Blog

  • স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড: ভরিতে ৫ হাজার ২৪৯ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের দাম ২ লাখ ৬২ হাজার ৪৪০ টাকা

    স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড: ভরিতে ৫ হাজার ২৪৯ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের দাম ২ লাখ ৬২ হাজার ৪৪০ টাকা

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) একদিনের ব্যবধানে আবারও দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে। ভরিতে ৫ হাজার ২৪৯ টাকা বৃদ্ধির ফলে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৬২ হাজার ৪৪০ টাকা — যা বাংলাদেশের ইতিবাচক ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

    বাজুস সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাতের বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানায়। নতুন এই দাম মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) থেকে কার্যকর হবে। সংস্থার বরাতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ (পিওর গোল্ড) তথা পিউর গোল্ডের দাম বাড়ায় সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

    নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম):

    – ২২ ক্যারেট: ২,৬২,৪৪০ টাকা

    – ২১ ক্যারেট: ২,৫০,৪৮৪ টাকা

    – ১৮ ক্যারেট: ২,১৪,৭৩৪ টাকা

    – সনাতন পদ্ধতি অনুযায়ী: ১,৭৬,৫৯৩ টাকা

    বাজুস জানিয়েছে, ক্রেতাকে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি মূল্যসংগতিতে যোগ করতে হবে। গহনার নকশা ও মানের উপর ভিত্তি করে মজুরির পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে।

    এর আগেও গত ২৫ জানুয়ারি বাজুস স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছিল; তখন ২২ ক্যারেটের এক ভরি দাম ভরিতে ১,৫৭৪ টাকা বাড়িয়ে ২,৫৭,১৯১ টাকা করা হয়েছিল এবং তা ২৬ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছিল। সেদিনের শতাংশ অনুযায়ী ২১ ক্যারেটের দাম ছিল ২,৪৫,৫২৭ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২,১০,৪১৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির দাম ছিল ১,৭২,৯১৯ টাকা।

    চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশে ১৪ দফা স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে; এর মধ্যে ১১ দফা দাম বেড়েছে এবং ৩ দফা দাম কমেছে। গত বছর (২০২৫) মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয় এবং ২৯ বার কমানো হয়।

    স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। রুপার প্রতি ভরি দাম ৫২৫ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৭,৭৫৭ টাকা, যা রুপারও সর্বোচ্চ মূল্য। অন্যান্য ক্যারেট অনুযায়ী রুপার দাম: ২১ ক্যারেট ৭,৪০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৬,৩৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতি ৪,৭৮২ টাকা। চলতি বছর রুপার দাম এখন পর্যন্ত ১১ দফা সমন্বয় করা হয়েছে।

    বাজারে তীব্র ওঠানামার এই ধারায় ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিশ্বাসযোগ্য মূল্যসূত্র দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

  • ইরানে বিক্ষোভ দমন: মানবাধিকার সংস্থার দাবি—নিহত অন্তত ৬ হাজার

    ইরানে বিক্ষোভ দমন: মানবাধিকার সংস্থার দাবি—নিহত অন্তত ৬ হাজার

    যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি মানবাধিকার সংস্থা বলেছে, ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমন অভিযানে অন্তত 6 হাজার লোক প্রাণ হারিয়েছেন। সোমবার ফ্রান্সের সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (HRANA) এই পরিসংখ্যানটি নিশ্চিত করেছে।

    গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে অর্থনৈতিক অভাব-অসন্তোষ থেকেই শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুতই ইসলামী প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে ব্যাপক গণআন্দোলনে রূপ নেয়। বিশেষ করে ৮ জানুয়ারি থেকে কয়েক দিন ধরে সারাদেশে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভ দমন করতে ইন্টারনেট বন্ধ রেখে এবং সরাসরি গুলি চালিয়ে নজিরবিহীন কদর্য অভিযান চালিয়েছে। বিক্ষোভের সময় শুরু হওয়া ইন্টারনেট শাটডাউন কয়েকদিন টানা চলার পরও আংশিক বা পূর্ণবহালে সীমিত রয়েছে বলে জানানো হয়।

