Blog

  • সরকারি দায়িত্বের সূত্রেই গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক পদ ছাড়লেন জোনায়েদ সাকি

    সরকারি দায়িত্বের সূত্রেই গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক পদ ছাড়লেন জোনায়েদ সাকি

    গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্ব থেকে নিজেই সরে দাঁড়ালেন দলটির প্রতিষ্ঠাতা ও শীর্ষ নেতা জোনায়েদ সাকি। দায়িত্বভার সাময়িকভাবে গ্রহণ করেছেন দেওয়ান আব্দুর রশিদ নিলু। দলীয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি দায়িত্ব ও রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব পৃথক রাখার নীতির কারণে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

    শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর হাতিরপুলে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জোনায়েদ সাকি নিজেই পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তিনি সভায় বলেন, ‘রাজনৈতিক দল ও সরকারকে আলাদা করার জন্য দলীয় প্রধানের দায়িত্ব ছেড়েছি।’

    একই সংবাদ সম্মেলনে তিনি ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়ন নিয়ে চলমান বিতর্কের প্রসঙ্গও তুলে ধরে বলেন, বাস্তবায়ন কিভাবে হবে তা নিয়ে আলোচনা চলছে, তবে প্রয়োগকালে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের মতামত প্রাধান্য পাবে।

    পটভূমি হিসেবে বলা যেতে পারে, গত বছরের ৩ নভেম্বর সাভারে অনুষ্ঠিত দলের পঞ্চম জাতীয় সম্মেলনে জোনায়েদ সাকি পুনরায় প্রধান সমন্বয়কারী নির্বাচিত হন। দীর্ঘ দুই দশকের রাজনৈতিক সংগ্রামের পর ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন থেকে নিবন্ধন পান গণসংহতি আন্দোলন। চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জোটের শরিক হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্চারামপুর) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জোনায়েদ সাকি।

    বর্তমানে তিনি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। প্রথমে তাকে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হলেও পরে পুনর্গঠন করে শুধু পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। দলীয় একটি সূত্রের কথায়, সরকারের উচ্চ পদে থেকে দলের প্রধান থাকা সম্ভাব্য সাংঘর্ষিক পরিস্থিতির কারণেই তিনি দলীয় প্রধানের দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

  • খেলাপি ঋণ ও অন্যান্য ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে নতুন নির্দেশনা দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

    খেলাপি ঋণ ও অন্যান্য ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে নতুন নির্দেশনা দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

    দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণসহ বিভিন্ন ঝুঁকি আগেভাগেই শনাক্ত করতে তদারকি জোরদার করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এজন্য তফসিলি ব্যাংকগুলোকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিরীক্ষা-সংক্রান্ত অন্তর্বতী প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ জারি করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-২ থেকে একটি সার্কুলার প্রকাশ করা হয়েছে। সার্কুলারে বলা হয়েছে, ‘ব্যাংক-কোম্পানি বহিঃনিরীক্ষণ বিধিমালা, ২০২৪’ অনুসারে নিরীক্ষা বছরের নবম মাসভিত্তিক একটি অন্তর্বতীকালীন প্রতিবেদন প্রস্তুত করে তা নিরীক্ষা বছরের শেষ তারিখের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে হবে। ২০২৫ সালভিত্তিক এবং পরবর্তী সময়ের সব প্রতিবেদনও একই নিয়মে দাখিল করতে হবে। এই অন্তর্বতী প্রতিবেদন হিসাব-বর্ষের নবম মাস পর্যন্ত ব্যাংকের অবস্থার চিত্র তুলে ধরবে এবং তদারকির জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করবে।

    সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক মানানসই তদারকি নিশ্চিত করতে সুপারভিশন কাঠামোতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ঝুঁকিভিত্তিক সুপারভিশন (রিস্ক বেইজড সুপারভিশন বা আরবিএস) চালু করা হয়েছে, যাতে সব ব্যাংককে একভাবে না দেখে ঝুঁকি বেশি যেখানে ওই ব্যাংকগুলোতে আলাদা করে নজরদারি চালানো যায়।

    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন ব্যবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংকগুলোতে তৎক্ষণাৎ মনোযোগ দিলে সম্ভাব্য আর্থিক দুর্বলতা, অনিয়ম ও খেলাপি ঋণের প্রবণতা আগেভাগেই চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। এর ফলে ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থা—বিশেষত ঋণঝুঁকি ও বদরকাশ (নন-পারফরমিং অ্যাসেট)-এর গতিবিধি—আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা যাবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নির্দেশনাগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা মিলবে এবং সামগ্রিকভাবে ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • মার্চে রপ্তানি আয় ১৮.০৭% কমে ৩.৪৮ বিলিয়ন ডলার: অব্যাহত নিম্নগতি

    মার্চে রপ্তানি আয় ১৮.০৭% কমে ৩.৪৮ বিলিয়ন ডলার: অব্যাহত নিম্নগতি

    রপ্তানি আয়ে পতন মার্চেও অব্যাহত থেকেছে—রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) জানায়, গত মাসে দেশের রপ্তানি আয় ১৮.০৭ শতাংশ কমে ৩.৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে নেমেছে; গত বছরের একই সময় এটি ছিল ৪.২৪ বিলিয়ন ডলার।

    চলতি অর্থবছর ২০২৫-২৬ সালের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত তাদের বরাত মতে মোট রপ্তানি আয় ৪.৮৫ শতাংশ কমে ৩৫.৩৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে এটি ছিল ৩৭.১৯ বিলিয়ন ডলার। এ নিয়ে টানা আট মাস ধরে রপ্তানি আয় নিম্নমুখী রয়েছে।

    দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকেও নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। এই খাতে আয় ৫.৫১ শতাংশ কমে ২৮.৫৭ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে, যেখানে গত বছর একই সময়ে ছিল ৩০.২৪ বিলিয়ন ডলার।

    ইপিবি বলেছে, রপ্তানির সামগ্রিক পরিস্থিতি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক কিছু বাহ্যিক কারণে চাপের মুখে পড়েছে। বিশেষত যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান সংলগ্ন ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়িয়েছে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত এবং তার সঙ্গে জড়িত বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মতো প্রধান গন্তব্যের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস করেছে।

    এসব কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা কমে গেছে এবং অনেক ক্ষেত্রে রপ্তানি আদেশ স্থগিত বা বাতিল হয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক রপ্তানি প্রবৃদ্ধিকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করেছে। তবে ইপিবি জানায় হিমায়িত ও জীবিত মাছ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য এবং প্রকৌশল পণ্য খাত কয়েকটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক বৃদ্ধির লক্ষণ দেখাচ্ছে, যা সামগ্রিক ঘাটতি কিছুটা প্রশমিত করেছে।

    ইপিবি’র এই তথ্য দেশের রপ্তানিখাতকে ঘিরে সচেতনতা বাড়িয়েছে যে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা আর্থিক ফলাফলে সরাসরি প্রভাব ফেলছে, এবং তালিকাভুক্ত প্রধান খাতে স্থিতিশীলতা ফেরানোর জন্য দ্রুত কার্যকর নীতিগত সমন্বয় প্রয়োজন।

  • ইরান প্রত্যাখ্যান করলো যুক্তরাষ্ট্রের ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব, কাতারের মধ্যস্থতায় অনীহা

    ইরান প্রত্যাখ্যান করলো যুক্তরাষ্ট্রের ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব, কাতারের মধ্যস্থতায় অনীহা

    মধ্যপ্রাচ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মাঝেমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব তেহরান সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। গতকাল শুক্রবার ইরানের আধা-সরকারি সংবাদসংস্থা ফারস সরকারীয় সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বুধবার একটি তৃতীয় দেশের মাধ্যমে ওই প্রস্তাবটি তেহরানের কাছে পাঠানো হয়েছিল।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই দাবি করেছিলেন যে ইরান নিজেই যুদ্ধবিরতির জন্য আবেদন করছে; তবে তেহরান সেই দাবিকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। ইরানের বক্তব্যে বলা হয়েছে তারা কোনো নতি স্বীকার করবে না এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবটিই প্রাণপণ প্রমাণ যে যুদ্ধক্ষেত্রে তারা সুবিধাজনক অবস্থায় নেই না।

    ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকা একটি মধ্যস্থতা বৈঠক শেষ মুহূর্তে ভেস্তে গেছে। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে আমেরিকার ‘অগ্রহণযোগ্য’ শর্তাবলি বজায় থাকলে তারা কোনও মার্কিন কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকে বসবে না। ইরানের মূল দাবি-সমূহের মধ্যে রয়েছে: মধ্যপ্রাচ্য থেকে সমস্ত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও বাহিনী প্রত্যাহার, এবং এক মাসের যুদ্ধে ধ্বংস হওয়া স্কুল, হাসপাতাল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ক্ষতির জন্য যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান।

    তুরস্ক, মিসর ও কাতার দীর্ঘদিন ধরে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে এসেছে, তবে এখন পরিস্থিতি নতুন করে জটিল হয়ে উঠেছে। বিশেষত কাতার এই মুহূর্তে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সক্রিয়ভাবে এগোতে অনীহা প্রকাশ করেছে। আমেরিকা ও অন্যান্য আঞ্চলিক দেশগুলোর চাপ থাকা সত্ত্বেও কাতার এখনও কোনো ইতিবাচক সাড়া দেয়নি।

    সিএনএন আমেরিকান গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রে জানায়, এক মাস ধরে চলা সংঘাতে যদিও মার্কিন ও ইসরায়েলি পক্ষ দাবি করেছে ইরানের যুদ্ধ ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, গোয়েন্দা মূল্যায়নে দেখা গেছে ইরানের কিছু ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার ও কামিকাজি ড্রোন আগের মতোই সক্রিয় ও ব্যবহারযোগ্য অবস্থায় রয়ে গেছে।

    সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, তেহরান দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে যেতে প্রস্তুত থাকার ছক দেখাচ্ছে। যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান এবং কড়া অবস্থান থেকে বোঝা যাচ্ছে যে ইরান বর্তমানে আলোচনার চেয়ে মাঠের লড়াকে প্রাধান্য দিচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করার হুমকির পরও ইরানের অনড় অবস্থান ওয়াশিংটনের জন্য বড় রাজনৈতিক ও কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।

  • যুদ্ধবিমানের পরে ইরান ভূপাতিত করল মার্কিন এমকিউ-১ ড্রোন

    যুদ্ধবিমানের পরে ইরান ভূপাতিত করল মার্কিন এমকিউ-১ ড্রোন

    ইস্ফাহানে শনিবার (৪ এপ্রিল) ইরান একটি মার্কিন এমকিউ-১ প্রিডেটর ড্রোন ভূপাতিত করেছে বলে জানিয়েছে দেশটির ফার্স নিউজ। সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড ওই ড্রোনটি ভূপাতিত করেছে।

    এর আগে শুক্রবার দক্ষিণপূর্ব ইরানের আকাশে একটি মার্কিন এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে ইরানি বাহিনী, এমনটি জানিয়েছে আল-জাজিরা। একই দিন হরমুজ প্রণালী এলাকায় আরেকটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট টু যুদ্ধবিমানও ভূপাতিত করা হয়।

    আল-জাজিরার খবরে বলা হয়, এফ-১৫ই বিমানটিতে দুইজন ক্রু ছিলেন। তাদের মধ্যে একজনকে মার্কিন সেনারা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়; আরেকজন এখনও নিখোঁজ। এ-১০ বিমানের পাইলট তার বিমানকে ইরানের আকাশসীমা থেকে বের করে নিতে সক্ষম হন, কিন্তু পরে হরমুজ প্রণালীর কাছে পারস্য উপসাগরে ওই বিমান বিধ্বস্ত হয়। ওই পাইলট পরে উপসাগরীয় আরব এক দেশে পৌঁছে চিকিৎসা নেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

    নিখোঁজ ক্রুকে খুঁজে বের করতে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল ফোর্সের সদস্যরা স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতে ইরানে প্রবেশ করেছে বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে। উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া মার্কিন ব্ল্যাকহক হেলিকপ্টারগুলোকে ইরানি পুলিশ লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ারও খবর পাওয়া যায়; এক হেলিকপ্টারের লেজে আগুন ধরে ধোঁয়া উঠলেও সেটি শেষপর্যন্ত ইরানের আকাশ থেকে পালিয়ে যেতে সমর্থ হয়।

    যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ধারকার্য চলাকালে ইরানি বাহিনীও ওই নিখোঁজ ক্রুকে ধরা বন্দোয়স্ত করার জন্য পাল্টা অভিযান চালিয়েছে, তবে এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

    এই ঘটনাগুলোয়ে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা সবচেয়ে তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং উত্তরোত্তরকালে পরিস্থিতি অস্থিরতার দিকে এগোচ্ছে। ঘটনা সম্পর্কে বিভিন্ন পক্ষের দাবিদাওয়া চলছে, ফলে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি ও স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের নিশ্চিত তদন্তের দিকে আন্তর্জাতিক নজর আছে।

  • খুলনায় চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে একজন নিহত

    খুলনায় চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে একজন নিহত

    খুলনার আড়ংঘাটা থানা এলাকায় চোর সন্দেহে গণপিটুনি দিয়ে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। শনিবার ভোরে লতার মোড়ের গাছতলা মন্দির সংলগ্ন রেললাইনের পাশে এ ঘটনা ঘটে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোর চারটার দিকে স্থানীয়রা দিদার সরদার নামের ওই ব্যক্তিকে ঘেরের মাছ চুরির সন্দেহে আটক করে। পরে তাকে বেশ কিছুক্ষণ ধরে আটকে রেখে মারধর করা হলে তিনি গুরুতরভাবে আহত হন।

    সকাল ছয় থেকে নয়টার মধ্যে স্থানীয়রা আহত দিদারকে হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সকাল নয়টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    নিহত ব্যক্তি দিদার সরদার গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার আরকান্দি গ্রামের বিনু সরদারের ছেলে। তিনি খুলনা নগরের দৌলতপুর মধ্যডাঙ্গা এলাকায় বসবাস করতেন।

    আড়ংঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ শাহ জাহান আহমেদ জানান, মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা আছে। কথিত অভিযুক্ত ও ঘটনাস্থল সম্পর্কে পরিবারের সদস্যরা আসলে হত্যা মামলা করা হবে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

    হতাকারীকে কেন আটকে রাখা হয়েছিল এবং সেখানে কারা ছিলেন—এসব বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন অনিত্য বিচার ও লোকসত্ত্বের কারণে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

  • গুম-খুন ও নির্যাতিত পরিবারের কল্যাণে কাজ করবে বিএনপি: প্রতিজ্ঞা

    গুম-খুন ও নির্যাতিত পরিবারের কল্যাণে কাজ করবে বিএনপি: প্রতিজ্ঞা

    তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে খুলনায় গুম, খুন ও অমানুষিক নির্যাতনের শিকার পরিবারদের মাঝে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়েছে। শনিবার (০৪ এপ্রিল) খুলনা জেলা পরিষদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক আবেগঘন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এসব ভুক্তভোগীর হাতে চেক তুলে দেন খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল।

    চেক বিতরণ অনুষ্ঠানটি খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পীর সভাপতিত্বে এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মমিনুর রহমানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হয়। খুলনা মহানগর ও জেলার মোট ৭৩টি পরিবারের হাতে সহায়তা প্রদান করা হয়; এদের মধ্যে ২৩টি শহীদ পরিবারের ও ৫০টি নির্যাতনপ্রাপ্ত, অসুস্থ বা দুস্থ পরিবারের সদস্য রয়েছেন। মোট বিতরণকৃত অর্থরাশি ছিল ৭ লক্ষ ৩৬ হাজার টাকা।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, গত ১৭ বছর ধরে দেশে গঠিত গুম-খুন ও আতঙ্ক প্রকৃতই মানুষের কণ্ঠ রুদ্ধ করার উদ্দেশ্য থেকেই চালানো হয়েছিল। দীর্ঘ দুঃশাসনের অবসান ঘটিয়ে যে মুক্তির নিশ্বাস চলছে, তা বহু সহোদর-বোনের রক্ত ও স্বজনদের অশ্রুর বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে।

    তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, জেলা পরিষয়ের পক্ষ থেকে প্রদত্ত এই সহায়তা দয়া বা করুণা নয়, বরং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর ন্যায্য অধিকার। যারা সন্তানের গুম ঘটিয়েছে এবং মায়েদের কোল খালি রেখেছে— তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে এবং দেশের মাটিতে প্রতিটি খুন ও নির্যাতনের বিচার নিশ্চিত করা হবে।

    বক্তব্যে হুইপ বকুল অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী শাসকবৃন্দ ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে প্রতিটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল ও ধ্বংসের মুখে ফেলে দিয়েছিল এবং জেলা পরিষদকে লুটপাটের স্থানে পরিণত করেছিল। আজ যখন জেলা পরিষদ জনগণের কল্যাণে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াচ্ছে, তখন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের গৌরব পুনরুদ্ধারের পথ মসৃণ হচ্ছে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    অনুষ্ঠানে বক্তারা জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষের মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ধন্যবাদ জানান এবং একটি বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়তে শহীদ ও নির্যাতিত পরিবারের পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

    আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলাল, সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু, মহানগর বিএনপির সভাপতি এডভোকেট শফিকুল আলম মনা, নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন, জেলা ড্যাব সভাপতি রফিকুল ইসলাম বাবলু সহ স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।

  • মুস্তাফিজ বিশ্বে শীর্ষে: স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে ৪১৬ উইকেট

    মুস্তাফিজ বিশ্বে শীর্ষে: স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে ৪১৬ উইকেট

    পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) শুক্রবার রাতে লাহোর কালান্দার্সের হয়ে মুলতান সুলতানসের বিরুদ্ধে নেন দুই উইকেট; সেই সঙ্গে মুস্তাফিজুর রহমান বিদেশি ও ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ মিলিয়ে স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি ম্যাচে মোট ৪১৬ উইকেট করে বিশ্বসেরা স্থানে উঠে এসেছেন।

    আগে এই কীর্তির মালিক ছিলেন পাকিস্তানের সাবেক পেসার মোহাম্মদ আমির—৩৫৬ ম্যাচে তার সংগ্রহ ছিল ৪১৪ উইকেট। মুস্তাফিজ মাত্র ৩২৫ ম্যাচ খেলেই আমিরকে পেছনে ফেলে শীর্ষ স্থান দখল করেছেন, অর্থাৎ ৩১ ম্যাচ কম খেলেই এই অভূতপূর্ব কৃতিত্ব।

    তৃতীয় অবস্থানে আছেন আরেক পাকিস্তানি পেসার ওয়াহাব রিয়াজ, যার সংগ্রহ ৪১৩ উইকেট। পিএসএল শুরুর আগে মুস্তাফিজ ছিলেন শীর্ষে নয়; টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় ম্যাচে তিনি ওয়াহাবকে এবং তৃতীয় ম্যাচে আমিরকে পেছনে ফেলে ওপরে উঠে এসেছেন। এবারের আসরে এখন পর্যন্ত তিন ম্যাচ খেলে ফিজ নিয়েছেন চার উইকেট।

    তবে লড়াই এখানেই শেষ নয়। আমিরও পিএসএলে খেলছেন এবং ইতোমধ্যে দু’টি উইকেট তুলেছেন; ফলে শীর্ষস্থান ধরে রাখতে মুস্তাফিজকে সামনে আরও ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখাতে হবে।

    মুস্তাফিজের মোট ৪১৬ উইকেটের মধ্যে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে রয়েছে ১৫৮টি, যা বাংলাদেশ দলের হয়ে সর্বোচ্চ। বাকি উইকেটগুলো তিনি বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলেই সংগ্রহ করেছেন—আর এভাবেই মালিকানা গড়েছেন এক অভিস্মরণীয় রেকর্ড।

  • সাফজয়ী যুবদলকে ছাদখোলা বাসে আনা হবে; হাতিরঝিলে সংবর্ধনা

    সাফজয়ী যুবদলকে ছাদখোলা বাসে আনা হবে; হাতিরঝিলে সংবর্ধনা

    সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ে ইতিহাস গড়া বাংলাদেশ যুবদল দেশে ফিরছে। তাদের সফলতা উদযাপন করতে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও বিশেষ সংবর্ধনার আয়োজন করেছে।

    বাফুফে মিডিয়া বিভাগ জানায়, রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকেই শুরু হবে শোভাযাত্রা। ছাদখোলা বাসে চ্যাম্পিয়ন দলকে নিয়ে সেটি চলবে হাতিরঝিল অ্যাম্ফিথিয়েটার পর্যন্ত, যেখানে অনুষ্ঠানটি সমাপনী পর্যায়ে পৌঁছবে।

    অ্যাম্ফিথিয়েটারে আনুমানিক রাত ৭টা ৩০ মিনিটে অপরাপর আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে শেষ হবে সংবর্ধনা। বাফুফে সমর্থক ও সাধারণ জনগণকে শোভাযাত্রা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে খেলোয়াড়দের শুভেচ্ছা জানাতে আহ্বান জানিয়েছে।

    বাংলাদেশের এই জয়টা সাম্প্রতিক সময়ে দেশের যুব ফুটবলের অন্যতম বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ঘটনাটিকে আরও স্মরণীয় করতে ভিন্ন ধরনের এই আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নেন বাফুফে।

    শিরোপার লড়াইয়ে বাংলাদেশ শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ফাইনালে ভারতের সঙ্গে মুখোমুখি হয়েছিল। নিয়মিত সময়ের খেলা গোলশূন্য ড্রয়ে শেষ হওয়ায় ম্যাচটি টাইব্রেকারে গড়ায়। টাইব্রেকারে ৩-৩ সমতায় দাঁড়িয়ে থাকা মূহুর্তে শেষ শট নেন রোনান সুলিভান; চাপের সেই মূহূর্তে তিনি ‘পানেনকা’ শটে গোল করে দলকে শিরোপা জিতিয়ে দেন। গ্যালারি তখন লাল-সবুজের উল্লাসে মুখরিত হয়ে ওঠে — সেই উৎসাহ এবার দেশের মাটিতেই ছড়িয়ে দিতে এ আয়োজন।

    উল্লেখ্য, পুরুষ বয়সভিত্তিক এই দলটি প্রথমবার কোনো বর্ণাঢ্য সংবর্ধনার অংশ হতে যাচ্ছে; এর আগে জাতীয় নারী দল অনেকবার এমন সংবর্ধনা পেয়েছে।

  • রাশমিকার রহস্যময় পোস্টে জল্পনা: ‘Now it’s us three’ — নতুন অতিথি আসছে?

    রাশমিকার রহস্যময় পোস্টে জল্পনা: ‘Now it’s us three’ — নতুন অতিথি আসছে?

    বিয়ের এক মাস পরই রাশমিকা মন্দানা ও বিজয় দেবেরাকোন্ডার ঘরে নতুন অতিথি আসার ছাপ—এমনই জল্পনা ছড়াল সোশ্যাল মিডিয়ায়। সম্প্রতি তারকা জুটির স্ত্রী রাশমিকা একটি অ্যানিমেটেড ভিডিও পোস্ট করেছেন, যেখানে মাঝখানে এক পুরুষ এবং পাশে এক নারী দাঁড়িয়ে রয়েছেন; তাদের পাশে সূর্যমুখীর মতো একটি কার্টুন চরিত্রও দেখা যায়। পোস্টের ক্যাপশনে লেখা ছিল, “Now it’s us three,” সঙ্গে একটি হৃদয়ের ইমোজি দিয়ে।

    এই পোস্টের পরেই অনুরাগী ও নেটিজেনরা আনন্দে মেতে উঠেছেন এবং অনেকেই ধারণা করছেন, রাশমিকা ও বিজয় সম্ভবত বাবা-মা হতে চলেছেন। তবে দম্পতির পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, ফলে বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

    উল্লেখ্য, বিজয় দেবেরাকোন্ডা ও রাশমিকা মন্দানা গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজস্থানের উদয়পুরে বিয়ে করেছেন। বিয়ের এক মাস পূর্তিতে তারা অন্ধ্রপ্রদেশের একটি মন্দিরে পূজাও করেছেন—আর ঠিক এই সময়ে রাশমিকার সেই রহস্যময় পোস্টটি সামনে এসেছে।

    সবই যেন আনন্দঘন কৌতুক নয়; মন্তব্য অংশে কিছু নেতিবাচক প্রতিক্রিয়াও দেখা গেছে। কেউ কেউ প্রসঙ্গ টেনে বলেছেন পুরোনো ঘটনাকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, আবার অনেকে মন্তব্য করছেন পোস্টটি কোনো নতুন প্রজেক্ট বা ক্যাম্পেইনের অংশও হতে পারে—কারণ পোস্টে ‘Terribly Tiny’ নামের একটি ক্রিয়েটিভ অ্যাকাউন্টকে ট্যাগ করা হয়েছিল।

    ফলত: খবরটি ঘিরে এখনই নিঃসন্দেহে নিশ্চিত করা যায় না—ভক্তরা অপেক্ষায় আছেন, আর সবাইই চান যে দম্পতি যেন স্বচ্ছতার সঙ্গে নিজেরাই সত্য কথা জানান।