Category: আন্তর্জাতিক

  • এন.এস. রাজা সুব্রমণি ভারতের নতুন সেনা সর্বাধিনায়ক; নৌবাহিনীর প্রধান হচ্ছেন কৃষ্ণ স্বামীনাথন

    এন.এস. রাজা সুব্রমণি ভারতের নতুন সেনা সর্বাধিনায়ক; নৌবাহিনীর প্রধান হচ্ছেন কৃষ্ণ স্বামীনাথন

    ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এন.এস. রাজা সুব্রমণিকে দেশের নতুন সেনা সর্বাধিনায়ক (চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ) হিসেবে nombr করে দিয়েছে। বর্তমানে এই পদে থাকা জেনারেল অনিল চৌহানের মেয়াদ ৩০ মে শেষ হবে এবং এরপরই সুব্রমণি ওই দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। একই সময়ে ভাইস অ্যাডমিরাল কৃষ্ণ স্বামীনাথনকে পরবর্তী নৌবাহিনীর প্রধান হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে; বর্তমান নৌপ্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল দীনেশ কুমার ত্রিপাঠীর মেয়াদ ৩১ মে শেষ হচ্ছে।

    শনিবার (৯ মে) ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এই নিয়োগের খবর জানিয়েছে। কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সুব্রমণি সেনা সর্বাধিনায়ক হিসেবে তিন বাহিনীর সমন্বয়, উচ্চস্তরের সামরিক পরামর্শ এবং সামরিক নীতির বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। একই সঙ্গে তিনি সামরিক বিষয়ক দপ্তরের সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন।

    সুব্রমণির কর্মজীবন দীর্ঘ ও বহুমুখী। তিনি জাতীয় প্রতিরক্ষা একাডেমি থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে ১৯৮৫ সালে গড়ওয়াল রাইফেলসে কমিশন্ড হন। ব্রিটেনে জয়েন্ট সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজে পড়াশোনা করেছেন এবং পরে জাতীয় প্রতিরক্ষা কলেজেও যোগদান করেন। দেশের বিভিন্ন সংঘাতপ্রবণ ও সংবেদনশীল এলাকায় দায়িত্বপ্রাপ্তি থেকে শুরু করে পররাষ্ট্রকাঠামোর অংশ হিসেবে কাজাখস্তানের ভারতীয় দূতাবাসে দায়িত্ব পালন — সবখানেই তার উপস্থিতি ছিল নিরীক্ষণযোগ্য। ৩৫ বছরের কর্মজীবনে তিনি একাধিক জাতীয় সম্মান লাভ করেছেন। ২০২৩ সালে তিনি সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডিং ইন চিফ হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন এবং পরবর্তীতে ৪৭তম ভাইস সিডিএস হিসেবে দায়িত্ব নেন। সক্রিয় সামরিক চাকরি থেকে সাময়িক অবসরের পর তিনি জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সামরিক পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করছিলেন।

    নৌবাহিনীর নতুন প্রধান কৃষ্ণ স্বামীনাথন মুম্বাই থেকে পশ্চিম নেভাল কমান্ড নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তার পূর্ববর্তী দায়িত্বের মধ্যে নৌবাহিনীর উপ-প্রধান হিসেবে কাজ করা রয়েছে। কমান্ডে থাকা অবস্থায় তিনি ক্ষেপণাস্ত্রবাহী রণতরি আইএনএস বিদ্যুৎ, আইএনএস বিনাশ, ক্ষেপণাস্ত্রবাহী করভেট আইএনএস কুলাইশ, ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসকারী আইএনএস মহীশূর এবং বিমানবাহী রণতরি আইএনএস বিক্রমাদিত্যের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

    কেন্দ্রীয় সরকারের এই নিয়োগগুলো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ধারাবাহিকতা ও নেতৃত্বের উপর গুরুত্ব আরোপ করে। আগামী মাসের শেষে উভয় পদেই দায়িত্বহস্তান্তরের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব দেশের নিরাপত্তা ও সামরিক প্রস্তুতিকে সামনের ধাপে নিয়ে যাওয়ার কাজ শুরু করবেন।

  • টানা ৭০ দিন: ইরানে দেশব্যাপী প্রায় সম্পূর্ণ ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট

    টানা ৭০ দিন: ইরানে দেশব্যাপী প্রায় সম্পূর্ণ ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট

    ইরানে টানা ৭০ দিন ধরে প্রায় সম্পূর্ণ দেশব্যাপী ইন্টারনেট বন্ধের ঘটনা চলছে। বৈশ্বিক ইন্টারনেট পর্যবেক্ষক সংস্থা নেটব্লকস শুক্রবার (৯ মে) জানিয়েছে, সরকারের আরোপিত এই ব্ল্যাকআউট আজ ৭০ দিন পূর্ণ করেছে।

