Blog

  • জামায়াত–এনসিপি নিয়ে প্রশ্ন তুললেন বিএনপি এমপি মনিরুল হক চৌধুরী

    জামায়াত–এনসিপি নিয়ে প্রশ্ন তুললেন বিএনপি এমপি মনিরুল হক চৌধুরী

    রবিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে জামায়াত ও এনসিপি নিয়ে খোঁজখবরমূলক মন্তব্য করেন বিএনপি সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

    তিনি বলেন, স্বাধীনতার পরও একটা মেধাবী অংশ গঠন করেছিল জাসদ; পরে কিছু বাড়াবাড়ির ফলে দেশ ও জাতি যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেটি পুরোপুরি অগ্রাহ্য করা যায় না। এমন সময়ে আমাদের সকলের জন্য তিনি এক অন্তর্যামী কামনা জানান—‘‘আল্লাহ আমাদের যেন সবকিছু হজম করার তৌফিক দেন।’’

    মনিরুল হক চৌধুরী বেগম খালেদা জিয়ার নাম স্মরণ করে বলেন, ১৯৯১ সালের সংসদে তিনি নিজে তাদের সঙ্গে কাজ করেছেন এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কঠোর অবস্থান সত্বেও কখনো দলগত রাজনীতি ছেড়ে দেননি। তিনি দলের অভ্যন্তরে যারা প্রশ্ন করেন তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, দেশে যেন ১৫-২০ বছর বিএনপির অবস্থা ছিল না—এই মনোভাব ঠিক নয়; দেশনেত্রীর সেই নীতি ও অবদানের কথাও অনুধাবন করা উচিত।

    তিনি আরও বলেন, সংসদে দাঁড়িয়ে কখনো কখনো ভয় হয় বলে অনুভব করেন—আগে যাদের বিরুদ্ধে কথা বলতাম, তাদের চিনতাম; আজকের বিরোধীদের কেউ কেউ এখনও চিনিনা। তারেক রহমানের কথার উল্লেখ করে তিনি বলেন,‘‘আমাদের নেতা বলেছিলেন—কঠিন নির্বাচন। তখন অনেকে বোঝেনি, পরে নির্বাচন করে আমরা বুঝেছি কতটা কঠিন পরিবেশ পেরোতে হয়েছে।’’

    এছাড়া তিনি দাবি করেন, এত সংখ্যক সদস্য নিয়ে সংসদে আসার পর আলহামদুলিল্লাহ বলা উচিত ছিল জামায়াতে ইসলামীর মতো সংগঠনের কথাও মনে রাখা। কিন্তু আজ চারপাশে তাদের সম্পর্কে নানা প্রশ্ন ওঠছে—কিছু জীবিত মুক্তিযোদ্ধার ভূমিকা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, এমনকি মুক্তিযুদ্ধকে অন্য কোনো ঘটনার সঙ্গে এক কাতারে আনা হচ্ছে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

    শেষে তিনি বলেন, ‘‘যদি কোনো সময় ফ্যাসিস্ট শাসনামলে বিচারের নামে অন্যায় করা হয়ে থাকে, সেটা আলাদা বিষয়।’’ মহান সংসদকে এই প্রশ্ন রেখে তিনি জামায়াত ও এনসিপি সম্পর্কে একটি ব্যক্তিগত মতও জানান—স্বাধীনতার পরে বা এনসিপির মতো কিছু সংগঠনের নেতা-প্রতিনিধির বয়স কম হলেও তিনি তাদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, কারণ তারা সাহসী এবং বর্তমান যুগের দাবি মেটায়।

  • চট্টগ্রাম-মোংলা বন্দর ও শিপিং করপোরেশনে অনিয়ম: দুদক অনুসন্ধান শুরু

    চট্টগ্রাম-মোংলা বন্দর ও শিপিং করপোরেশনে অনিয়ম: দুদক অনুসন্ধান শুরু

    দুর্নীতি ও নিয়োগসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। চট্টগ্রাম বন্দর, মোংলা বন্দর ও বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের একাধিক প্রকল্প নিয়ে অনুসন্ধান চালাতে চারটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার প্রধান হিসেবে রাখা হয়েছে উপ-পরিচালক নাজমুচ্ছায়াদাতকে।

    দুদক সূত্রে রোববার (১৫ মার্চ) জানানো হয়েছে, প্রাথমিক অভিযোগ অনুযায়ী চট্টগ্রাম বন্দরের বর্তমান চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে একাধিক আর্থিক অনিয়মের আভাস মেলে। বিশেষত তিনি যখন বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন, তখন ২ হাজার ৪৮৬ কোটি টাকার বাজেটে ৬টি জাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল; কিন্তু বাস্তবে কেনা হয় মাত্র চারটি জাহাজ। এ ঘটনায় প্রায় ৪৮৬ কোটি টাকার আর্থিক অসঙ্গতি দেখা গেছে বলে দুদকের প্রাথমিক নিরীক্ষায় জানা গেছে।

    এছাড়া মোংলা বন্দরের ‘‘পশুর চ্যানেল সংরক্ষণ ড্রেজিং’’ প্রকল্পে ১ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও তাতে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দুদকের অনুসন্ধানকারী দল সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো থেকে নথিপত্র তলব করেছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের তত্ত্বাবধানে মানুষছে।

    দুদক বলেছে, গঠিত কমিটিগুলো প্রকল্পের নির্ধারণকৃত বাজেট, ঠিকাদারি চুক্তি, অর্থপ্রদানের বিবরণ, নিয়োগ ও প্রক্রিয়াগত স্বচ্ছতা যাচাই করবে এবং প্রয়োজনীয় হলে مزید তদন্ত, নোটিশ বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে। অনুসন্ধানের অগ্রগতি ও ফলাফল সম্পর্কে পরবর্তী বিজ্ঞপ্তি দেয়া হবে।

