Blog

  • আরব সাগরে আটকা পড়া ভারতীয় নাবিকদের জরুরি সহায়তা দিয়েছে পাকিস্তান

    আরব সাগরে আটকা পড়া ভারতীয় নাবিকদের জরুরি সহায়তা দিয়েছে পাকিস্তান

    পাকিস্তানের নৌবাহিনী আরব সাগরে ইঞ্জিন ত্রুটিতে আটকা পড়া ভারতীয় জাহাজ এমভি গৌতমের নাবিকদের জরুরি খাদ্য, ওষুধ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত পাকিস্তানি সামরিক বিবৃতির বরাত দিয়ে রয়টার্স সংবাদ এ তথ্য জানিয়েছে।

    জাহাজটিতে মোট ছয়জন ক্রু রয়েছিলেন—তার মধ্যে পাঁচজন ভারতীয় এবং একজন ইন্দোনেশীয় নাগরিক। কয়েক দিন আগে ওমানের বন্দর থেকে ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার পর মাঝপথে জাহাজটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায় এবং জাহাজটি সাগরে ভাসতে থাকে। দ্রুত রসদ শেষ হওয়ায় ক্রুদের মধ্যে খাদ্য, ওষুধ ও অন্যান্য জরুরি সরবরাহের তীব্র সংকট দেখা দেয় এবং এমভি গৌতম থেকে এসওএস সংকেত পাঠানো হয়।

    এসওএস বার্তা প্রথমে মুম্বাই শাখা মারিটাইম রেসকিউ অ্যান্ড কো-অর্ডিনেশন সেন্টার (এমআরসিসি) গ্রহণ করে। বার্তা পাওয়ার পর এমআরসিসি ইসলামাবাদে যোগাযোগ করে এবং পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের কাছে সহায়তা চায়। পাকিস্তান আবেদনটি মেনে আরব সাগরে তাদের নৌবাহিনীর জাহাজ পিএমএসএস কাশ্মির পাঠায়।

    পাকিস্তানি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অভিযানে জাহাজটিকে খাদ্য, ওষুধ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করা হয়েছে এবং ক্রুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। এতে দেশটির সামুদ্রিক উদ্ধারকারী সংস্থা পাকিস্তান মেরিটাইম সিকিউরিটি এজেন্সিও (পিএমএসএ) সহায়তা করেছে।

    কাতারের ইংরেজি দৈনিক দ্য গালফ টাইমস টুইটারে পাকিস্তানি নৌবাহিনীর কাছে থেকে নাবিকদের রসদ সরবরাহের ছবি প্রকাশ করেছে।

    গত মাসেও পাকিস্তান নৌবাহিনী আরব সাগরে আটকা পড়া আরেক জাহাজের ১৮ জন ক্রুকে উদ্ধার করেছিল; ওই নাবিকদের মধ্যে ছিল চীনা, মিয়ানমার, ভিয়েতনাম, বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার নাগরিকরা।

    সূত্র: রয়টার্স, এনডিটিভি অনলাইন

  • ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের দোরগোড়ায় যুক্তরাষ্ট্র

    ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের দোরগোড়ায় যুক্তরাষ্ট্র

    ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র এক পৃষ্ঠার একটি সমঝোতামূলক স্মারকের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ বন্ধের সবচেয়ে কাছাকাছি পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউজ। নিউজমাধ্যম এক্সিওস বুধবার (৬ মে) এ খবর জানিয়েছে।

    হোয়াইট হাউজ মনে করছে, ওই সংক্ষিপ্ত সমঝোতা স্মারক যুদ্ধ স্থগিত বা বন্ধের ঘোষণা দেবে এবং একইসঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা চালানোর জন্য একটি কাঠামো তৈরি করবে। স্মারকটি বাস্তবে রূপ নিতে পারলে তা হবে একটি প্রাথমিক চুক্তি, যার ওপর ভিত্তি করে পরে বিস্তৃত আলোচনা ও চূড়ান্ত চুক্তি করা হবে।

    সূত্রটি বলেছে, সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়ন হলে ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রাখার প্রতিশ্রুতি দেবে; এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র নানা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে, ইরানের জব্দ করা বিলিয়ন ডলার মুক্ত করবে এবং নৌ-অবরোধ তুলে নেবে। একইভাবে ইরান হরমুজ প্রণালীতে আরোপিত কিছু বিধিনিষেধ তুলে নেবে।

    এই প্রাথমিক স্মারকে মোট ১৪টি দফা থাকবে বলে জানা গেছে। স্মারক সংক্রান্ত আলোচনা চালাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকোফ ও জার্ড ক্রুসনার, যারা ইরানের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথাবার্তা চালাচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের দুই কর্মকর্তা বলছেন, আলোচনায় অগ্রগতি থাকার কারণে ট্রাম্প হরমুজে নতুন কোনো অভিযান থেকে এক ধাপ সরে এসেছেন।

    এক্সিওস জানায়, স্মারক ঘোষণা হলে ৩০ দিনের একটি সময়সীমা শুরু হবে। ওই সময়ে হরমুজ খোলা রাখা, ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম সীমিত করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আলোচনাগুলো হতে পারে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে বা সুইজারল্যান্ডের জেনেভায়।

    আলোচনার সময় ধীরে ধীরে ইরান হরমুজ সংক্রান্ত বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করবে এবং যুক্তরাষ্ট্র নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও অর্থ মুক্তির মতো পদক্ষেপ নেবে। তবে এই সবকিছু ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হবে। যদি আলোচনা ভেস্তে যায় তবে যুক্তরাষ্ট্র আবারও নৌ-অবরোধ আরোপ বা সামরিক বিকল্প বিবেচনা করতে পারে।

    সমঝোতায় ইরান কতদিন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখবে তা নিয়েও আলোচনা চলছে। এখনকার প্রস্তাবনায় ১২ বছরের কথা বলা হচ্ছে, যা প্রয়োজনে ১৫ বছর পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ২০ বছরের সহজ শর্ত চানি; আর ইরান শুরুতেই পাঁচ বছরের প্রস্তাব রেখেছিল।

    এছাড়া ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এমন প্রতিশ্রুতিও স্মারকে যুক্ত করার চেষ্টা চলছে। ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম সীমিত বা বন্ধ করার অনুরোধ, আইএইএ’র (জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আণবিক সংস্থা) পরিদর্শন প্রদান এবং সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়াম স্থানান্তর করার বিষয়টিও আলোচ্য। এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, কিছু ক্ষেত্রে সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে নেওয়া হতে পারে।

    তবে সবকিছুতে এখনো চূড়ান্ত সম্মতি নেই। মার্কিন কর্মকর্তারা এক্সিওসকে বলছেন, ইরানি নেতৃত্বের মধ্যে বিভাজন রয়েছে, ফলে তারা সহজেই একমত হবে কি না তা অনিশ্চিত। আরও বলা হচ্ছে, এই প্রাথমিক স্মারকও হতে নাও পারে। সমঝোতা স্মারকে যে শর্তগুলো আনা হচ্ছে সেগুলো বাস্তবায়িত হবে কিনা তা একটি চূড়ান্ত চুক্তির ওপর নির্ভর করবে—আর সেই চুক্তি না হলে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হতে পারে।

  • এসএসসি পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণ: যশোর বোর্ডে কেন্দ্র সচিবসহ ৩ জনকে অব্যাহতি

    এসএসসি পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণ: যশোর বোর্ডে কেন্দ্র সচিবসহ ৩ জনকে অব্যাহতি

    ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে এসএসসি পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণের ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। যশোর শিক্ষা বোর্ড বৃহস্পতিবার কেন্দ্র সচিবসহ তিনজনকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে এবং বলেছে—ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থীর ফলাফলে কোনো প্রভাব পড়বে না।

    ঘটনাটি ঘটে ৩০ এপ্রিল, যখন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছিল। কালীগঞ্জ উপজেলার সলিমুন্নেছা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রের ২০৪ নম্বর কক্ষে নলডাঙ্গা ইব্রাহিম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২০২৫ সালের অনিয়মিত পরীক্ষার্থী সাদিয়া খাতুন অংশ নেন। নিয়ম অনুযায়ী অনিয়মিত পরীক্ষার্থীর জন্য পৃথক প্রশ্নপত্র থাকলেও কক্ষ পরিদর্শকরা ভুলবশত তাকে নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্রই প্রদান করেন।

    পরীক্ষা শেষে বাড়ি গিয়ে বিষয়টি বুঝতে পেরে সাদিয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানালে তদন্ত করে বিষয়টি নিশ্চিত হয়। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে কেন্দ্রের দুই কক্ষ পরিদর্শক—সূন্দরপুর চাঁদবা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুস সালাম ও ক.পি.কে.বি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাসির উদ্দীন—কে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

    এ ঘটনায় কেন্দ্র সচিব ও সলিমুন্নেছা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিদৌরা আক্তারকেও দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। তার বদলে সহকারী প্রধান শিক্ষক গৌতম তরফদারকে নতুন কেন্দ্র সচিব হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

    বিদৌরা আক্তার বলেন, অনিয়মিত পরীক্ষার্থীর জন্য যে বিশেষ প্রশ্নপত্র ছিল, তিনি তা সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বুঝিয়ে চিহ্নিত করে দিয়েছিলেন এবং এর ভিডিও প্রমাণও আছে। তবুও কেন তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে তা তিনি মেনে নিতে পারছেন না।

    কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেছেন, বিষয়টি তার কাছে পরিচিত এবং যশোর শিক্ষাবোর্ড প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুল আলিম বলেন, তিনি কেন্দ্র সচিব পরিবর্তনের খবর শুনেছেন, তবে এখনও লিখিত নির্দেশনা পাননি।

    যশোর শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. আব্দুল মতিন নিশ্চিত করেছেন যে ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণের দায়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে এবং ওই পরীক্ষার্থীর কোনো ক্ষতি হবে না—যে প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়েছে, তার অনুযায়ীই উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হবে।

    ঘটনাটি পরীক্ষাকেন্দ্রে তদারকি ও দায়িত্ব পালনের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে অনিয়মিত পরীক্ষার্থীর জন্য পৃথক প্রশ্নপত্র ব্যবস্থাপনায় আরও সতর্কতা এবং দৃঢ় তদারকির প্রয়োজনীয়তা বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

  • মুক্তিপণের দাবিতে সুন্দরবন থেকে ২২ জেলে অপহরণ

    মুক্তিপণের দাবিতে সুন্দরবন থেকে ২২ জেলে অপহরণ

    সাতক্ষীরা জেলার সুন্দরবন থেকে জলদস্যু আলিম ও নানাভাই বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে মুক্তিপণের দাবিতে ২২ জন জেলে অপহরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। রোববার সকাল থেকে সোমবার সন্ধ্যার মধ্যে সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের চুনকুড়ি, মালঞ্চ নদীর আগা, চালতেবেড়, মাইটভাঙা ও পশুরতলা খাল থেকে অস্ত্রের মুখে এসব জেলেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

    জলদস্যুরা অপহৃতদের মধ্যে পাঁচজনকে মারধর করে মুক্তিপণ পাঠানোর শর্তে ছেড়ে দিয়েছে; বাকী ১৭ জন এখনও জিম্মি রয়েছেন। আহত ও ফিরে আসা জেলেরা জানিয়েছে, তারা সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ, রমজাননগর ও ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। ঘটনার পর এলাকাবাসীর মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

    এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত জিম্মি থাকা ১৭ জন জেলের নাম ও তথ্য (বয়সসহ) নিম্নরূপ:

    সিংহড়তলী গ্রামের আবুল ফকিরের ছেলে মোমনি ফকির (৩০), হরিনগর গ্রামের মুর্শিদ আলম (৪০), হরিনগর গ্রামের মিজানুর শেখের ছেলে ইসমাইল শেখ (২৮), মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে আব্দুল করিম (৪৮), সেন্ট্রাল কালিনগর গ্রামের ছাত্তার সানার ছেলে আব্দুস সামাদ (৪০), কুলতলি গ্রামের মনোহর সরকার (৩৪), চুনকুড়ি গ্রামের গোলাম মোস্তফারের ছেলে আল মামুন (১৬), রুহুল আমিনের ছেলে হুমায়ুন (২৬), খালেক মোল্যার ছেলে মনিরুল (২৫), আব্দুল হাইয়ের ছেলে রবিউল (৩০), গণেশ মন্ডলের ছেলে সঞ্জয় (৫২), বড় ভেটখালী গ্রামের আলমগীরের ছেলে আলআমিন (৩৭), ফরেজ গাজীর ছেলে শাহাজান (৫০), জুলফিকারের ছেলে আবুল বাসার বাবু (৩৫), কদমতলার ছাকাত গাজীর ছেলে রেজাউল (৩৫), দক্ষিন কদমতলার সাদেক সর্দারের ছেলে আব্দুস সালাম (৫৫) এবং ধুমঘাট গ্রামের কওছার গাজীর ছেলে আবুল কালাম (৪০)।

    মুক্তিপণ দাবীতে মারধর করে ছেড়ে দেয়া পাঁচ জেলের নাম হল: কুলতলি গ্রামের মৃত নিরাপদ সরকারের ছেলে ধ্রুবো সরকার (৩৮), দক্ষিন কদমতলা গ্রামের সুবোল মন্ডলের ছেলে হৃদয় মন্ডল (৫৩), হরিনগর গ্রামের বাবুর আলী গাইনের ছেলে সবুর গাইন (৫০), সিংহড়তলীর গোলদার পাড়ের ছেলে সাইফুল ইসলাম (৩২) এবং আনছার গাজীর ছেলে ইউনুস আলী (২৬)।

    অপহৃতদের আত্মীয়-স্বজন, মহাজন এবং ফিরে আসা জেলেরা জানান, তারা সুন্দরবনে অভিযান চালাতে আগে সাতক্ষীরা রেঞ্জের কদমতলা ও কৈখালী স্টেশন থেকে অনুমতিপত্র নিয়ে গিয়েছিলেন। মৎস্যশিকারের সময় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অবস্থায় জলদস্যুদের সদস্যরা তাদের ধরে নিয়ে গেছে। পরিবারের এক পরিচিত সূত্র (নাম প্রকাশ না করার শর্তে) বলেন, এখনো পর্যন্ত জলদস্যুরা কোনো নির্দিষ্ট মুক্তিপণের অংক জানাননি; মোবাইল নেটওয়ার্ক ফিরে আসার সঙ্গে সঙ্গে মুক্তিপণ দাবি জানাতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। তারা সরকারের কাছে দ্রুত জেলেদের উদ্ধার করার অনুরোধ জানিয়েছেন।

    ফিরে আসা জেলাদের বক্তব্য, জলদস্যুরা লোকালয়ের কাছাকাছি এলাকা থেকেও জেলেদের তুলে নিয়ে যাচ্ছে এবং ব্যাপক মারধর করছে, ফলে সুন্দরবনের তীরবর্তী জেলেরা এখন ভীত ও অনিশ্চয়তার মধ্যে আছে।

    সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মশিউর রহমান জানিয়েছেন, জেলেদের অপহরণের বিষয়টি তারা ইতিমধ্যে কোস্টগার্ডকে অবহিত করেছে এবং দ্রুত বড় আকারে অভিযান চালানো হবে। শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. খালেদুর রহমান বলেছেন, অপহরণের বিষয়টি এখনও পর্যন্ত জেলের কোনো পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় জানানো হয়নি; আপনারা আমাদের মাধ্যমে জানানো হলে আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

    স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, নিরাপত্তা বাড়ানো না হলে সুন্দরবনের জেলে সম্প্রদায় আরও আক্রান্ত হতে পারে; তারা দ্রুত সরকারের হস্তক্ষেপ ও নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি জানিয়েছে।

  • শাহিন আফ্রিদি: নাহিদ রানা হতে পারেন বাংলাদেশের বড় এক সম্পদ

    শাহিন আফ্রিদি: নাহিদ রানা হতে পারেন বাংলাদেশের বড় এক সম্পদ

    পাকিস্তান দলের পেসার শাহিন আফ্রিদি মিরপুরে বলেছেন, নাহিদ রানা বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একজন ক্রিকেটার হতে পারেন। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে তিনি রানার গুরুত্ব তুলে ধরে বাংলাদেশ তাকে ভালোভাবে কাজে লাগালে দলের জন্য বড় উপকার হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

    জাতীয় দলে দুই বছর ধরে নিয়মিত দেখা যাচ্ছে নাহিদ রানাকে। সাদা বলের ক্রিকেটে মাঝেমধ্যে থাকলেও লাল বলের ক্রিকেটে তিনি ধারাবাহিক গতি দেখিয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান এবং নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডেতে তিনি বেশ ভালো ফর্ম দেখান; এখন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লাল বলের ক্রিকেটে মাঠে নামার অপেক্ষায় আছেন এই পেসার।

    শাহিন জানান, ওয়ানডে সিরিজের আগে তিনি শন টেইটের সঙ্গে কথাও বলেছেন। ‘‘আমার মনে হয় নাহিদ রানা বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য অনেক বড় একটি সম্পদ হতে পারে,’’ বলেন তিনি। ‘‘আশা করি বাংলাদেশ তাকে ভালোভাবে কাজে লাগাবে।’’

    তবে হাস্যরস মিশিয়ে শাহিন যোগ করেন, রানা যতই ভালো ফর্মে থাকুক, তিনি যেন তাঁদের বিপক্ষে অতটা সমস্যা তৈরি না করেন — ‘‘আমি আশা করি সে আমাদের বিপক্ষে খুব বেশি সুবিধা করতে পারবে না,’’ বললেন তিনি (হাসি)।

    টেস্ট সিরিজ হার নিয়ে কথা কাটাকাটিতে অতীত নিয়ে বেশি চিন্তা করতে চান না আফ্রিদি। ‘‘অতীত তো অতীতেই থাকে। আমি ব্যক্তিগতভাবে অতীত ধরে রাখি না। আমাদের লক্ষ্য হলো বর্তমান ও ভবিষ্যতের দিকে তাকানো এবং নিজেদের উন্নত করা,’’ তিনি বলেন।

    পরে শাহিন আরও স্পষ্ট করে জানান, তাদের বড় লক্ষ্য মাত্র একটি সিরিজ জেতা নয়, বরং কীভাবে ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জেতা যায় তা কিভাবে বাস্তবায়ন করা যায়। ‘‘একটি দল হিসেবে আমাদের লক্ষ্য অনেক বড় এবং আমরা সেটির জন্যই প্রস্তুতি নিচ্ছি,’’ যোগ করেন তিনি।

  • টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠাই পাকিস্তানের লক্ষ্য: শাহিন আফ্রিদি

    টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠাই পাকিস্তানের লক্ষ্য: শাহিন আফ্রিদি

    বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সিরিজকে পাকিস্তান দেখে ন্যূনতম দ্বিপাক্ষিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার বাইরে—এটাকে তারা টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এগানোর একটি বড় ধাপ হিসেবে নিচ্ছে। মিরপুরে প্রথম টেস্ট শুরুর আগে সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই বলেছেন দলটির সিনিয়র পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদি।

    ৮ মে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে শুরু হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ-পাকিস্তান সিরিজের প্রথম টেস্ট। ম্যাচের আগ মুহূর্তে শাহিন জানান, দলের দৃষ্টি শুধু সিরিজ জেতা নয়, বরং দীর্ঘ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠা।

    শাহিন বলেন, ‘আমরা শুধু একটি সিরিজের কথা ভাবছি না, টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপকেও নজরে রেখেছি। লক্ষ্য কীভাবে ফাইনালে পৌঁছানো যায়, কীভাবে সেখানে খেলা যায়—এসব নিয়ে আমরা কাজ করছি। দল হিসেবে সবাই প্রস্তুত; আমাদের টেস্ট ক্রিকেটে সেরা ধাঁচে খেলতে হবে।’

    পাকিস্তান সাম্প্রতিককালে টেস্ট ফরম্যাটে ধারাবাহিক রেখে শীর্ষে উঠতে পারেনি—এই বাস্তবতাও তিনি ঢাকছেন না। পয়েন্ট টেবিলে ছয়, সাত কিংবা আট নম্বরে থাকা পাকিস্তানের মানের সঙ্গে যায় না, কথাগুলো সরাসরি উল্লেখ করেছেন তিনি। তিনি উর্দুতে বলেছেন, ‘নম্বরের দিক থেকে আমরা সন্তুষ্ট নই। সবাই জানে আমরা ছয়, সাত, আটে শেষ করছি—এটা ভালো লক্ষণ নয়। শেষ সিরিজে হয়তো কিছু ভালো খেলেছি, কিন্তু সেটাও আমাদের ২-০ ব্যবধানেই জেতা উচিত ছিল।’

    শাহিনের বক্তব্য, টেস্ট ক্রিকেটই পাকিস্তান ক্রিকেটের মূল ভরসা হওয়া উচিত। পাঁচ দিনের ক্রিকেটে যদি দল শক্তিশালী হয়, তার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতেও। তাই ফিটনেস ও লম্বা সময়ের জন্য মানসিক প্রস্তুতিকে বেশি গুরুত্ব দেবেন তারা।

    ড্রেসিংরুমেও একই বার্তা দিয়েছেন—প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ দলের সামনে টেস্টে উন্নতি করাকে বাকি দুই ফরম্যাটের ভিত্তি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। শাহিন বলছেন, ‘সরফরাজ ভাইও বলেছেন, যদি টেস্ট ক্রিকেটে আমরা ভালো করি, তাহলে ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টিও উন্নত হবে। আমরা সবার সঙ্গে একমত।’

    শাহিন নতুন করে প্রধান কোচ হিসেবে সরফরাজকে পাওয়ায় ইতিবাচক। সাম্প্রতিক সময়ে কোচিং স্ট্যাফে অসংখ্য পরিবর্তনের পর সাবেক অধিনায়ক সরফরাজের অভিজ্ঞতাকে দলের জন্য উপকারী হিসেবে দেখেন তিনি। ‘সরফরাজ ভাই খেলেছেন, অধিনায়কত্ব করেছেন—তিনি খেলোয়াড়দের কীভাবে ব্যবহার করতে হয় তা ভালোভাবে জানেন,’ যোগ করেছেন শাহিন।

    অতীতের ফলাফল নিয়ে বেশি মাথা ঘামাতে চান না তিনি। তার দৃষ্টি বর্তমানে এবং ভবিষ্যতের ওপর। ‘অতীত অতীতই। আমি ব্যক্তিগতভাবে অতীত মনে রাখতে চাই না। আমাদের লক্ষ্য বর্তমান ও ভবিষ্যৎ—কীভাবে নিজেদের প্রস্তুত করছি, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ,’ বলেছেন শাহিন।

    পাকিস্তান চাইছে দৃঢ় ও ধারাবাহিক টেস্ট ক্রিকেট তুলে ধরে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে জায়গা করে নেওয়া—এখন তাদের সামনে তাই একদলীয় মনোসংযোগ ও প্রস্তুতির সময়।

  • রুনা লায়লা নিজেই খণ্ডন করলেন নিজের মৃত্যুর গুজব

    রুনা লায়লা নিজেই খণ্ডন করলেন নিজের মৃত্যুর গুজব

    উপমহাদেশের বরেণ্য গণকণ্ঠ রুনা লায়লার মৃত্যু নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হঠাৎ ছড়িয়ে পড়া অদ্ভুত গুজব নিয়ে তিনি সরাসরি প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। ভক্ত-অনুরাগীদের আশ্বস্ত করে রুনা লায়লা জানিয়েছেন, তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ ও ভালো আছেন।

    বর্তমানে তিনি ভারতের দিল্লিতে ‘মিনার–ই–দিল্লি’ পুরস্কার গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে গেছেন। এই সময়ে দেশ-বিদেশে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ায় ব্যাপক বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ তৈরি হয়। বিষয়টি নজরে আসার পর তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট তুলে সত্যতা নিশ্চিত করেন এবং ভক্তদের ধোঁয়াশা দূর করেন।

    পোস্টে রুনা লায়লা লিখেছেন, ‘আমার প্রিয় ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের উদ্দেশ্যে — আমার মৃত্যু নিয়ে কিছু অদ্ভুত গুজব ছড়ানো হয়েছে। আমি পরিষ্কারভাবে জানাতে চাই, আমি বহাল তবিয়তে বেঁচে আছি।’ তিনি অনুরোধ করেন, এ ধরনের কোনো পোস্ট শেয়ার করার আগে তথ্য যাচাই করে নিন, কারণ এসব ভিত্তিহীন খবর তার এবং তার পরিবারের জন্য খুব কষ্টদায়ক।

    সংগীতজীবনে রুনা লায়লার নামবিশেষ প্রতিষ্ঠিত। ১৯৬৬ সালে উর্দু চলচ্চিত্র ‘হাম দোনো’র গায়কী ‘নাজরোঁ সে মোহাব্বত কা জো পয়গম মিল্যা’ দিয়ে তিনি আলোচনায় এসেছেন। ১৯৬০-এর দশকে নিয়মিত পাকিস্তান টেলিভিশনে পরিবেশন শুরু করেন এবং পরবর্তীকালে ‘ও মেরা বাবু চেল চাবিলা’ ও ‘দামা দম মাস্ত কালান্দার’ জাতীয় গানগুলো দিয়ে ভারতেও ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

    ভক্তদের মধ্যে এখন নীরব শ্বাস ফেলার প্রশান্তি ফিরে এসেছে, আর অনেকে তার দ্রুত সেবায় ও দীর্ঘায়ু কামনা করেছেন।

  • তামিলনাড়ুর ৪৯ বছরের রেকর্ডে ভাগ বসালেন থালাপতি বিজয়

    তামিলনাড়ুর ৪৯ বছরের রেকর্ডে ভাগ বসালেন থালাপতি বিজয়

    দক্ষিণ ভারতের চলচ্চিত্র তারকা থেকে রাজনীতিতে প্রবেশ করে মাত্র প্রথম নির্বাচনে নজির গড়েছেন জোসেফ ‘বিজয়’ চন্দ্রশেখর। এককভাবে বড় জয় না পেলেও তার নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক দল তামিলাগা ভেট্টরি কোঝাগাম (টিভিকে) এ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১০৮টি আসন জিতেছে—এভাবে ১৯৭৭ সালের এমজি রামাচন্দ্রানের পর আবার কোনও চলচ্চিত্র-তরকারার নেতা এত বড় রাজনৈতিক সাফল্যের পথে দাঁড়ালেন।

    তামিলনাড়ুর বিধানসভায় মোট আসন ২৩৪, এককভাবে সরকার গড়তে প্রয়োজন ১১৮টি। বিজয় নিজে নির্বাচনে জয়ী হয়েছে এবং টিভিকে ১০৮টি আসনে সাফল্য অর্জন করায় পার্লামেন্টের নিয়মে সরাসরি একক সরকার গড়া সম্ভব না হলেও জোট গঠন করে সরকার গঠনের চিত্র স্পষ্ট। এমন পরিস্থিতিতে জোট হলেও টিভিকেই নেতৃত্ব দিতে হবে এবং বিজয়ই তামিলনাড়ুর পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পথে সামনে আছেন বলে সদরগোল দেখা যাচ্ছে।

    এই ফলাফলের গুরুত্ব বোঝার জন্য ইতিহাসে ফিরে যেতে হবে। ১৯৭৭ সালে তামিল চলচ্চিত্রের সুপরিচিত সুপারস্টার এমজি রামাচন্দ্রান নির্বাচনে জিতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন—এটাই ছিল চলচ্চিত্র-থেকে রাজনীতিতে এসে শীর্ষ নির্বাহি পদে সুন্দর উদাহরণ। পরবর্তীকালে জয়া ললিতাও তৎকালীন এমজিআরের দল এআইএডিএমকে-র মাধ্যমে রাজনীতিতে উঠে মুখ্যমন্ত্রীর পদে আসেন, যদিও তিনি নিজে একটি সম্পূর্ণ নতুন দল গঠন করেননি।

    এরপর দীর্ঘ সময় কোনো অভিনেতা-অভিনেত্রী সেই উচ্চতা ছোঁয়াতে পারেননি। তাই বিজয়ের এই অর্জনকে অনেকেই এমজি রামাচন্দ্রানের সঙ্গে তুলনা করছেন—কারণ চলচ্চিত্র পটভূমি থেকে এসে নিজের দলের নেতৃত্বে বিধায়ক এবং সরকারের প্রধানত্বের পথে এগোচ্ছেন তিনি।

    বিজয়ের রাজনৈতিক পথ দীর্ঘসময় ধরে তৈরি। ২০০৯ সালের দিকে তিনি ভক্তদের সংগঠিত করতে শুরু করেন এবং বিভিন্ন ভক্ত গ্রুপকে এক করে গঠন করেছিলেন বিজয় মাক্কাল ইয়াক্কাম। ২০১১ থেকে ২০২০ পর্যন্ত এই সংগঠন ধারাবাহিকভাবে এমজিআর-নেতৃক এআইএডিএমকে-কে সমর্থন দিয়েছে। এরপর ২০২১ সালে সমর্থন প্রত্যাহার করে নিজেকে রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত করার কাজ শুরু করেন বিজয়।

    ২০২৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে তামিলাগা ভেট্টরি কোঝাগাম নামে নতুন দল গঠন করেন তিনি এবং সেই দলের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে এই নজিরবিহীন সাফল্য অর্জিত হলো। নতুন দলের পক্ষে ১০৮ আসন—এমন ফলাফল এক বছরেরও কম সময়ে গঠন হওয়া একটি দলের জন্য উল্কাপাতের মতো চমকপ্রদ।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এমজি রামাচন্দ্রানের মতো বিজয়ও ভক্তশ্রেণিকে কেবল তরফদার নয়, রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে গড়ে তুলেছেন—এটিই তাদের রাজনৈতিক শক্তির মূল ভিত্তি। এখন প্রশ্ন শুধু জোট গঠন করে সরকার প্রতিষ্ঠার: টিভিকে কাদের সঙ্গে জোট করবে এবং অভ্যন্তরীণ আলোচনার পর কারাই সরকার-নির্বাহী ম্যান্ডেট পাবে।

    তবে যে কোন সূত্রেই হোক, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক ইতিহাসে এমজি রামাচন্দ্রানের সঙ্গে একটি ৪৯ বছরের পুরনো ধারাবাহিকতায় নাম লেখাচ্ছেন। শপথ গ্রহণের অপেক্ষায় রয়েছেন বিজয়।

    সূত্র: এনডিটিভি

  • সরকারি বিভাগের ধীরগতি বিনিয়োগে প্রধান প্রতিবন্ধকতা: মির্জা ফখরুল

    সরকারি বিভাগের ধীরগতি বিনিয়োগে প্রধান প্রতিবন্ধকতা: মির্জা ফখরুল

    বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, সরকারের বিভিন্ন সরকারি বিভাগের ধীরগতিই এখন দেশের বিনিয়োগ পরিবেশে বড় একটি বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বুধবার (৬ মে) সকালে রাজধানীর বনানীতে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান কম্পাস আয়োজিত এক সংলাপ শেষে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারি আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে অনেক বিনিয়োগকারী হতাশ হচ্ছেন। এই জটিলতা দূর করে একটি সহজ ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ থাকা সরকারের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। তিনি পরিস্থিতি দ্রুত করার ওপর জোর দিয়ে বলেন, প্রশাসনিক বাধা খেলে বিনিয়োগ ধীরগতিতে আটকে পড়ে এবং দেশের উন্নয়ন কর্মসূচি পিছিয়ে যায়।

    রোহিঙ্গা ইস্যুতে সংলাপের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, এই বিষয়টি এখনো দেশের জন্য বড় একটি সমস্যা। সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন পর্যায়ে সংলাপ শুরু হয়েছে এবং সেই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানের দিকে এগোনোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি neighbouring countries–এর সঙ্গে সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখার গুরুত্বও উল্লেখ করেন এবং বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যার টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অপরিহার্য।

    দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি মন্তব্য করে বলেন, নির্বাচনের পর কিছু পরিবর্তন এসেছে, তথাপি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায় না। তবে তুলনামূলকভাবে পরিস্থিতি ইতিবাচক দিকে যাচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।

    জ্বালানি খাতেও বড় সংকট রয়েছে বলে মির্জা ফখরুল সতর্ক করেন এবং জানান, সরকার সেই সংকট মোকাবিলায় চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। গ্যাস উত্তোলন বাড়াতে আগামী তিন মাসের মধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরের নিরাপত্তা জোরদারের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

    মোটmil, তিনি প্রশাসনিক সংস্কার, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং নিরাপত্তা জোরদারের মাধ্যমে দেশকে বিনিয়োগবান্ধব ও স্থিতিশীল রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

  • মদনে শিশুধর্ষণ ও ন্যূনতম অন্তঃসত্ত্বা অভিযোগ: শিক্ষকে গৌরিপুর থেকে গ্রেপ্তার

    মদনে শিশুধর্ষণ ও ন্যূনতম অন্তঃসত্ত্বা অভিযোগ: শিক্ষকে গৌরিপুর থেকে গ্রেপ্তার

    নেত্রকোণার মদন উপজেলায় শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে এবং ওই ঘটনার পর শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত মাদরাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। বুধবার ভোর সোয়া ৪টার দিকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে র‌্যাব-১৪ একটি অভিযানিক দল তাকে আটক করে।

    গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম। তিনি জানান, র‌্যাব-১৪ (ময়মনসিংহ) তারেক লাগানো এক অভিযানে গৌরীপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। র‌্যাবের পক্ষ থেকে আসামিকে মদন থানায় হস্তান্তর করা হবে এবং হস্তান্তরের পর যত দ্রুত সম্ভব তাকে আদালতে পাঠানো হবে।

    ওসি তরিকুল ইসলাম আরও বলেন, ‘‘আসামিকে আমাদের হাতে পেলে যদি সময় থাকে আমরা আজকেই তাকে আদালতে পাঠাব, না হলে আগামীকালকে পাঠাতে হবে।’’

    র‌্যাব-১৪ এই চাপসৃষ্ট মামলার মূল আসামি গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিয়ে আজ দুপুর ১২টায় একটি প্রেস ব্রিফিং করবেন বলে জানা গেছে। তদন্তপ্রক্রিয়া ও পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বাকি তথ্য প্রয়োজনীয়তার সাথে জানানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।