Blog

  • ৩০ দিনের মধ্যে যুদ্ধ সমাপ্তের দাবিতে ইরানের ১৪ দফা শান্তি প্রস্তাব

    ৩০ দিনের মধ্যে যুদ্ধ সমাপ্তের দাবিতে ইরানের ১৪ দফা শান্তি প্রস্তাব

    ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাত স্থায়ীভাবে শেষ করার লক্ষ্যে ১৪ দফার একটি নতুন শান্তি প্রস্তাব ঘোষণা করেছে। প্রস্তাবে সাময়িক যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর বদলে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে সকল অমীমাংসিত বিষয় নিষ্পত্তির দাবি রাখা হয়েছে। তেহরান জানিয়েছে এটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া ৯ দফার পরিকল্পনার জবাবে দেওয়া পাল্টা প্রস্তাব। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য বলা হয়েছে।

    নিরাপত্তা বাহিনীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত সংবাদমাধ্যম নূর নিউজ অনুযায়ী, ইরানের ১৪ দফায় অন্যতম প্রধান দাবি হচ্ছে—স্যাং সমস্ত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা; নৌ-অবরোধ বন্ধ করা; এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার করা। এছাড়া লেবাননে ইসরাইলি অভিযানের মতো এই অঞ্চলের সব ধরনের সামরিক হামলা ও শত্রুতা বন্ধ করার শর্তও এতে রাখা হয়েছে।

    গত সপ্তাহে ইরানের আগের একটি প্রস্তাব মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তবু দুই পক্ষের মধ্যে পর্দার আড়ালে আলোচনা চলছে এবং তিন সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিটি এখনও কার্যকর রয়েছে।

    এদিকে আজ (রোববার, ৩ মে) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদির মধ্যে এ বিষয়ে ফোনালাপ হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিন ধরে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করা ওমান এবারের শান্তি প্রক্রিয়াতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো ধারণা করছে।

    ইরানের নতুন ১৪ দফা প্রস্তাবে সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করায় বিরোধ নিষ্পত্তি দ্রুততার সঙ্গে না হলে আলোচনা আরও কঠোর হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে—তবে এই প্রস্তাবের প্রতি আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক উত্তর আগামী দিনগুলোতে স্পষ্ট হবে।

  • পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন?

    পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন?

    পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি যদি নিরঙ্কুশভাবে সাফল্য লাভ করে, তাহলে প্রথমবার রাজ্য সরকার গঠনের সম্ভাবনা রয়েছে—আর সেই বাস্তবতার সামনে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে: কে হবে পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী?

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পূর্বে ঘোষণা করেছেন যে পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী ‘‘একজন বাঙালি’’ হবেন। তবু এখনও কেন্দ্রীয় দল আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নাম ঘোষণা করেনি। দলের ভেতরে ও রাজনৈতিক মহলে কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘুরছে। তালিকার সর্বোচ্চ আলোচনায় আছেন শুভেন্দু অধিকারী।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সংবাদমাধ্যমের মতে, গত পাঁচ বছর বিরোধী নেতা হিসেবে বিধানসভায় শুভেন্দুর ভূমিকা তাকে শক্ত দাবিদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তিনি নন্দীগ্রাম ছাড়াও ভবানিপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়েছেন। প্রাথমিক গণনার ট্রেন্ড অনুযায়ী ভবানিপুরে তিনি লিড বজায় রেখেছেন বলে দাবি করেছেন এবং মমতাকে হারানোর ব্যাপারে আত্মবিশ্বাস দেখিয়েছেন। তবে এনডিটিভিকে সোমবার দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পদ সংক্রান্ত সরাসরি মন্তব্য এড়িয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘‘আমি এই স্পর্শকাতর প্রশ্নে কোনও মন্তব্য করব না। বিজেপি সম্মিলিত নেতৃত্ব—নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে আমরা লড়েছি এবং ফল বেরোচ্ছে।’’

