Blog

  • প্রিয় মালায়লাম অভিনেতার পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু

    প্রিয় মালায়লাম অভিনেতার পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু

    মালায়লাম সিনেমা এবং টেলিভিশনের সুপরিচিত অভিনেতা সন্তোষ কে নায়ার এক ভয়ঙ্কর সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। এই খবর জানাজানি হওয়ার সাথে সাথেই সিনেমা জগতসহ অন্যান্য অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিনি এ অবধি তার অভিনীত ছবি ‘মোহিনিয়াট্টম’ দিয়ে দর্শকদের মন জয় করেছেন। মারাত্মক এই দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুসংবাদ শোনার পর সকলেই স্তম্ভিত ও মর্মাহত।

    মঙ্গলবার ভোরে কেরালা রাজ্যের পাথানামথিট্টা জেলায় অবস্থিত এনায়াথু এলাকায় এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। সেখানে সড়কের পাশে একটি গাড়ি দ্রুতগতিতে আসা এক লরি সঙ্গে সংঘর্ষের শিকার হয়। দুর্ঘটনাগ্রস্ত ওই গাড়িতে থাকা অভিনেতা গুরুতর আহত হন। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়াও তার স্ত্রী ঘটনাস্থলে গুরুতর আহত হন এবং বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

    সন্তোষ নায়ার বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। তিনি বিশেষ করে খলচরিত্রে অভিনয়ে আলাদা পরিচিতি পান। ১৯৮২ সালে ‘ইথুঞ্জাঙ্গালুদে কথা’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি তার অভিনয় কার্যে আত্মপ্রকাশ করেন। তার শেষ কাজ ছিল ‘মোহিনিয়াট্টম’, যা এখনো প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হচ্ছে।

    অভিনেতার অকালতম মৃত্যুতে চলচ্চিত্রপ্রেমী, ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ী সবাই গভীর শোক ও স্মরণের জন্য উদ্বেলিত। মালায়লাম সিনেমার এই প্রিয় অভিনেতার বিদায় এক অন্ধকার দিন।

  • রুনা লায়লার মৃত্যু নিয়ে অদ্ভুত গুজব বিভ্রান্তি সৃষ্টি

    রুনা লায়লার মৃত্যু নিয়ে অদ্ভুত গুজব বিভ্রান্তি সৃষ্টি

    উপমহাদেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী রুনা লায়লার মৃত্যুর খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হঠাৎ করেই চাউর হয়েছে, যা বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছে। তবে ভক্ত ও অনুরাগীদের আশ্বস্ত করতে তিনি নিজেই স্পষ্ট করে বলেছেন যে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ এবং ভালো আছেন। বর্তমান সময়ে তিনি ভারতের দিল্লিতে রয়েছেন, যেখানে তিনি ‘মিনার–ই–দিল্লি’ পুরস্কার গ্রহণের অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যেই তার মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ায় দেশ-বিদেশে ব্যাপক আতঙ্ক ও উদ্বেগ দেখা দেয়। বিষয়টি নজরে আসার পর তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট করে এই গুজবের সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি লেখেন, ‘আমার প্রিয় ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের উদ্দেশ্যে জানাতে চাই, আমার মৃত্যু নিয়ে কিছু অদ্ভুত গুজব ছড়িয়েছে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘আমি পরিষ্কারভাবে জানাতে চাই, আমি সম্পূর্ণ সুস্থ এবং বহাল তবিয়তে আছি। আমি সবাইকে অনুরোধ করব, এ ধরনের কোনও পোস্ট শেয়ার করার আগে তথ্য যাচাই করুন, কারণ এই গুজব আমার এবং আমার পরিবারের জন্য খুবই কষ্টদায়ক। সবাই ভালো থাকুন ও অনেক ভালোবাসা রইল।’ উল্লেখ্য, রুনা লায়লা ১৯৬৬ সালে উর্দু ভাষার ‘হাম দোনো’ চলচ্চিত্রে ‘নাজরোঁ সে মোহাব্বত কা জো পয়গম মিলা’ গান দিয়ে সংগীতাঙ্গনে তার পথচলা শুরু করেন। 1960-এর দশকে তিনি পাকিস্তান টেলিভিশনে নিয়মিত পরিবেশনা করতেন। ভারতের চলচ্চিত্রেও তিনি নিজস্ব কণ্ঠে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন, বিশেষ করে ‘ও মেরা বাবু চেল চাবিলা’ ও ‘দামা দম মাস্ত কালান্দার’ গানের জন্য।

  • তামিলনায়ডুর নির্বাচনে বিজয় তার নতুন রেকর্ড গড়েছেন

    তামিলনায়ডুর নির্বাচনে বিজয় তার নতুন রেকর্ড গড়েছেন

    নিজের প্রথম নির্বাচনে নজিরবিহীন সাফল্য অর্জন করে বিশ্লেষকদের মনে কৌতুহল সৃষ্টি করেছেন জয় ও চন্দ্রশেখর বিজয়। দক্ষিণ ভারতের চলচ্চিত্র জগতের একজন জনপ্রিয় তারকা, যিনি ‘থালাপতি বিজয়’ নামে খ্যাত, তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনে প্রথমবারের জন্য অংশ নিয়ে বিপুল ভোটের মাধ্যমে জয়লাভ করেছেন। এই ফলাফল সেই ৪৯ বছরের পুরোনো রেকর্ডকে ছুঁয়েছে, যা একটি বিশিষ্ট রাজনীতির ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

    ১৯৭৭ সালে তামিল সিনেমার বরেণ্য অভিনেতা এমজি রামাচন্দ্রান প্রথমবারের মতো অভিনেতা হিসেবে রাজনৈতিক দলে যোগ দিয়ে নির্বাচনে জিতেছিলেন এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন। এরপর ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত তিনি এই পদে ছিলেন। তার দলের নাম ছিল এআইএডিএমকে।

    তারপর, দেশপ্রিয় সিনেমার শীর্ষ তারকা জয়া জয়ললিতা যখন মুখ্যমন্ত্রী হন, তখন তিনি নিজে রাজনৈতিক দল না সৃষ্টি করে এমজিআর’র দল এআইএডিএমকে-তে যোগ দিয়ে দলের প্রভাব বিস্তার করেন এবং শীর্ষ নেতা হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করেন। তবে একের পর এক চেষ্টা সত্ত্বেও, তামিলনাড়ুর এই বিশিষ্ট অভিনেত্রী সফলভাবে দীর্ঘ সময় এই রাজনীতির শিখরে উঠতে পারেননি। তিনি একজন সফল চলচ্চিত্র তারকা হলেও, নিজের সরকার গঠন বা দল তৈরির মাধ্যমে রাজনীতিতে নতুন দিক দেখাননি।

    এমন পরিস্থিতিতে বিজয় প্রথমবারের জন্য নির্বাচনে অংশ নিয়ে এই দীর্ঘ সময়ের রেকর্ডে নিজের নাম লিখিয়েছেন। ২০২৪ সালে গঠিত হতে যাচ্ছে তাঁর নিজস্ব দল, তামিলাগা ভেট্টরি কোঝাগাম (টিভিকে), যা এই নির্বাচনের ফলাফলের মাধ্যমে স্পষ্ট প্রমাণ করল—নেতৃত্বের দিক থেকে তিনি যেন রাজনীতির অমোঘ চিত্রেরই অংশ।

    বিধানসভায় মোট ২৩৪ টি আসন থাকলেও, সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮ আসনের বেশি জয়। এরা এই লক্ষ্য অর্জন করেছে বোঝা যায়, বিজয় নিজে জয় পেয়েছেন এবং তাঁর দলটি ১০৮ আসনে জিতেছে। যদিও পার্লামেন্টের নিয়ম অনুসারে, এককভাবে সরকার গঠন করতে না পারলেও, জোট করে গঠন সম্ভব। বিজয় ও তাঁর দল নিশ্চিতভাবেই তামিলনাড়ুর ভবিষ্যতের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পাবেন।

    এই ফলাফলকে স্বাভাবিকভাবেই নতুন ইতিহাস হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে বিজয় এমজি রামাচন্দ্রানের রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করলেন, চলচ্চিত্রের তারকা হয়েও তিনি রাজনৈতিক পটভূমিতেও নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম। তিনি এই পথ গ্রহণ করেছেন এমজি রামাচন্দ্রানের দর্শনের মতো, যেখানে ভক্তদের একজোট করে রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা দেওয়া হয়।

    ২০০৯ সাল থেকে নিজের ভক্তদের সংগঠিত করে বিজয় ‘বিজয় মাক্কাল ইয়াক্কাম’ নামে এক ঐক্য গড়ে তোলেন। বিভিন্ন গ্রুপের সমন্বয়ে এই ঐক্য পরিচালিত হচ্ছিল। এরপর ২০২১ সালে এই সমর্থন থেকে নিজেকে আলাদা করে নতুন দল গঠনের সিদ্ধান্ত নেন, যা ২০২৪ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি শুরু করে। এখন তিনি তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রীর আশায় বসে আছেন, এই ঐতিহাসিক জয় তার নতুন রাজনৈতিক জীবনের সূচনা মাত্র।

  • জাইমা রহমান স্পোর্টস ডিপ্লোমেসিতে যুক্ত হচ্ছে: প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক

    জাইমা রহমান স্পোর্টস ডিপ্লোমেসিতে যুক্ত হচ্ছে: প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক

    দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে এবং বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার উদ্দেশ্যে সরকার নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করছে। এই প্রয়াসের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা জাইমা রহমান যুক্ত হচ্ছেন ‘স্পোর্টস ডিপ্লোমেসি’ বা ক্রীড়া কূটনীতি ক্ষেত্রে। একইসঙ্গে, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) চলমান কোচ সংকট এবং কক্সবাজারে ফিফার আন্তর্জাতিক মানের টেকনিক্যাল সেন্টার নির্মাণের জন্য জমি সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনেও সরকার পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

    গত রবিবার রাজধানীর মতিঝিলে বিএসজেএ মিডিয়া কাপ ফুটবলের উদ্বোধন শেষে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের ক্রীড়া উন্নয়নের লক্ষ্যে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।

    প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘স্পোর্টস ডিপ্লোমেসিতে আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সার্বিকভাবে সহযোগিতা করছেন। এই ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর কন্যা জাইমা রহমানের যুক্ত হওয়া আমাদের জন্য অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক।’ তিনি যোগ করেন, ‘রিপেলডাকেল দায়িত্ব নিলে আমাদের জন্য তা বড় উৎসাহের বিষয়। স্পোর্টস ডিপ্লোমেসির মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আন্তরিকতা ও ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক বৃদ্ধি সম্ভব। এশীয় ও ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে খেলাধুলার সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে ও দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে তা কাটিয়ে উঠাই আমাদের মূল লক্ষ্য।’

    প্রতিমন্ত্রী আরো জানান, এই গুরুত্বের কারণে ইতোমধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আলাদা স্পোর্টস উইং খোলা হয়েছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরকারি উদ্যোগে এই কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করছে, যাতে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা যায়।

    অন্যদিকে, জাতীয় ফুটবল দলের জন্য উচ্চ পারফরম্যান্সের কোচ নিয়োগ এবং কক্সবাজারে ফিফার মানের এক্সিলেন্স সেন্টার নির্মাণের জন্য অর্থায়ন নিয়ে কয়েকদিন ধরে অনিশ্চয়তা চলছিল। এ বিষয়ে আমিনুল হক আশ্বস্ত করে বলেন, ‘বাফুফে যদি যোগ্য ও দক্ষ কোচ নিয়োগ করার ক্ষেত্রে আর্থিক সংকটের সম্মুখীন হয়, তবে সরকার আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে সেই সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসবে।’

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার প্রসারে অত্যন্ত আন্তরিক। প্রতিটি জেলায় এবং বিভাগে খেলাধুলার পরিবেশ সুদৃढ़ করার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘জিয়া পরিবারের ক্রীড়াপ্রেমের ইতিহাস ঐতিহাসিক। ডা. জুবাইদা রহমানও ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ এর মতো কার্যক্রমগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।’

  • বিসিবির টয়লেটের দুর্নীতি দেখে ক্ষুব্ধ তামিম

    বিসিবির টয়লেটের দুর্নীতি দেখে ক্ষুব্ধ তামিম

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে থাকা তামিম ইকবাল সম্প্রতি একটি বিষয় নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি দেখেছেন, মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ব্যবহৃত টয়লেটের অবস্থা কতটা অবহেলিত ও দুর্নীতিগ্রস্ত। তামিম জানান, যেখানে ২০০৭ সালে স্টেডিয়ামটি তৈরি হয়, এর পর থেকে এখনো কোনো গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার বা উন্নয়ন হয়নি। তিনি বলেন, আমি স্টেডিয়ামের টয়লেট দেখার জন্য Gelände গিয়ে দেখতে পেলাম, পরিচ্ছন্নতাকর্মী নারীদের বেতন কতটা ন্যূনতম কারণে কম দেয়া হয়। একটি বিষয় আমাকে খুবই ক্ষুব্ধ করেছেন, তারা প্রতিদিন মাত্র ৩০০ টাকা বা ৪০০ টাকা আয় করেন। অথচ তাদের কাছ থেকে আরও বড়ো অংকের টাকা চুরি বা যার ফলে তারা অসুবর্ণ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এই দুর্নীতি আমার জন্য একেবারেই অগ্রহণযোগ্য।

    তামিম ব্যাখ্যা করেন, তিনি যখন গ্যালারিতে গিয়ে দেখেন এবং সেখানে উপস্থিত নারীদের সঙ্গে কথা বলেন, তারা জানান, প্রতিদিন তারা মাত্র ৩০০ টাকাই পান। একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী বলেন, আমাদের এই মানে ৬৫০ টাকা দেয়, কিন্তু কেন আমাদের থেকে এত কম টাকা নেয়ার ব্যাপার হলো, সেটি বুঝতে পারছেন না। এই দুর্নীতির ব্যাপারে সবাই জানে, কিন্তু তা সত্ত্বেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয় না। এই পরিস্থিতি দেখে খুবই কষ্ট হয়, কারণ এখানকার নারীরা প্রতিদিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে থাকেন, কিন্তু তাদের মাসিক আয়ের অর্ধেক বা তার থেকেও কম টাকা থেকে লোপাট করা হয়।

    তামিম আরও জানান, দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে এই স্টেডিয়ামে কোনো বড় ধরনের সংস্কার বা উন্নয়ন হয়নি। তিনি বলেন, যখন এটি তৈরি হয়েছিল, তখন থেকেই সময়ের সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যাপারে কোনো নজরদারি হয়নি। এক পর্যায়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানতে পারেন, তারা প্রতিদিন মাত্র ৩০০ টাকা করে পান, যা তাদের বেঁচে থাকার জন্য খুবই অপ্রতুল। এমন পরিস্থিতিতে বিদেশ থেকে আসা একজন নারী, যারা বাংলাদেশে এসেছেন অভিযোগ করতে, বলেছেন, ওয়াশরুমের অবস্থা খুবই খারাপ। তাঁর কথায়, ‘ভাইয়া, যদি এই সব ওয়াশরুমগুলো ঠিক করা যায়, খুব ভালো হতো।’

    তামিম সতর্ক করে বলেন, অযাচিত দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার জন্য সংশ্লিষ্ট কোম্পানি বা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, যদি পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পারিশ্রমিকের বিষয়ে অফিসিয়াল মাল্টি-প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পর্যাপ্ত অর্থ না পায়, তাহলে তাদের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করবো এবং ভবিষ্যতে কোনোভাবেই এইসব কাজে স্থান দেব না। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সবার সামনে একজন উল্লেখ করেন, ‘‘আমি চাই, এই সিরিজের মধ্যে ৩০ নারী পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে বলব, তাদেরকে আমার জন্য ৫০০ টাকা করে দিতে।» আর তাই, অফিসিয়াল চুক্তি মানা না হলে বা অনিয়ম চলমান থাকলে, সংশ্লিষ্ট কোম্পানির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দেন তামিম।

  • ধবলধোলাইয়ের পর আইসিসির শাস্তিও পেলেন জ্যোতি

    ধবলধোলাইয়ের পর আইসিসির শাস্তিও পেলেন জ্যোতি

    শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে সিরিজটায় বাংলাদেশের মহিলা ক্রিকেট অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির জন্য זו এক স্মরণীয় বা ভুলে যাওয়ার মতো একটি সিরিজ। তিনি নেতৃত্বে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি—দুই ধরনের সিরিজেই বাংলাদেশ হেরেছে। বিশেষ করে টেস্টে তারা ধবলধোলাই হওয়া ছাড়িয়ে ব্যাপক নাজেহাল হয়েছে। এবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি) থেকে শাস্তির মর্যাদা পেলেন জ্যোতি।

