Blog

  • গণরায়কে অবজ্ঞা করলে জনগণই তাদের প্রত্যাখ্যান করবে: আসিফ মাহমুদ

    গণরায়কে অবজ্ঞা করলে জনগণই তাদের প্রত্যাখ্যান করবে: আসিফ মাহমুদ

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, যদি সরকার গণরায়কে উপেক্ষা করে সামনে এগোতে চায় তাহলে জনগণ তা মেনে নেবে না এবং ইতিহাসের ধারায় তাদের প্রত্যাখ্যান করবে। তিনি এসব কথা বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) স্বাধীনতা দিবসে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের কাছে বলেন।

    আসিফ মাহমুদ স্মরণ করিয়ে দেন যে বাংলাদেশের ইতিহাসে শক্তিশালী অনেক সরকারও ছিল, কিন্তু যারা যখনই জনগণের রায়ের বিরুদ্ধে গিয়েছিল তারা ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে গেছে। তিনি উদাহরণ হিসেবে ১৯৭০ সালের নির্বাচনের পর ক্ষমতা হস্তান্তর না করার ঘটনাকে উল্লেখ করে বলেন, তা থেকেই ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। একইভাবে ১৯৯০ সালে স্বৈরাচ্যবিরোধী গণআন্দোলন সরকারের পরিবর্তন এনেছিল।

    তিনি বলেন, ‘‘দীর্ঘ ১৭ বছরের দমনপীড়নের পরে জনগণের রায়ের বিপরীতে শাসন কায়েমের চেষ্টা করেও তা টিকে থাকে না—সুতরাং যদি আজও গণরায় ও গণভোটের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়, জনগণ সেটা কখনো মেনে নেবে না।’’

    গণভোটে বিপুলসংখ্যক মানুষের ‘হ্যাঁ’ ভোটের কথাও উল্লেখ করে তিনি বলেন যে মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবার, শহীদদের আত্মত্যাগসহ আহত সহযোদ্ধাদের স্বপ্ন যে নতুন বাংলাদেশের — সেই সংস্কার বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘‘যদি এই জনরায় বাস্তবায়ন না করা হয়, তাহলে দেশের ৭০ শতাংশ জনগণ যারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দিয়েছে, তারা আবার রাস্তায় নামতে দ্বিধা করবে না।’’

    সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে তিনি সবাইকে জনগণের পক্ষে এসে একসঙ্গে সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তাতে সরকার জনগণের পাশে না গেলে স্বাধীনতা রক্ষার জন্য আবারও মাঠে নামতে হতে পারে—এমন ফলও দেখে রাখার বার্তা দেন তিনি।

  • ঢাকায় বিক্ষোভের ডাক দিল জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট

    ঢাকায় বিক্ষোভের ডাক দিল জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট

    জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট শনিবার বিকেলে রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করবে বলে ঘোষণা দিয়েছে জোটের লিঁয়াজো কমিটি।

    বুধবার নয়, আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ১১ দলের লিঁয়াজো কমিটির বৈঠকের পর জামায়াতের সহকারী সাধারণ সম্পাদক হামিদুর রহমান আযাদ এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই কর্মসূচির কথা জানান।

    আযাদ বলেন, সরকারি দল সংসদ পরিচালনায় ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে এবং বর্তমান সরকার শাসনকালে ফ্যাসিস্ট প্রবণতা প্রদর্শন করছে। তিনি বলেন, সরকার সংবিধানীয় সংস্কারকে গলে-ঠেকিয়ে শুধুমাত্র সংশোধনী আনার চেষ্টা করছে, তাই সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য রাজপথেই আন্দোলন করা ছাড়া জোটের কোনো বিকল্প নেই।

    তিনি জানান, ওই বিক্ষোভ সমাবেশ বায়তুল মোকার্রম মসজিদের উত্তর গেটে অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি ৭ এপ্রিল জোটের শীর্ষ নেতাদের একটি সর্বোচ্চ স্তরের বৈঠকও অনুষ্ঠিত হবে বলেও আযাদ জানান।

    এর আগে বুধবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যা সোয়া সাতটার দিকে সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণভোটের রায় সংক্রান্ত সরকারি দলের কাজকর্মে তারা বিস্মিত, আহত ও মর্মাহত।

