Blog

  • 17 বছর পর বাংলাদেশের টেস্টে তাসকিনের ব্যক্তিগত অর্জন

    17 বছর পর বাংলাদেশের টেস্টে তাসকিনের ব্যক্তিগত অর্জন

    বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে একটি নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে আজ। দীর্ঘ ১৭ বছরের অপেক্ষার পর অবশেষে একজন পেস বোলার টেস্টে ৫০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করলেন। তিনি হলেন তাসকিন আহমেদ, যিনি দেশের তৃতীয় পেসার হিসেবে এই কীর্তি গড়লেন।

    ঢাকা টেস্টের দ্বিতীয় দিন তাসকিনের পারফরম্যান্স দেখে অনেকেরই মনে হয়েছিল, শরীর হয়ত পুরোপুরি সতেজ নয়। রান-আপে ক্লান্তি, গতি কমে যাওয়া ও ধারহীন স্পেল—সব মিলিয়ে একদমই স্বাভাবিক ছিল না তার মনোভাব। তবে পরের দিন সকালে তিনি সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে ফিরে আসলেন, দেখালেন পরিকল্পনা, ধৈর্য্য ও অভিজ্ঞতার জয়। গতি বা বাউন্সে অগ্নিশিখা না ছড়িয়ে, ব্যাটারদের চাপের মধ্যে রাখতে সক্ষম হয়েছেন নিরবচ্ছিন্নভাবে। জোড়া উইকেট নিয়েছেন, আর যদি নো-বলের দুর্ভাগ্য না থাকত, তাহলে আরও একটি উইকেট তুলে নেওয়ার সুযোগও থাকত।

    ২০০৯ সালে মাশরাফি বিন মুর্তজা ও শাহাদাত হোসেন প্রায় সেসময়ই এই মাহফিলে পৌঁছেছিলেন। এরপর আর কেউ এই স্বীকৃতি পাননি। সময়ের সাথে সাথে অধিনায়ক বদলেছে, নতুন প্রজন্ম এসেছে, কিন্তু পেস আক্রমণে ৫০ উইকেটের সংখ্যাটা ছিল অধরা। আজ তাসকিন সেই অপেক্ষা শেষ করেছেন।

    বিশ্ব ক্রিকেটের পরিসংখ্যানে ৫০ উইকেট খুব বড় কোনো মানদণ্ড না হলেও, বাংলাদেশের জন্য এটি এক বিশাল অর্জন। ২৬ বছর দীর্ঘ টেস্ট ইতিহাসে মাত্র তিনজন পেসার এই মাইলফলকে পৌঁছেছেন। তাসকিন করেছেন মাত্র ১৮ টেস্টে, যেখানে মাশরাফি লেগেছিল ১৯টি এবং শাহাদাতের প্রয়োজনে ছিল ২১টি। মাশরাফি ক্যারিয়ার শেষ করেছেন ৭৮ উইকেট নিয়ে, শাহাদাতের সংগ্রহ ছিল ৭২।

    এখন দেখা হচ্ছে, কি তাসকিন আরও কি পারবেন? কি পারবেন আরও ৫০ বা ১০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করতে? বয়স এখন ৩১, পথটা বেশ কঠিন হলেও অসম্ভব নয়—প্রেরণা ও মনোবল থাকলেই এই লক্ষ্য পূরণ সহজ হবে।

  • বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট দল ঘোষণা, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শুরু

    বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট দল ঘোষণা, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শুরু

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের মূল আসর হিসেবে অনুষ্ঠিতব্য আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য ১৫ সদস্যের নারী ক্রিকেট দল ঘোষণা করেছে। এই দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন নিগার সুলতানা জ্যোতি, যিনি দলের অধিনায়ক থাকবেন। পাশাপাশি সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করবেন নাহিদা আক্তার।

    বিশ্বকাপের জন্য ঘোষিত এই স্কোয়াডে শারমিন সুলতানার জায়গা হয়নি। তার পরিবর্তে দলে ফিরেছেন তাজনেহার, যিনি এখন পর্যন্ত মোট আটটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ৪৪ রান করেছেন। সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে, তার নির্বাচনের মূল কারণ হলো একাধিক পজিশনে ব্যাট করতে পারার ক্ষমতা—অর্থাৎ তিনি এক থেকে ছয় নম্বর পজিশনে স্বাচ্ছন্দ্যভাবে খেলতে পারেন।

    বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে, বাংলাদেশ নারী দল আগামী ২৫ মে স্কটল্যান্ডের এডিনבורে উড়াল দেবে। সেখানে তারা স্বাগতিক স্কটল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে একটি ত্রিদেশীয় সিরিজ, যা তাদের জন্য প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

    ত্রিদেশীয় সিরিজ শেষ হওয়ার পর, টাইগ্রেসরা যাবে ইংল্যান্ডের লংবরোতে। সেখানে তারা বিশ্বকাপের জন্য আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে, যেখানে মূল লক্ষ্য হলো কন্ডিশনে মানিয়ে নেওয়া এবং আসরের জন্য সেরা সমন্বয় গড়ে তোলা।

    আগামী ১৪ জুন এজবাস্টনে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটাররা নিজেদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে। এই বৈশ্বিক আসরে ভালো পারফরম্যান্সের আশা করছে বিসিবি, এবং তাই দলটি গঠন করেছে অভিজ্ঞ এবং তরুণ ক্রিকেটারদের সমন্বয়ে।

    বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের স্কোয়াডে থাকছেন: নিগার সুলতানা জ্যোতি (অধিনায়ক), নাহিদা আক্তার (সহ-অধিনায়ক), শারমিন আক্তার সুপ্তা, সোবহানা মোস্তারি, স্বর্ণা আক্তার, রিতু মনি, রাবেয়া খান, ফাহিমা খাতুন, ফারিহা ইসলাম তৃষ্ণা, মারুফা আক্তার, সানজিদা আক্তার মেঘলা, সুলতানা খাতুন, দিলারা আক্তার, জুরাইরিয়া ফেরদৌস এবং তাজনেহার।

  • মিরাজের পাঁচ উইকেটে বাংলাদেশের দৃঢ এগিয়ে থাকা

    মিরাজের পাঁচ উইকেটে বাংলাদেশের দৃঢ এগিয়ে থাকা

    বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসের জবাবে পাকিস্তান শুরুটা দুর্দান্ত করে। প্রথমে ওপেনার আজান অভিষেকের প্রথম ইনিংসেই ক্যারিয়ার সেঞ্চুরি করে ৮৫ রানে অপরাজিত থাকেন। ১৫৩ বলের মোকাবেলায় ১৪ চার হাঁকিয়ে জীবনবৃত্তান্তে এই বিরল সাফল্য তুলে আনেন তিনি। তবে এর কিছু সময় পরেই পাকিস্তানকে প্রথম সুরঞ্জনা দেন পেসার তাসকিন আহমেদ, তাকে ফিরিয়ে দিয়ে বাংলাদেশের দলের জন্য প্রথম ব্রেকথ্রু সৃষ্টি করেন। আজানের ১৬৫ বলের ইনিংস ছিল ১০৩ রান, যেখানে ১৪টি চারে তিনি নিজের ব্যাটিংয়ের দক্ষতা দেখিয়ে যান।

    এরপর দলের দ্বিতীয় অর্ধেকের শুরুতে, ২১ বছর বয়সী এই ব্যাটার দ্রুত ৫০ পেরিয়ে যান। পরবর্তীতে তিনি ৬০ রান করে সাদমানের ক্যাচে পরিণত হন। এরপরই পাকিস্তানি গ্রুপে কিছুটা ধস নামে, কারণ বাংলাদেশ দ্রুত তিন উইকেট হারায়। অধিনায়ক শান মাসুদ (৯) ও সৌদ শাকিলকে (শূন্য) তুলে নেওয়া হয় তাসকিনের হাত ধরে।

    অভিষেকের পর ফজল মাসুদ ৬০ রান করে মারাত্মক উদ্বেগ সৃষ্টি করেন, যদিও এরপর তাকে মেহেদী হাসানের বলেই আউট করা হয়। এই সময়ে, পঞ্চম ব্যাটার হিসেবে পাকিস্তানি ফজল ১০৩ রান করে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

    পাকিস্তান ১ উইকেটে ২১০ রান সংগ্রহ করে, কিন্তু এরপরই তারা ব্যাটিং ধস নামে। সালমান আগা ও রিজওয়ান দলের পক্ষে লড়াই চালিয়ে যান। ষষ্ঠ উইকেটে দুজনের যোগফল ১১৯ রান, যেখানে রিজওয়ান ৫৯ এবং সালমান ৫৮ রান করেন।

    অবশেষে, বাংলাদেশের স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ তার দুর্দান্ত ফাইফোলে পাকিস্তানের ৫ উইকেট শিকার করেন, যার ফলে পাকিস্তান ২৩০ রানেই অলআউট হয়। এই জুটির মাধ্যমে তারা বেশ আরামদায়ক লিড নিয়েছেন, অন্তত ২৭ রান।

    বাংলাদেশের জন্য মূল অবদান রাখেন শান্ত (১০১), মুমিনুল হক (৯১) ও মুশফিকুর রহিম (৭১)। পাকিস্তানের পক্ষে ৫ উইকেট নেন মুহাম্মদ আব্বাস। এই কার্যদক্ষতা ও দলের পারফরম্যান্সের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ইতিমধ্যে একটি দৃঢ় অবস্থানে পৌঁছে গেছে, যার ফলে পরিস্থিতি এখন তাদের পক্ষে রয়েছে।

  • বাংলাদেশ কেন বিশ্বকাপ খেলেনি, খতিয়ে দেখতে মন্ত্রণালয়ের কমিটি গঠন

    বাংলাদেশ কেন বিশ্বকাপ খেলেনি, খতিয়ে দেখতে মন্ত্রণালয়ের কমিটি গঠন

    সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করতে পারেনি বাংলাদেশ। এ বিষয়ে নানা আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় বয়েছে। এ পরিস্থিতিতে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বিষয়টি বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। এই জন্য ক্রীড়া মন্ত্রণালয় তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন অণুবিভাগ) কেএম অলিউল্ল্যাকে। সাথে রয়েছেন সাবেক জাতীয় দলের অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমন এবং আইনজীবী ফয়সালা দস্তগীর। এই তিন সদস্যের কমিটিকে নিযুক্ত করা হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কেন অংশগ্রহণ করেনি, তার কারণ খুঁজে বের করার দায়িত্ব। আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তারা প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব অংগ্যজাই মারমা এই অফিস আদেশ স্বাক্ষর করেছেন।

  • শেষ দিনের উত্তেজনার জন্য প্রস্তুত মিরপুর টেস্ট

    শেষ দিনের উত্তেজনার জন্য প্রস্তুত মিরপুর টেস্ট

    চতুর্থ দিন শুরুতেই বাংলাদেশের দুই ওপেনার সুবিধা করতে না পারলেও, সংশ্লিষ্ট কৌশলে এগিয়ে যান অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল হক। তাদের দুর্দান্ত জুটি ম্যাচের পরিস্থিতি বদলে দেয় এবং পরিস্থিতি তাদের পক্ষে এগিয়ে নেয়। তবে বড় সংগ্রহের লক্ষ্য থাকলেও বৃষ্টির কারণে দিনের দ্বিতীয় সেশনটি সম্পূর্ণই বাতিল হতে বাধ্য হয়। চা বিরতির পর খেলা চালু হলেও আলো কম থাকায় নির্ধারিত সময়ের আগেই খেলা শেষ করতে হয় আম্পায়ারদের, ফলে ম্যাচটি গড়ায় পঞ্চম দিনের দিকে।

    চতুর্থ দিন শেষে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৫২ রান, যেখানে তারা এখন ১৭৯ রানের লিড পেয়ে গেছে। এর আগের দিন বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৪১৩ রান সংগ্রহ করে, আর পাকিস্তান অলআউট হয় ৩৮৬ রানে।

    দিনের শুরুতে ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় (৫) ও সাদমান ইসলাম (১০) কিছুটা চাপের মধ্যে পড়লেও, পরে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল হক দুর্দান্ত শুরুর ধারাবাহিকতা ধরে রাখেন। তারা ১০৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে পরিস্থিতি বাংলাদেশে ফেরান। ব্যক্তিগত হাফ-সেঞ্চুরি পূরণ করেন দুজনই। তবে ১২৮ রানে আমিরের বলেই মুমিনুল হক ৫৬ রান করে আউট হলে জুটি ভেঙে যায়।

    এ ছাড়া, এই ইনিংসসহ টেস্টে গত পাঁচ ইনিংসে টানা হাফসেঞ্চুরির রেকর্ড করেন মুমিনুল, এর আগে এমন কীর্তি গড়েছিলেন তামিম ইকবাল, যিনি ২০১০ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মার্চ থেকে জুনের মধ্যে টানা পাঁচ ইনিংসে পঞ্চাশোর্ধ রান করেছিলেন। সেই সময়ে লর্ডস ও ম্যানচেস্টারে তার দুটো অসাধারণ সেঞ্চুরি ছিল।

    মুমিনুল আউট হওয়ার পরে, অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ১০৬ বলে ৫৮ রান করে অপরাজিত থাকেন, আর তার সাথে ১৬ রানে অপরাজিত রয়েছেন অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম।

    প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ৪১৩ রান করে, যেখানে শান্ত ১০১, মমিনুল ৯১ এবং মুশফিক ৭১ রান করেন। উত্তর এ ব্যাটিং করে পাকিস্তান তাদের প্রথম ইনিংসে ৩৮৬ রানে অলআউট হয়। অভিষিক্ত আজান আওয়াইস ১০৩-এর সেঞ্চুরি ও আব্দুল্লাহ ফজল ৬০-এর হাফসেঞ্চুরি করেন, তবে মেহেদী হাসান মিরাজের ৫ উইকেটের কারণে বড় লিড নিতে পারেনি পাকিস্তান। ফলে, প্রথম ইনিংস শেষে বাংলাদেশ ২৭ রানের লিড নেয়।

    চতুর্থ দিন শেষে ১৭৯ রানের লিড নিয়ে বাংলাদেশের দখলদারিত্ব স্পষ্ট হয়ে গেছে, আর পঞ্চম দিন তারা দ্রুত রান সংগ্রহ করে বড় লক্ষ্য তৈরি করতে চায়। এই ম্যাচে তাদের লক্ষ্য হবে পাকিস্তানের সামনে বড় সংগ্রহ তুলে ধরা। চণ্ডিকা হাথুরুসিংহের শিষ্যরা শেষ দিনে অপেক্ষায় থাকবেন দ্রুত কিছু রান তুলে মনোযোগ দেয়ার জন্য, যেন সম্ভব হয় জয় ছিনিয়ে নেয়া ও ম্যাচ জয়।

  • যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বশান্তির জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি: ইরান

    যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বশান্তির জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি: ইরান

    ইরান আবারও যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। সম্প্রতি তেহরানের পক্ষ থেকে এক যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব দেওয়ার পর, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তা প্রত্যাখ্যান করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই প্রতিক্রিয়া জানায়।

    ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি ও তাদের সামরিক স্থাপনা সহিংসতা ও দাদাগিরির চক্র সৃষ্টি করছে, যা অঞ্চলটিতে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছে। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবি অযৌক্তিকভাবে উপস্থাপন করছে, যেখানে এর বিপরীতে ইরানের দাবিগুলো হলো—অবরোধ তুলে নেওয়া, ইরানের সম্পদ মুক্তি দেওয়া এবং যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা।

    বাঘাই বলেন, ‘ইরান নিজেকে একটি দায়িত্বশীল আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে প্রমাণ করে আসছে। আমরা কোনো দাদাগিরি করছি না; বরং দাদাগিরির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিচ্ছি।’ তিনি বিস্তারিতভাবে ইরানের দাবিগুলোর তালিকা তুলে ধরেন, যেখানে রয়েছে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা, দেশের অর্থনৈতিক অবরোধ প্রত্যাহার করা এবং পুরো অঞ্চলে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা।

    ইরানের এই যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবকে উদার ও দায়িত্বশীল বলে অভিহিত করে বাঘাই বলেন, বর্তমানে হরমুজ প্রণালি অবরোধের ফলে সাময়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তার নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এর পরিপ্রেক্ষিতে, ইরান লেবাননসহ অন্যান্য এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সংকল্পবদ্ধ। তিনি ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান, হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানো বা অবরোধে সহায়তা দেওয়া থেকে বিরত থাকার। বাঘাই জানান, ‘যদিও এই যুদ্ধের ফলে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত, তবে এটি শুধুমাত্র অনৈতিক নয়, বরং অবৈধও।

    তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলই ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন সৃষ্টি করছে। ইউরোপীয় দেশগুলোর উচিত নয় এই ফাঁদে পা দেওয়া। সকলের জন্য শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বৈশ্বিক শক্তিগুলোর দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

    সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

  • লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ তিনজনের মৃত্যু

    লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ তিনজনের মৃত্যু

    লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের নাবাতিহ জেলা জেবদিনের একটি বাড়িতে ইসরায়েলের ড্রোন হামলায় দুই বাংলাদেশি শ্রমিকসহ তিন জন নিহত হয়েছেন। নিহত অপর একজন সিরীয় নাগরিক। এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম লরিয়েন্ট টুডে, যা সোমবার (১১ মে) প্রকাশিত হয়েছে। তবে এই রিপোর্টে বাংলাদেশের শ্রমিকদের নাম বা পরিচয় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। জানা গেছে, নিহতরা 모두 ওই এলাকায় শ্রমিকের কাজ করছিলেন।

    এই হামলার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে, যেখানে যুদ্ধবিরতিসত্ত্বেও ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও ধ্বংস চালিয়ে যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই আক্রমণটি গতকালই অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    এর জবাবে, লেবাননের শক্তিশালী শত্রু ও সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। তারা আজও ইসরায়েলি সেনাদের বিরুদ্ধে ড্রোন হামলা করেছে।

    উল্লেখ্য, ১৬ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। তবে এরপরও ইসরায়েলি সেনারা বিভিন্ন সময় তা অমান্য করে দক্ষিণ লেবাননে সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি, স্থাপনাবিষয়ক ক্ষয়ক্ষতি চালিয়ে যায়, পাশাপাশি হিজবুল্লাহর সদস্যদের লক্ষ্য করে হামলা চালাতে থাকে। এর জবাবে হিজবুল্লাহও পাল্টা হামলা করছে, ফলে পরিস্থিতি ক্রমশ অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে।

  • জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানালেন ঈদুল আযহা কবে হবে

    জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানালেন ঈদুল আযহা কবে হবে

    মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দ دبيয়ে আগামী ১৭ মে পবিত্র জিলহজ মাসের নতুন চাঁদ দেখার জন্য একটি বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। এই উদ্যোগটি দেশটির ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড চ্যারিটেবল অ্যাক্টিভিটিজ ডিপার্টমেন্টের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হবে। গালফ নিউজের খবরে জানা গেছে, এই অনুষ্ঠানে জ্যোতির্বিজ্ঞানের আধুনিক প্রযুক্তি এবং শরিয়া-ভিত্তিক চাঁদ দেখা পদ্ধতিকে একত্রিত করে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে চাঁদ দেখার চেষ্টা করা হবে। ড. হামাদ মোহাম্মদ সালেহ, বিভাগটির টাইমিং অ্যান্ড ক্রিসেন্ট অবজার্ভেশন শাখার প্রধান এবং দুবাই চাঁদ দেখা কমিটির উপ-সভাপতি, জানান যে, এই পরীক্ষাটি মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ যেখানে আধুনিক জ্যোতির্বিদ্যাবিজ্ঞানের সাহায্যে ঈদুল আযহার সময় নির্ধারণ করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে সুন্নাহর মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং চাঁদ দেখার আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি হবে। দেশটির সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে পরিবারের সঙ্গে থাকা শিশু ও তরুণরা এতে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

    অপরদিকে, আরবী বর্ষের শেষ মাস জিলহজ। এই মাসের দশম দিনে মুসলিমরা ঈদুল আযহা উৎসব উদযাপন করে থাকেন। আরব ইউনিয়ন ফর অ্যাস্ট্রোনমি এন্ড স্পেস সায়েন্সেসের সদস্য ইব্রাহিম আল জারওয়ান অনুসারে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সময় অনুযায়ী রোববার (১৭ মে) মধ্যরাত ১২টা ১ মিনিটে নতুন চাঁদ দেখা সম্ভব হবে। তাই সম্ভাব্যভাবে, জিলহজ মাসের প্রথম দিন হবে সোমবার (১৮ মে)। এই হিসাব অনুযায়ী, আরাফার দিন অর্থাৎ জিলহজ ৯ তারিখ পড়বে আগামী মঙ্গলবার (২৬ মে), এবং ঈদুল আযহা পালন হতে পারে বুধবার (২৭ মে)।

  • ইরানে হামলার সম্ভাবনা নিয়ে ট্রাম্পের সতর্কতা

    ইরানে হামলার সম্ভাবনা নিয়ে ট্রাম্পের সতর্কতা

    ইরানকে কেন্দ্র করে সক্রিয় উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানে হামলার কথা চিন্তা করছেন বলে মনে করা হচ্ছে। সোমবার (১২ মে) বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেশ কয়েকটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়, এই মুহূর্তে হামলার ভাবনা তার মনোযোগে ফিরে এসেছে, যা আগের তুলনায় বেশি সিরিয়াস।

    সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছেন, ট্রাম্প ইরানের সাথে চলমান আলোচনায় অচলাবস্থা দেখে হতাশ হয়ে পড়েছেন। পাশাপাশি, হরমুজ প্রণালির বন্ধ থাকায় তার মধ্যে ধৈর্য্য হারানোর প্রবণতা দেখা দিয়েছে। তার মতে, ইরানি নেতার মধ্যকার বিভাজনের কারণে পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে তারা কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না।

    আরেকটি সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছেন, ইরান যখন যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাবে অপ্রত্যাশিতভাবে জবাব দিচ্ছে, তখন তার মানে হলো তাদের মধ্যে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে—তাহলে কি তারা সত্যিই আলোচনায় আগ্রহী? এই পরিস্থিতিতে কিছু সূত্র বলছে, মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক অংশ আবারও ইরানের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনা নিচ্ছে। তাদের মতে, এই পদক্ষেপে ইরানকে দুর্বল করে দেওয়া যেতে পারে, যা পরবর্তীতে তারা আলোচনা টেবিলে বসতে রাজি হবে। তবে অন্য একটি পক্ষ বলছে, সময় নিয়ে কূটনীতি চালিয়ে যাওয়া উচিত।

    এছাড়াও, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কর্মকর্তারা পাকিস্তানের মধ্যস্ততা প্রক্রিয়ার ধরন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তারা মনে করছেন, ট্রাম্প ইতিবাচক কথাগুলোই বেশি প্রকাশ করছেন, যখন বাস্তবে ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের মধ্যে কিছু গোপন দ্বিধা লুকানো। তারা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন, পাকিস্তান হয়তো ইরানের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে যে, ট্রাম্প কোনটা সত্য এবং কোনটা নয়, তা স্পষ্ট নয়।

    অবশেষে, তারা মনে করেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি যা কিছু বলে, তার মধ্যে শুধুমাত্র ইতিবাচক কথাগুলোই তারা প্রকাশ করছে, যা সত্যের সঙ্গে মিলে না। এতে করে মিথ্যা বা ভান করে থাকা কথাগুলোর খোলাখুলি সত্যতা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

  • মার্কিন ও ফরাসি নাগরিকের শরীরে হান্টাভাইরাস শনাক্ত

    মার্কিন ও ফরাসি নাগরিকের শরীরে হান্টাভাইরাস শনাক্ত

    বিশ্বের বিভিন্ন দেশের যাত্রীরা নিয়ে আটলান্টিক মহাসাগরে ভ্রমণে বের হওয়া প্রমোদতরী ‘এমভি হন্ডিয়াস’ হান্টাভাইরাসের প্রকোপে আক্রান্ত হওয়ার খবর প্রকাশ পেয়েছে। এই পরিস্থিতি এখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং সংশ্লিষ্ট দেশের authorities বা কর্তৃপক্ষগুলোকে আরও কঠোর সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেছে।

    এক মাস আগে আর্জেন্টিনা থেকে যাত্রা শুরু করা এই বিলাসবহুল ক্রুজজাহাজে থাকা এবং এর পরের বিভিন্ন ভ্রমণের ফলস্বরূপ এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হয়েছে যে তিনজন যাত্রীর মৃত্যুও হয়েছে। এক ডাচ দম্পতি এবং এক জার্মান নারীর মৃত্যুর তথ্য ডব্লিউএইচও নিশ্চিত করেছে।

    ভাইরাসটির সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকে যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ আফ্রিকা, নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাষ্ট্র ও সুইজারল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে ফিরে গেছেন।

    বিশেষ করে, এই ভাইরাসের সংক্রমণ এখন মার্কিন ও ফরাসি নাগরিকের শরীরে শনাক্ত হয়েছে, যারা জাহাজ থেকে নিজ দেশে ফেরার পথে ছিলেন। মার্কিন স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, এই ব্যক্তিদের মধ্যে একজনের শরীরে হালকা উপসর্গ দেখা যাচ্ছে, তবে অতিরিক্ত সতর্কতার জন্য উভয়কে বায়োকন্টেইনমেন্ট সেন্টারে রাখা হয়েছে।

    অন্যদিকে, ফরাসি স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্টেফানি রিস্ট জানিয়েছেন, প্যারিসে এক নারী আইসোলেশনে রয়েছেন এবং তার স্বাস্থ্যের অবনতি হচ্ছে। এ ছাড়া তার সংস্পর্শে আসা ২২ জনও শনাক্ত করা হয়েছে।

    কীভাবে এই ভাইরাস মানুষের মধ্যে ছড়াচ্ছে?

    ১ এপ্রিল আর্জেন্টিনার উশুয়াইয়া থেকে ‘এমভি হন্ডিয়াস’ যাত্রা শুরু করে। এই ক্রুজটি ওশেনওয়াইড এক্সপেডিশনসের দ্বারা পরিচালিত।জাহাজটি ব্রিটিশ শাসিত দক্ষিণ জর্জিয়া অঞ্চলে যাওয়ার উদ্দেশ্য ছিল এবং এই পথে যাত্রীদের আটলান্টিকের একদম অদেখা ও দুঃসাহসিক কিছু অঞ্চলের মাধ্যমে ভ্রমণ করার পরিকল্পনা ছিল।

    প্রাথমিকভাবে প্রায় ১৫০ জন যাত্রী ও ক্রু এই জাহাজে ছিল, তাদের মধ্যে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফিলিপিন্স, রাশিয়া এবং ইউরোপের নাগরিকরা অন্তর্ভুক্ত।

    ১১ এপ্রিল এক ডাচ নাগরিকের মৃত্যু ঘটে, তবে তার মৃত্যুর কারণ শেষে জানা যায়নি। এর পরে, ২৪ এপ্রিল তার স্ত্রীর মরদেহ জাহাজ থেকে নামানো হয় এবং তাকে দক্ষিণ আফ্রিকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জোহানেসবার্গের একটি হাসপাতালে তিনি মারা যান। এই মৃত্যুর সূত্রে জানা যায়, ওই নারী হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন।

    এরপর, ২ মে আরও একজন জার্মান নাগরিকের মৃত্যুর খবর আসে, ফলে মোট মৃতের সংখ্যা তিনে পৌঁছায়।

    বুধবার নিশ্চিত করা হয়, জাহাজের দুই ব্যক্তির শরীরে অ্যান্ডিস স্ট্রেইন ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে, যা সংস্পর্শে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে ছড়াতে সক্ষম। এছাড়া, জাহাজটি সেন্ট হেলেনার নৌবন্দরে নোঙর থাকার সময় কিছু যাত্রী ও ব্রিটিশ নাগরিকরা মাটি ছুঁয়েছেন, যাদের সঙ্গেও যোগাযোগ হয়েছে।

    জাহাজটির কার্যক্রম চলাকালে, নেদারল্যান্ডসের দুই বিশেষজ্ঞসহ অন্যান্য চিকিৎসকদের উপস্থিতির আশা করা হচ্ছে। তারা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে চলেছেন।

    বর্তমানে, এই প্রমোদতরী স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের দিকে যাত্রা করছে, যেখানে কিছু সময় নোঙর করে থাকছে।

    হান্টাভাইরাস কি?

    হান্টাভাইরাস এমন এক ধরনের ভাইরাস, যা মূলত ইঁদুরের দেহে থাকে। ইঁদুরের শুকনো মল, প্রস্রাব বা লালা থেকে ছড়িয়ে পড়ে বাতাসের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। অধিকাংশ সংক্রমণই হয় ভাইরাসের আণবিক কণার বায়ুপ্রবাহের মাধ্যমে।

    যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) বলছে, ইঁদুরের প্রস্রাব, মল বা লালা থেকে ভাইরাসটি বাতাসে ছড়াতে পারে, যা মানুষের শ্বাস নেয়ার মাধ্যমে সংক্রমিত হয়। বিরল ক্ষেত্রে, ইঁদুরের কামড় বা আঁচড় থেকেও এই ভাইরাস সংক্রমিত হতে পারে।

    এই ভাইরাস দুটি গুরুতর রোগ সৃষ্টি করে: প্রথম, হান্টাভাইরাস পালমোনারি সিনড্রোম (এইচপিএস), যেখানে শুরুতে জ্বর, ক্লান্তি, পেশিতে ব্যথা দেখা দেয়, পরে মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, পেটের সমস্যা হয় এবং শ্বাসকষ্টের কারণে মৃত্যুও হতে পারে। শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত উপসর্গে মৃত্যুর হার প্রায় ৩৮ শতাংশ।

    দ্বিতীয়, হেমোরেজিক ফিভার উইথ রেনাল সিনড্রোম (এইচএফআরএস), যা কিডনির জন্য বেশি ক্ষতিকর, এতে রক্তচাপ কমে যায়, অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হয় এবং কিডনি বিকল হতে পারে।