Blog

  • তৃতীয় দফা: আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় বেড়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি

    তৃতীয় দফা: আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় বেড়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি

    জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় আরও একবার বৃদ্ধি করেছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) জারি করা আদেশে রিটার্ন দাখিলের শেষ সময় ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। অনলাইনে দাখিল করতে অক্ষম করদাতারা কাগজে রিটার্ন দাখিলের জন্য আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

    এ আদেশে এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব (কর আইন-১) মো. একরামুল হকের স্বাক্ষরে বলা হয়েছে, আয়কর আইন, ২০২৩ এর ধারা ৩৩৪ অনুযায়ী সরকারি অনুমোদনে স্বাভাবিক ব্যক্তি ও হিন্দু অবিভক্ত পরিবারের করদাতাদের ২০২৫-২০২৬ করবর্ষের রিটার্ন দাখিলের নির্দিষ্ট সময় ৩১ জানুয়ারি থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারণ করা হলো।

    আরেকটি বিশেষ আদেশে চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান উল্লেখ করেছেন যে, আয়কর আইন, ২০২৩ এর ধারা ৩২৮(৪) মোতাবেক অনলাইনে (www.etaxnbr.gov.bd) রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, কেবল বিশেষ আদেশ নং-১/২০২৫ এর ক্রমিক নং-১ এ যে করদাতারা উল্লেখ আছেন তারা এই বাধ্যবাধকতার বাইরে থাকবেন।

    ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধনজনিত সমস্যার কারণে অনলাইনে রিটার্ন দাখিলে অসুবিধা হলে সংশ্লিষ্ট করদাতা ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত উপকর কমিশনারের কাছে সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করে আবেদন করতে পারবেন। আবেদন মঞ্জুর হলে সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত যুগ্ম কর কমিশনার অনুমোদনের ভিত্তিতে কাগজে রিটার্ন দাখিল করা যাবে।

    এনবিআরের তথ্যমতে এখন পর্যন্ত ৪৭ লাখ ব্যক্তি শ্রেণির করদাতা ই-রিটার্ন সিস্টেমে রেজিস্ট্রেশন করেছেন; এর মধ্যে ৩৪ লাখ করদাতা তাদের রিটার্ন দাখিল সম্পন্ন করেছেন।

    আইন অনুযায়ী ব্যক্তিগত শ্রেণির করদাতাদের রিটার্ন প্রতিবছর ৩০ নভেম্বরের মধ্যে জমা দেওয়ার কথা। তবে এ বছর বিশেষ পরিস্থিতির কারণে আগে দুই দফায় মোট দুই মাস সময় বাড়ানো হয়েছিল; এবার এটিই তৃতীয় দফা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন না দেওয়ার ফলে জরিমানা আর সরকার অনুমোদিত বিভিন্ন কর রেয়াত থেকে বঞ্চিত হওয়ার শাস্তিও হতে পারে।

    এনবিআর সূত্র বলছে, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে সরকারি ও ব্যক্তিগত স্তরে কর্মচারীদের কাজের পরিমাণ বেড়েছে; তাড়াহুড়ো না করে নির্ভুলভাবে রিটার্ন দাখিল নিশ্চিত করতে তাই অতিরিক্ত সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। করদাতাদের উচিত সময়মতো রেজিস্ট্রেশন নিশ্চিত করা, অনলাইনে রিটার্ন সাবমিট করার চেষ্টা করা এবং সমস্যা থাকলে যথাসময়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে আবেদন করা।

  • সোনার ভরি লাফ: দাম বাড়ল ১৬ হাজার, ২২ ক্যারেট ভরি ২৮৬,০০০ টাকার ওপর

    সোনার ভরি লাফ: দাম বাড়ল ১৬ হাজার, ২২ ক্যারেট ভরি ২৮৬,০০০ টাকার ওপর

    বাজারে আবারও সোনার দামে বড় উত্থান। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) জানিয়েছে, দেশের স্থানীয় বাজারে সোনার দাম ভরিতে সর্বোচ্চ ১৬,০০০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ফল হিসেবে ভালো মানের সোনার (২২ ক্যারেট) প্রতি ভরির দাম ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকার ওপরে চলে গেছে।

    বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নতুন এই দাম আজ সকাল ১০টা ১৫ মিনিট থেকে কার্যকর করা হয়েছে। গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের জন্য এটি জরুরি ঘোষণা বলা হয়েছে।

