Blog

  • এনসিপি ঘোষণা: প্রাথমিকভাবে ১০০ প্রার্থী — ৫০ উপজেলা চেয়ারম্যান, ৫০ পৌর মেয়র

    এনসিপি ঘোষণা: প্রাথমিকভাবে ১০০ প্রার্থী — ৫০ উপজেলা চেয়ারম্যান, ৫০ পৌর মেয়র

    আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রাথমিকভাবে ১০০টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। আজ রোববার (১০ মে) বিকেলে দলটির অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি’র মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এই প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন।

    সারজিস আলম জানান, ঘোষণা করা ১০০ জনের মধ্যে ৫০ জন উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এবং ৫০ জন পৌরসভা মেয়র প্রার্থী রয়েছেন। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য দলকে হাজারের বেশি আবেদন পৌঁছেছিল। সেখান থেকে যাচাই-বাছাই করে প্রাথমিকভাবে আজ ১০০ জনের নাম ঘোষণা করা হল।

    তিনি আরও বলেন, ‘‘আমরা আশা করছি ঈদের আগেই, এ মাসের ২০ তারিখে দ্বিতীয় ধাপে আরও ১০০ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করতে পারব। নাম ঘোষণা করার এই প্রক্রিয়া ধারাবাহিকভাবে চলবে।’’

    নতুন প্রার্থীদের বিষয়ে সারজিস আলম উল্লেখ করেন, এনসিপি যে ধরনের নেতাকর্মী এবং জনকে পুরস্কৃত করতে চায় তাদের সুযোগ দেওয়া হবে—এতে যারা বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন, নেতৃত্ব দিচ্ছেন কিংবা অন্য কোনো দলের সদস্য হলেও যাঁরা গ্রহণযোগ্য, দুর্নীতিতে জড়িত নয়, মানুষের ওপর নির্যাতন বা অন্য কোনো যোগসাজশে জড়িত ছিলেন না—তাদেরও এনসিপির প্রার্থী হওয়ার সুযোগ দেয়া হবে। তিনি বলেন দল সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেবে এবং অন্য কোনো রাজনৈতিক দল থেকে কেউ যোগ দিতে চাইলে তাদেরকেও সুযোগ দেয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।

    নিচে বিভাগভিত্তিকভাবে এনসিপির ঘোষিত প্রার্থীদের নাম দেওয়া হলো—

    খুলনা বিভাগ

    কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: অ্যাডভোকেট আবুল হাশেম বাদশা; ভেড়ামারা উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: জান্নাতুল ফেরদৌস টনি; বাগেরহাট চিতলমারি উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইশতিয়াক হোসেন; ফকিরমারী উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: লাবিব আহমেদ; মোংলা পৌরসভার মেয়র প্রার্থী: মো. রহমত উল্লাহ; বাগেরহাট পৌরসভার মেয়র প্রার্থী: সৈয়দ মোর্শেদ আনোয়ার; যশোর বাঘারপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইয়াহিয়া জিসান; নওয়াপাড়া পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী: শাহজাহান কবির; খুলনার চালনায় মেয়র প্রার্থী: এস এম এ রশিদ; চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: খায়রুল বাশার বিপ্লব; জীবননগর পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী: সোহেল পারভেজ; মেহেরপুর গাংনী পৌরসভার মেয়র প্রার্থী: শাকিল আহমেদ; ঝিনাইদহ পৌরসভার মেয়র প্রার্থী: তারেকুল ইসলাম।

    রংপুর বিভাগ

    পঞ্চগড় তেঁতুলিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. হাবিবুর রহমান হাবিব; বোদা উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: শিশির আসাদ; দেবীগঞ্জ দায়িত্বে পৌর মেয়র প্রার্থী: মাসুদ পারভেজ; ঠাকুরগাঁও রাণীশংকৈল উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: গোলাম মর্তুজা সেলিম; দিনাজপুর ফুলবাড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইমরান চৌধুরী নিশাত; বোচাগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মাওলানা এম এ তাফসির হাসান; ফুলবাড়ি পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী: শিহাব হোসেন; ঘোড়াঘাট পৌর মেয়র প্রার্থী: মো. আব্দুল মান্নান; হাকিমপুর পৌর মেয়র প্রার্থী: রায়হান কবির; নীলফামারী জলঢাকা উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আবু সাইদ লিয়ন; নীলফামারী সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ড. কামরুল ইসলাম; কুড়িগ্রাম সদর পৌর মেয়র প্রার্থী: মো. মাসুম মিয়া; লালমনিরহাট কালিগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: শাহ সুলতান নাসির উদ্দিন আহমেদ; রংপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: কৃষ্ণ চন্দ্র বর্মণ; গাইবান্ধা সাদুল্লাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: খাদিমুল ইসলাম।

    রাজশাহী বিভাগ

    রাজশাহীর গোদাগাড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. আতিকুল রহমান; চাঁপাইনবাগঞ্জ গোমস্তাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আবু মাসুদ; নওগাঁ নেয়ামতপুর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: বিশাল আহমেদ; বদলগাছী উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আসাদ মোরশেদের আজম; ধামুরহাট পৌর মেয়র প্রার্থী: মাহফুজার রহমান চৌধুরী রুবেল; বগুড়া শিবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. জাহাঙ্গীর আলম; দুপচাঁচিয়া পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী: আবু বক্কর সিদ্দিক; বগুড়া সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: এ এম জেড শাহরিয়ার; নাটোর সদর পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী: আব্দুল মান্নান; পাবনা চাটমোহর পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী: খন্দকার আক্তার হোসেন; সিরাজগঞ্জ উল্লাপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ আদনান; উল্লাপাড়া পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী: ইঞ্জিনিয়ার আল-মামুন লিয়ন।

    সিলেট বিভাগ

    হবিগঞ্জ আজমিরিগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. কামাল আহমেদ; হবিগঞ্জ সদর পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী: মাহবুবুল বারী চৌধুরী; মৌলভীবাজার রাজনগর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: খালেদ হাসান; কুলাউড়া উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আবু রুকিয়ান; সিলেট কোম্পানিগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ওবায়েদ আহমেদ; কানাইঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: বোরহান উদ্দিন ইউনূস; ওসমানীনগর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: হাজি মো. মোশাহিদ আলী; জৈন্তাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: জাকারিয়া; গোয়াইনঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মনসুরুল হাসান।

    ময়মনসিংহ বিভাগ

    শেরপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইঞ্জিনিয়ার মো. লিখন মিয়া; সদর পৌর মেয়র প্রার্থী: নূর ইসলাম; জামালপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: অ্যাডভোকেট আবু সাইদ মো. শামিম; নেত্রকোণা খালিয়াজুড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. মুশফিকুর রহমান মিন্টু; বারহাট্তা উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: শফিকুল হক চৌধুরী বাবলু; নেত্রকোণা সদর পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী: সোহাগ মিয়া প্রিতম; ময়মনসিংহ তারাকান্দা উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইঞ্জিনিয়ার শহিদুল ইসলাম; ভালুকা উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: নূরুল ইসলাম; হালুয়াঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আবু হেলাল; ধোবাউড়া উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. সাইফুল্লাহ।

    ঢাকা বিভাগ (উত্তর)

    কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আহনাফ সাইদ খান; তাড়াইল উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইকরাম হোসেন; করিমগঞ্জ পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী: খায়রুল কবির; সাভার উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: শাহাবদুল্লাহ রনি; মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আরিফুল ইসলাম; দৌলতপুর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আবু আবদুল্লাহ; টাঙ্গাইল কালিহাতি উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মেহদী হাসান; টাঙ্গাইল পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী: মাসুদুর রহমান রাসেল; ভূঞাপুর পৌর মেয়র প্রার্থী: হাসান ইমাম তালুকদার; শফিপুর পৌর মেয়র প্রার্থী: মাওলানা আনসার আলী; নরসিংদী সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: সাইফ ইবনে সারওয়ার; গাজীপুর কালিগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: শোয়েব মিয়া।

    ঢাকা বিভাগ (দক্ষিণ)

    নারায়ণগঞ্জ সেনারগাঁও উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: তুহিন মাহবুব; মুন্সিগঞ্জ সিরাজদিখান উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আলী নেওয়াজ।

    ফরিদপুর বিভাগ

    ফরিদপুর নগরকান্দা উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: রেজাউল করিম সবুজ; নগরকান্দা পৌরসভার মেয়র প্রার্থী: নাজমুল হুদা; ফরিদপুর পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী: সাইদ খান; মাদারীপুর পৌরসভার মেয়র প্রার্থী: মো. হাসিবুল্লাহ; গোপালগঞ্জ পৌরসভার মেয়র প্রার্থী: ফেরদৌম আমেনা।

    এনসিপি জানায়, প্রার্থীর তালিকা বয়স, যোগ্যতা ও স্থানীয় গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনায় করে করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও আবেদন ও যাচাই-বাছাইয়ের ভিত্তিতে আরও প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। দলটি নির্বাচনী প্রচারণায় স্থানীয় নেতাদের অংশগ্রহণ ও ক্ষমতাবণ্টন শক্ত করে তোলার দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

  • খুলনা জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ফিরোজকে অব্যাহতি; আবু জাফরকে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক

    খুলনা জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ফিরোজকে অব্যাহতি; আবু জাফরকে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক

    খুলনা জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ফিরোজ আহমেদকে घोषणा প্রকাশের পর মাত্র পনেরো ঘণ্টার মধ্যে সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবু জাফরকে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

    কথিত সিদ্ধান্ত বুধবার (১৩ মে) কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে অনুমোদন করেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের ভিত্তিতে খুলনা জেলা শাখার আহ্বায়ক ফিরোজ আহমেদকে তার পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো। সংগঠনের গতিশীলতা ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখার স্বার্থে এই নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর করা হবে।

    গতকাল রাতেই (মঙ্গলবার) খুলনা মহানগর ও জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত পৃথক পত্রে এই দুইটি কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। সেই ঘোষণায় খুলনা মহানগর আহ্বায়ক কমিটিতে তাজিম বিশ্বাসকে আহ্বায়ক, আরিফুর রহমান আরিফকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও হাবিবুর রহমান খান বিপ্লবকে সদস্য সচিব করে মোট ৪৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।

    আর খুলনা জেলা আহ্বায়ক কমিটিতে ফিরোজ আহমেকে আহ্বায়ক, আবু জাফরকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও খান ইসমাইল হোসাইনকে সদস্য সচিব করে ৩০ সদস্যের কমিটি অনুমোদিত হয়েছিল। তবে অনুমোদনের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ফিরোজকে অব্যাহতি দিয়ে আবু জাফরকে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ঘোষণা করা হলো।

    কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের এই সিদ্ধান্ত কার্যকরের মাধ্যমে জেলা ইউনিটে শৃঙ্খলা ও কার্যক্রম অব্যাহত রাখাই তাদের উদ্দেশ্য বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

  • ২৮ ব্যাংকের ক্ষতির দায় ৬ ব্যক্তি ও শিল্পগোষ্ঠীর: বাংলাদেশ ব্যাংক

    ২৮ ব্যাংকের ক্ষতির দায় ৬ ব্যক্তি ও শিল্পগোষ্ঠীর: বাংলাদেশ ব্যাংক

    বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২৮টি ব্যাংককে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়াতে দায়ীদায়িত্ব রয়েছে ছয় ব্যক্তি ও কয়েকটি শিল্পগোষ্ঠীর। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সেই প্রতিবেদনে এস আলম, বেক্সিমকো, ওরিয়ন, নাসা গ্রুপ, সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও সিকদার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

    প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই ব্যক্তি ও গোষ্ঠীগুলো ঋণের শর্ত ভেঙে অনৈতিক সুবিধা নিয়েছে এবং অনেক লাখ কোটি টাকা ঋণের নামে আত্মসাৎ করে পাচার করেছে। শ্বেতপত্রে উল্লেখ আছে, এসবের বড় অংশ বিদেশে পাঠানো হয়েছে এবং এ কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ও অগ্রণী ব্যাংকসহ কয়েকটি ব্যাংক গম্ভীর আর্থিক সংকটে পড়েছে।