    HRANA বলেছে, তারা এখন পর্যন্ত 5,848 জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে; নিহতদের মধ্যে 209 জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। এছাড়া আরও 17,091 জনের সম্ভাব্য মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় অন্তত 41,283 জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    ইরানি কর্তৃপক্ষ গত সপ্তাহে প্রথমবারের মতো সরকারি হতাহত হিসাব প্রকাশ করে বলেছে, 3,117 জন নিহত হয়েছেন; নিহতদের মধ্যে বেশিরভাগই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য বা দাঙ্গাবাজদের হাতে নিহত নিরীহ নাগরিক ছিলেন—এই বিবরণে ভিন্নতা রয়েছে এবং তা নিয়ে বিতর্ক চলছে। বেসরকারি সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে যে ইন্টারনেট কাটছাট হওয়ায় তাদের সংগ্রহ করা তথ্য ব্যাহত হচ্ছে এবং প্রকৃত নিহতের সংখ্যা হয়তো এখন পর্যন্ত জানা সংখ্যার চেয়ে বেশি হতে পারে।

    নেটব্লকসের রিপোর্ট বলছে, ইরানে এখনও ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট আছে, যা নীরবভাবে ঘটমান অধ্যায়গুলোর চিত্র আড়ালে রেখে দিচ্ছে। কিছু ফার্সি-ভাষা সম্প্রচার মাধ্যম, বিশেষ করে তেহরানের বাইরে অবস্থানরত ইরান ইন্টারন্যাশনাল, গত সপ্তাহে দাবি করেছে যে ৮–৯ জানুয়ারির মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে 36,500 ছাড়িয়ে মানুষ নিহত হয়েছে; তবে ওই তথ্য এএফপির মাধ্যমে তাত্ক্ষণিকভাবে যাচাই করা যাচ্ছেনা।

    আন্তর্জাতিক মঞ্চে পরিস্থিতিকে ঘিরে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। তেহরান ওয়াশিংটনকে নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের তখনকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরুতে সামরিক হস্তক্ষেপ থেকে সরে আসার দিকেই ইঙ্গিত দিলেও পরে বলেছিলেন, সামরিক বিকল্প এখনো মুছিয়ে ফেলা হয়নি এবং প্রয়োজনে ওই অঞ্চলে নৌবহর পাঠানো হবে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছে, যেকোনো আগ্রাসনের জবাবে তারা ‘পুরোপুরি ও দাঁতভাঙা’ প্রতিরোধ করবে।

    অবস্থা অনিশ্চিততা ও তথ্যের ঘাটতির মধ্যেই আছে। বিভিন্ন সূত্রে প্রকাশিত হতাহত ও গ্রেফতারির সংখ্যা মিলিয়ে মানবাধিকার কর্মকর্তারা বলছেন, ইন্টারনেট কর্তনের কারণে বাস্তব ছবি আঁকার কাজ ব্যাহত হচ্ছে এবং সত্যতা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি সংখ্যাকে সতর্কতার সঙ্গে দেখা উচিত। এ মহামানুষিক সংকটের সামনে ইরানের সাধারণ মানুষ ও পরিবারগুলো গভীর শোক ও উদ্বেগের মুখে রয়েছে।

  • ইরানে হামলার জন্য ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না সংযুক্ত আরব আমিরাত

    ইরানে হামলার জন্য ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না সংযুক্ত আরব আমিরাত

    সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ঘোষণা করেছে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো শত্রাত্মক বা সামরিক হামলার জন্য তাদের আকাশসীমা, ভূখণ্ড বা জলসীমা ব্যবহার করতে দেবে না। এই অবস্থান দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার প্রকাশ করা এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

    বিবৃতিতে ইউএই সরকার আরও বলেছে যে তারা এমন কোনও আক্রমণে লজিস্টিক বা অন্য কোনো ধরনের সহায়তাও প্রদান করবে না। মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে উত্তেজনা কমানো, সংলাপ চালিয়ে যাওয়া, আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি আনুগত্য এবং রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করাকে বর্তমান সংকট মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হিসেবে দেখছে।

    বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে সংযুক্ত আরব আমিরাত অঞ্চলকে উত্তেজনামুক্ত রাখার জন্য নিরপেক্ষ অবস্থান পালন করবে এবং কোন পক্ষের পক্ষপাতদুষ্ট সহায়তা প্রদানের পথে যাবে না।

    পটভূমি হিসেবে বলা হয়, অর্থনৈতিক অসন্তোষের সূত্রে গত বছরের ডিসেম্বরে ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয় এবং চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি তা ব্যাপক আকার প্রাপ্ত হয়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) বলেছে, সাম্প্রতিক বিক্ষোভে ইরানে অন্তত ছয় হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন বলে তাদের তথ্য নিশ্চিত হয়েছে।

    ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে ক্ষমতায় থাকা ধর্মীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধেই ব্যাপক প্রতিবাদ-প্রতারণা ও দমন-পীড়ন অব্যাহত আছে। দেশটির বিরোধী রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোও অনেক সময় পরিবর্তনের জন্য বাইরের হস্তক্ষেপকে বিকল্প হিসেবে দেখছে।

    বিশ্বমঞ্চে ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রও সতর্ক নজর রাখছে। শুরুতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক হস্তক্ষেপ থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিলেও পরে তিনি পুনরায় বলেছেন, তা এখনও একটি বিকল্প হিসেবে রয়েছে। আবুধাবির কাছে আল-ধাফরা বেসসহ আমিরাতে কয়েকটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হাজার হাজার মার্কিন সৈন্য মোতায়েন রয়েছে, এবং গত সপ্তাহে একটি মার্কিন নৌবহরের উপসাগরীয় অঞ্চলের দিকে অগ্রগতির কথাও বলা হয়েছিল।

    বিশ্লেষকদের মতে, ইউএই সরকারের এই ঘোষণার উদ্দেশ্য অঞ্চলকে সরাসরি সংঘাতে টেনে না নিয়ে সংকট প্রশমনে বৈশ্বিক ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করা। সংযুক্ত আরব আমিরাত আপাতত কূটনৈতিক পথ এবং আন্তর্জাতিক আইনকে সম্মান প্রদানে জোর দিচ্ছে।

  • লক্ষাধিক কর্মসংস্থান করে বেকারমুক্ত সমাজ গড়ার প্রতিশ্রুতি

    লক্ষাধিক কর্মসংস্থান করে বেকারমুক্ত সমাজ গড়ার প্রতিশ্রুতি

    বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৩ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল বলেছেন, নির্বাচিত হলে তিনি ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবেন। খুলনার শিল্পঐতিহ্যকে আধুনিকায়ন করে নতুন বিনিয়োগের পরিবেশ গড়ে তুললেই এটি সম্ভব বলে তিনি মনে করেছেন।

    সোমবার খুলনা মহানগরের ৫ নম্বর ওয়ার্দের বিভিন্ন এলাকায় অনুষ্ঠিত ধারাবাহিক পথসভা ও গণসংযোগে এসব কথা বলেন বকুল। গতকাল একই ওয়ার্ডে এলাকার উদ্যোগে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া ও আলোচনা সভায় তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

    বকুল খুলনার শিল্পাঞ্চল ও এর অর্থনৈতিক গুরুত্বের দিকে লক্ষ করে বলেন, বর্তমান সময়ে তরুণ প্রজন্মের সবচেয়ে বড় সংকট হলো বেকারত্ব। এটি একজন ব্যক্তির সমস্যা নয়; পুরো পরিবার ও সমাজকে প্রভাবিত করে। তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে তার মেয়াদের শুরু থেকেই পরিকল্পিত শিল্পায়ন ও কারিগরি শিক্ষার প্রসারের মাধ্যমে বেকারত্ব দূর করার জন্য কাজ শুরু করবেন। তার এই সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি উপস্থিত হাজারো নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আশা জাগিয়েছে।

    বকুল ভোটারদের আশ্বস্ত করে বলেন, ধানের শীষের বিজয় হলে খুলনার মেহনতি মানুষের ভাগ্য বদলে যাবে এবং উন্নয়নের সুফল প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দেওয়া হবে। তিনি সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটকেন্দ্রে এসে গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

    দোয়া অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শেখ মোঃ আব্দুল মান্নান। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদী, সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মোঃ চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেন, সাবেক চেয়ারম্যান মীর কায়ছেদ আলী, দৌলতপুর থানা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক শেখ মোশাররফ হোসেন, বিশিষ্ট শিল্পপতি সিআইপি শেখ ফারুক হোসেন ও বিজেএ চেয়ারম্যান খন্দকার আলমগীর কবির।

    আরও উপস্থিত ছিলেন দৌলতপুর থানা বিএনপির সভাপতি মুর্শিদি কামাল, সাধারণ সম্পাদক শেখ ইমাম হোসেন, ইমাম মুফতি নাজমুল হাসান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আকুঞ্জি হারুন রশিদসহ দলের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী ও সমর্থক।

  • যারা ‘না’ ভোটের পক্ষে কথা বলছে, তারা দুর্নীতি টিকিয়ে রাখতে চায়: মিয়া গোলাম পরওয়ার

    যারা ‘না’ ভোটের পক্ষে কথা বলছে, তারা দুর্নীতি টিকিয়ে রাখতে চায়: মিয়া গোলাম পরওয়ার

    খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, দাড়িপাল্লাকে বিজয়ী না করলে গত ৫৪ বছরে সৃষ্টি হওয়া দুর্ভোগ, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা চলতেই থাকবে। শনিবার ছাত্রসমাজ বিভিন্ন নির্বাচনে চাঁদাবাজদের পরাজিত করেছে—এ থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামী জাতীয় নির্বাচনে দুর্নীতিবাজ ও চাঁদাবাজদের পরাস্ত করা সম্ভব হবে বলে তিনি দাবি করেন।

    আজ সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ফুলতলা উপজেলার পটিয়াবান্দা, ধোপাখোলা, পিপরাইল, ডুমুরিয়া উপজেলার মান্দ্রা, দহখোলা, পাকুড়িয়া, রুদাঘরা ও শৈলগাতি এলাকায় নির্বাচনী জনসভা, মিছিল, উঠান বৈঠক ও গণসংযোগের সময় এসব কথা বলেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি ভোটারদের নৈতিক ও চরিত্রনির্ভর নেতৃত্বের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান এবং দলমতকে ছাপিয়ে দেশের কল্যাণে কাজ করার অনুরোধ করেন।

    তিনি বলেন, “ধানের শীষ, নৌকা, লাঙ্গল রাষ্ট্র চালাতে পারলে দাড়িপাল্লাও পারবে—এটা আমাদের অধিকার।” একই সঙ্গে বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে শত্রুতা নয়, সৌহার্দ্য বজায় রেখে দেশপ্রীতির আহ্বান জানান তিনি। আগামী নির্বাচনকে গণভোট হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, রাষ্ট্র সংস্কার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে ভোটে ‘হ্যাঁ’ দিতে হবে। যারা ‘না’ ভোটের পক্ষে কথা বলছে, তারা বর্তমান দুর্নীতি-চাঁদাবাজির ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে চায়—এ মন্তব্যও করেন তিনি।

    ভোটের দিন দ্রুত কেন্দ্র এসে আগেভাগে ভোট দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “আগে ভোট দিয়ে তারপর বাড়ি ফিরবেন। যুবকদের দায়িত্ব থাকবে ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়া, যাতে কোনো ভোট ডাকাতি বা সন্ত্রাস না হয়।”

    এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন খুলনা জেলা জামায়াতে ইসলামী সহকারী সেক্রেটারি মুন্সি মইনুল ইসলাম, এডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্লা, ফুলতলা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান প্রিন্সিপাল গাওসুল আযম হাদী, ফুলতলা উপজেলা আমীর অধ্যাপক আব্দুল আলিম মোল্লা, ডুমুরিয়া উপজেলা আমীর মাওলানা মোক্তার হোসেন, নায়েবে আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি আব্দুর রশীদ বিশ্বাস, আব্দুল কাইয়ুম আল ফয়সাল, ফুলতলা ইউপি চেয়ারম্যান মাওলানা সাইফুল হাসান, হিন্দু কমিটির নেতারা অমল মন্ডল, অসিত মন্ডলসহ স্থানীয় নেতারা ও কর্মীরা।

    নির্বাচিত হলে তাঁর প্রাথমিক অগ্রাধিকার হবে বিল ডাকাতিয়ার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসন—এ কথা জানিয়ে সাবেক এমপি বলেন, “আমি নিজেও বিল ডাকাতিয়ার লোক। এখানেই আমাদের জমি-জমা, ফসল। এই বিল ডুবে গেলে আপনারা কষ্ট পান, আমিও কোন্দল পাই। তাই আল্লাহ যদি আমাকে ক্ষমতা দেন, প্রথম কাজ হবে পানির নিষ্কাশন।” তিনি আরও জানান, জলাবদ্ধতা নিরসনের পরে ভাঙাচোরা রাস্তা, মসজিদ-মন্দিরসহ এলাকাভিত্তিক সার্বিক উন্নয়নে কাজ করবেন। ফুলতলাকে নিজের জন্মস্থান হিসেবে উল্লেখ করে তিনি অতীতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে অঞ্চলটিকে সুন্দরভাবে গড়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

    দুর্নীতি প্রসঙ্গে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গত ৫৪ বছরে যারা দেশ শাসন করেছে তাদের কেউই দুর্নীতিমুক্ত ছিল না। তিনি বলেন, প্রত্যেক সরকারের আমলেই দুর্নীতি, দলীয়করণ ও বিরোধী দমননীতি দেখা গেছে এবং তাই পুরনো রাজনৈতিক নেতৃত্বই পরিবর্তন করা প্রয়োজন।

    ভোট কেনার জন্য দেওয়া কালো টাকা প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, টাকা দিয়ে মানুষের বিবেক কেনা যায় না; ভোট বিক্রি করা মানে ভবিষ্যৎ বিক্রি করা। যারা ভোট কেনে, তাদের দেওয়া অর্থ সমাজকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করার পরামর্শও দেন তিনি।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আসন্ন নির্বাচন নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুবর্ণ সুযোগ। বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক রাষ্ট্র গড়তে পুরনো রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরিবর্তন অপরিহার্য। ১০১ দলীয় জোট দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলে দুর্নীতি নির্মূল, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়া হবে—এই অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।

  • পাকিস্তানের বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ: চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে শুক্রবার বা আগামী সোমবার

    পাকিস্তানের বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ: চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে শুক্রবার বা আগামী সোমবার

    পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ সম্পর্কিত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আগামী শুক্রবার অথবা আগামী সপ্তাহের সোমবার নেওয়া হবে—এই জানান দিয়েছেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (টুইটার)-এ এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

    বাংলাদেশের বিশ্বকাপ বয়কটের পর বিশ্ব ক্রিকেটের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। দলের ঘোষণা করার পর থেকেই পাকিস্তানও বয়কটের ইঙ্গিত দেখিয়েছে বলে জানান মহসিন নাকভি, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তিনি প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের কাছে ছেড়ে দিয়েছেন।

    নাকভি আজ সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বাংলাদেশ সময় বিকেল приблизত ৫টায় প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। বৈঠক শেষে এক টুইট পোস্টে তিনি লিখেছেন, “আমি প্রধানমন্ত্রীকে আইসিসি সংক্রান্ত বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে জানিয়েছি। তিনি সব বিকল্প খোলা রেখে বিষয়টি সমাধানের নির্দেশ দিয়েছেন। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে—চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে শুক্রবার অথবা আগামী সোমবার।”

    এর আগে নাকভি প্রধানমন্ত্রীকে এই বিষয়ে ব্রিফ করেন — এ খবর প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের এক বিবৃতিতেও বলা হয়েছে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, “আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যকার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বিস্তারিতভাবে অবহিত করা হয়েছে।”

    পটভূমিতে রয়েছে বাংলাদেশ মাঠে না নামার সিদ্ধান্ত। মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়ার পর নিরাপত্তা শঙ্কায় বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলবে না বলে ঘোষণা দেয় এবং ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করে আইসিসির কাছে। তবে আইসিসি নিরাপত্তা ঝুঁকি খুঁজে না পাওয়ায় বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত পাল্টাতে বলেছিল; না মানলে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার হুমকিও ছিল। বাংলাদেশ তাদের অবস্থানে অটল থাকায় আইসিসি স্কটল্যান্ডকে বাংলাদেশ ওয়ার্জ করা ম্যাচগুলোতে সুযোগ দেয়।

    এই পুরো সময়েই পাকিস্তান বাংলাদেশকে সমর্থন করে এসেছে। নাকভি জানিয়েছেন, পাকিস্তানও বয়কট নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে, কিন্তু সবকিছু সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। আজকের বৈঠকে সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়েছে এবং শুক্রবার বা আগামী সোমবার চূড়ান্ত ঘোষণা আসার আশা রাখা হচ্ছে।

  • আইসিসি বাতিল করল বাংলাদেশি সাংবাদিকদের বিশ্বকাপ এক্রিডিটেশন

    আইসিসি বাতিল করল বাংলাদেশি সাংবাদিকদের বিশ্বকাপ এক্রিডিটেশন

    আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য দল ঘোষণা করেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। কিন্তু নিরাপত্তাজনিত কারণে সরকারের অনুমতি না পাওয়ায় বাংলাদেশ দল অংশ নিতে পারছে না—ফলে এবার বিশ্বকাপে বাংলাদেশ নেই।

    দলের ঘোষণার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)‑র কাছে এক্রিডিটেশনের জন্য আবেদন করেছিলেন দেশের ক্রীড়া সাংবাদিকরা। অনেকে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় গিয়ে মাঠ থেকে সরাসরি কভারেজ দেওয়ারও প্রস্তুতি নিয়েছিলেন।

    কিন্তু সেই আশা শেষ পর্যন্ত সুপ্রভাতে পরিণত হলো না। আইসিসি সোমবার ই-মেইলের মাধ্যমে জানায় যে, এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য বাংলাদেশের কোনো সাংবাদিককে এক্রিডিটেশন দেওয়া হবে না। আইসিসি জানিয়েছে, বাংলাদেশ দল টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে না, তাই দেশটির সাংবাদিকদের মাঠে গিয়ে কভার করার অনুমতি নেই।

    এর আগে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলও মন্তব্য করেছিলেন যে নিরাপত্তার কারণে ভারত কেবল সীমিত কারণে নয়—খেলোয়াড়, দর্শক ও সাংবাদিকদের জন্যও পুরোপুরি নিরাপদ নয়। তাঁর বক্তব্যও বিষয়টিকে আরো জোরালো করেছিল।

    ফলত: বাংলাদেশ কেবল খেলায় নয়, সংবাদ পরিবেশনেও এই বিশ্বকাপ থেকে দূরে থাকল। দেশের ক্রীড়া সাংবাদিকরা মাঠের সরাসরি কভারেজ না করতে পারায় ক্রিকেট ক্রীড়ার খবরাখবরের প্রকাশভঙ্গিও প্রভাবিত হবে।

  • ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

    ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

    ঢালিউডের সোনালি দিনের বিশিষ্ট অভিনেতা ও কিংবদন্তি নৃত্যশিল্পী ইলিয়াস জাভেদ আর নেই। দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে ৮২ বছর বয়সে আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

    মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য সনি রহমান।

    জাভেদের স্ত্রী ডলি চৌধুরী সংবাদমাধ্যমকে জানান, ‘‘আজ সকালে উনার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হয়। ঈমানদার চিকিৎসা ও নার্সিং সেবা চলছিল। সকালের দিকে নার্সরা এসে বললেন, তার সারাব্যাপী শীতলতা দেখা যাচ্ছে। এরপর অ্যাম্বুলেন্স ডেকে হাসপাতালে নেওয়া হয়, সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’’

    জানা গেছে, ইলিয়াস জাভেদ দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। গত বছরের এপ্রিলে তিনি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন; পরে বাসাতেই চিকিৎসা চলছিল এবং চিকিৎসক-নার্সরা নিয়মিত সেবা দিয়ে আসছিলেন।

    ১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের পেশাওয়রে জন্মগ্রহণ করেছিলেন তিনি। পরবর্তীতে সপরিবারে পাঞ্জাবে চলে গেলেও পরিণতি তাঁকে টেনে আনে ঢাকার চলচ্চিত্র অঙ্গনে। অভিনয়ের আগে তিনি নৃত্য পরিচালনার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন; পরে নায়ক হিসেবে জনপ্রিয়তা পান। তার আসল নাম রাজা মোহাম্মদ ইলিয়াস।

    বানিজ্যিক ও নৃত্য-ভিত্তিক অভিনয়ের মিশেলে ১৯৬০-৭০ ও আশির দশকের দর্শকদের কাছে তিনি ‘ড্যান্সিং হিরো’ নামে সুপরিচিত ছিলেন। ১৯৬৪ সালে উর্দু সিনেমা ‘নয়ী জিন্দেগি’ দিয়ে নায়ক হিসেবে রুপালি পর্দায় অভিষেক ঘটে; ১৯৬৬ সালের ‘পায়েল’ ছবিতে শাবানার বিপরীতে অভিনয় করে বড় পর্দায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। ওই সময়কার পরিচালক মুস্তাফিজই ছবির প্রয়োজনে তাকে ‘জাভেদ’ নামে পরিচিত করেন।

    চলচ্চিত্রে দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি শতাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন এবং দর্শকদের মনে নৃত্য ও একশোভিত অ্যাকশনের অদ্বিতীয় মিশ্রণ রেখে গেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৮৪ সালে তিনি বিয়ে করেন জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা ডলি চৌধুরীকে।

    জাভেদের কিছু উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে: মালেকা বানু, নিশান, পাপী শত্রু, রক্ত শপথ, সাহেব বিবি গোলাম, কাজল রেখা, অনেক দিন আগে, আজও ভুলিনি, কঠোর, মা বাবা সন্তান, রাখাল রাজা, রসের বাইদানী, জীবন সঙ্গী ও আবদুল্লাহ।

    ইলিয়াস জাভেদের প্রয়াণে বাংলা চলচ্চিত্রের একটি স্বরণীয় অধ্যায় শেষ হলো। দীর্ঘদিন নিরিবিলি চিকিৎসা নেওয়া এই গুণী শিল্পীর স্মৃতিচিহ্ন দর্শক ও সহকর্মীদের হৃদয়ে দীর্ঘদিন রাখবে।

  • ওশিওয়ারা এলাকায় গুলি চালানোর অভিযোগে কামাল আর খান গ্রেফতার

    ওশিওয়ারা এলাকায় গুলি চালানোর অভিযোগে কামাল আর খান গ্রেফতার

    মুম্বাইয়ে ওশিওয়ারা এলাকায় গুলি চালানোর অভিযোগে বলিউড অভিনেতা ও চলচ্চিত্র সমালোচক কামাল আর খান (রূপে পরিচিত ‘কেআরকে’)কে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তিনি শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) আদালতে পেশ করার কথা রয়েছে।

    পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে ওই এলাকার একটি আবাসিক ভবনের দিকে চারটি গুলি ছোড়া হয়। সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনার ভিত্তিতে মুম্বাই পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করে।

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কেআরকে স্বীকার করেন যে গুলোটি তার লাইসেন্সপ্রাপ্ত বন্দুক থেকেই ছোড়া হয়েছিল। তবে তিনি দাবি করেন, কাউকে আঘাত করার উদ্দেশ্য তার ছিল না। অভিনেতার কথায়, বন্দুক পরিষ্কার করার পর সেটি ঠিকভাবে কাজ করছে কি না পরীক্ষা করার জন্য তিনি বাড়ির সামনে থাকা ম্যানগ্রোভ বনের দিকে গুলি ছোড়েন। বাতাসের প্রভাবে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে গুলিগুলো পাশের আবাসিক ভবনে লাগে, এমনটাই তিনি পুলিশকে বলেছেন।

    পুলিশ ঘটনার সত্যতা যাচাই এবং অন্যান্য সম্ভাব্য তথ্য পেতে আরও তদন্ত চালাচ্ছে। কর্মকর্তারা সিসিটিভি ফুটেজ, গোলাগুলির দিক ও গুলির উৎস সংক্রান্ত প্রযুক্তিগত পরীক্ষা করে ফলাফল হাতিয়ে নিচ্ছেন।

    কামাল আর খান সুপরিচিত বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব। ২০২২ সালে তাকে একটি যৌন হেনস্থার মামলার জন্য গ্রেফতার করা হয়েছিল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার উসকানিমূলক বা কটাক্ষাত্মক মন্তব্যের কারণে তার বিরুদ্ধে একাধিক মানহানি ও আইনি মামলা রয়েছে।

    ঘটনার আরও সূক্ষ্ম বিবরণ ও পুলিশি তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ পরবর্তী ঘোষণায় জানাবে।

  • ‘না’ ভোটের সমর্থকরা দুর্নীতি টিকিয়ে রাখতে চায়: মিয়া গোলাম পরওয়ার

    ‘না’ ভোটের সমর্থকরা দুর্নীতি টিকিয়ে রাখতে চায়: মিয়া গোলাম পরওয়ার

    জামায়াতে ইসলামী মনোনীত খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনের প্রার্থী ও সংগঠনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, যদি দাড়িপাল্লাকে বিজয়ী করা না যায় তাহলে গত ৫৪ বছরে চলমান দুর্ভোগ, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা আবারও অব্যাহত থাকবে। তিনি স্বেচ্ছাসেবী ও ছাত্রসমাজ ইতোমধ্যে বিভিন্ন নির্বাচনে চাঁদাবাজদের পরাজিত করেছে, সুতরাং জাতীয় নির্বাচনে দুর্নীতিবাজ ও চাঁদাবাজদের হারানোও সম্ভব।

    আজ সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ফুলতলা উপজেলার পটিয়াবান্দা, ধোপাখোলা, পিপরাইল ও ডুমুরিয়ার মান্দ্রা, দহখোলা, পাকুড়িয়া, রুদাঘরা, শৈলগাতি এলাকায় নির্বাচনী জনসভা, মিছিল ও উঠান বৈঠকে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

    তিনি ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে নৈতিকতা ও চরিত্রভিত্তিক নেতৃত্বের পক্ষে ভোট দিতে হবে। “ধানের শীষ, নৌকা, লাঙ্গল—যদি তারা রাষ্ট্র চালাতে পারে, তবে দাড়িপাল্লাও করতে পারবে, এটা আমাদের অধিকার,”—বলেন তিনি। পাশাপাশি তিনি বলেন, বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টিসহ সকল রাজনৈতিক বিরোধীদের সঙ্গে শত্রুতা নয়, সৌহার্দ্য বজায় রেখে দেশকে ভালোবাসার আহ্বান জানিয়েছেন।

    গণভোট প্রসঙ্গে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, রাষ্ট্র সংস্কার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে পরিষ্কার অবস্থান নেওয়ার জন্য ‘হ্যাঁ’ তে ভোট দিতে হবে। যারা ‘না’ ভোটের পক্ষে কথা বলছে, তাদের উদ্দেশ্যে তিনি মন্তব্য করেন যে তারা বর্তমান দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির ব্যবস্থাকেই টিকিয়ে রাখতে চায়।

    ভোটের দিন সকালেই কেন্দ্রে যাওয়ার অনুরোধ রেখে তিনি বলেন, “আগে ভোট দিয়ে তারপর ঘরে ফিরবেন। যুবকদের দায়িত্ব হবে ভোটকেন্দ্রের পাহারা দেয়া, যাতে কোনো ভোট ডাকাতি বা সন্ত্রাস না ঘটে।”

    এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন খুলনা জেলা জামায়াতে ইসলামের সহকারী সেক্রেটারি মুন্সি মইনুল ইসলাম, এডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্লা, ফুলতলা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান প্রিন্সিপাল গাওসুল আজম হাদী, ফুলতলা উপজেলা আমীর অধ্যাপক আব্দুল আলিম মোল্লা, ডুমুরিয়া উপজেলা আমীর মাওলানা মোক্তার হোসেন, নায়েবে আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি আব্দুর রশীদ বিশ্বাস, আব্দুল কাইয়ুম আল ফয়সাল, ফুলতলা ইউপি চেয়ারম্যান মাওলানা সাইফুল হাসান, হিন্দু কমিটির নেতা অমল মন্ডল, অসিত মন্ডল, ইউপি সদস্য নব কুমার, বাবুল কুমার, সন্ধ্যা মন্ডল, অশীত বাবু, শুধারাম হালদার ও অধ্যক্ষ গাজী মারুফুল কবির প্রমুখ।

    নির্বাচিত হলে এলাকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা কাটিয়ে তোলা তাঁর শীর্ষ অগ্রাধিকার হবে বলে উল্লেখ করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, “আমি নিজেই বিল ডাকাতিয়ার মানুষ। এখানেই আমাদের জমি-জমা, ফসল হয়। বিল ডুবে গেলে যে কষ্ট আপনাদের হয়, সেটি আমারও হয়। তাই আল্লাহ যদি আমাকে ক্ষমা করেন এবং আমি নির্বাচিত হই, আমার প্রথম কাজ হবে বিল ডাকাতিয়ার পানি সরানো।” তিনি জানান, জলাবদ্ধতার সমস্যা সমাধানের পর ভাঙাচোরা রাস্তা, মসজিদ-মন্দিরসহ এলাকার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করা হবে এবং নিজের অতীত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ফুলতলাকে সুন্দর সম্মিলিতভাবে গড়ার চেষ্টা করবেন।

    দুর্নীতির প্রসঙ্গে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গত ৫৪ বছরে যারা রাষ্ট্র শাসন করেছে, তারা কেউই দুর্নীতিমুক্ত শাসন প্রদানের দাবি করতে পারবে না। তিনি আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি—সকলকে একযোগে দায়ী করে বলেন, প্রত্যেক শাসনকালেই দুর্নীতি, দলীয়করণ ও বিরোধী দমননীতির উদ্ভব ঘটেছে।

    ভোট কেনার প্রচেষ্টাকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, টাকা দিয়ে মানুষের বিবেক কেনা যায় না; ভোট বিক্রি করা মানে নিজের ভবিষ্যৎ বিক্রি করা। ভোট কেনার উদ্দেশ্যে দেওয়া অর্থ সামাজিক কল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করার পরামর্শও দেন তিনি।

    শেষে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আসন্ন নির্বাচন একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ। বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক রাষ্ট্র গড়তে হলে পুরোনো রাজনৈতিক নেতৃত্বে পরিবর্তন আনা অপরিহার্য। তিনি দাবি করেন, ১০১ দলীয় জোট দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলে দুর্নীতি নির্মূল, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করবে।