Category: আন্তর্জাতিক

  • বিশ্বে ২০২৫ সালে ১২৯ সাংবাদিক নিহত, ইসরায়েল দায়ী দুই-তৃতীয়াংশের জন্য

    বিশ্বে ২০২৫ সালে ১২৯ সাংবাদিক নিহত, ইসরায়েল দায়ী দুই-তৃতীয়াংশের জন্য

    গত বছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে কাজের সময় রেকর্ড সংখ্যক ১২৯ জন সাংবাদিক এবং গণমাধ্যমকর্মী নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশের জন্যই দায়ী ইসরায়েলি সেনা বাহিনী। এই তথ্য জানিয়েছে নিউইয়র্ক ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে), যেটি সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষা ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে কাজ করে।

    বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকদের জন্য অশ্রুত ও দুঃখজনক এক বছর olmuş ২০২৫, যা গত বছরও একই রেকর্ড পুনরাবৃত্তি করেছিল। বিশেষ করে ইসরায়েলি হামলায় গাজার ফিলিস্তিনি সাংবাদিকরা ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালে ইসরায়েলি গোলাবর্ষণে ৮৬ জন সাংবাদিক মারা গেছেন, তাদের মধ্যে অধিকাংশই গাজার ফিলিস্তিনি সংবাদকর্মী। একই সঙ্গে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের পরিচালিত গণমাধ্যম কেন্দ্রেও ইসরায়েলি হামলা হয়, যার ফলে ৩১ জন গণমাধ্যমকর্মী নিহত হন। এটি নিউজের ইতিহাসে দ্বিতীয় সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা বলে গণ্য হচ্ছে।

    সিপিজে জানিয়েছে, যারা ৪৭টি হত্যাকাণ্ডকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যাকাণ্ড বা লক্ষ্যবস্তু করেছেন বলে গণ্য করা হয়েছে, তার মধ্যে ৮১ শতাংশের জন্যই দায়ী ইসরায়েল। গাজায় প্রবেশের সীমাবদ্ধতা থাকায় মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলেও উল্লেখ করেছে তারা।

    ইসরায়েলি সেনারা এ বিষয়ে কোন প্রতিক্রিয়া না দিলেও, তারা দাবি করে যে গাজায় তারা কেবল যুদ্ধকালীন বাধ্যবাধকতার জন্যই কাজ করছে এবং শুধুমাত্র লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করছে। তবে, তারা আরও জানিয়েছে যে, গত সেপ্টেম্বরে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের অভিযোগেও ইসরায়েল সীমিত আকারে হামলা চালিয়েছে।

    গাজায় নিহত সাংবাদিকদের মধ্যে বেশিরভাগই ফিলিস্তিনি, কারণ সেখানে ইসরায়েলি প্রবেশাধিকার নেই। তবে ইসরায়েল দাবি করেছে যে হামাসের সঙ্গে কিছু সাংবাদিকের যোগাযোগ ছিল, যা সাংবাদিকরা অস্বীকার করে বলেছে, তাদের সঙ্গে হামাসের কোনো সম্পর্ক নেই। সাংবাদিক হত্যা ও নির্যাতনের বিষয়ে সিপিজে বলেছে, ইসরায়েলের এ সব কর্মকাণ্ড ভয়াবহ ও অগ্রহণযোগ্য।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত তিন দশকের বেশি সময়ে বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলি সেনারা সবচেয়ে বেশি সাংবাদিক হত্যা করেছে। নিহত ১২৯ জনের মধ্যে অন্তত ১০৪ জন সংঘাত-সম্পর্কিত ঘটনা। অন্যান্য দেশগুলোর মধ্যে সুদান, যেখানে নয় জন নিহত, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মেক্সিকোতে ছয়জন, ইউক্রেনে চারজন ও ফিলিপাইনে তিনজন সাংবাদিক প্রাণ হারিয়েছেন।

    রাশিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তারা জানার বা ইচ্ছাকৃতভাবে সাংবাদিকবিরোধী হামলা চালায়নি; বরং তারা ইউক্রেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে। কিয়েভ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এই প্রতিবেদনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রাশিয়ার দূতাবাসের পক্ষ থেকে এখনো কোনও প্রতিক্রিয়া আসেনি।

