Blog

  • মির্জা ফখরুলের সতর্কবার্তা: কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন ছড়াতে চাইছে

    মির্জা ফখরুলের সতর্কবার্তা: কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন ছড়াতে চাইছে

    বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সমাজে বিভাজন ও বিদ্বেষকে ফেরার পথ দেখতে দেওয়া যাবে না; পারস্পরিক ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ববোধের ওপর ভিত্তি করে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে। তিনি বিশেষভাবে সতর্ক করে বলেন, কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করছে এবং তা রুখে দিতে সবাইকে মনোযোগী হতে হবে।

    রোববার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর মাদানি অ্যাভিনিউয়ে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব ‘ইস্টার সানডে’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল। অনুষ্ঠানে তিনি সমাজ থেকে ‘ঘৃণা’ শব্দটিকে চিরতরে ত্যাগ করার আহ্বান জানান এবং মত দেন, ঘৃণা নয়—মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও সৌহার্দ্যই হওয়া উচিত আমাদের চলার মূল শক্তি।

    ফখরুল বলেন, বাংলাদেশ সব ধর্মের মানুষকে ধারণ করার এক অনন্য উদাহরণ। এখানে ইসলাম ধর্মের পাশাপাশি সনাতন ধর্মাবলম্বী, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধধর্মের অনুসারীরাও মিশে আছে এবং দীর্ঘকাল ধরে এই ভূখণ্ডে সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করে এসেছে। অতীতেও ধর্মভিত্তিক বিভাজন প্রচেষ্টা দেখেছে দেশ; সেসব থেকে সবাইকে উঠেপড়ে পরিত্রাণ পেতে হবে বলেও তিনি জোর দিয়ে মন্তব্য করেন।

    খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, তাদের সমর্থন ও সহযোগিতায় আগামীতে একটি সমৃদ্ধ সরকার গঠন করতে চান—and বলেন যে দেশের উন্নয়নের জন্য সামনে অনেক কাজ রয়েছে, সেগুলো সফল করতে সবাইকে একভাবে এগিয়ে যেতে হবে।

  • সংবিধান সংস্কার ও গণভোট বাস্তবায়ন দাবিতে ১১ দলীয় জোট চার দিনের কর্মসূচি ঘোষণা

    সংবিধান সংস্কার ও গণভোট বাস্তবায়ন দাবিতে ১১ দলীয় জোট চার দিনের কর্মসূচি ঘোষণা

    সংবিধান সংশোধন পরিষদ আহ্বান ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোট দেশজুড়ে চার দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। মগবাজারে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর এই ঘোষণা দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক।

    মামুনুল হক অভিযোগ করেন, সরকার জনগণের ম্যান্ডেটকে উপেক্ষা ও উপহাস করছে এবং সংবিধান সংশোধনের প্রসঙ্গে নির্বাচনের আগে দলগুলোর মধ্যে যে ঐকমত্য ছিল তা ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জনআকাঙ্ক্ষা উপেক্ষা করে একদলীয় ফ্যাসিবাদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং যারা জনদুর্ভোগ তুলে ধরে সরকারের সমালোচনা করছেন তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এমন নব্য ফ্যাসিবাদকে যে কোনো মূল্যে রুখে দেবে ১১ দলীয় ঐক্য, যোগ করেন তিনি।

    আন্দোলনের সূচি সম্পর্কে মামুনুল হক জানান, আগামী ৯ এপ্রিল বিকেলে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের পক্ষে এক সপ্তাহব্যাপী লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি শুরু হবে। এরপর ১১ এপ্রিল সারা দেশের উপজেলা ও থানায় বিক্ষোভ মিছিল, ১২ এপ্রিল প্রতিটি জেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। কর্মসূচির সমাপনী হিসেবে ১৩ এপ্রিল ঢাকায় গণভোটের রায় বাস্তবায়নের পক্ষে একটি জাতীয় সেমিনার আয়োজন করা হবে।

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারই বিরোধীদলকে রাজপথে নামতে বাধ্য করে তুলছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে বিএনপির কিছু কর্মকাণ্ডে দেশ হতবাক এবং বিস্মিত, গণভোটের রায়ে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট কার্যত স্থগিত রয়েছে, অথচ সংসদে এক একজন ব্যক্তির আচরণকে ভিত্তি করে বিএনপি সংবিধান নিয়ে সংকট তৈরি করছে।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার দাবি করেন, জ্বালানি সংকট নিয়ে সংসদে বিরোধীদলের বক্তব্য আটকে দেওয়া হচ্ছে এবং যারা দিল্লির বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে তাদের ‘রাজাকার’ বলে কটাক্ষ করা হচ্ছে। তিনি শেষ করে বিএনপিকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণের আহ্বান জানান।

  • লোকসানে ১৭ ব্যাংক, সিএসআর ব্যয় প্রায় অর্ধেকে নেমেছে

    লোকসানে ১৭ ব্যাংক, সিএসআর ব্যয় প্রায় অর্ধেকে নেমেছে

    দেশের ব্যাংক খাতে ২০২৪ সালের আর্থিক সংকট ও পরবর্তী সময়ের অস্থিরতার প্রভাবে কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাতে ব্যয় বড়ভাবে কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের (জানুয়ারি–ডিসেম্বর) সময়ে ৬১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক মিলিয়ে সিএসআর খাতে মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩৪৫ কোটি ৫ লাখ টাকা—আগের বছরের তুলনায় ২৭০ কোটি ৯১ লাখ টাকা বা প্রায় ৪২ শতাংশ কম। একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে ১৭টি ব্যাংক নিট মুনাফা অর্জন করতে পারেনি।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তফসিলে ২০২৪ সালের সিএসআর ব্যয় ছিল ৬১৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। ২০২৩ সালে এই ব্যয় ছিল ৯২৪ কোটি ৩২ লাখ এবং ২০২২ সালে ১,১২৯ কোটি টাকা। ফলে দুই বছরের ব্যবধানে সিএসআর ব্যয় প্রায় ৫১৩ কোটি টাকা অথবা ৪৫ শতাংশের বেশি কমেছে। গত এক দশকে ২০২৫ সালের এই ব্যয়ই সর্বনিম্ন—এর আগে ২০১৫ সালে সিএসআর ব্যয় ছিল ৫২৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা; সেই তুলনায় এবার খাতে প্রায় ১৮২ কোটি টাকা বা ৩৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ কম জনায়, যা খাতে নতুন নিম্নমুখী প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়।

    খাতের লোকজন ও বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও পরবর্তী সরকার বদলের প্রভাব ব্যাংকিং সেক্টরে বড় ধাক্কা দিয়েছে। একই সময়ে কিছু ব্যাংকের অনিয়ম, লুটপাট ও অর্থ পাচারের তথ্য প্রকাশ্যে আসায় কাগজে–কলমে দেখানো মুনাফার বিপরীতে প্রকৃত আর্থিক চিত্র সামনে এসেছে। খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়ায় প্রকৃত লোকসানের হিসাব স্পষ্ট হয় এবং বিশেষ করে শরিয়াভিত্তিক কয়েকটি ব্যাংক বড় ধাক্কায় পড়েছে। দুর্বল কিছু ব্যাংকের স্থিতিশীলতা ফেরাতে সরকার একাধিক ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে।

    ব্যাংকারদের একাংশ মনে করেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনও সিএসআর ব্যয় কমানোর প্রধান কারন। আগে রাজনৈতিক সরকার থাকাকালে নানা পর্যায় থেকে অনুদান বা সহায়তার চাপ থাকাত—শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অনুষ্ঠান ইত্যাদিতে ব্যাংকগুলোর ব্যয় করানোর অনুরোধ ছিল। ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে আন্দোলন ও সরকার পরিবর্তনের পর এসব চাপ অনেকটাই কমে যায়, ফলে ব্যাংকগুলো এবার বেশি সতর্কতা নিয়ে সিএসআর প্রকল্প বাছাই করছে।

    অন্যদিকে অর্থনীতিবিদদের বক্তব্য, সিএসআর খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। রাজনৈতিক চাপ বা অনিয়মের কারণে অনেক সময় এই অর্থ অনুৎপাদনশীল খাতে চলে যায়, যা সামাজিক দায়বদ্ধতার মূল উদ্দেশ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোকে তাদের নিট মুনাফার একটি নির্দিষ্ট অংশ সিএসআর খাতে ব্যয় করতে বলা হয়েছে: এর মধ্যে ৩০ শতাংশ শিক্ষা, ৩০ শতাংশ স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা, ২০ শতাংশ পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং বাকি ২০ শতাংশ অন্যান্য খাতে ব্যয় করার বিধান রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে ২০২৫ সালে সবচেয়ে বেশি—৩৬ শতাংশ—ব্যয় হয়েছে ‘অন্যান্য’ খাতে; শিক্ষায় ব্যয় হয়েছে ২৮ দশমিক ৫৩ শতাংশ, আর পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে কেবল ১০ শতাংশই ব্যয় করা হয়েছে।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আলোচিত সময়ে ১১টি ব্যাংক সিএসআর খাতে একটাও টাকা ব্যয় করেনি। শূন্য ব্যয়কারী ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে: জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    আরও উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে লোকসানে থাকা ১৭টি ব্যাংকের তালিকায় রয়েছে: জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান। এর মধ্যে ছয়টি লোকসানভোগী ব্যাংক সত্ত্বেও সিএসআর খাতে অর্থ ব্যয় করেছে—রয়েছে এবি ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক।

    সংক্ষেপে, ব্যাংক খাতের আয় ও মুনাফা সংকট, রাজনৈতিক পরিবেশ অনিশ্চয়তা এবং স্বচ্ছতার অভাব মিলিয়ে সিএসআর খাতে ব্যয়ে বড় ধাপ কমেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সঠিক বাস্তবায়ন ও জবাবদিহিতার ব্যবস্থা না থাকলে সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রকৃত লক্ষ্য ক্ষুন্ন হতে পারে—এবং ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা ফিরলেও সিএসআর কার্যক্রমকে পুনরায় গতিশীল করতে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা ও স্বচ্ছতা প্রয়োজন।

  • সোনার দামে বড় লাফ: ভরিতে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বৃদ্ধি

    সোনার দামে বড় লাফ: ভরিতে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বৃদ্ধি

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, সোনার দাম ভরিতে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বৃদ্ধি করে ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার মূল্য নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫২ হাজার ৪০৯ টাকা। নতুন এই মূল্য আজ থেকেই কার্যকর হবে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) দর বৃদ্ধির প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে সার্বিক পরিস্থিতি মাথায় রেখে এই নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

    নতুন দাম অনুযায়ী অন্যান্য ক্যারেটের মূল্যও নিম্নরূপ নির্ধারিত হয়েছে: ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪০ হাজার ৯২০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৬ হাজার ৫১১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতিতে প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৬৮ হাজার ১৯৫ টাকা।

    সোনার সাথে সাথে রুপার দামও বেড়েছে। রুপার প্রতি ভরি দাম ৩৫০ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৮৯০ টাকা। এর মধ্যে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৫৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৭৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার মূল্য ৩ হাজার ৬১৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

  • যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও উপসাগরীয় দেশগুলিতে সতর্কতা তীব্রতর

    যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও উপসাগরীয় দেশগুলিতে সতর্কতা তীব্রতর

    যুদ্ধবিরতির ঘোষণার মাঝেই উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সচল রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার প্রত্যাশা থাকলেও সীমান্ত ও আকাশসীমায় অস্থিরতা রয়ে গেছে।

    কুয়েত

    দেশটির সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা আকাশসীমায় অনুপ্রবেশকৃত ক্ষেপণাস্ত্র ও নির্বিচারে উড়ানো ড্রোনগুলো প্রতিহত করার চেষ্টা চালাচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।

    বাহরাইন

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সারাদেশে সতর্ক সংকেত (সাইরেন) বাজিয়েছে। জনসাধারণকে দ্রুত নিকটস্থ নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং জরুরি সেবাসমূহ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

    সৌদি আরব

    বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ রাজধানী রিয়াদ ও পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে আগাম সতর্কতা জারি করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নাগরিকদের সম্ভাব্য বড় ধরনের আঘাতের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত

    কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিরাপত্তা হুমকির মাত্রা অত্যন্ত ‘উচ্চ’ বলে জানিয়েছে এবং জনসাধারণকে ঘরের ভেতর অবস্থান করার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে, যাতে কোনো সম্ভাব্য হুমকি দ্রুত মোকাবিলা করা যায়।

    কেন সতর্কতা বাড়ল

    যৌথভাবে দুই সপ্তাহকালীন যুদ্ধবিরতির ওপর জন্মানো সমঝোতা থাকা সত্ত্বেও মাঠপর্যায়ে অস্থিরতা বিরাজ করছে। বিশেষ করে ইরানের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অবস্থান এবং ইসরায়েলি বাহিনীর চূড়ান্ত নির্দেশ না পাওয়ার কারণে অনিশ্চয়তা কমে না। উপসাগরীয় দেশগুলো এই অনিশ্চয়তা থেকে হওয়া প্রক্সি হামলা, ক্ষেপণাস্ত্র কিংবা ড্রোন হামলার আশঙ্কা করে সতর্কতা বাড়িয়েছে।

    এমন পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক বাজারেও উদ্বেগ বাড়িয়েছে, কারণ যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে বলা হয়েছে, কিন্তু সেই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই নিরাপত্তাজনিত সতর্কবার্তা ছড়িয়ে পড়ায় ছড়াছড়ি উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সরকারি কর্মকর্তারা ত্রুটিহীন নজরদারি ও দ্রুত প্রতিক্রিয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন যাতে নাগরিক নিরাপত্তা বজায় রাখা যায়।

  • শেহবাজের এক্স পোস্ট কি তাঁরই লেখা? ফোর্বসের সন্দেহ

    শেহবাজের এক্স পোস্ট কি তাঁরই লেখা? ফোর্বসের সন্দেহ

    মার্কিন সাময়িকী ফোর্বস প্রশ্ন তুলেছে যে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের এক্স (পুরনো টুইটার) পোস্টগুলো কি তিনি নিজে লেখেন নাকি বাইরে থেকে কেউ লিখে দেন। ফোর্বস তার প্রতিবেদনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য উদ্ধৃত করে এ বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে।

    প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, vulnerability বা কূটনৈতিক আলোচনায় সময় বাড়ানোর আহ্বান-ভিত্তিক এক পোস্টে শেহবাজ মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অনুরোধ করেন যে ইরানকে নিশ্চিহ্ন করার হুমকি স্থগিত রেখে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাতে দুই সপ্তাহ সময় বাড়ানো হোক। তিনি লিখেছেন যে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা দৃড়ভাবে এগোচ্ছে এবং তা সম্ভবত অচিরেই ফলপ্রসূ হবে।

    ফোর্বস নথিপত্রের একটি খসড়া অনুলিপি প্রকাশ করেছিল। ওই অনুলিপি প্রকাশের পরেই পোস্টটির লেখকত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশেষজ্ঞ এবং ড্রপ সাইট সাবস্ট্যাকের প্রতিষ্ঠাতা ফোর্বসকে বলেন, পোস্টটি সম্ভাব্যভাবে শেহবাজ নিজে লিখেছেন বলে মনে হচ্ছে না। তিনি বিশেষ করে লক্ষ্য করেছেন যে পোস্টে শেহবাজের নামের নিচে যে হ্যান্ডেল ব্যবহার করা হয়েছে—@CMShehbaz—তা এবং কিছু টোনাল বৈশিষ্ট্য সাধারণত পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী বা তাঁদের অফিসের স্বভাবসুলভ নয়। তিনি আরও সন্দেহ প্রকাশ করেন যে পোস্টটি যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইসরায়েলের কোনো পক্ষ থেকে লেখা হতে পারে।

    অন্যান্য ব্যবহারকারীরাও খসড়া পোস্টটি পাকিস্তানী কর্মকর্তাদের লেখা নাও হতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। ফোর্বস জানিয়েছে, তারা পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল, কিন্তু কোনো কর্মকর্তা মন্তব্য করতে রাজি হননি।

    ফোর্বসের প্রতিবেদন সূত্র: ফোর্বস।

  • অব্যবহৃত সরকারি জমিতে বিনোদনকেন্দ্র গড়ার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠাবেন

    অব্যবহৃত সরকারি জমিতে বিনোদনকেন্দ্র গড়ার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠাবেন

    খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু টেকসই উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, নগরবাসী যেন বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলোর পূর্ণ সুফল ভোগ করতে পারে। তিনি বলেন, খুলনায় বোটানিক্যাল গার্ডেন, খেলার মাঠসহ মানসম্মত বিনোদনকেন্দ্রের অভাব লক্ষণীয়। অনেক সরকারি জমি বর্তমানে অব্যবহৃত থাকা অবস্থায় সেগুলোকে বিনোদনের অনুকূল পরিবেশে রূপান্তর করার উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

    গতকাল মঙ্গলবার সকালে নগরীর সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও উন্নয়নের লক্ষ্যে ৭নং ঘাট এলাকা সরেজমিন পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন কেসিসি প্রশাসক। তিনি জানান, শহরের অভ্যন্তরে ছেলেমেয়েরা, পরিবার ও পর্যটকরা যে মানের বিনোদন ও বিশ্রামের সুযোগ পাক, সেই দিকটি বিবেচনায় রেখে অব্যবহৃত সরকারি জমি কার্যকরভাবে ব্যবহার করার প্রস্তাব তৈরি করা হচ্ছে।

    উল্লেখ্য, ৭নং ঘাট এলাকার পূর্ববর্তী উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন জার্মান সরকারের আর্থিক সহায়তায় করা হয়েছিল। আগামী ৯ এপ্রিল জার্মান সরকারের সাতজন পার্লামেন্ট সদস্য ও জার্মান দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত খুলনা সফর করার কথা রয়েছে। সফরের সময় তারা জার্মান সরকারের অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলো সরেজমিন দেখতে আসবেন। এ প্রতিনিধিদলের সফরের আগেই প্রকল্প এলাকাগুলোর প্রাক-প্রস্তুতি নিশ্চিতে প্রশাসক সংশ্লিষ্ট স্থান পরিদর্শন করেছেন।

    পরিদর্শনে কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবির উল জব্বার, কঞ্জারভেন্সী অফিসার প্রকৌশলী মো. আনিসুর রহমান, সিসিএইউডি-এএমসি প্রকল্পের টিম লিডার মেহেদী হাসান, কেসিসি’র প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোল্লা মারুফ রশীদ, এস্টেট অফিসার গাজী সালাউদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, উপসহকারী প্রকৌশলী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

    পরিদর্শন শেষে প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু রূপসা ঘাটের পাশাপাশি ঘাট সংলগ্ন পন্টুন ও গ্যাংওয়ের বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজের জন্য নির্দেশনা দেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পরিকল্পিত উন্নয়ন ও সুশাসনের মাধ্যমে খুলনাবাসী আরও সুন্দর, নিরাপদ ও সংস্কৃতিবান্ধব বিনোদনালয় পাবে।

  • সাতক্ষীরায় তেল কেলেঙ্কারি: পাম্প থেকেই কালোবাজার, সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে

    সাতক্ষীরায় তেল কেলেঙ্কারি: পাম্প থেকেই কালোবাজার, সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে

    সাতক্ষীরা জেলায় পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্ত্বেও পেট্রোল ও অকটেনের কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়ে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। অভিযোগ আছে, কিছু অসাধু চালক পাম্প থেকে তেল তোলার পর বাইরের বাজারে অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি করছেন, ফলে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা নীতিগত গ্রাহকরা তেল পাননি বা অনেক বেশি দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে সরবরাহ নিয়মিত থাকলেও একটি সিন্ডিকেট একাধিক পাম্প থেকে প্রতিদিন তেল সংগ্রহ করছে। তারা পাম্প থেকে স্বাভাবিক দামে তেল ভরে বাইরে নিয়ে এসে ড্রাম বা বোতলে ঢেলে লিটারে উচ্চ মূল্য ধার্য করে বিক্রি করছে। অভিযোগ অনুযায়ী ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালকদের একটি বড় অংশ ও কিছু প্রাইভেটকার চালক এই অবৈধ ব্যবসায় জড়িত।

    সাক্ষ্য ও অভিযোগে বলা হয় তারা পাম্পে রাতক্ষণে বা সরবরাহের আগেই সারিবদ্ধ হয়ে লাগাতার লাইন দিয়ে তেল মজুদ করছে। সকাল বেলা গ্রাহকরা এসে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাচ্ছেন না। ফলে কর্মজীবী, জরুরি সেবাগ্রহী ও সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে। জেলা জুড়ে এ চিত্র বেশ কয়েকটি পাম্পেই লক্ষণীয়।

    স্থানীয়দের ভাষায়, বিভিন্ন উপজেলায় ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা পাঁচ হাজারের বেশি। অনেক চালক এখন যাত্রী পরিবহনের বদলে পাম্প থেকে তেল নিয়ে বাইরের বাজারে বেশি দামে বিক্রি করে উপার্জন করছেন। এক ব্যক্তি জানান তিনি একইবারে ৫ লিটার পেট্রোল ক্রয় করেছিলেন ২২০ টাকায়; অন্যদিকে বাজারের কিছু স্থানে লিটারপ্রতি দাম ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত উঠছে—যার ফলে সাধারণ ক্রেতারা বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ব্যয় করছেন।

    সাতক্ষীরা শহরের ব্যবসায়ী ও সাংবাদিক আব্দুস সামাদ জানান, তিনি একটি প্রাইভেটকার ভাড়া নিয়ে খুলনায় গিয়েছিলেন; চালকের আচরণ ও ফোনালাপে সন্দেহ হয় যে চালক পাম্প থেকে তেল নিয়ে বাইরে বিক্রি করছে। এমনই আরো অভিযোগ জেলা জুড়ে পাওয়া যাচ্ছে।

    অন্যদিকে লোকজনের উদ্যোগে জনৈক মোঃ হাবিবুল্লাহ বাহার হাব জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছেন যাতে পাম্প থেকে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করে চোরাপথে বিক্রি বন্ধ করা এবং সংশ্লিষ্ট সিন্ডিকেটকে খুঁজে পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তিনি আবেদনপত্রে দেশের পর্যাপ্ত মজুদের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, তবু একটি চক্র পাম্পের তেল চুরি করে খোলা বাজারে বেশি দামে বিক্রি করে সংযোগ করে ফেলেছে এবং এর সঙ্গে পাম্প কর্তৃপক্ষের যোগসূত্রও থাকতে পারে।

    স্থানীয় মানুষের দাবি—পাম্পে তেল সরবরাহের নির্দিষ্ট সময়সূচি ও একক ক্রেতার জন্য উত্তোলন সীমা নির্ধারণ করা হোক, প্রশাসনিক মনিটরিং জোরদার করা হোক এবং অসাধুদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তারা বলছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে মজুদ থাকা সত্ত্বেও কৃত্রিম সংকট আর বাড়বে।

    জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অভাবনীয় নজরদারি ও কঠোর ব্যবস্থাপনা ছাড়া সমস্যার স্থায়ী সমাধান কঠিন বলে এলাকাবাসী মনে করেন। সাধারণ গ্রাহকরা আশা করছেন দ্রুত তদন্ত করে সিন্ডিকেট ভেঙে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে, যাতে দিনের পর দিন লাইনে দাঁড়ানো ও অতিরিক্ত মূল্যকরণের কারণে ভোগান্তি কমে।

  • মাঠ থেকে প্রশাসনে: ক্রিকেটের ভাবমূর্তি ফিরানোই প্রধান লক্ষ্য — তামিম

    মাঠ থেকে প্রশাসনে: ক্রিকেটের ভাবমূর্তি ফিরানোই প্রধান লক্ষ্য — তামিম

    ২০২৫ সালের Abril-এ হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছিলেন তামিম ইকবাল। তখন পুরো দেশের মানুষ তার স্বাস্থ্যের খোঁজে উদ্বিগ্ন ছিলেন; ধীরে ধীরে সুস্থ হওয়ার খবর সবাইকে স্বস্তি দিয়েছিল।

    ঠিক এক বছর পর আবার এপ্রিল মাসে তিনি ফিরলেন—but এবার ক্রিকেটার হিসেবে না, বরং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে। জাতীয় দলের তৃতীয় অধিনায়ক হিসেবে খেলোয়াড়ি জীবন শেষ করে বোর্ডের সর্বোচ্চ দায়িত্ব নেওয়া এই দিনটি তামিমের জীবনের জন্যও বিশেষ হয়ে থাকল।

    প্রতিষ্ঠানের চেয়ার হিসেবে প্রথম প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বাংলাদেশের ক্রিকেটের ক্ষতিগ্রস্ত ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনা তাদের প্রথম কাজ। সেই সঙ্গে তিন মাসের মধ্যে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা তাদের অনিবার্য কর্তব্য। কথার চেয়ে কাজ করে_result দেখাতে চাই—এটাই তার বার্তা।

    নিয়োজনের পর বিকেল ৪টার পর দায়িত্ব নেওয়ার দু’ঘন্টার মধ্যে বিসিবিতে উপস্থিত হওয়া তামিম বোর্ডের বিভিন্ন বিভাগ পরিদর্শন করে ছোটখাটো বৈঠক করেন এবং অ্যাডহক কমিটির সদস্যদের নিয়ে প্রথম বোর্ডসভা করেন। দায়িত্ব নেওয়া মুহূর্তটিকে তিনি বিশেষ দিনের সঙ্গে তুলনা করেছেন; যখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মঞ্চে অভিষেকের মতো একটা দিনই হয়।

    তামিম বলেন, ‘‘ব্যক্তিগতভাবে ও আমাদের টিম মিলেই আমরা উপলব্ধি করেছি—প্রথম কাজ হবে বাংলাদেশের ক্রিকেটের ক্ষতিগ্রস্ত ভাবমূর্তি ঠিক করা। গত এক-দেড় বছরে যে ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠাই আমাদের অগ্রাধিকার।’’

    তিনি জানান, কমিশনকে দেওয়া দায়িত্বটি তারা সততা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে শেষ করবেন। ‘‘আমাদের ওপর তিন মাসের মধ্যে ফ্রি‌ এন্ড ফেয়ার ইলেকশন আয়োজনের দায়িত্ব এসেছে; আমরা যত দ্রুত ও দক্ষভাবে পারি, তা করবো। একই সঙ্গে প্রতিদিনের কাজের ধারা মসৃণ রাখা এবং বিশ্বকাপ সংক্রান্ত বা অন্যান্য খুলে থাকা ইস্যুসমূহ সমাধান করাও আমাদের দায়িত্ব হবে।’’

    নতুন বোর্ড প্রধান হিসেবে তামিম বারবার জোর দিয়ে বলেন, বিসিবি ও দেশের ক্রিকেট ফের গৌরবের জায়গায় ফেরাতে হবে। যারা বিসিবিতে কর্মরত ছিলেন বা আছেন, তারা যেন গর্ব করে বলেন ‘‘আমি বিসিবিতে কাজ করি’’—সেই গর্ব পুনরুদ্ধার করাই লক্ষ্য। ক্রিকেটার ও সব স্টেকহোল্ডারকে সম্মান জানানোও তার তালিকায় প্রথম সারির কাজ।

    তিনি স্বীকার করেছেন, ভুল হবে, সেটা নিয়েই শেখা দরকার। ‘‘আমরা কাজ দিয়েই প্রমাণ করব—শুধু কথায় নয়। দলের মধ্যে ভুল হলে সেখান থেকেই শিক্ষা নিয়ে উন্নতি করবো’’—কমিটির মানসিকতা এভাবেই থাকবে বলে জানালেন।

    শেষে তামিম জানান, অ্যাডহক কমিটির সদস্য তানজিল চৌধুরি-কে বোর্ডের মুখপাত্র হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে; তিনি বিসিবির নানান সিদ্ধান্ত সংবাদমাধ্যমের কাছে পৌঁছে দেবেন।

  • তামিম নেতৃত্বের এডহক কমিটি ‘অবৈধ’ বললেন বুলবুল, আইসিসির হস্তক্ষেপ চান

    তামিম নেতৃত্বের এডহক কমিটি ‘অবৈধ’ বললেন বুলবুল, আইসিসির হস্তক্ষেপ চান

    বিসিবির সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল তামিম ইকবালের নেতৃত্বে এনএসসির গঠিত ১১ সদস্যের এডহক কমিটিকে অবৈধ দাবি করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (আইসিসি) থেকে হস্তক্ষেপ চাইেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, সরকারি হস্তক্ষেপের মাধ্যমে তার পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে নতুন কমিটি করা হয়েছে এবং সেটি বাংলাদেশ ক্রিকেটের স্বায়ত্তশাস্যের বিরুদ্ধে।

    জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) গঠন করা স্বাধীন তদন্ত কমিটি শেষ বিসিবি নির্বাচনে অনিয়ম ও দূর্বলতা খুঁজে পেয়েছে—এই প্রতিবেদনের পর এনএসসি আমিনুল বুলবুলের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে তামিমের নেতৃত্বে ১১ সদস্যবিশিষ্ট এডহক কমিটি ঘোষণা করে। যদিও বুলবুল সেই তদন্ত প্রতিবেদন ও এডহক কমিটি দুটিই প্রত্যাখ্যান করেছেন।

    বুলবুল জানান, তামিম যখন বিসিবির দায়িত্ব নেন, রাতেই ৫ এপ্রিল এনএসসিতে তদন্তপ্রতিবেদনের কাগজ জমা হয়—তৎক্ষণাৎ তিনি প্রতিবেদনকে খামখেয়ালি ও আইনগতভাবে অগোছাল দাবি করেছেন। তিনি বলেন, তদন্ত কমিটির ফলাফল ত্রুটিপূর্ণ, খামখেয়ালিপূর্ণ ও আইনগত ভিত্তিহীন।

    সাবেক এই অধিনায়কের দাবিতে, গত নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা তিন সদস্যবিশিষ্ট নির্বাচন কমিশন সংবিধান অনুযায়ী কাজ করেছে। ওই নির্বাচন কমিশনে ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন, অতিরিক্ত আইজিপি ও সিআইডি প্রধান সিবগাত উল্লাহ এবং এনএসসির নির্বাহী পরিচালক। বুলবুল বলেন, ১৫ ক্লাবের কাউন্সিলর পদের বিষয়ে যে অভিযোগ উঠেছিল, সেটি আধা-বিচারিক শুনানির মাধ্যমে সমাধান হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, স্বাধীন একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিসিবির অভ্যন্তরীণ নির্বাচন তদন্ত করার অধিকার এনএসসির নেই। আইসিসির নিয়ম অনুসারে কোনো ক্রিকেট বোর্ডে সরকারি হস্তক্ষেপ থাকা উচিত নয়—এই বিষয়টিও তিনি উঠে ধরেছেন এবং বলেন, এনএসসির হস্তক্ষেপ বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

    বুলবুল এনএসসির এ পদক্ষেপকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক বলেও আখ্যা দিয়েছেন এবং দাবি করেন, এনএসসি নিজেদের গঠন করা এডহক কমিটি সম্পর্কে আইসিসিকে ইমেইলে জানিয়েছে। তিনি আইসিসিকে অনুরোধ জানিয়েছেন যেন তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখে এবং ওই এডহক কমিটিকে কার্যক্রম চালাতে না দেয়।

    তাঁর সতর্কতায়, সরকারি হস্তক্ষেপের কারণে তরুণ ক্রিকেটারদের ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে এবং দেশের ক্রিকেটীয় স্বায়ত্তশাসন ঝুঁকিতে আছে। শেষ পর্যন্ত বুলবুল দাবি করেছেন, উচ্চ আদালত অন্য কোনো রায় না দেওয়া পর্যন্ত তিনি বিসিবির একমাত্র বৈধ সভাপতি হিসেবে থাকবেন এবং ততক্ষণ পর্যন্ত এডহক কমিটির স্বীকৃতি তিনি দেবেন না।