Blog

  • বিএনপি ফ্যাসিবাদী পথে হাঁটছে: জামায়াত আমিরের অভিযোগ

    বিএনপি ফ্যাসিবাদী পথে হাঁটছে: জামায়াত আমিরের অভিযোগ

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমান শনিবার (২৫ এপ্রিল) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত সমাবেশে অভিযোগ করেছেন, বিএনপি পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটা শুরু করেছে। তিনি বললেন, তারা ইতিমধ্যেই সেই পথ ধরে চলছে যা একসময় অন্যরা অনুসরণ করেছিল।

    ডা. শফিকুর বলেন, এক সময় আমরা বিএনপির সঙ্গে মজলুম ছিলেন, কিন্তু এখন আমরা বলতে চাই—তারা আসলে আওয়ামী লীগের মতো হতে পারবে না; সর্বোচ্চ হলে দুর্বল আওয়ামী লীগই হতে পারে। যে আওয়ামী লীগ এক সময় পুরো জাতি বা বিরোধী দলকে কটাক্ষ করত, আজ বিএনপিই সেই একই আচরণ শুরু করেছে।

    তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, আগে আওয়ামী লীগ তাদের অনুগত লাঠিয়াল বাহিনীর মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন স্তরে কর্তৃত্ব কায়েম করেছিল; কিন্তু আজ তাদের সেই ‘লাঠিয়াল’রা পাশে নেই।

    সমাবেশে ডা. শফিকুর বলেন, রাষ্ট্রের মৌলিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে পরিবর্তন আনা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা এবং জনগণকে প্রকৃত স্বাধীনতার স্বাদ দেয়ার লক্ষ্যে যে উদ্যোগগুলো দরকার, তাতে বিএনপি সব সময় বাধা দেয়—এটা জাতির সঙ্গে প্রতারণা। তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি তাদের ইশতেহারে থাকা ৩১ দফা কর্মসূচির বিরোধিতা করছে এবং এমন আচরণ তাদের যুক্তি-জ্ঞান হারিয়েছে বলে তিনি মনে করছেন।

    জামায়াত আমির বলেন, আন্দোলন ও বিপ্লবে দেশের অনেক মানুষের জীবনের আত্মত্যাগ ছিল—মায়েরা, বাবারা, ভাই-বোনেরা তাদের সন্তান ও স্বজন হারিয়েছিলেন; যদি তারা সেই জীবন না দিয়ে থাকতেন, তাহলে বর্তমান কতিপয়েরা ক্ষমতা ভোগ করতে পাননি। ক্ষমতা হাসিলের আগেই অনেকেই শহীদ ও আহত পরিবারদের প্রতি উদাসীন ছিলেন; শহীদ পরিবারদের দুঃখ-ব্যথা তাদের স্পর্শ করেনি। ৫ আগস্টের পরে ৭ আগস্ট তারা পার্টি অফিসে দাঁড়িয়ে নির্বাচন দাবি করেছিল—তারা শহীদ পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা দেখায়নি, তবুও আজ তারা বিপ্লবের বেনিফিশিয়ারি বলে দাবি করে।

    তিনি আরও স্মরণ করান, যারা বিদেশে ছিলেন তারা দেশের অভ্যুত্থান না হলে দেশে ফিরতে পারতেন না। তিনি বলেন, তার জেলের সহকর্মী আল্লামা মামুনুল হকও বলেছেন যে তখন বিএনপির শীর্ষ নেতারা জেলে হতাশা প্রকাশ করতেন যে আগের শাসকদের ক্ষমতায় থেকে সরানো সম্ভব হবে না; কিন্তু পরে দেখা গেল এটি খোদার দান—কেও কেউ এই ঘটনা ভুলে গেছে এবং এখন অনেকে কৃতিত্ব দাবি করছেন, যা অবৈধ।

    জামায়াতে আমির যোগ করেন, জামায়াতে ইসলামী কারো ন্যায্য অবদান অস্বীকার করে না; আন্দোলনে সবাই অংশ নিয়েছিল। তবু যারা তীরে ফিরে গিয়েছে তাদের কাছে কৃতজ্ঞতা জানানোর আহ্বান জানান—জুলাই আন্দোলনের নায়েরা তোরি নিয়ে ঘাটে ভিড়ে জাতিকে মুক্তির পথ দেখিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ছাত্রসমাজ জীবন বাজি রেখে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, শ্রমিকরা পাশে দাঁড়ায়, মায়েরা রাস্তায় নেমে এসেছিল—এই ত্যাগ একনদে মুছতে হবে না।

    সংসদসংক্রান্ত বিষয়েও তিনি বলেন, তারা প্রথম দিন থেকেই সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি তুলেছিল; শপথগ্রহণে আমরা অনাগ্রহ দেখি, তারা জাতির সঙ্গে করা অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছে। এরপর আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তা অবরোধ করা হয়েছে। যে আইনগুলো সংশোধন না হলে এবং অধ্যাদেশ বাস্তবায়ন না হলে, ফ্যাসিবাদী শাসন পরিবর্তিত হবে না—বিএনপি অনেক ক্ষেত্রে পুরনো স্বৈরাচারী সরকারের আইনগুলোকেই রক্ষা করতে চেয়েছে।

