Blog

  • ঈদুল আজহায় ৭ দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা

    ঈদুল আজহায় ৭ দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা

    আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকার ৭ দিনের দীর্ঘ ছুটির অনুমোদন দিয়েছে। এই ছুটির মধ্যে ঈদের দিনসহ পুরো সপ্তাহে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেড়াতে যেতে পারবেন। তবে ঈদের আগে অর্থাৎ ২৩ ও ২৪ মে যথারীতি অফিস খোলা থাকবে। এই সিদ্ধান্ত গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে নেওয়া হয়। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

    বিজ্ঞপ্তির মধ্যে জানানো হয়েছে, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে আগামী ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সরকারি ছুটি থাকবে। তবে এর আগে ২৩ ও ২৪ মে (শনিবার ও রবিবার) সরকারি দপ্তরগুলো স্বাভাবিকভাবে খোলা থাকবে।

    অপরদিকে, মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘জাতীয় পাবলিক টয়লেট নীতিমালা ২০২৬’-এর খসড়াও অনুমোদন নেওয়া হয়েছে। এই নীতির উদ্যোগে মাঠে কাজ করবেন স্থানীয় সরকার বিভাগ।

    সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই নীতিমালার মূল লক্ষ্য হলো পাবলিক টয়লেট ব্যবহারে সচেতনতা বাড়ানো, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা। দেশের সকল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসম্মত ও মানসম্পন্ন পাবলিক টয়লেট সুবিধার ব্যবস্থা করে জনস্বাস্থ্য উন্নত করা, বিশেষ করে নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী, বয়স্ক এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সুবিধাজনক ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। এছাড়াও, দীর্ঘমেয়াদী কার্যকারিতা ও স্থায়িত্বের জন্য কার্যকর ব্যবস্থাপনা ও অর্থায়ন প্রক্রিয়া গড়ে তুলবে। ভবিষ্যতেও নীতিমালা বাস্তবায়নের পর্যবেক্ষণ, মূল্যায়ন ও প্রয়োজন অনুযায়ী আপডেটের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তুলতে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কাজ করবে। পাশাপাশি, উন্নয়ন প্রকল্পে নারীদের জন্য পৃথক টয়লেট নির্মাণের ব্যবস্থা রাখতে বলা হয়েছে। সব ধরনের টয়লেটের বর্জ্য সংরক্ষণে সেফটি ট্যাংক নির্মাণের বাধ্যবাধকতা থাকবে, যাতে কোনোভাবেই বর্জ্য নদী, খাল বা জলাশয়ে ফেলে পানি দূষণ না ঘটে।

    জনসচেতনতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের জন্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আলাদভাবে কাজ করবে। সড়ক ও মহাসড়ক এলাকায় সড়ক পরিবহণ বিভাগ ও স্থানীয় الحكومة সমন্বিতভাবে নারীর এবং পুরুষের জন্য পৃথক পাবলিক টয়লেট নির্মাণের পরিকল্পনা নেবে। এই সব প্রক্রিয়া সফলভাবে বাস্তবায়নে সময়োপযোগী কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো উদ্যোগ নেবে।

    সব কিছু বিবেচনায় এনে এই নীতিমালার খসড়া সরকারের অনুমোদন লাভ করেছে, এবং এটি ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

  • চট্টগ্রামে সন্ত্রাসীদের গুলিতে যুবক নিহত, শিশুর চোখে গুলি

    চট্টগ্রামে সন্ত্রাসীদের গুলিতে যুবক নিহত, শিশুর চোখে গুলি

    চট্টগ্রামের রৌফাবাদ কলোনিতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে একজন যুবক নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন এক শিশু, যার চোখেও গুলি লেগেছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাত ১১টার দিকে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন রৌফাবাদ কলোনির শহীদ মিনার গলি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত রাজু (২৪) রাউজান উপজেলার বাসিন্দা। জানা গেছে, তিনি ওই এলাকার একটি বোনের বাসায় বেড়াতে এসেছিলেন। অন্যদিকে, আহত শিশু রেশমি আক্তার ১১ বছর বয়সী, যিনি রৌফাবাদ কলোনির রিয়াজ আহমেদ ও সাবেরা বেগমের সন্তান।