    সংগঠনটি জানিয়েছে, তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার মূল্য বাড়ায় স্থানীয় বাজারে সোনার দাম বাড়েছে। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকায় দেশীয় দর বাড়ার পেছনে সরাসরি প্রভাব পড়েছে। গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্রে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৫,৫৫০ ডলার ছাড়িয়েছে।

    নতুন দর অনুযায়ী দেশের বাজারে সোনার দামগুলোর অবস্থান নিচে তুলে ধরা হলো: ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি দাম এখন ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা, ২১ ক্যারেট প্রতি ভরি ২ লাখ ৭২ হাজার ৯৯৬ টাকা, ১৮ ক্যারেট প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৩ হাজার ৯৮০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতিতে প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৯৩ হাজার ৩৯ টাকা।

    সোনার সঙ্গে মিলিয়ে রুপার দামও বেড়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারিত হয়েছে ৮ হাজার ৫৭৩ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেট প্রতি ভরি রুপা ৮ হাজার ১৬৪ টাকা, ১৮ ক্যারেট প্রতি ভরি ৬ হাজার ৯৯৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতিতে প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৭৮২ টাকা।

    শেয়ারবাজার, বৈশ্বিক মূল্যবৃদ্ধি এবং কাঁচামালের ওঠানামা মিলিয়ে ভবিষ্যতে দাম কেমন থাকে তা নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক ট্রেন্ড এবং স্থানীয় চাহিদার ওপর। গ্রাহক ও বিনিয়োগকারীদের জন্য এই দামের পরিবর্তন সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আপডেট নেওয়া সতর্কতামূলক হবে।

  • মার্কিন হামলার যেকোনো আক্রমণে ‘তাত্ক্ষণিক ও শক্তিশালী জবাব’ দেওয়ার প্রস্তুতি ইরানের: আরাগচি

    মার্কিন হামলার যেকোনো আক্রমণে ‘তাত্ক্ষণিক ও শক্তিশালী জবাব’ দেওয়ার প্রস্তুতি ইরানের: আরাগচি

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য কোনো হামলার বিরুদ্ধে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী তাত্ক্ষণিক ও শক্তিশালী জবাব দেওয়ার জন্য সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত। এই মন্তব্য তিনি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি পুনর্ব্যক্তের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে।

    আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “আমাদের সাহসী সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত—আমাদের ভূমি, আকাশ ও সাগরের বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়া দিতে তাদের আঙুল ট্রিগারে রয়েছে।” তিনি বলেন, গত বছরের জুনে ইসরায়েলে হওয়া সামরিক হামলা এবং ট্রাম্প প্রশাসনের পারমাণবিক স্থাপনা সংক্রান্ত কৌশল থেকে ইরান মূল্যবান শিক্ষা নিয়েছে, যা তাদেরকে দ্রুত ও কার্যকরভাবে প্রতিক্রিয়া দেখানোর ক্ষমতা দিয়েছে।

    এর আগেই ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া পেজে লিখেছেন, “ইরানের দিকে একটি বিশাল নৌবহর যাচ্ছে। এটি দ্রুত ও কার্যকরভাবে তার মিশন সম্পন্ন করতে প্রস্তুত, প্রয়োজন হলে শক্তি ও সহিংসতা ব্যবহার করে।” তিনি ইরানকে বাকি থাকার আহ্বান জানিয়ে যোগ করেন, “আশা করি ইরান দ্রুত আলোচনার টেবিলে বসবে এবং একটি ন্যায়সঙ্গত চুক্তি করবে—কোনো পারমাণবিক অস্ত্র নেই। সময় কমে আসছে।”

    বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবহরের মোতায়েন মূলত শক্তি প্রদর্শন এবং ইরানকে আলোচনার টেবিলে বসাতে একটি কৌশল। কাতারের বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আদনান হায়াজনে উল্লেখ করেন, “যুক্তরাষ্ট্র বার্তা দিচ্ছে—যদি তোমরা আমাদের চাওয়া অনুসরণ না করো, তখন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারসহ কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে।”

    আরাগচি স্পষ্ট করে বলেন, হুমকির মুখে কোনো কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা নেই। “আমাদের অবস্থান পরিষ্কার: হুমকির সঙ্গে আলোচনা যায় না। আলোচনার সময়ই আসবে যখন আর কোনো হুমকি বা অতিরিক্ত দাবি থাকবে না,” তিনি জানান। তারপরও তিনি যোগ করেন, ইরান সব সময়ই এমন একটি পারস্পরিকভাবে উপকারি ও ন্যায়সঙ্গত পারমাণবিক চুক্তিকে স্বাগত জানায় যা শান্তিপূর্ন প্রযুক্তি নিশ্চিত করে এবং পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিরোধ করে।

    আঞ্চলিক উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ার সংকেত মিলেছে—হরমুজ প্রণালী এলাকায় তেহরান ও মার্কিন বিমানবাহিনীর মধ্যে সামরিক মহড়া চলছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড সতর্ক করে দিয়েছে, কোনো প্রতিবেশী দেশ যদি মার্কিন হামলায় তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেয় তাহলে তাকে “শত্রু” হিসেবে গণ্য করা হবে।

    আরেকদিকে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তারা তাদের আকাশসীমা কোনো হামলার জন্য ব্যবহার করে না। মিশর বলেছে, তারা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাদা আলাদা আলোচনা চালাচ্ছে যাতে অঞ্চলে শান্তি বজায় থাকে এবং নতুন অস্থিতিশীলতার চক্র সৃষ্টি না হয়।

    বিশ্লেষকরা মনে করেন, আঞ্চলিক পক্ষগুলোর আহ্বান হয়ত যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেলবে না; ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত তার কৌশল ও সিদ্ধান্তের ওপরই চলতে চাইতেন। পরিস্থিতি এখনো পরিবর্তনশীল এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলমান—তবে আঞ্চলিক উত্তেজনা তাৎপর্যপূর্ণভাবে বাড়ছে।

  • মালয়েশিয়ায় নিপাহ আশঙ্কায় ভারত–বাংলাদেশ যাত্রীদের কড়া স্ক্রিনিং শুরু

    মালয়েশিয়ায় নিপাহ আশঙ্কায় ভারত–বাংলাদেশ যাত্রীদের কড়া স্ক্রিনিং শুরু

    প্রাণঘাতী নিপাহ ভাইরাসের সম্ভাব্য ছড়িয়ে পড়া রোধে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিশেষ স্ক্রিনিং কার্যক্রম শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) স্বাস্থ্যমন্ত্রী জুলকেফলি আহমদ এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দেশ থেকে আসা — বিশেষত ভারত ও বাংলাদেশ — যাত্রীদের ওপর নজরদারি জোরদার করা হবে।

    সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশের সব আন্তর্জাতিক প্রবেশপথে বডি টেম্পারেচার পরিমাপের যন্ত্রগুলো সচল করা হয়েছে, যাতে যাত্রীদের মধ্যে নিপাহের প্রাথমিক উপসর্গ হিসেবে জ্বর দ্রুত শনাক্ত করা যায়। মালয়েশিয়া ভারত ও বাংলাদেশকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রেখেছে এবং সেখান থেকে আসা যাত্রীদের টার্গেটেডভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। তবে এদের জন্য আলাদা কোনো পথ বা রুট নির্ধারণ করা হয়নি; স্বাভাবিক অভিবর্তন প্রক্রিয়ার মধ্যেই নজরদারি করা হবে।

    স্ক্রিনিং চলাকালীন যদি কারো শরীরে জ্বর বা কোনও সন্দেহজনক উপসর্গ ধরা পড়ে, তাকে সঙ্গে সঙ্গেই বিশেষ মেডিকেল টিমের কাছে পাঠিয়ে অতিরিক্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, এই পদক্ষেপগুলো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ আন্তর্জাতিক নির্দেশিকা ও বৈশ্বিক ঝুঁকি পর্যালোচনার ভিত্তিতেই নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি যাতে আমাদের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাগুলো আন্তর্জাতিক মানের এবং সময়োপযোগী থাকে।’

    তিনি আরও জানান, দেশের সব প্রবেশপথে স্বাস্থ্য বিভাগ উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও প্রস্তুতি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, ভারতে সম্প্রতি নিপাহ সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর এশিয়ার অন্যান্য কয়েকটি দেশও তাদের বিমানবন্দর ও সীমান্তে অনুরূপ সতর্কতা বাড়িয়েছে। মালয়েশিয়ার এই পদক্ষেপও সেই প্রেক্ষাপটের অংশ, যাতে দ্রুত শনাক্তকরণ ও সময়মতো প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে সম্ভাব্য বিস্তার প্রতিরোধ করা যায়।

  • সাতক্ষীরায় ১৬ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণ ও ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার

    সাতক্ষীরায় ১৬ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণ ও ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার

    সাতক্ষীরায় এক কিশোরীকে (১৬) ধর্ষণের ও সেই দৃশ্য ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিতে রাখা অভিযোগে দেবাশীষ মন্ডল (২২) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

    রোববার ২৯ জানুয়ারি বুধবার রাতের দিকে পাটকেলঘাটা পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার দেবাশীষ সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কুলতিয়া গ্রামের ভোলানাথ মন্ডলের ছেলে।

    মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগীর বাবা বর্তমানে মালয়েশিয়ায় কর্মরত। বাড়িতে আর কেউ না থাকার সুযোগে দেবাশীষ জোরপূর্বক ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করে। বাধা দিলে কিশোরীকে কামড়ে জখম করা হয় এবং কৌশলে ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। এতে দেবাশীষকে একই গ্রামের হৃদয় ঘোষসহ কয়েকজন সহায়তা করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

    ঘটনার পর কিশোরী ঘটনাটি পরিবারের কাছে জানালে সম্প্রতি ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। নিরুপায় হয়ে ভুক্তভোগীর মা ২৩ জানুয়ারি সাতক্ষীরা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর কিশোরীর ডাক্তারি পরীক্ষা করানো এবং আদালতে জবানবন্দী গ্রহণ করা হয়।

    র‍্যাব-৬ সাতক্ষীরা ক্যাম্পের সদস্যরা যে অনুসন্ধান চালায়, তার অংশ হিসেবে বুধবার রাতে দেবাশীষকে তার এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ব্রহ্মরাজপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক সোহরাব হোসেন জানান, র‍্যাব সদস্যরা অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে সাতক্ষীরা সদর থানায় হস্তান্তর করেছেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ড আবেদন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

    পুলিশ জানান, মূল অভিযোগে আর যারা রয়েছে তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের ধরতে তদন্ত চলছে।

  • গণমানুষের অধিকার আদায়ে বিএনপি সবসময় জনগণের পাশে থাকবে: নজরুল ইসলাম মঞ্জু

    গণমানুষের অধিকার আদায়ে বিএনপি সবসময় জনগণের পাশে থাকবে: নজরুল ইসলাম মঞ্জু

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এবং সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, তারা একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেন—দেখেন এমন এক দেশ যেখানে প্রশিক্ষিত যুবকদের জন্য উন্মুক্ত কর্মসংস্থান থাকবে এবং বেকারত্বের שסা (অভিশাপ) কাটিয়ে তারা দেশ গঠনে নতুন সম্ভাবনার সোপান তৈরি করবে।

    মঞ্জু বলেন, ‘‘আমরা চাই এমন এক সমাজ যেখানে ভয়-ভীতির বদলে প্রতিষ্ঠিত থাকবে সত্য, ন্যায় ও ইনসাফের বিচারব্যবস্থা এবং থাকবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিটি দপ্তর হবে দালালমুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত। মানুষের কণ্ঠস্বর রোধ করা যাবে না; বরং প্রতিটি মানুষের মতামত হবে আগামীর পথচলার নতুন শক্তি।’’

    তিনি আশা প্রকাশ করেছেন খুলনার সোনালি দিনগুলো ফিরে আসবে—বন্ধ কল-কারখানাগুলো পুনরায় জীবন্ত হয়ে উঠবে, উৎপাদন বাড়বে, এবং পথঘাট, পাড়া-মহল্লা তরুণদের সাংস্কৃতিক ও খেলাধুলার কর্মকাণ্ডে প্রাণচাঞ্চল্যে ভরিয়ে উঠবে। মঞ্জু আরও বলেন, সমাজকে মাদকমুক্ত করে সমৃদ্ধির সোপানে আগানোই তাদের লক্ষ্য এবং এই সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনে বিএনপি সবসময় জনগণের পাশে থাকবে।

    বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টায় ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের মিস্ত্রীপাড়া বাজারে এবং সকাল সাড়ে ১০টায় ২১ নম্বর ওয়ার্ডের জব্বার মার্কেট, রেলওয়ে মার্কেট, নান্নু সুপার মার্কেট, মশিউর রহমান মার্কেটসহ বিভিন্ন এলাকায় তিনি গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করেন। ওই সময় তিনি নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং এলাকায় মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ান।

    গণসংযোগকালে মঞ্জু আরও বলেন, ‘‘গণমানুষের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে বিএনপি সবসময় জনগণের পাশে ছিল, আছে এবং থাকবে। আসুন, প্রিয় খুলনার ঐতিহ্য, সম্মান ও ভবিষ্যৎ রক্ষায় আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হই।’’

    উক্ত সভা ও গণসংযোগে উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগর বিএনপি সভাপতি এডভোকেট শফিকুল আলম মনা, সাবেক ছাত্রনেতা রুহুল আজিম রুমি, মাহবুব হাসান পিয়ারু, একরামুল হক হেলাল, শের আলম সান্টু, আনোয়ার হোসেন, নিয়াজ আহমেদ তুহিন, শামসুজ্জামান চঞ্চল, হাসান মেহেদী রিজভী, আবু সাঈদ শেখ, মহিবুল্লাহ শামীম, শফিকুল ইসলাম শফি, আব্দুল জব্বার, রবিউল ইসলাম রবি, মেশকাত আলী, নুর ইসলাম, মনিরুল ইসলাম মাসুম, নাসির খান, ওহিদুজ্জামান খসরু, আলমগীর ব্যাপারী, শামীম খান, মোস্তফা কামাল, রিয়াজুর রহমান, মহবুব হোসেন, খায়রুল ইসলাম লাল, মোস্তাফিজুর রহমান বাবলু, শামসুর রহমান লিচু, আবু বক্কর, অলিয়ার রহমান অলি, মোহাম্মদ আলী, আহসান কবির শাহিন, ওহিদুল ইসলাম, খান মঈনুল ইসলাম মিঠু, জাকারিয়া লিটন, মাজেদা খাতুন, মনিরুল আজম, মোফাজ্জেল হোসেন, গোলকি সাঈদ, কামরুল ইসলাম, মাসুদ রেজা, ইলিয়াস হোসেন, রফিকুল ইসলাম, আবুল কাশেম, জাহিদুর রহমান, আল আমিন তালুকদার প্রিন্স, ইউনুচ শেখ, ঈসা শেখ, আরিফুল ইসলাম, টিপু হাওলদার, কাওসার দাদো, আজহার, বেল্লাল, মাসুদ খান, মনিরুজ্জামান মনি, মহসীন, মিজানুর সরদার, রবিউল আলম, পান্না, টিটুসহ থানা, ওয়ার্ড ও অঙ্গদলের নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ।

    মোনাজের পুর্বে মঞ্চে কথা বলা ও প্রচারণায় অংশগ্রহণকারীরা মঞ্জুর আহ্বানকে উৎসাহ দেন এবং খুলনার উন্নয়ন ও জনদশার উন্নতির জন্য একযোগে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

  • ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বাড়তি নিরাপত্তা

    ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বাড়তি নিরাপত্তা

    আগামী মাসে শুরু হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করতে এলিট সশস্ত্র ইউনিট মোতায়েন করবে শ্রীলঙ্কা। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এএফপিকে জানিয়েছেন, বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের ম্যাচগুলোতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নিরাপত্তা ব্যাবস্থা বাড়ানো হচ্ছে।

    ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজক শ্রীলঙ্কা এই টুর্নামেন্টের সব আয়োজন করবে। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত দ্বীপদেশটিতে মোট ২০টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে গ্রুপ ‘এ’-র ম্যাচে ভারত ও পাকিস্তান ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে মুখোমুখি হবে।

    রাষ্ট্রীয় এবং ক্রীড়া কূটনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ থাকা এই দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে উত্তেজনা ক্রেমেটিভ হয়ে ক্রিকেট মাঠেও ফুটে উঠেছে। গত বছরের চার দিনের সংঘাতের পর সেই উদ্বেগ বাড়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। শ্রীলঙ্কার ক্রীড়া মন্ত্রী সুনিল কুমারা গামাগে জানিয়েছেন, টুর্নামেন্ট নির্বিঘ্নভাবে আয়োজন করাটা সরকারের ‘সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার’ এবং ভারত-পাকিস্তানের ম্যাচগুলোতে ‘বিশেষ নজর’ রাখা হচ্ছে।

    পুলিশ ও নিরাপত্তা সূত্রে বলা হয়েছে, সাধারণত রাষ্ট্রপ্রধানদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত এলিট কমান্ডো ইউনিটগুলোই এই টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া দলগুলোর নিরাপত্তা দেবে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময় থেকে আবার বিমানে ওঠার মুহূর্ত পর্যন্ত খেলোয়াড়দের সশস্ত্র নিরাপত্তা থাকবে।

    অতীতে নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারত ও পাকিস্তান একে অপরের দেশে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন; তখন নিরপেক্ষ ভেন্যুতে ‘হাইব্রিড মডেল’ অনুসরণ করে ম্যাচ আয়োজন করা হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) দুই দলের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে এনেছে।

    নিরাপত্তা উদ্বেগ তুলে বাংলাদেশও আগে অনুরোধ করেছিল তারা ভারতে তাদের ম্যাচগুলো আয়োজন করতে চায় না; আইসিসি সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করলে বাংলাদেশ টুর্নামেন্ট থেকে নিজেকে তুলে নেন এবং তাদের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বাংলাদেশকে সমর্থন জানিয়ে পাকিস্তানও টুর্নামেন্ট বয়কটের ইঙ্গিত দিয়েছিল।

    এই সব টানাপোড়েনের মধ্যে শ্রীলঙ্কা আঞ্চলিক বিরোধে জড়াতে চায় না—এমন অবস্থান নিয়েছে। দেশের ক্রিকেট সচিব বান্দুলা দিসানায়ে বলেছেন, কলম্বো কোনোভাবেই এই ধরনের বিভেদে পড়তে চায় না এবং ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যকার বিবাদে শ্রীলঙ্কা নিরপেক্ষ থাকবে। তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনে ভবিষ্যতে যে কোনো দেশের জন্য টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে শ্রীলঙ্কা প্রস্তুত।

    একই সঙ্গে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে শ্রীলঙ্কা আন্তর্জাতিক ভেন্যুগুলোর উন্নয়নও চালিয়েছে। কলম্বোর সিংহলেজ স্পোর্টস ক্লাবে নতুন ফ্লাডলাইট স্থাপন করা হয়েছে, আর ক্যান্ডির পাল্লেকেলে স্টেডিয়াম গত নভেম্বরে আঘাত হানা প্রাণঘাতী ঘূর্ণিঝড়ের পর থেকে রক্ষা পেয়েছে। এই স্টেডিয়ামে শুক্রবার শ্রীলঙ্কা ও ইংল্যান্ডের মধ্যে একটি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ হওয়ার কথা রয়েছে।

    শ্রীলঙ্কার উদ্দেশ্য হচ্ছে সব ধরনের নিরাপত্তা ও ভেন্যু প্রস্তুতি নিশ্চিত করে টুর্নামেন্টটি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা, যাতে খেলা ও দর্শক উভয়েই নিরাপদে অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারে।

  • চাঁদাবাজ-মুক্ত খুলনা গড়ার প্রতিশ্রুতি দিলেন রকিবুল ইসলাম বকুল

    চাঁদাবাজ-মুক্ত খুলনা গড়ার প্রতিশ্রুতি দিলেন রকিবুল ইসলাম বকুল

    খুলনা-৩ আসন থেকে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল বলেছেন, সাধারণ মানুষের ভোটে তিনি নির্বাচিত হলে খুলনার কোনো জায়গায় চাঁদাবাজি বা সন্ত্রাস প্রতিষ্ঠার সুযোগ থাকবে না। বুধবার বিকেলে পাবলা সবুজ সংঘ মাঠে এক পথসভায় বকুল এই প্রতিশ্রুতি দেন।

    বক্তব্যে তিনি বলেন, গত কয়েক বছরে খুলনাবাসী নানা আঙ্গিকে শোষণ ও চাঁদাবাজির শিকার হয়েছে; ব্যবসায়ীরা শান্তিতে ব্যবসা করতে পারেননি, জনজীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা ক্ষুণ্ণ হয়েছে। এসব পরিস্থিতি বদলাতে এবং শহরে শান্তি ফিরিয়ে আনতে তিনি চাঁদাবাজদের সুরক্ষা দেওয়া কোনো অভিযোগই মেনে নেবেন না এবং চাহিদা হলে সম্ভাব্য সর্বোচ্চ কঠোরতা নিয়ে সিন্ডিকেট ভাঙার কাজ করবেন।

