Category: আন্তর্জাতিক

  • ট্রাম্পকে সরাতে ‘নো কিংস’: যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ইতিহাসের বৃহৎ বিক্ষোভের ডাক

    ট্রাম্পকে সরাতে ‘নো কিংস’: যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ইতিহাসের বৃহৎ বিক্ষোভের ডাক

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ক্ষমতাচ্যুত করতে শনিবার যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আবার বড় আন্দোলনের ডাক দিয়েছে ‘নো কিংস’ সংগঠন। আয়োজকরা বলছেন, দেশের বিভিন্ন শহরে একই দিনে পরিব্যাপ্ত বিরাট বিক্ষোভ হবে।

    সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী এবার শনিবার দেশের ভেতরে ৩ হাজারেরও বেশি বিক্ষোভ কর্মসূচি নেওয়া হবে। তারা আশা করছেন, এই দিনটি আমেরিকার ইতিহাসের অন্যতম বড় বিক্ষোভ দিবস হয়ে উঠতে পারে।

    আয়োজকদের উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জুন ও অক্টোবরেও তারা একই আন্দোলন চালিয়েছিল; ওই সময় লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নামেন। তাদের দাবি অনুসারে, জুনে تقریباً ৫০ লাখ এবং অক্টোবরে প্রায় ৭০ লাখ মানুষ অংশগ্রহণ করেছিলেন।

    এই বিক্ষোভে প্রতিবাদের বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী নীতি এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের সম্ভাব্য হুমকি। সংগঠনটি বলেছে, নানা ইস্যু মিলিয়ে জনগণের কণ্ঠকে সক্রিয়ভাবে তুলে ধরা হবে।

    ওয়াশিংটন ডিসি, মিনিয়াপোলিস, শিকাগো ও সান ফ্রান্সিসকোতে বিশেষ করে বড় মঞ্চীয় কর্মসূচি হওয়ার কথা রয়েছে। তাছাড়া ছোট অঙ্গরাজ্য ভারমন্টেও জনসংখ্যা মাত্র ৬ লাখ ৪৬ হাজার হলেও সেখানে ৪০টিরও বেশি সমাবেশের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

    আয়োজকরা মনে করেন, কেন্দ্রীয় শহরগুলোতে সহ নানান গ্রাসরুটস উদ্যোগ মিলিয়ে এই আন্দোলন ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। তারা জনগণের সর্বস্তরের অংশগ্রহণ কামনা করছে এবং বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালনার নির্দেশ দিচ্ছে।

  • ইরানের দাবি: দুবাই হামলায় ৫০০’রও বেশি মার্কিন সৈন্য হতাহত

    ইরানের দাবি: দুবাই হামলায় ৫০০’রও বেশি মার্কিন সৈন্য হতাহত

    ইরানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে তাদের প্রতিশোধমূলক হামলায় ৫০০ জনেরও বেশি মার্কিন সেনা হতাহত হয়েছেন। এই তথ্য জানিয়েছে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম, যেখানে উদ্ধৃত করা হয়েছে আইআরজিসি কেন্দ্রীয় সদর দਫরের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগারির কথা।

    জোলফাগারি বলেছেন, তারা আগেই সতর্ক করেছিল এবং ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চূড়ান্ত হামলার পর মার্কিন সেনারা তাদের ঘাঁটি থেকে পালিয়ে বাইরে লুকিয়ে পড়েছে। তার দাবি, সাম্প্রতিক কয়েক ঘণ্টায় দুবাইতে দুইটি গোপন আস্তানা শনাক্ত করা হয়েছে — প্রথমটিতে ৪০০ এর বেশি এবং দ্বিতীয়টিতে ১০০ এরও বেশি মার্কিন সেনা অবস্থান করছিল।

    মুখপাত্র আরও জানিয়েছেন যে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসসি) অ্যারোস্পেস ও নৌবাহিনী নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে উভয় আস্তানাও লক্ষ্যভ্রষ্ট করেছে, যার ফলে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেছেন, ‘‘অ্যাম্বুলেন্সগুলো কয়েক ঘণ্টা ধরে মৃত ও আহত আমেরিকান কমান্ডার ও সৈন্যদের পরিবহনে ব্যস্ত রয়েছে।’’

    জোলফাগারি মার্কিন নেতৃত্বকে কঠোর সতর্কবার্তা দেন এবং বলেন, এই অঞ্চলটি তাদের জন্য ‘‘কবরস্থান’’ হয়ে যাবে, এবং ইরানের জনগণ ও যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে আর কোনো পথ থাকবে না বলে তিনি দাবি করেন।

    এর আগে আইআরজিসি মধ্যপ্রাচ্যের মানুষকে সতর্ক করে বলেছিল যে, যেখানে যেখানে মার্কিন বাহিনী অবস্থান করছে, সাধারণ মানুষ ওই এলাকা থেকে সরে যাক — কিন্তু সেই হুঁশিয়ারিতে নির্দিষ্ট কোনো অঞ্চলের নাম উল্লেখ করা হয়নি, তাসনিম জানায়।

    প্রসঙ্গত, তাসনিমের খবরে ইরানের বিরুদ্ধে বা ইরান-যুক্ত সংঘর্ষজনিত ঘটনা সম্পর্কেও আলাদা বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে; তবে এই প্রতিবেদনে উদ্ধৃত অভিযোগ ও হামলার বিবরণ স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। আন্তর্জাতিক মাধ্যমে অথবা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কোনো স্বাধীন নিশ্চয়তা বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তা আরও স্পষ্ট হবে।

  • লেবাননের পর ইয়েমেনও ইরানের পক্ষে: ইসরায়েল লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

    লেবাননের পর ইয়েমেনও ইরানের পক্ষে: ইসরায়েল লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

    ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান সংঘাত নতুন মোড় নিয়েছে। লেবাননের পর এবার ইয়েমেন থেকেও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আছড়ে পড়ার হুমকি ও কর্মকা- পরিলক্ষিত হয়েছে, যা যুদ্ধকে আরও জটিল করে তুলেছে।

    যুদ্ধের দ্বিতীয় মাসে পদার্পণের পর প্রথমবারের মতো ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইয়েমেন থেকে তাদের ভূখণ্ডের দিকে একটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করার ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। রবিবার না—শনিবার (২৮ মার্চ) ভোরে দেওয়া ওই বিবৃতিতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানায়, তারা হামলা শনাক্ত করেছে এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়ভাবে প্রতিহত করার কাজ করছে। খবরটি প্রথমে দ্য গার্ডিয়ানের রিপোর্টে উঠে আসে।

    এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সরাসরি সংঘাতে নামার হুমকি প্রকাশ করার সঙ্গে সঙ্গেই পরিস্থিতি তীব্রতা পেয়েছে। যদিও অঞ্চলজুড়ে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী আগেই ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি জানিয়েছিল, সরকারি পর্যায়ে ইয়েমেন থেকে হামলার কথা এটাই প্রথমবার ইসরায়েলের স্বীকৃতি।

    ঘটনার ঠিক এক দিন আগে তেলআবিবে বড় ধরনের হামলার খবর পাওয়া যায়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান থেকে প্রায় পাঁচ ঘণ্টার ব্যবধানে অন্তত পাঁচ দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছিল তেলআবিব লক্ষ্য করে, যা অঞ্চলজুড়ে এনেকটি উত্তেজনার সঞ্চার করেছে।

    ইয়েমেন থেকে শুরু হওয়া এই নতুন ফ্রন্ট মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধকে আরও জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী করার ইঙ্গিত দিচ্ছে। আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগও তীব্র হচ্ছে এবং পরিস্থিতি মনিটরিং ও কূটনৈতিক উদ্যোগ দাবি করছে।

  • ট্রাম্পকে সরাতে ‘নো কিংস’: যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে ইতিহাসের সর্ববৃহৎ আন্দোলনের ডাক

    ট্রাম্পকে সরাতে ‘নো কিংস’: যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে ইতিহাসের সর্ববৃহৎ আন্দোলনের ডাক

    যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আবারো ট্রাম্পকে ক্ষমতাচ্যুত করার দাবি নিয়ে বড় আন্দোলনের ডাক দিলেন প্রতিবাদকারীরা। আন্দোলনের নাম ‘নো কিংস’।

    আয়োজকরা জানান, এই শনিবার সারাদেশে ৩ হাজারেরও বেশি বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হবে। তারা বলছেন, এটি আমেরিকার ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ বিক্ষোভ দিবস হতে পারে।

    অভিযানের লক্ষ্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প—তাঁর নীতি ও অবস্থানের বিরুদ্ধে গণপ্রতিবাদ ঘটানো হবে। এবারের প্রতিবাদের প্রধান ইস্যুগুলোর মধ্যে রয়েছে ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী নীতি এবং ইরানের সঙ্গে সংঘাতের আশঙ্কা।

    এর আগে ২০২৫ সালের জুন ও অক্টোবরেও ‘নো কিংস’ কর্মসূচি জোরালো হয়েছিল; আয়োজকদের দাবি তখন জুনে প্রায় ৫০ লক্ষ এবং অক্টোবরে প্রায় ৭০ লক্ষ মানুষ অংশ নিয়েছে।

    ওয়াশিংটন ডি.সি., মিনিয়াপোলিস, শিকাগো ও সান ফ্রান্সিসকোতে বড় সমাবেশ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ছোট অঙ্গরাজ্য ভারমন্টেও মাত্র ৬ লাখ ৪৬ হাজার মানুষের বাসের মধ্যে সত্ত্বেও ৪০টিরও বেশি বিক্ষোভের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

    আয়োজকরা মনে করেন, এই দিনের প্রতিবাদ অনুষ্ঠানগুলো মিলিয়ে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এটি একটি উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত হতে পারে।

  • ইরান দাবি: মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ১৭টি ঘাঁটি ধ্বংস

    ইরান দাবি: মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ১৭টি ঘাঁটি ধ্বংস

    ইরানের সশস্ত্র বাহিন্যের এক জ্যেষ্ঠ মুখপাত্র বলেছেন, পশ্চিম এশিয়া বা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ১৭টি সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস করা হয়েছে। এই দাবি করেছে আইআরজিসি‑সংশ্লিষ্ট মেহর নিউজ এজেন্সি।

    স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এক সাক্ষাত্কারে সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুলফজল শেখারচি বলেন, পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ১৭টি ঘাঁটি স্থাপন করেছিল এবং তাদের ওই সব ঘাঁটিই ইরানের শক্তিশালী বাহিনী ধ্বংস করেছে। তিনি দাবি করেন, “আমেরিকানরা তাদের ঘাঁটি ও সৈন্যদের রক্ষা করতে পারেনি।”

    শেখারচি আরও বলেছিলেন, ২০২৫ সালের ১৩ জুন ইসরায়েলের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া ১২ দিনের যুদ্ধে ইরান তার কৌশলগত নীতিতে পরিবর্তন এনেছে — প্রতিরক্ষামূলক নীতিকে আক্রমণাত্মক প্রতিরোধে রূপান্তর করা হয়েছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘‘গত ৪৭ বছরে ইরান কোনো দেশকে আক্রমণ করেনি এবং ভবিষ্যতেও নিজের ইচ্ছায় অন্য দেশের ওপর আগ্রাসন চালাবে না।’’ তার ভাষ্য, ‘আক্রমণাত্মক নীতি’ মানে হলো যদি কেউ ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালায়, ইরান পাল্টা আঘাত করবে যতক্ষণ না আঘাতকারীকে পরাজিত বা শাস্তি দেয়া হয়।

    মুখপাত্র বলেন, ইরানের প্রতিরক্ষা নীতি বিজয় অর্জন এবং শত্রুকে শাস্তি দেয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও বললেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ওপর থেকে যুদ্ধের ছায়া চিরতরে দূর না হওয়া পর্যন্ত আগ্রাসনকারীদের শাস্তি ও তাড়ানোর কর্মসূচি চালিয়ে যাবে।

    শেখারচি যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্দেশ্য করে এও অভিযোগ করেন, নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার অজুহাতে তারা গত কয়েক দশক ধরে পশ্চিম এশিয়ায় ব্যাপকভাবে বিনিয়োগ ও হস্তক্ষেপ করে অঞ্চলটির জনগণকে শোষণ ও দেশগুলোকে প্রতারণা করেছে। তিনি বললেন, যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিক দেশগুলোর কাছে নিরাপত্তার নামে সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি করে এবং ওই দেশগুলোর অর্থায়নে সেখানে ঘাঁটি স্থাপন করেছে।

    হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি সতর্কবার্তা দিয়েছেন — জোর দিয়ে বলা হয়েছে, ‘‘হরমুজ প্রণালির অবস্থা আর আগের মতো থাকবে না।’’ যুদ্ধ শেষ হলেও ইরান কিছু শর্ত রেখেছে এবং অন্যান্য দেশগুলোকে তা পূরণ করতে হবে, তার ভাষ্য।

    শেখারচি আঞ্চলিক মুসলিম দেশগুলোর প্রতি আবেদন জানিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার বাহিনীকে আশ্রয় দেওয়া বন্ধ করুন। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ভাবেন ইরান পিছিয়ে যাবে, তারা ভুল করছে; ইরানের সংকল্প আগের চেয়ে আরও দৃঢ় এবং তাদের উদ্দেশ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চলবে।

    উপসংহারে তিনি ইরানের সার্বভৌমত্ব রক্ষার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ইরান অঞ্চলটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং অন্যদেশের সার্বভৌমত্ব সম্মান করে। কিন্তু তিনি উল্লেখ করেন, যদি কোনো দেশ তাদের ভূখণ্ড বা বায়ু সীমা ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে বিদেশি শক্তিকে আমন্ত্রণ জানায়, তাহলে তার পরিণতি ওই দেশকেই বহন করতে হবে।

  • পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পর ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি

    পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পর ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি

    ইরানের একটি পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার খবরের পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র হয়েছে। হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সংশ্লিষ্ট শিল্প ও অবকাঠামোতে সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক হামলার ব্যাপারে সতর্কতা জারি করেছে।

    আইআরজিসি–এর নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের দ্রুত তাদের কর্মস্থল ছাড়ার অনুরোধ করা হয়েছে বলে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম প্রতিবেদনে জানিয়েছে। এমনকি ওই কারখানাগুলোর আশপাশের এক কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে বসবাসরত সাধারণ মানুষকেও নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে।

    আইআরজিসি জানিয়েছে, তাদের যোদ্ধারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ভারী শিল্পকারখানা এবং অন্যান্য লক্ষ্যস্থলকে টার্গেট করে প্রতিশোধমূলক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

    আইআরজিসি–এর অ্যারোস্পেস কমান্ডার সাইয়েদ মজিদ মুসাভি সামাজিক মাধ্যমে (এক্স) দেওয়া একটি পোস্টে কড়া সুরে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘‘তোমরা আবারও আমাদের ধৈর্যের পরীক্ষা নিয়েছো। বিশ্ব দেখেছে, তোমরাই আগুন নিয়ে খেলা শুরু করেছ এবং অবকাঠামোর ওপর হামলা চালিয়েছ। এবার প্রতিক্রিয়া ‘চোখের বদলে চোখ’ থাকবে না—অপেক্ষা করো, সবাই দেখবে কী হয়।’’ তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নবাদী শাসকদলের সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মরত মানুষের দ্রুত নিরাপদ স্থান নিউজ্ব্যাগ করার পরামর্শও দিয়েছেন।

    তবে ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থা জানানোয় আরদাকান শহরের ওই পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পর কোনো তেজস্ক্রিয় পদার্থ পরিবেশে ছড়িয়ে পড়েনি। সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় মূলত ‘ইয়েলোকেক’ নামে পরিচিত ইউরেনিয়ামের ঘনীভূত গুঁড়া উৎপাদিত হতো—যা পরবর্তীতে বিভিন্ন রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমৃদ্ধ করে পারমাণবিক জ্বালানি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।

    এই হামলা ও ইরানের পাল্টা হুমকির ফলে এক বিস্তৃত সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ ধারণ করেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও অঞ্চলীয় শক্তিগুলো এখন সতর্ক নজর রাখছে।

  • জ্বালানি সংকটে ভারতে ‘লকডাউন’ নিয়ে জল্পনা

    জ্বালানি সংকটে ভারতে ‘লকডাউন’ নিয়ে জল্পনা

    মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে বিশ্ব জুড়ে জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা লেগে আছে। রাশিফলে তেলের মূল্য ওঠানামা ও এলপিজি সরবরাহ সংক্রান্ত উদ্বেগের প্রভাবে এই অনৈচ্ছিক চাপ ভারতের ওপরও পড়তে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে ‘আংশিক জ্বালানি লকডাউন’ নেয়া হতে পারে এমন নানা জল্পনা ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে।

    দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাকে সচল রাখতে এবং সরবরাহ সুষম রাখার লক্ষ্যে বিভিন্ন কড়াকড়ি প্রক্রিয়া পরীক্ষার আওতায় আনা হতে পারে—যদি অবস্থা ক্রমশ খারাপ হয়। সরকারি সূত্র ও সংবাদমাধ্যমের ধারনায় সম্ভাব্য পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে অফিসে বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ (ওয়ার্ক ফ্রম হোম), নির্দিষ্ট সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ সীমিত রাখা, ব্যক্তিগত যানবাহন ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আরোপ, নগদ লেনদেন বা খরচে সীমাবদ্ধতা, ব্যাংক থেকে নগদ উত্তোলনে সীমানা নির্ধারণ, ও দোকান এবং রেস্তোরাঁর খোলা রাখার সময় কমানো। তবে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য অপরিহার্য পরিষেবায় ছাড় থাকবে বলে জানা গেছে।

    এই বিষয়গুলো নিয়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা যোগেছে; ‘লকডাউন ইন ইন্ডিয়া’ কীওয়ার্ডটি গুগল ট্রেন্ডসে দ্রুত জনপ্রিয়তা পেয়েছে। অনেকে কেন্দ্রের শনিবারের উচ্চস্তরের বৈঠককে এই জল্পনার প্রেক্ষাপট হিসেবে দেখছেন—তবে এখনই চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তের ঘোষণা নেই।

    কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার এসব জল্পনা তুলে দিয়েছে। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী শুক্রবার তার এক পোস্টে বলেছেন, দেশে কোনো লকডাউন আনার কথা প্রচার ‘‘বাস্তবে ভিত্তিহীন গুজব’’; সরকার এমন কোনও প্রস্তাব বিবেচনা করছে না। তিনি সবাইকে শাসনবিধি মেনে শান্ত ও দায়িত্বশীল থাকার আহ্বান জানান এবং অযথা প্যানিক না সৃষ্টি করার কথা বলেন।

    পুরী আরও বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি পরিবর্তনশীল হওয়া সত্ত্বেও সরকার নিয়মিত জোরালো নজর রাখছে—তাই তেল, জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সরবরাহ অব্যাহত রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন,‘‘ভারত ভোগ্যপণ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত রাখতে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে এবং নাগরিকদের জীবনযাত্রা যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করা আমাদের অগ্রাধিকার।’’

    প্রধানমন্ত্রী ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা নিয়ে একটি জরুরি বৈঠকও ডাকছেন মোদি; সূত্র বলছে ভিডিও কনফারেন্সে এই বৈঠক সন্ধ্যা ৬টায় অনুষ্ঠিত হবে। তবে পশ্চিমবঙ্গসহ যে কয়েকটি রাজ্যে নির্বাচনী কর্মকাণ্ড চলছে, সেসব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা সভায় অংশ নেবেন না—এমনই খবর আছে।

    অবশেষে, স্থানীয়ভাবে জ্বালানি ব্যবস্থায় কোনো বড় ধরনের আঁটসাঁট করার আগে সরকারের পক্ষে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয় বজায় রাখা এবং সমাজে বিভ্রান্তি না ছড়ানোই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।

    সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস, এনডিটিভি

  • ইরান দাবি: মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ১৭টি ঘাঁটি ধ্বংস

    ইরান দাবি: মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ১৭টি ঘাঁটি ধ্বংস

    ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ মুখপাত্র বলেছেন, পশ্চিম এশিয়া বা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ১৭টি সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। এই দাবি ইরান সমর্থিত মেহর নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে উদ্ধৃত করা হয়েছে।

    স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার গভীর রাতে একটি সাক্ষাৎকারে সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুলফজল শেখারচি জানান, ‘পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ১৭টি ঘাঁটি স্থাপন করেছিল, আর ইরানের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী সেগুলো ধ্বংস করেছে। আমেরিকানরা তাদের ঘাঁটি ও সেনাবাহিনী রক্ষা করতে পারেনি।’

    শেখারচি আরও বলেন, ২০২৫ সালের ১৩ জুন ইসরায়েলের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া ১২ দিনের যুদ্ধের পর থেকে ইরান তার প্রতিরক্ষামূলক নীতি পরিবর্তন করে আক্রমণাত্মক নীতিতে রূপান্তর করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলছেন, ‘গত ৪৭ বছরে ইরান কোনো দেশকে আগ্রাসন করে নি এবং ভবিষ্যতেও অন্য দেশে আগ্রাসন চালাবে না; তবে যদি কেউ আমাদের ওপর হামলা করে, আমরা পাল্টা আঘাত করে যতক্ষণ না ক্ষতি শোধ হয় ততক্ষণ থামব না।’

    তিনি বললেন, ইরানের কৌশল বিজয় অর্জন এবং শত্রুকে শাস্তি না দেওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ওপর থেকে যুদ্ধের ছায়া সরে না গেলে অনুপ্রবেশকারীকে শাস্তি দিয়ে তাড়া করা হবে বলে তিনি জানান।

    শেখারচি যুক্তরাষ্ট্রকে বললেন, নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার অজুহাতে গত কয়েক দশক ধরে তারা পশ্চিম এশিয়ায় ব্যাপকভাবে বিনিয়োগ করেছে এবং আঞ্চলিক জনগণকে শোষণ ও প্রতারণার মাধ্যমে স্থানীয় দেশগুলোকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেছে।

    হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তার প্রসঙ্গে তিনি সতর্ক করে জানিয়েছেন, ‘হরমুজ প্রণালির অবস্থা আর আগের মতো থাকবে না’। যুদ্ধ শেষ হলেও ইরান কিছু শর্ত আরোপ করেছে এবং সেই শর্তগুলো অসীমভাবে মানতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

    মুখপাত্র আঞ্চলিক মুসলিম দেশগুলোকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, যারা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে আশ্রয় দিচ্ছে তারা তা বন্ধ করবে। তিনি বললেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি ভাবেন ইরান পিছিয়ে যাবে, তবে তারা ভুল করছে — ইরানের সংকল্প আগের চেয়ে বেশি শক্তিশালী এবং লক্ষ্যপূরণ না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চলবে।

    শেখারচি ইরানের সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতিশ্রুতি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, ইরান সব দেশের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করে এবং কারও ওপর জোর করে নিজেদের ইচ্ছা চাপাবে না। তবে যদি কেউ তাদের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে বিদেশি শক্তিকে আমন্ত্রণ জানায়, তার পরিণতি বহন করতে হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।

    মুহূর্তিকভাবেই এই দাবি যাচাই-বাছাই করা সম্ভব হয়নি; মেহর নিউজ এজেন্সির উদ্ধৃত বক্তব্যই ইরানি কর্মকর্তাদের বক্তব্যের একমাত্র সূত্র হিসেবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

  • ট্রাম্পের দাবি: ইরান আমাকে সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল

    ট্রাম্পের দাবি: ইরান আমাকে সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের শীর্ষ নেতা করার অনানুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে এক বিস্ময়কর দাবি করেছেন তিনি। তবে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। খবর অনুসারে প্রথম তথ্য ইন্ডিয়া টুডি থেকে এসেছে।

    রিপাবলিকান তহবিল সংগ্রহের অনুষ্ঠানে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ট্রাম্প জানান, তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল যে ইরানের নেতারা তাকে পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দেখতে চায়। ট্রাম্প বলেন, আমি বলেছি না, ধন্যবাদ, আমি এটা চাই না।

    একই সভায় ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ বা সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চলছে এবং ইরান এতটাই চাপের মধ্যে যে তারা চুক্তি করতে মরিয়া। তিনি বলেন, আমরা মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে অসাধারণ সাফল্য পেয়েছি এবং তারা এখন আলোচনা করতে চাইছে, কিন্তু তাদের ভয়ের কারণ তাদের জনগণ তাদের বিরুদ্ধে যেতে পারে।

    তবে তেহরান এই দাবিগুলো সরাসরি খারিজ করেছে। ইরানের যৌথ সামরিক কমান্ডের মুখপাত্র ইব্রাহিম জুলফাকারি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, আপনারা কি এমন অবস্থায় পৌঁছে গেছেন যে নিজেই নিজের সঙ্গে কথা বলেন? আমরা আগেই বলেছি, আমাদের মতো মানুষ আপনার সঙ্গে কোনো চুক্তি করবে না। এখন নয়, ভবিষ্যতে নয়।

    মার্কিন গণমাধ্যমের বরাতে বলা হচ্ছে, পাকিস্তানসহ কিছু মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে ওয়াশিংটন তেহরানে একটি ১৫ দফা যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব পাঠিয়েছে। ওই প্রস্তাবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা, হিজবুল্লাহ ও অন্যান্য প্রক্সি গোষ্ঠীর প্রতি সমর্থন কমানো এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার মতো শর্ত থাকা বলা হচ্ছে।

    ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ জানায়, তেহরান মার্কিন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে নিজস্ব পাঁচ দফা পাল্টা প্রস্তাব পাঠিয়েছে। ফার্সের খবরে বলা হয়েছে, সংগৃহীত প্রস্তাবে স্পষ্ট করা হয়েছে যে যুদ্ধে সমাপ্তি ইরানের শর্তে হবে।

    বর্তমান পরিস্থিতিতে দাবিটিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তুলে ধরার চেষ্টা চলছে এবং দুই পক্ষের বক্তব্যে তীব্র পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। অনাগত সময়ে কীভাবে কূটনৈতিক আলোচনা এগোবে এবং এলাকার স্থিতিশীলতায় এর প্রভাব কী হবে, তা আন্তর্জাতিক মনোযোগ কাড়ছে।

  • পেন্টাগনের বিবেচনায়: মধ্যপ্রাচ্যে আরও প্রায় ১০ হাজার সেনা পাঠানো

    পেন্টাগনের বিবেচনায়: মধ্যপ্রাচ্যে আরও প্রায় ১০ হাজার সেনা পাঠানো

    একদিকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে বিরতির জন্য শান্তি আলোচনা করার কথা বলছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প; অন্যদিকে পেন্টাগন যুদ্ধের বিকল্প হিসেবে আরও কড়া সামরিক পদক্ষেপ বিবেচনা করছে। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত প্রায় ১০ হাজার স্থলসেনা পাঠানোর সম্ভাব্য পরিকল্পনা খতিয়ে দেখছে।

    প্রতিবেদনে ওই পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত কয়েকজন কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য এই বাহিনীতে পদাতিক সৈন্য ও সাঁজোয়া যান অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের খবরে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন ইতিমধ্যে ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের কিছু ইউনিট, প্রায় পাঁচ হাজার জনবল এবং প্রায় দুই হাজার প্যারাট্রুপারকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে; এখন তাদের সঙ্গে আরও প্রায় ১০ হাজার সেনা যুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা চলছে।

    তবে এসব সৈন্য ঠিক কোথায় মোতায়েন করা হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এই বিষয়ে জানতে হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বিবিসি; তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

    একই সময়ে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে জানিয়েছেন, ইরান সরকারের অনুরোধে তিনি ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলার সিদ্ধান্তকে ১০ দিন স্থগিত রেখেছেন। ট্রাম্প লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র স্থানীয় সময় ৬ এপ্রিল রাত ৮টা পর্যন্ত ওই হামলা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে তেহরান সেই অনুরোধের কথা অস্বীকার করেছে।

    সংক্ষিপ্তভাবে বলা যায়, দুই ধরণের সংকেত একসঙ্গে দেখা যাচ্ছে—একটি কূটনৈতিক দরজার খোলা ইঙ্গিত, আরেকটি সামরিক সম্ভাবনার প্রস্তুতি। পরিস্থিতি এখনও উত্তেজনাপূর্ণ এবং ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত দ্রুত পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।