Blog

  • চার দফা বাড়ার পর স্বর্ণের দাম কমল, ২২ ক্যারেটে ভরিতে ২,১৫৮ টাকা নামল

    চার দফা বাড়ার পর স্বর্ণের দাম কমল, ২২ ক্যারেটে ভরিতে ২,১৫৮ টাকা নামল

    টানা চার দফা বাড়ানোর পর শেষমেষ কমেছে দেশের স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সোমবার (৬ এপ্রিল) ঘোষণা করেছে, ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৮১৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই নতুন দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হবে।

    বাজুস এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে পিওর গোল্ডের দাম কমায় এবং সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এই সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন রেট অনুযায়ী প্রতি ভরিতে ২১ ক্যারেটের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ২ লাখ ১ হাজার ১৪৬ টাকা এবং সনাতনী পদ্ধতির প্রতি ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬৩ হাজার ৮২১ টাকা।

    এর আগের সমন্বয় ছিল ১ এপ্রিল, যখন বাজুস ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৭ টাকা নির্ধারণ করেছিল। তখন ২১ ক্যারেটের দাম ছিল ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭২১ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ লাখ ২ হাজার ৮৯৫ টাকা এবং সনাতনী পদ্ধতির দাম ১ লাখ ৬৫ হাজার ২৭৯ টাকা।

    চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম মোট ৫২ বার সমন্বয় করা হয়েছে; যার মধ্যে ৩০ বার দাম বাড়ানো এবং ২২ বার দাম কমানো হয়েছে। গত বছর (২০২৫) মোট ৯৩ বার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; সেদিকরে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল এবং ২৯ বার কমানো হয়েছিল।

    স্বর্ণের সঙ্গে রুপার দামও সমন্বয় করা হয়েছে। এতে ২২ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরিতে ১৭৫ টাকা কমানো হয়েছে; নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৫৪০ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেট রুপার দাম ৫ হাজার ৩০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৫৪৯ টাকা এবং সনাতনী পদ্ধতির রুপার দাম ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

  • ১৭ ব্যাংক লোকসানে, সিএসআর ব্যয় প্রায় অর্ধে নেমে এসেছে

    ১৭ ব্যাংক লোকসানে, সিএসআর ব্যয় প্রায় অর্ধে নেমে এসেছে

    ২০২৪ সাল ব্যাংক খাতের জন্য কঠিনভাবে স্মরণীয় রেকর্ড হলো—বছর জুড়ে আর্থিক চাপে পড়ে ১৭টি ব্যাংক নিট মুনাফা করতে পারেনি। ওই বছরের ক্ষতচিত্রের ধাক্কা পরের বছরই সিএসআর খাতে স্পষ্টভাবে পড়ে: ২০২৫ সালের (জানুয়ারি-ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, দেশের ৬১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক সিএসআর খাতে মাত্র ৩৪৫ কোটি ৫ লাখ টাকা ব্যয় করেছে—শতকরে প্রায় অর্ধেক কম।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তুলনায় দিকগুলো দেখলে পরিষ্কার হয়, ২০২৪ সালে সিএসআর ব্যয় ছিল ৬১৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা; ২০২৩ সালে তা ছিল ৯২৪ কোটি ৩২ লাখ এবং ২০২২ সালে ছিল ১,১২৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ ২০২৩ থেকে ২০২4 ও ২০২5 ধারায় ধারাবাহিকভাবে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে—দুই বছরের ব্যবধানে খাতে ব্যয় প্রায় ৫১৩ কোটি টাকা বা ৪৫ শতাংশেরও বেশি কমেছে।

    গত এক দশকে এটিই সিএসআর খাতে সর্বনিম্ন ব্যয়; এর আগে ২০১৫ সালে খাতটিতে সর্বনিম্ন ছিল ৫২৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। ২০১৫ সালের তুলনায় এবারের খরচ প্রায় ১৮২ কোটি টাকা বা ৩৪.৫৭ শতাংশ কম, যা খাতে নতুন নিম্নমুখী প্রবণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

    খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে জুন—জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলন, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং পরে সরকারের পরিবর্তন ব্যাংকিং খাতকে সরাসরি প্রভাবিত করেছে। একই সময়ে কিছু ব্যাংকের অনিয়ম, লুণ্ঠন ও অর্থ পাচারের তথ্য প্রকাশ্যে আসায় কাগজে-কলমে দেখানো আর্থিক চিত্রের বদলে প্রকৃত ক্ষতচিত্র সামনে আসে। খেলাপি ঋণ বাড়ায় প্রকৃত লোকসানের পরিমান বেড়ে যায়; বিশেষত শরীয়াভিত্তিক কয়েকটি ব্যাংক বড় চাপের মুখে পড়ে। এসব কারণে দুর্বল ব্যাংকগুলোর স্থিতিশীলতা ফেরাতে সরকারের উদ্যোগে কিছু ব্যাংক একীভূত করাও শুরু হয়।

    ব্যাংকারদের ভাষ্যে, রাজনৈতিক প্রভাবও সিএসআর খরচ কমার গুরুত্বপূর্ণ কারণ। রাজনৈতিক সরকারের সময় নানা পর্যায় থেকে চাপ বসে অনুদান বা সহায়তা দেয়ার জন্য; শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অনুষ্ঠানিক অনুরোধে অনেক সময় ব্যয়গুলো প্রকৃত সিএসআর কার্যক্রমের বাইরেও খরচ করা হতো। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলন ও পরবর্তী সরকার বদলের পর সেই চাপ অনেকটাই কমে যাওয়ায় ব্যাংকগুলো এখন তুলনামূলকভাবে সর্তকভাবে সিএসআর বাজেট নির্ধারণ করছে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিএসআর খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি—রাজনৈতিক বা বাহ্যিক প্রভাবের কারণে অনুৎপাদনশীল খাতে অর্থ বরাদ্দ হলে সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রকৃত লক্ষ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যাংকগুলোকে তাদের নিট মুনাফার একটি নির্দিষ্ট অংশ সিএসআর খাতে ব্যয় করতে বলা হয়েছে: শিক্ষায় ৩০%, স্বাস্থ্যেই ৩০%, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ২০% এবং বাকি ২০% অন্যান্য খাতে ব্যয় করা যাবে। কিন্তু বাস্তবে নিয়মগুলো অনুশীলনে মানা হচ্ছে না—২০২৫ সালে ব্যাংকগুলো সবচেয়ে বেশি অর্থ (৩৬%) ব্যয় করেছে ‘অন্যান্য’ খাতে; শিক্ষায় ব্যয় হয়েছে ২৮.৫৩%, এবং পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে মাত্র ১০%।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২৫ সালে ১১টি ব্যাংক একটিও টাকা সিএসআর হিসাবে ব্যয় করেনি। ওই ব্যাঙ্কগুলোর তালিকায় রয়েছে: জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    আরও দেখা যায়, ২০২৪ সালে লোকসানে থাকা ব্যাংকগুলোর একটি পাঁচফোঁট তালিকায়—এগুলোর মধ্যে জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান অন্তর্ভুক্ত। তাদের মধ্যে ছয়টি—এবি ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক—মুনাফা না করেও সিএসআরে অর্থ ব্যয় করেছে।

    ব্যাংকগুলোর আর্থিক স্থিতিশীলতা ও সিএসআর কার্যক্রমের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে খাতের দক্ষ পুনর্গঠনের ওপর এবং সিএসআর-এ জবাবদিহিতা ও লক্ষ্যভিত্তিক ব্যয়ের বিধান কতোটা কার্যকর করা যায় তার ওপর। নীতিনির্ধারকরা বলবেন—সামাজিক দায়বদ্ধতা শুধু সংখ্যা নয়; তা বাস্তবে সমাজ ও পরিবেশকে টেকসইভাবে টিকিয়ে রাখতে হবে।

  • মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় আইআরজিসি গোয়েন্দা প্রধান মেজর জেনারেল মজিদ খাদেমি নিহত

    মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় আইআরজিসি গোয়েন্দা প্রধান মেজর জেনারেল মজিদ খাদেমি নিহত

    ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) জনসংযোগ বিভাগ সোমবার (৬ এপ্রিল) জানিয়েছে যে আইআরজিসি’র গোয়েন্দা প্রধান মেজর জেনারেল মজিদ খাদেমি মার্কিন ও ইসরাইলি হামলায় ভোরে নিহত হয়েছেন। বিবৃতিতে তাকে শহীদ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

