সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করতে পারেনি বাংলাদেশ। এ বিষয়ে নানা আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় বয়েছে। এ পরিস্থিতিতে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বিষয়টি বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। এই জন্য ক্রীড়া মন্ত্রণালয় তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন অণুবিভাগ) কেএম অলিউল্ল্যাকে। সাথে রয়েছেন সাবেক জাতীয় দলের অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমন এবং আইনজীবী ফয়সালা দস্তগীর। এই তিন সদস্যের কমিটিকে নিযুক্ত করা হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কেন অংশগ্রহণ করেনি, তার কারণ খুঁজে বের করার দায়িত্ব। আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তারা প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব অংগ্যজাই মারমা এই অফিস আদেশ স্বাক্ষর করেছেন।
Blog
-

শেষ দিনের উত্তেজনার জন্য প্রস্তুত মিরপুর টেস্ট
চতুর্থ দিন শুরুতেই বাংলাদেশের দুই ওপেনার সুবিধা করতে না পারলেও, সংশ্লিষ্ট কৌশলে এগিয়ে যান অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল হক। তাদের দুর্দান্ত জুটি ম্যাচের পরিস্থিতি বদলে দেয় এবং পরিস্থিতি তাদের পক্ষে এগিয়ে নেয়। তবে বড় সংগ্রহের লক্ষ্য থাকলেও বৃষ্টির কারণে দিনের দ্বিতীয় সেশনটি সম্পূর্ণই বাতিল হতে বাধ্য হয়। চা বিরতির পর খেলা চালু হলেও আলো কম থাকায় নির্ধারিত সময়ের আগেই খেলা শেষ করতে হয় আম্পায়ারদের, ফলে ম্যাচটি গড়ায় পঞ্চম দিনের দিকে।
চতুর্থ দিন শেষে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৫২ রান, যেখানে তারা এখন ১৭৯ রানের লিড পেয়ে গেছে। এর আগের দিন বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৪১৩ রান সংগ্রহ করে, আর পাকিস্তান অলআউট হয় ৩৮৬ রানে।
দিনের শুরুতে ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় (৫) ও সাদমান ইসলাম (১০) কিছুটা চাপের মধ্যে পড়লেও, পরে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল হক দুর্দান্ত শুরুর ধারাবাহিকতা ধরে রাখেন। তারা ১০৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে পরিস্থিতি বাংলাদেশে ফেরান। ব্যক্তিগত হাফ-সেঞ্চুরি পূরণ করেন দুজনই। তবে ১২৮ রানে আমিরের বলেই মুমিনুল হক ৫৬ রান করে আউট হলে জুটি ভেঙে যায়।
এ ছাড়া, এই ইনিংসসহ টেস্টে গত পাঁচ ইনিংসে টানা হাফসেঞ্চুরির রেকর্ড করেন মুমিনুল, এর আগে এমন কীর্তি গড়েছিলেন তামিম ইকবাল, যিনি ২০১০ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মার্চ থেকে জুনের মধ্যে টানা পাঁচ ইনিংসে পঞ্চাশোর্ধ রান করেছিলেন। সেই সময়ে লর্ডস ও ম্যানচেস্টারে তার দুটো অসাধারণ সেঞ্চুরি ছিল।
মুমিনুল আউট হওয়ার পরে, অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ১০৬ বলে ৫৮ রান করে অপরাজিত থাকেন, আর তার সাথে ১৬ রানে অপরাজিত রয়েছেন অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম।
প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ৪১৩ রান করে, যেখানে শান্ত ১০১, মমিনুল ৯১ এবং মুশফিক ৭১ রান করেন। উত্তর এ ব্যাটিং করে পাকিস্তান তাদের প্রথম ইনিংসে ৩৮৬ রানে অলআউট হয়। অভিষিক্ত আজান আওয়াইস ১০৩-এর সেঞ্চুরি ও আব্দুল্লাহ ফজল ৬০-এর হাফসেঞ্চুরি করেন, তবে মেহেদী হাসান মিরাজের ৫ উইকেটের কারণে বড় লিড নিতে পারেনি পাকিস্তান। ফলে, প্রথম ইনিংস শেষে বাংলাদেশ ২৭ রানের লিড নেয়।
চতুর্থ দিন শেষে ১৭৯ রানের লিড নিয়ে বাংলাদেশের দখলদারিত্ব স্পষ্ট হয়ে গেছে, আর পঞ্চম দিন তারা দ্রুত রান সংগ্রহ করে বড় লক্ষ্য তৈরি করতে চায়। এই ম্যাচে তাদের লক্ষ্য হবে পাকিস্তানের সামনে বড় সংগ্রহ তুলে ধরা। চণ্ডিকা হাথুরুসিংহের শিষ্যরা শেষ দিনে অপেক্ষায় থাকবেন দ্রুত কিছু রান তুলে মনোযোগ দেয়ার জন্য, যেন সম্ভব হয় জয় ছিনিয়ে নেয়া ও ম্যাচ জয়।
-

যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বশান্তির জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি: ইরান
ইরান আবারও যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। সম্প্রতি তেহরানের পক্ষ থেকে এক যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব দেওয়ার পর, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তা প্রত্যাখ্যান করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই প্রতিক্রিয়া জানায়।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি ও তাদের সামরিক স্থাপনা সহিংসতা ও দাদাগিরির চক্র সৃষ্টি করছে, যা অঞ্চলটিতে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছে। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবি অযৌক্তিকভাবে উপস্থাপন করছে, যেখানে এর বিপরীতে ইরানের দাবিগুলো হলো—অবরোধ তুলে নেওয়া, ইরানের সম্পদ মুক্তি দেওয়া এবং যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা।
বাঘাই বলেন, ‘ইরান নিজেকে একটি দায়িত্বশীল আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে প্রমাণ করে আসছে। আমরা কোনো দাদাগিরি করছি না; বরং দাদাগিরির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিচ্ছি।’ তিনি বিস্তারিতভাবে ইরানের দাবিগুলোর তালিকা তুলে ধরেন, যেখানে রয়েছে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা, দেশের অর্থনৈতিক অবরোধ প্রত্যাহার করা এবং পুরো অঞ্চলে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা।
ইরানের এই যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবকে উদার ও দায়িত্বশীল বলে অভিহিত করে বাঘাই বলেন, বর্তমানে হরমুজ প্রণালি অবরোধের ফলে সাময়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তার নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এর পরিপ্রেক্ষিতে, ইরান লেবাননসহ অন্যান্য এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সংকল্পবদ্ধ। তিনি ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান, হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানো বা অবরোধে সহায়তা দেওয়া থেকে বিরত থাকার। বাঘাই জানান, ‘যদিও এই যুদ্ধের ফলে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত, তবে এটি শুধুমাত্র অনৈতিক নয়, বরং অবৈধও।
তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলই ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন সৃষ্টি করছে। ইউরোপীয় দেশগুলোর উচিত নয় এই ফাঁদে পা দেওয়া। সকলের জন্য শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বৈশ্বিক শক্তিগুলোর দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
-

লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ তিনজনের মৃত্যু
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের নাবাতিহ জেলা জেবদিনের একটি বাড়িতে ইসরায়েলের ড্রোন হামলায় দুই বাংলাদেশি শ্রমিকসহ তিন জন নিহত হয়েছেন। নিহত অপর একজন সিরীয় নাগরিক। এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম লরিয়েন্ট টুডে, যা সোমবার (১১ মে) প্রকাশিত হয়েছে। তবে এই রিপোর্টে বাংলাদেশের শ্রমিকদের নাম বা পরিচয় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। জানা গেছে, নিহতরা 모두 ওই এলাকায় শ্রমিকের কাজ করছিলেন।
এই হামলার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে, যেখানে যুদ্ধবিরতিসত্ত্বেও ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও ধ্বংস চালিয়ে যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই আক্রমণটি গতকালই অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এর জবাবে, লেবাননের শক্তিশালী শত্রু ও সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। তারা আজও ইসরায়েলি সেনাদের বিরুদ্ধে ড্রোন হামলা করেছে।
উল্লেখ্য, ১৬ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। তবে এরপরও ইসরায়েলি সেনারা বিভিন্ন সময় তা অমান্য করে দক্ষিণ লেবাননে সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি, স্থাপনাবিষয়ক ক্ষয়ক্ষতি চালিয়ে যায়, পাশাপাশি হিজবুল্লাহর সদস্যদের লক্ষ্য করে হামলা চালাতে থাকে। এর জবাবে হিজবুল্লাহও পাল্টা হামলা করছে, ফলে পরিস্থিতি ক্রমশ অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে।
-

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানালেন ঈদুল আযহা কবে হবে
মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দ دبيয়ে আগামী ১৭ মে পবিত্র জিলহজ মাসের নতুন চাঁদ দেখার জন্য একটি বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। এই উদ্যোগটি দেশটির ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড চ্যারিটেবল অ্যাক্টিভিটিজ ডিপার্টমেন্টের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হবে। গালফ নিউজের খবরে জানা গেছে, এই অনুষ্ঠানে জ্যোতির্বিজ্ঞানের আধুনিক প্রযুক্তি এবং শরিয়া-ভিত্তিক চাঁদ দেখা পদ্ধতিকে একত্রিত করে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে চাঁদ দেখার চেষ্টা করা হবে। ড. হামাদ মোহাম্মদ সালেহ, বিভাগটির টাইমিং অ্যান্ড ক্রিসেন্ট অবজার্ভেশন শাখার প্রধান এবং দুবাই চাঁদ দেখা কমিটির উপ-সভাপতি, জানান যে, এই পরীক্ষাটি মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ যেখানে আধুনিক জ্যোতির্বিদ্যাবিজ্ঞানের সাহায্যে ঈদুল আযহার সময় নির্ধারণ করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে সুন্নাহর মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং চাঁদ দেখার আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি হবে। দেশটির সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে পরিবারের সঙ্গে থাকা শিশু ও তরুণরা এতে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
অপরদিকে, আরবী বর্ষের শেষ মাস জিলহজ। এই মাসের দশম দিনে মুসলিমরা ঈদুল আযহা উৎসব উদযাপন করে থাকেন। আরব ইউনিয়ন ফর অ্যাস্ট্রোনমি এন্ড স্পেস সায়েন্সেসের সদস্য ইব্রাহিম আল জারওয়ান অনুসারে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সময় অনুযায়ী রোববার (১৭ মে) মধ্যরাত ১২টা ১ মিনিটে নতুন চাঁদ দেখা সম্ভব হবে। তাই সম্ভাব্যভাবে, জিলহজ মাসের প্রথম দিন হবে সোমবার (১৮ মে)। এই হিসাব অনুযায়ী, আরাফার দিন অর্থাৎ জিলহজ ৯ তারিখ পড়বে আগামী মঙ্গলবার (২৬ মে), এবং ঈদুল আযহা পালন হতে পারে বুধবার (২৭ মে)।
-

ইরানে হামলার সম্ভাবনা নিয়ে ট্রাম্পের সতর্কতা
ইরানকে কেন্দ্র করে সক্রিয় উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানে হামলার কথা চিন্তা করছেন বলে মনে করা হচ্ছে। সোমবার (১২ মে) বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেশ কয়েকটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়, এই মুহূর্তে হামলার ভাবনা তার মনোযোগে ফিরে এসেছে, যা আগের তুলনায় বেশি সিরিয়াস।
সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছেন, ট্রাম্প ইরানের সাথে চলমান আলোচনায় অচলাবস্থা দেখে হতাশ হয়ে পড়েছেন। পাশাপাশি, হরমুজ প্রণালির বন্ধ থাকায় তার মধ্যে ধৈর্য্য হারানোর প্রবণতা দেখা দিয়েছে। তার মতে, ইরানি নেতার মধ্যকার বিভাজনের কারণে পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে তারা কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না।
আরেকটি সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছেন, ইরান যখন যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাবে অপ্রত্যাশিতভাবে জবাব দিচ্ছে, তখন তার মানে হলো তাদের মধ্যে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে—তাহলে কি তারা সত্যিই আলোচনায় আগ্রহী? এই পরিস্থিতিতে কিছু সূত্র বলছে, মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক অংশ আবারও ইরানের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনা নিচ্ছে। তাদের মতে, এই পদক্ষেপে ইরানকে দুর্বল করে দেওয়া যেতে পারে, যা পরবর্তীতে তারা আলোচনা টেবিলে বসতে রাজি হবে। তবে অন্য একটি পক্ষ বলছে, সময় নিয়ে কূটনীতি চালিয়ে যাওয়া উচিত।
এছাড়াও, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কর্মকর্তারা পাকিস্তানের মধ্যস্ততা প্রক্রিয়ার ধরন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তারা মনে করছেন, ট্রাম্প ইতিবাচক কথাগুলোই বেশি প্রকাশ করছেন, যখন বাস্তবে ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের মধ্যে কিছু গোপন দ্বিধা লুকানো। তারা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন, পাকিস্তান হয়তো ইরানের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে যে, ট্রাম্প কোনটা সত্য এবং কোনটা নয়, তা স্পষ্ট নয়।
অবশেষে, তারা মনে করেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি যা কিছু বলে, তার মধ্যে শুধুমাত্র ইতিবাচক কথাগুলোই তারা প্রকাশ করছে, যা সত্যের সঙ্গে মিলে না। এতে করে মিথ্যা বা ভান করে থাকা কথাগুলোর খোলাখুলি সত্যতা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
-

মার্কিন ও ফরাসি নাগরিকের শরীরে হান্টাভাইরাস শনাক্ত
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের যাত্রীরা নিয়ে আটলান্টিক মহাসাগরে ভ্রমণে বের হওয়া প্রমোদতরী ‘এমভি হন্ডিয়াস’ হান্টাভাইরাসের প্রকোপে আক্রান্ত হওয়ার খবর প্রকাশ পেয়েছে। এই পরিস্থিতি এখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং সংশ্লিষ্ট দেশের authorities বা কর্তৃপক্ষগুলোকে আরও কঠোর সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেছে।
এক মাস আগে আর্জেন্টিনা থেকে যাত্রা শুরু করা এই বিলাসবহুল ক্রুজজাহাজে থাকা এবং এর পরের বিভিন্ন ভ্রমণের ফলস্বরূপ এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হয়েছে যে তিনজন যাত্রীর মৃত্যুও হয়েছে। এক ডাচ দম্পতি এবং এক জার্মান নারীর মৃত্যুর তথ্য ডব্লিউএইচও নিশ্চিত করেছে।
ভাইরাসটির সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকে যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ আফ্রিকা, নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাষ্ট্র ও সুইজারল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে ফিরে গেছেন।
বিশেষ করে, এই ভাইরাসের সংক্রমণ এখন মার্কিন ও ফরাসি নাগরিকের শরীরে শনাক্ত হয়েছে, যারা জাহাজ থেকে নিজ দেশে ফেরার পথে ছিলেন। মার্কিন স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, এই ব্যক্তিদের মধ্যে একজনের শরীরে হালকা উপসর্গ দেখা যাচ্ছে, তবে অতিরিক্ত সতর্কতার জন্য উভয়কে বায়োকন্টেইনমেন্ট সেন্টারে রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, ফরাসি স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্টেফানি রিস্ট জানিয়েছেন, প্যারিসে এক নারী আইসোলেশনে রয়েছেন এবং তার স্বাস্থ্যের অবনতি হচ্ছে। এ ছাড়া তার সংস্পর্শে আসা ২২ জনও শনাক্ত করা হয়েছে।
কীভাবে এই ভাইরাস মানুষের মধ্যে ছড়াচ্ছে?
১ এপ্রিল আর্জেন্টিনার উশুয়াইয়া থেকে ‘এমভি হন্ডিয়াস’ যাত্রা শুরু করে। এই ক্রুজটি ওশেনওয়াইড এক্সপেডিশনসের দ্বারা পরিচালিত।জাহাজটি ব্রিটিশ শাসিত দক্ষিণ জর্জিয়া অঞ্চলে যাওয়ার উদ্দেশ্য ছিল এবং এই পথে যাত্রীদের আটলান্টিকের একদম অদেখা ও দুঃসাহসিক কিছু অঞ্চলের মাধ্যমে ভ্রমণ করার পরিকল্পনা ছিল।
প্রাথমিকভাবে প্রায় ১৫০ জন যাত্রী ও ক্রু এই জাহাজে ছিল, তাদের মধ্যে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফিলিপিন্স, রাশিয়া এবং ইউরোপের নাগরিকরা অন্তর্ভুক্ত।
১১ এপ্রিল এক ডাচ নাগরিকের মৃত্যু ঘটে, তবে তার মৃত্যুর কারণ শেষে জানা যায়নি। এর পরে, ২৪ এপ্রিল তার স্ত্রীর মরদেহ জাহাজ থেকে নামানো হয় এবং তাকে দক্ষিণ আফ্রিকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জোহানেসবার্গের একটি হাসপাতালে তিনি মারা যান। এই মৃত্যুর সূত্রে জানা যায়, ওই নারী হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন।
এরপর, ২ মে আরও একজন জার্মান নাগরিকের মৃত্যুর খবর আসে, ফলে মোট মৃতের সংখ্যা তিনে পৌঁছায়।
বুধবার নিশ্চিত করা হয়, জাহাজের দুই ব্যক্তির শরীরে অ্যান্ডিস স্ট্রেইন ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে, যা সংস্পর্শে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে ছড়াতে সক্ষম। এছাড়া, জাহাজটি সেন্ট হেলেনার নৌবন্দরে নোঙর থাকার সময় কিছু যাত্রী ও ব্রিটিশ নাগরিকরা মাটি ছুঁয়েছেন, যাদের সঙ্গেও যোগাযোগ হয়েছে।
জাহাজটির কার্যক্রম চলাকালে, নেদারল্যান্ডসের দুই বিশেষজ্ঞসহ অন্যান্য চিকিৎসকদের উপস্থিতির আশা করা হচ্ছে। তারা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে চলেছেন।
বর্তমানে, এই প্রমোদতরী স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের দিকে যাত্রা করছে, যেখানে কিছু সময় নোঙর করে থাকছে।
হান্টাভাইরাস কি?
হান্টাভাইরাস এমন এক ধরনের ভাইরাস, যা মূলত ইঁদুরের দেহে থাকে। ইঁদুরের শুকনো মল, প্রস্রাব বা লালা থেকে ছড়িয়ে পড়ে বাতাসের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। অধিকাংশ সংক্রমণই হয় ভাইরাসের আণবিক কণার বায়ুপ্রবাহের মাধ্যমে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) বলছে, ইঁদুরের প্রস্রাব, মল বা লালা থেকে ভাইরাসটি বাতাসে ছড়াতে পারে, যা মানুষের শ্বাস নেয়ার মাধ্যমে সংক্রমিত হয়। বিরল ক্ষেত্রে, ইঁদুরের কামড় বা আঁচড় থেকেও এই ভাইরাস সংক্রমিত হতে পারে।
এই ভাইরাস দুটি গুরুতর রোগ সৃষ্টি করে: প্রথম, হান্টাভাইরাস পালমোনারি সিনড্রোম (এইচপিএস), যেখানে শুরুতে জ্বর, ক্লান্তি, পেশিতে ব্যথা দেখা দেয়, পরে মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, পেটের সমস্যা হয় এবং শ্বাসকষ্টের কারণে মৃত্যুও হতে পারে। শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত উপসর্গে মৃত্যুর হার প্রায় ৩৮ শতাংশ।
দ্বিতীয়, হেমোরেজিক ফিভার উইথ রেনাল সিনড্রোম (এইচএফআরএস), যা কিডনির জন্য বেশি ক্ষতিকর, এতে রক্তচাপ কমে যায়, অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হয় এবং কিডনি বিকল হতে পারে।
-

প্রতিমন্ত্রী সাকির সঙ্গে কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলামের সাক্ষাৎ
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোঃ জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি সোমবার দুপুরে তাঁর কার্যালয়ে খুলনা סিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জুরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এই গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎকালে খুলনার অভ্যন্তরীণ কারিগরি ও উন্নয়ন বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে, খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) অধীনে বাস্তবায়িত ‘খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন’ প্রকল্পের সংশোধিত ডিপিপি উপস্থাপনের প্রয়োজনীয়তা আলোচনা হয়। প্রশাসক মঞ্জু জানান, এই প্রকল্পের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি কমাতে তাদের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে যাতে আগামী একনেক সভায় বিষয়টি উত্থাপন ও অনুমোদিত হয়। উল্লেখ্য, এই গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়কের অবশিষ্ট নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তৃতীয়বারের মতো নতুন ডিপিপি প্রস্তুত করে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করেছে। ইতোমধ্যে, এই প্রকল্পটি একনেকের সামনে উপস্থাপনের জন্য কার্যক্রম চলছে। এর আগে, প্রশাসক অনুরূপ উদ্যোগে সড়কটির অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পরবর্তী একনেক সভায় অন্তর্ভুক্তি ও অর্থায়নের জন্য পরিকল্পনা ও অর্থমন্ত্রী বরাবর প্রয়োজনীয় চিঠি পাঠান।
-

চিকিৎসা শেষে খুলনায় ফিরেছেন তুহিন, নেতাকর্মীদের মধ্যে স্বস্তি
খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন ঢাকায় চিকিৎসা শেষে আজ পুনরায় খুলনায় लौटেছেন। তার সুস্থতার খবর পেয়ে মহানগর বিএনপি ও বিভিন্ন অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা আনন্দ ও স্বস্তির অনুভূতি প্রকাশ করেছেন। সোমবার মহানগর বিএনপি’র মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী ঢাকা থেকে ফিরে আসার পর শফিকুল আলম তুহিন এখন বেশ ভালো আছেন এবং তার শারীরিক অবস্থা উন্নতির দিকে চলছে। সুস্থতার খবর পেয়ে তিনি খুলনায় পৌঁছানোর পর মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে শুকরিয়া আদায় করেছেন দলের নেতাকর্মীরা। বিএনপি নেতারা তার দ্রুত সম্পূর্ণ সুস্থতার জন্য দোয়া করেছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন যে, তার উপস্থিতি দলীয় কর্মকান্ডে উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে খুলনা মহানগর বিএনপিকে সংগঠিত করার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন। এ সময় নেতাকর্মীরা তার জন্য শুভকামনা ও শুভেচ্ছা জানান। বিশেষ করে আন্দোলন ও সংগঠনের শক্তি বৃদ্ধি বিষয়ে তার অন্তর্মুখী উদ্যোগে তারা আশাবাদী। শফিকুল আলম মনা, মহানগর বিএনপি’র সভাপতি ও দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদী, মো: মাসুদ পারভেজ বাবু, চৌধুরী হাসানুর রশিদ মিরাজসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
-

কক্সবাজার থেকে ফেরার পথে দুর্ঘটনায় নিহত, ছেলে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন ঝিনাইদহের দুই মা
বন্ধুদের সঙ্গে কক্সবাজারে ঘুরতে গিয়ে পরিবারের জন্য সমাপ্তি হলো এক দুঃখজনক সড়ক দুর্ঘটনায়। শনিবার সকালে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতির ফোর সিজন রেস্টুরেন্টের কাছে মারছা পরিবহনের দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন, এর মধ্যে দুইজন ঝিনাইদহের বাসিন্দা।
নিহতরা হলেন ঝিনাইদহের সদর উপজেলার বাজারগোপালপুর গ্রামের চাঁন আলীর ছেলে নাইমুর ইসলাম (২১) এবং পাথাহাটি গ্রামের আনোয়ার খন্দকারের ছেলে নাঈম মিয়া (২১)। রোববার দুপুরে তাদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। অন্য দিকে লোহাগাড়া থানা পুলিশ নিহত নাঈম মিয়ার মরদেহ দাফনের জন্য পরিবারের কাছে পাঠায়।
প্রথম মত অনুযায়ী, নাইমুর ইসলাম ও নাঈম মিয়া খুব কাছের বন্ধু ছিলেন। এক বছর আগে তারা বিজিবিতে চাকরি পান। ছুটিতে বাড়িতে ফিরে, তারা ৪ মে কক্সবাজারে বেড়াতে যান। তবে ফিরে আসার পথে, গত শনিবার, সকাল ১০টার দিকে দুর্ঘটনার শিকার হন। এ ঘটনায় একজন নারী ঘটনাস্থলেই মারা যান। হাসপাতালে নেয়ার পর ওই দিন দুপুরে নাইমুর ও নাঈমের মৃত্যু ঘটে।
নিহত নাইমুরের মা, খ্যাত আমেনা খাতুন, তার ছেলে হারানোর শোকে শয্যাশায়ী, এখন পল্লী চিকিৎসকের সহায়তায় চিকিৎসাধীন। তার স্বামী, চান আলী, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। তারা দুজনই একজন সফল জীবন গড়ার স্বপ্ন দেখতেন, যেখানে বড় ছেলে বিদেশে স্থায়ীভাবে থাকছে। কিন্তু দিনটি তাদের জন্য অত্যন্ত বেদনায় ভরপুর।
নাইমুর ২০২৪ সালে এইচএসসি পাস করে বিজিবিতে চাকরি পান। খুবই কম সময়ের মধ্যে ছুটিতে এসে আবার সেই বন্ধুদের সাথে কক্সবাজারে গিয়েছিলেন। কিন্তু ফিরার পথে এই অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনা তাঁদের স্বপ্নগুলো চূর্ণ করে দেয়।
এদিকে, নিহত নাঈম মিয়ার পরিবারেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার মা, গোলাপী খাতুন, বারবার কেদে কেদে মূর্ছা যাচ্ছেন। তার চাচা, সাইফুল ইসলাম, জানিয়েছেন, ভাই আনোয়ার খন্দকার চায়ের দোকান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। নাঈম ছিল তার একমাত্র ছেলে। দাফনের জন্য গত রাতে তার মরদেহ শহরের গোরস্তানে সমাহিত হয়েছে। তাদের পরিবার এখন বাকরুদ্ধ, তারা বিচার চাইছেন, এবং লোহাগাড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে ঘটনার জন্য।
এই ঘঠনার পর পুরো ঝিনাইদহে শোকের মাতম বইছে। পরিবারগুলোকে দুঃখ ও ক্ষোভের মধ্যে পড়তে হয়েছে, আর তারা মেনে নিতে পারেননি এই অপ্রত্যাশিত মৃত্যু। পরিবারের প্রত্যাশা, এই দুর্ঘটনাই যেন প্রকৃত বিচার পান এবং দায়ীদের শাস্তি হয়।
