ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন শেষে ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই সাতক্ষীরার সীমান্তে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এড়াতে কঠোর সতর্কতা ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধ এবং সীমান্তের নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্ত বলেন, সত্যিকার অর্থে, সাতক্ষীরা জেলার পার্শ্ববর্তী এলাকা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে সীমান্ত। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন-২০২৬ এর ভোট পর্যবেক্ষণ শেষে ৪ মে ফলাফলের ঘোষণা হয়। এরপর থেকে সীমান্তে কিছু অশান্তির খবর পাওয়া যাচ্ছে, যা দেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমরা সতর্ক রয়েছি এবং সীমান্তের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছি। জেলার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায়, বিশেষ করে ভোমরা স্থলবন্দরসহ আশপাশের স্থানে, বর্ডার গার্ডসের কর্মকর্তারা সজাগ হিসেবে কাজ করছেন। তারা নিশ্চিত করেছেন যে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে আমার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে—সীমান্তে বিজিবির জনবল বাড়ানো হয়েছে এবং টহল কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। যার মাধ্যমে সীমান্তের আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা বা পুশইনের ঘটনা ঘটেনি; পরিস্থিতি নির্বিঘ্ন ও শান্ত। উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, সীমান্তের শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে আইনশৃṅখলা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসন একযোগে কাজ করছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, নিরাপত্তা জোরদারকাজ চলমান থাকবে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে।
Blog
-

খুলনায় অস্ত্র মামলায় যুবকের ১৭ বছরের কারাদণ্ড
খুলনায় অস্ত্র মামলার পৃথক দু’টি ধারায় মোঃ মেহেদী হাসান মমি জমাদ্দার (২০) নামে এক যুবককে আদালত ১৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন। এই রায় বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনার জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধদমন ট্রাইব্যুনালে বিচারক সাবেরা সুলতানা খানম ঘোষণা করেন। রায়ের সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিল না। তিনি দৌলতপুর থানাধীন পবলা হাস খামার এলাকার বাসিন্দা এবং শামীম জমাদ্দারের ছেলে।
মামলার তথ্য অনুসারে, ২০২৩ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর রাত সোয়া ১১টার দিকে দৌলতপুর থানার এসআই আলিমুজ্জামان বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন, দৌলতপুর থানার বিভিন্ন মামলার সন্দেহভাজন আসামি মোঃ মেহেদী হাসান মমি পাবলা ফকিরপাড়ার হক সাহেবের বাড়ির সামনে অবস্থান করছে। এই সংবাদ পাওয়ার পরে পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।
জিজ্ঞাসাবাদে মমি পুলিশকে জানায়, তার কাছে দৌলতপুর থানাধীন কল্পতরু মার্কেটে একটি আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ‘নাজ এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি পরিত্যক্ত দোকানের ছাদ থেকে দেশের তৈরি একটি ওয়ান শুটার গান ও ৫ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে।
অস্ত্র উদ্ধার এবং মামলার বিষয়ে, ২০২৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর এসআই মোঃ আলিমুজ্জামান বাদী হয়ে থানায় অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করেন। পরে, ৩০ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মুকুল খান আসামি মমির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আদালতে মোট ৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়, এর মধ্যে ৭ জন সাক্ষ্য দেন। অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন এবং তাকে ১৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন।
-

শ্রম আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ঢাকা শ্রম ট্রাইব্যুনালের আপীল খারিজ
খুলনা মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের বিরুদ্ধে শ্রম আদালত কর্তৃক দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে করা ঢাকাস্থ শ্রম ট্রাইব্যুনালের আপীল খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। বিচারপতি এস এম দস্তগীর হুসেনের নেতৃত্বে চেয়ারম্যান এবং মোঃ তারেক মুর্শিদ সিদ্দিকীর সদস্য যুগ্ম আদালত এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। ফলে, ২০২০ সালের ২২ ডিসেম্বর শ্রম আদালত কর্তৃক নির্বাহী চেয়ারম্যান সৈয়দ আরাফাত হোসেনের দেয়া রায় অর্থাৎ, খারিজের সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকছে। ওই সময়, আদালত উল্লেখ করেছিল যে, এই মামলাটি দোতরফা মঞ্জুর না হওয়ায় খারিজ করা হয়েছে। পাশাপাশি, নির্দেশ দেয়া হয়েছিল যে, খুলনা মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের কার্যকরী কমিটি নির্বাচন, ইউনিয়নের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিটি গঠন করে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। সেক্ষেত্রে, সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও অফিসের তত্ত্বাবধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনাও দেয়া হয়। এই রায়ের অনুলিপি আগামী দিনগুলোতে সংশ্লিষ্ট সকলকে সরবরাহ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে ইউনিয়নের সাধারণ নির্বাচনের পর, রফিউল ইসলাম টুটুল একটি মামলা করেন শ্রম আদালতে। সেই মামলার ৬ বছর পর ২০২০ সালে রায় হয়, যে মামলার কিছু সময় পরে একই ব্যক্তি শ্রম আপীল ট্রাইব্যুনালে আপীল করেছিলেন, যা পরে খারিজ হয়। এই সিদ্ধান্তের পরে প্রায় পাঁচ বছর পর ইউনিয়নের কার্যক্রম আবার সচল হয়েছে। সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আতিয়ার পারভেজ ও সাধারণ সম্পাদক হাসান আহমেদ মোল্লা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, আদালতের রায় অনুযায়ী আগামী ৬০ দিনের মধ্যেই ইউনিয়নের নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু হবে।
-

পারস্পরিক সহযোগিতায় মানবতার জন্য নিরাপদ ও সুস্থ খুলনা গড়ে তোলার অঙ্গীকার
খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি-খুলনা সিটি ইউনিটের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, স্বাধীন বাংলাদেশের পর থেকে ১৯৭৩ সাল থেকে রেড ক্রিসেন্টের অভিযান শুরু হয়। এই সংস্থা বাংলাদেশের উন্নয়ন ও মানবতার সাথে গভীর সম্পর্কযুক্ত। তিনি আরও বলেন, এবারের প্রতিপাদ্য—”ইউনাইটেড ইন হিউম্যানিটি”—আমাদের মনে করিয়ে দেয়, আমরা সবাই জাতি, ধর্ম বা বর্ণ নির্বিশেষে মানবতার প্রতি দায়বদ্ধ। দুর্যোগ, সংঘাত বা কঠিন সময়েও রেড ক্রিসেন্ট মানবতার জন্য কাজ করে যায়, যা আমাদের ঐক্যবদ্ধ করে। পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়িয়ে, মানবতার কল্যাণে একত্রে কাজ করার মধ্য দিয়ে একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও সুস্থ নগরী গড়ার গুরুত্ব তিনি উল্লেখ করেন।
বৃহস্পতিবার সকালে নগর ভবনের শহীদ আলতাফ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বিশ্ব রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। এই দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘‘ইউনাইটেড ইন হিউম্যানিটি’’।
আলোচনাসভায় সভাপতিত্ব করেন খুলনা সিটি ইউনিটের সাবেক সহসভাপতি শেখ সাদিকুল ইসলাম সাদি। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন রেড ক্রিসেন্টের আজীবন সদস্য ও মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এ্যাড. শফিকুল আলম মনা। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউনিটের উপসহকারী পরিচালক রেক্সোনা খাতুন, থ্রি-সি প্রকল্পের এ্যাসিসট্যান্ট প্রোজেক্ট ম্যানেজার মো. আব্দুল মজিদ, এ্যাসিসট্যান্ট প্রোজেক্ট অফিসার সাকিবুল হাসানসহ সংস্থার বিভিন্ন সদস্য, যুবকর্মী, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকগণ।
আলোচনাসভার আগে মহানগরটির বিভিন্ন স্থান থেকে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে মানববন্ধনের শুভ সূচনা করেন।
উল্লেখ্য, খুলনা মহানগরে রেড ক্রিসেন্টের অর্থায়নে চলমান রয়েছে ‘ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট ক্লিন সিটিস (থ্রিসি)’ প্রকল্প। এর আওতায় নগরীর ২১ ও ২২ নম্বর ওয়ার্ডের স্লাম এরিয়া ছোট সড়ক ও ড্রেন নির্মাণ, সোলার লাইট স্থাপন, প্রাকৃতিক জলাশয় পরিষ্কার, পারিবারিক টয়লেট নির্মাণ ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ক্লাইমেট রেসপনসিভ যাত্রির ছাউনি স্থাপনের কাজ চলছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং নগরীকে আরো স্থায়ী ও টেকসই করে তোলার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
-

প্রাইজবন্ডের ১২৩তম ড্র এর পুরস্কার বিজয়ীদের তালিকা প্রকাশ
১০০ টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ডের ১২৩তম ড্র অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই ড্রয়ে প্রথম পুরস্কার হিসেবে ছয় লাখ টাকা জয়ী সিরিজের নম্বর হলো ০০০১০৩৫। দ্বিতীয় পুরস্কার বিজয়ী নম্বর হলো ০০৪৭৭৪৮, যেখানে পুরস্কার মূল্য তিন লাখ ২৫ হাজার টাকা। তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছেন দুটি নম্বর—০৫৩৮২৮৯ ও ০৬৭৫৩৮২—প্রতিটির মূল্য এক লাখ টাকা। চতুর্থ পুরস্কার হিসেবে পাওয়া যাবে ৫০ হাজার টাকা করে, যার নম্বরগুলো হলো ০৪০০৪৫১ ও ০৫৬৭৬৪৪।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন চৌধুরী এর সভাপতিত্বে এই ড্র অনুষ্ঠিত হয়, যা অনুষ্ঠিত হয় ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার অফিসের সম্মেলন কক্ষে।
প্রচলনযোগ্য ১০০ টাকা মূল্যমানের মোট ৮৪টি সিরিজের মধ্যে ৪৬টি সাধারণ সিরিজ এই ড্রয়ের জন্য পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হয়েছে। এই ড্রটি একক সাধারণ পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়েছে, যেখানে প্রত্যেক সিরিজের জন্য একই নম্বর নির্ধারিত। এই সিরিজের নম্বরগুলো মধ্যে আখ্যায়িত হয়েছে যেমন: কক, কখ, কগ, কঘ, কঙ, কচ, কছ, কজ, কঝ, কঞ, কট, কঠ, কড, কঢ, কথ, কদ, কন, কপ, কফ, কব, কম, কল, কশ, কষ, কস, কহ, খক, খখ, খগ, খঘ, খঙ, খচ, খছ, খজ, খঝ, খঞ, খট, খঠ, খড, খঢ, খথ, খদ, খন, খপ, খফ, খব, খম, খল, খশ, খষ, খস, খহ, গক, গখ, গগ, গঘ, গঙ, গচ, গছ, গজ, গঝ, গঞ, গট, গঠ, গড, গঢ, গথ, গদ, গন, গফ, গব, গম, গল, গশ, গষ, গপ, গস, গহ, ঘক, ঘখ,ঘগ, ঘঘ, ঘঙ, এবং ঘচ।
এছাড়া, পঞ্চম পুরস্কার হিসেবে ১০ হাজার টাকা করে পেয়েছেন ৪০ জন পুরস্কারপ্রাপ্ত। তাদের নম্বরগুলো হলো: ০০২১৭৪৯, ০২১৭৪১৯, ০৪৬১৪৭২, ০৫৮৮৯৬৬, ০৭৪৯৭৪০, ০০২২১৮১, ০২৪৬০৪৫, ০৪৬২০৫৬, ০৫৯৬৩৪৬, ০৭৫৯৯০৮, ০০৫৬৩৭৮, ০২৯৬৪০২, ০৪৭৮০১৫, ০৬০০০৪৪০, ০৭৭২৭৭৩, ০০৯২৩৫৬, ০৩১১১৩০, ০৪৮০৫৬৭, ০৬০৭৩৪৯, ০৮১৩৬৫৯, ০১৪৪৫৬৭, ০৩৫৬৯৪২, ০৫১২০২৪, ০৬৩৯৩৬৭, ০৮৪৮০৪৬, ০১৫৫৩৯৮, ০৩৯৩২৭৭, ০৫৫১২২১, ০৬৪২০০২, ০৮৪৯৬১৪, ০১৫৫৯৩৪, ০৪১৩৫০১, ০৫৬৪৭৬০, ০৬৫০১১৯, ০৯২২৫৯৭, ০১৭৫৭৯২, ০৪৫২৪৪১, ০৫৭৩৮৬৫, ০৬৮৮৭৭৩ এবং ০৯৪৭৬৬৫।
-

অপ্রতিরোধ্য প্রবাসী রেমিট্যান্স: এপ্রিলের ২৯ দিনে ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল
চলতি এপ্রিলে দেশের প্রবাসীরা এখন পর্যন্ত ৩ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে। এর মধ্যে, এ মাসের ২৯ দিনের মধ্যে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩০০ কোটি ২০ লাখ ডলার, যা দৈনিক গড়ে প্রায় ১০ কোটি ৩৫ লাখ ডলার। বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, এপ্রিলে প্রথম ২৯ দিনে মোট ৩০০ কোটি ২০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। শুধুমাত্র ২৯ এপ্রিলেই প্রবাসীরা পাঠিয়েছে ৯৪ কোটি ডলার। এর পাশাপাশি, গত বছরের ওই সময়ে (এপ্রিল, ২০২৫) দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল মোট ২৬০ কোটি ৮০ লাখ ডলার।
এছাড়াও, মার্চ মাসে রেকর্ড সংখ্যক রেমিট্যান্স প্রবাহ দেখা গেছে। ওই সময় ৩১ দিনেও দেশে মোট ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন বা ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।
এর আগে, বছর শুরুর জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসেও রেকর্ড সংখ্যক রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল। জানুয়ারিতে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার, আর ফেব্রুয়ারি মাসে তা দাঁড়ায় ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ডলারে। এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেশের অর্থনীতি ও বৈদেশিক রিজার্ভের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক সংকেত জানাচ্ছে।
-

এপ্রিলে রেমিট্যান্স এসেছে ৩১৩ কোটি ডলার
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লাভ করেছে। এ মাসে বাংলাদেশে মোট ৩১২ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার পাঠানো হয়েছে, যা গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১০ কোটি ৪২ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তারা জানান, গত এপ্রিল মাসে দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছিল ৩১২ কোটি ৭০ লাখ ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে। একই সময়ে গত বছর দেশের বাইরে থেকে এসেছিল ২৭৫ কোটি ২০ লাখ ডলার, অর্থাৎ তুলনায় ১২.৫৬ শতাংশ রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে।
অর্থনৈতিক বছর ২০২৩-২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের মোট রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ২ হাজার ৯৩৩ কোটি ২০ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯.৫০ শতাংশ বেশি।
বিশেষ করে, চলতি বছরের মার্চ মাসে রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে, যেখানে মোট ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার পাঠানো হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্সের রেকর্ড।
অতীতে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসেও যথাক্রমে যথাক্রমে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ও ৩০৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। ডিসেম্বরের অপেক্ষাকৃত বেশি ছিল ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার, নভেম্বরে এসেছিল ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার।
তারা আরও জানান, গত অক্টোবর ও সেপ্টেম্বরে যথাক্রমে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার ও ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স পাঠানো হয়েছে। আগের মাসগুলোতেও ধারাবাহিকভাবে রেমিট্যান্স প্রবাহ দেখা গেছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক।
এদিকে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের প্রবাসীরা মোট ৩০.৩২ বিলিয়ন ডলার বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা দেশের ইতিহাসে এক নাগাড়ে সর্বোচ্চ রেকর্ড। এটি প্রমাণ করে বাংলাদেশের অর্থনীতির ভারসাম্য ও ভবিষ্যত উন্নয়নের জন্য প্রবাসী আয়ের গুরুত্বপূর্ণ অবদান। -

বাংলাদেশে সোনার দাম কমলো: ভরি কত? তাজা আপডেট
বাংলাদেশের বাজারে সোনার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। একের পর এক স্বর্ণের দাম নির্ধারণে পরিবর্তন আসলে দেশের স্বর্ণচাহিদা ও বৈষম্য বজায় রাখার জন্য এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এবারে প্রতি ভরি সোনার দাম সর্বোচ্চ ২ হাজার ২৫৮ টাকা কমানো হয়েছে। এর ফলে, উচ্চ মানের (২২ ক্যারেট) সোনার ভরি এখন দুই লাখ ৪০ হাজার টাকা পড়ে গেছে, যা আগে ছিল দুই লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা।
বুধবার (৫ মে) সকালে বাজুস একটি আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই দাম পরিবর্তনের তথ্য জানায়। নতুন মূল্য নির্ধারণের সময় সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়।
সংগঠনটি জানিয়েছে, তেজাবি বা পিওর গোল্ড (প্রিয় স্বর্ণ) এর দাম কমে যাওয়ায় দেশের বাজারে মূল্যবৃদ্ধির চাপ কিছুটা কমেছে। এই নতুন দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের সোনার বাজার দরে এক ভরি নির্ধারিত হয়েছে ২ লাখ ৪০ হাজার ৩৩৭ টাকা।এছাড়াও, অন্যান্য মানের স্বর্ণের দাম ধাপে ধাপে নির্ধারিত হয়েছে। ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের প্রতি ভরি দামের জন্য নির্ধারিত হয়েছে ২ লাখ ২৯ হাজার ৪৩১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৯৬ হাজার ৬৫৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের জন্য ১ লাখ ৬০ হাজার ১৪৭ টাকা।
প্রতি ভরি রুপার দামও অপরিবর্তিত থাকছে। ২২ ক্যারেটের রুপার দাম বর্তমানে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা, ২১ ক্যারেটের ৫ হাজার ১৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৪ হাজার ৪৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা।
বিশ্ব বাজারে এর মধ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র, ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধের কারণে সোনার মূল্য সম্প্রতি ঊর্ধ্বমুখী হয়। তবে এখন আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম কমে এসে ৪ হাজার ৫০০ ডলারে নেমে এসেছে। এর আগে, ৩০ জানুয়ারি এই দাম ছিল প্রায় ৫ হাজার ২০০ ডলার, আর ২৯ জানুয়ারি তা ৫ হাজার ৫৫০ ডলার পর্যায়ে উঠেছিল। গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্রে জানা যায়, এই ধারাবাহিক পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশে সোনার দামও সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে কমে এসেছে।
-

সোনার দামে আবারও দফা বৃদ্ধি
বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) আবারও টানা দ্বিতীয় দফায় সোনার দাম বৃদ্ধির ঘোষণা করেছে। এর ফলে দেশের বাজারে প্রতি ভরি সোনার দাম সর্বোচ্চ ২ হাজার ২১৬ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে, যা বর্তমানে ২২ ক্যারেটের ভাল মানের সোনার ভরি এখন দুই লাখ ৪৪ হাজার টাকায় পৌঁছেছে। এর আগে বুধবার (৭ মে) সকালে বাজুস এ বিষয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। নতুন এই দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।
সংগঠনটির জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ড সোনার দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশীয় বাজারে এই দাম সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের সোনার এক ভরি নির্ধারিত হয়েছে দুই লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ ৩৩ হাজার ৫৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ভরির দাম ২ লাখ ২১৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার জন্য ভরি দামের নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৩ টাকা।
অতিরিক্তভাবে, রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ৫ হাজার ৭৭৪ টাকা, ২১ ক্যারেটের জন্য ৫ হাজার ৫৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ৪ হাজার ৭২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির জন্য ভরি রুপার দাম দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৫৫৮ টাকায়।
বিশ্ববাজারে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে স্বর্ণ ও রুপার দাম ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। এর প্রভাব দেশে এসে মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে এখন প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৭০০ ডলার পর্যন্ত উঠেছে। এর আগে জানুয়ারিতে এই দাম ছিল ৫ হাজার ২০০ ডলার, ২৯ জানুয়ারিতে ওঠে ৫ হাজার ৫৫০ ডলারে।
এদিকে, গত মাসের শেষের দিকে বিশ্ববাজারে সোনার দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় দেশের বাজারেও তা রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। ২৯ জানুয়ারি সকালে বাজুস একবারে ভরিপ্রতি ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায় নিয়ে যায়, যা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে উচ্চ স্তরে। এই দাম বৃদ্ধির ফলে সোনার দাম আগে কখনো এত বেশি বাড়েনি, যা সত্যিই এক নজিরবিহীন ঘটনা।
-

সংস্কার নিয়ে সরকার প্রতারণা করছে; সনদ বাস্তবায়নে জোর দিতে হবে
সংস্কার ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিএনপি সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করেছেন বিশ্লেষক ও রাজনীতিবিদরা। তারা বলছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচনের আগে যারা নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, বর্তমানে সেই প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসে দেখানো হচ্ছে সরকার আসলে কর্তৃত্ববাদী দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করে চলেছে। ৩ মে রোববার রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের মুক্তিযোদ্ধা হলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটি আয়োজিত ‘জ্বালানি, অর্থনীতি, মানবাধিকার, সংস্কার ও গণভোট’ শীর্ষক জাতীয় কনভেনশনে বক্তারা এ সব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী সেশনের সভাপতিত্ব করেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির সহ-প্রধান সারোয়ার তুষার। পাশাপাশি আলোচনায় অংশ নেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক হান্নান মাসউদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী ও সমাজবিজ্ঞানী মির্জা হাসান। হান্নান মাসউদ বলেন, সংসদের প্রথম অধিবেশনের পর থেকে আমি বলেছিলাম, এটি এক ধরনের প্রতারণার সংসদ। কেন আমি এই সংসদে এসেছিলাম এবং কী পেলাম? সরকার যখন আইন করে ক্ষমতা বাড়ানোর অধ্যাদেশগুলো বিলুপ্ত করে আইনগত রূপ দিচ্ছে, তখন মুক্তিপ্রাপ্ত মূল দাবি ও জবাবদিহির বিষয়গুলো লুকানো হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের সময় ভোটচুরি ও স্থানীয় প্রতিনিধি অপসারণের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার একাধিক অধ্যাদেশ জারি করেছিল, যা এখন সরকারের পক্ষ থেকে আইনে রূপান্তরিত হয়েছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের অপসারণের ক্ষমতা এখন খুব সহজে পাওয়া যাবে। বিরোধীদলের কাউকে অপছন্দ হলে তারা সরিয়ে দিতে পারবে পছন্দের প্রশাসক বসানোর জন্য। এনসিপির এই নেতা অভিযোগ করেন, বিএনপি সরকার সংস্কার করতে চায় না। বরং তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, পুলিশ কমিশন তৈরি, সংবিধান সংস্কারসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করবে। কিন্তু ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করতে গিয়ে এটি সবই আর সম্ভব হলো না; বরং তাদের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির লঙ্ঘন ঘটছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী বলেন, ১৯৯১ সালে রাজনৈতিক দলগুলো সম্মিলিতভাবে যে সংস্কারের জন্য প্রস্তাব দিয়েছিল, তার অনেকটাই বাস্তবায়িত হয়নি। ২৪ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থানের পরের ঘটনাগুলো দেখিয়ে দেয়, ক্ষমতাসীন দলগুলো আসলে সংস্কার করতে চায় না, বরং তারা পুরনো ক্ষমতা ধরে রাখতে চান। বাংলাদেশের এলিট বুরোক্রেসি, সিভিল ও মিলিটারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা ছাড়তে চায় না, ফলে বরং সংস্কার বাধা পায়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সম্প্রতি সংসদে দেওয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে দিলারা বলছেন, কানাডায় যদি এক মন্ত্রী এরকম মিথ্যা কথা বলতেন, তাহলে সেদিনই পদত্যাগ করতে হতো। সমাজবিজ্ঞানী মির্জা হাসান বলেন, জুলাই সনদ দেশের ইতিহাসে এক অনন্য ঘটনা, যেখানে মূল লক্ষ্য ছিল বিচার বিভাগ, প্রশাসন ও শাসন বিভাগে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা। সাংবিধানিক সংস্কার কমিটির প্রথমে ঘোষিত র্যাডিকেল কিছু প্রস্তাব ছিল, যেমন একজন ব্যক্তিই এক সঙ্গে সরকারের প্রধান ও দলের প্রধান হতে পারবে না, কিন্তু বিএনপির চাপের কারণে তা পরিবর্তিত হয়। এখন বাস্তবায়নে সমস্যায় পড়েছে, বলছেন তিনি। সারোয়ার তুষার জানান, বিএনপি সরকার সংস্কার করতে চায় না। তারা প্রত্যাখ্যান করছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি ও উদ্যোগ, বিশেষ করে সংবিধান ও সংবিধান সংস্কার বিষয়ক প্রস্তাবগুলো। তিনি আরও বলেন, দলীয় ও নির্বাচনী ইশতেহারে যে সংস্কারসমূহের কথা বলা হয়েছে, তা কার্যকর করতে তারা অসমর্থ। মূলত, তারা সংবিধানেও দলীয়করণ প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে, যা দেশের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি সৃষ্টি করে। আখতার হোসেন বলেন, বিএনপি ক্ষমতা ধরে রাখতে চাইছে, সংস্কার এড়িয়ে যাচ্ছে। তারা নোট অব ডিসেন্ট তুলে ধরে নিজেদের ভিন্ন মত প্রকাশের সুযোগ রেখেও মূল ব্যাপারগুলোতে একমত নয়। গণভোটের পরে তাদের অবস্থান স্পষ্ট, এখন বড় বিষয় তারা কি করবেন। তারা চারটি প্রশ্নে আপত্তি জানালেও মূল বিষয়গুলো ছিল উচ্চকক্ষের নির্বাচন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নিয়োগ প্রক্রিয়াগুলো সংবিধানসম্মতভাবে নিরপেক্ষ করে তোলা। তবে এখন দেখা যাচ্ছে, তারা এসব বিষয়েও অঙীকার ভঙ্গ করছে। এই পরিস্থিতিতে, সরকারের উচিত দ্রুত সনদ বাস্তবায়ন ও সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা।
