Blog

  • যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জামায়াতের বন্ধুত্ব বৃদ্ধি করার উদ্যোগ

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জামায়াতের বন্ধুত্ব বৃদ্ধি করার উদ্যোগ

    বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পথে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী, যে কোনো সময় তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে সফল নির্বাচনী ফলাফল লাভের সম্ভাবনা রয়েছে। এমন ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন সংকেত দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকরা, যারা জামায়াতের সঙ্গে যোগাযোগ ও সম্পর্ক জোরদার করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এই বিষয়টি নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে ওয়াশিংটন পোস্টের একটি বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদন।

    প্রতিবেদনে জানা গেছে, বাংলাদেশের ইতিহাসে একাধিকবার জামায়াতে ইসলামীর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। সর্বশেষ সরকারে আওয়ামী লীগ থাকাকালে দলটির ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর, ছাত্র আন্দোলনের উত্তাপে শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ব্যাপক পরিবর্তনের মুখে পড়েছে।

    জামায়াত আগে শরিয়াভিত্তিক শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, নারীদের কাজের সময় কমানোসহ বেশ কয়েকটি মৌলিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তারা নিজ ভাবমূর্তি বদলানোর চেষ্টা চালাচ্ছে, দুর্নীতিবিরোধী রাজনীতিকে গুরুত্ব দিয়ে মূলধারার রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকরাও ইসলামপন্থি দলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের জন্য প্রস্তুত। এক অডিও রেকর্ডের বরাত দিয়ে জানানো হয়, ১ ডিসেম্বর ঢাকায় নারী সাংবাদিকদের সঙ্গে এক বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের একজন কূটনীতিক বলেছিলেন, বাংলাদেশ এখন আরও বেশি ইসলামপন্থার দিকে ঝুঁকছে, এবং ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জামায়াতের ফলাফল আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভালো হবে।

    কূটনীতিকবৃন্দ আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র জামায়াতে ইসলামীর বন্ধু হিসেবে দেখা চায়। যদি দলটি শরিয়া আইন চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে, তাহলে ওয়াশিংটনের মনোভাব কঠোর হবে। তিনি আরও বলেন, ‘এমন কিছু হলে, আমরা দ্রুত অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করব’।

    সাংবাদিকের উদ্বেগের জবাবে তিনি বলেন, শুধু জামায়াত নয়— হেফাজতে ইসলাম এবং ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের সঙ্গেও যোগাযোগের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি যোগ করেন, ‘আমরা চাই তারা আমাদের বন্ধু হোক, যাতে প্রয়োজনে ফোন করে বলতে পারি, ‘আমরা যা বলেছি, সেটাই কার্যকর করো’।’

    অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, বাংলাদেশে শরিয়া আইন কার্যকর হলে দেশের অর্থনীতি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মনে করেন এই কূটনীতিক। পোশাক শিল্পের ২০ শতাংশ রফতানি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল। যদি নারীদের কাজের সময় সীমা অতিক্রম হয় বা শরিয়া আইন চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে বাংলাদেশের অর্ডারগুলো বন্ধ হবে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য ভয়ঙ্কর। তবে তিনি দাবি করেন, জামায়াত শরিয়া আইন প্রয়োগ করবে না, কারণ উচ্চশিক্ষিত জনগোষ্ঠী ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুণরা এই আইন মানবে না।

    ঢাকায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের মুখপাত্র মনিকা শাই বলেন, ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকটি ছিল নিয়মিত, এবং সেখানে রাজনৈতিক দলের ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র কোনও নির্দিষ্ট দলের পক্ষে নয়, বরং সবাইকে নিয়ে কাজ করে।

    এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর যুক্তরাষ্ট্রবিষয়ক মুখপাত্র মোহাম্মদ রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেছেন, ব্যক্তিগত কূটনৈতিক বৈঠকের বিষয়টি নিয়ে কোনও কথা বলেন না।

    বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের জামায়াতের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ালে ভারত-আলাপের মধ্যে টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে, আটলান্টিক কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যানের মতে, বাংলাদেশে জামায়াতের প্রভাব ভারতের দীর্ঘদিনের উদ্বেগের বিষয়। ভারত মনে করে, জামায়াত পাকিস্তানপন্থী এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি।

    অবশ্য, ওয়াশিংটনের তরফ থেকে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশের নির্বাচন বা পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্কের ওপর বড় কোন প্রভাব ফেলবে না। মার্কিন কূটনীতিকরা মানেন, ঢাকা ও নয়াদিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক আলাদাভাবে পরিচালিত হয়।

  • কাশ্মীরে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ১০ সেনা শহিদ, ২০০ ফুট খাদে ভারতীয় সাঁজোয়া যান খাঁড়া উঠতে গিয়ে পড়েছে

    কাশ্মীরে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ১০ সেনা শহিদ, ২০০ ফুট খাদে ভারতীয় সাঁজোয়া যান খাঁড়া উঠতে গিয়ে পড়েছে

    জম্মু ও কাশ্মীরের ডোডা জেলায় এক মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনায় ১০ ভারতীয় সেনার মৃত্যু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ভাদেরওয়াহ-চাম্বা আন্তঃরাজ্য সড়কের ৯ হাজার ফুট উঁচু খানি টপ এলাকায়, যেখানে ১৭ থেকে ২১ জন জওয়ান বহনকারী একটি সাঁজোয়া যান চলছিল, তখন দুর্ঘটনা ঘটে। গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রায় ২০০ ফুট গভীর খাদে পড়ে যায়।

    সেনাবাহিনী ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, কঠোর আবহাওয়া ও পিচ্ছিল পাহাড়ি পথের কারণে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যান, যার ফলস্বরূপ গাড়িটি খাদে পড়ে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়। দুর্ঘটনার কয়েক মুহুর্তের মধ্যেই সেনা, পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

    পিটিআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে চার জন সেনার মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে আহতদের নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার পথে আরও ছয় সেনা মারা যান।

    এএনআই পরিস্থিতির বিবরণ দেয়ায় জানানো হয়েছে, এই দুর্ঘটনায় আহত ১০ সেনার অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টার করে উধমপুরের সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ডোডার অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার সুমিত কুমার ভূটিয়াল নিশ্চিত করেছেন, আহত সেনাদের জীবন রক্ষার্থে সব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    এই মর্মান্তিক ঘটনার জন্য গভীর শোক প্রকাশ করেছেন জম্মু ও কাশ্মীরের লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি বলেছেন, ‘আমাদের ১০ জন বীর সেনার বিদেহী আত্মার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। তাঁদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ আমাদের নিত্য স্মরণে থাকবে।’ এ ছাড়া ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ও মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ নিহত সেনাদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

  • আমরা নতুন কোনো ভোট ডাকাত দেখতে চাই না

    আমরা নতুন কোনো ভোট ডাকাত দেখতে চাই না

    জামায়াতের মহানগর সাধারণ সম্পাদক ও খুলনা-২ আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী এড. শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল আনুষ্ঠানিকভাবে তার নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন। তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার সকালেই শিপইয়ার্ড এলাকায় উপস্থিত হয়েছেন, যেখানে তার নির্বাচনী প্রচারণার উদ্বোধন করেন। প্রচারণার প্রথম দিন তিনি একত্রিত হন এলাকাবাসীর সাথে, এবং দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন খুলনা সদর থানার আমির এস এম হাফিজুর রহমান, লবণচরা থানার আমির মোজাফফর হোসেন, সেক্রেটারি মাহমুদুল হাসান জিকো, হানিফ বালি, মোল্লা নাসির উদ্দিন, ডাঃ শাহজালাল, ৩১নং ওয়ার্ডের আমীর নুর হোসাইন বাবুল ও এলাকার বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। সকলের সহযোগিতা ও দোয়া নিয়ে তিনি নির্বাচনী মাঠে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, যেন সুষ্ঠু এবং স্বচ্ছ নির্বাচন বাস্তবায়িত হয়।

  • তারেক রহমানকে আগামীর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান দেশবাসী

    তারেক রহমানকে আগামীর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান দেশবাসী

    খুলনা-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও বিএনপি’র তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন, বিএনপি হলো জনগণের দাবি আদায়ের দল। বিগত ১৭ বছর ধরে দেশের মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন। তবে এ বছর তিনি আশাবাদী, সবাই ভোট কেন্দ্রে যাবে। তিনি আরও বলেন, জনগণের মনে মনে আগামীর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানকে বেছে নিতে প্রস্তুত পুরো দেশ। তারেক রহমানের পরিকল্পনা ও উদ্যোগ ইতিমধ্যে দেশজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

    আজিজুল বারী হেলাল উল্লেখ করেন, খুলনা-৪ আসনের মানুষের দীর্ঘ দিন ধরে উন্নয়নের অপ্রতুলতা দেখা গেছে। রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নদীভাঙন প্রতিরোধ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। এই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে বিপুল সম্ভাবনা ও শ্রমশক্তি রয়েছে, তবে সঠিক নেতৃত্বের অভাবে এগুলো উপেক্ষিত। যদি সঠিক নেতৃত্ব ও পরিকল্পনা আসে, তাহলে এই অঞ্চল অল্প সময়ের মধ্যে আধুনিক ও সমৃদ্ধ জনপদে রূপান্তরিত হতে সক্ষম।

    তিনি আরও বলেন, যদি ভোটে জয় লাভ করে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারে, তাহলে এই এলাকার যোগাযোগের ব্যবস্থা উন্নত করা, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, কৃষি ও মৎস্যখাতে সহযোগিতা এবং যুবসমাজের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে। প্রত্যেক ইউনিয়নে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন আমাদের অগ্রাধিকার থাকবে। আগামি ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের মানুষ ভোটের মাধ্যমে তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেছে নেবে, এবং খুলনা-৪ আসনের উন্নয়ন ও মানুষের অধিকার পুনরুদ্ধার হবে।

    আজিজুল বারী হেলাল এই কথা বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে পূর্ব রূপসা ঘাটে নৈহাটী ইউনিয়ন বিএনপি আয়োজিত গণমিছিলের পরে এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে। এক ভাষণে তিনি বলেন, এই নির্বাচনে জয়ধারা প্রতিষ্ঠিত হলে এলাকা উন্নয়ন হবে, যোগাযোগ ব্যবস্থা আধুনিকায়ন হবে, জলাবদ্ধতা দূর হবে, কৃষি ও মৎস্যখাতে সহযোগিতা বাড়বে এবং যুব সমাজের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপি সদস্য রবিউল ইসলাম রবি, খুলনা জেলা বিএনপি’র যুগ্ম-আহবায়ক মোল্লা খায়রুল ইসলাম, জেলা সদস্য শেখ আঃ রশিদ, উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক মোল্লা সাইফুর রহমান ও আরও অনেকে। বিভিন্ন ইউনিয়নে চালানো হয়েছে প্রচার-প্রচারণা, পথসভা ও গণমিছিল। সকালে বিভিন্ন পেশার মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রচার চালানো হয়, বিকেলে নৈহাটী ইউনিয়নে নির্বাচনী কাজ চলে।

    অপরদিকে, সন্ধ্যা ৭টায় খুলনা-৪ আসনের তেরখাদা উপজেলায় বিএনপি’র প্রার্থী আজিজুল বারী হেলালের জন্য ধানের শীষ প্রতীকের প্রচার-প্রচারণার শুভ সূচনা হয়। সেখানে বিভিন্ন ইউনিয়নের মিছিলে, সমাবেশে ও গণসংযোগে অংশ নেয় নেতাকর্মীরা। এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতারা, ইউপি চেয়ারম্যানরা ও বাসিন্দারা।

    এছাড়া বিকেলে বিশাল গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয় আইচগাতী, টিএসবি, শ্রীফলতলা ও ঘাটভোগ ইউনিয়নে। এই সমাবেশগুলোতে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

    অবশ্য, সন্ধ্যায় তেরখাদা উপজেলায় এই কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে নির্বাচনী প্রচারনার আরও জোরদার হয়। নির্বাচনী প্রচারণায় বিভিন্ন মিছিল, সমাবেশ ও লিফলেট বিতরণ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতারা, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল ও কৃষক দলের নেতৃবৃন্দ।

    চূড়ান্তভাবে, মনে করা হচ্ছে যে এই নির্বাচনী জনসমর্থন এবং প্রচারণা তেরখাদা উপজেলা থেকে বিএনপির বিজয়ের দিকেই ইঙ্গিত করছে। ভবিষ্যতে অধিক votes মাধ্যমে দলের জেতার আশা করছেন দলের নেতা-কর্মীরা।

  • গণতন্ত্রের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় বিএনপি’র : মঞ্জু

    গণতন্ত্রের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় বিএনপি’র : মঞ্জু

    আগামী বাংলাদেশের স্বপ্ন শুধুমাত্র বিএনপিই বাস্তবায়ন করতে পারে বলে দাবি করেছেন খুলনা-২ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী, সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি বলেন, দেশের ইতিহাসে বিএনপির নেতা-কর্মীরা যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তার প্রতিদান আজ দেশের মানুষ দিচ্ছে। মানুষের মধ্যে নেতা-কর্মীদের প্রতি আস্থা ও সমর্থনের গল্প এই নির্বাচনের প্রথমদিন থেকেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

    বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় তিনি ফেরিঘাট মোড় থেকে লিফলেট বিতরণ শুরু করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. এস এম শফিকুল আলম মনা, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন, মহানগর বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুজ্জামান মনি, জাফরউল্লাহ খান সাচ্চু, সৈয়দা নার্গিস আলী, খান রবিউল ইসলাম রবি, কাজী মোঃ রাশেদ, রেহানা ঈসা, আরিফুজ্জামান অপু ও আরও অনেকে।

    এরপর প্রচারণা ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি নগরীর ফেরিঘাট মোড় থেকে পিকচার প্যালেস মোড় হয়ে দলীয় কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়। বিকালের গ্রুপে ৩১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের নেতৃত্বে পথসভা ও গণসংযোগ অনুষ্ঠিত হয়।

    বিকেলে তিনি নিউ মার্কেট এলাকার গণসংযোগে অংশ নেন। এ সময় তিনি বলেন, বাংলার ভবিষ্যত নির্ধারণ হবে জনগণের ভোটের মাধ্যমে। গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমরা স্বপ্ন দেখছি এক নতুন বাংলাদেশের, যেখানে নির্বাচনই হবে দেশের নিয়ামক। তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে তরুণরা ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এখন তারা নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবে। আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, তরুণ ভোটাররা ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে দেশের পরিবর্তনে অবদান রাখবে।

    মঞ্জু আরো বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা দীর্ঘ দিন গুম, খুন, জেল-জুলুমের শিকার হলেও তারা মনোবল হারাননি। দলীয় কর্মীরা অপরাজেয়, তাদের সংকল্প অটুট যে সব চক্রান্ত মোকাবিলা করে বিজয় ছিনিয়ে নেবেন।

    গণসংযোগে উপস্থিত ছিলেন তরিকুল ইসলাম জহির, আসাদুজ্জামান মুরাদ, নিজাম উর রহমান লালু, হাসানুর রশিদ মিরাজ, শের আলম সান্টু, একরামুল হক হেলাল, আল জামাল ভূঁইয়া, জালাল শরীফ, হাফিজুর রহমান মনি, একরামুল কবির মিল্টন, এড. গোলাম মওলা, আনোয়ার হোসেন, কামরুজ্জামান, শরিফুর ইসলাম বাবু, জালাল তালুকদার, শেখ জামিরুল ইসলাম জামিল, আফসার উদ্দিন মাস্টার, নিয়াজ আহমেদ তুহিন, রবিউল ইসলাম রবি, আনিসুর রহমান আরজু, খায়রুল ইসলাম লালসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা গণসংযোগ করেন।

  • রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির নামে মানুষের ঈমান নিয়ে খেলা হচ্ছে: বকুল

    রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির নামে মানুষের ঈমান নিয়ে খেলা হচ্ছে: বকুল

    নির্বাচনের আগে কিছু বিশেষ দল ভোটারদের কাছে নানা অসম্ভব এবং অবাস্তব প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন কেন্দ্রীয় বিএনপি’র ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী আলহাজ্ব রকিবুল ইসলাম বকুল। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো ভোটের পূর্বে এমনসব প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে যা মানুষের ক্ষমতার বাইরে, এবং যার মালিকানা একমাত্র মহান আল্লাহর। তিনি এই বিষয়গুলোকে কেবল রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছেন না, বরং এটি একটি ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বড় ধরনের ভ্রান্তি ও অবজ্ঞা।

    বৃহস্পতিবার বিকেলে নগরীর নতুন রাস্তা মোড় থেকে খালিশপুর, দৌলতপুর ও খানজাহান আলী থানার বিএনপি’র আয়োজনে খুলনা-৩ আসনে ধানের শীষের লিফলেট বিতরণ ও নির্বাচনী প্রচারণার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    রকিবুল ইসলাম বকুল আরও বলেন, প্রকৃত সম্পদ বা ক্ষমতার মালিক মানুষ না। কিন্তু যারা এই সম্পদ বা ক্ষমতার মালিক হওয়ার কথা বলে, তারা নিজেদের প্রতারক ও মিথ্যাবাদী হিসেবে পরিচিত। এটি মুসলমানদের জন্য শিরকের শামিল, কেননা তারা ভোটের আগেই মিথ্যে প্রলোভন দেখিয়ে জনগণকে ধোঁকা দেয়। নির্বাচিত হওয়ার পর এই দলগুলো চরম জুলুম ও প্রতারণার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে।

    বক্তব্যে তিনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষকে এভাবে বিভ্রান্ত করা কেবল রাজনৈতিক অপকৌশল নয়, এটি বড় ধরনের ধর্মীয় অবমাননা। আসন্ন নির্বাচনে এই প্রতারক দলের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে, নিজের ঈমান ও অধিকার রক্ষা করতে মানুষকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    নির্বাচনী প্রচারণা ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিটি নগরীর নতুন রাস্তা মোড় থেকে শুরু হয়ে দৌলতপুর মোড় প্রদক্ষিণ করে খানজাহান আলী থানার সামনে এসে শেষ হয়। এ সময় খালিশপুর, দৌলতপুর ও খানজাহান আলী থানার বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ স্থানীয় বিশাল সংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

  • দেশের উন্নয়নের জন্য জনগণের ঐক্য জরুরি

    দেশের উন্নয়নের জন্য জনগণের ঐক্য জরুরি

    প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ও গণভোট সংক্রান্ত জনসচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রমের প্রধান সমন্বয়ক অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, দেশের সফলতা এবং উন্নতির জন্য জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও আস্থা খুবই জরুরি। তিনি আরও বলেন, দেশের সাংবিধানিক সংস্কার ও সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠায় গণভোটে হ্যাঁ বলে মতামত দেওয়াই একমাত্র পথ। শনিবার দুপুরে খুলনা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে গণভোটে প্রচার ও ভোটার উত্সাহ বৃদ্ধির লক্ষ্য্যে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

    অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, জুলাইয়ে ঘোষিত জাতীয় সনদ ২০২৫ দেশের মানুষের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। যদিও এ সনদটি কালো কালি দিয়ে লেখা হলেও এর মূল মানে হলো, আমাদের রক্ত দিয়ে অর্জিত স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের মূল্য। যুবকদের রক্তের বিনিময়ে আমরা এই স্বাধীকারের স্বীকৃতি পেয়েছি। তাই এ গণভোটটি ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, সংবিধান অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা অর্থাৎ সরকারি কর্মকর্তারা উঁচু স্তরে থাকাকালীনও গণভোটে হ্যাঁ বলা কোন বাধা থেকে মুক্ত।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি প্রধান উপদেষ্টার সহকারী মনির হায়দার বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে মূল লক্ষ্য ছিলো ফ্যাসিবাদমুক্ত ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা। এই গণভোট নতুন বাংলাদেশ গঠনের জন্য জনমতের অনুমোদনের একটি মাধ্যম। যদি জুড়িয়ে জাতীয় সনদ ২০২৫-এর পক্ষে রায় আসে, তবে দেশের সংবিধানে ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরশাসন রোখা সম্ভব হবে।

    খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মোখতার আহমেদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ মাকসুদ হেলালী, রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ রেজাউল হক ও মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ জাহিদুল হাসান। এই মতবিনিময় সভায় খুলনা বিভাগের ১০ জেলার জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা, বাণিজ্য Chamber-এর সদস্য, স্কুল ও কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, এনজিও কর্মী ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

  • সোনার দাম আবার রেকর্ডের নতুন শিখরে, ভরি ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৯ টাকা

    সোনার দাম আবার রেকর্ডের নতুন শিখরে, ভরি ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৯ টাকা

    বাংলাদেশের بازارেও সোনার দামে ব্যাপক বৃদ্ধি দেখা গেছে। আবারও নতুন রেকর্ড গড়ল এই মূল্যবান ধাতুটি, যা দেশের অর্থনীতির ইতিহাসে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছে গেছে। সম্প্রতি, বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ভরিতে ৪ হাজার ১৯৯ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করেছে। এই গতিকে ধরে, এক ভরি ২২ ক্যারেটের শোনা সোনার মূল্য এখন ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৯ টাকা। এ ঘোষণা সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাতে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়, এবং এই দাম আগামী মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) থেকে কার্যকর হবে।

    বাজুস জানিয়েছে, দেশে তেজাবি সোনা বা পিওর গোল্ডের মূল্য আবারও বেড়েছে, যার কারণে স্বর্ণের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে ১১.৬৬৪ গ্রাম বা এক ভরি ২২ ক্যারেটের সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৯ টাকা। পাশাপাশি, অন্যান্য ক্যারেটের জন্য দাম নির্ধারণ করা হয়েছে— ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৮ হাজার ৩১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৫ হাজার ৪৩০ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির (পুরাতন ডিজাইন ও মান ভেদে) প্রতি ভরি ১ লাখ ৬০ হাজার ১৪৭ টাকা।

    বাজুস আরও জানিয়েছে, সোনার বিক্রয় মূল্যতে সরাসরি সরকারের নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুসের ৬ শতাংশ ন্যূনতম মজুরি যোগ করতে হবে। তবে, গহনার ডিজাইন ও মানের পার্থক্য অনুযায়ী মজুরির হারেও ভিন্নতা থাকতে পারে।

    অন্যদিকে, এর আগে ১৪ জানুয়ারি দেশের বাজারে সোনার দাম ছিল সর্বোচ্চ ও একেবারে নতুন রেকর্ডের কাছাকাছি। তখন ভরিতে ২ হাজার ৬২৫ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের সোনার দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬৮০ টাকায়। এর আগে সেটি দেশের সর্বোচ্চ মূল্যে পৌঁছেছিল। সেই সময় অন্যান্য ক্যারেটের জন্য মূল্য ছিল ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৪ হাজার ৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯১ হাজার ৯৮৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি ১ লাখ ৫৭ হাজার ২৩১ টাকা।

    এভাবে, চলতি বছর পঞ্চমবারের মতো দেশের স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে, যেখানে দাম ছয় দফা বাড়ানো ও দু’দফায় কমানো হয়েছে।

    অপর দিকে, রুপার দামের ক্ষেত্রেও বড় ধাক্কা লেগেছে। ভরি প্রতি ২৯১ টাকা বাড়িয়ে নতুন রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ২৪০ টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। অন্যান্য ক্যারেটের জন্য, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৯৪৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ১৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৮৪৯ টাকায়।

  • রাজনৈতিক পরিবর্তন আসছে, বিনিয়োগ বৃদ্ধি হবে: গভর্নর

    রাজনৈতিক পরিবর্তন আসছে, বিনিয়োগ বৃদ্ধি হবে: গভর্নর

    বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, দেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সূচনা হলো। এই পরিবর্তনের ফলে দেশের অর্থনৈতিক গতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে এবং বিনিয়োগে বাড়তি অগ্রগতি হবে। তিনি আশাবাদ প্রকাশ করে বলেন, চলমান অর্থবছরে দেশের বিদেশি রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করবে।

    সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর গুলশানে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। এই অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

    আহসান এইচ মনসুর আরও জানান, দেশের তারল্য সংকট ধীরে ধীরে কমে আসছে। যেখানে আগে রিজার্ভের অভাবে অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি হত, এখন সেই চাপ কিছুটা কমে গেছে। একসময় ব্যাংকগুলো ঝুঁকি বিনা মুনাফায় বেশি ঋণ দিতো, যা এখন পরিবর্তিত হয়েছে। এখন ব্যাংক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে এবং সঠিক ঋণগ্রহীতাকে চিহ্নিত করতে হবে।

    গভর্নর বলেন, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অগ্রগতি খুবই প্রগতি মূলক। মনে করি, চলতি অর্থবছরে দেশের রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। বিশ্বের বাজারে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের দাম কমার ফলে আমদানির চাপ কমেছে।

    সুদের হার নিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, এটি এখন দেশের জন্য বড় চিন্তার বিষয়। তবে এখনকার বিনিময় হার স্থিতিশীল। টাকা আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে, যার ফলে মানুষ ডলার বিক্রি করে টাকা নিচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতিমধ্যে ৩.৭ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ডলার কিনেছে, যা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সহায়তার চেয়েও বেশি। পাশাপাশি বাজারে ৪৫ বিলিয়ন টাকা ছাড় করা হয়েছে, যা তারল্য বৃদ্ধিতে সাহায্য করছে।

    আহসান এইচ মনসুর উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক ঝটিকা ব্যবসায় মূলে প্রভাব ফেলেছে, তবে যারা টিকে থাকতে সক্ষম তাদের জন্য সহায়তা পাওয়া গেছে। কোনো গোষ্ঠী বা দল ভিত্তিক বৈষম্য হয়নি।

    তিনি সতর্ক করে বলেন, অতিরিক্ত দ্রুত সুদের হার কমানো ঠিক হবে না। এতে বিনিময় হার ও বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। মূল্যস্ফীতি এখনও ৮ শতাংশের উপরে রয়েছে, এর পতন লক্ষ্যে নিয়ে আরো সময় লাগবে। মূল্যস্ফীতি ১ শতাংশ কমলে নীতিগত সুদের হারও কমানো হবে। ইতিমধ্যে বড় ঋণগ্রহীতাদের জন্য সুদের হার প্রায় ২ শতাংশ কমানো হয়েছে।

    তিনি আরো জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিদিন উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সি ডেটা বিশ্লেষণ করে থাকে। এর মধ্যে রয়েছে বিনিময় হার, সুদের হার, রিজার্ভ, রেমিট্যান্স ও আমদানি-রপ্তানির তথ্য। প্রতিদিনই রেমিট্যান্সের প্রবাহ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। এই মাসে রেমিট্যান্স আগের মাসের তুলনায় প্রায় ৬৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা এখন পর্যন্ত ১৭০ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। সাপ্তাহিক ও মাসিক ডেটার পাশাপাশি বর্তমানে ত্রৈমাসিক জিডিপির তথ্যও পাওয়া যাচ্ছে, যা অর্থনীতির বিশ্লেষণ আরও সহজ করে তুলেছে।

    অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন এমসিসিআই সভাপতি কামরান টি রহমান। এছাড়া আরো বক্তব্য দেন ব্রিটিশ হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার ও ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর জেমস গোল্ডম্যান, পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও সিইও ড. এম মাসরুর রিয়াজ এবং পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) চেয়ারম্যান ড. জাইদি সাত্তার প্রমুখ।

  • নিপ্পন পেইন্টকে অ্যাডভান্সড ট্রানজ্যাকশন ব্যাংকিং সেবা দেবে ব্র্যাক ব্যাংক

    নিপ্পন পেইন্টকে অ্যাডভান্সড ট্রানজ্যাকশন ব্যাংকিং সেবা দেবে ব্র্যাক ব্যাংক

    ব্র্যাক ব্যাংক নিপ্পন পেইন্ট বাংলাদেশকে আধুনিক ও উন্নত ট্রানজ্যাকশন ব্যাংকিং সেবা সরবরাহের জন্য একটি বিশেষ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো নিপ্পন পেইন্টের ডিলার ও ডিস্ট্রিবিউটরদের জন্য টাকা সংগ্রহের প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, দ্রুত এবং স্বচ্ছ করে তোলা। এই সিস্টেমের মাধ্যমে তারা তাদের ভিসা ও পেমেন্ট সম্পর্কিত সব কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে পারবেন।

    চুক্তির অধীনে, নিপ্পন পেইন্ট ব্র্যাক ব্যাংকের ডিফল্ট API ইন্টিগ্রেশনের মাধ্যমে ব্যাংকের ডিজিটাল ট্রানজ্যাকশন প্ল্যাটফর্ম ‘কর্পনেট’-এর সাথে যুক্ত হবে। এই সংযোগের ফলে, প্রায় ২০০ জন ডিস্ট্রিবিউটর তাদের সংগ্রহকৃত অর্থের তথ্য অবিলম্বে নিপ্পন পেইন্টের ইআরপি (এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স প্ল্যানিং) সিস্টেমে দেখতে পারবেন। এতে করে তারা তাদের আর্থিক হিসাব-নিরীক্ষা দ্রুত সম্পন্ন করতে পারবেন এবং একটুর জন্যও তথ্যের অস্বচ্ছতা থাকবেন না।

    এই সহযোগিতার ফলস্বরূপ নিপ্পন পেইন্টের নগদ প্রবাহের দৃশ্যমানতা আরও বাড়বে, রিকনসিলিয়েশন প্রক্রিয়া সহজ হবে এবং ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্কের ফিন্যান্সিয়াল কন্ট্রোল আরও শক্তিশালী হবে। ব্র্যাক ব্যাংক এ ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর ট্রানজ্যাকশন সেবা চালু করে কর্পোরেট গ্রাহকদের ক্ষমতায়ন করার লক্ষ্যে কাজ করছে।

    চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ব্র্যাক ব্যাংকের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড হেড অব হোলসেল ব্যাংকিং মো. শাহীন ইকবাল, ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড হেড অব কর্পোরেট, কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইনস্টিটিউশনাল ব্যাংকিং আসিফ বিন ইদ্রিস, হেড অব ট্রানজ্যাকশন ব্যাংকিং এ. কে. এম. ফয়সাল হালিম এবং এরিয়া হেড অব রিলেশনশিপ ইউনিট এস এম মুসা।

    নিপ্পন পেইন্টের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন জেনারেল ম্যানেজার রাজেশ সিরকার, সিনিয়র ম্যানেজার সালাহ উদ্দিনসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

    এই নতুন ট্রানজ্যাকশন সেবা ব্র্যাক ব্যাংকের ক্রেতা ও ব্যবসায়ী সমপ্রদায়ের জন্য আরও সুবিধাজনক এবং আধুনিকভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যা তাদের অর্থ ব্যবস্থাপনায় নতুন মাত্রা যোগ করবে। ব্র্যাক ব্যাংক ভবিষ্যতেও প্রযুক্তির মাধ্যমে পেশাদারী সেবা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে, যাতে করে তারা তাদের গ্রাহকদের জন্য আরও দক্ষ, স্বচ্ছ ও আস্থাপূর্ণ ব্যাংকিং পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে।