Blog

  • চট্টগ্রামকে ৬৩ রানে হারিয়ে বিপিএলের নতুন চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী

    চট্টগ্রামকে ৬৩ রানে হারিয়ে বিপিএলের নতুন চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী

    বিপিএল ফাইনাল শুরুর আনুষ্ঠানিকতায় হেলিকপ্টারযোগে মঞ্চে এলো ট্রফিটি—সাথে ছিলেন যুব বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক আকবর আলী ও নারী ক্রিকেটার সালমা খাতুন। আকবর আলী যুব বিশ্বকাপজয়ের স্মৃতিচারণ করে ট্রফি মঞ্চে আনেন এবং ভক্তদের উচ্ছ্বাস ছড়ান।

    মাঠে নেমে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বাঁহাতি ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরিতে দলকে জিতে দেন। তানজিদ ৬১ বলেই সেঞ্চুরি করে, পরের বলে মুগ্ধরের উইকেটে গিয়ে ৬২ বলে ১০০ রান করে সাজঘরে ফেরেন। তার অগ্রগতিতে রাজশাহী ১৭৪ রানের সম্মানজনক সংগ্রহ গড়তে পারে এবং জয়ের জন্য চট্টগ্রামকে ১৭৫ রানের লক্ষ্যমাত্রা দিতে পারে।

    লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চট্টগ্রামের শুরুটা ভালো হয়নি। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে বিনুরা ফার্নান্দোর বলেই নাইম শেখকে সাজঘরে ফেরানো হয়—বিনুরার ডেলিভারিটি অফ স্টাম্পের বাইরে থেকেই ভেতরে ঢুকতে গিয়ে বোল্ড হয় নাইম। দ্রুতই ফিরে যান মাহমুদুল হাসান জয়ও। এরপর তানজিদের বলেই সাজঘরে ফেরেন দ্বিতীয় ব্যাটসম্যানও। মির্জা ও হাসান নাওয়াজ একটি জুটি গড়ার চেষ্টা করলেও নাওয়াজকে ফেরান হাসান মুরাদ।

    চট্টগ্রামের বেশ কজন ব্যাটসম্যান টিকতে পারেননি; মেহেদী, জাহিদুজ্জামান সাগর ও অন্যান্যরাও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। দুই পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান তাহির ও আসিফ আলি দায়িত্বশীলভাবে খেললেও কোনো বড় জুটিও গড়ে তুলতে পারেননি। তাহির ৩৬ বলে ৩৯ ও আসিফ ২১ রানে ফেরার পর চট্টগ্রামের জয়ের স্বপ্ন শেষ হয়ে যায় এবং তারা শেষ পর্যন্ত ১১১ রানে অলআউট হয়। রাজশাহীর হয়ে বিনুরা ফার্নান্দো চারটি উইকেট নেন, আর হাসান মুরাদ তিনটি উইকেটের অবদান রাখেন।

    আগে ব্যাটিং করে রাজশাহী ভালো শুরু পায়—সাহিবজাদা ও তানজিদ ধীরে ধীরে ইনিংস গড়ে তোলেন। পাওয়ার প্লে পেরিয়ে গেলে তারা আক্রমণাত্মক খেলায় তাবড় প্রভাব ছড়ান; তানজিদ ২৯ বলে হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন। ওপেনিং জুটির সংগ্রহ ছিল ৮৩ রানের ওপর। পরে মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ সেই জুটি ভাঙেন। কিয়ান উইলিয়মসন কিছুটা দ্রুত মারতে না পারলেও মাঝেমধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ ঝড় তোলেন তানজিদ। উইলিয়ামসন সংক্ষিপ্ত ইনিংস খেলেন।

    তানজিদের সেঞ্চুরি ইতিহাসের পাতায় জায়গাও করে নিল—বিপিএলের ফাইনালে সেঞ্চুরি করা তিনি তৃতীয় ক্রিকেটার। এর আগে ২০১৭ সালে ক্রিস গেইল এবং ২০১৯ সালে তামিম ইকবাল ফাইনালে সেঞ্চুরি করেছিলেন। তানজিদের এই ক্যারিয়ার-উপলক্ষ্যে একটি অন্য মাইলফলতিও এসেছে: বিপিএলে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি করা তালিকায় তানজিদ এখন দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন, তিনটি সেঞ্চুরি নিয়ে তিনি শান্ত, তাওহিদ হৃদয় ও তামিমকে পেছনে ফেলেছেন; কেবল ক্রিস গেইলের পাঁচটি সেঞ্চুরি এখনও তার ওপরে আছে।

    রাজশাহীর সাজগোজের শেষ মুহূর্তে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ৭ বলে ১১ এবং নিশাম ৬ বলে ৭ রানে ইনিংস শেষ করেন। তানজিদের সেঞ্চুরিতে রানের পুঁজি দাঁড়ায় ১৭৪।

    টুর্নামেন্ট লিডারশিপকেও নতুন কোনো রূপ দেয়া হয়েছে: ইনিংসের শেষ বলে শান্তকে ফেরিয়ে তাসকিন আহমেদকে ছাড়িয়ে এবারের বিপিএলে সর্বোচ্চ ২৬ উইকেটের মালিক হয়েছেন শরিফুল ইসলাম—গত আসরে ১২ ম্যাচে ২৫ উইকেট নেন তাসকিন; এবারের সমান ম্যাচে ২৬ উইকেট নিয়ে শীর্ষে উঠে এসেছেন শরিফুল।

    চট্টগ্রাম রয়্যালসকে ৬৩ রানে হারিয়ে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স উজ্জ্বল একটি জয় থেকে ট্রফি জিতে নেয়—ফাইনালের প্রতিটি মুহূর্তে দলের নিয়ন্ত্রিত বোলিং এবং তানজিদের ধ্বংসাত্মক ইনিংসই ছিল মূল চালিকা শক্তি।

  • বিপিএলে কারা কোন পুরস্কার পেলেন

    বিপিএলে কারা কোন পুরস্কার পেলেন

    রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বলিষ্ঠ জয়ে শেষ হলো এবারের বিপিএল—নাজমুল হোসেন শান্তের অধীনে দল প্রথম শিরোপা জিতলো। ফাইনালে তানজিদ হাসান তামিম ও সাহিবজাদা ফারহানের ধারাবাহিক জুটিই রাজশাহীকে বড় সংগ্রহ গড়তে সাহায্য করে; তানজিদ 62 বলেই সেঞ্চুরি করে 7টি ছক্কায় 100 রানের ইনিংস খেলেন এবং দল 174 রানের সংগ্রহ দাঁড় করায়।

    রান তাড়া করার পথে শুরু থেকেই হতাশায় ভুগে চট্টগ্রাম রয়্যালস। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে বিনুরা ফার্নান্দো নাইম শেখ ও মাহমুদুল হাসান জয়কে ফেরিয়ে বন্দরনগরীর দলকে চাপে ফেলেন। মাঝের ওভারগুলোতে বাঁহাতি স্পিনার হাসান মুরাদও জাদু দেখান—ফাইনালে তিন উইকেট নেন তিনি। ম্যাচের শেষ পর্যায়ে বিনুরার স্লোয়ার এবং মুরাদের স্পিন মিলিয়ে চট্টগ্রামকে 111 রানে বেধে রাখে রাজশাহী, ফলে শেখ মেহেদীর দল 63 রানে হেরে যায়।

    চ্যাম্পিয়ন প্রতিটি দল 2 কোটি 75 লাখ টাকা পুরস্কার পেয়েছে, রানার্স-আপ চট্টগ্রাম পেয়েছে 1 কোটি 75 লাখ টাকা।

    ব্যক্তিগত পুরস্কারের তালিকা:

    – ফাইনাল সেরা (ম্যান অফ দ্য ম্যাচ): তানজিদ হাসান তামিম — ফাইনালে সেঞ্চুরি করে এই পুরস্কার ও 5 লাখ টাকা অর্জন করেন। টুর্নামেন্টজুড়ে তানজিদ মোট 356 রান করেছিলেন।

    – টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান-সংগ্রাহক (বেস্ট ব্যাটার): পারভেজ হোসেন ইমন (সিলেট টাইটান্স) — 395 রান; বেস্ট ব্যাটার হিসেবে তিনি 5 লাখ টাকা পেয়েছেন।

    – সবচেয়ে বেশি ক্যাচ (আউটফিল্ডে): লিটন দাস — পুরো টুর্নামেন্টে কিপিং না করেও আউটফিল্ডে 10টি ক্যাচ নিয়েছেন।

    – সেরা ফিল্ডার: রংপুর রাইডার্সের ডানহাতি ব্যাটার — সেরা ফিল্ডারের পুরস্কার ও 3 লাখ টাকা পান। (প্রতিযোগিতার বিবরণে খেলোয়াড়ের নাম আলাদা করে দেওয়া হয়নি)

