Blog

  • সংবিধানকে সংস্কার বলা যাবে না, শুধুই সংশোধন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    সংবিধানকে সংস্কার বলা যাবে না, শুধুই সংশোধন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    সংসদে বলেছেন, সংবিধান কখনই ‘সংস্কার’ হয় না — এটি সংশোধন, স্থগিত বা রহিত করা হয়। রোববার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ৭১ সালের জাতীয় সনদ ও সংবিধান সংশোধন বিষয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ এ মন্তব্য করেন।

    তিনি সবদলীয় সমন্বয়ে একটি ‘বিশেষ সংসদীয় কমিটি’ গঠনের প্রস্তাবও দেন, যাতে সংবিধান কীভাবে সংশোধন করা হবে তা নিয়ে বিনিময় ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ৭১ সালের ছাত্র-জনতা ও জনগণের অভ্যুত্থানের উদ্দেশ্যকে আমরা সম্মান জানাই। সেই যাত্রার সারসংক্ষেপ—৭১ সালের জাতীয় সনদ ও ঘোষণাপত্র—আমরা সংবিধানে ধারণ করার প্রতিশ্রুতি নিয়েছি। এর বিন্যাস চতুর্থ তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে তিনি ব্যক্ত করেন যে, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার সঙ্গে কোনো কিছুর তুলনা করা যায় না।

    সালাউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনের সময় সংবিধানে অনেক ধরনের ‘লেজিসলেটিভ ফ্রড’ বা আইনি মিলভাগ হয়েছে, যার কিছু অংশ হাইকোর্ট ইতোমধ্যে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছে। বাকি অংশের বিষয়ে সার্বভৌম সংসদই সিদ্ধান্ত নিয়ে তা বাতিল বা সংশোধন করবে। বিশেষত ৫, ৬ ও ৭ নম্বর তফসিলে যে ভুল ইতিহাস ও তথাকথিত স্বাধীনতার ঘোষণাগুলো চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো পরিষ্কার করে বিলুপ্ত করা প্রয়োজন হবে।

    তিনি জানান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং ২৭ মার্চ কালুরঘাট থেকে প্রোভিশনাল হেড অব স্টেট হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন—এই ঘটনাকেই প্রকৃত ইতিহাস হিসেবে সংবিধানে ফিরিয়ে আনা হবে।

    সংবিধানের মৌলিক নীতির কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ নীতিটি আমরা পুনর্বহাল করতে চাই।’ তিনি বলেন, এটি আগেও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন, পরে এক ফ্যাসিস্ট শাসনামল এটি বাদ দিয়েছিল। যদিও জাতীয় সংশোধনের প্রক্রিয়ায় কিছু দলের আপত্তির কারণে তা রাখা হয়নি, তবু সরকার এটি ফিরিয়ে আনার প্রতিজ্ঞায় দৃঢ়।

    রাষ্ট্রক্ষমতার প্রধান অধিকারী জনগণ—এমন কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, সেই ক্ষমতা সংসদের মাধ্যমে প্রয়োগ হয়। সরকারের ম্যান্ডেট অনুযায়ী তারা একটি ১০০ সদস্যবিশিষ্ট উচ্চকক্ষ প্রবর্তনের প্রস্তুতি নিয়েছে, যেখানে রাজনৈতিক দলগুলোকে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব দেয়া হবে।

    শেষে বিরোধী দলকে উদ্দেশ্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন, ‘‘সরকারি দল, বিরোধী দল এবং স্বতন্ত্র সদস্যরা মিলেই বিশেষ সংসদীয় কমিটিতে বসে আলোচনা করুন। সংবিধান কীভাবে সংশোধিত হবে, তা এই সংসদেই নির্ধারিত হবে—বাহ্যিক কোনো প্রেসক্রিপশনের ভিত্তিতে নয়।’’

  • চব্বিশের অর্জন রক্ষা না হলে ২০২৬-২০২৭ সালে পুনরায় অভ্যুত্থানের আশঙ্কা—আসিফ

    চব্বিশের অর্জন রক্ষা না হলে ২০২৬-২০২৭ সালে পুনরায় অভ্যুত্থানের আশঙ্কা—আসিফ

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সরকারকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। রোববার (৫ এপ্রিল) দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের অর্জন ও চেতনাকে রক্ষা করা না হলে ২০২৬ কিংবা ২০২৭ সালে একই ধরনের তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। তিনি ইতিহাসের উদাহরণ টেনে বলেন, ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানের অর্জন রক্ষা করা হয়নি—এর ফলেই ১৯৭১ সালের ঘটনার পথ তৈরি হয়েছিল।

    সংবাদ সম্মেলনটি আয়োজিত হয়েছে সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত ও নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে—বিশেষ করে গণভোটের ফল উপেক্ষা, গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সংস্কারের জরুরি অধ্যাদেশ বাতিল এবং সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে।

    আসিফ বলেন, বিএনপি বারবার সংবিধান কথা বললেও প্রশাসক নিয়োগের ক্ষেত্রে সংবিধানই ভঙ্গ করছে। সংবিধানে স্থানীয় সরকার সংস্থায় জনপ্রতিনিধি নিয়োগে ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের থাকার কথা স্পষ্টভাবে বলা আছে; কিন্তু যে অধ্যাদেশগুলো আগেই জারি ছিল সেগুলো বজায় রেখে নির্বাহী প্রশাসনের হাতে এমন ক্ষমতা রেখে দেওয়া হচ্ছে যে, কোনো নির্বাচিত প্রতিনিধিকে anytime অপসারণ করা সম্ভব হবে। এর ফলে বিরোধী পক্ষের প্রতিনিধিকে ভয় দেখিয়ে অনুগত ‘প্রশাসক’ বানিয়ে রাখার সুযোগ তৈরী হচ্ছে—যা স্পষ্টতই সংবিধান লঙ্ঘন।

    তিনি ফোনে আড়ি পাতার ক্ষমতা নিয়েও উদ্বেগ উত্থাপন করেন। বলেন, আওয়ামী শাসনের সময় প্রায় ১৮-১৯টি সংস্থার কাছে ব্যক্তিগত ফোনে নজরদারি চালানোর ক্ষমতা ছিল এবং তাদের ওপর কোনো কার্যকর আইনগত বাধ্যবাধকতা ছিল না। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকার সে ক্ষমতা সীমিত করে মাত্র চারটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছিল এবং আদালতের অনুমতিকে বাধ্যতামূলক করেছিল। বর্তমান সরকার সেই সংস্কারধর্মী অধ্যাদেশটি বাতিল করে আবারও ১৮-১৯টি এজেন্সির হাতে অপ্রতিবদ্ধ নজরদারি ক্ষমতা ফিরিয়ে দিচ্ছে—এটি জনগণের ব্যক্তিগত স্বাধীনতার জন্য বিপজ্জনক, বলেছেন তিনি।

    মুখপাত্র আরও বলেন, অতীতেই আমরা ফ্যাসিবাদের ছাপ দেখেছি, আর এখন সরকারের মধ্যে স্বৈরাচারের লক্ষণ পরিষ্কার হয়ে উঠছে। যদি বর্তমান সরকার গণভোটের রায় মেনে না নেয়, উত্তর থেকেই তারা ‘অবৈধ সরকার’ হিসেবে ঘোষণা করা হবে, সতর্ক করে বলেন আসিফ। তিনি আরও জানায়, যেভাবে সরকার আমাদের অর্জনগুলো ধূলিসাৎ করতে সময় নিচ্ছে না, আমরাও তাদের অবৈধ ঘোষণায় দেরি করব না।

    আসিফ দাবি করেন, শুরু থেকেই এনসিপি এই সরকারকে সহযোগিতা করতে চেয়েছে, কিন্তু সরকারের সদিচ্ছার অভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না। বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় সব অংশীজনকে নিয়ে আলোচনা־সমাধান করতে চান তারা; তবে গণভোটকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া নাটকীয়তার কারণে বাধ্য হয়ে সড়কে নামার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, রাজপথে নামা কারোর জন্যই মঙ্গলজনক হবে না, কিন্তু বিকল্পও আর নেই।

    সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির সংস্কার কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট জাবেদ রাসেল, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারসহ দলের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

  • কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করছে: মির্জা ফখরুল

    কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করছে: মির্জা ফখরুল

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সামাজিক ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদারি করে একটি নতুন বাংলাদেশের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করছে এবং তা রুখে দিতে হবে। রোববার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর মাদানি অ্যাভিনিউয়ে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ইস্টার সানডে অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, “কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করছে। আমাদের সমাজ থেকে ‘ঘৃণা’ শব্দটিকে চিরতরে বিদায় দিতে হবে। ঘৃণা নয়, বরং মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও সৌহার্দ্যই হোক আমাদের পথচলার মূল শক্তি।”

    তিনি জোর দিয়েছেন যে বাংলাদেশ এমন একটি ভূখণ্ড যেখানে সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে বেঁচে এসেছে। ‘‘এই দেশে ইসলামসহ সকল ধর্মের লোকেরা রয়েছে; খ্রিষ্টান ও বৌদ্ধসহ সবাই একে অপরের অবিচ্ছেদ্য অংশ,’’ বলেন তিনি। অতীতে ধর্মীয় ভিত্তিতে যে বিভাজনের চেষ্টা হয়েছে, সেগুলো থেকে সবাইকে সরে এসে সংহতি গঠনের পথে হাঁটতে হবে—এই বার্তাটিও তিনি দিচ্ছেন।

    খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘আপনাদের সমর্থন ও সহযোগিতায় আমরা আগামীতে একটি সমৃদ্ধ সরকার গঠন করতে চাই। আমাদের সামনে অনেক কাজ রয়েছে, তা সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সম্পন্ন করতে হবে।’’

    অনুষ্ঠানে তিনি সকল মহলকে ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও সৌহার্দ্যের ভিত্তিতে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান এবং বিদ্বেষ ও বিভাজনকে প্রতিহত করার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

  • জ্বালানি-বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে ব্যাংকের লেনদেন সময় এক ঘণ্টা কমল

    জ্বালানি-বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে ব্যাংকের লেনদেন সময় এক ঘণ্টা কমল

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কথা বিবেচনা করে ব্যাংকের লেনদেনের সময় এক ঘণ্টা কমিয়ে নতুন সময়সূচি ঘোষণা করেছে।

    নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যাংকে লেনদেন চলবে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত। ব্যাংকের অফিস সময় নির্ধারণ করা হয়েছে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

    বাংলাদেশ ব্যাংক এই নির্দেশনা শনিবার (৪ এপ্রিল) জারি করে এবং জানিয়েছে, সরকার ঘোষিত পরিবর্তিত অফিস সময়সূচি ৫ এপ্রিল থেকে পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

    এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ব্যাংকগুলোর স্বাভাবিক লেনদেন সময় ছিল সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা, আর অফিস খোলা থাকত সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।

    একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ন নিশ্চয়তা হিসেবে বলা হয়েছে যে সমুদ্র, স্থল ও বিমানবন্দরের (পোর্ট ও কাস্টমস) এলাকায় থাকা ব্যাংকের শাখা, উপশাখা ও বুথ—এইসব স্থানে আগের মতোই সপ্তাহের সাত দিন ২৪ ঘণ্টা সেবা চালু রাখা হবে।

    এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) মন্ত্রিসভার বৈঠকে দেশে চলছে এমন জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারি ও বেসরকারি সব অফিসের সময়সীমা পুনর্নির্ধারণ করা হয়। সরকার বাস্তবে অফিস সময় এক ঘণ্টা কমিয়ে সাত ঘণ্টা নির্ধারণ করেছে—সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা। পাশাপাশি সন্ধ্যা ৬টার পর শপিংমল ও দোকানপাট বন্ধ রাখার এবং বিয়ে বাড়িতে আলোকসজ্জা বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    সরকারি সিদ্ধান্তগুলোর লক্ষ্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খরচ কমানো এবং সাময়িক সংকট শাসন করা। ব্যাংকিং খাতেও এই পরিবর্তন একই প্রেক্ষাপটে নেওয়া হয়েছে বলে ব্যাংক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