    সংসদের প্রথম অধিবেশনের ষষ্ঠ দিনে বিরোধী দলীয় নেতারা ওয়াকআউট করেন। মুলতবি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শেষে ‘জুলাই সনদ আদেশ’ জারি না করার অভিযোগ এবং বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানকে মিসকোড করার অভিযোগ তুলে তারা বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে কক্ষে থেকে বেরিয়ে যান।

    স্পিকারের কাছে প্রতিকার চাওয়ার কথা উল্লেখ করে ডা. শফিকুর বলেন, এটি কোনো দলের স্বার্থসংক্রান্ত বিষয় নয় — নির্বাচনের আগে বিষয়টিতে সরকারি ও বিরোধী সব পক্ষ একমত ছিলাম এবং আমি নিজেও এটি সমর্থন করে প্রচারণা করেছি। তবে আমাদের প্রতিকার না মেলা এবং জনগণের রায়ের যথাযথ প্রতিফলন না হওয়ায় আমরা এ অবমূল্যায়ন মেনে নিতে পারি না; তাই আমাদের প্রতিবাদ হিসেবে ওয়াকআউট করা ছাড়া উপায় ছিল না।

  • করদাতারা এখন থেকে সারা বছর আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারবেন

    করদাতারা এখন থেকে সারা বছর আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারবেন

    জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান জানিয়েছেন, এখন থেকে করদাতারা সারা বছর জুড়ে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের কাছে তিনি বলেন, “এখন থেকে সারা বছরই আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে। তবে যেসব করদাতা আগে রিটার্ন জমা দিবেন তারা বিশেষ সুবিধা পাবেন।”

    চেয়ারম্যান জানান, রিটার্ন জমা প্রদানের প্রক্রিয়াটি চারটি ধাপে ভাগ করে বাস্তবায়ন করা হবে। এই চার ধাপ কীভাবে কার্যকর করা হবে ও প্রতিটি ধাপে করদাতাদের কি সুবিধা বা প্রত্যাশিত শর্ত থাকবে তা পরবর্তী সময়ে বিস্তারিতভাবে জানানো হবে।

    এনবিআর আশা করছে, চলতি অর্থবছরে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা যাবে। তিনি আরও বলেন, “আগামী তিন মাসে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর পরিকল্পনা চলছে,” — যার মাধ্যমে দ্রুত আয়ের জোগান বাড়ানো হবে বলে তারা বিশ্বাস করছে।

    আগে প্রতি বছর অর্থবছর শেষ হওয়ার পর—জুনের শেষের পর—পরবর্তী বছরের নভেম্বরের মধ্যে আয়কর রিটার্ন জমা দেয়ার নিয়ম থাকলেও এবছর সময়সীমা বাড়িয়ে ৩১ মার্চ পর্যন্ত রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ দেয়া হয়েছে। এনবিআর নতুন व्यवस्था করে করদাতাদের সুবিধা দিতে এবং রিটার্ন সংগ্রহ আরও সুষ্ঠু ও সহজতর করতে চায়।

  • মার্চে ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স: প্রবাসীরা পাঠালেন ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার

    মার্চে ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স: প্রবাসীরা পাঠালেন ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার

    দেশে সদ্য শেষ হওয়া মার্চ মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা মোট ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫ হাজার ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন—যা একক মাস হিসেবে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এই তথ্য সোমবার প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

    রিপোর্ট অনুসারে, মার্চে আসা রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫ হাজার ডলার। এটি এই বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায় প্রায় ৭৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার বেশি (ফেব্রুয়ারিতে এসেছে ৩০২ কোটি ডলার)। গত বছরের একই সময়ের (মার্চ ২০২৫) তুলনায় এ মাসে রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ৪৬ কোটি ডলার বেশি; গত বছরের মার্চে রেমিট্যান্স ছিল ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলার।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উল্লেখ করা হয়েছে, আগে দেশের এক মাসে যে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স ধরা পড়েছিল তা ছিল গত বছরের মার্চে—সেখানে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছিলেন মোট ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার (প্রায় ৩.২৯ বিলিয়ন)। আর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছিল ডিসেম্বরে—৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার; তৃতীয় সর্বোচ্চ জানুয়ারি মাসে, যা ছিল ৩১৭ কোটি ডলার।

    খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মার্চে রেমিট্যান্স বাড়ার পেছনে বড় কারণ হলো ঈদের আগের সময় হওয়া অর্থ প্রেরণ এবং প্রবাসী কর্মসংস্থানের স্থিতিশীলতা—বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলোর বাজারে কাজের সুযোগ এখনো বজায় আছে। জীবনযাপনের ব্যয় অতিরিক্ত বেড়ে না যাওয়া থেকেও প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানোর সক্ষমতা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হয়েছে বলে তারা মন্তব্য করেন।

    ব্যাংকভিত্তিক ভেঙে দেখা গেলে বলা হয়েছে, রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে মার্চে ৬৪ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। এ তালিকার মধ্যে একটি বিশেষ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক (কৃষি ব্যাংক) থেকে এসেছে ৪৬ কোটি ৪৭ লাখ ডলার। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে প্রায় ২৬৪ কোটি ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকগুলো থেকে এসেছে ১ কোটি ২০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের এই হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও প্রবাসী আয়ের প্রবাহ সম্পর্কে প্রাসঙ্গিক তথ্য তুলে ধরা হয়েছে, যা অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

  • ইরানের নিয়ন্ত্রণে হরমুজ: আরব উপসাগরে আটকা ২,১৯০টি বাণিজ্যিক জাহাজ

    ইরানের নিয়ন্ত্রণে হরমুজ: আরব উপসাগরে আটকা ২,১৯০টি বাণিজ্যিক জাহাজ

    হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কড়া নিয়ন্ত্রণের ফলে আরব উপসাগরে বুধবার অন্তত ২,১৯০টি বাণিজ্যিক জাহাজ আটকা পড়ে আছে। এই সংখ্যা-র মধ্যে ৩২০টিরও বেশি তেল ও গ্যাস ট্যাংকার রয়েছে। করিডরটি এখন কড়া নিয়ন্ত্রণে থাকায় শুধুমাত্র সীমিত ও অনুমোদিত জাহাজগুলিই চলাচল করতে পারছে, জানায় আরব নিউজ।

    আটকা থাকা জাহাজগুলোর মধ্যে ১২টি খুব বড় গ্যাসবাহী জাহাজ (ভিএলজিসি) এবং ৫০টি খুব বড় অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ রয়েছেন। সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা কেপলার জানিয়েছে, মঙ্গলবার ও বুধবার মিলিয়ে মাত্র ছয়টি জাহাজ প্রণালীটি অতিক্রম করতে পেরেছে—যেখানে স্বাভাবিক সময়ে দিনে প্রায় ১২০টি জাহাজ চলাফেরা করত।

    যেসব জাহাজ প্রণালীটি অতিক্রম করেছে, সেগুলোকে ইরানের উপকূলের কাছে লারাক দ্বীপের অনুমোদিত করিডোর ধরে পাঠানো হয়েছে। গত সপ্তাহ থেকেই অন্তত ৪৮টি জাহাজ এই করিডোরটি ব্যবহার করেছে; এসব জাহাজের বেশিরভাগই ইরান বা তেহরানের মিত্র দেশের মালিকানাধীন।

    বার্তা সূত্র জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলের কোনো হামলার পর থেকে ইরান প্রণালিটি নিয়ে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে সাধারণত বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়, তাই এই নিয়ন্ত্রণ বিশ্ববাজারে সরবরাহ-ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে।

    যেসব জাহাজকে চলতে দেওয়া হয়েছে, তাদের কাছ থেকে প্রণালী ব্যবহার করার জন্য ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত পর্যন্ত ফি নেওয়া হচ্ছে—যা স্থানীয়ভাবে ‘তেহরান টোল বুথ’ নামে উল্লেখ করা হচ্ছে। তবে ইরান জানিয়েছে, মিত্র দেশগুলোর জাহাজগুলোর জন্য এই ফি মওকুফ করা হতে পারে; ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে মালয়েশিয়ার মতো বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর জাহাজের ওপর টোল আরোপ করা নাও হতে পারে।

    মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ বলেছে যে পেট্রোনাস, সাপারা এনার্জি ও এমআইএসসি-এর মতো কোম্পানির Several ট্যাংকার বর্তমানে চলাচলের অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে। তেহরান কুয়ালালামপুরকে আশ্বস্ত করেছে যে তাদের সঙ্গে শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের কারণে কোনো টোল আরোপ করা হবে না। তবু কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, নোঙর করে থাকা জাহাজের বিশাল সংখ্যার কারণে যাতায়াতে বড় বিলম্ব হতে পারে।