    আইআরজিসি বলেছে, মজিদ খাদেমি প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে বিপ্লব, দেশ ও ইসলামী মাতৃভূমির নিরাপত্তা রক্ষায় নিবেদিতভাবে কাজ করেছেন। বিবৃতিতে তার গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী, গুরুত্বপূর্ণ এবং শিক্ষণীয় অবদানের কথা বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

    সংস্থাটি আরও উল্লেখ করেছে যে খাদেমির কৃতিত্ব দেশের গোয়েন্দা বাহিনীর কাছে বহু বছর পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করবে, বিশেষ করে কৌশলগত স্তরে বিদেশি প্রতিপক্ষদের মোকাবিলা এবং তাদের অনুপ্রবেশ ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির ‘অশুভ ও কুটিল’ ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার ক্ষেত্রে। আইআরজিসি তার ঘোষণায় হামলাকারীদের ‘মার্কিন-জায়নিস্ট শত্রু’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারিতে — শনাক্ত করা ঘটনাসমূহের পর — যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে বৃহৎপরিসরের হামলা শুরু করে বলে আইআরজিসি দাবি করেছে। এই হামলায় দেশটির বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনা নিশানা হয়ে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে, এমনটাই বিবৃতিতে বলা হয়েছে।

    যার জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে অধিকৃত ভূখণ্ড ও আঞ্চলিক ঘাঁটিতে মার্কিন ও ইসরাইলি অবস্থানগুলোর দিকে পাল্টা অভিযান চালিয়েছে, জানিয়েছে সংস্থাটি।

    এই প্রতিবেদনটিকে উৎস হিসেবে তাসনিম নিউজ এজেন্সির বিবৃতি উল্লেখ করা হয়েছে।

  • হাইফার আবাসিক ভবনে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে ২ নিহত, ১১ আহত

    হাইফার আবাসিক ভবনে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে ২ নিহত, ১১ আহত

    ইরান থেকে নিক্ষিপ্ত একটি ক্ষেপণাস্ত্র হাইফার (উত্তর ইসরায়েল) শহরের একটি আবাসিক এলাকায় আঘাত হেনেছে। রোববার বিকেলে ঘটনার ফলে কমপক্ষে ২ জন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন, আর ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে আছেন আরও কয়েকজন।

    প্রাথমিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, হাইফার একটি পাঁচতলা আবাসিক ভবনটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বেশ কয়েকজন ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন। ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে হাইফা ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিস আগুন নেভানো এবং উদ্ধার কাজ শুরু করে। উদ্ধারকর্মীরা আহতদের স্থানীয় মাগেন ডেভিড অ্যাডম (এমডিএ) হেলথ সেন্টারে পাঠিয়েছেন।

    আরোয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের পর উদ্ধারকাজ চলাকালে ধ্বংসস্তূপের ভেতর চারজনকে চাপা পড়ে থাকতে দেখা যায়। রোববার রাতভর চালানো অভিযান শেষে তাদের মধ্যে দুইজনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে; বাকি দুইজনকে এখনও খুঁজছে উদ্ধারকর্মীরা, তাই নিহতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    ইসরায়েলি গণমাধ্যম চ্যানেল-১২ জানিয়েছে, ওই ক্ষেপণাস্ত্রটির ওয়ারহেডের ওজন আনুমানিক ৪৫০ কেজি ছিল। এ সংক্রান্ত তথ্য জানিয়েছে টাইমস অব ইসরায়েল ও স্থানীয় উদ্ধারকর্মীরা।

  • মেধাস্বত্ব সুরক্ষিত হলে গবেষণা জাতীয় উন্নয়নে বড় অবদান রাখতে পারে: উপাচার্য

    মেধাস্বত্ব সুরক্ষিত হলে গবেষণা জাতীয় উন্নয়নে বড় অবদান রাখতে পারে: উপাচার্য

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেকনোলজি ট্রান্সফার অফিস (টিটিও) হিট সাব-প্রজেক্টের আওতায় ‘ইন্টেলেকচুয়াল প্রোপার্টি রাইটস অ্যান্ড প্রটেকশন স্ট্র্যাটেজিস’ শীর্ষক কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। সোমবার (০৬ এপ্রিল) লিয়াকত আলী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম।

