Blog

  • জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় স্থগিত পোশাক খাতের ক্রয়াদেশ, উদ্বেগ বাড়ছে

    জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় স্থগিত পোশাক খাতের ক্রয়াদেশ, উদ্বেগ বাড়ছে

    দেশে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকটকে ঘিরে বিদেশি ক্রেতারা নতুন ক্রয়াদেশ স্থগিত করায় তৈরি পোশাক খাতে উদ্বেগ বাড়ছে। বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম (পারভেজ) চৌধুরী বুধবার এনবিআরের সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় এই তথ্য জানান।

    তিনি বলেন, আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে জ্বালানি পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে—এমন আশঙ্কায় বহু বিদেশি ক্রেতাই বাংলাদেশে অর্ডার দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক ভূমিকা নিচ্ছেন। এর ফলে রপ্তানি-ভিত্তিক অর্থодержনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

    আনোয়ার-উল আলম আরও জানান, বিশ্ববাজারের অস্থিরতা এবং দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা বেড়েছে। বিশেষ করে জুলাই ও আগস্ট মাসে বিতরণযোগ্য অনেক ক্রয়াদেশ ইতোমধ্যেই ধীরগতিতে পড়েছে। কিছু বড় ক্রেতা নেতিবাচক সঙ্কেত দিচ্ছে এবং কয়েকটি অর্ডার ভারতসহ অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়ার প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশে অবস্থিত ক্রেতাদের স্থানীয় অফিসগুলো পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও তাদের প্রধান সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্তারা নতুন অর্ডার দেওয়ার ক্ষেত্রে পিছিয়ে যাচ্ছেন। এটি রপ্তানি খাতের টেকশীলতা ও বিদেশী মুদ্রা আয়ের ওপর সরাসরি চাপ সৃষ্টি করছে।

    প্রাক-বাজেট আলোচনায় বিসিআই সভাপতি বর্তমান কর কাঠামোও ব্যবসাবান্ধব নয় বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, লাভ-লোকসান নির্বিশেষে এক শতাংশ হারে ন্যূনতম কর পরিশোধের বাধ্যবাধকতা অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে, বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে। মুনাফা না থাকলেও কর দিতে হচ্ছে, যা অনেকের জন্য অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাকে কঠিন করে তুলছে।

    তাই তিনি ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস ও রপ্তানি আয়ের ওপর উৎস কর কমানোর প্রস্তাব দেন। তবে এনবিআর চেয়ারম্যান মোঃ আবদুর রহমান খান সূত্রের এই প্রস্তাব নাকচ করেছেন বলে আলোকপাত করা হয়।

    আয়কর আইন ২০২৩-এর ১৪৭ ধারা প্রসঙ্গে তিনি উদ্বেগ ব্যক্ত করে বলেন, কর যাচাইয়ের নামের সামনে কোনো প্রতিষ্ঠানকে তাদের কম্পিউটার সিস্টেম বা নথিপত্র জব্দ করার অনিয়ন্ত্রিত ক্ষমতা ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। এতে ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

    প্রাক-বাজেট আলোচনায় ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) ব্যাংক আমানতের মুনাফার ওপর উৎস কর ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার এবং নিট সম্পদের ওপর আরোপিত সারচার্জ ধাপে ধাপে বাতিলের দাবি জানান। তারা সরকারের প্রতি করের বোঝা বাড়িয়ে ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত না করে সহায়ক কর কাঠামো গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

    শিল্পশিল্পীদের মত, যদি জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল না করা হয় এবং কর কাঠামো সহজীকরণ না করা হয়, তাহলে দেশের রপ্তানি খাতের প্রতিযোগী সক্ষমতা আরও দুর্বল হয়ে পড়বে। তারা বলছেন—তৎক্ষণাত ব্যবস্থা না নিলে চাকচিক্যময় অথচ নাজুক এই সেক্টরের ওপর চাপ বাড়তেই থাকবে।

    সেক্টরের প্রতিনিধিরা সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, কর নীতি আরও ব্যবসা-বান্ধব করা এবং রপ্তানি আদেশ ধরে রাখার জন্য কার্যকর সমাধান দাবি করেছেন।

  • এপ্রিলের প্রথম ২২ দিনে রেমিট্যান্স পৌঁছেছে ২.৪২ বিলিয়ন ডলার

    এপ্রিলের প্রথম ২২ দিনে রেমিট্যান্স পৌঁছেছে ২.৪২ বিলিয়ন ডলার

    রেমিট্যান্স প্রবাহের ইতিবাচক ধারা চলতি এপ্রিলেও বজায় রয়েছে। এই মাসের প্রথম ২২ দিনে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন প্রায় ২.৪২ বিলিয়ন (২৪১ কোটি ৭০ লাখ) মার্কিন ডলার। বর্তমান বাজারদর ধরে (প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসাবে) এর মূল্য প্রায় ২৯ হাজার ৪৮৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

    বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংক এই তথ্য জানিয়েছে। ব্যাংকের তথ্যে বলা হয়েছে, গত বছরের একই সময়কার রেমিট্যান্স ছিল ২০৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার। তাই চলতি বছরের প্রথম ২২ দিনে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স বেড়েছে ৩৬ কোটি ৪০ লাখ ডলর, যা টাকায় প্রায় ৪ হাজার ৪৪০ কোটি ৮০ লাখ টাকার সমান।

    এ বছরের মার্চ মাসটিতে দেশের ইতিহাসে এক মাস হিসেবে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসে—ওই সময়ে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছিলেন ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছিল গত বছরের মার্চে, যখন রেমিট্যান্স ছিল ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলার। তৃতীয় এবং চতুর্থ সর্বোচ্চ রেকর্ড হয়েছে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর (৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার) ও চলতি বছরের জানুয়ারিতে (প্রায় ৩১৭ কোটি ডলার)।

    অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকট দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়তে পারে। তাই সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্ত অবস্থায় রাখা জরুরি বলে তারা পরামর্শ দেন।

    রেমিট্যান্স প্রবাহে এই ধারা দীর্ঘমেয়াদে বজায় থাকলে অর্থনীতির স্থিতিশীলতায় তা সহায়ক হবে, কিন্তু বৈশ্বিক অস্থিরতা ও এলাকাpecific সংকটগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখতে নীতিমালায় প্রস্তুতি বাড়ানোরও গুরুত্ব রয়েছে।

  • জাতিসংঘের এনপিটি সম্মেলনে ইরানকে সহ-সভাপতি করে ক্ষুব্ধ যুক্তরাষ্ট্র

    জাতিসংঘের এনপিটি সম্মেলনে ইরানকে সহ-সভাপতি করে ক্ষুব্ধ যুক্তরাষ্ট্র

    জাতিসংঘের পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) পর্যালোচনা সম্মেলনে ইরানকে সহ-সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত করায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার নিউইয়র্কের জাতিসংঘ সদরদফতরে এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে।

    রয়টার্স জানিয়েছে, ১৯৭০ সালে কার্যকর হওয়া এনপিটির বাস্তবায়ন পর্যালোচনার একাদশ সম্মেলন সোমবার শুরু হয়ে গেছে। এবারের সম্মেলনে ভিয়েতনামকে সভাপতি এবং ইরানসহ মোট ৩৪টি দেশকে সহ-সভাপতি হিসেবে মনোনীত করা হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র এই পদক্ষেপকে এনপিটি চুক্তির প্রতি একটি ‘‘উপহাস’’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

    সভাপতি হওয়া ভিয়েতনামের জাতিসংঘ দূত দো হুং ভিয়েত বলেছেন, ‘‘এটি একটি জোটনিরপেক্ষ নির্বাচন—অন্যান্য সদস্যরাই ইরানকে বেছে নিয়েছে।’’

    অন্যদিকে মার্কিন অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও বিস্তার রোধ ব্যুরোর সহকারী সচিব ক্রিস্টোফার ইয়াও বলেন, ইরানকে সহ-সভাপতি করা এনপিটির প্রতি ‘‘অপমানজনক’’ একটি সংকেত। তিনি জানান, ‘‘ইরান দীর্ঘকাল ধরে এনপিটির ওপর নিজের প্রতিশ্রুতির প্রতি অবজ্ঞা দেখিয়ে এসেছে এবং তার কর্মসূচি সম্পর্কে প্রশ্নগুলোর সমাধানে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক তদারকি সংস্থা (আইএইএ)-র সঙ্গে সহযোগিতা থেকে বিরত থেকেছে।’’ ইয়াও আরও বলেন, ইরানের মনোনয়ন সম্মেলনের বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য বিব্রতকর।

    জবাবে তেহরানের আইএইএ প্রতিনিধি রেজা নাজাফি মার্কিন অভিযোগগুলোকে ‘‘ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক প্রবণতাসক্রিয়’’ বলে খারিজ করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে یاد করিয়ে দিয়েছেন যে, ইতিহাসে পারমাণবিক অস্ত্র যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার করা একমাত্র দেশ হলো যুক্তরাষ্ট্র, অথচ তারা এখনই নিজেকেই সালিশি-শাসক বানিয়ে ফেলতে চাচ্ছে।

    পারমাণবিক ইস্যু ইরান ও পশ্চিম্য দেশগুলোর—বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের—মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার মূলকেন্দ্রে রয়েছে। রোববারও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় বলেছিলেন, ‘‘ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না।’’

    ইরান দীর্ঘদিন ধরে বলেছে যে তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেবল শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে করতে চায় এবং এই অধিকার স্বীকার করার দাবি করে এসেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর মতে, ইরানের সমৃদ্ধকরণের প্রকৃত লক্ষ্য পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দিকে নিয়ে যেতে পারে।

    সূত্র: রয়টার্স

  • সংযুক্ত আরব আমিরাত ওপেক ও ‘ওপেক প্লাস’ ত্যাগের ঘোষণা দিলো

    সংযুক্ত আরব আমিরাত ওপেক ও ‘ওপেক প্লাস’ ত্যাগের ঘোষণা দিলো

    সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ঘোষণা দিয়েছে যে তারা ওপেক ও ওপেক প্লাস জোট থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে। এই সিদ্ধান্তটি আগামী ১ মে থেকে কার্যকর হবে — যা বিশ্বর অন্যতম তেল উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে আমিরাতের কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং তেল বাজার ও জোটের নেতা সৌদি আরবের জন্য বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

    দেশটির সরকারি সংবাদসংস্থা WAM জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের দীর্ঘমেয়াদি কৌশল, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং জ্বালানি খাতে করা বিনিয়োগকে সমন্বিত করার অংশ। ঘোষণায় বলা হয়েছে, দেশটি অভ্যন্তরীণ জ্বালানি উৎপাদন বাড়াতে এবং নিজস্ব সরবরাহশৃঙ্খল আরও শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে এই পদক্ষেপ নিয়েছে। এতে আমিরাতের ‘দায়িত্বশীল ও নির্ভরযোগ্য’ উৎপাদক হিসেবে অবস্থান বজায় রাখার অঙ্গীকারও জোরদার হবে বলে বলা হয়েছে।

    ঘোষণায় আরো উল্লেখ করা হয়েছে যে এই সিদ্ধান্ত জাতীয় স্বার্থ এবং বাজারের জরুরি চাহিদা মেটাতে নেওয়া হচ্ছে, বিশেষত আরব উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার পরিপ্রেক্ষিতে, যা সরবরাহে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করছে।

    অন আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ায়, অনেক বিশ্লেষক এই পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগতভাবে অনুকূল বলে দেখছেন। প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে ওপেককে তেলের দাম কৃত্রিমভাবে বাড়ানোর জন্য সমালোচনা করেছেন; সেই প্রেক্ষিতে আমিরাতের প্রস্থান মার্কিন প্রভাবকে কিছুটা বাড়িয়ে দিতে পারে বলে বলা হচ্ছে।

    আরেকদিকে, আমিরাতের মতো বড় উৎপাদনকারীর জোট ত্যাগ ওপেককে দুর্বল করতে পারে। ওপেক থেকে বেরিয়ে এসে আমিরাত এখন কোটা-নির্ভরতা ছাড়াই নিজের উৎপাদন বাড়াতে পারবে, ফলে বাজারে সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়—যা দীর্ঘমেয়াদে তেলের দাম কমাতে সহায়ক হতে পারে।

    তবে স্বল্পমেয়াদে বাজারে কিছু অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। অনেকে মনে করেন হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত দাম উচ্চেই থাকতে পারে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সরবরাহ নিয়মিত বাড়ালে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ মূল্যে ধীরে ধীরে চাপ বাড়বে এবং ব্যারেলপ্রতি ৭০–৯০ ডলারের মধ্যে দাম নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

    প্রসঙ্গত, ১৯৬০ সালে গঠিত ওপেক তেল সরবরাহে দীর্ঘদিন ধরেই একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। শুরুতে পাঁচটি দেশ — সৌদি আরব, ইরান, ইরাক, কুয়েত ও ভেনিজুয়েলা — মিলিত হয়ে জোটটি গঠন করেছিল; পরে অনেক দেশ এতে যোগ দেয়। গত কয়েক বছরে কাতার, ইন্দোনেশিয়া, ইকুয়েডর ও অ্যাঙ্গোলা মত দেশ কিছু সময়ের জন্য বা স্থায়ীভাবে ওপেক ত্যাগ করেছে। বর্তমানে ওপেকের সদস্যসংখ্যা প্রায় ১২টি, যার মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতও ছিল।

    অপরদিকে, ২০১৬ সালে ওপেক ও অ-ওপেক কিছু দেশ মিলিত হয়ে ‘ওপেক প্লাস’ গঠন করে — এতে রাশিয়া, কাজাখস্তান, ওমান, মেক্সিকোসহ বহু উৎপাদনকারী দেশ জড়িত হয়; এই জোট এখন বিশ্ব তেল উৎপাদনের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে।

    এ প্রতিবেদনটি আল জাজিরা ও রয়টার্সের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে প্রস্তুত।

  • খুলনায় ছাত্র নেতার পৈতৃক জমি দখলচেষ্টা: বিএনপি নেতাসহ ২০-২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

    খুলনায় ছাত্র নেতার পৈতৃক জমি দখলচেষ্টা: বিএনপি নেতাসহ ২০-২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

    খুলনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সমন্বয়ক ও জেলা সদস্য সচিব সাজিদুল ইসলাম বাপ্পি তাঁর পৈতৃক জমি দখলচেষ্টার, চাঁদা দাবি ও নগদ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। মঙ্গলবার খুলনার বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে নালিশি মামলা করেন ভুক্তভোগী বাপ্পি।

    মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে খানজাহান আলী থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ হাওলাদার আব্বাসকে। অভিযোগে আরও রয়েছে—জহির (৪২), দ্বীপু ওরফে কাউন্টার দ্বীপু (৪২) ও অজ্ঞাতনামা আরও প্রমান ২০-২৫ জন।

    পুলিশি ও মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, গত ২৫ এপ্রিল সকালে কুয়েট রোড এলাকার বাপ্পিদের দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় পৈতৃক জমিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু হলে ওই সত্তরাসক্রিয়া গ্রুপটি দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সেখানে হানা দেয়। তারা প্রথমে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়।

    চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আসামীরা বাপ্পির পিতাকে অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি দেখায় এবং একপর্যায়ে এক হাজার ৫ শত বর্গফুট বা ৩ শতক জমি আব্বাসের নামে লিখে দিতে চাপ সৃষ্টি করে। একই সময় বাপ্পির পিতার কাছ থেকে জোরপূর্বক এক লাখ ৮০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়া হয়। পুরো টাকা না দিলে জমিতে আর কোনো কাজ করতে দেওয়া হবে না—এ ধরনের হুমকি দিয়ে তারা ঘটনাস্থল ছেড়ে যায়।

    নালিশি বিবরণে উল্লেখ আছে, একাংশ আসামি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চাঁদাবাজি, জমি দখল ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালিয়ে আসছেন, যা স্থানীয়দের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। দলীয় সূত্রে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে অপকর্মের অভিযোগে মহানগর বিএনপি ওই নেতাকে একাধিকবার শোকজ করলেও তার বিরুদ্ধে আক্রামক প্রবণতা কমেনি; বর্তমানে তিনি শোকজপ্রাপ্ত অবস্থাতেই রয়েছেন।

    বাপ্পি তাঁর আরজিতে জানান, ঘটনার পর থানায় অভিযোগ করতে গেলে কর্তৃপক্ষ তাঁকে 먼저 আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেয়; এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি দণ্ডবিধির ৩৮৬/১৪৭/১৪৮/১৪৯/৪৪৭/৩৯৪/৩২৩/৩৯২/৫০৬ ও ৩৪ ধারায় নালিশি আবেদন দাখিল করেন। আদালত অভিযোগটি গ্রহণ করে আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।

    এ ঘটনার পর গত ২৬ এপ্রিল বাপ্পি মহানগর বিএনপির কাছে লিখিতভাবে অভিযোগও করেন এবং সেখানে সংস্থাটিকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান। মামলার তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া চলছে, আদালত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন বলে জানানো হয়েছে।

  • খুলনায় তাঁতীদল নেতা সোনা মিয়া হত্যা মামলায় ‘ন্যাটা’ রনি গ্রেপ্তার

    খুলনায় তাঁতীদল নেতা সোনা মিয়া হত্যা মামলায় ‘ন্যাটা’ রনি গ্রেপ্তার

    র‌্যাব-৬ খালিশপুরে তাঁতীদল নেতা সোনা মিয়া হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মো. রনি ওরফে ‘ন্যাটা’ রনিকে গ্রেপ্তার করেছে। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে তাকে বাগেরহাট সদর থানা এলাকায় বাসস্ট্যান্ড ট্রাফিক মোড় সংলগ্ন একটি বাস কাউন্টার থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    র‌্যাবের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে জানানো হয়েছে, সোনা মিয়ার হত্যাসহ ওই মামলার অন্যতম সন্দেহভাজন আসামি রনি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে তিনি বিভিন্ন স্থানে গোপনে বসবাস করছিলেন।

    গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৬ গত সোমবার জানতে পারে রনি বাগেরহাটে অবস্থান করছেন এবং সেই তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে মিঠুর বিআরটিসি বাস কাউন্টার থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    রনির বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত হত্যাসহ মোট ছয়টি মামলা বিচারাধীন আছে। এছাড়া খালিশপুর থানা এলাকায় তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগও রয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাকে খালিশপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে, এবং আরও আইনগত کارروুরি প্রক্রিয়াধীন আছে।

  • স্বর্ণার ফিফটির পরও পরাজিত বাংলাদেশ

    স্বর্ণার ফিফটির পরও পরাজিত বাংলাদেশ

    সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে স্বর্ণা আক্তারের জোরালো একাই লড়াইও বাংলাদেশকে জয়ের মুখে ফিরিয়ে আনতে পারল না; শ্রীলঙ্কা ২৫ রানে জয় তুলে নিয়ে সিরিজে ১-০ এগিয়ে গেল।

    সিলেটে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৬১ রান সংগ্রহ করে শ্রীলঙ্কা নারী দল। জবাবে বাংলাদেশ ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৩৬ রানে থামে। নির্ধারিত লক্ষ্য ১৬২ তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালই হয়েছিল বাংলাদেশি ব্যাটিংয়ের — বিশেষ করে দিলারা আক্তার ঝোড়ো সূচনা করেছিলেন। কিন্তু দুই ওপেনারের দ্রুত বিদায়ের পর ব্যাটিং লাইন টিকে থাকতে পারেনি এবং মিডল অর্ডারের ব্যর্থতায় ইনিংস ছেঁটে গেছে।

    জুরাইয়া ফেরদৌস ১২ বল খেলে ১৬ করে আউট হলে ৩৯ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙে। এরপর ধীরে ধীরে ধস নামে বাংলাদেশি ইনিংসে। তিন নম্বরে নেমে শারমিন আক্তার মাত্র ৫ বল খেলে একটি রান করেন; দলের ক্রান্তিকালে হতাশা বাড়ান নিগার সুলতানা ও দলের অধিনায়কও—অধিনায়কের ব্যাট থেকে রান বেরোতে পারেনি, দুই বল খেলে ফিরে যান।

    ভালো শুরু করা দিলারা ১৪ বলেই ২৩ রানে ফিরলে স্কোর হয় ৪৪/৪, আর সেখান থেকে অধরা হয়ে পড়ে জয়ের চাকা। এরপর লোয়ার মিডল অর্ডারে স্বর্ণা আক্তার এবং সোবহানা মুস্তারি মিলে চেষ্টা করেন দলকে টেনে তুলতে; তবে তাদের জুটিতেও অনেক ডট বল খেলতে হয়। সোবহানা ২৬ বল খেলে ১৬ রান করে আউট হন, আর ততক্ষণে প্রয়োজনীয় রানরেট নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

    স্বর্ণা একাই লড়াই করে ৬০ রানের স্মরণীয় ইনিংস সাজালেও সেটা কেবল হারের ব্যবধান কমাতে পারে—ব্যক্তিগত কৃতিত্বের পরও দলীয় জয় আসছিল না। অবশেষে বাংলাদেশ ১৩৬ রানে থামে এবং শ্রীলঙ্কা ২৫ রানের জয় নিশ্চিত করে।

  • আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী কোচ স্কালোনি কি রিয়ালের নতুন কোচ?

    আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী কোচ স্কালোনি কি রিয়ালের নতুন কোচ?

    বিশ্বকাপ শেষেই রিয়াল মাদ্রিদের কোচ পরিবর্তন হওয়া প্রায় নিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছে। কে হবেন নতুন কোচ—নিয়ে চলছে নানা গুঞ্জন, আর সেই তালিকার শীর্ষে আছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী কোচ লিওনেল স্কালোনি।

    স্পেনের গণমাধ্যম কাদেনা কোপের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিয়াল মাদ্রিদ স্কালোনির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। কাদেনা কোপের সাংবাদিক মানোলো লামা ‘এল টারটুলিয়ন’ অনুষ্ঠানে বলেন, “স্কালোনির সঙ্গে আমাদের কথাবার্তা হয়েছে। এটুকুই নিশ্চিত করে বলতে পারি।”

    এই খবরের পটভূমি হিসেবে রিয়ালের চলতি মৌসুমটা মোটেই সন্তোষজনক নয়—ট্রফিহীন থাকার সম্ভাবনা বাড়ছে। স্প্যানিশ সুপার কাপে রানার্স-আপ হয়েছে দলটি; পাশাপাশি কোপা দেল রে ও চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে প্রত্যাশা মতোই ছিটকে গেছে লস ব্লাঙ্কোসরা। লা লিগায় শিরোপা জয়ের দৌড়েও দর্শনীয়ভাবে পিছিয়ে রিয়াল: ৩৩ ম্যাচে শীর্ষবার্সেলোনার ৮৫ পয়েন্টের বিপরীতে রিয়ালের সংগ্রহ ৭৪ পয়েন্ট।

    অন্যদিকে, স্কালোনি গত কয়েক বছরে আর্জেন্টিনা নেতৃত্বে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছেন। তাঁর অধীনে আর্জেন্টিনা ২০২১ ও ২০২৪ সালে দুইবার কোপা আমেরিকা জিতেছে, ২০২২ সালে ফাইনালিসিমা ও একই বছর কাতার বিশ্বকাপের শিরোপাও কাঁধে তুলে নিয়েছে। এসব জয়পর্বে লিওনেল মেসি ছিলেন দলের মূল স্তম্ভ之一; বিশেষ করে ২০২২ বিশ্বকাপ জিতলে মেসির দীর্ঘকালের স্বপ্নপূরণ ঘটেপ এবং আর্জেন্টিনার জন্য ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপ পুনরুদ্ধার হয়।

    রিয়ালের প্রধান কোচ-পদ নিয়ে ক্লাবের ভেতরে তৎপরতা বাড়ছে। আলভারো আরবেলোয়ার অবস্থানও অনিশ্চিত হিসেবে গণ্য হচ্ছে। পাশাপাশি সাবেক কোচ জোসে মরিনিও কিংবা ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী কোচ দিদিয়ে দেশমের নামও সম্ভাব্য নির্বাচকদের তালিকায় বলা হচ্ছে।

    তবে স্কালোনির ধারা এখন আর্জেন্টিনার সঙ্গে। তাঁর সঙ্গে থাকা বর্তমান চুক্তি ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ পর্যন্ত বলাবলি রয়েছে, তাই আপাতত তাঁর মনোযোগও পরের বিশ্বকাপ ঘিরেই। আগামী বিশ্বকাপটি যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে প্রথমবার ৪৮ দল নিয়ে ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে—যাকে প্রচলিতভাবে ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ বলা হয়।

    রিয়াল কিংবা স্কালোনি যদি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়, তাতে পরিস্থিতি স্পষ্ট হবে; আপাতত সবকিছু কেবল রূপকথার মতো গুঞ্জন থেকে বাস্তবে আসার অপেক্ষায়।

  • তমা রশিদ ‘মিসেস ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্টারন্যাশনাল ২০২৬’ চ্যাম্পিয়ন

    তমা রশিদ ‘মিসেস ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্টারন্যাশনাল ২০২৬’ চ্যাম্পিয়ন

    জনপ্রিয় উপস্থাপিকা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর তমা রশিদ আন্তর্জাতিক মঞ্চে বড় এক অর্জন করে ইতিহাস রচনা করেছেন। থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ‘মিসেস ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্টারন্যাশনাল ২০২৬’ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বিভিন্ন দেশের প্রার্থীদের কড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি শিরোপা জিতেছেন।

    দেশীয় পর্যায়ে ইতিপূর্বে যে দক্ষতার পরিচয় তিনি দিয়েছেন, সেই অভিজ্ঞতাকে ভুলাইনি তমা—তবে আন্তর্জাতিক এই মঞ্চটি তার জন্য এক নতুন অগ্রযাত্রার অধ্যায়। প্রথমবারের মতো প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া তমা পুরো পর্বজুড়ে আত্মবিশ্বাস ও প্রজন্মগত সাবলীলতা দেখিয়ে বিচারকদের মন জয় করতে সক্ষম হন।

    তমা জানান, এই সাফল্য শুধুই তার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং বাংলাদেশের নারীদের আত্মবিশ্বাস ও সামর্থ্য বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। তিনি আরও বলেছেন যে, বাংলাদেশের ঐতিহ্য—বিশেষ করে জামদানি শাড়ির অনবদ্য সৌন্দর্য—আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরতেই তিনি সচেষ্ট ছিলেন এবং সেই প্রচেষ্টা সাফল্য পেয়েছে।

    ছোটবেলা থেকেই সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কাজে সক্রিয় তমা পরবর্তীতে মিডিয়ায় কাজ করে নিজস্ব পরিচিতি গড়ে তুলেন। তাঁর ব্যক্তিত্ব, মেধা ও সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতা একসঙ্গে কাজ করে এই অর্জনে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, তমা রশিদের এই জয় ২০২৬ সালে দেশের নারীদের জন্য একটি শক্ত অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের ইতিবাচক প্রতিচ্ছবি আরও উজ্জ্বল করবে। আগামী দিনগুলোতে তিনি কীভাবে বাংলাদেশকে আরও প্রতিনিধিত্ব করবেন—সেই দিকেই এখন অনেকের চোখ থাকছে।

  • একই ছবি কি দেখবে দুই রণবীর? মুকেশ ছাবরার আভাস

    একই ছবি কি দেখবে দুই রণবীর? মুকেশ ছাবরার আভাস

    বলিউডে এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে — রণবীর কাপুর ও রণবীর সিং কি একসঙ্গে কোনো ছবিতে দেখা যাবে? নামী কাস্টিং ডিরেক্টর মুকেশ ছাবরা এই জল্পনায় আগুনে ঘি ঢেলে দিয়েছেন। তাঁর মত, যদি কখনও এই দুই রণবীর একই স্ক্রিন শেয়ার করেন, তা ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে একটি বড় মাইলফলক হবে।

    মুকেশ বর্তমানে তাঁর সাম্প্রতিক প্রজেক্ট ‘ধুরন্ধর’ এবং প্রত্যাশিত ছবি ‘রামায়ণ’ নিয়ে আলোচনায় রয়েছেন। আদিত্য ধর পরিচালিত ‘ধুরন্ধর’ মুক্তির আগে নানা বিরূপতা ও বিতর্কে পেষিত হয়েছিল—নেতিবাচক রিভিউ, কিছু স্ক্রিনিং বাতিলের খবরসহ একটি অস্থির পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। এমন পরিস্থিতি নিয়ে মুকেশের মন্তব্য, মানুষ এখন অনেক সময় ছবি না দেখেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে; ট্রোল সংস্কৃতি বেড়ে গেছে, কিন্তু ভালো সিনেমাকে রোধ করা যায় না।

    এই ‘পেইড নেগেটিভিটি’ নিয়েও টিনসেল টাউনের বাইরে-ভিতর অনেক আলোচনা হয়েছে; এমনকি ইয়ামি গৌতমও এই ধরনের প্রচারণার বিরুদ্ধে মুখ খোলার কথা বলেছেন। মুকেশ বলছেন, সব বাঁধা-ধরে ও সমালোচনা পেরিয়ে ভালো কাজ শেষে জায়গা করে নেয়।

    অন্যদিকে ‘রামায়ণ’ সংক্রান্ত চর্চাও কম নেই। টিজার প্রকাশের পর থেকে ভিএফএক্স, কাস্টিং ও চরিত্রবিন্যাস নিয়ে নেটপাড়ায় বিশ্লেষণ ও সমালোচনার স্রোত উঠেছে। রণবীর কাপুর বা সাই পল্লবীকে দর্শক কতটা গ্রহণ করবেন—এ ধরনের প্রশ্ন উঠলেও মুকেশ আত্মবিশ্বাসী। তাঁর কথায়, ‘গ্যাংস অফ ওয়াসেপুর’ পর থেকে এই দুই ছবির কাস্টিং তার জীবনের অন্যতম চ্যালেঞ্জ ছিল।

    শেষে ফিরে আসে দুই রণবীরের সম্ভাব্য জুটি: মুকেশ ছাবরা বলেন, দুজনের অভিনয়ের স্টাইল আলাদা হলেও দুজনেই তুখোড় প্রতিভা। দর্শকদের মধ্যে প্রিয়তা-বৈরীতির আলোচনার মাঝেই তিনি চান যে, তারা যদি একসঙ্গে কাজ করেন, তাহলে একটি দুর্দান্ত নির্মাণ ফুটে উঠুক। ইন্ডাস্ট্রির দিক থেকে এমন সমাবেশ থাকলে তা নিঃসন্দেহে আলোচিত ও স্মরণীয় হবে।

    তবে এখনও পর্যন্ত অফিসিয়াল কোনো ঘোষণা নেই; সবই জল্পনা এবং মুকেশের উচ্ছ্বাসপূর্ণ মন্তব্য থেকে জন্ম নেওয়া প্রত্যাশা। বলিউড ফ্যানদের জন্য এটিই অপেক্ষার খেলা—কবে আসবে সেই মুহূর্ত যখন দুই রণবীর একই ফ্রেমে ঝলমল করবে?