Category: আন্তর্জাতিক

  • মালয়েশিয়ায় নিপাহ আশঙ্কায় ভারত–বাংলাদেশ যাত্রীদের কড়া স্ক্রিনিং শুরু

    মালয়েশিয়ায় নিপাহ আশঙ্কায় ভারত–বাংলাদেশ যাত্রীদের কড়া স্ক্রিনিং শুরু

    প্রাণঘাতী নিপাহ ভাইরাসের সম্ভাব্য ছড়িয়ে পড়া রোধে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিশেষ স্ক্রিনিং কার্যক্রম শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) স্বাস্থ্যমন্ত্রী জুলকেফলি আহমদ এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দেশ থেকে আসা — বিশেষত ভারত ও বাংলাদেশ — যাত্রীদের ওপর নজরদারি জোরদার করা হবে।

    সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশের সব আন্তর্জাতিক প্রবেশপথে বডি টেম্পারেচার পরিমাপের যন্ত্রগুলো সচল করা হয়েছে, যাতে যাত্রীদের মধ্যে নিপাহের প্রাথমিক উপসর্গ হিসেবে জ্বর দ্রুত শনাক্ত করা যায়। মালয়েশিয়া ভারত ও বাংলাদেশকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রেখেছে এবং সেখান থেকে আসা যাত্রীদের টার্গেটেডভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। তবে এদের জন্য আলাদা কোনো পথ বা রুট নির্ধারণ করা হয়নি; স্বাভাবিক অভিবর্তন প্রক্রিয়ার মধ্যেই নজরদারি করা হবে।

    স্ক্রিনিং চলাকালীন যদি কারো শরীরে জ্বর বা কোনও সন্দেহজনক উপসর্গ ধরা পড়ে, তাকে সঙ্গে সঙ্গেই বিশেষ মেডিকেল টিমের কাছে পাঠিয়ে অতিরিক্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, এই পদক্ষেপগুলো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ আন্তর্জাতিক নির্দেশিকা ও বৈশ্বিক ঝুঁকি পর্যালোচনার ভিত্তিতেই নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি যাতে আমাদের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাগুলো আন্তর্জাতিক মানের এবং সময়োপযোগী থাকে।’

    তিনি আরও জানান, দেশের সব প্রবেশপথে স্বাস্থ্য বিভাগ উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও প্রস্তুতি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, ভারতে সম্প্রতি নিপাহ সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর এশিয়ার অন্যান্য কয়েকটি দেশও তাদের বিমানবন্দর ও সীমান্তে অনুরূপ সতর্কতা বাড়িয়েছে। মালয়েশিয়ার এই পদক্ষেপও সেই প্রেক্ষাপটের অংশ, যাতে দ্রুত শনাক্তকরণ ও সময়মতো প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে সম্ভাব্য বিস্তার প্রতিরোধ করা যায়।

  • মার্কিন হামলার যেকোনো আক্রমণে ‘তাত্ক্ষণিক ও শক্তিশালী জবাব’ দেওয়ার প্রস্তুতি ইরানের: আরাগচি

    মার্কিন হামলার যেকোনো আক্রমণে ‘তাত্ক্ষণিক ও শক্তিশালী জবাব’ দেওয়ার প্রস্তুতি ইরানের: আরাগচি

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য কোনো হামলার বিরুদ্ধে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী তাত্ক্ষণিক ও শক্তিশালী জবাব দেওয়ার জন্য সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত। এই মন্তব্য তিনি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি পুনর্ব্যক্তের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে।

    আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “আমাদের সাহসী সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত—আমাদের ভূমি, আকাশ ও সাগরের বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়া দিতে তাদের আঙুল ট্রিগারে রয়েছে।” তিনি বলেন, গত বছরের জুনে ইসরায়েলে হওয়া সামরিক হামলা এবং ট্রাম্প প্রশাসনের পারমাণবিক স্থাপনা সংক্রান্ত কৌশল থেকে ইরান মূল্যবান শিক্ষা নিয়েছে, যা তাদেরকে দ্রুত ও কার্যকরভাবে প্রতিক্রিয়া দেখানোর ক্ষমতা দিয়েছে।

    এর আগেই ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া পেজে লিখেছেন, “ইরানের দিকে একটি বিশাল নৌবহর যাচ্ছে। এটি দ্রুত ও কার্যকরভাবে তার মিশন সম্পন্ন করতে প্রস্তুত, প্রয়োজন হলে শক্তি ও সহিংসতা ব্যবহার করে।” তিনি ইরানকে বাকি থাকার আহ্বান জানিয়ে যোগ করেন, “আশা করি ইরান দ্রুত আলোচনার টেবিলে বসবে এবং একটি ন্যায়সঙ্গত চুক্তি করবে—কোনো পারমাণবিক অস্ত্র নেই। সময় কমে আসছে।”

    বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবহরের মোতায়েন মূলত শক্তি প্রদর্শন এবং ইরানকে আলোচনার টেবিলে বসাতে একটি কৌশল। কাতারের বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আদনান হায়াজনে উল্লেখ করেন, “যুক্তরাষ্ট্র বার্তা দিচ্ছে—যদি তোমরা আমাদের চাওয়া অনুসরণ না করো, তখন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারসহ কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে।”

    আরাগচি স্পষ্ট করে বলেন, হুমকির মুখে কোনো কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা নেই। “আমাদের অবস্থান পরিষ্কার: হুমকির সঙ্গে আলোচনা যায় না। আলোচনার সময়ই আসবে যখন আর কোনো হুমকি বা অতিরিক্ত দাবি থাকবে না,” তিনি জানান। তারপরও তিনি যোগ করেন, ইরান সব সময়ই এমন একটি পারস্পরিকভাবে উপকারি ও ন্যায়সঙ্গত পারমাণবিক চুক্তিকে স্বাগত জানায় যা শান্তিপূর্ন প্রযুক্তি নিশ্চিত করে এবং পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিরোধ করে।

    আঞ্চলিক উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ার সংকেত মিলেছে—হরমুজ প্রণালী এলাকায় তেহরান ও মার্কিন বিমানবাহিনীর মধ্যে সামরিক মহড়া চলছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড সতর্ক করে দিয়েছে, কোনো প্রতিবেশী দেশ যদি মার্কিন হামলায় তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেয় তাহলে তাকে “শত্রু” হিসেবে গণ্য করা হবে।

    আরেকদিকে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তারা তাদের আকাশসীমা কোনো হামলার জন্য ব্যবহার করে না। মিশর বলেছে, তারা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাদা আলাদা আলোচনা চালাচ্ছে যাতে অঞ্চলে শান্তি বজায় থাকে এবং নতুন অস্থিতিশীলতার চক্র সৃষ্টি না হয়।

    বিশ্লেষকরা মনে করেন, আঞ্চলিক পক্ষগুলোর আহ্বান হয়ত যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেলবে না; ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত তার কৌশল ও সিদ্ধান্তের ওপরই চলতে চাইতেন। পরিস্থিতি এখনো পরিবর্তনশীল এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলমান—তবে আঞ্চলিক উত্তেজনা তাৎপর্যপূর্ণভাবে বাড়ছে।

  • ইরান: মার্কিন হামলা হলে তাৎক্ষণিক ও শক্তিশালী জবাব দিতে সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত — আরাগচি

    ইরান: মার্কিন হামলা হলে তাৎক্ষণিক ও শক্তিশালী জবাব দিতে সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত — আরাগচি

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিকূল পদক্ষেপের ক্ষেত্রে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী তাৎক্ষণিক এবং শক্তিশালী জবাব দিতে সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত। তিনি এই মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুনরায় সামরিক হুমকি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে।

    আরাগচি বুধবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “আমাদের সাহসী সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে—আমাদের প্রিয় ভূমি, আকাশ ও সাগরের বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসনের তাৎক্ষণিক ও শক্তিশালী জবাব দিতে তাদের আঙুল ট্রিগারে রয়েছে।”

    তিনি আরো বলেছেন, গত বছরের সংঘটিত সামরিক ঘটনার অভিজ্ঞতা ইরানকে মূল্যবান শিক্ষা দিয়েছে এবং তা তাদের প্রতিক্রিয়া ক্ষমতা বাড়িয়েছে। “১২ দিনের যুদ্ধে শেখা শিক্ষাগুলো আমাদের আরো শক্তিশালী ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর সক্ষমতা দিয়েছে,” যুক্ত করেছেন আরাগচি।

    ট্রাম্পও সোশ্যাল মিডিয়ায় আবারো ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর কণ্ঠে সতর্ক করে লিখেছেন, “ইরানের দিকে একটি বিশাল নৌবহর যাচ্ছে। এটি দ্রুত ও কার্যকরভাবে তার মিশন সম্পন্ন করতে প্রস্তুত, প্রয়োজন হলে জোর ও সহিংসতা ব্যবহার করে।” তিনি আরও বলেছেন, “আশা করি ইরান দ্রুত আলোচনার টেবিলে বসবে এবং একটি ন্যায্য চুক্তি করবে—কোনো পারমাণবিক অস্ত্র নেই। সময় কমে আসছে।”

    বিশ্লেষকরা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবহরের মোতায়েন মূলত শক্তি প্রদর্শন এবং ইরানকে আলোচনায় আনার কৌশল। কাতারের বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আদনান হায়াজনে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র বার্তা দিচ্ছে—যদি তোমরা আমাদের চাওয়া অনুসরণ না করো, ক্ষমতায় জোর প্রদর্শন করা হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, আঞ্চলিক পক্ষের আবেদন হয়তো কৌশলগত সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেলবে না।

    ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে হুমকির পরিবেশে কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা নেই। আরাগচি বলেছেন, “আমাদের অবস্থান স্পষ্ট: হুমকির সঙ্গে আলোচনা যায় না। আলোচনার সময়ই সম্ভব যখন আর কোনো হুমকি বা অতিরিক্ত দাবি থাকবে না।” একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইরান সবসময়ই পারস্পরিকভাবে উপকারি ও ন্যায়সঙ্গত পারমাণবিক চুক্তি স্বাগত জানাবে, যা শান্তিপূর্ণ প্রযুক্তি নিশ্চিত করে এবং পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিরোধ করে।

    আঞ্চলিক পরিস্থিতিও তীব্র হচ্ছে। হার্মুজ প্রণালী এলাকায় তেহরান ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনী কার্যক্রম বাড়ছে এবং ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড সতর্ক করেছে যে, কোনো প্রতিবেশী দেশ যদি মার্কিন হামলায় তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে, তাহলে তাকে “শত্রু” হিসেবে গণ্য করা হবে।

    এদিকে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তারা তাদের আকাশসীমা কোনো হামলার জন্য ব্যবহার করতে দেবে না। মিশরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র দুইপক্ষের সঙ্গে আলাদা আলাদা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে যাতে অঞ্চলে শান্তি বজায় থাকে এবং নতুন অস্থিতিশীলতার চক্র সৃষ্টি না হয়।

    বিশ্লেষকদের মতে, সংকট এড়াতে কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকলেও সামরিকভাবে এখনো তৎপরতা কৌশলের অংশে রয়েছে। পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা না গেলে অচিরেই আরও তীব্র উত্তেজনার মুখোমুখি হতে পারে—এটাই বিন্দুমাত্র কম নয় বলে সতর্ক করে দিচ্ছেন পর্যবেক্ষকরা।

  • মালয়েশিয়ায় নিপাহ সতর্কতা: ভারত–বাংলাদেশ থেকে আসা যাত্রীদের বিশেষ স্ক্রিনিং শুরু

    মালয়েশিয়ায় নিপাহ সতর্কতা: ভারত–বাংলাদেশ থেকে আসা যাত্রীদের বিশেষ স্ক্রিনিং শুরু

    প্রাণঘাতী নিপাহ ভাইরাসের সম্ভাব্য বিস্তার রোধে আগাম সতর্কতার অংশ হিসেবে মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক প্রবেশপথগুলোতে বিশেষ স্ক্রিনিং কার্যক্রম চালু করেছে। এবার লক্ষ্যভিত্তিকভাবে বিশেষ করে ভারত ও বাংলাদেশ থেকে আগত যাত্রীদের দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে।

    বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জুলকেফলি আহমদ এই পদক্ষেপের ঘোষণা দেন। তিনি জানান, দেশের সব আন্তর্জাতিক প্রবেশপথে বডি টেম্পারেচার মাপার যন্ত্র সচল করা হয়েছে যাতে যাত্রীদের মধ্যে জ্বর—নিপাহের প্রাথমিক উপসর্গ—দ্রুত শনাক্ত করা যায়।

    মালয়েশিয়া ভারত ও বাংলাদেশকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় রেখেছে এবং সেখান থেকে আগত যাত্রীদের উপর লক্ষ্যভিত্তিক স্ক্রিনিং চালানো হবে। তবে এই যাত্রীদের জন্য আলাদা কোনো প্রবেশপথ বা রুট নির্ধারণ করা হয়নি; সাধারণ অভিবাসন প্রক্রিয়ার মধ্যেই তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

    স্ক্রিনিং চলাকালীন যদি কারো শরীরের তাপমাত্রা বাড়তে দেখা যায় বা নিপাহ-সংশ্লিষ্ট কোনো উপসর্গ ধরা পড়ে, তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বিশেষ মেডিকেল টিমের কাছে পাঠিয়ে পরবর্তী স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী জুলকেফলি আহমদ বলেন, এই ব্যবস্থা নেওয়ার পেছনে বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও ঝুঁকি পর্যালোচনাই প্রধান ভূমিকা পালন করেছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে যাচ্ছি, যাতে আমাদের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানের এবং সময়োপযোগী থাকে।’

    মালয়েশিয়ার এই উদ্যোগটি ভারতের সাম্প্রতিক নিপাহ সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশও তাদের বিমানবন্দরগুলোতে অনুরূপ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা বাড়িয়েছে। মালয়েশিয়ায় স্বাস্থ্য বিভাগও দেশজোড়া প্রবেশপথে উচ্চ সতর্কতা বজায় রেখে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে।

  • ইরান উত্তেজনার মাঝে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যে বিশাল সামরিক মহড়া

    ইরান উত্তেজনার মাঝে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যে বিশাল সামরিক মহড়া

    ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা তীব্র হওয়ার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় ব্যাপক সামরিক মহড়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এই মহড়ার মাধ্যমে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষার পাশাপাশি বিমান ও নৌযুদ্ধ উপকরণ দ্রুত মোতায়েন এবং যুদ্ধ পরিস্থিতিতে টিকে থাকার সক্ষমতা যাচাই করা হবে।

    মঙ্গলবার মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, ‘‘মার্কিন বিমানবাহিনী মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে বহু দিনের একটি প্রস্তুতি মহড়া পরিচালনা করবে, যাতে সেন্ট্রাল কমান্ড এলাকা জুড়ে যুদ্ধ বিমান মোতায়েন, শত্রু বিমান বাহিনীকে ছত্রভঙ্গ করা এবং যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নিজেদের টিকে থাকার ক্ষমতা পরীক্ষা করা যাবে।’’ বিবৃতিতে বলা হয়েছে মহড়াটি কয়েক দিন চলবে এবং আঞ্চলিক অংশীদার ও বেসামরিক এবং সামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ে বাস্তবায়িত হবে।

    সেন্টকম বলেছে, নবম বিমান বাহিনী (এয়ার ফোর্সেস সেন্ট্রাল) নেতৃত্বে এই মহড়া দ্রুত চলমান বিমান এবং কর্মীদের জন্য পদ্ধতি যাচাই, বিচ্ছিন্ন অবস্থান থেকে পরিচালনা এবং ন্যূনতম লজিস্টিক পদচিহ্ন রেখে মিশন বজায় রাখায় গুরুত্ব দেবে।

    মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের বিমান বাহিনী কেন্দ্রীয় এবং সম্মিলিত বাহিনী বিমান কম্পোনেন্টের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল ডেরেক ফ্রান্স বলেছেন, ‘‘আমাদের বিমানবাহিনী প্রমাণ করছে যে তারা কঠিন পরিস্থিতিতে — নিরাপদে, সুনির্দিষ্টভাবে এবং আমাদের অংশীদারদের সঙ্গে — শত্রু বিমান বাহিনীকে ছত্রভঙ্গ করে এবং যুদ্ধ অভিযান পরিচালনা করতে সক্ষম।’’

    এরই মধ্যে এ এলাকায় মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এবং একাধিক যুদ্ধজাহাজ ইরানের আরও কাছে অবস্থান করছে। সেন্টকম আগেই জানিয়েছে, দক্ষিণ চীন সাগর থেকে যাত্রা করে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন নেতৃত্বে একটি বড় নৌবহর ভারত মহাসাগরের পথ ধরে মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের জলসীমায় প্রবেশ করেছে, তবে তা এখনও সরাসরি ইরানের বিরুদ্ধে কোনো আক্রমণের জন্য প্রস্তুত নয়।

    রণতরীতে এফ-৩৫ ও এফ/এ-১৮ টাইপের যোদ্ধা বিমান, ইএ-১৮জি গ্রোলার ইলেকট্রনিক-ওয়ারফেয়ারের প্লেন এবং গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার রয়েছে, যা বিমান ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সক্ষমতা বাড়ায়। ওপেন-সোর্স ফ্লাইট ট্র্যাকারগুলোর তথ্য অনুযায়ী, জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি বিমান ঘাঁটিতে এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের একটি স্কোয়াড্রন মোতায়েন করা হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অভিযানের জন্য বিকল্প পথ থাকবে, বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলো ইতোমধ্যে তাদের আকাশসীমা বা সুবিধা ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবহার করতে দেয়নি।

    এই মোতায়েন ও মহড়ার আচরণকে ঘিরে ইরানের ভেতরও উত্তেজনা বাড়ছে। মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত এক উপসাগরীয় কর্মকর্তা বলেছেন, চলতি সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও সামরিক কমান্ডারদের লক্ষ্য করে বড় পরিসরের আক্রমণের পরিকল্পনা করেছে, এবং এজন্য সামরিক সরঞ্জাম ও গোলাবারুদের সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে। মিডল ইস্ট আই সূত্রে ওই কর্মকর্তা আরও জানান, এই সপ্তাহের শেষের দিকে আক্রমণের সম্ভাবনা রয়েছে, যদিও সময়সূচি বদলানোর সম্ভাবনাও আছে।

    কোঁফাইনাশনে তিনি জানান, ‘ইরানে হামলা করলে দেশটির পাল্টা প্রতিক্রিয়া কেমন হবে’—এই বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তরে আলোচনায় ভিন্নমত দেখা যাচ্ছে।

    উভয়পক্ষের অবস্থান কড়াকড়ি হওয়ায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে এবং তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে—যুক্তরাষ্ট্র হামলা করলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে প্রতিশোধাত্মক হামলার সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ঘোষণা করেছে যে তারা ইরানের বিরুদ্ধে কোনও সামরিক অভিযানে তাদের আকাশসীমা, ভূখণ্ড বা জলসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেবে না।

    ঘটনাবলীর তথ্যসূত্র: সেন্টকম, ওপেন-সোর্স ফ্লাইট ট্র্যাকার, মিডল ইস্ট আই, ইরান ইন্টারন্যাশনাল।

  • মোদির উপস্থিতিতে ভারতের সংসদে বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা

    মোদির উপস্থিতিতে ভারতের সংসদে বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা

    ভারতের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিনেই সংসদের উভয় কক্ষে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। বুধবার বাজেট অধিবেশনের শুরুতেই রাজ্যসভা ও লোকসভায় শোকপ্রস্তাব পাঠ করে এবং এক মিনিট নীরবতা পালন করে departed নেতাদের স্মরণ করা হয়। এ সময় বাংলাদেশ হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহও সংসদে উপস্থিত ছিলেন।

    রাজ্যসভায় শোকপ্রস্তাব পাঠ করেন চেয়ারম্যান সি পি রাধাকৃষ্ণন; নথি পেশ হওয়ার আগেই তিনি প্রয়াতদের উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সভায় উপস্থিতরা খালেদা জিয়ার স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নিস্তব্ধতা পালন করেন, এমনটাই জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই। সেখানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও উপস্থিত ছিলেন এবং রাজ্যসভার অন্য সদস্যরা দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জানান।

    লোকসভায়ও শোকপ্রস্তাব পাস করা হয়। পাশাপাশি মহারাষ্ট্র উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারসহ সম্প্রতি প্রয়াত ভারতের পাঁচজন বিশিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে খালেদা জিয়ার স্মরণে শোকবার্তা পাঠ করেন স্পিকার ওম বিড়লা। স্পিকার বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকা—বিশেষ করে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক জোরদারে তার অবদান—স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি আরও বলেন, প্রতিবেশী দেশের প্রভাবশালী নেতাদের স্মরণ করা ভারতের সংসদীয় ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

    বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে একাধিকবার কাজ করেছেন এবং বহু বছর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক রাজনীতিতেও তার প্রভাব ছিল। তিনি ৩০ ডিসেম্বর ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন; পরদিন জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে অনুষ্ঠিত জানাজার পরে তাকে স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে দাফন করা হয়।

    খালেদা জিয়ার মৃত্যু সংবাদ প্রকাশ পেতেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক্স-এ শোক জানান এবং বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান (বর্তমানে চেয়ারম্যান) তারেক রহমানকে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি দেন। পরবর্তীতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ৩১ ডিসেম্বর ঢাকায় গিয়ে তারেক রহমানের কাছে ভারতের শোকবার্তা হস্তান্তর করেন। এছাড়া ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ১ জানুয়ারি দিল্লিতে বাংলাদেশ হাই কমিশনে গিয়ে শ্রদ্ধা জানান এবং শোকবইতে খালেদা জিয়ার প্রতি সম্মান জ্ঞাপন করেন।

    ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো এই ধরনের কূটনৈতিক উদ্যোগকে ব্যাখ্যা করেছে—বিশেষত চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর দুই দেশের মধ্যে যে টানাপড়েন দেখা গেছে, সেসবের প্রেক্ষিতে দিল্লির এই শ্রদ্ধা ও যোগাযোগকে কৌশলগত উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    বাজেট অধিবেশনের আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সংসদের যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দিয়েছেন; তার পরেই প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা উপস্থিত থেকে পারম্পরিক বিদায় জানান এবং অধিবেশন শুরুর নিয়মিত কার্যক্রম শুরু হয়। সংসদের এই অধিবেশন মোট ৬৫ দিনে ৩০ কার্যদিবসের জন্য চলবে এবং ২ এপ্রিল শেষ হওয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে। ১৩ ফেব্রুয়ারি কক্ষদ্বয় ছুটিতে যাবে এবং ৯ মার্চ পুনরায় অধিবেশন শুরু হবে। এর মধ্যে স্থায়ী সংসদীয় কমিটিগুলো বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অনুদানের দাবি (Demands for Grants) পর্যালোচনা করবে।

    অধিবেশনের প্রথম পর্যায়ে মূলত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের কেন্দ্রীয় বাজেট সম্পর্কিত আর্থিক কার্যক্রম এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব আলোচনা করা হবে। পরে অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় আইনি প্রণয়ন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।