    তিনি অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক কয়েকদিনে বিভিন্ন স্থানে—শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও—অপরাধী তৎপরতা বাড়ছে; এমনকি থানার ভিতরে ঢুকে দু:খজনকভাবে ডাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর হামলা হয়েছে। এই ঘটনাগুলোকে তিনি ফ্যাসিবাদের লক্ষণ হিসেবে দেখেন এবং বলে দেন, যেদিন বিএনপি গণভোটের রায় অস্বীকার করেছে, সেদিন থেকেই তাদের ফ্যাসিবাদী পথচলা শুরু হয়েছে।

    শেষে ডা. শফিকুর বলেন, তারা এমন বাংলাদেশ চায় না যেখানে মানুষ বাইরে বের হতে কাঁপে। তারা চায় একটি নিরাপদ দেশ—যেখানে শিশু, কিশোর, যুবক-যুবতী, মা-বোনা সুষ্ঠুভাবে চলাফেরা করবে; শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুরি-চোপ পরিহিত পরিবেশ নয়, শ্রেণীকক্ষ-শিক্ষা উপকরণ দেখা যাবে। এমন দাদা-ভাই বা প্রতিহিংসামিশ্রিত সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে; তা না হলে প্রতি বছর জুলাইয়ের মতো জনআন্দোলন ফিরে আসবে এবং একসময় ফ্যাসিবাদের কবর খোড়া হবে।

    তিনি জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানান—সাধারণ মানুষের প্রায় ৭০ শতাংশের রায় মান্য করুন। গণভোটের রায় বাস্তবায়িত না হলে তাদের লড়াই সংসদের ভিতরেও এবং খোলা ময়দানে চলবে, ইনশাআল্লাহ।

  • নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন, এনসিপি তরুণদের সমর্থন করবে: নাহিদ

    নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন, এনসিপি তরুণদের সমর্থন করবে: নাহিদ

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম শুক্রবার বলেন, ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করছে। তিনি বলেন, এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তরুণেরা এগিয়ে আসলে এনসিপি তাদের সমর্থন জানাবে—তাই সারাদেশে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে তিনি তরুণদের আহ্বান জানান।

    নাহিদ ইসলাম এই কথা বলেন শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলস্থ ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে। অনুষ্ঠানটি মূলত বিএনপি’র বহিষ্কৃত নেতা ইসহাক সরকারের, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতনি ফেরসামিন হক ইকবালসহ কয়েকজনের এনসিপিতে যোগদান উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছিল।

    উক্ত সভায় নাহিদ বলেন, জাতীয় নির্বাচনের পর গঠিত সরকার গণভোটকে স্বীকৃতি দেয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের উত্তরাধিকারকে বিচ্ছিন্ন করে নির্বাচনকে একটি সাধারণ ক্ষমতা পটপরিবর্তনের ঘটনাই বানিয়ে দিয়েছে। এছাড়া সংবিধান সংক্রান্ত এবং অন্যান্য গুরুত্বর্পূণ সংস্কারবিরোধী অধ্যাদেশ একের পর এক বাতিল করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

    নাহিদ আরও বলেন, ‘ব্যাংক লুটেরাদের জন্য সুযোগ তৈরি হচ্ছে এবং বিভিন্নভাবে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করা হচ্ছে।’ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও পেশীশক্তি ও ক্ষমতার রাজনীতির আধিপত্য আবার ফিরে এসেছে—এমনও অভিযোগ করেছেন তিনি।

    তিনি বলেন, যদি ফ্যাসিবাদ বা নতুন কোনো স্বৈরতন্ত্র সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হয়, জনগণ তা প্রতিহত করবে এবং এনসিপির ছায়াতলে ঐক্যবদ্ধ হবে। নাহিদ জানান, ইতোমধ্যেই সারাদেশ থেকে অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়া যাচ্ছে এবং সারা দেশে যোগদান কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

    দলীয় কার্যক্রম এবং তরুণদের প্রতি বার্তা ადিয়ে তিনি জানান, ‘প্রতি সপ্তাহে আমাদের যোগদান কর্মসূচি চলবে। রাজনীতিসচেতন মানুষ ও তরুণদের আমরা আহ্বান জানাচ্ছি—এ দেশের ভবিষ্যত বিপথে যেতে দেবেন না। যারা রাজনীতি করতে চান বা দেশে পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেন, তারা ঐক্যবদ্ধ হন। এনসিপি আপনাদের ধারণ করে সামনে এগোতে চায়।’

    অর্থনৈতিক অবস্থা, গণতন্ত্র ও বিশ্ববিদ্যালয় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নাহিদ বলেন, বর্তমান সরকার ক্রমশ ব্যর্থতার দিকে যাচ্ছে। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অনিশ্চিত, গণতন্ত্র নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিরাপত্তাও শঙ্কিত। এসব পরিস্থিতিতে জনগণের পাশে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়ানো ছাড়া কোনো উপায় নেই—এমনটাই তার দাবি।

    যোগদানের খবর:

    বিকেলে আইডিইবিতে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগ দেন বিএনপি’র বহিষ্কৃত নেতা ইসহাক সরকার। এ ছাড়াও অবিভক্ত বাংলার শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতনি ফেরসামিন হক ইকবাল (ফ্লোরা), কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র ও রেল অনিয়ম নিয়ে আন্দোলনে নাম করা মহিউদ্দিন রনি এনসিপিতে যোগদান করেন। ফেরসামিন বিদেশে থাকায় তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না; নাহিদ ইসলামসহ অন্যান্য নেতারা মঞ্চে থেকে নতুন সদস্যদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন।

  • এপ্রিলের প্রথম ২২ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ২.৪২ বিলিয়ন ডলার

    এপ্রিলের প্রথম ২২ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ২.৪২ বিলিয়ন ডলার

    রেমিট্যান্স প্রবাহের ইতিবাচক ধারা এপ্রিলেও অব্যাহত রয়েছে। চলতি মাসের প্রথম ২২ দিনে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন প্রায় ২.৪২ বিলিয়ন (২৪১ কোটি ৭০ লাখ) মার্কিন ডলার। বর্তমান বাজারদর ধরা হলে (প্রতি ডলার ≈ ১২২ টাকা) এর মূল্য প্রায় ২৯ হাজার ৪৮৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংক এই তথ্য বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) জানিয়েছে।

    গত বছরের একই সময় রেমিট্যান্স ছিল ২০৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার। তাই চলতি বছরের প্রথম ২২ দিনের সময়ে গত বছরের তুলনায় বেশি এসেছে ৩৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার, যা প্রায় ৪ হাজার ৪৪০ কোটি ৮০ লাখ টাকার সমপরিমাণ।

    দেশে প্রবেশ করা রেমিট্যান্সের ধারার মধ্যে চলতি বছরের মার্চ মাস ছিল এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ — ওই মাসে আসে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছিল গত বছরের মার্চে (৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলার), তৃতীয় সর্বোচ্চ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর (৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার) এবং চতুর্থ সর্বোচ্চ এসেছে চলতি বছরের জানুয়ারিতে (প্রায় ৩১৭ কোটি ডলার)।

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকট দীর্ঘায়িত হলে অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়তে পারে। তাই তারা সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্ত অবস্থানে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংক ও নীতি নির্ধারকরা এই প্রবণতা পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন—বিশেষত বৈদেশিক আয় নিশ্চিত ও রিজার্ভ বলবান রাখতে।

  • জ্বালানি সংকটের ভয়ে স্থগিত পোশাক খাতের অর্ডার, উদ্বেগ বাড়ছে

    জ্বালানি সংকটের ভয়ে স্থগিত পোশাক খাতের অর্ডার, উদ্বেগ বাড়ছে

    জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় বিদেশি ক্রেতারা বাংলাদেশে নতুন ক্রয়াদেশ দিতে ঝুঁকছে না—এমন তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম (পারভেজ) চৌধুরী। বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

    বিসিআই সভাপতি জানান, আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা থেকেই অনেক ক্রেতা অর্ডার দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছেন। বিশ্ববাজারের অস্থিরতা ও দেশের জ্বালানি সরবরাহ অনিশ্চিত হওয়ায় বিশেষ করে জুলাই ও আগস্টের জন্য যেসব ক্রয়াদেশ শিডিউল করা হয়েছিল, সেগুলোর অনেকটাই ধীরগতি দেখা যাচ্ছে।

    তিনি বলেন, বড় কিছু আন্তর্জাতিক ক্রেতা নেগেটিভ সিগনাল দিচ্ছে এবং কিছু অর্ডার ইতোমধ্যে ভারতসহ অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তাদের ঢাকায় অবস্থিত অফিসগুলো পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীরা নতুন অর্ডার দিতে পিছু হটছেন, যা তৈরি পোশাক খাত ও দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়কে বড় ধরনের ঝুঁকিতে ফেলে দিচ্ছে।

    অন্যদিকে বর্তমান কর কাঠামোও ব্যবসার ওপর চাপ বাড়াচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। লাভ-ক্ষতির পরোয়া না করে এক শতাংশ হারে ন্যূনতম কর দেওয়ার বাধ্যবাধকতা বিশেষত ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত বোঝা তৈরি করেছে। অনেক প্রতিষ্ঠানের মুনাফা না থাকলেও কর দিতে হয়, ফলে তাদের জীবিকা ধরে রাখা কঠিন হয়ে উঠছে।

    বিসিআই সভাপতি ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস এবং রপ্তানি আয় থেকে কর্তন (উৎস কর) কমানোর অনুরোধ জানান। এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান এই উৎস কর কমানোর প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন বলে সংবাদে বলা হয়েছে।

    এ ছাড়াও আয়কর আইন ২০২৩-এর ১৪৭ ধারা প্রসঙ্গে আনোয়ার-উল আলম বলেন, কর যাচাইয়ের নামে কোনো প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার সিস্টেম বা নথিপত্র জব্দ করার অসীম ক্ষমতা ব্যবসায়ীদের মধ্যে বড় ধরনের উদ্বেগ সৃষ্টি করছে এবং এটি ব্যবসাবান্ধব পরিবেশে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে।

    প্রাক-বাজেট আলোচনায় ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) ব্যাংক আমানতের মুনাফার ওপর উৎস কর ২০ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নামানো এবং নিট সম্পদের ওপর আরোপিত সারচার্জ ধাপে ধাপে বাতিল করার দাবি উত্থাপন করে। তারা করের বোঝা বাড়িয়ে ব্যবসাকে সংকীর্ণ করার বদলে একটি সহায়ক ও বন্ধুমুখী কর ব্যবস্থা গড়ার পরামর্শ দিয়েছে।

    শিল্প-উদ্যোক্তারা বলছেন, যদি জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল না হয় এবং কর কাঠামো সহজীকরণ করা না হয়, তবে দেশের রপ্তানি খাতের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা আরও ক্ষয়প্রাপ্ত হবে। সময়োপযোগী উদ্যোগ না নিলে পোশাক খাতসহ রপ্তানি নির্ভর শিল্পগুলোর ওপর প্রতিকূল প্রতিক্রিয়া বাড়বে—এমন সতর্কতা তারা দিয়েছেন।

  • অভিযুক্ত চ্যাটজিপিটিকে জিজ্ঞেস করেছিলেন লাশ গোপনের উপায়, আদালতের নথিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য

    অভিযুক্ত চ্যাটজিপিটিকে জিজ্ঞেস করেছিলেন লাশ গোপনের উপায়, আদালতের নথিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য

    যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা (ইউএসএফ) ক্যাম্পাসে অধ্যয়নরত দুই বাংলাদেশি ডক্টরাল শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টিকে হত্যা করার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে হিশাম আবুঘরবেহকে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি জানায়, আদালতের নথিতে উঠে এসেছে, হিশাম ১৩ এপ্রিল রাতে এআই চ্যাটবট চ্যাটজিপিটিকে ‘কাউকে কালো প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে ডাস্টবিনে ফেলে দিলে কী হয়’ এবং ‘তদন্তকারীরা কীভাবে এটি খুঁজে বের করবে’ বলে জানতে চেয়েছিলেন—যেসব প্রশ্ন নথিতে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

    ২৬ বছর বয়সী হিশামকে জামিল ও বৃষ্টিকে হত্যার অভিযোগে প্রথম-ডিগ্রি মর্ডারের আওতায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। গত ২৪ এপ্রিল টাম্পার হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশে লিমনের বিকৃত দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদনে লিমনকে বহুটি ধারাল অস্ত্রের আঘাতে হত্যা করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। পুলিশ ধারণা করছে বৃষ্টিও আর জীবিত নেই এবং তার দেহ সঙ্গী হিশামই সরিয়ে ফেলেছেন।

    আদালতীয় নথিতে বলা হয়েছে, ১৩ এপ্রিল সেই রাতে চ্যাটজিপিটিকে প্রশ্ন করার তিন দিন পর—১৬ এপ্রিল—লিমন ও বৃষ্টি সর্বশেষ দেখা গেছে। পরের দিন, ১৭ এপ্রিল হিশামের এক রুমমেট তাকে কিছু কার্ডবোর্ড বক্স তাদের অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের ডাস্টবিনে ফেলতে দেখেন। পুলিশ ওই ডাস্টবিন তল্লাশি করে লিমনের স্টুডেন্ট আইডি ও তার নামের ক্রেডিট কার্ড উদ্ধার করে।

    পুলিশের খোঁজে একটি ধূসর টি-শার্টও পাওয়া যায়; ওই টি-শার্টের ডিএনএ পরীক্ষায় লিমনের জিনের মিল পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে একটি কিচেন ম্যাটের ডিএনএ বৃষ্টির জিনের সাথেও মেলে। তদন্তে আরও জানা গেছে, হিশাম ওই রাতে বড় ডাস্টবিন ব্যাগ, লাইজল (পরিষ্কারক) ও সুগন্ধি স্প্রে কেনেন এবং তার অ্যাপার্টমেন্টে রক্তের দাগও মিলেছে। তদন্তকারীরা বলছেন, বৃষ্টির ব্যবহৃত গোলাপি ফোন কভারসহ কিছু ব্যক্তিগত বস্তু হিশামের তরফ থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।

    তদন্তে হিশামের প্রথম বক্তব্য ছিল, তিনি ১৬ এপ্রিল লিমন ও বৃষ্টিকে ক্লিয়ারওয়াটারে নামিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু লিমনের ফোনের লোকেশন ডেটা ও সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, হিশামের গাড়ি সেই রাতেই হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজে দীর্ঘ সময় টেকেছিল—ইভেন্টসাইট যেখানে পরে লিমনের মরদেহ পাওয়া যায়—যার ফলে তার বক্তব্য বদলাতে বাধ্য হন তিনি।

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হিশামের বাঁ হাতের আঙুলে ও পায়ে ক্ষতের চিহ্ন পাওয়া যায়; তিনি দাবি করেন, পেঁয়াজ কাটার সময় দুর্ঘটনায় জখম হয়েছেন। তবে তদন্তকারীরা বলছেন, প্রাপ্ত অব্যাহত তথ্য ও আলামত থেকে বিরূপ চিত্র প্রতীয়মান হচ্ছে।

    হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ অফিস জানিয়েছে, রোববার (২৬ এপ্রিল) তল্লাশিকালে কিছু ‘মানুষের দেহাবশেষ’ উদ্ধার করা হলেও তা এখনও শনাক্ত করা যায়নি। হিশামের বিরুদ্ধে হত্যার পাশাপাশি শারীরিক নির্যাতন, বেআইনি আটক, মৃত্যুর খবর না জানানো, মৃতদেহ সঠিক স্থানে না রাখা ও আলামত নষ্ট করার অভিযোগও আনা হয়েছে। তিনি বর্তমানে জামিন ছাড়াই হিলসবোরো কাউন্টি জেলে আছেন; মামলার পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত হয়েছে আগামী মঙ্গলবার।

    হিলসবোরো কাউন্টি পাবলিক ডিফেন্ডার অফিসের হোমিসাইড ব্যুরোর প্রধান জেনিফার স্প্র্যাডলি তাদের পক্ষে কোনো মন্তব্য নেই বলে ইমেইলে জানিয়েছেন। অপরদিকে, চ্যাটজিপিটি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই এখনো এই ঘটনার প্রসঙ্গে কোনো মন্তব্য করেনি।

    সংবাদমাধ্যম সিএনএনের পূর্বের প্রতিবেদনে জানানো হয়, জামিল লিমন তাকে শেষবার ১৬ এপ্রিল সকালে টাম্পার ইউএসএফ ক্যাম্পাস থেকে প্রায় তিন ব্লক দূরে তার বাড়িতে দেখা গেছে। একই দিন সকালে নাহিদা বৃষ্টিকে ক্যাম্পাসের প্রকৃতি ও পরিবেশ বিজ্ঞান ভবনে দেখা গিয়েছিল। তথ্যসূত্রে বলা হয়েছে, উভয়ই ২৭ বছর বয়সী এবং সম্ভাবনাময় ডক্টরাল গবেষক ছিলেন; তারা বন্ধু হিসেবে শুরু করে সময়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করেছিলেন এবং ভবিষ্যতে বিয়ের কথাও ভেবেছিলেন।

    ফ্লোরিডায় তাদের নিখোঁজের খবর জানার পর তাদের বন্ধু ও পরিবারের লোকজন ক্ষণিকের মধ্যে উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন। ঘটনার পর তদন্ত ও সমাজে উদ্বেগ ছড়িয়েছে—স্থানীয় শেরিফের অফিস বলছে এটি একটি গুমরাহ کننده ঘটনা যা পুরো সম্প্রদায়কে দাগ কেটেছে। (সূত্র: এনবিসি নিউজ, সিএনএন)

  • এফবিআই: লিমন হত্যায় পরিকল্পনা নয়, আকস্মিক রাগ—বৃষ্টির নিখোঁজ অনুসন্ধান চলছে

    এফবিআই: লিমন হত্যায় পরিকল্পনা নয়, আকস্মিক রাগ—বৃষ্টির নিখোঁজ অনুসন্ধান চলছে

    ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) বাংলাদেশি ছাত্র জামিল লিমনের মরদেহ গত শুক্রবার সকালে হাওয়ার্ড ফ্র্যাংকল্যান্ড সেতুর কাছে পাওয়া যায়। একই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁর রুমমেট, ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত হিশাম আবুগারবিয়েহকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    অন্য আরেকজন শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টি এখনও নিখোঁজ; তাঁর কোনো নিঃশব্দ বা মরদেহ মেলে না বলে মামলা তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।

    হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের দফতর জানিয়েছে, শুক্রবার সকাল প্রায় ৯টার দিকে লেক ফরেস্ট এলাকার একটি সহিংস ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে আসে। অভিযুক্ত আবুগারবিয়েহ যখন বাড়ি থেকে বের হতে অস্বীকার করলে সোয়াট টিম ডাকা হয়। শেষে তিনি শান্তিপূর্ণভাবে বাড়ি থেকে বের হয়ে গ্রেফতার হন।

    পুলিশি রেকর্ডে জানা গেছে, আবুগারবিয়েহর বিরুদ্ধে আগেও অভিযোগ ছিল; ২০২৩ সালে চুরি, মারধর ও গৃহস্থালীর সহিংসতার অভিযোগে দোষী সারানো হয় এবং ২০২৫ সালে তার বিরুদ্ধে আবারও একই ধরনের মামলা দায়ের হয়।

    জামিল লিমন ভূগোল, পরিবেশ বিজ্ঞান ও নীতি বিভাগের ডক্টরাল গবেষক ছিলেন। নাহিদা বৃষ্টি রাসায়নিক প্রকৌশলে পড়াশোনা করতেন। পুলিশ বলেছে, দুজনকে শেষবার ১৬ এপ্রিল দেখা যায়; পরদিন এক পারিবারিক বন্ধু ঘটনাটি পুলিশকে জানায়।

    বৃষ্টির সন্ধানে হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের মেরিন ও ডাইভ টিম হাওয়ার্ড ফ্র্যাংকল্যান্ড সেতুর নিকটবতী নদীতে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে।

    এফবিআইয়ের সাবেক বিশেষ এজেন্ট ও ইউএসএফ সেন্টার ফর জাস্টিস রিসার্চ অ্যান্ড পলিসির সহপরিচালক ড. ব্রায়ানা ফক্স বলেছেন, ট্যাম্পা বে এলাকাজুড়ে প্রমাণ ছড়িয়ে থাকা দেখে বোঝা যায় এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড নয়, বরং হয়তো আকস্মিক রাগের পতনের ফল। তিনি আরও বলেন, ‘‘যেখানে পরিচিতরাই একে অপরকে আক্রমণ করে এবং বয়সও কাছাকাছি থাকে, সেখানে সাধারণত অর্থ, ঈর্ষা কিংবা কোনো ঝগড়াই হত্যার মূল কারণ হয়ে থাকে। এটি হয়তো এক মুহূর্তের রাগ থেকে সৃষ্টি হয়েছে এবং তুচ্ছ কোনো বিষয়ে সংঘটিত হয়েছে।’’

    শেরিফ চ্যাড ক্রোনিস্টার ঘটনাটিকে গভীরভাবে উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করে বলেন, ‘‘জামিল লিমনের মরদেহ পাওয়া হৃদয়বিদারক। আমাদের গোয়েন্দারা নিরলসভাবে কাজ করছে এবং দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের পুরোপুরি জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে।’’

    তদন্ত এখনো চলছে; পুলিশ এবং ফেডারেল তদন্তকারীরা প্রাথমিক প্রমাণ, সাক্ষী এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করছিলেন। স্থানীয় কমিউনিটি উদ্বিগ্ন হলেও কর্তৃপক্ষ শান্ত থাকার এবং যেকোন সহায়তার জন্য পুলিশকে তথ্য জানাতে অনুরোধ করেছে।

  • খুলনা প্রেসক্লাবে হামলা: চারের নাম উল্লেখ, ২০-২৫ অজ্ঞাতকে আসামি—গ্রেপ্তার নেই

    খুলনা প্রেসক্লাবে হামলা: চারের নাম উল্লেখ, ২০-২৫ অজ্ঞাতকে আসামি—গ্রেপ্তার নেই

    খুলনা প্রেসক্লাবে ঢুকে সাংবাদিকদের ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) রাত সাড়ে আটটার পর প্রশাসনিক কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার দত্ত বাদী হয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। মামলায় রিপন আকন, গাউস, হালিম ও মিজান নামীয় চারজনকে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে এবং তাদের সাথে জড়িত অজ্ঞাতপরিচয়ের ২০-২৫ জনকে আসামি করা হয়।

    বাদীর বরাত দিয়ে পুলিশের এজাহারে বলা হয়েছে, সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিটের দিকে কয়েকজন সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র ও ভাঙচুরের সরঞ্জাম নিয়ে প্রেসক্লাবে প্রবেশ করে এবং কয়েকজন সাংবাদিককে লক্ষ্য করে মারধর করে। ঘটনার পর রাতে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালালেও কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

    মামলার তদন্তভার পাওয়া খুলনা থানার সার্ভেন্ট ইনস্পেক্টর বিশ্বজিৎ বসু জানান, মধ্যরাতে মামলা রুজু হওয়ার পর থেকে রাতভর তল্লাশি ও সিসি ক্যামেরা ফুটেজ যাচাই করা হয়েছে। তখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি, তবে অভিযান চলছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থল থেকে সিসি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে, ফুটেজের মাধ্যমে হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

    ঘটনার প্রেক্ষাপট জানতে গিয়ে জানা গেছে, রোববার খুলনা প্রেসক্লাবের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রচারণা চলার সময় কয়েকজন দুর্বৃত্ত সভাপতি প্রার্থী ও সাংবাদিক মোস্তফা সরোয়ারের নাম ধরে গালিগালাজ শুরু করে। টিভি খুলনার বিশেষ প্রতিনিধি তরিকুল ইসলাম বিষয়টি জানতে চাইলে তাদের থেকে তাকে থামাতে বলার বদলে সন্ত্রাসীরা তার ওপর হামলা চালায়।

    এই ঘটনায় খুলনা প্রেসক্লাবের সঙ্গে যুক্ত সাংবাদিকরা ও সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধতা প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, প্রেসক্লাবের মতো নিরাপদ স্থানে এ ধরনের সহিংসতা প্রযোজ্য নয়। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে তারা প্রশাসনের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন। এ প্রতিবাদে আজ দুপুর ১২টায় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

    বিএফইউজে সহকারী মহাসচিব এহতেশামুল হক শাওন বলেন, ঘটনাটিতে বহিরাগত কিছু সন্ত্রাসী জড়িত থাকতে পারে যারা কারো ইন্ধনে কাজ করেছে; এটি প্রেসক্লাবের জন্য লজ্জাজনক একটি ঘটনা। তিনি সংশ্লিষ্টদের খুঁজে বের করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।

  • বাগেরহাটে গুরুতর আহতকে ‘নরমাল’ সার্টিফিকেট প্রদানের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

    বাগেরহাটে গুরুতর আহতকে ‘নরমাল’ সার্টিফিকেট প্রদানের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

    বাগেরহাটে এক পরিবারের অভিযোগ—গুরুতর আহত সদস্যকে সাধারণ আঘাতের সার্টিফিকেট দেয়ায় তারা হতাশ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাবে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সংবাদপত্রকর্মী ও এলাকাবাসীর সামনে এ অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর, আইজিপি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেন ভুক্তভোগী পরিবার।

    সংবাদ সম্মেলনে আহত ব্যক্তির বোন ইরানী বেগম লিখিত বক্তব্যে বলেন, গত ২ মার্চ রাতে ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে বাহারুল সরদার, শিফাত সরদার, নাসির উদ্দিন শেখ, আমিরুল ইসলাম কুটি ও মোনসেব শেখ নামের কয়েকজন আমাদের বাড়ি থেকে জোরপূর্বক আমার ভাই সোহানকে টেনে-হেঁচড়া করে একটি ফাঁকা স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে তারা তার শরীরের বিভিন্ন অংশে বেধরক মারধর করে এবং ছুরিকাঘাত করে তাকে গুরুতর জখম করে। হামলাকারীরা আমাদের পরিবারকেও মারধর করে।

    ইরানী বেগম বলেন, ঘটনার সময় আমি ৯৯৯-এ ফোন করি; পুলিশ ঘটনাস্থলে আসলে আসামীরা আমার ভাইকে খুন করতে ব্যর্থ হয় এবং আমাদের উপর খুন-জখমের ভয় দেখিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে আমরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলেও সঠিক চিকিৎসা ও আন্তরিক সেবা না পেয়ে হতাশ হই। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয়—হাসপিটাল থেকে আসামকের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে আমার ভাইয়ের ইনজুরি সার্টিফিকেট ‘নরমাল’ বা সাধারণ আঘাত হিসেবে দেয়া হয়েছে, যা আমাদের কাছে সময়োপযোগী ও সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিতে বাধা সৃষ্টি করেছে বলে তারা অভিযোগ করেন।

    তিনি আরও বলেন, আমরা ফকিরহাট থানায় অভিযোগ করতে গেলে অভিযোগ গ্রহণ করা হয়নি; তারা দাবি করেন, আসামীদের রাজনৈতিক প্রভাব অথবা অন্য কোনো কারণে থানায় মামলা নেয়া হয়নি। বাধ্য হয়ে আমরা পরে আদালতে মামলা দায়ের করি এবং মামলাটি তদন্তের জন্য গোয়েন্দা পুলিশের কাছে পাঠানো হয়েছে। মামলাটি দায়ের করার পর থেকে আসামীরা নিয়মিত তাদের পরিবারের সদস্যদের খুন-জখমের হুমকি দিচ্ছে—এ কারণে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ইরানী বেগম জানান, এলাকার এসব আসামি মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও ভূমিদস্যু হিসেবে চিহ্নিত। থানায় সাধারণ ডায়েরি দিলেও কোনো কার্যকর প্রতিকার পাননি।

    সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করেন—অসৎভাবে ‘নরমাল’ সার্টিফিকেট প্রদানের কারণ অনুসন্ধান করে হাসপাতালের দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে হামলাকারী সমস্ত আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার ও তাদের হামলা থেকে পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি করেন তারা। প্রশাসন, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইজিপির হস্তক্ষেপের অনুরোধ জানিয়ে তারা এলাকাবাসীর সুরক্ষা নিশ্চিত করে এসব সন্ত্রাসী ও মাদকগোষ্ঠীকে কড়া হাতে দমন করার আহ্বান জানিয়েছেন।

  • হৃদয়ের হাফসেঞ্চুরি, ইমন-শামীমের ঝড়ে টাইগারদের জয়

    হৃদয়ের হাফসেঞ্চুরি, ইমন-শামীমের ঝড়ে টাইগারদের জয়

    বাংলাদেশ ১৮৩ রানের লক্ষ্যের তাড়া করতে নেমে তানজিদ হাসান তামিম ও সাইফ হাসানের নিরাশাজনক শুরুতে মন খারাপ ছিল। তবে মাঝের ওভারগুলোতে তাওহিদ হৃদয় ও পারভেজ হোসেন ইমন দলের মোমেন্টাম ফিরে আনেন।

    ইমন মাত্র ১৪ বল খেলে ঝড়ো ২৮ রান করে ফেরেন। এরপর মাঠে থেকে ম্যাচ নিশ্চিত করা কাজটি করেন তাওহিদ হৃদয়—২৭ বল খেলে অপরাজিত ৫১ রান করে। ডানহাতি এই ব্যাটারের সঙ্গে ১৩ বলে অপরাজিত ৩১ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন শামীম হোসেন পাটোয়ারি। এই জুটির দরুন তিন ম্যাচের সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ডকে ২ ওভার বাকি রেখে ৬ উইকেটে হারিয়ে বাংলাদেশ সিরিজে ১-০ lead নিল।

    জয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশ একটি কীর্তি গড়েছে — আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড তাদের নামে। এর আগে কিউইদের বিরুদ্ধে টাইগাররা সর্বোচ্চ ১৩৫ রান তাড়া করে জিতেছিল; আর দেশের সর্বোচ্চ সফল তাড়া ইনিংসটি ছিল ২০১৮ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে, যেখানে দ্বিতীয় ইনিংসে ২১৫ রান করেই জিতেছিল বাংলাদেশ।

    রান তাড়া করতে নেমে কিউই বোলারদের সামনে ভুগতে থাকেন ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ। উদ্বোধনী জুটিটি ৫.৩ ওভারে ৪১ রানে ভেঙে যায়; প্রথম উইকেটটি নেন নাথান স্মিথ। সাইফ ১৬ বলে ১৭ ও তানজিদ ২৫ বলে ২০ রানে আউট হন। এরপর দলনেতা লিটন দাস ১৫ বলে ২১ রানে ফিরে দলের মেজাজ খানিকটা নেমে আসে—১০.১ ওভারে বাংলাদেশ ৭৭/৩-এ পিছিয়ে পড়ে।

    চাপে থাকা অবস্থায় দলের ভরসা জাগান তাওহিদ হৃদয় ও শামিম; তাদের ধারাবাহিক ব্যাটিংই শেষ পর্যন্ত জয় এনে দেয়।

    প্রথমে নিউজিল্যান্ড ব্যাট করে; টস জিতে চট্টগ্রামে লিটন কুমার দাস কিউইদের ব্যাটিংতে পাঠান। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে ওপেনার টিম রবিনসন রান আউটে ফেরার পর কেটেন ক্লার্ক ও ড্যান ক্লেভার মিলে ৮৮ রানের জুটি গড়ে কিউইদের গতোধারা তৈরি করেন—উভয়েই করেন ৫১ রান। ক্লার্ক ৩৭ বলে সাতটি চার ও একটি ছয়ে ৫১ করে ফিরেন, আর ক্লেভার ২৮ বলে সাতটি চার ও একটি ছয়ে ৫১ রান করে ফিরেন।

    এই দুজনের আউট হওয়ার পর নিউজিল্যান্ড দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারায়। প্রথম ১০ ওভারে ১০০ করা কিউইরা পরের ৫ ওভারে মাত্র ৩০ রান তোলে। বেভন জ্যাকবস ১ ও ড্যান ফক্সক্রফট ৩ রানে আউট হন। অধিনায়ক নিক কেলি শরিফুল ইসলামের বলেই আউট হওয়ার আগে ২৭ বল খেলে ৩৯ রান করেন। এছাড়া জশ ক্লার্কসন ৩০ ও নাথান স্মিথ ৪ রান করেন।

    বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ দুটি উইকেট নেন রিসাদ হোসেন; এছাড়া তিনজন বোলার একটি করে উইকেট নেন। সব মিলিয়ে ব্যাট-বল উভয় দিক থেকেই কার্যকর হিসেবে উঠে আসে টাইগাররা এবং সিরিজ শুরুটা করে নিজেদের পক্ষে।

  • প্রথম টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের সামনে ১৮৩ রানের লক্ষ্য

    প্রথম টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের সামনে ১৮৩ রানের লক্ষ্য

    চট্টগ্রামে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে টস হারিয়ে আগে ব্যাট করতে নেমে নিউজিল্যান্ড ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৮২ রান সংগ্রহ করেছে। দুর্দান্ত শুরু করে কিউইরা, ১০ ওভারে ২ উইকেটে ১০০ রানের ঘাটে পৌঁছে গেলেও মাঝের ওভারগুলোতে তারা ছন্দ হারায় এবং বড় সংগ্রহ গড়ার পথ কিছুটা আটকে যায়।

    ইনিংসের ভিত্তি গড়ে দেন কাটেনে, ক্লার্ক ও ডেন ক্লিভার। টিম রবিনসন শূন্য রানে রানআউট হওয়ার পর দ্বিতীয় উইকেটে দ্রুত রান তুলতে শুরু করেন ক্লার্ক ও ক্লিভার। ক্লিভার ৫১ রান করে রিশাদ হোসেনের বলে এলবিডব্লিউ হন। একইভাবে ক্লার্কও নিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি ফিফটি তুলে নেন—৩৭ বলে ৫১—তার পর তিনিও রিশাদের শিকার হন।

    শুরুতে বিধ্বংসী হওয়া ইনিংসটি মাঝপথে ছন্দ হারায়। বেভন জ্যাকবসকে ফেরান তানজিম, আর ডিন ফক্সক্রফটকে বোল্ড করেন মেহেদী। ১০০/২ থেকে দ্রুতই ধস দেখে কিউইদের স্কোর হয়ে ওঠে ১৩০/৫—এভাবে বড় সংগ্রহের দিকটা আটকায় বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ।

    শেষ দিকে অধিনায়ক নিক কেলি ও জশ ক্লার্কসন দায়িত্ব নিয়ে দলকে এগিয়ে নিয়ে যান। কেলি ৩৯ রান করে শরিফুল ইসলামের বলে তানজিমের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন, আর ক্লার্কসন মাত্র ১৪ বলে ২৭ রানের ঝলক দেখিয়ে দলের স্কোরকে স্থাপন করেন। তাদের ইনিংসে নিয়োগের পর নিউজিল্যান্ড নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ১৮২/৬ নিয়ে মাঠ ছাড়ে।

    বাংলাদেশের হয়ে রিশাদ হোসেন ৪ ওভারে ৩২ রান খরচ করে ২ উইকেট নেন। তানজিম হাসান, শরিফুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান এক করে উইকেট নেন। লক্ষ্য বড় হলেও ব্যাটিং-সহায়ক উইকেটে বাংলাদেশকে রান তাড়া করার ভালো সুযোগ এখনো রয়েছে—একটি শক্তিশালী শুরুেলে তারা ম্যাচে ফিরে আসতে পারে।