Blog

  • বিসিবির টয়লেটের দুর্নীতি দেখে ক্ষুব্ধ তামিম

    বিসিবির টয়লেটের দুর্নীতি দেখে ক্ষুব্ধ তামিম

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে থাকা তামিম ইকবাল সম্প্রতি একটি বিষয় নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি দেখেছেন, মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ব্যবহৃত টয়লেটের অবস্থা কতটা অবহেলিত ও দুর্নীতিগ্রস্ত। তামিম জানান, যেখানে ২০০৭ সালে স্টেডিয়ামটি তৈরি হয়, এর পর থেকে এখনো কোনো গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার বা উন্নয়ন হয়নি। তিনি বলেন, আমি স্টেডিয়ামের টয়লেট দেখার জন্য Gelände গিয়ে দেখতে পেলাম, পরিচ্ছন্নতাকর্মী নারীদের বেতন কতটা ন্যূনতম কারণে কম দেয়া হয়। একটি বিষয় আমাকে খুবই ক্ষুব্ধ করেছেন, তারা প্রতিদিন মাত্র ৩০০ টাকা বা ৪০০ টাকা আয় করেন। অথচ তাদের কাছ থেকে আরও বড়ো অংকের টাকা চুরি বা যার ফলে তারা অসুবর্ণ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এই দুর্নীতি আমার জন্য একেবারেই অগ্রহণযোগ্য।

    তামিম ব্যাখ্যা করেন, তিনি যখন গ্যালারিতে গিয়ে দেখেন এবং সেখানে উপস্থিত নারীদের সঙ্গে কথা বলেন, তারা জানান, প্রতিদিন তারা মাত্র ৩০০ টাকাই পান। একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী বলেন, আমাদের এই মানে ৬৫০ টাকা দেয়, কিন্তু কেন আমাদের থেকে এত কম টাকা নেয়ার ব্যাপার হলো, সেটি বুঝতে পারছেন না। এই দুর্নীতির ব্যাপারে সবাই জানে, কিন্তু তা সত্ত্বেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয় না। এই পরিস্থিতি দেখে খুবই কষ্ট হয়, কারণ এখানকার নারীরা প্রতিদিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে থাকেন, কিন্তু তাদের মাসিক আয়ের অর্ধেক বা তার থেকেও কম টাকা থেকে লোপাট করা হয়।

    তামিম আরও জানান, দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে এই স্টেডিয়ামে কোনো বড় ধরনের সংস্কার বা উন্নয়ন হয়নি। তিনি বলেন, যখন এটি তৈরি হয়েছিল, তখন থেকেই সময়ের সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যাপারে কোনো নজরদারি হয়নি। এক পর্যায়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানতে পারেন, তারা প্রতিদিন মাত্র ৩০০ টাকা করে পান, যা তাদের বেঁচে থাকার জন্য খুবই অপ্রতুল। এমন পরিস্থিতিতে বিদেশ থেকে আসা একজন নারী, যারা বাংলাদেশে এসেছেন অভিযোগ করতে, বলেছেন, ওয়াশরুমের অবস্থা খুবই খারাপ। তাঁর কথায়, ‘ভাইয়া, যদি এই সব ওয়াশরুমগুলো ঠিক করা যায়, খুব ভালো হতো।’

    তামিম সতর্ক করে বলেন, অযাচিত দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার জন্য সংশ্লিষ্ট কোম্পানি বা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, যদি পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পারিশ্রমিকের বিষয়ে অফিসিয়াল মাল্টি-প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পর্যাপ্ত অর্থ না পায়, তাহলে তাদের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করবো এবং ভবিষ্যতে কোনোভাবেই এইসব কাজে স্থান দেব না। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সবার সামনে একজন উল্লেখ করেন, ‘‘আমি চাই, এই সিরিজের মধ্যে ৩০ নারী পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে বলব, তাদেরকে আমার জন্য ৫০০ টাকা করে দিতে।» আর তাই, অফিসিয়াল চুক্তি মানা না হলে বা অনিয়ম চলমান থাকলে, সংশ্লিষ্ট কোম্পানির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দেন তামিম।

