Blog

  • ব্যাংকগুলো খেলাপিদের নাম-ছবি প্রকাশ ও বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা চায়

    ব্যাংকগুলো খেলাপিদের নাম-ছবি প্রকাশ ও বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা চায়

    ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের তীক্ষ্ণ বৃদ্ধি নিরসনে একজোট প্রস্তাব দিয়েছে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি)। গত ১২ নভেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সঙ্গে আলোচনার পরে সংগঠনটি এইরকম বিস্তারিত পদক্ষেপগুলোর সুপারিশ ব্যাংককে জমা দিয়েছে।

    এবিবির মূল আকাংক্ষাগুলোতে উল্লেখযোগ্য হল: খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের নাম ও ছবি প্রকাশের অনুমতি, তাদের আদালতের নির্দেশ ছাড়া বিদেশে যাত্রা নিষিদ্ধ করা এবং খেলাপিরা যেন কোনো ব্যবসায়িক সংগঠনের নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে—এরকম বিধান করা। এসব পদক্ষেপ গ্রহণ করলে খেলাপি ঋণের দ্রুত নিষ্পত্তি ও পুনরাবৃত্তি রোধে সহায়তা হবে বলে তারা মনে করছে।

    ঋণখেলাপি কমাতে এবিবির তিনটি প্রস্তাব

    1) আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী কিছু খেলাপি ঋণ আংশিকভাবে অবলোপনের সুযোগ দেওয়া হোক।

    2) লিয়েন করা শেয়ার নগদায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সহযোগিতা নিশ্চিত করুক।

    3) মৃত্যু, মারাত্মক অসুস্থতা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত, গৃহ বা ক্রেডিটকার্ড সংক্রান্ত সুদ মওকুফ করে দ্রুত ঋণ আদায় সক্ষম করার জন্য হেড অব আইসিসির মতামত গ্রহণের শর্ত শিথিল করা হোক।

    নগদ আদায়ে প্রস্তাবিত নির্দেশনা

    – খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের ব্যাংক অথবা আদালতের ছাড়া বিদেশে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা।

    – খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের নাম ও ছবি সম্বলিত তালিকা ব্যাংকগুলোকে প্রকাশ করার অনুমতি দেয়া।

    – খেলাপিদের ব্যবসায়িক সমিতির নির্বাচনে অংশগ্রহণ অযোগ্য ঘোষণা করা।

    বন্ধকী সম্পদ বিক্রিতে সাফলতা বাড়াতে প্রস্তাব

    – ব্যাংকের নিলামে বিক্রয় বা কেনা সম্পত্তি হস্তান্তরের সময় প্রযোজ্য সকল আয়কর ও ভ্যাট প্রত্যাহার করা হোক।

    – নিলাম উৎসাহিত করতে নিলাম ক্রেতাদের আয়কর রেয়াত বা অন্যান্য প্রণোদনা দেওয়া হোক।

    – জেলা প্রশাসকের অনুমোদনের প্রয়োজনীয়তা স্থানভেদে বাতিল করা হোক যাতে নিলাম প্রক্রিয়া দ্রুত হয়।

    – সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলো নিলামে বিক্রিত সম্পত্তির হস্তান্তরে সর্বোচ্চ সহযোগিতা নিশ্চিত করুক।

    – বন্ধকদাতার অনুপস্থিতিতে ব্যাংক কর্তৃক জমির খাজনা ও জরিপ সম্পন্ন করার সুবিধা নিশ্চিত করা হোক।

    – অর্থঋণ আদালতের মাধ্যমে ব্যাংকের নামে মালিকানা হস্তান্তর হলে নামজারি ও বায়নানামা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিনা খরচে সম্পন্ন করার সুবিধা নিশ্চিত করা।

    মামলা বাস্তবায়নে প্রস্তাবিত দফা

    – খেলাপি ঋণগ্রহীতা ও জামানতদাতাদের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে থাকা আমানত, সঞ্চয়পত্র, মালিকানাধীন সম্পদের তথ্য, আয়কর রিটার্ন, ওয়ারিশ সনদ, জন্ম ও মৃত্যু সনদ, পাসপোর্টের তথ্য আদালতের হস্তক্ষেপ ছাড়া দ্রুতগুলো দিতে সক্ষম করার বিধান।

    – ব্যাংক বা আদালতের বিরুদ্ধে আবেদন করলে মামলার সঙ্গে নির্দিষ্ট পরিমাণ ডাউনপেমেন্ট জমা দেওয়ার শর্ত আরোপ করা।

    – সিআইবি প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালত থেকে স্টে-অর্ডার প্রাপ্তির সুবিধা আইনি সীমার মধ্যে সীমিত করা হোক।

    – উচ্চ আদালতের স্টে-অর্ডারে কিস্তিভিত্তিক অর্থপরিশোধ নিশ্চিত করা এবং নির্দেশনা না মানলে সেটিকে বাতিল হিসেবে গণ্য করার বিচারপ্রক্রিয়া নির্ধারণ করা।

    – উচ্চ আদালত থেকে স্টে-অর্ডার প্রদানে উভয় পক্ষের শুনানি নিশ্চিত করার অনুরোধ।

    – যে জেলাগুলোতে খেলাপি ঋণগ্রহীতার সংখ্যাবেশি, সেখানে দ্রুত পৃথক অর্থঋণ আদালত স্থাপনের সুপারিশ।

    – থানায় খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের আটকাদেশ তৎক্ষণাত কার্যকর করা এবং আদালত থেকে থানায় আটকের আদেশ সাত দিনের মধ্যে প্রেরণ নিশ্চিত করা।

    – অর্থঋণ মামলায় ব্যক্তিগত হাজিরা ছাড়া মামলা পরিচালনার সুযোগ সীমিত করা।

    – দেওয়ানি আটকাদেশের স্থায়ীকরণ ছয় মাসের পরিবর্তে ঋণের পরিমাণ অনুযায়ী সর্বোচ্চ সাত বছরে উন্নীত করা।

    – দ্রুত সময়ের মধ্যে অর্থঋণ আইনে প্রস্তাবিত সংশোধন প্রণয়ন।

    খেলাপি ঋণ না বাড়াতে অবকাঠামোগত প্রস্তাব

    – কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে ভূমি জরিপকারী ও মূল্যায়নকারীর তালিকা জরুরি ভিত্তিতে দাবি ও প্রকাশ।

    – নিবন্ধক বা তহবিল অফিসে বন্ধকী সম্পদের তালিকা সহজে যাচাই করার ব্যবস্থা করণীয়।

    – সিআইবি ডেটাবেসের মতো ব্যক্তিগত সম্পদের ডেটাবেস তৈরি করে তা সহজে যাচাইকরণযোগ্য করা।

    চূড়ান্ত চিত্র

    ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ছয় লাখ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের প্রায় ৩৫.৭৩ শতাংশ। মোট ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৮ লাখ ৩ হাজার ৮৪০ কোটি টাকা। ব্যাংকাররা মনে করেন, উপরে উল্লিখিত প্রস্তাবনাগুলো কার্যকর হলে খেলাপি ঋণের বৃদ্ধির ধারা ঠেকানো ও সুদমুক্তি, বিক্রয় ও আদায় প্রক্রিয়া দ্রুততর করা সম্ভব হবে। নীতি যদি তড়িৎভাবে গ্রহণ না করা হয়, তবে খেলাপিরা সহজ উপায়ে দায় এড়িয়ে পুনরায় ব্যবস্থার ফাঁকফোকরকে কাজে লাগাতে পারে—এমন আশঙ্কা ব্যক্ত করেছে তারা।

  • মোদির উপস্থিতিতে ভারতের সংসদে বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা

    মোদির উপস্থিতিতে ভারতের সংসদে বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা

    ভারতের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিনেই সংসদের উভয় কক্ষে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। বুধবার বাজেট অধিবেশনের শুরুতেই রাজ্যসভা ও লোকসভায় শোকপ্রস্তাব পাঠ করে এবং এক মিনিট নীরবতা পালন করে departed নেতাদের স্মরণ করা হয়। এ সময় বাংলাদেশ হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহও সংসদে উপস্থিত ছিলেন।

    রাজ্যসভায় শোকপ্রস্তাব পাঠ করেন চেয়ারম্যান সি পি রাধাকৃষ্ণন; নথি পেশ হওয়ার আগেই তিনি প্রয়াতদের উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সভায় উপস্থিতরা খালেদা জিয়ার স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নিস্তব্ধতা পালন করেন, এমনটাই জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই। সেখানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও উপস্থিত ছিলেন এবং রাজ্যসভার অন্য সদস্যরা দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জানান।

    লোকসভায়ও শোকপ্রস্তাব পাস করা হয়। পাশাপাশি মহারাষ্ট্র উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারসহ সম্প্রতি প্রয়াত ভারতের পাঁচজন বিশিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে খালেদা জিয়ার স্মরণে শোকবার্তা পাঠ করেন স্পিকার ওম বিড়লা। স্পিকার বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকা—বিশেষ করে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক জোরদারে তার অবদান—স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি আরও বলেন, প্রতিবেশী দেশের প্রভাবশালী নেতাদের স্মরণ করা ভারতের সংসদীয় ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

    বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে একাধিকবার কাজ করেছেন এবং বহু বছর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক রাজনীতিতেও তার প্রভাব ছিল। তিনি ৩০ ডিসেম্বর ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন; পরদিন জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে অনুষ্ঠিত জানাজার পরে তাকে স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে দাফন করা হয়।

    খালেদা জিয়ার মৃত্যু সংবাদ প্রকাশ পেতেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক্স-এ শোক জানান এবং বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান (বর্তমানে চেয়ারম্যান) তারেক রহমানকে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি দেন। পরবর্তীতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ৩১ ডিসেম্বর ঢাকায় গিয়ে তারেক রহমানের কাছে ভারতের শোকবার্তা হস্তান্তর করেন। এছাড়া ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ১ জানুয়ারি দিল্লিতে বাংলাদেশ হাই কমিশনে গিয়ে শ্রদ্ধা জানান এবং শোকবইতে খালেদা জিয়ার প্রতি সম্মান জ্ঞাপন করেন।

    ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো এই ধরনের কূটনৈতিক উদ্যোগকে ব্যাখ্যা করেছে—বিশেষত চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর দুই দেশের মধ্যে যে টানাপড়েন দেখা গেছে, সেসবের প্রেক্ষিতে দিল্লির এই শ্রদ্ধা ও যোগাযোগকে কৌশলগত উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    বাজেট অধিবেশনের আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সংসদের যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দিয়েছেন; তার পরেই প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা উপস্থিত থেকে পারম্পরিক বিদায় জানান এবং অধিবেশন শুরুর নিয়মিত কার্যক্রম শুরু হয়। সংসদের এই অধিবেশন মোট ৬৫ দিনে ৩০ কার্যদিবসের জন্য চলবে এবং ২ এপ্রিল শেষ হওয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে। ১৩ ফেব্রুয়ারি কক্ষদ্বয় ছুটিতে যাবে এবং ৯ মার্চ পুনরায় অধিবেশন শুরু হবে। এর মধ্যে স্থায়ী সংসদীয় কমিটিগুলো বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অনুদানের দাবি (Demands for Grants) পর্যালোচনা করবে।

    অধিবেশনের প্রথম পর্যায়ে মূলত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের কেন্দ্রীয় বাজেট সম্পর্কিত আর্থিক কার্যক্রম এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব আলোচনা করা হবে। পরে অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় আইনি প্রণয়ন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।

    অর্থনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে ভারতের অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২৯ জানুয়ারি উপস্থাপন করা হবে এবং কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬-২৭ পেশ করা নির্ধারিত আছে ১ ফেব্রুয়ারি। অর্থমন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক বিষয়ক বিভাগ এই সমীক্ষা প্রস্তুত করেছে; এতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের (এপ্রিল–মার্চ) অর্থনীতির অবস্থা, বিভিন্ন সূচকের বিশ্লেষণ এবং আগামী অর্থবছরের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হয়েছে।

  • ইরান উত্তেজনার মাঝে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যে বিশাল সামরিক মহড়া

    ইরান উত্তেজনার মাঝে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যে বিশাল সামরিক মহড়া

    ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা তীব্র হওয়ার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় ব্যাপক সামরিক মহড়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এই মহড়ার মাধ্যমে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষার পাশাপাশি বিমান ও নৌযুদ্ধ উপকরণ দ্রুত মোতায়েন এবং যুদ্ধ পরিস্থিতিতে টিকে থাকার সক্ষমতা যাচাই করা হবে।

    মঙ্গলবার মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, ‘‘মার্কিন বিমানবাহিনী মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে বহু দিনের একটি প্রস্তুতি মহড়া পরিচালনা করবে, যাতে সেন্ট্রাল কমান্ড এলাকা জুড়ে যুদ্ধ বিমান মোতায়েন, শত্রু বিমান বাহিনীকে ছত্রভঙ্গ করা এবং যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নিজেদের টিকে থাকার ক্ষমতা পরীক্ষা করা যাবে।’’ বিবৃতিতে বলা হয়েছে মহড়াটি কয়েক দিন চলবে এবং আঞ্চলিক অংশীদার ও বেসামরিক এবং সামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ে বাস্তবায়িত হবে।

    সেন্টকম বলেছে, নবম বিমান বাহিনী (এয়ার ফোর্সেস সেন্ট্রাল) নেতৃত্বে এই মহড়া দ্রুত চলমান বিমান এবং কর্মীদের জন্য পদ্ধতি যাচাই, বিচ্ছিন্ন অবস্থান থেকে পরিচালনা এবং ন্যূনতম লজিস্টিক পদচিহ্ন রেখে মিশন বজায় রাখায় গুরুত্ব দেবে।

    মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের বিমান বাহিনী কেন্দ্রীয় এবং সম্মিলিত বাহিনী বিমান কম্পোনেন্টের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল ডেরেক ফ্রান্স বলেছেন, ‘‘আমাদের বিমানবাহিনী প্রমাণ করছে যে তারা কঠিন পরিস্থিতিতে — নিরাপদে, সুনির্দিষ্টভাবে এবং আমাদের অংশীদারদের সঙ্গে — শত্রু বিমান বাহিনীকে ছত্রভঙ্গ করে এবং যুদ্ধ অভিযান পরিচালনা করতে সক্ষম।’’

    এরই মধ্যে এ এলাকায় মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এবং একাধিক যুদ্ধজাহাজ ইরানের আরও কাছে অবস্থান করছে। সেন্টকম আগেই জানিয়েছে, দক্ষিণ চীন সাগর থেকে যাত্রা করে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন নেতৃত্বে একটি বড় নৌবহর ভারত মহাসাগরের পথ ধরে মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের জলসীমায় প্রবেশ করেছে, তবে তা এখনও সরাসরি ইরানের বিরুদ্ধে কোনো আক্রমণের জন্য প্রস্তুত নয়।

    রণতরীতে এফ-৩৫ ও এফ/এ-১৮ টাইপের যোদ্ধা বিমান, ইএ-১৮জি গ্রোলার ইলেকট্রনিক-ওয়ারফেয়ারের প্লেন এবং গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার রয়েছে, যা বিমান ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সক্ষমতা বাড়ায়। ওপেন-সোর্স ফ্লাইট ট্র্যাকারগুলোর তথ্য অনুযায়ী, জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি বিমান ঘাঁটিতে এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের একটি স্কোয়াড্রন মোতায়েন করা হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অভিযানের জন্য বিকল্প পথ থাকবে, বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলো ইতোমধ্যে তাদের আকাশসীমা বা সুবিধা ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবহার করতে দেয়নি।

    এই মোতায়েন ও মহড়ার আচরণকে ঘিরে ইরানের ভেতরও উত্তেজনা বাড়ছে। মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত এক উপসাগরীয় কর্মকর্তা বলেছেন, চলতি সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও সামরিক কমান্ডারদের লক্ষ্য করে বড় পরিসরের আক্রমণের পরিকল্পনা করেছে, এবং এজন্য সামরিক সরঞ্জাম ও গোলাবারুদের সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে। মিডল ইস্ট আই সূত্রে ওই কর্মকর্তা আরও জানান, এই সপ্তাহের শেষের দিকে আক্রমণের সম্ভাবনা রয়েছে, যদিও সময়সূচি বদলানোর সম্ভাবনাও আছে।

    কোঁফাইনাশনে তিনি জানান, ‘ইরানে হামলা করলে দেশটির পাল্টা প্রতিক্রিয়া কেমন হবে’—এই বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তরে আলোচনায় ভিন্নমত দেখা যাচ্ছে।

    উভয়পক্ষের অবস্থান কড়াকড়ি হওয়ায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে এবং তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে—যুক্তরাষ্ট্র হামলা করলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে প্রতিশোধাত্মক হামলার সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ঘোষণা করেছে যে তারা ইরানের বিরুদ্ধে কোনও সামরিক অভিযানে তাদের আকাশসীমা, ভূখণ্ড বা জলসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেবে না।

    ঘটনাবলীর তথ্যসূত্র: সেন্টকম, ওপেন-সোর্স ফ্লাইট ট্র্যাকার, মিডল ইস্ট আই, ইরান ইন্টারন্যাশনাল।

  • নাগরিকবান্ধব আচরে দায়িত্ব পালনের গুরুত্বে জোর দিলেন সেনা প্রধান

    নাগরিকবান্ধব আচরে দায়িত্ব পালনের গুরুত্বে জোর দিলেন সেনা প্রধান

    সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি মূল্যায়ন ও আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’ (বেসামরিক ক্ষমতা সমর্থন) এর আওতায় মোতায়েন থাকা সেনা সদস্যদের কাজকর্ম পরিদর্শন করতে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান খুলনা পরিদর্শন করেছেন।

    পরিদর্শনের সময় তিনি সরেজমিনে কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন, মোতায়েনকৃত সেনা সদস্যদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন এবং বেসামরিক প্রশাসনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। গতকাল বুধবার দুপুরে খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সভায় তিনি ঊর্ধ্বতন সামরিক, বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসন এবং বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসেন।

    সভার আলোচনায় আসন্ন নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় ও সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। সেনা প্রধান পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা, শৃঙ্খলা, ধৈর্য এবং নাগরিকবান্ধব আচরণের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করার ওপর বিশেষ জোর দেন।

    পরিদর্শনকালে জেনারেল অফিসার কমান্ডিং, আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড; জিওসি, ৫৫ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার, যশোর এরিয়া এবং সেনাসদর ও যশোর এরিয়ার উর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি খুলনা বিভাগীয় কমিশনার, বেসামরিক প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও সেখানে ছিলেন।

  • সাতক্ষীরার চার আসনে ১৭৯টি ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র, সিসি ক্যামেরা ও কড়া নিরাপত্তা নিশ্চিত

    সাতক্ষীরার চার আসনে ১৭৯টি ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র, সিসি ক্যামেরা ও কড়া নিরাপত্তা নিশ্চিত

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরার চারটি আসনে মোট ৬০৯টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৭৯টিকে গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে জেলা প্রশাসন। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে এসব কেন্দ্রে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে এবং জেলার সব কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানো হবে বলে জানানো হয়েছে।

    জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা (ডিএসবি) জানায়, এসব কেন্দ্রগুলিতে মোট ভোটকক্ষের সংখ্যা ৩ হাজার ৪১০টি। এর মধ্যে স্থায়ী কেন্দ্র ৩ হাজার ২৮১টি এবং অস্থায়ী কেন্দ্র ১২৯টি। ঝুঁকিপূর্ণ ১৭৯টি কেন্দ্রের বাইরে ৪৩০টি কেন্দ্রকে সাধারণ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে।

    আসনভিত্তিকভাবে কেন্দ্রের বিস্তার হলো—

    – সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া): মোট ১৬৮টি কেন্দ্র; ঝুঁকিপূর্ণ ৫০; সাধারণ ১১৮।

    – সাতক্ষীরা-২ (সদর-দেবহাটা): মোট ১৮০টি কেন্দ্র; ঝুঁকিপূর্ণ ৬০; সাধারণ ১২০।

    – সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি-কালিগঞ্জ): মোট ১৬৫টি কেন্দ্র; ঝুঁকিপূর্ণ ৪০; সাধারণ ১২৫।

    – সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর): মোট ৯৬টি কেন্দ্র; ঝুঁকিপূর্ণ ২৯; সাধারণ ৬৭।

    জেলা নির্বাচন অফিস জানিয়েছে, চারটি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ১,৮৩২,৭৭৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৯১৭,৮৪৮ জন, নারী ভোটার ৯১৪,৯১৪ জন এবং হিজড়া ভোটার ১৩ জন।

    জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ মাসুদুর রহমান বলেন, নির্বাচনের সঙ্গে সম্পর্কিত সব কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানো হবে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ইনস্টলেশন কাজ চলছে; কাজটি বর্তমানে প্রায় ৭৫–৮০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী সপ্তাহেই সব কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন শেষ হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

    সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার মোঃ আরেফিন জুয়েল জানান, কোন কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে তা কেবল নিরাপত্তাজনিত কারণেই নয়; দূরত্ব, ভবনের অবস্থা ও অন্যান্য চলাচলের সমস্যাও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। জেলার চারটি আসনে শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে পুলিশ ও প্রশাসন মিলিয়ে সব ধরনের প্রস্তুতি বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

    জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে আশা করা হচ্ছে, সিসি ক্যামেরা ও শক্তপোক্ত নিরাপত্তা রেখার মাধ্যমে নির্বাচনি পরিবেশকে শান্ত, স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীলভাবে পরিচালনা করা যাবে।

  • মোস্তাফিজ পেলেন সুখবর, আইসিসি টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে উঠে সাতে

    মোস্তাফিজ পেলেন সুখবর, আইসিসি টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে উঠে সাতে

    বছরের শুরুটা মোস্তাফিজুর রহমানের জন্য বেশ উত্থান-পতনের মিলনরূপ ছিল। বিরাট আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন তিনি—রেকর্ড ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে আইপিএলে কেনার পরও কলকাতা নাইট রাইডার্সের স্কোয়াড থেকে তাঁর নাম বাদ পড়ে পড়ার ঘটনা ক্রিকেট দুনিয়ায় তুমুল আলোচনা জাগিয়েছে। কীর্তি আজাদ, রবীচন্দ্রন অশ্বিনসহ কয়েকজন ভারতীয় তারকাও এই ইস্যুতে মন্তব্য করেছেন। এমন উত্থান-পতনের মাঝেই মোস্তাফিজ এবার এক ভালো খবর পেয়েছেন।

    নতুন বছরের এক মাসও কাটেনি, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (আইসিসি)-র সাপ্তাহিক র‍্যাঙ্কিংয়ে এক ধাপ এগিয়ে মোস্তাফিজ আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি বোলারদের তালিকায় এখন সাত নম্বরে চলে এসেছেন। তাঁর রেটিং পয়েন্ট ৬৬৫। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বশেষ তিনি খেলেছেন গত বছরের ডিসেম্বরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি; গত বছর টি-টোয়েন্টিতে মোট ২০ ম্যাচে তিনি ২৬ উইকেট নিয়েছেন এবং ইকোনমি ছিল ৬.০৯।

    মোস্তাফিজের সঙ্গে ঢেউ তুলেছে আরও একজন বাংলাদেশি—রিশাদ হোসেনও এক ধাপ এগিয়ে এখন টি-টোয়েন্টি বোলারদের র‍্যাঙ্কিংয়ে ১৭ নম্বরে অবস্থান করেছেন। রিশাদের রেটিং পয়েন্ট ৬১৯। গত বছর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ৩৩ উইকেট নিয়ে দেশের মধ্যে সেরা ছিলেন তিনি।

    পুরো তালিকায় আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনও দেখা গেছে। পাকিস্তানের লেগস্পিনার আবরার আহমেদ ৬৯১ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে এখন চারে অবস্থান করছেন; একই রেটিং পয়েন্টে নিউজিল্যান্ডের জ্যাকব ডাফিও চারে যোগ দিয়েছেন। আফগানিস্তানের তরুণ স্পিনার মুজিব উর রহমান পাঁচ ধাপ এগিয়ে বোলারদের তালিকায় ৯ নম্বরে উঠে এসেছেন—তার রেটিং ৬৫৬। সম্প্রতি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে সিরিজে মুজিবের অসাধারণ পারফরম্যান্স (সিরিজে সর্বোচ্চ ৬ উইকেট, যার মধ্যে একটিতে হ্যাটট্রিক) তাকে এই অগ্রগতিতে সহযোগিতা করেছে।

    আজ বিশাখাপত্তনমে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭:৩০ মিনিটে শুরু হচ্ছে ভারত-নিউজিল্যান্ড সিরিজের চতুর্থ টি-টোয়েন্টি; ম্যাচ শুরুর আগেই ভারতের ব্যস্ত ক্রিকেটাররাও র‍্যাঙ্কিংয়ে কিছু সুখবর পেয়েছেন। জসপ্রীত বুমরাহ চার ধাপ উন্নতি করে টি-টোয়েন্টি বোলারদের তালিকায় ১৩ নম্বরে উঠে এসেছেন—নিউজিল্যান্ড সিরিজে দুই ম্যাচে ৬.৫৭ ইকোনমিতে তিনি ৩ উইকেট নিয়েছেন, এবং গুয়াহাটিতে তৃতীয় ম্যাচে করেছিলেন ৩ উইকেট (৩/১৭)।

    ভারতীয় পেসার বরুণ চক্রবর্তীর ছাড়েই আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি বোলারদের র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানটি বজায় রেখেছেন; তাঁর রেটিং ৭৮৭ এবং চলমান নিউজিল্যান্ড সিরিজে তিনি এখন পর্যন্ত ৩ উইকেট নিয়েছেন।

    টি-টোয়েন্টি অলরাউন্ডারদের লিস্টেও কিছু পরিবর্তন দেখা গেছে—হার্দিক পান্ডিয়া এক ধাপ এগিয়ে তিন নম্বরে উঠেছেন; তিনটি টি-টোয়েন্টিতে তিনি ৪ উইকেট নিয়েছেন এবং ব্যাটিংয়ে ২৫ রান যোগ করেছেন, তার রেটিং ২৪৮। জিম্বাবুয়ের সিকান্দার রাজা অলরাউন্ডার র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে बने আছেন—তার রেটিং ২৮৯। পাশাপাশি পাকিস্তানের সাইম আইয়ুবও অলরাউন্ডার র‍্যাঙ্কিংয়ে আগের মতোই দুই নম্বরে রয়েছেন (রেটিং পয়েন্ট ২৭৭)।

    ব্যাটারদের র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে এখন অভিষেক শর্মা—তার রেটিং ৯২৯। তালিকায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে যথাক্রমে ফিল সল্ট (৮৪৯) ও তিলক ভার্মা (৭৮১) রয়েছেন। দেশের এক পরিচিত নাম সূর্যকুমার যাদব পাঁচ ধাপ এগিয়ে ব্যাটারদের র‍্যাঙ্কিংয়ে সাত নম্বরে উঠে এসেছেন; তাঁর রেটিং পয়েন্ট ৭১৭। নিউজিল্যান্ড সিরিজে দুই ফিফটিতে তিনি এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১৭১ রান করেছেন।

    অন্যদিকে অভিষেক শর্মাও সিরিজে ছন্দে রয়েছেন—গুয়াহাটিতে ২৫ জানুয়ারি তিনি ১৩ বলেই ফিফটি করেছেন এবং সিরিজে মোট ১৫২ রান সংগ্রহ করেছেন। ভারত প্রথম তিনটি টি-টোয়েন্টি জিতে সিরিজ নিশ্চিত করেছে; এখনো দুইটি ম্যাচ বাকি আছে।

    সামগ্রিকভাবে, আইসিসি‑র সাম্প্রতিক র‍্যাঙ্কিং হালনাগাদে দক্ষিণ এশিয়ার বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়ের অবস্থান পরিবর্তিত হয়েছে—বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের জন্য মোস্তাফিজ ও রিশাদের উন্নতি বিশেষ আনন্দের।

  • পিডব্লিউডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা উদ্বোধন

    পিডব্লিউডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা উদ্বোধন

    নগরীর পিডব্লিউডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বুধবার সকাল ১০টায় বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপস্থিত ছিলেন খুলনা সংবাদপত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক খুলনাঞ্চলের সম্পাদক মিজানুর রহমান মিলটন।

    মিলটন তাঁর বক্তব্যে বলেন, খেলাধুলা কেবল শারীরিক সক্ষমতা বাড়ায় না, এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা, সহনশীলতা, নেতৃত্বগুণ ও দলগত চেতনা গড়ে তোলে। তিনি আরও বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ এবং সুস্থ জীবনের জন্য অপরিহার্য।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি, খুলনা মহানগর শাখার সভাপতি মোঃ লিয়াকত হোসেন অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত থেকে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

    উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজনটি সম্পন্ন হয় এবং অংশগ্রহণকারীরা ক্রীড়ার মাধ্যমে শারীরিক ও মানসিক উন্নয়নের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন হওয়ার প্রতিশ্রুতি জানান।

  • ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

    ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

    ঢালিউডের সোনালী দিনের জনপ্রিয় নায়ক ও কালের বিবর্ণতা অতিক্রম করা নৃত্যশিল্পী ইলিয়াস জাভেদ আর নেই। দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে সংগ্রাম করার পর আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ৮২ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

    বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য সনি রহমান এই মৃত্যুর সংবাদ গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

    ইলিয়াস জাভেদ ১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের পেশাওয়ারে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলায় পরিবারের সঙ্গে পাঞ্জাবে চলে গেলে পরবর্তী সময়ে নাম লেখান ঢাকার চলচ্চিত্র অঙ্গনে। জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ক্যানসারে ভুগছিলেন এবং অন্যান্য শারীরিক জটিলতাও ছিল। গত বছর এপ্রিলেও তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। কিছুদিন ধরে তিনি বাড়িতে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছিলেন; হাসপাতালে থেকে চিকিৎসক ও দুজন নার্স নিয়মিতভাবে এসে সেবা দিচ্ছিলেন। আজ সকালে তাঁর শারীরিক অবস্থায় মারাত্মক অবনতি হলে দ্রুত অ্যাম্বুল্যান্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়, সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন—দিব্যাংশটি জাভেদের পরিবারই সংবাদমাধ্যকে জানিয়েছেন।

    জাভেদের স্ত্রী ডলি চৌধুরী জানান, সকালে শরীর সম্পূর্ণভাবে ঠান্ডা পাওয়া যায় এবং চিকিৎসকরা হাসপাতালে নিলে সেখানে মৃত্যুর কনিষ্ঠ ঘোষণা দেন।

    ১৯৬৪ সালে উর্দু সিনেমা ‘নয়ি জিন্দেগি’ থেকে নায়কের ভূমিকায় রুপালি পর্দায় অভিষেক ঘটে তাঁর। কিন্তু পেশাগতভাবে বড় প্রাপ্তি আসে ১৯৬৬ সালের ‘পায়েল’ চলচ্চিত্রে—সেখানে শাবানার বিপরীতে অভিনয় করে তিনি দর্শকদের মন জয় করেন। পরিচালক মুস্তাফিজই পরবর্তীতে তাঁকে জাভেদের নামকরণ করেন।

    নৃত্যশিল্পী হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু হলেও খুব দ্রুতই নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে সক্ষম হন। একের পর এক ব্যবসাসফল ছবির মাধ্যমে দর্শকদের মনে ‘ড্যান্সিং হিরো’ হিসেবে স্থায়ী অবস্থান তৈরি করেন তিনি। ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৮৪ সালে তিনি জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা ডলি চৌধুরীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। জাভেদের আসল নাম রাজা মোহাম্মদ ইলিয়াস; চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি শতাধিক ছবিতে কাজ করেছেন।

    জাভেদের উল্লেখযোগ্য ছবির মধ্যে রয়েছে: মালেকা বানু, নিশান, পাপী শত্রু, রক্ত শপথ, সাহেব বিবি গোলাম, কাজল রেখা, অনেক দিন আগে, আজও ভুলিনি, কঠোর, মা বাবা সন্তান, রাখাল রাজা, রসের বাইদানী, জীবন সঙ্গী এবং আবদুল্লাহ।

    সত্তুর ও আশির দশকের দর্শকদের কাছে ইলিয়াস জাভেদ মানেই ছিল পর্দা কাঁপানো নাচ ও অ্যাকশনের দুর্লভ মেলবন্ধন। তাঁর প্রয়াণ বাংলা চলচ্চিত্রের এক পরিচিত অধ্যায়ের সমাপ্তি নয়ন করে—শিল্পী ও দর্শক উভয়েরই ক্ষতি। পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।

  • ওশিওয়ারায় গুলি ছোড়ার অভিযোগে বলিউড অভিনেতা কামাল আর খান গ্রেফতার

    ওশিওয়ারায় গুলি ছোড়ার অভিযোগে বলিউড অভিনেতা কামাল আর খান গ্রেফতার

    মুম্বাইয়ের ওশিওয়ারা এলাকায় গুলিবর্ষণের ঘটনায় বলিউড অভিনেতা ও চলচ্চিত্র সমালোচক কামাল আর খান, পরিচিত কেআরকে, মুম্বাই পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তাকে শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) আদালতে পেশ করা হবে।

    পুলিশ সূত্রে বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে ওই এলাকায় একটি আবাসিক ভবনের সামনে চার রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানের ভিত্তিতে মুম্বাই পুলিশ তৎক্ষণাৎ তদন্ত শুরু করে।

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কেআরকে স্বীকার করেন যে গুলি তার লাইসেন্সপ্রাপ্ত বন্দুক থেকেই ছোড়া হয়েছিল। তবে তিনি দাবি করেছেন, কাউকে আঘাত করার কোনো উদ্দেশ্য তার ছিল না। অভিনেতার বক্তব্য—বন্দুক পরিষ্কার করার পর সেটি ঠিকমত কাজ করছে কি না তা পরীক্ষা করার উদ্দেশ্যে তিনি বাড়ির সামনে ম্যানগ্রোভ এলাকার দিকে গুলি ছোড়েন। দাবি অনুযায়ী বাতাসের গতিবেগের কারণে গুলিগুলো লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে পাশের একটি আবাসিক ভবনে গিয়ে লাগে।

    পুলিশ তাঁর এই দাবির সত্যতা যাচাই করছে। বন্দুক ও গুলির ব্যালিস্টিক পরীক্ষা এবং সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান মিলিয়ে ঘটনার обстоятель্য নির্ধারণে তদন্ত চলছে। প্রয়োজনে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে এবং আইনি পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

    কামাল আর খান বলিউডে বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। তিনি ২০২২ সালে একটি যৌনহেনস্তা মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন এবং সামাজিক মাধ্যমেও তার টানটান মন্তব্য ও উস্কানিমূলক কটাক্ষের কারণে তার বিরুদ্ধে একাধিক মানহানি ও আইনগত অভিযোগ ওঠে। বর্তমানে চলমান এই গুলিবর্ষণের ঘটনার প্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে নতুনভাবে যে অভিযোগ গঠিত হচ্ছে, সেটি আদালতের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

  • খুলনার রূপসা থেকে পরিত্যক্ত দুই রিভলবার উদ্ধার

    খুলনার রূপসা থেকে পরিত্যক্ত দুই রিভলবার উদ্ধার

    র‌্যাব-৬ খুলনার রূপসা থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় দুইটি রিভলবার উদ্ধার করেছে। র‌্যাবের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বুধবার (২৭ জানুয়ারি) এ তথ্য জানানো হয়।

    প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাত সোয়া ৯টার দিকে র‌্যাব-৬ এর সিপিসি স্পেশাল কোম্পানির একটি দল রূপসা থানাধীন ৩ নম্বর নৈহাটি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সামন্তসেনা পঁচার বটতলা গুচ্ছগ্রামে একটি ঘরে অভিযান চালায়। ওই ঘর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় দুটি রিভলবার উদ্ধার করা হয়।

    উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে একটি যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত কোল্ট মডেল ১৮৭৮ সিক্স-শুটার রিভলবার রয়েছে। র‌্যাব জানিয়েছে, ওই দুটি রিভলভার উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে জব্দ করা হয়েছে এবং আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে রূপসা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

    র‌্যাবের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ঘটনার আরও বিস্তারিত তথ্য বা গ্রেপ্তার সংক্রান্ত কোনো আলাদা উল্লেখ করা হয়নি। পুলিশের কাছে হস্তান্তরের পর পরবর্তী আইনানুগ তদন্ত চলমান থাকবে।