Category: আন্তর্জাতিক

  • ভারতে ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে মুসলিম শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যা

    ভারতে ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে মুসলিম শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যা

    আগামী টুয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের চারটি ম্যাচ খেলতে ভারতের মাটিতে যাওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশ দলকে। কিন্তু নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ তুলে বিসিবি mehrfachবার আইসিসিকে চিঠি পাঠিয়ে নিজেরা ম্যাচ স্থানান্তর করার অনুরোধ করে। দীর্ঘ আলোচনার পরও আইসিসি থেকে প্রত্যাশিত সাড়া না পেয়ে বাংলাদেশ দল শেষ পর্যন্ত ভারতে গিয়ে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও বাংলাদেশের নাম প্রত্যাহার করা না হলেও প্রাকটিক্যালভাবে এই বিশ্বকাপে বাংলাদেশের খেলার সম্ভাব্যতা অত্যন্ত কম—এমনটি বলেছেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।

    শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফারুকী লিখেছেন, ভারতে পাকিস্তান ও ভারতের খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ নেওয়া হলেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আইসিসির অবস্থান ভিন্ন ছিল। তিনি আরও বলেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতে ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহ প্রমাণ করে মানুষকে পিটিয়ে হত্যার খবর প্রকাশ পেয়েছে। ঠিক বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গে জন্মভূমি থাকা এক মুসলিম শ্রমিক মনজুর আলম লস্করকে বাংলাদেশি সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া জানায়—এই ঘটনার কথাই তিনি উদাহরণ হিসেবে টেনেছেন।

    বিশ্বকাপ ইস্যুর সূচনা মূলত আইপিএল থেকে মুস্তাফিজকে বাদ দেয়ার ঘটনায়। ভারতের কিছু উগ্র হিন্দু নেতার হুমকির পর নিরাপত্তাজনিত কারণে মুস্তাফিজকে আইপিএল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল—এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই বিসিবি পরে ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলায় নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলেছিল। ফারুকী বলেছেন, এসব ঘটনা যদি দীর্ঘদিন ধরে চালানো বাংলাদেশবিরোধী ঘৃণা প্রচারণার অংশ হিসেবে দেখা যায়, যার ফলশ্রুতিতে মুস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তাহলে ভারতীয় মাটিতে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাস্তব ও গুরুতর বলে মানতে হবে।

    টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগণার এক মুসলিম শ্রমিককে অন্ধ্রপ্রদেশে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের নাম মনজুর আলম লস্কর, বয়স ৩২। তিনি উস্থি থানার রাঙ্গিলাবাদ গ্রামের বিষ্ণুপুরের বাসিন্দা ছিলেন এবং প্রায় এক দশক ধরে অন্ধ্রপ্রদেশের কোমারোলুতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন। পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন সেখানে থাকা সত্ত্বেও স্থানীয়রা তাকে বারবার ‘বাংলাদেশি’ আখ্যা দিয়ে হুমকি দিয়ে আসছিল। একপর্যায়ে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়—প্রথমে ২৫ হাজার রুপি দাবি করা হলেও পরে স্ত্রীকে অজানা নম্বর থেকে কল করে ৬ হাজার রুপি পাঠাতে বলা হয়। পরিবারের পাঠানো ৬ হাজার রুপির পরে বুধবার রাতে জানানো হয় যে মনজুরকে হত্যা করা হয়েছে।

    মনজুরের বড় ভাই গিয়াসউদ্দিন লস্কর, যিনি রাঙ্গিলাবাদ গ্রামের পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান ও তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা, অভিযোগ করেছেন হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত এবং হিন্দুত্ববাদী উগ্রবাদীদের দ্বারা সংঘটিত। তিনি বলছেন, যে অজ্ঞাত ব্যক্তি ফোন করেছিল এবং তার সহযোগীরাই তার ভাইকে হত্যা করেছে। নিহতের পরিবার পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে অনুরোধ করেছেন অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার ও কেন্দ্রীয় স্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে ঘটনার পূর্ণ তদন্ত ও দোষীদের গ্রেফতার করতে সাহায্য করার।

    টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার খবর অনুসারে, গত ডিসেম্বরের শেষ থেকে পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও রহস্যজনক মৃত্যুর একটি ধারাবাহিকতা লক্ষ্য করা গেছে। উশতির তৃণমূল নেতৃত্ব এটিকে পরিকল্পিত সন্ত্রাস বলে আখ্যা দিয়েছে এবং অভিযোগ করেছে যে বিজেপি বা তাদের মিত্র শাসিত রাজ্যগুলো এই তৎপরতা পরিচালনা করছে যাতে সংখ্যালঘু বাঙালি ভাষাভাষীদের চলাচল আতঙ্কিত করা যায়। তৃণমূল এক বিবৃতিতে কেন্দ্রীয় সরকারকে কঠোরভাবে সমালোচনা করে বলেছে, পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্র ব্যর্থ হয়েছে।

    ঘটনার খবরে টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবার ও স্থানীয় নেতারা দায়ীদের দ্রুত গ্রেফতার ও যথাযথ তদন্তের দাবি করেছেন, আর এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগ আরও জোরালো হচ্ছে।

  • যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে ডব্লিউএইচও থেকে বেরিয়ে গেল

    যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে ডব্লিউএইচও থেকে বেরিয়ে গেল

    জাতিসংঘের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বেরিয়ে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির মানবিক ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার জানিয়েছে যে সংগঠনের সঙ্গে বিচ্ছেদের সব ধাপ সম্পন্ন করা হয়েছে।

    এটি ছিল লাখ বছরের পুরনো রাজনৈতিক লক্ষ্য—প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে ডব্লিউএইচও থেকে বেরোতেই চেয়েছেন। প্রথম প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরে তিনি একবার সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তখন তা সফল হয়নি। তবে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই তিনি এ বিষয়ে নির্বাহী আদেশ জারি করেন, যা আইনিভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে সংস্থা থেকে বের হওয়ার পথে এগিয়ে দিয়েছে।

    আইন অনুযায়ী ডব্লিউএইচও থেকে বের হওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে এক বছরের নোটিশ দেওয়া এবং সংগঠনের কোঠাগুলো পরিশোধ করে নেওয়ার শর্ত মেনে চলতে হতো। এখনও সংস্থার কাছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২৬০ মিলিয়ন ডলার বাকি আছে।

    আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র হয়ত এই টাকা পরিশোধ নাও করতে পারে। ডব্লিউএইচওর এক কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছেন যে পাওনা না গেলে আনুষ্ঠানিকভাবে বের হওয়া সমস্যাগ্রস্ত হবে; আইনগত দিক থেকে এটি ঠিকভাবে সম্পন্ন না হলে কোনো রকম বৈধতা মিলবে না। তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে সংগঠনের হাতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ওই অর্থ আদায়ের শক্ত করে কোনো গ্রহণযোগ্য উপায় নেই।

    যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ডব্লিউএইচওকে দেওয়া সকল সরকারি তহবিল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং সেখানে কর্মরত বা দায়িত্বপ্রাপ্ত সমস্ত কর্মী ও ঠিকাদারদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন কমিটি, পরিচালনা পর্ষদ, শাসন কাঠামো এবং কারিগরি ওয়ার্কিং গ্রুপে তার আনুষ্ঠানিক অংশগ্রহণও বাতিল করেছে।

    সূত্র: সিএনএন।

  • ইন্দোনেশিয়ায় বিধ্বস্ত বিমান থেকে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার

    ইন্দোনেশিয়ায় বিধ্বস্ত বিমান থেকে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার

    ইন্দোনেশিয়ার দক্ষিণ সুলাওয়েসির প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিধ্বস্ত একটি বিমান থেকে শুক্রবার দশজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

    ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া লাশের মধ্যে সাতজন কেবিন ক্রু এবং তিনজন যাত্রী রয়েছেন। বিধ্বস্ত বিমানটি এটিআর ৪২-৫০০ ধরনের টারবোপ্রপ উড়োজাহাজ, যা সাধারণত মাঝারি ক্ষমতার স্বল্পসড়ক ভ্রমণের জন্য ব্যবহৃত হয়।

    এক প্রতিবেদনে এএফপি জানিয়েছে যে উড়োজাহাজটি ইন্দোনেশীয় এয়ার ট্রান্সপোর্ট (আইএটি) সংস্থার ছিল। রির্পোট অনুসারে বিমানটি গত ২৮ জানুয়ারি জাকার্তা থেকে মৎস্যসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তিন কর্মকর্তাকে নিয়ে দক্ষিণ সুলাওয়েসি দ্বীপে জরিপে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। রওনা হওয়ার কিছুক্ষণ পর দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে আইএটির মূল দফতর থেকে বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

    দক্ষিণ সুলাওয়েসি দুর্যোগ মোকাবিলা দপ্তরের উদ্ধারকারী কর্মকর্তা অ্যান্ডি सুলতান জানিয়েছেন, বিমানটি নিখোঁজ হওয়ার পরই অনুসন্ধান অভিযান শুরু করা হয়। শুক্রবার সকালে মারোস জেলার বুরুসারাউং পাহাড়ের কাছে ধ্বংসাবশেষ ও মৃতদেহগুলি পাওয়া যায়। ওই স্থানটি জাকার্তা থেকে প্রায় ১,৫০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

    ইন্দোনেশিয়ার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

    সূত্র: এএফপি, রয়টার্স

  • অন্ধ্রপ্রদেশে ‘বাংলাদেশি’ বলে অভিহিত করে পশ্চিমবঙ্গের মঞ্জুর আলমকে পিটিয়ে হত্যা

    অন্ধ্রপ্রদেশে ‘বাংলাদেশি’ বলে অভিহিত করে পশ্চিমবঙ্গের মঞ্জুর আলমকে পিটিয়ে হত্যা

    পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার এক শ্রমিককে অন্ধ্রপ্রদেশের কোমারোলুতে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের নাম মঞ্জুর আলম লস্কর; তিনি ৩২ বছর বয়সী এবং দীর্ঘ সময় ধরে অন্ধ্রপ্রদেশে জরির কাজ করতেন।

    সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়াকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, মঞ্জুরকে মুসলিম ও ‘বাংলাদেশি’ বলে অভিহিত করে চুরির অভিযোগ তুলে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়। স্থানীয় উগ্রবাদী দলের লোকেরা তাকে প্রথমে অপহরণ করে এবং মুক্তিপণ হিসেবে ২৫ হাজার রুপি দাবি করে।

    মঞ্জুরের পরিবার জানায়, গত মঙ্গলবার অজ্ঞাত একটি নম্বর থেকে ফোন করে মুক্তিপণ চাওয়া হয়। পরিবারের সদস্যরা ৬ হাজার রুপি যোগাড়ও করেন, কিন্তু বুধবার তারা জানতে পারেন মঞ্জুরকে হত্যা করা হয়েছে।

    রঙ্গিলাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের বিষ্ণপুর গ্রামে জন্মভূমি থাকা মঞ্জুর সেখানে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে থাকায় স্থানীয়দের মধ্যেই পরিচিত ছিলেন। তবু তাকে বাংলাদেশি হিসেবে চিহ্নিত করে সেখান থেকে চলে যেতে হুমকি দেওয়া হয়েছিল।

    মঞ্জুরের পরিবার ক্ষতিগ্রস্থদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে এবং এ ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সহায়তা চেয়েছেন।

    টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাভাষী মুসলিমদের ওপর চলমান সহিংসতায় এটি একটি উদ্বেগজনক ঘটনা। অনুসন্ধান ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের দিকে নজর দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। সূত্র: টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া।

  • পাকিস্তানের করাচিতে অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা দাঁড়াল ৬১

    পাকিস্তানের করাচিতে অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা দাঁড়াল ৬১

    পাকিস্তানের বাণিজ্যিক রাজধানী করাচির অন্যতম ব্যস্ত শপিং কমপ্লেক্স গুল প্লাজায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এই পর্যন্ত ৬১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৫ জনের পরিচয় জানা গেছে, শীঘ্রই অন্যদের পরিচয় জানাতে চেষ্টা চলছে।

    করাচির দক্ষিণ জোনের উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক আসাদ রাজা জানান, বুধবার এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, গুল প্লাজার দ্বিতীয় তলায় Dubai Crockery নামের একটি দোকান থেকে ৩০ জনের দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অগ্নিদগ্ধরা সবাই দোকানটির ভেতরে ছিলেন। উদ্ধারকাজ চলাকালীন এই ৩০ জনের মধ্যে ১৫ জনের পরিচয় জানা গেছে, বাকিদের সন্ধানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ ও উদ্ধারকারীরা।

    তিনি আরও জানান, এই ঘটনার ফলে গুল প্লাজায় মোট মৃতের সংখ্যা এখন ৬১। পাশাপাশি এখনও ৪০ জনের বেশি লোক নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

    সম্প্রতি, ১৭ জানুয়ারি শনিবার এই দুর্ঘটনা ঘটে যখন গুল প্লাজার বেসমেন্টে আগুন ওঠে, যা দ্রুত পুরো পাঁচতলা শপিং কমপ্লেক্সে ছড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত। আগুনের ভয়ঙ্কর আকারে বিস্তার ঘটায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের ২৪ ঘণ্টা কঠোর পরিশ্রমের পর পরিস্থিতি দমন সম্ভব হয়।

    উচ্চতর বয়সের এই ৫তলা ভবনটি নির্মাণ হয় ১৯৮০ সালে। এর আয়তন একটি ফুটবল মাঠের চেয়ে বড়, যেখানে প্রায় ১ হাজার ২ শ’ দোকান রয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণে বেশিরভাগ দোকানই ভস্মীভূত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের অনুযায়ী, এত বড় ধরনের আগুন এত আগে কখনো দেখা যায়নি যা করাচিতে এর আগে সংঘটিত হয়নি।

    ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সূত্রে জানা যায়, হতাহত ও নিখোঁজের সংখ্যা এত বেশি হওয়ার অন্যতম কারণ হলো গুল প্লাজার নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট নরম ছিল। করাচি ফায়ার সার্ভিসের একজন কর্মকর্তা জানান, গুল প্লাজায় মোট ২৬টি গেট বা ফটক ছিল, কিন্তু তার মধ্যে মাত্র ২টি খোলা থাকতো। আগুনের সময়ও অধিকাংশ গেট বন্ধ থাকায় বহু মানুষ কমপ্লেক্সের ভিতরে আটকা পড়েন। এছাড়া, মার্কেটের অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রও কাজের অবস্থায় ছিল না।

    বুধবারের ব্রিফিংয়ে উপ-পুলিশ মহাপুরিদর্শক আসাদ রাজা বলেন, ‘প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, আগুনের সময় দোকানের শাটার বন্ধ ছিল, যা নিহতের অন্যতম কারণ। মৃতের মধ্যে দোকানের মালিক ও কর্মচারীরাও রয়েছেন।’ তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, গুল প্লাজায় এই অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে।

    করাচির পুলিশপ্রধান ও পুলিশ কমিশনার সৈয়দ হাসান নাকভি জানিয়েছেন, সিন্ধ রাজ্য সরকার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটি ইতোমধ্যে জায়গায় গিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেছে ও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। সূত্র: এএফপি

  • শিনজো আবেকে হত্যায় খুনির আমৃত্যু কারাদণ্ড নিশ্চিত

    শিনজো আবেকে হত্যায় খুনির আমৃত্যু কারাদণ্ড নিশ্চিত

    জাপানের আদালত আজীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবেকে হত্যা করার জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিকে। এ হত্যাকাণ্ডের সাড়ে তিন বছর পর বুধবার এই দণ্ডের রায় ঘোষণা করা হয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২২ সালের জুলাই মাসে জাপানের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর নারা-য় একটি নির্বাচনী প্রচার সময় আবে বক্তৃতা দিচ্ছিলেন। এ সময় ৪৫ বছর বয়সী তেতসুইয়া ইয়ামাগামি হাতে তৈরি বন্দুক দিয়ে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। ঘটনাস্থলেই তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওই সময় আবে ছিলেন ৬৭ বছর।

    নারা ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে বিচার শুরুর প্রথম দিনেই, অক্টোবরে, ইয়ামাগামি হত্যা স্বীকার করে নেন। এরপর তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। রায়ের সময় বিচারক শিনিচি তানাকা গুলির ঘটনাকে ‘জঘন্য’ বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, ‘বড় জনসমাবেশে বন্দুক ব্যবহার করা অতিরিক্ত বিপজ্জনক এবং দুষ্কৃতিকারী কর্মকাণ্ড।’

    প্রাথমিকভাবে কাউন্সিলের পক্ষ থেকে ইয়ামাগামির জন্য আজীবন কারাদণ্ডের দাবি জানানো হয়েছিল। তারা জাপানে এরূপ হত্যাকাণ্ডকে ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর অন্যতম মারাত্মক ও নজিরবিহীন ঘটনা’ হিসেবে অভিহিত করে। তবে, ইয়ামাগামির আইনজীবীরা তার জন্য ২০ বছরের কম কারাদণ্ডের আর্জি জানান, যেখানে পারিবারিক সম্পর্ক ও যোগসাজশের বিষয়ও উল্লেখ করা হয়।

    অভিযোগের বিরুদ্ধে আপিলের বিষয়ে, ইয়ামাগামির আইনজীবীরা পরে তার সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন।

  • যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জামায়াতের বন্ধুত্ব বৃদ্ধি করার উদ্যোগ

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জামায়াতের বন্ধুত্ব বৃদ্ধি করার উদ্যোগ

    বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পথে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী, যে কোনো সময় তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে সফল নির্বাচনী ফলাফল লাভের সম্ভাবনা রয়েছে। এমন ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন সংকেত দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকরা, যারা জামায়াতের সঙ্গে যোগাযোগ ও সম্পর্ক জোরদার করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এই বিষয়টি নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে ওয়াশিংটন পোস্টের একটি বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদন।

    প্রতিবেদনে জানা গেছে, বাংলাদেশের ইতিহাসে একাধিকবার জামায়াতে ইসলামীর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। সর্বশেষ সরকারে আওয়ামী লীগ থাকাকালে দলটির ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর, ছাত্র আন্দোলনের উত্তাপে শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ব্যাপক পরিবর্তনের মুখে পড়েছে।

    জামায়াত আগে শরিয়াভিত্তিক শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, নারীদের কাজের সময় কমানোসহ বেশ কয়েকটি মৌলিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তারা নিজ ভাবমূর্তি বদলানোর চেষ্টা চালাচ্ছে, দুর্নীতিবিরোধী রাজনীতিকে গুরুত্ব দিয়ে মূলধারার রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকরাও ইসলামপন্থি দলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের জন্য প্রস্তুত। এক অডিও রেকর্ডের বরাত দিয়ে জানানো হয়, ১ ডিসেম্বর ঢাকায় নারী সাংবাদিকদের সঙ্গে এক বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের একজন কূটনীতিক বলেছিলেন, বাংলাদেশ এখন আরও বেশি ইসলামপন্থার দিকে ঝুঁকছে, এবং ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জামায়াতের ফলাফল আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভালো হবে।

    কূটনীতিকবৃন্দ আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র জামায়াতে ইসলামীর বন্ধু হিসেবে দেখা চায়। যদি দলটি শরিয়া আইন চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে, তাহলে ওয়াশিংটনের মনোভাব কঠোর হবে। তিনি আরও বলেন, ‘এমন কিছু হলে, আমরা দ্রুত অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করব’।

    সাংবাদিকের উদ্বেগের জবাবে তিনি বলেন, শুধু জামায়াত নয়— হেফাজতে ইসলাম এবং ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের সঙ্গেও যোগাযোগের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি যোগ করেন, ‘আমরা চাই তারা আমাদের বন্ধু হোক, যাতে প্রয়োজনে ফোন করে বলতে পারি, ‘আমরা যা বলেছি, সেটাই কার্যকর করো’।’

    অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, বাংলাদেশে শরিয়া আইন কার্যকর হলে দেশের অর্থনীতি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মনে করেন এই কূটনীতিক। পোশাক শিল্পের ২০ শতাংশ রফতানি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল। যদি নারীদের কাজের সময় সীমা অতিক্রম হয় বা শরিয়া আইন চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে বাংলাদেশের অর্ডারগুলো বন্ধ হবে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য ভয়ঙ্কর। তবে তিনি দাবি করেন, জামায়াত শরিয়া আইন প্রয়োগ করবে না, কারণ উচ্চশিক্ষিত জনগোষ্ঠী ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুণরা এই আইন মানবে না।

    ঢাকায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের মুখপাত্র মনিকা শাই বলেন, ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকটি ছিল নিয়মিত, এবং সেখানে রাজনৈতিক দলের ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র কোনও নির্দিষ্ট দলের পক্ষে নয়, বরং সবাইকে নিয়ে কাজ করে।

    এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর যুক্তরাষ্ট্রবিষয়ক মুখপাত্র মোহাম্মদ রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেছেন, ব্যক্তিগত কূটনৈতিক বৈঠকের বিষয়টি নিয়ে কোনও কথা বলেন না।

    বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের জামায়াতের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ালে ভারত-আলাপের মধ্যে টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে, আটলান্টিক কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যানের মতে, বাংলাদেশে জামায়াতের প্রভাব ভারতের দীর্ঘদিনের উদ্বেগের বিষয়। ভারত মনে করে, জামায়াত পাকিস্তানপন্থী এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি।

    অবশ্য, ওয়াশিংটনের তরফ থেকে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশের নির্বাচন বা পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্কের ওপর বড় কোন প্রভাব ফেলবে না। মার্কিন কূটনীতিকরা মানেন, ঢাকা ও নয়াদিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক আলাদাভাবে পরিচালিত হয়।

  • ট্রাম্পের ৮ দেশের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি থেকে সরে এলো

    ট্রাম্পের ৮ দেশের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি থেকে সরে এলো

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ন্যাটো পরিস্থিতি ও গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত সম্ভাব্য চুক্তির আলোচনাকে কেন্দ্র করে বেশ কিছু পরিবর্তন আনলেন। তিনি জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ন্যাটোর সঙ্গে আলোচনার পর, এখন আর তারা আটটি ইউরোপীয় দেশের ওপর শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন। আগে জানা গিয়েছিল, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এই আট দেশের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করার পরিকল্পনা ছিল।

    দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে (ডব্লিউইএফ) অংশগ্রহণের সময়, ট্রাম্প নিজের ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে বলেন, ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে তার বৈঠক খুবই ফলপ্রসূ ছিল। এই বৈঠকের ভিত্তিতে তারা ভবিষ্যতের জন্য একটি গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত চুক্তির রূপরেখা তৈরি করেছেন। তিনি আরও যোগ করেন, ‘যদি এই সমাধান চূড়ান্ত হয়, তবে তা যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো সদস্য দেশের জন্য একটি অসাধারণ ঘটনা হবে।

    তাঁর ঘোষণা, ‘এই বোঝাপড়ার ভিত্তিতে আমি পহেলা ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা থাকা শুল্ক আরোপ করব না।’ তবে, ট্রাম্প এটাও জানান যে, গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত ‘দ্য গোল্ডেন ডোম’ নামক বিষয়টির ওপর আলোচনা এখনও চলমান রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, অগ্রগতির বিষয়ে পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

    এই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যক্তি অংশ নিচ্ছেন, যারা সরাসরি ট্রাম্পকে জানাবেন।

    এর আগে, দাভোসে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা যুক্তরাষ্ট্রের কাছেই থাকা উচিত। তিনি বলেছিলেন, ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত এই অঞ্চলকে দখলের জন্য কোনও প্রকার চাপ প্রয়োগ করা হবে না। ট্রাম্পের মতে, উত্তর মেরু অঞ্চলের বরফ গলছে এবং প্রতিযোগিতা আরও বেড়েই চলেছে, তাই এই অঞ্চলটি যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    বর্তমানে, ডেনমার্কের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি অনুযায়ী, তারা গ্রিনল্যান্ডে নিজেদের ইচ্ছে মতো সেনা মোতায়েন করতে পারে। বর্তমানে, দ্বীপের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত পিটুফিক ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের শতাধিক সামরিক সদস্য স্থায়ীভাবে অবস্থান করছেন।

    রাশিয়া ও চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির কারণে আর্কটিক অঞ্চলে নিরাপত্তার চাহিদাও বেড়েছে। ট্রাম্প ঐ অঞ্চল নিয়ন্ত্রণের জন্য চাপ দেয়ার পেছনে ন্যাটোর অজুহাত দেখালেও, ডেনমার্ক নিজেও এই অঞ্চলের এক স্বায়ত্তশাসিত দেশ।

    তবে, গ্রিনল্যান্ড কিনে আনার বিষয়ে এখনও কোনও চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত, ট্রাম্প পহেলা ফেব্রুয়ারি থেকে ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্র France, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ড থেকে আসা পণ্যের উপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন। এই শুল্কের হার জুনের মধ্যে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হবে বলে জানান তিনি।

    প্রথমে এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই সব ইউরোপীয় দেশের পাশাপাশি আরও কয়েকটি দেশেও শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ছিল। তবে বুধবার, ন্যাটোর সদস্য এই দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনার পর, ট্রাম্প সংশ্লিষ্ট হুমকি প্রত্যাহার করেন। ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে তিনি বলেছেন, ‘এই বোঝাপড়ার ভিত্তিতে, পহেলা ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা থাকা শুল্ক আমি আরোপ করব না।

    আলোচনার এই পরিবর্তনের পর, ট্রাম্প আরও জানান, তিনি দ্রুত আলোচনা চান গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের জন্য, তবে স্পষ্ট করে বলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র কোনও শক্তি প্রয়োগ করে ভূখণ্ডটি দখল করবে না।

  • কাশ্মীরে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ১০ সেনা শহিদ, ২০০ ফুট খাদে ভারতীয় সাঁজোয়া যান খাঁড়া উঠতে গিয়ে পড়েছে

    কাশ্মীরে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ১০ সেনা শহিদ, ২০০ ফুট খাদে ভারতীয় সাঁজোয়া যান খাঁড়া উঠতে গিয়ে পড়েছে

    জম্মু ও কাশ্মীরের ডোডা জেলায় এক মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনায় ১০ ভারতীয় সেনার মৃত্যু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ভাদেরওয়াহ-চাম্বা আন্তঃরাজ্য সড়কের ৯ হাজার ফুট উঁচু খানি টপ এলাকায়, যেখানে ১৭ থেকে ২১ জন জওয়ান বহনকারী একটি সাঁজোয়া যান চলছিল, তখন দুর্ঘটনা ঘটে। গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রায় ২০০ ফুট গভীর খাদে পড়ে যায়।

    সেনাবাহিনী ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, কঠোর আবহাওয়া ও পিচ্ছিল পাহাড়ি পথের কারণে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যান, যার ফলস্বরূপ গাড়িটি খাদে পড়ে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়। দুর্ঘটনার কয়েক মুহুর্তের মধ্যেই সেনা, পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

    পিটিআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে চার জন সেনার মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে আহতদের নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার পথে আরও ছয় সেনা মারা যান।

    এএনআই পরিস্থিতির বিবরণ দেয়ায় জানানো হয়েছে, এই দুর্ঘটনায় আহত ১০ সেনার অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টার করে উধমপুরের সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ডোডার অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার সুমিত কুমার ভূটিয়াল নিশ্চিত করেছেন, আহত সেনাদের জীবন রক্ষার্থে সব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    এই মর্মান্তিক ঘটনার জন্য গভীর শোক প্রকাশ করেছেন জম্মু ও কাশ্মীরের লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি বলেছেন, ‘আমাদের ১০ জন বীর সেনার বিদেহী আত্মার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। তাঁদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ আমাদের নিত্য স্মরণে থাকবে।’ এ ছাড়া ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ও মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ নিহত সেনাদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

  • কাশ্মীরে ২০০ ফুট খাদে সাঁজোয়া যান পড়ে, ১০ ভারতীয় সেনা নিহত

    কাশ্মীরে ২০০ ফুট খাদে সাঁজোয়া যান পড়ে, ১০ ভারতীয় সেনা নিহত

    জম্মু ও কাশ্মীরের ডোডা জেলায় বৃহস্পতিবার দুপুরে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১০ ভারতীয় সেনা নিহত হয়েছেন। ঘটনাটি ভাদেরওয়াহ-চাম্বা আন্তরাজ্য সড়কের খানি টপ নামে ৯ হাজার ফুট উচ্চতার এলাকায় ঘটে।

    সেনাবাহিনীর বরাত ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৭ থেকে ২১ জন জওয়ানকে বহনকারী একটি বুলেটপ্রুফ সাঁজোয়া যান খানি টপ থেকে সামান্য নিচের দিকে চলছিল। তখনই চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে গাড়িটি প্রায় ২০০ ফুট গভীর খাদে পড়ে যায়। প্রতিকূল আবহাওয়া ও পিচ্ছিল পাহাড়ি রাস্তা দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    পুলিশ, সেনাবাহিনী ও স্থানীয়বাসী দ্রুত উদ্ধার-কর্মসূচি শুরু করলে ঘটনাস্থলেই চারজন জওয়ানের মরদেহ পাওয়া যায়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে ও চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়, বলে উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন।

    বার্তা সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় আহত ১০ জন জওয়ানের অবস্থা আশঙ্কাজনক। হোয়াইট নাইট কোরের নির্দেশনায় আহতদের দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে করে উধমপুর কমান্ড হাসপাতালে এয়ারলিফট করা হয়েছে। ডোডার অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার সুমিত কুমার ভূটিয়াল জানিয়েছেন, আহতদের জীবন রক্ষার জন্য সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    সেনাবাহিনী, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন এখনও উদ্ধার ও তদন্ত কাজ চালাচ্ছে। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ জানতেARN তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

    ঘটনায় গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন জম্মু ও কাশ্মীরের লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহা। এক বার্তায় তিনি নিহত জওয়ানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পরিবারসমূহের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহও নিহত জওয়ানদের পরিবারদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

    দুর্ঘটনায় নিহত এবং আহত জওয়ানদের পরিবার ও সহকর্মীদের প্রতি প্রশাসন ও সেনাবাহিনী সহানুভূতি জানাচ্ছে এবং ঘটনার পূর্ণ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।