চতুর্থ দিন ভোরে দুই ওপেনারের আগ্রাসন কাজে না লাগলেও নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল হকের দারুণ জুটিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় বাংলাদেশ। তবে বৃষ্টি ও আলোক স্বল্পতার কারণে দিন গড়ায় পঞ্চম দিনে, ফলে শেষ দিনের রোমাঞ্চ দেখার অপেক্ষা রইল।
দিনের শুরুতে ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় মাত্র ৫ রানে ফিরলে এবং সাদমান ইসলামকে ১০ রানে হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে টাইগাররা। ততক্ষণে অধিনায়ক নাজমুল শান্ত ও মমিনুল হক মিলিয়ে ১০৫ রানের স্থির জুটি গড়ে ম্যাচে পুনরায় ভারসাম্য আনেন। উভয়েই ব্যক্তিগতভাবে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। দলীয় ১২৮ রানের স্কোরে শাহীন আফ্রিদির বলে মমিনুল ৫৬ রান করে ফিরে গেলে আজকের ওই জুটি ভেঙে যায়।
বৃষ্টি দ্বিতীয় সেশন পুরোপুরি ভেসে দেয়। চা বিরতির পর খেলা শুরু হলেও আলো কমে যাওয়ায় আম্পায়াররা নির্ধারিত সময়ের আগেই দিনের খেলা শেষ ঘোষণা করেন। ফলে পঞ্চম দিনে ম্যাচ চলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
চতুর্থ দিন শেষে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস ৩ উইকেট হারিয়ে ১৫২ রান। ৭ উইকেট হাতে রেখে টাইগারদের লিড এখন ১৭৯। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ করেছিল ৪১৩ রান, জবাবে পাকিস্তান অলআউট ছিল ৩৮৬ রানে।
নাজমুল শান্ত দুরন্ত পারফরম্যান্স করে ১০৬ বল খেলে অপরাজিত ৫৮ রানে রয়েছেন, আর তাঁর সঙ্গে ১৬ রানে অপরাজিত অবস্থায় আছেন অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম। মুমিনুল টেস্টে ধারাবাহিকভাবেই খেলা চালিয়ে যাচ্ছেন—এই ইনিংসসহ টেস্টের শেষ ৫ ইনিংসে তিনি টানা হাফ সেঞ্চুরি করেছেন, যা আগে ২০১০ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তামিম ইকবাল করেছিলেন।
পাকিস্তানের প্রথম ইনিংসে অভিষিক্ত আজান আওয়াইস ১০৩ রানের সেঞ্চুরি ও আব্দুল্লাহ ফজলের ৬০ রানের মধ্যেেও মেহেদী হাসান মিরাজের পাঁচ উইকেট পাকিস্তানকে বড় লিড নিতে দেয়নি। ফলশ্রুতিতে প্রথম ইনিংস শেষে বাংলাদেশ পেল ২৭ রানের সালিশি লিড।
চতুর্থ দিনের শেষে ১৭৯ রানের লিড নিয়ে বাংলাদেশ ম্যাচের চালকের আসনে উঠে এসেছে। পঞ্চম ও শেষ দিনে দ্রুত কিছু রান যোগ করে বড় লক্ষ্য দাঁড় করানোই হবে চণ্ডিকা হাথুরুসিংহের শিষ্যদের লক্ষ্য, যাতে পাকিস্তানকে জেতার জন্য কঠিন লক্ষ্য দিতে পারে টাইগাররা।
