Blog

  • প্রথমবার নির্বাচনে থালাপতি বিজয়ের দল পেতে পারে ৯৮–১২০ আসন: বুথফেরত জরিপ

    প্রথমবার নির্বাচনে থালাপতি বিজয়ের দল পেতে পারে ৯৮–১২০ আসন: বুথফেরত জরিপ

    তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর এখন সবার নজর পড়েছে বুথফেরত জরিপে। রাজ্যের রাজনৈতিক চিত্রে এ বার সবচেয়ে বড় চমক হচ্ছেন দক্ষিণী সুপারস্টার থালাপতি বিজয় ও তাঁর নতুন দল তামিলাগা ভেট্টি কাজাগাম (টিভিকে)। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী এম. কে. স্টালিনকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেই মাঠে নামা এই অভিনেতা মুহূর্তেই রাজ্য রাজনীতিতে আলোড়ন তৈরি করেছেন।

    নির্বাচনের আগে বিভিন্ন জনসভায় বিজয়ের বিশাল সমর্থক সমাগম রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিয়েছে। বহু ভোটারকে অনুপ্রাণিত করে জনসমর্থন উঠে এসেছে, আর তাই বুথফেরত জরিপগুলোর ফলাফলে এখন নতুন রাজনৈতিক সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেখা দিচ্ছে।

    কয়েকটি সংস্থার বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নেওয়া টিভিকে দলটি ৯৮ থেকে ১২০টি আসন পেতে পারেঃ যদি এইটা বাস্তবে অর্থ বহন করে, তামিলনাড়ুর রাজনীতি একটি নতুন দিগন্তে পৌঁছে যাবে বলে রাজ্যের মানুষ মনে করছেন।

    অন্যদিকে পিপলস পালস ও পিপলস ইনসাইটের জরিপে দেখা গেছে ডিএমকে ও তাদের জোট ১২০ থেকে ১৪৫টি আসনের মধ্যে থাকতে পারে, আর এআইএডিএমকে জোট পেতে পারে প্রায় ৬০ থেকে ৮০টি আসন — যে ছবিটি তাতে একটি শক্ত উত্তরবাই পড়ে।

    প্রজা পোল এবং পি-মার্ক বেশি মনোগ্রাহী ফল দেখিয়েছে ডিএমকে জোটকে এগিয়ে রেখে। প্রজা পোল যেখানে টিভিকেকে মাত্র ১ থেকে ৯টি আসন দিয়েছে, পি-মার্ক বলছে টিভিকে পেতে পারে ১৬ থেকে ২৬টি আসন। ম্যাট্রিক্স এবং জেভিসি’র জরিপগুলোতে ডিএমকে ও এআইএডিএমকে জোটের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিলেছে।

    তবে কামাখ্যা অ্যানালিটিক্স একটু ভিন্ন ছবি দেখিয়েছে — তাদের জরিপে দেখা গেছে যদি টিভিকে ৬৭ থেকে ৮১টি আসন পায়, তাহলে তারা রাজ্য সরকার গঠনে বড় ভূমিকা রাখতে সক্ষম হতে পারে, অর্থাৎ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হতে পারে বিজয়ের দল।

    সব মিলিয়ে বুথফেরত জরিপগুলো রাজ্যের রাজনীতি এখনও অনিশ্চিত রেখেছে। বিভিন্ন সংস্থার ভিন্ন-মত ছাড়াও ভোটারের অনুপ্রেরণা এবং গ্রামে-শহরে রূপ নেওয়া প্রবণতা শেষ ফলাফল পর্যন্ত বড় ভূমিকা রাখবে।

    নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, ২৩ এপ্রিল তামিলনাড়ুর ২৩৪টি আসনে উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। বিকেল ৫টা পর্যন্ত মোট ভোটার উপস্থিতির হার ছিল ৮২.২৪ শতাংশ। এখন অপেক্ষা সরকারের গঠন ও চূড়ান্ত ফলাফল—আর সেই পর্যন্ত রাজ্যের রাজনৈতিক বাতাসে উত্তেজনা বিরামহীন থাকবে।

  • আসামের মুখ্যমন্ত্রীর বিতর্কিত মন্তব্যে ঢাকায় কড়া প্রতিবাদ, হাইকমিশনারকে তলব

    আসামের মুখ্যমন্ত্রীর বিতর্কিত মন্তব্যে ঢাকায় কড়া প্রতিবাদ, হাইকমিশনারকে তলব

    ঢাকা আক্রমণাত্মক মন্তব্য দাঁড় করাতে cijjh? — correction: likely a stray — I’ll produce final JSON without stray

    ঢাকা আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সম্প্রতি করা আপত্তিকর মন্তব্য সম্পর্কে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পবন কুমার ভাদেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করে বাংলাদেশের ওই প্রতিবাদ জানানো হয় এবং একটি কূটনৈতিক নোট হস্তান্তর করা হয়।

    ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া বিভাগে ডেকে এনে বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানানো হয়। এইজন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দপ্তরে রাজ্যপাল ইশরাত জাহান পড়েছিলেন।

    ঘটনাচক্রে আসামের মুখ্যমন্ত্রী একটি টিভি সাক্ষাৎকারে (এবিপি লাইভ) প্রশ্নের উত্তরে বলেন, বাংলাদেশের ‘উৎসের’ সন্দেহভাজন অনিবন্ধিত ব্যক্তিদের ফেরত পাঠানো ভারতের জন্য নিয়মতান্ত্রিকভাবে কঠিন। তিনি মন্তব্য করেন যে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ রাত অবধি অপেক্ষা করে এবং যখন সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কেউ উপস্থিত থাকে না, তখন অন্ধকারে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের সীমান্তে ঠেলে দেয়া হয়।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কূটনৈতিক পত্রে উল্লেখ করেছে, আসামের মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের পরিপ্রেক্ষিতে অবমাননাকর ও বিভ্রান্তিকর। বিশেষ করে যে জাতীয় ‘পুশব্যাক’ বা সন্দেহভাজন অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বলা হয়েছে, তা বাংলাদেশ সরকার অনাকাঙ্ক্ষিত ও অগ্রহণযোগ্য বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

    কূটনৈতিক নোটে আরও বলা হয়েছে, স্পর্শকাতর দ্বিপাক্ষিক ইস্যুতে কোন প্রকার তথ্য-প্রমাণ ছাড়া জনসমক্ষে এমন মন্তব্য করা দুই দেশের সম্পর্কের পক্ষে সহায়ক নয়। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ ও সীমান্ত সংক্রান্ত যে কোনো সমস্যার সমাধান আন্তর্জাতিক বিধি এবং বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক কাঠামোর মাধ্যমে চায়।

    ঢাকা হাইকমিশনারের মাধ্যমে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের প্রত্যেককে এমন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে, যেগুলো দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে প্রভাবিত করতে পারে। হাইকমিশনার পবন কুমার ভাদা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য গ্রহণ করেছেন এবং তা তাঁর সরকারের নিকট পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

    দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সংবেদনশীল বিষয়গুলো কূটনৈতিক চ্যানেল ও আলোচনা-সমাধানের মাধ্যমে মোকাবিলা করার ওপর জোর দিয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সংযম ও সংলাপের আহ্বান করা হয়েছে।

  • বিদ্যুৎ বিভাগের দাবি: দুই দিন দেশে লোডশেডিং ছিল না

    বিদ্যুৎ বিভাগের দাবি: দুই দিন দেশে লোডশেডিং ছিল না

    বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, দেশের কোথাও টানা দুই দিন লোডশেডিং হয়নি। তাদের দাবি, গত মঙ্গলবার ও বুধবার (২৮ ও ২৯ এপ্রিল) সারাদেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করে বিদ্যুৎ বিভাগ।

    এর আগে গত ২৭ এপ্রিল বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছিলেন যে পরবর্তী সপ্তাহ থেকে দেশে বিদ্যুতের পরিস্থিতি উন্নত হবে এবং লোডশেডিং কমে আসবে।

    তবে কিছুদিন আগেই, ২৩ এপ্রিল বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্মসচিব উম্মে রেহানা জানিয়েছিলেন যে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধজনিত পরিস্থিতির কারণে প্রয়োজনীয় জ্বালানি আমদানিতে বিঘ্ন ঘটেছে। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ দেয়া যাচ্ছিল না।

    এই পরিস্থিতিতে গ্রাম ও শহরের মধ্যে লোডশেডিং সমন্বয় করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, রাজধানী ঢাকায় পরীক্ষামূলকভাবে প্রতি এলাকায় ১১০ মেগাওয়াট করে লোডশেডিং চালানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং প্রয়োজনে শহরেও লোডশেডিং করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে যাতে বৈষম্য কমানো যায়।

  • সংবিধান সংস্কারের দাবিতে ১১ দলের নতুন কর্মসূচি, খুলনায় বিভাগীয় সমাবেশ ২০ জুন

    সংবিধান সংস্কারের দাবিতে ১১ দলের নতুন কর্মসূচি, খুলনায় বিভাগীয় সমাবেশ ২০ জুন

    সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য।

    জোটটি জানিয়েছে, ১৬ মে রাজশাহী বিভাগীয় সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হবে এবং পরবর্তীতে দেশের সব বিভাগীয় শহরে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। খুলনায় প্রথম ধাপে ইতিবাচক সমাবেশের দিন ধার্য করা হয়েছে ২০ জুন।

    বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলের বৈঠকের পর এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ।

    হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সংবিধান সংস্কারের পক্ষে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ রায় দিয়েও সরকার সেই জনভোটকে উপেক্ষা করছে। নির্বাচনের আগেই প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন সরকার সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভরসায় সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ এড়িয়ে ছলচাতুরি করছে।

    জোটের ঘোষিত বিভাগীয় সমাবেশের সূচি মতে: ১৬ মে রাজশাহী; ১৩ জুন চট্টগ্রাম; ২০ জুন খুলনা; ২৭ জুন ময়মনসিংহ; ১১ জুলাই রংপুর; ১৮ জুলাই বরিশাল এবং ২৫ জুলাই সিলেট।

    আযাদ বলেন, আসন্ন ঈদুল আজহার কারণে মে মাসে কেবল একটি বিভাগীয় সমাবেশ রাখা হয়েছে; ঈদের ছুটির পর জুন থেকে পূরোদমে আন্দোলন ও সমাবেশ পুনরায় শুরু হবে। প্রতিটি বিভাগীয় সমাবেশে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সব জেলা ও মহানগরের নেতা-কর্মী এবং সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করা হবে।

    তিনি আরও জানান, বিভাগীয় সমাবেশের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় সভারও আয়োজন করা হবে। বিশেষ করে শিক্ষক, আইনজীবী, চিকিৎসক ও গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথোপকথনের মাধ্যমে জনমত গঠন করা হবে। দেশের সাতটি বিভাগে বিষয়ভিত্তিক সেমিনারও চালানো হবে।

    সরকারকে উদ্দেশ্য করে ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক বলেন, জনগণের রায় নিয়ে ‘‘ছিনিমিনি খেলা’’ চলছে এবং এ অবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলন আরও জোরালো করতে হবে। তিনি ছাত্র সমাজকেও এই আন্দোলনে সক্রিয় ও সজাগ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

    জোটের বক্তব্য অনুযায়ী, ‘গণভোট অনুমোদিত জুলাই আদেশ’ অনুসারে সংবিধান সংস্কারের দাবিতে বর্তমানে তাদের দুই সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি চলছে। গত ১৮ এপ্রিল রাজধানীতে এবং ২৫ এপ্রিল অন্যান্য মহানগরে ১১ দল গণমিছিল করেছে। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী আগামী ২ মে দেশের সব জেলা শহরে গণমিছিল অনুষ্ঠিত হবে।

    বৈঠক ও ব্রিফিংয়ে দলীয় নেতৃত্বের এই বার্তা— সংবিধানভিত্তিক দাবি বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে এবং বৃহত্তর অংশগ্রহণের মাধ্যমে সরকারের পরিকল্পিত কৌশলকে প্রতিহত করা হবে।

  • তরুণদের আহ্বান নাহিদের: সারাদেশে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন, এনসিপি সমর্থন দেবে

    তরুণদের আহ্বান নাহিদের: সারাদেশে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন, এনসিপি সমর্থন দেবে

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন, ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণের মাধ্যমে কণ্ঠরোধ করছে। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি তরুণদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, “আপনারা সারাদেশে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন। এনসিপি আপনাদের সমর্থন জানাবে।”

    অনুষ্ঠনাটি ছিল নেতৃত্ব ও সাধারণ নাগরিকদের এনসিপিতে যোগদানের উদযাপন। এতে বিএনপি থেকে বহিস্কৃত নেতা ইসহাক সরকার, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতনি ফেরসামিন হক ইকবাল (ফ্লোরা), কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি এবং রেলের অনিয়মবিরোধী আন্দোলনে পরিচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন রনি আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগ দেন। ফেরসামিন বিদেশে থাকায় উপস্থিত থাকতে পারেননি; অন্যরা অনুষ্ঠানে মঞ্চে ছিলেন এবং তাঁদের পরিচয় ঘোষণার পর নাহিদ ইসলাম ফুল দিয়ে তাঁদের বরণ করেন।

    বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম বলেন, সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনের পর গঠিত সরকার গণভোটকে অস্বীকার করেছে এবং সেই নির্বাচনকে একটি সাধারণ ক্ষমতার পটপরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, সংবিধান ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের বিধানগুলো একে একে বাতিল করার মাধ্যমে সরকার নিজস্ব স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি বলেন, ব্যাংক লুটেরাদের জন্য সুযোগ তৈরির মতো পদক্ষেপ নেয়ার মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধীরে ধীরে দলীয়করণ করা হচ্ছে।

    বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পেশিশক্তি ও ক্ষমতার রাজনীতির পুনরুজ্জীবন ঘটছে—এমন অভিযোগও তুলেন নাহিদ। তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদ বা নতুন কোনো স্বৈরতন্ত্র তথা পুরোনো স্বৈরতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখার যেকোনো চেষ্টার বিরুদ্ধে জনগণ আবারও সংগঠিত হবে। জনগণ এনসিপির ছায়াতলেই ঐক্যবদ্ধ হবে—আমরা সেই সাড়া সারাদেশ থেকে পাচ্ছি।”

    এনসিপি সারাদেশে কার্যক্রম জোরদারের কথাও জানিয়েছেন নাহিদ। তিনি বলেন, “প্রতি সপ্তাহেই আমাদের যোগদান কর্মসূচি চলবে। রাজনীতি-সচেতন মানুষ ও তরুণদের কাছে আমাদের আহ্বান: এই দেশের ভবিষ্যত নিয়ে আমাদের সবার দায়িত্ব রয়েছে। যারা রাজনীতি করতে চান ও পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেন, তারা ঐক্যবদ্ধ হন। এনসিপি আপনাদের ধারণ করে এগোতে চায়।”

    বর্তমান সরকারের ব্যর্থতার দিক দিয়ে ক্রমশ ধাক্কা খাচ্ছে—এমন মন্তব্য করে নাহিদ বলেন, দেশের অর্থনীতি টালমাটাল এবং গণতন্ত্র নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিরাপত্তা নিয়েও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। তিনি বলেন, “এসব পরিস্থিতিতে জনগণের পাশে ঐক্যবদ্ধভাবে না দাঁড়ালে আমাদের আর কোনো উপায় নেই। আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি, ইনশাআল্লাহ।”

  • বাজুস টানা চার দফায় সোনার দাম কমালো

    বাজুস টানা চার দফায় সোনার দাম কমালো

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) দেশের বাজারে টানা চতুর্থবার সোনার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। 이번 রূপে প্রতি ভরি সোনার দাম সর্বোচ্চ ২ হাজার ২৫৮ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে। ফলে সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেট সোনার এক ভরি দাম দুই লাখ ৪০ হাজার ৩৩৭ টাকায় নেমে এসেছে, যা গতকাল ছিল দুই লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা।

    বাজুস এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এই নতুন দাম বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে। সংগঠনের বক্তব্য—তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার আন্তর্জাতিক দর কমায় স্থানীয় বাজারে দর সমন্বয় করা হয়েছে, তাই মূল্য হ্রাস করা হয়েছে।

    বেঁধে দেওয়া নতুন আভ্যন্তরীণ দাম অনুযায়ী অন্যান্য ক্যারেটের দরও নির্ধারণ করা হয়েছে: ২১ ক্যারেট প্রতি ভরি দুই লাখ ২৯ হাজার ৪৩১ টাকা, ১৮ ক্যারেট প্রতি ভরি এক লাখ ৯৬ হাজার ৬৫৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি এক লাখ ৬০ হাজার ১৪৭ টাকা।

    রুপার দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ২২ ক্যারেট রুপার এক ভরি দাম ৫ হাজার ৪৮২ টাকা, ২১ ক্যারেট ৫ হাজার ১৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৪৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা।

    আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সংক্রান্ত উত্তেজনার ফলে কিছু সময় আগে বিশ্ববাজারে সোনার দাম বাড়ে; এরপর মূল্য ওঠানামা করে। গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম প্রায় ৪,৫০০ ডলারে নেমে এসেছে। জানুয়ারিতে এই দামের শীর্ষ প্রায় ১,৫৫০ ডলারের কাছাকাছি উঠেছিল।

    স্থানীয় ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য এখনই শপিং বা কেনাবেচা করার সময়-পরিকল্পনা করা উচিত, কারণ বিশ্ববাজারের ওঠানামা দেশের বাজারেও সরাসরি প্রভাব ফেলে।

  • প্রাইজবন্ডের ১২৩তম ড্র: পুরস্কারজয়ীদের তালিকা

    প্রাইজবন্ডের ১২৩তম ড্র: পুরস্কারজয়ীদের তালিকা

    ১০০ টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ডের ১২৩তম ড্র অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ড্রে প্রথম পুরস্কার—৬ লাখ টাকা—জিতে নিয়েছেন সিরিজ নম্বর ০০০১০৩৫। দ্বিতীয় পুরস্কার (৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা) পেয়েছেন ০০৪৭৭৪৮ নম্বরপ্রাপ্ত ব্যক্তি।

    তৃতীয় পুরস্কার হিসেবে দুইজন করে ১ লাখ টাকা পেয়েছেন; বিজয়ী নম্বরগুলো ০৫৩৮২৮৯ ও ০৬৭৫৩৮২। চতুর্থ পুরস্কার (৫০ হাজার টাকা) বিতরণ করা হয়েছে দুটি নম্বর arasında: ০৪০০৪৫১ ও ০৫৬৭৬৪৪।

    এই ড্রটি বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

    প্রচলনযোগ্য ১০০ টাকা মূল্যমানের মোট ৮৪টি সিরিজের মধ্যে এবারে ৪৬টি সাধারণ সংখ্যা পুরস্কারের জন্য যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। ড্রটি একক সাধারণ পদ্ধতিতে (অর্থাৎ প্রত্যেক সিরিজের জন্য একই নম্বর) পরিচালিত হয়েছে। নেওয়া সিরিজগুলো হলো: কক, কখ, কগ, কঘ, কঙ, কচ, কছ, কজ, কঝ, কঞ, কট, কঠ, কড, কঢ, কথ, কদ, কন, কপ, কফ, কব, কম, কল, কশ, কষ, কস, কহ, খক, খখ, খগ, খঘ, খঙ, খচ, খছ, খজ, খঝ, খঞ, খট, খঠ, খড, খঢ, খথ, খদ, খন, খপ, খফ, খব, খম, খল, খশ, খষ, খস, খহ, গক, গখ, গগ, গঘ, গঙ, গচ, গছ, গজ, গঝ, গঞ, গট, গঠ, গড, গঢ, গথ, গদ, গন, গফ, গব, গম, গল, গশ, গষ, গপ, গস, গহ, ঘক, ঘখ, ঘগ, ঘঘ, ঘঙ ও ঘচ।

    পঞ্চম পুরস্কার হিসেবে ১০ হাজার টাকা করে ৪০ জন পুরস্কারজয়ী রয়েছেন। তাদের নম্বরগুলো হলো: ০০২১৭৪৯, ০২১৭৪১৯, ০৪৬১৪৭২, ০৫৮৮৯৬৬, ০৭৪৯৭৪০, ০০২২১৮১, ০২৪৬০৪৫, ০৪৬২০৫৬, ০৫৯৬৩৪৬, ০৭৫৯৯০৮, ০০৫৬৩৭৮, ০২৯৬৪০২, ০৪৭৮০১৫, ০৬০০৪৪০, ০৭৭২৭৭৩, ০০৯২৩৫৬, ০৩১১১৩০, ০৪৮০৫৬৭, ০৬০৭৩৪৯, ০৮১৩৬৫৯, ০১৪৪৫৬৭, ০৩৫৬৯৪২, ০৫১২০২৪, ০৬৩৯৩৬৭, ০৮৪৮০৪৬, ০১৫৫৩৯৮, ০৩৯৩২৭৭, ০৫৫১২২১, ০৬৪২০০২, ০৮৪৯৬১৪, ০১৫৫৯৩৪, ০৪১৩৫০১, ০৫৬৪৭৬০, ০৬৫০১১৯, ০৯২২৫৯৭, ০১৭৫৭৯২, ০৪৫২৪৪১, ০৫৭৩৮৬৫, ০৬৮৮৭৭৩ ও ০৯৪৭৬৬৫।

    উপরোক্ত নম্বরধারীরা যথাক্রমে ঘোষিত পুরস্কার পাবে। বিজয়ীদের জন্য প্রাপ্তি ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় অফিসিয়াল নির্দেশনা কর্তৃপক্ষ থেকে জানানো হবে।

  • জ্বালানি তেল ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ দামে

    জ্বালানি তেল ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ দামে

    ইরানকে কৌশলগতভাবে টার্গেট করার সম্ভাব্য সামরিক পরিকল্পনা হোয়াইট হাউসকে জানানো হবে—এমন সংবাদ প্রকাশিত হতেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম তীব্রভাবে বাড়তে শুরু করেছে।

    বৃহস্পতিবার এশীয় বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেল প্রায় ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১২৬ ডলারের ওপরে পৌঁছায়, যা ২০২২ সালের রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর থেকে সর্বোচ্চ মূল্য। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন হওয়া ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ২.৩ শতাংশ বাড়ে এবং ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০৯ ডলারে দাঁড়ায়।

    জুন ডেলিভারির ব্রেন্ট ফিউচার কন্ট্রাক্টের মেয়াদ বৃহস্পতিবার শেষ হচ্ছে। এদিকে এশিয়ার সকালের লেনদেনে তুলনামূলকভাবে সক্রিয় জুলাই কন্ট্রাক্টটি প্রায় ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ১১৩ ডলারে উঠেছিল। ফিউচার চুক্তি হচ্ছে নির্দিষ্ট এক দিনে কোনো সম্পদ কেনা বা বিক্রি করার বিধিবদ্ধ চুক্তি, তাই এগুলোতে মূল্য ওঠানামা বাজারের অনুভূতিকে দ্রুত প্রতিফলিত করে।

    অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনের সূত্রে বলা হয়েছে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ইরানের ওপর ধারাবাহিকভাবে ‘স্বল্প ও তীব্র’ হামলা চালানোর পরিকল্পনা তৈরি করেছে, যেখানে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে অবকাঠামোও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। এছাড়া হরমুজ প্রণালির একাংশ দখল করে সেটি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের উপযোগী করে তোলার একটি পরিকল্পনাও রয়েছে—যার জন্য স্থলভাগে প্রশস্ত সেনা মোতায়েনের সম্ভবনা থাকছে।

    বিবিসি এই বিষয়ে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এবং হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করে মন্তব্যের চেষ্টা করেছে। খবরের সূত্রে আরও বলা হয়, তেহরান হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করা জাহাজগুলোকে হুমকি দেয়া অব্যাহত রাখলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোকে অবরোধ করে রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছে—যার ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    এ ধরনের ‘দীর্ঘমেয়াদি’ অবরোধের প্রস্তুতির খবর বেরোনোর পর বুধবার তেলের দাম প্রায় ৬ শতাংশ বেড়ে যায়। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সামরিক পরিকল্পনার কথা বাজারে প্রতিফলিত হওয়ায় তরতর করে দর বাড়ছে, যা সরাসরি জ্বালানি ও পরিবহন খরচে প্রভাব ফেলতে পারে।

  • ভূমধ্যসাগরে আট দিন ভেসে ২৬ অভিবাসীর প্রাণহানি, ৭ জন উদ্ধার

    ভূমধ্যসাগরে আট দিন ভেসে ২৬ অভিবাসীর প্রাণহানি, ৭ জন উদ্ধার

    উন্নত জীবনের স্বপ্নে ইউরোপগামী একটি নৌকায় আট দিন ভেসে থাকার পর অন্তত ২৬ জন অভিবাসীর প্রাণহানি ঘটেছে—রয়টার্সের প্রতিবেদনে এমন শঙ্কা জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষের তথ্যে নির্দিষ্টভাবে ১৭ জনের মৃত্যুর বিষয় নিশ্চিত করা হয়েছে এবং আরও ৯ জনকে নিখোঁজ বলে গণনা করা হচ্ছে; একই সময়ে সাত জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

    ঘটনায় হতাশা ও মানবিক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। জানানো হয়েছে, নৌকা নৌগতি-বিকল থাকার ফলে এ লোকগুলো আট দিন ধরে সমুদ্রের তীর থেকে দূরে ভেসে ছিল। বিশুদ্ধ পানীয় জল ও খাবারের তীব্র অভাবই তাদের মরার প্রধান কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    রবিবারের খবর অনুযায়ী উদ্ধারকর্মীরা লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলের তোবরুক শহরের কাছাকাছি সমুদ্র থেকে তাদের উদ্ধার করেন; এই অভিযানে লিবিয়ার ন্যাশনাল আর্মি নৌবাহিনী এবং কোস্ট গার্ডের সঙ্গে রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরাও অংশ নিয়েছিল। নিরাপত্তা সূত্র বলেছে, কয়েক দিনের মধ্যে নিখোঁজ রয়েছেন বলেও যে নয়জনের মরদেহ তীরে ভেসে আসার সম্ভাবনা রয়েছে সেই আশাও প্রকাশ করা হয়েছে।

    এ পর্যন্ত মৃতদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। রেড ক্রিসেন্টের প্রচারিত কয়েকটি ছবিতে দেখা যায়, উদ্ধারকারী দল মৃতদেহগুলো কালো প্লাস্টিক ব্যাগে ভরে পিকআপের পেছনে বোঝাই করছেন—এরই মধ্যে তীব্র আবেগ ও নিন্দার ছোঁয়া দেখা গেছে।

    লিবিয়া দীর্ঘদিন ধরেই সাব-সাহারান আফ্রিকান অভিবাসীদের জন্য ইউরোপ যাওয়ার একটি প্রধান ট্রানজিট পথ হয়ে আছে। বহু ব্যক্তি যুদ্ধ, পীড়া ও দারিদ্র্য থেকে বাঁচতে মরুভূমি ও সমুদ্র পাড়ি দিয়ে বিপজ্জনক পথ পাড়ি দেয়; মানবপাচার চক্রগুলো এই পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে।

    এ প্রসঙ্গে, লিবিয়ান অ্যাটর্নি জেনারেল রয়েছেন উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপে—গত মঙ্গলবার ত্রিপোলির ফৌজদারি আদালত পশ্চিম লিবিয়ার জুয়ারার অপরাধী চক্রের চার সদস্যকে মানবপাচার, মুক্তিপণের জন্য অপহরণ ও নির্যাতনের দায়ে সর্বোচ্চ ২২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড প্রদান করেছে।

    অ্যাটর্নি জেনারেলের তথ্য অনুযায়ী, আরেকটি পৃথক মামলায় পাবলিক প্রসিকিউটরের কার্যালয় তোবরুক থেকে অভিবাসীদের একটি নটিনাটিগ নৌকায় পাঠানোয় জড়িত অন্য একটি চক্রকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছে। ওই নৌকাটি ডুবে যাওয়ায় পূর্বে ৩৮ জন সুদানি, মিশরীয় ও ইথিওপিয়ান নাগরিকের মৃত্যু হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

    ঘটনাগুলো স্থানীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে মানবপাচার এবং জীবনহানির বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা হিসেবে দেখানো হচ্ছে। এক্ষেত্রে লিবিয়ায় স্থায়ীভাবে নিরাপদ অভিবাসনবিধি ও পাল্টা অপরাধী নেটওয়ার্ক ভাঙতে কার্যকর তদন্ত ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা জরুরি—এমনটাই বলছে মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা।

    এই ট্র্যাজেডি অভিবাসীদের পরিবার-স্বজনের ওপর গভীর দুঃখ ছড়াচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আবারও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে যে মানবিক সুরক্ষা ও নিরাপদ পথ না থাকলে মানুষ জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলে বিপজ্জনক পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়। উদ্ধারের পরও আহত ও ক্লান্ত সবার জন্য নৌকা থেকে সরানো চিকিৎসা ও সহায়তার আহ্বান জানানো হয়েছে।

  • মহান মে দিবস আজ: শ্রমিক অধিকার ও পেশাগত সুরক্ষার ডাক

    মহান মে দিবস আজ: শ্রমিক অধিকার ও পেশাগত সুরক্ষার ডাক

    শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের দীর্ঘ সংগ্রামের স্মরণে আজ বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে মহান মে দিবস। বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে পালনকৃত এবারের অনুষ্ঠানের প্রতিপাদ্য— ‘‘সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত, আসবে এবার নব প্রভাত’’। দিবসটি বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৮০টির বেশি দেশে সরকারি ছুটির দিন হিসেবে পালন করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে উদযাপিত হচ্ছে।

    দিবসটির ঐতিহাসিক সূচনা ঘটে ১৮৮৬ সালের ১ মে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে। শিল্প বিপ্লবের পরে শ্রমিকরা দিনে ১০–১৬ ঘণ্টা কাজ করতে বাধ্য হওয়ায় তারা দৈনন্দিন কর্মদিবস আট ঘণ্টায় সীমাবদ্ধ করার দাবিতে সংগঠিত হয়। ঐ বছরের ১ মে ব্যাপক ধর্মঘট ও বিক্ষোভ শুরু হয়; আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ৪ মে হে মার্কেটে বোমা বিস্ফোরণ ঘটে এবং পুলিশের গুলিতে বহু মানুষ আহত ও নিহত হন। পরে কয়েকজন শ্রমিকনেতাকে বিতর্কিতভাবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ঘটনা আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও প্রতিবাদকে জ্বালানি দেয়। ১৮৮৯ সালের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক শ্রমিক সম্মেলনে ১ মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস হিসেবে গ্রহণের পর থেকে এই দিনটি বিশ্বজুড়ে শ্রমিক অধিকার ও ন্যায়তার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

    দিবসটি উপলক্ষে সকল গণমাধ্যম নানা রচনা ও অনুষ্ঠান প্রচার করবে। বাংলাদেশে সরকারি ছুটির পাশাপাশি কর্মসূচি, আলোচনা ও সমাবেশের মাধ্যমে দিনটি গুরুত্ব ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পালিত হবে।

    রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন ‘মহান মে দিবস এবং জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে বলেছেন, দেশের উন্নয়নে শ্রমজীবী মানুষের অবদান অপরিসীম; শ্রমিকরাই দেশের অগ্রযাত্রার মূল চালিকাশক্তি। তিনি শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরি করা এবং সামাজিক সুরক্ষা জোরদারের ওপর জোর দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি জানান, মালিক-শ্রমিক মধ্যে সুসম্পর্ক ও পেশাগত স্বাস্থ্য সুরক্ষার মাধ্যমে একটি শ্রমিকবান্ধব, মানবিক ও ন্যায়নিষ্ঠ রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্বের অগ্রপংক্তিতে অবস্থান করবে—এটাই তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও মহান মে দিবস এবং পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটি দিবস উপলক্ষে প্রদত্ত বাণীতে শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি নিয়মিত মজুরি পর্যালোচনার মাধ্যমে ন্যায্য মজুরি ও নারী-পুরুষ সমান মজুরি নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। পাশাপাশি প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য আর্থিক সুরক্ষা ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতের লক্ষ্যে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও তিনি ব্যক্ত করেছেন।

    দিবসটি উপলক্ষে কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সকাল ১০টায় বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এক আলোচনা সভা, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন। সভার সভাপতি থাকবেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

    এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে নয়াপল্টনে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন তারেক রহমান। বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান জানান, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ শীর্ষ পর্যায়ের জাতীয় ও শ্রমিক নেতারা সেখানে বক্তব্য দেবেন এবং তারা লক্ষাধিক শ্রমজীবী মানুষের উপস্থিতির প্রত্যাশা করছে।

    মহান মে দিবস স্মরণ করিয়ে দেয় শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাস ও শ্রমজীবী মানুষের অধিকারকে; একই সঙ্গে আজকের দিনে এই দাবিগুলোকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার আহ্বান আরও শক্তিশালী হবার উপযুক্ত মুহূর্ত।