Blog

  • জামায়াত-এনসিপি প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুললেন মনিরুল হক চৌধুরী

    জামায়াত-এনসিপি প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুললেন মনিরুল হক চৌধুরী

    রোববার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নেন বিএনপি সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমেদ।

    মন্ত্রীপদের বিরুদ্ধে নয়, বরং সাম্প্রতিক চাপ-চাঞ্চল্যের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পরও একসময় একটি মেধাবী শ্রেণি আসে, যারা জাসদ গঠন করেছিল; পরে বাড়াবাড়ির ফলে তাদের রাজনৈতিক প্রভাব কমে যায়। তিনি জানান, আমাদের যেন সবকিছু সহ্য করার এবং বুঝে নেওয়ার ক্ষমতা দেয়া হয়।

    মনিরুল হক চৌধুরী বঙ্গবন্ধু ও দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণ করে নিযে তার কৃতিত্বের কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘‘আমি ৯১-এর সংসদে আপনাদের সঙ্গে কাজ করেছি—দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে। আজ যখন প্রশ্ন করা হয়, মনে হয় গত পঁচিশ বছরের ইতিহাস অদৃশ্য হয়ে গিয়েছে। জাতি ও দেশের স্বার্থে তিনি অনেক বিরোধ উপেক্ষা করে সরলতাপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন—এই দিকটাই কেউ কি মনে করেন?”

    সংসদে দাঁড়িয়ে opposing দলের পরিচিত মুখদের নিয়ে তার চিন্তাও প্রকাশ পায়। তিনি বলেন, আগে যাদের বিরুদ্ধে কথা বলতাম তাদের চিনতাম, কিন্তু আজকার বিরোধীদের মধ্যে অনেককেই তিনি চিনতে পাচ্ছেন না। এছাড়া তিনি তরিক রহমানের কথার উল্লেখ করে জানান, কঠিন নির্বাচন সম্মুখীন হতে তারা প্রস্তুত ছিলেন এবং পরে তা করার সময় কষ্ট বুঝতে পেরেছেন।

    তিনি আরও উদ্বেগ ব্যক্ত করেন যে কিছু সময়ের রাজনৈতিক টানাপড়েনে মুক্তিযোদ্ধাদের মতো সম্মানজনক ব্যক্তিদের সম্পর্কেও প্রশ্ন উঠছে। মুক্তিযুদ্ধকে অন্য কোনো ঘটনায় সমতুল্য করা হচ্ছে কি না—এ বিষয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং বলেন, যদি বিচার-প্রক্রিয়ার নামে অতিরিক্ত অন্যায় হয়ে থাকে তা আলোকপাতের দাবি রাখে।

    শেষে জামায়াত ও এনসিপি প্রসঙ্গে মনিরুল হক একটি বার্তা দেন—যদিও এনসিপির নেতা তরুণ, তবু তিনি তাদের সাহসী মনে করেন এবং বর্তমান যুগের চাহিদা মেটাতে তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

  • নতুন গাইডলাইনে বাড়লো ক্রেডিট কার্ডের ঋণসীমা

    নতুন গাইডলাইনে বাড়লো ক্রেডিট কার্ডের ঋণসীমা

    ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড কার্যক্রমকে আরও সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ ও গ্রাহকবান্ধব করতে নতুন গাইডলাইন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রোববার ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানান। গাইডলাইনে ক্রেডিট কার্ডের ঋণসীমা বাড়ানোর পাশাপাশি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, গ্রাহক অধিকার সুরক্ষা ও বিরোধ নিষ্পত্তির ওপর বিশেষ নির্দেশনা রাখা হয়েছে।

    দৈনন্দিন খরচ ও মূল্য পরিশোধে নগদ বহন কমানোর সঙ্গে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। কার্ড ব্যবহার ও সেবার পরিধি বৃদ্ধির কারণে পূর্বের নীতিমালায় থাকা জটিলতা দূর করে আরও স্পষ্ট ও সমন্বিত বিধান আনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। সেই প্রয়োজনেই পুরনো নীতিমালা হালনাগাদ করে পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন প্রকাশ করা হয়েছে।

    নতুন গাইডলাইনে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা শক্ত করার পাশাপাশি ভোক্তা অধিকার রক্ষায় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গাইডলাইনে দায়বদ্ধ ঋণদানের নীতিসহ নগদবিহীন লেনদেনকে স্বচ্ছ ও নিরাপদ করতে প্রয়োজনীয় নিয়মাবলি রাখা হয়েছে। এছাড়া গ্রাহকের যোগ্যতা নির্ধারণ, কার্ড ইস্যু ও বিপণন কৌশল, বিলিং ও আদায় প্রক্রিয়া, গ্রাহকের তথ্য গোপনীয়তা, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বিরোধ নিষ্পত্তি প্রণালী ইত্যাদি বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    গাইডলাইনে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে বিতরণযোগ্য সর্বোচ্চ ঋণসীমাও বাড়ানো হয়েছে। পূর্বে যেখানে সর্বোচ্চ ঋণসীমা ছিল ২৫ লাখ টাকা, তা বৃদ্ধি করে এখন ৪০ লাখ টাকা করা হয়েছে। অনিরাপদ (আনসিকিউরড) ঋণের সীমাও ১০ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    এছাড়া কার্ড ব্যবহার সংক্রান্ত গ্রাহকের অভিযোগ, অনিয়ম বা জালিয়াতি মোকাবিলা, লেনদেন পরিশোধে যেসব জটিলতা তৈরি হয় সেগুলো হ্রাস করতে এবং দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থাকে শক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় ধারা যোগ ও সংশোধন করা হয়েছে। ব্যাংকগুলোকে গ্রাহক সুরক্ষা ও ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি দায়ী ও সুস্থ ধারায় ঋণ প্রদান করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    বিকল্প পদ্ধতিতে লেনদেন বাড়ার সঙ্গে গ্রাহক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দায়-দায়িত্ব স্পষ্ট করা এই গাইডলাইনের প্রধান লক্ষ্য। ফলে গ্রাহকরা উচ্চতর ঋণসীমা পেয়ে সুবিধা লাভ করবেন, কিন্তু তা নিরাপদ ও দায়িত্বশীল ব্যবস্থায় করতে ব্যাংকগুলোরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা যোগ করতে হবে।

  • চট্টগ্রাম–মোংলা বন্দর ও শিপিং করপোরেশনের প্রকল্পে দুদকের অনুসন্ধান

    চট্টগ্রাম–মোংলা বন্দর ও শিপিং করপোরেশনের প্রকল্পে দুদকের অনুসন্ধান

    দুর্নীতি ও নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে চট্টগ্রাম বন্দর, মোংলা বন্দর ও বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের বিভিন্ন প্রকল্পে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটির উপ-পরিচালক নাজমুচ্ছায়াদাতকে প্রধান করে চারটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা সংশ্লিষ্ট সব নথিপত্র তদারকি করে তদন্ত করবে।

    রোববার (১৫ মার্চ) দুদক সূত্রে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

    দুদকের প্রাথমিক তথ্যে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বর্তমান চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে একাধিক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। বিশেষত যখন তিনি বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন, তখন ২,৪৮৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ছয়টি জাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়; তবে বাস্তবে কেনা হয়েছে মাত্র চারটি জাহাজ। এর ফলে প্রায় ৪৮৬ কোটি টাকার আর্থিক অসঙ্গতি দেখা যাচ্ছে বলে দুদক জানিয়েছে।

    ওই সঙ্গে মোংলা বন্দরের ‘পশুর চ্যানেল সংরক্ষণ ড্রেজিং’ প্রকল্পেও ১,৫৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দুদকের অনুসন্ধানকারী দল এসব অভিযোগ পুরোদমে খতিয়ে দেখছে বলে জানা গেছে।

    তদন্তে দ্রুততা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো থেকে নথিপত্র তলব করা হচ্ছে এবং দরকারি আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। দুদক জানিয়েছে, তদন্ত শেষ হলে প্রয়োজনে আরও কর্মবিভাগ গঠন বা চার্জশিট подавার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অনুসন্ধান এখনও جاری আছে।

  • ফিলিপাইন বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে জ্বালানি জরুরি অবস্থা ঘোষণা

    ফিলিপাইন বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে জ্বালানি জরুরি অবস্থা ঘোষণা

    মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় ফিলিপাইন সরকার জাতীয় জ্বালানি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র একটি নির্বাহী আদেশে এই ঘোষণা দেন।

    প্রেসিডেন্ট বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়া, সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন ও সামগ্রিক অনিশ্চয়তা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার লক্ষ্যে সরকারের কাছে একটি উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি জ্বালানি, খাদ্য, ওষুধ ও কৃষিপণ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণে সমন্বয় করবে।

    শাসন ব্যবস্থার দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রেসিডেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী জরুরি অবস্থার ঘোষণা বিদ্যমান আইনকাঠামোর মধ্যেই সরকারকে দ্রুত ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিতে সক্ষম করবে। সরকারি ঘোষণায় বলা হয়েছে, এই জরুরি অবস্থা এক বছরের জন্য বহাল থাকবে। সেই সময় Gobierno প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী জ্বালানি ও পেট্রোলিয়াম পণ্য জরুরি ভিত্তিতে সংগ্রহ করতে পারবে এবং প্রয়োজনে অগ্রিম অর্থ পরিশোধের সুযোগ থাকবে।

    জ্বালানি বিভাগের সচিব শ্যারন গ্যারিন জানান, বর্তমান ব্যবহার অনুযায়ী ফিলিপাইনের হাতে প্রায় ৪৫ দিনের জ্বালানি মজুদ রয়েছে। সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় সরকার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও অন্যান্য অঞ্চল থেকে প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল তেল সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে।

    বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, জ্বালানির দাম বাড়তে থাকলে তা মূল্যস্ফীতিকে ত্বরান্বিত করতে পারে এবং দেশীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মন্থর হয়ে পড়ার আশঙ্কা আছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট মার্কোস অর্থ মন্ত্রণালয় ও কেন্দ্রীয় ব্যাংককে পেসোর বিনিময় হার, প্রবাসী আয় ও মুদ্রাস্ফীতির ওপর প্রভাব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন।

    একই সময়ে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির মধ্যে সরকারের পদক্ষেপকে অনেকে অপ্রতুল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। পরিবহন শ্রমিক, যাত্রী ও ভোক্তা সংগঠনগুলো বৃহস্পতিবার থেকে দুই দিনের ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, সরকারের উদ্যোগ পর্যাপ্ত নয় এবং জ্বালানি সংকটের প্রভাব সাধারণ মানুষের কাঁধেই পড়ছে।

    সূত্র: রয়টার্স

  • কিরিয়াত শমোনায় মিসাইলের শব্দে দৌড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে ইসরায়েলি রাষ্ট্রপতি হার্জোগ

    কিরিয়াত শমোনায় মিসাইলের শব্দে দৌড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে ইসরায়েলি রাষ্ট্রপতি হার্জোগ

    ইসরায়েলি রাষ্ট্রপতি আইজ্যাক হার্জোগ কিরিয়াত শমোনা শহরে একটি সংবাদ সম্মেলনের সময় আশেপাশে আঘাত হানা মিসাইলের শব্দ পাওয়ায় দৌড়ে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হন—এর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনার খবর আল জাজিরা ছাড়া বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

    ঘটনাটি সোমবার (২৩ মার্চ) ঘটে। হার্জোগ ওই সময় তেহরানের সাম্প্রতিক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে ফিরে এসে কিরিয়াত শমোনায় সাংবাদিকদের সামনে কথা বলছিলেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা শেষ করা মাত্র কয়েক মুহূর্তের মধ্যে ওই এলাকায় একটি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে বলে জানানো হয়েছে।

    ক্ষেপণাস্ত্রের শব্দ ভেসে আসার পর নিরাপত্তাকর্মীরা তৎপরতা দেখিয়ে তাঁকে দ্রুত আশ্রয়ে নিয়ে যান। ভিডিওতে দেখা যায়, সাংবাদিকদের ঘিরে থাকা অবস্থায় হার্জোগ দ্রুত দৌড়ে সরে যাচ্ছেন এবং নিরাপত্তা তাঁকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়।

    সংবাদ সম্মেলনে হার্জোগ আগে বলেছিলেন যে ইসরায়েল গত বছরের যুদ্ধবিরতির পরিস্থিতিতে ফিরে যেতে পারবে না এবং লেবানন সীমান্তের ভেতরে কৌশলগত অবস্থান নিশ্চিত করা দরকার।

    অন্যদিকে, আল জাজিরা ও অন্যান্য প্রতিবেদনগুলিতে বলা হয়েছে, ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার পর থেকে সীমান্ত অঞ্চলে উত্তেজনা বেড়েছে এবং তেমন পরিস্থিতিতে সরকারি কর্মকর্তা ও নেতারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যাচ্ছেন। তরুণ ও সামাজিক প্ল্যাটফর্মগুলোতে হার্জোগের ওই আশ্রয়ে যাওয়ার ভিডিও দ্রুত ভাইরাল হয়েছে এবং বিশ্বমাধ্যমের নজর কাড়েছে।

  • বাগেরহাটে এক সপ্তাহ ধরে জ্বালানি তেল সংকট, চালকদের দুর্ভোগ

    বাগেরহাটে এক সপ্তাহ ধরে জ্বালানি তেল সংকট, চালকদের দুর্ভোগ

    বাগেরহাটে এক সপ্তাহ ধরে তীব্র জ্বালানি তেল সংকট চলে আসছে। ঈদের তিনদিন আগে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) থেকে শুরু হওয়া এই সমস্যায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে ঘন্টার পর ঘন্টা সারিবদ্ধ দাঁড়িয়ে থাকার পরও পর্যাপ্ত তেল পাচ্ছেন না যানচলাচলের সঙ্গে যুক্ত মানুষেরা।

    সরকারি অফিস খুললে সমস্যার শেযশত কমবে বলে আশাও করেছিলেন স্থানীয়রা, কিন্তু বাস্তবে মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত অধিকাংশ পাম্পে তেল মেলেনি। শহরের খারদ্বার এলাকার খানজাহান আলী ও বরকত পাম্পে তেল না পেয়ে মোটরসাইকেল চালক ইউনুস শেখ ১১ কিলোমিটার দূরে সাইনবোর্ড বাজারের ওসমান আলী পাম্পে ছুটে যান। সেখানে ঘন্টাখানেক দাঁড়িয়ে ২০০ টাকার তেল নিয়ে ফিরে আসতে হয়েছে তাকে।

    জেলায় মোট ২৩টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে — বাগেরহাট সদর, কচুয়া, ফকিরহাট, মোল্লাহাট ও শরণখোলা উপজেলার প্রতিটি পাম্পেই তীব্র তেল সংকট দেখা দিয়েছে। অন্যান্য চারটি উপজেলার মানুষরাও এসব পাম্পের ওপর নির্ভরশীল। পাম্প মালিকরা বলছেন, ডিপো থেকে চাহিদার তুলনায় মাত্র ১০ থেকে ২০ শতাংশ তেল পাচ্ছে তারা, ফলে বিক্রি করার মতো পর্যাপ্ত জোগান হচ্ছে না। অনেক সময় পাম্প পুরো ভরাট রাখা পর্যন্ত বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

    ঔষধ কোম্পানিতে কর্মরত রোকনুজ্জামান জানান, পেশাগত কারণে প্রতিদিন একশ কিলোমিটারের বেশি গাড়ি চালাতে হয়, আর এক সপ্তাহ ধরে তেলের তীব্র সংকটে তিনি উদ্বিগ্ন। সিগারেট কোম্পানিতে চাকরি করা নুরুজ্জামান বলেন, গতকাল রাতেই তিন ঘণ্টা দাঁড়িয়ে ২০০ টাকার তেল নিয়ে এসেছেন এবং সুযোগ পেলেই পাম্পে ঢুকে তেল নেওয়ার চেষ্টা করছেন, কারণ কাজ চালাতে মোটরসাইকেল অপরিহার্য।

    পাম্প মালিকরা বলছেন, সাধারণত গণপরিবহনের চাহিদা মেটাতে ডিজেল অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে যাতে বাস-ট্রাক চলাচল বন্ধ না পড়ে এবং ধান ও অন্যান্য ফসলের রেকর্ডায়ন ব্যাহত না হয়। তবে গণপরিবহনের চালকরা অভিযোগ করেন, পর্যাপ্ত তেল না পাওয়ায় তাদেরকে অতিরিক্ত চাপে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। রায়েন্দা-ঢাকা রুটের বাস চালক আনসার মুসল্লী বলেন, ডিজেলের অভাবের কারণে নির্ধারিত সময়মতো বাস চালানো যাচ্ছে না; মাঝপথে একাধিক পাম্পে দাঁড়াতে হয়, ফলে যাত্রীরা অভিমত প্রকাশ করে ক্ষুব্ধ হন।

    কিছু পাম্পের কর্মীরা সরবরাহের ঘাটতি নিয়ে বিস্তারিত জানান। খানজাহান আলী ফিলিং স্টেশনের নজেল ম্যান আছাদ জানান, প্রতিদিন তাদের পর্যাপ্ত আনুশীলন অনুযায়ী প্রায় ৩ হাজার লিটার পেট্রোল ও ২ হাজার ৫শ লিটার অকটেন দরকার, কিন্তু ডিপো থেকে দুই দিন পর মাত্র ১৫শ লিটার অকটেন এবং পেট্রোল পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অনেক সময় খালি হাতে ফিরতে হয় এবং চালকরা তাদের ওপর অসহিষ্ণুতা দেখান। কচুয়ার সাইনবোর্ড বাজারের ওসমান আলী ফিলিং স্টেশনের মালিক বদিউজ্জামান খোকন বলেন, ডিপো তেল পাঠানো মাত্রই সেখান থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে; তবে প্রয়োজনের তুলনায় কম জোগান আসায় সমস্যা হচ্ছে।

    বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, তেলের এই সংকটের একটি বড় কারণে সাধারণ মানুষজনের মধ্যে অবৈধ মজুদ ও ট্যাংকি ভর্তি রাখা। কেউ কেউ বাড়তি মুনাফার আশায় তেল সংগ্রহ করে মজুদ করছেন, আবার প্রয়োজন ছাড়াও ট্যাংকি পূর্ণ করে রাখায় কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসন মাঠ পর্যায়ে তদারকি শুরু করেছে এবং মজুদকারীদের চিহ্নিত করে কারও বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    বিভাগীয় ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, ডিপো-অপারেটর ও পাম্প মালিকদের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত যোগান স্বাভাবিক করাসহ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, অন্যথায় যান চলাচল ও কৃষি কাজে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

  • খুলনায় ২৮ বছরের কুলসুমের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

    খুলনায় ২৮ বছরের কুলসুমের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

    খুলনা মহানগরীর ৪৮ জাহিদুর রহমান ক্রস রোড এলাকায় মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টায় এক তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের পরিচয় কুলসুম আক্তার সাথী (২৮) বলে জানা গেছে। তিনি বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার গোয়াবাড়ি এলাকার বাসিন্দা এবং খুলনায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ব্র্যান্ড প্রোমোটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বাড়ির দ্বিতীয় তলায় ভাড়া থাকতেন তিনি।

    স্থানীয়রা জানান, সকালে দীর্ঘসময় দরজায় ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পায় এক ব্যক্তি দরজায় জোরে ধাক্কা দিয়ে ভাঙেন। সেই শব্দে বাড়ির মালিক ববি আক্তার ঘটনাস্থলে এসে ভিতরে ঢুকে কক্ষে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় কুলসুমকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখেন। ঐ সময় দরজার সামনে দিয়ে এক অজ্ঞাত ব্যক্তি দ্রুত স্থান ত্যাগ করতেও দেখেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা, যা ঘটনার রহস্য আরও বাড়িয়েছে।

    খবর পেয়ে খুলনা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। প্রাথমিকভাবে পুলিশ ঘটনাটিকে আত্মহত্যার সম্ভাব্য হিসেবেই দেখছে, তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে। নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং মামলার অন্যান্য আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • বিসিবির নতুন নির্বাচক প্যানেল: কাজী হাবিবুল বাশার প্রধান নির্বাচক

    বিসিবির নতুন নির্বাচক প্যানেল: কাজী হাবিবুল বাশার প্রধান নির্বাচক

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সোমবার নতুন জাতীয় নির্বাচক প্যানেল ঘোষণা করেছে। এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সাবেক অধিনায়ক কাজী হাবিবুল বাশারকে এই প্যানেলের প্রধান নির্বাচক হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।

    ৫৩ বছর বয়সী বাশার আগে বাংলাদেশ পুরুষ ও নারী দলের নির্বাচক হিসেবে কাজ করেছেন। খেলোয়াড়ি জীবনে তিনি দলের একজন নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান ছিলেন এবং টেস্ট ক্রিকেটে ৩০০০ রান করা প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটারের কীর্তিও তার নামের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।

    নতুন কমিটিতে বাশারের সঙ্গে রয়েছেন সাবেক পেসার হাসিবুল হোসেন। তিনি ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে গাজী আশরাফ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আগের নির্বাচক প্যানেলের সদস্য ছিলেন। এছাড়াও প্যানেলে জায়গা পেয়েছেন নাঈম ইসলাম ও নাদিফ চৌধুরী।

