Blog

  • প্রবাসী আয়ে রিজার্ভ ছাড়াল ৩৫ বিলিয়ন ডলার

    প্রবাসী আয়ে রিজার্ভ ছাড়াল ৩৫ বিলিয়ন ডলার

    গত মার্চে রেকর্ড পরিমাণ প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) ঢুকে এ প্রবাহ চলতি এপ্রিলেও ইতিবাচক রয়েছে। তার প্রভাবেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক আবার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কিনতে শুরু করেছে—ফলশ্রুতিতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় বা রিজার্ভ বেড়ে ৩৫ বিলিয়ন ডলারের ঘর ছাড়িয়েছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের মোট (গ্রোস) বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক ০৪ বিলিয়ন ডলারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ হিসাবপদ্ধতিতে হিসাব করলে রিজার্ভটি ৩০ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার। এক মাস আগের তুলনায়—১৬ মার্চে—মোট রিজার্ভ ছিল ৩৪ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী ২৯ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার; ফলে এক মাসে রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার।

    তবে সম্পূর্ণ রিজার্ভ অর্থনীতির জন্য ব্যবহারযোগ্য হয় না। স্বল্পমেয়াদি দায়-দেনা ও কিছু নির্দিষ্ট হিসাব বাদ দিলে যে নিট বা ‘ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ’ থাকে, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ব্যাংক অভ্যন্তরীণভাবে এই ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ নির্ণয় করে থাকে; আইএমএফের এসডিআর, ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রা ক্লিয়ারিং অ্যাকাউন্ট এবং আকুর বিলের মতো কিছু খাত সেখানে বাদ দেওয়া হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না করলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সূত্রে জানা গেছে বর্তমানে ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ প্রায় ২৭ বিলিয়ন ডলার।

    প্রতি মাসে গড়ে ৫ বিলিয়ন ডলার আমদানি ব্যয় ধরা হলে এই রিজার্ভ দিয়ে প্রায় পাঁচ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। সাধারণভাবে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয়ের সমপরিমাণ রিজার্ভকে নিরাপদ ধরা হয়। অতীতে চাপে পড়ে paggamitযোগ্য রিজার্ভ ১৪ বিলিয়ন ডলারের নীচে নেমে গিয়েছিল; তখন বৈদেশিক ঋণ ও বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ডলার সংগ্রহ করে পরিস্থিতি সামাল দিতে কষ্ট করা হয়েছিল।

    ২০২৪ সালের আগস্টে অন্তর্বতী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর রিজার্ভ থেকে বিক্রি করা ডলার সীমিত করেছেন। পাশাপাশি হুন্ডি ও অর্থপাচার ঠেকাতে, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা জোরদার করতে ও বিভিন্ন উৎস থেকে ডলার সরবরাহ বাড়াতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হলে রিজার্ভ ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হতে শুরু করে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, প্রবাসী আয় বাড়ায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বেড়েছে এবং রিজার্ভ শক্তিশালী হচ্ছে। বাজারে ভারসাম্য রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কিনছে; তাই রিজার্ভের অবস্থান ভালো। তিনি আরও বলেন, ডলারের দর অতিরিক্ত কমে গেলে প্রবাসী আয় ও রপ্তানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, তাই পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

    ঐতিহাসিকভাবে দেশের রিজার্ভ সর্বোচ্চ ছিল ২০২১ সালের আগস্টে, তখন প্রায় ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছুঁয়েছিল—সেই সময়ে প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল ৮৪ টাকা ২০ পয়সা। পরবর্তীতে ঋণ-অনিয়ম ও অর্থপাচারসহ নানা কারণে রিজার্ভে চাপ পড়ে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় রিজার্ভ নেমে আসে ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলারে; আইএমএফের হিসাব অনুযায়ী তখন তা ছিল ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা দেখা দেয় এবং ডলারের দাম ১২০ টাকার ওপরে উঠে যায়, তখন আমদানিতে নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল।

    পরবর্তীতে বাজারভিত্তিক বিনিময় হার চালু ও রেমিট্যান্স বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার ফলে প্রবাসী আয় বাড়তে শুরু করে এবং আমদানির ওপর বিধিনিষেধ ধাপে ধাপে শিথিল হয়—এসব মিলিয়ে রিজার্ভ পুনরুদ্ধারে সহায়তা করেছে।

    পতাকা তথ্য অনুযায়ী চলতি এপ্রিলের প্রথম ১৫ দিনে দেশে এসেছে ১৭৯ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২১ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি; গত বছর ওই সময় এসেছিল ১৪৭ কোটি ডলার। গত কয়েক মাস ধরে রেমিট্যান্সে ঊর্ধ্বমুখী ধারা বজায় রয়েছে—মার্চে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার, যা একক মাস হিসেবে দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর আগে ফেব্রুয়ারি ছিল ৩০২ কোটি, জানুয়ারি ৩১৭ কোটি এবং ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ডলার।

    রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার থেকে ডলারের সরবরাহ সংগ্রহ করছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৫৬১ কোটি ডলার কিনেছে; এর ফলে রিজার্ভের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে।

    একই সময়ে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল–ইরান সংক্রান্ত উত্তেজনার কারণে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা রয়েছে। এসব আলোচনায় রিজার্ভে ইতিবাচক বৃদ্ধিকে সংশ্লিষ্টরা স্বস্তিদায়ক হিসেবে দেখছেন।

  • ইরানের আকাশপথ সচল: তেহরানসহ ৬টি বিমানবন্দর পুনরায় চালু

    ইরানের আকাশপথ সচল: তেহরানসহ ৬টি বিমানবন্দর পুনরায় চালু

    দীর্ঘ অপেক্ষার পর ইরানের বেসামরিক বিমান চলাচলে স্বস্তির বাতাস বইতে শুরু করেছে। দেশটির এভিয়েশন অথরিটি ও অ্যাসোসিয়েশন অব ইরানি এয়ারলাইনস জানিয়েছে, পূর্বাঞ্চলের আকাশসীমা ও রাজধানী তেহরানসহ মোট ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর আবারও অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে।

    তাসনিম নিউজ এজেন্সির রিপোর্ট অনুযায়ী, এই তালিকায় রয়েছে তেহরানের দুটি প্রধান বিমানবন্দর—ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং মেহরাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এছাড়া মাশহাদ, বিরজান্দ, গোরগান ও জাহেদান-ও পুনরায় উন্মুক্ত হয়েছে।

    অ্যাসোসিয়েশন অব ইরানি এয়ারলাইনসের এক কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়েছে, বিমানবন্দরগুলো খুলে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এয়ারলাইনগুলো তাদের নিয়মিত ফ্লাইট সূচি পুনর্গঠন শুরু করেছে। অভ্যন্তরীণ রুটে দ্রুততা ফিরে আসছে এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলোও ধাপে ধাপে চালু করার প্রক্রিয়া চলছে। জাতীয় গণমাধ্যম আইআরআইবিও নিশ্চিত করেছে যে যাত্রীদের জন্য টিকিট বিক্রিও ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে।

    কয়েক সপ্তাহ ধরে আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে দেশের বেশ কিছু আকাশপথ এবং বিমানবন্দর স্থবির ছিল, ফলে হাজার হাজার যোত্রী সমস্যায় পড়ে এবং পর্যটন ও ব্যবসায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়। পূর্বাঞ্চলের আকাশসীমা খুলে যাওয়ায় এখন ট্রানজিট ও কার্গো ফ্লাইটগুলোও নিরাপদ বলে গণ্য করা হয় এমন রুট ব্যবহার করতে পারবে, যা বিমান চলাচলে কিছুটা স্থিতিশীলতা আনবে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পদক্ষেপ বেসামরিক জনজীবন স্বাভাবিক করার একটি বড় চেষ্টা। তবে পুরো আকাশপথ এখনো সম্পূর্ণ রূপে খোলা হয়নি—পশ্চিমাঞ্চলীয় রুটগুলোতে সতর্কতা অব্যাহত রয়েছে। সামরিক উত্তেজনার মধ্যেও বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু করাকে ভ্রমণপিপাসু ও ব্যবসায়ীরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন, যদিও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের ওপর এখনও নির্ভর করবে পরবর্তী সিদ্ধান্তগুলো।

  • ইতিহাস বদলে গেল: লোকসভায় ভোটে হেরে গেলেন মোদি

    ইতিহাস বদলে গেল: লোকসভায় ভোটে হেরে গেলেন মোদি

    ভারতের লোকসভার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নরেন্দ্র মোদি সরকারের প্রস্তাবিত সংবিধান সংশোধনী বিল ভোটে ব্যর্থ হলো। ‘সংবিধান (১৩১তম সংশোধনী) বিল, ২০২৬’ শুক্রবার লোকসভায় আলোচিত হয়ে ভোটে যায়, কিন্তু প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন না পেয়ে বিলটি বাতিল ঘোষণা করা হয়।

    ভোটে ৫২৮ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। ফলাফলে পক্ষে ২৯৮ এবং বিপক্ষে ২৩০ ভোট পড়ে। দুই-তৃতীয়াংশের শর্ত অনুযায়ী উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে অন্তত ৩৫২ জনের সমর্থন দরকার ছিল; ফলে বিলটি ৫৪ ভোটের ঘাটতিতে পাস হয় না। গত ১২ বছরে মোদি সরকারের আনুমানিক কোনো সংবিধান সংশোধনী প্রস্তাব প্রথমবারই ব্যর্থ হয়েছে।

    সরকার মূলত তিনটি বিষয় একসঙ্গে সামনে আনেছিল — সংসদ ও রাজ্য বিধানসভায় নারীদের জন্য আসন সংরক্ষণ, লোকসভার আসনসংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে প্রায় ৮৫০ করা এবং তদনুযায়ী নতুন করে সীমানা পুনর্নির্ধারণ (ডিলিমিটেশন)। কিন্তু মূল সংশোধনী বিলটি খারিজ হওয়ায় বাকি দুই বিল তোলা হয়নি।

    বিরোধীরা ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়ার তীব্র বিরোধিতা করে দাবি করেছেন, জনসংখ্যাভিত্তিক প্রতিনিধিত্ব বাড়ালে কিছু অঞ্চলের রাজনৈতিক ভারসাম্য বিঘ্নিত হতে পারে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বলেছেন, নারীদের সংরক্ষণ তারা সমর্থন করলেও সেটিকে ডিলিমিটেশনের সঙ্গে জড়িয়ে আনার ধারণার বিরোধী।

    ভোটের আগে প্রধানমন্ত্রী মোদি সব দলকে বিলটির পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন, তবু বিরোধীদের সমর্থন না পাওয়ায় প্রস্তাবটি পাশ করানো সম্ভব হয়নি। পরে কংগ্রেস এই ফলকে ‘নারীর নামে অসাংবিধানিক কৌশল’ বলে প্রকাশ্যে সমালোচনা করে।

    এই পরাজয় সরকারীর নীতি ও কৌশল সম্পর্কে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করেছে এবং ভবিষ্যতে নারীর সংরক্ষণ ও আসনসংখ্যা-উত্তরাগতি নিয়ে কীভাবে এগোবে তা এখন উত্তেজনাপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে রয়ে গেল।

  • খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদোন্নতিতে প্রথমবারের মতো চালু ‘দক্ষতা উন্নয়ন পরীক্ষা’

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদোন্নতিতে প্রথমবারের মতো চালু ‘দক্ষতা উন্নয়ন পরীক্ষা’

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় নতুন ধারার সূচনা হয়েছে। জ্যেষ্ঠতার পাশাপাশি মেধা ও দক্ষতাকেই গুরুত্ব দিয়ে প্রশাসন এখন থেকে পদোন্নতি বা আপগ্রেডেশনের সিদ্ধান্ত নেবে। সেই উদ্দেশ্যেই প্রথমবারের মতো বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হয়েছে ‘দক্ষতা উন্নয়ন পরীক্ষা’।

    আজ শনিবার (১৮ এপ্রিল) ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল (আইকিউএসসি)-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় প্রার্থীদের তিন ধাপের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হয় — লিখিত পরীক্ষা, পদ-সংক্রান্ত ব্যবহারিক এবং কম্পিউটার টাইপিং। পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের বোর্ডের সুপারিশের আলোকে পদোন্নতি বা আপগ্রেডেশন দেওয়া হবে।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে যে, দেশের বেশিরভাগ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘ সময় ধরে পদোন্নতি মূলত জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতেই দেওয়া হয়ে এসেছে। সে প্রেক্ষাপটে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই নতুন প্রক্রিয়া প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে মনে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব সৃষ্টি হবে এবং তাদের নিজের দক্ষতা উন্নয়নে অনুপ্রেরণা যোগাবে।

    পরীক্ষা চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম হল পরিদর্শন করেন। এ সময় উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ হারুনর রশীদ খান, আইকিউএসসির পরিচালক প্রফেসর ড. মোঃ মোস্তাফিজুর রহমানসহ অন্যান্য দায়িত্বশীল শিক্ষক ও কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

    পরিদর্শনকালে উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম বলেন, এটি সময়োপযোগী ও কার্যকর একটি উদ্যোগ। আমরা প্রত্যাশা করি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব দেখাবেন এবং যোগ্যদের যথাযথ স্বীকৃতি মিলবে।

    বিশ্ববিদ্যালয় অভ্যন্তরে ও সংশ্লিষ্ট মহলে এ পদক্ষেপকে উচ্চশিক্ষা খাতে এক ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে স্বাগত জানানো হয়েছে। তারা আশা করছেন, এমন মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু হলে প্রশাসনিক কাজের গতি ত্বরান্বিত হবে এবং সার্বিকভাবে সেবার মানও উন্নত হবে।

  • খুলনায় দায়িত্বে থাকা রেলওয়ে কনস্টেবল গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত

    খুলনায় দায়িত্বে থাকা রেলওয়ে কনস্টেবল গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত

    খুলনার রেলওয়ে পুলিশ লাইনে দায়িত্ব পালনকালে এক কনস্টেবল গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। ঘটনাটি শনিবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে লাইনের অস্ত্রাগার (ম্যাগাজিন গার্ড) এলাকায় ঘটে।

    নিহত কনস্টেবলের নাম সম্রাট বিশ্বাস (বিপি নং: ৯৯১৮২১৪৯২৯)। প্রাথমিক নিশ্চিত তথ্য অনুযায়ী তিনি ডিউটি পালন করছিলেন তখনই গুলিবিদ্ধ হন।

    ঘটনার খবর পেয়ে খুলনা রেলওয়ে জেলার এসআরপি সদস্য ও সোনাডাঙ্গা থানার কর্মকর্তা-সদস্যসহ খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছে এবং তল্লাশির কাজ চলছে, বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্রাটের স্ত্রী পূজা বিশ্বাস সাতক্ষীরা জেলায় কর্মরত এক মহিলা পুলিশ সদস্য।

    পুলিশ এখনও মৃতুর সুনির্দিষ্ট কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। তবে প্রত্যক্ষদর্শী এবং সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় যে সম্রাট নিজেই ব্যবহৃত সার্ভিস অস্ত্র থেকেই গুলিবিদ্ধ হয়েছেন—এই তথ্যও পুলিশ তদন্তের অংশ হিসেবে যাচাই করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ বলেছেন, তদন্ত শেষে ঘটনাটির বিস্তারিত জানানো হবে।

  • দ্বিতীয় সারির নিউজিল্যান্ডের কাছে হারল মিরাজ-শান্তরা

    দ্বিতীয় সারির নিউজিল্যান্ডের কাছে হারল মিরাজ-শান্তরা

    মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে টাইগাররা শুরুর প্রতিশ্রুতির পর শেষ পর্যন্ত হতাশায় ঢলে পড়ে। সিরিজের প্রথম লড়াইয়ে নিউজিল্যান্ড ৮ উইকেটে ২৪৭ রানের লক্ষ্য ধার্য করে এবং বাংলাদেশ ৪৮.৩ ওভারে ২২১ রানে গুটিয়ে যাওয়ায় সিরিজে ০-১ পিছিয়ে পড়ে।

    টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করে নিউজিল্যান্ড শুরুতে ভুগলেও হেনরি নিকোলস ও উইল ইয়ংের ৭৩ রানের জুটিতে দল প্রত্যাবর্তন করে। সপ্তম ওভারে শরিফুল ইসলাম নিক কেলিকে ফিরিয়ে নিউজিল্যান্ডের প্রথম সফলতা এনে দেন। এরপর রিশাদ হোসেন উইল ইয়ংকে (৩০) আউট করে মোমেন্টাম কিছুটা বাংলাদেশের দিকে টেনে আনে, আর মেহেদী হাসান মিরাজ টম ল্যাথামকে ছাড়েন নাই। রিশাদ পরে নিকোলসকেও ফেরান। শেষ দিকে ড্যান ফক্সক্রফট অর্ধশতক তুলে দলকে ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৪৭ রানে পৌঁছে দেন। বাংলাদেশের কাছে শরিফুল ও রিশাদ দুজনই দুটি করে উইকেট নেন, তাসকিন আহমেদও দুটি শিকার করেন।

    জবাবে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ শুরুতেই চাপের মুখে পড়ে। তানজিদ হাসান, তামিম ইকবাল ও নাজমুল হোসেন শান্ত দ্রুত ফিরে যাওয়ায় দুর্বল আরম্ভ হয়। তবে সাইফ হাসান (৭৬ বলের ৫৭) ও লিটন দাস (৬৮ বলের ৪৬) তৃতীয় উইকেটে ৯৩ রানের জুটিতে প্রতিরোধ গড়ে তুলেন এবং ম্যাচে ফিরে আসার আশায় জ্বালানী জুগিয়ে দেন।

    সাইফের বিদায়ের পর লিটনও ফিরলে চাপ নতুন করে বেড়ে যায়। তাওহীদ হৃদয় আফিফ হোসেনের সঙ্গে সংগ্রাম চালান; হৃদয়ের ৫৫ রানের বীরত্ব দলকে জয়ের কাছাকাছি নিয়ে গেলেও আফিফ ধীরগতিতে ২৭ রান করে ফিরে গেলে টপেম্যানেই সুবিধা নষ্ট হয়। মিরাজও বড় কিছু করতে না পারায় শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ নির্ধারিত লক্ষ্য ছুঁতে ব্যর্থ হয়।

    শেষ পর্যন্ত টাইগাররা ৪৮.৩ ওভারেই ২২১ রানে অলআউট হয়ে ম্যাচ হেরে নেয়। দুর্দান্ত ব্যক্তিগত ইনিংস থাকলেও ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকতার অভাবে জয় পায়নি বাংলাদেশ। সিরিজের বাকি দুটি ম্যাচে টাইগারদের সামনে দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

  • ৪০ পেরিয়ে প্রাইম ব্যাংকে ফিরলেন মাহমুদউল্লাহ, কৃতিত্ব দিলেন তামিমকে

    ৪০ পেরিয়ে প্রাইম ব্যাংকে ফিরলেন মাহমুদউল্লাহ, কৃতিত্ব দিলেন তামিমকে

    আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে চলে আসার এক বছরেরও বেশি সময়ের পরও ক্রিকেটের প্রতি মাহমুদউল্লাহর ভালোবাসা অটুটই আছে। ফেব্রুয়ারি মাসে ৪০ বছরে পা দিয়েছেন এই অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার। এবার তিনি ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ছেড়ে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবে যোগ দিয়েছেন।

    শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সিসিডিএম কার্যালয়ে দলবদলের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে প্রাইম ব্যাংকের হয়ে খেলায় ফেরার ঘোষণা দেন মাহমুদউল্লাহ। দীর্ঘদিন পর ক্লাবের জার্সি হাতে পেয়ে তিনি উচ্ছ্বসিত ছিলেন।

    দলবদলের পর সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘‘ব্যক্তিগতভাবে আমি খুব খুশি এই দল নিয়েই। টপ-অর্ডার থেকে পুরো স্কোয়াড যেভাবে সাজানো হয়েছে, তা সত্যিই চমৎকার।’’ তিনি টপ-অর্ডারে আজিজুল হাকিম, তামিম, শাহাদাত হোসেন দীপুদের উপস্থিতি উল্লেখ করে সন্তোষ প্রকাশ করেন। মিডল অর্ডারে তিনি ও শামীম হোসেন পাটোয়ারি থাকবেন এবং তরুণ ক্রিকেটাররাও সুযোগ পাবে বলে জানান।

    বোলিং বিভাগেও ভাল ভারসাম্য আছে—আলিস আল ইসলাম, তানজিম হাসান সাকিব, রায়ান রাফসান ও এনামুলের মতো পেস ও স্পিন বোলাররা দলে রয়েছেন। ‘‘তরুণ ও অভিজ্ঞদের দারুণ মিশেল হয়েছে, এটা আমাকে আশাবাদী করে,’’ যোগ করেন তিনি।

    প্রায় এক দশক পর আবার প্রাইম ব্যাংকের হয়ে খেলতে পারায় ক্লাবকে ধন্যবাদ জানিয়ে মাহমুদউল্লাহ বলেন, ‘‘২০১৫ সালের পর এবারই আবার সুযোগ পেলাম। প্রাইম ব্যাংক বছর লাগাতার ক্রিকেটারদের সেবা ও পারিশ্রমিক ঠিকঠাক নিশ্চিত করে আসছে। এটা তাদের বড় কৃতিত্ব।’’

    তিনি আরও বলেন, ‘‘মাঠে কষ্ট করে খেলার পর ক্রিকেটাররা চান তাদের পারিশ্রমিক ঠিকঠাক দিতে। প্রাইম ব্যাংক এই দিক থেকে প্রিমিয়ার লিগের একটি স্তম্ভ।’’ একই সঙ্গে বিসিবির অ্যাডহক কমিটির চেয়ারম্যান তামিম ইকবালকে কৃতিত্ব জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘এই উদ্যোগটা তামিমের ফলে এসেছে। এটি ক্রিকেটারদের জন্য বড় আয়ের একটি উৎস। তবু দিনশেষে আমরা সবাই চাই মাঠে থাকতে, খেলতে—মাঠে খেলার সুযোগের চেয়ে বড় কিছু নেই।’’

  • সুকেশের ২০০ কোটি টাকার মামলায় রাজসাক্ষী হচ্ছেন জ্যাকুলিন

    সুকেশের ২০০ কোটি টাকার মামলায় রাজসাক্ষী হচ্ছেন জ্যাকুলিন

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০০ কোটি রুপির আর্থিক জালিয়াতির মামলায় সুকেশ চন্দ্রশেখরের বিরুদ্ধে এবার রাজসাক্ষী হতে পারেন অভিনেত্রী জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ।

    গ্রেফতারের পর থেকে সুকেশ নিয়মিত জ্যাকুলিনকে ভালোবাসা দেখিয়ে তাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু অভিনেত্রী বারবার সেই মত বাদ দিয়েছেন। তবুও জ্যাকুলিনের নাম মামলা চালু হওয়ার সময় প্রকাশ্যে আলোচনায় এলে সুকেশ তার পক্ষে কথা বলেছেন।

    একটি চিঠিতে সুকেশ লিখেছিলেন—জ্যাকুলিনের নাম এই প্রতারণার মামলায় টেনে আনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের ঘটনা। তিনি দাবী করেছিলেন, তারা যখন সম্পর্ক ছিল, তখন জ্যাকুলিন ও তার পরিবারের কাছে দেওয়া উপহারগুলো তিনি নিজের ইচ্ছায় দিয়েছেন এবং জ্যাকুলিন তার কাছ থেকে শুধুই ভালোবাসাই চাইতেন।

    গ্রেফতারের পর সুকেশের ভালোবাসার আহ্বানে জ্যাকুলিন সাড়া না দিলেও, পুলিশের জেরায় তিনি সুকেশের দেওয়া উপহারের কথা স্বীকার করেছিলেন। এই বিবরণগুলোকে সামনে রেখে এখন তাকে রাজসাক্ষী করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

    এবার নজর রয়েছে আদালতে—জ্যাকুলিন সুকেশ চন্দ্রশেখরের বিরুদ্ধে কী তথ্য জানাবেন এবং তার সাক্ষ্য কতোটা প্রভাব ফেলবে মামলার কৌশলে, সেটাই দেখার বিষয়।

  • আশা ভোঁসলের শেষকৃত্যে কেন উপস্থিত ছিলেন না সালমান-শাহরুখ?

    আশা ভোঁসলের শেষকৃত্যে কেন উপস্থিত ছিলেন না সালমান-শাহরুখ?

    সুরসম্রাজ্ঞী আশা ভোঁসলের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে এবং বলিউড জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রণবীর সিংসহ বহু চলচ্চিত্র তারকা শেষসময়ে উপস্থিত থেকে কিংবদন্তিকে শ্রদ্ধা জানিয়েছিলেন। তথাপি দুই সুপারস্টার—সালমান খান ও শাহরুখ খান—উৎসবে অনুপস্থিত থাকায় অনেকে বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, শেষকৃত্যের সময়ও মুম্বাইতেই অবস্থান করছিলেন সালমান ও শাহরুখ। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে তারা এই শেষ বিদায়ে উপস্থিত ছিলেন না। ব্যক্তিগত বা অফিসিয়াল কোনো বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়নি, ফলে অনেকে অনিশ্চয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

    অনুপস্থিতি সত্ত্বেও দুই মহানায়ক সোশ্যাল মিডিয়ায় শোক প্রকাশ করেছেন। শাহরুখ খান লিখেছেন, “এটা খুবই দুঃখের যে আশা তাই চলে গেছেন। তার কণ্ঠ ভারতীয় সিনেমার একটি স্তম্ভ ছিল এবং আগামী প্রজন্ম পর্যন্ত গোটা বিশ্বে তার ছাপ থেকে যাবে।” সালমান খান লিখেছেন, “এটি ভারতীয় সংগীতের জন্য একটি বিশাল ক্ষতি। আশাজির কণ্ঠ আমাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। এক অপূরণীয় কণ্ঠ—আপনার গান আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।”

    আশা ভোঁসলে ১২ এপ্রিল প্রয়াত হন। আগের দিন, ১১ এপ্রিল তিনি শারীরিকভাবে অস্বস্তি অনুভব করে বুকে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। প্রাথমিক চিকিৎসকদের আশাব্যঞ্জক প্রতিক্রিয়ার কথাও ছিল, তবে শেষমেষ তিনি আর ফিরে এলেন না।

    কিংবদন্তীর অবদান ও স্মৃতি নিয়ে বলিউড ও সাধারণ মানুষসহ শিল্পজগৎ এখনো শোকাহত। অনুষ্ঠান ও শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বহু শিল্পী এবং অনুরাগীরা, আর অনুপস্থিতি-সংক্রান্ত প্রশ্নাবলীর সঙ্গেও চলেছে আলোচনা।

  • খুলনায় যুবককে কুপিয়ে زخمی

    খুলনায় যুবককে কুপিয়ে زخمی

    খুলনায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে রায়হান শেখ ওরফে মিঠু (১৯) নামে এক যুবককে দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্রের দ্বারা কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে। ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টায় মধ্য হরিণটানা এলাকার একটি পাড়ায়। রায়হান শেখ হরিণটানা ৮০ বিঘা এলাকার বাসিন্দা শিমুল শেখের ছেলে। আহত অবস্থায় তাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান, যেখানে তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন। ঘটনাের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন লবণচরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ তুহিনুজ্জামান। এমন ঘটনার কারণ ও হামলাকারীদের বিস্তারিত বিষয়ে পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে। এই হামলার পেছনে কারা রয়েছে, সে ব্যাপারে আরও অনুসন্ধান চলছে।