Category: আন্তর্জাতিক

  • লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় আরও দুই বাংলাদেশি নিখোঁজ

    লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় আরও দুই বাংলাদেশি নিখোঁজ

    লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের ড্রোন হামলায় প্রথমে দুই বাংলাদেশি নিহত হওয়ার পর একই সিরিজের আরেকটি হামলায় আরও দুই জন বাংলাদেশি নিখোঁজ হয়েছেন, এমন তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার ও দূতাবাস।

    সোমবার দুপুরে নাবাতিয়েহ অঞ্চলের জেবদিন এলাকায় এক ড্রোন হামলায় সাতক্ষীরার শফিকুল ইসলাম (৪০) ও মোহাম্মদ নাহিদুল ইসলাম (২০) নিহত হন। এরপর সোমবার রাতেও নাবাতিয়েহের অন্য এক আবাসিক এলাকায় পৃথকভাবে ড্রোন হামলা হলে সেখানে বসবাসরত দুই বাংলাদেশি নিখোঁজ হন বলে বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে।

    বৈরুতে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন জানান, নিখোঁজদের থাকার জায়গা সহ পুরো বাড়িটি বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। অনারূদ্ধভাবে মরদেহ উদ্ধার না হওয়ায় তাদের মৃত্যুর বিষয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

    বুধবার নয়—মঙ্গলবার (মূল বিবৃতিতে উল্লেখ করা তারিখ অনুযায়ী) বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘটনাগুলোকে তীব্রভাবে নিন্দা জানিয়ে সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন ও আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে। মন্ত্রণালয় মৃতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়ে এই হামলাকে ‘জঘন্য’ বলে উল্লেখ করেছে।

    বৈরুতে বাংলাদেশ দূতাবাস নিহত শফিকুল ও নাহিদুলের মরদেহ দেশে পাঠানোর জন্য লেবাননের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করছে। একই সঙ্গে সাতক্ষীরায় নিহতদের পরিবারের সঙ্গে দূতাবাস যোগাযোগ বজায় রেখে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে বলে সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে।

    ঘটনাটি স্থানীয় বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের মধ্যে দুশ্চিন্তা ও শোকের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। দূতাবাস ও মন্ত্রণালয় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং নিখোঁজদের অবস্থান ও হতাহতের বিষয় নিয়ে যেকোনো নতুন তথ্য পাওয়া মাত্র তা পরিবার ও গণমাধ্যমকে জানানো হবে।

  • শুভেন্দু অধিকারীর পিএ খুনে অযোধ্যা থেকে গ্রেপ্তার বিজেপি-ঘনিষ্ঠ ‘শুটার’

    শুভেন্দু অধিকারীর পিএ খুনে অযোধ্যা থেকে গ্রেপ্তার বিজেপি-ঘনিষ্ঠ ‘শুটার’

    পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথ খুনের মামলায় উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে রাজ সিং নামে এক অভিযুক্তকে। উত্তরপ্রদেশ পুলিশ ও এসটিএফ-এর যৌথ অভিযানে হাইওয়ের কাছ থেকে তাঁকে আটক করা হয়েছে, যা দুই রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

    তদন্তকারীরা মনে করছেন, রাজ সিং পেশাদার শুটার। তাদের এখন প্রধান অনুসন্ধান: চন্দ্রনাথ রথ খুনে মূল ষড়যন্ত্রকারীদের সঙ্গে রাজ সিংয়ের সরাসরি কোনও যোগাযোগ ছিল কি না। গ্রেপ্তারের পর থেকেই কেন্দ্রীয় ও রাজ্য তথ্যভিত্তিক এজেন্সিগুলো উত্তপ্তভাবে তাঁর অপরাধমূলক রেকর্ড ও ব্যক্তিগত যোগাযোগ পরীক্ষা করছে।

    রাজ সিং উত্তরপ্রদেশের বালিয়ার সদর কোতোয়ালি এলাকার আনন্দ নগরের বাসিন্দা। স্থানীয়দের মতে তিনি এলাকায় প্রভাবশালী চরিত্র। অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রায়ই কালো স্করপিও গাড়ি চালাতেন, যে গাড়িতে কখনও বিজেপির পতাকা দেখা যেত। এমন নানা কারণে এলাকায় তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে চর্চা ছিল।

    রাজ সিং অখিল ভারতীয় ক্ষত্রিয় মহাসভার উত্তরপ্রদেশ শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচিত। এর আগেও তিনি বালিয়া নগর প্যালিকা পরিষদের নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। চলতি বছর তিনি চিলকাহার ব্লক থেকে ব্লক প্রধানের মতো স্থানীয় পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে জানা গেছে।

    তদন্তে উঠে এসেছে, রাজ সিংয়ের সঙ্গে কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার ছবি রয়েছে, যা সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। তদন্তকারীরা এসব ছবির সূত্র ধরে রাজনৈতিক সম্পর্ক ও সম্ভাব্য যোগসাজশ খতিয়ে দেখছেন।

    আরেকটি পুরনো মামলা নিয়েও তাঁর বিরুদ্ধে নজর রয়েছে। প্রায় ছয় বছর আগে বালিয়ায় এক শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী ডিম ব্যবসায়ীকে গুলি করে নেভানোর অভিযোগ ছিল রাজ সিংয়ের বিরুদ্ধে; সেই মামলায় তিনি জামিনে ছিলেন। তদন্তকারীরা তাৎপর্যপূর্ণভাবে খতিয়ে দেখছেন যে ওই পুরনো ঘটনা ও চন্দ্রনাথ রথ হত্যার ষড়যন্ত্রের মধ্যে কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না।

    উল্লেখ্য, এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত এখন সিবিআই করছে। ঘটনায় একটি সাত সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠন করা হয়েছে, যারা গভীরভাবে সূত্র ও প্রমাণ যাচাই করছেন।

    অপর দিকে, রাজ সিংয়ের পরিবার অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে। তাঁর মা জামবন্ত্রী সিং—যিনি বালিয়া প্রধান ডাকঘরের কর্মী—দাবি করেছেন যে ছেলেকে সূক্ষ্মভাবে ফাঁসানো হচ্ছে। তিনি বলেন, রাজ লখনউয়ে এক বিজেপি নেতার মেয়ের বিয়েতে যোগ দিতে গিয়েছিলেন এবং সেখান থেকে ফেরার পথে গ্রেপ্তার করা হয়েছে; ঘটনার দিন রাজ বালিয়াতে উপস্থিত ছিল—এই দাবির সমর্থনে তিনি সিসিটিভি ফুটেজ দেখানোর আভাস দিয়েছেন।

    অখিল ভারতীয় ক্ষত্রিয় মহাসভারকে সাধারণভাবে রাজপুত সম্প্রদায়ের এক সংগঠন হিসেবে দেখা হয়; নির্দিষ্ট কোন সময়ে তারা করণী সেনার মতো অন্যান্য গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখার তথ্যও ঘনঘন সামনে আসে। দলটি নানা সময়ে স্থান-নামের পরিবর্তন ও হিন্দু ঐতিহ্য সংরক্ষণ ইস্যুতে সক্রিয় ভূমিকা নিয়ে থাকে, এবং কিছু রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে তাদের নেতাদের উচ্চপদস্থ বিজেপি নেতাদের সঙ্গে উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

    শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহকারীর খুন মামলায় এই গ্রেপ্তার দেশীয় রাজনীতিতে ইতোমধ্যেই সংবেদনশীল পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। এখন নজর থাকবে সিবিআই ও এসআইটি-কর্তাদের জেরায়—রাজ সিং কি খুনের প্রকৃত উদ্দেশ্য ও নেপথ্যের মুখোশধারীদের সম্পর্কে কোন তথ্য দেবে, এবং তদন্ত কোন নতুন মোড় নেবে।

  • শুভেন্দু অধিকারীর পিএ খুনে অযোধ্যা থেকে গ্রেপ্তার বিজেপি-ঘনিষ্ঠ ‘শুটার’ রাজ সিং

    শুভেন্দু অধিকারীর পিএ খুনে অযোধ্যা থেকে গ্রেপ্তার বিজেপি-ঘনিষ্ঠ ‘শুটার’ রাজ সিং

    পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথ খুনের মামলায় অযোধ্যা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে অভিযুক্ত রাজ সিংকে। উত্তরপ্রদেশ পুলিশ ও এসটিএফের যৌথ অভিযানে হাইওয়ের পাশে অবস্থানকালে তাঁকে আটকের খবর নিশ্চিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গ্রেপ্তারের পর থেকে এই ঘটনা দুই রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।

    পুলিশ সূত্রে দাবি, রাজ সিং একজন পেশাদার ‘শুটার’ হিসেবে পরিচিত। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রকারীদের সঙ্গে তাঁর সরাসরি কোনো যোগ রয়েছে কী না। গ্রেপ্তারের পর কেন্দ্রীয় ও রাজ্য পর্যায়ের বিভিন্ন পুলিশি ও গোয়েন্দা সংস্থা রাজের অপরাধপটভূমি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সম্পর্ক ও ব্যক্তিগত জীবন খতিয়ে দেখছে।

    রাজ সিং উত্তরপ্রদেশের বালিয়া জেলার সদর কোতোয়ালি থানার আনন্দ নগর এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয়ভাবে তিনি রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত বলে স্থানীয়রা জানান। অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রায়ই কালো স্করপিও গাড়িতে, যার উপর বিজেপি-পতাকা লাগানো থাকত, চলাফেরা করতেন।

    রাজ সিং উত্তরপ্রদেশ অখিল ভারতীয় ক্ষত্রিয় মহাসভার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচিত। গত কয়েক বছরে তিনি বালিয়া নগর পৌরসভা নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে লড়াই করেছিলেন এবং চলতি বছর চিলকাহার ব্লক থেকে স্থানীয় منتخبপদে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে জানা গেছে।

    তদন্তকারীদের নজরে এসেছে, রাজ সিংয়ের সঙ্গে কয়েকজন উচ্চপদস্থ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ছবি রয়েছে, যা সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ভাইরাল হয়েছে। পুলিশ এখন এসব ছবির প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক যোগসূত্র ও সম্ভাব্য ষড়যন্ত্রের কড়ি জোড়া খুঁজছে।

    রাজের বিরুদ্ধে পুরনো এক মামলা-ফাইলও আলোচনায় এসেছে। প্রায় ছয় বছর আগে বালিয়ায় এক শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী ডিম ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে তাঁর নাম উঠে এসেছিল; সেই মামলায় তিনি জামিনে ছিলেন। তদন্তকারীরা দেখছেন, ওই পুরোনো ঘটনার সঙ্গে চন্দ্রনাথ রথ খুনের কোনো যোগ আছে কি না।

    ঘটনাটি ইতিমধ্যেই সিবিআইয়ের কাছেও হস্তান্তর করা হয়েছে; একটি সাত সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা ও তদন্তকারীরা একসাথে ঘটনায় রাজনৈতিক ও অপরাধজগতের অংশীদারদের নেটওয়ার্ক খতিয়ে দেখছেন।

    রাজ সিংয়ের পরিবার সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। রাজের মা জামবন্ত্রী সিং, যিনি বালিয়ার প্রধান ডাকঘরের কর্মচারী হিসেবে কর্মরত, দাবি করেছেন যে তার ছেলেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানো হচ্ছে। তিনি বলেন, রাজ লখনউতে এক বিজেপি নেতার মেয়ের শুভেচ্ছা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ফেরার পথে গ্রেপ্তার হন এবং ঘটনার দিন রাজ বালিয়াতেই উপস্থিত ছিলেন — সিসিটিভি ফুটেজ থাকলে তা প্রমাণিত হবে বলে তাঁর দাবি।

    অখিল ভারতীয় ক্ষত্রিয় মহাসভারকে সাধারণত রাজপুত সম্প্রদায়ের সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়; সমালোচকরা বলেন তাঁদের কিছু অংশ করনি সেনার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। পক্ষান্তরে এ সংগঠনের প্রতিনিধিরা সময়-সময় বিভিন্ন ঐতিহ্যগত নামকরণ ও সংস্কৃতিগত দাবি তুলে থাকেন। দলটির নেতা-কর্মীদের বিজেপির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উচ্চপদস্থ নেতাদের সঙ্গে উপস্থিত দেখা গেছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেন। এগুলোকে আদালত বা তদন্তের অংশ হিসেবে যাচাই করা হবে।

    শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহকারীর হত্যাকাণ্ডে রাজ সিংয়ের গ্রেপ্তারি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন নজর সিবিআই ও এসআইটির তৎপরতায় — তারা জেরা ও প্রমাণ-উপাত্তের মাধ্যমে খোঁজার চেষ্টা করবে খুনের প্রকৃত অদৃশ্য হাতগুলো কারা এবং ঘটনার নেপথ্যে কী উদ্দেশ্য ছিল।

  • ইরানের ১৪-দফা প্রস্তাব ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প নেই: গালিবাফ

    ইরানের ১৪-দফা প্রস্তাব ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প নেই: গালিবাফ

    ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, চলমান সংঘাত নিরসনে তেহরানের ১৪-দফা প্রস্তাব মেনে নেওয়া ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আর কোনো কার্যকর বিকল্প নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোষ্টে তিনি এই মন্তব্য করেন।

    গালিবাফ বলেন, ‘‘চলমান সংকট শিথিল করার জন্য ইরানের ১৪-দফা প্রস্তাবই একমাত্র বাস্তবসম্মত পথ; তা মানেনি যে কোনো বিকল্প সম্পূর্ণ ব্যর্থ হবে।’’ তিনি আরও বলেছেন, ‘‘প্রস্তাবে বর্ণিত ইরানি জনগণের অধিকার স্বীকার না করলে অন্য কোনো পথ ফলদায়ক হবে না।’’

    সংসদ স্পিকার সতর্কভাবেই যুক্তরাষ্ট্রকে বলছেন যে যত বেশি সময় নেবে এবং গড়িমসি করবে, তত বেশি খরচই তাদের (অর্থাৎ আমেরিকান করদাতাদের) বহন করতে হবে। তার বক্তব্য থেকে তেহরানের কৌশল স্পষ্ট: দৃঢ় সংকল্প দেখানো, ওয়াশিংটনের অর্থনৈতিক স্বার্থে দৃষ্টি আকর্ষণ করা এবং প্রতিরোধকে জাতীয় অধিকারের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করা।

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাতে পরবর্তী তীব্র উত্তেজনার মধ্যে এই বিবৃতি এসেছে। যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাবের জবাব ইরান পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রে পাঠায়, কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই জবাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। ট্রাম্প বলেন, ‘‘আমি মাত্রই ইরানের তথাকথিত প্রতিনিধিদের পাঠানো জবাবটি পড়লাম। এটি আমার পছন্দ হয়নি— একেবারেই অগ্রহণযোগ্য।’’

    গালিবাফের ভাষায়, আলোচনার পথ বাঁচাতে এবং উত্তেজনা কমাতে ইরানের প্রস্তাবকে গুরুত্ব দিতে হবে; তা না হলে সহিংসতা এবং ব্যয় দুটোই বাড়বে।

  • বিজয়ের নির্দেশে তামিলনাড়ুতে ৭১৭ সরকারি মদের দোকান বন্ধ

    বিজয়ের নির্দেশে তামিলনাড়ুতে ৭১৭ সরকারি মদের দোকান বন্ধ

    তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয়ের নির্দেশে রাজ্যের ৭১৭টি সরকারি মদের দোকান বন্ধ বা সরিয়ে নেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার জারি হওয়া সরকারি আদেশে বলা হয়েছে, ধর্মীয় উপাসনালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বাসস্ট্যান্ডের কাছাকাছি থাকা এই দোকানগুলো দুই সপ্তাহের মধ্যে বন্ধ করা বা স্থানান্তর করা হবে।

    ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তামিলনাড়ু স্টেট মার্কেটিং করপোরেশন (তাসম্যাক) পরিচালিত ওই দোকানগুলো মন্দির, মসজিদ, গির্জা, স্কুল, কলেজ এবং বাসস্ট্যান্ড থেকে ৫০০ মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে থাকলে সিদ্ধান্তের আওতায় পড়বে। সরকারের তথ্যে রাজ্যে মোট ৪৭৬৫টি সরকারি মদের দোকান রয়েছে; বন্ধের তালিকায় থাকা ৭১৭টির মধ্যে ২৭৬টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পাশে, ১৮৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছে এবং ২৫৫টি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত।

    বিজয় দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই সিদ্ধান্তকে তার সরকার সামাজিক সংস্কার ও জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপন করেছে। অন্যদিকে তাসম্যাক রাজ্যের অন্যতম বড় রাজস্ব উৎস হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত সরকারের আয়ের ওপর কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভিত্তিতে প্রশ্ন উঠেছে।

    রোববার তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া ৫১ বছর বয়সী অভিনেতা-রাজনীতিক জোসেফ বিজয়ের দল টিভিকে এককভাবে সবচেয়ে বড় দল হয়ে ওঠার পর কংগ্রেস, বামদল, ভিসিকে ও মুসলিম লিগের সমর্থনে রাজ্যে প্রথমবারের মতো জোট সরকার গঠন করেছে। বর্তমানে বিধানসভায় তার দলের ১০৭টি আসন আছে; শরিকদের ১৩ বিধায়কের সমর্থন নিয়ে তিনি শিগগিরই আস্থা ভোটের মুখোমুখি হবেন।

    মদের দোকান বন্ধের সিদ্ধান্তের পাশাপাশি নতুন সরকার কয়েকটি জনকল্যাণমূলক উদ্যোগও অনুমোদন করেছে — আবাসিক গ্রাহকদের জন্য মাসে ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিনামূল্যে বিদ্যুৎ, নারী নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য একটি বিশেষ বাহিনী গঠন এবং প্রতিটি জেলায় মাদকবিরোধী একটি ইউনিট স্থাপন। সেগুলোও শীঘ্রই বাস্তবে কেমনভাবে প্রয়োগ হবে, সেটাও নজরকাড়া বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

  • মার্কিন ও ফরাসি নাগরিকের শরীরে হান্টাভাইরাস শনাক্ত

    মার্কিন ও ফরাসি নাগরিকের শরীরে হান্টাভাইরাস শনাক্ত

    বিশ্বের বিভিন্ন দেশের যাত্রীরা নিয়ে আটলান্টিক মহাসাগরে ভ্রমণে বের হওয়া প্রমোদতরী ‘এমভি হন্ডিয়াস’ হান্টাভাইরাসের প্রকোপে আক্রান্ত হওয়ার খবর প্রকাশ পেয়েছে। এই পরিস্থিতি এখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং সংশ্লিষ্ট দেশের authorities বা কর্তৃপক্ষগুলোকে আরও কঠোর সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেছে।

    এক মাস আগে আর্জেন্টিনা থেকে যাত্রা শুরু করা এই বিলাসবহুল ক্রুজজাহাজে থাকা এবং এর পরের বিভিন্ন ভ্রমণের ফলস্বরূপ এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হয়েছে যে তিনজন যাত্রীর মৃত্যুও হয়েছে। এক ডাচ দম্পতি এবং এক জার্মান নারীর মৃত্যুর তথ্য ডব্লিউএইচও নিশ্চিত করেছে।

    ভাইরাসটির সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকে যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ আফ্রিকা, নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাষ্ট্র ও সুইজারল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে ফিরে গেছেন।

    বিশেষ করে, এই ভাইরাসের সংক্রমণ এখন মার্কিন ও ফরাসি নাগরিকের শরীরে শনাক্ত হয়েছে, যারা জাহাজ থেকে নিজ দেশে ফেরার পথে ছিলেন। মার্কিন স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, এই ব্যক্তিদের মধ্যে একজনের শরীরে হালকা উপসর্গ দেখা যাচ্ছে, তবে অতিরিক্ত সতর্কতার জন্য উভয়কে বায়োকন্টেইনমেন্ট সেন্টারে রাখা হয়েছে।

    অন্যদিকে, ফরাসি স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্টেফানি রিস্ট জানিয়েছেন, প্যারিসে এক নারী আইসোলেশনে রয়েছেন এবং তার স্বাস্থ্যের অবনতি হচ্ছে। এ ছাড়া তার সংস্পর্শে আসা ২২ জনও শনাক্ত করা হয়েছে।

    কীভাবে এই ভাইরাস মানুষের মধ্যে ছড়াচ্ছে?

    ১ এপ্রিল আর্জেন্টিনার উশুয়াইয়া থেকে ‘এমভি হন্ডিয়াস’ যাত্রা শুরু করে। এই ক্রুজটি ওশেনওয়াইড এক্সপেডিশনসের দ্বারা পরিচালিত।জাহাজটি ব্রিটিশ শাসিত দক্ষিণ জর্জিয়া অঞ্চলে যাওয়ার উদ্দেশ্য ছিল এবং এই পথে যাত্রীদের আটলান্টিকের একদম অদেখা ও দুঃসাহসিক কিছু অঞ্চলের মাধ্যমে ভ্রমণ করার পরিকল্পনা ছিল।

    প্রাথমিকভাবে প্রায় ১৫০ জন যাত্রী ও ক্রু এই জাহাজে ছিল, তাদের মধ্যে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফিলিপিন্স, রাশিয়া এবং ইউরোপের নাগরিকরা অন্তর্ভুক্ত।

    ১১ এপ্রিল এক ডাচ নাগরিকের মৃত্যু ঘটে, তবে তার মৃত্যুর কারণ শেষে জানা যায়নি। এর পরে, ২৪ এপ্রিল তার স্ত্রীর মরদেহ জাহাজ থেকে নামানো হয় এবং তাকে দক্ষিণ আফ্রিকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জোহানেসবার্গের একটি হাসপাতালে তিনি মারা যান। এই মৃত্যুর সূত্রে জানা যায়, ওই নারী হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন।

    এরপর, ২ মে আরও একজন জার্মান নাগরিকের মৃত্যুর খবর আসে, ফলে মোট মৃতের সংখ্যা তিনে পৌঁছায়।

    বুধবার নিশ্চিত করা হয়, জাহাজের দুই ব্যক্তির শরীরে অ্যান্ডিস স্ট্রেইন ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে, যা সংস্পর্শে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে ছড়াতে সক্ষম। এছাড়া, জাহাজটি সেন্ট হেলেনার নৌবন্দরে নোঙর থাকার সময় কিছু যাত্রী ও ব্রিটিশ নাগরিকরা মাটি ছুঁয়েছেন, যাদের সঙ্গেও যোগাযোগ হয়েছে।

    জাহাজটির কার্যক্রম চলাকালে, নেদারল্যান্ডসের দুই বিশেষজ্ঞসহ অন্যান্য চিকিৎসকদের উপস্থিতির আশা করা হচ্ছে। তারা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে চলেছেন।

    বর্তমানে, এই প্রমোদতরী স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের দিকে যাত্রা করছে, যেখানে কিছু সময় নোঙর করে থাকছে।

    হান্টাভাইরাস কি?

    হান্টাভাইরাস এমন এক ধরনের ভাইরাস, যা মূলত ইঁদুরের দেহে থাকে। ইঁদুরের শুকনো মল, প্রস্রাব বা লালা থেকে ছড়িয়ে পড়ে বাতাসের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। অধিকাংশ সংক্রমণই হয় ভাইরাসের আণবিক কণার বায়ুপ্রবাহের মাধ্যমে।

    যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) বলছে, ইঁদুরের প্রস্রাব, মল বা লালা থেকে ভাইরাসটি বাতাসে ছড়াতে পারে, যা মানুষের শ্বাস নেয়ার মাধ্যমে সংক্রমিত হয়। বিরল ক্ষেত্রে, ইঁদুরের কামড় বা আঁচড় থেকেও এই ভাইরাস সংক্রমিত হতে পারে।

    এই ভাইরাস দুটি গুরুতর রোগ সৃষ্টি করে: প্রথম, হান্টাভাইরাস পালমোনারি সিনড্রোম (এইচপিএস), যেখানে শুরুতে জ্বর, ক্লান্তি, পেশিতে ব্যথা দেখা দেয়, পরে মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, পেটের সমস্যা হয় এবং শ্বাসকষ্টের কারণে মৃত্যুও হতে পারে। শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত উপসর্গে মৃত্যুর হার প্রায় ৩৮ শতাংশ।

    দ্বিতীয়, হেমোরেজিক ফিভার উইথ রেনাল সিনড্রোম (এইচএফআরএস), যা কিডনির জন্য বেশি ক্ষতিকর, এতে রক্তচাপ কমে যায়, অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হয় এবং কিডনি বিকল হতে পারে।

  • ইরানে হামলার সম্ভাবনা নিয়ে ট্রাম্পের সতর্কতা

    ইরানে হামলার সম্ভাবনা নিয়ে ট্রাম্পের সতর্কতা

    ইরানকে কেন্দ্র করে সক্রিয় উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানে হামলার কথা চিন্তা করছেন বলে মনে করা হচ্ছে। সোমবার (১২ মে) বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেশ কয়েকটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়, এই মুহূর্তে হামলার ভাবনা তার মনোযোগে ফিরে এসেছে, যা আগের তুলনায় বেশি সিরিয়াস।

    সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছেন, ট্রাম্প ইরানের সাথে চলমান আলোচনায় অচলাবস্থা দেখে হতাশ হয়ে পড়েছেন। পাশাপাশি, হরমুজ প্রণালির বন্ধ থাকায় তার মধ্যে ধৈর্য্য হারানোর প্রবণতা দেখা দিয়েছে। তার মতে, ইরানি নেতার মধ্যকার বিভাজনের কারণে পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে তারা কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না।

    আরেকটি সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছেন, ইরান যখন যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাবে অপ্রত্যাশিতভাবে জবাব দিচ্ছে, তখন তার মানে হলো তাদের মধ্যে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে—তাহলে কি তারা সত্যিই আলোচনায় আগ্রহী? এই পরিস্থিতিতে কিছু সূত্র বলছে, মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক অংশ আবারও ইরানের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনা নিচ্ছে। তাদের মতে, এই পদক্ষেপে ইরানকে দুর্বল করে দেওয়া যেতে পারে, যা পরবর্তীতে তারা আলোচনা টেবিলে বসতে রাজি হবে। তবে অন্য একটি পক্ষ বলছে, সময় নিয়ে কূটনীতি চালিয়ে যাওয়া উচিত।

    এছাড়াও, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কর্মকর্তারা পাকিস্তানের মধ্যস্ততা প্রক্রিয়ার ধরন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তারা মনে করছেন, ট্রাম্প ইতিবাচক কথাগুলোই বেশি প্রকাশ করছেন, যখন বাস্তবে ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের মধ্যে কিছু গোপন দ্বিধা লুকানো। তারা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন, পাকিস্তান হয়তো ইরানের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে যে, ট্রাম্প কোনটা সত্য এবং কোনটা নয়, তা স্পষ্ট নয়।

    অবশেষে, তারা মনে করেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি যা কিছু বলে, তার মধ্যে শুধুমাত্র ইতিবাচক কথাগুলোই তারা প্রকাশ করছে, যা সত্যের সঙ্গে মিলে না। এতে করে মিথ্যা বা ভান করে থাকা কথাগুলোর খোলাখুলি সত্যতা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

  • জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানালেন ঈদুল আযহা কবে হবে

    জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানালেন ঈদুল আযহা কবে হবে

    মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দ دبيয়ে আগামী ১৭ মে পবিত্র জিলহজ মাসের নতুন চাঁদ দেখার জন্য একটি বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। এই উদ্যোগটি দেশটির ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড চ্যারিটেবল অ্যাক্টিভিটিজ ডিপার্টমেন্টের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হবে। গালফ নিউজের খবরে জানা গেছে, এই অনুষ্ঠানে জ্যোতির্বিজ্ঞানের আধুনিক প্রযুক্তি এবং শরিয়া-ভিত্তিক চাঁদ দেখা পদ্ধতিকে একত্রিত করে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে চাঁদ দেখার চেষ্টা করা হবে। ড. হামাদ মোহাম্মদ সালেহ, বিভাগটির টাইমিং অ্যান্ড ক্রিসেন্ট অবজার্ভেশন শাখার প্রধান এবং দুবাই চাঁদ দেখা কমিটির উপ-সভাপতি, জানান যে, এই পরীক্ষাটি মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ যেখানে আধুনিক জ্যোতির্বিদ্যাবিজ্ঞানের সাহায্যে ঈদুল আযহার সময় নির্ধারণ করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে সুন্নাহর মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং চাঁদ দেখার আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি হবে। দেশটির সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে পরিবারের সঙ্গে থাকা শিশু ও তরুণরা এতে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

    অপরদিকে, আরবী বর্ষের শেষ মাস জিলহজ। এই মাসের দশম দিনে মুসলিমরা ঈদুল আযহা উৎসব উদযাপন করে থাকেন। আরব ইউনিয়ন ফর অ্যাস্ট্রোনমি এন্ড স্পেস সায়েন্সেসের সদস্য ইব্রাহিম আল জারওয়ান অনুসারে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সময় অনুযায়ী রোববার (১৭ মে) মধ্যরাত ১২টা ১ মিনিটে নতুন চাঁদ দেখা সম্ভব হবে। তাই সম্ভাব্যভাবে, জিলহজ মাসের প্রথম দিন হবে সোমবার (১৮ মে)। এই হিসাব অনুযায়ী, আরাফার দিন অর্থাৎ জিলহজ ৯ তারিখ পড়বে আগামী মঙ্গলবার (২৬ মে), এবং ঈদুল আযহা পালন হতে পারে বুধবার (২৭ মে)।

  • লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ তিনজনের মৃত্যু

    লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ তিনজনের মৃত্যু

    লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের নাবাতিহ জেলা জেবদিনের একটি বাড়িতে ইসরায়েলের ড্রোন হামলায় দুই বাংলাদেশি শ্রমিকসহ তিন জন নিহত হয়েছেন। নিহত অপর একজন সিরীয় নাগরিক। এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম লরিয়েন্ট টুডে, যা সোমবার (১১ মে) প্রকাশিত হয়েছে। তবে এই রিপোর্টে বাংলাদেশের শ্রমিকদের নাম বা পরিচয় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। জানা গেছে, নিহতরা 모두 ওই এলাকায় শ্রমিকের কাজ করছিলেন।

    এই হামলার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে, যেখানে যুদ্ধবিরতিসত্ত্বেও ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও ধ্বংস চালিয়ে যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই আক্রমণটি গতকালই অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    এর জবাবে, লেবাননের শক্তিশালী শত্রু ও সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। তারা আজও ইসরায়েলি সেনাদের বিরুদ্ধে ড্রোন হামলা করেছে।

    উল্লেখ্য, ১৬ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। তবে এরপরও ইসরায়েলি সেনারা বিভিন্ন সময় তা অমান্য করে দক্ষিণ লেবাননে সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি, স্থাপনাবিষয়ক ক্ষয়ক্ষতি চালিয়ে যায়, পাশাপাশি হিজবুল্লাহর সদস্যদের লক্ষ্য করে হামলা চালাতে থাকে। এর জবাবে হিজবুল্লাহও পাল্টা হামলা করছে, ফলে পরিস্থিতি ক্রমশ অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে।

  • যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বশান্তির জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি: ইরান

    যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বশান্তির জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি: ইরান

    ইরান আবারও যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। সম্প্রতি তেহরানের পক্ষ থেকে এক যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব দেওয়ার পর, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তা প্রত্যাখ্যান করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই প্রতিক্রিয়া জানায়।

    ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি ও তাদের সামরিক স্থাপনা সহিংসতা ও দাদাগিরির চক্র সৃষ্টি করছে, যা অঞ্চলটিতে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছে। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবি অযৌক্তিকভাবে উপস্থাপন করছে, যেখানে এর বিপরীতে ইরানের দাবিগুলো হলো—অবরোধ তুলে নেওয়া, ইরানের সম্পদ মুক্তি দেওয়া এবং যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা।

    বাঘাই বলেন, ‘ইরান নিজেকে একটি দায়িত্বশীল আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে প্রমাণ করে আসছে। আমরা কোনো দাদাগিরি করছি না; বরং দাদাগিরির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিচ্ছি।’ তিনি বিস্তারিতভাবে ইরানের দাবিগুলোর তালিকা তুলে ধরেন, যেখানে রয়েছে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা, দেশের অর্থনৈতিক অবরোধ প্রত্যাহার করা এবং পুরো অঞ্চলে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা।

    ইরানের এই যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবকে উদার ও দায়িত্বশীল বলে অভিহিত করে বাঘাই বলেন, বর্তমানে হরমুজ প্রণালি অবরোধের ফলে সাময়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তার নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এর পরিপ্রেক্ষিতে, ইরান লেবাননসহ অন্যান্য এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সংকল্পবদ্ধ। তিনি ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান, হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানো বা অবরোধে সহায়তা দেওয়া থেকে বিরত থাকার। বাঘাই জানান, ‘যদিও এই যুদ্ধের ফলে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত, তবে এটি শুধুমাত্র অনৈতিক নয়, বরং অবৈধও।

    তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলই ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন সৃষ্টি করছে। ইউরোপীয় দেশগুলোর উচিত নয় এই ফাঁদে পা দেওয়া। সকলের জন্য শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বৈশ্বিক শক্তিগুলোর দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

    সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল