Blog

  • চুয়াডাঙ্গায় মৌমাছির কামড়ে ভ্যানচালকের মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গায় মৌমাছির কামড়ে ভ্যানচালকের মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় মৌমাছির আক্রমণে ভ্যানচালক আনিছুর রহমান (৪৫) মারা গেছেন। শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল নাগাদ জয়রামপুর শেখপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয়রা জানান, কাজ শেষে ভ্যান নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন আনিছুর রহমান। জয়রামপুর শেখপাড়া এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ একটি ঝাঁক মৌমাছি তার উপর ঝাপিয়ে পড়ে এবং তিনি গুরুতর আহত হন।

    পড়শিরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিন্তু তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশ দেন। হাসপাতাল নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।

    নিহত আনিছুর রহমান দামুড়হুদা বাজারপাড়া এলাকার আবু গাইনের ছেলে। খবর পেয়ে এলাকায় শোক ছড়িয়ে পড়ে।

    দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ঘটনার বিষয়ে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে।

  • রামপালের মল্লিকের বেড়ের ‘জাহিদুল গ্যাং’ নেতা জাহিদুল র‍্যাবের হাতে আটক

    রামপালের মল্লিকের বেড়ের ‘জাহিদুল গ্যাং’ নেতা জাহিদুল র‍্যাবের হাতে আটক

    বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার মল্লিকের বেড় এলাকার বছর ধরার জঙ্গলের মতো দুর্ধর্ষ নামে পরিচিত জলদুল—নামটা জাহিদুল। র‍্যাব-৬ তাকে খুলনা টোল প্লাজার কাছ থেকে গ্রেপ্তার করে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাত আনুমানিক পৌনে আটটার দিকে তাকে আটক করা হয়।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আটক জাহিদুলের বিরুদ্ধে অন্তত তিনটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। ২০০৯ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে তাঁর নাম উল্লেখ করে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। এসব ঘটনায় মারামারি, চাঁদাবাজি, ঘের দখল, চুরি, দস্যুতা, নারী নির্যাতন, হত্যা চেষ্টাসহ আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী নানা অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার কারণে তাকে ধরে ফেলা স্থানীয়ভাবে কঠিন ছিল বলে জানায় প্রত্যক্ষদর্শীরা।

    রামপাল থানার তদন্ত কর্মকর্তা (তদন্ত ওসি) সুব্রত বিশ্বাস বলেন, “দীর্ঘদিন পলাতক থাকা এই আসামি মোঃ জাহিদুলকে র‍্যাব খুলনা টোল প্লাজা এলাকা থেকে আটক করে আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে। থানায় অফিসিয়াল কাজকর্মের পরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।” তিনি জানিয়েছেন, ওয়ারেন্টভুক্ত অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    মামলার বাদী ও স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে জাহিদুলের অপরাধমূলক আচরণ তাদের জন্য নানারকম দুর্ভোগ ডেকে এনেছিল। এক বাদী বলেন, “আসামি পলাতক থাকার কারণে আমরা বিরাট সমস্যায় পড়ে গিয়েছিলাম। এখন গ্রেপ্তারের পর আশা করছি ন্যায়বিচার হবে। দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচারের দাবি রাখি।”

    স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, জাহিদুল এলাকায় নানা ধরনের অপরাধে জড়িত ছিল এবং তার সক্রিয়তার ফলে বহু পরিবার বিপর্যস্ত হয়েছিল। তারা আশ্বাস দিয়েছেন যে র‍্যাব ও পুলিশি সহায়তায় বাকি পলাতক আসামিদেরও দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

    রামপাল থানাসহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে অপরাধী চক্রের পুরো লেনদেন ও সাবেক সহযোগীদের খোঁজে কাজ করছে বলে জানানো হয়েছে।

  • রায়েরমহল মহাবিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ

    রায়েরমহল মহাবিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ

    খুলনার রায়েরমহল মহাবিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান শনিবার কলেজ প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক মনিরুল হাসান বাপ্পি।

    প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের শুধুমাত্র আনন্দই দেয় না, এটি তাদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি নিয়মিত ক্রীড়া চর্চার গুরুত্ব জোর দিয়ে বলেন, ক্রীড়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশপ্রেম, শৃঙ্খলা, ভ্রাতৃত্ববোধ, উদারতা ও নেতৃত্বগুণ বিকাশে সহায়ক। রায়েরমহল মহাবিদ্যালয়ের উন্নয়নে তিনি সবধরনের সহযোগিতার আশ্বাসও দেন।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা দপ্তরের পরিচালক প্রফেসর ড. মোঃ আনিস-আর-রেজা, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর এস এম তৌহিদুজ্জামান এবং মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদিকুল ইসলাম সাদী। অতিথিরা শিক্ষার্থীদের ক্রীড়া চর্চা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে কলেজ পরিচালনা ও শিক্ষাব্যবস্থার প্রশংসা করেন।

    অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন রায়েরমহল মহাবিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও দৈনিক মানবজমিনের ব্যুরো প্রধান মোঃ রাশিদুল ইসলাম। স্বাগত বক্তৃতা করেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ খান রোকসানা পারভীন। উদ্বোধনী ও সমাপনী কার্যক্রম শেষে অতিথিরা বিজয়ী শিক্ষার্থী ও দলগুলোর মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন এবং অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে সমাপ্ত হয়।

  • প্রথম ম্যাচ জিতলেও সিরিজ হারালো বাংলাদেশ

    প্রথম ম্যাচ জিতলেও সিরিজ হারালো বাংলাদেশ

    তিন ম্যাচের সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে জয় সত্ত্বেও পরের দুই ম্যাচ জিতে সিরিজ শিরোপা হাতছাড়া করলো বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে আজ রাজশাহীতে বাংলাদেশকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে শ্রীলঙ্কা। জিতে থানা লঙ্কানরা সর্বমোট ২-১ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নিল।

    বাংলাদেশ প্রথম ম্যাচে জয়ের পর আশা জাগিয়েছিল, কিন্তু আজ সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে ব্যাট করে দম বন্ধ করে রাখার মতো ছক কষে শ্রীলঙ্কা। শুরুতে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভার খেলতে গিয়ে বাংলাদেশ ৮ উইকেটে ২১৩ রান সংগ্রহ করে। দলের হয়ে সোবহানা মোস্তারি হদিশভরে ব্যাট করে ৮০ বলে ৭৪ রান করেন। শেষদিকে রিতু মণি ১৬ বল বেলায় তাৎপর্যপূর্ণ ২০ রান যোগ করে ইনিংসকে সাজান।

    বাংলাদেশের শুরুটা ছিল ভাল। ওপেনার ফারজানা হক ও শারমিন সুলতানা বহিরাগতভাবে দলের জন্য ভাল সূচনা করেন, তবে বড় ইনিংস সামলাতে পারেননি—ফারজানা ১১ রান করে ফিরে যান, আর শারমিন ১৭ রানে রান আউটে রুপোলি হয়ে যান। ৩৪ রানে দুই ওপেনার ফিরে যাওয়ার পর শারমিন আক্তার ও জ্যোতি মিলে ইনিংসের হাল সামলান। শারমিন আক্তার ৩৬ বলে ২৫ রান করেন, আর জ্যোতির ব্যাট থেকে আসে ৯০ বলে ৪০ রান। মোটপক্ষে দমাল ব্যাটিং না করায় দলের রানরেট সীমিত থাকে।

    চাপ সামলে দলকে স্থিতিশীল করতেই সোবহানা ক্রমে আক্রমণাত্মক বোল্ডিংয়ে পরিণত হন এবং ৬০ বল খেলে ব্যক্তিগত ফিফটি পূরণ করেন; শেষ পর্যন্ত ৮০ বলে ৭৪ রানে তিনি ফিরেছেন। সবমিলিয়ে বাংলাদেশ নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২১৩ রান সংগ্রহ করল।

    জবাবে সূচনা ভালো করতে না পারলেও শ্রীলঙ্কার মাঝেমধ্যেই জুটি গড়ার কৌশল কাজ করে। জবাবে নেমে মাত্র ১৯ রানে প্রথম উইকেট হারায় তারা; দলনেতা চামারি আতাপাতু মাত্র ১০ রান করে আউট হন। এরপর ওপেনার হাসিনি পেরেরা ও ইমেশা দুলানির জুটি গড়ে দলকে বিপদের হাত থেকে টেনে নেন — দুজনের জুটি ১০৮ রানে গড়ে নিরাপদ ভিত্তি তৈরি করে। দুলানি ফিফটি পূরণ করার পর ৫৬ রানে ফেরেন।

    এরপর তৃতীয় উইকেটে হাসিনি পেরেরা ও হারশিথা সামারাবিক্রমা ৭৮ রানের ঘনিষ্ঠ জুটি গড়ে দলের জয়ের পথ মসৃণ করে দেন। থ্রিলিং থাকত হাসিনির সেঞ্চুরি করার সুযোগ; কিন্তু কিন্তু ৯৫ রানে তিনি sobhana মোস্তারির করা বলে রাবেয়া খানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন—নিজের একটি দুর্দান্ত ইনিংস ৫ রানে অসম্পূর্ণ থেকে যায়। হারশিথা ৪৪ এবং হানসিমা ২ রান অপরাজিত থাকেন।

    বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ উইকেট নেন মারুফা আক্তার—দুইটি উইকেট। এছাড়া সোবহানা মোস্তারিও একটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নেন। তবু শ্রীলঙ্কার ধৈর্য্য এবং জুটি গঠন তত্ক্ষণাতই জয় নিশ্চিত করে; নির্ধারিত সময়েই ২১ বল শেসে রেখে তারা ৭ উইকেটে জয় নিশ্চিত করে।

    সংক্ষেপে, প্রথম ম্যাচে জয়ের পরও ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে না পারায় সিরিজ শেষমেশ শ্রীলঙ্কার কাঁধেই উঠে গেল। বাংলাদেশ আগামী ম্যাচগুলোতে ব্যাটিং রেস্ট্রিকশন ও বোলিং ডিপথ নিয়ে কাজ করলে ভবিষ্যতে ভালো ফল আশা করা যাবে।

  • ফ্রান্সের নিকন স্বল্পদৈর্ঘ্য উৎসবে বাংলাদেশি সিনেমা ‘আনসিন’

    ফ্রান্সের নিকন স্বল্পদৈর্ঘ্য উৎসবে বাংলাদেশি সিনেমা ‘আনসিন’

    ফ্রান্সের জনপ্রিয় নিকন স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতার ১৬তম আসরে একমাত্র বাংলাদেশি সিনেমা হিসেবে অফিসিয়াল সিলেকশনে জায়গা করে নিয়েছে নির্মাতা সৈয়দ সাহিলের ছবি ‘আনসিন’।

    পথচিহ্নহীন রাস্তায় প্রবেশের মতো করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৬ হাজার চলচ্চিত্র জমা পড়েছিল প্রতিযোগিতায়। প্রথম ধাপে তার মধ্যে ২ হাজার ৫১১টি শর্টলিস্টেড সিনেমার তালিকায় জায়গা করে নেয় ‘আনসিন’। পরে এই তালিকা থেকে দর্শক ভোটে ছবিগুলো প্রাধান্য পেলে ১ হাজার ১৫৮টি শর্টফিল্মের মধ্যেই দর্শকের সমর্থনে ‘আনসিন’ দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে।

    এবারের উৎসবের মূল থিম ছিল ‘বিউটি’ বা সৌন্দর্য। নির্মাতা সৈয়দ সাহিল তার ছবিতে সেই প্রচলিত দৃশ্যমান সৌন্দর্যের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেগ, অদৃশ্য অনুভূতি ও সামাজিক বাস্তবতাকে ফুটিয়ে তুলেছেন। তার কথায়, ‘আনসিন’-এর মাধ্যমে এমন এক সৌন্দর্য খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হয়েছে যা চোখে দেখা যায় না—যে অনুভূতিগুলোকে আমরা প্রায়ই উপেক্ষা করি এবং যাদেরকে পরিচ্ছন্নভাবে দেখি না।

    চিত্রটি প্যারিসে নির্মিত। পুরো সংলাপ ফরাসিতে থাকলেও আন্তর্জাতিক দর্শকদের জন্য ইংরেজি সাবটাইটেল দেওয়া হয়েছে। প্রযোজক সাবরিনা ইসলাম। কলাকুশলীদের মধ্যে আছেন জঁ-লুক জ্যাকো, জুলিয়েট পিরোত্তে, এলিজাবেথ সেলেম এবং বাংলাদেশি অভিনেতা ইমতিয়াজ রনি।