  • ধবলধোলাইয়ের পর আইসিসির শাস্তিও পেলেন জ্যোতি

    ধবলধোলাইয়ের পর আইসিসির শাস্তিও পেলেন জ্যোতি

    শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে সিরিজটায় বাংলাদেশের মহিলা ক্রিকেট অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির জন্য זו এক স্মরণীয় বা ভুলে যাওয়ার মতো একটি সিরিজ। তিনি নেতৃত্বে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি—দুই ধরনের সিরিজেই বাংলাদেশ হেরেছে। বিশেষ করে টেস্টে তারা ধবলধোলাই হওয়া ছাড়িয়ে ব্যাপক নাজেহাল হয়েছে। এবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি) থেকে শাস্তির মর্যাদা পেলেন জ্যোতি।

    আইসিসি আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়ে দিয়েছে যে, জ্যোতিকে আনুষ্ঠানিকভাবে তিরস্কার এবং একজন ডিমেরিট পয়েন্ট দেয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ম ভঙ্গের জন্য এই শাস্তি দেওয়া হলো। মাঠের দুই আম্পায়ার এলয়িজ শেরিডান ও শাথিরা জাকির জেসি, তৃতীয় আম্পায়ার রোকেয়া সুলতানা এবং চতুর্থ আম্পায়ার চম্পা চাকমা এই অভিযোগ দায়ের করেন। ম্যাচ রেফারি সুপ্রিয়া রানি দাস শাস্তির সিদ্ধান্ত জানান।

    প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, জ্যোতির বিরুদ্ধে আইসিসির আচরণবিধির ধারা ২.২ লংঘনের অভিযোগ উঠেছে। এই ধারা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ম্যাচের সময় ক্রিকেট সরঞ্জাম, পোশাক কিংবা মাঠের সরঞ্জাম বা স্থাপনা অপব্যবহার করলে শাস্তি পেতে হয়।

    ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, সিলেটে পরশু দিন তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে লঙ্কান অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তার হাতে আউট হওয়ার পর জ্যোতি ৯ বলে ১৩ রান করে আউট হন। ম্যাচের পর হতাশা প্রকাশ করে তিনি ব্যাট ছুঁড়ে মারেন।

    এটা জ্যোতির চলমান ক্যারিয়ারে প্রথম কোনো বড় অপরাধ নয়। দোষ স্বীকার করে নিলে শাস্তি অত্যন্ত সামান্যই হয়। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, ধারা ২.২ লংঘনের জন্য সর্বনিম্ন শাস্তি হলো আনুষ্ঠানিক তিরস্কার। আর সবচেয়ে বেশি হলো ম্যাচের শেকড় কমিয়ে দেয়ার মাধ্যমে খেলোয়াড়ের ম্যাচ ফি ৫০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা আর এক বা দুই ডিমেরিট পয়েন্টের সাজা।

    শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজে বাংলাদেশের সফলতা বলতে প্রথম ওয়ানডে জয় রূপান্তরটুকুই। এরপর প্রথমে ওয়ানডে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে হেরে যায় বাংলাদেশ। সেটার পর টি-টোয়েন্টি সিরিজে তারা ৩-০ ব্যবধানে পরাজিত হয়, ফলে তিন ম্যাচ মিলিয়ে সিরিজ জিতে নেয় লঙ্কানরা।

  • ঢাকার অনূর্ধ্ব-১৪ একাডেমি কাপের সেমিফাইনালে এসবিবলি

    ঢাকার অনূর্ধ্ব-১৪ একাডেমি কাপের সেমিফাইনালে এসবিবলি

    বাংলাদেশের ফুটবল বিশ্বে নতুন প্রতিভাদের খোঁজে ‘নতুন প্রতিভার অন্বেষণে’ শ্লোগানে বাংলাদেশ ফুটবল সাপোর্টার্স ফোরামের উদ্যোগে, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সহযোগিতা ও বসুন্ধরা কিংসের পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত হলো বসুন্ধরা কিংস বিএফএসএফ অনূর্ধ্ব-১৪ একাডেমি কাপ ফুটবল। এই আসরে ব্যাপক উত্তেজনা ও প্রতিযোগিতা চলাকালে, খুলনার এসবিবলি ফুটবল একাডেমী দুর্দান্ত পারফরমেন্স করে সেমিফাইনালে পৌঁছেছে।

    সোমবার (৪ মে) ঢাকার কমলাপুরে বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল এসবিবলি ফুটবল একাডেমী খুলনা এবং রাজশাহীর হরিয়ান ফুটবল একাডেমী। এই উত্তেজনাপূর্ণ খেলায় এসবিবলি ফুটবল একাডেমী ৩-১ গোলে জয় লাভ করে। গোল করেছেন ইমরান, শিশির এবং অন্তর। এই দুর্দান্ত পারফরমেন্সের জন্য ম্যাচের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন এসবিবলির ইয়াসিন। ৬ মে বিকেল ৪টায় সেমি-ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।

    এসবিবলি ফুটবল একাডেমীর খেলোয়াড়দের মধ্যে রয়েছেন আকাশ, হামিম, হোসাইন, জামিল, রিফাত, ইয়াসিন, শিশির, অন্তর, সুজন, সাব্বির, অংকন, বাইজিদ, সৌরভ, অনিক, রোহিত, তাজ, ইমরান, আবির, নাফিস, রাফি ও আইয়ান। দলের ম্যানেজার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী, চিফ কোচ শহিদুল ইসলাম এবং সহকারী কোচ নুরুল ইসলাম শিমুল।

  • বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কাকে ছাড়িয়ে টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে অষ্টম স্থান verbl

    বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কাকে ছাড়িয়ে টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে অষ্টম স্থান verbl

    আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সর্বশেষ আপডেটে বাংলাদেশ এখন টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে আঠম স্থানে অবস্থান করছে, শ্রীলঙ্কাকে পেছনে ফেলে ইতি মধ্যে উন্নতি করেছে। এই পরিবর্তনটি এসেছে আইসিসির বার্ষিক র‍্যাঙ্কিং হালনাগাদের পর, যেখানে বাংলাদেশের পয়েন্ট বেড়েছে।

    বর্তমানে, র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে রয়েছে ভারতের দল, যাদের পয়েন্ট ২৭৫, সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছে তারা। এরপর রয়েছে ইংল্যান্ড, তাদের পয়েন্ট ২৬২, এবং তৃতীয় স্থানে অস্ট্রেলিয়া, যার পয়েন্ট ২৫৮।

    আইসিসির এই হালনাগাদে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালের মে মাস থেকে খেলা ম্যাচগুলোকে পুরোপুরি (১০০ শতাংশ) এবং এর আগের দুই বছরের ম্যাচগুলোকে অর্ধেক (৫০ শতাংশ) গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    শীর্ষ সাত দলের অবস্থানে কোনও পরিবর্তন আসেনি। চতুর্থ স্থানে রয়েছে নিউজিল্যান্ড, তাদের পয়েন্ট ২৪৭। পঞ্চম স্থানে আছে দক্ষিণ আফ্রিকা (২৪৪), ষষ্ঠ স্থানে পাকিস্তান (২৪০) এবং সপ্তম স্থানে রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ (২৩৩)।

    অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কা এখন ৬ পয়েন্ট হারিয়ে নবম স্থানে যেখানে অবস্থান করছে। এর ফলে বাংলাদেশ তাদের পেছনে ফেলে ২২৫ পয়েন্ট নিয়ে অষ্টম স্থান অর্জন করেছে। এই হালনাগাদের সময় বাংলাদেশি দলের পয়েন্ট বেড়ে ১ হয়েছে।

    দশম স্থানে রয়েছে আফগানিস্তান, তাদের পয়েন্ট ২২০। অপরিবর্তিত আছে জিম্বাবুয়ে এবং আয়ারল্যান্ড, যথাক্রমে ১১ম ও ১২তম স্থানে।

    বিশেষ চমক হিসেবে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের পয়েন্ট ৬ বৃদ্ধি করে দুই ধাপ এগোতে সক্ষম হয়েছে, এখন তারা ১৩তম। তারা পেছনে ফেলেছে নেদারল্যান্ডস এবং স্কটল্যান্ডকে, যারা যথাক্রমে ১৪ এবং ১৫ নম্বরে অবস্থান করছে।

  • পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থান: সীমান্ত, তিস্তা ও কূটনৈতিক জটিলতা

    পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থান: সীমান্ত, তিস্তা ও কূটনৈতিক জটিলতা

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি), যা দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতাসীন ছিল তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। এই পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের প্রতিবেশী ভারতের বেশ কিছু রাজ্য এখন বিজেপির আওতায় চলে গেছে, যা বাংলাদেশের জন্য নতুন শঙ্কা ও উদ্বেগের কারণ সৃষ্টি করেছে।

    বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে হওয়া নির্বাচন ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়, তাই এর ফলে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর কোনও প্রভাব পড়বে না। তবে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসার আগে থেকেই সেখানে কিছু দলীয় নেতা বাংলাদেশবিরোধী বক্তব্য দিয়ে আসছিলেন। নির্বাচনের পর থেকে বিজেপি ‘অবৈধ বাংলাদেশিদের’ বিতাড়নের বিষয়ক আলোচনাও তুঙ্গে ওঠে এবং আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মন্তব্য করেছেন। তা নিয়ে বাংলাদেশে উদ্বেগ প্রকাশ হয়েছে, বিশেষ করে ভারতের রাজ্যগুলোর শাসকদের পূর্ববর্তী কার্যকলাপকে কেন্দ্র করে। বিভিন্ন বিশ্লেষক ও কূটনীতিকরা সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, এসব বিষয়ের মাধ্যমে ভবিষ্যতে সম্পর্কের উপর প্রভাব পড়তে পারে।

    প্রতিবেশী রাজ্যগুলোর মধ্যে বিজেপির আধিপত্য বিস্তার ব্যাপক, যেখানে ত্রিপুরা, আসামসহ মেঘালয় থাকছে। এসব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা পাকিস্তান ও বাংলাদেশ বিরোধী ভাষণ দিয়ে আসছেন, যা বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের কারণ। ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে তলব করে বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

    তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তিতে নতুন আশার আলো জেগেছে, তবে একই সঙ্গে অনিশ্চয়তা এখনো রয়ে গেছে। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর কেন্দ্র ও পশ্চিমবঙ্গ উভয়েই নতুন চাপ সৃষ্টি হতে পারে এই চুক্তি নিয়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশেষজ্ঞ ওবায়দুল হক বলেছেন, বিজেপি কি সত্যিই তিস্তা চুক্তিতে এগিয়ে আসবে সেই বিষয়টি এখনো স্পষ্ট নয়, তারা বাংলাদেশকে নিছক আশ্বাস দেয়নি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানও উল্লেখ করেছেন, ভারতের নতুন সরকারের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে চুক্তির ভবিষ্যৎ।

    নিরাপত্তা ও অভিবাসন বিষয়েও ব্যাপক পরিবর্তন আসতে পারে। বিজেপির ইশতেহারে সীমান্ত নিরাপত্তা ও অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশসীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়তে পারে এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) ও জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা নতুন করে শুরু হতে পারে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে, কারণ এর মাধ্যমে সীমান্তে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে।

    আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ট্রানজিটের ক্ষেত্রেও কিছু পরিবর্তনের আশা কড়ে উঠেছে, যেখানে কেন্দ্র ও পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে তালমিল বাড়ার ব্যাবস্থা হতে পারে। এতে করে বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর সঙ্গে ভারতের যোগাযোগ ও ব্যবসা-বাণিজ্য আরও সহজতর হবে।

    বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভারতের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনের ফলাফল বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে প্রভাব ফেলবে না। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, ভারতে নির্বাচন তার নিজস্ব বিষয়, আমাদের লক্ষ্য করব স্বার্থে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং সমাধান খোঁজা।

    বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক নেতা-মন্ত্রীরা নানা ধরনের বক্তব্য দিতে পারে, তবে বাস্তবতা আলাদা। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর নাম এন্ট্রি হওয়া পরিস্থিতি নির্ভর করবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের উপর। তিস্তা চুক্তি প্রসঙ্গে তারা বলছেন, বিজেপি কখনোই স্পষ্ট আশ্বাস দেয়নি, তাই এত বেশি আশা করা ঠিক হবে না। তবে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসার ফলে কিছু অগ্রগতির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তবে পুশব্যাকের ঝুঁকিও রয়েছে।

    পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা বদলের ফলে সম্ভাব্য পুশইন পরিস্থিতি মোকাবেলায় বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে। তিনি সতর্ক করেছেন, হলে কোনও অপ্রয়োজনীয় পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সরকার উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে।

    ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো বিশ্লেষণ করছে যে, পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের নির্বাচনে বিজেপির জয়ের ফলে কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির উপর আরও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে সীমান্ত, নাগরিকত্ব ও নিরাপত্তা হয়তো আরও কঠোর হবে। তবে এতদিনের মতো, এসব পরিবর্তন বাংলাদেশের জন্য কিছু স্পর্শকাতর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে, যেখানে অভ্যন্তরীন রাজনীতি ও সীমান্ত পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

  • মমতার পদত্যাগের অস্বীকৃতি ও নির্বাচনী কারচুপির অভিযোগে সংকট সৃষ্টি

    মমতার পদত্যাগের অস্বীকৃতি ও নির্বাচনী কারচুপির অভিযোগে সংকট সৃষ্টি

    পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনে বিজেপির কাছে পরাজিত হলেও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার পদ থেকে পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে চলেছেন। মঙ্গলবার কলকাতায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি নির্বাচনী ফলাফলে কারচুপির অভিযোগ তুলে এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন। দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, মমতার এই অটল অবস্থান রাজ্যে এক বিরল সাংবিধানিক সংকটের সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতি সমাধানে দায়ভার সম্ভবত রাজ্যপাল আর এন রবির ওপর এসে পড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞেরা ধারণা করছেন। সোমবার ফলাফলে পরাজয়ের শঙ্কা প্রকাশের পর, জরুরি এক ভিডিও বার্তায় পশ্চিমবঙ্গের এই মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, তিনি কোনোভাবেই হারেননি; বরং বিজেপি ‘লুটপাটের’ মাধ্যমে ফল ছিনিয়ে নিয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আমি হারিনি, তাই রাজভবনে যাব না, আমার পদত্যাগপত্র দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। এখন কি হবে? এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যে可能তঃ রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হতে পারে। তবে ভারতের নির্বাচন কমিশনের একজন সূত্রের মতে, যদি বিধানসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই জয়ী দল সরকার গঠন করে রাজ্যপাল তাদের আামন্ত্রণ করলে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার মেয়াদ আগামী ৭ মে শেষ হচ্ছে, ফলে বিজেপির হাতে মাত্র দুই দিন সময় রয়েছে সরকার গঠনের জন্য। অভিযোগকারীরা বলছেন, ভবানীপুর আসনে নিজের ঘনিষ্ঠ ও বর্তমানে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হওয়ার পর তিনি অভিযোগ করেন, এই নির্বাচন চুরি হয়েছে অন্তত ১০০টি আসনে। তিনি একে ‘লুট, লুট এবং লুট’ বলে অভিহিত করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে মমতা কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশনের ব্যাপক যোগসাজশের অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন ‘নোংরা খেলোয়াড়ি’ খেলছে বলে মানছেন তিনি। কেন্দ্রীয় সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে তারা মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা, বিহার এবং এখন বাংলায় ভোট চুরি করেছে। গণতন্ত্রের সঙ্কট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ৭১ বছরের এই নেত্রী বলেন, বিচার বিভাগ যখন সক্রিয় থাকে না, নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট হয় এবং সরকার একদলীয় শাসন চায়, তখন এটি দেশের জন্য অশুভ বার্তা দেয়। তিনি জানান, একটি ভোটকেন্দ্রে তাকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়েছে; পেটে ও পিঠে লাথি মারার মতো ঘটনা ঘটেছে। সিসিটিভি সরিয়ে দেওয়া হয় এবং তাকে গণনা কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়। একজন নারীর জন্য এর চেয়ে অসভ্য আচরণ অন্য কিছু হতে পারে না। কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যদি কেন্দ্রীয় বাহিনী এমন আচরণ করে, তাহলে তার আর কিছু বলার থাকছে না। আগে থেকে বিজেপির নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা দেখে তিনি বলেছেন, পরবর্তী কৌশল কি হতে পারে সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কিছু বলেননি, তবে ‘ইনডিয়া’ জোটের নেতাদের তার সঙ্গে যোগাযোগ করে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। তার পাশাপাশি তিনি আঘাত ও কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনাগুলোর তদন্তের জন্য পাঁচজন সংসদ সদস্যের সমন্বয়ে এক কমিটি গঠনের ঘোষণা দেন। রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূলের মূল বিরোধী হলেও, নির্বাচনের পরপরই কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী মমতার পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। সামাজিক মাধ্যম এক্সে তিনি বিজেপিকে ‘ভোট চোর’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, কংগ্রেস ও অন্যান্য দলের কিছু নেতা এবং সাধারণ মানুষ তৃণমূলের হারে খুশি হতে পারেন, কিন্তু বুঝতে হবে, আসাম ও বাংলায় গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি যেন না ভেঙে যায়। তিনি বলেন, বিজেপি এই দুই রাজ্যে ভোট চুরির মাধ্যমে ভারতের গণতন্ত্র ধ্বংসের জন্য বড় একটি পদক্ষেপ নিতে চেয়েছে। এর আগেও, সোমবার, রাহুল গান্ধী ‘নির্বাচন কমিশনের সহায়তায়’ বিজেপির ভোট চুরি করেছে বলে দাবি জানান, আর এই একই কৌশল তারা অন্যান্য রাজ্যেও প্রয়োগ করেছে বলে তিনি পর্যবেক্ষণ করেন। সূত্র: এনডিটিভি।

  • মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয় জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টিকে মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি দিচ্ছে

    মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয় জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টিকে মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি দিচ্ছে

    ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা কর্তৃপক্ষ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টিকে মর্যাদাপূর্ণ মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী ৯ মে অনুষ্ঠেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বসন্তকালীন সমাবর্তনে এই ডিগ্রি প্রদান করা হবে।

    সম্প্রতি (৫ মে ২০২৬) ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা আনুষ্ঠানিকভাবে মিয়ামির বাংলাদেশ কনস্যুলেটকে এই তথ্য জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কনস্যুলেটের একজন প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, যাতে নিহত দুই পরিবারের পক্ষে তারা এই সম্মাননা গ্রহণ করতে পারেন। আসন্ন সমাবর্তনে মিয়ামির কনস্যুলেটের একজন প্রতিনিধি উপস্থিত থেকে জামিল এবং বৃষ্টির পরিবারের পক্ষে এই মর্যাদাপূর্ণ ডিগ্রি গ্রহণ করবেন।

    এছাড়াও, আগামীকাল (৬ মে ২০২৬) বিকেল ২টায় তাম্পায় নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। ৭ মে তার মরদেহ ঢাকায় পাঠানো হবে, এবং বিকেল ৮:৪০ মিনিটে ড্রাইভে আসতে থাকে দুবাই হয়ে রাজধানীতে পৌঁছাবে।

    জামিল আহমেদ লিমন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতিতে পিএইচডি করছিলেন। তার বয়স হয়েছিল ২৭ বছর।

    ১৬ এপ্রিল তিনি নিখোঁজ হন এবং একই সময়ে নিখোঁজ হন তার বন্ধু নাহিদা সুলতানা বর্ষী (২৭)। নাহিদা সুলতানা নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষাজীবন সম্পন্ন করেছেন এবং বর্তমানে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে অধ্যয়নরত ছিলেন।

    তাদের ফোনের যোগাযোগ বন্ধ পেয়ে ও পরিবারের পক্ষ থেকে যোগাযোগের প্রয়াস চালানোর পর, পুলিশ ইউনিভার্সিটি এলাকার তদন্ত শুরু করে। সন্দেহের ভিত্তিতে তাদের নিয়ে অনুসন্ধানে নেমে ডিরেক্টর হিশাম আবুঘরবেহকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

    আবুঘরবেহকে জিজ্ঞাসাবাদের পর, ২৪ এপ্রিল ফ্লোরিডার হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের কাছে একটি বর্জ্যব্যাগে তার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ পাওয়া যায়। এই ঘটনায় আবুঘরবেহর বিরুদ্ধে ফার্স্ট ডিগ্রি হত্যার দুটো মামলা দায়ের করা হয়েছে।

  • ইরানে সামরিক অভিযান শেষ: মার্কো রুবিও

    ইরানে সামরিক অভিযান শেষ: মার্কো রুবিও

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে মার্কিন সামরিক অভিযান শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মার্কো রুবিও। সোমবার এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনী এই অভিযান সম্পন্ন করেছে এবং যে লক্ষ্য নিয়ে শুরু হয়েছিল, তা অর্জিত হয়েছে।

    রুবিও আরো জানান যে, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নতুন সামরিক অভিযান পরিকল্পনায় নেই। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই না কোনও নতুন পরিস্থিতি সৃষ্টি হোক। আমাদের শুভেচ্ছা শান্তি। প্রেসিডেন্ট একটি চুক্তি করতে চান যেখানে ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আলোচনায় আনা হবে। তিনি চান হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণভাবে খোলা থাকুক, যেন বিশ্ব আবার আগের মতো স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ফিরে আসে।’

    অতীতে, ইরানের পরমাণু প্রকল্প ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। ২০২৫ সালের জুনে বিষয়টি নিয়ে ১২ দিনের দীর্ঘ সংঘর্ষ হয় ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল।

    ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে, সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদল চার দফায় বৈঠক করে, যেখানে দুই পক্ষের মধ্যেকার সমঝোতা সম্ভব হয়নি। এই অচলাবস্থা শেষে মার্কিন প্রেরিত সেনা অভিযান শুরু করে।

    অভিযানের পর থেকে ইরানও পাল্টা আঘাত চালিয়ে যাচ্ছে। তারা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে—বিশেষ করে সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান—মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলোকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা করছে। এসব হামলায় ইতোমধ্যে নিহত হয়েছেন হাজার হাজার ইরানি এবং অনেক গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাও।

    প্রতিপক্ষে, ইসরায়েল ও মার্কিন सहयोगে শুরু হওয়া সামরিক সংঘাতে ইরান ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পাল্টা জবাব দিচ্ছে। ৪০ দিনের সংঘাতের পর, ৮ এপ্রিল থেকে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র, যা এখনও চলমান।

  • আসামের মুখ্যমন্ত্রীর আক্রমণ: মমতাকে বরখাস্ত করুন

    আসামের মুখ্যমন্ত্রীর আক্রমণ: মমতাকে বরখাস্ত করুন

    পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী একের পর এক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েও পদত্যাগ না করার সিদ্ধান্তের পেছনে শুধুমাত্র একটিই উপায় রয়েছে—তার পদ হারানো। এই মন্তব্য করেছেন ভারতের আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বাংলা মমতার অসংখ্য ভুল ও প্রলোভন সত্ত্বেও দেশ তার উপর অনেক দীর্ঘসাহস্য্য সহ্য করেছে।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির সিইও ও এডিটর-ইন-চিফ রাহুল কানওয়ালকে মঙ্গলবার (৫ মে) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হিমন্ত শর্মা বলেন, যদি মমতা ব্যানার্জী পদত্যাগ না করেন, তবে তাকে বরখাস্ত করা হবে—সোজা কথায়। দেশের শাসন ব্যবস্থা তার কথায় চলবে না। সরকার একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করবে, এরপর তাকে পদচ্যুত করা হবে।

    তিনি আরো বলছেন, ফলাফল ইতিমধ্যে দেখিয়ে দিয়েছে। আপনি (মমতা ব্যানার্জী) বলছেন, আপনাকে ১০০ আসন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর মানে আমি বলতে পারি, কংগ্রেসের ১৯টি আসনও আমার থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। আমার আশা ছিল ১২৬টি আসন পাওয়ার। এভাবে দেশ চালানো সম্ভব নয়।

    তিন মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার পর এবারের নির্বাচনে পশ্চিমা বিজেপির কাছে হেরে যান পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জী। এরপর তিনি অভিযোগ করেন, এই হার কারচুপির ফলশ্রুতি। তিনি বলেন, তার জেতার দাবি অস্বীকার করে তিনি পদত্যাগ করবেন না। এর ফলে ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।

    সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে মমতা বলেন, আমি হারিনি। আমি রাজভবনে যাব না আর পদত্যাগ করবো না।

    অন্যদিকে, মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে হিমন্ত শর্মা বলেন, আপনি সীমান্তে বেড়া দেওয়ার অনুমতি দেননি। এরপর আবার আপনি বলছেন, আপনার আসন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। আপনার এই পরিস্থিতি আগেই কয়েকটি ধাপের মধ্যে এসে গেছে। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ আপনাকে অনেক দিয়েছেন। তারা এবার বিজেপি-কে ভোট দিয়ে তাদের ম্যান্ডেট দিয়েছেন। আপনি বলছেন, আপনি পদত্যাগ করবেন না, যেন সবকিছু আপনার সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে।

    পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে ২৯৩ আসনের মধ্যে বিজেপি পেয়েছে ২০৬টি। তৃণমূল পেয়েছে ৮০টি আসন। ২০২১ সালে তারা ২১৫ আসন পেয়ে বিজেপিকে হারিয়েছিল।

  • ডুমুরিয়ায় পেট্রোল ঢেলে স্ত্রীকে আগুন দিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ, স্বামী পলাতক

    ডুমুরিয়ায় পেট্রোল ঢেলে স্ত্রীকে আগুন দিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ, স্বামী পলাতক

    খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় স্ত্রীকে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্বামী জনি গাজীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন গৃহবধূ বিথি গাজী (২৬), যাকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার উপজেলার মিকশিমিল গ্রামে। অভিযুক্ত জনি গাজী (৩০), যিনি স্থানীয় একটি পেট্রোল পাম্পের কর্মচারী, ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে।

    পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পরিবার জানিয়েছেন, পারিবারিক পারিবারিক মনোমালিন্যের জের ধরে মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে স্বামী জনি গাজী ঘর থেকে পেট্রোল সংগ্রহ করে স্ত্রীর শরীরে ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। চিৎকার শুনতে পেয়ে আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং বিথিকে উদ্ধার করেন।

    পরে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। কিন্তু তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে খোলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে ডাক্তাররা তাকে আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। ডাক্তাররা জানিয়েছেন, আগুনে বিথির শরীরের বিভিন্ন অংশ দগ্ধ হয়েছে।

    ডুমুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আছের আলী বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। দম্পতির একটি শিশুসন্তান রয়েছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত জনি গাজী পালিয়ে গেছে। তার জন্য খোঁজা হচ্ছে এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’