Category: আন্তর্জাতিক

  • মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট ভোজশালাকে সরস্বতী মন্দির ঘোষণা, নামাজে নিষেধাজ্ঞা

    মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট ভোজশালাকে সরস্বতী মন্দির ঘোষণা, নামাজে নিষেধাজ্ঞা

    মধ্যপ্রদেশের ধার জেলায় বির্তকিত ভোজশালাকে (Bhojshala) হাইকোর্টই সরস্বতী বা বাগদেবীর মন্দির হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ইন্দোর বেঞ্চ শুক্রবার যেটি ঘোষণা করেছে, সেই নির্দেশ অনুযায়ী ওই স্থানটিতে কেবল হিন্দু সম্প্রদায়ই পূজা-অর্চনা করতে পারবেন; মুসলিম সম্প্রদায়ের নিয়মিত নামাজ আদায়ের অধিকার আর বহাল থাকবে না।

    এই রায়ে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ—বিচারপতি বিজয়কুমার শুক্ল ও বিচারপতি অলোক অবস্থি—পাঁচটি আবেদন ও তিনটি ইন্টারভেনশনের শুনানি শেষে ভোজশালা সংক্রান্ত মামলা নিষ্পত্তি করেছেন। আদালত জানিয়েছে যে তার সিদ্ধান্ত বানান করতে ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সংরক্ষণ বিভাগ (এএসআই) কর্তৃক করা বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা, ঐতিহাসিক দলিল ও প্রাসঙ্গিক নীতিনির্ধারণমূলক সিদ্ধান্ত (আযোধ্যা মামলার মতো) বিবেচনা করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী ভবনের প্রশাসন ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব এএসআই-র কাছেই থাকবে এবং ১৯৫৮-এর বিধান অনুযায়ী এএসআই সম্পত্তিটি পরিচালনা করবে।

    আদালত উল্লেখ করেছে, ভোজশালা চত্বর ও বিতর্কিত এলাকা ‘‘ভোজশালা ও দেবী সরস্বতীর মন্দির’’ হিসেবে ধর্মীয় মর্যাদা বহন করে। পাশাপাশি রায় প্রকাশ করে আদালত বলেছেন, তীর্থযাত্রীদের মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করা, আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং দেবীর পবিত্রতা রক্ষা করা তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছে: যদি মুসলিম সম্প্রদায় নতুন মসজিদ নির্মাণের জন্য অন্য কোনও জমি বরাদ্দের আবেদন করে, রাজ্য সরকার সেই আবেদন যথার্থভাবে বিবেচনা করবে এবং আইন অনুযায়ী উপযুক্ত জমি বরাদ্দ করার বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে পারে।

    পশ্চাতে থাকা ইতিহাস ও বিতর্ক: হিন্দু পক্ষের দাবি—রাজা ভোজের (১০১০–১০৫৫) সময়ে এখানে সরস্বতী মন্দির ও সংস্কৃত শিক্ষার কেন্দ্র ছিল। মুসলিম পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে এটিকে কামাল মওলা দরগা ও মসজিদ হিসেবেই মান্য করে আসছে। এএসআই জানিয়েছিল চতুর্দশ শতকে সুফি সাধক কামালউদ্দিনের সমাধির ওপরই পরে একটি মসজিদ গড়ে ওঠে বলে চিহ্ন পাওয়া গেছে। ২০২৪ সালে আদালতের নির্দেশে এএসআই ৯৮ দিন ধরে ভোজশালা কমপ্লেক্সের বৈজ্ঞানিক জরিপ করেছে।

    গতকাল পর্যন্ত প্রথা ছিল—প্রশাসনের ব্যাবস্থায় মঙ্গলবার হিন্দু সম্প্রদায়কে পূজার অনুমতি থাকত এবং শুক্রবার মুসলিম সম্প্রদায় নামাজ আদায় করত; বসন্ত পঞ্চমীর উৎসবের জন্যও বিশেষ অনুমতি থাকত। নতুন রায়ের ফলে ওই পুরনো নিয়মে বড় পরিবর্তন এসেছে: নামাজের অনুমতি বাতিল হওয়ায় মুসলিম সম্প্রদায়ের সামনে বিকল্প জমির দাবি ও বৈধ তালিকাভুক্তি সংক্রান্ত একটি উপায় রেখে দেওয়া হয়েছে।

    আইনগত ও প্রশাসনিক প্রয়াস: আদালত রায়ের সঙ্গে লন্ডন মিউজিয়ামে থাকা সরস্বতী মূর্তির প্রত্যর্পণের বিষয়টিও কেন্দ্রীয় সরকারের সামনে পরীক্ষার সুপারিশ করেছে এবং আবেদনকারীরা এই বিষয়ে বহুবার আবেদন করেছেন—সরকার এই আবেদনগুলো বিবেচনা করতে পারে, বলেছে আদালত। পাশাপাশি ধার ও ইন্দোর প্রশাসন সতর্ক অবস্থান নিয়ে উভয় পক্ষকে শান্তি রক্ষার আবেদন জানিয়েছে ও আইন-শৃঙ্খলা জোরদারে নির্দেশ পেয়েছে।

    প্রতিক্রিয়া: হিন্দু পক্ষের আইনজীবী জানিয়েছেন, তারা আদালতে ২৪ দিনের নিয়মিত শুনানিতে জোরদার প্রমাণ-প্রতিনিধিত্ব করেছেন এবং এএসআই রিপোর্ট, ঐতিহাসিক গেজেটিয়ার ও স্থাপত্যগত তথ্য আদালতের বিবেচনায় প্রাধান্য পেয়েছে বলে আনন্দ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে মুসলিম পক্ষের আইনজীবী আদালতের সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট নন—তারা শিগগিরই রায়ের বিস্তারিত খতিয়ে দেখবেন এবং প্রয়োজন হলে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করার কথা বলেছেন; একই সঙ্গে তারা এএসআই-এর সমীক্ষা রিপোর্টকেও পক্ষপাতী উল্লেখ করে চ্যালেঞ্জ করার কথা জানিয়েছে।

    রায়ের ফলে ভবিষ্যৎ: বর্তমানে ভোজশালা ১৯৫৮ সালের আইনের অধীনে সংরক্ষিত স্থাপত্য হিসেবে রয়ে গেছে এবং এএসআই তদারকি করবে। মুসলিম পক্ষ ব্যবহার করা হয় এমন ইতিহাস, সরকারি গেজেট ও দীর্ঘদিনের ব্যবহার তুলে ধরে প্রতিবাদ জানাচ্ছে; এ ব্যাপারে তারা সড়কভিত্তিক বা উচ্চ আদালতে আপিলের পথ নিতে পারেন বলে সূত্রে জানা গেছে। স্থানীয়ভাবে প্রশাসন শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছে যাতে এলাকায় উত্তেজনা না ছড়ায়।

    পটভূমি-সংক্ষিপ্ত টাইমলাইনে: ১৯৯৫ সালে প্রশাসন মঙ্গলবারে পূজা ও শুক্রবারে নামাজের সংযোজনী ব্যবস্থা চালু করে; ১৯৯৭–৯৮ সালে বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপের ইতিহাস আছে; ২০০৩ সালে বর্তমান ব্যবস্থাটি পুনরায় প্রতিষ্ঠা পায়; ২০২২ সালে হাইকোর্টে আপিল দাখিল হয়; ২০২৪ সালে এএসআই ৯৮ দিনের জরিপ করে; আর ২০২৬ সালে এই উচ্চ আদালতের রায় আসে।

    সূত্র: বিবিসি, ইন্ডিয়া টুডে, এনডিটিভি এবং স্থানীয় সংবাদসূত্রগুলোকে বিচার করে এই প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে।

  • মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট ভোজশালার অংশকে ‘সরস্বতী মন্দির’ ঘোষণা, নামাজের জন্য অন্য জায়গা চেয়ে নিতে নির্দেশ

    মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট ভোজশালার অংশকে ‘সরস্বতী মন্দির’ ঘোষণা, নামাজের জন্য অন্য জায়গা চেয়ে নিতে নির্দেশ

    মধ্যপ্রদেশের ধার শহরের প্রায় হাজার বছরের পুরনো ভোজশালা—যেখানে কামাল মাওলার দরগা ও মসজিদ রয়েছে—সংশ্লিষ্ট অংশকে সরস্বতী মন্দির বলে ঘোষণা করেছে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট। একই ভার্চুয়ালে আদালত মুসলিম পক্ষকে রাজ্য সরকারের কাছে নামাজের জন্য ভিন্ন জায়গা চেয়ে নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

    ভোজশালা-কামাল মাওলার দরগা ও মসজিদকে ঘিরে বহু বছর ধরেই তীব্র বিতর্ক চলে আসছে। হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো দাবি করেছিল, এখানে গণরাজ্যকালের রাজা ভোজের সময় নির্মিত প্রাচীন সরস্বতী মন্দির ছিল; অপরদিকে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায় ওই স্থাপত্যটিকে কামাল মাওলা মসজিদ বলে মর্যাদা দিয়েছেন।

    রাজ্য সরকার আগে থেকেই বিভেদ রোধে ব্যবস্থা নিয়েছিল—মঙ্গলবার হিন্দুদের পুজো ও শুক্রবার মুসলিমদের নামাজের অনুমতি এবং সপ্তাহের অন্যান্য দিন দর্শনার্থীদের প্রবেশের ব্যবস্থা ছিল। ২০২২ সালে কয়েকটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠন, যার মধ্যে ‘হিন্দু ফ্রন্ট ফর জাস্টিস’ রয়েছে, মসজিদে মুসলিম নামাজ থামাতে আদালতে আবেদন করে।

    এ দাবি পেশের পর ২০২৪ সালে হাইকোর্ট আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া (এএসআই)-কে ওই এলাকায় বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা চালানোর নির্দেশ দেয়। এএসআই ৯৮ দিনের সমীক্ষা করে আদালতে প্রায় দু’হাজার পাতার একটি প্রতিবেদন জমা করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে মসজিদ হিসেবে ব্যবহৃত অংশের নীচে ও আশপাশে পারমার বংশের আমলে নির্মিত বড় এক কাঠামোয়ের অবশেষ রয়েছে।

    শুক্রবার বিচারপতি বিজয়কুমার শুক্ল ও বিচারপতি অলোক অবস্থীর বেঞ্চ হিন্দু পক্ষের পক্ষে রায় দেন। রায়ে বলা হয়েছে, বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ ও ঐতিহাসিক স্রোত বিশ্লেষণে পুনরাবৃত্তভাবে দেখা গেছে যে ওই স্থানে হিন্দু উপাসনার ধারাবাহিকতা কখনও থেমে যায়নি এবং ঐতিহাসিক গ্রন্থে সেই এলাকায় রাজা ভোজের শিক্ষাসংক্রান্ত কার্যক্রমের উল্লেখ আছে—এতেই অংশটিকে মন্দির হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

    আদালত জানিয়েছে, ভোজশালার মন্দির ঘোষিত অংশের সংরক্ষণ ও রক্ষণের তত্ত্বাবধান করবে এএসআই এবং এই বিষয়ে তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে। হিন্দু আবেদনকারীরা লন্ডনের একটি জাদুঘর থেকে সরস্বতীর মূর্তি এনে ভোজশালায় স্থাপন করতে চেয়েছেন; কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে এ সংক্রান্ত একাধিক আবেদন জমা পড়েছে এবং আদালত বলেছেন, কেন্দ্র সেই আবেদনগুলো বিবেচনা করতে পারে।

    বিচারপতিরা মুসলিম পক্ষকে নামাজ পড়ার জন্য রাজ্য প্রশাসনের কাছে বিকল্প স্থান চেয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন—যাতে ভবিষ্যতে সংঘাত এড়ানো যায়। অপরদিকে মুসলিম পক্ষ এবং তাদের সমর্থকরা আদালতের রায় ও এএসআই প্রতিবেদনে পক্ষপাতের অভিযোগ তুলেছে।

    ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক তমাম প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে; বিচারিক সিদ্ধান্তের পর আলোচনার জোরও বেড়েছে। মামলার প্রতিবেদন ও রায়ের সূত্র: এনডিটিভি, আনন্দবাজার।

  • মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট ধার শহরের কামাল মাওলা মসজিদের অংশ মন্দির হিসেবে ঘোষণা

    মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট ধার শহরের কামাল মাওলা মসজিদের অংশ মন্দির হিসেবে ঘোষণা

    ভারতের মধ্যপ্রদেশের ধার শহরে অবস্থিত প্রায় হাজার বছরের পুরনো কামাল মাওলা দরগা ও মসজিদের একটি অংশকে মন্দির হিসেবে ঘোষণা করেছে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট। একই রায়ে মুসলিম সম্প্রদায়কে রাজ্য সরকারের কাছে নামাজের জন্য খোলা অন্য কোনো স্থান চেয়ে নিতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    ভোজশালা নামে পরিচিত ওই স্থাপনা ও কামাল মাওলা মসজিদকে ঘিরে অনেক দিন ধরেই বিতর্ক চলছিল। হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীগুলো দাবি করে আসছে যে মসজিদটির ভিত্তি আসলে রাজা ভোজের সময়ে তৈরি করা প্রাচীন সরস্বতী মন্দির; অন্যদিকে মুসলিম পক্ষ এটিকে কামাল মাওলা মসজিদ বলে দাবি করে।

    দীর্ঘদিন ধরে রাজ্য সরকার সে জায়গায় পরিচালনায় নরম নীতি বহাল রেখেছিল—মঙ্গলবার হিন্দুদের পুজা ও শুক্রবার মুসলিমদের নামাজ করার অনুমতি দেওয়া হতো, আর বাকি দিনগুলোতে সাধারণভাবে প্রবেশের ছাড়া বেশি কার্যকলাপ সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু ২০২২ সালে ‘হিন্দু ফ্রন্ট ফর জাস্টিস’সহ কয়েকটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠন মসজিদে মুসলিমদের নামাজ বন্ধ করার দাবিতে আদালতে যায়।

    এই মামলার প্রেক্ষিতে ২০২৪ সালে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়াকে (এএসআই) ওই স্থানের বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছিল। ৯৮ দিন ধরে চালানো সমীক্ষার পরে এএসআই আদালতে প্রায় দুই হাজার পাতার প্রতিবেদন জমা করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমান মসজিদের নিচে পারমার বংশের আমলে তৈরি একটি বড় কাঠামোর অস্তিত্ব ছিল।

    শুক্রবার বিচারপতি বিজয়কুমার শুক্ল ও বিচারপতি অলোক অবস্থীর বেঞ্চ ওই মামলায় হিন্দু পক্ষের পক্ষে রায় দেন। আদালত বিবেচনা করে উল্লেখ করেছে যে বিভিন্ন ইতিহাসগত তথ্য ও নথি বিশ্লেষণে দেখা গেছে ওই স্থানে হিন্দু উপাসনার ধারাবাহিকতা কখনও সম্পূর্ণভাবে থেমে যায়নি। পাশাপাশি ঐতিহাসিক সাহিত্যেও বিতর্কিত এলাকাটি রাজা ভোজের শিক্ষা ও সংস্কৃতিকেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত আছে — এই কারণগুলো বিবেচনায় নিয়ে অংশটিকে মন্দির হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, বলা হয় রায়ে।

    আদালতের নির্দেশে ভবিষ্যতে ভোজশালার ঐ অংশের সংরক্ষণ ও রক্ষার তত্ত্বাবধান করবে এএসআই; সংরক্ষণ কার্যক্রমে তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে। হিন্দু পক্ষের আবেদনকারীরা লন্ডনের একটি জাদুঘর থেকে সরস্বতীর মূর্তি এনে সেখানে স্থাপন করতে চান এবং কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে সেই সম্পর্কিত একাধিক আবেদন জমা রয়েছে; আদালত বলেছে, কেন্দ্র সেই আবেদনগুলো বিবেচনা করতে পারে।

    অন্যদিকে মুসলিম পক্ষ সমীক্ষা প্রতিবেদন ও রায়কে পক্ষপাতদুষ্ট বলে অভিযোগ করেছে এবং নামাজের স্থানের বিষয়ে সরকারের কাছে বিকল্পের ব্যবস্থা চেয়ে নিতে নির্দেশ দেয়া হলেও সেটি নিয়ে তাদের আপত্তি রয়েছে।

    এই ঘটনার প্রেক্ষাপট দেশের ঐতিহাসিক সম্পদ সংরক্ষণ, সংগ্রামরত সম্প্রদায়ের অনুভূতি ও ধর্মীয় অধিকার—এসব বিষয়কে নিয়ে নতুন করে বিতর্ক ছুঁড়ে দিয়েছে। সরকার, আদালত ও আরকিওলজিস্টদের সিদ্ধান্ত ও তার বাস্তবায়ন ভবিষ্যতে এই ধরণের সংবেদনশীল কেসে কী precedent (আগাম নির্দেশ) স্থাপন করে, তা খতিয়ে দেখা হবে।

    সূত্র: এনডিটিভি, আনন্দবাজার

  • কলকাতায় জুমার নামাজকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা, রাজাবাজারে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন

    কলকাতায় জুমার নামাজকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা, রাজাবাজারে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন

    কলকাতার রাজাবাজার এলাকায় শুক্রবার (১৫ মে) জুমার নামাজকে ঘিরে পুলিশের সঙ্গে একদল মুসল্লির বাগ্‌বিতণ্ডা ও উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে। দুপুরের দিকে রাস্তায় নামাজ পড়ার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে যান চলাচল ব্যাহত হলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দাঁড়ায়।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজাবাজার ক্রসিংয়ের একাংশ জুড়ে নামাজ পড়তে শুরু করলে জনবহুল ওই সড়কে যানজট তৈরি হয়। পুলিশ যখন যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার জন্য বাধা দিলে কয়েকজন মুসল্লির সঙ্গে তর্কবিবাদ গড়ে ওঠে এবং উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় থানা থেকে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং পরে প্রয়োজনীয় সতর্কতার জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনীও মোতায়েন করা হয়।

    পুলিশ জানিয়েছে, নামাজ পড়তে জড়ো হওয়া মানুষের উদ্দেশ্য ছিল শান্তিপূর্ণ। প্রশাসনের নতুন বিধি-নিষেধ সম্পর্কে অনেকেরই সঠিক ধারণা না থাকায় তারা রাস্তার ওপরেই নামাজ শুরু করেন। পুলিশ বিষয়টি বুঝিয়ে বললে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং অনেকে সহযোগিতা করেন।

    ঘটনার পর থেকেই এলাকাজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত টহল শুরুর ফলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। দোকানপাট ও বাজারও ইতোমধ্যেই সচল রয়েছে। প্রশাসন সতর্ক থেকে জনজীবন স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

  • সংযুক্ত আরব আমিরাত জানালো: ঈদুল আযহা সম্ভবত ২৭ মে

    সংযুক্ত আরব আমিরাত জানালো: ঈদুল আযহা সম্ভবত ২৭ মে

    সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে যে পবিত্র জিলহার মাসের চাঁদ গণনা অনুযায়ী সম্ভবত আগামী ১৭ মে দেখা যাবে। আবুধাবি অবস্থিত আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান কেন্দ্র (আইএসি) এই তথ্য জানিয়েছে।

    আইএসির গণনা অনুযায়ী ১৭ মে জিলহজের চাঁদ দেখা গেলে সেই হিসেব মেনে আগামী ২৭ মে (বুধবার) বিশ্বের বেশির ভাগ দেশে ঈদুল আযহা উদযাপিত হতে পারে। কেন্দ্রটি তাদের জ্যোতির্বিজ্ঞান প্রতিবেদনে এই সম্ভাবনার কথাই জানিয়েছে।

    আইএসি বলছে, ১৭ মে চাঁদ টেলিস্কোপের সাহায্যে পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অংশ থেকে দেখা যেতে পারে। অপরদিকে মধ্য ও পশ্চিম এশিয়া, উত্তর আফ্রিকা এবং উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার অধিকাংশ অংশ থেকে সেই দিন খালি চোখেও চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    গাণিতিক হিসাব অনুযায়ী যদি ১৮ মে (সোমবার) থেকে ১৪৪৭ হিজরি সালের জিলহজ মাস শুরু হয়, তাহলে জিলহজের ১০ তারিখে অর্থাৎ ২৭ মে ঈদুল আযহার প্রথম দিন হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকবে।

    তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত চাঁদ দেখা ও সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের ঘোষণার ওপর নির্ভর করে। আলেম-ওলামারা স্থানীয়ভাবে চাঁদ দেখার পরই ঈদের তারিখ ঘোষণা করবেন।

    সূত্র: গালফ নিউজ।

  • উত্তর প্রদেশে ভয়াবহ ঝড়ে ১০৪ জন নিহত, বহু এলাকা বিধ্বস্ত

    উত্তর প্রদেশে ভয়াবহ ঝড়ে ১০৪ জন নিহত, বহু এলাকা বিধ্বস্ত

    ভারতের অন্যতম জনঘনত্বপূর্ণ রাজ্য উত্তর প্রদেশে তীব্র ঝড়ে অন্তত ১০৪ জনের মৃত্যু এবং ৫০-র ওপরে মানুষ আহত হয়েছেন। ঝড়ে ঘরবাড়ি ধসে পড়া, গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়া এবং বজ্রপাতে এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। রাজ্যের অন্তত ১২টি জেলায় ঝড়টি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

    সরকারি ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা যায়, শত শত গাছ ও বিলবোর্ড উপড়ে পড়েছে; অসংখ্য কাঁচা ও আধাপাকা ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায়াগরাজ (প্রয়াগরাজ/এলাহাবাদ) জেলা — সেখানে কমপক্ষে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যান্য জেলায় মৃত্যুর সংখ্যা হলো: ভাদোহী ১৮, মির্জাপুর ১৫, ফতেহপুর ১০; উন্নাও ও বদায়ু জেলায় প্রতিটিতে ছয়জন; প্রতাপগড় ও বেরেলিতে চারজন করে প্রাণহানি ঘটেছে। এছাড়া সীতাপুর, রায়বেরােলি, চাঁদৌলি, কানপুর দেহাত, হারদোই ও সম্বল থেকেও বহু মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

    কর্মকর্তারা বলেন, প্রবল ঝড়ের কারণে কাঁচা ঘর ধসে পড়া, গাছপালা উপড়ে পড়া এবং বজ্রপাতেই বেশির ভাগ প্রাণহানি ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে ছিন্নভিন্ন যোগাযোগ ও বিদ্যুৎবিভ্রাটের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জীবনমান আরও বিপর্যস্ত হয়েছে; ক্ষেতের ফসল ও গবাদিপশুরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

    টেলিভিশন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত ফুটেজে দেখা গেছে, তীব্র বাতাসে বিশাল গাছ এবং বৈদ্যুতিক খুঁটি রাস্তায় লুটিয়ে পড়েছে; কোথাও কোথাও রেল লাইনের ওপর গাছ পড়ায় ট্রেন চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বারেলির বামিয়ানা গ্রামে একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, প্রবল বাতাসে একজন মানুষ টিনের চালাসহ আকাশে উড়ে গিয়ে কয়েকটি মিটার দূরে একটি মাঠে পড়ছেন।

    প্রয়াগরাজের বাসিন্দা রাম কিশোর সংবাদসংস্থা এপিকে বলেছেন, হঠাৎই ঝড় শুরু হয়; মুহূর্তের মধ্যে চারপাশ অন্ধকারে ঢেকে যায়, টিনের চালা উড়ে যায় এবং মানুষদের চিৎকার-চেঁচামিচি শুরু হয়। তিনি জানান, সারা সন্ধ্যা শুধু গাছ ভেঙে পড়ার আওয়াজটাই শোনা গেছে।

    দুর্যোগের খবর পেয়ে পুলিশ ও দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এসডিআরএফ) সঙ্গে সঙ্গে মাঠে নেমে উদ্ধার ও উদ্ধারকাজ শুরু করেছে। রাস্তা ও রেল লাইনের ধ্বংসাবশেষ সরাতে তারা চেইনসো, ক্রেন ও অন্যান্য সরঞ্জাম ব্যবহার করছেন। স্থানীয় প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে তাত্ক্ষণিক সাহায্য দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

    বহু জেলায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার ফলে রাত জুড়েই অন্ধকার বিরাজ করেছে; প্রশাসন জানায় উদ্ধারকাজ এখনও চলমান হওয়ায় মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে এবং চূড়ান্ত হিসাব পাওয়ার অপেক্ষা রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ নিহতদের পরিবারে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। তার কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ত্রাণ ও সহায়তা পৌঁছে দিতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে দ্রুত পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এছাড়া ফসলের ক্ষতি নিরূপণের জন্য রাজস্ব ও কৃষি দফতরসহ বীমা কোম্পানিগুলোকে দ্রুত জরিপ করে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। ঝড়ের ব্যাপকতা তুলে ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় শত শত ভিডিও ও ছবি শেয়ার করেছেন স্থানীয়রা।

    সূত্র: এনডিটিভি, স্কাই নিউজ।

  • যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী একের পর এক মন্ত্রীর পদত্যাগে চাপে

    যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী একের পর এক মন্ত্রীর পদত্যাগে চাপে

    যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কেইর স্টারমার সম্প্রতি নিজের দলের মন্ত্রীদের ধারাবাহিক পদত্যাগের মুখোমুখি হয়েছেন। সর্বশেষ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং পদত্যাগ করেন, বিশ্বস্ততা হারানোর কারণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের নেতৃত্বে আর আস্থা রাখতে পারেন না। এই পরিস্থিতিতে দেশের রাজনীতিতে নতুন এক সংকট দেখা দিয়েছে, যা প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের ক্ষমতার ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করছে। আগামী দুই বছরের কম সময়ের মধ্যে তার নেতৃত্ব টালমাটাল পরিস্থিতিতে পড়েছে।

    বর্তমান পরিস্থিতি অনুসারে, এর আগে আরও চারজন মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন: জেস ফিলিপস, জুবির আহমেদ, অ্যালেক্স ডেভিস-জোন্স এবং মিয়াট্টা ফাহনবুলে। সোমবার আরও ছয়জন মন্ত্রীসভার সহকারী সদস্য তাদের পদত্যাগের ঘোষণা দেন, তবে তাদের বদলে ইতিমধ্যে নতুন ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আবার কিছু এমপি প্রধানমন্ত্রীকে দ্রুত নেতৃত্ব বদলের জন্য সময়সূচি ধরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। অপর দিকে, ১৫০ জনের বেশি এমপি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী স্টারমারে সমর্থন প্রকাশ করেছেন এবং বলেছেন যে, এখন নেতৃত্ব পালনে সময় নয়।

    নেতৃত্ব পরিবর্তনের জন্য আলোচনা চলছে, তবে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং প্রথম দুর্দান্ত এগিয়ে রয়েছেন। এছাড়া সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেইনার এবং অ্যান্ডি বার্নহামকেও সম্ভাব্য নেতৃত্বপ্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে নেতৃত্বের জন্য নির্বাচনে অংশ নিতে হলে বর্তমান প্রার্থীকে প্রথমে এমপি হিসাবে নির্বাচিত হতে হবে, যার জন্য সময় লাগবে এবং পুরো প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হতে পারে।

    বর্তমানে কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রতিদ্ব›িদ্বতা ঘোষণা করেননি। দলীয় নিয়ম অনুযায়ী, এর জন্য লেবার এমপিদের অন্তত ২০ শতাংশ বা ৮১ জনের সমর্থন প্রয়োজন।

    ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির ওপর অনাস্থা তৈরি হওয়ার পেছনে মূল কারণ হলো স্থানীয় নির্বাচনে বড় ধাক্কা খাওয়া। ইংল্যান্ডে তারা ১ হাজার ১০০টির বেশি কাউন্সিল আসন হারিয়েছে, ফলে গত কয়েক মাসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাদের শক্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে। ওদিকে, ওয়েলসে ২৭ বছরের শাসনের অবসান ঘটেছে এবং স্কটল্যান্ডে রিফর্ম পার্টির সঙ্গে লড়াইয়ে তারা অন্যপ্রতিদ্ব›িদ্ব থেকে পিছিয়ে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে স্টারমারের নেতৃত্বে দলের মানসিকতা কমে যেতে থাকে।

    অর্থমন্ত্রী র‌্যাচেল রিভস বিবিসিকে বলেছেন, যদি নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রতিযোগিতা শুরু হয়, তাহলে দেশ অস্থিতিশীলতায় পড়তে পারে। অন্যদিকে, সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেইনার জানান, তাঁর করসংক্রান্ত তদন্তে কোনও অনিয়মের দায় বর্তায়নি।

    অপর দিকে, বুধবার প্রধানমন্ত্রী তার מন্ত্রী ও এমপিদের সতর্ক করে বলেন, নেতৃত্ব পরিবর্তনের লড়াই देशে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। তবে স্ট্রিটিংয়ের সমর্থকরা বলছেন, তিনি আজই আনুষ্ঠানিকভাবে নেতৃত্বের জন্য চ্যালেঞ্জ করতে পারেন। সূত্র: বিবিসি।

  • বিশ্বের সবচেয়ে নেতিবাচক দেশ ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের পতন

    বিশ্বের সবচেয়ে নেতিবাচক দেশ ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের পতন

    বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় এখন ইসরায়েলকে সবচেয়ে বেশি নেতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক জরিপে দেখা গেছে, এ দেশের ভাবমূর্তির অবনতি ব্যাপকভাবে ঘটেছে, যার মূল কারণ হলো ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের হত্যাযজ্ঞ, গণবাস্তুচ্যুতি, কর্মকর্তা নীতির অবনতি এবং পশ্চিম তীরে দখলদারিত্বের জোরদার বৃদ্ধি। এইসব কারণের ফলে বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও সমালোচনা বাড়ছে। একে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা, জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা ও আন্তর্জাতিক আদালতগুলো একে পরিকল্পিত জাতিগত হত্যাকাণ্ড হিসেবে অভিহিত করেছেন। এছাড়াও, গাজায় ইসরায়েলের নৃশংস হামলায় এখন পর্যন্ত ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, বহু বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে এবং দেশটির লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফলে, বিশ্বজনমত এখন এই দখলদার রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কঠোর রায় দিচ্ছে।

  • বেইজিংয়ে ট্রাম্পের সফর, পুতিনও শিগগির চীন যাচ্ছেন

    বেইজিংয়ে ট্রাম্পের সফর, পুতিনও শিগগির চীন যাচ্ছেন

    রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন খুব শিগগিরই চীন সফরে যাচ্ছেন বলে নিশ্চিত করেছে ক্রেমলিন। বৃহস্পতিবার এই খবর জানিয়েছে রাশিয়ান সংবাদমাধ্যম আরটি, যেখানে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভের বরাত দেওয়া হয়েছে। এখনও সফরের নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা হয়নি, তবে দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন যে, সব ধরনের প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই উচ্চপর্যায়ের সফর আসন্ন সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে পারে। পুতিন সর্বশেষ ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বেইজিং সফর করেছিলেন, এই সময় তিনি চীনের বিশাল সামরিক কুচকাওয়াজে অংশ নেন এবং একটি শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেন। অন্যদিকে, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনের জন্য বেইজিংয়ে এখন সফর করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ওয়াশিংটন থেকে দীর্ঘ যাত্রা শেষে বুধবার বেইজিংয়ের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। এটি গত দশকের মধ্যে প্রথম কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্টের চীন সফর। এই গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ আলোচনায় ইরান সংকট, বাণিজ্য যুদ্ধ এবং তাইওয়ান ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সফরকে আরও ঐতিহাসিক করে তোলে। অর্থনৈতিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ছাড়াও, মার্চে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে এই সফরটি পিছিয়ে দেয়া হয়েছিল। অবশেষে, শুক্রবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে চা-চক্র ও মধ্যাহ্নভোজ শেষে ট্রাম্প দেশের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন।

  • উত্তর প্রদেশে ভয়াবহ ঝড়ের তাণ্ডবে শতাধিক নিহত, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

    উত্তর প্রদেশে ভয়াবহ ঝড়ের তাণ্ডবে শতাধিক নিহত, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

    ভারতের উত্তর প্রদেশে ভয়াবহ শক্তিশালী ঝড়ের কারণে কমপক্ষে ১০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে ঘরবাড়ি ধসে পড়া, গাছ উপড়ে যাওয়া এবং বজ্রপাতে হতাহতরা এ ক্ষতির মুখোমুখি হন। আহতের সংখ্যা আরও ৫০ জনের বেশি বলে জানা গেছে। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় এই ঝড়টি তীব্র আকার ধারণ করে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ঝড়ের তীব্রতায় শতাধিক গাছ ও বিলবোর্ড উপড়ে গেছে, বহু কাঁচা ও আধাপাকা ঘরবাড়ি ভেঙে পড়েছে। বিশেষ করে হিন্দু তীর্থনগরী হিসেবে পরিচিত প্রয়াগরাজ (এলাহাবাদ) এ সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। সরকারি সূত্র বলছে, এই দুর্যোগে মূলত প্রয়াগরাজে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে, এর পরে ভাদোহীতে ১৮ জন, মির্জাপুরে ১৫ জন, ফতেহপুরে ১০ জন, উন্নাও ও বদায়ু জেলাতে ছয়জন করে প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়াও প্রতাপগড়, বেরেলি, সীতাপুর, রায়বরেলি, চন্দৌলি, কানপুর দেহাত, হার্দোই এবং সম্বল জেলায় বহু মানুষের মৃত্যু খবর পাওয়া গেছে। কর্মকর্তাদের মতে, ঝড়ের তীব্রতায় কাঁচা বাসগৃহ ধসে পড়েছে, গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে গেছে, আর বজ্রপাতে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। তার সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ক্ষেতের ফসল ও গবাদি পশু। টেলিভিশন ফুটেজে দেখা গেছে, প্রবল বাতাসে বিশাল গাছ ও বৈদ্যুতিক খুঁটি পড়ে রাস্তায় পড়ে আছে। কোথাও কোথাও ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। প্রত্যক্ষদর্শী রাম কিশোর বলেন, হঠাৎ এক ঝটকায় ঝড় শুরু হয়, মুহূর্তের মধ্যেই পুরো পরিবেশ অন্ধকারে ঢেকে যায়। বাতাসের তোড়ের সঙ্গে টিনের চাল উড়ে যায়, মানুষ দিগ্বিদিক ছুটতে শুরু করে। সন্ধ্যার সময় টানা গাছ পড়ার শব্দ দৃশ্যমান ছিল। এই দুর্যোগের খবর পেয়ে পুলিশ ও দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এসডিআরএফ) দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম চালাচ্ছে। তারা রাস্তা ও রেললাইন থেকে গাছ ও ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে যোগাযোগের ব্যবস্থা সচল করার জন্য চেইনসো, ক্রেন ইত্যাদি ব্যবহার করছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে বিপদের সময় সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় অনেক জেলা অন্ধকারে নিমজ্জিত। প্রশাসন জানিয়েছে, উদ্ধার কাজ শেষ এবং ক্ষয়ক্ষতির সঠিক হিসাব পাওয়া গেলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বুধবার সন্ধ্যার দিকে উত্তর প্রদেশের বিস্তীর্ণ এলাকা হঠাৎ আবহাওয়ার পরিবর্তন ও প্রবল বেগে বাতাস শুরু হলে বিভিন্ন রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। বেশ কিছু বিলবোর্ড, টিনের চালা ও গাছ উপড়ে পড়ে যানবাহনের ওপরে, ফলে যান চলাচল ব্যাহত হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক স্থান থেকে এই ঝড়ের ভয়াবহতা দৃশ্যমান ভিডিও শেয়ার করা হয়েছে। বারেলির বামিয়ানা গ্রামে একজনের ভিডিওতে দেখা গেছে, প্রবল বাতাসে টিনের চালা উড়ে গিয়ে প্রায় ৫০ ফুট দূরে মাঠে পড়ে যাচ্ছে। মৃত্যু ও আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা ও ক্ষতিপূরণের জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের জন্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিতে জেলা প্রশাসনকে দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ফসলের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের জন্য জেলা কৃষি ও রাজস্ব বিভাগ, বিমা সংস্থাগুলোকেও দ্রুত জরিপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে সরকারের কাছে রিপোর্ট পাঠানো যায়। এই দুর্যোগের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পিছনে সতর্কবার্তা হিসেবে প্রশাসন কাজ করছে। সূত্র: এনডিটিভি ও স্কাই নিউজ।