Category: আন্তর্জাতিক

  • আর্টেমিস-২: চন্দ্রাভিযান শেষে চার নভোচারী নিরাপদে ফিরে এলেন

    আর্টেমিস-২: চন্দ্রাভিযান শেষে চার নভোচারী নিরাপদে ফিরে এলেন

    যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার আর্টেমিস-২ অনুষ্ঠানে থাকা চার নভোচারী সফলভাবে পৃথিবীতে ফিরে এসেছেন। দশ দিনের অভিযানের পর ক্যালিফোর্নিয়ার দক্ষিণ উপকূলের সমুদ্রে ওরিয়ন ক্যাপসুল অবতরণ করে এবং কিছু সময় পর উদ্ধারকারী বাহিনীর সাহায্যে তারা নিরাপদে ক্যাপসুল থেকে বের হন।

    নাসা জানিয়েছে, অবতরণ ঘটেছে স্থানীয় সময় ১০ এপ্রিল সন্ধ্যা পাঁচটায়। আর্টেমিস-২ গত ১ এপ্রিল ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে চাঁদের দিকে যাত্রা শুরু করেছিল। ক্রুতে ছিলেন কমান্ডার রেইড ওয়াইজম্যান (৫০), ভিক্টর গ্লোভার (৪৯), ক্রিস্টিনা কোচ (৪৭) এবং কানাডীয় নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন (৫০)।前三জন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, চতুর্থজন কানাডার নাগরিক।

    নাসার দেয়া তথ্য অনুযায়ী, মিশন চলাকালীন আর্টেমিস-২ পৃথিবীর দুই বার প্রদক্ষিণের সময় প্রায় ১১১৭৫১৫ কিলোমিটার এবং চাঁদের ফ্লাইবাইয়ের সময় মোট ২৫২৭৫৬ মাইল পথ অতিক্রম করেছে। ফ্লাইবাই বলতে বোঝায় কোনো মহাকাশযান যখন কোনো গ্রহ বা небস্তুর খুব কাছ দিয়ে যায় তথাপি তা মহাকর্ষের প্রভাবে কক্ষপথে আবদ্ধ হয় না।

    পৃথিবীতে ফিরে আসার মুহূর্তটি ছিল নাটকীয়। ওরিয়ন ক্যাপসুল বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের পর থেকে অবতরণে আসতে প্রায় ১৩ মিনিট সময় লাগে। প্রবেশের সময় বাতাসের ঘর্ষণে ক্যাপসুলের বাইরের তাপমাত্রা পৌঁছে যায় প্রায় ২ হাজার ৭০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে; এত তাপে ক্যাপসুলটি বাহ্যিকভাবে একটি অগ্নিগোলাকের মতো প্রদর্শিত হলেও ভেতরের ক্রুদের ওপর তাপ পৌঁছায়নি। প্রবল তাপের কারণে অবর্তমানে রেডিও সংযোগ কিছুক্ষণ বিচ্ছিন্নও হয়েছিল।

    সমুদ্রে অবতরণের পরে উদ্ধারকারী দলকে ক্যাপসুলটিকে সহনীয় মাত্রায় ঠান্ডা হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছিল; এরপরই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করে ক্রুদের উদ্ধার করা হয়। নাসা জানিয়েছে, নভোচারীরা সবাই শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন। ঘটনাটি লাইভ সম্প্রচারে নাসার ইউটিউব চ্যানেলে বিশ্বের তিন মিলিয়নেরও বেশি মানুষ দেখেন।

    নাসার উদ্ধারকাজে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী সহযোগিতা করেছে। নভোচারীরা অবতরণকালের রাতে নৌবাহিনীর জাহাজে ছিলেন এবং পরে টেক্সাসের হিউস্টনে তাঁদের পরিবারের সঙ্গে মিলিত হবার কথা আছে।

    আর্টেমিস-২ প্রস্তুতিমূলক মিশন হলেও এর কিছু দিক ঐতিহাসিক। মিশনে ছিলেন একজন নারী নভোচারী (ক্রিস্টিনা কোচ) এবং একটি আন্তর্জাতিক উপাদানও ছিল—কানাডার নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন ক্রুতে ছিলেন। এছাড়া মিশনটি পুরনো রেকর্ডও ভেঙেছে: অ্যাপোলো-১৩-এর পরে এতদূর পাড়ি দেয় এমন কোনো নাসা মানব-চালিত অভিযানের রেকর্ড আর্টেমিস-২ মাত্র পেরিয়ে গেছে।

    মিশনের শেষের দিকে, অবতরণের কয়েক মিনিট আগে কমান্ডার রেইড ওয়াইজম্যান রেডিওবার্তায় বলেছিলেন: “আমরা (ক্যাপসুলের) দ্বিতীয় জানালা দিয়ে চাঁদের দারুণ এক দৃশ্য দেখেছি — গতকালের চেয়ে একটু ছোট লাগছে। মনে হচ্ছে আমাদের ফিরে যেতে হবে।”

    সূত্র: রয়টার্স, নাসা.

  • ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান আলোচনায় ইরানের বড় কূটনৈতিক সাফল্যের সম্ভাবনা

    ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান আলোচনায় ইরানের বড় কূটনৈতিক সাফল্যের সম্ভাবনা

    পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের সরাসরি আলোচনা চলছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর প্রথমবার উচ্চপর্যায়ের এই সাক্ষাতের ফলাফলের দিকে বিশ্ব—and বিশেষ করে ইরানি জনগণ—আকৃষ্ট হয়ে রয়েছে।

    আলোচনাগুলো হচ্ছে ইসলামাবাদের বিলাসবহুল পাঁচতারা হোটেল সেরেনায়, যেখানে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের প্রতিনিধিরা প্রথম দফায় দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আলোচনার পর রাতের খাবারের বিরতিতে যান। বিরতিচ্ছেদের পর সংক্ষিপ্ত বিরতির শেষে দ্বিতীয় দফায় আবারও আলোচনা শুরু হয়।

    আলোচনায় জড়িত ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালির টোল এবং ইরানিদের দাবিকৃত সম্পদ অবমুক্তকরাসহ ইরানের মৌলিক শর্তগুলোর বিষয়ে আঞ্চলিক অগ্রগতি হয়েছে। তবে এই অগ্রগতি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ের এবং অনেক বিষয় নিশ্চিত নয়। পাকিস্তানি মধ্যস্ততাকারীরা পরিস্থিতিকে বড় ধরনের অগ্রগতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন এবং আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন—যা হলে ইরানের জন্য এটি বড় কূটনৈতিক সফলতা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

    পাকিস্তান সরকার সূত্রে প্রকাশিত বিবিসি উর্দু জানিয়েছে, প্রাথমিক আলোচনা ‘ইতিবাচক’ হয়েছে। দ্বিতীয় দফায় দুই পক্ষের দেওয়া প্রস্তাবগুলোর কারিগরি দিকগুলো পর্যালোচনা করা হবে।

    আলোচনায় অংশ নেওয়া ইরানি প্রতিনিধিদলকে সমর্থন জানিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, দেশের স্বার্থ রক্ষায় ‘সাহসিকতার সঙ্গে’ প্রতিনিধিদলটি আলোচনা চালিয়ে যাবে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ বলেন, পরিস্থিতি যাই হোক না কেন জনগণের সেবায় কাজ থামবে না এবং আলোচনার ফলাফল যাই হোক সরকার সব সময় জনগণের পাশে থাকবে।

    স্থানীয় সময় বিকেল চারটায় শুরু হওয়া আলোচনায় পাকিস্তানের সেনাবাহিনী প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সভাপতিত্বে ইরান নেতৃত্ব দেয় পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিসহ আরও কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাও উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন জেডি ভ্যান্স; দলের অন্যান্য সদস্য ছিলেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার।

    আলোচনায় পাকিস্তানের পক্ষ থেকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশহাক দার এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি।

    আলোচনাকে ঘিরে হোটেল সেরেনার আশপাশে শতশত সাংবাদিক সজাগভাবে অবস্থান করছেন; তাদেরকে সরাসরি আলোচনাস্থলে ঢুকতে অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং বেশির ভাগ সংবাদকর্মী হোটেল থেকে আধা কিলোমিটার দূরে থাকা ইসলামাবাদের প্রধান সম্মেলন কেন্দ্রে অবস্থান করে সংবাদ পরিবেশন করছেন।

    লেখক: পাকিস্তানের ‘বোল’ টিভির নির্বাহী সম্পাদক ও এপির ইসলামাবাদ করেসপন্ডেন্ট

  • আর্টেমিস-২: সফল চাঁদযাত্রার পরে নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরলেন চার নভোচারী

    আর্টেমিস-২: সফল চাঁদযাত্রার পরে নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরলেন চার নভোচারী

    যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার আর্টেমিস-২ মিশনের চারজন নভোচারী সফলভাবে পৃথিবীতে ফিরেছেন। দশ দিনব্যাপী পরিকল্পিত অভিযান শেষে তারা স্থানীয় সময় ১০ এপ্রিল সন্ধ্যা ৫টায় ক্যালিফোর্নিয়ার দক্ষিণ উপকূলে সাগরে অবতরণ করেন।

    অবতরণকালে নাসার ওরিয়ন ক্যাপসুলটি ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলে সাগরে নিরাপদে নেমে আসে। কিছু সময় পর উদ্ধারকারী দল তাদের সহায়তায় ক্যাপসুল থেকে বের করে আনে, এবং সবাই শারীরিকভাবে সুস্থ থাকেন বলে নাসা জানায়।

    আর্টেমিস-২ মিশনটি ১ এপ্রিল ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে রওনা করেছিল। মিশনে অংশ নিয়েছিলেন রেইড ওয়াইজম্যান (৫০), ভিক্টর গ্লোভার (৪৯), ক্রিস্টিনা কোচ (৪৭) এবং জেরেমি হ্যানসেন (৫০)। প্রথম তিন জন মার্কিন নাগরিক, আর জেরেমি হ্যানসেন কানাডার নাগরিক।

    নাসার তথ্যে অনুযায়ী মিশন চলাকালীন আর্টেমিস-২ পৃথিবীর চারপাশ প্রদক্ষিণের সময় মোট ১,১১৭,৫১৫ কিলোমিটার এবং চাঁদের চূড়ান্ত ফ্লাইবাই-এর জন্য মোট ২,৫২,৭৫৬ মাইল পথ অতিক্রম করেছে। ফ্লাইবাই বলতে বোঝায়—কোনো মহাধারাকে খুব কাছ থেকে ছাড়িয়ে যাওয়া হলেও মহাকর্ষীয় টানে সেই বসুকে করে কক্ষপথে আটকে না পড়া।

    পৃথিবীতে ফিরে আসা মুহূর্তটি ছিল উত্তেজনাপূর্ণ। ওরিয়ন ক্যাপসুল বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের পর থেকে কেবল ১৩ মিনিটের মধ্যেই ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলে অবতরণ সম্পন্ন হয়। বায়ুর ঘর্ষণের কারণে ক্যাপসুলের বাইরের অংশের তাপমাত্রা চরমভাবে বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ২৭০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠেছিল; ফলে ক্যাপসুলটি আকাশে একটি জ্বলন্ত বুদবুদ হিসেবে দেখা যায় এবং তীব্র তাপের কারণে রেডিও যোগাযোগ কিছু সময়ের জন্য বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

    অবতরণের পর উদ্ধারকারী দলকে ক্যাপসুল ঠান্ডা হলে পর্যন্ত সাময়িকভাবে অপেক্ষা করতে হয়। তবে ওই তাপ কেবলে বাইরের অংশেই সীমাবদ্ধ ছিল—ক্যাপসুলের ভেতরে থাকা নভোচারীরা নিরাপদে ছিলেন এবং তাদের সকলেই সুস্থ বলে নাসা নিশ্চিত করেছে। নাসার ইউটিউব লাইভে তাদের অবতরণের দৃশ্য বিশ্বজুড়ে তিন লাখেরও বেশি মানুষ দেখেছেন।

    নভোচারীদের উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীও সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে। নাসার কর্মকর্তারা জানান, নভোচারীরা শুক্রবার রাতটা নৌবাহিনীর জাহাজে কাটিয়েছেন এবং শনিবার টেক্সাসের হিউস্টনে সদর দফতরের সঙ্গে মিলন করবেন।

    প্রসঙ্গত, নাসার চাঁদ অভিযানগুলোর ইতিহাস অনেক পুরনো — ১৯৬০-এর দশকে শুরু হওয়া অ্যাপোলো কর্মসূচির আওতায় ১৯৬৯ সালে অ্যাপোলো-১১ মিশনে প্রথমবার মানুষ চাঁদে পৌঁছায়। অ্যাপোলো সিরিজের ক্রমশ পরিচালনা চালিয়ে ১৯৭২ সালের অ্যাপোলো-১৭ কক্ষপথ অভিযান পর্যন্ত মানবসৃষ্ট চাঁদ অভিযানের ধারা বজায় ছিল। কয়েক দশক পর নাসা আবারও চাঁদে মানুষ পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে এবং ২০২৮ সালের মধ্যে এটি করার লক্ষ্য রেখেছেন। আর্টেমিস-২ ছিল সেই বৃহত্তর লক্ষ্যের প্রস্তুতিমূলক একটি গুরুত্বপূর্ণ মিশন।

    একাধিক কারণে আর্টেমিস-২কে ঐতিহাসিক বলা হচ্ছে; নাসা জানিয়েছে, এই মিশনটি অ্যাপোলো-১৩ দ্বারা কৃত পূর্বের দূরত্বের রেকর্ড ভেঙেছে। অভিযানের শেষভাগে মিশনের কমান্ডার রেইড ওয়াইজম্যান একটি রেডিওবার্তায় বলেছিলেন, “আমরা ২ নম্বর জানালা দিয়ে চাঁদটার দুর্দান্ত একটি দৃশ্য দেখেছি — গতকালের চেয়ে একটু ছোট লাগছে। মনে হচ্ছে আমাদের ফিরে যেতে হবে।”

    সূত্র: রয়টার্স

  • ইরানি জব্দ তহবিল ছাড়ের দাবি যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি খণ্ডন করেছে

    ইরানি জব্দ তহবিল ছাড়ের দাবি যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি খণ্ডন করেছে

    যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে বিদেশি ব্যাংকে আটকা পড়া বা জব্দ হওয়া ইরানি কোনো তহবিল ছাড় দেওয়া হয়নি। বার্তা সংস্থা এএফপির উদ্ধৃতিতে এক উচ্চপদস্থ মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, জব্দকৃত কোনো অর্থ মুক্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

    এর আগে রয়টার্সে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার এমন একটি পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে তেহরানের জব্দ করা অর্থ কিছু অংশ ছাড়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওই সূত্র নির্দিষ্ট কোনো অঙ্ক জানাননি। অন্য এক ইরানি সূত্র আরও জানিয়েছিল কাতারে রাখা প্রায় ৬০০ কোটি ডলার জব্দ তহবিল ছাড়ার বিষয়ে সম্মতি দেওয়া হয়েছে — তখন যুক্তরাষ্ট্র পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক टिप्पणी পাওয়া যায়নি।

    বর্তমানে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি হাই-র্যাংকিং এক আমেরিকান কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ইরানের জব্দকৃত তহবিল ছাড়ের খবরটি সঠিক নয় এবং ওয়াশিংটন এটি অস্বীকার করেছে।

    ইরানের সংসদ স্পিকার ও প্রতিনিধি দলের প্রধান মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ আগেই বলেছিলেন, আলোচনা শুরুর পূর্বশর্ত হিসাবে ইরানের অবরুদ্ধ তহবিল প্রথমেই মুক্তি দিতে হবে। বিশ্লেষকরা জানিয়েছৃ যে এমন পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক শক্তিগুলোর কাছে—বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুগত মহল—গ্রহণযোগ্য করা কঠিন হতে পারে।

    অপরদিকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। পাকিস্তান সরকারি সূত্র এবং ইরানি প্রতিনিধিদল দু’পক্ষই বিবিসিকে জানিয়েছেন যে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং সরকারিভাবে এক ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে শাহবাজকে একজন মার্কিন প্রতিনিধির সঙ্গে দেখা যাচ্ছে।

    তবে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকে কেন্দ্র করে সমন্বয় তৎপরতা তবুও নিশ্চিত করে না যে এটা শেষ পর্যন্ত দুই শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মধ্যে সরাসরি ও ঐতিহাসিক কোনো আলোচনা বা চুক্তির দিকে নিয়ে যাবে। বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নির্দিষ্ট কোনো আলাপচারিতায় পৌঁছানোর সম্ভাব্যতা নিয়েও অনিশ্চয়তা বিরাজমান।

  • চন্দ্রাভিযান শেষে নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরেছেন আর্টেমিস-২-এর চার নভোচারী

    চন্দ্রাভিযান শেষে নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরেছেন আর্টেমিস-২-এর চার নভোচারী

    নাসার আর্টেমিস-২ মিশনের চারজন নভোচারী সফলভাবে পৃথিবীতে অভিবাসন করেছেন। গত দশ দিনের অভিযান শেষে তাঁরা স্থানীয় সময় ১০ এপ্রিল সন্ধ্যায় ক্যালিফোর্নিয়ার দক্ষিণ উপকূলে ওরিয়ন ক্যাপসুলে অবতরণ করে এবং নাসার উদ্ধারকারী দলের সহায়তায় নিরাপদে ক্যাপসুল থেকে উত্তরণ করেন।

    আর্টেমিস-২ গত ১ এপ্রিল কেনেডি স্পেস সেন্টার, ফ্লোরিডা থেকে চাঁদভ্রমণের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। মিশনে ছিলেন রেইড ওয়াইজম্যান (৫০), ভিক্টর গ্লোভার (৪৯), ক্রিস্টিনা কোচ (৪৭) ও জেরেমি হ্যানসেন (৫০)। এই দলে প্রথম তিনজনই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এবং জেরেমি হ্যানসেন কানাডার নাগরিক।

    নাসা জানিয়েছে, অভিযানে আর্টেমিস-২ পৃথিবীকে দুইবার প্রদক্ষিণ করতে গিয়ে মোট ১,১১৭,৫১৫ কিলোমিটার অতিক্রম করেছে এবং চাঁদের কাছাকাছি যাওয়ার চূড়ান্ত ফ্লাইবাইয়ে পৌঁছানোর সময় প্রায় ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৬ মাইল পথ পাড়ি দিয়েছে। ফ্লাইবাই বলতে বোঝানো হয় মহাকাশযান যখন কোনো গ্রহের খুব কাছে থেকে মায়াজনিত গতিবেগ বদল করে চলে যায় — কক্ষপথে আটকে না থেকে কেবল পাশ কাটিয়ে যাওয়া।

    পৃথিবীতে পুনঃপ্রবেশের সময় ওরিয়ন ক্যাপসুল বায়ুমণ্ডলের ঘর্ষণে খুব দ্রুত গরম হয়ে ওঠে; ক্যাপসুলের বাইরের অংশের তাপমাত্রা প্রায় ২,৭০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠেছিল। প্রবেশের পরের গুরুত্বপূর্ণ ১৩ মিনিটের মধ্যে এসব তাপ এবং বায়ুমণ্ডলের শক্ত ঘর্ষণের কারণে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং ক্যাপসুল তখন এক ধরনের ‘অগ্নিগোল’র মধ্যে দেখা গিয়েছিল। তাই সাগরে অবতরণের পর উদ্ধারকারী দলকে ক্যাপসুলটি পর্যাপ্ত ঠান্ডা না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিল।

    খবর নিশ্চিত করেছে নাসা, বায়ুদাহচাপ ও তাপ ক্যাপসুলের ভিতরে থাকা নভোচারীদের স্পর্শ করেনি। সবাই শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন এবং দ্রুততর স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর তারা নৌবাহিনীর জাহাজে রাত কাটিয়েছেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী শনিবার তাঁরা টেক্সাসের হিউস্টনে তাঁদের পরিবার ও মিশন দলের সঙ্গে মিলিত হবেন।

