Blog

  • মন্ত্রী না থাকলে কি উন্নয়ন থেমে যাবে? প্রশ্ন গোলাম পরওয়ারের

    মন্ত্রী না থাকলে কি উন্নয়ন থেমে যাবে? প্রশ্ন গোলাম পরওয়ারের

    জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার প্রশ্ন তুলেছেন: প্রধানমন্ত্রী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকেন না এমন এলাকায় কি উন্নয়ন হবে না?

    শুক্রবার কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ভবনে বাংলাদেশ রেলওয়ে এমপ্লয়িজ লীগের কেন্দ্রীয় দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

    গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘‘যে এলাকার নেতারা প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বা আইনমন্ত্রী হবে না, সেই এলাকায় কি কোনো উন্নয়ন হবে না? উন্নয়নকে বৈষম্যহীন করতে হলে জাতীয়ভাবে জরিপ করে দেখা উচিত—কোথায় রেল বা সড়ক যোগাযোগ বেশি প্রয়োজন। ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে সরকারকে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে।’’

    তিনি জুলাই আন্দোলনের ত্যাগ ও শহীদদের কথা স্মরণ করিয়ে বলেন, ‘‘হাজারো মানুষের রক্ত আর ত্যাগের বিনিময়ে সরকার ক্ষমতায় এলেও এখন আবার বৈষম্যমূলক সমাজ গঠনের চেষ্টা চলছে। হাজার রক্তের বিনিময়ে ক্ষমতায় এসে ন্যায়বিচার না দিয়ে অন্যায় করা হচ্ছে; সেটা শহীদদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।’’

    রেল যোগাযোগের বেহাল দশার কারণ হিসেবে তিনি দুর্নীতিকেই দায়ী করেছেন। বলেন, ‘‘বিশ্বে রেল যোগাযোগ উন্নতির শিখরে উঠছে, অথচ বাংলাদেশে রেল খাত পিছিয়ে যাচ্ছে। এত বড় নেটওয়ার্ককে আমরা আধুনিকায়ন করতে পারিনি।’’ আগামী বাজেটে প্লেস্কেল আর রেলের শ্রমিক-কর্মচারীদের দাবি মেটানো ও আধুনিক রেলপথ গড়ে তোলার জন্য সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আহ্বান জানান তিনি।

    দেশীয় সিদ্ধান্তমূখী নীতির প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘‘বাংলাদেশ এখন নিজস্ব সিদ্ধান্তে চলবে; কোনো বিদেশি শক্তির প্রেসক্রিপশন বা রিমোট কন্ট্রোল মানি না। পূর্ণ স্বাধীন ও সার্বভৌম রাখতে সব ধরনের বহিঃশক্তির হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।’’

    তিনি ট্রেড ইউনিয়নের কর্মকান্ড সংকুচিত করার নীতির তীব্র সমালোচনা করেন এবং বলেন, সরকার শ্রমিক ও শ্রমসংগঠনের ওপর নানা সীমাবদ্ধতা আরোপ করে শ্রমিকদের অধিকার নিলে গণতন্ত্র ও শ্রমিকদের কল্যাণ ক্ষুণ্ন হয়।

    গোলাম পরওয়ার দাবি করেন, ‘‘একটি কারখানায় বেশি সংখ্যক ট্রেড ইউনিয়ন থাকা উচিত—কারখানা যত বড় হবে, তত বেশি ট্রেড সংগঠন থাকা প্রয়োজন। সংগঠনের সংখ্যা বেশি হলে মালিকপক্ষের সঙ্গে বসে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ে সুবিধা হবে।’’

    সম্মেলনে তিনি সরকারের প্রতি অনুরোধ রাখেন—উন্নয়ন ন্যায়ভিত্তিক ও স্বচ্ছভাবে করতে হবে, রেল ও যোগাযোগ খাতে দুর্নীতি রোধ করে অবকাঠামো উন্নয়নে ত্বরান্বিত উদ্যোগ নিতে হবে এবং শ্রমিক-সংগঠনের মেধা ও অধিকার রক্ষা করতে হবে।

  • জুলাই সনদ ইস্যুতে সরকার টালবাহানা করছে: নাহিদ ইসলাম

    জুলাই সনদ ইস্যুতে সরকার টালবাহানা করছে: নাহিদ ইসলাম

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম সরকারকে Juli সনদ ও সাংবিধানিক সংস্কার নিয়ে টালবাহানা করছে বলে অভিযোগ করেছেন।

    শনিবার (৯ মে) রাজধানীর এক হোটেলে ‘সংস্কারে অচলাবস্থা সমাধানে করণীয় কী’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি বলেন, সরকার এ ইস্যুকে এড়িয়ে যেতে চায় এবং সময় টানছে। তাঁর দাবি, সাংবিধানিক সংস্কার সম্পন্ন হবে ধরাবাঁধা, জনগণের অংশগ্রহণ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে—এটাই গ্রহণযোগ্য।

    নাহিদ ইসলাম অবিলম্বে গণভোটের নির্দেশনা অনুযায়ী ‘সাংবিধানিক সংস্কার কাউন্সিল’ গঠনের দাবি জানান। তিনি বলেন, এই কাউন্সিল গঠনেই হবে জনগণের প্রত্যাশা বাস্তবায়নের পথ।

    বিএনপির বিরুদ্ধে সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রীসহ বিএনপির শীর্ষ নেতারা প্রকাশ্যে গণভোটের পক্ষে বললেও ক্ষমতায় আসার পর তারা সেই অবস্থানকে ত্যাগ করেছে। এভাবে বিএনপি মূলত জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে প্রত্যাখ্যান করছে বলে তিনি আক্রমণ করেন।

    নাহিদ আরও বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য সংসদের ভেতরে ও বাইরে আলোচনা ও কর্মসূচি চলবে, পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ কর্মসুচিও চালানো হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি সরকার ইতিবাচক সাড়া না দেয় তাহলে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করা হবে।

    আলোচনায় তিনি জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে স্বচ্ছ ও সার্বভৌম ভিত্তিতে সাংবিধানিক পরিবর্তন আনা না হলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নির্বাচনী বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরে পাওয়া সম্ভব হবে না—এ ধরনের বার্তাও দেন নাহিদ ইসলাম।

  • সোনার দাম কমল — প্রতি ভরির নতুন মূল্য কত?

    সোনার দাম কমল — প্রতি ভরির নতুন মূল্য কত?

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) জানিয়েছে দেশের বাজারে সোনার দাম কমানো হয়েছে। মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সর্বোচ্চ ভরিতে ২ হাজার ২৫৮ টাকার পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হয়েছে। নতুন মূল্য অনুযায়ী ভালো মানের ২২ ক্যারেট সোনার এক ভরির দাম দুই লাখ ৪০ হাজার ৩৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    বাজুসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২২ ক্যারেট সোনার ভরি গতকাল সোমবার (৪ মে) যে দুই লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা ছিল, তা থেকে কমেছে। নতুন দাম মঙ্গলবার সকালে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী সকাল ১০টা থেকে কার্যকর করা হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার দাম কমে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারে দাম সমন্বয় করা হয়েছে।

    অন্যান্য মানের সোনার প্রতি ভরির নির্ধারিত দামগুলো হলো: ২১ ক্যারেট — দুই লাখ ২৯ হাজার ৪৩১ টাকা, ১৮ ক্যারেট — এক লাখ ৯৬ হাজার ৬৫৫ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা — এক লাখ ৬০ হাজার ১৪৭ টাকা।

    রুপার দাম এই রাউন্ডে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। নির্ধারিত তালিকায় ২২ ক্যারেট রুপার এক ভরির দাম ৫ হাজার ৪৮২ টাকা, ২১ ক্যারেট রুপা ৫ হাজার ১৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৪৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার প্রতি ভরি দাম ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও সোনার মূল্যকে প্রভাবিত করেছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংক্রান্ত উত্তেজনার পর миров বাজারে সোনার দাম বাড়ার পরে মূল্যসমন্বয়ের কারণে ওঠানামা দেখা গেছে। বিশ্ববাজারের গতিপথ সম্পর্কে গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্রে বলা হয়েছে, এ মুহূর্তে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৪ হাজার ৫০০ ডলারে নেমে এসেছে। এর আগের কিছু ডেটাও উল্লেখ করা হয়েছে — ৩০ জানুয়ারি তখন দাম ছিল ৫ হাজার ২০০ ডলার এবং ২৯ জানুয়ারি ছিল ৫ হাজার ৫৫০ ডলার।

    বাজারের ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের জন্য বাজুসের এই নতুন মূল্য তালিকা এখন থেকেই প্রযোজ্য থাকবে। কিনতে বা বিক্রি করতে যাওয়ার আগে স্থানীয় বজারের আপডেট দেখতে এবং কাছে থাকা জুয়েলারি সংস্থার নোটিশ খতিয়ে দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

  • টানা দ্বিতীয় দফায় বেড়েছে সোনার দাম

    টানা দ্বিতীয় দফায় বেড়েছে সোনার দাম

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) টানা দ্বিতীয় দফায় সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। বাজুস জানিয়েছে, প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ২ হাজার ২১৬ টাকা পর্যন্ত দর বাড়ানোর ফলে ২২ ক্যারেট সোনার ভরিপ্রতি দাম গতকালের তুলনায় বাড়ে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে নতুন দাম বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে। হিসাব অনুযায়ী গতকাল ২২ ক্যারেটের ভরিপ্রতি দাম ছিল ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা; সর্বোচ্চ ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়ালে ২২ ক্যারেটের এক ভরি এখন ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে।

    বাজুসের নির্ধারিত অন্যান্য মূল্যগুলোও এভাবে সংশোধন করা হয়েছে: ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২১৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম এক লাখ ৬৩ হাজার ৬৩ টাকা।

    সোনার সঙ্গে রুপার দামও সামঞ্জস্য করা হয়েছে। ২২ ক্যারেট ভিত্তিক এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৭৭৪ টাকা; ২১ ক্যারেটে ৫ হাজার ৫৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেটে ৪ হাজার ৭২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতিতে ৩ হাজার ৫৫৮ টাকা প্রতি ভরি রুপা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    বাজুস বলেছে আন্তর্জাতিক বাজারে তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার দাম বাড়ার কারণে স্থানীয় বাজারে দাম সমন্বয় করা হয়েছে। বিশ্ববাজারে লাগাতার উর্ধ্বমুখী হারের কারণ হিসেবে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল উত্তেজনা উল্লেখ করা হয়েছে। অনলাইন সাইট গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি অনুসারে বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম প্রায় ৪ হাজার ৭০০ ডলারে পৌঁছেছে।

    প্রসঙ্গত, এর আগে ৩০ জানুয়ারিতে আউন্সপ্রতি সোনার দাম ছিল আনুমানিক ৫ হাজার ২০০ ডলার এবং ২৯ জানুয়ারি বাড়তে বাড়তে ৫ হাজার ৫৫০ ডলারে ওঠেছিল। এছাড়া গত মাসের শেষে বিশ্ববাজারে দর দ্রুত বাড়ার প্রভাব国内 বাজারেও পড়ে; ২৯ জানুয়ারি সকালেই বাজুস একধাক্কায় ভরিপ্রতি ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেট সোনার এক ভরি দাম ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায় নিয়ে গিয়েছিল— যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ এবং একবারে এত বড় বৃদ্ধি আগে দেখা যায়নি।

    গ্রাহক ও সোনার ব্যবসায়ীদের জন্য এসব নতুন দাম আজ সকাল ১০টা থেকে প্রযোজ্য।

  • ভারত সফলভাবে পরীক্ষা করলো পরমাণু বহনক্ষম আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র

    ভারত সফলভাবে পরীক্ষা করলো পরমাণু বহনক্ষম আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র

    ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও) উড়িষ্যা উপকূলে একটা পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) সফলভাবে পরীক্ষা করেছে। পরীক্ষা গত শুক্রবার সন্ধ্যায় সম্পন্ন হয়েছে বলে সরকারি ও প্রতিরক্ষা সূত্রে জানা গেছে।

    টাইমস অফ ইন্ডিয়ার উদ্ধৃতিতে বলা হয়েছে, উত্‍পন্ন তথ্য অনুযায়ী এটি আইসিবিএম শ্রেণির ক্ষেপণাস্ত্র হলেও এটি ‘অগ্নি-৬’ কিনা তা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। পরীক্ষার সাফল্য প্রযুক্তিগত দিক থেকে ভারতের রকেট প্রপালশন, দিকনির্দেশনা ব্যবস্থা ও রি-এন্ট্রি প্রযুক্তিতে সক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।

    বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন ও উত্তর কোরিয়ার মতো কয়েকটি দেশই আইসিবিএম প্রযুক্তি অর্জন করেছে। ভারতের এই সফল পরীক্ষা দেশটিকে বিশ্বশক্তির এমন এক তালিকায় স্থান দেবে বলে বিশ্লেষকরা বলছেন। পরীক্ষায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রটির দূরত্বসীমা ১০ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি—এমন পাল্লা থাকায় পৃথিবীর অন্যতম অনেক প্রান্তে এটি আঘাত হানতে সক্ষম হবে, বলে প্রতিরক্ষা পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।

    উৎক্ষেপণের কয়েক দিন আগে ডিআরডিওয়ের চেয়ারম্যান সমীর ভি. কামাত বলেছেন, সরকারের অনুমতি পেলেই তারা অগ্নি-৬ প্রকল্পে এগোতে প্রস্তুত। এই প্রযুক্তির সফল পরীক্ষার মাধ্যমে ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি ও গাইডেন্স সিস্টেমে বিশ্বস্ততা বাড়ায়, যা দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে আরও মজবুত করবে।

    রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ায়, বিজেপি তাদের অফিসিয়াল এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে মন্তব্য করেছে যে অগ্নি-৬য়ের মতো সক্ষমতা ভারতের মহাশক্তি হিসেবে ওঠানামাকে ত্বরান্বিত করবে এবং দেশটিকে শক্তিশালী জাতিগণের শ্রেণিতে আনবে। তারা রাশিয়ার ১২ হাজার কিলোমিটার পাল্লার সারমাট ও চীনের ১৫ হাজার কিলোমিটার পাল্লার ডিএফ-৪১র মতো সিস্টেমের সঙ্গে তুলনা করেছে।

    একই সময়ে, ডিআরডিও ও ভারতীয় বিমানবাহিনী যৌথভাবে ‘ট্যাকটিক্যাল অ্যাডভান্সড রেঞ্জ অগমেন্টেশন’ (তারা) নামক একটি প্রযুক্তিরও সফল পরীক্ষা করেছে। এই প্রযুক্তি সাধারণ বা লক্ষ্যহীন যুদ্ধাস্ত্রকে নিখুঁত লক্ষ্যভেদী ‘স্মার্ট’ অস্ত্রে রূপান্তর করতে সাহায্য করে—ফলে কৌশলগতভাবে আরও ধাঁচানো ও দক্ষ অস্ত্র ব্যবহার সম্ভব হবে।

    সামগ্রিকভাবে, এই পরীক্ষার সাফল্য ভারতের প্রতিরক্ষা ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে দেখা হচ্ছে, যদিও কিছু বিশ্লেষক ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক এর বিস্তারিত তথ্য ও কর্মক্ষমতা সম্পর্কে আরও স্বচ্ছতা দাবি করেছেন।

  • এন এস রাজা সুব্রমণি সেনা সর্বাধিনায়ক, কৃষ্ণ স্বামীনাথন নৌবাহিনী প্রধান

    এন এস রাজা সুব্রমণি সেনা সর্বাধিনায়ক, কৃষ্ণ স্বামীনাথন নৌবাহিনী প্রধান

    কেন্দ্রীয় সরকার বড় ধরনের প্রতিরক্ষা বদল ঘোষণা করেছে। লেফটেন্যান্ট জেনারেল এন এস রাজা সুব্রমণিকে ভারতের নতুন সেনা সর্বাধিনায়ক (চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ) হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। তিনি বর্তমান জেনারেল অনিল চৌহানের স্থলাভিষিক্ত হবেন; চৌহানের মেয়াদ শেষ হবে ৩০ মে। একই সঙ্গে ভাইস অ্যাডমিরাল কৃষ্ণ স্বামীনাথনকে পরবর্তী নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে; বর্তমানে নৌবাহিনী প্রধান দীনেশ কুমার ত্রিপাঠীর কার্যকাল ৩১ মে শেষ হবে এবং তারপর স্বামীনাথন দায়িত্ব নেবেন। শনিবার (৯ মে) এই নিয়োগের খবরে এনডিটিভি প্রথম জানিয়েছিল।

    সেনা সর্বাধিনায়কের ভূমিকায় সুব্রমণি তিন বাহিনী—সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রধানদের সমন্বয় করবেন। কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তিনি চিফ অব ডিফেন্স স্টাফের পাশাপাশি সরকারের সামরিক বিষয়ক দপ্তরের সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন।

    সুব্রমণির কর্মজীবন দীর্ঘ এবং বহুমাত্রিক। তিনি জাতীয় ডিফেন্স অ্যাকাডেমি থেকে শিক্ষা গ্রহণের পর ১৯৮৫ সালে গড়ওয়াল রাইফেলসে কমিশনপ্রাপ্ত হন। যুক্তরাজ্যের জয়েন্ট সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজেও তিনি পাঠ নিয়েছেন। দেশে ফিরে পর্বত ব্রিগেডে ব্রিগেড মেজর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং পরে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজেও যোগ দিয়েছিলেন। প্রায় ৩৫ বছর কর্মজীবনে তিনি সংবেদনশীল বহু অঞ্চলে দায়িত্ব নিয়েছেন এবং কাজাখস্থানে ভারতের দূতাবাসে সামরিক দায়িত্বও সামলেছেন। দক্ষতা ও সেবার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একাধিক সম্মান লাভ করেছেন। ২০২৩ সালে তিনি সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডিং ইন চিফ হিসেবে দায়িত্ব পান এবং পরের বছর দেশের ৪৭তম ভাইস সিডিএস হিসেবে কাজ করেছেন। সাম্প্রতিককালে সক্রিয় চাকরি থেকে অবসরের পর জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সামরিক পরামর্শদাতা হিসেবে থাকছিলেন তিনি।

    নির্বাচিত নৌবাহিনী প্রধান কৃষ্ণ স্বামীনাথন বর্তমানে মুম্বাইয়ের পশ্চিম নেভাল কমান্ডের দায়িত্বে রয়েছেন। তার সঙ্গে আগে নৌবাহিনীর উপ-প্রধান হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে। তিনি বিভিন্ন যুদ্ধপोतের কমান্ডার ছিলেন—যেগুলোর মধ্যে রয়েছে ক্ষেপণাস্ত্রবাহী রণতরী আইএনএস বিদ্যুৎ, আইএনএস বিনাশ, করভেট আইএনএস কুলিশ, ক্ষেপণাস্ত্রধ্বংসকারী আইএনএস মহীশূর এবং বিমানবাহী রণতরী আইএনএস বিক্রমাদিত্য। এসব তরফে তার সমুদ্রিক নেতৃত্ব ও অপারেশনাল দক্ষতা তাকে নৌবাহিনী প্রধানের ভূমিকায় নিয়ে এসেছে।

    কেন্দ্রের এই নতুন নিয়োগ আগামী মাসের শেষের দিকে কার্যকর হবে। প্রতিরক্ষা পর্যায়ে এই রদবদল থেকে ভবিষ্যতে কৌশলগত ও অপারেশনাল সিদ্ধান্তে কেমন প্রভাব পড়ে, সেটাই এখন নজরের বিষয়।

  • শার্শায় পরীক্ষা কেন্দ্রে অনৈতিক সহযোগিতা, প্রধান শিক্ষকসহ দুইজন গ্রেপ্তার

    শার্শায় পরীক্ষা কেন্দ্রে অনৈতিক সহযোগিতা, প্রধান শিক্ষকসহ দুইজন গ্রেপ্তার

    যশোরের শার্শা উপজেলায় সরকারি এসএসসি পরীক্ষার এক কেন্দ্রে অনৈতিকভাবে সহযোগিতা করার অভিযোগে প্রধান শিক্ষক শাহানারা খাতুন ও কর্মচারী ফাতেমা খাতুনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার পরে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

    ঘটনাটি শোনা যায় গত ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষার পর থেকে। অভিযোগ অনুযায়ী, বাগআঁচড়া সম্মিলিত গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের ৩০১ নম্বর কক্ষে পরীক্ষার্থী অহনা খাতুনের উত্তরপত্র গোপনে সংগ্রহ করেন প্রধান শিক্ষক শাহানারা খাতুন। পরে একই প্রতিষ্ঠানের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ফাতেমা খাতুনের সহায়তায় সেই উত্তরপত্রে ভুল সংশোধন করে পুনরায় জমা দেওয়া হয়।

    এ ঘটনায় ব্যাপক ক্ষোভ ও চাঞ্চল্য দেখা দেয়। খবর পেয়ে শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে ওয়াহিদ ও উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার এ কে এম নুরুজ্জামান ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করেন। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের যথার্থতা পাওয়া গেলে শুক্রবার দুপুরে উপজেলা প্রশাসন তাদের আটক করার নির্দেশ দেন এবং রাতে মামলা দায়ের করা হয়।

    শনিবার (৯ মে) শার্শা থানা প্রধান মারুফ হোসেন ঘটনাটি পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষা আইনের ৮, ৯, ১২ ও ১৩ ধারায় মামলা করা হয়েছে। পরে অভিযুক্ত দুইজনকে আদালতে সোপর্দ করলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার এ কে এম নুরুজ্জামান জানান, তদন্তে অনৈতিক সহযোগিতার প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং পরীক্ষার পবিত্রতা রক্ষায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ toler করা হবে না।

    এদিকে ঘটনাস্থল ও মামলার বিষয়ে স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তারা এই ঘটনার মাধ্যমে শিক্ষাঙ্গনের নৈতিকতা ও পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছেন।

    পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চালিয়ে সামনের আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে। তদন্তে আরও কেউ জড়িত আছেন কি না তা অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

  • ৪১৩ রানে অলআউট: জন্মদিনে সেঞ্চুরি থেকে বঞ্চিত মুশফিক

    ৪১৩ রানে অলআউট: জন্মদিনে সেঞ্চুরি থেকে বঞ্চিত মুশফিক

    মুশফিকুর রহিমের জন্য আজকের দিনটা ছিল বিশেষ—জন্মদিন। পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে সেই বিশেষ দিনে শতকের সামনে থাকার সুযোগ ছিল মুশফিকের, তবে সেঞ্চুরির আনন্দ ভোগ করতে পারলেন না। লাঞ্চে তিনি যখন ফিরে যান, তখন শতবরার থেকে ২৯ রান দূরে ছিলেন। লাঞ্চের পরই প্রথম ওভারেই শাহিন শাহ আফ্রিদির ফুল-লেন্থ ডেলিভারিতে অফ স্টাম্প উড়ে যাওয়ায় মুশফিক বিদায় নেন। তিনি ১৭৯ বলে ৭১ রানের একটি ধীরস্থির ইনিংস খেলেছেন, যার মধ্যে ছিল ৮টি চার। মুমিনুলের মতো সেঞ্চুরিবঞ্চিত হয়ে মাঠ ছাড়তে হল মোশফিককে।

    টেল-এন্ডারদের সংযুক্তি বাড়ায় দল অধরাই থেমে যায়নি; শেষ পর্যন্ত টাইগাররা আরও ৩৩ রান যোগ করে ৪১৩ রানে অলআউট হয়। পাকিস্তানের তরফে মোহাম্মদ আব্বাস দলকে স্বস্তি দিলেন—তিনি পাঁচ উইকেট নেন। তারই বিরুদ্ধে রক্ষণভঙ্গ করে তাসকিন আহমেদ ১৮ বলে ঝড়ো ২৮ রান করে দলের শেষ ব্যাটার হিসেবে আউট হন।

    মিরপুরে দ্বিতীয় দিন শুরু হয়েছিল মুশফিক ও লিটন দাসের জুটিতে। আগের দিন মুশফিক ৪৮ এবং লিটন অপরাজিত ৮ রানে ছিলেন। দিনের চতুর্থ ওভারে মুশফিক হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করে ব্যাট উঁচিয়ে উদ্‌যাপন করেন। এরপর মোহাম্মদ আব্বাসের ওভারে লিটন দাস ৩৩ রানে আউট হন। মেহেদী মিরাজ বেশি সময় টিকতে পারেননি—১২ বল খেলে একটি চার ও একটি ছয়ে ১০ রান করেন। taিজুল ইসলাম ২৩ বল খেলেন ১৭ রানের দ্রুত ইনিংস।

    বাংলাদেশের ইনিংসের ভিত্তিটা তৈরি হয়েছিল আগের দিনের নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল হকের ১৭০ রানের জুটিতে। শুরুতে ৩১ রানে দুই উইকেটের ক্ষতি হয়েছিল—মাহমুদুল হাসান জয় ৮ ও সদমান ইসলাম ১৩ রানে ফিরেছেন। এরপর তৃতীয় উইকেটে মুমিনুল ও শান্ত কড়া প্রতিরোধ গড়ে পাকিস্তানের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন এবং দ্বিতীয় সেশনে পুরোপুরি আধিপত্য দেখান।

    বিরতির ঠিক আগে শান্ত তার টেস্ট ক্যারিয়ারে নবম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন—এটি তার ৭৪তম ইনিংসে পাওয়া সেঞ্চুরি। কিন্তু সেগুলো বেশি টেকেনি; পরে আব্বাসের গুড-লেন্থ ডেলিভারিতে ডিফেন্ড করতে গিয়ে তিনি এলবিডব্লিউ হয়ে আউট হন। শান্ত একটু আক্রমণাত্মক খেললেও মুমিনুল তুলনায় বেশি সংযত ছিলেন। শান্তের পর মুমিনুল ১০২ বলের মধ্যে হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেন এবং আগের দিনের জমা সঙ্গে মিলিয়ে ৯১ রানে থেমে যান; তিনি ২০০তম বলের মোকাবিলায় নোমান আলীর বিরুদ্ধে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন। মুমিনুলের ইনিংসে ছিল ১২টি চার।

    শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ৪১৩ রানে অলআউট হয়ে যায়, যেখানে দলের বড় অংশটা গঠিত হয়েছিল শান্ত-মুমিনুলের জুটির ওপর। মোহাম্মদ আব্বাসের বোলিং ঝাঁকুনিতে পাকিস্তান ম্যাচে ফিরে এসেছে।

  • বিজয় ভাগ বসালেন তামিলনাড়ুর ৪৯ বছরের পুরনো রেকর্ডে

    বিজয় ভাগ বসালেন তামিলনাড়ুর ৪৯ বছরের পুরনো রেকর্ডে

    ফিল্ম তারকারা রাজনীতিতে এসেছেন, তবে সরাসরি সিনেমা থেকে রাজনৈতিক দল গঠন করে রাজ্যের সর্বোচ্চ পদে পৌঁছানো খুবই বিরল ঘটনা। এবার সেই বিরল ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটালেন জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর—জনপ্রিয় ‘থালাপতি বিজয়’। নিজের প্রথম বিধানসভা নির্বাচনে বড় জয়ের পাশাপাশি তামিলনাড়ুর ৪৯ বছরের পুরনো এক রেকর্ডে তিনি ভাগ বসিয়েছেন।

    ১৯৭৭ সালে চলচ্চিত্র জগত থেকে এসে নিজের দল তৈরি করে রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব সফলতা দেখিয়েছিলেন এম জি রামাচন্দ্রান (এমজিআর)। তিনি তখন নির্বাচনে জিতে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হন এবং ১৯৮৭ সালে মৃত্যুর আগে পর্যন্ত সেই পদে ছিলেন। এমজিআরের প্রতিষ্ঠিত দলটি ছিল এআইএডিএমকে। পরবর্তীতে সাবেক অভিনেত্রী জয়ললিতা একই দলের মধ্যে থেকে মাথা উঁচু করে রাজনীতিতে উঠে আছেন—তবে তিনি নিজে নতুন কোনো রাজনৈতিক দল গঠন করেননি, বরং এমজিআর-এর এআইএডিএমকে-রই নেতৃত্ব সানেন এবং মুখ্যমন্ত্রী হন।

    তারপর দীর্ঘদিন ধরা কোনো অভিনেতা-অভিনেত্রী সেই উচ্চতায় পৌঁছাতে পারেননি। কিন্তু এবারের বিধানসভা নির্বাচনে আবারো সেই চিত্র ফিরে এল: বিজয় ও তার গঠিত রাজনৈতিক দল তামিলাগা ভেট্টরি কোঝাগাম (টিভিকে) ২০২৪ সালে আত্মপ্রকাশ করেছিল এবং আশ্চর্যজনক ফল করেছে। তামিলনাড়ুর বিধানসভায় মোট আসন রয়েছে ২৩৪; একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য দরকার ১১৮টি। এবারে বিজয় নিজে জেতেছেন এবং টিভিকে জিতেছে ১০৮টি আসনে—নতুন গঠিত একটি দলের জন্য অত্যন্ত চমকপ্রদ অর্জন।

    আইন অনুযায়ী এককভাবে সরকার গঠন করতে হলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা আনতে হয়, তাই টিভিকে একা সরকার গঠন করতে পারবে না; কিন্তু জোট গঠিত হলে সেটির কেন্দ্রীয় চালক হিসেবে টিভিকেই দেখা হবে। ফলস্বরূপ বিজয়ই তামিলনাড়ুর পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হবার পথে আছেন—এভাবেই তিনি এমজিআরের রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন।

    এই সাফল্যের পটভূমিতেও বিরাট ভক্তশ্রেণীর ভূমিকা অনস্বীকার্য। এমজিআর যে কৌশল অবলম্বন করেছিলেন—ভক্তদের রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত করা—বিজয়ও একইভাবে কাজ করেছেন। ২০০৯ সাল থেকেই তিনি নিজের ভক্তদের সংগঠিত করতে শুরু করেন এবং বিভিন্ন ভক্তগোষ্ঠীকে নিয়ে গঠন করেন ‘বিজয় মাক্কাল ইয়াক্কাম’ নামে একটি ঐক্য। ২০১১ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত এই সংগঠন এআইএডিএমকে-কে সমর্থনও দিয়েছিল।

    কিন্তু ২০২১ সালে মাক্কাল ইয়াক্কাম এআইএডিএমকে-র সমর্থন প্রত্যাহার করে, এরপর বিজয় নিজে এটিকে রাজনৈতিকভাবে গতিশীল করে তোলার পরিকল্পনা চালান। ২০২৪ সালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তামিলাগা ভেট্টরি কোঝাগাম খুলে দেন এবং এবার নির্বাচনে বড় বিজয় নিয়ে তিনি শীর্ষ রাজনীতিতে এসে দাঁড়িয়েছেন—এখন শপথ গ্রহণের অপেক্ষায় রয়েছেন বিজয়।

    সূত্র: এনডিটিভি

  • রুনা লায়লা: আমার মৃত্যু নিয়ে ভুয়া গুজব ছড়ানো হয়েছে

    রুনা লায়লা: আমার মৃত্যু নিয়ে ভুয়া গুজব ছড়ানো হয়েছে

    উপমহাদেশের প্রখ্যাত শিল্পী রুনা লায়লার মৃত্যুসংক্রান্ত ভুয়া গুজব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। নিজের মধ্য থেকে তিনি শান্ত করে জানিয়েছেন, তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ ও ভালো আছেন।

    বর্তমানে তিনি ভারতের দিল্লিতে ‘মিনার–ই–দিল্লি’ পুরস্কার গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে অবস্থান করছেন। এর মাঝেই দেশ-বিদেশে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ায় বিশৃঙ্খলা ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়।

    বিষয়টি নজরে আসার পর রুনা লায়লা তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট করে সবার আগে সত্যটা নিশ্চিত করেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আমার প্রিয় ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের উদ্দেশ্যে — আমার মৃত্যু নিয়ে কিছু অদ্ভুত গুজব ছড়িয়েছে।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘আমি পরিষ্কারভাবে জানাতে চাই যে আমি বহাল তবিয়তে বেঁচে আছি!’

    ভিত্তিহীন এই সংবাদে কষ্ট পেয়ে তিনি ভক্তদের অনুরোধও জানান—এ ধরনের কোনো তথ্য শেয়ার করার আগে দয়া করে যাচাই করে নিন, কারণ এটি তার এবং তার পরিবারের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক। তিনি সবাইকে অনেক ভালোবাসা জানিয়ে পোস্টটি শেষ করেছেন।

    সংগীতজীবন প্রসঙ্গে বলা যায়, ১৯৬৬ সালে রুনা লায়লা ‘হাম দোনো’ চলচ্চিত্রের গান ‘নজরোঁ সে মোহাব্বত কা যে পয়গাম মিল্লা’ দিয়ে আলোচনায় আসেন। ১৯৬০-এর দশকে তিনি নিয়মিত পাকিস্তান টেলিভিশনে গান উপস্থাপন করতেন এবং পরে ‘ও মেরা বাবু চেল চাবিলা’ ও ‘দামা দম মাস্ত কালান্দার’ গানগুলোর মাধ্যমে ভারতেও ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।