Blog

  • খুলনায় গুলিবিদ্ধ যুবককে ঢাকায় নেয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সে গুলি

    খুলনায় গুলিবিদ্ধ যুবককে ঢাকায় নেয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সে গুলি

    খুলনায় গুলিবিদ্ধ আড়াই চল্লিশ বছরের যুবক রাজু হাওলদারকে (৩৮) ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার সময় দুর্বৃত্তরা অ্যাম্বুলেন্সও লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পেটের কাছে এক গলার ক্ষত হয়ে গুরুতর অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।

    পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত মতে, সোমবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যার পর লবণচরা থানার কোবা মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় দুর্বৃত্তরা রাজুকে লক্ষ করে গুলি করে। গুলির সঠিক সময় এবং হামলার স্থান সম্পর্কে কেউ নিশ্চিত তথ্য দিতে পারেননি। এক গুলি তার পেটে লাগে।

    আহত রাজুর সঙ্গে থাকা এক নারী জানান, তিনি আহত যুবকের পরিচিত — তার ছেলে ওই যুবকের বন্ধু। আহত অবস্থায় রাজু zunächst তাদের বাড়িতে আশ্রয় নেয়, পরে চিকিৎসার প্রয়োজন দেখা দিলে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

    রাজু হাওলদার লবণচরা থানার শিপইয়ার্ড এলাকার, ইউনুস হাওলদারের ছেলে বলে স্থানীয়রা জানান। গুরুতর আহত হওয়ায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন।

    ঢাকায় নেয়ার পথে রাত সাড়ে বারটার দিকে রূপসা উপজেলার কুদির বটতলা এলাকায় পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা অ্যাম্বুলেন্সকে লক্ষ্য করে পুনরায় গুলি চালায়। অ্যাম্বুলেন্স চালক মো. ফারুক দ্রুত গাড়িটি কাটাখালী হাইওয়ে থানায় নিয়ে গিয়ে আশ্রয় নেন। পরে হাইওয়ে পুলিশের সহযোগিতায় রক্ষা পেয়ে আবারও ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়া হয়।

    অ্যাম্বুলেন্স চালক মো. ফারুক বলেন, খুলনা মেডিকেল কলেজ থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার পর কুদির বটতলা এলাকায় পৌঁছালে সন্ত্রাসীরা গুলি চালায়। গুলি গাড়িতে লেগে যাওয়ার আশঙ্কায় তিনি ঝটপটে থানায় আশ্রয় নেন।

    কাটাখালী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাফর আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গুলিবিদ্ধ এক রোগীকে ঢাকায় নেওয়ার পথে দুর্বৃত্তরা অ্যাম্বুলেন্স লক্ষ্য করে গুলি চালায়; পরে পুলিশি সহায়তায় অ্যাম্বুলেন্সটিকে নিরাপদে সীমানা পার করে দেয়া হয়।

    খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার শিহাব করীম বলেন, লবণচরা এলাকায় একজন যুবক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, তবে ঠিক কোথায় এবং কখন তার ওপর হামলা হয়েছে তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশের কাছে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলা আছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

    বর্তমানে রাজুর শারীরিক অবস্থা ও ঢাকায় পৌঁছে তার চিকিৎসার সবশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে হাসপাতাল থেকে তৎকালীন কোনো বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায়নি। ঘটনার বিষয়টি নিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে।

  • খুলনায় প্রতিবন্ধী যুবকের হত্যায় প্রধান আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

    খুলনায় প্রতিবন্ধী যুবকের হত্যায় প্রধান আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

    খুলনার তেরখাদা উপজেলার প্রতিবন্ধী যুবক ইতুদুল ইসলাম (ওরফে ইতু) হত্যা মামলায় প্রধান আসামি মো. জামিল আহম্মেদকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে আদালত। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

    আজ মঙ্গলবার (৫ মে) খুলনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক জিএম নাজমুস শাহাদাৎ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জামিল আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

    আদালত সূত্রে জানা যায়, তেরখাদা উপজেলার গাজীপুর গ্রামের শাহজাহান শেখের ছেলে জামিলের বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধী যুবক ইতুদুল ইসলামকে হত্যা করার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ দণ্ড দেওয়া হয়েছে। মামলার সাক্ষ্য ও প্রমাণাদি পর্যালোচন করে বিচারক এই সিদ্ধান্ত নেন।

    অপর তিন আসামি—জাকির হোসেন, আফরিন বেগম ও মো. আজিজুল শেখ—অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাদের খালাস দিয়েছেন। রায়ের পর মামলার বাদী পক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করলেও স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই মনে করছেন, দীর্ঘদিনের বিচারপ্রক্রিয়ার এই রায়ে মামলার একটি শেষপর্যায়ের নিষ্পত্তি হয়েছে।

  • আইসিসি টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে শ্রীলঙ্কাকে ছাড়িয়ে বাংলাদেশ অষ্টম

    আইসিসি টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে শ্রীলঙ্কাকে ছাড়িয়ে বাংলাদেশ অষ্টম

    আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে এক ধাপ এগিয়ে অষ্টম স্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। বার্ষিক হালনাগাদের ফলে টাইগাররা এই উন্নতি দেখিয়েছে।

    র‍্যাঙ্কিং অনুযায়ী, চলতি বছর সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ভারত; তাদের পয়েন্ট ২৭৫। দ্বিতীয় স্থানে আছে ইংল্যান্ড (২৬২ পয়েন্ট) এবং তৃতীয় স্থানে অস্ট্রেলিয়া (২৫৮ পয়েন্ট)।

    আইসিসির বার্ষিক হালনাগাদে উল্লেখ করা হয়েছে যে ২০২৫ সালের মে মাসের পর থেকে খেলা ম্যাচগুলোকে ১০০ শতাংশ গুরুত্ব এবং তার আগের দুই বছরের ম্যাচগুলোকে ৫০ শতাংশ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা সাম্প্রতিক ফলাফলগুলোর প্রভাব বাড়ায়।

    শীর্ষ সাত দলের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন হয়নি। চতুর্থ স্থানে নিউজিল্যান্ড (২৪৭ পয়েন্ট), পঞ্চমে দক্ষিণ আফ্রিকা (২৪৪ পয়েন্ট), ষষ্ঠে পাকিস্তান (২৪০ পয়েন্ট) এবং সপ্তমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ (২৩৩ পয়েন্ট) রয়েছে।

    অপরদিকে, শ্রীলঙ্কা ৬ পয়েন্ট হারিয়ে নবম স্থানে নেমেছে। তাদের পেছনে থেকে বাংলাদেশ ২২৫ পয়েন্ট নিয়ে অষ্টম স্থানে উঠেছে — সাম্প্রতিক হালনাগাদে বাংলাদেশের পয়েন্ট বেড়েছে ১।

    দশম স্থানে আছে আফগানিস্তান (২২০ পয়েন্ট)। একাদশ ও দ্বাদশ স্থানে যথাক্রমে জিম্বাবুয়ে ও আয়ারল্যান্ড অপরিবর্তিত রয়েছে।

    এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্র ৬ পয়েন্ট বাড়িয়ে দুই ধাপ এগে ১৩তম স্থানে উঠে এসেছে; নেদারল্যান্ডস ও স্কটল্যান্ড এখন যথাক্রমে ১৪ ও ১৫ নম্বরে।

    আইসিসির হালনাগাদে সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোর গুরুত্ব বাড়ায় র‍্যাঙ্কিংয়ে ওঠানামা দেখা যাচ্ছে, ফলে আগামী সময়ে দলগুলো আরও সামনে-পেছনে হতে পারে।

  • ঢাকার অনূর্ধ্ব-১৪ একাডেমী কাপ: এসবিআলী খুলনা সেমিফাইনালে

    ঢাকার অনূর্ধ্ব-১৪ একাডেমী কাপ: এসবিআলী খুলনা সেমিফাইনালে

    বাংলাদেশ ফুটবল সাপোর্টার্স ফোরামের আয়োজনে, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সহযোগিতায় এবং বসুন্ধরা কিংসের পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত বসুন্ধরা কিংস বিএফএসএফ অনূর্ধ্ব-১৪ একাডেমী কাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে এসবিআলী ফুটবল একাডেমী, খুলনা।

    সোমবার (৪ মে) ঢাকার কমলাপুরে বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে দিনের প্রথম ম্যাচে এসবিআলী খুলনা ও হরিয়ান ফুটবল একাডেমী, রাজশাহী মুখোমুখি হয়। খেলায় এসবিআলী ভাঙতে পারে রাজশাহীর প্রতিরোধ এবং ৩-১ গোলে জয় তুলে নেয়। দলের পক্ষে ইমরান, শিশির ও অন্তর এক করে গোল করেন। ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় (ম্যান অফ দ্য ম্যাচ) নির্বাচিত হন ইয়াসিন।

    এসবিআলী ফুটবল একাডেমীর জয় তাদের সেমিফাইনালে উঠিয়ে দেয়; পরবর্তী ম্যাচ সেমি ফাইনাল হবে ৬ মে বিকেল ৪টায়। দল খেলায় সামর্থ্য ও সংগ্রামী মনোভাব দেখিয়েছে, যা আগামী রাউন্ডে ভালো ফল পাঠাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    এসবিআলী ফুটবল একাডেমীর খেলোয়াড়রা: আকাশ, হামিম, হোসাইন, জামিল, রিফাত, ইয়াসিন, শিশির, অন্তর, সুজন, সাব্বির, অংকন, বাইজিদ, সৌরভ, অনিক, রোহিত, তাজ, ইমরান, আবির, নাফিস, রাফি ও আইয়ান। টিম ম্যানেজার: মোহাম্মদ ইউসুফ আলী। কোচিং স্টাফ: চীফ কোচ শহিদুল ইসলাম ও সহকারী কোচ নুরুল ইসলাম শিমুল।

  • বিজয় ভাগ করে নিলেন তামিলনাড়ুর ৪৯ বছরের রেকর্ড

    বিজয় ভাগ করে নিলেন তামিলনাড়ুর ৪৯ বছরের রেকর্ড

    নিজের প্রথম নির্বাচনে চমক দেখিয়েছেন থালাপতি বিজয়। দক্ষিণ ভারতের সুপরিচিত চলচ্চিত্র তারকা জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে শুধু ব্যক্তিগতভাবে জয়ই পাননি—তার রাজনৈতিক দল তামিলাগা ভেট্টরি কোজাগম (টিভিকে) ১০৮টি আসনে বিজয়ী হয়ে রাজ্যের ৪৯ বছরের পুরোনো এক রেকর্ডের সঙ্গে ভাগ বসিয়েছে।

    এই রেকর্ডের শুরুও চলচ্চিত্র জগত থেকেই। ১৯৭৭ সালে এমজি রামাচন্দ্রন (এমজিআর) নিজের তৈরি দল এআইএডিএমকে-কে নেতৃত্ব দিয়ে রাজ্যপাল নির্বাচনে জয় পান এবং পরবর্তী সময়ে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হন; ১৯৮৭ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি সেই পদে ছিলেন। পরবর্তীতে জয়ারললিতা মুখ্যমন্ত্রীর পদে আসলেও তিনি নিজে কোনো নতুন দল গঠন না করে এমজিআর-র এআইএডিএমকে-র মধ্যে থেকে উঠে আসেন। এরপর আর কোনো চলচ্চিত্র তারকা এ রকম রাজনৈতিক উচ্চতায় পৌঁছাতে পারেননি।

    এই পরিপ্রেক্ষিতেই বিজয়ের সাফল্য নজিরবিহীন। তামিলনাড়ুর আসনের সংখ্যা মোট ২৩৪; এককভাবে সরকার গড়তে যেকোনো দল বা জোটকে ১১৮ আসন দরকার। টিভিকে যাঁরা ১০৮ আসন জিতেছে, তারা একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও নির্বাচনী ফল থেকে স্পষ্ট যে টিভিকেই রাজ্যের ক্ষমতার কেন্দ্র হিসেবে দেখা হবে এবং জোটবদ্ধ হয়ে সরকার গঠন করলে চালক হিসেবে টিভিকেই থাকতে হবে। ফলে রাজ্যপালের দরকারি ধাপ পেরোলেই বিজয় তামিলনাড়ুর পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হবার পথে আছেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

    কীভাবে এই অবস্থানে পৌঁছলেন বিজয়? তার রাজনৈতিক যাত্রা বেশ ধাপে ধাপে গড়ে উঠেছে। ২০০৯ সাল থেকেই তিনি ভক্তদের সংগঠিত করতে শুরু করেন এবং বিভিন্ন গ্রুপকে মিলিয়ে ‘বিজয় মাক্কাল ইয়াক্কাম’ নামে এক ঐক্য মঞ্চ গড়ে তোলেন। এই সংগঠন রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ছিল; ২০১১ থেকে ২০২০ পর্যন্ত মাক্কাল ইয়াক্কাম এআইএডিএমকে-কে সমর্থন দেয়। ২০২১ সালে সেই সমর্থন তুলে নিয়ে বিজয় নিজের সংগঠনের রাজনৈতিক কাঠামো গঠনে মনোযোগ দেন এবং ২০২৪ সালে তামিলাগা ভেট্টরি কোজাগম-কে হিসেবে রাজনীতিতে আনেন।

    ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি নতুন দল হিসেবে টিভিকের ১০৮ আসন অর্জন সত্যিই চমকপ্রদ। পার্লামেন্টারি নিয়ম অনুযায়ী একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় টিভিকের এককে সরকার গঠন করা সম্ভব নয়, তবু জোট গঠনের পর সেই জোটের নেতৃত্ব টিভিকের কাছে থাকবে এবং বিজয়কে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    এভাবেই সিনেমা জগত থেকে সরাসরি রাজনীতিতে прыবেশ করে এমজি রামাচন্দ্রনের পরে আবারও সেই ইতিহাসের ছাঁচ কেটে দিয়েছেন বিজয়—একই দর্শকভিত্তি, সংগঠিত ভক্তকূল এবং শক্তিশালী রাজনৈতিক পরিকল্পনার মিশ্রণে। (সূত্র: এনডিটিভি)

  • রুনা লায়লা বললেন: আমার মৃত্যু নিয়ে অদ্ভুত গুজব ছড়ানো হয়েছে

    রুনা লায়লা বললেন: আমার মৃত্যু নিয়ে অদ্ভুত গুজব ছড়ানো হয়েছে

    উপমহাদেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী রুনা লায়লার মৃত্যু নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হঠাৎ করে অদ্ভুত গুজব ছড়িয়ে পড়ায় ভক্ত-অনুরাগীরা উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন। তবে রুনা লায়লা নিজেই সতর্ক করেছেন যে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ ও ভালো আছেন।

    বর্তমানে তিনি ভারতের দিল্লিতে ‘মিনার–ই–দিল্লি’ পুরস্কার গ্রহণের অনুষ্ঠানতে উপস্থিত রয়েছেন। সেখানে থাকা অবস্থায় বাইরে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ তৈরি হয়।

    ঘটনাটি নজরে আসার পর রুনা লায়লা তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট করে সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। পোস্টে তিনি ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষীদের উদ্দেশ্যে লিখেছেন, “আমার মৃত্যু নিয়ে কিছু অদ্ভুত গুজব ছড়িয়েছে। আমি পরিষ্কারভাবে জানাতে চাই যে আমি বহাল তবিয়তে বেঁচে আছি।”

    তিনি এ ধরনের ভিত্তিহীন সংবাদে কষ্ট প্রকাশ করে অনুরোধ করেছেন, কোনো পোস্ট শেয়ার করার আগে তথ্য যাচাই করে নিন। তিনি দিয়েছেন ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালবাসা—“এটির ফলে আমার এবং আমার পরিবারের জন্য অনেক কষ্ট হচ্ছে। সবার জন্য অনেক ভালোবাসা রইল।”

    সংগীতজীবনের সংক্ষিপ্ত পরিচয়ে বলা যায়, রুনা লায়লা ১৯৬৬ সালে উর্দু চলচ্চিত্র ‘হাম দোনো’র গানের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করেন এবং ১৯৬০-এর দশকে পাকিস্তান টেলিভিশনে নিয়মিত গান করেন। তাঁর কিছু জনপ্রিয় সংগীত যেমন ‘ও মেরা বাবু চেল চাবিলা’ ও ‘দামা দম মাস্ত কালান্দার’ উপমহাদেশ জুড়ে তাকে জনপ্রিয় করেছেন।

    ভক্তদের উদ্বেগ শুষ্ক করে দিয়ে রুনা লায়লা নিজের সুস্থতার বার্তা দিয়ে শান্তি ফিরিয়ে আনায় উৎসাহ দিয়েছেন।

  • পশ্চিমবঙ্গে সরকার বদললেও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি অপরিবর্তিত থাকবে: শামা ওবায়েদ

    পশ্চিমবঙ্গে সরকার বদললেও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি অপরিবর্তিত থাকবে: শামা ওবায়েদ

    পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সরকার বদলেছে বলেই বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি বদলাবে না। তিনি বলেন, ভুক্তভোগী দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ নির্বাচন তাদের নিজস্ব বিষয়; বাংলাদেশ তার ফরেন পলিসি সব ক্ষেত্রেই একইভাবে পরিচালনা করবে।

    আজ মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমাদের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতেই ফরেন পলিসি থাকবে। যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক, আমাদের নীতি পরিবর্তন হবে না। আমরা আলোচনার ভিত্তিতেই সবার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখব।”

    ডিসি সম্মেলনে আলোচ্য বিষয়গুলো সম্পর্কে তিনি বলেন, অবৈধ অভিবাসন রোধ ও মানুষকে দালাল চক্রের হাত থেকে উদ্ধার করাই প্রধান অগ্রাধিকার। বহু বাংলাদেশি বিদেশে যাওয়ার সময় প্রতারণার শিকার হয়ে বিপদের সম্মুখীন হচ্ছেন; অনেকের প্রাণও হারাচ্ছেন। এসব রোধ করার ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকদের বড় ভূমিকা আছে—জনসচেতনতা সৃষ্টি, স্থানীয়ভাবে সামাজিক জাগরণ তৈরি করা এবং সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কে মানুষকে জানানো।

    প্রতিমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, ভোকেশনাল ও কারিগরি প্রশিক্ষণ বাড়ানোও অত্যন্ত জরুরি। দেশের বিভিন্ন স্থানে থাকা প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর করে তোলা এবং যেখানে প্রয়োজন সেখানে নতুন ইনস্টিটিউট স্থাপনে ডিসিরা কাজ করতে পারবেন। এতে দক্ষ ও অর্ধ-দক্ষ শ্রমিক বিদেশে পাঠানো সহজ হবে, ফলে একদিকে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং অন্যদিকে অবৈধ মাইগ্রেশন কমানো সম্ভব হবে।

    তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে সরকারের মেনিফেস্টোতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—স্কিলড ও সেমি-স্কিলড লেবার বিভিন্ন দেশে পাঠিয়ে দেশের কর্মসংস্থান বাড়ানো এবং অবৈধ অভিবাসন বন্ধ করা হবে। জেলা প্রশাসকদের কাজ হবে এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোকে কার্যকর করে আরও বেশি তরুণ-তরুণীকে প্রশিক্ষণ ভিত্তিক কর্মজীবনে প্রস্তুত করা।

    শামা ওবায়েদ আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে কঠোর প্রভাব ফেলছে এবং সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নারী ও শিশু সম্প্রদায়ের ওপর এর প্রভাব গুরুভাবে পড়ছে। কোন অঞ্চলে কী পরিস্থিতি আছে তা পর্যবেক্ষণ এবং স্থানীয়ভাবে সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে ডিসিদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সম্মেলনে এসব দিক নিয়েও ব্যাপক কথা হয়েছে।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জেলা প্রশাসকদের যে কোনো পরামর্শ গ্রহণে উন্মুক্ত আছে বলেও তিনি জানান। “জেলা প্রশাসকরা যেকোনো সময় আমাদের সাথে আলোচনা, মত বিনিময় বা পরামর্শের জন্য যোগাযোগ করতে পারেন। আমাদের যোগাযোগ লাইন সব সময় খোলা আছে—ডিসি থেকে উপজেলা পর্যায়ে পর্যন্ত আমরা নিয়মিত সংযোগে আছি,” প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

  • মো. তারিকুল ইসলাম সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পদ থেকে পদত্যাগ

    মো. তারিকুল ইসলাম সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পদ থেকে পদত্যাগ

    মো. তারিকুল ইসলাম আজ মঙ্গলবার (৫ মে) সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। তিনি 이날 অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন।

    পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেছেন যে আসন্ন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে সহ-সম্পাদক পদে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তিনি এই পদ থেকে সরে যাচ্ছেন।

    জানতে চাইলে তারিকুল ইসলাম বলেন, তিনি জামায়াতসহ ১০ দলীয় জোটের ‘আইনজীবী ঐক্য প্যানেল’ থেকে নির্বাচন করবেন।

    সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচন আগামী ১৩ ও ১৪ মে অনুষ্ঠিত হবে।

  • খুলনায় অভিভাবকহীন ছাত্রদল: সাংগঠনিক স্থবিরতা, পদপ্রত্যাশীদের লবিং

    খুলনায় অভিভাবকহীন ছাত্রদল: সাংগঠনিক স্থবিরতা, পদপ্রত্যাশীদের লবিং

    খুলনায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল বড় ধরনের নেতৃত্ব শূন্যতা নিয়ে অস্থির সময় পার করছে। মহানগর ও জেলা পর্যায়ে দীর্ঘদিন কোনো কার্যকর কমিটি না থাকার ফলে সাংগঠনিক কার্যক্রম প্রায় থমকে গেছে। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরে নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টির পরও চূড়ান্ত নেতৃত্ব না হওয়ায় স্থানীয় নেতাকর্মীরা অপেক্ষার মধ্যে রয়েছেন, আর পদপ্রত্যাশীরা লবিংয়ে ব্যস্ত।

    দলীয় সূত্র বলছে, খুলনা মহানগর ছাত্রদলের পূর্বের কমিটি ২০২১ সালের ২৪ মার্চ গঠিত হয়েছিল—ইশতিয়াক আহমেদ (ইস্তিকে) আহ্বায়ক এবং তাজিম বিশ্বাস সদস্য সচিব হিসেবে। ওই কমিটি ১৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ৫টি থানা ও মহানগরের ৩১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৫টিতে ইউনিট কমিটি গঠন করে সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর চেষ্টা করেছিল। তিন বছরের মাথায়, অর্থাৎ ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সেই কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

    জেলা ছাত্রদলের চিত্র আরও দীর্ঘসূত্রি। ২০১৬ সালের ১৩ অক্টোবর মান্নান মিস্ত্রিকে সভাপতি ও গোলাম মোস্তফা তুহিনকে সাধারণ সম্পাদক করে গঠিত জেলা কমিটি আট বছর দায়িত্ব পালন করেছে। তারা জেলার ৩১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ ৯টি থানায় ইউনিট গঠন করলেও একই দিনে—২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর—এই জেলা কমিটিও বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

    কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের এক বিবৃতি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে স্থানীয় কমিটিগুলোর মেয়াদোত্তীর্ণতা দিয়ে মহানগর ও জেলা স্তরের কমিটিগুলো বিলুপ্ত করা হয়েছিল। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ তা প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানালেও জাতীয় নির্বাচনের আগের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে নতুন কমিটি ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি। ফলে মাঠ পর্যায়ে ইউনিট কমিটিগুলো কার্যকর থাকলেও উপরের কোনো ‘অভিভাবক’ না থাকায় খুলনার ছাত্রদল কার্যত নেতৃত্বহীন অবস্থায় পড়ে।

    একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে এখন ব্যাপক যাচাই-বাছাই ও তদন্ত চলছে। বিএনপি’র কেন্দ্রীয় ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম (বকুল) নিজেই এই প্রক্রিয়া তদারকি করছেন।

    মহানগর ও জেলা কমিটির শীর্ষপদের জন্য যে নামগুলো আলোচনা চলছে, তাদের মধ্যে মহানগর সদর পদে উঠে এসেছে তাজিম বিশ্বাস, আরিফুল ইসলাম আরিফ, হেদায়েত উল্লাহ দিপু, মোঃ শাকিল আহমেদ, মাজহারুল ইসলাম রাসেল, আব্দুল হক শাহিন, হাসান ফকির, সৈয়দ ইমরান, নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়া, রাজু আহমেদ, আব্দুস সালাম, রাশিউর রহমান রুবেল, রাজিবুল ইসলাম বাপ্পি, নাজমুল ইসলাম ও মুশফিকুর রহমান অভি প্রমুখ। জেলার জন্য আলোচনায় এগিয়ে আছেন গাজী শহিদুল, মাসুম বিল্লাহ, মশিউর রহমান শফিক, ফিরোজ আহমেদ আদল, অনিক আহমেদ, ইয়ামিন ইসলাম, ইসমাইল হোসেন খান, আবু জাফর ও ইমতিয়াজ সুজন।

    জেলার সাবেক নেতা অনিক আহমেদ বলেন, ‘মামলার বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে কমিটি করলে প্রকৃত ত্যাগীরা নেতৃত্বে আসবে।’ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব তাজিম বিশ্বাস বলেন, ‘ছাত্রদল বিএনপির সহযোগী সংগঠন হলেও এটি দলের রক্তসঞ্চালনের এক মাধ্যম—নতুন কর্মীরা এখান থেকেই দলে যোগ দেয়। বর্তমান সংসদের বেশিরভাগ মন্ত্রী ও এমপি ছিল ছাত্রনেতা; তাই দলকে গতিশীল রাখার জন্য দ্রুত নতুন কমিটি প্রয়োজন।’

    স্থানীয় নেতারা অনড়ভাবে বলছেন যে দ্রুত ও সুসংগঠিত কমিটি গঠন না হলে খুলনার ছাত্রদল রাজনৈতিক অঙ্গনে তার কার্যকর উপস্থিতি ধরে রাখতে পারবে না। কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে অনুমোদন ও চূড়ান্ত ঘোষণা মিললে শিগগিরই নতুন অরাজনৈতিক ও পরীক্ষিত নেতৃত্ব দিয়ে স্থানীয় সংগঠনে প্রাণ ঢোকে বলেই প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

  • এনসিপি: সরকার সংস্কারে প্রতারণা করছে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বাধ্য করতে হবে

    এনসিপি: সরকার সংস্কারে প্রতারণা করছে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বাধ্য করতে হবে

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বলেছে, বিএনপি সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে — নির্বাচনের আগে যে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা তারা পালনে অনীহা দেখাচ্ছে। এমন অবস্থাই চলতে থাকলে দেশ কর্তৃত্ববাদী হয়ে যাবে; তাই সরকারকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বাধ্য করতে হবে।

    রোববার (৩ মে) রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের মুক্তিযোদ্ধা হলে এনসিপির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটি আয়োজন করে ‘জ্বালানি, অর্থনীতি, মানবাধিকার, সংস্কার ও গণভোট’ শীর্ষক জাতীয় কনভেনশন। উদ্বোধনী সেশনে সভাপতিত্ব করেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন। স্বাগত বক্তব্য দেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির সহ-প্রধান সারোয়ার তুষার। সেশনের প্রধান প্যানেলিস্ট ছিলেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম প্রধান সমন্বয়ক হান্নান মাসউদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী ও সমাজবিজ্ঞানী মির্জা হাসান। সেশনটি মডারেট করেন জাতীয় নারীশক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিন।

    হান্নান মাসউদ বলেন, সংসদের প্রথম অধিবেশনের পরই স্পষ্ট হয়েছে যে এটি ‘‘প্রতারণা ও প্রবঞ্চনার সংসদ’’. তিনি বললেন, কিছু অধ্যাদেশ এমনভাবে আইন করতে পরিণত হয়েছে যা সরকারের ক্ষমতা বাড়ায়, অথচ যেগুলো সরকারকে জবাবদিহি বানাবে সেগুলোকে নাড়িয়ে ফেলা হয়েছে। তিনি স্থানীয় সরকারের ওপর প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অপসারণের অনৈতিক বিধানের বিরুদ্ধে সতর্ক করলেন। পাশাপাশি বলেন, যেসব কমিশন বা গঠনতন্ত্র জনগণের পক্ষ থেকে দাবি ছিল, সেগুলোই পরে বাতিল বা পরিবর্তিত করা হচ্ছে।

    রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী বলেন, ১৯৯১ সালে যে সংস্কারের প্রস্তাবগুলো আনা হয়েছিল, সেগুলো আজ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি। ২৪-এর অভ্যুত্থানের পর যা হয়েছে, তা দায়িত্বজটিল এবং প্রতারণামূলক ছিল—দেশের এলিট ও সরকারি-বেসরকারি ক্ষমতা ছাড়তে চায় না, ফলে সংস্কারগুলো ভণ্ডভাবে থেমে যায়। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, কোনো দেশের কোনো মন্ত্রী যদি সংসদে মিথ্যা বক্তব্য দেন, অনেক развит দেশে তাৎক্ষণিক পদত্যাগের দাবি ওঠে; বাংলাদেশে এ ধরনের প্রশ্ন উঠা উচিত।

    সামাজবিদ মির্জা হাসান বলেন, ‘জুলাই সনদ’ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ; এর মূল লক্ষ্য তিনটি শাখার মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করা—বিচার, শাসন ও নির্বাহী বিভাগ। তিনি জানান, সংস্কারকমিটির প্রথম দফার কিছু প্রস্তাব খুবই র‍্যাডিকাল ছিল, যেমন একই ব্যক্তি সরকারপ্রধান এবং দলের প্রধান না হওয়ার বিষয়টি; কিন্তু রাজনৈতিক চাপের মুখে অনেককিছু কম্প্রোমাইজ করা হয়েছে। যে অংশগুলো রক্ষা করা সম্ভব হয়েছিল, সেগুলোও বাস্তবায়ন করলে বড় অর্জন হতে পারত।

    এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, দলগত স্বার্থে সরকার সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ করছেন; এরই মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিলসহ নানা পদক্ষেপ হয়েছে, যা পূর্বপ্রতিশ্রুতির পরিপন্থী। তিনি বলেন, ‘‘অনেকে বলে থাকে ‘আমাদের সরকার, আমরা আমাদের লোক রাখব’—কিন্তু সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয় মানুষ বসানো न्यायসঙ্গত নয়।’’

    সভাপতি আখতার হোসেন বলেন, বিএনপি সরকার স্পষ্টভাবে সংস্কার করতে চায় না; তারা ক্ষমতা অক্ষুণ্ণ রাখতে চায়। তিনি বলেছেন, সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে যেখানে সব দল একমত ছিল এমন প্রায় ৩০টি মৌলিক বিষয় রাখা হয়েছিল—উচ্চকক্ষের বিন্যাস, পিআর অনুযায়ী প্রতিনিধি, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নতুন ফর্মুলা, এবং সাংবিধানিক নিয়োগের জন্য নিরপেক্ষ বোর্ডের মাধ্যমে নিয়োগের মতো ব্যবস্থা। এখন বিএনপি কিছু পয়েন্ট নিয়ে আপত্তি এলে তা পরিষ্কার করা প্রয়োজন: গণভোটের কোনো অংশে তাদের আপত্তি কী?

    কনভেনশনে অংশগ্রহণকারীরা পুনরায় দাবি করেন, সরকার যদি নির্বাচনের আগে করা সংস্কারের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসে, তা প্রতিহত করতে রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তিকে নির্বাচিত সংস্কার বাস্তবায়নে সকল উপায় অবলম্বন করতে হবে।