    শুভেন্দুর পাশাপাশি দিলীপ ঘোষের নামও আলোচনায় রয়েছেন। তিনি দলের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি ও হেভিওয়েট নেতা; খড়গপুর সদর থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বড় ব্যবধানে এগিয়ে আছেন বলে বলা হচ্ছে। দলের তৃণমূল কর্মীপ্রশাখার সঙ্গে তার সম্পর্ক ও দল গড়ায় ভূমিকা তাকে মুখ্যমন্ত্রী সম্ভাব্য প্রার্থীর মধ্যে একজন করে তুলেছে।

    রাজ্যের বর্তমান বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও নানাভাবে নজরে পড়ছেন—তিনি দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ এবং রাজনৈতিক বক্তৃতা ও তত্ত্বগত দিক থেকে প্রশংসিত। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও সাবেক রাজ্য সম্পাদক সুকান্ত মজুমদারও দলের কৌশল নির্ধারণ ও ওয়াররুম সমন্বয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার কারণে পছন্দনীয় প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের নামটিও সম্ভাব্যদের তালিকায় আছে; তিনি উত্তরবঙ্গে দলকে মজবুত করার কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এবং মাথাভাঙা কেন্দ্র থেকে লড়েছেন। আর রাজনৈতিক-সাংবাদিক লড়াই থেকে আসা পদ্মভূষণ পুরস্কার প্রাপ্ত স্বপন দাশগুপ্তকে বিজেপির বুদ্ধিজীবী প্ররোচনার প্রতিনিধি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে—তাকে ‘‘ভদ্রলোক’’ রাজনীতির মুখ হিসেবেও দেখা হয়।

    এখনকার ফলাফলের প্রাথমিক ছবি অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য বলছে—২৯৩টি বিধানসভা আসনের মধ্যে বিজেপি ১৯৯টিতে এগিয়ে আছে, তৃণমূল ৮৮টিতে এগিয়ে; পাশাপাশি সিপিএম ও কংগ্রেস প্রত্যেকে ২টি-২টি আসনে এগিয়ে এবং অন্যান্যরা ২টিতেই এগিয়ে রয়েছে (সূত্র: আনন্দবাজার)।

    চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং আনুষ্ঠানিক ঘোষণা রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের হাতে। নাম ঘোষণার আগে দলের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক কৌশল, জোট-সমীকরণ এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সমন্বয় সবই বিবেচনায় নেওয়া হবে।

  • সুন্দরবনে বনদস্যুদের হাতে মৌয়াল ও জেলে অপহৃত, মুক্তিপণের দাবি

    সুন্দরবনে বনদস্যুদের হাতে মৌয়াল ও জেলে অপহৃত, মুক্তিপণের দাবি

    সাতক্ষীরা রেঞ্জের আওতাধীন পশ্চিম সুন্দরবনে অস্ত্রের মুখে এক মৌয়াল ও এক জেলেকে অপহৃত করা হয়েছে বলে তাদের সহকর্মীরা অভিযোগ করেছেন।

    স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রোববার (৩ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মাহমুদা নদীর মাইটভাঙা খাল থেকে চলে আসে অপহরণের খবর। তারা দাবি করছেন, বনদস্যু আলিফ বাহিনীর সদস্যরা অস্ত্র দেখিয়ে ওই দুজনকে জিম্মি করে নিয়ে গেছে।

    অপহৃতরা হলেন সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের হরিনগর গ্রামের বাসিন্দা মৌয়াল আব্দুল করিম (৪৮) ও জেলে ইসমাইল হোসেন (২৮)। আব্দুল করিম প্রয়াত শেখ আব্দুর রহমানের পুত্র।

    ফিরে আসা জেলে আব্দুল আলিম ও শামীম হোসেন জানান, অপহরণকারীরা নিজেদের আলিম ওরফে আলিফ নামে পরিচয় দিয়েছেন এবং অস্ত্রের মুখে করিম ও ইসমাইলকে ধরে গভীর বনের দিকে নিয়ে গেছেন। পরে ইসমাইলকে মুক্তির জন্য ৬০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়; তবে আব্দুল করিমের মুক্তির বিষয়ে এখনও অপহরণকারীরা কিছু জানাননি।

