Blog

  • মমতার তৃণমূল: বিধানসভার নেতৃত্বে ব্যাপক রদবদল

    মমতার তৃণমূল: বিধানসভার নেতৃত্বে ব্যাপক রদবদল

    পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গঠন হওয়ার পরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস বিধানসভার নেতৃত্ব ও প্রশাসনিক স্তরে বড় ধরনের রদবদল এনেছে। দল বলছে, এই ধাঁচের পরিবর্তন মূলত পরিষদীয় দলকে শক্ত করে আরও সংগঠিত ও আক্রমণাত্মক বিরোধী ভূমিকা পালনের জন্য নেওয়া হয়েছে।

    দলের সূত্র এবং কয়েকটি ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, ভবিষ্যতে বিধানসভায় সুচিন্তিত মর্যাদা ও কৌশলে লড়াই চালাতে অভিজ্ঞ নেতাদের উপর নজর রাখা হয়েছে। সেই কারণে বিরোধী দলের গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য নতুন দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

    ১৮তম পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার পদে নাম ঘোষণা করা হয়েছে দলীয় শীর্ষস্থানীয় নেতা ও সাবেক কৃষিমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে। বিরোধী ডেপুটি লিডার হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে অসীমা পাত্র ও নয়না চট্টোপাধ্যায়কে। বিধানসভার চিফ হুইপের দায়িত্ব সামলাবেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম।

    এছাড়া সরকারি কর্মচারী সংক্রান্ত কিছু বদলি-ক্রমও করা হয়েছে। রাজ্য সরকারি কর্মচারী ফেডারেশনের আহ্বায়ক প্রতাপ নায়েককে দার্জিলিং জেলায় বদলি করে বিজনবাড়ি অঞ্চলের পাল বাজার বিডিও অফিসে পাঠানো হয়েছে। তিনি আগে মুখ্যমন্ত্রী দফতরের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের অধীনে কর্মরত ছিলেন।

    গত ৪ মে ঘোষিত বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী, ২৯৩টি আসনের মধ্যে বিজেপি ২০৭টি আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস মাত্র ৮০টি আসনে সীমাবদ্ধ থেকে এবার বিরোধী দলের ভূমিকায় নেমেছে। দল সূত্রে বলা হচ্ছে, নতুন রদবদলের মাধ্যমে তারা দ্রুত নিজেদের পুনর্গঠন করে পরবর্তী রাজনৈতিক লড়াইকে আরও কার্যকরভাবে মোকাবিলা করার পরিকল্পনা করছে।

  • লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় একদিনে ৩৯ নিহত

    লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় একদিনে ৩৯ নিহত

    দক্ষিণ লেবানে ইসরায়েলের তীব্র বিমান হামলায় একদিনে আরও ৩৯ জন নিহত হয়েছেন, জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। নিহতদের মধ্যে শিশু রয়েছে এবং হামলায় অনেকে আহত হয়েছেন।

    সাকসাকিয়েহ শহরে চালানো এক আঘাতে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ওই হামলায় একটি মেয়ে শিশু নিহত এবং ১৫ জন আহত হন; আহতদের মধ্যে তিনজন শিশু রয়েছেন।

    ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, তারা হিজবুল্লাহর সদস্য ও তাদের যোগাযোগ স্থাপনকারী অবকাঠামোকে লক্ষ্যে করে ঐ এলাকায় হামলা চালিয়েছে। আইডিএফ বলেছে, বেসামরিক ক্ষতি কম রাখতে নির্ভুল অস্ত্র ও আকাশপথে নজরদারি ব্যবহার করা হয়েছে।

    শুক্রবারের ওই হামলার পর শনিবার দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় সরকারি বার্তা সংস্থা এনএনএ নতুন করে আরও হামলার খবর জানিয়েছে।

    নাবাতিয়েহ এলাকার একটি মোটরসাইকেল হামলায় একজন সিরীয় নাগরিক নিহত হন এবং তাঁর ১২ বছর বয়সী মেয়ে আহত হন বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। তারা জানিয়েছে, প্রথম হামলার পর পরিবারটি সরে যেতে গেলে পুনরায় ড্রোন হামলা করে বাবা নিহত হন এবং পরে তৃতীয় দফায় মেয়েটিকেও লক্ষ্য করা হয়; মেয়েটির অস্ত্রোপচার চলছে।

    অন্যদিকে, হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলেছে, ওই হামলায় তিনজন সেনা আহত হয়েছেন, যাদের একজনের অবস্থা গুরুতর।

    স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় ১২০ জনের বেশি প্রান হারিয়েছেন; নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছেন। তবে নিহতদের মধ্যে কতজন যোদ্ধা ও কতজন বেসামরিক—তার বিন্দুমাত্র সংখ্যা আলাদা করে জানানো হয়নি।

    সীমান্তঘেঁষা কিছু এলাকা এখনো ইসরায়েলের আওতায় আছে। ইসরায়েল বলছে, উত্তরাঞ্চলের সীমান্ত এলাকায় ‘‘হিজবুল্লাহমুক্ত নিরাপত্তা বলয়’’ গঠন করার উদ্দেশ্যেই এসব অভিযান চালানো হচ্ছে। তারা দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে অভিযানের কথা জানিয়েছে।

    সূত্রে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের নভেম্বরে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও সংঘাত থামেনি এবং প্রায় প্রতিদিনই আঘাতের খবর আসছে। গত ২ মার্চ হিজবুল্লাহর ইসরায়েলে রকেট ও ড্রোন হামলার পর উত্তেজনা নতুন করে বৃদ্ধি পায়।

    লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনীর আঘাতে দেশে মোট ২ হাজার ৭৯৫ জন নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ তাদের নিজস্ব হিসেব বলছে—দক্ষিণ লেবাননে ১৭ জন সেনা ও একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং উত্তর ইসরায়েলে আরও দুই বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।

    অবস্থা বর্তমানে অস্থিতিশীল ও মানবিক সংকট বাড়ছে; হামলা ও পাল্টা হামলায় সাধারণ মানুষের ক্ষতির মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

  • অভয়নগরে ট্রেনের ধাক্কায় কয়লাবাহী ট্রাক দুমড়েমুচড়ে, চালক নিহত

    অভয়নগরে ট্রেনের ধাক্কায় কয়লাবাহী ট্রাক দুমড়েমুচড়ে, চালক নিহত

    যশোরের অভয়নগরে খুলনাগামী মহানন্দা মেইল ট্রেনের ধাক্কায় একটি কয়লাবাহী ট্রাক দুমড়েমুচড়ে যায়; ঘটনায় চালক মনোয়ার হোসেন নিহত হয়েছেন। রোববার (১০ মে) দুপুর সাড়ে বারোটার সময় উপজেলার ভাঙ্গাগেট এলাকায় অরক্ষিত রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত মনোয়ার হোসেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার মোহাম্মদ আলীর ছেলে। ট্রাকের হেলপার রায়হান গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আকিজ এসেনশিয়ালের কয়লা ডিপোর দিকে যাওয়ার সময় (গাড়ি নং ঢাকা মেট্রো ট ১৮-৭৮৩৬) ভাঙ্গাগেটের অরক্ষিত ক্রসিং পার করার সময় খুলনাগামী ট্রেনটি ট্রাকটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ধাক্কায় ট্রাকটি ছেঁড়ে রেললাইনের পাশে ছিটকে পড়ে এবং ঘটনাস্থলেই মনোয়ার মারা যান।

    এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন যে ওই ক্রসিং দীর্ঘদিন ধরে অরক্ষিত অবস্থায় আছে; সেখানে কোনো গেটম্যান বা সংকেত ব্যবস্থা না থাকায় চালক ট্রেনের উপস্থিতি অনুধাবন করতে পারেননি। স্থানীয়রা দ্রুত সিগন্যাল ব্যবস্থা ও গেটম্যানের দাবিও করেছেন যাতে ভবিষ্যতে এমন প্রাণহানির ঘটনা না ঘটে।

    অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নুরুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণে ওই রুটে কিছুক্ষণ ট্রেন চলাচল বিঘ্নিত হলেও পরবর্তীতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে।

    পুলিশ ঘটনার পরবর্তী তদন্ত শুরু করেছে এবং দুর্ঘটনার কারণ নির্ণয়ে প্রাসঙ্গিক পক্ষদের সাথে কথা বলা হচ্ছে।

