Blog

  • নাট্যকর্মী তনু হত্যায় সাবেক সেনা হাফিজুরুর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ

    নাট্যকর্মী তনু হত্যায় সাবেক সেনা হাফিজুরুর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ

    বহুল আলোচিত কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় তদন্তে নতুন মোড় এসেছে। শুক্রবার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ঢাকা সদর দপ্তর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করেছে, যা এই মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। এই নমুনা সংগ্রহের বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মোঃ তরিকুল ইসলাম। তিনি জানিয়েছেন, নমুনা সংগ্রহের পর সেটা মেলানোর কাজ চালানো হচ্ছে, যার মাধ্যমে আসামীদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

    প্রথমে, ২০১৭ সালে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তনুর মরদেহের জামা থেকে তিনজনের ডিএনএ সংগ্রহ করেছিল, কিন্তু তা-matching সম্ভব হয়নি। এরপর, ২০২৩ের ৬ এপ্রিল মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই নতুন করে ডিএনএ ম্যাচ করার জন্য আদালতে আবেদন করেন। আদালত সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে ডিএনএ পরীক্ষা পরিচালনার অনুমোদন প্রদান করেন।

    ডিএনএ পরীক্ষায় মিল পাওয়া তিনজনই সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য—সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান, এবং সৈনিক শাহিনুল আলম। এসব তথ্যের ভিত্তিতে, মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর কেরানীগঞ্জে তার বাসা থেকে হাফিজুর রহমানকে গ্রেফতার করে পিবিআই। এরপর, বুধবার (২২ এপ্রিল) তাকে কুমিল্লার আদালতে হাজির করা হয়। তখন তদন্ত কর্মকর্তা তাঁর ৭ দিন রিমান্ড আদেশের জন্য আবেদন করেন, but আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বর্তমানে হাফিজুর রহমান রিমান্ডে রয়েছেন, এবং আগামী শনিবার তার রিমান্ড শেষ হবে। এরপর, শনিবার বা রোববার তাকে আবার আদালতে হাজির করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    অতীতের ইতিহাস অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের এলাকায় টিউশনি থেকে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হন সোহাগী জাহান তনু। পরের দিন, সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের সংলগ্ন জঙ্গলে তার মরদেহ উদ্ধার হয়। এই ঘটনায় অজ্ঞাতনামা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের হয়।

    শুরুতে, থানা পুলিশ ও জেলা পুলিশ গোয়েন্দা বিভাগের অবিরাম তদন্ত করেও কোনো সুরাহা করতে পারেনি। এই দীর্ঘ তদন্তের পর, পুলিশ সদর দপ্তর ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে মামলার নথি পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করে। এরপর থেকে, প্রায় চার বছর ধরে পিবিআই এই মামলার তদন্ত চালাচ্ছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে দায়িত্বে আছেন পিবিআইয়ের পরিদর্শক মোঃ তরিকুল ইসলাম।

    তদন্তে দেখা গেছে, তনুর মরদেহের কাপড়ে তিন ব্যক্তির ডিএনএ ছিল, যার মধ্যে হাফিজুর রহমানের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে ডিএনএ মিলানোর কাজ বন্ধ থাকলেও, এখন নতুন করে সেটি সমাধানের পথে এগুচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় আসামীদের অপরাধমূলক সম্পর্ক ও সঠিক পরিচয় নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছে পুলিশ।

  • গরু ব্যবসায় দ্বন্দ্বে ছাত্রদল নেতা খুন, যুবদল কর্মী রগ কেটে আহত

    গরু ব্যবসায় দ্বন্দ্বে ছাত্রদল নেতা খুন, যুবদল কর্মী রগ কেটে আহত

    চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে গরু ব্যবসায়ী দ্বন্দ্বের জের ধরে এক ছাত্রদল নেতা হত্যার শিকার হয়েছেন। গুরুতর আহত শাহরিয়ার আহমেদ (২৩) নামের এই ছাত্রদল নেতা বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ফটিকছড়ির হেয়াকো বনানী ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।

    ঘটনার পূর্বে, গত শনিবার রাতে, স্থানীয় গরু ব্যবসায়ীদের মধ্যে চলমান দ্বন্দ্বের জের ধরে আপ مصادرের হামলায় গুরুতর আহত হন শাহরিয়ার। এ সময় তার সঙ্গে থাকা যুবদল কর্মী মোঃ সবুজের উপরও ব্যাপক হামলা হয়। অভিযোগ, তার হাতের রগ কেটে ও দাঁতের উপর আঘাত করা হয়। বর্তমানে আহত সবুজ ফেনী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

    আলাদা সূত্রে জানা গেছে, এই হামলার পেছনে স্থানীয় বিএনপি দলের এক পক্ষ জড়িত। নিহত শাহরিয়ার তার বাবার নামে বলেন, আবদুল আলীম, যিনি বিএনপির সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তার সাথে বিরোধের জের ধরে তার ছেলেকে এই হামলার শিকার করা হয়েছে।

    শাহরিয়ারের বাবা আলীম জানান, শনিবার রাত ১১টার দিকে তিনি থানায় সালিস বৈঠক শেষে বাড়ি ফেরার সময়, গরু ব্যবসায়ী আবদুর রহিম তার সাথে যোগাযোগ করে ভবানী এলাকায় উপস্থিত হওয়ার অনুরোধ করেন। রহিম তাকে জানান যে, ওই এলাকায় তার গরু আটকে রয়েছে। বাবা শাহরিয়াকে সেখানে পাঠান, যেখানে আগে থেকেই মোঃ সবুজ অবস্থান করছিল।

    তবে, অভিযোগের ভিত্তিতে জানা গেছে, শাহরিয়ার ওই এলাকায় পৌঁছানোর সাথে সাথেই, বিএনপি কর্মী সিরাজুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা হামলা চালায়। শনিবার দিবাগত রাতে, মোহাম্মদপুর এলাকায় একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে গুরুতর জখম অবস্থায় তাকে পাওয়া যায়। পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আর মোঃ সবুজকে সড়কের পাশে পাওয়া যায়, তার দাঁত ও হাতের রগ কাটা ছিল।

    আবদুল আলীম বলেন, সিরাজুল ইসলাম সীমান্ত পথে ভারত থেকে গরু পাচার করার সঙ্গে জড়িত এবং বাধা দেওয়ায় তার বিরোধ সৃষ্টি হয়। তিনি বলেন, ‘আমি ও আমার ছেলে নিরাপত্তার জন্য আশঙ্কিত ও এর সঠিক বিচার চাই।’

    স্থানীয় বিএনপি সদস্যসচিব ইয়াসিন মিজান বলেন, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, সিরাজুল ইসলাম এলাকায় নেই এবং তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ওসি কাজী নাজমুল হক জানান, এই ঘটনায় ২২ এপ্রিল রাতে একটি মামলা রজু হয়েছে, যা হত্যার মামলায় রূপান্তর হবে। পুলিশ আসামিদের গ্রেফতার অভিযান চালাচ্ছে।

    শাহরিয়ার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পরে, আজ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলি খাগড়াছড়ি-বারইয়ারহাট সড়ক অবরোধ করে। আন্দোলনকারীরা কয়লা বাজারে এ কর্মসূচি পালন করে, তবে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর সড়ক ছাড়ে তারা।

  • বাসের ভাড়া কিলোমিটারে ১১ পয়সা বৃদ্ধি

    বাসের ভাড়া কিলোমিটারে ১১ পয়সা বৃদ্ধি

    ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগর এবং আন্তঃজেলা বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা করে বৃদ্ধি করা হয়েছে। এই নতুন ভাড়া কার্যকর হয়েছে বৃহস্পতিবার থেকে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পরে সরকার বাসের ভাড়ার সমন্বয় করেছে। সড়ক, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সচিবালয়ে এক প্রেস সম্মেলনে বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ফলে পরিবহন খাতে প্রভাব পড়েছে। তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে ডিজেলের দাম পরিবর্তিত হলে বাসের ভাড়া পুনঃনির্ধারণ করা হবে।

    নতুন হিসাব অনুযায়ী, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহানগরে বাসের ভাড়া ২ টাকা ৪২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৫৩ পয়সা করেছে, যা অর্থাৎ ১১ পয়সা বৃদ্ধি। আন্তঃজেলা বাসের ভাড়া ২ টাকা ১২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ২৩ পয়সা করা হয়েছে। একইভাবে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) এলাকায় ভাড়া আগের ২ টাকা ৩২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৪৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই হিসাবের ফলে তিন জেলার বাসের ভাড়া ১১ পয়সা বা প্রায় ৪.৭ শতাংশ বেড়েছে।

    বাসভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাবনা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) নেতৃত্বাধীন কমিটি দিচ্ছিল, যেখানে তারা কিলোমিটারে ২২ পয়সা বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছিল। তবে, মূলত ১১ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। এর পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে জানতে পেরেছেন, ডিজেলের দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে পরিবহন খাতে। শেখ রবিউল আলম বলেন, দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে সরকারের পক্ষে জ্বালানি দাম বৃদ্ধি এড়ানো সম্ভব হয়নি। তবে ডজনের বেশি দফায় বৈঠকের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    উল্লেখ্য, রেলভাড়া ও লঞ্চভাড়া এখনও কোনো পরিবর্তন করা হয়নি এবং এ বিষয়ে সরকারের বিবেচনাও চলমান নয়। নতুন এই ভাড়া জারির সঙ্গে প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে, বিভিন্ন রুটে বাসের ভাড়া এই নতুন হার অনুযায়ী নির্ধারিত হয়েছে। যেখানে ঢাকাসহ অন্যান্য মহানগরে ভাড়া কিলোমিটারে ২.৫৩ টাকা, আন্তঃজেলা রুটে ২.২৩ টাকা এবং ডিটিসিএ এলাকার বাসের ভাড়া ২.৪৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    প্রজ্ঞাপনে আরও জানানো হয়, নতুন ভাড়ার হার গ্যাসচালিত বাস বা মিনিবাসের জন্য প্রযোজ্য নয়। প্রত্যেক বাস ও মিনিবাসের দৃশ্যমান স্থানে নতুন ভাড়ার তালিকা দেখাতে হবে। এছাড়াও, বাসের আসনসংখ্যা কমানো হলে ভাড়ার হার সংশ্লেষে পুনঃনির্ধারণ করতে হবে। এর আগে, দেশের দূরপাল্লার রুটের জন্য বাসের নির্ধারিত ভাড়া ছিল প্রতি কিলোমিটারে ২.১২ টাকার।

    অতীতের জ্বালানি তেল মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে গত ২০২৩ সালের এপ্রিলে এই ভাড়া বাড়ানো হয়েছিল। এর আগে, ২০২২ সালে প্রাকৃতিক পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবের কারণে বাসের ভাড়া সর্বশেষ বৃদ্ধি পেয়েছিল। গত ২২ এপ্রিল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী নিশ্চিত করেছিলেন যে, নতুন ভাড়া নির্ধারণের জন্য বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

    বিশ্লেষক ও পরিবহন মালিকরা বলছেন, বর্তমানে পরিবহন খাতে অর্থনৈতিক চাপ অনেক বেশি। ডিজেলের দাম বাড়ার কারণে পণ্য ও যানবাহন রক্ষণাবেক্ষণের খরচ অনেক বেড়েছে। এজন্য, দ্রুত ও যৌক্তিকভাবে ভাড়া নির্ধারণের দাবি জোরালোভাবে তুলেছেন পরিবহন নেতারা, যাতে খাতটি সুস্থ ও টেকসই থাকে।

  • লোডশেডিংয়ে মানুষের কষ্টে সংসদে সরকারের দুঃখ প্রকাশ

    লোডশেডিংয়ে মানুষের কষ্টে সংসদে সরকারের দুঃখ প্রকাশ

    চলমান তীব্র গরমের কারণে দেশজুড়ে লোডশেডিংয়ের বলি হচ্ছেন সাধারণ মানুষ, যা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সরকার। বৃহস্পতিবার সংসদে ভাষণে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, দেশের বৈষম্যহীন উন্নয়নের অংশ হিসেবে গ্রামে কৃষকদের সেচ কাজে নির্বিঘ্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য পরীক্ষা হিসেবে রাজধানীতে ১১০ মেগাওয়াট লোডশেডিং চালু করা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী এই কথা বলেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের সভাপতিত্বে।

  • বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অনুদান গোপন করে কোটি টাকার আত্মসাতের অভিযোগ

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অনুদান গোপন করে কোটি টাকার আত্মসাতের অভিযোগ

    ঢাকা, ২৩ এপ্রিল — বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় মুখপাত্র সিনথিয়া জাহিন আয়েশা অভিযোগ করেছেন, আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ প্রচারণা চালানোর সময় সরকার থেকে পাওয়া অনুদান গোপন রেখে অর্থ আত্মসাত করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত অভিযোগ তিনি বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে করেন।

    সিনথিয়া জানান, অভিযোগের লক্ষ্য রয়েছেন সংগঠনের সাবেক সভাপতি রিফাত রশিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মঈনুল ইসলাম ও মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলাম। এছাড়া দপ্তর সম্পাদক শাহাদাত হোসেন ও লিগ্যাল সেল সম্পাদক মাহফুজ এ-আরকেও আর্থিক অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযােগ তোলা হয়েছে।

    তিনি বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কোনো ব্যক্তিগত বা কোনো রাজনৈতিক দলের সংগঠন নয়; এটি সাধারণ জনগণের সংগঠন। সংগঠনকে ব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় বরাদ্দকৃত অর্থ নিজেদের মতো ইচ্ছেমতো বিতরণ বা ব্যবহার করা হলে চলবে না। তার অভিযোগ, রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে প্রায় এক কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে, কিন্তু ওই অর্থের উৎস ও ব্যয় সম্পর্কে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে জানানো হয়নি এবং তথ্য গোপন রাখা হয়েছে।

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘হ্যাঁ’ প্রচারণা অনলাইনে দেশব্যাপী চালানো হয়েছিল। সে বিষয় নিয়ে তিনি উৎস সম্পর্কে প্রশ্ন করলে প্রথমে বলা হয়েছিল এটি ব্যক্তিগত খরচ বা ‘বাবার টাকা’ দিয়ে করা হবে। পরে দাবি করা হয় বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে, কিন্তু সেই সংক্রান্ত তথ্য দায়িত্বশীলদের কাছে উপস্থাপন করা হয়নি।

    সংবাদ সম্মেলনে সিনথিয়া আরও বলেন, গত বছরের ২৫ জুন প্রথম জাতীয় কাউন্সিলে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত কমিটি গঠিত হয়েছিল, যেখানে নিজে কেন্দ্রীয় মুখপাত্র হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের পরও তাদের সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করতে বাধা দেয়া হয়েছে, কেন্দ্রীয় কমিউনিকেশন ও প্রশাসনিক অ্যাকসেস থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে এবং সিদ্ধান্ত একদিকে এককভাবে নেয়ার অভিযোগ ওঠেছে—যা সংগঠনের গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী।

    একাধিকবার জবাবদিহিতা চাওয়া হলেও বিষয়টি অস্বীকার করে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। সর্বশেষ ১২ এপ্রিল আয়োজিত এক কেন্দ্রীয় বৈঠকে ওই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের মোকাবিলায় একটি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে কমপক্ষে এক কোটি টাকা সংগৃহীত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করা হয়েছে, কিন্তু অর্থ কোথা থেকে এসেছে এবং কীভাবে ব্যয় হয়েছে সে বিষয়ে কোনো স্বচ্ছ হিসাব দেখানো হয়নি। বৈঠকে ব্যয়ের হিসাব উপস্থাপনের আগেই উপস্থিত সদস্যদের মোবাইল ফোন জব্দ করে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

    সিনথিয়া অভিযোগ করেন, স্বচ্ছতা বজায় না রাখায় পুরো প্রক্রিয়াটি পরিকল্পিত আর্থিক অনিয়ম ও সম্ভাব্য আত্মসাতের ইঙ্গিত বহন করে। জবাবদিহিতা দাবি করলে তাদের ওপর সংগঠনকে অস্থিতিশীল করার অভিযোগ আনা হয়েছে; এমনকি কিছু নেতা পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে কোনো সাংগঠনিক আলোচনার ছাড়া সংগঠনকে স্থগিত ঘোষণা ও একটি রাজনৈতিক দলে যোগদানের প্রস্তুতি নেন।

    আরও অভিযোগ করা হয়, সংগঠনের কেন্দ্রীয় ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে একটি প্রেস রিলিজ প্রকাশ করা হয়, যেখানে একটি তথাকথিত উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের কথা বলা হয়েছে—যার বেশিরভাগ সদস্য কোনো না কোনোভাবে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত বলে বলা হচ্ছে।

    এই সব অনিয়ম তদন্তের উদ্দেশ্যে ফান্ডের উৎস ও ব্যয়ের সঠিক তথ্য জানতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ব্যাংক থেকে তথ্য পাওয়া গেলে তা গণমাধ্যমের সামনে উপস্থাপন করে পরবর্তী ব্যবস্থা সম্পর্কে সবাইকে জানানো হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

    সংবাদ সম্মেলন থেকে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অনুদান খাতের ব্যবহার অডিট করা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনে আইনত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

  • সেনাপ্রধান: আমরা যুদ্ধের জন্য নয়, যুদ্ধ এড়াতে প্রস্তুত

    সেনাপ্রধান: আমরা যুদ্ধের জন্য নয়, যুদ্ধ এড়াতে প্রস্তুত

    সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, দেশ যুদ্ধের জন্য নয়—জীবনের ও সার্বভৌমত্বের নিরাপত্তা রক্ষার্থে যুদ্ধ এড়াতেই প্রস্তুতি নেওয়া হয়। শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়া কার্যকর পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়ন করা সম্ভব না বলে তিনি সতর্ক করেছেন।

    বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে মিরপুর সেনানিবাসের ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে (এনডিসি) তিন সপ্তাহব্যাপী ‘‘ক্যাপস্টোন কোর্স ২০২৬/১’’–এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন সেনাবাহিনী প্রধান। তিনি বলেন, দেশের নিরাপত্তা ও স্বার্থ বজায় রাখতে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি—তবে তার উদ্দেশ্য আগ্রাসন নয়, শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করা।

    সেনাপ্রধান জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি সমুদ্রপথের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় নৌবাহিনীর সক্ষমতা আরও বাড়ানো অপরিহার্য। একই সঙ্গে বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নও অত্যন্ত প্রয়োজনীয়, যাতে বহুমুখী হুমকি মোকাবিলা করা যায় এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ নিশ্চিত থাকে।

    রোহিঙ্গা সংকটকে তিনি জাতীয় সমস্যা হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, এর স্থায়ী সমাধান দরকার এবং এতে সরকার, সামরিক, বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক অংশীদার সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

    এছাড়া তিনি জ্বালানি নিরাপত্তাকে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরেন। স্বাধীনতা আসার পঞ্চাশ বছরের বেশি সময় অতিক্রান্ত হলেও দ্বিতীয় রিফাইনারি গড়ার কাজ না হওয়ায় দেশে অপর্যাপ্ত পরিমাণ তেল পরিশোধন সম্ভব হচ্ছে; ফলে বড় পরিমাণে জ্বালানি আমদানির জন্য নির্ভরতা ও উচ্চমূল্যের চাপ বাড়ছে। আন্তর্জাতিক উত্তেজনা—যেমন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল-সম্পৃক্ত সংকট এবং হরমুজ প্রণালী এলাকায় অস্থিরতা—এসব জ্বালানি সরবরাহে সরাসরি প্রভাব ফেলায় সাধারণ মানুষের জীবনে তার প্রতিফলন পাওয়া যায়, বলে তিনি সতর্ক করেছেন।

    এনডিসির কমান্ড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. ফয়জুর রহমান সমাপনী অনুষ্ঠানে বলেন, জাতীয় গুরুত্বপূর্ন বিষয়গুলোতে আভ্যন্তরীন সংলাপ ও ঐক্যমত্য গঠন করা অপরিহার্য। কোর্স চলাকালীন ফেলোদের সক্রিয় অংশগ্রহণ কৌশলগত বোঝাপড়া বাড়াতে এবং বিভিন্ন খাতের নেতৃবৃন্দের মধ্যে জাতীয় মেলবন্ধন গড়ে তুলতে সহায়ক হয়েছে।

    ক্যাপস্টোন কোর্সটি কৌশলগত সচেতনতা বৃদ্ধি, গঠনমূলক চিন্তাধারা উন্নয়ন, আন্তঃবিভাগীয় সহযোগিতা জোরদার এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও উন্নয়ন বিষয়ে অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়। চলতি কোর্সে মোট ৪৫ জন ফেলো অংশগ্রহণ করেন, যাদের মধ্যে ছিলেন সংসদ সদস্য, জ্যেষ্ঠ সামরিক ও পুলিশ কর্মকর্তা, খ্যাতনামা শিক্ষাবিদ, জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি, কূটনীতিক এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী।

    সেনাপ্রধান সমাপনী বক্তব্যে আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে এনডিসিতে এ ধরনের আরও কোর্স পরিচালিত হবে এবং অংশগ্রহণকারীরা তাদের অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়ন ও নিরাপত্তায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন। অনুষ্ঠানে সশস্ত্র বাহিনী, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, এনডিসি ফ্যাকল্টি এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • বিএপি মনোনয়ন পেলেন সংখ্যালঘু চার নারী

    বিএপি মনোনয়ন পেলেন সংখ্যালঘু চার নারী

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের চার জন নারীকে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। সোমবার নয়াপল্টনের বিএনপি কেন্দ্রে এ মনোনয়নের নাম ঘোষণা করেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

    মনোনয়নপ্রাপ্ত চারজন হলেন নিপুণ রায় চৌধুরী, আন্না মিঞ্জ, সুবর্ণা শিকদার ও মাধবী মারমা। বিএনপি জানিয়েছে যে মনোনয়নকেন্দ্রে সামাজিক ও সম্প্রদায়িক প্রতিনিধিত্বকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    আন্না মিঞ্জ উন্নয়নকর্মী ও আদিবাসী ওঁরাও সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন। তিনি ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের সিনিয়র ডিরেক্টর (প্রোগ্রাম) এবং নাটোরের বাসিন্দা। আন্না জানান, তার মনোনয়ন দিয়ে সুবিধাবঞ্চিত খ্রিস্টান সংখ্যালঘু ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীগুলোকে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ করা হবে। তার স্বামী জন গোমেজ বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ধর্মবিষয়ক সহ-সম্পাদক।

    সুবর্ণা শিকদার গোপালগঞ্জ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন। তিনি মঠুয়া বহুজন সমাজ ঐক্যজোটের প্রধান উপদেষ্টা এবং শিক্ষক হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। তার মনোনয়ন প্রকাশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু কুৎসিত ছড়াছড়ি হয়; এসব নিয়ে সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের জবাবে সুবর্ণা বলেন, “আমি বিএনপির সমর্থক, কোনো স্থানীয় কমিটিতে নেই।” তার স্বামী পদ্মনাভ ঠাকুর এক সময়ে যুবদলের নেতা ছিলেন।

    মাধবী মারমা বান্দরবান থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন। তিনি বান্দরবান জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য এবং দলের মহিলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচিত।

    দলটির শীর্ষ নেতারা বলছেন, সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ার লক্ষ্যেই এই মনোনয়ন কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে।

  • সরকার ভুল পথে গেলে নারী এমপিরাও কণ্ঠস্বর তুলবেন: হামিদুর রহমান আযাদ

    সরকার ভুল পথে গেলে নারী এমপিরাও কণ্ঠস্বর তুলবেন: হামিদুর রহমান আযাদ

    জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, সরকার যদি কোনো ভুল পথে পরিচালিত হয় বা জনগণের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নেয়, তখন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যরাও বিরোধীদলের সঙ্গে মিলিয়ে সমানভাবে সোচ্চার হয়ে প্রতিবাদ করবে।

    মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) নির্বাচন ভবনে জামায়াত জোটের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর তিনি এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।

    আযাদ জানান, নারী আসনের জন্য দলীয়ভাবে কম্বাইন তালিকা হিসেবে জমা দেওয়া ১৩টি মনোনয়নপত্রে আর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থাকবেন না বলে তারা আশাবাদী। ‘‘এই ১৩টি আসন ১৩টি তালিকার ভিত্তিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার কথা; আমরা আশা করি সেভাবেই ফলাফল আসবে,’’ তিনি বলেন।

    নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে এ প্রসঙ্গে আলোচনার কথা উল্লেখ করে আযাদ বলেন, যেহেতু সংসদ কার্যকর রয়েছে এবং মনোনীতরা সময়মত পার্লামেন্টে যোগ দিতে পারলে নারীদের প্রতিনিধিত্ব সংক্রান্ত দেশের প্রত্যাশা পূরণ হবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, কমিশন যেন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত বা ভিন্ন পরিস্থিতি সৃষ্টি না করে—এটাই তারা প্রত্যাশা করেন এবং কমিশনও আশ্বাস দিয়েছে।

    আশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, মনোনীত ১৩ জন নারী সদস্য ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষে সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব করবেন। দেশের স্বার্থে আইন প্রণয়নসহ সংসদের সব গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ডে নারীরা সমানভাবে অংশ নিয়ে তাদের বৈধ মর্যাদা ও ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন—সংবিধান সেই সুযোগ দিয়েছে।

    জামায়াতের এই নেতা আরও বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনীতরা বিরোধীদলের প্ল্যাটফর্মে থেকে দেশগঠন ও জাতি গঠনে ভূমিকা পালন করবেন। ‘‘পার্লামেন্টে আমাদের নীতি হচ্ছে ন্যায় সম্মত ও জনকল্যাণমূলক কাজে জনগণের সঙ্গে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা,’’ তিনি যোগ করেন এবং বিরোধীদলীয় নেত্রী ডা. শফিকুর রহমানের ঘোষণার কথা স্মরণ করান।

    গণভোট ও সাংবিধানিক সংস্কার প্রসঙ্গে আযাদ বলেন, গণভোটের রায়ে সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ গঠন হওয়ার কথা ছিল; তা না হওয়ায় ১১ দল মিলেই সরকারের ওই পদক্ষেপ ও জনরায়ের উপেক্ষার বিরুদ্ধে সংসদেও এবং সংসদের বাইরেও প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও রাস্তায় কর্মসূচি অব্যাহত রাখবেন।

    মনোনয়ন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তিনি জানান, জামায়াতে এক পরিবারে দুই সংসদ সদস্যের নীতি অনুসরণ করে আমিরের সহধর্মিণীকে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দেয়া হয়নি; তার বদলে শহীদ পরিবারের মা এবং সমাজের নানা স্তরের পেশাজীবী—ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার ইত্যাদি—কে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।

    এনসিপির প্রার্থী মুনিরা শারমিন সম্পর্কে আসা প্রশ্নে আযাদ বলেন, সরকারি চাকরি থেকে অবসর না হওয়ার কারণে প্রার্থিতা স্থগিত হওয়ার শর্ত থাকলেও তিনি মনে করেন এ ঘটনা মনোনয়ন বাতিলের পর্যায়ে যাবে না।

    তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল, আপিল জমা নেয়ার শেষ তারিখ ২৬ এপ্রিল, আপিল নিষ্পত্তি ২৭ ও ২৮ এপ্রিল, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৯ এপ্রিল, প্রতীক বরাদ্দ ৩০ এপ্রিল এবং ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ মে।

    আযাদ সংবাদ সম্মেলনে আরও উল্লেখ করেন, ‘‘যদি সরকার ভুল পথে অগ্রসর হয় বা জনবিরোধী সিদ্ধান্ত নেয়, আমাদের অপর বিরোধীদলীয় সদস্যদের মতোই ১৩ জন নারী সদস্যও পাল্লা দিয়ে প্রতিবাদে অংশ নেবেন; ৭৭ জন বিরোধীদলীয় সদস্যের সঙ্গে ১৩ জন যোগ হলে মোট ৯০ জন সদস্য একসঙ্গে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’’

  • জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় বিদেশি ক্রেতারা অর্ডার স্থগিত, পোশাক খাতের উদ্বেগ বেড়েছে

    জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় বিদেশি ক্রেতারা অর্ডার স্থগিত, পোশাক খাতের উদ্বেগ বেড়েছে

    দেশে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় অনেক বিদেশি ক্রেতাই বাংলাদেশের নতুন ক্রয়াদেশ দিতে পিছিয়ে পড়েছেন—এমন তথ্য প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম (পারভেজ) চৌধুরী।

    বৃহস্পতিবার না—রিকার্ডিং: তিনি বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় বলেন, আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে জ্বালানির পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে—এমন আশঙ্কাই ক্রেতাদের সতর্ক করেছে। এতে তৈরি পোশাক খাতসহ দেশের প্রধান রপ্তানি খাতগুলো বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয় কমার সম্ভাবনা বাড়ছে।

    বিসিআই সভাপতির ভাষ্য, বিশ্ববাজারের অস্থিরতা এবং দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সঙ্কট নিয়ে বিদেশি ক্রেতাদের উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে জুলাই ও আগস্ট মাসের জন্য বেশ কিছু ক্রয়াদেশ ইতিমধ্যেই ধীরগতি ধারণ করেছে। বড় বড় ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো নেতিবাচক সঙ্কেত দিচ্ছে; কিছু অর্ডার ভারতসহ অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়ার প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে। ঢাকা অফিসগুলো পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও শীর্ষ সিদ্ধান্তগ্রহণকারীরা নতুন অর্ডার দেওয়ার ব্যাপারে নাক ঝারছি করে দিচ্ছেন।

    আরেকটি বড় সমস্যা হিসেবে আনোয়ার-উল আলম বর্তমান কর কাঠামোকে ‘ব্যবসাবান্ধব’ বলেননি। তিনি বলেন, লাভ-লোকসান নির্বিশেষে এক শতাংশ হারে ন্যূনতম করের বাধ্যবাধকতা অনেক প্রতিষ্ঠানের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তারা এতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন; মুনাফা না থাকলেও কর দিতে হচ্ছে, যা তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা কঠিন করে তুলছে।

    বিসিআই ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য কর কাঠামো পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব দিচ্ছে এবং রপ্তানি আয়ের ওপর উৎস কর কমানোর আহ্বান জানিয়েছে। তবে এনবিআর চেয়ারম্যান মোঃ আবদুর রহমান খান উৎস কর কমানোর প্রস্তাব নাকচ করেছেন।

    আয়কর আইন ২০২৩-এর ১৪৭ ধারা প্রসঙ্গে বিসিআই সভাপতি বলেন, কর যাচাইয়ের নামে যে কোনো প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার সিস্টেম বা নথিপত্র জব্দ করার অবারিত ক্ষমতা ব্যবসায়ীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে এবং এটি ব্যবসার পরিবেশে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে।

    প্রাক-বাজেট আলোচনায় অংশ নেওয়া ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) ব্যাংক আমানতের মুনাফার ওপর উৎস কর ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশে নামানো এবং নিট সম্পত্তির ওপর আরোপিত সারচার্জ ধাপে ধাপে বাতিলের দাবি জানিয়েছে। ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে করের বোঝা বাড়ানো বন্ধ রেখে ব্যবসা সহায়ক কর কাঠামো গড়ে তোলারও জোর দাবি করা হয়েছে।

    শিল্প ও ব্যবসায়িক নেতৃত্বগতরা সতর্ক করেছেন—জ্বালানি সরবরাহ যদি স্থিতিশীল না হয় এবং কর কাঠামো সহজীকরণ করা না হয়, তবে দেশের রপ্তানি খাতের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা আরও দুর্বল হয়ে পড়বে।

  • অর্থমন্ত্রী: দেশের বৈদেশিক ঋণ ৭৮,০৬৭.২০ মিলিয়ন ডলার

    অর্থমন্ত্রী: দেশের বৈদেশিক ঋণ ৭৮,০৬৭.২০ মিলিয়ন ডলার

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, দেশের বৈদেশিক ঋণের মোট পরিমাণ ৭৮,০৬৭.২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। তিনি এই তথ্য দিয়েছেন জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৮তম দিনে, মঙ্গলবার বিকেলে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে।

    রুমিন ফারহানা প্রশ্নে জানতে চেয়েছিলেন বর্তমানে বাংলাদেশের বিদেশি ঋণের পরিমাণ কত এবং ঋণ পরিশোধের জন্য সরকারের কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানতে চেয়েছিলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে কতটুকু ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে।

    জবাবে আমির খসরু বলেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী সরকারের বৈদেশিক ঋণের স্থিতি ৭৮,০৬৭.২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। তিনি জানান, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের কার্যক্রম পরিচালনা করে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)।

    অর্থমন্ত্রী জানান, প্রতিটি অর্থবছরের জন্য ঋণের আসল ও সুদ মিলিয়ে মোট সম্ভাব্য ব্যয়ের একটি প্রক্ষেপণ তৈরি করা হয় এবং সেই পরিমাণে বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়। বরাদ্দকৃত এ তহবিল ব্যবহার করে বছরের মধ্যে ঋণের পরিশোধসূচি অনুযায়ী কিস্তি পরিশোধ করা হয়।

    সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ৯০.৬৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে বলে তিনি সংসদে জানিয়েছেন।