    উৎসবে এই ধরনের স্বীকৃতি পাওয়ায় নির্মাতাদের খুশি এবং ছবিটির আন্তর্জাতিক পাঠ আরও শক্ত হয়েছে। জানা গেছে, বর্তমানে ‘আনসিন’ ইউরোপের আরও নানা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

  • ক্যান্সারের কাছে হার মানলেন কৌতুক অভিনেতা তারিকুজ্জামান তপন

    ক্যান্সারের কাছে হার মানলেন কৌতুক অভিনেতা তারিকুজ্জামান তপন

    টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র অঙ্গনের জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা তারিকুজ্জামান তপন আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শুক্রবার রাত সাড়ে আটটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান।

    অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশ তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে শোক প্রকাশ করেছে। সংগঠন শোকবার্তায় তিনি তাদের সম্মানিত সদস্য ও প্রিয় সহকর্মী ছিলেন বলে উল্লেখ করে তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

    পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রবীণ এই অভিনেতা দীর্ঘদিন ধরেই ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে যাচ্ছিলেন। গত ডিসেম্বর মাসে তাঁর খাদ্যনালিতে ক্যান্সার ধরা পড়ে এবং চিকিৎসকরা জানিয়ে ছিলেন রোগটি চতুর্থ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তখন থেকে তিন দফা কেমোথেরাপি করা হয়।

    মালও সম্প্রতি শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখা দিলে তাঁকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে (নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে) ভর্তি করা হয়। এ তথ্যটি জানান তাঁর ছেলে তাছফিক।

    দীর্ঘ কর্মজীবনে তারিকুজ্জামান তপন টেলিভিশন নাটক ও চলচ্চিত্রে দর্শকদের মধ্যে বিশেষ পরিচিত ছিলেন। কৌতুক চরিত্রে তার সাবলীল অভিনয় Zuschauerদের মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছিল। ‘আলতা বানু’, ‘ঠিকানা’, ‘জোড়া শালিক’, ‘হাতছানি’ সহ অসংখ্য কালজয়ী নাটক ও চলচ্চিত্রে তিনি দারুণ আবেদন রেখে গেছেন।

    তার প্রয়াণে বিনোদন অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহকর্মী ও অনুরাগীরা সামাজিক মাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন এবং পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছেন।

  • তনু হত্যা মামলা: তিন দিনের রিমান্ড শেষে সাবেক সেনা সদস্য হাফিজুরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

    তনু হত্যা মামলা: তিন দিনের রিমান্ড শেষে সাবেক সেনা সদস্য হাফিজুরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

    কুমিল্লা: বহুল আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক সেনা সদস্য হাফিজুর রহমানকে তিন দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন কুমিল্লা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আব্দুল্লাহ আমান। আদেশটি দেওয়া হয় আজ শনিবার, ২৫ এপ্রিল দুপুরে।

    পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) জানিয়েছে, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তদন্তকারীরা হাফিজুরকে আদালতে হাজির করলে শুনানির পর তাকে কারাগারে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, রিমান্ডে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    তদন্তের সঙ্গে সমন্বিত একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রিমান্ডের সময় আসামিকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং কিছু তথ্য পাওয়া গেছে, যা বর্তমানে যাচাই করা হচ্ছে। তিনি বলেছেন, তদন্তের স্বার্থে সবকিছু এই মুহূর্তে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। এ ছাড়া হাফিজুরের ডিএনএ সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে; রিপোর্ট পাওয়া মাত্র পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

    এর আগে গত বুধবার তদন্তকারীর আবেদনের প্রেক্ষিতে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোমিনুল হকের আদালত হাফিজুরের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

    গত মঙ্গলবার রাতেই রাজধানীর কেরানীগঞ্জ থেকে পিবিআই এক অভিযান চালিয়ে এই অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসারকে গ্রেপ্তার করে। দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর পর মামলাটিতে এটিই প্রথম কোনও গ্রেপ্তার, যা পুনরায় তনু হত্যা ঘটনায় নতুন করে আলোচনা-চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

    তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ এপ্রিল মামলার সপ্তম তদন্ত কর্মকর্তা আদালতের অনুমতি চান তিন সন্দেহভাজন — অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান এবং সৈনিক শাহিনুল আলমের ডিএনএ নমুনা ক্রস-ম্যাচ করার জন্য। আদালতের নির্দেশনায় তদন্তে গতি আসে এবং পরে গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে ঘটে যাওয়া এ হত্যাকাণ্ডের পর থেকে মামলা দীর্ঘদিন ধরেই বিচার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এ পর্যন্ত চারটি সংস্থা ও সাতজন তদন্ত কর্মকর্তা মামলাটি পরিচালনা করেছেন। গত কয়েকবছরে বহু ধার্য তারিখ পেরিয়ে গেলেও হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্‌ঘাটনে অগ্রগতি আপাতত সীমিত ছিল। তবু সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো তদন্তে নতুন মোড় আনতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • এসএসসি প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রে অনলাইন প্রতারণার অভিযোগে ৪ জন গ্রেফতার

    এসএসসি প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রে অনলাইন প্রতারণার অভিযোগে ৪ জন গ্রেফতার

    ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) বিভাগ এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনলাইন প্রতারণার ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে। বিষয়টি শনিবার (২৫ এপ্রিল) ডিএমপি উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) এনএম নাসিরুদ্দিন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

    গ্রেফতারকৃতদের নাম — সিফাত আহমেদ সজিব, মো. সালমান, মেছবাউল আলম মাহিন ও মহিদুজ্জামান মুন্না।

    সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ২০ এপ্রিল সিটি-ইন্টেলিজেন্স অ্যানালাইসিস বিভাগ (সিউটিসি) সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিং করার সময় ‘এসএসসি-২০২৬ প্রশ্নপত্র ফাঁস গ্রুপ’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগৃহীত করে। প্রাপ্ত তথ্য ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে একই দিন রাত ৮টার দিকে সিটিটিসির একটি টিম ঢাকার আশুলিয়ার জিরাবো তাঁজপুর এলাকা থেকে সিফাত আহমেদ সজিবকে গ্রেফতার করে।

    সিফাতের দেওয়া তথ্য ও স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে পরবর্তী দিনগুলোতে আরও অভিযান চালানো হয়। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বগুড়ার ধুনট থানা এলাকা থেকে মো. সালমানকে গ্রেফতার করা হয়। একই দিনে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ বাজার থেকে দেওগাঁ রিয়াজউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় এলাকা থেকে মেছবাউল আলম মাহিনকে গ্রেফতার করা হয়।

    পরে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সিরাজগঞ্জের তাড়াশ থানার নওগা ইউনিয়নের শাহ শরীফ জিন্দানীর (রহ.) মাজার এলাকা থেকে মহিদুজ্জামান মুন্নাকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতারকৃতদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন পরীক্ষায় এসএসসি-২০২৬ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অনলাইন প্রতারণা সংক্রান্ত কার্যক্রমে তাদের সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাই ঐ ফোনগুলো জব্দ করা হয়েছে এবং তা বিশ্লেষণের জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে।

    প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতরা অবৈধ আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু পরীক্ষাপদ্ধতি ব্যাহত করার চেষ্টা করেছিল। তারা প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ছড়িয়ে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের মধ্যে নৈরাজ্য, হতাশা ও উদ্বেগ সৃষ্টি করারও চেষ্টা চালায়।

    ঘটনায় ডিএমপি রমনা মডেল থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে এবং ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আরও কারো সন্ধানে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। তদন্ত চলমান রয়েছে।

  • জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান: বিএনপি ফ্যাসিবাদী পথে হাঁটছে

    জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান: বিএনপি ফ্যাসিবাদী পথে হাঁটছে

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিএনপি পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিবাদের পথ ধরে হাঁটা শুরু করেছে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) সোহরাওয়র্দী উদ্যানে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত সমাবেশে তিনি এই অভিযোগ করেন।

    ডা. শফিকুর বলেন, একসময় আমরা বিএনপির সঙ্গে একই অবস্থানে থেকে অত্যাচারের শিকার হয়েছিলাম। তবে এখন তারা সেই সময়ের আওয়ামী লীগের মতো আচরণ শুরু করেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, আগের দিনে আওয়ামী লীগ তার লাঠিয়াল বাহিনীর মাধ্যমে সমাজে কর্তৃত্ব কায়েম করেছিল, কিন্তু আজ সেই বাহিনী তাদের পাশে নেই। একইভাবে বিএনপিও ক্ষমতার বদলে দমন-পীড়ন ও একতরফা শাসনের পথ বেছে নিয়েছে বলেই তাঁর অভিমত।