  • চিতলমারীতে পূবালী ব্যাংকের ‘ক্যাশলেস চিতলমারী’ উপশাখা উদ্বোধন

    চিতলমারীতে পূবালী ব্যাংকের ‘ক্যাশলেস চিতলমারী’ উপশাখা উদ্বোধন

    বাগেরহাটের চিতলমারীতে পূবালী ব্যাংক পিএলসির নতুন উপশাখা ‘ক্যাশলেস চিতলমারি’ উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার (১০ মে) সকাল সাড়ে ১১টায় সদর বাজারের সবুজ সংঘ চত্বরে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পূবালী ব্যাংক, বাগেরহাট শাখায় ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্তরের এজিএম মোঃ মনিরুল আমিন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন চিতলমারী উপশাখার ব্যবস্থাপক মোঃ সাদিক হোসাইন। বিশেষ অতিথি ছিলেন চিতলমারী বাজার ব্যবসায়ী ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মোঃ সোয়েব হোসেন গাজী, সাধারণ সম্পাদক শেখ আসাদুজ্জামান (আসাদ), সবুজ সংঘ ক্লাবের সভাপতি শেখ নোয়াবালী ও চিতলমারী উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সেলিম সুলতান সাগর। স্থানীয় বেশ কিছু বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও পূবালী ব্যাংকের সাধারণ গ্রাহকরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

    প্রধান অতিথি এজিএম মোঃ মনিরুল আমিন বক্তৃতায় বলেন, “ক্যাশলেস ব্যবস্থা আধুনিক অর্থনীতির একটি নতুন অধ্যায়। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে যেকোনো সময়, যেকোনো জায়গা থেকে দ্রুত ও নিরাপদে লেনদেন করা সম্ভব। নগদ টাকার খরচ ও পরিচর্যা কমে যায়, অতিরিক্ত নগদ সঙ্গে রাখার ঝুঁকি কমে নিরাপত্তা বৃদ্ধি পায় এবং আর্থিক জালিয়াতির সুযোগও সীমিত হয়। এছাড়া প্রতিটি লেনদেনের রেকর্ড থাকায় আর্থিক স্বচ্ছতা ও কর্তৃপক্ষের তদারকি সহজ হয়।”

    তিনি আরও জানান, পূবালী ব্যাংক গ্রাহকদের জন্য পে ব্যাংকিং, বাংলা কিউআর এবং ডেবিট কার্ডসহ বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা চালু করেছে, যার মাধ্যমে চিতলমারীর মানুষ সহজে এবং দ্রুত ক্যাশলেস ব্যাংকিং উপভোগ করতে পারবে।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় বাজার ব্যবসায়ী, ব্যাংক কর্মকর্তা ও গ্রাহকরা অনুষ্ঠানের ভালোসংখ্যক উপস্থিতি নিশ্চিত করেন এবং ক্যাশলেস ব্যবস্থার গুরুত্ব ও সুবিধা নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে।

  • নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ১৫ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করল বাংলাদেশ

    নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ১৫ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করল বাংলাদেশ

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ঘোষণা করেছে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে আয়োজিত আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য ১৫ সদস্যের দল। দল의 নেতৃত্বে থাকছেন নিগার সুলতানা জ্যোতি, আর সহ-অধিনায়কের দায়িত্বে থাকবেন নাহিদা আক্তার।

    স্কোয়াডে জায়গা হয়নি শারমিন সুলতানার; তার বদলে দলে ফিরেছেন তাজনেহার। তাজনেহার এই পর্যন্ত খেলা আটটি টি-টোয়েন্টিতে মোট ৪৪ রান করেছেন। থ্রু-সিক্স (১ থেকে ৬ নম্বর) বিভিন্ন পজিশনে ব্যাটিং করার সক্ষমতাকে কাজে লাগাতে তাকে নেয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

    বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অন্যতম অংশ হিসেবে বাংলাদেশ নারী দল ২৫ মে স্কটল্যান্ডের এডিনবরো গমন করবে। সেখানে স্বাগতিক স্কটল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসকে নিয়ে একটি ত্রিদেশীয় সিরিজে অংশ নেবে টাইগ্রেসরা, যা বিশ্বকাপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    ত্রিদেশীয় সিরিজের পর দল ইংল্যান্ডের লাফবরোতে যাবে এবং সেখানে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে। কন্ডিশন বুঝে নেওয়া ও আসরের আগে সেরা সমন্বয় গড়ে তোলা এই প্রস্তুতি পর্বের মূল লক্ষ্য।

