নগরীর হেরাজ মার্কেটের জামে মসজিদে পরিকল্পিতভাবে হামলা, ভাঙচুর ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হয়েছে বলে নির্মম অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সাবেক ইমাম আবুল কালাম আজাদকে পুনর্বহাল করার বিষয়টি কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার মধ্যে গত রোববার খুলনা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক নাজমুস সাকির পিন্টু বলেন, ঘটনার দিন ১৮ এপ্রিল আসরের নামাজের পর একটি সংগঠিত দল মসজিদে প্রবেশ করে হামলা চালায়, ভাঙচুর করে এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। এসময় তারা সাবেক ইমাম আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে আনীত সামাজিক বা ব্যক্তিগত অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগের কারণে তাকে বহিষ্কার করা হয়। তবে ওই সময়পরবর্তীতে একটি ধর্ষণ মামলার বিচারাধীনতা রয়েছে এবং তার সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে উঠতি অন্তরঙ্গ ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। এর মাধ্যমে ইমাম শূন্য থাকা দীর্ঘদিনের পরিস্থিতির মধ্যে নতুন নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ঘটনার দিন খুলনা জেলা ইমাম পরিষদ নেতা গোলাম কিবরিয়া, নাজমুস সউদ ও মোল্লা মিরাজের নেতৃত্বে বহিরাগতরা মসজিদে প্রবেশ করে। তারা মাইকে ঘোষণা দিয়ে সাবেক ইমামকে পুনর্বহালের প্রক্রিয়া শুরু করে। এ সময় প্রতিবাদ করলে, মসজিদ কমিটির সচিব নাজমুস সাকির পিন্টুসহ কয়েকজনের উপর হামলা চালানো হয়। আহত হয় পিন্টু, রিয়াজ উদ্দিন সুজা, শফিকুল ইসলামসহ আরও অনেকে। হামলাকারীরা মসজিদের ভেতরে থাকা ডিজিটাল ঘড়ি এবং জানালা কাঁচ ভেঙে প্রায় ৪০ হাজার টাকার ক্ষতি সাধন করে। অভিযোগকারীরা আরো জানান, এর আগে সম্ভাব্য উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে থানায় অভিযোগ করা হলেও তার কোনো ফল হয়নি। পরে ভুক্তভোগীরা উভয় পক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। সংবাদ সম্মেলনে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আহ্বান জানানো হয়। বর্তমানে এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক নেই; তবে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
Blog
-

নগরীর ৩১ ওয়ার্ডে প্রায় এক লাখ শিশুকে হাম-রুবেলা টিকা দেওয়া হবে
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ৩১টি ওয়ার্ডে আগামী ২০ এপ্রিল থেকে ১০ মে পর্যন্ত ৬ মাস থেকে ৫ বছরের নিচে মোট ৯৩ হাজার ৭৮৮ শিশুকে এক ডোজ হাম-রুবেলা টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে স্কুল শিশুর সংখ্যা ১৩ হাজার ৩৮৮ এবং কমিউনিটি ভিত্তিক শিশুর সংখ্যা ৮০ হাজার ৪০৪। এই তথ্য জানানো হয় রোববার সন্ধ্যায় খুলনা সিটি কর্পোরেশনের নগর স্বাস্থ্য ভবনের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, প্রধান অতিথি হিসেবে। তিনি বলেন, আমরা চাই এই টিকা কার্যক্রম যাতে সর্বোচ্চ সংখ্যক শিশুর দারপ্রাপ্ত হয়, সেই জন্য আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ইতিমধ্যেই সিটি কর্পোরেশন এলাকায় মাইকিং এবং মসজিদের ইমামদের সঙ্গে বৈঠক করে সচেতনতা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। শুক্রবার নামাজের আগে খুতবায় এই টিকা কার্যক্রমের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হবে। মিডিয়ার ভূমিকা সর্বাধিক হলে এই প্রচার আরও ফলপ্রসূ হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অতি অবশ্যই, সকল শিশুকে হাম-রুবেলা থেকে রক্ষা করতে এই ক্যাম্পেইনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এর জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের সহায়তা চেয়েছেন প্রশাসক, যেন কোথাও যদি দুর্বলতা বা সমস্যা দেখা যায়, তা দ্রুত তারা কর্তৃপক্ষের নজরে আনেন।