  • ক্রেডিট কার্ড গাইডলাইন হালনাগাদ: সর্বোচ্চ ঋণসীমা বেড়ে ৪০ লাখ

    ক্রেডিট কার্ড গাইডলাইন হালনাগাদ: সর্বোচ্চ ঋণসীমা বেড়ে ৪০ লাখ

    বাংলাদেশ ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড সংক্রান্ত নীতিমালা হালনাগাদ করে নতুন একটি পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন জারি করেছে। রোববার এ বিষয়ে তথ্য জানিয়ে ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, লক্ষ্য হচ্ছে কার্ড পরিচালনা আরও সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ ও গ্রাহকবান্ধব করা।

    দৈনন্দিন জীবনে নগদ বহন এড়িয়ে নগদবিহীন লেনদেন হিসেবে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। ব্যবহারের পরিধি বিস্তৃত হওয়ায় খাতে যে জটিলতা ও সুরক্ষা চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে সেগুলো কমাতে এবং নতুন বৈশিষ্ট্য যোগ করতে পূর্বের নীতিমালা হালনাগাদ করা প্রয়োজন পড়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে নতুন গাইডলাইন প্রণয়ন করা হয়েছে।

    নতুন নির্দেশনায় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে, গ্রাহকের অধিকার ও গোপনীয়তা সংরক্ষণকে কেন্দ্রীয় করা হয়েছে এবং দায়িত্বশীল ঋণপ্রদানে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। গাইডলাইনে ক্রেডিট কার্ড কার্যক্রমের বিস্তৃত দিকগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে — প্রযোজ্যতা ও সংজ্ঞা, কার্ডের প্রকারভেদ, গ্রাহকের যোগ্যতার মানদণ্ড, ঋণসীমা ও সুদের হার নির্ধারণ, কার্ড ইস্যু ও বিপণন, বিলিং ও আদায় প্রক্রিয়া, গ্রাহকের তথ্যের সংরক্ষণ ও গোপনীয়তা, বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ইত্যাদি।

    গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে বিতরণযোগ্য সর্বোচ্চ ঋণসীমা বাড়িয়ে এখন ৪০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগে এই সীমা ছিল ২৫ লাখ টাকা। অনিরাপদ (আনসিকিউরড) ঋণসীমা ১০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ২০ লাখ টাকা করা হয়েছে।

    এছাড়া গ্রাহকের অভিযোগ, অনিয়ম বা জালিয়াতি মোকাবিলা, কার্ড-ভিত্তিক লেনদেনের চূড়ান্তকরণ ও পরিশোধে যে জটিলতা দেখা দিচ্ছিল— সেগুলো মোকাবিলার জন্য বিরোধ নিষ্পত্তি ও নজরদারি প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হয়েছে। গাইডলাইনের মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্ত করা হবে, যাতে গ্রাহক তথ্য ও লেনদেন নিরাপদ থাকে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, এই নির্দেশনা গ্রাহককে অধিক স্বচ্ছতা ও অধিক সুরক্ষা দেবে এবং ক্রেডিট কার্ডের ব্যবস্থাপনাকে আরো দায়িত্বশীল করবে। একই সঙ্গে ব্যাংকগুলোকে কার্ড সেবার মান উন্নয়ন ও ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে আরও উদ্যোগী হতে বলেছে।

    কাওকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে নিরাপদ, স্বচ্ছ ও সুবিধাজনক কার্ডভিত্তিক অর্থপ্রণালী গড়ে তোলাই গাইডলাইনের মূল উদ্দেশ্য। গ্রাহক এবং ব্যাংক উভয়ের জন্য এটি দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

  • ঈদে আল-আকসা বন্ধ: জেরুসালেমে ফিলিস্তিনিদের গভীর হতাশা

    ঈদে আল-আকসা বন্ধ: জেরুসালেমে ফিলিস্তিনিদের গভীর হতাশা

    পবিত্র আল-আকসা মসজিদ, যা জেরুসালেমের মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ন স্থান, রমজানের শেষ দিকে প্রথমবারের মতো ১৯৬৭ সালের পর এভাবে জরুরি ভিত্তিতে বন্ধ রাখা হলো। ঈদুল ফিতরের দিনে মসজিদে প্রবেশ বন্ধ থাকায় বহু মুসল্লি নামাজ আদায় করতে না পেরে মসজিদের কাছাকাছি উন্মুক্ত জায়গায় দাঁড়িয়ে নামাজ পড়েছেন।

    স্থানীয়সংবাদমাধ্যম জানায়, আজ শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালে ওল্ড সিটি জেরুসালেমের বাইরে শত শত মানুষ বাধ্য হয়ে নামাজ আদায় করেছেন। ইসরায়েলি পুলিশ মসজিদে প্রবেশের সমস্ত রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছিল।

    ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইস্রায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান উত্তেজনা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় এনে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করে পুরো রমজান জুড়ে বেশিরভাগ মুসল্লির জন্য মসজিদ এলাকা কার্যত সীমিত রাখা হয়েছে। তবে ফিলিস্তিনিরা এটিকে কেবল ‘নিরাপত্তা’ বলে দেখেন না। তাদের অভিযোগ, উত্তেজনার অজুহাতে নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর একটি কৌশল চলছে এবং আল-আকসা কমপ্লেক্সে আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হচ্ছে।

    আল-হারাম আল-শরিফ বা টেম্‌পল মাউন্ট—এই নামেই মুসলিম ও ইহুদিদের কাছে পরিচিত ঐ এলাকা—ডোম অফ দ্য রকসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থাপনা নিয়ে গঠিত। সেই এলাকায় প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ হওয়ায় জেরুসালেমের মুসলিমদের মধ্যে গভীর হতাশা ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

    ৪৮ বছর বয়সী জেরুসালেমবাসী হাজেন বুলবুল বলেন, “এবারের ঈদ আমাদের জন্য সবচেয়ে দুঃখের দিন হবে।” তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “এটি একটি খারাপ নজির তৈরি করেছে — ভবিষ্যতেও এমন ঘটনা বেড়ে যেতে পারে।” তিনি আরও বলেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে জেরুসালেমে ইসরায়েলের হস্তক্ষেপ অনেক বেড়েছে।

    সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পুরোনো শহরে বহু ফিলিস্তিনি মুসল্লি ও ধর্মীয় কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলি বসতকারীরা বারবার মসজিদ এলাকা প্রদক্ষিণ করছে এবং নামাজের সময়ও অনেককে আটক করে মসজিদে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়েছে। সাধারণত ঈদের আগে ওল্ড সিটি জেরুসালেমে ভিড় থাকলেও এবার পুরো এলাকা প্রায় ফাঁকা ছিল; দোকানপাটও প্রায় বন্ধ ছিল—শুধু ওষুধ ও প্রয়োজনীয় খাবারের দোকান খোলা ছিল। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এতে তাদের বড় ধরণের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

    আল-আকসার খতিব ও সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি ইক্রিমা (একরিমা) সাবরি মুসলিমদের আহ্বান জানিয়েছেন—যদি মসজিদে ঢুকতে না পারেন তা হলে কাছাকাছি নিরাপদ কোনো স্থানে যতটা সম্ভব ঈদের নামাজ আদায় করুন। তবে পুরোনো শহরের ভিতরে কড়া নিরাপত্তা, তল্লাশি ও সম্ভাব্য সংঘর্ষের কারণে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    আল-আকসা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আরব লীগ। তারা বলেছে, এটি আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর আঘাত। একইভাবে ওআইসি (অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশন) ও আফ্রিকান ইউনিয়ন কমিশনও এই পদক্ষেপ নিন্দা জানিয়েছে এবং সতর্ক করেছেন, এমন চলতে থাকলে সহিংসতা বাড়তে পারে ও আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিপন্ন হতে পারে।

    আল-কুদস ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্সিয়াল মিডিয়া ইউনিটের পরিচালক খলিল আসালি এই পরিস্থিতিকে ‘ফিলিস্তিনিদের জন্য একটি বড় বিপর্যয়’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, অনেক তরুণ আল-আকসার কাছে নামাজ আদায়ের চেষ্টা করলে ইসরায়েলি বাহিনী তাদের ধাওয়া করে এবং নামাজরত অবস্থাতেই তাদের জায়গা থেকে তুলে দেয়।

    অন্যদিকে গাজা উপত্যকায় জীবন যুদ্ধ ও মানবিক সংকটের ছায়ায় কেটে যাচ্ছে। রমজান শেষে যখন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মুসলমাণরা ঈদ উদযাপন করছেন, তখন গাজায় বহু শহর ধ্বংসস্তূপে পরিণত। বোমাবর্ষণ থেমে না যাওয়ায় বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের মাঝেই ঈদ পালন করতে বাধ্য হচ্ছেন।

    ৩২ বছর বয়সী সদিকা ওমর, যিনি উত্তর গাজা থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে দেইর আল-বালায় আশ্রয় নিয়েছেন, বলেন, “ঈদের আনন্দ অসম্পূর্ণ। প্রত্যেকেরই কষ্ট আছে—কেউ বাড়ি হারিয়েছে, কেউ পরিবার। আমার স্বামী দূরে থাকায় গাজায় ফিরতে পারেনি। তবু আমরা চেষ্টা করি ধর্মীয় নিয়ম মেনে ঈদে কিছু আনন্দ দেখানোর।” খান ইউনিসে আশ্রয় নেয়া ৪৯ বছর বয়সী আলা আল-ফাররা বলেন, “যুদ্ধের প্রথম বছর রমজানে আমরা আল-ক্বারারা থেকে বিতাড়িত হয়েছি। চলমান হামলার কারণে চলাফেরা সীমিত, তাই ঈদ এবারও খুব সীমিত।”

    যুদ্ধের মধ্যেও কিছু ঐতিহ্য সীমিতভাবে ফিরছে—ঘনবসতিপূর্ণ শিবিরে ছোট চুলায় কায়েক-ও মামুলের গন্ধ মিশে যায়; বাজারে রঙিন মিষ্টি দেখা গেলেও অনেকের কাছে পৌঁছায় না। অনেকেই সামান্য জিনিসও হাতে পেয়ে সন্তুষ্ট থাকে; বাবা-মা ছোটখাটো কিছু কিনে শিশুর মুখে সামান্য হাসি ফুটানোর চেষ্টা করেন।

    গত বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) রাফা সীমান্ত ক্রসিং কিছুদিন বন্ধ থাকার পর পুনরায় খোলা হয়। ওই সময় একটি জাতিসংঘ কনভয় গাজায় প্রবেশ করে—যা ইস্যুটির পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তবুও ধ্বংস ও সংকটের কারণে ঈদের আনন্দ অসমভাবে ছড়িয়েছে। গাজা সিটি থেকে ৪২ বছর বয়সী খলুদ বলেন, “যুদ্ধবিরতির পর আপাতত কিছুটা নিরাপত্তা ফিরে এসেছে, কিন্তু যথেষ্ট নয়। গত সপ্তাহেই আমাদের এলাকায় বিমান হামলার প্রস্তুতিতে মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে—ইফতারের কাছে আমরা দ্রুত ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছি।”

    সবমিলিয়ে, আল-আকসা মসজিদের প্রবেশ নিষেধ ও গাজায় চলমান সংঘাতের কারণে ফিলিস্তিনিদের জন্য এবারের ঈদ দুঃখ, অনিশ্চয়তা ও শোক দিয়ে ভরা ছিল। (দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন থেকে সংকলিত)

  • তেলবাজার নিয়ন্ত্রণে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পথে ট্রাম্প প্রশাসন

    তেলবাজার নিয়ন্ত্রণে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পথে ট্রাম্প প্রশাসন

    মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তৃতীয় সপ্তাহে জোরালো সংঘাত চলা অবস্থায় বিশ্ব তেলবাজারে অস্থিরতা তীব্রতর হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ চালানোর মধ্যেই আন্তর্জাতিক কাঁচামাল বিক্রিতে বিশাল শঠতা দেখা দিয়েছে — ব্রেন্ট ক্রুড তেল ব্যারেল প্রতি প্রায় 112 ডলার পর্যন্ত উত্থান করেছে এবং গত তিন সপ্তাহে তেলের দাম প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বেড়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণ রাজপথের জ্বালানি মূল্যে প্রভাব পড়েছে; গড় পেট্রল মূল্য এখন প্রায় প্রতি গ্যালন 4 ডলারের কাউলে পৌঁছেছে।

