খুলনার রূপসা উপজেলায় এক মর্মান্তিক ঘটনায় বাসের ধাক্কায় এক নারী নিহত হয়েছেন এবং তার স্বামী মারাত্মক জখম হয়েছেন। এই দুর্ঘটনা ঘটেছে শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রূপসা-মোংলা মহাসড়কের আমদাবাদ এলাকায়। পুলিশ জানিয়েছে, বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার গোরম্ভা গ্রামের অমর কুন্ডু মোটরসাইকেলে বাসে তার স্ত্রী লিলি কুন্ডুকে (৪৯) নিয়ে যাচ্ছিলেন। তারা তখন খুলনা আই হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে যখন তারা আমদাবাদ এলাকায় পৌঁছায়, তখন পেছন দিক থেকে আসা একটি লোকাল বাস নম্বর ঢাকা মেট্রো-জ ১১-২০৮৫ তাদের মোটরসাইকেলটিকে জোরে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেলের পেছনে বসা লিলি সড়কে ছিটকে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। আহত হন তার স্বামী অমর কুন্ডু, যাকে স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। রূপসা থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুর রাজ্জাক মীর জানান, দুর্ঘটনার পর বাসের চালক সাগর (২৬) কে কুদিরবটতলা এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে। এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং ঘটনাস্থলের তদন্ত চলছে।
Blog
-

সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে অস্ত্রসহ দু’জন আটক, জিম্মি তিন জেলে উদ্ধার
সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের পৃথক দুটি অভিযানে অস্ত্র, গোলাবারুদসহ ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর দু’জন সক্রিয় সদস্যকে আটক করা হয়েছে। একই সময়ে, সুন্দরবনের দুশ্চরিত্র ডাকাত জোনাব বাহিনী দ্বারা জিম্মি থাকা তিন জেলেকে উদ্ধার করা হয়। এই তথ্য জানিয়েছেন কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন।
তিনি জানান, গোপন সূত্রের ভিত্তিতে সকালে খুলনার দাকোপ থানাধীন বাইনতলা খাল সংলগ্ন এলাকায় বেইস মোংলা ও আউটপোস্ট নলিয়ানে অভিযান চালানো হয়। অভিযান চলাকালে ডাকাতরা কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে বনভূমির মধ্যে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তবে কোস্ট গার্ডের দল তাদের ধাওয়া করে, প্রথমে দুইটি একনলা বন্দুক, ২৩ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৫ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ৫ পিস ইয়াবা ও নগদ ১১শ’ টাকা সহ দুই সক্রিয় সদস্য মোঃ সোহাগ হাওলাদার (৩৫) ও বাবুল সানা (৪২) কে আটক করে।
আটক দুজনের বাড়ি বাগেরহাটের শরণখোলা ও খুলনার পাইকগাছার। এই অভিযানের কিছুদিন আগে, ৩১ মার্চ, সুন্দরবনের শ্যামনগর থানার হোগলডরা খালসংলগ্ন এলাকায় দুর্বৃত্তরা সাতক্ষীরার তিন জেলেকে জিম্মি করে মুক্তিপণ দাবি করে।
বুধবার, ১ এপ্রিল সন্ধ্যায় কোস্ট গার্ডের আরও একটি যৌথ অভিযান চালানো হয়। এতে উদ্ধার হয়, জিম্মি অবস্থায় থাকা তিন জেলে—ইন্তাজ (৫০), মোশাররফ (৪২), ও আনিস (৪৫)—সহ একটি নৌকা, ডাকাতদের ব্যবহার করা নৌকা, ২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ১ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, তিনটি ওয়াকিটকি চার্জার, তিনটি মোবাইল ব্যাটারি এবং একটি কুড়াল।
উদ্ধারকৃত জেলেরা সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানার বাসিন্দা। বর্তমানে, আসামি, অস্ত্র ও গোলাবারুদ, এবং উদ্ধারকৃত জেলেদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম চলমান। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
-

কুষ্টিয়ায় ১৮ ঘণ্টার ব্যবধানে হাম উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃত্যু
কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হোম আইসোলেশন ওয়ার্ডে ১৮ ঘণ্টার মধ্যে আরো দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই দুই শিশুর মৃত্যু ঘটে গত শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাতে। রাত সাড়ে ৯টার দিকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে আট মাস বয়সী ইব্রাহিম নামে এক শিশু মৃত্যুবরণ করে। এর কিছুক্ষণ পরে, রাত সাড়ে ১২টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের রেনউইক এলাকার পাঁচ মাস ২০ দিন বয়সী 아이জা নামের এক শিশু also মৃত্যু হয়। এভাবেই জেলায় হাম উপসর্গ নিয়ে মোট চার শিশুর মৃত্যু হলো।
ইব্রাহিম দৌলতপুর উপজেলার চঞ্চল হোসেনের ছেলে। সে শুক্রবার বিকেলে হাম ও নিউমোনিয়া উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। অন্যদিকে, আইজা গত চার দিন ধরে চিকিৎসাধীন ছিল।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার হোসেন ইমাম জানান, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টায় ইব্রাহিম নামের শিশুটি হাসপাতালে ভর্তি হয়। সে হাম ও নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত ছিল। অন্যদিকে, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. এ এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম জানান, ৩০ মার্চ সোমবার আইজা নামের শিশুটি হাম ও নিউমোনিয়া নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল।
এপ্রসঙ্গে, শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টায় হাম সংক্রমণে আক্রান্ত হয়ে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আট মাস বয়সী আফরান নামে এক শিশু মারা গেছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় আরো ২০ জন নতুন রোগী হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এখন পর্যন্ত, জেলায় মোট ৩২০ জন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে ২৩০ জন রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। এর মধ্যে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে, এবং ৫-৬ শিশু বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছে।
-

নৈহাটির জিয়া খালের পুনঃসংস্কারে গুরুত্ব দিচ্ছে রূপসা
খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং বিএনপির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতির আলোকে রূপসা উপজেলার নৈহাটি ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ জিয়া খাল পুনঃসংস্কারের জন্য সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই খাল কেবল পানি চলাচলের রাস্তা বা জলাধার নয়, এটি নৈহাটি ইউনিয়নের কৃষি, অর্থনীতি ও জনজীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত একটি প্রাণবন্ত জলর helping défisবিশেষ। খালটির সংস্কার হলে ইউনিয়নের বিভিন্ন জলাশয় ও বিলের পানির প্রবাহ স্বাভাবিক হবে, যা কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে, সেচের সুবিধা বাড়াবে এবং বর্ষা মৌসুমে Excess water নিষ্কাশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় নৈহাটি ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের গোডাউন মোড়ে রূপসা উপজেলা বিএনপির আয়োজিত এক কর্মীসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, একটি কৃষি-ভিত্তিক অর্থনীতি সুস্থভাবে চালানোর জন্য পানি ব্যবস্থাপনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা, ভরে গেছে ও অযত্নে পড়ে থাকা জিয়া খালটি এখন স্বাভাবিক প্রবাহ হারিয়ে ফেলেছে। এর ফলে শুষ্ক মৌসুমে কৃষকরা প্রয়োজনীয় পানি পান করতে না পারায় তারা ক্ষতিগ্রস্ত হন, আবার বর্ষা ও অতিবৃষ্টির সময় পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, যা ফসলি জমি ও নিম্নাঞ্চলকে জলমগ্ন করে তোলে। এর ফলে প্রতি বছরই কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।
অতএব, কৃষকদের আর্থিক ও উৎপাদনক্ষমতা রক্ষা করতে হলে মৌলিক অবকাঠামো—বিশেষ করে খাল, বিল, ড্রেন ও সেচ ব্যবস্থাকে টেকসই ও আধুনিকায়ন করতে হবে। তিনি আশ্বাস দেন, এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম জনগণের জীবনমান উন্নয়ন, কৃষকের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
এছাড়াও আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক খান জুলফিকার আলী জুলু, মোল্লা খায়রুল ইসলাম, কামরুজ্জামান টুকু ও এনামুল হক সজল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রূপসা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মোল্লা সাইফুর রহমান এবং সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব জাবেদ হোসেন মল্লিক। উপস্থিত ছিলেন জেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শেখ আবু সাঈদ, জেলা বিএনপির সদস্য মোল্লা রিয়াজুল ইসলাম, রূপসা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক বিকাশ মিত্রসহ আরও অনেকে। المشاركين में ছিলেন বিএনপি নেতা এস এম আঃ মালেক, মহিউদ্দিন মিন্টু, শেখ মোঃ আবু সাঈদ, খান আনোয়ার হোসেন, আজিজুর রহমান, দিদারুল ইসলাম, মিকাইল বিশ্বাস, শাহালম ভূঁইয়া, খন্দকার শরিফুল ইসলাম, সরদার শিহাবুল ইসলাম, বিভিন্ন মহিলা নেত্রী, বরিষ্ঠ নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা।
-

রাজস্ব দুর্বলতা বাজেট বাস্তবায়নের বড় বাধা: সিপিডি
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) মনে করে, দেশের দীর্ঘকালীন রাজস্ব আহরণে দুর্বলতা বাজেটের সফল বাস্তবায়নের জন্য বড় একটি বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদি নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার সাথে অনুযায়ী রাজস্ব আদায় না হয়, তাহলে উন্নয়ন খরচ ও মোট অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় চাপ আরো বৃদ্ধি পাবে। সোমবার (৩১ মার্চ) রাজধানীর ধানমন্ডিতে আয়োজিত নাগরিক প্ল্যাটফর্মের এক আলোচনায় তিনি এসব মন্তব্য করেন, যেখানে ‘নতুন সরকারের প্রথম বাজেট নিয়ে ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির সম্মানিত ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, জ্বালানি আমদানি ব্যয়ের বৃদ্ধি দেশে চলমান হিসাবের ঘাটতির কারণ হতে পারে এবং এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে। অতএব, বাজেট প্রণয়নের সময় এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সতর্কতার সাথে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজস্ব সংগ্রহে দুর্বলতা দেশের বাজেট বাস্তবায়নের পথে বড় একটি বাধা। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রাজস্ব আদায় না করায় উন্নয়ন ব্যয় ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় চাপ সৃষ্টি হয়। তিনি উল্লেখ করেন, পূর্বের ঋণের বোঝা এবং বর্তমান জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে নতুন করে ঋণ নেয়া অর্থনীতিকে সচল রাখা কঠিন করে তুলছে। এ ছাড়াও মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়ছে। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা ও আমদানি ব্যয়ের বৃদ্ধি দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করছে। এমতাবস্থায়, নতুন সরকারের প্রথম বাজেট বাস্তবসম্মত ও প্রয়োজনীয় সংস্কারভিত্তিক হওয়া আবশ্যক। কর ব্যবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, যাদের এখনও করের আওতায় আনা হয়নি, অন্তর্ভুক্ত করার দিকে নজর দিতে হবে। পাশাপাশি, করের আওতা বৃদ্ধি করার সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষের ওপর করের চাপ কমানোর বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। সরকারি ব্যাংক ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের আয় বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেছেন, যদি এসব প্রতিষ্ঠান নিজেদের আয় বাড়াতে না পারে, তাহলে ভর্তুকি দিয়ে চালানোর যৌক্তিকতা প্রশ্নের মুখে পড়বে।
-

সারা বছরই আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে করদাতাদের জন্য
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান জানিয়েছেন, এখন থেকে করদাতারা সারা বছরই their আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। এই নতুন ব্যবস্থার ফলে করদাতাদের জন্য সুবিধা হবে, কারণ তারা আগে যেখানে নির্দিষ্ট সময়ে রিটার্ন জমা দিতেন, এখন তা আরো সহজ ও সুবিধাজনক হয়ে উঠবে। তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়াটি চার ধাপের মধ্যে ভাগ করা হবে যাতে সমন্বিতভাবে রিটার্ন গ্রহণ ও প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়।
অতিরিক্ত হিসেবে, এনবিআর আশা করছে এই বছর তাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে, আর রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে আগামী তিন মাসের মধ্যে। তারা পরিকল্পনা করছে বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর, যাতে দেশের অর্থনীতির উন্নয়ন হয়।
প্রতি বছর সাধারণত জুনের শেষের দিকে এবং পরবর্তী নভেম্বরের মধ্যেই আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার নির্দেশনা থাকলেও, চলতি অর্থ বছরে সময়সীমা বৃদ্ধি পেয়ে ৩১ মার্চ পর্যন্ত রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ ছিল। এই পরিবর্তনের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয় সময়ের প্রয়োজনীয়তা ও করদাতাদের সুবিধা বিবেচনা।
-

ইতিহাসের সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স মার্চে
দেশে বৌদ্ধিক অবস্থা অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত মার্চ মাসে প্রবাসী বাংলাদেশীরা বিভিন্ন দেশে থেকে নতুন রেকর্ড গড়েছেন। তারা মোট ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার বা প্রায় ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাঠিয়েছেন, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে একক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মার্চ মাসে মোট রেমিট্যান্স আগের মাস ফেব্রুয়ারির চেয়ে প্রায় ৭৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার বেশি। এবারই প্রথমবারের মতো মার্চ মাসে এই অংক ছাড়িয়েছে। গত বছরের একই সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে, এই বার্তা আরও উৎসাহজনক— মার্চ ২০২৫ এ প্রবাসীরা দেশের জন্য পাঠিয়েছেন ৪৬ কোটি ডলার বেশি। ফেব্রুয়ারি ২০২৫ এ রেমিট্যান্স এসেছিল ৩০২ কোটি ডলার, আর মার্চ ২০২৪ এ ছিল ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলার।
বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল মার্চ মাসে, যখন প্রবাসীরা মোট ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলার পাঠিয়েছিলেন। এর আগে ডিসেম্বরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড হয়েছিল, তখন ছিল ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার। তৃতীয় সর্বোচ্চ ছিল জানুয়ারিতে, যেখানে দেশপ্রেমীরা পাঠিয়েছিলেন ৩১৭ কোটি ডলার।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্চ মাসে রেমিট্যান্স বৃদ্ধির পেছনে ঈদ উৎসবের প্রভাব রয়েছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলোতে কাজের সুযোগ এখনও কালের স্বাভাবিক রয়েছে, এবং বেকারত্বের হার খুব বেশি বাড়েনি। এর ফলে, জীবনযাত্রার ব্যয় সামান্য থাকায় প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানোর সক্ষমতা স্থিতিশীল রয়েছে।
তথ্য বলছে, মার্চে দেশের সরকারি ব্যাংকগুলো মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছে ৬৪ কোটি ডলারের বেশি। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশে চলা দুটি ব্যাংকের মধ্যে একটি (কৃষি ব্যাংক) মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে ৪৬ কোটি ৪৭ লাখ ডলার। অন্যদিকে, বেসরকারি ব্যাংকগুলো থেকে এসেছে মোট ২৬৪ কোটি ডলার, আর বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন এক কোটি ২০ হাজার ডলার।
-

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা খেলাপি ঋণসহ ব্যাংকের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে
দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণসহ বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকি আগেভাগেই চিহ্নিত করতে তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর অংশ হিসেবে, তফসিলি ব্যাংকগুলোকে নিরীক্ষা-সংক্রান্ত অন্তর্বতী প্রতিবেদন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-২ একটি সার্কুলার জারি করে এই নির্দেশনা দিয়েছে।
সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘ব্যাংক-কোম্পানি বহিঃনিরীক্ষণ বিধিমালা, ২০২৪’ অনুযায়ী, নিরীক্ষা বছরের নবম মাসের ভিত্তিতে একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন প্রস্তুত করে তা নিরীক্ষা বছর শেষ হওয়ার আগেই বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে হবে। এছাড়া, ২০২৫ সাল এবং পরবর্তীকালের সকল প্রতিবেদনও একই নিয়মে দাখিল করতে হবে।
অতিরিক্তভাবে, ব্যাংকিং খাতের তদারকি আন্তর্জাতিক মানের উন্নীত করতে ইতোমধ্যে সুপারভিশন কাঠামো পরিবর্তন করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে, ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি বা রিস্ক বেইজড সুপারভিশন (আরবিএস) চালু করা হয়েছে।
বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে এখন থেকে প্রতিটি ব্যাংকের পরিবর্তে ঝুঁকি অনুযায়ী নজরদারি বাড়ানো হবে। এতে সম্ভাব্য আর্থিক দুর্বলতা ও অনিয়ম আগাম শনাক্ত করা সহজ হবে। ফলে, ব্যাংকগুলোর আর্থিক স্থিতি, বিশেষ করে ঋণ ঝুঁকি ও খেলাপি ঋণের প্রবণতা আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি, এই ব্যবস্থা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধিও সম্ভব হবে।
-