    বাংলাদেশ তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ১৪ জুন এজবাস্টনে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। বিসিবি আশা করছে দল বৈশ্বিক এই আসরে ভালো খেলবে এবং আগের চেয়েও এগিয়ে যাবে।

    অভিজ্ঞ ও তরুণ খেলোয়াড়দের মিশ্রণে গড়া স্কোয়াডে রয়েছেন নিয়মিত অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সঙ্গে কয়েকজন উদীয়মান প্রতিভাও।

    বাংলাদেশ নারী দল (স্কোয়াড): নিগার সুলতানা জ্যোতি (অধিনায়ক), নাহিদা আক্তার (সহ-অধিনায়ক), শারমিন আক্তার সুপ্তা, সোবহানা মোস্তারি, স্বর্ণা আক্তার, রিতু মনি, রাবেয়া খান, ফাহিমা খাতুন, ফারিহা ইসলাম তৃষ্ণা, মারুফা আক্তার, সানজিদা আক্তার মেঘলা, সুলতানা খাতুন, দিলারা আক্তার, জুরাইরিয়া ফেরদৌস ও তাজনেহার।

  • ১৭ বছর পর টেস্টে ৫০ উইকেট ছুঁলেন তাসকিন

    ১৭ বছর পর টেস্টে ৫০ উইকেট ছুঁলেন তাসকিন

    বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে পেস বোলিংয়ে নতুন এক মাইলফলক রচিত হলো—তাসকিন আহমেদ ৫০ উইকেটের সংখ্যা স্পর্শ করে দেশের তৃতীয় পেসার হিসেবে নাম লিখালেন। এই কীর্তি এসেছিল ১৭ বছরের অপেক্ষার পর, যখন ২০০৯ সালে মাশরাফি বিন মুর্তজা ও শাহাদাত হোসেন একই স্তরে পৌঁছেছিলেন।

    ঢাকা টেস্টের দ্বিতীয় দিনে তাসকিনকে দেখে ছিল স্পষ্টভাবে অনაფট্ট দেখা; রান-আপে ক্লান্তি ও গতিতে স্বল্পতা নজরে এসেছিল এবং তিনি একটি তেমন ধারহীন স্পেল করেন। তবে পরের দিন সকালে পুরো চিত্র বদলে গেল—পরিকল্পনা, ধৈর্য ও অভিজ্ঞতার মিশেলে নীরব কিন্তু কার্যকর বোলিং করলেন তিনি। সরাসরি আউট করলেন জোড়া উইকেট, আর নো-বলের কারণে যদি না বসত, আরও একটি উইকেটও উঠতে পারত।

    বর্তমান সময়ে বিশ্ব ক্রিকেটের মানে ৫০ উইকেট বড় কিছু নাও মনে হতে পারে, তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। দেশের ২৬ বছরের টেস্ট ইতিহাসে মাত্র তিনজন পেসার এই সীমা অতিক্রম করেছেন এবং তাসকিন এ তালিকার তৃতীয় সদস্য। তিনি এটি করেছেন মাত্র ১৮ টেস্টে—যেখানে মাশরাফি করতে নিয়েছিলেন ১৯টি, আর শাহাদাত পেয়েছিলেন ২১টি টেস্ট। মাশরাফি ক্যারিয়ারে শেষ করেছেন ৭৮ উইকেট নিয়ে, আর শাহাদাতের সংগ্রহ ৭২ উইকেট।

    এখন প্রশ্ন উঠছে—তাসকিন কি ১০০ উইকেটের ঠিকানা ছোঁাতে পারবেন? বয়স এখন ৩১; রাস্তা কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। ধারাবাহিকতা, সুস্থতা ও সুযোগ থাকলে তিনি আরও বড় অর্জন করতে পারেন—আর বাংলাদেশের পেস আক্রমণের ভবিষ্যতেও এই মাইলফলক যোগ করেছে একরকম সমর্থন ও আশা।

