Category: আন্তর্জাতিক

  • যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন: লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ১৩ জন নিহত

    যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন: লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ১৩ জন নিহত

    লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগে আজ ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে ১৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন। নাবাতিয়েহ জেলার হাব্বুশ এলাকায় শুক্রবারে এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নয়জন নিহত হন এবং আরও অন্তত ১০ জন গুরুতরভাবে আহত হন। আহতদের মধ্যে একজন নারী ও একটি শিশু রয়েছেন।

    লেবাননের সরকার বলেছে যে টাইর শহর ও এর আশপাশের কয়েকটি এলাকায় একই সময়ে সংঘঠিত হামলায় আরও চার জনের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও এবতাসি সূত্রে পাওয়া তথ্যে হতাহত ও নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে।

    আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুসারে, গত ২ মার্চ থেকে চলতি ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে নিহতের সংখ্যা এখন ২৬০০ ছাড়িয়েছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে কারণ এ হামলা একই সময়ে অহরহ প্রতিশোধ ও পাল্টা হামলার চক্রকে জোরদার করছে।

    সূত্রের খবরে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের মধ্যভূমিতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর হামলার পরে তেহরানসমর্থিত শিয়াগোষ্ঠী হিজবুল্লাহ পাল্টা আঘাত করে। এর জবাবে তেল আবিব ভূমি ও আকাশে বৈরুতসহ লেবাননের বিস্তীর্ণ এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা শুরু করে।

    সংঘর্ষের তীব্রতায় এ পর্যন্ত প্রায় ৮ লাখ মানুষ তাদের বাড়িঘর ছেড়ে আশ্রয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। সেখানে মোতায়েন জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে, এবং বিষয়টি নিয়ে ফ্রান্সসহ বিশ্বের প্রায় ৩০টি দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

    আগে গত ১৬ এপ্রিল এক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যাতে দুই পক্ষের সাধারণ মানুষ নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারবে বলে বলা হয়েছিল। তবুও সাম্প্রতিক হামলার ফলে সেই আপোশ সতর্ক সংকেতের মধ্যে পড়েছে এবং হতাহতের ঘটনা আবারও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান-ইসরায়েল-আমেরিকা সম্পর্ক ও মধ্যপ্রাচ্যের ভৌগলিক-রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় লেবাননে আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত উত্তেজনা কমবে না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও তৎপরতার প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভূত হচ্ছে।

  • হরমুজ অবরোধে সতর্ক সংকেত: বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকটের আশঙ্কা

    হরমুজ অবরোধে সতর্ক সংকেত: বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকটের আশঙ্কা

    ইরান-ইসরাইল ও মার্কিন সংঘাতে হরমুজ প্রণালী কৌশলগতভাবে বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্বের রাসায়নিক সার সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। তেল ও গুরুত্বপূর্ণ চালানগুলোর প্রধান পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সার আমদানি-রপ্তানি প্রায় পুরোপুরি আটকে পড়েছে, ফলে বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি হচ্ছে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, সার সরবরাহ না হলে বিশ্ববাজারে সারদর দ্রুত বাড়বে এবং তীব্র ঘাটতিও দেখা দেবে। এই ঘাটতি কৃষিতে সরাসরি প্রভাব ফেলবে; তাদের হিসাব অনুযায়ী বিশ্বব্যাপী ফসলের উৎপাদন কয়েক অঞ্চলে প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। উৎপাদন কমলেই তা ঘরে-বাইরে কৃষিপণ্যের দামে তীব্র উঠতি চাপ সৃষ্টি করবে।

    রাষ্ট্রসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)-র প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো টোরেরো আল জাজিরাকে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, পরিস্থিতি প্রতিদিনই জটিল হয়ে উঠছে। সারঝুঁটির ফলে অনেক দেশের নির্দিষ্ট বীজবপনের সময়সীমা হারানো শুরু হয়েছে — বিশেষ করে এশিয়ার বেশ কিছু দেশে ইতিমধ্যেই ফসল বোনার অনুকূল সময় শেষ হয়ে গেছে। সময়োপযোগী সার না পেলে তারা প্রয়োজনীয় কাজগুলো করতে পারবে না, যা পরবর্তী ফসলের ফলনকে মারাত্মকভাবে কমিয়ে দেবে।

    টোরেরো উল্লেখ করেন, বড় রপ্তানিকারক দেশগুলো—যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিল—অবশ্যই পরিস্থিতি মোকাবেলায় তাদের চাষাবাদের ধরনে পরিবর্তন আনতে পারে। সারের অভাবে তারা গম ও ভুট্টা কমিয়ে সয়াবিনের মতো ফসলের দিকে ঝুঁকতে পারে, কারণ সয়াবিন মাটিতে নাইট্রোজেন ধরে রাখতে সহায়তা করে এবং পরবর্তী চাষে সার প্রয়োজন কমায়।

    আরও একটি জটিলতা হলো জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রভাব। অপরিশোধিত তেলের দর বাড়লে কৃষকরা উৎপাদিত ফসল খাবার হিসাবে না রেখে জৈব জ্বালানি বা বায়োফুয়েল তৈরিতে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এমন পরিবর্তন খাদ্য সরবরাহকে আরও সংকীর্ণ করবে এবং খাদ্যের ওপর মূল্যচাপ বাড়াবে।

    অর্থনীতিবিদ টোরেরো সতর্ক করে বলেন, ইতিমধ্যে গম ও সয়াবিনের দাম বিশ্ববাজারে বাড়তে শুরু করেছে; চলতি বছরের শেষার্ধে এই প্রবণতা আরও স্পষ্ট হবে এবং আগামী বছরে কৃষিপণ্যের দাম একটি বড় লাফে উপরে যেতে পারে। খাদ্য ও জ্বালানির মূল্য একসঙ্গে বাড়লে বিশ্বের প্রধান অংশে মূল্যস্ফীতি তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী হবে।

    বিশ্বজুড়ে খাদ্য নিরাপত্তা রক্ষায় দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ না হলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ঝুঁকি আরও ঘনীভূত হবে। সরবরাহশৃঙ্খল সরিয়ে নেওয়া, ভাণ্ডার তৈরি ও প্রয়োজনীয় সরবরাহ চ্যানেল খোলা রাখার ওপর নীতিনির্ধারকদের তৎপর হবার আহ্বান করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

    সূত্র: আল জাজিরা।

  • যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন: লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ১৩ জন নিহত

    যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন: লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ১৩ জন নিহত

    লেবাননের নাবাতিয়েহ জেলার হাব্বুশ ও টাইরসহ কয়েকটি এলাকায় শুক্রবার ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত ও বহু আহত হয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারি সূত্র জানিয়েছে, নাবাতিয়েহর হাব্বুশ এলাকায় একক হামলায় নয়জন মারা গেছে এবং আরও অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন; আহতদের মধ্যে একজন নারী ও একটি শিশু রয়েছেন।

    লেবাননের সরকার জানিয়েছে, টাইর জনপদ ও আশপাশের কয়েকটি এলাকায় পৃথক হামলায় আরও চারজন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনা মিলিয়ে সোমবার পর্যন্ত লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় মৃতের সংখ্যা ১৩-এ পৌঁছেছে।

    আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া নতুন আবাদের পরে লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় মৃতের মোট সংখ্যা ২৬০০ ছাড়িয়েছে — চলমান সংঘর্ষে হতাহতের ধাক্কাও ক্রমাগত বেড়েই চলেছে।

    পটভূমি হিসেবে উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের মাটিতে ইসরায়েলি হামলার পর তেহরান-সমর্থিত শিয়াগোষ্ঠী হিজবুল্লাহ প্রত্যাঘাত চালায়। জবাবে তেলআবিব থেকে লেবাননের প্রধান শহর বৈরুতসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা অব্যাহত রাখে। এসব উপদ্রবে এখন পর্যন্ত প্রায় ৮ লাখ মানুষ ঘরছাড়া হয়েছে, বলে সরকারি ও জাতিসংঘ সূত্র জানিয়েছে।

    সংকটের মধ্যে লেবাননে মোতায়েন জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তার প্রশ্নও উত্থাপিত হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ফ্রান্সসহ বিশ্বের তিন দিনেরও বেশি সংখ্যক দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। পরিস্থিতি শান্ত রাখার জন্য গত ১৬ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মাধ্যমে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করা হয়েছিল; তাতে সাধারণ নাগরিকদের নিরাপদে ফিরে আসার সুযোগ করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।

    তবে যুদ্ধবিরতি ভেঙে এধরনের আঘাত নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। ইরান বারবার বলেছে, যদি সমঝোতা চাইলে লেবাননে ইসরায়েলের আগ্রাসন বন্ধ করতে হবে; সেই দাবিকে কেন্দ্র করে কোনো পক্ষের নতুন হামলা‐প্রতিহামের ঘটনা ঘটলে পরিস্থিতি দ্রুত সংকটগ্রস্ত হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন।

    উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় হামাস ও ইসরায়েলের সংঘাত দ্রুত পরিধি বাড়ায় এবং দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহ তেল আবিবের বিরুদ্ধে সক্রিয় হয়; এরপর ব্যাপক সংঘর্ষ চলে। এক বছর ধরে চলা উত্তেজনার পরে আমেরিকা ও ফ্রান্সের মধ্যস্থতায় গত বছর গোড়ায় প্রয়োজনভিত্তিক ও সাময়িক যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে কিছুটা স্থিতিশীলতা আসে। কিন্তু সাম্প্রতিক হামলার ফলে ওই শান্তি ফের অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

  • বাংলাদেশ–ভারত: পূর্ণমাত্রায় ভিসা সেবা পুনরায় চালুর পথে

    বাংলাদেশ–ভারত: পূর্ণমাত্রায় ভিসা সেবা পুনরায় চালুর পথে

    প্রায় দেড় বছর সংগ্রাম পর সীমিত হওয়া কূটনীতিক যোগাযোগ মেরামতের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও ভারত এখন পূর্ণমাত্রায় ভিসা সেবা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। শনিবার (২ মে) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে এই খবর জানানো হয়।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য সব ধরনের ভিসা পুনরায় চালু করেছে এবং ভারতের পক্ষ থেকে ধাপে ধাপে ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশি কর্মকর্তারা বলছেন এই পদক্ষেপ দুদেশের সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

    সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ভারতের সফরে ভিসা স্বাভাবিকীকরণকে ঢাকার অন্যতম প্রধান অগ্রাধিক্য হিসেবে তুলে ধরেন। সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, বর্তমানে নয়াদিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশনসহ কলকাতা, আগরতলা, মুম্বই ও চেন্নাইর ভিসা কেন্দ্রগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু রয়েছে।

    দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে জানান, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে সাময়িকভাবে ব্যাহত হওয়া ভিসা কার্যক্রম ফেব্রুয়ারি থেকেই পুনরায় শুরু হয়েছে। ওই সময়ে প্রায় ১৩ হাজার ভারতীয় নাগরিককে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে—ব্যবসা, পর্যটন, চিকিৎসা ও পারিবারিক ভ্রমণ—ভিসা দেওয়া হয়েছে।

    দুই দেশের কূটনৈতিক মোড় ঘোরানোয়ার অংশ হিসেবে গত ফেব্রুয়ারিতে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বিক্রম মিশ্রিসহ ঢাকা সফর করেন এবং কর্মকর্তারা বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় অংশ নেন। ওই সফরে ভিসা ব্যবস্থার স্বাভাবিককরণ বিষয়ে সমন্বয় বাড়ানো হয়।

    প্রতিবেদনে পুরানা প্রসঙ্গও উল্লিখিত হয়েছে — ২০২৪ সালের আগস্টে দেশের রাজনৈতিক ঘটনাবলীর ফলে দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যেই উত্তেজনা দেখা দেয় এবং পরবর্তী সময়ে কূটনৈতিক সম্পর্ক মেরামতের অভিপ্রায়ে পদক্ষেপ শুরু করা হয়। এরপর নতুন সরকার দুই দেশের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে উদ্যোগ নেয়।

    ভারতের সরকারি সূত্র জানিয়েছে, নিরাপত্তা সংশয় থাকায় তারই মধ্যে ভিসা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত ছিল, তবুও জরুরি চিকিৎসা বা পারিবারিক প্রয়োজনের কেসগুলো কেস-বাই-কেস ভিত্তিতে চালান হয়েছে এবং পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়নি। এখন ধীরে ধীরে কার্যক্রম সম্প্রসারণ করে পূর্ণমাত্রায় ভিসা সেবা পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

    ভিসা ব্যবস্থা স্বাভাবিক হলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, জ্বালানি ও অন্যান্য বহুমুখী সহযোগিতা বাড়বে বলে কূটনৈতিক মহলের দর্শন। দুই দেশের ব্যবসায়ী, পর্যটক ও পরিবারের জন্য যাতায়াত সহজ হলে পারস্পরিক যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • যুদ্ধবিরতি ভাঙার অভিযোগ: লেবাননে ইসরায়েলের হামলায় কমপক্ষে ১৩ জন নিহত

    যুদ্ধবিরতি ভাঙার অভিযোগ: লেবাননে ইসরায়েলের হামলায় কমপক্ষে ১৩ জন নিহত

    শুক্রবার লেবাননের নাবাতিয়েহ জেলায় হাব্বুশ এলাকায় ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নয়জন নিহত হয়েছেন এবং কমপক্ষে আরও ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন এক নারী ও একটি শিশু।

    লেবানন সরকার জানায়, টায়র (টাইর) শহর ও আশপাশের কয়েকটি এলাকায় একই সঙ্গে অন্যান্য হামলায় আরও চারজন নিহত হয়েছেন, ফলে মোট হতাহতের সংখ্যা ১৩に পৌঁছেছে।

    আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বরাতে বলা হয়েছে, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই নতুন বেগে হামলায় লেবাননে নিহতের সংখ্যা ২৬০০ ছাড়িয়েছে।

    পটভূমি: গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ভূখণ্ডে ইসরায়েলি আঘাতের পর তেহরান সমর্থিত সশস্ত্র শিয়া গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ তাৎপর্যপূর্ণ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল। এরপর থেকে তেলআবিব ও হিজবুল্লাহর মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে এবং রাজধানী বৈরুতসহ লেবাননের বিস্তীর্ণ এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা শুরু হয়। এসব আঘাতের ফলে অন্তত আশি লাখেরও বেশি মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে।

    সংঘাত বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। লেবাননে মোতায়েন জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছে বিভিন্ন দেশ; ফ্রান্সসহ প্রায় ৩০টি দেশ এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

    গত ১৬ এপ্রিল একটি ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিল কর্তৃপক্ষ, যা তখন সাধারণ মানুষকে নিরাপদে অবস্থান বা বাড়ি ফেরার সুযোগ করে দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু সীমান্তে আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণের ধারা থামেনি, এবং ইরান বারবার বলেছে—কোনও সমঝোতার আগে লেবাননে ইসরায়েলের আগ্রাসন বন্ধ করতে হবে।

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমানের মতো আক্রমণ অব্যাহত থাকলে এলাকার পরিস্থিতি দ্রুত আবার উত্তপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গত ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজার বিরুদ্ধে ইসরায়েলি অভিযানের পর থেকেই দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহ তেলআবিবের বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা নিতে শুরু করেছিল এবং পরবর্তী এক বছরে সংঘর্ষের পর মধ্যস্থতায় সাময়িক যুদ্ধবিরতি আনে কয়েকটি আন্তর্জাতিক পক্ষ। তবু সাম্প্রতিক ঘটনার প্রেক্ষিতে ফের উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

  • পাকিস্তানে পাম্পে পেট্রোল-ডিজেলের দাম ছাড়ালো ৪০০ রুপি

    পাকিস্তানে পাম্পে পেট্রোল-ডিজেলের দাম ছাড়ালো ৪০০ রুপি

    পাকিস্তানে জ্বালানির দাম নতুন করে উর্ধ্বগতি নিয়েছে; পাম্পে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম কার্যত ৪০০ রুপি ছাড়িয়েছে। দেশটির সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (২৯ এপ্রিল) পেট্রোল লিটারপ্রতি ৬.৫১ রুপি এবং ডিজেল লিটারপ্রতি ১৯.৩৯ রুপি বাড়ানো হয়েছে।

    প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন মূল্য সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হচ্ছে এবং আগামী ৮ মে পর্যন্ত বহাল থাকবে। হাইস্পিড ডিজেলের (HSD) নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে লিটারপ্রতি ৩৯৯.৫৮ রুপি, যা পূর্বের ৩৮০.১৯ রুপির তুলনায় প্রায় ১৯.৩৯ রুপি বেশি। পেট্রোলের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৯৯.৮৬ রুপি, আগের ৩৯৩.৩৫ রুপির তুলনায় ৬.৫১ রুপি বাড়ল। ডিলার কমিশন ও অন্যান্য খরচ যোগ হলে পাম্পে কার্যত মূল্য ৪০০ রুপির সীমানা ছাড়িয়ে গেছে।

    সরকার ক্ষতিগ্রস্ত শ্রেণি—মোটরসাইকেল ব্যবহারকারী, কৃষক ও পরিবহনখাত—আরও চাপ না বাড়ুক বলে ভর্তুকি চালিয়ে যাচ্ছে। মোটরসাইকেলের জন্য লিটারপ্রতি ১০০ রুপি ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে এবং এটি মাসে সর্বোচ্চ ২০ লিটার পর্যন্ত প্রযোজ্য। ভর্তুকি অনুযায়ী পেট্রোলের পরিশোধ্য দাম দাঁড়ায় প্রায় ৩০০ রুপি, যা বাংলাদেশি টাকায় আনুমানিক ১৩৫ টাকার সমান।

    বৃহৎ চালান ও পরিবহনের জন্যও আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করা হয়েছে—পণ্যবাহী ট্রাকের জন্য মাসে ৭০,০০০ রুপি, বড় পরিবহনযানের জন্য ৮০,০০০ রুপি এবং আন্তঃনগর গণপরিবহনের জন্য মাসে সর্বোচ্চ ১,০০,০০০ রুপি পর্যন্ত ভর্তুকি। সরকারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে ভাড়া বাড়ানো থেকে বিরত থাকতে হবে এবং পরিবহন খাতের ওপর নজরদারি জোরদার করা হবে।

    অর্থনৈতিক কারণ হিসেবে সরকার বলছে, এই মূল্যসমন্বয় আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থা আইএমএফ-এর সঙ্গে সমন্বয়ক্রমে করা হচ্ছে। বর্তমান অর্থবছরে পেট্রোলিয়াম লেভি (শুল্ক) থেকে ১.৪৬৮ ট্রিলিয়ন রুপি আদায় করা সরকারের লক্ষ্য।

    তবে সাধারণ জনগণ ও বিশেষত পরিবহনখাত ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি প্রভাব অনুভব করবে, কারণ পরিবহনে ডিজেলের বহুল ব্যবহার সরাসরি জিনিসপত্রের পরিবহন খরচ বাড়ায় এবং মূল্যস্ফীতি ত্বরান্বিত করতে পারে।

    একই সময়ে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) এক বিশ্লেষণে সতর্ক করেছে যে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত পাকিস্তানের অর্থনীতিতে ১০ থেকে ৬৮ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ক্ষতি করতে পারে এবং এর ফলে মূল্যস্ফীতি ১৫–১৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া কাতার থেকে এলএনজি সরবরাহ হ্রাস পাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিঘ্ন হচ্ছে, যা লোডশেডিং বৃদ্ধি ও শিল্প উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

    মোট মিলিয়ে, সরকারের ভর্তুকি ও লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা থাকলেও পাম্প পর্যায়ে জ্বালানির নতুন দাম নাগরিকদের ব্যয়ে সরাসরি ফাঁক ছুঁড়ে দিচ্ছে—বিশেষত পরিবহন ও কৃষি খাতে। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজার ও এলাকার রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা কিভাবে পরিস্থিতি প্রভাবিত করবে, সেটাই এখনored মানুষের নজরকাড়া প্রশ্ন।

  • ফ্লোরিডায় নিখোঁজ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টির মরদেহ শনাক্ত

    ফ্লোরিডায় নিখোঁজ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টির মরদেহ শনাক্ত

    ফ্লোরিডার পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া দ্বিতীয় মরদেহটি বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির। শুক্রবার (১ মে) ফ্লোরিডা পুলিশ ডিপার্টমেন্ট নাহিদার ভাইকে ফোন করে মরদেহ শনাক্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

    ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তোজা জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ অনুরোধের প্রেক্ষিতে ওয়াশিংটন ডিসি-তে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস এবং মিয়ামিতে থাকা বাংলাদেশ কনস্যুলেট যৌথভাবে মরদেহ প্রেরণের প্রস্তুতি শুরু করেছে।

    নাহিদা ও আরেকজন বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন উভয়েই যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার ছাত্র ছিলেন। তারা দুজনই গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিল।

    প্রতিারোধ ছয় দিন পর শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) টাম্পা বে এলাকায় একটি সেতুর কাছ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই দিন লিমনের রুমমেট হিশাম আবুঘরবেহ নামে এক মার্কিন নাগরিককে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার করা হয়।

    হিলসবরো কাউন্টি আদালতে গত ২৬ এপ্রিল দাখিল করা নথিতে বলা হয়েছে, লিমনকে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতে হত্যা করা হয়েছে। ওই নথিতে জানানো হয়, লিমনের মরদেহ হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড সেতু থেকে উদ্ধার করা হয় এবং হিশাম আবুঘরবেহের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত প্রথম-ডিগ্রি হত্যার দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে।

    একই দিনে হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ অফিস জানায়, লিমনের মরদেহ উদ্ধারের স্থানসংলগ্ন এলাকায় আরও একটি অজ্ঞাত দেহাবশেষ পাওয়া গেছে। তদন্তকারীরা নির্ধারণ করার চেষ্টা করছেন যে এটি নাহিদা বৃষ্টির সঙ্গে যুক্ত কি না।

    একটি ফৌজদারি মামলার হলফনামায় বলা হয়েছে, ২৬ এপ্রিল হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড সেতুর جنوبی অংশ থেকে খণ্ডিত একটি দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত পোশাকের সঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজে নাহিদা বৃষ্টিকে যে পোশাকে শেষবার দেখা গেছে তার মিল রয়েছে; নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে দুইটি পোশাকই একই ধরনের।

    এদিকে জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ শনিবার (২ মে) ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশে পাঠানো হবে। জানা গেছে, মরদেহটি দুবাই হয়ে ঢাকায় পৌঁছবে সোমবার, ৪ মে। নাহিদা বৃষ্টির মরদেহ ফিরিয়ে আনার জন্যও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে; তার প্রেরণের নির্দিষ্ট দিন ঘোষণা করা হবে কর্তৃপক্ষের পরবর্তী সিদ্ধান্তের পর।

    তদন্ত চলছে এবং স্থানীয় পুলিশ, আদালত ও কনস্যুলেটিক অঙ্গসংস্থাগুলো ঘটনার যোগাযোগ স্থাপন করে তদন্তাসাপেক্ষ তথ্য যাচাই করে যাচ্ছে।

  • ৬০ দিনের শর্ত এড়াতে ট্রাম্প প্রশাসন: ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ‘সমাপ্ত’ দাবি

    ৬০ দিনের শর্ত এড়াতে ট্রাম্প প্রশাসন: ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ‘সমাপ্ত’ দাবি

    ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, ইরানের বিরুদ্ধে সংঘটিত সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাত ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে, তাই কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নেওয়ার তৎপরতা প্রয়োজন নেই। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রয়টার্সকে দেয়া সাক্ষাৎকারে একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা—যিনি নাম প্রকাশ করতে চাননি—জানিয়েছেন যে ফেব্রুয়ারি ২৮ থেকে শুরু হওয়া এই ‘‘যুদ্ধ’’ শেষ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

    কথিত কর্মকর্তা বলেন, দু’পক্ষ ৭ এপ্রিল দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় এবং পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সেই যুদ্ধবিরতি বাড়িয়েছেন। ৭ এপ্রিলের পর থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী ও ইরানের মধ্যে কোনো গোলাগুলি বা আক্রমণের ঘটনা ঘটেনি, তাই প্রশাসন মনে করছে কার্যত লড়াই বন্ধ আছে।

    এই যুক্তির ওপর ভিত্তি করে প্রশাসন বলছে যে ১৯৭৩ সালের যুদ্ধক্ষমতা আইন (War Powers Resolution) অনুযায়ী কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নেওয়ার বাধ্যবাধকতা তাদের ক্ষেত্রে এখনও শুরু হয়নি। ওই আইন অনুযায়ী, কোনো সামরিক পদক্ষেপ ৬০ দিনের বেশি চললে প্রেসিডেন্টকে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হয়; তবে আইনটি আরও ৩০ দিন সময় বাড়ানোর সুযোগও দেয়। এ প্রসঙ্গে বার্তা সংস্থা এপি উল্লেখ করেছে যে প্রশাসন এখনো ঐ আইনটির চাহিদা পূরণ করেছে বলে প্রমাণ দিতে পারেনি।

    প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে সিনেটে যুক্তি তোলেন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ। তিনি বলেছেন যে যুদ্ধবিরতিই বাস্তবে সংঘাতকে স্থগিত করেছে এবং ওই অবস্থানকে সামনে রেখে প্রশাসন মনে করছে ৬০ দিনের মধ্যে কংগ্রেস অনুমোদন নেওয়ার বাধ্যবাধকতা তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়নি।

    ওয়ার পাওয়ারস রেজ্যুলুশন অনুসারে, প্রেসিডেন্টকে শুক্রবার (১ মে) পর্যন্ত কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়ার বা সৈনিক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত জানাতে বলা হয়েছিল; নাহলে ওই ৬০ দিনের কালের পর প্রশাসনকে কংগ্রেস থেকে অনুমোদন নেওয়ার নির্দেশ রয়েছে।

    কংগ্রেসে এ নিয়ে চাপ বেড়েছে। ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পকে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ অনুমোদন চাওয়া শুরু করার জন্য চাপ দিচ্ছে। নজরকাড়া হলো যে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ দেশের সামরিক পদক্ষেপকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে—মাত্র একজন ডেমোক্র্যাট (মেইনের জেরেড গোল্ডেন) প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। বিপরীতে, রিপাবলিকানদের মধ্যে কেবল এক জন (কেন্টাকির টমাস ম্যাসি) প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেন, আর একজন সিনেটে নিরপেক্ষ অবস্থান দেখান।

    বিশ্লেষক ও কংগ্রেসের সহকারীরা আগে ধারণা করেছিলেন যে প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসকে অনুরোধ করে ৩০ দিনের মেয়াদ বাড়ানোর পরিকল্পনা করতে পারেন। তেল মূল্যবৃদ্ধি ও ঘরে-বাইরে সংঘাতজনিত উদ্বেগের মধ্যে এ বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে, বিশেষ করে রিপাবলিকানদের জন্য।

    রিপাবলিকান সিনেট অগ্রণী জন থুন বলেছেন, তিনি এখনই ইরানে সামরিক অনুপ্রয়োগের অনুমোদনের জন্য কোনো ভোট নেওয়ার পরিকল্পনা দেখেন না এবং দলের সদস্যদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শুনছেন। অন্যদিকে সিনেটর কেভিন ক্রেমার বলেন, যদি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চান তিনি যুদ্ধ অনুমোদনের পক্ষে ভোট দেবেন, তবে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন যে ১৯৭৩ সালের ওই war powers প্রস্তাবটি সাংবিধানিকভাবে কতটা সঠিক।

    মোটকথা, প্রশাসন যুদ্ধ সমাপ্ত বলে দাবি করলেও কংগ্রেসে বিতর্ক ও রাজনৈতিক চাপ অব্যাহত রয়েছে—এবং ভবিষ্যতে কৃতকর্মের সীমা ও আইনগত কাঠামো নিয়ে আরও তর্ক হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

  • ভূমধ্যসাগরে নৌকা বিকল: ২৬ অভিবাসীর মৃত্যুর আশঙ্কা

    ভূমধ্যসাগরে নৌকা বিকল: ২৬ অভিবাসীর মৃত্যুর আশঙ্কা

    উন্নত জীবনের আশায় ইউরোপগামী একটি নৌকা বিকল হয়ে আট দিন ধরে ভূমধ্যসাগরে ভেসে থাকার পর পানিশূন্যতা ও খাদ্যসংকটের কারণে অন্তত ১৭ অভিবাসীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে; আরও নয়জন নিখোঁজ থাকায় মোট ২৬ জনের মৃত্যুর সম্ভাবনা রয়েছে। ঘটনায় সাতজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

    বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলেছে, এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার শিকাররা মূলত সাব-সাহারা আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে আসা অভিবাসনপ্রত্যাশী ছিলেন। তাদের নৌকা মিশরের সীমান্তঘেঁষা লিবিয়ার পূর্ব তোবরুক শহরের উপকূলের কাছে চিকিৎসা ও ত্রাণ কর্মীদের দ্বারা উদ্ধার করা হয়। রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরা লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মি নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের সহযোগিতায় উদ্ধারকার্য চালায়।

    উদ্ধারকারীরা জানান, আট দিন সমুদ্রে ভাসার ফলে বিশুদ্ধ পানীয় ও খাবার শেষ হয়ে যাওয়ায় বেশিরভাগের অবস্থা দ্রুত খারাপ হয়ে যায় এবং তারা মারা যান। উদ্ধারকাজের সময় তোলা ছবিতে দেখা গেছে মরদেহগুলো কালো প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে পিকআপে বোঝাই করা হচ্ছে। নিরাপত্তা সূত্র জানায়, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নিখোঁজ নয়জনের মরদেহ তীরে ভেসে আসার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    ঘটনায় মৃতদের পরিচয় এখনও প্রকাশ করা হয়নি। লিবিয়া দীর্ঘদিন ধরেই ইউরোপগামী অভিবাসীদের একটি প্রধান ট্রানজিট পথ—অনেকেই যুদ্ধ, দারিদ্র্য ও মানবাধিকার সংকট থেকে পালিয়ে মরুভূমি ও সমুদ্র পেরিয়ে ঝুঁকি নিয়ে এই পথ বেছে নেন।

    এদিকে ত্রিপোলির অ্যাটর্নি জেনারেল মঙ্গলবার জানিয়েছেন, পশ্চিম লিবিয়ার জুয়ারা এলাকায় একটি ‘অপরাধী চক্র’-এর চার সদস্যকে মানবপাচার, মুক্তিপণের জন্য অপহরণ ও নির্যাতনের দায়ে সর্বোচ্চ ২২ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একইসূত্রে বলা হয়, তোবরুক অঞ্চল থেকে একটি ভাঙাচোরা নৌকায় অভিবাসীদের পাঠানোর অভিযোগে আরেকটি চক্রকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে; একই ধরনের নৌকাপ্রচলে একটি ভূষণীয় সুনামহানির কারণে আগে ৩৮ জন সুদানি, মিশরীয় ও ইথিওপীয় নাগরিকের মৃত্যু হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

    এই ঘটনা আবারও মানুষের পেশাদারি পাচার চক্র ও অঠটভয়ের পথে রফতানির ভয়াবহতা সামনে এনে দিল। আন্তর্জাতিক দাতাবৃন্দ এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে এবং লিবিয়ায় বাসস্থানের শর্ত, সীমান্ত নজরদারি ও উদ্ধার সক্ষমতা উন্নয়ন করা জরুরি বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

  • বুথফেরত জরিপ অগ্রাহ্য করে মমতা: ‘তৃণমূল রেকর্ড জয়ের পথে’

    বুথফেরত জরিপ অগ্রাহ্য করে মমতা: ‘তৃণমূল রেকর্ড জয়ের পথে’

    পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের বুথফেরত জরিপের পূর্বাভাসকে অস্বীকার করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, তাঁর দল তৃণমূল কংগ্রেস আবারও রাজ্যে ‘‘মা, মাটি, মানুষের সরকার’’ গঠন করবে এবং রেকর্ড সংখ্যক আসনে জয়ী হবে।

    দ্বিতীয় ধাপের ভোটগ্রহণের পরের দিন বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ প্রকাশ করা ভিডিও বার্তায় মমতা এই আস্থা ব্যক্ত করেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘‘তৃণমূল ২২৬টিরও বেশি আসনে জয়ী হবে,’’ যা দলটির গত নির্বাচনে পাওয়া 215 আসনের রেকর্ডকেও ছাপাবে বলে দাবি করেন।

    এ বছর পশ্চিমবঙ্গে ২৯৪টি আসনের জন্য দুই দফায়—২৩ ও ২৯ এপ্রিল—ভোটগ্রহণ হয়েছে। নির্বাচনে অংশগ্রহণের হার রেকর্ডভিত্তিক ৯০ শতাংশের ওপরে উঠেছে, যা নির্বাচনকে আরও তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মঞ্চে পরিণত করেছে।

    তৃণমূলের আত্মবিশ্বাসের বিপরীতে বিজেপিও জয়ের দৃঢ় প্রত্যাশা প্রকাশ করেছে। কর্ণাটকের বিজেপি সভাপতি বি. ওয়াই. বিজয়েন্দ্র পশ্চিমবঙ্গে ঐতিহাসিক জয়ের আশা জানান এবং বলেন, অন্য রাজ্যগুলোর মতো এখানে থেকেও বিজেপি-নেতৃত্বাধীন এনডিএ শক্তিশালী ফল করতে চলেছে। তিনি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব—প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও জাতীয় সভাপতির গতিশীল নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে রাজ্যের কর্মীদের সতর্ক পরিশ্রমের প্রশংসাও করেন। বিজয়েন্দ্র দাবি করেন যে, লাখ লাখ কর্মীর প্রচেষ্টার ফলে পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো বিজেপি সরকার গড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    বুথফেরত সমীক্ষাগুলো একেবারেই একস্বরে ফল প্রকাশ করছে না; তারা রাজ্যে বিভক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। একাধিক সংস্থার প্রাথমিক পূর্বাভাসে দেখা গেছে—কিছু সমীক্ষায় বিজেপি সামান্য এগিয়ে দেখানো হয়েছে, আবার অন্য কোথাও তৃণমূলের বড় জয়ের ভবিষ্যদ্বাণী রয়েছে।

    কয়েকটি সমীক্ষার উল্লেখযোগ্য আউটপুটগুলো এভাবে জানানো হয়েছে: চাণক্য স্ট্র্যাটেজিস বিজেপিকে ১৫০–১৬০ ও তৃণমূলকে ১৩০–১৪০ আসন দিয়েছে; ম্যাট্রাইজের পূর্বাভাসে বিজেপি ১৪৬–১৬১ ও তৃণমূল ১২৫–১৪০; পি-মার্কের রেঞ্জে বিজেপি ১৫০–১৭৫ ও তৃণমূল ১১৮–১৩৮ আসন পেতে পারে। জেভিসির জরিপে যদিও লড়াই কড়া হবে বলা হয়েছে, সেখানে বিজেপিকে ১৩৮–১৫৯ ও তৃণমূলকে ১৩১–১৫২ আসনে দেখানো হয়েছে। অন্যদিকে পিপলস পালস তৃণমূলকে ১৭৮–১৮৭ আসনের একচেটিয়া জয়ের পূর্বাভাস দিয়েছে; তাদের তালিকায় বিজেপি ৯৫–১১০ এবং অন্যান্যরা ২–৩টি আসন পেতে পারে।

    কয়েকটি সমীক্ষার গড় হিসেব করলে ২৯৪ আসনের বিধানসভায় বিজেপি ও তৃণমূল—দুই দলই প্রায় ১৪৫টি করে আসনে টগবগ করছে, কিন্তু পৃথক জরিপভিত্তিক রেঞ্জগুলো ফলাফলকে অনিশ্চিত রেখেছে। নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা নির্ধারিত হবে না।

    সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।