মহানগর বিএনপি সভাপতি এড. শফিকুল আলম মনা বলেছেন, একুশে ফেব্রুয়ারি কেবল শোক দিবস নয়, এটি বাঙালির আত্মপরিচয়ের দিন। ভাষা আন্দোলনের শহীদরা তাদের জীবন দিয়ে আমাদের মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেছেন, যা বর্তমানে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি পেয়েছে। এই ভাষা আন্দোলনের চেতনাই গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে কেন্দ্রীয় করে তোলে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে মহানগর বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের যৌথ সভায় বক্তৃতা করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, ভাষা শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত একুশ আমাদের জাতীয় চেতনার ভিত্তি। এই আত্মা ধারণ করে বিএনপি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে। তিনি নেতাকর্মীদের সফলতার জন্য সকলের সহযোগিতা ওসহযোগিতার আহ্বান জানান। মহানগর সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরা আমাদের দায়িত্ব। একুশের অনুষ্ঠান শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতা না হয়ে, ভাষা ও সংস্কৃতির মর্যাদা রক্ষা করতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। শহীদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে, এই চেতনাকে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে নিবেদিত হয়ে কাজ করার জন্য আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানশেষে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দুদিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে আজ ২০ ফেব্রুয়ারি রাত ১০:৩০ এর মধ্যে দলীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি, রাত ১২:০১ মিনিটে শহীদ হাদিস পার্কের শহীদ বেদিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, এবং ২১ ফেব্রুয়ারি সূর্য ওঠার সাথে সাথে মহানগরীর সকল দলীয় কার্যালয়ে পতাকা অর্ধনমিত ও কালো পতাকা উত্তোলন। একই দিন বাদ এশা দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল সম্পন্ন হবে। এছাড়াও, ১৫ রমজান এর মধ্যে মহানগরীর বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মানে ইফতার মাহফিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেগম রেহানা ঈসা, বদরুল আনাম খান, শেখ সাদী, হাসানুর রশীদ চৌধুরী মিরাজ, থানা সভাপতি কে এম হুমায়ূন কবির, শেখ হাফিজুর রহমান মনি, মুর্শিদ কামাল, এড. শেখ মোহাম্মদ আলী, থানা সাধারণ সম্পাদক মোল্লা ফরিদ আহমেদ, শেখ ইমাম হোসেন, আসাদুজ্জামান আসাদ, মুক্তিযোদ্ধা দলের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলমগীর হোসেন, তাঁতী দলের আহ্বায়ক আবু সাঈদ শেখ, ওলামা দলের আহ্বায়ক মৌলানা মোঃ আবু নাঈম কাজী, শ্রমিক দলের আহ্বায়ক মো. মজিবর রহমান, মহিলা দলের যুগ্ম-আহবায়ক এড. হালিমা আক্তার খানম, জাসাসের সদস্য সচিব কে এম এ জলিল, কৃষক দলের সদস্য সচিব শেখ আবদুলনাহার, শ্রমিক দলের সদস্য সচিব মো. শফিকুল ইসলাম শফি, আঞ্চলিক শ্রমিক দলের সদস্য সচিব আলমগীর তালুকদার, থানার সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির ইকবাল বাপ্পী, মো. নাসির উদ্দিন, মতলেবুর রহমান মিতুল, নুরুল হুদা পলাশ ও সৈয়দ তানভীর আহমেদ প্রমুখ।
Blog
-

যশোরে তারাবির নামাজের পর বাড়ি ফেরার পথে গ্রাম্য চিকিৎসককে হত্যা
যশোরের শার্শা উপজেলার গাতিপাড়া এলাকায় এক গ্রাম্য চিকিৎসককে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে হত্যা করেছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। নিহত আল-আমিন বারিপোতা গ্রামের বাসিন্দা ও নাভারণের রফিকুল ইসলামের ছেলে। তারাবির নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার সময় দুর্বৃত্তরা তাকে হামলা করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আল-আমিন একজন চিকিৎসক ছিলেন এবং গ্রামের মধ্যে তার একটি চেম্বার ছিল। সাধারণত তিনি প্রতিবছরই তারাবির নামাজ শেষে বাড়ি ফিরতেন। אך ওই রাতে গাতিপাড়া হাইস্কুলের সামনে তারের বেড়া নামক স্থানে পৌঁছালে, দুর্বৃত্তরা ওৎ পেতে থাকা অবস্থায় তাকে উপর হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপানোর ফলে তিনি গুরুতর আহত হন।
তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয়রা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করার চেষ্টা করলেও ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু নিশ্চিত হয়। খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে আসে। পরে শার্শা থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে যশোরের ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
শার্শা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শাহ-আলম বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছেছি। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে আমাদের ধারণা। অচিরেই এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কি উদ্দেশ্য রয়েছে, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শুরুতে মনে হচ্ছে এটি পূর্ব বিরোধ বা ব্যক্তিগত শত্রুতার জের হয়ে থাকতে পারে। এখনও ব্যাপারটি তদন্তাধীন।’
-

কালীগঞ্জে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে অভিযান, দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা
পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। ষষ্ঠ দিনের মতো বাজার মনিটরিং ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সঙ্গে ভোক্তা অধিকার রক্ষার জন্য সতর্কবার্তা দিচ্ছে তারা। জুলাই ২০ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার দুপুরে কালীগঞ্জ পৌরসভার বিভিন্ন বাজারে এ কার্যক্রম সংগঠিত হয়।
উপজেলা সূত্র জানায়, রমজানের আগে থেকেই যাতে অসাধু ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা অতিরিক্ত মূল্য আদায় না করে তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত বাজার তদারকি চালানো হচ্ছে। এ সময় বিভিন্ন মুদি ও ফল ব্যবসায়ীদের মানসম্মত ও ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রির নির্দেশনা দেওয়া হয়।
মনিটরিং এর সময় বিভিন্ন অসাধুভাব সফলভাবে শনাক্ত হয়; এর কারণে দুই ফল আমদানিকারককে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর অধীনে মোট ৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে তাদের সতর্ক করে দেয়া হয়, যাতে ভবিষ্যতে এই ধরনের অনিয়ম আর না ঘটে। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা দলের পাশাপাশি কালীগঞ্জ থানার পুলিশও উপস্থিত ছিলেন, যারা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেন।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজোয়ানা নাহিদ বলেন, রমজানে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার কথা বিবেচনা করে বাজারে দ্রব্যমূল্য স্বাভাবিক রেখে মনিটরিং অব্যাহত আছে। অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি বা ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এবং বাজারের স্থিতিশীলতা রক্ষায় এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয় ক্রেতারা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, নিয়মিত তদারকি চালু থাকলে রমজান মাসে বাজারের মূল্য স্থিতিশীল থাকবে এবং ভোক্তাদের লাভ হবে।
-

বিশেষ শিক্ষকের বাড়িতে দুর্বৃত্তের অগ্নিসংযোগ: গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকার বসত বাড়িতে দুর্বৃত্তরা অগ্নিসংযোগ চালিয়েছে। এই ঘটনায় সম্পূর্ণ বাড়িটি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে, যার ফলে প্রায় ১০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে চিংড়াখালী ইউনিয়নের ২৯৬ নম্বর সিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা রুলিয়া বেগমের বাসভবনে। অগ্নিকাণ্ডের সময় বাড়িতে কেউ ছিল না, কারণ বাড়িটি ছিল তালাবন্ধ। ফলে কেউ হতাহত হয়নি। তবে ঘরের সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন, কারণ তাদের জমাকৃত সম্পদ ও স্মৃতির ঐতিহ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে যে, এই হামলার পেছনে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব বা পূর্ব শত্রæতা রয়েছে। চিংড়াখালী ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য রুলিয়া বেগম জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে দৈবজ্ঞহাটী ইউনিয়নের ভাড়া বাসায় থাকছেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী যানবাহন বা বাড়িতে আসেন। তিনি আরও বলেন, তার উপর স্থানীয় শত্রুপক্ষের ষড়যন্ত্র চালানো হয়েছে, যারা পরিকল্পিতভাবে রাতে বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিয়েছেন।
ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা স্বীকার করে স্থানীয় পুলিশ ও বিএনপি নেতা সোমনাথ দে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। মো. মাহমুদুর রহমান নামে থানা ওসি বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। তিনি আরও বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
-

রমজানের প্রথম জুমায় ষাটগম্বুজ মসজিদে মুসল্লীদের ঢল
বাগেরহাটের ঐতিহ্যবাহী ষাটগম্বুজ মসজিদে রমজানের প্রথম জুমার নামাজ যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সাথে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভোর থেকেই বিভিন্ন স্থান থেকে মুসল্লীরা ধীরে ধীরে মসজিদ প্রাঙ্গণে উপস্থিত হতে থাকেন। সকাল থেকে শুরু হয়ে দুপুরে এর পর্যায়ে ব্যাপক সংখ্যক মুসল্লীর সমাগম ঘটে, ফলে পুরো মসজিদটি কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।
-

ভ্যাট রিটার্নের সময় বাড়লো ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ই-ভ্যাট সিস্টেমে অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। এখন থেকে ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অনলাইনে তাদের ভ্যাট রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় গতকাল রোববার রাতে, এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব ব্যারিস্টার মোঃ বদরুজ্জামান মুন্সীর স্বাক্ষরিত এক আদেশের মাধ্যমে। সাধারণত প্রতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে আগের মাসের বিক্রয় সংক্রান্ত তথ্য জানিয়ে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করতে হয়, কিন্তু ফলে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কারণে কিছু প্রতিষ্ঠান সময়মতো দাখিল করতে পারছে না। এই পরিস্থিতিতে, পবিত্র শবে বরাত ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে দীর্ঘ সময় সরকারি ছুটি থাকায় এবং ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ই-ভ্যাট চালান সিস্টেমে ওটিপি সার্ভার ডাউন থাকায় জনস্বার্থে এই সময়সীমা বাড়ানো হলো। এনবিআর সূত্র জানায়, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভ্যাট রিটার্ন না জমা দিলে আইনানুযায়ী জানানো হয়েছে, বিলম্বের জন্য জরিমানা ও আর্থিক শাস্তি আরোপ করা হবে। তাই, সার্ভার জটিলতার কারণে করদাতাদের যেন কোনও অযথা জরিমানা না পড়তে হয়, সেই জন্যই এই সময় বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে দেশে ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান数 প্রায় ৬ লাখ ৪৪ হাজার, তবে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানই রিটার্ন দিচ্ছে না।
-

নতুন অর্থমন্ত্রী জানান, পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি চলতে দেওয়া যাবে না
নতুন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, পৃষ্ঠপোষকতা ভিত্তিক অর্থনীতি চলতে দেওয়া যাবে না। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, অর্থনীতিতে সত্যিই গণতন্ত্র আসা জরুরি। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রথম দিন অফিস করতে এসে সাংবাদিকদের তিনি এই মন্তব্য করেন।
আমীর খসরু জানান, আমাদের অনেক প্রতিষ্ঠান বর্তমানে খুবই খারাপ অবস্থায় রয়েছে। তাই সবচেয়ে আগে আমাদের লক্ষ্য হলো এই প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনরুদ্ধার কিভাবে সম্ভব, সেটা নির্ধারণ করা। তিনি আরও বলেছেন, প্রতিষ্ঠানগুলোতে পেশাদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে এবং দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে। এসব উপাদান না থাকলে আমাদের বড় কোনও পরিকল্পনাই কাঙ্ক্ষিত ফল দান করবে না।
নতুন অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি চলতে দেওয়া যাবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি সব মানুষের জন্য সমান সুযোগের সৃষ্টি করতে হবে। দেশের সকল শ্রেণীর মানুষ যেন অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ করতে পারে, এবং তার ফলাফল যেন প্রত্যেকের কাছে পৌঁছায়, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।
তিনি দ্রুত এগুলোর জন্য সরকারের নিয়ন্ত্রণ কমানোর দিকে নজর দেয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখিয়েছেন। বর্তমান বাংলাদেশে সরকারি নিয়ন্ত্রণ অনেক বেশি থাকায় অর্থনীতির উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। তিনি আরও বলেছেন, অর্থনীতি উন্নয়নে সরকারের নিয়ন্ত্রণ কমাতে হবে, বা বলতে পারেন, ডিরেগুলেটেড করতে হবে। একে তিনি ‘অবাধ ও মুক্ত’ করতে চান।
অর্থনীতিতে নিয়ন্ত্রণ শিথিল করার ঘোষণা দিয়ে আমীর খান বলেন, লিবারালাইজেশন বা মুক্ত করণ প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। লক্ষ্য হলো এমন ব্যবস্থা তৈরি করা যাতে সবাই সমানভাবে অংশগ্রহণ করে এবং অর্থনৈতিক সুবিধা প্রত্যেকের দিগন্তে পৌঁছে। অর্থমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন যে, এই পরিবর্তনগুলো অর্থনীতির ভাগ্য উন্নত করবে এবং বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাবে।
উল্লেখ্য, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১১ আসন থেকে নবনির্বাচিত সাংসদ। তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় বাণিজ্য মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন।
-

নতুন সরকার এলডিসি উত্তরণ পেছানোর পরিকল্পনা নেবে, বাণিজ্যমন্ত্রীর ঘোষণা
নতুন বাণিজ্য, শিল্প ও বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, দেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের সময়সীমা পিছিয়ে নেওয়ার জন্য নতুন সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করবে। তিনি আরও জানান, এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন ডিফার করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, এবং ইতোমধ্যে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রথমবারের মতো সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অফিস শুরু করে সাংবাদিকদের কাছে এ কথা বলেন তিনি।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার এই এফোর্ট চালিয়ে যেতে চায় এবং এ লক্ষ্যে যেকোনো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিষয়টি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত কাজ এগিয়ে নেয়া হবে। তিনি ব্যবসায়ী সংগঠনের দীর্ঘদিনের দাবির কথাও উল্লেখ করেন এবং জানান, এলডিসি উত্তরণ পেছানোর বিষয়টিকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। অবশ্য, প্রথম সপ্তাহেই এই বিষয়টি নিয়ে নোটিশ পাঠানোর বাধ্যবাধকতা না থাকলেও, এখন থেকেই কাজ শুরু করেছে তারা।
রপ্তানি কার্যক্রমের সাম্প্রতিক দুর্বলতার বিষয়ে আলোচনায়, তিনি জানান, বাংলাদেশের রপ্তানি কাঠামো এখনো খুব সংকীর্ণ। দেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮৫ শতাংশ এখনো এক seuls পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। এই পরিস্থিতি পরিবর্তন করতে হলে রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে হবে, নতুন নতুন পণ্য যোগ করতে হবে এবং নতুন বাজার সম্প্রসারণে জোর দিতে হবে। পাশাপাশি, বেসরকারি খাতে যারা ব্যবসা ও বিনিয়োগে এগিয়ে আসতে চান, তাদের যথাযথ সহায়তা দেয়ার জন্য সরকারের লক্ষ্য রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বিশ্ব বাণিজ্যের চলমান পরিস্থিতি তুলে ধরে, বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ নীতিতে অপ্রত্যাশিত পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, বাংলাদেশের জন্য এটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার মতে, দেশের মার্জিন অব এরো খুবই কম, ভুলের সুযোগ খুবই সংক্ষিপ্ত। ফলে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ধীর গতি দেখতে পাওয়া এই অর্থনীতিকে দ্রুত উদ্ধার করতে সরকার শক্তি দিয়ে কাজ শুরু করেছে।
রমজানের বাজার পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেন তিনি। বলেন, পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে। রমজানের সময় ও পরের দিনগুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের যথাযথ মজুদ রয়েছে, পাইপলাইনে পর্যাপ্ত পণ্য রয়েছে। তাই বাজারে আতঙ্কের কিছু নেই বলে তিনি আশ্বাস দেন।
রমজানের মধ্যে কিছু পণ্যের দামের সাময়িক বৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্নে, তিনি জানান এটি মূলত এককালীন চাহিদার বৃদ্ধির ফল। মানুষ মাসজুড়ে একসঙ্গে বড় পরিমাণে বাজার করায় হঠাৎ দাম বেড়ে যায়, তবে এটি দীর্ঘস্থায়ী নয়।
বৈদেশিক ও দেশীয় বিনিয়োগ প্রসঙ্গে, তিনি বলেন, অনিশ্চয়তার মাঝে বিনিয়োগ আসে না; বিনিয়োগের জন্য একটানা স্থিতিশীল পরিবেশ দরকার। দেশে বড় জনগোষ্ঠী শ্রমশক্তিতে ভরপুর, প্রতি বছর প্রায় ২০ থেকে ২২ লাখ মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। তবে, গত কয়েক বছর ধরে বিনিয়োগ ক্ষীণ হওয়ায় অর্থনীতিতে চাপ বেড়েছে। এই পরিস্থিতি দ্রুত সামাল না দিলে কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় বিপদ দেখা দিতে পারে।
নতুন সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার সঙ্গে রমজান শুরু হওয়াকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসাবে দেখছেন তিনি। বলেন, এই রমজান যেন সফলভাবে কর্মায়ন হয়—এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় পরীক্ষার বিষয়। তিনি আরও বলেন, এটি ব্যক্তিগত বিষয় নয়, নানা দেশের স্বার্থ জড়িত বিষয়; তাই দেশের স্বার্থে সবাই একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি সবাইকে সহযোগিতা কামনা করেন এবং ভুল হলে মনে করিয়ে দেয়ার অনুরোধ জানান, একসঙ্গে এগিয়ে গেলে দেশ আরও উন্নতি করবে।
-

ফেব্রুয়ারির ১৮ দিনে রেমিট্যান্স ছাড়ালো দুই বিলিয়ন ডলার
প্রবাসীরা দেশের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ পাঠানোর জন্য উৎসাহিত হচ্ছে বিশেষ করে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং আসন্ন পবিত্র রমজান মাসকে কেন্দ্র করে। এর ফলেই ফেব্রুয়ারির প্রথম ১৮ দিনেই দেশে মোট ২ বিলিয়ন (অর্থাৎ দুই শ কোটি) ডলারর বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে, তাহলে মাস শেষে এটি ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন ও রমজান ঘিরে পারিবারিক খরচ বাড়ার কারণে প্রবাসীরা বেশ বেশি অর্থ পাঠাচ্ছেন। এই প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসে প্রবাসীরা মোট ৩১৭ কোটি ডলার বা ৩.১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাঠিয়েছেন। এ পরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৮ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা। এটি দেশের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ মাসিক রেকর্ড। এর আগে, ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ডলার এবং মার্চ ২০২২ সালে ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে ৩২৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা এখনো দেশের সর্বোচ্চ রেকর্ড।
২০২৫ অর্থবছরে দেশবাসীর মোট প্রবাসী আয় এসেছে ৩ হাজার ২৮২ কোটি ডলার, যা আগের বছরগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রবাসীরা মোট ২ হাজার ১৫৬ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন, যা আগের বছর একই সময়ের তুলনায় ২২ শতাংশ বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিপোর্টে জানানো হয়েছে, ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩৪.৫৪ বিলিয়ন ডলার, তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিবেচনায় তা কমে ২৯.৮৬ বিলিয়ন ডলার।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২৪ সালের আগস্টের পরে প্রবাসী আয়ের গতি বাড়তে শুরু করে, বিশেষ করে অবৈধ হুন্ডি ব্যবসার প্রভাব কমে যাওয়ায়। পাশাপাশি ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলার বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকায় প্রবাসীরা আরও ধাপে ধাপে বৈধ পদ্ধতিতে অর্থ পাঠাতে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। এই সব উদ্যোগ দেশের অর্থনীতিকে আরো শক্তিশালী করার আশায় দেখা যাচ্ছে।
-

খুলনা অঞ্চলে কাঁচা পাটের অস্বাভাবিক দাম বাড়ায় পাটকলের উৎপাদন বন্ধ
খুলনা অঞ্চলের ইজারা নেওয়া এবং বেসরকারি পাটকলগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রম এখন বন্ধের মুখে। এর কারণ হলো কাঁচা পাটের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বাড়াতে শুরু করেছে, যা আচ্ছন্ন করে দিয়েছে চাষীদের ও উদ্যোক্তাদের। উৎপাদন খরচ ব্যাপক বেড়ে গেছে, যার ফলে অনেক মিলই পাটপণ্য উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে হাজার হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান সংকটের মুখে পড়েছেন, পাশাপাশি মিলগুলো আর্থিক ক্ষতিতে পড়ে বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
দৌলতপুরের দৌলতপুর জুট মিলসহ বেশ কিছু মিল প্রায় দেড় মাস ধরে কাজ বন্ধ রেখেছে। শ্রমিকরা প্রতিদিন মিলে এসে সময় কাটাচ্ছেন কিন্তু কোনো কার্যক্রম চলছেনা। একদিকে পাটের সংকট, অন্যদিকে উৎপাদন কমে যাওয়ায় শ্রমিকরা নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন। অসংখ্য শ্রমিকের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
দৌলতপুরের এই জুট মিলের শ্রমিক আসাদুজ্জামান বলেন, “প্রায় দেড় মাস ধরে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছি, কিন্তু এখন কিছুই হচ্ছে না। কাঁচা পাটের অভাবে মিল চালানো সম্ভব নয়, কেউ যদি অন্য কোনও কাজ খুঁজে নিতে হয়, তাহলে কীভাবে সংসার চালাবো?” অন্য শ্রমিক হাবিবুল্লাহ জানান, “মালিক আমরা থেকে প্রতিদিন ২ টাকা লাভ করে হলেও শ্রমিক হিসেবে আমাদের পেছনে টাকা দেওয়া হয়; গত তিন বছর ধরে মিলটি সুসম্পন্ন ছিল, কিন্তু এখন সবাই বসে আছি। যদি সরকারের উদ্যোগ না হয়, তাহলে এই সংকট আর কতদিন চলবে?”
মিল মালিকরা বলছেন, মৌসুমের শুরুতে কাঁচা পাটের দাম ছিল পরিবহন ও সংগ্রহে সাধারণত ৩,২০০ টাকায় মণ, বর্তমানে তা বেড়ে হয়েছে প্রায় ৫,২০০ টাকায়। এর ফলে উৎপাদন খরচ দ্বিগুণের কাছাকাছি বেড়ে গেছে। তবে বাজারে পণ্য বিক্রির মূল্য এই দামে ওঠে নি। আর এই পরিস্থিতিতে উদ্যোক্তারা আগ্রহ হারাচ্ছেন।
উৎপাদন কর্মকর্তা মোঃ ইসরাফিল মলিক বলছেন, “অতিরিক্ত দামে পাট কিনে উৎপাদন চালানো এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আগে আমরা ৩,২০০ টাকায় পাট কিনে এক বস্তা বিক্রি করতাম ৮০ টাকায়, এখন দরে ৪,০০০ টাকা হলেও লাভের দেখা নেই। বিপৎসঙ্কের মধ্যে মিল চালাতে বাধ্য হয়েছিলাম, কিন্তু এখন দরকারি সরবরাহের অভাবে উৎপাদন বন্ধ করে রাখতে হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “কাঁচা পাটের artificially সংকট তৈরি করা হয়েছে, যা আসলে অপ্রচুর নয়। গত দুই বছরে বিভাগীয় পর্যায়ে পাটের উৎপাদন কমেনি, বরং কিছু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে দাম বাড়াচ্ছেন। সরকার যদি টহল না দেয়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব নয়।”
অর্থনৈতিক ও কৃষি বিভাগ বলছে, গত দুই বছরে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও नড়াইলসহ বিভিন্ন জেলায় কাঁচা পাটের উৎপাদন মোটামুটি একই রেখেছে। কৃষি সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩৯,৩৩৪ হেক্টরে ৯৪,৬৬৬ টন এবং ২০২৫-২৬ সালে ৩৮,২৬৮ হেক্টরে ৯১,১৩৫ টন কাঁচা পাট উৎপাদিত হয়েছে। এই তথ্যগুলো বিবেচনায় নেওয়া হলেও, মিল মালিকরা অভিযোগ করছেন যে কিছু সিন্ডিকেট চক্র অপ্রকাশিতভাবে পাট মজুত করে দাম বাড়াচ্ছে।
বাংলাদেশ জুট মিল এ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক মোঃ জহির উদ্দিন বলেন, “বাজারে কাঁচা পাটের মূল্য নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি বাড়ানো জরুরি। অসাধু কিছু ব্যবসায়ী অবৈধভাবে মজুত করছে পাট, যা বাজার অস্থির করে দিয়েছে। সরকারকে উদ্যোগ নিয়ে এই অসাধু কার্যকলাপ বন্ধ করতে হবে। ব্যাংকের ঋণও পর্যাপ্ত পাওয়া যাচ্ছে না, সবকিছুর সমাধান দ্রুত দরকার।”
পাট অধিদফতর বলছে, বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাদের তত্ত্বাবধান চলছে। খুলনা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সরজিত সরকার বলেন, “একজন আড়তদার বা ডিলার সর্বোচ্চ এক মাসে ৫০০ মণ পাট মজুত করতে পারবেন এবং এ নিয়ম মানা হচ্ছে কি না তা নিয়ন্ত্রণে রাখা হচ্ছে। নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি, দ্রুত বাজারের অবস্থা স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।”
খুলনা অঞ্চলের মোট ২০টি ইজারা ও বেসরকারি পাটকলের মাধ্যমে মাসে প্রায় ২৫ হাজার মেট্রিক টন পাটপণ্য উৎপাদিত হয়, এর একটি বড় অংশ বিদেশে রপ্তানি হয়। তবে, চলমান সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে উৎপাদন ও রপ্তানিসহ খাতের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর।
