Blog

  • একদিনের ব্যবধানে আবারও কমলো স্বর্ণের দাম

    একদিনের ব্যবধানে আবারও কমলো স্বর্ণের দাম

    দেশের বাজারে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আবারও স্বর্ণের দামে কৃমি রেকর্ড করা গেছে—ভরিতে ২,২১৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকায়। এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।

    বাজুস বুধবার, ২৯ এপ্রিল সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে যে নতুন এই দাম আজ সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ (পিওর গোল্ড)-এর মূল্য কমায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

    নতুন মূল্য অনুযায়ী প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২,৪২,৪৯৫ টাকা। অন্য ক্যারেটগুলোর দাম রাখা হয়েছে—২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২,৩১,৪৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১,৯৮,৪০৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১,৬১,৬০৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    এর আগে গত ২৮ এপ্রিল সকালেও বাজুস স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল; সে সময়ও ভরিতে ২,২১৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম রাখা হয়েছিল ২,৪৪,৭১১ টাকায়। এবার নতুন সমন্বয়ে আরও कमी এসেছে।

    স্বর্ণের পাশাপাশি দেশি রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৫,৪৮২ টাকায়। ২১ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরি দাম ৫,১৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪,৪৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ৩,৩৮৩ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।

    চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে মোট ৫৮ বার—যেখানে মূল্য বাড়ানো হয়েছে ৩২ দফায় এবং কমানো হয়েছে ২৬ দফায়। তুলনামূলকভাবে গত ২০২৫ সালে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল মোট ৯৩ বার; সেই সময়ে ৬৪ বার দাম বাড়ানো এবং ২৯ বার দাম কমানো হয়েছিল।

    রুপার ক্ষেত্রে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ৩৬ দফা সমন্বয় হয়েছে—এর মধ্যে ১৯ দফায় দাম বেড়েছে এবং বাকি ১৭ দফায় দাম কমিয়েছে। ২০২৫ সালে রুপার দাম মোট ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল; তাতে ১০ বার দাম বাড়ানো এবং ৩ বার দাম কমানো হয়েছিল।

    বাজুসের এই নিয়মিত সমন্বয় স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি, সোনার মূল্য সূচক ও ক্রেতা–বিক্রেতাদের চাহিদা বিবেচনায় করা হয়, যা বাজারে স্বর্ণ ও রুপার দিনযাপনকে চিত্রায়িত করে।

  • হিমন্ত বিশ্বশর্মা: প্রার্থনা করি ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক উন্নতি না হয়

    হিমন্ত বিশ্বশর্মা: প্রার্থনা করি ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক উন্নতি না হয়

    আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তিনি প্রতিদিন ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেন যেন ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক আগের মতো বজায় থাকে এবং পরস্পরের মধ্যে বন্ধুত্ব বাড়ে না। তিনি এ কথাগুলো বলেছেন ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এবিপির সঙ্গে একটি দীর্ঘ আলাপচারিতায়, যার কিছু অংশ সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সাক্ষাৎকারটি ১৫ এপ্রিল সম্প্রচারিত হয়েছিল।

    হিমন্তের বক্তব্যের অন্যতম কটাক্ষ — ‘‘আমি তো রোজ সকালে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি — (বাংলাদেশের সঙ্গে) যে পরিস্থিতি ইউনুসের সময়ে ছিল, সেটাই যেন থাকে, সম্পর্কের উন্নতি যেন না হয়।’’

    সাক্ষাৎকারে তিনি ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কীভাবে সীমান্তে অনুপ্রবেশকারীদের বাংলাদেশে ঘন রাতের অন্ধকারে ধাক্কা দিয়ে ফেরত পাঠায়, তারও বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। তার কথায়, কবে কীভাবে ‘‘পুশ‑ব্যাক’’ করা হয়, তা নির্ভর করে পরিস্থিতির উপর; কখনও ১০ দিন, কখনও ২০-৩০ বা ৪০ দিন ধরে আটক রাখা হয় এবং যেখানে বাংলাদেশি সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিডিআর, এখন বিজিবি) নেই সেসব স্থানে ধাক্কা মেরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। বিশ্বশর্মা সাক্ষাৎকারে বিজিবির পূর্বের নাম ‘বিডিআর’ই উল্লেখ করেছেন।

    তিনি আরও বলেন, আইনি পথে কাউকে ফেরত পাঠাতে চাইলে পুরো বিষয়টাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানাতে হয়; এরপর বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষকে প্রমাণের ভিত্তিতে যাচাই করতে হয় যে তারা কাকে গ্রহণ করবে। ‘‘এইজন্য আপনি ভারত থেকে কাউকে বাংলাদেশে পাঠাতে পারবেন না, বাংলাদেশ কাউকেই বাংলাদেশি বলে স্বীকার করে না,’’ তিনি বলেন এবং তা মিলিয়ে বিন্দুমাত্র বিকল্প হিসেবে পুশ‑ব্যাক অনুশীলিত হচ্ছে বলে দাবি করেন।

    হিমন্তের এই মন্তব্যের প্রেক্ষাপটেই রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক তীব্র হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্প্রতি ঢাকায় রাজনীতিক দীনেশ ত্রিবেদীকে রাষ্ট্রদূত করে পাঠানোর ঘোষণা দেয়—বিশ্লেষকরা বলছেন দুই দেশের মধ্যকার দূরত্ব কমানোর সঙ্কেত দেওয়ার জন্য এটি করা হয়েছে। এ সময় মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য অনেককে বিস্মিত করেছে।

    আইনি প্রশ্নও উঠেছে। বিশ্বশর্মা যে ‘‘অভিবাসী (আসাম থেকে বহিষ্কার) নির্দেশ, ১৯৫০’’ আইনের কথা উল্লেখ করেছেন, আইনজ্ঞদের একাংশ বলছেন ওই আইন দিয়ে সাধারণত এ রকম পুশ‑ব্যাক করা যাবে না, কারণ তা নির্দিষ্ট ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের জন্যই প্রণীত হয়েছিল। গৌহাটি হাই কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী হাফিজ রশিদ চৌধুরী বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, এক্সিকিউটিভ অর্ডারের মাধ্যমে ভাসমান সীমান্ত জটিলতা এভাবে সমাধান করা সহজ নয় এবং আইনগত বাধা রয়েছে।

    এবিপির সাংবাদিক মেঘা প্রসাদের প্রশ্নে হিমন্তের কথায় তিনি বলেছিলেন, ‘‘আমাদের ভালো লাগে যখন ভারত‑বাংলাদেশের সম্পর্ক ভালো থাকে না, কারণ যখন সম্পর্ক ভালো হয়ে যায়, তখন ভারত সরকারও চায় না পুশ‑ব্যাক করতে।’’ মেঘা মন্তব্য করেন, ‘‘এটা তো ভারত‑বিরোধী কথা হয়ে যাচ্ছে।’’ জবাবে বিশ্বশর্মা বলেন, ‘‘আমি তো প্রতিদিন সকালে সবসময়ই ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি… আমি তো মনের কথা বললাম।’’

    বিশ্লেষক ও অধ্যাপকরা মন্তব্য করেছেন, অনুপ্রবেশ ইস্যুটি দুটি দেশের মিলিত সমাধান চাই। ওপি জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক শ্রীরাধা দত্ত বলেন, অনুপ্রবেশের সমস্যা শুধু আসামের নয় — এর সঙ্গে পরিচয়পত্র, ভিতরে মিলাপ্ত প্রক্রিয়া, প্রশাসন—all মিলিয়ে সমস্যা তৈরি হয়। তিনি এমন অসাবধানিক মন্তব্য সমস্যার সমাধানে সাহায্য করবে না এবং ভারতকে আন্তর্জাতিকভাবে আরও দায়িত্বশীল আচরণ করার পরামর্শ দিয়েছেন।

    অন্য দিকে ঢাকা‑পদস্থ কূটনীতিবিদরা—যেমন পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী—মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যকে সমর্থন না করলেও বলেন, ‘‘এটা নতুন কিছু নয়’’; অনেক সময় সীমান্তে পুশ‑ব্যাক হওয়ার বাস্তবতা থেকেও তারা অনুধাবিত। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন যে পদ্ধতিগত সমস্যা রয়েছে এবং ধৃতদের দ্রুত ফেরত দেওয়ার প্রয়োজনে কিছু ছোটখাটো অনুশীলন শুরু হয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন।

    আইনগতভাবে ছালাও প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তীতে কিছুক্ষেত্রে পুশ‑ব্যাক করা ব্যক্তিদের ভারতীয় নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে আদালত বা প্রশাসন, ফলে লোকদের ফেরত নেওয়া হয়। এইসব দৃষ্টান্ত দেখিয়ে আইনজ্ঞরা বলছেন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও কাজের ধরণ প্রমাণভিত্তিক, স্বচ্ছ এবং মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষার মতো হওয়া উচিত।

    হিমন্ত বিশ্বশর্মার মন্তব্য রাজনীতি, আইন ও কূটনীতির সীমানায় এক সতর্ক চিন্তার উদ্রেক করেছে। দুই দেশের সম্পর্ককে সুদৃঢ় করতে হলেও সীমান্ত, জনগণ ও আইনি প্রক্রিয়া—এসব বিষয়কে সম্মিলিতভাবে বিচার করে সমাধান খোঁজার ওপর বিশেষ জোর রাখতে হবে, এমনই মত বিশ্লেষকদের।

  • নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিলে ভিসা বাতিল হবে: মার্কিন দূতাবাস

    নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিলে ভিসা বাতিল হবে: মার্কিন দূতাবাস

    ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, শুধুমাত্র সন্তানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্য থাকলে ভিসা আবেদন বাতিল করা হবে। দূতাবাস এই সতর্কবাণী বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টায় তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেয়া এক পোস্টে জানিয়েছে।

    পোস্টে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তির ভ্রমণের মূল লক্ষ্য যদি শিশুর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়া হয়, সেই উদ্দেশ্যে ভিসা ব্যবহার করা অনুমোদিত নয়। কনস্যুলার কর্মকর্তা যদি মনে করেন যে আবেদনকারীর প্রধান উদ্দেশ্যই এটি, তাহলে তারা ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করার ক্ষমতা রাখেন।

    দূতাবাস আরও স্মরণ করিয়েছে যে, ভিসা থাকা মানেই যুক্তরাষ্ট্রে অনিবার্যভাবে প্রবেশ নিশ্চিত নয়। শনিবার (২৮ মার্চ) দেয়া এক পৃথক বার্তায় দূতাবাস বলেছিল যে, ভিসা থাকলেও একজন ভ্রমণকারীকে দেশে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হবে কি না, তা চূড়ান্তভাবে নির্ধারণের একমাত্র অধিকার আছে আমেরিকার ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের।

    দূতাবাস বাস্তুতই বলেছে যে, ভিসা থাকলেও ইউএস-এ প্রবেশের সময় এবং কতদিন থাকার অনুমতি দেয়া হবে তা নির্ধারণ করে প্রবেশস্থলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা; তারা প্রয়োজন মনে করলে কাউকেই প্রবেশে বাধা দিতে পারেন।

    শুভেচ্ছাসূচক সতর্কবার্তায় দূতাবাস জানিয়েছে, পারমিটের মেয়াদ অতিক্রম করে থাকা বা ভিসার ধরণের বাইরে অননুমোদিত কাজ (যেমন পর্যটক ভিসায় গিয়ে কাজ করা) করা গুরুতর বিষয়। এ ধরনের নিয়ম লঙ্ঘনের ফলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণে স্থায়ী বা দীর্ঘমেয়াদী নিষেধাজ্ঞা আরোপ হতে পারে।

    দূতাবাসের এই বার্তায় ভ্রমণ পরিকল্পনা করার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সতর্ক ও আইনসভাপরায় থাকার আহ্বান করা হয়েছে।

  • মোংলা-বন্দর ও সুন্দরবন উপকূলে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া, টানা বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত

    মোংলা-বন্দর ও সুন্দরবন উপকূলে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া, টানা বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত

    বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ ও বৈশাখী মৌসুমি বায়ুর জোরে মোংলা সমুদ্রবন্দরসহ সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বিরাজ করছে। গত দুদিন ধরে চলা টানা মাঝারি ও ভারী বর্ষণের ফলেই উপকূলীয় জনপদে জীবনযাত্রা স্তব্ধের উপক্রম; সাগর উত্তাল ও দমকা হাওয়ায় পুণরায় ব্যবসা-বাণিজ্য ও জেলে-কালজারদের কাজ প্রায় বন্ধের পথে।

    বন্দর সূত্রে জানা যায়, হারবাড়িয়া ও ফেয়ারওয়ে এলাকায় থাকা বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে পণ্য খালাস ও পরিবহন প্রকৃতিই মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। প্রধানত সার, কয়লা ও সিমেন্ট ক্লিংকারবাহী জাহাজে কাজ বন্ধ বা বিলম্ব হচ্ছে; অনেক ক্ষেত্রে খাদ্যবাহী জাহাজেরও কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। বৃষ্টির ফলে পণ্যের ভেজে যাওয়ার আশঙ্কায় কার্গো বা লাইটার জাহাজে লোডিং-আনলোডিং থমকে যাচ্ছে, ফলে বন্দরের বাণিজ্যিক কাজ কাঁপছে।

    সুন্দরবন সংলগ্ন দুবলার চর, কানাইনগর ও জয়মনি এলাকায় ছলনা জেলে ও চরাঞ্চলের মানুষ জানিয়েছেন, সাগর উত্তাল হওয়ায় এবং ভারী বৃষ্টির কারণে তারা নদীতে জাল ফেলতে পারছেন না। বনভিত্তিক কার্যক্রমেও খণ্ডকালীন বিঘ্ন: গোলপাতা সংগ্রহকারী বাওয়ালি ও মৌয়ালরা বন থেকে বের হতে পারছেন না, ফলে তাদের আয়ের উৎসও ব্যাহত হয়েছে।

    টানা বৃষ্টির প্রভাবে মোংলা পৌরসভার নিম্নাঞ্চলগুলোতে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। অপর্যাপ্ত ড্রেনেজের কারণে রাস্তাঘাটে পানি জমে সাধারণ মানুষের চলাচলে ব্যাপক কষ্ট হচ্ছে; দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষদের কাজের সন্ধানও মিলছে না, যা এলাকায় সামাজিক ও অর্থনৈতিক কষ্ট বাড়িয়েছে।

    আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, উপকূলে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে; তাই মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। অধিদফতর ও বন্দর কর্তৃপক্ষ সাগর এলাকায় থাকা সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করার পরামর্শ দিয়েছেন।

    মৎস্যচাষিরা জানান, যদি টানা বৃষ্টি চালিয়ে যায় তবে চিংড়ি ঘের ডুবি কিংবা ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি সুন্দরবন সংলগ্ন বেড়িবাঁধগুলোর স্থায়িত্ব নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পশুর নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বাড়ায় চরাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

    মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমী জানান, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সহায়তা প্রদান করার ব্যবস্থাও রয়েছ। বন্দর কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক মোঃ মাকরুজ্জামান বলেন, হারবাড়িয়ায় সার, কয়লা ও ক্লিঙ্কারসহ বেশ কয়েকটি জাহাজ পণ্য খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে; বৃষ্টি ও খারাপ আবহাওয়া শিথিল হলে বন্দরের কাজ পুনরায় স্বাভাবিকভাবে শুরু হবে।

    আবহাওয়া ও সমুদ্রসতর্কতা মিলে স্থানীয়দের সচেতন থাকার উপদেশ দিয়েছেন। নিরাপদ স্থানে অবস্থান, প্রয়োজন ছাড়া নয়েজান করা এবং মৎস্যজীবী ও পর্যটনসংক্রান্ত নৌযানগুলোকে অনতিবিলম্বে উপকূলীয় নিরাপদ এলাকায় অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • নড়াইলে ক্লাস চলাকালে শ্রেণিকক্ষের ওপর নারিকেল গাছ ভেঙে পড়ে, দুই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত

    নড়াইলে ক্লাস চলাকালে শ্রেণিকক্ষের ওপর নারিকেল গাছ ভেঙে পড়ে, দুই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত

    নড়াইলের কালিয়া পৌরসভার শামসুন্নাহার কিন্ডারগার্টেন বিদ্যালয়ে বুধবার সকালে ক্লাস চলাকালীন সময়ে বিদ্যালয়ের পাশে থাকা একটি পুরনো নারিকেল গাছ ঝড়ে ভেঙে শ্রেণিকক্ষের ওপর পড়ে দুই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাটি ঘটেছে ২৯ এপ্রিল বুধবার সকাল প্রায় ১০টার দিকে ছোট কালিয়া এলাকায়।

    আহতদের মধ্যে এক জন সিয়াম শেখ (১১), তিনি ছোট কালিয়া গ্রামের নুর জামালের ছেলে। অপরটি মাজেদুল ইসলাম (৯), তিনি রামনগর গ্রামের জহির শেখের ছেলে। স্থানীয়রা জানান, হঠাৎ করে তীব্র ঝড়ো হাওয়া শুরু হলে বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণের পাশে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা পুরনো নারিকেল গাছটি ভেঙে পড়ে নিচে থাকা টিনের শ্রেণিকক্ষের ওপর। এতে ক্লাসে থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায় এবং দুই শিশুকে গুরুতর অবস্থায় আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

    স্থানীয়রা আহত শিশুদের দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর সিয়াম শেখের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

    ঘটনার পরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে কর্তৃপক্ষ আহতদের দ্রুত তত্ত্বাবধান ও চিকিৎসার নির্দেশ দেন।

    অভিভাবক ও এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে ওই নারিকেল গাছটি ঝুঁকিপূর্ণ থাকার পরও স্কুল কর্তৃপক্ষ গাছটি ছাঁটাই বা অপসারণ করেনি, এ কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। দায়িত্বশীলদের গাফিলতির অবাধ্যতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন ধাঁচা রিযায়েতরা। শামসুন্নাহার কিন্ডারগার্টেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ নিয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেনি বলে এলাকাবাসী জানান।

    কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিন্নাতুল ইসলাম জানান, আহতদের চিকিৎসার বিষয়টি নিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং আহতদের চিকিৎসা ব্যয় স্কুল কর্তৃপক্ষকে বহন করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে স্কুলের সকল কাগজপত্র তলব করা হয়েছে; কোনো গাফিলতি প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

  • শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের প্রেসিডেন্ট শাম্মি সিলভা পদত্যাগ করলেন

    শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের প্রেসিডেন্ট শাম্মি সিলভা পদত্যাগ করলেন

    বুধবার শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি) অপ্রত্যাশিতভাবে একটি বড় পরিবর্তনের মুখে পড়ল — প্রেসিডেন্ট শাম্মি সিলভা ও কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। একদিন আগে বিশেষ এক কমিটির বৈঠকে এই পদত্যাগকে অনুমোদন করা হয়।

    জানানো হয়েছে, দেশের প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিশানায়েকের অনুরোধে সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক চাপ মেটাতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বোর্ডের ওপর জনরোষ বাড়া ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে গত শুক্রবার প্রেসিডেন্ট দিশানায়েকের সঙ্গে শাম্মি সিলভার বৈঠক হয়; তাতেই এই সৌহার্দ্যপূর্ণ বিদায়ের রূপরেখা তৈরি হয় বলে জানা গেছে।

    সরকার এখন এক অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি নিয়োগের পরিকল্পনা করছে। এই কমিটির নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য সাবেক সংসদ সদস্য ইরান বিক্রেমারত্নের নাম সবচেয়ে জোরালভাবে আলোচনায় আছে। দ্রুত সংস্কার ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে সাবেক ক্রিকেটার সিদাথ ওয়েটিমুনি এবং রোশন মহানামাকেও নতুন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার সম্ভাবনা প্রকাশ পেয়েছে; তবে এ সম্পর্কে এখনও কোন আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

    এসএলসি তাদের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে শাম্মি সিলভা আজ থেকে কার্যকরভাবে তার পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন এবং কার্যনির্বাহী কমিটির অন্যান্য সদস্যরাও পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিশানায়েকে ও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী সুনীল কুমার গামাগেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।

    শাম্মি সিলভা ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন; তিনি থিলাঙ্গা সুমাথিপালার উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং চারটিই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রথম দিকে সুমাথিপালার অনুসারী হিসেবে দেখা গেলেও পরে নিজের অবস্থান শক্ত করেন—তার চারটি মেয়াদের তিনটিতেই তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী ছাড়াই জয়ী হয়েছিলেন।

    তার শাসনামলে শ্রীলঙ্কা পুরুষ ও নারী দল এশিয়া কাপ উপাধি নিশ্চিত করলেও বড় কোনো বিশ্বমঞ্চে ধারাবাহিক সাফল্য মেলেনি; র‍্যাঙ্কিংয়ে অবনতি এবং ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে নবম স্থান ও ২০২৪ ও ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হতাশাজনক পারফরম্যান্স বিশেষভাবে চিহ্নিত করা হয়। এমনকি গ্যারি কার্স্টেনকে প্রধান কোচ নিযুক্ত করলেও বোর্ডের নেতৃত্ব বদলের দাবিতে সিলভার প্রতি চাপ কমেনি।

    সিলভা প্রায়ই বোর্ডের শক্ত আর্থিক অবস্থার কথা বলেছেন, কিন্তু তার রাষ্ট্রকাল ধরেই দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। ২০২৩ সালের শেষ ভাগে বিষয়টি তীব্র আকার ধারণ করে, যখন তৎকালীন ক্রীড়া মন্ত্রী রোশন রানাসিংহে অডিটের রিপোর্টের ভিত্তিতে বোর্ড ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করেন। ওই সময় সিলভাকে বরখাস্ত করা হয়েছিল, কিন্তু আপিল আদালতের রায়ে তিনি দ্রুতই স্বপদে ফিরে আসেন—এই সংঘাতটি মন্ত্রী ও বোর্ডের মধ্যে তীব্র দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করে এবং শেষ পর্যন্ত রানাসিংহের পদত্যাগের পথ প্রশস্ত করে।

    বর্তমান পদত্যাগ প্রক্রিয়া এবং ইরান বিক্রেমারত্নের সম্ভাব্য নিয়োগ কিছু আইনি অসুবিধার মুখে পড়েছে। এসএলসি-র সংবিধান অনুযায়ী কোনো শীর্ষ পদ শূন্য হলে কার্যনির্বাহী কমিটিকে একজন ভাইস-চেয়ারম্যানকে শীর্ষে নিয়োগ দিতে হয়; কিন্তু ভাইস-প্রেসিডেন্ট জয়ন্ত ধর্মাদাসাও পদত্যাগ করায় সেই স্বাভাবিক ক్రమবিকাশ জটিল হয়ে উঠেছে। বোর্ড এখন ১৯৭৩ সালের স্পোর্টস আইন (আইন নং ২৫) এর ৩৩ নম্বর ধারাকে নির্ভরযোগ্য পথ হিসেবে তুলে ধরছে যাতে নিয়মের বাইরে গিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

    সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সরকারী হস্তক্ষেপ-প্রতি কঠোর মনোভাব। আইসিসি যেকোনো সরকার কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত বা অন্তর্বর্তীকালীন কমিটিকে ২.৪(d) অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন হিসেবে দেখে। এমনটি ঘটলে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ হতে পারে—গত রাতে ২০২৩ সালের নভেম্বরে যখন বোর্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছিল, তখনই আইসিসি শ্রীলঙ্কার সদস্যপদ স্থগিত করেছিল, যার ফলে দেশটি তহবিল থেকে বঞ্চিত হয়েছিল ও অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ভেন্যু বদলাতে হয়েছিল।

    সরকার এই ঘটনাকে আইসিসির নজর এড়াতে কৌশলগতভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছে—বোর্ডকে সরাসরি বরখাস্ত না করে ‘‘স্বেচ্ছায় পদত্যাগ’’ হিসেবে দেখানো যাতে এটি প্রশাসনিক পরিবর্তন হিসেবে গণ্য হয়। তবে যদি আইসিসি মনে করে যে পদত্যাগগুলো সরকারের চাপ বা দখলের ফলাফল, তাহলে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট আবারও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে। এখন সময়—প্রতিষ্ঠান ও সরকারের পক্ষ থেকে কী পথে এগোয়া হবে এবং আইসিসির প্রতিক্রিয়া কিরূপ হবে—এসবই নির্ধারণ করবে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের নিকট ভবিষ্যৎ।

  • পিএসএল ফাইনালে পেশোয়ারের হয়ে খেলবেন নাহিদ রানা

    পিএসএল ফাইনালে পেশোয়ারের হয়ে খেলবেন নাহিদ রানা

    দ্রুতগতির বোলিংয়ে প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের নাভিশ্বাস তোলা নাহিদ রানা এবার পিএসএলের ফাইনালে পেশোয়ার জালমির জার্সি গায়বেন। আগামী মাসে ঘরোয়া মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট সিরিজের প্রস্তুতির কথা মাথায় রেখে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাকে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ থেকে বিশ্রাম দিয়েছিল এবং পিএসএলের বাকি ম্যাচগুলোর জন্য প্রথমে এনওসি দেয়নি। তবু পেশোয়ার জালমির আকুল অনেসনের পর বিশেষ অনুমতি মেলে যে তিনি ফাইনালে খেলতে পারবেন।

    পেশোয়ার জালমির মালিক জাভেদ আফ্রিদি নিজের এক্স (টুইটার) অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, “পিএসএলের ফাইনালে নাহিদ রানাকে খেলার অনুমতি দেওয়ার জন্য তামিম ভাইকে ধন্যবাদ।” তিনি বিসিবি প্রেসিডেন্ট তামিম ইকবালের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে এই অনুমতি নিশ্চিত হওয়ার কথা জানান।

    গত আসরে পেশোয়ারের স্কোয়াডে থাকলেও সুযোগ না পাওয়া নাহিদকে এবারের নিলামে ৬০ লাখ রুপিতে দলে ভেড়ায় ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। চলতি মরসুমেই পিএসএলে অভিষেক হওয়ার পর সুযোগ পেয়ে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেছেন তরুণ পেসার।

    এই মৌসুমে পাঁচ ম্যাচে সাত উইকেট নিয়েছেন নাহিদ; ওভারপ্রতি রান তিনি দিয়েছেন মাত্র ৫.৪২। সবচেয়ে স্মরণীয় পারফরম্যান্স এসেছে করাচি কিংসের বিপক্ষে—মাত্র ৭ রান খরচায় তিনি তিন উইকেট তুলে নিয়েছিলেন। গতিময় বোলিং, নির্ভুল লাইন-লেংথ এবং চাপ সৃষ্টি করার ক্ষমতা নিয়ে তিনি দ্রুতই পেশোয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রে পরিণত হয়েছে।

    পেশোয়ার জালমি কোয়ালিফায়ারে ইসলামাবাদ ইউনাইটেডকে ৭০ রানে হারিয়ে ফাইনালে উঠে এসেছে। এবারের পিএসএলের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৩ মে; প্রতিপক্ষ হবে মুলতান সুলতান্স, হায়দরাবাদ কিংসম্যান অথবা ইসলামাবাদ ইউনাইটেড—যেকোনো একটি দল।

    নাহিদের ফাইনালে অন্তর্ভুক্তি পেশোয়ার জালের পেস আক্রমণে শক্তি যোগ করবে এবং ফাইনালে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট দেখতে পাবেন ভক্তরা।

  • পাপারাজ্জিদের ওপর রেগে গেলেন কারিশমা কাপুর, দিলেন কড়া সতর্কবার্তা

    পাপারাজ্জিদের ওপর রেগে গেলেন কারিশমা কাপুর, দিলেন কড়া সতর্কবার্তা

    জীবনশৈলীকে ঘিরে সেলিব্রিটিদের প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহ নতুন কিছু নয়। এই আগ্রহের পেছনে ঘিরে বসে থাকেন সংবাদমাধ্যমের আলোকচিত্রীরাই, যাদের সাধারণত পাপারাজ্জি বলা হয়। সম্প্রতি এমনই এক পরিস্থিতিতে পাপারাজ্জিদের কায়দায়র দিকে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন বলিউড অভিনেত্রী কারিশমা কাপুর।

    ঘটনাটি ঘটে ‘India’s Best Dancer – Season 5’ শোয়ের সেটে, যেখানে কারিশমা বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন — তার সঙ্গে আছেন গীতা কাপুর, টেরেন্স লুইস এবং জাভেদ জাফরি। শুটিংয়ের আগে অংশগ্রহণকারীরা ও বিচারকরা আলোকচিত্রীদের সামনে পোজ দেন। কিন্তু সেটেই পেছন থেকে জুম করে ছবি তোলা শুরু হলে কারিশমা অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

    ক্যামেরাম্যানদের দিকে রুপরেখা বদলাতে বলতে তিনি বলেন, “বেশি জুম করবেন না। আপনাদের অনেকে খুবই খারাপভাবে ছবি তুলতে চান।” এই আচরণকে তিনি ‘অসুস্থ’ মনমানসিকতা হিসেবে অভিহিত করেছেন। ভিডিওতে দেখা যায়, কথাগুলো বলার সময় কারিশমার চেহারায় উত্তেজনা ও রাগ স্পষ্ট ছিল।

    কারিশমা যে কড়া বার্তা দিয়েছেন, তার ভিডিও এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়েছে এবং নেটিজেনদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে। অনেকে তার এই সতর্কতাকে সমর্থন জানাচ্ছেন। উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে সিড ও কিয়ারা নামে দুই তারকার অনুষ্ঠানের সময়ও পাপারাজ্জিদের অনীহাপূর্ণ জুমিং নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল—তখনও বিভিন্ন ক্লিপ ভাইরাল হয়েছিল।

    দীর্ঘ সময় ধরে ভারতীয় চলচ্চিত্রে অবদান রেখে আসা একজন অভিনেত্রীর এই সতর্কতামূলক অবস্থান অনেকেই প্রশংসা করছেন। কারিশমার মতো পরিচিত মুখরা যখন ব্যক্তিগত সীমানা ও নিরাপত্তার ব্যাপারে চোখ-খোলা বার্তা দেন, তা মিডিয়া ও দর্শকদের আচরণে পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখতে পারে।

  • রাশমিকা মান্দানা ফের টোকিওর গ্লোবাল অ্যানিমে অ্যাওয়ার্ডসে

    রাশমিকা মান্দানা ফের টোকিওর গ্লোবাল অ্যানিমে অ্যাওয়ার্ডসে

    জনপ্রিয় অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানা আবারও আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের নাম উজ্জ্বল করতে যাচ্ছেন। আগামী ২৩ মে জাপানের টোকিওতে অনুষ্ঠিতব্য ১০তম ‘গ্লোবাল অ্যানিমে অ্যাওয়ার্ডস’-এ তিনি সঞ্চালক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। আগেও ২০২৪ সালে প্রথম ভারতীয় হিসেবে এই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি ইতিহাস গড়েছিলেন।

    এবারের আসরের আরও বড় আকর্ষণ হিসেবে থাকছে বিশ্বখ্যাত সংগীতশিল্পী আবেল টেসফায়ে, যিনি ‘দ্য উইকেন্ড’ নামে পরিচিত। রাশমিকা ও আবেলের উপস্থিতি এই ইভেন্টকে আন্তর্জাতিকভাবে অধিক মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু করে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    ব্যক্তিগত জীবনেও রাশমিকার আনন্দটা আছে—সম্প্রতি দীর্ঘদিনের প্রেমিক বিজয় দেবরকোন্ডার সঙ্গে তিনি বিয়ে করেছেন এবং হানিমুন শেষ করে এখন কাজে ফিরেছেন। কাজে ফেরার পর তাকে সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল ‘দ্য গার্লফ্রেন্ড’ ছবিতে।

    পেশাগতভাবে রাশমিকার হাতে বর্তমানে একগুচ্ছ প্রকল্প রয়েছে। আগামী ১৯ জুন মুক্তি পাচ্ছে তার নতুন হিন্দি ছবি ‘ককটেল টু’, যেখানে তার বিপরীতে অভিনয় করেছেন শাহিদ কাপুর এবং ছবিতে কৃতি শ্যাননও আছেন। এছাড়া চলতি বছর মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে তার দুই তেলেগু ছবি—’মাইসা’ ও ‘রণবালী’। বিশেষত ‘রণবালী’ নিয়ে ভক্তদের মধ্যে উচ্ছ্বাস বেশি, কারণ তাতে তিনি অভিনয় করেছেন নিজের স্বামী বিজয় দেবরকোন্ডার বিপরীতে।

    রাশমিকার আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রত্যাবর্তন এবং একাধিক প্রজেক্টের ব্যস্ত সময়সূচি দেখে আশা করা যাচ্ছে, তিনি আগামীদিনেও ভারতীয় সিনেমা ও সংস্কৃতির সঙ্গে বিশ্বব্যাপী মানুষের সংযোগ বাড়িয়ে দেবেন।

  • নিউ মার্কেট এলাকায় গুলিতে শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম ‘টিটন’ নিহত

    নিউ মার্কেট এলাকায় গুলিতে শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম ‘টিটন’ নিহত

    রাজধানীর নিউ মার্কেট এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে খন্দকার নাঈম আহমেদ (৩৮), পরিচিত নাম টিটন, নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বটতলা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে; সময়টি বিভিন্ন সূত্রে ৭টা৫০ মিনিট থেকে ৮টা পর্যন্ত বলা হচ্ছে।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও উদ্ধারকারীরা জানায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহনেওয়াজ হলের সামনে বটতলা সড়কে সন্ধ্যার দিকে দুটি মোটরসাইকেলে করে দুই ব্যক্তি এসে টিটনকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি রাস্তার মধ্যে লুটিয়ে পড়েন। আশপাশের কয়েকজন এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা পালানোর সময় লোকজনকে ভীত দেখাতে আরও কয়েকটি গুলি করে। দুইজনই ক্যাপ ও মাস্ক পরিধান করছিলেন।

    ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়, বলে জানান উদ্ধারকারীর মধ্যে থাকা একজন শিক্ষার্থী মো. মেজবাহ রহমান। তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    নিহতকে ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি রাজধানীর হাজারীবাগ জিগাতলা এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, টিটনকে তারা ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ হিসেবে শনাক্ত করেছেন এবং তাঁর সানজিদুল ইসলাম उরফে ইমন নামে পরিচিত এক সন্ত্রাসীর শ্যালক ছিলেন।

    নিউ মার্কেট থানা ইনচার্জ মো. আইয়ুব জানান, রাত আনুমানিক ৮টার দিকে নিউ মার্কেটের পাশে বটতলায় একজনকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রচুর রক্ত লক্ষ্য করা গেছে।

    ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার মাসুদ আলম বলেন, বিভিন্ন সূত্রের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী নিহত ব্যক্তি শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটন বলে আমরা জানতে পেরেছি; বিষয়টি আরও নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

    পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, কিছু বছর আগে এক আন্দোলনের পর টিটনসহ তালিকাভুক্ত কয়েকজন সন্ত্রাসী কারাগার থেকে মুক্তি পান এবং এরপর থেকে টিটন আদালতে হাজিরা দেননি। তথ্য অনুযায়ী, ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় প্রকাশিত ২৩ জন ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ তালিকায় টিটনের নাম ছিল দ্বিতীয় স্থানে। তার সম্পর্কিত একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সদস্য ছিলেন সানজিদুল ইসলাম ইমন; তারা মোহাম্মদপুরভিত্তিক হারিছ-জোসেফ গোষ্ঠীর সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। টিটনের কর্মকাণ্ড প্রধানত ধানমণ্ডি ও হাজারীবাগ এলাকা কেন্দ্রে ছিল।

    পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ ও মোবাইল কল ডেটা সংগ্রহ করে তদন্ত আরও গভীর করছে।