ইরানজুড়ে একাধিক সপ্তাহ ধরে চলা ব্যাপক বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনার পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সরাসরি দায়ী করেছেন দেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। শনিবার ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি অভিযোগ করেন, এই সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ষড়যন্ত্র কাজ করছে। তার মতে, এই ষড়যন্ত্রে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ব্যক্তিগতভাবে জড়িত ছিলেন। খামেনি আরও বলেছেন, বিদেশি শক্তিগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু পক্ষ দেশব্যাপী ব্যাপক রক্তপাত ও ধ্বংসযজ্ঞের জন্য দায়ী। তিনি উল্লেখ করেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত নানা শক্তি এই হামলা ও হত্যাকাণ্ড চালিয়ে হাজারো জীবন নষ্ট করেছে। দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা এই বিক্ষোভে বিদেশি শক্তিগুলোর অংশগ্রহণ স্পষ্ট, যা দেশজুড়ে অস্থিরতা তৈরি করেছে। তেহরান দাবি করেছে, দীর্ঘ দিন ধরে এই অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি ও উসকে দেয়ার জন্য বিদেশি শক্তিরা দায়ী। বিশেষ করে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই বিক্ষোভে হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি আরও গুরুতর করে তুলছে। খামেনি সতর্ক করে বলেছেন, এই সংঘাত দেশের বাইরে ছড়িয়ে পড়বে না, তবে যারা এই পরিকল্পনায় যুক্ত তারা এর ফল থেকে নিস্তার পাবেন না। তিনি বলেন, “আমরা দেশের জন্য যুদ্ধ চাই না, কিন্তু দেশের অভ্যন্তরীণ কিংবা আন্তর্জাতিক অপরাধীদের জন্য শাস্তি নিশ্চিত করবো।” একই সঙ্গে, শনিবার এক ধর্মীয় উৎসবে নিজের সমর্থকদের উদ্দেশ্যে ভাষণে তিনি বলেন, “আমরা ইরানি জাতির বিরুদ্ধে যে সকল অভিযোগ, ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের জন্য দায়ী, তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকেই দোষারোপ করছি।” খামেনি আরও বলেন, এটি মার্কিন ষড়যন্ত্র, যার মূল লক্ষ্য হচ্ছে ইরানকে আবারও মার্কিন সামরিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আধিপত্যের নখদ Teethে আনা। সূত্র: এএফপি।
Category: আন্তর্জাতিক
-
ট্রাম্পের ইউরোপের ৮ দেশের ওপর শুল্ক, গ্রিনল্যান্ডের অগ্রহণে জটিলতা
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনায় বাধা দেওয়ায় বৃহৎ ইউরোপীয় দেশের ওপর আরোপ করেছেন শুল্কের ঝড়। ডেনমার্কসহ উত্তর ও পশ্চিম ইউরোপের আটটি দেশকে লক্ষ্য করে তিনি ১০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। শনিবার ট্রুথ সোশ্যালের এক পোস্টে ট্রাম্প স্পষ্ট বলেছেন, যতক্ষণ না পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র সম্পূর্ণ ও নিঃশর্তভাবে গ্রিনল্যান্ড অর্থাৎ এই বহির্গামী দ্বীপটি কিনতে পারছে, ততক্ষণ এই শুল্ক কার্যকর থাকবে। এই তালিকায় রয়েছে ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস এবং ফিনল্যান্ড। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এই সব দেশের পণ্য আমদানি করলে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে যুক্তরাষ্ট্রে। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, পরিস্থিতি যদি উন্নতি না ঘটে, তাহলে ১ জুন থেকে এই শুল্কের হার বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হবে। ট্রাম্পের মতে, গ্রিনল্যান্ড দখল করা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য। তিনি বলেন, ‘এই দেশগুলো অত্যন্ত বিপজ্জনক খেলা খেলছে, যা সহ্য করা যায় না। বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাদের এই দ্বীপের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া প্রয়োজন।’ তবে এই পদক্ষেপকে ইউরোপীয় দেশগুলো ‘অর্থনৈতিক ব্ল্যাকমেল’ হিসেবে দেখছে। ডেনমার্ক ইতিমধ্যে স্পষ্ট করে দিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড বিক্রি невозможно। এর পাশাপাশি, ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যসহ সাতটি দেশ তাদের নিজ নিজ প্রতিনিধিরা ও সৈন্য পাঠিয়ে ডেনমার্কের সার্বভৌমত্বের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। ন্যাটো মিত্রেরাও এই শুল্কে বিরোধিতা জানিয়েছে। এর ফলে সাধারণত আমদানি শুল্কের অর্থ দেশটির রপ্তানিকারক বা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারকে প্রদান করে। এর ফলে মার্কিন বাজারে ইউরোপীয় ব্র্যান্ড যেমন ভলভো, বিএমডব্লিউ বা এয়ারবাসের পণ্যের দাম দ্রুত বাড়তে পারে। এর বিপরীতে, ইউরোপীয় ইউনিয়নও মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করতে পারে, যা শুরু করবে বড়ো ধরনের বাণিজ্য যুদ্ধের আশঙ্কা। সূত্র: এপি, বিবিসি
-
ইরান প্রস্তুত স্থায়ী ইন্টারনেট বিচ্ছিন্নতার জন্য
ইরান একপেশে খবর পাওয়া যাচ্ছে যে, তারা দেশের বৈশ্বিক ইন্টারনেট সংযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করার পরিকল্পনা করছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদপত্র দ্য গার্ডিয়ান সূত্রে জানা গেছে, ইরানের সরকারি কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ২০২৬ সালের পর সীমাহীন ইন্টারনেটের প্রবেশাধিকার পুনরায় চালু করবে না। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, এই চলমান যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা ব্যবহারে করে সরকার দীর্ঘমেয়াদি ডিজিটাল বিচ্ছিন্নতা কার্যকর করতে পারে, যা দেশের নাগরিকদের জন্য এক প্রকার প্রযুক্তিগত একান্ততা সৃষ্টি করবে।
ইন্টারনেট স্বাধীনতা সংস্থা ফিল্টারওয়াচের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান সাধারণ সেন্সরশিপ ব্যবস্থা ছাড়াও একটি সম্পূর্ণ পৃথক জাতীয় সিল করা ইনট্রানেট চালু করতে চাইছে। এই ব্যবস্থা অনুযায়ী, শুধুমাত্র সরকারি অনুমোদন বা সুরক্ষা যাচাই প্রাপ্ত ব্যক্তিরাই এই স্বল্প পর্যায়ের নেটওয়ার্কে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন। সর্বসাধারণের জন্য থাকবে শুধুমাত্র সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন, বাইরের দুনীর সঙ্গে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন এক ভার্চুয়াল নেটওয়ার্ক, যেখানে নাগরিকরা সীমিত কার্যকলাপ করতে পারবেন।
সম্প্রতি মাসব্যাপী দেশব্যাপী বিক্ষোভ দমন করতে ইরান দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। ফোন, ইন্টারনেট সেবা প্রায় সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। ইরানের শীর্ষ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বিক্ষোভের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেন, যারা তিনি বলছেন সহিংসতা ছড়াচ্ছে এবং প্রতিবাদকারীদের সহায়তা দিচ্ছে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এই প্রতিবাদকদের সমর্থন প্রকাশ করেছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তোলে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, এই যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা মূলত বিক্ষোভ দমন কার্যক্রমের আড়ালে প্রকৃত সত্যটিকে গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ঢাকাধীচ্ছে। মার্কিন ভিত্তিক সংস্থা এইচআরএনএর তথ্যে জানানো হয়েছে, এ পর্যন্ত তিন হাজারের বেশি মানুষ হতাহত হয়েছেন, মূলত প্রতিবাদকারীরাই। তবে দেশ ত্যাগ করা ইরানিরা বলছেন, হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে।
-
শুভেন্দুর বিরুদ্ধে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১০০ কোটি টাকার মানহানির মামলা
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ১০০ কোটি রুপির মানহানির মামলা দায়ের করেছেন রাজ্যের বিরোধীদল নেতা ও বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। এই মামলার কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন, কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও শুভেন্দু নিজেই কয়লা কেলেঙ্কারিতে জড়িত বলে মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে মমতা এই গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গের আলিপুর আদালতে শুভেন্দু এই মানহানির মামলা করেন। নিজের এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন।
