Blog

  • হরমুজ প্রণালিতে টোল আরোপ করা যাবে না: যুক্তরাষ্ট্র ও চীন একমত

    হরমুজ প্রণালিতে টোল আরোপ করা যাবে না: যুক্তরাষ্ট্র ও চীন একমত

    যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা একমত হয়েছেন যে হরমুজ প্রণালির মতো আন্তর্জাতিক জলপথে চলাচলকারী জাহাজের ওপর কোনো দেশ বা সংস্থা টোল আরোপ করতে পারবে না, জানিয়েছে রয়টার্স—মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিবরণে।

    সপ্তাহজুড়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকের আগেই এই অবস্থানটি প্রকাশ পেয়েছে এবং বিশ্লেষকরা মনে করছেন—হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও চলাচল এই আলোচনার একটি গুরুত্বপুর্ণ বিষয় হতে পারে।

    মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এপ্রিল মাসে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে এক ফোনালাপ হয়; ওই আলাপেও এই বিষয়টি আলোচনা করা হয়।

    মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র টমি পিগোট রয়টার্সকে বলেন, তারা একমত হয়েছেন যে হরমুজ প্রণালির মতো আন্তর্জাতিক জলপথ দিয়ে চলাচলের জন্য কোনো দেশ বা সংস্থাকে টোল আদায়ের অনুমতি দেয়া যায় না।

    চীনের দূতাবাসও যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্যকে সরাসরি অস্বীকার করেনি। তারা বলেছে, সব পক্ষ মিলেমিশে কাজ করলে প্রণালিটিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল দ্রুত পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে—এটাই তাদের আশা। উল্লেখ্য, সম্মুখের কালে এই পথ দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়ে থাকে।

    তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলার পরে ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথটি প্রায় পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের ধাক্কা লাগে।

  • আস্থা ভোটে জিতলেন থালাপতি বিজয়, তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রীর পদ নিশ্চিত

    আস্থা ভোটে জিতলেন থালাপতি বিজয়, তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রীর পদ নিশ্চিত

    আস্থাভোটে জয় حاصل করে তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিজের অবস্থান শক্ত করে তুলেছেন থালাপতি বিজয়। বুধবার বিধানসভার আস্থা ভোটে মোট ১৪৪ জন বিধায়ক তাঁর পক্ষে ভোট দেন; বিরোধীভাবে ২২ জন ভোট দেন এবং ৫ জন ভোটদানে বিরত থাকেন।

    গত মাসের নির্বাচনে থালাপতি বিজয়ের দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগম (টিভিকে) ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করে—রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে দলীয় দখল রেখেছে এমন ডিএমকে ও এআইএডিএমকের ৬২ বছরের আধিপত্য ভেঙে দিতে পারে। টিভিকের নির্বাচনী প্রতীক ছিল ‘হুইসেল’, আর আস্থা ভোটের পর বিজয় নিজেই বলেছিলেন, “হুইসেল ইতিহাস বদলে দিয়েছে।”

    বিজয় শপথ গ্রহণ করে সাংবাদিকদের বলেন, তারা নিজেদেরকে একটি সংখ্যালঘু সরকার হিসেবে অভিহিত করবেন এবং এমন একটি সরকার গঠন করবেন যা সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষা করবে।

    আস্থা ভোটের পূর্বের ঘটনাবলীতে বড় চমক আসে এআইএডিএমকের ভেতর থেকেই। ভোটাভুটির আগে ডিএমকে তাদের ৫৯ জন বিধায়ক নিয়ে ওয়াকআউট করে। আনুষ্ঠানিকভাবে এআইএডিএমকের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বিজয়ের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। তবু দলটির ২৪ জন বিধায়ক দলীয় প্রধান ইডাপ্পাদি কেপালানিস্বরামের—or—ইডাপ্পাদি পালানিস্বামীর নির্দেশ অমান্য করে বিজয়ের পক্ষে ভোট দেন, যা দলটির অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে স্পষ্টভাবে সামনে আনেছে।

    এই বিদ্রোহের নেতৃত্বে ছিলেন এআইএডিএমকের জ্যেষ্ঠ নেতা সি ভি শানমুগাম ও এস পি ভেলুমানি। গত সপ্তাহ থেকেই তাদের নেতৃত্বে একটি অংশ বিজয়কে সমর্থনের দাবি জানিয়ে দলীয় স্তরে চাপ সৃষ্টি করছিল। স্থানীয় গণমাধ্যমে দেখা গেছে, দলের কয়েকজন বিধায়ক পুদুচেরির একটি রিসোর্টে অবস্থান নিয়ে নেতৃত্ব পরিবর্তন ও টিভিককে সমর্থন নিয়ে আলোচনা করেছেন।

    শানমুগাম এক ব্রিফিংয়ে জানান, “ডিএমকের কাছে তিনবার, আর সর্বশেষ টিভিকের কাছে টানা চারটি নির্বাচনী পরাজয় দলের বর্তমান অবস্থাকে সংকটময় করে তুলেছে।” তিনি বলেন, তাঁর উদ্দেশ্য দল ভাঙানো নয়; তবে এখন এআইএডিএমকের ভেতরে নতুন ক্ষমতার লড়াই সজাগভাবে দুর্ভাবনা তৈরি করেছে।

    এদিকে এআইএডিএমকির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বিদ্রোহী নেতাদের বিরুদ্ধে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি দীর্ঘ পোস্টে তারা অভিযোগ করেছে যে শানমুগাম, ভেলুমানি ও কয়েকজন বিদ্রোহী নেতা টিভিকের কাছে মন্ত্রীত্বের দাবিতে গিয়েছিলেন।

    রাজ্য রাজনীতিতে এই ঘটনাগুলো নতুন করে রাজনৈতিক মানচিত্র বদলে দিতে পারে—টিভিকের দ্রুত উত্থান, ঐতিহ্যবাহী দুটি শক্তির কাঁপুনি এবং এআইএডিএমকের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসা বিদ্রোহ—সব মিলিয়ে পরবর্তী রাজনীতিক ভূখণ্ডে তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।

  • নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন: খুলনায় প্রেসব্রিফিং

    নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন: খুলনায় প্রেসব্রিফিং

    খুলনা প্রেসক্লাবে খুলনা বিভাগীয় জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনেও বুধবার (১৩ মে) সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন সংক্রান্ত প্রেসব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। খুলনা প্রেসক্লাবের হুমায়ূন কবির বালু মিলনায়তনে আয়োজিত ওই বৈঠকে প্রেসব্রিফিং করেন বিভাগীয় জেলা তথ্য অফিসের পরিচালক গাজী জাকির হোসেন।

    প্রেসব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ‘‘ফ্যামিলি কার্ড’’ দেশের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত একটি স্মার্ট কার্ড। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১০ মার্চ রাজধানীর কড়াইল বস্তি সংলগ্ন টিএন্ডটি মাঠে ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধন করেন। প্রথম ধাপে দেশের ১৪টি উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের মোট ৩৭,৫৬৭টি হতদরিদ্র পরিবার প্রতি মাসে দুই হাজার পাঁচশত টাকা করে প্রাপ্ত হচ্ছে। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ১০ নম্বর ওয়ার্ডে প্রথম ধাপে ৫,২৭৫ জনের মধ্যে ৪,১৫৮ জনকে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। পরবর্তী পর্যায়ে সারাদেশে প্রাথমিকভাবে ৫০ লাখ দরিদ্র পরিবারকে কার্ড দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

    খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি সরকারি অগ্রাধিকার তালিকার একটি বড় প্রকল্প। সরকারের পরিকল্পনা আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে মোট ২০ হাজার কিলোমিটার নদি-খাল খনন, পুনঃখনন ও উদ্ধার করার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৬ মার্চ দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার সাহাপাড়া খাল খননের মাধ্যমে দেশের ৫৪টি জেলায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। খুলনা অঞ্চলের মধ্যে যশোরের শার্শা উপজেলার উলাশী খালসহ খুলনা জেলার ডুমুরিয়া, বটিয়াঘাটা, দাকোপ, দিঘলিয়া, তেরখাদা, রূপসা, পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলায় খাল খননের কাজ চলমান রয়েছে।

    পরিবেশ রক্ষা ও ভোক্তাশীলতা বাড়াতে সরকার আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি নিয়েছে। এই উদ্যোগে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৩.৫ লক্ষের বেশি সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। নারী, যুবক-যুবতী ও গ্রামীণ জনগণ সমানভাবে এতে অংশ নেবে। পাশাপাশি ১০ হাজার নতুন উদ্যোক্তা গড়ে তোলা হবে, যা আনুমানিক আড়াই লক্ষাধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। নারীদের চলাচল ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তায় বিআরটিসির মাধ্যমে মহিলা বাস সার্ভিস চালুর উদ্যোগও নেয়া হয়েছে।

    কৃষক কার্ডের মাধ্যমে ভূমিহীন ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য ভর্তুকি, সহজ শর্তে লোন, বীজ ও সারসহ মোট ১০ ধরনের বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। প্রধানমন্ত্রী ১৪ এপ্রিল টাঙ্গাইলের শহিদ মারুফ স্টেডিয়ামে প্রথম ধাপে কৃষক কার্ডের সুবিধার উদ্বোধন করেন। এই কার্ডে বার্ষিক দুই হাজার পাঁচশত টাকা নগদ সুবিধা রাখা হয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে প্রথম ধাপে ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার মোট ২২,০৬৫ জন ভূমিহীন, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষককে কার্ড দেয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে দেশের ১৬.৫ মিলিয়ন (একশত ৬৫ লাখ) কৃষক এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।

    প্রচার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের গণযোগাযোগ অধিদপ্তর গত ১৮০ দিনে ব্যাপক মাঠ পর্যায়ের কাজ করেছে। তারা এক হাজার ২১টি উঠান বৈঠক/কমিউনিটি সভা, ২০২টি নারী সমাবেশ, ১১,০৬০টি চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, ৩,২৪৮ ইউনিট সড়ক প্রচার, ১৪টি কৃষক সমাবেশ, ২২টি ফ্যামিলি সমাবেশ, ৩৪০টি প্রধান ঘোষিত অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচির উদ্বোধনের লাইভ সম্প্রচার ও ২,৩৬১টি অনলাইন প্রচারণা বাস্তবায়ন করেছে। খুলনা বিভাগীয় জেলা তথ্য অফিস ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ১৫২টি চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, ৬৫টি সড়ক প্রচার, ১০টি উঠান বৈঠক, ২টি নারী সমাবেশ, ১টি ফ্যামিলি সমাবেশ ও ৪টি লাইভ সম্প্রচার করেছে। প্রেসব্রিফিংয়ে বলা হয়, এগুলো নিয়মিতভাবে চালিয়ে যাওয়া হবে।

    প্রেসব্রিফিংয়ে খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোস্তফা সরোয়ার ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ তারিকুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন। খুলনার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে সংবাদ সংগ্রহ করেন। বিভাগীয় জেলা তথ্য অফিসের উপপরিচালক মোঃ ইব্রাহিম-আল-মামুন সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন বিষয়ে ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন।

    উল্লেখ্য, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের অধীনে থাকা ৬৪টি জেলা ও ৪টি উপজেলা তথ্য অফিসে সমন্বিতভাবে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন সম্পর্কিত একই ধাঁচের প্রেসব্রিফিং একযোগে অনুষ্ঠিত হয়।

  • দেবহাটায় অনুমতি ছাড়াই বালু উত্তোলন, সবুজ ইসলামকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা

    দেবহাটায় অনুমতি ছাড়াই বালু উত্তোলন, সবুজ ইসলামকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা

    দেবহাটায় অবৈধভাবে ড্রেজিং করে বালু উত্তোলনের দায়ে সবুজ ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। এ অভিযান বুধবার (১৩ মে) দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিলন সাহার নেতৃত্বে পরিচালিত হয়।

    সাজাপ্রাপ্ত সবুজ ইসলাম আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা এলাকার মাছুম্মেল হকের ছেলে। তদন্তে জানা যায়, তিনি আন্দুলপোতা এলাকার একটি মাছের ঘর থেকে অনুমতি ছাড়াই ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে বালু উত্তোলন করছিলেন, যা স্থানীয় পরিবেশ ও জলজ বাসস্থানের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর ছিল।

    অভিযানকারীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে এবং পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ অনুযায়ী জরিমানা আদায় করে। দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিলন সাহা বলেন, পরিবেশ নষ্টকারী এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম toler করা হবে না এবং ভবিষ্যতেও নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • বিসিবি নির্বাচনে তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন

    বিসিবি নির্বাচনে তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনের তত্ত্বাবধায়নের জন্য তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন করেছে। বিসিবি জানায়, কমিশন নিয়মকানুন মেনে নির্বাচন সংক্রান্ত সব প্রয়োজনীয় কার্যক্রম তদারকি ও পরিচালনা করবে।

    সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্বে আছেন। অপর দুই সদস্য হলেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ইসরাইল হাওলাদার এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের উপসচিব এ.বি.এম. এহসানুল মামুন।

    নির্বাচন কমিশন প্রার্থী নিবন্ধন, ভোটগ্রহণের সময়সূচী নির্ধারণ, ভোটে মনোনীত প্রক্রিয়া ও অন্যান্য প্রশাসনিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে এবং প্রয়োজনে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করবে।

    পটভূমি হিসেবে বলা হয়, ৭ এপ্রিল এনএসসি অ্যামিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন পরিচালনা পর্ষদকে ভেঙে দিয়ে সেখানে একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করে। ওই অ্যাডহক কমিটির নেতৃত্বে আছেন তামিম ইকবাল এবং তাদের ওপর ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার দায়িত্ব আরোপ করা হয়েছে।

    তামিম ইকবালের পদত্যাগের গুঞ্জন উঠলেও তিনি ৩০ এপ্রিল মিরপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান যে তিনি পদত্যাগ করবেন না। পরে ৭ মে বিসিবিতে এক সংবাদ সম্মেলনে তামিম বিপিএলে ফিক্সিং ও ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে নিজের অসন্তোষও প্রকাশ করেন। সূত্রে বলা হয়েছে, তামিম নিয়মিতভাবে মিরপুরে গিয়ে বিসিবির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন, এমনকি ম্যাচ চলাকালীনও তিনি উপস্থিত থাকছেন।

    বিসিবি নির্বাচন নিয়ে আগামী পদক্ষেপ ও নির্দিষ্ট সময়সূচি সম্পর্কে বোর্ড পরবর্তীতে আরও তথ্য জানাবে।

  • ক্যারিয়ারসেরা র‌্যাঙ্কিংয়ে শান্ত; মুমিনুল ও নাহিদও এগিয়েছেন

    ক্যারিয়ারসেরা র‌্যাঙ্কিংয়ে শান্ত; মুমিনুল ও নাহিদও এগিয়েছেন

    পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে ব্যাট হাতে ঝলক দেখিয়ে সেঞ্চুরি ও শক্ত ভঙ্গিতে খেলার পর নাজমুল হোসেন শান্ত দলের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে তুলে এসেছেন। ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতে নেওয়া বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়কটি আইসিসির টেস্ট ব্যাটারদের র‌্যাঙ্কিংয়ে ক্যারিয়ারসেরা অবস্থানে উঠে এসেছেন।

    শান্ত প্রথম ইনিংসে দুর্দান্ত ব্যাটিং করে ১০১ রানের সেঞ্চুরি করেছেন — এটি তার বাংলাদেশের হয়ে নবম টেস্ট সেঞ্চুরি। পরে ব্যাট করে দ্বিতীয় ইনিংসে ৮৭ রান করে ফিরেন; নোমান আলির বলে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে তাকে ফেরত পাঠাতে হয়েছিল। দুই ইনিংস মিলিয়ে শান্ত করলেন ১৮৮ রান, যা তাকে ঢাকা টেস্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার এনে দিয়েছে। এ পারফরম্যান্সের ফলে তিনি আইসিসির টেস্ট ব্যাটারদের তালিকায় ১৬ ধাপ উতরে এসে ২৩ নম্বরে অবস্থান নিয়েছেন এবং তার রেটিং পয়েন্ট ৬৪৯। বাংলাদেশের মধ্যে এখন শীর্ষে আছেন শান্ত; সামনের সারিতে পাকিস্তানের তারকা বাবর আজম রয়েছেন।

