Blog

  • ৭২ বছর পর মৃত্যুদণ্ড ফেরাল ইসরায়েল — প্রযোজ্য কেবল ফিলিস্তিনি নাগরিকদের জন্য

    ৭২ বছর পর মৃত্যুদণ্ড ফেরাল ইসরায়েল — প্রযোজ্য কেবল ফিলিস্তিনি নাগরিকদের জন্য

    ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে গত সোমবার একটি বিতর্কিত ও বৈষম্যমূলক মৃত্যুদণ্ড আইন পাস করা হয়েছে, যা মূলত ফিলিস্তিনি নাগরিকদের ওপরই প্রয়োগ করার উদ্দেশ্য নিয়ে আনা হয়েছে। আইনপাসের পর আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    বিলটি পার্লামেন্টে ৬২-৪৮ ভোটে পাস হয়; প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং কট্টর ডানপন্থী দলগুলোর সদস্যরা বিলের পক্ষে ভোট দেন। ৪৮ জন সদস্য বিরোধিতা করলে বাকিরা বিরত ছিলেন।

    নতুন আইনের অধীনে অধিকৃত পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি সামরিক আদালত যদি ‘‘সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ড’’ এ মন্তব্য করে যে কোনও মর্যাদায় প্রাণহানির দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে, তাহলে সেই ব্যক্তির জন্য সাজা হবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মৃত্যুদণ্ড। তবে ‘‘বিশেষ পরিস্থিতি’’ বিবেচনায় তা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে পরিবর্তন করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

    আইনের সবচেয়ে বিতর্কিত দিকটি হলো এর দ্বৈত নীতির অভিযোগ। নানা মানবাধিকার সংস্থা বলছে, একই ধরনের অপরাধে ইহুদি ইসরায়েলিদের বিরুদ্ধে এই বিধান প্রয়োগ করা হবে না — ফলে এটা কাঠামোগতভাবেই ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে বৈষম্যমূলক। অ্যাসোসিয়েশন ফর সিভিল রাইটস ইন ইসরায়েল (ACRI) একটি বিবৃতিতে বলেছে, আইনটি দুটি সমান্তরাল পথে বিভক্তি সৃষ্টি করেছে যা ইহুদি অপরাধীদের ছেড়ে দিয়ে ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্যমাত্রা করছে।

    বিরোধীদলীয় নেতা ও মোসাদের সাবেক উপপরিচালক রাম বেন বারাক লোকসভায় প্রশ্ন তুলেছেন, ‘‘আপনারা কি বুঝতে পারছেন এর বাস্তব অর্থ কী? পশ্চিম তীরের আরবদের জন্য এক আইন এবং অন্যদের জন্য আরেকটি আইন—এতে আমরা আমাদের নৈতিক মূল্যবোধ হারিয়ে ফেলছি।’’

    আইনে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি হিসেবে ফাঁসি নির্ধারণ করা হয়েছে। সাজা কার্যকরের সময়সীমা হিসেবে বলা হয়েছে, সাজা প্রদান হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে তা কার্যকর করা হবে; বিশেষ ক্ষেত্রে এ সময়সীমা ১৮০ দিন পর্যন্ত বৃদ্ধি করা যেতে পারে। ইসরায়েল মূলত ১৯৫৪ সালে সাধারণভাবে মৃত্যুদণ্ড বাতিল করেছিল; ১৯৬২ সালে হলোকাস্টের অন্যতম সহযোগী অ্যাডলফ আইখম্যানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল যা তার পরবর্তী একমাত্র কুখ্যাত ঘটনা।

    জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা আইনের ‘‘সন্ত্রাসবাদ’’ সংজ্ঞায় অস্পষ্টতার কারণে নিরীহ ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে এর অপব্যবহারের আশঙ্কা জানিয়েছেন। ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালি সহ বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং বলেছেন যে আইনটি ইসরায়েলের গণতান্ত্রিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল আইনটিকে ‘‘বৈষম্যমূলক’’ আখ্যায়িত করে বাতিলের আহ্বান জানিয়ে দিয়েছে।

    ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ আইনটির তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে সার্বভৌমত্ব নেই এবং আইনটি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা।

    বিল পাস হওয়ার পরই বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্টে আইনি চ্যালেঞ্জ হিসেবে একটি পিটিশন দায়ের করেছে। তাদের যুক্তি, আইনটি ইসরায়েলের ‘‘বেসিক ল’’ বা মৌলিক আইনের ক্ষতিকর লঙ্ঘন যা নির্বিচারে বৈষম্য নিষিদ্ধ করে।

    অন্যদিকে জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গভির আইনটি একটি ‘‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’’ বলে উদযাপন করেছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন যে এটি নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছে।

    এখন আইনটিকে কেন্দ্র করে দেশের অভ্যন্তরীণ বিতর্ক, উচ্চ আদালতের বিচারপ্রক্রিয়া ও আন্তর্জাতিক চাপে ইসরায়েলের বিচারবহির্ভূত ও মানবাধিকার সংক্রান্ত ভাবমূর্তি যে সংকটে পড়েছে তা স্পষ্ট।

  • চুয়াডাঙ্গায় জ্বালানি কার্ড নেয়ার লাইনে ভিড়, স্ট্রোকে এনজিওকর্মীর মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গায় জ্বালানি কার্ড নেয়ার লাইনে ভিড়, স্ট্রোকে এনজিওকর্মীর মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গায় জ্বালানি তেল সরবরাহ ও বিপণন স্বাভাবিক রাখার উদ্যোগে দ্বিতীয় দিনও জ্বালানি কার্ড (ফুয়েল কার্ড) বিতরণ চলছে। মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে জেলার চারটি উপজেলা পরিষদে এসব কার্ড বিতরণ করা হয়। একারণে দীর্ঘ লাইনের ভিড়ে আলমডাঙ্গায় একজন এনজিওকর্মীর মারা যাওয়ার খবর মিলেছে।

    আলমডাঙ্গা উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বখতিয়ার রহমান নামে ওই ব্যক্তির স্ট্রোক করে মৃত্যু হয়। তিনি ভেদামারীর রফিউদ্দিন মোল্লার ছেলে। নিহত বখতিয়ার স্থানীয় একটি এনজিওতে কর্মরত ছিলেন।

    বখতিয়ারের চাচাতো ভাই আবুল হোসেন জানান, সকালে তিনি উপজেলা চত্বরে জ্বালানি কার্ড সংগ্রহের লাইনে দাঁড়ান। ভিড়ের মাঝে আকস্মিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রতিবেশীরা দ্রুত তাকে স্থানীয় একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নেয়; সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    জানাজার আগে আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আকতার জানান, নিহত ব্যক্তি আগ থেকেই অসুস্থ ছিলেন। উপজেলা চত্বরে মানুষের ভিড় ছিল বেশ ঘন—তীব্র গরমে অসুস্থতা আরও তীব্র হয়ে ওই ব্যক্তির স্ট্রোক ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    জেলা প্রশাসন পূর্বে জানিয়েছিল, ৩০ ও ৩১ মার্চ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে যানবাহনের জন্য জ্বালানি কার্ড বিতরণ শুরু হবে। কার্ড নিতে হলে সংশ্লিষ্ট যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন নম্বর, চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স নম্বর ও জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি জমা দিতে হবে।

    জানা হয়েছে, আগামী ১ এপ্রিল থেকে শুধুমাত্র জ্বালানি কার্ডধারী যানবাহনগুলোতেই জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হবে। তেলের মাত্রা প্রয়োজন অনুযায়ী প্রদান করা হবে এবং প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত জেলার ২২টি পাম্পে একযোগে তেল বিক্রি হবে। তবে কৃষিকাজে ব্যবহৃত ডিজেল সরবরাহে শিথিলতা রাখা হয়েছে—কৃষকদের জন্য আগের মতো ২৪ ঘণ্টা ডিজেল বিক্রি চলবে।

    চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বি এম তারিক উজ জামান বলেন, ফুয়েল কার্ড কার্যক্রম চালু হলে পাম্পসমূহে বিশৃঙ্খলা রোধ করা সম্ভব হবে এবং কালোবাজারির মতো অনিয়মও নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে। একজনের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুতে জেলা প্রশাসন গভীরভাবে শোকাহত।

    জিআর: সময় টিভি ও আজকের পত্রিকা

  • জ্বালানি তেল মজুদ ও পাচার রোধে সীমান্তে বিজিবির নজরদারি জোরদার

    জ্বালানি তেল মজুদ ও পাচার রোধে সীমান্তে বিজিবির নজরদারি জোরদার

    যশোর রিজিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকায় জ্বালানি তেলের নিরাপদ ও নিরবিচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং অবৈধ মজুদ ও পাচার প্রতিরোধে বিজিবি তৎপরতা বাড়িয়েছে। সোমবার বেনাপোল বিজিবি সদর ক্যাম্পে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লেঃ কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান এ তথ্য জানান।

    লেঃ কর্নেল সাইফুল আলম বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য ওঠানামা ও বৈশ্বিক অস্থিরতার ফলে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে তেল পাচারের চেষ্টা বাড়তে পারে। তাই দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখা, বিপণন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা রক্ষা ও বৈষম্য সৃষ্টিকারী মজুদদার ও পাচারকারীদের বাধা দেয়ার লক্ষ্যে রিজিয়নজুড়ে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

    তিনি জানান, বিজিবি সদস্যরা সীমান্তে টহল ও তল্লাশি বাড়িয়েছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এসব কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য—জ্বালানি ডিপোসমূহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ডিপো থেকে ফিলিং স্টেশন পর্যন্ত জ্বালানির স্বাভাবিক ও uninterrupted সরবরাহ বজায় রাখা, সীমান্ত ও নৌপথে পার্শ্ববর্তী দেশে তেল পাচার রোধ করা এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় অবৈধ মজুদের সমস্ত চেষ্টাই নবত্মতভাবে থামানো।

    যশোর রিজিয়নের আওতায় পরিচালিত কার্যক্রমের পরিসংখ্যানও তিনি তুলে ধরেন। সেখানে সাতটি ব্যাটালিয়নের সীমান্ত ও সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় মোট ১৯২টি বিশেষ তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছে। ২৯টি সীমান্তবর্তী তেল পাম্প/ফিলিং স্টেশন পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। সন্দেহভাজন রুটগুলোতে মোট ১,৯৩৬টি তল্লাশি ও মোবাইল টহল পরিচালনা করা হয়েছে এবং চোরাচালানী রুটগুলোর ওপর ১,১৩১টি চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে।

    স্থানীয় জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে ৯৪৬টি মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে যাতে জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষকে বিষয়ে সচেতন করা যায়। এছাড়া বিভিন্ন সংস্থা ও বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ে ৯৭টি যৌথ তল্লাশি ও চেকপোস্ট পরিচালনা করা হয়েছে—যার ফলে জ্বালানি পাচার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়েছে।

    নৌরক্ষা অনুযায়ী নাওপথে নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে—স্পিডবোট ব্যবহার করে নিয়মিত ৬টি টহল চালানো হচ্ছে, ফলে নদীপথেও সার্বক্ষণিক নজরদারি নিশ্চিত হয়েছে। এছাড়া বিজিবি সদর দফতরের নির্দেশনায় সারাদেশে ৯টি জেলায় ১৯টি ডিপোতে বিজিবির মোতায়েন রয়েছে।

    লেঃ কর্নেল সাইফুল আলম জনসাধারণ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মানুষের সহযোগিতায় জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষা সহজ হবে। তিনি বিশেষভাবে অনুরোধ করেন, কোনো গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে সীমান্তবর্তী এলাকায় জ্বালানিসংক্রান্ত কোনো সন্দেহজনক লেনদেন বা কার্যক্রম দেখলেই তা দ্রুত বিজিবিকে জানিয়ে সহযোগিতা করবেন।

  • রিশাদ পেলেন বিগ ব্যাশ বর্ষসেরা খেলোয়াড় মনোনয়ন

    রিশাদ পেলেন বিগ ব্যাশ বর্ষসেরা খেলোয়াড় মনোনয়ন

    ক্রিকেট তাসমানিয়া ২০২৫-২৬ মৌসুমের পারফরম্যান্স সম্মানে বার্ষিক পুরস্কার অনুষ্ঠান আয়োজন করছে। আগামী ১ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে এই অনুষ্ঠান, যেখানে মৌসুমজুড়ে বিশেষভাবে উজ্জ্বল পারফরম্যান্স দেখানো ক্রিকেটাররা সম্মাননা পাবেন। অনান্য শাখার সঙ্গে সঙ্গে আয়োজনের একটি বড় আকর্ষণ এইবারের ‘বিগ ব্যাশ সিজনের সেরা’ পুরস্কার।

    সেই মনোনয়ন তালিকায় জায়গা পেয়েছেন বাংলাদেশের লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন। বিগ ব্যাশে ডেবিউ মৌসুমেই হারিকেন্সের হয়ে খেলা রিশাদকে নিয়মিত উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করতে দেখা গেছে। পুরো মৌসুমে তিনি ১৫টি উইকেট নিয়েছেন, যা দলের মধ্যে সর্বোচ্চ এবং তার প্রভাব দলের পারফরম্যান্সে স্পষ্ট ছিল।

    বোলিংয়ে তাকে প্রায়ই ইনিংসের শুরুতে আনা হতো; মাঝের ওভারগুলোতে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। স্ট্রাইকার্সের বিপক্ষে তার সেরা বোলিং ফিগার ছিল ৩ উইকেট নিইয়ে ২৬ রান খরচ (৩/২৬) — যা তার চাপ সৃষ্টি করার দক্ষতার প্রমাণ।

    রিশাদের সঙ্গে এই পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পেয়েছেন নিখিল চৌধুরী, নাথান এলিস ও ক্রিস জর্ডান। নিখিলকে মানা হচ্ছে ব্যাট ও বল—দুই দিকেই শক্তিশালী প্রদর্শনের জন্য; এলিসকে ধারে ধারে নিয়মিত উইকেট নেওয়ার দক্ষতার জন্য; এবং জর্ডানকে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে উইকেট নেয়ার ক্ষমতার জন্য আলোচনায় আনা হয়েছে।

    পুরস্কারজয়ীদের নাম অনুষ্ঠান চলাকালীন সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে ঘোষণা করা হবে। নিজের অভিষেক মৌসুমেই এমন মনোনয়ন পাওয়া রিশাদ হোসেনের জন্য এটি বড় একটি স্বীকৃতি, যা তার ভবিষ্যত কেরিয়ারে ইতিবাচক দরজা খুলে দিতে পারে।

  • বিসিবি নির্বাচনের তদন্ত কমিটির মুখোমুখি হয়েছেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল

    বিসিবি নির্বাচনের তদন্ত কমিটির মুখোমুখি হয়েছেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল

    জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) চলতি মাসে বসানো স্বাধীন তদন্ত কমিটি সম্প্রতি বঙ্গোপসাগরীয় ক্রীড়া সংক্রান্ত বিসিবি নির্বাচনের ঘটনার তদন্তের অংশ হিসেবে বেশ কয়েকজন সংশ্লিষ্টকে ডেকে কথা বলছে। কমিটির সদস্যরা জানিয়েছে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলও তাদের সামনে সাক্ষাৎ করেছেন—এই তথ্য ঢাকা পোস্টকে এক সদস্য নিশ্চিত করেছেন।

    তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, বিদেশ থেকে দেশে ফেরার আগে বুলবুল তদন্ত কমিটিকে লিখিতভাবে জবাব পাঠিয়েছিলেন। তারপর ব্যক্তিগতভাবে কমিটির কাছে গিয়ে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা দিয়েছেন। কমিটির একজন সদস্য জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত তদন্ত কাজ ভালোভাবেই এগুচ্ছে এবং “তদন্তের স্বার্থে যখন যে ব্যক্তির প্রয়োজন হবে, তার সঙ্গেই কথা বলা হবে।”

    এর আগে শনিবার বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজনও তদন্ত কমিটির সামনে হাজির হন। এরপর রোববার কমিটি বিসিবির সহ-সভাপতি ফারুক আহমেদের সঙ্গেও কথা বলেছে।

    ফারুক সাংবাদিকদের বলেছেন, নির্বাচনে তাঁর কোনো প্রতিপক্ষ না থাকায় ম্যানিপুলেশনের সম্ভাবনা কম—“নির্বাচনে এখানে কোনো প্রতিপক্ষ ছিল না। ভোটার ছিল ৭৬ জন, এর মধ্যে ৪২ জন ভোট দিয়েছেন এবং আমি সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছি। সুতরাং যে ৩৪ ভোট নেই, সেটিকে ম্যানিপুলেশনের প্রমাণ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। আমার মনে হয় ভোটাভুটি সঠিকভাবে হয়েছে।”

    তদন্ত কমিটি কর্তৃপক্ষ ও সাক্ষাৎকার পাওয়া ব্যক্তিদের দেওয়া ব্যাখ্যা অনুযায়ী পরবর্তী বদলী ও সিদ্ধান্ত কী হবে, তা কমিটির রিপোর্টে পরিষ্কার হবে। তদন্ত এখনও চলছে এবং প্রাসঙ্গিক সকল পক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি যাচাই করা হবে বলে তারা জানিয়েছে।

  • হাউস অব কমন্সে সম্মাননা পেলেন রাহাত ফতেহ আলী খান ও শাহ জামান খান

    হাউস অব কমন্সে সম্মাননা পেলেন রাহাত ফতেহ আলী খান ও শাহ জামান খান

    উপমহাদেশের কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী ওস্তাদ রাহাত ফতেহ আলী খান ও নতুন প্রজন্মের শিল্পী শাহ জামান খানকে সম্মাননা জানিয়ে একটি বিশেষ প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে লন্ডনের হাউস অব কমন্সে। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করেন ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য রুথ ক্যাডবেরি এবং সুরকার ও সংগীত পরিচালক রাজা কাশেফ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ওস্তাদ রাহাত, তাঁর ছেলে শাহ জামান খান, গায়ক আসিফ আকবর, ধ্রুব মিউজিক স্টেশনের কর্ণধার ধ্রুব গুহসহ ব্রিটিশ পার্লামেন্টের বিভিন্ন সদস্য এবং প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ।

    ইভেন্টের কেন্দ্রবিন্দু ছিল রুবাইয়াত জাহানের গাওয়া বাংলা গান ‘প্রেম পিয়াসা’—এর প্রকাশনা উৎসব। অনুষ্ঠানে সংগীতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ওস্তাদ রাহাত ফতেহ আলী খান ও তাঁর ছেলে শাহ জামান খানকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। গানটি প্রকাশনা করেছে ধ্রুব মিউজিক স্টেশন; কথার রচয়িতা কবির বকুল, সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন রাজা কাশেফ, আর ভিডিও নির্মাণ করেছেন সৈকত রেজা।

    প্রসঙ্গত, রাজা কাশেফ ও রুবাইয়াত জাহানকে ধন্যবাদ জানিয়ে ওস্তাদ রাহাত ফতেহ আলী খান বলেন, গানটির প্রতি তাঁদের একনিষ্ঠতা ও আন্তরিকতা তাঁকে মুগ্ধ করেছে। বাংলা গানের প্রতি তাঁর দীর্ঘদিনের ভালোবাসা রয়েছে এবং ‘প্রেম পিয়াসা’ সেই ভালোবাসারই এক রঙিন প্রতিফলন। তিনি ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্যদের কাছে himself এবং তাঁর ছেলেকে সম্মানিত করার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।

    গানটির ভিডিও ধ্রুব মিউজিক স্টেশন ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ করা হয়েছে, এবং গানটি দেশি ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মিউজিক প্ল্যাটফর্মে শুনতে পাওয়া যাচ্ছে। অনুষ্ঠানটি প্রবাসী সম্প্রদায় ও সাংস্কৃতিক পর্যায়কে একত্রে উদযাপন করার একটি ভালো উদাহরণ হিসেবে দেখা হয়েছে।

  • ময়নাতদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য: রাহুল অরুণোদয়ের দেহে বালি ও নোনা পানি

    ময়নাতদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য: রাহুল অরুণোদয়ের দেহে বালি ও নোনা পানি

    টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকাল মৃত্যুতে ময়নাতদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়েছে। খবর অনুযায়ী, রোববার ধারাবাহিক ‘ভোলে বাবা পার করেগা’–র শুটিং করার সময় তিনি পানিতে নামেন এবং আর উঠতে পারেননি; পরে তিনি তলিয়ে যান।

    সোমবার (৩০ মার্চ) সকাল সাড়ে ১১টায় তমলুক হাসপাতালে শুরু হয় অভিনেতার মরদেহের ময়নাতদন্ত। প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি পানিতে ডুবেই নিহত হয়েছেন। দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকার কারণে তাঁর ফুসফুস ফুলে দ্বিগুণ আকার ধারণ করেছে এবং ফুসফুসে প্রচুর বালি ও নোনা পানি মিলেছে।

    রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, সাধারণত অল্প সময় পানির নিচে থাকলে ফুসফুসে এত পরিমাণ বালি থাকা সম্ভব নয়। তাই অনুমান করা হচ্ছে যে রাহুলের দেহ গড়ে প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় পানির নিচে ছিল। ময়নাতদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁর খাদ্যনালিতেও বালি ও নোনা জল প্রবেশ করেছে।

    অভিনেতার মৃত্যু নিয়ে পুলিশকে উদ্দেশ্য করে বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই শুটিংটি অনুমতি ছাড়াই পরিচালিত হয়েছিল—এই ঘটনার সঙ্গে কারও অবহেলা বা দায়-দায়িত্ব রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯৮৩ সালের ১৬ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন। অভিনয়ের শুরুটা তিনি করেছিলেন বাবার সঙ্গে ‘রাজ দর্শন’ নামের একটি নাটকে, বিজয়গড় থিয়েটার দলের মাধ্যমে। তারপর থেকে তিনি প্রায় ৪৫০টিরও বেশি নাটকে অভিনয় করেছেন এবং টেলিভিশন-থিয়েটারে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

  • ৬ ঘণ্টার ব্যবধানে দেশে সোনার দাম বেড়ে হয়েছে ৪৫৩৯ টাকা

    ৬ ঘণ্টার ব্যবধানে দেশে সোনার দাম বেড়ে হয়েছে ৪৫৩৯ টাকা

    দেশের বাজারে আবারও বৃদ্ধি পেলো সোনার মূল্য। আজ শনিবার সকালের প্রথম দিকে, অর্থাৎ সকাল ১০টায়, বাংলাদেশের জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) একটি জরুরি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সোনার দাম বৃদ্ধি করার ঘোষণা দেয়। বিকেল ৪টার পর থেকে নতুন দাম কার্যকর করা হয়।

    বাজুস জানিয়েছে, তেজাবী সোনার দাম বৃদ্ধির ফলে দেশের বাজারেও সোনা দামের এই পরিবর্তন এসেছে। আজ (২১ মার্চ) দুপুর ৩টা ৪৫ মিনিটে বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং-এর সভায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ওই সময় থেকে নতুন মূল্যতালিকা কার্যকর হয়, যা সব জুয়েলারি দোকানে একসঙ্গে প্রয়োগ করা হয়েছে।

    নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরি দাম হেঁটে বেড়িয়েছে ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৫ টাকায়, যা আগে ছিল ২ লাখ ৩৬ হাজার ৯০৬ টাকা। এছাড়াও, ২১ ক্যারেট সোনার দাম এখন প্রতি ভরি ২ লাখ ৩০ হাজার ৪২৬ টাকা। অন্যদিকে, ১৮ ক্যারেট সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫২৯ টাকা, আর সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম প্রতি ভরি ১ লাখ ৬০ হাজার ৮৪৭ টাকা।

    বাজুস সূত্রে জানানো হয়েছে যে, যদিও সোনার দাম বাড়ছে, রূপার দাম অপরিবর্তিত থাকছে। তবে সকালে রুপার দাম এক দফা বেড়েছে। সেই অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরি দাম এখন ৫ হাজার ৩৬৩ টাকা, ২১ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরি ৫ হাজার ১২৯ টাকা, ১৮ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরি ৪ হাজার ৪৩১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৩ হাজার ৩২৪ টাকায় নির্ধারিত হয়েছে।

    বাজুস জানিয়েছে, এই নতুন দামগুলো পরবর্তী ঘোষণা না আসা পর্যন্ত সারাদেশে কার্যকর থাকবে। এক্ষেত্রে ক্রেতাদের থেকে সরকারের নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাটও আদায় করা হবে।

  • বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪ বিলিয়ন ডলার নিচে

    বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪ বিলিয়ন ডলার নিচে

    বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকুচিত হয়ে বর্তমানে ৩৪ বিলিয়ন ডলার নিচে এসে দাঁড়িয়েছে। রোববারের দিনশেষে মোট রিজার্ভ ছিল ৩৩.৯৯ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র, আরিফ হোসেন খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করলে রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৯.৩০ বিলিয়ন ডলার। আরিফ হোসেন খান বলেন, মূলত বিভিন্ন দেশের সঙ্গ থেকে আমদানিকৃত পণ্যের মূল্য পরিশোধের কারণে রিজার্ভ কিছুটা কমে গেছে। তবে, প্রবাসী আয়ের প্রবাহ ভালো থাকায় রিজার্ভের ওপর চাপ কিছুটা কমে এসেছে। অন্যথায়, রিজার্ভ আরও কমে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা যায়, রিজার্ভ এখনো সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সূত্র ও জানায়, এর আগে গত ১৬ মার্চ রিজার্ভ ছিল ৩৪.২২ বিলিয়ন ডলার, যা বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করলে ছিল ২৯.৫২ বিলিয়ন ডলার। বিএন ব্যাংকের এক অভ্যন্তরীণ হিসাব রয়েছে, যা নিয়মিত প্রকাশ হয় না, তবে জানা গেছে, প্রকৃত বা নিট আন্তর্জাতিক রিজার্ভ (এনআইআর) বর্তমানে প্রায় ২৬ বিলিয়ন ডলার কাছাকাছি।

    বর্তমানে রিজার্ভ দিয়ে প্রতি মাসে গড়ে ৫.৫ বিলিয়ন ডলার আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব, যার মাধ্যমে প্রায় পাঁচ মাসের আমদানি খরচ পূরণ করা যায়। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি দেশের কমপক্ষে তিন মাসের সামগ্রিক আমদানির প্রয়োজনীয় অর্থ থাকা উচিত। সেই দিক থেকে বাংলাদেশের রিজার্ভ এখনও স্বস্তিদায়ক অবস্থানে রয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়।

  • প্রবাসী আয়ে নতুন রেকর্ড: ২৮ দিনে এসেছে ৩৩৩ কোটি ২০ লাখ ডলার

    প্রবাসী আয়ে নতুন রেকর্ড: ২৮ দিনে এসেছে ৩৩৩ কোটি ২০ লাখ ডলার

    চলতি মার্চ মাসে দেশের প্রবাসী আয়ের নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। মাত্র ২৮ দিনে দেশের প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন মোট ৩৩৩ কোটি ২০ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশে কোনো এক মাসে রেকর্ডসংখ্যক প্রবাসী আয়। এই খবর সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান নিশ্চিত করেছেন।

    অতীতে মার্চ মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স ছিল ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার, যা এখন পর্যন্ত এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। তবে এ বছর প্রথম ২৮ দিনে এই অঙ্ক ছাড়িয়ে গেছে। ব্যাংকাররা বলছেন, রমজান ও ঈদ উৎসবের সময় প্রবাসীদের প্রেরণা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশাপাশি, মধ্যপ্রাচ্যসহ অন্যান্য দেশের ইসরায়েল-ইরান উত্তেজনার কারণে অনেক প্রবাসী তাদের সঞ্চিত অর্থ দ্রুত দেশে পাঠাচ্ছেন। এর ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, অর্থবছরের প্রথম দিকে জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসে পৌঁছেছে ২ হাজার ৫৭৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮.৮০ শতাংশ বেশি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন প্রায় ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ ডলার, যা দেশের ইতিহাসে একেবারেই নতুন এক রেকর্ড।

    তবে, বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ইরান-সংক্রান্ত সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে প্রবাসী আয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এটি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। সংঘাত যদি দ্রুত শেষ হয়, তবে প্রভাব কম থাকতে পারে। কিন্তু সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রবাসী আয় ব্যাপকভাবে কমে যেতে পারে, যা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করবে।

    সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট প্রবাসী আয়ের প্রায় ৪৭ শতাংশ আসে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে। দেশের জনশক্তি রপ্তানির সবচেয়ে বড় বাজারও এই অঞ্চল। ফলে, এই অঞ্চলে কোনো ধরনের অস্থিরতা বা সংকট দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ ও কর্মসংস্থানের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।