Blog

  • সোনার দাম কমলো: প্রতি ভরির নতুন দর কত?

    সোনার দাম কমলো: প্রতি ভরির নতুন দর কত?

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) মঙ্গলবার দেশের বাজারে সোনার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, সর্বোচ্চ প্রতি ভরি ২ হাজার ২৫৮ টাকা পর্যন্ত দাম কমানো হয়েছে। ফলে সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেট সোনার এক ভরির মূল্য দুই লাখ ৪০ হাজার ৩৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগের দিন, সোমবার (৪ মে) ওই দাম ছিল দুই লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা।

    বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে নতুন দাম মঙ্গলবার (৫ মে) সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে। সংগঠনের ব্যাখ্যা, তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার আন্তর্জাতিক দাম কমায় স্থানীয় বাজারেও মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

    নতুন নির্ধারিত দরগুলো সুত্রানুযায়ী হলো:

    – ২২ ক্যারেট (এক ভরি): ২,৪০,৩৩৭ টাকা

    – ২১ ক্যারেট (এক ভরি): ২,২৯,৪৩১ টাকা

    – ১৮ ক্যারেট (এক ভরি): ১,৯৬,৬৫৫ টাকা

    – সনাতন পদ্ধতি (এক ভরি): ১,৬০,১৪৭ টাকা

    রুপার দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। নির্ধারিত রুপার দামগুলো হলো: ২২ ক্যারেটের এক ভরি ৫ হাজার ৪৮২ টাকা, ২১ ক্যারেট ৫ হাজার ১৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৪৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা প্রতি ভরি ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা।

    আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটেও সোনার দাম ওঠানামা করছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনার প্রভাব বিশ্ববাজারে সোনার মূল্য বাড়িয়ে দিয়েছে; পরে মূল্য সমন্বয়ের কারণে ওঠানামা দেখা যাচ্ছে। গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি-র তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম কমে ৪,৫০০ ডলারে নেমে এসেছে। এর আগে ৩০ জানুয়ারি সেই দাম ছিল ৫,২০০ ডলার এবং ২৯ জানুয়ারি তা ৫,৫৫০ ডলারে পৌঁছেছিল।

    গ্রাহক ও গোয়ালীরাদের জন্য গুরুত্বপূর্ন নোট: বাজারে নতুন দাম ইতোমধ্যেই কার্যকর, তাই কেনা-বেচার সময় উপরে দেওয়া নির্ধারিত দর তা মিলিয়ে দেখতে হবে।

  • সোনার দাম ফের বাড়ল

    সোনার দাম ফের বাড়ল

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) টানা দ্বিতীয় দফায় সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। বাজুস জানিয়েছে, সর্বোচ্চ ভরিতে দাম ২,২১৬ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। নতুন দাম বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল ১০টা থেকে কার্যকর করা হয়েছে।

    সংগঠনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দাম বাড়ায় স্থানীয় বাজারে সমন্বয় করে দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর ফলে সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরির দাম নির্ধারিত হয়েছে ২,৪৪,৭১১ টাকা। গতকাল এটি ছিল ২৪২,৪৯৫ টাকা।

    বাজুসের নির্ধারিত অন্যান্য মূল্য অনুযায়ী ২১ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরির দাম আছে ২,৩৩,৫৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২,০২,২১৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির (পুরনো পদ্ধতি) প্রতি ভরি সোনার দাম ১,৬৩,০৬৩ টাকা।

    সোনার সঙ্গে সূচকীয়ভাবে রূপার দামও বাড়ানো হয়েছে। ২২ ক্যারেট সমমানের রুপার প্রতি ভরি দাম নির্ধারিত হয়েছে ৫,৭৭৪ টাকা; ২১ ক্যারেট রুপা ৫,৫৪০ টাকা; ১৮ ক্যারেট ৪,৭২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার প্রতি ভরি ৩,৫৫৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    বিশ্ববাজারে স্থিতিশীল নয় এমন ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি—বিশেষ করে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল প্রেক্ষাপট—সোনার দামের ওপর চাপ তৈরি করেছে। মূল্য সমন্বয়ের কারণে স্থানীয় বাজারেও ওঠানামা দেখা যাচ্ছে। বিশ্বস্ত ওয়েবসাইট GoldPrice.org অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বাজারে এখন প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম প্রায় ৪,৭০০ ডলার।

    গত বছরের জানুয়ারির শেষ দিকে বিশ্ববাজারে সোনার দাম দ্রুত বাড়ার প্রভাব পড়ে দেশের বাজারেও রেকর্ডগত মূল্য লক্ষ করা গিয়েছিল। ২৯ জানুয়ারিতে বাজুস এক ধাক্কায় প্রতি ভরিতে ১৬,২১৩ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেট সোনার দাম একসময় ২,৮৬,০০০ টাকা পর্যন্ত উঠিয়ে দিয়েছিল, যা ছিল দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

  • গভর্নর রাজি নন, বিজয়ের মুখ্যমন্ত্রী শপথ আজ স্থগিত

    গভর্নর রাজি নন, বিজয়ের মুখ্যমন্ত্রী শপথ আজ স্থগিত

    তামিলনাড়ুর বড় জয়ের মধ্যেও থালাপতি বিজয় আজ (বৃহস্পতিবার) রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন না। রাজ্যের রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকর এখনও টিভিকের কাছে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে বলে নিশ্চিত হননি—এমনটাই জানিয়েছে এনডিটিভির প্রতিবেদন। ফলে শপথগ্রহণ আজকার আনুষ্ঠানিক সূচি নিয়ে স্থগিতির সিদ্ধান্ত এসেছে।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকটি সূত্র বলছে, কংগ্রেস zwar বিজয়ের দলকে সমর্থন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও সব জোটদল ও নির্দলীয়দের সমর্থন পাকা করে নেওয়া এখনও সময়ের ব্যাপার। তাই সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করার জন্য বিজয়ের শিবিরকে আরো এক-दুই দিন লাগতে পারে।

    ঘটনার ধারাবাহিকতায় বলা হচ্ছে, রাজ্যপাল ইতিমধ্যে বিধানসভা ভেঙে দিয়েছেন এবং তারপর কেরালার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন—সেখানে তিনি অতিরিক্ত দায়িত্বও সামলান। গতকাল এক বৈঠকে বিজয় রাজ্যপালের কাছে সরকার গঠনের দাবি জানিয়েছেন। সূত্র জানায়, টিভিকে সাধারণ সম্পাদক আধভ অর্জুনও তাঁদের আইনি দলকে সঙ্গে নিয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করবেন।

    সংখ্যানিক অবস্থান বোঝাতে গেলে: টিভিকে বিধানসভায় ১০৮টি আসন জিতেছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য মোট ১১৮টি আসন দরকার। কংগ্রেসের পাঁচটি আসনের সমর্থন যোগ হলেও (প্রসঙ্গত—বিজয় দুইটি আসনে জয়ী হয়েছেন, তার একটিকে বাদ ধরার প্রেক্ষাপটে) টিভিকের এখনও প্রয়োজনীয় সংখ্যায় পৌঁছতে ছয়টি আসনের ঘাটতি রয়ে গেছে। পরবর্তী স্বাভাবিক ধাপ হবে—বিধানসভায় বিজয় তাঁর সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করা।

    তবে কাদের সমর্থন নিয়ে সরকার গড়া হবে, সে ব্যাপারে এখনও নির্দিষ্ট চিত্র সামনে আসেনি। টিভিকে-র দুইটি আসনে জয়ী বিধায়কদের দলের সঙ্গে বুধবার চেন্নাইয়ে এক বৈঠক হওয়ার কথা ছিল; সেই বৈঠককে শুক্রবার পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে, কারণ দুই বামপক্ষ তাঁদের সিদ্ধান্ত নিতে ৮ মে পর্যন্ত সময় চেয়েছে। বামদের ৪টি আসনের মধ্যে দুটি সিপিআই এবং দুটো সিপিআই(এম)-এর।

    এক বিকল্প জোট-ছকও শোনা যাচ্ছে—টিভিকে এবং এআইএডিএমকের জোট, যেখানে এআইএডিএমকের ৪৭টি আসন যুক্ত হলে তা সংখ্যাগরিষ্ঠতার চেয়েও বেশি হতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, এআইএডিএমকের অন্তত ৩০ জন বিধায়ক টিভিকে সমর্থন করতে রাজি হতে পারেন।

    তামিলনাড়ু কংগ্রেসকে টিভিকেকে সমর্থন দেওয়ার স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফে। তামিলনাড়ু কংগ্রেস ইনচার্জ গিরিশ চোদানকর জানিয়েছেন, দক্ষিণে বিজেপিকে ক্ষমতায় আসার সুযোগ দেয়ার চেয়ে ধর্মনিরপেক্ষ সরকারের পক্ষে থাকা শ্রেয়। কংগ্রেস বুধবার সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারে যোগ দেয়ার ঘোষণা দিলে দলের কর্মীরা সদর দপ্তরে উল্লাস করেছেন। কংগ্রেস বলেছে, তাদের একমাত্র শর্ত—সংবিধানকে অস্বীকারকারী সাম্প্রদায়িক শক্তিকে জোটের বাইরে রাখা।

    এদিকে বিরোধী দল ডিএমকে কংগ্রেসের এই সিদ্ধান্তকে আ লীগের জন্য ঘাঁটা ব্যর্থতা বলে আখ্যা দিয়েছে। ডিএমকের মুখপাত্র সারাভানান আনাতুরাই বলেছেন, কংগ্রেস টিভিকের সঙ্গে মন্ত্রিসভার দুটি পদের লোভে নিজেকেই ধ্বংস করছে এবং তামিলনাড়ুর জনগণের পিঠে ছুরি মারার কাজ করেছে। বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালা তাত্কার্য্য বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত ইন্ডিয়া জোটের ভাঙন নির্দেশ করে।

    গত বিধানসভা নির্বাচনে টিভিকের বড় জয় তামিলনাড়ুর দীর্ঘকালের দ্বৈত রাজনীতিকে বদলে দিয়েছে। ডিএমকে-র প্রভাব হ্রাস পাওয়ার প্রেক্ষিতে কোলাথুর আসনে টিভিকের ভি এস বাবুকে হারিয়ে এম কে স্টালিন ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।

    সংক্ষিপ্তভাবে: আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও বিজয়ের শপথগ্রহণের দিন চূড়ান্ত হয়নি—রাজ্যপালের সম্মতি ও বিভিন্ন দলের চূড়ান্ত সমর্থন জানার পরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

  • পদত্যাগ করব না, ওরা চাইলে বরখাস্ত করুক: অনড় মমতা

    পদত্যাগ করব না, ওরা চাইলে বরখাস্ত করুক: অনড় মমতা

    তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করবেন না। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সপ্তাহজুড়ে প্রতিবাদ আর ক্ষোভের মাঝেই তিনি বলেছে, “ওরা আমাকে বরখাস্ত করুক। আমি চাই দিনটি একটি কালো দিন হিসেবে চিহ্নিত হোক।”

    গতকাল থেকে শুরু হওয়া বিতর্ক ও বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে দলের বিধায়কদের সঙ্গে এক বৈঠকে মমতা জানান, ২৯ এপ্রিল থেকে যে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে সেই অভিযোগ নিয়েই তার দল আদালতে যাবে। বৈঠকে দলের কর্মীদের মনোবল বাড়াতে ও ঐক্য ধরে রাখতে তিনি কড়া বার্তা দিয়েছেন এবং ঘোষণা করেছেন যে দলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বললে সেই নেতার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য একটি শৃঙ্খলা কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    অন্যদিকে, রাজ্যের প্রধান বিরোধী শক্তি বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন যে পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন-পরবর্তী বড় কোনো সহিংসতা ঘটেনি। তিনি বলেন, ‘‘এখন পর্যন্ত যা বিক্ষিপ্ত ঘটনার খবর আছে, তা ২০২১ সালের পরের সময়ের তুলনায় অনেক কম। কিছু গুন্ডা এখনও সক্রিয় আছে—তাদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে,’’ বলে তিনি জোর দিয়েছেন।

    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর দলকে সরব ও আন্দোলনমুখী রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তিনি ঘোষণা করেছেন যে বিধানসভা খোলার দিনকে ‘‘কালো পোশাক দিবস’’ হিসেবে পালন করা হবে, যাতে রাজনৈতিক ঐক্য ও প্রতিবাদের সুর বজায় থাকে।

    ৭১ বছর বয়সী এ নেত্রী নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই নিজের অবস্থান অটল রাখছেন এবং নির্বাচনের ফলের দ্বায় নির্বাচন কমিশনকে দিয়েছেন। তিনি কমিশনের বিরুদ্ধেই ‘‘নোংরা খেলা’’ খেলার অভিযোগ তুলেছেন এবং মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা ও বিহারের সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিজেপি-বিরোধী জোটের পরাজয়ের উদাহরণ টানিয়েছেন।

    সংবিধানগত ও রাজনীতিকভাবে মুখ্যমন্ত্রীকে কীভাবে সরানো যায় সে বিষয়ে প্রশ্ন ওঠায় সূত্রগুলো বলছে, রাজ্যপাল(গভর্নর) প্রযুক্তিগতভাবে মুখ্যমন্ত্রীর বরখাস্তের ক্ষমতা রাখেন—বিশেষত যদি আস্থা ভোট না থাকলে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বিধানসভা ভাঙ্গা না হওয়া এবং রিজাল্ট স্বচ্ছতা সংক্রান্ত জটিলতা থাকায় সরাসরি প্রয়োগ সহজ নয়। রাষ্ট্রপতির শাসন জারি করা এক চরম পদক্ষেপ, এবং রাজ্যপাল চাইলে বিজয়ী দলকে সরকার গঠনের আহ্বানও জানাতে পারেন।

    এই প্রেক্ষাপটে, আজ বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বর্তমান মেয়াদ—৭ মে শেষ হচ্ছে, ফলে সময় সীমিত। ইতিমধ্যেই অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা সহ কয়েকজন রাজ্যস্তরের নেতাকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বরখাস্তের আহ্বান করতে দেখা গেছে। রাজনৈতিক তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় পরবর্তী কয়েকদিন রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের নজর কাড়বে।

  • চিকিৎসকের স্টিকারযুক্ত প্রাইভেট কারে ২৬টি সোনার বার উদ্ধার, ৩ জন আটক

    চিকিৎসকের স্টিকারযুক্ত প্রাইভেট কারে ২৬টি সোনার বার উদ্ধার, ৩ জন আটক

    যশোরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) একটি বিশেষ অভিযানে ২৬টি সোনার বার উদ্ধার করে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। উদ্ধার হওয়া সোনার বারের মোট ওজন ৩ কেজি ৪৮ গ্রাম এবং বিজিবি মূল্য হিসাব করে সেগুলোর মূল্য ধার্য করেছে প্রায় ৬ কোটি ৩৯ লাখ ৪৭ হাজার ৪০ টাকা।

    বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি) এক বিশেষ টহল নিলগঞ্জ ব্রিজ (যশোর–নড়াইল মহাসড়ক) এলাকায় তল্লাশি পরিচালনা করে। সকালে সাড়ে চারটার দিকে ওই এলাকায় চিকিৎসকের স্টিকার লাগানো একটি প্রাইভেট কার থামিয়ে তল্লাশি করা হলে গাড়ির হেডরেস্টের ভেতর বিশেষভাবে লুকানো অবস্থায় ২৬টি সোনার বার পাওয়া যায়।

    ঘটনায় প্রাইভেট কারসহ আটক করা হয় শার্শার রাজনগর গ্রামের জহির উদ্দিনের ছেলে রনি (৩৬), চৌগাছার উত্তর কয়েরপাড়া গ্রামের ইসহাকের ছেলে আব্দুল গনি (৫৪) এবং যশোর সদর উপজেলার বাগডাঙ্গা গ্রামের ইব্রাহিম সরদারের ছেলে ইসরাইল (৪৬)।

    বিজিবি জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছেন যে ঢাকার আবদুল্লাহপুর ও উত্তরা এলাকায় থাকা চোরাকারবারিদের কাছ থেকে সোনাগুলো সংগ্রহ করে যশোরের চৌগাছা সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। অভিযানে সোনার বারের পাশাপাশি একটি প্রাইভেট কার, পাঁচটি মোবাইল ফোন এবং নগদ ৭ হাজার ৩২৭ টাকা জব্দ করা হয়েছে।

    যশোর ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান বলেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে সোনা পাচারের প্রবণতা বেড়েছে এবং এই ধরনের পাচার রোধে বিজিবির অভিযানগুলো অব্যাহত থাকবে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করে তাদের যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

  • কেসিসির তেল চোর চক্র ধরতে তিন দফায় তদন্ত কমিটি গঠন

    কেসিসির তেল চোর চক্র ধরতে তিন দফায় তদন্ত কমিটি গঠন

    খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) তেল চোর চক্রের ঘটনার তদন্ত করতে তিন দফায় কমিটি গঠন করেছে। কেসিসি প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা সাক্ষরিত অফিস আদেশে সর্বশেষ ৪ মে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। আদেশে কমিটির আহবায়ক করা হয়েছে নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মোঃ আনিসুজ্জামানকে। অন্য দুই সদস্য হলেন কনজারভেন্সি অফিসার মোঃ আনিসুর রহমান ও উপসহকারী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মোঃ সেলিমুল আজাদ।

    ঘটনাটি ঘটেছিল গত ১৯ মার্চ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে। খালিশপুর বি-অঞ্চলের এসটিএস সুপারভাইজার নুরুজ্জামান সুমন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে ফোন করে জানায় যে, খালিশপুর নিউমার্কেটের এসটিএস এর এলাকায় এক ব্যাকহুইল লোডারের জ্বালানি ট্যাংকের মুখ খুলে তেল চুরি হচ্ছে। প্রশাসকের নির্দেশনায় সেখানে গেলে একটি তেলের ক্যান এবং কয়েক লিটার তেল জব্দ করা হয় এবং ওই ব্যাকহুইল লোডারের চালক এনায়েত হোসেন বাবলুকে গাড়ি চালানো থেকে বিরত রাখা হয়। ঘটনার প্রাথমিক দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা অভিযোগ পেয়ে তদন্ত সাপেক্ষে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট দাখিলের নির্দেশ দেন।

    তবে তদন্ত শুরু থেকেই সদস্য জাতীয় পরিবর্তন দেখা দেয়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রথমে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হলেও কমিটির একজন সদস্যকে নিয়ে আপত্তি উঠায় প্রশাসকের নির্দেশে তিনি কমিটি থেকে সরিয়ে নতুন করে গঠন করা হয়। বাদ দেওয়া সদস্য ছিলেন কেসিসি এস্টেট অফিসার গাজী সালাউদ্দিন; তাঁর স্থলে নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মোঃ আনিসুজ্জামানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

    পরে পুনরায় গঠিত দ্বিতীয় দফার কমিটিতে আহবায়ক করা হয় মোঃ আনিসুজ্জামানকে। ওই সময়ে কমিটির এক সদস্য, কনজারজেন্সি অফিসার মোঃ অহেদুজ্জামান ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করলে তদন্ত চলাকালীন আবারও তৃতীয় দফায় কমিটি গঠন করা হয়।

    এই ঘটনায় আগে থেকেই ইতিহাসও আছে। সাবেক মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের সময়ে কেসিসি কর্তৃপক্ষ দুই ড্রাম চোরাই তেলসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করেছিল; সেই ঘটনার তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছিল কিন্তু এখনও তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ পায়নি। স্থানীয় চালক ও কর্মচারীরা আশা করছেন, পুরনো তদন্ত রিপোর্ট খতিয়ে দেখলে কিংবা নতুন তদন্তে সর্তকভাবে যাচাই-বাছাই করলে তেল চুরির সম্ভাব্য চক্রের পরিচয় উঠে আসবে।

    নতুন গঠিত কমিটির সদস্য কনজারভেন্সি অফিসার মোঃ আনিসুর রহমান প্রথমে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “আমি এ ঘটনার বাদী। আমাকে কীভাবে ও কোন নিয়মে কমিটির সদস্য করা হলো—এটার ব্যাখ্যা চাই।” কেসিসি প্রশাসন কমিটির পুনর্গঠন এবং তদন্ত কার্যক্রম দ্রুত শেষ করে প্রতিবেদন প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে।

  • টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ৪-৫ নম্বরে শেষ করাই বাংলাদেশের লক্ষ্য

    টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ৪-৫ নম্বরে শেষ করাই বাংলাদেশের লক্ষ্য

    শাহীন আফ্রিদি বললেও পাকিস্তানের চোখ ফাইনালে, বাংলাদেশ শীর্ষস্থান না-করে ৪-৫ নম্বরেই সন্তুষ্ট থাকতে চায়।

    গতকাল পাকিস্তান অধিনায়ক শাহীন শাহ আফ্রিদি জানিয়েছেন যে তার দল বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সিরিজকে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে পৌঁছার একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে। তার এই মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত বলেন, তার দলের লক্ষ্য এখন অতিরিক্ত উচ্চ নয়—আপাতত চক্রটি চার- কিংবা পাঁচ নম্বরে শেষ করাই উদ্দেশ্য।

    শান্ত মনে করেন, গত দুই বছরে দলের পারফরম্যান্স ধারাবাহিকভাবে ভালো হয়েছে এবং ২০২৩-২৫ চক্রে সপ্তম স্থানে শেষ করা একটি ইতিবাচক অর্জন। ‘‘গত দুই বছর আমরা ভালো ক্রিকেট খেলেছি, ৭ নম্বরে শেষ করা আমার মনে হয় একটি ভালো অর্জন। ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে, আগের চক্রগুলোতে এমনটা হয়নি। এবার যদি চার-পাঁচে শেষ করতে পারি খুবই ভালো লাগবে,’’ বলেন নাজমুল।

    বাংলাদেশের জন্য ২০২৩-২৫ চক্রটি মোট মিলিয়ে সফলভাবেই কেটেছে—সেই চক্রে টাইগাররা চারটি টেস্ট জয় পায়। এর মধ্যে ছিল ২০২৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে জয়, ২০২৪ সালের আগস্টে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে সিরিজ ২-০ ব্যবধানে জয়ে শেষ করা, এবং ২০২৪ সালের নভেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে একটি টেস্ট জেতা।

    আগামীকাল ঢাকায় শুরু হতে যাচ্ছে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ঘরের সিরিজ, যা বাংলাদেশের চলমান টেস্ট চক্রের শুরু হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শান্ত বলেন, ঘরের ম্যাচগুলোতে ভালো করে সুবিধা নিয়ে সম্ভাব্য সর্বোচ্চ পয়েন্ট নেওয়াই তাদের পরিকল্পনা। ‘‘আমরা ঘরের কন্ডিশনে প্রতিপক্ষের শক্তি-দুর্বলতা অনুযায়ী চরিত্র নির্ধারণ করে খেলার চেষ্টা করব,’’ যোগ করেন তিনি।

    ঘরের সিরিজ ছাড়াও চলতি বছর বাংলাদেশ আরও দুটি কঠিন সিরিজ খেলবে। আগস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ—প্রথম টেস্ট ১৩ আগস্ট ডারউইনে, দ্বিতীয় টেস্ট ২২ আগস্ট ম্যাকায়। পরে নভেম্বরে সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে দুই ম্যাচ—প্রথম ১৫ নভেম্বর জোহানেসবার্গে, দ্বিতীয় ২৩ নভেম্বর সেঞ্চুরিয়নে। অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার কন্ডিশনে নিয়মিত না খেলার কারণে এগুলো চ্যালেঞ্জিং হবে বলেই শান্তের অভিমত।

    তবুও ঘরের মাঠে ধারাবাহিক ভালো খেলায় বিশ্বাসী শান্ত মনে করেন দলের ভারসাম্য ভালো—পেস বোলিং, স্পিন বোলিং ও ব্যাটিং মিলিয়ে দলটি পর্যাপ্ত শক্তি জমাচ্ছে। তাই প্রথম ধাপে ঘরের সিরিজে ভালো ফল করতে পারলেই ভবিষ্যতের কঠিন সফরগুলোর জন্য আত্মবিশ্বাস বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

  • মিরপুরে ‘প্রতিশোধ’ নয় — শ্রদ্ধা ও প্রস্তুতিই চান সালমান

    মিরপুরে ‘প্রতিশোধ’ নয় — শ্রদ্ধা ও প্রস্তুতিই চান সালমান

    রাওয়ালপিন্ডির দুর্দশাজনক স্মৃতি পাকিস্তানের কাছে এখনও কষ্টদায়ক। নিজেদের মাঠে এগিয়ে থেকেও ম্যাচ হারানো, সিরিজ হাতে না থাকা ও বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সাফল্য—এসব মিলিয়ে ২০২৪ সালের সেই সিরিজ পাকিস্তান ক্রিকেটের জন্য বড় ধাক্কা ছিল। তবু মিরপুরে নতুন সিরিজ শুরুর আগেই পাকিস্তানের টেস্ট অধিনায়ক সালমান আলী আগা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তিনি অতীতকে ‘প্রতিশোধ’ কথায় টিকিয়ে রাখতে চান না।

    মিরপুর টেস্টের আগে সংবাদ সম্মেলনে সালমান বললেন, ‘আমাদের দলে প্রতিশোধ-জাতীয় কোনো শব্দের সঙ্গে নিজেদের জড়াই না। ২০২৪ সালে বাংলাদেশ যেভাবে প্রস্তুতি নিয়ে এসে খেলেছিল, তাদের কৃতিত্ব দিতেই হবে।’ তিনি বাংলাদেশের পরিকল্পনা ও মানসিকতাকে সম্মান জানালেন।

    সালমান মনে করিয়ে দিলেন, পাকিস্তান ধারণা করেছিল ঘরের কন্ডিশনে তারা সুবিধা নেবে। কিন্তু ম্যাচের ভেতরে বাংলাদেশ বারবার ফিরে এসেছিল—বিশেষ করে ২৬ রানে ছয় উইকেট হারানোর পরও লড়ে উঠে ম্যাচ জেতা ছিল তাদের দৃঢ়তার স্পষ্ট উদাহরণ। তাঁর কথায়, সেটিই বাংলাদেশের স্কিল ও মানসিক শক্তির প্রমাণ।

    এই অভিজ্ঞতা পাকিস্তানকে আরও সতর্ক করেছে। সালমান বলেন, বাংলাদেশকে হালকাভাবে নেওয়া যাবে না। ‘আমরা কোনো প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নেব না। প্রতিশোধ শব্দটা খুঁজব না। আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রক্রিয়া এবং আমরা কীভাবে খেলি,’ তিনি যোগ করেন। পাকিস্তানের লক্ষ্য এখন শুধুই জেতা নয়, জেতার অবস্থান থেকে ম্যাচ শেষ করা—আগের সিরিজে ঠিক এখানেই তারা ভেঙে পড়েছিল।

    সালমান বাংলাদেশকে তিন বিভাগেই ভারসাম্যপূর্ণ দল হিসেবে দেখছেন—ব্যাটিং, পেস বোলিং ও স্পিন। তাঁর মতে বর্তমান দল আগের দলের সঙ্গে বেশ কাছাকাছি এবং খুবই স্কিলফুল। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ দল এখনো খুব প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, খুব স্কিলফুল। ব্যাটিং, পেস বোলিং, স্পিন—সব বিভাগেই তারা কভারড।’

    পাকিস্তানের ব্যাটিং বিভাগেও তিনি আত্মবিশ্বাসী। সালমান উল্লেখ করেছেন যে মিডল অর্ডারই দলের ইঞ্জিনরুম; সেখানে বাবর, মোহাম্মদ রিজওয়ান, সৌদ শাকিল আর নিজে সালমান অনেক দিন ধরে একসঙ্গে খেলছেন এবং এটি দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থিতি। তিনি আরও জানান, টপ অর্ডারে যেসব পরিবর্তন দেখা গেছে, সেগুলো মূলত ইনজুরি বা অনুপস্থিতির ফল।

    ইমাম-উল-হকের দলে ফিরে আসাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেন সালমান। ‘গত তিন-চার বছরে ইমাম টেস্ট ইউনিটের নিয়মিত অংশ ছিলেন। অভিজ্ঞতা ও টেস্ট রান নিয়ে তিনি দলে ফিরছেন, যা আমাদের জন্য ভালো সুযোগ,’ তিনি বললেন।

    তবে মিরপুরে কাজটা সহজ হবে না—এতথ্যটাও তিনি স্বীকার করলেন। বাংলাদেশের বোলিং অ্যাটাককে খুবই ভারসাম্যপূর্ণ বলে বর্ণনা করে তিনি বলেন, বাঁহাতি ও ডানহাতি পেসার আছে, গতি ও স্কিল আছে; এটি সম্ভবত তিনি দেখেছেন সেরা বাংলাদেশ আক্রমণ।

    শেষ পর্যন্ত সালমান ও তাঁর দল স্ট্র্যাটেজি ও ধারাবাহিকতাকে গুরুত্ব দিয়ে খেলতে চান—যেতে পারলে ম্যাচ শেষ করা এবং ভালো ব্র্যান্ডের ক্রিকেট উপস্থাপন করাই তাদের লক্ষ্য।

  • বিজয় ভাগ বসালেন তামিলনাড়ুর ৪৯ বছরের রেকর্ড

    বিজয় ভাগ বসালেন তামিলনাড়ুর ৪৯ বছরের রেকর্ড

    দক্ষিণ ভারতের সুপরিচিত অভিনেতা জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর, যিনি চলচ্চিত্র জগতে ‘থালাপতি বিজয়’ নামে পরিচিত, রাজনৈতিক মঞ্চে প্রথম নির্বাচনে নামেই অভূতপূর্ব সাফল্য দেখিয়েছেন। তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনে শুধু ব্যক্তিগতভাবে জয় অর্জনই নয়—একটি ৪৯ বছরের পুরনো রেকর্ডও ভাগ করে নিয়েছেন তিনি।

    ১৯৭৭ সালে এমজি রামাচন্দ্রন (এমজিআর) চলচ্চিত্র জগত থেকে এসে নিজের দল গঠন করে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন—এমন ঘটনা তার পর আর বের হয়নি। যদিও পরবর্তীকালে জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়ললিতা তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হন, তিনি নিজেই নতুন দল গঠন না করে এমজিআর-এর এআইএডিএমকে-র নেতৃত্ব গ্রহণ করেছিলেন। এর পর থেকে আর কোনো অভিনেতা নিজস্ব দল গঠন করে মুখ্যমন্ত্রীত্বে পৌঁছাননি।

    এবার বিজয় তার নতুন দল তামিলাগা ভেট্টরি কোঝাগাম (টিভিকে) নিয়ে নির্বাচনে ঝাঁপিয়ে পড়ে সেই ইতিহাসের সঙ্গে তাল মিলিয়েছেন। তামিলনাড়ু বিধানসভায় মোট আসন ২৩৪; এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮টি আসন। এবারে বিজয় নিজে জয়ী হয়েছেন এবং তার দল টিভিকে ১০৮টি আসনে জয় পেয়েছে—একটি মাত্র ধাপ দূরে থেকেই আগ্রাসী ফল। ২০২৪ সালে গঠিত এই নতুন দলের জন্য এই পরিমাণ আসন জয় বিস্ময়কর।

    আইনি ও সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী টিভিকে এককভাবে সরকার গঠন করতে পারবে না; ফলে কোনো না কোনো রাজনৈতিক জোট গঠন করেই সরকার গঠন করতে হবে। তথাপি রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জোট গঠিত হলেও সেটির প্রধান চালক শক্তি টিভিকেই থাকবে এবং বিজয়ই তামিলনাড়ুর পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রীর দাবিদার হবেন বলে দেখা হচ্ছে। এভাবেই এমজিআরের দীর্ঘদিনের রূপকথার মতো রেকর্ডটি এবার ভাগ করে নিয়েছেন বিজয়।

    বিজয়ের এই সাফল্যের পেছনে দীর্ঘদিনের সংগঠন গঠনের কাজ আছে। ২০০৯ সাল থেকে তিনি ভক্তদের সংগঠিত করা শুরু করেন এবং বিভিন্ন ভক্ত গ্রুপকে সমন্বিত করে ‘বিজয় মাক্কাল ইয়াক্কাম’ নামে একটি ঐক্যমঞ্চ তৈরি করেন। ২০১১ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত এই মঞ্চটি এআইএডিএমকে-কে সমর্থন দিয়েছিল; কিন্তু ২০২১ সালে তাকে থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নিজস্ব রাজনৈতিক পরিচয় গঠনে মনোযোগ দেন বিজয়। ২০২৪ সালে তামিলাগা ভেট্টরি কোঝাগাম গঠন করে তিনি সরাসরি ভোটে নামেন এবং এখন মুখ্যমন্ত্রীত্বের শপথ গ্রহণ অপেক্ষায় রয়েছেন।

    (সূত্র: এনডিটিভি)

  • রুনা লায়লা গুজব খণ্ডন: ‘আমি বেঁচে আছি, সুস্থ আছি’

    রুনা লায়লা গুজব খণ্ডন: ‘আমি বেঁচে আছি, সুস্থ আছি’

    উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী রুনা লায়লার মৃত্যু সংক্রান্ত অপ্রতিষ্ঠিত গুজব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় নিজেই তা খণ্ডন করেছেন। তিনি জানান, তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ এবং বর্তমানে ভারতের দিল্লিতে ‘মিনার–ই–দিল্লি’ পুরস্কার গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য রয়েছেন।

    এই মর্মে রুনা লায়লা তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্টে বলেন, “আমার প্রিয় ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের উদ্দেশ্যে আমার মৃত্যু নিয়ে কিছু অদ্ভুত গুজব ছড়িয়েছে।” তিনি ওই গুজবকে ভিত্তিহীন হিসেবে বর্ণনা করে সবাইকে অনুরোধ করেন যে, এমন কোনো পোস্ট শেয়ার করার আগে তথ্য যাচাই করে নিন, কারণ এসব কী তাঁর এবং তাঁর পরিবারের জন্য কষ্টদায়ক।

    বহু ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীর উদ্বেগ প্রশমন করতে রুনা লায়লার এই প্রতিক্রিয়া timely বলে দেখা হচ্ছে। সম্প্রতি বিদেশে অবস্থানরত হওয়ায় সংবাদটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় বিভ্রান্তি তৈরী হয়েছিল।

    সঙ্গীতজগতের একটি উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব হিসেবে ১৯৬৬ সালে উর্দু চলচ্চিত্র ‘হাম দোনো’র গান ‘নাজরোঁ সে মোহাব্বত কা জো পয়গম মিলা’ দিয়ে রুনা লায়লা প্রথমবার আলোচনায় আসেন। ১৯৬০-এর দশকে তিনি নিয়মিত পাকিস্তান টেলিভিশনে পরিবেশন শুরু করেন এবং পরে ‘ও মেরা বাবু চেল চাবিলা’ ও ‘দামা দম মাস্ত কালান্দার’ জাতীয় হিট গানগুলো তাকে ভারতসহ সমগ্র উপমহাদেশে জনপ্রিয় করে তুলেছিল।

    শেষে তিনি ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘সবার জন্য অনেক ভালোবাসা রইল,’ এবং অনুরোধ করেন—ভুল সংবাদ রোধে সতর্কতা ও তথ্য যাচাই অত্যান্ত জরুরি।