Category: আন্তর্জাতিক

  • ফ্লোরিডায় দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তার হিশাম: উঠে আসছে অস্বস্তিকর অতীত

    ফ্লোরিডায় দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তার হিশাম: উঠে আসছে অস্বস্তিকর অতীত

    ফ্লোরিডায় দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার হওয়া ২৬ বছর বয়সী হিশাম সম্পর্কে নতুন করে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। স্থানীয় তদন্তকারীরা তাঁর অতীত আচরণ ও পূর্বের অভিযোগগুলো এখন তদন্তের মূল ফোকাসে রেখেছেন।

    হিলসবোরো কাউন্টি ডেপুটি চিফ জোসেফ মাউরার জানিয়েছেন, লিমন নামের শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় হিশামকে একাধিক অভিযোগে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ তালিকায় রয়েছে মৃত্যুর খবর চেপে রাখা, মৃতদেহ অবৈধভাবে সরানো, আলামত নষ্ট করা, ভুলভালভাবে কারাবন্দি হিসেবে দেখানো এবং পারিবারিক সহিংসতা ও শারীরিক আঘাত দেয়া। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে লিমনের মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণ করা হবে বলে তদন্তকারী জানান।

    সংবাদমাধ্যম নিউযউইকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে হিশাম মার্কিন নাগরিক এবং ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সাবেক ছাত্র; ২০২১ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত তিনি ম্যানেজমেন্ট বিষয়ক পড়াশোনা করলেও হত্যাকাণ্ডের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকাভুক্ত ছিলেন না। স্থানীয় আদালত ও শেরিফ অফিসের রেকর্ডে তার বিরুদ্ধে পূর্বে সহিংসতার সাতাসম্পর্কিত অভিযোগ উঠেছে।

    আদালতের নথিতে দেখা যায়, ২০২৩ সালের মে ও সেপ্টেম্বর মাসে হিশামের বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ ছিল। একই সময়ে তার নামে একটি জনশূন্য বাড়ি থেকে চুরির অভিযোগও করা হয়েছিল, যা তখন তুলনামূলকভাবে হালকা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল। পরিবারের একাধিক সদস্যও তাঁর আচরণ নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন; তাদের মধ্যে কেউ কেউ হিশামের বিরুদ্ধে দুইটি পারিবারিক সুরক্ষা নিষেধাজ্ঞার জন্য আবেদন করেন এবং আদালত থেকে একটি আবেদন মঞ্জুরও হয়। এছাড়া তার বিরুদ্ধে নানা ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের রেকর্ডও রয়েছে।

    লিমনের লাশ উদ্ধার ও গ্রেপ্তারের ঘটনাটি ছিল স্থানীয় পুলিশের জন্য নাটকীয়। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) ট্যাম্পার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড সেতু থেকে লিমনের ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ হিশামের পরিবারের বাড়ি থেকে একটি পারিবারিক সহিংসতার ফোন পায়। পুলিশ সেখানে গেলে হিশাম বাড়ির ভেতর নিজেকে অবরুদ্ধ করে আত্মসমর্পণ করতে অস্বীকার করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের বিশেষ সোয়াট টিমকে ডেকে আনা হয় এবং বেশ কিছু সময়ের নাছাছড়া ও উত্তেজনার পর সোয়াট টিমের চাপে অবশেষে হিশাম আত্মসমর্পণ করেন।

    এ ঘটনার সঙ্গে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির নিখোঁজ থাকা এখনো একটি বড় প্রশ্নছাঁয়া। বিশ্ববিদ্যালয়সূত্র ও পরিবারের পক্ষ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী প্রায় এক সপ্তাহ নিখোঁজ থাকার পর নিশ্চিত করা হয়েছে যে জামিল লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি—দুইজনই প্রাণ হারিয়েছেন। লিমনের ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার করা হয় এবং পরে শনিবার (২৫ এপ্রিল) বৃষ্টির মৃত্যুও তার পরিবার কর্তৃক নিশ্চিত করা হয়। বৃষ্টির ভাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন, তার বোনও হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন।

    এই ঘটনার ফলে স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটি ও ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার ছাত্রদের মধ্যে গভীর শোক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনার সঠিক কারণ ও প্রেক্ষাপট উদঘাটনে তৎপর রয়েছেন। তদন্তকারীরা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট, সিসিটিভি ফুটেজ ও সম্ভাব্য সাক্ষীর বৌদ্ধিক বিবৃতির ওপর ভর করে ঘটনাটির তদন্ত চালাচ্ছেন।

    প্রতিবাদি ও অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কোনো বিচারিক সিদ্ধান্ত এখনই নেওয়া হয়নি; হিশামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুযায়ী তদন্ত ও বিচার চলছে। তদন্ত সংক্রান্ত নতুন কোনো তথ্য প্রকাশ হলে কর্তৃপক্ষ তা পরিবারের সঙ্গে শেয়ার করবে এবং সমাজকেও জানানো হবে।

  • ২০ বছর পর গাজার দেইর আল-বালাহে পৌরসভা নির্বাচন শুরু

    ২০ বছর পর গাজার দেইর আল-বালাহে পৌরসভা নির্বাচন শুরু

    ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার দেইর আল-বালাহ শহরে শনিবার সকাল থেকে পৌরসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। গত দুই দশক ধরে উপত্যকায় কোনও নির্বাচন হয়নি, তাই স্থানীয়রা এই মুহূর্তকে এ অঞ্চলের রাজনৈতিক জীবনে এক বিরল ও اہم ঘটনা হিসেবে দেখছেন।

    গাজার সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০০৬ সালের ২৫ জানুয়ারি। তখন আত্মরক্ষাসহ বিভিন্ন সমর্থন নিয়ে সশস্ত্র ইসলামী রাজনৈতিক গোষ্ঠী হামাস জয়ী হয়ে উপত্যকায় কার্যত ক্ষমতা গ্রহণ করে। পরে হামাস সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বী দল ফাতাহকে উৎখাত করে। পশ্চিম তীরের সরকারী শরিক দল হিসেবে ফাতাহ এখনও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) অংশ এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের অংশীদার।

    রয়টার্সের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বলা হচ্ছে, ২০০৭ সালের পরে গাজায় প্রায় সব ধরনের নির্বাচন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ২০০৬ সালের পর থেকে প্রায় ২০ বছর পর্যন্ত উপত্যকায় আপাতত নির্বাচন হয়নি।

    আরও বলা হয়েছে যে ২০২৩ সালের সংঘর্ষ ও পরবর্তী সময়ের ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পর আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতার ফলশ্রুতিতে ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি স্বাক্ষরিত হয়। সেই যুদ্ধবিরতির শর্তগুলোর মধ্যে একটি ছিল গাজার ক্ষমতা সাময়িকভাবে রাজনৈতিক দলগুলোর থেকে আলাদা একটি টেকনোক্র্যাট প্রশাসনের হাতে হস্তান্তর করা। কয়েক মাস আগে এমন একটি টেকনোক্র্যাট সরকার গঠিত হয় এবং তার অধীনে এ স্থানীয় নির্বাচন করা হচ্ছে, বলে কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। (এই অংশটি রয়টার্সের প্রতিবেদনভিত্তিক)

    পশ্চিম তীরের ক্ষমতাসীন পিএ জোট এই নির্বাচনের মাধ্যমে গাজার রাজনীতিতে ফের অংশ নেয়ার সম্ভাবনা খুঁজছে বলে বিশ্লেষকরা বলছেন। ইউরোপ ও মধ্যপ্রচ্যের বেশ কিছু দেশের সরকারও গাজার এই স্থানীয় নির্বাচনের পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে। তাদের মতে, ফিলিস্তিনে নির্বাচিত সরকার থাকলে পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম ও গাজা মিলিয়ে ভবিষ্যতে স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনে এটি সহায়ক হতে পারে।

    দেইর আল-বালাহে স্থানীয় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, তারা গাজার সব শহরে নির্বাচন আয়োজন করতে চেয়েছিল; কিন্তু ইসরায়েলি অভিযানে অন্যান্য শহরগুলো ব্যাপকভাবে ধ্বংস হওয়ায় এবং ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কার না হওয়ায় আপাতত শুধু দেইর আল-বালাহ শহরটিতেই ভোটগ্রহণ সম্ভব হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, অন্যান্য শহরের তুলনায় এখানে ক্ষয়ক্ষতি অপেক্ষাকৃত কম।

    নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী দেইর আল-বালাহ পৌর নির্বাচনে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা ৭০,৪৪৯ জন। শহরজুড়ে মোট ১২টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছে; বেশিরভাগ কেন্দ্রই জাতিসংঘের সহায়তায় তাবু স্থাপন করে তৈরি করা হয়েছে।

    হামাস এই নির্বাচন বয়কট ঘোষণা করেছে, তবে রয়টার্স জানিয়েছে যে হামাসের সঙ্গে সম্পর্কিত কয়েকজন ব্যক্তি এবারে প্রার্থী হয়েছেন। স্থানীয়রা সাধারণত ভোটকে স্বাগত জানিয়েছে। এক ভোটার রয়টার্সকে বলেছেন, তিনি জন্ম থেকেই নির্বাচন বিষয়ে শুনে আসছেন, আর আজ নিজের চোখে দেখে বুঝতে পেরেছেন নির্বাচন কি রকম একটি প্রক্রিয়া। অনেকেই বলছেন, দীর্ঘ সময়ে চাপিয়ে দেওয়া বাস্তবতা বদলাতে তারা অংশ নিতে চান।

    পশ্চিমা কূটনীতিকরা বলছেন, দেইর আল-বালাহে নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন হলে তা গাজার অন্যান্য অংশে নির্বাচনের পথ সুগম করতে পারে এবং দুই দশক পর গাজায় নির্বাচিত সরকারের সম্ভাবনা জোরাল করবে।

    সূত্র: রয়টার্স

  • ২০ বছর পর গাজার দেইর আল-বালাহে পৌরসভা নির্বাচন শুরু

    ২০ বছর পর গাজার দেইর আল-বালাহে পৌরসভা নির্বাচন শুরু

    ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার দেইর আল-বালাহ শহরে শনিবার থেকে পৌরসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার এই উপত্যকায় গত ২০০৬ সালের পর সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস ক্ষমতায় যাওয়ার পর কিংবা ২০০৭ সালে ফাতাহকে বিতাড়িত করার পর থেকে এটি প্রথম স্থলভিত্তিক নির্বাচন।

    ২০০৬ সালের ২৫ জানুয়ারি গাজার শেষ সাধারণ নির্বাচনে হামাস জিতেছিল এবং পরবর্তীতে ফাতাহকে গাজা থেকে বিতাড়িত করা হয়। এর পর দলটি অধীনে বহুলাংশে ভোটাভুটি এবং দ্রুত গণতান্ত্রিক উদ্যোগ স্থগিত ছিল; ফলে পরবর্তী ২০ বছরে উপত্যকায় সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।

    রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ইসরায়েলে হামাসের আক্রমণ ও এর প্রতিক্রিয়ায় পরবর্তী দু’বছর ধরে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান চলার পর ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতির এক প্রস্তাব মেনে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়েছিল। ওই প্রস্তাবে একটি শর্ত ছিল—হামাসকে ক্ষমতা ছাড়তে হবে এবং নির্বাচিত সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত গাজার শাসন অরাজনৈতিক টেকনোক্র্যাট সরকারের হাতে রাখতে হবে। কয়েক মাস আগে সেই টেকনোক্র্যাট সরকার গঠিত হয় এবং তার অধীনে এই লোকাল নির্বাচন আয়োজন করা হয়েছে।

    পশ্চিম তীরের ক্ষমতাসীন ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ (পিএ) এবং তার জোট এই নির্বাচনের মাধ্যমে গাজার রাজনীতিতে পুনরায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেখছে। ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের অনেকে নির্বাচনকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে বলেছে যে একটি নির্বাচিত ফিলিস্তিনি প্রশাসন পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম ও গাজা মিলিয়ে ভবিষ্যতে একটি সমন্বিত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনে সহায়ক হবে এবং জনগণের স্বায়ত্তশাসনের দাবি শক্তিশালী করবে।

    পশ্চিমা কূটনীতিকেরা মনে করেন, দেইর আল-বালাহে ভোটানুষ্ঠান সফল হলে তা গাজার অন্যান্য এলাকার জন্যও নির্বাচনের পথ প্রশস্ত করতে পারে এবং দুই দশক পর নির্বাচিত কোনো স্থানীয় সরকারের গঠনের সম্ভাবনাকে বাড়াতে পারে।

    তবে পুরো গাজার বদহাল পরিস্থিতির কারণে সব এলাকায় একসাথে ভোট করানো সম্ভব হয়নি। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে অনেক শহর ধ্বংসাবশেষে পরিণত হওয়ায় এবং রাস্তাঘাট-ময়লা এখনও পরিষ্কার না হওয়ায় আপাতত দেইর আল-বালাহেই ভোট আয়োজন করা হয়েছে। অন্যান্য শহরের তুলনায় এখানে ক্ষয়নাশ কম থাকায় এই শহর বেছে নেওয়া হয়েছে।

    নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী দেইর আল-বালাহে পৌর নির্বাচনে নিবন্ধিত ভোটার ৭০,৪৪৯ জন। শহরজুড়ে মোট ১২টি কেন্দ্র খোলা হয়েছে; অধিকাংশ কেন্দ্রে জাতিসংঘের সহায়তায় তাবু দিয়ে ভোটকেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে।

    হামাস এই নির্বাচন বয়কট ঘোষণা করলেও রয়টার্স বলেছে, হামাসের সঙ্গে সংযুক্তি থাকা কয়েকজন ব্যক্তি এই নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। স্থানীয়রা এই ভোটকে স্বাগত জানাচ্ছেন। একজন তরুণ ভোটার, আদহাম আল-বারদিনি, রয়টার্সকে বলেছেন, “আমি জন্মের পর থেকে কেবল শুনেছি যে নির্বাচন হয়। আজ নিজের চোখে দেখলাম নির্বাচন কী—এটা আমাদের জন্য বড় এক মুহূর্ত।” তিনি যোগ করেছেন, “আমরা অংশ নিতে চাই, কারণ এখন যে বাস্তবতা আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল—আমরা তা বদলাতে চাই। ”

    রয়টার্স

  • ইরান বলছে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ থেকে সম্মানজনক প্রস্থানের পথ খুঁজছে

    ইরান বলছে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ থেকে সম্মানজনক প্রস্থানের পথ খুঁজছে

    ইরান দাবি করেছে যে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ থেকে সম্মানজনকভাবে বেরিয়ে যাওয়ার পথ খুঁজছে। পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার আগে তেহরান এই বক্তব্য জানিয়েছে।

    সোমবার নয়, শনিবার — ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেশটির সামরিক সক্ষমতা এখন এক প্রভাবশালী শক্তিতে পরিণত হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র যোগ করেছেন, ‘‘শত্রুপক্ষ বর্তমানে যুদ্ধে এমন এক চোরাবালিতে আটকে পড়েছে যেখান থেকে তারা মানসম্মান নিয়ে বাঁচিয়ে পালানোর পথ খুঁজছে।’’ বিবৃতিটি এমন সময় প্রকাশ করা হলো যখন আলোচনা শুরুর অপেক্ষায় দুই পক্ষের প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদে যাচ্ছে।

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল ইতোমধ্যে ইসলামাবাদে পৌঁছেছে এবং সেখানে দ্বিতীয় দফার আলোচনা অংশগ্রহণ করবেন বলে জানানো হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিনিধি হিসেবে স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারও ইসলামাবাদে যাচ্ছেন।

    তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে সরাসরি বৈঠকের সম্ভাবনা কম। একই সঙ্গে শনিবার আদৌ কোন আলোচনা হবে কিনা সেটিও স্পষ্ট নয়। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে তাদের পাঠানো প্রতিনিধি দল শিগগিরই (শনিবার) ইসলামাবাদে পৌঁছাবে।

    তেহরান জানিয়েছে যে আরাঘচি ইসলামাবাদে যাত্রা করেছেন ত্রিদেশীয় আঞ্চলিক সফরের অংশ হিসেবে এবং বর্তমানে তার সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধিদের সরাসরি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সম্ভাবনা নেই।

    সূত্র: এএফপি

  • ফ্লোরিডায় নিখোঁজ নাহিদা ‘মারা গেছেন’ দাবি ভাইয়ের; আরেক শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার

    ফ্লোরিডায় নিখোঁজ নাহিদা ‘মারা গেছেন’ দাবি ভাইয়ের; আরেক শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার

    যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে নিখোঁজ থাকছেন বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা (বৃষ্টি)। তার পরিবার—বিশেষত ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত—ফেসবুক পোস্টে দাবি করেছেন, পুলিশ তাদের জানিয়েছে নাহিদা মারা গেছেন।

    শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে ফেসবুকে দেয়া পোস্টে প্রান্ত লিখেছেন, ‘আমাদের বোন আর আমাদের মাঝে নেই, ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।’ বিবিসি বাংলাকে প্রান্ত বলেন, পুলিশ তাকে ফোন করে মৃত্যুর খবর জানায়। তিনি বলেন, বাসার ভেতরে রক্তে ভেজা একটি মৃতদেহের অংশের সঙ্গে ডিএনএ মিল পেয়েছে। তবে কি পূর্ণাঙ্গ মরদেহ পাওয়া যাবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়—এই তথ্যও প্রান্ত জানিয়েছেন।

    হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় যে ভিডিও প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড সেতু এলাকায় তল্লাশি কাজ চলছে এবং ডুবুরি দল সেতুর আশপাশের পানিতে অনুসন্ধান চালাচ্ছে।

    পূর্বে নিখোঁজ আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল হাসান লিমনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) হিলসবোরোর আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ফ্লোরিডার টাম্পার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ থেকে জামিলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

    নিহত জামিল ছিলেন ইউএসএফ (ইউনিভার্সিটি অফ সাউথ ফ্লোরিডা)-এর ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি শিক্ষার্থী। নাহিদা কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং–এ পিএইচডি করছিলেন। তাদের দুজনকেই সর্বশেষ ১৬ এপ্রিল দেখা গিয়েছে বলে পরিবার জানিয়েছে।

    জামিল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একটি অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে শেরিফের দফতর জানিয়েছে। পুলিশ গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম হিশাম আবুঘরবেহ বলে উল্লেখ করেছে। তার বিরুদ্ধে প্রমাণ নষ্ট করা এবং অনুমোদনহীনভাবে মরদেহ সরানো বা লুকানোর মতো অভিযোগ আনা হয়েছে।

    শেরিফের দফতর জানায়, গ্রেফতার হিশামের বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, সাধারণ প্রহার, কাউকে অনায়ে আটক রাখা, তথ্য-প্রমাণ নিধনের চেষ্টা, পুলিশের কাছে কারও মৃত্যুর খবর না জানানো ও বেআইনি ভাবে মৃতদেহ সরানো বা নাড়াচাড়া করার মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ পদক্ষেপ হিসেবে করা হয়েছে।

    এই দুই শিক্ষার্থীর নিখোঁজ ও একের মৃত্যুর খবরে ফ্লোরিডায় থাকা প্রবাসী সমাজে শোক এবং উদ্বেগের ছায়া নেমে এসেছে। কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত ঘটনার অন্যান্য তথ্য প্রকাশ করেছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। পরিবার ও কমিউনিটির মানুষ দ্রুত এবং পুরো সত্য উদঘাটনের প্রত্যাশা করছে।

  • ২০ বছর পর দেইর আল-বালাহে স্থানীয় নির্বাচন শুরু

    ২০ বছর পর দেইর আল-বালাহে স্থানীয় নির্বাচন শুরু

    ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার দেইর আল-বালাহ শহরে শনিবার সকাল থেকে পৌরসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। এটি গাজায় দুই দশক ধরে প্রথম কোনো নির্বাচন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    গাজায় সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছিল ২০০৬ সালের ২৫ জানুয়ারি। সেই নির্বাচনে সামাজিক-রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতাসীন হয়েছিল সশস্ত্র ইসলামি গোষ্ঠী হামাস। ক্ষমতায় বসার পর ২০০৭ সালে গাজা থেকে প্রতিপক্ষ ফাতাহকে বিতাড়িত করে হামাস মূলত একতরফা শাসন চালায় এবং পরোক্ষভাবে দীর্ঘদিন যাবৎ উপত্যকায় কোনো নির্বাচন হয়নি।

    রয়টার্সসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর দু’বছরের তীব্র সামরিক অভিযানের পর ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়। ওই যুদ্ধবিরতির এক শর্তে গাজার আধাসামরিক বা রাজনৈতিক শাসন তুলে দিয়ে অরাজনৈতিক একটি টেকনোক্র্যাট প্রশাসন গঠনের কথা বলেছিল বলে রিপোর্টে উল্লেখ আছে। কয়েক মাস আগে সে ধরনের একটি টেকনোক্র্যাট সরকার গঠিত হয় এবং তার অধীনে এই স্থানীয় নির্বাচন আয়োজন করা হচ্ছে।

    পশ্চিম তীরের সরকারে অংশ নেওয়া ফিলিস্তিনি জাতীয় কর্তৃপক্ষ (পিএ) ও তার জোট এই নির্বাচনের মাধ্যমে গাজার রাজনীতিতে পুনরায় প্রবেশের সুযোগ হিসেবে এটি দেখে। ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কিছু দেশের সরকারও গাজার এই স্থানীয় নির্বাচনের পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে এসেছে। তাদের মতে, নির্বাচিত স্থানীয় প্রতিনিধিত্ব শক্তিশালী হলে ফিলিস্তিনি স্বশাসন ও ভবিষ্যত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়াও ত্বরান্বিত হবে।

    কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, দেইর আল-বালাহে নির্বাচন সফল হলে পুরো গাজায় নির্বাচনের সুযোগ ফিরে আসতে পারে এবং দুই দশক পর নির্বাচিত সরকার গঠনের সম্ভাবনা জোরালো হতে পারে।

    গাজার তত্ত্বাবধায়ক টেকনোক্র্যাট প্রশাসন এবং নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে তারা চাইছিল পুরো উপত্যকাতেই স্থানীয় নির্বাচন করাতে, কিন্তু ইসরায়েলি অভিযান শেষে শহরগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ায় ও মलबা-পতন এখনও অপসারণ না হওয়ায় আপাতত এই শহরটিকেই নির্বাচনমঞ্চ হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। দেইর আল-বালাহে অন্যান্য শহরগুলোর তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম ক্ষতি হয়েছে বলে কমিশন জানিয়েছে।

    নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেইর আল-বালাহ পৌর নির্বাচনে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা ৭০,৪৪৯। শহরজুড়ে ১২টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছে; বেশিরভাগ কেন্দ্রই জাতিসংঘের সহায়তায় তাবু স্থাপন করে করা হয়েছে।

    হামাস এই নির্বাচন বয়কট ঘোষণা করেছে, তবে রয়টার্স বলেছে—হামাসের সঙ্গে সম্পর্কিত কয়েকজন ব্যক্তি এ প্রক্রিয়ায় প্রার্থী হয়েছেন।

    স্থানীয়রা সাধারণত এই নির্বাচনকে স্বাগত জানাচ্ছে। এক ভোটার, আদহাম আল-বারদিনি, রয়টার্সকে বলেছেন, “আমি জন্মের পর থেকে নির্বাচন কথাটা শুনে এসেছি; আজ নিজের চোখে দেখতে পারলাম নির্বাচন কী ও কেমন হয়।” অন্যরা বলছেন, দীর্ঘ সময়ে চাপিয়ে দেওয়া বাস্তবতার পরিবর্তনের প্রত্যাশা তাদের ভোটে অংশ নেওয়ার কারণ।

    রয়টার্সকে উল্লিখিত সূত্রের তথ্যকে চিকিৎসা করে এই প্রতিবেদন আয়োজন করা হয়েছে।

  • ইরান-যুক্তরাষ্ট্র জাহাজ জব্দে সাগরে উত্তেজনা, নতুন ‘জাহাজ যুদ্ধ’ বিষয়ে শঙ্কা

    ইরান-যুক্তরাষ্ট্র জাহাজ জব্দে সাগরে উত্তেজনা, নতুন ‘জাহাজ যুদ্ধ’ বিষয়ে শঙ্কা

    মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত জলসীমায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি জাহাজ জব্দের ঘটনা আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে অতিরিক্ত উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ওমান সাগর থেকে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ জব্দ করার কয়েক দিনের মধ্যেই ওয়াশিংটনও পালটা পদক্ষেপ হিসেবে দুটি তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করে, যেগুলোতে গণনায় প্রায় ৩৮ লাখ ব্যারেল ইরানি তেল থাকার দাবি করা হয়েছে। এই ঘটনার পর অনেকেই এটিকে ‘জাহাজ যুদ্ধের’ নতুন অধ্যায় বলে অভিহিত করছেন।

    কি ঘটেছে — সংক্ষেপে

    ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী দুইটি জাহাজ জব্দ করেছে — ‘এমএসসি ফ্রান্সেসকা’ ও ‘এপামিনন্ডাস’। কর্তৃপক্ষ বলেছে, এসব জাহাজকে তাদের উপকূলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এর কয়েক দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে যে তারা সমুদ্রে থাকা দুটি ট্যাংকার হেফাজতে নিয়েছে যেগুলোতে ইরানি তেল ছিল। এই দাবিগুলো এখনো কূটনৈতিক তথা আন্তর্জাতিক পরিপ্রেক্ষিতে তর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

    জাহাজ ও ক্রু সম্পর্কে জানা তথ্য

    এপামিনন্ডাস: লাইবেরিয়ার পতাকা বহনকারী এবং গ্রিক মালিকানাধীন এই জাহাজে মোট ২১ জন ক্রু আছেন। গ্রিক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, ক্রুদের মধ্যে ইউক্রেনীয় ও ফিলিপিনো নাগরিক রয়েছেন এবং জাহাজটি ভারতের কোনো বন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করছিল।

    এমএসসি ফ্রান্সেসকা: পানামার পতাকা বহনকারী এই জাহাজের মালিক বিশ্বের বৃহত্তম শিপিং কোম্পানি মেডিটেরেনিয়ান শিপিং কোম্পানি (এমএসসি)। জানা গেছে, ক্যাপ্টেনসহ তিনজন নাবিক মন্টেনেগ্রোর এবং অন্তত দুজন ক্রু ক্রোয়েশিয়ার নাগরিক। এমএসসি অন্যান্য ক্রুদের পরিচয় প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক জানিয়েছে।

    সব সংশ্লিষ্ট দেশের (গ্রিস, ক্রোয়েশিয়া, মন্টেনেগ্রো) সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যেসব ক্রু চিহ্নিত করা গেছে তারা নিরাপদ রয়েছেন। তেহরান ও সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসগুলোর মধ্যে মুক্তির বিষয়ে আলোচনা চলছে, কিন্তু এখনো কোন চূড়ান্ত সাফল্য চোখে পড়ছে না।

    যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ ও হুঁশিয়ারি

    এই ঘটনার জবাবে ওয়াশিংটন কড়া অবস্থান নিয়েছে এবং বলেছে যে তারা সমুদ্রে থাকা কিছু ট্যাংকার হেফাজতে নিয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা অভিযোগ করছেন, ওই ট্যাংকারগুলোতে ইরানি উৎসের বিশাল পরিমাণ তেল ছিল। পাশাপাশি মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের সিদ্ধান্তে সমুদ্রে আটকে থাকা ইরানি তেলের ওপর যে স্বল্পমেয়াদি ছাড় বা অনুমোদন ছিল তা আর নবায়ন করা হবে না — ফলে কয়েক দিনের মধ্যেই ওই তেলের ওপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

    মার্কিন নেতৃস্থানীয় কর্মকর্তারা তৃতীয় পক্ষের প্রতি কড়া হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন: তারা বলেছেন, যারা ইরান থেকে তেল ক্রয় করলে তাদের বিরুদ্ধে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা হতে পারে। কিছু বিশ্লেষক এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘গ্রেট প্রেশার’ কৌশলের ধারাবাহিকতা হিসেবেই দেখছেন।

    ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও বিশ্লেষক মতামত

    জাহাজ ট্র্যাকিং ডেটা এবং পূর্বের নজির বিশ্লেষণ করলে বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই তেলের ভবিষ্যৎ কোথাও বড় বন্দরে খালাস হয়ে যেতে পারে—কখনও কখনও তা যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলে পর্যন্ত চালান হতে দেখা গেছে। গত ডিসেম্বরে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সংক্রান্ত একটি ঘটনার কারণে টেক্সাসের হিউস্টন বন্দরে তেল বাজেয়াপ্ত করার ঘটনাও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

    বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খলে প্রভাব

    আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্য ও শিপিং বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, পারস্য উপসাগর ও লোহিত সাগরীয় রুটে জাহাজ জব্দের এই পাল্টাপাল্টি রাজনীতি বিশ্বস্ত সরবরাহ চেইনে বড় ধরণের ব্যাঘাত ডেকে আনতে পারে। বিমা কোম্পানিগুলো ঝুঁকি মূল্যায়ন করে নৌবিমার প্রিমিয়াম বাড়াতে পারে, ফলে বাণিজ্যিক জাহাজ চালানোর খরচ বেড়ে যাবে। জাহাজগুলো নিজেদের পথ পরিবর্তন করলে পণ্য ভারত ও দক্ষিণ এশিয়া এবং ইউরোপে পৌঁছাতে দেরি হবে — যার প্রভাব সরাসরি ভোক্তা মূল্যে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

    কূটনৈতিক সমাধানের প্রয়োজন

    বর্তমান উত্তেজনা কূটনীতি ও সমঝোতার মাধ্যমে সামাল না দিলে সামুদ্রিক বণিকিং ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা আরও ঝুঁকিতে পড়বে বলে বিশেষজ্ঞরা ভাবছেন। ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোকে দ্রুত কূটনৈতিক চ্যানেলে বসে সমস্যা নিরসনে উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে, নাহলে সামুদ্রিক বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে।

  • হরমুজ প্রণালিতে মিত্রদের জন্য ফি মওকুফ ঘোষণা ইরান

    হরমুজ প্রণালিতে মিত্রদের জন্য ফি মওকুফ ঘোষণা ইরান

    ইরান হরমুজ প্রণালিতে চলাচলের জন্য মিত্র দেশগুলোর ওপর আরোপযোগ্য যাতায়াত ফি বা টোল মওকুফ করেছে বলে জানিয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা রিয়া নভোস্তির প্রতিবেদনে মস্কোতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালির সেই ঘোষণা তুলে ধরা হয়েছে।

    জালালি সংবাদ সংস্থাকে বলেছেন, “রাশিয়াসহ আমাদের মিত্রদের জন্য আমরা বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা করে ফেলেছি। তবে ভবিষ্যতে কী ঘটবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।” তিনি আরও জানিয়েছেন যে এ সময়কালীন সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মিত্র দেশগুলো যাতে অতিরিক্ত কোনো ব্যয় বা অনাবশ্যক বাধা ছাড়াই এই কৌশলগত জলপথ ব্যবহার করতে পারে তা নিশ্চিত করা।

    ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনই এসব সুবিধাভোগী দেশগুলোর তালিকা ও সম্পর্কিত শর্তাদি পর্যালোচনা করছে বলে জালালি জানিয়েছেন। উদাহরণ হিসেবে রাশিয়া উল্লেখ করে তিনি বলেন, মস্কো ও অন্য ঘনিষ্ঠ মিত্রদের বাণিজ্যিক ও অন্যান্য জাহাজ যেন হরমুজ প্রণালি দিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারে, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

    এই ঘোষণাটি ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার সময়ে এসেছে; বিশেষত যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত সামুদ্রিক অবরোধ ও চলমান কূটনৈতিক চাপের প্রেক্ষাপটে এ সিদ্ধান্তকে কৌশলগতভাবে গুরুত্ববান এখনও বিশ্লেষকরা। ইরানের এই পদক্ষেপ একদিকে মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার সংকেত দিচ্ছে, অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিতে তেহরানের নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব প্রদর্শন করছে বলে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

    উল্লেখ্য, আগে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর টোল আদায়ের ঘোষণা দিয়েছিল, যা যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধের জবাব হিসেবে দেখা হয়েছিল। কিন্তু ঘনিষ্ঠ মিত্রদের জন্য এই ফি মওকুফ করা এখনকার ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এর মাধ্যমে ইরান কৌশলগতভাবে মিত্রদের কাছ থেকে সমর্থন ধরে রাখতে এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম বজায় রাখার চেষ্টা করছে।

  • ইরান–যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি জাহাজ জব্দ: সাগরে উত্তেজনা তীব্র

    ইরান–যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি জাহাজ জব্দ: সাগরে উত্তেজনা তীব্র

    মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত জলসীমায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে জাহাজ জব্দের পাল্টাপাল্টি ঘটনায় আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) কয়েক দিনের মধ্যে দুটি বিশাল বাণিজ্যিক কার্গো জাহাজ জব্দ করার পর ওয়াশিংটনও পাল্টা পদক্ষেপ জানিয়েছে — যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে তারা ৩৮ লাখ ব্যারেল ইরানি তেলসহ দুটি ট্যাংকার হেফাজতে নিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা এই প্রতিক্রিয়াকে ‘জাহাজ যুদ্ধের’ নতুন ধাপ হিসেবে দেখছেন।

    ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ওমান সাগর থেকে ‘এমএসসি ফ্রান্সেসকা’ ও ‘এপামিনন্ডাস’ নামক দুটি জাহাজ জব্দ করেছে। এপামিনন্ডাসটি লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী এবং গ্রিক মালিকানাধীন; জাহাজটিতে ২১ জন ক্রু রয়েছে। গ্রিক কোস্টগার্ড তথ্য অনুযায়ী, ক্রুদের মধ্যে ইউক্রেনীয় ও ফিলিপিনো নাগরিক রয়েছেন এবং জাহাজটি ভারতের কোনও বন্দরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল।

    এমএসসি ফ্রান্সেসকা পানামার পতাকাবাহী; এটি বিশ্বের বৃহত্তম শিপিং প্রতিষ্ঠান মেডিটেরেনিয়ান শিপিং কোম্পানি (এমএসসি)-র মালিকানাধীন। জাহাজটিতে ক্যাপ্টেনসহ তিন নাবিক মন্টেনেগ্রো থেকে এবং অন্তত দুজন ক্রু ক্রোয়ােশিয়ার নাগরিক বলে জানা গেছে। এমএসসি কর্তৃপক্ষ অন্য ক্রুদের পরিচয় প্রকাশ করতে অস্বীকার করেছে।

    গ্রিস, ক্রোয়ােশিয়া ও মন্টেনেগ্রো সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জাহাজগুলোর ক্রু সদস্যরা বর্তমানে নিরাপদ আছেন। তেহরান ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দূতাবাসের মধ্যে মুক্তি সংক্রান্ত আলোচনা চলছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত ফল জানানো হয়নি।

    ওই একই সময়ে ওয়াশিংটন দাবি করেছে, গত কয়েক দিনে তারা দুটি তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করেছে, যেগুলোতে মোট ৩৮ লাখ ব্যারেল ইরানি তেল ছিল—এই দাবিটি আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন আইনগত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র পরে তেলের বিক্রির জন্য যে বিশেষ স্বল্পমেয়াদি ছাড় আরোপ করেছিল তা আর নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে; ফলে সমুদ্রে আটকে থাকা ওই তেলের ওপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ দ্রুত কার্যকর হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, কোন দেশ বা কোম্পানি যদি ইরান থেকে তেল কেনে তারা কড়া নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়বে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গত জানুয়ারির শুরুর দিকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে আটক করার পর থেকে ইরানের ওপর এই চাপ অক্ষেত্রে ‘গ্রেট প্রেশার’ কৌশলেরই অংশ।

    জাহাজ ট্র্যাকিং ডেটা ও অতীতের নজির বিশ্লেষণ করে কিছু বিশ্লেষক বলছেন, জব্দ করা তেলটির ভবিষ্যৎ সম্ভবত টেক্সাসের মতো কোনো মার্কিন বন্দরে খালাস হতে পারে—গত ডিসেম্বরে ভেনেজুয়েলার তেলবাহী জাহাজ ‘দ্য স্কিপার’-কে টেক্সাসে নিয়ে গিয়ে সেটি বাজেয়াপ্ত করাই এর প্রাসঙ্গিক উদাহরণ।

    আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, পারস্য উপসাগর থেকে লোহিত সাগরীয় এলাকায় এই ধরণের পাল্টাপাল্টি জাহাজ জব্দ বিশ্বজুড়ে সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর বিমা প্রিমিয়াম কয়েকগুণ বাড়তে পারে এবং নিরাপত্তার কারণে জাহাজগুলোকে দীর্ঘ পথ পরিক্রমা করতে হয়েছে—ফলশ্রুতিতে দক্ষিণ এশিয়া, বিশেষ করে ভারত, ও ইউরোপে পণ্য পৌঁছাতে বিলম্ব সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    এই উত্তেজনার মধ্যে কূটনৈতিক চেষ্টা চলছে, কিন্তু এখনই পরিস্থিতি কোনোভাবেই শিথিল হলো না — সমুদ্রপথে শত্রুভাব চালিয়ে গেলে বৈশ্বিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা আরো বাড়বে বলে বিশ্লেষকরা জানাচ্ছেন।

  • ইরান হরমুজ প্রণালী থেকে ভারতগামী দুই জাহাজ জব্দের ভিডিও প্রকাশ

    ইরান হরমুজ প্রণালী থেকে ভারতগামী দুই জাহাজ জব্দের ভিডিও প্রকাশ

    ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালিতে ভারতগামী দুইটি জাহাজ জব্দের একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। জব্দ হওয়া জাহাজ দুটি হলো ‘ইপামিনোন্ডাস’ ও ‘এমএসসি ফ্রান্সেসকা’।

    প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, ইরানি পতাকাবাহী দ্রুতগতির স্পিডবোট জাহাজগুলোর দিকে এগিয়ে আসে। পরে মুখোশধারী ও অস্ত্রধারী নৌসেনারা এই জাহাজগুলোতে উঠে নিয়ন্ত্রণ নেন। ভিডিওতে ওই অভিযানটি দ্রুত ও তৎপরতার সঙ্গে পরিচালিত হওয়ার দৃশ্য ধরা পড়েছে।

    ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল-সংযুক্ত সংবাদমাধ্যম নূর নিউজ জানিয়েছে, সতর্কবার্তা উপেক্ষা করায় ‘ইপামিনোন্ডাস’কে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। এক সময় ‘ইউফোরিয়া’ নামের আরেকটি জাহাজও নিশানায় পড়লে তা থেমে যায়। খবরটিতে বলা হয়েছে, একই পরিস্থিতিতে ‘এমএসসি ফ্রান্সেসকা’-কেও লক্ষ্যমাত্রা করা হয়েছিল।

    আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে হরমুজ প্রণালিতে নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে ওই দুইটি জাহাজ শনাক্ত করে থামিয়ে দেয়া হয়। সংস্থাটি দাবি করেছে যে ‘এমএসসি ফ্রান্সেসকা’ ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট মালিকানাধীন এবং ‘ইপামিনোন্ডাস’ নেভিগেশন ব্যবস্থায় কারসাজির মাধ্যমে সমুদ্র নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলে চলছিল।

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হরমুজ প্রণালিতে আরোপিত বিধিনিষেধ অমান্য করা বা নিরাপদ নৌচলাচল ব্যাহত করার যেকোনো প্রচেষ্টাকে কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।

    বিশ্ববাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে জাহাজ জব্দের ঘটনা আন্তর্জাতিক সমুদ্রসচেতনতা ও বাণিজ্যিক যানবাহনের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এ নিয়ে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া কেমন হবে তা পরবর্তী সময়ে পরিষ্কার হবে।