Blog

  • ভারত সফলভাবে পরীক্ষা করলো পরমাণু বহনক্ষম আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র

    ভারত সফলভাবে পরীক্ষা করলো পরমাণু বহনক্ষম আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র

    ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও) উড়িষ্যা উপকূলে একটা পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) সফলভাবে পরীক্ষা করেছে। পরীক্ষা গত শুক্রবার সন্ধ্যায় সম্পন্ন হয়েছে বলে সরকারি ও প্রতিরক্ষা সূত্রে জানা গেছে।

    টাইমস অফ ইন্ডিয়ার উদ্ধৃতিতে বলা হয়েছে, উত্‍পন্ন তথ্য অনুযায়ী এটি আইসিবিএম শ্রেণির ক্ষেপণাস্ত্র হলেও এটি ‘অগ্নি-৬’ কিনা তা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। পরীক্ষার সাফল্য প্রযুক্তিগত দিক থেকে ভারতের রকেট প্রপালশন, দিকনির্দেশনা ব্যবস্থা ও রি-এন্ট্রি প্রযুক্তিতে সক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।

    বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন ও উত্তর কোরিয়ার মতো কয়েকটি দেশই আইসিবিএম প্রযুক্তি অর্জন করেছে। ভারতের এই সফল পরীক্ষা দেশটিকে বিশ্বশক্তির এমন এক তালিকায় স্থান দেবে বলে বিশ্লেষকরা বলছেন। পরীক্ষায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রটির দূরত্বসীমা ১০ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি—এমন পাল্লা থাকায় পৃথিবীর অন্যতম অনেক প্রান্তে এটি আঘাত হানতে সক্ষম হবে, বলে প্রতিরক্ষা পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।

    উৎক্ষেপণের কয়েক দিন আগে ডিআরডিওয়ের চেয়ারম্যান সমীর ভি. কামাত বলেছেন, সরকারের অনুমতি পেলেই তারা অগ্নি-৬ প্রকল্পে এগোতে প্রস্তুত। এই প্রযুক্তির সফল পরীক্ষার মাধ্যমে ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি ও গাইডেন্স সিস্টেমে বিশ্বস্ততা বাড়ায়, যা দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে আরও মজবুত করবে।

    রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ায়, বিজেপি তাদের অফিসিয়াল এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে মন্তব্য করেছে যে অগ্নি-৬য়ের মতো সক্ষমতা ভারতের মহাশক্তি হিসেবে ওঠানামাকে ত্বরান্বিত করবে এবং দেশটিকে শক্তিশালী জাতিগণের শ্রেণিতে আনবে। তারা রাশিয়ার ১২ হাজার কিলোমিটার পাল্লার সারমাট ও চীনের ১৫ হাজার কিলোমিটার পাল্লার ডিএফ-৪১র মতো সিস্টেমের সঙ্গে তুলনা করেছে।

    একই সময়ে, ডিআরডিও ও ভারতীয় বিমানবাহিনী যৌথভাবে ‘ট্যাকটিক্যাল অ্যাডভান্সড রেঞ্জ অগমেন্টেশন’ (তারা) নামক একটি প্রযুক্তিরও সফল পরীক্ষা করেছে। এই প্রযুক্তি সাধারণ বা লক্ষ্যহীন যুদ্ধাস্ত্রকে নিখুঁত লক্ষ্যভেদী ‘স্মার্ট’ অস্ত্রে রূপান্তর করতে সাহায্য করে—ফলে কৌশলগতভাবে আরও ধাঁচানো ও দক্ষ অস্ত্র ব্যবহার সম্ভব হবে।

    সামগ্রিকভাবে, এই পরীক্ষার সাফল্য ভারতের প্রতিরক্ষা ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে দেখা হচ্ছে, যদিও কিছু বিশ্লেষক ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক এর বিস্তারিত তথ্য ও কর্মক্ষমতা সম্পর্কে আরও স্বচ্ছতা দাবি করেছেন।

  • এন এস রাজা সুব্রমণি সেনা সর্বাধিনায়ক, কৃষ্ণ স্বামীনাথন নৌবাহিনী প্রধান

    এন এস রাজা সুব্রমণি সেনা সর্বাধিনায়ক, কৃষ্ণ স্বামীনাথন নৌবাহিনী প্রধান

    কেন্দ্রীয় সরকার বড় ধরনের প্রতিরক্ষা বদল ঘোষণা করেছে। লেফটেন্যান্ট জেনারেল এন এস রাজা সুব্রমণিকে ভারতের নতুন সেনা সর্বাধিনায়ক (চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ) হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। তিনি বর্তমান জেনারেল অনিল চৌহানের স্থলাভিষিক্ত হবেন; চৌহানের মেয়াদ শেষ হবে ৩০ মে। একই সঙ্গে ভাইস অ্যাডমিরাল কৃষ্ণ স্বামীনাথনকে পরবর্তী নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে; বর্তমানে নৌবাহিনী প্রধান দীনেশ কুমার ত্রিপাঠীর কার্যকাল ৩১ মে শেষ হবে এবং তারপর স্বামীনাথন দায়িত্ব নেবেন। শনিবার (৯ মে) এই নিয়োগের খবরে এনডিটিভি প্রথম জানিয়েছিল।

    সেনা সর্বাধিনায়কের ভূমিকায় সুব্রমণি তিন বাহিনী—সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রধানদের সমন্বয় করবেন। কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তিনি চিফ অব ডিফেন্স স্টাফের পাশাপাশি সরকারের সামরিক বিষয়ক দপ্তরের সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন।

    সুব্রমণির কর্মজীবন দীর্ঘ এবং বহুমাত্রিক। তিনি জাতীয় ডিফেন্স অ্যাকাডেমি থেকে শিক্ষা গ্রহণের পর ১৯৮৫ সালে গড়ওয়াল রাইফেলসে কমিশনপ্রাপ্ত হন। যুক্তরাজ্যের জয়েন্ট সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজেও তিনি পাঠ নিয়েছেন। দেশে ফিরে পর্বত ব্রিগেডে ব্রিগেড মেজর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং পরে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজেও যোগ দিয়েছিলেন। প্রায় ৩৫ বছর কর্মজীবনে তিনি সংবেদনশীল বহু অঞ্চলে দায়িত্ব নিয়েছেন এবং কাজাখস্থানে ভারতের দূতাবাসে সামরিক দায়িত্বও সামলেছেন। দক্ষতা ও সেবার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একাধিক সম্মান লাভ করেছেন। ২০২৩ সালে তিনি সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডিং ইন চিফ হিসেবে দায়িত্ব পান এবং পরের বছর দেশের ৪৭তম ভাইস সিডিএস হিসেবে কাজ করেছেন। সাম্প্রতিককালে সক্রিয় চাকরি থেকে অবসরের পর জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সামরিক পরামর্শদাতা হিসেবে থাকছিলেন তিনি।

    নির্বাচিত নৌবাহিনী প্রধান কৃষ্ণ স্বামীনাথন বর্তমানে মুম্বাইয়ের পশ্চিম নেভাল কমান্ডের দায়িত্বে রয়েছেন। তার সঙ্গে আগে নৌবাহিনীর উপ-প্রধান হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে। তিনি বিভিন্ন যুদ্ধপोतের কমান্ডার ছিলেন—যেগুলোর মধ্যে রয়েছে ক্ষেপণাস্ত্রবাহী রণতরী আইএনএস বিদ্যুৎ, আইএনএস বিনাশ, করভেট আইএনএস কুলিশ, ক্ষেপণাস্ত্রধ্বংসকারী আইএনএস মহীশূর এবং বিমানবাহী রণতরী আইএনএস বিক্রমাদিত্য। এসব তরফে তার সমুদ্রিক নেতৃত্ব ও অপারেশনাল দক্ষতা তাকে নৌবাহিনী প্রধানের ভূমিকায় নিয়ে এসেছে।

    কেন্দ্রের এই নতুন নিয়োগ আগামী মাসের শেষের দিকে কার্যকর হবে। প্রতিরক্ষা পর্যায়ে এই রদবদল থেকে ভবিষ্যতে কৌশলগত ও অপারেশনাল সিদ্ধান্তে কেমন প্রভাব পড়ে, সেটাই এখন নজরের বিষয়।

