Blog

  • মনিরুল হকের অভিযোগ—জামায়াত-এনসিপি নিয়ে প্রশ্ন, খালেদার অবদান স্মরণ করার আহ্বান

    মনিরুল হকের অভিযোগ—জামায়াত-এনসিপি নিয়ে প্রশ্ন, খালেদার অবদান স্মরণ করার আহ্বান

    রোববার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপি সাংসদ মনিরুল হক চৌধুরী জামায়াত ও এনসিপি নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর যে মেধাবী শ্রেণি গঠন করেছিল জাসদ, তারা বাড়াবাড়ি করে দেশের ও জাতির ক্ষতি করেছে এবং ফলাফল স্বরূপ তাদের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, ‘‘এ ধরনের ঘটনা আমাদের শিক্ষা হওয়া উচিত—আমাদের যেন সবকিছু সহ্য করার ধৈর্য ও বিচক্ষণতা দেয়া হয়।’’

    আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। মনিরুল হক চৌধুরী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে জামায়াতকে রাজনীতিতে এতদূর নিয়ে আসার সরাসরি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের আহ্বান জানান। তিনি স্মরণ করান যে তিনি ১৯৯১ সালের সংসদে দেশের জন্য কাজ করেছেন এবং তখনও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নানা বিরোধকে উপেক্ষা করে জামায়াতের সঙ্গে কাজ করেছেন। মনিরুল বলেন, ‘‘আপনারা যখন আজ প্রশ্ন তোলেন, মনে হয় ১৫-২০ বছর বিএনপি এখানে ছিল না। তবে যা কিছু রাজনীতি আজদিনে-এভাবে এসেছে, তার পেছনে খালেদা জিয়ারও অবদান ছিল—এটুকুও স্মরণ করা উচিত।’’

    তিনি আরও বলেন, সংসদে দাঁড়িয়ে কাকে সামনে নিয়ে কথা বলা যায় তা জানতেই কষ্ট হয়। আগে যাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতাম, তাদের চেনতাম; কিন্তু এখন যারা বিরোধী দল হিসেবে আছেন, তাদেরকে এখনও চিনতে পারছি না। দেশের রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে যে ধরনের পরিবর্তন এসেছে, সেটাও বিবেচনা করার মতো বিষয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    মনিরুল হক বলেন, দলের নেতা তারেক রহমান কঠিন নির্বাচন হওয়ার কথাই বলেন—তৎকালীন অনেকেই সেটা বোঝেননি, তিনি বুঝেছিলেন, পরে নির্বাচন পার হওয়ার সময় সেটা স্পষ্ট হয়েছে।

    সংসদে তিনি আরও প্রশ্ন তুলেন যে এত সংখ্যক সদস্য নিয়ে আসার পর যাদের আলহামদুলিল্লাহ বলা উচিত ছিল, তাদের সম্পর্কে আজ নানা প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে কিছু জীবিত মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে—মুক্তিযুদ্ধ এবং ১৯৭১ সালের ঘটনা এক কাতায় ধরা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার বক্তব্য, যদি ফ্যাসিস্ট আমলে বিচারের নামে অন্যায় হয়েছে তাহলে সেটার আলাদা বিচার করা উচিত।

    শেষে মনিরুল হক বলেন, এক কথায় তিনি জামায়াতের প্রতি কিছু কথা বলবেন না—তবু এনসিপি বা স্বাধীনতার পরে উঠে আসা কম বয়সীদের তিনি শ্রদ্ধা করেন। তার মতে, বর্তমান যুগের চাহিদা অনুযায়ী যে সাহস দেখা যায়, সেই সাহসই তাদের স্মরণীয় করে তোলে।

  • বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন ক্রেডিট কার্ড গাইডলাইন: ঋণসীমা বেড়ে ৪০ লাখ

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন ক্রেডিট কার্ড গাইডলাইন: ঋণসীমা বেড়ে ৪০ লাখ

    ব্যাংকিং খাতে ক্রেডিট কার্ড পরিচালনাকে আরও সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ ও গ্রাহকবান্ধব করতে নতুন গাইডলাইন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রোববার এ তথ্য জানান ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান।

    দৈনন্দিন খরচ ও মূল্য পরিশোধে নগদ বহনের বিকল্প হিসেবে ব্যক্তিগত পর্যায়ে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। কার্ড ব্যবহারের পরিধি ও সেবার জটিলতা বৃদ্ধির কারণে বিদ্যমান নীতিমালা হালনাগাদ করে একটি বিস্তৃত এবং পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন প্রণয়ন করা হয়েছে।

    নতুন নির্দেশনায় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে এবং গ্রাহকের অধিকার রক্ষা ও দায়িত্বরত ঋণপ্রদানকে উৎসাহিত করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। আগেই থাকা নীতিমালায় বিভিন্ন উপাদান যুক্ত ও পরিমার্জনা করা হয়েছে যাতে নগদবিহীন আর্থিক লেনদেনের জন্য একটি স্বচ্ছ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়।

    গাইডলাইনে অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে — প্রযোজ্যতা ও সংজ্ঞা, ক্রেডিট কার্ডের ধরন, গ্রাহকের যোগ্যতার মানদণ্ড, ঋণসীমা ও সুদের হার নির্ধারণ, কার্ড ইস্যু ও বিপণন কৌশল, বিলিং ও আদায় প্রক্রিয়া, গ্রাহকের তথ্যের গোপনীয়তা ও অধিকার সুরক্ষা, বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

    সর্বোচ্চ ঋণসীমা এবং অনিরাপদ ঋণের সীমা উভয়ই বাড়ানো হয়েছে। আগে যেখানে সর্বোচ্চ ক্রেডিট সীমা ছিল ২৫ লাখ টাকা, তা বাড়িয়ে এখন ৪০ লাখ টাকা করা হয়েছে। একইভাবে অনিরাপদ (অসিকিউরড) ঋণের সীমা ১০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ২০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    নতুন গাইডলাইনে গ্রাহকের অভিযোগ, অনিয়ম ও জালিয়াতি প্রতিরোধ, কার্ডভিত্তিক লেনদেনের পরিশোধ ব্যবস্থা ও বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া পুনঃমূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হয়েছে। ব্যাংকগুলোকে অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে কার্ড ব্যবহারিকতা বাড়লেও ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

    বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে এই গাইডলাইন ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের স্বচ্ছতা বাড়াবে, গ্রাহকসুরক্ষা নিশ্চিত করবে এবং ডিজিটাল লেনদেনকে আরও জনপ্রিয় ও নির্ভরযোগ্য করে তুলবে। এখন ব্যাংক ও কার্ড প্রয়োজক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্ধারিত দিকনির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে হবে।

  • চট্টগ্রাম-মোংলা বন্দর ও শিপিং করপোরেশনে দুর্নীতি এবং নিয়োগ অনিয়ম: দুদকের চারটি তদন্ত কমিটি গঠন

    চট্টগ্রাম-মোংলা বন্দর ও শিপিং করপোরেশনে দুর্নীতি এবং নিয়োগ অনিয়ম: দুদকের চারটি তদন্ত কমিটি গঠন

    দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চট্টগ্রাম বন্দর, মোংলা বন্দর এবং বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতি ও নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধান শুরু করেছে। তদন্ত ত্বরান্বিত করতে উপ-পরিচালক নাজমুচ্ছায়াদাতকে প্রধান করে চারটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    রোববার (১৫ মার্চ) দুদক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বর্তমান চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে একাধিক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে। দফতরটির তথ্যানুযায়ী, তিনি শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ছিলেন এমন সময় ২,৪৮৬ কোটি টাকার ব্যয়ে ৬টি জাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল; কিন্তু শেষ পর্যন্ত মাত্র ৪টি জাহাজ কেনা হয়। এই ব্যবধানে প্রায় ৪৮৬ কোটি টাকার আর্থিক অসঙ্গতি ধরা পড়েছে বলে তাদের তথ্য।

    এছাড়াও মোংলা বন্দর সম্পর্কিত এক প্রকল্পে—পশুর চ্যানেল সংরক্ষণ (ড্রেজিং) প্রকল্প—১,৫৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে।

    দুদকের অনুসন্ধানকারী দল এসব অভিযোগ যাচাই–বাছাই করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো থেকে নথিপত্র তলব করেছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে যাচ্ছেন। তদন্ত চলমান থাকা অবস্থায় আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রকাশ করা হবে পরবর্তীতে।

  • তেলবাজার সামলাতে ইরানের তেল চান ট্রাম্প — নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সম্ভাবনা

    তেলবাজার সামলাতে ইরানের তেল চান ট্রাম্প — নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সম্ভাবনা

    মধ্যপ্রাচ্যে সংঘটিত সহিংসতার তৃতীয় সপ্তাহে বিশ্বজুড়ে তেলবাজারের অস্থিরতা তীব্র রূপ নিয়ে উঠেছে। সামরিক সংঘর্ষের মাঝেই ব্রেন্ট ক্রুডের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যারেলপ্রতি ১১২ ডলারে পৌঁছেছে এবং মাত্র তিন সপ্তাহে তেলের দাম প্রায় এক-তৃতাংশ বেড়ে গেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে গড় পেট্রোলের দাম ঘণ্টাব্যাপী বাড়ছে — বর্তমানে প্রতি গ্যালন প্রায় ৪ ডলারের কাছাকাছি, যা সাধারণ ভোক্তাদের কেবলে লেগেছে।

    হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের বিঘ্ন ও সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন ঘটায় তেলের এই সংকট তৈরি হয়েছে। তেল সরবরাহহীনতার এই পরিস্থিতিতে হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ আলোচনা অনুযায়ী একটি অনস্বাভাবিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন — সমুদ্রে ভাসমান প্রায় ১৪০ মিলিয়ন ব্যারেল ইরানি কাঁচা তেল মিত্র দেশগুলোর কাছে বিক্রির অনুমতি দেওয়া। সূত্র জানায়, এই তেলের জন্য একসময় চীন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কিনতে আগ্রহ দেখিয়েছিল; এখন ওয়াশিংটনই সেই নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে মিত্র দেশগুলোকে তেল কিনতে উৎসাহিত করতে পারে।

    বিশ্লেষকেরা বলছেন, রাজনৈতিকভাবে এটি ট্রাম্পের জন্য জটিল ও বিতর্কিত পদক্ষেপ। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময় ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত নীতি নিয়ে ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা ছিল—তবে এখন তিনি নিজে সেই নীতির বিপরীতে যেতে পারেন।

    ট্রাম্প প্রশাসনের সাবেক জ্বালানি কর্মকর্তা নীলেশ নেরুরকার জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতি ‘‘তেলের বাজারের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিপর্যয়’’ বলে তিনি অভিহিত করেছেন এবং বলেছেন যে যে পরিমাণ তেলের ঘাটতি তৈরি হয়েছে তা মোকাবিলা করার জন্য পর্যাপ্ত মজুদ বা বিকল্প পথ হাতে নেই।

    অন্যদিকে ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট দাবি করেছেন যে ইরান এই তেল বিক্রির ফলে প্রাপ্ত অর্থ সরাসরি ব্যবহার করতে পারবে না এবং তानিয়ে রাখা হচ্ছে ‘সর্বোচ্চ চাপ’ নীতি। বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে ১৪০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বিশ্ব বাজারের মাত্র আনুমানিক দেড় দিনের চাহিদার সমান; তাই এই তহবিল ছাড়া তেলের দাম স্থায়ীভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা কতোটা সম্ভব, সে বিষয়ে সন্দেহ রয়ে গেছে।

    প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, তিনি আশা করছেন চার থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে সংঘাত শেষ হতে পারে। তাতে রাজি নয় অনেক জ্বালানি বিশেষজ্ঞ — তাদের মতে যতদিন হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা থাকবে, ততদিন জ্বালানির দাম উপর পর্যন্ত থাকবে। হোয়াইট হাউস মুখপাত্র টেলর রজার্স আশ্বস্ত করতে বলেছেন, ‘যদি সামরিক লক্ষ্য পূরণ হয় তেলের দাম আগের চেয়েও কমে যাবে,’ কিন্তু সেই লক্ষ্য কবে অর্জিত হবে, তা এখনও অনিশ্চিত।

    সব মিলিয়ে, সামরিক সংঘাতের গর্জনের পাশাপাশি তেলের বাজারের ওঠানামাই হোয়াইট হাউসের জন্য শীর্ষস্থানীয় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি কিভাবে মোড় নেবে—তা নির্ভর করবে কক্সস্থল ও কূটনৈতিক পদক্ষেপের timing এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে নেওয়া আন্তর্জাতিক উদ্যোগের ওপর।

    তথ্যসূত্র: সিএনএন

  • ঈদে আল-আকসা বন্ধ, ফিলিস্তিনি মুসল্লিদের গভীর হতাশা

    ঈদে আল-আকসা বন্ধ, ফিলিস্তিনি মুসল্লিদের গভীর হতাশা

    পবিত্র আল-আকসা মসজিদ—জেরুসালেমের মুসলিমদের জন্য সবচেয়ে সংবেদনশীল ধর্মীয় স্থান—রমজানের শেষ দিকে এই প্রথম একাধিক দিন বন্ধ রাখা হলো। ফলে ঈদুল ফিতরের প্রধান দিনে বহু মুসল্লি মসজিদে প্রবেশ করতে পারেননি এবং কাছাকাছি খোলা জায়গায় নামাজ আদায়ে বাধ্য হন।

    স্থানীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, আজ শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালে ওল্ড সিটি জেরুসালেমের বাইরে শত শত মানুষ নামাজ আদায় করেন। ইসরাইলি পুলিশ মসজিদের প্রবেশপথগুলো তত্ক্ষণাত বন্ধ করে দেওয়ায় মসজিদমুখী মুসল্লিদের অনেকেই পুরনো শহরের গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়েছেন।

    ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের চলমান উত্তেজনার কারণে নিরাপত্তাজনিত আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তারা বলেছে, এই নিরাপত্তা বিবেচনায় ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করে পুরো রমজানজুড়ে বেশিরভাগ মুসল্লির জন্য মসজিদ এলাকা কার্যত সীমাবদ্ধ রাখা হয়। ফলে হাজার-হাজার ফিলিস্তিনি পুরনো শহরের বাইরে নামাজ পড়তে বাধ্য হয়েছেন।

    ফিলিস্তিনি নেতারা ও স্থানীয় বাসিন্দারা এ সিদ্ধান্তকে শুধুমাত্র নিরাপত্তা বলেই দেখছেন না। তাদের অভিযোগ, এটি একটি কৌশলগত পদক্ষেপ—উত্তেজনা-নিয়ন্ত্রণকে অজুহাত করে আল-আকসা কমপ্লেক্সে নিয়ন্ত্রণ আরও কড়া করা হচ্ছে। মুসলিমদের কাছে পুরো এলাকা ‘আল-হারাম আল-শরিফ’ নামে পরিচিত; এখানে ডোম অফ দ্য রকসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা আছে। ইহুদিদের কাছে একই স্থানটি ‘টেম্পল মাউন্ট’ নামে পরিচিত।

    জেরুসালেমের মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে গভীর হতাশা এবং উদ্বেগ দেখা গেছে। ৪৮ বছর বয়সি হাজেন বুলবুল বলেন, ‘এবারের ঈদ আমাদের জন্য সবচেয়ে দুঃখের দিন হতে যাচ্ছে।’ তিনি আরো আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন যে, এই ধরনের বাধা ভবিষ্যতেও সাধারণ হয়ে যেতে পারে।

    সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পুরোনো শহরে ফিলিস্তিনি মুসল্লি ও ধর্মীয় কর্মীদের গ্রেফতার এবং ইসরাইলি বসতকারীদের মসজিদ এলাকার ভিতরে ঢোকার ঘটনা বেড়েছে—নামাজের সময় অনেককে আটক করা এবং প্রবেশে বাধা দেয়া হচ্ছে, বলেও স্থানীয়রা জানাচ্ছেন।

    ঈদের আগে সাধারণত পুরান শহরে ভিড় থাকলেও এবার তা অনুপস্থিত—দোকানপাটও অধিকাংশ বন্ধ ছিল; কেবল ওষুধ ও খাদ্যপণ্যের দোকানগুলো খোলা ছিল। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বন্ধজীবন তাদের জন্য বড় আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়েছে।

    আল-আকসার খতিব ও সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি একরিমা সাবরি ফিলিস্তিনি মুসল্লিদের অনুরোধ করেছেন—যদি মসজিদে ঢোকা না যায়, তবে যতটা সম্ভব কাছে গিয়ে ঈদের নামাজ পড়ুন। তবু পুরান শহরের ভিতরে কড়া নিরাপত্তা, তল্লাশি ও সংঘর্ষের আশঙ্কায় উত্তেজনা বাড়ছে।

    আল-আকসা মসজিদ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আরব লীগ। তারা বলেছে, এটি আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর আঘাত। ওআইসি ও আফ্রিকান ইউনিয়ন কমিশনও একইরকম নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, রমজানের মতো পবিত্র সময়ে আল-আকসা বন্ধ করা শুধু ধর্মীয় অধিকার লঙ্ঘন নয়, মুসলিম বিশ্বের অনুভূতিতেও আঘাত। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, এ ধরনের পদক্ষেপ পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলবে এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি হুমকির মুখে ফেলতে পারে।

    আল-কুদস ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট অফিসের মিডিয়া ইউনিটের পরিচালক খলিল আসালি বলেছেন, আল-আকসা বন্ধ করার সিদ্ধান্তকে ‘ফিলিস্তিনিদের জন্য বড় বিপর্যয়’ হিসেবে দেখা উচিত। তিনি বলেন, যখন অনেকে মসজিদের যতটা সম্ভব কাছে গিয়ে নামাজ পড়ার চেষ্টা করেন, তখন ইসরায়েলি বাহিনী তাদের ধাওয়া করে এবং নামাজরত অবস্থাতেই তাদের সরিয়ে দেয়।

    অন্যদিকে গাজা উপত্যকা রমজান শেষে যুদ্ধের ধ্বংস ও মানবিক সংকটের ছায়ায় কাঁপছে। অনেক শহর ধ্বংসস্তূপে ঢেকে থাকা অবস্থায় মানুষ অসংলগ্ন পরিবেশে ঈদ পালন করছে। ৩২ বছর বয়সী সাদিকা ওমর উত্তর গাজা থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে দেইর আল-বালাহে আশ্রয় নিয়েছেন; তিনি বলেন, ‘ঈদের আনন্দ অসম্পূর্ণ—অনেকেই বাড়ি ও পরিবার হারিয়েছেন।’

    খান ইউনিসে আশ্রয় নেওয়া ৪৯ বছর বয়সী আলা আল-ফাররা বলেছেন, চলমান হামলার কারণে চলাফেরায় সীমাবদ্ধতা রয়েছে; তাই এবারের ঈদও সংকুচিত ও সীমিত। যদিও সীমিতভাবে কিছু ঐতিহ্য ফিরে এসেছে—শিবিরে ভাঁড়ার চুলায় কায়েক ও মামুলের সুগন্ধ ছড়ায়, বাজারে মিষ্টি দেখা গেলেও অনেকের নাগালের বাইরে। অনেক পরিবার সামান্য সুখ ছাড়া বড় উৎসব পালন করতে পারছে না।

    গত বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং কিছুদিন বন্ধ থাকার পর পুনরায় খুলে দেয়া হয়; এটিই ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের উত্তেজনার পর প্রথমবারের মতো জাতিসংঘের একটি বহর গাজায় প্রবেশ করার সুযোগ দেয়। তবু গাজায় ঈদের আনন্দ অসমভাবে ছড়ায়—নানান ধ্বংস ও শোকে ঘেরা পরিবারগুলোর মধ্যে আনন্দ কেবল সীমিত মাত্রায় দেখা যায়।

    গাজার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, যুদ্ধবিরতির পরে আপাতত কিছুটা নিরাপত্তা থাকলেও তা পর্যাপ্ত নয়; সাম্প্রতিক বিমান হামলার প্রস্তুতিতে মানুষকে হঠাৎ সরিয়ে নিতে হয়েছে, আইফতারের উঠতি মুহূর্তে কেউ-ই ব্যতহয় ছাড়া চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। অনেকের ঈদ স্মৃতি ও ক্ষণিকের আনন্দে অতিবাহিত হচ্ছে—স্মৃতি আর সামান্য রীতিনীতির মধ্যেই দিনের পর দিন কেটে যাচ্ছে।

    এই প্রতিবেদনটি দ্য গার্ডিয়ানসহ স্থানীয় সংবাদ উৎসের সংকলিত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে রচিত।

  • পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন আজ: দেশে প্রস্তুতি, প্রধান জামাত সকাল সাড়ে আটটায়

    পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন আজ: দেশে প্রস্তুতি, প্রধান জামাত সকাল সাড়ে আটটায়

    এক মাস রোজা-ইবাদতের পর শনিবার (২১ মার্চ) দেশে পালিত হবে মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। রাজধানীসহ সারাদেশে বাসিন্দারা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দের সঙ্গে ঈদের নামাজ আদায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নানা দুর্যোগ-শঙ্কা থাকলেও বড় মাঠ, ঈদগাহ ও মসজিদগুলোতে জামাতের যাবতীয় আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে।

    জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে এবারের প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তবে আবহাওয়ার কারণে যদি ওই জামাত সম্ভব না হয়, তাহলে সকাল ৯টায় প্রধান জামাত বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক এবারের প্রধান ইমামতি করবেন; তার অনুপস্থিতিতে ইমামতির দায়িত্ব পালন করবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফাসসির ড. মাওলানা মো. আবু ছালেহ পাটোয়ারী।

    স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে দেশের মানুষের সঙ্গে ঈদ জামাতে অংশগ্রহণ করবেন। ঢাকার প্রধান ঈদগাহের জন্য সব আয়োজন সম্পন্ন করা হয়েছে বলে সূত্র জানায়। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম রাজধানীবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়ে প্রধান জামাতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

    প্রধান জামাতে ৩৫ হাজার মুসল্লির নামাজের জায়গা তৈরি করা হয়েছে; এর মধ্যে নারী অংশগ্রহণকারীর জন্য আলাদা ৩ হাজার ৫০০ লোকের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নারী-মুসল্লিদের জন্য পৃথক প্রবেশপথ, ওজুর সুবিধা এবং সংরক্ষিত নামাজের স্থান নিশ্চিত করা হয়েছে। সাধারণ মুসল্লিদের সুবিধার জন্য পর্যাপ্ত ওজুখানা ও জরুরি চিকিৎসাসেবা প্রদানে মেডিকেল টিম দায়িত্ব পালন করবে।

    নিরাপত্তা ও পর্যবেক্ষণে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কোনো সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই; তবু গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পুরো ঈদগাহ এবং আশপাশের এলাকা সিসিটিভি Kamerা দিয়ে সার্বক্ষণিক নজরে রাখা হবে। মৎস্য ভবন, প্রেসক্লাব ও শিক্ষা ভবন মোড়ে ব্যারিকেড দিয়ে যানবাহন প্রবেশ সীমিত করা হবে। প্রবেশপথে আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেকটর ব্যবহার, ডগ স্কোয়াড ও স্পেশাল ব্রাঞ্চের সুইপিং টিম মোতায়েন থাকবে। জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিচারপতি, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং মুসলিম বিশ্বের কূটনীতিকদের মধ্যে অনেকে প্রধান জামাতে অংশ নেওয়ার কথা ভাবছেন।

    ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে আগারগাঁওয়ের পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে (চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র সংলগ্ন) সকাল ৮টায় কেন্দ্রীয় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান নগরবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং পরিবারের সঙ্গে এই জামাতে অংশগ্রহণের আহ্বান করেছেন। এই কেন্দ্রীয় ঈদগাহে তিনটি গেটসহ নারীদের জন্য আলাদা প্রবেশপথ ও নামাজের স্থান নিশ্চিত করা হয়েছে; ওজুর ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যসেবা রাখা হবে। নিরাপত্তায় ডিএমপি থেকে দুই প্লাটুন পুলিশ মোতায়েন করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

    বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে প্রতি বছরের মতো এবারও পাঁচটি পর্যায়ক্রমিক জামাত অনুষ্ঠিত হবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন অনুযায়ী এই জামাতগুলো সকাল ৭টা, ৮টা, ৯টা, ১০টা ও বেলা পৌনে ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে। প্রত্যেক জামাতে বিভিন্ন সিনিয়র ইমামরা পরিচালনা করবেন—উল্লেখযোগ্য ইমামদের মধ্যে আছেন মাওলানা মিজানুর রহমান, মুফতি মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী, মাওলানা মো. জাকির হোসেন, মাওলানা যোবায়ের আহমেদ আল আযহারী ও মুফতি মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ। বিকল্প ইমাম হিসেবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহকারী লাইব্রেরিয়ান মাওলানা শহীদুল ইসলাম প্রস্তুত থাকবেন।

    জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায়ও সকাল ৮টায় ঈদের জামাতের আয়োজন করা হয়েছে। সংসদের স্পিকার, চিফ হুইপ, হুইপবৃন্দ, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং সংসদ সদস্যসহ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেবেন; সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষও উন্মুক্তভাবে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।

    প্রদেশ ও জেলায়ও ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। খুলনায় প্রধান জামাত সকাল ৮টায় খুলনা সার্কিট হাউস মাঠে অনুষ্ঠিত হবে; দ্বিতীয় জামাত সকাল ৯টায় এবং তৃতীয় জামাত সকাল ১০টায় খুলনা টাউন জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। আবহাওয়ার অনিশ্চয়তার হাত থেকে রক্ষায় বিকল্প পরিকল্পনাও করা হয়েছে—প্রয়োজনে টাউন জামে মসজিদে একের পর এক জামাত পরিচালনা করা হবে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে সকালে বিশেষ জামাতের আয়োজন করা হয়েছে; অনেক স্থানে মহিলাদের জন্য পৃথক নামাজকক্ষ রাখা হয়েছে।

    খুলনাসহ নগরের বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহগুলোতেও সময়সূচি ও ইমামপদ নির্ধারণ করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও ওয়ার্ডভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্তরা প্রতিটি ওয়ার্ডে আলাদা করে জামাতের আয়োজন করেছেন। ঈদ উপলক্ষে নগরীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ নজরদারি ও টহল জোরদার করা হবে। পাশাপাশি আতশবাজি ও পটকা ফোটা, রাস্তা বন্ধ করে স্টল রাখা, উচ্চধ্বনি মাইক/ড্রাম ব্যবহার, রঙিন পানি ছিটানো এবং বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

    ঈদ উদযাপনের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে সামাজিক সহায়তা ও সেবা নিশ্চিত করা। দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশু সদন, বৃদ্ধ নিবাস, আশ্রয় কেন্দ্র, অনাথ আশ্রম, দুস্থ কল্যাণ কেন্দ্র ও মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে মানসম্মত খাবার পরিবেশন নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এতে দুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিতরা সুফল পাবেন।

    সংক্ষিপ্তভাবে বললে, পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপনিক মনোভাব ও ধর্মীয় মর্যাদা বজায় রেখে এবারও শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে দেশব্যাপী সকল প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। জনসাধারণের কাছে প্রশাসন ও নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের আহ্বান—নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলুন, জামাতে শান্তি বজায় রাখুন এবং সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি অবশ্যই মেনে চলার চেষ্টা করুন। ঈদের শুভেচ্ছা ও মঙ্গল কামনা রইল।

  • যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে খুলনায় পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর পালিত

    যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে খুলনায় পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর পালিত

    যথাযোগ্য মর্যাদা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে আজ (শনিবার) খুলনায় পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর পালিত হয়েছে। সকাল থেকেই শহরজুড়ে উদ্দীপনা দেখা গেছে; মসজিদে জমায়েত, রাস্তায় ব্যানার ও পরিবারের সহযোগে আনন্দের ছোয়ায় দিনটি সচেতন ও মার্জিতভাবে কাটানো হয়েছে।

    সূর্যের ঠিক উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে সরকারি, আধাসরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত ভবনগুলিতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। মহানগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সড়কদ্বীপে বাংলা ও আরবিতে লেখা ঈদ মোবারকবならর ব্যানারে শহরটি সাজানো হয়।

    ঈদের প্রধান জামাত সকাল আটটায় খুলনা টাউন জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান ইমামতি করেন টাউন জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মোহম্মদ সালেহ। এ ছাড়াও সকাল নয়টায় দ্বিতীয় এবং দশটায় তৃতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

    প্রধান জামাতে অংশ নেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মনজু, বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মোখতার আহমেদ, কেসিসি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, জেলা প্রশাসক আ. স. ম. জামশেদ খোন্দকারসহ প্রশাসনের اعلی কর্মকর্তারা। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরাও উপস্থিত ছিলেন। নামাজের পর দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয় এবং পরস্পর ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করা হয়।

    সাড়ে আটটায় খুলনা আলিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন মডেল মসজিদ ও বয়রা মডেল মসজিদে জামাত অনুষ্ঠিত হয়। খালিশপুর জামে মসজিদ ও বসুপাড়া ইসলামাবাদ জামে মসজিদে সকাল আটটায় ঈদের জামাতের আয়োজন ছিল। এছাড়া খুলনা সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী পৃথকভাবে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

    শহরের বিভিন্ন এলাকায় আরও অনান্য মসজিদে জামাত অনুষ্ঠিত হয়; যার মধ্যে নিউমার্কেট সংলগ্ন বায়তুন-নুর জামে মসজিদ, ডাকবাংলা জামে মসজিদ, ময়লাপোতা বায়তুল আমান জামে মসজিদ, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় জামে মসজিদ, সোনাডাঙ্গা হাফিজনগর জামে মসজিদ, খুলনা ইসলামাবাদ, পিটিআই জামে মসজিদ, পশ্চিম টুটপাড়া আশরাফিয়া জামে মসজিদ, রহমানিয়া জামে মসজিদ, জাতিসংঘ শিশু পার্ক সংলগ্ন মসজিদ, কেডিএ ও নিরালা জামে মসজিদ, সিদ্দিকীয়া মাদ্রাসা, দারুল উলুম মাদ্রাসা, সোনাডাঙ্গা আন্তঃজেলা বাসটার্মিনাল মসজিদ, রূপসা বায়তুশ শরফ জামে মসজিদ, ফেরিঘাট আবু বকর সিদ্দিক (রা.) জামে মসজিদ, গোবরচাকা জামে মসজিদসহ নগরীর নানা পাড়া-মহল্লায় মসজিদ গুলোতে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

    ঈদ উদযাপনের পাশাপাশি সামাজিক সহায়তাও চোখে পড়ে। বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল, কারাগার, শিশুসদন, ছোটমনি নিবাস, প্রতিবন্ধী কেন্দ্র, শিশু বিকাশ কেন্দ্র, আশ্রয় কেন্দ্র, সেফ হোমস, ভিখারীবাস্থলী ও দুস্থ কল্যাণ কেন্দ্রে বিশেষ খাবার ও সেবার আয়োজন করা হয়।

    বাংলাদেশ বেতারের খুলনা কেন্দ্র ঈদ উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করে এবং স্থানীয় সংবাদপত্রসমূহও বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করে। উপজেলার প্রতিটি স্তরেও স্থানীয়ভাবে নানা কর্মসূচি ও জামাতের মাধ্যমে ঈদ পালিত হয়।

    শহরবাসী শান্তিপূর্ণ ও আনন্দভরা পরিবেশে ঈদ উদযাপন করে; একে অপরকে শুভেচ্ছা জানিয়ে, প্রার্থনা ও সহমর্মিতার মুহূর্ত ভাগ করে নিয়েছে।

  • আইপিএলে দুঃসংবাদ: নিরাপত্তা ঝুঁকি ও চোটে বিদেশি তারকা অনিশ্চিত

    আইপিএলে দুঃসংবাদ: নিরাপত্তা ঝুঁকি ও চোটে বিদেশি তারকা অনিশ্চিত

    আইপিএলের উদ্বোধন ২৮ মার্চে ঘোষিত; কিন্তু দুই দিক থেকে উদ্বেগ বাড়ছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের কারণে আকাশপথ অনিশ্চিত হয়ে ওঠায় ভারতকে বিকল্প ভ্রমণপথ বাতলে দিতে হতে পারে, আর অন্যদিকে একের পর এক চোট বিদেশি খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতি বাড়াচ্ছে — কেউ পুরো টুর্নামেন্ট মিস করছেন, কেউ শুরুতেই নেই। ফলে ফ্রেঞ্চাইজিগুলোকে দলগত সমন্বয় ও বিকল্প পরিকল্পনা নিয়ে তৎপর হতে হচ্ছে।

    প্যাট কামিন্স: অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট অধিনায়ক কামিন্সকে এবারও সানরাইজার্স হায়দরাবাদের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পিঠের চোট তাকে দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে রেখেছে। তাই শুরুর দিকে নেতৃত্ব ও দলে থাকা নিয়ে সিদ্ধান্ত ইশান কিষাণের হাতে দেওয়া হয়েছে। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার ঘোষণা অনুযায়ী, কোমরের অবস্থা ও ফিটনেস পরীক্ষায় পাশ হলেই তিনি পরবর্তী সপ্তাহে দলের সঙ্গে যোগ দিতে পারবেন।

    মিচেল স্টার্ক: স্টার্ক কোনও বড় ইনজুরিতে নেই, তবু অতিরিক্ত কাজের চাপ ও বিশ্রামের প্রয়োজনের কারণে তাকে নিয়েও সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। কামিন্স ও হ্যাজলউডের অনুপস্থিতিতে শুরুর অ্যাশেজে পেস বিভাগ সামলানো তার কাঁধে পড়েছিল; এই কারণে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া তাকে নিয়ে ঝুঁকি নিতে আগ্রহী নয়। দিল্লি ক্যাপিটালসের জন্য তার যোগদান ফিটনেস রিপোর্টের ওপর নির্ভর করবে।

    জশ হ্যাজলউড: রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর শিরোপাজয়ের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ছিলেন হ্যাজলউড, কিন্তু এবার তিনি শুরুর কিছু ম্যাচ মিস করতে পারেন। হ্যামস্ট্রিং ও অ্যাকিলিস চোটের পুনর্বাসনে আছেন এবং ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার ফিটনেস টেস্টে পাশ করলেই আইপিএলে যোগ দেবেন।

    নাথান এলিস: সাদা বলের ক্রিকেটে গুরুত্বপূর্ণ সদস্য নাথান এলিসকে হ্যামস্ট্রিং চোট পুরো টুর্নামেন্ট থেকে ছিঁড়ে দিয়েছে বলে জানা গেছে। চেন্নাই সুপার কিংসের বোলিং ইউনিটে তাঁর অভাব স্পষ্টভাবে অনুভূত হবে; দল এখন তার স্থলে বিকল্প খুঁজছে।

    স্যাম কারান: ইংল্যান্ডের অলরাউন্ডার স্যাম কারানকে রাজস্থান রয়্যালসে ট্রেড করা হয়েছিল, কিন্তু তিনি গ্রোয়িন ইনজুরির কারণে পুরো মৌসুম মিস করতে পারেন। ফলে রাজস্থানের পরিকল্পনায় বদল আনতে হবে; চেন্নাই আগে স্যামসনকে পেতে কারান ও জাদেজাকে ছেড়ে দিয়েছিল — এখন সেই বদল দলের ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে।

    জ্যাক এডওয়ার্ডস: সানরাইজার্স হায়দরাবাদের তরুণ অস্ট্রেলিয়ান পেসার জ্যাক এডওয়ার্ডস পায়ের চোটের কারণে পুরো আইপিএল মিস করছেন। বিগ ব্যাশে তিনি ১৩ উইকেট নিয়েছিলেন এবং নিলামে একটি গুরুত্বপূর্ণ আনক্যাপড প্রকৃতির দখল করেছিল; তাঁর অনুপস্থিতি হায়দরাবাদের বোলিং বিভাগে বড় ধাক্কা দিয়েছে।

    লকি ফার্গুসন: পাঞ্জাব কিংসের কিউই পেসার লকি ফার্গুসন ব্যক্তিগত কারণে আইপিএলের শুরুর ধাপ মিস করবেন — সম্প্রতি বাবা হওয়ায় পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে চান তিনি। পরে টুর্নামেন্টের শেষভাগত দলে যোগ দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

    এই সব অনিশ্চয়তা এবং ভ্রমণগত ঝুঁকির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে দ্রুত বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি করতে হচ্ছে—খেলোয়াড় বদলি, দলের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি ও ভ্রমণের নতুন রুট ঠিক করা এসব এখনই অগ্রাধিকার। আইপিএলের উত্তাপ বজায় রাখতে এবং প্রতিযোগিতার ভারসাম্য রাখতে এসব চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় রাজস্ব ও ক্রীড়া কর্তৃপক্ষকেও সক্রিয় থাকতে হবে।

  • পিএসএলে খেলতে এনওসি পেলেন মুস্তাফিজ-শরিফুলসহ পাঁচ বাংলাদেশি

    পিএসএলে খেলতে এনওসি পেলেন মুস্তাফিজ-শরিফুলসহ পাঁচ বাংলাদেশি

    পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) খেলতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) পাঁচটি এনওসি দিয়েছে — মুস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম, রিশাদ হোসেন, নাহিদ rana ও পারভেজ হোসেন ইমন। তাদের ছাড়পত্র ১২ এপ্রিল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

    পিএসএল চলতি বছর ২৬ মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়ায় আগে থেকেই প্রশ্ন ছিল, বাংলাদেশের এই তারকারা আন্তর্জাতিক সূচির সঙ্গে সেই সময় তাল মিলিয়ে খেলতে পারবেন কি না। বিসিবির সূত্র বুধবার ঢাকা পোস্টকে জানিয়েছে, সব খেলোয়াড়কে সীমিত সময়ের এনওসি মঞ্জুর করা হয়েছে।

    চুক্তিভিত্তিকভাবে লাহোর কালান্দার্সায় স্থান পেয়েছেন বাঁ-হাতি পেসার মুস্তাফিজ। পারভেজ ইমনও লাহোর দলে থাকবেন। নিলামে রিশাদ হোসেন রাওয়ালপিন্ডির জার্সি পেয়েছেন, আর নাহিদ রানাকে দেখা যেতে পারে পেশোয়ার জালমিতে। কয়েক দিন আগে পঞ্চম বাংলাদেশি হিসেবে প্রথমবারের মতো পিএসএলে ডাক পেয়েছেন শরিফুলও।

    বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান নাজমুল আবেদীন ফাহিম জানিয়ে দিয়েছেন, দেশের ওয়ানডে সিরিজকে গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং সেই লক্ষ্যকে টিকে থাকলে নিশ্চিতভাবেই কোনো আপস করা হবে না। তিনি বলেছেন, যদি মনে হয় একজন খেলোয়াড়ের টেকনিক বা টি-টোয়েন্টি উন্নতির জন্য লিগে খেলা দরকার এবং একই সময় আমাদের রিপ্লেসমেন্ট আছে, তখন ছাড় দেওয়া হবে।

    বাংলাদেশ ক্রিকেট দল আপাতত ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের আমন্ত্রণে এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহে তিনটি ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে। তাই এই আন্তর্জাতিক সূচির কারণে পাঁচ খেলোয়াড়কে সীমিত সময়ের (১২ এপ্রিল পর্যন্ত) এনওসি দেয়া হয়েছে; তারা ওই সময়ের আগে দেশে ফিরবেন।

    পিএসএলের উদ্বোধনী ম্যাচে লাহোর কালান্দার্স লড়বে হায়রাবাদ হিউস্টনের সঙ্গে — সেই ম্যাচে মুস্তাফিজ ও ইমন মাঠে থাকতে পারেন। অন্যদিকে ২৮ মার্চের ম্যাচে রিশাদ, নাহিদ ও শরিফুলের খেলা সম্ভাব্য। এমন পরিস্থিতিতে জাতীয় দলের সতীর্থরা তাদের ফ্র্যাঞ্চাইজি দলের হয়ে একে‑অপরের বিরুদ্ধে খেলতেও দেখা যাবে।

    বিসিবির সূত্র ও ফাহিমের মন্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক প্রতিপত্তি রক্ষার পাশাপাশি খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত উন্নতিকে খেয়াল করে নিয়ন্ত্রণ শর্তে এই ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।

  • ১৪ শোতে দিলজিৎ ৯৪৩ কোটি আয়, লাইভ ট্যুর হয়ে উঠল অর্থনীতির শক্ত কেন্দ্র

    ১৪ শোতে দিলজিৎ ৯৪৩ কোটি আয়, লাইভ ট্যুর হয়ে উঠল অর্থনীতির শক্ত কেন্দ্র

    কনসার্ট শুধুই গান আর আনন্দ—এমন ধারণা এখন বদলে গেছে। ১৪টি পারফরম্যান্সে ১৩টি শহর ঘুরে দিলজিৎ দোসাঞ্জের সাম্প্রতিক “ডিল-লুমিনাটি” ট্যুর মোটামুটি ৯৪৩ কোটি টাকার আয় করেছে, যা প্রমাণ করে লাইভ মিউজিক কেবল বিনোদনই নয়, বিশাল একটি অর্থনীতিক ক্ষেত্র।

    ট্যুরের রাজস্বের ভাঙ্গনটা চোখে পড়ার মত: টিকিট থেকে এসেছে প্রায় ২২১ কোটি, স্পনসরশিপে যোগ হয়েছে ৩৩ কোটি, আর সরাসরি সরকারি রাজস্বের হিসেবে জমা পড়েছে ১১৪ কোটি টাকার বেশি। প্রতিটি শো যেন নিজেই একটি অর্থনৈতিক কেন্দ্র হয়ে ওঠে।

    সবচেয়ে বড় বিস্ফোরক ছিল পরোক্ষ অর্থনৈতিক প্রভাব—ভক্তদের ভ্রমণ, হোটেল ভাড়া, খাবার ও কেনাকাটা মিলিয়ে তৈরি হয়েছে প্রায় ৫৫৩ কোটি টাকার বাধ্যতামূলক চেইন। জরিপে দেখা গেছে প্রায় ৩৮% দর্শক অন্য শহর থেকে এসে কয়েক দিন অতিরিক্ত থাকেছেন, ফলশ্রুতিতে স্থানীয় পর্যটন ও ব্যবসায় ব্যাপকভাবে সংশ্লিষ্ট সুবিধা পেয়েছে।

    দর্শক উন্মাদনা সংখ্যায়ও প্রতিফলিত হয়েছে। ১৪টি শোতে মোট উপস্থিতি ৩ লাখ ২০ হাজারেরও বেশি; শুধু দিল্লির এক শোতেই ছিল প্রায় ৫৫ হাজার দর্শক। প্রতিটি অনুষ্ঠানের টিকিট আগেভাগেই হাউসফুল হয়ে গিয়েছিল। বিশ্বব্যাপী বড় ট্যুরিং আর্টিস্টদের সাথে তুলনা করলে স্থানীয়ভাবে এখনো পথ আছে, তবুও এই সাফল্য দিলজিৎকে বৈশ্বিক ট্যুরিং মানচিত্রে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দিয়েছে।

    শুধু আয়ই নয়, কর্মসংস্থানের দিক থেকেও ট্যুরটি বড় প্রভাব ফেলেছে। আনুমানিক ১ লাখ ১৮ হাজার কর্মঘণ্টা তৈরি হয়েছে—লজিস্টিক্স, নিরাপত্তা, প্রোডাকশন ও ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টসহ বহু ক্ষেত্রে লোকবল প্রয়োজন পড়েছে। অর্থাৎ এখন আর কোনও কনসার্ট কেবল একটি শো নয়; এটা একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক ইকোসিস্টেম, যার সুযোগ-সুবিধা থেকে স্থানীয় অর্থনীতি পর্যন্ত সব দিকেই সুফল দেখা যাচ্ছে।