Category: আন্তর্জাতিক

  • সংযুক্ত আরব আমিরাত জানালো: ঈদুল আযহা সম্ভবত ২৭ মে

    সংযুক্ত আরব আমিরাত জানালো: ঈদুল আযহা সম্ভবত ২৭ মে

    সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে যে পবিত্র জিলহার মাসের চাঁদ গণনা অনুযায়ী সম্ভবত আগামী ১৭ মে দেখা যাবে। আবুধাবি অবস্থিত আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান কেন্দ্র (আইএসি) এই তথ্য জানিয়েছে।

    আইএসির গণনা অনুযায়ী ১৭ মে জিলহজের চাঁদ দেখা গেলে সেই হিসেব মেনে আগামী ২৭ মে (বুধবার) বিশ্বের বেশির ভাগ দেশে ঈদুল আযহা উদযাপিত হতে পারে। কেন্দ্রটি তাদের জ্যোতির্বিজ্ঞান প্রতিবেদনে এই সম্ভাবনার কথাই জানিয়েছে।

    আইএসি বলছে, ১৭ মে চাঁদ টেলিস্কোপের সাহায্যে পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অংশ থেকে দেখা যেতে পারে। অপরদিকে মধ্য ও পশ্চিম এশিয়া, উত্তর আফ্রিকা এবং উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার অধিকাংশ অংশ থেকে সেই দিন খালি চোখেও চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    গাণিতিক হিসাব অনুযায়ী যদি ১৮ মে (সোমবার) থেকে ১৪৪৭ হিজরি সালের জিলহজ মাস শুরু হয়, তাহলে জিলহজের ১০ তারিখে অর্থাৎ ২৭ মে ঈদুল আযহার প্রথম দিন হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকবে।

    তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত চাঁদ দেখা ও সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের ঘোষণার ওপর নির্ভর করে। আলেম-ওলামারা স্থানীয়ভাবে চাঁদ দেখার পরই ঈদের তারিখ ঘোষণা করবেন।

    সূত্র: গালফ নিউজ।

  • উত্তর প্রদেশে ভয়াবহ ঝড়ে ১০৪ জন নিহত, বহু এলাকা বিধ্বস্ত

    উত্তর প্রদেশে ভয়াবহ ঝড়ে ১০৪ জন নিহত, বহু এলাকা বিধ্বস্ত

    ভারতের অন্যতম জনঘনত্বপূর্ণ রাজ্য উত্তর প্রদেশে তীব্র ঝড়ে অন্তত ১০৪ জনের মৃত্যু এবং ৫০-র ওপরে মানুষ আহত হয়েছেন। ঝড়ে ঘরবাড়ি ধসে পড়া, গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়া এবং বজ্রপাতে এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। রাজ্যের অন্তত ১২টি জেলায় ঝড়টি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

    সরকারি ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা যায়, শত শত গাছ ও বিলবোর্ড উপড়ে পড়েছে; অসংখ্য কাঁচা ও আধাপাকা ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায়াগরাজ (প্রয়াগরাজ/এলাহাবাদ) জেলা — সেখানে কমপক্ষে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যান্য জেলায় মৃত্যুর সংখ্যা হলো: ভাদোহী ১৮, মির্জাপুর ১৫, ফতেহপুর ১০; উন্নাও ও বদায়ু জেলায় প্রতিটিতে ছয়জন; প্রতাপগড় ও বেরেলিতে চারজন করে প্রাণহানি ঘটেছে। এছাড়া সীতাপুর, রায়বেরােলি, চাঁদৌলি, কানপুর দেহাত, হারদোই ও সম্বল থেকেও বহু মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

    কর্মকর্তারা বলেন, প্রবল ঝড়ের কারণে কাঁচা ঘর ধসে পড়া, গাছপালা উপড়ে পড়া এবং বজ্রপাতেই বেশির ভাগ প্রাণহানি ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে ছিন্নভিন্ন যোগাযোগ ও বিদ্যুৎবিভ্রাটের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জীবনমান আরও বিপর্যস্ত হয়েছে; ক্ষেতের ফসল ও গবাদিপশুরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

    টেলিভিশন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত ফুটেজে দেখা গেছে, তীব্র বাতাসে বিশাল গাছ এবং বৈদ্যুতিক খুঁটি রাস্তায় লুটিয়ে পড়েছে; কোথাও কোথাও রেল লাইনের ওপর গাছ পড়ায় ট্রেন চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বারেলির বামিয়ানা গ্রামে একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, প্রবল বাতাসে একজন মানুষ টিনের চালাসহ আকাশে উড়ে গিয়ে কয়েকটি মিটার দূরে একটি মাঠে পড়ছেন।

    প্রয়াগরাজের বাসিন্দা রাম কিশোর সংবাদসংস্থা এপিকে বলেছেন, হঠাৎই ঝড় শুরু হয়; মুহূর্তের মধ্যে চারপাশ অন্ধকারে ঢেকে যায়, টিনের চালা উড়ে যায় এবং মানুষদের চিৎকার-চেঁচামিচি শুরু হয়। তিনি জানান, সারা সন্ধ্যা শুধু গাছ ভেঙে পড়ার আওয়াজটাই শোনা গেছে।

    দুর্যোগের খবর পেয়ে পুলিশ ও দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এসডিআরএফ) সঙ্গে সঙ্গে মাঠে নেমে উদ্ধার ও উদ্ধারকাজ শুরু করেছে। রাস্তা ও রেল লাইনের ধ্বংসাবশেষ সরাতে তারা চেইনসো, ক্রেন ও অন্যান্য সরঞ্জাম ব্যবহার করছেন। স্থানীয় প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে তাত্ক্ষণিক সাহায্য দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

    বহু জেলায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার ফলে রাত জুড়েই অন্ধকার বিরাজ করেছে; প্রশাসন জানায় উদ্ধারকাজ এখনও চলমান হওয়ায় মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে এবং চূড়ান্ত হিসাব পাওয়ার অপেক্ষা রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ নিহতদের পরিবারে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। তার কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ত্রাণ ও সহায়তা পৌঁছে দিতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে দ্রুত পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এছাড়া ফসলের ক্ষতি নিরূপণের জন্য রাজস্ব ও কৃষি দফতরসহ বীমা কোম্পানিগুলোকে দ্রুত জরিপ করে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। ঝড়ের ব্যাপকতা তুলে ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় শত শত ভিডিও ও ছবি শেয়ার করেছেন স্থানীয়রা।

    সূত্র: এনডিটিভি, স্কাই নিউজ।

  • যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী একের পর এক মন্ত্রীর পদত্যাগে চাপে

    যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী একের পর এক মন্ত্রীর পদত্যাগে চাপে

    যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কেইর স্টারমার সম্প্রতি নিজের দলের মন্ত্রীদের ধারাবাহিক পদত্যাগের মুখোমুখি হয়েছেন। সর্বশেষ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং পদত্যাগ করেন, বিশ্বস্ততা হারানোর কারণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের নেতৃত্বে আর আস্থা রাখতে পারেন না। এই পরিস্থিতিতে দেশের রাজনীতিতে নতুন এক সংকট দেখা দিয়েছে, যা প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের ক্ষমতার ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করছে। আগামী দুই বছরের কম সময়ের মধ্যে তার নেতৃত্ব টালমাটাল পরিস্থিতিতে পড়েছে।

    বর্তমান পরিস্থিতি অনুসারে, এর আগে আরও চারজন মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন: জেস ফিলিপস, জুবির আহমেদ, অ্যালেক্স ডেভিস-জোন্স এবং মিয়াট্টা ফাহনবুলে। সোমবার আরও ছয়জন মন্ত্রীসভার সহকারী সদস্য তাদের পদত্যাগের ঘোষণা দেন, তবে তাদের বদলে ইতিমধ্যে নতুন ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আবার কিছু এমপি প্রধানমন্ত্রীকে দ্রুত নেতৃত্ব বদলের জন্য সময়সূচি ধরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। অপর দিকে, ১৫০ জনের বেশি এমপি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী স্টারমারে সমর্থন প্রকাশ করেছেন এবং বলেছেন যে, এখন নেতৃত্ব পালনে সময় নয়।

    নেতৃত্ব পরিবর্তনের জন্য আলোচনা চলছে, তবে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং প্রথম দুর্দান্ত এগিয়ে রয়েছেন। এছাড়া সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেইনার এবং অ্যান্ডি বার্নহামকেও সম্ভাব্য নেতৃত্বপ্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে নেতৃত্বের জন্য নির্বাচনে অংশ নিতে হলে বর্তমান প্রার্থীকে প্রথমে এমপি হিসাবে নির্বাচিত হতে হবে, যার জন্য সময় লাগবে এবং পুরো প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হতে পারে।

    বর্তমানে কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রতিদ্ব›িদ্বতা ঘোষণা করেননি। দলীয় নিয়ম অনুযায়ী, এর জন্য লেবার এমপিদের অন্তত ২০ শতাংশ বা ৮১ জনের সমর্থন প্রয়োজন।

    ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির ওপর অনাস্থা তৈরি হওয়ার পেছনে মূল কারণ হলো স্থানীয় নির্বাচনে বড় ধাক্কা খাওয়া। ইংল্যান্ডে তারা ১ হাজার ১০০টির বেশি কাউন্সিল আসন হারিয়েছে, ফলে গত কয়েক মাসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাদের শক্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে। ওদিকে, ওয়েলসে ২৭ বছরের শাসনের অবসান ঘটেছে এবং স্কটল্যান্ডে রিফর্ম পার্টির সঙ্গে লড়াইয়ে তারা অন্যপ্রতিদ্ব›িদ্ব থেকে পিছিয়ে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে স্টারমারের নেতৃত্বে দলের মানসিকতা কমে যেতে থাকে।

    অর্থমন্ত্রী র‌্যাচেল রিভস বিবিসিকে বলেছেন, যদি নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রতিযোগিতা শুরু হয়, তাহলে দেশ অস্থিতিশীলতায় পড়তে পারে। অন্যদিকে, সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেইনার জানান, তাঁর করসংক্রান্ত তদন্তে কোনও অনিয়মের দায় বর্তায়নি।

    অপর দিকে, বুধবার প্রধানমন্ত্রী তার מন্ত্রী ও এমপিদের সতর্ক করে বলেন, নেতৃত্ব পরিবর্তনের লড়াই देशে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। তবে স্ট্রিটিংয়ের সমর্থকরা বলছেন, তিনি আজই আনুষ্ঠানিকভাবে নেতৃত্বের জন্য চ্যালেঞ্জ করতে পারেন। সূত্র: বিবিসি।

  • বিশ্বের সবচেয়ে নেতিবাচক দেশ ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের পতন

    বিশ্বের সবচেয়ে নেতিবাচক দেশ ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের পতন

    বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় এখন ইসরায়েলকে সবচেয়ে বেশি নেতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক জরিপে দেখা গেছে, এ দেশের ভাবমূর্তির অবনতি ব্যাপকভাবে ঘটেছে, যার মূল কারণ হলো ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের হত্যাযজ্ঞ, গণবাস্তুচ্যুতি, কর্মকর্তা নীতির অবনতি এবং পশ্চিম তীরে দখলদারিত্বের জোরদার বৃদ্ধি। এইসব কারণের ফলে বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও সমালোচনা বাড়ছে। একে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা, জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা ও আন্তর্জাতিক আদালতগুলো একে পরিকল্পিত জাতিগত হত্যাকাণ্ড হিসেবে অভিহিত করেছেন। এছাড়াও, গাজায় ইসরায়েলের নৃশংস হামলায় এখন পর্যন্ত ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, বহু বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে এবং দেশটির লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফলে, বিশ্বজনমত এখন এই দখলদার রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কঠোর রায় দিচ্ছে।

  • বেইজিংয়ে ট্রাম্পের সফর, পুতিনও শিগগির চীন যাচ্ছেন

    বেইজিংয়ে ট্রাম্পের সফর, পুতিনও শিগগির চীন যাচ্ছেন

    রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন খুব শিগগিরই চীন সফরে যাচ্ছেন বলে নিশ্চিত করেছে ক্রেমলিন। বৃহস্পতিবার এই খবর জানিয়েছে রাশিয়ান সংবাদমাধ্যম আরটি, যেখানে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভের বরাত দেওয়া হয়েছে। এখনও সফরের নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা হয়নি, তবে দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন যে, সব ধরনের প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই উচ্চপর্যায়ের সফর আসন্ন সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে পারে। পুতিন সর্বশেষ ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বেইজিং সফর করেছিলেন, এই সময় তিনি চীনের বিশাল সামরিক কুচকাওয়াজে অংশ নেন এবং একটি শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেন। অন্যদিকে, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনের জন্য বেইজিংয়ে এখন সফর করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ওয়াশিংটন থেকে দীর্ঘ যাত্রা শেষে বুধবার বেইজিংয়ের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। এটি গত দশকের মধ্যে প্রথম কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্টের চীন সফর। এই গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ আলোচনায় ইরান সংকট, বাণিজ্য যুদ্ধ এবং তাইওয়ান ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সফরকে আরও ঐতিহাসিক করে তোলে। অর্থনৈতিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ছাড়াও, মার্চে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে এই সফরটি পিছিয়ে দেয়া হয়েছিল। অবশেষে, শুক্রবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে চা-চক্র ও মধ্যাহ্নভোজ শেষে ট্রাম্প দেশের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন।

  • উত্তর প্রদেশে ভয়াবহ ঝড়ের তাণ্ডবে শতাধিক নিহত, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

    উত্তর প্রদেশে ভয়াবহ ঝড়ের তাণ্ডবে শতাধিক নিহত, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

    ভারতের উত্তর প্রদেশে ভয়াবহ শক্তিশালী ঝড়ের কারণে কমপক্ষে ১০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে ঘরবাড়ি ধসে পড়া, গাছ উপড়ে যাওয়া এবং বজ্রপাতে হতাহতরা এ ক্ষতির মুখোমুখি হন। আহতের সংখ্যা আরও ৫০ জনের বেশি বলে জানা গেছে। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় এই ঝড়টি তীব্র আকার ধারণ করে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ঝড়ের তীব্রতায় শতাধিক গাছ ও বিলবোর্ড উপড়ে গেছে, বহু কাঁচা ও আধাপাকা ঘরবাড়ি ভেঙে পড়েছে। বিশেষ করে হিন্দু তীর্থনগরী হিসেবে পরিচিত প্রয়াগরাজ (এলাহাবাদ) এ সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। সরকারি সূত্র বলছে, এই দুর্যোগে মূলত প্রয়াগরাজে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে, এর পরে ভাদোহীতে ১৮ জন, মির্জাপুরে ১৫ জন, ফতেহপুরে ১০ জন, উন্নাও ও বদায়ু জেলাতে ছয়জন করে প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়াও প্রতাপগড়, বেরেলি, সীতাপুর, রায়বরেলি, চন্দৌলি, কানপুর দেহাত, হার্দোই এবং সম্বল জেলায় বহু মানুষের মৃত্যু খবর পাওয়া গেছে। কর্মকর্তাদের মতে, ঝড়ের তীব্রতায় কাঁচা বাসগৃহ ধসে পড়েছে, গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে গেছে, আর বজ্রপাতে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। তার সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ক্ষেতের ফসল ও গবাদি পশু। টেলিভিশন ফুটেজে দেখা গেছে, প্রবল বাতাসে বিশাল গাছ ও বৈদ্যুতিক খুঁটি পড়ে রাস্তায় পড়ে আছে। কোথাও কোথাও ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। প্রত্যক্ষদর্শী রাম কিশোর বলেন, হঠাৎ এক ঝটকায় ঝড় শুরু হয়, মুহূর্তের মধ্যেই পুরো পরিবেশ অন্ধকারে ঢেকে যায়। বাতাসের তোড়ের সঙ্গে টিনের চাল উড়ে যায়, মানুষ দিগ্বিদিক ছুটতে শুরু করে। সন্ধ্যার সময় টানা গাছ পড়ার শব্দ দৃশ্যমান ছিল। এই দুর্যোগের খবর পেয়ে পুলিশ ও দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এসডিআরএফ) দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম চালাচ্ছে। তারা রাস্তা ও রেললাইন থেকে গাছ ও ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে যোগাযোগের ব্যবস্থা সচল করার জন্য চেইনসো, ক্রেন ইত্যাদি ব্যবহার করছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে বিপদের সময় সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় অনেক জেলা অন্ধকারে নিমজ্জিত। প্রশাসন জানিয়েছে, উদ্ধার কাজ শেষ এবং ক্ষয়ক্ষতির সঠিক হিসাব পাওয়া গেলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বুধবার সন্ধ্যার দিকে উত্তর প্রদেশের বিস্তীর্ণ এলাকা হঠাৎ আবহাওয়ার পরিবর্তন ও প্রবল বেগে বাতাস শুরু হলে বিভিন্ন রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। বেশ কিছু বিলবোর্ড, টিনের চালা ও গাছ উপড়ে পড়ে যানবাহনের ওপরে, ফলে যান চলাচল ব্যাহত হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক স্থান থেকে এই ঝড়ের ভয়াবহতা দৃশ্যমান ভিডিও শেয়ার করা হয়েছে। বারেলির বামিয়ানা গ্রামে একজনের ভিডিওতে দেখা গেছে, প্রবল বাতাসে টিনের চালা উড়ে গিয়ে প্রায় ৫০ ফুট দূরে মাঠে পড়ে যাচ্ছে। মৃত্যু ও আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা ও ক্ষতিপূরণের জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের জন্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিতে জেলা প্রশাসনকে দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ফসলের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের জন্য জেলা কৃষি ও রাজস্ব বিভাগ, বিমা সংস্থাগুলোকেও দ্রুত জরিপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে সরকারের কাছে রিপোর্ট পাঠানো যায়। এই দুর্যোগের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পিছনে সতর্কবার্তা হিসেবে প্রশাসন কাজ করছে। সূত্র: এনডিটিভি ও স্কাই নিউজ।

  • আমিরাত জানালো ঈদুল আযহার সম্ভাব্য তারিখ

    আমিরাত জানালো ঈদুল আযহার সম্ভাব্য তারিখ

    মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার সম্ভাব্য তারিখ জানিয়েছে। আবুধাবির আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান কেন্দ্র (আইএসি) সূত্রে জানা গেছে, গণনার ভিত্তিতে আগামী ১৭ মে এই চাঁদ দেখা যেতে পারে। এই অনুযায়ী, বিশ্বের বেশির ভাগ দেশে পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপন সম্ভবত ২৭ মে বুধবার। আইএসি-র জ্যোতির্বিজ্ঞান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ১৭ মে মুসলিম দেশগুলো জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার প্রস্তুতি নিতে পারে। ওইদিন, পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অঞ্চলে টেলিস্কোপের সাহায্যে চাঁদ দেখা সম্ভব হবে। মধ্য ও পশ্চিম এশিয়া, উত্তর আফ্রিকা এবং উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার বৃহৎ অংশ থেকে খালি চোখেও চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গাণিতিক হিসাব অনুযায়ী, ১৮ মে সোমবার থেকে শুরু হতে পারে ১৪৪৭ হিজরি সালের জিলহজ মাস। তার ফলে, সম্ভবত ২৭ মে ঈদুল আযহার প্রথম দিন হতে পারে। সাধারণত, জিলহজ মাসের ১০ তারিখে ঈদুল আযহা পালিত হয়, তবে শেষ সিদ্ধান্ত চাঁদ দেখা সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন। সূত্র: গালফ নিউজ।

  • উত্তরপ্রদেশে তীব্র ঝড়-বর্ষণে প্রাণহানি ১০০ ছাড়াল

    উত্তরপ্রদেশে তীব্র ঝড়-বর্ষণে প্রাণহানি ১০০ ছাড়াল

    ভারতের উত্তরপ্রদেশে বুধবার সন্ধ্যায় শুরু হওয়া তীব্র ঝড় ও ভারী বৃষ্টিতে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে। কর্তৃপক্ষ জানান, শতাধিক মানুষ মারা গেছেন এবং আরও কয়েকশ আহত হয়েছেন। রাজ্যজুড়ে হাজার হাজার বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে হাজার হাজার গাছ ও বিদ্যুৎখুঁটি উপড়ে পড়েছে।

    সরকারি ও সংবাদসংস্থার তথ্য অনুযায়ী প্রয়াগরাজে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি দেখা গেছে — কমপক্ষে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। ভাদোহীতে ১৮ জন, মির্জাপুরে ১৫ জন, ফতেহপুরে ১০ জন, উন্নাও ও বদায়ুনে প্রত্যেকে ছয়জন করে মারা গেছেন। প্রতাপগড় ও বারেলিতে চারজন করে প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া সীতাপুর, রায়বেরেলি, চান্দৌলি, কানপুর দেহাত, হারদোই ও সম্ভল থেকেও মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

    কর্মকর্তারা বলছেন, প্রধানত কাঁচা ঘরধ্বস, উপড়ে পড়ে গাছপালা ও বিদ্যুতের খুঁটি এবং বজ্রপাতে এসব মৃত্যু ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ঝড়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং গবাদি পশুও হানি এসেছে — এসবের প্রাথমিক ক্ষতি নিরূপণের কাজ শুরু হয়েছে।

    প্রতিকূল আবহাওয়া হঠাৎ তীব্র আকার নেওয়ায় বুধবার সন্ধ্যায় রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকায় ঝড়বৃষ্টি শুরু হয়। প্রচণ্ড বাতাসে রাস্তাগুলোতে বড় বড় বিলবোর্ড ও টিনের চালা উড়ে যান, অনেক ক্ষেত্রে এগুলো যানবাহনের উপর পড়ে; ফলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়।

    সামাজিক মাধ্যমে ঝড়ের সময় ও পরে নেওয়া অসংখ্য ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। বারেলির বামিয়ানা গ্রামের একটি ভিডিওতে দেখা যায় কেবলমাত্র বাতাসের ধাক্কায় একজন ব্যক্তি একটি টিনের চালাসহ উড়ে গিয়ে প্রায় ৫০ ফুট দূরে একটি মাঠে পড়ছেন — ভিডিওটি ঝড়ের ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট করে তোলে।

    উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ নিহতদের প্রতি শোক প্রকাশ করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত সরকারি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দফতরগুলোকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ত্রাণ ও জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং উদ্ধারকার্য ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এছাড়া ফসলের ক্ষতির আনুমানিক হিসাব জানাতে রাজস্ব ও কৃষি বিভাগসহ বিমা কোম্পানিগুলোকে দ্রুত জরিপ করে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঘটনায় উদ্ধৃতি দিয়েছে এনডিটিভি।

  • ইরানের অভিযোগ: যুদ্ধে মার্কিনদের সহায়তা করেছে আমিরাত

    ইরানের অভিযোগ: যুদ্ধে মার্কিনদের সহায়তা করেছে আমিরাত

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি দাবি করেছেন, তেহরানের বিরুদ্ধে চলা সাম্প্রতিক সহিংসতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যোগ দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। তিনি এই মন্তব্য করেছেন ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে ভারতে থাকা অবস্থায় টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায়।

    আরাঘচি বলেছেন, এই আগ্রাসনে সংযুক্ত আরব আমিরাত একটি সক্রিয় অংশীদার এবং এতে কোনো সন্দেহ রাখা যায় না। তিনি আরও দাবি করেছেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আমিরাত কেবল নিন্দা জাহির করেই বিরত ছিল না, বরং সরাসরি অংশ নিয়েছিল এবং সম্ভবত তেহরানের বিরুদ্ধে কিছু পদক্ষেপও নিয়েছে।

    ইসরায়েল বলেছে, চলমান যুদ্ধের সময় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের একটি ‘গোপন’ বৈঠক ইউএই-তে হয়েছে। আরাঘচি এই দাবির কথাও উল্লেখ করেছেন। তবে আবু ধাবি ওই গোপন ভ্রমণের কথা অস্বীকার করেছে।

    ফেব্রুয়ারি ২৮-এ মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার পরে ইরান প্রতিশোধ হিসেবে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের ওপর পাল্টা হামলা চালায়—তাতে ইসরান ও আমিরাতের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ে। এরপর থেকে বিরোধ বাড়তে থাকায় দুই দেশের সম্পর্ক তীক্ষ্ণ হয়ে ওঠে; গত ৮ এপ্রিল থেকে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি বজায় আছে বলে জানানো হয়েছে।

    ইরান বারবার অভিযোগ করেছে যে উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে মার্কিন বাহিনীকে হামলা চালানোর সুযোগ দিচ্ছে। অন্যদিকে, ওই উপসাগরীয় দেশগুলো এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে তারা সংঘাতের আগে থেকেই প্রতিজ্ঞা করেছিল যে তাদের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা কাউকে ইরানের বিরুদ্ধে হামলার কাজে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।

    ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বিশ্লেষকরাও আমিরাতের জড়িত থাকার বিষয়ে বিভিন্ন দাবি তুলেছেন। বিপরীতে, চলতি মাসের শুরুতে আমিরাতের ফুজাইরাহ অঞ্চলের একটি জ্বালানি স্থাপনায় দুর্বল ড্রোন হামলার অভিযোগে আবু ধাবি ইরানকে দায়ী করেছিল; ইরান সেই অভিযোগ খারিজ করেছে।

    আরাঘচির মন্তব্যের সূত্র হিসেবে ফরাসি সংবাদসংস্থা এএফপির প্রতিবেদনকে উল্লেখ করা হচ্ছে। সংঘাত ও সম্পর্কজটিলতা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন মন্তব্য এবং প্রতিক্রিয়া চলছে, যা ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

  • ইরানের অভিযোগ: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধে আমিরাত সরাসরি সহায়তা করেছে

    ইরানের অভিযোগ: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধে আমিরাত সরাসরি সহায়তা করেছে

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, তেহরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের সময় সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছে এবং আমিরাতের সরাসরি সহায়তায় ওই আগ্রাসন চালানো হয়েছে। ভারতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে যোগদানকালে বৃহস্পতিবার টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই অভিযোগ জানান।

    আরাঘচি বলেন, ‘‘এই আগ্রাসনে সংযুক্ত আরব আমিরাত একটি সক্রিয় অংশীদার ছিল—এ বিষয়টি নিয়ে কোনো সংশয় নেই।’’ তিনি আরো বলেন, সংঘাত শুরু হওয়ার সময় আমিরাত নিন্দা জানানিও অস্বীকার করেছিল এবং পরবর্তীকালে তাদের অংশগ্রহণ ও সম্ভবত আমাদের বিরুদ্ধে সরাসরি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টিও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

    ইসরায়েলের যে দাবি তা নিয়েও আরাঘচি মন্তব্য করেন যে, চলমান যুদ্ধে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতে একটি ‘গোপন’ বৈঠক হয়েছে—এই অভিযোগ ইসরায়েলের পক্ষ থেকে করা হয়। তবে আবু ধাবি ওই গোপন সফরের কথা অস্বীকার করেছে।

    পটভূমি হিসেবে আরাঘচি স্মরণ করান যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ঘটানো হামলার পর ইরান পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে মার্কিন মিত্রদের লক্ষ্য করে আক্রমণ চালায়, যার ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ে। সেই উত্তেজনার মধ্যে থেকে ৮ এপ্রিল থেকে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে।

    আরাঘচি ও ইরান বারবার অভিযোগ করেছে যে কিছু উপসাগরীয় দেশ তাদের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহার করে মার্কিন বাহিনীকে হামলার সুবিধা দিচ্ছে। কিন্তু ওই উপসাগরীয় দেশগুলো এই ধরনের অভিযোগ বারবার প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে যে সংঘাত শুরুর আগেই তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল—তারা তাদের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা কোনো পক্ষকে ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে দেবে না।

    ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বিশ্লেষকরাও বিভিন্ন সময়ে আমিরাতের সম্ভাব্য জড়িত থাকার কথা উত্থাপন করেছেন। এর উত্তরে, চলতি মাসের শুরুতে আবু ধাবি ইরানকে দায়ী করে বলেছিল যে ফুজাইরাহ অঞ্চলের একটি জ্বালানি স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে; ইরান সেই অভিযোগ নাকচ করেছে।

    সূত্র: এএফপি।