Category: আন্তর্জাতিক

  • চলতি সপ্তাহেই ইরানে হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

    চলতি সপ্তাহেই ইরানে হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

    মধ্যপ্রাচ্যের গালফ অঞ্চলের কর্মকর্তাদের বরাতে মিডেল ইস্ট আই জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহেই ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালাতে পারে। ওই হামলায় ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা টার্গেট হতে পারেন—এমনটাই রিপোর্টে বলা হয়েছে।

    ওই কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলা এ সপ্তাহে ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে সঠিক সময় পরিবর্তিতও হতে পারে।

    ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে এই বিষয়ে তীব্র আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালায় তাতে ইরানের পাল্টা পদক্ষেপ কেমন হতে পারে। কর্মকর্তারা বলেন, প্রবল উত্তাপের মধ্যে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

    পটভূমি হিসাবে উল্লেখ্য, ইরানে গত মাসের শেষ দিকে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী আন্দোলন কঠোরভাবে দমন করা হয়েছে। সেই সময় বিক্ষোভকারীদের হত্যার অভিযোগকে বিদ্ধ করে যুক্তরাষ্ট্র হামলার হুমকি উচ্চারণ করেছিল।

    ইরান বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গেলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক পর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের সরকারি প্রতিষ্ঠান দখলের আহ্বান জানান। কিন্তু দুই দিন পর তিনি বলেন, ইরান সরকার আর বিক্ষোভকারীদের হত্যা করছে না—এর পর থেকে দেখা গেছে হামলার পরিকল্পনায় পরিবর্তন বা স্থগিততার সম্ভাব্যতা তৈরি হয়েছে।

    কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, হামলার আগে পরিকল্পনা আড়াল করতে ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেছিলেন; অন্যরা বলছেন তিনি প্রকৃতপক্ষে হামলা থেকে সরে গেছেন।

    এই উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরব, কাতার ও ওমান ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং সরাসরি আক্রমণের বিরোধিতা করছে। মিডেল ইস্ট আইকে একটি মার্কিন সূত্র জানিয়েছে, তখন হামলা না চালানোর সিদ্ধান্ত ছিল ‘সাময়িক’। আর এক গোয়েন্দা সূত্র বলেছেন, ট্রাম্প এখনও ইরানের সরকার বদলানোর পরিকল্পনা পুরোপুরি ত্যাগ করেননি।

    সূত্র: মিডেল ইস্ট আই

  • পদ্মশ্রী ঘোষণা ঘিরে বিতর্ক: ‘গোমূত্র গবেষক’ উপাধি নিয়েই হামেশাই টানাপোড়েন

    পদ্মশ্রী ঘোষণা ঘিরে বিতর্ক: ‘গোমূত্র গবেষক’ উপাধি নিয়েই হামেশাই টানাপোড়েন

    পদ্মশ্রী সম্মান ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে নতুন করে রাজনৈতিক তর্কে জড়িয়ে পড়লেন আইআইটি মাদ্রাজের পরিচালক ভি. কামাকোটি। শিক্ষাবিদ ও গবেষণা ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে পদ্মশ্রী দেওয়ার সিদ্ধান্তের পরে সামাজিকমাধ্যমে কেরালা কংগ্রেসের প্রতিক্রিয়া শুরু হয়, যা পরে তীব্র আলোচনার জন্ম দেয়।

    ২০২২ সাল থেকে আইআইটি মাদ্রাজের পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন ভি. কামাকোটি। পদ্মশ্রী পাওয়ার পর তিনি বলেন, এই সম্মান তার কাছে ‘‘ব্যক্তিগত নয়, সমষ্টিগত অর্জন’’ এবং ‘‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’’ লক্ষ্যের উদ্দেশ্যে আরও যত্নসহকারে কাজ করার ঘোষণা দেন।

    তবে পদ্মশ্রী ঘোষণা হতেই কেরালা কংগ্রেসের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে একটি ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট করা হয়। ওই পোস্টে কামাকোটির গত বছরের একটি মন্তব্য টেনে ‘‘গোমূত্র গবেষণা’’-কে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার অভিনন্দন জানানো হয়। গত বছর কামাকোটি দাবি করেছিলেন গোমূত্রে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ফাঙ্গাল গুণ রয়েছে এবং তা আইবিএস (আইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম)সহ কিছু অসুখে উপকারী হতে পারে—আর সেই মন্তব্য থেকেই তৎকালীন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল।

    কেরালা কংগ্রেসের কটাক্ষের জবাবে নেমে জোহো করপোরেশনের প্রতিষ্ঠাতা শ্রীধর ভেম্বু কামাকোটিকে সপোর্ট করেন। ভেম্বু লেখেন, কামাকোটি ‘‘ডিপ টেক’’ গবেষক, মাইক্রোপ্রসেসর ডিজাইনের মতো ক্ষেত্রে কাজ করেছেন এবং দেশের শীর্ষ технологий প্রতিষ্ঠানের একাংশের নেতৃত্ব দিয়েছেন—তাই তার এ সম্মান পুরোপুরি প্রাপ্য। তিনি আরও বলেন যে গোমূত্র ও গোবরের মাইক্রোবায়োম নিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় সম্ভাবনা আছে এবং এটিকে কেবল কিছু মনস্তাত্ত্বিক ধারণা বা ঔপনিবেশিক মনোভাব থেকে বাতিল করা চলে না।

    এরপরই বিতর্ক আরও তীব্র আকার নেয়। কেরালা কংগ্রেস প্রশ্ন তোলে, কেন কেবল গোমূত্র ও গোবর নিয়েই গবেষণা করা হচ্ছে—অন্য প্রাণীর প্রসঙ্গ কেন তোলা হচ্ছে না। তারা মধ্যপ্রদেশে পঞ্চগব্য সংক্রান্ত একটি সরকারি অর্থায়িত গবেষণার প্রসঙ্গ টেনে আর্থিক অনিয়মেরও অভিযোগ আনে।

    ঘটনাক্রমে কেরালা কংগ্রেস শ্রীধর ভেম্বুকে চ্যালেঞ্জও জানায়—যদি গোমূত্রের এত উপকারিতা সত্যিই থাকে, তাহলে একটি বিলিয়নিয়ার হিসেবে তিনি নিজে কেন তা গবেষণায় বিনিয়োগ করছেন না? যদি ক্যানসারের মতো বড় রোগে কোনো কার্যকর ফল পাওয়া যায়, তাহলে সেটাই হবে বিশ্বের কাছে ভারতের বড় অবদান, বলে যোগ করেন তাদের বক্তারা।

    এই বিতর্ক শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রের সীমারেখা নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে। সামাজিকমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে এবং বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ—বিজ্ঞানী, রাজনীতিক ও সাধারণ—এ নিয়ে মত প্রকাশ করছেন।

    সূত্র: দ্য ওয়াল

  • ইরানে বিক্ষোভ দমন: মানবাধিকার সংস্থার দাবি—নিহত অন্তত ৬ হাজার

    ইরানে বিক্ষোভ দমন: মানবাধিকার সংস্থার দাবি—নিহত অন্তত ৬ হাজার

    যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি মানবাধিকার সংস্থা বলেছে, ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমন অভিযানে অন্তত 6 হাজার লোক প্রাণ হারিয়েছেন। সোমবার ফ্রান্সের সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (HRANA) এই পরিসংখ্যানটি নিশ্চিত করেছে।

    গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে অর্থনৈতিক অভাব-অসন্তোষ থেকেই শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুতই ইসলামী প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে ব্যাপক গণআন্দোলনে রূপ নেয়। বিশেষ করে ৮ জানুয়ারি থেকে কয়েক দিন ধরে সারাদেশে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভ দমন করতে ইন্টারনেট বন্ধ রেখে এবং সরাসরি গুলি চালিয়ে নজিরবিহীন কদর্য অভিযান চালিয়েছে। বিক্ষোভের সময় শুরু হওয়া ইন্টারনেট শাটডাউন কয়েকদিন টানা চলার পরও আংশিক বা পূর্ণবহালে সীমিত রয়েছে বলে জানানো হয়।

    HRANA বলেছে, তারা এখন পর্যন্ত 5,848 জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে; নিহতদের মধ্যে 209 জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। এছাড়া আরও 17,091 জনের সম্ভাব্য মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় অন্তত 41,283 জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    ইরানি কর্তৃপক্ষ গত সপ্তাহে প্রথমবারের মতো সরকারি হতাহত হিসাব প্রকাশ করে বলেছে, 3,117 জন নিহত হয়েছেন; নিহতদের মধ্যে বেশিরভাগই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য বা দাঙ্গাবাজদের হাতে নিহত নিরীহ নাগরিক ছিলেন—এই বিবরণে ভিন্নতা রয়েছে এবং তা নিয়ে বিতর্ক চলছে। বেসরকারি সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে যে ইন্টারনেট কাটছাট হওয়ায় তাদের সংগ্রহ করা তথ্য ব্যাহত হচ্ছে এবং প্রকৃত নিহতের সংখ্যা হয়তো এখন পর্যন্ত জানা সংখ্যার চেয়ে বেশি হতে পারে।

    নেটব্লকসের রিপোর্ট বলছে, ইরানে এখনও ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট আছে, যা নীরবভাবে ঘটমান অধ্যায়গুলোর চিত্র আড়ালে রেখে দিচ্ছে। কিছু ফার্সি-ভাষা সম্প্রচার মাধ্যম, বিশেষ করে তেহরানের বাইরে অবস্থানরত ইরান ইন্টারন্যাশনাল, গত সপ্তাহে দাবি করেছে যে ৮–৯ জানুয়ারির মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে 36,500 ছাড়িয়ে মানুষ নিহত হয়েছে; তবে ওই তথ্য এএফপির মাধ্যমে তাত্ক্ষণিকভাবে যাচাই করা যাচ্ছেনা।

    আন্তর্জাতিক মঞ্চে পরিস্থিতিকে ঘিরে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। তেহরান ওয়াশিংটনকে নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের তখনকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরুতে সামরিক হস্তক্ষেপ থেকে সরে আসার দিকেই ইঙ্গিত দিলেও পরে বলেছিলেন, সামরিক বিকল্প এখনো মুছিয়ে ফেলা হয়নি এবং প্রয়োজনে ওই অঞ্চলে নৌবহর পাঠানো হবে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছে, যেকোনো আগ্রাসনের জবাবে তারা ‘পুরোপুরি ও দাঁতভাঙা’ প্রতিরোধ করবে।

    অবস্থা অনিশ্চিততা ও তথ্যের ঘাটতির মধ্যেই আছে। বিভিন্ন সূত্রে প্রকাশিত হতাহত ও গ্রেফতারির সংখ্যা মিলিয়ে মানবাধিকার কর্মকর্তারা বলছেন, ইন্টারনেট কর্তনের কারণে বাস্তব ছবি আঁকার কাজ ব্যাহত হচ্ছে এবং সত্যতা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি সংখ্যাকে সতর্কতার সঙ্গে দেখা উচিত। এ মহামানুষিক সংকটের সামনে ইরানের সাধারণ মানুষ ও পরিবারগুলো গভীর শোক ও উদ্বেগের মুখে রয়েছে।

  • ইরানে হামলার জন্য ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না সংযুক্ত আরব আমিরাত

    ইরানে হামলার জন্য ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না সংযুক্ত আরব আমিরাত

    সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ঘোষণা করেছে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো শত্রাত্মক বা সামরিক হামলার জন্য তাদের আকাশসীমা, ভূখণ্ড বা জলসীমা ব্যবহার করতে দেবে না। এই অবস্থান দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার প্রকাশ করা এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

    বিবৃতিতে ইউএই সরকার আরও বলেছে যে তারা এমন কোনও আক্রমণে লজিস্টিক বা অন্য কোনো ধরনের সহায়তাও প্রদান করবে না। মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে উত্তেজনা কমানো, সংলাপ চালিয়ে যাওয়া, আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি আনুগত্য এবং রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করাকে বর্তমান সংকট মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হিসেবে দেখছে।

    বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে সংযুক্ত আরব আমিরাত অঞ্চলকে উত্তেজনামুক্ত রাখার জন্য নিরপেক্ষ অবস্থান পালন করবে এবং কোন পক্ষের পক্ষপাতদুষ্ট সহায়তা প্রদানের পথে যাবে না।

    পটভূমি হিসেবে বলা হয়, অর্থনৈতিক অসন্তোষের সূত্রে গত বছরের ডিসেম্বরে ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয় এবং চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি তা ব্যাপক আকার প্রাপ্ত হয়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) বলেছে, সাম্প্রতিক বিক্ষোভে ইরানে অন্তত ছয় হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন বলে তাদের তথ্য নিশ্চিত হয়েছে।

    ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে ক্ষমতায় থাকা ধর্মীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধেই ব্যাপক প্রতিবাদ-প্রতারণা ও দমন-পীড়ন অব্যাহত আছে। দেশটির বিরোধী রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোও অনেক সময় পরিবর্তনের জন্য বাইরের হস্তক্ষেপকে বিকল্প হিসেবে দেখছে।

    বিশ্বমঞ্চে ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রও সতর্ক নজর রাখছে। শুরুতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক হস্তক্ষেপ থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিলেও পরে তিনি পুনরায় বলেছেন, তা এখনও একটি বিকল্প হিসেবে রয়েছে। আবুধাবির কাছে আল-ধাফরা বেসসহ আমিরাতে কয়েকটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হাজার হাজার মার্কিন সৈন্য মোতায়েন রয়েছে, এবং গত সপ্তাহে একটি মার্কিন নৌবহরের উপসাগরীয় অঞ্চলের দিকে অগ্রগতির কথাও বলা হয়েছিল।

    বিশ্লেষকদের মতে, ইউএই সরকারের এই ঘোষণার উদ্দেশ্য অঞ্চলকে সরাসরি সংঘাতে টেনে না নিয়ে সংকট প্রশমনে বৈশ্বিক ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করা। সংযুক্ত আরব আমিরাত আপাতত কূটনৈতিক পথ এবং আন্তর্জাতিক আইনকে সম্মান প্রদানে জোর দিচ্ছে।

  • বিবিসির প্রখ্যাত সাংবাদিক ও একাত্তরের বন্ধু মার্ক টালি আর নেই

    বিবিসির প্রখ্যাত সাংবাদিক ও একাত্তরের বন্ধু মার্ক টালি আর নেই

    বিবিসির প্রখ্যাত সাংবাদিক ও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের পাশে থাকা মার্ক টালি আর নেই। রোববার দিল্লির একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি; বয়স হয়েছিল ৯০ বছর।

    টালির মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন তাঁর সাবেক সহকর্মী সতীশ জ্যাকব। ব্রিটিশ-ভারতীয় এই সাংবাদিক দীর্ঘ সময় ধরে বিবিসির দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করেছেন এবং দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে খবর সংগ্রহ করতেন। নয়া দিল্লিতে তিনি প্রায় ২০ বছর বিবিসির দক্ষিণ এশিয়া করেসপন্ডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

    ৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে বিবিসি রেডিওতে মার্ক টালির প্রতিবেদনের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। পাকিস্তানি বাহিনীর হত্যাযজ্ঞ ও বাঙালির দুর্দশার চিত্র বিশ্বের শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর রিপোর্টই ছিল অন্যতম প্রধান উৎস। তিনি ১৯৭১ সালের এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে তখনকার পূর্ব পাকিস্তানে এসে ঢাকা থেকে সড়ক পথে রাজশাহী পর্যন্ত যাত্রা করেছিলেন। সেই সফরটি ছিল বিশেষ—পাকিস্তানী কর্তৃপক্ষ তখনই দু’জন সাংবাদিককে বাংলাদেশে আসার অনুমতি দিয়েছিল।

    টালি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘পাকিস্তানি সেনাবাহিনী যখন সীমান্ত পর্যন্ত পৌঁছে এবং মনে করেছিল তারা পরিস্থিতা নিয়ন্ত্রণে রেখেছে, তখন আমাদের ঢুকতে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। আমার সঙ্গে তখন ব্রিটেনের টেলিগ্রাফ পত্রিকার যুদ্ধবিষয়ক সংবাদদাতা ক্লেয়ার হলিংওয়ার্থ ছিলেন।’ তিনি আরও জানিয়েছিলেন, স্বাধীনভাবে প্রতিকূল এলাকার পরিস্থিতি দেখে তাদের রিপোর্টের বিশেষ গুরুত্ব তৈরি হয়েছিল এবং তিনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়ক ধরে রাজশাহীর পথে গ্রামগুলো জ্বলন্ত অবস্থায় দেখেছেন।

    ১৯৩৫ সালের ২৪ অক্টোবর কলকাতার টালিগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন মার্ক টালি। বিবিসি থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হিসেবে কাজ চালিয়ে যান। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১২ সালে তাকে ‘মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা’ দিয়ে সম্মানিত করা হয়েছিল।

    মার্ক টালির নিষ্ঠা ও সাহসী সাংবাদিকতার উদ্যোগ অনেকের কাছে স্মরণীয় থাকছে। একজন আন্তর্জাতিক সাংবাদিক হিসেবে তিনি যে সত্যকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরেছিলেন, সেটাই তাঁর সবচেয়ে বড় কর্মফল এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে তাঁর অনবদ্য অবদান বজায় থাকবে।

  • জাভায় ভয়াবহ ভূমিধস: মৃত ১১, নিখোঁজ প্রায় ৭৯

    জাভায় ভয়াবহ ভূমিধস: মৃত ১১, নিখোঁজ প্রায় ৭৯

    ইন্দোনেশিয়ার প্রধান দ্বীপ জাভায় তীব্র বৃষ্টিপাতের ফলে প্রকাণ্ড একটি ভূমিধসে কমপক্ষে ১১ জন মারা গেছেন এবং প্রায় ৭৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে রোববার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে।

    পশ্চিম জাভার মাউন্ট বুড়াংরাং ঢাল থেকে নামা এই ধসে পাসির লানগু গ্রামের ৩৪টি বাড়ি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। ঘরবাড়ি কাদা, বড় বড় পাথর ও উপকুলীয় গাছের নিচে চাপা পড়ায় বহু মানুষ আটকে পড়েছে। স্থানীয়রা অনেককে তৎক্ষণাতই অস্থায়ী সরকারি আশ্রয়ে সরিয়ে এনেছেন।

    উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের মধ্যে থেকে হাতে-কলমে ও কৃষিকাজের সরঞ্জাম ব্যবহার করে আটকে থাকা মানুষদের বের করার চেষ্টা করছেন। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, কাদায় ঢেকে থাকা মরদেহ ও আহতদের বের করতে হাতে খুঁটিনাটি সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে। ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা প্রায় অসম্ভব কারণ ভূমি খুবই নরম ও অস্থিতিশীল; তাই উদ্ধারকর্মীরা কাদা মধ্যে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছেন।

    ইন্দোনেশিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট গিবরান রাকাবুমিং রাকা শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেছিলেন যে দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় ভূমি ব্যবস্থাপনা ও পুনর্বিন্যাসকে গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি স্থানীয় প্রশাসন, বিশেষ করে পশ্চিম জাভা ও পশ্চিম বন্দুংকে সতর্ক করে বলেন যে ভূমি পরিবর্তন ও অযত্নের কারণে ঝুঁকি বাড়ছে, সেগুলো মেটাতে ব্যবস্থা নিতে হবে।

    বসার্নাস (জাতীয় উদ্ধারদল) প্রধান মোহাম্মদ শাফি জানান যে খারাপ আবহাওয়া ও বিস্তীর্ণ ভূপ্রকৃতি উদ্ধারকার্যকে জটিল করেছে। ধস এখনও চলমান ও ভূপৃষ্ঠ অস্থিতিশীল থাকায় কাজ খুব সতর্কতার সঙ্গে করতে হচ্ছে। তিনি জানান, ড্রোন, খোঁজকারী কুকুর ও সকল উপলব্ধ সম্পদ ব্যবহার করা হচ্ছে, তবে উদ্ধারকাজে আগে নিরাপত্তাই নিশ্চিত করা হবে।

    ইন্দোনেশিয়ায় সাধারণত অক্টোবর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত মৌসুমি বৃষ্টিপাত ও উচ্চ জোয়ারের কারণে নানাদিক থেকে বন্যা ও ভূমিধস ঘটে। দেশটি ১৭ হাজারেরও বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত এবং বহু মানুষ পাহাড়ি ও উপকূলীয় এলাকায় বসবাস করে। এই ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ স্থানীয় জনগণের জীবনযাত্রা সরাসরি প্রভাবিত করে এবং উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে সময় বেশি লাগে।

    স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও উদ্ধারদল ঘটনাস্থলে সক্রিয়ভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের তাত্ক্ষণিক চিকিৎসা ও আশ্রয়ের বন্দোবস্ত করা হচ্ছে, পাশাপাশি নিখোঁজদের খোঁজে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।

  • যুক্তরাষ্ট্রে শীতঝড়ে ১০ হাজারেরও বেশি ফ্লাইট বাতিল

    যুক্তরাষ্ট্রে শীতঝড়ে ১০ হাজারেরও বেশি ফ্লাইট বাতিল

    শীতকালীন ঝড়ের বিধ্বংসী আঘাতে শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মোট ১০ হাজারেরও বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, জানিয়েছে ফ্লাইট ট্র্যাকিং সাইট ফ্লাইটঅ্যাওয়্যার।

    ফ্লাইটঅ্যাওয়্যারের তথ্য অনুযায়ী উত্তর টেক্সাস ও ওকলাহোমায় শনিবারেই ৩,৪০০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। বিশেষ করে ডালাস-ফোর্ট ওর্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রায় ৭৫ শতাংশ ফ্লাইট বাতিল হতে দেখা গেছে। পাশ্ববর্তী ডালাস লাভ ফিল্ডে বাতিলের হার ছিল প্রায় ৬৪ শতাংশ, আর ওকলাহোমা সিটিতে বাতিলের হার পৌঁছেছে প্রায় ৯০ শতাংশে।

    রোববার বাতিলের সংখ্যা বাড়ে ও মোট প্রায় দ্বিগুণ পরিমাণে পৌঁছে যায়—৬,৪০০টিরও বেশি ফ্লাইট বন্ধ ছিল ওইদিন। ঝড় পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে সরতে থাকায় এর প্রভাব পূর্বাঞ্চলীয় বিমানবন্দরগুলোকেও দেখিয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসির রিগ্যান জাতীয় বিমানবন্দর থেকে রবিবার প্রায় ৯০ শতাংশ এবং উত্তর ক্যারোলিনার শার্লট-ডগলাস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রায় ৭৩ শতাংশ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

    সোমবার পর্যন্তও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নাও এসেছিল—সোমবারই কয়েকশত ফ্লাইট ইতিমধ্যেই বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। বিমান সংস্থাগুলো বলছে, ঝড় শান্ত হলে তারা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের পুনর্বিন্যাস ও গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু করবে।

    আবহাওয়ার অবস্থা সম্পর্কেও সরকারি তথ্য রয়েছে। মার্কিন আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ঝড়টি টেক্সাস থেকে নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত ২,০০০ মাইলেরও বেশি বিস্তৃত এলাকায় তুষারপাত ও বিপজ্জনক বরফ ঝরাতে পারে। দক্ষিণ-মধ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তুষারপাত ও বরফের ঝুঁকি বাড়ছে এবং ঝড়টি ধীরে ধীরে পূর্বের দিকে ছড়াচ্ছে।

    ভ্রমণকারীদের ক্ষেত্রে জরুরি পরামর্শ—যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিমানবন্দরের ওয়েবসাইট বা আপনার এয়ারলাইনের মাধ্যমে ফ্লাইট স্ট্যাটাস যাচাই করুন এবং যাতায়াতের পূর্বে বিকল্প পরিকল্পনা রাখুন।

  • চীন-সহচর্য্যে হলে কানাডার ওপর ১০০% শুল্ক দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প

    চীন-সহচর্য্যে হলে কানাডার ওপর ১০০% শুল্ক দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্থানীয় সময় শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সতর্ক করে বলেছেন, যদি কানাডা চীনের সঙ্গে নতুনভাবে বাণিজ্য চুক্তি করে তাহলে তিনি কানাডীয় পণ্যে একদমই ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবেন। ট্রাম্প এই বার্তাটি সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বিবৃতিতে রেখেছেন।

    ট্রাম্প কানাডার সরকারকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন, “কানাডাকে ব্যবহার করে চীন তাদের সস্তা পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকিয়ে দেবে— যদি জাস্টিন ট্রুডো এমনটি মনে করেন তাহলে তিনি কঠোরভাবে ভুল বুঝেছেন।” তিনি আরও জানান, চীনের সঙ্গে চুক্তি হলে যুক্তরাষ্ট্রে কানাডিয়ান সকল পণ্যে তাৎক্ষণিকভাবে ১০০% শুল্ক আরোপ করা হবে।

    ট্রাম্পের এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে কানাডার তরফে কড়া প্রতিক্রিয়া এসেছে। কানাডার বাণিজ্য বিষয়ক মন্ত্রী ডোমিনিক লেব্লাঙ্ক শনিবার এক্সে লিখেছেন, “কানাডা চীনের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্যের ব্যাপারে তৎপর নয়।” তিনি বলেন, গত সপ্তাহে চীনের সঙ্গে যে চুক্তি হয়েছে তা শুল্ক সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু সমস্যা সমাধান করে।

    লেব্লাঙ্ক বলেন, নতুন সরকার কানাডার অর্থনীতি মজবুত করতে কাজ করছে এবং দেশীয়-বিদেশি বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব শক্তিশালী করাই তাদের উদ্দেশ্য।

    ট্রাম্প ইতিমধ্যে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বভার নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন সময় কানাডীয় পণ্যে শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন এবং কড়া ভাষায় কানাডার বিরুদ্ধে মন্তব্য করেছেন—কখনও কখনও কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হিসেবে উল্লেখ করার মতো মন্তব্যও করেছেন।

    এই পরিতাপিত উত্তপ্ত মন্তব্য এবং প্রতিক্রিয়ার প্রেক্ষিতে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক কেমন দিকে এগোবে তা নজরদারির বিষয় হয়ে উঠেছে। সূত্র: আলজাজিরা

  • শীতঝড়ে যুক্তরাষ্ট্রে ১০ হাজারেরও বেশি ফ্লাইট বাতিল

    শীতঝড়ে যুক্তরাষ্ট্রে ১০ হাজারেরও বেশি ফ্লাইট বাতিল

    শীতকালীন ঝড়ের কারণে শনিবার থেকে সোমবারের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১০ হাজারেরও বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, জানিয়েছে ফ্লাইটট্র্যাকিং সাইট ফ্লাইটঅ্যাওয়্যার।

    ফ্লাইটঅ্যাওয়্যারের তথ্য অনুযায়ী শনিবারেই উত্তরে টেক্সাস ও ওকলাহোমায় ঝড়ের তাণ্ডবে তিন হাজার চারশোরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছিল। ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ (DFW) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রায় তিন-চতুর্থাংশ ফ্লাইট বাতিল হয়েছে এবং নিকটবর্তী ডালাস লাভ ফিল্ড থেকে ৬৪ শতাংশ ফ্লাইট বন্ধ ছিল। ওকলাহোমা সিটি থেকেও প্রায় ৯০ শতাংশ ফ্লাইট বাতিলের তালিকায় ছিল।

    রবিবার বাতিলের সংখ্যা আরও বাড়ে — আবহাওয়ার কারণে ওই দিন প্রায় ৬ হাজার ৪০০টিরও বেশি ফ্লাইট বন্ধ ছিল। ঝড় উপকূলের দিকে অগ্রসর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এর প্রভাব পূর্বাভিমুখেও ছড়িয়ে পড়েছে; ওয়াশিংটন ডিসির রিগ্যান জাতীয় বিমানবন্দর থেকে রবিবারের জন্য প্রায় ৯০ শতাংশ ও উত্তর ক্যারোলিনার শার্লট ডগলাস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৭৩ শতাংশ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছিল।

    সোমবারও ইতিমধ্যেই সাত শতাধিক ফ্লাইট বাতিল করার খবর পাওয়া গেছে। কর্তৃপক্ষ বলছে ঝড় বদলাতে শুরু করলে বিমান সংস্থাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের তাঁদের গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার জন্য রুট পুনর্গঠন ও পুনঃবুকিংয়ের কাজ করবে, কিন্তু বিশাল সংখ্যক বাতিল ও দেরির কারণে ভ্রমণে সমস্যা চলতেই পারে।

    দক্ষিণ-মধ্য আমেরিকায় তুষারপাত ও বিপজ্জনক বরফ জমে থাকা এবং তার বিস্তার পূর্ব দিকে বাড়ার সতর্কতা দেয়া হয়েছে। মার্কিন আবহাওয়া দফতর বলছে টেক্সাস থেকে নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত দুই হাজার মাইলেরও বেশি এলাকায় এই শীতকালীন ঝড় আঘাত হানতে পারে। পরিস্থিতি সম্পর্কে আপডেট পেতে যাত্রীরা তাদের বিমানবন্দর ও বিমান সংস্থার খবরাখবর নিয়মিত দেখতে বলেছে কর্তৃপক্ষ।

  • চীনের সঙ্গে বাণিজ্য করলে কানাডার ওপর ১০০% শুল্ক আরোপের হুমকি দিলেন ট্রাম্প

    চীনের সঙ্গে বাণিজ্য করলে কানাডার ওপর ১০০% শুল্ক আরোপের হুমকি দিলেন ট্রাম্প

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যদি কানাডা চীনের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করে তাহলে তিনি তৎক্ষণিকভাবে সব কানাডিয়ান পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবেন। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই হুঁকি দেন।

    ট্রাম্প লিখেছেন, “কানাডা ব্যবহার করে চীন তাদের সস্তা পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকিয়ে দেবে — যদি কেউ এটা ভাবেন, তারা ভুল বুঝছেন।” তার ভাষায়, চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে উঠলে যুক্তরাষ্ট্রে কানাডা থেকে আসা সব পণ্যে বিড়ে ১০০% শুল্ক চাপানো হবে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প কানাডার এক ব্যক্তিকে সম্বোধন করে ‘গভর্নর কার্নি’ বলে উল্লেখ করেছেন এবং বিদ্রুপাত্মক মন্তব্যও করেছেন; তিনি নিয়মিতভাবে কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

    কানাডার মন্ত্রী ডোমিনিক লেব্লাঙ্ক শনিবার মাইক্রোব্লগিং সাইট এক্সে লিখে বিষয়টি খণ্ডন করেছেন। তিনি বলেন, “চীনের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য করার কোনো তোড়জোড় আমাদের নেই।” লেব্লাঙ্ক আরও জানান, গত সপ্তাহে চীনের সঙ্গে যে চুক্তি হয়েছে সেটি শুল্ক সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা দূর করে।

    মন্ত্রী বলেন, নতুন সরকার দেশটির অর্থনীতি শক্তিশালী করতে কাজ করছে এবং দেশের ভেতরে ও বাইরে বাণিজ্যিক অংশীদারিত্বকে আরও মজবুত করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

    ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই কানাডিয়ান পণ্যে শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন এবং মাঝে মাঝে কানাডাকে নিয়ে তীব্র মন্তব্যও করেন।

    (সূত্র: আলজাজিরা)