  • মধ্যপ্রাচ্যে ৩০০টিরও বেশি মার্কিন যুদ্ধবিমান মোতায়েন

    মধ্যপ্রাচ্যে ৩০০টিরও বেশি মার্কিন যুদ্ধবিমান মোতায়েন

    মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা বেড়ার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র বিশাল আকারে আরও ৩০০টিরও বেশি সামরিক বিমান মোতায়েন করেছে। এই কাণ্ডকারখানা ইরানের ওপর সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কাকে আরও জোরদার করেছে, যা মনোযোগ আকর্ষণ করছে আন্তর্জাতিক মহলে।

    তুর্কি সংবাদ সংস্থা আনাদোলু প্রকাশিত ওপেন সোর্স গোয়েন্দা প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মূলত কাতারের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটি, জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটি, সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি এবং সমুদ্রে মার্কিন রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ ও ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড’ এর মতো বহরে এই বিশাল সামরিক মোতায়েন হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর জানুয়ারির শুরুর সময় থেকেই মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) এই বিমান বহরকে একত্রিত করার জন্য প্রায় ২৭০টি বিভিন্ন ধরনের সরবরাহকারী বিমান পরিচালনা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে প্যাট্রিয়ট এবং থার্ড ডিফেন্স সিস্টেমের ক্ষেপণাস্ত্র পরিবহন।

    যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক বহরে প্রায় ৭০ শতাংশই আক্রমণাত্মক যুদ্ধবিমান এবং বাকি ভারসাম্য সহায়ক বিমান। তাদের মধ্যে রয়েছে ৮৪টি এফ-১৮, ৩৬টি এফ-১৫, ৪৮টি এফ-১৬, এবং ৪২টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান। এছাড়াও রয়েছে ট্যাঙ্কার বিমান, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ও ভূমিকা পালনের জন্য ব্যবহৃত ১৮টি ইএ-১৮জি ‘গ্রোলার’, ১২টি এ-১০সি ‘থান্ডারবোল্ট’, ৫টি ই-১১এ ব্যাটলফিল্ড এয়ারবর্ন কমিউনিকেশনস নোড এবং ৬টি ই৩ ‘সেন্ট্রি’ ওয়ার্নিং ও কন্ট্রোল সিস্টেম বিমান।

    তবে, গত জুনে অপারেশন মিডনাইট হ্যামার এর অংশ হিসেবে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানো बी-২ বোমারু বিমানের কোনও গতিবিধি লক্ষ্য করা যায়নি।

    অপরদিকে, এই বড় গুটিপোড়া বিমান শক্তির ওপরে নজর থাকলেও ইসরায়েলও গোপনে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন।

    গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুসারে, ইসরায়েলের ৬৬টি এফ-১৫, ১৭৩টি এফ-১৬ এবং ৪৮টি নতুন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানও ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় অংশ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত। এর ফলে মার্কিন সেনার বিমান শক্তি কার্যকরভাবে দ্বিগুণ হয়ে গেছে।

    অন্যদিকে, ইসরায়েলার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সম্প্রতি ওই দেশ ১২টি মার্কিন বিমান, পূর্ববর্তী সবচেয়ে উন্নত স্টিলথ ফাইটার এফ-২২, সংগ্রহ করেছে। এগুলো সম্ভাব্য ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হতে পারে, বিশেষ করে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং রাডার স্থাপনা ধ্বংসের জন্য।

    এদিকে, পরমাণু আলোচনা নিয়ে আগামী বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় তৃতীয় দফার বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যেখানে ইরান ও মার্কিন প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। এর আগেই, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের প্রতি হুমকি দিয়ে বলেছেন, কূটনৈতিক সমাধান তিনি চান, তবে প্রয়োজনে ‘প্রাণঘাতী শক্তি’ ব্যবহারেও তিনি পিছু হটবেন না।

    তিনি বলেন, ‘আমি এই সমস্যার সমাধানে কূটনীতি নির্ভর করব, কিন্তু একটি ব্যাপার স্পষ্ট— আমি কখনোই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে দেব না। ইরান ইতোমধ্যে বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছে, যা ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলিতে হামলা চালাতে সক্ষম।’

    বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের মিসাইল সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে পারে এমন আশঙ্কা ক্রমশই বাড়ছে। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান এমন উচ্চমানের মিসাইল বিকাশ করছে, যা দেশের অভ্যন্তরে বা বিদেশি ঘাঁটিতে হামলার জন্য ব্যবহৃত হতে পারে।

    অবশেষে, ইরান এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা নির্লিপ্ত হয়ে তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে আলাদা করে রেখেছে। ফলে, আগামী বৃহস্পতিবারের বৈঠকই হয়ত নতুন করে পরিস্থিতি সুচারু করবে।

