Blog

  • পুশব্যাক নিয়ে ভারত: বাংলাদেশকে দ্রুত নাগরিকত্ব যাচাই সম্পন্ন করার আহ্বান

    পুশব্যাক নিয়ে ভারত: বাংলাদেশকে দ্রুত নাগরিকত্ব যাচাই সম্পন্ন করার আহ্বান

    পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের পর সীমান্তে ‘পুশব্যাক’ বা জোরপূর্বক মানুষ ফেরত পাঠানোর সম্ভাবনা নিয়ে শীর্ষ পর্যায়ের যে মন্তব্যগুলো উঠেছে, তা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত। বৃহস্পতিবার (৭ মে) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এসব বক্তব্যকে মূলত অবৈধ বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রত্যাবাসন প্রসঙ্গ হিসেবে দেখা উচিত এবং এ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের দ্রুত সহযোগিতা প্রয়োজন।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানান, গত কয়েক দিনে এমন মন্তব্য লক্ষ্য করা গেছে। তবে মূল ফোকাস থাকা উচিত ভারতে থাকা অবৈধভাবে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো — এবং এ কাজ সফল করতে বাংলাদেশ সরকারের নাগরিকত্ব যাচাই প্রক্রিয়া দ্রুততর করা প্রয়োজন।

    মুখপাত্র আরও জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের কাছে নাগরিকত্ব যাচাই সংক্রান্ত প্রায় ২ হাজার ৮৬০টির বেশি মামলা ঝুলে আছে; এর মধ্যে অনেক আবেদন পাঁচ বছরেরও অধিক সময় ধরে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘যদি যাচাই প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা হয়, তাহলে অবৈধ অভিবাসীদের ফেরত পাঠানো সহজ ও সুশৃঙ্খলভাবে করা সম্ভব হবে।’’

    একই ব্রিফিংয়ে তিস্তা নদীর পানি বণ্টন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অভিন্ন নদীর সংখ্যা ৫৪টি এবং এসব নদী-সংক্রান্ত সব ইস্যু আলোচনার জন্য দুই দেশের স্থাপন করা দ্বিপক্ষীয় কাঠামো সক্রিয় রয়েছে। তিনি জানান, পানিবণ্টন ও নদী ব্যবস্থাপনাসহ বিদ্যমান যৌথ প্রক্রিয়াগুলো নিয়মিত বৈঠকের মাধ্যমে এগিয়ে চলছে, তবে তিস্তা চুক্তি বিষয়ে নতুন কোনো অগ্রগতি বা নির্দিষ্ট সময়সীমা তিনি উল্লেখ করেননি।

    অন্যদিকে, বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সীমান্তে সম্ভাব্য পুশব্যাক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বুধবার (৬ মে) বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের পর এমন কোনো ঘটনা ঘটবে বলে তিনি আশঙ্কা করেন না, তবুও সীমান্ত পরিস্থিতির দিকে নজর রাখতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানও এ বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেছেন। বিএনপির একটি অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত বক্তব্যে তিনি বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর যদি সীমান্তে ‘পুশ ইন’ বা জোরপূর্বক মানুষ ঢোকানোর ঘটনা ঘটে, তাহলে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

    ব্যাপক প্রেক্ষাপটে পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে বিজেপি অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকে বড় রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে তুলে ধরেছে এবং তৃণমূল কংগ্রেস দাবি করে আসছে যে তারা সীমান্তে নরম বিধান করছে; তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তারা দীর্ঘদিন ধরে করে আসছে, যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল বারবার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

    সারসংক্ষেপে, ভারত সুচিত করেছে যে সীমান্ত ও অনুপ্রবেশ সংক্রান্ত যে সব কথাবার্তা হচ্ছে, সেগুলোকে অবৈধ অভিবাসীদের প্রত্যাবাসন প্রসঙ্গে দেখা উচিত এবং এ কাজে দ্রুত নাগরিকত্ব যাচাই করে বাংলাদেশের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ হবে। একই সঙ্গে দুই দেশ নদী-বিষয়ক দ্বিপক্ষীয় কাঠামো বজায় রেখে তিস্তা ও অন্যান্য নদীর ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত আলোচনা চালিয়ে যাবে।

  • শার্শায় জমিজমা বিবাদের জেরে ককটেল বিস্ফোরণ ও মোটরসাইকেল ছিনতাই, একজন আটক

    শার্শায় জমিজমা বিবাদের জেরে ককটেল বিস্ফোরণ ও মোটরসাইকেল ছিনতাই, একজন আটক

    যশোরের শার্শায় জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘ দিনের বিরোধের জেরে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এক বাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয় এবং দুটি মোটরসাইকেল ছিনতাই করে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।

    ঘটনাটি উপজেলার উলাশী ইউনিয়নের মাটিপুকুরিয়া গ্রামে ঘটে। স্থানীয় ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে ওই গ্রামের রবি হোসেনসহ অজ্ঞাত আরো ২–৩ জন ওই এলাকার ইয়াকুব আলীর বাড়িতে প্রবেশ করে। তারা বাড়ির সদস্যদের গালিগালাজ ও হুমকি দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

    একপর্যায়ে অভিযুক্তরা ইয়াকুব আলীর একতলা পাকা বাড়ির দেয়ালে একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। বিস্ফোরণের ভয়াবহ শব্দে আশপাশের মানুষ দৌড়ে এসে ছুটেন এবং পুরো এলাকায় ভয়ে কাপতে থাকে। পরে দুর্বৃত্তরা বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে একটি লাল-কালো পালসার এবং একটি হিরো স্প্লেন্ডার মোটরসাইকেল জোরপূর্বক নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

    ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ তৎপর হয়ে বেনাপোল এলাকা থেকে রবি হোসেনকে গ্রেফতার করে। তার কাছ থেকে লুট হওয়া দুটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, ঘটনার সাথে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, ইয়াকুব আলী ও প্রতিবেশী রবি হোসেনের মধ্যে দীর্ঘদিন থেকেই বাড়ির পাশের জমিতে পুকুর খননকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলছিল। তারা বলেন, অতিরিক্ত গভীরতা দিয়ে পুকুর খননের ফলে ইয়াকুব আলীর বাড়ি ও আশপাশের স্থাপনার ভাঙার আশঙ্কা দেখা দেয় এবং এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে বহুবার তর্কবিতর্ক হয়েছে।

    এছাড়া স্থানীয়রা আরো জানান, রবি হোসেন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা পাওনা দাবিও করছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।

    শার্শা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন জানান, ঘটনাটি তদন্তাধীন এবং সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তদন্তের পরে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।

  • চিতলমারীতে জামায়াত নেতা মোজাহিদ মোল্লা কুপিয়ে নিহত

    চিতলমারীতে জামায়াত নেতা মোজাহিদ মোল্লা কুপিয়ে নিহত

    বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় জুস কেনাকে কেন্দ্র করে জামায়াত নেতা ও মুদি দোকানী মোঃ মোজাহিদ মোল্লা (৪২)কে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল সাড়ে সাতটার দিকে হিজলা ইউনিয়নের হিজলা পশ্চিমপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত মোজাহিদ মোল্লা একই গ্রামের সরোয়ার মোল্লার ছেলে এবং বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী হিজলা ইউনিয়ন শাখার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি ছিলেন। স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিনের মতো বাড়ির সামনে দোকানে বসে থাকা অবস্থায় ওই সময় বায়জিদ শেখ (৪০) নামে এক ব্যক্তি জুস কিনেন। বায়জিদ জুসটি এনে বলেন এটি ভালো নয়—এ নিয়ে দুইজনের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়।

    পরে বায়জিদ হাতে থাকা হাসুয়া দিয়ে মোজাহিদের গলায় কোপ দেন। গুরুতর রক্তক্ষরণে স্থানীয়রা তাকে চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    এই ঘটনার পর এলাকার লোকজন ক্ষোভে বায়জিদের বাড়িতে হামলা করে ভাঙচুর এবং বায়জিদকে পিটিয়ে আহত করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে এবং আহত বায়জিদকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। বায়জিদ হিজলা খাপাড়া গ্রামের বাদশা শেখের ছেলে বলে জানানো হয়েছে।

    চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং বায়জিদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নতদন্তের জন্য বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে এবং এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ।

    নিহতের মৃত্যু সংবাদ ছড়ালে স্থানীয় জামায়াত ও এলাকার নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা মশিউর রহমান ও উপজেলা জামায়াতের নেতৃবৃন্দ নিহতের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

    নিহত মোজাহিদের পরিবারে স্ত্রী এবং তিন সন্তানের মধ্যে আছে—হাফিজ, ফারিয়া ও ফারহানা। পুলিশ ও স্থানীয়রা আরও জানিয়েছে, ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত চলছে।

  • যথার্থ ফ্র্যাঞ্চাইজি না হলে বিপিএল আয়োজন হবে না: তামিম

    যথার্থ ফ্র্যাঞ্চাইজি না হলে বিপিএল আয়োজন হবে না: তামিম

    বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) নিয়ে ইতিবাচক খবরের চেয়ে নেতিবাচক খবরই বেশি শোনা যাচ্ছে—এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল। তিনি বলেন, ফিক্সিং, খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক ঠিকমতো না দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ থাকলে এইভাবে টুর্নামেন্ট চালানো সম্ভব নয়।

    জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তামিম জানান, আগে বিপিএল একটি লাভজনক টুর্নামেন্ট ছিল। এখন প্রতিবারের আয়োজন থেকে লোকসান হওয়ার ঘটনা ঘটছে; তিনি ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১০–১৬ কোটি টাকার ধাঁচের বলছেন। এ অবস্থায় ফ্র্যাঞ্চাইজিদের কাঠামো ও নিয়ম-কানুন পুনর্বিবেচনা করা ছাড়া টুর্নামেন্ট টিকে থাকা দুষ্কর হবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

    তামিম বলেন, ‘‘আগে এই টুর্নামেন্ট এক সময় লাভ করত। আজ সেই টুর্নামেন্টে ১০ থেকে ১৪, ১৫, ১৬—সংখ্যাগুলো যাই হোক, দেখছি এটা আর পূর্বের মতো নেই। এভাবে করে আর কয়দিন? আমাদের আরও কিছু করার আছে।’’ তিনি জোর দিয়ে জানান, যদি যথাযথ মানের ও দায়িত্বশীল ফ্র্যাঞ্চাইজি না পাওয়া যায়, তাহলে বাইচকে (বিপিএল) আয়োজন করা উচিত হবে না।

    বিসিবির অ্যাডহক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে তামিম বারবার বলেছেন, টুর্নামেন্টের স্বচ্ছতা ও আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি। আগামী দিনগুলোতে ফ্র্যাঞ্চাইজির মানোন্নয়ন এবং খেলার ইন্টিগ্রিটি রক্ষায় কী পদক্ষেপ নেয়া হবে—সেই সিদ্ধান্তই ভবিষ্যতে বিপিএলের আয়োজনের দৃষ্টিভঙ্গি নির্ধারণ করবে।

  • বিপিএলে দুর্নীতি: পাঁচজনকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করল বিসিবি

    জরুরি সিদ্ধান্তে বিপিএল দুর্নীতির অভিযোগে পাঁচজনকে সাময়িক নিষিদ্ধ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল আগেই জানান যে, শিগগিরই ফিক্সিংয়ের অভিযোগে নাম প্রকাশ করা হবে—সংবাদ সম্মেলনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সেই নামগুলো প্রকাশ করল বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট পাঁচজনকে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

    বিসিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ইন্টেগ্রিটি ইউনিট (বিসিবিআইইউ) পরিচালিত তদন্তের ভিত্তিতে আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী বিধি ভাঙার অভিযোগ আনা হয়েছে। চট্টগ্রাম রয়্যালসের ম্যানেজার মোহাম্মদ লাবলুর রহমান, নোয়াখালী এক্সপ্রেসের সহ-স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ তাওহিদুল হক তাওহিদ, ঘরোয়া ক্রিকেটার অমিত মজুমদার, টিম ম্যানেজার রেজওয়ান কবির সিদ্দিক এবং ক্রিকেট সংগঠক সামিনুর রহমান—এই পাঁচজনের বিরুদ্ধে ২০২৬ সালের বিপিএলকে ঘিরে দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ তোলা হয়েছে।

    তদন্তে উঠে এসেছে মূলত বেটিং বা জুয়া সংক্রান্ত কার্যক্রম, দুর্নীতির প্রস্তাব দেওয়া, তদন্তে সহযোগিতা না করা, প্রাসঙ্গিক যোগাযোগ মুছে ফেলা এবং আইসিসি কোড অনুযায়ী জারি করা ‘ডিমান্ড নোটিশ’ (ধারা ৪.৩) মানতে ব্যর্থতা। এছাড়া তদন্তকে বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগও আছে।

    কার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ

    – মোহাম্মদ লাবলুর রহমান (চট্টগ্রাম রয়্যালস টিম ম্যানেজার): ধারা ২.৪.৬ ও ২.৪.৭ অনুযায়ী তদন্তে ড্যাকোকে সহযোগিতা করতে ব্যর্থ হওয়া, ডিমান্ড নোটিশ মানতে না চাওয়া এবং প্রাসঙ্গিক যোগাযোগ লুকোনো বা ধ্বংসের মাধ্যমে তদন্তে বাধা দেওয়া।

    – মোহাম্মদ তাওহিদুল হক তাওহিদ (নোয়াখালী এক্সপ্রেস সহ-স্বত্বাধিকারী): ধারা ২.৪.৬ ও ২.৪.৭ অনুযায়ী একই ধরনের সহযোগিতা না করা, তথ্য গোপন বা ধ্বংস করা ও তদন্তে বাধা দেওয়া।

    – অমিত মজুমদার (ঘরোয়া ক্রিকেটার): ধারা ২.২.১—ক্রিকেট ম্যাচের ফলাফল, অগ্রগতি বা পরিচালনা ইত্যাদির ওপর বাজি ধরা বা বেটিং কার্যক্রমে অংশ নেওয়া।

    – রেজওয়ান কবির সিদ্দিকী (টিম ম্যানেজার): ধারা ২.২.১—ম্যাচ সংক্রান্ত বেটিং কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগ।

    অপর একজন, ক্রিকেট সংগঠক সামিনুর রহমানের বিরুদ্ধে বিসিবি ‘এক্সক্লুডেড পারসন পলিসি’ (বহিষ্কৃত ব্যক্তি নীতি) অনুসারে একটি এক্সক্লুশন অর্ডার জারি করেছে। তদন্তে দেখা গেছে তিনি বিগত বিপিএলের কয়েকটি আসরে জুয়া সংক্রান্ত কার্যক্রমে, খেলোয়াড় ও এজেন্টদের দুর্নীতির প্রস্তাব দেওয়া এবং দেশি-বিদেশি বেটিং সিন্ডিকেটের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে ম্যাচ সংশ্লিষ্ট দুর্নীতিতে ভূমিকা রেখেছেন। নোটিশ পেয়ে জনাব সামিনুর রহমান আন্তরিকভাবে আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার ত্যাগ করে ওই বহিষ্কারাদেশ মেনে নিয়েছেন।

    বিসিবি জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র পাওয়ার পর প্রতিজনকে ১৪ দিনের মধ্যে জবাব দিতে হবে। আপাতত বিসিবি এই বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করবে না। ঘটনায় বোর্ডের ইনটেগ্রিটি ইউনিট তদন্ত চালিয়ে যেতে থাকবে এবং প্রক্রিয়াধীন কার্যক্রম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

  • বিজয় ভাগ করলেন তামিলনাড়ুর ৪৯ বছরের এমজি রেকর্ড

    বিজয় ভাগ করলেন তামিলনাড়ুর ৪৯ বছরের এমজি রেকর্ড

    থালাপতি বিজয়—ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সুপরিচিত তারকা জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর—রাজনীতিতে তাঁর প্রথম নির্বাচনী যুদ্ধে তাক লাগানো সাফল্য দেখিয়েছেন। এই ভোটে শুধু ব্যক্তিগতভাবে তিনি জয়ী হয়েছেন না, তার নেতৃত্বে সদ্য গঠিত দল তামিলাগা ভেট্টরি কোঝাগাম (টিভিকে) তামিলনাড়ুর ৪৯ বছরের পুরনো এক রেকর্ডেও ভাগ বসিয়েছে।

    ১৯৭৭ সালে এমজি রামাচন্দ্রন (এমজিআর) চলচ্চিত্র জীবনের থেকে সরাসরি রাজনীতিতে এসে একটি নিজস্ব দল গঠন করে মুখ্যমন্ত্রী হয়ে ছিলেন—এ ধরনের ঘটনা তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে বিরল। এমজিআর ১৯৭৭ সালে ক্ষমতায় ওঠেন এবং ১৯৮৭ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত রাজ্যকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন; তার রাজনৈতিক দল ছিল এআইএডিএমকে। পরবর্তীতে জয়া ললিতা এসেও মুখ্যমন্ত্রী হন, কিন্তু তিনি নিজে কোনো নতুন রাজনৈতিক দল গঠন না করে এমজিআরের পার্টি এআইএডিএমকে-তেই নেতৃত্ব গ্রহণ করেছিলেন। এরপর কোনো চলচ্চিত্রতারকা ওই চূড়ান্ত রাজনৈতিক শীর্ষস্থানে আর উঠতে পারেননি।

    এবারের নির্বাচনে বিজয় ও তাঁর দল সেই ইতিহাসের অনুকরণে একই সোপানে পৌঁছেছি বলে বলা হচ্ছে। তামিলনাড়ুর বিধানসভার মোট আসন ২৩৪; একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১১৮ আসন। বিজয় নিজে জয় পেয়েছেন এবং টিভিকে এই বিধানসভায় ১০৮টি আসনে বিজয়ী হয়েছে—২০২৪ সালে গঠিত একটি নতুন রাজনৈতিক দলের জন্য অপ্রত্যাশিত ও অসাধারণ ফল। পার্লামেন্টারি গণতান্ত্রিক রীতিতে এককভাবে সরকার গঠন করতে টিভিকে যথেষ্ট নয়, তাই অন্য কোনো দলের সঙ্গে জোট নিয়ে সরকার গঠন করতে হবে; তবু জোটের নেতৃত্ব টিভিকের কাঁধেই থাকলেও এবং বিজয়ই তামিলনাড়ুর পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণের অপেক্ষায় আছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।

    কীভাবে এই সাফল্য? এমজিআরের মতোই বিজয়ও দীর্ঘ সময় ধরে ভক্তশ্রেণিকে সংগঠিত করে রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত করেছেন। ২০০৯ সালের দিকে থেকে তিনি ভক্তদের সংগঠিত করা শুরু করেন এবং বিভিন্ন ভক্তগোষ্ঠীকে একত্র করে বিজয় মাক্কাল ইয়াক্কাম নামে একটি ঐক্য গড়েছেন। এই সংগঠন ২০১১ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত এমজিআরের দল এআইএডিএমকে-কে সমর্থনও দিয়েছে। ২০২১ সালে সে সমর্থন প্রত্যাহার করে বিজয় নিজে রাজনৈতিক দলের দিকে আরও গুরুত্ব দিতে থাকেন এবং ২০২৪ সালে টিভিকে আত্মপ্রকাশ করে।

    ফলত: চলচ্চিত্র দুনিয়া থেকে উঠে এসে নিজ দল গঠন করে প্রথমবারের নির্বাচনে এত বড় প্রভাব দেখা দেওয়া—তাই এই নির্বাচনের মাধ্যমে বিজয়কে এমজিআরের তৈরি করা ঐতিহ্যের সঙ্গে জুড়ে দেখা হচ্ছে। সূত্র: এনডিটিভি।

  • রুনা লায়লা: আমার মৃত্যু নিয়ে বিভ্রান্তিকর গুজব, আমি সম্পূর্ণ সুস্থ

    রুনা লায়লা: আমার মৃত্যু নিয়ে বিভ্রান্তিকর গুজব, আমি সম্পূর্ণ সুস্থ

    উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী রুনা লায়লার মৃত্যু নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হঠাৎ করেই অদ্ভুত ও বিভ্রান্তিকর গুজব ছড়িয়ে পড়ে। গুজবে উদ্বিগ্ন ভক্ত-অনুরাগীরা যদি একটু সান্ত্বনা পান, সেই কাজে নিজেই এগিয়ে এসে ভক্তদের আশ্বস্ত করেছেন এই কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী।

    বর্তমানে তিনি ভারতের দিল্লিতে ‘মিনার–ই–দিল্লি’ পুরস্কার প্রদানের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করছেন। ঘটনাস্থলে থাকা বা অনুষ্ঠানসংক্রান্ত খবর ছড়ানোর মধ্যেই দেশের বাইরে–ভিতরে তার মৃত্যুর খবরে চরম বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়।

    এই বিষয়টি নজরে আসার পরে রুনা লায়লা নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্টের মাধ্যমে সরাসরি সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমার প্রিয় ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে আমার মৃত্যু নিয়ে কিছু অদ্ভুত গুজব ছড়িয়েছে।’ তিনি স্পষ্ট করে জানান, ‘আমি বহাল তবিয়তে বেঁচে আছি।’

    ভিত্তিহীন এই সংবাদে দুঃখপ্রকাশ করে তিনি ভক্তদের তথ্য যাচাই করার অনুরোধ জানিয়েছেন—শেয়ার করার আগে খবরের উৎস দেখে নেবেন, কারণ এসব গুজব তার ও তার পরিবারের প্রতি কষ্টদায়ক। শেষ পর্যন্ত তিনি সবাইকে অনেক ভালোবাসা জানিয়েছেন।

    উল্লেখ্য, ১৯৬৬ সালে উর্দু চলচ্চিত্র ‘হাম দোনো’তে গাওয়া ‘নজরো সে মহব্বত…’ গানটির মাধ্যমে রুনা লায়লা প্রথমবারের মতো ব্যাপক পরিচিতি পান। ১৯৬০-এর দশকে তিনি নিয়মিত পাকিস্তান টেলিভিশনে পরিবেশনা শুরু করেন এবং পরবর্তীতে ‘ও মেরা বাবু চেল চাবিলা’ ও ‘দামা দম মাস্ত কালান্দার’ মতো হিট গানে ভারতেও অসাধারণ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

    ফলে, বর্তমানে গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে রুনা লায়লার কথাতেই ভক্তরা নিঃশ্বাস ফেলেছেন—তিনি জীবিত ও সুস্থ, এবং সবাইকে অনুরোধ করেছেন সতর্ক থাকতে ও সংবাদ যাচাই করে শেয়ার করতে।

  • জামালপুরে কিশোরী ধর্ষণ মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড, প্রধান আসামি সাদিক খালাস

    জামালপুরে কিশোরী ধর্ষণ মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড, প্রধান আসামি সাদিক খালাস

    জামালপুরের ইসলামপুরে নবম শ্রেণির এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের মামলায় তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড ও প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মামলার প্রধান আসামি সাদিককে আদালত খালাস দিয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার (৭ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আব্দুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হচ্ছেন ইসলামপুর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের শীলদহ গ্রামের মো. শিপন, ইব্রাহিম ও ইউসুফ।

    মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফজলুল হক জানিয়েছন, শীলদহ এলাকায় কিশোরীর সঙ্গে তার চাচাতো ভাই সাদিকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ২০২৪ সালের ১৯ এপ্রিল রাত প্রায় ৯টায় সাদিক কিশোরীকে ডেকে একটি জঙ্গলে নিয়ে যায় এবং সেখানে ধর্ষণ করে। ঘটনার কাছেই ওত পেতে থাকা শিপন, ইব্রাহিম ও ইউসুফ পরে আসে; সাদিক তখন দৌড়ে পালিয়ে যায়। এরপর ওই তিনজন কিশোরীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে, ফলে কিশোরী ঘটনাস্থলে অজ্ঞান হয়ে যায়। পরে জ্ঞান ফিরে এসে ওই তিনজন কিশোরীকে বাড়িতে পৌঁছে দেয় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

    ফজলুল হক আরও বলেন, অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় প্রথমে মামলা দায়ের করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু গ্রামবাসীর সহায়তায় ঘটনাটি সামনে আসার পর ভুক্তভোগীর বাবা ১৬ দিন পর ইসলামপুর থানায় চার জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করেন। পরে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।

    আদালত দুই বছর ধরে মামলার শুনানি শেষে মোট নয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের পর এই রায় দেন। রায়ে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড ও প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে, আর সাদিককে অভিযোগ প্রমাণের অভাবে খালাস ঘোষণা করা হয়েছে।

  • সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের বিচার শুরু; গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

    সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের বিচার শুরু; গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

    ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধভাবে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক মন্ত্রী ও প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদের বিরুদ্ধে বিচার শুরু হয়েছে। ঢাকা বিভাগীয় স্পেশাল জজ বেগম শামীমা আফরোজ বৃহস্পতিবার (৭ মে) আসামিদের অব্যাহতি আবেদন নামঞ্জুর করে চার্জ গঠন করেন এবং একই সঙ্গে আগামী ২২ জুন সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য তারিখ নির্ধারণ করে দেন।

    আসামিদের মধ্যে তিন জনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। প্রধান অভিযুক্ত তোফায়েল আহমেদ। মামলায় আরও নামে আছেন ম্যাডোনা অ্যাডভারটাইজিং লিমিটেডের প্রধান হিসাবরক্ষক মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম এবং ভোলার মোশারফ হোসেন। আদালতে উপস্থিত ছিলেন মোশারফ হোসেন; বাকি দুই জন বর্তমানে পলাতক। চার্জ গঠনকালে পলাতক দুই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। তোফায়েল আহমেদের আইনজীবী মো. খায়ের উদ্দিন শিকদার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২০০২ সালে দুর্নীতি দমন ব্যুরোর পরিদর্শক কাজী শামসুল ইসলাম অভিযোগটি দায়ের করেন। এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে যে তোফায়েল আহমেদ ক্ষমতার অপব্যবহার করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা গোপনে রাখার উদ্দেশ্যে সহযোগীদের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে অর্থ স্থানান্তর ও উত্তোলন করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, সোনালী ব্যাংকের মতিঝিল কর্পোরেট শাখা থেকে ওই টাকা বিভিন্ন কিস্তিতে স্থানান্তর ও উত্তোলন করা হয়। তদন্ত শেষে তদন্তকারী প্রতিষ্ঠান তিন জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করে।

    আগে এই মামলার কার্যক্রম উচ্চ আদালতের আদেশে দীর্ঘ সময় স্থগিত ছিল; এরপর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট উচ্চ আদালত নিজ উদ্যোগে (সুয়োমটো) মামলাটি পুনরায় কার্যকর করে এবং নিম্ন আদালতে পাঠায়। এবার নিম্ন আদালত চার্জ গঠন করে বিচার শুরু করেছেন। পরবর্তী শুনানিতে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে বলে আদালত জানিয়েছে।

  • এনসিপি ১০ মে ঘোষণা করবে উপজেলা চেয়ারম্যান ও মেয়র প্রার্থী

    এনসিপি ১০ মে ঘোষণা করবে উপজেলা চেয়ারম্যান ও মেয়র প্রার্থী

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম জানান, তারা পূর্ব নির্ধারিত সময়সূচি থেকে সামান্য পিছিয়ে ১০ মে-এর মধ্যে উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়র প্রার্থীদের প্রথম ধাপের তালিকা প্রকাশ করবেন।

    তিনি বলেন, আগে ৩০ এপ্রিলের মধ্যে দেশের ১০০টি উপজেলা ও পৌরসভার চেয়ারম্যান ও মেয়রপ্রার্থীর নাম ঘোষণা করার পরিকল্পনা ছিল। তবে ব্যক্তিগত ও সংগঠনিক কিছু কারণে তারিখটি সাময়িকভাবে পিছিয়ে গেছে।

    সারজিস আলম এসব কথা বলেন মঙ্গলবার (৫ মে) রাজধানীর বাংলামোটর রূপায়ণ টাওয়ারের দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে রাজনৈতিক ও বিভিন্ন পেশার নাগরিকদের যোগদান অনুষ্ঠানে।

    তাঁর কথায়, ‘‘আমরা আশা করছি আগামী ১০ মে’র মধ্যে এনসিপি থেকে প্রাথমিকভাবে সমর্থিত উপজেলা চেয়ারম্যান ও মেয়র প্রার্থীদের তালিকা ঘোষণা করতে পারবো।’’ তিনি আরও জানান, এ মাসের মধ্যেই সাতটি সিটি কর্পোরেশনের মেয়রপ্রার্থীদের নামও প্রকাশ করা হবে।

    সারজিস বলেন, এখনই তারা একাদশ দলীয় জোটের অংশ হিসেবে বিরোধী ভূমিকা পালন করলেও, একই সঙ্গে এনসিপিকে সাংগঠনিক ও রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী করে গড়ে তোলার কাজ জোরদার করা হচ্ছে। তাই স্থানীয় স্তরে এনসিপি এককভাবে প্রার্থীদের ঘোষণা করবে।

    তিনি বিএনপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন যে, তারা স্থানীয় সরকার নির্বাচন টালাতে চাইছে এবং সেটা ২০২৭ সালের ডিসেম্বরে নেওয়ার কথাও ভাবছে। ‘‘তারা ইতোমধ্যে জেলা পরিষদ ও সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসন নিয়ন্ত্রণে এনে দিয়েছে,’’ তিনি বলেন।

    সারজিস আলম আরও বলেন, ‘‘উপজেলা পর্যায়ে বর্তমানে কোনো স্থিতিশীল নেতৃত্ব নেই। কেউ ক্ষমতা কুক্ষিগত করার চেষ্টা করলে তা তাদের জন্য ক্ষতিকর হবে। এমন পরিকল্পনা হলে আমরা এর বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখবো।’’ তিনি সম্প্রতি সংসদে ও রাজনীতিতে দলের সক্রিয়তা অব্যাহত থাকবে জানিয়ে বছরের মধ্যেই সব সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা ও পৌরসভা ভোট বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।