Blog

  • আইসিসিকে কড়া অভিযোগ: আফ্রিদি ও ইউসুফ বললেন বাংলাদেশের প্রতি ‘দ্বৈত মান’

    আইসিসিকে কড়া অভিযোগ: আফ্রিদি ও ইউসুফ বললেন বাংলাদেশের প্রতি ‘দ্বৈত মান’

    পাকিস্তানের সাবেক দুই অধিনায়ক শহিদ আফ্রিদি ও মোহাম্মদ ইউসুফ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)-কে বাংলাদেশের সঙ্গে নিষ্ঠুর ও অসঙ্গত আচরণের অভিযোগ করেন। তারা বলেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়া সিদ্ধান্তে দ্বৈত মান দেখা যাচ্ছে এবং সেটি ন্যায়সঙ্গত নয়।

    আফ্রিদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে তার গভীর হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফির বিষয়ে ভারতের পাকিস্তান সফর না করার সিদ্ধান্তে আইসিসি যে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ মেনে নিয়েছিল, তার সঙ্গে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে যে আচরণ দেখা যাচ্ছে সেটির তুলনা টানেন। আফ্রিদি লেখেন, ‘বাংলাদেশে এবং আইসিসি ইভেন্টে খেলা একজন সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হিসেবে আমি আজ আইসিসির এই অসঙ্গত আচরণে গভীরভাবে হতাশ। … বাংলাদেশের খেলোয়াড় ও তাদের কোটি কোটি সমর্থক সম্মান পাওয়ার যোগ্য, দ্বৈত মানদণ্ড নয়।’

    তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট পরিচালনায় সমতা ও একই মানদণ্ড বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি—ন্যায্যতাই বৈশ্বিক ক্রিকেটের ভিত্তি। আফ্রিদি মনে করেন আইসিসির উচিত বিভাজন বাড়ানো নয়, সেতুবন্ধন তৈরির মাধ্যমে সমাধান খোঁজা।

    সাবেক ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ ইউসুফও বাংলাদেশের এই পরিস্থিতিকে দুঃখজনক আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘খুবই দুঃখজনক যে ক্রিকেটপ্রেমী একটি দেশ নিরাপত্তা উদ্বেগ সমাধান না হওয়ায় ক্রিকেট থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অতীতে যখন এ ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছিল, তখন নিরপেক্ষ ভেন্যু অনুমোদন দেয়া হয়েছিল—দেশভেদে মানদণ্ড বদলানো যায় না।’

    ইউসুফ আরও জোর দিয়ে বলেন আইসিসির উচিত নিরপেক্ষ ও ন্যায্য ভূমিকা পালন করা, কোনো একক বোর্ডের স্বার্থ রক্ষা করা নয়। তার ভাষ্য, ‘আইসিসিকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের মতো আচরণ করতে হবে, কোনো নির্দিষ্ট বোর্ডের প্রতিনিধি হিসেবে নয়।’

    এদিকে, শনিবার (২৪ জানুয়ারি) আইসিসি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, বাংলাদেশের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নেওয়া হয়েছে। টুর্নামেন্টটি আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আইসিসি এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে জানায় যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ভারতের ভেন্যু থেকে ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরানোর আবেদন খারিজ করা হয়েছে, কারণ ভারতে কোনো ‘বিশ্বাসযোগ্য বা যাচাইযোগ্য’ নিরাপত্তা হুমকি পাওয়া যায়নি।

    আফ্রিদি ও ইউসুফ দুইজনেই আইসিসির কাছে অনুরোধ করেছেন—নিরপেক্ষতা ও ন্যায্যতা বজায় রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক, যাতে বৈশ্বিক ক্রিকেটের বিশ্বাসযোগ্যতা ও খেলোয়াড় ও সমর্থকদের অধিকার রক্ষা করা যায়।

  • গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই ভারতে যায়নি বাংলাদেশ দল

    গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই ভারতে যায়নি বাংলাদেশ দল

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) চেষ্টা করেছিল ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দেশের ম্যাচগুলো ভারতে না রেখে শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তর করার। তবে শেষ পর্যন্ত সরকার ও সংশ্লিষ্টসংস্থার নিরাপত্তাজনিত সিদ্ধান্তের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বকাপে খেলতে যায়নি। বিসিবির পরিচালক আসিফ আকবর জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের হাতে থাকা গোয়েন্দা প্রতিবেদনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    ঘটনার সূত্রপাত বলা যায় ৩ জানুয়ারি থেকে—যখন মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল দলে না রাখার সিদ্ধান্তের পর নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশ্ন উঠে। এরপর নিরাপত্তাজনিত সব ঝুঁকি বিবেচনা করে সরকারই আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের টিমকে ভারতে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন বলে ২২ জানুয়ারি হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন।

    বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের সর্বশেষ বৈঠকে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ না খেলার বিষয়টি অবশ্যও আলোচনার বিষয় ছিল। বৈঠকের পর অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে পরিচালক আসিফ আকবর বলেন, সরকারের হাতে যে গোয়েন্দা প্রতিবেদন ছিল, সেটিকেই সামনে রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, রিপোর্টে খেলোয়াড়, সাংবাদিক, দর্শক বা ট্যাকটিক্যাল স্টাফদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখানো হয়েছে এবং সেখানে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো মাথায় রেখে ঝুঁকি নেওয়া ঠিক হবে না। কোনো বড় ধরনের নাশকতামূলক ঘটনা ঘটলে তার দায় বিএসিবি আদৌ নিতে পারে না—এরকম অবস্থান সরকার স্পষ্ট করেছে।

    প্রায় তিন সপ্তাহ ধরেই বিসিবি ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি) কোণঠাসা পরিবেশে আলোচনা-আলাপ চালিয়েছে; কিন্তু শেষ পর্যন্ত আইসিসি বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিয়েছে। আসিফ আকবর জানিয়েছেন, ভারতে বাংলাদেশ দল পাঠ না করা নিয়ে দেশের চারটি মন্ত্রণালয়—তথ্য, পররাষ্ট্র, ক্রীড়া ও আইন—মিলিয়ে মন্ত্রিসভা পর্যায়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি বহন করা হবে না। তিনি বলেন, ‘আইসিসি একটি সংস্থা, বিসিবিও একটি সংস্থা; কিন্তু নিরাপত্তা বিষয়ে যখন রাষ্ট্র কিছু বলে, তখন সেটি সর্বোচ্চ প্রাধান্য পায়।’

    আইসিসি বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপের সূচিতে যোগ করেছে। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে স্কটল্যান্ড এখন ১৪ নম্বরে অবস্থান করছে। গ্রুপ ‘সি’ তে ইতালি, নেপাল, ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে স্কটল্যান্ড খেলবে।

  • ওশিওয়ারায় গুলি চালানোর অভিযোগে গ্রেফতার বলিউড অভিনেতা কামাল আর খান

    ওশিওয়ারায় গুলি চালানোর অভিযোগে গ্রেফতার বলিউড অভিনেতা কামাল আর খান

    মুম্বাইয়ের ওশিওয়ারা এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে গুলিবর্ষণের ঘটনার ঘটনায় বলিউড অভিনেতা ও চলচ্চিত্র সমালোচক কামাল আর খান, পরিচিত নাম কেআরকে-কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) তাকে আদালতে পেশ করা হবে বলেছে কর্তৃপক্ষ।

    পুলিশ সূত্রে এবং স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে ওশিওয়ারা অঞ্চলের একটি আবাসিক ভবনে চারটি গুলি ছোড়া হয়। সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনার ভিত্তিতে মুম্বাই পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করে এবং সন্দেহভাজন হিসেবে কেআরকে-কে হেফাজতে নেয়।

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কেআরকে জানিয়েছেন যে ওই গুলিগুলো তার লাইসেন্সপ্রাপ্ত বন্দুক থেকেই ছোড়া হয়েছিল। তিনি দাবি করেছেন যে কাউকে আঘাত করার উদ্দেশ্য তার ছিল না। পুলিশের বিবরণ অনুযায়ী, বন্দুক পরিস্কার করার পর সেটি ঠিকভাবে কাজ করছে কি না পরীক্ষা করার জন্য তিনি বাড়ির সামনের ম্যানগ্রোভ বনের দিকে গুলি ছোড়েছিলেন; তখন গুলিগুলো বাতাসের গতিবেগে ভ্রাম্যমান হয়ে পাশের একটি আবাসিক ভবনের দেয়ালে এসে লাগে।

    এক্রান্ত বিষয় সম্পর্কে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।

    কামাল আর খান ছবি ও সামাজিক মাধ্যমে বিতর্কিত বক্তব্যের জন্য পরিচিত। ২০২২ সালে এক যৌন হেনস্তার মামলায় তার গ্রেপ্তার হওয়ার খবরও প্রচারিত হয়েছিল। পাশাপাশি সেলিব্রিটিদের নিয়ে কটাক্ষ ও উসকানিমূলক মন্তব্যের কারণে তার বিরুদ্ধে একাধিক মানহানি ও আইনি অভিযোগ রয়েছে।

  • ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

    ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

    ঢালিউডের সোনালী দিনের দাপুটে নায়ক ও কালজয়ী নৃত্যশিল্পী ইলিয়াস জাভেদ না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করার পর ৮২ বছর বয়সে আজ সোমবার বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

    মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য সনি রহমান। পরিবারের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, ইলিয়াস জাভেদ বহু দিন ধরেই ক্যানসারসহ নানা রকম শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন ও কিছু সময় বাড়িতেই চিকিৎসাসেবা চলছিল।

    জাভেদের স্ত্রী চিত্রনায়িকা ডলি চৌধুরী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আজ সকালে তার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হয়। কয়েকদিন ধরেই হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা করা হচ্ছিল, পরে কিছু সময় বাসাতেও রেখে চিকিৎসা চলছিল। আজ সকালে দুটি নার্স এসে জানালেন, পুরো শরীর ঠান্ডা। এরপর দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স ডেকে হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’

    ইলিয়াস জাভেদ ১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের পেশাওয়ারে জন্মগ্রহণ করেন। পরে সপরিবারে পাঞ্জাবে চলে গেলেও ক্যারিয়ার গড়তে তিনি ঢাকায় এসে চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত হন। প্রথমবার রুপালি পর্দায় নায়ক হিসেবে অভিষেক ঘটেছিল ১৯৬৪ সালের উর্দু সিনেমা ‘নয়ী জিন্দেগি’ থেকে, কিন্তু তার ভাগ্যের চাকা ১৯৬৬ সালে ‘পায়েল’ ছবির মাধ্যমে ঘুরে ওঠে; সেখানে তার বিপরীতে ছিলেন কিংবদন্তি নায়িকা শাবানা। পরিচালক মুস্তাফিজই তাকে চলচ্চিত্রজীবনে ‘জাভেদ’ নামে পরিচিত করে তোলেন।

    নৃত্য পরিচালনায় শুরু করে পরে নায়ক হিসেবে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। ধারাবাহিকভাবে ব্যবসাসফল ছবিতে অভিনয় করে দর্শকের মনে ‘ড্যান্সিং হিরো’ হিসেবে তিনি স্থায়ী স্থান করে নেন। ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৮৪ সালে তিনি বিখ্যাত নায়িকা ডলি চৌধুরীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

    জাভেদের আসল নাম ছিল রাজা মোহাম্মদ ইলিয়াস। দীর্ঘ চলচ্চিত্রজীবনে তিনি শতাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন এবং নাচ ও অভিনয়ের মিলনে সত্তুর-আশির দশকের দর্শকদের মনে গহীন ছাপ রেখে গেছেন।

    তিনি অভিনীত উল্লেখযোগ্য কিছু ছবির মধ্যে রয়েছে: মালেকা বানু, নিশান, পাপী শত্রু, রক্ত শপথ, সাহেব বিবি গোলাম, কাজল রেখা, অনেক দিন আগে, আজও ভুলিনি, কঠোর, মা বাবা সন্তান, রাখাল রাজা, রসের বাইদানী, জীবন সঙ্গী ও আবদুল্লাহ।

    ইলিয়াস জাভেদের প্রয়াণে বাংলা চলচ্চিত্রের একটি অধ্যায় বন্ধ হয়ে গেল বলে অনেকের অনুভব। শিল্পীবৃন্দ ও সহকর্মীরা শোক ও শ্রদ্ধার সঙ্গে তাকে স্মরণ করছেন।

  • সাবেক ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান ও পরিবারের ২২ কোটি ৬৫ লাখ ৫২ হাজার ৩৩০ টাকার সম্পদ ক্রোক

    সাবেক ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান ও পরিবারের ২২ কোটি ৬৫ লাখ ৫২ হাজার ৩৩০ টাকার সম্পদ ক্রোক

    অবৈধভাবে সংগৃহীত সম্পদ হস্তান্তর ও গোপনের চেষ্টা করার অভিযোগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া এবং তাঁর পরিবারের বিভিন্ন সদস্যদের বেশ কিছু সম্পদ ক্রোক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ওই সকলের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়েছে।

    দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এই আবেদন করলে, ঢাকার মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ রোববার এসব নির্দেশ দেন বলে দুপুরে দুদকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) তানজির আহমেদ জানিয়েছেন।

    দুদকের আবেদনে বলা হয়েছে, আছাদুজ্জামান মিয়া, তাঁর স্ত্রী আফরোজা জামান, দুই ছেলে — আসিফ শাহাদাৎ ও আসিফ মাহদিন, মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকা, শ্যালিকা পারভীন সুলতানা এবং শ্যালক হারিচুর রহমান— এ পরিবারের নাম করে ঢাকার রমনা, জোয়ার সাহারা, মোহাম্মদপুরের রামচন্দ্রপুর, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প, গাজীপুরের কালীগঞ্জ, ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা ও ভাঙ্গায় মোট ২২ কোটি ৬৫ লাখ ৫২ হাজার ৩৩০ টাকার বাড়ি, ফ্ল্যাট ও জমি রয়েছে।

    দুদক জানায়, আয়ের উৎসের বাইরে থাকা এই সম্পদের বিষয়ে অভিযোগ অনুসন্ধান করতে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি দল গঠন করা হয়েছে। তদন্তে তাদের কাছে তথ্য মিলেছে যে পরিবারের সদস্যরা অবৈধভাবে অর্জিত এসব সম্পদ অন্যত্র হস্তান্তর বা স্থানান্তর করার, কিংবা গোপন বা নাশ করার চেষ্টা করছিলেন। বিশ্বস্ত সূত্রে জানায়, এসব কারণে তৎক্ষণাত ক্রোক করে রাখাই অনুসন্ধানের স্বার্থে জরুরি বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    দুদক কর্মকর্তারা বলছেন, যদি সম্পদগুলো ক্রোক না করা হয় তবে ভবিষ্যতের বিচারে রাষ্ট্রের অনুকূলে তা বাজেয়াপ্ত করা কঠিন হবে এবং ফলে রাষ্ট্রকে অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে। তাই অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও সম্ভাব্য প্রক্রিয়া থেকে সম্পদের অপচয় রোধ করতে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

  • জাহাঙ্গীর আলম: ‘আ.লীগ বা ছাত্রদল নয়, সরকার ক্রিমিনালদের জামিনের বিরুদ্ধে’

    জাহাঙ্গীর আলম: ‘আ.লীগ বা ছাত্রদল নয়, সরকার ক্রিমিনালদের জামিনের বিরুদ্ধে’

    লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ বা ছাত্রদল নয়, সরকার ক্রিমিনালদের জামিনের বিরুদ্ধে।’

    রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাজধানীর সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে কৃষি সংক্রান্ত ব্রিফিংয়ের সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। সভায় বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধির তথ্য তুলে ধরা হয় এবং কৃষির উন্নয়ন নিয়ে উপদেষ্টা বিস্তারিত প্রজননা দেন।

    তবে ব্রিফিংয়ের সময় সাংবাদিকরা বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামের পারোলে মুক্তি না পাওয়া বিষয়েও প্রশ্ন করেন — তাঁর স্ত্রী ও নয় মাসের শিশু সন্তানের মৃত্যুসহ ঘটনার পটভূমি সম্পর্কে জানতে চাইলে উপদেষ্টা স্পষ্টভাবে জানান, তিনি কেবল কৃষি নিয়ে প্রশ্নের উত্তর দেবেন।

    এক সাংবাদিক তাকে স্মরণ করিয়ে দেন, ‘আপনি তো স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাও’। এসময় জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘না, স্বরাষ্ট্রের সময় আমি ডাকব।’ পরে আরেক সাংবাদিক ‘আপনি তো দায়বদ্ধ’ বললে তিনি বলেন, ‘না, আমি দায়বদ্ধ না। আজকে আমি কৃষির জন্য ডেকেছি। কৃষি ছাড়া বলব না। আপনারা কৃষির ওপর জিজ্ঞেস করবেন।’

    পরবর্তীতে একই ঘটনায় আরও প্রশ্ন উঠলে সভাকক্ষে থেকে চলে যান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।

    পটভূমি: সম্প্রতি বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামকে নিয়ে বাড়িতে ঘটানো ঘটনায় তার স্ত্রী ও নয় মাসের শিশুর মৃত্যুর পাশাপাশি তিনি নিজেও নিহত হয়েছেন—এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। অভিযোগ উঠেছে, লাশ দেখতে পারোলে সাদ্দামকে মুক্তি দেওয়া হয়নি।

    তবে বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে বাগেরহাট জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, সাদ্দামের পরিবার পারোলে মুক্তির জন্য আবেদন করেনি; বরং তারা জেলগেটে লাশ দেখানোর অনুরোধ করেছেন। ঘটনার সম্পূর্ণতা ও তদন্ত চালু আছে এবং আলোচনা এখনও চলছে।

  • তারেক রহমান: বিএনপি ক্ষমতায় এলে দুর্নীতি কঠোরভাবে দমন করবে

    তারেক রহমান: বিএনপি ক্ষমতায় এলে দুর্নীতি কঠোরভাবে দমন করবে

    বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের ভোটে ক্ষমতায় এলে দলটি যেকোনো মূল্যে দুর্নীতির উৎস বন্ধ ও দুর্নীতিবাজদের প্রতিহত করবে। তিনি আজ শনিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে অনুষ্ঠিত সমাবেশে এ কথা জানান।

    তারেক বলেন, পরিকল্পনা গ্রহণ করাই যথেষ্ট নয়—আমরা যদি দুর্নীতি ও অনৈতিকতাকে নিয়ন্ত্রণ না করতে পারি, তবে কোনো পরিকল্পনাই সফল হবে না। অতীতের অভিজ্ঞতার ওপর ভর করে তিনি দাবি করেন যে দুর্নীতি দমন করায় বিএনপির সক্ষমতা আছে এবং জনগণের সামনে এই দলের প্রতিশ্রুতি সেটা নিশ্চিত করবে।

    বক্তৃতায় তিনি স্মরণ করেন যে বিএনপি আগে ক্ষমতায় থেকে আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা মজবুত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল। তিনি বলেন, ক্ষমতায় থাকলে দলের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদেরও ছাড় দেয়া হবে না এবং সংহতভাবে দেশের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে।

    তারেক জনসমক্ষে ভোটের অধিকার রক্ষা করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি যাতে কারো দ্বারা ভোট অধিকার কেড়ে নেওয়া না যায়, সেটি নিশ্চিত করার জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। চট্টগ্রামের মানুষসহ সারাদেশের জনগণ নিরাপদ পরিবেশে বসবাসের দাবি জানায়; এ নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনলেই ব্যবসা-বাণিজ্য ও জীবনমান ফিরবে বলেও দাবি করেন তিনি।

    শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারেক বলেন, ক্ষমতায় এলে প্রতিটি স্তরে বাস্তবমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা দেয়া হবে—যাতে শিক্ষার্থীরা কেবল সার্টিফিকেট না নিয়ে বাস্তবে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সক্ষম হয়।

    স্বাস্থ্য খাতে তিনি বলেন, বিস্তৃত হাসপাতাল নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেয়ার বদলে গ্রামে-গঞ্জে সেবা পৌঁছে দেওয়াকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এ লক্ষে এক লাখ স্বাস্থ্যসেবী নিয়োগের পরিকল্পনা আনা হয়েছে, যাতে মা-বোন ও শিশুরা ঘরে বসেই প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারে।

    দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষক সুরক্ষার কথাও উল্লেখ করে তিনি বলেন, উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের কাছে ‘কৃষক কার্ড’ পৌঁছে দেয়া হবে যাতে তারা বিভিন্ন সহায়তা পায়। চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল কেটে পুনরায় ঢালু ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে—কারণ অনেক এলাকা খাল-নালা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে পানিতে ডুবে যায়।

    শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সম্পর্কেও তারেক বলেন, বিএনপির আমলেই ইপিজেড গড়ে উঠেছে এবং লাখো মানুষ কাজ পেয়েছে। আগামী নির্বাচনে দল পুনরায় ক্ষমতায় এলে আরও ইপিজেড স্থাপন করে চট্টগ্রামকে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানীতে পরিণত করা হবে।

    দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে, দীর্ঘ দুই দশক পর শনিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামে ফিরেছেন তারেক রহমান। তিনি ২৪ জানুয়ারি সন্ধ্যে ৭টা ২০ মিনিটের বিমান বিজি-১৪৭ে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে সরাসরি নগরীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে রাত্রিযাপনের পর রোববার সকালে তরুণদের সঙ্গে পলিসি ডায়ালগে যোগ দেন এবং পরে পলোগ্রাউন্ডের মহাসমাবেশে অংশ নেন। সফর শেষে তিনি ফেনী, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জে একাধিক পথসভায় যোগ দেবেন বলে জানা গেছে।

    সমাবেশকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম নগরীকে কঠোর নিরাপত্তার আওতায় রাখা হয়েছে; প্রায় দুই হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয় এবং মঞ্চসহ পুরো এলাকা রেড, ইয়েলো ও গ্রিন জোন—এই তিন স্তরে ভাগ করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    তারেক বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা ও পরবর্তী গণআন্দোলনের পরে দেশ একটি অর্থবহ পরিবর্তন চাইছে—যেখানে প্রতিটি নাগরিক উন্নত শিক্ষা ও সুচিকিৎসা পাবে। কেবল সমালোচনাই নয়, ক্ষমতায় এলে বিএনপি বাস্তব কাজ করে জনগণের অধিকার নিশ্চিত করবে—এটাই তাদের বার্তা।

  • চাঁদাবাজদের জন্য ‘কমপ্লিট লাল কার্ড’ ঘোষণা জামায়াত আমিরের

    চাঁদাবাজদের জন্য ‘কমপ্লিট লাল কার্ড’ ঘোষণা জামায়াত আমিরের

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশে এখন ‘চাঁদাবাজি’ নামক এক নিকৃষ্ট পেশার জন্ম হয়েছে এবং তাদের জন্য তাঁর পক্ষ থেকে ‘কমপ্লিট লাল কার্ড’ থাকবে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, ‘আমরা কারো সন্তানকে চাঁদাবাজি করতে দেব না। যারা এই পথ বেছে নিয়েছেন, তারা ফিরে আসুন; না হলে বিচারকে মুখোমুখি হতে হবে।’

    রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাজধানীর ঢাকা-৪ ও ঢাকা-৫ নির্বাচনী আসনের উদ্যোগে আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আগামী ১২ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের আগে আয়োজিত এই সমাবেশে তিনি বক্তব্য দেন।

    বক্তব্যের শুরুতেই ডা. শফিকুর রহমান গত জুলাই আন্দোলনের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। এক সম্মাননা স্মারক তিনি এক শহীদের বোনের হাতে তুলে দিয়ে বলেন, ‘এই সম্মান আমার প্রাপ্য নয়; এটি সেই শহীদদের প্রাপ্য যারা জালিমের সামনে বুক পেতে দাঁড়িয়েছিল।’

    যুব সমাজকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘‘আমরা যুবকদের হাতে ‘বেকার ভাতা’ তুলে দিয়ে তাদের অলস করে রাখতে চাই না। তাদেরকে দক্ষ কারিগরে পরিণত করতে হবে, যাতে তারা দেশের গঠনকারী শক্তি হিসেবে কাজ করতে পারে।’’ তিনি আরও বলেন, সাধারণ শিক্ষা, আলিয়া বা কউমি—এই সব মাধ্যমেই কর্মমুখী ও প্রযুক্তিগত শিক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।

    নারীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় বিশেষ গুরুত্বারোপ করে আমির বলেন, ‘আমাদের মা-বোনদের ইজ্জত আমাদের জীবনের চেয়েও মূল্যবান। তাদের কর্মক্ষেত্রে ও যাতায়াতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিতে হবে।’ তিনি বলেন, শহরগুলোর ব্যস্ত সময়গুলোতে শুধুমাত্র মহিলাদের জন্য বিশেষ ইভনিং বাস সার্ভিস চালু করা হবে এবং সরকারি বাসের নিচতলাটি মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হবে।

    নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন ও সেবা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তি ব্যবহার করার ঘোষণা দেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা দুটি অ্যাপস চালু করবো—একটির মাধ্যমে চাঁদাবাজদের গোপনে চিহ্নিত করা যাবে, আর অন্যটির মাধ্যমে সাধারণ মানুষ সরাসরি তাদের সমস্যা জানাতে পারবে।’ এছাড়া নির্বাচিত হলে জনপ্রতিনিধিদের প্রতি ছয় মাসে একবার সরাসরি জনগণের সামনে হাজির হয়ে তাদের প্রশ্নের উত্তর ও সম্পদের হিসাব দিতে হবে বলেও তিনি জানান।

    ঢাকা-৪ ও ঢাকা-৫ আসনের জলাবদ্ধতা ও নদী দূষণ নিয়ে তিনি কঠোর এক হুঁশিয়ারি দেন। বলেন, ‘যদি আমরা দেশ পরিচালনার সুযোগ পাই, তাহলে ওই এলাকার এমপি, মেয়র ও কাউন্সিলরদের বছরে চারবার সেই দূষিত নদীর পানিতে গোসল করানো হবে। যখন তারা নিজে ওই পানিতে নামবেন, তখনই নদী পরিষ্কার রাখতে তাদের বাধ্য করা সম্ভব হবে।’

    জুলাই আন্দোলনের শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দাবি করে তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ের গণহত্যাকারীদের ক্ষমা নেই। জুলাইয়ের চেতনা এখনও জাগ্রত। কেউ যদি নির্বাচনের ফলাফল নেওয়ার পরে অন্যভাবে বদলানোর চেষ্টা করে, তবে ছাত্র-জনতা তা রুখে দেবে।’ প্রশাসনকে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব থেকে বিরত থেকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বানও করেন তিনি।

    বৃহৎ এই জনসভায় ১০ দলীয় জোটের স্থানীয় নেতারা, শহীদ পরিবারগুলোর সদস্য এবং সাধারণ মানুষের বিশাল সমাগম ছিল। সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান ভোটারদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, আগামী ১২ তারিখ ‘ইনসাফ ও আজাদির’ পক্ষে রায় দেবেন—এভাবেই শেষ করে তিনি তাঁর বক্তব্য।

  • সোনার রেকর্ড দর: এক ভরিতে ২২ ক্যারেট সোনা ২ লাখ ৫২ হাজার ছাড়াল

    সোনার রেকর্ড দর: এক ভরিতে ২২ ক্যারেট সোনা ২ লাখ ৫২ হাজার ছাড়াল

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) একদিনের ব্যবধানে আবারও দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সর্বোচ্চ প্রতি ভরিতে ৮ হাজার ৩৪০ টাকা বাড়ানো হয়েছে, ফলে ২২ ক্যারেটের সোনার এক ভরির দাম ছাড়িয়ে গেছে দুই লাখ ৫২ হাজার ৪৬৭ টাকা — যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেকর্ড।

    বাজুস এই ঘোষণা বুধবার (২১ জানুয়ারি) করেছে এবং নতুন দাম বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। সংস্থার বক্তব্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক বাজারে তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার মূল্য বাড়ায় স্থানীয় বাজারেও দাম ওঠে।

    বিশ্বজুড়ে স্বর্ণের দর সম্পর্কিত ওয়েবসাইট গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি দেখাচ্ছে, বৈশ্বিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৪,৮০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে। এই আন্তর্জাতিক উর্ধ্বগতি স্থানীয় বাজারে মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ হিসেবে আনা হয়েছে।

    নতুন ঘোষণা অনুযায়ী সোনার দামগুলো হলো: ২২ ক্যারেট—প্রতি ভরি ২,৫২,৪৬৭ টাকা; ২১ ক্যারেট—প্রতি ভরি ২,৪০,৯৭৮ টাকা; ১৮ ক্যারেট—প্রতি ভরি ২,০৬,৫৬৯ টাকা; এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা—১,৬৯,৬৫৩ টাকা।

    সোনার সঙ্গে সঙ্গে রুপার দামও বাড়েছে। বাজুস জানিয়েছে, রুপার নতুন দর অনুযায়ী ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৬,৮৮২ টাকা, ২১ ক্যারেট—৬,৫৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেট—৫,৫৯৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৪,২০০ টাকা।

    দাম বৃদ্ধির এই ঘোষণা গহনা ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের ওপর প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা যাচ্ছে; ক্রেতাদের জন্য খরচ বেড়ে যাবে এবং ব্যবসায়ীদেরও মূল্য নির্ধারণ পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন হতে পারে। বাজুসের পরবর্তী আপডেট বা বাজারে প্রতিক্রিয়া গুরুত্বসহকারে নজর রাখার পরামর্শ রয়েছে।

  • ট্রাম্পের শুল্কের চেয়েও বিপজ্জনক হতে পারে চীনের রেকর্ড বাণিজ্য উদ্বৃত্ত

    ট্রাম্পের শুল্কের চেয়েও বিপজ্জনক হতে পারে চীনের রেকর্ড বাণিজ্য উদ্বৃত্ত

    ২০২৬ সালের প্রথম দুই সপ্তাহেই চীনের সাম্প্রতিক বাণিজ্য পরিসংখ্যান বিশ্ব মনোযোগ কেড়ে নিয়েছে। ২০২৫ সালে চীনের বার্ষিক বাণিজ্য উদ্বৃত্ত রেকর্ড ১.২ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়—এটি বিশ্ব ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। তথ্য প্রকাশের পর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারক এ ফলাফলকে নতুন উদ্বেগ হিসেবে দেখছেন।

    নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত একটি নিবন্ধে কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও ব্রুকিংস ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো ঈশ্বর প্রসাদ মন্তব্য করেছেন, মুক্ত বাণিজ্য ব্যবস্থার জন্য চীনের এই বিশাল উদ্বৃত্ত ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা শুল্কের চেয়েও বড় ঝুঁকি হতে পারে। তাঁর যুক্তি—চীনের সস্তা পণ্য কেবল উন্নত দেশগুলোর শিল্পকে নয়, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোকেও প্রতিযোগিতায় দুর্বল করে দিচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে রপ্তানিভিত্তিক প্রবৃদ্ধির ওপর নির্ভর করলে আন্তর্জাতিক নিয়মভিত্তিক বাণিজ্য ব্যবস্থা আরও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

    অন্যদিকে চীনা রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোবাল টাইমস’-এর সাবেক প্রধান সম্পাদক হু সিজিন ১৬ জানুয়ারি উইবোতে লিখেছেন, এই উদ্বৃত্ত ওয়াশিংটনের অভিজাত শ্রেণিকে আতঙ্কিত করেছে। তাঁর ভাষ্যে, ‘‘চীনের অর্থনীতি অত্যন্ত স্থিতিস্থাপক; কোনো বাণিজ্য যুদ্ধ দিয়েই একে দমিয়ে রাখা সম্ভব নয়।’’ হু আরও যোগ করেন, চীনের রপ্তানি জোরালো হওয়ার পেছনে জোর-জবরদস্তি নয়, বরং পণ্য উৎপাদনে সততা ও পরিশ্রম আছে।

    বাণিজ্য উদ্বৃত্তের গঠন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় এটি একপাশে শক্তিশালী রপ্তানি ও অন্যপাশে দুর্বল আমদানি—এই অনুপাত থেকেই এসেছে। ২০২৫ সালে চীন-মার্কিন শুল্ক যুদ্ধের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের রপ্তানি ২০ শতাংশ কমলেও আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা, আসিয়ান ও ইইউ-তে রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে; আফ্রিকায় তা রেকর্ড ২৫.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী পণ্যের চাহিদা, চীনের উৎপাদনখাতে মুদ্রাসঙ্কোচন ও ইউয়ানের মূল্যহ্রাস মিশে চীনা পণ্যকে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও সাশ্রয়ী করে তুলেছে।

    তবে আমদানির দিকটি পুরোটা সঙ্গে নেই। ২০২৫ সালে চীনের মোট আমদানি মাত্র ০.৫ শতাংশ বাড়ে—অর্থাৎ রপ্তানির ৬.১ শতাংশ বৃদ্ধির সঙ্গে তুলনীয় নয়। অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদার স্থবিরতা প্রধান কারণ। ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধে ভোক্তাসামগ্রীর খুচরা বিক্রির প্রবৃদ্ধি ধীরে ধীরে কমে—নভেম্বরে তা তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ১.৩ শতাংশে নেমে আসে। একই সময় আবাসন খাতে সংকটের ফলে স্থাবর সম্পদে বিনিয়োগও সংকুচিত হয়েছে; এমনকি ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবারের মতো বার্ষিক বিনিয়োগে পতনের আশঙ্কাও করা হচ্ছে। ফল হিসেবে আমদানির গতি ধরে রাখা সম্ভব হয়নি।

    গত বছর সাত মাসে চীনের মাসিক বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ১০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল; তুলনামূলকভাবে ২০২৪ সালে এটা মাত্র একবার ঘটেছিল—এটিই নির্দেশ করে যে এই ভারসাম্যহীনতা আকস্মিক নয়, বরং ধারাবাহিক। বিশ্বপেক্ষায় এই বিশাল রপ্তানিটা একদিকে অর্থনৈতিক শক্তি ও বিশ্বব্যবস্থায় সরবরাহশৃঙ্খলের পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখছে; এটি মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করেছে এবং উন্নত দেশগুলোর স্তরে মূল্যস্ফীতির চাপ কমিয়েছে। অন্যদিকে, অত্যধিক রপ্তানিনির্ভরতা চীনের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির কাঠামোগত ভারসাম্যহীনতাকে তীব্র করতে পারে—আভ্যন্তরীণ চাহিদি দুর্বল থাকলে দেশের অর্থনীতি বহুদূরপ্রসারি ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এছাড়া বাণিজ্যিক অংশীদারদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়লে প্রতিরোধমূলক কৌশল, শুল্ক বা অন্যান্য বাধা আরোপের ঝুঁকি বেড়ে যাবে।

    আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়াও এসেছে। ২০২৫ সালের প্রথম ১১ মাসে বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার পর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা সতর্ক করে বলেছেন—চীন যদি রপ্তানিমুখী মডেলের ওপর অনড় থাকে, তা বিশ্ব বাণিজ্যে উত্তেজনা বাড়াবে। ফরাসি রাষ্ট্রপ্রধান ইমানুয়েল মাখোঁ ইস্যুতে সতর্ক করে বলেছেন, বেইজিং যদি ইউরোপের সঙ্গে এই ভারসাম্যহীনতা সমাধান না করে, তাহলে ইইউ অতিরিক্ত শুল্কসহ কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে।

    এদিকে বেইজিং আনয়াসহ পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও দেখা যায়। চলতি মাসের শুরুতে গুয়াংডং পরিদর্শনে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং বলেন, দেশে আমদানি বাড়ানো এবং আমদানি-রপ্তানির মধ্যে আরও সুষমতা বজায় রাখা প্রয়োজন। বাণিজ্যমন্ত্রী ওয়াং ওয়েনতাও জানিয়েছেন, বিশেষ টার্গেট ক্রয়, সমন্বিত বাণিজ্য মেলা ইত্যাদির মাধ্যমে আমদানি বাড়াতে সরকার কাজ করবে। সরকার ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে, ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে ফটোভোলটাইক পণ্যের ওপর রপ্তানি ভ্যাট রিবেট বাতিল করা হবে; ব্যাটারি পণ্যে রিবেট ধাপে ধাপে কমিয়ে ভবিষ্যতে বন্ধ করা হবে। এছাড়া এই মাসে চীন ও ইইউ’র মধ্যে বৈদ্যুতিক গাড়ি সম্পর্কিত একটি সমঝোতা হয়নি—চীনা গাড়ি নির্মাতারা অ্যান্টি-সাবসিডি শুল্কের বদলে ন্যূনতম মূল্য বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ব্যবসা চালানোর সুযোগ পাচ্ছে।

    চীনের বিশাল বাণিজ্য উদ্বৃত্ত কি আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ—এর উত্তর নির্ভর করে কয়েকটি বিষয়ের ওপর: রপ্তানি থেকে অর্জিত আয় দেশীয় চাহিদি ও বিনিয়োগে ফিরছে কি না, রপ্তানি বৃদ্ধিই আমদানিকে ত্বরান্বিত করছে কি না, এবং বাণিজ্যিক নীতিতে কীভাবে সমন্বয় করা হচ্ছে। হু সিজিনের মতো অনেকে বলেছেন—এটি চীনের শক্তির প্রমাণ; অন্যদিকে ঈশ্বর প্রসাদের মতো অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলছেন—এই অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি উভয়ের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ।

    চীনের রেকর্ড বাণিজ্য উদ্বৃত্ত বিশ্ব অর্থনীতির জন্য সম্ভাব্য সুবিধা আর ঝুঁকি—দুইটাই বহন করছে। এখন প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট নীতিগত আবেদন ও আন্তঃদেশীয় সমঝোতা, যাতে এই উদ্বৃত্ত বিশ্ব ও চীনের জন্য স্থিতিশীল ও সহায়ক ফল করে। সূত্র: বিজনেস টাইমস।