    অন্যান্য ব্যাটারদের মধ্যে মুশফিকুর রহিমও দুই ইনিংসে ভালো করায় র‌্যাঙ্কিং বাড়িয়েছে — প্রথম ইনিংসে ৭১ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ২২ করে তিনি দুই ধাপ এগিয়ে ২৬ নম্বরে উঠেছেন। মুমিনুল হকও দুই ইনিংসে সংযোজিতভাবে শক্তিশালী ব্যাটিং করেছেন; প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরির এক ধাপ পিছিয়ে ৯১ রান খেলে ফেরতে হয়, পরে দ্বিতীয় ইনিংসে করেন ৫৬। মোট মিলিয়ে মুমিনুল ১২ ধাপ উন্নতি করে ৩৫ নম্বরে উঠে এসেছেন; তার র‌্যাঙ্কিংয়ের পাশে ইংল্যান্ডের ব্যাটার ওলি পোপের নাম দেখা যাচ্ছে।

    সাদমান ইসলাম, মেহেদী হাসান মিরাজ ও মাহমুদুল হাসান জয় প্রত্যেকে ব্যাট হাতে তেমন ঝলক দেখাতে না পেরে র‌্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে গেছেন — সাদমান চার ধাপ, মিরাজ এক ধাপ ও মাহমুদুল জয় ছয় ধাপ নেমেছেন।

    বোলিং বিভাগেও বাংলাদেশের Several পারফরম্যান্স নজর কাড়ছে। সিরিজের প্রথম টেস্টে দুই ইনিংসে মোট চার উইকেট নিয়েছেন তাইজুল ইসলাম; এই পারফরম্যান্সে তিনি তিন ধাপ এগিয়ে ১৩ নম্বরে আছেন এবং তাঁর রেটিং পয়েন্ট ৭০৪। দ্বিতীয় ইনিংসে আগুনঝরা বোলিং করে পাঁচ উইকেট নেয়া নাহিদ রানা তার বোনাস; এই কারণে নাহিদ পাঁচ ধাপ উন্নতি করে ৬৩ নম্বরে উঠে এসেছেন। মিরাজ ও তাসকিন আহমেদ তাঁদের আগের অবস্থানেই রয়ে গেছেন, তবে হাসান মুরাদ ও নাঈম হাসান কিছুটা পিছিয়ে গেছেন।

    সামগ্রিকভাবে ঢাকা টেস্টে ব্যাটিং ও বোলিং মিলিয়ে বাংলাদেশের শক্তিশালী লড়াই দলকে জয় এনে দিয়েছে এবং একাধিক খেলোয়াড়ের র‌্যাঙ্কিংয়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

  • কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনার লিভার দানে এগিয়ে তার দুই ভাই

    কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনার লিভার দানে এগিয়ে তার দুই ভাই

    জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নেওয়া হয়েছে। সোমবার (১১ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে জেট এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে চেন্নাই পাঠানো হয়।

    মঙ্গলবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে কারিনার বাবা কায়সার হামিদ জানায়, মেয়ের সঙ্গে তার মা লোপা কায়সারও যাত্রা করেছেন। সম্ভাব্য লিভার ডোনার হিসেবে সঙ্গী হয়েছেন কারিনার দুই ভাই মোস্তফা এস. হামিদ ও সাদাত হামিদ। তিনি সবাইকে মেয়ের জন্য দোয়া করার অনুরোধও করেছেন।

    পোস্টে কায়সার লিখেছেন, “দোয়া করবেন সবাই; গত রাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য আমার মেয়ে কারিনাকে বিদেশ নেওয়া হয়েছে জেট এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে।”

    দেশে থাকা বিষয়ে কায়সার হামিদ স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, তার দেশে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ এখনো বাকি থাকায় এবং ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ জোগাড়ে সময় লাগায় ফলে তিনি আপাতত বিদেশ যেতে পারেননি। তিনি জানান, পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা কারিনার সঙ্গে আছেন এবং মেয়ের সুস্থতার জন্য সকলের দোয়া চেয়েছেন।

    এর আগে সোমবার দুপুরে ভিসা পাওয়া বিষয়টি নিজেই নিশ্চিত করেছিলেন কায়সার হামিদ। তিনি জানিয়েছিলেন, “মাত্রই ভিসা পেয়েছি। বিকেলে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স চেন্নাই থেকে ওকে নিতে আসবে। এখানে হাসপাতালের অনেক বিল রয়েছে, পাশাপাশি এয়ার অ্যাম্বুলেন্সও অনেক খরচের। আম্মা এবং আমি কিছু ফিক্সড ডিপোজিট ভাঙছি, আর একটা জমির বায়না করছি—এসব কাজ আজকের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে।”

    কারিনার অসুস্থতার খবর প্রথম জানিয়েছিলেন ‘ডানা ভাই’ নামেই পরিচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর কামরুন নাহার ডানা। গত শনিবার (৯ মে) তিনি একটি পোস্টে জানান, চিকিৎসকরা কারিনার পরীক্ষায় হেপাটাইটিস এ ও ই ধরা পড়ায় লিভার ফেলিয়র হয়েছে এবং তাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছিল; পরবর্তীতে লাইফ সাপোর্টেও রাখা হয়েছে।

    ডানা জানিয়েছিলেন, এক সপ্তাহ ধরে জ্বর থাকায় এবং হঠাৎ জ্ঞান হারানোর পর দ্রুত তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে চিকিৎসাজটিলতার মধ্যে আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাঙ্খীরা তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন এবং পরিবারের পক্ষ থেকে সকলের কাছে দোয়া ও সমর্থনের অনুরোধ এসেছে।

  • অকালে চলে গেলেন কন্নড় অভিনেতা ও প্রযোজক দিলীপ রাজ

    অকালে চলে গেলেন কন্নড় অভিনেতা ও প্রযোজক দিলীপ রাজ

    কন্নড় চলচ্চিত্র-টেলিভিশন জগত গভীর শোকে ভেসে উঠেছে — জনপ্রিয় অভিনেতা ও প্রযোজক দিলীপ রাজ আর নেই। মাত্র ৪৭ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি জীবন হারান, যা শিল্পীজীবন ও অনুরাগীদের জন্য এক বড় ধাক্কা।

    পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার ভোরের দিকে দিলীপ রাজের শরীরে 갑작িক অস্বস্তি দেখা দিলে দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কয়েক মিনিট পরেই তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন এবং বেঙ্গালুরুর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরিবারের তরফে এই ঘটনাটির বিবরণ জানানো হয়েছে।

    এই অনাকাঙ্ক্ষিত odlযানে কন্নড় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে শোকমগ্ন পরিবেশ সরকারি; সহকর্মী ও ভক্তরা সোশ্যাল মিডিয়াতে শোকবার্তা প্রকাশ করছেন। অভিনেতা চেতন কুমার একসুত্রে স্মৃতিচারণ করে লিখেছেন, “দিলীপ শুধু একজন দক্ষ অভিনেতা নন, মানুষ হিসেবে ও ছিলেন অসাধারণ। ওর মতো আন্তরিকতা খুব কম লোকের মধ্যে দেখা যায়।”

    দিলীপ রাজের কর্মজীবন বহুমুখী এবং প্রাণবন্ত ছিল। ছোটপর্দায় তিনি সুপরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন—‘রঙ্গোলি’, ‘কুমকুম ভাগ্য’ থেকে শুরু করে হাল ফেরের জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘হিটলার কল্যাণ’ পর্যন্ত তার অভিনয় দর্শকদের মধ্যে গভীর ছাপ রেখেছে।

    বড় পর্দায় নায়কের ভূমিকায় তিনি ২০০৫ সালে অভিষেক ঘটান এবং ২০০৭ সালে পুণিত রাজকুমারের ব্লকবাস্টার ‘মিলানা’-তে ভিলেনের চরিত্রে অবতীর্ণ হয়ে সবাইকে চমকে দেন। এরপর ‘ইউ-টার্ন’, ‘লাভ মকটেল ৩’ সহ প্রায় ২৪টিরও বেশি সিনেমায় তাকে দেখা গেছে।