    বকুল আরও জানান, তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে জনগণের আমানত পেলে একটি সুন্দর, নিরাপদ ও সন্ত্রাসমুক্ত খুলনা উপহার দেবেন। তিনি বললেন, ‘‘ধানের শীষ শান্তির প্রতীক; এই প্রতীক যদি জয়ী হয়, সাধারণ মানুষের অধিকার ফিরে আসবে।’’

    পাঠসভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পাবলা সবুজ সংঘের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সবুজ সাথী প্রি-ক্যাডেট স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার প্রধান অতিথি হিসেবে বকুল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্কুলের অধ্যক্ষ মোঃ শাহীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন খুলনা মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদী, সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক মোঃ চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেন, সমাজসেবক ও রাজনীতিক মুশাররফ হোসেন, দৌলতপুর থানা বিএনপির সভাপতি মুর্শিদ কামাল, বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান খন্দকার আলমগীর কবির এবং পাবলা সবুজ সংঘের সভাপতি মোঃ রফিকুল ইসলাম। এছাড়া খুলনা মহানগর জাসাসের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার নুর ইসলাম বাচ্চু ও পাবলা সবুজ সংঘ মসজিদের সভাপতি আলহাজ্ব এইচ.এ. রহিম উপস্থিত ছিলেন।

    অনুষ্ঠানে আরো ছিলেন মোঃ মতলেবুর রহমান, মিতুল, প্রফেসর সাইফুল ইসলাম, জয়নাল আবেদীন, শেখ আনসার আলীসহ দৌলতপুর থানা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।

    রকিবুল ইসলাম বকুল জনসভায় দাবি করেন, একটি বিশেষ গোষ্ঠী খুলনার সম্পদ লুটে নিচ্ছে এবং সাধারণ মানুষকে ভীতি দেখিয়ে শাসন করছে—এই অবৈধ শাসনই তিনি ভেঙে দেবে। তিনি জনগণের কাছে আহ্বান জানিয়ে বলেন, আগামী নির্বাচনে ধানের শীষের মার্কায় ভোট দিয়ে তাকে জয় যুক্ত করুন যাতে তিনি শান্তি ও উন্নয়নের কাজ দ্রুততর করতে পারেন।

  • ওশিওয়ায় গুলি চালানোর অভিযোগে বলিউড অভিনেতা কামাল আর খান গ্রেফতার

    ওশিওয়ায় গুলি চালানোর অভিযোগে বলিউড অভিনেতা কামাল আর খান গ্রেফতার

    মুম্বাইয়ের ওশিওয়ারা এলাকার একটি আবাসিক ভবনে গুলি চালানোর অভিযোগে বলিউড অভিনেতা ও চলচ্চিত্র সমালোচক কামাল আর খান (কেআরকে)কে শুক্রবার গ্রেফতার করেছে মুম্বাই পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) আদালতে পেশ করা হবে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে ওই এলাকায় চারটি গুলি ছোড়া হয়। সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান ও অন্যান্য প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে মুম্বাই পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং কেআরকে-কে হেফাজতে নেয়।

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন যে গুলিগুলো তার লাইসেন্সপ্রাপ্ত বন্দুক থেকেই ছোড়া হয়েছিল। তবে কেআরকে বলেছেন, কেউকে আঘাত করার উদ্দেশ্য তার ছিল না। তিনি দাবি করেছেন যে বন্দুক পরিষ্কার করার পর সেটি ঠিকঠাক কাজ করছে কি না তা পরীক্ষা করার জন্য বাড়ির সামনেই থাকা ম্যানগ্রোভ বা বনাঞ্চলের দিকে লক্ষ্য রেখেই গুলি করেছিলেন। তার কথায়, বাতাসের দিকবদলের কারণে গুলিগুলো ভ্রান্ত পথে চলে গিয়ে পাশের আবাসিক ভবনকে আঘাত করেছে।

    পুলিশ জানান যে তারা এখনও ঘটনার ব্যাপক তদন্ত চালাচ্ছে — সিসিটিভি বিশ্লেষণ, বলিস্টিক পরীক্ষাসহ আরও কাগজপত্র ও সাক্ষ্য যাচাই করা হচ্ছে। আদালত তদন্তের অগ্রগতি এবং আইনানুগ ব্যবস্থার নির্দেশ দিতে পারে।

    কামাল আর খানকে বলিউডে বিতর্কিত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত করা হয়। ২০২২ সালে তিনি এক যৌন হেনস্তার মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন এবং সামাজিক মাধ্যম ও টিভিতে তার কটাক্ষাত্মক ও উসকানিমূলক মন্তব্যের কারণে তার বিরুদ্ধে একাধিক মানহানি ও আইনি অভিযোগও রয়েছে। বর্তমানে চলমান গুলিকাণ্ডের মামলায় তার বিরুদ্ধে অতিরিক্ত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে।

  • ঢালিউডের ‘ডান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

    ঢালিউডের ‘ডান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

    ঢালিউডের স্বতন্ত্র নৃত্যশিল্পী ও প্রথিতযশা অভিনেতা ইলিয়াস জাভেদ আর নেই। দীর্ঘদিন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে আজ সোমবার বেলা সওয়া এগারোটার দিকে তিনি প্রয়াত হয়েছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

    মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য সনি রহমান। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৮২ বছর। ১৯৪৪ সালে ব্রিটিশভুক্ত পেশাওয়ারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি; পরে পরিবারের সঙ্গে পাঞ্জাবে চলে গেলে, এক পর্যায়ে ভাগ্য তাকে ঢাকার চলচ্চিত্র অঙ্গনে টেনে আনে।

    জানা গেছে, বেশ কিছু বছর ধরে ক্যান্সারে ভুগছিলেন ইলিয়াস জাভেদ। গত বছরের এপ্রিলেও হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। পরবর্তী সময়ে বাসায় রেখে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল; হাসপাতালের চিকিৎসক ও দুই নার্স নিয়মিত তাকে দেখাশোনা করছিলেন। আজ সকালে দুজন নার্স এসে বলেন তার শরীর শীতল এবং দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন— এমনটি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন তার স্ত্রী ডলি চৌধুরী।

    অভিনয়ে তার শুরু হয় ১৯৬৪ সালে উর্দু সিনেমা ‘নয়ী জিন্দেগি’-র মাধ্যমে। এরপর ১৯৬৬ সালে পরিচালক মুস্তাফিজের ‘পায়েল’ ছবিতে কিংবদন্তি নায়িকা শাবানার বিপরীতে অভিনয় করে বড় পর্দায় নিজের অবস্থান নিশ্চিত করেন; এ সময়ই মুস্তাফিজই তাকে ‘জাভেদ’ নামে পরিচিত করান।

    নৃত্য পরিচালনা থেকেই ক্যারিয়ার শুরু হলেও পরবর্তী সময়ে তিনি নায়ক হিসেবে দর্শকদের মনে বিশেষ স্থান করে নেন। একাধিক ব্যবসাসফল ছবির মাধ্যমে ৭০ ও ৮০-এর দশকের প্রেক্ষাপটে তিনি দর্শকদের কাছে ‘ডান্সিং হিরো’ হিসেবে সমাদৃত ছিলেন। অভিনয়জীবনে তিনি শতাধিক ছবিতে কাজ করেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৮৪ সালে তিনি বিয়ে করেছেন চিত্রনায়িকা ডলি চৌধুরীকে।

    ইলিয়াস জাভেদ অভিনীত কিছু উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র: মালেকা বanu, নিশান, পাপী শত্রু, রক্ত শপথ, সাহেব বিবি গোলাম, কাজল রেখা, অনেক দিন আগে, আজও ভুলিনি, কঠোর, মা বাবা সন্তান, রাখাল রাজা, রসের বাইদানী, জীবন সঙ্গী ও আবদুল্লাহ।

    তার প্রয়াণে বাংলা চলচ্চিত্রের এক স্বতন্ত্র অধ্যায়ের সমাপ্তি হলো—নাচ আর একশনকে মিশিয়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করা এক শিল্পীর বিদায়। শোকসংবেদনায় পরিবারের প্রতি দর্শক ও সহকর্মীদের সহমর্মিতা রইল।