Blog

  • দুর্নীতি করব না, সহ্যও করব না: জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

    দুর্নীতি করব না, সহ্যও করব না: জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

    রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাজধানীর ধূপখোলা মাঠে অনুষ্ঠিত এক বিশাল জনসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেছেন, ক্ষমতায় এলে তারা কোনো প্রকার দুর্নীতি করবে না এবং দুর্নীতিকে সহ্যও করবে না। প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি বলেন, ‘‘আমরা এই দেশ লুটেপুটে খাওয়ার জন্য মসনদে বসতে চাই না; আমরা ১৮ কোটি মানুষের বিজয় নিশ্চিত করতে চাই।’’

    প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের সমালোচনা করে ডা. শফিকুর বলেন, ‘‘একটি দল বলছে তারা দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করবে, অথচ তাদের ৩৯ জন সংসদ সদস্য প্রার্থীরই ঋণখেলাপি হওয়া সন্দেহ আছে; কিভাবে তারা দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করবে?’’ তিনি সমালোচনার তীব্রতা বাড়িয়ে বলেন, তাদের কায়দা করে প্রার্থী করা হয়েছে বলে দাবি করেন।

    নিজের এক পূর্বোক্ত বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘‘আমার একটি মন্তব্য নিয়ে তোলপাড় হয়েছিল। আমি বলেছিলাম—এক জালিমকে বিদায় করে আর এক জালিমকে হাতে দেশ তুলে দেয়া মানুষ চায় না। আজ কি আমার সেই কথাই মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে?’’

    ভোটের দিন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। তিনি বলেন, ‘‘আগামী ১২ তারিখে যদি কোনো দুর্বৃত্ত ভোট বাক্সে হাত দেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে জনগণের সহায়তায় তাদের হাত গুঁড়িয়ে দেয়া হবে।’’

    দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ডা. শফিকুর বলেন, ‘‘সম্প্রতি বিভিন্ন দিক থেকে কিছু উৎপাত দেখা যাচ্ছে। যখন বাংলাদেশি জনগণ স্বাধীনতায় তার পথ নির্ধারণ করতে যাচ্ছে, তখন বহিরাগতরা আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রকাশ্যে হস্তক্ষেপ করছে। আমরা বিনয়ের সঙ্গে কিন্তু শক্ত কণ্ঠে অনুরোধ করব—মেহেরবানী করে আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আর নাক গলাবেন না। এতদিন নাক গলিয়ে যে তরল পদার্থ বের হয়েছে, তা টিস্যু দিয়ে সামলে নিন; আর নাক গলানো বন্ধ করুন। বাংলাদেশ ইনশাআল্লাহ মাথা উঁচু করে বিশ্বদরবারে দাঁড়াবে।’’

    তিনি জানান, সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখতে চান, তবে কারো আধিপত্য মেনে নেয়া হবে না। ‘‘আমরা দেশের বিষয়ে কোনো বিদেশি শক্তির নাক গলানো মেনে নেব না,’’ যোগ করেন জামায়াত আমির।

    জুলাই ধর্মযুদ্ধ/সঙ্ঘর্ষ—যে আন্দোলন বোঝানো হয়েছে—কে কোনো ব্যক্তির সম্পদ বলে দেখতে নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ‘‘জুলাই ১৮ কোটি মানুষের। কাউকে এককভাবে এই যুদ্ধের ‘মাস্টারমাইন্ড’ বলা হলে শহীদদের অবমাননা হয়। এই সংগ্রামের মাস্টারমাইন্ড ছিল দেশের ১৮ কোটি মানুষ।’’

    সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি আবেদন করেন—দোয়া ও ভালোবাসা দিয়ে, ভোট দিয়ে তাদের একটা সুযোগ দেন। তিনি আশ্বাস দেন, ‘‘আল্লাহতে ভরসা রাখুন। আমরা চাঁদা নেব না, চাঁদা নিতে দেবও না। আমরা বলেছি—দুর্নীতি আমরা করব না, দুর্নীতি আমরা সহ্যও করব না।’’

  • বিএনপি ক্ষমতায় এলে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবে: তারেক রহমান

    বিএনপি ক্ষমতায় এলে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবে: তারেক রহমান

    বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশের সব ধরনের দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দলের চেয়ারপারসন তারেক রহমান। শনিবার চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে এক বিশাল সমাবেশে তিনি এই ঘোষণা দেন।

    সমাবেশে তারেক বলেন, যে পরিকল্পনাই নেওয়া হোক না কেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে কোনো পরিকল্পনা সফল হবে না। অতীত অভিজ্ঞতায় বিএনপি প্রমাণ করেছে দুর্নীতির মোকাবিলা একমাত্র তাদের দ্বারা সম্ভব। এজন্য ক্ষমতায় এলে যেকোনো মূল্যে দুর্নীতির শিকড় নীচে করে দিতে তারা কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

    তিনি আরও বলেন, বিএনপি কেবল কাগজে কথা বলে না—গতবার সরকারে থাকাকালে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হয়নি। আগামী দিনে জনগণ যদি তাদের পাশে থাকে, ইনশাআল্লাহ তারা কঠোরভাবে দেশে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখবে যাতে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে।

    তারেক সতর্ক করে বলেন, ‘‘আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি যেন কেউ আমাদের ভোটের অধিকার কেড়ে নিতে না পারে—সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’’ সমাবেশে তিনি চট্টগ্রামের মানুষকে নিরাপদ ও কল্যাণমুখী পরিবেশ নিশ্চিতের আক্ষেপও ব্যক্ত করেন এবং নগরীর নিরাপত্তা বজায় রাখার গুরুত্ব প্রশ্নে দেন।

    শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে তারেক বলেন, জনতা যদি ১২ ফেব্রুয়ারি তাদের রায়ে সরকার দায়িত্ব দিলে প্রতিটি স্তরে শিক্ষা পরিবর্তন করা হবে। তিনি বলেন, আমরা এমন একটি বাস্তবমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলব যেখানে শিক্ষার্থীরা শুধু সার্টিফিকেট নয়, স্বল্পমেয়াদে কর্মসংস্থান সৃষ্টির যোগ্যতা পাবে।

    স্বাস্থ্যখাতে তিনি বলেন, গ্রাম-গঞ্জে প্রত্যেক পরিবারের দরজায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়াই লক্ষ্য। এজন্য প্রতি স্তরে এক লাখ স্বাস্থ্যসেবী নিয়োগের পরিকল্পনা আছে, যাতে মা-মেয়ে ও শিশুরা ঘরে বসেই প্রাথমিক চিকিৎসা ও জরুরি সেবা পেতে পারে।

    দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও কৃষক সুরক্ষার বিষয়ে তারেক বলেন, উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের হাতে কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে যাতে তারা প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা পায়। চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল কেটে ও নালা খোঁজার কর্মসূচি নেওয়া হবে—কারণ অনেক জায়গায় খাল-নালা বন্ধ হওয়ার ফলে সমস্যা দেখা দিয়েছে।

    অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি স্মরণ করান, বিএনপির আমলে ইপিজেড গড়ে ওঠায় লাখো মানুষ কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছে। আগামী নির্বাচনে আবার আনলে আরও ইপিজেড স্থাপন করে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানীতে রূপান্তর করা হবে।

    পলোগ্রাউন্ড সমাবেশের আগে বিএনপি চেয়ারপারসন দীর্ঘ দুই দশক পর চট্টগ্রামে এসেছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে, এরপর তিনি নগরীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে রাত্রিযাপন করেন এবং শনিবার সকালে তরুণদের সঙ্গে পলিসি ডায়ালগে অংশ নেন। সমাবেশের পর তার পরিকল্পিত সফরে ফেনী, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জে পথসভা রয়েছে।

    মহাসমাবেশ উপলক্ষে চট্টগ্রাম নগরী কড়া নিরাপত্তায় রাখা হয়েছিল; প্রায় দুই হাজার পুলিশ মোতায়েন করে মঞ্চসহ এলাকা তিন স্তরে—রেড, ইয়েলো ও গ্রিন জোনে ভাগ করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

    উল্লেখ্য, তারেক রহমান সর্বশেষ ২০০৫ সালে চট্টগ্রাম সফর করেছিলেন; সে সময় তিনি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রচারণায় অংশ নেন ও লালদিঘী ময়দানে এক জনসভায় বক্তৃতা করেন।

  • ট্রাম্পের শুল্কের চেয়েও বিপজ্জনক হতে পারে চীনের বিশাল বাণিজ্য উদ্বৃত্ত

    ট্রাম্পের শুল্কের চেয়েও বিপজ্জনক হতে পারে চীনের বিশাল বাণিজ্য উদ্বৃত্ত

    ২০২৬-এর কেবল দুই সপ্তাহ পার হতেই চীনের সাম্প্রতিক বাণিজ্য পরিসংখ্যান বিশ্ব অর্থনীতির মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। শুল্ক যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যেও ২০২৫ সালে চীনের বার্ষিক বাণিজ্য উদ্বৃত্ত রেকর্ড করে ১.২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে—এখন পর্যন্ত ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

    এই পরিসংখ্যান প্রকাশের পরই কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন কর্নেল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের সিনিয়র ফেলো ঈশ্বর প্রসাদ। তিনি মনে করেন, মুক্ত বাণিজ্য ব্যবস্থার জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা শুল্কের চেয়েও বড় ঝুঁকি সৃষ্টি করছে চীনের এত বড় উদ্বৃত্ত।

    প্রসাদের যুক্তি: চীনের সস্তা পণ্য শুধু উন্নত দেশগুলোর উৎপাদন খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, বরং নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলিতেও প্রতিযোগিতা কঠোর করে তুলছে। ফলে বিশ্ববাজারের নিয়ম-নীতিভিত্তিক বাণিজ্য ব্যবস্থা দুর্বল হতে পারে যখন একটি বৃহৎ অর্থনীতি অন্য দেশের ওপর নির্ভর করে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখে।

    অন্যদিকে, গ্লোবাল টাইমসের সাবেক প্রধান সম্পাদক হু সিজিন উইবোতে বলছেন, এই উদ্বৃত্ত ‘ওয়াশিংটনের অভিজাত শ্রেণিকে আতঙ্কিত করেছে’। তার তর্ক—চীনের অর্থনীতি খুবই স্থিতিশীল এবং একটিভাবে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বিশ্ববাজারে টিকে আছে; কোন বাণিজ্য যুদ্ধ দিয়ে একে দমন করা যাবে না। তিনি আরও যোগ করেন, চীন জোর করে কাউকে কেনাবেচায় বাধ্য করছে না; তাদের পণ্য মূলত সস্তা ও মানসম্মত হওয়ায় বাজার জয় করছে।

    এই উদ্বৃত্তে কারন খুঁজতে গেলে দেখা যায়, এটা কোনো আকস্মিক ঘটনার ফল নয়—এটির পেছনে রপ্তানি প্রবাহ জোরালো এবং আমদানির প্রবৃদ্ধি দুর্বল থাকা মুখ্য। ২০২৫ সালে চীনের মোট আমদানির বার্ষিক বৃদ্ধি ছিল মাত্র ০.৫ শতাংশ, যেখানে রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ৬.১ শতাংশ। ফলে উদ্বৃত্তের ব্যবধান আরও বড় হয়েছে।

    আঞ্চলিকভাবে চীনের রপ্তানি গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ২০ শতাংশ কমলেও আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা, অ্যাসিয়ান দেশগুলো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে তা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে আফ্রিকার রপ্তানি বাড়েছে রেকর্ড ২৫.৮ শতাংশ। একই সঙ্গে ইউয়ানের দর কিছুটা দুর্বল হওয়ায় চীনা পণ্যের আন্তর্জাতিক মূল্য আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়েছে।

    অভ্যন্তরীণ চাহিদার ঘাটটিও যেন স্পষ্ট সংকেত দিয়েছে। ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধে ভোক্তা পণ্যের খুচরা বিক্রির প্রবৃদ্ধি ধারাবাহিকভাবে ধীর হয়েছে; নভেম্বরে তা নেমে আসে প্রায় ১.৩ শতাংশে—গত তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। আবাসন খাতে সংকট ও স্থিরসম্পদে বিনিয়োগের সংকোচনও আমদানি বাড়াতে বাধা দিয়েছে। কিছু বিশ্লেষক বলছেন, ১৯৯৮ সালে তথ্য সংরক্ষণ শুরু করার পর প্রথমবার যে বার্ষিক বিনিয়োগে পতন দেখা দিতে পারে, সেটাই ঘটনা প্রেক্ষাপটের অংশ।

    এর ফল: ২০২৫ সালের সাতটি মাসেই চীনের মাসিক বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ১০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল—যা ২০২৪ সালে মাত্র একবার ঘটেছিল। এটি দেখায় শক্তিশালী রপ্তানি এবং মন্থর আমদানির মিলিত ফলাফল স্থায়ী হতে পারে।

    বৈশ্বিক প্রভাব মিশ্র। একদিকে চীনের সাশ্রয়ী মূল্য ও প্রচুর জোগান বিশ্বব্যাপী সরবরাহ চেইন পুনর্গঠনে সহায়তা করছে এবং বিশেষ করে উন্নত দেশগুলোতে মুদ্রাস্ফীতি চাপ কমাতে ভূমিকা রাখছে। অন্য দিকে, একপক্ষে অতিরিক্ত রপ্তানির ওপর নির্ভরশীলতা চীনের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিকে ভাঙনপ্রবণ করে তুলতে পারে—যা আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিরোধ বা শুল্কসামঞ্জস্য বাড়ানোর কারণ হতে পারে।

    এই উদ্বেগগুলো মাথায় রেখে আন্তর্জাতিক স্তরে সতর্কতা বেড়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, চীন যদি একমাত্র রপ্তানিমুখী মডেলে অটল থাকে, তা বিশ্ব বাণিজ্যে উত্তেজনা বাড়াবে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ বলেও নিয়েছেন, যদি চীন ইইউ-র সঙ্গে বাণিজ্য ভারসাম্য ফেরাতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ইউরোপ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের মতো কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হতে পারে।

    চীনের নीतিনির্ধারকরাও এই ঝুঁকি বোঝে বলে ইঙ্গিত মিলছে। প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং গুয়াংডং পরিদর্শনে জোর দিয়ে বলেছেন—চীনকে আমদানির পরিধি বাড়াতে হবে এবং আমদানি-রপ্তানির মধ্যে সুষমতা ফেরাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। বাণিজ্যমন্ত্রী ওয়াং ওয়েনতাও বলেছেন, সমন্বিত বাণিজ্য মেলা ও লক্ষ্যভিত্তিক ক্রয়ের মাধ্যমে আমদানি বাড়িয়ে ভারসাম্য তৈরি করা হবে।

    কয়েকটি عملی সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে: ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে ফটোভোলটাইক পণ্যের ওপর রপ্তানি ভ্যাট রিবেট বাদ দেওয়া হবে; ব্যাটারি পণ্যের রিবেট ধাপে ধাপে কমিয়ে পরে পুরোপুরি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া চীন ও ইইউ-র মধ্যে বৈদ্যুতিক গাড়ি সংক্রান্ত এক সমঝোতায় চীনা নির্মাতারা অ্যান্টি-সাবসিডি শুল্কের বদলে ন্যূনতম মূল্য বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এসব উদ্যোগ বাণিজ্য কম্বরসাম্য ঠিক করার লক্ষ্যে নেওয়া হচ্ছে।

    শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন থেকেই যায়—চীনের বিশাল বাণিজ্য উদ্বৃত্ত কি দেশ ও বিশ্বকে আশীর্বাদ দেবেই, নাকি নতুন জটিলতা ও সংঘাতের সূত্রপাত হবে? উত্তর নির্ভর করছে: ১) রপ্তানি থেকে অর্জিত আয় কতটা দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে বিনিয়োগ ও ভোক্যপণ্য হিসেবে ফিরছে, ২) রপ্তানি প্রবৃদ্ধি কীভাবে আমদানিকে ত্বরান্বিত করতে পারছে, এবং ৩) চীন কতটা দ্রুত বাজার খুলে ও ভারসাম্যপন্থী নীতিতে ফিরে আসে।

    বাস্তবে উত্তর হয়তো একপাশে ঠোঁক দিয়ে বলা সহজ নয়—এটি একই সঙ্গে সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ। হু সিজিনের মতো যারা চীনের মুকাবিলায় আশাবাদী, তাদের যুক্তি আছে; আর প্রসাদের মতো যারা বৈশ্বিক নিয়ম-নীতিকে ভঙ্গের আশঙ্কা দেখান, তারাও সতর্ক হওয়ার কারণ দেখান। পাল্লা কীভাবে ভারসাম্য রাখে—তাই পড়বে ভবিষ্যতের বিচারের মেয়াদে। সূত্র: বিজনেস টাইমস।

  • সোনার প্রতি ভরি দাম রেকর্ডে—২২ ক্যারেট ছুঁল ২,৫২,৪৬৭ টাকা

    সোনার প্রতি ভরি দাম রেকর্ডে—২২ ক্যারেট ছুঁল ২,৫২,৪৬৭ টাকা

    একদিনের ব্যবধানে আবার দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ালো বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। বুধবার (২১ জানুয়ারি) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৮,৩৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এর ফলে ভালো মানের সোনার দাম বেড়ে ২২ ক্যারেটের জন্য প্রতি ভরি ২,৫২,৪৬৭ টাকা পৌঁছেছে—এটি দেশের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ রেকর্ড।

    বাজুস জানায়, নতুন এই দাম আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। সমিতির তরফ থেকে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক বাজারে তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার দর বাড়ায় স্থানীয় শুল্ক ও মার্কেট রেটে প্রভাব পড়েছে, যার ফলে দেশি বাজারেও মূল্য বাড়ানো প্রয়োজন হয়েছে।

    গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি’র তথ্য অনুযায়ী বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৪,৮০০ ডলারের ওপরে উঠেছে। বিশ্বের বাজারে এ চাপ স্থানীয় দরেও সরাসরি প্রতিফলিত হয়েছে।

    নতুন মূল্যসূচি অনুযায়ী প্রতি ভরির দামগুলো হচ্ছে:

    22 ক্যারেট (ভালো মান) — ২,৫২,৪৬৭ টাকা

    21 ক্যারেট — ২,৪০,৯৭৮ টাকা

    18 ক্যারেট — ২,০৬,৫৬৯ টাকা

    সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি — ১,৬৯,৬৫৩ টাকা

    সোনার সঙ্গে সঙ্গে রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। রুপার নতুন দামগুলো হলো:

    22 ক্যারেট প্রতি ভরি — ৬,৮৮২ টাকা

    21 ক্যারেট — ৬,৫৩২ টাকা

    18 ক্যারেট — ৫,৫৯৯ টাকা

    সনাতন পদ্ধতি — ৪,২০০ টাকা

    জুয়েলারি খাতে কার্যত প্রতিদিনের ওঠানামা থাকায় ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের জন্য দাম পরিবর্তনের খবর মুখ্য। বাজুসের ঘোষণায় গহনা ক্রেতা ও বিক্রেতারা আগামীদিনের বাজার মনিটর করার অনুরোধ করা হয়েছে।

  • যুক্তরাষ্ট্রে শীতঝড়ে ১০ হাজারেরও বেশি ফ্লাইট বাতিল

    যুক্তরাষ্ট্রে শীতঝড়ে ১০ হাজারেরও বেশি ফ্লাইট বাতিল

    শীতকালীন ঝড়ের বিধ্বংসী আঘাতে শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মোট ১০ হাজারেরও বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, জানিয়েছে ফ্লাইট ট্র্যাকিং সাইট ফ্লাইটঅ্যাওয়্যার।

    ফ্লাইটঅ্যাওয়্যারের তথ্য অনুযায়ী উত্তর টেক্সাস ও ওকলাহোমায় শনিবারেই ৩,৪০০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। বিশেষ করে ডালাস-ফোর্ট ওর্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রায় ৭৫ শতাংশ ফ্লাইট বাতিল হতে দেখা গেছে। পাশ্ববর্তী ডালাস লাভ ফিল্ডে বাতিলের হার ছিল প্রায় ৬৪ শতাংশ, আর ওকলাহোমা সিটিতে বাতিলের হার পৌঁছেছে প্রায় ৯০ শতাংশে।

    রোববার বাতিলের সংখ্যা বাড়ে ও মোট প্রায় দ্বিগুণ পরিমাণে পৌঁছে যায়—৬,৪০০টিরও বেশি ফ্লাইট বন্ধ ছিল ওইদিন। ঝড় পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে সরতে থাকায় এর প্রভাব পূর্বাঞ্চলীয় বিমানবন্দরগুলোকেও দেখিয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসির রিগ্যান জাতীয় বিমানবন্দর থেকে রবিবার প্রায় ৯০ শতাংশ এবং উত্তর ক্যারোলিনার শার্লট-ডগলাস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রায় ৭৩ শতাংশ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

    সোমবার পর্যন্তও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নাও এসেছিল—সোমবারই কয়েকশত ফ্লাইট ইতিমধ্যেই বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। বিমান সংস্থাগুলো বলছে, ঝড় শান্ত হলে তারা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের পুনর্বিন্যাস ও গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু করবে।

    আবহাওয়ার অবস্থা সম্পর্কেও সরকারি তথ্য রয়েছে। মার্কিন আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ঝড়টি টেক্সাস থেকে নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত ২,০০০ মাইলেরও বেশি বিস্তৃত এলাকায় তুষারপাত ও বিপজ্জনক বরফ ঝরাতে পারে। দক্ষিণ-মধ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তুষারপাত ও বরফের ঝুঁকি বাড়ছে এবং ঝড়টি ধীরে ধীরে পূর্বের দিকে ছড়াচ্ছে।

    ভ্রমণকারীদের ক্ষেত্রে জরুরি পরামর্শ—যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিমানবন্দরের ওয়েবসাইট বা আপনার এয়ারলাইনের মাধ্যমে ফ্লাইট স্ট্যাটাস যাচাই করুন এবং যাতায়াতের পূর্বে বিকল্প পরিকল্পনা রাখুন।

  • চীন-সহচর্য্যে হলে কানাডার ওপর ১০০% শুল্ক দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প

    চীন-সহচর্য্যে হলে কানাডার ওপর ১০০% শুল্ক দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্থানীয় সময় শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সতর্ক করে বলেছেন, যদি কানাডা চীনের সঙ্গে নতুনভাবে বাণিজ্য চুক্তি করে তাহলে তিনি কানাডীয় পণ্যে একদমই ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবেন। ট্রাম্প এই বার্তাটি সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বিবৃতিতে রেখেছেন।

    ট্রাম্প কানাডার সরকারকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন, “কানাডাকে ব্যবহার করে চীন তাদের সস্তা পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকিয়ে দেবে— যদি জাস্টিন ট্রুডো এমনটি মনে করেন তাহলে তিনি কঠোরভাবে ভুল বুঝেছেন।” তিনি আরও জানান, চীনের সঙ্গে চুক্তি হলে যুক্তরাষ্ট্রে কানাডিয়ান সকল পণ্যে তাৎক্ষণিকভাবে ১০০% শুল্ক আরোপ করা হবে।

    ট্রাম্পের এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে কানাডার তরফে কড়া প্রতিক্রিয়া এসেছে। কানাডার বাণিজ্য বিষয়ক মন্ত্রী ডোমিনিক লেব্লাঙ্ক শনিবার এক্সে লিখেছেন, “কানাডা চীনের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্যের ব্যাপারে তৎপর নয়।” তিনি বলেন, গত সপ্তাহে চীনের সঙ্গে যে চুক্তি হয়েছে তা শুল্ক সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু সমস্যা সমাধান করে।

    লেব্লাঙ্ক বলেন, নতুন সরকার কানাডার অর্থনীতি মজবুত করতে কাজ করছে এবং দেশীয়-বিদেশি বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব শক্তিশালী করাই তাদের উদ্দেশ্য।

    ট্রাম্প ইতিমধ্যে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বভার নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন সময় কানাডীয় পণ্যে শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন এবং কড়া ভাষায় কানাডার বিরুদ্ধে মন্তব্য করেছেন—কখনও কখনও কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হিসেবে উল্লেখ করার মতো মন্তব্যও করেছেন।

    এই পরিতাপিত উত্তপ্ত মন্তব্য এবং প্রতিক্রিয়ার প্রেক্ষিতে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক কেমন দিকে এগোবে তা নজরদারির বিষয় হয়ে উঠেছে। সূত্র: আলজাজিরা

  • মানুষ আমাদের হাস্যোজ্জ্বল মুখে স্বাগত জানাচ্ছে: মঞ্জু

    মানুষ আমাদের হাস্যোজ্জ্বল মুখে স্বাগত জানাচ্ছে: মঞ্জু

    খুলনা-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী ও সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক ও সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল; মানুষের মনে দলের প্রতি আস্থা অটুট আছে। দীর্ঘদিন ভোট না হওয়ায় এবার নির্বাচনী পরিবেশকে কেন্দ্র করে ভোটারদের মধ্যে বিশেষ উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রচারণায় দল ব্যাপক সাড়া পাচ্ছে এবং মানুষ নেতাকেই হাস্যোজ্জ্বল মুখে গ্রহণ করছে — তারা চান জনবিচারে প্রমাণিত জনপ্রিয় দল বিএনপির প্রার্থীরা জিতুক।

    রবিবার (২৫ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় নগরীর ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের রূপসা স্ট্যান্ড রোড, চানমারী বাজার, খ্রিস্টান পাড়া ও অন্যান্য স্থানে গণসংযোগকালে এসব কথা বলেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি বলেন, ‘‘বিএনপি ১৬ বছর ধরে জনগণের দাবি আদায়ের সংগ্রামে রাজপথে ছিল। এখনও আমরা উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পাশাপাশি মানুষের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছি।’’

    মঞ্জু আরও বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশের মানুষের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং তার অনুপস্থিতি নিয়ে এখনো জনগণের মধ্যে শোক कायम আছে। তিনি বলেন, ‘‘আমাদের নেতা তারেক রহমান ১৭ বছর পর দেশে ফিরে এসেছেন এবং একটি সুপরিকল্পিত কর্মসূচি নিয়ে কাজ শুরু করেছেন।’’ মঞ্জু জানান এবারের নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে, উৎসবমুখর থাকবে এবং ভোট গ্রহণে নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ভাবনা থাকার কথা নয়।

    গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ কর্মসুচীতে উপস্থিত ছিলেন— অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপু, মহিবুজ্জামান কচি, হাসানুর রশিদ মিরাজ, মাহবুব হাসান পিয়ারু, একরামুল হক হেলাল, শের আলম সান্টু, অ্যাডভোকেট মাসুম রশিদ, কেএম হুমায়ুন কবির, ইউসুফ হারুন মজনু, নিয়াজ আহমেদ তুহিন, শামসুজ্জামান চঞ্চল, কামরান হাসান, আলমগীর কবির, মীর কবির হোসেন, সালাউদ্দিন বুলবুল, সওগাতুল ইসলাম, আলম হাওলাদার, নূরুল ইসলাম লিটন, মেহেদী হাসান লিটন, হাসিনা আকরাম, সাইমুন ইসলাম রাজ্জাক, রোকেঢা ফারুক, সেলিম বড় মিয়া, স্বপন হাওলাদার, মাসুদ খান বাদল, সমির সাহা, আবু তালেব, এসএম আব্দুর রব, শাহআলম, ইয়াকুব আলী, মোহাম্মদ আলী, পারভেজ আলম খান, সিরাজ মোল্লা, মহিউদ্দিন মঈন, জাহান আলী, শাহাদাৎ গাজী, ফেরোজ আহমেদ, আল আমিন হক পাপ্পু, জিএম মুজিবর রহমান, মো. মুন্না, খালেক গাজী, খায়রুল আলম, হানিফ ফরাজী, শামসুর রহমান নিশান, মামুনুর রহমান, ফারুক হোসেন খান, ইউনুচ মোল্লা, আব্দুর রশিদ, আব্দুল করিম, আলাউদ্দিন আলম, শাহনাজ পারভীন রিক্তা, মামুন রেজা, নাজমা করিমসহ বিএনপি থানা, ওয়ার্ড ও অঙ্গদলের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষ।

  • ঝিনাইদহে মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা

    ঝিনাইদহে মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা

    ঝিনাইদহের একটি আদালতে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের জামায়াত প্রার্থী ও ইসলামিক বক্তা মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেছেন অ্যাডভোকেট আব্দুল আলীম। অভিযোগ সূত্রে বলা হয়েছে, আমির হামজা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তার সন্তান আরাফাত রহমান কোকোসহ কিছু ব্যক্তিকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন।

    আজ রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে ঝিনাইদহ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-সদর আমলি আদালতে মানহানির অভিযোগে মামলার আবেদন করে অভিযোগকারী আইনজীবী আব্দুল আলীম। আদালতের বিচারক মোখলেসুর রহমান অভিযোগ আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-কে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন।

    মামলার বাদী আব্দুল আলীম বলেন, মুফতি আমির হামজা বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তাদের সন্তান আরাফাত রহমান কোকোকে নিয়ে আপত্তিকর, অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তার বক্তব্য জিয়া পরিবারের সম্মানসহ বিএনপি ও তাদের সমর্থকদের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করেছে—এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং ন্যায়বিচার প্রত্যাশায় মামলাটি করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা চাই আইনগতভাবে আমির হামজার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।

    প্রসঙ্গত, মুফতি আমির হামজার বিবাদিত মন্তব্যের একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং দ্রুত ভাইরাল হয়। ক্লিপটি ভাইরাল হওয়ার পর অনেকেই বিব্রতবোধ করলে মুফতি আমির হামজা তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দুঃখ প্রকাশ করে একটি স্ট্যাটাস দেন এবং একই সঙ্গে আরাফাত রহমান কোকোর জন্য জান্নাত কামনা করেন।

    মামলা দায়ের হওয়ায় পিবিআই এর তদন্ত এবং পরবর্তী স্তরে আদালতের কার্যক্রম কী হবে—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য ও তদন্তের ফল প্রাপ্ত হলে তা অনুসরণ করে জানা যাবে।

  • আইসিসিকে কড়া অভিযোগ: আফ্রিদি ও ইউসুফ বললেন বাংলাদেশের প্রতি ‘দ্বৈত মান’

    আইসিসিকে কড়া অভিযোগ: আফ্রিদি ও ইউসুফ বললেন বাংলাদেশের প্রতি ‘দ্বৈত মান’

    পাকিস্তানের সাবেক দুই অধিনায়ক শহিদ আফ্রিদি ও মোহাম্মদ ইউসুফ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)-কে বাংলাদেশের সঙ্গে নিষ্ঠুর ও অসঙ্গত আচরণের অভিযোগ করেন। তারা বলেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়া সিদ্ধান্তে দ্বৈত মান দেখা যাচ্ছে এবং সেটি ন্যায়সঙ্গত নয়।

    আফ্রিদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে তার গভীর হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফির বিষয়ে ভারতের পাকিস্তান সফর না করার সিদ্ধান্তে আইসিসি যে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ মেনে নিয়েছিল, তার সঙ্গে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে যে আচরণ দেখা যাচ্ছে সেটির তুলনা টানেন। আফ্রিদি লেখেন, ‘বাংলাদেশে এবং আইসিসি ইভেন্টে খেলা একজন সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হিসেবে আমি আজ আইসিসির এই অসঙ্গত আচরণে গভীরভাবে হতাশ। … বাংলাদেশের খেলোয়াড় ও তাদের কোটি কোটি সমর্থক সম্মান পাওয়ার যোগ্য, দ্বৈত মানদণ্ড নয়।’

    তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট পরিচালনায় সমতা ও একই মানদণ্ড বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি—ন্যায্যতাই বৈশ্বিক ক্রিকেটের ভিত্তি। আফ্রিদি মনে করেন আইসিসির উচিত বিভাজন বাড়ানো নয়, সেতুবন্ধন তৈরির মাধ্যমে সমাধান খোঁজা।

    সাবেক ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ ইউসুফও বাংলাদেশের এই পরিস্থিতিকে দুঃখজনক আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘খুবই দুঃখজনক যে ক্রিকেটপ্রেমী একটি দেশ নিরাপত্তা উদ্বেগ সমাধান না হওয়ায় ক্রিকেট থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অতীতে যখন এ ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছিল, তখন নিরপেক্ষ ভেন্যু অনুমোদন দেয়া হয়েছিল—দেশভেদে মানদণ্ড বদলানো যায় না।’

    ইউসুফ আরও জোর দিয়ে বলেন আইসিসির উচিত নিরপেক্ষ ও ন্যায্য ভূমিকা পালন করা, কোনো একক বোর্ডের স্বার্থ রক্ষা করা নয়। তার ভাষ্য, ‘আইসিসিকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের মতো আচরণ করতে হবে, কোনো নির্দিষ্ট বোর্ডের প্রতিনিধি হিসেবে নয়।’

    এদিকে, শনিবার (২৪ জানুয়ারি) আইসিসি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, বাংলাদেশের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নেওয়া হয়েছে। টুর্নামেন্টটি আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আইসিসি এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে জানায় যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ভারতের ভেন্যু থেকে ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরানোর আবেদন খারিজ করা হয়েছে, কারণ ভারতে কোনো ‘বিশ্বাসযোগ্য বা যাচাইযোগ্য’ নিরাপত্তা হুমকি পাওয়া যায়নি।

    আফ্রিদি ও ইউসুফ দুইজনেই আইসিসির কাছে অনুরোধ করেছেন—নিরপেক্ষতা ও ন্যায্যতা বজায় রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক, যাতে বৈশ্বিক ক্রিকেটের বিশ্বাসযোগ্যতা ও খেলোয়াড় ও সমর্থকদের অধিকার রক্ষা করা যায়।

  • গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই ভারতে যায়নি বাংলাদেশ দল

    গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই ভারতে যায়নি বাংলাদেশ দল

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) চেষ্টা করেছিল ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দেশের ম্যাচগুলো ভারতে না রেখে শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তর করার। তবে শেষ পর্যন্ত সরকার ও সংশ্লিষ্টসংস্থার নিরাপত্তাজনিত সিদ্ধান্তের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বকাপে খেলতে যায়নি। বিসিবির পরিচালক আসিফ আকবর জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের হাতে থাকা গোয়েন্দা প্রতিবেদনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    ঘটনার সূত্রপাত বলা যায় ৩ জানুয়ারি থেকে—যখন মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল দলে না রাখার সিদ্ধান্তের পর নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশ্ন উঠে। এরপর নিরাপত্তাজনিত সব ঝুঁকি বিবেচনা করে সরকারই আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের টিমকে ভারতে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন বলে ২২ জানুয়ারি হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন।

    বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের সর্বশেষ বৈঠকে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ না খেলার বিষয়টি অবশ্যও আলোচনার বিষয় ছিল। বৈঠকের পর অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে পরিচালক আসিফ আকবর বলেন, সরকারের হাতে যে গোয়েন্দা প্রতিবেদন ছিল, সেটিকেই সামনে রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, রিপোর্টে খেলোয়াড়, সাংবাদিক, দর্শক বা ট্যাকটিক্যাল স্টাফদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখানো হয়েছে এবং সেখানে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো মাথায় রেখে ঝুঁকি নেওয়া ঠিক হবে না। কোনো বড় ধরনের নাশকতামূলক ঘটনা ঘটলে তার দায় বিএসিবি আদৌ নিতে পারে না—এরকম অবস্থান সরকার স্পষ্ট করেছে।

    প্রায় তিন সপ্তাহ ধরেই বিসিবি ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি) কোণঠাসা পরিবেশে আলোচনা-আলাপ চালিয়েছে; কিন্তু শেষ পর্যন্ত আইসিসি বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিয়েছে। আসিফ আকবর জানিয়েছেন, ভারতে বাংলাদেশ দল পাঠ না করা নিয়ে দেশের চারটি মন্ত্রণালয়—তথ্য, পররাষ্ট্র, ক্রীড়া ও আইন—মিলিয়ে মন্ত্রিসভা পর্যায়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি বহন করা হবে না। তিনি বলেন, ‘আইসিসি একটি সংস্থা, বিসিবিও একটি সংস্থা; কিন্তু নিরাপত্তা বিষয়ে যখন রাষ্ট্র কিছু বলে, তখন সেটি সর্বোচ্চ প্রাধান্য পায়।’

    আইসিসি বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপের সূচিতে যোগ করেছে। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে স্কটল্যান্ড এখন ১৪ নম্বরে অবস্থান করছে। গ্রুপ ‘সি’ তে ইতালি, নেপাল, ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে স্কটল্যান্ড খেলবে।