    উপাচার্য বলেন, গবেষণার প্রকৃত মূল্য তখনই নিশ্চিত হয় যখন সেটি সঠিকভাবে সংরক্ষিত ও ব্যবহারযোগ্য হয়। মেধাস্বত্ব রক্ষার মাধ্যমে গবেষণার ফল শুধুমাত্র একাডেমিক কাগজপত্রে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং তা জাতীয় উন্নয়ন ও শিল্পখাতে বাস্তবে প্রযোজ্য হয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। তিনি গবেষকদের উদ্ভাবন সুরক্ষা বিষয়ে আরও জাগরুক হওয়ার আহ্বান জানান এবং টিটিও গঠন ও এ ধরনের কর্মশালার আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এসব উদ্যোগের ফলে গবেষকরা তাদের কাজকে বাণিজ্যিক সুযোগে রূপান্তর করতে পারবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ হারুনর রশীদ খান। তিনি বলেন, গবেষণার প্রধান লক্ষ্য মানবকল্যাণ ও জীবনমান উন্নয়ন। কিন্তু বহু কষ্টে অর্জিত গবেষণার মালিকানা হারিয়ে গেলে সেই লক্ষ্য পূরণ বাধাগ্রস্ত হয়—তাই মেধাস্বত্ব নিশ্চিত করা অপরিহার্য। তিনি গবেষণার ফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং তার আর্থিক সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

    ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ নূরুন্নবী বলেন, গবেষণায় বিনিয়োগের ফল যাতে সুরক্ষিত থাকে তা নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয়েরও একটি দায়িত্ব। পঠন-পাঠন ও গবেষণার পাশাপাশি মেধাস্বত্ব রক্ষণাবেক্ষণ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে জরুরি এবং টিটিও এই সুবিধার বাস্তব প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে।

    পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, উদ্ভাবনের মেধাস্বত্ব সুরক্ষা ছাড়া উদ্ভাবক হিসেবে প্রয়োজনীয় স্বীকৃতি পাওয়া সম্ভব নয়। মেধাস্বত্ব নিশ্চিত করলে সেই উদ্ভাবনগুলো বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা যায় এবং গবেষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারেন। তাই তিনি সকল গবেষণার আউটকামগুলোকে মেধাস্বত্ব অধিকারের আওতায় আনার আহবান জানান।

    অনুষ্ঠান সভাপতিত্ব করেন সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের এসপিএম ও বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন সেন্টারের পরিচালক প্রফেসর ড. কাজী মোহাম্মদ দিদারুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন প্রকল্পের এসপিএম প্রফেসর ড. মোঃ ইয়ামিন কবীর। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন রিসার্চ অফিসার সাজ্জাদ হোসেন তুহিন।

    উদ্বোধনী পরবর্তীতে দিনব্যাপী তিনটি টেকনিক্যাল এবং তিনটি ডিসকাশন সেশন অনুষ্ঠিত হয়। সেশনগুলো উপস্থাপন করেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম, উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ হারুনর রশীদ খান, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ নূরুন্নবী, পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, পরিচালক ড. অশোক কুমার রায় ও উপ-পরিচালক (পেটেন্টস) মোঃ হাবিবুর রহমান।

    কর্মশালায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি স্কুল ও ডিসিপ্লিনের উদ্ভাবনকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে কিভাবে সুরক্ষিত করা যায় তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। এতে বিভিন্ন স্কুলের ডীন, ডিসিপ্লিন প্রধান, ছাত্র বিষয়ক পরিচালক, বিভাগীয় পরিচালক, হিট প্রকল্পগুলোর এসপিএমবৃন্দ, শিল্প প্রতিনিধি, আইনজীবী ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।

    উদ্ভাবন সুরক্ষা ও বাণিজ্যিকীকরণকে কেন্দ্র করে আয়োজন করা এ কর্মশালাকে টিটিওর গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ হিসেবে ব্যক্ত করে অনুষ্ঠানের শেষ প্রান্তে বলা হয়, ভবিষ্যতে এসব উদ্যোগ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাকে শিল্প ও সমাজের সঙ্গেও মেলাতে এবং জাতীয় ইনোভেশন ইকোসিস্টেম গঠনে সহায়ক হবে।

  • বাগেরহাটে তথ্য অধিকার ও জবাবদিহিতা নিয়ে আলোচনা সভা

    বাগেরহাটে তথ্য অধিকার ও জবাবদিহিতা নিয়ে আলোচনা সভা

    বাগেরহাটে ‘তথ্য অধিকার ও জবাবদিহিতা’ শীর্ষক একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় সম্মেলন কক্ষে সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল ১০টায় আয়োজিত সভার সভাপতিত্ব করেন মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট মেহেরুন্নেছা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা তথ্য কর্মকর্তা মুঈনুল ইসলাম।

    সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উদয়ন বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ইশরাত জাহান এবং নির্মাণ সমাজ উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক রিজিয়া পারভীন। আমরাই পারি জোটের কনসালট্যান্ট নজমুস সাকিব রুবেল সভাটি সঞ্চালনা করেন।

    আয়োজকরা জানান, ‘‘নাগরিক’’ প্রকল্পের আওতায় আমরাই পারি জোট (উই ক্যান), নির্মাণ সমাজ উন্নয়ন সংস্থা ও উদয়ন বাংলাদেশ যৌথভাবে এই কর্মসূচি পরিচালনা করেছে। এ প্রকল্পে সুইজারল্যান্ড দূতাবাস, গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা এবং মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সহযোগিতা রয়েছে।

    অনুষ্ঠানে বাগেরহাট সদর ও রামপাল উপজেলার নাগরিক ফোরামের নেতৃবৃন্দ, নারী নেত্রী, সাংবাদিক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বক্তারা বলেন, তথ্য অধিকার আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করলে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সংস্কৃতি গড়ে তোলা সম্ভব। এজন্য নাগরিকদের মধ্যে তথ্য অধিকার বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো, তথ্য প্রাপ্তি প্রক্রিয়া সহজ করা এবং সরকারি দফতরগুলিতে তথ্যবহুল ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়।

    বক্তারা আরও বলেন, সুবিধাবঞ্চিত, দলিত ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করলে তথ্যপ্রাপ্তি আরও ন্যায়সংগত হবে। স্থানীয় পর্যায়ে প্রশিক্ষণ, তথ্য সেবা কেন্দ্র এবং সচেতনতা অভিযানের মাধ্যমে নাগরিকদের তাদের অধিকার প্রয়োগে উৎসাহিত করা জরুরি বলে তারা উল্লেখ করেন।

    প্রকল্প পরিচালনার তথ্য অনুযায়ী, বাগেরহাট সদর ও রামপাল উপজেলার চারটি ইউনিয়নসহ দেশের ১২ জেলার ৪৮টি ইউনিয়নে ‘‘নাগরিক’’ প্রকল্প কাজ করছে, যেখানে লক্ষ্যবান্ধব সহায়তা করে সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কাজ করা হচ্ছে।

  • সাফজয়ী অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবলারদের মাসিক ১ লাখ টাকা বেতন

    সাফজয়ী অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবলারদের মাসিক ১ লাখ টাকা বেতন

    বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দল টানা দ্বিতীয়বারের মতো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতেছে। ভারতকে টাইব্রেকারে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়া দলের দেশে ফিরলে শনিবার (৪ এপ্রিল) রাতেই তাদের জন্য হয় উষ্ণ সংবর্ধনার আয়োজন।

    বিমানবন্দর থেকে ছাদখোলা বাসে করে চ্যাম্পিয়নদের নিয়ে যাওয়া হয় হাতিরঝিলের অ্যাম্ফিথিয়েটারে, যেখানে আয়োজিত জমকালো অনুষ্ঠানে খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সম্মাননা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে বড় অঙ্কের আর্থিক পুরস্কারের ঘোষণা করা হয়।

    বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ইতোমধ্যে জানিয়েছে, চ্যাম্পিয়ন দলের প্রত্যেক ফুটবলারকে এক লাখ টাকা করে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পঞ্চাশ হাজার টাকা করে আর্থিক পুরস্কার দেওয়া হবে। এ ছাড়া ঢাকা সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকেও আলাদা অনুদান প্রদানের কথা ঘোষণা করা হয়।

    যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক প্রথমে শুধুমাত্র আর্থিক প্রণোদনার কথা জানিয়ে নির্দিষ্ট অঙ্ক প্রকাশ করেছিলেন না এবং জানিয়েছিলেন, জাতীয় ক্রীড়া দিবসে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হবে। প্রতিমন্ত্রী একটি চমক রেখে রাখায় আশাপ্রদ আশ্বাস থেকেই ক্রিকেটারদের মধ্যে উত্তেজনা ছিল।

    আবহমান সেই চমক আজ জাতীয় ক্রীড়া দিবসে সামনে এসেছে—যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ঘোষণা করেছে, অনূর্ধ্ব-২০ সাফ চ্যাম্পিয়ন খেলোয়াড়দের প্রত্যেককে মাসিক এক লাখ টাকা করে বেতন দেওয়া হবে। এই ঘোষণা খেলোয়াড়দের জন্য অনুপ্রেরণার গুরুত্বপূর্ণ একটি সংকেত হিসেবে ধরা হচ্ছে।

    জয়ী দলের এই সফলতায় দেশের ফুটবল ও তরুণ প্রতিভাদের প্রতি নজর আরো বাড়ার আশা করা হচ্ছে। খেলোয়াড়রা উচ্ছ্বসিত, এবং ভক্ত-সমর্থকরা তাদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য স্থিতিশীল সহায়তা পাওয়া নিয়ে অনুপ্রাণিত।

  • বিসিবি তদন্তে হাজির হননি আসিফ মাহমুদ, নিজেই ব্যাখ্যা দিয়েছেন

    বিসিবি তদন্তে হাজির হননি আসিফ মাহমুদ, নিজেই ব্যাখ্যা দিয়েছেন

    জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) গত মাসে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সর্বশেষ নির্বাচন শুদ্ধভাবে হয়েছে কি না—এই বিষয়ে তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করে। তদন্তকারী দল আজ এনএসসিতে তাদের প্রতিবেদন জমা দিলেও সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া নিজেকে তদন্ত কমিটির সাক্ষাৎকারে হাজির করেননি।

    তার নিজ অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে তিনি অনুপস্থিত থাকার কারণ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন,

    ১) বিসিবি একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান; এই প্রতিষ্ঠানের ওপর মন্ত্রণালয় স্বীয় এখতিয়ার ছাড়িয়ে তদন্ত চালাচ্ছে।

    ২) তদন্ত কমিটির প্রজ্ঞাপনে এমন ইঙ্গিত আছে যে সিদ্ধান্ত আগেভাগেই ঠিক করে দেওয়া হয়েছে।

    ৩) বিষয়টি উচ্চ আদালতে বিচারাধীন; সেই অবস্থায় তদন্ত করে তদন্ত কমিটি ও সংশ্লিষ্টরা আদালত অবমাননার পথে যাচ্ছেন।

    ৪) ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বোর্ড পরিচালকদের পরবর্তী বোর্ডে পরিচালক পদের লোভ দেখিয়ে প্ররোচিত করছেন এবং না মানলে ভীতি দেখিয়ে পদত্যাগ করিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা চলছে—এ ধরনের অনীীত চাপের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

    আসিফ আরও লিখেছেন যে তাঁকে যখন সাক্ষাৎকারের নোটিশ পাঠানো হয়, তখন বলা হয়েছিল বিষয়টি উচ্চ আদালতে বিচারাধীন। স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের ওপর তারা তদন্ত চালাতে পারবে কি না—এ প্রশ্নের সন্তোষজনক কোনো জবাব তিনি পাননি। উপর্যুক্ত কারণগুলো বিবেচনায় নিয়ে তিনি জানালেন, নিয়মবহির্ভূত কিংবা আদালত অবমাননার মতো কাজে অংশ নেবেন না, তাই কমিটির ডাকে সাড়া দেননি।

    এনএসসি ১১ মার্চ সাবেক বিচারপতির নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল। তাদের মূল দায়িত্ব ছিল নির্বাচন প্রক্রিয়া সুষ্ঠু হয়েছে কি না খতিয়ে দেখা। তদন্ত কমিটির কাজের সময় ১৫ কার্যদিবস নির্ধারণ করা হলেও তারা নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

    প্রসঙ্গত, গত বছর ৬ অক্টোবর ঢাকার কয়েকটি ক্লাব সংগঠন বিসিবির নির্বাচন বর্জন করে; এর পর থেকেই দেশের ক্লাব ক্রিকেট থমকে আছে। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল) এখনো মাঠে শুরু না হওয়ায় ক্রিকেটাররা সামাজিক মাধ্যমে হতাশা প্রকাশ করেছেন।

  • রাজধানীর মাল্টিপ্লেক্সে সন্ধ্যা ৬টার পর শো স্থগিত

    রাজধানীর মাল্টিপ্লেক্সে সন্ধ্যা ৬টার পর শো স্থগিত

    ঈদের আমেজও মুছে না যেতেই সিনেমাপ্রেমীদের জন্য খারাপ খবর এল। রাজধানীর জনপ্রিয় মাল্টিপ্লেক্স ‘ব্লকবাস্টার সিনেমাস’ জানিয়েছে, ৫ এপ্রিল থেকে অনির্দিষ্টকাল প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টার পর তাদের সব শো বন্ধ থাকবে। প্রতিষ্ঠানটি এ সিদ্ধান্তের কথা শনিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সরকারি জরুরি নির্দেশনা অনুসরণ করেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টার পর দোকান-পাট ও মার্কেট বন্ধ রাখার বিধান থাকায় প্রাইমটাইমের শোগুলো আপাতত স্থগিত রাখতে হচ্ছে।

    এই সময়ে দর্শক zaidi ভিড়ের কারণে প্রেক্ষাগৃহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পড়া শোগুলো বন্ধ হওয়ায় দর্শকদের মধ্যে হতাশা প্রকাশ পেয়েছে। বিশেষ করে ঈদের ছুটিতে সিনেমা দেখার পরিকল্পনা করা দর্শকরা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।

    ব্লকবাস্টার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৫ এপ্রিলের জন্য যারা আগাম টিকিট কেটেছেন, তাদের টিকিটের অর্থ নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় ফেরত দেওয়া হবে। টিকিট ফেরত সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশনা তাদের ওয়েবসাইটে এবং কাস্টমার সার্ভিস সেন্টারে দেওয়া হবে।

    একই প্রভাব পড়েছে দেশের বড় মাল্টিপ্লেক্স চেইন স্টার সিনেপ্লেক্সেও। সংস্থার জ্যেষ্ঠ বিপণন কর্মকর্তা মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, তারা সরকারি নির্দেশনা পর্যালোচনা করছেন। আপাতত ৫ ও ৬ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টার পরের সব শো স্থগিত রাখা হয়েছে এবং পরবর্তী সিদ্ধান্ত ধাপে ধাপে তাদের ওয়েবসাইটে জানানো হবে। তিনি আরও যোগ করেন, এই দুই দিনের জন্য তারা আগাম টিকিট বিক্রি না করায় দর্শকদের রিফান্ড জটিলতায় পড়তে হচ্ছে না।

    সিনেমা ব্যবসায় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় মাল্টিপ্লেক্সগুলো যদি দীর্ঘদিন একই সিদ্ধান্ত বজায় রাখে, তা হলে চলমান সিনেমা বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। সূত্রগুলো আরও জানান, শুধুমাত্র বড় মাল্টিপ্লেক্স নয়, দেশের অন্যান্য প্রেক্ষাগৃহও একই পথে হাঁটার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

    প্রেক্ষাগৃহগুলো সরকারী নির্দেশনা ও পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিবর্তিত সিদ্ধান্ত নেবে এবং দর্শকদের সুবিধার জন্য টিকিট ফেরত/বদল সংক্রান্ত তথ্য নিয়মিত জানানো হবে।

  • ধুরন্ধর ২: ১৭ দিনে আয় প্রায় ৯৬৩.৫ কোটি, ১০০০ কোটির পথে

    ধুরন্ধর ২: ১৭ দিনে আয় প্রায় ৯৬৩.৫ কোটি, ১০০০ কোটির পথে

    বলিউড সুপারস্টার রণবীর সিংয়ের স্পাই থ্রিলার ‘ধুরন্ধর ২’ মুক্তির ১৭ দিন পেরোয়েও বক্সঅফিসে দাপট দেখাচ্ছে। বক্সঅফিস ট্র্যাকার Sacnilk-এর সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, তৃতীয় শুক্রবার-শনিবার-রবিবারের পর্যায়ে ছবিটি তৃতীয় শনিবারে একাই প্রায় ২৫.৬৫ কোটি টাকা আয় করেছে।

    সংখ্যার হিসাব করলে দেখা যায়, ছবিটি প্রথম সপ্তাহে সংগ্রহ করেছে ৬৭৪.১৭ কোটি টাকা এবং দ্বিতীয় সপ্তাহে যোগ হয়েছে আরও ২৬৩.৬৫ কোটি টাকা। এরপর তৃতীয় সপ্তাহের শুরুতে পাওয়া ২৫.৬৫ কোটি টাকা যোগ করলে ১৭ দিনের মোট লাভ দাঁড়ায়প্রায় ৯৬৩.৪৭ কোটি টাকার কাছাকাছি — যা পরিচালকের টিম ও প্রদর্শক উভয়কেই খুশি করেছে।

    ট্রেড বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, চলমান গতি বজায় থাকলে কয়েক দিনের মধ্যে ‘ধুরন্ধর ২’ ১,০০০ কোটি টাকার ক্লাবেও ঢুকতে পারবে। ইতিমধ্যেই এটি ‘আরআরআর’, ‘কল্কি ২৮৯৮ এডি’, ‘কেজিএফ: চ্যাপ্টার ২’, ‘জওয়ান’, ‘পাঠান’, ‘স্ত্রী ২’ ও ‘অ্যানিমেল’ মতো ব্লকবাস্টার ছবিগুলোর লাইফটাইম কালেকশন ছাড়িয়ে গেছে। তবে সব রেকর্ড ভাঙতে চাইলে এখনও ‘বাহুবলি ২: দ্য কনক্লুশন’ ও ‘পুষ্পা ২: দ্য রাইজ’—এর অপরিসীম সাফল্যকে টপ করতে হবে। উল্লেখ্য, ‘ধুরন্ধর’ ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রথম কিস্তি বিশ্বজুড়ে প্রায় ১,৩০০ কোটি টাকার কমাই করেছিল।

    কাহিনির দিক থেকে ‘ধুরন্ধর ২’ প্রথম কিস্তির থেকে আলাদা হলেও সংযোগ রক্ষিত রেখেছে। প্রথম পর্বে রণবীর সিংয়ের চরিত্র ছিল ভারতীয় গুপ্তচর হামজা। নতুন কিস্তিতে কেন্দ্রে রয়েছে জাসকিরাত সিং রাঙ্গির উত্থান—কীভাবে ও কোন পরিস্থিতির ফলে সে দুর্ধর্ষ গুপ্তচর হামজা আলি মাজারিতে রূপান্তরিত হল, সেটাই ছবির মূল ফোকাস।

    আদিত্য ধর পরিচালিত এই স্পাই অ্যাকশন ছবিতে রণবীর সিংয়ের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় আছেন অর্জুন রামপাল, আর মাধবন, সঞ্জয় দত্ত, রাকেশ বেদী ও সারা অর্জুন। এছাড়াও দানিশ পান্ডোর এবং উডয়বীর সান্ধুর মতো শিল্পীরাও অংশ নিয়েছেন। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে উপস্থিত আছেন পরিচালক আদিত্য ধরের স্ত্রী, অভিনেত্রী ইয়ামি গৌতম—যিনি একটি ক্যামিও করছেন।

    বক্সঅফিস আয় ও চলচ্চিত্রের গ্রহণযোগ্যতা উভয় কাণ্ডেই ‘ধুরন্ধর ২’ এখনই দর্শকদের এবং ব্যবসায়িক পর্যবেক্ষকদের নজরের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। আগামী কিছু দিনে ছবিটির পারফরম্যান্স কিভাবে বদলায়—সেই দিকে তুলনায় সতর্ক সব চোখ।