Blog

  • প্রাইজবন্ডের ১২৩তম ড্র, বিজয়ীদের পুরস্কার ঘোষণা

    প্রাইজবন্ডের ১২৩তম ড্র, বিজয়ীদের পুরস্কার ঘোষণা

    ১০০ টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ডের ১২৩তম ড্রটি অনুষ্ঠিত হলো বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে। এ অনুষ্ঠানে ছয় লাখ টাকার প্রথম পুরস্কার বিজয়ী হলো সিরিজ নম্বর ০০০১০৩৫, যা দুর্লভ একটি নম্বর। দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছেন ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা, এর নম্বর ০০৪৭৭৪৮। তৃতীয় পুরস্কার হিসেবে দুইটি নম্বর শুনানো হয়, যথাক্রমে ০৫৩৮২৮৯ და ০৬৭৫৩৮২, প্রত্যেকের মূল্য এক লাখ টাকা। এছাড়া চতুর্থ পুরস্কার পেয়েছেন দুজন—নম্বর ০৪০০৪৫১ ও ০৫৬৭৬৪৪, প্রত্যেকের মূল্য ৫০ হাজার টাকা।

    এবার ৮৪টি সিরিজের মধ্যে ৪৬টি নম্বর পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। এই ড্র সাধারণ পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়, যেখানে প্রত্যেক সিরিজের জন্য একই নম্বর নির্বাচন করা হয়। প্রাইজবন্ডের আওতাভুক্ত সিরিজগুলো হলো—কক, কখ, কগ, কঘ, কঙ, কচ, কছ, কজ, কঝ, কঞ, কট, কঠ, কড, কঢ, কথ, কদ, কন, কপ, কফ, কব, কম, কল, কশ, কষ, কস, কহ, খক, খখ, খগ, খঘ, খঙ, খচ, খছ, খজ, খঝ, খঞ, খট, খঠ, খড, খঢ, খথ, খদ, খন, খপ, খফ, খব, খম, খল, খশ, খষ, খস, খহ, গক, গখ, গগ, গঘ, গঙ, গচ, গছ, গজ, গঝ, গঞ, গট, গথ, গড, গঢ, গথ, গদ, গন, গফ, গব, গম, গল, গশ, গষ, গপ, গস, গহ, ঘক, ঘখ, ঘগ, ঘঘ, ঘঙ, ঘচ৷

    প্রাথমিকভাবে, আরও ৪০ জনকে ১০ হাজার টাকার পুরস্কার হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তাদের নম্বরগুলো হলো—০০২১৭৪৯, ০২১৭৪১৯, ০৪৬১৪৭২, ০৫৮৮৯৬৬, ০৭৪৯৭৪০, ০০২২১৮১, ০২৪৬০৪৫, ০৪৬২০৫৬, ০৫৯৬৩৪৬, ۰৭৫۹۹۰৮, ০০৫৬৩৭৮, ০২৯৬৪০২, ০৪৭৮০১৫, ০৬০০৪৪০, ০৭৭২৭৭৩, ০০৯২৩৫৬, ০৩১১১৩০, ০৪৮০৫৬৭, ০৬০৭৩৪৯, ০৮১৩৬৫৯, ০১৪৪۵৬৭, ০৩৫৬৯৪২, ০৫১২০২৪, ০৬৩৯৩৬৭, ০৮৪৮০৪৬, ০১৫৫৩৯৮, ০৩৯৩২৭৭, ০৫৫১২২১, ০৬৪২০০২, ০৮৪৯৬১৪, ০১৫৫৯৩৪, ০৪১৩৫০১, ০৫৬৪৭৬০, ০৬৫০১১৯, ০৯২২৫৯৭, ০১৭৫৭৯২, ০৪৫২৪৪১, ০৫৭৩৮৬৫, ০৬৮৮৭৭৩, এবং ০৯৪৭৬৬৫। এই সংখ্যা মিলল প্রাইজবন্ডের ড্রয়ের মাধ্যমে বিজয়ীদের মধ্যে।

  • এপ্রিলের ২৯ দিনে মোট রেমিট্যান্স ছাড়াল ৩ বিলিয়ন ডলার

    এপ্রিলের ২৯ দিনে মোট রেমিট্যান্স ছাড়াল ৩ বিলিয়ন ডলার

    চলতি এপ্রিল মাসের ২৯ দিনেই দেশের ব্যক্তিপর্যায়ে রেমিট্যান্স পাঠানোর পরিমাণ ছুঁইছে তিন বিলিয়ন ডলার (৩০০ কোটি ডলার)—একটি ঐতিহাসিক milestone। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এ মাসের প্রথম ২৯ দিনে মোট ৩০০ কোটি ২০ লাখ ডলার দেশে এসে পৌঁছেছে, যা দৈনিক গড়ে ১০ কোটি ৩৫ লাখ ডলার রেমিট্যান্স প্রবাহের সূচক।

    বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবাহ একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক অবস্থানের সংকেত, যা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছে। রাজধানীর অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে এ ধরনের রেমিট্যান্সের যথেষ্ট প্রভাব পড়েছে।

    আরিফ হোসেন খান আরো জানান, শুধু ২৯ এপ্রিলেই দেশে এসেছে ৯৪ কোটি ডলার রেমিট্যান্স, যা গত বছরের একই সময়ে (এপ্রিল ২০২৫) ছিল ২৬০ কোটি ৮০ লাখ ডলার। এই সমন্বিত প্রবাহ দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রতিফলন।

    দেখা যাচ্ছে, এপ্রিলের এই পরিস্থিতি গত মার্চের রেকর্ডকেও ছাপিয়ে গেছে। মার্চ মাসে ৩১ দিনে মোট রেমিট্যান্স এসেছিল ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার (৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার)। এর আগে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসেও দেশের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছিল, যেখানে জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার এবং ফেব্রুয়ারি ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স দেশে এসেছিল।

    এই ধারা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশে অর্থনীতির ভবিষ্যৎ আরো উজ্জ্বল হবে বলেই সাধারণ মত।

  • এপ্রিলে রেমিট্যান্সে নতুন উচ্চতা, ৩১৩ কোটি ডলার প্রবাহ

    এপ্রিলে রেমিট্যান্সে নতুন উচ্চতা, ৩১৩ কোটি ডলার প্রবাহ

    সদ্য বিদায়ী April মাসে দেশের অর্থনীতিতে বিশাল অঙ্কের রেমিট্যান্স প্রবাহ দেখা গেছে। এ মাসে দেশের প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন মোট ৩১২ কোটি ৭০ লাখ ডলার, যা স্বর্ণাক্ষরে লিখে রাখা সময়ের ইতিহাসে এক নতুন রেকর্ড। প্রতিদিন গড়ে দেশের শেয়ারবাজারে প্রবাসীর মার্চেন্টের হাতে এসে পৌঁছেছে প্রায় ১০ কোটি ৪২ লাখ ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি বলেছেন, এপ্রিল মাসে দেশের রেমিট্যান্সের পরিমাণ সাম্প্রতিক অতীতে সর্বোচ্চ। এর আগে মার্চ মাসে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার, যা দেশের ইতিহাসে এক মাসের সর্বোচ্চ রেকর্ড। অন্য মাসগুলোতেও প্রবাহ ছিল উল্লেখযোগ্য: জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে যথাক্রমে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ও ৩০২ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার, ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার, নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার। অক্টোবর ও সেপ্টেম্বর মাসে এসেছিল যথাক্রমে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার ও ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার, আর আগস্ট ও জুলাইয়ে যথাক্রমে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার ও ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

    বর্ষশেষে, ২০২৩-২৪ অর্থবছর জুড়ে দেশের প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন মোট ৩০.৩২ বিলিয়ন বা তিন হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ ডলার, যা দেশের ইতিহাসে একটি নতুন সর্বোচ্চ রেকর্ড। এই প্রবাহ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে রয়েছে এবং মুদ্রানীতির বহুমুখী শক্তিকে আরও সুসংহত করছে।

  • বাংলাদেশে সোনার নতুন দাম জানানো হলো

    বাংলাদেশে সোনার নতুন দাম জানানো হলো

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) দেশীয় বাজারে সোনার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবার প্রতি ভরি সোনার মূল্য সর্বোচ্চ ২ হাজার ২৫৮ টাকা করে কমানো হয়েছে। ফলে, ভালো মানের (২২ ক্যারেট) সোনার ভরি এখন দাম ধার্য হয়েছে দুই লাখ ৪০ হাজার ৩৩৭ টাকায়, যা আগের তুলনায় প্রায় দুই হাজার ১৫৮ টাকা কম। সোমবার (৪ মে) ছিল এই দামের মূল্য, কিন্তু মঙ্গলবার (৫ মে) সকাল থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়।

    সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দাম কমার ফলে স্থানীয় বাজারে সোনার দামও কমে এসেছে। যেখানে আগে ২২ ক্যারেটের সোনার এক ভরি বিকোত দাম ছিল ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা, এখন তা নির্ধারিত হয়েছে ২ লাখ ৪০ হাজার ৩৩৭ টাকায়। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের সোনার মূল্য ২৯১ টাকার হ্রাস পেয়ে এখন ২ লাখ ২৯ হাজার ৪৩১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য হিসাব করা হয়েছে ১৯৬ হাজার ৬৫৫ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার প্রতি ভরি দাম নির্ধারিত হয়েছে ১৬০ হাজার ১৪৭ টাকায়।

    অপরদিকে, বছরজুড়ে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম বেড়েই চলেছে, বিশেষ করে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধের কারণে। বিশ্ববাজারে এখন প্রতি আউন্স সোনার দাম কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৫০০ ডলার। এর আগের দিন ৩০ জানুয়ারি এই দর ছিল ৫ হাজার ২০০ ডলার, আর ২৯ জানুয়ারি ছিল ৫ হাজার ৫৫০ ডলার। গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্রে জানা যায়, এই দামার এপ্রগতিসমূহের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক দামে সোনার মূল্যের চাপ কমে আসছে।

  • সোনার দাম আবারও বেড়ে ভয়ানক উল্লম্ফনে

    সোনার দাম আবারও বেড়ে ভয়ানক উল্লম্ফনে

    বাংলাদেশের জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) আবারো ঘোষণা করেছে টানা দ্বিতীয় দফায় সোনার দাম বাড়ানোর। এতে করে প্রতি ভরি সোনার দাম সর্বোচ্চ ২ হাজার ২১৬ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে আজ থেকে মানসম্পন্ন (২২ ক্যারেট) সোনার ভরি দাম আবারও পাঠ owing করে ২ লাখ ৪৪ হাজার টাকায় পৌঁছেছে, যা গতকাল ছিল ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকার তুলনায় বেশি।

    বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল ১০টার দিকে বাজুস এ নতুন দাম এবং দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেয়। সংগঠনটি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশেও এই দাম সমন্বয় করা হয়েছে।

    নতুন দাম অনুযায়ী, সেরা মানের ২২ ক্যারেটের সোনার এক ভরি নির্ধারিত হয়েছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা। এছাড়া অন্যান্য ক্যারেটের দাম হলো ২১ ক্যারেটের জন্য ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ২ লাখ ২১৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার জন্য ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৩ টাকা প্রতি ভরি।

    রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে, যা একইভাবে প্রভাব ফেলেছে বাজারে। ২২ ক্যারেটের রুপার দাম এখন ৫ হাজার ৭৭৪ টাকা, ২১ ক্যারেটের ৫ হাজার ৫৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৪ হাজার ৭২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৩ হাজার ৫৫৮ টাকার মধ্যে নির্ধারিত হয়েছে।

    বিশ্ববাজারে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি পায়, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের মূল্য ৪ হাজার ৭০০ ডলার ছুঁই ছুঁই করছে। এর আগে জানুয়ারি মাসে তা ছিল ৫ হাজার ২০০ ডলার এবং ২৯ জানুয়ারি ৫ হাজার ৫৫০ ডলার ছিল।

    গত মাসের শেষের দিকে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম অপ্রত্যাশিতভাবে অনেক বেড়ে যায়। এর ফলশ্রুতিতে, বাংলাদেশেও মূল্য বৃদ্ধি দেখা যায়। ২৯ জানুয়ারি সকালের অন্যতম বড় অবনমনটি ছিল, যখন বাজুস একবারে ভরিপ্রতি ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়িয়ে দেয়, ফলে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছে যায় এক ভরি সোনার দাম, যা এখন ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। এই দামে কোন কিছুর তুলনা নেই, এবং এটি দেশের বাজারে সর্বোচ্চ মূল্য হিসেবে স্থান করে নিয়েছে।

  • দাম বৃদ্ধির পর তেলপাম্পে যানবাহনের লাইন উধাও হয়ে ভাবনা জাগিয়েছেন আখতার

    দাম বৃদ্ধির পর তেলপাম্পে যানবাহনের লাইন উধাও হয়ে ভাবনা জাগিয়েছেন আখতার

    জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ যানবাহন লাইনের উপস্থিতি দেখা গেলেও এখন সেই লাইনগুলো উধাও হয়ে গেছে। এই পরিবর্তন নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব এবং রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতারের হোসেন। তিনি বলছেন, যখন তেলের দাম বাড়ানো হয় তখন বিশাল সংখ্যক যানবাহন লাইনে দাঁড়ায়। কিন্তু দাম বৃদ্ধির পড়ে সেই দীর্ঘ যানবাহনের লাইন এখন দেখা না গেলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের জন্ম হয়। শনিবার রাজধানী ঢাকায় বাংলামোটরে অবস্থিত রূপায়ন ট্রেড সেন্টারে অনুষ্ঠিত ‘জ্বালানি, অর্থনীতি, মানবাধিকার, সংস্কার ও গণভোট’ শীর্ষক জাতীয় কনভেনশনের সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

  • সংস্কার নিয়ে সরকার প্রতারণা করছে, সনদ বাস্তবায়ন বাধ্যতামূলক

    সংস্কার নিয়ে সরকার প্রতারণা করছে, সনদ বাস্তবায়ন বাধ্যতামূলক

    সংস্কার নিয়ে বিএনপি সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে বলে অভিযোগ উঠছে। নির্বাচনের আগে যেসব প্রতিশ্রুতি তারা দিয়েছিল, তার তোয়াক্কা না করে এখন সেগুলো থেকে সরে এসে বরং নিজেদের স্বার্থে বিভিন্ন অপ্রয়োজনীয় ও প্রত্যাখ্যানমূলক সিদ্ধান্ত কার্যকর করছে। অনেকে মনে করছেন, এভাবে চলতে থাকলে এই সরকার একদিকে কর্তৃত্ববাদী শাসনে পরিণত হবে, অন্যদিকে গণতন্ত্রের ভিত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সরকারের এই নিপীড়নমূলক পদক্ষেপ, বিশেষ করে জুলাইয়ে সংসদীয় সনদ বাস্তবায়ন বাধ্যতামূলক করার প্রক্রিয়া, দ্রুতই সম্পন্ন করতে হবে গ্রাহকদের নয়নের জন্য।

    রোববার (৩ মে) রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের মুক্তিযোদ্ধা হলে আয়োজন করা হয় ‘জ্বালানি, অর্থনীতি, মানবাধিকার, সংস্কার ও গণভোট’ শীর্ষক জাতীয় কনভেনশন। এতে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)’র সদস্যসচিব আখতার হোসেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন এনসিপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির সহ-প্রধান সারোয়ার তুষার।

    আলোচনায় অংশ নেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক হান্নান মাসউদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী ও সমাজবিজ্ঞানী মির্জা হাসান।

    হান্নান মাসউদ বলেন, সংসদের প্রথম অধিবেশনের পর থেকেই আমি বলেছি, এটি একটি প্রতারণামূলক ও প্রবঞ্চনার সংসদ। আমি কেন এই সংসদে এসেছি এবং আমি কি পেয়েছি? যা আইন করে সরকরের ক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে, সেগুলোকে তারা আইন হিসেবে রূপান্তর করেছে। কিন্তু যেগুলো সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করবে, সেগুলো তারা বাতিল করে দিয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ভোট চুরি করে নির্বাচিত স্থানীয় প্রতিনিধিদের সরানোর জন্য একটি অদলবদল অধ্যাদেশ জারি করেছিল। পরে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় এসে এই অধ্যাদেশ আইনে পরিণত হয়, যার ফলে স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিরা অপসারণের জন্য পদ্ধতিগত কোনো বাধা থাকছে না। এতে বিরোধী দলের কাউকে অপসারণ করে পছন্দমতো প্রশাসক বসানো সহজ হয়ে যাবে।

    এনসিপির এই নেতা বলেন, আমাদের কিছু দ্বিমত থাকলেও, বিএনপি সরকারের প্রস্তাবিত পুলিশ কমিশন গঠনের বিষয়টি ইতোমধ্যেই বাস্তবায়িত হয়েছে। তবে সরকারের দৃষ্টিতে তা এখন আর পছন্দ নয়। তারা গুম কমিশন বাতিল করেছে এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপির পক্ষে ছিল। সংবিধান সংস্কার বিষয়ে বিএনপি সরে গেছে, তাই আমরাও আবার নতুন সংবিধানের দাবিতে সশক্তভাবে ফিরে যাবো।

    রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী মন্তব্য করেন, ১৯৯১ সালে রাজনৈতিক দলগুলো সম্মিলিতভাবে সংস্কারের জন্য যে প্রস্তাব দিয়েছিল, বিএনপি ক্ষমতায় এসে তার বেশির ভাগই কার্যকর করেনি। ২৪ অক্টোবরের অভ্যুত্থানের পরের পরিস্থিতি কি হয়েছিল তা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা একটি প্রতারণামূলক দলের সাথে কাজ করছি, যারা প্রথম থেকেই পরিকল্পনা করে আমাদের স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে। বাংলাদেশের এলিট শ্রেণী, বিশেষ করে সিভিল-মিলিটারি ও বুরোক্রেসি ক্ষমতা ছাড়তে চায় না, তাই তারা সংস্কারকে ভণ্ডুল করছে।

    তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সংসদে দেয়া বক্তৃতার উদাহরণ দিয়ে বলেন, কানাডায় যদি কোনও মন্ত্রী এমন মিথ্যা কথা বলতেন, তবে তার সদ্য পদত্যাগ করতেই হত।

    সমাজবিজ্ঞানী মির্জা হাসান বলেন, জুলাইয়ের সনদ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য ঘটনা। যার মূল ধারণা হলো, রাষ্ট্রের প্রধান তিন অঙ্গ- বিচার বিভাগ, শাসন বিভাগ ও কার্য নির্বাহী বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা।

    তিনি বলেন, সাংবিধান সংস্কার কমিটির প্রথম দিকের বেশ কিছু প্রস্তাব ছিল রেডিকেল, যেখানে বলা হয়েছিল যে, এক ব্যক্তি একসাথে সরকারপ্রধান ও দলের প্রধান হতে পারবে না। তবে বিএনপির চাপের কারণে কিছু আপস হয়েছে। এরপরও যা রক্ষা পেয়েছে, তা ছিল বড় অর্জন। اگر এগুলো বাস্তবায়ন করতে পারতাম, তাহলে আওয়ামী লীগের নানা দোষত্রুটি এড়ানো যেত।

    এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার জানান, বিএনপি সরকার সংস্কার করতে চায় না। তারা নানা পন্থায় বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। প্রথম অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তৃতার পর বোঝা গেছে, বিএনপি আর সংস্কার চায় না। দলীয় ও নির্বাচনী ইশতেহারে থাকা সংস্কারের প্রতিশ্রুতিও তারা বাস্তবায়ন করতে এখন আগ্রহী নয়। তারা দলীয়করণ, অধ্যাদেশ বাতিলসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংবিধান লঙ্ঘন করছে।

    তিনি বলেন, অনেকের যুক্তি হলো, আমাদের সরকার বিধায় আমরা যেখানে চাই সেখানে নিজেদের লোক বসাবো। কিন্তু সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয় লোক বসানো যায় না। যদিও বিএনপি এ ব্যাপারে অনেক ক্ষেত্রে দলীয় লোক বসানোর চেষ্টা করছে, তবে রাষ্ট্রপতি শপথ গ্রহণের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে কেউ বিএনপির মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে না।

    আখতার হোসেন বলেন, বিএনপি সরকার আর সংস্কার করতে চায় না, তারা ক্ষমতা এককভাবে রাখতে দুর্বার চেষ্টা চালাচ্ছে। তারা সর্বদা নেট অব ডিসেন্টের কথাগুলো বলছে, কিন্তু মূল আলোচনা বা ঐকমত্যের ক্ষেত্রে সবাই একমত। যদি কারো অন্য মত থাকে, তা উল্লেখ করতে বলে। তবে মূল বিষয়ের প্রতিনিধি হিসেবে গণভোটের প্রশ্নে কোনও মতভেদ নেই।

    তিনি আরও বলেন, বিএনপি চারটি প্রশ্নে একাংশের আপত্তি দেখাচ্ছে। তবে গণভোটের প্রশ্নগুলো ছিল স্পষ্ট, যেখানে উল্লেখ ছিল উচ্চকক্ষের কাঠামো, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও বিচারিক ও প্রশাসনিক নিয়োগের নীতিমালা। এসব বিষয়ে সবাই একমত হলেও, কিছু বিষয় রাজনৈতিক দলগুলো তাদের শিলমোহর দিয়েই বাস্তবায়ন করবে।

    আখতার হোসেন প্রশ্ন করেন, সবশেষ কি সংস্কারগুলো কি দেশের জন্য ক্ষতিকর? না কি এগুলো দেশের সংবিধানিক গাঠনিক কাঠামোকে মজবুত করবে? তখন উপস্থিত সবাই মনে করে, কেবল সংশোধন করতে গেলেই কেবল কাঠামোর ক্ষতি হয় কি না। তবে আমরা সংসদের মধ্য দিয়ে সংযুক্তিকরণের মাধ্যমে যে সংশোধনী প্রস্তাব গুঁড়ো করছি, সেটাই ছিল যৌক্তিক। কিন্তু এখন বিএনপি সেই পথে সরে গেছে।

  • খুলনায় অভিভাবকহীন ছাত্রদল, সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থবির: গুরুত্বের জন্য লবিং চলছে

    খুলনায় অভিভাবকহীন ছাত্রদল, সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থবির: গুরুত্বের জন্য লবিং চলছে

    বর্তমানে খুলনায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল বিনামূল্যে ও অভিভাবকহীন অবস্থায় রয়েছে। মহানগর ও জেলা ছাত্রদলের দীর্ঘ সময় ধরে নতুন কোনো কমিটি না থাকায় সংগঠনের কার্যক্রমে ব্যাপক স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। তবে ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর কিছু চাঞ্চল্য সৃষ্টি হলেও এখনও চূড়ান্ত নেতৃত্বের অপেক্ষায় রয়েছে নেতাকর্মীরা। খুলনা অঞ্চলে ছাত্রদলের নেতৃত্বের জন্য ডজনখানেক নেতা আলোচনা সম্মেলনে উঠছেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল, যিনি খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ, তাঁর উপরই খুলনা ছাত্রদলের কমিটির অনেকটা নির্ভরশীলতা রয়েছে।

    সূত্র মতে, ২০২১ সালের ২৪ মার্চ ইশতিয়াক আহমেদ ইস্তিকেকে আহ্বায়ক এবং তাজিম বিশ্বাসকে সদস্য সচিব করে খুলনা মহানগর ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি ১৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ৫টি থানার পাশাপাশি মহানগরীর ৩১টি ওয়ার্ডে বিভিন্ন ইউনিট গঠন করে সংগঠনের ভিত্তি মজবুত করতে চেয়েছিল। তবে তিন বছরের বেশি সময় পরে, ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর, এই কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। অন্যদিকে, জেলা ছাত্রদলের গঠন অনেক দীর্ঘসূত্রিতার মধ্য দিয়ে গেছে। ২০১৬ সালের ১৩ অক্টোবর মান্নান মিস্ত্রিকে জেলা সভাপতি ও গোলাম মোস্তফা তুহিনকে সাধারণ সম্পাদক করে একটি কমিটি গঠন হয়, যা আট বছর দায়িত্ব পালন করে। এই সময়ের মধ্যে তারা জেলার ৩১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ৯টি থানায় ইউনিট কমিটি গঠন করে। মহানগর ও জেলা কমিটিও একই দিনে ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

    ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে খুলনা মহানগর ও জেলা ছাত্রদলের কমিটিগুলো বাতিল করে দেওয়া হয়। যদিও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ নিরাপত্তার জন্য নতুন কমিটি গঠন সম্ভব হয়নি। বর্তমানে মাঠে ইউনিট কমিটিগুলো কার্যকর থাকলেও, স্থানীয় পর্যায়ে কোনো অভিভাবক বা শীর্ষ নেতৃত্ব না থাকায় খুলনায় ছাত্রদল কার্যত নেতৃত্বহীন হয়ে পড়েছে।

    একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, নতুন কমিটি গঠনের জন্য ব্যাপক তদন্ত ও যাচাই-বাছাই শুরু হয়েছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক, খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল এ প্রক্রিয়া তদারকি করছেন।

    মহানগর ছাত্রদলের শীর্ষ পদে রয়েছেন সাবেক সদস্য সচিব তাজিম বিশ্বাস, আরিফুল ইসলাম আরিফ, হেদায়েত উল্লাহ দিপু, মোঃ শাকিল আহমেদ, মাজহারুল ইসলাম রাসেল, আব্দুল হক শাহী, হাসান ফকির, সৈয়দ ইমরান, নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়া, রাজু আহমেদ, আবদুস সালাম, রাশিউর রহমান রুবেল, রাজিবুল ইসলাম বাপ্পি, নাজমুল ইসলাম ও মুশফিকুর রহমান অভি প্রমুখ।

    অপরদিকে, জেলা ছাত্রদলের নেতৃত্বে আসার জন্য আলোচনা চলছে গাজী শহিদুল, মাসুম বিল্লাহ, মশিউর রহমান শফিক, ফিরোজ আহমেদ আদুল, অনিক আহমেদ, ইয়ামিন ইসলাম, ইসমাইল হোসেন খান, আবু জাফর ও ইমতিয়াজ সুজনের মধ্যে।

    জেলা ছাত্রদলের সাবেক নেতা অনিক আহমেদ বলেন, মামলার বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে কমিটি গঠন করলে প্রকৃত ত্যাগী নেতারা নেতৃত্বে আসতে পারবেন। অন্যদিকে, মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সদস্যচিব তাজিম বিশ্বাস জানান, ছাত্রদল বিএনপি’র সহযোগী সংগঠন হলেও এটি দলের প্রাণ। ছাত্রদলের মাধ্যমে নতুন কর্মী যোগদান করে থাকেন। বর্তমান সংসদে অধিকাংশ মন্ত্রী ও এমপি সাবেক ছাত্রনেতা। দলকে আরও গতিশীল করে তোলার জন্য খুব দ্রুত নতুন কমিটি প্রয়োজন।

  • এনসিপি ১০ মে উপজেলা চেয়ারম্যান ও মেয়র পদপ্রার্থী ঘোষণা করবে

    এনসিপি ১০ মে উপজেলা চেয়ারম্যান ও মেয়র পদপ্রার্থী ঘোষণা করবে

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম জানিয়েছেন, ৩০ এপ্রিলের মধ্যে তারা দেশের ১০০টি উপজেলা ও পৌরসভার জন্য চেয়ারম্যান ও মেয়র প্রার্থী নির্ধারণের পরিকল্পনা করেছিল। তবে ব্যক্তিগত ও সামগ্রিক কিছু সমস্যার কারণে সেই নির্ধারিত তারিখ পিছিয়ে নিতে হয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী ১০ মে’র মধ্যে এনসিপি প্রাথমিকভাবে তাদের চেয়ারম্যান ও মেয়র প্রার্থীদের তালিকা ঘোষণা করতে সক্ষম হবে। আজ মঙ্গলবার (৫ মে) রাজধানীর বাংলামোটর রূপায়ন টাওয়ারে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নাগরিকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।

    সারজিস আলম বলেন, এই মাসের মধ্যেই তারা সাতটি সিটি কর্পোরেশনে এনসিপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করবে। বর্তমানে তারা একটি ১১ দলীয় জোটের অংশ হলেও, বিরোধী হিসেবে সক্রিয় রাজনীতি চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি সংগঠন হিসেবে নিজেদের আরও শক্তিশালী করে তুলতে তারা বিভিন্ন নির্বাচনে নিজের প্রার্থী ঘোষণা করছে।

    তিনি আরো বলেন, বিএনপি তাদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে হালনাগাদ টালবাহানার আশ্রয় নিয়ে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের আগে নির্বাচনটি আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। ইতোমধ্যে তারা জেলার পরিষদ ও সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসন নিয়ন্ত্রণে নেয়া হয়েছে।

    সারজিস আলম সতর্ক করে বলেন, বর্তমানে উপজেলা পর্যায়ে কোনও উপজেলা চেয়ারম্যান এই মুহূর্তে নেই। তারা ক্ষমতাকে দীর্ঘমেয়াদি কুক্ষিগত করার জন্য নতুন করে পরিকল্পনা করছে, এমনকি উপজেলা পরিষদ বিলুপ্ত করার মত ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে বলে তিনি শংশা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই ধরনের ক্ষমতা কুক্ষিগত করার প্রচেষ্টা তাদের জন্য বিপরীত ফল আনতে পারে। তিনি সবাইকে আহ্বান জানান, এ বছরই সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচনের নির্দেশনা দিতে।

  • নিজামী পুত্র ও হাজী শরীয়তুল্লাহর বংশধর এনসিপিতে যোগ দিলেন

    নিজামী পুত্র ও হাজী শরীয়তুল্লাহর বংশধর এনসিপিতে যোগ দিলেন

    জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) নতুন সদস্য হিসেবে যোগ দিলেন জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামীর ছোট ছেলে ড. মোহাম্মদ নাদিমুর রহমান, হাজী শরীয়তুল্লাহর বংশধর আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হোসাইন, গাজীপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক এম এ এইচ আরিফসহ ওয়ারিয়র্স অব জুলাইয়ের প্রায় চার হাজার সদস্য। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারে দলের স্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগদান করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ড. মোহাম্মদ নাদিমুর রহমান বর্তমানে তুরস্কের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত থাকায় সরাসরি উপস্থিত থাকতে পারেননি, তবে অনলাইনের মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন। ওয়ারিয়র্স অব জুলাইয়ের আরও চার হাজার সদস্য এনসিপিতে যোগ দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হলেও, সবাই সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। জানা যায়, সংক্ষিপ্ত উপস্থিতিতে তাদের মধ্যে মাত্র পঞ্চাশজন ছিলেন। হাজী শরীয়তুল্লাহর বংশধর আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, ‘হাজী শরীয়তুল্লাহর উত্তরসূরি হওয়ার পরও আমি এনসিপিতে একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে কাজ করব।’ তিনি আরও বললেন, ‘হাজী শরীয়তুল্লাহ কেবল একজন সাধারণ কৃষক জনগণের নেতা ছিলেন, কোনো রাজা বা সম্রাট নয়। নেতা আর রাজা হওয়ার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। আমরা কোনো নেতার ইবাদত করিনা, বরং এই দল করি যাতে আমাদের নেতা যদি ভুল পথে হাঁটে, আমরা তাকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে পারি। এই জন্য আমরা দল করি, যেন ভুল সিদ্ধান্ত হলে আমি ন্যায়ের পক্ষে কথা বলতে পারি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারি।’ এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ বলেন, ‘দেশের পথ হারানো রাজনীতির হাল ধরবে এনসিপি। সংসদে বিএনপি প্রতারক ও বিশ্বাসঘাতকতার পরিচয় দিচ্ছে, এর ফল ভাল হবে না। দ্রুত গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি।’ উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম সাধারণ নির্বাচন নিয়ে সরকারের সমালোচনা করে বলেন, ‘স্থানীয় সরকার কেন্দ্রগুলোকে তারা নিজেদের ভাগ-বাটোয়ারা ও লুটের অপকারী সেক্টর বানানোর চেষ্টা করছে। দ্রুত সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে এই বছরের মধ্যে।’ দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘বর্তমান সরকার জাতির সঙ্গে প্রতারণা করছে, যা তারা সংসদে প্রমাণিতভাবেই বলেছেন। এটা আমাদের জন্য লজ্জাজনক। যারা এভাবে প্রতারণায় বিশ্বাস করে, তারাই শেষমেষ জনগণের দ্বারা উৎখাত হবে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘হোসাইন মুহাম্মদ এরশাদ যেমন সারা দেশে প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করতেন, তারেক রহমান ঠিক তেমনই বলপ্রয়োগের মাধ্যমে দেশ চালাতে চান। তারা বারবার গণতন্ত্রকে একান্ত রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন।’ নতুন সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।