Blog

  • গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ভারতে পাঠানো হয়নি বাংলাদেশ দল

    গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ভারতে পাঠানো হয়নি বাংলাদেশ দল

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নিয়মিতভাবে চেষ্টা করেছিল বাংলাদেশ দলের বিশ্বকাপ ম্যাচগুলো ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তর করার। তবু সরকার গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উঠে আসা নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় দল ভারতে পাঠাতে চাইল না, এবং পরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি) বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে ছেঁটে দিয়েছে। বিসিবি পরিচালক আসিফ আকবর জানিয়েছেন, সিদ্ধান্তটি গোয়েন্দা রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে হয়েছে।

    বস্তুত বিষয়টি ৩ জানুয়ারি থেকে শুরু করে—মোস্তাফিজুর রহমানকে কলকাতা নাইট রাইডার্স (আইপিএল) থেকে ছাড়ার খবরের পর থেকেই নিরাপত্তা প্রসঙ্গটি তুমুল উঠতে থাকে। পরে ২২ জানুয়ারি হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে জানিয়েছিলেন, সরকারিভাবে নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশ দল ভারতে পাঠানো হবে না—এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের সাম্প্রতিক এক সভায় বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ না করার বিষয়ে উদ্বেগ দেখা যায়। ওই সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি পরিচালক আসিফ আকবর স্পষ্ট করেন যে, সরকার তাদের নিজস্ব গোয়েন্দা প্রতিবেদন এবং সেখানে থাকা নিরাপত্তা–ঝুঁকি খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বলেন, খেলোয়াড়, সাংবাদিক, দর্শক বা মাঠে থাকা টেকনিক্যাল বা ট্যাকটিকাল কর্মী—কারও নিরাপত্তা নাশকতামূলক ঘটনা ঘটলে তার দায়-বোজা নেওয়া সম্ভব হবে না, তাই রাষ্ট্রসম্মত বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    আসিফ আকবর আরও জানান যে, এই বিষয়ে সরকারের তথ্য, পররাষ্ট্র, ক্রীড়া ও আইন—এই চারটি মন্ত্রণালয় মিলিয়ে মন্ত্রিসভায় বসে ঝুঁকি নেবেন না বলেই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তিনি আইসিসি ও বিসিবিকে সংস্থা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, রাষ্ট্র যখন নিরাপত্তার ব্যাপারে সতর্কতা জাহির করে, তখন সেটিকে গুরুত্ব দিতে হবে।

    পরিশেষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে তার জায়গায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। বর্তমানে টপ-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে স্কটল্যান্ডকে ১৪তম স্থানে দেখা যায়। ‘সি’ গ্রুপে ইতালি, নেপাল, ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে স্কটল্যান্ড অংশগ্রহণ করবে।

  • খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১১তম আন্তঃডিসিপ্লিন ভলিবল প্রতিযোগিতা শুরু

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১১তম আন্তঃডিসিপ্লিন ভলিবল প্রতিযোগিতা শুরু

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা চর্চা বিভাগের আয়োজনে রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় ১১তম আন্তঃডিসিপ্লিন ভলিবল প্রতিযোগিতা উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রধান অতিথি হিসেবে উদ্বোধন করেন উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ হারুনর রশীদ খান।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলার গুরুত্বে জোর দিয়ে বলেন, শারীরিক পরিচর্যার সুযোগ সবচেয়ে বেশি মেলে আউটডোর গেমসে। একই সময়ে ক্রিকেট ও ভলিবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করলে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ আরও বাড়ে। এসব খেলাধুলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ও শারীরিক শিক্ষা চর্চা বিভাগের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর ড. এস এম মাহবুবুর রহমান। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন বিভাগের উপ-পরিচালক মোঃ মঈনুল ইসলাম। উদ্বোধনী দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়।

    প্রতিযোগিতার প্রথম দিনে ছাত্র অংশগ্রহণকারীদের জন্য মোট ৮টি ম্যাচ এবং ছাত্রীদের জন্য ২টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকরা জানান, চলমান প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ ও সাম্প্রदায়িক বন্ধন দৃঢ় করার পাশাপাশি ক্রীড়া দক্ষতা বাড়াতেই লক্ষ্য করা হয়েছে।

  • ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

    ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

    ঢালিউডের সুপ্রতিষ্ঠিত নায়ক ও কালজয়ী নৃত্যশিল্পী ইলিয়াস জাভেদ আর নেই। দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে সংগ্রাম করার পরে ৮২ বছর বয়সে তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

    মৃত্যুর সংবাদটি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য সনি রহমান। জাভেদ ১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের পেশাওয়ারে জন্মগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে পরিবারের সঙ্গে পাঞ্জাবে চলে গেলেও ভাগ্য তাকে ঢাকার চলচ্চিত্র অঙ্গনে আমন্ত্রণ জানায়।

    জানানো হয়েছে, ক্যানসার ও নানা শারীরিক জটিলতায় তিনি দীর্ঘদিন ভুগছিলেন। গত বছরের এপ্রিলেও হাসপাতালে থেকে চিকিৎসা নিয়েছিলেন। আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি মারা যান।

    সংবাদমাধ্যমকে জাভেদের স্ত্রী ডলি চৌধুরী বলেন, আজ সকালে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। বেশ কিছুদিন ধরে বাড়িতেই চিকিৎসা চলছিল; হাসপাতালে থেকে চিকিৎসক ও দুই নার্স এসে তাকে দেখাশোনা করছিলেন। আজ সকালে নার্সরা জানায়, শরীর পুরো ঠাণ্ডা; এরপর অ্যাম্বুল্যান্সে নিয়ে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    জাভেদের আসল নাম রাজা মোহাম্মদ ইলিয়াস। তিনি শুরুতে নৃত্য পরিচালনায় ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন এবং পরে নায়ক হিসেবে খ্যাতি পেয়েছিলেন। ১৯৬৪ সালে উর্দু চলচ্চিত্র ‘নয়ী জিন্দেগি’ দিয়ে নায়ক হিসেবে রুপালি পর্দায় অভিষেক ঘটে; তবে ১৯৬৬ সালের ‘পায়েল’ চলচ্চিত্রটি তার ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে সাহায্য করে। এই ছবিতে তার বিপরীতে ছিলেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী শাবানা এবং পরিচালক মুস্তাফিজ তাঁকে ‘জাভেদ’ নামে পরিচিতি দেন।

    একের পর এক ব্যবসাসফল চলচ্চিত্রে নৃত্য এবং অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের হৃদয়ে ‘ড্যান্সিং হিরো’ হিসেবে বিশেষ স্থান করে নেন তিনি। ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৮৪ সালে তিনি জনপ্রিয় নায়িকা ডলি চৌধুরীর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। জীবদ্দশায় প্রায় শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন জাভেদ।

    সত্তর ও আশির দশকের দর্শকদের কাছে জাভেদ ছিল নাড়া দেয়া নাচ আর চিত্তাকর্ষক অ্যাকশনের মিলিত প্রতীক। তার প্রয়াণকে অনেকেই বাংলা চলচ্চিত্রের একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি হিসেবে দেখছেন।

    জাভেদ অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে আছে: ‘মালেকা বানু’, ‘নিশান’, ‘পাপী শত্রু’, ‘রক্ত শপথ’, ‘সাহেব বিবি গোলাম’, ‘কাজল রেখা’, ‘অনেক দিন আগে’, ‘আজও ভুলিনি’, ‘কঠোর’, ‘মা বাবা সন্তান’, ‘রাখাল রাজা’, ‘রসের বাইদানী’, ‘জীবন সঙ্গী’ ও ‘আবদুল্লাহ’।

    প্রশংসা ও শ্রদ্ধা জানাতে শিল্পী, সহকর্মী এবং দর্শকদের নানা শ্রদ্ধাঞ্জলি আশা করা যায়। তাঁর সৃষ্টিকর্ম বাংলার চলচ্চিত্রের স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।

  • ওশিওয়ারায় গুলি চালনার অভিযোগে বলিউড অভিনেতা কামাল আর খান গ্রেপ্তার

    ওশিওয়ারায় গুলি চালনার অভিযোগে বলিউড অভিনেতা কামাল আর খান গ্রেপ্তার

    মুম্বাইয়ের ওশিওয়ারা এলাকায় এক আবাসিক ভবনে গুলিবর্ষণের ঘটনার পর পুলিশ বলিউড অভিনেতা ও চলচ্চিত্র সমালোচক কামাল আর খান (কেআরকে)কে গ্রেপ্তার করেছে। তাকে শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) আদালতে পেশ করার কথা রয়েছে, জানিয়েছে পুলিশ।

    পুলিশ সূত্র এবং ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে ওই এলাকায় চারটি গুলি ছোড়া হয়। সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবৃতি থেকে তদন্ত শুরু করে মুম্বাই পুলিশ।

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কেআরকে স্বীকার করেছেন যে গুলিগুলো তাঁর লাইসেন্সপ্রাপ্ত বন্দুক থেকেই ছোড়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি দাবি করেছেন, কাউকে আঘাত করার উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না। অভিনেতার কথায়, বন্দুক পরিষ্কার করার পর সেটি ঠিকঠাক কাজ করছে কি না তা যাচাই করার জন্য বাড়ির সামনে ম্যানগ্রোভ বনের দিকে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছিল। বাতাসের কারণে গুলিগুলো লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে পাশের একটি আবাসিক ভবনে লেগে যায়, তিনি জানিয়েছেন।

    কামাল আর খানকে বলিউডে বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত করা হয়। ২০২২ সালে এক যৌন হেনস্তার মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে খবর রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারকাদের নিয়ে করা কটাক্ষ ও উসকানিমূলক মন্তব্যের কারণে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মানহানি ও আইনি অভিযোগও উঠে এসেছে, জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।

    পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সব দিক তদন্ত করা হচ্ছে এবং আদালতে পেশের পর তদন্তের আরও বিস্তারিত জানানো হবে।

  • সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির কোনো আবেদন হয়নি: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

    সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির কোনো আবেদন হয়নি: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির কোনো আবেদন করা হয়নি। মন্ত্রণালয় এই তথ্য রবিবার (২৫ জানুয়ারি) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা ফয়সল হাসান বলেন, সাদ্দামের স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যু প্রসঙ্গে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে যশোর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষের কাছে কোনো লিখিত বা আনুষ্ঠানিক প্যারোল আবেদন করা হয়নি। পরিবার শুধুমাত্র মৌখিকভাবে জানতে চেয়েছিল যে তারা কি কারাগারের গেটে গিয়ে মৃত স্ত্রী ও সন্তানের লাশ দেখতে পারবে কি না, এবং মানবিক দিক বিবেচনা করে সেই সুযোগ প্রদানে যশোর জেলা প্রশাসন ও কারাগার কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে শোর করা হয়, এ ঘটনার বিষয়ে কিছু গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘প্যারোলে মুক্তির আবেদন’ করা হয়েছে বলে যে তথ্য ছড়িয়েছে তা সঠিক নয়। মন্ত্রণালয় অনুরোধ করেছে, গণমাধ্যমগুলো যেন সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করে জনগণের তথ্য অধিকার রক্ষা করে।

  • সাবেক ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান ও পরিবারের ২২.৬৫ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ

    সাবেক ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান ও পরিবারের ২২.৬৫ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ

    অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ অন্যত্র হস্তান্তরের চেষ্টা করার অভিযোগে সাবেক ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের মোট ২২ কোটি ৬৫ লাখ ৫২ হাজার ৩৩০ টাকার সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়েছে।

    দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এই আবেদন করলে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ আজ রোববার ওই নির্দেশ দেন বলে দুদকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) তানজির আহমেদ জানিয়েছেন।

    দুদকের আবেদনে বলা হয়, আছাদুজ্জামান মিয়া, তাঁর স্ত্রী আফরোজা জামান, দুই ছেলে আসিফ শাহাদাৎ ও আসিফ মাহদিন, মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকা, শ্যালিকা পারভীন সুলতানা ও শ্যালক হারিচুর রহমানের নামে ঢাকার রমনা, জোয়ার সাহারা, মোহাম্মদপুরের রামচন্দ্রপুর, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প, গাজীপুরের কালীগঞ্জ, ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা এবং ভাঙ্গায় মোট ২২ কোটি ৬৫ লাখ ৫২ হাজার ৩৩০ টাকার বাড়ি, ফ্ল্যাট ও জমি রয়েছে।

    দুদক জানিয়েছে, আয়ের উৎস-বহির্ভূত এসব সম্পদ অর্জন সংক্রান্ত অভিযোগের অনুসন্ধান করতে একটি তিন সদস্যবিশিষ্ট দল কাজ করছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য ও বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, তদন্তের বাইরে রেখে এসব সম্পদ অন্যত্র স্থানান্তর বা হস্তান্তর করে ঝটপট বেহাত করার চেষ্টা চলছে।

    তাই অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও পরবর্তী বিচারে রাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা করার উদ্দেশ্যে অবিলম্বে ওই সমস্ত সম্পদ ক্রোক করা প্রয়োজন—এই ছিলেন আদালতে দুদকের যুক্তিগ্রহণের মূল কারণ। আবেদনকালে দুদক জানিয়েছে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বিচারের সময় এসব সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা সম্ভব নাও হতে পারে এবং এতে রাষ্ট্রের অপূরণীয় ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    অদ্যাবধি মামলার সূত্র ধরে দুদক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আরও তদন্ত করবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে জানানো হয়েছে।

  • দুর্নীতি করব না, সহ্যও করব না: জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

    দুর্নীতি করব না, সহ্যও করব না: জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

    রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাজধানীর ধূপখোলা মাঠে অনুষ্ঠিত এক বিশাল জনসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেছেন, ক্ষমতায় এলে তারা কোনো প্রকার দুর্নীতি করবে না এবং দুর্নীতিকে সহ্যও করবে না। প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি বলেন, ‘‘আমরা এই দেশ লুটেপুটে খাওয়ার জন্য মসনদে বসতে চাই না; আমরা ১৮ কোটি মানুষের বিজয় নিশ্চিত করতে চাই।’’

    প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের সমালোচনা করে ডা. শফিকুর বলেন, ‘‘একটি দল বলছে তারা দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করবে, অথচ তাদের ৩৯ জন সংসদ সদস্য প্রার্থীরই ঋণখেলাপি হওয়া সন্দেহ আছে; কিভাবে তারা দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করবে?’’ তিনি সমালোচনার তীব্রতা বাড়িয়ে বলেন, তাদের কায়দা করে প্রার্থী করা হয়েছে বলে দাবি করেন।

    নিজের এক পূর্বোক্ত বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘‘আমার একটি মন্তব্য নিয়ে তোলপাড় হয়েছিল। আমি বলেছিলাম—এক জালিমকে বিদায় করে আর এক জালিমকে হাতে দেশ তুলে দেয়া মানুষ চায় না। আজ কি আমার সেই কথাই মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে?’’

    ভোটের দিন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। তিনি বলেন, ‘‘আগামী ১২ তারিখে যদি কোনো দুর্বৃত্ত ভোট বাক্সে হাত দেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে জনগণের সহায়তায় তাদের হাত গুঁড়িয়ে দেয়া হবে।’’

    দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ডা. শফিকুর বলেন, ‘‘সম্প্রতি বিভিন্ন দিক থেকে কিছু উৎপাত দেখা যাচ্ছে। যখন বাংলাদেশি জনগণ স্বাধীনতায় তার পথ নির্ধারণ করতে যাচ্ছে, তখন বহিরাগতরা আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রকাশ্যে হস্তক্ষেপ করছে। আমরা বিনয়ের সঙ্গে কিন্তু শক্ত কণ্ঠে অনুরোধ করব—মেহেরবানী করে আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আর নাক গলাবেন না। এতদিন নাক গলিয়ে যে তরল পদার্থ বের হয়েছে, তা টিস্যু দিয়ে সামলে নিন; আর নাক গলানো বন্ধ করুন। বাংলাদেশ ইনশাআল্লাহ মাথা উঁচু করে বিশ্বদরবারে দাঁড়াবে।’’

    তিনি জানান, সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখতে চান, তবে কারো আধিপত্য মেনে নেয়া হবে না। ‘‘আমরা দেশের বিষয়ে কোনো বিদেশি শক্তির নাক গলানো মেনে নেব না,’’ যোগ করেন জামায়াত আমির।

    জুলাই ধর্মযুদ্ধ/সঙ্ঘর্ষ—যে আন্দোলন বোঝানো হয়েছে—কে কোনো ব্যক্তির সম্পদ বলে দেখতে নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ‘‘জুলাই ১৮ কোটি মানুষের। কাউকে এককভাবে এই যুদ্ধের ‘মাস্টারমাইন্ড’ বলা হলে শহীদদের অবমাননা হয়। এই সংগ্রামের মাস্টারমাইন্ড ছিল দেশের ১৮ কোটি মানুষ।’’

    সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি আবেদন করেন—দোয়া ও ভালোবাসা দিয়ে, ভোট দিয়ে তাদের একটা সুযোগ দেন। তিনি আশ্বাস দেন, ‘‘আল্লাহতে ভরসা রাখুন। আমরা চাঁদা নেব না, চাঁদা নিতে দেবও না। আমরা বলেছি—দুর্নীতি আমরা করব না, দুর্নীতি আমরা সহ্যও করব না।’’

  • বিএনপি ক্ষমতায় এলে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবে: তারেক রহমান

    বিএনপি ক্ষমতায় এলে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবে: তারেক রহমান

    বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশের সব ধরনের দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দলের চেয়ারপারসন তারেক রহমান। শনিবার চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে এক বিশাল সমাবেশে তিনি এই ঘোষণা দেন।

    সমাবেশে তারেক বলেন, যে পরিকল্পনাই নেওয়া হোক না কেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে কোনো পরিকল্পনা সফল হবে না। অতীত অভিজ্ঞতায় বিএনপি প্রমাণ করেছে দুর্নীতির মোকাবিলা একমাত্র তাদের দ্বারা সম্ভব। এজন্য ক্ষমতায় এলে যেকোনো মূল্যে দুর্নীতির শিকড় নীচে করে দিতে তারা কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

    তিনি আরও বলেন, বিএনপি কেবল কাগজে কথা বলে না—গতবার সরকারে থাকাকালে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হয়নি। আগামী দিনে জনগণ যদি তাদের পাশে থাকে, ইনশাআল্লাহ তারা কঠোরভাবে দেশে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখবে যাতে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে।

    তারেক সতর্ক করে বলেন, ‘‘আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি যেন কেউ আমাদের ভোটের অধিকার কেড়ে নিতে না পারে—সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’’ সমাবেশে তিনি চট্টগ্রামের মানুষকে নিরাপদ ও কল্যাণমুখী পরিবেশ নিশ্চিতের আক্ষেপও ব্যক্ত করেন এবং নগরীর নিরাপত্তা বজায় রাখার গুরুত্ব প্রশ্নে দেন।

    শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে তারেক বলেন, জনতা যদি ১২ ফেব্রুয়ারি তাদের রায়ে সরকার দায়িত্ব দিলে প্রতিটি স্তরে শিক্ষা পরিবর্তন করা হবে। তিনি বলেন, আমরা এমন একটি বাস্তবমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলব যেখানে শিক্ষার্থীরা শুধু সার্টিফিকেট নয়, স্বল্পমেয়াদে কর্মসংস্থান সৃষ্টির যোগ্যতা পাবে।

    স্বাস্থ্যখাতে তিনি বলেন, গ্রাম-গঞ্জে প্রত্যেক পরিবারের দরজায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়াই লক্ষ্য। এজন্য প্রতি স্তরে এক লাখ স্বাস্থ্যসেবী নিয়োগের পরিকল্পনা আছে, যাতে মা-মেয়ে ও শিশুরা ঘরে বসেই প্রাথমিক চিকিৎসা ও জরুরি সেবা পেতে পারে।

    দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও কৃষক সুরক্ষার বিষয়ে তারেক বলেন, উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের হাতে কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে যাতে তারা প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা পায়। চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল কেটে ও নালা খোঁজার কর্মসূচি নেওয়া হবে—কারণ অনেক জায়গায় খাল-নালা বন্ধ হওয়ার ফলে সমস্যা দেখা দিয়েছে।

    অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি স্মরণ করান, বিএনপির আমলে ইপিজেড গড়ে ওঠায় লাখো মানুষ কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছে। আগামী নির্বাচনে আবার আনলে আরও ইপিজেড স্থাপন করে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানীতে রূপান্তর করা হবে।

    পলোগ্রাউন্ড সমাবেশের আগে বিএনপি চেয়ারপারসন দীর্ঘ দুই দশক পর চট্টগ্রামে এসেছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে, এরপর তিনি নগরীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে রাত্রিযাপন করেন এবং শনিবার সকালে তরুণদের সঙ্গে পলিসি ডায়ালগে অংশ নেন। সমাবেশের পর তার পরিকল্পিত সফরে ফেনী, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জে পথসভা রয়েছে।

    মহাসমাবেশ উপলক্ষে চট্টগ্রাম নগরী কড়া নিরাপত্তায় রাখা হয়েছিল; প্রায় দুই হাজার পুলিশ মোতায়েন করে মঞ্চসহ এলাকা তিন স্তরে—রেড, ইয়েলো ও গ্রিন জোনে ভাগ করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

    উল্লেখ্য, তারেক রহমান সর্বশেষ ২০০৫ সালে চট্টগ্রাম সফর করেছিলেন; সে সময় তিনি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রচারণায় অংশ নেন ও লালদিঘী ময়দানে এক জনসভায় বক্তৃতা করেন।

  • ট্রাম্পের শুল্কের চেয়েও বিপজ্জনক হতে পারে চীনের বিশাল বাণিজ্য উদ্বৃত্ত

    ট্রাম্পের শুল্কের চেয়েও বিপজ্জনক হতে পারে চীনের বিশাল বাণিজ্য উদ্বৃত্ত

    ২০২৬-এর কেবল দুই সপ্তাহ পার হতেই চীনের সাম্প্রতিক বাণিজ্য পরিসংখ্যান বিশ্ব অর্থনীতির মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। শুল্ক যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যেও ২০২৫ সালে চীনের বার্ষিক বাণিজ্য উদ্বৃত্ত রেকর্ড করে ১.২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে—এখন পর্যন্ত ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

    এই পরিসংখ্যান প্রকাশের পরই কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন কর্নেল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের সিনিয়র ফেলো ঈশ্বর প্রসাদ। তিনি মনে করেন, মুক্ত বাণিজ্য ব্যবস্থার জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা শুল্কের চেয়েও বড় ঝুঁকি সৃষ্টি করছে চীনের এত বড় উদ্বৃত্ত।

    প্রসাদের যুক্তি: চীনের সস্তা পণ্য শুধু উন্নত দেশগুলোর উৎপাদন খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, বরং নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলিতেও প্রতিযোগিতা কঠোর করে তুলছে। ফলে বিশ্ববাজারের নিয়ম-নীতিভিত্তিক বাণিজ্য ব্যবস্থা দুর্বল হতে পারে যখন একটি বৃহৎ অর্থনীতি অন্য দেশের ওপর নির্ভর করে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখে।

    অন্যদিকে, গ্লোবাল টাইমসের সাবেক প্রধান সম্পাদক হু সিজিন উইবোতে বলছেন, এই উদ্বৃত্ত ‘ওয়াশিংটনের অভিজাত শ্রেণিকে আতঙ্কিত করেছে’। তার তর্ক—চীনের অর্থনীতি খুবই স্থিতিশীল এবং একটিভাবে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বিশ্ববাজারে টিকে আছে; কোন বাণিজ্য যুদ্ধ দিয়ে একে দমন করা যাবে না। তিনি আরও যোগ করেন, চীন জোর করে কাউকে কেনাবেচায় বাধ্য করছে না; তাদের পণ্য মূলত সস্তা ও মানসম্মত হওয়ায় বাজার জয় করছে।

    এই উদ্বৃত্তে কারন খুঁজতে গেলে দেখা যায়, এটা কোনো আকস্মিক ঘটনার ফল নয়—এটির পেছনে রপ্তানি প্রবাহ জোরালো এবং আমদানির প্রবৃদ্ধি দুর্বল থাকা মুখ্য। ২০২৫ সালে চীনের মোট আমদানির বার্ষিক বৃদ্ধি ছিল মাত্র ০.৫ শতাংশ, যেখানে রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ৬.১ শতাংশ। ফলে উদ্বৃত্তের ব্যবধান আরও বড় হয়েছে।

    আঞ্চলিকভাবে চীনের রপ্তানি গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ২০ শতাংশ কমলেও আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা, অ্যাসিয়ান দেশগুলো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে তা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে আফ্রিকার রপ্তানি বাড়েছে রেকর্ড ২৫.৮ শতাংশ। একই সঙ্গে ইউয়ানের দর কিছুটা দুর্বল হওয়ায় চীনা পণ্যের আন্তর্জাতিক মূল্য আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়েছে।

    অভ্যন্তরীণ চাহিদার ঘাটটিও যেন স্পষ্ট সংকেত দিয়েছে। ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধে ভোক্তা পণ্যের খুচরা বিক্রির প্রবৃদ্ধি ধারাবাহিকভাবে ধীর হয়েছে; নভেম্বরে তা নেমে আসে প্রায় ১.৩ শতাংশে—গত তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। আবাসন খাতে সংকট ও স্থিরসম্পদে বিনিয়োগের সংকোচনও আমদানি বাড়াতে বাধা দিয়েছে। কিছু বিশ্লেষক বলছেন, ১৯৯৮ সালে তথ্য সংরক্ষণ শুরু করার পর প্রথমবার যে বার্ষিক বিনিয়োগে পতন দেখা দিতে পারে, সেটাই ঘটনা প্রেক্ষাপটের অংশ।

    এর ফল: ২০২৫ সালের সাতটি মাসেই চীনের মাসিক বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ১০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল—যা ২০২৪ সালে মাত্র একবার ঘটেছিল। এটি দেখায় শক্তিশালী রপ্তানি এবং মন্থর আমদানির মিলিত ফলাফল স্থায়ী হতে পারে।

    বৈশ্বিক প্রভাব মিশ্র। একদিকে চীনের সাশ্রয়ী মূল্য ও প্রচুর জোগান বিশ্বব্যাপী সরবরাহ চেইন পুনর্গঠনে সহায়তা করছে এবং বিশেষ করে উন্নত দেশগুলোতে মুদ্রাস্ফীতি চাপ কমাতে ভূমিকা রাখছে। অন্য দিকে, একপক্ষে অতিরিক্ত রপ্তানির ওপর নির্ভরশীলতা চীনের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিকে ভাঙনপ্রবণ করে তুলতে পারে—যা আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিরোধ বা শুল্কসামঞ্জস্য বাড়ানোর কারণ হতে পারে।

    এই উদ্বেগগুলো মাথায় রেখে আন্তর্জাতিক স্তরে সতর্কতা বেড়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, চীন যদি একমাত্র রপ্তানিমুখী মডেলে অটল থাকে, তা বিশ্ব বাণিজ্যে উত্তেজনা বাড়াবে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ বলেও নিয়েছেন, যদি চীন ইইউ-র সঙ্গে বাণিজ্য ভারসাম্য ফেরাতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ইউরোপ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের মতো কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হতে পারে।

    চীনের নीतিনির্ধারকরাও এই ঝুঁকি বোঝে বলে ইঙ্গিত মিলছে। প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং গুয়াংডং পরিদর্শনে জোর দিয়ে বলেছেন—চীনকে আমদানির পরিধি বাড়াতে হবে এবং আমদানি-রপ্তানির মধ্যে সুষমতা ফেরাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। বাণিজ্যমন্ত্রী ওয়াং ওয়েনতাও বলেছেন, সমন্বিত বাণিজ্য মেলা ও লক্ষ্যভিত্তিক ক্রয়ের মাধ্যমে আমদানি বাড়িয়ে ভারসাম্য তৈরি করা হবে।

    কয়েকটি عملی সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে: ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে ফটোভোলটাইক পণ্যের ওপর রপ্তানি ভ্যাট রিবেট বাদ দেওয়া হবে; ব্যাটারি পণ্যের রিবেট ধাপে ধাপে কমিয়ে পরে পুরোপুরি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া চীন ও ইইউ-র মধ্যে বৈদ্যুতিক গাড়ি সংক্রান্ত এক সমঝোতায় চীনা নির্মাতারা অ্যান্টি-সাবসিডি শুল্কের বদলে ন্যূনতম মূল্য বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এসব উদ্যোগ বাণিজ্য কম্বরসাম্য ঠিক করার লক্ষ্যে নেওয়া হচ্ছে।

    শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন থেকেই যায়—চীনের বিশাল বাণিজ্য উদ্বৃত্ত কি দেশ ও বিশ্বকে আশীর্বাদ দেবেই, নাকি নতুন জটিলতা ও সংঘাতের সূত্রপাত হবে? উত্তর নির্ভর করছে: ১) রপ্তানি থেকে অর্জিত আয় কতটা দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে বিনিয়োগ ও ভোক্যপণ্য হিসেবে ফিরছে, ২) রপ্তানি প্রবৃদ্ধি কীভাবে আমদানিকে ত্বরান্বিত করতে পারছে, এবং ৩) চীন কতটা দ্রুত বাজার খুলে ও ভারসাম্যপন্থী নীতিতে ফিরে আসে।

    বাস্তবে উত্তর হয়তো একপাশে ঠোঁক দিয়ে বলা সহজ নয়—এটি একই সঙ্গে সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ। হু সিজিনের মতো যারা চীনের মুকাবিলায় আশাবাদী, তাদের যুক্তি আছে; আর প্রসাদের মতো যারা বৈশ্বিক নিয়ম-নীতিকে ভঙ্গের আশঙ্কা দেখান, তারাও সতর্ক হওয়ার কারণ দেখান। পাল্লা কীভাবে ভারসাম্য রাখে—তাই পড়বে ভবিষ্যতের বিচারের মেয়াদে। সূত্র: বিজনেস টাইমস।

  • সোনার প্রতি ভরি দাম রেকর্ডে—২২ ক্যারেট ছুঁল ২,৫২,৪৬৭ টাকা

    সোনার প্রতি ভরি দাম রেকর্ডে—২২ ক্যারেট ছুঁল ২,৫২,৪৬৭ টাকা

    একদিনের ব্যবধানে আবার দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ালো বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। বুধবার (২১ জানুয়ারি) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৮,৩৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এর ফলে ভালো মানের সোনার দাম বেড়ে ২২ ক্যারেটের জন্য প্রতি ভরি ২,৫২,৪৬৭ টাকা পৌঁছেছে—এটি দেশের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ রেকর্ড।

    বাজুস জানায়, নতুন এই দাম আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। সমিতির তরফ থেকে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক বাজারে তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার দর বাড়ায় স্থানীয় শুল্ক ও মার্কেট রেটে প্রভাব পড়েছে, যার ফলে দেশি বাজারেও মূল্য বাড়ানো প্রয়োজন হয়েছে।

    গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি’র তথ্য অনুযায়ী বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৪,৮০০ ডলারের ওপরে উঠেছে। বিশ্বের বাজারে এ চাপ স্থানীয় দরেও সরাসরি প্রতিফলিত হয়েছে।

    নতুন মূল্যসূচি অনুযায়ী প্রতি ভরির দামগুলো হচ্ছে:

    22 ক্যারেট (ভালো মান) — ২,৫২,৪৬৭ টাকা

    21 ক্যারেট — ২,৪০,৯৭৮ টাকা

    18 ক্যারেট — ২,০৬,৫৬৯ টাকা

    সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি — ১,৬৯,৬৫৩ টাকা

    সোনার সঙ্গে সঙ্গে রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। রুপার নতুন দামগুলো হলো:

    22 ক্যারেট প্রতি ভরি — ৬,৮৮২ টাকা

    21 ক্যারেট — ৬,৫৩২ টাকা

    18 ক্যারেট — ৫,৫৯৯ টাকা

    সনাতন পদ্ধতি — ৪,২০০ টাকা

    জুয়েলারি খাতে কার্যত প্রতিদিনের ওঠানামা থাকায় ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের জন্য দাম পরিবর্তনের খবর মুখ্য। বাজুসের ঘোষণায় গহনা ক্রেতা ও বিক্রেতারা আগামীদিনের বাজার মনিটর করার অনুরোধ করা হয়েছে।