প্রশাসনের উদ্যোগে কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শরীফ শাম্মীউল ইসলাম, খুলনা প্রেসক্লাবের আহবায়ক এনামুল হক, সদস্য সচিব রফিউল ইসলাম টুটুল এবং অন্যান্য গণমাধ্যমকর্মীরা। ডাঃ নাজমুর রহমান সজিব, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মেডিকেল অফিসার, এই টিকা বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেন।
সভায় জানানো হয়, ২৫৬টি টিকা কেন্দ্রে ১৪৪ জন টিকাদানকর্মী, ২০৬ জন স্বেচ্ছাসেবী ও ৬২ জন সুপারভাইজার এই ক্যাম্পেইন পরিচালনা করবে। কার্যক্রম প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে, ছুটির দিন ব্যতীত।
এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে, খুলনা বিভাগে প্রতিটি জেলা, উপজেলা, সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভায় হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন চলবে। এর লক্ষ্য শিশুদের প্রচুর সচেতনতা সৃষ্টি করে, যেন রোগের প্রাদুর্ভাব কমে আসে এবং শিশুদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত হয়।
-

মহেশপুর সীমান্তে তিন বাংলাদেশিকে আটক করেছে বিএসএফ
ঝিনাইদহের মহেশপুরের যাদবপুর সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃপক্ষ তিনজন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে। রোববার সকাল সাড়ে ১১টার সময়, উপজেলার যাদবপুর বিওপি এলাকার বিপরীতে ভারতের পারগোপালপুর এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। সীমান্ত পিলার ৪৯/২-এস এর কাছাকাছি ভারতীয় ভূখণ্ডে টহলরত বিএসএফ সদস্যরা ওই তিনজনকে আটক করে। আটক ব্যক্তিরা হলেন: মহেশপুরের কানাইডাঙ্গা গ্রামের হায়াৎ আলীর ছেলে হৃদয় (রাব্বী), গোপালপুরের মৃত উসমান গনির ছেলে শাহিন এবং আবু বকরের ছেলে সোহাগ। জানা গেছে, মোট পঁচিশজন অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করছিল। এ সময় বিএসএফ তাদের ধাওয়া করলে তিনজন ধরা পড়ে; বাকিরা পালিয়ে গেল। পরে, বিএসএফের জিজ্ঞাসাবাদে ধরা পড়া তিনজন স্বীকার করে যে, দুইজন পালাওয়ার চেষ্টা করেছিল। মহেশপুর ৫৮ বিজিবি’র এক বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, এই ঘটনার বিষয়ে বিএসএফ ৯৯ ব্যাটালিয়ন এবং বিজিবি ৫৮ ব্যাটালিয়নের মধ্যে যোগাযোগ হয়েছে। আটককৃত ব্যক্তিরা বর্তমানে বিএসএফের হেফাজতে নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্যে রয়েছেন। বিএসএফ ৯৯ ব্যাটালিয়নের দাবি, তাদের কাছে যে তিন বাংলাদেশি আটক হয়, তাদের মধ্যে মাদকসহ অন্যান্য আইনি অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে ধারণা পাওয়া গেছে। মহেশপুর ৫৮ বিজিবি’র অধিনায়ক লেঃ কর্নেল রফিকুল আলম বলেন, তাদের আটকের বিষয়ে তিনি শুনেছেন। সীমান্তের জিরো লাইন থেকে প্রায় ১৫০ গজ দূরে ভারতের ভেতরে বিএসএফ কর্তৃপক্ষের হাতে তারা আটক হয়েছে বলে জানা যায়। তিনি আরও জানান, এই ঘটনাটি নিয়ে তারা খোঁজখবর রাখছেন এবং পরিস্থিতির ওপর নজরদারি চালাচ্ছেন।
-

এশিয়ার জন্য উদ্ভাবনী হোম সলিউশন ও ভবিষ্যতের পরিকল্পনা তুলে ধরল LG Electronics
বিশ্বখ্যাত ইলেকট্রনিকস ব্র্যান্ড LG Electronics (LG) সম্প্রতি কোরিয়ার বুসানে অনুষ্ঠিত LG InnoFest 2026 APAC-এ এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্য তাদের সর্বশেষ উদ্ভাবনী হোম অ্যাপ্লায়েন্স ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছে। এই অনুষ্ঠানে এশিয়া প্যাসিফিক এলাকার প্রায় ২০টি দেশ থেকে এসেছে আরো এক হাজারের বেশি ব্যবসায়িক পার্টনার, মিডিয়া প্রতিনিধি ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, যারা একসাথে অংশগ্রহণ করেন এই আয়োজনে। এটি LG এর ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত ইনোফেস্ট সিরিজের অন্যতম বড় ও গুরুত্বপূর্ন ইভেন্ট।
‘নতুন ভাবনা, একসাথে এগিয়ে’ এই থিমের অধীনে, LG চালিয়ে যাচ্ছে এমন প্রযুক্তি উন্নয়ন যা এশীয় ভোক্তাদের জীবনযাত্রা আরও সহজ, আরামদায়ক ও টেকসই করে তুলবে। গ্রাহকদের অভ্যাস ও সংস্কৃতি বিবেচনায় রেখে, LG অঞ্চলভিত্তিক অর্গানাইজেশনের সঙ্গে মিলে স্থানীয় বাজারের জন্য বাস্তবসম্মত সমাধান নিয়ে আসছে।
বাংলাদেশসহ উপমহাদেশের জন্য LG তাদের Laundry Care শাখায় নতুন শক্তিশালী পণ্য নিয়ে এসেছে, যার মধ্যে রয়েছে নতুন WashTower™ লাইনআপ। এতে রয়েছে ২৫ ইঞ্চি এবং অন্যান্য পার্শ্ববর্তী সংস্করণ, যা ছোট জায়গায় থাকা সুবিধা নিয়ে এসেছে। এটি সম্পূর্ণভাবে কার্যকর ও স্থায়ী সমাধান, বিশেষ করে টি যেখানে জায়গা কম সেখানে।
নতুন ডিজাইনের টপ লোড ওয়াশারগুলোতে যুক্ত হয়েছে AI Direct Drive™ (AI DD™) প্রযুক্তি, যা কাপড়ের ধরন ও ময়লার পরিমাণ অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওয়াশ মুভমেন্ট সামঞ্জস্য করে। TurboWash™ 3D প্রযুক্তির মাধ্যমে, এই ওয়াশার ৩০ মিনিটের মধ্যে সম্পূর্ণ ধোয়ার প্রক্রিয়া শেষ করতে সক্ষম। এছাড়াও, ডিটারজেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারণের জন্য রয়েছে এটির উন্নত সিস্টেম।
আরও আছে LG WashCombo™ অল ইন ওয়ান ওয়াশার ড্রায়ার, যা একসাথে কাপড় ধোয়া ও শুকানোর সুবিধা দেয়। Inverter HeatPump™ প্রযুক্তি বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে, যা বাংলাদেশসহ এশিয়ার ভোক্তাদের জন্য বেশ উপকারী।
নতুন প্রজন্মের স্মার্ট রান্নাঘর সমাধান হিসেবে LG বিশেষ ভাবে আনছে ফিট অ্যান্ড ম্যাক্স ডিজাইনে বিল্ট-ইন রেফ্রিজারেটর। এর Zero Clearance Hinge দেয়াল থেকে ফাঁকা জায়গা না থাকা সত্ত্বেও সহজে ইনস্টলযোগ্য হয় এবং মার্জিত লুকের পাশাপাশি storage capacity বাড়িয়েছ। এর Ice Solution প্রযুক্তিতে রয়েছে চার ধরনের বরফের অপশন—Craft Ice™, Cubed, Crushed ও Mini Craft—যা দৈনন্দিন কাজে এবং অতিথি আপ্যায়নে অত্যন্ত কার্যকর।
ডিশওয়াশার বিভাগে LG এক ঘণ্টার দ্রুত ওয়াশ ও ড্রাই সাইকেল, QuadWash™ Pro ও ডাইনামিক Heat Dry+ প্রযুক্তি চালু করেছে, যা দ্রুত এবং স্বাস্থ্যকর পরিষ্কারের নিশ্চয়তা দেয়। অধিকন্তু, LG এর বেশিরভাগ মডেলে এনার্জি এফিসিয়েন্সি এ গ্রেড অর্জিত হয়েছে।
স্মার্ট হোম অভিজ্ঞতায় LG তুলে ধরেছে AI Home Vision এর নতুন দিক, যেখানে ThinQ ON™ AI Home Hub এর মাধ্যমে সব স্মার্ট অ্যাপ্লায়েন্স ও IoT ডিভাইসগুলো একসাথে সংযুক্ত ও নিয়ন্ত্রিত হয়। এই প্ল্যাটফর্ম ধীরে ধীরে এশিয়ার অন্যান্য বাজারেও চালু হচ্ছে।
LG এর উদ্যোগে, সাবস্ক্রিপশন সার্ভিস LG Subscribe এর আওতা বাড়ছে, যেখানে গ্রাহকরা কিস্তিতে পণ্য ব্যবহারের পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা পাবেন। এটি ভবিষ্যতে বাংলাদেশের মতো বাজারে আরও ব্যাপক সম্ভাবনা দেখাচ্ছে।
LG Electronics Asia Pacific এর আঞ্চলিক CEO জেসুং কিম বলেন, “এশিয়া আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও দ্রুতবর্ধনশীল বাজার। InnoFest 2026 আমাদের পার্টনারদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার জন্য একটি দুর্দান্ত প্ল্যাটফর্ম। আমরা এখানেই স্থানীয় জীবনধারা বিবেচনায় রেখে AI চালিত হোম সলিউশনের উন্নয়ন করছি।”
LG Home Appliance Solution Company বিশ্বমানের হোম অ্যাপ্লায়েন্স ও AI হোম সলিউশনে নেতৃস্থানীয় প্রতিষ্ঠান। এর উদ্ভাবনী প্রযুক্তি, শক্তি সাশ্রয়ী ডিজাইন ও টেকসই সমাধান এর মাধ্যমে গ্রাহকদের জীবনমান উন্নত করে চলেছে। বিস্তারিত দেখতে ভিজিট করুন: www.LG.com/global/newsroom/
-

প্রবাসী আয়ে ফের রিজার্ভ ছাড়ালো ৩৫ বিলিয়ন ডলার
গত মার্চ মাসে বাংলাদেশে রেকর্ড পরিমাণ প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) এসেছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ধারা চলতি এপ্রিলেও অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি ইতিবাচক দিকে এগোচ্ছে। এর ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আবারও ডলার কিনতে শুরু করেছে এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ধীরে ধীরে বেড়ে ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছুঁয়েছে।
বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের মোট রিজার্ভ ছিল ৩৫ দশমিক ০৪ বিলিয়ন ডলার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব অনুযায়ী, এই রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩০ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার। এক মাস আগে, ১৬ মার্চ, মোট রিজার্ভ ছিল ৩৪ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার এবং হিসেবে হিসাবে ২৯ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, এক মাসের মধ্যে রিজার্ভ প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে।
তবে পুরো রিজার্ভের যে অংশ ব্যবহারযোগ্য, সেটি মোট রিজার্ভের সমান নয়। স্বল্পমেয়াদি দায় ও অন্যান্য বাধ্যবাধকতা বাদ দিলে দেশের প্রকৃত বা নেট ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ হয়, যা দেশের অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভের হিসাব করে, যেখানে আইএমএফের এসডিআর, ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রা ক্লিয়ারিং হিসাব ও অন্যান্য কিছু অপ্রয়োজনীয় হিসাব বাদ দেওয়া হয়। এ তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না হলেও, বাংলাদেশ ব্যাংকের সূত্র জানায় বর্তমানে দেশের এই ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ রয়েছে প্রায় ২৭ বিলিয়ন ডলার। প্রতি মাসে আনুমানিক ৫ বিলিয়ন ডলার আমদানি ব্যয় ধরে হিসাব করলে, এ রিজার্ভ দিয়ে দেশের প্রয়োজনীয় আমদানি পাঁচ মাসের বেশি চালানো সম্ভব। সাধারণত, অন্তত তিন মাসের আমদানি খরচের সমপরিমাণ রিজার্ভকে নিরাপদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
অতীতে, যখন রিজার্ভ চাপে পড়ে তা ১৪ বিলিয়ন ডলার নিচে নেমে গিয়েছিল, তখন বৈদেশিক ঋণ ও বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ডলার সংগ্রহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের আগস্টে, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর, নতুন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি কমিয়ে দেন। পাশাপাশি হুন্ডি ও অর্থপাচার ঠেকানোর জন্য নানা কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয় ও বিভিন্ন উৎস থেকে ডলার সরবরাহ বাড়ানো হয়। এর ফলে রিজার্ভ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থানে ফিরে আসে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশকে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ সমৃদ্ধ হচ্ছে এবং রিজার্ভ শক্তিশালী হচ্ছে। তিনি বলেন, বাজারে ডলারের দাম যাতে খুব বেশি না পড়ে, তা নিশ্চিত করার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার কিনছে, ফলে রিজার্ভ পরিস্থিতি ভালো। তবে, ডলারের দাম খুব বেশি কমে গেলে প্রবাসী আয় ও রপ্তানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।
বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ২০২১ সালের আগস্টে দেশের রিজার্ভ ছিল ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলার, তখন ডলারের বিনিময় হার ছিল ৮৪ টাকা ২০ পয়সা। তবে পরে ঋণ অনিয়ম, অর্থপাচারসহ নানা কারণে রিজার্ভ কমে যায়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, সরকারের পতনের সময়, রিজার্ভ নেমে আসে ২৫.৯২ বিলিয়ন ডলার, যা আইএমএফের হিসাব অনুযায়ী ২০.৪৮ বিলিয়ন ডলার। তখন বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয় ও ডলের দাম ১২০ টাকার ওপরে উঠে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে তখন বিভিন্ন ধরনের আমদানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।
পরবর্তী সময়ে, দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকার ডলারের বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করার পাশাপাশি, প্রবাসী আয়ের উৎস বাড়ানোর ও আমদানির ওপর বিধিনিষেধ শিথিলের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়তে থাকায় রিজার্ভ আবারও পুনরুদ্ধার হতে শুরু করে।
চলতি এপ্রিলের প্রথম ১৫ দিনে দেশে পাঠানো হয়েছে ১৭৯ কোটি ডলার, যা গত বছরের সেই সময়ের তুলনায় ২১.৫ শতাংশ বেশি। এই ধারাবাহিক বৃদ্ধির ফলে, বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিমধ্যে ৫৬১ কোটি ডলার কিনেছে ব্যাংকগুলো থেকে, যার ফলে রিজার্ভ আবারও শক্ত অবস্থানে ফিরছে।
অন্তর্বর্তী বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা থাকায় জ্বালানি তেলের দাম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রিজার্ভের বৃদ্ধি অনেকটাই স্বস্তিদায়ক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
-

ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে স্বল্প সুদে ঋণের ঐতিহাসিক চুক্তি এসএমই ফাউন্ডেশন ও প্রাইম ব্যাংকের মধ্যে
দেশের শিল্পখাতে উন্নয়নে নতুন এক গtantমান পদক্ষেপ হিসেবে, কুটির, Micro, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (CMSME) শিল্পের উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে এবং কম সুদে অর্থায়নের বাস্তবসম্মত উপায় খুঁজে বের করার লক্ষ্যে এসএমই ফাউন্ডেশন এবং প্রাইম ব্যাংক একত্রে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো দেশের তৃণমূল পর্যায়ে অর্থনৈতিক গতিশীলতা বাড়ানো, যাতে ছোট ও মাঝারি শিল্পের উদ্যোক্তারা সহজে এবং দ্রুত তাদের ব্যবসা বিস্তার করতে পারেন। সরকারের ৩০০ কোটি টাকার ‘রিভলভিং ফান্ড’-এর আওতায় এবং শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসারে এই বিনিয়োগ প্রক্রিয়া বাস্তবায়িত হচ্ছে। সম্প্রতি ঢাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই চুক্তি স্বাক্ষর করেন উভয় প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্প, বাণিজ্য ও বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি এই উদ্যোগের মাধ্যমে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করেন।
চুক্তির অধীনে, প্রাইম ব্যাংক যোগ্য উদ্যোক্তাদের জন্য বছরে সর্বোচ্চ ৮ শতাংশ সুদে স্বল্পমূল্যের ঋণ প্রদান করবে। এই অর্থায়ন সুবিধাটি খুব সহজলভ্য করে তোলা হয়েছে, যেখানে প্রতিষ্ঠানের ধরন অনুযায়ী কমপক্ষে ১ লক্ষ থেকে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নেওয়া সম্ভব। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য আর্থিক চাপ কমানোর লক্ষ্যে এই কর্মসূচিতে ঋণের পরিশোধের সময়সীমা সর্বোচ্চ চার বছর নির্ধারিত হয়েছে, যার মধ্যে একটি ছয় মাসের গ্রেস পিরিয়ডও অন্তর্ভুক্ত। এর ফলে, উদ্যোক্তারা তাদের ব্যবসা থেকে মুনাফা অর্জনের সময় পাবে এবং তা দিয়ে কিস্তি পরিশোধ শুরু করতে পারবে।
এই প্রকল্পের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং সামাজিক সাম্যতা নিশ্চিত করা। চুক্তি অনুযায়ী, তহবিলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ নারী উদ্যোক্তাদের এবং নির্দিষ্ট শিল্প ক্লাস্টারগুলোর জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি, আইটি সেক্টরের তরুণ উদ্ভাবক, আমদানি বিকল্প পণ্য উৎপাদনকারী, এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিপূর্ণ বা সুবিধাবঞ্চিত অঞ্চলের উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ১০ লাখ টাকার বেশি ঋণের ক্ষেত্রে কোন জামানত বা সম্পত্তির বাধ্যবাধকতা নেই, ফলে সম্পদ না থাকা উদ্যোক্তরাও নিজেদের ব্যবসা উন্নয়নে অর্থ সংগ্রহের সুযোগ পাবেন।
এসএমই ফাউন্ডেশন এবং প্রাইম ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তারা এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। এই কর্মসূচি কেবল ঋণ দেয়ার মধ্যে সীমিত নয়, এটি পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও টেকসই শিল্পায়নের দিকে আগ্রহী করে তুলবে। পাশাপাশি, এটি বিদেশে থেকে ফিরত আসা শ্রমশক্তিকে উৎপাদনশীল কর্মসংস্থানে যুক্ত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রাইম ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম নাজিম এ. চৌধুরী এবং এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন, এই অংশীদারিত্ব দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।
-

এপ্রিলের ১৮ দিনে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৮০ কোটি ডলার
এপ্রিলের প্রথম ১৮ দিনে দেশে বৈধ পথে প্রবাসী বাংলাদেশিরা পাঠিয়েছেন মোট ১৮০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স। ঐ সময়ে প্রতি ডলার একুশে তিন টাকা মানে বাংলাদেশের স্থানীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ২২ হাজার ১৪০ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই রেমিট্যান্সের পরিমাণ ১৬.২ শতাংশ বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে এপ্রিলের প্রথম ১৮ দিন পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৮১৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ২ হাজার ৩৪৭ কোটি ৯০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এই সময়ে রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধিতে প্রায় ২০.২ শতাংশ বৃদ্ধি ঘটে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ, প্রণোদনা কর্মসূচি এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থার উন্নয়ন রেমিট্যান্সের পরিমাণ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুসারে, চলতি অর্থবছরে মাসভিত্তিক প্রবাসী আয়ের পরিমাণ হলো: জুলাইয়ে ২৪৭.৭৮ কোটি ডলার, আগস্টে ২৪২.১৮ কোটি ডলার, সেপ্টেম্বর ২৬৮.৫৫ কোটি ডলার, অক্টোবরে ২৫৬.২৪ কোটি ডলার, নভেম্বর ২৮৮.৯৭ কোটি ডলার, ডিসেম্বরে ৩২২.৩৬ কোটি ডলার, জানুয়ারিতে ৩১৭.১৬ কোটি ডলার, ফেব্রুয়ারিতে ৩০২ কোটি ডলার, এবং মার্চ মাসে রেকর্ড ৩৭৫.৫০ কোটি ডলার।
-

এসএসসি পরীক্ষা পরিচালনার জন্য জরুরি নির্দেশনা: সিসি ক্যামেরা ও প্রশ্নপত্র বিষয়ক বিধিনিষেধ
আসন্ন এসএসসি পরীক্ষা উৎসবমুখর ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করার জন্য ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা জারি করেছে। কেন্দ্রগুলোকে দ্রুত ও স্পষ্টভাবে সিসি ক্যামেরার আইডি ও পাসওয়ার্ডের তথ্য, একই সঙ্গে প্রশ্নপত্র গ্রহণকারি শিক্ষক ও কর্মচারীদের নাম, ঠিকানা ও মোবাইল নম্বরের তথ্য পাঠানোর জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। এই তথ্য পাঠানো বিশেষ করে জরুরি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
বোর্ডের রোববার (১৯ এপ্রিল) প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও কর্মচারীদের তথ্য, যাদের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র গ্রহণ ও পর্যবেক্ষণ হবে, তা নির্ধারিত ই-মেইল [email protected] এ পাঠাতে হবে। এই নির্দেশনা অনুযায়ী, আজ রবিবারের মধ্যে এই তথ্য পাঠানোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
প্রসঙ্গত, শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, এবছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হবে আগামী ২১ এপ্রিল। প্রথম দিন বাংলা প্রথমপত্রের পরীক্ষা নেওয়া হবে। লিখিত পরীক্ষার শেষ দিন ২০ মে, এবং পরে ৭ জুন থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত হবে ব্যবহারিক পরীক্ষা। এই সময়সূচি সফলভাবে সম্পন্ন করতে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষণ ও সচেতনতাকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
-

দেশে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে বিশ্লেষকরা ক্ষুব্ধ