    ৩৯ বছর বয়সী নাঈম ইসলামের ক্যারিয়ার প্রায় দুই দশক ধরে চলেছে; সব ফরম্যাট মিলিয়ে তিনি ২০ হাজারেরও বেশি রান করেন। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তার ৩৪টি সেঞ্চুরি রয়েছে, যা বাংলাদেশিদের মধ্যে সর্বোচ্চ একটি রেকর্ড।

    অন্যদিকে ৩৮ বছর বয়সী নাদিফ চৌধুরীরও ক্রিকেট ক্যারিয়ার দীর্ঘ—প্রায় ২০ বছর। জাতীয় দলে তিনি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন এবং অবসরের পর থেকে বয়সভিত্তিক দলগুলোর নির্বাচক হিসেবে কাজ করে আসছেন।

    বিসিবি জানিয়েছে, এই নতুন নির্বাচক প্যানেলের মেয়াদ চলবে ২০২৭ সালের আইসিসি পুরুষ ক্রিকেট বিশ্বকাপের জন্য দল নির্বাচনের সময় পর্যন্ত। প্যানেলের ঘোষণায় বোর্ডের পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ দলের গঠন—সবই নতুন গতিপ্রদান পাবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

  • রোনান সুলিভানের জোড়া গোলে পাকিস্তানকে উড়িয়ে দিলো বাংলাদেশ

    রোনান সুলিভানের জোড়া গোলে পাকিস্তানকে উড়িয়ে দিলো বাংলাদেশ

    সুনিশ্চিত জয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে শক্তিশালী সূচনা করেছে বাংলাদেশ। মালদ্বীপের মালেতে ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে পাকিস্তানকে ২-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালের পথে বড় ধাক্কা দিয়েছে মার্ক কক্সের শিষ্যরা।

    জয়ের নায়ক ছিলেন অভিষিক্ত ফরোয়ার্ড রোনান সুলিভান। ৫৩তম মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া দুর্দান্ত ফ্রি-কিকে প্রথম গোল করে দলকে এগিয়ে তুলেন তিনি, এরপর ৬৭তম মিনিটে হেড করে জোড়া গোল Completing করে ম্যাচটি ঠিক করে দেন রোনান। অভিষেকেই জোড়া গোল করে দলের জন্য দারুণ এক জয় তুলে দিলেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড।

    ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলাদেশ আক্রমণে এগিয়ে ছিল। পুরো প্রথমার্ধ জুড়ে বলের নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি একচেটিয়া আধিপত্য দেখালেও ফিনিশিংয়ের অভাবে গোল করতে পারেনি লাল-সবুজরা। বিরতির পরই দৃশ্যপট বদলায় এবং খেলার গতি বাড়ে।

    রোনানের প্রথম গোল স্টেডিয়ামে উপস্থিত সমর্থকদের উল্লাস ছড়িয়ে দেয় এবং দলের মনোবল উজ্জীবিত করে। বয়সভিত্তিক লিগে খেলা এই ফরোয়ার্ড মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের ক্ষেত্রে পরিচিত মুখ।

    দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশের আক্রমণ অব্যাহত ছিল। ইব্রাহিম নেওয়াজ, মোরশেদ আলী ও শেখ সংগ্রামের কল্যাণে পুরো মাঠেই চাপ সৃষ্টি করে বাড়তি সুযোগ তৈরি হয়। ৫৬ মিনিটে এক অন-অন-ওয়ান অবস্থান থেকে মুরশেদ আলী একটি সুযোগ নষ্ট করলেও দলীয় চাপ অব্যাহত ছিল।

    ৬১ মিনিটে পাকিস্তান ডি-বক্স থেকে বল পোস্টে জড়িয়েছিল, কিন্তু গোলের আগে গোলরক্ষককে ফাউল করা হওয়ায় রেফারি সেই গোল বাতিল করেন। ৬৫ মিনিটে মোরশেদ আলীর নিচু শট পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে যাওয়া লাগলেও দুই মিনিট পরেই (৬৭তম) রোনান সতীর্থ শেখ সংগ্রামের লম্বা পাস থেকে দুর্দান্ত হেড করে জয়সূচক দ্বিতীয় গোল করে দলকে আরেক ধাপ এগিয়ে নেন।

    রোনানের জোড়া গোলে পরিণত হয় পাকিস্তানের বিপর্যয়, বাকি সময়ে বাংলাদেশ বলের দখল রেখে প্রতিপক্ষকে তাদের অর্ধে ঢুকতে দেনি। নিয়মিত ৯০ মিনিটের শেষে যে ৭ মিনিট অতিরিক্ত সময় ছিল তাতেও পাকিস্তানের কোনো ফেরার সুযোগ তৈরি হয়নি।

