Blog

  • দেশের বাজারে সোনার দাম আরও কমলো

    দেশের বাজারে সোনার দাম আরও কমলো

    বাংলাদেশের স্বর্ণ বাজারে টানা চার দফা মূল্য সংশোধনের পর চতুর্থবারের মতো সোনার দাম কমলো। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) এই ঘোষণা জানিয়েছে। নতুন মূল্য অনুযায়ী, প্রতি ভরি সোনার দাম সর্বোচ্চ এক হাজার ২৫৮ টাকা কমেছে। এর ফলে বিশুদ্ধ মানের (২২ ক্যারেট) সোনার ভরির মূল্য এখন দুই লাখ ৪০ হাজার টাকা। আগের দিন ছিল দুই লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা।

    বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে বাজুস এই সংশোধিত মূল্য ঘোষণা করে এক বিজ্ঞপ্তিতে। নতুন দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

    সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দাম কমে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের দাম সমতুল্যভাবে কমে গেছে।

    নতুন নির্ধারিত দামে, সবচেয়ে মানসম্পন্ন ২২ ক্যারেটের ভরির দাম এখন两个 লাখ ৪০ হাজার ৩৩৭ টাকা। এর পাশাপাশি অন্যান্য ক্যারেটের দাম নিচে আসছে— ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি এখন ২৯ হাজার ৪৩১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ভরি ১৯৬ হাজার ৬৫৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার এক ভরি এখন ১ লাখ ৬০ হাজার ১৪৭ টাকা।

    অন্যদিকে, সোনার দাম কমলেও রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ২২ ক্যারেটের রুপার ভরি ৫ হাজার ৪৮২ টাকা, ২১ ক্যারেটের ৫ হাজার ১৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৪ হাজার ৪৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা।

    বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ছে। ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধের শুরু থেকে বিশ্ববাজারে মূল্য এই ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে। গোল্ডপ্রাইস ডট অর্গ ওয়েবসাইটের তথ্যানুযায়ী, এখন আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি অউন্স স্বর্ণের দাম কমে ৪ হাজার ৫০০ ডলার এ-পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে। জানুয়ারিতে এই দাম ছিল ৫ হাজার ৫০০ ডলার পর্যন্ত।

  • প্রাইজবন্ডের ১২৩তম ড্র’র বিজয়ীদের নাম প্রকাশ পেল

    প্রাইজবন্ডের ১২৩তম ড্র’র বিজয়ীদের নাম প্রকাশ পেল

    ১০০ টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ডের ১২৩তম ড্র অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই ড্র’তে প্রথম পুরস্কার হিসেবে ছয় লাখ টাকা জেতার সুযোগ পেয়েছেন সিরিজের নম্বর ০০০১০৩৫ বিজেতা। দ্বিতীয় পুরস্কারটি ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা পাওয়া নম্বর ০০৪৭৭৪৮। তৃতীয় পুরস্কার হিসেবে দু’টি নম্বর পেয়েছে, যেগুলো হলো ০৫৩৮২৮৯ ও ০৬৭৫৩৮২, এবং উভয়েই ক্যাশে পাচ্ছেন এক লাখ টাকা। চতুর্থ পুরস্কার বিজয়ীদের নম্বরগুলো হলো ০৪০০৪৫১ ও ০৫৬৭৬৪৪, যারা প্রত্যেকে পাচ্ছেন ৫০ হাজার টাকা।

    বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) এই ড্র’টি ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার অফিসের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

    এবারের ড্র’তে ধরা হয়েছে মোট ৮৪টি সিরিজের ৪৬টি সাধারণ সংখ্যা, যা পুরস্কারের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। এই ড্র’টি একক সাধারণ পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়, অর্থাৎ প্রত্যেক সিরিজের জন্য একই নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। এগুলো হলো—কক, কখ, কগ, কঘ, কঙ, কচ, কছ, কজ, কঝ, কঞ, কট, কঠ, কড, কঢ, কথ, কদ, কন, কপ, কফ, কব, কম, কল, কশ, কষ, কস, কহ, খক, খখ, খগ, খঘ, খঙ, খচ, খছ, খজ, খঝ, খঞ, খট, খঠ, খড, খঢ, খথ, খদ, খন, খপ, খফ, খব, খম, খল, খশ, খষ, খস, খহ, গক, গখ, গগ, গঘ, গঙ, গচ, গছ, গজ, গঝ, গঞ, গট, গঠ, গড, গঢ, গথ, গদ, গন, গফ, গব, গম, গল, গশ, গষ, গপ, গস, গহ, ঘক, ঘখ, ঘগ, ঘঘ, ঘঙ এবং ঘচ। এই সকল সিরিজের নম্বরের উপর ভিত্তি করে ড্র’টি পরিচালিত হয়েছে।

    এছাড়া, পঞ্চম পুরস্কার হিসেবে ১০ হাজার টাকা করে ৪০ জন বিজেতাকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। তাদের নম্বরগুলো হলো—০০২১৭৪৯, ০২১৭৪১৯, ০৪৬১৪৭২, ০৫৮৮৯৬৬, ০৭৪৯৭৪০, ০০২২১৮১, ০২৪৬০৪৫, ০৪৬২০৫৬, ০৫৯৬৩৪৬, ০৭৫৯৯০৮, ০০৫৬৩৭৮, ০২৯৬৪০২, ০৪৭৮০১৫, ০৬০০৪৪০, ০৭৭২৭৭৩, ০০৯২৩৫৬, ০৩১১১৩০, ০৪৮০৫৬৭, ০৬০৭৩৪৯, ০৮১৩৬৫৯, ০১৪৪৫৬৭, ০৩৫৬৯৪২, ০৫১২০২৪, ০৬৩৯৩৬৭, ০৮৪৮০৪৬, ০১৫৫৩৯৮, ০৩৯৩২৭৭, ০৫৫১২২১, ০৬৪২০০২, ০৮৪৯৬১৪, ০১৫৫৯৩৪, ০৪১৩৫০১, ০৫৬৪৭৬০, ০৬৫০১১৯, ০৯২২৫৯৭, ১৭৫৭৯২, ০৪৫২৪৪১, ০৫৭৩৮৬৫, ০৬৮৮৭৭৩ এবং ০৯৪৭৬৬৫।

  • এপ্রিলে ২৯ দিনে প্রবাসী আয়ের মোট রেমিট্যান্স ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়ালো

    এপ্রিলে ২৯ দিনে প্রবাসী আয়ের মোট রেমিট্যান্স ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়ালো

    চলতি এপ্রিলে এখন পর্যন্ত যেহেতু দেশে প্রবাসীরা মোট ৩০০ কোটি ২০ লাখ ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, তাই এটা স্পষ্ট হয়ে উঠছে যে এই মাসে রেমিট্যান্সের পরিমাণ নতুন নজির সৃষ্টি করছে। এ তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এবারের এপ্রিলের প্রথম ২৯ দিনে দেশে মোট ৩০০ কোটি ২০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যার অর্থপ্রতিদিন গড়ে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন প্রায় ১০ কোটি ৩৫ লাখ ডলার। বিশেষ করে, গত ২৯ এপ্রিল alone, দেশের অর্থনীতিতে যোগ হয়েছে ৯৪ কোটি ডলার।去年 একই সময়, অর্থাৎ এপ্রিল ২০২৫ সালে, দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল মাত্র ২৬০ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

  • বাংলাদেশে সোনার দাম কমল, ভরি কত হলো?

    বাংলাদেশে সোনার দাম কমল, ভরি কত হলো?

