সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবরের পাল্টা, সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের পরবর্তী কিস্তি স্থগিতের খবর সম্পূর্ণ অপ্রামাণিক। শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মর্তুজার পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এই ধরনের খবর ভিত্তিহীন এবং ভ্রান্ত। তবে কিছু মিডিয়া বলছে, সংস্কারে ব্যর্থতার কারণে আইএমএফের ঋণের পরবর্তী কিস্তি স্থগিত হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়, এই খবর ভুল ও ভিত্তিহীন। তারা আরও জানায়, বাংলাদেশ সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল আইএমএফের সঙ্গে দুটি বৈঠক করেছে—একটি সকালে, যেখানে এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন এবং তার দলের সঙ্গে আলোচনা হয়; এবং অন্যটি বিকেলে, যেখানে ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর নাইজেল ক্লার্ক ও তার প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক হয়। দুটিরই পরিবেশ ছিল ইতিবাচক ও উষ্ণ। এই আলোচনায় সরকারের অর্থমন্ত্রী দেশ পরিচালনার দৃষ্টিভঙ্গি ও বিএনপির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন, পাশাপাশি রাজস্ব বৃদ্ধির দাবি এবং ব্যাংক-আর্থিক খাতে প্রয়োজনীয় সংস্কারের দিকেও আলোকপাত করা হয়। অধিকাংশ আলোচনা ফলপ্রসূ ছিল, তবে কিছু বিষয় নিয়ে আরও আলোচনা করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বিশেষ করে, জনগণের স্বার্থে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের বিষয়টিও আলোচনায় আসে। কিছু বিষয় নিয়ে মতৈক্য নাও হতে পারে, কিন্তু উভয় পক্ষ আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে এবং ভবিষ্যতের আলোচনায় সমাধান লক্ষ্যে আশাবাদ ব্যক্ত করছে। আইএমএফ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তারা বাংলাদেশের উন্নয়ন অংশীদার। জনগণের স্বার্থ রক্ষায়, এবং গণতান্ত্রিক সরকারের পাশে থেকে উন্নয়নের সহায়তাকারী হিসেবে তারা বাংলাদেশে থাকতে চায়। উল্লেখ্য, সরকার আরও জানায় যে, গতকাল (শুক্রবার) কোনো বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি এবং আজ (শনিবার) কোনো আলোচনা বা সিদ্ধান্তে ঋণ স্থগিতের বিষয়টির উল্লেখ হয়নি।
Blog
-

অন্তর্বর্তী সরকারের মার্কিন চুক্তি: হরমুজ প্রণালির চেয়ে বড় বাধা
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে মার্কিন বাণিজ্যিক চুক্তি দেশের জ্বালানি আমদানিতে হরমুজ প্রণালির বাধার চেয়েও বড় সমস্যা বলে মন্তব্য করেছেন অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। আজ শনিবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, আমাদের উচিত উত্থানকালীন সময়ের জন্য ગ্রীન এনার্জির দিকে মনোযোগ দেওয়া। জ্বালানি সংকট থেকে মুক্তি পেতে হলে আগামী বাজেটে সেই লক্ষ্যে পদক্ষেপ নিতে হবে। আওয়ামী লীগের শাসনামলে জ্বালানি নীতিতে অনেক ভুল হয়েছে। নতুন অনুসন্ধান ও উদ্ঘাটন হয়নি, বরং বেসরকারি সংস্থায় বিনিয়োগের পরিবর্তে আমদানি নির্ধর্শতা বাড়ানো হয়েছে। দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা যথেষ্ট থাকলেও ব্যবহারে দেখা দেয় না, কারণ কায়েমী স্বার্থের কারণে আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা আরও বেড়ে গেছে।
জ্বালানি সরবরাহের ব্যাপারে তিনি বললেন, ‘জ্বালানি সরবরাহের জন্য প্রয়োজন, হরমুজ প্রণালীতে যে বাধা সৃষ্টি হয়েছে তা অতিক্রম করতে। তবে সবচেয়ে বড় সমস্যা হল, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক চুক্তি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি অর্থনীতি ও জ্বালানির ক্ষেত্রেও অবদান রাখছে। সংস্কার কার্যকর না হলে আইএমএফ সহ অন্য কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা ঋণ দেবে না। সরকারের দরকার ২-৩ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত অর্থ।’
অর্থনীতিবিদটি যোগ করেন, ‘কর হার কমিয়ে করদাতার সংখ্যা বাড়াতে হবে। আর্থিক ও সামাজিক চুক্তির মাধ্যমে কর থেকে অর্জিত অর্থ সেবা নিশ্চিত করতে হবে। এই সরকারের ঘোষিত ইশতেহার অনুযায়ী এ বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যদি কেবিনেটের সাব-কমিটি পেট্রোল পাম্পের সামনে লাইন কমানোর জন্য কার্যকর উদ্যোগ নিতে না পারে, তাহলে সেই কমিটি কী কাজ করবে? সাব-কমিটি গুলোর উদ্যোগ জনসাধারণের অগোচরে থাকলে তা অর্থহীন।’
ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য উল্লেখ করেন, ‘আগামী বাজেটে জ্বালানি খাতে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে, কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে হবে। বিশেষ করে বাপেক্সকে আরও সক্রিয় করতে হবে এবং সমুদ্র থেকে জ্বালানি অনুসন্ধানের উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি জ্বালানিতে দেওয়া ভর্তুকির বিবেচনা পুনরায় করতে হবে, যেন সাশ্রয়ী দামে আমদানি সম্ভব হয়।’
-

বিদ্যুতের দাম না বাড়ানো জনগণের দায়বদ্ধতা: অর্থ উপদেষ্টা
সরকারের বহনকরা বিশাল মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষজনের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে এবং দারিদ্র্যের হার বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তবে, জনগণের ওপর অতিরিক্ত চাপ এড়ানোর জন্য সরকার জোড়ালো চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা থেকে বিরত থাকছে।
শুক্রবার বিকেলে ফরিদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে ‘সমতাভিত্তিক আঞ্চলিক উন্নয়ন’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, “পূর্ববর্তী সরকারের ভুল নীতির কারণে সৃষ্টি হওয়া মূল্যস্ফীতির কারণে পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে ওঠার ঝুঁকি রয়েছে। এর ফলে নিম্নবিত্ত ও অতি দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “বৈরী অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সত্ত্বেও কৃষক ও সাধারণ মানুষের জন্য চিন্তা করে বর্তমান সরকার জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম সমন্বয় বা বৃদ্ধির পরিকল্পনা করেনি। জনগণের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা থেকে এই কৃচ্ছ্রসাধন চালু রাখা হয়েছে।”
অর্থ উপদেষ্টা অতীতের উদাহরণ টেনে বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যুদ্ধবিধ্বস্ত ও দুর্ভিক্ষগ্রস্ত অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করেছিলেন, সেই পথেই বর্তমানে চলছেন সরকার। তিনি জানান, সংকটকালে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’ এর মতো কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো কৃষক, খামারি ও মাছচাষীদের স্বার্থ সুরক্ষায় একটি সর্বজনীন কর্মসূচি গ্রহণের মাধ্যমে নারীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হচ্ছে।
নির্বাচনী ইশতেহারের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে উপদেষ্টা বলেছেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত এই সরকার মূল লক্ষ্য হিসেবে আঞ্চলিক সমতা ও উন্নয়নের দিকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। আগে কোনো রাজনৈতিক দল এই ধরনের সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে পারেনি। রংপুর ও রাজশাহীর পর ফরিদপুরেও এই উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
ইশতেহারের পাঁচটি মূল স্তম্ভের মধ্যে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাষ্ট্রব্যবস্থার পুনরুদ্ধার, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন, রাষ্ট্রের সক্ষমতা বৃদ্ধি, ভঙ্গুর অর্থনীতির পুনর্গঠন এবং সমাজের জন্য একটি নতুন মানদণ্ড তৈরি এখানে গুরুত্বপূর্ণ।
-

প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করলেন চলতি বছরের হজ ফ্লাইট কার্যক্রম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চলতি বছরের হজ ফ্লাইট কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন। শুক্রবার রাতে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রাত ১১টা ৩০ মিনিটে তিনি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে বিমানে উঠে যাত্রীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের কাছ থেকে দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য দোয়া চেয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত হজযাত্রীদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা প্রত্যেকে আল্লাহর মেহমান। যাদের আল্লাহর ঘরে যাওয়ার তৌফিক হয়েছে, তারা দোয়া করলে আল্লাহ আপনার দোয়া কবুল করবেন।” তিনি হজযাত্রীদের দেশ ও জাতির কল্যাণে দোয়া করার অনুরোধ জানিয়ে আরও বলেন, দেশের সমস্যাগুলো মোকাবিলা এবং সরকারের নেয়া উদ্যোগগুলো সফল করার জন্য তারা দোয়া করবেন।
আগামী বছর থেকে হজে সুবিধা বাড়ানো এবং খরচ কমানোর আশ্বাসও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, সরকার গঠনের আগেও অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই হজ ব্যবস্থার বেশিরভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছিল, তবুও সরকার চেষ্টা করেছে অন্তত ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ কমানোর। আগামী বছরে খরচ আরও কমাতে পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে তিনি প্রত্যাশা প্রকাশ করেন এবং হজযাত্রীদের দোয়া কামনা করেন।
এর আগে রাত ১০টা ৫০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী আশকোনা হজ ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি হজযাত্রীদের সঙ্গেই কুশল বিনিময় করেন, যাত্রা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন এবং ক্যাম্পে অবস্থানরত হজযাত্রীদের সঙ্গে মোনাজাতে যোগ দেন। তিনি বলেন, সরকার হজ ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত ও যাত্রীবান্ধব করতে কাজ করছে।
এসময় ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম (রিতা)সহ সরকারী উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে এ বছরের প্রথম হজ ফ্লাইটটি ১৮ এপ্রিল রাত ১২টা ২০ মিনিটে ৪১৯ জন হজযাত্রী নিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সৌদি আরবের জেদ্দা—বাদশাহ আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হবে। উদ্বোধনী দিনের জন্য মোট ১৪টি ফ্লাইট নির্ধারণ করা হয়েছে; যার মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৬টি, সাউদিয়ার ৩টি এবং ফ্লাইনাসের ৩টি ফ্লাইট আছে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বর্ধিত ফ্লাইট শিডিউল ও বিমান ভাড়া কমানোসহ সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পরই হজ ফ্লাইট শুরু করা হচ্ছে।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ হজ যাত্রী প্রেরণকারী দেশে হিসেবে এ বছর বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৭৮,৫০০ জনের মতো হজযাত্রী সৌদি আরব যাবেন। এদের মধ্যে ৪,৫৬৫ জন সরকারি ব্যবস্থাপনায় এবং ৭৩,৯৩৫ জন বেসরকারি অ্যাজেন্সির মাধ্যমে হজ পালন করবেন।
হজ পূর্ব ফ্লাইট ২১ মে পর্যন্ত চলবে। এ জন্য মোট ২০৭টি হজ পূর্ব ফ্লাইট নির্ধারিত আছে—বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১০২টি, সাউদিয়া ৭৫টি এবং ফ্লাইনাস ৩০টি ফ্লাইট পরিচালনা করবে। মোট হজযাত্রীর প্রায় অর্ধেক বহন করবে বিমান বাংলাদেশ; বাকিরা সাউদিয়া ও ফ্লাইনাস বহন করবে।
চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে আগামী ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ফিরতি ফ্লাইট ৩০ মে থেকে শুরু হবে এবং তা ১ জুলাই পর্যন্ত চালু থাকবে।
-

রাশেদ প্রধানের বাড়ির সামনে বিক্ষোব, পিএস জনি নন্দী পুলিশ হেফাজতে
রাজনৈতিক নেতা তারেক রহমানকে নিয়ে করা আপত্তিকর মন্তব্যের প্রতিবাদে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকার মোহাম্মদপুরে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধানের বাসার সামনে তীব্র বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। উত্তপ্ত পরিবেশে উসকানিমূলক আচরণের অভিযোগে রাশেদ প্রধানের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) জনি নন্দীকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে।
ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মোহাম্মদপুর এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানাও ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিক্ষুব্ধ জনতা বিকালে রাশেদ প্রধানের বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ শুরু করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করে। এই উত্তেজনার সময় জনি নন্দীকে নিয়ে অভিযোগ ওঠে যে তিনি জনতাকে উসকানিমূলক ভাষায় উস্কে দিয়েছেন, যার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ তাকে আটক করে।
এডিসি জুয়েল রানা জানান, জনি নন্দীকে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করার অভিযোগে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি মোহাম্মদপুর থানায় রয়েছেন এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
বিক্ষোভ ও উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কায় মোহাম্মদপুর ও আশপাশের এলাকায় পুলিশের নজরদারি ও টহল বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে যাতে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। পুলিশ জনগণকে শান্ত ও আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
-

স্পিকার নিরপেক্ষ ছিলেন না: জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান
বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্পিকার নিজেকে নিরপেক্ষ রাখার কথা বললেও বাস্তবে বিরোধী দল তা পেয়েছে না। অভিযোগ করেন, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলার সুযোগ না পাওয়ায় বিরোধীরা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করতে বাধ্য হয়েছেন।
আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতের জেলা ও মহানগর আমির সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ১২ মার্চ অনুষ্ঠিত প্রথম অধিবেশনে উত্থাপিত ১৩৩টি অধ্যাদেশ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করার কথা থাকলেও অধিকাংশই আলোচনায় তোলা হয়নি। কার্য উপদেষ্টা কমিটির সম্মতিতেও এসব অধ্যাদেশ সংসদের টেবিলে না আনার সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়নি এবং আলোচ্যসূচিতে মাত্র একটি বিষয় রাখা হয়েছে।
ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, এসব অধ্যাদেশের মধ্যে দুদক পুনর্গঠন, মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ সংস্কার, গুম প্রতিরোধ ও বিচার বিভাগীয় স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। তিনি আরো বলেন, বিরোধী পক্ষ ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিলেও সেটি বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।
সংসদে বিতর্কের সময়সীমা নিয়েও তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। দুই মিনিটের আলোচনায় কোনো পার্লামেন্টারি বিতর্ক সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরে সময় কিছুটা বাড়ানো হলেও তা পর্যাপ্ত ছিল না এবং সরকারের দিকে অনেক দীর্ঘ সময়ের বক্তৃতা রাখার সুযোগ রাখা হয়েছে।
ব্যাংকিং খাত প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর বলেন, অতীতে ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকা লুট হয়ে বিদেশে পাচার হওয়ার পরও তা উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। অভিযোগ করেন, এসব অর্থ উদ্ধার ও দায়ীদের বিচারের উদ্যোগ আটকে দেওয়া হয়েছে। তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংরের গভর্নরের পরিবর্তন ও সংশ্লিষ্ট ঘটনার ধারাবাহিকতায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ঘটেছে বলে আশঙ্কা করেন এবং বলেন, একজন ঋণখেলাপিকে পুনঃতফসিল দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বসানোর মতো ঘটনার প্রভাবও বিরূপ।
এর ফলে তফসিলি ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ওপর অনাকাঙ্ক্ষিত চাপ বা ‘কালো হাত’ বাড়ছে—এমন আশঙ্কাও তিনি প্রকাশ করেন। ব্যাংক কোনো দলের সম্পত্তি নয়, এটি জনগণের সম্পদ বলে মন্তব্য করে সাধারণ জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান এবং আমানত রক্ষায় সকলে পাহারাদারের ভূমিকা রাখার অনুরোধ করেন।
জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়েও তিনি সরকারের বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির অসামঞ্জস্য指ঙ্গ করেন। সরকার বলছে জ্বালানির সংকট নেই, কিন্তু দীর্ঘ সময় লোডশেডিং, ফার্নেস অয়েলের অভাব ও পরিবহন ব্যয়ের বৃদ্ধির ফলে শিল্প বর্ষণ ও দ্রব্যমূল্যের চাপ ইত্যাদি বাস্তবে মানুষকে ভুগাচ্ছে। পাশাপাশি চাঁদাবাজির কারণে সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত বোঝা সৃষ্টি হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বৈশ্বিক কারণের প্রভাব থাকলেও অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা ও নীতিগত ভুলই সংকটকে তীব্র করেছে। তিনি সরকারকে জাতীয় স্বার্থে খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমে প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে সমস্যার সমাধানের পথ গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন গণভোটের রায় বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে এবং যেসব সংস্কারমূলক অধ্যাদেশ আনা হয়েছিল সেগুলো জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ি বিল আকারে সংসদে উপস্থাপন করা উচিত।
বিরোধীদলীয় নেতার সতর্কীকরণ—জনগণের মতামত উপেক্ষা করলে তা গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী হবে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় সংকট সৃষ্টি করতে পারে। ভুল মানুষ করে, কিন্তু সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সঠিক পথে ফিরে আসাই কর্তব্য, আহ্বান জানিয়ে তিনি বক্তব্য শেষ করেন।
-

নাহিদ ইসলাম: ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণের কথা ভুলে গেছে
জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণের কথা ভুলে গেছে। তিনি এই মন্তব্য করেন আজ শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশের ইতিহাসে শ্রমিকরাই বারবার বীরত্বের পরিচয় দিয়েছেন — ১৯৪৭-এর স্বাধীকারের লড়াই থেকে ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তী সব গণ-অভ্যুত্থান পর্যন্ত বহু প্রাণহানির পেছনে ছিলেন শ্রমজীবী মানুষজন। ‘‘চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে জীবন দেওয়া মানুষের অধিকাংশই শ্রমজীবী ছিলেন,’’ তিনি বলেন।
তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষমতায় এসে বিএনপি এক মাসের মধ্যেই জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। ‘‘নতুন সরকার শ্রমিকদের রক্তের ওপর ক্ষমতায় বসেছে; কিন্তু এক মাসের মধ্যেই তারা নতুন বাংলাদেশের সঙ্গে বেইমানি করেছে। গণভোটের গণরায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে—এ সরকার গণবিরোধী,’’ নাহিদ বলেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি হওয়া অধ্যাদেশগুলোকে আইনে পরিণত করার এবং সামাজিক-অর্থনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি বিএনপি ভঙ্গ করেছে, অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘‘এ দেশের রাজনীতিতে ওয়াদা ভঙ্গের পরিণতি ভালো হবে না। আমরা গণ-আন্দোলন গড়ে শ্রমিকদের অধিকারসহ সংস্কার বাস্তবায়নে বাধ্য করব।’’
নাহিদ আরও বলেন, ‘‘আমরা একটি নতুন জাতীয় ঐক্যে আবির্ভূত হয়েছি। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শ্রমিকদের প্রতি আমাদের যে সংযুক্ত প্রতিশ্রুতি ছিল—একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠন করা, রাজনীতি-অর্থনীতি-সমাজ সব জায়গায় ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা, নতুন বন্দোবস্তে শ্রমিকের অংশ নিশ্চিত করা—সেই লড়াইয়ে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’’
তিনি জানান, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, জাতীয় নাগরিক পার্টি ও জাতীয় শ্রমিক শক্তি ঐক্যের পথে রয়েছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে (উল্লেখ্য তিনি এখানে সরকারপ্রধান হিসেবে উল্লেখ করেছেন) জবাবদিহিতার আওতায় আনতে শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। ‘‘আপনাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিতে হবে। নতুন বাংলাদেশের পথে, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হবে,’’ তিনি বলেন।
রাজপথে নামার প্রস্তুতির কথাও আবার জোরদার করে নাহিদ বলেন, ‘‘শুধু জাতীয় সংসদ নয়, এবার আমাদের রাজপথেরও প্রস্তুতি নিতে হবে। গণ-আন্দোলনের প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে আমরা বর্তমান সরকারকে বাধ্য করব যাতে জুলাই সনদ, গণভোটসহ শ্রমিকের প্রতিটি অধিকার নিশ্চিত হয়।’’
-

প্রবাসী আয় বাড়ায় রিজার্ভ পুনরায় ৩৫ বিলিয়ন ডলারের ওপরে
গেল মার্চে রেকর্ড পরিমাণ প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) এসে গেলে বৈদেশিক মুদ্রার জোগান বাড়ে এবং চলতি এপ্রিলেও এ প্রবাহ ইতিবাচক ছিল। এর প্রভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে আবার ডলার কিনতে শুরু করলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলারের সীমানা ছাড়িয়ে গেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের মোট (গ্রোস) বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৫.০৪ বিলিয়ন ডলারে। আইএমএফের বিপিএম-৬ হিসাবপদ্ধতিতে রিজার্ভ দেখালে তা প্রায় ৩০.৩৬ বিলিয়ন ডলার।
তুলনায় দেখা যায়, এক মাস আগের—that is ১৬ মার্চ—মোট রিজার্ভ ছিল ৩৪.২২ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী ২৯.৫২ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক মাসে রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় এক বিলিয়ন ডলার।
তবে মোট রিজার্ভের সবটিই ব্যবহারযোগ্য নয়। স্বল্পমেয়াদি দায়-দায়িত্ব ও অন্যান্য বাধ্যবাধকতা বাদ দিলে যে নিট বা প্রকৃত রিজার্ভ থাকে, সেটিই অর্থনীতির জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ব্যাংক অভ্যন্তরীণভাবে ‘ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ’ হিসাব করে; সেখানে আইএমএফের এসডিআর, ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রা ক্লিয়ারিং হিসাব ও আকুর বিলের মতো কিছু খাত বাদ দেওয়া হয়। এই হিসাব সাধারণত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয় না।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে দেশের ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ প্রায় ২৭ বিলিয়ন ডলার। যদি প্রতি মাসে গড়ে ৫ বিলিয়ন ডলার আমদানি ব্যয় ধরা হয়, তাহলে এই রিজার্ভ দিয়ে পাঁচ মাসেরও বেশি সময় আমদানি চালানো যাবে। সাধারণভাবে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় সমপরিমাণ রিজার্ভকে নিরাপদ ধরা হয়।
অতীতে রিজার্ভ চাপে ছিল—কিছু সময় ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ ১৪ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে যায়। তখন সরকার বৈদেশিক ঋণ নেয়া এবং বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ডলার সংগ্রহ করার মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছিল।
২০২৪ সালের আগস্টে অন্তর্বতী সরকার দায়িত্ব নেবার পর নতুন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি কমিয়ে দেন। একই সঙ্গে হুন্ডি ও অর্থপাচার রোধ, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং বিভিন্ন উৎস থেকে ডলার সরবরাহ বাড়ানোর জন্য পদক্ষেপ নেয়া হয়। এসব উদ্যোগ ধীরে ধীরে রিজার্ভকে পুনরায় শক্ত করে তোলে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বাড়ায় দেশে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বেড়েছে এবং তাই রিজার্ভ শক্তিশালী হচ্ছে। বাজারে ভারসাম্য বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কিনছে, ফলে রিজার্ভ ভালো অবস্থানে এসেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ডলারের দাম অত্যধিক কমে গেলে প্রবাসী আয় ও রপ্তানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে—তাই প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ঐতিহাসিকভাবে দেখা যায়, ২০২১ সালের আগস্টে দেশের রিজার্ভ সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলারের ওপরে পৌঁছেছিল; তখন প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল প্রায় ৮৪.২০ টাকা। পরবর্তী সময়ে ঋণ অনিয়ম, অর্থপাচার ও অন্যান্য কারণে রিজার্ভে চাপ আসে এবং তা কমতে থাকে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় রিজার্ভ নেমে আসে ২৫.৯২ বিলিয়ন ডলারে; আইএমএফ হিসাব অনুযায়ী তখন তা ২০.৪৮ বিলিয়ন ডলার ছিল। ওই সময়ে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়ে ডলারের দর ১২০ টাকার ওপরে ওঠে, ফলে আমদানিতে নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।
পরে অন্তর্বতী সরকারের উদ্যোগে ধীরে ধীরে ডলারের বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করা হয়, প্রবাসী আয় বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং আমদানির ওপর বিধিনিষেধ ধাপে ধাপে শিথিল করা হয়। তুলনামূলকভাবে উদার বাণিজ্য নীতির ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়তে শুরু করে এবং তা রিজার্ভ পুনরুদ্ধারে সহায়ক হয়।
চলতি এপ্রিলের প্রথম ১৫ দিনে দেশে এসেছে ১৭৯ কোটি ডলারের প্রবাসী আয়—যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২১.৫ শতাংশ বেশি (গত বছর একই সময়ে এসেছিল ১৪৭ কোটি ডলার)। গত কয়েক মাস ধরে রেমিট্যান্সে ঊর্ধ্বমুখী ধারা দেখা যাচ্ছে; মার্চে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার, যা এক মাস হিসেবে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর আগে ফেব্রুয়ারি ৩০২ কোটি, জানুয়ারি ৩১৭ কোটি এবং ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।
প্রবাসী আয় বৃদ্ধির কারণে বাজার থেকে ডলার সংগ্রহ করে বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত ব্যাংকগুলো থেকে ৫৬১ কোটি ডলার কিনেছে। এর ফলেই রিজার্ভ আবারও তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থানে ফিরে এসেছে।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বাজারে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার কারণে জ্বালানি তেলের দাম অনিশ্চিততায় রয়েছে; এমন প্রেক্ষাপটে রিজার্ভ বৃদ্ধিকে সংশ্লিষ্টরা স্বস্তিদায়ক হিসেবে দেখছেন।
-

LG এশিয়ার বাজারের জন্য উদ্ভাবনী হোম সলিউশন ও ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি কৌশল উপস্থাপন
বিশ্বখ্যাত ইলেকট্রনিক ব্র্যান্ড LG Electronics কোরিয়ার বুসানে ৭-১০ এপ্রিল আয়োজিত InnoFest 2026 APAC এশিয়া-প্যাসিফিক বাজারকে কেন্দ্র করে তাদের সর্বশেষ হোম অ্যাপ্লায়েন্স ও ভবিষ্যৎ কৌশল উপস্থাপন করেছে। প্রায় ২০টির কাছাকাছি এশিয়ান বাজার থেকে ২০০-এর বেশি ব্যবসায়িক পার্টনার ও গণমাধ্যম প্রতিনিধির অংশগ্রহণে এটি LG-এর ২০২৬ InnoFest সিরিজের সমাপনী ইভেন্ট হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়।
‘Innovation, Forward Together’ শিরোনামের আয়োজনটিতে LG দেখিয়েছে কীভাবে প্রযুক্তি, স্থানীয় সংস্কৃতি ও ব্যবহারিক চাহিদা মিলিয়ে এশীয় ভোক্তাদের দৈনন্দিন জীবন সহজ করা যায়। K-Tech উদ্ভাবন ও অঞ্চলের সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য যোগ করে কোম্পানিটি বাস্তবসম্মত ও টেকসই হোম সলিউশন গড়ে তুলতে মনোযোগ দিয়েছে।
পোশাক পরিচর্যায় (Laundry Care) LG-এর নবীন সমাধানগুলো এখানে কেন্দ্রীয় আকর্ষণ ছিল। নতুন WashTower™ লাইনে এশিয়ার ছোট ভাড়াবাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্টে উপযোগী নতুন ২৫ ইঞ্চি মডেলের পাশাপাশি ২৪ ও ২৭ ইঞ্চি সংস্করণ যোগ করা হয়েছে। কম জায়গায় সর্বোচ্চ সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্যেই এসব ডিভাইস ডিজাইন করা হয়েছে, ফলে ঘনবসতিপূর্ণ বাজার যেমন বাংলাদেশের জন্য এগুলো কার্যকর হবে।
নতুন টপ-লোড ওয়াশারগুলোতে AI Direct Drive™ (AI DD™) প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে, যা কাপড়ের ধরন ও ময়লা অনুযায়ী ধোয়ার ধারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সামঞ্জস্য করে। TurboWash™ 3D প্রযুক্তির মাধ্যমে পুরো ওয়াশ সাইকেল ৩০ মিনিটেরও কমে শেষ করা সম্ভব এবং স্বয়ংক্রিয় ডিটারজেন্ট ডিসপেনসার প্রতিটি লোডের জন্য যথাযথ পরিমাণ নির্ধারণ করে দেয়। এছাড়া WashCombo™ অল-ইন-ওয়ান ওয়াশার-ড্রায়ার একক ইউনিটে ধোয়া ও শুকানোর কাজ করে, আর Inverter HeatPump™ প্রযুক্তি বিদ্যুৎ সাশ্রয় বাড়ায়—যা বিদ্যুৎ ব্যয় সংবেদনশীল বাংলাদেশের মতো বাজারে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা।
রান্নাঘরের জন্য LG নতুন প্রজন্মের স্মার্ট ও কমপ্যাক্ট কিচেন সমাধানও উন্মোচন করেছে। Fit & Max ডিজাইনের Zero Clearance Hinge দেয়ালের সঙ্গে ফাঁক না রেখে বেসলাইনকে বিল্ট-ইন লুক দেয় এবং স্টোরেজ ক্ষমতা বাড়ায়। উন্নত Ice Solution চার ধরনের বরফ অপশন দেয়—Craft Ice™, Cubed, Crushed ও Mini Craft—যা প্রতিদিনের ব্যবহার ও অতিথি আপ্যায়নের জন্য সুবিধাজনক।
ডিশওয়াশার সেগমেন্টে LG এক ঘণ্টার মধ্যে ওয়াশ ও ড্রাই করতে সক্ষম সাইকেল, QuadWash™ Pro এবং Dynamic Heat Dry+ প্রযুক্তি প্রদর্শন করেছে, যা দ্রুত ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করে। উল্লেখযোগ্যভাবে কিছুমাত্র গুরুত্বপূর্ণ মডেলে A গ্রেড এনার্জি এফিসিয়েন্সিও অর্জিত হয়েছে।
AI চালিত স্মার্ট হোম অভিজ্ঞতা প্রদর্শনীর আরেকটি আকর্ষণ ছিল AI Home Vision এবং ThinQ ON™ AI Home Hub—যার মাধ্যমে LG-এর স্মার্ট অ্যাপ্লায়েন্স ও IoT ডিভাইসগুলো একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে ব্যবহারকারীদের জীবন আরও স্বয়ংক্রিয় ও সুবিধাজনক করে তুলবে। এই প্ল্যাটফর্মটি ধাপে ধাপে এশিয়ার বিভিন্ন বাজারে চালু করা হচ্ছে।
দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি কৌশলের অংশ হিসেবে LG তাদের সাবস্ক্রিপশন সার্ভিস ‘LG Subscribe’ সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছে। এই সেবার মাধ্যমে গ্রাহকরা কিস্তিভিত্তিক ব্যবহার সুবিধা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ পাবে—যা বাংলাদেশের মতো বাজারে সম্ভাবনাময় বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে।
LG Electronics Asia Pacific এর আঞ্চলিক সিইও জেসুং কিম বলেন, “এশিয়া আমাদের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও দ্রুতবর্ধমান বাজার। InnoFest 2026 আমাদের পার্টনারদের সঙ্গে ভবিষ্যৎ ভিশন ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ভাগ করার গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। আমরা স্থানীয় জীবনধারা বিবেচনায় রেখে AI চালিত হোম সলিউশন আরও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।”
LG Home Appliance Solution Company (HS) হোম অ্যাপ্লায়েন্স ও AI হোম সলিউশনে বিশ্বজুড়ে শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। উদ্ভাবনী কোর প্রযুক্তি, শক্তি-সাশ্রয়ী ডিজাইন ও টেকসই সমাধানের মাধ্যমে কোম্পানি গ্রাহকদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন: www.LG.com/global/newsroom/
-

হরমুজ খুলে দেওয়ার ঘোষণায় তেলের দাম প্রায় ১৩% কমল
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনের আশায় শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক কাঁচা তেল বাজারে তীব্র পতন দেখা গেছে। ইরান ঘোষণা দিয়েছে, লেবাননকে কেন্দ্র করে যে যুদ্ধবিরতির ব্যবস্থা হয়েছে তার সময়কালে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী সব বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য উন্মুক্ত থাকবে—এই খবরে বাজারে তাৎক্ষণিক স্বস্তি ছড়িয়ে পড়ে এবং তেলের দাম পড়ে যায়।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, হরমুজ খুলে দেওয়ার ঘোষণার প্রভাবেই ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২.৮৭ ডলার (প্রায় ১২.৯৫%) কমে ৮৬.৫২ ডলারে নেমে আসে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুড ১৩.৫০ ডলার (১৪.২৬%) কমে ৮১.১৯ ডলারে পৌঁছায়। উভয় সূচকই মার্চের পর থেকে সবচেয়ে নিম্ন পর্যায়ে চলে আসে এবং এটি এপ্রিলের সবচেয়ে বড় দৈনিক পতন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, লেবানন সংক্রান্ত যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালী চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘোষণাই দ্রুত আন্তর্জাতিক তেলের সরবরাহ উদ্বেগ কমিয়েছে। ইউবিএসের বিশ্লেষক জিওভান্নি স্টাউনোভো বলেছেন, যদি যুদ্ধবিরতি টিকে থাকে তবে বাজার আরও স্থিতিশীল হতে পারে, তবে প্রশ্ন রয়ে গেছে যে হরমুজ দিয়ে ট্যাংকার চলাচল কতটা বৃদ্ধি পাবে।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে অগ্রগতি হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। একটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা হচ্ছে, যা সামরিক সংঘর্ষটি শেষ করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন (বা মন্তব্য করেছেন) যে ইরান ভবিষ্যতে প্রণালী বন্ধ করবে না বলে সম্মত হয়েছে এবং পারমাণবিক কার্যক্রমে দীর্ঘমেয়াদী সীমাবদ্ধতা গ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছে।
তবে সব ঝুঁকি দূর হয়নি। একটি আমেরিকান কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানকে কেন্দ্র করে সামরিক অবরোধ এখনও পুরোপুরি উঠে যায়নি। বিশ্লেষকদের সতর্কবাণী—হরমুজ খুলে দেওয়ার ঘোষণা কার্যকরভাবে সরবরাহ বৃদ্ধিতে রূপ নিলে বাজার স্থির হবে, কিন্তু ইউরোপীয় বাজারে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে পণ্যের সরাসরি পৌঁছাতে সাধারণত প্রায় তিন সপ্তাহ সময় লাগে। পারমাণবিক ইস্যু ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো রাজনৈতিক ব্যাপারে চূড়ান্ত সমাধান না হলে পুনরায় অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে।
সংক্ষেপে, হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রাখার ঘোষণায় বাজারে স্বস্তি ছড়ালেও পরিস্থিতি সন্তোষজনকভাবে স্থিতিশীল বলার জন্য এখনও অনেক অজানা রয়ে গেছে—তাই বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন।
