Blog

  • মোংলা-বন্দর ও সুন্দরবন উপকূলে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া, টানা বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত

    মোংলা-বন্দর ও সুন্দরবন উপকূলে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া, টানা বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত

    বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ ও বৈশাখী মৌসুমি বায়ুর জোরে মোংলা সমুদ্রবন্দরসহ সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বিরাজ করছে। গত দুদিন ধরে চলা টানা মাঝারি ও ভারী বর্ষণের ফলেই উপকূলীয় জনপদে জীবনযাত্রা স্তব্ধের উপক্রম; সাগর উত্তাল ও দমকা হাওয়ায় পুণরায় ব্যবসা-বাণিজ্য ও জেলে-কালজারদের কাজ প্রায় বন্ধের পথে।

    বন্দর সূত্রে জানা যায়, হারবাড়িয়া ও ফেয়ারওয়ে এলাকায় থাকা বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে পণ্য খালাস ও পরিবহন প্রকৃতিই মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। প্রধানত সার, কয়লা ও সিমেন্ট ক্লিংকারবাহী জাহাজে কাজ বন্ধ বা বিলম্ব হচ্ছে; অনেক ক্ষেত্রে খাদ্যবাহী জাহাজেরও কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। বৃষ্টির ফলে পণ্যের ভেজে যাওয়ার আশঙ্কায় কার্গো বা লাইটার জাহাজে লোডিং-আনলোডিং থমকে যাচ্ছে, ফলে বন্দরের বাণিজ্যিক কাজ কাঁপছে।

    সুন্দরবন সংলগ্ন দুবলার চর, কানাইনগর ও জয়মনি এলাকায় ছলনা জেলে ও চরাঞ্চলের মানুষ জানিয়েছেন, সাগর উত্তাল হওয়ায় এবং ভারী বৃষ্টির কারণে তারা নদীতে জাল ফেলতে পারছেন না। বনভিত্তিক কার্যক্রমেও খণ্ডকালীন বিঘ্ন: গোলপাতা সংগ্রহকারী বাওয়ালি ও মৌয়ালরা বন থেকে বের হতে পারছেন না, ফলে তাদের আয়ের উৎসও ব্যাহত হয়েছে।

    টানা বৃষ্টির প্রভাবে মোংলা পৌরসভার নিম্নাঞ্চলগুলোতে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। অপর্যাপ্ত ড্রেনেজের কারণে রাস্তাঘাটে পানি জমে সাধারণ মানুষের চলাচলে ব্যাপক কষ্ট হচ্ছে; দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষদের কাজের সন্ধানও মিলছে না, যা এলাকায় সামাজিক ও অর্থনৈতিক কষ্ট বাড়িয়েছে।

    আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, উপকূলে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে; তাই মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। অধিদফতর ও বন্দর কর্তৃপক্ষ সাগর এলাকায় থাকা সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করার পরামর্শ দিয়েছেন।

    মৎস্যচাষিরা জানান, যদি টানা বৃষ্টি চালিয়ে যায় তবে চিংড়ি ঘের ডুবি কিংবা ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি সুন্দরবন সংলগ্ন বেড়িবাঁধগুলোর স্থায়িত্ব নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পশুর নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বাড়ায় চরাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

    মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমী জানান, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সহায়তা প্রদান করার ব্যবস্থাও রয়েছ। বন্দর কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক মোঃ মাকরুজ্জামান বলেন, হারবাড়িয়ায় সার, কয়লা ও ক্লিঙ্কারসহ বেশ কয়েকটি জাহাজ পণ্য খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে; বৃষ্টি ও খারাপ আবহাওয়া শিথিল হলে বন্দরের কাজ পুনরায় স্বাভাবিকভাবে শুরু হবে।

    আবহাওয়া ও সমুদ্রসতর্কতা মিলে স্থানীয়দের সচেতন থাকার উপদেশ দিয়েছেন। নিরাপদ স্থানে অবস্থান, প্রয়োজন ছাড়া নয়েজান করা এবং মৎস্যজীবী ও পর্যটনসংক্রান্ত নৌযানগুলোকে অনতিবিলম্বে উপকূলীয় নিরাপদ এলাকায় অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • নড়াইলে ক্লাস চলাকালে শ্রেণিকক্ষের ওপর নারিকেল গাছ ভেঙে পড়ে, দুই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত

    নড়াইলে ক্লাস চলাকালে শ্রেণিকক্ষের ওপর নারিকেল গাছ ভেঙে পড়ে, দুই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত

    নড়াইলের কালিয়া পৌরসভার শামসুন্নাহার কিন্ডারগার্টেন বিদ্যালয়ে বুধবার সকালে ক্লাস চলাকালীন সময়ে বিদ্যালয়ের পাশে থাকা একটি পুরনো নারিকেল গাছ ঝড়ে ভেঙে শ্রেণিকক্ষের ওপর পড়ে দুই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাটি ঘটেছে ২৯ এপ্রিল বুধবার সকাল প্রায় ১০টার দিকে ছোট কালিয়া এলাকায়।

    আহতদের মধ্যে এক জন সিয়াম শেখ (১১), তিনি ছোট কালিয়া গ্রামের নুর জামালের ছেলে। অপরটি মাজেদুল ইসলাম (৯), তিনি রামনগর গ্রামের জহির শেখের ছেলে। স্থানীয়রা জানান, হঠাৎ করে তীব্র ঝড়ো হাওয়া শুরু হলে বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণের পাশে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা পুরনো নারিকেল গাছটি ভেঙে পড়ে নিচে থাকা টিনের শ্রেণিকক্ষের ওপর। এতে ক্লাসে থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায় এবং দুই শিশুকে গুরুতর অবস্থায় আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

    স্থানীয়রা আহত শিশুদের দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর সিয়াম শেখের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

    ঘটনার পরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে কর্তৃপক্ষ আহতদের দ্রুত তত্ত্বাবধান ও চিকিৎসার নির্দেশ দেন।

    অভিভাবক ও এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে ওই নারিকেল গাছটি ঝুঁকিপূর্ণ থাকার পরও স্কুল কর্তৃপক্ষ গাছটি ছাঁটাই বা অপসারণ করেনি, এ কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। দায়িত্বশীলদের গাফিলতির অবাধ্যতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন ধাঁচা রিযায়েতরা। শামসুন্নাহার কিন্ডারগার্টেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ নিয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেনি বলে এলাকাবাসী জানান।

    কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিন্নাতুল ইসলাম জানান, আহতদের চিকিৎসার বিষয়টি নিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং আহতদের চিকিৎসা ব্যয় স্কুল কর্তৃপক্ষকে বহন করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে স্কুলের সকল কাগজপত্র তলব করা হয়েছে; কোনো গাফিলতি প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

  • শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের প্রেসিডেন্ট শাম্মি সিলভা পদত্যাগ করলেন

    শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের প্রেসিডেন্ট শাম্মি সিলভা পদত্যাগ করলেন

    বুধবার শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি) অপ্রত্যাশিতভাবে একটি বড় পরিবর্তনের মুখে পড়ল — প্রেসিডেন্ট শাম্মি সিলভা ও কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। একদিন আগে বিশেষ এক কমিটির বৈঠকে এই পদত্যাগকে অনুমোদন করা হয়।

    জানানো হয়েছে, দেশের প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিশানায়েকের অনুরোধে সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক চাপ মেটাতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বোর্ডের ওপর জনরোষ বাড়া ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে গত শুক্রবার প্রেসিডেন্ট দিশানায়েকের সঙ্গে শাম্মি সিলভার বৈঠক হয়; তাতেই এই সৌহার্দ্যপূর্ণ বিদায়ের রূপরেখা তৈরি হয় বলে জানা গেছে।

    সরকার এখন এক অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি নিয়োগের পরিকল্পনা করছে। এই কমিটির নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য সাবেক সংসদ সদস্য ইরান বিক্রেমারত্নের নাম সবচেয়ে জোরালভাবে আলোচনায় আছে। দ্রুত সংস্কার ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে সাবেক ক্রিকেটার সিদাথ ওয়েটিমুনি এবং রোশন মহানামাকেও নতুন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার সম্ভাবনা প্রকাশ পেয়েছে; তবে এ সম্পর্কে এখনও কোন আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