    বাংলাদেশের বাজারে আজ সোমবার (৪ মে) থেকে সোনার দামে কমার ঘোষণা দিল বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। বর্তমানে প্রতি ভরি সোনার দাম সর্বোচ্চ ২ হাজার ২৫৮ টাকা কমে গেছে। এর ফলে, মান সম্পন্ন (২২ ক্যারেট) সোনার ভরি দাম এখন দুই লাখ ৪০ হাজার টাকায় পৌঁছেছে, যা পূর্বে ছিল দুই লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা।

    বাজুস এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, মঙ্গলবার (৫ মে) সকাল ১০টা থেকে এ নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। সংগঠনের মতে, তেজাবি বা পিওর গোল্ড সোনার দাম কমার কারণে দেশীয় বাজারেও মূল্য কমে এসেছে।

    নতুন নির্ধারিত দামে, ২২ ক্যারেটের সোনার ভরি দাম ২ লাখ ৪০ হাজার ৩৩৭ টাকা হয়েছে। অন্য ক্যারেট অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের ভরি প্রতি ২৯১ টাকা কমে ২ লাখ ২৯ হাজার ৪৩১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ভরি ৬০০ টাকা কমে ১ লাখ ৯৬ হাজার ৬৫৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির ভরি এখন ১৬ হাজার ১৪৭ টাকায় নির্ধারিত হয়েছে।

    যদিও সোনার দাম কমছে, তবে রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ২২ ক্যারেটের রুপার ভরি দাম এখন ৫ হাজার ৪৮২ টাকা, ২১ ক্যারেটের ৫ হাজার ১৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৪ হাজার ৪৯০ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতিতে ৩ হাজার ৩৮৩ টাকায় রয়েছে।

    বিশ্ব বাজারে রাজনৈতিক অস্থিরতা, যেমন ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘর্ষের সূচনা, এর ফলে সোনার দাম বৃদ্ধি পায়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববাজারে সোনার মূল্য সমন্বয় ঘটেছে; আন্তর্জাতিক গবেষণাপোর্টাল গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি অনুযায়ী, এখন প্রতি আউন্স সোনার দাম কমে ৪ হাজার ৫০০ ডলার এ নেমে এসেছে।

    এর আগে, ঠিক এই সময়ে ৩০ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম ছিলো ৫ হাজার ২০০ ডলার, আর ২৯ জানুয়ারি এর উচ্চতা ছিলো ৫ হাজার ৫৫০ ডলার।

  • এপ্রিলে রেমিট্যান্স আসলো ৩১৩ কোটি ডলার

    এপ্রিলে রেমিট্যান্স আসলো ৩১৩ কোটি ডলার

    সদ্য বিদায়ী এপ্রিল মাসে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল অসাধারণ একটি ঘটনা। এ মাসে দেশে এসেছে মোট ৩১২ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা দৈনিক গড়ে প্রায় ১০ কোটি ৪২ লাখ ডলারের বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি আরও বলেন, মে মাসের শুরু থেকেই রেমিট্যান্সের এই অপ্রতিরোধ্য প্রবাহ চলতে থাকছে। গত বছরের একই সময়ে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ছিল ২৭৫ কোটি ২০ লাখ ডলার। অর্থাৎ, এক বছরে এই অর্থনৈতিক স্রোত ১৯ দশমিক ৫০ শতাংশ বেড়েছে।

    সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এই অর্থবছরের জুলাই থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ২ হাজার ৯৩৩ কোটি ২০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স দেশে এসেছে। যা আগের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

    বিশ্লেষণে দেখা যায়, মার্চ মাসে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার, যা দেশের ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ রেকর্ড। আর জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে যথাক্রমে এসেছিল ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার ও ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার। ডিসেম্বর মাসে রেমিট্যান্সে ছিল ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার, এবং নভেম্বরে তা ছিল ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার।

    অক্টোবর ও সেপ্টেম্বর মাসে এসে ছিল যথাক্রমে ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার এবং ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার ডলার। এদিকে, আগস্টের প্রথম দিন ছিল ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার ডলার এবং জুলাইয়ে ছিল ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

    সব মিলিয়ে, গত অর্থবছর (২০২৩-২৪) বঙ্গবন্ধুর প্রবাসীরা পাঠিয়েছে ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ ডলার, যা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি রেকর্ড। এই প্রবাহ দেশের অর্থনীতি ও বৈদেশিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

  • তেলপাম্পে যানবাহনের লাইন উধাও নিয়ে আখতারের প্রশ্ন

    তেলপাম্পে যানবাহনের লাইন উধাও নিয়ে আখতারের প্রশ্ন

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর তেলের জন্য বিশাল যানবাহনের লাইনের উধাও হওয়ার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, সাধারণ নাগরিকরা দীর্ঘ সময় ধরে তেলপাম্পে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও দাম বাড়ার পরে সেই লাইন দেখা যায়নি। এ পরিস্থিতি স্বাভাবিকভাবে প্রশ্নের জন্ম দেয়। শনিবার রাজধানীর বাংলামোটরে রূপায়ন ট্রেড সেন্টারে অনুষ্ঠিত ‘জ্বালানি, অর্থনীতি, মানবাধিকার, সংস্কার ও গণভোট’ শীর্ষক জাতীয় কনভেনশনের সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা তিনি বলেন।

    আখতার হোসেন আরও বলেন, গণভোটে জনগণের স্পষ্ট মতামত থাকা সত্ত্বেও সরকার সে রায়ের অঙ্গীকার কখনোই মানেনি। সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করার দায়িত্ব থাকলেও বা তারা তা করেনি। তিনি আরো বলেন, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটের পক্ষে মত ব্যক্ত করায় সকল রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ হয়ে সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়নের প্রত্যাশা করছিল। কিন্তু সরকারের গঠন وبعد কাজের মধ্যে সেই প্রতিশ্রুতি থেকে বিচ্যুত হয়েছে। গণভোটের রায় বাস্তবায়নের বদলে সেটাকে কখনো ‘‘প্রতারণার দলিল’’, কখনো ‘‘অসাংবিধানিক’’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

    আখতার হোসেন সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তনের জন্য একটি উচ্চতর কাঠামোর প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করে বলেন, এ জন্য সংবিধান সংস্কার পরিষদের ধারণা এসেছে, যা আগে কোনো দলই প্রত্যাখ্যান করেনি। ব্যাংক খাতের বিষয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, দেশের বিশাল অঙ্কের টাকা লুটপাটকারীদের জন্য খুব কম অর্থ ফিরিয়ে দিয়ে মালিকানা ফিরে পাবার সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ লুটপাটের পথ সুগম করবে।

    সারোয়ার তুষার জানিয়েছেন, রোববার দিনব্যাপী জ্বালানি, অর্থনীতি, মানবাধিকার ও গণভোট বিষয়ক জাতীয় কনভেনশন অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে বিভিন্ন সেশনে এনসিপি নেতাদের সঙ্গে সঙ্গে গণমানুষের প্রতিনিধি, অর্থনীতিবিদ, সমাজবিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ ও আইনজীবীরাও অংশ নেবেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দলের যুগ্ম-আহবায়ক মনিরা শারমিনসহ অন্যান্য নেতারা।

  • সংস্কার নিয়ে সরকারের প্রতারণা ও বাধ্যবাধকতা প্রয়োজন

    সংস্কার নিয়ে সরকারের প্রতারণা ও বাধ্যবাধকতা প্রয়োজন

    সংস্কার বিষয়ক প্রতিশ্রুতিতে বিএনপি সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। নির্বাচনের আগে তারা যা কিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তার অনেকটিই এখন মুখে বলে এড়িয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে যদি সরকারকে যথাযথভাবে বাধ্য না করা হয়, তাহলে তারা কর্তৃত্ববাদী শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করবে। রোববার (৩ মে) রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের মুক্তিযোদ্ধা হলে অনুষ্ঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির আয়োজিত ‘জ্বালানি, অর্থনীতি, মানবাধিকার, সংস্কার ও গণভোট’ শীর্ষক জাতীয় কনভেনশনে এসব কথা উল্লেখ করেন বক্তারা। অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী সেশনে সভাপতিত্ব করেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন এ সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির সহ-প্রধান সারোয়ার তুষার। প্যানেলিস্ট হিসেবে আলোচনা করেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক হান্নান মাসউদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী ও সমাজবিজ্ঞানী মির্জা হাসান। হান্নান মাসউদ বলেন, সংসদের প্রথম অধিবেশনের পর থেকেই আমি বলেছি, এটি এক ধরনের প্রতারণামূলক সংসদ। আমি কেন এসেছি এবং কী পেলাম? যেসব অধ্যাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য আইন করা হয়েছে, সেগুলোর বিচারবিভাগীয় ও সংসদীয় জোরালো সংশোধনী কার্যকর করা হয়নি। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ভোট চুরি করে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অপসারণে একটি বিশেষ মুহূর্তে অন্তর্বর্তী সরকার একটি অধ্যাদেশ জারি করেছিল, যা পরে সরকার আইন হিসেবে পরিণত করেছে। এর মাধ্যমে তারা স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিদের অপসারণ ও নির্বাচনপদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছে, যা বিরোধীদলের কাউকেই অপসরণ ও প্রতিযোগিতায় বাধা দেয়। এনসিপির এই নেতা আরও বলেন, যদিও আমাদের মধ্যে কিছু মতভেদ রয়েছে, তবে বিএনপির প্রস্তাবনায় পুলিশ কমিশন তৈরি হয়েছে। তবে সরকারে গেলে তারা উদ্ভূত বিষয়ে সেটিকে প্রত্যাখ্যান করে গুম কমিশন বাতিল করেছে। সংবিধান সংশোধনের বিষয়েও বিএনপি সরে গেছে, ফলে আমাদেরও পুনরায় নতুন সংবিধানের দাবি করতে হচ্ছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী উল্লেখ করেন, ১৯৯১ সালে রাজনৈতিক দলগুলো সম্মিলিতভাবে যেসব সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছিল, তা বিএনপির সরকার ক্ষমতায় আসার পরবর্তী সময়ে কেউ বাস্তবায়ন করেনি। ২৪ এর অভ্যুত্থানের পর ফলাফল এটি, যারা প্রথম থেকেই ক্ষমতা নিতে চেয়েছিল, তারা বাংলাদেশের স্বপ্নকে ভঙ্গ করেছে। দেশের এলিট শ্রেণি, সিভিল বান্ডিল ও সামরিক-বুরোক্রেসি ক্ষমতা থেকে ছুঁড়ে ফেলতে চায় না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ যদি কানাডায় এই ধরনের মিথ্যা বক্তব্য বলতেন, তবেই তার পদত্যাগ বাধ্যতামূলক হতো। সমাজবিজ্ঞানী মির্জা হাসান বলেন, জুলাই সনদ বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা মূলত রাষ্ট্রের তিন অঙ্গের ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা সংক্রান্ত। সাংবিধান সংস্কার কমিটির প্রথম দিকে অনেক র‍্যাডিকেল ভাবনা ছিল, যেখানে প্রধানমন্ত্রী ও দলের প্রধান এক ব্যক্তি হতে পারবেন না। তবে বিএনপির চাপের কারণে কিছু বিষয় এড়ানো হয়েছে। এরপরও কিছু বড় অর্জন রক্ষা পেয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়ন হলে দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতো। এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, বিএনপি সরকার কোনো সংস্কার করতে চায় না। বহুদিন থেকে তারা মনে করে, তাদের সুবিধার জন্য অনেক কিছু করতে পারে, তবে এখন স্পষ্ট হয়েছে, তারা আর কখনো তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। তারা তাদের নির্বাচনি ইশতেহার ও দলীয় ঘোষণা অনুযায়ী সংস্কার করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, পার্লামেন্টের মাধ্যমে সংশোধনী ও সংস্কার কার্যক্রম থেকে সরে এসেছে। দলের নেতা ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি বিভিন্ন পদে দলীয় ব্যক্তি বসানোর জন্য তারা সংবিধানের মূল কাঠামোকে লঙ্ঘন করতে দ্বিধা করছে না। সভা শেষে আখতার হোসেন বলেন, বিএনপি ক্ষমতা আরও নৈকট্য করতে চাইছে, তারা সংস্কারে অরুচি দেখাচ্ছে। তাদের নেতারা নেট অব ডিসেন্টের কথা বললেও, আসলে সবাই মূল দিকের ব্যাপারে একমত। গণভোট শেষে তাদের আপত্তিগুলোও প্রাধান্য পায়নি। তিনি আরও বলেন, চারটি প্রশ্নে তাদের আপত্তি থাকলেও, গণভোটের বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল যে, উচ্চকক্ষ হবে ভোটের পিআর অনুযায়ী, তত্ত্বাবধায়ক সরকার থাকবে নতুন ফর্মুলা অনুযায়ী, এবং সংশ্লিষ্ট নিয়োগগুলো হবে একটি নিরপেক্ষ বোর্ডের মাধ্যমে। এসব বিষয়ের ওপর আমাদের সব পক্ষ একমত ছিল। তবে কিছু বিষয় রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহার অনুযায়ী সম্পন্ন করার ছিল। আলোচনা শেষে মনিরা শারমিন এই বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রন করেন।

  • খুলনায় অভিভাবকহীন ছাত্রদল, সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থবির: নেতৃত্বে লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন পদপ্রত্যাশীরা

    খুলনায় অভিভাবকহীন ছাত্রদল, সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থবির: নেতৃত্বে লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন পদপ্রত্যাশীরা

    খুলনায় বর্তমানে ছাত্রদল অব্যাহত অস্থিতিশীলতা দ্বারা কবলিত এবং কার্যত অভিভাবকহীন অবস্থায় রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে মহানগর ও জেলা ছাত্রদলের কোন কার্যকরী কমিটি না থাকায় সংগঠনের মূল কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। তবে ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পরে কিছুটা চাঞ্চল্য সৃষ্টি হলেও, নেতাকর্মীরা এখনো চূড়ান্ত নেতৃত্বের জন্য অপেক্ষায় রয়েছেন। খুলনায় ছাত্রদলের নেতৃত্বের দৌড়ে অনেকজন নেতা আলোচনায় আসছেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুলের উপর এর সর্বাধিক নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে খুলনার ছাত্রদলের ভবিষ্যৎ, কারণ তিনি এই আসনের সংসদ সদস্য এবং জাতীয় সংসদে হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

    প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২১ সালের ২৪ মার্চ ইশতিয়াক আহমেদ ইস্তিকিকে আহবায়ক ও তাজিম বিশ্বাসকে সদস্য সচিব করে খুলনা মহানগর ছাত্রদলের কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এই কমিটি ১৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ৫টি থানায়, ও মহানগরের ৩১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৫টিতে নতুন কমিটি গঠনের মাধ্যমে সংগঠনের ভিতকে সুসংগঠিত করার চেষ্টা চালায়। তবে তিন বছরের মাথায়, অর্থাৎ ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর, ওই কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। এদিকে, জেলা ছাত্রদলের চিত্র আরও দীর্ঘসূত্রিতাপূর্ণ। ২০১৬ সালের ১৩ অক্টোবর মান্নান মিস্ত্রীকে সভাপতি ও গোলাম মোস্তফা তুহিনকে সাধারণ সম্পাদক করে গঠিত কমিটি আট বছর দায়িত্ব পালন করেছে। এই সময়ে তারা জেলার ৩১টি স্কুল-কলেজসহ আশপাশের ৯টি থানায় ইউনিট কমিটি গঠন করেছিল। মহানগর ও জেলা কমিটিগুলোর একই দিনে, অর্থাৎ ২০২٤ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর, বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

    বর্তমানে, ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর কেন্দ্রীয় ছাত্রদল মেয়াদোত্তীর্ণতার কারণে খুলনা মহানগর ও জেলা ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত করা হলেও, স্থানীয় পর্যায়ে সংগঠনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন ইউনিট কমিটিগুলো। তবে শীর্ষ নেতৃত্ব বা অভিভাবকের অভাবে সংগঠনটি কার্যত নেতৃত্বহীন হয়ে পড়েছে। একান্তই নতুন নেতৃত্ব গঠন ও সংগঠনের পুনর্গঠনের জন্য ব্যাপক তদন্ত ও যাচাই-বাছাই চালানো হচ্ছে। এর তদারকি করছেন বিএনপি কেন্দ্রীয় ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল।

    মহানগর ছাত্রদলের শীর্ষ পদে আলোচনা চলছে বিভিন্ন সাবেক নেতা কর্মীর মধ্যে। তাঁদের মধ্যে আছেন সাবেক সদস্য সচিব তাজিম বিশ্বাস, আরিফুল ইসলাম আরিফ, হেদায়েত উল্লাহ দিপু, মোঃ শাকিল আহমেদ, মাজহারুল ইসলাম রাসেল, আব্দুল হক শাহিন, হাসান ফকির, সৈয়দ ইমরান, নাজিম উল্লাহ ভূঁইয়া, রাজু আহমেদ, আব্দুস সালাম, রাশিউর রহমান রুবেল, রাজিবুল ইসলাম বাপ্পি, নাজমুল ইসলাম এবং মুশফিকুর রহমান অবি। অন্যদিকে, জেলা ছাত্রদলের নেতৃত্বে আসার জন্য আলোচনা চলছে গাজী শহিদুল, মাসুম বিল্লাহ, মশিউর রহমান শফিক, ফিরোজ আহমেদ আদল, অনিক আহমেদ, ইয়ামিন ইসলাম, ইসমাইল হোসেন খান, আবু জাফর ও ইমতিয়াজ সুজনের মধ্যে।

    জেলার এক সাবেক নেতা অনিক আহমেদ বলেন, মামলার বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে নতুন কমিটি গঠন করলে প্রকৃত নেতা ও ত্যাগী কর্মীরা নেতৃত্বে আসবে। তাজিম বিশ্বাস উল্লেখ করেন, ছাত্রদল বিএনপির একটি গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী সংগঠন হলেও এটি দলের প্রাণশক্তি। ছাত্রদলের মাধ্যমে নতুন কর্মীরা দলে প্রবেশ করে এবং বর্তমান সংসদে অধিকাংশ মন্ত্রী ও এমপিরাও ছাত্রনেতা। তাঁর মতে, দলের উন্নয়ন ও গতিশীলতা বজায় রাখতে দ্রুত নতুন কমিটি প্রয়োজন।

  • ১০ মে থেকে ঘোষণা করবে এনসিপি উপজেলা ও পৌরসভার প্রার্থীরা

    ১০ মে থেকে ঘোষণা করবে এনসিপি উপজেলা ও পৌরসভার প্রার্থীরা

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, তারা ৩০ এপ্রিলের মধ্যে মোট ১০০টির বেশি উপজেলা ও পৌরসভার জন্য উপজেলা চেয়ারম্যান ও মেয়র পদপ্রার্থী ঘোষণা করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে ব্যক্তিগত ও সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কিছু সমস্যা বা জটিলতার কারণে সেই সময়সূচী পরিবর্তন করতে হয়েছে।

    তিনি আরও জানান, তারা আশাবাদী আগামী ১০ মে’র মধ্যে প্রথম ধাপে তাদের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করতে পারবেন। আজ (৫ মে) মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলামোটর রূপায়ন টাওয়ারের দলীয় কার্যালয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নাগরিক, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে এই ঘোষণা দেন তিনি।

    সারজিস আলম বলেন, এ মাসের মধ্যেই তারা সিটি কর্পোরেশনসহ সাতটি মহানগরে তাদের সমর্থিত মেয়র প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করবে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে তারা একটি ১১ দলীয় জোটের অংশ; বিরোধী এই জোটের একটির ওপর ভিত্তি করে তারা রাজনীতি করছে। পাশাপাশি, সংগঠনের শক্তি বৃদ্ধি ও স্বতন্ত্রভাবে আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে অংশ নেওয়ার জন্য তারা প্রতিযোগিতামূলকভাবে প্রার্থী ঘোষণা করছে।

    অতএব, তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন, বিএনপি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নানা টালবাহানা করছে। তারা ২০২৭ সালের ডিসেম্বরে নির্বাচন ফেরাতে পরিকল্পনা করছে—এমন খবরও তিনি শোনেছেন। এর পাশাপাশি, বিএনপি ইতোমধ্যেই বিভিন্ন জেলা ও মহানগরীর প্রশাসন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

    সারজিস আলম বলেন, বর্তমানে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে পদপ্রার্থী নেই। তারা ক্ষমতা গ্রাস করতে ক্ষমতাসীনদের মতোই প্রতিযোগিতা চালাতে চাইছে, এমনকি উপজেলা পরিষদ বিলুপ্ত করার পরিকল্পনাও শোনা যাচ্ছে। এই ধরনের ক্ষমতা কেন্দ্রীকরণ বা ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করার প্রক্রিয়া বিপরীত ফলাফল ডেকে আনতে পারে। তাই তিনি urges করেন, এই বছরের মধ্যেই সিটি, উপজেলা ও পৌরসভার নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।

  • নিজামী পুত্রসহ ঐতিহ্যবাহী ব্যক্তিরা এনসিপিতে যোগ দিলেন

    নিজামী পুত্রসহ ঐতিহ্যবাহী ব্যক্তিরা এনসিপিতে যোগ দিলেন

    জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামীর ছোট ছেলে ড. মোহাম্মদ নাদিমুর রহমান, হাজী শরীয়তুল্লাহর বংশধর ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হোসাইন, গাজীপুরের অধ্যাপক এম এ এইচ আরিফ এবং ওয়ারিয়র্স অব জুলাই দলের প্রায় চার হাজার সদস্য। মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলামোটরে রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগ দেন।

    সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মোহাম্মদ নাদিমুর রহমান বর্তমানে তুরস্কের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত থাকায় সশরীরে উপস্থিত হতে পারেননি, তবে অনলাইনে যুক্ত ছিলেন। ওয়ারিয়র্স অব জুলাইয়ের সদস্যরা এই কাজে অংশ নিয়েছেন বলে দাবি করা হয়। তবে সকল সদস্য এই সময় উপস্থিত ছিলেন না; জানা যায়, ওয়ারিয়র্স অব জুলাইয়ের প্রায় ৫০ সদস্য এই অনুষ্ঠানে ছিলেন।

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন হাজী শরীয়তুল্লাহর বংশধর আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হোসাইন, তিনি বলেন, ‘হাজী শরীয়তুল্লাহর উত্তরসূরি হওয়ার পরেও আমি এনসিপিতে একজন কর্মী হয়ে কাজ করব।’ তিনি আরো বলেন, ‘হাজী শরীয়তুল্লাহ কোনো রাজা ছিলেন না, তিনি এ দেশের সাধারণ কৃষক জনগণের নেতা। নেতা আর রাজা হওয়ার মাঝে পার্থক্য রয়েছে। আমরা কোনো নেতার ইবাদত করি না। দল করি এই জন্য, যাতে আমাদের নেতা যদি বিপথে চলে যায়, আমরা তাদের ফিরিয়ে আনতে পারি। আমরা দল করি মাত্র, যেন ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে আমি সেঠে ন্যায়ের পক্ষ নিতে পারি, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারি।’

    এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ বলেন, দেশের হারানো পথ ফিরে পেতে এনসিপি কাজ করে যাবে। সংসদে প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতার জন্য বিএনপির সমালোচনা করে তিনি জানান, এর ফল ভালো হবে না। তিনি দ্রুত গণভোটের রায় বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

    দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সমালোচনা করে বলেন, স্থানীয় সরকার কেন্দ্রগুলোকে তারা নিজেরা ভাগ-বাটোয়ারায় নিয়ে লুটপাটের চেক্টর বানানোর চেষ্টা করছে। তিনি দাবি করেন, এ বছরের মধ্যেই সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচনের ব্যবস্থা নিতে হবে।

    দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া অভিযোগ করেন, ‘বর্তমান সরকার জাতির সঙ্গে প্রতারণা করছে এবং সেটা তারা গর্বের সাথে সংসদে জানিয়েছেন। এটাই আমাদের জন্য লজ্জাজনক। অতীতে যারা এভাবে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে, তারাই জনগণের দ্বারা ক্ষিপ্ত হয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘হোসাইন মুহাম্মদ এরশাদ সারা দেশে প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করতেন, আর তারেক রহমান সেই পথেই এগোচ্ছেন। তারা বারবার গণতন্ত্রকে নিজেদের স্বার্থের জন্য ব্যবহার করেছেন।’

    নতুন যোগদানকারীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয় অনুষ্ঠানে।