Blog

  • ১৭টি ব্যাংক লোকসানে, সিএসআর ব্যয় কমে প্রায় অর্ধেক

    ১৭টি ব্যাংক লোকসানে, সিএসআর ব্যয় কমে প্রায় অর্ধেক

    ২০২৪ সালে দেশের ব্যাংকখাত বড় ধরনের আর্থিক চাপে পড়েছে এবং এর পরভাব দেখা দিয়েছে ২০২৫ সালে কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাতে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের বিশ্লেষণে জানা গেছে, ২০২৫ সালের (জানুয়ারি-ডিসেম্বর) মধ্যে দেশের ৬১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক মোট মাত্র ৩৪৫ কোটি ৫ লাখ টাকা সিএসআর খাতে ব্যয় করেছে — যা আগের বছরের তুলনায় ২৭০ কোটি ৯১ লাখ টাকা বা প্রায় ৪২ শতাংশ কম। এটি গত এক দশকে সিএসআর ব্যয়ে সর্বনিম্ন রেকর্ড।

    তথ্যগুলো দেখায়, ২০১৫ সালের ৫২৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকার রেকর্ডের পর এবার সেচ্ছাসেবামূলক এই খাতে ব্যয় পুনরায় নিম্নমুখী হয়েছে — সেই বছরের তুলনায় প্রায় ১৮২ কোটি টাকা বা ৩৪.৫৭ শতাংশ হ্রাস। একই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে সিএসআর ব্যয় ছিল ৬১৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা; ২০২৩ সালে এই ব্যয় ছিল ৯২৪ কোটি ৩২ লাখ এবং ২০২২ সালে ছিল ১,১২৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে সিএসআর ব্যয় প্রায় ৫১৩ কোটি টাকা বা ৪৫ শতাংশেরও বেশি কমেছে।

    ব্যাংকখাতের শীর্ষস্থানীয়রা ও বিশ্লেষকরা বলছেন এর পেছনে প্রধান কারণটি রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আর্থিক অনিয়মের তথ্য ফাঁস। ২০২৪ সালের মাঝামাঝি জুন-জুলাইয়ে ছাত্র-জনতা আন্দোলন ও পরে সরকার পরিবর্তনের কারণে ব্যাংকিং কার্যক্রমে চাপ পড়ে। একই সময়ে অনেক ব্যাংকের অনিয়ম, লুটপাট ও অর্থপাচারের ঘটনা প্রকাশ্যে আসায় কাগজে প্রদর্শিত মুনাফার বিপরীতে প্রকৃত আর্থিক চিত্র সামনে আসে। খেলাপি ঋণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃত ক্ষতিও স্পষ্ট হয় এবং কিছু শরিয়াভিত্তিক ব্যাংক বিশেষভাবে বড় চাপে পড়ে। দুর্বল ব্যাংকগুলোর স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার করতে সরকার একাধিক ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে।

    ব্যাংকারদের বক্তব্য অনুযায়ী, পূর্ববর্তী রাজনৈতিক সময়ে বিভিন্ন স্তর থেকে অনুদান বা সহায়তার চাপ থাকায় ব্যাংকগুলোকে সিএসআর খাতে ব্যয় বাড়াতে হতো; অনেক সময় সেই ব্যয় প্রকৃত সিএসআরের আওতার বাইরে চলে যেত। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলন ও আগস্টের পর সরকার পরিবর্তনের পর সেই চাপ অনেকটাই কমে এলে ব্যাংকগুলো তুলনায় জামেলা কমিয়ে পরিকল্পনামাফিক সিএসআর ব্যয় করতে শুরু করেছে।

    অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, সিএসআর খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। রাজনৈতিক প্রভাব বা চাপের কারণে অনুৎপাদনশীল খাতে অর্থ ব্যয় হলে সামাজিক দায়বদ্ধতার উদ্দেশ্য ক্ষুণ্ণ হয়।

    বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশনায় বলা আছে, ব্যাংকগুলোর নিট মুনাফার একটি নির্দিষ্ট অংশ সিএসআর খাতে ব্যয় করতে হবে: তার মধ্যে ৩০% শিক্ষা, ৩০% স্বাস্থ্য, ২০% পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং বাকি ২০% অন্যান্য খাতে ব্যয় করার কথা। তবে বাস্তবে নির্দেশনা মানা হচ্ছে না — ২০২৫ সালে ব্যাংকগুলো সবচেয়ে বেশি (প্রায় ৩৬%) ব্যয় করেছে ‘অন্যান্য’ খাতে; শিক্ষায় ব্যয় হয়েছে ২৮.৫৩%, পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে পোষণ পেয়েছে মাত্র ১০%।

    প্রতিবেদন বলছে, আলোচিত সময়ে ১১টি ব্যাংক সিএসআর খাতে একটাও টাকা খরচ করেনি। সেগুলো হলো: জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    আরও উল্লেখ আছে, ২০২৪ সালে মোট ১৭টি ব্যাংক নিট মুনাফা করতে পারেনি। লোকসানে থাকা ব্যাংকগুলোর তালিকায় রয়েছেঃ জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহীর কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    উল্লেখ্য, এসবের মধ্যে ছয়টি লোকসান করা ব্যাংক সিএসআর খাতে তবু কিছু ব্যয় করেছে — এবি ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক ও সোশাল ইসলামী ব্যাংক।

    সার্বিকভাবে দেখা যাচ্ছে, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, জনপ্রতিবাদী আন্দোলন, প্রকাশিত অনিয়ম এবং বাড়তি খেলাপি ঋণের প্রভাব মিলিয়ে ব্যাংকগুলোর আর্থিক যোগ্যতা ও সামাজিক খাতে বিনিয়োগ দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যাংকিং খাতে পুনরুদ্ধারের জন্য কঠোর আর্থিক শাসন, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি ও নীতিনির্ধারকদের নিরপেক্ষ সমন্বয় জরুরি।

  • জিডিপির প্রবৃদ্ধি ফের ধীর; অক্টোবর-ডিসেম্বরে ৩ দশমিক ০৩ শতাংশ

    জিডিপির প্রবৃদ্ধি ফের ধীর; অক্টোবর-ডিসেম্বরে ৩ দশমিক ০৩ শতাংশ

    বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ফের কমে দাঁড়িয়েছে। অক্টোবর–ডিসেম্বরে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩ দশমিক ০৩ শতাংশ, যা গত প্রান্তিকের ৪ দশমিক ৯৬ শতাংশের তুলনায় অনেক নিচে এবং এক বছর আগে একই সময়ে হওয়া ৩ দশমিক ৩৫ শতাংশের থেকেও কম।

    সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও জ্বালানির বাজারে অস্থিরতার কারণে গ্যাস ও তেলের দাম বাড়ায় বিশ্ববাজারে সরবরাহে সংকট দেখা দিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ফেব্রয়ারির শেষ দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরোধ এবং অন্যান্য অঞ্চলভিত্তিক সংঘাত জ্বালানি-পরিপল্লায় চাপ সৃষ্টি করেছে, যা সরবরাহে বিঘ্নতা ঘটিয়েছে। এ ছাড়া জ্বালানি সংকটের প্রভাবেই দেশে উৎপাদন ও সরবরাহচেইনে প্রতিবন্ধকতা দেখা দিয়েছে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ralent হয়েছে। একই সঙ্গে পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও নতুন সরকারের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চাপ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য পর্যাপ্ত অর্থায়ন ব্যাহত করেছে—এসব কারণ মিলিয়ে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে।

    ক্ষেত্রভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত প্রান্তিকে সবচেয়ে নিচু প্রবৃদ্ধি হয়েছে শিল্প খাতে—শিল্পখাতে প্রবৃদ্ধি মাত্র ১ দশমিক ২৭ শতাংশ। কৃষিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং সেবা খাতে ৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ। তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে শিল্পখাতেই ছিল সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি—৬ দশমিক ৮২ শতাংশ; এক প্রান্তিকের ব্যবধানে শিল্পখাতে এরকম তীব্র স্লিপ অবশ্যই উদ্বেগের কারণ। কৃষি ও সেবা খাতে দ্বিতীয় প্রান্তিকে কিছুটা বৃদ্ধি হলেও শিল্পখাতের ধীরগতি সার্বিক প্রবৃদ্ধিকে তন্নতন্ন করেছে।

    এর আগে গত অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ছিল ২ দশমিক ০৫ শতাংশ; প্রথম প্রান্তিকে তা বেড়ে ৪ দশমিক ৯৬ শতাংশে উঠেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক এই পতনYear‑end লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে সংশয় সৃষ্টি করেছে, কারণ জিডিপিতে সবচেয়ে বড় অবদানটিই আসে শিল্প খাত থেকে এবং ওই খাতের দুর্বলতা পুরো বছরের লক্ষ্য বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

    বিবিএসের প্রতিবেদন ও অর্থনীতিবিদদের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়েছে, জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল না হলে এবং বিনিয়োগ ও ব্যয়ের পরিবেশ পুনরায় সক্রিয় না হলে সামনের মাসগুলোতে প্রবৃদ্ধি পুনরায় স্থিতিশীল হওয়া চ্যালেঞ্জিং হবে।

  • হরমুজ টোলে ইরানের কপাল বদল? মাসে প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন ডলার আয় সম্ভব

    হরমুজ টোলে ইরানের কপাল বদল? মাসে প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন ডলার আয় সম্ভব

    ইরান গত সোমবার সাংবাদিকদের জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনা তারা গ্রহণ করেনি। তেহরানের দাবিটি স্পষ্ট — ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধকে স্থায়ীভাবে শেষ করতে হবে, সাময়িকভাবে নয়। একই সঙ্গে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কট্টর মন্তব্য ও কূটনৈতিক চাপেও প্রতিরোধ গড়েছে; সম্প্রতি ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যালে করা একটি বিতর্কিত মন্তব্যও তেহরানের বিরোধিতা ও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার কারণ হয়েছে।

    ওয়াশিংটন হরমুজ প্রণালী খোলার আবেদন রেখেছিল এবং প্রয়োজন হলে যেখানে প্রয়োজনে বলপ্রয়োগের হুমকিও দিয়েছিল; তবু কূটনৈতিক পথও খোলা ছিল। কিন্তু ইরানের ওপর পশ্চিমা—বিশেষত মার্কিন ও ইসরায়েলি—চাপের মধ্যে তেহরান নিজের নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষার অবস্থান থেকে সীমান্তগত নিয়ন্ত্রণ দৃঢ় করেছে। হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক জ্বালানির আনুমানিক ২০ শতাংশ পরিবহন করে; যুদ্ধের আগে এখানে দিনে প্রায় ১০০–১৩৫টি জাহাজ চলাচল করত, যা প্রতিদিন আনুমানিক ২০–২৫ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বহন করত।

    এই প্রণালির সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশটির প্রস্থ মাত্র ৩৩ কিলোমিটার, এবং ভৌগোলিকভাবে এর নিয়ন্ত্রণই আছে ইরান ও ওমানের হাতে। সংঘাত শুরু হতেই তেহরান প্রথমদিকে ঘোষণা করে যে নির্দিষ্ট জাহাজগুলোকে এই পথ দিয়ে যেতে দেওয়া হবে না; পরে ট্যাংকার ও বাণিজ্যিক জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা করে এই হুমকি বাস্তবায়ন করা হয়। হামলার ফলে বিমা ও পরিবহন খরচ বেড়ে যায় এবং নৌ চলাচল ব্যাপকভাবে সংকুচিত হয়।

    কয়েক দফা গোপন আলোচনা ও দরকষাকষির পরে সীমিত সংখ্যক জাহাজ চলাচলের সম্প্রসারণ করা হয়; তার বিনিময়ে প্রায়শই ‘টোল’ দাবি করা হয়েছে—কিছু রিপোর্ট বলছে প্রতি জাহাজে প্রায় ১.৫–২ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত টোল নেওয়া হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে তা চীনা ইউয়ানে পরিশোধ করা হয়েছে। তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে নিজস্ব ১০ দফার একটি তালিকা দিয়েছে; সে তালিকায় রয়েছে—হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অধিকার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া, শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি চালানোর অধিকার নিশ্চিত করা, সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা, লেবাননে ইসরায়েলের হামলা বন্ধ করা এবং যুদ্ধকালীন ক্ষতিপূরণ প্রদান ইত্যাদি দাবি।

    যদি হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ বা কর্তৃত্ব আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হয়, তাহলে অর্থনৈতিক দিক থেকে তা বিশাল প্রভাব ফেলতে পারে। কনজার্ভেটিভ হিসাব ধরলে, যদি প্রতিটি ট্যাংকার থেকে ১ থেকে ১.৫ মিলিয়ন ডলার টোল নেওয়া হয় এবং দৈনন্দিন চলাচল আগের মতো হয় (প্রতিদিন ১০০–১৩৫ জাহাজ), তাহলে কেবল অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার থেকে ইরানের সম্ভাব্য মাসিক আয় পর্যায়ক্রমে প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি দাঁড়াতে পারে। তদুপরি, গ্যাসবাহী জাহাজের ওপর একই ধরনের টোল আরোপ হলে সেখানে থেকে আলাদা করে মাসিক প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত আয়ের সুযোগ থাকতে পারে—যদি চলাচল ও টোলের হার একই রকমেই ধার্য রাখা হয়।