মার্চ মাসেও অব্যাহত রপ্তানি আয়ে পতন, হার ১৮ শতাংশ
বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের অগ্রগতি মার্চ মাসেও অব্যাহত রয়েছে। গত মাসে রপ্তানি আয় প্রায় ১৮.০৭ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৩.৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৪.২৪ বিলিয়ন ডলার। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) বৃহস্পতিবার এই তথ্য প্রকাশ করেছে। চলতি অর্থবছর (২০২৫-২৬) জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত দেশের মোট রপ্তানি আয় প্রায় ৪.৮৫ শতাংশ কমে ৩৫.৩৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যেখানে একই সময় গত অর্থবছরে তা ছিল ৩৭.১৯ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, সারাদিনের মধ্যেই টানা আট মাস ধরে রপ্তানি আয়ে পতন চলছে।
বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। এই খাতে রপ্তানি আয় প্রায় ৫.৫১ শতাংশ কমে ২৮.৫৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৩০.২৪ বিলিয়ন ডলার। তবে সেই সাথে কিছু কিছু খাতে ইতিবাচক উন্নতি দেখা গিয়েছে। ইপিবি জানায়, মাছ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য এবং প্রকৌশল পণ্যে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির মধ্যেও কিছু খাতে—যেমন হিমায়িত ও জীবিত মাছ, চামড়া, চামড়াজাত পণ্য ও প্রকৌশল পণ্য—সংখ্যায় পরিবর্তন এসেছে যা সামগ্রিক আয়ের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি বিভিন্ন বৈশ্বিক প্রভাবের কারণে দেশের রপ্তানি sector চাপে রয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের সংঘর্ষ এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। পাশাপাশি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের চলমান অবস্থা বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতির জন্য দায়ী। এর ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মতো সব বড় রপ্তানি বাজারে ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে। এই পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা অনেক কমে গেছে এবং বেশ কিছু রপ্তানি আদেশ স্থগিত বা বাতিলের মুখে পড়েছে। এই সব কারণের ফলে দেশের রপ্তানি পরিস্থিতি ব্যাপকভাবে চাপের মধ্যে রয়েছে বলে ইপিবি মনে করছে।
-

অভিষেকের জন্য ৫ সিটির মেয়র প্রার্থী ঘোষণা এএনসিপি’র
ঢাকার দুটি ছাড়াও দেশের পাঁচটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলের মেয়র প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), যা চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া তরুণ নেতৃত্বের দল। রোববার (২৯ মার্চ) রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের নেতা নাহিদ ইসলাম প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করেন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরশনে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরশনে দলের মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব মেয়র পদে লড়বেন। এছাড়া, কুমিল্লা সিটি করপোরশনে দলের যুবশক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম, সিলেট সিটি করপোরশনে এনসিপির সিলেট মহানগর আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. আব্দুর রহমান আফজাল এবং রাজশাহীতে দলের মহানগর আহ্বায়ক মো. মোবাশ্বের আলী মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
এনসিপি আরও জানায়, আগামী এপ্রিলের মধ্যেই বাকি সাতটি সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের জন্য প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। ইতোমধ্যে দলটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন পর্যায়ক্রমে আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে। যদিও বিএনপি ঘোষণা করেছে যে, তারা শিগগিরই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মনোযোগ দেবে; তবে অপ্রত্যাশিতভাবে এখনো সিটির নির্বাচন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়নি। এ সময় দলটির নেতারা বিভিন্ন সিটিতে প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে সরকার প্রশাসনিক কার্যক্রম দলীয়করণ করেছে বলে অভিযোগ করেন। ফলে, নির্বাচনে কোনো দলীয় প্রতীকে ভোটদান সম্ভব হবে না।
নাহিদ ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘সরকার বিভিন্ন সিটিতে প্রশাসক নিয়োগ করে প্রশাসনকে দলীয়করণ করে ফেলেছে। নির্বাচনে প্রশাসকদের মধ্যে কেউ প্রার্থী হতে পারবে না, কোনো দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হবে না। আমরা ছয় মাসের মধ্যে সব স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করার দাবি করছি।’
উপস্থাপকরা ছাড়াও, অনুষ্ঠানে এনসিপির মনোনীত পাঁচ মেয়র প্রার্থী ছাড়াও দলের সদস্য সচিব আখতার হোসেন, কেন্দ্রীয় নেতা সারজিস আলম ও আব্দুল হান্নান মাসউদসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