    এসএলসি তাদের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে শাম্মি সিলভা আজ থেকে কার্যকরভাবে তার পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন এবং কার্যনির্বাহী কমিটির অন্যান্য সদস্যরাও পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিশানায়েকে ও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী সুনীল কুমার গামাগেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।

    শাম্মি সিলভা ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন; তিনি থিলাঙ্গা সুমাথিপালার উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং চারটিই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রথম দিকে সুমাথিপালার অনুসারী হিসেবে দেখা গেলেও পরে নিজের অবস্থান শক্ত করেন—তার চারটি মেয়াদের তিনটিতেই তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী ছাড়াই জয়ী হয়েছিলেন।

    তার শাসনামলে শ্রীলঙ্কা পুরুষ ও নারী দল এশিয়া কাপ উপাধি নিশ্চিত করলেও বড় কোনো বিশ্বমঞ্চে ধারাবাহিক সাফল্য মেলেনি; র‍্যাঙ্কিংয়ে অবনতি এবং ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে নবম স্থান ও ২০২৪ ও ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হতাশাজনক পারফরম্যান্স বিশেষভাবে চিহ্নিত করা হয়। এমনকি গ্যারি কার্স্টেনকে প্রধান কোচ নিযুক্ত করলেও বোর্ডের নেতৃত্ব বদলের দাবিতে সিলভার প্রতি চাপ কমেনি।

    সিলভা প্রায়ই বোর্ডের শক্ত আর্থিক অবস্থার কথা বলেছেন, কিন্তু তার রাষ্ট্রকাল ধরেই দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। ২০২৩ সালের শেষ ভাগে বিষয়টি তীব্র আকার ধারণ করে, যখন তৎকালীন ক্রীড়া মন্ত্রী রোশন রানাসিংহে অডিটের রিপোর্টের ভিত্তিতে বোর্ড ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করেন। ওই সময় সিলভাকে বরখাস্ত করা হয়েছিল, কিন্তু আপিল আদালতের রায়ে তিনি দ্রুতই স্বপদে ফিরে আসেন—এই সংঘাতটি মন্ত্রী ও বোর্ডের মধ্যে তীব্র দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করে এবং শেষ পর্যন্ত রানাসিংহের পদত্যাগের পথ প্রশস্ত করে।

    বর্তমান পদত্যাগ প্রক্রিয়া এবং ইরান বিক্রেমারত্নের সম্ভাব্য নিয়োগ কিছু আইনি অসুবিধার মুখে পড়েছে। এসএলসি-র সংবিধান অনুযায়ী কোনো শীর্ষ পদ শূন্য হলে কার্যনির্বাহী কমিটিকে একজন ভাইস-চেয়ারম্যানকে শীর্ষে নিয়োগ দিতে হয়; কিন্তু ভাইস-প্রেসিডেন্ট জয়ন্ত ধর্মাদাসাও পদত্যাগ করায় সেই স্বাভাবিক ক్రమবিকাশ জটিল হয়ে উঠেছে। বোর্ড এখন ১৯৭৩ সালের স্পোর্টস আইন (আইন নং ২৫) এর ৩৩ নম্বর ধারাকে নির্ভরযোগ্য পথ হিসেবে তুলে ধরছে যাতে নিয়মের বাইরে গিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

    সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সরকারী হস্তক্ষেপ-প্রতি কঠোর মনোভাব। আইসিসি যেকোনো সরকার কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত বা অন্তর্বর্তীকালীন কমিটিকে ২.৪(d) অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন হিসেবে দেখে। এমনটি ঘটলে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ হতে পারে—গত রাতে ২০২৩ সালের নভেম্বরে যখন বোর্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছিল, তখনই আইসিসি শ্রীলঙ্কার সদস্যপদ স্থগিত করেছিল, যার ফলে দেশটি তহবিল থেকে বঞ্চিত হয়েছিল ও অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ভেন্যু বদলাতে হয়েছিল।

    সরকার এই ঘটনাকে আইসিসির নজর এড়াতে কৌশলগতভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছে—বোর্ডকে সরাসরি বরখাস্ত না করে ‘‘স্বেচ্ছায় পদত্যাগ’’ হিসেবে দেখানো যাতে এটি প্রশাসনিক পরিবর্তন হিসেবে গণ্য হয়। তবে যদি আইসিসি মনে করে যে পদত্যাগগুলো সরকারের চাপ বা দখলের ফলাফল, তাহলে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট আবারও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে। এখন সময়—প্রতিষ্ঠান ও সরকারের পক্ষ থেকে কী পথে এগোয়া হবে এবং আইসিসির প্রতিক্রিয়া কিরূপ হবে—এসবই নির্ধারণ করবে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের নিকট ভবিষ্যৎ।

  • পিএসএল ফাইনালে পেশোয়ারের হয়ে খেলবেন নাহিদ রানা

    পিএসএল ফাইনালে পেশোয়ারের হয়ে খেলবেন নাহিদ রানা

    দ্রুতগতির বোলিংয়ে প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের নাভিশ্বাস তোলা নাহিদ রানা এবার পিএসএলের ফাইনালে পেশোয়ার জালমির জার্সি গায়বেন। আগামী মাসে ঘরোয়া মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট সিরিজের প্রস্তুতির কথা মাথায় রেখে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাকে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ থেকে বিশ্রাম দিয়েছিল এবং পিএসএলের বাকি ম্যাচগুলোর জন্য প্রথমে এনওসি দেয়নি। তবু পেশোয়ার জালমির আকুল অনেসনের পর বিশেষ অনুমতি মেলে যে তিনি ফাইনালে খেলতে পারবেন।

    পেশোয়ার জালমির মালিক জাভেদ আফ্রিদি নিজের এক্স (টুইটার) অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, “পিএসএলের ফাইনালে নাহিদ রানাকে খেলার অনুমতি দেওয়ার জন্য তামিম ভাইকে ধন্যবাদ।” তিনি বিসিবি প্রেসিডেন্ট তামিম ইকবালের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে এই অনুমতি নিশ্চিত হওয়ার কথা জানান।

    গত আসরে পেশোয়ারের স্কোয়াডে থাকলেও সুযোগ না পাওয়া নাহিদকে এবারের নিলামে ৬০ লাখ রুপিতে দলে ভেড়ায় ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। চলতি মরসুমেই পিএসএলে অভিষেক হওয়ার পর সুযোগ পেয়ে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেছেন তরুণ পেসার।

    এই মৌসুমে পাঁচ ম্যাচে সাত উইকেট নিয়েছেন নাহিদ; ওভারপ্রতি রান তিনি দিয়েছেন মাত্র ৫.৪২। সবচেয়ে স্মরণীয় পারফরম্যান্স এসেছে করাচি কিংসের বিপক্ষে—মাত্র ৭ রান খরচায় তিনি তিন উইকেট তুলে নিয়েছিলেন। গতিময় বোলিং, নির্ভুল লাইন-লেংথ এবং চাপ সৃষ্টি করার ক্ষমতা নিয়ে তিনি দ্রুতই পেশোয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রে পরিণত হয়েছে।

    পেশোয়ার জালমি কোয়ালিফায়ারে ইসলামাবাদ ইউনাইটেডকে ৭০ রানে হারিয়ে ফাইনালে উঠে এসেছে। এবারের পিএসএলের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৩ মে; প্রতিপক্ষ হবে মুলতান সুলতান্স, হায়দরাবাদ কিংসম্যান অথবা ইসলামাবাদ ইউনাইটেড—যেকোনো একটি দল।

    নাহিদের ফাইনালে অন্তর্ভুক্তি পেশোয়ার জালের পেস আক্রমণে শক্তি যোগ করবে এবং ফাইনালে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট দেখতে পাবেন ভক্তরা।

  • পাপারাজ্জিদের ওপর রেগে গেলেন কারিশমা কাপুর, দিলেন কড়া সতর্কবার্তা

    পাপারাজ্জিদের ওপর রেগে গেলেন কারিশমা কাপুর, দিলেন কড়া সতর্কবার্তা

    জীবনশৈলীকে ঘিরে সেলিব্রিটিদের প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহ নতুন কিছু নয়। এই আগ্রহের পেছনে ঘিরে বসে থাকেন সংবাদমাধ্যমের আলোকচিত্রীরাই, যাদের সাধারণত পাপারাজ্জি বলা হয়। সম্প্রতি এমনই এক পরিস্থিতিতে পাপারাজ্জিদের কায়দায়র দিকে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন বলিউড অভিনেত্রী কারিশমা কাপুর।

    ঘটনাটি ঘটে ‘India’s Best Dancer – Season 5’ শোয়ের সেটে, যেখানে কারিশমা বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন — তার সঙ্গে আছেন গীতা কাপুর, টেরেন্স লুইস এবং জাভেদ জাফরি। শুটিংয়ের আগে অংশগ্রহণকারীরা ও বিচারকরা আলোকচিত্রীদের সামনে পোজ দেন। কিন্তু সেটেই পেছন থেকে জুম করে ছবি তোলা শুরু হলে কারিশমা অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

    ক্যামেরাম্যানদের দিকে রুপরেখা বদলাতে বলতে তিনি বলেন, “বেশি জুম করবেন না। আপনাদের অনেকে খুবই খারাপভাবে ছবি তুলতে চান।” এই আচরণকে তিনি ‘অসুস্থ’ মনমানসিকতা হিসেবে অভিহিত করেছেন। ভিডিওতে দেখা যায়, কথাগুলো বলার সময় কারিশমার চেহারায় উত্তেজনা ও রাগ স্পষ্ট ছিল।

    কারিশমা যে কড়া বার্তা দিয়েছেন, তার ভিডিও এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়েছে এবং নেটিজেনদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে। অনেকে তার এই সতর্কতাকে সমর্থন জানাচ্ছেন। উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে সিড ও কিয়ারা নামে দুই তারকার অনুষ্ঠানের সময়ও পাপারাজ্জিদের অনীহাপূর্ণ জুমিং নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল—তখনও বিভিন্ন ক্লিপ ভাইরাল হয়েছিল।

    দীর্ঘ সময় ধরে ভারতীয় চলচ্চিত্রে অবদান রেখে আসা একজন অভিনেত্রীর এই সতর্কতামূলক অবস্থান অনেকেই প্রশংসা করছেন। কারিশমার মতো পরিচিত মুখরা যখন ব্যক্তিগত সীমানা ও নিরাপত্তার ব্যাপারে চোখ-খোলা বার্তা দেন, তা মিডিয়া ও দর্শকদের আচরণে পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখতে পারে।

  • রাশমিকা মান্দানা ফের টোকিওর গ্লোবাল অ্যানিমে অ্যাওয়ার্ডসে

    রাশমিকা মান্দানা ফের টোকিওর গ্লোবাল অ্যানিমে অ্যাওয়ার্ডসে

    জনপ্রিয় অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানা আবারও আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের নাম উজ্জ্বল করতে যাচ্ছেন। আগামী ২৩ মে জাপানের টোকিওতে অনুষ্ঠিতব্য ১০তম ‘গ্লোবাল অ্যানিমে অ্যাওয়ার্ডস’-এ তিনি সঞ্চালক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। আগেও ২০২৪ সালে প্রথম ভারতীয় হিসেবে এই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি ইতিহাস গড়েছিলেন।

    এবারের আসরের আরও বড় আকর্ষণ হিসেবে থাকছে বিশ্বখ্যাত সংগীতশিল্পী আবেল টেসফায়ে, যিনি ‘দ্য উইকেন্ড’ নামে পরিচিত। রাশমিকা ও আবেলের উপস্থিতি এই ইভেন্টকে আন্তর্জাতিকভাবে অধিক মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু করে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    ব্যক্তিগত জীবনেও রাশমিকার আনন্দটা আছে—সম্প্রতি দীর্ঘদিনের প্রেমিক বিজয় দেবরকোন্ডার সঙ্গে তিনি বিয়ে করেছেন এবং হানিমুন শেষ করে এখন কাজে ফিরেছেন। কাজে ফেরার পর তাকে সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল ‘দ্য গার্লফ্রেন্ড’ ছবিতে।

    পেশাগতভাবে রাশমিকার হাতে বর্তমানে একগুচ্ছ প্রকল্প রয়েছে। আগামী ১৯ জুন মুক্তি পাচ্ছে তার নতুন হিন্দি ছবি ‘ককটেল টু’, যেখানে তার বিপরীতে অভিনয় করেছেন শাহিদ কাপুর এবং ছবিতে কৃতি শ্যাননও আছেন। এছাড়া চলতি বছর মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে তার দুই তেলেগু ছবি—’মাইসা’ ও ‘রণবালী’। বিশেষত ‘রণবালী’ নিয়ে ভক্তদের মধ্যে উচ্ছ্বাস বেশি, কারণ তাতে তিনি অভিনয় করেছেন নিজের স্বামী বিজয় দেবরকোন্ডার বিপরীতে।

    রাশমিকার আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রত্যাবর্তন এবং একাধিক প্রজেক্টের ব্যস্ত সময়সূচি দেখে আশা করা যাচ্ছে, তিনি আগামীদিনেও ভারতীয় সিনেমা ও সংস্কৃতির সঙ্গে বিশ্বব্যাপী মানুষের সংযোগ বাড়িয়ে দেবেন।

  • নিউ মার্কেট এলাকায় গুলিতে শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম ‘টিটন’ নিহত

    নিউ মার্কেট এলাকায় গুলিতে শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম ‘টিটন’ নিহত

    রাজধানীর নিউ মার্কেট এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে খন্দকার নাঈম আহমেদ (৩৮), পরিচিত নাম টিটন, নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বটতলা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে; সময়টি বিভিন্ন সূত্রে ৭টা৫০ মিনিট থেকে ৮টা পর্যন্ত বলা হচ্ছে।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও উদ্ধারকারীরা জানায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহনেওয়াজ হলের সামনে বটতলা সড়কে সন্ধ্যার দিকে দুটি মোটরসাইকেলে করে দুই ব্যক্তি এসে টিটনকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি রাস্তার মধ্যে লুটিয়ে পড়েন। আশপাশের কয়েকজন এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা পালানোর সময় লোকজনকে ভীত দেখাতে আরও কয়েকটি গুলি করে। দুইজনই ক্যাপ ও মাস্ক পরিধান করছিলেন।

    ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়, বলে জানান উদ্ধারকারীর মধ্যে থাকা একজন শিক্ষার্থী মো. মেজবাহ রহমান। তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    নিহতকে ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি রাজধানীর হাজারীবাগ জিগাতলা এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, টিটনকে তারা ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ হিসেবে শনাক্ত করেছেন এবং তাঁর সানজিদুল ইসলাম उরফে ইমন নামে পরিচিত এক সন্ত্রাসীর শ্যালক ছিলেন।

    নিউ মার্কেট থানা ইনচার্জ মো. আইয়ুব জানান, রাত আনুমানিক ৮টার দিকে নিউ মার্কেটের পাশে বটতলায় একজনকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রচুর রক্ত লক্ষ্য করা গেছে।

    ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার মাসুদ আলম বলেন, বিভিন্ন সূত্রের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী নিহত ব্যক্তি শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটন বলে আমরা জানতে পেরেছি; বিষয়টি আরও নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

    পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, কিছু বছর আগে এক আন্দোলনের পর টিটনসহ তালিকাভুক্ত কয়েকজন সন্ত্রাসী কারাগার থেকে মুক্তি পান এবং এরপর থেকে টিটন আদালতে হাজিরা দেননি। তথ্য অনুযায়ী, ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় প্রকাশিত ২৩ জন ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ তালিকায় টিটনের নাম ছিল দ্বিতীয় স্থানে। তার সম্পর্কিত একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সদস্য ছিলেন সানজিদুল ইসলাম ইমন; তারা মোহাম্মদপুরভিত্তিক হারিছ-জোসেফ গোষ্ঠীর সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। টিটনের কর্মকাণ্ড প্রধানত ধানমণ্ডি ও হাজারীবাগ এলাকা কেন্দ্রে ছিল।

    পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ ও মোবাইল কল ডেটা সংগ্রহ করে তদন্ত আরও গভীর করছে।

  • এনসিপি নেতা সারজিস আলম হঠাৎ অসুস্থ হয়ে ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি

    এনসিপি নেতা সারজিস আলম হঠাৎ অসুস্থ হয়ে ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান সারজিস আলম হঠাৎ অসুস্থ হয়ে ঢাকার ধানমন্ডির ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেল পৌনে তিনটায় তিনি আচমকা পেটব্যথা অনুভব করলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে সেখানে তার চিকিৎসা চলছে। বিষয়টি সারজিস আলমের ছোট ভাই সাহাদাত হোসেন সাকিব নিশ্চিত করেছেন। সাহাদাত ভাইয়ের সুস্থতা কামনায় সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন।

  • জামায়াত আমির শফিকুর রহমানের অভিযোগ: বিএনপি ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে

    জামায়াত আমির শফিকুর রহমানের অভিযোগ: বিএনপি ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে

    সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শনিবার (২৫ এপ্রিল) জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত সমাবেশে আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিএনপি পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটা শুরু করেছে। তিনি দলটিকে জাতির কাছে প্রতারণার অভিযোগ এনে কঠোর সমালোচনা করেন।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এক সময় আমরা বিএনপির সঙ্গে একই কাতারে মজলুম ছিলাম, কিন্তু এখন তারা আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে মিলেজুলে কাজ করে সেই দুর্বৃত্তরাজ্যকেই পুনরায় প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, বিএনপি কখনই আওয়ামী লীগ হবে না; তারা কেবল দুর্বল আওয়ামী লীগ হওয়ার চেষ্টা করতে পারে।

    জামায়াত আমির আরও বলেন, যে সময়ে আওয়ামী লীগ পোষ্য লাঠিয়াল বাহিনী ও সহিংস দলবল দিয়ে সমাজে কর্তৃত্ব কায়েম করেছিল, তখন কেউ তাদের পাশে দাঁড়ায়নি; আজ বিএনপি ঠিক সেই পথটাই অনুসরণ করছে।

    তিনি অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার, সুশাসন ও সত্যিকারের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার প্রতিটি উদ্যোগে বিএনপি বাধা দেয়—এটি জাতির সঙ্গে স্পষ্ট প্রতারণা। তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি তাদের নিজের ইশতেহারে থাকা ৩১ দফা কর্মসূচির বিরোধিতা করছে এবং এমন আচরণে তারা বুদ্ধিগত দিক থেকেও হারিয়েছে বলে মন্তব্য করেন।

    ডা. শফিকুর রহমান স্বাধীনতা আন্দোলনের শহীদ ও তাদের পরিবারদের ত্যাগহীন অবদানও স্মরণ করান। তিনি বলেন, যদি জুলাইয়ের ত্যাগ না থাকত, বহু সন্তান-স্বামী-ভাই-বোন জীবন দেয়নি, আজকের ঘটনাগুলো ঘটত না। শহীদ পরিবারের প্রতি কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও তাদের প্রতি সহানুভূতির অভাবের তীব্র নিন্দা করেন তিনি।

    একটি ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণে তিনি বলেন, বিপ্লব না হলে যারা বিদেশে ছিলেন, দেশে ফেরার স্বপ্নও দেখতেন না। জেলবন্ধু সহকর্মীদের সঙ্গে কথোপকথনের স্মৃতি তুলে ধরে তিনি প্রশ্ন করেন, কীভাবে কেউ এই ঐতিহাসিক ঘটনার গুরুত্ব ভুলে যেতে পারে এবং বিভিন্ন আন্দোলনের পেছনে মিথ্যা ‘মাস্টারমাইন্ড’ দাবি করে তা ছোট করে দেখায়।

    ডা. শফিকুর রহমান বঙ্গবন্ধু যুগের ত্যাগীদের সম্মান বLRয় করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আন্দোলনে ছাত্র-যুব, শ্রমিক, মায়েরা, স্ত্রী-সন্তানের সকল শ্রেণি অংশ নিয়েছিল—তাদের ত্যাগ ভুলে যাওয়া ঠিক নয়। তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহিংসতা বন্ধ করতে হবে; ছাত্র-ছাত্ৰীর হাতে দা-কুড়াল নয়, খাতা-কলম দেখতে চান জামায়াত।

    সংসদীয় সংস্কারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জামায়াত প্রথম দিন থেকেই সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি তুলেছে এবং শপথ নিয়েছে; অন্য পক্ষ শপথ না করে প্রতারণা করেছে। তিনি আশঙ্কা করেন যে, যদি আইন ও সংবিধানগত সংশোধন না হয়, তাহলে পুরনো স্বৈরাচারী ব্যবস্থাই থিতু থাকবে।

    শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন স্থানে—শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ—ছাত্র সংগঠনের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে, এমনকি আইন-আশ্রয় নেয়ার জন্য থানায় গেলে সেখানে আক্রান্ত করা হয়েছে। তিনি এটিকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে আঘাত হিসেবে আখ্যা দেন।

    তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিএনপি গণভোটের রায়কে অস্বীকার করে ফ্যাসিবাদের পথে পা বাড়িয়েছে এবং এই পরিস্থিতি তিনি মেনে নেবেন না। তিনি এবঙ আওয়ামী নেতৃত্বকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন—একটি নিরাপদ বাংলাদেশ চান যেখানে নারীরা ও শিশুরা নির্ভয়ে ঘোরাফেরা করতে পারবে। যারা গণভোটে ৭০ শতাংশের বেশি সমর্থন পেয়েছে, তাদের রায়কে সম্মান জানাতে হবে; না হলে তাদের লড়াই সংসদে ও খোলা মাঠে অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ।

  • সারাদেশে নির্বাচন-প্রস্তুতি নিতে তরুণদের আহ্বান, এনসিপিই সমর্থন করবে: নাহিদ ইসলাম

    সারাদেশে নির্বাচন-প্রস্তুতি নিতে তরুণদের আহ্বান, এনসিপিই সমর্থন করবে: নাহিদ ইসলাম

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন যে ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করছে। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি তরুণদের উদ্দেশ্য করে বলেছেন, “আপনারা সারাদেশে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন। এনসিপি আপনাদের সমর্থন জানাবে।”

    অনুষ্ঠানটিতে বিএনপি’র বহিষ্কৃত নেতা ইসহাক সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগ দেন। এছাড়া শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতনি ফেরসামিন হক ইকবাল (ফ্লোরা), কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও রেলের অনিয়ম নিয়ে আন্দোলনকারী মহিউদ্দিন রনিকে দলীয়ভাবে গ্রহণ করা হয়। ফেরসামিন বিদেশে থাকায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থাকতে পারেননি; বাকিরা মঞ্চে অনাবৃত্তভাবে অংশ নেন এবং নাম ঘোষণা শেষে তাদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়।

    বক্তৃতায় নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, “জাতীয় নির্বাচন হয়ে সরকার গঠনের পর নির্বাচিত সরকার গণভোটকে অস্বীকার করেছে। তারা ওই নির্বাচনের সঙ্গে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের উত্তরাধিকারকে বিচ্ছিন্ন করে এটিকে একটি সাধারণ ক্ষমতার হস্তান্তরের নির্বাচন বানিয়ে দিয়েছে।” তিনি দাবি করেন যে সংবিধান সংশোধনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার সম্পর্কিত অধ্যাদেশগুলো একে একে বাতিল করা হচ্ছে এবং ব্যাংক লুটারদের জন্য সুযোগ তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো নানাভাবে দলীয়করণ করা হচ্ছে বলে নাহিদ অভিযোগ করেন।

    বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও পেশিশক্তি ও ক্ষমতার রাজনীতি পুনরায় প্রসারে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদ বা কোনো স্বৈরশাসন পুনরায় প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হলে জনগণ আবারও সংগঠিত হবে। এনসিপির ছায়াতলেই মানুষ ঐক্যবদ্ধ হবে—এটাই আমরা ধীরে ধীরে পাচ্ছি। সারাদেশ থেকে আমাদের অভূতপূর্ব সাড়া আসছে।”

    এনসিপি সারাদেশে কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন জানিয়ে নাহিদ বলেন, “প্রতি সপ্তাহেই আমাদের যোগদান কর্মসূচি হবে। আমরা রাজনীতিসচেতন মানুষ ও তরুণদের আহ্বান জানাচ্ছি—এই দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমাদের সবার দায়িত্ব আছে। যারা রাজনীতি করতে চান, পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেন, তারা ঐক্যবদ্ধ হোন। এনসিপি আপনাদের ধারণ করে সামনের দিকে এগোতে চায়।”

    বর্তমান সরকারের কর্মদক্ষতা নিয়ে গম্ভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে নাহিদ বলেন, “সরকার ক্রমান্বয়ে ব্যর্থতার দিকে যাচ্ছে। অর্থনীতি টালমাটাল, দেশের গণতন্ত্র নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে জনগণের পাশে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়ানো ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই। আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি, ইনশাআল্লাহ।”