    চীন জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের পর তাদের অন্তত তিনটি জাহাজ প্রণালীটি অতিক্রম করতে পেরেছে; জাহাজ-ট্র্যাকিং ডেটায় দেখা গেছে দুইটি কনটেইনারবাহী জাহাজ উপসাগর ছাড়িয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সংঘাত শুরুর পর এই প্রথম কোনো ইরানি নয় এমন কনটেইনার জাহাজ উপসাগর ত্যাগ করেছে।

    আরও কয়েকটি জাহাজও চলতে সক্ষম হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ভারতের অপরিশোধিত তেল বহনকারী একটি গ্রিক-পরিচালিত ট্যাঙ্কার এবং জরুরি সরবরাহ বহনকারী কয়েকটি ভারতীয় পতাকাবাহী তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) জাহাজ।

    নাবিকরা মাইন, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ধরনের ঝুঁকি এড়াতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিচ্ছেন—কিছু নাবিক রাতে জাহাজ চালাচ্ছেন কিংবা ট্র্যাকিং ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রাখছেন। ইরানের সেই কড়া অবস্থার ফলে সৌদি আরব ও কাতারের মতো প্রধান উৎপাদক দেশগুলোর জ্বালানি রফতানি কার্যত সঙ্কুচিত বা বন্ধ রয়েছে এবং শত শত জাহাজ ও আনুমানিক ২০ হাজার নাবিক উপসাগর ও আশেপাশে আটকা পড়ে আছেন।

    প্রণালী অতিক্রম করে তেলবাহী একটি পাকিস্তানি জাহাজ বুধবার দক্ষিণের বন্দর নগরী করাচিতে পৌঁছেছে এবং অন্য একটি জাহাজ বিকল্প পথ ধরে বন্দরে এসেছে; পাকিস্তানী কর্মকর্তারা জানান, আগামী কয়েক সপ্তাহে আরও চালান আসতে পারে।

    এই সংকট কূটনৈতিক উদ্যোগগুলোকে ত্বরান্বিত করেছে। ব্রিটেন প্রায় ৩৫টি দেশের সঙ্গে আলোচনা করছে যাতে নৌ চলাচল অব্যাহত রাখার সুন্দর সমাধান খুঁজে পাওয়া যায়। চীন ও পাকিস্তান যৌথভাবে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে এবং সব পক্ষকে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপদ পথ নিশ্চিত করার অনুরোধ করেছে।

    অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে অবরোধ তুলে নেওয়ার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি অবরোধ না তুলে নেয় তাহলে ওয়াশিংটন শক্তিশালী সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে।

  • ট্রাম্পের দাবি: ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ মার্কিন শিশু ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ‘প্রকৃত বিনিয়োগ’

    ট্রাম্পের দাবি: ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ মার্কিন শিশু ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ‘প্রকৃত বিনিয়োগ’

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধটি মার্কিন শিশু ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি ‘প্রকৃত বিনিয়োগ’। এই মন্তব্য তিনি হোয়াইট হাউস থেকে রাত ৯টায় (বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায়) জাতির উদ্দেশে দেওয়া বক্তৃতায় করেন।

    বক্তৃতার শুরুতেই ট্রাম্প নাসার ‘আর্টেমিস-২’ মিশনকে চাঁদে সফলভাবে পাঠানোর জন্য অভিনন্দন জানান এবং নভোচারীদের সাহসের প্রশংসা করেন। এরপর তিনি এক মাস ধরে চলা ইরান যুদ্ধ এবং এর নানামুখী প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

    ট্রাম্প বলেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের নৌবাহিনীকে নিষ্ট করা এবং তাদের পরমাণু অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা নিশ্চিহ্ন করা। তিনি জোর দিয়ে দাবি করেন যে সামরিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র ‘অপ্রতিরোধ্য’ এবং এই সংঘর্ষ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষা দিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ।

    প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘‘আমরা ইরানের দুষ্ট শক্তিকে আমেরিকা ও বিশ্বের জন্য চূড়ান্তভাবে শেষ করার প্রান্তে আছি। আমাদের সব কার্ড আছে, তাদের কিছুই নেই।’’ তিনি আগামি কয়েক সপ্তাহে ইরানকে ‘চরমভাবে আঘাত’ করার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন এবং বলেন, ‘‘আমরা তাদের এমন অবস্থায় ফিরিয়ে আনব, যা তারা প্রাপ্য।’’