    – ইমার্জিং প্লেয়ার: রিপন মণ্ডল (রাজশাহী)— 8 ম্যাচে 17 উইকেট; ইমার্জিং প্লেয়ারের পুরস্কারসহ তিনি 3 লাখ টাকা পান। রিপন ছিলেন ফাইনালের একাদশে না থাকলেও টুর্নামেন্টে তাঁর পারফর্ম্যান্স নজর কেড়েছে।

    – বেস্ট বোলার: শরিফুল ইসলাম — বাঁহাতি এই পেসার 12 ম্যাচে 26 উইকেট নিয়ে বিপিএলের এক সিজনে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড গড়েছেন (পেছনে ফেলেছেন তাসকিনের 25 উইকেটকে)। বেস্ট বোলারের পুরস্কার হিসেবে তিনি 5 লাখ টাকা পান।

    – প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্ট: একই সঙ্গে টুর্নামেন্ট সেরা ক্রিকেটারও হয়েছেন শরিফুল ইসলাম; প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্ট হিসেবে তিনি 10 লাখ টাকা পান। এই সম্মানের কথা শেয়ার করে শরিফুল বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ ভালো লাগছে, তবে চ্যাম্পিয়ন হতে পারলে আরও বেশি ভালো লাগতো।’

    পুরস্কারদানে এবং পারফরম্যান্সে মিলে এবারের বিপিএল স্মরণীয় হয়ে থাকল—রাজশাহীর প্রথম ট্রফি, ব্যক্তিগত রেকর্ড এবং অনেক তরুণ খেলোয়াড়ের উঠে আসা।

  • ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ মারা গেলেন

    ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ মারা গেলেন

    ঢালিউডের সোনালী দিনের জনপ্রিয় নায়ক ও কালজয়ী নৃত্যশিল্পী ইলিয়াস জাভেদ আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। দীর্ঘসময় ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে ৮২ বছর বয়সে আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ইন্তেকাল করেন তিনি।

    বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য সনি রহমান গণমাধ্যমকে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের পেশাওয়রে জন্ম নেন ইলিয়াস জাভেদ। পরে সপরিবারে পাঞ্জাব চলে গেলেও পরবর্তীকালে তিনি ঢাকার চলচ্চিত্র অঙ্গনে কাজ শুরু করেন।

    জানানো হয়েছে, বেশ কয়েক বছর ক্যানসারে ভুগছিলেন জাভেদ; পাশাপাশি বিভিন্ন শারীরিক জটিলতাও ছিল। গত বছরের এপ্রিলে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। কয়েক দিন ধরে বাড়িতেই চিকিৎসাসেবা চলছিল; হাসপাতালে তখন চিকিৎসক ও দুই নার্স এসে তাঁর দেখাশোনা করছিলেন। জাভেদের স্ত্রী ডলি চৌধুরী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, আজ সকালে তাঁর স্বামীর শারীরিক অবস্থার তীব্র অবনতি হয়। দুই নার্স এসে জানায় শরীর পুরো ঠান্ডা হয়ে গেছে, এরপর অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    অভিনয় ও নৃত্যের সাথে শুরু থেকেই নিবিড় সম্পর্ক ছিল জাভেদের। তিনি zunächst নৃত্য পরিচালনায় ক্যারিয়ার শুরু করেন এবং পরবর্তীতে নায়ক হিসেবে জনপ্রিয়তা পান। ১৯৬৪ সালে উর্দু সিনেমা ‘নয়ী জিন্দেগি’ দিয়ে নায়ক হিসেবে রুপালি পর্দায় অভিষেক ঘটলেও প্রকৃতভাবে খ্যাতি আসে ১৯৬৬ সালের ‘পায়েল’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে, যেখানে বিপরীতে ছিলেন শাবানা। পরিচালক মুস্তাফিজই তাকে ‘জাভেদ’ নামে পরিচিত করে তোলেন।

    জাভেদ অভিনয় করেছেন শতাধিক ছবিতে এবং সত্তর-আশির দশকে দর্শকদের মনে তিনি ছিলেন নাচ-অ্যাকশনের এক অনবদ্য মিশ্রণ। ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৮৪ সালে তিনি বিয়ে করেন চিত্রনায়িকা ডলি চৌধুরীকে।

    জাভেদের কিছু উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র: মালেকা বানু, নিশান, পাপী শত্রু, রক্তশপথ, সাহেব বিবি গোলাম, কাজল রেখা, অনেক দিন আগে, আজও ভুলিনি, কঠোর, মা-বাবা সন্তান, রাখাল রাজা, রসের বাইদানী, জীবন সঙ্গী ও আবদুল্লাহ।

    ইলিয়াস জাভেদের মৃত্যু বাংলা চলচ্চিত্রের একটি অধ্যায়ের শেষচিহ্ন, অনেকেই তাঁর চলে যাওয়াকে বাংলা সিনেমার ভাণ্ডারের বড় ক্ষতি হিসেবে দেখছেন। শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধায় স্মরণ করছেন সহশিল্পী ও অনুরাগীরা।

  • লন্ডনে প্রয়াত দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়শ্রী কবির, বয়স ৭৪

    লন্ডনে প্রয়াত দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়শ্রী কবির, বয়স ৭৪

    দুই বাংলার পরিচিত ও জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়শ্রী কবির আর নেই। গত ১২ জানুয়ারি যুক্তরাজ্যের লন্ডনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন; তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। এই মৃত‍্যুর খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়েছেন তার ভাগ্নে জাভেদ মাহমুদ।

    জাভেদ মাহমুদ এক পোস্টে জানান, “আমার মামি জয়শ্রী কবির — একসময়ের ‘মিস ক্যালকাটা’ ও বহুল পরিচিত নায়িকা — লন্ডনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।” তিনি উল্লেখ করেন, জয়শ্রী সত্যজিৎ রায়ের ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ এবং আলমগীর কবির পরিচালিত ‘সীমানা পেরিয়ে’, ‘রূপালী সৈকতে’, ‘সূর্য কন্যা’ ও ‘মোহনা’সহ several সিনেমায় কাজ করেছেন। ১৯৭৬ সালে মুক্তি পাওয়া ‘অসাধারণ’ ছবিতে উত্তম কুমারের বিপরীতে তার অভিনয়ও দর্শকের স্মরণে রয়ে গেছে।

    জয়শ্রী কবিরের মৃত্যুর সঠিক কারণ জানানো হয়নি। জাভেদ মাহমুদ জানিয়েছেন, লন্ডনে বহু দিন ধরেই তিনি অসুস্থ ছিলেন।

    জয়শ্রী কবির ১৯৫২ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন; পারিবারিক নাম জয়শ্রী রায়। তিনি সাউথ পয়েন্ট স্কুলে পড়াশোনা করেন এবং ১৯৬৮ সালে ‘মিস ক্যালকাটা’ খেতাব জিতে আলোচনায় আসেন। ১৯৭০ সালে সত্যজিৎ রায়ের ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে চলচ্চিত্র জীবনে পদার্পণ করেন, যা সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের গল্প অবলম্বনে নির্মিত হয়েছিল। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রেও ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান এবং আলমগীর কবির পরিচালিত কয়েকটি ছবিতে প্রধান নায়িকা হিসেবে কাজ করেন।

    ১৯৭৫ সালে আলমগীর কবিরের সঙ্গে তাঁর বিবাহ বন্ধন সম্পন্ন হলেও এই সংসার বেশি দিন টেকেনি; প্রায় তিন বছরের মধ্যে দাম্পত্যে সমস্যা দেখা দিলে তারা শেষ পর্যন্ত বিচ্ছেদ করে। এই দাম্পত্য থেকে তাদের এক পুত্রসন্তান লেনিন সৌরভ কবির জন্মগ্রহণ করেন। বিবাহ বিচ্ছেদের পর জয়শ্রী প্রথমে কলকাতায় ফিরে যান এবং পরে স্থায়ীভাবে লন্ডনে বসবাস শুরু করেন। সেখানে তিনি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যের শিক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন। প্রায় এক দশক আগে তিনি ঢাকায় একবার এসেছিলেন; তারপর থেকে দেশে দেখা মেলেনি।

    জয়শ্রী কবিরের প্রয়াণে চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিজন ও ভক্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা।

  • নির্বাচনের আগে ব্রিটিশ নাগরিকদের তিন পার্বত্য জেলায় না যাওয়ার পরামর্শ

    নির্বাচনের আগে ব্রিটিশ নাগরিকদের তিন পার্বত্য জেলায় না যাওয়ার পরামর্শ

    যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও) জাতীয় নির্বাচন ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ ভ্রমণে থাকা বা ভ্রমা পরিকল্পনা করা ব্রিটিশ নাগরিকদের সতর্ক করেছে। বিশেষত পার্বত্য তিন জেলা — রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান — জরুরি কাজ ছাড়া এ সময়ে ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে এফসিডিও।

