Blog

  • মাদকবিরোধী অভিযানে যুবকের মৃত্যু, স্ত্রীর অভিযোগ পিটিয়ে হত্যা

    মাদকবিরোধী অভিযানে যুবকের মৃত্যু, স্ত্রীর অভিযোগ পিটিয়ে হত্যা

    মাগুরায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালিত মাদকবিরোধী অভিযানের সময় আকুব্বার মোল্লা (৪০) নামে এক যুবকের মৃত্যু ঘটেছে। নিহতের পরিবার অভিযোগ করে বলছে, তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

    নিহত আকুব্বার মোল্লা মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও মাজেদ মোল্লার ছেলে। জানানো হয়, রোববার সকাল ১১টার দিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মাগুরা জেলা কার্যালয়ের একটি দল মহম্মদপুরের চরপাড়া এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালায়। এ সময় তাদের তল্লাশি করে বাড়িতে ৫০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয় এবং আকুব্বার মোল্লাকে আটক করে হাতকড়া পরানো হয়।

    অভিযান চলাকালে আকুব্বার অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার পাশে থাকা কর্মকর্তারা বাড়ির বাইরে অবস্থান নেওয়ার পরে, দ্রুত তার মৃত্যু ঘটে বলে জানা যায়। এতে এলাকার মানুষ উৎসুক এবং উত্তেজিত হয়ে উঠেন। পরে, নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকতাদের ওপর আক্রমণ করেন। এই হামলায় তিনজন কর্মকর্তা আহত হন। খবর পেয়ে মহম্মদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে নিহতের লাশ মাগুরা সদর হাসপাতালে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

    নিহতের স্ত্রী জোছনা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, তার স্বামীকে পেটানোর মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে। অপর দিকে, অভিযানের নেতৃত্বে থাকা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিদর্শক সাহারা ইয়াসমিন এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুর্বৃত্তদের উপস্থিতি নিশ্চিত করে অভিযানে নামি। তিনি আরও বলেন, তল্লাশি চলাকালীন আকুব্বার অসুস্থতা বোধ করলে তাকে বাইরে রাখা হয় এবং তার উপর কোনও নির্দয় বা মারধর করা হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, তার শারীরিক অবস্থা অবনতি হওয়ার কারণে তিনি মারা যান। এই সময় স্থানীয়রা আমাদের ওপর হামলা চালায় এবং আমাদের তিন সদস্য আহত হন।

    মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ মিরাজুল ইসলাম জানান, অভিযানের সময় ব্যক্তির বাড়ি থেকে গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পরে, ওই ব্যক্তি মারা যান। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে এখনও পর্যন্ত নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। নিহতের মরদেহ মাগুরা সদর হাসপাতালের মর্গে রেখেছে পুলিশ।

  • নতুন বাজার নির্মাণ ও সংস্কার প্রকল্প বাজেটে অন্তর্ভুক্ত হবে: কেসিসি প্রশাসক

    নতুন বাজার নির্মাণ ও সংস্কার প্রকল্প বাজেটে অন্তর্ভুক্ত হবে: কেসিসি প্রশাসক

    খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু রবিবার সকাল থেকেই দৌলতপুর এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি নগরীর বিভিন্ন খাল, ড্রেন ও জলাবদ্ধতা এড়ানোর জন্য তৈরি করা পরিকল্পনা কার্যকর করার লক্ষ্যে এই এলাকা পরিদর্শন করেন। তাঁর মূল উদ্দেশ্য হল বর্ষা মৌসুমের আগে নগরীর জলাবদ্ধতা ও জল সংগ্রহের সমস্যা সমাধানে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

    পরিদর্শন শেষে সংবাদমাধ্যম ও স্থানীয় জনসাধারণের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি বলেন, নগরবাসীর জন্য এক সুখময় ও পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তোলার জন্য বর্ষা মৌসুমের আগে আমাদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বাজার ব্যবস্থাপনা আধুনিকীকরণ ও স্যানিটেশন সিস্টেম শক্তিশালী করা। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাজার পরিচালনা কমিটির সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বর্তমান সমস্যাগুলোর সমাধানে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি ঘোষণা করেন, বাজারের সংস্কার এবং নতুন বাজার নির্মাণ প্রকল্প আগামী বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

    নজরুল ইসলাম মঞ্জু দৌলতপুর বাজার, কাছাকাছি নদী, পাইকারী কাঁচা বাজার, পাবলা কারিকর পাড়া ড্রেন, বিজিবি অফিস সংলগ্ন ড্রেন ও ক্ষুদ্র খালের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা সরজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি জনসাধারণের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে ফুটপথ দখলমুক্ত রাখতে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে দেন।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেসিসি’র প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আনিচুজ্জামান, কঞ্জারভেন্সী অফিসার মোঃ আনিসুর রহমান, এস্টেট অফিসার গাজী সালাউদ্দিন, বাজার কর্মকর্তা শেখ শফিকুল হাসান দিদার, সমাজসেবক অধ্যক্ষ তরিকুল ইসলাম, শেখ মোসারেফ হোসেন, দৌলতপুর বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি শেখ আসলাম, সাধারণ সম্পাদক মোঃ নান্নু মোড়ল ও অন্যান্য।

  • খালিশপুরে লাল হাসপাতাল ও স্কাউট মাঠ পরিদর্শন করেন হুইপ বকুল, উন্নয়নের আশ্বাস

    খালিশপুরে লাল হাসপাতাল ও স্কাউট মাঠ পরিদর্শন করেন হুইপ বকুল, উন্নয়নের আশ্বাস

    খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল রোববার দুপুরে খুলনার খালিশপুর এলাকায় অবস্থিত লাল হাসপাতাল ও স্কাউট মাঠ পরিদর্শন করেন। এই সময় তিনি উভয় প্রতিষ্ঠানের বর্তমান পরিস্থিতি সরাসরি দেখে নেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিস্তারিত মতবিনিময় করেন।

    পরিদর্শনকালে হুইপ বকুল হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা, অবকাঠামো, জনবল সংকট, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও সেবার মান সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। এছাড়া তিনি স্কাউট মাঠের বর্তমান অবস্থা, ব্যবহারের উপযোগিতা ও ভবিষ্যত উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন এবং দ্রুত সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস দেন।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ও ড্যাবের সাধারণ সম্পাদক ডাঃ আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহ, সহকারী রেজিস্ট্রার ডাঃ মিনহাজুল আলম, মহানগর বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদী, খালিশপুর থানা বিএনপি’র সভাপতি এড. মোহাম্মদ আলী বাবু, মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুল আজিজ সুমন, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোঃ মিরাজুর রহমান, খালিশপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক বেলাল হোসেন সুমনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা।

    পরিদর্শন শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে হুইপ বকুল বলেন, খালিশপুর লাল হাসপাতাল ও স্কাউট মাঠ আমাদের এলাকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি প্রতিষ্ঠান। এগুলোকে আধুনিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আরও কার্যকর সেবাকেন্দ্রে রূপান্তর করা হবে। তিনি আরও বলেন, লাল হাসপাতালকে আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা সম্বলিত একটি পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে রূপান্তর করতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংযোজন, দক্ষ চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে। মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

    স্কাউট মাঠের বিষয়ে তিনি বলেন, এই মাঠকে শুধু খেলাধুলার জন্য নয়, বরং যুবসম্প্রদায় ও শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এখানে ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রশিক্ষণ ও সমাজসেবামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে এটি এলাকার সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    হুইপ বকুল আরও উল্লেখ করেন, সরকারি ও বেসরকারি সকল স্তরের সমন্বিত সহযোগিতার মাধ্যমে এই দুটি প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। জনসেবা ও কল্যাণকে প্রাধান্য দিয়ে খুলনা-৩ আসনসহ সমগ্র খুলনা অঞ্চলে উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পরিদর্শনের সময় তিনি স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে উন্নয়ন পরিকল্পনা, জনসেবা বৃদ্ধি ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন বিষয়ক আলোচনা করেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। স্থানীয়রা এ ধরনের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এবং দ্রুত বাস্তবায়ন প্রত্যাশা করছেন।

  • সোনার দাম বড়সড় বৃদ্ধির নতুন রেকর্ড, ভরিতে বাড়ল সাড়ে ৬ হাজার টাকা

    সোনার দাম বড়সড় বৃদ্ধির নতুন রেকর্ড, ভরিতে বাড়ল সাড়ে ৬ হাজার টাকা

    দেশের বাজারে আবারও প্রকাশ্যে এসেছে সোনার দামের বড় পরিবর্তন। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) বুধবার (৮ এপ্রিল) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ভরিতে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার টাকা করে বেড়ে গেছে সোনার দাম। এই নতুন মূল্য নির্ধারণের ফলে ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম এখন নির্ধারিত হয়েছে ২ লাখ ৫২ হাজার ৪০৯ টাকাতে।

    বাজুসের ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের মূল্যবৃদ্ধির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই দাম প্রত্যেকের জন্য আজ থেকেই কার্যকর হবে।

    নতুন দাম অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের সোনার মূল্য প্রতি ভরি ২,৫২,৪০৯ টাকা। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের ভরি দাম ২,৪০,৯২০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য এটি ২,৬ হাজার ৫১১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম প্রতি ভরি ১ লাখ ৬৮ হাজার ১৯৫ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।

    সোনা যেনো মাত্রা বাড়ছে, সেই সঙ্গে বেড়েছে রুপারও দাম। এবার প্রতি ভরি রুপার দাম বাড়ল ৩৫০ টাকা, এবং এখন ২২ ক্যারেটের রুপার দাম নির্ধারিত হয়েছে ৫ হাজার ৮৯০ টাকা। ২১ ক্যারেটের রুপা ৫ হাজার ৫৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৪ হাজার ৭৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম এখন ৩ হাজার ৬১৬ টাকা।

    এমন মূল্যবৃদ্ধির ফলে গ্রাহকরা এখন নতুন দামে সোনা এবং রূপা কিনতে পারেন, যা স্বর্ণালংকার শিল্প ও বাজারের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন।

  • যদি যুদ্ধ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকে, তাহলে মূল্যস্ফীতি ১২% ছাড়াতে পারে

    যদি যুদ্ধ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকে, তাহলে মূল্যস্ফীতি ১২% ছাড়াতে পারে

    মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত যদি অব্যাহত থাকে, তবে দেশের অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব আরও গভীর হতে পারে। এর ফলে ডলারের বিপরীতে দেশের মুদ্রার মান কমে যাবে এবং জ্বালানি তেলের দামও বৃদ্ধি পেতে পারে। এই দুটি বড় চাপের ফলে ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের মূল্যস্ফীতির হার ৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ১২ শতাংশ ছাড়াতে পারে। পাশাপাশি, বাড়তি আমদানির ব্যয় মেটাতে গিয়ে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও প্রভাব পড়বে।

    বিশ্লেষণ অনুযায়ী, পরিস্থিতি যদি এ রকম হয়, তাহলে দেশের রিজার্ভ ৩১ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে ২৪ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসতে পারে, যা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। তবে যদি জ্বালানি তেলের দাম বেশি না বাড়ে এবং আমদানি সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকে, তবে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে। এতে মূল্যস্ফীতির চাপ কমে আসতে পারে এবং দেশের অর্থনীতির অন্যান্য খাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব হ্রাস পাবে।

    এছাড়া, সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন মডেল ও পদ্ধতি ব্যবহার করে এই ধরনের পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যদ্বাণী করেছে। তাদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যদি গত প্রান্তিকে জ্বালানি তেলের দাম ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি পায় এবং পরে আরও ৩০ শতাংশ বেড়ে যায়, তাহলে দেশের বাজারে তেলের দাম সমন্বয় করতে হবে। আবার, যদি ডলার বিপরীতে টাকার মান একাধিক পর্যায়ে প্রায় ৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত অবমূল্যায়িত হয়, তাহলে ডিসেম্বরের মধ্যে মূল্যস্ফীতির হার বিশ্লেষণের মাধ্যমে ১১.৬৭ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। একই সময়, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩ হাজার ২৭২ কোটি ডলার থেকে কমে ২ হাজার ৬০৬ কোটি ডলারে নেমে আসতে পারে।

    প্রতিবেদনগুলো বলছে, এসব হিসাবের পেছনে বিভিন্ন অনুমানে ভর করে জ্বালানি তেল ও ডলারের দাম পূর্বাভাস তৈরি করা হয়েছে। যদি বৈশ্বিক বাজারে তেলের দামের বড় রকমের অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন না ঘটে, তাহলে ডিসেম্বরের মধ্যে মূল্যস্ফীতির হার ১০ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে থাকতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে যদি জ্বালানি তেলের দাম বাড়ে, তবে আমদানির ব্যয় বৃদ্ধি পাবে এবং সেটা রিজার্ভে চাপ তৈরি করবে। অপরদিকে, যদি সরকার অভ্যন্তরীণভাবে রাজস্ব বৃদ্ধি করে বা জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখে, তবে মূল্যস্ফীতির চাপ মন্থর হবে।

    অন্যদিকে, যদি বৈশ্বিক বাজারে বড় ধরনের অপ্রত্যাশিত মূল্যবৃদ্ধি হয় এবং এর জন্য ডলার বিপরীতে টাকার মান অবমূল্যায়িত হয়, তাহলে অর্থনীতির জন্য আরও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে। টাকার অবমূল্যায়নের ফলে মুদ্রাবাজার অস্থির হয়ে পড়ে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংককে হস্তক্ষেপ করতে হয়, যার ফলে রিজার্ভ কমে যায়। এর ফলে সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়তে পারে।

    সর্বশেষ, এই পরিস্থিতি মোকাবেলায়, রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে এবং ডলারের দাম কিছুটা বাড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কিছু নমনীয়তা অবলম্বন করতে হতে পারে। পাশাপাশি, সরকারের রাজস্ব ও ব্যয়, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জ্বালানি তেলের দাম সামঞ্জস্য করার প্রয়োজন পড়ে।

    সার্বিকভাবে দেখা যায়, তেলের মূল্য বৃদ্ধি আর ডলারের বিপরীতে বাংলাদেশের মুদ্রার অবমূল্যায়ন দ্রুত মূল্যস্ফীতি বাড়ানোর মূল কারণ, যা সরাসরি ভোক্তার ওপর প্রভাব ফেলবে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের সমন্বিত নীতিতে পরিবর্তন জরুরি, যাতে দেশের অর্থনীতির ক্ষতি কম হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

  • আট মাসে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি দুই লাখ কোটি টাকায় পৌঁছাল

    আট মাসে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি দুই লাখ কোটি টাকায় পৌঁছাল

    চলতি অর্থবছরের (২০২৫-২৬) প্রথম আট মাসে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে তা দাঁড়িয়েছে প্রায় দুই লাখ ৭ হাজার কোটি টাকার বেশি। এই সময়ের মধ্যে রপ্তানির তুলনায় আমদানি অনেক বেশি হয়েছে, এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানিসহ বেশির ভাগ পণ্যের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে ওঠে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক লেনদেনের আপডেট প্রতিবেদনে বলা হয়, এই সময়ের মধ্যে দেশের বৈদেশিক বাণিজ্য ঘাটতি ১ হাজার ৬৯১ কোটি ডলার বা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকার বেশি। এর আগে গত অর্থবছরের আট মাসে এই ঘাটতির পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৩৭১ কোটি ডলার।

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রমজান ঈদ মৌসুমে ভোজ্যতেল, চিনি, ডাল, ছোলা ও খেজুরসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যগুলোর আমদানি বেড়ে যাওয়ায় সামগ্রিক আমদানির হার বৃদ্ধি পায়। একই সময় রপ্তানি আয় অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ার ফলে বাণিজ্য ঘাটতি আরও বাড়ে। খাত সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, দেশের অর্থনীতি স্বাভাবিক রাখতে হলে আমদানি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি রপ্তানি বৃদ্ধি করতে হবে। অন্যথায় অর্থনীতির জন্য সংকট তৈরি হতে পারে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন পণ্য আমদানি করেছেন মোট ৪ হাজার ৬১৭ কোটি ডলার, অর্থাৎ ৪৬ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৫ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে, এই সময়ে পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৩০ দশমিক ০৩ বিলিয়ন ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ২ দশমিক ৬ শতাংশ কম। আগের অর্থবছরে এই সময়ে রপ্তানি ছিল ২৯ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলার। এই আমদানি ও রপ্তানির ব্যবধানের কারণেই চলতি বছর প্রথম আট মাসে পণ্যে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ বেড়ে গেছে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের পণ্যে রপ্তানি কমে যাওয়ায় এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও অন্যান্য মালামের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ বহির্বিশ্বের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতিতে পড়ছে। তবে, দেশের কারেন্ট অ্যাকাউন্টের পরিস্থিতি মোটামুটি ভালো, অর্থাৎ নিয়মিত লেনদেনে দেশকে বিশেষ কোনো ঋণ করতে হচ্ছে না। তারপরও সাময়িক ঘাটতি থাকায় সরকারকে ঋণ নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে। বিশেষ করে এখনকার পরিস্থিতিতে, যেখানে চলতি হিসাবের ঘাটতি মোট ১০০ কোটি ডলার, আগের বছর একই সময়ে তা ছিল ১৪৭ কোটি ডলার, এটি দেশের অর্থনৈতিক স্বাস্থ্যের জন্য মোটামুটি সুখকর।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, সামগ্রিক লেনদেন বা ওভারঅল ব্যালান্স এখন ভালো অবস্থায় রয়েছে। প্রথম আট মাসে দেশের প্রবাসী বাংলাদেশিরা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে মোট ২ হাজার ২৪৫ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২১ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি।

    বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষণীয়। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জুলাই-ফেব্রুয়ারি দেশের প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) ছিল ১০৬ কোটি ডলার, তবে চলতি বছর তা খানিক কমে দাঁড়িয়েছে ৮৭ কোটি ডলারে। তবে শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ নেতিবাচক অবস্থায় রয়েছে, যেখানে প্রথম আট মাসে বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ আগের বছরের চেয়ে ৮ কোটি ডলার কমে গেছে। এর আগে, গত অর্থবছরে শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ ছিল ঋণাত্মক ৮ কোটি ডলার।

  • বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমল

    বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমল

    ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। বিশ্ববাজারে সোমবার মূল্যবান ধাতুটির দাম প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্নে পৌঁছেছে। রয়টার্সের বিশ্লেষকদের মতে, এর প্রধান কারণ হলো শক্তিশালী ডলার এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে বেড়ে চলা উদ্বেগ। তেলের দাম বাড়তে থাকায় অর্থনৈতিক অস্থিরতা আরও গভীর হচ্ছে, যার ফলে সুদের হার কমানোর সম্ভাবনাও ধীরে ধীরে কমছে। এই পরিস্থিতিতে স্বর্ণসহ অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দাম বাড়তে শুরু করেছে।

    রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুর ১২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত স্পট গোল্ডের দাম ০.৪% কমে গিয়েছিল, যা প্রতি আউন্স ৪,৭২৬.৬৪ ডলারে দাঁড়ায়। এর আগে, দিন শুরুতে এটি ৭ এপ্রিলের পর সর্বনিম্ন ৪,৬৪৩ ডলারে পৌঁছেছিল। জুন ডেলিভারির জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচার দাম ০.৮% কমে ৪,৭৪৮.৭০ ডলারে নামিয়েছে।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ডলার সূচক ০.৩% শক্তিশালী হয়েছে এবং তেলের দাম আবার ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠেছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি অবরোধের প্রত্যুত্তর প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা স্বর্ণের দাম কমার পেছনে একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।

    বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, শান্তি আলোচনার ব্যর্থতা যুদ্ধবিরতির আশা ধাক্কা খেয়েছে। এর ফলে ডলার এবং তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, যা স্বর্ণের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

    শুরু থেকেই, অর্থাৎ ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখ থেকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল-ইরানের সংঘর্ষ শুরুর পর স্পট গোল্ডের দাম ১১% এর বেশি কমে গেছে। সাধারণত, মুদ্রাস্ফীতি ও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা স্বর্ণের চাহিদা বাড়ায়, তবে উচ্চ সুদের হার স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদের জন্য নেতিবাচক। শক্তিশালী ডলার অন্যান্য মুদ্রাধারীদের জন্য ডলার-নির্ধারিত স্বর্ণ কেনাকাটা আরও ব্যয়বহুল করে তোলে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, তেলের দাম যখন ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে, তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা বেড়ে যায়, যা স্বর্ণের মূল্যকে দুর্বল করে।

    ব্যবসায়ীদের মতে, চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা খুবই কম, কারণ উচ্চ জ্বালানি মূল্য সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতিকে আরও বাড়াতে পারে এবং গভীর শিথিলতার সুযোগকে কমিয়ে দেয়। ফলে মূল্যবান ধাতুগুলোর ওপর চাপ আরও বাড়ছে।

  • ছেঁড়া-ফাটা নোট বদল না করলে ব্যাংকের বিরুদ্ধে শাস্তি নিশ্চিত

    ছেঁড়া-ফাটা নোট বদল না করলে ব্যাংকের বিরুদ্ধে শাস্তি নিশ্চিত

    দেশজুড়ে ছেঁড়া, ফাটা, ত্রুটিপূর্ণ ও ময়লাযুক্ত নোটের ব্যবহারে वृद्धि হওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক সকল ব্যাংক ও শাখাকে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে। এই নির্দেশনা অনুযায়ী, অবৈধ বা ক্ষতিগ্রস্ত নোট গ্রহণ ও বিনিময় করতে হবে, অন্যথায় ব্যাংকের বিরুদ্ধে জরিমানা ও শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রোববার একটি অফিসিয়াল নির্দেশনা জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ ব্যাপারে স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, জনসাধারণের স্বাভাবিক নগদ লেনদেন নিশ্চিত করতে সব তফসিলি ব্যাংকের শাখা এই নিয়ম মানতে বাধ্য। নির্দেশনায় বলা হয়, ক্ষতিগ্রস্ত বা ময়লাযুক্ত নোট গ্রহণ ও বিনিময় করতে হবে এবং পরিবর্তে নতুন বা পুনঃপ্রচলনযোগ্য নোট সরবরাহ করতে হবে। ব্যাংকগুলো ইতিমধ্যে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা মানছে তবে বাজারে এখনো অপ্রচলিত বা ক্ষতিগ্রস্ত নোটের আধিক্য রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য লেনদেনে অসুবিধা সৃষ্টি করছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ‘ক্লিন নোট পলিসি’ কার্যকর করে ব্যাংকগুলোকে আরও সক্রিয় হওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ছোট মূল্যমানের ৫, ১০, ২০ ও ৫০ টাকার নোট নিয়মিতভাবে গ্রহণ ও বিনিময় করতে হবে এবং গ্রাহকদের ব্যবহারযোগ্য বা নতুন নোট প্রদান করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে, যদি কোনো ব্যাংক শাখা এ সেবা দিতে গাফিলতি করে বা অনীহা দেখায়, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ নির্দেশনা দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারার অধীনে জারি এই নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

  • বাংলাদেশে জ্বালানি সংকটের সঙ্গী শুধু সংসদই, দেশে নয়: জামায়াতের আমির

    বাংলাদেশে জ্বালানি সংকটের সঙ্গী শুধু সংসদই, দেশে নয়: জামায়াতের আমির

    দেশে জ্বালানি তেলের মারাত্মক সংকটের কথা তুলে ধরেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডাঃ শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, এখন শুধু সংসদে তেলের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, দেশের কোথাও তা পাওয়া যাচ্ছে না। এই মন্তব্য তিনি শনিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশের কৃষিতে বিশ্ব জ্বালানি সংকটের প্রভাব: উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক গণসংবাদ সম্মেলনে করেন। এটি আয়োজন করে এ্যাগ্রিকালচারিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশ, যার সভাপতিত্বে ছিলেন অধ্যাপক এ টি এম মাহবুব ই ইলাহী।

    শফিকুর রহমান বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে জ্বালানি কিনতে পারছেন না। অন্যদিকে, কালোবাজারে আড়াই থেকে তিন গুণ বেশি দামে তেল বিক্রি হচ্ছে। তার মতে, এই পরিস্থিতির জন্য সিন্ডিকেটই দায়ী, যারা এই অবস্থা সৃষ্টি করেছে। মাঝে মাঝে অভিযান চালানো হলেও কার্যকর কোনও সমাধান দেখা যাচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, সংসদে যখন ইনকামবেন্ট মিনিস্টার বা সরকারি দলের ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে কেউ কথা বলেন, তখন মনে হয় বাংলাদেশ অনির্দিষ্টভাবে তেলের ওপর ভাসছে। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারকে পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শেষ হলেও এর প্রভাব কমেনি। এ পরিস্থিতিতে অন্তত ৬০ থেকে ৯০ দিনের জ্বালানি মজুত করার সঙ্গে সঙ্গেই সিন্ডিকেট ভেঙে, স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে বিকল্প জ্বালানি উৎপাদনের দিকে এগোতে হবে।

    জামায়াত আমির সরকারের উপর সিন্ডিকেট পোষণের অভিযোগও করেন। তিনি বলেন, উন্নত দেশগুলো ধীরে ধীরে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো শুরু করলেও, বাংলাদেশে এ ধরনের উদ্যোগ এখনও দৃশ্যমান নয়। ব্যাংকিং খাতের অবস্থা নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এই খাতটি এখন ‘লুটেপুটে খাওয়ার’ জায়গায় পৌঁছেছে, যেখানে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলো বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

    তিনি আরও বলেন, কৃষির অবনতিই দেশের বিপর্যয়, তাই কৃষিকে টিকিয়ে রাখতে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করাটা জরুরি। অন্যথায় দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পাশাপাশি তিনি সংসদের কার্যপ্রণালীর সমালোচনা করে বলেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী এখনো কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়নি, তবে ভবিষ্যতের দিকে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

  • শেষ দিনে বিরোধী দলের ওয়াকআউটের যৌক্তিকতা ছিল না: সালাহউদ্দিন

    শেষ দিনে বিরোধী দলের ওয়াকআউটের যৌক্তিকতা ছিল না: সালাহউদ্দিন

    জুলাই অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর সংক্রান্ত অধ্যাদেশ নিয়ে শেষ কার্যদিবসে বিরোধীদলের ওয়াকআউটের যৌক্তিকতা খুঁজে পাননি বিএনপি। এই মত প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার (১২ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।