    স্থানীয় ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রাতে শিশু রেশমি আক্তার তার বাসার পাশের একটি দোকানে ছিল। একই সময়ে রাজু তার বোনের বাসার দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় একটি দল সন্ত্রাসী হঠাৎ করে এলাকার মধ্যে গুলি চালাতে শুরু করে। তারই ছোঁড়া একটি গুলি রেশমির চোখে বিদ্ধ হয়, পরে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। একই ঘটনায় রাজুও গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন।

    আহত রাজু ও রেশমিকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক রাজুকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত রেশমিকে প্রথমে ২ নম্বর ওয়ার্ডে রাখা হয়, পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের চক্ষু বিভাগের মধ্যে পাঠানো হয়।

    রাজুর বড় বোন রুমা আক্তার বলেন, ‘আমার ভাই চার দিন আগে এখানে বেড়াতে এসেছিল। কেন তাকে এভাবে হত্যা করা হলো?’

    চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম আশেক বলেন, ‘গুরুতর গুলিবিদ্ধ এক শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং একজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। তবে কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত বা গুলি চালানোর কারণ এখনও স্পষ্ট নয়।’

    মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ফয়সাল আহমেদ বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তের মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে।’

  • শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড: দীপু মনির, বাবু ও রূপার ভূমিকা খতিয়ে দেখছেন প্রসিকিউশন

    শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড: দীপু মনির, বাবু ও রূপার ভূমিকা খতিয়ে দেখছেন প্রসিকিউশন

    ঢাকার মতিঝিলের শাপলা চত্বরের ঘটনায় হত্যার মামলায় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি, সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু এবং ফারজানা রূপার ভূমিকা খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি মোঃ আমিনুল ইসলাম। তিনি জানিয়েছেন, প্রসিকিউশন এই ঘটনায় বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, বরং এটি একটি পরিকল্পিত অপরাধ, অর্থাৎ ‘সিস্টেমেটিক ক্রাইম’ হিসেবে বিবেচনা করছে।

    বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনালের আপোষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। আমিনুল ইসলাম বলেন, “শাপলা চত্বরের ঘটনার যাতে ভিন্ন দৃষ্টিকোণে আনা যায়, সে জন্য এই ব্যক্তিদের সুনির্দিষ্ট ও পরিকল্পিত ভ‚মিকা ছিল বলে ধারণা করছি। ফলে, আগামী দিনে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ট্রাইব্যুনাল তাদের প্রোডাকশনের নির্দেশনা চাইতে পারে এবং প্রয়োজনে তাদের গ্রেফতারও করা হতে পারে।”

    প্রসিকিউশন অফিস জানায়, এদিন সকালেই হেফাজতে ইসলামের এক প্রতিনিধি দল ট্রাইব্যুনালে গিয়ে প্রধান কৌঁসুলির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজ নেন। এই সময় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে তাদের কাছে অতিরিক্ত তথ্য ও নিহতদের পরিবারের খোঁজ নেওয়া হয়।

    শ Aptলা চত্বরে ঘটনা তদন্তে একাত্তর টেলিভিশনে প্রচারিত ‘সমীকরণ’ শীর্ষক প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ টেনে আনেন প্রধান কৌঁসুলি। তিনি বলেন, “সারাদেশের মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করা ওই ঘটনার ভিন্ন খাতে নিতে সাংবাদিক ফারজানা রূপা কিছু বিতর্কিত বক্তব্য নিয়ে একটি রিপোর্ট তৈরি করেন এবং পুরো বিষয়টিকে বিভ্রান্ত করে দেন। এছাড়া, একাত্তর টেলিভিশন, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রূপার ভূমিকা এই মামলার স্বার্থে গভীরভাবে তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।”

    আমিনুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন, “তারা পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করেছেন। তাদের এই রিপোর্টের সত্যতা প্রায় নেই বললেই চলে, তারা শুধুমাত্র বিতর্কিত ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। এই সমস্ত কাজ দেশের বৃহৎ তদন্তের স্বার্থে খুব জরুরি।”

    সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনির ব্যাপারে তিনি জানান, “দীপু মনি তার একান্ত সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনার বক্তব্যের একই প্রতিধ্বনি করেছেন। তিনি বলেছিলেন, ‘তারা (হেফাজতকারীরা) রঙের কাপড়ে শুয়ে ছিল, পুলিশ আসার সময় দৌড় দিয়েছে।’ বিদেশী সাংবাদিকদের সঙ্গে এই অদ্ভুত ইন্টারভিউ দিয়ে তিনি ঘটনাটিকে ভিন্ন দিক থেকে উপস্থাপন করেছেন, যা ভাবনায় আনে যে, এই পরিকল্পিত কাজের সঙ্গে তারও সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে।”

    আসছে পরিস্থিতিতে, তিনজনই প্রোডাকশনের জন্য ডাকা হবে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, “তাদেরকে হয়তো ভবিষ্যতে যথাযথ প্রক্রিয়ায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে এবং এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হতে পারে। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

    একজন সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে প্রধান কৌঁসুলি বলেন, “ঘটনার পরদিনই তারা যে অনুসন্ধানী রিপোর্ট প্রকাশ করে, তার মূল উদ্দেশ্য কী ছিল? তারা বলছে, হতাহতের ঘটনা ঘটেল না। তারা বেনজীর (সাবেক আইজিপি), যুবলীগ ও ছাত্রলীগের মাধ্যমে বলিয়েছে, সেখানে কোনো হতাহত হয়নি। শেখ হাসিনাও পার্লামেন্টে এই দাবি করেছেন।”

    তিনি আরো যোগ করেন, “আমাদের সন্দেহ, এই পরিকল্পনার আগে থেকেই তারা এই ধরনের বিভ্রান্তিমূলক বিবৃতি দিচ্ছিল। এটি এক ধরনের যৌথ অপরাধ, যেখানে সবাই যোগসাজশে হেফাজতকে বিতর্কিত করে তোলার জন্য কাজ করেছে।”

    শাপলা চত্বরের অভিযানে রাতের ইন্টারনেট শাটডাউন ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নের বিষয়েও তিনি জানান, “এই বিষয়গুলো আমরা তদন্ত করছি, যারা সেই রাতে ব্ল্যাকআউটের সঙ্গে জড়িত তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”

    ওই রাতেই দিগন্ত টিভি ও ইসলামিক টিভি বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনা পর পরই মূল পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এছাড়া, পুলিশ কর্মকর্তারা এই ঘটনায় জড়িত কি-না, তা তদন্তের মধ্যে রয়েছে।

    প্রশ্নের জবাবে, লাশ গুমের বিষয়ে তিনি বলেন, “আমাদের তদন্ত চলছে। আরও কিছু তদন্তের জন্য অপেক্ষা করুন, সব কিছু জানানো হবে।” এছাড়া, এই মামলার পরবর্তী তারিখ ৭ জুন নির্ধারিত রয়েছে বলে জানানো হয়।

  • শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ বাজিয়ে ইমির কারামুক্তি

    শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ বাজিয়ে ইমির কারামুক্তি

    গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় মুক্তি পেয়েছেন শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি। বৃহস্পতিবার বিকেল সোয়া ৩টার দিকে তিনি জামিনে মুক্তি পান। কারাগারটির জেল সুপার কাওয়ালিন নাহার জানান, আজ সকালে জামিনপত্র পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে তা যাচাই-বাছাই শেষে নিশ্চিত হয় যে, তিনি অন্য কোনো মামলায় আটকানো নেই। এর ফলে তাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়।
    শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হলের সাবেক ভিপি। গত ৩০ এপ্রিল তিনি জামিনের জন্য আবেদন করেছিলেন, যা বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি করে আদেশ দেন।
    সম্প্রতি, দুই মাস আগে, শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি রাজধানীর শাহবাগের সামনে তাঁর হাতে মুক্তিযুদ্ধের সংগীতের অংশবিশেষ বাজিয়ে শিশু সমাজের জন্য একটি বার্তা দিতে চেয়েছিলেন। সেই সময় তার সঙ্গে ছিলেন আরও কিছু তরুণ। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে, তাকে শাহবাগ থানা পুলিশে সোপর্দ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের এবং সাহিত্য সম্পাদক মুহাম্মদ মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ। এরপর, পরদিন তাকে, আসিফ আহমেদ ও মামুনসহ অজ্ঞাত ২০ থেকে ৩০ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়।

  • অবৈধ হজে গেলে জরিমানা ও সর্বোচ্চ ১০ বছরের নিষেধাজ্ঞা ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সতর্কতা

    অবৈধ হজে গেলে জরিমানা ও সর্বোচ্চ ১০ বছরের নিষেধাজ্ঞা ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সতর্কতা

    অনুমতি ছাড়া হজ পালন বা হজের চেষ্টা করলে শাস্তিস্বরূপ সর্বোচ্চ ২০ হাজার সৌদি রিয়াল জরিমানা আরোপের নির্দেশ দিয়েছে সৌদি আরব। পাশাপাশি, বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে এটি ছাড়া বহিষ্কার এবং ১০ বছর পর্যন্ত সৌদি আরবে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা বিবেচনা করা হতে পারে। এই কঠোর নিয়মগুলো কার্যকর করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ, যাতে হজের অপ্রয়োজনীয় ভীড় নিয়ন্ত্রণ ও হাজিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। এই পরিস্থিতিতে, বাংলাদেশ সরকারের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় সব হাজির জন্য নির্ধারিত হজবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সতর্কতা জানানো হয়। এতে বলা হয়, বৈধ হজ পারমিট ছাড়া হজ পালন বা এর জন্য চাপ দেওয়া বা সহযোগিতা দেওয়া সবই অবৈধ এবং এর জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অবৈধ হজের সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে যেমন ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তেমনি পরিবহন, আবাসন বা অন্য কোনভাবে অবৈধ হাজিদের সাহায্য করলে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সর্বোচ্চ এক লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানা দিতে হতে পারে। এই জরিমানা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে ট্রাভেল এজেন্সি, আবাসন সেবা প্রদানকারী, যানবাহনের মালিক এবং অবৈধ হাজির আশ্রয়দাতাদেরও দায়িত্ব এনেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। এ ধরনের যানবাহনও আইনানুগ ব্যবস্থা শেষে জব্দ হতে পারে। সৌদি আরবের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, শুধুমাত্র অনুমোদিত হজ পারমিটধারীরাই মক্কা ও অন্যান্য পবিত্র স্থানসমূহে যেতে পারবেন। এই নিয়মটি জিলকদ মাসের প্রথম থেকে জিলহজের ১৪ তারিখ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। ভিজিট ভিসাধারীরা এই সময়কালে বৈধ অনুমোদন ছাড়াই মক্কার প্রবেশ বা অবস্থান করতে পারবে না। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সব নাগরিক, বাসিন্দা ও ভিসাধারীর জন্য এই নিয়ম কঠোরভাবে মানতে অনুরোধ জানিয়েছে। সাথে সাথে, আইন লঙ্ঘনের তথ্য অবশ্যই নির্ধারিত জরুরি নম্বরে জানাতে বলা হয়েছে। প্রধান অঞ্চলগুলোতে ৯১১ নম্বরে এবং অন্যান্য অঞ্চলে ৯৯৯ নম্বরে অভিযোগ জানানো যাবে। এ বিষয়ে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইতোমধ্যে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো অভিযান শুরু করেছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া হজ পারমিটের প্রচার চালানোর অভিযোগে মক্কায় একজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে।

  • পবিত্র ঈদুল আজহার জন্য ২৫ মে থেকে ৩১ মে টানা সাত দিন সরকারি ছুটি

    পবিত্র ঈদুল আজহার জন্য ২৫ মে থেকে ৩১ মে টানা সাত দিন সরকারি ছুটি

    মন্ত্রিসভা আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার কারণে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য টানা সাত দিনের ছুটি অনুমোদন করেছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই ছুটির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়—মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সরকারি ছুটি থাকবে। তবে ঈদকে সামনে রেখে ২৩ ও ২৪ মে (শনি ও রোববার) অফিস খোলা থাকবে।

    একই বৈঠকে ‘জাতীয় পাবলিক টয়লেট নীতিমালা ২০২৬’ এর খসড়া অনুমোদন করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগ এই নীতিমালার উদ্যোগী।

    নীতিমালার মূল উদ্দেশ্যগুলো হলো: জনসাধারণের মধ্যে পাবলিক টয়লেট ব্যবহার, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা; সারাদেশে স্বাস্থ্যসম্মত ও মানসম্মত পাবলিক টয়লেট সহজলভ্য করা; নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী, প্রবীণ এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ব্যবহারবান্ধব সুবিধা নিশ্চিত করা; টয়লেট ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা বজায় রাখতে কার্যকর ব্যবস্থাপনা ও অর্থায়ন ব্যবস্থা গড়ে তোলা; এবং বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ, মূল্যায়ন করে প্রয়োজনে নীতিমালাটি সময়োপযোগী করা।

    শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ব্যবহারের শিক্ষা জোরদার করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় কার্যক্রম নেবে। ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে নারীদের জন্য পৃথক টয়লেট বাধ্যতামূলক করা হবে। সকল টয়লেটের বর্জ্য সুরক্ষিতভাবে সংরক্ষণের জন্য সেফটি ট্যাংক নির্মাণের নিয়ম প্রণয়ন করা হয়েছে, যাতে কোনো অবস্থাতেই বর্জ্য নদী, খাল-বিল বা অন্য কোনো জলাশয়ে পড়ে পানি দূষণ না ঘটতে পারে।

    সড়ক ও মহাসড়কের উপযুক্ত স্থানে নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক পাবলিক টয়লেট স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণে স্থানীয় সরকার বিভাগ ও সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ সমন্বয় করবে। নীতিমালাটি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগভিত্তিক সময়নির্ধারিত কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হবে।

    এই সব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে ‘জাতীয় পাবলিক টয়লেট নীতিমালা ২০২৬’—এর খসড়া মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদিত হয়েছে।

  • ৭ জুন বাজেট অধিবেশন: সংসদে পেশ হবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট

    ৭ জুন বাজেট অধিবেশন: সংসদে পেশ হবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট

    রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আগামী ৭ জুন (রোববার) বিকেল ৩টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন আহ্বান করেছেন। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭২(১) অনুযায়ী ঢাকার শেরে বাংলা নগরের জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে এই অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে।

    এই অধিবেশনেই প্রধান আকর্ষণ হবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের পেশ ও প্রেক্ষিত আলোচনা—বাজেট পেশ থেকে অনুমোদন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় কার্যক্রম এখানেই সম্পন্ন হবে।

    জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বৃহস্পতিবার (৭ মে) এই তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংসদ সচিবালয় অধিবেশন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার লক্ষ্যে দরকারি সকল প্রস্তুতি শুরু করেছে।

    সংসদ সচিবালয়ের উপসচিব শওকত আকবর স্বাক্ষরিত চিঠিতে বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়কে এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশের অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সংসদ সচিবালয় সংসদ টেলিভিশন, রেডিও, সংবাদপত্র এবং অন্যান্য সংবাদমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি প্রচারের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে।

    প্রতি বছর জুন মাসে বাজেট প্রস্তাবনা এবং ওপর আলোচনা-টর্কের জন্য সংসদ অধিবেশন বসে; তাই এই অধিবেশনকে সাধারণত ‘বাজেট অধিবেশন’ বলা হয়। এবারও অব্যাহত থাকবে বর্তমান সরকারের উন্নয়ন লক্ষ্য ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনা প্রতিফলিত করার লক্ষ্যে বাজেট উপস্থাপন ও সংসদ সদস্যদের বিস্তারিত আলোচনার ধারাবাহিকতা। দেশের অর্থনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে এ অধিবেশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং সারাদেশে এর প্রতি নজর থাকবে।

  • ১০ মে ঘোষণা করবে এনসিপি: উপজেলা চেয়ারম্যান ও মেয়রপ্রার্থীদের তালিকা

    ১০ মে ঘোষণা করবে এনসিপি: উপজেলা চেয়ারম্যান ও মেয়রপ্রার্থীদের তালিকা

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দাবি করেছে, আগামী ১০ মে তাদের প্রাথমিকভাবে সমর্থিত উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়র প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হবে। এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম মঙ্গলবার (০৫ মে) রাজধানীর বাংলামোটর রূপায়ণ টাওয়ারে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত নাগরিক যোগদানের অনুষ্ঠানে এ সংবাদ জানান।

    সারজিস আলম বলেন, আগে পরিকল্পনা ছিল ৩০ এপ্রিলের মধ্যে ১০০টি উপজেলা ও পৌরসভার প্রার্থীদের ঘোষণা করা হবে। তবে ব্যক্তিগত এবং সামগ্রিক কিছু জটিলতার কারণে সময় কিছুটা পিছিয়ে গেছে। এখন তারা আশা করছেন, ১০ মে’er মধ্যে প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করা সম্ভব হবে।

    তিনি আরও জানান, এই মাসের মধ্যেই সাতটি সিটি কর্পোরেশনে এনসিপি সমর্থিত মেয়রপ্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে। বর্তমানে এনসিপি একটি ১১ দলীয় জোটের অংশ; তারা বিরোধী দল হিসেবে সংসদে অবদান রাখছেন। একই সঙ্গে দলটি এককভাবে সাংগঠনিক ও রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী হওয়ার প্রস্তুতিও চালাচ্ছে, তাই স্থানীয় নির্বাচনে নিজস্ব প্রার্থীদের ঘোষণা করা হবে বলে তিনি জানান।

    সারজিস আলম বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তাদের ইচ্ছা স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি টালাশ বলিয়ে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরে নেওয়ার। তিনি আরও বলেন, বিএনপি ইতোমধ্যেই জেলা পরিষদ ও সিটি কর্পোরেশনগুলোর প্রশাসন নিয়ন্ত্রণে এনেছে বলে অভিযোগ করেন।

    তিনি আরো যুক্ত করেন, উপজেলা পর্যায়ে কার্যকর উপজেলা চেয়ারম্যান নেই এবং তারা পূর্বের শাসকদলগুলোর মতো ক্ষমতা সংকুচিত করার চেষ্টা করছে। ‘‘শুনছি তারা উপজেলা পরিষদ বিলুপ্ত করার উদ্যোগ নেয়ার চেষ্টা করছে’’—এমন ষড়যন্ত্রের নাম দিয়ে তিনি সতর্ক করেছেন যে এমন পদক্ষেপ তাদেরই জন্য ক্ষতিকর হবে।

    শেষে সারজিস আলম দরকারীয় আর্জি জানান যে সিটি কর্পোরেশন ও উপজেলা ও পৌরসভা সংক্রান্ত নির্বাচন এ বছরের মধ্যেই সম্পন্ন করা উচিত, যাতে স্থানীয় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত না হয়।

  • সোনার দাম কমল, প্রতি ভরিতে নতুন দাম কত?

    সোনার দাম কমল, প্রতি ভরিতে নতুন দাম কত?

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) দেশের বাজারে সোনার দাম কমানোর ঘোষণা করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এবার প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ২ হাজার ২৫৮ টাকা পর্যন্ত দাম কমানো হয়েছে। নতুন মূল্য মঙ্গলবার (৫ মে) সকাল ১০টা থেকে কার্যকর করা হয়েছে।

    বাজুসের ঘোষণায় সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেট সোনার প্রতিভর দাম নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ ৪০ হাজার ৩৩৭ টাকা। এর আগে সোমবার (৪ মে) এটি ছিল দুই লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা। সংগঠনের ভাষ্য অনুযায়ী তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার দাম কমায় স্থানীয় বাজারেও মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

    অন্য ক্যারেটগুলোর নতুন দরগুলো হচ্ছে: ২১ ক্যারেট প্রতি ভরি দুই লাখ ২৯ হাজার ৪৩১ টাকা, ১৮ ক্যারেট প্রতি ভরি এক লাখ ৯৬ হাজার ৬৫৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি এক লাখ ৬০ হাজার ১৪৭ টাকা।

    সোনার দাম পরিবর্তনের সঙ্গে মিল রেখে রুপার দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ২২ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরি দাম রয়েছে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা; ২১ ক্যারেট ৫ হাজার ১৯০ টাকা; ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৪৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা।

    আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটেও গত কিছু সময় সোনার মূল্য ওঠানামা করেছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের পর বিশ্ববাজারে সোনার দাম বাড়ে, পরে মূল্য সমন্বয়ের মধ্য দিয়ে ওঠা-নামা করেছে। বিশ্বস্ত সূত্র গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি অনুযায়ী বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৫০০ ডলারে। এর আগে ৩০ জানুয়ারি ছিল ৫ হাজার ২০০ ডলার এবং ২৯ জানুয়ারি একসময় ৫ হাজার ৫৫০ ডলারে তা উঠেছিল।

  • টানা দ্বিতীয় দফায় সোনার দাম বাড়ল

    টানা দ্বিতীয় দফায় সোনার দাম বাড়ল

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) টানা দ্বিতীয় দফায় সোনার দাম বাড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি জানায় যে বাজারে সোনার মূল্য প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়ানো হয়েছে এবং নতুন দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেট সোনার এক ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা, যা গতকের তুলনায় বেড়েছে৷ গতকাল ২২ ক্যারেটের দাম ছিল দুই লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা।

    অন্যান্য ক্যারেটের নির্ধারিত দামগুলো হলো: ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২১৩ টাকা (২০০,২১৩ টাকা) এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৩ টাকা। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে যে তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার দামের ওঠানামা বিবেচনা করে স্থানীয় বাজারে এই সমন্বয় করা হয়েছে।

    সোনার সঙ্গে রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। ২২ ক্যারেট মানের রুপার এক ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৭৭৪ টাকা, ২১ ক্যারেট রুপা ৫ হাজার ৫৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেট রুপা ৪ হাজার ৭২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৩ হাজার ৫৫৮ টাকা।

    বিশ্ববাজারে সোনার মূল্য ঊর্ধ্বমুখী থাকার পেছনে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সংঘাতসহ ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রভাব উল্লেখ করেছে বাজার বিশ্লেষকরা। গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্রে জানানো হয়েছে, বর্তমানে আন্তর্জাতিক দর প্রতি আউন্স সোনার দাম প্রায় ৪ হাজার ৭০০ ডলারে পৌঁছেছে।

    তথ্য অনুযায়ী গত ৩০ জানুয়ারি আউন্সপ্রতি দাম ছিল প্রায় ৫ হাজার ২০০ ডলার এবং ২৯ জানুয়ারি তা ৫ হাজার ৫৫০ ডলারে ওঠে। এছাড়া গত মাসের শেষের দিকে বিশ্ববাজারে সোনার ধারাবাহিক উত্থানের কারণে দেশীয় বাজারেও দাম বাড়তে থাকে। ২৯ জানুয়ারি সকালে একবারে ভরিপ্রতি ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়িয়ে বাজুস ২২ ক্যারেট সোনার দাম সংগ্রহ করে এক পর্যায়ে দুই লাখ ৮৬ হাজার টাকায় পৌঁছে দিয়েছিল; যা দেশের ইতিহাসে রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হয়।

    বাজুসের 이번 ঘোষণায় স্থানীয় ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে মূল্য ও বাজার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা বাড়বে বলে 예상 করা হচ্ছে। বাজার পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক দর ও ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত সোনার দর ওঠানামা করতে পারে।