    জানানো হয়েছে, গত ২৬ ও ২৮ এপ্রিল পৃথকভাবে তারা নৌকায় সুন্দরবনে প্রবেশ করেন। কদমতলা স্টেশন থেকে পাস (অনুমতি পত্র) নিয়ে তারা মধু আহরণ ও মাছ শিকার করার উদ্দেশ্যে সেখানে অবস্থান করছিলেন।

    সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মশিউর রহমান বলেন, এখন পর্যন্ত তাদের কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ওঠেনি; তবে তারা সংশ্লিষ্ট ঘটনার বিষয়টি খোঁজখবর নেবে। শ্যামনগর থানার ওসি খালেদুর রহমান বলেন, সাধারণত জিম্মি থাকা অবস্থায় পরিবারের লোকজন নিরাপত্তার কারণে প্রশাসনকে তথ্য জানান না; কেউ অভিযোগ করলে পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা নেবে পুলিশ।

  • গোপালগঞ্জে বাস চাপায় ভ্যানচালক ঝন্টু মোল্যা নিহত, ৭ জন আহত

    গোপালগঞ্জে বাস চাপায় ভ্যানচালক ঝন্টু মোল্যা নিহত, ৭ জন আহত

    গোপালগঞ্জে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোপীনাথপুর এলাকায় আজ সোমবার (৪ মে) সকালে যাত্রীবাহী একটি বাসের চাপায় ভ্যানচালক ঝন্টু মোল্যা (৪৫) নিহত হয়েছেন। ভাটিয়াপাড়া হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোকনউজ্জামান ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।

    ওসি রোকনউজ্জামান জানান, ঢাকা থেকে খুলনাগামী ফাল্গুনী পরিবহনের একটি বাস ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সেটি একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও একটি ভ্যানকে চাপা দেয়। এতে ভ্যানচালক ঝন্টু মোল্যা ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং ইজিবাইকে থাকা আরও সাতজন যাত্রী আহত হন।

    ক্ষতিগ্রস্তদের স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করালে সেখানে তাদের চিকিৎসা চলছে। নিহত ঝন্টু মোল্যা গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের, আখুব্বর মোল্যার ছেলে বলে পরিবার ও পুলিশ জানিয়েছে।

    পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর ঘাতক বাসটিকে আটক করা হয়েছে এবং ঘটনার কারণ তদন্ত করা হচ্ছে।

  • টয়লেটে দুর্নীতি: পরিচ্ছন্নকর্মীদের বেতন কাটা দেখে ক্ষুব্ধ তামিম

    টয়লেটে দুর্নীতি: পরিচ্ছন্নকর্মীদের বেতন কাটা দেখে ক্ষুব্ধ তামিম

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল সম্প্রতি মিরপুরের গ্যালারি ও ওয়াশরুম পরিদর্শন করে টয়লেটে চলমান অনিয়ম দেখে ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, স্ত্রী-পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা তাদের নির্ধারিত পারিশ্রমিক পাচ্ছেন না — একেবারে দিনের শেষে ৩০০-৪০০ টাকা মাত্র হাতে আসে।

    সংবাদকর্মীদের সঙ্গে আলাপে তামিম বলেন, তিনি বিসিবি থেকে জানতে চান ক্লিনিং সার্ভিসের জন্য জনপ্রতি কত টাকা দেওয়া হয়। শুনে তিনি আশ্চর্য হন যে টাকার পরিমাণ ৬৫০ টাকা। এরপরই প্রশ্ন ওঠে, ৬৫০ টাকা গেলে এসব নারীরা কেন ৩০০ টাকা পাচ্ছেন? তামিম বলেন, ‘‘এই নারীদের থেকেও টাকা খাওয়া হচ্ছে—এটা একেবারেই জঘন্য এবং কষ্টের।’’

    তামিম বলেন, মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম ২০০৭ সালে তৈরি হওয়া থেকে টয়লেটের কোনো সংস্কার হয়নি। তিনি নিজেও খালা আম্মাদের একটি বক্তব্য ভিডিওতে দেখেছেন যেখানে একজন পরিচ্ছন্নকর্মী বলেন তারা দিনে ৩০০ টাকা পান এবং এ বিষয়ে কেউ কিছু করছেন না।

    একটি প্রবাসী দর্শকের ওয়াশরুম নিয়ে অভিযোগও তামিমকে ভিন্নভাবে বিব্রত করে। তিনি জানান, ফিনল্যান্ড থেকে আসা এক নারী সকালেই বিমানবন্দর থেকে সরাসরি মাঠে এসে উইশ করছিলেন এবং টয়লেটের অবস্থা দেখিয়ে অনুরোধ করেন যে ওয়াশরুম গুলো ঠিক করা উচিত।

    বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজে তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি অনুষ্ঠিত হয়; ম্যাচগুলো মিরপুর ও চট্টগ্রামের স্টেডিয়ামে ভাগাভাগি করে হয়েছে। তামিম সতর্ক করে বলেন, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের বেতন ঠিকমতো বোঝানো না হলে ওই কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি বাতিলসহ বিসিবিতে তাদের নিষিদ্ধ করার প্রস্তাবও করবেন তিনি।

    অবশেষে তামিম দাবি করেছেন, তিনি কোম্পানিকে নির্দেশ দিয়েছেন এই সিরিজের বিল জমা দিতে এবং সামনে ৩০ জন পরিচ্ছন্নকর্মী ডেকে তাদের প্রত্যেককে ৫০০ টাকাভিত্তিক পারিশ্রমিক দেখাতে। তিনি বলছেন, কোম্পানির জন্য ১০০‑১৫০ টাকা লাভ রাখা যায়, কারণ তাদের কার্যক্রম চালাতে কিছু খরচ থাকবে। তবে যদি কোম্পানি প্রতিশ্রুতি মেনে চলতে না চায়, তাহলে চুক্তি বাতিল এবং ভবিষ্যতে বিসিবিতে কাজের জন্য ব্ল্যাকলিস্ট করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তামিম।

  • ধবলধোলাইয়ে শেষে আইসিসির শাস্তি: জ্যোতিকে আনুষ্ঠানিক তিরস্কার ও ডিমেরিট পয়েন্ট

    ধবলধোলাইয়ে শেষে আইসিসির শাস্তি: জ্যোতিকে আনুষ্ঠানিক তিরস্কার ও ডিমেরিট পয়েন্ট

    শ্রীলঙ্কা সফর বাংলাদেশ অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির জন্য মোটেই ভালো কাটেনি; সিরিজে দলের পারফরম্যান্সের সঙ্গে সঙ্গে ব্যক্তিগত আচরণ নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) থেকে শাস্তিও পেয়েছেন তিনি।

    আইসিসি একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, জ্যোতিকে আনুষ্ঠানিকভাবে তিরস্কার করে এক ডিমেরিট পয়েন্ট দেওয়া হয়েছে। ম্যাচ পরিচালনার সময় দলের অধিনায়কের আচরণবিধির লেভেল-১ ভঙ্গের অভিযোগে এই শাস্তি দেওয়া হয়েছে। অভিযোগটি মাঠের দুই আম্পায়ার এলয়িজ শেরিডান ও শাথিরা জাকির জেসি, তৃতীয় আম্পায়ার রোকেয়া সুলতানা এবং চতুর্থ আম্পায়ার চম্পা চাকমা করেন; ম্যাচ রেফারি হিসেবে শাস্তি ঘোষণা করেছেন সুপ্রিয়া রানি দাস।

    আইসিসির খেলোয়াড় ও সাপোর্ট পারসোনেলের আচরণবিধির ধারা ২.২ অনুযায়ী আন্তর্জাতিক ম্যাচ চলাকালে ক্রিকেট সরঞ্জাম, পোশাক বা মাঠের সরঞ্জাম ও স্থাপনা অপব্যবহারের অভিযোগে জ্যোতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সিলেটে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে লঙ্কান অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তুর হাতে আউট হওয়ার (৯ বল থেকে ১৩ রান) পর হতাশায় ব্যাট ছুড়ে মারার ঘটনাই এ অভিযোগের সূত্র।

