Blog

  • হামের প্রকোপ মোকাবিলায় স্কুল বন্ধের জন্য হাইকোর্টে রিট

    হামের প্রকোপ মোকাবিলায় স্কুল বন্ধের জন্য হাইকোর্টে রিট

    হামের গুরুতর প্রকোপ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ চেয়ে সম্প্রতি হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করা হয়েছে। সেই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিবেদন এসেছে, যেখানে হামের কারণে গত কিছুদিনে অন্তত ৪৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনাগুলোর উপর উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনেরও দাবি জানানো হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিট জমা দেওয়া হয়। আশাকরা হচ্ছে, আগামী সপ্তাহে এই বিষয়ে একটি ডিভিশন বেঞ্চের শুনানি হবে।

    এদিকে, এর আগের দিন, বুধবার (১ এপ্রিল), বাংলাদেশ সরকারের কাছে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামের টিকার ব্যবস্থা করা জন্য আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এই নোটিশটি বাংলাদেশ মানবাধিকার কর্মী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী একলাছ উদ্দিন ভূঁইয়া কর্তৃক পাঠানো হয়েছে।

    নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, সম্প্রতি বিভিন্ন স্থানে হামের কারণে শিশুদের অসুস্থতা এবং মৃত্যুর ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। কিছুক্ষণের মধ্যে এই সমস্যার সমাধান না হলে, হাইকোর্টে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রিট দায়ের করা হবে।

    নোটিশে আরও জানানো হয়েছে, দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের আক্রান্ত শিশুর মৃত্যুর খবর এবং উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়ার শতাধিক প্রতিবেদন সংযুক্ত করা হয়েছে। মানবাধিকার কর্মী ও আইনজীবী একলাছ উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, যদি পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তবে এই রোগের প্রকোপ বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে সরকার।

  • প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য: কৃষক ও নারীরা কার্ডের টাকা বিদেশে পাচার করবেন না

    প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য: কৃষক ও নারীরা কার্ডের টাকা বিদেশে পাচার করবেন না

    ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষক কার্ডে ব্যয় হওয়া অর্থের কারণে যদি মূল্যস্ফীতি ঘটে, এই বিষয়টি নিয়ে সংসদে বিরোধী দলের সদস্যরা প্রশ্ন তুলেছিলেন। তার জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট করেন, ‘আমরা টাকা ছাপিয়ে দিচ্ছি না, যা থেকে মূল্যস্ফীতি সৃষ্টি হবে। সুতরাং, এই লক্ষ্য নয় যে মূল্যস্ফীতি হবে। বরং আমরা যারা এই টাকা পাবেন, অর্থাৎ কৃষক ও নারীরা, তারা নিশ্চয়ই এই অর্থ বিদেশে যেমন সিঙ্গাপুর কিংবা অন্য কোনো দেশে পাচার করবেন না। বরং এই টাকা এদেশের অর্থনীতিতে সরাসরি ব্যয় হবে। এর ফলে স্থানীয় অর্থনীতিতে বিনিয়োগ বাড়বে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।’ বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে চলমান অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান প্রথমবারের মতো প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের উত্তর দেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এ প্রশ্নোত্তর কার্যক্রমের প্রথম ৩০ মিনিট প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত ছিল। এ সময় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আখতার হোসেন তাঁর সম্পূরক প্রশ্নে জানতে চান, ‘কত জন এবং কত পরিবারকে কার্ড প্রদান করা হবে, এই প্রকল্পের জন্য মোট কত বাজেট বরাদ্দ হয়েছে? এছাড়াও, যদি এই প্রকল্পের চলাকালে বা বাস্তবায়নের সময় মুদ্রাস্ফীতি বা মূল্যস্ফীতি বাড়তে শুরু করে, তখন সরকারের অবস্থা কী হবে?’