    প্রযোজক হিসেবেও দিলীপের গ্রহণযোগ্যতা ছিল। তার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ডিআর ক্রিয়েশনস থেকে বহু হিট ধারাবাহিক ও বিনোদনমূলক প্রজেক্ট তৈরি হয়েছে। অভিনয়, প্রযোজনা এবং থিয়েটার— তিনক্ষেত্রেই কন্নড় ইন্ডাস্ট্রিতে তার অবদান গভীর।

    অকস্মিক এই মৃত্যুতে সহকর্মী, বন্ধু ও ভক্তরা শোকাহত; অনুরাগীরা তাকে ‘হিটলার কল্যাণ’-এর চিরস্মরণীয় নায়ক হিসেবে মনে রাখবেন। তার আকস্মিক চলে যাওয়া কন্নড় তথা ভারতীয় চলচ্চিত্রে এক শূন্যতা রেখে গেল।

    সূত্র: ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস

  • নারায়ণগঞ্জ হত্যাকাণ্ড: শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন, বিচার শুরু

    নারায়ণগঞ্জ হত্যাকাণ্ড: শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন, বিচার শুরু

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মঙ্গলবার (১৩ মে) সাবেক এমপি শামীম ওসমান, তাঁর ছেলে অয়ন ওসমান ও ভাতিজা আজমেরী ওসমানসহ মোট ১২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেছেন। এzzel ঘটনায় বিচার কার্যক্রম এবার শুরু হলো।

    প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুসারে, ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের সময়ে নারায়ণগঞ্জের সদর ও ফতুল্লা এলাকায় পৃথক ঘটনায় শিশু গোপসহ মোট ১০ জনকে হত্যা করা হয়। ঘটনার সময়কার বিভিন্ন অবস্থার ওপর ভিত্তি করে তিনটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

    ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারি প্যানেল বুধবার ওই অভিযোগ গঠনের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে আদালত আগামী ১০ জুন ওই মামলায় ওপেনিং স্টেটমেন্ট অর্থাৎ সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের দিন নির্ধারণ করেছে।

    প্রসিকিউশনের ব্যাখ্যায় বলা হয়, ঘটনাগুলি মূলত ২০২৪ সালের ১৯ ও ২১ জুলাই এবং ৫ আগস্ট—এই তিন দিনে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও সাইনবোর্ড এলাকায় সংঘটিত হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই সময় আসামিরা অস্ত্রধারী ছিলেন এবং গোলাবারুদ ও দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়, ফলে বহু মানুষ আহত হন।

    প্রসিকিউশন দাবি করেছে, এসব হত্যাকাণ্ডে শামীম ওসমান অন্যতম প্রধান পরিকল্পনাকারী। তারা জানায়, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে মোবাইল ফোনে নিয়মিত যোগাযোগের রেকর্ড ও সিডিআর ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হয়েছে।

    অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, নারায়ণগঞ্জে হামলা ও হত্যাকাণ্ড একাধিক স্থানে ছড়িয়ে পড়ে—শুরুতে ফতুল্লা ও শহর এলাকায়, পরে সিদ্ধিরগঞ্জ ও চিটাগং রোড পর্যন্ত সহিংসতা বিস্তৃত হয়।

    ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠনের সঙ্গে বিচার কার্যক্রম formally শুরু হলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের অপরাধী ধরা হবে না—এটি আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ। আগামী ১০ জুন ওপেনিং স্টেটমেন্টের সময় মামলার পরবর্তী ধরন ও সাক্ষ্য গ্রহণ সংক্রান্ত কর্মপদ্ধতি বিস্তারিতভাবে চিহ্নিত হবে।

  • আসন্ন বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে জিডিপির ১ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত

    আসন্ন বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে জিডিপির ১ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত

    প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার জানিয়েছেন, আসন্ন বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে জিডিপির ১ শতাংশ বরাদ্দ করা হবে। তিনি বললেন, বর্তমানে এই খাতে বরাদ্দ অপ্রতুল; গত অর্থবছরে তা ছিল জিডিপির মাত্র 0.67 শতাংশ।

    বুধবার (১৩ মে) দুপুর ২টায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে, দেশব্যাপী হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬ সম্পর্কিত অনুষ্ঠানে এসব কথা জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন কর্মপন্থা গ্রহন করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

    ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, বিশেষভাবে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে (প্রাইমারি হেলথকেয়ার) কার্যকর ও সমন্বিত কাঠামোয় রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে ব্যাপক পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি ইউনিয়ন ও শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে প্রাইমারি হেলথকেয়ার ইউনিট গড়ে তোলার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং এ কাজ বাস্তবায়নের জন্য এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

    নতুন এই প্রতিষ্ঠার ফলে প্রতিটি পরিবার মাসে অন্তত একবার স্বাস্থ্যকর্মীর সেবা পাবে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীরা পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন—এর মধ্যে থাকবে রক্তে শর্করা (ব্লাড সুগার) ও রক্তচাপ পরিমাপ, মানসিক স্বাস্থ্য মূল্যায়ন, গর্ভবতী নারীদের কাউন্সেলিং, পাঁচ বছরের নিচের শিশুদের শারীরিক বিকাশ পর্যবেক্ষণ এবং টিকাদান কার্যক্রম।

    প্রতিটি নাগরিককে ইলেকট্রনিক হেলথ কার্ড প্রদান করা হবে। রোগীর শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে তাকে সংশ্লিষ্ট প্রাইমারি হেলথকেয়ার ইউনিটে পাঠানো হবে; সেখানে চিকিৎসা সম্ভব না হলে উপজেলা বা তৃতীয় পর্যায়ের হাসপাতালে রেফার করা হবে বলে জানান তিনি।

    হামের সংক্রমণের সাম্প্রতিক বৃদ্ধির প্রসঙ্গে ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার অভিযোগ করেন, অতীতের অব্যবস্থাপনা এবং ২০২০ সালের পর থেকে হামবিরোধী ক্যাম্পেইন না চালানোর কারণেই বর্তমান পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আগের সরকারের টিকাদান কভারেজ সংক্রান্ত তথ্য বিকৃত হওয়ায় বাস্তবে অনেক শিশু টিকার বাইরে থেকে গেছে।

    সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানান, হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন দেশের বিভিন্ন ধাপে চলছে। ৫ এপ্রিল থেকে উচ্চ সংক্রমণপ্রবণ ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলা ও ১৩টি পৌরসভার প্রথম ধাপ শুরু হয়; দ্বিতীয় ধাপে ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি করপোরেশনে কার্যক্রম পরিচালিত হয়; এরপর ২০ এপ্রিল থেকে তা দেশব্যাপী সম্প্রসারণ করা হয়েছে।

    ডিজিএইচএসের সর্বশেষ তথ্যমতে, প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার প্রায় শতভাগের অনুরূপ। প্রথম ধাপে অন্তর্ভুক্ত এলাকায় হামের সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে তিনি জানান।

    প্রফেসর প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস সতর্ক করে বলেন, হাম-রুবেলা টিকা গ্রহণের পর শরীরে রোগপ্রতিরোধী অ্যান্টিবডি গঠনে সাধারণত প্রায় তিন সপ্তাহ সময় লাগে; তাই খুব শিগগিরই দেশের সংক্রমণ হ্রাস পাওয়ার আশা করা যায়।

    তিনি অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ জানান—যেসব শিশু এখনও টিকা পাননি, কিংবা নিয়মিত ইপিআই কার্যক্রমের আওতায় এক-দুই ডোজ টিকা পেয়েও কেউ বাদ পরে থাকলে তারা অবশ্যই ক্যাম্পেইনের আওতায় হাম-রুবেলা টিকা গ্রহণ করুক। টিকাদান দেশের শিশুদের সুরক্ষায় সবচেয়ে কার্যকর উপায় বলে তারা উভয়েই জোর দেন।