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমলেও বাংলাদেশে দাম সমন্বয়ের নামে নতুন করে দামের বিভিন্ন ঘোষণা দেশের মানুষকে হতাশ ও ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের নেতা ডা. শফিকুর রহমান এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি নিজ ফেসবুক পেজে রোববার থেকে কার্যকর হওয়া এই দামের পরিবর্তনকে বলেছেন ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’।
শুক্রবার রাতে এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্ববাজারে যখন জ্বালানি তেলের দাম নিম্নমুখী, তখন দেশের বাজারে দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তটি খুবই দুঃখজনক ও অযৌক্তিক। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় দিন দিন বৃদ্ধির সম্মুখীন হওয়ার জন্য তার আশঙ্কা ব্যক্ত করেন তিনি। উল্লেখ করেন, এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়বে, যা দেশবাসীর জন্য আরও বেশি কষ্টের কারণ হবে।
বুধবার থেকে প্রতি লিটার জ্বালানি তেলের মান নিয়ন্ত্রণের জন্য নতুন মূল্য নির্ধারিত হয়েছে, যেখানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বাজারের দাম অনুযায়ী দেশের বাজারে এই পরিবর্তনটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে। তবে এ সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের জন্য এক নতুন আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষক ও সাধারণ নাগরিকরা।
-

অতীতে ছাত্রলীগ বা অন্য সংগঠনের অভিজ্ঞতা থাকলেও এনসিপিতে যোগ দিতে পারবেন সবাই: নাহিদ ইসলাম
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, অতীতে কেউ ছাত্রদল, ছাত্রশিবির বা ছাত্রলীগের সদস্য থাকুক—এ বিষয়টি আমাদের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ নয়। এখন থেকে যে কেউ এনসিপিতে প্রবেশ করবেন, তিনি সংগঠনের একজন কার্যকর সদস্য ও নেতা হিসেবে কাজ করবেন। শুধু তাই নয়, তিনি এনসিপির আদর্শ ধারণ করে ন্যায়সংগত ও গণতান্ত্রিক সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখবেন। তবে যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফ্যাসিবাদে অংশ নেওয়া, গণহত্যায় যুক্ত থাকার, চাঁদাবাজি বা দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, তারা এনসিপিতে প্রবেশ করতে পারবেন না।
এনসিপির এই নতুন নীতিমালা ও সিদ্ধান্তের সূচনা হয় রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন দলের নেতাকর্মীরা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের নেতারাও। এসময় নাহিদ ইসলাম উল্লেখ করেন, যারা এনসিপির গঠনতন্ত্র অনুসারে দলটির মূলনীতির সঙ্গে একমত, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ—they সবাই এখন থেকে Officially একত্রিত হচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, গতকাল বা আগে থেকে অনেকেই এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তারা কখনো দলটির বাইরে ছিলেন না, তবে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছিলেন। আজ আমরা সবাই একে অপরের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে সংযুক্ত হচ্ছি এবং দেশের তরুণদের পাশাপাশি সব বয়সের মানুষকে এনসিপির সঙ্গে হাত মিলানোর আহ্বান জানাচ্ছি। সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে সংগঠনের শক্তি বাড়ান, যেন গণঅভ্যুত্থানের নজির গড়ে দেশের জন্য সুসংবাদ ঘটে।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, আমাদের লক্ষ্য হলো যাতে কোনো স্বৈরশাসন আবার দেশের ওপর চালু না হয়। এজন্য তরুণদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 국민ের রায় ছিল সংস্কার এবং পরিবর্তনের পক্ষে, সেই রায়কে বাস্তবায়িত করতে হবে। জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে এবং একটি সত্যিকার গণতান্ত্রিক সমাজ গড়তে কাজ চালিয়ে যেতে হবে। এই সব কথা বলে তিনি তরুণদের আহ্বান জানান, তারা যেন সক্রিয় হয়ে উঠে দেশের আগামী উন্নত ভবিষ্যত গড়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
