Blog

  • রাজ্যপাল ভেঙে দিলেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা; মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১৫ বছরের শাসনের পরশেষ্ঠ

    রাজ্যপাল ভেঙে দিলেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা; মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১৫ বছরের শাসনের পরশেষ্ঠ

    রাজ্যপাল এস এন রবি বৃহস্পতিবার (৭ মে) পশ্চিমবঙ্গের সপ্তদশ বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা করেছেন। সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভারতের সংবিধানের ১৭৪(২)(খ) ধারার ক্ষমতাবলে এই বিধি গ্রহণ করা হয়েছে এবং ৭ মে থেকেই বিধানসভা বিলুপ্ত করা হলো। এ ঘোষণার মধ্য দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রায় টানা ১৫ বছরের শাসনকালের অধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ বলে ধরা হচ্ছে।

    মমতা প্রথমবার ২০১১ সালে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হন এবং তার নেতৃত্বে তিন কার্যকালের জন্য পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসন পরিচালিত হয়েছে। চলতি নির্বাচনের ফলাফল ও বিধানসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রেক্ষাপটে বিধানসভা ভেঙে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ঘোষণার ফলে সাংবিধানিকভাবে মমতার মুখ্যমন্ত্রিত্বের মেয়াদও কার্যত শেষ হিসেবে গণ্য হবে।

    নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফল ৪ মে ঘোষণা হওয়ার পর ২৯৪ আসনের মধ্যে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ২০০টির বেশি আসনে জয়ের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো রাজ্যে সরকার গঠনের পথে এগিয়ে এসেছে। রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে বিজেপির এই উত্থানকে দেশের রাজনীতি সম্পর্কেও একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    ফল প্রকাশের পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজভবনে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ না করায় নেতা-অঙ্গনে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা চলছিল। বিধানসভা বিলুপ্তির পরে সে অনিশ্চয়তা দূর হয়েছে এবং এখন নতুন মন্ত্রিসভা গঠন ও নতুন মুখ্যমন্ত্রীর নির্বাচনসহ সরকার গঠন প্রক্রিয়া শুরু হবে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, আগামী ৯ মে — রবীন্দ্র জয়ন্তী — বিজেপির নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান হতে পারে এবং কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্ব ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্নের প্রস্তুতি শুরু করেছেন।

    এরই মধ্যে রাজ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথের হত্যা ঘটনার পর রাজ্যজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ অভিযুক্ত সন্দেহে তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে এবং তদন্তকারীরা সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে ঘটনার রহস্য উন্মোচনে তৎপর রয়েছেন। চন্দ্রনাথকে মধ্যরাতে কলকাতা ফিরার পথে মধ্যমগ্রামের দোহারিয়ায় গুলি করে হতাহত করা হয়েছে; ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন, গাড়িচালক বুদ্ধদেব বেরা আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।

    ঘটনার পরে রাজ্যজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তদন্তকারীরা হত্যা মামলার পেছনে উদ্দেশ্য ও দায়ীদের খোঁজ করছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বিজেপি তৃণমূল কংগ্রেসকে দায়ের আঙুল তুলেছে; তৃণমূল বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে এবং হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে কথা বলছে। একই সঙ্গে তারা নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার সব ঘটনায় নিরপেক্ষ ও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন।

    রাজ্যের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে এখন সরকারের রূপান্তর ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণই প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নতুন মন্ত্রিসভা গঠন ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের পরবর্তী ধারা কেমন হবে, তা সামনের জেলায় স্পষ্ট হবে।

  • স্যাটেলাইট চিত্রে: ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ২২৮টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত

    স্যাটেলাইট চিত্রে: ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ২২৮টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত

    ইরানের সঙ্গে চলমান ৪০ দিনের সংঘাতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও বিভিন্ন স্থাপনাগুলোর অন্তত ২২৮টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংসের মতো অবস্থায় এসেছে—এমন তথ্য স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে বুধবার প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে সংবাদপত্র ওয়াশিংটন পোস্ট।

    নিবন্ধে বলা হয়েছে, এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল অঞ্চলভিত্তিক মার্কিন ঘাঁটির বিমান সংরক্ষণ শেল্টার, ব্যারাক, জ্বালানি ডিপো, বিমান, এবং গুরুত্বপূর্ণ রাডার, যোগাযোগ ও বিমান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম। ক্ষতির পরিমাণ যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পূর্বের কোনো স্বীকৃতি বা রিপোর্টে যে পরিমানে তুলে ধরা হয়েছে তার চেয়ে অনেক বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে।