    হরমুজ প্রণালী জুড়ে জাহাজ চলাচল সীমিত হওয়ায় তেলের সরবরাহে তীব্র অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই অবস্থায় হোয়াইট হাউসে এক আশ্চর্যসাজন প্রস্তাব উঠে এসেছে — প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উপদেষ্টারা গোপনে পরামর্শ দিয়েছেন সমুদ্রে ভাসমান প্রায় 140 মিলিয়ন ব্যারেল ইরানি তেল মিত্র দেশগুলোর কাছে বিক্রির অনুমতি দেওয়া হোক। মূলত ভাপার তেলের এই মজুতটি ভারত, জাপান বা ভিয়েতনাম-এর মতো দেশের কাছে বিক্রি করে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ বাড়ানো হতে পারে।

    আশ্চর্যের বিষয়, একসময় পর্যন্ত চীনও নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ওই তেল কিনতে চেয়েছিল বলে জানা যায়। এখন যুক্তরাষ্ট্রই সেই নিষেধাজ্ঞা শিথিলের কথা ভাবছে — এটা রাজনৈতিকভাবে ট্রাম্পের জন্য বিব্রতকর যে, তিনি আগে ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের বিরোধিতা করেছিলেন, আর এখন তেলের কারণে সেই সীমাবদ্ধতাগুলো শিথিলের কথা ভাবছেন।

    জ্বালানি বাজার বিশ্লেষকেরা সতর্ক করে বলছেন, এই পদক্ষেপ বাজারে সাময়িক শিথিলতা আনতে পারলেও টেকসই সমাধি নাও হতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনের সাবেক জ্বালানি কর্মকর্তা নীলেশ নেরুরকার বলেন, ‘‘এটি তেলবাজারের ইতিহাসের অন্যতম বড় বিপর্যয়। বর্তমানে যে পরিমাণ ঘাটতি দেখা দিয়েছে, তা মোকাবিলা করার মতো পর্যাপ্ত মজুত বা বিকল্প পথ আমরা হাতে পাইনি।’’

    ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট দাবি করেছেন যে, এই তেলের অর্থ ইরান সরাসরি ব্যবহার করতে পারবে না এবং ইরানের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ বজায় রাখার নীতি অব্যাহত থাকবে। তথাপি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, 140 মিলিয়ন ব্যারেল তেলটি বিশ্ব বাজারের মাত্র প্রায় এক থেকে দেড় দিনের চাহিদার সমান — সুতরাং মজুত খোলার এই পদক্ষেপ তেলের দাম কমাতে দীর্ঘমেয়াদি ও উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে কি না তা সন্দেহজনক।

    প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন যুদ্ধ চার থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে শেষ হতে পারে; কিন্তু জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যতক্ষণ হরমুজ প্রণালীতে সীমাবদ্ধতা রয়ে যাবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা চলবে, ততদিন তেলের সংকট কেবল থাকবে বা বাড়তেই পারে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টেলর রজার্স সামান্য আশ্বাস দিয়েছেন যে, নির্ধারিত সামরিক লক্ষ্যগুলো পূরণ হলে তেলের মূল্য আগের চেয়েও নীচে নামতে পারে — তবে সেই লক্ষ্য কবে ও কীভাবে অর্জিত হবে, সেটির তারিখ বা বিস্তারিত এখনও স্পষ্ট নয়।

    সব মিলিয়ে, রণক্ষেত্রের তীব্রতা ছয়েই নয়, তেলের অস্থিরতাও এখন হোয়াইট হাউসের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। (তথ্যসূত্র: সিএনএন)

  • আজ পবিত্র ঈদুল ফিতর: ভক্তি ও আনন্দে দেশজুড়ে উৎসব

    আজ পবিত্র ঈদুল ফিতর: ভক্তি ও আনন্দে দেশজুড়ে উৎসব

    এক মাসের রোজার পর আজ শনিবার (২১ মার্চ) দেশের মুসলিম সম্প্রদায় পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করছে। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, আনন্দ ও উল্লাসের মিশেলে রাজধানীসহ সারা দেশে মিলাবত্মে লাখ লাখ মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আবহাওয়ার শঙ্কা থাকলেও জাতীয় ঈদগাহসহ বড় ময়দান ও মসজিদগুলোতেও নামাজের সব আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে।

    এবার প্রধান ঈদের জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে। যদি আবহাওয়া বা অনিবার্য কোনো কারণে সেখানে জামাত না করা যায়, তাহলে সকাল ৯টায় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে। বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক প্রধান ইমামতির দায়িত্ব পালন করবেন। তার অনুপস্থিতিতে বিকল্প ইমাম হিসেবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফাসসির ড. মাওলানা মো. আবু ছালেহ পাটোয়ারী থাকবেন।

    স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে দেশের মানুষের সঙ্গে ঈদ জামাতে অংশগ্রহণ করবেন।

    জাতীয় ঈদগাহে নিরাপত্তা ও সেবাসম্পর্কিত পদক্ষেপ ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম ঢাকাবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে পরিবারসহ প্রধান জামাতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। প্রশাসক জানান, এবারের জামাতে ৩৫ হাজার মুসল্লির নামাজের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যার মধ্যে ৩ হাজার ৫০০ নারী মুসল্লিও স্থান পাবেন। নারীদের জন্য আলাদা প্রবেশপথ, ওজু সুবিধা ও নামাজের সংরক্ষিত স্থান রাখা হয়েছে। সাধারণ মুসল্লিদের জন্য পর্যাপ্ত ওজুখানা এবং জরুরি চিকিৎসার জন্য মেডিকেল টিমও মোতায়েন থাকবে।

    নিরাপত্তা নিয়ে ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার বলেছেন, ঈদ জামাতকে কেন্দ্রে করে কোনো সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা হুমকি পাওয়া যায়নি, কিন্তু গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছে। পুরো ঈদগাহ ময়দান ও আশপাশের এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরা দিয়ে круглকাল পর্যবেক্ষণ করা হবে। মৎস্য ভবন, প্রেসক্লাব ও শিক্ষা ভবন মোড়ে ব্যারিকেড রাখা হবে যাতে কোন যানবাহন ঈদগাহে প্রবেশ করতে না পারে। প্রবেশমুখে আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টর বসানো হবে, পাশাপাশি ডগ স্কোয়াড এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চের সুইপিং টিম মোতায়েন থাকবে। জামাতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিচারপতি, মন্ত্রিসভার সদস্য ও বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের অংশগ্রহণ প্রত্যাশিত।

    ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) আগারগাঁওয়ের পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে সকাল ৮টায় কেন্দ্রীয় ঈদ জামাতের আয়োজন করেছে। ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান নগরবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে পরিবারসহ অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনটি গেট, নারীদের আলাদা প্রবেশপথ ও নামাজের ব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত ওজুখানাসহ সব প্রস্তুতি সম্পন্ন রাখা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেখানে ডিএমপির পক্ষ থেকে দুই প্লাটুন পুলিশ মোতায়েন করা হবে।

    বায়তুল মোকাররমে এবারের ঈদে পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে; সময়সূচি সকাল ৭টা, ৮টা, ৯টা, ১০টা ও বেলা পৌনে ১১টা। ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, বিভিন্ন জামাতে দেশের পরিচিত ধর্মীয় ব্যক্তিবর্গ ইমামতির দায়িত্ব পালন করবেন। প্রথম জামাতে সিনিয়র পেশ ইমাম মাওলানা মিজানুর রহমান, দ্বিতীয় জামাতে পেশ ইমাম মুফতি মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী, তৃতীয় জামাতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক মাওলানা মো. জাকির হোসেন, চতুর্থে ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির মাওলানা যোবায়ের আহমদ আল আযহারী এবং পঞ্চম ও শেষ জামাতে মুফতি মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ইমামতির দায়িত্বে থাকবেন। বিকল্প ইমাম হিসেবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহকারী লাইব্রেরিয়ান মাওলানা শহীদুল ইসলাম প্রস্তুত থাকবেন।

    জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়ও সকাল ৮টায় উন্মুক্ত ঈদ জামাত হবে, যেখানে স্পিকার, হুইপ, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য ও সচিবালয়ের কর্মীরা অংশ নেবেন। সাধারণ মুসল্লিদের জন্য ওই জামাতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

    খুলনা জেলায়ও বিভিন্ন কেন্দ্রে ঈদের নামাজের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। খুলনা সার্কিট হাউজ মাঠে প্রধান জামাত সকাল ৮টায়, দ্বিতীয় জামাত সকাল ৯টায় এবং তৃতীয় জামাত সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে; আবহাওয়া প্রতিকূল হলে একই সময়সূচি খুলনা টাউন জামে মসজিদে বজায় রাখা হবে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টায় জামাত অনুষ্ঠিত হবে এবং সেখানে মহিলাদের জন্য পৃথক নামাজের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। শহরের বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে সময়সূচি ও ব্যবস্থাপনা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তদারকিতে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

    নগরীর আইন-শৃঙ্খলা, জনস্বাস্থ্য ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। টহল জোরদার করা হবে এবং আতশবাজি, পটকা, সড়ক বন্ধ করে স্টল বসানো, অতিরিক্ত উচ্চস্বরে মাইক-ড্রাম ব্যবহার, রঙিন পানি ছিটানো ও বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

    ঈদ উপলক্ষে দেশের সকল হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশু সদন, বৃদ্ধাবাস, সামাজিক স্থাপনা, আশ্রয় কেন্দ্র ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ পদক্ষেপগুলোতে আশা করা হচ্ছে ঈদ উদযাপন হবে শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে। সবাইকে নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে উৎসব উদযাপনের আহ্বান জানানো হচ্ছে।

  • ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসাহে খুলনায় পালিত পবিত্র ঈদুল ফিতর

    ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসাহে খুলনায় পালিত পবিত্র ঈদুল ফিতর

    যথাযোগ্য মর্যাদা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে আজ শনিবার খুলনায় পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়েছে। সকাল থেকে শহরজুড়ে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে পড়েছিল—সরকারী ও আধাসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে বেসরকারি অফিস ও অর্থনৈতিক কেন্দ্রে পতাকা উত্তোলন ও বিশেষ কর্মসূচি ছিল চোখে পড়ার মতো। মহানগরের প্রধান সড়ক ও প্রবেশপথগুলো বাংলা ও আরবি লিপিতে লেখা ‘ঈদ মোবারক’ ব্যানারে সাজানো ছিল।

    ঈদের প্রধান জামাত সকাল আটটায় খুলনা টাউন জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়; সেখানে ইমামতি করেন মসজিদের খতিব মাওলানা মোহম্মদ সালেহ। একই মসজিদে পরবর্তীতে সকাল নয়টায় দ্বিতীয় এবং দশটায় তৃতীয় জামাতও অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান জামাতে অংশ নেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মোখতার আহমেদ, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, জেলা প্রশাসক আ. স. ম. জামশেদ খোন্দকারসহ প্রশাসনের উচ্চশ্রেণীর কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও বিপুল সংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসল্লী। নামাজের পর দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয় এবং সম্মিলিতভাবে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করা হয়।

    শহরের অন্যান্য বড় মসজিদেও একই ধরনের জমায়েত দেখা গেছে। সাড়ে আটটায় খুলনা আলিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন মডেল মসজিদ এবং বয়রা মডেল মসজিদে জামাত অনুষ্ঠিত হয়। খালিশপুর জামে মসজিদ ও বসুপাড়া ইসলামাবাদ জামে মসজিদে সকাল আটটায় আলাদা জামাতের আয়োজন করা হয়েছিল। এছাড়া খুলনা সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডেই নির্ধারিত সময়সূচী অনুযায়ী ঈদের জামাত ও ধর্মীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে।

    নগরের বিভিন্ন পয়েন্টে ঈদের জামাত হয়েছে—নিউমার্কেট সংলগ্ন বায়তুন-নুর জামে মসজিদ, ডাকবাংলা জামে মসজিদ, ময়লাপোতা বায়তুল আমান, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় জামে মসজিদ, সোনাডাঙ্গা হাফিজনগর জামে মসজিদ, খুলনা ইসলামাবাদ, পিটিআই জামে মসজিদ, পশ্চিম টুটপাড়া আশরাফিয়া, রহমানিয়া জামে মসজিদ, জাতিসংঘ শিশু পার্ক সংলগ্ন মসজিদ, কেডিএ এন্ড নিরালা জামে মসজিদ, সিদ্দিকীয়া মাদ্রাসা, দারুল উলুম মাদ্রাসা, সোনাডাঙ্গা আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল মসজিদ, রূপসা বায়তুশ শরফ, ফেরিঘাটের আবু বক্কার সিদ্দিক (রা.) জামে মসজিদ, গোবরচাকা জামে মসজিদ, আড়ংঘাটা, নতুন রাস্তা, দক্ষিণ কাশিপুর, টুটপাড়া, মিয়াপাড়া, শেখপাড়া, বসুপাড়া, জোড়াগেট সিএন্ডবি কলোনি মসজিদ, বয়রা মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইন, খালিশপুর ক্রিসেন্ট জুট মিলস, বিএল কলেজ, দেয়ানা, সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকা, খানজাহান নগর খালাসী মাদ্রাসা, দৌলতপুর, মহেশ্বরপাশা, খালিশপুর ও খানজাহান আলী থানাসহ নগরের অগণিত মসজিদে জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

    ঈদকে কেন্দ্র করে সমাজসেবামূলক কার্যক্রমেও জোর দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল, কারাগার, শিশু সদন, ছোটমনি নিবাস, সামাজিক প্রতিবন্ধী কেন্দ্র, শিশু বিকাশ কেন্দ্র, আশ্রয় কেন্দ্র, সেফ হোম, ভবঘুরে কল্যাণ কেন্দ্র ও দুস্থ কল্যাণ কেন্দ্রে বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হয়। এ ছাড়া বাংলাদেশ বেতারের খুলনা কেন্দ্র ঈদ উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করে এবং স্থানীয় পত্রিকাগুলোও বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করেন। উপজেলা পর্যায়েও স্থানীয়ভাবে অনুরূপ উৎসব ও অনুষ্ঠান পালিত হয়েছে।

    সার্বিকভাবে খুলনায় শান্তিপূর্ণ ও আনন্দময় পরিবেশে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়েছে; মানুষ মহান আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ও পরস্পরের সঙ্গে মিষ্টি-মিষ্টি কথা বলে দিনটি উপভোগ করেছে।

  • আইপিএল শুরুর আগেই দুশ্চিন্তা বাড়ল: একের পর এক বিদেশি তারকার অনুপস্থিতি

    আইপিএল শুরুর আগেই দুশ্চিন্তা বাড়ল: একের পর এক বিদেশি তারকার অনুপস্থিতি

    মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও আকাশপথের অনিশ্চয়তার পাশাপাশি সিরিজে একের পর এক বিদেশি ক্রিকেটারের চোট ভালো খবর নয়—এবারের আইপিএল (২৮ মার্চ থেকে) শুরু হতেই ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে কপালে চিন্তার ভাঁজ ধরিয়েছে। কিছু খেলোয়াড় পুরো টুর্নামেন্টই মিস করছেন, আবার কেউ কেউ শুরুতেই দলে যোগও দিতে পারছেন না। ফলে ভারতীয় দলগুলোর পরিকল্পনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হচ্ছে, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে বিকল্প পথ পাড়ি দিয়ে বিদেশিদের আনা নিতান্তই জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    প্যাট কামিন্স: অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট অধিনায়ক প্যাট কামিন্সকে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ নেতৃত্ব দিতে পারার কথা ছিল। তবে পিঠের চোটের কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই মাঠের বাইরে। এর জেরে হায়দরাবাদ শুরুতে নেতৃত্ব দেবেন ইশান কিষাণকে। ম্যাচ চলার পরের সপ্তাহে কামিন্স দলে যোগ দিতে পারেন—তবে সেটি কেবল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও ফিটনেস আপডেটের পরই নিশ্চিত হবে।

    মিচেল স্টার্ক: স্টার্ক কোনো নির্দিষ্ট চোটে ভুগছেন না, কিন্তু অতিরিক্ত ওয়ার্কলোড ও সাম্প্রতিক সিরিজে দীর্ঘ সময় বল করায় তার ফিটনেস নিয়ে সতর্ক থাকতে হচ্ছে। কামিন্স-হ্যাজলউডের অনুপস্থিতিতে অ্যাশেজে অস্ট্রেলিয়ার পেসিং বিভাগ সামলিয়েছেন স্টার্ক; সেই দিক মাথায় রেখে দিল্লি ক্যাপিটালস ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার ফিটনেস ক্লিয়ারেন্স না পাওয়া পর্যন্ত ঝুঁকি নিতে চাইছে না।

    জশ হ্যাজলউড: গতবার রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর শিরোপায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়া হ্যাজলউড এইবার শুরুতে মিস করতে পারেন। হ্যামস্ট্রিং ও অ্যাকিলিসের সমস্যার কারণে তিনি অস্ট্রেলীয় গ্রীষ্ম ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘাঁটতে পারেননি। বর্তমানে পুনর্বাসন চলমান; ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার ফিটনেস টেস্টে পাশ করলেই তিনি দলের সঙ্গে যোগ দিতে পারবেন।

    নাথান এলিস: সাদা বলের দলে গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হলেও এলিস হ্যামস্ট্রিং চোটে পুরো আইপিএলের বাইরে রয়েছেন। তিনি চেন্নাই সুপার কিংসের পেসিং অট্যাকের অন্যতম পরিকল্পিত নেতা হওয়া সত্ত্বেও দলের ট্র্যাকিং এখন বিকল্প বোলার খুঁজে বের করার দিকে মনোযোগী।

    স্যাম কারান: ইংল্যান্ডের অলরাউন্ডার স্যাম কারানকে চেন্নাই সুপার কিংস থেকে ট্রেড করে রাজস্থান রয়্যালসে নেওয়া হয়েছিল; তবে গ্রোয়িন ইনজুরির কারণে তিনি মৌসুমটা মিস করতে পারেন। কারানের অনুপস্থিতি রাজস্থানের দলগত ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে—বিশেষ করে যখন তিনি দলের ব্যাটিং ও বোলিং দুটোতেই ব্যবহার্য খেলোয়াড়।

    জ্যাক এডওয়ার্ডস: সানরাইজার্স হায়দরাবাদের নবাগত পেসার হিসেবে অভিষেকের পরিকল্পনা থাকলেও পায়ের চোটের কারণে এডওয়ার্ডস পুরো আইপিএল থেকে ছিটকে গেছেন। বিগ ব্যাশে ১৩ উইকেট নেয়া এই আনক্যাপ্ড অস্ট্রেলিয়ান বোলারের অনুপস্থিতি ও কামিন্সের দেরি—দুইয়ের মিলেই হায়দরাবাদের বোলিং সংস্থানে বড় ঘাটতি তৈরি করেছে।

    লকি ফার্গুসন: পাঞ্জাব কিংসের কিউই পেসার লকি ফার্গুসন ব্যক্তিগত কারণে আইপিএলের শুরুটা মিস করবেন—সম্প্রতি বাবা হওয়ায় তিনি পরিবারকে সঙ্গে থাকতে চান। দলের সঙ্গে পরে টুর্নামেন্টের শেষ দিকে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে চলা টি-টোয়েন্টি সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে অনুপস্থিত ছিলেন।

    ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে এখন বিকল্প খেলোয়াড় ও স্কোয়াড রোটেশনে মনোযোগী হতে হচ্ছে। চোট আর ব্যক্তিগত কারণে ছিটকে পড়া খেলোয়াড়দের জায়গায় দ্রুত পরিকল্পনা না করলে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা নাকি বতিল—সেই চাপ এখন সব দলই অনুভব করছে। অফিশিয়াল ফিটনেস রিপোর্ট, ক্রিকেট বোর্ডগুলোর সিদ্ধান্ত ও আন্তর্জাতিক ভ্রমণের গতি-প্রকৃতি স্পষ্ট হলে পরবর্তী হালনাগাদগুলো পরিষ্কার হবে।

  • মুস্তাফিজ-শরিফুলসহ পাঁচ বাংলাদেশিকে পিএসএলে খেলতে এনওসি দিল বিসিবি

    মুস্তাফিজ-শরিফুলসহ পাঁচ বাংলাদেশিকে পিএসএলে খেলতে এনওসি দিল বিসিবি

    পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) এবার পাঁচজন বাংলাদেশি ক্রিকেটার খেলবেন — বিসিবি তাদের সবাইকে অনাপত্তি পত্র (এনওসি) দিয়েছে। ওই ছাড়পত্র অবশ্য সীমিত সময়ের জন্য; তারা লিগে খেলতে পারবেন ১২ এপ্রিল পর্যন্ত।

    পিএসএল শুরু হচ্ছে ২৬ মার্চ। সরাসরি চুক্তিতে বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে দলে ভিড়িয়েছে লাহোর কালান্দার্স। আর নিলামে রিশাদ হোসেন, নাহিদ রানা ও পারভেজ হোসেন ইমন সুযোগ পেয়েছেন। তাজা খবর—কয়েক দিন আগে শরিফুল ইসলামও পঞ্চম বাংলাদেশি হিসেবে প্রথমবারের মতো ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে যোগ হচ্ছেন। সূত্রের খবর অনুযায়ী, শর্তাবলী ঠিক থাকলে শরিফুল পেশোয়ার জালমির জার্সিতে নাহিদ রানার সঙ্গে দেখা যাবে।

    দলের তালিকায় আরও বলা হয়েছে—পারভেজ ইমনও মুস্তাফিজের সঙ্গে লাহোর কালান্দার্সে খেলবেন এবং রিশাদ হোসেন রাওয়ালপিন্ডি (পিন্ডিজ) দলে রয়েছেন।

    বিসিবির একজন বিশ্বস্ত সূত্র ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন যে পাঁচজনকেই এনওসি মঞ্জুর করেছে governing body। তবে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ঘরে নির্ধারিত সিরিজকে ভ foreground রেখে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে, তাই তারা ১২ এপ্রিলের মধ্যে দেশে ফিরবেন। নিউজিল্যান্ড দলের বাংলাদেশে আগমন রয়েছে এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহে; সেখানে তিন ম্যাচের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে তারা।

    বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান নাজমুল আবেদীন ফাহিমও এ বিষয়ে বলেছিলেন, ওরকম খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে যাদের প্রয়োজন আমাদের এখানে রয়েছে না এবং যারা পিএসএলে খেললে তাদের টি-টোয়েন্টি দক্ষতায় উন্নতি হবে। পাশাপাশি দলের বিকল্প ব্যবস্থা থাকলেই বিসিবি ছাড়পত্র দিতে অনুকূল হবে।

    পিএসএলের উদ্বোধনী ম্যাচ ২৬ মার্চে লাহোর কালান্দার্স ও হায়রাবাদ হিউস্টনের মধ্যে। ফলে প্রথম দিনেই মাঠে নামার সুযোগ আছে মুস্তাফিজ ও ইমনের। আর ২৮ মার্চে মাঠে নামবে রিশাদ, রানার ও শরিফুল—তিনজনই একাদশে থাকলে পেশোয়ার জালমি (রানা-শরিফুল) আর রাওয়ালপিন্ডি (রিশাদ) মুখোমুখি হবে। একইভাবে মুস্তাফিজ-ইমনসহ বিভিন্ন ম্যাচে বাংলাদেশ জাতীয় দলের সতীর্থদের প্রতিবেশী ফ্র্যাঞ্চাইজি জার্সি গায়ে দেখে নেবে দর্শকরা।

