Blog

  • লাইভে আত্মহত্যার চেষ্টা: ইউটিউবার অনুরাগ ডোভালের জ্ঞান ফিরেছে

    লাইভে আত্মহত্যার চেষ্টা: ইউটিউবার অনুরাগ ডোভালের জ্ঞান ফিরেছে

    পারিবারিক অশান্তির জেরে লাইভে আত্মহত্যার চেষ্টা করা ভারতীয় ইউটিউবার ও ‘বিগ বস’ খ্যাত রাইডার অনুরাগ ডোভালের জ্ঞান ফিরে এসেছে। তাকে আইসিইউ থেকে সাধারণ বেডে স্থানান্তর করা হয়েছে, জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ‘আজকের পত্রিকা’।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার (৭ মার্চ) দিল্লি-মেরঠ এক্সপ্রেসওয়েতে গাড়ি চালানোর সময় অনুরাগ লাইভে নিজের ‘শেষ ড্রাইভ’ ঘোষণা করেন। আরও পরে তিনি গতি বাড়িয়ে প্রায় ১৫০ কিলোমিটারেরও বেশি গতিতে গাড়ি ডানদিকে ঘুরিয়ে সড়কের ডিভাইডারে ইচ্ছাকৃতভাবে ধাক্কা দেন, ফলে দুর্ঘটনা ঘটে। ঐ সময়ে তার লাইভে প্রায় ৮২ হাজার দর্শক ছিলেন।

    আহত অবস্থায় অনুরাগকে প্রথমে মেরঠের সুভরতি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত অন্য একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা শঙ্কামুক্ত এবং তিনি আইসিইউ থেকে সাধারণ বেডে স্থানান্তরিত হয়েছেন।

    দুর্ঘটনার আগে অনুরাগ একটি ভিডিও বার্তায় জানান, প্রিয় মেয়েকে বিয়ে করার বিষয়ে কয়েকদিন ধরেই তিনি পারিবারিক অশান্তিতে ভুগছিলেন এবং মানসিক চাপ অনুভব করছিলেন। ভিডিওতে তিনি বলেন, গভীর হতাশায় আত্মহত্যার কথাও ভেবেছেন এবং যদি এমন কিছু ঘটে তবে তার পরিবার দায়ী থাকবে—এরকম মন্তব্যও করেন।

    অনুরাগ ডোভাল ১৯৯৭ সালের ৩ মে দেরাদুনে জন্মগ্রহণ করেছেন। তিনি একজন জনপ্রিয় মোটোভ্লগার; ইউটিউবে তার সাবস্ক্রাইবার প্রায় ৭.৯ মিলিয়ন এবং ইনস্টাগ্রামে ৭.৪ মিলিয়নেরও বেশি অনুসারী রয়েছে। হাই-এনার্জি ট্রাভেল ভ্লগ ও মোটরসাইকেল রাইডিং ভিডিওর মাধ্যমে তিনি খ্যাতি পেয়েছেন এবং ‘বিগ বস ১৭’-এ অংশগ্রহণের মাধ্যমে মূলধারার বিনোদন জগতে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।

  • বিদেশি মদ উদ্ধারের মামলায় কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর খালাস

    বিদেশি মদ উদ্ধারের মামলায় কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর খালাস

    কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবরকে চার বোতল বিদেশি মদ নিজের কাছে রাখার অভিযুক্ত করে দায়ের করা মামলায় আদালত খালাস দিয়েছেন। শুনানি শেষে বিচারক অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে বেকসুর খালাস দেন।

    ঢাকার ২য় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আয়েশা আক্তার মৌসুমী সোমবার (৯ মার্চ) সরকারের দায়ের করা অভিযুক্তি প্রমাণিত হয়নি বলে রায় ঘোষণা করেন। খালাসের নির্দেশ দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে আসিফের পক্ষে থাকা আইনজীবী প্রদীপ কুমার দেবনাথ এটি নিশ্চিত করেন।

    এর আগে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করে ৩ মার্চ আদালত শুনানি ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য সোমবার দিন ধার্য করেন। রায় ঘোষণার সময় আসিফ আকবর আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় পাওয়ার পর সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, তিনি ন্যায়বিচার পেয়েছেন।

    মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের ৬ জুন তেজগাঁও থানার আওতাভুক্ত পান্থপথে অবস্থিত আর্ব এন্টারটেইনমেন্টের অফিস থেকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের মামলায় আসিফকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তার অফিস কক্ষে চার বোতল বিদেশি টকিলা মদ পাওয়া যায়। ওই মদ পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরে পাঠানো হয়।

    লাইসেন্স ছাড়া বিদেশি মদ নিজের দখলে রাখার অভিযোগে ২০১৯ সালের ২৩ জুলাই সিআইডি পুলিশের সাইবার তদন্ত শাখার উপ-পরিদর্শক প্রশান্ত কুমার সিকদার তৎকালীন তেজগাঁও থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর সিআইডি তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক মো. জামাল উদ্দিন তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।

    আদালত ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। পরে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের সময় মোট তিন জন সাক্ষী গ্রহণ করা হয়। সব বিবরণ ও প্রমাণ পর্যবেক্ষণের পর আদালত আজ (৯ মার্চ) সিদ্ধান্তে পৌঁছে বলে জানায় যে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়নি।

  • পাইলট পর্যায়ে ৩৭ হাজার ৫৬৪টি নারী-প্রধান পরিবার পাচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড

    পাইলট পর্যায়ে ৩৭ হাজার ৫৬৪টি নারী-প্রধান পরিবার পাচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড

    নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারের নতুন উদ্যোগ—নারী-প্রধান পরিবারের নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হচ্ছে। পাইলট পর্যায়ে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত মোট ৩৭ হাজার ৫৬৪টি নারী-প্রধান পরিবার এই কার্ড পাবেন।

    এ তথ্য আজ সোমবার (৯ মার্চ) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন জানান। কর্মসূচিটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন আগামীকাল মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল ১০টায় রাজধানীর বনানীর টি অ্যান্ড টি খেলার মাঠে (কড়াইল বস্তি সংলগ্ন) প্রধানমন্ত্রী efectuar করবেন।

    মন্ত্রী বলেন, পরিবারে নারীকে প্রধান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তাঁর নামে কার্ড প্রদানের মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা সুবিধা সহজে পৌঁছে দিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাইলট প্রকল্পটি দেশের ১৩টি জেলার ১৩টি সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে বাস্তবায়িত হচ্ছে। ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    ওয়ার্ড কমিটির সদস্যরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারগুলোর আর্থসামাজিক অবস্থা, সদস্যসংখ্যা, শিক্ষা, বাসস্থান, ব্যবহৃত গৃহস্থালি সামগ্রী (টিভি, ফ্রিজ, কম্পিউটার, মোবাইল), রেমিট্যান্সসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেন। পরে এসব তথ্য ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে যাচাই-বাছাই করা হয়।

    পাইলট পর্যায়ে মোট ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারী-প্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহের পর সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রক্সি মিনস টেস্ট বা দারিদ্র সূচক নির্ধারণ করে পরিবারগুলোকে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্ন মধ্যবিত্ত হিসেবে চিহ্নিত পরিবারের মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৪টি পরিবারকে ভাতা প্রদানের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে।

    মন্ত্রী বলেন, পুরো প্রক্রিয়াটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে হওয়ায় উপকারভোগী নির্বাচন কালে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি বা ম্যানুয়াল হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। প্রতিটি নির্বাচিত নারী-গৃহপ্রধানকে একটি আধুনিক স্মার্ট কার্ড দেওয়া হবে, যা স্পর্শবিহীন চিপ, কিউআর কোড ও এনএফসি প্রযুক্তিসহ নিরাপদ ও টেকসই হবে।

    প্রতিটি কার্ডে একটি পরিবারের পাঁচ জন সদস্য ভাতা বা সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন। যদি কোনো যৌথ পরিবারে সদস্যসংখ্যা পাঁচের বেশি হয়, তাহলে আনুপাতিক ভিত্তিতে অতিরিক্ত কার্ড প্রদানের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

    সভায় মন্ত্রী আরও জানান, ফ্যামিলি কার্ডে নির্বাচিত নারী গৃহপ্রধান যদি অন্য কোনো সরকারি ভাতা বা পেনশন পান, অথবা সরকারি চাকরি বা এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে কর্মচারী হয়ে থাকেন, তাহলে ওই পরিবারকে ভাতা প্রদানের যোগ্য বিবেচনা করা হবে না। একইভাবে বাণিজ্যিক লাইসেন্স বা বড় ব্যবসা, বিলাসবহুল সম্পদ (যেমন গাড়ি, এসি) বা নির্দিষ্ট পরিমাণ সঞ্চয়পত্র থাকলে সেই পরিবারও ভাতা পাবেন না।

    পাইলটিং পর্যায়ে প্রতিমাসে নির্বাচিত উপকারভোগীরা মাসিক ২,৫০০ টাকার হারে নগদ ভাতা পাবেন। ভবিষ্যতে সমমূল্যের খাদ্যসহায়তা প্রদানের বিষয়টিও বিবেচনায় আনা হবে। ভাতার টাকা জি-টু-পি পদ্ধতিতে সরাসরি উপকারভোগীর নির্বাচিত মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক একাউন্টে পাঠানো হবে—তথ্য সংগ্রহকালে এই অ্যাকাউন্ট-ওয়ালেটের তথ্যও নেওয়া হয়েছে, যাতে বিলম্ব বা ভুল জমা এড়ানো যায়।

    পাইলট পর্যায়ের বাস্তবায়নের জন্য আগামী জুন-২০২৬ পর্যন্ত মোট ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ২৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা (৬৬.০৬ শতাংশ) সরাসরি নগদ সহায়তায় এবং ১২ কোটি ৯২ লাখ টাকা (৩৩.৯৪ শতাংশ) তথ্যসংগ্রহ, অনলাইন সিস্টেম প্রণয়ন ও কার্ড প্রস্তুতিসহ কর্মসূচি বাস্তবায়নে ব্যবহার করা হবে।

    মন্ত্রী অনাড়ম্বরভাবে বলেন, ফ্যামিলি কার্ড পাইলটিং বাস্তবায়ন গাইডলাইন, ২০২৬ প্রণয়ন করা হয়েছে এবং এটি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে আপলোড করা রয়েছে।

  • সরকার একই ব্যক্তিকে পুনরায় স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়ার পথ খুলে দিল

    সরকার একই ব্যক্তিকে পুনরায় স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়ার পথ খুলে দিল

    সরকার একই ব্যক্তিকে পুনরায় স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ গতকাল রোববার স্বাধীনতা পুরস্কার সংক্রান্ত নির্দেশাবলির ৭.১১ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে অফিস আদেশ জারি করেছে।

    সংশোধিত অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে পুনরায় স্বাধীনতা পুরস্কার বা অন্য কোনো জাতীয় পর্যায়ের পুরস্কার প্রদানের জন্য সাধারণত বিবেচনা করা হবে না। তবে শর্ত থাকবে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পুরস্কার পাওয়ার পর যদি অন্য কোনো ক্ষেত্রে বিশেষ ও গৌরবোজ্জ্বল অবদান রাখে, তাহলে কমপক্ষে ২৫ বছর পর তাদের পুনরায় স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।’

    এ বছর সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সহ মোট ১৫ জন ব্যক্তি ও পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। এই তালিকায় জাফরুল্লাহ চৌধুরীর নামও রয়েছে—তিনি ১৯৭৭ সালে এই পুরস্কার পেয়েছিলেন।

    গতবারও একই ব্যক্তিকে ভুলক্রমে দুইবার মনোনয়ন করা হলে পরে তাদের নাম তালিকা থেকে সরানো হয়েছিল। এবারের পরিস্থিতিতে যাতে এমন সমস্যা না হয়, সেই কারণে নির্দেশাবলিতে এই সংশোধনী আনা হয়েছে বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

    নতুন নিয়মে বিশেষ অবদানের ভিত্তিতে দীর্ঘ সময় পর পুরস্কার পুনরায় দেওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ায় ভবিষ্যতে পুরস্কার প্রদান প্রক্রিয়ায় কিছুটা নমনীয়তা আসবে।

  • সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ: দিঘলিয়া ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাজ্জাদ বহিষ্কার

    সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ: দিঘলিয়া ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাজ্জাদ বহিষ্কার

    খুলনা জেলা শাখার অধীনে থাকা দিঘলিয়া উপজেলা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসেনকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শনিবার কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক এই বহিষ্কারাদেশ কার্যকর হয়।

    একই সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার অধীনে অষ্টগ্রাম উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আল মাহমুদ মোস্তাককেও বহিষ্কার করা হয়েছে। সংগঠন জানিয়েছে, দুইজনের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দাঁড়িয়েছে এবং সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট পদ থেকে প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির আজ এই বহিষ্কারাদেশ অনুমোদন করেছেন। সংগঠনের সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব শৃঙ্খলা রক্ষার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় এসব ব্যবস্থা নিয়েছে।

  • মনিরা, মিতু ও নুসরাতের নেতৃত্বে ‘জাতীয় নারীশক্তি’ আত্মপ্রকাশ

    মনিরা, মিতু ও নুসরাতের নেতৃত্বে ‘জাতীয় নারীশক্তি’ আত্মপ্রকাশ

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সহযোগী সংগঠন ‘জাতীয় নারীশক্তি’ আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করেছে। রবিবার (৮ মার্চ) সকাল/দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এই ঘোষণাটি দেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

    সংগঠনের নেতৃত্বে মনিরা শারমিন আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। সদস্যসচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন ডা. মাহমুদা আলম মিতু এবং মুখ্য সংগঠক হিসেবে নেতৃত্ব দেবেন নুসরাত তাবাসসুম। যদিও ডা. মাহমুদা মিতু শারীরিক অসুস্থতার কারণে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি, অনুষ্ঠানে মনিরা শারমিন ও নুসরাত তাবাসসুম উপস্থিত ছিলেন।

    নাহিদ ইসলাম অনুষ্ঠানে বলেন, ‘নারীদের অধিকার, নিরাপত্তা এবং বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার মতো বিষয়গুলোতে আলাদা একটি সংগঠন অত্যন্ত প্রয়োজন। নারীশক্তি হবে এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যেখানে নারী নিজেদের ইস্যু নিয়ে ঘরে-বাইরে বললেই আস্থা ও সংগঠনের মাধ্যমে নিজেদের দাবি সামনে তুলে ধরতে পারবে।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন সংগঠনটি সাইবার বুলিংসহ নানা সামাজিক ইস্যুতে স্বাধীনভাবে কাজ করবে।

    নাহিদ আরও বলেন, বিশ্বের ইতিহাসে নারীর অধিকার অর্জন সবসময়ই আন্দোলন ও সংগ্রামের ফল। বাংলাদেশে ভোটাধিকার থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক ও সামাজিক অধিকারের জন্য নারীদের বারবার লড়াই করতে হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, মুক্তিযুদ্ধ থেকে সাম্প্রতিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান—সব আন্দোলনেই নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, কিন্তু একই সময়ে তারা সহিংসতারও শিকার হয়েছেন। বিশেষ করে জুলাই আন্দোলনের সূচনালগ্নে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ছাত্রীদের ওপর সংঘটিত হামলার ঘটনা আন্দোলনের গতিকে প্রভাবিত করেছিল।

    নাহিদ বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে প্রচুর নারী রাজপথে ছিলেন, কিন্তু পরে রাজনীতির মাঠে তাদের উপস্থিতি কম দেখা গেছে। এর পেছনে সামাজিক বাধ্যবাধকতা, পারিবারিক চাপ এবং অনলাইনে চলা মানহানিকর ট্রল ও সাইবার বুলিং বড় ভূমিকা রেখেছে। এ কারণে অনেক নারী আন্দোলন ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।’ তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও সাইবার বুলিং বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে হবে — দলমত নির্বিশেষে।

    অনুষ্ঠানে সংগঠনের নেতারা জানান, অচিরেই ‘জাতীয় নারীশক্তি’র পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে এবং সারাদেশে এর সাংগঠনিক কার্যক্রম প্রসারিত করা হবে। আত্মপ্রকাশের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে একই মিলনায়তনে ‘সাম্প্রতিককালে নারীর প্রতি ক্রমবর্ধমান সহিংসতার প্রতিকার এবং ধর্ষণের বিচার’ শীর্ষক একটি আলোচনা সভাও অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানটিতে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার এবং জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন নারী উপস্থিত ছিলেন।

    সংগঠনটি ভবিষ্যতে নারীর কণ্ঠ আরও জোরালোভাবে রাজনীতিতে তুলতে কাজ করবে—এটাই অনুষ্ঠানে বারবার উচ্চারিত প্রতিশ্রুতি।

  • বাজুস জানাল: সোনার দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৩,২৬৬ টাকা কমল

    বাজুস জানাল: সোনার দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৩,২৬৬ টাকা কমল

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) মঙ্গলবার (০৯ মার্চ) জানিয়েছে, সোনার দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৩,২৬৬ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে। নতুন দাম আজ সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

    সংগঠনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তেজাবি (পিওর গোল্ড বা শুদ্ধ সোনা) দামের পতনের কারণে স্থানীয় বাজারে মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। এর ফলে ভালো মানের ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরির দাম এখন নির্ধারিত হয়েছে ২,৬৪,৯৪৮ টাকা। অন্যান্য কিমতগুলো হলো: ২১ ক্যারেট ২,৫২,৮৭৬ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২,১৬,৭৭৫ টাকা এবং সনাতনী পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১,৭৬,৯৪৩ টাকা।

    রুপার দামও পাশাপাশি কমেছে। ২২ ক্যারেটের জন্য এক ভরি রুপার দাম রাখা হয়েছে ৬,৩৫৭ টাকা। ২১ ক্যারেটের রুপার দাম ৬,০৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৫,১৯০ টাকা এবং সনাতনী পদ্ধতির রুপা ৩,৯০৭ টাকা প্রতি ভরি।

    আন্তর্জাতিক বাজারেও গত সপ্তাহে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সংকটের প্রভাব পড়ে স্বর্ণের দাম উঠেছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দাম পুনরায় নামার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। বিশ্বজুড়ে স্বর্ণ ও রুপার দামের একটি স্বীকৃত ওয়েবসাইট গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্রে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমানে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ৫,০৯০ ডলার; গতকাল এটি ছিল ৫,১৭০ ডলার। তার আগে ৩০ জানুয়ারি ৫,২০০ ডলার এবং ২৯ জানুয়ারি ৫,৫৫০ ডলার দেখানো হয়েছিল।

    উল্লেখ্য, মাসের শেষের দিকে বিশ্ববাজারে সোনার দাম দ্রুত বাড়ার ফলে দেশের বাজারে রেকর্ড পরিমাণ মূল্যবৃদ্ধি হয়েছিল। ২৯ জানুয়ারি সকালে বাজুস একপর্যায়ে প্রতি ভরিতে ১৬,২১৩ টাকা বাড়িয়ে ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম ২,৮৬,০০০ টাকায় পৌঁছে যায় — যা তখন দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেকর্ড ছিল। বর্তমান দাম পুনরায় নেমে আসায় ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বাজারে আচরণে পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।

  • মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় তেলদাম দুই বছরে সর্বোচ্চ, বিশ্ব অর্থনীতির সতর্কতা

    মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় তেলদাম দুই বছরে সর্বোচ্চ, বিশ্ব অর্থনীতির সতর্কতা

    মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রভাবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তেলের দাম গত দুই বছরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠে এসেছে। কাতারের জ্বালানি মন্ত্রী ও কাতার এনার্জির প্রধান নির্বাহী সাদ আল-কাবি সতর্ক করে বলেছেন, উপসাগরীয় তেল ও গ্যাস রফতানিকারক দেশগুলো আগামী কয়েক দিনের মধ্যে উৎপাদন বন্ধ করে দিতে পারে—যা বিশ্ববাজারে চরম ঝুঁকি তৈরি করবে।

    কাবি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিকে ধসিয়ে দিতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে গত শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম একযোগে ৯ শতাংশের বেশি বাড়ে এবং প্রতি ব্যারেল ৯৩ ডলারের উপর উঠে যায়, যা ২০২৩ সালের শরৎকাল পর সর্বোচ্চ মূল্য।

    কাতার এনার্জি জানিয়েছে, তাদের একটি এলএনজি উৎপাদন কেন্দ্র সামরিক হামলার কারণে বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে উৎপাদন স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়েছে। কাবি বলেন, যুদ্ধ несколько সপ্তাহ স্থায়ী হলে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১৫০ ডলারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা আছে।

    জ্বালানি বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি এই মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহের অনিশ্চয়তা বজায় থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় তা তীব্রভাবে পড়বে—পরিবহন খরচ বাড়বে, হিটিং ও খাদ্যপণ্যের দাম চড়া হবে এবং আমদানিকৃত পণ্যের মূল্যও অনেকটাই উপরে উঠবে। কলকারখানায় উৎপাদন কমলে সরবরাহ শৃঙ্খলে সংকট আরও গভীর হবে এবং সামষ্টিক জিডিপি বৃদ্ধিও থেমে যেতে পারে।

    বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত সপ্তাহে ইরান এবং মার্কিন-ইসরায়েল সংঘাত শুরু হওয়ার পর সেই সংকীর্ণ জলপথে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধের মতো হয়ে যাওয়ায় চীন, ভারত ও জাপানসহ বড় ভোক্তা দেশগুলো কাঁচা তেল সরবরাহে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে।

    রাইস্ট্যাড এনার্জির বিশ্লেষক হোর্হে লিওন এই পরিস্থিতিকে ‘বাস্তব ঝুঁকি’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, আমরা এমন একoint সময়ে দাঁড়িয়ে আছি—এটি কি একটি সাময়িক ঢেউ নাকি একটি বৃহৎ অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের সূচনা, তা স্পষ্ট নয়। সরবরাহ যদি দুই সপ্তাহের বেশি স্থবির থাকে, তাহলে বিশ্ব অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব পড়বে।

    যুক্তরাজ্যের বাজার তদারকি সংস্থা সিএমএ ও জ্বালানি নিয়ন্ত্রক অফিস অফজেম পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে; ইতোমধ্যেই সেখানে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। বিশ্লেষকরা মনে করান যে, যদিও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর কাছে কয়েক সপ্তাহের মজুদ রয়েছে, মজুদ ফুরিয়ে গেলে এবং উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্ববাজার সামলানো কঠিন হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারগুলো জরুরি তেল মজুত বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারে—যা আগে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় দেখা গিয়েছিল।

    সংক্ষেপে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কেবল ঐ অঞ্চলেরই নয়, সমগ্র বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এখনই বড় সতর্ক সংকেত হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি কেমন দিকে মোড় নেবে—তা আগামী কয়েক দিনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার উপর নির্ভর করবে।

  • ইরানি হামলার ছবি-ভিডিও শেয়ারের অভিযোগে কাতারে ৩১৩ জন গ্রেপ্তার

    ইরানি হামলার ছবি-ভিডিও শেয়ারের অভিযোগে কাতারে ৩১৩ জন গ্রেপ্তার

    ইরানের হামলার ছবি, ভিডিও ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে কাতারে ৩১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। সোমবার কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, অপরাধ তদন্ত বিভাগের অর্থনৈতিক ও সাইবার অপরাধ দমন ইউনিট এই অভিযান পরিচালনা করেছে।

    বিবৃতিতে বলা হয়েছে গ্রেপ্তারকৃতরা ভিডিও ধারণ ও প্রচার করেছেন এবং এমন ধরনের মেইনস্ট্রিমের বাইরে থাকা কন্টেন্ট ছড়িয়েছেন, যা জনমনে আতঙ্ক ও উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। অভিযানের সময় বিভিন্ন দেশের নাগরিকরাও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন বলেও মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

    এ খবরের পটভূমিতে বলা হচ্ছে, ইসরায়েলি-মার্কিন হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে বিমানবন্দর, সামরিক ঘাঁটি, জ্বালানি স্থাপনা ও আবাসিক এলাকা লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। এসব ঘটনার মধ্যে ভূ-রাজনৈতিক উদ্বেগ বাড়ায় উপসাগরীয় দেশগুলোতে সংবেদনশীল ছবি ও গুজব ছড়ানো রোধে কড়াকড়ি বেড়েছে।

    মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলোতেও একই ধরনের পদক্ষেপ লক্ষ্য করা গেছে। গত ৬ মার্চ বাহরাইন চারজনের গ্রেপ্তার এবং ৭ মার্চ কুয়েতে তিনজন গ্রেপ্তারের কথা জানায়; অভিযোগ ছিল পরিস্থিতি নিয়ে ভিডিও ধারণ ও মিথ্যা তথ্য প্রচার।

    সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ও বাসিন্দাদের SMS-এর মাধ্যমে সতর্ক করে জানিয়েছে, ঘটনার স্থান, নিক্ষিপ্ত বস্তু বা ধ্বংসাবশেষের ছবি ও ভিডিও ধারণ, প্রকাশ বা প্রচারণার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সৌদি আরবও অনুরূপ সতর্কতা জারি করেছে।

    তবে এসব সরকারি সতর্কতার পরও ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং গ্রুপ চ্যাটে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, যা নিয়ন্ত্রণে রাখাটা কর্তৃপক্ষের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    সূত্র: এএফপি।

  • ইরান দাবি করেছে: তুরস্ক, সাইপ্রাস ও আজারবাইজানে হামলা হয়নি

    ইরান দাবি করেছে: তুরস্ক, সাইপ্রাস ও আজারবাইজানে হামলা হয়নি

    গত সপ্তাহে তুরস্ক, সাইপ্রাস ও আজারবাইজানে ইরানি ড্রোন হামলার খবর প্রকাশিত হওয়ার পর তেহরান তা আনুষ্ঠানিকভাবে অস্বীকার করেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই বলেন, ইরানের ভূখণ্ড থেকে ওই দেশগুলোর ওপর কোনো আক্রমণ করা হয়নি।

    বাঘেই সংবাদ বিবৃতিতে আরও ইঙ্গিত দেন যে এসব হামলার তথ্য পরিকল্পিতভাবে সাজানো হতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমরা বারবার সতর্ক করেছি যে, শত্রুপক্ষ আমাদের সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি করতে নির্দিষ্ট কিছু ঘটনা রচনা করে নাটক সাজাতে পারে।’ তার কথায়, এমন অপপ্রচারের উদ্দেশ্য ইরানের আঞ্চলিক সম্পর্ক নষ্ট করা।

    মুখপাত্র জোর দিয়ে বলেন, ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে তিনি বলেন, যদি অন্য কোনো দেশের ভূখণ্ডকে ইরানকে আক্রমণ করার জন্য ব্যবহার করা হয়, তখন ইরানের অধিকার আছে আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ নিতে। বাঘেই বলেন, ‘আমাদের আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপকে অন্য কোনো দেশের প্রতি শত্রুতা হিসেবে দেখা উচিত নয়।’

    অন্যদিকে, সম্প্রতি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই অঞ্চলটিতে বেশ কিছু দেশে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়া বা আঘাত হানার ঘটনা রিপোর্ট করা হয়েছে। এই ঘটনাগুলোকে বাঘেই শত্রুতা হিসেবে স্বীকার করতে নারাজ বলে জানিয়েছেন।

    মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সহিংসতার প্রেক্ষাপটে এই বিবৃতিটি এসেছে, যেখানে উপসাগরীয় কয়েকটি দেশের বেসামরিক স্থাপনায় হামলার খবরও পাওয়া গেছে। তেহরানের দাবির বাইরে, পরিস্থিতি যে মর্যাদা পাবে এবং প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক কেমন থাকবে—নিস্পত্তির সেই প্রসঙ্গটি এখনও আলোচনা ও মনিটরিংয়ের বিষয় রয়েছে।