার আশঙ্কা জাগিয়েছে।

    কাতারের জ্বালানি মন্ত্রী ও কাতার এনার্জির প্রধান নির্বাহী সাদ আল-কাবি সতর্ক করে বলেছেন, উপসাগরীয় তেল ও গ্যাস রফতানিকারক দেশগুলো কয়েক দিনের মধ্যেই উৎপাদক কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে পারে। তিনি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিকে ধসিয়ে দিতে পারে।

    গতকাল শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে ৯ শতাংশের বেশি বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৩ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা ২০২৩ সালের শরতের পর সর্বোচ্চ। জ্বালানি বিশ্লেষকদের বক্তব্য, যদি এইভাবে দাম বৃদ্ধি অব্যাহত থাকে তবে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় ব্যাপক চাপ পড়বে। পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়া ছাড়াও হিটিং, খাদ্যপণ্য ও আমদানিকৃত পণ্যের দাম দ্রুত বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    কাতার এনার্জি জানিয়েছে তাদের এলএনজি উৎপাদন কেন্দ্রে সামরিক হামলার কারণে উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ করতে হয়েছে। সাদ আল-কাবি জানিয়েছেন, যদি এই যুদ্ধে কয়েক সপ্তাহ স্থায়ীতা থাকে, তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১৫০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।

    তিনি আরও সতর্ক করেছেন যে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বজুড়ে জিডিপি প্রবৃদ্ধি থমকে যাবে, জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া হবে এবং কলকারখানায় উৎপাদন বন্ধ হওয়ায় বিভিন্ন পণ্যের তীব্র সংকট দেখা দেবে।

    বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক পঞ্চমাংশ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত সপ্তাহে ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই ওই সংকীর্ণ জলের পথ ধরে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধের মতো অবস্থা হয়েছে। এর ফলে চীন, ভারত ও জাপানসহ বড় অর্থনীতিগুলো, যারা এই রুটের ওপর নির্ভরশীল, চরম চাপের মুখে পড়েছে।

    রাইস্ট্যাড এনার্জির বিশ্লেষক হোর্হে লিওন এই পরিস্থিতিকে একটি বাস্তব ঝুঁকি হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন এবং জানিয়েছেন, সরবরাহ ব্যবস্থা যদি দুই সপ্তাহের বেশি বন্ধ থাকে তবে সামষ্টিকভাবে মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে।

    যুক্তরাজ্যের বাজার তদারকি সংস্থা সিএমএ এবং জ্বালানি নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফজেম পরিস্থিতি ঘনিয়ে পর্যবেক্ষণ করছে; ইতোমধ্যে সেখানে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চে পৌঁছেছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর কাছে কয়েক সপ্তাহের মজুদ থাকলেও সেটি শেষ হলে এবং যদি উৎপাদন সম্পূর্ণভাবে থেমে যায়, বিশ্ববাজার পরিস্থিতি সামলে ওঠা কঠিন হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অনেক দেশ জরুরি তেল মজুদ বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারে, যেমন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় দেখা গিয়েছিল।

    বর্তমানে অনিশ্চয়তার এই সময়েই বিশ্ব নেতারা ও বাজার পর্যবেক্ষকরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তৎপর; তবে যদি উত্তেজনা কমে না, তাহলে অর্থনৈতিক ধাক্কা এড়ানো কঠিন হবে।

  • ইসরায়েলি হামলায় তেহরান ‘আগুনের নদী’, বিষাক্ত বৃষ্টির সতর্কতা জারি

    ইসরায়েলি হামলায় তেহরান ‘আগুনের নদী’, বিষাক্ত বৃষ্টির সতর্কতা জারি

    ইরানের রাজধানী তেহরানে ইসরায়েলি বিমান হামলার পরে একটি তেল ডিপোতে লাগা আগুন থেকে নয়নাভির্ভাব জ্বালানি নির্গত হয়ে শহরের নর্দমা ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থায় মিশে গেছে, ফলে নগরের একত্রে বিস্তৃত এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভিডিওতে দেখা যায়, শহরের এক দীর্ঘ সড়ক জুড়ে নর্দমার ভেতর দিয়ে আগুনের শিখা বইছে—স্থানীয়রা ঘটনাস্থলকে ‘আগুনের নদী’ বলে অভিহিত করছেন।

    এক্স (পূর্বে টুইটার) প্ল্যাটফর্মে ‘‘লিভিং ইন তেহরান’’ নামের একটি সংস্কৃতি ও শিল্প ভিত্তিক অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা ওই ক্লিপে নর্দমা ও পাশে থাকা রাস্তার ধার বরাবর আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। স্থানীয় সূত্রে ধারণা করা হচ্ছে, তেলের ডিপো ধ্বংস হওয়ার ফলে ছড়ানো জ্বালানি নর্দমায় গিয়ে সেখানে জমে আগুন লাগায় এই ভয়াবহ দৃশ্য সৃষ্টি হয়েছে।

    ইরানের তেল মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, তেহরানের পশ্চিমে আলবোর্জ প্রদেশের কারাজ শহরসহ তিনটি ভিন্ন এলাকায় তাদের জ্বালানি ডিপো ইসরায়েলি হামলার লক্ষ্যবস্ত্র হয়েছে। বিস্ফোরণের ফলে নির্মিত ক্ষতির কথা স্বীকার করে মন্ত্রণালয় ঘটনার কার্যকারণ ও পরিণতি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।

    বিস্ফোরণ ও আগুন নেভাতে গিয়ে পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কায় রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সাধারণ জনগণের জন্য জরুরি সতর্কতা জারি করেছে। সংস্থাটির অনুযায়ী বিস্ফোরণে বাতাসে ছড়িয়ে পড়া রাসায়নিক উপাদান বৃষ্টির সঙ্গে মিশে ‘বিষাক্ত বৃষ্টি’ সৃষ্টি করতে পারে, যা ত্বকে জ্বালাও বা রসে ক্ষত, এবং শ্বাসনালীর মারাত্মক সমস্যা ঘটাতে পারে।

    রেড ক্রিসেন্টের জরুরি নির্দেশনা:

    1. বিস্ফোরণের পরে বৃষ্টির সময় কোনো অবস্থাতেই বাইরে বের হওয়া যাবে না; ঘরে থাকুন এবং দরজা-জানালা সিল করে রাখুন।

    2. বাইরে থাকা অবস্থায় দ্রুত কংক্রিট বা ধাতব ছাদের নিচে আশ্রয় নিন; গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া থেকে বিরত থাকুন।

    3. বৃষ্টির পানি যদি ত্বকের সংস্পর্শে আসে, সেটি কখনো ঘসা যাবে না; অবিরাম ঠান্ডা পানির ধারা দিয়ে আক্রান্ত স্থান ধুয়ে ফেলুন।

    4. বৃষ্টির পানিতে ভেজা পোশাক যত দ্রুত সম্ভব বদলে ফেলুন এবং তা একটি সিল করা ব্যাগে রাখুন।

    এই ঘটনার পর তেহরান প্রদেশে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় রাজ্যের গভর্নর ব্যক্তিগত কার্ডভিত্তিক দৈনিক জ্বালানি কোটাকে ৩০ লিটার থেকে কমিয়ে ২০ লিটারে নামিয়ে দিয়েছেন। ফার্স নিউজ এজেন্সি এই খবর নিশ্চিত করেছে। গভর্নর নাগরিকদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, জ্বালানি সরবরাহের এই সংক্ষিপ্ত কড়াকড়ি মাত্র ২-৩ দিনের জন্য প্রযোজ্য থাকবে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে উঠলে পুরনো কোটা পুনরায় বহাল করা হবে। তিনি জনগণকে অপ্রয়োজনে শঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

    স্বরাষ্ট্র ও উদ্ধারকার্যতৎপর সংস্থাগুলো আগুন নেভানো, পরিবেশগত ক্ষতি নিরূপণ এবং নিরাপদভাবে দূষিত স্থানগুলো পরিচ্ছন্ন করার জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়রা কখনোই অনভিজ্ঞভাবে দূষিত পানি বা ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় যেতে গেলে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

  • ইরানের দাবি: দু’দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ১৩টি আকাশযান ভূপাতিত

    ইরানের দাবি: দু’দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ১৩টি আকাশযান ভূপাতিত

    ইরান জানিয়েছে, গত শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) থেকে শনিবার (৭ মার্চ) পর্যন্ত দেশটির বিভিন্ন এলাকায় তেহরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মোট ১৩টি উন্নতমানের আকাশযান ও ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।

    ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর খাতাম আল–আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দফতরের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে এসব ড্রোনকে বিভিন্ন স্থানে প্রতিহত করা হয়েছে। বিবৃতিটি আনাদোলু সংবাদমাধ্যমে উদ্ধৃত করা হয়েছে।

    বিবৃতিতে বলা হয়, ক্ষেপণাস্ত্র ও আর্টিলারি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে এমকিউ-৯, হারমেস ও অরবিটার ধরনের মোট ১৩টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। এসব ড্রোন ইরানের উত্তর-পশ্চিম, পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলের পাশাপাশি ইসফাহান, কেরমান ও রাজধানী তেহরান অঞ্চলেও ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

    অন্য দিকে সংঘর্ষ তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে পশ্চিম জেরুজালেমে বিস্ফোরণের শব্দ ও বিমান হামলার সাইরেনের খবর পাওয়া গেছে। সংবাদ সংস্থা এএফপি জানায়, সেখানে অন্তত তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ছয়বার বিমান হামলার সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

    ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) প্রতিকারে জানিয়েছে, তারা ইরানের ১৬টি যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে—যেগুলো আইডিএফ বলছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস-এর কুদস বাহিনীর। আইডিএফের এক বিবৃতিতে বলা হয়, শনিবার (৮ মার্চ) রাতে ইসরায়েলের বিমানবাহিনী (আইএএফ) মেহরাবাদ বিমানবন্দরে অভিযান চালিয়ে ওই বিমানগুলো ধ্বংস করেছে।

    উভয় পক্ষের দাবি ও প্রতিক্রিয়ার মধ্যে পরিস্থিতি তত্পর ও উত্তেজনাপূর্ণ থাকার সতর্কতা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। স্বাধীন তদন্ত ছাড়া কোন পক্ষের দাবি নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না এবং সংঘাতের প্রেক্ষিতে পরিবেশ এখনও অস্থিতিশীল রয়ে গেছে।