Blog

  • ১৭টি ব্যাংক লোকসানে, সিএসআরে ব্যয় প্রায় অর্ধেকে নেমেছে

    ১৭টি ব্যাংক লোকসানে, সিএসআরে ব্যয় প্রায় অর্ধেকে নেমেছে

    ২০২৪ সালে বাংলাদেশে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এক কঠিন বছর পার করল—বহু ব্যাংক আর্থিক চাপের মুখে পড়ে এবং সিএসআর খাতে ব্যয়ও নাটকীয়ভাবে কমেছে। বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রিপোর্ট করা ওই সময়ে ৬১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক সিএসআর খাতে মোট মাত্র ৩৪৫ কোটি ৫ লাখ টাকা ব্যয় করেছে। আগের বছরের তুলনায় এটি প্রায় ২৭০ কোটি ৯১ লাখ টাকা বা প্রায় ৪২ শতাংশ কম।

    অর্থাৎ বিগত এক দশকে সিএসআর খাতে এটিই সর্বনিম্ন ব্যয়। পূর্বে ২০১৫ সালে খাতে সবচেয়ে কম ব্যয় ছিল ৫২৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা—তার তুলনায় এ বার প্রায় ১৮২ কোটি টাকা (৩৪.৫৭ শতাংশ) কম ব্যয় হওয়া খাতটিতে নতুন নিম্নমুখী প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়। পাশাপাশি সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ধারাবাহিকভাবে সিএসআর ব্যয় কমছে: রিপোর্টে ২০২২ সালে ব্যয় ছিল ১,১২৯ কোটি টাকা, ২০২৩ সালে ৯২৪ কোটি ৩২ লাখ এবং পরবর্তী বছরে ৬১৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকায় নামে আসে—দুই বছরের ব্যবধানে সিএসআর ব্যয় প্রায় ৫১৩ কোটি টাকা বা ৪৫ শতাংশের বেশি কমে গেছে।

    ব্যাংক খাতের সূত্রগুলোর মতে, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ের রাজনৈতিক অস্থিরতা—বিশেষ করে ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও সরকার পরিবর্তনের প্রভাব এবং কিছু ব্যাংকের অনিয়ম ও অর্থ পাচারের তথ্য প্রকাশ—ব্যাংকিং খাতে বড় আঘাত করেছিল। কাগজে-কলমে প্রদর্শিত মুনাফার বিপরীতে প্রকৃত আর্থিক অবস্থা সামনে আসতে থাকে, খেলাপি ঋণের কারণে প্রকৃত লোকসান প্রকাশ পায় এবং কিছু শরীয়াভিত্তিক ব্যাংক বিশেষভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। দুর্বল ব্যাংকগুলোর স্থিতিশীলতা ফেরাতে সরকার কয়েকটি ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে।

    ব্যাংকারদের দাবি, রাজনৈতিক চাপও সিএসআর ব্যয় কমানোর একটি বড় কারণ। পূর্বের রাজনৈতিক সময়ে বিভিন্ন স্তর থেকে অনুদান বা সহায়তার জন্য ব্যাংকগুলোর ওপর চাপ থাকাতো; ফলে অনেক ক্ষেত্রেই ব্যয় প্রকৃত সামাজিক দায়বদ্ধতার আওতার বাইরেও চলে যেত। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঘটনাবলি ও পরবর্তী গঠনতন্ত্র পরিবর্তনের পরে সেই ধরনের চাপ অনেকটাই কমে গেছে, ফলে ব্যাংকগুলো এখন তুলনামূলকভাবে সংযতভাবে সিএসআর খরচ করছে।

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সিএসআর খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা জরুরি, কারণ রাজনৈতিক প্রভাব থাকলে এই অর্থ অনুৎপাদনশীল কাজে খরচ হতে পারে এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার মূল উদ্দেশ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের দিকনির্দেশনায় ব্যাংকগুলোর নিট মুনাফার একটি অংশ সিএসআর হিসেবে ব্যয় করার কথা বলা আছে—যার মধ্যে প্রস্তাবিত অনুপাত: ৩০ শতাংশ শিক্ষা, ৩০ শতাংশ স্বাস্থ্য, ২০ শতাংশ পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং বাকি ২০ শতাংশ অন্যান্য ক্ষেত্রে। তবে প্রতিবেদনের অনুযায়ী, বাস্তবে নির্দেশনার সঙ্গে পুরোপুরি মানা হচ্ছে না: ওই রিপোর্টকালে ব্যাংকগুলো তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে বেশি (৩৬ শতাংশ) ব্যয় করেছে ‘অন্যান্য’ খাতে; শিক্ষায় ব্যয় ছিল ২৮.৫৩ শতাংশ, পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে মাত্র ১০ শতাংশ এবং স্বাস্থ্য খাতেও উল্লেখযোগ্য অংশ আছে।

    প্রতিবেদন অনুসারে রিপোর্টকালে ১১টি ব্যাংক সিএসআর খাতে কোনো তৎপরতা দেখায়নি। সেগুলো হলো—জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    আরও উল্লেখযোগ্য, ২০২৪ সালে মোট ১৭টি ব্যাংক নিট মুনাফা অর্জন করতে পারেনি। লোকসানবহুল ব্যাঙ্কগুলোর তালিকায় রয়েছে: জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান। এর মধ্যে ছয়টি লোকসানকারী ব্যাংক সত্ত্বেও সিএসআর খাতে অর্থ ব্যয় করেছে—এবং সেগুলো হলো এবি ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক।

    সংক্ষেপে, ব্যাংকিং খাতে সংকটের ছায়া ও রাজনৈতিক ও আর্থিক অনিশ্চয়তার প্রভাবেই সিএসআর ব্যয় নাটকীয়ভাবে কমেছে; বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই গ্রাফ বদলানো গেলে সমাজকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলোর উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে—তাই স্বচ্ছতা, নিয়মনীতি মেনে চলা ও কার্যকর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

  • রিপোর্টে: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের অভিযানে ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের ৫২ কর্মকর্তার মৃত্যু দাবী

    রিপোর্টে: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের অভিযানে ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের ৫২ কর্মকর্তার মৃত্যু দাবী

    কয়েকটি মিডিয়া ও অনলাইন সূত্রে দাবি করা হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পরিকল্পিত সামরিক ও গোয়েন্দা অভিযানে ইরানের সামরিক, নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কাঠামোর শীর্ষ পর্যায়ের অন্তত ৫২ জন কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এই হামলাগুলো যদি সত্যি হয়ে থাকে, তাহলে তা কেবল ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়—ইরানের সামরিক কمان্ড, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারে গভীর ভাঙন তৈরি করবে। তবে উল্লেখ্য, এই দাবিগুলো অনেক ক্ষেত্রেই স্বাধীনভাবে যাচাই যোগ্যতা পাননি এবং সরকারিভি বা নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক সূত্র থেকে সম্মিলিতভাবে স্বীকৃতি পাওয়া যায়নি।

    ক্ষমতার কেন্দ্রকে আঘাত—দাবি ও অনিশ্চয়তা

    কিছু রিপোর্টে তালিকার শীর্ষেই আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যত্র বলা হয় শীর্ষ পর্যায়ের আরও একাধিক রাজনীতিবিদ ও সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন—যেমন আলী লারিজানি, আলী শামখানি ইত্যাদি। তবে এসব সংবাদের সত্যতা নিয়ে নানামুখী দাবি-প্রতিমত চলছে এবং স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে এ ধরনের রিপোর্টে সরাসরি কৃতকার্য বলে ঘোষণা না করে ‘দাবি করা হয়েছে’ বা ‘সূত্র বলছে’ বলে উপস্থাপন করা জরুরি।

    সামরিক নেতৃত্বে ধারাবাহিক ক্ষতি—প্রতিবাদের প্রভাব

    রিপোর্টগুলোর ভিত্তিতে বলা হচ্ছে, গঠনতান্ত্রিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পদে একের পর এক শীর্ষ ব্যক্তি হত্যা হওয়ায় সামরিক ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে вакুম তৈরি হয়েছে। যেমন চিফ অব স্টাফ, উচ্চ র‌্যাঙ্কিং কমান্ডার এবং অপারেশন প্রধানদের দাবিকৃত হত্যাকাণ্ড ইরানের সামরিক সমন্বয়কে দুর্বল করেছে—যদি এই দাবিগুলো সত্যি হয়। ধারাবাহিক নেতৃত্বক্ষয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও оператив নির্দেশনার ধারাবাহিকতা ব্যাহত করে, ফলে সামরিক প্রতিক্রিয়া ও প্রতিরক্ষা ঝুঁকিতে পড়ে।

    আইআরজিসি এবং আঞ্চলিক শক্তি

    রিপোর্টে বলা হয়েছে আইআরজিসি (ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস)-এর উচ্চপদস্থ কমান্ডার ও তিনটি প্রধান শাখা—স্থল, নৌ ও মহাকাশ—লক্ষ্যবিহিতভাবে আঘাত পেয়েছে। মহাকাশ বাহিনী বা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রোগ্রামের প্রধানদের ওপর হামলা হলে এসব কর্মসূচি কার্যকারিতাহীন হয়ে পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন। নৌ বাহিনীর শীর্ষ সুরক্ষাব্যবস্থা দুর্বল হলে পারস্য উপসাগরে ইরানের উপস্থিতি ও অপারেশনাল ক্ষমতা সীমিত হবে, যা আঞ্চলিক সামরিক ভারসাম্যেও প্রভাব ফেলতে পারে।

    গোয়েন্দা কাঠামোতে টেকনিক্যাল আঘাত

    রিপোর্ট অনুযায়ী ইরানের গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও লক্ষ্যবস্তু ছিল। গোয়েন্দা মন্ত্রণালয় বা আইআরজিসি-র গোয়েন্দা শাখার একাধিক নাম উল্লেখ করা হয়েছে যাদের হত্যার দাবি উঠেছে। এ ধরনের লক্ষ্যভিত্তিক আক্রমণ নির্দেশ করে যে হামলাকারীরা গভীর গোয়েন্দা-infiltration ও সুনির্দিষ্ট আক্রমণের মাধ্যমে উচ্চস্তরের বৈঠক পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহে সক্ষম হয়েছে—যা দেশের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা কাঠামোর দুর্বলতা প্রকাশ করে। আবারও বলছি, এসব দাবির স্বাধীন যাচাই বহুলাংশে অনুপস্থিত।

    পারমাণবিক কর্মসূচি ও কুদস ফোর্সে প্রভাব

    কয়েকটি আলাদা ও পুরনো ঘটনাকে অন্তর্ভুক্ত করে রিপোর্টগুলো বলছে, পারমাণবিক গবেষণা ও সংশ্লিষ্ট নেতাদের ওপরও লক্ষ্যবস্তু অবস্থান করছিল—যেমন মোহসেন ফাখরিজাদেহর হত্যাকাণ্ড (যা কয়েক বছর আগে ঘটেছিল)। কুদস ফোর্সের উচ্চপদস্থদের হত্যার ফলে ইরানের আঞ্চলিক প্রক্সি নেটওয়ার্ক—সিরিয়া, লেবানন ও অন্যান্য অঞ্চলে—ও দুর্বল হয়েছে বলে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। কাসেম সোলাইমানির ২০২০ সালের হত্যাকাণ্ডই ছিল এ ধরনের নেটওয়ার্কে বড় আঘাতের একটি পূর্বসূরী।

    অভ্যন্তরীন নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক প্রভাব

    রিপোর্টে বলা হয়েছে বাসিজ বা অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপরও আঘাত হয়েছে, যা ভেতরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে কাঁপিয়ে তুলতে পারে। দীর্ঘমেয়াদিভাবে এই ধরনের লক্ষ্যভিত্তিক অপারেশন দুর্বল নেতৃত্ব, ভীতি এবং অভ্যন্তরীণ অবিশ্বাস বাড়াতে পারে—যা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

    কৌশলগত মূল্যায়ন

    এই আক্রমণ/নির্ধারণগুলো যদি যাচাইযোগ্য হয়, তাহলে কয়েকটি জিনিস স্পষ্ট হবে: একটি, হামলাগুলো অত্যন্ত নিখুঁত ও তথ্যনির্ভর ছিল; দুই, শীর্ষ নেতৃত্বের ধারাবাহিক ক্ষতি সামরিক ও গোয়েন্দা সমন্বয়কে দুর্বল করেছে; তিন, ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারে তা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, এসব দাবি যাচাই না হলে পরিস্থিতি সম্পর্কে কেবল অনুমানেই সীমাবদ্ধ থাকা ছাড়া উপায় নেই।

    ভবিষ্যৎ चुन challenge

    ইরানের সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ হবে—নতুন দক্ষ নেতৃত্ব গঠন, নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা ব্যবস্থার পুনর্গঠন এবং অভ্যন্তরীণ-আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার। তাত্ত্বিকভাবে এসব করাই সম্ভব হলে দেশটি ধীরে ধীরে সমন্বয় ও প্রতিরোধ ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করতে পারে; কিন্তু ধারাবাহিক লক্ষ্যভিত্তিক আক্রমণ থাকলে তা সহজ হবে না।

    নোট: এই প্রতিবেদনে যে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মৃত বা আহত বলে দাবি করা হয়েছে, সেগুলো প্রধানত তৃতীয় পক্ষের উৎস ও অনলাইন রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে উপস্থাপন করা হয়েছে। এসব খবর সরকারি বা আন্তর্জাতিক নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে সম্মিলিতভাবে যাচাই না হওয়া পর্যন্ত তাদের বাস্তবতা নিয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।

  • ৪০ দিন পর খুলল আল-আকসা: ফজরের নামাজে হাজির হাজারো মুসল্লি

    ৪০ দিন পর খুলল আল-আকসা: ফজরের নামাজে হাজির হাজারো মুসল্লি

    ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত আল-আকসা মসজিদ পুনরায় খুলে দিয়েছে, যা প্রায় ৪০ দিনেরও বেশি সময় ধরে নজিরবিহীনভাবে বন্ধ ছিল।

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যৌথ হামলা শুরুর পর প্রথমবারের মতো সেখানে ফজরের নামাজ আদায় করেন বেশী করে বলা যায় ৩,০০০-এরও বেশি ফিলিস্তিনি মুসল্লি। অনলাইনে ছড়ানো ভিডিওতে দেখা গেছে মসজিদের গেট খুলতেই সিংহভাগ মানুষ অঙ্গিনায় ঢুকছে, দীর্ঘদিন পরে আল-আকসায় ফিরে এসে খুশি ও облегчতাবোধ করছে।

    কয়েকটি ভিডিওতে দেখা গেছে স্বেচ্ছাসেবক ও মসজিদের কর্মীরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা করে, মসজিদ এবং মুসল্লিদের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।

    ইসরায়েল সাম্প্রতিক সময় আল-আকসা বন্ধ করে ফেলে এবং ফিলিস্তিনি মুসলমানদের সেখানে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছিল। এমনকি রমজান, ঈদুল ফিতর ও জুমার নামাজের সময়ও মসজিদ বন্ধ ছিল। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা বললেও ফিলিস্তিনিরা এই যুক্তি মানতে অস্বীকার করেছে। একই সময়ে ইসরায়েল অন্যান্য জায়গায় বড় ইহুদি ধর্মীয় সমাবেশকে অনুমতি দিয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

    অনেকে বলছেন, যুদ্ধে উদ্বেগকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে ইসরায়েল আল-আকসার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করছে—যার মধ্যে আছে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, সময়সূচি নির্ধারণ এবং অনুমোদিত কার্যক্রম সীমিত করা।

    পুরনো জেরুজালেমের আল-আকসা দীর্ঘকাল ধরে ‘স্ট্যাটাস কো’ নামে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার আওতায় চালিত হয়ে আসে—অর্থাৎ মসজিদে প্রবেশ, নামাজ আদায় ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব মূলত মুসলিম কর্তৃপক্ষের হাতে থাকার কথা। কিন্তু ফিলিস্তিনিরা অভিযোগ করেছেন ইসরায়েল বহু বছর ধরে এই ব্যবস্থাকে লঙ্ঘন করে আসছে, বিশেষ করে উগ্র জাতীয়তাবাদী ইসরায়েলিদের প্রবেশ ও প্রার্থনার অনুমতি দিয়ে ফিলিস্তিনিদের সম্মতি উলঙ্গ করে।

    এই এলাকার ওপর ইসরায়েলের দখল আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপকভাবে অনৈতিক বা অবৈধ বিবেচিত হয়; অংশবিশেষে বলা হয়—দখলকারী শক্তির ওই ভূখণ্ডের ওপর সার্বভৌমত্ব নেই এবং সেখানে স্থায়ী পরিবর্তন চাপিয়ে দেওয়া যায় না।

    মসজিদ পুনরায় খোলার পরই উগ্র জাতীয়তাবাদী ইসরায়েলিরা প্রায় প্রতিদিন অনুপ্রবেশ শুরু করেছে এবং তাদের সেখানে থাকা সময়ও বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে ফজরের নামাজের পর মুসল্লিদের বের করে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বহু ইসরায়েলি সেখানে ঢোকে; তাদের মধ্যে অনেককে পুলিশি নিরাপত্তায় প্রার্থনা ও নাচ করতে দেখা গেছে।

    যুদ্ধের আগে এই ধরনের ইহুদি অনুপ্রবেশ সাধারণত কর্মদিবসে দুই শিফটে সীমাবদ্ধ ছিল—সকাল ৭টা থেকে ১১টা এবং দুপুর ১টা ৩০ থেকে ২টা ৩০ পর্যন্ত। এই পদ্ধতি প্রথম চালু হয় ২০০৩ সালে দ্বিতীয় ফিলিস্তিনি ইন্তিফাদের সময় এবং ২০০৮ সালে এটি আরও কাঠামোবদ্ধ করে নেওয়া হয়; তখন সকালে সীমিতসংখ্যক দলে সর্বোচ্চ তিন ঘণ্টার অনুমতি দেওয়া হতো। পরবর্তীতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় সময় ও শিফট দুটোই ধীরে ধীরে বাড়ানো হয়েছিল।

    ইরান যুদ্ধের আগে যে নতুন সময়সূচি অনুমোদিত হয়েছিল, তাতে এখন অনুপ্রবেশ চলে সকাল ৬টা ৩০ থেকে ১১টা ৩০ এবং দুপুর ১টা ৩০ থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত—মোট সাড়ে ছয় ঘণ্টার মতো সময়। জেরুজালেম গভর্নরেট এই সময় বাড়াকে ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি’ বলে আখ্যায়িত করেছে এবং জানিয়েছে, এ ধরনের পরিবর্তন স্ট্যাটাস কোকে দুর্বল করার এবং সময়ভিত্তিক বিভাজন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা নির্দেশ করে—বিশেষ করে ৪০ দিন পর মসজিদ খোলার এই প্রেক্ষাপটে।

    সূত্র: মিডল ইস্ট আই

  • খুলনায় ছেলের লাঠি আঘাতে মা নিহত

    খুলনায় ছেলের লাঠি আঘাতে মা নিহত

    খুলনার রূপসা উপজেলার আইচগাতি ইউনিয়নের খান মোহাম্মাদপুর গ্রামে পারিবারিক ঝগড়ার জেরে এক অভিনেত্রিক (sic) ঘটনা ঘটেছে; ছেলের লাঠি আঘাতে মা নিহত হয়েছেন।

    ঘটনা শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে সাড়ে আটটার দিকে সংঘটিত হয়। নিহত মিম্মি বেগম (৪৪) স্থানীয় বাসিন্দা ও হামিদুল ইসলামের স্ত্রী। স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, পারিবারিক বিবাদ বাড়তেই মামলায় নামাজকরা—নাদিম ইসলাম তার মাকে আক্রমণ করে। তিনি পাশের গাছের ডাল দিয়ে মিম্মি বেগমের মাথায় আঘাত করলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারাত্মকভাবে আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং পরবর্তীতে মারা যান।

    স্থানীয়রা আহত অবস্থায় মিম্মিকে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দিলে আইচগাতি ক্যাম্পের পুলিশ পৌনে ৯টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত ছেলেকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করে। তবে অভিযুক্তকে ক্যাম্পে নেওয়ার সময় স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা বাধা দেয় এবং একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। দলের সুরক্ষার্থে পুলিশকে কাছেই থাকা একটি বাড়িতে আশ্রয় নিতে হয়।

    ঘটনার খবর পেয়ে খুলনা জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। সার্কেল এসপি এ সাইফুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং ডিবি পুলিশের সদস্যরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

    রূপসা উপজেলার আইচগাতি ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. উজ্জ্বল হোসেন জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। পুলিশ বলছে, ঘটনার পরবর্তী তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা দ্রুত নিশ্চিত করা হবে।

    প্রাথমিকভাবে ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে; নিহত মিম্মির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নিকটস্থ হাসপাতাল পাঠানো হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে এই হঠাৎ ঘটনার কারণে শোক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।

  • জার্মান পরিবেশ কমিটির প্রতিনিধিদল খুলনায়—জলবায়ু ঝুঁকি ও সমাধান নিয়ে মতবিনিময়

    জার্মান পরিবেশ কমিটির প্রতিনিধিদল খুলনায়—জলবায়ু ঝুঁকি ও সমাধান নিয়ে মতবিনিময়

    ফেডারেল রিপাবলিক অব জার্মানির পার্লামেন্টের পরিবেশ বিষয়ক কমিটির একটি প্রতিনিধি দল গতকাল বৃহস্পতিবার খুলনা সফর করেছে। সফরের অংশ হিসেবে দুপুরে প্রতিনিধি দল নগরীর এক অভিজাত হোটেলে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু ও অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হয়।

    বৈঠকে কেসিসি প্রশাসক অতিথিদের খুলনার জনগণের পক্ষ থেকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, খুলনা দেশের অন্যতম জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল। সমুদ্রপৃষ্ঠের বৃদ্ধি, লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখানে বড় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। এসব মোকাবিলায় অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই সমাধান দরকার বলে তিনি জোর দিয়েছেন।

    প্রশাসক মঞ্জু জার্মান সহায়তার প্রশংসা করে বলেন, ২০১০ সাল থেকে খুলনা সিটি কর্পোরেশন জার্মান সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সাথে কাজ করে এসেছে এবং শহরে একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে। তিনি ভবিষ্যতেও এই সহযোগিতা অব্যাহত রাখার জন্য আগত প্রতিনিধিদের কাছে অনুরোধ জানান।

    ফেডারেল জার্মান সংসদের পরিবেশ কমিটির প্রতিনিধি দলটি ৭ এপ্রিল থেকে বাংলাদেশে সফর করে আসছে। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল শহরাঞ্চলে থাকা জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জগুলো সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করে একটি পূর্ণাঙ্গ ধারণা লাভ করা। বিকেলে তারা জার্মান সরকারের আর্থিক সহায়তায় খুলনায় ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত বিভিন্ন জলবায়ু সহনশীল প্রকল্পের স্থানীয় ক্ষেত্র পরিদর্শন করেন।

    সভায় কেসিসির পক্ষ থেকে জার্মান সরকারের কাছে আগামী কার্যক্রমে সমর্থন চাইতে বলা হয়—বিশেষ করে জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো, প্রকৃতি নির্ভর সমাধান, উন্নত ড্রেনেজ ও পানি ব্যবস্থাপনা, টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর পরিকল্পনার মতো বিষয়গুলোতে।

    বৈঠকে অংশগ্রহণকারী জার্মান প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন পার্লামেন্ট সদস্য ও পরিবেশ বিষয়ক কমিটির ডেপুটি চেয়ারম্যান মাইকেল থিউস। দলের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন পার্লামেন্ট সদস্য সাচছা ভান বিক, ম্যানুয়েল ক্রাউথাউসেন, ড. ফ্রানজিসকা কার্সটেন, জুলিয়া ছানেইদার, ভাইওলেটা বুক এবং পলিসি অফিসার ইলেফদেরিওস আসলানিডিস। বাংলাদেশে যোগদানের সময় কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, চীফ প্ল্যানিং অফিসার আবির উল জব্বার, এডভাইজার শেখ মাহমুদুল আহসানসহ অন্যান্য স্থানীয় কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। সভা পরিচালনা করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবান অ্যান্ড রুরাল প্ল্যানিং ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. মোঃ জাকির হোসেন।

    প্রতিনিধিদল এবং কেসিসির এই সংলাপটি খুলনার জলবায়ু প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার দিকনির্দেশনা নির্ধারণে সহায়ক হবে—এমনটাই প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

  • বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজের সময় বদলে, সব ম্যাচ হবে দিনের আলোতে

    বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজের সময় বদলে, সব ম্যাচ হবে দিনের আলোতে

    নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজটি চলতি মাসের ১৭ তারিখ থেকে শুরু হচ্ছে। প্রথম ঘোষণায় সিরিজের সবকটি ম্যাচ দিবারাত্রির—that is, রাতের আলোতে—খেলা হবে, কিন্তু বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের কারণে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সময়সূচি বদলিয়েছে।

    বৃহস্পতিবার বিসিবি জানিয়েছে, ওয়ানডে সিরিজের সব ম্যাচ শুরু হবে বেলা ১১টায়। ওয়ানডের পর যে টি-টোয়েন্টি সিরিজটি হবে, সেটিও দিন খেলায় করা হবে এবং এসব ম্যাচ দুপুর ২টায় শুরু হবে। এর ফলে ফ্লাডলাইট ব্যবহার ন্যূনতম রাখা হবে এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্য ত্বরান্বিত হবে।

    বৃহস্পতিবারের সিদ্ধান্তের আগেই বুধবার বিসিবির এডহক কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল বলেন, ‘বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে নিউজিল্যান্ড সিরিজের সময় পরিবর্তন—ওয়ানডে ম্যাচে ১১টা অথবা সাড়ে ১১টা, টি-টোয়েন্টি বেলা ২টা অথবা আড়াইটায় হতে পারে।’

    বিসিবির এই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য খেলার অভাব ছাড়াই বিদ্যুৎ সাশ্রয় নিশ্চিত করা, পাশাপাশি দর্শক ও সম্প্রচারকে সামঞ্জস্যপূর্ণ সময় দেওয়া। নতুন সময়সূচি মেনে মাঠে গড়ালে ম্যাচগুলো দিনের আলোয় অনুষ্ঠিত হবে এবং খেলা নির্বিঘ্নে আয়োজন করার লক্ষ্যে কার্যক্রম শুরু হবে।

  • ৪ ওভারে ৭ রানে নাহিদ রানার ৩ উইকেট, শরিফুল পেলেন ১

    ৪ ওভারে ৭ রানে নাহিদ রানার ৩ উইকেট, শরিফুল পেলেন ১

    পিএসএল ম্যাচে পেশাওয়ার জালমি একদমা বিধ্বংসী ক্রিকেট খেলেছে—বিধ্বস্ত করেছে করাচি কিংসকে। জালমি ২৪৬ রানে ইনিংস গড়ে ভারতের মতো আক্রমণাত্মক ব্যাটিং দেখানোর পর কিংসকে মাত্র ৮৭ রানে গুটিয়ে দিয়ে ১৫৯ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় পায়।

    জয়ের মূল কারণ ছিল বোলিংয়ে ধারাবাহিক ওয়ান-টুচারের কাজ। তরুণ পেসার নাহিদ রানার শীতল ও কনসেন্ট্রেটেড বোলিং দেখবার মতো ছিল। ৪ ওভার বল করে তিনি মাত্র ৭ রান দিয়ে ৩টি উইকেট নেন এবং ২৪ বলে ২০টি ডট বল গড়া তার প্রভাব স্পষ্ট ছিল—ব্যাটসম্যানরা ধরাছোঁয়ার সুযোগই পেল না।

    অফ স্পিনে ইফতিখার আহমেদও দুর্ধর্ষ ছিলেন—৩ উইকেট নিয়েছেন মাত্র ৯ রানে। এছাড়া বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলামও পাওয়ার প্লেতে আঁটসাঁট বল করে ৩ ওভারে ২৩ রান দিয়ে ডেভিড ওয়ার্নারের মতো অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে দলের ভালো শুরু এনে দেন।

    বাতিল করে দেওয়ার মতো এক ব্যাটিং কীর্তি ছিল কুসাল মেন্ডিসের। ৫২ বলে ১৪ চার ও ৪ ছয় দিয়ে তিনি ১০৯ রান করে ম্যাচসেরা হলেন। অন্যদিকে অধিনায়ক বাবর আজম ইনিংস জুড়ে দায়িত্বশীল ব্যাটিং করে ৫১ বলে অপরাজিত ৮৭ রানে থাকেন, যা দলকে একটি শক্ত ভিত্তি দিয়েছে।

    কিংসের ইনিংস শুরুতেই সমস্যা। প্রথম ওভারে ইফতিখার মুহাম্মাদ ওয়াসিমকে ফেরান। পরের ওভারে শরিফুলের প্রথম বলেই ডেভিড ওয়ার্নার আউট হওয়া ম্যাচের অন্যতম মোড়—ওয়ার্নারকে তার ব্যাক অফ লেংথ ডেলিভারিতে থামাতে পারলেন না বাঁহাতি ব্যাটসম্যান, বেটের ওপর থেকে বাউন্ডারি উদ্দেশ্যে গিয়ে অফ সাইডে লেগে যায়। ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে দৌড়ে এসে ফারহান ইউসুফ দুর্দান্ত ডাইভ করে অবিশ্বাস্য ক্যাচ নেন। এ ম্যাচের আগে ওয়ার্নার সিডনিতে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন—আরও একদমই দুর্ভাগ্যজনক অধ্যায় ছিল তার জন্য, কারণ এদিন তিনি প্রথম বলেই ফেরেন।

    কিংসের চেজ শুরু থেকে ধারাবাহিক উইকেট হারায়। নাহিদের প্রথম ওভারে (ইনিংসের পঞ্চম ওভার হিসেবে) আজম খান একমাত্র রান নেন; দ্বিতীয় ওভারেই নাহিদ সাদ বেগকে শর্ট বল টপ করার চেষ্টা করতে গিয়ে ওপরে তুলে দেন এবং নিজেই ক্যাচ ধরেন—এটাই নাহিদের দ্বিতীয় ওভার থেকে তার প্রথম উইকেট। পরে ১৪তম ওভারে তিনি খুশদিল শাহকে কিপারের গ্লাভসে ধরা পড়তে দেন এবং একই ওভারে অ্যাডাম জাম্পাকেও সরাসরি বোল্ড করে দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নেন। নিজের কোটার শেষ ওভারে নাহিদ কেবল এক রান খরচ করে বোলিং শেষ করেন।

    মোটের ওপর ইফতিখার ও নাহিদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং এবং শরিফুলের পাওয়ার প্লে আক্রমণই কিংসকে ভেঙে দিয়েছেন। নাহিদের আগের ম্যাচে (হায়দরাবাদ কিংসমেনের বিপক্ষে) ৩ ওভারে ৩০ রান দিয়ে উইকেটহীন ছিলেন—তবে আজ তিনি চমক দেখালেন। আর আসরে শরিফুলও আগের দুই ম্যাচে উইকেটশূন্য ছিলেন; আজ তাঁর বোলিং ফের দলের জন্য ফলপ্রসূ প্রমাণিত হল।

    মোটকথা, পেশাওয়ার জালমির ব্যাটিং–বোলিং মিলেই এ দারুণ জয়। কিংসের জন্য ম্যাচটি ছিল হতাশাজনক, আবার জালমির হয়ে কুসাল মেন্ডিস ও নাহিদ রানার প্রদর্শন বিশেষভাবে দৃষ্টিগ্রাহ্য ছিল।

  • পানমশলা বিজ্ঞাপনের মামলায় সাময়িক রেহাই পেলেন সালমান খান

    পানমশলা বিজ্ঞাপনের মামলায় সাময়িক রেহাই পেলেন সালমান খান

    পানমশলা বিজ্ঞাপনের একটি মামলায় সুপারস্টার সালমান খান সাময়িক রেহাই পেয়েছেন। অনুপস্থিত থাকার কারণে একাধিক শুনানিতে হাজিরা না দেওয়ায় আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল। কিন্তু ১৩ এপ্রিল জয়পুর জেলা উপভোক্তা কমিশন-২ এ হাজিরা দেওয়ার নির্দেশকে রাজস্থান হাই কোর্ট স্থগিত করেছেন, ফলে আপাতত комиссии হাজিরা থেকে তিনি মুক্তি পান।

    এই মামলাটি করেছিলেন যোগেন্দ্র সিংহ বাদিয়াল। অভিযোগ ছিল, একটি পানমশলার বিজ্ঞাপনটিতে পণ্যকে ‘জাফরান বা তবক মিশ্রিত এলাচ’ এবং ‘জাফরান মিশ্রিত পানমশলা’ বলা হলেও তা বাস্তবে সেভাবে মিশ্রিত ছিল না এবং এই ধরনের দাবি গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করে। অভিযোগ তুলে বছরের শুরুতে উপভোক্তা কমিশন পুরো পণ্যের প্রচারে অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। পরে জয়পুর ও কোটা শহরে বিলবোর্ডসহ বিজ্ঞাপন পড়ে, যা দেখে কমিশন মনে করেছে তাদের নির্দেশনা অমান্য করা হয়েছে।

    এদিকে সালমান বর্তমানে নতুন ছবি ‘মাতৃভূমি’ নিয়ে ব্যস্ত; শুটিং ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। রাজস্থান হাই কোর্টের স্থগিতাদেশ যতক্ষণ বলবৎ থাকবে, ততদিন কমিশনে হাজিরার বাধ্যবাধকতা মুলতুবি থাকছে।

  • বলিউডের প্রস্তাব ফিরিয়েছিলেন বিপাশা হায়াত

    বলিউডের প্রস্তাব ফিরিয়েছিলেন বিপাশা হায়াত

    জনপ্রিয় অভিনেত্রী, গুণী চিত্রশিল্পী ও নাট্যকার বিপাশা হায়াত তার সময়ের সর্বাধিক প্রভাবশালী শিল্পী হিসেবে পরিচিত। নব্বই দশকে মঞ্চ থেকে টিভি ও সিনেমা—সব মাধ্যমেই দর্শককে মুগ্ধ করেছেন তিনি।

    সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরেই একটি পডকাস্টে সাক্ষাৎকারে উপস্থিত হন বিপাশা। আলাপকালে তিনি তার ক্যারিয়ার, ভক্তদের সঙ্গে সম্পর্ক এবং সিনেমা সংক্রান্ত নানা স্মৃতি ভাগ করে নেন।

    সঞ্চালক জানতে চান ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সময়ের পর বলিউড থেকেও প্রস্তাব পেয়েছিলেন কি না। বিপাশা জানান, বলিউডের যে প্রস্তাব এসেছিল তা সময়তাড়াতাড়ি নয়, বরং পরে এসেছে। সেটি ছিল একটি পার্শ্বচরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব। যদিও সিনেমার নাম তিনি মনে করতে পারেননি, ফোন করে যে ব্যক্তিটি যোগাযোগ করেছিলেন—তার নম্বরটি এখনো বিপাশার ফোনে সেভ আছে এবং তাদের সঙ্গে কয়েকবার কথা হয়েছে বলে জানান তিনি।

    বলিউড প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে বিপাশা বলেন যে তিনি কখনোই তার দেশের মানুষকে ছোট করতে চাননি। দর্শক যারা তাকে এতোটাই গ্রহণ করেছেন, তাদের ভালোবাসা তিনি অত্যন্ত মূল্যবান মনে করেন। যদি কাউকে দেখাতে হয় যে তিনি বিদেশে ছোট বা তুচ্ছ কোনো চরিত্রে যাচ্ছেন, তখন তিনি তা বরণ করতে রাজি নন।

    তিনি আরও বলেন, নিজেকে তিনি এক ধরনের পাবলিক ফিগার হিসেবে দেখেন এবং এই ভূমিকার সঙ্গে একটি বড় দায়বোধ জড়িত। প্রতিটি কাজের মাধ্যমে সেই দায়িত্ব বহন করা উচিত—এটাই তার নীতিমালা। মানুষের ভালোবাসা তাঁর কাছে “অত্যন্ত পবিত্র” এবং সেই ভালোবাসার মূল্য ধরে রাখতে তিনি সচেষ্ট থাকেন।

    পডকাস্টে বিপাশার কথাগুলো থেকে স্পষ্ট হলো, বিদেশি প্রস্তাব থাকলেও তিনি সবসময় নিজের দেশের দর্শক ও সম্মানকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। বর্তমানে দেশে ফিরে তিনি আবারও শিল্পের নানা কাজে মনোনিবেশ করবেন বলেই ইঙ্গিত দেন।

  • সন্ধ্যা ৬টার পর সিনেমার শো বন্ধ ঘোষণা

    সন্ধ্যা ৬টার পর সিনেমার শো বন্ধ ঘোষণা

    ঈদের আনন্দের মধ্যেই প্রেক্ষাগৃহ প্রেমীদের জন্য একটি দুঃখের সংবাদ আসছে। রাজধানীর অন্যতম জনপ্রিয় মাল্টিপ্লেক্স ব্লকবাস্টার সিনেমাস ঘোষণা করেছে যে, ৫ এপ্রিল থেকে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে তাদের সব সিনেমার শো বন্ধ থাকবে। এই সিদ্ধান্তটি অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য কার্যকর বলে জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষের মতে, এটি তাদের জন্য একটি জরুরি পরিস্থিতিতে নেওয়া হয়েছে, যা সরকারি সাম্প্রতিক নির্দেশনার কারণে প্রয়োজনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টার পর দোকানপাট ও মার্কেট বন্ধের নির্দেশনা থাকায় সিনেমা হলের মূল সময়ের শোগুলোতেও বাধ্য হয়ে স্থগিত করা হচ্ছে। সাধারণত, সন্ধ্যার পরের শোগুলো প্রেক্ষাগৃহের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ সময় माना হয়। এই সময়ের শো বন্ধ হওয়ায় দর্শকদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে আতঙ্ক ও হতাশা। বিশেষ করে, যারা ঈদের ছুটিতে সিনেমা দেখার পরিকল্পনা করেছিলেন, তাদের জন্য এটি বড় ধরনের প্রত্যাশা ভঙ্গের ঘটনা। ব্লকবাস্টার সিনেমাসের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৫ এপ্রিল থেকে সন্ধ্যার পরের শোতে আগাম টিকিট কাটা থাকলেও, ওই টিকিটগুলো অন নিয়মে ফেরত দেওয়া হবে। অন্যদিকে, দেশের আরেক বড় মাল্টিপ্লেক্স চেইন স্টার সিনেপ্লেক্সের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, তারা এই সরকারি নির্দেশনা তার দৃষ্টিতে দেখছে এবং আপাতত ৫ ও ৬ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টার পরের সকল সিনেমা স্থগিত রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতে করণীয় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তাদের ওয়েবসাইটে জানানো হবে। এছাড়া, অগ্রিম টিকিট বিক্রি না করায় দর্শকদের রিফান্ডের জটিলতা এড়ানো হয়েছে। জানা গেছে, শুধু বড় মাল্টিপ্লেক্স নয়, দেশের অন্যান্য প্রেক্ষাগৃহগুলোও এই সিদ্ধান্তের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা চলমান সিনেমা বাজারের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছে বিশেষজ্ঞরা।