Blog

  • বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কৃষিজ্ঞান ও গ্রামীণ উন্নয়নের গুরুত্ব

    বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কৃষিজ্ঞান ও গ্রামীণ উন্নয়নের গুরুত্ব

    খুলনা জেলা প্রশাসক মিজ হুরে জান্নাত বলেছেন, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কৃষি দর্শন ছিল অত্যন্ত বিস্তৃত ও গভীর। তিনি জমিতে আধুনিক কৃষি পদ্ধতি প্রয়োগ করে উৎপাদন বাড়ানোর উপায় খুঁজে বের করতে মানবিক ও বাস্তবমুখী চিন্তা করতেন। রবীন্দ্রনাথের কৃষিবেগের মূল ভিত্তি ছিল প্রকৃতি, মানুষ এবং অর্থনীতির সংযোগ, যা সমন্বিত উন্নয়নের দৃষ্টিভঙ্গি প্রচার করতো। তিনি বললেন, রবীন্দ্রনাথ কেবল একজন সাহিত্যিকই নন, তিনি কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নের একজন পথপ্রদর্শক। তাঁর মতে, কৃষিকে কেবল জীবিকার মাধ্যম হিসেবে দেখতে না হয়ে, এটি সামাজিক উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন ও মানবকল্যाणের মূল ভিত্তি। তিনি মনে করতেন, একজন দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য কৃষকরা যত উন্নত ও স্বাবলম্বী হবে, ততই দেশের উন্নতি স্থারী হবে। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, বৈজ্ঞানিক চাষাবাদ ও কৃষি শিক্ষার প্রসারে তিনি গুরুত্ব দিতেন। তাঁর ভাবনা আজও আমাদের কৃষিনির্ভর অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তার পথে দিগন্ত খুলে দিচ্ছে।

    তিনি রোববার বিকেলে রূপসা উপজেলার পিঠাভোগ রবীন্দ্র স্মৃতি সংগ্রহশালায় তিন দিনব্যাপী রবীন্দ্র জয়ন্তী উৎসবের সমাপ্তি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা প্রদানকালে এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসক আরও বলেন, বর্তমান জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্য নিরাপত্তা ও জনসংখ্যার বৃদ্ধির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রবীন্দ্রনাথের কৃষি দর্শন বিশেষ করে প্রাসঙ্গিক। টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে কৃষকের জ্ঞান, প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণের সমন্বয় করতে হবে। একইসঙ্গে কৃষিকে কেবল উৎপাদনশীল খাত হিসেবে নয়, বরং একটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। কৃষকের মর্যাদা, জীবনমান উন্নয়ন এবং কৃষিকে লাভজনক খাতে রূপান্তর করাই এখন আমাদের মূল লক্ষ্য। রবীন্দ্রনাথের চিন্তা ও দর্শন আমাদের এগিয়ে যাওয়ার পথে অনুপ্রেরণা জোগায়।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে থাকেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মিজ কানিজ ফাতেমা লিজা। সরেজমিনে উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের খুলনা অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর ড. মোঃ আনিস আর রেজা। তিনি জানান, রবীন্দ্রনাথ মাত্র ১৯ বছর বয়সে পারিবারিক জমিদারি দেখাশোনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তখন থেকেই তিনি প্রচলিত জমিদারির মনোভাব থেকে সরে এসে সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিজেদের তুলে ধরে নতুন চিন্তার আনাগোনা শুরু করেন। কৃষক, কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীন উন্নয়নের ক্ষেত্রে তাঁর গভীর মনোভাব স্পষ্ট। তিনি জমিদারিকে কেবল ভোগের মাধ্যম নয়, বরং কৃষি শিক্ষার ও গবেষণার ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করতেন। তাঁর লেখা ও কার্যক্রমে স্পষ্ট যে, কৃষিখাতে তাঁর গভীর আগ্রহ ছিল।

    রূপসা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা রিকতার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ ইফতেখারুল ইসলাম শামীম। অতিথিবৃন্দের মধ্যে রয়েছেন রূপসা থানার অফিসার ইনচার্জ আবদুর রাজ্জাক মীর, খুলনা জেলা বিএনপি’র যুগ্ম-আহবায়ক জিএম কামরুজ্জামান টুক্র, রবীন্দ্রনাথের ১৬তম বংশধর মনির লাল ক্রশারীর সহধর্মিণী ছায়া রানী ক্রশারী, ঘাটভোগ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলাম নন্দু ও পিঠাভোগ ডিজিসি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কৃষ্ণপদ রায়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা। এ অনুষ্ঠানের পরিচালনায় থাকেন রূপসা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফারহানা ইয়াসমিন, একাডেমিক সুপারভাইজার নিত্যানন্দ মন্ডল এবং রূপসা প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি সাংবাদিক কৃষ্ণ গোপাল সেন।

  • চিকিৎসা নিতে গিয়ে গৃহবধূ সুমি মৃত্যুর কোলে ফিরে এলেন

    চিকিৎসা নিতে গিয়ে গৃহবধূ সুমি মৃত্যুর কোলে ফিরে এলেন

    নগরীর আদ্-দ্বীন আকিজ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ঘাটাঘাটি ও অসচেতনতার কারণে একজন গৃহবধূ সুমির জীবন বিপন্ন হয়ে গেছে। রোববার সন্ধ্যা সাতটার দিকে এই ঘটনাটি ঘটে, যা এলাকায় গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে।

    প্রতিবেশীরা বলছেন, ভুক্তভোগী সুমি বেগম (৩৪), রূপসা উপজেলার নৈহাটী ইউনিয়নের বাগমারা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। ৭ মে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন, উপসর্গের জন্য। প্রথম দিনই তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়, যেখানে নবজাতক শিশুটি জন্ম নিলেও কিছু সময় পরে মারা যায়। এরপর তিনি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন।

    তবে শহর থেকে ফিরে অসুস্থতা আরও বেড়ে গেলে গত রোববার ভোরে তাকে পুনরায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে তার শরীরে আবারও অস্ত্রোপচার পরিচালিত হয়। তবে পারিবারের লোকজনের অভিযোগ, সফল অস্ত্রোপচার হয়নি। ওই সময় তার শরীরে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয় এবং চিকিৎসকদের উপযুক্ত মনোযোগ ও সেবা না পাওয়ায় তার অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়।

    সুমি বেগমের শারীরিক অবনতি হলে তাকে আইসিইউয়ে স্থানান্তর করা হয়। সন্ধ্যার দিকে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে যান এবং জানতে পারেন, সুমি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিস্তারিত জানানো না হওয়ার কারণে পরিবারের পাশাপাশি স্থানীয় লোকে খুবই ক্ষুব্ধ ও হতবাক। রাত সাড়ে নয়টার দিকে তার মরদেহ শ্বশুরবাড়িতে আনা হয়।

    সুমি বেগমের স্বামী মোঃ ইসমাইল হোসেন বলেন, তার স্ত্রীকে ৮ মে অস্ত্রোপচার করানো হয়। প্রথমে সুস্থ থাকায় পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে নিয়ে আসেন। কিন্তু দুই দিন পরে তার পেটে অস্বস্তি ও যন্ত্রণা বেড়ে গেলে, সর্বশেষ রোববার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী আবারও অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। অভিযোগ রয়েছে, অপারেশনের সময় পেটের ভেতরের নাড়ি কেটে ফেলার কারণে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয় এবং এ কারণেই তার মৃত্যু ঘটে।

    পরিবারের সূত্রে জানা যায়, অপারেশনের ধকল ও চিকিৎসার বেশ কিছু দুর্বলতার কারণে সুমি বেগমের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়ে। এ ব্যাপারে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এখনও স্পষ্ট উত্তর দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এলাকাবাসী ও পরিবার এই ঘটনায় উদ্বিগ্ন ও ক্ষুব্ধ থাকলেও, নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

  • নগরে ট্রিপল মার্ডার মামলায় ৬ জন গ্রেফতার, লুটের মালামাল এখনও উদ্ধার হয়নি

    নগরে ট্রিপল মার্ডার মামলায় ৬ জন গ্রেফতার, লুটের মালামাল এখনও উদ্ধার হয়নি

    নগরীর লবণচরা থানাধীন এলাকায় একই পরিবারের তিনজনের হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত থাকলেও লুটের মালামাল এখনও উদ্ধার হয়নি। সাতজন আসামির মধ্যে ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে; তবে হত্যাকাণ্ডের সময় লুণ্ঠিত কাগজপত্র, স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকা সহ অন্যান্য মালামাল এখনো উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। এ পরিস্থিতির মধ্যেই, অপর একজন আসামি ধরা পড়লে মামলার চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের কথা জানিয়েছেন পুলিশের একটি সূত্র।

    প্রায় পাঁচ মাস আগে, ২০২৩ সালের ১৬ নভেম্বর, নগরীর লবণচরা এলাকায় নিজ বাড়িতে একই পরিবারের তিনজন খুন হয়েছিলেন। তারা নানী মহিতুন্নেছা (৫৩), নাতি মুস্তাকিম (৮) এবং নাতনি ফাতিহা (৬)। ওই দিন, বাড়ির মুরগির খামার থেকে নিহতদের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত দুই শিশুর বাবা, খুলনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজে কর্মরত সেফার আহমেদ, অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

    তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে শামীম শেখকে গ্রেফতার করে। স্বীকারোক্তি জ্ঞাপনের জন্য আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন শামীম, যা মামাটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। খবরের পাশাপাশি জানা যায়, শামীম শেখ বিষয়টি পুরো পরিকল্পনার নেতৃত্বে ছিলেন।

    পুলিশের সূত্র বলে, শামীম শেখের সাথে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে জমি-জমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের জের ধরে, শামীম শেখ তাদের বাড়িতে সন্ত্রাসী পাঠিয়ে জমি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থ লুট করে। এ ঘটনায়, শামীমের বিরুদ্ধে বেশ কিছু আগে অস্ত্র ও সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মামলা রয়েছে। তিনি বিদেশে পলাতক থাকাকালে, চলতি বছরের প্রথম দিকে দেশে ফিরে হত্যাকাণ্ডের পরে আবারও বিদেশে পালানোর চেষ্টা করেন, কিন্ত চৌকস পুলিশ তাকে ধরতে সক্ষম হয়।

    অভিযোগে জানা যায়, শামীমের মূল গৃহীত কর্মকাণ্ডের মধ্যে রয়েছে, জমির দলিল জালিয়াতি করে সম্পত্তি নিজের নামে নেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা। তিনি অত্যাধুনিক অস্ত্র ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য পরিচিত। নিহত সেফার আহমেদ জানান, জমির দলিল জাল করে নিজের নামে নেয়ার আলাপের জেরেই তার পরিবারের ওপর অমানুষিক আঘাত আসে। তিনি আরও বলেন, নিহতদের কাগজপত্র, নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী লুটের ঘটনায় শামীমের হাত ছিল। তবে, পুলিশের মাধ্যমে এখনো লুটের মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

    খুলনা চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবি রুহুল আমিন বলেন, এই মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। এই মামলায় ছয়জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দুজন আসামি—শামীম ও সালমান—অপরাধ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, অপর একজন আসামিকে সনাক্ত করে খুব শিগগিরই গ্রেফতার করা হবে। তবে, হত্যাকাণ্ডের সময় লুট হওয়া মালামাল ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র এখনো উদ্ধার সম্ভব হয়নি, তবে উদ্ধার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