    অর্থনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে ভারতের অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২৯ জানুয়ারি উপস্থাপন করা হবে এবং কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬-২৭ পেশ করা নির্ধারিত আছে ১ ফেব্রুয়ারি। অর্থমন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক বিষয়ক বিভাগ এই সমীক্ষা প্রস্তুত করেছে; এতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের (এপ্রিল–মার্চ) অর্থনীতির অবস্থা, বিভিন্ন সূচকের বিশ্লেষণ এবং আগামী অর্থবছরের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হয়েছে।

  • চলতি সপ্তাহেই ইরানে হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র: কর্মকর্তারা বলছেন পরিকল্পনা ‘উত্তপ্ত’

    চলতি সপ্তাহেই ইরানে হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র: কর্মকর্তারা বলছেন পরিকল্পনা ‘উত্তপ্ত’

    মধ্যপ্রাচ্যের নিম্নখাতের কয়েকজন কর্মকর্তাকে উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে একটি সামরিক হামলা চালাতে পারে। খবরটিতে বলা হয়েছে, যদি হামলা করা হয় তা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদেরকে লক্ষ্য করে করা হতে পারে।

    তবে হামলার সময়সূচি চূড়ান্ত নয়—সূত্ররা বলেন সময় পরিবর্তন হতে পারে। একই সঙ্গে তারা উল্লেখ করেছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরে ইরানের বিরুদ্ধে নীতিনির্ধারণ ও কৌশল নিয়ে যে আলোচনা চলছে, সেটা এখন অনেকে ‘উত্তপ্ত’ বলে опис করছে।

    ইরানে গত মাসের শেষের দিকে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকেই তেলেগুলো বাড়ে। সরকার দমন অভিযান শানিয়েছে, এবং ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন সময় ইরানে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছে বলে জানা যায়।

    এক পর্যায়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের সরকারি নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আহ্বানও জানান। কিন্তু কয়েক দিন পর তিনি বলেছেন, ইরান সরকার আর বিক্ষোভকারীদের হত্যা করছে না—প্রতিক্রিয়াটা নিয়ে নানা ব্যাখ্যা হয়েছে। অনেকে মনে করেছেন তিনি হামলার পরিকল্পনা গোপন রাখতে এমন মন্তব্য করেছেন, আবার অনেকে বলছেন তিনি হামলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন।

    এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্টকের টানাপোড়েন কমাতে সৌদি আরব, কাতার ও ওমান সক্রিয়ভাবে মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে এবং তারা সরাসরি সামরিক হামলার বিরোধী।

    মিডল ইস্ট আইকে একটি মার্কিন সূত্র অবশ্য জানান, এ মুহূর্তে হামলা না করার সিদ্ধান্ত ছিল কেবল সাময়িক; আর একটি গোয়েন্দা সূত্র বলেছে, ট্রাম্প প্রশাসন এখনও ইরানের সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্য সম্পূর্ণভাবে ত্যাগ করেনি।

    সূত্র: মিডল ইস্ট আই

  • বাজেট অধিবেশনে ভারতের দুই কক্ষে খালেদা জিয়ার স্মরণে শোকপ্রস্তাব

    বাজেট অধিবেশনে ভারতের দুই কক্ষে খালেদা জিয়ার স্মরণে শোকপ্রস্তাব

    ভারতের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিনেই সংসদের উভয় কক্ষে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণে শোকপ্রস্তাব আনা ও গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভা ও নিম্নকক্ষ লোকসভায় বুধবার থেকেই এই প্রস্তাব উপস্থাপন শুরু হবে বলে জানা গেছে।

    খালেদা জিয়া ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর ভোরে ঢাকায় এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। প্রয়াত রাজনীতিকটি ৮০ বছর বয়সে দেশে-বিদেশে বহুসংখ্যক অনুসারী রেখে গেছেন; তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) একজন শীর্ষ নেতা এবং তিনবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন — দু’টি পূর্ণ মেয়াদ ও একটি স্বল্প মেয়াদী।

    অধিবেশন শুরু হবে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর যৌথ অধিবেশনে ভাষণের মাধ্যমে। এর পর রাজ্যসভায় কার্যতালিকা অনুসারে এল. গণেশন ও সুরেশ কলমাদির মৃত্যুতে শোকপ্রস্তাব নেওয়া হবে। লোকসভায়ও সাবেক সাংসদ শালিনী পাতিল, ভানু প্রকাশ মির্ধা, সত্যেন্দ্র নাথ ব্রহ্ম চৌধুরী, সুরেশ কলমাদি এবং কবীন্দ্র পুরকায়স্থের প্রতি শোকপ্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

    রাজ্যসভায় পার্লামেন্ট সচিব ২৬৯তম রাজ্যসভা অধিবেশনে উভয় কক্ষে পাস হওয়া এবং রাষ্ট্রপতির সম্মতি পাওয়া বিলগুলোর একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণী টেবিলে উপস্থাপন করতে পারেন। এই তথ্যগুলো সংসদের স্বাভাবিক কার্যবিবরণীর অংশ হিসেবে ধরা হচ্ছে।

    এ(adj) অধিবেশন মোট ৬৫ দিনে ৩০টি কার্যদিবস সংবলিত এবং এটি ২ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি উভয় কক্ষ একসঙ্গে বিরতি নেবে এবং ৯ মার্চ থেকে অধিবেশন পুনরায় শুরু হবে। বিরতির সময়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অনুদান দাবির (Demands for Grants) পর্যালোচনার দায়িত্ব সংসদের স্থায়ী কমিটিগুলোর ওপর রাখা হয়েছে।

    অধিবেশনের প্রথম পর্যায়ে মূলত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের কেন্দ্রীয় বাজেট সংক্রান্ত আর্থিক কার্যক্রম ও রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আলোচনার জন্য নেয়া হবে বলে সংসদ সূত্রে আশা করা হচ্ছে।

    অন্যদিকে, ভারতের অর্থনৈতিক সমীক্ষা (ইকোনমিক সার্ভে) ২৯ জানুয়ারি উপস্থাপন করা হবে এবং কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬-২৭ ঘোষণা করা হবে ১ ফেব্রুয়ারি। অর্থমন্ত্রক ও এর অর্থনৈতিক শাখা এই সমীক্ষা প্রণয়নে ব্যাপকভাবে জড়িত হয়েছে; এতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের অর্থনৈতিক অবস্থা ও আগামী বছরের দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্লেষণ করে তুলে ধরা হয়েছে।

    খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ভারতীয় সংসদে শোকপ্রস্তাব নেয়া রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গীকার হিসেবেও দেখা হচ্ছে — এটি দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধার প্রতিফলন বলেই মনে করছেন কৌঁসুলি পর্যায়ের কয়েকজন পর্যবেক্ষক।

  • ভারতে ‘গোমূত্র গবেষক’ পেতে চলেছেন পদ্মশ্রী পুরস্কার

    ভারতে ‘গোমূত্র গবেষক’ পেতে চলেছেন পদ্মশ্রী পুরস্কার

    ভারতে ‘গোমূত্র গবেষক’ হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিকে এবার পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যা আবারও দেশের নামকরা বিতর্কের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পরই নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক শুরু হয়েছে ভারতের আইআইটি মাদ্রাজের পরিচালক ভি কামাকোটি নামের এই গবেষকের ওপর। শিক্ষাবিদ ও গবেষণার ক্ষেত্রে তাঁর অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই পদ্মশ্রী দেওয়া হলে অনেকের মধ্যে সন্তুষ্টি হলেও, কেরালা কংগ্রেস সামাজিক মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করে চরম বিতর্ক শুরু করে। তারা বলেছে, গোমূত্রের উপকারিতা নিয়ে যার মন্তব্য ছিল, সেটি এখন কেন্দ্রবিন্দুতে। গত বছর ভি কামাকোটি দাবি করেছিলেন যে, গোমূত্রে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ফাঙ্গাল গুণ রয়েছে এবং এটি বিভিন্ন রোগে উপকারী হতে পারে। এই মন্তব্যের জন্য তখন দেশজুড়ে তর্ক-বিতর্কের ঝড় ওঠে। এর জবাবে শ্রীধর ভেম্বু, যিনি আইআইটির একজন প্রখ্যাত গবেষক ও বর্তমানে দি পোচামপল্লী গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা, বলেন যে এই সম্মান তাঁর যোগ্য। তিনি আরও বলছেন, গোমূত্র ও গোমূত্রের মাইক্রোবায়োম নিয়ে যথেষ্ট বৈজ্ঞানিক গবেষণার সম্ভাবনা রয়েছে, যা কেবল ‘ঔপনিবেশিক মানসিকতা’ থেকে আলাদা। তিনি উল্লেখ করেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে ভি কামাকোটি ইতিমধ্যেই মাইক্রোপ্রসেসর ডিজাইনের মতো ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন। তবে, কেরালা কংগ্রেস এ ভাবনার বিপরীতভাবে প্রশ্ন তোলে—শুধু গরুর গোবর ও গোমূত্র কেনই বা গবেষণার মূল বিষয়? অন্য প্রাণীর ক্ষেত্রেও কি এ ধরনের গবেষণা হয় না? তারা মধ্যপ্রদেশে পরিচালিত একটি সরকারি প্রকল্পের উদাহরণ তুলে ধরে অর্থের অপচয় ও অনিয়মের অভিযোগও তোলে। সর্বশেষে, কেরালা কংগ্রেস সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানায়—যদি গোমূত্রের উপকারিতা সত্যিই এত বিশাল হয়, তবে ভেম্বু নিজে কেন সেই গবেষণায় বিনিয়োগ করছেন না? যদি এটি ক্যানসারসহ অন্যান্য রোগের علاج করতে পারে, তবে এটি নিঃসন্দেহে ভারতের জন্য বড় এক অবদান হবে বলে তারা মত প্রকাশ করে। এই বিতর্ক সাধারণ শিক্ষা, বিজ্ঞান ও রাজনীতির সীমারেখাকে আবারও নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। উপরন্তু সামাজিক মাধ্যমে এই বিষয় নিয়ে এখন তুমুল আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

  • ইরানে বিক্ষোভে নিহত অন্তত ৬০০০ জন

    ইরানে বিক্ষোভে নিহত অন্তত ৬০০০ জন

    ইরানে সরকারের বিরোধী বিক্ষোভ দমনের জন্য নিরাপত্তা বাহিনীর চালানো অভিযানকে কেন্দ্র করে অন্তত ৬,০০০ মানুষের প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত করেছেন একটি মানবাধিকার সংস্থা, যা যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক। সোমবার হিউম্যান রাইটস এ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) এই হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করার বিষয়টি জানিয়েছে। দেশটির অবস্থান সম্পর্কে সতর্ক করে তেহরান আবারো জানিয়েছে, তারা কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ গ্রহণ করবেন না এবং স্পষ্ট করে দিয়েছে, এটি তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। ডিসেম্বরে অর্থনৈতিক অসন্তোষ থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুতই ব্যাপক গণআন্দোলনে রূপ নিয়েছিল। জানুয়ারির ৮ তারিখের পর থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই বিক্ষোভের ব্যাপকতা আরও বেড়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলির তথ্য বলছে, ইরান সরকার ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে রেখেছে এবং সরাসরি গুলি চালিয়ে বিক্ষোভকারীদের দমন করছে, যা এখন পর্যন্ত নজিরবিহীন। বর্তমান ইন্টারনেট শাটডাউনের ফলে টানা ১৮ দিন ধরে দেশটিতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পরবর্তীতে ১৯৭৯ সালে ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে ক্ষমতায় থাকা ধর্মীয় নেতৃত্ব এখনো এই দমন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। দেশটির ক্ষমতাসীন শাসকগোষ্ঠীর বিরোধী যারা, তারা পরিবর্তনের জন্য বাইরের হস্তক্ষেপের কথাও ভাবছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমে সামরিক হস্তক্ষেপে রাজি না হলেও পরে বলেছেন, এটি এখনো একটি বিকল্প। তিনি আরও জানান, প্রয়োজনে ওয়াশিংটন ওই অঞ্চলে বিশাল নৌবহর পাঠাচ্ছে। এর জবাবে ইরানের পররাষ্ট্র দপ্তর হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যদি কোনো আগ্রাসন হয় তবে কড়া প্রত্যাঘাত করা হবে। বলিদানি পন্থায় হতাহতের সংখ্যা জানানো বেসরকারি সংস্থাগুলিও তাদের কাজে বাধার সম্মুখীন হয়েছে, কারণ ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় তথ্য সংগ্রহ ও জানাতে সমস্যা হচ্ছে। এইচআরএএনএ বলছে, তারা নিশ্চিত করেছে, অন্তত ৫ হাজার ৮৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, এর মধ্যে ২০৯ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। এখনও তদন্ত চলছে, আরও মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। বিক্ষোভের জেরে ইরানে গ্রেফতার করা হয়েছে মোট ৪১,২৮৩ জনকে। প্রথমে সরকারি হিসাব বলেছিল, ৩,১১৭ জন নিহত হয়েছে, তবে বাস্তবে তাতে অনেক বেশি হতাহতের আশঙ্কা রয়েছে। ইন্টারনেট সেবা স্তব্ধ থাকায়, বাস্তব পরিস্থিতি যতটা জানা যাচ্ছে, তার চেয়ে অনেক বেশি সংখ্যক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন বলে ধারণা প্রকাশ করছে বিভিন্ন সংস্থা। বাইরে অবস্থিত ফার্সি ভাষার টেলিভিশন চ্যানেল ইরান ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, জানুয়ারি ৮-৯ এর মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ৩৬,৫০০ জনেরও বেশি আহত বা নিহত হয়েছেন। তাদের সূত্র ও নথি অনুযায়ী এই দাবি উঠলেও, তাৎক্ষণিকভাবে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।