    সংক্ষেপে, বিসিবির শর্ট টার্ম এনওসির ফলে পাঁচজন বাংলাদেশি ক্রিকেটার পিএসএলে খেলতে পারবেন, কিন্তু তারা দলের ঘরের সিরিজকে প্রাধান্য দিয়ে এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে দেশে ফিরবেন।

  • চাঁদরাতে প্রথমবার বাবা-ভাইকে নিয়ে জাহিদ নিরবের গান প্রকাশ

    চাঁদরাতে প্রথমবার বাবা-ভাইকে নিয়ে জাহিদ নিরবের গান প্রকাশ

    দেশের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পীদের কণ্ঠে সাজানো হয়েছে জাহিদ নিরবের সুর ও সংগীতে গানটি। নিজের ভক্তপ্রিয় সুরসজ্জার পাশাপাশি এবার প্রথমবার পরিবারের সঙ্গে মিলিত হয়ে গান প্রকাশ করতে যাচ্ছেন জাহিদ নিরব। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে তৈরি হওয়া চাওয়ালী ঘরানার ‘শুকরিয়া হাসনাহ’ শিরোনামের গানটি মুক্তি পাবে চাঁদরাতে।

    গানটি জাহিদ নিরবের অফিসিয়াল ফেসবুক ও ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত হবে। পাশাপাশি প্রাইম ব্যাংক নিবেদিত ভিডিওটি প্রাইম ব্যাংকের অফিসিয়াল চ্যানেলেও উন্মুক্ত করা হবে।

    জাহিদ নিরব বলেন, “বাড়িতে আমরা সব সময় একসাথে গান করি। আব্বা হারমোনিয়াম বাজান, আমি মাইক ধরে গান করি—এভাবেই আমার সংগীত জীবন শুরু। বড় ভাই জুবায়েদ আল নাঈম তবলা বাজান, ছোট ভাই হাসিবুল নিবিড় গিটার হাতে, আর মেহেদী হাসান তামজিদ রাবাবে সুর মিলিয়েছেন। মুন্সীগঞ্জের সেই মঞ্চের স্নিগ্ধ পরিবেশ এবার বিন্দুমাত্র বদলে না করে গান আকারে সকলকেই শেয়ার করছি।”

    গানের কথাগুলো লিখেছেন মঞ্জুর এলাহী। তিনি বলেন, “কথাগুলোতে এমন অনুভূতির চেষ্টা করেছি—আমরা জীবনের অসংখ্য নিয়ামত নিয়ে প্রতিদিনই বেঁচে আছি, তার জন্য আমরা কতটুকু কৃতজ্ঞতা জানাই? সেই উপলব্ধিই গানটির কেন্দ্রবিন্দু।”

    জাহিদ জানান, এই গানটি আসলে শুরুতে প্রাইম ব্যাংকের ‘হাসানাহ’ নামে একটি জিংগেল হিসেবে তৈরি ছিল। গানটির ভাবনা ও কথাগুলো তাকে ভালো লাগে; তাই অনুমতি নিয়ে গানটি পূর্ণাঙ্গভাবে আবহীত করেছেন। ভিডিও প্রযোজনা ও বাস্তবায়নে দীর্ঘদিনের সহযোগী কাওসার ইসলাম প্রান্ত এবং তার টিমের অবদান গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

    এবারের ঈদ জাহিদের জন্য আরও বিশেষ—গত বছর তিনি যৌথ জীবনে পা রেখেছেন, এবারের ঈদই তাঁর প্রথম স্বামী হিসেবে কাটানো ঈদ। গায়ক বলেন, “বিয়ের পর প্রথম ঈদ—সবকিছুই একটু আলাদা লাগছে।”

    তবু বিশ্রামের সুযোগ নেই। নিয়মিত কাজের পাশাপাশি ঈদে বহু প্রকল্পে ব্যস্ত তিনি। সিনেমা ও নাটকের কাজেও জড়িত রয়েছেন—ঈদের ছবি ‘বনলতা এক্সপ্রেসে’ ছবিটির পুরো সংগীত পরিচালনার দায়িত্ব ছিল তার কাঁধে, যেখানে তানিম নূর তার কাজে সহায়তা করেছেন। রায়হান রাফীর পরিচালিত ‘প্রেশার কুকার’ সিনেমায়ও একটি গান রয়েছে, গানটি গেয়েছেন অঙ্কন কুমার, এবং কথাও-সুরও তিনি করেছেন।

    টেলিছবিতে তার সুর ও সংগীত রয়েছে—’তবুও মন’ নাটকের জন্য ‘এভাবেও হতে পারে প্রেম’ গানটি লিখেছেন তারিক তুহিন; সুর ও সংগীত করেছেন জাহিদ, কণ্ঠ দিয়েছেন সালমান ও মাশা। ‘লিলিথ’ নাটকের ‘পিছু ডেকো না’ গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন দোলা রহমান, কথাটি লিখেছেন তানিন নিনাত।

    রমজানেও তিনি বেশ সক্রিয় ছিলেন—’মিউ’ ওয়েবফিলমের ‘কেন এমন হয়’ ও শিশুতোষ গান ‘মিউ মিউ মিউ’ প্রকাশ পেয়েছে। জিঙ্গেলের কাজেও ছিলেন ব্যস্ত; প্রবাসীদের গল্পকে কেন্দ্র করে প্রাইম ব্যাংকের জন্য একটি মিউজিক ভিডিও করেছেন, যার একটি আনপ্লাগড ভার্সন শিগগিরি প্রকাশ হবে।

    এছাড়া সিরিয়াল ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ সিজন ৫-এ তিনি মিউজিক ডিরেক্টর। ঈদে ধারাবাহিকটির বিশেষ এপিসোড আসছে, যা নিয়মিত কাজের মধ্যে তার ব্যস্ততাকে আরও বাড়িয়েছে। সব মিলিয়ে এবারের ঈদ জাহিদ নিরবের জন্য সুকোমল আনন্দ ও ক্ষেত্রফল তৈরি করেছে—পারিবারিক গান প্রকাশ থেকে শুরু করে নানা প্রকল্পে ঘাঁটি পাকানো সাফল্য।