রাজ্যপাল এস এন রবি বৃহস্পতিবার (৭ মে) পশ্চিমবঙ্গের সপ্তদশ বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা করেছেন। সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভারতের সংবিধানের ১৭৪(২)(খ) ধারার ক্ষমতাবলে এই বিধি গ্রহণ করা হয়েছে এবং ৭ মে থেকেই বিধানসভা বিলুপ্ত করা হলো। এ ঘোষণার মধ্য দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রায় টানা ১৫ বছরের শাসনকালের অধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ বলে ধরা হচ্ছে।
মমতা প্রথমবার ২০১১ সালে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হন এবং তার নেতৃত্বে তিন কার্যকালের জন্য পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসন পরিচালিত হয়েছে। চলতি নির্বাচনের ফলাফল ও বিধানসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রেক্ষাপটে বিধানসভা ভেঙে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ঘোষণার ফলে সাংবিধানিকভাবে মমতার মুখ্যমন্ত্রিত্বের মেয়াদও কার্যত শেষ হিসেবে গণ্য হবে।
নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফল ৪ মে ঘোষণা হওয়ার পর ২৯৪ আসনের মধ্যে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ২০০টির বেশি আসনে জয়ের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো রাজ্যে সরকার গঠনের পথে এগিয়ে এসেছে। রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে বিজেপির এই উত্থানকে দেশের রাজনীতি সম্পর্কেও একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ফল প্রকাশের পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজভবনে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ না করায় নেতা-অঙ্গনে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা চলছিল। বিধানসভা বিলুপ্তির পরে সে অনিশ্চয়তা দূর হয়েছে এবং এখন নতুন মন্ত্রিসভা গঠন ও নতুন মুখ্যমন্ত্রীর নির্বাচনসহ সরকার গঠন প্রক্রিয়া শুরু হবে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, আগামী ৯ মে — রবীন্দ্র জয়ন্তী — বিজেপির নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান হতে পারে এবং কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্ব ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্নের প্রস্তুতি শুরু করেছেন।
এরই মধ্যে রাজ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথের হত্যা ঘটনার পর রাজ্যজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ অভিযুক্ত সন্দেহে তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে এবং তদন্তকারীরা সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে ঘটনার রহস্য উন্মোচনে তৎপর রয়েছেন। চন্দ্রনাথকে মধ্যরাতে কলকাতা ফিরার পথে মধ্যমগ্রামের দোহারিয়ায় গুলি করে হতাহত করা হয়েছে; ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন, গাড়িচালক বুদ্ধদেব বেরা আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
ঘটনার পরে রাজ্যজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তদন্তকারীরা হত্যা মামলার পেছনে উদ্দেশ্য ও দায়ীদের খোঁজ করছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বিজেপি তৃণমূল কংগ্রেসকে দায়ের আঙুল তুলেছে; তৃণমূল বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে এবং হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে কথা বলছে। একই সঙ্গে তারা নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার সব ঘটনায় নিরপেক্ষ ও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন।
রাজ্যের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে এখন সরকারের রূপান্তর ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণই প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নতুন মন্ত্রিসভা গঠন ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের পরবর্তী ধারা কেমন হবে, তা সামনের জেলায় স্পষ্ট হবে।