  • খেলাপি ঋণসহ ঝুঁকি শনাক্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা

    খেলাপি ঋণসহ ঝুঁকি শনাক্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা

    বাংলাদেশ ব্যাংক খেলাপি ঋণ এবং অন্যান্য ঝুঁকি আগে থেকে শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ করার জন্য তদারকি জোরদার করেছে। তফসিলি ব্যাংকগুলোকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিরীক্ষা-সংক্রান্ত অন্তর্বতী প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-২ থেকে একটি সার্কুলার জারি করে এ বিষয়ে কর্মপদ্ধতি ঘোষণা করা হয়। সার্কুলারে বলা হয়েছে যে ‘ব্যাংক-কোম্পানি বহিঃনিরীক্ষণ বিধিমালা, ২০২৪’ অনুযায়ী নিরীক্ষা বছরের নবম মাসের ভিত্তিতে একটি অন্তর্বতীকালীন প্রতিবেদন প্রস্তুত করে সেই নিরীক্ষা বছরের শেষ তারিখের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে হবে। ২০২৫ সাল ও পরের সময়ের সব প্রতিবেদনও একই নিয়মে দাখিল করতে হবে।

    সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী ব্যাংকিং খাতের তদারকি শক্ত করে তুলতে সুপারভিশন কাঠামোয় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ঝুঁকিভিত্তিক সুপারভিশন বা রিস্ক বেইজড সুপারভিশন (আরবিএস) চালু করা হয়েছে। এতে সব ব্যাংককে একইমাত্রায় না দেখে ঝুঁকি বেশি যেখানে সেখানে নজরদারি বাড়ানো হবে।

    নতুন ব্যবস্থায় উচ্চঝুঁকির ব্যাংকগুলোর আর্থিক কার্যক্রম এবং ঋণপোর্টফোলিওকে বেশি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। ফলে সম্ভাব্য আর্থিক দুর্বলতা, অনিয়ম এবং খেলাপি ঋণের প্রবণতা আগে থেকেই চিহ্নিত করা সম্ভব হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা দ্রুত নেওয়া যাবে।

    বিশ্লেষকরা মনে করেন, যদি এই নির্দেশনা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয় তাহলে শুধু খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণই নয়, সামগ্রিকভাবে ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাও বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা ও আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  • ‘ইরান ধ্বংস’ হুমকির পরই সুর পাল্টে চুক্তির আশা জানালেন ট্রাম্প

    ‘ইরান ধ্বংস’ হুমকির পরই সুর পাল্টে চুক্তির আশা জানালেন ট্রাম্প

    ট্রাম্প রোববার (৫ এপ্রিল) ট্রুথ সোশালে ইরান ধ্বংস করার হুমকি দেওয়ার পরও পরক্ষণেই সুর পালেটেছেন এবং সোমবার (৬ এপ্রিল) তার সঙ্গে একটি চুক্তি হওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন।

    ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করছে এবং দ্রুতই—সম্ভবত সোমবারের মধ্যে—একটি চুক্তি দেখা যেতে পারে। একইদিনে ট্রুথ সোশালে তিনি তেহরানকে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। ওই পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘মঙ্গলবার ইরানের জন্য বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সেতু ধ্বংসের দিন হবে, সব কিছু গুড়িয়ে দেওয়া হবে… আল্লাহর কাছে দোয়া করো।’

    তবে তেহরান বারবার জোর দিয়ে বলেছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনও আলোচনা শুরু করেনি এবং এসব দাবি অস্বীকার করেছে।

    পটভূমি হিসেবে জানা যায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হানায় উত্তেজনা বাড়তে শুরু করে এবং এর জবাবে ইরানও প্রতিহতভাবে পদক্ষেপ নিয়েছে। তেহরান গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী বিদেশি শক্তি ও তাদের মিত্রদের জন্য সীমিত বা বন্ধ করে দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত নিয়ছে, যা বিশ্বের জ্বালানি তেল বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে। ফলত ওই জলপথ পুনরায় খোলার বিষয়ে চাপ বাড়ায় ট্রাম্পের দ্রুত ফলাফল দাবি করা।

  • খুলনায় অস্ত্র-গোলাবারুদসহ পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘গজাল’ ইমন গ্রেপ্তার

    খুলনায় অস্ত্র-গোলাবারুদসহ পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘গজাল’ ইমন গ্রেপ্তার

