Blog

  • নগরীতে কিশোর গ্যাংয়ের তিন সদস্য গ্রেফতার

    নগরীতে কিশোর গ্যাংয়ের তিন সদস্য গ্রেফতার

    নগরীর সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ নগরীতে কিশোর গ্যাংয়ের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। এই সময় তাদের কাছ থেকে একটি চীনা কুড়াল, একটি ধাতব পাঞ্চ ও একটি স্কুলব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলো মোঃ আকাশ আহম্মেদ জনি (১৯), শাহরিয়ার ইমন (১৯) এবং মোঃ নাফিজুল ইসলাম (১৯)। পশ্চিম বানিয়াখামার পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মোঃ ফারুক আলম জানান, সোমবার রাতে ডিউটি পালনকালে তিনি বসুপাড়া মেইন রোডের বসুপাড়া নার্সারির ভেতরে অভিযান চালান। সেখানে তারা সেগুন বাগানের একটি স্থান থেকে এসব অস্ত্র ও মালামালসহ তাদের আটক করেন। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় মঙ্গলবার সোনাডাঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

  • বাগেরহাট জেলা ছাত্রদলের নতুন সভাপতি রাসেল, সাধারণ সম্পাদক রাহুল

    বাগেরহাট জেলা ছাত্রদলের নতুন সভাপতি রাসেল, সাধারণ সম্পাদক রাহুল

    দীর্ঘ আট বছর পর বাগেরহাট জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এই ঘোষণা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, মো্ল্লা আকিতুর রহমান রাসেল হচ্ছেন কমিটির নতুন সভাপতি, আর নিয়ামুল কবির রাহুল মনোনীত হয়েছেন সাধারণ সম্পাদক হিসেবে। এ ছাড়া শেখ আল মামুনকে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (১২ মে) মধ্যরাতে ছাত্রদলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই কমিটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির কর্তৃক অফিসিয়াল পত্রে এর অনুমোদন প্রদান করা হয়।

    নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, সভাপতি হিসেবে আতিকুর রহমান রাসেল এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিয়ামুল কবির রাহুল নির্বাচিত হয়েছেন। পাশাপাশি সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন শেখ আল মামুন। এছাড়া সাবেক সহ-সভাপতি শামিম শিকদার এবং সহ-সভাপতি হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন শেখ মাইদুল ইসলাম মিন্টু ও রানা দিদার। আরও রয়েছে সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ফকির মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ ওয়াহেদ হাবিব ও শেখ ফাহিম শাহরিয়ার রাব্বি।

    প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে যে, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে পুরোপুরি নতুন কমিটি গড়ে তোলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    উল্লেখ্য, বাগেরহাট জেলা ছাত্রদলের সর্বশেষ কমিটি গঠিত হয়েছিল প্রায় আট বছর আগে। দীর্ঘ এই সময়ের মধ্যে নতুন নেতৃত্ব না আসায় সংগঠনের কার্যক্রম ধীরে ধীরেধীরে স্থবির হয়ে পড়েছিল। তবে নতুন কমিটি গঠনের মাধ্যমে সংগঠনে নতুন গতি আসবে এবং কার্যক্রম আরও বেশি এগিয়ে যাবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্টরা।

  • নিখোঁজ মিরাজের পরিবার সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণে ব্যাকুল

    নিখোঁজ মিরাজের পরিবার সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণে ব্যাকুল

    এক মাস তিন দিন হলো মোংলা চিলা উপজেলার জয়মনির ঘোল এলাকার আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে রয়েছে মা তাছলিমা বেগমের বুকফাটা কান্নায়। ১০ এপ্রিল, সকাল থেকেই নিখোঁজ তার একমাত্র ছেলে, মিরাজ শেখ (৩০), কে তুলে নিয়ে যায় অজ্ঞাত অপরিচিত কিছু ব্যক্তি। এরপর থেকে তিনি তার সন্তানকে খুঁজে বেড়াচ্ছেন, কিন্তু এখনও কোনো সন্ধান মেলেনি। বারবার থানায় জিডি, প্রতিমন্ত্রী ও সরকারের অন্যান্য দফতরে আবেদন করেও কিছু ফল হয়নি। এই সন্তানের জন্য একটি অসহনীয় অপেক্ষা চলেছে, মা বলতে চান, তার ছেলে যেন জীবিত বা মৃত—কোনোটাই অবিচলভাবে জানতে চান। পরিবারের জন্য এই নিখোঁজের কান্না শুধু হৃদয় বিদারক নয়, বরং মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণেও পরিণত হয়েছে। তারা এখন কেবল একটাই প্রত্যাশা করছেন— যেন তাদের সন্তানকে দ্রুত ফিরে পায় এবং সত্যতা নিশ্চিত হয়। পরিবারের সদস্যরা জানাচ্ছেন, তার স্বামী সুন্দরবনের জেলে ও মাছধরা জেলায় মোটরসাইকেল চালক হিসেবে কাজ করতেন। গত ৬ এপ্রিল বন্ধু বাচ্চু ও রফিকুলের সঙ্গে মিলিত হয়ে সুন্দরবনে মাছ ধরতে যান। চার দিনের পরিশ্রমের পরে ১০ এপ্রিল সন্ধ্যায় তারা ফিরে আসেন। তখনই স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সন্ধ্যা ৭টার দিকে জয়মনির ঘোলের একটি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সময় মিরাজকে অজ্ঞাত পরিচিত কিছু ব্যক্তি জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যে একজনের সন্দেহ হওয়ায় স্থানীয়রা আন্দাজে দেখেন, একটি নৌযানে করে দ্রুত তাকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর থেকে পরিবারের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ হয়নি। মা তাছলিমা কেঁদে কেঁদে বলেন, ‘আমার পোলার জন্য আমার বুকের টুকরো যে এক মাস ধরে হারিয়ে গেছে, কেউ কেউ বলতে পারে না ও কই আছে। যদি ও কোনো অপরাধে জড়িত হয়, তবে দেশের আইন আছে, বিচার হবে। কিন্তু ওকে কেন লুকানো হচ্ছে? আমার মনে হচ্ছে, ওর ওগো কিছু করেছে, ও কি সাগরে ভাসিয়্যা ফেলছে?’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে আরও বলেন, ‘আমি চাই ও ফিরুক—আমি তার মুখটা একবার দেখবো। ও কি খাচ্ছে? ও কি মার খাচ্ছে? আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি, ও যেন আমার কোল ফিরে আসে।’ Although তার পরিবার নিঃসন্দেহে উদ্বিগ্ন, একটু অন্যরকম ঘটনা ঘটে গেলো ২২ এপ্রিল, মিরাজের বন্ধু বাচ্চুকে মোংলা কোস্ট গার্ডের একটি দল তুলে নিয়ে যায়। রাতে তাকে থানায় সোপর্দ করা হলেও মিরাজের খোঁজে কোনো স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি। স্থানীয়রা সন্দেহ করছেন, হয়তো অভিযানের সময়ই তাকে তুলে নেওয়া হয়েছে। তবে এই ব্যাপারে সরকারি পক্ষ কেউ নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেনি। নিখোঁজের পর থেকে তার স্ত্রীর দায়িত্ব ভর করে, তিনি মোংলা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। এছাড়া, সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদনও জানানো হয়েছে, কিন্তু তৎপরতা কম থাকায় পরিবারের আতঙ্ক আরও বাড়ছে। মিরাজ পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস ছিলেন, তাঁর হারিয়ে যাওয়ার পর সংসারে অস্থিরতা শুরু হয়। মা শোকে কাতর, স্ত্রী ভয় পাচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও এই রহস্যজনক নিখোঁজের ঘটনার জন্য উদ্বিগ্ন। যখন সুন্দরবনে দস্যুমুক্ত অভিযানের খবর আসছে, তখনই এই অন্তর্ধান অন্য এক প্রশ্ন তুলে ধরছে— বিষয়টি কি প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে? পরিবার ও এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত তাকে উদ্ধার করে জনসম্মুখে আনা হোক। মোংলা সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ রেফাতুল ইসলাম বলেন, ‘মিরাজ শেখের নিখোঁজের ঘটনায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় জিডি করা হয়েছে। আমরা তদন্তে আন্তরিক, তার সন্ধানে গোয়েন্দা ও অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছি। তাকে কোথায় কোথায় রাখা হয়েছে বা আটক করেছেন কি-না, সে বিষয়েও তথ্য সংগ্রহ করছি। পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে আশ্বাস দেন।’ প্রত্যাশা, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যেন দ্রুত সমাধান হয় এবং নিখোঁজের পরিবারের মনোবাসনা পূরণ হয়। মা তাছলিমার চোখের জল যেন অবহেলা না হয়, এবং তার সন্তানকে ফিরিয়ে ফিরিয়ে আনা হয়—এটাই এখন বড় প্রত্যাশা।

  • সোনার দাম কমলো, ভরি কত হলো?

    সোনার দাম কমলো, ভরি কত হলো?

    দেশের বাজারে সোনার দাম হ্রাসের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। নতুন দাম অনুযায়ী, একবারে সর্বোচ্চ ২ হাজার ২৫৮ টাকা করে ভরি দামে কমতি এনেছে সংগঠনটি। এর ফলে, ভালো মানের (২২ ক্যারেট) সোনার ভরি এখন দোকানে বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকায়, যা আগের তুলনায় কমে গেছে। সোমবার (৪ মে) এই দাম ছিল ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৫৯ টাকা। তবে মঙ্গলবার (৫ মে) সকাল ১০টার দ্বারায় কার্যকর হয়েছে নতুন মূল্য।

    বাজুসের প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, তেজাবি বা পিওর গোল্ড সোনার দাম কমায় স্থানীয় বাজারে এর দামও হ্রাস পেয়েছে। সংগঠনের নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের সোনার ভরি এখন নির্দিষ্টভাবে ২ লাখ ৪০ হাজার ৩৩৭ টাকা। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের দাম নির্ধারিত হয়েছে ২ লাখ ২৯ হাজার ৪৩১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ভরি ১ লাখ ৯৬ হাজার ৬৫৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতিতে মানের সোনার ভরি ১ লাখ ৬০ হাজার ১৪৭ টাকা।

    অন্যদিকে, সোনার দাম কমলেও রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম স্থির ৫ হাজার ৪৮২ টাকায়, ২১ ক্যারেটের ৫ হাজার ১৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৪ হাজার ৪৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা।

    বিশ্ববাজারে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে—যেমন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল মধ্যে চলমান সংকট—সোনার মূল্য ঊর্ধ্বমুখী ছিল। এরপর বিভিন্ন সময়ে মূল্য ওঠানামা করছে। গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্রে জানা গেছে, এখন আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম কমে ৪ হাজার ৫০০ ডলারে নেমে এসেছে। এর আগে, ৩০ জানুয়ারি এটি ছিল ৫ হাজার ২০০ ডলার, আর ২৯ জানুয়ারি ৫ হাজার ৫৫০ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল।

  • সোনার দাম আবারও বেড়েছে: নতুন দাম ঘোষণা

    সোনার দাম আবারও বেড়েছে: নতুন দাম ঘোষণা

    বাংলাদেশের জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) টানা দ্বিতীয়বারের মতো সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, প্রতি ভরি সোনার মূল্য সর্বোচ্চ ২২৪১৬ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে, মানসম্পন্ন ২২ ক্যারেটের সোনার ভরি আজ আবার নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে, যেখানে দাম এখন দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা, যা গতকাল ছিল দুই লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকায়।

    বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে বাজুস এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে এবং এই দাম আজ সকাল ১০টায় কার্যকর হয়েছে। সংগঠনের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার দাম বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশেও এই দাম সমন্বয় করা হয়েছে।

    নতুন মূল্য অনুযায়ী, সবচেয়ে উৎকৃষ্ট মানের ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লক্ষ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা। এর পাশাপাশি, ২১ ক্যারেটের সোনার ভরি ২ লক্ষ ৩৩ হাজার ৫৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লক্ষ ১৩ হাজার ৬৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনা ১ লক্ষ ৬৩ হাজার ৬৩ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

    সোনার দাম বাড়ার সঙ্গে রুপার দামও বেড়ে গেছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার মূল্য এখন ৫ হাজার ৭৭৪ টাকা, ২১ ক্যারেট ৫ হাজার ৫৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৭২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৫৫৮ টাকা।

    বিশ্ববাজারে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইস্রাইলের যুদ্ধের পর থেকে স্বর্ণের দাম বাড়ছে। বিশ্ববাজারের মূল্য সমন্বয় ও দরের ওঠানামার কারণেই বাংলাদেশের বাজারে এই পরিবর্তন। গোল্ডপ্রাইস.ওআরজির তথ্য অনুযায়ী, এখন আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম উঠেছে ৪ হাজার ৭০০ ডলার। এর আগে, ৩০ জানুয়ারি আউন্সপ্রতি দাম ছিল ৫ হাজার ২০০ ডলার এবং ২৯ জানুয়ারি ৫ হাজার ৫৫০ ডলার ছিল।

    বিশ্ববাজারে সোনার দর বাড়ার ফলে গত মাসের শেষের দিকে বাংলাদেশের বাজারে একের পর এক রেকর্ডতথ্য তুলে ধরা হয়। ২৯ জানুয়ারি, সমপ্রতি এক ভরি সোনার দাম ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়িয়ে দাঁড় করানো হয় ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায়, যা এ দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দাম। এই সময়ে, সোনার দাম এতটা বাড়ানো হয়নি কখনোই।

  • বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪.২২ বিলিয়ন ডলার

    বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪.২২ বিলিয়ন ডলার

    বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার মোট জাতীয় রিজার্ভ সম্প্রতি পৌঁছেছে ৩৪.২২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। তবে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) অনুকূল হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুসারে এই রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৯.৫৬ বিলিয়ন ডলারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সোমবার বিকেলে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    আরিফ হোসেন খান জানান, চলতি বছরের ১১ মে, বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে দেশের রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ২৯৯৫.৬৬ মিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাব অনুযায়ী, মোট রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৪২২.৬৩ মিলিয়ন ডলার।

    এর আগে, গত রোববার, অ্যাসিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) মার্চ ও এপ্রিল মাসের দুই মাসের আমদানি বিলের পরিশোধ করে বাংলাদেশ মোট ১৫১.৪৯ মিলিয়ন ডলার। এই বিল পরিশোধের পরে, আইএমএফের হিসাব অনুযায়ী, বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে দেশের রিজার্ভ বোঝা যাচ্ছে ছিল ২৯৪৭.৯২ মিলিয়ন ডলার।

    অন্যদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাব অনুযায়ী, এই সময়ের রিজার্ভ ছিল ৩১৪১.১ মিলিয়ন ডলার। এর আগে ৫ মে, বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে দেশের রিজার্ভ ছিল ৩০৯৬.৪০ মিলিয়ন ডলার, এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাব অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৫৬১.৬৬ মিলিয়ন ডলার।

  • বাংলা ব্যাংকিং খাতে লুটপাটের দায়ে ৬ ব্যক্তি ও শিল্পগোষ্ঠী

    বাংলা ব্যাংকিং খাতে লুটপাটের দায়ে ৬ ব্যক্তি ও শিল্পগোষ্ঠী

    বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দেশের ব্যাংকখাতে বড় ধরনের অর্থ লুটপাটের জন্য দায়ী রয়েছে ছয় ব্যক্তি ও শিল্পগোষ্ঠী। প্রতিবেদনে তাদের মধ্যে রয়েছেন এস আলম, বেক্সিমকো, ওরিয়ন ও নাসা গ্রুপের নাম। ব্যাংকটি স্বীকার করেছে যে, এসব গোষ্ঠীকে অনৈতিক সুবিধা দেওয়া হয়েছে এবং পলাতক অর্থ ফেরত আনতে কাজ চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, যত দ্রুত সম্ভব দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, কারণ ব্যাংকিং খাতে লাখ লাখ কোটি টাকা ঋণের নামে আত্মসাৎ হয়েছে, যার একটি বড় অংশ পাচার হয়েছে। এ বিষয়ে শ্বেতপত্রে প্রকাশিত তথ্যে জানানো হয়, সাবেক ভ‚মিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, বেক্সিমকো, ওরিয়ন, এস আলম, সিকদার ও নাসা গ্রুপের কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত অর্থ প্রতিষ্ঠান ও অগ্রণী ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর পাশাপাশি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে ইসলামি ব্যাংক, এসআইবিএল, ফার্স্ট সিকিউরিটি ও আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকও এ ক্ষতির শিকার। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে ইউসিবি, আইএফআইসি, ন্যাশনাল ব্যাংকও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এই লুটেরাদের দ্বারা। বিশ্লেষকরা বলছেন, পাচারের টাকা দ্রুত ফিরে আনতে হবে এবং ব্যাংক লুটেরাদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী বলেন, একজন ব্যক্তি কতটুকু পর্যন্ত ঋণ গ্রহণ করতে পারে, কেমন করে ঋণ নিতে হয়, এর নীতিমালা রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক এসব নিয়ম জেনেও এদের ওয়েভার দিয়ে থাকলে এটা বড় দায়। ব্যাংকের দায়িত্ব হলো এই সব নিয়ন্ত্রণ করা। এখন প্রশ্ন হলো, ব্যাংক কীভাবে এসব দায়িত্ব পালন করছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক দাবি করছে, নানা চাপের কারণে প্রকৃত সময়ে ব্যাঙ্ক কর্মকর্তাদের জন্য সুবিধা দেওয়া হয়েছে, এবং এখন পাচারের টাকা ফিরিয়ে আনার কাজ করছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, কিছু এক্সটারনাল ফোর্সের কারণে বা রাষ্ট্রের উচ্চ পর্যায়ে চাপের কারণে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। তবে, বলে রাখা জরুরি যে, খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দিলে দেশের ব্যাংকিং খাতে আস্থা ভেঙে যাবে।

  • অর্থনীতিতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ নয়: অর্থমন্ত্রী

    অর্থনীতিতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ নয়: অর্থমন্ত্রী

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দেশের অর্থনৈতিক ও আর্থিক খাতের সকল গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরে এভাবেই স্বচ্ছ ও পেশাদার পরিবেশ বজায় রাখতে হবে। তিনি জানান, আর্থিক খাতসহ সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলোতে কোনও ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ চলবে না, সবকিছু হবে সম্পূর্ণ পেশাদারী মানদণ্ডে। মঙ্গলবার (১২ মে) রাজধানীর হোটেল রেডিসন ব্লুতে ‘বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির হিসেবে যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএসআইসির চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন, সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এবং বিএবির চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার। অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের কোনও রাজনৈতিক নিয়োগ বা প্রভাব এখানে কাজ করবে না। এটি হবে একদম পেশাদার প্রতিষ্ঠান, যা স্বচ্ছতা ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করবে। তিনি জানান, বাংলাদেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের বিকাশে এই কোম্পানি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে। এটি কেবল একটি বিনিয়োগ সংস্থা নয়, বরং দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী উদ্যোগের প্রসার ঘটানোর প্ল্যাটফর্ম। তিনি আরো বলেন, আমাদের তরুণ প্রজন্মের মূল দুটি সমস্যা হলো ফান্ডের অভাব এবং জামানত প্রদানের অক্ষমতা। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সেই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করা সম্ভব হবে। এখানকার বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া হবে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, দক্ষ এবং পেশাদার। অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন, এই উদ্যোগটি আমাদের রাজনৈতিক ম্যানিফেস্টোর সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সুবিধা কাজে লাগিয়ে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। বিশেষ করে ক্রিয়েটিভ ইকোনমি বা সৃজনশীল অর্থনীতির মাধ্যমে গ্রামীণ ও শহরের তরুণদের অর্থনীতির মূলধারায় আনা হবে। আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বর্তমান সময়ের কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে সরকার। পুঁজিবাজারের সংস্কার, ডিরেগুলেশন, দক্ষ উপদেষ্টা নিয়োগ এবং দেশের ব্যাংক ও প্রাইভেট সেক্টরের আন্ডার ক্যাপিটালাইজেশন দূরীকরণে কাজ করছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এটি শুধু ব্যাংকিং বা বিনিয়োগের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। আন্তর্জাতিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল সংস্থাগুলির অংশগ্রহণে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে এই উদ্যোগ এক নতুন দিগন্তের সূচনা করবে। অর্থ মন্ত্রণালয় এই প্রকল্পের সফলতার জন্য সব ধরনের পলিসি সমর্থন দেবে। দেশের বিভিন্ন ব্যাংক মিলে গঠন করেছে এই ভেঞ্চার ক্যপিটাল উদ্যোগ, যা দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

  • মির্জা ফখরুলের ভাষ্য: হতাশাগ্রস্ত গোষ্ঠী সমাজকে অস্থির করতে চায়

    মির্জা ফখরুলের ভাষ্য: হতাশাগ্রস্ত গোষ্ঠী সমাজকে অস্থির করতে চায়

    স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশে একটি হতাশাগ্রস্ত গোষ্ঠী রয়েছে, যারা সারাক্ষণ নিজেকে অসন্তুষ্ট মনে করে আর সমাজকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালায়। তিনি স্পষ্ট করে বললেন, এই অপচেষ্টাকারীরা কোনো নির্দিষ্ট দল বা ব্যক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়, বরং তারা সমাজের শান্তি ভেঙে দেয়ার জন্য কাজ করে। তিনি মন্তব্য করেন, আমাদের রাজনীতি এখন সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন নয়। বারবার মানুষ পরিবর্তনের জন্য লড়াই করেছে, জীবন দিয়েছেন, পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই চেষ্টাগুলি সফল হয়নি। শুক্রবার (৮ মে) দুপুরে নওগাঁর আত্রাইয়ের পতিসরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জেলা প্রশাসন আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা ফখরুল আরো বলেন, আমাদের মূল পরিচয় হলো এ দেশের সন্তান হিসেবে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত থাকা—আমরা বাংলাদেশেরই সন্তান। এই স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য আমরা দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ করেছি, শহীদদের রক্তের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। আবার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনেয়ার জন্যও আমাদের সংগ্রাম চালাতে হয়েছে। তিনি বলেন, গত জুলাই মাসে আমাদের তরুণ-তরুণীরা যে লড়াই করে দেশকে পরিবর্তনের পথে নিয়ে আসে, তাকে আমরা ‘জুলাই যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করি। সত্যিকারভাবে এই আন্দোলনের কারণে নতুন নির্বাচন হয়েছে ও নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। তারা আশা করে, এখন জনগণ নতুন সরকারের দিকে তাকিয়ে আছে। তবে কিছু অপশক্তি দেশের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে চায়, তারা দেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে—অর্থনীতি লুটপাট, ব্যাংক এসবের অপব্যবহার, প্রশাসনকে ধ্বংস করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে লড়াই করে আজকের অবস্থানে আমরা এসেছি বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, অনেকেই এই পরিবর্তনটাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টায় ছোটোখাটো ইস্যু নিয়ে গোলযোগ সৃষ্টি করছে। তবে আমরা চাই না দেশে আবার কোনও অস্থিতিশীলতা আসুক। বিএনপি মহাসচিবও মন্তব্য করেন, রবীন্দ্রনাথ যখন আর্মীন আসতেন, তখন তিনি কৃষকদের দুঃখ-দুর্দশা ও সংকটে দেখে ব্যাংক স্থাপন করেছিলেন, কৃষিকে আধুনিক করার নানা উদ্যোগ নেন। রবীন্দ্রনাথের কবিতা, গান ও অন্যান্য কবিতাগুলো বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি বিশ্বমানবতার কবি, যার ব্রত সত্য, সৌন্দর্য ও মানবতার উন্নয়ন। রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশিদের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, বিভিন্ন সংসদ সদস্যসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। আলোচনা শেষে শিল্পীরা আবৃত্তি, রবীন্দ্রসংগীত, নৃত্য ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করেন। দিনভর এই উৎসবমুখর পরিবেশে হাজারো দর্শক ও রবীন্দ্রপ্রেমী ভিড় করেন পতিসরে, কবির স্মৃতিবিজড়িত এ অঞ্চলে মনে প্রাণে আবেগে এক নতুন পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

  • মন্ত্রী ছাড়া উন্নয়ন কি সম্ভব? গোলাম পরওয়ারের প্রশ্ন

    মন্ত্রী ছাড়া উন্নয়ন কি সম্ভব? গোলাম পরওয়ারের প্রশ্ন

    প্রধানমন্ত্রী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এলাকা ছাড়া দেশের অন্য অঞ্চলে কি সত্যিই কোন উন্নয়ন সম্ভব নয়? এই প্রশ্নই তুলে ধরেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। শুক্রবার রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ভবনে বাংলাদেশ রেলওয়ে এমপ্লয়িজ লীগের কেন্দ্রীয় দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আপত্তিকর ভাবনাগুলো তুলে ধরেন।

    গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘যে এলাকার নেতারা প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিংবা আইনমন্ত্রী নয়, সেই এলাকার উন্নয়ন কি কখনো হবে? উন্নয়ন বৈষম্যহীন করার জন্য সবাইকে যৌথভাবে কাজ করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন সঠিক জরিপ, যেখানে লাগছে রেল বা সড়ক যোগাযোগের প্রয়োজন। ন্যায় ও মানবিক মূল্যবোধে ভিত্তি করে একটি সুন্দর ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ গড়তে সরকারের দায়িত্ব কি না সেটা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।’

    তিনি স্মরণ করিয়ে দেন ৭৫ এর আন্দোলনের দেশের ইতিহাস, বলছিলেন, ‘হাজারো মানুষের রক্ত আর ত্যাগের বিনিময়ে যারা সামরিক নির্মমতার বিরুদ্ধে লড়েছিলেন, আজো সেই সংগ্রামের ফলাফল মূল্যায়ন করতে হবে। বর্তমানে বৈষম্য ও অন্যায় অবিচার বাড়ছে, যা ক্ষোভের জন্ম দিচ্ছে। সেই আন্দোলনের স্বপ্ন, সমতা আর ন্যায়বিচার এখন আর চোখে পড়ে না। বরং, উন্নয়নের নামে নতুন ধরনের বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে, যা শহীদদের রক্তের সঙ্গে একাট্টা বিশ্বাসঘাতকতা।’

    দেশের রেল যোগাযোগের অবস্থা খারাপের দিকে এগিয়ে চলার জন্য তিনি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন, বলেন, ‘বিশ্বে যখন রেল যোগাযোগ সফলতার শিখরে পৌঁছাচ্ছে, তখন আমাদের দেশে এই খাতটি পিছিয়ে পড়েছে। আধুনিকায়নের জন্য এখনো চলমান পরিকল্পনা ও বিনিয়োগের প্রয়োজন। আগামী বাজেটে প্লেস্কেল, রেল শ্রমিক-কর্মচারীদের দাবিসহ আধুনিক রেলব্যবস্থার নির্মাণে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।’

    গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, বাংলাদেশ এখন নিজের সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হবে, যেহেতু দেশকে কোনো বাহ্যিক প্রভাব বা রিমোট কন্ট্রোলের অধীন রাখা যাবে না। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে হলে সব ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।

    শ্রমিক আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘সরকার শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন সংকুচিত করে তাদের অধিকার ক্ষুণ্ণ করছে। শ্রমিক সংগঠনের সংখ্যাও সীমিত করে দেয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে, বড় কারখানাগুলোতে বেশি সংগঠন থাকলে শ্রমিকরা শ্রম ও মালিকদের মধ্যে ন্যায্য আলোচনা বাড়াতে সক্ষম হবে। এতে দাবি ও অধিকার আদায় আরো সহজ হবে।’