    প্রতিবেদনটি ব্যাংক খাতের আরো নানা প্রতিষ্ঠানকেও উল্লেখ করেছে — শরীয়াহভিত্তিক ইসলামী ব্যাংক, এসআইবিএল, ফার্স্ট সিকিউরিটি, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ও বেসরকারি ক্ষেত্রের ইউসিবি, আইএফআইসি, ন্যাশনাল ব্যাংক এসবের মধ্যে রয়েছে। এই তালিকা থেকে বোঝা যায় যে লুটপাটটি শুধু কয়েকটি ব্যাংকেই সীমাবদ্ধ ছিল না, তা পুরো খাতটাকে বিচলিত করেছে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, যেসব টাকা পাচার হয়েছে তা দ্রুত ফিরিয়ে আনতে হবে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তারা আরও জোর দিয়েছেন যে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যে কর্মকর্তারা অনিয়মে অংশ নিয়েছেন বা অনৈতিক চাপের কাছে নত হয়েছেন, তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। নতুবা দেশের ব্যাংকিং খাতে মানুষের আস্থা ফেরানো কঠিন হবে।

    বিআইবিএম-এর সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী মন্তব্য করেছেন যে, একজন কাস্টমার কতটুকু ঋণ নিতে পারবেন, কতদিনের জন্য নিতে পারবেন এবং কীভাবে ঋণ বিতরণ হবে—এসব নিয়মনীতি স্পষ্টভাবে আছে। যদি বাংলাদেশ ব্যাংক ইচ্ছে করেই বা চাপের মুখে এসব গ্রুপকে ছাড় দিয়ে থাকে, তাহলে কেন্দ্রীয় ব্যাংককেও তার দায় স্বীকার করে নেবে এবং দায়িত্ব পালনে এগোতে হবে।

    এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, তৎকালীন সময়ে বিভিন্ন ধরনের বহিরাগত চাপ ও ‘‘উপরে থেকে’’ প্রয়োগ করা চাপের ফলে কিছু বিষয়ে তাদের বাধ্য হতে হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন যে, কোন প্রেক্ষাপটে কর্মকর্তারা এসব কাজে জড়িত ছিলেন বা বাধ্য হয়েছিলেন—এসব বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং পাচার করা অর্থ ফেরানোর কাজ চলছে।

    ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করে বলছেন, যদি দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার না প্রদর্শিত হয়, তাহলে কোটি কোটি টাকার লুটের দায় থেকে খাতকে মুক্ত করার সুযোগ মিলবে না এবং সাধারণ মানুষের ব্যাংকের উপর আস্থা নষ্ট হবে। তদন্ত শেষ করে যারাই দোষী প্রমাণিত হবেন তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়াই এখন বাজার ও জনমতের দাবি।

  • অর্থমন্ত্রী: আর্থিক খাতে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না

    অর্থমন্ত্রী: আর্থিক খাতে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, আর্থিক খাত ও সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক সেক্টরে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ গ্রহণ করা হবে না। এটি হবে শতভাগ পেশাদার ভিত্তিতে পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান।

    মঙ্গলবার (১২ মে) রাজধানীর হোটেল রেডিসন ব্লুতে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বিএসআইসির চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এবং বিএবির চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার।

    অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারী রাজনৈতিক নিয়োগ বা অনুপ্রবেশ এখানে কার্যকর হবে না; সিদ্ধান্ত গ্রহণ হবে স্বচ্ছ, দক্ষ ও পেশাদারেরা পরিচালিত প্রক্রিয়ায়। তিনি আরও আশ্বাস দেন যে এই প্রতিষ্ঠান শুরু করা মূলধন ভবিষ্যতে আরও বাড়ানো হবে।

    মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি শুধু একটি বিনিয়োগ সংস্থা নয়, এটি স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে দৃশ্যমান করে তোলার একটি প্ল্যাটফর্মও হবে। তরুণ উদ্যোক্তাদের সামনে যে দুইটি বড় সমস্যা—তহবিলের অভাব এবং জামানত প্রদান অসমর্থতা—সেগুলো দূর করতেই এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

    তিনি জানান, বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ পুরোপুরি স্বচ্ছ ও পেশাদার চার্ট অনুযায়ী হবে। এই উদ্যোগ তাদের রাজনৈতিক ম্যানিফেস্টোর সঙ্গে সংযুক্ত; ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডকে কাজে লাগিয়ে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সরকারের লক্ষ্য। বিশেষভাবে সৃজনশীল অর্থনীতি (ক্রিয়েটিভ ইকোনমি) ব্যবহার করে গ্রামীণ ও শহরের তরুণদের মূলধারার অর্থনীতিতে আনা হবে।

    অর্থ মন্ত্রী আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। তিনি বলেন, বর্তমান সময় কঠিন; পুঁজিবাজারে সংস্কারসহ অনিয়ম দূরীকরণে কর্মযজ্ঞ শুরু করা হয়েছে। বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার সম্পর্কিত সিদ্ধান্তে দক্ষ উপদেষ্টা নিয়োগ করা হয়েছে এবং দেশি-বিদেশি বড় ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান ও দাতা সংস্থাগুলোও আমাদের সঙ্গে কাজ করছে।

    মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের ব্যাংক ও প্রাইভেট সেক্টরের আন্ডার-ক্যাপিটালাইজেশন দূর করার লক্ষ্যে কাজ চলছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে এই স্টার্টআপ কোম্পানি কেবল ব্যাংকিং সেক্টরে সীমাবদ্ধ থাকবে না, আন্তর্জাতিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠানগুলোকেও বাংলাদেশে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করবে।

    অর্থ মন্ত্রণালয় এই প্রকল্পের সফলতার জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দেবে বলেও মন্ত্রী জানান। শুকনো নীতিগত সহায়তা ও একত্রে উদ্যোগ নেওয়া বেশ কিছু ব্যাংকের মিলে গঠিত ভেঞ্চার ক্যাপিটাল উদ্যোগ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে তিনি বিশ্বাস ব্যক্ত করেন।

  • নেতানিয়াহুর ‘গোপন’ আমিরাত সফরের দাবি, আবুধাবি অস্বীকার

    নেতানিয়াহুর ‘গোপন’ আমিরাত সফরের দাবি, আবুধাবি অস্বীকার

    ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু গোপনে সংযুক্ত আরব আমিরাতে সফর করেছেন—এমন দাবি করেছে তার দফতর। বুধবার (১৩ মে) ওই তথ্য জানানো হয়।

    নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, তিনি আমিরাতে গিয়ে দেশটির রাষ্ট্রপ্রধান শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং সেই বৈঠককে তিনি ‘ঐতিহাসিক ব্রেকথ্রু’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

    তবে আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নেতানিয়াহুর এই দাবিকে বাতিল করে বলেছে, যে গোপন সফরের কথা বলা হচ্ছে তা বাস্তবে হয়নি। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরায়েলের সম্পর্ক প্রকাশ্য এবং সবকিছুই অব্রাহাম চুক্তির মাধ্যমে পরিচালিত হয়; আমাদের সম্পর্ক কোনো গোপন বা অনানুষ্ঠানিক সফরের ওপর নির্ভরশীল নয়।

    প্রসঙ্গত, ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আমিরাত ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে; সেই সময় বাহরাইন, মরক্কো ও সুদানও একই প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়।

    বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর আমিরাতকে আকাশ প্রতিরক্ষায় সাহায্য হিসেবে আয়রন ডোম পাঠায় ইসরায়েল এবং সেটি পরিচালনার জন্য কিছু ইসরায়েলি কর্মী আমিরাতে এসেছিলেন।

    নেতানিয়াহুর দাবি ও আমিরাতের অস্বীকার—উভয় পক্ষের বিবৃতি মিলিয়ে ঘটনাটির চূড়ান্ত চিত্র এখনও স্পষ্ট নয়।

    সূত্র: বিবিসি

  • ফুজাইরাহ উপকূল থেকে জাহাজ জব্দ, ইরানের জলসীমার দিকে নেওয়া হচ্ছে

    ফুজাইরাহ উপকূল থেকে জাহাজ জব্দ, ইরানের জলসীমার দিকে নেওয়া হচ্ছে

    হরমুজ প্রণালীর কাছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) উপকূল থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা একটি জাহাজ জব্দ করেছে এবং সেটি ইরানের জলসীমার দিকে টেনে নেওয়া হচ্ছে। এই তথ্য বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ইউকে মেরিটাইম এজেন্সি জানিয়েছে।

    এজেন্সির বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ফুজাইরাহ থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে নোঙর করা অবস্থায় থাকা ওই জাহাজটিকে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা জব্দ করে নিয়ে যাচ্ছেন।

    ঘটনাটি এমন সময় ঘটল যখন হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তীব্র আছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এবং সাম্প্রতিক পরবর্তী যুদ্ধবিরতির পর এই নৌরূহে একাধিক জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। ইরান হরমুজ প্রণালীকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরে নৌ-অবরোধ আরোপ করেছে।

    যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট জ্বালানির প্রায় ২০ শতাংশ মালামাল হরমুজ প্রণালী দিয়ে নৌপরিবহন করা হতো, যা এই অঞ্চলের নিরাপত্তাকে কৌশলগতভাবে গুরুত্ববান করে তোলে।

    গত রোববার দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে যে তাদের একটি কার্গো জাহাজ হরমুজ প্রণালীর কাছে হামলার শিকার হয়েছে। পরে কাতার জানিয়েছে, সেই জাহাজটি আমিরাত থেকে তাদের জলসীমায় যেতে থাকা অবস্থায় ড্রোন হামলার শিকার হয়।

    অন্যদিকে, দুই সপ্তাহ আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজে একটি সামরিক অভিযান শুরু করার ঘোষণা দিয়েছিলেন, যেখানে কৌশলগতভাবে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করাই লক্ষ্য ছিল। তবে সৌদি আরব ও বাহরাইন তাদের আকাশসীমা ও সামরিক ঘাঁটিগুলো মার্কিন বাহিনীকে ব্যবহারের জন্য বন্ধ করে দেয়ায় ওই অভিযান স্থগিত রাখা হয় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ট্রাম্প পরে জানিয়েছেন যে ইরানিদের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি হওয়ায় তিনি অভিযান স্থগিত রেখেছেন।

    সূত্র: এএফপি

  • কোরবানির জন্য দেশে প্রস্তুত প্রায় ১ কোটি পশু: প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

    কোরবানির জন্য দেশে প্রস্তুত প্রায় ১ কোটি পশু: প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

    মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ ও কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির জন্য দেশে পর্যাপ্ত দেশীয় পশু রয়েছে—প্রায় এক কোটি পশু প্রস্তুত, তাই সরকার কোনো পশু আমদানি করবে না।

    বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে সাভারের বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) মিলনায়তনে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা জানান। মন্ত্রী বলেন, কোরবানির জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যার তুলনায় বর্তমানে গরু, ছাগল ও ভেড়া সহ সব ধরনের পশুর সরবরাহ পর্যাপ্ত ও স্বনির্ভর অবস্থায় আছে।

    তিনি আরও জানান, সীমান্ত দিয়ে চোরাচালানে করে অবৈধভাবে পশু দেশে প্রবেশ করা যাতে না পারে সে ব্যাপারে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)সহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সীমান্ত এলাকাসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

    কৃষি খাতের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারকে শতভাগ কৃষি-বান্ধব বলে আখ্যায়িত করছেন। সরকারের বিশ্বাস, কৃষকের অর্থনৈতিক উন্নয়ন হলে দেশও উন্নতি করবে; সেই লক্ষ্যে কৃষকদের কল্যাণে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হচ্ছে এবং কৃষি খাতে বিদ্যমান সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।

    মন্ত্রী আরও বলেন, গবাদিপশু পালন খরচ কমিয়ে আনা এবং উন্নত জাতের ঘাস উৎপাদনের ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। এই সব কার্যক্রম পরখ করতে তিনি বিএলআরআই পরিদর্শনে এসেছেন এবং গবেষণা ও সম্প্রসারণমূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে বলে জানান।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএলআরআই-এর মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন।

  • তথ্য-প্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষাগ্রহণ করে শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক মানবসম্পদে রূপান্তর করতে হবে

    তথ্য-প্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষাগ্রহণ করে শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক মানবসম্পদে রূপান্তর করতে হবে

    খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি আমাদের নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করেছে। এই ধ্যান-ধারণা মাথায় রেখে ভবিষ্যতের জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। ছোট দেশ হওয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত—তাই শিক্ষার্থীদের তথ্য-প্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ করে গড়ে তুলে তারা যেন বৈশ্বিক মানবসম্পদে পরিণত হতে পারে, সে জন্য উদ্যোগ নিতে হবে।

    কেসিসি প্রশাসক বুধবার সকালে নগরীর বয়রায় খান জাহান আলী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মহাবিদ্যালয় অডিটরিয়ামে আয়োজিত প্রতিষ্ঠানের ২৪তম বার্ষিকী উদযাপন, নবাগত শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন, কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তিনি কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে সম্মাননা ক্রেস্টও বিতরণ করেন।

    প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু শিক্ষার্থীদের নতুন এই শিক্ষাজীবনের জন্য স্বাগত জানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের বিদেশে পড়াশোনা সহজ করতে ব্যাংক ঋণের সুযোগ করে দিয়েছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে পরদেশে সম্মানজনক কর্মসংস্থানের পথও তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষা জীবন শেষে যে তরুণরা কাজ খুঁজে নিয়েছে বা স্বনির্ভর হতে চায়, তাদের সেই চাওয়া পূরণে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য তিনি শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানান।

    তিনি বিশেষ করে বিভিন্ন দেশের ভাষা শেখার ওপর জোর দেন এবং জানান, চীন, জাপান, জার্মানি ইত্যাদি দেশের ভাষা শেখার সুযোগ করে দিতে খুলনায় উপযুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

    প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ বক্তৃতা করেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোঃ হাসানুজ্জামান, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শেখ শরাফত আলী এবং কেসিসি’র সাবেক কাউন্সিলর রাবেয়া ফাহিদ হাসনা হেনা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন মহাবিদ্যালয়ের একাডেমিক ইনচার্জ ও ইন্সট্রাকটর (ইলেকট্রিক্যাল) তুলিপ ঘোষ, অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মহাবিদ্যালয়ের আইন উপদেষ্টা এডভোকেট শেখ অলিউল ইসলাম।

    বিকালটা ৪টায় কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু রায়েরমহল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে প্রধান অতিথি ছিলেন। সেখানে তিনি স্থানীয় মসজিদ ও মন্দিরের সেবামূলক কার্যক্রমসহ দুঃস্থ ও অসহায় ব্যক্তিদের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ করেন। ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে স্কুলের এক্স-ম্যাট ১৯৮২ ব্যাচ।

    ওয়েস্টার্ণ নিউইয়ার্ক বাংলাদেশী সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা ও এক্স-ম্যাট ১৯৮২-এর সভাপতি শেখ অহিদুজ্জামান বোরহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মোঃ শাকিলুজ্জামান, খুলনা প্রেসক্লাবের সেক্রেটারি তরিকুল ইসলাম, স্কুলের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক শেখ আক্তারুজ্জামান মুরাদ, মোল্লা আব্দুল খালেক, সমাজসেবক আসাদুজ্জামান মুরাদ, শেখ সাদিকুল ইসলাম সাদি, শেখ জামিরুল ইসলাম, শেখ সামসুদ্দীন দোহা, আসলাম হোসেন এবং বৈষম্য বিরোধী সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক নুরুজ্জামান নূর। এক্স-ম্যাটের সদস্যসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

  • ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে রেকর্ড ১৪টি মুসলিম দেশের অংশগ্রহণ

    ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে রেকর্ড ১৪টি মুসলিম দেশের অংশগ্রহণ

    ফুটবলের মঞ্চ এবার আরও আলোড়ন তুলছে। ধর্ম, ভাষা বা ভূখণ্ডের সীমানা ছাড়িয়ে মানুষকে একত্রিত করার ক্ষমতা আবারও প্রমাণ করবে আসন্ন ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ। এই টুর্নামেন্টে মুসলিম বিশ্ব একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করতে যাচ্ছে — মোট ১৪টি মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ এতে অংশ নিচ্ছে।

    তথ্য অনুযায়ী এশিয়া ও আফ্রিকা থেকে সমানভাবে ছয়টি করে দেশ এই তালিকায় অংশ নেয়; উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা থেকে কোনো মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ নেই। এই সংখ্যাগত বেড়ে ওঠা শুধুমাত্র পরিসংখ্যান নয়, বরং মুসলিম ফুটবলের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ও মানের প্রতিফলনও বটে।

    অংশগ্রহণকারী দলে রয়েছে সৌদি আরব, ইরান, কাতার, জর্ডান, তুরস্ক, মরক্কো, আলজেরিয়া, ইরাক, ইজিপ্ট, সেনেগাল, তিউনিসিয়া, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, উজবেকিস্তানসহ আরও Several দল। এই তালিকায় কিছু দল দীর্ঘদিন পর ফিরছে, আবার কয়েকটি দলের জন্য এটি বিশ্বকাপে অঙ্গভঙ্গির নতুন অধ্যায় হতে পারে।

    শুধু খেলোয়াড় পর্যায়ে নয়; কোচিং স্টাফেও মুসলিমদের উপস্থিতি চোখে পড়বে। প্রাথমিক নজরে দেখা গেছে কম করে চারটি জাতীয় দলের নেতৃত্বে মুসলিম কোচ থাকবেন। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা তারকা মুসলিম ফুটবলাররাও তাদের দেশগুলোর হয়ে মাঠ মাতাতে নামবেন — যা টুর্নামেন্টকে আরও অনন্য করে তুলবে।

    অনেকে মনে করছেন ২০২৬ বিশ্বকাপ মুসলিম ফুটবলের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এখানে ভাল করতে পারলে তা কেবল দেশীয় গর্বই নয়, পুরো মুসলিম সমাজের জন্য এক গৌরবোজ্জ্বল মুহূর্ত হয়ে উঠবে। এর মধ্য দিয়ে ফুটবলের সেই সর্বজনীন বার্তাই আবার একবার প্রতিষ্ঠিত হবে — যে এক খেলার মাঠ মানুষকে একসাথে করে, বিভেদকে ভেঙে দেয়।

  • নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে দুই দিনব্যাপী বার্ষিক ক্রিকেট টুর্নামেন্টের উদ্বোধন

    নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে দুই দিনব্যাপী বার্ষিক ক্রিকেট টুর্নামেন্টের উদ্বোধন

    নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি খুলনায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে বুধবার সকাল ১০টায় শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী বার্ষিক ক্রিকেট টুর্নামেন্ট-২০২৬। মোংলা পোর্ট কলোনি মাঠে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি ক্রীড়া ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়।

    বেলুন, ফেস্টুন সাজানো ও কবুতর উড়িয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত ভাইস-চ্যান্সেলर প্রফেসর কানাই লাল সরকার। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দ্ধতন প্রশাসনিক ও একাডেমিকরা—বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের ডীন ড. মোঃ ইমজামাম-উল-হোসেন, বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডীন ফারজানা আক্তার, আইন অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডীন ও টুর্নামেন্ট উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক হাসিবুল হোসেন সুমন, সিএসই বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব মোঃ মেহেদী হাসান, রেজিস্ট্রার ড. শেখ শফিকুর রহমান, আইকিউএসি পরিচালক মোঃ আনিসুর রহমান, প্রক্টর শাকীল আহমদ সহ সহকারী প্রক্টরবৃন্দ, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।

    উল্লেখ্য, নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির ছয়টি বিভাগের ছাত্রছাত্রীরা অংশ নিচ্ছে এই টুর্নামেন্টে। স্বাধীন ও উদ্দীপনাময় খেলার মধ্য দিয়ে দুই দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতা ইউনিভার্সিটির ক্রীড়া সংস্কৃতি জোরদার ও ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে দলগত চেতনা বৃদ্ধি করতেই আয়োজন করা হয়েছে।