Blog

  • কারাবন্দিদের প্যারোলে মুক্তি: নতুন নীতিমালা জারি

    কারাবন্দিদের প্যারোলে মুক্তি: নতুন নীতিমালা জারি

    সরকার কারাবন্দিদের প্যারোলে মুক্তি সংক্রান্ত নতুন নীতিমালা জারি করেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কারা-২ শাখা থেকে প্রকাশিত এই নির্দেশিকায় প্যারোলে মুক্তির শর্ত, সময়সীমা এবং মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন) মো. জান্নাত-উল ফরহাদ সোমবার (২৬ জানুয়ারি) একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছেন।

    নতুন নীতিমালার মূল দিকগুলো প্রতিবেদনটিতে নিম্নরূপ উপস্থাপিত করা হয়েছে:

    1. সাধারণ নীতি:

    – ভিআইপি বা অন্যান্য শ্রেণির কয়েদি/হাজতি বন্দিদের নিকট আত্মীয়—যেমন বাবা-মা, শ্বশুর-শাশুড়ি, স্বামী/স্ত্রী, সন্তান এবং আপন ভাইবোন—মৃত্যু হলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া যাবে।

    – এছাড়া কোনো আদালতের আদেশ বা সরকারের বিশেষ সিদ্ধান্ত থাকলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমে অতিরিক্ত পরিস্থিতিতেও প্যারোল মঞ্জুর করা যেতে পারে। উভয় ক্ষেত্রেই প্যারোল মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা ও দূরত্ব বিবেচনায় সময় নির্ধারণ করবেন।

    2. পুলিশ প্রহরা:

    – প্যারোলে মুক্ত থাকা অবস্থায় বন্দিকে সার্বক্ষণিক পুলিশ প্রহরায় রাখতে হবে।

    3. সময়সীমা:

    – প্যারোলের অনুমোদিত সময়সীমা সাধারণত ১২ ঘণ্টার বেশি হবে না। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে সরকার সময়সীমা বাড়ানো বা কমানোর ক্ষমতা সংরক্ষণ করবে।

    4. ভ্রমণ ও মঞ্জুরির এলাকা:

    – কোনো বন্দি যদি তার নিজের জেলার কেন্দ্রীয়/জেলা/বিশেষ কারাগার বা সাব-জেলে আটক থাকেন, তবে মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ ঐ জেলার ভেতরে যেকোনো স্থানে প্যারোল মঞ্জুর করতে পারবেন।

    – যদি বন্দি তার নিজের জেলায় না থেকে অন্য জেলায় আটক থাকেন, তাহলে গন্তব্যের দূরত্ব বিবেচনায় মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ প্যারোল মঞ্জুর করতে পারবেন। তবে দুর্গম এলাকা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, দূরত্ব ও নিরাপত্তাসহ অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় নিয়ে কর্তৃপক্ষ প্যারোল মঞ্জুর বা না-মঞ্জুর করার সিদ্ধান্ত নেবেন।

    5. কারাগারে ফেরত পাঠানো:

    – কারাগারের ফটকে পুলিশ প্যারোলে মুক্ত বন্দিকে গ্রহণ করে অনুমোদিত সময়সীমার মধ্যে তাকে পুনরায় কারাগারে ফিরিয়ে আনবেন।

    6. প্যারোল মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ:

    – সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট প্যারোল মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।

    7. পূর্বের নীতিমালার বাতিল:

    – ২২-০৯-২০০৭ ও ০৪-০৩-২০১০ তারিখে কারা-২ শাখা থেকে জারি করা পূর্ববর্তী নীতিমালা দুটি বাতিল করা হয়েছে (স্মারক নং যথাক্রমে স্ব: ম:(কারা-২)/বিবিধ-১৬/২০০৭/৩৮৮ ও স্ব: ম:(কারা-২) বিবিধ-১৬/২০০৭/৭৭)।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বর্ণিত নতুন নীতিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন নির্দেশনাটি নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক বিবেচনা মাথায় রেখে প্যারোল প্রক্রিয়া আরও সুসংগঠিত করবে বলে মন্ত্রণালয় আশা করছে।

  • শফিকুর রহমান: নারীদের প্রতি কুদৃষ্টি দেখলে চোখ উপড়ে ফেলা হবে

    শফিকুর রহমান: নারীদের প্রতি কুদৃষ্টি দেখলে চোখ উপড়ে ফেলা হবে

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডাঃ শফিকুর রহমান বলেছেন, তারা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান যেখানে নারীদের মর্যাদা নিশ্চিত থাকবে। এজন্য তিনি সতর্ক করে বলেন — নারীদের প্রতি কুদৃষ্টি দেখলে সেই চোখ উপড়ে ফেলা হবে।

    সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঝিনাইদহ শহরের ওয়াজির আলী হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ মন্তব্য করেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা ও উপজেলার হাজারো নেতা-কর্মী ও শুভাশ্রয়ী। সংগঠনের পক্ষ থেকে শহীদ হাদি ওসমানের ইনকিলাব মঞ্চসহ সেখানে উপস্থিত সবাইকে তিনি ধন্যবাদ জানালো।

    বক্তব্যে শফিকুর রহমান মায়েদের ত্যাগের কথা স্মরণ করে বলেন, ‘‘মায়েদের ঋণ আমরা কখনো শোধ করতে পারব না। তাদের দিকে যারা খারাপ দৃষ্টিতে তাকাবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়া হবে।’’ তিনি বলেন, গত আন্দোলনে অনেকেই স্বামী, স্ত্রী, সন্তান, বোন ও পিতা হারিয়েছেন; তাদের কষ্ট তিনি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন এবং বলেন যারা কথাগুলো বলেছে তাদেরই পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে নির্মম আচরণ হয়েছে।

    তিনি আরও অভিযোগ করেন, অনেক মানুষকে তুলে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে, কিছু পরিবারের এখনও তাদের প্রিয়জনের খোঁজ পাওয়া যায়নি। ‘‘অপরাধ ছিলো শুধু অন্যায়-অপশাসনের বিরুদ্ধে কথা বলা—এই অভিযোগ তুলে কুসংস্কার ও অবিচারের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেন আমির।’’

    শফিকুর রহমান বলেন, বিভিন্ন স্থানে জোর করে পকেট কাটা, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির অভিযোগ আছে; তিনি এসব ফিরে না পেলে কঠোর আচরণ করা হবে বলে জোর দেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে জামায়াত ক্ষমতায় এলে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো হবে, চাঁদাবাজি বন্ধ করা হবে এবং বেকারদের জন্য যোগ্যতা ভিত্তিক কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

    তিনি বলেন, প্রত্যেক জেলায় মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হবে এবং শুধুমাত্র কলেজ না রেখে উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনবল গড়ে তোলা হবে। বেকারদের ভাতা দিয়ে অপমান করা হবে না, তাদের যোগ্যতা স্বীকার করে চাকুরি ও প্রশিক্ষণের সুযোগ দেয়া হবে—এই প্রতিশ্রুতি তিনি দেন।

    সমাবেশে কেন্দ্রীয় নেতারা ও স্থানীয় প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। বাবস্থাপনা করেন ঝিনাইদহ জেলা জামায়াতের আমির ও ঝিনাইদহ-২ আসনের জোট প্রার্থী মাওলানা আলী আজম মো. আবু বকর। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াত কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও যশোর–কুষ্টিয়া অঞ্চলের পরিচালক মোবারক হোসাইন। পাশাপাশি ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) প্রার্থী এএসএম মতিউর রহমান, ঝিনাইদহ-৩ (কোটচাঁদপুর ও মহেশপুর) প্রার্থী অধ্যাপক মতিয়ার রহমান এবং ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ ও সদর কিছু ইউনিয়ন) প্রার্থী মাওলানা আবু তালিবও বক্তব্য দেন।

    জনসভায় মানুষের ঢল এতটাই ছিল যে সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা আসে এবং বিকেলে মাঠ জনসঘন হয়ে ওঠে; বিভিন্ন বাহনে আনাগোনা করার ফলে শহরে এক ধরনের যানজটও তৈরি হয়েছিল। চুয়াডাঙ্গা থেকে আমিরের আগমন সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় এবং তিনি ৬টা ৫৫ মিনিটে মঞ্চে এসে প্রস্তাবিত রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি ও নীতিগুলো তুলে ধরেন।

    বক্তৃতা শেষে তিনি জেলা পর্যায়ের চার প্রার্থীর পরিচয় করিয়ে দান করেন ও তাদের হাতে দাড়িপাল্লা তুলে দেন।

  • চরমোনাই পীর: ইনসাফ প্রতিষ্ঠার নামে দেশে ধোঁকাবাজি চলছে

    চরমোনাই পীর: ইনসাফ প্রতিষ্ঠার নামে দেশে ধোঁকাবাজি চলছে

    ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর) বলেছেন, বর্তমানে দেশে ‘ইনসাফ প্রতিষ্ঠার’ নাম ধরে ধোঁকাবাজি চলছে। তিনি বলেন, যে নিয়মনীতি চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে, তা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের নীতির অনুকরণে গড়া।

    সোমবার দুপুরে শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার নতুন বাসস্ট্যান্ড মাঠে আয়োজিত একটি নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    চরমোনাই পীর বলেন, “যে নীতিমালা এখন চালুর চেষ্টা হচ্ছে, তা Амерিকার নীতির অনুকরণে। এসব নীতির মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রকৃত ইনসাফ প্রতিষ্ঠা কখনোই সম্ভব নয়।” তিনি আরও জানান, ইসলামভিত্তিক ন্যায়বিচার ছাড়া দেশে স্থায়ী শান্তি ও সুষ্ঠু সুবিচার প্রতিষ্ঠা করা যাবে না।

    ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “সেই সময় দেশে যে ইসলামী পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল, আমি সেটাকে ইসলামের একটি ‘বাক্স’ হিসেবে দেখেছিলাম। কিন্তু এখন সেই বাক্সটি ছিনতাই হয়ে গেছে।” চরমোনাই পীর আরও দাবি করেন, “আমরা যে উদ্দেশ্যে একসঙ্গে হয়েছিলাম, সেই উদ্দেশ্য আর অবশিষ্ট নেই।”

    গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক পরিসর ও মানুষের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “সেই সময় মানুষের মধ্যে ন্যায় ও ইসলামি আদর্শ প্রতিষ্ঠার ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই প্রত্যাশা চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেছে।”

    চরমোনাই পীর অভিযোগ করেন, ক্ষমতায় যারা এসেছে তারা জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে ব্যবহার করে ভিন্ন পথে রাজনীতি পরিচালনা করছে। তাই তিনি জনগণকে সতর্ক ও সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সৎ ও ধর্মভিত্তিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা না হলে দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হবে না।

  • স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড: প্রতি ভরি ২ লাখ ৫৭ হাজার ১৯১ টাকা

    স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড: প্রতি ভরি ২ লাখ ৫৭ হাজার ১৯১ টাকা

    দেশের বাজারে সোনার দাম আবারও বাড়িয়ে ইতিহাসের সর্বোচ্চ স্তর ছুঁয়ে ফেলেছে। সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) দাম ১,৫৭৪ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৭ হাজার ১৯১ টাকায়।

    বাজারে তেজাবী সোনা (পাকা সোনা) দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এই বাড়তি মূল্য ঘোষণা করেছে। নতুন দাম সোমবার, ২৬ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

    রোববার বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের বৈঠকে এ বাড়ানো মূল্যের সিদ্ধান্ত হয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডাঃ দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

    অন্যান্য মানের সোনার নতুন মূল্যও নির্ধারণ করা হয়েছে—২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ১,৫১৬ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৫২৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনায় ১,২৮৩ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে নতুন দাম ২ লাখ ১০ হাজার ৪১৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনায় ১,০৫০ টাকা বাড়িয়ে তা হয়েছে ১ লাখ ৭২ হাজার ৯১৯ টাকা।

    সোনার পাশাপাশিও রুপার দাম বাড়ানো হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৩৫০ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ হাজার ২৩২ টাকা, ২১ ক্যারেটের রুপার দাম ৪০৮ টাকা বাড়িয়ে ৬ হাজার ৯৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপার দাম ৩৫০ টাকা বাড়িয়ে ৫ হাজার ৯৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ২৩৩ টাকা বাড়িয়ে ৪ হাজার ৪৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    গত কয়েক সপ্তাহে সোনার দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। এর আগের বৃদ্ধি হয়েছিল—২২ জানুয়ারি ৮,৩৯৯ টাকা, ২১ জানুয়ারি ৫,২৪৯ টাকা, ২০ জানুয়ারি ৪,১৯৯ টাকা, ১৫ জানুয়ারি ২,৬২৫ টাকা, ১৩ জানুয়ারি ৪,১৯৯ টাকা এবং ১১ জানুয়ারি ১,০৫০ টাকা। এই ধারাবাহিক বৃদ্ধির মধ্যেই সাম্প্রতিক এই নতুন রেকর্ড দাম স্থির করা হলো।

  • স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড: ভরিতে ৫ হাজার ২৪৯ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের দাম ২ লাখ ৬২ হাজার ৪৪০ টাকা

    স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড: ভরিতে ৫ হাজার ২৪৯ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের দাম ২ লাখ ৬২ হাজার ৪৪০ টাকা

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) একদিনের ব্যবধানে আবারও দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে। ভরিতে ৫ হাজার ২৪৯ টাকা বৃদ্ধির ফলে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৬২ হাজার ৪৪০ টাকা — যা বাংলাদেশের ইতিবাচক ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

    বাজুস সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাতের বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানায়। নতুন এই দাম মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) থেকে কার্যকর হবে। সংস্থার বরাতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ (পিওর গোল্ড) তথা পিউর গোল্ডের দাম বাড়ায় সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

    নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম):

    – ২২ ক্যারেট: ২,৬২,৪৪০ টাকা

    – ২১ ক্যারেট: ২,৫০,৪৮৪ টাকা

    – ১৮ ক্যারেট: ২,১৪,৭৩৪ টাকা

    – সনাতন পদ্ধতি অনুযায়ী: ১,৭৬,৫৯৩ টাকা

    বাজুস জানিয়েছে, ক্রেতাকে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি মূল্যসংগতিতে যোগ করতে হবে। গহনার নকশা ও মানের উপর ভিত্তি করে মজুরির পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে।

    এর আগেও গত ২৫ জানুয়ারি বাজুস স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছিল; তখন ২২ ক্যারেটের এক ভরি দাম ভরিতে ১,৫৭৪ টাকা বাড়িয়ে ২,৫৭,১৯১ টাকা করা হয়েছিল এবং তা ২৬ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছিল। সেদিনের শতাংশ অনুযায়ী ২১ ক্যারেটের দাম ছিল ২,৪৫,৫২৭ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২,১০,৪১৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির দাম ছিল ১,৭২,৯১৯ টাকা।

    চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশে ১৪ দফা স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে; এর মধ্যে ১১ দফা দাম বেড়েছে এবং ৩ দফা দাম কমেছে। গত বছর (২০২৫) মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয় এবং ২৯ বার কমানো হয়।

    স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। রুপার প্রতি ভরি দাম ৫২৫ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৭,৭৫৭ টাকা, যা রুপারও সর্বোচ্চ মূল্য। অন্যান্য ক্যারেট অনুযায়ী রুপার দাম: ২১ ক্যারেট ৭,৪০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৬,৩৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতি ৪,৭৮২ টাকা। চলতি বছর রুপার দাম এখন পর্যন্ত ১১ দফা সমন্বয় করা হয়েছে।

    বাজারে তীব্র ওঠানামার এই ধারায় ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিশ্বাসযোগ্য মূল্যসূত্র দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

  • ইরানে বিক্ষোভ দমন: মানবাধিকার সংস্থার দাবি—নিহত অন্তত ৬ হাজার

    ইরানে বিক্ষোভ দমন: মানবাধিকার সংস্থার দাবি—নিহত অন্তত ৬ হাজার

    যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি মানবাধিকার সংস্থা বলেছে, ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমন অভিযানে অন্তত 6 হাজার লোক প্রাণ হারিয়েছেন। সোমবার ফ্রান্সের সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (HRANA) এই পরিসংখ্যানটি নিশ্চিত করেছে।

    গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে অর্থনৈতিক অভাব-অসন্তোষ থেকেই শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুতই ইসলামী প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে ব্যাপক গণআন্দোলনে রূপ নেয়। বিশেষ করে ৮ জানুয়ারি থেকে কয়েক দিন ধরে সারাদেশে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভ দমন করতে ইন্টারনেট বন্ধ রেখে এবং সরাসরি গুলি চালিয়ে নজিরবিহীন কদর্য অভিযান চালিয়েছে। বিক্ষোভের সময় শুরু হওয়া ইন্টারনেট শাটডাউন কয়েকদিন টানা চলার পরও আংশিক বা পূর্ণবহালে সীমিত রয়েছে বলে জানানো হয়।

    HRANA বলেছে, তারা এখন পর্যন্ত 5,848 জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে; নিহতদের মধ্যে 209 জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। এছাড়া আরও 17,091 জনের সম্ভাব্য মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় অন্তত 41,283 জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    ইরানি কর্তৃপক্ষ গত সপ্তাহে প্রথমবারের মতো সরকারি হতাহত হিসাব প্রকাশ করে বলেছে, 3,117 জন নিহত হয়েছেন; নিহতদের মধ্যে বেশিরভাগই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য বা দাঙ্গাবাজদের হাতে নিহত নিরীহ নাগরিক ছিলেন—এই বিবরণে ভিন্নতা রয়েছে এবং তা নিয়ে বিতর্ক চলছে। বেসরকারি সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে যে ইন্টারনেট কাটছাট হওয়ায় তাদের সংগ্রহ করা তথ্য ব্যাহত হচ্ছে এবং প্রকৃত নিহতের সংখ্যা হয়তো এখন পর্যন্ত জানা সংখ্যার চেয়ে বেশি হতে পারে।

    নেটব্লকসের রিপোর্ট বলছে, ইরানে এখনও ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট আছে, যা নীরবভাবে ঘটমান অধ্যায়গুলোর চিত্র আড়ালে রেখে দিচ্ছে। কিছু ফার্সি-ভাষা সম্প্রচার মাধ্যম, বিশেষ করে তেহরানের বাইরে অবস্থানরত ইরান ইন্টারন্যাশনাল, গত সপ্তাহে দাবি করেছে যে ৮–৯ জানুয়ারির মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে 36,500 ছাড়িয়ে মানুষ নিহত হয়েছে; তবে ওই তথ্য এএফপির মাধ্যমে তাত্ক্ষণিকভাবে যাচাই করা যাচ্ছেনা।

    আন্তর্জাতিক মঞ্চে পরিস্থিতিকে ঘিরে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। তেহরান ওয়াশিংটনকে নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের তখনকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরুতে সামরিক হস্তক্ষেপ থেকে সরে আসার দিকেই ইঙ্গিত দিলেও পরে বলেছিলেন, সামরিক বিকল্প এখনো মুছিয়ে ফেলা হয়নি এবং প্রয়োজনে ওই অঞ্চলে নৌবহর পাঠানো হবে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছে, যেকোনো আগ্রাসনের জবাবে তারা ‘পুরোপুরি ও দাঁতভাঙা’ প্রতিরোধ করবে।

    অবস্থা অনিশ্চিততা ও তথ্যের ঘাটতির মধ্যেই আছে। বিভিন্ন সূত্রে প্রকাশিত হতাহত ও গ্রেফতারির সংখ্যা মিলিয়ে মানবাধিকার কর্মকর্তারা বলছেন, ইন্টারনেট কর্তনের কারণে বাস্তব ছবি আঁকার কাজ ব্যাহত হচ্ছে এবং সত্যতা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি সংখ্যাকে সতর্কতার সঙ্গে দেখা উচিত। এ মহামানুষিক সংকটের সামনে ইরানের সাধারণ মানুষ ও পরিবারগুলো গভীর শোক ও উদ্বেগের মুখে রয়েছে।

  • ইরানে হামলার জন্য ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না সংযুক্ত আরব আমিরাত

    ইরানে হামলার জন্য ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না সংযুক্ত আরব আমিরাত

    সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ঘোষণা করেছে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো শত্রাত্মক বা সামরিক হামলার জন্য তাদের আকাশসীমা, ভূখণ্ড বা জলসীমা ব্যবহার করতে দেবে না। এই অবস্থান দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার প্রকাশ করা এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

    বিবৃতিতে ইউএই সরকার আরও বলেছে যে তারা এমন কোনও আক্রমণে লজিস্টিক বা অন্য কোনো ধরনের সহায়তাও প্রদান করবে না। মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে উত্তেজনা কমানো, সংলাপ চালিয়ে যাওয়া, আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি আনুগত্য এবং রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করাকে বর্তমান সংকট মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হিসেবে দেখছে।

    বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে সংযুক্ত আরব আমিরাত অঞ্চলকে উত্তেজনামুক্ত রাখার জন্য নিরপেক্ষ অবস্থান পালন করবে এবং কোন পক্ষের পক্ষপাতদুষ্ট সহায়তা প্রদানের পথে যাবে না।

    পটভূমি হিসেবে বলা হয়, অর্থনৈতিক অসন্তোষের সূত্রে গত বছরের ডিসেম্বরে ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয় এবং চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি তা ব্যাপক আকার প্রাপ্ত হয়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) বলেছে, সাম্প্রতিক বিক্ষোভে ইরানে অন্তত ছয় হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন বলে তাদের তথ্য নিশ্চিত হয়েছে।

    ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে ক্ষমতায় থাকা ধর্মীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধেই ব্যাপক প্রতিবাদ-প্রতারণা ও দমন-পীড়ন অব্যাহত আছে। দেশটির বিরোধী রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোও অনেক সময় পরিবর্তনের জন্য বাইরের হস্তক্ষেপকে বিকল্প হিসেবে দেখছে।

    বিশ্বমঞ্চে ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রও সতর্ক নজর রাখছে। শুরুতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক হস্তক্ষেপ থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিলেও পরে তিনি পুনরায় বলেছেন, তা এখনও একটি বিকল্প হিসেবে রয়েছে। আবুধাবির কাছে আল-ধাফরা বেসসহ আমিরাতে কয়েকটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হাজার হাজার মার্কিন সৈন্য মোতায়েন রয়েছে, এবং গত সপ্তাহে একটি মার্কিন নৌবহরের উপসাগরীয় অঞ্চলের দিকে অগ্রগতির কথাও বলা হয়েছিল।

    বিশ্লেষকদের মতে, ইউএই সরকারের এই ঘোষণার উদ্দেশ্য অঞ্চলকে সরাসরি সংঘাতে টেনে না নিয়ে সংকট প্রশমনে বৈশ্বিক ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করা। সংযুক্ত আরব আমিরাত আপাতত কূটনৈতিক পথ এবং আন্তর্জাতিক আইনকে সম্মান প্রদানে জোর দিচ্ছে।

  • লক্ষাধিক কর্মসংস্থান করে বেকারমুক্ত সমাজ গড়ার প্রতিশ্রুতি

    লক্ষাধিক কর্মসংস্থান করে বেকারমুক্ত সমাজ গড়ার প্রতিশ্রুতি

    বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৩ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল বলেছেন, নির্বাচিত হলে তিনি ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবেন। খুলনার শিল্পঐতিহ্যকে আধুনিকায়ন করে নতুন বিনিয়োগের পরিবেশ গড়ে তুললেই এটি সম্ভব বলে তিনি মনে করেছেন।

    সোমবার খুলনা মহানগরের ৫ নম্বর ওয়ার্দের বিভিন্ন এলাকায় অনুষ্ঠিত ধারাবাহিক পথসভা ও গণসংযোগে এসব কথা বলেন বকুল। গতকাল একই ওয়ার্ডে এলাকার উদ্যোগে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া ও আলোচনা সভায় তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

    বকুল খুলনার শিল্পাঞ্চল ও এর অর্থনৈতিক গুরুত্বের দিকে লক্ষ করে বলেন, বর্তমান সময়ে তরুণ প্রজন্মের সবচেয়ে বড় সংকট হলো বেকারত্ব। এটি একজন ব্যক্তির সমস্যা নয়; পুরো পরিবার ও সমাজকে প্রভাবিত করে। তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে তার মেয়াদের শুরু থেকেই পরিকল্পিত শিল্পায়ন ও কারিগরি শিক্ষার প্রসারের মাধ্যমে বেকারত্ব দূর করার জন্য কাজ শুরু করবেন। তার এই সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি উপস্থিত হাজারো নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আশা জাগিয়েছে।

    বকুল ভোটারদের আশ্বস্ত করে বলেন, ধানের শীষের বিজয় হলে খুলনার মেহনতি মানুষের ভাগ্য বদলে যাবে এবং উন্নয়নের সুফল প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দেওয়া হবে। তিনি সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটকেন্দ্রে এসে গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

    দোয়া অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শেখ মোঃ আব্দুল মান্নান। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদী, সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মোঃ চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেন, সাবেক চেয়ারম্যান মীর কায়ছেদ আলী, দৌলতপুর থানা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক শেখ মোশাররফ হোসেন, বিশিষ্ট শিল্পপতি সিআইপি শেখ ফারুক হোসেন ও বিজেএ চেয়ারম্যান খন্দকার আলমগীর কবির।

    আরও উপস্থিত ছিলেন দৌলতপুর থানা বিএনপির সভাপতি মুর্শিদি কামাল, সাধারণ সম্পাদক শেখ ইমাম হোসেন, ইমাম মুফতি নাজমুল হাসান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আকুঞ্জি হারুন রশিদসহ দলের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী ও সমর্থক।

  • যারা ‘না’ ভোটের পক্ষে কথা বলছে, তারা দুর্নীতি টিকিয়ে রাখতে চায়: মিয়া গোলাম পরওয়ার

    যারা ‘না’ ভোটের পক্ষে কথা বলছে, তারা দুর্নীতি টিকিয়ে রাখতে চায়: মিয়া গোলাম পরওয়ার

    খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, দাড়িপাল্লাকে বিজয়ী না করলে গত ৫৪ বছরে সৃষ্টি হওয়া দুর্ভোগ, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা চলতেই থাকবে। শনিবার ছাত্রসমাজ বিভিন্ন নির্বাচনে চাঁদাবাজদের পরাজিত করেছে—এ থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামী জাতীয় নির্বাচনে দুর্নীতিবাজ ও চাঁদাবাজদের পরাস্ত করা সম্ভব হবে বলে তিনি দাবি করেন।

    আজ সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ফুলতলা উপজেলার পটিয়াবান্দা, ধোপাখোলা, পিপরাইল, ডুমুরিয়া উপজেলার মান্দ্রা, দহখোলা, পাকুড়িয়া, রুদাঘরা ও শৈলগাতি এলাকায় নির্বাচনী জনসভা, মিছিল, উঠান বৈঠক ও গণসংযোগের সময় এসব কথা বলেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি ভোটারদের নৈতিক ও চরিত্রনির্ভর নেতৃত্বের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান এবং দলমতকে ছাপিয়ে দেশের কল্যাণে কাজ করার অনুরোধ করেন।

    তিনি বলেন, “ধানের শীষ, নৌকা, লাঙ্গল রাষ্ট্র চালাতে পারলে দাড়িপাল্লাও পারবে—এটা আমাদের অধিকার।” একই সঙ্গে বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে শত্রুতা নয়, সৌহার্দ্য বজায় রেখে দেশপ্রীতির আহ্বান জানান তিনি। আগামী নির্বাচনকে গণভোট হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, রাষ্ট্র সংস্কার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে ভোটে ‘হ্যাঁ’ দিতে হবে। যারা ‘না’ ভোটের পক্ষে কথা বলছে, তারা বর্তমান দুর্নীতি-চাঁদাবাজির ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে চায়—এ মন্তব্যও করেন তিনি।

    ভোটের দিন দ্রুত কেন্দ্র এসে আগেভাগে ভোট দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “আগে ভোট দিয়ে তারপর বাড়ি ফিরবেন। যুবকদের দায়িত্ব থাকবে ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়া, যাতে কোনো ভোট ডাকাতি বা সন্ত্রাস না হয়।”

    এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন খুলনা জেলা জামায়াতে ইসলামী সহকারী সেক্রেটারি মুন্সি মইনুল ইসলাম, এডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্লা, ফুলতলা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান প্রিন্সিপাল গাওসুল আযম হাদী, ফুলতলা উপজেলা আমীর অধ্যাপক আব্দুল আলিম মোল্লা, ডুমুরিয়া উপজেলা আমীর মাওলানা মোক্তার হোসেন, নায়েবে আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি আব্দুর রশীদ বিশ্বাস, আব্দুল কাইয়ুম আল ফয়সাল, ফুলতলা ইউপি চেয়ারম্যান মাওলানা সাইফুল হাসান, হিন্দু কমিটির নেতারা অমল মন্ডল, অসিত মন্ডলসহ স্থানীয় নেতারা ও কর্মীরা।

    নির্বাচিত হলে তাঁর প্রাথমিক অগ্রাধিকার হবে বিল ডাকাতিয়ার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসন—এ কথা জানিয়ে সাবেক এমপি বলেন, “আমি নিজেও বিল ডাকাতিয়ার লোক। এখানেই আমাদের জমি-জমা, ফসল। এই বিল ডুবে গেলে আপনারা কষ্ট পান, আমিও কোন্দল পাই। তাই আল্লাহ যদি আমাকে ক্ষমতা দেন, প্রথম কাজ হবে পানির নিষ্কাশন।” তিনি আরও জানান, জলাবদ্ধতা নিরসনের পরে ভাঙাচোরা রাস্তা, মসজিদ-মন্দিরসহ এলাকাভিত্তিক সার্বিক উন্নয়নে কাজ করবেন। ফুলতলাকে নিজের জন্মস্থান হিসেবে উল্লেখ করে তিনি অতীতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে অঞ্চলটিকে সুন্দরভাবে গড়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

    দুর্নীতি প্রসঙ্গে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গত ৫৪ বছরে যারা দেশ শাসন করেছে তাদের কেউই দুর্নীতিমুক্ত ছিল না। তিনি বলেন, প্রত্যেক সরকারের আমলেই দুর্নীতি, দলীয়করণ ও বিরোধী দমননীতি দেখা গেছে এবং তাই পুরনো রাজনৈতিক নেতৃত্বই পরিবর্তন করা প্রয়োজন।

    ভোট কেনার জন্য দেওয়া কালো টাকা প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, টাকা দিয়ে মানুষের বিবেক কেনা যায় না; ভোট বিক্রি করা মানে ভবিষ্যৎ বিক্রি করা। যারা ভোট কেনে, তাদের দেওয়া অর্থ সমাজকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করার পরামর্শও দেন তিনি।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আসন্ন নির্বাচন নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুবর্ণ সুযোগ। বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক রাষ্ট্র গড়তে পুরনো রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরিবর্তন অপরিহার্য। ১০১ দলীয় জোট দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলে দুর্নীতি নির্মূল, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়া হবে—এই অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।

  • পাকিস্তানের বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ: চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে শুক্রবার বা আগামী সোমবার

    পাকিস্তানের বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ: চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে শুক্রবার বা আগামী সোমবার

    পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ সম্পর্কিত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আগামী শুক্রবার অথবা আগামী সপ্তাহের সোমবার নেওয়া হবে—এই জানান দিয়েছেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (টুইটার)-এ এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

    বাংলাদেশের বিশ্বকাপ বয়কটের পর বিশ্ব ক্রিকেটের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। দলের ঘোষণা করার পর থেকেই পাকিস্তানও বয়কটের ইঙ্গিত দেখিয়েছে বলে জানান মহসিন নাকভি, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তিনি প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের কাছে ছেড়ে দিয়েছেন।

    নাকভি আজ সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বাংলাদেশ সময় বিকেল приблизত ৫টায় প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। বৈঠক শেষে এক টুইট পোস্টে তিনি লিখেছেন, “আমি প্রধানমন্ত্রীকে আইসিসি সংক্রান্ত বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে জানিয়েছি। তিনি সব বিকল্প খোলা রেখে বিষয়টি সমাধানের নির্দেশ দিয়েছেন। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে—চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে শুক্রবার অথবা আগামী সোমবার।”

    এর আগে নাকভি প্রধানমন্ত্রীকে এই বিষয়ে ব্রিফ করেন — এ খবর প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের এক বিবৃতিতেও বলা হয়েছে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, “আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যকার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বিস্তারিতভাবে অবহিত করা হয়েছে।”

    পটভূমিতে রয়েছে বাংলাদেশ মাঠে না নামার সিদ্ধান্ত। মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়ার পর নিরাপত্তা শঙ্কায় বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলবে না বলে ঘোষণা দেয় এবং ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করে আইসিসির কাছে। তবে আইসিসি নিরাপত্তা ঝুঁকি খুঁজে না পাওয়ায় বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত পাল্টাতে বলেছিল; না মানলে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার হুমকিও ছিল। বাংলাদেশ তাদের অবস্থানে অটল থাকায় আইসিসি স্কটল্যান্ডকে বাংলাদেশ ওয়ার্জ করা ম্যাচগুলোতে সুযোগ দেয়।

    এই পুরো সময়েই পাকিস্তান বাংলাদেশকে সমর্থন করে এসেছে। নাকভি জানিয়েছেন, পাকিস্তানও বয়কট নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে, কিন্তু সবকিছু সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। আজকের বৈঠকে সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়েছে এবং শুক্রবার বা আগামী সোমবার চূড়ান্ত ঘোষণা আসার আশা রাখা হচ্ছে।