Blog

  • আসিফ মাহমুদ বলছেন, ব্যবসায়ীরা নয়, জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকবঃ জাতীয় নাগরিক পার্টি

    আসিফ মাহমুদ বলছেন, ব্যবসায়ীরা নয়, জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকবঃ জাতীয় নাগরিক পার্টি

    আজকের দিনেই কেন্দ্রীয়ভাবে ক্রাউড ফান্ডিংয়ের মাধ্যমে নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি। এই সিদ্ধান্তটি দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ জানিয়েছেন। তিনি তাঁর ভাষণে বলছেন, তারা আর ব্যবসায়ীদের নয়, জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

    সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ বলেন, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো নিজের ভোটারদের ছোট ছোট অনুদানের মাধ্যমে নির্বাচনী ব্যয় মেটানো, যাতে নির্বাচনকারীরা শুধুমাত্র জনগণের জন্য দায়বদ্ধ থাকেন। তিনি যোগ করেন, কেন্দ্রীয়ভাবে ক্রাউড ফান্ডিংয়ে জোর দেওয়ার কারণ হলো নির্বাচন খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। দাতারা চাইলে সরাসরি জাতীয় নাগরিক পার্টিকে অনুদান দিতে পারেন বা নির্দিষ্ট প্রার্থীকে সহায়তা করতে পারবেন। এই অর্থের ব্যবহার, খরচ ও অডিটের ব্যাপারে সবাই পুরোপুরি জানবে—প্রতি বছর আমরা একটি অডিট রিপোর্ট প্রকাশ করব, যা সবাই দেখতে পারবেন।

    আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, যখন তারা অন্য দলগুলোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন, তখন নিজেদের ক্ষেত্রেও সেই মানদণ্ড পালন করতে হবে। তারা জানান, তাদের প্রার্থীরা অগণিত কোটি টাকার ঋণখেলাপি বা বিদেশি নাগরিকত্বপ্রাপ্ত কেউ নন, বিদেশে বাড়িঘর নেই—এটি তাদের রাজনীতির অন্যতম পার্থক্য।

    বাহ্যিকভাবে রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে আলোকপাত করে তিনি বলেন, অধিকাংশ প্রার্থী তরুণ পেশাজীবী, যারা সদ্য চাকরিতে যোগ দিয়েছেন বা পড়াশোনা শেষ করেছেন। প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা যাবে, খুব কম জনই আগে থেকে অর্থবচ্ছল বা কোটি টাকার মালিক। তাই তারা মূলত জনগণের সমর্থনে এগিয়ে চলেছেন।

    আসিফ মাহমুদ বলছেন, যদি কোনো প্রার্থী ব্যবসায়ী বা ঋণখেলাপি অর্থে নির্বাচিত হন, তবে সংসদে গিয়ে সেই অর্থদাতাদের স্বার্থ রক্ষা করে থাকবেন। তিনি এই ধরনের রাজনীতিতে অংশ নিতে চান না।

    জনগণের মতামত ও পরামর্শের মাধ্যমে নীতি নির্ধারণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বললেন, ভবিষ্যতে জাতীয় নাগরিক পার্টি জনগণের ধারণা, সহায়তা ও সহযোগিতা নিয়ে দেশের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও রাষ্ট্র পরিচালনার সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তাঁর ভাষায়, দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহিতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকবে।

    সবশেষে, তিনি বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান, যারা নিজেদের উপযুক্ত মনে করেন, তাঁদের থেকে অনুদান ও সমর্থন কামনা করেন। সহযোগিতার হাত বাড়ালে, নির্বাচিত হওয়ার পর সংসদে জনগণের কণ্ঠস্বর তুলে ধরাটা সহজ হয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা করেন।

  • তাহেরের দাবি, ক্ষমতায় গেলে জামায়াত যোগ্য মন্ত্রীদেরর বেশি মূল্যায়ন করবে

    তাহেরের দাবি, ক্ষমতায় গেলে জামায়াত যোগ্য মন্ত্রীদেরর বেশি মূল্যায়ন করবে

    জনগণের রায় পেলে জামায়াতে ইসলামী সরকার গঠন করলে শুধু দলীয় নেতা-কর্মীরাই নয়, যোগ্য ও প্রতিভাবান ব্যক্তিদেরকেও মন্ত্রীত্বের মর্যাদা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দলের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আমাদের দেশে অর্থনৈতিক ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী পদে দক্ষ ও যোগ্য অনেক ব্যক্তিই রয়েছেন।

    মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) রাজধানীর এক হোটেলে আয়োজিত দলের নীতিনির্ধারণী সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। ডা. তাহের বলেন, আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত। যদি সরকার গঠন হয়, তাহলে শুধু দলের অভ্যন্তরীণ ক্যাডারদেরকেই নয়, বাংলাদেশের প্রতিভাবান ও যোগ্য নাগরিকদেরকেও মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে। আমাদের দেশে যে কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিকারী হওয়ার জন্য দক্ষ লোকের অভাব নেই। অর্থমন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী বা অন্য কোনও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিরা রয়েছেন। ফলে, জনগণের ভাষায় বললে, আমাদের पास প্রতিভাবান, যোগ্য ব্যক্তিরা ক্রমশই রয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, আমরা কোনভাবেই দুর্নীতিমুক্ত ও উন্নত জাতি গঠনের লক্ষ্য থেকে পিছপা হই না। কিভাবে বাংলাদেশকে দুর্নীতিমুক্ত করা যায়, শক্তিশালী অর্থনীতি ও পরিপক্ব পররাষ্ট্রনীতি প্রতিষ্ঠা করা যায়, সে বিষয়ে আমরা পরিকল্পনা তৈরি করছি। পাশাপাশি, দেশের প্রয়োজনীয় উন্নয়নমূলক প্রকল্প, নারীর নিরাপত্তা— বিশেষ করে ক্রাইসিসের শিকার নারীদের জন্য কি ব্যবস্থা নেওয়া হবে— এসব বিষয়ও আমরা আলোচনা করছি। বিদেশি বিনিয়োগ কীভাবে আরও বেশি আসবে এবং দেশের শিল্প-কারখানা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা যায়, সে ব্যাপারেও আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে।

    অনলাইনে নির্বাচন প্রচারণার বিষয়েও জামায়াতের এই নেতা বলেন, এখন এক নতুন কৌশল হিসেবে অনলাইন প্রচারণা শুরু হয়েছে। আগে এই মাধ্যমছাড়া প্রচার করার কোনো উপায় ছিল না। এখন ওটুকুই যা অনুমোদিত, তার মধ্যে বের করে আমরা আমাদের কর্মতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছি। তবে, মূল লক্ষ্য আমাদের হলো ব্যক্তির কাছাকাছি গিয়ে, প্রত্যেকের কাছে সরাসরি পৌঁছানো— অর্থাৎ ওয়ান টু ওয়ান যোগাযোগ। আমাদের কর্মীরা ইতোমধ্যে প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছে, যাতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মনোভাব ও সমর্থন নিতে পারি।

  • মির্জা ফখরুলের মন্তব্য: অতীতে যারা বাংলাদেশকে স্বীকার করেনি, তারাই এখন বেশি দুষ্টামি করছে

    মির্জা ফখরুলের মন্তব্য: অতীতে যারা বাংলাদেশকে স্বীকার করেনি, তারাই এখন বেশি দুষ্টামি করছে

    অতীতে বাংলাদেশকে স্বীকার না করে যারা তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপপ্রচার চালাচ্ছিল, আজ তারা এখন সবচেয়ে বেশি দুষ্টামি করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। এটি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত হয়েছিল।

    মির্জা ফখরুল বলেন, পরিকল্পিতভাবে বিএনপি ও তার আন্দোলনের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি এখন সেই ওদের সবচেয়ে বড়ো শত্রু। অতীতে যারা বাংলাদেশকে স্বীকার করেনি, তারাই এখন অনবরত দুষ্টামি করছে এবং দেশ destabilize করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

    বিএনপি মহাসচিব এও দাবি করেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকেই নির্ধারিত হবে, দেশ কি সত্যিই গণতান্ত্রিক এবং লিবারেল ডেমোক্রেসির হাতে থাকবে, নাকি উগ্রবাদী ও রাষ্ট্রবিরোধী শক্তিগুলোর স্বার্থে চলে যাবে।

    ফখরুল বলেন, যারা আমাদের মিছিলে মানুষ হত্যা করেছে, মা-বোনেদের সম্মানহানির পরিকল্পনা করেছে এবং পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর হস্তক্ষেপে আমাদের মা-বোনদের তুলে দিয়েছে—তাদের ভুলি নাই। তারপরও তিনি বলেন, রাজনীতি করতে হলে সোজা পথে করতে হবে। ধর্মকে ব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা, ভুল বোঝানো বা ভোটের নাম করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা উচিত নয়। এসব করে তারা মানুষের মনোভাব Alter করে দিয়েছে।

    বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, এইসব ষড়যন্ত্রকারীরা আজ বিভিন্ন মাধ্যমে বিএনপির বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীনতার সময় দেশের মানুষ লড়াই করেছিল, সেই সময় সবাই তাদের বিরোধিতা করেছিল। এখন বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী রাজনীতি, তারেক রহমানের নেতৃত্বে আধুনিক ও পরিবর্তনশীল রাজনীতি যাতে এগিয়ে যায়, তা দেশের সাধারণ মানুষ স্বতস্ফূর্তভাবে গ্রহণ করতে প্রস্তুত। তবে তারা আবার ধর্মের নামে বিভ্রান্তির চেষ্টা করছে।

    তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আমাদের বিশ্বাস ধর্মের ওপর, এবং দেশের প্রথম সংবিধানে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বস্তাবাদে আল্লাহর ওপর বিশ্বাস ও আস্থা প্রকাশ করে সংবিধানে লিখেছিলেন। ধর্মের নামে অপপ্রচার বা রাজনীতির জায়গা নেই।

    ফখরুল আরও বলেন, মাত্র ২৩ দিন বাকি নির্বাচনের জন্য। অনেকের মনে প্রশ্ন, আসলে নির্বাচন হবে কি না। তিনি দাবি করেন, যারা বাধা দিতে চায়, তাদের কাছে ভোটের ফলাফল গোপন নয়। তারা তো এখন পর্যন্ত ত্রিশোটা ভোটও পায়নি।

    তিনি বলেন, ওরা বড় গলায় বলে, নির্বাচন হতে দেয়া হবে না। কিন্তু আমরা প্রস্তুত, নির্বাচন চাই। জনগণের কাছে পৌঁছাতে চাই। যদি জনগণ আমাদের গ্রহণ করে, আমরা সক্রিয় থাকব। যদি না করে, তবে বিরোধী দলে থাকব। তাহলে কেন আগে থেকে এত গলাবাজি? তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এই নির্বাচনে নির্ধারিত হবে, দেশ কি সত্যিই গণতান্ত্রিক পথেই এগোবে নাকি উগ্রবাদী ও রাষ্ট্রবিরোধী শক্তির হাতে থাকবে। এজন্য আমাদের উদার ও গণতান্ত্রিক পথে চলতে হবে।

    তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপির ৩১ দফা এবং দলের চেয়ারপার্সনের উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচি ও ফর্মুলা নিয়ে জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ আরও বৃদ্ধি করতে হবে। যেন নির্বাচনে ধানের শীষের জয় নিশ্চিত হয়।

    আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, ড. আব্দুল মঈন খান, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও অন্যান্য নেতৃত্ব।

  • এনসিপির আরও ৩ আসনে প্রার্থীর ঘোষণা

    এনসিপির আরও ৩ আসনে প্রার্থীর ঘোষণা

    জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় নির্বাচনী জোটের শরিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবার নিজেদের নির্বাচনী প্রার্থীর সংখ্যা আরও বাড়িয়ে ৩০ এ নিয়ে এসেছে। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে গণমাধ্যমকে দলের মিডিয়া সেল প্রধান মাহবুব আলম নিশ্চিত করেছেন যে, ফাঁকা থাকা তিনটি আসনের জন্য প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি জানান, এসব আসনে প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ফাহিম পাঠান (নেত্রকোনা-২), প্রীতম দাশ (মৌলভীবাজার-৪) এবং জামিল হিজাযী (রাজবাড়ী-২)।

    সদ্য প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, এর আগে রোববার (১৮ জানুয়ারি) দলের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে ২৭টি আসনের প্রার্থীর নাম ও ছবি হাজির করে পোস্টার প্রকাশ করা হয়। ওই পোস্টারে দলটি তাদের নির্বাচনী প্রতীক ‘শাপলা কলি’ মার্কায় ভোট চাইছিল।

    এনসিপির চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় থাকছেন ঢাকা–১১ আসনের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, রংপুর–৪ এর সদস্য সচিব আখতার হোসেন, কুমিল্লা–৪ এর সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, পঞ্চগড়–১ এর মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, ঢাকা–৮ এর সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, এবং নোয়াখালী–৬ এর জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ।

    অন্য বিভিন্ন আসনে প্রার্থী হচ্ছেন: ঢাকা–৯ এর জাবেদ রাসিন, ঢাকা–১৮ এর আরিফুল ইসলাম আদীব, ঢাকা–১৯ এর দিলশানা পারুল, ঢাকা–২০ এর নাবিলা তাসনিদ, নারায়ণগঞ্জ–৪ এর আবদুল্লাহ আল আমিন, মুন্সিগঞ্জ–২ এর মাজেদুল ইসলাম, লক্ষ্মীপুর–১ এর মাহবুব আলম, সিরাজগঞ্জ–৬ এর এস এম সাইফ মোস্তাফিজ, নরসিংদী–২ এর সারোয়ার তুষার, পার্বত্য বান্দরবান আসনের এস এম সুজা উদ্দিন, চট্টগ্রাম–৮ এর জোবাইরুল হাসান আরিফ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ এর মোঃ আশরাফ মাহদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া–৩ এর মোহাম্মদ আতাউল্লাহ, দিনাজপুর–৫ এর মো. আবদুল আহাদ, নোয়াখালী–২ এর সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া, কুড়িগ্রাম–২ এর আতিক মুজাহিদ, ময়মনসিংহ–১১ এর জাহিদুল ইসলাম, টাঙ্গাইল–৩ এর সাইফুল্লাহ হায়দার, গাজীপুর–২ এর আলী নাছের খান, পিরোজপুর–৩ এর শামীম হামিদী এবং নাটোর–৩ এর এস এম জার্জিস কাদির। তারা 모두 ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেবেন।

    উল্লেখ্য, এর আগে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ১০ দলীয় জোট ২৫৩টি সংসদীয় আসনে নির্বাচনী সমঝোতা ঘোষণা করেছিল। এই জোটে মূলত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও, শেষ মুহূর্তে দলটি আলাদা হয়ে ২৬৮টি আসনে এককভাবে নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। বাকি ৩২টি আসনে তারা অন্যদের সমর্থন দেবে।

    এই নির্বাচনী ঐক্যে এনসিপি ৩০টি আসনে নির্বাচন করছে, যদিও তারা মোট ৪৭ জন প্রার্থী মনোন্নয়নপত্র জমা দিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত, ইসলামী আন্দোলন দলটি এই জোট থেকে বেরিয়ে গেলেও, এনসিপি তাদের আসন সংখ্যা বৃদ্ধি ও জামায়াতের সঙ্গে আলোচনায় মনোযোগী হয়ে উঠেছে।

  • নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা রয়েছে বিএনপির : মির্জা ফখরুল

    নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা রয়েছে বিএনপির : মির্জা ফখরুল

    নির্বাচন কমিশনের ওপর সম্পূর্ণ আস্থা রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আমাদের বিশ্বাস, নির্বাচন কমিশন তাদের যোগ্যতা এবং স্বচ্ছতার ভিত্তিতে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করবে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাজধানীর জিয়া উদ্যানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে এই কথা বলেন তিনি।

    মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ আমাদের দেশকে একটি উদার ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে রূপান্তর করতে। ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা হওয়ার পর আমরা নতুন করে শপথ নিয়েছি—বৈশ্বিক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমেই দূর করতে হবে দুর্নীতি, ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি পুনঃস্থাপন করতে হবে, এবং শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শকে অনুসরণ করে অঙ্গীকার অনুসারে গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে হবে।

    নির্বাচন কমিশনের নির্বাচনের বৈধতা তৈরিতে কোনো সমস্যা থাকলেও তারা তাদের যোগ্যতা দিয়ে কাজ করছে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বিএনপির এই নেতারা বিশ্বাস করেন, সামনের নির্বাচনে এই কমিশন তরুণ নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে সত্যিকারের পুণরুত্থান ঘটাবে।

    মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে জিয়াউর রহমানের নাম চিরকাল স্মরণীয় থাকবে। তিনি দেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, সংবাদপত্র ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং অর্থনীতিকে তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে সমৃদ্ধশালী করে তুলেছিলেন। এজন্যই আমরা প্রতি বছর তার জন্মদিন স্মরণ করি এবং তার দেখানো পথে এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করি।

    ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের উল্লেখ করে তিনি বলেন, ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে ফেব্রুয়ারি ১২ তারিখে নির্বাচনের ঘোষণা আসে এবং একদিকে ফ্যাসিস্ট হাসিনা পালিয়ে যায়। আবারও নতুন করে ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতিকে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চালাতে, গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করে প্রতিষ্ঠা করতে আমরা দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ। এভাবেই ভবিষ্যত বাংলাদেশ হবে শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শের আলোকন্ত্রে আলোকিত।

    উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খাইরুল কবির খোকন, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ, মীর্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খানসহ ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।

  • মানব কল্যাণে রাজনীতি করি: মায়ের দোয়া অনুষ্ঠানে তারেক রহমান

    মানব কল্যাণে রাজনীতি করি: মায়ের দোয়া অনুষ্ঠানে তারেক রহমান

    বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আমি ক্ষমতার জন্য নয়, মানুষের কল্যাণের জন্য রাজনীতি করি। আমি আপনাদেরই সন্তান, এবং আপনাদের পাশে থেকে কাজ করতে চাই। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর মহাখালী টিঅ্যান্ডটি মাঠে একটি দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

    তারেক রহমান স্মৃতিচারণ করে বলেন, এক সময় তিনি ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। সেই বাড়িটি সেভাবে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার ঘটনা এখনো মনে পড়ে তার। এই অভিজ্ঞতা থেকে তিনি সাধারণ মানুষের কষ্ট অনুভব করেন এবং কড়াইলবাসীর জন্য কাজ করতে চান।

    কড়াইলবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, আমি জিয়াউর রহমানের সন্তান, খালেদা জিয়ার সন্তান, তবে এই পরিচয়ের চেয়েও বড় পরিচয় হলো আমি আপনার সন্তান। আমি বাংলাদেশের মানুষের জন্য রাজনীতি করি। সবাই যেন আল্লাহর কাছে হাত তুলে দেশের কল্যাণ কামনা করে, সেই আহ্বান জানান তিনি। এ সময় কড়াইলবাসীর প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

    তারেক রহমান বলেন, খালেদা জিয়া জীবিত থাকা অবস্থায় মা-বোনদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছিলেন। একইভাবে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে দেশবাসী অনেকভাবে উপকৃত হয়েছে।

    দোয়া মাহফิลটির আয়োজন করেন ঢাকা-১৭ আসনের বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক আব্দুস সালাম। অনুষ্ঠানে তারেক রহমানের স্ত্রী জোবায়দা রহমানও উপস্থিত ছিলেন।

    বিএনপি চেয়ারম্যানের উপস্থিতির আগে পুরো মাঠ দর্শক লোকারণ্য হয়ে ওঠে, যার ফলে তারেক রহমানের আসন ঘিরে আড়মোড়া ভরে। তিনি জানান, তিনি পক্ষে ১৭ আসনে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই আসনে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে কড়াইল বস্তি ও মহাখালী এলাকাও।

    তারেক রহমান বলেন, মা-বোনদের স্বাবলম্বী করে ও নিরাপদে চলাফেরা নিশ্চিত করতে বিশেষ ফ্যামিলি কার্ড চালুর পরিকল্পনা আছে। এছাড়াও, কৃষকদের জন্যও ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যদি জনগণ আমাদের সুযোগ দেন।

    বস্তিবাসীর সন্তানদের ভবিষ্যৎ জন্য তিনি বলেন, আমরা চাই কড়াইলের সন্তানরা বিদেশি ভাষা শিখুক এবং উন্নত চিকিৎসাসেবা পাবে। এজন্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

    তিনি আরও বলেন, সবাই যাতে থাকার সুযোগ পায়, সেজন্য ছোট ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি, বিএনপি ক্ষমতায় এলে এই এলাকায় একটি ক্লিনিক স্থাপনেরও প্রতিশ্রুতি দেন।

    তারেক রহমান মহান মুক্তিযুদ্ধ ও ‘২৪-এর আন্দোলনে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। এবং বলে থাকেন, করাইলবাসীর কাছে দোয়া চেয়ে, যদি আল্লাহ রহম করেন এবং আপনাদের দোয়া থাকলে, আমরাই এই সকল পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতে পারবো।

  • যুক্তরাষ্ট্রে আরও ৩৬ বাংলাদেশিকে শূন্য হাতে ফেরত পাঠাল আও

    যুক্তরাষ্ট্রে আরও ৩৬ বাংলাদেশিকে শূন্য হাতে ফেরত পাঠাল আও

    অবৈধ অভিবাসনবিরোধী অভিযান চালানোর অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও ৩৬ জন বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। দুপুর ১২টায় একটি বিশেষ সামরিক ফ্লাইটে আসা এই ব্যক্তিরা হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেন।

    প্রবাসে উন্নত জীবনের স্বপ্ন নিয়ে তারা দেশের জমি বিক্রি, গহনা বিক্রির পাশাপাশি অনেকেই ঋণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন। তবে স্বপ্নের বিপরীতে তারা শূন্য হাতে ফিরে আসছেন, প্রত্যাবাসিত হয়ে তারা দীর্ঘ সময়ের আইনি লড়াই শেষে দেশে ফেরত পাঠানো হয়।

    ব্র্যাকের মাইগ্রেশন অ্যান্ড ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান জানান, ফেরত আসা প্রবাসীদের জন্য বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর ব্র্যাকের পক্ষ থেকে তাদের পরিবহন ও জরুরি সাহায্য প্রদান করা হয়।

    ফেরত আসা ৩৬ জনের মধ্যে বেশিরভাগই নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, মুন্সীগঞ্জ, ঢাকা, লালমনিরহাট, শরীয়তপুর, বরগুনা, ফেনী, সিরাজগঞ্জ, গাজীপুর, কিশোরগঞ্জ, টাঙ্গাইল, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম এবং নেত্রকোনা জেলার বাসিন্দা। এ ধরনের ফেরত আনা বাংলাদেশিদের সংখ্যা ২০২৫ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দাঁড়িয়েছে ২৯৩ জনে।

    প্রবাসীরা বলছেন, প্রথমে তারা বৈধভাবে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) সার্টিফিকেট নিয়ে ব্রাজিলে যান, কিন্তু পরে সেখান থেকে মেক্সিকো হয়ে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। আশ্রয়ের জন্য অনুরোধ করলেও দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার কারণে তাদের আবেদন খারিজ হয়ে গেছে, আর তাই মার্কিন প্রশাসন ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    নোয়াখালীর জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘অর্ধেকের বেশি অর্থ ঢাকায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য দালালদের কাছ থেকে খরচ করেছি—প্রায় ৮০ লাখ টাকা।’ আবার গাজীপুরের সুলতানা আক্তার জানান, ব্রাজিল হয়ে মেক্সিকো পার করে দেওয়ার জন্য তিনি ৩০ লাখ টাকা দিয়েছিলেন, যা সবটাই বৃথা।

    তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় যে, অনেকেরই খরচ হয়েছে ৫০ থেকে ৮০ লাখ টাকার মতো। তবে শেষ পর্যন্ত তারা দেশে ফিরতে বাধ্য হয়েছেন ব্যর্থতার বোঝা মাথায় নিয়ে।

    শরিফুল হাসান বলেন, ‘প্রথমে কেউ কেউ ব্রাজিলে বৈধভাবে কাজের অনুমতি নিয়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু পরে বোঝা যায় তারা মূলত যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ট্রানজিট হিসেবে এটি ব্যবহার করছেন। আমাদের উচিত এই বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা, কারণ এই সব কর্মীদের পাঠানো এবং এজেন্সিগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।’

    তিনি আরো জানান, ২০২৫ সালের মধ্যে মোট ১৩২০ বাংলাদেশি ব্রাজিলে গিয়েছেন, যার মধ্যে নোয়াখালীর সংখ্যা ৯৫১ জন। ধারণা করা হচ্ছে, অনেকে মেক্সিকো হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করছেন। সরকারের উচিত আগে সতর্কতা অবলম্বন করা।

