Blog

  • ধর্মীয় অপব্যাখ্যা ও মিথ্যা ফতোয়া দিয়ে ভোট কেনা যাবে না

    ধর্মীয় অপব্যাখ্যা ও মিথ্যা ফতোয়া দিয়ে ভোট কেনা যাবে না

    বিএনপির কেন্দ্রীয় ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, আসন্ন নির্বাচনে বিজয় লাভের জন্য ধর্মীয় মিথ্যা ফতোয়া বা অপব্যাখ্যা দিয়ে সাধারণ মানুষের ভোট কেনা আর সম্ভব নয়। বর্তমানে ভোটাররা বেশ সচেতন হয়ে উঠেছেন এবং তারা প্রকৃত উন্নয়ন এবং অধিকার আদায়কে সমর্থন করে কথা বলতে জানেন। রাজনীতির অপব্যবহার করে ধর্মকে ঢাল করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সাধারণ মানুষের মনোভাব পরিবর্তনের দিন শেষ। খুলনার জনগণ সততা আর সাহসিকতার পক্ষে একযোগে রায় দিচ্ছেন। তিনি অভিযোগ করেন, একটি পক্ষ পরাজয়ের ঝুঁকি জেন নানা রকম বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দিতে চাইছে, যা অবশ্যই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থী।

    গতকাল শুক্রবার, ১৪নং বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের আয়োজনে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও ওয়ার্ড বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সৈয়দ জহর মীরের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় বক্তৃতায় বকুল আরও বলেন, মিথ্যা ফতোয়া দিয়ে ভোট নেওয়ার কৌশল এখন আর কার্যকর নয়। বরং যারা ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে জনমত পরিবর্তন করার চেষ্টা করে, তাদের জনগণ ভোটের মাধ্যমে প্রত্যাখ্যান করবে। তিনি খুলনাবাসীর অধিকার রক্ষা ও অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।

    বায়তুল নাজাত জামে মসজিদের সভাপতি আবু সুফিয়ান নান্নুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদী, সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক মো. চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেন, প্রবীণ রাজনীতিবিদ স.ম. আবদুর রহমান, খালিশপুর থানার বিএনপি সভাপতি এড. মোহাম্মদ আলী বাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লবুর রহমান কুদ্দুস, খালিশপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আলাউদ্দিন তালুকদার প্রমুখ।

    অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ১৪নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি হায়দার আলী তরফদার, নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক লুৎফর রহমান, জংশন বাজারের সভাপতি মো. কোরবান মীর, সমাজ সেবক মীর আব্বাস আলী, বিএল কলেজের সাবেক প্রভাষক অধ্যাপক আনোয়ারুল ইকবাল, অগ্রণী ব্যাংকের সাবেক ম্যানেজার খন্দকার কামাল উদ্দিন আহমেদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহিন আজাদ।

    অনুষ্ঠান শেষে জাতীয় এই দোয়া ও প্রার্থনামঞ্চে বেগম খালেদা জিয়া এবং সৈয়দ জহর মীরের রুহের মাগফিরাত কামনা ও দেশের কল্যাণের জন্য বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন বায়তুল নাজাত জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা আব্দুস সাত্তার। এর মধ্যে স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষ বিপুল সংখ্যায় অংশ নেন।

  • খুলনা-৪ আসনে বিএনপি প্রার্থী আজিজুল বারী হেলালের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা

    খুলনা-৪ আসনে বিএনপি প্রার্থী আজিজুল বারী হেলালের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ কে সামনে রেখে খুলনা-৪ আসনের (রূপসা, তেরখাদা ও দিঘলিয়া) বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল তার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। শনিবার, ২৪ জানুয়ারি এই পরিকল্পনাগুলো তুলে ধরেন তিনি। ইশতেহারে তিনি রূপসা, তেরখাদা ও দিঘলিয়া উপজেলাভিত্তিক মোট ৭৪টি উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি স্থান দেন।

    আজিজুল বারী হেলাল বলেন, নদী ও প্রকৃতিরোপিত এই জনপদের দেরিতে দেখা দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধান ও একটি প্রগতিশীল, নিরাপদ ও আধুনিক খুলনা-৪ গড়ে তোলাই তার মূল লক্ষ্য। তিনি অবকাঠামো উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, কৃষি, শিল্পায়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়ে আসছেন।

    তিনি বলেছেন, তাঁর গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে ভৈরব নদীর ওপর দ্বিতীয় সেতু নির্মাণ, নির্মিত না হওয়া নগরঘাট ও রেলিগেট সেতুর কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা, নদীভাঙন রোধে টেকসই বাঁধ নির্মাণ এবং রূপসা উপজেলায় ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপন করে সুপেয় পানির সরবরাহ নিশ্চিত করা। এছাড়াও, রূপসা ফেরিঘাটের টোলমুক্ত করা এবং আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও তিনি চেয়েছেন।

    স্বাস্থ্যখাতে, তিনি দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালে রূপান্তর, রূপসায় ১০০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ এবং তেরখাদায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। শিক্ষা খাতে, যোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও লাইব্রেরির ব্যবস্থা, পাশাপাশি বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্র চালুর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।