    সংস্থাটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট ইতিমধ্যেই ১,৬৫৬ ঘণ্টা অতিক্রম করেছে। নেটব্লকসের বরাতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর তেহরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই এই পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

    নেটব্লকস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছে, সংকটের সময় ডিজিটাল যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেবা সীমিত করে দেওয়ার ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হচ্ছে প্রতিবন্ধী মানুষ, শিক্ষার্থী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং সাধারণ জনগণের—তারা তথ্য, শিক্ষাসেবা ও আর্থ-সামাজিক সুযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে।

    এদিকে সিএনএন জানিয়েছে, চলতি বছরের শুরুতেও ইরান সরকার পৃথকভাবে ইন্টারনেট বন্ধ করেছিল। তখন দেশটিতে সবচেয়ে কঠোর সরকারবিরোধী আন্দোলন চলছিল এবং সেই সময়ও ব্যাপক ডিজিটাল বিচ্ছিন্নতার কারণে জনজীবন ও যোগাযোগ কাঠামোগুলো মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হয়েছিল।

    ইন্টারনেটের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধের প্রভাব নাগরিক দায়িত্ব, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষা ক্ষেত্রে বাড়ছে বলে বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন। পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানায়নি।

  • এন.এস. রাজা সুব্রমণি সিডিএস, নৌবাহিনী প্রধান হবে কৃষ্ণ স্বামীনাথন

    এন.এস. রাজা সুব্রমণি সিডিএস, নৌবাহিনী প্রধান হবে কৃষ্ণ স্বামীনাথন

    কেন্দ্রীয় সরকার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এন.এস. রাজা সুব্রমণিকে ভারতের নতুন চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ (সিডিএস) হিসেবে নিয়োগ করেছে। বর্তমানে এই পদে থাকা জেনারেল অনিল চৌহানের মেয়াদ ৩০ মে শেষ হবে এবং এরপরই সুব্রমণি এই দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

    শুক্রবার—বা শনিবার (৯ মে) প্রকাশিত এনডিটিভির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। একই সূত্রে বলা হয়েছে, নৌবাহিনীর নতুন প্রধান হিসেবে ভাইস অ্যাডমিরাল কৃষ্ণ স্বামীনাথনকে নিয়োগ করা হয়েছে; তিনি ৩১ মে বর্তমান নৌপ্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল দীনেশ কুমার ত্রিপাঠীর স্থলাভিষিক্ত হবেন।

    সিডিএস হিসেবে নিয়োগ পেলে সুব্রমণি তিন বাহিনীর প্রধানদের সমন্বয় ও জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সিডিএসের পাশাপাশি তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের সামরিক বিষয়ক দফতরের সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন।

    সুব্রমণি জাতীয় প্রতিরক্ষা একাডেমি থেকে অনার্স শেষে ১৯৮৫ সালে গারওয়াল রাইফেলসে কমিশন পান। তিনি ব্রিটেনের জয়েন্ট সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজে পড়াশোনা করেছেন এবং পরে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজেও যোগ দিয়েছিলেন। দীর্ঘ ৩৫ বছরের কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন সংবেদনশীল ও সংঘাতপ্রবণ অঞ্চলে দায়িত্বে ছিলেন এবং কাজাখস্তানে ভারতের দূতাবাসেও দায়িত্ব পালন করেছেন। কেরিয়ারজুড়ে তার কাজকে স্বীকৃতি দিয়ে একাধিক সম্মান দেওয়া হয়েছে। ২০২৩ সালে তিনি সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডিং ইন চিফ ছিলেন এবং পরবর্তী বছর ৪৭তম ভাইস সিডিএস হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন; সামরিক অবসরগ্রহনের পর তিনি জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সামরিক পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করছিলেন।

    নিযুক্ত নতুন নৌবাহিনী প্রধান কৃষ্ণ স্বামীনাথন বর্তমানে মুম্বাইয়ের ওয়েস্টার্ন নেভাল কমান্ডের কম্যান্ডার হিসাবে দায়িত্বে রয়েছেন। এর আগে তিনি নৌবাহিনীর উপ-প্রধানের দায়িত্ব পালন করেছেন। ক্যারিয়ারে তিনি ক্ষেপণাস্ত্রবাহী রণতরি আইএনএস বিদ্যুৎ, আইএনএস বিনাশ, ক্ষেপণাস্ত্রবাহী করভেট আইএনএস কুলিশ, ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসকারী আইএনএস মহীশূর এবং বিমানবাহী রণতরি আইএনএস বিক্রমাদিত্যর মতো জাহাজের কমান্ডার ছিলেন।

    কেন্দ্রের এই নিয়োগগুলোর মাধ্যমে বছর শেষের দিকে দুই শীর্ষ পদে সুশৃঙ্খল হস্তান্তরের প্রস্তুতি সম্পন্ন হচ্ছে। নতুন নেতৃত্বের কাছে দেশের প্রতিরক্ষা ও সামরিক প্রস্তুতি আরও মজবুত রাখার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

  • অবশেষে ভিসিকের সমর্থন, তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন থালাপতি বিজয়

    অবশেষে ভিসিকের সমর্থন, তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন থালাপতি বিজয়

    তামিলনাড়ুতে সরকার গঠন নিয়ে কয়েকদিনের নাটকীয়তার পর অবশেষে স্থিরতা এসেছে — ভিসিকে (VCK) আনুষ্ঠানিকভাবে থালাপতি বিজয়ের দল টিভিকে (TVK)-কে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং ফলে প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন।

    বাংলাদেশি নয়, ভারতের খবর এনডিটিভির প্রতিবেদনে (শনিবার, ৯ মে) বলা হয়েছে যে ভিসিকে নিঃশর্তভাবে টিভিকেকে সমর্থন জানাচ্ছে। খবরটি প্রকাশ পেতেই থালাপতির চারপাশের কয়েকদিনের অনিশ্চয়তা আর উদ্বেগ কেটে গেছে।

    ভিসিকে এই নির্বাচনে দুইটি আসনে জয়ী হয়েছে। সেই দুই জন বিধায়ক শিগগিরই টিভিকের সঙ্গে যোগ দেবেন বলে জানানো হয়েছে, যা টিভিক-সহ জোটের মোট আসনকে ১১৮টি করে তুলবে — যা সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের ম্যাজিক সংখ্যা হিসেবে ধরা হচ্ছে।

    তামিলনাড়ু বিধানসভার মোট আসন ২৩৪। নির্বাচনে টিভিকে এককভাবে ১০৮টি আসন পেয়েছিল; ফলে সরকার গঠনের জন্য তাদের মোট ১০টি আসন আরও দরকার ছিল। এই অন্তরকে পূরণ করতে টিভিকে কংগ্রেস, সিপিআই, সিপিআই (এম) ও সর্বশেষ ভিসিকের সঙ্গে জোটবদ্ধ হচ্ছে।

    প্রক্রাটিতে কিছু নাটকীয়তাও দেখা গিয়েছিল — শুক্রবার ভিসিকে সমর্থনের কথা জানিয়েছিল, কিন্তু রাজ্যপালকে আনুষ্ঠানিক কোনো চিঠি না দেওয়ায় কিছুটা সংকট তৈরি হয়েছিল। পরে সংবাদে আসে যে তারা সমর্থনের বিনিময়ে উপমুখ্যমন্ত্রীর পদ দাবি করেছিল; এমনকী এক সময় মুখ্যমন্ত্রীর পদ দাবি করার গুঞ্জনও ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত একটি সূত্র জানায়, তারা নিঃশর্তভাবে টিভিকেকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্তে স্থির হয়েছে।

    এমনভাবে জোটবদ্ধ হয়ে থালাপতি বিজয় অল্প সময়ে রাজ্যের শাসন কূটনীতি কাটিয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে আরও বিস্তারিত ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আশা করা হচ্ছে।

    সূত্র: এনডিটিভি

  • ভারত সফলভাবে পরীক্ষা করলো পরমাণু বহনক্ষম আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র

    ভারত সফলভাবে পরীক্ষা করলো পরমাণু বহনক্ষম আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র

    ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও) উড়িষ্যা উপকূলে একটা পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) সফলভাবে পরীক্ষা করেছে। পরীক্ষা গত শুক্রবার সন্ধ্যায় সম্পন্ন হয়েছে বলে সরকারি ও প্রতিরক্ষা সূত্রে জানা গেছে।

    টাইমস অফ ইন্ডিয়ার উদ্ধৃতিতে বলা হয়েছে, উত্‍পন্ন তথ্য অনুযায়ী এটি আইসিবিএম শ্রেণির ক্ষেপণাস্ত্র হলেও এটি ‘অগ্নি-৬’ কিনা তা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। পরীক্ষার সাফল্য প্রযুক্তিগত দিক থেকে ভারতের রকেট প্রপালশন, দিকনির্দেশনা ব্যবস্থা ও রি-এন্ট্রি প্রযুক্তিতে সক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।

    বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন ও উত্তর কোরিয়ার মতো কয়েকটি দেশই আইসিবিএম প্রযুক্তি অর্জন করেছে। ভারতের এই সফল পরীক্ষা দেশটিকে বিশ্বশক্তির এমন এক তালিকায় স্থান দেবে বলে বিশ্লেষকরা বলছেন। পরীক্ষায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রটির দূরত্বসীমা ১০ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি—এমন পাল্লা থাকায় পৃথিবীর অন্যতম অনেক প্রান্তে এটি আঘাত হানতে সক্ষম হবে, বলে প্রতিরক্ষা পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।

    উৎক্ষেপণের কয়েক দিন আগে ডিআরডিওয়ের চেয়ারম্যান সমীর ভি. কামাত বলেছেন, সরকারের অনুমতি পেলেই তারা অগ্নি-৬ প্রকল্পে এগোতে প্রস্তুত। এই প্রযুক্তির সফল পরীক্ষার মাধ্যমে ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি ও গাইডেন্স সিস্টেমে বিশ্বস্ততা বাড়ায়, যা দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে আরও মজবুত করবে।

    রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ায়, বিজেপি তাদের অফিসিয়াল এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে মন্তব্য করেছে যে অগ্নি-৬য়ের মতো সক্ষমতা ভারতের মহাশক্তি হিসেবে ওঠানামাকে ত্বরান্বিত করবে এবং দেশটিকে শক্তিশালী জাতিগণের শ্রেণিতে আনবে। তারা রাশিয়ার ১২ হাজার কিলোমিটার পাল্লার সারমাট ও চীনের ১৫ হাজার কিলোমিটার পাল্লার ডিএফ-৪১র মতো সিস্টেমের সঙ্গে তুলনা করেছে।

    একই সময়ে, ডিআরডিও ও ভারতীয় বিমানবাহিনী যৌথভাবে ‘ট্যাকটিক্যাল অ্যাডভান্সড রেঞ্জ অগমেন্টেশন’ (তারা) নামক একটি প্রযুক্তিরও সফল পরীক্ষা করেছে। এই প্রযুক্তি সাধারণ বা লক্ষ্যহীন যুদ্ধাস্ত্রকে নিখুঁত লক্ষ্যভেদী ‘স্মার্ট’ অস্ত্রে রূপান্তর করতে সাহায্য করে—ফলে কৌশলগতভাবে আরও ধাঁচানো ও দক্ষ অস্ত্র ব্যবহার সম্ভব হবে।

    সামগ্রিকভাবে, এই পরীক্ষার সাফল্য ভারতের প্রতিরক্ষা ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে দেখা হচ্ছে, যদিও কিছু বিশ্লেষক ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক এর বিস্তারিত তথ্য ও কর্মক্ষমতা সম্পর্কে আরও স্বচ্ছতা দাবি করেছেন।

  • এন এস রাজা সুব্রমণি সেনা সর্বাধিনায়ক, কৃষ্ণ স্বামীনাথন নৌবাহিনী প্রধান

    এন এস রাজা সুব্রমণি সেনা সর্বাধিনায়ক, কৃষ্ণ স্বামীনাথন নৌবাহিনী প্রধান

    কেন্দ্রীয় সরকার বড় ধরনের প্রতিরক্ষা বদল ঘোষণা করেছে। লেফটেন্যান্ট জেনারেল এন এস রাজা সুব্রমণিকে ভারতের নতুন সেনা সর্বাধিনায়ক (চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ) হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। তিনি বর্তমান জেনারেল অনিল চৌহানের স্থলাভিষিক্ত হবেন; চৌহানের মেয়াদ শেষ হবে ৩০ মে। একই সঙ্গে ভাইস অ্যাডমিরাল কৃষ্ণ স্বামীনাথনকে পরবর্তী নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে; বর্তমানে নৌবাহিনী প্রধান দীনেশ কুমার ত্রিপাঠীর কার্যকাল ৩১ মে শেষ হবে এবং তারপর স্বামীনাথন দায়িত্ব নেবেন। শনিবার (৯ মে) এই নিয়োগের খবরে এনডিটিভি প্রথম জানিয়েছিল।

    সেনা সর্বাধিনায়কের ভূমিকায় সুব্রমণি তিন বাহিনী—সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রধানদের সমন্বয় করবেন। কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তিনি চিফ অব ডিফেন্স স্টাফের পাশাপাশি সরকারের সামরিক বিষয়ক দপ্তরের সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন।

    সুব্রমণির কর্মজীবন দীর্ঘ এবং বহুমাত্রিক। তিনি জাতীয় ডিফেন্স অ্যাকাডেমি থেকে শিক্ষা গ্রহণের পর ১৯৮৫ সালে গড়ওয়াল রাইফেলসে কমিশনপ্রাপ্ত হন। যুক্তরাজ্যের জয়েন্ট সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজেও তিনি পাঠ নিয়েছেন। দেশে ফিরে পর্বত ব্রিগেডে ব্রিগেড মেজর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং পরে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজেও যোগ দিয়েছিলেন। প্রায় ৩৫ বছর কর্মজীবনে তিনি সংবেদনশীল বহু অঞ্চলে দায়িত্ব নিয়েছেন এবং কাজাখস্থানে ভারতের দূতাবাসে সামরিক দায়িত্বও সামলেছেন। দক্ষতা ও সেবার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একাধিক সম্মান লাভ করেছেন। ২০২৩ সালে তিনি সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডিং ইন চিফ হিসেবে দায়িত্ব পান এবং পরের বছর দেশের ৪৭তম ভাইস সিডিএস হিসেবে কাজ করেছেন। সাম্প্রতিককালে সক্রিয় চাকরি থেকে অবসরের পর জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সামরিক পরামর্শদাতা হিসেবে থাকছিলেন তিনি।

    নির্বাচিত নৌবাহিনী প্রধান কৃষ্ণ স্বামীনাথন বর্তমানে মুম্বাইয়ের পশ্চিম নেভাল কমান্ডের দায়িত্বে রয়েছেন। তার সঙ্গে আগে নৌবাহিনীর উপ-প্রধান হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে। তিনি বিভিন্ন যুদ্ধপोतের কমান্ডার ছিলেন—যেগুলোর মধ্যে রয়েছে ক্ষেপণাস্ত্রবাহী রণতরী আইএনএস বিদ্যুৎ, আইএনএস বিনাশ, করভেট আইএনএস কুলিশ, ক্ষেপণাস্ত্রধ্বংসকারী আইএনএস মহীশূর এবং বিমানবাহী রণতরী আইএনএস বিক্রমাদিত্য। এসব তরফে তার সমুদ্রিক নেতৃত্ব ও অপারেশনাল দক্ষতা তাকে নৌবাহিনী প্রধানের ভূমিকায় নিয়ে এসেছে।

    কেন্দ্রের এই নতুন নিয়োগ আগামী মাসের শেষের দিকে কার্যকর হবে। প্রতিরক্ষা পর্যায়ে এই রদবদল থেকে ভবিষ্যতে কৌশলগত ও অপারেশনাল সিদ্ধান্তে কেমন প্রভাব পড়ে, সেটাই এখন নজরের বিষয়।

  • রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে তিন দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প

    রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে তিন দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প

    গত চার বছর ধরে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলা ভয়াবহ যুদ্ধ বন্ধে অঙ্গীকার জানিয়ে রুজির পক্ষে তিন দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ ৯ মে থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধবিরতি ১১ মে পর্যন্ত চলমান থাকবে।

    শুক্রবার (৮ মে) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে ট্রাম্প বলছেন, এই তিন দিন রাশিয়া ও ইউক্রেন একে অন্যের বিরুদ্ধে সব ধরনের হামলা ও প্রতিশোধমূলক আক্রমণ বন্ধ রাখবে। এছাড়া, দুই দেশের প্রত্যেকের কাছ থেকে ১ হাজার করে মোট ২ হাজার যুদ্ধবন্দিকে মুক্তি দেওয়া হবে। ট্রাম্পের এই ঘোষণা বিশেষ করে জয় দিবসের প্রাক্কালে – যা রাশিয়া ৮ মে পালনের নিয়ম, কারণ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মৃত্যুতোদের সম্মানে এটি উদযাপন করে দেশটি। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে একই খবর নিশ্চিত করা হয়।

    এটি দুই পক্ষের মধ্যবর্তী মার্কিন মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বলে মনে করা হচ্ছে। এর আগে রাশিয়া নিজেই মিত্রদের জন্য ৯ মে (বিজয় দিবস) উপলক্ষে এককভাবে দুই দিন যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিল। তবে এবার তিন দিন ব্যাপী এই যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে ভেতর দিয়ে শান্তির পথে অগ্রগতি শুরুর প্রত্যাশা जतানো হচ্ছে।

    ট্রাম্প বলেন, অচিরেই এই বিরতি বড় ধরনের সংঘাতের অবসান ঘটাতে সহায়ক হবে এবং আলোচনা চালিয়ে যেতে হলে এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, এই যুদ্ধের অবসান আমাদের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়, কারণ এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বের বৃহত্তম সংঘাত এবং এর শেষ আনয়ন জন্য আলোচনায় আমরা এগোচ্ছি।

    প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উল্লেখ করেন, এই যুদ্ধবিরতিতে রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয়ই বিভিন্ন সামরিক কার্যক্রম বন্ধ করবে, পাশাপাশি দফায় দফায় বন্দি বিনিময়ও হবে। তিনি বলেন, এই উদ্যোগের ফলে দীর্ঘদিনের এই প্রাণঘাতী সংঘাতের অবসান আসবে বলে আমি আশা করি।

  • পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী

    পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী

    পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে-history-making घटना ঘটেছে যখন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) প্রথমবারের মতো সরকার গঠন করল। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে শপথ নিয়েছেন দলের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী—শুভেন্দু অধিকারী। এর মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে ৫৯ বছর পর আবার ফিরে এসেছে সেই স্মরণীয় দিন, ১৯৬৭ সালের সেই গুরুত্বপূর্ণ সেন্টিমেন্টের স্মৃতিচারণ। অজয় কুমার মুখোপাধ্যায়ের পরে দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে, মেদিনীপুরের নিজ গড়ে দাঁড়িয়ে, শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের শাসনভার গ্রহণ করেন।

    শনিবার (৯ মে) কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন শুভেন্দু অধিকারী। এই ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে এক বিরল ঘটনা, যা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আলোচনা সমালোচনার কেন্দ্রে অ্যায়েছে।

    অতিথি ও নেতাদের উপস্থিতিতে এই শপথ অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে রবীন্দ্র জয়ন্তীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়, দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয়। এই অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহসহ বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও বিশ্বনেতাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ে।

    শুভেন্দু অধিকারীর শপথগ্রহণে তার দল সহপাঠীরা, জনপ্রতিনিধি এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে রয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর মুখোমুখি অন্য নেতারা, এবং পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলার নির্বাচিত নেতারা।

    উল্লেখ্য, শুভেন্দু বিজেপির প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হলেও তিনি কলকাতার ভবানীপুর আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন, যা এক সময়ের মমতা ব্যানার্জীর শক্তিশালী কেন্দ্র। তিনি তার রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন কংগ্রেসে, পরে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন, আর সেই দল থেকে ভিন্ন হয়ে ২০২০ সালে বিজেপিতে যোগদান করেন। দুটি বিধানসভা নির্বাচনে মমতা ব্যানার্জীকে পরপর দুবার পরাজিত করে শুভেন্দু মুখ্যমন্ত্রীর পদপ্রার্থীর মর্যাদা লাভ করেন, যা অনেক মহল থেকে তাকে ‘জায়ান্ট কিলার’ বলে উল্লেখ করা হয়।

    বুধবারের ফলাফলে, বিজেপি জয়লাভ করে ২০৭টি আসনে, যার ফলে ১৫ বছর ধরে শাসন করে আসা তৃণমূলের ক্ষমতা হঠাত্‍ শেষ হয় এবং রাজ্যে প্রথমবারের মতো বিজেপির নেতৃত্বাধীন সরকার গঠিত হয়।অজয় মুখোপাধ্যায়ের মতো, শুভেন্দুও তার নিজ প্রান্তের প্রভাবশালী পরিবার থেকে উঠে এসেছেন। মূলত তার পিতা শিশির অধিকারীও একজন প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। নিজের রাজনীতির শুরু কংগ্রেসের মাধ্যমে হলেও, দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ নেতায় পরিণত হন।

    ২০০৬ সালে তিনি কাঁথি দক্ষিণ থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হন। এরপর থেকেই তার রাজনৈতিক উত্থান ঘটে। ২০০৯ সালে লোকসভায় সংসদ সদস্য হন, এবং বিভিন্ন দফতর সামলান। ২০২০ সালে দলভিত্তিক মতপার্থক্য ও অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনের কারণে তিনি তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যান। এরপর জেলায় জেলায় নিজের জনপ্রিয়তা বাড়াতে থাকেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তার পথচলা ও কৌশল অনেকটা অজয় মুখোপাধ্যায়ের মতো—যিনি জনরোষের অপব্যবহার করেন।

    অত্যন্ত সংঘর্ষময় এই রাজনৈতিক জীবনেও, শুভেন্দু নিজেকে একজন পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছেন। নির্বাচন পরবর্তী ফলাফলগুলোর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়, বিজেপি আসন্ন সময়ের জন্য শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি করেছে। তাঁর মতে, ‘আমি নয়, আমরা’— এই কথাটাই এখন তাদের মূল মন্ত্র। তিনি বিশ্বাস করেন, সততা ও কাজের মাধ্যমে রাজ্যে ভরসার পরিবেশ সৃষ্টি করা সম্ভব।

    শুভেন্দু অধিকারী বর্তমানে বিজেপির একজন কেন্দ্রীয় নেতা এবং পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা। তিনি ২০১৬ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত পরিবহন ও জলসম্পদ দফতরের মন্ত্রী এবং ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তমলুক থেকে সাংসদ ছিলেন। এর আগে, তিনি কংগ্রেস ও তৃণমূলের পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার জন্ম ১৯৭০ সালের ডিসেম্বর মেদিনীপুরের কাঁকুলিতে। তিনি স্পষ্টভাবে রাজনীতিবিদ, যেহেতু তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে এই খাতে রয়েছে। তাঁর ভাই সৌমেন্দু অধিকারী কাঁথি পোরসভা চেয়ারম্যান। এ ছাড়াও, তার বড় ভাই দিব্যেন্দু অধিকারী তমলুকের সাংসদ।

    শুভেন্দুর একাডেমিক যোগ্যতা উচ্চমাধ্যমিক এবং তিনি নেতাজি সুভাষ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এ. ডিগ্রি লাভ করেছেন। তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার মূলত পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে বহু অজানা ও গোপন রোমাঞ্চ রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির জগতে সক্রিয়, বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলা করে দলের শক্তিকে বাড়িয়ে তুলেছেন। এই উত্থান ও স্থানীয় পরিবারের পলিটিক্যাল ইতিহাসে তিনি এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছেন।

  • বিশ্ববাজারে খাদ্যের দাম তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ

    বিশ্ববাজারে খাদ্যের দাম তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ

    চলমান ইরান যুদ্ধ এবং সমুদ্রমুখী পণ্য পরিবহনে বাধা থাকার কারণে বিশ্বজুড়ে খাদ্যপণ্যের দাম দ্রুত বেড়ে গেছে, যা গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরের দিকে ছুটছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) জানিয়েছেন, এপ্রিলে খাদ্যদ্রব্যের দাম বেড়েছে প্রধানত ভোজ্যতেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির জন্য। ইরান যুদ্ধের ফলে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বেশকিছু দেশ বিকল্প জ্বালানি বা বায়োফুয়েল তৈরির দিকে ঝুঁকছে, যা সাধারণ মানুষের রান্নার তেলের অভাবে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। এফএও’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, এপ্রিলে বিশ্ব খাদ্য সূচক গত মাসের তুলনায় ১.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ২০২৩ সালের শুরু থেকে সর্বোচ্চ। বিশেষ করে সয়াবিন, সূর্যমুখী এবং পাম তেলের দাম এক মাসের মধ্যে প্রায় ৬ শতাংশ বেড়েছে। যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় এই সংকট আরও গভীর হয়েছে। এ ছাড়াও, সার ও চাষাবাদের খরচ বেড়ে যাওয়ায় গবাদিপশুর মাংসের দামও রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। তবে সুখের খবর হলো, চাল, গম ও ভুট্টার মতো দানাদার শস্যের দাম বেশিক্ষণ বৃদ্ধি পায়নি। গত মৌসুমে ভাল ফলনের কারণে এসব শস্যের প্রচুর মজুত উদ্বেগ কমিয়েছে। অন্যদিকে, ব্রাজিল ও থাইল্যান্ডে যথেষ্ট ফলন হওয়ায় চিনির দাম গত মাসে কিছুটা কমেছে। জাতিসংঘের আশা, ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে শস্যের উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে, যা ভবিষ্যতে বাজারের অস্থিরতা কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে যদি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে অনেক মূল্যবান খাদ্যপণ্য সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে। সূত্র: রয়টার্স।

  • দক্ষিণ এশিয়ায় রেকর্ড তাপপ্রবাহের কারণ ও বিপদসংখ্যা

    দক্ষিণ এশিয়ায় রেকর্ড তাপপ্রবাহের কারণ ও বিপদসংখ্যা

    দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে রেকর্ডBreakingExtremeHeat হয়েছে, যা জীবনযাত্রায় ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। এই প্রাণঘাতী তাপপ্রবাহ সাধারণের জন্য বিপজ্জনক পর্যায়ে চলে গেছে, ফলে কয়েক কোটি মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি, বিশ্বের বৃহত্তম এ অঞ্চলের মানুষের জীবনধারা রক্ষায় নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং ভারতের মতো দেশগুলোতে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের অনেক বেশি রেকর্ড করা হয়েছে। কিছু এলাকাতে তাপমাত্রা ৪৫ থেকে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি বা এর চেয়েও বেশি পৌঁছেছে। গত মঙ্গলবার পাকিস্তানে তাপপ্রবাহজনিত কারণে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়। ভারতের বিভিন্ন অংশেও দাবদাহের কারণে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। দক্ষিণ এশিয়ায় বর্ষার আগে এমন তীব্র গরম সাধারণ পরিস্থিতি হলেও, বিজ্ঞানীরা বলছেন, সম্প্রতিক এই দাবদাহের তীব্রতা, দীর্ঘস্থায়িত্ব ও বিস্তৃতি ইতিহাসে নজিরবিহীন। বিশেষজ্ঞরা এই চরম আবহাওয়ার পেছনে মানুষের সৃষ্টি জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করছেন। তাঁদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রাকৃতিক আবহাওয়ার ধরন বদলে যাচ্ছে, আর এর ফলে তাপপ্রবাহ আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে। ভৌগোলিকভাবে কোন দেশগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তার মধ্যে বাংলাদেশের নানা শহর উল্লেখযোগ্য। এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি থেকে শেষ পর্যন্ত ঢাকাসহ অন্যান্য শহরেও তীব্র গরম অনুভূত হয়, যেখানে তাপমাত্রা ৩৭ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রেকর্ড করা হয়। গত বছর এপ্রিলে সারাদেশে দাবদাহের দীর্ঘস্থায়ীতা ছিল ২৪ দিন, যা চলতি শতকে সবচেয়ে দীর্ঘ। এর আগে ২০১৯ সালে এ ধরনের দাবদাহ ছিল ২৩ দিন। বর্তমানে কিছু এলাকাতে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছাড়িয়ে গেছে। ভারতেও আসছে তীব্র দাবদাহের সতর্কতা, দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা দেখা যাচ্ছে। ভারতের আবহাওয়া দপ্তর (আইএমডি) বলছে, পশ্চিমাঞ্চল ও উপকূলীয় অঞ্চলে এই মাসে চার থেকে পাঁচ দিন বেশি দাবদাহ হতে পারে, যেখানে তাপমাত্রা ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে। পাকিস্তানেও সামনের দিনগুলোতে দাবদাহের পরিস্থিতি থাকছে। সিন্ধু প্রদেশের বাসিন্দাদের সূর্য থেকে রক্ষায় সতর্কতার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কেন এত আগাম দাবদাহ হচ্ছে, এ বিষয়ে বিশ্লেষণে গবেষকরা বলছেন, উচ্চচাপ বলয় ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখেত্রে মূল কারণ। ভারতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মতে, উচ্চচাপের সৃষ্টি হয়ে গরম বাতাস মাটির কাছাকাছি আটকে যায় এবং ওপরে উঠতে পারে না, যার ফলে গরম বাড়ে। নাসার তথ্য অনুযায়ী, পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগর ও দক্ষিণ আমেরিকার পশ্চিম উপকূলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে এল নিনো সৃষ্টি হতে পারে, যা বিশ্ব বায়ুমণ্ডলে প্রভাব ফেলে। জাতিসংঘের জলবায়ু সংস্থা বলছে, মে থেকে জুলাইয়ের মধ্যে এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এই তাপপ্রবাহের প্রভাব মানুষ ও প্রকৃতির ওপর কেমন পড়ছে, বিজ্ঞানীরা বলেছেন, প্রচণ্ড গরমের কারণে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা দেখা দেয়, হার্টের ওপর চাপ বাড়ে, কিডনির ক্ষতি হতে পারে। ঘুমের ব্যাঘাত ছাড়াও ডায়াবেটিস, শ্বাসকষ্ট ও মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা আরও প্রকট হতে পারে। বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষরা বেশি ঝুঁকির মুখে থাকেন, কারণ তাদের বাইরে কাজ করতে হয়। ভবিষ্যতের বিষয়ে গবেষকরা সতর্ক করে বলছেন, আগামী দশকের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে তাপপ্রবাহের সংখ্যা ও তীব্রতা দ্বিগুণেরও বেশি হবে। তবে সমস্যা মোকাবেলায় সঠিক প্রস্তুতি ও কার্যকর পদক্ষেপ নিলে ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব। উপযুক্ত পরিকল্পনা, সতর্কতা ও অভিযোজনের মাধ্যমে উষ্ণতাজনিত বিপর্যয় এড়ানো যেতে পারে।