    আইসিসি জানিয়েছে, গত ২৪ মাসে এটি জ্যোতির প্রথম অপরাধ। তিনি দায় স্বীকার করায় আলাদা শুনানির প্রয়োজন পড়েনি। লেভেল-১ ধারা ভঙ্গের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন শাস্তি হচ্ছে আনুষ্ঠানিক তিরস্কার; সর্বোচ্চ শাস্তির মধ্যে রয়েছে ম্যাচ ফি থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা এবং এক বা দুই ডিমেরিট পয়েন্ট আরোপ।

    খেলাগত দিক থেকে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের একমাত্র সান্ত্বনা ছিল রাজশাহীতে পাওয়া প্রথম ওয়ানডে জয়। দলের সেই জয় ব্যতীত পরের পাঁচটি ম্যাচে ধারাবাহিকভাবে হারতে হয় বাংলাদেশকে—ওয়ানডে সিরিজে ২-১ করে হার এবং টি-টোয়েন্টি সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ। এই ধাক্কার পর ব্যক্তিগতভাবে শাস্তি পাওয়ায় জ্যোতির ওপর এখন নজর থাকবে।

  • সালমান খান হারালেন ৪২ বছর বয়সী ঘনিষ্ঠ বন্ধু সুশীল কুমার

    সালমান খান হারালেন ৪২ বছর বয়সী ঘনিষ্ঠ বন্ধু সুশীল কুমার

    বলিউড তারকা সালমান খান তাঁর ৪২ বছর বয়সী ঘনিষ্ঠ বন্ধু সুশীল কুমারের মৃত্যুর খবর সামাজিক মাধ্যমে নিজেই নিশ্চিত করেছেন এবং গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

    সালমান পোস্টে জানিয়েছেন, তিনি সুশীলকে ভাইয়ের মতোই চিনতেন। স্মৃতিচারণ করতে করতে তিনি বন্ধুর সঙ্গে যেসব মুহূর্ত কেটেছে সেগুলোকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছেন এবং একগুচ্ছ ছবি শেয়ার করে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

    পোস্টে সালমান বলেন, সুশীল ছিলেন এমন একজন — জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়েও তার মুখে সবসময় হাসি থাকতো। তিনি সবসময় বলতেন ‘সব ঠিক হয়ে যাবে, কিছুরই কিছু যায় আসে নেই’। এই সুরক্ষামূলক মনোভাবই ছিল তার বিশেষত্ব।

    বন্ধুর প্রয়াণের বর্ণনা দিতে গিয়ে সালমান লেখেন, সুশীল মৃত্যুর সঙ্গে হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়নের মতো লড়েছেন। তাঁর জন্য চোখে কোনো অতিরিক্ত জল নেই, বরং রয়েছে হাসি আর আনন্দময় স্মৃতি — যেগুলো সারাজীবন সঙ্গে থাকবে। সালমান আরও বলেছেন, জীবনে কাউকে আগে বা পরে পৃথিবী ছাড়তে হয়; তাই জীবিত থাকা অবস্থায় মানুষের জন্য কিছু করে যাওয়া উচিত।

    আরেক পোস্টে তিনি লিখেছেন, যাঁদের সময় এসেছে তাদের আটকে রাখা সম্ভব নয়; ভালো মানুষ অনেক সময় আগে চলে যান; আর যাঁদের কিছু দেনা-পাওনা মেটানো বাকি থাকে, তারা হয়তো একটু বেশি সময় পান; অসৎ বা দুর্নীতিগ্রস্তদের সময় সাধারণত পরে আসে — এমন অনুভব তার রয়েছে।

    সালমান সামাজিক মাধ্যমে প্রচলিত ‘আরআইপি’ শব্দ ব্যবহার থেকে বিরত থেকে জানিয়েছেন, তিনি সুশীলকে মৃতদেহ হিসেবে দেখতে চান না; তাকে তাঁর নামেই ডাকতে চান।

    সবশেষে বন্ধু হারানোর একাকীত্ব নিয়েও কথা বলেছেন অভিনেতা। তিনি শেয়ার করেছেন, সবকিছু ঠিকঠাক চলছিল, কিন্তু এখন বন্ধু ছাড়া একাকীত্বে তার শারীরিক ও মানসিক কিছু ক্ষতি হতে পারে — এমনটিতে তিনি উদ্বিগ্ন।

    সামাজিক মাধ্যমে সালমানের এই আবেগঘন পোস্টে নেটিজেনরা শোকাহত কমেন্ট করেছেন এবং সুশীলের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

  • আবার অসুস্থ তানিয়া বৃষ্টি; ভক্তদের কাছে দোয়া চাইলেন অভিনেত্রী

    আবার অসুস্থ তানিয়া বৃষ্টি; ভক্তদের কাছে দোয়া চাইলেন অভিনেত্রী

    ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টি ফের অসুস্থ হয়ে ভক্তদের কাছে দোয়া চেয়েছেন। গত ফেব্রুয়ারি থেকেই গুরুতর অসুস্থতায় ভুগছে তিনি; অল্প সময়ের মধ্যে মস্তিষ্কের টিউমারের বিরুদ্ধে দুইবার অস্ত্রোপচারও করেছেন। তাই তার শারীরিক অবস্থাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

    শনিবার (২ মে) নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তানিয়া লিখেছেন, “আসসালামু আলাইকুম। আমাদের সবার প্রিয় অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টি আপু শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস্থতার মধ্যে আছেন। তবে চিন্তার তেমন কিছু নেই, তিনি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বিশ্রামে আছেন।” পাশাপাশি তিনি ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়াও চেয়েছেন।

    পোস্টে আরও বলা হয়েছে, ‘‘আপনারা সবাই তার জন্য দোয়া করবেন যেন তিনি খুব দ্রুত সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসতে পারেন।’’ এই আহ্বানে সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে শোকান্বিত ও সহানুভূতিশীল মন্তব্য দেখা গেছে।

    চিকিৎসা বিষয়ে জানা গেছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তানিয়ার ব্রেইন টিউমার ধরা পড়ে। প্রথম অস্ত্রোপচার সফলভাবে করা হয় ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে। পরে শারীরিক জটিলতা দেখা গেলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের চেন্নাই নেওয়া হয়, যেখানে দ্বিতীয় দফায়ও সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়।

    শোবিজ কেরিয়ারের কথা মনে করলে তানিয়া ২০১২ সালে একটি সুন্দরী প্রতিযোগিতার মাধ্যমে মঞ্চে পা রাখেন এবং এরপর টিভি নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে পরিচিতি পান। ২০১৫ সালে ‘ঘাসফুল’ ছবির মাধ্যমে বড়পর্দায় অভিষেক ঘটে। যদিও তিনি কয়েকটি সিনেমায় কাজ করেছেন, তবুও নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন।

    তানিয়ার অভিনীত সর্বশেষ সিনেমা ছিল ২০১৯ সালে মুক্তিকৃত ‘গোয়েন্দাগিরি’। দীর্ঘ বিরতির পর রায়হান খানের ‘ট্রাইব্যুনাল’ সিনেমায় ফের বড়পর্দায় হাজির হওয়ার কথা ছিল। বর্তমানে চিকিৎসা ও বিশ্রামের দিকে মনোযোগী থাকায় তার কাজকর্ম নিয়ে অপেক্ষার পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

    ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ স্বভাবতই আছে; অনেকেই চিকিৎসার সফলতা ও দ্রুত আরোগ্যের জন্য দোয়া করছেন।sources একযোগে দোয়া ও ভালবাসার আবেদন জানিয়েছেন, যাতে তানিয়া শীঘ্রই সুস্থ হয়ে পুনরায় দর্শক-দর্শিকাদের মাঝে ফিরতে পারেন।

  • অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম তদন্তে কমিশন প্রত্যাশা করে হাইকোর্টে রিট

    অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম তদন্তে কমিশন প্রত্যাশা করে হাইকোর্টে রিট

    অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গৃহীত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত, আইন প্রণয়ন, সংস্কার কমিশন গঠন ও দেশি-বিদেশি চুক্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। রিটে ওই সরকারের সার্বিক কর্মকাণ্ড তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ারও দাবি করা হয়েছে।

    রোববার (৩ মে) সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মুহাম্মদ মহসিন রশিদ হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিটটি দায়ের করেন। রিটে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কার্যকালীন গৃহীত সব সিদ্ধান্ত ও উদ্যোগের বৈধতা পর্যালোচনা করার পাশাপাশি, তার বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখার জন্য একটি স্বতন্ত্র তদন্তকমিশন গঠনের আবেদন করা হয়েছে।

    আবেদনটিতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও আইন সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে এবং আদালতকে অন্তর্বর্তী সরকারের সব কার্যক্রম তদন্তপূর্বক একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রিপোর্ট দাখিলের নির্দেশনা প্রদানের অনুরোধ করা হয়েছে।

    উল্লেখ্য, একই আইনজীবী পূর্বে বর্তমান সরকারের শপথ নেওয়া ও গঠন প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একটি রিট দায়ের করেছিলেন। সেই রিট হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ খারিজ করে দেয়। পরে আপিল হলে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ওই অন্তর্বর্তী সরকারকে বৈধ ঘোষণা করে রায় দেয়।

  • সংস্কার নিয়ে সরকারের প্রতারণার অভিযোগ; জুলাই সনদ বাস্তবায়ন বাধ্য করতে হবে

    সংস্কার নিয়ে সরকারের প্রতারণার অভিযোগ; জুলাই সনদ বাস্তবায়ন বাধ্য করতে হবে

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দাবি করেছে, বিএনপি সরকার নির্বাচনের আগে যে সংস্কার সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সেগুলোই অনুসরণ না করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে। সরকার যদি এভাবে চলে, তাহলে তা কর্তৃত্ববাদী পথে অভিনিবেশ করবে—তাই বিএনপিকে জুলাই সনদ (জুলাই চাটার) বাস্তবায়নে বাধ্য করতে হবে বলে বক্তারা দাবি করেছেন।

    রোববার (৩ মে) রাজধানীর কাকরাইল ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে এনসিপির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির আয়োজিত ‘জ্বালানি, অর্থনীতি, মানবাধিকার, সংস্কার ও গণভোট’ শীর্ষক জাতীয় কনভেনশনে এসব বক্তব্য রাখেন নেতারা। অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী সেশনের সভাপতি ছিলেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির সহ-প্রধান সারোয়ার তুষার। সেশনটি মডারেট করেন জাতীয় নারীশক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিন।

    এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক হান্নান মাসউদ বলেন, সংসদ কার্যক্রম শুরু হওয়ার পরই স্পষ্ট হয়েছে—এ সংসদ জনগণের সঙ্গে প্রতারণার সংসদ। সরকার এমন আইন করে যা তাদের ক্ষমতা বাড়ায়, কিন্তু যেগুলো সরকারি জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে সেগুলো বাদ দেওয়া বা বাতিল করা হয়েছে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, এমন কিছু অধ্যাদেশ ছিল যা স্থানীয় নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অপসারণ সহজ করে দেয়; বর্তমানে সেই ক্ষমতা সরকারের হাতে পড়েছে, ফলে বিরোধী দলের কাউকে অপসন্দ হলে প্রশাসক বসিয়ে দেওয়া যাচ্ছে।

    হান্নান আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এসে কিছু কমিশন ও সংস্কারের কথাই উপেক্ষা করেছে। পুলিশ কমিশন নিয়ে দ্বিমত থাকলেও রাষ্ট্রের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার যে উদ্যোগগুলো চাওয়া হয়েছিল সেগুলো থেকে সরকার সরে গেছে—কিছু ক্ষেত্রে কমিশন বাতিলও করা হয়েছে এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় গঠনের উদ্যোগটিও বাতিল করা হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেছেন।

    রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী বলেন, ১৯৯১ সালে যে সংস্কারের প্রস্তাবগুলো রাজনৈতিক দলগুলো চেয়েছিল, বিএনপি ক্ষমতায় এসে সেগুলোর কোনোটি বাস্তবায়ন করেনি। তিনি বলেন, দেশের শাসন ব্যবস্থায় একটি ক্ষমতাসম্পন্ন অভিজাত বর্জিত কাঠামো রয়ে গেছে—সিভিল, মিলিটারি ও বুরোক্রেসির সমন্বয়ে তৈরি ক্ষমতাগোষ্ঠী সংস্কার চান না। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সংসদে করা বক্তব্যের উদাহরণ দিয়ে বলেন, যদি কোনো উন্নত দেশে এমন মিথ্যা বক্তৃতা দিত কোনো মন্ত্রী, তাকে সঙ্গে সঙ্গে পদত্যাগ করতে হতো।

    সমাজবিজ্ঞানী মির্জা হাসান বলেন, জুলাই সনদ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অনন্য—এর মূল লক্ষ্য ছিল বিচার, শাসন ও নির্বাহী বিভাগের মধ্যে শক্তির ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা। সংবিধান সংস্কারের প্রথম পর্যায়ে যে অনেক র‌্যাডিকাল ধারণা এসেছে, তাতে একাধিকার রোধের বিষয়টি ছিল স্পষ্ট; বিশেষ করে একই ব্যক্তির সব দায়িত্ব থাকা উচিত নয়—রাষ্ট্রপ্রধান এবং দলের নেতা আলাদা হওয়া উচিত। বিএনপির চাপে কিছু অবস্থান সমঝোতা করা হলেও যে অংশগুলো রক্ষা পেয়েছিল, সেগুলো বাস্তবায়নই ছিল বড় অর্জন।

    এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, বিএনপি সরকার সংস্কার করতে ইচ্ছুক নয়—অনেকেই প্রথমে তাদের ‘সুদৃষ্টি’ সুবিধা দিয়ে দেখার পরামর্শ দিয়েছিলেন, কিন্তু সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পর স্পষ্ট হয়েছে তারা আর সংস্কার করবে না। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন-ঘোষণা ও দলের ইশতেহারে থাকা সংস্কারের প্রতিশ্রুতি সরকারের কার্যক্রমের মধ্যেই ভঙ্গ করা হয়েছে—উদাহরণ হিসেবে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে দলীয় নিয়োগ উল্লেখ করেছেন।

    সেশন সভাপতি আখতার হোসেন বলেন, বিএনপি সম্ভবত ক্ষমতা নিরঙ্কুশভাবে উপভোগ করতে চাইছে। তিনি ‘নোট অব ডিসেন্ট’-কে মূল সমস্যা হিসেবে দেখেন না, বরং চান বিএনপি স্পষ্ট করে বলুক গণভোটের কোন অংশে তাদের আপত্তি—কারণ গণভোটের প্রশ্নগুলোতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল একটি উচ্চকক্ষ হবে (ভোটের পিআর অনুযায়ী), তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নতুন ফর্মুলা থাকবে এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ নিরপেক্ষ বোর্ডের মাধ্যমে হবে। তিনি বলেন, সংবিধান সংস্কারের ক্ষেত্রে একটি মধ্যম পথ হিসেবে সংসদের মাধ্যমে সংশোধনী ও গণপরিষদের মাধ্যমে নতুন সংবিধানের আইডিয়া নিয়ে এক সমাধান চাওয়া হয়েছিল—কিন্তু বিএনপি সেই প্রস্তাব থেকেই দুরে সরে গেছে।

    কনভেনশনে আলোচনা করায় অংশ নেন আরও অনেকে এবং অনুষ্ঠানে তত্ত্বাবধানে নানা ধারার বক্তারা সরকারের সংস্কার-নীতির সমালোচনা করে দ্রুত ও কার্যপন্থায় জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করার ওপর জোর দেন। সম্মেলনের বক্তারা মিলে দাবি করেন—যদি সরকার আগে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সেগুলো বাস্তবায়ন না করে, তাহলে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও জনগণের অধিকার রক্ষায় জাতির পক্ষ থেকে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার প্রয়োজন দেখা দেবে।