    খুলনা মহানগর পুলিশের দৌলতপুর থানা ও মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যৌথ অভিযানে পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমন হাওলাদার ওরফে গজাল ইমন (২৩) গ্রেপ্তার হয়েছেন।

    গ্রেপ্তার ইমন দৌলতপুর থানাধীন মহেশ্বরপাশা বুচিতলা এলাকার বাসিন্দা এবং আলমগীর হোসেনের ছেলে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

    কেএমপির মিডিয়া সেলের সূত্রে জানা যায়, শনিবার দিবাগত ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নগরীর রায়েরমহল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। পরে ইমনের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে মহেশ্বরপাশা কার্তিককূল উত্তর ঘোষপাড়া এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।

    উদ্ধারকৃত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে দুইটি ওয়ান-শ্যুটার গান, একটি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, পিস্তলের এক রাউন্ড গুলি এবং ওয়ান-শ্যুটার গানের চার রাউন্ড কার্তুজ। পুলিশ বলছে, এসব অস্ত্র-গুলোবারুদ ইমনসহ গ্রেপ্তারদের কাজে ব্যবহার করা হতো।

    প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ইমন হাওলাদারের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র সত্যসহ দস্যুতা ও চুরিসহ মোট সাতটি মামলা রয়েছে। পুলিশ তাকে তালিকাভুক্ত একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে জানায় এবং ঘটনার আর্থিক ও সহযোগী জট সংক্রান্ত আরও তদন্ত চালানো হচ্ছে।

  • নতুন তরুণ উদ্যোক্তারা গড়ে উঠলে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে

    নতুন তরুণ উদ্যোক্তারা গড়ে উঠলে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে

    বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হিসেবে উদ্বুদ্ধকরণ ও সৃজনশীল ব্যবসা ধারণা ও স্টার্টআপ বিকাশে ব্যাংকসহ বিকল্প অর্থায়ন নিয়ে ‘ইউথ এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড স্টার্টআপ ফর স্টুডেন্টস’ শীর্ষক একটি কর্মশালা রোববার (৫ এপ্রিল) খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিল্প মন্ত্রণালয়াধীন এসএমই ফাউন্ডেশন এই প্রোগ্রাম আয়োজন করে এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও খুলনা ইউনিভার্সিটি ক্যারিয়ার ক্লাব এতে সহযোগিতা করেছে।

    সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের লিয়াকত আলী মিলনায়তনে 열린 উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও অতিথিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন নতুন সম্ভাবনার পথে এগিয়ে যাচ্ছে এবং বর্তমান সরকারের যুবদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার বিভিন্ন উদ্যোগের বাস্তব প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।

    উপাচার্য আরও বলেন, দেশে চাকরির সুযোগ সীমিত থাকায় শুধু চাকরির ওপর নির্ভর না করে নিজ উদ্যোগে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর জাতির কচ্ছপী প্রত্যাশা আছে — তারা যদি উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠে, তাহলে তা দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে। ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য সফলতা অর্জন সম্ভব, তাই তরুণদের এ ক্ষেত্রে উৎসাহিত করা প্রয়োজন।

    খুবি প্রশাসন জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইউনিভার্সিটি ইনোভেশন হাব’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এই হাব-এর মাধ্যমে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এবং প্রশিক্ষণ শেষে সীড মানি দিয়ে উদ্যোক্তা হওয়ার পথ সুগম করা হচ্ছে। উপাচার্য বলেন, বাস্তবসম্মত আইডিয়া থাকলে উদ্যোক্তা হিসেবে সফল হওয়া সহজ; অনেক প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগে আগ্রহী। তাই যুগোপযোগী ধারণা তৈরি ও সফট স্কিল অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

    অনুষ্ঠান সভাপতিত্ব করেন এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ আনোয়ার হোসেন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ হারুনর রশীদ খান, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ নূরুন্নবী, বাংলাদেশ ব্যাংক, খুলনা কার্যালয়ের নির্বাহী পরিচালক মোঃ রুকনুজ্জামান এবং স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল হাই। এসএমই ফাউন্ডেশনের জেনারেল ম্যানেজার আব্দুস সালাম সরদার সভাকে স্বাগত জানান। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন ক্যারিয়ার ক্লাবের তাসমিয়া ইসলাম তিশা ও ফাহিম খান।

    উদ্বোধনী আলোচনায় বক্তারা মন্তব্য করেন যে, তরুণদের সামনে এখন অসীম সম্ভাবনা খোলা আছে। শুধু চাকরি নয়, উদ্যোক্তা হয়ে নিজে ও অন্যদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব, যা দেশকে গর্বিত করবে। উদ্যোক্তা তৈরিতে ইতোমধ্যে বহু প্রতিষ্ঠান কাজ করছে; তাই নতুন প্রজন্মকে ইনোভেটিভ আইডিয়া নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।

    বক্তারা আরও বলেন, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে শক্তিশালী করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে বড় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের ছোট কোম্পানিগুলোরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। মেন্টরশিপ, বিনিয়োগ এবং দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের পথ সহজ করা সম্ভব।

    উদ্বোধনী পরবর্তী তিনটি প্লেনারি সেশনে উদ্যোক্তা উন্নয়ন, স্টার্টআপ গঠন, মেন্টরশিপ ও ব্যবসায়িক প্রশিক্ষণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। অনুষ্ঠানে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (খুলনা) থেকে মোটকরে প্রায় তিনশত শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।

  • কমিটির ডাকে সাড়া না দেওয়ার কারণ জানালেন আসিফ মাহমুদ

    কমিটির ডাকে সাড়া না দেওয়ার কারণ জানালেন আসিফ মাহমুদ

    জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) গত মাসে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সর্বশেষ নির্বাচনের স্বচ্ছতা যাচাইয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। ওই কমিটি আজ এনএসসিতে তাদের প্রতিবেদন জমা দিলেও তার সাক্ষাৎকারে অংশ নেননি সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

    নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে পোস্ট করে তিনি এ বিষয়ে কারণ তুলে ধরেছেন। তিনি জানিয়েছেন, তিনি কেন বিসিবি সংক্রান্ত তদন্ত কমিটির ডাকে সাড়া দেননি—প্রথমত, মন্ত্রণালয় একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বিসিবির ওপর এখতিয়ারবহির্ভূতভাবে তদন্ত করছে। দ্বিতীয়ত, তদন্ত কমিটির গঠনের প্রজ্ঞাপনে সিদ্ধান্ত আগেই নির্ধারিত করা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তৃতীয়ত, এই বিষয়ে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন পরিস্থিতি থাকা সত্ত্বেও তদন্ত চালানো হচ্ছে, যা আদালত অবমাননার আশঙ্কা তৈরি করে। চতুর্থত, তিনি অভিযোগ করেছেন যে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বোর্ড পরিচালকদের ভবিষ্যৎ পরিচালকের পদ প্রলোভন দেখিয়ে রাজি করাচ্ছেন বা রাজি না হলে ভয়-ভীতি দেখিয়ে পদত্যাগ করানো হচ্ছে।

    আসিফ আরো বলেছেন, তদন্ত কমিটি তাকে সাক্ষাৎকারের জন্য জানিয়েছিল বিষয়টি উচ্চ আদালতে বিচারাধীন। তিনি জানতে চেয়েছিলেন, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তদন্ত পরিচালনা করা কতটুকু আইনসম্মত—কিন্তু সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা পাননি। সরকারের কাজকর্ম, প্রজ্ঞাপনের প্রয়োগ ও কোন বিষয়গুলো বিচারাধীন বলে গণ্য হবে—এসব নিয়ম-নীতিই তিনি বিবেচনায় রেখে এসব অনুদ্ধত ও সম্ভাব্য আদালত অবমাননার কাজে অংশ নেবেন না বলে পরিষ্কার করে দেন। সেই কারণেই তিনি তদন্ত কমিটির নোটিশে সাড়া দেননি।

    এনএসসি ১১ মার্চ সাবেক একজন বিচারপতির নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল। কমিটির মূল দায়িত্ব ছিল নির্বাচন প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ছিল কি না তা খতিয়ে দেখা। তারা ১৫ কার্যদিবসের সময় পেয়েও নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

    প্রেক্ষাপট হিসেবে বলা যায়, গত বছরের ৬ অক্টোবর ঢাকা ক্লাব সংগঠকদের একটি অংশ বিসিবির নির্বাচনে বর্জন ঘোষণা করেছিল এবং তারপর থেকেই দেশের ক্লাব ক্রিকেট কার্যত থমকে পড়ে। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল) এখনও মাঠে শুরু না হওয়ায় ক্রিকেটার ও সংশ্লিষ্টরা সামাজিক মাধ্যমে হতাশা উড়িয়ে ধরেছেন।

  • রাজধানীতে সন্ধ্যা ৬টার পর সিনেমা শো বন্ধ

    রাজধানীতে সন্ধ্যা ৬টার পর সিনেমা শো বন্ধ

    ঈদের সাজ সারতেই সিনেমাপ্রেমীদের জন্য একইসঙ্গে হতাশার খবর এসেছে। রাজধানীর জনপ্রিয় মাল্টিপ্লেক্স ব্লকবাস্টার সিনেমাস জানিয়েছে, ৫ এপ্রিল থেকে অনির্দিষ্টকাল প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টার পর তাদের সব শো বন্ধ থাকবে।

    প্রতিষ্ঠানটি শনিবার একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, সম্প্রতি জারি হওয়া সরকারি জরুরি নির্দেশনার কারণে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। নির্দেশনায় প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টার পর দোকানপাট ও মার্কেট বন্ধ রাখার বিধান থাকায় প্রাইমটাইম হিসেবে বিবেচিত রাতের শো স্থগিত রাখতে হচ্ছে।

    ব্লকবাস্টার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৫ এপ্রিল থেকে সন্ধ্যার পরের শোর জন্য যাদের আগাম টিকিট কাটা আছে, তাদের টিকিটের টাকা নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় ফেরত দেওয়া হবে। দর্শকদের সুবিধার জন্য ফেরত প্রক্রিয়া কীভাবে হবে সেই নির্দেশনা তারা শিগগির জানাবে।

    এই ঘোষণায় দর্শকদের মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশা দেখা দিয়েছে—বিশেষ করে যারা ঈদের ছুটিতে সিনেমা দেখার পরিকল্পনা করে রেখেছিলেন। সন্ধ্যার পরই সাধারণত বেশি দর্শক থাকে, তাই এই সময়ের শো স্থগিত হওয়া হলে ব্যবসায়িক ক্ষতিও বড় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    প্রভাব পড়েছে দেশের বড় মাল্টিপ্লেক্স চেইন স্টার সিনেপ্লেক্সেও। প্রতিষ্ঠানটির জ্যেষ্ঠ বিপণন কর্মকর্তা মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, তারা সরকারি নির্দেশনা পর্যালোচনা করছেন। আপাতত ৫ ও ৬ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টার পরের সব শো স্থগিত রাখা হয়েছে এবং পরবর্তী সিদ্ধান্তগুলো ধাপে ধাপে তাদের ওয়েবসাইটে জানানো হবে।

    স্টার সিনেপ্লেক্স জানিয়েছে, এই দুই দিন অগ্রিম টিকিট বিক্রি না করায় দর্শকদের রিফান্ড জটিলতায় পড়তে হচ্ছে না। ব্লকবাস্টারের মতো অন্যান্য হলে থাকলে কিভাবে ফেরত দেওয়া হবে সে বিষয়ে তারা আলাদা নীতিমালা অনুসরণ করতে বলেছে।

    অন্যদিকে, শুধু বড় মাল্টিপ্লেক্সই নয়, দেশের অন্যান্য ছোট-বড় প্রেক্ষাগৃহও একই পথে হাঁটার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত চলমান সিনেমা বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং ব্যবসায় প্রবাহে অনিশ্চয়তা বাড়াতে পারে।

    কোনো ভ্রমণ বা শো দেখার পরিকল্পনা থাকলে দর্শকদের অনুরোধ করা হচ্ছে সংশ্লিষ্ট থিয়েটারের অফিসিয়াল চ্যানেল বা ওয়েবসাইট নিয়মিত পরীক্ষা করতে এবং টিকিট সংক্রান্ত তথ্য জানার জন্য সরাসরি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে।