Category: আন্তর্জাতিক

  • উত্তরপ্রদেশে তীব্র ঝড়-বর্ষণে প্রাণহানি ১০০ ছাড়াল

    উত্তরপ্রদেশে তীব্র ঝড়-বর্ষণে প্রাণহানি ১০০ ছাড়াল

    ভারতের উত্তরপ্রদেশে বুধবার সন্ধ্যায় শুরু হওয়া তীব্র ঝড় ও ভারী বৃষ্টিতে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে। কর্তৃপক্ষ জানান, শতাধিক মানুষ মারা গেছেন এবং আরও কয়েকশ আহত হয়েছেন। রাজ্যজুড়ে হাজার হাজার বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে হাজার হাজার গাছ ও বিদ্যুৎখুঁটি উপড়ে পড়েছে।

    সরকারি ও সংবাদসংস্থার তথ্য অনুযায়ী প্রয়াগরাজে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি দেখা গেছে — কমপক্ষে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। ভাদোহীতে ১৮ জন, মির্জাপুরে ১৫ জন, ফতেহপুরে ১০ জন, উন্নাও ও বদায়ুনে প্রত্যেকে ছয়জন করে মারা গেছেন। প্রতাপগড় ও বারেলিতে চারজন করে প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া সীতাপুর, রায়বেরেলি, চান্দৌলি, কানপুর দেহাত, হারদোই ও সম্ভল থেকেও মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

    কর্মকর্তারা বলছেন, প্রধানত কাঁচা ঘরধ্বস, উপড়ে পড়ে গাছপালা ও বিদ্যুতের খুঁটি এবং বজ্রপাতে এসব মৃত্যু ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ঝড়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং গবাদি পশুও হানি এসেছে — এসবের প্রাথমিক ক্ষতি নিরূপণের কাজ শুরু হয়েছে।

    প্রতিকূল আবহাওয়া হঠাৎ তীব্র আকার নেওয়ায় বুধবার সন্ধ্যায় রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকায় ঝড়বৃষ্টি শুরু হয়। প্রচণ্ড বাতাসে রাস্তাগুলোতে বড় বড় বিলবোর্ড ও টিনের চালা উড়ে যান, অনেক ক্ষেত্রে এগুলো যানবাহনের উপর পড়ে; ফলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়।

    সামাজিক মাধ্যমে ঝড়ের সময় ও পরে নেওয়া অসংখ্য ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। বারেলির বামিয়ানা গ্রামের একটি ভিডিওতে দেখা যায় কেবলমাত্র বাতাসের ধাক্কায় একজন ব্যক্তি একটি টিনের চালাসহ উড়ে গিয়ে প্রায় ৫০ ফুট দূরে একটি মাঠে পড়ছেন — ভিডিওটি ঝড়ের ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট করে তোলে।

    উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ নিহতদের প্রতি শোক প্রকাশ করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত সরকারি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দফতরগুলোকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ত্রাণ ও জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং উদ্ধারকার্য ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এছাড়া ফসলের ক্ষতির আনুমানিক হিসাব জানাতে রাজস্ব ও কৃষি বিভাগসহ বিমা কোম্পানিগুলোকে দ্রুত জরিপ করে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঘটনায় উদ্ধৃতি দিয়েছে এনডিটিভি।

  • ইরানের অভিযোগ: যুদ্ধে মার্কিনদের সহায়তা করেছে আমিরাত

    ইরানের অভিযোগ: যুদ্ধে মার্কিনদের সহায়তা করেছে আমিরাত

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি দাবি করেছেন, তেহরানের বিরুদ্ধে চলা সাম্প্রতিক সহিংসতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যোগ দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। তিনি এই মন্তব্য করেছেন ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে ভারতে থাকা অবস্থায় টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায়।

    আরাঘচি বলেছেন, এই আগ্রাসনে সংযুক্ত আরব আমিরাত একটি সক্রিয় অংশীদার এবং এতে কোনো সন্দেহ রাখা যায় না। তিনি আরও দাবি করেছেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আমিরাত কেবল নিন্দা জাহির করেই বিরত ছিল না, বরং সরাসরি অংশ নিয়েছিল এবং সম্ভবত তেহরানের বিরুদ্ধে কিছু পদক্ষেপও নিয়েছে।

    ইসরায়েল বলেছে, চলমান যুদ্ধের সময় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের একটি ‘গোপন’ বৈঠক ইউএই-তে হয়েছে। আরাঘচি এই দাবির কথাও উল্লেখ করেছেন। তবে আবু ধাবি ওই গোপন ভ্রমণের কথা অস্বীকার করেছে।

    ফেব্রুয়ারি ২৮-এ মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার পরে ইরান প্রতিশোধ হিসেবে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের ওপর পাল্টা হামলা চালায়—তাতে ইসরান ও আমিরাতের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ে। এরপর থেকে বিরোধ বাড়তে থাকায় দুই দেশের সম্পর্ক তীক্ষ্ণ হয়ে ওঠে; গত ৮ এপ্রিল থেকে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি বজায় আছে বলে জানানো হয়েছে।

    ইরান বারবার অভিযোগ করেছে যে উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে মার্কিন বাহিনীকে হামলা চালানোর সুযোগ দিচ্ছে। অন্যদিকে, ওই উপসাগরীয় দেশগুলো এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে তারা সংঘাতের আগে থেকেই প্রতিজ্ঞা করেছিল যে তাদের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা কাউকে ইরানের বিরুদ্ধে হামলার কাজে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।

    ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বিশ্লেষকরাও আমিরাতের জড়িত থাকার বিষয়ে বিভিন্ন দাবি তুলেছেন। বিপরীতে, চলতি মাসের শুরুতে আমিরাতের ফুজাইরাহ অঞ্চলের একটি জ্বালানি স্থাপনায় দুর্বল ড্রোন হামলার অভিযোগে আবু ধাবি ইরানকে দায়ী করেছিল; ইরান সেই অভিযোগ খারিজ করেছে।

    আরাঘচির মন্তব্যের সূত্র হিসেবে ফরাসি সংবাদসংস্থা এএফপির প্রতিবেদনকে উল্লেখ করা হচ্ছে। সংঘাত ও সম্পর্কজটিলতা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন মন্তব্য এবং প্রতিক্রিয়া চলছে, যা ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

  • ইরানের অভিযোগ: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধে আমিরাত সরাসরি সহায়তা করেছে

    ইরানের অভিযোগ: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধে আমিরাত সরাসরি সহায়তা করেছে

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, তেহরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের সময় সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছে এবং আমিরাতের সরাসরি সহায়তায় ওই আগ্রাসন চালানো হয়েছে। ভারতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে যোগদানকালে বৃহস্পতিবার টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই অভিযোগ জানান।

    আরাঘচি বলেন, ‘‘এই আগ্রাসনে সংযুক্ত আরব আমিরাত একটি সক্রিয় অংশীদার ছিল—এ বিষয়টি নিয়ে কোনো সংশয় নেই।’’ তিনি আরো বলেন, সংঘাত শুরু হওয়ার সময় আমিরাত নিন্দা জানানিও অস্বীকার করেছিল এবং পরবর্তীকালে তাদের অংশগ্রহণ ও সম্ভবত আমাদের বিরুদ্ধে সরাসরি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টিও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

    ইসরায়েলের যে দাবি তা নিয়েও আরাঘচি মন্তব্য করেন যে, চলমান যুদ্ধে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতে একটি ‘গোপন’ বৈঠক হয়েছে—এই অভিযোগ ইসরায়েলের পক্ষ থেকে করা হয়। তবে আবু ধাবি ওই গোপন সফরের কথা অস্বীকার করেছে।

    পটভূমি হিসেবে আরাঘচি স্মরণ করান যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ঘটানো হামলার পর ইরান পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে মার্কিন মিত্রদের লক্ষ্য করে আক্রমণ চালায়, যার ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ে। সেই উত্তেজনার মধ্যে থেকে ৮ এপ্রিল থেকে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে।

    আরাঘচি ও ইরান বারবার অভিযোগ করেছে যে কিছু উপসাগরীয় দেশ তাদের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহার করে মার্কিন বাহিনীকে হামলার সুবিধা দিচ্ছে। কিন্তু ওই উপসাগরীয় দেশগুলো এই ধরনের অভিযোগ বারবার প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে যে সংঘাত শুরুর আগেই তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল—তারা তাদের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা কোনো পক্ষকে ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে দেবে না।

    ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বিশ্লেষকরাও বিভিন্ন সময়ে আমিরাতের সম্ভাব্য জড়িত থাকার কথা উত্থাপন করেছেন। এর উত্তরে, চলতি মাসের শুরুতে আবু ধাবি ইরানকে দায়ী করে বলেছিল যে ফুজাইরাহ অঞ্চলের একটি জ্বালানি স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে; ইরান সেই অভিযোগ নাকচ করেছে।

    সূত্র: এএফপি।

  • উত্তরপ্রদেশে ঝড়-বৃষ্টিতে মৃতের সংখ্যা ১০০ ছাড়াল

    উত্তরপ্রদেশে ঝড়-বৃষ্টিতে মৃতের সংখ্যা ১০০ ছাড়াল

    ভারতের উত্তরপ্রদেশে গতকাল তীব্র ঝড় ও ভারী বৃষ্টিতে মৃতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে এবং কয়েকশ লোক আহত হয়েছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকায় বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে, হাজার হাজার গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়েছে এবং অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে।

    সরকারী সূত্রে এনডিটিভি জানিয়েছে, সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে প্রয়াগরাজ জেলায় — সেখানে কমপক্ষে ২১ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। ভাদোহীতে ১৮ জন, মির্জাপুরে ১৫ জন, ফতেহপুরে ১০ জন ও উন্নাও ও বদায়ুন জেলায় প্রত্যেকে ৬ জন করে মারা গেছেন। প্রতাপগড় ও বেরেলিতে চারজন চারজনের, এবং সীতাপুর, রায়বেরলি, চান্দৌলি, কানপুর দেহাত, হারদোই ও সমভলে থেকেও বহু মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

    কর্মকর্তারা বলেন, কাঁচা ঘর বল্লিষ্ঠ ঝড়ে ধসে পড়া, গাছপালা ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়া এবং বজ্রপাতে এসব প্রাণহানির সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে ফসল নষ্ট হয়েছে এবং গবাদি পশুও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

    স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বুধবার সন্ধ্যায় আবহাওয়ায় হঠাৎ পরিবর্তন এনে তীব্র বেগে বাতাস বইতে শুরু করে। বাতাসে উড়ন্ত বড় বড় বিলবোর্ড, টিনের চালা ও ভাঙা গাছগুলো বহু জায়গায় গাড়ির ওপর পড়ে যায় এবং কয়েকটি সড়ক বন্ধ হয়ে পড়ে।

    ঘটনাস্থলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। বারেলির বামিয়ানা গ্রামের একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, এক ব্যক্তি প্রবল বাতাসে টিনের চালাসহ প্রায় ৫০ ফুট দূরে একটি ফিল্ডে ছিটকে পড়ছেন — এই দৃশ্য স্থানীয়দের মধ্যে শোক ও আতঙ্ক বাড়িয়ে দিয়েছে।

    উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত সরকারি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ দিয়ে পুনরুদ্ধার কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ত্রাণ ও সহায়তা পৌঁছে দিতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে উদ্ধারকাজ ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এছাড়া ফসলের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে রাজস্ব ও কৃষি বিভাগ এবং বিমা কোম্পানিকেও দ্রুত জরিপ করে সরকারের কাছে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। উদ্ধারকাজ ও জরিপ চলমান রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই প্রশাসনের তৎপরতা অব্যাহত আছে।

    সূত্র: এনডিটিভি

  • ফুজাইরাহ উপকূল থেকে জাহাজ জব্দ, ইরানের জলসীমার দিকে নেওয়া হচ্ছে

    ফুজাইরাহ উপকূল থেকে জাহাজ জব্দ, ইরানের জলসীমার দিকে নেওয়া হচ্ছে

    হরমুজ প্রণালীর কাছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) উপকূল থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা একটি জাহাজ জব্দ করেছে এবং সেটি ইরানের জলসীমার দিকে টেনে নেওয়া হচ্ছে। এই তথ্য বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ইউকে মেরিটাইম এজেন্সি জানিয়েছে।

    এজেন্সির বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ফুজাইরাহ থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে নোঙর করা অবস্থায় থাকা ওই জাহাজটিকে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা জব্দ করে নিয়ে যাচ্ছেন।

    ঘটনাটি এমন সময় ঘটল যখন হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তীব্র আছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এবং সাম্প্রতিক পরবর্তী যুদ্ধবিরতির পর এই নৌরূহে একাধিক জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। ইরান হরমুজ প্রণালীকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরে নৌ-অবরোধ আরোপ করেছে।

    যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট জ্বালানির প্রায় ২০ শতাংশ মালামাল হরমুজ প্রণালী দিয়ে নৌপরিবহন করা হতো, যা এই অঞ্চলের নিরাপত্তাকে কৌশলগতভাবে গুরুত্ববান করে তোলে।

    গত রোববার দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে যে তাদের একটি কার্গো জাহাজ হরমুজ প্রণালীর কাছে হামলার শিকার হয়েছে। পরে কাতার জানিয়েছে, সেই জাহাজটি আমিরাত থেকে তাদের জলসীমায় যেতে থাকা অবস্থায় ড্রোন হামলার শিকার হয়।

    অন্যদিকে, দুই সপ্তাহ আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজে একটি সামরিক অভিযান শুরু করার ঘোষণা দিয়েছিলেন, যেখানে কৌশলগতভাবে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করাই লক্ষ্য ছিল। তবে সৌদি আরব ও বাহরাইন তাদের আকাশসীমা ও সামরিক ঘাঁটিগুলো মার্কিন বাহিনীকে ব্যবহারের জন্য বন্ধ করে দেয়ায় ওই অভিযান স্থগিত রাখা হয় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ট্রাম্প পরে জানিয়েছেন যে ইরানিদের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি হওয়ায় তিনি অভিযান স্থগিত রেখেছেন।

    সূত্র: এএফপি

  • নেতানিয়াহুর ‘গোপন’ আমিরাত সফরের দাবি, আবুধাবি অস্বীকার

    নেতানিয়াহুর ‘গোপন’ আমিরাত সফরের দাবি, আবুধাবি অস্বীকার

    ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু গোপনে সংযুক্ত আরব আমিরাতে সফর করেছেন—এমন দাবি করেছে তার দফতর। বুধবার (১৩ মে) ওই তথ্য জানানো হয়।

    নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, তিনি আমিরাতে গিয়ে দেশটির রাষ্ট্রপ্রধান শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং সেই বৈঠককে তিনি ‘ঐতিহাসিক ব্রেকথ্রু’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

    তবে আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নেতানিয়াহুর এই দাবিকে বাতিল করে বলেছে, যে গোপন সফরের কথা বলা হচ্ছে তা বাস্তবে হয়নি। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরায়েলের সম্পর্ক প্রকাশ্য এবং সবকিছুই অব্রাহাম চুক্তির মাধ্যমে পরিচালিত হয়; আমাদের সম্পর্ক কোনো গোপন বা অনানুষ্ঠানিক সফরের ওপর নির্ভরশীল নয়।

    প্রসঙ্গত, ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আমিরাত ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে; সেই সময় বাহরাইন, মরক্কো ও সুদানও একই প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়।

    বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর আমিরাতকে আকাশ প্রতিরক্ষায় সাহায্য হিসেবে আয়রন ডোম পাঠায় ইসরায়েল এবং সেটি পরিচালনার জন্য কিছু ইসরায়েলি কর্মী আমিরাতে এসেছিলেন।

    নেতানিয়াহুর দাবি ও আমিরাতের অস্বীকার—উভয় পক্ষের বিবৃতি মিলিয়ে ঘটনাটির চূড়ান্ত চিত্র এখনও স্পষ্ট নয়।

    সূত্র: বিবিসি

  • পশ্চিমবঙ্গে সকল প্রকার পশু জবাই নিষিদ্ধের ঘোষণা

    পশ্চিমবঙ্গে সকল প্রকার পশু জবাই নিষিদ্ধের ঘোষণা

    পশ্চিমবঙ্গের সরকার বুধবার ঘোষণা করেছে যে এখন থেকে প্রকাশ্যে গরু সহ সব ধরনের পশু জবাই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের পশু পালন এবং জবাই প্রক্রিয়ার উপর নাটকীয় পরিবর্তন আসবে। নতুন এ নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সরকারি অনুমতি ছাড়া কোনো পশু যেমন গরু, ষাঁড়, মহিষ বা অন্য কিছুরই জবাই করা যাবে না। নিয়মের লঙ্ঘন করলে ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড বা জরিমানা হতে পারে।

    এনডিটিভির খবরে জানানো হয়েছে, এই নতুন নির্দেশনা প্রকাশ করেছে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, অনুমোদিত স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং স্বাস্থ্য বিভাগীয় পশু চিকিৎসকের ফিটনেস সনদ ছাড়া পশু জবাই সম্পন্ন করা যাবে না। বিশেষ করে গরু, ষাঁড়, বলদ, বাছুর, মহিষ ও মহিষের বাছুরসহ সব ধরনের পশুর ক্ষেত্রেই এই নিয়ম প্রযোজ্য।

    সনদপ্রাপ্তির জন্য পশুর বয়স ১৪ বছরের কম হওয়ার প্রমাণ দিতে হবে এবং পশুটি আর কাজ বা প্রজননের উপযোগী নয়, এমনকি আঘাত, বিকলাঙ্গতা বা অসুস্থতার কারণেও অক্ষম বলে চিহ্নিত হতে পারে। এই সনদ দিতে পৌরসভা চেয়ারম্যান বা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতিসহ সরকারি পশু চিকিৎসক যৌথভাবে দায়বদ্ধ থাকবেন।

    নতুন নির্দেশনায় কঠোর কিছু শর্তও দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পশুর বয়স, নির্ধারিত স্থান ছাড়া জবাই নিষেধ, এবং নিয়ম ভঙ্গ করলে কঠোর শাস্তির প্রাবন্ধিক উল্লেখ রয়েছে। পশু জবাইয়ের জন্য অবশ্যই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অনুমতি নিতে হবে, যেখানে পশুটির উপযোগিতা ও বয়সের তথ্য থাকা বাধ্যতামূলক।

    অনুমতির পরে পশুটি কেবল পৌরসভার নির্ধারিত কসাইখানা বা প্রশাসনিক পর্যায়ের নির্দিষ্ট স্থানেই জবাই করতে হবে। খোলা জায়গায় বা জনসমাগমের মধ্যে পশু জবাই সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ।

    নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য পৌর চেয়ারম্যান, পঞ্চায়েত সভাপতি বা পশু চিকিৎসক যেকোনো স্থান পরিদর্শন করতে পারবেন। কেউ বাধা দিতে পারবে না।

    অতিরিক্ত খবর হলো, এই নিয়ম ভঙ্গ করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড, এক হাজার রুপির জরিমানা বা উভয় শাস্তি হতে পারে। সব অপরাধকেই অপরাধ হিসেবে গণ্য করে কড়া নজরদারি চালানো হবে।

  • ওমানে গাড়ির ভেতর রাঙ্গুনিয়ার ৪ প্রবাসী ভাইয়ের রহস্যময় মৃত্যু

    ওমানে গাড়ির ভেতর রাঙ্গুনিয়ার ৪ প্রবাসী ভাইয়ের রহস্যময় মৃত্যু

    চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ওমান প্রবাসী চার ভাইয়ের লাশ উদ্ধার হয়েছে একটি গাড়ির ভেতর থেকে। ধারণা করা হচ্ছে, ওমানের মুলাদ্দা অঞ্চলে বুধবার (১৩ মে) গাড়ির এসির বিস্ফোরণ ঘটে এবং সেই ঘটনাতেই তাদের মৃত্যু হয়। রাতে পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়রা যখন এই ঘটনার খবর জানতে পারে, পুরো এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। এই ঘটনায় ওমানের পুলিশও তদন্ত শুরু করেছে।

    নিহত চার ভাই হলেন মো. রাশেদ, মো. শাহেদ, মো. সিরাজ এবং মো. শহিদ। তারা রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের বন্দারাজার পাড়া এলাকার আবদুল মজিদের সন্তান। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, এই পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে চারজন ওমানের প্রবাসী। তাদের মধ্যে দুজন অবিবাহিত, এবং আগামী ১৫ মে তারা দেশে ফিরার পরিকল্পনা করেছিলেন। পরিবারে সবাই মানসিক উচ্ছ্বাস নিয়ে শেষ মুহূর্তে কেনাকাটা করতে বের হয়েছিলেন, কিন্তু ফিরে এলো এক ভয়ানক পরিস্থিতিতে।

    প্রাথমিক তদন্তে ওমান পুলিশ মনে করছে, দীর্ঘক্ষণ গাড়ি চালু অবস্থায় থাকায় এর এসির ভেতর থেকে কোনো বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হয়। এই গ্যাস হয়তো নিঃশ্বাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করেই তাদের মৃত্যুর কারণ হতে পারে। তবে এটি নিখুঁত নিশ্চিত করতে পুলিশ চিকিৎসার জন্য মেডিকেল রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে। বর্তমানে নিহতদের লাশ স্থানীয় পুলিশের তত্ত্বাবধানে রয়েছে।

    পারিবারিক সূত্র বলছে, পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে একমাত্র ভাই বর্তমানে দেশে অবস্থান করছে। বড় ভাই বিবাহিতা ছিলেন এবং তার একটি ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। অন্য এক ভাই সম্প্রতি বিয়ে করে প্রবাসে গিয়েছিলেন। দুই ভাই এখন জীবিত থাকলেও, তাদের সঙ্গে শপিংয়ে গিয়ে ফিরে আসল প্রাণহীন অবস্থায়।

    পুলিশ জানিয়েছ কমে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর বিষয়টির প্রকৃত কারণ ও পরিস্থিতি বিস্তারিত জানানো হবে। এই অপ্রত্যাশিত ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

  • তাইওয়ান ইস্যুতে সংঘাতে জড়াতে পারে যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন: জিনপিংয়ের সতর্কতা

    তাইওয়ান ইস্যুতে সংঘাতে জড়াতে পারে যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন: জিনপিংয়ের সতর্কতা

    চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সতর্ক করে বলেছেন, যদি তাইওয়ান ইস্যু সঠিকভাবে মোকাবিলা না করা হয়, তবে বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতি—চীন ও যুক্তরাষ্ট্র—সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়তে পারে। এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্যটি চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

    শি জিনপিং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে জানান, তাইওয়ান প্রণালির শান্তি ও স্থিতিশীলতা চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ট্রাম্প তার চীন সফর শুরুতেই শিকে ‘মহান নেতা’ এবং ‘বন্ধু’ বলে সম্বোধন করে দুই দেশের জন্য সুদূরপ্রসারী সহযোগিতার আহ্বান জানান। তবে শি জিনপিং তাঁর ভাষায় সংযত থাকলেও, নিশ্চিত করেন যে, তারা এ বিষয়ে কঠোর মনোভাব পোষণ করেন এবং এর গুরুত্ব অপরিহার্য।

    শি জানান, ‘তাইওয়ান প্রশ্নটি চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।’ তিনি আরও বলেন, যদি এটি সঠিকভাবে পরিচালিত হয়, তবে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক শান্তিপূর্ণ এবং স্থিতিশীল থাকতে পারে। কিন্তু ভুলে বা আপোস করে পরিচালিত হলে দ্বিপক্ষীয় সংঘর্ষের ঝুঁকি থেকে যায়, যা হতে পারে সরাসরি যুদ্ধের মতো অন্ধকার দিকে নিয়ে যাওয়ার საფট। চীনা নেতা সতর্ক করে দিয়ে বললেন, ‘তাইওয়ানের তথাকথিত স্বাধীনতা ও চীনের প্রণালির শান্তি অসঙ্গতিপূর্ণ।’ তিনি বলেন, এই প্রণালীর শান্তিই চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সবচেয়ে বড় স্বার্থ।

    এদিকে, শি জিনপিংয়ের এই পরোক্ষ হুমকির মধ্যে তাইওয়ান জানিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র দ্বীপটির প্রতি তাদের ‘স্পষ্ট ও দৃঢ় সমর্থন’ পুনর্ব্যক্ত করেছে, যা পরিস্থিতির চরম সূচনার ইঙ্গিত দেয়।

  • মণিপুরে সশস্ত্র হামলায় কুকি গির্জা নেতাসহ ৩জন নিহত, উত্তেজনা শাসক-জনতার মধ্যে

    মণিপুরে সশস্ত্র হামলায় কুকি গির্জা নেতাসহ ৩জন নিহত, উত্তেজনা শাসক-জনতার মধ্যে

    ভারতের মণিপুর রাজ্যে বৃহস্পতিবার সশস্ত্র হামলায় কুকি সম্প্রদায়ের তিন গির্জা নেতা নিহত হয়েছেন। এই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি ঘটেছে কাংপোকপি জেলার এক ঘটনায়, যেখানে আরও কিছু মানুষ আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় পুলিশ নিশ্চিত করেছে। সম্প্রতি পাহাড়ি জেলাগুলোর মধ্যে চলমান জাতিগত উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে এই হামলার জটিলতা। নিহত ব্যক্তিরা হলেন রেভারেন্ড ভি সিটলহৌ, রেভারেন্ড কাইগৌলেন ও পাস্তর পাওগৌলেন। তাঁরা সবাই থাদৌ ব্যাপটিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কুকি সংগঠনগুলোর দাবি, তাঁরা শান্তি ও পুনর্মিলনের জন্য সক্রিয় ভূমিকা পালন করছিলেন। স্থানীয় পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটে তখন যখন তাঁরা গির্জা নেতাদের এক বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন। পথে কোটজিম ও কোটলেন এলাকার মাঝামাঝি স্থানে তাঁদের বহনকারী গাড়িগুলোর ওপর অতর্কিত হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের ধারণা, এই হামলার সঙ্গে জঙ্গি গোষ্ঠী জড়িত থাকতে পারে, তবে তদন্ত এখনও চলছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে দোষী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে রেভারেন্ড ভি সিটলহৌ অতীতে মণিপুর ব্যাপটিস্ট কনভেনশনের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনি কুকি ও নাগা সম্প্রদায়ের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমাতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছিলেন। সম্প্রতি কোহিমায় দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে এক পুনর্মিলনী বৈঠক আয়োজনেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। এই ঘটনায় মণিপুরের কুকি জনগণের শীর্ষ সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন ‘কুকি ইনপি মণিপুর’ বলেছেন, এই হামলাকে তারা ‘নির্মম ও পরিকল্পিত সহিংসতা’ বলে সন্ত্রাসের স্বরূপ ব্যাখ্যা করেছেন। সংগঠনটি দাবি করেছে, জেলিয়াংরং ইউনাইটেড ফ্রন্ট নামের এক সশস্ত্র গোষ্ঠী এই হামলার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। তবে নিরাপত্তা বাহিনী এখনও কোন মন্তব্য করেনি। এই ঘটনাকে নিন্দা জানিয়ে নাগাল্যান্ডের মুখ্যমন্ত্রী নেফিউ রিও বলেছেন, সভ্য সমাজে এমন বর্বরতা সহ্য করা হবে না। ২০২৩ সাল থেকে মণিপুরে মেইতেই ও কুকি-জো সম্প্রদায়ের সংঘর্ষে শত শত মানুষ নিহত ও হাজারো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে আরও কঠিন করে তুলবে।