    জামায়াতে আমির আরও অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রসংগঠনে দরকারি সংস্কার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিটি উদ্যোগে বিএনপি বিরোধিতা করছে। তারা এমনভাবে আচরণ করছে যা জাতির সঙ্গে সরাসরি প্রতারণা, বলেন তিনি। বিশেষত বিএনপি তাদের ইশতেহারে থাকা ৩১ দফা কর্মসূচির বিরোধিতা করছে জানিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং বলেন, ‘এই জ্ঞানও তারা যেন হারিয়ে ফেলেছে।’

    ভেঙে পড়ে যাওয়া মানুষের কষ্ট—শহীদ পরিবারের ব্যথা—ভুলে যাবার তীব্র নিন্দাও করেন ডা. শফিকুর। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, যদি ঐ ঐতিহাসিক জুলাই না হতো, অনেক মায়ের-বাবার সন্তান, স্বামী-ভাই দেশের মুক্তিসংগ্রামে জীবন না দিয়েই আজকার শাসকরা ক্ষমতা ভোগ করতে পারত না। সেই সময় শহীদ পরিবারগুলোর কষ্টে সরকারের পক্ষ থেকে সহানুভূতি না দেখানোর অভিযোগও তিনি তোলেন।

    তিনি আরও বলেন, যারা বিদেশে ছিলো, তারা দেশে ফিরে এসেছেন—এই বিপ্লবের কারণে। জেল বা আন্দোলন কাহিনী স্মরণ করে তিনি নেতৃত্বদের মাঝে থাকা অনেকে ক্ষেত্রে ‘খোদার দান’ ভুলে যাওয়ার ঘটনাও তুলে ধরেন এবং বলেন, আন্দোলনের সাফল্যকে কেউ একক দাবিতে ভোগার চেষ্টা করছে যা মিথ্যা ও অন্যায়।

    ডা. শফিকুর বলেন, জামায়াত কারোর ন্যায্য অবদানকে অস্বীকার করে না; আন্দোলন সবাই মিলে করেছে। কিন্তু যারা এগিয়ে এসেছিলেন, যারা তোরি নিয়ে জাতিকে মুক্তির পথে আঘাত দেখিয়েছিলেন—তাদের সম্মান করা ও ভালবাসা শেখার আহ্বান জানান তিনি। সাতান্তরিকভাবে তিনি উল্লেখ করেন, ছাত্রসমাজ, শ্রমিক, আন্দোলনে নেমে আসা মায়েরা—সবাই জীবন বাজি রেখে অংশ নিয়েছিল এবং সেই ত্যাগ কখনো ভুলে যাওয়া যাবে না।

    সংসদ ও আইন সংস্কারের ওপর বলার সময় তিনি জানান, জামায়াত প্রথম দিন থেকেই সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি উপস্থাপন করেছে, কিন্তু সরকার শপথ না রেখে প্রতারণা করেছে। যে আইনগুলো সংশোধন না হলে বা অধ্যাদেশ বাস্তবায়ন না হলে ভিন্ন ধরনের স্বৈরাচারী শাসন থেকে মুক্তি মেলা কঠিন হবে—এমনটাই তাদের অবস্থান, জানান তিনি। সম্প্রতি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটানো সহিংসতারও তীব্র নিন্দা করেন তিনি ও দাবি করেন, এসব ঘটনার উদ্দেশ্য যদি গণভোটের ফলাফল অস্বীকার করা হয় তাহলে সেটা ফ্যাসিবাদের পথের শুরুর নিদর্শন।

    সমাবেশে ডা. শফিকুর বলেন, তারা এমন বাংলাদেশ চান না যেখানে মানুষ বাইরে বেরুলে ভয়ে কাঁপে। তিনি বলেন, ‘‘আমরা এমন দেশ চাই যেখানে শিশু, কিশোর, যুবক-যুবতী, মা-বোনেরা নিরাপদে নিরাপত্তার সহিত বেরোতে পারবে; শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছেলেমেয়েদের হাতে কুড়াল-চাড়া নয়, খাতা-কলম দেখতে চাই।’’ তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যদি এই সংস্কৃতি বন্ধ না করা যায়, তবে প্রতি বছর জুলাই ফিরে আসবে এবং অবশেষে ফ্যাসিবাদের কবর লেখা হবে।

    শেষে তিনি জানান, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে তাদের লড়াই শুধু সংসদে সীমাবদ্ধ থাকবে না; খোলা ময়দানেও সংগ্রাম চলবে—ইনশাআল্লাহ।

  • জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় স্থগিত পোশাক খাতের অর্ডার, উদ্বেগ বেড়েইছে

    জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় স্থগিত পোশাক খাতের অর্ডার, উদ্বেগ বেড়েইছে

    বৈদেশিক ক্রেতারা সম্ভাব্য জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় বাংলাদেশে নতুন ক্রয়াদেশ দেওয়া স্থগিত করায় তৈরি পোশাক খাতসহ রপ্তানিপ্রধান খাতগুলোতে উদ্বেগ বাড়ছে—এমনই জানিয়েছেন বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম (পারভেজ) চৌধুরী।

    বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি বলেন, আগামী দুই থেকে তিন মাসে জ্বালানির পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় অনেক বিদেশি ক্রেতা বাংলাদেশে অর্ডার দেবার বিষয়ে দ্বিধাগ্রস্ত। এর প্রভাব রপ্তানি আয় ও দেশের অর্থনীতির ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

    বিসিআই সভাপতি যোগ করেন, বিশ্ববাজারের অস্থিরতা এবং দেশের বিদ্যুৎ-জ্বালানি সমস্যার কারণে ক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ লক্ষণীয়ভাবে বেড়ে গেছে। বিশেষ করে জুলাই ও আগস্টের সম্ভাব্য অর্ডারগুলো ইতোমধ্যেই ধীরগতিতে পড়ছে। কিছু বড় ক্রেতা নেতিবাচক সঙ্কেত দিচ্ছে এবং কিছু অর্ডার ভারতসহ অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়ার প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, ঢাকায় অবস্থানরত ক্রেতা অফিসগুলো পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও অনেক প্রতিষ্ঠান প্রধানত শীর্ষ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীরা নতুন অর্ডার দিতে যাচ্ছে না।

    তিনি বর্তমান কর কাঠামোকে ব্যবসাবান্ধব নয় বলে অভিহিত করে বলেন, লাভ-লোকসানের ভারবিহীনভাবে সর্বনিম্ন এক শতাংশ কর বাধ্যতামূলক হওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তারা এর ফলে সবচেয়ে বেশি আঘাত পাচ্ছেন—অনেক সময় মুনাফা না থাকলেও কর দিতে হচ্ছে, যা তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা কঠিন করে তুলছে।

    বিসিআই সভাপতি ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস এবং রপ্তানি আয়ের ওপর উৎস কর কমানোর প্রস্তাব করছেন। বিষয়ের প্রকৃততা তুলে ধরে এনবিআর চেয়ারম্যান মোঃ আবদুর রহমান খান উৎস কর কমানোর প্রস্তাব নাকচ করেছেন বলে আলোচনায় বলা হয়।

    আয়কর আইন ২০২৩-এর ১৪৭ ধারা সম্পর্কেও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। কর যাচাইয়ের নামে প্রতিষ্ঠানগুলোর কম্পিউটার সিস্টেম বা নথিপত্র জব্দ করার অপ্রতিরোধ্য ক্ষমতা ব্যবসায়ীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে এবং ব্যবসার পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে—বলেন তিনি।

    প্রাক-বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) ব্যাংক আমানতের মুনাফার ওপর উৎস কর ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার এবং নিট সম্পদের ওপর আরোপিত সারচার্জ ধাপে ধাপে বাতিলের দাবি জানায়। উদ্যোক্তারা করের বোঝা বাড়ানো নয়, বরং একটি ব্যবসা-সহায়ক কর কাঠামো গড়ে তোলার অনুরোধ জানিয়েছেন।

    শিল্পী ও ব্যবসায়ীদের মতামত অনুযায়ী, জ্বালানি জোগান যদি স্থিতিশীল না করা যায় এবং কর কাঠামো সহজীকরণ না করা হয়, তাহলে দেশের রপ্তানি খাতের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা আরও দুর্বল হয়ে পড়বে। তাদের পর্যবেক্ষণ—উভয় ক্ষেত্রেই তৎপর সিদ্ধান্ত না নিলে রপ্তানির ওপর নেতিবাচক প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে।