Blog

  • ক্ষমতার স্বাদে বিএনপি জনগণকে ভুলে গেছে: নাহিদ ইসলাম

    ক্ষমতার স্বাদে বিএনপি জনগণকে ভুলে গেছে: নাহিদ ইসলাম

    জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন, ক্ষমতার স্বাদ পাইয়ে দিয়ে বিএনপি জনগণের কথা ভুলে গেছে। তিনি এই মন্তব্যটি করেছেন ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায়।

    নাহিদ বলেন, আমাদের দেশের ইতিহাসে বহুবার দেখা গেছে—শ্রমিকরা রক্ত দিয়েছে, জীবন দিয়েছে। ১৯৪৭-এর স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং বিভিন্ন গণ-অভ্যুত্থানে বহু শ্রমজীবী মানুষ সামনে থেকে লড়াই করেছে। তিনি বলেন, ‘‘চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের অধিকাংশই শ্রমজীবী ছিলেন।’’

    তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘‘শ্রমজীবীদের রক্তে ক্ষমতায় এসে বিএনপি এক মাসের মধ্যে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। নতুন যে সরকার তৈরি হয়েছে, তারা শ্রমিকদের রক্তের ওপর ক্ষমতায় বসল—কিন্তু এক মাসের মধ্যেই নতুন বাংলাদেশের প্রতি বেইমানি করেছে। গণভোটের গণরায়কে উপেক্ষা করা হয়েছে। এটি একটি গণবিরোধী সরকার। ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণের রক্ত ও স্বার্থ ভুলে গেছে।’’

    নাহিদ আরো বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশগুলোকে আইন করে সংস্কার বাস্তবায়নের যে প্রতিশ্রুতি ছিল, সেটি বিএনপি ভঙ্গ করেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘‘এই দেশের রাজনীতিতে ওয়াদা ভঙ্গের ফলাফল ভালো হবে না। আমরা গণ-আন্দোলন গড়ে শ্রমিকদের অধিকারসহ প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নে বাধ্য করব।’’

    অন্যদিকে তিনি নতুন জাতীয় ঐক্যের গুরুত্বে জোর দিয়ে বলেন, ‘‘আমরা একটি নতুন জাতীয় ঐক্য গড়েছি। জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের সময় বাংলাদেশের শ্রমিকদের যে আশা ছিল—একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা, রাজনীতি-অর্থনীতি-সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা এবং শ্রমজীবীদের জন্য নতুন বন্দোবস্ত নিশ্চিত করা—এই লক্ষ্য অর্জনে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’’

    নাহিদ বলেন, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, জাতীয় নাগরিক পার্টি ও জাতীয় শ্রমিক শক্তি ঐক্যের পথে রয়েছে এবং এই আন্দোলনকে শক্তিশালী রাখা হবে।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার আহ্বান জানিয়ে নাহিদ শ্রমিকদের কাছে বলেন, ‘‘ঐক্যবদ্ধ হোন। আপনাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে নেতৃত্ব দিতে হবে। নতুন বাংলাদেশের পথে, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের চেতনায় আমাদের দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।’’

    তিনি শুধু সংসদেই সীমাবদ্ধ না থেকে রাজপথেও প্রস্তুতি নেওয়ার কথাও বলেন। নাহিদ বলেন, ‘‘এবার শুধু জাতীয় সংসদ নয়, আমাদের রাজপথেরও প্রস্তুতি নিতে হবে। রাজপথ ও গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা বর্তমান সরকারকে বাধ্য করব—জুলাই সনদ, গণভোটসহ শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রতিটি দাবি বাস্তবায়ন করাব।’’

  • লোকসানে ১৭ ব্যাংক; সিএসআর ব্যয় প্রায় অর্ধেকে নেমে গেল

    লোকসানে ১৭ ব্যাংক; সিএসআর ব্যয় প্রায় অর্ধেকে নেমে গেল

    ২০২৪ সালে দেশের বেশ কিছু বাণিজ্যিক ব্যাংক আর্থিক চাপে পড়ার প্রভাব ২০২৫ সালের কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) ব্যয়েও পড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের (জানুয়ারি–ডিসেম্বর) মধ্যে দেশের ৬১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক সিএসআর খাতে মোট মাত্র ৩৪৫ কোটি ৫ লাখ টাকা ব্যয় করেছে—আগের বছরের তুলনায় এটি প্রায় ২৭০ কোটি ৯১ লাখ টাকা বা প্রায় ৪২ শতাংশ কম।

    অর্থাৎ ব্যাংকগুলোর সামাজিক বিনিয়োগ গত এক বছরে খাড়া অনুঘটকে পড়েছে। গত এক দশকে এটি সিএসআর খাতে সর্বনিম্ন ব্যয়; এর আগে ২০১৫ সালে সর্বনিম্ন ছিল ৫২৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এ বছর ২০১৫ সালের তুলনায় ব্যয় প্রায় ১৮২ কোটি টাকা বা ৩৪.৫৭ শতাংশ কমে গেছে।

    বহু বছরের ধারাবাহিক রেকর্ড দেখালে দেখা যায় সিএসআর ব্যয় ধীরে ধীরে কমছে — ২০২২ সালে ছিল ১,১২৯ কোটি টাকা, ২০২৩ সালে ৯২৪ কোটি ৩২ লাখ টাকা, ২০২৪ সালে ৬১৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা এবং ২০২৫ সালে কমে দাঁড়িয়েছে ৩৪৫ কোটি ৫ লাখ টাকায়।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশ্লেষণ বলছে, ২০২৪ সালে ১৭টি ব্যাংক নিট মুনাফা অর্জন করতে পারেনি; যেসব ব্যাংক মুনাফা করেছে, তাদেরও আয় প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম। এই আর্থিক দুর্বলতার ফলে সিএসআর বাজেট ছোট করা এবং ব্যয় পুনর্বিবেচনা করা হয়েছে।

    খাত সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেছেন, ২০২৪ সালের জুন–জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও রাজনৈতিক অস্থিরতা, এরপর সরকার পরিবর্তনের প্রভাব এবং একই সময়ে কয়েকটি ব্যাংকের অনিয়ম ও অর্থ পাচারের তথ্যের বহুল প্রকাশ ব্যাংকিং সেক্টরে বড় ধাক্কা দিয়েছে। কাগজে-কলমে দেখানো মুনাফার বিপরীতে প্রকৃত আর্থিক চিত্র উন্মোচিত হওয়ায় খেলাপি ঋণ বাড়তে থাকে এবং প্রকৃত লোকসান সামনে আসে। দুর্বল হলে পড়া কয়েকটি ব্যাংক সরকারি উদ্যোগে একীভূত করেও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করা হয়েছে।

    ব্যাংকারদের কথায়, রাজনৈতিক চাপও আগে সিএসআর ব্যয়ে বাড়তি ভূমিকা রাখত—শিক্ষা, স্বাস্থ্য বা ইভেন্টের জন্য রাজনৈতিক ও সামাজিক অনুরোধে ব্যাংকগুলোকে অতিরিক্ত ব্যয় করতে হত; অনেকে এমন ব্যয়কে সিএসআর হিসেবে দেখাতেই স্বচ্ছতার সমস্যা দেখা যেত। ২০২৪ সালের মাঝামাঝি আন্দোলন এবং আগস্টে সরকার পরিবর্তনের পর সেই প্রথা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, ফলে এখন ব্যাংকগুলো তুলনামূলকভাবে কটা ব্যয় করবেন তা বেশি পরিমাপ করে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সিএসআর খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। রাজনৈতিক প্রভাব বা অনিয়মভিত্তিক ব্যয় সমাজকল্যাণের মূল উদ্দেশ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং জনফান্ডের অপচয় ঘটায়।

    বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশনা দিয়েছে, ব্যাংকগুলোর নিট মুনাফার একটি অংশ সিএসআর খাতে ব্যয় করতে হবে এবং তা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ভাগ করে নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে—শিক্ষায় ৩০ শতাংশ, স্বাস্থ্যখাতে ৩০ শতাংশ, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ২০ শতাংশ এবং বাকি ২০ শতাংশ অন্যান্য খাতে। বাস্তবে তবে এই অনুপাতে ব্যয় হচ্ছে না: ২০২৫ সালে ব্যাংকগুলো সবচেয়ে বেশি, ৩৬ শতাংশ, ‘অন্যান্য’ খাতে ব্যয় করেছে; শিক্ষায় ব্যয় হয়েছে ২৮.৫৩ শতাংশ এবং পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে মাত্র ১০ শতাংশ। স্বাস্থ্যখাতে তুলনামূলকভাবে উল্লেখযোগ্য অংশ থাকলেও সরকারি নির্দেশনার কাঠামো অনুযায়ী সামঞ্জস্যের ঘাটতি স্পষ্ট।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আলোচিত সময়ে ১১টি ব্যাংক সিএসআর খাতে একটাও টাকা ব্যয় করেনি। সেই ব্যাংকগুলো হল— জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    একই প্রতিবেদনে ২০২৪ সালে লোকসানে থাকা ব্যাংকগুলোর তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে; এতে জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান-এর নাম রয়েছে।

    উল্লেখ্য, লোকসানে থাকা ছয়টি ব্যাংক সত্ত্বেও সিএসআর খাতে অর্থ বরাদ্দ করেছে—এবি ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক।

    সমগ্র পরিস্থিতি থেকে স্পষ্ট হচ্ছে, ব্যাংকিং খাতের আর্থিক সুরক্ষা ও সিএসআর নীতির কার্যকর বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত সামাজিক বিনিয়োগে স্থায়ী বৃদ্ধি আশা করা কঠিন। বিশ্লেষকরা বলছেন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নির্ধারিত নীতিমালা মেনে ব্যয় নিশ্চিতে বিধি-কাঠামো শক্ত করা অপরিহার্য।

  • ৮ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি দুই লাখ কোটি টাকার ওপরে

    ৮ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি দুই লাখ কোটি টাকার ওপরে

    চলতি অর্থবছরের (২০২৫-২৬) প্রথম আট মাসে রপ্তানির তুলনায় আমদানির দ্রুত বৃদ্ধির কারণে দেশের পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি বৃদ্ধিপেতে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার ৬৯১ কোটি ডলারে — যা বাংলাদেশি টাকায় দুই লাখ সাত হাজার কোটি টাকারও বেশি। আগের অর্থবছরের একই সময়ের ঘাটতি ছিল ১ হাজার ৩৭১ কোটি ডলার।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক ব্যালেন্স অব পেমেন্ট (বিওপি) হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই চিত্রটি উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মূল কারণ হলো জ্বালানিসহ বেশিরভাগ পণ্যের বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধি এবং বিশেষ করে রমজানকে সামনে রেখে ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, ডাল ও খেজুরের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানির তীব্র উত্থান। ফলে সামগ্রিক আমদানির পরিমাণ দ্রুত বাড়লেও রপ্তানি আয় সেই তুলনায় ধীর গতিতে বাড়েছে বা স্থিতিশীল থেকেছে, ফলে ঘাটতি বড় হয়েছে।

    পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জুলাই-ফেব্রুয়ারি পর্যায়ে দেশের ব্যবসায়ীরা মোট প্রায় ৪,৬১৭ কোটি ডলার (প্রায় ৪৬.১৭ বিলিয়ন ডলার) মূল্যের পণ্য আমদানি করেছেন, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৫.৬ শতাংশ বেশি। এই সময়ের পণ্য রপ্তানি আয় ছিল প্রায় ৩০.০৩ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৩,০০৩ কোটি ডলার), যা আগের বছরের ২৯.২৬ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় প্রায় ২.৬ শতাংশ বেশি। আমদানি ও রপ্তানির এই অনুকূলমানের ব্যবধান থেকেই পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি বেড়েছে।

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সামগ্রিকভাবে দেশে ব্যয়ে নিয়ন্ত্রণ না আনলে এবং রপ্তানি বহুগুণ বাড়াতে না পারলে অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়বে। তারা সতর্ক করেন স্বল্পমেয়াদি ভোগ্যপণ্য আমদানি নিয়ন্ত্রণ, ভ্যালু-অ্যাডেড রপ্তানি বাড়ানো ও বহুমুখী বাজার নির্ভরতা বাড়ানো এই বিষয়গুলো জরুরি।

    ব্যালেন্স অব পেমেন্টের অন্যান্য সূচকেও মিশ্র চিত্র দেখা যায়। চলতি হিসাবে (কারেন্ট অ্যাকাউন্ট) সামান্য ঋণাত্মক অবস্থায় আছে; ফেব্রুয়ারির শেষে চলতি হিসাব ঘাটতি ছিল প্রায় ১০০ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের ১৪৭ কোটি ডলারের তুলনায় কম। মোট সামগ্রিক লেনদেন (ওভারঅল ব্যালান্স) ভালো অবস্থায় রয়েছে; আলোচিত সময়ে ওভারঅল ব্যালান্স দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৪৩ কোটি ডলার, যেখানে আগের বছর একই সময়ে এটি ঋণাত্মক ছিল প্রায় ১১৫ কোটি ডলার।

    প্রবাসী বাংলাদেশিদের রেমিট্যান্স উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়েছে — এই অর্থবছরের প্রথম আট মাসে প্রায় ২ হাজার ২৪৫ কোটি ডলার (প্রায় ২২.৪৫ বিলিয়ন ডলার) রেমিট্যান্স এসেছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২১.৪ শতাংশ বৃদ্ধি।

    প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) কিছুটা কমেছে; গত অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়কালীন এফডিআই ছিল প্রায় ১০৬ কোটি ডলার, চলতি সময়ে প্রাপ্তি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮৭ কোটি ডলারে। অপরদিকে শেয়ারবাজারে পোর্টফোলিও বিনিয়োগ নিট হিসেবে ঋণাত্মক অবস্থায় রয়েছে — এ খাতে(net) প্রায় ৮ কোটি ডলার বেরিয়ে গেছে, যা আগের বছরও প্রায় সমপরিমাণ ঋণাত্মক ছিল।

    সংক্ষেপে, রপ্তানি বাড়লেও আমদানির তীব্রতা এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি দেশের বাণিজ্য ঘাটতি বাড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মনেহয়, স্থায়ীভাবে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আমদানির দক্ষ নিয়ন্ত্রণ, রপ্তানি পণ্য বৈচিত্র্য ও নতুন বাজার অন্বেষণ অপরিহার্য।

  • আলোচনা চালিয়ে নেওয়ার আগ্রহ দুই পক্ষেই, সিদ্ধান্তে নজর ট্রাম্পের দিকে

    আলোচনা চালিয়ে নেওয়ার আগ্রহ দুই পক্ষেই, সিদ্ধান্তে নজর ট্রাম্পের দিকে

    ইসলামাবাদে সমাপ্ত আলোচনা কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইতিমধ্যেই পাকিস্তান ত্যাগ করেছেন, ফলে আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। তবু বিশ্লেষকরা মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের আসল চাহিদা যুদ্ধ থামানোই — তাদের সামনে অন্য কার্যকর বিকল্প মেলে না।

    আন্তরিকতা দেখানোর লক্ষ্যে ভ্যান্সকে পাঠানো হয়েছিল; ওয়াশিংটন বারবার জানিয়েছে তারা বিষয়টি নিয়ে গম্ভীর। কিন্তু জেডি ভ্যান্স ফিরে যাওয়ার পর থেকেই আলোচনা কি স্থগিত, নাকি দূর থেকে চালানো হবে—এই প্রশ্ন উঠেছে। আল জাজিরার জন হেনড্রেন বলছেন, ভ্যান্সের প্রত্যাগমনই আলোচনা বন্ধের নিশ্চয়তা নয়; দীর্ঘ দর-কষাকষি প্রয়োজনে দূর থেকে চালিয়ে নেয়া যায়।

    প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছেন, যেই ফল আসুক না কেন আমেরিকা সামরিকভাবে বিজয়ী হয়েছে এবং তিনি এতে খুব বেশি উদ্বিগ্ন নন। অনেকে এই বক্তব্যকে আড়োচোখে দেখছেন। কারণ চলমান সংঘাতটি আমেরিকার জনমতে বেশ অজনপ্রিয়—এক-তৃতীয়াংশেরও কম নাগরিক এটিকে সমর্থন করছেন। শেয়ারবাজারে পতন এবং জ্বালানির দাম বাড়ায় ট্রাম্পের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

    চ্যালেঞ্জের মধ্যে সবচেয়ে বড়টি হলো হরমুজ প্রণালী — যা কার্যত ইরানের নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। ট্রাম্প চাইছেন এই অবস্থা বদলাতে; কিন্তু এই مسئয়টাই আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার আগে বড় ব্যাধি হিসেবে দাঁড়িয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে দুই মার্কিন যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি ইঙ্গিত করছে যে ওয়াশিংটন বিকল্প পথ সম্পর্কে ভাবছে।

    আলোচনায় মূল বিষয় ছিল না শুধু পরমাণু কর্মসূচি বা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের সঞ্চয়, বরং এবার আলোচনার পরিধি অনেক বড়—নিরাপত্তা, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ করা সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়া—এসব জটিল ইস্যুও তালিকায় রয়েছে। মার্কিন পক্ষ ইরানকে কেবল বলে দিচ্ছে না যে পরমাণু অস্ত্র বানানো যাবে না, বরং চায় ইরান সেই প্রযুক্তি অর্জনের চেষ্টা থেকেই বিরত থাকার অঙ্গীকারও করবে। এমন ধরনের বিষয় সমাধান করতে সময় লাগে—২০১৫ সালের ঐতিহাসিক চুক্তিতেও প্রায় দুই বছর সময় লেগেছিল।

    মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের রস হ্যারিসন সতর্ক করে বলেছেন, যদি আমেরিকার কড়া শর্তগুলো কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ না থেকে পর্দার আড়ালেও একই রকম বলিষ্ঠতা বজায় থাকে, তাহলে সমঝোতার সম্ভাবনা কম। তার মতে, ইরান ইতিমধ্যেই এই সংঘাতে ব্যয়বহুল ক্ষতির সম্মুখীন — বিশেষ করে জনগণকে বড় মূল্য দিতে হয়েছে। তাই ইরান সহজে আগের অবস্থায় ফিরে যাবে না।

    আলোচনার অবসান πολλকে অবাক করেছে, কারণ দুই পক্ষকে একই টেবিলে আনতে বড় কূটনৈতিক শ্রম লেগেছিল। তবে এক প্রবীণ কূটনীতিক জানিয়েছেন যোগাযোগের চ্যানেল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়নি। পাকিস্তানের কূটনৈতিক তৎপরতা আঞ্চলিক ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে বসিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে, এবং পাকিস্তান এই সূত্র বজায় রাখার পক্ষে।

    পাকিস্তান সরকার দাবি করেছে, লেবাননসহ হুতি ও ইরাকি সশস্ত্রগোষ্ঠীগুলো যুদ্ধবিরতি মেনে চলবে বলে জানিয়েছিল; কিন্তু বৈরুতেতে ইসরায়েলি হামলা সেই সূক্ষ্ম সমীকরণকে তছনছ করে দিয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে।

    দুই পক্ষই আলোচনার খুঁটিনাটি গোপন রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল; কৌশলগত ও কারিগরি বিষয়ের বিষয়ে তেমন বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। যাইহোক, আলোচনায় ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালী নিয়ে নতুন নিয়ম চালুর বিষয়টি প্রথমবারের মতো কেন্দ্রে এসেছে — ইরান বলছে তারা ওই পথ শত্রুদের জন্য বন্ধ রাখতে পারে, যার ফলে বিশ্ব জ্বালানির বাজারে বড় প্রভাব পড়েছে।

    একই সঙ্গে ইরান সব যুদ্ধক্ষেত্রে একযোগে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি দাবিও তুলেছে, যা আমেরিকা ও ইসরায়েলের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়। ইরানের ১০ দফা ও মার্কিন ১৫ দফা দাবির মধ্যে মিল কম; তাই বিবাদ কেবল এক-দুই বিষয়ে সীমাবদ্ধ থেকেছে না।

    ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, কূটনীতি কখনোই শেষ হয় না; কূটনৈতিক কাঠামো জাতীয় স্বার্থ রক্ষা ও নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। তিনি জানিয়েছেন, ইরান, পাকিস্তান ও অন্যান্য প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবে।

    এখন প্রশ্ন—এরপর কী? গত বুধবার যে যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছিল, তা মার্কিন প্রেসিডেন্টের কড়া বিবৃতির পর ভূমিকা পেয়েছিল; কিন্তু পুনরায় হামলার সম্ভাবনা নিষ্ক্রিয় নেই। পাকিস্তান জানাচ্ছে যোগাযোগের পথ খোলা রাখা জরুরি এবং তারা যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে আগ্রহী। তবু আলোচনার ভবিষ্যৎ এখন বড় অংশেই ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। বিশ্বজুড়ে নজর এখন ট্রাম্পের পরবর্তী কথাবার্তার দিকে।

    (তথ্যসূত্র: আল জাজিরা, বিবিসি)

  • নেতানিয়াহু: ইরানে ইসরায়েলের অভিযান এখনও শেষ হয়নি

    নেতানিয়াহু: ইরানে ইসরায়েলের অভিযান এখনও শেষ হয়নি

    ইরায়েনের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এখনও বন্ধ হয়নি—এভাবেই সতর্ক করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে চলা বৈঠকের সময় শনিবার এক ভিডিওবার্তায় তিনি এই ঘোষণা দেন।

    ভিডিওবার্তায় হিব্রু ভাষায় কথা বলা নেতানিয়াহু বলেছেন, “ইরানে ইসরায়েলের অভিযান এখনও শেষ হয়নি, আমাদের এখনও অনেক কিছু করার আছে। তবে এটা স্পষ্টভাবে বলা যেতে পারে যে এ পর্যন্ত যা যা অর্জন হয়েছে, তা ঐতিহাসিক।”

    নেতানিয়াহু বার্তায় ইরানে সামরিক অভিযান চালানোর কারণও ব্যাখ্যা করেছেন। তার ভাষ্য—ইরান তখন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির যোগ্যতার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল, আর একবার তারা সেই সক্ষমতা অর্জন করলে প্রতিদিনই শতশত পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে পারত, যা ইসরায়েলের অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াত।

    তিনি আরও বলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি চেয়েছিলেন দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ও পরমাণু কর্মসূচিকে মাটির নিচে বহুদূর সরিয়ে দেয়া—তখনকার যুক্তরাষ্ট্রের বি-২ বোমারু বিমানও সেগুলোর অবস্থান শনাক্ত করতে পারবে না। এমন পরিস্থিতিতে চুপ করে থাকা ইসরায়েলের জন্য গ্রহণযোগ্য ছিল না বলেই তারা ব্যবস্থা নিয়েছে, যোগ করেন নেতানিয়াহু।

    পটভূমি হিসেবে বলা হয়েছে, ইরানের পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি গত কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইস্রায়েলের সঙ্গে অবিরত বিতর্কের কারণ হয়ে আসছে। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলা আলোচনা চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন চলে, কিন্তু ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো সমঝোতায় পৌঁছায়নি।

    এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ ঘোষণা করলে, একই সময়ে ইসরায়েলও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে। যুদ্ধের প্রথম দিনই নিহত হন আয়াতুল্লাহ খামেনি, যিনি লীগের ৩৭ বছর ধরে দেশের সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন। ওই হামলায় খামেনির স্ত্রী, কন্যা, নাতি এবং তার ছেলে মোজতবার স্ত্রীর মৃত্যু হয়; মোজতবা নিজে গুরুতর আহত হন।

    উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে। এরপর ১১ এপ্রিল দুই দেশের কর্মকর্তারা সংলাপে বসেন, তবে সেটাও কোনো চুক্তি না করে শেষ হয়।

    শনিবারের ভিডিওবার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, “ইরানে অভিযান চালিয়ে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী ইতোমধ্যে অনেক সাফল্য অর্জন করেছে এবং সামনে আরও সাফল্য অর্জন করবে।” তিনি উল্লেখ করেন, ইরানে এখনও সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মতো উপাদান রয়ে গেছে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেমন বলেছেন, ইসরায়েলও সেটাই সমর্থন করে—চুক্তির মাধ্যমে অপসারণ না হলে অন্য পথে তা অপসারণ করা হবে।

    সূত্র: বিবিসি, এএফপি

  • কুষ্টিয়ায় নিহত দরবার প্রধান আব্দুর রহমানের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন

    কুষ্টিয়ায় নিহত দরবার প্রধান আব্দুর রহমানের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন

    কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে নিহত হওয়া দরবার প্রধান আব্দুর রহমান ওরফে শামিম (৬৫) এর ময়নাতদন্ত রবিবার দুপুর ১টায় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে সম্পন্ন হয়েছে।

    কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডাঃ মো. হোসেন ইমাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ময়নাতদন্তে দেখা গেছে মরদেহের বিভিন্ন অংশে একাধিক জখমের চিহ্ন রয়েছে। বিশেষ করে মাথা, ঘাড় ও পিঠে তুলনামূলকভাবে গভীর ক্ষত পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ময়নাতদন্তকারী ডাক্তারের ধারণা, একাধিক জখমের কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটে।

    এই ঘটনার পর থেকেই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। তদন্তকারীরা এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেননি বলে দৌলতপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ মোহাম্মদ আলী মর্তুজা জানান। তিনি বলেন, মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে এবং পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নিহতের মরদেহ এখন কুষ্টিয়ার মর্গে রয়েছে।

    পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, শনিবার দুপুরে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় এলাকার ‘শামিম বাবার দরবার শরিফ’ নামের স্থানে এই ঘটনা ঘটে। ওই দিন সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে তাকে ধর্ম সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে।

    ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা দরবারে হামলা করে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালায় এবং এক পর্যায়ে সংঘর্ষে শামিম মারা যান। several Several several Several—[Note: adjust to Bengali] Several locals were injured and later taken to the doughtypal Upazila Health Complex where duty doctors declared Shamim dead. দ্রুত ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং পুলিশ বিকল্প নিরাপত্তা জোরদার করেছে।

    নিহত শামিম দক্ষিণ ফিলিপনগর গ্রামের মৃত জেসের মাস্টারের ছেলে। জানা গেছে, ২০২১ সালে তার বিরুদ্ধে একই ধরনের ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

    স্থানীয় প্রশাসন ও তদন্ত কর্মকর্তারা ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রেখে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন।

  • কালীগঞ্জে স্মার্ট ফুয়েল অ্যাপ চালু: একাধিকবার তেল নেওয়া বন্ধ, ভোগান্তি কমলো

    কালীগঞ্জে স্মার্ট ফুয়েল অ্যাপ চালু: একাধিকবার তেল নেওয়া বন্ধ, ভোগান্তি কমলো

    ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে জ্বালানি সঙ্কটের সুযোগে তেল ঘ ALS করার দুর্বৃত্তচক্র ঠেকাতে চালু করা হয়েছে ‘স্মার্ট ফুয়েল’ অ্যাপ। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে একই বাইকার যতবারই তেল নিতে চাইলেই তা শনাক্ত করা যাচ্ছে, ফলে ভিড়, অনিয়ম ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমেছে।

    বর্তমানে অ্যাপটি উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে পরীক্ষামূলকভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে। এটি প্রথমবারের মতো ৭ এপ্রিল কোটচাঁদপুর সড়কের একটি ফিলিং স্টেশনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদের উপস্থিতিতে চালু করা হয়। পরে দ্রুত অন্যান্য স্টেশনেও এটি প্রয়োগ করা হচ্ছে।

    অ্যাপটির মাধ্যমে প্রতিটি মোটরসাইকেলের নাম্বার প্লেট স্ক্যান করে সেই তথ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছে। নাম্বার প্লেট না থাকলে ভিন্নভাবে ইঞ্জিন নাম্বারের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি বাইকারকে নির্দিষ্টভাবে ৫০০ টাকা মূল্যের পেট্রোল বা অকটেন দেওয়া হচ্ছে এবং একবার তেল নেওয়ার পর ৯৬ ঘণ্টা পর্যন্ত পুনরায় তেল নেওয়া যাবে না। এই মেয়াদে কেউ আবার তেল নিতে গেলে স্ক্যানের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক সতর্কতা আসে এবং অনিয়ম ধরা পড়ে।

    অ্যাপ চালু হওয়ার ফলে ইতোমধ্যে শতাধিক বাইকারকে শনাক্ত করা হয়েছে, যারা একাধিকবার তেল নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। প্রাথমিকভাবে তাদের সতর্ক করা হচ্ছে; একই আচরণ পুনরাবৃত্তি হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে।

    স্থানীয়রা বলছেন, আগের দিনে বাইকাররা একাধিক ফিলিং স্টেশন ঘুরে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করত এবং তা মজুদ করে বেশি দামে বিক্রি করত। অনেক সময় লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়াতে হত তবুও তেল পাওয়া যেত না। এমনকি তেল নিয়ে বিবাদ-হানাহানি এবং সাংবাদিকরাও হেনস্তার শিকার হয়েছিলেন। এখন এসব সমস্যা অনেকটাই কমেছে।

    একজন বাইকার রাশেদ হোসেন বলেন, “আগে ঘণ্টা কাটলেও তেল পাওয়া যেত না, ভোগান্তি ছিল। এখন অ্যাপের কারণে দ্রুত তেল পাওয়া যাচ্ছে, ঝামেলা কমেছে।” অন্য বাইকার সুমন আলী বলেন, “কেউ মজুদ করে নিয়ে গেলে আমরা সমস্যায় পড়তাম। স্মার্ট অ্যাপ সেই সুযোগটুকু বন্ধ করে দিয়েছে, খুবই ভালো উদ্যোগ।”

    অ্যাপটির উদ্ভাবক ও স্থানীয় তরুণ উদ্যোক্তা শেখ ওবায়দুল হক রাসেল বলেন, জ্বালানি সঙ্কটের সময় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমানো এবং অসাধু চক্রকে প্রতিরোধ করতেই এই উদ্যোগ। তিনি বলেন, প্রযুক্তি দিয়ে স্বচ্ছতা আনার মাধ্যমে অনিয়ম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ জানান, অ্যাপ চালু হওয়ায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে এবং প্রশাসন নিয়মিতভাবে মনিটরিং করছে। বৈধ কাগজপত্র থাকলেই তেল দেওয়া হবে, নইলে দেওয়া হবে না এবং জরিমানাসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে এই উদ্যোগ আরও সম্প্রসারণ করা হবে বলে তিনি জানান।

    এসব পরিবর্তনের ফলে কালীগঞ্জের সাধারণ মানুষ এখন তুলনামূলকভাবে স্বস্তিতে তেল পাচ্ছে এবং তেলবঞ্চনার কারণে সৃষ্ট অনিয়মগুলো ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসছে।

  • বিসিবি বাড়াল রানা-শরিফুলের পিএসএল এনওসি এক দিন

    বিসিবি বাড়াল রানা-শরিফুলের পিএসএল এনওসি এক দিন

    পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) খেলা দুই বাংলাদেশি পেসার—শরিফুল ইসলাম ও নাহিদ রানার জন্য অনাপত্তি পত্র (এনওসি) একদিন বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। পেশোয়ার জালমি ফ্র্যাঞ্চাইজি ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এর অনুরোধের প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে এই দুই পেসার পেশোয়ারের পরবর্তী ম্যাচ খেলতে আরেকদিন পাকিস্তানে থাকতে পারবেন।

    এর আগে বিসিবি সব বাংলাদেশি খেলোয়াড়কে পিএসএল খেলার জন্য ১২ এপ্রিল পর্যন্ত এনওসি দিয়েছিল। তবে পেশোয়ার জালমির আগামারি সূচি ও পিসিবির অনুরোধের কারণে দুজনের অবস্থান একদিন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। শৃঙ্খলগত কারণে তারা ১৪ এপ্রিল দেশে ফিরে জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দেবেন।

    অন্য দিকে, কয়েকদিন আগে চোট পাওয়ায় দেশে ফিরে গেছেন ব্যাটসম্যান পারভেজ হোসেন ইমন। মূলত কাঁধের লিগামেন্টে চোট পেরেছেন তিনি; তার জন্যের এনওসি যদিও ২১ এপ্রিল পর্যন্ত ছিল। বিসিবির ফিজিও জানিয়েছেন, সম্পূর্ণ সেরে মাঠে ফিরতে ইমনকে প্রায় তিন সপ্তাহ লাগতে পারে। আজ (রোববার) বিসিবির ফিজিওরা তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখবেন; তার পরই নির্ধারিত হবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে তাঁর খেলার সম্ভাবনা।

    ফর্ম ও পারফরম্যান্সের দিকে ফিরে দেখলে, রিশাদ হোসেন এবারের আসরে চার ম্যাচে মাত্র দুইটি উইকেট নিয়েছেন। পেশোয়ার জালমিতে শরিফুল-নাহিদের সঙ্গে পাওয়া গিয়েছিল তানজিদ হাসান তামিমেরও নাম; তবে বিদেশী ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে প্রথমবার গিয়ে কোনো ম্যাচের একাদশেই সুযোগ পাননি তিনি।

    ইমন লাহোর কালান্দার্সের হয়ে প্রথম দুই ম্যাচে ১২ ও ১৪ রানে আউট হলেও তৃতীয় ম্যাচে মাত্র ১৯ বলেই পাঁচটি ছক্কায় ৪৫ রান করেন। কিন্তু সেই ম্যাচের পরে চোট পাকাতে হওয়ায় তাকে আগেভাগেই বাড়ি ফিরতে হয়েছে।

    পেশোয়ার জালমির হয়ে শরিফুল শুরুতে প্রথম দুই ম্যাচে উইকেট না পেলেও পরের দুই ম্যাচে ফিরে দুইটি উইকেট পেয়েছেন। নাহিদের শুরুটা ছিল হতাশাজনক—প্রথম ম্যাচে তিন ওভারে ৩০ রান দিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল তাকে। তারপরের দুই ম্যাচে আগুনে বোলিং করে নাহিদ পাঁচটি উইকেট শিকার করেছেন। আর লাহোর কালান্দার্সের হয়ে ৫ ম্যাচ খেলে নিয়েছেন ৬ উইকেট।

  • আর্জেন্টিনার ৫৫ সদস্যের প্রাথমিক বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা

    আর্জেন্টিনার ৫৫ সদস্যের প্রাথমিক বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা

    মাত্র দু’মাস পরে শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে ট্রফি ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে ইতোমধ্যেই কোচ লিওনেল স্কালোনি তার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার একটি বড় ধাপ শেষ করেছেন।

    স্কালোনি আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে (এএফএ) মে মাসের ১১ তারিখের মধ্যে জমা দেওয়ার জন্য ৫৫ জনের একটি প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করে দিয়েছেন। এই প্রাথমিক তালিকা থেকে বেছে নেওয়া হবে চূড়ান্ত ২৬ জনের দল, যারা যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত হবে এমন বিশ্বকাপে আলবিসেলেস্তেদের হয়ে খেলবে। দেশটির গণমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস এই খবর নিশ্চিত করেছে।

    নতুন তালিকায় স্কালোনি কেবল বর্তমান তারকাদের ওপর ভরসা করছেন না; তরুণ ও ভবিষ্যৎ প্রতিভাদেরও সুযোগের জোর দিয়েছেন তিনি। সাম্প্রতিক প্রীতি ম্যাচের পরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কোচ নিজেই জানিয়েছিলেন যে এএফএকে ৫৫ জনের তালিকা ইতিমধ্যেই পাঠানো হয়েছে।

    চূড়ান্ত দলে প্রায় নিশ্চিত নামগুলোর মধ্যে রয়েছেন: এমিলিয়ানো মার্টিনেজ, গেরোনিমো রুল্লি, নাহুয়েল মলিনা, গনজালো মন্টিয়েল, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্টিনেজ, নিকোলাস ওতামেন্দি, নিকোলাস ট্যাগলিয়াফিকো, রদ্রিগো ডি পল, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, এনজো ফার্নান্দেজ, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, লিওনেল মেসি, লাউতারো মার্টিনেজ, জুলিয়ান আলভারেজ এবং নিকোলাস গনজালেজ।

    চূড়ান্ত দল ঘোষণার আগে এখনও চারটি আসনের জন্য তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে। বিশেষ করে:

    – তৃতীয় গোলরক্ষক: জুয়ান মুসো (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ) বর্তমানে ওয়াল্টার বেনিতেজের ওপর এগিয়ে রয়েছেন।

    – ব্যাকআপ লেফট-ব্যাক: মার্কোস অ্যাকুনা ও গ্যাব্রিয়েল রোজাস প্রধান দাবিদার; কোলো বার্কোও বিবেচনায় আছেন।

    – চতুর্থ সেন্টার-ব্যাক: মার্কোস সেনেসি ও ফ্যাকুন্দো মেদিনা লড়াই করছেন।

    – শেষ স্পটের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছে জিওভানি লো সেলসো (ফিটনেসের ওপর নির্ভরশীল), ভ্যালেন্টিন বার্কো, ফ্রাঙ্কো মাস্তান্তুয়োনো, জিয়ানলুকা প্রেস্টিয়ান্নি ও ম্যাক্সিমো পেরোনি।

    প্রাথমিক তালিকায় অনেক অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ও রয়েছেন, যদিও তাদের ফর্ম বর্তমানে তুলনামূলক কম বলেও মূল্যায়ন করা হচ্ছে। তাছাড়া কিছু তরুণ বিকল্পকে বিশেষ পজিশনে পরীক্ষা করা হয়েছে, যাতে চোট বা খারাপ কাজের দিনে বিকল্প পাওয়া যায়।

    বিশ্বকাপ শুরুর আগে মাত্র দু’মাস সময় থাকায় খেলোয়াড়দের ফর্ম ও ফিটনেস নিয়েই শেষ সিদ্ধান্ত নেবেন স্কালোনি। প্রতিপক্ষের কঠিন লড়াই ও নিজেদের প্রতিরক্ষায় শক্ত ভূমিকা রেখে আর্জেন্টিনা যত দ্রুত সম্ভব শক্ত দলে পরিণত হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।

  • রুনা লায়লা: ‘এমন শিল্পী আর জন্মাবে না’, আশা ভোঁসলের প্রয়াণে কষ্ট

    রুনা লায়লা: ‘এমন শিল্পী আর জন্মাবে না’, আশা ভোঁসলের প্রয়াণে কষ্ট

    ভারতের কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী আশা ভোঁসলে রোববার চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুনিয়া থেকে প্রস্থান করেছেন। মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ১২ এপ্রিল ৯২ বছর বয়সে তাঁর অন্ত্যেষ्टि নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সংবাদটি প্রকাশ্যে আসার সঙ্গে সঙ্গে সংগীতাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমেছে এবং বহু শিল্পী ও শ্রোতা শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।

    রবিবারই উপমহাদেশের প্রসিদ্ধ শিল্পী রুনা লায়লা আশা ভোঁসলের প্রয়াণে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর বড় বড় দুইজন কিংবদন্তি শিল্পী পরপর চলে গেলেন। লতা মঙ্গেশকর দিদি ২০২২ সালে যাওয়ার পর আর আশা দিদিও চলে গেলেন। এমন শিল্পী আর এই পৃথিবীতে জন্মাবে না। আমার কাছে মনে হচ্ছে, আমার পৃথিবীটাই শূন্য হয়ে গেছে।’

    রুনা লায়লা ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ করে জানান, ‘তারা দুজনেই আমাকে ভীষণ স্নেহ করতেন—মায়ের মতোই। এই কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।’ তিনি বলেন, তাঁর শেষ সাক্ষাৎ ছিল নিজের সুর করা গান ‘চলে যাওয়া ঢেউগুলো আর ফিরে আসেনি’ রেকর্ডিংয়ের সময়। পরে তারা ফোনে যোগাযোগ রেখেছিলেন, কিন্তু কিছুদিন ধরে তিনি ভাবতেন আবার কথা বলবেন—‘‘আজ করব, কাল করব’’—এভাবেই শেষ দেখা ও শেষ কথাগুলো আর হলো না।

    রুনা আরও বলেন, ‘যদি তখনি ফোন করে দিতাম, হয়তো আজ এই আফসোসটা এত গভীর হতো না। নিজের ভেতরে খুব কষ্ট হচ্ছে—এ কষ্ট সত্যিই ভাষায় বলা সম্ভব নয়।’

    আশাকে শনিবার সন্ধ্যায় বুকে ব্যথা নিয়ে ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখলেও শেষ পর্যন্ত তিনি ফিরে আসেননি। টানা সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারতীয় সংগীত বিশ্বে অদ্বিতীয় প্রতিভা হিসেবে তিনি রাজত্ব করেছেন—হাজার হাজার গান এবং অগণিত কালজয়ী সুরের মাধ্যমে তিনি কয়েক প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেছেন। তাঁর প্রয়াণে একটি সোনালি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে, যা সংগীতবিশ্ব বহুদিন মনে রাখবে।