  • সংবিধান সংস্কার ঘিরে বিরোধীদলের সংসদীয় ওয়াকআউট

    সংবিধান সংস্কার ঘিরে বিরোধীদলের সংসদীয় ওয়াকআউট

    বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে বুধবার (১ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় সংসদের অধিবেশন থেকে বিরোধী দলের সদস্যরা বিরোধ প্রকাশ করে কক্ষে ত্যাগ করেছেন। তাদের অভিযোগ, সংবিধান সংস্কার পরিষদ আহ্বানের প্রশ্নে সংসদে দীর্ঘ আলোচনা হলেও এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত আসেনি, তাই তারা প্রতিবাদ হিসেবে বিরতিহীনভাবে সেশন ত্যাগ করেন।

    অনির্ধারিত আলোচনায় ডা. শফিকুর রহমান আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, মন্ত্রীর বক্তব্যে তার পূর্বের বক্তব্য ঠিকভাবে অনুধাবন হয়নি—তবে তিনি বিশ্বাস করতে চান না যে তা ইচ্ছে করে করা হয়েছে। তিনি স্মরণ করান যে গতকালের প্রধান আলোচনার বিষয় ছিল গণভোট ও সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত প্রস্তাবিত পরিষদ আহ্বান।

    আলোচনার এক পর্যায়ে মন্ত্রীর এক প্রস্তাবের প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর বলেন, যদি সংস্কার পরিষদকে কেন্দ্র করে একটি বিশেষ কমিটি গঠিত হয়, আমরা সেটিকে ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করব। এমন কমিটিতে সরকার ও বিরোধী দল থেকে সমান সংখ্যক সদস্য থাকলে তা অধিক কার্যকর ও ফলদায়ী হবে। আমরা সংসদে এসেছে বিদ্যমান সংকট সমাধানের জন্য—নতুন সংকট তৈরির জন্য নয়।

    বিরোধীদলীয় নেতার কথ্য দাবি ছিল, এটি একটি জনগণের জীবনের সঙ্গে জড়িত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—গণভোটের মতো—যেখানে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের রায়ের প্রশ্ন জড়িত। তিনি স্পিকারের মাধ্যমে এর একটি সুনির্দিষ্ট প্রতিকার বা স্পষ্ট ব্যাখ্যা আশা করেছিলেন, যা তিনি এখনও পাননি।

    স্পিকার ঘটনাস্থলে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, গতকালের প্রস্তাবটি একটি মুলতবি (অ্যাজর্নমেন্ট) প্রস্তাব ছিল, যা তার অনুপস্থিতিতে ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে গ্রহণ করা হয়েছিল। তিনি যোগ করেন যে স্বাধীন বাংলাদেশের ৫৩ বছরের সংসদীয় ইতিহাসে এধরনের মুলতবি প্রস্তাব মাত্র তিনবার গৃহীত হয়েছে—একটি আনোয়ার হোসেন মঞ্জুরের時, একটি গ্রেনেড হামলা সংক্রান্ত এবং আরেকটি নূরুল ইসলাম মণির কোস্টগার্ড সংক্রান্ত প্রস্তাব। সাধারণত বছরের পর বছর এ ধরনের প্রস্তাব দেখা যায় না।

    স্পিকার আরও বলেন, যেসব সমস্যা কেবল আইনপ্রণয়নের মাধ্যমে সমাধানযোগ্য, তাদের বিষয়ে সাধারণত মুলতবি প্রস্তাব করা হয় না; তবু সংসদে প্রাণবন্ত আলোচনা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে বিরোধী দলকে উদারভাবে কথা বলার সুযোগ দেয়া হয়েছিল। তিনি জানান, এ সংক্রান্ত আরও একটি নোটিস আজ বিবেচনায় আনা হবে এবং যারা কথা বলতে চান তাদের আজ বা আগামীকাল পর্যাপ্ত আলোচনা-সময়সহ সুযোগ দেয়া হবে।

    স্পিকার MPs-দের স্মরণ করিয়ে দেন যে এটি জনগণের সংসদ; জাতীয় গুরুত্ব সম্পন্ন যে কোনো বিষয়ে সরকারি ও বিরোধী দল মিলেই আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি (রুলস অব প্রসিডিউর) মেনে আলোচনা ফলপ্রসূ করার দায়িত্বও MPs-দেরই।

    সংক্ষিপ্তভাবে বলতে গেলে, সংবিধান সংস্কার ও সংশ্লিষ্ট কমিটি গঠনের ওপর মতবিরোধ ও স্পষ্ট সিদ্ধান্তের অনিশ্চয়তার কারণে বিরোধী দল আজ অধিবেশন ত্যাগ করেছে; স্পিকারের আশ্বাস রয়েছে যে বিষয়টি পরবর্তী আলোচনায় উন্মুক্ত করে সমাধান খোঁজা হবে।

  • সাগর-রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন ১২৫ বার পেছালো

    সাগর-রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন ১২৫ বার পেছালো

    সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনির হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আবারও দাখিল করতে পারেনি তদন্তকারী সংস্থা। বুধবার (১ এপ্রিল) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালতে নির্ধারিত দিনে পিবিআইর তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদন দাখিল না করায় আদালত তা ৭ মে পর্যন্ত ঝুলি করেন। এ নিয়ে মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়সূচি মোট ১২৫ বার পিছিয়েছে।

    এই মামলা দীর্ঘ সময় র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) কাছে তদন্তাধীন ছিল। বাদীপক্ষের আবেদনের পর গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ হাইকোর্ট একটি টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন। বর্তমানে মামলার তদন্ত কার্যক্রম চালাচ্ছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

    মামলায় এখন পর্যন্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অন্যতম রুনির বন্ধু তানভীর রহমান। অন্য আসামিরা হলেন বাড়ির নিরাপত্তাকর্মী এনাম আহমেদ (ওরফে হুমায়ুন কবির), রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মিন্টু (ওরফে বারগিরা মিন্টু/মাসুম মিন্টু), কামরুল হাসান অরুন, পলাশ রুদ্র পাল এবং আবু সাঈদ। এদের মধ্যে তানভীর ও পলাশ রুদ্র জামিনে রয়েছে; বাকি আসামিরা এখনও কারাগারে রয়েছেন।

    মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় নির্মমভাবে সাগর সরওয়ার (মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক) ও মেহেরুন রুনি (এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক) খুন হন। পরদিন ভোরে তাদের ক্ষত-বিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ১২ ফেব্রুয়ারি রুনির ভাই নওশের আলী রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা দায়ের করেন। প্রথমদিকে শেরেবাংলা নগর থানার একজন কর্মকর্তা মামলাটি তদন্ত শুরু করেন, পরে ১৬ ফেব্রুয়ারি তদন্তভার পান গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উত্তরের পুলিশ পরিদর্শক মো. রবিউল আলম।

    তারপর দুই মাস পর হাইকোর্টের আদেশে মামলার তদন্ত দেওয়া হয় র‌্যাবকে। বহুবছর বিভিন্ন ধাপে তদন্ত ও আদালতী কার্যক্রম চলার পরেও দীর্ঘ বিরতি ও দফায় দফায় সময় বদলে প্রতিবেদন দাখিল বাকি থাকায় পরিবার ও সাংবাদিক মহলে নিরাশা দেখা দিয়েছে। আগামী ৭ মে আদালত যখন তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন দিন ধার্য করেছেন, তখন কেবল তখনই মামলার তদন্তকাজে অগ্রগতি কতটা হয়েছে তা জানা যাবে।

  • গণরায়ের বিরুদ্ধে গেলে জনগণই তাদের প্রত্যাখ্যান করবে: আসিফ মাহমুদ

    গণরায়ের বিরুদ্ধে গেলে জনগণই তাদের প্রত্যাখ্যান করবে: আসিফ মাহমুদ

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, গণরায়কে উপেক্ষা করে সরকার সামনে এগোলে তা জনগণ মেনে নেবে না; ইতিহাসও এমন নেতাদের শেষ করে দিয়েছে। তিনি এই মন্তব্য করেন বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) স্বাধীনতা দিবসে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায়।

    আসিফ মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস দেখলে দেখা যায়—শক্তিশালী মনে হওয়া অনেক সরকারই গণরায়ের বিরুদ্ধে গেলে ইতিহাসের পাতায় অদৃশ্য হয়ে গেছে। ‘‘আপনারা দেখেছেন, অনেকেই ছিলেন মহাপরাক্রমশালী, কিন্তু গণরায়ের বিরুদ্ধে গিয়েই তারা হারিয়ে গেছে,’’ তিনি উল্লেখ করেন।

    তিনি আরও স্মরণ করান, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জনগণের রায় পেয়ে ক্ষমতা হস্তান্তর না করার ফলে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। একইভাবে ১৯৯০ সালে স্বৈরাচ্যের বিরুদ্ধে জনআন্দোলনের ফলেই শাসন পরিবর্তন সম্ভব হয়েছিল। দীর্ঘ ১৭ বছরের দমন-পীড়নের পরও যদি জনগণের রায়ের বিরুদ্ধে শাসন স্থাপন করার চেষ্টা করা হয়, শেষ পর্যন্ত তা টেকেনি—এমনই ইতিহাস আমাদের শেখায়, বলেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা।

    তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘‘এখনও যদি গণরায় ও গণভোটের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করা হয় এবং তা উপেক্ষা করে সরকার এগোতে চায়, তাহলে জনগণ তা মেনে নেবে না।’’

    গণভোটে বিপুলসংখ্যক মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‘এত রক্তের বিনিময়ে যে সংস্কার ও নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন আমাদের শহীদদের পরিবার, বাবা-মা এবং আহত সহযোদ্ধারারা দেখেছেন, সেটা বাস্তবায়ন করা জরুরি। যদি এই জনরায় বাস্তবায়ন না করা হয়, তাহলে দেশের যে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলেছে, তারা রাস্তায় নামতে দ্বিতীয়বার ভাববে না।’’

    সুতরাং তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান রাখেন—জনগণের পাশে দাঁড়ান, সবাই মিলে সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার অংশ হন। ‘‘যদি জনগণের বিপক্ষে যাওয়া হয়, তাহলে আমাদের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য আবারো মাঠে নামতেই হতে পারে,’’ বলেন আসিফ মাহমুদ।

  • ঢাকা দুই সিটি সহ পাঁচ সিটিতে এনসিপির মেয়র প্রার্থী ঘোষণা

    ঢাকা দুই সিটি সহ পাঁচ সিটিতে এনসিপির মেয়র প্রার্থী ঘোষণা

    চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দেশের পাঁচটি সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে — যার মধ্যে রয়েছে রাজধানীর দুইটি সিটি।

    রোববার (২৯ মার্চ) রাতে বাংলামোটরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন দলের আহ্বায়ক ও বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

    ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হয়েছেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রার্থী হয়েছেন দলের ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব। কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম, সিলেট সিটি করপোরেশনে সিলেট মহানগরের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. আব্দুর রহমান আফজাল এবং রাজশাহীতে রাজশাহী মহানগরের আহ্বায়ক মো. মোবাশ্বের আলী মেয়র পদে লড়বেন।

    এনসিপি জানায়, চলমান এপ্রিল মাসের মধ্যে বাকি সাতটি সিটি করপোরেশনের প্রার্থীর নামও ঘোষণা করা হবে।

    সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার বিভিন্ন সিটিতে প্রশাসক নিয়োগ করে প্রশাসনকে দলীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে। তিনি বলেন, প্রশাসক হিসেবে নিয়ুক্তদের মধ্যে কেউ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবে না এবং কোনো দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করা যাবে না বলে দলটির অবস্থান। নাহিদ দাবি করেন আগামী ছয় মাসের মধ্যে সকল স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করা হোক।

    সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি মনোনীত পাঁচ মেয়রপ্রার্থীর পাশাপাশি দলের সদস্য সচিব আখতার হোসেন, কেন্দ্রীয় নেতা সারজিস আলম, আব্দুল হান্নান মাসউদসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

  • সিপিডি: রাজস্ব আহরণের দীর্ঘ অনীহা বাজেট বাস্তবায়নের বড় বাধা

    সিপিডি: রাজস্ব আহরণের দীর্ঘ অনীহা বাজেট বাস্তবায়নের বড় বাধা

    রাজস্ব আহরণে দীর্ঘদিন ধরে দেখা দেওয়া দুর্বলতা দেশের বাজেট বাস্তবায়নে বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে — এমন ধারণা প্রকাশ করেছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সংস্থার সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাজধানীর ধানমন্ডিতে অনুষ্ঠিত ‘নতুন সরকারের প্রথম বাজেট নিয়ে ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনায় এই সতর্কতা দেন। অনুষ্ঠানটি এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত হয় এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন তিনি।

    ড. দেবপ্রিয় বলেন, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করতে না পারলে উন্নয়ন খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় চাপ আরও বাড়বে। রাজস্ব ঘাটতির ফলে সরকারকে উন্নয়ন কাজে বরাদ্দের পরিবর্তে ব্যয় মোতাবেক কাটছাঁট করতে হতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে উন্নয়নপ্রক্রিয়াকে ব্যাহত করবে।

    তিনি আরও বলেন, জ্বালানি আমদানি ব্যয় বাড়লে চলতি হিসাবের ঘাটতি বেড়ে যেতে পারে এবং বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে বাজেট নির্মাণে এসব ঝুঁকি বিবেচনায় রেখে সতর্ক ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

    সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো বলেন, পূর্বের ঋণের বোঝা ও বর্তমান জ্বালানি সংকটকে সামনে রেখে সরকার নতুন করে ঋণ নিয়ে অর্থনীতি সচল রাখলে জটিলতা বাড়বে। এ সঙ্গে মূল্যস্ফীতির সম্ভাবনা আছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অবস্থা ও আমদানি ব্যয়ের বৃদ্ধি দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে। তাই নতুন সরকারের প্রথম বাজেটকে বাস্তবসম্মত ও সংস্কারভিত্তিক করতে হবে।

    কর ব্যবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, যাদের এখনও করের আওতায় আনা হয়নি তাদের তালিকাভুক্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে করের বোঝা বাড়ানোর সময়ে সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে সে দিকেও গুরুত্ব দেওয়া দরকার। করভিত্তি বিস্তৃত করতে কর প্রশাসন শক্তিশালী করা, করচুরি নিয়ন্ত্রণ ও করভ্যাটনিরোধী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    সরকারি ব্যাংক ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর আয় বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে ড. দেবপ্রিয় বলেন, এসব প্রতিষ্ঠান যদি নিজেদের আয় বৃদ্ধি করতে না পারে তাহলে সরকারি ভর্তুকি দিয়ে চালিয়ে যাওয়ার যৌক্তিকতাই প্রশ্নের মুখে পড়বে। তাই প্রতিষ্ঠানগুলোর দক্ষতা বাড়ানো, আর্থিক স্থিতিশীলতা জোরদার করা ও অপ্রয়োজনীয় ভর্তুকি কমানোর পন্থা নিতে হবে।

    সংক্ষিপ্তভাবে তিনি জানান, ঘাটতি মোকাবিলায় রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানো, বাজেট বাস্তবসম্মত রাখা ও কাঠামোগত সংস্কার চালুর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা সম্ভব। নতুন সরকারের প্রথম বাজেট এমনই সমন্বিত উদ্যোগের ওপর ভিত্তি করে হওয়া উচিত, যাতে অস্থিরতা কমে এবং দেশের উন্নয়ন কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নেয়া যায়।

  • করদাতারা এখন থেকে সারা বছরই রিটার্ন জমা দিতে পারবেন

    করদাতারা এখন থেকে সারা বছরই রিটার্ন জমা দিতে পারবেন

    জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান জানিয়েছেন, এখন থেকে সারা বছরই আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে। তিনি বলেন, যেসব করদাতা আগে রিটার্ন জমা দেবেন তারা বিশেষ সুবিধা পাবেন। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের দেওয়া বক্তব্যে এনবিআর চেয়ারম্যান আরও জানান, আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়াকে চার ধাপে ভাগ করা হবে।

    চেয়ারম্যান বিস্তারিত চার ধাপ নিয়ে এখনও বললেও, এ ধরনের পরিবর্তন করদাতাদের প্রক্রিয়া সহজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। নিকট ভবিষ্যতে এনবিআর কীভাবে এই ভাগগুলো কার্যকর করবে সেই নির্দেশনাও প্রকাশ করবে বলে মনে করা যাচ্ছে।

    এছাড়া চলতি অর্থবছরে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণে আশাবাদী এনবিআর। চেয়ারম্যান বলেন, আগামী তিন মাসে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর পরিকল্পনা গ্রহন করা হয়েছে। সাধারণত প্রতি বছর জুন শেষে পরবর্তী নভেম্বরের মধ্যে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে হয়; তবে চলতি বছরের জন্য সময় বাড়িয়ে ৩১ মার্চ পর্যন্ত রিটার্ন দিলে চলবে।

    এনবিআর থেকে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত নিয়ম ও নির্দেশনা শিগগিরই প্রকাশ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • ক্রিমিয়ায় সামরিক এএন-২৬ বিমান বিধ্বস্ত, ২৯ জনের মৃত্যু

    ক্রিমিয়ায় সামরিক এএন-২৬ বিমান বিধ্বস্ত, ২৯ জনের মৃত্যু

    রাশিয়ার ক্রিমিয়ায় একটি সামরিক পরিবহন বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ২৯ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে এই তথ্য জানানো হয়।

    বেসরকারি বার্তাসংস্থা তাসের বরাতে বলা হয়েছে, বিমানটি কৃষ্ণ সাগরের কাছেই ক্রিমিয়ার একটি পাহাড়ের চূড়ায় বিধ্বস্ত হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ছয়জন ক্রু এবং ২৩ জন সাধারণ যাত্রী।

    রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মস্কোর সময় অনুযায়ী ৩১ মার্চ রাত ৮টার দিকে একটি এএন-২৬ সামরিক পরিবহণ বিমান রাডার থেকে নিখোঁজ হয়। তারা বলেছে বিমানটি ক্রিমিয়ায় নির্ধারিত একটি ফ্লাইটে ছিল। তবে বিমানে কী পরিমাণ যাত্রী চূড়ান্তভাবে ছিলেন—এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয় সম্পূর্ণ স্পষ্ট করেনি এবং কোনো বেঁচে থাকার খবরও জানানো হয়নি।

    বার্তাসংস্থা আরআইএ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে সম্ভবত প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে। মর্মান্তিক এই ঘটনা নিয়ে আরও তদন্ত চলছে।

    এএন-২৬ মডেলের সামরিক পরিবহন বিমানগুলো ১৯৬০-এর দশক থেকে ব্যবহার হয়ে আসছে এবং সাধারণত মালবহন ও সামরিক সরবরাহে ব্যবহৃত হয়। এই মডেলের বিমানগুলোর বহু আগে থেকে দুর্ঘটনার ইতিহাস রয়েছে। ২০২২ সালে একটি এএন-২৬ বিধ্বস্তে একজন প্রাণ হারান। ২০২০ সালে অন্য একটি এএন-২৬ বিধ্বস্ত হলে ২৬ জন নিহত হন; ওই ঘটনাটিতে এক যাত্রী অলৌকিকভাবে বেঁচে যান। এছাড়াও দক্ষিণ সুদানে এএন-২৬ বিধ্বস্ত হয়ে আটজন নিহত হয়েছিল, যাদের মধ্যে পাঁচজন রুশ নাগরিক ছিলেন। ২০১৭ সালে আইভরি কোস্টে রাশিয়ার আরেকটি বিমান বিধ্বস্ত হলে ১০ জন প্রাণ হারান।

    এই খবর জানিয়েছে এএফপি।

  • টিকে থাকতে প্রযুক্তিতে দক্ষ হতে হবে শিক্ষার্থীদের: খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য

    টিকে থাকতে প্রযুক্তিতে দক্ষ হতে হবে শিক্ষার্থীদের: খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম বুধবার (০১ এপ্রিল) আনুমানিক দুপুর ১২টার দিকে আকস্মিকভাবে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের একটি ক্লাস পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শনকালে তিনি শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি আলাপচারিতা করেন এবং পাঠদানের পদ্ধতি, শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ও পাঠ্যসূচি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

    উপাচার্য শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবন নিজেকে গড়ে তোলার শ্রেষ্ঠ সময়। এই সময়ে জীবনীয় লক্ষ্য ও পদক্ষেপ নির্ধারণ করা জরুরি। নিয়মিত পড়াশোনার সঙ্গে সঙ্গে সহশিক্ষা কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ করা উচিত—এতে নেতৃত্ববান হওয়ার পাশাপাশি মানসিক চাপ ও হতাশা কাটিয়ে ওঠতেও সাহায্য করে।

    তিনি আরও বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বর্তমান বিশ্বকে দ্রুত বদলে দিচ্ছে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এ যুগে টিকে থাকতে শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন ছাড়া বিকল্প নেই। বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে হলে এআইসহ আধুনিক প্রযুক্তিতে পারদর্শী হতে হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন বিভাগের জন্য পর্যায়ক্রমে আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে।

    পরিদর্শনের সময় শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট বিভাগের কয়েকটি সমস্যা তুলে ধরলে উপাচার্য মনোযোগ দিয়ে তা শোনেন এবং সমস্যা সমাধানের জন্য ধাপে ধাপে কার্যক্রম নেওয়ার আশ্বাস দেন।