Blog

  • বুলবুল: আমরা বিশ্বকাপ খেলতে চাই, কিন্তু ভারতে নয়

    বুলবুল: আমরা বিশ্বকাপ খেলতে চাই, কিন্তু ভারতে নয়

    নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে বাংলাদেশ বাংলাদেশ সময়টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতের মাটিতে নামতে ইচ্ছুক নয় — এমন অবস্থানকে পুনর্ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। আইসিসির সাম্প্রতিক বোর্ড সভায় বিসিবিকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়ার পরও তারা তাদের আগের অবস্থান থেকে সরে আসেনি।

    বুলবুল বৃহস্পতিবার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ক্রীড়া উপদেষ্টা ও खिलाड़ियों সঙ্গে আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের জানান, ‘‘আমরা আবারও আইসিসির কাছে সমস্ত সম্ভাব্য বিকল্প উপস্থাপন করব। বাংলাদেশ ক্রিকেট নিয়ে আমাদের গর্ব আছে, কিন্তু বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা নিয়ে আমরা সন্দিহীন নই।’’

    আলোচনার পর বোর্ড সভাপতি আরও বলেন, তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবেন যাতে বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা নিরাপদ পরিবেশে বিশ্বকাপে নামে। ‘‘আইসিসি যদি শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ আয়োজনের বিকল্প বিবেচনা করে, আমরা সেটিই চাই। আমরা হাল ছাড়ছি না — বিভিন্ন দিক থেকে যোগাযোগ করে যাচ্ছি যেন আমাদের ছেলেরা বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারে,’’ তিনি যোগ করেন।

    বুলবুল আরও বলেন, ‘‘ক্রিকেটপ্রিয় দেশের প্রতিনিধিত্ব যদি কোনো কারণে World Cup-এ না করতে পারে, সেটা আইসিসির ব্যাপক ব্যর্থতা হবে। যেখানে আয়োজকরা কমনওয়েলথ গেমসের মতো বড় ইভেন্টের চেষ্টা করছে, সেখানে জনবহুল ক্রিকেটপ্রিয় দেশগুলোকে নিরাপদ বিকল্প না দিলে তা বিবেচনার দাবি রাখে।’’

    শেষ পর্যন্ত, বুলবুল নিশ্চিত করেন যে বাংলাদেশ বিশ্বকাপে খেলতে চায় — কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারত নয়; শ্রীলঙ্কায় খেলাই তাদের অনুকূল বিকল্প। তিনি জানান, দল প্রস্তুত আছে এবং বোর্ডও আইসিসির সঙ্গে বিকল্প পথ অনুসন্ধান চালিয়ে যাবে।

  • ভারতে খেলা নিয়ে স্থির সিদ্ধান্ত: বিশ্বকাপে না যাওয়ার পক্ষে অনড় বাংলাদেশ

    ভারতে খেলা নিয়ে স্থির সিদ্ধান্ত: বিশ্বকাপে না যাওয়ার পক্ষে অনড় বাংলাদেশ

    ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও বিসিবির উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত স্পষ্ট — বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে গেলে ভারতের মাটিতে যেতে রাজি নয়। আজ (২২ জানুয়ারি) হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বিশ্বকাপ স্কোয়াডের ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠকের পর ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, ‘ভারতে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত বদলানোর কোনো সুযোগ নেই।’

    সেই সঙ্গে তিনি আইসিসিকে ন্যায়বিচার করেনি বলে অভিযোগ করেছেন। শেষ কয়েক সপ্তাহে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো—বিশেষ করে মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে সরিয়ে দেয়ার ঘটনা—এমন একটি নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ তৈরি করেছে, যার ভিত্তিতে সরকার ও বিসিবি ভারতের মাটিতে খেলায় রাজি হতে পারে না বলে উপদেষ্টা জানান। তাঁর বক্তব্য, এক মাসে নিরাপত্তার পরিস্থিতিতে দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন হয়নি এবং আইসিসির মৌলিক আশ্বাসগুলো সরকারকে কনভিন্স করতে পারেনি।

    আসিফ নজরুল বলেন, মোস্তাফিজুর ঘটনাটি কোনো বাতাসে ভাসমান ধারণা নয়; এটি বাস্তব ও সংবেদনশীল ঘটনা। ‘যেখানে আমাদের একজন সেরা খেলোয়াড়ই উগ্রপ্রবণ জবরদস্তির কারণে নিরাপত্তা পায়নি, সেই দেশে আমরা কীভাবে শত শত খেলোয়াড়, সংবাদকর্মী ও দর্শকের নিরাপত্তা নিশ্চিতবে—এটা আমরা কী থেকে বিশ্বাস করবো?’—প্রশ্ন তোলেন তিনি।

    তবে বিসিবি ও সরকারের উদ্যোগ হিসেবে বিকল্প ভেন্যু পেলেই বিশ্বকাপে খেলতে ইচ্ছুক থাকবে বাংলাদেশ। ক্রীড়া উপদেষ্টা জানিয়েছেন, তারা আইসিসির সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখবেন এবং শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ আয়োজনের সুযোগের আশায় রয়েছেন। ‘নিরাপত্তাজনিত কারণে বিশ্বকাপ ভেন্যু বদলানোর বহু নজির আছে’—বলেছেন তিনি এবং আশা প্রকাশ করেছেন আইসিসি বিষয়টিকে সুবিবেচনা করবে।

    বৈঠকের পর গণমাধ্যমে কথা বলেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলও। তিনি বলেন, এখনও শ্রীলঙ্কা-ভেন্যুতে খেলাই তাদের বদল না করা রীতি এবং এ লড়াই চালিয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন। বুলবুল আইসিসির সমালোচনায় বলেন, মুস্তাফিজুর ঘটনা শুধুমাত্র ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ হিসেবে দেখালে তা বাস্তব পরিস্থিতি বোঝায় না; নিরাপত্তাজনিত কারণে তাকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল, নিজে সরে যায়নি বা ইনজুরির কারণে নয়—এমনকি বিসিবির এনওসি বাতিলও করা হয়নি।

    অপরদিকে আইসিসি বলেছে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ভারতের বাইরে খেললে বাংলাদেশকে বদলে অন্য দলকে বিশ্বকাপে নেওয়া হবে এবং তারা জানিয়েছেন, ভারতে খেললে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই—এই অবস্থান বিসিবি ও সরকারের পক্ষে গ্রহণযোগ্য হয়নি। আইসিসির বোর্ড সভায় বাংলাদেশ ইস্যুতে মাত্র একটি ভোট পায়; বাকি সদস্য দেশগুলোর সমর্থন না থাকায় সিদ্ধান্ত অপরিবর্তিত ছিল।

    আজকের বৈঠকে বিসিবি ও সরকারের আমন্ত্রণে বিশ্বকাপ স্কোয়াডের বেশকিছু ক্রিকেটার উপস্থিত ছিলেন; তাদের মধ্যে লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাজমুল হোসেন শান্তের মতো কয়েকজনের নাম অনুপস্থিত ছিল না। ক্রীড়া উপদেষ্টা ও বিসিবি সভাপতি উভয়েই খেলোয়াড়দের বক্তব্য প্রকাশ করতে চাননি—তিনি বলেন এটি তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়।

    বিশেষ করে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে বিসিবি আগে থেকেই আইসিসিকে বলেছিল ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সুসংহতভাবে আয়োজন করা হলে ভালো হবে; কিন্তু আইসিসি ওই আবেদন প্রত্যাখ্যান করে বলেন, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ভারতেই ম্য়াচ খেলতে হবে।

    সংক্ষেপে, বর্তমান সিদ্ধান্ত অপরিবর্তিত: সরকার ও বিসিবি জানাচ্ছে—ভারতে না গিয়ে বিশ্বকাপে খেলবে না বাংলাদেশ। তবুও তারা আইসিসির সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যাবে এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে ভেন্যু পরিবর্তনের আশা ছাড়েনি।

  • ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

    ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

    ঢালিউডের স্বীকৃত অভিনেতা ও নৃত্যশিল্পী ইলিয়াস জাভেদ আর নেই। দীর্ঘদিন ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই করে ৮২ বছর বয়সে তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

    মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য সনি রহমান। সনির ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ইলিয়াস জাভেদ মারা গেছেন।

    ১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের পেশাওয়ারে জন্ম গ্রহণ করেন রাজা মোহাম্মদ ইলিয়াস, যাকে পরবর্তীতে চলচ্চিত্রজগৎকে পরিচিত করেন ইলিয়াস জাভেদ নামে। শৈশবে তার পরিবার পাঞ্জাবে চলে গেলেও পরবর্তী সময়ে অভিনয় জীবনের কারণে তিনি ঢাকায় স্থায়ী হন।

    জানানো হয়, ক্যান্সারের পাশাপাশি নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। গত বছরের এপ্রিলে তিনি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন এবং বেশ কিছুদিন ধরে হাসপাতালে-বাসার মিশ্র চিকিৎসাসেবা চলছিল। স্ত্রী ডলি চৌধুরী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, আজ সকালে তার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে; দুজন নার্স এসে জানান, শরীর ঠান্ডা থাকায় দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া হয়, সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    ইলিয়াস জাভেদের চলচ্চিত্র জীবন দীর্ঘ ও বৈচিত্র্যময় ছিল। ১৯৬৪ সালে উর্দু সিনেমা ‘নয়ি জিন্দেগি’ দিয়ে নায়কের ভূমিকায় রুপালি পর্দায় অভিষেক ঘটে। তবে ১৯৬৬ সালে ‘পায়েল’ সিনেমার মাধ্যমে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন; এই কাজেই শাবানার সঙ্গে জুটিবন্ধনে দর্শক হৃদয়ে বিশেষ স্থান করেন। পরিচালক মুস্তাফিজই তাকে চলচ্চিত্রে ‘জাভেদ’ নামে পরিচিত করেন।

    প্রাথমিকভাবে নৃত্যপরিচালনার মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করা জাভেদ পরে নায়কের ভূমিকায় উঠে এসে শতাধিক ছবিতে অভিনয় করেন। ১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশকের দর্শকদের কাছে তিনি ছিলেন নৃত্য ও অ্যাকশনের মিশেলে এক মার্কসধর্মী পারফর্মার — তাই তাঁকে ‘ড্যান্সিং হিরো’ বলা হতো।

    ব্যক্তিগত জীবনেও ইলিয়াস জাভেদ একজন পরিচিত নাম; ১৯৮৪ সালে তিনি জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা ডলি চৌধুরীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

    ইলিয়াস জাভেদের কিছু উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে: ‘মালেকা বানু’, ‘নিশান’, ‘পাপী শত্রু’, ‘রক্ত শপথ’, ‘সাহেব বিবি গোলাম’, ‘কাজল রেখা’, ‘অনেক দিন আগে’, ‘আজও ভুলিনি’, ‘কঠোর’, ‘মা বাবা সন্তান’, ‘রাখাল রাজা’, ‘রসের বাইদানী’, ‘জীবন সঙ্গী’ ও ‘আবদুল্লাহ’।

    তার প্রয়াণে বাংলা চলচ্চিত্রের এক স্বতন্ত্র অধ্যায় বন্ধ হলো; দীর্ঘদিন গোপনে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছিলেন এই গুণী শিল্পী। চলচ্চিত্রভক্ত ও সহকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

  • উভয় বাংলার জনপ্রিয় নায়িকা জয়শ্রী কবির আর নেই

    উভয় বাংলার জনপ্রিয় নায়িকা জয়শ্রী কবির আর নেই

    জেলা চিত্রজগতে সাড়াজাগানো এক মুখ, উভয় বাংলার জনপ্রিয় নায়িকা জয়শ্রী কবির গত ১২ জানুয়ারি লন্ডনে মৃত্যুবরণ করেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন তার ভাগ্নে জাভেদ মাহমুদ।

    জাভেদ মাহমুদ জানিয়েছেন, ‘‘আমার মামি জয়শ্রী কবির — বিখ্যাত নায়িকা, এককালের ‘মিস ক্যালকাটা’ — লন্ডনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তিনি সত্যজিৎ রায়ের সিনেমা ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’, আলমগীর কবির পরিচালিত ‘সীমানা পেরিয়ে’, ‘রূপালি সৈকতে’ ও ‘সূর্য কন্যা’ সিনেমাগুলোর নায়িকা ছিলেন।’’

    মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি; তবে জাভেদ জানান, দীর্ঘদিন ধরে লন্ডনে অসুস্থ ছিলেন তিনি।

    জয়শ্রী কবির দীর্ঘদিন লন্ডনে বসবাস করে আসছিলেন। সেখানে তিনি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। প্রায় এক দশক আগে ঢাকায় একটি সফর করেছিলেন; তারপর থেকে আর নিয়মিত বাংলাদেশে দেখা যায়নি।

    জয়শ্রী ১৯৫২ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। পারিবারিক নাম ছিল জয়শ্রী রায়। তিনি দক্ষিণ পয়েন্ট স্কুলে পড়াশোনা করেন এবং ১৯৬৮ সালে ‘মিস ক্যালকাটা’ খেতাব জিতেন। ১৯৭০ সালে সত্যজিৎ রায়ের পরিচালিত ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ চলচ্চিত্র দিয়ে চলচ্চিত্রজগতে পা রাখেন। ১৯৭৬ সালে তিনি উত্তম কুমারের বিপরীতে ‘অসাধারণ’ ছবিতেও অভিনয় করেন।

    পরবর্তীতে বাংলা চলচ্চিত্রে সক্রিয় থেকে তিনি বাংলাদেশের দর্শকমহলে খ্যাতি অর্জন করেন। আলমগীর কবির পরিচালিত Several চলচ্চিত্রে নায়িকা হিসেবেকে দেখা গেছে — তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘সীমানা পেরিয়ে’, ‘রূপালি সৈকতে’, ‘সূর্য কন্যা’ ও ‘মোহনা’।

    ব্যক্তিগত জীবনে জয়শ্রী ১৯৭৫ সালে পরিচালক আলমগীর কবিরের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। تاہم দাম্পত্য জীবন দীর্ঘস্থায়ী হয়নি; কয়েক বছরের মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়। তাদের সংসায় একটি পুত্র সন্তান — লেনিন সৌরভ কবির — রয়েছে। বিবাহবিচ্ছেদের পর জয়শ্রী প্রথমে আবার কলকাতায় থাকেন এবং পরবর্তীতে পুত্রকে নিয়ে লন্ডনে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।

    চিত্রজগতের এই আলোকিত ব্যক্তিত্বের প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে দুই বাংলার চলচ্চিত্র ও সাহিত্যপ্রেমীদের মাঝে। তাঁর জীবন ও কাজ প্রজন্মে প্রজন্মে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

  • মানবতাবিরোধী অপরাধ: কাদের, পরশ, সাদ্দামসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরু

    মানবতাবিরোধী অপরাধ: কাদের, পরশ, সাদ্দামসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরু

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করার আদেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। একই সঙ্গে মামলার সূচনা বক্তব্য ও প্রথম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ১৭ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন আদালত।

    বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ট্রাইব্যুনাল-২ এর তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে, আসামিদের আব্যাহতির (অব্যাহতি) আবেদনের চেয়ার খারিজ করে এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

    পূর্বে ১৮ জানুয়ারি প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামীম। শুনানিতে তারা আসামিদের ব্যক্তিগত দায় ও অভিযোগের বিষদ ব্যাখ্যা দেন এবং কাদেরের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ পড়ে শোনান। প্রসিকিউশনের প্রতি দাবি ছিল—জুলাই ও আগস্টে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে হত্যার নির্দেশ দেয়া, উসকানি ও প্ররোচনার মাধ্যমে সহিংসতা বাধানোর অভিযোগ রয়েছে। শুনানি শেষে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করার আবেদন করেন।

    আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী লোকমান হাওলাদার ও ইশরাত জাহান। তারা প্রসিকিউশনের অভিযোগের সঙ্গে তাদের মক্কেলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই দাবি করে যথাযথ তথ্যপ্রমাণ ছাড়া আসামিদের অভিযোগ থেকে অব্যাহতির অনুরোধ জানান। উভয়পক্ষের যুক্তি-তর্ক শুনে আদালত ২২ জানুয়ারি এ বিষয়ে আদেশ দেন।

    এই মামলায় আটজন আসামির মধ্যে সাতজনকে আদালতে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে; পলাতক অপর আসামিদের তালিকায় রয়েছেন—আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগ সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান।

    আগে এই মামলার জন্য আসামিদের আত্মসমর্পণের দিন গত ৮ জানুয়ারি ধার্য করা হয়েছিল, কিন্তু তারা হাজির হননি। পরে ট্রাইব্যুনাল পলাতক বিবেচনায় তাদের পক্ষের জন্য স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী নিয়োগ দেন। এছাড়া পরোয়ানা জারির পর ২৯ ডিসেম্বর গ্রেফতারের চেষ্টা করা হয়; আইন প্রয়োগকারী সংস্থা স্থায়ী ও অস্থায়ী ঠিকানায় গিয়ে কাউকে খুঁজে পায়নি। এরপর ৩০ ডিসেম্বর পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেয়া হয়।

    আদালতের এই আদেশের ফলে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচারিক কার্যক্রম শুরু হলো এবং আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে সূচনা বক্তব্য ও প্রথম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ।

  • ৪৮তম বিশেষ বিসিএসে ৩২৬৩ জনকে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ

    ৪৮তম বিশেষ বিসিএসে ৩২৬৩ জনকে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ

    ৪৮তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষার মাধ্যমে ৩ হাজার ২৬৩ জন প্রার্থীকে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় একটি প্রজ্ঞাপনে জানায়।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নিয়োগের সিদ্ধান্ত সরকার ও বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের বিভিন্ন চিঠির (২৯ সেপ্টেম্বর ও ২৭ অক্টোবর) তথ্যের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্তরা জাতীয় বেতনস্কেল-২০১৫ অনুযায়ী ২২,০০০ থেকে ৫৩,০৬০ টাকা পর্যন্ত বেতন পাবেন।

    নিয়োগপ্রক্রিয়ার শর্ত হিসেবে უწყি বলা হয়েছে, নতুন নিয়োগপ্রাপ্তরা বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বা সরকার নির্ধারিত কোনো প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন। প্রশিক্ষণ শেষে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে পেশাগত ও বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতেই হবে।

    শুরুতে তাদেরকে দুই বছরের শিক্ষানবিশ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে সরকার এই শিক্ষানবিশকাল আরও সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত বাড়াতে পারবে। শিক্ষানবিশকালে যদি কোনো কর্মকর্তাকে চাকরিতে থাকার অনুপযোগী মনে করা হয়, তবে তাকে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সঙ্গে পরামর্শ ছাড়াই চাকরি থেকে অপসারণ করা যাবে।

    বিভাগীয় (ডিপার্টমেন্টাল) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ও শিক্ষানবিশকাল সন্তোষজনকভাবে উত্তীর্ণ হলে তাকে স্থায়ী কর্মচারী করা হবে। একই সঙ্গে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ফলাফলের ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ করা হবে এবং পরে যদি কোনো কর্মকর্তা সম্পর্কে বিরূপ বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া যায়, সংশ্লিষ্ট নিয়োগ আদেশ সংশোধন বা বাতিলের ক্ষমতা কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করবে।

    আপাতত একাধিক শর্তও জোর দেওয়া হয়েছে। কোনো কর্মকর্তা বিদেশি নাগরিককে বিয়ে করলে বা এ বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ থাকলে তার নিয়োগপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে। চাকরিতে যোগদানের সময় ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে যৌতুক না নেওয়া ও না দেওয়ার অঙ্গীকারবদ্ধ বন্ড দিতে হবে। যোগদানের সময় ও পরবর্তীতে নির্ধারিত মেয়াদে স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির বিবরণী দাখিল করতে বলা হয়েছে।

    মুক্তিযোদ্ধা কোটা থেকে নিয়োগপ্রাপ্তদের সনদ যাচাইতে জাল প্রমাণিত হলে তাদের নিয়োগ বাতিল করা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে; এ ক্ষেত্রে চাকরিতে যোগদানের জন্য কোনো ভ্রমণ বা দৈনিক ভাতাও দেওয়া হবে না।

    আরও বলা হয়েছে, চাকরি থেকে ইস্তফা দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকার কর্তৃক ইস্তফা গ্রহণের আগে যদি কোনো কর্মকর্তা দায়িত্বে অনুপস্থিত থাকেন, তখন তার সরকারের প্রাপ্য সব অর্থ আদায় করা হবে এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    শেষপর্যন্ত প্রজ্ঞাপনে যোগদানের শেষ তারিখ হিসেবে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ নির্ধারণ করা হয়েছে; নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগদান না করলে নিয়োগ বাতিল বলে গণ্য হবে।

  • তারেক রহমান: দিল্লি নয়, পিন্ডি নয় — সবার আগে বাংলাদেশ

    তারেক রহমান: দিল্লি নয়, পিন্ডি নয় — সবার আগে বাংলাদেশ

    বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘‘দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ।’’ বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে সিলেটের পুণ্যভূমি ময়দানে দলের প্রথম নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই স্লোগানসহ দলের নীতিমালা ও অঙ্গীকার তুলে ধরেন।

    তারেক রহমান ফসলের প্রতীক ধানের শীষকে বিজয়ী করে দেশে গণতান্ত্রিক পুনরুদ্ধার শুরু করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষকে জেতাতে হবে; জয়লাভ করলেই স্বৈরাচারমুক্ত দেশে গণতন্ত্রের নতুন যাত্রা শুরু হবে।

    সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মীদের তিনি প্রশ্ন করেন, তারা ধানের শীষকে জেতাতে প্রস্তুত কি না—জনস্রোত হাত তুলে ‘হ্যাঁ’ বলে উত্তর দিলে তিনি ‘ইনশাল্লাহ’ বলে সাড়া দেন।

    বক্তব্যে তিনি দেশের উন্নয়ন-অর্থকৌশল নিয়ে তীব্র সমালোচনা চালান এবং গত ১৬ বছরে দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার ও লুটপাটের অভিযোগ তোলেন। বলেন, ‘‘বিগত ১৬ বছরে উন্নয়নের নামে জনগণের সম্পদ লুটপাট করা হয়েছে, দেশকে অন্য দেশের কাছে বন্ধক বানানো হয়েছে।’’ তিনি সতর্ক করে বলেন, দেশে-বিদেশে যারা ষড়যন্ত্র করছে তাদের বিরুদ্ধে জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে লড়বে।

    তারেক রহমান ‘টেক ব্যাক বাংলাদেশ’ শ্লোগান ব্যাখ্যা করে বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে মা–বোনদের স্বাবলম্বী করে তোলা হবে; সিলেটের মতো অঞ্চলের মানুষের জন্য প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান তৈরি করা হবে। তিনি দেশের সবাইকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা এবং মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেন—শুধু ভোটাধিক্য নয়, খাওয়ার, কাজের ও নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করতে হবে।

    সমাবেশে এক প্রাণবন্ত মুহূর্তে তিনি হজ থেকে আসা এক সমর্থক এটিএম হেলালকে মঞ্চে ডেকে এনে জনতার সাথে প্রশ্নোত্তর করেন—কাবা শরীফের মালিক, এই পৃথিবীর মালিক, সূর্য-নক্ষত্রের মালিক ইত্যাদির নাম নিলে সবাই ‘আল্লাহ’ বলে সাড়াওয়ান। তিনি আধ্যাত্মিক ও নৈতিক প্রসঙ্গ ধরে বলেন, ‘‘যে যার মালিক আল্লাহ—তাহলে কোনো দল বেহেশত বা অনন্ত প্রতিশ্রুতি দিয়ে মানুষের বিশ্বাস বিক্রি করতে পারবে না; এ শিরক ও বিদ্বেষের বিরুদ্ধে থাকতে হবে।’’

    তারেক রহমান ১৯৭১ সালের ত্যাগের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন এবং বলেন, স্বাধীনতার জন্য যে ত্যাগ স্বীকার করা হয়েছে, তাতে যারা দায়ী ছিল তাদের জাতীয় পর্যায়ে মানুষ আজ বিচার করেছে। মিথ্যা ও বিভ্রান্তির বিরুদ্ধে ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।

    সমাবেশে তারেক রহমান দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস উল্লেখ করে বলেন, ‘‘শহীদ জিয়ার ও বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আমরা শিল্পকারখানা গড়ে তুলতে পেরেছি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছি। আমরা আবার সেই পথে ফিরব—সবার আগে বাংলাদেশ।’’ তিনি ভোটে জেতে দেশের পরিচালনা নবী করিম (সা.)-এর ন্যায়পরায়ণতার ভিত্তিতে করার প্রতিশ্রুতি দেন এবং জনগণকে বিজয়ের আহ্বান জানান: ‘‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।’’

    সমাবেশে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় নেতা-কর্মীরাও বক্তব্য রাখেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অনুষ্ঠান সভাপতিত্ব করেন সিলেট জেলা বিএনপি সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী; মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী ও সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী সঞ্চালনা করেন। অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে ছিলেন—সিলেট-১ আসনে দলের প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সিলেট-৪ প্রার্থী ও সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেট-২ প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর লুনা, সিলেট-৩ প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মালিক, দলের উপদেষ্টা ড. এনামুল হক, সিলেট-৬ প্রার্থী ও জেলা সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী এবং কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী প্রমুখ।

    জনসভা শুরু হওয়ার আগে বেলা পৌনে ১১টায় কোরআন তেলাওয়াত অনুষ্ঠিত হয়। ঢঙভঙ্গিমায় আন্দোলিত করে হাজার হাজার নেতাকর্মী মঞ্চে তারেক রহমানের অভিবাদন গ্রহণ করেন; দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে তিনি মঞ্চে ওঠেন এবং সমর্থকদের শুভেচ্ছাভঙ্গির সঙ্গে সমাবেশ শুরু হয়। স্লোগান-ধ্বনিতে আলিয়া মাদরাসা ময়দান গর্জে ওঠে।

  • বিএনপি দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য: ৫৯ বিদ্রোহী প্রার্থী বহিষ্কার

    বিএনপি দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য: ৫৯ বিদ্রোহী প্রার্থী বহিষ্কার

    দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বহির্গত প্রার্থী হওয়ায় বিএনপি ৫৯ জনকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে। বুধবার সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বহিষ্কারের আদেশে genannten নেতাদের দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং এটি অবিলম্বে কার্যকর করা হবে। দলের নির্দেশ অমান্য করার কারণে গত ৩০ ডিসেম্বর ইতোমধ্যে ১১ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছিল; নতুন বহিষ্কারের মাত্রা যোগ করে মোট ৫৯ জনের নাম প্রকাশ করা হয়েছে।

    বহিষ্কৃতদের তালিকা বিভাগভিত্তিকভাবে নিম্নরূপ:

    রংপুর বিভাগ: দিনাজপুর-২ আসনের আ ন ম বজলুর রশিদ, দিনাজপুর-৫ আসনের এ জেড এম রেজয়ানুল হক এবং নীলফামারী-৪ আসনের রিয়াদ আরাফান সরকার রানা।

    রাজশাহী বিভাগ: নওগাঁ-৩ পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী ‘জনি’, নাটোর-১ থেকে তাইফুল ইসলাম টিপু ও ডা. ইয়াসির আরশাদ রাজন, নাটোর-৩ দাউদার মাহমুদ, রাজশাহী-৫ থেকে ইসফা খাইরুল হক শিমুল ও ব্যারিস্টার রেজাউল করিম, পাবনা-৩ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম এবং পাবনা-৪ জাকারিয়া পিন্টু।

    খুলনা বিভাগ: কুষ্টিয়া-১ নুরুজ্জামান হাবলু মোল্লা, নড়াইল-২ মনিরুল ইসলাম, যশোর-৫ অ্যাডভোকেট শহিদ ইকবাল, সাতক্ষীরা-৩ ডা. শহীদুল আলম, বাগেরহাট-১ ইঞ্জিনিয়ার মাসুদ ও বাগেরহাট-৪ খায়রুজ্জামান শিপন।

    বরিশাল বিভাগ: বরিশাল-১ আব্দুস সোবহান ও পিরোজপুর-২ মোহাম্মদ মাহমুদ হোসেন।

    ঢাকা বিভাগ: নারায়ণগঞ্জ-১ (সাবেক সাংসদ ও জেলা বিএনপি নেতা) মোহাম্মাদ দুলাল হোসেন, নারায়ণগঞ্জ-২ মো. আতাউর রহমান খান আঙুর, নারায়ণগঞ্জ-৩ অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম; টাঙ্গাইল-১ মোহাম্মাদ আলী, টাঙ্গাইল-৩ লুৎফর রহমান খান আজাদ, টাঙ্গাইল-৫ ফরহাদ ইকবাল। এছাড়া নরসিংদী-৫ মো. জামাল আহমেদ চৌধুরী, মুন্সিগঞ্জ-১ মো. মুমিন আলী ও মুন্সিগঞ্জ-৩ মো. মহিউদ্দিনকেও বহিষ্কার করা হয়েছে।

    ময়মনসিংহ বিভাগ: কিশোরগঞ্জ-১ রেজাউল করিম চুন্নু, কিশোরগঞ্জ-৫ শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল, ময়মনসিংহ-১ সালমান ওমর রুবেল, ময়মনসিংহ-১০ এবি সিদ্দিকুর রহমান, ময়মনসিংহ-১১ মো. মোর্শেদ আলম, নেত্রকোণা-৩ মো. দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া, শেরপুর-৩ মো. আমিনুল ইসলাম বাদশাহ; মাদারিপুর-১ থেকে লাভলু সিদ্দিকী ও কামাল জামাল নুরুউদ্দিন মোল্লা, মাদারিপুর-২ মিল্টন বৈদ্য; রাজবাড়ী-২ নাসিরুল হক সাবু; গোপালগঞ্জ-২ এম এস খান মঞ্জু ও সিরাজুল ইসলাম সিরাজ; গোপালগঞ্জ-৩ হাবিবুর রহমান হাবিব।

    সিলেট বিভাগ: সুনামগঞ্জ-৩ আনোয়ার হোসেন, সুনামগঞ্জ-৪ দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন, সিলেট-৫ মামুনুর রশীদ (চাকসু), মৌলভীবাজার-৪ মহসিন মিয়া মধু এবং হবিগঞ্জ-১ শেখ সুজাত মিয়া।

    কুমিল্লা বিভাগ: ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ কামরুজ্জামান মামুন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ কাজী নাজমুল হোসেন তাপস, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ কৃষিবিদ সাইদুজ্জামান কামাল, কুমিল্লা-২ আব্দুল মতিন, কুমিল্লা-৭ আতিকুল আলম শাওন এবং চাঁদপুর-৪ এম এ হান্নান।

    চট্টগ্রাম বিভাগ: চট্টগ্রাম-১৪ মিজানুল হক চৌধুরী, শফিকুল ইসলাম রাহী, চট্টগ্রাম-১৬ লিয়াকত আলী চেয়ারম্যান; নোয়াখালী-২ কাজী মফিজুর রহমান, নোয়াখালী-৬ ফজলুল আজীম ও নোয়াখালী-৬ থেকে তানবীর উদ্দীন রাজীব।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে যে দলীয় শৃঙ্খলা ভাঙার এই ধরনের বাহিরে গিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা দলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে এবং সেই কারণেই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বিএনপি আশা করছে কর্মকর্তারা ও নেতাকর্মীরা দলীয় নীতিমালার প্রতি আনুগত্য বজায় রাখবেন এবং আগামী নির্বাচনে দলকে শক্তিশালীভাবে এগিয়ে নেবেন।

  • ইতিহাসের সর্বোচ্চ: প্রতি ভরি সোনা ২ লাখ ৪৪ হাজার ১২৮ টাকা

    ইতিহাসের সর্বোচ্চ: প্রতি ভরি সোনা ২ লাখ ৪৪ হাজার ১২৮ টাকা

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) জানিয়েছে, দেশে সোনার দাম ইতিহাসে সর্বোচ্চ স্তরে উঠেছে। প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ২৪৯ টাকা বেড়ে ২২ ক্যারেট সোনার দাম দুই লাখ ৪৪ হাজার ১২৮ টাকায় পৌঁছেছে। বাজুসের বিজ্ঞপ্তি অনুসারে নতুন এই দাম ২১ জানুয়ারি (বুধবার) থেকে কার্যকর হবে।

    সংগঠনটি বলেছে, বৈশ্বিক বাজারে পিওর গোল্ডের দামের বৃদ্ধির কারণে স্থানীয় বাজারে এ বাড়তি ধাক্কা লেগেছে। আন্তর্জাতিক স্তরের তথ্যে নজর রাখতে ব্যবহৃত গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি জানায়, বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দর বেড়ে প্রতি আউন্সে ৪,৭৪৫ ডলারের ওপরে পৌঁছেছে।

    নতুন স্থানীয় রেটে বিভিন্ন ক্যারেট অনুযায়ী প্রতি ভরির দামগুলো এমন:

    – ২২ ক্যারেট: ২,৪৪,১২৮ টাকা

    – ২১ ক্যারেট: ২,৩২,৯৮৮ টাকা

    – ১৮ ক্যারেট: ১,৯৯,৭৪৬ টাকা

    – সনাতন পদ্ধতি: ১,৬৩,৮২১ টাকা

    সোনার সঙ্গেই রুপার দামও বাড়েছে। বাজুসের দেওয়া রেট অনুযায়ী রুপার দামগুলো হলো:

    – ২২ ক্যারেট (রুপা): ৬,৫৯০ টাকা প্রতি ভরি

    – ২১ ক্যারেট: ৫,২৯৯ টাকা প্রতি ভরি

    – ১৮ ক্যারেট: ৫,৪২৪ টাকা প্রতি ভরি

    – সনাতন পদ্ধতি: ৪,০৮২ টাকা প্রতি ভরি

    ব্যাংক, জুয়েলারি ব্যবসায়ী ও গ্রাহকদের জন্য এই পরিবর্তন নিশ্চিতভাবে ক্রয়-বিক্রয় পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলবে। বাজুসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নির্ধারিত নতুন রেটের ভিত্তিতেই আগামীদিনে বেচাকেনা হবে।

  • সোনার দাম ছাড়ালো দুই লাখ  পাঁচ হাজার — প্রতি ভরিতে নতুন রেকর্ড

    সোনার দাম ছাড়ালো দুই লাখ পাঁচ হাজার — প্রতি ভরিতে নতুন রেকর্ড

    একদিনের ব্যবধানে ফের দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। বাজুসের বুধবার (২১ জানুয়ারি) প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দর বৃদ্ধির ফলে প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৮,৩৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। নতুন দাম আগামীকাল ২২ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

    সংগঠনটি জানিয়েছে, বৈশ্বিক বাজারে তেজাবি (পিওর গোল্ড) বা পিউর গোল্ডের মূল্য বাড়ায় স্থানীয় বাজারেও প্রভাব পড়েছে। বিশ্বজুড়ে স্বর্ণের মূল্য মনিটর করা ওয়েবসাইট গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি অনুসারে, বৈশ্বিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৮০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা দেশি বাজারে দর বাড়ার মূল কারণ হিসেবে বলা হয়েছে।

    নতুন দর অনুযায়ী ২২ ক্যারেট বা সবচেয়ে ভালো মানের সোনার এক ভরির দাম দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ৫২ হাজার ৪৬৭ টাকা। অন্য ক্যারেটের দাম হল:

    – ২১ ক্যারেট: দুই লাখ ৪০ হাজার ৯৭৮ টাকা

    – ১৮ ক্যারেট: দুই লাখ ৬ হাজার ৫৬৯ টাকা

    – সনাতন পদ্ধতির সোনা: এক লাখ ৬৯ হাজার ৬৫৩ টাকা

    সোনার সঙ্গে রুপার দামও বাড়েছে। নতুন দর অনুসারে রুপার দাম প্রতিভর বিভাজন করা হয়েছে এভাবে:

    – ২২ ক্যারেট রুপা: ৬ হাজার ৮৮২ টাকা

    – ২১ ক্যারেট রুপা: ৬ হাজার ৫৩২ টাকা

    – ১৮ ক্যারেট রুপা: ৫ হাজার ৫৯৯ টাকা

    – সনাতন পদ্ধতির রুপা: ৪ হাজার ২০০ টাকা

    বাজুসের এই ঘোষণার ফলে গহনা ব্যবসায়ী, ক্রেতা এবং বিনিয়োগকারীদের আচরণ প্রভাবিত হতে পারে। যারা সোনায় বিনিয়োগ করছেন বা নতুন গহনা কেনার পরিকল্পনা করছেন তাদেরকে দাম ও বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়েছে।