Blog

  • এপ্রিলের ২২ দিনে রেমিট্যান্স ২.৪২ বিলিয়ন ডলার

    এপ্রিলের ২২ দিনে রেমিট্যান্স ২.৪২ বিলিয়ন ডলার

    রেমিট্যান্স প্রবাহের ইতিবাচক ধারা চলতি এপ্রিলেও অব্যাহত আছে। ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের প্রথম ২২ দিনে প্রবাসীরা প্রায় ২.৪২ বিলিয়ন (২৪১ কোটি ৭০ লাখ) মার্কিন ডলার দেশ পাঠিয়েছেন। তথ্যটি বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

    বর্তমান বাজারদর হিসেবে প্রতি ডলারকে ১২২ টাকা ধরে নেওয়া হলে এই রেমিট্যান্সের পরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় দাঁড়ায় প্রায় ২৯ হাজার ৪৮৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

    গত বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স ছিল ২০৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার। তার অর্থ, চলতি বছরের প্রথম ২২ দিনে গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার বেশি এসেছে—যার মূল্যমান প্রায় ৪ হাজার ৪৪০ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

    ঐতিহাসিক পরিপ্রেক্ষিতে দেখা যায়, দেশের সর্বোচ্চ মাসিক প্রবাসী অর্জন এসেছে চলতি বছরের মার্চে, যখন রেমিট্যান্স পৌঁছায় ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এছাড়া গত বছরের মার্চ ছিল দ্বিতীয় সর্বোচ্চ (৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলার), ২০২৫ সালের ডিসেম্বর ছিল তৃতীয় (৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার), এবং চলতি বছরের জানুয়ারি ছিল চতুর্থ (৩১৭ কোটি ডলার)।

    অর্থনীতিবিদরা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকট দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বের অন্যান‍্য এলাকাগুলোর মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়তে পারে; বিশেষত রেমিট্যান্স প্রবাহে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। তাই তারা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্ত অবস্থানে রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য সাবধানী নীতি গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছেন।

    সরকারি তদারকি, প্রবাসী কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক খাত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে রেমিট্যান্স প্রবাহ বজায় রাখা এবং রিজার্ভ সুরক্ষিত রাখা চলতি প্রয়োজনীয় কাজ বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

  • ইরান বলছে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ থেকে সম্মানজনক প্রস্থানের পথ খুঁজছে

    ইরান বলছে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ থেকে সম্মানজনক প্রস্থানের পথ খুঁজছে

    ইরান দাবি করেছে যে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ থেকে সম্মানজনকভাবে বেরিয়ে যাওয়ার পথ খুঁজছে। পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার আগে তেহরান এই বক্তব্য জানিয়েছে।

    সোমবার নয়, শনিবার — ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেশটির সামরিক সক্ষমতা এখন এক প্রভাবশালী শক্তিতে পরিণত হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র যোগ করেছেন, ‘‘শত্রুপক্ষ বর্তমানে যুদ্ধে এমন এক চোরাবালিতে আটকে পড়েছে যেখান থেকে তারা মানসম্মান নিয়ে বাঁচিয়ে পালানোর পথ খুঁজছে।’’ বিবৃতিটি এমন সময় প্রকাশ করা হলো যখন আলোচনা শুরুর অপেক্ষায় দুই পক্ষের প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদে যাচ্ছে।

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল ইতোমধ্যে ইসলামাবাদে পৌঁছেছে এবং সেখানে দ্বিতীয় দফার আলোচনা অংশগ্রহণ করবেন বলে জানানো হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিনিধি হিসেবে স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারও ইসলামাবাদে যাচ্ছেন।

    তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে সরাসরি বৈঠকের সম্ভাবনা কম। একই সঙ্গে শনিবার আদৌ কোন আলোচনা হবে কিনা সেটিও স্পষ্ট নয়। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে তাদের পাঠানো প্রতিনিধি দল শিগগিরই (শনিবার) ইসলামাবাদে পৌঁছাবে।

    তেহরান জানিয়েছে যে আরাঘচি ইসলামাবাদে যাত্রা করেছেন ত্রিদেশীয় আঞ্চলিক সফরের অংশ হিসেবে এবং বর্তমানে তার সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধিদের সরাসরি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সম্ভাবনা নেই।

    সূত্র: এএফপি

  • ২০ বছর পর গাজার দেইর আল-বালাহে পৌরসভা নির্বাচন শুরু

    ২০ বছর পর গাজার দেইর আল-বালাহে পৌরসভা নির্বাচন শুরু

    ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার দেইর আল-বালাহ শহরে শনিবার থেকে পৌরসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার এই উপত্যকায় গত ২০০৬ সালের পর সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস ক্ষমতায় যাওয়ার পর কিংবা ২০০৭ সালে ফাতাহকে বিতাড়িত করার পর থেকে এটি প্রথম স্থলভিত্তিক নির্বাচন।

    ২০০৬ সালের ২৫ জানুয়ারি গাজার শেষ সাধারণ নির্বাচনে হামাস জিতেছিল এবং পরবর্তীতে ফাতাহকে গাজা থেকে বিতাড়িত করা হয়। এর পর দলটি অধীনে বহুলাংশে ভোটাভুটি এবং দ্রুত গণতান্ত্রিক উদ্যোগ স্থগিত ছিল; ফলে পরবর্তী ২০ বছরে উপত্যকায় সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।

    রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ইসরায়েলে হামাসের আক্রমণ ও এর প্রতিক্রিয়ায় পরবর্তী দু’বছর ধরে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান চলার পর ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতির এক প্রস্তাব মেনে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়েছিল। ওই প্রস্তাবে একটি শর্ত ছিল—হামাসকে ক্ষমতা ছাড়তে হবে এবং নির্বাচিত সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত গাজার শাসন অরাজনৈতিক টেকনোক্র্যাট সরকারের হাতে রাখতে হবে। কয়েক মাস আগে সেই টেকনোক্র্যাট সরকার গঠিত হয় এবং তার অধীনে এই লোকাল নির্বাচন আয়োজন করা হয়েছে।

    পশ্চিম তীরের ক্ষমতাসীন ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ (পিএ) এবং তার জোট এই নির্বাচনের মাধ্যমে গাজার রাজনীতিতে পুনরায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেখছে। ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের অনেকে নির্বাচনকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে বলেছে যে একটি নির্বাচিত ফিলিস্তিনি প্রশাসন পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম ও গাজা মিলিয়ে ভবিষ্যতে একটি সমন্বিত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনে সহায়ক হবে এবং জনগণের স্বায়ত্তশাসনের দাবি শক্তিশালী করবে।

    পশ্চিমা কূটনীতিকেরা মনে করেন, দেইর আল-বালাহে ভোটানুষ্ঠান সফল হলে তা গাজার অন্যান্য এলাকার জন্যও নির্বাচনের পথ প্রশস্ত করতে পারে এবং দুই দশক পর নির্বাচিত কোনো স্থানীয় সরকারের গঠনের সম্ভাবনাকে বাড়াতে পারে।

    তবে পুরো গাজার বদহাল পরিস্থিতির কারণে সব এলাকায় একসাথে ভোট করানো সম্ভব হয়নি। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে অনেক শহর ধ্বংসাবশেষে পরিণত হওয়ায় এবং রাস্তাঘাট-ময়লা এখনও পরিষ্কার না হওয়ায় আপাতত দেইর আল-বালাহেই ভোট আয়োজন করা হয়েছে। অন্যান্য শহরের তুলনায় এখানে ক্ষয়নাশ কম থাকায় এই শহর বেছে নেওয়া হয়েছে।

    নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী দেইর আল-বালাহে পৌর নির্বাচনে নিবন্ধিত ভোটার ৭০,৪৪৯ জন। শহরজুড়ে মোট ১২টি কেন্দ্র খোলা হয়েছে; অধিকাংশ কেন্দ্রে জাতিসংঘের সহায়তায় তাবু দিয়ে ভোটকেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে।

    হামাস এই নির্বাচন বয়কট ঘোষণা করলেও রয়টার্স বলেছে, হামাসের সঙ্গে সংযুক্তি থাকা কয়েকজন ব্যক্তি এই নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। স্থানীয়রা এই ভোটকে স্বাগত জানাচ্ছেন। একজন তরুণ ভোটার, আদহাম আল-বারদিনি, রয়টার্সকে বলেছেন, “আমি জন্মের পর থেকে কেবল শুনেছি যে নির্বাচন হয়। আজ নিজের চোখে দেখলাম নির্বাচন কী—এটা আমাদের জন্য বড় এক মুহূর্ত।” তিনি যোগ করেছেন, “আমরা অংশ নিতে চাই, কারণ এখন যে বাস্তবতা আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল—আমরা তা বদলাতে চাই। ”

    রয়টার্স

  • মল্লিকের বেড়ের গ্যাংনেতা জাহিদুলকে খুলনা টোল প্লাজা থেকে র‌্যাব-৬ গ্রেফতার

    মল্লিকের বেড়ের গ্যাংনেতা জাহিদুলকে খুলনা টোল প্লাজা থেকে র‌্যাব-৬ গ্রেফতার

    বাগেরহাটের রামপাল উপজেলা থেকে দীর্ঘদিন পলাতক থাকা এক গ্যাংনেতাকে খুলনা টোল প্লাজা এলাকা থেকে র‌্যাব-৬ আটক করেছে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাত আনুমানিক পৌনে ৮টার দিকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতারকৃতের নাম মোঃ জাহিদুল, তিনি রামপাল উপজেলার মল্লিকের বেড় এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তার বিরুদ্ধে অন্তত তিনটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। ২০০৯ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে দায়ের করা একাধিক মামলায় তিনি অভিযুক্ত ছিলেন। এসব মামলায় মারামারি, চাঁদাবাজি, ঘের দখল, চুরি, দস্যুতা, নারী নির্যাতন, হত্যা চেষ্টা ও আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকর নানা অভিযোগ রয়েছে।

    স্থানীয়রা বলছেন, মামলার পর থেকে জাহিদুল দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন, এজন্য তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হচ্ছিল না। গতকাল র‌্যাব তার উপস্থিতি খুঁজে পেয়ে খুলনা টোল প্লাজা এলাকা থেকে তাকে আটক করে রামপাল থানায় হস্তান্তর করে।

    রামপাল থানার তদন্তকারী ওসি সুব্রত বিশ্বাস জানান, “দীর্ঘদিন পলাতক এই আসামি মোঃ জাহিদুলকে র‍্যাব খুলনা টোল প্লাজা এলাকা থেকে আটক করে রামপাল থানায় হস্তান্তর করেছে। থানার কার্যক্রম শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।” তিনি আরও জানান, ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    মামলার বাদিপক্ষ জানান, দীর্ঘদিন ধরে জাহিদুলের পলাতকতায় তারা চরম ভোগান্তির মধ্যে ছিলেন। একটি বাদি বললেন, “আসামিকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে ন্যায়বিচারের পথে অগ্রগতি হয়েছে। আমরা চাই দ্রুত মামলার সুষ্ঠু বিচার সম্পন্ন হোক।”

    স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, ওই ব্যক্তি এলাকায় নানা দূরাচরণের সঙ্গে দীর্ঘদিন জড়িত ছিল। তারা দ্রুত সব পলাতক আসামিকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে সতর্ক ও ন্যায়সঙ্গত তদন্তের অনুরોધ করেছেন।

  • চুয়াডাঙ্গায় মৌমাছির কামড়ে ভ্যান চালকের মৃত্যু, হাসপাতালে নেওয়ার পথে প্রাণ গেল

    চুয়াডাঙ্গায় মৌমাছির কামড়ে ভ্যান চালকের মৃত্যু, হাসপাতালে নেওয়ার পথে প্রাণ গেল

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় মৌমাছির কামড়ে আনিছুর রহমান (৪৫) নামে এক ভ্যান চালকের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনা শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালেই জয়রামপুর এলাকার শেখপাড়ায় ঘটে।

    নিহত আনিছুর রহমান দামুড়হুদা বাজারপাড়া এলাকার আবু গাইনের ছেলে। স্থানীয়রা জানায়, সকালে কাজ শেষে ভ্যান নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে জয়রামপুর শেখপাড়া এলাকায় হঠাৎ একঝাঁক মৌমাছি তাকে আক্রমণ করে। একাধিক কামড়ের ফলে তিনি গুরুতরভাবে আহত হন।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছে দেন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা চালানোর সময় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দ্রুত তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে রেফার করেন।

    তবে সদর হাসপাতালের পথে রেফার করার সময় মৃত্যু হয় আনিছুর রহমানের। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

    দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মেজবাহ উদ্দিন জানান, ঘটনাটি অনুসন্ধানের সঙ্গে সঙ্গে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।

    মৌমাছির কামড় সাধারণত স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও অ্যালার্জির কারণে বিপজ্জনক রূপ নিতে পারে; তাই এমন এলাকায় চলাচলের সময় সতর্কতার পরামর্শ স্থানীয়দের দেওয়া হচ্ছে।

  • বিশ্বকাপ ফাইনালের এক টিকিট প্রায় ২৫ কোটি, চারটির দাম ১০০ কোটি ছাড়িয়ে

    বিশ্বকাপ ফাইনালের এক টিকিট প্রায় ২৫ কোটি, চারটির দাম ১০০ কোটি ছাড়িয়ে

    আরও কয়েক মাস অপেক্ষা—ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬ মাঠে গড়াতে যাচ্ছে এবং গ্যালারিতে খেলা দেখার উন্মাদনা তুঙ্গে। কিন্তু ফাইনাল ম্যাচের পুনর্বিক্রয়ের (রিসেল) তালিকা দেখে অনেক ফুটবলপ্রেমীর চোখ কপালে উঠে যাচ্ছে।

    সিএনএন–এর প্রতিবেদনে জানা যায়, আগামী ১৯ জুলাই মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনাল দেখার জন্য ‘‘ক্যাটাগরি-১’’ বিভাগের কয়েকটি আসন পুনর্বিক্রয়ে উঠেছে। এসব আসন লোয়ার ডেকের একেবারে উপরের সারিতে, গোলপোস্টের ঠিক পেছনে এবং এক্সিট পয়েন্টের কাছে—অর্থাৎ ভিউর দিক থেকে আকর্ষণীয় অবস্থান। একেকটি টিকিটের দাম তালিকাভুক্ত হয়েছে ২,২৯৯,৯৯৮.৮৫ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ২৫ কোটি ৬০ লাখ টাকার মতো। ফলে চার বন্ধু মিললে একই সেকশনের চারটি টিকিট পেতে বিল দাঁড়াচ্ছে ১০০ কোটি টাকারও বেশি।

    রিসেল তালিকায় একই দামের আরেকটি টিকিট দেখা গেছে, তবে সেটি ‘‘ক্যাটাগরি-৩’’—স্টেডিয়ামের উর্ধ্বতন ডেকের গোলপোস্টের পেছনের অংশে। অন্যদিকে, ওই ক্যাটাগরি-১ আসনের ঠিক দুই সারি সামনের কিছু টিকিট পুনর্বিক্রয়ে তুলনামূলকভাবে কম দামে—প্রায় ১৬ হাজার ডলারের একটু বেশি। মাঠের আরও কাছাকাছি কিছু টিকিটও দেখা যাচ্ছে ২৪ হাজার ডলারের মতো মূল্যে।

    ফিফার নিজস্ব রিসেল প্ল্যাটফর্ম—‘‘রিসেল মার্কেটপ্লেস’’—এ এসব টিকিট তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এটি একটি আনুষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্ম যেখানে টিকিটধারীরা তাদের টিকিট অন্যের কাছে বিক্রি করতে পারেন। তবে এখানে টিকিটের চূড়ান্ত মূল্য ফিফা নির্ধারণ করে না; বিক্রেতারাই দাম ঠিক করে দেন। প্রতিটি লেনদেন থেকে ফিফা উভয় পক্ষ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন কেটে নেয়।

    ফিফার এক মুখপাত্র সিএনএন স্পোর্টসকে বলেছেন, রিসেল মার্কেটপ্লেস সমর্থকদের জন্য নিরাপদ, স্বচ্ছ ও সুরক্ষিত পরিবেশ নিশ্চিত করে এবং প্রযোজ্য ফি উত্তর আমেরিকার ক্রীড়া ও বিনোদন খাতের প্রচলিত নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। প্ল্যাটফর্মটি কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক ভক্তদের জন্য উন্মুক্ত, যদিও স্থানীয় নিয়মের কারণে মেক্সিকোর নাগরিকরা গায়ের দামের চাইতে বেশি দাবি করতে পারবেন না।

    এই মার্কেটপ্লেসে বর্তমানে ফাইনাল ম্যাচের সাধারণ টিকিটগুলোর সর্বনিম্ন পুনর্বিক্রয় মূল্য প্রায় ১১ হাজার ডলার। হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীদের জন্য সংরক্ষিত টিকিটগুলোর ন্যূনতম দাম পড়েছে প্রায় ১৫ হাজার ডলারে। এদিকে, ফিফা সম্প্রতি তাদের অফিশিয়াল সাইটে ফাইনালের নতুন কিছু টিকিট ছেড়েছিল, প্রতিটির আনুপাতে মূল্য ছিল ১০ হাজার ৯৯০ ডলার।

    বিশ্বকাপকে ইতিহাসের সবচেয়ে ‘‘সাশ্রয়ী’’ করার প্রতিশ্রুতি থাকলেও এই রিসেল দামের উত্থান সাধারণ দর্শকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। শুধু টিকিটের মূল্য নয়—টুর্নামেন্ট চলাকালীন ভ্রমণ ও আবাসনের খরচও অনেকের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

    ফিফা আশা প্রকাশ করছে যে আয়কৃত অর্থ ফুটবল উন্নয়নের কাজে পুনরায় বিনিয়োগ করা হবে, এবং রিসেল প্ল্যাটফর্ম সমর্থকদের জন্য সহজ ও নিরাপদ বাজার হিসেবে কাজ করবে। তবু অনেক দর্শক এখনও ভাবছেন, বিশ্বকাপ উপভোগ করা কি আর তাদের জন্য এতটাই দূরসাধ্য হয়ে পড়েছে কি না।

  • প্রথম ম্যাচ জিতলেও শ্রীলঙ্কার কাছে সিরিজ হারল বাংলাদেশ

    প্রথম ম্যাচ জিতলেও শ্রীলঙ্কার কাছে সিরিজ হারল বাংলাদেশ

    তিন ম্যাচের সিরিজের প্রথম ওয়ানডে জিতে ১-০ এগিয়ে থাকলেও পরের দুই ম্যাচ হেরে সিরিজটা হারতে হল বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলকে। সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে আজ শ্রীলঙ্কা লক্ষ্য তাড়া করে ৭ উইকেটে জয় তুলে নেয়, জয়ের জন্য তাদের কাছে ছিল ২১ বল ও সাত উইকেট।

    রাজশাহীতে টসে জেতা বাংলাদেশ আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২১৩ রান সংগ্রহ করে। দলের সর্বোচ্চ একক ইনিংস ছিল সোবহানা মোস্তারির ৮০ বলের ৭৪ রান। শুরুটা ভালো হয়েছিল দুই ওপেনার ফারজানা হক ও শারমিন সুলতানার ব্যাটে, কিন্তু সেই প্রাণবন্ত শুরুকে বড় ইনিংসে বদলে দিতে পারেননি তারা—ফারজানা ফিরেছেন ১১ রানে, শারমিন ছেড়েছেন ১৭ রান করে রান আউট।

    ৩৪ রানে দুই ওপেনার ফিরে গেলে দলের দায়িত্বে নামেন শারমিন আক্তার ও জ্যোতি। দুজনের ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে দল হাল ধরেও ইনিংস বড় করার লড়াইটা কঠিন ছিল—শারমিন করলেন ৩৬ বলে ২৫, সড়স্ত্যটা ধরে রাখলেন অধিনায়ক যিনি ৯০ বলে ৪০ রান করেন। জ্যোতির ইনিংসে প্রচুর ডট বল ছিল, যার প্রভাব পড়ে দলের রানরেটে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আক্রমণ বাড়িয়ে সোবহানা সফল হন; ৬০ বল খেলে তিনি অর্ধশতক পূর্ণ করে ৮০ বল থেকে ৭৪ রানে ব্যাটসম্যানি শেষ করেন। শেষদিকে রিতু মণি ১৬ বলে ২০ রানের দুর্দান্ত ঝটপট ইনিংস খেলেছেন।

    জবাবে শ্রীলঙ্কা রান তাড়া করতে নেমে দলের ১৯ রানে প্রথম উইকেট হারায়; শুরুতেই অধিনায়ক চামারি আতাপাতু ১০ রানে সাজঘরে ফিরে যান, উইকেটটি তুলে দেন সোবহানা মোস্তারিকে। প্রথম ধাক্কা সামলিয়ে দ্বিতীয় উইকেটে সুচারুভাবে জুটি গড়েন ওপেনার হাসিনি পেরেরা ও ইমেশা দুলানি; তারা মিলিয়ে ১০৮ রানের বড় জোট গড়ে জয়ের ভিত্তি গড়ে দেন। দুলানি ফিফটি পূরণের পর ৫৬ রানে থামে।

    তৃতীয় উইকেটে নামা হারশিথা সামারাবিক্রমা এবং হাসিনি পেরেরা ৭৮ রানের জুটি করে। হাসিনি সেঞ্চুরির সুযোগ থেকে মাত্র পাঁচ রানে থেকে যান—ব্যক্তিগত ৯৫ রানে তিনি সোবহানা মোস্তারির করা বলে রাবেয়া খানের হাতে ক্যাচ তুলে দেন। এরপর সামারাবিক্রমা ৪৪ ও হানসিমা অপরাজিত ২ রানে থেকে দলকে কঠিন লক্ষ্যে পৌঁছে দেন।

    বাংলাদেশের হয়ে মারুফা আক্তার নেন সর্বোচ্চ দুটি উইকেট, আর সোবহানা মোস্তারি নেন একটি উইকেট।

    শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি শ্রীলঙ্কার কাছে শেষ হয় আত্মবিশ্বাসী জয়ে: নির্ধারিত লক্ষ্য তাড়া করে তারা ২১ বল হাতে রেখে এবং সাত উইকেট হাতে রেখে সিরিজ নিজেদের করে নেয়।

  • ফ্রান্সের নিকন শর্ট ফিল্ম উৎসবে বাংলাদেশি ছবি ‘আনসিন’ নির্বাচিত

    ফ্রান্সের নিকন শর্ট ফিল্ম উৎসবে বাংলাদেশি ছবি ‘আনসিন’ নির্বাচিত

    ফ্রান্সের জনপ্রিয় নিকন শর্ট ফিল্ম উৎসবের ১৬তম আসরে একমাত্র বাংলাদেশি সিনেমা হিসেবে অফিসিয়াল সিলেকশনে স্থান পেয়েছে নির্মাতা সৈয়দ সাহিলের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘আনসিন’।

    প্রতিযোগিতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৬ হাজার চলচ্চিত্র জমা পড়ে। প্রথম ধাপে এগুলোর মধ্যে থেকে প্রায় ২ হাজার ৫১১টি সিনেমা শর্টলিস্টে নাম ওঠে এবং সেই তালিকায় জায়গা করে নেয় ‘আনসিন’। পরে দর্শক ভোটে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে ১ হাজার ১৫৮টি শর্ট ফিল্মের মধ্যে ব্যাপক সমর্থন পাওয়ার পর ছবিটি দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে।

    এবারের উৎসবের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘বিউটি’ বা সৌন্দর্য। পরিচালক সৈয়দ সাহিল তার ছবিতে প্রচলিত দৃশ্যমান সৌন্দর্যের বাইরে মানবিক আবেগ, অস্পষ্ট অনুভূতি ও অদৃশ্য বাস্তবতাকে কেন্দ্র করে নির্মাণ করেছেন। তাঁর ভাষ্য, “’আনসিন’-এর মাধ্যমে এমন এক সৌন্দর্য খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হয়েছে, যা চোখে দেখা যায় না — সেই অনুভূতিগুলো যেগুলোকে আমরা প্রায়ই উপেক্ষা করি এবং যেসব মানুষকে প্রকৃত অর্থে দেখতে পাই না।”

    চলচ্চিত্রটি প্যারিসে নির্মিত; সংলাপ পুরোপুরি ফরাসি ভাষায় হলেও আন্তর্জাতিক দর্শকদের জন্য এতে ইংরেজি সাবটাইটেল সংযুক্ত করা হয়েছে। প্রযোজনা করেছেন সাবরিনা ইসলাম। ছবিতে অভিনয় করেছেন ফরাসি শিল্পী জঁ-লুক জ্যাকো, জুলিয়েত পিরোত্তে ও এলিজাবেথ সেলেমের পাশাপাশি বাংলাদেশি অভিনেতা ইমতিয়াজ রনি।

    জানা গেছে, বর্তমানে ‘আনসিন’কে নিয়ে ইউরোপের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে জমা দেয়ার প্রস্তুতি চলছে। উৎসবে এই প্রতিধ্বনি নির্মাতা ও প্রযোজক দলের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • ক্যান্সারে মারা গেলেন কৌতুক অভিনেতা তারিকুজ্জামান তপন

    ক্যান্সারে মারা গেলেন কৌতুক অভিনেতা তারিকুজ্জামান তপন

    চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা তারিকুজ্জামান তপন আর নেই। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন — তিনি শুক্রবার রাত সাড়ে আটটার দিকে মৃত্যু বরণ করেন।

    অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশ তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। সংগঠনটির শোকবার্তায় বলা হয়েছে, সম্মানিত সদস্য ও প্রিয় সহকর্মী তারিকুজ্জামান তপন না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন; সংগঠন তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছে।

    পরিবারসূত্রে জানা গেছে, তপন দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন। গত ডিসেম্বরে তাঁর খাদ্যনালিতে ক্যানসারের সন্ধান পাওয়া যায় এবং চিকিৎসকরা জানান যে রোগটি চতুর্থ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। এর পর তিন দফা কেমোথেরাপি নেওয়া হয়। সম্প্রতি শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজধানীর এক বেসরকারি হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়েছিল; এ তথ্য জানিয়েছেন তাঁর ছেলে তাছফিক।

    দীর্ঘ কর্মজীবনে তপন টিভি নাটক ও চলচ্চিত্রে মানুষের মুখে-ঠোঙায় উঠে আসা কৌতুক চরিত্রে সমাদৃত ছিলেন। সাবলীল অভিনয় ও আর্তহাস্যসম্পন্ন চরিত্রে তিনি দর্শকদের মন জয় করেছিলেন। ‘আলতা বানু’, ‘ঠিকানা’, ‘জোড়া শালিক’, ‘হাতছানি’সহ অসংখ্য নাটক ও চলচ্চিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শক মনে বিশেষ ছাপ রেখে গেছে।

    তার প্রয়াণে বিনোদন অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শিল্পী সমিতি, সহকর্মী ও অনুরাগীরা সোশ্যাল মিডিয়ায় শোক বার্তা দিচ্ছেন এবং পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছেন। আমরা তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করছি এবং শোকগ্রস্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।

  • ফেসবুকে ছড়ানো ৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের পূর্বাভাস ভারতের, বাংলাদেশে তা সত্য নয়

    ফেসবুকে ছড়ানো ৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের পূর্বাভাস ভারতের, বাংলাদেশে তা সত্য নয়

    ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ৪৫–৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার সতর্কবার্তাটি বাংলাদেশের জন্য নয় — এটি ভারতের পূর্বাভাস বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। প্রশাসনিক ও আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে এ ধরনের তাপমাত্রা ওঠার সম্ভাবনা নেই।

    আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির শনিবার (২৫ এপ্রিল) ঢাকা মেইলকে জানিয়েছেন, সামাজিক মাধ্যমে যে ৪৫ থেকে ৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধির তথ্য ছড়িয়েছে, সেটি সম্ভবত ভারতের কোনও বেসামরিক সংস্থার দেওয়া এবং কেউ বাংলা অনুবাদ করে শেয়ার করেছে। আবহাওয়া অধিদফতরও তা নিশ্চিত করেছে।

    তরিফুল নেওয়াজ আরও বলেন, বাংলাদেশের রেকর্ড তাপমাত্রা ১৯৭২ সালে রাজশাহীতে রেকর্ডকৃত ৪৫.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চলতি বছরেও এমন চরম তাপমাত্রা হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এ বছর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা এখন পর্যন্ত রাজশাহীতে প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছে।

    তিনি বলেন, আগামী দিনগুলোতে সারাদেশে মোটামুটি বৃষ্টি হবে। উত্তরের অংশে ইতোমধ্যেই বৃষ্টির প্রবণতা শুরু হয়েছে এবং ধীরে ধীরে দক্ষিণ ও সিলেট অঞ্চলে অতি ভারী থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রা কিছুটা সহনীয় থাকবে এবং এ অবস্থা আগামী মাসের চতুর্থ-পঞ্চম তারিখ পর্যন্ত থাকতে পারে। তাই ফেসবুকে ছড়ানো ওই চরম তাপমাত্রার পূর্বাভাস বাংলাদেশে প্রযোজ্য নয়।

    ভাইরাল পোস্টে ২৯ এপ্রিল থেকে ১২ মে ও ২৫ মে থেকে ৪ জুন পর্যন্ত সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত খোলা আকাশে বের হওয়ার বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছিল। সেই পোস্টে আরও কিছু পরামর্শ ও সতর্কতা দিয়ে মানুষের কাছে ছড়ানো হয়েছিল — যেমন ঘরে থাকলে দরজা খুলে বায়ু চলাচল নিশ্চিত করা, শরীর খারাপ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া, ঠাণ্ডা পানীয় গ্রহণ ইত্যাদি।

    অন্যদিকে, ভাইরাল পোস্টে ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল ডিফেন্সের যেনো সাবধানবার্তাও সংযুক্ত ছিল— যেখানে ৪৭–৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের সম্ভাব্য তাপমাত্রা ও গাড়ি থেকে গ্যাস, লাইটার, কাগজপত্র সরানো, গাড়ির জানালা সামান্য খোলা রাখা, ইত্যাদি বিষয় উল্লেখ ছিল। কিন্তু এসব সতর্কতা সম্ভবত অন্য দেশের পরিস্থিতি নিয়ে করা হয়েছিল এবং বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য তা সরাসরি প্রযোজ্য নয়, বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইঙ্গিত দিয়েছেন।

    তবে সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ ও সাধারণ সতর্কতাগুলো মেনে চলা সবসময়ই জরুরি। বিশেষত:

    – প্রচুর পানি ও তরল পানীয় নিয়মিত খেলেই রাখুন।

    – সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলুন, বিশেষ করে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টার মধ্যে।

    – প্রয়োজনে ছায়ায় অবস্থান করুন বা এয়ার কন্ডিশনিং সুবিধা থাকলে ব্যবহার করুন।

    – গরমে অসুস্থতা লেগে থাকলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।

    – গ্যারেজ বা গাড়িতে আগে থেকে আলো-গ্যাসজাতীয় বিপজ্জনক পদার্থ সরিয়ে রাখুন এবং শিশু বা পোষা প্রাণী কখনোই গরম গাড়িতে ছেড়ে রাখবেন না।

    সংক্ষেপে, ফেসবুকে ছড়ানো ৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের পূর্বাভাসটি ভারতের বলে সচেতন করা হয়েছে, এবং আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে বাংলাদেশে এমন চরম তাপমাত্রার আশঙ্কা নেই। সরকারি ও স্থায়ী উৎস থেকে প্রকাশিত আবহাওয়া ও সতর্কতা-ই অনুসরণ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।