    বর্তমান সংঘাত ও অবরোধের কারণে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ইতোমধ্যেই ১১০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে; ২৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে দাম প্রায় ৩৮ শতাংশ বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে গড়ে জ্বালানির দাম গ্যালনপ্রতি ৪ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা ট্রাম্পের ওপর যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার রাজনৈতিক চাপও বাড়িয়েছে। অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন—যদি সরবরাহ ব্যাহত থাকে, তাহলে প্রতি ব্যারেলে বাড়তি ঝুঁকি প্রিমিয়াম হিসেবে গোল্ডম্যান স্যাচ প্রাথমিকভাবে ৪–১৫ ডলার বলেছে, আর অক্সফোর্ড ইকোনমিকস তা ২৫ ডলার পর্যন্ত দেখেছে।

    তবে এই টোলভিত্তিক ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে কি না, তা অন্য প্রশ্ন। এশিয়ার বড় অর্থনীতি—বিশেষ করে তেল আমদানিবেশগুলো—এমন অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা সহ্য করতে পারবে কি না সন্দেহজনক। পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবে টোল আদায় করে পাওয়া অর্থ যদি পুনরায় সামরিক শক্তি বিকাশে বা ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে ব্যয় করা হয়, তাহলে তা নতুন সঙ্কটের জন্মও দিতে পারে—এমনটাই ইরানের অভ্যন্তরীণ কিছু প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে।

    সংঘাত চলাকালীন তেহরান কিছু নির্দিষ্ট দেশের (যেমন ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান) জাহাজকে পারাপার নিশ্চিত করেছে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জাহাজকে প্রায় পুরোপুরি আটকে দিয়েছে। শান্তি প্রতিষ্ঠার পরও যদি এই নিষেধাজ্ঞা চালিয়ে নেওয়া হয়, তাহলে নতুনভাবে উত্তেজনা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। অন্য দিকে, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলে তেহরান ‘নিয়ন্ত্রিত করিডর’ হিসেবে হরমুজ পরিচালনা করে ঝুঁকি কমাতে পারে এবং সম্ভাব্য আক্রমণ প্রতিহত করার সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারে।

    ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকে হরমুজে আনুষ্ঠানিক কর্তৃত্ব ইরানকে উপসাগরীয় জ্বালানি প্রবাহের ‘গেটকিপার’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে—এবারকার সংঘাতই দেখিয়েছে ইরান কেবল হরমুজেই প্রভাব বিস্তার করছে না, ইয়েমেনভিত্তিক হুতি গোষ্ঠীর মাধ্যমে বাব আল-মান্দেব প্রণালিতেও তার প্রভাব দেখা যাচ্ছে। এই অবস্থান ইরানের জন্য কূটনৈতিক সুবিধা, প্রতিরক্ষা ইশতেহার ও বিনিয়োগ আকর্ষণের পথ খুলে দিতে পারে—তবে তা একই সঙ্গে নতুন ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উদ্বেগও জাগাবে।

    সূত্র: এনডিটিভি

  • মোজতবা খামেনি: শীর্ষ কমান্ডার হত্যা সত্ত্বেও সশস্ত্র বাহিনীকে দমানো যাবে না

    মোজতবা খামেনি: শীর্ষ কমান্ডার হত্যা সত্ত্বেও সশস্ত্র বাহিনীকে দমানো যাবে না

    ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বলেছেন, শীর্ষ কমান্ডারদের হত্যাকাণ্ড সত্ত্বেও দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে দমিয়ে রাখা যাবে না। তিনি সোমবার ভোরে এই মন্তব্য করেছেন, যখন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল মাজিদ খাদেরি নিহত হওয়ার খবর প্রকাশ পায়। খবরটি খবর সংস্থা সিএনএন জানিয়েছে।

    লিখিত এক বিবৃতিতে খামেনি বলেন, খাদেরি নিরাপত্তা, গোয়েন্দা ও প্রতিরক্ষা খাতে কয়েক দশক ধরে নীরবে ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন। তিনি খাদেরির ত্যাগ ও অবদানের প্রশংসা করে বলেন, এমন যোদ্ধাদের অব্যাহত সারি ও আত্মত্যাগী সশস্ত্র বাহিনী এমন শক্তিশালী ও গভীর প্রতিরোধ তৈরি করেছে, যা সন্ত্রাস ও অপরাধের মাধ্যমে ভাঙা যাবে না।

    খামেনির বক্তব্য তার লেখা বিবৃতির মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। সূত্রে বলা হচ্ছে, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধে ঝোঁক দেওয়া থেকে ইসরায়েল ইরানের বহু শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

    মাজিদ খাদেরির হত্যা বিষয়টি নিয়ে তেহরান ও ইসরায়েল—উভয় পক্ষই ঘটনার কথা নিশ্চিত করেছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ দাবি করেছেন, খাদেরি ‘‘ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যুর জন্য সরাসরি দায়ী’’ এবং তিনি আইআরজিসির তিন শীর্ষ ব্যক্তির একজন ছিলেন।

    একই সময় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের বিমান বাহিনী আইআরজিসি কুদস ফোর্সের বিশেষ অভিযান ইউনিটের কমান্ডার আসগর বাঘেরিকে ‘নির্মূল’ করেছে। বাঘেরি ২০১৯ সাল থেকে ওই দায়িত্বে ছিলেন। তেহরান এখনও এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।

    ঘটনাগুলো ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার মধ্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে, এবং খামেনির কড়া মন্তব্যে অঞ্চলটিতে পরিস্থিতি আরো তীব্র হওয়ার আশঙ্কা উঁকি দিচ্ছে।

  • খুলনায় বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসে স্বাস্থ্যবিজ্ঞানের আলোকচর্যায় আলোচনা সভা

    খুলনায় বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসে স্বাস্থ্যবিজ্ঞানের আলোকচর্যায় আলোচনা সভা

    বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষ্যে আজ মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) খুলনা সিভিল সার্জনের দফতরের সভাকক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মোঃ মুজিবুর রহমান।

    দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ছিল— ‘স্বাস্থ্য সেবায় বিজ্ঞান, সুরক্ষিত সকল প্রাণ’। সভা চলাকালীন প্রধান অতিথি বলেন, বর্তমান বিশ্ব চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের দিকে এগোচ্ছে এবং বিভিন্ন দেশে স্বাস্থ্যসেবা চিকিত্সার ক্ষেত্রে ক্রমেই আরো আধুনিক হচ্ছে। অনেক উন্নত দেশে রোবটসহ আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করে দক্ষতার সঙ্গে চিকিৎসাসেবা প্রদত্ত হচ্ছে, যা সম্ভব হয়েছে বিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে।

    তিনি আরও বলেন, উন্নত দেশের মতো আমাদের দেশেও যদি দায়িত্বশীল চিকিৎসকদের মধ্যে সেবাভিত্তিক মানসিকতা গড়ে ওঠে, তখন সার্বিকভাবে সাধারণ মানুষকে প্রকৃত ও কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া সম্ভব হবে। সেবার মান কাঙ্খিত পর্যায়ে উন্নীত করতে স্বাস্থ্যখাতে কর্মরত সবাইকে বিজ্ঞানমনস্ক ও ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে। রোগ হওয়ার পর চিকিৎসার চেয়ে রোগ প্রতিরোধ করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ—এই বিষয়টি সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে হবে। বিজ্ঞানকে মানবহিতৈষী কাজে ব্যবহার করলে তা সমস্ত প্রাণের কল্যাণে ভূমিকা রাখতে পারে। ‘‘সুস্থ থাকলে স্বপ্ন বাঁচে, আর স্বপ্ন বাঁচলে দেশ বাঁচে’’—এ একথা তিনি গুরুত্ব দিয়ে বলেন।

    সভায় খুলনা সিভিল সার্জন ডা. মোছাঃ মাহফুজা খাতুনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধিদ্বয় ডা. মোঃ আরিফুল ইসলাম, ওয়ার্ল্ড ভিশনের প্রতিনিধি মোঃ লিটন মণ্ডল এবং মোঃ আসিফ আহমেদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন খুলনা ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোঃ মিজানুর রহমান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার সার্ভিল্যান্স ও ইমিউনাইজেশন মেডিকেল অফিসার ডা. নাজমুর রহমান সজীব। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন সিভিল সার্জন দপ্তরের সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ।

    এর আগে দিবসটি উপলক্ষ্যে সিভিল সার্জন দফতরের উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়।

  • ২৭ এপ্রিল: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যশোরে

    ২৭ এপ্রিল: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যশোরে

    বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত তারেক রহমান আগামী ২৭ এপ্রিল যশোরে সরকারি সফর করবেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এটি হবে যশোর জেলায় তাঁর প্রথম অভিজ্ঞ সরকারি ভ্রমণ, যা স্থানীয় কর্মসূচি ঘনিষ্ঠভাবে বদলে দিতে পারে।

    দলটির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান সোমবার রাতের একবার্তায় এই খবর নিশ্চিত করেন। তিনি অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের বরাত দিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী আসার সম্ভবত তারিখ ২৭ এপ্রিল—এ তথ্য অনিন্দ্য নিজেই প্রকাশ করেছেন।

    এ আগে রাত ৯টা ২০ মিনিটে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত তার ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলে একটি স্ট্যাটাসে লিখেন: “সুসংবাদ! মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যশোরে আসছেন। (সম্ভাব্য তারিখ: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ইং)।”

    দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তাঁর নির্বাচনী প্রতিশ্রতির অংশ হিসেবে দেশব্যাপী খাল-খনন কর্মসূচি শুরু করেছেন। এই কর্মসূচির মধ্যে যশোরের শার্শা উপজেলার উলাসী-যদুনাথপুর খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনও রয়েছে।

    উলাসী-যদুনাথপুর খালটি প্রায় পাঁচ দশকেরও বেশি আগে খনন করা হয়েছিল। ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর 당시 রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান নিজে কোদাল হাতে নিয়ে সেই খননের কাজ শুরু করেছিলেন; তখন থেকে এটি ‘উলশী-যদুনাথপুর প্রকল্প’ বা স্থানীয়ভাবে ‘জিয়া খাল’ নামে পরিচিত। দীর্ঘ সময় সংস্কারের অভাবে খালটি ভরাট হয়ে গিয়েছিল। পুনঃখননের মাধ্যমে এলাকার পানি ব্যবস্থাপনা ও কৃষির জন্য নতুন প্রাণ ফিরিয়ে আনা হবে বলে স্থানীয়রা ও উদ্যোগ সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

    প্রধানমন্ত্রী যে দিন যশোরে থাকবেন সে দিন স্থানীয় সরকারি এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি ছাড়াও খাল পুনঃখনন কাজ উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে নানা আয়োজন থাকবে—যার ফলে স্থানীয় বাধা-বিপত্তি কমিয়ে জনগণের কৃষি ও জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে।

  • বিসিবি নির্বাচন তদন্তে উপস্থিত না হওয়ার কারণ জানালেন আসিফ মাহমুদ

    বিসিবি নির্বাচন তদন্তে উপস্থিত না হওয়ার কারণ জানালেন আসিফ মাহমুদ

    জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) গত মাসে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সর্বশেষ নির্বাচনের স্বচ্ছতা যাচাই করতে একটি পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত শেষে আজ সংশ্লিষ্টরা এনএসসিতে তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। তবে কমিটির ডাকে উপস্থিত হয়নি সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

    নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া একটি পোস্টে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তিনি খালি ডাকে কমিটির সাক্ষাৎকারে সাড়া দেননি কয়েকটি গুরুতর কারণে। প্রথমত, মন্ত্রণালয় একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান—বিসিবি—সম্পর্কে এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে তদন্ত করছে বলে তিনি মনে করেন। দ্বিতীয়ত, তার দাবি, তদন্ত কমিটির প্রজ্ঞাপনে ইতিমধ্যে সিদ্ধান্ত কথাস্হায়ীভাবে ধরে নেওয়ার লক্ষণ রয়েছে, ফলে সত্য ও পক্ষপাতহীন তদন্ত হবে কি না সন্দেহ রয়েছে।

    তৃতীয় ও সবচেয়ে গুরুতর আখ্যায়িত কারণে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, বিষয়টি বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন। আদালতে চলমান মামলার ওপর তদন্ত চালিয়ে তদন্ত কমিটি এবং যারা এ কাজে অংশ নেবে, তারা আদালত অবমাননায় অংশ নিচ্ছে—এমন উদ্বেগ তার রয়েছে। চতুর্থত, তিনি ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর কার্যকলাপ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন; দাবি করেছেন যে প্রতিমন্ত্রী বোর্ড পরিচালকদের পরবর্তী বোর্ডে পরিচালক হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে লোভ দেখান, রাজি না হলে ভয় দেখিয়ে পদত্যাগ করানো হয়।

    পোস্টে তিনি আরও জানিয়েছেন, তদন্ত কমিটি থেকে তাকে বলা হয়েছিল যে বিষয়টি উচ্চ আদালতে বিচারাধীন; তিনি জানতে চেয়েছিলেন স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে এ রকম তদন্ত পরিচালনা করা যায় কি না, কিন্তু সন্তোষজনক কোনো উত্তর পাননি। তিনি বলেন, “আমি তো জেনে-বুঝে নিয়মবহির্ভূত বা আদালত অবমাননার মতো কাজে অংশ নেব না”—এই কারণেই তিনি কমিটির নোটিশে সাড়া দেননি।

    এনএসসি ১১ মার্চ সাবেক বিচারপতির নেতৃত্বে ওই পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছিল। কমিটির মূল দায়িত্ব ছিল যাচাই করা যে নির্বাচনী প্রক্রিয়াটি সুষ্ঠু এবং স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হয়েছে কিনা। তদন্তের জন্য কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের সময় দেওয়া হয়েছিল; তারা নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

    পটভূমিতে রয়েছে গত বছরের ৬ অক্টোবর ঢাকা ক্লাব সংগঠকদের একাংশের বিসিবির নির্বাচন বর্জন। সেই আন্দোলনের পর থেকে দেশের ক্লাব ক্রিকেট কার্যত থমকে আছে। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল) এখনো মাঠে না গড়ানোর কারণে ক্রিকেটাররা সামাজিক পরিষেবা মাধ্যমে হতাশা প্রকাশ করেছেন। এনএসসি তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং বিসিবি‑ভিত্তিক সিদ্ধান্তগুলো ক্লাব ক্রিকেট ও জাতীয় ক্রিকেটে কবে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে, সেটিই এখন নজরের।

  • সাফজয়ী অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবলারদের প্রতি মাসে ১ লাখ টাকা বেতন ঘোষণা

    সাফজয়ী অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবলারদের প্রতি মাসে ১ লাখ টাকা বেতন ঘোষণা

    বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দল টানা দ্বিতীয়বারের মতো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের গৌরব অর্জন করেছে। ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারে জয়ী হয়ে শিরোপা নিশ্চিত করার পর শনিবার (৪ এপ্রিল) রাতে দেশে ফিরলে চ্যাম্পিয়নদের জন্য উষ্ণ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।

    বিমানবন্দর থেকে ছাদখোলা বাসে করে দলকে নিয়ে যাওয়া হয় হাতিরঝিলের অ্যাম্ফিথিয়েটারে, যেখানে জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মাননা দেওয়া হয়। সেই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) চ্যাম্পিয়ন দলের প্রত্যেক খেলোয়াড়কে এককালীন ১ লাখ টাকা করে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা করে। ঢাকা সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকেও আলাদা আর্থিক প্রণোদনার কথাও জানানো হয়।

    যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক আগে থেকে সংক্ষিপ্তভাবে আর্থিক প্রণোদনার কথা নিশ্চিত করেছিলেন, তবে বিস্তারিত ঘোষণা করার জন্য তিনি তখন অপেক্ষা করার অনুরোধ করেছিলেন। অবশেষে জাতীয় ক্রীড়া দিবসে ক্রীড়া মন্ত্রালয় থেকে চমক তুলে ধরে আরও বড় ঘোষণা করা হয়েছে — অনূর্ধ্ব-২০ সাফজয়ী প্রতিটি খেলোয়াড়কে প্রতি মাসে ১ লাখ টাকা করে বেতন দেওয়া হবে।

    এই ঘোষণায় চ্যাম্পিয়নাদের আর্থিক নিরাপত্তা বাড়বে এবং ভবিষ্যতে তরুণ খেলোয়াড়দের পেশাদার জীবন গঠনে সহায়ক ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

  • হত্যাচেষ্টা মামলায় আরএস ফাহিমকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ

    হত্যাচেষ্টা মামলায় আরএস ফাহিমকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ

    কনটেন্ট ক্রিয়েটর আরএস ফাহিমকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন সম্পর্কিত একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম। আজ সোমবার শুনানির পর তাকে গ্রেপ্তার দেখান।

    আদালতে হাজির করা হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক মমিনুল ইসলাম তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন ওই আবেদনকে সমর্থন করেন। শুনানি শেষে বিচারক গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেন এবং পুলিশ তার হেফাজতে তাকে আদালতের হাজতখানায় নিয়ে যায়।

    এর আগে রোববার (২৯ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর মিরপুরে চিড়িয়াখানার সামনে জনতা ও কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে আটক করে এবং পরে শাহ আলী থানায় সোপর্দ করে। এরপর তাকে গুলশান থানায় হস্তান্তর করা হয়। ৩০ মার্চ গুলশান থানা তাকে মোহাম্মদ ইমরান হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠায়।

    সূত্র জানায়, গত বছরের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় মোহাম্মদপুরের বাছিলা এলাকায় র‌্যাব কোয়ার্টারের সামনে একটি মিছিলে বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। ঘটনায় মাসুদ হোসাইন আহত হন; পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুকে সংক্রমণ ধরা পড়ায় অপারেশন করা হয়। এই ঘটনার সঙ্গে সম্পর্ক করে ওই এলাকার একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় আরএস ফাহিমের নাম আছে বলে জানা গেছে।

    গত বছরই আলোচনায় এসেছিলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর আরএস ফাহিম চৌধুরী—তবে বিষয়টি আরও তোলা হয় নাসির উদ্দিন সাথীর ছেলে তৌহিদ আফ্রিদের বরিশাল থেকে আটক ও যাত্রাবাড়ী থানায় একটি হত্যাকাণ্ডের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর পর। গতকালে আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ও একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটরের ভূমিকা নিয়ে বিতর্কও উঠেছে।

    প্রসঙ্গত, মামলার অন্যান্য ডিটেইল, অভিযোগপ্রমাণ ও ভবিষ্যতের জামিনবিধি সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া গেলে তা আদালত ও তদন্ত সংস্থার সূত্র ধরে জানা যাবে।

  • ধুরন্ধর ২: ১৭ দিনে বক্স অফিসে সংগ্রহ কত?

    ধুরন্ধর ২: ১৭ দিনে বক্স অফিসে সংগ্রহ কত?

    রণবীর সিংয়ের স্পাই থ্রিলার ‘ধুরন্ধর ২’ মুক্তির ১৭ দিন পেরিয়েও বক্স অফিসে তীব্র সাফল্যের ধারা ধরে রেখেছে। Sacnilk-এ প্রকাশিত সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, ছবিটি তৃতীয় শনিবারে প্রায় ২৫.৬৫ কোটি টাকা আয় করেছে।

    বক্স অফিসের বিস্তারিত পরিসংখ্যান বলছে, প্রথম সপ্তাহে ছবিটির সংগ্রহ ছিল সুবিশাল—৬৭৪.১৭ কোটি টাকা। দ্বিতীয় সপ্তাহে সেখানে যোগ হয়েছে আরও ২৬৩.৬৫ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে বর্তমানে শুধু দেশে ছবিটির মোট আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৩৭.৮২ কোটি টাকার কাছাকাছি। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ‘ধুরন্ধর ২’ সহজেই ১,০০০ কোটি টাকার ক্লাবে পৌঁছে যাবে।

    ইতোমধ্যেই ছবিটি লাইফটাইম কালেকশনে ‘আরআরআর’, ‘কল্কি ২৮৯৮ এডি’, ‘কেজিএফ: চ্যাপ্টার ২’, ‘জওয়ান’, ‘পাঠান’, ‘স্ত্রী ২’ এবং ‘অ্যানিমেল’–এর মতো বড় ব্লকবাস্টারদের সংগ্রহ ছাড়িয়ে গেছে। তবে তালিকার সেরা স্থান দখলের জন্য ‘বাহুবলী ২: দ্য কনক্লুশন’ ও ‘পুষ্পা ২: দ্য রাইস’–এর রেকর্ড ভাঙতেই হবে। প্রথম ‘ধুরন্ধর’ কিস্তি বিশ্বজুড়ে প্রায় ১,৩০০ কোটি টাকা আয় করেছিল।

    কাহিনীর দিক থেকে, প্রথম কিস্তিতে রণবীরকে ভারতীয় গুপ্তচর হামজা চরিত্রে দেখা গিয়েছিল। দ্বিতীয় কিস্তিতে মূলত জাসকীরাত সিং রাঙির উত্থানের গল্প বলা হয়েছে—কিভাবে ও কেন তিনি দুর্ধর্ষ গুপ্তচর হামজা আলি মাজারিতে পরিণত হন, সেটাই ছবির কেন্দ্রীয় সূত্র।

    আদিত্য ধর পরিচালিত এই স্পাই অ্যাকশন থ্রিলারে রণবীর সিংয়ের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন অর্জুন রামপাল, আর. মাধবন, সঞ্জয় দত্ত, রাকেশ বেদী ও সারা অর্জুন। এছাড়া অন্যান্য সহশিল্পীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম রয়েছেন। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে পরিচালক আদিত্য ধর-এর স্ত্রীরূপে অভিনেত্রী ইয়ামি গৌতমের একটি ক্যামিওও ছবিতে আছে।