  • হলিউড মাতাতে যাচ্ছেন দিশা পাটানি

    হলিউড মাতাতে যাচ্ছেন দিশা পাটানি

    বলিউড তারকারা বহুদিন ধরেই স্বপ্ন দেখে হলিউডের বড় পর্দায় নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার। প্রিয়াঙ্কা চোপড়া আর দীপিকা পাড়ুকোনের পাঠচক্রের পর এবার সেই তালিকায় নাম লেখানোর সাহস দেখাচ্ছেন বলিউড অভিনেত্রী দিশা পাটানি।

    পর্দায় দিশার উপস্থিতি বরাবরই আলো ছড়ায়—তার স্ক্রিন পার্সোনালিটি, সাহসী লুক এবং নাচ-অ্যাকশনে তিনি দর্শককে আকৃষ্ট করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার আপডেট ঝলমলে হওয়ার পাশাপাশি ‘‘বাঘি’’ ধারার সাহসী এবং আত্মবিশ্বাসী ইমেজও শ্রোতাদের দৃষ্টি কেড়ে নেয়।

    সূত্র জানায়, দিশা অ্যাকশন-থ্রিলার ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘স্ট্যাটিগার্ডস ভার্সেস হোলিগার্ডস সাগা’র মাধ্যমে হলিউডে পা রাখছেন। সিরিজের প্রথম কিস্তি ‘দ্য পোর্টাল অব ফোর্স’-এ তিনি প্রধান চরিত্র জেসিকা হিসেবে দেখা যাবে। একই সঙ্গে মুক্তি পেয়েছে সিনেমাটির ট্রেলার, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। (সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন)

    হলিউডে কাজ করারও অভিজ্ঞতা নিয়ে দিশা উচ্ছ্বাস মিশ্র অনুভূতি প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “গল্প বলার কোনও ভাষা থাকে না, কোনো দেশের সীমা নেই। আমি সবসময়ই অ্যাকশন ঘরানার ছবিকে পছন্দ করি।”

    ট্রেলার লঞ্চ নিয়ে তিনি আরও বলেন, “এই প্রজেক্টের ট্রেলার লঞ্চের জন্য আমি বেশ মনোযোগী ছিলাম। আমার প্রথম আন্তর্জাতিক কাজ—এমন এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা পেতে পেরে ব্যাপক উত্তেজনা ছিল। সাথে একটু ভয়ও ছিল, কিন্তু একজন অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করার এটা বড় একটি সুযোগ।”

    এখন দর্শকদের অপেক্ষার পালা—প্রিয়াঙ্কা ও দীপিকার পথ ধরেই কি দিশা হলিউডে নিজের ছাপ রাখতে পারবেন, তা সময়ই শুনিয়ে দেবে।

  • লাইফ সাপোর্টে কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার

    লাইফ সাপোর্টে কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার

    জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার বর্তমানে লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন। তিনি রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

    কামরুন নাহার ‘ডানা’ শনিবার (৯ মে) দুপুরে এক পোস্টে জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহ ধরে জ্বরে ভুগার পর হঠাৎ করেই কারিনা জ্ঞান হারান এবং তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা তার রক্ত পরীক্ষা করে জানান, কারিনার দেহে হেপাটাইটিস এ ও ই ধরা পড়েছে, যা লিভার ফেইলারের কারণ হয়েছে। শুরুতে তিনি আইসিইউতে ছিলেন, কিন্তু গত রাত থেকে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে।

    কারিনার অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তার পরিবার তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের দিকে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। ডানা তার ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে মনের আবেগ নিয়ে অনুরোধ করেছেন—কারিনার জন্য প্রার্থনা করুন। তিনি লিখেছেন, আমরা সবাই জানি কারিনা কতটা মেধাবী এবং অসাধারণ একজন মানুষ; তাকে এভাবে হারাতে দেয়া যাবেনা।

    ডানা আরও জানান, যদি চিকিৎসার প্রয়োজনে আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন পড়ে তবে সে সম্পর্কে পরে সবাইকে অবহিত করা হবে। আপাতত তার একমাত্র অনুরোধ—সবাই আন্তরিকভাবে কারিনার সুস্থতা কামনা করবেন এবং তাঁর জন্য দোয়া করবেন।

  • সিনেমা নিষিদ্ধ করেছিলেন মমতা, পতনের পর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেন নির্মাতা বিবেক আগ্নিহোत्रী

    সিনেমা নিষিদ্ধ করেছিলেন মমতা, পতনের পর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেন নির্মাতা বিবেক আগ্নিহোत्रী

    বিধানসভা নির্বাচনে ব্যাপক হারের মুখোমুখি হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। এই পরাজয় যেন একদিকে বিজেপির জয় בעוד, অন্যদিকে এই সমর্থন অনুভব করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন বিখ্যাত চলচ্চিত্রনির্মাতা বিবেক আগ্নিহোত্রী। সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে নিজের অনুভূতি এবং অভ্যুত্থান প্রকাশ করেছেন তিনি।

    তবে এর পেছনে রয়েছে একটি যৌক্তিক কারণ। মমতা সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন পশ্চিমবঙ্গে বেশ কিছু ছবি যেমন ‘ফাইলস ট্রিলজি’, ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ এবং ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ মুক্তির সময় বেশ অসুবিধার মুখোমুখি হয়েছিলেন বিবেক। তাঁর সিনেমাগুলিও বিভিন্ন কারণে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তাই মমতার পতনের সংবাদে এই নির্মাতার মধ্যে এক ধরনের স্বস্তি এবং খুশি অনুভূত হচ্ছে।

    নিজের এক্সটার্নাল অ্যাকাউন্টে বিবেক লিখেছেন, ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ মুক্তির পর আমাকে বাংলায় প্রকাশ্যে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। ছবি হলে প্রজেকশনের প্রাথমিক সময়ে এটি সরানো হয়, এবং বলা হয়েছিল আমাকে বাংলায় সিনেমাতে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। আরও লিখেছেন, গত বছর ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ সম্পূর্ণভাবে পশ্চিমবঙ্গে নিষিদ্ধ করা হয়। আমাদের ট্রেলার লঞ্চ বন্ধ করে দেওয়া হয়, উপরন্তু আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়, শারীরিক আক্রমণের সম্মুখীন হই। এর পাশাপাশি আমার বিরুদ্ধে ডজন ডজন এফআইআর দায়ের হয়। এমনকি রাজ্যপালের কাছ থেকেও পুরস্কার গ্রহণের অনুমতি মেলেনি।

    তবুও আমরা হাল ছাড়িনি বলে জানান বিবেক। তিনি আরও বললেন, এই নির্বাচনের সময় আমরাই জোরদার চেষ্টা করেছি গোপনীয়তা বজায় রেখে ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ বাংলার বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে। তিনি গর্বের সাথে উল্লেখ করেন যে, আমরা হাল ছাড়িনি এবং আমাদের মতো করে লড়াই চালিয়েছি। অবশেষে বাংলাদেশের এই বিপ্লবী চলচ্চিত্রের বিজয়ে তিনি খুব খুশি এবং বাংলার মানুষকে অভিনন্দন জানান। এখন থেকে সবাই আত্মবিশ্বাসে ভরপুর হয়ে মাথা উঁচু করে চলার সুযোগ পাবেন।

    বর্তমানে স্বাধীন চলচ্চিত্রজগতে কার্যরত বিবেক এখন তাঁর পরবর্তী সিনেমা নিয়ে ব্যস্ত। এই সিনেমার বিষয়বস্তু হবে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ। ইতিমধ্যে তিনি ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামের সিনেমার ঘোষণা দিয়েছেন।

  • তামিলনাড়ুর নির্বাচনে বিজয়ের নতুন রেকর্ড

    তামিলনাড়ুর নির্বাচনে বিজয়ের নতুন রেকর্ড

    নিজের প্রথম নির্বাচনে তাক লাগিয়ে দিলেন জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর। দক্ষিণ ভারতের চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে তিনি পরিচিত ছিলেন ‘থালাপতি বিজয়’ নামে। তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনে শুধু জয়লাভ করাই নয়, বরং একটি দীর্ঘ ৪৯ বছরের রেকর্ডও ভেঙে দিয়েছেন তিনি, যা আগে কেউ করতে পারেননি।

    ফিল্মের দুন থেকে রাজনীতিতে পা রাখা আর তার পর সফলভাবে নির্বাচন করে মুখ্যমন্ত্রী হওয়া— এর আগে এই ঘটনাটি তামিলনাড়ুর ইতিহাসে কেবলমাত্র একবার ঘটেছিল। ১৯৭৭ সালে তখনকার জনপ্রিয় অভিনেতা এমজি রামাচন্দ্রান নির্বাচনে জিতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন। তিনি দীর্ঘ দিন সফলভাবে অর্থাৎ মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এই পদে থাকেন। তার দলের নাম ছিল এআইএডিএমকে।

