Blog

  • শাহিন আফ্রিদি: টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের লক্ষ্য নিয়ে পাকিস্তান

    শাহিন আফ্রিদি: টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের লক্ষ্য নিয়ে পাকিস্তান

    বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজটি যেন পাকিস্তানের জন্য আর শুধু একordinary দ্বিপক্ষীয় ম্যাচ নয়, এটি এখন টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বৃহৎ অভিযানের একটি অংশ। মিরপুরে প্রথম টেস্টের আগের সংবাদ সম্মেলনে শাহিন শাহ আফ্রিদি স্পষ্ট ভাষায় বলেছিলেন, পাকিস্তান এই সিরিজের মাধ্যমে নিজের লক্ষ্য বেশ বড় করে দেখছে। শুধু সিরিজ জেতা নয়, লম্বা পথ অতিক্রম করে ফাইনালে পৌঁছানোর লক্ষ্য রয়েছে তাদের।

    ৮ মে, মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের প্রথম টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে। তবে এর আগে সংবাদ সম্মেলনে শাহিন বলেন, ‘আমরা দল হিসেবে অনেক বড় লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছি। টেস্ট ক্রিকেটে আমাদের এখনকার অবস্থান নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট নই।’

    শাহিনের ভাষ্য, ‘আমরা শুধুই একটি সিরিজের জন্য ভাবছি না, বরং টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের কথাও ভাবছি। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো কিভাবে ফাইনালে পৌঁছানো যায় এবং সেখানে ভালো খেলতে পারা। আমরা সবাই জানি, আমাদের এই ক্রিকেটে সেরা পারফরম্যান্স দেখাতে হবে।’

    প্রতিবেশী দেশ ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের টেস্ট রেকর্ড বেশ ভাল না থাকলেও শাহিন তা মান্য করে বললেন, ‘আমরা যদি পয়েন্ট টেবিলে ছয়, সাত বা আট নম্বর স্থানে থাকি, তা মোটেও আমাদের মানানের সঙ্গে যায় না। আমাদের উন্নতির অবশ্যই প্রয়োজন রয়েছে। শেষ সিরিজে আমরা হয়তো ভালো খেলেছি, কিন্তু সেটি আমাদের ২-০ ব্যবধানে জিততে পারেনি।’

    শাহিনের মতে, পাকিস্তান দরকার এখন টেস্ট ক্রিকেটে আরও বেশি মনোযোগ দেয়া—কারণ এই পাঁচ দিনের ক্রিকেট আধুনিক যুগে দলের সামগ্রিক মান উন্নত করে। বললেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত টেস্ট ক্রিকেটে শীর্ষে থাকা। যদি টেস্টে ভালো করি, তাহলে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এজন্য আমাদের ফিটনেসের দিকেও আরও বেশি যত্ন নেওয়ার দরকার।’

    ড্রেসিংরুমের আনুষ্ঠানিক বার্তার মধ্যে প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ অবশ্যই একই বার্তা দিয়েছেন। শাহিন জানিয়েছেন, সরফরাজ আফ্রিদি বলেছেন, ‘যদি টেস্টে ভালো করি, তবে টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে ক্রিকেটও উন্নত হবে। সবাই একমত, এই ক্রিকেটের উন্নতি হলে বাকি সংস্করণগুলোতেও ভালো ফলাফল সম্ভব।’

    সরফराजকে পাকিস্তানের প্রধান কোচ হিসেবে পেয়ে শাহিন খুবই আশাবাদী। তিনি বলেন, ‘সরফরাজ ভাই যখন এই দায়িত্ব পান, আমরা সবাই উত্সাহিত। তিনি একজন অভিজ্ঞ কোচ, আমাদের খেলতে জানতে চান ও কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেন। আমরা তাঁকে অত্যন্ত মূল্য দেই।’

    শাহিন আরও যোগ করেন, ‘উল্লেখ্য, বর্তমানে পাকিস্তান ক্রিকেটের জন্য সরফরাজই সবচেয়ে উপযুক্ত বিকল্প। তিনি আমাদের সাথে দীর্ঘদিন খেলেছেন, অধিনায়কের সময়ও দুরন্ত পারফর্ম করেছিলেন। তাঁর কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে।’

    বাংলাদেশের বিপক্ষে অতীতের রেকর্ড বা ফলাফল নিয়ে বেশি ভাবতে রাজি নন শাহিন। তার মনোযোগ এখনো বর্তমান ও ভবিষ্যতে, যেখানে তার লক্ষ্য হচ্ছে পাকিস্তান ক্রিকেট কিভাবে উন্নতি করে, সেটাই। তিনি বলেন, ‘অতীত অতীতই। আমি ব্যক্তিগতভাবে অতীতে বসে থাকতে চাই না। আমাদের এখন জরুরি বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া। দল হিসেবে আমাদের লক্ষ্য অনেক বড়’।

  • শাহিন আফ্রিদি বললেন, নাহিদ রানা বাংলাদেশের জন্য বড় সম্পদ

    শাহিন আফ্রিদি বললেন, নাহিদ রানা বাংলাদেশের জন্য বড় সম্পদ

    জাতীয় দলের হয়ে নিয়মিত খেলছেন নাহিদ রানা, যা গত দুই বছর ধরে চলমান। যদিও সাদা বলের ক্রিকেটে তার ধারাবাহিকতা কম থাকলেও, লাল বলের ক্রিকেটে তিনি একজন সফল এবং সঙ্গত ধারার গতি তারকা। সম্প্রতি পাকিস্তান এবং নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিনি প্রথমবারের মতো ওয়ানডে ম্যাচে দারুণ পারফর্ম করেন, যা তার ক্রিকেটার জীবনকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে। এখন তিনি পাকিস্তানের বিপক্ষে লাল বলের ক্রিকেটে মাঠে নামার অপেক্ষায় রয়েছেন।

    আজ মিরপুরে পাকিস্তানের হয়ে সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন শাহিন আফ্রিদি। সেখানে তিনি জানান, নাহিদ রানা বাংলাদেশের ক্রিকেটের একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। শাহিন বলেন, আমি ওয়ানডে সিরিজের আগে শন্তি টেইটের সঙ্গে কথা বলেছি, এবং মনে করি নাহিদ রানা বাংলাদেশের জন্য অনেক বড় সম্ভাবনা। আমি আশাবাদী, বাংলাদেশ এই צעত্রক ক্রিকেটারকে সঠিকভাবে কাজে লাগাবে।

    শাহিন আফ্রিদি একটু হাস্যরস করেও জানিয়েছেন, তিনি মনে করেন, নাহিদ রানা খুব ভালো ফর্মে থাকলেও পাকিস্তানের বিপক্ষে খুব বেশি সুবিধা করবে না। তিনি বলেন, খুব ভালো ফর্মে আছে, তবে আমাদের বিপক্ষে খুব বেশি সুবিধা করতে পারবে না (হাসি)।

    অতীতে টেস্ট সিরিজ হারের প্রসংগে আফ্রিদি বলেন, অতীতকে মনে রাখা ঠিক নয়। ব্যক্তিগতভাবে আমি অতীতের ভুলগুলো পছন্দ করি না। আমাদের লক্ষ্য এখন এবং ভবিষ্যত, আমরা কীভাবে নিজেদের প্রস্তুত করছি সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।

    অবশেষে, তিনি স্পষ্ট করে উল্লেখ করেন, তাদের মূল লক্ষ্য হলো ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জেতা, কেবল একটি সিরিজ জেতা নয়। তিনি বলেন, দল হিসেবে আমাদের লক্ষ্য অনেক বড়, এবং আমরা এই লক্ষ্য পূরণের জন্য প্রস্তুত।

  • বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচনের মনোনয়ন শেষ তারিখ নির্ধারিত ১৬ মে

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচনের মনোনয়ন শেষ তারিখ নির্ধারিত ১৬ মে

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) দেশের ক্রিকেটের পরিচালন ব্যবস্থা আরও কার্যকর এবং গণতান্ত্রিক করতে নতুন করে নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এর অংশ হিসেবে, গঠনতন্ত্রের ১২.৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সব ক্যাটাগরি থেকে কাউন্সিলর মনোনয়ন কার্যক্রম শুরু হয়। দেশের বিভিন্ন ক্যাটাগরি থেকে মোট ১৯২ জন কাউন্সিলরকে মনোনয়নের জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে, এবং এই মনোনয়নপ্রক্রিয়ার শেষ তারিখ নির্ধারিত হয়েছে আগামী ১৬ মে।

    বিসিবির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, নির্বাচন তিনটি ক্যাটাগরিতে অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম ক্যাটাগরি হলো জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা, যেখানে ৭১ জন কাউন্সিলর মনোনীত হন। এই ক্যাটাগরি থেকে ১০ জন পরিচালক নির্বাচিত হন, যাঁরা বিভিন্ন বিভাগ থেকে আসেন। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা থেকে প্রত্যেকটি বিভাগে ২ জন করে পরিচালক নির্বাচন হবে, অন্য বিভাগগুলো থেকে একজন করে। এর ফলে, প্রতিটি বিভাগের কাউন্সিলররা তাদের নিজ বিভাগে পরিচালক নির্বাচন করবেন।

    দ্বিতীয় ক্যাটাগরি হলো প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্লাব, প্রথম বিভাগ, দ্বিতীয় বিভাগ ও তৃতীয় বিভাগ। মোট ৭৬ জন কাউন্সিলর এই ক্যাটাগরি থেকে মনোনীত হন। প্রতিটি ক্লাব থেকে একক কাউন্সিলর নির্বাচন হয়, যেখানে প্রিমিয়ার বিভাগে ১২ জন, প্রথম বিভাগে ২০ জন, দ্বিতীয় বিভাগে ২৪ জন, এবং তৃতীয় বিভাগে ২০ জন কাউন্সিলর থাকবেন। এই কাউন্সিলররাই ভবিষ্যতে ১২ জন পরিচালক নির্বাচন করবেন।

    তৃতীয় ক্যাটাগরি হলো সাবেক ক্রিকেটার ও বিভিন্ন সংস্থা। এখানে একজন পরিচালক নির্বাচিত হবে। পাশাপাশি, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের মনোনীত দুজন প্রতিনিধি গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে যুক্ত থাকবেন। এই ক্যাটাগরিতে মোট ৪৫ জন কাউন্সিলর দায়িত্ব পালন করবেন।

    নির্বাচনের পাশাপাশি, বিসিবি জেলা পর্যায়ে কোচ নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে। বুধবারের বোর্ড সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ৬৪ জেলা কোচ পদের জন্য আবেদনকারীদের মূল্যায়নের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হবে, যা আধুনিক ও বাস্তবভিত্তিক পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের দক্ষতা যাচাই করবে।

    তবে, গত মাসে মেয়াদ শেষ হওয়া ম্যাচ রেফারি ও আম্পায়ারদের মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যার ফলে তারা ওই দায়িত্বে আগামী তিন মাস পর্যন্ত কর্মরত থাকবেন। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের ক্রিকেট ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে চান প্রশাসন, যাতে ভবিষ্যতে আরও উন্নতি হয়।

  • পশ্চিমবঙ্গে শুভেন্দুর ব্যক্তিগত সহকারীকে গুলি করে হত্যা

    পশ্চিমবঙ্গে শুভেন্দুর ব্যক্তিগত সহকারীকে গুলি করে হত্যা

    ভারতজুড়ে বিধানসভা নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই আবার শুরু হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি রক্তাক্ত ঘটনা। বুধবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের দোহারিয়া এলাকায় গুলির মাধ্যমে নিহত হয়েছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত বিশ্বস্ত ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথ। ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যম পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, তার মাথায় পরপর তিনটি গুলি ছোঁড়া হয়েছে।

    নিহত চন্দ্রনাথ রথ শুভেন্দু অধিকারীর প্রাইভেট অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ‘আনন্দবাজার’ জানিয়েছে, রাতে চন্দ্রনাথের গাড়ির ওপর হামলা চালানো হয়। অভিযোগ উঠেছে, দুর্বৃত্তরা তাঁর গাড়ির পিছু নিয়ে দোহারিয়া এলাকায় পৌঁছানোর পর অন্তত চার রাউন্ড গুলি ছোড়ে।

    গুলিবিদ্ধ অবস্থায় চন্দ্রনাথকে দ্রুত ঢাকা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। একই হামলার ঘটনায় তাঁর সঙ্গে থাকা অন্য এক ব্যক্তি বুদ্ধদেব বেরা আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

    চন্দ্রনাথের বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুরে হলেও তিনি উত্তর ২৪ পরগনা জেলার মধ্যমগ্রামে বাস করতেন। রাজনৈতিক সূত্রের তরফ থেকে জানা যায়, পশ্চিমবঙ্গের ভবানীপুর বিধানসভা উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর নির্বাচনী টিমের একজন গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলেন তিনি।

    পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে চন্দ্রনাথ শুভেন্দুর ছায়াসঙ্গী ও আস্থাভাজন ছিলেন। তাঁর দায়িত্বে ছিল শুভেন্দুর সকল রাজনৈতিক কার্যকলাপ, যোগাযোগ, সভা ও সমাবেশের আয়োজন ও তদারকি। সম্প্রতি শেষ হওয়া বিধানসভা নির্বাচনে তিনি ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম থেকে জয়লাভ করেছেন। আগামী ৯ মে বিজেপি সরকার গঠনের কথা রয়েছে, এবং শুভেন্দুর নাম সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রীর দরজায়। এই সময়ে তার সবচেয়ে বিশ্বস্ত সহযোগীর উপর এমন হঠাৎ হামলা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার গন্ধ ছড়িয়ে দিয়েছে।

    ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পুলিশ, র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স এবং আধা-সার্বভৌম কেন্দ্রীয় বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গুলিবিদ্ধ গাড়িটি জব্দ করে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আরও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এখনো হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ নিশ্চিত করা যায়নি।

    খবর পেয়ে বিজেপির একাধিক নেতাকর্মী ঘটনাস্থলে যান এবং হাসপাতালে যান। বিভিন্ন নেতা এই হত্যাকাণ্ডকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে উল্লেখ করেছেন।

    মধ্যমগ্রামের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় মধ্য দিন সময়ে গাড়ির ওপর গুলি চালানোর ঘটনায় স্থানীয়রা আতঙ্কে পড়েছেন। পুলিশ তদন্তের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, তবে এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

  • পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের ফলে তিস্তা চুক্তির আশার আলো দৃশ্যমান

    পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের ফলে তিস্তা চুক্তির আশার আলো দৃশ্যমান

    পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে প্রথমবারের মতো সরকার গঠন করতে যাচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। এই বিজয়ের ফলে তৃণমূল কংগ্রেসের ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটছে। এই ফলের সাথে সঙ্গে বাংলাদেশের জন্য নতুন আলোর আভাস দেখা দিয়েছে, বিশেষ করে আগামীতে দুই দেশের মধ্যে অমীমাংসিত তিস্তা পানির বিরোধ সমাধানে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে এই নির্বাচনের ফলাফলকে স্বাগত জানিয়েছে এবং আশা প্রকাশ করেছে যে, এটি উভয় দেশের মধ্যেকার সুসম্পর্ক বজায় রাখতে সহায়ক হবে।

    ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের বিএনপি’র তথ্য সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেন, শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপির এই জয় তিস্তা পানি বণ্টন বিষয়ক দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সমস্যা 해결ের পথ সুগম করবে। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, এখন ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের সাথে যৌথ উদ্যোগে এই সমস্যার সমাধানে কাজ শুরু হতে পারে।

    হেলাল ব্যাখ্যা করেছেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস তিস্তা ব্যারেজ চুক্তির পথে বাধা সৃষ্টি করেছিল। তবে এখন শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপির জয় বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে বলে তিনি মনে করেন, কারণ বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ সীমান্ত এই রাজ্য দিয়ে গড়া। এই পরিবর্তন দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক উন্নত করার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিয়েছে, বিশেষ করে উত্তর-পূর্ব ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কের দৃষ্টিকোণ থেকে।”

    তিস্তা প্রকল্প নিয়ে হেলাল আরও বলেন, “আগে দেখা গেছে যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই ছিল এই প্রকল্পের মূল বাধা। এখন শুভেন্দু অধিকারীের নেতৃত্বে বিজেপি ক্ষমতায় আসায় আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের কাছে প্রত্যাশিত এই ব্যারেজ চুক্তিটি বাস্তবায়নে তারা সাহায্য করবে। আশা করছি, তৃণমূলের পরিবর্তে বিজেপির প্রশাসনই এই প্রকল্পটি সম্পন্ন করবে।”

    প্রসঙ্গত, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে অভিন্ন নদীগুলোর পানি বণ্টনের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে একটি কেন্দ্রীয় অমীমাংসিত সমস্যা। বিশেষ করে তিস্তা নদীর পানি ন্যায্য হস্তান্তর বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ বাংলাদেশ এই পানির জন্য বহু বছর ধরে অপেক্ষা করছে।

    বাংলাদেশের অভিযোগ, শুষ্ক মৌসুমে ভারত পর্যাপ্ত পানি ছাড়েনা, যা কৃষি ও জীবিকার ক্ষতি করে, এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এই সমস্যা আরও বেড়ে গেছে। ১৯৮৩ সালে ভারতের ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি অস্থায়ী চুক্তি হয়। ২০১১ সালে দুই দেশ একটি তিস্তা চুক্তির খসড়া তৈরি করে, যেখানে শুষ্ক মৌসুমে ভারতের ৩৭.৫% এবং বাংলাদেশের ৪২.৫% পানি পাবে বলে সিদ্ধান্ত হয়, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর আপত্তির কারণে এই চুক্তি বাস্তবায়িত হয়নি।

    আরও আশার কথা হলো, ২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা সফরেও আলোচনায় আসে একটি ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক পানি বণ্টন চুক্তির অঙ্গীকার, তবে সেই সময়ও বাধা হয়ে দাঁড়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

    উল্লেখ্য, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে মোট ৫৪টি নদীর পানি বণ্টন নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকলেও, এখনো কেবল গঙ্গা ও কুশিয়ারা নদীর জন্য চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। তিস্তা, ফেনী ও অন্যান্য নদীর বিষয়ে আলোচনা এখনো চলমান।

    এ বিষয়ে হেলাল বলেন, যদিও বিএনপি ও বিজেপির আদর্শগত পার্থক্য থাকলেও, তিস্তা ব্যারেজ ও সম্পর্ক উন্নয়নে উভয় পক্ষের স্বার্থ一致। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার এই সম্পর্ককে আরও ত্বরান্বিত করতে সক্ষম হবে।

  • পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতির শাসন জারির আশঙ্কা

    পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতির শাসন জারির আশঙ্কা

    সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পরেও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি পরাজয়কে স্বীকার করতে নারাজ। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, নির্বাচনের ফলাফলের কারণে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করবেন না এবং সরকার পরিবর্তনের জন্য অপেক্ষা করবেন। আজ বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে তাদের সরকারের মেয়াদ শেষ হচ্ছে, যার পরে কী হবে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। সূত্রমতে, বিজেপি নেতা-কর্মীরা আগামী ৯ মে শনিবার রবীন্দ্রজন্মোৎসবের দিন শপথ গ্রহণ করবেন।

    প্রবীণ আইনজ্ঞরা উল্লেখ করছেন, যদি তৃণমূল নেত্রী তার স্থিতিতে অটল থাকেন, তাহলে আগামী ৮ মে শুক্রবার, অর্থাৎ নতুন সরকার শপথ নেওয়ার এক দিন আগে, পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতির শাসন জারি হতে পারে। এটি বিরল μία ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ ভারতের ইতিহাসে এর আগে কোনো অচেনা জটিল পরিস্থিতিতে এমন নজির দেখা যায়নি।

    ভারতের সংবিধান অনুযায়ী, নির্বাচনের ফল ঘোষণা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শাসকের দেওয়া প্রভাব থাকা উচিত। সাধারণত, পরাজিত মুখ্যমন্ত্রী দ্রুতই রাজভবনে গিয়ে পদত্যাগ করেন। এরপর রাজ্যপাল নতুন সরকার গঠনের জন্য দায়িত্ব দেন, যতক্ষণ না নতুন সরকার শপথ নেয়। সেখানে কেয়ারটেকার সরকার কাজ চালায় এবং কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। এই সংগঠন মূলত কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার উভয়ের জন্য প্রযোজ্য।

    তামিলনাড়ুতে ডিএমকে সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও নতুন সরকার শপথ নেয়নি, তবে সেখানে নেতারা পদত্যাগ করেছেন এবং রাজ্যপাল স্ট্যালিনকে দায়িত্ব দিয়েছেন। এটি পশ্চিমবঙ্গের বিপরীতে, যেখানে এখনও বড় ধরনের পরিবর্তন হয়নি।

    সংবিধানের ১৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদায়ী সরকারকে সরিয়ে দিতে হয়। আজ বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান সরকার কার্যকর থাকবে না। ফলে, রাত ১২টা ১ মিনিটের পর রাজ্যে রাষ্ট্রপতির শাসন জারি হতে পারে, যদি পরিস্থিতি অনুকূল হয়।

    রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন কর্মকর্তা মনোজ আগরওয়াল বুধবারই ২৯৩ টি বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচিত বিধায়কদের তালিকা রাজ্যপালের হাতে তুলে দিয়েছেন। এই তালিকার ভিত্তিতেই রাজ্যপাল সরকার গঠনের জন্য দল বা নেতা ধরে নেয়া হবে এবং শপথের প্রস্তুতিমূলক সিদ্ধান্ত জানানো হবে। বিজেপি এই মুহূর্তে ৯ মে শপথ নেওয়ার ঘোষণা করেছে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল নিজেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইস্তফা দাবি করতে পারেন ৭ মে, যখন বিধানসভার মেয়াদ শেষ হবে। তখন নেতৃস্থানীয় দল বা ব্যক্তিরা ক্ষমতা গ্রহণে আগ্রহ প্রকাশ করলে, মমতা পদত্যাগ করবেন এবং নতুন সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি কেয়ারটেকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

    অন্যদিকে, यदि তিনি পদত্যাগ না করেন, তাহলে কেন্দ্রীয় সংবিধান অনুযায়ী, সাময়িক সময়ের জন্য পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতির শাসন জারি হতে পারে। তবে, মমতা এই পরিস্থিতি এড়াতে আগেই ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি হারেননি এবং পদত্যাগের প্রশ্নই উঠে না।

  • ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর জানাজা সম্পন্ন

    ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর জানাজা সম্পন্ন

    যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিহত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৬ মে) স্থানীয় সময় দুপুর ২টার দিকে ফ্লোরিডার টাম্পা এয়ারিয়ার ইসলামিক সোসাইটি অ্যান্ড কনফারেন্স সেন্টারে এই জানাজা সম্পন্ন হয়। বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা ছাড়াও স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তিও এতে অংশগ্রহণ করেন।

    অপরদিকে, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তার মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়। মরদেহটি এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে প্রথমে দুবাই নেওয়া হবে, এরপর সেটি সংশ্লিষ্ট ফ্লাইটে ৯ মে ঢাকায় পৌঁছাবে।

    জেনাজার আগে জানা গেছে, দুই সপ্তাহ আগে ১৬ এপ্রিল ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় অধ্যয়নরত বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি নিখোঁজ হন। কিছু দিন পরে, হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের কাছে তাদের দেহাবশেষ বিভিন্ন দফায় উদ্ধার করা হয়।

    এই ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে জামিলের রুমমেট ও মার্কিন নাগরিক হিশাম আবুঘরবেহকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

    অন্ধকার এই ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নিহত দুই বাংলাদেশির মরদেহের জন্য তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চান কানাডার আর্জেন্টিনার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় নতুন করে গভীর তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

    প্রসঙ্গত, নিহত এই দুই শিক্ষার্থীকে করতে যাচ্ছে মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি, যা তারা পেয়েছেন ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার পক্ষ থেকে। আগামী ৯ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের বসন্তকালীন সমাবর্তনে তাদের হতদরিদ্র পরিবারের জন্য এই সম্মাননা প্রদান করা হবে। এই তথ্য মঙ্গলবার (৫ মে) অফিসিয়ালি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, মিয়ামির বাংলাদেশ কনস্যুলেটকে একটি চিঠির মাধ্যমে।

    একই চিঠিতে নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবারের প্রতিনিধির জন্য উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    জামিল আহমেদ লিমন (২৭), খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছেন। তিনি ১৬ এপ্রিল নিখোঁজ হন।

    সাথে নিখোঁজ হন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি (২৭), যিনি যুক্তরাষ্ট্রে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা করছিলেন।

  • পদত্যাগ করব না, ওরা আমাকে বরখাস্ত করুক: অনড় মমতা

    পদত্যাগ করব না, ওরা আমাকে বরখাস্ত করুক: অনড় মমতা

    তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবারও স্পষ্ট করে বলেছেন, তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করবেন না এবং এই সিদ্ধান্তে অটুট থাকবেন। গতকাল বুধবার থেকে শুরু হওয়া নিন্দা ও ক্ষোভের মধ্যেও তিনি বলেছেন, ‘ওরা যদি আমাকে বরখস্ত করে, তাহলে আমি চাই সেই দিনটিকে একটি কালো দিন বলে মনে রাখা হোক।’ এই খবরটি ভারতের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

    গতকাল দলের বিধায়কদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মমতা জানান, ২৯ এপ্রিল থেকে চলা নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার বিরুদ্ধে তাঁর দল আদালত যাবে। এই সময় তিনি দলের কর্মীদের মনোবল বাড়ানোর পাশাপাশি একটি সতর্কবার্তাও দেন—যদি কেউ প্রকাশ্যে দলের বিরুদ্ধে কথা বলে, তার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা কমিটি কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

    অন্যদিকে, বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন যে, পশ্চিমবঙ্গে কোনো নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা ঘটছে না। তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত যা কিছু ঘটনা ঘটছে, তা ২০২১ সালের নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার তুলনায় অনেক কম। কিছু মানবগোষ্ঠী এখনও সক্রিয় থাকলেও বিজেপি সরকার বলছে, তারা তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেবে।’

    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের দলকে আন্দোলনের ঝাঁকিতে রাখার জন্য প্রস্তুত করছেন। তিনি ঘোষণা করেছেন যে, বিধানসভা শুরুর দিনটিকে ‘কালো পোশাক দিবস’ হিসেবে পালন করা হবে। ৭১ বছর বয়সী এই নেত্রী নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণা পর থেকেই তাঁর অবস্থানে অটুট থাকছেন এবং হারের জন্য নির্বাচন কমিশনকেই দায়ী করছেন। তিনি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ‘নোংরা খেলা’ চালানোর অভিযোগ তুলেছেন এবং মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা ও বিহারের সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিজেপিবিরোধী জোটের ব্যর্থতার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছেন।

    এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নেতারা ভাবছেন, কি ভাবে মুখ্যমন্ত্রীকে বরখাস্ত বা তার অবস্থা পরিবর্তন করা যায়। সাধারণ ধারনা অনুযায়ী, রাজ্যপাল বা গভর্নর technically মুখ্যমন্ত্রীকে বরখাস্ত করতে পারেন, কারণ তারা পদে থাকতেই পারেন শুধু বিধানসভা ভেঙে না গেলে। আস্থা ভোটের মাধ্যমে বরখাস্তের বিধান থাকলেও, নতুন নির্বাচনের ফলাফল আসার পর তা কার্যকারিতা হারায়। এছাড়াও, রাষ্ট্রপতির শাসন জারি করা একচেটিয়া পদক্ষেপ, যা রাজ্যপাল চাইতে পারেন।

    বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার মেয়াদ ৭ মে, আজ বৃহস্পতিবার শেষ হচ্ছে, এবং এর ফলে পরিস্থিতির সমাধান খুব দ্রুত সম্ভব নয়। ইতিমধ্যেই অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মাসহ বেশ কিছু রাজনৈতিক নেতাই মমতার বরখস্ত চেয়ে মন্তব্য করেছেন।

  • বিশ্বকবির শ্বশুরবাড়ি দক্ষিণডিহি রবীন্দ্র কমপ্লেক্সের উন্নয়নে অর্ধযুগের বেশি সময়ের অপেক্ষা

    বিশ্বকবির শ্বশুরবাড়ি দক্ষিণডিহি রবীন্দ্র কমপ্লেক্সের উন্নয়নে অর্ধযুগের বেশি সময়ের অপেক্ষা

    বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিধন্য শ্বশুরবাড়ি খুলনার ফুলতলা উপজেলার দক্ষিণডিহির ‘রবীন্দ্র কমপ্লেক্স’ দীর্ঘ প্রায় তিন দশক ধরে সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত হয়নি। বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও এর উন্নয়ন এখনো অর্ধেকের বেশি অপ্রাপ্ত। ফলে, এই ঐতিহাসিক স্থানটি দর্শনার্থীদের জন্য বিরামহীন হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ ভবনগুলো দেখার সময় সেখানে যেতেও তেমন কোনও যোগাযোগ বা সংস্কার করা হয়নি। এর মধ্যেই আগামীকাল (৮ মে) থেকে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী রবীন্দ্রনাথের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী ও লোকমেলা আয়োজন, যা দক্ষিণডিহি মহাশহরে উৎসবের রূপ নেবে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯৯৫ সালে খুলনা জেলার তখনকার জেলা প্রশাসক কাজী রিয়াজুল হক এই স্থানে রবীন্দ্রনাথের শ্বশুরবাড়ির দখলমুক্তির উদ্যোগ নেন। অবৈধ দখল ও অবহেলা মুক্ত হয়ে স্থানটি সংরক্ষণ ও সংস্কারের জন্য ঠিক করা হয়। এরপর ২০০০ সালের ৮ আগস্ট প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এই বাড়ির দেখাশোনার দায়িত্ব গ্রহণ করে। পরবর্তীতে, দক্ষিণডিহি এলাকায় পূর্ণাঙ্গ রবীন্দ্র কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ৪৯ লাখ টাকা চেয়ে চিঠি পাঠায়; এর মধ্যে ২২ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়।

    ২০১২ সালের মাঝামাঝি সময়ে এই তহবিলের অর্থ ব্যয়ে ভবন সংস্কার, বাউন্ডারি ওয়াল, বিদ্যুৎ সংযোগের পাশাপাশি কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন হয়। এর আগে, ভবনের সামনে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং তার পত্নী মৃণালিনী দেবীর বিশাল আক্ষরিক মূর্তি স্থাপন, পুরোনো ছবি দেওয়া ও মৃণালিনী মঞ্চের নির্মাণ হয়। তবে কবির কর্মময় জীবনের উপর সংগ্রহশালা, লাইব্রেরি, অডিটোরিয়াম, রবীন্দ্র চর্চা কেন্দ্র ও রেস্ট হাউসের মত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নির্মাণের দাবি এখনও সম্পন্ন হয়নি। এ ছাড়াও পর্যটন কেন্দ্র, পিকনিক স্পট ও প্রবেশের রাস্তা প্রশস্ত করার কাজের অগ্রগতি খুব কম। একমাত্র সীমানা প্রাচীর, মূল ভবনের সংস্কার, লাইব্রেরি ও দর্শনার্থীদের জন্য নির্মিত ছাউনী ও টয়লেটের কাজ দৃশ্যমান।

    ফুলতলার সাবেক ইউএনও সাদিয়া আফরিনের সময় দৃষ্টিনন্দন পার্কের কাজও সম্পন্ন হয়েছে। এর পাশাপাশি, ২০১৬ সালে এই স্থানটি ‘দক্ষিণডিহি রবীন্দ্র স্মৃতি যাদুঘর’ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। এরপর থেকে দেশি-বিদেশি দর্শকদের জন্য টিকেটের মূল্যও নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে দেশের দর্শকদের জন্য ২০ টাকা এবং বিদেশীদের জন্য ৫০ টাকা নির্ধারিত।

    করোনা মহামারীর কারণে গত তিন বছর ভ্রুক্ষেপে অনুষ্ঠান হয়নি। তবে এখন, রবীন্দ্রনাথের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকীতে, ২৫ থেকে ২৭ বৈশাখ পর্যন্ত এই কমপ্লেক্সে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আলোচনা সভা, লোকমেলা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয় ও খুলনা জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এই উদযাপন খুবই উৎসাহের সঙ্গে পালন করা হচ্ছে। বিশেষ করে, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় কবি রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিধন্য এই কমপ্লেক্সকে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে।

    আগামীকাল বিকেল ৩টায় এই তিন দিনের অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন প্রধান অতিথি হিসেবে আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান এমপি। এছাড়াও উপস্থিত থাকবেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিদ্য ইসলাম অমিত, জাতীয় সংসদ হুইপ রকিবুল ইসলাম এমপি, খুলনা-৫ ও ৪ আসনের সংসদ সদস্য মো: আলি আজগার ও এস কে আজিজুল বারী, খুলনা বিভাগের কমিশনার মোঃ আব্দুল্লাহ হারুন, ডিআইজি মোঃ রেজাউল হক প্রমুখ। জেলা প্রশাসক মিজ হুরে জান্নাত এই বৃহৎ অনুষ্ঠানের সমন্বয় করবেন।

    ফুলতলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুচি রানা সাহা জানান, সব প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সবাই সহযোগিতা করলে এই অনুষ্ঠান সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে। এ অনুষ্ঠানমেলায় সাধারণ মানুষের আগমন বেশি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

  • চিতলমারীর পরিত্যক্ত হেলিপ্যাড হতে পারে ভবিষ্যতের মিনি স্টেডিয়াম

    চিতলমারীর পরিত্যক্ত হেলিপ্যাড হতে পারে ভবিষ্যতের মিনি স্টেডিয়াম

    বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের পরিত্যক্ত হেলিপ্যাড ভবিষ্যতে একটি আধুনিক মিনি স্টেডিয়ামে রূপান্তর হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসীর এই আবদার ছিল, এবং সম্প্রতি ক্রীড়া সচেতন নেতৃবৃন্দ এই পরিকল্পনাকে বাস্তবায়নের আশার বাতিসো করে তুলেছেন। জানানো হয়েছে, কাউন্সিল বা পরিকল্পনাকারীরা দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকার জন্য একটি মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের চিন্তাভাবনা করছেন, কিন্তু উপযুক্ত স্থান না পাওয়ায় সেই পরিকল্পনা বারবার পিছিয়েছে। এখন সেই মনোভাবের প্রতিফলন ঘটতে পারে হেলিপ্যাডের পরিত্যক্ত জমিতেই, যেখানে খেলাধুলার জন্য সুবিধাজনক স্থান সৃষ্টি করে এলাকার যুবকদের মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে এক সুস্থ বিনোদনের ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে। মাঠের পাশাপাশি শিশুদের জন্য ছোটখাট রাইডার ও বিনোদনের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করলেও এলাকার মানুষের প্রতিদিনের চাহিদা পূরণ হবে।

    চিতলমারী সদর ইউনিয়নের ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ সরকারের আমলে আড়–য়াবর্নী গ্রামে নির্মিত এই হেলিপ্যাডের নামানুসারে ৩ একর ৩৬ শতক জমি বিআরএস রেকর্ডে রয়েছে। বর্তমানে ওই স্থানটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে, যেখানে কিছু মৌজা মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন এবং বিভিন্ন সুস্থতা ও অপবিত্রতা দেখা দিয়েছে।

    অন্যদিকে বাজারের ব্যবসায়ী ব্যবস্থাপনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও পাশের বাসিন্দা শেখ আসাদুজ্জামান বলেন, ‘এখন আর হেলিকপ্টার ওঠানামা করে না। অনেক বছর ধরে এটি পরিত্যক্ত পড়ে আছে। কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সেখানে কলাগাছ ও পেঁপেঅগাছ লাগিয়ে জমি দখল করেছেন, আর পাশে ফেলা হয় ময়লা-আবর্জনা। এর ফলে দুর্গন্ধে সাধারণ মানুষ বসবাস করতে পারছেন না। রাতে মাদকসেবীদের আড্ডাও চলে এখানে। ফলে, এই জমিটিকে সচেতনতা ও পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যবহার করলে এলাকার যুবসমাজ সুস্থ ধারায় ফিরবে।’

    বিশিষ্ট ক্রীড়া শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম বিন্দু, ক্রীড়াবিদ সত্যজিৎ মন্ডল এবং যুব নেতারা জানান, এই অঞ্চলে খেলাধুলার জন্য উপযুক্ত মাঠের খুব অভাব। দীর্ঘদিনের এই প্রত্যাশা পূরণের জন্য হেলিপ্যাডের জায়গায় একটি আধুনিক মিনি স্টেডিয়াম বা খেলার মাঠ গড়ে তোলার প্রয়োজন। এতে করে যুব সমাজ আবারও খেলাধুলায় ফিরবে এবং সুস্থ জীবনধারায় অনুপ্রাণিত হবে।

    অঞ্চলের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের নেতৃত্বে থাকা চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার বলেন, ‘প্রতিটি ইউনিয়নের জন্য জেলা পর্যায় থেকে একটি খেলার মাঠের জন্য জায়গা নির্ধারণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে, জেলা প্রশাসক প্রত্যেক ইউনিয়নের জন্য নির্ধারিত জায়গাগুলোর তালিকা পাঠিয়েছেন। আমরা সেই অনুযায়ী কাজ করছি, এবং হেলিপ্যাডের পরিত্যক্ত জমি ক্ষেত্রবিশেষে বিকল্প পরিকল্পনা হিসেবে একটি বিখ্যাত খেলা মাঠের জন্য ব্যবহারের পরিকল্পনা করছি।’