Blog

  • বিজয় প্রথমবারের মতো তামিলনাড়ুর নির্বাচনে রেকর্ড গড়লেন

    বিজয় প্রথমবারের মতো তামিলনাড়ুর নির্বাচনে রেকর্ড গড়লেন

    নিজের প্রথম নির্বাচনে জয়সূচক ফলাফল এনে সবাইকে চমকে দিয়েছেন জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর, যিনি দক্ষিণ ভারতের চলচ্চিত্র জগতে জনপ্রিয় নাম হিসেবে পরিচিত ‘থালাপতি বিজয়’ নামে। তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনে শুধু জয়লাভই নয়, বরং তিনি ৪৯ বছরের ঐতিহাসিক একটি রেকর্ডও নিজের করে নিয়েছেন।

    প্রথমবারের মতো নির্বাচনে দাঁড়িয়ে বিজয় শুধু নিজের দলকে জিতিয়েছেন, পাশাপাশি ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় রচনা করেছেন। এর আগে ১৯৭৭ সালে তামিল সিনেমার এক নায়িকা এমজি রামাচন্দ্রান প্রথমবারের মতো নির্বাচন জেতেন এবং তাঁর নেতৃত্বে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হন। এরপর ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত তিনি এই পদে রয়েছেন। এমজি রামাচন্দ্রানটি তৎকালীন রাজনৈতিক দল এআইএডিএমকে-র প্রতিষ্ঠাতা।

    আরও পরে, সিনেমার পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়ললিতা তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হন, তবে তিনি নিজে কোনও রাজনৈতিক দল গঠন করেননি। তিনি এমজিআর-এর প্রতিষ্ঠিত দল এআইএডিএমকে-তে যোগ দিয়ে নেতৃত্বে এসেছিলেন, যা থেকে তিনি ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে শীর্ষ নেত্রী হয়ে উঠেছিলেন। তার এই পদে থাকাকালীন, তিনি নিজের অপ্রতিদ্বন্দ্বী ইমেজ গড়ে তুলেছিলেন।

    অভিনেতারাই খুব কম সময়ের জন্য বা কম সংখ্যক ক্ষেত্রে রাজনীতিতে সফলতা পেয়েছেন। জয়ললিতা, একজন ব্যস্ত চলচ্চিত্র তারকা হয়েও, নিজে কোনও নতুন দল গঠন না করে, বরং এমজিআর-এর দলকে উত্তরাধিকার হিসেবে পেয়ে, একত্রিত করে এবং নিজের আধিপত্য বিস্তার করে প্রধানমন্ত্রীর পদে পৌঁছেছিলেন। এরপর থেকে আর কোনও অভিনেত্রী অথবা অভিনেতা রাজনীতিতে এতটা দীর্ঘস্থায়ীভাবে আসতে পারেননি।

    তবে এবারের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে বিজয় আবারও প্রমাণ করেছেন যে, সেই ১৯৭৭ সালের চিত্রটাই এখন নতুন করে ফিরে এসেছে। বিজয় ও তার দল তামিলাগা ভেট্টরি কোঝাগাম (টিভিকে) এই নির্বাচনে বিশিষ্ট ফলাফল অর্জন করেছে। মোট ২৩৪ আসনের মধ্যে, কোনো দল বা জোট সরকার গঠনের জন্য কম করে ১১৮ আসনে জয়ী হতে হয়। বিজয় নিজে এই নির্বাচনে জয় পেয়েছেন, তার দল টিভিকে এগিয়ে গিয়ে ১০৮ আসনে জয়লাভ করেছে। ২০২৪ সালে সরকার গঠনের জন্য এই ফলাফল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    বিধানসভা নিয়ম অনুযায়ী, এই মুহূর্তে এককভাবে সরকার গঠন সম্ভব নয়। জোট বাঁধতে হবে অন্য দল বা জোটের সঙ্গে। তবে জোটের আনুষ্ঠানিকতা সত্ত্বেও, টিভিকে থাকবে চলকের আসনে, এবং বিজয় নিশ্চিতভাবে মনে করা হচ্ছে আগামী তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী। এর মাধ্যমে, তিনি এমজি রামাচন্দ্রানের দীর্ঘস্থায়ী রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন।

    বিজয়ের এই সাফল্য অনেকটাই এমজি রামাচন্দ্রনের কৌশলে ভিত্তি করে। রামাচন্দ্রান প্রথমে তাঁর বিশাল ভক্তশ্রেণিকে ভোটার ও কর্মী হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন। এই ভক্তরাই মূলত তার রাজনৈতিক চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করতেন।

    বিজয়ও একই রকম পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। ২০০৯ সাল থেকে নিজের ভক্তদের সংগঠিত করতে শুরু করেন তিনি। বিজয় মাক্কাল ইয়াক্কাম নামে এক ঐক্য গঠন করেন, যা রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ছিল। ২০১১ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত, এই সংগঠনটি এআইএডিএমকে-কে সমর্থন দিয়েছিল।

    তবে ২০২১ সালে, এই সমর্থন থেকে সরে এসে নিজেকে স্বাধীনভাবে সংগঠিত করেন বিজয়। ২০২৪ সালে নিজের দল তামিলাগা ভেট্টরি কোজাগাম আত্মপ্রকাশ করে, এবং দলের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়ে দেশের রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করছেন। এর ফলে, তিনি তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণের জন্য প্রস্তুত।

  • শান্তের চতুর্থ সেঞ্চুরি, বাংলাদেশ সিরিজে দারুণ উত্থান

    শান্তের চতুর্থ সেঞ্চুরি, বাংলাদেশ সিরিজে দারুণ উত্থান

    মুহাম্মদ আব্বাসের বল কাভার ড্রাইভ অঞ্চল দিয়ে সীমানাছাড়া করতেই ব্যাট ও হেলমেট হাতে শূন্যে লাফিয়ে সজোরে চিৎকার উঠল। এটি ছিল নাজমুল হোসেন শান্ত’র নিজের ট্রেডমার্ক উদযাপন, যখন তিনি যাচাই করলেন তার চতুর্থ সেঞ্চুরি। এর আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে তার টেস্টে কোনো ফিফটি ছিল না, কিন্তু আজ (শুক্রবার) প্রথমে হাফসেঞ্চুরির ধাক্কা কাটিয়ে, এরপর ইনিংসকে ম্যাজিক ফিগারে রূপ দিতে তিনি কোন ধরনের অবসর গ্রহণ করেননি। বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক মাত্র ১২৯ বলে তুলে নিলেন তার নবম সেঞ্চুরি, যা তার ক্যারিয়ারে এক গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। সর্বশেষ ৮ ইনিংসে শতকের সংখ্যার মধ্যে এইটি হলো চতুর্থ, অর্থাৎ তিনি শেষ পাঁচ টেস্টে চারবারই ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেছেন। পেস-স্পিনের মোকাবিলায় শান্ত’র শট বাছাই ও প্রতিটি কদম ছিল নিষ্ঠুর নিখুঁত। এরকম এক ইনিংস যদি তিনি সেঞ্চুরিতে রূপ দিতে না পারতেন, তা হয়তো অপূর্ণ থেকে যেত। তবে, সেঞ্চুরি করার সাথে সাথেই তিনি দ্রুত ক্রিজ ত্যাগ করেন, পরের বলেই লেগ বিফোরের শিকার হয়ে ক্রিজ ছেড়ে যান। বাংলাদেশ ২০১ রানে তৃতীয় উইকেট হারানোর সময় এই ঘটনা ঘটে।

    গত কয়েক বছর ধরে সাদা পোশাকে শান্তের ফর্ম উড়ন্ত। হাফসেঞ্চুরিকে তিন অংকে রূপ দিতে তিনি বোদ্ধা ক্রিকেটপ্রেমীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। টেস্টে তার মোট সেঞ্চুরি সংখ্যা এখন ৯, যেখানে হাফসেঞ্চুরির সংখ্যা ৫। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে বাংলাদেশ ৩১ রানে ২ উইকেট হারিয়ে শুরু করলেও, এরপর শান্ত ও মুমিনুলের দুর্দান্ত জুটি ১৭০ রান গড়ে তুলে। এটি পাকিস্তানের বিপক্ষে তৃতীয় উইকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ জুটির রেকর্ড। এর আগে ২০০৩ সালে পেশোয়ারে মোহাম্মদ আশরাফুল ও জাভেদ ওমর গড়েছিলেন ১৩০ রানের জুটি। সর্বমোট, বাংলাদেশের সেরা তৃতীয় উইকেট জুটি ২৪২ রানের, যা এবার আবার শান্ত ও মুমিনুলের দখলে। তারা ২৫৩ বল খেলে এই রান করেন। শান্ত ১৩০ বলে ১০১ রান করেন, যেখানে তার ব্যাটে ছিল ১২টি চার ও ২টি ষাঁড়া। ক্রিজে অপরাজিত থাকায় মুমিনুলও হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেছেন। শেষ চার ইনিংসে তার সর্বনিম্ন ৫০+, এর আগে ৮২, ৬৩ ও ৮৭ রান করেছেন। এই ইনিংসেও বাংলাদেশের মনোযোগ আকর্ষণ করবে তার ব্যাটের ম্যাজিক ফিগার দেখতে চাইবে সবাই।

  • শান্তের সেঞ্চুরিতে দুই ‘ব্র্যাডম্যান’ পেছনে ছুটে থাকলেন

    শান্তের সেঞ্চুরিতে দুই ‘ব্র্যাডম্যান’ পেছনে ছুটে থাকলেন

    ফিফটিকে কিভাবে সেঞ্চুরিতে রূপান্তর করা যায়, সেটা খুব ভালো করেই জানেন নাজমুল হোসেন শান্ত। বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের বেশিরভাগই যখন নার্ভাস নাইনটিতে কাঁপতে থাকেন, তখন শান্ত ব্যতিক্রম। টেস্ট ক্রিকেটে তাঁর ফিফটির চেয়ে সেঞ্চুরির সংখ্যা অনেক বেশি। এই রেকর্ডে তিনি কিংবদন্তি স্পিনার স্যার ডন ব্র্যাডম্যান ও অজি তারকা জর্জ হেডলিগের সঙ্গে তাল মিলিয়েছেন।

    মিরপুরে আজ পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম দিনেই শান্ত একটি দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করেছিলেন। এটি তাঁর নবম টেস্ট সেঞ্চুরি। বিপরীতে, ফিফটির সংখ্যা ছিল পাঁচ। বাংলাদেশের এই বাঁহাতি ব্যাটারের ফিফটিকে সংক্ষিপ্ত করে সেঞ্চুরিতে রূপান্তর করার হার ৬৪.২৯ শতাংশ, যা ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন স্যার ডন ব্র্যাডম্যান, যিনি ২৯টি সেঞ্চুরি ও ১৩টি ফিফটি করে এই হার শুন্য দশমিক ৬৯৫।

    শান্তের সঙ্গে তুলনায়, জর্জ হেডলি (ব্ল্যাক ব্র্যাডম্যান) ৬৬.৬৭ শতাংশের হার নিয়ে তালিকার অন্য অভিজাতরা। এই কিংবদন্তি ক্রিকেটার ফিফটি থেকে সেঞ্চুরি রূপান্তর করেন বেশি, এই হার ৬৯.০৫। অন্যদিকে, ভারতের শুবমান গিল ও শিখর ধাওয়ান, যাঁরা দুজনেই ‘ব্র্যাডম্যান’ তকমার অধিকারী, তাঁদের হার যথাক্রমে ৫৮.৩৩ ও ৫৫.২৬ শতাংশ।

    মিরপুরে আজ টস জিতে পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদ ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন। শান্ত যখন ব্যাটিংয়ে নেমেছেন, তখন বাংলাদেশের স্কোর ১০.১ ওভারে ২ উইকেটে ৩১ রান। মুমিনুল হকের সঙ্গে ধীরেসুস্থে ব্যাট করছিলেন তিনি, ভালো বলের সমীহ করে সেটিকে চারে রূপান্তর করেন। ১২৯ বলে তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৫৩তম ওভারে মোহাম্মদ আব্বাসের প্রথম বলে চারটি মারার মাধ্যমে তিন অঙ্ক স্পর্শ। এরপর হেলমেট খুলে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন। তাঁদের এই যাত্রায় দেখা যায় শান্তের স্বভাবসুলভ চুমুর উল্লাস।

    সেঞ্চুরি করার ঠিক পরই, ১৩০ রান করে শান্ত আউট হন। ৫৩তম ওভারের দ্বিতীয় বলে তাঁকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ান আব্বাস। তাঁর অবদান ছিল ১৩০ বলে ১২ চার ও ২ ছক্কায় ১০১ রান। এই জোড়া সেঞ্চুরির কীর্তি তার দুইটি টেস্টে, যার মধ্যে ২০২৩ সালে মিরপুরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১৪৬ ও ১২৪ রান করে ছিলেন। এরপর, দুই বছর পরে, গলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ১৪৮ ও দ্বিতীয় ইনিংসে অপরাজিত ১২৫ রান করেন। আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এই দুটি টেস্টে তিনি ম্যাচসেরা হয়েছিলেন।

  • শান্তর সেঞ্চুরি, মুমিনুলের আক্ষেপ ও বাংলাদেশের রঙিন দিন

    শান্তর সেঞ্চুরি, মুমিনুলের আক্ষেপ ও বাংলাদেশের রঙিন দিন

    প্রথম ইনিংসে যদি আমরা চার শর বেশি রান করতে পারি, সেটি দলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ হবে। বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত এই পরিকল্পনা এবং প্রত্যাশার কথা প্রথম দিন শেষে ব্যক্ত করেছিলেন, যা এখন বাস্তবে পরিণত হতে দেখা যাচ্ছে। মিরপুরের শের-ই বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম দিন শেষে স্বাগতিকরা ৩০১ রানে চার উইকেট হারিয়েছে। দ্বিতীয় দিনের শুরুতেই দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা আশা করছেন আরও কিছু রান যোগ হবে, বিশেষ করে ব্যাটসম্যানদের দৃঢ়তা এবং ধৈর্য্য দেখাতে হবে। এই রান ইনিংসের মূল ব্যক্তিত্ব হিসেবে থাকছেন বাঁহাতি ব্যাটার শান্ত, যিনি দুর্দান্তভাবে ব্যাটিং করে এক করে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছেন। অন্যদিকে, ব্যর্থতার স্মৃতি ও আক্ষেপের ছায়ায় আছেন মুমিনুল হক, যিনি খুব কাছ থেকে সেঞ্চুরির দেখা পেলেও শেষ মুহূর্তে ৯১ রানেই ফিরতে হয় তাকে। আজকের দিনের শেষ আলোতেও বাংলাদেশের জন্য সুসংবাদ রইল, কারণ তারা চার উইকেটের বিনিময়ে ৩০১ রান সংগ্রহ করে দিনের খেলা শেষ করেছেন। তারা এখনও আশা করছেন, আগামী দিন আরও ভালো কিছু করতে পারবেন। ম্যাচের শুরুতেই স্বাগতিক দল কিছুটা অপ্রত্যাশিতই শুরু করেছিল, ইনিংসের প্রথম ভাগে ওপেনাররা যথেষ্ট সুবিধা কাজে লাগাতে পারেননি। মাহমুদুল হাসান জয় প্রথমেই জীবন পেয়েছিলেন, কিন্তু সেটি কাজে লাগাতে পারেননি, আউট হন ১৯ বলে ৮ রান করে। অন্যদিকে, সাদমান ইসলামও খুব বেশিক্ষণ থাকেননি। ৩০ রানে ডানহাতি পেসার হাসান আলীর বোলিংয়ে আউট হয়ে যান। এরপর, তিন নম্বর ব্যাটার মুমিনুল এবং চতুর্থ ব্যাটার শান্ত দ্রুতই দলের ধাক্কা সামলেছেন। দিন শুরু থেকেই তারা খেলছিলেন ধৈর্য্য সহকারে, উইকেটের জটিলতাকে মোকাবেলা করে। প্রথম সেশনে ১০১ রান তুলতে সক্ষম হন তারা। লাঞ্চের পর শান্ত হাফ সেঞ্চুরির কাছাকাছি পৌঁছে যান, ৭১ বলে ৫১ রান করে। এর পর আরও দ্রুত রান করে যান শান্ত, যার মধ্যে ছিল সুন্দর কভার ড্রাইভ ও বাউন্ডারি। ১২৯ বলে শান্ত সেঞ্চুরি সম্পন্ন করে, যা তার তৃতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি। তিনি এখন পর্যন্ত পাঁচটি হাফ সেঞ্চুরি করেছে, এবং এই সেঞ্চুরির মাধ্যমে তার মোট টেস্ট সেঞ্চুরির সংখ্যা দাঁড়ালো নয়। তবে, দুর্ভাগ্যজনকভাবে, শান্তের প্রথম দিনের ইনিংসটি ১০১ রানে শেষ হয়ে গেছে, কারণ আব্বাসের ডেলিভারিতে তিনি লেগ বিফ বলে আউট হন – যদিও আম্পায়ার আউট দেননি, তবে রিভিউয়ে বাংলাদেশ অধিনায়ককে আউট বলে ঘোষণা করতে হয়। মুমিনুলের সঙ্গে তার ১৭০ রানের জুটি ভেঙে যায়। এরপর, মুমিনুলের আউটের জন্য সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়, কারণ হালকা লেগ সাইডে বল গিয়ে পড়ে। ৯১ রানে থাকা মুমিনুলের শেষ রক্ষা হয়নি। তার শেষ পর্যন্ত ২০০ বলের মধ্যে ৯১ রান করেন। মুশফিক অপরাজিত থাকছেন ৪৮ রানে, আর লিটন দাস আছেন ৮ রানে। বাংলাদেশের দ্বিতীয় দিন শুরু হবে এই জুটি নিয়ে, তারা আরও কিছু রান যোগ করতে আগ্রহী। সব মিলিয়ে, বাংলাদেশের জন্য এটি একটি রঙিন দিন, যেখানে ধৈর্য্য, পরিকল্পনা ও সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে তারা প্রতিপক্ষের মুখে হার বসাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

  • ‘দাই দাই’ থিম সংয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপ মাতাবেন শাকিরা

    ‘দাই দাই’ থিম সংয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপ মাতাবেন শাকিরা

    ফুটবল বিশ্বকাপের দরজা ধীরে ধীরে পুরোপুরি খুলে যাচ্ছে। আর মাত্র এক মাসের কিছু বেশি সময় বাকি থাকতেই ভক্ত-সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা জোরদার হয়ে উঠছে। বিশেষ করে, তারা অত্যন্ত আগ্রহে অপেক্ষা করছে, কোন গানের সাথে নাচবেন গ্যালারির দর্শকরা, সেই প্রশ্নের উত্তরে। এরই অংশ হিসেবে এই বারকেরা দীর্ঘ দিন পর ফিরে আসছেন বিশ্বমঞ্চে। এবারের বিশ্বকাপের জন্য নির্বাচিত হয়েছে বিশিষ্ট কলম্বিয়ান পপ তারকা শাকিরা। তিনি ‘দাই দাই’ নামে নতুন থিম সং দিয়ে বিশ্বের মন জয় করার জন্য প্রস্তুত। অবশেষে, ১৬ বছর পর তিনি আবারও বিশ্বকাপের গণমাধ্যম ও গানে অংশ নিচ্ছেন।

  • বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ৪১৩ রানে অলআউট পাকিস্তান, মুশফিকের জন্মদিনে সেঞ্চুরি হাতছাড়া

    বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ৪১৩ রানে অলআউট পাকিস্তান, মুশফিকের জন্মদিনে সেঞ্চুরি হাতছাড়া

    মুশফিকুর রহিমের জন্য আজকের দিনটি ছিল বিশেষ একটি দিন। ১৯৮৭ সালের এই দিনে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। জন্মদিনের এই মুহূর্তে তার সামনে ছিল পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মহাকাব্যিক এক সেঞ্চুরির সুযোগ। তবে দিন শেষে সেটি আর হয় না, কারণ দ্বিতীয় দিনের লাঞ্চ বিরতিতে যাওয়ার আগে তিনি ছিলেন ২৯ রান দূরে।

    নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই দূরত্ব কমানোর জন্য অনুশীলন করতে পারেননি মুশফিক। লাঞ্চের পর ফিরে প্রথম ওভারে শাহিন শাহ আফ্রিদির ফুল লেংথের ডেলিভারিতে তার অফ স্টাম্প উড়িয়ে খুঁজে যায় গেট। ১৭৯ বল খেলে ৭১ রান সংগ্রহ করেন তিনি, যেখানে চারটি বাউন্ডারির সাহায্যে ব্যাটিং করেছেন।

    অপর প্রান্তের টেলএন্ডাররা যোগ করে ৩৩ রান, যার ফলে বাংলাদেশের পুরো ইনিংস শেষ হয় ৪১৩ রানে অলআউট হয়ে। আবাদত হোসেন মোহাম্মদ আব্বাসের পঞ্চম শিকার হন, এরপর তাসকিন আহমেদ ঝড়ো প্রতিষ্ঠিত ইনিংস খেলেন। তিনি ১৮ বলে ২৮ রান করে এক ঝড়ো ব্যাটিং উপভোগ করেন এবং আউট হন শেষ ব্যাটার হিসেবে।

    মিরপুরে এই দিনের শুরুতে, মুশফিকুর রহিম লিটন দাসের সাথে খেলছিলেন। আগের দিন মুশি ৪৮ ও লিটন ৮ রানে অপরাজিত ছিলেন। দিন সময়ের প্রথম চতুর্থ ওভারে মুশফিক হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেন এবং উদ্‌যাপন করেন ব্যাট উঁচিয়ে। মোহাম্মদ আব্বাসের ওভারে লিটন ব্যক্তিগত ৩৩ রানে আউট হন। এরপর মেহেদী মিরাজ খুব বেশি সময় স্থায়ী হতে পারেননি, ১২ বলে ১০ রান করে মাঠ ছাড়েন। তাইজুল ২৩ বলে ১৭ রানে দ্রুত ইনিংস খেলেন।

    বাংলাদেশের ইনিংসের অন্যতম ভিত্তি ছিল আগের দিনের ১৭০ রানের জুটিতে— নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল হকের মধ্যে। প্রথমে ৩১ রানে দুই উইকেট হারানো দলটির বিপক্ষে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন তারা। তারা বিরতির ঠিক আগে শান্ত ৭৪ ইনিংসের টেস্ট ক্যারিয়ারে তার নবম সেঞ্চুরি পূরণ করেন। তবে এরপর শান্ত আর টিকতে পারেননি, আব্বাসের গুডলেংথের ডেলিভারিতে এলবিডব্লিউ হয়ে মাঠ ত্যাগ করেন। শান্ত আক্রমণাত্মক হলেও মুমিনুল ধীরেসময়ে ব্যাটিং চালিয়ে যান।

    টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে শান্ত ১০২ বলে হাফসেঞ্চুরি করেন, যেখানে তিনি ১২টি চার হাঁকান। সেঞ্চুরিটাও পেয়ে যেতে পারতেন, কিন্তু ২০০তম বল মোকাবিলার সময় নোমান আলীর এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে বাইরে যান। মুমিনুল হয়ে আসেন ৯১ রানের ইনিংসসহ ১২টি চার। এই প্রত্যয়ী ব্যাটসম্যানরা পাকিস্তানের ওপর চাপ তৈরি করেন, যাতে তাদের প্রতিরোধ আরো জোরদার হয়।

  • দক্ষিণ এশিয়ায় রেকর্ড তাপপ্রবাহের কারণ ও বিপদসংখ্যা

    দক্ষিণ এশিয়ায় রেকর্ড তাপপ্রবাহের কারণ ও বিপদসংখ্যা

    দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে রেকর্ডBreakingExtremeHeat হয়েছে, যা জীবনযাত্রায় ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। এই প্রাণঘাতী তাপপ্রবাহ সাধারণের জন্য বিপজ্জনক পর্যায়ে চলে গেছে, ফলে কয়েক কোটি মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি, বিশ্বের বৃহত্তম এ অঞ্চলের মানুষের জীবনধারা রক্ষায় নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং ভারতের মতো দেশগুলোতে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের অনেক বেশি রেকর্ড করা হয়েছে। কিছু এলাকাতে তাপমাত্রা ৪৫ থেকে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি বা এর চেয়েও বেশি পৌঁছেছে। গত মঙ্গলবার পাকিস্তানে তাপপ্রবাহজনিত কারণে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়। ভারতের বিভিন্ন অংশেও দাবদাহের কারণে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। দক্ষিণ এশিয়ায় বর্ষার আগে এমন তীব্র গরম সাধারণ পরিস্থিতি হলেও, বিজ্ঞানীরা বলছেন, সম্প্রতিক এই দাবদাহের তীব্রতা, দীর্ঘস্থায়িত্ব ও বিস্তৃতি ইতিহাসে নজিরবিহীন। বিশেষজ্ঞরা এই চরম আবহাওয়ার পেছনে মানুষের সৃষ্টি জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করছেন। তাঁদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রাকৃতিক আবহাওয়ার ধরন বদলে যাচ্ছে, আর এর ফলে তাপপ্রবাহ আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে। ভৌগোলিকভাবে কোন দেশগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তার মধ্যে বাংলাদেশের নানা শহর উল্লেখযোগ্য। এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি থেকে শেষ পর্যন্ত ঢাকাসহ অন্যান্য শহরেও তীব্র গরম অনুভূত হয়, যেখানে তাপমাত্রা ৩৭ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রেকর্ড করা হয়। গত বছর এপ্রিলে সারাদেশে দাবদাহের দীর্ঘস্থায়ীতা ছিল ২৪ দিন, যা চলতি শতকে সবচেয়ে দীর্ঘ। এর আগে ২০১৯ সালে এ ধরনের দাবদাহ ছিল ২৩ দিন। বর্তমানে কিছু এলাকাতে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছাড়িয়ে গেছে। ভারতেও আসছে তীব্র দাবদাহের সতর্কতা, দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা দেখা যাচ্ছে। ভারতের আবহাওয়া দপ্তর (আইএমডি) বলছে, পশ্চিমাঞ্চল ও উপকূলীয় অঞ্চলে এই মাসে চার থেকে পাঁচ দিন বেশি দাবদাহ হতে পারে, যেখানে তাপমাত্রা ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে। পাকিস্তানেও সামনের দিনগুলোতে দাবদাহের পরিস্থিতি থাকছে। সিন্ধু প্রদেশের বাসিন্দাদের সূর্য থেকে রক্ষায় সতর্কতার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কেন এত আগাম দাবদাহ হচ্ছে, এ বিষয়ে বিশ্লেষণে গবেষকরা বলছেন, উচ্চচাপ বলয় ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখেত্রে মূল কারণ। ভারতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মতে, উচ্চচাপের সৃষ্টি হয়ে গরম বাতাস মাটির কাছাকাছি আটকে যায় এবং ওপরে উঠতে পারে না, যার ফলে গরম বাড়ে। নাসার তথ্য অনুযায়ী, পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগর ও দক্ষিণ আমেরিকার পশ্চিম উপকূলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে এল নিনো সৃষ্টি হতে পারে, যা বিশ্ব বায়ুমণ্ডলে প্রভাব ফেলে। জাতিসংঘের জলবায়ু সংস্থা বলছে, মে থেকে জুলাইয়ের মধ্যে এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এই তাপপ্রবাহের প্রভাব মানুষ ও প্রকৃতির ওপর কেমন পড়ছে, বিজ্ঞানীরা বলেছেন, প্রচণ্ড গরমের কারণে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা দেখা দেয়, হার্টের ওপর চাপ বাড়ে, কিডনির ক্ষতি হতে পারে। ঘুমের ব্যাঘাত ছাড়াও ডায়াবেটিস, শ্বাসকষ্ট ও মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা আরও প্রকট হতে পারে। বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষরা বেশি ঝুঁকির মুখে থাকেন, কারণ তাদের বাইরে কাজ করতে হয়। ভবিষ্যতের বিষয়ে গবেষকরা সতর্ক করে বলছেন, আগামী দশকের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে তাপপ্রবাহের সংখ্যা ও তীব্রতা দ্বিগুণেরও বেশি হবে। তবে সমস্যা মোকাবেলায় সঠিক প্রস্তুতি ও কার্যকর পদক্ষেপ নিলে ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব। উপযুক্ত পরিকল্পনা, সতর্কতা ও অভিযোজনের মাধ্যমে উষ্ণতাজনিত বিপর্যয় এড়ানো যেতে পারে।

  • বিশ্ববাজারে খাদ্যের দাম তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ

    বিশ্ববাজারে খাদ্যের দাম তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ

    চলমান ইরান যুদ্ধ এবং সমুদ্রমুখী পণ্য পরিবহনে বাধা থাকার কারণে বিশ্বজুড়ে খাদ্যপণ্যের দাম দ্রুত বেড়ে গেছে, যা গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরের দিকে ছুটছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) জানিয়েছেন, এপ্রিলে খাদ্যদ্রব্যের দাম বেড়েছে প্রধানত ভোজ্যতেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির জন্য। ইরান যুদ্ধের ফলে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বেশকিছু দেশ বিকল্প জ্বালানি বা বায়োফুয়েল তৈরির দিকে ঝুঁকছে, যা সাধারণ মানুষের রান্নার তেলের অভাবে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। এফএও’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, এপ্রিলে বিশ্ব খাদ্য সূচক গত মাসের তুলনায় ১.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ২০২৩ সালের শুরু থেকে সর্বোচ্চ। বিশেষ করে সয়াবিন, সূর্যমুখী এবং পাম তেলের দাম এক মাসের মধ্যে প্রায় ৬ শতাংশ বেড়েছে। যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় এই সংকট আরও গভীর হয়েছে। এ ছাড়াও, সার ও চাষাবাদের খরচ বেড়ে যাওয়ায় গবাদিপশুর মাংসের দামও রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। তবে সুখের খবর হলো, চাল, গম ও ভুট্টার মতো দানাদার শস্যের দাম বেশিক্ষণ বৃদ্ধি পায়নি। গত মৌসুমে ভাল ফলনের কারণে এসব শস্যের প্রচুর মজুত উদ্বেগ কমিয়েছে। অন্যদিকে, ব্রাজিল ও থাইল্যান্ডে যথেষ্ট ফলন হওয়ায় চিনির দাম গত মাসে কিছুটা কমেছে। জাতিসংঘের আশা, ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে শস্যের উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে, যা ভবিষ্যতে বাজারের অস্থিরতা কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে যদি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে অনেক মূল্যবান খাদ্যপণ্য সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে। সূত্র: রয়টার্স।

  • পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী

    পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী

    পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে-history-making घटना ঘটেছে যখন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) প্রথমবারের মতো সরকার গঠন করল। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে শপথ নিয়েছেন দলের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী—শুভেন্দু অধিকারী। এর মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে ৫৯ বছর পর আবার ফিরে এসেছে সেই স্মরণীয় দিন, ১৯৬৭ সালের সেই গুরুত্বপূর্ণ সেন্টিমেন্টের স্মৃতিচারণ। অজয় কুমার মুখোপাধ্যায়ের পরে দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে, মেদিনীপুরের নিজ গড়ে দাঁড়িয়ে, শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের শাসনভার গ্রহণ করেন।

    শনিবার (৯ মে) কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন শুভেন্দু অধিকারী। এই ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে এক বিরল ঘটনা, যা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আলোচনা সমালোচনার কেন্দ্রে অ্যায়েছে।

    অতিথি ও নেতাদের উপস্থিতিতে এই শপথ অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে রবীন্দ্র জয়ন্তীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়, দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয়। এই অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহসহ বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও বিশ্বনেতাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ে।

    শুভেন্দু অধিকারীর শপথগ্রহণে তার দল সহপাঠীরা, জনপ্রতিনিধি এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে রয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর মুখোমুখি অন্য নেতারা, এবং পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলার নির্বাচিত নেতারা।

    উল্লেখ্য, শুভেন্দু বিজেপির প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হলেও তিনি কলকাতার ভবানীপুর আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন, যা এক সময়ের মমতা ব্যানার্জীর শক্তিশালী কেন্দ্র। তিনি তার রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন কংগ্রেসে, পরে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন, আর সেই দল থেকে ভিন্ন হয়ে ২০২০ সালে বিজেপিতে যোগদান করেন। দুটি বিধানসভা নির্বাচনে মমতা ব্যানার্জীকে পরপর দুবার পরাজিত করে শুভেন্দু মুখ্যমন্ত্রীর পদপ্রার্থীর মর্যাদা লাভ করেন, যা অনেক মহল থেকে তাকে ‘জায়ান্ট কিলার’ বলে উল্লেখ করা হয়।

    বুধবারের ফলাফলে, বিজেপি জয়লাভ করে ২০৭টি আসনে, যার ফলে ১৫ বছর ধরে শাসন করে আসা তৃণমূলের ক্ষমতা হঠাত্‍ শেষ হয় এবং রাজ্যে প্রথমবারের মতো বিজেপির নেতৃত্বাধীন সরকার গঠিত হয়।অজয় মুখোপাধ্যায়ের মতো, শুভেন্দুও তার নিজ প্রান্তের প্রভাবশালী পরিবার থেকে উঠে এসেছেন। মূলত তার পিতা শিশির অধিকারীও একজন প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। নিজের রাজনীতির শুরু কংগ্রেসের মাধ্যমে হলেও, দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ নেতায় পরিণত হন।

    ২০০৬ সালে তিনি কাঁথি দক্ষিণ থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হন। এরপর থেকেই তার রাজনৈতিক উত্থান ঘটে। ২০০৯ সালে লোকসভায় সংসদ সদস্য হন, এবং বিভিন্ন দফতর সামলান। ২০২০ সালে দলভিত্তিক মতপার্থক্য ও অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনের কারণে তিনি তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যান। এরপর জেলায় জেলায় নিজের জনপ্রিয়তা বাড়াতে থাকেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তার পথচলা ও কৌশল অনেকটা অজয় মুখোপাধ্যায়ের মতো—যিনি জনরোষের অপব্যবহার করেন।

    অত্যন্ত সংঘর্ষময় এই রাজনৈতিক জীবনেও, শুভেন্দু নিজেকে একজন পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছেন। নির্বাচন পরবর্তী ফলাফলগুলোর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়, বিজেপি আসন্ন সময়ের জন্য শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি করেছে। তাঁর মতে, ‘আমি নয়, আমরা’— এই কথাটাই এখন তাদের মূল মন্ত্র। তিনি বিশ্বাস করেন, সততা ও কাজের মাধ্যমে রাজ্যে ভরসার পরিবেশ সৃষ্টি করা সম্ভব।

    শুভেন্দু অধিকারী বর্তমানে বিজেপির একজন কেন্দ্রীয় নেতা এবং পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা। তিনি ২০১৬ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত পরিবহন ও জলসম্পদ দফতরের মন্ত্রী এবং ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তমলুক থেকে সাংসদ ছিলেন। এর আগে, তিনি কংগ্রেস ও তৃণমূলের পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার জন্ম ১৯৭০ সালের ডিসেম্বর মেদিনীপুরের কাঁকুলিতে। তিনি স্পষ্টভাবে রাজনীতিবিদ, যেহেতু তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে এই খাতে রয়েছে। তাঁর ভাই সৌমেন্দু অধিকারী কাঁথি পোরসভা চেয়ারম্যান। এ ছাড়াও, তার বড় ভাই দিব্যেন্দু অধিকারী তমলুকের সাংসদ।

    শুভেন্দুর একাডেমিক যোগ্যতা উচ্চমাধ্যমিক এবং তিনি নেতাজি সুভাষ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এ. ডিগ্রি লাভ করেছেন। তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার মূলত পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে বহু অজানা ও গোপন রোমাঞ্চ রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির জগতে সক্রিয়, বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলা করে দলের শক্তিকে বাড়িয়ে তুলেছেন। এই উত্থান ও স্থানীয় পরিবারের পলিটিক্যাল ইতিহাসে তিনি এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছেন।

  • রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে তিন দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প

    রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে তিন দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প

    গত চার বছর ধরে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলা ভয়াবহ যুদ্ধ বন্ধে অঙ্গীকার জানিয়ে রুজির পক্ষে তিন দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ ৯ মে থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধবিরতি ১১ মে পর্যন্ত চলমান থাকবে।

    শুক্রবার (৮ মে) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে ট্রাম্প বলছেন, এই তিন দিন রাশিয়া ও ইউক্রেন একে অন্যের বিরুদ্ধে সব ধরনের হামলা ও প্রতিশোধমূলক আক্রমণ বন্ধ রাখবে। এছাড়া, দুই দেশের প্রত্যেকের কাছ থেকে ১ হাজার করে মোট ২ হাজার যুদ্ধবন্দিকে মুক্তি দেওয়া হবে। ট্রাম্পের এই ঘোষণা বিশেষ করে জয় দিবসের প্রাক্কালে – যা রাশিয়া ৮ মে পালনের নিয়ম, কারণ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মৃত্যুতোদের সম্মানে এটি উদযাপন করে দেশটি। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে একই খবর নিশ্চিত করা হয়।

    এটি দুই পক্ষের মধ্যবর্তী মার্কিন মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বলে মনে করা হচ্ছে। এর আগে রাশিয়া নিজেই মিত্রদের জন্য ৯ মে (বিজয় দিবস) উপলক্ষে এককভাবে দুই দিন যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিল। তবে এবার তিন দিন ব্যাপী এই যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে ভেতর দিয়ে শান্তির পথে অগ্রগতি শুরুর প্রত্যাশা जतানো হচ্ছে।

    ট্রাম্প বলেন, অচিরেই এই বিরতি বড় ধরনের সংঘাতের অবসান ঘটাতে সহায়ক হবে এবং আলোচনা চালিয়ে যেতে হলে এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, এই যুদ্ধের অবসান আমাদের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়, কারণ এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বের বৃহত্তম সংঘাত এবং এর শেষ আনয়ন জন্য আলোচনায় আমরা এগোচ্ছি।

    প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উল্লেখ করেন, এই যুদ্ধবিরতিতে রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয়ই বিভিন্ন সামরিক কার্যক্রম বন্ধ করবে, পাশাপাশি দফায় দফায় বন্দি বিনিময়ও হবে। তিনি বলেন, এই উদ্যোগের ফলে দীর্ঘদিনের এই প্রাণঘাতী সংঘাতের অবসান আসবে বলে আমি আশা করি।