    এছাড়াও, উল্লেখ্য যে, ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বারের জন্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও কঠোর হয়েছে। এর প্রভাব হিসেবে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা একের পর এক ফেরত পাঠানো হচ্ছে। মার্কিন আইন অনুযায়ী, বৈধ কাগজপত্র ছাড়া অবস্থানকারী অভিবাসীদের আদালত বা প্রশাসনিক নির্দেশে নিজ দেশেও ফেরত পাঠানো যায়। এই প্রক্রিয়া এখন অনেক দ্রুততর হয়েছে, যার মধ্যে চার্টার্ড ও সামরিক ফ্লাইটের ব্যবহারে বৃদ্ধি হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে হাত-পা শেকল পরিয়ে ফেরত পাঠানোর অভিযোগও উঠেছে।

  • বিএনপির অভিযোগে জামায়াত, এনসিপিসহ ৪ দলকে সতর্ক করল ইসি

    বিএনপির অভিযোগে জামায়াত, এনসিপিসহ ৪ দলকে সতর্ক করল ইসি

    বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন (ইসি) আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা জারি করেছে, যেখানে তিনি বিশেষ করে বেশ কিছু রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে সতর্কতা জাহির করেছেন। বিএনপি এর আগে নির্বাচনি সময়ের আগে কোনো প্রচারণা চালালে তার জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়ার পর, এবার আরও চারটি দলের বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা প্রকাশ করেছে কমিশন। এই চার দল হলো জামায়াতে ইসলামি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ খিলাফত মজলিস।

    নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই চার দলের প্রধানদের কাছে ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্বাচনের নির্ধারিত সময়ের আগে প্রচারণা চালানো আইন বিরুদ্ধ এবং ভবিষ্যতেও এর অব্যাহত থাকলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    অতিরিক্ত বলা হয়, বিএনপি অভিযোগ করেছে যে, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে তারা বলেছে, ২১ জানুয়ারির আগে নির্বাচন সংক্রান্ত প্রচারণা নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও এই চারটি দল বিভিন্ন কর্মসূচি ও প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে, যা নির্বাচনি বিধিমালা লঙ্ঘন করছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে নির্বাচন কর্মকর্তারা সতর্কবার্তা জারি করেছেন।

    চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচনকালীন সময়ের আগে বা নির্ধারিত সময়ে প্রার্থীরা কোনো ধরনের প্রচারণা, পোস্টার, ব্যানার বা জনসংযোগের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন না। এর ফলে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন বিভিন্ন দল বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে, যা নির্বাচন কৌশল ও সমান সুযোগের নীতির জন্য ক্ষতিকর বলে মনে করছেন ইসি।

    বিএনপি অভিযোগ করেছে যে, কিছু রাজনীতি দল নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অমান্য করে আগাম প্রচারণা চালাচ্ছে, যা নির্বাচনী পরিবেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। তারা বলেছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড নির্বাচনের স্বচ্ছতাকে হুমকি দেয়।

    নির্বাচন কমিশনের একজন কর্মকর্তার মতে, তারা চাইছে যেন নির্বাচনোত্তর ভোটের লড়াইটি সুবিচার ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়। তাই তারা কঠোর পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুত, যাতে কোনো দল বা গোষ্ঠী নির্ধারিত সময়ের বাইরে প্রচারণা চালাতে না পারে।

    অতিরিক্তভাবে, বলা হয়, যদি কোনো দল নিয়ম ভাঙে, তাহলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। নির্বাচন কমিশনের এই কঠোর মনোভাব ও সতর্কতা অব্যাহত থাকলে আগামী নির্বাচন ছিল আরও সুজন ও নিরপেক্ষ হয়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।

  • সরকার ওসমান হাদির পরিবারের জন্য কোটি টাকার ফ্ল্যাট বরাদ্দ

    সরকার ওসমান হাদির পরিবারের জন্য কোটি টাকার ফ্ল্যাট বরাদ্দ

    জনপ্রিয় বক্তা ও জুনাই অভ্যুত্থানের সম্মুখসারীর একজন নেতা এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির পরিবারকে প্রধানমন্ত্রী নেতৃত্বাধীন সরকার একটি সম্পন্ন এবং আধুনিক ফ্ল্যাট উপহার দিচ্ছে। এই সুবিধার জন্য রাজধানীর লালমাটিয়ার এলাকায় একটি সুসজ্জিত ফ্ল্যাট প্রদান করা হবে, যা তার পরিবারের জন্য এক বিশাল সাহায্য এবং সম্মান।

    বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, এই ফ্ল্যাটের ক্রয় ও সেটি সম্পর্কিত অন্যান্য খরচের জন্য গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়কে এক কোটি টাকার বিশেষ অনুদান প্রদান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) এই বরাদ্দের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে, ফ্ল্যাট হস্তান্তরের জন্য ওসমান হাদির স্ত্রীর ও সন্তানের পরিচয় নিশ্চিত করার শর্ত রাখা হয়েছে।

    শরীফ ওসমান বিন হাদি ছিলো জুলাই অভ্যুত্থান ও আওয়ামী লীগ বন্ধের আন্দোলনের একজন সক্রিয় নেতা। আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধের আন্দোলনে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ তাকে জনমনে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়। তিনি আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন থেকে ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

    তার জীবনে ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগকারীর মত এক মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তের গুলিতে গুরুতর আহত হন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

    শহীদের মৃত্যুতে জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া এক বক্তৃতায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস গভীর শোক প্রকাশ করেছিলেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছিলেন যে, শহীদ হাদির স্ত্রীর দায়িত্ব রাষ্ট্র গ্রহণ করবে এবং তার একমাত্র সন্তানের জন্য সব ধরনের সহায়তা প্রদান করা হবে।

  • হাদি হত্যা মামলায় পুনঃতদন্তের জন্য সিআইডিকে আরও ৫ দিন সময় দিল আদালত

    হাদি হত্যা মামলায় পুনঃতদন্তের জন্য সিআইডিকে আরও ৫ দিন সময় দিল আদালত

    ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আরও বিস্তারিত তদন্তের জন্য পুলিশ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) আদালত পাঁচ দিনের সময় দিয়েছেন। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন নির্ধারিত ছিল, কিন্তু তদন্তকারী সংস্থা প্রতিবেদনের জন্য সময় চেয়ে আবেদন করলে আদালত তা গ্রহণ করে। ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম আরও পাঁচ দিন সময় মঞ্জুর করে করে আগামী ২৫ জানুয়ারির মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

    এদিকে, এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি, মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের একই আদালতে ডিবির দেওয়া অভিযোগপত্রে অসন্তোষ প্রকাশ করে নারাজি আবেদন করেন। সংশ্লিষ্ট আদালত তার সেই আবেদন মঞ্জুর করে মামলাটির পুনরায় তদন্তের আদেশ দেয়।

    উল্লেখ্য, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ১২ ডিসেম্বর মতিঝিলের জুমার নামাজ শেষে নির্বাচনী গণসংযোগ চলাকালে ঘটেছিল। ওই দিন হাদি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাওয়ার পথে তার অটোরিকশা পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট এলাকার কাছে পৌঁছালে, মোটরসাইকেলে থাকা দুষ্কৃতিকারীরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। প্রথমে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে ফেলে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে, উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে নেয়া হয়, যেখানে চিকিৎসাধীন থাকাকালে ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।

    অপরদিকে, ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের হাদির মৃত্যুর পর এই ঘটনায় নিহতের ভাইর অভিযোগে হত্যা মামলাটি রূপ নেয়। এই মামলার তদন্তে জানা যায়, সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পিসহ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগে বলা হয়, মূল অভিযুক্ত মাসুদ ওরফে রাহুল, তার বাবা, মা, স্ত্রী, শালি, বন্ধুবান্ধবসহ অন্যরা এই হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ত। অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়, রাজনৈতিক বিরোধ এবং ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা থেকে এই হত্যাকা-ের পরিকল্পনা করা হয়।

    তদন্ত কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ বলেছেন, আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় ও তাদের দেওয়া বক্তৃতার বিশ্লেষণে বোঝা যায়, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই হাদিকে হত্যা করা হয়। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী পরিস্থিতি ও ভোটারদের ভয়ভীতি সৃষ্টি করতে এর পৃষ্ঠপোষকতা ও পরিকল্পনা করা হয় বলে অভিযোগ ছিল।