Blog

  • মানবতাবিরোধী অপরাধে ইনুর রায় এখনই আসবে

    মানবতাবিরোধী অপরাধে ইনুর রায় এখনই আসবে

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে। এ কারণে কোনও দিনই রায় ঘোষণা হতে পারে বলে জানা গেছে।

    বুধবার (১৪ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ রাষ্ট্রপক্ষ সর্বশেষ ভারতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে।

    হাসানুল হক ইনু হলেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তথ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

    অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ৬ থেকে ৭ জন নিহতের ঘটনার সঙ্গে সংযুক্ত এই মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। মোট আটটি বিশিষ্ট অভিযোগে তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

    প্রসিকিউশনের যুক্তি, এই সময়ে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উসকানি ও প্ররোচিত করেছিলেন হাসানুল হক ইনু। তার প্ররোচনায় ঐ সময় প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেন।

    তাই বলে, অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা হিসেবে এই অপরাধের ক্ষেত্রে তার ওপর আধিকারিক কর্তৃপক্ষের বা সুপিরিয়র কমান্ডের দায়ও বর্তায়।

    গত বছরের ১ ডিসেম্বর এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এর আগে, ২৫ সেপ্টেম্বর, প্রসিকিউশনের দাখিলকৃত আস্তাবলে আটটি অভিযোগ কমিশন পেলে, ট্রাইব্যুনাল সেই অভিযোগগুলো গ্রহণ করে।

    ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট হাসানুল হক ইনুকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে, ওই বছর গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনের হত্যার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

  • শপথ গ্রহণে আপাতত রুকাউতা আসলাম চৌধুরী ও সারোয়ার আলমগীর

    শপথ গ্রহণে আপাতত রুকাউতা আসলাম চৌধুরী ও সারোয়ার আলমগীর

    ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার অনুমতি চেয়ে পৃথক আবেদন করেছেন চট্টগ্রামের বিএনপি প্রার্থী আসলাম চৌধুরী এবং সারোয়ার আলমগীর। এই আবেদন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ আজ বৃহস্পতিবার নথিভুক্ত করে। এক সাথে এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ আপিল শুনানির জন্য ৯ জুন তারিখ ঠিক করা হয়েছে।

    প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে আপিল বিভাগ এই আদেশ দেয়, তার ফলে আপাতত তারা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে পারছেন না।

    ১৯ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির এই দুই প্রার্থী—চট্টগ্রাম-৪ আসনের আসলাম চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম-২ আসনের সারোয়ার আলমগীর—নির্বাচনে অংশ নেন। তবে, ঋণখেলাপির অভিযোগে তাদের ফলাফল প্রকাশ ৩ ফেব্রুয়ারি সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তে স্থগিত করা হয়। তবে জানা গেছে, এ দুই আসনে বিএনপির প্রার্থীরা অন্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের তুলনায় অনেক বেশি ভোট পেয়েছেন।

    আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র ঋণখেলাপির অভিযোগে নির্বাচন কমিশনে আপিল শুনানির শেষ দিনে, ১৮ জানুয়ারি, বৈধ ঘোষণা হয়। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ হাইকোর্টে রিট করে নেয়, যা আদালত খারিজ করে দেন। এরপর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে। পাশাপাশি, জামায়াতের প্রার্থী মো. আনোয়ার সিদ্দিকী হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল দাখিল করেন। ৩ ফেব্রুয়ারি, বিদ্যমান আপিল মঞ্জুর হয় এবং আসলাম চৌধুরীর প্রার্থীতা বহালের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল গ্রহণ করা হয়। ফলে, তিনি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অনুমতি পান। তবে, আপিল নিষ্পত্তি হওয়া পর্যন্ত ফলাফল স্থগিত রাখা হয়। অবশেষে, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আসলাম চৌধুরী বিজয়ী হন, কিন্তু আদালতের আদেশের কারণে ফলাফল প্রকাশিত হয়নি।

    অন্যদিকে, সারোয়ার আলমগীরের ক্ষেত্রেও ঋণ খেলাপের অভিযোগে তার প্রার্থিতা বাতিলের আদেশ স্থগিত করেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে, তাকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া ও শপথ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। এরপর, জামায়াতের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুল আমিন হাইকোর্টের এই আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেন।

    নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে, ১২ ফেব্রুয়ারি সারোয়ার আলমগীর বিজয়ী হন। তবে, আদালত আদেশের কারণে ফলাফল প্রকাশ হয়নি। এ পরিস্থিতিতে, ফলাফল ঘোষণা ও শপথ নেওয়ার জন্য এই দুই প্রার্থী আবেদন করেন।

    তারপর, ১৩ ফেব্রুয়ারি, নির্বাচন কমিশন নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করে। তবে, সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশে চট্টগ্রাম-২ ও ৪ নম্বর আসনের ফলাফল এখনও ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি।

  • শাপলার মামলায় দীপু মনী, রুপা ও বাবু গ্রেপ্তার, ৭ জুন হাজিরার নির্দেশ

    শাপলার মামলায় দীপু মনী, রুপা ও বাবু গ্রেপ্তার, ৭ জুন হাজিরার নির্দেশ

    রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে সংঘটিত হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডা. দীপু মনী, সাংবাদিক ফারজানা রুপা এবং মোজাম্মেল বাবুকে বুধবার (১৪ মে) গ্রেপ্তার দেখিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। এর পরিপ্রেক্ষিতে, তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, তিনজনকে আগামী ৭ জুন হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ওইদিন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য রয়েছে।

    সকালে কারাগার থেকে তাদের আদালতে হাজির করা হয়। গত ৭ মে, এই তিনজনের বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল।

    প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে গাজী এমএইচ তামিম বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞের সময় ডা. দীপু মনী পররাষ্ট্র মন্ত্রী হিসেবে ছিলেন। তিনি আন্তর্জাতিকভাবে প্রচার করেন যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ীদের নির্মূল করেছে। পাশাপাশি, তিনি উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে, হেফাজতের মহাসমাবেশকে উসকানিভাবে প্রচার করেন বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে।

    এই মামলার আরও ছয় আসামি কারাগারে আছেন, তারা হলেন- সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক আইজিপি একেএম শহিদুল হক, সাবেক ডিআইজি মোল্যা নজরুল ইসলাম, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা শাহরিয়ার কবির এবং সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল।

    প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতের সমাবেশের সময় রাজধানী ঢাকাসহ চারটি স্থানে ৫৮ জন নিহত হন। এর মধ্যে ঢাকায় ৩২, নারায়ণগঞ্জে ২০, চট্টগ্রামে ৫ এবং কুমিল্লায় একজনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে।

  • তরিক রহমান ঢাবির আইন বিভাগের ছাত্র ছিলেন: আসিফ নজরুল

    তরিক রহমান ঢাবির আইন বিভাগের ছাত্র ছিলেন: আসিফ নজরুল

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অবশ্যই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন বলে নিশ্চিত করেছেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও লেখক আসিফ নজরুল। তিনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে জানান, তারেক রহমান ১৯৮৫-৮৬ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন এবং প্রায় দুই মাস পর্যন্ত ক্লাসে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সাবেক অন্তর্বর্তী ছত্রামন্ত্রী আসিফ নজরুল বলেন, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সফর ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে whether তিনি সেখানকার ছাত্র ছিলেন কি না। সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, মন্ত্রীর প্রথমে ঢাবিতে ভর্তি হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত। তিনি জানান, এই তথ্য তার কাছে খুবই স্পষ্ট, কারণ তিনি তখনই তারেক রহমানের সহপাঠী ছিলেন।

    আসিফ নজরুল আরও উল্লেখ করেন, ‘তখন তিনি ১৯৮৫-৮৬ ব্যাচে ছাত্র ছিলেন। আমি তারেক রহমানের সহপাঠী হিসেবে এই বিষয়টি জানতাম। ক্লাসে তিনি দুই মাস পর্যন্ত অংশ নিতেন।’ তাঁর ভাষ্য, তখন দেশে এরশাদ শাসনক্ষম ছিল, এবং জিয়াউর রহমান হত্যার জন্য এরশাদের সম্পৃক্ততা নিয়ে নানা অভিযোগ উঠছিল। নিরাপত্তার কারণে হয়তো তারেক রহমানের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়।

    তিনি আরও যোগ করেন, তারেক রহমানের কিছু সহপাঠী ছিলেন যারা এখন পরিচিত ব্যক্তিত্ব। এর মধ্যে সাবেক স্পিকার শিরিন শারমীন চৌধুরী, সাবেক উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান এবং সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে একজন বর্তমান বিচারপতি ফারাহ মাহবুব রয়েছেন।

  • পরিশেষে অনুমোদন পেলো পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প: ছয় দশকের অপেক্ষার শেষ

    পরিশেষে অনুমোদন পেলো পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প: ছয় দশকের অপেক্ষার শেষ

    প্রায় ছয় দশকের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের প্রথম ধাপের অনুমোদন দিল সরকার। বুধবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (একনেক) সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা নদীতে পানি ঘাটতি মোকাবেলা, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ পুনঃস্থাপন ও দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পানি ও পরিবেশ ব্যবস্থার উন্নয়ন। অনুমোদিত প্রথম ধাপে সরকারের অর্থায়নে প্রায় ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা ব্যয় হবে। এটি দেশের জলসম্পদ ব্যবস্থাপনায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

    পাঁচটি নদী—ইছামতি, মাথাভাঙ্গা, গড়াই, মধুমতি ও চন্দনা—এর পানি নিয়ন্ত্রণ করা হবে, যেখানে শুষ্ক মৌসুমে দীর্ঘকাল ধরে পানি সংকট দেখা দিয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ২৯০ কোটি কিউবিক মিটার পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে, যার ফলে কৃষি, মৎস্য ও শিল্পক্ষেত্রে বিপুল সুবিধা স্বরূপ হবে। প্রকল্পের আওতায় গদাগড়, গঙ্গা ও কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্পসহ বিভিন্ন নদীর উপর পানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। পাশাপাশি, জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত নদীগুলোর পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে আনা হবে। এর ফলে দেশের ২৮ লাখের বেশি কৃষিজমিতে সেচের সুবিধা নিশ্চিত হবে।

    অতীতে বারবার দেখা গেছে, উজানের পানি প্রত্যাহারের মাধ্যমে তেমন পানির প্রবাহ বজায় থাকেনি, যার কারণে নদী ও খালগুলো লবণাক্ত হয়ে পড়ে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে সরাসরি ১১৪ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদন, সড়ক, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন, গ্যাস পাইপলাইন ও উপগ্রহ শহর গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে বছরে প্রায় ২৩ লাখ ৯০ হাজার টন ধান ও ২ লাখ ৩৪ হাজার টন মাছ উৎপাদন সম্ভব হবে।

    প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ১২ কোটি ২৫ লাখ শ্রমিকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, যেখানে ৪৮ হাজারের বেশি শ্রমিক সরাসরি কাজের সুযোগ পাবেন। এছাড়া, বছরে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক উপকারিতা আসবে, যা দেশের মোট অর্থনীতি বা জিডিপিতে শতকরা শূন্য দশমিক ৪৫ ভাগ অবদান রাখবে। সুন্দরবন ও উপকূলীয় অঞ্চলের পরিবেশ রক্ষা এবং লবণাক্ততা কমানোর মাধ্যমে সমুদ্রের প্রভাবে জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    প্রাকৃতিক কারণে মাঝে মাঝেই দেখা যায়, ১৯৬১ সালে ভারতের ফারাক্কা ব্যারাজ চালু হওয়ার পর থেকে উজান থেকে পদ্মা নদীর প্রবাহ কমে যায়, যার ফলে শুষ্ক মৌসুমে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ অনেকটাই কমে যায়। এর ফলে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য, পরিবেশ ও কৃষি ক্ষেত্রে ক্ষতি হয়। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশে গঙ্গার পানি ভাগাভাগি চুক্তি অনুযায়ী এই তঠের মেয়াদ চলতি বছর শেষ হচ্ছে, ফলে ভবিষ্যতে পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন পরিকল্পনা প্রয়োজন হবে।

    এর আগে, এই প্রকল্পটি ১৯৬০ সালের দশকে প্রথম ভাবনা হিসেবে উঠে আসে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড ১৯৬১ সালে প্রাথমিক ধারণা ও সমীক্ষা শুরু করে। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে একাধিক সমীক্ষা ও পরিকল্পনা সম্পন্ন হয়। ২০১৬ সালে দুই দেশের কর্মকর্তারা সম্মিলিতভাবে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন ও আলোচনা শুরু করেন। অবশেষে, শুক্রবার একনেকের মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটির অনুমোদন দেয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যার মাধ্যমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও সুন্দরবনের প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন এক নতুন দিগন্তের দিকে এগিয়ে যাবে।

  • প্রতিবন্ধীদের অধিকার ও সেবা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

    প্রতিবন্ধীদের অধিকার ও সেবা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

    প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার রক্ষায় ও প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে অবিলম্বে কার্যকর উদ্যোগ নিতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে প্রতিবন্ধীবান্ধব অবকাঠামো, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতে তৎপর হওয়া প্রয়োজন।

    বুধবার (১৩ মে) সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় এসব নির্দেশনা দিলেন তিনি। সভাটি প্রতিবন্ধীদের অধিকার সুরক্ষা ও সেবা নিশ্চিতকরণে করণীয় নির্ধারণে আয়োজন করা হয়েছিল।

    প্রধানমন্ত্রী সভায় বলেন, সমাজের প্রতিটি স্তরে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের মর্যাদা ও সক্ষমতাকে বাস্তবে স্বীকৃতি দিতে হবে এবং তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিতেই হবে।

    তিনি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরকে ভবন নির্মাণ নীতিমালায় হাসপাতাল, রেস্তোরাঁ ও অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি স্থাপনায় যাতায়াত যোগ্য অবকাঠামো ও উপযুক্ত স্বচ্ছন্দ টয়লেট নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। কক্ষের দরজার প্রস্থ ও নকশা এমনভাবে নির্ধারণের কথা বলেন, যাতে হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীরা সহজেই প্রবেশ-প্রস্থান করতে পারেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীদের জন্য পরিকল্পিত ইলেকট্রিক বাসেও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন যাত্রীদের সুবিধার সুযোগ রাখতে হবে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রম ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠান-সম্প্রচার বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    তিনি দেশের প্রতিবন্ধী স্কুলগুলো ঠিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে কি না খতিয়ে দেখতে ব্যবস্থা গ্রহণেরও নির্দেশ দেন এবং ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ প্রতিযোগিতায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

    সভায় সিদ্ধান্ত হয়, প্রাথমিকভাবে ১০ জেলা ও ১০ উপজেলা কেন্দ্র করে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের স্বাস্থ্য ও পুনর্বাসন সেবা নিশ্চিত করতে ‘শিশু স্বর্গ’ প্রকল্প চালু করা হবে এবং দ্রুত এ কার্যক্রম শুরু করা হবে।

    সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসির খান চৌধুরী, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ. বি. এম. আব্দুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির প্রতিষ্ঠাতা আবদুস সাত্তার দুলালও অংশ নেন।

  • শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন, ট্রাইব্যুনালে বিচার শুরু

    শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন, ট্রাইব্যুনালে বিচার শুরু

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠন করে সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ মোট ১২ জনের বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম formally শুরু করেছে। অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে এই মামলার আনুষ্ঠানিক বিচারপ্রক্রিয়া চালু হলো। আদালত আগামী ১০ জুন ওই মামলায় ওপেনিং স্টেটমেন্ট (সূচনা বক্তব্য) উপস্থাপনের জন্য নির্ধারণ করেছে।

    বুধবার (১৩ মে) ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্যানেল এই অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। শুনানিতে আসামিপক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক বিবেচনা করা হয়েছিল।

    প্রসিকিউশনের বক্তব্যে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ ও ২১ জুলাই এবং ৫ আগস্ট—এই তিন দিনে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও সাইনবোর্ড এলাকায় পৃথক ঘটনার সূত্র ধরে শিশু গোপসহ মোট ১০ জন নিহত হন। এ ঘটনায় মোট তিনটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।

    আসামিদের মধ্যে সাবেক এমপি শামীম ওসমান, তাঁর ছেলে অয়ন ওসমান ও ভাতিজা আজমেরী ওসমানসহ মোট ১২ জন রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই সময় ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময়ে আসামিরা ভারি অস্ত্র ও দেশীয় তৈরির অস্ত্রসহ বিভিন্ন ধরনের হামলা চালায়, যার ফলে বহু মানুষ আহত হন।

    প্রসিকিউশন দাবি করেছে যে এই ঘটনায় অন্যতম প্রধান আসামি শামীম ওসমান। ট্রাইব্যুনালে বলা হয়েছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় তিনি তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও তৎকালীন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে নিয়মিত মোবাইল যোগাযোগ রাখতেন; ওই কল রেকর্ড ও সিডিআর আদালতে দাখিল করা হয়েছে।

    আরও জানানো হয়েছে, অভিযুক্তরা নারায়ণগঞ্জের একাধিক স্থানে সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল; শুরুতে ঘটনার কেন্দ্র ছিল ফতুল্লা ও নারায়ণগঞ্জ শহর, পরে সহিংসতা সিদ্ধিরগঞ্জ ও চিটাগং রোড পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।

    অভিযোগ গঠন হতেই মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হওয়ায় পরবর্তী কার্যক্রমে ওপেনিং স্টেটমেন্টের তারিখে পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে এবং সেখান থেকে সাক্ষ্য প্রমাণ গ্রহণের প্রক্রিয়া এগোবে।

  • এনসিপি প্রাথমিকভাবে ১০০ উপজেলা ও পৌরসভা প্রার্থীর নাম ঘোষণা

    এনসিপি প্রাথমিকভাবে ১০০ উপজেলা ও পৌরসভা প্রার্থীর নাম ঘোষণা

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে ১০০জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। রোববার (১০ মে) বিকেলে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এই তালিকা উন্মোচন করেন।

    সারজিস আলম বলেন, প্রতি আসনে প্রার্থী নির্বাচন করার জন্য দলের কাছে হাজারেরও বেশি আবেদন এসেছে। প্রথম ধাপে ১০০ জন — যেখানে ৫০ জন উপজেলা চেয়ারম্যান ও ৫০ জন পৌরসভার মেয়রপ্রার্থী — ঘোষণা করা হলো। তিনি আরও জানান, ঈদের আগেই, এই মাসের ২০ তারিখে দ্বিতীয় ধাপে আরও ১০০ জনের নাম ঘোষণা করার পরিকল্পনা রয়েছে এবং পরবর্তী সময়েও ধাপে ধাপে প্রার্থী ঘোষণা করার প্রক্রিয়া চলবে।

    সারজিস আলম বলেন, এনসিপি যে কাউকে সুযোগ দেবে—অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের থাকা বা না থাকার ওপর ভিত্তি করে নয়—তবে আবেদনকারীর গ্রহণযোগ্যতা, মানুষের প্রতি আচরণ ও অপরাধ বা উগ্র রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ততার মুক্ত থাকা এসব দিক দেখে যাচাই-বাছাই করে নেওয়া হবে। অন্য দলের যারা ন্যায্য, গ্রহণযোগ্য এবং পরিচ্ছন্ন সুনাম রাখেন, তাদেরকেও প্রার্থী হিসেবে নিউট্রে নেওয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে।

    এনসিপি কর্তৃক ঘোষণা করা প্রার্থীদের নাম বিভাগ অনুযায়ী নিচে দেওয়া হলো —

    খুলনা বিভাগ:

    কুষ্টিয়ার কুমারখালী — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: অ্যাডভোকেট আবুল হাশেম বাদশা

    ভেড়ামারা — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: জান্নাতুল ফেরদৌস টনি

    বাগেরহাট, চিতলমারী — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইশতিয়াক হোসেন

    ফকিরমারা — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: লাবিব আহমেদ

    মোংলা — পৌরসভার মেয়র প্রার্থী: মো. রহমত উল্লাহ

    বাগেরহাট পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: সৈয়দ মোর্শেদ আনোয়ার

    যশোর, বাঘারপাড়া — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইয়াহিয়া জিসান

    নোয়াপাড়া পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: শাহজাহান কবির

    খুলনা, চালনা — পৌরসভার মেয়র প্রার্থী: এস এম এ রশিদ

    চুয়াডাঙ্গা সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: খায়রুল বাশার বিপ্লব

    জীবননগর পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: সোহেল পারভেজ

    মেহেরপুর, গাংনী — পৌরসভার মেয়র প্রার্থী: শাকিল আহমেদ

    ঝিনাইদহ পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: তারেকুল ইসলাম

    রংপুর বিভাগ:

    পঞ্চগড়, তেঁতুলিয়া — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. হাবিবুর রহমান হাবিব

    পঞ্চগড়, বোদা — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: শিশির আসাদ

    দিনাজপুর, দেবীগঞ্জ — পৌর মেয়র প্রার্থী: মাসুদ পারভেজ

    ঠাকুরগাঁও, রাণীশংকৈল — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: গোলাম মর্তুজা সেলিম

    দিনাজপুর, ফুলবাড়ি — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইমরান চৌধুরী নিশাত

    বোচাগঞ্জ — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মাওলানা এম এ তাফসির হাসান

    ফুলবাড়ি পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: শিহাব হোসেন

    ঘোড়াঘাট — পৌর মেয়র প্রার্থী: মো. আব্দুল মান্নান

    হাকিমপুর — পৌর মেয়র প্রার্থী: রায়হান কবির

    নীলফামারী, জলঢাকা — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আবু সাইদ লিয়ন

    নীলফামারী সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ড. কামরুল ইসলাম

    কুড়িগ্রাম সদর — পৌর মেয়র প্রার্থী: মো. মাসুম মিয়া

    লালমনিরহাট, কালিগঞ্জ — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: শাহ সুলতান নাসির উদ্দিন আহমেদ

    রংপুর সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: কৃষ্ণ চন্দ্র বর্মণ

    গাইবান্ধা, সাদুল্লাপুর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: খাদিমুল ইসলাম

    রাজশাহী বিভাগ:

    রাজশাহী, গোদাগাড়ি — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. আতিকুল রহমান

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ, গোমস্তাপুর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আবু মাসুদ

    নওগাঁ, নেইমতপুর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: বিশাল আহমেদ

    নাোগাঁ, বাদলগাছী — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আসাদ মোর্শেদ আজম

    ঢামুরহাট — পৌর মেয়র প্রার্থী: মাহফুজার রহমান চৌধুরী রুবেল

    বগুড়া, শিবগঞ্জ — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. জাহাঙ্গীর আলম

    দুপচাঁচিয়া — পৌরসভা মেয়র প্রার্থী: আবু বক্কর সিদ্দিক

    বগুড়া সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: এ এম জেড শাহরিয়ার

    নাটোর সদর — পৌরসভা মেয়র প্রার্থী: আব্দুল মান্নান

    পাবনা, চাটমোহর — পৌরসভা মেয়র প্রার্থী: খন্দকার আক্তার হোসেন

    সিরাজগঞ্জ, উল্লাপাড়া — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ আদনান

    উল্লাপাড়া পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: ইঞ্জিনিয়ার আল-মামুন লিয়ন

    সিলেট বিভাগ:

    হবিগঞ্জ, আজমিরিগঞ্জ — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. কামাল আহমেদ

    হবিগঞ্জ সদর — পৌরসভা মেয়র প্রার্থী: মাহবুবুল বারী চৌধুরী

    মৌলভীবাজার, রাজনগর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: খালেদ হাসান

    কুলাউড়া — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আবু রুকিয়ান

    সিলেট, কোম্পানীগঞ্জ — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ওবায়েদ আহমেদ

    কানাইঘাট — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: বোরহান উদ্দিন ইউনূস

    ওসমানীনগর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: হাজি মো. মোশাহিদ আলী

    জৈন্তাপুর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: জাকারিয়া

    গোয়াইনঘাট — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মনসুরুল হাসান

    ময়মনসিংহ বিভাগ:

    শেরপুর সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইঞ্জিনিয়ার মো. লিখন মিয়া

    শেরপুর সদর পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: নূর ইসলাম

    জামালপুর সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: অ্যাডভোকেট আবু সাইদ মো. শামিম

    নেত্রকোনা, খালিয়াজুড়ি — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. মুশফিকুর রহমান মিন্টু

    বারহাটা — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: শফিকুল হক চৌধুরী বাবলু

    নেত্রকোনা সদর পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: সোহাগ মিয়া প্রিতম

    ময়মনসিংহ, তারাকান্দা — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইঞ্জিনিয়ার শহিদুল ইসলাম

    ভালুকা — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: নূরুল ইসলাম

    হালুয়াঘাট — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আবু হেলাল

    ধোবাউড়া — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. সাইফুল্লাহ

    ঢাকা বিভাগ (উত্তর):

    কিশোরগঞ্জ সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আহনাফ সাইদ খান

    তাড়াইল — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইকরাম হোসেন

    করিমগঞ্জ পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: খায়রুল কবির

    সাভার — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: শাহাবদুল্লাহ রনি

    মানিকগঞ্জ সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আরিফুল ইসলাম

    দৌলতপুর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আবু আব্দুল্লাহ

    টাঙ্গাইল, কালিহাতি — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মেহদী হাসান

    টাঙ্গাইল পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: মাসুদুর রহমান রাসেল

    ভূঞাপুর পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: হাসান ইমাম তালুকদার

    শফিপুর পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: মাওলানা আনসার আলী

    নরসিংদী সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: সাইফ ইবনে সারোয়ার

    গাজীপুর, কালীগঞ্জ — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: শোয়েব মিয়া

    ঢাকা বিভাগ (দক্ষিণ):

    নারায়ণগঞ্জ, সেনারগাঁও — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: তুহিন মাহবুব

    মুন্সিগঞ্জ, সিরাজদিখান — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আলী নেওয়াজ

    ফরিদপুর বিভাগ:

    নগরকান্দা — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: রেজাউল করিম সবুজ

    নগরকান্দা পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: নাজমুল হুদা

    ফরিদপুর পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: সাইদ খান

    মাদারীপুর — পৌরসভা মেয়র প্রার্থী: মো. হাসিবুল্লাহ

    গোপালগঞ্জ — পৌরসভা মেয়র প্রার্থী: ফেরদৌম আমেনা

    দল সূত্রে জানানো হয়েছে, ঘোষিত এই তালিকা প্রাথমিক; চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা আরও যাচাই-বাছাই ও সমন্বয়ের পর গঠন করা হবে।

  • সরকার উন্নয়নে চরম বৈষম্য করছে: মিয়া গোলাম পরওয়ার

    সরকার উন্নয়নে চরম বৈষম্য করছে: মিয়া গোলাম পরওয়ার

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন, কেন্দ্রীয় সরকার উন্নয়নের বরাদ্দ এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে চরম বৈষম্যমূলক আচরণ করছে। তিনি বলছেন, উত্তরাঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য সৈয়দপুর বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক করা সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত এবং এর দীর্ঘদিনের দাবি রংপুর ও দিনাজপুরের জনগণের।

    শনিবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে পঞ্চগড় যাওয়ার উদ্দেশ্যে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে করে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে নামার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হালিম, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি এড. আতীকুর রহমান ও সহ-সভাপতি গোলাম রব্বানী।

    গোলাম পরওয়ার বলেন, সৈয়দপুর বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক না করে অন্যত্র এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে সেটি নির্বাচিত এলাকা প্রাধান্য দেওয়ার ফল—যা নিছক অন্যায়। তিনি বলেন, জাতীয় গুরুত্ব বিবেচনায় উন্নয়ন কাজগুলো ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চলে থাকা উচিত; শুধু কিছু নির্বাচিত এলাকার স্বার্থে নয়।

    জামায়াতের এই নেতা আরো মন্তব্য করেন, দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় যারা ক্ষমতায় এসেছে তাঁরা জনগণের ৭০ শতাংশ মতকে উপেক্ষা করে প্রতারণার রাজনীতি করছে। নির্বাচনের আগে “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে যারা ছিলেন, এখন তারা গণভোটের রায় অস্বীকার করছে—একে তিনি জনগণের সঙ্গে মহাপ্রতারণা হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার জুলাই সংক্রান্ত সনদ বাস্তবায়নের কথা বললেও প্রকৃতপক্ষে গণভোটের রায় মানছে না, যা দেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

    সংবাদমাধ্যম সম্পর্কে প্রশ্নে গোলাম পরওয়ার বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সময় যারা স্বাধীন সাংবাদিকতার কথা বলেছিল, এখন তাদেরাই বিভিন্ন গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত। সাংবাদিকদের চাকরিচ্যুত করা, হয়রানি ও সমালোচনাকারী সাংবাদিকদের টার্গেট করার মতো অভিযোগ তুলেন তিনি।

    এর আগে বিমানবন্দরে তাঁকে এবং সফরসঙ্গীদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানান নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মাওলানা আব্দুল মুনতাকিম, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আন্তাজুল ইসলাম ও জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মনিরুজ্জামান জুয়েল। এছাড়া সৈয়দপুর উপজেলা জামায়াতের আমির শফিকুল ইসলাম, সেক্রেটারি মাজহারুল ইসলাম, শহর আমির শরফুদ্দিন খান, সেক্রেটারি মাওলানা ওয়াজেদ আলী, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের শহর সভাপতি আব্দুল মোমিনসহ শতাধিক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

    এই গ্রীষ্মকালীন বিমানবন্দর প্রবেশ ও সভা শেষে গোলাম পরওয়ার ও তাঁর সফরসঙ্গীরা সড়কপথে পঞ্চগড়ের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

  • অর্থমন্ত্রী: আর্থিক খাতে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না

    অর্থমন্ত্রী: আর্থিক খাতে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আর্থিক খাতসহ সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক সেক্টরে কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না। মঙ্গলবার (১২ মে) রাজধানীর হোটেল রেডিসন ব্লুতে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন বিএসআইসির চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন। সেই সঙ্গে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান ও বিএবির চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার।

    অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারি কোনো রাজনৈতিক নিয়োগ বা চাপ এখানে কাজ করবে না; প্রতিষ্ঠানটি শতভাগ পেশাদার মানদণ্ডে পরিচালিত হবে। যে মূলধন দিয়ে বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি যাত্রা শুরু করেছে, ভবিষ্যতে তা আরও বাড়ানো হবে বলেও তিনি জানান। এটা কেবল একটি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান নয়, দেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে দৃশ্যমান করে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম।

    তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মের সামনে সবচেয়ে বড় দুটি প্রতিবন্ধকতা হলো তহবিলের অভাব এবং জামানত দিতে না পারা। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দুইটি বাধাই দূর করার চেষ্টা করা হয়েছে। বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া হবে স্বচ্ছ, দক্ষ ও পেশাদার।

    মন্ত্রী আরও বলেন, এই উদ্যোগ দেশের রাজনৈতিক ম্যানিফেস্টোর সঙ্গে সরাসরি সমন্বিত। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডকে কাজে লাগিয়ে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। বিশেষত ক্রিয়েটিভ ইকোনমির মাধ্যমে গ্রামীণ ও শহরের যুবসমাজকে অর্থনীতির মূল ধারায় আনা হবে।

    আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ফিরে আনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে আমরা কিছু কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি; তাই পুঁজিবাজারে সংস্কার ও প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক পরিবর্তন আনার দিকে এগোচ্ছি। বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারের জন্য দক্ষ ব্যক্তিদের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। দেশি-বিদেশি বড় ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থা এবং বিভিন্ন দাতা সংস্থা আমাদের সঙ্গে কাজ করছে। দেশের ব্যাংক ও বেসরকারি খাতের আন্ডার-ক্যাপিটালাইজেশন দূর করতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

    অবশেষে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই স্টার্টআপ কোম্পানি শুধু ব্যাংকিং খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, আন্তর্জাতিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠানগুলোকেও বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করবে। অর্থ মন্ত্রণালয় এই প্রকল্পকে সফল করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের নীতি সমর্থন দেবে। দেশের বিভিন্ন ব্যাংক যৌথভাবে যে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল উদ্যোগ নিয়েছে, তা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের পথ খুলে দেবে।