Blog

  • স্বর্ণের নতুন রেকর্ড — ভরিতে ৫ হাজার ২৪৯ টাকা বাড়লো

    স্বর্ণের নতুন রেকর্ড — ভরিতে ৫ হাজার ২৪৯ টাকা বাড়লো

    দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বগতি মূর্ছিত করে নতুন রেকর্ড গড়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্য়াসোসিয়েশন (বাজুস) একদিনের ব্যবধানে ভরিতে ৫ হাজার ২৪৯ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করেছে ২ লাখ ৬২ হাজার ৪৪০ টাকায়, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

    বাজুস সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাতে প্রকাশ করা একটি বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানায়। নতুন দাম মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) থেকে কার্যকর হবে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম বেড়ে যাওয়ায় এবং সার্বিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

    নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২,৬২,৪৪০ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২,৫০,৪৮৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২,১৪,৭৩৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১,৭৬,৫৯৩ টাকা।

    বাজুস জানিয়েছে, ক্রেতাদের কলে স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকারের নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যোগ করতে হবে। তবে গহনার নকশা ও মানভেদে মজুরির হার পরিবর্তিত হতে পারে।

    এর আগে গত ২৫ জানুয়ারি বাজুস ভরিতে ১ হাজার ৫৭৪ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করেছিল ২,৫৭,১৯১ টাকায়, যা তখন ছিল সর্বোচ্চ। সেদিন থেকে একদিন পরই আবার নতুন রেকর্ড ঠেকছে।

    চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশে স্বর্ণের দাম মোট ১৪ দফা সমন্বয় করা হয়েছে; এর মধ্যে ১১ দফায় দাম বেড়েছে এবং ৩ দফায় দাম কমেছে। তথ্য অনুযায়ী গত বছর ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল এবং ২৯ বার কমানো হয়েছিল।

    স্বর্ণের সঙ্গে সঙ্গে রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। ভরিতে ৫২৫ টাকা বৃদ্ধি করে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ হাজার ৭৫৭ টাকায়, যা রুপারও সর্বোচ্চ মূল্য। নতুন দামে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৭ হাজার ৪০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৭৮২ টাকা। চলতি বছরে রুপার দাম মোট ১১ দফা সমন্বয় করা হয়েছে।

    বাজারে স্বর্ণ-রুপার এই ধারাবাহিক মূল্য ওঠানামা গ্রাহক ও গহনার ব্যবসায়ীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বাজুসের ঘোষণা অনুসারে ক্রেতাদের বিক্রয়-ক্রয় করতে গেলে নতুন মূল্য ও সংযোজ্য ভ্যাট ও মজুরি বিবেচনায় রাখতে হবে।

  • প্রাণ দুধের ‘খাঁটি খামারি সম্মাননা ২০২৬’ যাত্রা শুরু

    প্রাণ দুধের ‘খাঁটি খামারি সম্মাননা ২০২৬’ যাত্রা শুরু

    দেশের দুগ্ধশিল্পে বিশেষ অবদান রাখা খাঁটি খামারিদের সম্মাননা দিতে শুরু করেছে জনপ্রিয় তরলদুধ ব্র্যান্ড ‘প্রাণ দুধ’। আজ মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানের এমসিসিআই সম্মেলন কেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয় ‘প্রাণ দুধ-খাঁটি খামারি সম্মাননা ২০২৬’ ক্যাম্পেইনের।

    ক্যাম্পেইনের মূল উদ্দেশ্য হলো দুগ্ধশিল্পে নিবেদিত খামারিদের অনবদ্য পরিশ্রম ও অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাদের অনুপ্রেরণামূলক জীবনগল্প তুলে ধরে সমাজের আরও মানুষকে গাভিপালন ও দুগ্ধশিল্পের টেকসই উন্নয়নে অংশ নিতে উৎসাহিত করা। অনুষ্ঠানে সম্মাননা স্মারক উন্মোচন করেন প্রাণ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইলিয়াছ মৃধা।

    প্রাণ ডেইরীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী ১লা ফেব্রুয়ারি থেকে দেশজুড়ে পাবনা, রংপুর, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, সাতক্ষীরা, খুলনা, যশোর, মাগুরা, কুড়িগ্রাম, নাটোরসহ অন্যান্য এলাকায় অবস্থিত প্রাণ ডেইরীর ১২৪টি গ্রামীণ দুধ সংগ্রহ কেন্দ্র (ভিএমসিসি) থেকে স্পট রেজিস্ট্রেশন শুরু হবে। এই কেন্দ্রগুলোতে প্রাণ ডেইরীর তালিকাভুক্ত মোট ১৬ হাজার দুটি খামারি রেজিস্ট্রেশন ফর্মে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করবেন।

    রেজিস্ট্রেশন শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয় ধাপে নাম ভূক্ত খামারিদের তথ্য যাচাই-বাছাই করে ওই খাতের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বিশেষ জুরিবোর্ড গঠন করা হবে। জুরিবোর্ড প্রথমে ১০ জন ‘খাঁটি খামারি’ চূড়ান্ত করবে। এরপর জুরিবোর্ডের নম্বর ও ভোক্তাদের সরাসরি ভোটের মাধ্যমে সেরা তিন খামারি নির্ধারণ করা হবে। বিজয়ীদেরকে সম্মাননা স্মারক ও এক লাখ টাকার সমমূল্যের পুরস্কার দেওয়া হবে। বাকি সাত জনকেও বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হবে।

    ইলিয়াছ মৃধা অনুষ্ঠানে বলেন, “এই উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা দুগ্ধশিল্পে নিবেদিত খামারিদের সম্মানিত ও অনুপ্রাণিত করতে চাই। তাদের সংগ্রামী জীবন ও সফলতার গল্প তুলে ধরে অন্যদেরও গাভি লালন‑পালনে উৎসাহিত করার লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি ভোক্তাদের কাছে নিরাপদ ও মানসম্মত দুধ পৌঁছে দেওয়ার প্রাণ দুধের অঙ্গীকারও আমরা সামনে আনতে চাই।”

    প্রাণ ডেইরীর চিফ অপারেটিং অফিসার মাকসুদুর রহমান বলেন, “প্রাণ দুধ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের হাজার হাজার খেটে খাওয়া খামারির পাশে দাঁড়িয়েছে। ন্যায্য মূল্য প্রদান, প্রশিক্ষণ, ভেটেরিনারি সেবা ও বিভিন্ন সহায়তার ফলে বহু খামারির জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।”

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রাণের সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার (মার্কেটিং) মো. আলী হাসান, প্রাণ ডেইরীর হেড অব মার্কেটিং সৈয়দ মুস্তায়িন কাদের, ব্র্যান্ড ম্যানেজার ফজলে এলাহি নাঈমসহ প্রতিষ্ঠানটির অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। কর্তৃপক্ষ বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় খামারিদের ক্ষমতায়ন এবং দেশি দুগ্ধশিল্পের টেকসই উন্নয়নে নতুন আন্দোলন সৃষ্টি করার আশা করা হচ্ছে।

  • বাজেট অধিবেশনে ভারতের দুই কক্ষে খালেদা জিয়ার স্মরণে শোকপ্রস্তাব

    বাজেট অধিবেশনে ভারতের দুই কক্ষে খালেদা জিয়ার স্মরণে শোকপ্রস্তাব

    ভারতের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিনেই সংসদের উভয় কক্ষে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণে শোকপ্রস্তাব আনা ও গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভা ও নিম্নকক্ষ লোকসভায় বুধবার থেকেই এই প্রস্তাব উপস্থাপন শুরু হবে বলে জানা গেছে।

    খালেদা জিয়া ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর ভোরে ঢাকায় এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। প্রয়াত রাজনীতিকটি ৮০ বছর বয়সে দেশে-বিদেশে বহুসংখ্যক অনুসারী রেখে গেছেন; তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) একজন শীর্ষ নেতা এবং তিনবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন — দু’টি পূর্ণ মেয়াদ ও একটি স্বল্প মেয়াদী।

    অধিবেশন শুরু হবে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর যৌথ অধিবেশনে ভাষণের মাধ্যমে। এর পর রাজ্যসভায় কার্যতালিকা অনুসারে এল. গণেশন ও সুরেশ কলমাদির মৃত্যুতে শোকপ্রস্তাব নেওয়া হবে। লোকসভায়ও সাবেক সাংসদ শালিনী পাতিল, ভানু প্রকাশ মির্ধা, সত্যেন্দ্র নাথ ব্রহ্ম চৌধুরী, সুরেশ কলমাদি এবং কবীন্দ্র পুরকায়স্থের প্রতি শোকপ্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

    রাজ্যসভায় পার্লামেন্ট সচিব ২৬৯তম রাজ্যসভা অধিবেশনে উভয় কক্ষে পাস হওয়া এবং রাষ্ট্রপতির সম্মতি পাওয়া বিলগুলোর একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণী টেবিলে উপস্থাপন করতে পারেন। এই তথ্যগুলো সংসদের স্বাভাবিক কার্যবিবরণীর অংশ হিসেবে ধরা হচ্ছে।

    এ(adj) অধিবেশন মোট ৬৫ দিনে ৩০টি কার্যদিবস সংবলিত এবং এটি ২ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি উভয় কক্ষ একসঙ্গে বিরতি নেবে এবং ৯ মার্চ থেকে অধিবেশন পুনরায় শুরু হবে। বিরতির সময়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অনুদান দাবির (Demands for Grants) পর্যালোচনার দায়িত্ব সংসদের স্থায়ী কমিটিগুলোর ওপর রাখা হয়েছে।

    অধিবেশনের প্রথম পর্যায়ে মূলত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের কেন্দ্রীয় বাজেট সংক্রান্ত আর্থিক কার্যক্রম ও রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আলোচনার জন্য নেয়া হবে বলে সংসদ সূত্রে আশা করা হচ্ছে।

    অন্যদিকে, ভারতের অর্থনৈতিক সমীক্ষা (ইকোনমিক সার্ভে) ২৯ জানুয়ারি উপস্থাপন করা হবে এবং কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬-২৭ ঘোষণা করা হবে ১ ফেব্রুয়ারি। অর্থমন্ত্রক ও এর অর্থনৈতিক শাখা এই সমীক্ষা প্রণয়নে ব্যাপকভাবে জড়িত হয়েছে; এতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের অর্থনৈতিক অবস্থা ও আগামী বছরের দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্লেষণ করে তুলে ধরা হয়েছে।

    খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ভারতীয় সংসদে শোকপ্রস্তাব নেয়া রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গীকার হিসেবেও দেখা হচ্ছে — এটি দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধার প্রতিফলন বলেই মনে করছেন কৌঁসুলি পর্যায়ের কয়েকজন পর্যবেক্ষক।

  • চলতি সপ্তাহেই ইরানে হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র: কর্মকর্তারা বলছেন পরিকল্পনা ‘উত্তপ্ত’

    চলতি সপ্তাহেই ইরানে হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র: কর্মকর্তারা বলছেন পরিকল্পনা ‘উত্তপ্ত’

    মধ্যপ্রাচ্যের নিম্নখাতের কয়েকজন কর্মকর্তাকে উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে একটি সামরিক হামলা চালাতে পারে। খবরটিতে বলা হয়েছে, যদি হামলা করা হয় তা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদেরকে লক্ষ্য করে করা হতে পারে।

    তবে হামলার সময়সূচি চূড়ান্ত নয়—সূত্ররা বলেন সময় পরিবর্তন হতে পারে। একই সঙ্গে তারা উল্লেখ করেছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরে ইরানের বিরুদ্ধে নীতিনির্ধারণ ও কৌশল নিয়ে যে আলোচনা চলছে, সেটা এখন অনেকে ‘উত্তপ্ত’ বলে опис করছে।

    ইরানে গত মাসের শেষের দিকে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকেই তেলেগুলো বাড়ে। সরকার দমন অভিযান শানিয়েছে, এবং ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন সময় ইরানে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছে বলে জানা যায়।

    এক পর্যায়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের সরকারি নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আহ্বানও জানান। কিন্তু কয়েক দিন পর তিনি বলেছেন, ইরান সরকার আর বিক্ষোভকারীদের হত্যা করছে না—প্রতিক্রিয়াটা নিয়ে নানা ব্যাখ্যা হয়েছে। অনেকে মনে করেছেন তিনি হামলার পরিকল্পনা গোপন রাখতে এমন মন্তব্য করেছেন, আবার অনেকে বলছেন তিনি হামলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন।

    এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্টকের টানাপোড়েন কমাতে সৌদি আরব, কাতার ও ওমান সক্রিয়ভাবে মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে এবং তারা সরাসরি সামরিক হামলার বিরোধী।

    মিডল ইস্ট আইকে একটি মার্কিন সূত্র অবশ্য জানান, এ মুহূর্তে হামলা না করার সিদ্ধান্ত ছিল কেবল সাময়িক; আর একটি গোয়েন্দা সূত্র বলেছে, ট্রাম্প প্রশাসন এখনও ইরানের সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্য সম্পূর্ণভাবে ত্যাগ করেনি।

    সূত্র: মিডল ইস্ট আই

  • সৎ শাসকই দেশের উন্নয়ন ঘটাবে: গোলাম পরওয়ার

    সৎ শাসকই দেশের উন্নয়ন ঘটাবে: গোলাম পরওয়ার

    খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনের প্রার্থী ও বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামীর জেলা সেক্রেটারি গোলাম পরওয়ার বলেছেন, দুর্নীতিমুক্ত দেশের নির্মাণে জনসাধারণের ভোটই পরিবর্তন আনতে পারে। তিনি বলেন, নাগরিকরা দাঁড়িপাল্লা প্রতীককে ভোট দিয়ে একজন সৎ শাসককে ক্ষমতায় বসাবেন—তাহলেই দেশ থেকে দুর্নীতি, বৈষম্য ও হিংসা নির্মূল হবে এবং ন্যায় ও ইনসাফের প্রতিষ্ঠা হবে।

    বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে ডুমুরিয়া উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের কুলবাড়িয়া ওয়ার্ডে আয়োজিত উঠান বৈঠক ও সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেছিলেন, ক্ষমতায় থাকা কোনো দলের স্বার্থ অনুসরনে রাষ্ট্র পরিচালিত হবে না; সেখানে আর দাঙ্গা-হিংসা, মারামারি বা অর্থনৈতিক লুটপাট থাকবে না। বিগত সরকার চালিত সময়ে দেশের অর্থপাচার ও লুটপাট ব্যাপকভাবে হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন এবং বলেন, এখনই দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে রূপান্তর ঘটানোর সময় এসেছে।

    গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান ও জনজাগরণের মাধ্যমে দেশে অযাচিত শাসন ব্যবস্থা বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি পেয়েছে এবং নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতিকে ভোট দিয়ে জামায়েত ইসলামীকে ক্ষমতায় আনার আহ্বান জানান তিনি। ক্ষমতায় এলে প্রত্যন্ত ও অবহেলিত এলাকাগুলোর গ্রামের অবকাঠামো — রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে বলে বক্তব্যে আশ্বাস দেন তিনি।

    সভায় কুলবাড়িয়া ওয়ার্ড নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি শেখ কামরুল ইসলামের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াত অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মঈনুল ইসলাম, উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মোক্তার হোসেন, মাওলানা মতিউর রহমান হাফেজ মইনুদ্দিন, শেখ রুহুল আমিন, রাজিকুল ইসলাম, শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন, বাবলুর রহমান ফকির বাতি, আব্দুস সোবহান ও রবিউল ইসলাম রবি প্রমুখ।

    তিনি একই দিনে মঠবাড়িয়া, চুকনগর আবাসন প্রকল্প এলাকা, গোবিন্দকাটি, কাঁঠালতলাসহ বিভিন্ন স্থানে উঠান বৈঠক ও সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যও রাখেন।

  • রূপসা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় দুই রিভলবার উদ্ধার

    রূপসা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় দুই রিভলবার উদ্ধার

    খুলনার রূপসা থানা এলাকায় র‍্যাব-৬ একটি বিশেষ অভিযানে পরিত্যক্ত অবস্থায় দুইটি রিভলবার উদ্ধার করেছে।

    র‍্যাবের প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাত সোয়া ৯টার দিকে উপজেলার নৈহাটি এলাকায় একটি ঘর থেকে অস্ত্র দুটি উদ্ধার করা হয়। অভিযানটি পরিচালনা করে র‍্যাব-৬ এর সিপিসি স্পেশাল কোম্পানির একটি দল।

    র‍্যাব জানায়, নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছে রূপসা থানাধীন ৩ নম্বর নৈহাটি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সামন্তসেনা পঁচার বটতলা গুচ্ছগ্রামে ওই ঘরে তল্লাশি চালানো হয় এবং সেখানে পরিত্যক্ত অবস্থায় দুইটি রিভলবার পাওয়া যায়।

    উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে একটি যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি কোল্ট মডেল ১৮৭৮ সিক্স-শুটার রিভলবার রয়েছে।

    র‍্যাব আরও জানায়, উদ্ধারকৃত রিভলবার দুটির জব्ती ক্রিয়া উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনানুগ কার্যক্রম শেষে এসব অস্ত্র সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে রূপসা থানা বিপরীতে হস্তান্তর করা হয়েছে।

    র‍্যাব বলেছে, এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে যাতে অবৈধ অস্ত্র বিস্তার রোধ করে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

  • থাইল্যান্ডকে ৩৯ রানে হারিয়ে সুপার সিক্স শুরু বাংলাদেশের

    থাইল্যান্ডকে ৩৯ রানে হারিয়ে সুপার সিক্স শুরু বাংলাদেশের

    সুপার সিক্সের উদ্বোধনী ম্যাচে থাইল্যান্ডকে ৩৯ রানে হারিয়ে জয় দিয়ে শুরু করলো বাংলাদেশের মেয়েরা। জুয়াইরিয়া ফেরদৌস ও সোবহানা মোস্তারির আগ্রাসী অর্ধশতক এবং তাদের ১১০ রানের জুটিতেই ১৬৫ রানের সমৃদ্ধ ইনিংস গড়েছিল টাইগারেসরা। পরে বোলিংয়ে মারুফা আক্তার, স্বর্ণা আক্তার ও রিতু মনি ঠিক সময়েই ধাক্কা দেখে দলকে জয় এনে দেন।

    ইনিংসের শুরুতে বাংলাদেশ কিছু দ্রুত উইকেট হারালেও—দিলারা আক্তার টপ-এজ হয়ে কভারে ক্যাচ দেন এবং শারমিন আক্তার সুপ্তা থিপাচা পুথাওয়াংয়ের বলে লেগ-বিফোরে আউট হয়ে ৯ বলে ১১ রান করেন—তারপর জুয়াইরিয়া ও সোবহানা ম্যাচের کہا-কথা নিয়ন্ত্রণে নেন। দুই ওপেনারের ধৈর্য্য ও আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে দল ধীরে ধীরে আগ্রাসী রানের স্প্রিন্টে যায়।

    জুয়াইরিয়া লাওমির একজন বলকে তুলে ছক্কা মারেন এবং ৪৩ বলেই হাফসেঞ্চুরির মুখে পৌঁছান; শেষ পর্যন্ত তিনি ৪৫ বল খেলে ৪৫ বলে নয়—৪৫ বলে নয়—৪৫ বলে নয়—(বর্ণনার ঠিক অংশটি) ৫৬ রানের ইনিংস খেলেন, যাতে ছিল চারটি ছয় ও তিনটি চার। সোবহানাও দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন—৩৭ বলেই অর্ধশতক স্পর্শ করেন এবং ৪২ বল খেলে ৫৯ রানে অপরাজিত ছিলেন না; শেষ পর্যন্ত পুথাওয়াংয়ের এক দুর্দান্ত ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে বিদায় নেন। এরপর রিতু মনি শেষ দিকের অংশে ৬ বলে ১৫ রানের ছোট কিন্তু কার্যকরী ইনিংস খেলেন এবং বাংলাদেশ ১৬৫ রানের সংগ্রহ তোলে। থাইল্যান্ডের হয়ে পুথাওয়াং তিনটি ও অন্নিচা কামচোমফুর দুটি উইকেট নেন।

    রান তাড়া করতে নেমে থাইল্যান্ড শুরুতেই একটি উইকেট হারায়—সুয়ানান খিয়াতাও প্রথম সারির ব্যবস্থায় ফিরে যান। এরপর নাথাকান চানথাম ও নান্নাপাট কনচারোয়েনকাই দ্বিতীয় উইকেটে ৬৭ রানের অংশীদারি গড়েন। চানথাম ৪১ বলে ৪৬ রান করেন, কিন্তু ফাহিমা খাতুনের একজন উইকেটে তিনি ফিরেন। পরে স্বর্ণার ক্যাচে নান্নাপাটও ফিরে যান।

    চাইওয়াই (নারুমল চায়ওয়াই) একপ্রান্ত ধরে রাখতে সচেষ্ট ছিলেন এবং শেষ দিকে ২৮ বলে ৩০ রান করে ইনিংস শেষ পর্যন্ত মুখ করে যান। তবে বাকিরা নির্দিষ্টভাবে রান তুলতে পারেননি এবং থাইল্যান্ড পুরো টুর্নামেন্টে ১২৬ রানে অলআউট হয়ে যায়। বাংলাদেশের হয়ে মারুফা ২৫ রানে ৩ উইকেট নেন; রিতু ও স্বর্ণা দুই করে এবং ফাহিমা একটি উইকেট শিকার করেন।

    শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ১৬৫-র বিপক্ষে থাইল্যান্ডকে ১২৬ রানে আটকে রেখে ৩৯ রানে জয় তুলে নিল। জুটি গড়া ও সময়োপযোগী আক্রমণে জুয়াইরিয়া ও সোবহানার অবদানকে ভরসা করে টাইগারেসরা সুপার সিক্স সূচনায় মূল্যবান তিন পয়েন্ট পেয়ে গেল।

  • পাকিস্তান বিশ্বকাপে খেলবে কি না—নির্ধারণে অনিশ্চয়তা

    পাকিস্তান বিশ্বকাপে খেলবে কি না—নির্ধারণে অনিশ্চয়তা

    টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এ পাকিস্তান অংশ নেবে কি না তা এখনও অনিশ্চিত। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নকভি জানিয়েছেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে আগামী শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) কিংবা সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি)।

    পটভূমি: বাংলাদেশ নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ভারতে ম্যাচ খেলতে অস্বীকার করায় আইসিসি বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করেছে। পাকিস্তান এই সিদ্ধান্তকে অন্যায় ও দ্বিমুখী নীতির উদাহরণ হিসেবে দেখছে এবং পিসিবি বাংলাদেশকে সমর্থন জানিয়ে প্রতিবাদ করেছে।

    একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, পাকিস্তান ‘অপেক্ষার কৌশল’ রাখতে পারে — প্রথম দুই ম্যাচ খেলবে, সেগুলো জিতে সুপার-এইট নিশ্চিত করার চেষ্টা করবে, এবং এরপর ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ (১৫ ফেব্রুয়ারি, কলম্বো) বয়কট করে প্রতিবাদ জানাবে। পাকিস্তান প্রথম দুই ম্যাচে নেদারল্যান্ডস (৭ ফেব্রুয়ারি) ও যুক্তরাষ্ট্র (১০ ফেব্রুয়ারি)–এর সঙ্গে মুখোমুখি হবে।

    কৌশলগত যুক্তি হলো: যদি প্রথম দুই ম্যাচ জিতে সুপার-এইটে উঠা নিশ্চিত হয়, তাহলে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করলে টুর্নামেন্ট থেকে পুরোপুরি বাদ পড়ার ঝুঁকি কম থাকবে; তবু তারা প্রতিবাদ জানাতে পারবে। পিসিবি আইসিসিকে চিঠি পাঠিয়ে বিশ্বকাপ চলাকালীন বিভিন্ন উপায়ে প্রতিবাদ করার কথাও ভাবছে—যেমন খেলোয়াড়দের কালো আর্মব্যান্ড পরানো, ভারত ম্যাচ বয়কট করা বা জয়গুলো বাংলাদেশকে উৎসর্গ করা।

    গত সোমবার মহসিন নকভি প্রধানমন্ত্রী শহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন সব বিকল্প খোলা রেখে পরিস্থিতির সমাধান করা হবে এবং সিদ্ধান্ত সরকারের ওপরই নির্ভর করবে; নকভির বক্তব্য, সরকার যা বলবে, সেটাই মানা হবে।

    আইসিসি ইতোমধ্যেই কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে: বয়কট করলে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সাসপেনশন, জরিমানা বা অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। বিশেষ করে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ থেকে বড় আসরীয় সম্প্রচার আয় আসে, তাই আয়-ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণের দাবি ওঠারও সম্ভাবনা রয়েছে।

    আইসিসির অবস্থান হলো—বাংলাদেশের নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ পর্যাপ্ত নয়; বিষয়টি নিয়ে বহু আলোচনা হয়েছে এবং বাংলাদেশ অনড় ছিল। অন্যদিকে পাকিস্তান ও সমর্থকেরা আইসিসির নীতিকে দ্বিমুখী বলেও প্রশ্ন তুলেছে, উদাহরণস্বরূপ পূর্বে কখনো নিরাপত্তার জটিলতা দেখিয়ে ভেন্যু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে তারা উল্লেখ করেছে। অনেকে বলছেন, এই বিবাদে পাকিস্তানের সরাসরি অংশগ্রহণ ততটা প্রয়োজনীয় নয়, কিন্তু পাকিস্তান বিষয়টি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে তুলে সিদ্বান্তের ন্যায় বিচার চাচ্ছে।

    পরিস্থিতি এখনো ঝুলে আছে। শুধু ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কট করলে খেলার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে পারবে কিন্তু বড় ধরনের শাস্তি এড়ানোর সম্ভাবনা থেকে যায়। অন্যদিকে পুরো টুর্নামেন্ট বয়কট করলে পাকিস্তান ক্রিকেটও বড় ধাক্কায় পড়তে পারে। সিদ্ধান্তের প্রতীক্ষায় রয়েছেন ক্রিকেটপ্রেমী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষরা।

  • ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

    ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

    ঢালিউডের স্বর্ণযুগের পরিচিত নায়ক ও কালজয়ী নৃত্যশিল্পী ইলিয়াস জাভেদ আর নেই। দীর্ঘদিন ক্যান্সারের সঙ্গে সংগ্রামের পর ৮২ বছর বয়সে আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় তিনি না ফেরার দেশে চলে গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

    মৃত্যু সংবাদটি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য সনি রহমান।

    ১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের পেশাওয়ারে জন্মগ্রহণ করেন রাজা মোহাম্মদ ইলিয়াস—পরবর্তীতে চলচ্চিত্রে তিনি ইলিয়াস জাভেদ নামে পরিচিত হন। পরিবারসহ প্রথম পাঞ্জাবে বসবাস করলেও পরবর্তী সময়ে তিনি ঢাকার চলচ্চিত্র অঙ্গনে আত্মপ্রকাশ করেন।

    জানা গেছে, দীর্ঘদিন ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন ইলিয়াস জাভেদ। পাশাপাশি নানা ধরনের শারীরিক জটিলতাও ছিল। গত বছরের এপ্রিল মাসে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি বাড়িতেই চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করছিলেন; চিকিৎসক ও দুই নার্স বাড়িতে এসে নিয়মিত তত্ত্বাবধানে ছিলেন। জাভেদের স্ত্রী ডলি চৌধুরী সংবাদমाध্যকে বলেছেন, “আজ সকালে তার শারীরিক অবস্থা হঠাৎ করেই খারাপ হয়। দুই নার্স এসে জানিয়েছিলেন তার শরীর ঠান্ডা হয়ে গেছে। পরে অ্যাম্বুলেন্সে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।”

    অভিনয় জীবনের শুরুটা তিনি করেন নৃত্য পরিচালনা থেকে। নায়ক হিসেবে রুপালি পর্দায় অভিষেক ঘটে ১৯৬৪ সালের উর্দু সিনেমা ‘নয়ী জিন্দেগি’ দিয়ে। তবে প্রকৃত সাফল্য আসে ১৯৬৬ সালের ‘পায়েল’ ছবির মাধ্যমে, যেখানে তিনি কিংবদন্তি নায়িকা শাবানার বিপরীতে ছিলেন। পরিচালক মুস্তাফিজই তাকে ‘জাভেদ’ নামটি দেন।

    এরপর একের পর এক ব্যবসাসফল ছবি দিয়ে দর্শকদের মনে স্থায়ী জায়গা করে নেন—বিশেষ করে তাঁর ঝাঁঝালো নাচ ও একগুচ্ছ অ্যাকশন দৃশ্যে তিনি ‘ড্যান্সিং হিরো’ হিসেবে জনপ্রিয়তা পান। ব্যক্তিজীবনে ১৯৮৪ সালে তিনি বিখ্যাত নায়িকা ডলি চৌধুরীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। জীবনে তিনি শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।

    সত্তুর ও আশির দশকের দর্শকদের কাছে ইলিয়াস জাভেদ মানে পর্দা কাঁপানো নাচ আর তীব্র এক অ্যাকশনের মিলিত ছাপ। তার প্রয়াণ বাংলা চলচ্চিত্রের এক অধ্যায়ের সমাপ্তি।

    জাভেদ অভিনীত নজরকাড়া কিছু চলচ্চিত্র: মালেকা বানু, নিশান, পাপী শত্রু, রক্ত শপথ, সাহেব বিবি গোলাম, কাজল রেখা, অনেক দিন আগে, আজও ভুলিনি, কঠোর, মা বাবা সন্তান, রাখাল রাজা, রসের বাইদানী, জীবন সঙ্গী, আবদুল্লাহ।

    ইলিয়াস জাভেদের মৃত্যুতে চলচ্চিত্র অঙ্গন শোকাহত; পরিবার, পরিজন ও ভক্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা।

  • ওশিওয়ারায় গুলিবর্ষণের অভিযোগে বলিউড অভিনেতা কামাল আর খান গ্রেফতার

    ওশিওয়ারায় গুলিবর্ষণের অভিযোগে বলিউড অভিনেতা কামাল আর খান গ্রেফতার

    মুম্বাইয়ের ওশিওয়ারা এলাকায় গুলিবর্ষণের ঘটনায় বলিউড অভিনেতা ও চলচ্চিত্র সমালোচক কামাল আর খান (পরিচিতি: কেআরকে)কে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) তাকে আদালতে পেশ করার প্রস্তুতি চলছে।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চলতি সপ্তাহের শুরুতে ওই এলাকায় একটি আবাসিক ভবনের দিকে চার রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনার ভিত্তিতেই মুম্বাই পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং সন্দেহজনকতার কারণে কেআরকে-কে বিরতিহীনভাবে জিজ্ঞাসাবাদে নেয়।

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কেআরকে স্বীকার করেছেন যে গুলিগুলো তার লাইসেন্সকৃত বন্দুক থেকেই ছোড়া হয়েছিল। তিনি পুলিশের কাছে বলেছিলেন, কাউকে আঘাত করার অভিপ্রায় তার ছিল না। নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, বন্দুক পরিষ্কার করার পর সেটি ঠিকভাবে কাজ করছে কি না তা যাচাই করতে তিনি বাড়ির সামনে থাকা ম্যানগ্রোভ অঞ্চলের দিকে পরীক্ষা হিসেবে গুলি ছোড়েন। বাতাসের গতি ও লক্ষ্যভ্রষ্টতার কারণে গুলিগুলো পাশের আবাসিক ভবনে গিয়ে লাগে।

    পুলিশ আরও জানিয়েছে, ঘটনার পর আহত বা বড় ধরণের ক্ষতির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি; তবে নির্বিচার গুলিবর্ষণকে সিরিয়াস অপরাধ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আরও তদন্ত চালানো হবে এবং প্রত্যক্ষদর্শী ও সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে গঠনমূলক প্রমাণ সংগ্রহ করা হবে।

    কামাল আর খান বলিউডে এক বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। ২০২২ সালে তাকে একটি যৌন হেনস্তার মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছিল এবং সামাজিক মাধ্যমে তার কটাক্ষাত্মক, উসকানিমূলক মন্তব্যের কারণে বিরুদ্ধে একাধিক মানহানি ও আইনি অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে চলতি ঘটনার অনুসন্ধান ও আদালতের কার্যক্রম নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।