    ভাষণে ইরান ছাড়াও ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার প্রসঙ্গ তুলে নিকোলাস মাদুরোকে দ্রুত গ্রেফতারের অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, মাদুরোর গ্রেফতার অভিযান বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন বৈদেশিক তেল আমদানি বন্ধ করে নিজে থেকে শক্তি জোগাতে সক্ষম।

    ট্রাম্পের মন্তব্যের পর জ্বালানি তেলের বাজারে দাম বাড়তে শুরু করে। তিনি বলেছিলেন গ্যাসের সাময়িক মূল্যবৃদ্ধির জন্য ইরানকে দায়ী করা হচ্ছে; তবে হরমুজ প্রণালী সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা কাটেনি। তথ্য অনুযায়ী, ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালী বন্ধ রেখেছে এবং সংঘাত শুরুর পর থেকে তেল–গ্যাস ট্যাংকারসহ বাণিজ্যিক জাহাজে ধারাবাহিকভাবে হামলা চালানো হয়েছে, ফলে তেলের দাম বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রে এ সপ্তাহে গ্যাসের গড় দাম প্রতি গ্যালন চার ডলার ছাড়িয়ে গেছে—যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ।

    যুদ্ধ ও সংঘাতে মানুষের প্রাণহানির পরিমাপ ভিন্ন উৎসে ভিন্নাভাবে দেখাচ্ছে। আন্তর্জাতিক রেডক্রস ও রেড ক্রিসেন্টের আনুমানিক হিসাব অনুযায়ী, ইরানে অন্তত প্রায় ১,৯০০ জন নিহত এবং প্রায় ২০,০০০ জন আহত হয়েছেন। লেবাননে মৃতের সংখ্যা ১,৩০০-এর বেশি বলে জানানো হয়েছে; সেখানে নিহতদের বেশিরভাগই নাগরিক, তবে হিজবুল্লাহ দাবি করেছে তাদের ফেলোয়ারদের মধ্যে প্রায় ৪০০ জন নিহত হয়েছে। ইসরায়েলে এপর্যন্ত ১৯ জন নিহত এবং ৫১৫ জন আহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষেও কমপক্ষে ১৩ সেনা নিহত এবং সেকানেক শতাধিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ‘অপারেশন এপিক ফিউর’ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানের মধ্যে ১২,৩০০-এর বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা হয়েছে। একই সময়ে সংঘাতকালীন অনেক তথ্য—বিশেষ করে হতাহতের সংখ্যা ও লক্ষ্যবস্তুর ক্ষতির পরিমাণ—স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা কঠিন বলে বিশ্লেষকরা বলছেন।

    ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধের শুরু থেকে সময়ের বিভিন্ন সময়ে মিশ্র ও বিভ্রান্তিকর বার্তা দিয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইরানের নেতৃত্ব স্থায়ীভাবে অস্ত্রবিরতি চাইছে; তেহরান সেই দাবিকে ‘মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। যুদ্ধ এখনো চলছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে হামলা–প্রতিহামলা জারি থাকায় পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থিতিশীল ও অনিশ্চিত রয়ে গেছে।

  • ফকিরহাটে অপহৃত ১৮ মাসের রাফছা উদ্ধার, নয়ন গ্রেপ্তার

    ফকিরহাটে অপহৃত ১৮ মাসের রাফছা উদ্ধার, নয়ন গ্রেপ্তার

    ফকিরহাট থেকে অপহৃত ১৮ মাস বয়সী শিশুকন্যা রাফছাকে উদ্ধার করেছে পুলিশ ও র‌্যাব-৬-এর একটি যৌথ দল। এ ঘটনায় অভিযুক্ত নয়ন শেখ (২৬) নামে এক যুবককে আটক করা হয়েছে। শিশুটিকে বুধবার (১ এপ্রিল) রাতে উদ্ধার করা হয়।

    অপহৃত রাফছা ফকিরহাট উপজেলার ছোট বাহিরদিয়া গ্রামের আ: রশিদ খানের মেয়ে। অভিযুক্ত নয়ন শেখ খুলনার টুটপাড়া এলাকার আসলাম শেখের ছেলে বলে পরিবার ও স্থানীয়রা জানিয়েছে।

    ফকিরহাট মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো: আলমগীর হোসেন জানান, বুধবার সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে নয়নের কাছের একজন—স্থানীয়ভাবে পরিচিত ভারাটিয়া নয়নের স্ত্রী—শিশুটিকে কোলে নিয়ে চলে যাওয়ার কথা বলে রাফছাকে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যায়। দীর্ঘ সময় প্রসারিত হওয়া ও ফিরে না আসায় শিশুটির পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। পরে তারা খোঁজ করে জানতে পারে নয়ন শিশুটিকে বাইরে নিয়ে গেছে। রশিদ খান যখন মোবাইল ফোনে নয়নের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, তখন নয়ন অসাংলগ্ন কথাবার্তা বলতেও থাকা এবং শিশুটিকে ফিরিয়ে পেতে টাকা দাবি করে; টাকা না পেলে ক্ষতের হুমকিও দেয়।

    র‌্যাব-৬-এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর মো: নাজমুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নিয়ে পুলিশের সঙ্গে সমন্বয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে রাতেই শিশুটিকে উদ্ধার করা হয় এবং নয়নকে আটক করা হয়েছে।

    অভিযুক্তকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থার জন্য ফকিরহাট মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া শিশুকন্যা বর্তমানে সুস্থ আছে এবং পরিবারের কাছে ফিরে গেছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে এবং অন্য জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • বিশ্বকাপের ৪৮টি দল চূড়ান্ত, গ্রুপিং ও ফিকশ্চারও সম্পন্ন

    বিশ্বকাপের ৪৮টি দল চূড়ান্ত, গ্রুপিং ও ফিকশ্চারও সম্পন্ন

    আড়াই মাসেরও কম সময়ে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত হওয়া ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ সামনে। শেষ প্লে-অফ ম্যাচগুলো গতকাল ও আজ (বুধবার) মিলিয়ে খেলা হয়ে যাওয়ায় ২০২৬ সালের আপনারী মেগা টুর্নামেন্টের সব ৪৮টি দল চূড়ান্ত হয়ে গেছে এবং গ্রুপিং-ফিকশ্চারও নিশ্চিত হয়েছে।

    দুইদিনের প্লে-অফে ছয়টি দলের যোগের মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্টের মূলপর্বের সব আসন পূর্ণ হলো। আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফ ফাইনালে বলিভিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে ৪০ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার স্বপ্ন পূরণ করল ইরাক — এভাবেই তারা চূড়ান্ত ৪৮তম দল হিসেবে যোগ করে ফেলল।

    প্লে-অফ থেকে আরোহীদের মধ্যে রয়েছেন বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনা, চেক প্রজাতন্ত্র, তুরস্ক, সুইডেন এবং ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআর কঙ্গো)। সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে দেখা গেল চারবারের চ্যাম্পিয়ন ইতালির বিশ্বকাপ বর্জন — প্লে-অফে বসনিয়ার কাছে পেনাল্টি শুটআউটে তারা হারিয়ে টানা তিনটিতে বিশ্বকাপের মূলপর্বের বাইরে রইল।

    ইতালি-বসনিয়া ম্যাচে নিয়মিত সময় শেষে স্কোর ছিল ১-১। অতিরিক্ত সময়েও গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় পেনাল্টি শুটআউটে। শুটআউটের প্রথম শটে বসনিয়ার বেঞ্জামিন তাহিরোভিচ গোল করলে ইতালির পিও এস্পোসিতো প্রথম শটটা পায় না। পরে দুই দলের দ্বিতীয় শটে উভয়েই গোল পেলেও শুটআউটে বসনিয়া পরের রাউন্ডগুলোতে ভালো করে এবং ইতালিয়ানদের কয়েকটি শট ভাঙায় বসনিয়া ৪-১ ব্যবধানে জয়ী হয়ে বিশ্বকাপের টিকিট পায়।

    পোল্যান্ডও রবার্ট লেভানডอฟস্কির নেতৃত্বে টিকে থাকতে পারেনি; তাদের বিরুদ্ধে সুইডেন ৩-২ গোলের ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেয় এবং সুইডেন ২০২৬ বিশ্বকাপে স্থান করে নেয়। কসোভোকে ১-০ গোলে হারিয়ে ২৪ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে এল তুরস্ক।