    নাসার ইউটিউব চ্যানেলে অভিযানকালের ও অবতরণের সরাসরি চিত্র ও ফুটেজ দেখেছে প্রায় ৩০ লাখেরও বেশি মানুষ। উদ্ধারকারী ও সহায়তা তৎপরতায় যুক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী।

    আর্টেমিস-২ শুধুই একটি পরীক্ষামূলক সফরই নয়—এটি নাসার ধরে নেয়া ভবিষ্যৎ চন্দ্রাভিযানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতিমূলক মিশন। মিশনটি অ্যাপোলো যুগের পর থেকে চন্দ্রাভিযানের ধারাকে পুনরুজ্জীবিত করার পথে এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। বিশিষ্ট একটি দিক হলো, আর্টেমিস-২ পূর্বের অ্যাপোলো-১৩ এর রেকর্ড ভেঙে মোট ২৫২,৭৫৬ মাইল ভ্রমণ করে নতুন দূরত্বরেকর্ড গড়ে দিয়েছে (অ্যাপোলো-১৩ ছিল প্রায় ২৪৮,০০০ মাইল)।

    অভিযানের শেষ দিকে মিশনের কমান্ডার রেইড ওয়াইজম্যান রেডিও বার্তায় জানিয়েছিলেন, ‘‘আমরা আমাদের ২ নম্বর জানালা দিয়ে চাঁদের একটি অসাধারণ দৃশ্য দেখেছি—গতকালের তুলনায় একটু ছোট মনে হলো। মনে হচ্ছে ফিরে যেতে হবে।’’

    সূত্র : রয়টার্স

  • যুক্তরাষ্ট্র জব্দ করা ইরানি সম্পদ মুক্ত করতে রাজি: ইরানি কর্মকর্তা

    যুক্তরাষ্ট্র জব্দ করা ইরানি সম্পদ মুক্ত করতে রাজি: ইরানি কর্মকর্তা

    কাতার ও বিশ্বের অন্যান্য দেশে জব্দ করা ইরানি সম্পদ মুক্ত করে দিতে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র—শনিবার (১১ এপ্রিল) রয়টার্সকে এক ইরানি কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।

    তিনি জানিয়েছেন, মার্কিন সিদ্ধান্তটি আলোচনার আগে তাদের ‘সদিচ্ছার পরীক্ষা’ হিসেবে দেখা হয়েছিল। পাশাপাশি এটি ইঙ্গিত করে যে যুক্তরাষ্ট্র এ আলোচনাকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

    উল্লেখ্য, এই কর্মকর্তা আরও বলেছেন যে জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করার বিষয়টি সরাসরি হওয়া উচিত হরমুজ জলসীমায় জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত। তাদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, যদি ইরান হরমুজ সাগরে জাহাজ চলাচলে কোনো বাধা না রাখে, তখন যুক্তরাষ্ট্র এই সম্পদ ছেড়ে দেয়।

    ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাগের ঘালিবাফ মাইক্রোব্লগিং সাইট এক্সে একটি পোস্টে বলেছেন, পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য مذاکرات তারা শুরু করবেন না যতক্ষণ লেবানে ইসরায়েল হামলা বন্ধ করবে এবং যুক্তরাষ্ট্র জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করবে।

    রয়টার্স অনুসারে, মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের পণ্য বিক্রির বহু বিলিয়ন ডলার বিভিন্ন দেশে আটকে আছে।

    রয়টার্সের আরও খবরে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করে উত্তেজনা ও সংঘাতের খবর প্রকাশ পায় এবং কিছু অবধিতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হয়েছে; তবে সেই বিরতিকে ভঙ্গুর বলে beskr করা হয়। একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদি আলোচনায় অগ্রগতি না হয় তাহলে আরেকটু শক্ত কণ্ঠে প্রতিক্রিয়া জানানো হতে পারে—এমন মন্তব্যও করা হয়েছে।

    সূত্র: রয়টার্স

  • চন্দ্রাভিযান শেষে নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরলেন চার নভোচারী

    চন্দ্রাভিযান শেষে নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরলেন চার নভোচারী

    যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ন্যাশনাল অ্যারোনেটিক্স অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (NASA)-এর নভোযান আরেটেমিস ২-এর চার নারী ও পুরুষ নভোচারী সফলভাবে পৃথিবীতে ফিরে এসেছেন। দশ দিনের এই ঐতিহাসিক চন্দ্র অভিযানে তারা বিশ্ববাসীর কাছে নতুন এক ইতিহাস রচনা করলেন।

    গত ১০ এপ্রিল স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৫টার দিকে, ক্যালিফোর্নিয়ার দক্ষিণ উপকূলে অবতরণ করে NASA-র ওরিয়ন ক্যাপসুল। এরপর, উদ্ধারকারী দলের সহযোগিতা নিয়ে দুতলার ক্যাপসুল খুলে বের হন চারজন নভোচারী।

    এর আগে, ১ এপ্রিল, ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে চাঁদের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় এই বিশেষ অর্বহ রোভার। এবং তা সফলভাবে আজ পৃথিবীতে ফিরে এসেছে। নভোযানে ছিলেন রেইড ওয়াইজম্যান (৫০), ভিক্টর গ্লোভার (৪৯), ক্রিস্টিনা কোচ (৪৭) এবং জেরেমি হ্যানসেন (৫০)। এই চারজনের মধ্যে তিনজন মার্কিন নাগরিক এবং একজন কানাডার নাগরিক।

    নাসার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই অভিযানে আরেটেমিস ২ মহাকাশযান পৃথিবীর দুই অক্ষাংশে মোট ১১ লাখ ১৭ হাজার ৫১৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে। চন্দ্রের কাছাকাছি গিয়ে একটি পর্যবেক্ষণ ফ্লাইবাই সম্পন্ন করে, অর্থাৎ মহাকাশে স্বধীনভাবে মহাকর্ষের টানে মহাকাশযানটি খুব কম দূরত্ব দিয়ে যায়, কিন্তু কোনোক্রমে মহাকর্ষ টানে কক্ষপথে আবদ্ধ হন না।

    পৃথিবীতে ফেরার সময় ক্যাপসুলটি বেশ চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা করে। বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় বাইরের তাপমাত্রা ২৭০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠে যায়, যা এক বিশাল আগ্নিগোলক সৃষ্টি করে। এই তাপের কারণে রেডিও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তবে বড্ড দেরি না করে, উদ্ধারকারী দল ক্যাপসুল থেকে নভোচরীদের নামাতে সক্ষম হন।

    বিশ্বের ৩০ লাখেরও বেশি মানুষ এই দৃশ্যের ভিডিও দেখেছেন, যেখানে তারা দেখতে পেয়েছেন মহাকাশচালকরা নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরে আসছেন। নভোচরীদের সুস্থ ও স্বাভাবিক থাকা নিশ্চিত করতে নৌবাহিনী ও নাসার যৌথ কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শুক্রবার রাতে তারা নৌবাহিনীর জাহাজে কাটিয়েছেন, এবং শনিবার হিউস্টোনে ফিরে এসে অতীতের অভিজ্ঞতাগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবেন।

    প্রথম চন্দ্র অভিযানের ওপর ভিত্তি করে ১৯৬৯ সালে প্রথমবারের মতো চাঁদে পা রাখেন নাসার নভোচারীরা। অ্যাপোলো ১১ মিশনে নীল আর্মস্ট্রং, অলড্রিন এবং কলিন্স প্রথমবারের মতো চাঁদে পা রাখেন। এরপর ১৯৭০ সালে শেষ অ্যাপোলো অভিযানে, অ্যাপোলো ১৩, পৃথিবীর মহাকাশ ইতিহাসে এক নতুন রেকর্ড গড়েছিল, যেখানে তারা ২ লাখ ৪৮ হাজার মাইল পথ অতিক্রম করে।

    নাসা এখন নতুন লক্ষ্যে এগাচ্ছে, ২০২৮ সালের মধ্যে আবার চাঁদে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়ে। এই প্রস্তুতি হিসেবে চলতি বছর অনুষ্ঠিত হয় আরেটেমিস ২ মিশন, যা ছিল প্রস্তুতিমূলক এবং ইতিহাসে এক নতুন দিক।

    বিশেষভাবে উল্লেখ্য, এই অভিযানে প্রথমবারের মতো একজন নারী (ক্রিস্টিনা কোচ) এবং একজন অ-মার্কিন নাগরিক হিসেবে কানাডার জেরেমি হ্যানসেন মহাকাশে গিয়েছেন, যা মহাকাশ গবেষণায় নতুন দিগন্তের সূচনা করে।

    আবৃত্তির শেষ পর্যায়ে, মিশনের প্রধান নভোচারী রেইড ওয়াইজম্যান বলেন, “আমরা চন্দ্রের অসাধারণ দৃশ্য দেখেছি, যা গতবারের চেয়ে কিছুটা ছোট মনে হচ্ছে। আমাদের ফিরে যেতে হবে।” এই মন্তব্যে এই অভিযানের গুরুত্ব এবং তার অসাধারণ তারিখের গুরুত্ব প্রকাশ পেয়েছে।

  • ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স, আলোচনার প্রস্তুতি শুরু

    ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স, আলোচনার প্রস্তুতি শুরু

    পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছে গেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ইসলামাবাদের বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এই সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এর আগে কখনো এভাবে উচ্চস্তরের মার্কিন প্রতিনিধি এই অঞ্চলে আসেননি। মনে করা হচ্ছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই ব্যক্তিকে পাঠানো হয়েছে, যেন শেষ মুহূর্তের চুক্তি সম্পন্ন করার দায়িত্ব তার কাঁধে দেওয়া হয়।

    বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর পরিস্থিতির গুরুত্ব অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। ভ্যান্সের সঙ্গে থাকবেন জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ, যারা মূল আলোচক। এই পদক্ষেপটি প্রমাণ করে যে, যুক্তরাষ্ট্র এখন দ্রুত এই চুক্তিটি সম্পন্ন করতে আগ্রহী।

    অন্যদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পরিচালিত যুদ্ধের পরিস্থিতি এখনও উত্তপ্ত। দেশের এক-তৃতীয়াংশের কম মানুষ এ ব্যবস্থার পক্ষে। এর ফলে, দক্ষিণপন্থী এই উদ্যোগ থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছেন ট্রাম্প। এছাড়া, নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনে এই সংঘাতের প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই তার দল রিপাবলিকান পার্টির শক্তি কমিয়ে দিতে পারে।

    এই পরিস্থিতিতে, ট্রাম্প ভ্যান্সাকে পাঠিয়েছেন চূড়ান্ত সমঝোতা নিশ্চিত করতে। মূল লক্ষ্য রয়েছে—হরমুজ প্রণালি খোলা রাখা, সেটি সচল রাখা এবং ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করা। তবে তাঁর সবচেয়ে বড় উদ্দেশ্য হল এই সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে নিজেকে বিজয়ী হিসেবে উপস্থাপন করা। এর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, হরমুজ প্রণালি খোলা রাখা।

    এর আগে, মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃস্থানীয় সদস্য জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন। রয়টার্সের খবর, এমন এক বিমানে করে তারা পাকিস্তানের রাজধানীতে এসেছেন, যা বিশেষভাবে এই আলোচনার জন্য কাঠামো তৈরিতে ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এ আলোচনাকে ‘মেক অর ব্রেক’ অর্থাৎ চূড়ান্ত মোড় ঘোরানো মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

    ইরানি প্রতিনিধিদলের বিমান পাকিস্তানের আকাশসীমায় প্রবেশের সময় তাদের নিরাপত্তার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়। বিমানটিকে এডব্লিউএসিএস সতর্কতা বিমান, ইলেকট্রনিক যুদ্ধবিমান এবং অন্যান্য যুদ্ধে সামরিক বাহিনী দ্বারা ঘিরে রাখা হয়। ইসলামাবাদে পৌঁছানোর পরে ইরানি প্রতিনিধিদলকে উদ্দেশ্যে জানান সরকারের প্রতিরক্ষা বাহিনী, পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। নেতৃত্ব দিচ্ছেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। রাজধানীর প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা ব্লু এরিয়ায় এত তীব্র গাড়ি ও জনজট তৈরি হয়েছে যে পুরো রাস্তা কার্যত থমকে গেছে। সরকার এই দুই দিনের জন্য ছুটি ঘোষণা এবং নিরাপত্তায় মোতায়েন করেছে প্রায় ১০ হাজার সেনা ও নিরাপত্তা কর্মী।

    বিমানবন্দর থেকে ইরানি প্রতিনিধিদল যখন শহরের দিকে রওনা দেন, তখন তাদের নিরাপত্তা দেয় স্পেশাল সার্ভিসেস গ্রুপের বিশেষ কমান্ডো ইউনিট। ইসলামাবাদ সময় সকাল ১০টার একটু পরে, মেঘাচ্ছন্ন আকাশের নিচে প্রস্তুত দেশের এই বহুল প্রত্যাশিত আলোচনা শুরু হওয়ার জন্য।

    মধ্যরাতের পর ইরানি প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদে পৌঁছায়, নেতৃত্বে ছিলেন স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তাৎক্ষণিকভাবে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও সেখানে পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই আলোচনা কখন শুরু হবে বা কত দিন চলবে—এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো তৎপরতা জানানো হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, আলোচনা অন্তত একটি পুরো দিন পর্যন্ত চলতে পারে, যদি ভ্যান্স এখনো পৌঁছান।

    এদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছে, গত সপ্তাহে যুদ্ধবিরতি সিদ্ধান্তের পরে এ আলোচনা সর্বোচ্চ ১৫ দিনের জন্য স্থগিত রাখা যেতে পারে। এই বৈঠকের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তপ্ত সম্পর্কের কিছু অংগমুক্তির চেষ্টা চলবে, যা সম্ভবত এই দুই দেশের বৃহৎ কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হবে।

  • ইরানের সঙ্গে আলোচনা বাťে ট্রাম্পের কণ্ঠে ‘সতর্ক আশাবাদ’

    ইরানের সঙ্গে আলোচনা বাťে ট্রাম্পের কণ্ঠে ‘সতর্ক আশাবাদ’

    কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার পরোক্ষ কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে। এর মাঝেই ওয়াশিংটন থেকে আশাবাদ ব্যক্ত করা হলেও, তারা জানায় যে এই উদ্যোগটি অত্যন্ত নাজুক ও সংবেদনশীল। শুক্রবার সন্ধ্যার আগে এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সংক্ষিপ্ত এক বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের প্রতি আস্থার কথা ব্যক্ত করেন। তবে আলোচনা কী রকম ফলপ্রসূ হবে, তা আগে থেকেই নির্ধারিত—এমন কোনও আভাস তিনি দেননি। ট্রাম্প বলেছিলেন, “শেষ পর্যন্ত কী হয় দেখা যাক। সেখানে জেডি (ভ্যান্স), স্টিভ ও জ্যারেড আছেন। আমাদের দক্ষ এক দল আছে এবং তারা কাল বৈঠকে বসবে। আমরা দেখব কী উন্নতি হয়।” তিনি মূলত ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও শীর্ষ উপদেষ্টা দলের কথা উল্লেখ করেন। ট্রাম্প একই সঙ্গে এই আলোচনাকে কৌশলগত ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বলে চিহ্নিত করেন, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ এবং ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থের বিষয়গুলো শেষ পর্যন্ত আলোচনা ফলাফলে প্রভাব ফেলবে। তিনি আরও বলেন, “প্রণালিটি (হরমুজ প্রণালি) খুলে যাবে। আমরা যদি এটি ছাড়া দিই, তবে এটি নিজেদের মতোই খুলে যাবে। আমারা এই নৌপথের ওপর সরাসরি নির্ভরশীল নয়—অন্য দেশগুলো এগিয়ে আসবে।” সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে তিনি বিকল্প পরিকল্পনা বা ব্যাকআপ প্ল্যানের বিষয়ে সরাসরি কোন মন্তব্য করেননি, বরং বলেন, “এটি সহজ হবে না, তবে আমরা খুব দ্রুত পথ খুলে দিতে পারি।” তার এই বক্তব্যে বোঝা যায়, তিনি আলোচনার ফলাফল নিয়ে একদিকে আত্মবিশ্বাসী, অন্যদিকে অনিশ্চিত। তিনি এই প্রক্রিয়াটিকে প্রকৃতিতে সুচিন্তিত ও পরিকল্পিত বলে মনে করেন। অন্যদিকে, ইসলামাবাদে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বদানকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, আলোচনাকে তিনি ‘ইতিবাচক’ বলে মনে করছেন। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, তেহরান যেন আমাদের সঙ্গে ‘চতুরতা’ বা কারসাজি করতে না আসে। এই মন্তব্যে তাদের গভীর অবিশ্বাসের প্রতিফলন দেখা যায়। এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তান নিজেকে কেবল মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নয়, বরং একটি ‘সহায়ক প্ল্যাটফর্ম’ হিসেবে উপস্থাপন করছে। দেশটি মূলত আলোচনা পরিচালনায় পরিবেশ তৈরির জন্য একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। ওয়াশিংটনে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত রিজওয়ান সাঈদ শেখ বলেন, অনেক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও তৎপরতার ফলেই আজকের এই ইতিবাচক পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। তিনি প্রশংসা করেন পাকিস্তান ও অন্যান্য আঞ্চলিক দেশগুলোর ভূমিকাকে। তিনি জানিয়ে দেন যে, এখন আলোচনাগুলোর চূড়ান্ত পর্যায় শুরু হয়েছে, এবং এর মধ্যে রাজনৈতিক ভিত্তি গড়ে উঠেছে। কূটনৈতিক এ অগ্রগতি মূলত অপ্রত্যাশিত নয়, বরং প্রাথমিক আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে এই অবস্থায় এসেছে। তিনি আরও সর্তক করেন, আলোচনা শুরুর আগে যে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে, সেগুলোর প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা দেখা জরুরি। এটি শুধু বাহ্যিক পরিবেশের জন্য নয়, বরং মূল বিষয়বস্তুর ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, উভয় পক্ষের মনোভাব ও সহযোগিতার মানসিকতা পুরো বিষয়টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই চূড়ান্ত পর্যায়কে তিনি ‘চলমান প্রক্রিয়া’ হিসেবে দেখছেন, যেখানে প্রয়োজন অনুযায়ী আলোচনা ও সমন্বয় চালিয়ে যাওয়াই মূল লক্ষ্য।

  • মিয়ানমারের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিলেন জান্তা প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং

    মিয়ানমারের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিলেন জান্তা প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং

    মিয়ানমারের সামরিক জান্তা প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং officially শপথ গ্রহণ করেছেন দেশের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে। পাঁচ বছর ধরে দেশজুড়ে গৃহযুদ্ধ ও একটি নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়ার পর তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ পদে বসেছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই খবর নিশ্চিত করেছে।

    শুক্রবার রাজধানী নিপিদোতে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক অভিষেক অনুষ্ঠানে তিনি এই শপথ নেন। ভাষণে মিন অং হ্লাইং বলেন, মিয়ানমার এখন ‘গণতন্ত্রের পথে’ ফিরে আসছে এবং একটি আরও উন্নত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, বর্তমান সময়ের মতো অনেক চ্যালেঞ্জ এখনো মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

    গত সপ্তাহে, জান্তাপন্থী পার্লামেন্টে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতার সাথে নির্বাচিত হন ৬৯ বছর বয়সী এই জেনারেল। এর মাধ্যমে দেশের শাসনে তার নিয়ন্ত্রণ আরও দৃঢ় হয়েছে। তিনি মনোনীত তিন প্রার্থী মধ্যে অন্যতম ছিলেন, যেখানে অন্য দুজন উপ-রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

    ২০২১ সালে, শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অং সান সু চিকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে গ্রেফতার করেন মিন অং হ্লাইং। এই অভ্যুত্থানের ফলে মিয়ানমার আকস্মিক সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলায় জড়িয়ে পড়ে, বিভিন্ন বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং দেশটি এক গভীর অস্থিরতার মধ্যে পড়ে যায়।