    কর্মসংস্থান বাড়ানোর জন্য তিনি ইপিজেড নির্মাণ, আইটি ও ফ্রিল্যান্সিং ট্রেনিং সেন্টার, কোল্ড স্টোরেজ, দুধ প্রক্রিয়াজাতকরণ প্ল্যান্ট ও ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়ে এসেছেন। কৃষকদের জন্য বিনামূল্যে বীজ ও সার, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি এবং সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

    এছাড়া, মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস নির্মূলের জন্য জিরো টলারেন্স নীতি, নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা ও পরিবেশ সংরক্ষণের ওপর জোর দেওয়া হয়।

    অंतিম হিসেবে, আজিজুল বারী হেলাল বলেন, খুলনা-৪ আসনকে একটি আদর্শ ও উন্নত জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি এসব পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য খান রবিউল ইসলাম রবি, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোল্লা খায়রুল ইসলাম, জিএম কামরুজ্জামান টুকু, অধ্যাপক মনিরুল হক বাবুল, শেখ আব্দুর রশিদ, আব্দুস সালাম, আছাফুর রহমান, আশরাফুল ইসলাম নুর, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আতাউর রহমান রনু, গোলাম মোস্তফা তুহিন, রূপসা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোল্লা সাইফুর রহমান, তেরখাদা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক চৌধুরী কাওছার আলী, আবু সাঈদ, সেতারা সুলতানা, গোলাম ফারুক, শেখ আবু সাঈদ, ফখরুল ইসলাম চৌধুরী, শরিফ নাইমুল ইসলাম, আবুল কাশেম, রেজাউল ইসলাম রেজা, মো. রয়েল, খালেদা পারভিন সিনথিয়া, শিহাবুল ইসলাম সিহাবসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • ধর্মের বিভেদের বৈরিতা না করে সকল মানুষের উন্নয়নই হবে মূল লক্ষ্য

    ধর্মের বিভেদের বৈরিতা না করে সকল মানুষের উন্নয়নই হবে মূল লক্ষ্য

    খুলনা-৪ আসনে ধানের শীষ প্রার্থী ও বিএনপির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল সম্প্রতি এক জনসভায় বলেন, ধর্মীয় ভেদাভেদ না করে সব ধর্মের মানুষের জন্য সমান উন্নয়ন ঘটানো হবে। তার ভাষায়, কে কোন ধর্মের মানুষ সেটা বড় বিষয় নয়, সবাই আন্তরিকভাবে বাস করবে এবং সুযোগ-সুবিধা পাবে। তিনি উল্লেখ করেন, খুলনা-৪ আসন বিভিন্ন ধর্মের মানুষে গড়া এবং এখানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় করা হবে। ধর্মের নামে যেন কোনো বৈষম্য ও বিভাজন না চলে সেজন্য সবধরনের ট্রেন্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    এই জনসভা সংগঠিত হয় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আই এর জনপ্রিয় উপস্থাপিকা দীপ্তি চৌধুরীর উপস্থিতিতে, যার সার্বিক পরিচালনায় পুরো অনুষ্ঠানটি পরিচালিত হয়। এর আয়োজন করা হয় রূপসার শ্রীফলতলা ইউনিয়নের পালেরহাট মাঠে শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত।

    অনুষ্ঠান চলাকালীন তিনি নারীর নিরাপত্তা আরও নিশ্চিত করতে ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহ রোধে সাবধানতা অবলম্বনের আহ্বান জানান। নারীর সম্মান, নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় তিনি বলেন, একজন নারীর উন্নয়নই সমগ্র সমাজের উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি। মেয়েদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রত্যেক পরিবারের সচেতনতা বৃদ্ধি দরকার।

    মাদক ও সন্ত্রাস দমন করতে তিনি বলেন, ধর্মীয় চর্চা ও শিক্ষা ছাড়া এই সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, পরিবার থেকে শুরু করে ছোট বড় সবাইকে নিয়মিত ধর্মীয় অনুশীলন করতে হবে এবং ক্রীড়া ও সংস্কৃতির মাধ্যমে তরুণ সমাজকে সুস্থ ও রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধ করে তুলতে হবে। নির্বাচনী প্রশ্নে তিনি বললেন, বিএনপি সরকার গঠনে তিনটি উপজেলা আধুনিক স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। খেলাধুলা যুবকদের অপরাধ থেকে দূরে রাখে, এটি একটি সুস্থ জাতি গঠনের জন্য অপরিহার্য।

    সাংবাদিক কৃষ্ণ গোপাল সেনের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি নির্বাচিত বা না-ই হই, আমার হটলাইন সার্বক্ষণিক চালু থাকবে, আর সরকারের আমলে অভিযোগের ভিত্তিতে সকলের অধিকার রক্ষা করা হবে। তিনি রূপসার সাংবাদিকদের জন্য আধুনিক প্রেসক্লাব গঠনের ওপর গুরুত্ব দেন এবং বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ, তাদের জন্য স্বাধীন ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।

    ভূমি অফিসের অনিয়মের অভিযোগে তিনি সবাইকে অনুরোধ করেন, পরিষ্কারভাবে দালাল ও অর্থনৈতিক লেনদেন মুক্ত ভূমি অফিস গড়ে তোলা। ভবিষ্যতে এই ধরনের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন।

    অতীতে বারবার মিথ্যা মামলা ও কারাবরণের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাহস না থাকলে নেতৃত্ব ও জনসেবা সম্ভব নয়। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সব ধরনের ত্যাগ স্বীকারে তিনি প্রস্তুত। দুর্নীতি ও অন্যায়বিরোধী অপ্রতিরোধ্য অবস্থানই তার রাজনীতির মূল ভিত্তি হবে বলে জানান।

    অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার শতাধিক মানুষ অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জেলা ও উপজেলা নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। অনুষ্ঠানে গাইলেন দেশের বরেণ্য গায়ক কুদ্দুস বয়াতী।

  • গভর্নর বললেন, রাজনৈতিক পরিবর্তন আসছে, বিনিয়োগ বাড়বে অর্থনীতি ক্রমশ উন্নতির দিকে

    গভর্নর বললেন, রাজনৈতিক পরিবর্তন আসছে, বিনিয়োগ বাড়বে অর্থনীতি ক্রমশ উন্নতির দিকে

    বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, দেশে সামনের দিনগুলোতে রাজনৈতিক পরিবর্তন আসছে, যার ফলে দেশের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তিনি আর্থিক অবস্থা আরও সুদৃঢ় হবে এবং বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়বে বলেও সতর্ক করেন। বাদামের মতো শুয়ে থাকা অর্থনীতির গতি এখন ধীরে ধীরে বাড়ছে এবং চলতি অর্থবছরে দেশের রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন।

    সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর গুলশানের মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) এর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। এই অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথির ভাষণ দেন।

    গভর্নর বলেন, দেশে তারল্য সংকট ধীরে ধীরে কমছে। অল্প কিছুদিন আগে অর্থনীতিকে চাপের মধ্যে ফেলেছিল তারল্যের অভাব; যেমন অক্সিজেনের না থাকায় শ্বাসকষ্ট হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এখন সেই চাপ কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। আগে ব্যাংকগুলো ঝুঁকি এড়িয়ে বেশি মুনাফা করত, যা সরকারী মাধ্যমে মারাত্মক প্রভাব ফেলেছিল। এখন ব্যাংকগুলোকে কঠোর পরিশ্রম করে সঠিক ঋণগ্রহীতাদের খুঁজে বের করতে হবে।

    তিনি আরও জানান, দেশের বৈদেশিক মুদ্রা পরিস্থিতি এখন খুবই ইতিবাচক। চলতি অর্থবছরে রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন। বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও শিল্পপণ্যদ্রব্যের দাম কমে যাওয়ায় আমদানির চাপ কিছুটা কমে গেছে।

    সুদের হার নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও বিনিময় হার মোটামুটি স্থিতিশীল। বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার কিনতে শুরু করেছে, ইতিমধ্যে ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে যা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সহায়তাকেও ছাড়িয়ে যায়। এর পাশাপাশি ব্যাংকিং বাজারে ৪৫ হাজার কোটি টাকা নতুনভাবে ঋণ ছাড় হয়েছে, যা তারল্য বাড়িয়েছে।

    গভর্নর বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং অর্থনৈতিক ধাক্কার প্রভাব মোকাবিলায় সবাই সহায়তা পাচ্ছে, কোনো দল বা গোষ্ঠীর ওপর ভিত্তি করে বৈষম্য করা হয়নি। তার আরও জানান, তাড়াহুড়ো করে সুদের হার কমানো উচিত নয়, কারণ এতে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার ও লেনদেনের ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বর্তমানে মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশের উপরে থাকলেও এর কমে ৫ শতাংশের নিচে নামানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। উর্ধ্বগামী মূল্যস্ফীতির কারণে কিছু সময় লাগছে, তবে যদি এটি ১ শতাংশ কমে যায়, তবে সুদের হার কিছুটা কমানো হবে। বেশ কিছু বড় ঋণগ্রহীতাদের জন্য ইতিমধ্যে সুদের হার প্রায় ২ শতাংশ কমে গেছে।

    আন্তর্জাতিক বাজারের তথ্য বিশ্লেষণে প্রতিদিন উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সি ডেটা সংগ্রহ করা হয়, যাতে বিনিময় হার, সুদের হার, রিজার্ভ, রেমিট্যান্স ও আমদানি-রপ্তানির তথ্য অন্তর্ভুক্ত। উল্লেখযোগ্যভাবে, গত সোমবার রেমিট্যান্স এসেছে ১৭০ মিলিয়ন ডলার থেকে বেশি, যা আগে থেকে ৬৯ শতাংশ বেশি। মাসিক, সাপ্তাহিক ও ত্রৈমাসিক অর্থনৈতিক ডেটা এখন সহজে বিশ্লেষণ করা সম্ভব হচ্ছে, যা দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বোঝার জন্য সহায়ক।

    অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন এমসিসিআই এর সভাপতি কামরান টি রহমান। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে ব্রিটিশ হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার জেমস গোল্ডম্যান, পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও সিইও ড. এম মাসরুর রিয়াজ, পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) চেয়ারম্যান ড. জাইদি সাত্তার প্রমুখ।

  • নিপ্পন পেইন্টকে উন্নত ট্রানজ্যাকশন ব্যাংকিং সেবা দেবে ব্র্যাক ব্যাংক

    নিপ্পন পেইন্টকে উন্নত ট্রানজ্যাকশন ব্যাংকিং সেবা দেবে ব্র্যাক ব্যাংক

    নিপ্পন পেইন্ট বাংলাদেশ-কে উন্নত ও আধুনিক ট্রানজ্যাকশন ব্যাংকিং সেবা প্রদান করতে ব্র্যাক ব্যাংক একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি করেছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হচ্ছে নিপ্পন পেইন্টের ডিলার ও ডিস্ট্রিবিউটরদের জন্য রিসিভেবল ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী ও কার্যকরী করে তোলা, যাতে ট্রানজ্যাকশন কার্যক্রম আরও দক্ষ ও স্বচ্ছ হয়।

    চুক্তি অনুযায়ী, নিপ্পন পেইন্ট তাদের এপিআই (অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস) ইন্টিগ্রেশন সম্পন্ন করে ব্র্যাক ব্যাংকের ডিজিটাল ট্রানজ্যাকশন ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্ম ‘কর্পনেট’-এর সঙ্গে যুক্ত হবে। এর ফলে, ২০০ জন ডিস্ট্রিবিউটরের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থের তথ্য দ্রুত ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিপ্পন পেইন্টের এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স প্ল্যানিং (ইআরপি) সিস্টেমে দেখা যাবে। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি নগদ প্রবাহের দৃশ্যমানতা বৃদ্ধি করবে, রেকনসিলিয়েশন প্রক্রিয়া সহজ করবে এবং ডিস্ট্রিবিউশনের ফাইন্যান্সিয়াল কন্ট্রোল আরও শক্তিশালী করবে।

    এই চুক্তি স্বাক্ষর Ceremonyটি ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ব্র্যাক ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে ব্র্যাক ব্যাংকের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড হেড অব হোলসেল ব্যাংকিং মো. শাহীন ইকবাল সিএফএ, ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড হেড অব কর্পোরেট, কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইনস্টিটিউশনাল ব্যাংকিং আসিফ বিন ইদ্রিস, হেড অব ট্রানজ্যাকশন ব্যাংকিং অ. কে. এম. ফয়সাল হালিম এবং এরিয়া হেড অব রিলেশনশিপ ইউনিট এস এম মুসা।

    নিপ্পন পেইন্ট বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির জেনারেল ম্যানেজার রাজেশ সিরকার, সিনিয়র ম্যানেজার সালাহ উদ্দিন এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এটি ব্র্যাক ব্যাংকের কর্পোরেট গ্রাহকদের জন্য প্রযুক্তিনির্ভর ট্রানজ্যাকশন সেবা চালু করার প্রতিশ্রুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

    ব্র্যাক ব্যাংক এই উদ্যোগের মাধ্যমে কর্পোরেট গ্রাহকদের জন্য তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ, দক্ষ ও আত্মবিশ্বাসপূর্ণ করে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যাতে তারা টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে এবং দুই পক্ষের উদ্যোগের ফলাফল আরও ফলপ্রসূ হয়ে উঠে।

  • ইতিহাসের সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা, ভরি ২ লাখ ৪৪ হাজার টাকা

    ইতিহাসের সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা, ভরি ২ লাখ ৪৪ হাজার টাকা

    দেশের বাজারে সোনার দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে, যা নতুন এক রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) ঘোষণা দিয়েছে, সম্প্রতি সোনার মূল্য প্রতি ভরি বেড়ে গেছে। বর্তমানে ভালো মানের সোনার দাম ২ লাখ ৪৪ হাজার টাকার ওপরে পৌঁছেছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ মূল্যে বিক্রি হচ্ছে।

    বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এর নতুন দাম আগামী ২১ জানুয়ারি বুধবার থেকে কার্যকর হবে। তারা বলেছে, এই দাম বাড়ার পেছনে মূল কারণ হলো বৈশ্বিক বাজারে স্বর্ণের দামের বৃদ্ধি। বৈশ্বিক বাজারের সূত্র অনুযায়ী, তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দাম আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৭৪৫ ডলার ছাড়িয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির প্রভাব প্রত্যক্ষভাবে স্থানীয় বাজারে এসে পড়েছে। এর ফলে, দেশের স্বর্ণের মান ও দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে চলেছে।

    নতুন দাম অনুযায়ী, সবচেয়ে মানসম্পন্ন বা ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের এক ভরি বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ১২৮ টাকায়। এরপরেই আসে ২১ ক্যারেটের ভরা, যার মূল্য ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৮৮ টাকা। ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের ভরির মূল্য ১ লাখ ৯৯ হাজার ৭৪৬ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরি বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৬৩ হাজার ৮২১ টাকায়।

    সোনার পাশাপাশি, রুপার দামও বেড়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম এখন ৬ হাজার ৫৯০ টাকা। এর পাশাপাশি, ২১ ক্যারেটের রুপা ৫ হাজার ২৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৫ হাজার ৪২৪ টাকা, আর সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম এক ভরি বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৮২ টাকা। এই দাম বৃদ্ধির ফলে বাজারে প্রভাব পড়েছে সব স্তরের ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য।

  • চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত: বিপদ না কি সুযোগ?

    চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত: বিপদ না কি সুযোগ?

    এখনো ২০২৬ সালের শুরুতেই, চীনের অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান বিশ্বকে বিস্মিত করেছে। মাত্র দুই সপ্তাহে, বিশ্ব দেখছে যে, ২০২৫ সালে দীর্ঘ সময়ের শুল্ক যুদ্ধের প্রভাব সত্ত্বেও, চীনের রপ্তানি বেড়েই চলেছে, আর বাণিজ্য উদ্বৃত্তের পরিমাণ রেকর্ড ১.২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে—যা ইতিহাসে সর্বোচ্চ স্থান অর্জন করেছে।

    এই তথ্য হঠাৎ করে প্রকাশিত হওয়ার পরপরই নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক নিবন্ধে সতর্কবার্তা দিয়েছেন কর্নেল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের সিনিয়র ফেলো ঈশ্বর প্রসাদ। তিনি উল্লেখ করেছেন, চীনের এই বিশাল বাণিজ্য উদ্বৃত্ত অনেকটাই মার্কিন ট্রাম্পের শুল্কের চেয়েও বড় এক বিপদ।

    প্রফেসর প্রসাদ যুক্তি দিয়েছেন যে, চীনের সস্তা পণ্য বিশ্বজুড়ে উন্নত দেশগুলোর উৎপাদন খাতের ক্ষতি করছে, পাশাপাশি নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশের জন্যও টিকে থাকাটা কঠিন করে তুলছে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ‘‘বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হিসেবে নিজের প্রবৃদ্ধির জন্য নিজের ওপর আস্থা না রেখে অন্য দেশের ওপর নির্ভরশীল হওয়া বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থার জন্য সুড়ঙ্গের মতো ঝুঁকির সৃষ্টি করছে।’’

    অন্যদিকে, চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসের সাবেক সম্পাদক হু সিজিন ১৬ জানুয়ারি সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে ভিন্ন সুর শোনিয়েছেন। তিনি বলেছেন, চীনের এই বিশাল বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ওয়াশিংটনের অভিজাত শ্রেণির জন্য চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে। তারা বুঝতে পেরেছেন, দেশের অর্থনীতি খুবই স্থির, আর তাতে কোনো বাণিজ্য যুদ্ধের মাধ্যমে দমন করা সম্ভব নয়।

    তিনি আরও বলেছেন, চীন শুধু সততা ও পরিশ্রমের ভিত্তিতে বিশ্ববাজারে তার পণ্য সরবরাহ করছে। নেপথ্য কারণ হলো, চীনের রেকর্ড রপ্তানি ও কম আমদানির মাধ্যমে সৃষ্টি হওয়া এই ভারসাম্যহীনতা। এর মূল কারণ হলো, শক্তিশালী রপ্তানি প্রবাহ এবং দুর্বল অভ্যন্তরীণ চাহিদা।

    গত বছর, মার্কিন-চীন শুল্কযুদ্ধের ফলে, চীনের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি ২০ শতাংশ কমলেও, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা, আসিয়ান এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আফ্রিকায় রপ্তানি রেকর্ড ২৫.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতা, চীনের মুদ্রার মান কমে যাওয়া এবং চীনা পণ্যের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠছে।

    চীনের আমদানির অবস্থা তুলনামূলকভাবে আরও দুর্বল। হয়তো ২০২৫ সালে তার মোট আমদানির পরিমাণ বছরে মাত্র ০.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা রপ্তানির ৬.১ শতাংশ প্রবৃদ্ধির তুলনায় খুবই কম। এই পরিস্থিতির জন্য মূলতঃ দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদার অভাবকে দায়ী করা হচ্ছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, চীনে ভোক্তা পণ্যের খুচরা বিক্রির হার ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধে ক্রমশ হ্রাস পেয়েছে, বিশেষ করে নভেম্বরে এটি সর্বনিম্ন ১.৩ শতাংশে নেমে গেছে। এছাড়া, রিয়েল এসেট বা স্থাবর সম্পদে বিনিয়োগে সংকোচন দেখা দিয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে, ১৯৯৮ সাল থেকে উপলব্ধ তথ্য সংরক্ষণের পর এই প্রথমবারের মতো বার্ষিক বিনিয়োগ পতনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সবমিলিয়ে, অভ্যন্তরীণ ভোক্তা ও বিনিয়োগের এই স্থবিরতা অমীমাংসিত রেখেছে আমদানির লক্ষ্যও।

    মাসিক ভিত্তিতে দেখা যাচ্ছে, ২০২৫ সালে চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত অনেক মাসে ১০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যেখানে ২০২৪ সালে একবার এ ঘটনা ঘটেছিল। এই তথ্য প্রমাণ করে, চীনের শক্তিশালী রপ্তানি এবং কম আমদানির এই অসামঞ্জস্য সাধারণ নয়, বরং এক ধরনের স্থায়ী ধারা।

    অর্থনীতিবিদের ধারণা, এই বিশাল বাণিজ্য উদ্বৃত্তের পেছনে চীনের উৎপাদন খাতের শক্তিশালী অবস্থান কাজ করছে, যা দেশের অর্থনীতিকে টেকসই রাখতে এবং বিশ্ব অর্থনীতির ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করছে। একইসঙ্গে, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট ও সরবরাহ শৃঙ্খলের চেহারার পরিবর্তনের সময়ে, চীন সাশ্রয়ী মূল্যে উচ্চমানের পণ্য সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে। এর ফলে, বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং দেশের দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে চীন।

    তবে, এর অন্য একটি দিকও রয়েছে। এই উচ্চ বাণিজ্য উদ্বৃত্তের মূল কারণ হলো, চীনের অতি-নির্ভরশীলতা রপ্তানির ওপর। যদি এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকে, তবে দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির কাঠামো আরও ভারসাম্যহীন হয়ে উঠতে পারে। এর ফলে, বিশ্ব বাজারে চাহিদা শক্তিশালী থাকলেও, অভ্যন্তরীণ চাহিদা দুর্বল থাকতে পারে, যা স্বয়ং চীনের জন্য ঝুঁকির কারণ। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এর ফলে বাণিজ্য অংশীদাররা ক্ষুব্ধ হতে পারে এবং চীনা পণ্য পুনরায় বাধার মুখে পড়তে পারে।

    বর্তমানে, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুল্ক বিরতিতে থাকলেও, এই বাণিজ্য উদ্বৃত্ত অনেক সময় ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক ব্যবহারের সুযোগ করে দেয়। একইভাবে, অন্যান্য দেশের মধ্যেও সতর্কতা বাড়ছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, গত বছরের প্রথম ১১ মাসে চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত এক ট্রিলিয়নের বেশি থাকায় আইএমএফের প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা সতর্ক করে বলেছেন, ‘‘যদি চীন রপ্তানিমুখী প্রবৃদ্ধির ওপরই অটল থাকে, তবে তা বিশ্ব বাণিজ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেবে।’’’ এ প্রসঙ্গে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ বলেন, ‘‘বেইজিং যদি ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্য ভারসাম্য বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়, তবে ইউরোপ তার ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের পথ খুঁজে নেবে।’’

    চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং সম্প্রতি গুয়াংডং প্রদেশে বলেছেন, দেশের উচিত সক্রিয়ভাবে আমদানির পরিধি বাড়ানো এবং রপ্তানি-আমদানির মধ্যে আরো সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করা। পাশাপাশি, বাণিজ্য মন্ত্রী ওয়াং ওয়েনতাও-ও ঘোষণা করেছেন, চলতি বছরে বিভিন্ন পর্যায়ে বাণিজ্য সমন্বিত এবং লক্ষ্যভিত্তিক ক্রয় কার্যক্রমের মাধ্যমে, আমদানি বাড়ানোর জন্য কাজ করবেন।

    এই সমস্ত প্রতিশ্রুতি ও পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়ে গেছে, বেলাগামী বাণিজ্য উদ্বৃত্তের বিশাল পরিমাণ এখন আর অপব্যবহার বা অনিয়ন্ত্রিত বাড়তির পথে থাকবে না। ২০২৬ সালে এই ইঙ্গিত আরও জোরদার হয়েছে, যেখানে নতুন প্রযুক্তি যেমন বৈদ্যুতিক গাড়ি, লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি, এবং সোলার সেল নিয়ে দেশের বিরোধিতা ও দৃষ্টি রয়েছে। এমনকি, চীন জানিয়েছে, আগামী এপ্রিল থেকে তারা ফটোভোলটাইক পণ্যের রপ্তানি ভ্যাট রিবেট বাতিল করবে, ব্যাটারি পণ্যেও এর হারে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর পাশাপাশি, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে বৈদ্যুতিক গাড়ি শুল্ক সমঝোতাও হয়েছে, যা চীনা গাড়ি নির্মাতাদের ব্যবসার নতুন দিক দেখাচ্ছে।

    সবশেষে, এই বিশাল বাণিজ্য উদ্বৃত্তটি যেন স্বয়ং এক আশীর্বাদ বা অভিশাপ—তার নির্ভর করছে মূলতঃ এর ব্যবহার, দেশটির অভ্যন্তরীণ বাজারে তার অর্থপ্রবাহ, এবং আন্তর্জাতিক বাজারে এর প্রভাবের উপর। সুতরাং, কেবলমাত্র পরিসংখ্যান নয়, এই উদ্বৃত্তের সঠিক পরিচালনা ও ব্যালান্সই ভবিষ্যতের চীনের ও বিশ্ব অর্থনীতির জন্য সফলতা বা বিপদ নির্ধারণ করবে।

  • সোনার ভরি ২ লাখ ৫০ হাজারের বেশি

    সোনার ভরি ২ লাখ ৫০ হাজারের বেশি

    এক দিনের ব্যবধানে বাংলাদেশে আবারও সোনার দাম বৃদ্ধি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশের জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। নতুন দাম অনুযায়ী, প্রতি ভরি সোনার মানের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ৮,৩৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে, ফলে দেশের বাজারে সোনার সর্বোচ্চ দাম পৌঁছেছে দুই লাখ ৫২ হাজার ৪৬৭ টাকায়। এটি এই পর্যন্ত দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে উচ্চতম সোনার দাম।

    বুধবার (২১ জানুয়ারি) বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়। এই নতুন মূল্য আগামীকাল, ২২ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। সংগঠনটির মতে, বৈশ্বিক বাজারে স্বর্ণের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশে স্বর্ণের দামে বাড়তি চাপ এসেছে।

    বিশ্বজুড়ে স্বর্ণ ও রুপার দাম এরই মধ্যে বেড়ে গেছে বলে আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারের নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইট গোল্ডপ্রাইস ডট অরগ এর সূত্রে জানা গেছে। সেখানে জানানো হয়েছে, বর্তমানে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৮০০ ডলারের ও বেশি।

    নতুন দাম অনুযায়ী, বিভিন্ন মানের স্বর্ণের দাম নিম্নরূপ:
    – ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম এখন ২ লক্ষ ৫২ হাজার ৪৬৭ টাকা,
    – ২১ ক্যারেটের জন্য নির্ধারিত মূল্য ২ লাখ ৪০ হাজার ৯৭৮ টাকা,
    – ১৮ ক্যারেটের জন্য ২ লাখ ৬ হাজার ৫৬৯ টাকা,
    – এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের এক ভরি ১ লাখ ৬৯ হাজার ৬৫৩ টাকা।

    একই সময়ে, রুপার দামেও বৃদ্ধি দেখা গেছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম এখন ৬ হাজার ৮৮২ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৬ হাজার ৫৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ৫ হাজার ৫৯৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৪ হাজার ২০০ টাকা।

  • ভোটের মাঠে উত্তাপ ও হিংসাযুদ্ধ: প্রচারণায় বাড়ছে বিষোদগার ও সহিংসতা

    ভোটের মাঠে উত্তাপ ও হিংসাযুদ্ধ: প্রচারণায় বাড়ছে বিষোদগার ও সহিংসতা

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আনুষ্ঠানিক প্রচারণার দ্বিতীয় দিন থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থান রাজনৈতিক উত্তাপে প্রজ্বলিত হয়ে উঠেছে। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দেশের শীর্ষ স্থানীয় ও জাতীয় নেতারা নির্বাচনি জনসভার মাধ্যমে একে অন্যের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ছুঁড়েছেন। একই সঙ্গে, কেরানীগঞ্জে গোলাগুলি ও ঢাকায় এক প্রার্থীর ওপর হামলার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

    বিএনপি চেয়ারম্যান ও ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী তারেক রহমান বিকেলে রাজধানীর ভাসানটেকের বিআরবি স্কুল মাঠে এক বিশাল জনসভায় বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি বলেন, “দেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্বাচিত সরকার অতি গুরুত্বপূর্ণ। গত ১৫ বছর ধরেই ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে নানা পরিকল্পনার মাধ্যমে ভোটের যাবতীয় প্রক্রিয়া ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। এবার জনতার সরকার প্রতিষ্ঠার সময় এসেছে।” এই স্মরণসভায় তিনি ভোটারদের সাথে সরাসরি কথা বলে এলাকার গৃহহীন মানুষদের পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতিও দেন।

    উত্তরবঙ্গে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান ব্যস্ত সময় কাটান। তিনি পঞ্চগড় চিনিকল মাঠের জনসভা শেষে দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁওয়ে সমাবেশ করেন। দিনাজপুরে তিনি বিশেষ করে বিএনপি-কে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আমরা চাঁদাবাজি করি না, কারও কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে বিচারও হবে না। আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রভাবশালী হবে।” অন্যদিকে, খুলনায় দলের মহাসচিব অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার তারেক রহমানের বক্তব্যের বড় ধরনের সমালোচনা করেন।

    কেরানীগঞ্জে সহিংসতা ও মির্জা ফখরুলের প্রতিবাদ:
    গত রাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জের হযরতপুর ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ের পাশে দুর্বৃত্তরা গুলি চালিয়ে দলীয় সাধারণ সম্পাদক হাসান মোল্লাকে আহত করে। তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক বিবৃতিতে এই ঘটনা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এটা একটি পরিকল্পিত অপপ্রচার, যা নির্বাচনি পরিস্থিতিকে অশান্ত করার জন্য ষড়যন্ত্রের অংশ।

    নারায়ণগঞ্জে ইসলামী আন্দোলনের নির্বাচনী জনসভা:
    ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির বা চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেন, “চব্বিশের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পরে দেশ সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত করার সুবর্ণ সুযোগ এসেছে। আমরা প্রথমে ৫ দল ও পরে ৮ দলের সমন্বয়ে পরিচালিত ইসলামী নীতির মাধ্যমে দেশটিকে আলাউ করতে চেয়েছিলাম। তবে কিছু স্বার্থপর দল এককভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে ও ইসলামের নামে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। বিশ্বাসী, তারা শরিয়া অনুযায়ী দেশ চালাবে না, বরং ধর্মের লেবেল দিয়ে চতুরতা করছে।” শুক্রবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের জন্য হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুফতি ইসমাইল সিরাজীর নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি।

    নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হত্যাচেষ্টা:
    ঢাকার সিদ্ধেশ্বরী এলাকায় সন্ধ্যায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী গণসংযোগে গেলে, কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি তার ওপরে ডিম ও নোংরা পানি ছুঁড়ে। এই ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নাসীরুদ্দীন তার কর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান।

    চাঁদাবাজ ও ভূমিদস্যুদের প্রতিরোধের হুঁশিয়ারি:
    নগরীর বাড্ডার বাঁশতলা এলাকায় গঠন করা সমাবেশে, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী নাহিদ ইসলাম বলেন, “গণজোয়ারে ভয় পেয়ে কিছু বড় দল আতঙ্কে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। আমি ঘোষণা দিচ্ছি, নির্বাচনে চাঁদাবাজ ও ভূমিদস্যুদের কঠোরভাবে প্রতিহত করব।”

    বিএনপি ও জামায়াতের পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি:
    নির্বাচন কেন্দ্রিক প্রচারণার সময় দলের নেতাদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয়েছে। বিএনপি-প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন সূত্রাপুর_LOCে এক সভায় হুশিয়ারি দেন, “বিএনপি চাইলে ঢাকায় জামায়াত-শিবিরের জনসমাগম নিষিদ্ধ করবে।” তিনি তাদের দমন-নিপীড়নের ওপর সরাসরি সতর্কতা জারি করেন।

    অন্যদিকে, খুলনায় জামায়াতের মহাসচিব অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “লন্ডন থেকে এক ব্যক্তি মুফতি ডিগ্রি নিয়ে আসা একজনের নামে কুফরি ফতোয়া দিচ্ছেন, যা অত্যন্ত বাড়াবাড়ি। দীর্ঘদিন সঙ্গেই থাকায় ধৈর্য ধরে থেকেছি। এর উত্তরে তিনি বলেন, “বিএনপি চেয়ারপারসনের নাম উল্লেখ না করে, কুফরি ফতোয়া দিচ্ছেন—এটি অনেক বাড়াবাড়ির উদাহরণ।” কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, “ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে যারা বাসায় গেলে, তাদের আটকে রাখার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। এটি এক ধরনের হয়রানি।

  • বিএনপি নেতাকে গুলির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ মির্জা ফখরুলের

    বিএনপি নেতাকে গুলির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ মির্জা ফখরুলের

    ঢাকার কেরানীগঞ্জে বিএনপি নেতা হাসান মোল্লাকে গুলির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘এটি একটি গভীর ষড়যন্ত্র, যার উদ্দেশ্য জনগণের মনোভাবকে অস্থিতিশীল করে তুলে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আগামী জাতীয় নির্বাচনকে বানচাল করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।’ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর এক বিবৃতিতে তিনি এ ঘটনা সম্পর্কে এ মন্তব্য করেন।

    মির্জা ফখরুলের ভাষ্য, ‘ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর থেকে আওয়ামী স্বৈরশাসক গোষ্ঠীর পায়ে পা মুড়ে থাকা দুষ্কৃতকারীরা আবারও দেশকে অস্থির করে তুলছে। তারা নানাভাবে অরাজকতা ও নাশকতা চালিয়ে সরকারের অস্থিরতা বাড়িয়েছ으며, এই সব অপতৎপরতা বন্ধ করতে হবে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘হাসান মোল্লার উপর হামলাকারীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তি দিতে হবে, তাহলে ভবিষ্যতে এরকম ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধ সম্ভব হবে। অন্যথায়, অপ্রতিরোধ্য অরাজকতা আরও বাড়তে পারে, যা দেশের জন্য হতাশাজনক।’

    ফখরুল জোর দিয়ে বলেন, ‘তবে শুধু পুলিশের উপর নির্ভর করে চলা সম্ভব নয়; আমাদের সবাইকে একত্রিত হতে হবে, যেন গণতন্ত্রেরacal ভবিষ্যত রক্ষা এবং ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। দেশের সকল দল, মত ও পেশার মানুষ এক হয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হবে। গণতান্ত্রিক ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রশাসনকে অবশ্যই এক নিরাপদ, ভয়শূন্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।’

    অভিযোগের বিন্দুতে, বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে ঢাকার কেরানীগঞ্জের হযরতপুর ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয়ের সামনে তাকে সাধারণ সম্পাদক হাসান মোল্লার (৪২) উপর গুলি চালানো হয়। এ সময় তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।