    চেক প্রজাতন্ত্র ও ডেনমার্কের লড়াইও টাইব্রেকারে নিষ্পন্ন হয়েছে — নিয়মিত সময়ে ২-২ হওয়ার পর পেনাল্টি শুটআউটে চেকরা ৩-১ গোলে জয়লাভ করে এবং ২০ বছর পর আবার বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে (সর্বশেষ তারা ২০০৬ সালে অংশ নিয়েছিল)। অন্যদিকে জ্যামাইকাকে ১-০ গোলে হারিয়ে ৫২ বছর পর বিশ্বকাপের টিকিট কেটে নেয় ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো।

    প্লে-অফের এই ফলাফলের সঙ্গে মিলিয়ে এখন মার্চেন্ট টুর্নামেন্টের গ্রুপগুলো চূড়ান্ত রূপ পেয়েছে। আসন্ন বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচসহ সূচি ঘনিয়ে আসায় সব দল তাদের প্রস্তুতি জোরদার করতে শুরু করেছে। ফাইনাল টুর্নামেন্ট হবে ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত, প্রথমবারের মতো ৪৮ দল অংশগ্রহণ করবে এবং মোট ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।

    চূড়ান্ত গ্রুপসংকলন (A–L):

    এ গ্রুপ : চেক প্রজাতন্ত্র, মেক্সিকো, দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া

    বি গ্রুপ : বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, কানাডা, কাতার, সুইজারল্যান্ড

    সি গ্রুপ : ব্রাজিল, হাইতে, মরক্কো, স্কটল্যান্ড

    ডি গ্রুপ : অস্ট্রেলিয়া, প্যারাগুয়ে, তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্র

    ই গ্রুপ : জার্মানি, কুরাসাও, ইকুয়েডর, আইভরি কোস্ট

    এফ গ্রুপ : নেদারল্যান্ডস, জাপান, সুইডেন, তিউনিসিয়া

    জি গ্রুপ : বেলজিয়াম, মিশর, ইরান, নিউজিল্যান্ড

    এইচ গ্রুপ : স্পেন, উরুগুয়ে, সৌদি আরব, কেপ ভার্দে

    আই গ্রুপ : ফ্রান্স, সেনেগাল, নরওয়ে, ইরাক

    জে গ্রুপ : আর্জেন্টিনা, আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া, জর্ডান

    কে গ্রুপ : পর্তুগাল, কলম্বিয়া, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, উজবেকিস্তান

    এল গ্রুপ : ইংল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া, ঘানা, পানামা

    নোট: প্লে-অফ পরিণতি অনুযায়ী জ্যামাইকাকে স্থান থেকে সরিয়ে ডিআর কঙ্গো গ্রুপ কেএর সদস্য হয়েছে এবং ইরাক আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফ ফাইনালে বলিভিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপে উঠে গেছে।

    আগামী সময়ে প্রত্যেক গ্রুপের প্রথম ম্যাচ দেখে টুর্নামেন্টের চেহারা আরও স্পষ্ট হবে; জল্পনা-কল্পনা কমবে এবং দলগুলোর প্রকৃত প্রস্তুতি ও মানচিত্র দেখা যাবে। ফুটবলপ্রেমীরা এখন অপেক্ষায় — কোন দল সফল করবে, কারা সাড়া দেবে, তা জানা বাকি।

  • মানিকের গোলেই নেপালকে হারিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ ফাইনালে বাংলাদেশ

    মানিকের গোলেই নেপালকে হারিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ ফাইনালে বাংলাদেশ

    সাফ অনূর্ধ্ব-২০ টুর্নামেন্টের প্রথম সেমিফাইনালে নেপালকে ১-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। মালদ্বীপের মালে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে একমাত্র জয়ী গোলটি করেন মানিক; ম্যাচটি বাংলাদেশি সময়ে আজ অনুষ্ঠিত হয়।

    ২০২৪ সালের অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শিরোপা ধরে রাখাই এবারের দলের বড় লক্ষ্য। নেপালকে হারিয়ে লাল-সবুজরা আবার শিরোপা লড়াইয়ে রয়েছে। রাতে ভারত ও ভুটানের ম্যাচের ফলের ওপর থাকবে বাংলাদেশের ফাইনালের প্রতিপক্ষ নির্ভর।

    সেমিফাইনালে বাংলাদেশের শুরুই ছিল আক্রমণাত্মক। ম্যাচের প্রথম দশ মিনিটের মধ্যেই আক্রমণ থেকে আসে সুযোগ—মোর্শেদের চিপ পাস বক্সে পৌঁছানোর পর লাফ দিয়ে হেড করে গোল করেন মানিক। মালে স্টেডিয়ামের গ্যালারীরা ঐ গোলের পর উৎসবমুখর হয়ে ওঠে; অনেক বাংলাদেশি প্রবাসী দর্শকও সশ্রদ্ধ উপস্থিত ছিলেন।

    এর পরের সময়ে বাংলাদেশ আরেকটি গোলও করেছিল; আমেরিকান প্রবাসী রোনান সুলিভান দক্ষ নিয়ন্ত্রণ ও গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে বল জালে পাঠানোর চেষ্টা করেন। তবে রোনান বল গ্রহণের সময় নেপালের ডিফেন্ডারদের চেয়ে এগিয়ে থাকায় সহকারী রেফারি অফসাইডের পতাকা তুলেন এবং গোলটি বাতিল ঘোষণা করা হয়। বেঞ্চ থেকে ব্যাপকভাবে প্রতিবাদ করা হয়।

    হাফটাইমে বাংলাদেশ ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায়। দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম ২০-৩০ মিনিট নেপাল বেশ চাপ সৃষ্টি করে; একের পর এক আক্রমণ হলেও গোলরক্ষক মাহিন Several ভাইভঁর Several Several Several Several SeveralSeveral Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several Several SeveralSeveral

  • প্রতারণা মামলায় গায়ক নোবেলের জামিন বাতিল, কারাগরে পাঠানোর আদেশ

    প্রতারণা মামলায় গায়ক নোবেলের জামিন বাতিল, কারাগরে পাঠানোর আদেশ

    বিয়ে প্রতিশ্রুতি ভেঙে প্রতারণার অভিযোগে ‘সা রে গা মা পা’ খ্যাত গায়ক মাইনুল আহসান নোবেলের জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে বিচারক রাজু আহমেদের কোর্টে শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

    বাদী পক্ষের আইনজীবী নাসিদুস জামান নিশান (প্রিন্স) আদালতের এ সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করে জানান, আসামি জামিনের আপসের শর্ত ভঙ্গ করেছেন। পরিবারের সঙ্গে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও মুক্তি পেয়ে বিয়ে করেননি এবং পর্যাপ্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণও দেননি—এমন কারণে তাদের অনুরোধে আদালত জামিন বাতিল করেন।

    মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে যে, নোবেল বাদীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ও বিয়ে ভান দেখিয়ে ২০২৩ সালের ২৫ আগস্ট থেকে গত বছরের জুন পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে মোট ১৩ লাখ ১৮ হাজার ৫৪০ টাকা প্রতারণা করে নিয়েছেন। বাদীকে আটকে রেখে তাকে শারীরিকভাবে হয়রানি করার চেষ্টা এবং আপত্তিকর ছবি তোলারও চেষ্টা করা হয়; আর এতে অন্য আসামিরাও সহযোগিতা করেছেন।

    নোবেলকে ২৩ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরের দিন তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়; পরে একই আদালত ২৪ ফেব্রুয়ারি আপসের শর্তে তাকে জামিন দেন, যা চলতি শুনানিতে বাতিল করা হলো।

    মামলাটি গত ১৩ আগস্ট বাদী আনাননিয়া শবনম রোজ (অনন্যা) দায়ের করেন। মামলার তদন্তের জন্য আদালত পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন)-কে নির্দেশ দিয়ে ছিল। পিবিআইয়ের উপ-পরিদর্শক নুরুজ্জামান গত ৭ জানুয়ারি প্রতিবেদন দাখিল করে অভিযোগের যথাযথতা পেয়েছেন বলে জানান। এরপর ২ ফেব্রুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

    অভিযুক্তদের মধ্যে নোবেলের মা নাজমা হোসেন, স্ত্রী ইসরাত জাহান প্রিয়া, নোবেলের পরিচিত ছোটভাই মাসুদ রানা ও তার অ্যাসিস্ট্যান্ট মুনেম শাহ সৌমিকের নাম রয়েছে। বর্তমানে আদালতের নির্দেশনায় নোবেল কারাগারে রয়েছেন এবং মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।