    আইসিসি আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়ে দিয়েছে যে, জ্যোতিকে আনুষ্ঠানিকভাবে তিরস্কার এবং একজন ডিমেরিট পয়েন্ট দেয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ম ভঙ্গের জন্য এই শাস্তি দেওয়া হলো। মাঠের দুই আম্পায়ার এলয়িজ শেরিডান ও শাথিরা জাকির জেসি, তৃতীয় আম্পায়ার রোকেয়া সুলতানা এবং চতুর্থ আম্পায়ার চম্পা চাকমা এই অভিযোগ দায়ের করেন। ম্যাচ রেফারি সুপ্রিয়া রানি দাস শাস্তির সিদ্ধান্ত জানান।

    প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, জ্যোতির বিরুদ্ধে আইসিসির আচরণবিধির ধারা ২.২ লংঘনের অভিযোগ উঠেছে। এই ধারা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ম্যাচের সময় ক্রিকেট সরঞ্জাম, পোশাক কিংবা মাঠের সরঞ্জাম বা স্থাপনা অপব্যবহার করলে শাস্তি পেতে হয়।

    ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, সিলেটে পরশু দিন তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে লঙ্কান অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তার হাতে আউট হওয়ার পর জ্যোতি ৯ বলে ১৩ রান করে আউট হন। ম্যাচের পর হতাশা প্রকাশ করে তিনি ব্যাট ছুঁড়ে মারেন।

    এটা জ্যোতির চলমান ক্যারিয়ারে প্রথম কোনো বড় অপরাধ নয়। দোষ স্বীকার করে নিলে শাস্তি অত্যন্ত সামান্যই হয়। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, ধারা ২.২ লংঘনের জন্য সর্বনিম্ন শাস্তি হলো আনুষ্ঠানিক তিরস্কার। আর সবচেয়ে বেশি হলো ম্যাচের শেকড় কমিয়ে দেয়ার মাধ্যমে খেলোয়াড়ের ম্যাচ ফি ৫০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা আর এক বা দুই ডিমেরিট পয়েন্টের সাজা।

    শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজে বাংলাদেশের সফলতা বলতে প্রথম ওয়ানডে জয় রূপান্তরটুকুই। এরপর প্রথমে ওয়ানডে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে হেরে যায় বাংলাদেশ। সেটার পর টি-টোয়েন্টি সিরিজে তারা ৩-০ ব্যবধানে পরাজিত হয়, ফলে তিন ম্যাচ মিলিয়ে সিরিজ জিতে নেয় লঙ্কানরা।

  • ঢাকার অনূর্ধ্ব-১৪ একাডেমি কাপের সেমিফাইনালে এসবিবলি

    ঢাকার অনূর্ধ্ব-১৪ একাডেমি কাপের সেমিফাইনালে এসবিবলি

    বাংলাদেশের ফুটবল বিশ্বে নতুন প্রতিভাদের খোঁজে ‘নতুন প্রতিভার অন্বেষণে’ শ্লোগানে বাংলাদেশ ফুটবল সাপোর্টার্স ফোরামের উদ্যোগে, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সহযোগিতা ও বসুন্ধরা কিংসের পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত হলো বসুন্ধরা কিংস বিএফএসএফ অনূর্ধ্ব-১৪ একাডেমি কাপ ফুটবল। এই আসরে ব্যাপক উত্তেজনা ও প্রতিযোগিতা চলাকালে, খুলনার এসবিবলি ফুটবল একাডেমী দুর্দান্ত পারফরমেন্স করে সেমিফাইনালে পৌঁছেছে।

    সোমবার (৪ মে) ঢাকার কমলাপুরে বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল এসবিবলি ফুটবল একাডেমী খুলনা এবং রাজশাহীর হরিয়ান ফুটবল একাডেমী। এই উত্তেজনাপূর্ণ খেলায় এসবিবলি ফুটবল একাডেমী ৩-১ গোলে জয় লাভ করে। গোল করেছেন ইমরান, শিশির এবং অন্তর। এই দুর্দান্ত পারফরমেন্সের জন্য ম্যাচের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন এসবিবলির ইয়াসিন। ৬ মে বিকেল ৪টায় সেমি-ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।

    এসবিবলি ফুটবল একাডেমীর খেলোয়াড়দের মধ্যে রয়েছেন আকাশ, হামিম, হোসাইন, জামিল, রিফাত, ইয়াসিন, শিশির, অন্তর, সুজন, সাব্বির, অংকন, বাইজিদ, সৌরভ, অনিক, রোহিত, তাজ, ইমরান, আবির, নাফিস, রাফি ও আইয়ান। দলের ম্যানেজার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী, চিফ কোচ শহিদুল ইসলাম এবং সহকারী কোচ নুরুল ইসলাম শিমুল।

  • বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কাকে ছাড়িয়ে টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে অষ্টম স্থান verbl

    বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কাকে ছাড়িয়ে টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে অষ্টম স্থান verbl

    আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সর্বশেষ আপডেটে বাংলাদেশ এখন টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে আঠম স্থানে অবস্থান করছে, শ্রীলঙ্কাকে পেছনে ফেলে ইতি মধ্যে উন্নতি করেছে। এই পরিবর্তনটি এসেছে আইসিসির বার্ষিক র‍্যাঙ্কিং হালনাগাদের পর, যেখানে বাংলাদেশের পয়েন্ট বেড়েছে।

    বর্তমানে, র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে রয়েছে ভারতের দল, যাদের পয়েন্ট ২৭৫, সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছে তারা। এরপর রয়েছে ইংল্যান্ড, তাদের পয়েন্ট ২৬২, এবং তৃতীয় স্থানে অস্ট্রেলিয়া, যার পয়েন্ট ২৫৮।

    আইসিসির এই হালনাগাদে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালের মে মাস থেকে খেলা ম্যাচগুলোকে পুরোপুরি (১০০ শতাংশ) এবং এর আগের দুই বছরের ম্যাচগুলোকে অর্ধেক (৫০ শতাংশ) গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    শীর্ষ সাত দলের অবস্থানে কোনও পরিবর্তন আসেনি। চতুর্থ স্থানে রয়েছে নিউজিল্যান্ড, তাদের পয়েন্ট ২৪৭। পঞ্চম স্থানে আছে দক্ষিণ আফ্রিকা (২৪৪), ষষ্ঠ স্থানে পাকিস্তান (২৪০) এবং সপ্তম স্থানে রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ (২৩৩)।

    অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কা এখন ৬ পয়েন্ট হারিয়ে নবম স্থানে যেখানে অবস্থান করছে। এর ফলে বাংলাদেশ তাদের পেছনে ফেলে ২২৫ পয়েন্ট নিয়ে অষ্টম স্থান অর্জন করেছে। এই হালনাগাদের সময় বাংলাদেশি দলের পয়েন্ট বেড়ে ১ হয়েছে।

    দশম স্থানে রয়েছে আফগানিস্তান, তাদের পয়েন্ট ২২০। অপরিবর্তিত আছে জিম্বাবুয়ে এবং আয়ারল্যান্ড, যথাক্রমে ১১ম ও ১২তম স্থানে।

    বিশেষ চমক হিসেবে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের পয়েন্ট ৬ বৃদ্ধি করে দুই ধাপ এগোতে সক্ষম হয়েছে, এখন তারা ১৩তম। তারা পেছনে ফেলেছে নেদারল্যান্ডস এবং স্কটল্যান্ডকে, যারা যথাক্রমে ১৪ এবং ১৫ নম্বরে অবস্থান করছে।

  • পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থান: সীমান্ত, তিস্তা ও কূটনৈতিক জটিলতা

    পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থান: সীমান্ত, তিস্তা ও কূটনৈতিক জটিলতা

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি), যা দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতাসীন ছিল তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। এই পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের প্রতিবেশী ভারতের বেশ কিছু রাজ্য এখন বিজেপির আওতায় চলে গেছে, যা বাংলাদেশের জন্য নতুন শঙ্কা ও উদ্বেগের কারণ সৃষ্টি করেছে।

    বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে হওয়া নির্বাচন ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়, তাই এর ফলে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর কোনও প্রভাব পড়বে না। তবে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসার আগে থেকেই সেখানে কিছু দলীয় নেতা বাংলাদেশবিরোধী বক্তব্য দিয়ে আসছিলেন। নির্বাচনের পর থেকে বিজেপি ‘অবৈধ বাংলাদেশিদের’ বিতাড়নের বিষয়ক আলোচনাও তুঙ্গে ওঠে এবং আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মন্তব্য করেছেন। তা নিয়ে বাংলাদেশে উদ্বেগ প্রকাশ হয়েছে, বিশেষ করে ভারতের রাজ্যগুলোর শাসকদের পূর্ববর্তী কার্যকলাপকে কেন্দ্র করে। বিভিন্ন বিশ্লেষক ও কূটনীতিকরা সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, এসব বিষয়ের মাধ্যমে ভবিষ্যতে সম্পর্কের উপর প্রভাব পড়তে পারে।

    প্রতিবেশী রাজ্যগুলোর মধ্যে বিজেপির আধিপত্য বিস্তার ব্যাপক, যেখানে ত্রিপুরা, আসামসহ মেঘালয় থাকছে। এসব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা পাকিস্তান ও বাংলাদেশ বিরোধী ভাষণ দিয়ে আসছেন, যা বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের কারণ। ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে তলব করে বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

    তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তিতে নতুন আশার আলো জেগেছে, তবে একই সঙ্গে অনিশ্চয়তা এখনো রয়ে গেছে। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর কেন্দ্র ও পশ্চিমবঙ্গ উভয়েই নতুন চাপ সৃষ্টি হতে পারে এই চুক্তি নিয়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশেষজ্ঞ ওবায়দুল হক বলেছেন, বিজেপি কি সত্যিই তিস্তা চুক্তিতে এগিয়ে আসবে সেই বিষয়টি এখনো স্পষ্ট নয়, তারা বাংলাদেশকে নিছক আশ্বাস দেয়নি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানও উল্লেখ করেছেন, ভারতের নতুন সরকারের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে চুক্তির ভবিষ্যৎ।

    নিরাপত্তা ও অভিবাসন বিষয়েও ব্যাপক পরিবর্তন আসতে পারে। বিজেপির ইশতেহারে সীমান্ত নিরাপত্তা ও অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশসীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়তে পারে এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) ও জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা নতুন করে শুরু হতে পারে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে, কারণ এর মাধ্যমে সীমান্তে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে।

    আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ট্রানজিটের ক্ষেত্রেও কিছু পরিবর্তনের আশা কড়ে উঠেছে, যেখানে কেন্দ্র ও পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে তালমিল বাড়ার ব্যাবস্থা হতে পারে। এতে করে বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর সঙ্গে ভারতের যোগাযোগ ও ব্যবসা-বাণিজ্য আরও সহজতর হবে।

    বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভারতের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনের ফলাফল বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে প্রভাব ফেলবে না। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, ভারতে নির্বাচন তার নিজস্ব বিষয়, আমাদের লক্ষ্য করব স্বার্থে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং সমাধান খোঁজা।

    বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক নেতা-মন্ত্রীরা নানা ধরনের বক্তব্য দিতে পারে, তবে বাস্তবতা আলাদা। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর নাম এন্ট্রি হওয়া পরিস্থিতি নির্ভর করবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের উপর। তিস্তা চুক্তি প্রসঙ্গে তারা বলছেন, বিজেপি কখনোই স্পষ্ট আশ্বাস দেয়নি, তাই এত বেশি আশা করা ঠিক হবে না। তবে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসার ফলে কিছু অগ্রগতির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তবে পুশব্যাকের ঝুঁকিও রয়েছে।

    পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা বদলের ফলে সম্ভাব্য পুশইন পরিস্থিতি মোকাবেলায় বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে। তিনি সতর্ক করেছেন, হলে কোনও অপ্রয়োজনীয় পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সরকার উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে।

    ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো বিশ্লেষণ করছে যে, পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের নির্বাচনে বিজেপির জয়ের ফলে কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির উপর আরও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে সীমান্ত, নাগরিকত্ব ও নিরাপত্তা হয়তো আরও কঠোর হবে। তবে এতদিনের মতো, এসব পরিবর্তন বাংলাদেশের জন্য কিছু স্পর্শকাতর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে, যেখানে অভ্যন্তরীন রাজনীতি ও সীমান্ত পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

  • মমতার পদত্যাগের অস্বীকৃতি ও নির্বাচনী কারচুপির অভিযোগে সংকট সৃষ্টি

    মমতার পদত্যাগের অস্বীকৃতি ও নির্বাচনী কারচুপির অভিযোগে সংকট সৃষ্টি

    পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনে বিজেপির কাছে পরাজিত হলেও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার পদ থেকে পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে চলেছেন। মঙ্গলবার কলকাতায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি নির্বাচনী ফলাফলে কারচুপির অভিযোগ তুলে এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন। দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, মমতার এই অটল অবস্থান রাজ্যে এক বিরল সাংবিধানিক সংকটের সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতি সমাধানে দায়ভার সম্ভবত রাজ্যপাল আর এন রবির ওপর এসে পড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞেরা ধারণা করছেন। সোমবার ফলাফলে পরাজয়ের শঙ্কা প্রকাশের পর, জরুরি এক ভিডিও বার্তায় পশ্চিমবঙ্গের এই মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, তিনি কোনোভাবেই হারেননি; বরং বিজেপি ‘লুটপাটের’ মাধ্যমে ফল ছিনিয়ে নিয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আমি হারিনি, তাই রাজভবনে যাব না, আমার পদত্যাগপত্র দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। এখন কি হবে? এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যে可能তঃ রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হতে পারে। তবে ভারতের নির্বাচন কমিশনের একজন সূত্রের মতে, যদি বিধানসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই জয়ী দল সরকার গঠন করে রাজ্যপাল তাদের আামন্ত্রণ করলে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার মেয়াদ আগামী ৭ মে শেষ হচ্ছে, ফলে বিজেপির হাতে মাত্র দুই দিন সময় রয়েছে সরকার গঠনের জন্য। অভিযোগকারীরা বলছেন, ভবানীপুর আসনে নিজের ঘনিষ্ঠ ও বর্তমানে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হওয়ার পর তিনি অভিযোগ করেন, এই নির্বাচন চুরি হয়েছে অন্তত ১০০টি আসনে। তিনি একে ‘লুট, লুট এবং লুট’ বলে অভিহিত করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে মমতা কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশনের ব্যাপক যোগসাজশের অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন ‘নোংরা খেলোয়াড়ি’ খেলছে বলে মানছেন তিনি। কেন্দ্রীয় সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে তারা মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা, বিহার এবং এখন বাংলায় ভোট চুরি করেছে। গণতন্ত্রের সঙ্কট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ৭১ বছরের এই নেত্রী বলেন, বিচার বিভাগ যখন সক্রিয় থাকে না, নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট হয় এবং সরকার একদলীয় শাসন চায়, তখন এটি দেশের জন্য অশুভ বার্তা দেয়। তিনি জানান, একটি ভোটকেন্দ্রে তাকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়েছে; পেটে ও পিঠে লাথি মারার মতো ঘটনা ঘটেছে। সিসিটিভি সরিয়ে দেওয়া হয় এবং তাকে গণনা কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়। একজন নারীর জন্য এর চেয়ে অসভ্য আচরণ অন্য কিছু হতে পারে না। কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যদি কেন্দ্রীয় বাহিনী এমন আচরণ করে, তাহলে তার আর কিছু বলার থাকছে না। আগে থেকে বিজেপির নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা দেখে তিনি বলেছেন, পরবর্তী কৌশল কি হতে পারে সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কিছু বলেননি, তবে ‘ইনডিয়া’ জোটের নেতাদের তার সঙ্গে যোগাযোগ করে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। তার পাশাপাশি তিনি আঘাত ও কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনাগুলোর তদন্তের জন্য পাঁচজন সংসদ সদস্যের সমন্বয়ে এক কমিটি গঠনের ঘোষণা দেন। রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূলের মূল বিরোধী হলেও, নির্বাচনের পরপরই কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী মমতার পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। সামাজিক মাধ্যম এক্সে তিনি বিজেপিকে ‘ভোট চোর’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, কংগ্রেস ও অন্যান্য দলের কিছু নেতা এবং সাধারণ মানুষ তৃণমূলের হারে খুশি হতে পারেন, কিন্তু বুঝতে হবে, আসাম ও বাংলায় গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি যেন না ভেঙে যায়। তিনি বলেন, বিজেপি এই দুই রাজ্যে ভোট চুরির মাধ্যমে ভারতের গণতন্ত্র ধ্বংসের জন্য বড় একটি পদক্ষেপ নিতে চেয়েছে। এর আগেও, সোমবার, রাহুল গান্ধী ‘নির্বাচন কমিশনের সহায়তায়’ বিজেপির ভোট চুরি করেছে বলে দাবি জানান, আর এই একই কৌশল তারা অন্যান্য রাজ্যেও প্রয়োগ করেছে বলে তিনি পর্যবেক্ষণ করেন। সূত্র: এনডিটিভি।