    ম্যাচ শেষে সমর্থকদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেন সুলিভান ব্রাদার্স; দলীয় স্কোয়াডে থাকা ডেক্লান সুলিভান এই ম্যাচে অভিষেক পায়নি। এই জয়ে বাংলাদেশ পূর্ণ ৩ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপে সেমিফাইনালে যাওয়ার পথ প্রায় নিশ্চিত করেছে।

    ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশের অপর প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিশালী ভারত। পরের গ্রুপ ম্যাচ আগামী ২৮ মার্চ ভারতের বিরুদ্ধে। টুর্নামেন্ট ফাইনাল নির্ধারিত ৩ এপ্রিল।

    টুর্নামেন্টের অন্যান্য তথ্যসূত্র অনুযায়ী অনূর্ধ্ব-১৮, ১৯ ও ২০ পর্যায়ে বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত মোট সাতবার অংশগ্রহণ করেছে; ২০২৪ সালে একবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। টুর্নামেন্টে গ্রুপের শীর্ষ দুই করে মোট চার দল সেমিফাইনালে উঠবে। ‘এ’ গ্রুপে স্বাগতিক মালদ্বীপের পাশাপাশি নেপাল, ভুটান ও শ্রীলঙ্কা রয়েছে, ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান।

  • ধুরন্ধর টু: চার দিনে আয় প্রায় ৯০৯ কোটি টাকা

    ধুরন্ধর টু: চার দিনে আয় প্রায় ৯০৯ কোটি টাকা

    দীর্ঘ আড়াই বছর পর রণবীর সিং প্রবেশ করলেন বড় পর্দায় আবারও—এবার ‘ধুরন্ধর টু’-র মাধ্যমে। আদিত্য ধর পরিচালিত প্রথম অংশ মুক্তির পর থেকেই সিক্যুয়েলের প্রত্যাশা তুঙ্গে ছিল; ১৯ মার্চ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েই দর্শক ও বিচারে আবারও শিরোপা কুড়িয়েছে সিনেমাটি।

    বক্স অফিস কীর্তি

    মুক্তি ও দেখার সংখ্যায় ‘ধুরন্ধর টু’ দ্রুত সাফল্য ঘরে তুলেছে। স্যাকনিল্কের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চার দিনে ভারতীয় বক্স অফিসে ছবিটি আয় করেছে ৫৪১.৯৭ কোটি রুপি (গ্রস)। একইসঙ্গে বিশ্বব্যাপী চার দিনের মোট আয় এসেছে ৬৯১.৩২ কোটি রুপি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ৯০৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকার কাছাকাছি। অন্য দিকে বলি মুভি রিভিউ রিপোর্টে বিশ্বব্যাপী চার দিনের আয় দেখানো হয়েছে প্রায় ৬৯৫ কোটি রুপি—যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯০৯ কোটি টাকার সমান। এই ভিন্ন ভিন্ন গণনার মধ্যেও ছবিটির ব্যবসা অসামান্য বলা চলে।

    রেকর্ড ও তালিকায় অবস্থান

    প্রথম দিন (পেইড প্রিভিউসহ) ‘ধুরন্ধর টু’ শুরুর দিনেই বড় রেকর্ড গড়েছে। একদিনের আয়ে এটি ভারতীয় সিনেমার মধ্যে শীর্ষস্থানীয় তালিকায় উঠে এসেছে—বিশেষত হিন্দি ভার্সনে একদিনে বেশি আয়কারী সিনেমার তালিকায় ছবিটি শীর্ষে উঠে গেছে, শাহরুখ খানের ‘জওয়ান’ এবং আল্লু অর্জুনের ‘পুষ্পা টু’-র মতো বড় সিনেমাকে পিছনে ফেলেছে। একই সঙ্গে প্রথম দিনের আয় অনুযায়ী এটি ভারতীয় ছবির একাধিক শীর্ষস্থানীয় তালিকায় উপরের দিকে রয়েছে।

    সমালোচকরা কী বলছেন

    সমালোচকদের প্রতিক্রিয়া মিশ্র। দ্য টেলিগ্রাফের একজন সমালোচক বলেছেন, ছবিতে রক্তবৃষ্টি ও সহিংসতার অনেক অংশ থাকলেও সেই গল্পের সূক্ষ্মতা বা মিশ্রতা পর্যাপ্তভাবে কাজ করেনি। হিন্দুস্তান টাইমসের ঋষভ সুরি ছবিটিকে ৫-এ ৪ নম্বর দিয়েছেন এবং বলেছেন, “এটি একটি রোলার-কোস্টার থ্রিলার; প্রথম অংশের পুরো নির্ভুলতা দ্বিতীয় অংশে মেলেনি, তবু রণবীর সিংয়ের শক্তিশালী অভিনয় ও দ্বিতীয়ার্ধের উত্তেজনা সিনেমাটিকে এগিয়ে নিয়ে গেছে।”

    এনডিটিভির রাধিকা শর্মা ৫-এ ৩ নম্বর দিয়েছেন এবং মন্তব্য করেছেন, “ধুরন্ধর টু সম্পূর্ণভাবে রণবীর সিংয়ের শো—কিছু দৃশ্য পাকিস্তানের সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের অংশে তীব্রতা বাড়ায় এবং ছবিটি আক্ষরিক অর্থে ছিন্নভিন্ন করে দেয়।” নিউজ১৮-এর চিরাগ সেহগাল ৩.৫ নম্বর দিয়ে বলছেন, “গল্প বলার ধরন শক্তিশালী, প্লটে একের পর এক টুইস্ট আছে যা দর্শককে আকর্ষণীয় রাখে।”

    বক্তব্য ও ভবিষ্যদ্বাণী

    বক্স অফিস বিশ্লেষকরা মুক্তির আগেই ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন—ভারতে ছবিটি ১ হাজার কোটি রুপি পর্যন্ত আয় করতে পারে (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৩২১ কোটি টাকার বেশি)। বিশ্লেষক তরণ আদর্শ বলেছেন, এই ধরনের ছবি যদি দর্শকদের চাহিদা মেটায়, ব্যবসায় সীমা কেবল আকাশই হতে পারে—এমনই ধারনা রয়েছে অনেক বিশ্লেষকের।

    প্রযোজক-পরিচালক ও স্বপ্ন

    বিহারের পূর্ণিয়ার রূপবাণী সিনেমা প্রযোজক বিশেক চৌহান স্পষ্টভাবে বলেছেন, “’ধুরন্ধর টু’ যদি ১ হাজার কোটি রুপি না পারে, আমি সন্তুষ্ট হব না।” প্রযোজক অতুল মোহনও মনে করেন এটি সম্পূর্ণ সম্ভব—কারণ পূর্বের উদাহরণ হিসেবে ‘পুষ্পা টু’ নিজের পূর্বসূরীর আয়কে ছাড়িয়ে গিয়েছিল, তেমনি ‘বাহুবলি টু’ তার পূর্বসূরীকে ছাড়িয়েছিল। প্রথম দিনের শক্তিশালী পারফরম্যান্স বিশ্লেষকদের আশাকে আরও জোরদার করেছে।

    অভিনয় ও বাজেট

    প্রথম পার্টে রণবীর সিংয়ের বিপরীতে বড় পর্দায় ছিলেন সারা অর্জুন—যা সারা-র বড় পর্দার অভিষেক হিসেবে নজর কেড়েছিল। দ্বিতীয় পর্বেও সারা রণবীরের সঙ্গে ফিরে এসেছেন। এছাড়া ছবিতে দেখা গেছে অর্জুন রামপাল, সঞ্জয় দত্ত, অক্ষয় খান্না, আর. মাধবনসহ আরও কয়েকজন বিশিষ্ট অভিনয়শিল্পীকে। মোট বাজেট ছিল প্রায় ২৮০ কোটি রুপি। প্রযোজনা করেছেন আদিত্য ধর, লোকেশ ধর ও জ্যোতি দেশপান্ডে।

    শেষ কথা

    মিশ্র প্রতিক্রিয়া এবং তীব্র বক্স অফিস আয়ের মধ্যে ‘ধুরন্ধর টু’ এখন বিতর্ক ও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। দর্শকপ্রিয়তা ও ব্যবসায়িক পারফরম্যান্স মিলিয়ে এটি বলিউডের চলতি বছরের অন্যতম বড় ঘটনাই বলা যায়—আগামি দিনগুলোই নির্ধারণ করবে, ছবিটি দীর্ঘমেয়াদে কেমন ছাপ রেখে যাবে।