শুভেন্দু পোস্টের মাধ্যমে বলেন, ‘শ্রীমতী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আমি আমার দায়িত্ব পালন করেছি, আর আপনি জনগণকে বিভ্রান্ত করে যাচ্ছেন। কয়লা কেলেঙ্কারিতে আমার জড়িত থাকার বিষয়ে আপনার কাল্পনিক অভিযোগের পাশাপাশি মানহানির নোটিশের বিষয়ে আপনার জঘন্য অসম্মতিপূর্ণ নীরবতা আপনাকে এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি দেবে না।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি বলেছিলাম, আপনার প্রতারণামূলক অপকর্মের জন্য আপনাকে আদালতে আনব। আজ আমি সেই মামলা দায়ের করেছি। দয়া করে দ্রুত আপনার অভিজ্ঞ আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন, নাহলে আপনাকে অবিলম্বে ১০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, যা আমি দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দান করব।’
প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহে তৃণমূলের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের অফিস ও কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি তল্লাশি চালানোর প্রতিবাদে ৯ জানুয়ারি মুখ্যমন্ত্রী মমতা পথে নেমেছিলেন। অভিযোগ করেছিলেন, ভোটের আগে তৃণমূলের রণকৌশল চুরি করার জন্য কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা হানা দিয়েছেন। অন্যদিকে, ইডির দাবি ছিল, ২০২০ সালে পুরনো কয়লা মামলার তদন্তের জন্য তারা আইপ্যাকের অফিসে গিয়েছিলেন। এই বিরোধপূর্ণ বক্তব্যের জন্য এখনও বিতর্ক চলমান।
তবে, ইডির অভিযানের পরদিন, প্রতিবাদরত জনতার সামনে হাজরা মোড়ে এক জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ‘ইডি বলছে, কয়লা পাচার মামলার তদন্ত করতে এসেছিল। কিন্তু আসল প্রশ্ন, কয়লা চুরির টাকা কে খেয়েছে, কীভাবে খেয়েছে? এই সব টাকা গড্ডালিকা করে যায়। এখন তো এতটাই ঢুকে গেছে যে, সোনা (দত্তক পুত্র) হয়ে গিয়েছে। আরেকজন বড় ডাকাত জগন্নাথ, তিনি বিজেপির এক বড় নেতা। এইভাবে কয়লার টাকা জুটে যায় শুভেন্দু অধিকারীর কাছে, অমিত শাহের কাছে।’ এই বিষয়ে আরও বিশদ বিবরণ এনডিটিভি সূত্রে পাওয়া যায়।
-
ইরাকের আইন আল-আসাদ বিমানঘাঁটি থেকে মার্কিন সেনারা প্রত্যাহার সম্পন্ন
ইরাকের গুরুত্বপূর্ণ আইন আল-আসাদ বিমানঘাঁটি থেকে মার্কিন সেনারা সম্পূর্ণভাবে সরে গেছে। এই ঘাঁটিতে মার্কিন সেনার পাশাপাশি অন্য বেশ কয়েকটি দেশের সেনাও ছিল। তবে মার্কিন সেনারা চলে যাওয়ার পরে এই ঘাঁটির পুরো নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তর করা হয়েছে ইরাকের সেনাবাহিনীর কাছে।
দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় শনিবার (১৭ জানুয়ারি) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রায় তিন বছর আগে, ২০২০ সালে, ইরাকের রাজধানী বাগদাদে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের চৌকস ইউনিট কুদস ফোর্সের প্রধান কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার পর থেকেই উত্তেজনা বেড়ে যায়। এর প্রতিশোধে ইরান এই ঘাঁটিতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়, যার ফলে ঘাঁটিটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই হামলার তীব্রতা এত বেশি ছিল যে সেখানে থাকা মার্কিন সেনারা মানসিকভাবে কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়।
অবশেষে ২০২৪ সালের মধ্যে ইরাক ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এক চুক্তির মাধ্যমে মার্কিন সেনাদের প্রত্যাহার সম্পন্ন হয়। এর অংশ হিসেবে, তারা ধীরে ধীরে সরে যায়। ইরাকি সেনাবাহিনীর একজন কর্নেল এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, তবে তিনি জানিয়েছেন যে এখানকার পরিস্থিতি অনুসারে কিছু অল্প সংখ্যক সেনা এখনো অবস্থান করছে। তারা মূলত লজিস্টিক কাজের জন্য রয়েছেন এবং কাজ শেষ হলে তাঁরা भी চলে যাবেন। তিনি নিরাপত্তার কারণে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
প্রত্যাহারের 정확 সময় নিশ্চিত না হলেও শোনা যাচ্ছে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই সেনারা পুরোপুরি ফিরে যাবে এবং ২০২৬ সালের মধ্যে পুরো ঘাঁটি খালি করে দেওয়া হবে।
এই ঘটনার মাধ্যমে ইরাকের গুরুত্বপূর্ণ এই বিমানঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে দেশের হাতে আসে।
-

ইরানে মার্কিন হস্তক্ষেপের আশঙ্কায় ইসরায়েল সর্বোচ্চ সতর্কতায়
ইরানে সাম্প্রতিক বছরগুলোর সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পরিস্থিতিতে, যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে ইসরায়েল। এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তিনটি ইসরায়েলি সূত্র জানিয়েছে যে, দেশটি এখন কঠোর সতর্কতায় রয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
সম্প্রতিক দিনগুলোতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেশ কয়েকবার হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন এবং ইরানের শাসকদের বলিয়েছেন, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ না করতে। গত শনিবার তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘সহায়তা দিতে প্রস্তুত’।
সপ্তাহান্তে অনুষ্ঠিত ইসরায়েলি নিরাপত্তা বৈঠকে উপস্থিত কিছু সূত্র পৃথকভাবে জানিয়েছে, এই উচ্চ সতর্কতা আসলে কী বোঝায়, তা সুনির্দিষ্টভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেননি। উল্লেখ্য, জুন মাসে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ১২ দিন চলা এক যুদ্ধের ঘটনা ঘটে যেখানে, যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতায় ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালায়।
গত শনিবার একজন ইসরায়েলি সূত্র জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাঁদের আলোচনা করেছেন ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে। তবে, এক মার্কিন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, এই দুই নেতা কথোপকথন করেছেন, কিন্তু আলোচনার বিশদের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
এদিকে, ইরানে চলমান বিক্ষোভের মধ্যেও ইসরায়েল এখন পর্যন্ত সেখানে সরাসরি হস্তক্ষেপের কোনো আগ্রহ প্রকাশ করেনি। তবে, ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে অঞ্চলটি উদ্বিগ্ন থাকায় দুই চিরশত্রুর মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে।
নেতানিয়াহু সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, যদি ইরান ইসরায়েল লক্ষ্য করে হামলা চালায়, তবে এর ফলাফল ভয়াবহ হবে। তিনি বিক্ষোভের প্রসঙ্গ কিছু বলতে গিয়ে বলেছেন, ‘বাকি সব বিষয়ে, আমি মনে করি, আমাদের ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি দেখতেই হবে।’
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর ইরানে সম্ভাব্য সামরিক হামলার বিভিন্ন বিকল্প প্রস্তুত করা হয়েছে—এমন তথ্য জানিয়েছেন মার্কিনী কর্মকর্তারা। অর্থাৎ, ইরানের বিরোধিতা দমন করতে যুক্তরাষ্ট্র কি সামরিক হস্তক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, তবে ট্রাম্পের সামনে বেশ কিছু বিকল্প উপস্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে, তেহরানের নিকটবর্তী বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুর ওপর হঠাৎ করে হামলার পরিকল্পনাও রয়েছে।
প্রস্তুতি নিয়ে যখন প্রশ্ন উঠছে, তখন হোয়াইট হাউস মার্কিন প্রেসিডেন্টের ইতিমধ্যেই প্রকাশ্য ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া বক্তব্য তুলে ধরছে। গত শনিবার ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘ইরান হয়তো ইতিহাসে কখনো না দেখা স্বাধীনতার মুখোমুখি হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র সাহায্য করতে প্রস্তুত!!!’
-

উত্তাল ইরানে আকাশপথে বড় হামলার পরিকল্পনা করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির বিরুদ্ধে দেশজুড়ে চলছে ব্যাপক বিক্ষোভ। এই পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন আমেরিকা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই এই ইঙ্গিত দিয়েছেন। বর্তমানে মার্কিন সেনারা ইরানে বেশ কিছু প্রাথমিক হামলার প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে। বেশ কিছু সম্ভাব্য লক্ষ্যচিহ্নিত করেছে তারা, বিশেষ করে আকাশপথে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে। মার্কিন নিউজমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল সরকারি সূত্রের বরাতে এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
-

ভারত নির্মাণ করছে নিউ নৌঘাঁটি, নজরে বাংলাদেশ ও চীন
ভারত পশ্চিমবঙ্গের হলদিয়ায় একটি নতুন নৌঘাঁটি নির্মাণ করতে যাচ্ছে, যা বাংলাদেশ ও চীনের কার্যকলাপের ওপর নজরদারি বাড়ানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ভারতের নৌবাহিনীর বেশ কিছু শীর্ষ কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, সম্প্রতি বঙ্গপোসাগরের উত্তরপাশে চীনা নৌসেনার তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশটি এই পরিকল্পনা নিচ্ছে। পাশাপাশি, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সামরিক সম্পর্কের অংশ হিসেবে বাংলাদেশে উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তারা সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান সফর করেছেন। এসব বিষয়কে বিবেচনায় রেখে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই নতুন নৌঘাঁটির নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
-

বাংলাদেশ আমাদের জন্য সতর্কবার্তা: যোগী আদিত্যনাথ
ভারতের উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বলেন, জাতি, উপাসনা পদ্ধতি বা ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজন আমাদের জন্য খুবই বিপজ্জনক এবং ধ্বংসের কারণ হতে পারে, ঠিক যেমনটি বর্তমানে বাংলাদেশে দেখা যাচ্ছে। তিনি এই বক্তব্য গতকাল শনিবার জানিয়েছেন।
তিনি আরও বলেছেন, বাংলাদেশ আমাদের জন্য এক শক্তিশালী সতর্কবার্তা, যেখানে ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজনের কারণে সমাজে অনেকে পর্যুদস্ত হয় এবং সম্প্রীতি খর্ব হয়। ভারতের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রয়াগরাজে মাঘ মেলার এক অনুষ্ঠানে যোগী আদিত্যনাথ বলেছেন, ‘বাংলাদেশের ঘটনায় কারো কিছু বলার প্রয়োজন নেই। যারা ধর্মনিরপেক্ষতার নামে ভিন্নমত দমনে সক্রিয়, তারা হিন্দু সমাজ ও মনোভাবকে ভেঙে ফেলার জন্য সব শক্তি দিয়ে লড়ছে। কিন্তু বাংলাদেশের পরিস্থিতি দেখে মনে হয়, যেন তাদের মুখে ফেভিকল আর টেপ লাগানো হয়েছে। এই বিষয়টি আমাদের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা।’
তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা সমাজকে বিভক্ত করে তারা কখনোই মানুষের শুভেচ্ছা অর্জন করতে পারে না। যোগী আদিত্যনাথ বলেন, ‘যখন আমি ক্ষমতায় ছিলাম, তখন এই ব্যক্তিরা নিজের পরিবারের বাইরে কিছু ভাবত না। তারা আবার নানা স্লোগান দেবে, কিন্তু সুযোগ পেলে সেভাবে কাজ করবে।’
মাথা তুলে তিনি বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যাতে তাদের সেই সব কাজের পুনরাবৃত্তি না হয়। ডাবল-ইঞ্জিন সরকার সবসময় সনাতন ধর্মের শক্তি বৃদ্ধির জন্য পাশে থাকবে। বিভাজনকারীদের কখনোই আমাদের দুর্বল করতে দেওয়া হবে না। যদি আমরা এই সংকল্প নিয়ে এগিয়ে যাই, ভবিষ্যৎ হবে সনাতন ধর্মের। যেমন রামমন্দিরের পতাকা সারা বিশ্বে উড়ছে, তেমনি সনাতন পতাকা উঠবে বাংলাদেশেও; তখন কোনো দমটি সাহস করবে না যেন দুর্বল কিংবা দলিত হিন্দুদের ওপর আঘাত হানার।’
তিনি আরও দাবি করেন, সন্ন্যাসী এবং সাধুরা সমাজের ঐক্য সৃষ্টি করেন। তাঁর কথায়, ‘অযোধ্যায় বিশাল রাম মন্দির নির্মাণের পেছনে রয়েছে শ্রদ্ধেয় সাধু-সন্তদের ঐক্য। ১৯৫২ সালের প্রথম সাধারণ নির্বাচনের পর দেশ অনেক নেতা দেখেছে, কিন্তু অযোধ্যার মূল ভাবনা ছিল রাম লাল্লা পুনঃপ্রতিষ্ঠার। এই আবেগকে বাস্তবে রূপদান করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।’
-

সিরিয়ার আলেপ্পো থেকে কুর্দি বিদ্রোহীদের সরিয়ে নেওয়া সম্পন্ন
সিরিয়ার আলেপ্পো শহর থেকে দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম চালিয়ে আসা কুর্দি বিদ্রোহী গোষ্ঠী সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) আজ রোববার অবশেষে সরে দাঁড়িয়েছে। কয়েকদিন ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর, একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির জন্য আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতার মাধ্যমে এই স্থানান্তর কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে বলে স্থানীয় রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আখবারিয়া জানিয়েছে।
খবরে বলা হয়েছে, ২০১১ সালে সিরিয়ায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে আলেপ্পোর বিভিন্ন পকেট এলাকায় কুর্দি বাহিনীর দখল ছিল। এই সরে যাওয়ার মাধ্যমে মূলত সেই সব এলাকা থেকে তাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে, উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার বিশাল এক অংশে কুর্দি পরিচালিত আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল এখনও কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
এসডিএফের কমান্ডার মজলুম আবদি সোশ্যাল মিডিয়াতে এক পোস্টে জানিয়েছিলেন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় তারা যুদ্ধবিরতিকে সমর্থন করেছেন। এ ছাড়া, তারা আলেপ্পোর আশরাফিয়াহ ও শেখ মাকসুদ এলাকাগুলোর নাগরিক এবং যোদ্ধাদের নিরাপদে উত্তর ও পূর্ব সিরিয়ায় সরিয়ে নেওয়ার বিষয়েও সম্মত হয়েছেন।
আলেপ্পোর এই সংঘর্ষ সিরিয়া সংকটকে আরও তীব্র করেছে। ১৪ বছর ধরে চলা এই যুদ্ধের পর দেশটি এক কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অধীনে একত্রিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা, তবে কুর্দি বাহিনীর আস্থাহীনতা ও বাধা তাদের সেই লক্ষ্যে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্বশক্তির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশের তরফ থেকেও এই যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানানো হলেও, কুর্দি একটি ঘাঁটি ছেড়ে যাওয়ার বিষয়ে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। সিরিয়ার সেনাবাহিনী তখন ঘোষণা দেয়, তারা এলাকাটিকে পরিষ্কার করতে স্থল অভিযান চালাবে। শনিবার, সিরিয়ার সেনারা ওই এলাকা পরিপাটি করে তল্লাশি চালায়।
রয়টার্সের সাংবাদিকরা দেখেছেন, কয়েক ডজন পুরুষ, নারী ও শিশু পা দিয়ে হেঁটে ওই এলাকা থেকে বেরিয়ে আসছেন। সিরিয়ার সেনারা তাদের বাসে তুলে নিতে শুরু করেছে এবং জানাচ্ছে যে, ভয়ানক পরিস্থিতি থেকে নিরাপদে আশ্রয়শিবিরে নিয়ে যাওয়া হবে। ইতিমধ্যে, এক লাখ ৪০ হাজারের বেশি মানুষ এই সংঘাতের কারণে ঘরছাড়া হয়েছে।
সফর বেশিরভাগ সশস্ত্র ব্যক্তিকে বাসে করে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় এলাকায় আনোয়ার করা হয়েছে। সিরিয়ার নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বলছেন, তারা এসব ব্যক্তিকে কুর্দি অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনী বা আসাওয়িশের সদস্য হিসেবে শনাক্ত করেছেন, এবং মনে করছেন তারা আত্মসমর্পণ করেছেন। তবে আসাওয়িশের পক্ষ থেকে এই দাবি অস্বীকার করে বলা হয়েছে, ওই সব ব্যক্তির মধ্যে কোনও যোদ্ধা নেই; সবাই নিছক জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত সাধারণ মানুষ।
শনিবার দামেস্কে আল-শারার সঙ্গে বৈঠকের পর মার্কিন দূত টম বারাক সব পক্ষকে সংযম ধারণের এবং অবিলম্বে শত্রুতা বন্ধের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর দল এই সংকট সমাধানে মধ্যস্থতায় প্রস্তুত। এর আগেও মার্কি বারাক বলেছিলেন, চুক্তির আওতায় আলেপ্পো থেকে সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেসের শান্তিপূর্ণ প্রত্যাহার দেখা যাবে।
বিশ্লেষকরা জানাচ্ছেন, আলেপ্পো থেকে কুর্দি যোদ্ধাদের কিছু দল গোপনে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যেখানে তাদের সঙ্গে পরিবারের সদস্যরাও রয়েছেন। বেশ কয়েকজন কমান্ডার ও তাদের পরিবারকে গত শুক্রবার রাতে উত্তর-ইস্ট সিরিয়ায় মোতায়েন করা হয়।
তুরস্কের সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, কুর্দি গোষ্ঠীর মাঝে বিভাজনের অবস্থা তৈরি হয়েছে। তারা বেশ কয়েকজন সিনিয়র কুর্দি কর্মকর্তার(contact) সঙ্গে যোগাযোগ করে আলোচনা চালাচ্ছে, যেখানে ইলহাম আহমদ ও মজলুম আবদিকে সামনে আনা হয়েছে। তবে, কিছু কুর্দি নেতা লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
আখবারিয়া টিভির খবরে বলা হয়েছে, আলেপ্পোর শেখ মাকসুদ এলাকার এক হাসপাতালে কুর্দি যোদ্ধারা অস্ত্র ফেলে রেখে রোববার বিতাড়নের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এসডিএফ আগে দাবি করেছিল, তারা সরকারি বাহিনীর সঙ্গে তুমুল লড়াই চালাচ্ছে এবং হাসপাতালসহ নানা বেসামরিক অবকাঠামোতে ব্লিচিং বোমা হামলা চালানো হয়েছে, যেখানে সাধারণ মানুষ আশ্রয় নিয়েছিল।
তারা আরও জানায়, তুর্কি ড্রোন এই হামলায় ব্যবহার হয়েছে। তবে তুর্কি কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তাদের অভিযান শেষ হয়ে গেছে, তাই আর কোনো সহায়তার প্রয়োজন নেই। সিরিয়ার সেনাবাহিনীরও অভিযানের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে এবং এসডিএফের বিরুদ্ধে আলেপ্পো শহরে ড্রোন দিয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে, যা তারা নাকচ করে দিয়েছে।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দীর্ঘদিনের নেতা বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতা থেকে সরানোর জন্য বিদ্রোহী গ্রুপ গড়ে ওঠার পর, সিরিয়ার নতুন সরকারে এই দলগুলো অন্তর্ভুক্ত হবে বলে ধারণা ছিল। কিন্তু বিভিন্ন অঅঞ্চলের নেতৃত্বের মধ্যে ঐক্য তৈরি হওয়ার অভাবে আলোচনাগুলো দীর্ঘদিন স্থবির থাকে। এরই মধ্ ে এই সংঘর্ষ আবার শুরু হয়েছে, যেখানে কমপক্ষে নয়জন সাধারণ নাগরিক মারা গিয়েছেন। এই সংঘর্ষ ভবিষ্যতে আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, কারণ বিভিন্ন অঞ্চলে নানা সম্প্রদায়ের ওপর হামলা চলছে।
অলেপ্পোতে এই লড়াইয়ের প্রভাবে তুরস্কের সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ পথ ও শিল্পাঞ্চলের কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। সিরিয়ার বিমানবন্দরের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আলেপ্পো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও বন্ধ থাকবে।