Blog

  • নাটকীয় মোড়: সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন থালাপতি বিজয়

    নাটকীয় মোড়: সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন থালাপতি বিজয়

    নানা নাটকীয়তার পর অবশেষে তামিলনাড়ুর পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নাম ঠিক করেছেন সুপারস্টার থালাপতি বিজয়। শুক্রবার (৮ মে) সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, কংগ্রেস, ভিসিকে এবং দুই বামপন্থী দল—সিপিআইএম ও সিপিআই—থালাপতির দল টিভিকেকে সমর্থন জানাচ্ছে।

    সূত্র জানায়, এবারের নির্বাচনে কংগ্রেস পাঁচটি, ভিসিকে চারটি এবং দু’টি বামপন্থী দল মিলিয়ে চারটি আসনে জিতেছে; মোট মিত্রদলের আসন সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩টি। গত ৪ মে তামিলনাড়ুর বিধানসভা ফল প্রকাশে দেখা যায়, মোট ২৩৪ আসনের মধ্যে টিভিকে একাই পেয়েছে ১০৮টি আসন। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা ১১৮ আসন হওয়ায় তাদের আরও ১০টি আসনের প্রয়োজন ছিল।

    তবে বিজয় নিজে দুটি আসনে জিতে যাওয়ায় তাকে একটি আসন ‘ছেড়ে’ দিতে হবে; এতে টিভিকের আসন সংখ্যা ১০৭-এ নেমে আসে। মিত্রদলগুলোর ১৩টি আসন যুক্ত করলে টিভিকে জোটের মোট আসন সংখ্যা দাঁড়ায় ১২০, যা সংখ্যাগরিষ্ঠতার সীমা অতিক্রম করে।

    স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে চারটায় থালাপতি বিজয় তামিলনাড়ুর বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী আরভি আর্লেকারের সঙ্গে তৃতীয়বারের মতো সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছেন; সেখানে প্রস্তাবিত সরকারের রূপায়ণ ও বর্তমান পরিস্থিতির সমাধান নিয়ে আলোচনা হবে।

    উল্লেখ্য, যেসব দল এখন থালাপতি বিজয়কে সমর্থন দিচ্ছে, তারা নির্বাচনের আগে ক্ষমতাসীন ডিএমকের সঙ্গে জোটবদ্ধ ছিল; কিন্তু পরবর্তী কালে তারা বিজয়কে মুখ্যমন্ত্রী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। (সূত্র: এনডিটিভি)

  • বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

    বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

    বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার ২ নম্বর পঞ্চকরণ ইউনিয়নের দেবরাজ এলাকায় স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবিতে শুক্রবার (৮ মে) স্থানীয় মানুষ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করে। তারা অভিযোগ করেছে যে চলমান ভেড়িবাঁধ সংস্কারের কাজে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং কিছুকিছুতেই ফসলি জমিতে লবণাক্ত পানি প্রবাহ করে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

    সকালে ভেড়িবাঁধের ধারে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে স্থানীয়রা দাবি করেন—“স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে এবং চলমান সংস্কার কাজ বন্ধ করা যাবে না।” আয়োজকদের অভিযোগ, আকরাম তালুকদার, জরুল শেখ, সালাম মোল্লা ও আকবর তালুকদার বাহিনীসহ কিছু গোষ্ঠী চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও উন্নয়ন কাজ বাধাগ্রস্ত করছে।

    বক্তারা বলেন, পঞ্চকরণ ইউনিয়নের দেবরাজ এলাকার টেকসই ভেড়িবাঁধ না থাকায় প্রতিবার জোয়ার ও লবণাক্ত পানি প্রবেশের ফলে বিস্তৃত ফসলি জমি নষ্ট হয়। তারা স্মরণ করান, ঘূর্ণিঝড় আইলা ও সিডরের সময় পুরো এলাকা পানিতে তলিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষতি হয়েছিল।

    স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন যে একটি স্বার্থান্বেষী মহল ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য জোর করে লবণ পানি প্রবেশ করাচ্ছে এবং ফলে কৃষিজমি ধ্বংসের পথ তৈরি হচ্ছে। এ কারণে যারা নিরাপদ, স্থায়ী বাঁধ চান তারাই বাধা-বিপত্তির সম্মুখীন হচ্ছেন বলে তারা দাবি করেন।

    মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বক্তারা জানান, যদিও ভেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে, তবে কিছু চক্র নানা ষড়যন্ত্র করে কাজ থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তাদের একটাই দাবি—যে কোনো অবস্থায় ভেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজ বন্ধ করা হবে না।

    এ সময় এলাকার গণ্যমান্যরা বলেন, বাঁধ নির্মাণের জন্য যদি কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি অধিগ্রহণ করা লাগে তাহলে সরকারকে অবশ্যই ন্যায্য ও যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। পাশাপাশি দ্রুত স্থায়ী ভেড়িবাঁধ করা না হলে জনস্বাস্থ্যে ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তায় হুমকি থাকবে বলে তাঁরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

    মানববন্ধনে পঞ্চকরণ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জসিম উদ্দিন তালুকদার, অধ্যাপক মনিরুল ইসলাম খান, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শামীমুল হাসান, খলিলুর রহমান, মাইনুল ইসলাম, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও জামায়াত নেতা মশিউর রহমানসহ বহু স্থানীয় গণ্যমান্য উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে এলাকাবাসী দাবি আদায়ে একটি বিক্ষোভ মিছিলও প্রদর্শন করে।

  • ফকিরহাটে সাড়ে ১৩ লাখ টাকার অ্যালুমিনিয়ামসহ ট্রাক ছিনতাই, দুই arrested

    ফকিরহাটে সাড়ে ১৩ লাখ টাকার অ্যালুমিনিয়ামসহ ট্রাক ছিনতাই, দুই arrested

    বাগেরহাটের ফকিরহাটে সাড়ে ১৩ লাখ টাকার পরিত্যক্ত অ্যালুমিনিয়াম বোঝাই একটি ভাড়াকৃত ট্রাক ছিনতাইয়ের ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে ট্রাক ও মালামাল উদ্ধার করেছে এবং দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

    পুলিশ জানায়, রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ক্রয় করা ওই অ্যালুমিনিয়ামগুলো বৃহস্পতিবার (৭ মে) সন্ধ্যায় ভাড়ার বিআরটিসি ট্রাকে তোলা হয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পথে রামপাল জিরো পয়েন্ট ও সোনাতোনিয়া বাসস্ট্যান্ডে স্থানীয়রা ট্রাক থামিয়ে মালামাল যাচাই-বাছাই করে; কাগজপত্র ঠিক থাকায় পরে ট্রাক ছাড়তে দেওয়া হয়।

    রাত প্রায় ১টার দিকে সুকদাড়া এলাকায় ট্রাকটি ফের রওনা হলে ১৫-১৬ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাতদল ট্রাকের গতিরোধ করে। ডাকাতরা ট্রাকচালক ও যাত্রীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ট্রাকসহ মালামাল ছিনিয়ে নেয়।

    ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে ফকিরহাট মডেল থানা পুলিশ তৎক্ষণাৎ অভিযান শুরু করে এবং শুক্রবার ভোররাতে উপজেলার মূলঘর এলাকায় একটি পরিত্যক্ত ইটভাটা থেকে ডাকাতি হওয়া ট্রাক ও মালামাল উদ্ধার করে। একই সময়ে পাগলা উত্তরপাড়া এলাকার মো. জয়নাল আবেদিন (৩৮) ও নলধা গ্রামের মো. জুয়েল শিকদার (৩২)কে গ্রেপ্তার করা হয়।

    জানা গেছে, অ্যালুমিনিয়ামগুলো রামপাল এলাকার মনিরুল ইসলাম, কামরুল শেখ ও শামিম হাসান একত্রে ক্রয় করেছিলেন। ঘটনার নিন্দায় রামপালের গৌরম্ভা গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে মনিরুল ইসলাম বাদি হয়ে আটজনের নাম উল্লেখসহ আরও ১৬ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে ফকিরহাট থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

    ফকিরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে ট্রাক ও মালামাল উদ্ধার করেছে এবং দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে; অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও জানান, মামলার প্রক্রিয়া চলমান এবং গ্রেপ্তারকৃতদের বাগেরহাট আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

  • ‘দাই দাই’ থিম সংয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরলেন শাকিরা

    ‘দাই দাই’ থিম সংয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরলেন শাকিরা

    ফুটবল বিশ্বকাপ ঈদুল ফুস্ট চলছে—এক মাসেরও একটু বেশি সময় বাকি। গ্যালারিতে কোন সুরে ও গানে দর্শকরা তাল মিলিয়ে আনন্দ করবেন, তা নিয়ে ভক্তদের অপেক্ষা শেষ হয়ে এসেছে। এবার বিশ্বকাপের থিম সং হচ্ছে ‘দাই দাই’—ওই থিম সংয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বমঞ্চে ফিরছেন কলম্বিয়ার পপ আইকন শাকিরা।

    শাকিরা নিজেই নিজের ইনস্টাগ্রামে একটি ৬৭ সেকেন্ডের ছোট ভিডিও শেয়ার করেছেন, যা ব্রাজিলের আইকনিক মারাকানা স্টেডিয়ামে ধারণ করা হয়েছে। ওই ক্লিপে তাকে স্টেডিয়ামের মাঠে দেখা গেছে; কাছে-দূরে নৃত্যশিল্পীরা সাথে মিলিয়ে পারফরম্যান্স করেছেন। ভিডিওতে তিনি ২০২৬ বিশ্বকাপের ম্যাচ বাল ‘‘ট্রিওন্ডা’’ হাতে নিয়ে গানের কিছু অংশ ইংরেজিতে পরিবেশন করেন। তাদের সাথে বিভিন্ন দলের—বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও কলম্বিয়ার—জার্সিধার নৃত্যশিল্পীরা নেচে পরিবেশ জমিয়েছেন।

    প্রসঙ্গত, শাকিরা ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের উজ্জ্বল স্মৃতি রেখে গিয়েছিলেন ‘ওয়াকা ওয়াকা’ থিম সংের মাধ্যমে। তার বিশ্বকাপের সঙ্গে সম্পর্ক পুরনো; ২০০৬ ও ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালেও তাকে পারফর্ম করতে দেখা গিয়েছিল।

    নাইজেরিয়ান শিল্পী বুর্না বয়ের প্রযোজনায় তৈরি এই নতুন গান আনুষ্ঠানিকভাবে ১৪ মে মুক্তি পাবে। ফিফার বিশ্বকাপ অ্যাকাউন্টেও শেয়ার করা ভিডিওতে শেষ বার্তায় বলা হয়েছে, ‘আমরা প্রস্তুত!’—আর বিশ্বকাপের মঞ্চও যেন সেই প্রস্তুতির প্রতিফলন নিয়ে সামনে আসে।

  • শান্তের সেঞ্চুরি, মুমিনুলের আক্ষেপ — বাংলাদেশের রঙিন দিন

    শান্তের সেঞ্চুরি, মুমিনুলের আক্ষেপ — বাংলাদেশের রঙিন দিন

    “(প্রথম ইনিংসে) চারশো’র বেশি রান যদি আমরা করতে পারি, সেটা দলের জন্য খুব ভালো।” মিরপুর টেস্ট শুরুর এক দিন আগেই এমনটাই বলেছিলেন বাংলাদেশ টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। প্রথম দিনের খেলা দেখে বলা যায়—অধিনায়কের আশা অনেকাংশে পূরণ হওয়ার পথে আছে। দিনের খেলা শেষ হওয়ার সময় বাংলাদেশ ৪ উইকেট হারিয়ে ৩০১ রান করেছে এবং দ্বিতীয় দিনের সকালে শতরানঘাটতি পার করলেই শান্ত খুশিই হতেন।

    সেই রানের বড় ভাগই এসেছে বাঁহাতি ব্যাটার নাজমুল হোসেন শান্তের ব্যাট থেকে। প্রথম দিন মাঠে ঘাস ছিল, তবু পাকিস্তানের পেসাররা প্রত্যাশিত সুইং বা সিম মুভমেন্ট বের করতে পারেনি। সকাল শুরুতেই শাহিন আফ্রিদি ও হাসান আলি খুব আক্রমণাত্মক বলবলে মাহমুদুল হাসান জয় ও সাদমান ইসলামকে ফেরান, যা সফরকারীদের জন্য আশার সূচক ছিল। তবে প্রথম ঘণ্টার পর দিনের বাকি সময়ে তারা আর তেমন প্রভাব রাখতে পারেনি।

    ওপেনিংয়ে নামা মাহমুদুল হাসান জয় জীবন পেলেও ইনিংসটা লম্বা করতে পারেননি; ১৯ বল খেলে ৮ রানে তিনি আউট হন, শাহিনের অফ স্টাম্পের বাইরের ডেলিভারিতে ব্যাটের ওপরে ধরা পড়ে ক্যাচ। আর সাদমানও ৩০ বলে ১৩ রান করে হাসান আলির বলে তৃতীয় স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান।

    তবে তৃতীয় ও চতুর্থ উইকেট হারানোর পর মুমিনুল হক ও শান্ত মিলে টিমকে ধপধপ করে ধরে রাখেন। দুইজন মিলে ইনিংস সামলে দ্রুত রানও যোগ করেন; প্রথম সেশনে বাংলাদেশের মোট স্কোর ১০১ রান হলেও উইকেটের ক্ষতি মাত্র দুইটি। লাঞ্চ বিরতির পরে শান্ত দ্রুত হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন—৭১ বলে আধা শতক করে। মুমিনুলও নিয়মিতভাবে ব্যাট করে হাফসেঞ্চুরি পূরণ করেন, ১০২ বলে পঞ্চাশ স্পর্শ করেন তিনি।

    শান্তের ব্যাটিংটা ছিল আক্রমণাত্মক ও নিয়ন্ত্রিত মিশ্রণ। বিভিন্ন শট খেলেই পাকিস্তানের বোলারদের কাবু করতেন তিনি; বিশেষ করে মোহাম্মদ আব্বাসের অফ-স্টাম্পের বাইরের বলে কভার ড্রাইভ করে ১২৯ বলে সেঞ্চুরি তুলেন শান্ত। যাদের কাছে এটা টেস্টে তার নবম সেঞ্চুরি—বাংলাদেশ জার্সিতে শুধু মুশফিক (১৩), মুমিনুল (১৩) ও তামিম (১০) এরই বেশি টেস্ট সেঞ্চুরি আছে। তার সাম্প্রতিক ফর্মও চোখে পড়ার মতো—গত পাঁচ টেস্টে এটিই তার চতুর্থ সেঞ্চুরি।

    তবে একশো ছোঁয়ার ঠিক পরেই শান্তকে বিদায় জানাতে সক্ষম হন আব্বাস; ভেতরে ঢোকা ডেলিভারির সঙ্গে ব্যাটার লেগ বিফোরে পড়ে এবং আম্পায়ার প্রথমে আউট না দিলেও পাকিস্তান রিভিউ নিয়ে শান্তকে ফেরায়। ১২ চার ও ২ ছক্কায় ১৩০ বলে সিনসেঞ্চুরি হলো ১০১ রানে। শান্তের বিদায়ে মুমিনুলের সঙ্গে তাদের ১৭০ রানের জুটিটাও ভাঙে।

    এরপর মুমিনুল মুশফিকুর রহিমকে সঙ্গে নিয়ে দলের সংগ্রহ বাড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন—তারা দুজন ৭৫ রানের জুটি গড়েন। কিন্তু বাঁহাতি স্পিনারের নিচু ডেলিভারিতে ব্যাকফুটে খেলতে গিয়ে বল প্যাডে লেগে মুমিনুল লেগ-বিফোর হয়ে আউট হন। টেকনিক ও ধৈর্য্য থাকলেও ২০০ বলে ৯১ রানে তার ইনিংস শেষ হয়; রিভিউ নিয়েও আউটের সিদ্ধান্ত বদলানো যায়নি।

    দিনের শেষ পর্যায়ে মুশফিক অপরাজিত ৪৮ রানে মাঠ ছাড়েন, আর লিটন দাস ৩৫ বলে ৮ রানে অপরাজিত থেকে আগামীকালের ব্যাটিং শুরু করবেন। দ্বিতীয় দিনের সকালে যদি তারা কয়েকটা শাতেক রানের অংশ যোগ করতে পারে, তবে প্রথম ইনিংসে চাহিদা অনুযায়ী শক্ত অবস্থান তৈরি করা সম্ভব হবে।

    মোট মিলিয়ে প্রথম দিনের পারফরম্যান্স বাংলাদেশ দলের জন্য আশাব্যঞ্জক—একদিকে শান্তর সুচারু সেঞ্চুরি, অন্যদিকে মুমিনুলের দৃঢ়তম সংগ্রহ; আবার পাকিস্তানের বল করা শুরু শক্তিশালী হলেও পরবর্তীতে সেই ধার টেকেনি। দ্বিতীয় দিনে যদি ব্যাটিং লাইন আরও সময় কাটাতে পারে, তবে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসটা রঙিন হয়ে উঠার সম্ভাবনা আছে।

  • তামিলনাড়ুর ৪৯ বছর পুরনো রেকর্ডে ভাগ বসালেন বিজয়

    তামিলনাড়ুর ৪৯ বছর পুরনো রেকর্ডে ভাগ বসালেন বিজয়

    ফিল্ম তারকা থেকে রাজনীতিতে প্রবেশ করে প্রথম নির্বাচনে তাৎপর্যপূর্ণ সাফল্য পেলেন জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর—জনপ্রিয় নাম থালাপতি বিজয়। তামিলনাড়ুর বিধানসভার সাম্প্রতিক নির্বাচনে তিনি এবং তাঁর দল একটি ৪৯ বছরের পুরনো রেকর্ডে নাম লিখালেন, যা আগে কেবল এমজি রামাচন্দ্রানের কৃতিত্ব হিসেবে ধরা হতো।

    ১৯৭৭ সালে চলচ্চিত্র থেকে উঠে রাজনীতিতে এসে নিজের দল এআইএডিএমকে গঠন করে টিকে অবস্থান করে এমজি রামাচন্দ্রান নির্বাচনে জেতেন এবং তৎকালীন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হন। ১৯৮৭ সালে মৃত্যু পর্যন্ত তিনি মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। পরবর্তীতে চলচ্চিত্রের বড় তারকা জয়া ললিতা (জয়ারাম জয়ললিতা) একই দলের মাধ্যমেই রাজনীতিতে উঠে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ার দখল করেছিলেন—তবে তিনি নিজে কোনো নতুন দল গঠন করেননি, বরং এমজিআর-এর দলের ভিতেই নেতৃত্ব গড়ে তুলেছিলেন।

    এবার সেই ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় বিজয় নিজেই নতুন করে মেঠোপথ তৈরি করেছেন। ২০২৪ সালে তিনি নতুন রাজনৈতিক দল তামিলাগা ভেট্টরি কোঝাগাম (টিভিকে) ঘোষণা করেন এবং নিজের প্রথম বিধানসভা লড়াইয়ে একা হাতে বড় প্রভাব ছড়িয়ে দিয়েছেন। বিজয় নিজে অবশ্য নিজের আসনে জয়ী হয়েছেন এবং টিভিকে মোট ১০৮টি আসনে জিতেছে—এটি ২৩৪ সদস্যবিশিষ্ট বিধানসভার মধ্যে বেশ বড় একটা উদ্ধার।

    তামিলনাড়ুর একটি সরকার গঠন করতে ১১৮ আসনে সংখ্যালঘু পার্থক্য পেরোতে হয়, তাই টিভিকে এককভাবে সরকার গঠন করবে না; কিন্তু অন্যদের সঙ্গে জোট গঠন হলেও টিভিকে জোটের প্রধান চালকদল হিসেবে থাকবে। মেয়াদ শেষের পর এই পরিস্থিতিতে বিজয়ই তামিলনাড়ুর পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রীর প্রার্থী হিসেবে এগুচ্ছেন—এর সম্ভাবনা প্রাথমিকভাবে শক্ত।

    বিজয়ের রাজনৈতিক যাত্রা কোনো একরাত্রের কাণ্ড নয়। ২০০৯ সালে তিনি ভক্তদের সংগঠিত করা শুরু করেন এবং বিভিন্ন ভক্তগ্রুপকে মিলিয়ে ‘বিজয় মাক্কাল ইয়াক্কাম’ নামে একটি ঐক্য গড়ে তোলেন। এই সংগঠনটি সময়ের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হয়; ২০১১ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত মাক্কাল ইয়াক্কাম এআইএডিএমকের পক্ষে সমর্থনও দিয়েছে।

    তবে ২০২১ সালে এআইএডিএমকের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে নিজস্ব রাজনৈতিক পথ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বিজয়। ২০২৪ সালে তিনি টিভিকে গঠন করে সরাসরি রাজনীতিতে প্রবল অগ্রগতি দেখিয়েছেন এবং ভোটের ফল এই পরিবর্তনের প্রমাণ দিয়েছে।

    এই ফলাফল চলচ্চিত্র থেকে উঠে সরাসরি ভোটার ও ভক্তকে রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত করার আগের এক বিশেষ কৌশলের পুনরাবৃত্তি বলে মনে করা হচ্ছে—যেমনটি এমজি রামাচন্দ্রানের ক্ষেত্রেই হয়েছিল। এখন অপেক্ষা শপথ গ্রহণের, পরে সরকার গঠন ও জোটবাজির মাধ্যমে চূড়ান্ত পদক্ষেপগুলো কী থাকে।

    সূত্র: এনডিটিভি

  • রুনা লায়লা জানালেন: আমার মৃত্যু নিয়ে অদ্ভুত গুজব ছড়িয়েছে

    রুনা লায়লা জানালেন: আমার মৃত্যু নিয়ে অদ্ভুত গুজব ছড়িয়েছে

    উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী রুনা লায়লার মৃত্যু নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অকালেই বিভ্রান্তিকর এক গুজব ছড়িয়ে পড়ে। তবে এই কিংবদন্তি শিল্পী নিজেই ভক্ত-অনুরাগীদের নিশ্চিত করেছেন যে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ এবং ভালো আছেন।

    রুনা লায়লা বর্তমানে ভারতের দিল্লিতে ‘মিনার–ই–দিল্লি’ পুরস্কার গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে গিয়ে সেখানে অবস্থান করছেন। ঠিক সেই সময়ে দেশ-বিদেশে তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ায় ভক্তদের মধ্যে কষ্ট ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।

    এই পরিস্থিতি চোখে পড়লে তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট করে পরিস্থিতি খণ্ডন করেন। তিনি ভক্তদের উদ্দেশ্যে লিখেছেন, ‘আমার প্রিয় ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের জন্য জানাই—আমার মৃত্যু নিয়ে কিছু অদ্ভুত গুজব ছড়িয়েছে।’

    ভিত্তিহীন এই সংবাদে কষ্ট পেয়ে রুনা লায়লা আরও বলেন, ‘আমি পরিষ্কারভাবে জানাতে চাই, আমি বহাল তবিয়তে বেঁচে আছি। অনুগ্রহ করে এমন কোনো পোস্ট শেয়ার করার আগে তথ্য যাচাই করে নিন; এ ধরনের গুজব আমার ও আমার পরিবারের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক।’ তিনি সকলের প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেছেন।

    সংগীতজীবনের حوالے দিয়ে বলা যায়, ১৯৬৬ সালে উর্দু চলচ্চিত্র ‘হাম দোনো’র গান ‘নাজরোঁ সে মোহাব্বত কা জো পয়গম মিলা’ দিয়ে রুনা লায়লা আলোচনায় আসেন। ১৯৬০-এর দশকে তিনি নিয়মিত পাকিস্তান টেলিভিশনে গান পরিবেশন করতেন এবং ‘ও মেরা বাবু চেল চাবিলা’ ও ‘দামা দম মাস্ত কালান্দার’ গানের মতো খ্যাতিমান রচনা দিয়ে ভারত-সহ উপমহাদেশ জুড়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

    ভক্তদের শান্তি ও বিভ্রান্তি প্রতিরোধে রুনা লায়লার এই সতর্কবার্তাটি গুরুত্ব বাড়ায়—অনলাইনে তথ্য যাচাই ছাড়া গুজব ছড়ানোর ফলে অনাকাঙ্ক্ষিত কান্ড ঘটতে পারে।

  • অনুমতি ছাড়া হজ পালনে জরিমানা: ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সতর্কতা

    অনুমতি ছাড়া হজ পালনে জরিমানা: ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সতর্কতা

    ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈধ হজ পারমিট ছাড়া সৌদি আরবে হজ পালন বা করার চেষ্টা করলে সর্বোচ্চ ২০ হাজার সৌদি রিয়াল জরিমানা হতে পারে। বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে এর পাশাপাশি বহিষ্কার এবং সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত সৌদি আরবে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে।

    মন্ত্রণালয়ের বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও হাজিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি কর্তৃপক্ষ কঠোর হজবিধি কার্যকর করেছে। সেই হিসেবে বাংলাদেশি নাগরিকদেরও সৌদি আরবের নির্ধারিত নিয়ম-কানুন কড়ায় কড়া মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, শুধু অবৈধভাবে হজ পালনের চেষ্টা করলেই নয়, এই ধরনের কর্মকাণ্ডকে সহায়তা করলে সারারকম ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অবৈধ হাজিদের পরিবহন, আবাসন বা অন্য কোনোভাবে সহযোগিতা করলে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সর্বোচ্চ এক লাখ (১০০,০০০) সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তির সংখ্যানুযায়ী জরিমানা আরও বাড়তে পারে।

    সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই বিধান ট্রাভেল এজেন্সি, আবাসন সেবা প্রদানকারী, যানবাহনের মালিক এবং অবৈধ হাজিদের আশ্রয়দাতাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। এছাড়া এসব কাজে ব্যবহৃত যানবাহন আইনগত প্রক্রিয়া শেষে জব্দ করা হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

    সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী কেবল অনুমোদিত হজ পারমিটধারীরাই মক্কা ও নির্ধারিত পবিত্র স্থানগুলোতে প্রবেশ করতে পারবেন। এ বিধান সৌদিতে অবস্থানরত বাসিন্দাসহ সব হাজির জন্য প্রযোজ্য হবে। নিষেধাজ্ঞা জিলকদ মাসের প্রথম দিন থেকে জিলহজের ১৪ তারিখ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

    উল্লেখ্য, ভিজিট ভিসাধারীরাও বৈধ হজ অনুমোদন ছাড়া মক্কায় প্রবেশ বা সেখানে অবস্থান করতে পারবে না। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাগরিক, বাসিন্দা ও সব ধরনের ভিসাধারীকে উল্লেখিত বিধি মেনে চলার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে এবং আইন লঙ্ঘনের তথ্য জানাতে নির্ধারিত জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছে। প্রধান অঞ্চলগুলোতে ৯১১ এবং অন্যান্য অঞ্চলে ৯৯৯ নম্বরে অভিযোগ জানানো যাবে।

    মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, ইতিমধ্যে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো অভিযান শুরু করেছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া হজ পারমিট প্রচারের অভিযোগে মক্কায় একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় আবারো সতর্ক করে বলেছে—বৈধ ছাড়পত্র ছাড়া হজে যাওয়া বা সহায়তা করা দায়মুক্ত নয়।

  • শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ বাজানোর ঘটনায় জামিনে মুক্তি পেলেন তাসনিম আফরোজ ‘ইমি’

    শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ বাজানোর ঘটনায় জামিনে মুক্তি পেলেন তাসনিম আফরোজ ‘ইমি’

    সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের হওয়া মামলায় কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হল সংসদের সাবেক ভিপি তাসনিম আফরোজ ইমি। তিনি বৃহস্পতিবার বিকেল পৌনে তিনটার দিকে কারামুক্ত হন।

    জেল সুপার কাওয়ালিন নাহার জানান, সকালে ইমির জামিনপত্র কারাগারে পৌঁছলে তা যাচাই-বাছাই করা হয়। কারাগারে অন্য কোনো আটকাদেশ না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর শর্তসাপেক্ষে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

    গত ৩০ এপ্রিল ইমি জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন। বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ওই আবেদনের শুনানি করে রুলসহ এ আদেশ দেন।

    প্রায় দুই মাস আগে রাজধানীর শাহবাগ থানার সামনে তাসনিম আফরোজ ইমি শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণের অডিও বাজান। ওই সময় তার সঙ্গে ছিলেন আসিফ আহমেদ, মামুনসহ কয়েকজন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের ও সাহিত্য সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ তাকে থানায় সোপর্দ করেন।

    পরদিন ইমি, আসিফ আহমেদ ও মামুনসহ অজ্ঞাতনামা ২০–৩০ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়।

  • দেশবিরোধী গোষ্ঠী সাম্প্রদায়িকতা ছড়ানোর চেষ্টা করবে: নাহিদ

    দেশবিরোধী গোষ্ঠী সাম্প্রদায়িকতা ছড়ানোর চেষ্টা করবে: নাহিদ

    বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক উসকানি ও প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের জুলাই স্মৃতি হলে এনসিপি আয়োজিত নতুন সদস্য যোগদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সতর্কতা জানান।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, পশ্চিমবঙ্গ বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। যদিও এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়, তবুও নির্বাচনের আগে কয়েক লাখ ভোটারের নাগরিকত্ব নাকচ এবং ভোটাধিকার বঞ্চিত হওয়ার খবর উঠায় উদ্বেগ বিরাজ করছে। তার দাবিতে এসব ভোটারের একটি বড় অংশ ছিলেন মুসলিম ও মতুয়া সম্প্রদায়ের।

    তিনি বলেন, ‘‘আমি সংসদেও এ বিষয়টি উত্থাপন করেছি—সেখানে মুসলিম সম্প্রদায়কে নির্যাতন করা হচ্ছে, তাদের ভোটাধিকার মোছা হচ্ছে। এর প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ে।’’ নির্বাচনের পরেও তিনি পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম, মতুয়া, দলিত ও অন্যান্য সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ করেন।

    বাংলাদেশে সম্ভাব্য সাম্প্রদায়িক উসকানির বিষয়ে সতর্ক করে নাহিদ বলেন, ‘‘দেশবিরোধী ও স্বার্থবিরোধী গোষ্ঠীগুলো নানা রকম উসকানি দেবে, সাম্প্রদায়িকতা ছড়ানোর চেষ্টা করবে এবং ভুয়া প্রোপাগান্ডা চালাবে। আমাদের সবাইকে এ ব্যাপারে খেয়াল রাখতেই হবে।’’

    তিনি আরও যোগ করেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের পর আমাদের দায়িত্ব অনেক বেড়ে গেছে। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সব নাগরিকের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করা আমাদেরই দায়িত্ব। বাংলাদেশকে এমন একটি রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে যেখানে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সংখ্যালঘুরা সবচেয়ে বেশি নিরাপদ বোধ করবে।’’ তিনি মুসলিম, দলিত, মতুয়া ও সব সম্প্রদায়ের মানুষের অধিকারের পক্ষে সোচ্চার থাকার আহ্বান জানান।

    অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের এনসিপিতে নতুন যোগদানকারীদের স্বাগত জানিয়ে নাহিদ দলীয় নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশ দেন। তিনি বললেন, ‘‘আমাদের নিজেদের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব রাখতে পারব না। যে ইচ্ছেই যেখান থেকে আসুক, এনসিপির পতাকাতলে সবাইকে মিলেমিশে কাজ করতে হবে—ঐক্যই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।’’ বক্তব্যের শেষে তিনি উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে প্রশ্ন করেন, ‘‘আমরা কি সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকব?’’ জবাবে নেতা-কর্মীরা একসঙ্গে ‘ইনশাআল্লাহ’ বলে সমর্থন জানায়।