  • ট্রাম্পের দাবি, আমি থাকলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মারা যেতেন

    ট্রাম্পের দাবি, আমি থাকলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মারা যেতেন

    আবারো ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, যদি আমি না থাকতাম, তবে এই সংঘাতের কারণে দেশের ৩৫ মিলিয়ন মানুষ প্রাণ হারাতো। এছাড়াও তিনি দাবি করেন যে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও ভারতের সঙ্গে যুদ্ধের ফলে মৃত্যুবরণ করতেন। ট্রাম্প এই মন্তব্য মঙ্গলবার মার্কিন কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে অনুষ্ঠিত ‘বার্ষিক স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণে জানান। তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার ১০ মাসের মধ্যে আমি আটটি যুদ্ধ বন্ধ করতে পেরেছি। ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের মধ্যে পারমাণবিক যুদ্ধের সম্ভাবনাও ছিল, কিন্তু আমার হস্তক্ষেপে সেটি এড়ানো সম্ভব হয়।’ ট্রাম্প আরও বলেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আমাকে বলেছিলেন, তিনি যদি থাকতেন না, তাহলে ৩৫ মিলিয়ন মানুষ মারা যেতে পারতেন। তিনি কি না এমনটাই দাবি করেন।

  • খাইবার পাখতুনখোয়া ও বালুচিস্তানে পৃথক অভিযান চালিয়ে ৩৪ সন্ত্রাসী নিহত

    খাইবার পাখতুনখোয়া ও বালুচিস্তানে পৃথক অভিযান চালিয়ে ৩৪ সন্ত্রাসী নিহত

    পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া ও বালুচিস্তানে পৃথক নিরাপত্তা অভিযান চালিয়ে মোট ৩৪ সন্ত্রাসীদের হত্যা করা হয়েছে। এই তথ্য জানিয়েছেন দেশটির আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর)। সূত্র মতে, নিরাপত্তা বাহিনী কয়েক দিন ধরে উচ্চ গতিসম্পন্ন গোয়েন্দা অভিযানে নেমে পড়েছে, যার মূল লক্ষ্য ছিল ভারতের প্ররোচনায় পরিচালিত সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো—ফিতনা আল খারিজ এবং ফিতনা আল হিন্দুস্তান—কে নির্মূল করা। বিবৃতিতে বলা হয়, ফিতনা আল খারিজ হলো তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের (টিটিপি) জন্য ব্যবহৃত একটি নাম, যা মূলত সন্ত্রাসের আড়ালে থাকা সংগঠনগুলোর প্রতীক। অন্যদিকে, ফিতনা আল হিন্দুস্তান নামে বালুচিস্তানের বিভিন্ন সন্ত্রাসী দলের সঙ্গে পরিচিত। খবর অনুযায়ী, ২৪ ফেব্রুয়ারি খাইবার পাখতুনখোয়ায় চারটি পৃথক অভিযানে টিটিপির ২৬ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়। একই সময়ে, ঝোব জেলার সাম্বাজায় বালুচিস্তানের সন্ত্রাসী সংগঠন ফিতনা আল হিন্দুস্তানের আটজন সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে। তদের বিরুদ্ধে নর্থ ওয়াজিরিস্তানের পাকিস্তান-আফগান সীমান্ত দিয়ে প্রবেশের চেষ্টা চালানো সন্ত্রাসী দলের সন্ধান পাওয়া যায়, যেখানে একজন আফগান নাগরিক সন্ত্রাসী মারা গেছে। এ ছাড়াও, লাক্কি মারওয়াত জেলায় তিনজন, বান্নু জেলার নারমি খাল এলাকায় ১০ জন এবং নর্থ ওয়াজিরিস্তানের মির আলিতে ১২ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়। সাম্বাজা অভিযানে আটজন ফিতনা আল হিন্দুস্তানের সন্ত্রাসী নিহত এবং অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। আইএসপিআর আরও জানিয়েছে, দেশের সীমান্ত রক্ষায় নিরাপত্তা বাহিনী অঙ্গীকারবদ্ধ এবং অন্যান্য সন্ত্রাসী দমনকারী ‘স্যানিটাইজেশন অভিযান’ও অব্যাহত আছে। দেশপ্রিয় জনগণের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারি এই সাফল্যকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, সন্ত্রাসীদের হত্যা এবং অস্ত্র উদ্ধার তাদের পেশাদারিত্বের প্রমাণ। তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীকে সতর্ক ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে অভিযান চালাতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফও এই অভিযানগুলোর প্রশংসা করে বলেন, প্রতিদিনই সন্ত্রাসবিরোধী সফলতা নতুন করে প্রমাণিত হচ্ছে। তিনি দেশের সন্ত্রাসমুক্ত পরিস্থিতি নিশ্চিত করতে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

  • রুশ বাহিনীর পক্ষে ১,৭৫০ এর বেশি আফ্রিকান সেনা লড়ছে ইউক্রেনে

    রুশ বাহিনীর পক্ষে ১,৭৫০ এর বেশি আফ্রিকান সেনা লড়ছে ইউক্রেনে

    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের এক নতুন দিক প্রকাশ করেছে ইউক্রেনের সরকার। তারা জানিয়েছে, রুশ বাহিনীর পক্ষে বিশ্বজুড়ে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে ১,৭৫০ এর বেশি সেনা লড়াই করছে। এই তথ্যটি জানিয়েছেন ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সাইবিহা, যারা গতকাল বুধবার কিয়েভে ঘানা সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্যামুয়েল ওকুদজেতো আবলাকাওয়ারের সঙ্গে বৈঠক শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন।

    সাইবিহা বলেছেন, “আমরা স্পষ্টভাবে দেখতে পাচ্ছি যে, রাশিয়া বিভিন্ন প্রতারণার মাধ্যমে আফ্রিকার নাগরিকদের এই যুদ্ধে জড়াচ্ছে। আমাদের কাছে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের ১,৭৮০ এর বেশি নাগরিক রুশ বাহিনীর পক্ষে লড়াই করছে।” তিনি আরও জানান, আফ্রিকা মহাদেশের ৩৬টি দেশের যুবকদের কাছ থেকে এই সেনাদের আনা হচ্ছে। তারা চাকরির প্রলোভনে বা অন্যান্য প্রতারণার মাধ্যমে প্রথমে রাশিয়ায় নেওয়া হচ্ছে, পরে তাদের সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এ ধরনের বেশকিছু ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    অন্যদিকে, এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে ঘানার পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্যামুয়েল ওকুদজেতো আবলাকাওয়া জানান, রুশ বাহিনীতে লড়াইরত আফ্রিকান সেনাদের বেশিরভাগেরই কোনো অতীত সেনা বা নিরাপত্তা বাহিনীর অভিজ্ঞতা নেই। তারা সাধারণ চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ায় নেওয়া হয়েছে এবং পরে বাধ্য হয়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে হয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, “অধিকাংশ এই আফ্রিকান সেনাদের আগেই কোনো নিরাপত্তা বা সেনা প্রশিক্ষণের অভিজ্ঞতা নেই। তারা লোভে পড়ে, প্রতারণার শিকার হয় এবং শেষে তাদের বাধ্য হয়েই সেনাবাহিনীতে নিয়োগ দেওয়া হয়।”

    পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোসহ অন্যান্য রাষ্ট্রগুলো এই প্রলোভন ও প্রতারণা বন্ধে কাজ করবে বলে সৌজন্য আলোচনা হয়েছে। ঘানা এবং অন্যান্য আফ্রিকান দেশগুলো এই পরিস্থিতি রোধ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে জানান ওকুদজেতো।

    উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া উপদ্বীপকে রুশ ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার পরে রাশিয়া সেখানে বিভিন্ন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষার অজুহাতে আগ্রাসন চালায়। ইউক্রেনের সাথে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে। তখন থেকে এই সংঘাত চরম আকার ধারণ করে এবং এখনও চলছে। রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের নির্দেশনায় এই অভিযান চলমান থাকলেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখনো এর নিন্দা জানিয়ে আসছে।

  • যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে ৩০০-এর বেশি যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে

    যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে ৩০০-এর বেশি যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে

    মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপক আকারে সামরিক শক্তি প্রদর্শনের জন্য ৩০০ এর বেশি যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে। এই বিশাল সামরিকগুলি ইরানের সম্ভাব্য হামলার মোকাবিলা বা শক্তি প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুতি হিসেবে কাজ করছে। ওপেন সোর্স গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তুর্কি সংবাদ সংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, মূলত কাতারের আল-উদেইদ আকাশঘাঁটি, জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি ঘাঁটি এবং সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি, পাশাপাশি সমুদ্রে মার্কিন বিভিন্ন রণতরী—ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ও ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড—থেকে এই বিশাল বাহিনী মোতায়েন করা হয়।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জানুয়ারীর শুরু থেকে মার্কিন কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড (সেন্টকম) প্রায় ২৭০টি সি-১৭ ও সি-৫ লজিস্টিক বিমান পরিচালনা করেছে এই বহর একত্রিত করতে। এই ফ্লাইটগুলোতে প্যাট্রিয়ট ও থার্ড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের পাশাপাশি যুদ্ধ সামগ্রী পরিবহন করা হয়েছে।

    এই বিমান বাহরে প্রায় ৭০ শতাংশ আক্রমণাত্মক যুদ্ধবিমান ও ৩০ শতাংশ সহায়ক বিমান রয়েছে। এর মধ্যে ৮৪টি এফ-১৮, ৩৬টি এফ-১৫, ৪৮টি এফ-১৬ ও ৪২টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান থাকছে। পাশাপাশি ট্যাঙ্কার ও বিশেষ ভূমিকা পালনের জন্য বিভিন্ন ধরনের বিমান সামিল। যেমন—ইএ-১৮জি ‘গ্রোলার’, ই-১০সি ‘থান্ডারবোল্ট’, ই-১১এ ব্যাটলফিল্ড এয়ারবর্ন কমিউনিকেশনস নোড এবং ই৩ ‘সেন্ট্রি’ ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম বিমান।

    উল্লেখ্য, গত জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার জন্য ব্যবহৃত বি-২ বোমারু বিমান কোনো গতিবিধি লক্ষ্য করা যায়নি।

    অপরদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এই বিপুল সামরিক উপস্থিতির খতিয়ান থাকলেও ইতিমধ্যে ইসরায়েলও ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন। তাদের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের ৬৬টি এফ-১৫, ১৭৩টি এফ-১৬ ও ৪৮টি নতুন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান আগাম প্রস্তুত রয়েছে ইরানের বিরুদ্ধে হামলার জন্য। এ ছাড়া তারা ১২টি মার্কিন স্টিলথ ফাইটার এফ-২২ও অর্জন করেছে, যা বিশ্বের শীর্ষ উন্নত যুদ্ধবিমান হিসেবে পরিচিত। এগুলো ইরানের রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের জন্য ব্যবহার হতে পারে।

    এছাড়াও, এই পরিস্থিতিতে ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানিয়েছে, তারা আগামী দিনগুলোতেও মূলত কার্যকরভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সহায়তা চালিয়ে যাবে।

    উল্লেখ্য, আগামী বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) জেনেভায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তৃতীয় দফার পারমাণবিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। তবে এর আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, তিনি কূটনীতির মাধ্যমে সমাধান চান, তবে প্রয়োজন হলে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারেও পিছপা হবেন না। স্টেট অব ইউনিয়নের ভাষণে তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমি অতীতের মতোই আবারও বলছি, আমি কখনোই ইরানের পারমাণবিক অস্ত্রের মালিকানা অনুমোদন দেব না।’ তিনি এই আশঙ্কাও প্রকাশ করেন যে, ইরান সম্ভবত তাদের মিসাইল সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে হামলা চালানোর সক্ষমতা অর্জন করছে।

    ইরান অবশ্য এই দাবির সঙ্গে দ্বিমত ব্যক্ত করে বলছে, তারা তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে সৌজন্যের সম্মানে আলোচনা থেকে আবসান করতে চাইছে না। এখন সবাই আগামী বৃহস্পতিবারের বৈঠককেই সর্বাধিক লক্ষ্য করে রেখেছে, যেখানে সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হবে।

  • বিশ্বে ২০২৫ সালে ১২৯ সাংবাদিক নিহত, ইসরায়েল দায়ী দুই-তৃতীয়াংশের জন্য

    বিশ্বে ২০২৫ সালে ১২৯ সাংবাদিক নিহত, ইসরায়েল দায়ী দুই-তৃতীয়াংশের জন্য

    গত বছর বিশ্বজুড়ে নজিরবিহীনভাবে ১২৯ জন সংবাদকর্মী মারা গেছেন। এর মধ্যে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের জন্য দায়ী করা হয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। এই তথ্য জানিয়েছে নিউইয়র্ক ভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে), যারা প্রতিবছর সাংবাদিক হত্যা ও নিরাপত্তার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে।

    ২০২৫ সালে এই সংস্থার প্রতিবেদনে দেখা গেছে, একটানা দ্বিতীয় বছরও রিপোর্টের সংখ্যা বেড়েছে। বিশেষ করে ইসরায়েলের হাতে নিহত বেশিরভাগ সাংবাদিকের ঘটনায় দেখা গেছে, এই বছরও দখলের জন্য দায়ী ছিল ইসরায়েল।

    প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসরায়েলি গোলাবর্ষণে ৮৬ জন ফিলিস্তিনি সাংবাদিক নিহত হয়েছে, যাদের অধিকাংশই গাজার। আবার ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের পরিচালিত গণমাধ্যম কার্যালয়ে ইসরায়েলি হামলা চালানোর ফলে ৩১ জন সংবাদকর্মী মারা গেছেন। এই ঘটনাগুলো এই সংস্থার ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রাণহানি ঘটানোর ঘটনা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে।

    সিপিজে জানিয়েছে, মোট ৪৭টি হত্যা বা লক্ষ্যবস্তু করে হত্যাকাণ্ডকে তারা ‘হত্যা’ হিসেবে নথিভুক্ত করেছে, যার মধ্যে ৮১ শতাংশের জন্যই দায়ী তারা মনে করে ইসরায়েল। গাজায় প্রবেশের সীমাবদ্ধতার কারণে হতাহতের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করা যায়নি, তবে মনে করা হয়, মূলত এর থেকেও অনেক বেশি হতাহত ঘটেছে।

    ইসরায়েলের পক্ষ থেকে অফিসিয়ালভাবে এই বিষয় সম্পর্কে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অতীতে ইসরায়েল বলেছে, গাজায় তারা শুধু যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়, তবে যুদ্ধক্ষেত্রে কাজ করার ঝুঁকি সব সময় থাকে বলে জানানো হয়েছে।

    ইসরায়েল গত সেপ্টেম্বরে ইয়েমেনের হুথিদের একটি গণমাধ্যম কার্যালয়ে হামলায় দায় স্বীকার করে, সেখানে ইসরায়েল তাদের হামলার উদ্দেশ্য হিসেবে বলেছে হুথিদের প্রচার শাখাকে লক্ষ্য করে তারা হামলা চালিয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, নিহত সাংবাদিকদের সঙ্গে হামাসের কোনো আনুষ্ঠানিক সংযোগ ছিল না। গাজায় ইসরায়েলি প্রবেশের অনুমতি না থাকায়, সব নিহত সাংবাদিকই ছিলেন ফিলিস্তিনি।

    বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েল বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সাংবাদিক হত্যাকারী দেশ হিসেবে পরিচিত। তিন দশকের বেশি সময় ধরে সিপিজে প্রতিবেদন করে আসছে।

    বিভিন্ন অঞ্চলে হামলায় নিহত সাংবাদিকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণ গিয়েছে সংঘাতের মধ্যে থাকা গাজা ও ইয়েমেনে। এছাড়া সুদান, যেখানে ৯ জন, মেক্সিকোতে ৬ জন, ইউক্রেনে রুশ বাহিনী দ্বারা চারজন এবং ফিলিপাইনে তিনজন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন।

    রুশ বাহিনী রীতিমত সাংবাদিক-targeted হত্যা করছে বলে অভিযোগ উঠলেও রাশিয়া তা অস্বীকার করে জানিয়েছে, তারা মূলত ইউক্রেনের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে। যদিও কিয়েভ এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। এই বিষয়ক বিষদ তথ্যের জন্য এখনো কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি ওয়াশিংটনের রাশিয়া দাপ্তরিক দূতাবাসের পক্ষ থেকে।

  • খাইবার পাখতুনখোয়া ও বালুচিস্তানে পৃথক অভিযান চালিয়ে ৩৪ সন্ত্রাসী নিহত

    খাইবার পাখতুনখোয়া ও বালুচিস্তানে পৃথক অভিযান চালিয়ে ৩৪ সন্ত্রাসী নিহত

    পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া এবং বালুচিস্তানে পৃথক নিরাপত্তা অভিযান চালিয়ে মোট ৩৪ জন সন্ত্রাসীকে হত্যা করেছে দেশটির সেনা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ খবর নিশ্চিত করেছে পাকিস্তানের ডনের সূত্র।

    পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বেশ কজন দিন ধরে উচ্চ গতির গোয়েন্দা ও সামরিক অভিযান চালানো হচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য ছিল ভারতীয় প্রক্সি সন্ত্রাসী সংগঠন ফিতনা আল খারিজ এবং ফিতনা আল হিন্দুস্তানের সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কগুলোকে দমন করা।

    বিবৃতিতে আরো জানানো হয়, ফিতনা আল খারিজ নামে পরিচিত সংগঠনটি মূলত তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের (টিটিপি) সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সাথে যুক্ত। অন্যদিকে, বালুচিস্তানের সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সম্পর্কে তাদের নাম হলো ফিতনা আল হিন্দুস্তান।

    আইএসপিআর-এর তথ্য অনুযায়ী, ২৪ ফেব্রুয়ারি খাইবার পাখতুনখোয়ায় চারটি পৃথক অভিযানে ২৬ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়। পাশাপাশি, ঝোব জেলার সাম্বাজা এলাকায় বালুচিস্তানের এই সংগঠনের আট জন এবং নর্থ ওয়াজিরিস্তানের পাকিস্তান-আফগান সীমান্তের কাছাকাছি একটি অঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনী একটি সন্ত্রাসী দলের খোঁজ পেয়ে তাদের শনাক্ত করে। এই অভিযানে একজন আফগান নাগরিক সন্ত্রাসীও নিহত হন।

    অভিযানে লাক্কি মারওয়াত জেলায় ৩ জন, বান্নু জেলার নারমি খেল এলাকায় ১০ জন এবং নর্থ ওয়াজিরিস্তানের মির আলিতে ১২ জন সন্ত্রাসী নিহত হন। সাম্বাজার এলাকায় আটজন ফিতনা আল হিন্দুস্তানের সন্ত্রাসী ধরা পড়ে, যাদের কাছ থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদও উদ্ধার করা হয়েছে।

    আইএসপিআর বলছে, দেশের সীমান্তে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা বদ্ধপরিকর। এছাড়াও, অন্য জায়গাগুলোতে সন্ত্রাসী সংগঠনের অবশিষ্ট সদস্যদের নির্মূলের জন্য ‘স্যানিটাইজেশন অভিযান’ চালানো হচ্ছে।

    আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারি নিরাপত্তা বাহিনীর এই সাহসী পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, সন্ত্রাসীদের নির্মূল ও অস্ত্র উদ্ধার তাদের পেশাদারিত্বের প্রমাণ। জারদারি আরও দাবি করেন, নিরাপত্তা বাহিনীকে সতর্কতা ও পেশাদারিত্বের সাথে এই ধরনের অভিযান চালাতে হবে।

    অপর দিকে, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফও নিরাপত্তা বাহিনীর এই সাহসী কাজের জন্য তাদের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, পাকিস্তানের সরকার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, দেশের সকল সন্ত্রাসী সংগঠনকে চূড়ান্তভাবে দমন করা হবে এবং দেশকে সন্ত্রাস মুক্ত করার লক্ষ্যে তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

  • অনিশ্চয়তার মাঝে ট্রাম্পের নতুন দাবি: আমি না থাকলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মারা যেতেন

    অনিশ্চয়তার মাঝে ট্রাম্পের নতুন দাবি: আমি না থাকলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মারা যেতেন

    আবারো ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যবর্তী সম্ভাব্য সংঘাতের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, তার না থাকলে প্রায় ৩৫ মিলিয়ন মানুষ মারা যেতেন। এর পাশাপাশি, তিনি দাবি করেন যে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও ভারতের সঙ্গে যুদ্ধের সময় মারা যেতেন। ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন মার্কিন কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে ‘বার্ষিক স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণে। তিনি বলেন, দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার প্রায় ১০ মাসের মধ্যে তিনি আটটি যুদ্ধ বন্ধ করে দিয়েছেন। তিনি জানান, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পারমাণবিক যুদ্ধের আশঙ্কা ছিল, যা তার হস্তক্ষেপে রোখা গেছে। ট্রাম্প যোগ করেন, পাকিস্তানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তাঁকে সতর্ক করে বলেছিলেন, তিনি না থাকলে ৩৫ মিলিয়ন মানুষের প্রাণ হতো। গত এপ্রিলে ভারতের অভিযোগ, পাকিস্তান কাশ্মীরে সন্ত্রাসী হামলার জন্য দায়ী। পাকিস্তান অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করে। এরপর ৭ মে ভোরে পাকিস্তানে ভারতের বিমান হামলা চালায়। পাকিস্তান পাল্টা বোমাবর্ষণ চালিয়ে অপারেশন ‘বুনিয়ান উল মারসুস’ সম্পন্ন করে। শেষ পর্যন্ত, ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘটে। তবে ভারতের দাবি, এই সংঘাতের সমাধিতে তারা কোনও মার্কিন কৃতিত্ব দেখায় না। ভারত বলেছে, তারা পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে পৌঁছেছিল, যেখানে কোনও তৃতীয় পক্ষের অংশগ্রহণ ছিল না। ট্রাম্প আবারও এই সংঘাতের কৃতিত্ব নিজে নেওয়ার ব্যর্থ প্রচেষ্টা চালান। একাধিক সময় তিনি বলেন, পারমাণবিক শক্তিধর এই দুই দেশ মোট ১০টি বিমান ভূপাতিত করেছে। ২০২২ সালের মে মাসে বলেছিলেন, এই সংঘাতে ৫টি বিমান ভূপাতিত হয়। এরপর সময়ে সময়ে তিনি এই সংখ্যা বাড়িয়ে জানিয়েছেন, শেষমেশ নভেম্বরে ৮টিতে নিয়ে নেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেননি কতো বিমানভূত হয়েছে। পাকিস্তানও দাবি করে, তারা ভারতের ৫টি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। তাতে রয়েছে তিনটি রাফাল, একটি সু-৩০ ও একটি মিগ–২৯। ভারতের সামরিক বাহিনী প্রথমে বিষয়টি গোপন রাখলেও এখন বিষয়টি স্বীকার করেছে।

  • রাশিয়ার পক্ষে লড়ছে ১৭৫০ এর বেশি আফ্রিকান সেনা: ইউক্রেন

    রাশিয়ার পক্ষে লড়ছে ১৭৫০ এর বেশি আফ্রিকান সেনা: ইউক্রেন

    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পরিস্থিতিতে রুশ বাহিনীর পক্ষে লড়াই করছে সৌদি আরবসহ বিভিন্ন আফ্রিকার দেশের অন্তত ১৭৫০ এর বেশি সেনা। এই তথ্য জানান ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সাইবিহা। গতকাল বুধবার রাজধানী কিয়েভে ঘানার পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্যামুয়েল ওকুদজেতো আবলাকাওয়ার সঙ্গে বৈঠক শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দাবি করেন।

    সাইবিহা বলেন, ‘আমরা স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করছি যে, রাশিয়া বিভিন্ন প্রতারণাপূর্ণ কৌশলে আফ্রিকার নাগরিকদের এই যুদ্ধের সঙ্গে জড়িয়ে দিচ্ছে। আমাদের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে আফ্রিকার ৩৬টি দেশের হাজারো যুবক রুশ বাহিনীর পাশে যুদ্ধ করছে।’ তিনি আরও জানান, এই সেনাদের অনেককেই চাকরি বা অন্য প্রলোভনে রাশিয়ায় আনা হয়েছে এবং পরে সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এ ধরনের বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    এদিকে, সংবাদ সম্মেলনে ঘানার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওকুদজেতো আবলাকাওয়া বলেন, রুশ বাহিনীতে যেসব আফ্রিকান সেনা লড়াই করছে, তাদের কোনও পূর্বঅভিজ্ঞতা নেই। তারা সাধারণত চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বা প্রতারণার মাধ্যমে রাশিয়ায় নেয়া হয়েছে। এরপর তাদের সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘অধিকাংশ আফ্রিকান সেনার কখনও কোনো নিরাপত্তা বাহিনী বা সেনাবাহিনীতে কাজ করার অভিজ্ঞতা নেই, কোনও প্রশিক্ষণও পায়নি। লোভে পড়ে তারা প্রতারণার শিকার হন এবং শেষ পর্যন্ত সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হন।’

    সংবাদ সম্মেলনে ওকুদজেতো আবলাকাওয়া আরও জানান, আফ্রিকার যুবকদের রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অংশ হওয়ার থেকে বিরত রাখতে ঘানা ও এশিয়ার দেশের অন্যান্য সদস্য দেশগুলোকে নিয়ে গঠিত আফ্রিকান ইউনিয়ন কাজ করে যাবে।

    উল্লেখ্য, রাশিয়া ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারির শেষে ক্রিমিয়া উপদ্বীপকে রুশ ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই স্বীকৃতি মানতে অস্বীকৃতি জানায়। এরপর থেকেই কিয়েভের সঙ্গে টানাপোড়েন চলতে থাকে। ওই বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারিতে রুশ বাহিনী ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে, যা এখনও অব্যাহত রয়েছে। এই অভিযান শুরু করেছিলেন রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন।