Blog

  • ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে পাল্টা ১৪ দফা শান্তি প্রস্তাব দিল, ট্রাম্প কী বললেন?

    ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে পাল্টা ১৪ দফা শান্তি প্রস্তাব দিল, ট্রাম্প কী বললেন?

    ইরান যুক্তরাষ্ট্রের ৯ দফা শান্তি প্রস্তাবের জবাবে পাল্টা ১৪ দফার একটি বিশদ শান্তি পরিকল্পনা দিয়েছে। তেহরান বলছে, এই পরিকল্পনার উদ্দেশ্য চিরস্থায়ী সংঘাত বন্ধ করা এবং দ্বিপক্ষীয় কূটনীতিক সেন্স গঠন করার লক্ষ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

    ইরান জানিয়েছে, তারা যুদ্ধের পুনরাবৃত্তি রোধ করে স্থায়ী সমাধান খুঁজে পেতে পাকিস্তানের মাধ্যমে মধ্যস্থতাভিত্তিক একটি পরিকল্পনা পৌঁছে দিয়েছে। এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে যুক্তরাষ্ট্র—সংঘাত বজায় রাখবে নাকি কূটনীতিকভাবে সমাধান করবে।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি শান্তি প্রস্তাবগুলো শিগগিরই মূল্যায়ন করবেন। তবে ট্রাম্প জানিয়েছে, তেহরানের যে প্রস্তাবগুলো এসেছে সেগুলোর মধ্যে অনেকটাই তার দৃষ্টিতে ‘গ্রহণযোগ্য’ নয়।

    সংকট কেবল সামরিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নেই—ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অর্থনৈতিক চাপ, সমুদ্রপথে নাভিক অবরোধসহ বিভিন্ন কৌশলগত টানাপোড়েনও চলছে। তেহরান দাবি করেছে, বড় ব্রহ্মান্ডের কিছু স্থাপনা ও সেন্ট্রাল ন্যাভাল রুটে ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা পদক্ষেপ নিয়েছে; যার প্রভাব বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও পণ্যবাহীতে দেখা গেছে। এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক বিবৃতি ও গণমাধ্যম প্রতিবেদনে ভিন্ন ভিন্ন দাবি প্রকাশ পেয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লম্বা সংঘর্ষকালে উভয়পক্ষের অনেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন—সামরিক ও বেসামরিক দিক উভয়েই মানবিক ও অবকাঠামোগত লোকসান হয়েছে, দাবি করেছে সংশ্লিষ্ট পক্ষরা। সংঘাতের জেরে হর্মুজ প্রণালীসহ গুরুত্বপূর্ণ জলপথে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় জ্বালানি তেলের বাজারেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক স্তরে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ঘাটতি ও কূটনৈতিক চাপের কথাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। দাবি করা হয়, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল প্রথমে সাময়িক এবং পরে অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসে।

    তবে তেহরান বলছে, তারা স্থায়ী শান্তির জন্য বেশ কিছু শর্ত রেখেছে—আর সেইই শর্তগুলোর বেশির ভাগই যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের কাছে গ্রহণযোগ্য নয় বলে দুইপক্ষই মন্তব্য করেছে। ফলম্বরূপ এখনো কড়া শর্ত ও আস্থাহীনতার ফাঁকে পড়ে আছে এই সংঘাতের ভবিষ্যৎ।

    কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে; কিন্তু চূড়ান্ত পথে নামতে হলে দুইপক্ষকেই আপস ও বিশ্বাসঘটনের দিকে এগোতেই হবে, এমনই বিশ্লেষকদের মত।

  • যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ভেঙে এশিয়ায় পৌঁছল ইরানের বিশাল তেলজাহাজ

    যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ভেঙে এশিয়ায় পৌঁছল ইরানের বিশাল তেলজাহাজ

    ওমান উপসাগর পেরিয়ে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে পৌঁছেছে ইরানের একটি ভিআইএলল সি (VLCC) ধরনের বিশাল তেলবাহী জাহাজ, যা যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর নজরদারি ও ঘোষিত অবরোধকে উপেক্ষা করে চলাচল করেছে। পর্যবেক্ষণ সংস্থা ট্যাংকার ট্র্যাকার্স ডটকম রোববার (৩ মে) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    ট্যাংকার ট্র্যাকার্স জানায়, ন্যাশনাল ইরানিয়ান ট্যাংকার কোম্পানির মালিকানাধীন ওই ভাসমান ক্রুড ক্যারিয়ারটি প্রায় ১৯ লাখ ব্যারেলেরও বেশি অপরিশোধিত তেল বহন করছে—যার বাজারমূল্য প্রায় ২২০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ২২ কোটি টাকা)। পর্যবেক্ষকরা জাহাজটিকে ‘হিউজ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

    সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, জাহাজটি এক সপ্তাহেরও বেশি সময় আগে শ্রীলঙ্কার উপকূলে দেখা গেছে। বর্তমানে এটি মালাক্কা প্রণালী অতিক্রম করে লম্বক প্রণালী দিয়ে ইন্দোনেশিয়ার লম্বক পথ ধরে রিয়াউ দ্বীপপুঞ্জের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। প্রকাশিত তথ্য বলছে, ২০ মার্চ মালাক্কার পথে যাত্রা শুরু করার পর থেকে জাহাজটি তার অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম (এআইএস) বন্ধ রেখেছে।

    ট্যাংকার ট্র্যাকার্স আরও জানিয়েছে, ১৩ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ ঘোষণার সময় ওই জাহাজটি ইরানি জলসীমায় ছিল। আল জাজিরার ইরানের স্থানীয় সূত্র উদ্ধৃত গণমাধ্যম রিপোর্ট অনুযায়ী, ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত কমপক্ষে ৫২টি ইরানি জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ লঙ্ঘন করেছে বলে দাবি করা হয়।

    অন্য দিকে ওয়াশিংটন জানিয়েছে, অবরোধ কার্যকরে রাখতে তারা তৎপর রয়েছে এবং এখন পর্যন্ত প্রায় ৪১টি ইরান-সংযুক্ত জাহাজকে পথ পরিবর্তন করতে বাধ্য করা হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করছেন, অবরোধের ফলে ইরানের যে বিপুল রাজস্ব তার ক্ষতি হয়েছে এবং দেশটিকে তেল মজুদ করে রাখতে বা রপ্তানি বন্ধ রাখতে বাধ্য করা হয়েছে।

    এই ঘটনার মাধ্যমে ইরানের তেলরপ্তানি নিয়ে আন্তর্জাতিক জলপথে তৎপরতা ও কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ার সংকেত পাওয়া যাচ্ছে। ট্যাংকারটির চলাচল এবং অবরোধে দুইপক্ষের দাবি–বিরোধ ভবিষ্যতে অঞ্চলটিতে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে।

  • প্রয়াত দুই সাংবাদিকের স্মরণে এমইউজের দোয়া ও স্মরণসভা

    প্রয়াত দুই সাংবাদিকের স্মরণে এমইউজের দোয়া ও স্মরণসভা

    খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক ইনকিলাবের খুলনা ব্যুরো প্রধান এটি এম রফিক এবং দৈনিক দিনকালের খুলনা ব্যুরো প্রধান সৈয়দ ঈসা’র মৃত্যুবার্ষিকীতে এমইউজের আয়োজন্যে দোয়া ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (০৩ মে) দুপুর ১২টায় সংগঠনের কার্যালয়ে এ সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন এমইউজের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো: আতিয়ার পারভেজ এবং অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক হাসান আহমেদ মোল্লা। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএফইউজের সাবেক সহ-সভাপতি ও এনটিভির খুলনা ব্যুরো প্রধান আবু তৈয়ব মুন্সি।

    অন্যান্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন খুলনা প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ও ‘সময়ের খবর’ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মো: তরিকুল ইসলাম, সহ-সভাপতি সোহরাব হোসেন, কোষাধ্যক্ষ শামিমুজ্জামান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বেল্লাল হোসেন সজল, নির্বাহী সদস্য কাজী মোতাহার রহমান বাবু, মো: আনিস উদ্দিন, ফুলতলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এস এম মোস্তাফিজুর রহমান ও সরদার আবু তাহের।

    স্মরণসভার অন্যান্য উপস্থিতির মধ্যে ছিলেন ইয়াসিন আরাফাত রুমি, সৈয়দ হুমায়ুন কবির রানা, ফকির শহিদুল ইসলাম, মো: খায়রুল আলম, রাজু আহমেদ, মাসুদ আল হাসান, আজিজুল ইসলাম, আবু বক্কর, মো: সিয়াম, মো: নাসিম উদ্দিন, এম এন আলী শিপলু, ফরহাদ হোসেন, খুলনা প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ বিমল সাহ, ‘খুলনা প্রতিদিন’ সম্পাদক সোহাগ দেওয়ান, ‘যায়যায়দিন’ খুনলার প্রতিনিধি মো: আতিয়ার তরফদার, এম এ সাদী, রামীম চৌধুরী, নুরুল আমিন, আহছানুল আমীন জর্জ, মুশফিকুর রহমান মেহেদী ও প্রয়াত সাংবাদিক টি এম রফিকের ছেলে আলমগীর কবীর রুবেল।

    সভায় বক্তারা প্রয়াত দুই সাংবাদিকের আত্মত্যাগ এবং পেশাদারিত্বকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। তারা বলেন, সমাজ ও জাতির কল্যাণে তাদের অবদান অস্বীকারযোগ্য; ভয়ভীতি উপেক্ষা করে গনতান্ত্রিক আন্দোলনগুলো জনপ্রিয় করতে তাদের সাহস ও নিবেদন প্রশংসনীয়। সভার শেষে তাদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তির জন্য দোয়া করা হয়।

  • রেলওয়ে নিউ কলোনীতে নিখোঁজ যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

    রেলওয়ে নিউ কলোনীতে নিখোঁজ যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

    খুলনার রেলওয়ে নিউ কলোনী থেকে নাজমুল (৩৫) নামের এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রবিবার (০৩ মে) সকাল প্রায় ১০টায় স্থানীয়রা ওই মরদেহ দেখে পুলিশকে জানিয়েছে। নাজমুল ওই কলোনীর বাসিন্দা এবং আলী আহমেদ ফারাজীর ছেলে।

    পুলিশ ও পরিবারের বরাত দিয়ে জানা যায়, নাজমুল শুক্রবার রাত থেকে নিখোঁজ ছিল। খুলনা থানার ওসি (তদন্ত) মিজানুর রহমান জানান, শুক্রবার রাতে নাজমুল তার বাবার কাছে ২ হাজার ৫০০ টাকা চেয়েছিল; বাবা টাকা দিতে অস্বীকার করলে সে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। পরিবারের সদস্যদের তথ্য অনুযায়ী, নাজমুল আগেও এমনভাবে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেছেন এবং গত রাতেও পরিবারের কেউ তার সন্ধান নেয়নি।

    রোববার সকালে নাজমুলের বাবা ঘরের সামনে গিয়ে তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান এবং পরিবারের সদস্যদের অবগত করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ নামিয়ে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পাঠায়।

    ওসি মিজানুর রহমান বলেন, ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত চলছে; আত্মহত্যা, অন্য কোনো রহস্যজনক ঘটনার সম্ভাব্য দিকগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের প্রাথমিক কাজ শেষে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা হবে।

  • টুর্নামেন্ট শুরুর আগে একাধিকবার হ্যান্ডশেক হয়েছিল: সালমান আগা

    টুর্নামেন্ট শুরুর আগে একাধিকবার হ্যান্ডশেক হয়েছিল: সালমান আগা

    ২০২৫ এশিয়া কাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে হাত না মেলানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আলি আগা নতুন বিবরণ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, টুর্নামেন্ট শুরুর আগে দুই দলের অধিনায়কদের মধ্যে একাধিকবার সৌজন্যের সূচক হিসেবে হ্যান্ডশেক হয়েছিল—তাই টসের সময় হাত মেলানো এড়িয়ে যাওয়ায় তিনি অপ্রত্যাশিতভাবে বিস্মিত হন।

    সালমান জানান, সামাজিক মাধ্যমে ‘নো হ্যান্ডশেক’ ট্রেন্ড ছড়িয়ে পড়ার পর মাঠেও সেই মনোভাব প্রতিফলিত হয়; ভারতীয় অধিনায়ক সুর্যকুমার যাদব টসের সময় হাত মেলাতে অস্বীকার করেন। ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফট তাকে টসের আগেই আলাদা করে জানিয়ে দিয়েছিলেন যে সুর্যকুমার তার সঙ্গে হাত মেলাবেন না—এ কথা শুনে সালমান প্রথমে হতভম্ব হন।

    তিনি এআরআই’র এক পডকাস্টে বলেন, ‘‘টুর্নামেন্ট শুরুর আগে আমরা সংবাদ সম্মেলনেও হাত মেলিয়েছি, ট্রফি ফটোশ্যুটেও তেমন একই উদারতা ছিল। তাই টসের সময় আমি স্বাভাবিকভাবেই হাত মেলানোর প্রত্যাশায় ছিলাম। যদিও মাথায় একটা ধারণা ছিল পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হতে পারে, কিন্তু এতদূর গিয়ে হাত মিলানোই হবে না—এটা কল্পনাও করিনি।’’

    সালমান আরও জানান, তিনি টসে পাকিস্তান দলের মিডিয়া ম্যানেজারকে সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন। ম্যাচ রেফারি আলাদাভাবে তাকে সতর্ক করে বলেছিলেন ‘‘ওরা এমনটা করতে পারে, কোনো হ্যান্ডশেক হবে না, তাই প্রস্তুত থাকুন।’’ সালমান বলেন, ‘‘আমি বলেছিলাম, হাত না মেলালে না মেলাক—এতে মরার কিছু নেই। কিন্তু ঘটনার ধরনটা আমাকে অবাক করেছিল।’’

    ম্যাচ শেষে পাকিস্তান হেরে প্যাভিলিয়নের দিকে গেলে সেখান থেকেও একই আচরণ দেখেন তারা—ফিরে হাত মেলানো হয়নি। এ ঘটনায় সালমান স্পষ্ট করে বলেছেন যে একজন অধিনায়ক হিসেবে তিনি এমন সেটিং করে দেওয়ার পক্ষে নন যেখানে খেলার পরে প্রতিপক্ষকে অভিনন্দনও জানানো হয় না। ‘‘আমি যদি একজন রোল মডেল হয়ে থাকি, তাহলে বাচ্চারা আমাকে দেখে অনুকরণ করবে। তাই হাত না মেলানোর এই মানসিকতা সমর্থন যোগ্য নয়,’’ তিনি যোগ করেছেন।

    একই পডকাস্টে পাকিস্তানের পেসার হাসান আলিও উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, এমন পূর্ণদৈর্ঘ্যের উত্তেজনা থাকলে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়েই না হলে ভালো হতো—তার ভাষ্য, ‘‘আমার মনে হয়, ম্যাচটি না হলে ভালো হতো। দুই দল পারস্পরিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে ম্যাচ না করার কথা ভাবতে পারত এবং পয়েন্ট ভাগাভাগি করা যেত।’’

    ঘটনাটি ক্রিকেট মহলে বিতর্ক উস্কে দিয়েছে—খেলার ভেতরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা যতই তীব্র হোক, মাঠের শিষ্টাচার বজায় রাখার ওপর অনেকেই জোর দিচ্ছেন।

  • বাবর ছাড়াই পাকিস্তান টেস্ট দল ঢাকায় পৌঁছালো

    বাবর ছাড়াই পাকিস্তান টেস্ট দল ঢাকায় পৌঁছালো

    নিউজিল্যান্ড সিরিজ শেষ হয়েছে গতকাল সন্ধ্যায়। তবু বিশ্রামের সুযোগ মিলছে না লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্তদের — ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির পর এখন টেস্ট সিরিজের প্রস্তুতি নিতে হবে। দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে কিন্তু পাকিস্তান দল ইতোমধ্যেই ঢাকায় এসে পৌঁছে।

    আজ ভোর ৫টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে পাকিস্তান দলবাহী বিমান। শান মাসুদকে অধিনায়ক করে দলটি ঢাকায় নামার পর বিমানবন্দর থেকে কড়া নিরাপত্তায় হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) কয়েক দিন আগে ১৬ সদস্যের টেস্ট স্কোয়াড ঘোষণা করেছিল; সেই দলে থাকলেও বাবর আজম এখন দেশে নেই — তার দল পেশোয়ার জালমি আজ রাতেই পিএসএল ফাইনালে খেলতে নামছে, তাই তিনি সফরের প্রথম দলে যোগ দিতে পারেননি।

    পাকিস্তানের ১৬ সদস্যের দলে চারজন নতুন মুখ রয়েছেন — আমাদ বাট, আবদুল্লাহ ফজল, আজান আওয়াইস ও মুহাম্মদ গাজী ঘোরি। এ সিরিজ দিয়েই পাকিস্তানের টেস্ট কোচ হিসেবে অভিষেক হবে সরফরাজ আহমেদের; ব্যাটিং কোচ হিসেবে আছেন আসাদ শফিক এবং বোলিং কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন উমর গুল।

    ভারতের বিপক্ষে ২০১৭ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জয়ের নেতৃত্বের স্মৃতি নিয়ে সরফরাজ এই টেস্ট দলে কোচ হিসেবে প্রবেশ করছেন বলে পাকিস্তান শিবিরে আগ্রহ আর প্রত্যাশা সৃষ্টি হয়েছে। যদিও বাবর আজম মাঠে না থাকায় স্কোয়াডের অনেকে আগাম ঢাকা সফরে পৌঁছেছেন এবং প্রস্তুতি কাজে নেমে পড়েছেন।

    প্রথম টেস্ট শুরু হবে ৮ মে মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। দ্বিতীয় টেস্টটি অনুষ্ঠিত হবে ১৬ মে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। উভয় ম্যাচই বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ।

    পাকিস্তানের ঘোষিত টেস্ট স্কোয়াড:

    শান মাসুদ (অধিনায়ক), বাবর আজম, মোহাম্মদ রিজওয়ান, শাহীন শাহ আফ্রিদি, সালমান আলী, আবদুল্লাহ ফজল, আমাদ বাট, আজান আওয়াইস, হাসান আলী, ইমাম উল হক, খুররম শেহজাদ, মোহাম্মদ আব্বাস, মুহাম্মদ গাজী ঘোরি, নোমান আলী, সাজিদ খান, সৌদ শাকিল।

  • তানিয়া বৃষ্টি ফের অসুস্থ, সুস্থতার জন্য দোয়া চাইলেন

    তানিয়া বৃষ্টি ফের অসুস্থ, সুস্থতার জন্য দোয়া চাইলেন

    ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টি আবারও অসুস্থতায় ভুগছেন — গত ফেব্রুয়ারি থেকেই তার শারীরিক অবস্থায় জটিলতা দেখা দিয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে তার মস্তিষ্কে টিউমারের বিরুদ্ধে দুই দফা অস্ত্রোপচার করা হয়েছে, ফলে ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মাঝে উদ্বেগ বেড়েই চলেছে।

    তানিয়া এখন পুরোপুরি সেরে ওঠেননি। শনিবার (২ মে) তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে দ্রুত সুস্থতার জন্য ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে দোয়া চেয়েছেন। পোস্টে তিনি অবারিতভাবে লিখেছেন, “আসসালামু আলাইকুম। আমাদের সবার প্রিয় অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টি আপু শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস্থতার মধ্যে আছেন। তবে চিন্তার তেমন কিছু নেই, তিনি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বিশ্রামে আছেন।”

    পোস্টে আরও অনুরোধ করা হয়েছে, ভক্তরা তাঁর জন্য দোয়া করবেন যাতে তিনি দ্রুত সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে আবার আমাদের মাঝে ফিরে আসতে পারেন। দোয়া ও শুভেচ্ছায় ভর করে অনেক অনুরাগী ইতোমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় উদ্বেগ-সমর্থনের বার্তা পাঠাচ্ছেন।

    চলতি বছরে তানিয়ার ব্রেইন টিউমার ধরা পড়ে। ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে তাঁর প্রথম অস্ত্রোপচার সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়। পরে শারীরিক জটিলতা দেখা গেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ভারতের চেন্নাইয়ে নেওয়া হয়, যেখানে দ্বিতীয় দফায় অপারেশনও সফল হয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকের পরামর্শে বিশ্রাম নিয়েছেন এবং শারীরিক উন্নতির দিকে রয়েছেন বলে পরিবার ও চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

    তানিয়া ২০১২ সালে একটি সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বিনোদনজগতে পরিচিতি পান। এরপর টেলিভিশন নাটকে নিয়মিত অভিনয় করে তিনি দর্শকের মন জয় করেন। ২০১৫ সালে ‘ঘাসফুল’ চলচ্চিত্রে বড়পর্দায় অভিষেক ঘটে; এরপর বহু ছবিতে কাজ করেছেন। যদিও খ্যাতি বড় পর্দায়ও আছে, তবু তিনি নাটকীয় ভূমিকায় বেশি জনপ্রিয় হয়েছেন। ২০১৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘গোয়েন্দাগিরি’ তার সর্বশেষ ছবি হিসেবে জানা যায়। দীর্ঘ বিরতির পরে রায়হান খানের ‘ট্রাইব্যুনাল’ ছবি দিয়ে বড়পর্দায় ফেরার কথা ছিল।

    ভক্ত ও সহকর্মীরা তানিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করছেন। আশা করা হচ্ছে বিশ্রাম ও চিকিৎসার মধ্যেই তিনি স্বল্পদিনে আবার সুস্থ হয়ে কাজে ফিরবেন।

  • কানাডায় ফের গুলির ঘটনা, কপিল শর্মা ও ক্যাফে মালিককে হুমকি

    কানাডায় ফের গুলির ঘটনা, কপিল শর্মা ও ক্যাফে মালিককে হুমকি

    কানাডার সারে শহরে কপিল শর্মার ক্যাফের ঠিক পাশের একটি প্রতিষ্ঠানে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, বিতর্কিত লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং এই হামলার দায় স্বীকার করেছে।

    ঘটনাস্থল ব্রিটিশ কলম্বিয়ার সারে শহরের ‘চাই সুট্টা বার’ নামক ক্যাফে, যা কপিল শর্মার মালিকানাধীন ‘ক্যাপস ক্যাফে’র সোজাসুজি পাশেই অবস্থিত। একই সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কপিল শর্মা এবং ক্যাফে মালিককে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া একটি পোস্ট ভাইরাল হয়েছে। পোস্টটি ‘টাইসন বিষ্ণোই জোরা সিন্ধু’ নামে একটি ফেসবুক একাউন্ট থেকে প্রকাশিত হয়েছে এবং সেখানে বলা হয়েছে, তাদের নির্দেশ অমান্য করলে কপিলের রেস্তোরাঁও একই পরিণতির সম্মুখীন হবে।

    তবে এই পোস্টের আইনগত সত্যতা এবং বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সরাসরি সম্পৃক্ততা এখনও স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা হয়নি। কর্তৃপক্ষ বা তদন্তকারীদের কোনো আনুষ্ঠানিক বিবরণের রিপোর্টে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি বলে আপাতত নিশ্চিত প্রতিশ্রুতি মেলে না। ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়েছে এবং এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

    এর আগেও কপিল শর্মার এই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ২০২৪ সালের আগস্টে উদ্বোধনের কয়েকদিনের মধ্যেই সেখানে খলিস্তানি সমর্থকদের একটি হামলার খবর উঠে আসে। এরপর ২০২৫ সালের জুলাই, আগস্ট ও অক্টোবর মাসে ধারাবাহিকভাবে তিনটি ঘটনাতে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের নাম জড়িয়ে একই ক্যাফে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছিল।

    এই ঘটনার প্রেক্ষিতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ আরও তীব্র হয়েছে। ঘটনা এবং সামাজিকমাধ্যমের হুমকিসহ সব দিক আইনানুযায়ী তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন—এটাই স্থানীয়ভাবে আশঙ্কা ও দাবি।

  • এনসিপি: বিএনপি সরকার সংস্কারে প্রতারণা করছে — ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন বাধ্যতর করতে হবে

    এনসিপি: বিএনপি সরকার সংস্কারে প্রতারণা করছে — ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন বাধ্যতর করতে হবে

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বলেছে, বিএনপি সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে সংস্কারের অঙ্গীকার থেকে সরে এসেছে; তাই সরকারের বিরুদ্ধে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন বাধ্যতর করার দাবি তুলেছে দলটি।

    রোববার (৩ মে) রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের মুক্তিযোদ্ধা হলে এনসিপির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটি আয়োজিত ‘জ্বালানি, অর্থনীতি, মানবাধিকার, সংস্কার ও গণভোট’ শীর্ষক জাতীয় কনভেনশনে বক্তারা এসব অভিযোগ করেন। উদ্বোধনী সেশনে সভাপতিত্ব করেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন এবং স্বাগত বক্তব্য দেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির সহ-প্রধান সারোয়ার তুষার।

    প্যানেলিস্ট হিসেবে মন্তব্য করেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক হান্নান মাসউদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী ও সমাজবিজ্ঞানী মির্জা হাসান। সেশনটি জাতীয় নারীশক্তি আহ্বায়ক মনিরা শারমিন পরিচালনা করেন।

    হান্নান মাসউদ বলেন, সংসদের প্রথম অধিবেশনের পরই স্পষ্ট হয়েছে যে এটি ‘‘প্রতারণা ও প্রবঞ্চনার সংসদ’’. তিনি প্রতিষ্ঠার এমন আইন-কেন্দ্রিক উদাহরণ তুলে ধরেন, যেগুলো সরকারের ক্ষমতা বাড়ায় কিন্তু জবাবদিহি নিশ্চিত করা থেকে সরে যায়। তাঁর কথায়, ‘‘যেসব অধ্যাদেশ সরকারের ক্ষমতা বাড়াবে, সেগুলো তারা আইন করে ফেলেছে; আর যে সকল ব্যবস্থা সরকারকে জবাবদিহি নিশ্চিত করত, সেগুলো বাতিল বা ল্যাপস করে ফেলা হয়েছে।’’

    হান্নান একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন, পূর্বে নির্বাচিত স্থানীয় প্রতিনিধিদের সরাতে অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থার মাধ্যমে অধ্যাদেশ জারি করে শেষমেষ তা আইন করা হয়েছে, যার ফলে প্রশাসনিক ক্ষমতা নির্বিচারে প্রয়োগ করে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অপসারণ করা যায়। তিনি বলেন, ‘‘বিরোধী দলের কাউকে অপছন্দ হলে তাকে সরিয়ে পছন্দমতো প্রশাসক বসানোর রাস্তা খুলে গেছে।’’

    ব্রিফিংয়ে বলা হয়, পুলিশ কমিশন একসময় বিএনপির প্রস্তাবনামূলক ধারায় গঠিত হলেও সরকারে গিয়ে তা বাতিলের পথে; সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার দাবি থেকেও সরে এসেছে সরকার। এসব পরিবর্তনকে তারা সরকারের প্রতিশ্রুতিভঙ্গ হিসেবে দেখেছেন। এনসিপি নেতা আরো বলেন, সংবিধান সংস্কারের কথাও বিএনপি ছাড়া অন্য দিক থেকে পিছিয়ে যাচ্ছে, ফলে তাদেরকে নতুন সংবিধানের দাবি করার পথে ফিরে যেতে হবে বলেও ইঙ্গিত দেন।

    রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী বলেন, ১৯৯১ সালে যে সংস্কারের প্রস্তাবগুলো রাজনৈতিক দলগুলো মিলে দিয়েছিল, বিএনপি ক্ষমতায় এসে সেগুলো বাস্তবায়ন করেনি। তিনি বলেন, ‘‘২৪-এর অভ্যুত্থানের পর আমাদের দেখা হয়েছে প্রতারণামূলক একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থার সঙ্গে কাজ করার, যেখানে অভ্যুত্থানের পর যে স্বপ্ন দেখা হয়েছিল তা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।’’ তিনি দেশের রাজনৈতিক, সিভিল ও মিলিটারি এলিট ক্ষমতা ছাড়তে রাজি নয় বলেও মন্তব্য করেন।

    সমাজবিজ্ঞানী মির্জা হাসান ‘‘জুলাই সনদ’’কে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ও অনন্য বলে বর্ণনা করেন। তাঁর বক্তব্য, সনদের মূল লক্ষ্য ছিল বিচার, শাসন ও নির্বাহী—এই তিন বিভাগের মধ্যে ভারসাম্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। তিনি বলেন, সংস্কার পরিষদের প্রাথমিক প্রস্তাবগুলোর অনেকটা র্যাডিক্যাল ছিল; উদাহরণ হিসেবে একই ব্যক্তি সরকারপ্রধান ও দলের প্রধান হতে পারবে না—এমন নীতি ছিল, কিন্তু বিএনপির চাপের কারণে কিছু অংশে সমঝোতা করতে হয়েছে। তবে যেটুকু রক্ষা আছে সেটাও বড় অর্জন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, ‘‘বিএনপি সরকার বাস্তবে সংস্কার করতে চায় না।’’ তিনি বলেন, অনেকেই বিএনপিকে কিছুটা সময় ও সুযোগ দিয়েছিলেন, কিন্তু সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য এ কথাই স্পষ্ট করে দিয়েছে যে সরকার সংস্কারের পথে নেই। তুষার আরও বলেন, দলীয় ইচ্ছা অনুযায়ী সংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে লোক বসিয়ে দলীয়করণ করে সরকার তাদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে।

    সেশন সভাপতি আখতার হোসেন বলেন, বিএনপি বারবার নোট অব ডিসেন্টের কথাই বললেও ঐকমত্য কমিশনে মূল বিষয়ে সবাই যে একমত ছিল—তার ওপর আলোকপাত জরুরি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, গণভোট বা রেফারেন্ডামের যে চারটি প্রশ্নে বিএনপির আপত্তি আছে, সেগুলো স্পষ্ট করা উচিত; কারণ বহু বিষয়েই রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারের সীমার মধ্যে রয়ে বাস্তবায়নের সুযোগ দেওয়া যাবে। আখতার বলেন, সংবিধান সংস্কারের ক্ষেত্রে বেসিক স্ট্রাকচার লঙ্ঘন করা হলে তা টেকসই হবে না; তাই সংসদীয় সংশোধনী আর নতুন সংবিধানের মাঝে মধ্যপন্থা হিসেবে সংবিধান সংস্কার পরিষদের প্রস্তাব গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কিন্তু বিএনপি এখন তা থেকে দূরে সরে এসেছে।

    কনভেনশনে বক্তারা সরকারের বৈরাষ্ট্রনীতিক সিদ্ধান্ত, অর্থনীতি ও মানবাধিকার সংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যু নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে তড়িঘড়ি করে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ সংস্কার কার্যকর করার আহ্বান জানান।

  • ঢাবি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা: সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীর তিন দিনের রিমান্ড

    ঢাবি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা: সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীর তিন দিনের রিমান্ড

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের ছাত্রীর আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীকেকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।

    রোববার (৩ মে) তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনজুরুল ইসলাম এই আদেশনামা জারি করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসু দোয়া সুমন এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    বিষয়টি তদন্ত করছেন বাড্ডা থানার উপ-পরিদর্শক কাজী ইকবাল হোসেন। তিনি গত বুধবার আদালতে আসামি সুদীপের তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রিমান্ড শুনানি রোববার অনুষ্ঠিত হয়।

    রাষ্ট্রপক্ষ শুনানিতে জানিয়েছে, ঘটনার পর ভিকটিমের বাবা রাতে একটার দিকে একটি চ্যাট দেখার পর অভিযোগ করেছেন। তদন্তে ওই চ্যাট পরীক্ষা করলে ভিকটিম ও আসামির মধ্যে সম্পর্কের সন্ধান পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। পরবর্তীতে ঘটনাস্থল ও অন্যান্য তথ্য যাচাইয়ের জন্য আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন — তাদের আর্জি ছিল। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সুদীপের কাছে ভিকটিমের বন্ধু হানি ও অন্যদের সঙ্গেও যোগাযোগ ছিল এবং প্রশাসন বলেছে এসব বিষয় তদন্তে গুরুত্বপুর্ণ।

    অপর দিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিলের আবেদন করেন। তারা আদালতে বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ড চাওয়ার পক্ষে কটু প্রমাণ উপস্থাপন করেননি এবং ডিজিটাল তথ্য কিছুও কখনো কখনো ম্যানিপুলেশনযোগ্য হতে পারে। আসামিপক্ষ পেনড্রাইভে ভিকটিমের মা ও বান্ধবীর একটি ২১ মিনিটের অডিও রেকর্ডিং জমা দেন, যার দাবী— সেখানে বান্ধবী মাকে জিজ্ঞেস করছিলেন ‘এখনো কি মিমো ব্লেড দিয়ে শরীর কাটে?’—এসব থেকে বোঝা যায় ভিকটিম মানসিকভাবে অস্থির ছিলেন।

    আসামিপক্ষ আরও বলেন, ভিকটিমের আগে একটি বিয়ে ছিল এবং তিনি অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্কেও জড়িত ছিলেন; প্রায়ই জুনিয়র ছেলেদের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হতো—এসব কথোপকথন তাদের দাখিল করা অডিওতে রয়েছে। এজন্য অভিযুক্ত সুদীপ কেবল পারিবারিক অনুরোধে তাকে মানসিকভাবে সহায়তা করতেন এবং নির্দেশগতভাবে আলাদা নজরদারি বা ‘সফট কর্ণার’ রাখতেন। তার পক্ষে বলা হয়, সুদীপ একজন মেধাবী শিক্ষক এবং তিনি নির্দোষ; তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তা জেলগেটে করলেই হবে, রিমান্ডের প্রয়োজন নেই—তারা বলেছিলেন।

    রাষ্ট্রপক্ষের রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, মিমোর সঙ্গে সুদীপের ঘনিষ্ঠতা ছিল এবং ঘটনার আগে (২৬ তারিখ রোববার) মিমোর সঙ্গে একটি ভিডিও কলে কথা হয়—সেখান থেকেই আত্মহত্যার প্ররোচনার সূত্রপাত হয়েছে বলে তারা মনে করছেন। গ্রেপ্তারের সময় আসামির কাছ থেকে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে, যা যাচাই-বাছাই ও মূল রহস্য উদঘাটনের জন্য রিমান্ড আবশ্যক বলে জানানো হয়।

    ঘটনার ভুক্তভোগী মুনিরা মাহজাবিন মিমো ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি পরিবারের সঙ্গে বাড্ডার বাসায় থাকতেন। নিজের কক্ষে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেলে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হয়; চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার কক্ষ থেকে একটি চিরকুটও পাওয়া যায়, যেখানে লেখা ছিল— “সুদীপ স্যারকে ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে। হানি আর সুদীপ স্যার ভালো থাকো। স্যারের দেওয়া গিফটগুলো ফেরত দেওয়া…”।

    বিকালে নিহতের বাবা মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ সুদীপকে গ্রেপ্তার করে। আদালতে তার পক্ষে জামিনের আবেদন করা হয়েছিল, কিন্তু আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    এখন তদন্তকারীরা রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে ডিজিটাল এবং বাকি প্রমাণ যাচাই করে ঘটনার সূচনালগ্ন ও দায়-দায়িত্ব নির্ধারণের চেষ্টা করবেন।