  • শার্শায় পরীক্ষা কেন্দ্রে অনৈতিক সহযোগিতা, প্রধান শিক্ষকসহ দুইজন গ্রেপ্তার

    শার্শায় পরীক্ষা কেন্দ্রে অনৈতিক সহযোগিতা, প্রধান শিক্ষকসহ দুইজন গ্রেপ্তার

    যশোরের শার্শা উপজেলায় সরকারি এসএসসি পরীক্ষার এক কেন্দ্রে অনৈতিকভাবে সহযোগিতা করার অভিযোগে প্রধান শিক্ষক শাহানারা খাতুন ও কর্মচারী ফাতেমা খাতুনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার পরে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

    ঘটনাটি শোনা যায় গত ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষার পর থেকে। অভিযোগ অনুযায়ী, বাগআঁচড়া সম্মিলিত গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের ৩০১ নম্বর কক্ষে পরীক্ষার্থী অহনা খাতুনের উত্তরপত্র গোপনে সংগ্রহ করেন প্রধান শিক্ষক শাহানারা খাতুন। পরে একই প্রতিষ্ঠানের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ফাতেমা খাতুনের সহায়তায় সেই উত্তরপত্রে ভুল সংশোধন করে পুনরায় জমা দেওয়া হয়।

    এ ঘটনায় ব্যাপক ক্ষোভ ও চাঞ্চল্য দেখা দেয়। খবর পেয়ে শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে ওয়াহিদ ও উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার এ কে এম নুরুজ্জামান ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করেন। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের যথার্থতা পাওয়া গেলে শুক্রবার দুপুরে উপজেলা প্রশাসন তাদের আটক করার নির্দেশ দেন এবং রাতে মামলা দায়ের করা হয়।

    শনিবার (৯ মে) শার্শা থানা প্রধান মারুফ হোসেন ঘটনাটি পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষা আইনের ৮, ৯, ১২ ও ১৩ ধারায় মামলা করা হয়েছে। পরে অভিযুক্ত দুইজনকে আদালতে সোপর্দ করলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার এ কে এম নুরুজ্জামান জানান, তদন্তে অনৈতিক সহযোগিতার প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং পরীক্ষার পবিত্রতা রক্ষায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ toler করা হবে না।

    এদিকে ঘটনাস্থল ও মামলার বিষয়ে স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তারা এই ঘটনার মাধ্যমে শিক্ষাঙ্গনের নৈতিকতা ও পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছেন।

    পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চালিয়ে সামনের আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে। তদন্তে আরও কেউ জড়িত আছেন কি না তা অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

  • ৪১৩ রানে অলআউট: জন্মদিনে সেঞ্চুরি থেকে বঞ্চিত মুশফিক

    ৪১৩ রানে অলআউট: জন্মদিনে সেঞ্চুরি থেকে বঞ্চিত মুশফিক

    মুশফিকুর রহিমের জন্য আজকের দিনটা ছিল বিশেষ—জন্মদিন। পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে সেই বিশেষ দিনে শতকের সামনে থাকার সুযোগ ছিল মুশফিকের, তবে সেঞ্চুরির আনন্দ ভোগ করতে পারলেন না। লাঞ্চে তিনি যখন ফিরে যান, তখন শতবরার থেকে ২৯ রান দূরে ছিলেন। লাঞ্চের পরই প্রথম ওভারেই শাহিন শাহ আফ্রিদির ফুল-লেন্থ ডেলিভারিতে অফ স্টাম্প উড়ে যাওয়ায় মুশফিক বিদায় নেন। তিনি ১৭৯ বলে ৭১ রানের একটি ধীরস্থির ইনিংস খেলেছেন, যার মধ্যে ছিল ৮টি চার। মুমিনুলের মতো সেঞ্চুরিবঞ্চিত হয়ে মাঠ ছাড়তে হল মোশফিককে।

    টেল-এন্ডারদের সংযুক্তি বাড়ায় দল অধরাই থেমে যায়নি; শেষ পর্যন্ত টাইগাররা আরও ৩৩ রান যোগ করে ৪১৩ রানে অলআউট হয়। পাকিস্তানের তরফে মোহাম্মদ আব্বাস দলকে স্বস্তি দিলেন—তিনি পাঁচ উইকেট নেন। তারই বিরুদ্ধে রক্ষণভঙ্গ করে তাসকিন আহমেদ ১৮ বলে ঝড়ো ২৮ রান করে দলের শেষ ব্যাটার হিসেবে আউট হন।

    মিরপুরে দ্বিতীয় দিন শুরু হয়েছিল মুশফিক ও লিটন দাসের জুটিতে। আগের দিন মুশফিক ৪৮ এবং লিটন অপরাজিত ৮ রানে ছিলেন। দিনের চতুর্থ ওভারে মুশফিক হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করে ব্যাট উঁচিয়ে উদ্‌যাপন করেন। এরপর মোহাম্মদ আব্বাসের ওভারে লিটন দাস ৩৩ রানে আউট হন। মেহেদী মিরাজ বেশি সময় টিকতে পারেননি—১২ বল খেলে একটি চার ও একটি ছয়ে ১০ রান করেন। taিজুল ইসলাম ২৩ বল খেলেন ১৭ রানের দ্রুত ইনিংস।

    বাংলাদেশের ইনিংসের ভিত্তিটা তৈরি হয়েছিল আগের দিনের নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল হকের ১৭০ রানের জুটিতে। শুরুতে ৩১ রানে দুই উইকেটের ক্ষতি হয়েছিল—মাহমুদুল হাসান জয় ৮ ও সদমান ইসলাম ১৩ রানে ফিরেছেন। এরপর তৃতীয় উইকেটে মুমিনুল ও শান্ত কড়া প্রতিরোধ গড়ে পাকিস্তানের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন এবং দ্বিতীয় সেশনে পুরোপুরি আধিপত্য দেখান।

    বিরতির ঠিক আগে শান্ত তার টেস্ট ক্যারিয়ারে নবম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন—এটি তার ৭৪তম ইনিংসে পাওয়া সেঞ্চুরি। কিন্তু সেগুলো বেশি টেকেনি; পরে আব্বাসের গুড-লেন্থ ডেলিভারিতে ডিফেন্ড করতে গিয়ে তিনি এলবিডব্লিউ হয়ে আউট হন। শান্ত একটু আক্রমণাত্মক খেললেও মুমিনুল তুলনায় বেশি সংযত ছিলেন। শান্তের পর মুমিনুল ১০২ বলের মধ্যে হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেন এবং আগের দিনের জমা সঙ্গে মিলিয়ে ৯১ রানে থেমে যান; তিনি ২০০তম বলের মোকাবিলায় নোমান আলীর বিরুদ্ধে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন। মুমিনুলের ইনিংসে ছিল ১২টি চার।

    শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ৪১৩ রানে অলআউট হয়ে যায়, যেখানে দলের বড় অংশটা গঠিত হয়েছিল শান্ত-মুমিনুলের জুটির ওপর। মোহাম্মদ আব্বাসের বোলিং ঝাঁকুনিতে পাকিস্তান ম্যাচে ফিরে এসেছে।

  • বিজয় ভাগ বসালেন তামিলনাড়ুর ৪৯ বছরের পুরনো রেকর্ডে

    বিজয় ভাগ বসালেন তামিলনাড়ুর ৪৯ বছরের পুরনো রেকর্ডে

    ফিল্ম তারকারা রাজনীতিতে এসেছেন, তবে সরাসরি সিনেমা থেকে রাজনৈতিক দল গঠন করে রাজ্যের সর্বোচ্চ পদে পৌঁছানো খুবই বিরল ঘটনা। এবার সেই বিরল ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটালেন জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর—জনপ্রিয় ‘থালাপতি বিজয়’। নিজের প্রথম বিধানসভা নির্বাচনে বড় জয়ের পাশাপাশি তামিলনাড়ুর ৪৯ বছরের পুরনো এক রেকর্ডে তিনি ভাগ বসিয়েছেন।

    ১৯৭৭ সালে চলচ্চিত্র জগত থেকে এসে নিজের দল তৈরি করে রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব সফলতা দেখিয়েছিলেন এম জি রামাচন্দ্রান (এমজিআর)। তিনি তখন নির্বাচনে জিতে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হন এবং ১৯৮৭ সালে মৃত্যুর আগে পর্যন্ত সেই পদে ছিলেন। এমজিআরের প্রতিষ্ঠিত দলটি ছিল এআইএডিএমকে। পরবর্তীতে সাবেক অভিনেত্রী জয়ললিতা একই দলের মধ্যে থেকে মাথা উঁচু করে রাজনীতিতে উঠে আছেন—তবে তিনি নিজে নতুন কোনো রাজনৈতিক দল গঠন করেননি, বরং এমজিআর-এর এআইএডিএমকে-রই নেতৃত্ব সানেন এবং মুখ্যমন্ত্রী হন।

    তারপর দীর্ঘদিন ধরা কোনো অভিনেতা-অভিনেত্রী সেই উচ্চতায় পৌঁছাতে পারেননি। কিন্তু এবারের বিধানসভা নির্বাচনে আবারো সেই চিত্র ফিরে এল: বিজয় ও তার গঠিত রাজনৈতিক দল তামিলাগা ভেট্টরি কোঝাগাম (টিভিকে) ২০২৪ সালে আত্মপ্রকাশ করেছিল এবং আশ্চর্যজনক ফল করেছে। তামিলনাড়ুর বিধানসভায় মোট আসন রয়েছে ২৩৪; একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য দরকার ১১৮টি। এবারে বিজয় নিজে জেতেছেন এবং টিভিকে জিতেছে ১০৮টি আসনে—নতুন গঠিত একটি দলের জন্য অত্যন্ত চমকপ্রদ অর্জন।

    আইন অনুযায়ী এককভাবে সরকার গঠন করতে হলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা আনতে হয়, তাই টিভিকে একা সরকার গঠন করতে পারবে না; কিন্তু জোট গঠিত হলে সেটির কেন্দ্রীয় চালক হিসেবে টিভিকেই দেখা হবে। ফলস্বরূপ বিজয়ই তামিলনাড়ুর পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হবার পথে আছেন—এভাবেই তিনি এমজিআরের রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন।

    এই সাফল্যের পটভূমিতেও বিরাট ভক্তশ্রেণীর ভূমিকা অনস্বীকার্য। এমজিআর যে কৌশল অবলম্বন করেছিলেন—ভক্তদের রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত করা—বিজয়ও একইভাবে কাজ করেছেন। ২০০৯ সাল থেকেই তিনি নিজের ভক্তদের সংগঠিত করতে শুরু করেন এবং বিভিন্ন ভক্তগোষ্ঠীকে নিয়ে গঠন করেন ‘বিজয় মাক্কাল ইয়াক্কাম’ নামে একটি ঐক্য। ২০১১ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত এই সংগঠন এআইএডিএমকে-কে সমর্থনও দিয়েছিল।

    কিন্তু ২০২১ সালে মাক্কাল ইয়াক্কাম এআইএডিএমকে-র সমর্থন প্রত্যাহার করে, এরপর বিজয় নিজে এটিকে রাজনৈতিকভাবে গতিশীল করে তোলার পরিকল্পনা চালান। ২০২৪ সালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তামিলাগা ভেট্টরি কোঝাগাম খুলে দেন এবং এবার নির্বাচনে বড় বিজয় নিয়ে তিনি শীর্ষ রাজনীতিতে এসে দাঁড়িয়েছেন—এখন শপথ গ্রহণের অপেক্ষায় রয়েছেন বিজয়।

    সূত্র: এনডিটিভি

  • রুনা লায়লা: আমার মৃত্যু নিয়ে ভুয়া গুজব ছড়ানো হয়েছে

    রুনা লায়লা: আমার মৃত্যু নিয়ে ভুয়া গুজব ছড়ানো হয়েছে

    উপমহাদেশের প্রখ্যাত শিল্পী রুনা লায়লার মৃত্যুসংক্রান্ত ভুয়া গুজব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। নিজের মধ্য থেকে তিনি শান্ত করে জানিয়েছেন, তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ ও ভালো আছেন।

    বর্তমানে তিনি ভারতের দিল্লিতে ‘মিনার–ই–দিল্লি’ পুরস্কার গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে অবস্থান করছেন। এর মাঝেই দেশ-বিদেশে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ায় বিশৃঙ্খলা ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়।

    বিষয়টি নজরে আসার পর রুনা লায়লা তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট করে সবার আগে সত্যটা নিশ্চিত করেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আমার প্রিয় ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের উদ্দেশ্যে — আমার মৃত্যু নিয়ে কিছু অদ্ভুত গুজব ছড়িয়েছে।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘আমি পরিষ্কারভাবে জানাতে চাই যে আমি বহাল তবিয়তে বেঁচে আছি!’

    ভিত্তিহীন এই সংবাদে কষ্ট পেয়ে তিনি ভক্তদের অনুরোধও জানান—এ ধরনের কোনো তথ্য শেয়ার করার আগে দয়া করে যাচাই করে নিন, কারণ এটি তার এবং তার পরিবারের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক। তিনি সবাইকে অনেক ভালোবাসা জানিয়ে পোস্টটি শেষ করেছেন।

    সংগীতজীবন প্রসঙ্গে বলা যায়, ১৯৬৬ সালে রুনা লায়লা ‘হাম দোনো’ চলচ্চিত্রের গান ‘নজরোঁ সে মোহাব্বত কা যে পয়গাম মিল্লা’ দিয়ে আলোচনায় আসেন। ১৯৬০-এর দশকে তিনি নিয়মিত পাকিস্তান টেলিভিশনে গান উপস্থাপন করতেন এবং পরে ‘ও মেরা বাবু চেল চাবিলা’ ও ‘দামা দম মাস্ত কালান্দার’ গানগুলোর মাধ্যমে ভারতেও ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

  • আত্মীয়সদস্যের মতো বন্ধুকে হারালেন সালমান খান

    আত্মীয়সদস্যের মতো বন্ধুকে হারালেন সালমান খান

    বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা সালমান খান গভীর বিষাদের সাথে জানিয়েছেন, তিনি তাঁর ৪২ বছর ধরে কাছের বন্ধু সুশীল কুমারের মৃত্যু খবর শুনে শোক প্রকাশ করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধু হিসেবে সুশীলকে তিনি নিজের ভাইয়ের মতো মানতেন। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে সালমান তার প্রিয় বন্ধুর মৃত্যু নিশ্চিত করেছেন, যেখানে তিনি গভীর কষ্টের পাশাপাশি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন।

    সালমান বলেছেন, সুশীল ছিলেন এমন একজন ব্যক্তি যিনি জীবনের কঠিন সময়েও হাসি মুখে থাকতেন। সবসময় বলতেন, কিছুই ঠিক হয়ে যাবে, জীবনে কিছুই বেশিদিন থাকে না। বন্ধুর মৃত্যুতে সালমানের ব্যথা প্রবল, কিন্তু তিনি জানান, তিনি কাঁদেননি, বরং তার স্মৃতি ও হাসির মাঝে হাসিমুখে থাকুননি। সালমান উল্লেখ করেছেন, সুশীল মৃত্যুর বিরুদ্ধে শক্তির মতো লড়াই করেছেন, আর তার জন্য তিনি উপলব্ধি করেন—প্রতিটি মানুষের জীবনে কিছু কাজ করে ফেরার সময় আছে।

    একই সঙ্গে সালমান লিখেছেন, মৃত্যু আসলে অজানা এক চ্যাম্পিয়নের মতো; যারা যেত তারা ফিরে আসতে চায় না, আর যারা এখনও থাকা ভুলে যায় তারা হয়তো আরও বেশি সময় পান। তিনি আরও জানান, অতি সৎ ও দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তির সময় পরে আসে, কিন্তু ভালো মানুষেরা দ্রুত চলে যান।

    বন্ধুর এই অপ্রত্যাশিত ক্ষতি দেখে অনেকের পক্ষে কান্না করা সহজ হলেও বলিউডের এই তারকা চোখে এক ফোঁটা জল আনেননি। সামাজিক মিডিয়ায় প্রচলিত ‘আরআইপি’ (RIP) শব্দের বদলে, তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, তিনি সুশীলকে মৃতদেহ হিসেবে দেখতে চান না, বরং তার নামেই ডাকতে চান।

    শেষে, সালমান বলেন, বন্ধুকে ছাড়া তিনি একা হয়ে গেছেন। সবকিছু শান্তিপূর্ণভাবে চললেও এখন একাকীত্বে অনুভব করতে হচ্ছে, হঠাৎ করে তার শরীরের লিভার ও কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এক কথায়, তিনি বলেছেন জীবন মানে বন্ধুকে ছাড়া একা থাকা।

  • মমতার সিনেমা নিষিদ্ধের প্রতিশোধে উচ্ছ্বাস বিবেকের

    মমতার সিনেমা নিষিদ্ধের প্রতিশোধে উচ্ছ্বাস বিবেকের

    বিধানসভার নির্বাচনে বড় ধরনের পরাজয় হয়েছে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের। এই ফলের ঢেউ যেন নির্মাতা বিবেক অগ্নিহোত্রীর পুরনো ক্ষতকে নতুন করে রক্তক্ষর করে দিল। সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত একটি পোস্টে এই অনুভূতি স্পষ্ট হয়েছে।

    এর পেছনে অবশ্য একটা যৌক্তিক কারণও রয়েছে। মমতা বন্দোপাধ্যায়ের শাসনের সময় পশ্চিমবঙ্গে ‘ফাইলস ট্রিলজি’ সিরিজের সিনেমা— বিশেষ করে ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ ও ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’— মুক্তি পেতে বেশ বাধার সম্মুখীন হয়েছিল বিবেক। তার সিনেমাগুলিকে নিষিদ্ধ করা হয়, মুক্তি রোধ করা হয়, এমনকি সিনেমা হলে প্রচার বন্ধের জন্য চাপ দেওয়া হয়। এই কারণে তার মনে ক্ষত সৃষ্টি হয়। এখনও সেই ক্ষত নতুন করে উঁকি মারছে, যখন তার প্রতি এই ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরাজয় এসেছে।

    নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে বিবেক লিখেছেন, ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ মুক্তির পর আমাকে বাংলায় কার্যত নিষিদ্ধই করা হয়েছিল। সিনেমা হল থেকে ছবিটি তুলে নেওয়া হয়, এবং বলা হয় আমাকে বাংলায় ঢুকতে দেওয়া হবে না। এরপর, গত বছর ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ সম্পূর্ণভাবে পশ্চিমবঙ্গে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। আমাদের ট্রেলার লঞ্চ বন্ধ করা হয়, উপরন্তু আমার উপর হামলা চালানো হয় এবং শারীরিক আক্রমণের শিকার হতে হয়। এর পাশাপাশি আমার বিরুদ্ধে ডজন ডজন এফআইআর দায়ের করা হয়। এমনকি রাজ্যপাল থেকে পুরস্কার নেবার সুযোগও আমি হারাই।

    তবুও আমি হাল ছাড়িনি, বলেছেন বিবেক। তিনি আরও যোগ করেন, ‘এই নির্বাচনের সময় আমরা গোপনীয়তা বজায় রেখে বিভিন্ন মানুষ ও স্থান পর্যন্ত ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ পৌঁছে দিতে সফল হই। আমি গর্বিত যে, সমালোচনার পরেও আমরা লড়াই চালিয়ে গেছি। অবশেষে আমাদের এই ঐতিহাসিক জয় এসেছে, বাংলার জনগণের জন্য অশেষ অভিনন্দন। এখন আপনি নিশ্চিন্তে মাথা উঁচু করে চলতে পারবেন।

    বিবেক এখন নতুন সিনেমার প্রিপারেশনে ব্যস্ত। তার পরবর্তী প্রজেক্টের বিষয় হলো ভারত-পাকিস্তানের যুদ্ধ, যার নাম তিনি ঘোষণা করেছেন ‘অপারেশন সিঁদুর’।

  • মালায়লাম চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতার মৃত্যু

    মালায়লাম চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতার মৃত্যু

    মালায়লাম সিনেমা ও টেলিভিশনের জনপ্রিয় অভিনেতা সন্তোষ কে নায়ার মঙ্গলবার রাতে এক মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। এই ঘটনাটি ঘটে কেরালার পাথানামথিট্টা জেলা সংলগ্ন অদূরে এনায়াথু এলাকায়, যেখানে তিনি গুরুতর আহত হন। তার মৃত্যুর খবর অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় তিনি একটি গাড়িতে ছিলেন, যা দ্রুতগতির লরির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষের শিকার হয়। এরপর তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার পাশে থাকা স্ত্রীও গুরুতর আহত হন এবং বর্তমানে হাসপাতালের চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    সন্তোষ কে নায়ার দীর্ঘ שנות ক্যারিয়ারে সাধারণ অভিনেতা থেকে খলচরিত্রে অভিনয়ে বিশেষ সফলতা অর্জন করেছিলেন। তিনি বেশ কয়েকজন ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের মন জয় করেছিলেন। ১৯৮২ সালে ‘ইথুঞ্জাঙ্গালুদে কথা’ সিনেমার মাধ্যমে তার অভিনয় ক্যারিয়ার শুরু হয়, এবং এর পর তিনি বহু জনপ্রিয় সিনেমায় কাজ করেছেন। তার সর্বশেষ ছবি ছিল ‘মোহিনিয়াট্টম’, যা এখনও প্রেক্ষাগৃহে চলতে থাকুক।

    ভারতজুড়ে এবং বিশেষ করে মালায়লাম সিনেমা অঙ্গনে এই আকস্মিক মৃত্যু শোকের ছায়া ফেলেছে। ভক্ত-অনুরাগীরা ইতিমধ্যে তার এই অপ্রত্যাশিত প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি একজন প্রিয় অভিনেতা, যিনি বিনয়ী ও অভিনয় দক্ষতায় আলাদা স্থান তৈরি করেছিলেন। এই দুঃখজনক ঘটনা বাংলা সিনেমা থেকে শুরু করে পুরো ভারতের সিনেমা জগতের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।

  • রুনা লায়লার মৃত্যু নিয়ে বিতর্কের অবসান: নিজেই জানালেন সুস্থতার খবর

    রুনা লায়লার মৃত্যু নিয়ে বিতর্কের অবসান: নিজেই জানালেন সুস্থতার খবর

    উপমহাদেশের খ্যাতনামা সংগীতশিল্পী রুনা লায়লার জীবন নিয়ে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে অদ্ভুত এক গুজব। ভাইরাল হওয়া এই খবরের মাঝে ভক্ত-অনুরাগীদের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে বিশেষ উদ্বেগ ও বিভ্রান্তি। তবে এই সব কটিকে ভুল ষড়যন্ত্র বলছেন রুনা লায়লা নিজেই। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ ও ভালো আছেন।

    বর্তমানে ভারতের দিল্লিতে তিনি অংশ নিচ্ছেন ‘মিনার–ই–দিল্লি’ পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে। এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য তিনি সেখানে অবস্থান করছেন। এর মধ্যেই কয়েকটি দেশের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ায় অনেকের মনে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। অপ্রত্যাশিত এই পরিস্থিতিতে রুনা লায়লা তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট করে এই গুজবের সত্যতা নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘প্রিয় ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীগণ, আমার মৃত্যু নিয়ে কিছু অদ্ভুত গুজব ছড়ানো হয়েছে।’ তার এ বক্তব্যে তিনি আরও জানান, ‘আমি পুরোপুরি সুস্থ এবং ভালো আছি।’

    তিনি সবাইকে অনুরোধ করেন, ‘‘এ ধরনের খবর শেয়ার করার আগে অবশ্যই তথ্য যাচাই করে নিন। এটি আমার এবং আমার পরিবারের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক।’’ তিনি যোগ করেন, ‘আমি সবাইকে অনেক ভালোবাসি।’’

    রুনা লায়লা তার গানের ক্যারিয়ার শুরু করেন ১৯৬৬ সালে। অদ্বিতীয় এই তারকা উর্দু ভাষার চলচ্চিত্র হাম দোনো-তে ‘নাজরঁ সে মোহাব্বত কা জো পয়গাম মিলা’ গান দিয়ে সংগীতাঙ্গনে প্রবেশ করেন। 1960-এর দশকে পাকিস্তান টেলিভিশনে নিয়মিত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তার জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। ভারত জুড়ে ‘ও মেরা বাবু চেল চাবিলা’ ও ‘দামা দম মাস্ত কালাণ্ডার’ গান দিয়ে তিনি বিশেষ প্রশংসা লাভ করেন। এই গায়িকা আজও তার অসাধারণ কণ্ঠ ও সঙ্গীতের বিষ্ময়কর কাজের জন্য শ্রোতাদের হৃদয়ে স্থান করেন।