    এরপর, এক সময় তামিল সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়ললিতা মুখ্যমন্ত্রী হন, তবে নিজে কোনো নতুন দল গঠন করেননি। তিনি এমজি রামাচন্দ্রান দলের প্রভাবশালী নেত্রী হয়ে এসেছেন। পরে আরো একজন তিনি ছিলেন, যিনি অভিনেত্রী হয়েও রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত হন— জয়ললিতা।

    তবে, বছর ঘুরে ফিরে বহু চেষ্টা, বিশাল ভক্তসমর্থক সংস্থা থাকা সত্ত্বেও, কোনোরকমে এই চূড়ান্ত বিজয় অর্জন সম্ভব হয়নি। জয়ললিতা নিজে বড় সিনেমার তারকা হয়েও, নতুন রাজনৈতিক দল তৈরি না করে, সাবেক নেতা এমজিআর এর দলকে নিজেদের দখলে নিয়ে, জোরদার করে মুখ্যমন্ত্রী হন। আশ্চর্যজনকভাবে, এরপর থেকে কোনো অভিনেতা বা অভিনেত্রী এই সীমা অতিক্রম করতে পারেননি।

    এবারের নির্বাচনে, এই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে আবারও ১৯৭৭ সালে এমজি রামাচন্দ্রনের সময়ের দৃশ্যের স্মৃতি জাগিয়ে দিলেন বিজয়। তার দল তামিলাগা ভেট্টরি কোঝাগাম বা টিভিকে এই নির্বাচনে দুর্দান্ত ফলাফল দেখিয়েছে। ২৩৪ আসনের রাজ্য বিধানসভায়, যেখানে কোনও দল বা জোট সরকারের জন্য কমপক্ষে ১১৮ আসনে জয়ী হতে হয়, সেখানে বিজয় নিজে জয়ী হওয়ার পাশাপাশি তার দল ১০৮টি আসনে জয় লাভ করেছে। ২০২৪ সালে সরকার গঠনের জন্য এই ফলাফল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    বিশেষ দ্রষ্টব্য, পার্লামেন্টের বিধি অনুযায়ী এককভাবে সরকার গঠন সম্ভব নয়; তবে পার্টির জোট বা সমর্থন থাকলে তারাও ক্ষমতায় আসতে পারেন। এই ফলাফলের মাধ্যমে নিশ্চিতভাবেই জানা যাচ্ছে, বিজয় তামিলনাড়ুর পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন।

    বিজয় এই দিক থেকেও ভারতের জনপ্রিয় নেতা এমজি রামাচন্দ্রনের রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন। এমজিআর এর নেতৃত্বে যে কৌশল অবলম্বন করা হয়েছিল, বিজয় তা অনুসরণ করেছেন। এমজিআর তার বিশাল ভক্তশ্রেণিকে একদিকে ভোটার অন্যদিকে রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন। এই ভক্তকূলই ছিল তার মূল শক্তির উৎস।

    বিজয়ও তার ভক্তদের সংগঠিত করতে শুরু করেন ২০০৯ সাল থেকে। তিনি বিভিন্ন গ্রুপের সমন্বয়ে গঠন করেন বিজয় মাক্কাল ইয়াক্কাম নামে একটি ঐক্যবন্ধন, যা 정치ভাবেও সক্রিয় হয়। ২০১১ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত এই ঐক্যকে সমর্থন দিয়ে এসেছিল এআইএডিএমকে।

    তবে, ২০২১ সালে এই সমর্থন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন বিজয়। এরপর নিজের দল গঠন করে, ২০২৪ সালে ‘তামিলাগা ভেট্টরি কোজাগাম’ নামে নতুন রাজনৈতিক দল প্রকাশ্যে আসে। নিজেকে দলের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত করে, নির্বাচন জিতে তিনি এখন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রীর শপথ গ্রহণের অপেক্ষায় রয়েছেন। এই সাফল্য তার রাজনৈতিক জীবনে নতুন উচ্চতা দিচ্ছে।