    কয়েক দিন আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনও জানিয়েছিল, অন্তত ১৬টি মার্কিন ঘাঁটিতে ‘ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে জিজ্ঞাসিত কর্মকর্তারা বলছেন, এসব বিমান হামলার হুমকি কিছু ঘাঁটিকে স্বাভাবিকভাবে সেনা মোতায়েনের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক করে তুলেছে; এ অবস্থায় কমান্ডাররা যুদ্ধ শুরু থেকেই তাদের বাহিনীর বড় অংশকে ইরানি হামলার আওতা থেকে সরিয়ে নিয়েছেন।

    তবে এক সামরিক মুখপাত্র ওয়াশিংটন পোস্টকে সতর্ক করে বলেছেন যে বিশেষজ্ঞদের বর্ণনা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘ব্যাপক ধ্বংস’ বা অপারেশনাল ব্যর্থতার প্রতীক হিসেবে দেখা ঠিক নয়। ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ জটিল; অনেক ক্ষেত্রে উপগ্রহ চিত্র থেকে পাওয়া প্রাথমিক ইঙ্গিতগুলো ভুল ধারণা তৈরি করতে পারে। তিনি আরও জানিয়েছেন, যুদ্ধ শেষ হলে সামরিক কমান্ডাররা ক্ষতির ব্যাপারে আরও পূর্ণাঙ্গ ও নির্ধারিত চিত্র দিতে পারবেন।

    গত সপ্তাহে মার্কিন যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেট কংগ্রেসে জানিয়ে দিয়েছেন যে ইরানের সঙ্গে সংঘর্ষে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি হতে পারে (প্রায় ২৫০০ কোটি ডলার)। তিনি স্বীকার করেন, যুদ্ধের সময়ে ব্যবহৃত গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম পুনরায় সংগ্রহ করতে মাস বা বছর লাগতে পারে। এ পরিস্থিতিতেই পেন্টাগন কংগ্রেসকে ২০২৭ আর্থিক বছরের জন্য ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি বাজেট প্রস্তাব করেছে, যা আগের বর্ষের তুলনায় ৪০–৫০ শতাংশ বাড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

    ঘটনাপ্রবাহে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দেয়াশ্বরূপে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালায়। প্রতিরোধে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন ঘাঁটি ও যুক্তরাষ্ট্র সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় পাল্টা আঘাত হানায় যুদ্ধ দ্রুত অঞ্চলজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। তেহরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সীমাবদ্ধ করে যুক্তরাষ্ট্রে চাপ সৃষ্টি করতে তোড়জোড় করে; পাল্টা ওয়াশিংটন ইরানের উপকূলীয় বন্দরে আসা-যাওয়া করা জাহাজে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে দেশটির অর্থনীতি দমন করতে শুরু করে।

    সংকটটি এখনো স্থিতিশীল হয়নি; উপগ্রহ চিত্রে সূচিত ক্ষতির মাপকাঠি, সামরিক বিবৃতি এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা—এসব মিলিয়ে সবই অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে এবং ভবিষ্যৎ কৌশলগত সিদ্ধান্তগুলোর ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে।

  • আইনমন্ত্রী: আমরা স্বাধীন ও সুষ্ঠু বিচার ব্যবস্থা চাই

    আইনমন্ত্রী: আমরা স্বাধীন ও সুষ্ঠু বিচার ব্যবস্থা চাই

    আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো: আসাদুজ্জামান বলেছেন, বিচারকদের আইন প্রণয়ন, বদলি বা পদায়নে সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ থাকার সুযোগ নেই। বিচার বিভাগকে পুরোপুরি স্বাধীন রাখতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    শুক্রবার সকালেই খুলনায় এক আইনজীবী সংবর্ধনা ও নবীন বরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, দেশের গত অবস্থা থেকে উত্তরণে যে সংগ্রাম হয়েছে, তাতে অনেক মানুষ আহত হয়েছেন, অনেকে প্রাণ হারিয়েছেন এবং বহু আইনজীবী ও নেতা-কর্মী কারাভোগও করেছেন। সেই কষ্টের দিনগুলো থেকে বেরিয়ে এসে দেশে স্থিতিশীলতা ও সুষ্ঠু বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা তাদের লক্ষ্য।

    তিনি বলেন, বর্তমানে ‘‘জুলাই সনদ’’ বাস্তবায়ন নিয়ে তীব্র বিতর্ক চলছে। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে আমরা এটি বাস্তবায়নের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ। তবে জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় বিএনপি কিছু বিষয়ে নোট অফ ডিসেন্ট (ভিন্নমত) জানিয়েছে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।

    আসাদুজ্জামান বারের উন্নয়ন ও আইনজীবী ও বিচারকদের দায়িত্ব পালনকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি বলেন, সব পক্ষকে পেশাদার ও নৈতিক মান বজায় রেখে তাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে, যাতে জনগণের বিচারপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে কোনো বাধা না থাকে।

    প্রতিষ্ঠানিক ঘটনার এক অংশ হিসেবে খুলনা বারে ১৭৪ জন নবীন আইনজীবী নতুন করে যোগদান করেছেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী তাদের শুভেচ্ছা জানান এবং জেলা আইনজীবী সমিতির নবনির্বাচিত কমিটিকে সংবর্ধনা দেন।

    জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মোল্লা মোহাম্মদ মাসুদ রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সংসদ সদস্য আমির এজাজ খান ও জাহাঙ্গীর হোসেন হেলাল, জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত এবং সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ চাঁদ মোহাম্মদ আব্দুল আলীম আল রাজী। এছাড়া খুলনার সকল আদালতের বিচারক ও আইনজীবীরাও অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

  • পারস্পরিক সহযোগিতায় মানবতার কল্যাণে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর খুলনা গড়া সম্ভব

    পারস্পরিক সহযোগিতায় মানবতার কল্যাণে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর খুলনা গড়া সম্ভব

    কেসিসি প্রশাসক ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি-খুলনা সিটি ইউনিটের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, স্বাধীনতার পর থেকে ১৯৭৩ সাল থেকে বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে কাঁধ মিলিয়ে রেড ক্রিসেন্ট পথ চলেছে এবং সংস্থাটি দেশের সমৃদ্ধ ইতিহাসের অঙ্গ। এবারের প্রতিপাদ্য ‘‘ইউনাইটেড ইন হিউম্যানিটি’’ আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে জাতীয়তা, ধর্ম বা বর্ণ নির্বিশেষে আমরা সবাই মানবতাবোধের অংশীদার। দুর্যোগ, সংঘাত কিংবা ব্যক্তিগত বিপর্যয়ের সময়েও রেড ক্রিসেন্ট কখনো বৈষম্য করে না—এই মানবিকতাই আমাদের একত্রিত করে। তিনি বলেন, পারস্পরিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে মানবতার কল্যাণে একসাথে কাজ করলে একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর খুলনা গড়ে তোলা সম্ভব।

    নজরুল ইসলাম মঞ্জু বৃহস্পতিবার সকালে বিশ্ব রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে নগর ভবনের শহিদ আলতাফ মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘‘ইউনাইটেড ইন হিউম্যানিটি’’। অনুষ্ঠানের আগে নগর ভবনের সামনে মানববন্ধনও আয়োজন করা হয়, যেখানে প্রধান অতিথি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

    আলোচনা সভার সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি-খুলনা সিটি ইউনিটের সাবেক সহসভাপতি শেখ সাদিকুল ইসলাম সাদি। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির আজীবন সদস্য ও খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি এ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিটি ইউনিটের উপসহকারী পরিচালক রেক্সোনা খাতুন, থ্রি-সি প্রকল্পের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোজেক্ট ম্যানেজার মোঃ আব্দুল মজিদ, অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোজেক্ট অফিসার সাকিবুল হাসানসহ সংস্থার আজীবন সদস্য, সাবেক ও বর্তমান যুব সদস্যরা। এছাড়া খুলনা আজম খান সরকারি কমার্স কলেজ, সরকারি সুন্দরবন আদর্শ মহাবিদ্যালয়, সরকারি মজিদ মেমোরিয়াল সিটি কলেজ, খুলনা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি বিএল কলেজ, সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ ও খুলনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সমন্বয়কারী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ অনুষ্ঠান পরিবেশিত করেন।

    উল্লেখ্য, খুলনা মহানগরীতে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির অর্থায়নে ‘ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট ক্লিন সিটিস (থ্রি-সি)’ নামে একটি প্রকল্প চলমান আছে। প্রকল্পের আওতায় নগরীর ২১ ও ২২ নং ওয়ার্ডের স্লাম এলাকায় ছোট রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণ, সোলার লাইট স্থাপন, প্রাকৃতিক জলাশয় পরিস্কার, পরিবারভিত্তিক টয়লেট নির্মাণ এবং গুরুত্বপূর্ণ মোড়সমূহে ক্লাইমেট রেসপনসিভ যাত্রী ছাউনি নির্মাণসহ বিভিন্ন ক্লাইমেট অ্যাডাপটেশন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে।

    নজরুল ইসলাম মঞ্জু তার বক্তৃতায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্থানীয় সরকার, নাগরিক ও বিভিন্ন সংগঠনের সহযোগিতায় উদ্যোগগুলোকে ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন—মিলেমিশে কাজ করলেই খুলনাকে নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ও টেকসই করা সম্ভব।

  • জেলা পর্যায়ে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ

    জেলা পর্যায়ে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ

    জেলা পর্যায়ে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক ও বালিকা)-২০২৬ এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় খালিশপুর পোর্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের আয়োজনে এ সমাপনী কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।

    অধিদপ্তরের সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখ অহিদুল আলম। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে চ্যাম্পিয়ন ও রানার-আপ দলের হাতে ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেন খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) কানিজ ফাতেমা লিজা। উৎসবমুখর পরিবেশে খেলোয়াড়রা কৃতিত্বের স্বীকৃতি পেয়ে উচ্ছ্বসিত ছিলেন এবং দর্শক ও সংগঠকদের কণ্ঠস্বর কাঁপানো প্রশংসা পরিবেশকে আরও উজ্জ্বল করে তোলেছে।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক পরিচালক খান জুলফিকার আলী জুলু এবং খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক এস এম আসাদুজ্জামান মুরাদ। জেলার প্রাথমিক স্তরের এসব প্রতিযোগিতা স্কুলকালীন ক্রীড়া চর্চাকে উৎসাহিত করে এবং প্রতিভাবান ছাত্রছাত্রীদের সামনে সম্ভাবনার নতুন দরজা খুলে দেয়—এমনটাই মঙ্গলবার অনুষ্ঠানে বক্তারা উল্লেখ করেন।

  • বিপিএলে দুর্নীতির অভিযোগে পাঁচজনকে সাময়িক নিষিদ্ধ করল বিসিবি

    জরুরি সংবাদ সম্মেলনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) বিপিএলে দুর্নীতির আশঙ্কায় পাঁচ জনের নাম প্রকাশ করে তাদের সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছে। সংবাদ সম্মেলনে ওই বোর্ডের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল জানিয়েছিলেন, শিগগিরই ফিক্সিং‑এ অভিযুক্তদের নাম জানানো হবে এবং তা দ্রুত কার্যকর হলো।

    বিসিবির ইন্টেগ্রিটি ইউনিট (বিসিবিআইইউ) পরিচালিত তদন্তের ভিত্তিতে আইসিসি দুর্নীতিবিরোধী কোডের বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে বেটিং/জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ততা, দুর্নীতির প্রস্তাব, তদন্তে সহযোগিতা না করা, ডিমান্ড নোটিশ মানা থেকে বিরত থাকা এবং প্রাসঙ্গিক গোপন যোগাযোগ মুছে ফেলা বা লুকোনোর মতো বিষয়। এসব অভিযোগ ২০২৬ সালের বিপিএল টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে করা হয়েছে।

    অভিযুক্তরা হলেন:

    – চট্টগ্রাম রয়্যালসের ম্যানেজার মোহাম্মদ লাবলুর রহমান

    – নোয়াখালী এক্সপ্রেসের সহ-স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ তাওহিদুল হক তাওহিদ

    – ঘরোয়া ক্রিকেটার অমিত মজুমদার

    – টিম ম্যানেজার রেজওয়ান কবির সিদ্দিক

    – ক্রিকেট সংগঠক সামিনুর রহমান

    নির্দিষ্ট অভিযোগের সারমর্ম:

    – লাবলুর রহমানের বিরুদ্ধে বলা হয়েছে ড্যাকো পরিচালিত তদন্তে যৌক্তিক কারণ ছাড়া সহযোগিতা না করা, ৪.৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জারি করা ডিমান্ড নোটিশ মানতে ব্যর্থ হওয়া এবং তদন্তে বাধা বা বিলম্ব ঘটানো; যার মধ্যে প্রাসঙ্গিক যোগাযোগ গোপন বা মুছে ফেলার অভিযোগও রয়েছে (ধারা ২.৪.৬ ও ২.৪.৭)।

    – তাওহিদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ—ড্যাকো তদন্তে সহযোগিতা না করা, ডিমান্ড নোটিশ মানতে ব্যর্থতা ও প্রাসঙ্গিক তথ্য লোপাট বা ধ্বংস করা (ধারা ২.৪.৬ ও ২.৪.৭)।

    – অমিত মজুমদারের বিরুদ্ধে বলা হয়েছে ম্যাচের ফল কিংবা পরিচালনা নিয়ে বেটিং‑এ অংশ নেওয়া বা সেটি গ্রহণ করা (ধারা ২.২.১)।

    – রেজওয়ান কবির সিদ্দিককেও ম্যাচ সংক্রান্ত বেটিং কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে (ধারা ২.২.১)।

    উপরের চারজনের পাশাপাশি বিসিবি সামিনুর রহমানের বিরুদ্ধে ‘বিসিবি এক্সক্লুডেড পারসন পলিসি’ অনুযায়ী একটি এক্সক্লুশন অর্ডার জারি করেছে। তদন্তে দেখা গেছে, সামিনুরকে নিয়েও জুয়া সংক্রান্ত কার্যক্রম, খেলোয়াড় ও এজেন্টদের কাছে দুর্নীতির প্রস্তাব দেওয়া এবং দেশি‑বিদেশি বেটিং সিন্ডিকেটের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে ম্যাচ সংশ্লিষ্ট দুর্নীতিতে ভূমিকা রাখার অভিযোগ রয়েছে। নোটিশ পাওয়ার পর সামিনুর রহমান আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার ত্যাগ করে এই বহিষ্কারাদেশ মেনে নিয়েছেন।

    বিসিবি জানিয়েছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগপত্র পাওয়ার ১৪ দিনের মধ্যে তাদের জবাব দাখিল করার সুযোগ থাকবে। আপাতত বোর্ড এই বিষয়ে আরো কোনো মন্তব্য করবে না বলে জানিয়েছে।

    বিসিবি–বিসিবিআইইউর এই পদক্ষেপ খেলাভূমির সততা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে নেওয়া উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন অনেকে; একই সঙ্গে এতে বিপিএলের ভাবমূর্তির উপর নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে প্রশ্নও উঠতে পারে। তদন্ত ও শাস্তি প্রক্রিয়া কীভাবে এগোয়, সেটিই এখনো নির্ধারণে মূল বিবেচ্য বিষয়।

  • রুনা লায়লা জানালেন: মৃত্যু গুজব মিথ্যে, আমি পুরোপুরি সুস্থ

    রুনা লায়লা জানালেন: মৃত্যু গুজব মিথ্যে, আমি পুরোপুরি সুস্থ

    উপমহাদেশের প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী রুনা লায়লার মৃত্যু নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপ্রত্যাশিত ও ভিত্তিহীন গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। এসব গুজব নিয়ে ভক্তদের উদ্বেগ কমাতে নিজেই সততা জানিয়েছেন লায়লা; তিনি জানিয়েছেন যে তিনি সুস্থ এবং ভালো আছেন।

    রুনা লায়লা বর্তমানে ভারতের দিল্লিতে ‘মিনার–ই–দিল্লি’ পুরস্কার গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত রয়েছেন। এ অবস্থায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ও বিদেশে তাঁর মৃত্যুর খবরে ব্যাপক বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে এবং অনেকে উদ্বিগ্ন হয়েছেন।

    ঘটনাটি লক্ষ্য করে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্টে তিনি সরাসরি সত্যটা জানান। পোস্টে রুনা লায়লা লেখেন, ‘আমার প্রিয় ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের উদ্দেশ্যে—আমার মৃত্যু নিয়ে কিছু অদ্ভুত গুজব ছড়িয়েছে।’ তিনি জানান, এসব ভুয়ো তথ্যে তিনি ও তাঁর পরিবার অত্যন্ত কষ্ট পাচ্ছেন এবং অনুরোধ করেন যে কোনো তথ্য শেয়ার করার আগে দয়া করে যাচাই করে নিন। পাশাপাশি তিনি সবাইকে অনেক ভালোবাসা জানান।

    সংঙ্গীতজীবনের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দিয়ে বলা যায়, ১৯৬৬ সালে উর্দু চলচ্চিত্র ‘হাম দোনো’তে গান গেয়ে রুনা লায়লা আলোচনায় আসেন। ১৯৬০-এর দশকে তিনি নিয়মিত পাকিস্তান টেলিভিশনে পরিবেশন করতেন এবং পরে ‘ও মেরা বাবু চেল চাবিলা’ ও ‘দামা দম মাস্ত কালান্দার’ মতো গানগুলো দিয়ে উপমহাদেশে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

    ভক্ত ও সংবাদকর্মীদের উদ্দেশ্যে এখনকার পরিস্থিতিতে রুনা লায়লা অনুরোধ করেছেন—অফিশিয়াল উৎস না দেখে কোনো খবরকে নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস বা প্রচার করবেন না। তাঁর পক্ষ থেকে মূল সংবাদ ও আপডেটগুলো ভেরিফায়েড সোশ্যাল মিডিয়া পেজ থেকেই প্রকাশিত হবে।

  • তামিলনাড়ুর ৪৯ বছরের পুরনো রেকর্ডে ভাগ বসালেন বিজয়

    তামিলনাড়ুর ৪৯ বছরের পুরনো রেকর্ডে ভাগ বসালেন বিজয়

    দক্ষিণী চলচ্চিত্রের সুপারস্টার জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর, সাধারণত ‘থালাপতি বিজয়’ নামে পরিচিত, নিজের প্রথম রাজনৈতিক নির্বাচনে এসে তামিলনাড়ুর একটি পুরনো রেকর্ডে সমান স্থান করে নিয়েছেন। অভিনয়ের জগত থেকে সরাসরি রাজনীতিতে কদম বসিয়ে এই সফলতা অর্জন করাটা বলাই যায় নজিরবিহীন।

    তামিলনাড়ুর বিধানসভায় মোট ২৩৪টি আসন; সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮ আসন। এবারের নির্বাচনে বিজয় ব্যক্তিগতভাবে জয়ী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার প্রতিষ্ঠান তামিলাগা ভেত্ত্রি কোজাগাম (টিভিকে) ১০৮টি আসনে জয়ী হয়েছে — ২০২৪ সালে গঠিত একটি দলের জন্য এটি অত্যন্ত চমকপ্রদ ফলাফল।

    এই পরিষ্কার সাফল্যের ফলে বিজয় ১৯৭৭ সালে এমজি রামাচন্দ্রানের অর্জনের সঙ্গে যুগলবন্দি হয়েছেন। এমজি (এমজি রামাচন্দ্রান) ফিল্ম থেকে রাজনীতিতে এসে নিজের দল এআইএডিএমকে গঠন করেছিলেন এবং ১৯৭৭ সালে বিধানসভায় জয়ী হয়ে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হন; ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত তিনি রাজ্যে নেতৃত্ব দিয়েছেন। পরবর্তী সময়ে বড় অভিনেত্রী জয়ললিতাও মুখ্যমন্ত্রী হন, তবে তিনি নিজের দল গঠন না করে এমজিআর-এর দলই গ্রহণ করে সেখানে নেতৃত্ব গড়ে তোলেন।

    বিজয়ও এমজিআর-এর মতো ভক্তশ্রেণীকে সংগঠিত করে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপ দিয়েছেন। ২০০৯ সাল থেকে তিনি ভক্তদের সংগঠিত করতে শুরু করেন এবং ভক্তদলের বিভিন্ন গোষ্ঠীর সমন্বয়ে ‘বিজয় মাক্কাল ইয়াক্কাম’ গঠন করেন। ২০১১ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত মাক্কাল ইয়াক্কাম এআইএডিএমকে-কে সমর্থন প্রদান করলেও ২০২১ সালে সেই সমর্থন প্রত্যাহার করে নিজেকে স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পথে এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

    এরপর ২০২৪ সালে বিজয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিজ দল তামিলাগা ভেত্ত্রি কোজাগাম ঘোষণা করেন এবং একই বছরের নির্বাচনে দলের প্রার্থী হিসেবে সাফল্য পান। পার্লামেন্টারি নিয়ম অনুযায়ী টিভিকে এককভাবে সরকার গঠন করতে পারবে না, তাই কোনো না কোনো জোট বেঁধে সরকার গঠনের প্রয়োজন আছে; তবু জোট গঠিত হলে এর কেন্দ্রে থাকবে টিভিকে, এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন বিজয়ই তামিলনাড়ুর পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হবেন।

    ফিল্ম থেকে directly রাজনীতিতে আসা এই ধাঁচের সফলতা তামিলনাড়ুর রাজনীতির ইতিহাসে বিরল। এমজিআর-এর পথঅনুকরণে ভক্তদের ভোটার ও কর্মী হিসেবে পরিণত করে যে ভিত্তি সৃষ্টি হয়, বিজয়ও তা করেছেন—আর তার ফলস্বরূপ এসেছে এই বিশাল ভোটব্যাঙ্ক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক বিজয়।

    সূত্র: এনডিটিভি

  • ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর জানাজা সম্পন্ন

    ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর জানাজা সম্পন্ন

    যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি শেষ শ্রদ্ধার জন্য জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার (৬ মে) স্থানীয় সময় বেলা ২টায় টাম্পা এলাকার ইসলামিক সোসাইটি এরিয়াতে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যগণের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষও অংশ নিয়েছেন। এদিকে, জানাজার পরের দিন বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তার মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মরদেহটি প্রথমে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে দুবাই পাঠানো হবে, সেখান থেকে ৯ মে ঢাকার ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় এ মরদেহ পৌঁছবে। উল্লেখ্য, গত ১৬ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় অবস্থিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি নিখোঁজ হন। কয়েক দিন পরে, ফ্লোরিডার হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের কাছে তাদের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে জামিলের রুমমেট ও মার্কিন নাগরিক হিশাম আবুঘরবেহকে আটক করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের পর, যুক্তরাষ্ট্রে নিহত দুই শিক্ষার্থীকে মর্যাদাপূর্ণ মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করছে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা (ইউএসএফ)। এই ডিগ্রি প্রদান অনুষ্ঠানের জন্য আগামী ৯ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের বসন্তকালীন সমাবর্তনে উপস্থিত থাকবেন তাদের পরিবার। মঙ্গলবার (৫ মে) বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি চিঠি দিয়ে মিয়ামির বাংলাদেশ কনস্যুলেটকে এই তথ্য জানিয়েছেন। একই সঙ্গে, নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষে সম্মাননা গ্রহণের জন্য কনস্যুলেটের একজন প্রতিনিধি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন বলে অনুরোধ জানানো হয়েছে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক জামিল আহমেদ লিমন (২৭) ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ের ওপর পিএইচডি করছিলেন। তিনি গত ১৬ এপ্রিল নিখোঁজ হন। তার সঙ্গে নিখোঁজ হন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি (২৭)। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে চলেছেন।

  • গভর্নর রাজি নন, বিজয়ের মুখ্যমন্ত্রিত্বের শপথ আজ হচ্ছে না

    গভর্নর রাজি নন, বিজয়ের মুখ্যমন্ত্রিত্বের শপথ আজ হচ্ছে না

    তামিল মানুষজনের মধ্যে উত্তেজনা জাগিয়ে রাখা এবং রাজ্যটির রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হওয়ার পথে এখনো কিছুটা জটিলতা রয়ে গেছে। আজ বৃহস্পতিবার তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিজয় এর শপথ গ্রহণ হচ্ছে না। বিজয় দলের পক্ষে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়া সত্ত্বেও, টিভি দলই রাজ্যের সবচেয়ে বড় দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তবে, তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল, অর্থাৎ গভর্নর রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকর, এখনো এই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেননি। ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। এই পরিস্থিতিতে, গোপন সূত্রগুলো জানিয়েছে যে, কংগ্রেস দল বিজয় দলের কাছে সমর্থন প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিলেও, সরকার গঠনের জন্য আরও এক বা দুই দিন সময় লাগতে পারে, কারণ সমর্থন জোগাড়ে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। এরই মধ্যে রাজ্যপাল বিধানসভা ভেঙে দিয়েছেন এবং তিনি কেরালার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন, যেখানে তিনি বর্তমানে অতিরিক্ত দায়িত্বে কর্মরত। সূত্রের মতে, গতকাল বুধবার বিজয়ের নেতা তথা সাধারণ সম্পাদক আধভ অর্জুনের সঙ্গে রাজ্যপালের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু সেটি স্থগিত করেছে। কারণ, দুইটি বাম দল—সিপিআই এবং সিপিআই(এম)—অতिथि সময় চেয়ে ৮ মে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চেয়েছে। নির্বাচনের ফলাফলে দেখা গেছে, তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনে ১০৮টি আসনে জয় লাভ করে বিজয় টিভিকে ছিল বৃহত্তম দল। সরকার গঠনের জন্য তাদের আরও অন্তত ১০টি আসনের প্রয়োজন ছিল, যা পুরণ করতে হলে কংগ্রেসের পাঁচটি আসনের সমর্থন নিয়ে নয়, বরং এখনো ক্ষয়ক্ষতির দিকে এগোতে হচ্ছে। বর্তমানে, বিজয় শিবিরের আরেকটি প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ। যদিও নির্বাচনের ফলাফলে নির্দলীয় প্রার্থীদের সমর্থন থাকতে পারে, তবে এখনও স্পষ্ট নয় কে তারা হবে। বেশ কয়েকটি আলোচনায় জানা গেছে, দুটি আসনে জয়ী দলের নেতা ভি এস বাবুর সঙ্গে শুক্রবার পর্যন্ত বৈঠক হবে, যার মধ্যে দুজন—সিপিআই ও সিপিআই(এম)—আলাদা বৈঠক করেছেন। তবে, একই সঙ্গে একটি সম্ভাব্য জোটের গুঞ্জন পাওয়া গেছে—সেটি হলো টিভি দল ও এআইএডিএমকে জোট, যা এখনো থেকে বৃহত্তর সমর্থন পাবার সম্ভাবনা রয়েছে। এআইএডিএমকের অন্তত ৩০ জন বিধায়ক টিভিকেকে সমর্থন করতে ইচ্ছুক বলে মনে করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় দল হিসেবে, তামিলনাড়ু কংগ্রেস স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, তারা টিভিকের সঙ্গে সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে স্বাধিকারী। দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত গিরিশ চোদানকর ঘোষণা করেছেন, দক্ষিণ ভারতের বিজেপিকে ক্ষমতায় আনতে তারা আপোস করবেন না এবং বরং একটি ধর্মনিরপেক্ষ সরকারকে সমর্থন করবেন। গতকাল বুধবার, কংগ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারে যুক্ত হতে বিজ্ঞপ্তি দেয়, এবং এ সময় দলের কর্মীরা উল্লাসে ফেটে পড়ে। কংগ্রেসের দাবি, টিভিকেকে সমর্থনে তাদের একমাত্র শর্ত—সংবিধানে বিশ্বাস করে না এমন কোনও ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিকে জোটের বাইরে রাখা। অন্যদিকে, ডিএমকে এই সিদ্ধান্তকে কটাক্ষ করে বলেছে, কংগ্রেস টিভিকেকে সমর্থনের জন্য ‘তামিলনাড়ুর মানুষের পিঠে ছুরি মারছে’। ডিএমকের মুখপাত্র সারাভানন আনাতুরাই বলছেন, টিভিকে মন্ত্রিসভায় দুটো পদ পাওয়ার লোভে কংগ্রেস নিজেদের ধ্বংস করছে। এই একতরফা সমর্থনের সিদ্ধান্ত বিরোধী জোটের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করছে, যা ভারতের রাজনৈতিক জগতে অস্থিরতা বাড়াচ্ছে। বিজেপির মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালা মন্তব্য করেছেন, ‘কংগ্রেস কতজনের সঙ্গে প্রতারণা করেছে, তা তো আর গোপন নয়। ডিএমকের সঙ্গে যারা এই কৌশলে জড়িয়েছে, তারা ভবিষ্যতে সমাজবাদী পার্টির সঙ্গেও কী করতে যাচ্ছে, সেটিই ভাবা যায়।’ তিনি আরও যোগ করেছেন, ‘এটি হলো ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে শেষ কৃত্য, এক ধরনের পতনের সূচনা।’ এই নির্বাচনে টিভির বিশাল বিজয় গেমচেঞ্জার হিসেবে দেখা দিয়েছে, যা ডিএমকে ও এআইএডিএমকের দীর্ঘদিনের দ্বিমেরু রাজনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। কোলাথুরে এম কে স্টালিনের পরাজয়ের পর, তিনি ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। আগামী দিনগুলোতে তামিলনাড়ুর নতুন সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা জটিলতা ও পরিবর্তনের সম্ভাবনা থাকছে।