Blog

  • খুলনায় ছেলের লাঠির আঘাতে মা মৃত্যুর ঘটনা

    খুলনায় ছেলের লাঠির আঘাতে মা মৃত্যুর ঘটনা

    খুলনা জেলার রূপসা উপজেলার আইচগাতি ইউনিয়নের খান মোহাম্মাদপুর গ্রামে এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে গেছে। পারিবারিক বিরোধের জেরে ছেলেকে লাঠির আঘাতে গুরুতর আহত হন তার মা, যার কারণে তিনি মারা গেছেন। ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে। নিহতের নাম মিম্মি বেগম (৪৪), তিনি স্থানীয় বাসিন্দা এবং হামিদুল ইসলামের স্ত্রী। অভিযুক্ত তার ছেলে, নাদিম ইসলাম, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত আটক করে।

    সূত্র মতে, সকাল ৮টার দিকে পারিবারিক বিবাদে উত্তেজনা বাড়লে, নাদিম তার মা মিম্মি বেগমের ওপর চড়াও হয়। এক পর্যায়ে পাশের গাছের ডাল দিয়ে তার মাথায় আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়।

    খবর পেয়ে সকাল পৌনে ৯টার দিকে আইচগাতি ক্যাম্পের পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত নাদিমকে আটক করে। এ সময় তাকে ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় কিছু বিক্ষুব্ধ ব্যক্তি বাধা দেয়। এর পর পুলিশকে লক্ষ্য করে অপ্রত্যাশিতভাবে হামলা চালানোর ঘটনা ঘটে, যেটা রোধে পুলিশ সদস্যরা পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন।

    খুলনা জেলা পুলিশের উচ্চ স্তরের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। সার্কেল এসপি এ সাইফুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশের সদস্যরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

    রূপসা উপজেলার আইচগাতি ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. উজ্জ্বল হোসেন জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ চলছে এবং এই ঘটনাটির সঙ্গে জড়িত সকলের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

  • খুলনা দেশের অন্যতম জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা

    খুলনা দেশের অন্যতম জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা

    প্রতিনিধিদল ফেডারেল রিপাবলিক অব জার্মানি পার্লামেন্টের পরিবেশ委员会 থেকে বুধবার খুলনায় পৌঁছেছেন। এই সফরের মূল লক্ষ্য হলো শহরজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জগুলোকে গভীরভাবে বুঝে নেওয়া এবং স্থানীয় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা। দুপুরে একটি আধুনিক হোটেলে কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জুসসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে তাদের এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কেসিসির পক্ষ থেকে অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, খুলনা দেশের অন্যতম জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল। এই অঞ্চল সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধির, লবণাক্ততা ব্যাপকতা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বেশ কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। এই সব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই সমাধান জরুরি।

  • জিডিপির প্রবৃদ্ধি ফের নিম্নমুখী

    জিডিপির প্রবৃদ্ধি ফের নিম্নমুখী

    চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার পুনরায় কমতে শুরু করেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সোমবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, অক্টোবর-ডিসেম্বরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩.০৩ শতাংশ, যা আগের প্রান্তিকের তুলনায় কম। গত জুলাই-সেপ্টেম্বরে এই হার ছিল ৪.৯৬ শতাংশ, এবং বছরের প্রথম প্রান্তিকে ছিল ৪.৯৬ শতাংশ। এর আগে, গত অর্থবছরে একই সময়ে প্রবৃদ্ধি ছিল ৩.৩৫ শতাংশ। এই ধারাবাহিক কমতি বোঝায় যে, দেশের অর্থনীতি কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়ে পুনরায় দুর্বল হতে শুরু করেছে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, বৈশ্বিক বাজারে অস্থিতিশীলতা এবং সংঘর্ষের কারণে জ্বালানি ও গ্যাসের দাম বেড়ে চলা মূল কারণ। ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ আক্রমণে ইরানে সংঘর্ষের শুরু হয়, যা পরে আরও কিছু দেশে ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ঝামেলা দেখা গেছে এবং জ্বালানি সরবরাহের বাধা সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতির প্রভাব আমাদের দেশে মহামারি পরিস্থিতির মতো এক জ্বালানির সংকটের সৃষ্টি করেছে, যা দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যাপক ব্যাঘাত ঘটিয়েছে।

    অন্যদিকে, বর্তমানে অর্থনৈতিক স্থবিরতা বিদ্যমান থাকায় সরকারি অর্থায়নও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। গত জুনে অন্তর্বতীকালীন ও নতুন সরকার ক্ষমতায় এসে অর্থনীতির পুনরুদ্ধারে তেমন কিছুও করতে পারছে না। এ পরিস্থিতিতে দেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জনে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

    বিবিএসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এ সময়ের মধ্যে শিল্প খাতে সবচেয়ে কম প্রবৃদ্ধি হয়েছে, যেখানে প্রবৃদ্ধির হার শুধুমাত্র ১.২৭ শতাংশ। অন্যদিকে, কৃষি খাতে ৩.৬৮ শতাংশ এবং সেবা খাতে ৪.৪৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। উল্লেখ্য, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে শিল্পখাতে সর্বোচ্চ ৬.৮২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গিয়েছিল। কিন্তু দ্বিতীয় প্রান্তিকে এসে এই খাতে প্রবৃদ্ধির হার অনেক কমে গেছে।

    অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়িয়েছিল ২.০৫ শতাংশ, যা এর আগে প্রথম প্রান্তিকে ৪.৯৬ শতাংশে উঠেছিল। এই পতনের মাধ্যমে বোঝা যায়, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারাটি কিছুটা স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শিল্প খাতের অবদান যদি আরও দুর্বল হয়, তবে অন্যান্য খাতের উন্নয়ন এই ঋতুতে কঠিন হবে এবং বছরের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অনিশ্চয়তা হিসেবে দেখা দিতে পারে।

  • সোনার দাম ভয়াবহ লাফ, ভরিতে ৬,৫৯০ টাকা বৃদ্ধি

    সোনার দাম ভয়াবহ লাফ, ভরিতে ৬,৫৯০ টাকা বৃদ্ধি

    দেশের বাজারে আবারো বেড়েছে সোনার দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ভরিতে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বৃদ্ধির মাধ্যমে ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫২ হাজার ৪০৯ টাকা। নতুন এই মূল্য আজ থেকেই কার্যকর হবে।

    বাজুসের এই সিদ্ধান্তের পিছনে স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দামের রেকর্ড বৃদ্ধি অন্যতম কারণ। এই মূল্য নির্ধারণের মাধ্যমে বাজারে অন্তর্ভুক্ত সকল ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন দাম কার্যকর হবে।

    নতুন দামের ভিত্তিতে, ২২ ক্যারেটের সোনার দাম প্রতি ভরি হবে ২ লাখ ৫২ হাজার ৪০৯ টাকা। এছাড়াও, অন্যান্য ক্যারেটের সোনার মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ২১ ক্যারেটের জন্য ২ লাখ ৪০ হাজার ৯২০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ২ লাখ ৬ হাজার ৫১১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার জন্য ১ লাখ ৬৮ হাজার ১৯৫ টাকা।

    প্রতি ভরি রুপার দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। আজ থেকে ভরিতে ৩৫০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৮৯০ টাকা। অন্য ক্যারেটের জন্য, ২১ ক্যারেটের রুপার দাম ৫ হাজার ৫৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৪ হাজার ৭৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির জন্য ৩ হাজার ৬১৬ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।

  • যুদ্ধপরিস্থিতির অব্যাহত থাকলে মূল্যস্ফীতি ১২% ছাড়িয়ে যেতে পারে

    যুদ্ধপরিস্থিতির অব্যাহত থাকলে মূল্যস্ফীতি ১২% ছাড়িয়ে যেতে পারে

    মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে দেশের অর্থনীতিতে গুরতর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে ডলার মোকাবেলায় টাকার মান অপ্রত্যাশিতভাবে কমবে এবং জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হবে। এই প্রভাবগুলো মিলিত হয়ে ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশের বর্তমান হার থেকে গিয়ে ১২ শতাংশের বেশি পর্যন্ত উঠতে পারে। এর সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও চাপ বাড়বে, কারণ আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব সামাল দিতে গিয়ে রিজার্ভের পরিমাণ কমে যেতে পারে। এর ফলে অর্থনৈতিক বিভিন্ন খাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে যদি জ্বালানি তেলের দাম বেশি না বাড়ে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে, তাহলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসতে পারে। এতে আমদানির চাপ কমে যাবে এবং টাকার মান অপরিবর্তিত থাকতে পারে, ফলে মূল্যস্ফীতির চাপও কিছুটা হ্রাস পাবে।

    সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন মডেল ও পদ্ধতি ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কী ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, সে বিষয়টি বিশ্লেষণ করেছে। এর মধ্যে জ্বালানি তেলের বিশ্ববাজারের দাম বৃদ্ধির প্রভাব, ডলারের মূল্যবৃদ্ধি এবং রিজার্ভের উপর চাপ অন্তর্ভুক্ত। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যদি চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ৭০ শতাংশ বাড়ে এবং দ্বিতীয় প্রান্তিকে আরও ৩০ শতাংশ করে বৃদ্ধি পায়, তাহলে বাংলাদেশের বাজারে তাকে সামাল দেওয়ার জন্য তেলের দাম সমন্বয় করতে হবে।

    তাদের হিসাব অনুযায়ী, এই পরিস্থিতিতে ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্য ৫ শতাংশ অবমূল্যায়িত হলে, প্রথম প্রান্তিকে এটি ৫ শতাংশ আর দ্বিতীয় প্রান্তিকে আরো ৫ শতাংশ অবমূল্যায়িত হবে। এর ফলে মূল্যস্ফীতির হার ডিসেম্বরের মধ্যে প্রায় ১১.৬৭ শতাংশে পৌঁছাতে পারে, যেখানে বর্তমানে সেটি ৯.৫৬ শতাংশ। আবার যদি তেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি ডলারের মূল্যও ৫ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত অবমূল্যায়িত হয়, তাহলে সেক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতির হার আরো ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ১২.২৮ শতাংশে গিয়ে ঠেকতে পারে। আর এই সময়ের মধ্যে দেশের রিজার্ভ আরও কমে ২৩০০ কোটি ডলার vicinity-এ দাঁড়াতে পারে।

    তবে এই সব হিসাব অনুমানের ওপর ভিত্তি করে, যা বিভিন্ন জিনিসের ভবিষ্যদ্বাণী ও ধরণ অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে। যদি জ্বালানি তেলের দাম অপ্রত্যাশিত বড় ধরনের পরিবর্তন না হয়, তবে ডিসেম্বরের মধ্যে মূল্যস্ফীতির হার ১০ শতাংশের কাছাকাছি থাকতে পারে।

    বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যদি আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম হঠাৎ করে খুব বড়ভাবে বৃদ্ধি পায়, তা হলে ডলার বা বৈদেশিক মুদ্রার মূল্য বাড়বে, যা দেশের অর্থনীতির দুর্বলতা আরও প্রকট করে তুলবে। এর ফলে মুদ্রার মান কমে যায় এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংককে হস্তক্ষেপ করতে হয়, ডলার বিক্রি করে রিজার্ভ কমাতে হয়। এটি দীর্ঘ মেয়াদে দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

    আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামের অযৌক্তিক বা হঠাৎ বড় পরিবর্তন হলে, তা ডলারের বিনিময় হারকে দুর্বল করে তুলবে, ফলে মূল্যস্ফীতির উপর বড় ধরনের চাপ বৃদ্ধি পাবে। এমন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ডলার বিক্রি অথবা বিনিময় হার বাড়াতে হতে পারে, যা রিজার্ভের উপর Additional চাপ সৃষ্টি করবে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দ্রুত কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকছে।

    সম্ভাব্য এই পরিস্থিতি মোকাবিলায়, অর্থনীতির স্থিতিশীলতা রক্ষায় মূলত রিজার্ভের চাপ কমাতে এবং ডলারের মূল্য সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখার জন্য বিনিময় হার কিছুটা নমনীয়তা আনা প্রয়োজন হতে পারে। পাশাপাশি, অর্থনীতির প্রভাব কমানোর জন্য দেশের জ্বালানি তেলের দাম বা রাজস্ব ব্যবস্থায় সামান্য বাড়তি পরিবর্তন জরুরি হতে পারে।

    সারসংক্ষেপে বলতে গেলে, বিশ্ববাজারের জ্বালানি তেলের দামের অস্থিরতা এবং ডলারের মানের পরিবর্তন সরাসরি প্রভাব ফেলছে দেশের মূল্যস্ফীতিতে। এর ফলে, ভোক্তা পর্যায়ে দাম বেশি হবে, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পাবে এবং অর্থনীতিতে চাপ আরও বাড়বে। উপরন্তু, এসব অনিশ্চয়তা সামাল দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকারের সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রবণতা থাকছে।

  • অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা: ৮ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ছাড়ালো দুই লাখ কোটি টাকা

    অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা: ৮ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ছাড়ালো দুই লাখ কোটি টাকা

    চলতি অর্থবছরের (২০২৫-২৬) প্রথম আট মাসে বাংলাদেশে বাণিজ্য ঘাটতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। রপ্তানির তুলনায় আমদানি বেশি হওয়ায় এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানিসহ বিভিন্ন পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় এই অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দেশের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ বর্তমানে ১ হাজার ৬৯১ কোটি ডলার বা অন্য ভাষায় প্রায় ২ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছর একই সময় ছিলো ১৩৭১ কোটি ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক লেনদেনের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, ফেব্রুয়ারিতে রমজানের আগে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য যেমন ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, ডাল ও খেজুরের আমদানি বেড়ে যাওয়ায় মোট আমদানির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এর পাশাপাশি রপ্তানি পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় বাণিজ্য ঘাটতি আরও বাড়ছে। অর্থনীতির স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য দেশকে এখনই আমদানির নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব দিতে হবে এবং রপ্তানি বৃদ্ধি করতে হবে, অন্যথায় দেশের অর্থনীতি সংকটে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    অর্থনৈতিক তথ্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আট মাসে দেশের বিভিন্ন পণ্য আমদানি হয়েছে ৪ হাজার ৬১৭ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিলো ৪৩৮৭ কোটি ডলার। অপর দিকে, রপ্তানি হয়েছে ৩০০৬ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৬ শতাংশ কম। এই আকাশচুম্বী আমদানির কারণে পণ্যবাণিজ্যে চলতি বছরে বড় ধরনের ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে।

    বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানিসহ পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি ও ভোক্তা চাহিদা বেশি থাকায় দেশ বৃহৎ পরিমাণে আমদানি করছে, যার ফলশ্রুতিতে বাণিজ্য ঘাটতিতে পড়ছে। তবে দেশের কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স এখনো সামান্য ঋণাত্মক থাকলেও, পরিস্থিতি উন্নতির পরিবর্তে আরো বেশি চাপের মধ্যে পড়ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির শেষে চলতি অর্থবছরে এই ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০০ কোটি ডলার, যা আগের বছর একই সময়ে ছিলো ১৪৭ কোটি ডলার।

    অন্যদিকে, দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কিছুটা স্বস্তির দিকে, কারণ সামগ্রিক লেনদেনের হিসাব ভালো অবস্থায় রয়েছে। প্রথম ৮ মাসে প্রবাসীরা দেশের জন্য রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ২ হাজার ২৪৫ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২১ শতাংশ বেশি।

    এছাড়া, দেশের বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বৃদ্ধি পাচ্ছে দুটো ভিন্ন পরিস্থিতির মধ্যে। জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত, এই সময়ে ব্যাংকগুলো প্রাপ্ত এফডিআই ১০৬ কোটি ডলার থাকলেও চলমান অর্থবছরে তা কিছুটা কমে ৮৭ কোটি ডলারে নেমেছে। অন্যদিকে, দেশের শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ কিছুটা নেতিবাচক অবস্থায় এসেছে; প্রথম ৮ মাসে নিট বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ আগের বছরের মতোই নেগেটিভ থাকায় পরিস্থিতি কিছুটা সূচকীয় পরিবর্তন হয়েছে।

  • ২০২৪ সালে ব্যাংকখাতে লোকসান ও সিএসআরে হ্রাস

    ২০২৪ সালে ব্যাংকখাতে লোকসান ও সিএসআরে হ্রাস

    ২০২৪ সালে দেশের ব্যাংক খাতের জন্য এক কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং বছর ছিল। অর্থনৈতিক অস্থিরতা, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং বিভিন্ন আর্থিক সংকটের কারণে বেশ কটি ব্যাংকই নিট মুনাফা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। সাফল্য অর্জনকারী ব্যাংকগুলোও প্রত্যাশিত মাত্রায় লাভ করতে পারেনি। এর ফলে দেশের কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাতেبان্কগুলোর ব্যয় অনেকখানি কমে গেছে, যা আগের বছরের তুলনায় মাত্র অর্ধেকের কাছাকাছি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সদ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের ৬১ টি ব্যাংক মাত্র ৩৪৫ কোটি ৫ লাখ টাকার সিএসআর খাতে ব্যয় করেছে। এটি আগের বছর থেকে ২৭০ কোটি ৯১ লাখ টাকা বা প্রায় ৪২ শতাংশ কম। এই অন্তর্মুখী প্রবণতা গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে নিম্ন পর্যায়ে এসেছে। আগে ২০১৫ সালে সবচেয়ে কম ব্যয় ছিল ৫১২ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এর চেয়েও এবার প্রায় ১৮২ কোটি টাকা বা ৩৪.৫৭ শতাংশ কম ব্যয় হয়েছে, যা খাতের জন্য নতুন অন্ধকারের ইঙ্গিত দেখাচ্ছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২৪ সালে ব্যাংকগুলো এই খাতে মোট ৬১৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা ব্যয় করেছে, যা ২০২৩ সালের তুলনায় ৩০৮ কোটি টাকা বা ৩৩ শতাংশ কম। ২০২৩ সালে ব্যয় ছিল ৯২৪ কোটি ৩২ লাখ টাকা, এবং ২০২২ সালে তা ছিল ১,১২৯ কোটি টাকা। ফলে, দুই বছরের ব্যবধানে এই খাতে ব্যয়ের পরিমাণ একেছ ৫১৩ কোটি টাকার বেশি, যা প্রায় ৪৫ শতাংশেরও বেশি হ্রাস দেয়।

    বিশ্লেষক ও খাত সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে করোনা-পরবর্তী অর্থনৈতিক বিপর্যয়, ছাত্র-জনতার আন্দোলন, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ক্ষমতা পরিবর্তনের প্রভাবে ব্যাংকিং খাতে বড় ধাক্কা লেগেছে। একই সময় বিভিন্ন ব্যাংকের মধ্যে অনিয়ম, লুটপাট, অর্থ পাচার ও ঋণ খেলাপির তথ্য প্রকাশিত হতে শুরু করে। এর ফলে কাগজে-কলমে দেখানো মুনাফার পেছনে সব সময়ের আসল আর্থিক ছবি উন্মোচিত হয়। এছাড়াও, খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় প্রকৃত ব্যাংক লোকসানের হিসাব স্পষ্ট হয়।

    বিশেষ করে শরিয়া ভিত্তিক কয়েকটি ব্যাংক বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে। এসব ব্যাংকে বেশ কিছু শিল্পগোষ্ঠীর ঋণে অনিয়ম ও অর্থ পাচারের প্রভাব স্পষ্ট দেখা যায়। এই পরিস্থিতিতে রাষ্ট্র বিভিন্ন দুর্বল ব্যাংকের স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারে কিছু ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

    ব্যাংকাররা বলছেন, সিএসআর ব্যয়ের হ্রাসের পিছনে রাজনৈতিক পরিবর্তনের বিষয়টিও গুরুত্ব সহকারে দেখা দরকার। আগে রাজনৈতিক সরকার সময় বিভিন্ন পর্যায় থেকে অনুদান বা সহায়তার জন্য চাপ সৃষ্টি করত। শিক্ষাখাতে, স্বাস্থ্যখাতে, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বা অন্যান্য দানশীল কার্যক্রমে ব্যাংকগুলোকে অর্থ ব্যয় করতে বলা হত। অনেক সময় এই ব্যয়গুলো প্রকৃত সিএসআরের আওতার বাইরে চলে যেত। কিন্তু ২০২৪ সালের সালে জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন এবং আগস্টে রাজনৈতিক ক্ষমতা পরিবর্তনের পর এই চাপ অনেক চাপ কমে গেছে। এখন ব্যাংকগুলো বিবেচনা করে তুলনামূলকভাবে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যয় করছে।

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সিএসআর খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা একান্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক প্রভাব ও চাপের কারণে অনেক সময় এই অর্থ অব্যবহারযোগ্য বা অননুমোদিত খাতে ব্যয় হয়, যা মূল উদ্দেশ্য থেকে সরিয়ে দেয়।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো তাদের নিট মুনাফার একটি অংশ সিএসআর খাতে ব্যয় করতে বাধ্য। এর মধ্যে ৩০ শতাংশ শিক্ষা, ৩০ শতাংশ স্বাস্থ্য এবং ২০ শতাংশ পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ব্যয় করতে বলা হয়। বাকি ২০ শতাংশ অন্য যেকোনো সামাজিক ও অর্থনৈতিক খাতে ব্যয় করা যাবে।

    তবে বাস্তবে এ নিয়ম মানা হচ্ছে না বললেই চলে। ২০২৫ সালে ব্যাংকগুলো সবচেয়ে বেশি ৩৬ শতাংশ ব্যয় করেছে ‘অন্য’ খাতে। শিক্ষায় ব্যয় হয়েছে ২৮.৫৩ শতাংশ, স্বাস্থ্য খাতে তা ছিল উল্লেখযোগ্য অংশ, কিন্তু পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে মাত্র ১০ শতাংশের কিছু বেশি ব্যয় হয়েছে।

    প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২৪ সালে ১১টি ব্যাংক সিএসআর খাতে কোনো অর্থ ব্যয় করেনি। এগুলো হলো-জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামি ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    এছাড়া, সরেজমিনে দেখা গেছে, এই খাতে ব্যয় করা ব্যাংকের মধ্যে বেশ কিছু ব্যাংক লোকসানে চলে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংক, আইসিবি ইসলামি ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    অতিরিক্ত উল্লেখ্য, এসব ব্যাংকের মধ্যে ছয়টি ব্যাংক, যদিও মুনাফা অর্জনে না পারলেও সিএসআর খাতে অর্থ ব্যয় করে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে-এবিবি ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামি ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক।

  • অভ্যুত্থানের আশঙ্কা: আসিফের সতর্কতা ২৬-২৭ সালে আবারও ঘটতে পারে সংঘর্ষ

    অভ্যুত্থানের আশঙ্কা: আসিফের সতর্কতা ২৬-২৭ সালে আবারও ঘটতে পারে সংঘর্ষ

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সরকারকে সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান সরকার যদি ২০২৪ সালে অর্জিত গণতান্ত্রিক চেতনা ও সংগ্রামের মূল্য রক্ষা করতে না পারে, তাহলে ২০২৬ বা ২০২৭ সালে আবারও একই ধরনের অভ্যুত্থান ও অরাজকতা ঘটে যেতে পারে। তিনি এই আশঙ্কা প্রকাশ করেন রোববার (৫ এপ্রিল) দলের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে।

    আসিফ মাহমুদ উল্লেখ করেন, বিএনপি সরকার প্রায়ই বলে যে আগামী ১৫-২০ বছরেও দেশে কোনো গণ-অভ্যুত্থান হবে না। কিন্তু ইতিহাস বলছে অন্য কথা। ৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানের প্রকট অর্জন যদি সংরক্ষিত না হয়, তখনই ৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মতো বৃহৎ পরিবর্তন ঘটে। তাই, যদি ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের স্বপ্ন ও চেতনা রক্ষার বিফলতা হয়, তবে পরের বছরগুলোতে আবারও অশান্তি ও বিপর্যয় আসতে পারে।

    সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে গণভোটের রায় অস্বীকার, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার অধ্যাদেশ বাতিল ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির উপর আড়ালে ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে তিনি বলেন, প্রশাসনিক নিয়োগের ক্ষেত্রে সংবিধান লঙ্ঘন করা হচ্ছে, যেখানে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত প্রতিনিধির পরিবর্তে নির্বাহী বিভাগের নেতারা ক্ষমতা রাখছেন। এই প্রক্রিয়া বিরোধী দলের ভোটারের জন্য ভয়ভীতি সৃষ্টি করছে, যা সম্পূর্ণ সংবিধানের বিরোধী।

    তিনি আরও উদ্বেগ ব্যক্ত করেন, ফোনে আড়ি পাতার ক্ষমতা বেড়েছে। আওয়ামী শাসনামলে ১৮-১৯টি সংস্থার মাধ্যমে ব্যক্তিগত ফোনের উপর নজরদারি চলে, যা আইনী বাধ্যবাধকতা ছাড়াই হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এই ক্ষমতা কিছুটা কমে আসলেও বর্তমান সরকার আবারও এই ক্ষমতা ফিরিয়ে দিচ্ছে, যেখানে ১৮-১৯টি এজেন্সির হাতে আবারও নজরদারির ক্ষমতা চলে এসেছে।

    এনসিপির নেতা বলেন, বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক অবস্থা ফ্যাসিবাদী রূপ নেওয়ার দিকে এগোচ্ছে। যদি সরকার গণভোটের রায় মানতে না চায়, তাহলে তাদের অবৈধ সরকার ঘোষণা করতে তারা দেরি করবে না। তারা বলেন, বর্তমান সরকারের অর্জন ভূলুণ্ঠিত হতে পারে, আমরা তাদের অবৈধ বলার ক্ষেত্রেও সংযুক্ত আছি।

    সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায়, আসিফ মাহমুদ বলছেন, তবে আমরা শুরু থেকেই এই সরকারকে সহযোগিতা করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তাদের সদিচ্ছার অভাবের কারণে তা সম্ভব হয়নি। বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় তারা সকল অংশীজনের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত, তবে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও গণভোটের নাটকীয়তা দেখে এখন আর অন্য কোনও পথ খোলা নেই, তাই রাস্তায় আন্দোলনে নামতে বাধ্য হচ্ছি। এর ফলে দেশ ও মূল্যবোধের ক্ষতি হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সংস্কার কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট জাবেদ রাসেল, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারসহ বেশ কয়েকজন নেতা।

  • গণভোটের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করব, না মানুক সংসদ: জামায়াত আমিরের কঠোর অঙ্গীকার

    গণভোটের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করব, না মানুক সংসদ: জামায়াত আমিরের কঠোর অঙ্গীকার

    জামায়াতে ইসলামী’র আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সংসদ মানুক বা না মানুক, গণভোটের রায় তিনি বাস্তবায়ন করে ছাড়বেন। তিনি আরো বলেন, সম্প্রতি সংসদ নির্বাচনের ফল হাইজ্যাক করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে, ‘৭০ শতাংশ মানুষ হ্যাঁ এর পক্ষে ভোট দিয়েছে। আমি হ্যাঁ এর পক্ষে ছিলাম, আছি, থাকছি। জনগণের সুপ্রিম উইলের প্রতি সম্মান জানিয়ে আমরা এই রায় বাস্তবায়নের জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।’ তিনি বলেন, ‘এই সংসদ মানুক বা না মানুক, গণভোটের রায় আমরা শক্ত হাতে বাস্তবায়ন করব। এটি ইনশাআল্লাহ, আদায় করে ছাড়ব।’ সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

    বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে একটি দেশ ও জাতি গঠন করতে হলে প্রথমে নিজের দলের ভেতরেই ন্যায়বিচার, ইনসাফ ও গণতন্ত্রের চর্চা করতে হবে। যারা নিজেদের দলের ভিতর গণতন্ত্রের চর্চা করতে পারে না, তারা ১৮ কোটি মানুষের নিরাপত্তা দিতে পারবে না। তারা জনগণকে গণতন্ত্র উপহার দিতে সক্ষম হবে না।’

    তিনি যোগ করেন, ‘জনগণ ইতোমধ্যে রায় দিয়ে দিয়েছে। চব্বিশে তারা নিরপেক্ষভাবে তাদের ভোট দিয়েছেন। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, যদি এই রায় তারা দিয়েছেন, তাহলে কেন তারা সরকার গঠন করতে পারছেন না? কারণ, জনগণের ভোটকে হাইজ্যাক করা হয়েছে, এটিকে ডাকাতি করা হয়েছে। তারা জনগণের সাথে প্রতারণা করেছে এবং তার প্রমাণ ইতোমধ্যেই পাওয়া গেছে।’ এছাড়া, তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ ঘুঘু বারবার আসে ধান খেয়ে চলে যায়, কিন্তু যখন কপালে মন্দ থাকে, তখন ঘোড়ার জালে আটকা পড়ে। এই পরিস্থিতিতেও জনগণের ধানের মূল্য বুঝতে হবে, কারণ এই লজ্জাজনক পরিস্থিতি থেকে মুক্তির জন্য কেবল আন্দোলনের মাধ্যমেই রায় বাস্তবায়ন সম্ভব।’

    সংসদ কার্যক্রমে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ না হলে ভবিষ্যতে আন্দোলনের মাধ্যমে সেই রায় বাস্তবায়নের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে ডা. শফিকুর বলেন, ‘আগে যেমন কেয়ারটেকার ব্যবস্থার দাবি আদায়ের জন্য সংসদে উদ্যোগ নেওয়া হয়নি, তেমনি এখনো মনে করি, জনগণের শক্তির ওপর ভর করেই এগিয়ে যেতে হবে। সংসদে উদ্যোগের অভাবে যদি সমাধান না হয়, তাহলে অন্য কোন পথ ছাড়াই জনগণের কাছে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।’

    জ্বালানি সংকটজনিত ভোগান্তির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সংসদে এ বিষয়গুলো আলোচনা হলেও তার যথাযথ সমাধান হয়নি। ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে সংকট বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে কৃষি উৎপাদনে। এর ফলে খাদ্যসংকটের ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।’

    শিক্ষাক্ষেত্রে জ্বালানি সংকটের কারণে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ক্ষতিকর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘জ্বালানি সংকটের অজুহাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাহত হলে তা ভয়াবহ ফলাফলের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। প্রযুক্তিকে প্রাথমিকভাবে দেখা উচিত, শিক্ষাকে সর্বশেষ বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘সংসদে থাকা আমাদের প্রতিনিধিরা জনগণের স্বার্থে কাজ করবে এবং অন্যায়ের কাছে নতি স্বীকার করবে না।’ অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে জাগপা, যেখানে সভাপতিত্ব করেন দলটির সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান। প্রধান বক্তা ছিলেন পার্টির সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী রাশেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমানসহ অন্যান্যরা।

  • ১১ দলীয় জোটের চার দিনের কর্মসূচি ঘোষণা

    ১১ দলীয় জোটের চার দিনের কর্মসূচি ঘোষণা

    দেশব্যাপী সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে চার দিনব্যাপী কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোট। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাজধানীর মগবাজারে এক বৈঠকের পর বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

    মামুনুল হক অভিযোগ করেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে সরকার জনগণের ম্যান্ডেটকে উপেক্ষা করছে এবং হাস্যকর করে তুলেছে। তিনি বললেন, সংস্কার সংক্রান্ত ব্যাপারে নির্বাচন পূর্ববর্তী ঐকমত্য এখন ক্ষতিগ্রস্ত। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার জনআকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে একদলীয় ফ্যাসিবাদ সৃষ্টি করতে চাইছে। জনদুর্ভোগের সমালোচনাকেও সরকার দমন করে। তবে বলে রাখতে হবে, ১১ দল এই নব্য ফ্যাসিবাদকে শক্ত হাতে প্রতিহত করবে।

    তিনি জানান, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন যেন কোনভাবেই পিছিয়ে না পড়ে, এজন্য ৯ এপ্রিল বিকেলে সপ্তাহব্যাপী একটি লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি শুরু হবে। এরপর ১১ এপ্রিল সারা দেশের উপজেলা ও থানায় বিক্ষোভ মিছিল এবং ১২ এপ্রিল জেলাগুলোর প্রধান শহরে সমাবেশ ও বিক্ষোভের আয়োজন করা হবে। ১৩ এপ্রিল ঢাকায় গণভোটের রায় বাস্তবায়নের পক্ষে এক জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে।

    অন্যদিকে, সরকার বিরোধী দলের আন্দোলনের কারণ অপপ্রচার করছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, বিএনপির কর্মকাণ্ডে জাতি হতবাক ও বিস্মিত। গণভোটের রায় নিয়ে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট অপ্রয়োজনীয়ভাবে ঠেকিয়ে রাখা হয়েছে। সংসদে অল্প একজনের কর্মকাণ্ডের কারণে বিএনপি সংবিধানের ব্যাপারে সংকটের মুখে পড়েছে।

    গোলাম পরওয়ার আরও জানান, জ্বালানি সংকট নিয়ে সংসদে বিরোধীদল কথা বলতে চাইলে তাদেরকে বাধা দেওয়া হচ্ছে। দিল্লির অগ্রাধিকারের বিরুদ্ধে যারা অবস্থান নিচ্ছেন, তাদেরকেও সরকারি দলের পক্ষ থেকে জাতীয়তাবিদের দাগ দিয়ে দিচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিএনপিকে সংবিধান সংস্কার আন্দোলনে শপথ নিতে হবে।