Blog

  • অবশেষে ভিসিকের সমর্থন, তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন থালাপতি বিজয়

    অবশেষে ভিসিকের সমর্থন, তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন থালাপতি বিজয়

    তামিলনাড়ুতে সরকার গঠন নিয়ে কয়েকদিনের নাটকীয়তার পর অবশেষে স্থিরতা এসেছে — ভিসিকে (VCK) আনুষ্ঠানিকভাবে থালাপতি বিজয়ের দল টিভিকে (TVK)-কে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং ফলে প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন।

    বাংলাদেশি নয়, ভারতের খবর এনডিটিভির প্রতিবেদনে (শনিবার, ৯ মে) বলা হয়েছে যে ভিসিকে নিঃশর্তভাবে টিভিকেকে সমর্থন জানাচ্ছে। খবরটি প্রকাশ পেতেই থালাপতির চারপাশের কয়েকদিনের অনিশ্চয়তা আর উদ্বেগ কেটে গেছে।

    ভিসিকে এই নির্বাচনে দুইটি আসনে জয়ী হয়েছে। সেই দুই জন বিধায়ক শিগগিরই টিভিকের সঙ্গে যোগ দেবেন বলে জানানো হয়েছে, যা টিভিক-সহ জোটের মোট আসনকে ১১৮টি করে তুলবে — যা সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের ম্যাজিক সংখ্যা হিসেবে ধরা হচ্ছে।

    তামিলনাড়ু বিধানসভার মোট আসন ২৩৪। নির্বাচনে টিভিকে এককভাবে ১০৮টি আসন পেয়েছিল; ফলে সরকার গঠনের জন্য তাদের মোট ১০টি আসন আরও দরকার ছিল। এই অন্তরকে পূরণ করতে টিভিকে কংগ্রেস, সিপিআই, সিপিআই (এম) ও সর্বশেষ ভিসিকের সঙ্গে জোটবদ্ধ হচ্ছে।

    প্রক্রাটিতে কিছু নাটকীয়তাও দেখা গিয়েছিল — শুক্রবার ভিসিকে সমর্থনের কথা জানিয়েছিল, কিন্তু রাজ্যপালকে আনুষ্ঠানিক কোনো চিঠি না দেওয়ায় কিছুটা সংকট তৈরি হয়েছিল। পরে সংবাদে আসে যে তারা সমর্থনের বিনিময়ে উপমুখ্যমন্ত্রীর পদ দাবি করেছিল; এমনকী এক সময় মুখ্যমন্ত্রীর পদ দাবি করার গুঞ্জনও ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত একটি সূত্র জানায়, তারা নিঃশর্তভাবে টিভিকেকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্তে স্থির হয়েছে।

    এমনভাবে জোটবদ্ধ হয়ে থালাপতি বিজয় অল্প সময়ে রাজ্যের শাসন কূটনীতি কাটিয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে আরও বিস্তারিত ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আশা করা হচ্ছে।

    সূত্র: এনডিটিভি

  • এন.এস. রাজা সুব্রমণি সিডিএস, নৌবাহিনী প্রধান হবে কৃষ্ণ স্বামীনাথন

    এন.এস. রাজা সুব্রমণি সিডিএস, নৌবাহিনী প্রধান হবে কৃষ্ণ স্বামীনাথন

    কেন্দ্রীয় সরকার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এন.এস. রাজা সুব্রমণিকে ভারতের নতুন চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ (সিডিএস) হিসেবে নিয়োগ করেছে। বর্তমানে এই পদে থাকা জেনারেল অনিল চৌহানের মেয়াদ ৩০ মে শেষ হবে এবং এরপরই সুব্রমণি এই দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

    শুক্রবার—বা শনিবার (৯ মে) প্রকাশিত এনডিটিভির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। একই সূত্রে বলা হয়েছে, নৌবাহিনীর নতুন প্রধান হিসেবে ভাইস অ্যাডমিরাল কৃষ্ণ স্বামীনাথনকে নিয়োগ করা হয়েছে; তিনি ৩১ মে বর্তমান নৌপ্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল দীনেশ কুমার ত্রিপাঠীর স্থলাভিষিক্ত হবেন।

    সিডিএস হিসেবে নিয়োগ পেলে সুব্রমণি তিন বাহিনীর প্রধানদের সমন্বয় ও জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সিডিএসের পাশাপাশি তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের সামরিক বিষয়ক দফতরের সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন।

    সুব্রমণি জাতীয় প্রতিরক্ষা একাডেমি থেকে অনার্স শেষে ১৯৮৫ সালে গারওয়াল রাইফেলসে কমিশন পান। তিনি ব্রিটেনের জয়েন্ট সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজে পড়াশোনা করেছেন এবং পরে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজেও যোগ দিয়েছিলেন। দীর্ঘ ৩৫ বছরের কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন সংবেদনশীল ও সংঘাতপ্রবণ অঞ্চলে দায়িত্বে ছিলেন এবং কাজাখস্তানে ভারতের দূতাবাসেও দায়িত্ব পালন করেছেন। কেরিয়ারজুড়ে তার কাজকে স্বীকৃতি দিয়ে একাধিক সম্মান দেওয়া হয়েছে। ২০২৩ সালে তিনি সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডিং ইন চিফ ছিলেন এবং পরবর্তী বছর ৪৭তম ভাইস সিডিএস হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন; সামরিক অবসরগ্রহনের পর তিনি জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সামরিক পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করছিলেন।

    নিযুক্ত নতুন নৌবাহিনী প্রধান কৃষ্ণ স্বামীনাথন বর্তমানে মুম্বাইয়ের ওয়েস্টার্ন নেভাল কমান্ডের কম্যান্ডার হিসাবে দায়িত্বে রয়েছেন। এর আগে তিনি নৌবাহিনীর উপ-প্রধানের দায়িত্ব পালন করেছেন। ক্যারিয়ারে তিনি ক্ষেপণাস্ত্রবাহী রণতরি আইএনএস বিদ্যুৎ, আইএনএস বিনাশ, ক্ষেপণাস্ত্রবাহী করভেট আইএনএস কুলিশ, ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসকারী আইএনএস মহীশূর এবং বিমানবাহী রণতরি আইএনএস বিক্রমাদিত্যর মতো জাহাজের কমান্ডার ছিলেন।

    কেন্দ্রের এই নিয়োগগুলোর মাধ্যমে বছর শেষের দিকে দুই শীর্ষ পদে সুশৃঙ্খল হস্তান্তরের প্রস্তুতি সম্পন্ন হচ্ছে। নতুন নেতৃত্বের কাছে দেশের প্রতিরক্ষা ও সামরিক প্রস্তুতি আরও মজবুত রাখার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

  • ফকিরহাটে শাহ্ নওয়াজ আলী শিক্ষা ও গবেষণা ফাউন্ডেশনের বৃত্তি বিতরণ

    ফকিরহাটে শাহ্ নওয়াজ আলী শিক্ষা ও গবেষণা ফাউন্ডেশনের বৃত্তি বিতরণ

    বাগেরহাটের ফকিরহাটে শাহ্ নওয়াজ আলী শিক্ষা ও গবেষণা ফাউন্ডেশন আজ শনিবার (০৯ মে) দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে মোট ১৭টি শিক্ষা বৃত্তি প্রদান করেছে। অনুষ্ঠানটি বাগেরহাটের ফকিরহাট কাজী আজহার আলী কলেজ মিলনায়তনে আয়োজিত হয়।

    প্রধান অতিথি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম শিক্ষার্থীদের হাতে বৃত্তি তুলে দেন। বক্তব্যে তিনি বলেন, সমাজে অনেক মেধাবী যুবক-যুবতী আছেন যারা অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে তাদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারছে না। উচ্চশিক্ষার পথে এসব কষ্ট অনেকের স্বপ্ন থামিয়ে দেয়। এমন সময়ে শাহ্ নওয়াজ আলী শিক্ষা ও গবেষণা ফাউন্ডেশনের মতো উদ্যোগ মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করবেন এবং তাদের শিক্ষা জীবনে বড় ভূমিকা রাখবে—এমন আশাব্যক্তি করেন তিনি এবং প্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিক কার্যক্রমের প্রশংসা করেন।

    অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন বিশিষ্ট সাংবাদিক মহেন্দ্রনাথ সেন এবং সভাপতিত্ব করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ শাহেদুর রহমান। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন, ফাউন্ডেশনের সভাপতি এসএম শাহ্ নওয়াজ আলী, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মিজানুর রহমান, খুলনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ তরিকুল ইসলাম, ফকিরহাট উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামরুল ইসলাম গোরা, কাজী আজহার আলী কলেজের অধ্যক্ষ মুজিবুর রহমান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শরিফ নেওয়াজ ও সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোঃ কামরুল ইসলাম।

    অনুষ্ঠান পরিচালনা উপকমিটির সদস্য সচিব খান আল মুস্তাসিম বিল্লাহ সজল সহ সদস্য মোঃ শহিদুল ইসলাম, আবু সাঈদ মল্লিক, মল্লিক আবু মুছা, এনামুল হব সবুজ, ফাহিম শাহরিয়ার রাব্বি, গোলাম মোস্তফা, রামিম চৌধুরী, ওবায়েদ হোসেন রনি, রেজিনা আক্তার, বাসন্তি রায়, সমীরণ রায়, মুছা কালিমুল্লা ও সালামান এ রহমান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

    বৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা হলেন: খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এইচএম মাসুম হাসান, মোসাঃ ফাতেমা খান, প্রাপ্তি ফারিন ও কুয়েটের সবুজ কুমার; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বর্ণা বৈরাগী; পিসি কলেজের জেরিন তাসনিম জাহান ফারিয়া ও জয়া রানী পাল; খুলনা সরকারি মহিলা কলেজের আরিফা জান্নাত আসফি; খুলনা সিটি কলেজের মানিক সরকার; কাজী আজহার আলী কলেজের মোঃ সাব্বির হোসেন, চিন্ময় মজুমদার ও অরিনা; ফকিরহাট সরকারি মহিলা কলেজের খান রাইসা জামান ও অর্পিতা হালদার; শহীদ স্মৃতি মহাবিদ্যালয়ের মোঃ পারভেজ ঢালী, আরিফ জাওয়াদ ও নাসরিন আক্তার।

    প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতেও মেধাবী, দরিদ্র ছাত্রছাত্রীদের পাশে থাকতে চেষ্টা করবে বলে জানানো হয়েছে। বৃত্তি পাওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যৎজীবনে দেশ ও সমাজে অবদান রাখার অঙ্গীকার করেন।

  • সাতক্ষীরায় কুপিয়ে হত্যা, মরদেহ পুকুরে ফেলে রাখা ছিল

    সাতক্ষীরায় কুপিয়ে হত্যা, মরদেহ পুকুরে ফেলে রাখা ছিল

    সাতক্ষীরায় অজ্ঞাত ছত্রেরাই এক ব্যক্তিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার পর মরদেহ পুকুরে ফেলে রাখে। শনিবার (৯ মে) সকাল সোয়া ৬টার দিকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিঙ্গি ইউনিয়নের সর্ব কাশেমপুর আবাসন প্রকল্পের পাশে থাকা একটি পুকুর থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়।

    নিহত পরিচয় জিন্নাত আলী ওরফে জিন্নাহ (৪২) হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিঙ্গি ইউনিয়নের সর্ব কাশেমপুর গ্রামের মোহর আলী সরদারের ছেলে।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে পুকুরের পানিতে একজনের দুই পা ভাসমান অবস্থায় দেখে স্থানীয়রা ৯৯৯-এ খবর দেয়। খবর পেয়ে ব্রহ্মরাজপুর পুলিশ ক্যাম্পের এসআই মো. হাবিবুর রহমান সকাল সাতটার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুকুর থেকে জিন্নাত আলীর মরদেহ উদ্ধার করেন।

    মৃতদেহের দেহে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের কয়েকটি চিহ্ন দেখা গেছে—ডান চোখের উপর, কপালে, ডান কানের পেছনে এবং মাথার পেছনের ডান পাশে আঘাতের লক্ষণ রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ধারণা করছে, রাতের কোনো সময় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে হত্যা করে মরদেহ পুকুরে ফেলে দেয়।

    সাতক্ষীরা সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) সুশান্ত কুমার ঘোষ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার পর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন। পুলিশ ঘটনাস্থল তল্লাশি ও তদন্ত করে ঘটনার সুত্র ও দায়ীদের শনাক্তে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

  • লিটন প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ২ হাজার রানের ক্লাবে

    লিটন প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ২ হাজার রানের ক্লাবে

    ঢাকা টেস্টের দ্বিতীয় দিন লিটন দাসকে যে ভাবে হারানো হয়েছে, তা দেখে অনেক ভক্ত যেন খানিকটা অপমানবোধ ও হতাশা পেয়েছেন। কিন্তু আউট হওয়ার আগেই তিনি এমন একটি অর্জন করে গেছেন যা তার দিনের ভুলটাকে স্মরণীয়ভাবে বদলে দিয়েছে — বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে (WTC) প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটার হিসেবে ২ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করা।

    প্রথম দিন শেষে ৮ রানে অপরাজিত থাকার পর আজ লিটন ৩৩ রানে আউট হন। ঘটেছে ৯৭তম ওভারের চতুর্থ ডেলিভারিতে, বোলার ছিলেন মোহাম্মদ আব্বাস। অফ স্টাম্পের বাইরে এসেছে বলে বলটি, লিটন পুল করার চেষ্টা করছিলেন এবং মিড অনের ওপর দিয়ে টেনে পাঠাতে চেয়েছিলেন—তবে বলটি আমাদ বাটের হাতে গিয়ে ধরা পড়ে। আউট হওয়ার ঠিক আগে লিটন তাঁর WTC রানসংখ্যা দুই হাজার ছুঁয়ে ফেলেন, যা বাংলাদেশের ক্রিকেটে নতুন এক ব্যক্তিগত ও দলগত মাইলফলক।

    এই মাইলফলকপূরণের ফলে লিটনের WTC রানের পরিসংখ্যান দাঁড়িয়েছে: ৩১ টেস্টে ৫৫ ইনিংসে ২,০০৯ রান, গড় ৩৭.২০, এবং চারটি সেঞ্চুরি।

    বাংলাদেশি ব্যাটারদের মধ্যে WTC-তে লিটনের পরে দ্বিতীয় স্থানে আছেন মুশফিকুর রহিম — ২৬ টেস্টে ৪৮ ইনিংসে ১,৮৭৬ রান; গড় ৪৩.৬২, এবং তারও পাশে আছে চারটি সেঞ্চুরি। পাকিস্তান সিরিজে মুশফিকের সামনে ২ হাজার রানের ক্লাবে পৌঁছানোর সুযোগ আছে।

    তালিকার তৃতীয় স্থানে নাজমুল হোসেন শান্ত; ৩০ টেস্টে ৫৭ ইনিংসে তার সংগ্রহ ১,৬৫৫ রান, গড় ২৯.৫৫, এবং সেঞ্চুরি পাঁচটি। চতুর্থ অবস্থানে মুমিনুল হক; ৩২ টেস্টে ৬১ ইনিংসে ১,৫৯৪ রান, গড় ২৭.৯৬, তিনটি সেঞ্চুরি। সেরা পাঁচে পঞ্চম হয়ে আছেন মেহেদী হাসান মিরাজ—৩০ টেস্টে ৫৫ ইনিংসে ১৩২৪ রান, গড় ২৫.৯৬।

    যদিও লিটনের শেষ আউটটি ভক্তদের মন খারাপ করেছে, তার এই ব্যক্তিগত মাইলফলক বাংলাদেশের টেস্ট ব্যাটিং ইউনিটের ধারাবাহিকতা ও অবদানের প্রতিফলন। 앞으로ও তিনি দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রান যোগ করে যাবেন বলে ধরে নেয়া যায়।

  • বাংলাদেশ ৪১৩, এরপর আওয়াইস-ফজলের ব্যাটে পাকিস্তানের দাপট

    বাংলাদেশ ৪১৩, এরপর আওয়াইস-ফজলের ব্যাটে পাকিস্তানের দাপট

    নাজমুল হোসেন শান্তের চাওয়াকে গুরুত্ব দিয়ে মিরপুর টেস্টের প্রথম ইনিংসে প্রথম দিনেই চারশ রানের বেশি সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। মুশফিকুর রহিম ৭১ রানের নির্ভরযোগ্য ইনিংস খেলেন এবং শেষ দিকে তাসকিন আহমেদ আক্রমণাত্মক অগ্রযাত্রায় দলের স্কোর ৪১৩ রানে পৌঁছে দেন।

    পাকিস্তান অভিষিক্তআজ হওয়া আজান আওয়াইসের হাফ সেঞ্চুরি এবং আব্দুল্লাহ ফজলের দৃঢ় ব্যাটিংয়ে প্রথম দিনের খেলা শেষ করে ১ উইকেটে ১৭৯ রান করে—বাংলাদেশের ইনিংস থেকে তারা এখনও ২৩৪ রানে পিছিয়ে আছে।

    বোলিং দিক থেকে বাংলাদেশের শুরুটা সন্তোষজনক ছিল না; পেসাররা লাইন ও লেন্থ ধরে ধারাবাহিকতা রাখতে পারেননি। পাকিস্তানের ওপেনাররা ওয়ানডে মেজাজে তাড়াতাড়ি খেলা শুরু করে; প্রথম ১০ ওভারে কোনও উইকেট না হারিয়েই ৫০ করে তারা এবং ২০.৪ ওভারে দলীয় শতক টাকা পড়ে। আবিষিক্ত ওপেনার আওয়াইস ৬৫ বলে হাফসেঞ্চুরি করেন।

    প্রথম ১৫ ওভার পর্যন্ত স্পিনার ব্যবহার করেননি বাংলাদেশ; পরে মেহেদী হাসান মিরাজ নিয়মানুগভাবে বোলিংয়ে পাঠানো হয়। ২২তম ওভারে মিরাজই প্রথমে ওপেনিং জুটি ভাঙেন—ইমাম উল হককে লেগ-বিফোরের ফাঁদে ফেলে তিনি ফিরিয়ে দেন। ইমাম ৭২ বলে ৪৫ রানের ইনিংস খেলেন, যেখানে ছয়টি চারের দেখা মিলেছিল। ইমামের বিদায়ের সঙ্গে শেষ হয়েছিল ওপেনিং জুটির ১০৬ রানের অংশীদারিত্ব।

    ৩৬.৩ ওভারে পাকিস্তান দলীয় ১৫০ রানে পৌঁছায়। আনোয়ার আওয়াইসের সঙ্গে আক্রমণাত্মক খেলায় যোগ দেন অভিষিক্ত আরেক ব্যাটার আব্দুল্লাহ ফজল। ফজল প্রথম আটচল্লিশ বলের মধ্যে কিছুটা ধীর শুরু করলেও পরে গতিতে আসে; ২৯ সংখ্যার মুহূর্তে সাদমান ইসলামের হাতে একটি ক্যাচ মিস হওয়ায় তার ইনিংস বাঁচে। দিনশেষে আওয়াইস অপরাজিত ১৩৩ বলে ৮৫ রানে ছিলেন, আর ফজল অপরাজিত ছিলেন ৭৮ বলের ৩৭ রানে।

    এর আগে দিনের শুরুতে বাংলাদেশ দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করে ৪ উইকেটে ৩০১ রান থেকে। মুশফিকুর রহিম এবং লিটন দাস শুরুটা ভালোভাবে সামলে ছিলেন, তবে লিটন মোহাম্মদ আব্বাসের অফস্টাম্পের বাইরের একটি ডেলিভারিকে টানতে গিয়ে মিড-অনে ধরা পড়েন; তিনি ৩৩ রান করেন।

    মিরাজও বড় ইনিংস গড়তে পারেননি; তিনি ১০ রানে উইকেট হারান—অফস্টাম্পের বাইরের একটি শট খেলতে গিয়ে উইকেটকিপার ইমামের হাতে ক্যাচ দেন। তার বিদায়ের পর বাংলাদেশ ৩৫৬ রানে তাদের ষষ্ঠ উইকেট হারায়। পরে তাইজুল ইসলামও আব্বাসের বাউন্সি ডেলিভারিতে খোঁচা দিয়ে উইকেটকিপারের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন; তিনি ২৩ বলে ১৭ রানে আউট হন। লাঞ্চ বিরতিতে বাংলাদেশ ছিল ৭ উইকেটে ৩৮০ রানেই।

    বিরতির পর তৃতীয় বলেই সাজঘরে ফিরেন মুশফিকুর রহিম—শাহীন শাহ আফ্রিদির দুর্দান্ত ডেলিভারিতে তিনি বোল্ড হয়ে যান; ১৭৯ বলের তার ইনিংসে ছিল আটটি বাউন্ডারি। পরে ইবাদত হোসেন রানে প্রতিষ্ঠা করতে না পারলেও, মোহাম্মদ আব্বাস এই ধাক্কায় ফিরে গিয়ে নিজের পাঁচ উইকেট সম্পন্ন করেন। ৩৮৪ রানে ৯ উইকেট হারানো অবস্থায় তাসকিন আহমেদ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে আক্রমণ করে দলকে চারশ পেরিয়ে দেন; শেষ পর্যন্ত তিনি ১৯ বলে তিনটি চার ও একটি ছক্কায় ২৮ রান করেন।

    সারমর্ম: প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৪১৩, দিনের শেষে পাকিস্তান ১ উইকেটে ১৭৯—অভিষিক্ত আওয়াইস ও আব্দুল্লাহ ফজলের ব্যাটে পাকিস্তান এখনো জয় মাত্রা থেকে দূরে থাকলেও চাপ সামলাচ্ছে।

  • রুনা লায়লা মৃত্যু গুজব খণ্ডন: ‘আমি বেঁচে আছি’

    রুনা লায়লা মৃত্যু গুজব খণ্ডন: ‘আমি বেঁচে আছি’

    উপমহাদেশের কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী রুনা লায়লার মৃত্যুর গুজব সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু নিজে ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট দিয়ে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে সংবাদটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং তিনি সুস্থ আছেন।

    বর্তমানে ভারতের দিল্লিতে ‘মিনার–ই–দিল্লি’ পুরস্কার গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়েই শনিবার এসব গুজব ছড়িয়ে পড়ে, যা দেশে-বিদেশে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে রুনা লায়লা লিখেছেন, ‘আমার প্রিয় ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের উদ্দেশ্যে আমার মৃত্যু নিয়ে কিছু অদ্ভুত গুজব ছড়িয়েছে।’

    ভিত্তিহীন এই খবর নিয়ে কষ্ট প্রকাশ করে তিনি আরও জানিয়েছেন, ‘তবে আমি পরিষ্কারভাবে জানাতে চাই যে আমি বহাল তবিয়তে বেঁচে আছি! আমি সবাইকে অনুরোধ করছি এ ধরনের কোনো পোস্ট শেয়ার করার আগে তথ্য যাচাই করে নিন, কারণ এটি আমার এবং আমার পরিবারের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক। সবার জন্য অনেক ভালোবাসা রইল।’

    রুনা লায়লার এই বার্তা ভক্তদের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে দিয়েছে। তার কণ্ঠ ও সংগীতজীবনকে স্মরণ করে অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্মানজ্ঞাপন জানিয়েছেন এবং গুজব রুখে তথ্য যাচাই করার অনুরোধ করেছেন।

    সংগীতজীবনের প্রসঙ্গটিও আলোকপাতযোগ্য—১৯৬৬ সালে উর্দু ভাষার চলচ্চিত্রে ‘নাজরোঁ সে মহাব্বত কা জো পয়গম মিলা’ গান দিয়ে রুনা লায়লা প্রথম আলোচনায় আসেন। ১৯৬০-এর দশকে তিনি নিয়মিত পাকিস্তান টেলিভিশনে পরিবেশনা করতেন এবং পরবর্তীতে ‘ও মেরা বাবু চেল চাবিলা’ ও ‘দামা দম মাস্ত কালান্দার’সহ বহু হিট গীতের মাধ্যমে ভারতেও ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকতে এবং কোনো খবর শেয়ার করার আগে উৎস যাচাই করার আহ্বান জানিয়ে রুনা লায়লা আবারও ভক্তদের কাছে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

  • লাইফ সাপোর্টে জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার

    লাইফ সাপোর্টে জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার

    জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার বর্তমানে লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন। তাঁকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

    কামরুন নাহার ‘ডানা’ অভিযোগ করেছেন, গত এক সপ্তাহ ধরে জ্বরে ভুগছিলেন কারিনা। হঠাৎ জ্ঞান হারানোর ফলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। ডানার এক পোস্টে বলা হয়েছে, চিকিৎসকদের পরীক্ষায় কারিনার হেপাটাইটিস এ ও ই শনাক্ত হয়েছে, যা লিভার ফেইলারের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    প্রাথমিকভাবে তিনি আইসিইউতে ছিলেন, কিন্তু গত রাত থেকে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। কারিনার অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় পরিবার তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছে।

    ডানা ভক্ত এবং শুভানুভূতিশীলদের কাছে কারিনার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে দোয়ার অনুরোধ করেছেন। তিনি লিখেছেন, কারিনা একজন প্রতিভাবান ও অসাধারণ মানুষ — আমরা এভাবে তাঁকে হারাতে পারি না।

    ডানা আরও জানান, চিকিৎসার জন্য কোনো আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন পড়লে পরে সেটি জানানো হবে। আপাতত তার একমাত্র অনুরোধ—সবাই মন থেকে কারিনার সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করবেন।

  • ১৭ বছরের ওয়াকিমুলের ‘এ টু আই স্মার্ট কারে’ চড়লেন প্রধানমন্ত্রী

    ১৭ বছরের ওয়াকিমুলের ‘এ টু আই স্মার্ট কারে’ চড়লেন প্রধানমন্ত্রী

    বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন তরুণ ওয়াকিমুল ইসলাম যে গাড়িটি বানিয়েছেন—‘এ টু আই স্মার্ট কার’—সেই ছোট ব্যাটারি চালিত বাহনে কিছু সময়ের জন্যই correct প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বসে প্রদর্শনী চালিয়ে দেন তিনি। শনিবার (৯ মে) সকালে তেজগাঁওস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ওয়াকিমুলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে উষ্ম অভ্যর্থনা জানান এবং এই কৃতিত্বকে উৎসাহিত করেন।

    ওয়াকিমুল সামান্য ডিহবিল্ট শিশুর মতো নয়—তিনি নিজেই গাড়িটি সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেন এবং মুহূর্তেই প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে গাড়ি চালিয়ে দেখান। প্রধানমন্ত্রীর পেছনে বসে গাড়িটির কার্যকারিতা পরীক্ষা করে তিনি ১৭ বছর বয়সী এই তরুণকে দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে এরকম সৃজনশীল উদ্যম প্রকাশ করার জন্য প্রশংসা করেন।

    প্রধানমন্ত্রী একই সঙ্গে কম খরচে আরও আধুনিক ও ব্যবহারবান্ধব স্মার্ট কার তৈরির পরামর্শ দেন এবং এমন সৃজনশীল উদ্যোগে সরকারের পক্ষ থেকে সমর্থনের আশ্বাসও দেন।

    ওয়াকিমুল সাক্ষাৎকালে জানান, আগে সারাদিন বাড়িতেই থাকতেন, একা বাইরে যেতে পারতেন না—এই সমস্যা থেকেই তিনি নিজেভাবে চলাফেরার উপায় খুঁজতে গিয়ে গড়েছেন এই স্মার্ট কার। তিনি প্রয়োজনে সহায়তা পেলে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আরও উন্নত মডেল তৈরি করতে পারবেন এবং সেই গাড়ি কেবল বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদেরই নয়, বয়স্কদের জন্যও ব্যবহার উপযোগী হবে বলেও জানান।

    ওয়াকিমুল যশোরের চৌগাছা সরকারি কলেজে একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র। তাঁর পিতা একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। তাঁর পাশে ছিলেন বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির (বিপিকেস) প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক আবদুস সাত্তার দুলাল, যিনি জানান—গাড়িটি একবার চার্জে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারে এবং সর্বোচ্চ গতি প্রায় ৪৫ কিমি/ঘণ্টা।

    সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

    ওয়াকিমুলের পরিচ্ছন্ন ও পরিষ্কার ধারণা, সহজগতির ডিজাইন ও দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি—সব মিলিয়ে এই উদ্যোগ থেকে ভবিষ্যতে আরও সাশ্রয়ী ও বহুমুখী স্মার্ট ট্রান্সপোর্ট গড়ে ওঠার সম্ভাবনা থাকলে সরকারিভাবে সহযোগিতা দিলে তা দ্রুত বাস্তবে রুপ নেবে, এটাই অনুষ্ঠানের মূল প্রেক্ষাপট ছিল।

  • নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে ‘নতুন সংগ্রামে’ নামার আহ্বান

    নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে ‘নতুন সংগ্রামে’ নামার আহ্বান

    বিএনপি চেয়ারেন তারেক রহমান দলের মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে সক্রিয় সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছিলেন, দলের সমর্থন ও সমন্বয় ছাড়া সরকারের কাজ সফল হবে না—তাই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের জন্য এখনই ‘নতুন সংগ্রামে’ নামতে হবে।

    শনিবার (৯ মে) সকালে রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন (কেআইবি) মিলনায়তনে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। সভায় দলের যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতারা অংশগ্রহণ করেন।

    তারেক রহমান বলেন, ‘‘এক যুদ্ধ শেষ হয়েছে, এখন আরেকটি যুদ্ধ শুরু হয়েছে—এটা হলো আমরা জনগণকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সেগুলো বাস্তবায়ন করা।’’ তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মাঠে থাকা নেতাকর্মীরা নির্বাচনটি কতটা কঠিন ছিল তা প্রত্যক্ষ করেছেন এবং মানুষ আমাদের ম্যানিফেস্টো ও ইশতেহারের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

    চেয়ারম্যান বলেন, নির্বাচনের আগে তাদের দেওয়া ইশতেহার এখন জনগণের ইশতেহারে রূপ নিয়েছে। ‘‘নির্বাচনের আগ পর্যন্ত এটা ছিল বিএনপির ম্যানিফেস্টো; নির্বাচন ও সরকার গঠনের পরে এটা বাংলাদেশের জনগণের ইশতেহারে পরিণত হয়েছে,’’ তিনি যোগ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে দেশব্যাপী ভোটারদের প্রায় ৫২ শতাংশ ম্যানিফেস্টোর পক্ষে ভোট দিয়েছেন, তাই সেই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাতে হবে।

    তারেক রহমান আরও বলেন, নির্বাচনের আগে তারা সুশাসন, শিক্ষার উন্নয়ন এবং নারী-পুরুষ-শিশু সবাইকে নিরাপদ পরিবেশ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এক সময়ে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিজমের বিরুদ্ধে লড়াই চলাকালে যে অত্যাচার-নির্যাতন, গুম-হত্যার ঘটনা ঘটেছে, সেই পরিস্থিতি বদলে Debated ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ফিরে আনাই তাদের লক্ষ্য ছিল।

    তিনি বলেন, সরকার আছে, কিন্তু বিএনপি যদি সহযোগিতা না করে many ক্ষেত্রেই সরকার সফল হবে না। বিএনপির সাফল্য নির্ভর করে এখানে উপস্থিত প্রত্যেকের সরকারের পাশে দাঁড়ানোর ওপর—তারই জন্য মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।

    সকাল পৌনে ১১টায় শুরু হওয়া মতবিনিময় সভাটি দিনব্যাপী রুদ্ধদ্বারের আয়োজন ছিল। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সভার সভাপতিত্ব করেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহ উদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান ও এজেডএম জাহিদ হোসেনও ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন।

    এটি ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ওই সংসদীয় নির্বাচনের পর দলের মাঠ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে চেয়ারেন তারেক রহমানের প্রথম বড় মতবিনিময় সভা বলে জানানো হয়েছে।