Blog

  • চীনের বিশাল বাণিজ্য উদ্বৃত্ত: আশীর্বাদ না অভিশাপ?

    চীনের বিশাল বাণিজ্য উদ্বৃত্ত: আশীর্বাদ না অভিশাপ?

    ২০২৬ সালের মাত্র দুই সপ্তাহ পেরুতেই চীনের অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান বিশ্বকে驚িত করে দিয়েছে। ২০২৫ সালজুড়ে চলা আন্তর্জাতিক শুল্ক যুদ্ধের চাপ সত্ত্বেও, দেশের রপ্তানি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছরে চীনের বার্ষিক বাণিজ্য উদ্বৃত্ত রেকর্ড ১.২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে—যা এখনো পর্যন্ত বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি।

    এই তথ্য প্রকাশের একদিনের মধ্যেই নিউ ইয়র্ক টাইমসে এক বিশ্লেষণে ব্রুকিংস ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো ও ইউনিভার্সিটি অফ কর্নেলের অধ্যাপক ঈশ্বর প্রসাদ খোলাসা করেছেন, এই বিশাল বাণিজ্য উদ্বৃত্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্কের চেয়েও বড় বিপদের সংকেত। তাঁর ভাষায়, এই অত্যধিক উদ্বৃত্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থার জন্য আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    অধ্যাপক প্রসাদ যুক্তি দিয়েছেন যে, চীনের সস্তা পণ্য শুধুমাত্র উন্নত দেশগুলোর উৎপাদন শিল্পের জন্য নয়, বরং নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতেও প্রতিযোগিতাকে কঠিন করে তুলছে। তিনি বলেন, ‘‘বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হিসেবে নিজেকে এমনভাবে নির্ভরশীল করা, এটি আন্তর্জাতিক নীতিমালা ও সুবিধাজনক বাণিজ্য পরিস্থিতি ভেঙে ফেলতে পারে।’’

    অন্যদিকে, চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসের سابق প্রধান সম্পাদক হু সিজিন এক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ১৬ জানুয়ারি এক পোস্টে বলেছেন, চীনের বিশাল বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ওয়াশিংটনের উচ্চবর্ণের লোকজনকে আতঙ্কিত করে তুলেছে। কারণ তারা বুঝতে পারছেন যে, চীনের অর্থনীতি অত্যন্ত স্থিতিশীল ও টেকসই—কোনো বাণিজ্য যুদ্ধের মাধ্যমে এই অর্থনীতিকে দমিয়ে রাখা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, চীন একান্তই সততা, পরিশ্রম ও বিশ্বস্ততার ভিত্তিতে ব্যবসা করে যাচ্ছে, কোনও শক্তির জোর বা অন্যায় চাপের মাধ্যমে নয়।

    চীনের এই রেকর্ড বাণিজ্য উদ্বৃত্তের মূল কারণগুলো জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর পেছনের মূল কারণ হলো শক্তিশালী রপ্তানি এবং নিম্ন গতি সম্পন্ন আমদানির বিপরীতে। গত বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে শুল্ক যুদ্ধের কারণে চীনের রপ্তানি ২০ শতাংশ কমলেও, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা, আসিয়ান অঞ্চল ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে রপ্তানি বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। বিশেষ করে আফ্রিকায় রপ্তানি দৈনিক ২৫.৮ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতা, ঐতিহ্যবাহী চাহিদা ও ইউয়ানের দাম কমে যাওয়া এর পেছনের কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা চীনা পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে আকর্ষণীয়তাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

    বাণিজ্য অংশীদারদের জন্য ঝুঁকি সংকেত
    তুলনামূলকভাবে দেখা গেছে, ২০২৫ সালজুড়ে চীনের মোট আমদানির পরিমাণ মাত্র ০.৫ শতাংশ বৃদ্ধির মধ্যে ছিল, যা রপ্তানি বৃদ্ধির ৬.১ শতাংশের তুলনায় অনেক কম। ফলে, বাণিজ্য উদ্বৃত্তের পরিমাণ আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। এর কারণ হিসেবে বিশ্লেষকরা বলছেন, চীনের অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদার অভাব। ভোক্তা পণ্যের খুচরা বিক্রয়ে ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধে ধারাবাহিকভাবে কম প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে; নভেম্বর মাসে এই হার সবচেয়ে কম হয়েছে, যা গত তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। পাশাপাশি, স্থিতিশীল সংকটের কারণে এখনো উপযুক্ত বিনিয়োগের অভাব দেখা দিয়েছে। এক কথায়, অভ্যন্তরীন অর্থনীতির এই দুর্বলতা দৃষ্টিগোচর হয়ে উঠেছে, যার ফলে আমদানি বাড়ানো কষ্টকর হয়ে পড়ছে।

    চীনের মাসিক বাণিজ্য উদ্বৃত্ত গত বছর সাত মাসেই ১০০ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে, যদিও ২০২৪ সালে মাত্র একবারই এরকম ঘটনা ঘটেছিল। এই পরিস্থিতি বুঝতে আমাদের জানায় যে, শক্তিশালী রপ্তানি ও দুর্বল আমদানির এই ভারসাম্যহীনতা কোনও অপ্রত্যাশিত বা এককালীন ধারা নয়। এটি চীন ও বিশ্ব অর্থনীতির জন্য দুটিই গুরুত্বপূর্ণ সংকেত এবং সম্ভাব্য সুফল ও পাশাপাশি ঝুঁকি বহন করে।

    বিশাল এই উদ্বৃত্তের কারণে বোঝা যায়, চীনের উৎপাদন অবস্থা কতটা শক্তিশালী। এর ফলে চীনের অর্থনীতি সচল থাকছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক দিক। এ ছাড়া, বর্তমানে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও সরবরাহ শৃঙ্খল পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায়, চীন অন্য দেশগুলোকে সাশ্রয়ী মূল্যে উন্নত মানের পণ্য সরবরাহ করে চলেছে, যা বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতির উপর নিয়ন্ত্রক ভূমিকা রাখছে।

    তবে, এই বিশাল বাণিজ্য উদ্বৃত্তের পেছনে কিছু সমস্যা ও ঝুঁকিও লুকানো রয়েছে। অত্যধিক রপ্তানি নির্ভরশীলতা দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে, চীন এক অর্দ্ধ-বন্ধন চক্রে আটকে যেতে পারে, যেখানে বৈশ্বিক চাহিদা শক্তিশালী থাকলেও অভ্যন্তরীণ চাহিদা দুর্বল থাকবে। এতে করে আন্তর্জাতিক সম্পর্কেও চাপ বাড়বে এবং চীনা পণ্যের বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপের সম্ভাবনা তৈরি হবে।

    অর্থনৈতিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার জন্য জরুরি
    বর্তমানে, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুল্ক যুদ্ধ কিছুটা শীতল হলেও, এই অপ্রয়োজনীয় বাণিজ্য উদ্বৃত্তের পটভূমি আবারও ট্রাম্পকে সুযোগ দিতে পারে, ক্ষতিকর ‘শুল্ক আর্টিলারি’ ব্যবহারের। অন্যদিকে, অন্যান্য বাণিজ্যিক অংশীদাররাও সতর্ক হয়ে উঠেছে। গত বছরের প্রথম ১১ মাসে, চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল, যা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) একটি উদ্বেগজনক হুঁশিয়ারি উত্থাপন করে। আইএমএফের প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যদি চীন রপ্তানি নির্ভরশীল প্রবৃদ্ধিতে এখনও অবিচল থাকে, তবে তা বিশ্ব বাণিজ্য পরিস্থিতিকে উত্তেজিত করে তুলবে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁও একই মঞ্চে বলেছেন যে, চীনা বাণিজ্য ভারসাম্য না ঠিক হলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে।

    অন্টার্ভু পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে, চীনের সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা এসেছে যে, ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে তারা সৌরবিদ্যুৎ পণ্য রপ্তানির ভ্যাট ফেরত বা কর ফেরত ব্যবস্থা বাতিল করবে। ব্যাটারি ও অন্যান্য পণ্যের ক্ষেত্রে এই সুবিধাগুলো ধীরে ধীরে কমিয়ে আনবে এবং আগামী বছর থেকে পুরোপুরি বন্ধের পরিকল্পনা রয়েছে। এমনকি, চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মাঝে বৈদ্যুতিক গাড়ির শুল্কের ব্যাপারে একটি সমঝোতা হয়েছে, যা চীনা গাড়ি নির্মাতাদের জন্য একটা নতুন পথ খুলে দিয়েছে।

    সবশেষে, প্রশ্ন হলো—এই বিশাল বাণিজ্য উদ্বৃত্ত আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ? সব কিছু নির্ভর করছে, এই অর্থনীতির আয় দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে ফিরে আসে কি না, রপ্তানির রূপান্তর ও আমদানির মধ্যে সুষম ভারসাম্য নিশ্চিত হয় কি না, এবং বাজারগুলো আরও উন্মুক্ত হয় কি না—তার উপর। তবে, বাস্তবতা দেখাচ্ছে যে, এই পরিস্থিতি এমন কিছু নয় যা খুবই আশাব্যঞ্জক বা খুবই উদ্বেগজনক—মাঝপথে রয়েছে নানা দিক।

  • স্বর্ণের দামে রেকর্ড ভাঙল ইতিহাস

    স্বর্ণের দামে রেকর্ড ভাঙল ইতিহাস

    দেশের বাজারে আবারও সোনার দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। এই মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম বাড়ানো হয়েছে ১ হাজার ৫৭৪ টাকায়, ফলে নতুন দাম দাঁড়াল ২ লাখ ৫৭ হাজার ১৯১ টাকা। এই বাড়তি মূল্য যুক্ত হওয়ায় সোনার সর্বশেষ দামগুলো ইতিহাসের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে।

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবী বা পাকা সোনার দাম বৃদ্ধি পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই দাম বাড়ানো হয়। আগামী সোমবার (২৬ জানুয়ারি) থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।

    রোববার বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং এর বৈঠক শেষে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা: দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    নতুন মূল্যবৃদ্ধির ফলে, এখন সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের সোনার ভরি মূল্য ২ লাখ ৫৭ হাজার ১৯১ টাকা, যা আগে থেকে ১ হাজার ৫৭৪ টাকা বেশি। একইভাবে, ২১ ক্যারেটের সোনার দাম ১ হাজার ৫১৬ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৫২৭ টাকা। ১৮ ক্যারেটের সোনা এখন ২ লাখ ১০ হাজার ৪১৯ টাকা, যেখানে দাম বেড়েছে ১ হাজার ২৮৩ টাকার। এছাড়া, সনাতন পদ্ধতির সোনার প্রতি ভরি দাম বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭২ হাজার ৯১৯ টাকা, বাড়েছে ১ হাজার ৫০ টাকা।

    সোনার পাশাপাশি রুপার দামে भी বৃদ্ধি হয়েছে। ২২ ক্যারেটের রুপার দাম ৩৫০ টাকা বাড়িয়ে এখন ৭ হাজার ২৩২ টাকা, ২১ ক্যারেটের রুপার দাম হয়েছে ৬ হাজার ৪০৮ টাকা (বাড়ে ৪০৮ টাকা), ১৮ ক্যারেটের রুপার দাম ৩৫০ টাকা বাড়িয়ে ৫ হাজার ৯৪৯ টাকা, পাশাপাশি সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম বেড়ে ৪ হাজার ৪৩২ টাকা হয়েছে, বৃদ্ধি হয়েছে ২৩৩ টাকা।

    এর আগে, ২২ জানুয়ারি ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম বাড়ানো হয় ৮ হাজার ৩৯৯ টাকা, আগের দিন ৫ হাজার ২৪৯ টাকা, ২০ জানুয়ারি ৪ হাজার ১৯৯ টাকা, ১৫ জানুয়ারি ২ হাজার ৬২৫ টাকা, ১৩ জানুয়ারি ৪ হাজার ১৯৯ টাকা এবং ১১ জানুয়ারি ১ হাজার ৫০ টাকার মতো মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছিল।

  • স্বর্ণের দাম রেকর্ড উচ্চতায়, ভরিতে ৫ হাজার ২৪৯ টাকা বৃদ্ধি

    স্বর্ণের দাম রেকর্ড উচ্চতায়, ভরিতে ৫ হাজার ২৪৯ টাকা বৃদ্ধি

    এক দিনের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) থেকে। এই নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভরিতে প্রায় ৫ হাজার ২৪৯ টাকার বেশি মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা স্বর্ণের সর্বোচ্চ দাম ইতিহাসে কোনো সময় এত বেশি নয়।

    বাজুসের পক্ষ থেকে সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নতুন দাম আগামী মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) থেকে কার্যকর হবে। দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের বাজারে দামে ব্যাপক বৃদ্ধি। এই পরিস্থিতিতে, স্বর্ণের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

    নতুন দামের তালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের এক ভরি (প্রায় ১১.৬৬৪ গ্রাম) এখন কিনতে পাওয়া যাবে ২ লক্ষ ৬২ হাজার ৪৪০ টাকায়, যা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি। অন্য ক্যারেটের স্বর্ণের মূল্যও উঠেছে, যেখানে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি বিক্রি হবে ২ লাখ ৫০ হাজার ৪৮৪ টাকায়। ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারিত হয়েছে ২ লাখ ১৪ হাজার ৭৩৪ টাকা, আর সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণেরএক ভরি এখন বিক্রি হচ্ছে ১ লক্ষ ৭৬ হাজার ৫৯৩ টাকায়।

    বাজুস জানিয়েছে, এই দাম অনুযায়ী বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকারের নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুসের নির্ধারিত কমপক্ষে ৬ শতাংশ মজুরি যোগ করতে হবে। তবে গহনা তৈরির নকশা ও মানের উপর নির্ভর করে মজুরির পরিমাণ আলাদা হতে পারে।

    অতীতে, ২০২৩ সালের ২৫ জানুয়ারি সর্বশেষ স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। তখন ভরিতে ১ হাজার ৫৭৪ টাকা বৃদ্ধির মাধ্যমে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের মূল্য নির্ধারিত হয়েছিল ২ লক্ষ ৫৭ হাজার ১৯১ টাকায়। সেই সময় এটি ছিল সর্বোচ্চ দাম। অন্য ক্যারেটগুলোতেও দাম বাড়ানো হয়েছিল।

    এ অবস্থায় চলতি বছর মোট ১৪ দফায় স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১ দফা দাম বাড়ানো হয়েছে, আর ৩ দফা দাম কমানো হয়েছে। ২০২৫ সালের মধ্যে মোট দফা দাম সমন্বয় হয়েছে ৯৩ বার—যার মধ্যে দাম বেড়েছে ৬৪ বার আর কমেছে ২৯ বার।

    বাজারে রুপার দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। ভরিতে ৫২৫ টাকা বাড়িয়ে রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ হাজার ৭৫৭ টাকায়, যা দেশের ইতিহাসে রুপার সবচেয়ে উচ্চ মূল্য। নতুন দামে ২১ ক্যারেটের রুপা বিক্রি হবে ৭ হাজার ৪০৭ টাকায়, ১৮ ক্যারেটের জন্য ধার্য হয়েছে ৬ হাজার ৩৫০৭ টাকা, আর সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম নির্ধারিত হয়েছে ৪ হাজার ৭৮২ টাকায়। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ১১ দফায় রুপার দামও সমন্বয় করা হয়েছে।

  • প্রাণ দুধের উদ্যোগে দেশের খাঁটি খামারিদের সম্মাননা

    প্রাণ দুধের উদ্যোগে দেশের খাঁটি খামারিদের সম্মাননা

    দুগ্ধশিল্পে বিশেষ অবদান রাখার জন্য প্রতিশ্রুতিশীল ও নির্ভ trusted খাঁটি খামারিদের সম্মাননা দিচ্ছে দেশের অন্যতম শীর্ষ তরল দুধের ব্র্যান্ড ‘প্রাণ দুধ’। আজ মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানে সম্মেলন কেন্দ্রে ‘প্রাণ দুধ-খাঁটি খামারি সম্মাননা ২০২৬’ ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়।

    এই ক্যাম্পেইনের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের দুগ্ধশিল্পের উন্নয়নে নিবেদিত আপনারা যারা খাঁটি খামারি তাদের ত্যাগ ও অবদানকে স্বীকৃতি জানানো। পাশাপাশি, তাদের সফলতার গল্প সমাজের সব স্তরে পৌঁছে দিয়ে অন্যদের মধ্যে দুগ্ধ খামারী হওয়ার আগ্রহ বাড়ানোর দিকে নজর দিচ্ছে সংস্থা। অনুষ্ঠানে ইলিয়াছ মৃধা, প্রাণ গ্রæপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ‘প্রাণ দুধ খাঁটি খামারি সম্মাননা ২০২৬’ এর স্মারক উন্মোচন করেন।

    এদিকে, জানানো হয়, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশব্যাপী বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত প্রাণ ডেইরীর ১২৪টি গ্রামীণ দুধ সংগ্রহ কেন্দ্র থেকে স্পট রেজিস্ট্রেশনের কাজ শুরু হবে। সেখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ১৬ হাজারের বেশি খামারিরা প্রয়োজনীয় তথ্যাদি দিতে পারবেন।

    রেজিস্ট্রেশনকৃত খামারিদের তথ্য যাচাই-বাছাই করে বিশেষ একটি জুরিবোর্ড গঠন করা হবে, যার মাধ্যমে তারা ১০ জন ‘খাঁটি খামারি’ নির্বাচন করবেন। এরপর ভোক্তার ভোট এবং জুরির সিদ্ধান্তে সেরা তিন খামারি নির্বাচিত হবেন, যাদের জন্য থাকছে সম্মাননা স্মারক এবং লাখ টাকা সমমূল্যের পুরস্কার। আরও সাতজনের জন্য বিশেষ সম্মাননা দেওয়ার পরিকল্পনা আছে।

    ইলিয়াছ মৃধা বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে দুগ্ধশিল্পে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় খাঁটি খামারিদের সম্মাননা দেওয়া এবং তাদের অনুপ্রেরণা জোগানো। পাশাপাশি, গাভি লালন-পালনের গুরুত্ব ও মানসম্পন্ন দুধ নিশ্চয়তার বিষয়গুলো জনসাধারণের মাঝে তুলে ধরাই এই উদ্যোগের বড় উদ্দেশ্য।”

    প্রাণ ডেইরীর চিফ অপারেটিং অফিসার মাকসুদুর রহমান জানান, “দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রাণ দুধ দেশের অসংখ্য খামারিকে সমর্থন দিয়ে আসছে। তাদেরকে ন্যায্য মূল্য, প্রশিক্ষণ, ভেটেরনারি সেবা ও অন্যান্য সহযোগিতা দিয়ে উন্নত জীবনে নিয়ে আসার কাজ করে যাচ্ছে।”

    এছাড়াও, অনুষ্ঠানে প্রাণের সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার (মার্কেটিং) মো. আলী হাসান, এর মার্কেটিং হেড সৈয়দ মুস্তায়িন কাদের ও ব্র্যান্ড ম্যানেজার ফজলে এলাহি নাঈমসহ অন্যান্য নির্বাহীদের উপস্থিতি ছিল।

  • ময়মনসিংহে জনসভায় তারেক রহমানের উপস্থিতি, মানুষের ঢল রাজপথে

    ময়মনসিংহে জনসভায় তারেক রহমানের উপস্থিতি, মানুষের ঢল রাজপথে

    ময়মনসিংহের ঐতিহাসিক সার্কিট হাউস ময়দানে বিএনপির চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেল ৪টায় তিনি তারেক রহমান মঞ্চে উপস্থিত হন। তার উপস্থিতির সঙ্গে সঙ্গে পুরো এলাকা স্লোগানে সরগরম হয়ে ওঠে।

    জনসভা শুরু হওয়ার আগে থেকেই নেতাকর্মীরা অনেক আগে থেকেই সভাস্থলে আসতে শুরু করেন। দুপুরের মধ্যে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ মূল অনুষ্ঠানের জন্য যোগদান করেন। তারা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সভায় উপস্থিত হন।

    এবারের জনসভাকে ঐতিহাসিক হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ দীর্ঘ ২২ বছর পর এই প্রথমবারের মতো ময়মনসিংহে তারেক রহমানের এ আগমন। ইতোমধ্যে ৬৪ ফুট দীর্ঘ এবং ৪৪ ফুট চওড়ার বিশাল একটি সভামঞ্চ প্রস্তুত করা হয়েছে। মঞ্চের মাঝে রয়েছে এলইডি স্ক্রিন এবং পাশে বিশাল ব্যানার। অবস্থা অনুযায়ী একটি ব্যানারে লেখা রয়েছে ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’ এবং অপর পাশে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’।

    সুরক্ষার জন্য পুরো সভাস্থল কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে সিএসএফ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন থাকছেন, এছাড়া ২০টি সিসিটিভি ক্যামেরা থেকে নজরদারি চালানো হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

    দলের সূত্র জানিয়েছে, ২০০৪ সালে ময়মনসিংহে তারেক রহমানের প্রথম নির্বাচনী সভায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। এরপর দীর্ঘ বিরতিতে এই প্রথম তিনি আবারো ময়মনসিংহের মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে থাকছেন। তার এই জনসভাকে কেন্দ্র করে নগরজুড়ে পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুনের দেখা মিলছে, যা তার আগমনকে স্বাগত জানাতে দেয়া হয়েছে।

    ফুলবাড়িয়া উপজেলার ছোট একজন ধানের শীষের চা দোকানি আব্দুল খালেক জানান, ‘আমি রাজনীতি করি না, তবে তারেক রহমানকে দেখতে এসেছি। আমি বিশ্বাস করি, তিনি প্রধানমন্ত্রী হয়ে দেশের ভাগ্য পরিবর্তন করবেন।’

    একই সঙ্গে, বিএনপি ময়মনসিংহ বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবু ওয়াহাব আকন্দ বলেন, ‘আজকের জনসভায় মানুষের উপস্থিতি এতটাই বেশি যে অতীতের রেকর্ড ভেঙে গেছে। নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষের আগমন দেখে বোঝা যাচ্ছে, তারা তারেক রহমানের পরিকল্পনা জানতে আগ্রহী।’

  • নাহিদ ইসলামের হুঁশিয়ারি, আঘাত এলেই পাল্টা আঘাত

    নাহিদ ইসলামের হুঁশিয়ারি, আঘাত এলেই পাল্টা আঘাত

    ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার অভিযোগ তুলে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘যদি আমাদের প্রার্থীসহ দলের কেউ আঘাতের শিকার হয়, তাহলে এখন থেকে পাল্টা আঘাত আসবে।’ মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ঢাকার ফকিরাপুলে দলের স্থানীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

    নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আজ হাবীবুল্লাহ বাহার কলেজে অতিথি হিসেবে গিয়েছিলেন, সেখানে তার ওপর বাধা দেওয়া হয় এবং ইট-পাটকেল ছোড়া হয়। তিনি আরও জানান, গতকাল ঢাকা-১৮ আসনের প্রার্থী আরিফুল ইসলাম আদিবের ওপরও বিএনপি নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে।

    নাহিদ ইসলাম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘যদি হামলা হয়, তাহলে পাল্টা আঘাত দেওয়া হবে। একটি দলের প্রার্থীর ওপর ডিম নিক্ষেপ করলে অন্য দলের প্রার্থীরাও রেহাই পাবে না। আমরা এই ধরনের পরিবেশ চাই না। তবে নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ যদি নীরব থাকে, তাহলে আমাদের করণীয় যা-ই হোক, করবই।’

    তিনি আরও জানান, দেশে কয়েক দিনেই ছয়-সাতটি জেলায় ১১ দলের শরিক জামায়াতে ইসলামীর নারীকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন ও পুলিশের নীরবতার সুযোগে একটি বিশেষ দল ও জোট আচরণবিধি লঙ্ঘন করে সুবিধা নিচ্ছে, যা নির্বাচন ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করছে।’

    বিএনপির দিকে ইঙ্গিত দিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘তারা যদি আওয়ামী লীগের মতো সন্ত্রাসী কায়দায় প্রতিদ্বন্দ্বীদের মাঠ থেকে সরাতে চায়, তাহলে তাদের পার্থক্য কী? তারা ভোটের সময় জয় বাংলা স্লোগান দেয়, কিন্তু মনে রাখতে হবে, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে জনগণ কোনও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড মেনে নেবে না।’

    বিএনপির ২০১৮ সালের নির্বাচন ও ২৮ অক্টোবরের আন্দোলনের ব্যর্থতার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তখন আপনি মাঠে উঠতে পারেননি, তিন মিনিটও দাঁড়াতে পারেননি। আমরা তখন আপনার প্রতি সহানুভূতি দেখিয়েছিলাম। কিন্তু এখন আপনি সমালোচনাও সহ্য করতে পারছেন না। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে আপনি বেয়াদব বলছেন, তবে ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণই ব্যালটের মাধ্যমে ঠিক করে দেবে— কে বেয়াদব আর কে গ্যাংস্টার।’

    সংবাদ সম্মেলনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, তিনি ও তার দল শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশে প্রচারণা চালাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু হাবীবুল্লাহ বাহার কলেজে গিয়ে দেখে তাকে বাধা দেওয়া হয় এবং ইট-পাটকেল ও ডিম ছোড়া হয়।

    তিনি বলেন, ‘পুলিশের সামনেই আমাদের ভাইদের ওপর উপর্যুপরি কিল, ঘুষি ও লাথি মারা হয়েছে। আমাদের নারী সদস্যদের ওপর বরফ নিক্ষেপ করা হয়েছে, যার ফলে একজনের মাথায় চারটি সেলাই দিতে হয়েছে।’

    নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এই হামলার জন্য মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে মির্জা আব্বাসের ভাগনে আদিত্যের নাম উল্লেখ করেন। এছাড়া, হামলায় হাবীবুল্লাহ বাহার কলেজের ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান মাসুদ, সাবেক সদস্য শাহিন উদ্দিন মল্লিক এবং সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শরিফকে সরাসরি নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ করেন।

    তিনি আরও জানান, ‘মির্জা আব্বাস তার ভাগনে আদিত্যের মাধ্যমে সন্ত্রাসীদের ভাড়া করে এনে আমাদের ওপর এই হামলা চালিয়েছেন। আমি দেশবাসীর কাছে এর বিচার চাই।’

    নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, ‘ইসি একটি নির্দিষ্ট দলের পক্ষে কাজ করছে এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা না দিয়ে প্রার্থীকে খালি মাঠে ছেড়ে দিয়েছে। ভোটের আগে ৫০ জন ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিককে প্রার্থী হিসেবে অনুমোদন দেওয়া, যা দেশের জন্য লজ্জাজনক।’

  • তারেক রহমান: বিএনপি জানে দুর্নীতির মোকাবিলার কৌশল

    তারেক রহমান: বিএনপি জানে দুর্নীতির মোকাবিলার কৌশল

    বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, জনসাধারণের উন্নয়নের জন্য একটি রাজনৈতিক দল কীভাবে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারে তা বিএনপির রয়েছে। তার মতে, বিএনপির কাছে দেশের সরকার পরিচালনার অভিজ্ঞতা, শিক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার বিভিন্ন দিকের জ্ঞান রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর সংগ্রাম চালানোর জন্যও তাদের পরিকল্পনা সুদৃढ़।

    মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে ময়মনসিংহের সার্কেট হাউসে তাকে কেন্দ্র করে আয়োজিত বিএনপির নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ সব কথা বলেন। প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি বলেন, ‘গত ১৫ বছর দেশের সাধারণ মানুষ ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। এর ফলে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা ও রাস্তাঘাটের মতো মৌলিক বিষয়গুলো সমস্যায় পড়েছে। যদি ভোটের অধিকার থাকত, তবে এসব সমস্যা দ্রুত সমাধান সম্ভব হত। মানুষ তাদের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় সচেতন হওয়া দরকার।’

    তিনি আরও বলেন, ‘অসুস্থ হলে চিকিৎসা সুবিধা পেতে হবে, শিক্ষার উন্নতি করতে হবে, মানুষের জীবন মান উন্নত করতে হবে—এই সবই জনগণের মৌলিক অধিকার। এর জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে দায়িত্বশীল হতে হবে।’

    এসময় তিনি জামায়াতে ইসলামীর উদ্দেশ্যে বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দল বিএনপির দ وم ক্ষির রব স্ত্রির ভেরুর་ནطويرnoun��nnn���1300��PP��নssd��Sh

  • অন্যায়ভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার চিন্তা করলে কঠোর প্রতিরোধ হবে

    অন্যায়ভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার চিন্তা করলে কঠোর প্রতিরোধ হবে

    নির্বাচনপ্রক্রিয়া যদি ২০১৪, ২০১৮ বা ২০২৪ সালের মতো পুনরাবৃতি হয়, তবে সেগুলো কখনোই গ্রহণযোগ্য হবে না। বাংলাদেশের মানুষ এমন নির্বাচন মানবে না বলে মনে করছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডাঃ সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি জানান, যদি কেউ অন্যায়ভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার পরিকল্পনা করে, সেটি কেবল দুঃস্বপ্নের মতোই রইবে। জনগণ সেই অপতৎপরতার বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলবে এবং আন্দোলনের মাধ্যমে শৃঙ্খলা ফেরানোর নিশ্চয়তা দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার রাজধানীর মগবাজারে দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

    ডাঃ তাহের আরো বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একমাত্র দল যেখানে নারীর সংখ্যা দেড় কোটিরও বেশি, যা দেশের মোট ভোটারদের অন্তত ৪৩ শতাংশ। আমাদের আর্চিওর মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক দলসমূহে ৩৩ শতাংশ নারী সদস্যের বাধ্যবাধকতা, যা শুধু জামায়াতে ইসলামী সেনেটই পূরণ করেছে। তিনি দাবি করেন, অনেকের ধারণা হয়ত, জামায়াতে নারীদের গুরুত্ব কম, কিন্তু বাস্তবে যারা নারী সদস্য বেশি, তারা দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অপপ্রচারে কিছু মানুষ এই বিষয়টিকে ভুলভাবে প্রচার করার অপচেষ্টা করছে।

    ডাঃ তাহের বলেন, নির্বাচন খুবই কাছাকাছি। এই নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মী-সমর্থকরা খুবই সক্রিয়। তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ভোট চাচ্ছেন। পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সারাদেশে নারী ভোটাররা জামায়াতকে বেশি ভোট দিতে পারেন, কারণ তারা শান্তিময় এবং বিশৃঙ্খলা পছন্দ করেন না। নিজ নির্বাচনী এলাকা চৌদ্দগ্রামেও তিনি মনে করেন, পুরুষের চেয়ে নারীরা বেশি ভোট দেবে ইনশাআলাহ। তারা সক্রিয়ভাবে কাজ করছে এবং বিপুল ভোটে জয় লাভ করতে পারবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    তাহের অভিযোগ করেন, নেতা-প্রতিপক্ষরা বুঝতে পেরেছেন যে নারীদের এ সক্রিয়তা তাদের জন্য ঝুঁকি বৃদ্ধি করছে। এ কারণেই সারাদেশে নারীদের ওপর আক্রমণ, হেনস্তা ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। অপপ্রচারের মাধ্যমে ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, নারীরা আমাদের মা-বোন-কন্যা, তাদের সম্মান ও নিরাপত্তা রক্ষা আমাদের সকলের দায়িত্ব। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে, যারা নারী অধিকার ও স্বাধীনতার কথা বলে চিৎকার করেন, তারাই এখন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নারীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। দেশের কোথাও কোথাও ইতোমধ্যে হামলার ঘটনা ঘটছে, এমনকি জিহ্বা কেটে দেওয়ার হুমকিও দেয়া হচ্ছে। জামায়াতে ভোট দিলে হাত নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয় দেখানোও হচ্ছে।

    নির্বাচন কমিশনের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার একজন নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে কাজ করছে। যদি নির্বাচন সুষ্ঠু না হয়, তবে তার ফলাফল দেশের বাইরেও গ্রহণযোগ্যতা পাবে না। এর ফলে দেশের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ডুবে যেতে পারে। তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলসহ সরকারের বড় দায়িত্ব হচ্ছে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন। এতে ব্যর্থ হলে দেশ সঠিক পথে আর ফিরে আসতে পারবে না। যদি কেউ মনে করেন, জোরপূর্বক ক্ষমতায় গেলে সব কিছু শেষ, তা একদম ভুল। এটি একটি মারাত্মক ভুল ভাবনা, যা দেশের জন্য বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

    তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক সংঘর্ষে নারী কর্মীরা আহত হচ্ছেন, দলীয় কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণে বাধা পাচ্ছেন। উত্তেজনা ও হামলার ঘটনা রোজই ঘটছে। কেন্দ্র দখলের জন্য হুমকি, মারধর এবং অ승ত্মান দখলদারির মহড়া চলছে। প্রতিপক্ষের মূল কৌশলই হলো কেন্দ্র দখল এবং শক্তি দেখানো, যা তাদের বিজয়ের মূল মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

    ডাঃ তাহের স্পষ্ট করে বলেন, সব মিলিয়ে আমাদের বার্তা হলো, নারী হোক বা পুরুষ, সবাইকে দায়িত্বশীল ও শান্তিপ্রিয় পরিবেশ রক্ষার জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। এই জন্য প্রয়োজন সবার সচেতনতা এবং দায়িত্বশীলতা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এড. এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

  • তারেক রহমানের প্রশ্ন: বিএনপি সংকটে থাকলে দুই মন্ত্রী কেন পদত্যাগ করেননি?

    তারেক রহমানের প্রশ্ন: বিএনপি সংকটে থাকলে দুই মন্ত্রী কেন পদত্যাগ করেননি?

    বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, অনেকেই দেখতে পাচ্ছেন, একটি রাজনৈতিক দল এখন স্বৈরাচারী শাসকদের ভাষা ব্যবহার করে বিএনপির বিরুদ্ধে কথা বলছে। তাদের দাবি, বিএনপি দুর্নীতিতে শীর্ষ ছিল। তবে আমি প্রশ্ন করতে চাই, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি সরকারে থাকাকালীন ওই দলের দুইজনমন্ত্রী ছিলেন। তাহলে, যদি বিএনপি এতখানি খারাপ হতো, তারা কেন তখন পদত্যাগ করে চলে আসেননি?

    মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে ময়মনসিংহের সার্কিট হাউস মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। এর আগেও দুপুর ৪টা ৩ মিনিটে স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমানসহ মঞ্চে ওঠেন তারেক রহমান।

    বক্তব্যের মাঝপথে তিনি ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪টি সংসদীয় আসনের ধানের শীষের প্রার্থীদের মঞ্চে দাঁড়িয়ে তাদের পরিচয় করিয়ে দেন। ৪টা ২৬ মিনিটে সালাম জানিয়ে বক্তব্য শুরু করেন এবং ৫২ মিনিটে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চান। এরপর তার গাড়িবহর গাজীপুরের দিকে রওনা দেয়।

    তারেক রহমান বলেন, তারা পদত্যাগ করেনি কারণ তারা জানত, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কঠোর হাতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়ছিলেন। তৎকালীন সরকারের দুই মন্ত্রীও বুঝতেন, বেগম জিয়া দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেননি। আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানও δείছে, স্বৈরাচারী সরকারের সময় দেশ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত ছিল। কিন্তু ২০০১ সালে খালেদা জিয়া ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দেশ দুর্নীতির ভয়ংকর চক্র থেকে মুক্ত হতে শুরু করে।

    তিনি আরও বলেন, যে দল আজ বিএনপিকে দোষারোপ করছে, তাদের প্রথমদিক থেকে শেষ দিন পর্যন্ত দুই মন্ত্রীর বহাল থাকা থেকেই বোঝা যায়, তারা আসলে মিথ্যা বলছে।

    নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভোটের দিন তাহাজ্জু্দের নামাজ পড়ে সবাই কেন্দ্রে গিয়ে ফজরের নামাজ পড়বেন। এরপর লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেবেন। শুধু ভোটদানই যথেষ্ট নয়, ফলাফল বুঝে নিতে হবে যেন কেউ আমাদের ভোট নিতে না পারে।

    তিনি আগামী ১২ তারিখ ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানান এবং বলেন, ভোটের পর আবার দেখা হবে খনন কর্মসূচীতে। সবাই কোদাল নিয়ে আসবেন, আমি সেদিন থাকছি।

    স্লোগানে স্লোগানে স্থানীয় নেতাকর্মীরা তাকে স্বাগত জানায়। তারা ‘তারেক রহমানের আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম’, ‘আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান’ বলতে বলতে হাসি-উল্লাসে আঘাত করে। ময়মনসিংহের পক্ষ থেকে তাকে লাল গোলাপ উপহার দেওয়া হয়।

    তারেক রহমান মঞ্চে ওঠার আগে ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪টি আসনের ধানের শীষের প্রার্থীরা বক্তব্য রাখেন। তাঁদের মধ্যে বক্তব্য দেন ইকবাল হোসেন, সুলতানা আহমেদ বাবু, মোতাউর হোসেন বাবু, মাহমুদুল হক, ফরিদুল কবির তালুকদার, সিরাজুল হক, মাহমুদুল হক, মোস্তাফিজুর রহমান বাবলু ও লৎফুরজ্জামান বাবর।

    বক্তব্যে প্রার্থীরা নিজেদের মধ্যকার দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ভুলে কার্যকরভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তারা স্লোগান দেন—‘নৌকা গেছে ভারতে, ধানের শীষ গদিতে’।

    লুৎফুজ্জামান বাবর বলেন, ‘আমরা ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪টি আসন তারেক রহমানকে উপহার দিতে চাই এবং আগামীদিনে তাকেই প্রধানমন্ত্রী দেখতে চাই।’

  • ৫০তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা স্থগিতের জন্য রিট দাখিল

    ৫০তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা স্থগিতের জন্য রিট দাখিল

    নির্বাচনকালীন সময়ে ৫০তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা স্থগিতের দাবি নিয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) এটি নিশ্চিত করেছেন রিটকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট নাজমুস সাকিব। এই রিটটি মূলত পরীক্ষার্থীদের পক্ষে দাখিল করা হয়েছে। আসন্ন ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে ৫০তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার।

    পিএসসির পাঠানো বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পরীক্ষা রাজধানী ঢাকাসহ দেশের আটটি বিভাগীয় শহর—রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ—একযোগে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পরীক্ষার হল, আসনের ব্যবস্থা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা সময়মতো সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে (www.bpsc.gov.bd ও http://bpsc.teletalk.com.bd) প্রকাশ করা হবে।

    প্রসঙ্গত, এর আগে গত বছর ২৬ নভেম্বর পিএসসির ওয়েবসাইটে ৫০তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। আবেদন শুরু হয় ৪ ডিসেম্বর এবং শেষ হয় ৩১ ডিসেম্বর। এখন পরীক্ষার তারিখ নির্ধারিত থাকলেও, চলমান সাংবিধানিক বা প্রশাসনিক পরিস্থিতির কারণে এই পরীক্ষাটি স্থগিতের জন্য একটি রিট দায়ের করা হয়েছে।