খুলনা সিটি করপোরেশনের নবনিযুক্ত প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, স্থবির থাকা জেলা পরিষদগুলো সচল করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছেন। এই নিয়োগ খুলনা জেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পুনরায় ত্বরান্বিত করবে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ভূমিকা রাখবে। ঈদের আগে পাওয়া এই দায়িত্ব সবাইকে অনুপ্রাণিত করছে। কিছু আগে আমাকেও সিটি করপোরেশনে নিয়োগ দেয়া হয়েছে; এখন মিলেমিশে খুলনা মহানগরী ও জেলার মানুষের কল্যাণে কাজ করবো—তিনি এও উল্লেখ করেন।
নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসক এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পী মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) দুপুর ১২টায় খুলনা জেলা পরিষদে দায়িত্ব গ্রহন করেন। দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, তরিক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের লক্ষ্য জেলা পরিষদকে দুর্নীতিমুক্ত, জনবান্ধব ও কল্যাণমুখী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা। কোনো দুর্নীতিবাজের সেখানে ঠাঁই হবে না; তৃণমূল পর্যায়ে আর্থিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সেবা পৌঁছে দেয়া হবে—এটাই তাদের মূল উদ্দেশ্য।
দায়িত্ব হস্তান্তর করেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার উপ-পরিচালক মো. আরিফুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য এম. আমীর এজাজ খান ও জেলা বিএনপির আহবায়ক মো. মনিরুজ্জামান মন্টু।
দায়িত্ব গ্রহনের পরে বক্তৃতায় এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পী বলেন, দীর্ঘ স্বৈরশাসনের পর অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক সরকার তারেক রহমানের নেতৃত্বে যাত্রা শুরু করেছে। দেশের দায়িত্ব নেওয়ার পর যারা অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িত ছিল, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হতে হবে। তিনি জানান, তাকে জেলা পরিষদকে সততা, নিষ্ঠা ও প্রজ্ঞার সাথে পরিচালনা করে দুর্নীতিমুক্ত ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
মনিরুল হাসান বাপ্পী দাবি করেন, গত ১৭ বছর ধরে খুলনা জেলা পরিষদ দুর্নীতিগ্রস্ত ছিল এবং সেখানে নিয়ম ও নীতির অভাব ছিল। তাই তিনি জনগণের স্বচ্ছ যাতায়াত নিশ্চিত করে জবাবদিহিমূলক একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার অঙ্গীকার প্রকাশ করেন। তিনি মহান আল্লাহর শোকরিয়া করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও খুলনাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং দীর্ঘ সময়ের সংগ্রামী নেতাকর্মী ও সমর্থকদেরও ধন্যবাদ জানান।
দায়িত্ব গ্রহণের পর মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, আরাফাত রহমান কোকোসহ মহান মুক্তিযুদ্ধ ও ’২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া-মোনাজাত করা হয়। অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুস্হ্য ও দীর্ঘায়ু এবং দেশের সমৃদ্ধি কামনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. শফিকুল আলম মনা, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (ট্রাফিক) মো. শফিকুল ইসলাম, জেলা পুলিশ সুপার মো. মাহবুবুর রহমানসহ জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতা-কর্মীরা। এছাড়া খুলনার নয়টি উপজেলা ও দুই পৌরসভার বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা অংশ নিয়ে নবনিযুক্ত প্রশাসক মনিরুল হাসান বাপ্পীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। পরে তিনি তাঁর নির্ধারিত কক্ষে বসে দাপ্তরিক কাজ শুরু করেন।