    এফসিডিও জানায়, বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ এবং নির্বাচনী প্রচারণা ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে। নির্বাচনী অস্থিরতার প্রেক্ষিতে পার্বত্যাঞ্চলে নিয়মিত সহিংসতা এবং অপরাধমূলক ঘটনা হওয়ার কয়েকটি খবর পাওয়ার কারণে ব্রিটিশ নাগরিকদের সতর্ক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।দূরবর্তী ও দুর্গম এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা ঝুঁকি বেশি থাকতে পারে, বলে সতর্ক করেছে অফিসটি।

    এফসিডিও আরও বলেছে, সন্ত্রাসবাদ, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও রাজনৈতিক অস্থিরতা পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ করছে এবং এই সময়ে সন্ত্রাসী বা সহিংস গ্রুপগুলো হামলা চালানোর চেষ্টা করতে পারে। সম্ভাব্য লক্ষ্যস্থল হিসেবে সরকারের বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ভবন, রেস্তোরাঁ ও ক্যাফে, গণপরিবহন, জনসমাগম স্থান, ধর্মীয় কেন্দ্র এবং রাজনৈতিক সমাবেশ চিহ্নিত করা হয়েছে।

    অফিসটি অতীতের উদাহরণ হিসেবে ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে দেশটিতে ব্যাপক বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনার কথা উল্লেখ করেছে, যার ফলে তখন নিয়মিত সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে এবং মানুষ হতাহত হয়েছিল—এ সময়কার অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে এ ধরনের সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।

    এফসিডিও ব্রিটিশ নাগরিকদের কাছ থেকে কয়েকটি সাধারণ পরামর্শ দিয়েছে: বিক্ষোভ বা বৃহৎ জনসমাগম এড়িয়ে চলুন; কোথাও বিক্ষোভ শুরু হলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যান; স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলুন; স্থানীয় সংবাদ ও সরকারি নির্দেশাবলী নিয়মিত দেখুন; এবং ভ্রমণ সতর্কতা হালনাগাদ হলে ইমেইল নোটিফিকেশন গ্রহণ করুন।

    এছাড়া অফিসটি বলেন, মাঝেমধ্যে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর হামলা এবং পুলিশ বা নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে; বড় শহরগুলোতে ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) ব্যবহারের খবরও আছে—তাই অতিরিক্ত সতর্ক থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    স্থানীয় পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল হওয়ায়, ভ্রমণকারীদের প্রয়োজন ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না যাওয়া, নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে আগেভাগে অবগত থাকা এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

  • ভারতে বাংলাদেশি সন্দেহে হামলা-হত্যা: নিরাপত্তা শঙ্কা বাস্তব, আইসিসিকে দায় দিলেন মোস্তফা সরয়ার

    ভারতে বাংলাদেশি সন্দেহে হামলা-হত্যা: নিরাপত্তা শঙ্কা বাস্তব, আইসিসিকে দায় দিলেন মোস্তফা সরয়ার

    আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের গ্রুপ পর্বের চারটি ম্যাচ খেলতে বলা হয়েছিল ভারতের মাটিতে। কিন্তু নিরাপত্তার উদ্বেগ নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) mehrfach আইসিসিকে চিঠি পাঠিয়ে সেই ম্যাচগুলো স্থানান্তর করার অনুরোধ জানায়। বারবার আলোচনার পরও আইসিসি থেকে সন্তোষজনক সাড়া না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ভারত যেয়ে খেলতে দেখা যাবে না—এ সিদ্ধান্তই নিয়েছে বিসিবি।

    যদিও অতিথি দেশ হিসেবে বাংলাদেশের নাম এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে টুর্নামেন্ট থেকে সরানো হয়নি, পাল্লা দিলে বলা যায় এবারের বিশ্বকাপে দেশের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা প্রায় শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। বিষয়টির দায় আইসিসিকে দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।

    আজ শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফারুকী লেখেন, ‘ভারত ও পাকিস্তানের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়েছে আইসিসি, কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ভিন্ন মনোভাব দেখা গেছে।’ তিনি আরো লিখেছেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে ভারতে বাংলাদেশি সন্দেহে মানুষকে পিটিয়ে হত্যার একাধিক ঘটনার খবর প্রকাশিত হয়েছে। ঠিক গতকালই পশ্চিমবঙ্গে জন্ম নেওয়া এক মুসলিম—মঞ্জুর লস্কর—কে বাংলাদেশি সন্দেহ করে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে, এমনটাই জানিয়েছে দ্য টেলিগ্রাফ অব ইন্ডিয়া।’

    বিশ্বকাপ ইস্যুর শুরুটা মূলত আইপিএলে মুস্তাফিজকে দল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায়। ভারতের কিছু চরমপন্থী নেতার হুমকির পরে সেখানে মুস্তাফিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা যায় এবং ওই কারণেই তাকে আইপিএল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়— এরপরই বিসিবি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতের যাত্রা নিয়ে নিরাপত্তার চিন্তা উত্থাপন করে।

    এইসব ঘটনার প্রেক্ষিতে সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, ‘যদি এসব ঘটনা দীর্ঘদিন ধরে চলমান বাংলাদেশবিরোধী ঘৃণা প্রচারণার সঙ্গে যুক্ত করা হয় — যার ফলে মুস্তাফিজকে আইপিএল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে — তাহলে মানতেই হবে ভারতে বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের জন্য নিরাপত্তা হুমকি বাস্তব ও গুরুতর।’

    বিষয়টি নিয়ে বিসিবি, আইসিসি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে চলমান যোগাযোগ ও ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত কি হবে, তা নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠছে। খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়গুলো এখনই আলোচ্য ও গুরুত্ব পাচ্ছে।

  • মির্জা ফখরুল: জামায়াত অনভিজ্ঞ, বিএনপি পরীক্ষা সইয়ে উত্তীর্ণ দল

    মির্জা ফখরুল: জামায়াত অনভিজ্ঞ, বিএনপি পরীক্ষা সইয়ে উত্তীর্ণ দল

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ (সদর) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘‘জামায়াত কখনই সরকারে গিয়ে কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করেনি; অন্যদিকে বিএনপি একটি পরীক্ষিত ও অভিজ্ঞ দল।’’

    শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেল ৩টা থেকে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার দেবীপুর ইউনিয়নের শোল টহরী বাজারে নির্বাচনি গণসংযোগ ও পথসভায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় তিনি বলেন, ‘‘উন্নয়ন আনতে পারে একমাত্র ধানের শীষ — আর কেউ পারে না। আমরা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সৈনিক, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সৈনিক। আমরা সেই দল, যেগুলোকে মানুষ নিজের মনে করে, ভরসা করে।’’

    ভোটারদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন। তিনি প্রশ্নবোধক কণ্ঠে বলেন, ‘‘কেউ যারা এখন আপনার কাছে ভোট চাইতে এসেছে, তারা কি কখনো সরকারে গিয়ে আপনার জন্য কাজ করেছে? তারা কি দেশটাকে এগিয়ে নিয়েছে?’’ এরপর তিনি দাবি করেন, ‘‘আমরা কাজ করেছি; আমরা পরীক্ষিত দল। আপনারা আমাদের ভোট দিয়েছেন, আমরা সরকারে গিয়ে পরিষেবা ও উন্নয়ন কার্যক্রম চালিয়েছি।’’

    ভোটের প্রতি আস্থাহীনতার প্রসঙ্গ তোলায় তিনি বললেন, ‘‘গত ১৫ বছরে কেউ সঠিকভাবে ভোট দিতে পেরেছেন কি—আপনারা নিজেরাই জানেন।’’ এই প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় ভোটাররা জানান তারা নির্বিচার ও সুষ্ঠু ভোট দিতে পারেননি। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘কিছু ক্ষেত্রে ভোটের আগের রাতেই প্রতিফলন হয়ে গেছে, আবার কখনও ভোট ভাংতি হয়ে গেছে—এটাই গত ১৫ বছরের চিত্র। এবার একটি সুযোগ এসেছে, আপনারা সিদ্ধান্ত নিন।’’

    সরকারে থাকার সময় বিএনপির অযোগ্যতাবোধ দূর করার এবং বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি পুনরুচ্চারণ করেন যে, দেশের উন্নয়নে বিএনপির বিকল্প নেই এবং তাই সবাই ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

    জাতীয় নেত্রী শেখ হাসিনা সম্পর্কে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘‘হাসিনা আপা দেশ ছেড়ে ভারতে চলে গেছেন; কিন্তু যারা তাকে সমর্থন করতেন, তাদের তিনি বিপদে ফেলে গেছেন।’’ পাশাপাশি তিনি আশ্বাস দেন যে, ‘‘যারা নিরপরাধ, তাদের কেউ বিপদে পড়বে না—আমরা তাদের পাশে আছি।’’

    সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন রাখা হলে মির্জা ফখরুল জানান, ‘‘আমার এলাকায় হিন্দু-মুসলিম, বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সবাইকে নিয়ে আমি কাজ করি। আমরা সকলকে সমান নিরাপত্তা দিতে চাই।’’ তিনি উদ্বিগ্ন সূত্রে যোগ করেন, ‘‘কিছু লোক হিন্দু-মুসলিম বিভাজন সৃষ্টি করতে চায়—কিন্তু আমাদের সমাজে বিভাজনের কোনো জায়গা নেই; আমরা সবাই একসঙ্গে বসবাস করি এবং শান্তিতে থাকতে চাই।’’

  • উত্তরবঙ্গ ইচ্ছাকৃতভাবে পিছিয়ে রাখা হয়েছে: শফিকুর রহমান

    উত্তরবঙ্গ ইচ্ছাকৃতভাবে পিছিয়ে রাখা হয়েছে: শফিকুর রহমান

    জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ সৃষ্টির পর থেকেই উত্তরবঙ্গ গরিব নয়—বরং ইচ্ছাকৃতভাবে এই অঞ্চলকে পিছিয়ে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গের সঙ্গে সৎমায়ের সন্তানের মতো আচরণ করা হয়েছে, অথচ এই অঞ্চলই সারাদেশকে খাদ্য ও পুষ্টি সরবরাহ করে।

    শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে পঞ্চগড় চিনিকল মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির ভূমিকায় এসব মন্তব্য করেন তিনি।

    শফিকুর রহমান বলেন, উত্তরবঙ্গের আর কোনো ঘর থেকে বেকারের মুখ দেখতে চান না তারা। প্রত্যেক যুবক-যুবতী ও নাগরিককে মর্যাদার সঙ্গে চাকরি ও কর্মসংস্থানে আনা হবে—এ জন্য বন্ধ হয়ে থাকা চিনিকলগুলো দ্রুত চালু করে শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রে ফিরিয়ে আনা হবে।

    তিনি সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, “আমাদের কোনো কার্ড নেই, আপনারাই আমাদের কার্ড। আপনাদের ভালোবাসা, সমর্থন ও দোয়ায় আমরা দয়ার পাত্রমুক্ত একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই।” এ সময় তিনি দেশের জনগণকে বিপদের সময়ে কখনও পরিত্যক্ত করা হয়নি এবং ভবিষ্যতেও তা করা হবে না বলে আশ্বাস দেন।

    স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কথা বলায় তিনি বলেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য উত্তরবঙ্গের মানুষকে ঢাকায় নির্ভর করতে হয়, যা সবার পক্ষে সম্ভব নয়। জামায়াত সরকার গঠনের সুযোগ পেলে কোনো জেলায় মেডিকেল কলেজ রাখা হবে না—প্রতিটি জেলায় মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হবে এবং পঞ্চগড়েও মেডিকেল কলেজ হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।

    অর্থনৈতিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, বিদেশে পাচার করা চুরি করা টাকা উদ্ধার করা হবে এবং ভবিষ্যতে আর কাউকে লুটপাট করতে দেওয়া হবে না।

    জনসভায় শহীদ পরিবার ও মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, ‘‘আমরা তাদের ঋণী; সরকার গঠনের সুযোগ পেলে সেই ঋণ শোধ করার চেষ্টা করা হবে।’’

    ভোটাধিকার প্রসঙ্গে তিনি সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। দীর্ঘদিন ধরে ভোটে অংশগ্রহণে বঞ্চিত মানুষদের অধিকার রক্ষা করতে হবে এবং বৈষম্য, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও স্বৈরতন্ত্রের অবসান না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

    জনসভায় পঞ্চগড়-১ আসনের ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত প্রার্থী সারজিস আলমকে শাপলা কলি প্রতীক এবং পঞ্চগড়-২ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শফিকুল আলমকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন জামায়াতের আমির।

  • ইতিহাসে সর্বোচ্চ: এক ভরি সোনা এখন দুই লাখ ৪৪ হাজারেরও বেশি

    ইতিহাসে সর্বোচ্চ: এক ভরি সোনা এখন দুই লাখ ৪৪ হাজারেরও বেশি

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) দেশি বাজারে সোনার দাম বৃদ্ধির খবর জানিয়েছে। বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাজারে প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ২৪৯ টাকা পর্যন্ত বাড়ার ফলে সবচেয়ে ভালো মানের সোনার দাম দুই লাখ ৪৪ হাজার টাকার ওপরে উঠে গেছে — যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেকর্ড।

    বিজ্ঞপ্তিতে এই তফসিলগত দাম মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) জানানো হয় এবং নতুন মূল্য বুধবার (২১ জানুয়ারি) থেকে কার্যকর হবে। সংস্থাটি জানায়, বৈশ্বিক বাজারে তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার দর বাড়ায় স্থানীয় বাজারে এ ধারা দেখা দিয়েছে।

    গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি’র তথ্যমতে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দরও উত্থানশীল; প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম চার হাজার সাতশত পঞ্চাশেরও বেশি ডলারে পৌঁছেছে। এই আন্তর্জাতিক দরবৃদ্ধিই স্থানীয় দামে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে বলে বাজুস উল্লেখ করেছে।

    নতুন নির্ধারিত দাম অনুযায়ী সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেট সোনার এক ভরি দাম দাঁড়িয়েছে দুই লাখ চুয়াল্লিশ হাজার একশত আটাশ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেট প্রতি ভরি দুই লাখ তেত্রিশ হাজার আটশ আটানব্বই টাকা, ১৮ ক্যারেট প্রতি ভরি এক লাখ নিনানব্বই হাজার সাতশ ছানব্বই টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম এক লাখ ত্রিশ হাজার ছিয়াশি একশ একবিংশ টাকা (এক লাখ ৬৩ হাজার ৮২১ টাকা) নির্ধারণ করা হয়েছে।

    সোনার সঙ্গে রূপার দামও বেড়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২২ ক্যারেট হিসেবে গণ্য করা এক ভরি রূপার দাম ৬ হাজার ৫৯০ টাকা; ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৫ হাজার ২৯৯ টাকা; ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৫ হাজার ৪২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    এই দরবৃদ্ধি ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে—স্বর্ণবাজারে দাম বেড়ে গেলে গহনা কেনাবেচা ও বিনিয়োগ পরিকল্পনায় পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন পড়তে পারে। বাজুসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন দাম কার্যকর হওয়া পর্যন্ত স্থানীয় দোকান ও জুয়েলারিদের কাছে তথ্য যাচাই করে কেনাবেচা করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

  • রেকর্ড—এক ভরি সোনার দাম ছাড়াল ২ লাখ ৫২ হাজার টাকা

    রেকর্ড—এক ভরি সোনার দাম ছাড়াল ২ লাখ ৫২ হাজার টাকা

    দেশের বাজারে আবারও সোনার দাম বেড়েছে; এক ভরির দাম ছাড়িয়ে গেছে দুই লাখ ৫২ হাজার টাকার সীমাকে, যা দেশে সর্বোচ্চ রেকর্ড।

    বুধবার (২১ জানুয়ারি) বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) এক বিজ্ঞপ্তিতে ঘোষণা করেছে, আগের দিন থেকে একদিনের ব্যবধানে সোনার দর বাড়ানো হয়েছে। নতুন এই দাম আগামীকাল ২২ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

    সংগঠনটি জানিয়েছে, বৈশ্বিক বাজারে পিওর গোল্ড (তেজাবি সোনা) ও স্বর্ণের দাম বাড়ায় স্থানীয় বাজারে মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। বিশ্বজুড়ে স্বর্ণ ও রুপার দামের নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইট গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্রে জানা গেছে, বৈশ্বিক বাজারে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্সে ৪ হাজার ৮০০ ডলার ছাড়িয়েছে।

    নতুন দর অনুযায়ী বিভিন্ন মানের সোনার নতুন দামগুলো হলো:

    22 ক্যারেট (সেরা মান): প্রতি ভরি দুই লাখ ৫২ হাজার ৪৬৭ টাকা

    21 ক্যারেট: প্রতি ভরি দুই লাখ ৪০ হাজার ৯৭৮ টাকা

    18 ক্যারেট: প্রতি ভরি দুই লাখ ৬ হাজার ৫৬৯ টাকা

    সনাতন পদ্ধতির সোনা: প্রতি ভরি এক লাখ ৬৯ হাজার ৬৫৩ টাকা

    সোনার সঙ্গে রুপার দামও বেড়েছে। রুপার নতুন দামগুলো হলো:

    22 ক্যারেট: প্রতি ভরি ৬ হাজার ৮৮২ টাকা

    21 ক্যারেট: প্রতি ভরি ৬ হাজার ৫৩২ টাকা

    18 ক্যারেট: প্রতি ভরি ৫ হাজার ৫৯৯ টাকা

    সনাতন পদ্ধতির রুপা: প্রতি ভরি ৪ হাজার ২০০ টাকা

    এই দররূপ পরিবর্তন ভোক্তা ও জুয়েলারি ব্যবসার ওপর প্রভাব ফেলবে; খুচরা ক্রেতারা ও বাজারের ব্যবসায়ীদের আগামীকাল থেকে নতুন দাম অনুসরণ করতে হবে।