Blog

  • আস্থা ভোটে প্রখর জয় — মুখ্যমন্ত্রী হলেন থালাপতি বিজয়

    আস্থা ভোটে প্রখর জয় — মুখ্যমন্ত্রী হলেন থালাপতি বিজয়

    দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ুর বিধানসভায় আস্থা ভোটে জয়ী হয়ে নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে পদ নিশ্চিত করলেন থালাপতি বিজয়। বুধবার অনুষ্ঠিত ওই ভোটে মোট ১৪৪জন বিধায়ক তাকে সমর্থন জানান, বিরোধীভাবে ভোট পড়ে ২২টি এবং ৫জন বিধায়ক ভোটদান থেকে বিরত থাকেন।

    গত মাসের নির্বাচনে তার নেতৃত্বে তামিলাগা ভেত্রি কাজাগম (টিভিকে) দলটি ঐতিহাসিক সাফল্য পেয়েছিল, যার ফলে রাজ্যের দীর্ঘদিনের দুই প্রধান শক্তি—ডিএমকে ও এআইএডিএমকে—এর প্রায় ৬২ বছরের রাজনৈতিক আধিপত্য ভেঙে পড়ে।

    আস্থা ভোটের ফলাফল ঘোষণা হওয়ার পর বিজয় বলেন, ‘হুইসেল ইতিহাস বদলে দিয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা নিজেদের সংখ্যালঘু সরকার বলব। আমরা এমন একটি সরকার গড়তে চাই, যা সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষা করবে।’ টিভিকের নির্বাচনী প্রতীক ছিল ‘হুইসেল’।

    ভোটাভুটির আগে ডিএমকে তাদের ৫৯জন বিধায়ক নিয়ে বিধানসভা থেকে ওয়াকআউট করে। এদিকে এআইএডিএমকের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বও আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল।

    তবে বড় চমক আসে এআইএডিএমকের ভেতর থেকেই। দলটির ২৪জন বিধায়ক দলীয় প্রধান এডাপ্পাদি ক. পালানিস্বামীর নির্দেশ অমান্য করে থালাপতি বিজয়ের পক্ষে ভোট দেন—যাতে দলের অভ্যন্তরীণ বিভেদ প্রকাশ্যে আসে।

    এই বিদ্রোহী আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন দলের জ্যেষ্ঠ নেতা সি. ভি. শানমুগম ও এস. পি. ভেলুমানি। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই তাদের নেতৃত্বে একটি অংশ টিভিকে-কে সমর্থন করার দাবি নিয়ে চাপ তৈরি করছিল। স্থানীয় গণমাধ্যমে খবর এসেছে যে দলের কয়েকজন বিধায়ক পুদুচেরির একটি রিসোর্টে অবস্থান নিয়ে নেতৃত্ব পরিবর্তন ও টিভিকের প্রতি সমর্থন চর্চা করছিলেন।

    শানমুগম সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘তিনবার ডিএমকের কাছে ও সর্বশেষ টিভিকের কাছে টানা চারটি নির্বাচনী পরাজয় দলের অবস্থাকে সংকটগ্রস্ত করে তুলেছে।’ তিনি বলেন, দলের ভাঙনের ইচ্ছা তার নেই, তবে এই ঘটনা এআইএডিএমকের ভেতরে নতুন ক্ষমতার লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

    এদিকে এআইএডিএমক কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে অভিযোগ করেছে যে শানমুগম, ভেলুমানি ও আরও কয়েক বিদ্রোহী নেতা টিভিকের কাছে মন্ত্রীত্বের পদ চেয়েছিলেন। দলের এই অভিযোগ রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।

    সংক্ষিপ্ত সময়ের এই পালাবদল ও অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনের মধ্যেই থালাপতি বিজয় এখন নতুন প্রশাসন গঠন ও সরকারের কর্মকাণ্ড শুরুর দিকে নজর দেবেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহে রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে আরও পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।

  • হরমুজ প্রণালিতে টোল আরোপের বিরোধিতা জানাল যুক্তরাষ্ট্র ও চীন

    হরমুজ প্রণালিতে টোল আরোপের বিরোধিতা জানাল যুক্তরাষ্ট্র ও চীন

    যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা একমত হয়েছেন যে হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে চলাচলকারী জাহাজের ওপর কোনো দেশ বা সংস্থা টোল আরোপ করতে পারবে না। বিষয়টি মঙ্গলবার রয়টার্সের সংবাদ হিসেবে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

    চলতি সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকের আগে দুই দেশের এই নীতি পরিষ্কার হওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও চলাচল বিষয়টি আলোচ্যসূচির গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হবে।

    মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এপ্রিল মাসে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ফোনালাপে এই বিষয়টি আলোচনা করেন। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র টমি পিগোট রয়টার্সকে বলেন, তারা একমত হয়েছেন যে আন্তর্জাতিক জলপথ হরমুজ প্রণালির মতো এলাকায় চলাচলের জন্য কোনো দেশ বা সংস্থাকে টোল আদায়ের অধিকার থাকা যাবে না।

    চীনা দূতাবাসও যুক্তরাষ্ট্রের এ বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেনি। তারা জানিয়েছে, সব পক্ষ একযোগে কাজ করলে প্রণালিটিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে—এটাই তাদের প্রত্যাশা।

    দুটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগত প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে: যুদ্ধের আগ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হতো। কিন্তু গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলার পর ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ প্রায় পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের ধাক্কা এসে পড়ে।

  • খুলনা জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক ফিরোজ আহমেদকে অব্যাহতি; আবু জাফরকে ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক

    খুলনা জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক ফিরোজ আহমেদকে অব্যাহতি; আবু জাফরকে ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্তে খুলনা জেলা শাখার আহবায়ক ফিরোজ আহমেদকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আবু জাফরকে ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক করে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এ ঘটনা ঘটে জেলা কমিটি ঘোষণার মাত্র ১৫ ঘন্টার মধ্যে।

    কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বুধবার (১৩ মে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় সংসদ এই পরিবর্তন করেছে এবং সিদ্ধান্তটি অবিলম্বে কার্যকর করা হবে।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সংগঠনের ধারাবাহিকতা ও গতিশীলতা রক্ষার স্বার্থে এমন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব আশা করে যে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তরা জেলার কার্যক্রমকে গতিশীল রাখবেন।

    গতকাল মঙ্গলবার রাতে খুলনা মহানগর ও জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। ওই অনুমোদিত তালিকায় খুলনা মহানগর আহবায়ক কমিটিতে তাজিম বিশ্বাসকে আহবায়ক, আরিফুর রহমান আরিফকে সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও হাবিবুর রহমান খান বিপ্লবকে সদস্য সচিব করে ৪৩ সদস্যের কমিটি রাখা হয়েছিল।

    একইভাবে খুলনা জেলা আহবায়ক কমিটিতে ফিরোজ আহমেদকে আহবায়ক, আবু জাফরকে সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও খান ইসমাইল হোসেনকে সদস্য সচিব করে ৩০ সদস্যের কমিটি অনুমোদিত হয়েছিল। তবে কেন্দ্রীয় সংসদের সাম্প্রতিক নির্দেশনায় ফিরোজকে অব্যাহতি দিয়ে আবু জাফরকে প্রশাসনিকভাবে ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক করে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়েছে।

    কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব জানায়, এই পরিবর্তন থেকে জেলা সংগঠনের কার্যক্রমে কোনও বিকৃতি না ঘটিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম বজায় রাখা লক্ষ্য।

  • খুলনায় নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন নিয়ে প্রেস ব্রিফিং

    খুলনায় নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন নিয়ে প্রেস ব্রিফিং

    খুলনা: খুলনা বিভাগীয় জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে বুধবার (১৩ মে) খুলনা প্রেসক্লাবের হুমায়ুন কবির বালু মিলনায়তনে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন সংক্রান্ত একটি প্রেসব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। ব্রিফিং করেন খুলনা বিভাগীয় জেলা তথ্য অফিসের পরিচালক গাজী জাকির হোসেন।

    প্রেসব্রিফিংয়ে সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার কর্মসূচি–ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন ও পুনঃখনন, বৃক্ষরোপণ, নারী সাশ্রয়ী পরিবহন, কৃষক কার্ড এবং কৃষি ঋণ মওকুফের ওপর প্রস্তুতকৃত পরিকল্পনা ও প্রচারণা কার্যক্রম তুলে ধরা হয়।

    ফ্যামিলি কার্ড সম্পর্কে প্রেসব্রিফিংয়ে বলা হয়, এটি বর্তমান সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় চালু করা একটি স্মার্ট কার্ড। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১০ মার্চ রাজধানীর কড়াইল বস্তি সংলগ্ন টিএন্ডটি মাঠে ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধন করেন। প্রথম পর্যায়ে দেশের ১৪টি উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের ৩৭,৫৬৭টি হতদরিদ্র পরিবার মাসিক দুই হাজার পাঁচশত টাকা ভাতা পাচ্ছে। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ১০ নম্বর ওয়ার্ডে প্রথম ধাপে ৫,২৭৫ জন উপকারভোগীর মধ্যে ৪,১৫৮ জনকে কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে প্রাথমিকভাবে সারাদেশে ৫০ লাখ দরিদ্র পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে।

    খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির আওতায় সরকার আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, খাল খনন, পুনঃখনন ও উদ্ধার করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৬ মার্চ দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার সাহাপাড়া খাল খননের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ৫৪টি জেলায় ওই কর্মসূচি উদ্বোধন করেন। এর ধারাবাহিকতায় যশোর-শার্শা উপজেলার উলাশী খালসহ খুলনার ডুমুরিয়া, বটিয়াঘাটা, দাকোপ, দিঘলিয়া, তেরখাদা, রূপসা, পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলায় খাল খননের কাজ চলমান রয়েছে।

    বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণে আগামী পাঁচ বছরে দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য বলা হয়। এই কর্মসূচির মাধ্যমে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৩.৫ লক্ষাধিক সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, যেখানে নারী, যুবক-যুবতী ও গ্রামীণ জনগণ সমানভাবে অংশগ্রহণ করবে। পাশাপাশি ১০ হাজার নতুন উদ্যোক্তা গড়ে তোলা হবে, যা আনুমানিক আড়াই লক্ষাধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক হবে। নারী চলাচলে স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে বিআরটিসির মাধ্যমে মহিলা বাস সার্ভিস চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

    কৃষক কার্ড নিয়ে জানানো হয়, ভূমিহীন ও প্রান্তিক কৃষকরা ওই কার্ডের মাধ্যমে ভর্তুকি, সহজঋণ, বীজ ও সারসহ মোট ১০ ধরনের বিশেষ সুবিধা পাবেন। প্রধানমন্ত্রী ১৪ এপ্রিল টাঙ্গাইলের শহিদ মারুফ স্টেডিয়ামে কৃষক কার্ডের প্রথম পর্যায়ের উদ্বোধন করেন। কার্ডধারীরা বার্ষিক দুই হাজার পাঁচশত টাকা নগদ সুবিধা পাবেন। পরীক্ষামূলকভাবে ১০টি জেলার ১১টি উপজেলায় মোট ২২,০৬৫ জন ভূমিহীন, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষককে কার্ড প্রদান করা হয়েছে। ভবিষ্যতে দেশের একশত ৬৫ লাখ কৃষক এই সুবিধার আওতায় আসবে।

    গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের কার্যক্রম হিসেবে গত ১৮০ দিনে এক হাজার ২১টি উঠান বৈঠক/কমিউনিটি সভা, ২০২টি নারী সমাবেশ, ১১,০৬০টি চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, ৩,২৪৮ ইউনিট সড়ক প্রচার, ১৪টি কৃষক সমাবেশ, ২২টি ফ্যামিলি সমাবেশ, ৩৪০টি প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত অগ্রাধিকার কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠান লাইভ সম্প্রচার এবং ২,৩৬১টি অনলাইন প্রচারণা পরিচালনা করা হয়েছে। খুলনা বিভাগীয় জেলা তথ্য অফিস ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ১৫২টি চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, ৬৫টি সড়ক প্রচার, ১০টি উঠান বৈঠক, ২টি নারী সমাবেশ, ১টি ফ্যামিলি সমাবেশ ও ৪টি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের লাইভ প্রচার বাস্তবায়ন করেছে। এই প্রচারণা চলমান থাকবে বলা হয়।

    প্রেসব্রিফিংয়ে খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোস্তফা সরোয়ার ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ তারিকুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন। খুলনার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। বিভাগীয় জেলা তথ্য অফিসের উপপরিচালক মোঃ ইব্রাহিম-আল-মামুন সরকারি নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন সম্পর্কে ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন।

    উল্লেখ্য, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের গণযোগাযোগ অধিদপ্তরাধীন ৬৪টি জেলা ও ৪টি উপজেলা তথ্য অফিসে সমন্বিতভাবে নিয়মিতভাবে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন সংক্রান্ত প্রচার কার্যক্রম চলছে এবং একযোগে প্রেসব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে।

  • বিসিবি নির্বাচনের তত্ত্বাবধানে তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন

    বিসিবি নির্বাচনের তত্ত্বাবধানে তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদের আগামী নির্বাচন পরিচালনার জন্য তিন সদস্যের একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে। আজ বিসিবি যেই সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে, তাতে কমিশনটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম—তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

    অন্য দুই দায়িত্বশীল সদস্য হলেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ইসরাইল হাওলাদার এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের উপসচিব এ. বি. এম. এহসানুল মামুন। সংবাদে বলা হয়েছে, নিয়ম-কানুন মেনে নির্বাচন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সব কার্যক্রম তত্ত্বাবধান ও পরিচালনা করার দায়িত্ব কমিশনেরই থাকবে।

    পটভূমিতে আছে গত ৭ এপ্রিল অনুষ্ঠিত একটি সিদ্ধান্ত। এনএসসি তখন আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে সেখানে অ্যাডহক কমিটি গঠন করে। ওই অ্যাডহক কমিটির সভাপতি করা হয় তামিম ইকবালকে এবং কমিটির উপর ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করার দায়িত্ব আসে।

    এরপর থেকেই বিসিবি ও অ্যাডহক কমিটি নিয়ে নানা আলোচনা ও প্রশ্ন ওঠে। তামিমের পদত্যাগের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লেও ৩০ এপ্রিল মিরপুরে দেওয়া এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট করে জানান যে তিনি পদত্যাগ করছেন না। পরে ৭ মে বিসিবিতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বিপিএলের সম্ভাব্য ফিক্সিং ও ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক জটিলতা নিয়ে অসন্তোষও প্রকাশ করেন।

    তামিম মিরপুরে নিয়মিত উপস্থিত থেকে বিসিবির কার্যক্রম মনিটর করছেন এবং খেলা চলাকালীনও সেখানে দেখা যায় তাকে। নতুন গঠিত নির্বাচন কমিশন এখন নিয়ম ও নিয়মাবলী মেনেই নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করবে বলেই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

  • পাকিস্তান ক্রিকেট ধুলোয় মিশে যাচ্ছে — বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ের কাছে ধারাবাহিক হার

    পাকিস্তান ক্রিকেট ধুলোয় মিশে যাচ্ছে — বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ের কাছে ধারাবাহিক হার

    পাকিস্তান ক্রিকেটের বিরুদ্ধে একরাশ প্রশ্নচিহ্ন। ফেব্রুয়ারি-মার্চে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা গড়ে উঠলেও সেই মুহূর্তটাকে কাজে লাগাতে পারেনি তারা। আইসিসির ওই ইভেন্টের পরে বাংলাদেশকে নিয়ে চার ম্যাচ খেলায় তিনটিতেই হেরেছে পাকিস্তান — যার উপর সংযুক্ত হয়েছে সামাজিক মাধ্যমে সাবেক ওপেনার আহমেদ শেহজাদের তীব্র সমালোচনা।

    মিরপুরের প্রথম টেস্টে বাংলাদেশকে ১০৪ রানে হারায় পাকিস্তান; আগে মার্চে ওয়ানডে সিরিজটাও হারিয়েছিল তারা। শেহজাদ এই ম্যাচে নাজমুল হোসেন শান্ত, মুমিনুল হক ও নাহিদ রানাদের পারফরম্যান্সকে প্রসংশা করে বলেছেন, ‘‘বাংলাদেশ নিজেদের মাঠে পুরো পাঁচ দিন আধিপত্য বিস্তার করে খেলল এবং শেষ পর্যন্ত জয় পেল। তোমরা কখনো জিম্বাবুয়ের কাছে হারো, কখনো বাংলাদেশের কাছে — ধুলোয় মিশে যাচ্ছে পাকিস্তান ক্রিকেট।’’

    শেহজাদ আরো ধরে দিয়েছেন যে ২০২৪ সালে পাকিস্তানকে তাদের মাঠে ২-০ ব্যবধানে হারানো ছিল কোনো ফ্লুক নয়। তার মতে এরপর থেকেই বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে উন্নতি করেছে এবং পাকিস্তান পিছিয়ে পড়েছে — বিশ্বকাপ-সহ নানা টুর্নামেন্টে দেশের পারফরম্যান্স হতাশাজনক। ২০২২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়েকে হেরে সাফল্য এলেও পরে বিশ্বকাপে রানার্সআপ হওয়া, আর কিছু পরেই যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সুপারওভারে পরাজয়সহ আরো ব্যর্থতা পাকিস্তানকে ঘিরে নেতিবাচক প্রশ্ন জাগিয়েছে, বলে মন্তব্য করেন শেহজাদ।

    ব্যক্তিগত দিক থেকে মিরপুর ম্যাচে একাধিক নতুন মুখের উত্থান দেখা গেছে — অভিষেকেই সেঞ্চুরি করেছেন আজান আওয়াইস, আর আব্দুল্লাহ ফজল দুই ইনিংসেই ফিফটি করেছেন। পক্ষান্তরে দলীয় দায়িত্বে থাকা শান মাসুদ দুই ইনিংস মিলিয়ে করেছেন মাত্র ৯ রান; সালমান আলী আঘা ও রিজওয়ান প্রথম ইনিংসে ফিফটি করলেও দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যর্থ হয়েছেন। সহ-অধিনায়ক সৌদ শাকিলও প্রত্যাশিত সাফল্য দেখাতে পারেননি।

    শেহজাদ এই পরিস্থিতিকে সাময়িক ভাবার প্রতি সতর্ক করে বলেছেন, ‘‘আজান ও আব্দুল্লাহ ভালো খেলেছে। কিন্তু সিনিয়ররা—রিজওয়ান, শাকিল, মাসুদ—তারা কোথায়? বড় কথা বলাটা এক কথা, কিন্তু লজ্জাবোধ ও আত্মসম্মান থাকা দরকার। পাকিস্তান ক্রিকেটকে কোথায় নিয়ে গেছো? এই হারকে ধামাচাপা দেওয়া যাবে না; তা থেকে শেখা জরুরি।’’

    টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের প্রেক্ষাপটেও মিরপুর জয় গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম টেস্ট শুরুর আগে ২০২৫-২৭ চক্রে পাকিস্তান শীর্ষে এগিয়ে থাকলেও মিরপুর জয়ের পর বাংলাদেশ পয়েন্ট টেবিলে দুই ধাপ উঠে ছয় নম্বরে চলে এসেছে; তাদের সফলতার হার এখন ৪৪.৪৪ শতাংশ। পাকিস্তান দুই ধাপ নেমে সাত নম্বরে, সফলতার হার ৩৩.৩৩ শতাংশ। সিরিজের দ্বিতীয় এবং নির্ধারক টেস্ট শুরু হবে ১৬ মে সিলেটে।

    সংক্ষেপে, ফলাফল ও পারফরম্যান্স দেখে শেহজাদসহ অনেকে মনে করছেন পাকিস্তানকে দ্রুত বিশ্লেষণ করে পরিবর্তন প্রয়োজন — নইলে দেশের জাতীয় ক্রিকেটের নামকে ধুলোয় মিশিয়ে ফেলার ঝুঁকি কোথাও থাকবে না।

  • কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সারের লিভার ডোনার হিসেবে দুই ভাই চেন্নাই যাচ্ছেন

    কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সারের লিভার ডোনার হিসেবে দুই ভাই চেন্নাই যাচ্ছেন

    জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সোমবার (১১ মে) রাতে জেট এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে বিদেশে নেওয়া হয়েছে। এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি রাত ১১টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চেন্নাইয়ের উদ্দেশে যাত্রা করে।

    টিউটোরিয়াল ও সোশ্যাল মিডিয়া স্তরে বেশ পরিচিত কারিনার সঙ্গে এই যাত্রায় ছিলেন তার মা লোপা কায়সার। পাশাপাশি সম্ভাব্য লিভার ডোনার হিসেবে তার দুই ভাই—মোস্তফা এস. হামিদ ও সাদাত হামিদ—ও পরিবারের প্রতিনিধি হিসেবে সঙ্গে ছিলেন।

    মঙ্গলবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে কারিনার বাবা কায়সার হামিদ সবাইকে মেয়ের জন্য দোয়া চেয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “দোয়া করবেন সবাই, গত রাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য আমার মেয়ে কারিনাকে দেশের বাইরে নেওয়া হয়েছে জেট এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে।”

    দেশেই থাকা প্রসঙ্গে কায়সার হামিদ সংবাদমাধ্যমকে জানান, তার দেশেই এখনো কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ এবং চিকিৎসার ব্যয় যোগাড় করতে সময় লাগায় তিনি যেতে পারছেন না। তিনি বলেন, “এখনও দেশে তার কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাকি রয়েছে। একই সঙ্গে ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতেও সময় লাগছে। তাই আপাতত যেতে পারছি না। তবে পরিবারের অন্য সদস্যরা কারিনার সঙ্গেই আছেন।”

    এর আগে সোমবার দুপুরে ভারতের ভিসা পাওয়ার বিষয়টি কায়সার হামিদ নিজেই নিশ্চিত করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন যে বিকেলে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স চেন্নাই থেকে তাকে নিতে আসবে এবং হাসপাতালে বেশ বড় অর্থভিত্তিক বিল রয়েছে। আইভত চিকিৎসা এবং এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা ফিক্সড ডিপোজিট ভাঙার পাশাপাশি জমির বায়না করছেন বলে জানান।

    কারিনার অসুস্থতার খবর প্রথম করেন ‘ডানা ভাই’খ্যাত কনটেন্ট ক্রিয়েটর কামরুন নাহার ডানা। তিনি জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে জ্বরে ভুগছিলেন কারিনা; হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে দ্রুত এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা পরে জানিয়েছেন কারিনার মধ্যে হেপাটাইটিসে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ ধরা পড়েছে, যা লিভার ফেলিয়ারে পরিণত হয়েছে। কিছুদিন ICU ও লাইফ সাপোর্টে রাখার পর আক্রান্ত পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা করা হচ্ছে।

    পরিবার এবং অনুরাগীদের তরফ থেকে কারিনার দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া এবং সমর্থনের আহ্বান জানানো হয়েছে। চিকিৎসা সংক্রান্ত আপডেট মিললেই পরিবারের পক্ষ থেকে তা জানানো হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • ৪৭ বছর বয়সে কন্নড় অভিনেতা-প্রযোজক দিলীপ রাজের আকস্মিক মৃত্যু

    ৪৭ বছর বয়সে কন্নড় অভিনেতা-প্রযোজক দিলীপ রাজের আকস্মিক মৃত্যু

    কন্নড় চলচ্চিত্র জগতে গভীর শোক নেমে এসেছে। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৪৭ বছর বয়সে প্রিয় অভিনেতা ও প্রযোজক দিলীপ রাজ আর নেই। বুধবার ভোরে শারীরিক অস্বস্তি অনুভব করলে দ্রুত বেঙ্গালুরুর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সকালে হঠাৎ দুর্বলতাজনিত সমস্যা শুরু হলে কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন। আনন্দমিশ্রিত ক্যারিয়ারের মধ্যদিকে এভাবে আকস্মিক চলে যাওয়ায় কন্নড় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে একটি বড় শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে।

    দিলীপ রাজের উপরিভাগীয় প্রতিভা তাকে ছোটপর্দা ও বড়পর্দায় সমানভাবে জনপ্রিয় করে তুলেছিল। টেলিভিশনে তিনি ছিলেন সুপারস্টার; ‘রঙ্গোলি’, ‘কুমকুম ভাগ্য’ থেকে শুরু করে জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘হিটলার কল্যাণ’-এ তার অভিনয় দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছিল।

    ফিল্মে তার পথচলা শুরু হয় ২০০৫ সালে নায়ক হিসেবে অভিষেক দিয়ে। ২০০৭ সালে পুণিত রাজকুমারের ব্লকবাস্টার ‘মিলানা’-তে ভিলেনের চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের sorpriz করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে ‘ইউ-টার্ন’, ‘লাভ মকটেল ৩’–সহ প্রায় ২৪টির বেশি ছবিতে তাকে দেখা গেছে।

    অভিনয়ের পাশাপাশি দিলীপ রাজ সফল প্রযোজক হিসেবেও কার্যক্রম চালিয়েছেন। তাঁর প্রযোজনা সংস্থা ‘ডিআর ক্রিয়েশনস’ থেকে টেলিহিরো ও হিট ধারাবাহিক নির্মিত হয়েছে। থিয়েটারেও তার অবদান ছিল লক্ষণীয়, যা তাঁর শিল্পী হিসেবে বহুমুখী প্রতিভার প্রমাণ।

    সহকর্মী ও ভক্তরা সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত শোকবার্তা জানাচ্ছেন। অভিনেতা চেতন কুমার স্মৃতিচারণ করে লিখেছেন, ‘দিলীপ শুধু একজন দক্ষ অভিনেতা ছিলেন না, মানুষ হিসেবেও অসাধারণ ছিলেন। ওর মতো আন্তরিকতা খুব কম মানুষের মধ্যে দেখা যায়।’

    দিলীপ রাজের অকালচরম প্রয়াণে ফিল্ম ও টিভি ইন্ডাস্ট্রির মাঝে শূন্যতা থাকবেই — তাঁর কর্মজীবন, আন্তরিকতা এবং অনুগত ভক্তসমাজ তাকে দীর্ঘদিন স্মরণ করবে। কার্যক্রম ও শেষকৃত্য সংক্রান্ত আরও তথ্য পরিবার বা সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানানো হবে।

  • মুক্তিপণের সাত লাখ টাকায় জলদস্যুদের কবল থেকে মুক্তি পেলেন ১৮ জলপরিজন

    মুক্তিপণের সাত লাখ টাকায় জলদস্যুদের কবল থেকে মুক্তি পেলেন ১৮ জলপরিজন

    সুন্দরবনের নদীতে জলদস্যুদের হাত থেকে অপহরণের শিকার ২০ জন জেলে ও মৌয়াল থেকে ১৮ জনকে প্রায় ৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করা হয়েছে। এ টাকা দিয়ে তারা ধাপে ধাপে মুক্তি পেয়ে বাড়ি ফিরেছেন, তবে এখনও দুজন জেলের মুক্তি মেলেনি। তাদের পরিবারের উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বেড়েই চলেছে। সোমবার বিকেল পর্যন্ত মুক্তিপেপ্রাপ্ত জেলেরা প্রত্যেকে নিজ নিজ গ্রামে ফিরে আসতে সক্ষম হন।

    নির্ঘণ্ট অনুযায়ী, ৪ ও ৫ মে দুর্বৃত্তরা ‘আলিফ’ বা ‘আলিম বাহিনী’ ও ‘নানাভাই/ডন বাহিনী’ পরিচয়ে অস্ত্রধারী জলদস্যুরা সাতক্ষীরা রেঞ্জের বিভিন্ন নদী এলাকা থেকে ২০ জন জেলে ও মৌয়ালকে অপহরণ করে। এর মধ্যে চুনকুড়ি নদীর গোয়াল বুনিয়া দুন, ধানোখালী খাল, মামুন্দো নদীর মাধভাঙা খাল ও মালঞ্চ নদীর চালতে বেড়ের খালে তাদের অপহরণ করা হয়। পরবর্তীতে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মহাজন, পরিবারের সদস্য ও সহযোগীদের কাছে মুক্তিপণের জন্য যোগাযোগ করা হয়।

    অপহরণকারীরা দর-কষাকষির মাধ্যমে দাবিকৃত ঋণের অংক কিছুটা কমিয়ে আনেন। পরে নির্ধারিত মোবাইল নম্বরে টাকা পৌঁছে দেওয়ার পর দস্যুরা ধীরে ধীরে জেলেদের ছাড়তে আরম্ভ করেন।

    ফেরার সময়ে মুক্তিপণ দিয়ে বাড়ি ফিরলেন বিভিন্ন জেলে ও মৌয়ালরা। তাদের মধ্যে মুরশিদ আলম ৭০ হাজার, করিম শেখ ১ লাখ ২০ হাজার, আবু ইসা ৫৫ হাজার, মমিন ফকির ৪৫ হাজার, আল-আমিন ২৫ হাজার, আবুল বাসার বাবু ৩০ হাজার, আবুল কালাম ৩০ হাজার, শাহাজান গাজী ৪০ হাজার, সিরাজ গাজী ৪০ হাজার, রবিউল ইসলাম বাবু ২০ হাজার, সঞ্জয় ২০ হাজার, আল-মামুন ২০ হাজার, হুমায়ুন ২০ হাজার, মনিরুল মোল্লা ২০ হাজার, রবিউল ইসলাম ২০ হাজার, হৃদয় মন্ডল ২০ হাজার, আব্দুল সালাম ৪০ হাজার এবং ইব্রাহিম গাজী ৫৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

    অন্যদিকে, শুকুর আলী গাজী ও রেজাউল করিম নামে দুজন জেলের পরিবারের পক্ষ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে বিনিময় হলেও তারা এখনও বাড়ি ফিরেননি বলে জানা গেছে।

    পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. মশিউর রহমান জানান, জলদস্যু দমন অভিযানে কোস্টগার্ডের সাথে যৌথভাবে কাজ চলছে। তবে অপহৃতদের পরিবারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য ও সহযোগিতা না পাওয়ায় দস্যু দমনে খুব একটা কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণে অসুবিধা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হলে সুন্দরবনের জলদস্যু দমন সম্ভব হবে।

  • দুই বছরেও উদঘাটন হয়নি এমপি আনার হত্যার রহস্য

    দুই বছরেও উদঘাটন হয়নি এমপি আনার হত্যার রহস্য

    ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ) আসনের তিনবারের সাবেক এমপি আনোয়ারুল আজিম আনার হত্যাকাণ্ডের দু’বছর পূর্ণ হলো। ২০২৪ সালের ১২ মে ভারতে চিকিৎসার জন্য যান তিনি, এরপর কলকাতার নিউটাউনের একটি ফ্ল্যাটে তাকে হত্যাকাণ্ডের শিকার করা হয় বলে বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলে। তবে এই আলোচিত হত্যাকাণ্ডের দুটি বছর পার হলেও এখনো চলমান তদন্তে কোনও চূড়ান্ত রহস্য উন্মোচিত হয়নি এবং পরিবার তার মরদেহ বা নিশ্চিত কোনও ফরেনসিক প্রতিবেদনও পেয়েছেন না।

    প্রাপ্ত তথ্য ও বিভিন্ন সূত্রের মতে, হত্যাকাণ্ডের পর মরদেহ গুমের জন্য তা খণ্ড-বিখণ্ড করে ছিন্নভিন্ন করা হয়। পরে বাংলাদেশ পুলিশের ডিবি এই ঘটনার তদন্তে কলকাতায় গিয়ে কিছু খণ্ডাংশ উদ্ধার করে। একই সময়ে ভারতের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বাংলাদেশি নাগরিক কসাই জেহাদসহ তিনজনকে আটক করে। তাদের দেয়া তথ্য ভিত্তিতে কলকাতার একটি পুকুর থেকে অনেক টুকরো হাড় উদ্ধার হয়, যেগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষা চলে যাচ্ছে। তবে দুই বছর পেরিয়ে গেলেও পরিবারের কাছে চূড়ান্ত রিপোর্ট বা মরদেহের কোনো অংশই পৌঁছায়নি। ফলে, ইসলামি শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী জানাজা ও দাফন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারছেন না তারা।

    এমন পরিস্থিতিতে আনোয়ারুল আজিম আনারের মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন বলেন, ‘আমরা বাবার হত্যাকাণ্ডের খবর বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে জেনেছি, কিন্তু এখনো একটীও দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে পাইনি। হত্যাকাণ্ডের মূল আসামিসহ অন্যান্যদের জামিন পাওয়ায় আমাদের সন্দেহ রয়েছে। আমি প্রশ্ন করি, আমি কি আমার বাবার হত্যার বিচার পেতে পারব?’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাই, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।’

    ডরিন জানান, ভারতের প্রশাসনের অনুরোধে তারা ডিএনএ নমুনা ও অন্যান্য পরীক্ষার জন্য ফরেনসিক নমুনা জমা দেন। কিন্তু অনেক সময় পার হলেও এখনো কোনও চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাননি। মরদেহের খণ্ডাংশ না পাওয়ায় এখনো জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করতে পারেননি। উপরন্তু, মৃত্যুসনদ না পাওয়ায় আইনি ও পারিবারিক কাজে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল, কিন্তু দুই বছরের বেশি সময় পার হলো, তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া ধীরগতি হওয়ায় পরিবার হতাশা প্রকাশ করছে।