  • কৃষকদের কঠোর পরিশ্রমের উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত

    কৃষকদের কঠোর পরিশ্রমের উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত

    খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি’র তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন, বিএনপি সবসময় দেশের মানুষের ভোটাধিকার, গণতন্ত্র এবং মানবিক মূল্যবোধের প্রতিষ্ঠায় রাজনীতি করে আসছে। দেশের উন্নয়ন শুধুমাত্র বড় বড় প্রকল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; আসল উন্নয়ন তখনই সম্ভব যখন গ্রামের কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মানুষ উন্নয়নের সুফল ভোগ করতে পারে। বাংলাদেশে অর্থনৈতিক ভিত্তির মূল শক্তি হলো কৃষি, যা তার প্রমাণ হিসেবে তিনি বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা শুধুমাত্র কৃষকদের ঘাম ও শ্রমের ওপর নির্ভর করে। তাই কৃষকদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং উন্নত বীজ, সার ও কৃষি উপকরণ সহজলভ্য করার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উল্লেখ করেন।

    গতকাল রোববার তিনি তেরখাদা উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বিএনপি সবসময় কৃষকবান্ধব রাজনীতিতে বিশ্বাস করে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে কাজ করে চলেছে। পাশাপাশি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন ছাড়া কোনো জাতি এগিয়ে যেতে পারে না। শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, সেই সঙ্গে গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবাকে আধুনিক ও সহজলভ্য করে তুলতে হবে। একই সঙ্গে, তরুণ সমাজকে মাদক ও সন্ত্রাস থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রসার প্রয়োজন।

    এছাড়া, তিনি উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অভ্যন্তরীণ বোরো ধান ও চাল সংগ্রহের কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এর পরে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দকৃত অর্থে প্রাকৃতিক দুর্যোগে আক্রান্ত দুস্থ ও অস্বচ্ছল পরিবারের মাঝে টিন ও নগদ অর্থ বিতরণ করেন। পাশাপাশি, উপজেলা পরিষদের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য স্যানিটারি মেশিন, বেঞ্চ, ক্রীড়া সামগ্রী, পিপি মেশিন, ডায়াবেটিক মেশিন, ওজনের যন্ত্রসহ বিভিন্ন কৃষি ও স্বাস্থ্যসামগ্রী বিতরণের উদ্বোধন করেন। এর পাশাপাশি, নবনির্মিত ছাগলাদাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের উদ্বোধন ও লস্করপুর সড়কের শুভ উদ্বোধন করেন।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তেরোখাদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিস তাহমিনা সুলতানা নীলা। উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম নুরুন্নবী, তেরোখাদা থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ শহিদুল্লাহ, কৃষি কর্মকর্তা শিউলি মজুমদার, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হানিফ শিকদার, জেলা বিএনপি নেতা জুলফিকার আলী জুলু, এনামুল হক সজল, উপজেলাবাহিনীর নেতা চৌধুরী কাওসার আলী, সাবেক আহ্বায়ক চৌধুরী ফখরুল ইসলাম বুলু, সাবেক সদস্য সচিব এফ এম হাবিবুর রহমান, জেলা কৃষক দলের নেতারা, বিএনপি নেতা রবিউল হোসেন, সরদার আব্দুল মান্নান, ইকরাম হোসেন জমাদ্দার, মোল্লা মাহবুবুর রহমান, সাজ্জাদ হোসেন নান্টা, শরিফ নাইমুল হক, মোল্লা হুমায়ূন কবির, মিল্টন হোসেন মুন্সী, বিল্লাল হোসেন, শেখ আজিজুর রহমান আজিবার, আবুল হোসেন বাবু মোল্লা, যুবদল নেতা চৌধুরী আমিনুল ইসলাম মিলু, গোলাম মোস্তফা ভুট্টো, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা সোহাগ মুন্সী, উপজেলা কৃষক দলের নেতা রাজু চৌধুরী, সদস্য সচিব সাবু মোল্লা, ছাত্রদল নেতা সাব্বির আহমেদ টগর, সাবেক ছাত্রদল নেতা আমিনুল ইসলাম আমিন এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

  • প্রাইজবন্ডের ১২৩তম ড্র: বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ

    প্রাইজবন্ডের ১২৩তম ড্র: বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ

    ১০০ টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ডের ১২৩তম ‘ড্র’ সম্পন্ন হয় বুধবার (৩০ এপ্রিল)। এই ড্র৩ অংকের সিরিজের জন্য মোট আটটি পুরস্কার ঘোষণা করা হয়, যার প্রথম পুরস্কার ছিল ছয় লাখ টাকার জন্য, বিজয়ী সিরিজের নম্বর হলো ০০০১০৩৫। দ্বিতীয় পুরস্কার পাওয়া হয় ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকার জন্য, এবং নম্বরটি ০০৪৭৭৪৮। তৃতীয় পুরস্কার হিসেবে চূড়ান্ত হয় প্রত্যেক ৫০ হাজার টাকার দুটি নম্বর—০৫৩৮২৮৯ এবং ০৬৭৫৩৮২। পাশাপাশি চতুর্থ পুরস্কার হিসেবে চারটি নম্বরের জন্য ৫০ হাজার টাকার ঘোষণা হয়েছে, এগুলো হলো ০৪০০৪৫১, ০৫৬৭৬৪৪, ০৪০০৪৫১ ও ০৫৬৭৬৪৪।

    এ ড্র অনুষ্ঠিত হয় ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার শরাফ উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে, ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার অফিসের সম্মেলন কক্ষে। এসময় উপস্থিত ছিলেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

    প্রচলনযোগ্য ১০০ টাকার মোট ৮৪টি সিরিজের মধ্যে ৪৬টি সিরিজ এবার পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হয়। এই ড্রটি একক সাধারণ পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়, যেখানে প্রত্যেক সিরিজের জন্য একই নম্বর নির্ধারণ করা হয়। নির্বাচিত সিরিজের তালিকা যেমন কক, কখ, কগ, কঘ, কঙ, কচ, কছ, কজ, কঝ, কঞ, কট, কঠ, কড, কঢ, কথ, কদ, কন, কপ, কফ, কব, কম, কল, কশ, কষ, কস, কহ, খক, খখ, খগ, খঘ, খঙ, খচ, খছ, খজ, খঝ, খঞ, খট, খঠ, খড, খঢ, খথ, খদ, খন, খপ, খফ, খব, খম, খল, খশ, খষ, খস, খহ, গক, গখ, গগ, গঘ, গঙ, গচ, গছ, গজ, গঝ, গঞ, গট, গথ, গড, গঢ, গথ, গদ, গন, গফ, গব, গম, গল, গশ, গষ, গপ, গস, গহ, ঘক, ঘখ, ঘগ, ঘঘ, ঘঙ এবং ঘচ—এই সব সিরিজ এই ড্র’য়ে স্থান পেয়েছে।

    তাছাড়া, পঞ্চম পুরস্কার হিসেবে ১০ হাজার টাকার পুরস্কার জিতেছেন মোট ৪০ জন বিজয়ী, যাদের নম্বরগুলো হলো ০০২১৭৪৯, ০২১৭৪১৯, ০৪৬১৪৭২, ০৫৮৮৯৬৬, ০৭৪৯৭৪০, ০০২২১৮১, ০২৪৬০৪৫, ০৪৬২০৫৬, ০৫৯৬৩৪৬, ০৭৫৯৯০৮, ০০৫৬৩৭৮, ০২৯৬৪০২, ০৪৭৮০১৫, ০৬০০৪৪০, ০৭৭২৭৭৩, ০০৯২৩৫৬, ০৩১১১৩০, ০৪৮০৫৬৭, ০৬০৭৩৪৯, ০৮১৩৬৫৯, ০১৪৪৫৬৭, ০৩৫৬৯৪২, ০৫১২০২৪, ০৬৩৯৩৬৭, ০৮৪৮০৪৬, ০১৫৫৩৯৮, ০৩৯৩২৭৭, ০৫৫১২২১, ০৬৪২০০২, ০৮৪৯৬১৪, ০১৫৫৯৩৪, ০৪১৩৫০১, ০৫৬৪৭৬০, ০৬৫۰১১৯, ০৯২২৫৯৭, ০১৭৫৭৯২, ০৪৫২৪৪১, ০৫৭৩৮৬৫, ০৬৮৮৭৭৩ এবং ০৯৪৭৬৬৫। বিজয়ীদের মধ্যে এই নম্বরগুলো উপস্থিত থাকায় তারা তাদের ভাগ্য পরীক্ষা করে পুরস্কার পেলেন।

  • এপ্রিলের ২৯ দিনে প্রবাসী রেমিট্যান্স ছাড়াল ৩ বিলিয়ন ডলার

    এপ্রিলের ২৯ দিনে প্রবাসী রেমিট্যান্স ছাড়াল ৩ বিলিয়ন ডলার

    চলতি এপ্রিলে বাংলাদেশে প্রবাসীরা মোট তিন বিলিয়ন বা ৩০০ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। এ মাসের ২৯ দিনে দেশের মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩০০ কোটি ২০ লাখ ডলার, যা দৈনিক গড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ কোটি ৩৫ লাখ ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    আরিফ হোসেন খান জানান, এপ্রিলে প্রথম ২৯ দিনে প্রবাসীরা মোট ৩০০ কোটি ২০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যেখানে শুধু ২৯ এপ্রিলেই এসেছে ৯৪ কোটি ডলার। গত বছর একই সময়ে (এপ্রিল, ২০২৫) দেশে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ২৬০ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

    এর আগে, মার্চ মাসে দেশের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছিল, যখন এই মাসে ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন বা ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স আসে।

    এছাড়াও, বছরের শুরুতেই জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশি প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স তিন বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছিল। জানুয়ারিতে প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার এবং ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার।

  • এপ্রিলে রেমিট্যান্স এসেছে ৩১২ কোটি ডলার

    এপ্রিলে রেমিট্যান্স এসেছে ৩১২ কোটি ডলার

    সদ্য বিদায়ী এপ্রিল মাসে দেশে এসেছে মোট ৩১২ কোটি ৭০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। প্রতিদিন গড়ে এই রেমিট্যান্স পাঠের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০ কোটি ৪২ লাখ ডলারের বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

  • বাংলাদেশে সোনার দাম কমলো, ভরি কত?

    বাংলাদেশে সোনার দাম কমলো, ভরি কত?

    বাংলাদেশের বাজারে সোনার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। अब থেকে প্রতি ভরি সোনার দাম সর্বোচ্চ ২ হাজার ২৫৮ টাকা কমানো হয়েছে। এর ফলে ভালো মানের (২২ ক্যারেট) সোনার ভরি দাম কমে দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ৪০ হাজার টাকায়। গত সোমবার (৪ মে) এ দাম ছিল দুই লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা। মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে বাজুস একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়, এবং নতুন দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দাম কমানোর ফলে দেশের বাজারে সোনার দামও হ্রাস পেয়েছে। বেঁধে দেওয়া নতুন দাম অনুসারে, সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের সোনার এক ভরি দাম নির্ধারণ করা হয় দুই লাখ ৪০ হাজার ৩৩৭ টাকা। এছাড়াও, ২১ ক্যারেটের সোনার প্রতি ভরি দাম নির্ধারিত হয়েছে দুই লাখ ২৯ হাজার ৪৩১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৯৬ হাজার ৬৫৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার জন্য একভরি দাম ঠিক করা হয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার ১৪৭ টাকা। তবে, অন্যান্য ধরণের সোনার মূল্য বাড়লেও রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম এখন ৫ হাজার ৪৮২ টাকা, ২১ ক্যারেটের জন্য ৫ হাজার ১৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ৪ হাজার ৪৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম নির্ধারিত হয় ৩ হাজার ৩৮৩ টাকায়। বিশ্ব বাজারে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাসেলের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সোনার দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়। তবে পরবর্তীতে মূল্য সামঞ্জস্যের মাধ্যমে দাম ওঠানামা করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারের তথ্যমতে, এখন বিশ্বের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সূত্র গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি অনুসারে, প্রতি আউন্স সোনার দাম কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৫০০ ডলারে। এর আগের বছরের জানুয়ারি মাসে এটি ছিল ৫ হাজার ২০০ ডলার, আর জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে তা চলে গিয়েছিল ৫ হাজার ৫৫০ ডলারে।

  • সোনার দাম আবার বৃদ্ধি পেলো

    সোনার দাম আবার বৃদ্ধি পেলো

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) টানা দ্বিতীয় দফায় সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। নতুন মূল্য অনুযায়ী, প্রতি ভরি সোনার দাম সর্বোচ্চ ২ হাজার ২১৬ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে, উচ্চ মানের (২২ ক্যারেট) সোনার ভরি আজ আবার বেড়ে ২ লাখ ৪৪ হাজার টাকায় পৌঁছে গেল, যা গতকাল ছিল ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকায়।

    বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে বাজুস একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এ তথ্য জানায় এবং নতুন এই দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার দাম বৃদ্ধির কারণে স্থানীয় বাজারে এই দামের সমন্বয় সাধন করা হয়েছে।

    নতুন দাম অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা। এর পাশাপাশি, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম হয়েছে ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ২ লাখ ২১৩ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার জন্য নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৩ টাকা।

    এছাড়াও, রুপার দামের ক্ষেত্রেও বৃদ্ধি করা হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ৫ হাজার ৭৭৪ টাকা, ২১ ক্যারেটের জন্য ৫ হাজার ৫৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ৪ হাজার ৭২৪ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির জন্য ৩ হাজার ৫৫৮ টাকা।

    বিশ্ববাজারে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সোনার দাম ঊর্ধ্বমুখী চলেছে। এরপর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণ ও রুপার দামের ওঠানামা দেখা গেছে। গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৭০০ ডলার পৌঁছেছে। গত জানুয়ারির শেষের দিকে আউন্সপ্রতি দাম ছিল ৫ হাজার ২০০ ডলার, এবং ২৯ জানুয়ারি এটিเพิ่ม হয়ে ৫ হাজার ৫৫০ ডলার হয়েছিল।

    আগের মাসের শেষ দিকে বিশ্ববাজারে সোনার মূল্য দ্রুত বৃদ্ধি পায়, যার কারণে দেশের বাজারে মূল্য রেকর্ড পরিমাণ বাড়ে। ২৯ জানুয়ারি সকালে বাজুস এক পর্যায়ে ভরিপ্রতি সোনার দাম ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়িয়ে দেয়, ফলে উচ্চ মানের এক ভরি সোনার দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি। এটি একসময় অপ্রত্যাশিতভাবে সবচেয়ে বড় বৃদ্ধি ছিল।

  • গোষ্ঠীর অপচেষ্টা সমাজকে অস্থিতিশীল করতে চায়: মির্জা ফখরুল

    গোষ্ঠীর অপচেষ্টা সমাজকে অস্থিতিশীল করতে চায়: মির্জা ফখরুল

    স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশে একটি হতাশাগ্রস্ত গোষ্ঠী রয়েছে, যারা সারাক্ষণ নিজেকে হতাশাগ্রস্ত মনে করে এবং এই সমাজকে আবার অস্থির ও বিশৃঙ্খল করে তুলতে চায়। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তিনি কেউ কোন বিশেষ দল বা ব্যক্তির কথা বলতে চান না, তবে তাঁর দৃষ্টি সমাজের অপক্ষোচারকারি এই গোষ্ঠীর উপর। মন্ত্রী বলেছিলেন, আমাদের রাজনীতি এখন অনেকটাই অপসংস্কৃতির ছুঁয়া লেগে গেছে, যা সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন হওয়া উচিত। বরাবরই মানুষ পরিবর্তনের জন্য সংগ্রাম করে এসেছে, প্রাণ দিয়েছে, চেষ্টা করেছে নতুন কিছু আনার। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, সেই পরিবর্তন এখনও আসেনি।

    শুক্রবার (৮ মে) দুপুরে নওগাঁর আত্রাইয়ের পতিসরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এইসব কথা বলেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের মূল পরিচয় ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত। আমরা বাংলাদেশের নাগরিক, এটাই আমাদের প্রথম পরিচয়। এই দেশের জন্য আমরা নয় মাস যুদ্ধ করেছি, লড়াই করে স্বাধীনতা পেয়েছি। একইভাবে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে দীর্ঘ সংগ্রাম করেছি, যা সহজে আসেনি। তিনি বলেন, জুলাই মাসে আমাদের তরুণ-যুবা ও সাধারণ মানুষের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের ফলেই এই পরিবর্তন এসেছে, নতুন সরকারের নির্বাচন হয়েছে এবং এখন মানুষ নতুন আশা নিয়ে আঙুল তুলেছেন। মোদি-অশুভ শক্তির অপচেষ্টা অব্যাহত থাকলেও, এই যুদ্ধে যারা ফ্যাসিস্ট শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, তারা এই দেশের মুক্তি ও স্বাধিকার প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে। অর্থনীতি ও প্রশাসনকে ধ্বংসের ষড়যন্ত্রও রুখে দিয়ে আজকের এই অবস্থানে এসে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, অনেকেই এই পরিবর্তনকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টায় লিপ্ত, ছোটোখাটো ইস্যু নিয়ে গোলযোগ সৃষ্টি করতে চাইছে, কিন্তু আমরা চাই না দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিনষ্ট হোক।

    বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্যে উল্লেখ করেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শুধু সাহিত্য ও শিল্পের না, বরং জনসেবায়ও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তিনি কৃষকদের দুঃখ-দুর্দশা দেখে ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, আধুনিক কৃষি পদ্ধতি চালু করেছিলেন। রবীন্দ্রনাথের জীবন, কর্ম ও তাঁর কবিতা সবই বিশ্বমানবতার বার্তা দেয়। ‘গীতাঞ্জলি’ রচনা করে তিনি বিশ্বজুড়ে সাড়া ফেলেছিলেন। তিনি আরও বলেন, রবীন্দ্রনাথ বিশ্বমানবতার কবি, তাঁর রচনাশৈলী, জীবন ও কর্মের মধ্যে মানবতা ও মমতার স্পর্শ লুকানো। এই মহান কবির জীবন ও রচনাকে অবগাহন করলে বোঝা যায়, তিনি শুধু সাহিত্যিক হিসেবে নয়, একজন আধুনিক মননশীল মানবতাবাদী নেতা।

    আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশিদ। সভাপতিত্ব করেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। আরও উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, বিভিন্ন সংসদ সদস্য, সরকারি কর্মকর্তা, কূটনীতিকসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষ। ঠাকুরের স্মরণে এদিন বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আবৃত্তি, রবীন্দ্রসংগীত ও নৃত্য পরিবেশিত হয়। পুরো পতিসর জুড়ে রবীন্দ্রনাথের স্মৃতি ও তার কর্মগর্বে মুখর হয়ে ওঠে, হাজারো দর্শনার্থী ও রবীন্দ্রপ্রেমীরা দিনভর এই উৎসবে অংশগ্রহণ করে।