Category: জাতীয়

  • ইসি অনলাইনে নয়, ম্যানুয়ালি ইস্যু করবে সাংবাদিক কার্ড

    ইসি অনলাইনে নয়, ম্যানুয়ালি ইস্যু করবে সাংবাদিক কার্ড

    আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে সংবাদ সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা সাংবাদিকদের আইডি কার্ড ও গাড়ির স্টিকার সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে ম্যানুয়ালি কার্ড ইস্যু করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

    ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ম্যানুয়ালি কার্ড ইস্যু করার বিস্তারিত প্রক্রিয়া খুব শিগগিরই জানিয়ে দেওয়া হবে।

    তিনি আরো জানান, যারা ইতোমধ্যে অনলাইনে আবেদন করেছেন তাদের পুনরায় কিছু করার প্রয়োজন নেই। আর যারা অনলাইনে আবেদন করেননি তাদেরকে অনলাইনে আবেদন করতে হবে না; তারা সরাসরি নির্বাচন ভবনে এসে কার্ড ও স্টিকার নিতে পারবেন।

    এর আগে ইসি নির্বাচনি দায়িত্ব পালনকারী সাংবাদিকদের জন্য অনলাইনে আবেদনের আহ্বান জানায়। তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন এই প্রক্রিয়াকে ‘ইউজার ফ্রেন্ডলি নয়’ বলে উল্লেখ করে দ্রুত সমাধান দেয়ার আশ্বাস দেন।

    সাংবাদিক নেতারা সংগঠিতভাবে আগামী রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত এসব জটিলতা মেটাতে ইসিকে আলটিমেটাম দিলে আভাস মেলেনি, এরপরই ইসি অনলাইনে-only পদ্ধতি থেকে সরে এসে ম্যানুয়ালি ইস্যু করার সিদ্ধান্ত নেয়।

  • নির্বাচন কমিশন: সরকারি কর্মকর্তারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ প্রচারণা চালাতে পারবেন না

    নির্বাচন কমিশন: সরকারি কর্মকর্তারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ প্রচারণা চালাতে পারবেন না

    নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, আসন্ন গণভোটে সরকারি কর্মকর্তারা ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’—কোনও পক্ষের প্রচারণা চালাতে পারবেন না। এ সংক্রান্ত নির্দেশনা ইতোমধ্যে সকল রিটার্নিং অফিসারের কাছে পাঠানো হয়েছে।

    ইসির উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত ওই চিঠি বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর ধারা ২১ এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ৮৬ অনুযায়ী এমন নিয়ম আরোপ করা হয়েছে।

    চিঠিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ‘‘প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি গণভোট বিষয়ে জনগণকে অবহিত ও সচেতন করতে পারবেন; তবে তিনি কোনোভাবে জনসাধারণকে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট প্রদানের আহবান জানাতে পারবেন না।’’

    ইসি জানিয়েছে, সরকারের কর্মচারীদের পক্ষ-পক্ষান্তরে কথা বলার ফলে গণভোটের ফলাফল প্রভাবিত হতে পারে এবং তা উল্লেখিত বিধানের পরিপ্রেক্ষিতে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। তাই রিটার্নিং অফিসারদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

    এর আগে মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি)ও ইসি জানিয়েছিল যে, নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা গণভোটে কোনো একটি পক্ষের পক্ষপাতমূলক প্রচারণায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন না; তবে তারা ভোটারদের গণভোটে অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করতে পারবেন।

    নির্বাচন কমিশন কর্তৃক জারি করা এই নির্দেশনা সরকারি কর্মীদের আচরণগত সুষমতা নিশ্চিত করে গণভোটের নিরপেক্ষতা রক্ষায় কেন্দ্রীয় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

  • ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা প্রার্থী বা এজেন্ট থেকে কোনো সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে না

    ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা প্রার্থী বা এজেন্ট থেকে কোনো সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে না

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার তাহমিদা আহমদ। তিনি নিশ্চিত করেছেন, এই নির্বাচনে প্রার্থী, নির্বাচনি বা পোলিং এজেন্ট, কর্মী বা সমর্থকসহ কেউই কোনও ব্যক্তির কাছ থেকে খাবার, পানীয় বা অন্য কোনো সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন না। বিষয়টি स्पष्ट করে তিনি বলেন, নির্বাচন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে এ ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

    গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) এক সভায় সভাপতির বক্তব্যে তাহমিদা আহমদ এসব কথা বলেন। এই সভায় নির্বাচনের জন্য অনুষ্ঠিতব্য ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি ও কর্মাবলির পর্যালোচনা করা হয়। তিনি জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দেশের বিভিন্ন জেলায় মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্র এবং ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি ভোটকক্ষে মোট ৭ লাখ ৮৫ হাজার ২২৫ জন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি, তারা কঠোর প্রশিক্ষণে অংশ নেবেন, যা নির্বাচন থেকে ৪ থেকে ৫ দিন আগে শেষ করতে হবে।

    নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, ভোটগ্রহণে যোগ্য ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের নির্বাচন ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে, যাতে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ থাকে। প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য হলো ভোটের শৃঙ্খলা বজায় রাখা, ব্যালট পেপার ব্যবস্থাপনা, ভোট গণনা ও ফলাফলের সঠিক প্রেরণার জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান।

    তিনি নির্দেশ দেন, বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের বাদ দিয়ে স্বচ্ছ প্যানেল প্রস্তুত করতে হবে। তবে, কোথাও প্রয়োজন অনুযায়ী যাচাইবাছাই সাপেক্ষে বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া যাবে। তবে এই বিষয়টি পুরোপুরি স্বচ্ছ ও নিয়ম মাফিক করতে হবে।

    উল্লেখ্য, ভোটগ্রহণের আগের দিন ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে আনুষ্ঠানিক প্রচার, এবং ভোটগ্রহণ হবেন ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। সকল কর্মকর্তাকে এই সময়ের মধ্যে প্রশিক্ষণ শেষ করতে বলা হয়েছে, যাতে তাঁরা নির্বাচন আইনের নির্দেশনা, আচরণবিধি ও অন্যান্য কার্যক্রম সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখতে পারেন।

  • শেখ হাসিনা, কামালসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা, শুনানি ৮ ফেব্রুয়ারি

    শেখ হাসিনা, কামালসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা, শুনানি ৮ ফেব্রুয়ারি

    রাজধানীর কল্যাণপুর এলাকার জাহাজবাড়িতে পরিচালিত এক প্রতিষ্ঠিত ‘জঙ্গি নাটক’ সাজানোর ঘটনা নিয়ে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। একইসঙ্গে এ মামলার অভিযোগ গঠনের জন্য আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি শুনানি ধার্য করা হয়েছে।

    অভিযুক্তদের মধ্যে সাবেক আইজিপি শহীদুল হক, সাবেক ডিএমপি কমিশনার আসাদুজামান মিয়া, সাবেক এসবি প্রধান মনিরুল ইসলাম, এবং ডিএমপি মিরপুর বিভাগের সাবেক উপকমিশনার জসীম উদ্দীন মোল্লাসহ মোট ছয়জনের অভিযুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ইতিমধ্যে গ্রেফতারকৃতরা হলেন- এ কে এম শহীদুল হক, আসাদুজামান মিয়া ও জসীম উদ্দীন মোল্লা।

    আধिकारिक অভিযোগে বলা হয়, ২০১৬ সালের ২৫ জুলাই রাজধানীর কল্যাণপুরের ‘জাহাজবাড়ি’ নামে একটি বাড়িতে ৯ তরুণকে আটক করে রাখা হয়। পরে সোয়াট ও সিটিটিসি টিম সেখানে প্রবেশ করে গুলি চালিয়ে তাদের হত্যা করে। এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমেই জঙ্গি হামলার নাটক সাজানোর প্রক্রিয়া চালানো হয়।

    অভিযোগে আরও জানা যায়, এই ঘটনা দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে টিকে থাকতে ও ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করতে পুলিশ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরিকল্পিতভাবে এই নাটক সাজানো হয়। নিহত ৯ তরুণ বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেফতার করা হয়, কেউ কেউ ডিবি হেফাজতে দুই থেকে তিন মাস ধরে থাকেন। রাতের বেলায় ব্লক রেডের আড়ালে তাদের জাহাজবাড়িতে নিয়ে গিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়।

    প্রসিকিউশনের ভাষ্যে, এই ‘জঙ্গি নাটক’ একটি নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইসলামিক মতাদর্শে বিশ্বাসীদেরকে ‘জঙ্গি’ হিসেবে চিহ্নিত করে হত্যা করার মাধ্যমে ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়, যা মূলত সরকারের রাজনৈতিক স্বার্থে পরিচালিত হয়।

  • শাহ মখদুমের মাজারে জিয়ারত করলেন তারেক রহমান রাজশাহী পৌঁছেছেন

    শাহ মখদুমের মাজারে জিয়ারত করলেন তারেক রহমান রাজশাহী পৌঁছেছেন

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে আজ রাজশাহীতে এসে পৌঁছেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিকেল পৌনে দুইটার দিকে তিনি হযরত শাহ মখদুমের (রহ.) মাজারে জিয়ারত করেন। এর আগে দুপুর ১২টার পর রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে তার বহনকারী ফ্লাইট অবতরণ করে।

    বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, আজকের নির্বাচনী জনসভায় রাজশাহী, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ১৩টি নির্বাচনী এলাকার নেতা ও দলের কর্মীরা অংশ নেবেন। ওই অনুষ্ঠানে দুপুর ২টায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেবেন বলে জানা গেছে। এই জনসভাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের মধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি দেখা গেছে এবং তারা ইতিমধ্যে রাজশাহীতে উপস্থিত হয়েছেন।

    ২০০৪ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের এক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে রাজশাহীতে আসার পর দীর্ঘ ২২ বছর পর তারেক রহমানের এই প্রথম শহরে এলো। তার এই আগমনে প্রায় চারদিকে ব্যাপক আতশবাজি, শোভাবর্ধন ও নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার ভারি ধোঁয়া দেখা গেছে, যা জেলাজুড়ে উৎসাহের সৃষ্টি করেছে।

  • যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সব দলের সঙ্গে কাজ করতে চায়: রাষ্ট্রদূত

    যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সব দলের সঙ্গে কাজ করতে চায়: রাষ্ট্রদূত

    ঢাকায় নবনিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেছেন, তিনি বাংলাদেশের সমস্ত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালেই মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

    রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, তিনি আজকের বৈঠকে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের মতামত শুনেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য, শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করা। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের অগ্রগতির মূল অংশীদার হিসেবে তারা দেশের উন্নয়নে সক্রিয় সহযোগিতা করতে চান।

    সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সকাল ৮টায় রাজধানীর বসুন্ধরায় জামায়াতের কার্যালয়ে ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দূতাবাসের পলিটিক্যাল ও ইকোনমিক কনসোলার মি. এরিক গিলম্যান, পাবলিক অফিসার মিস মনিকা এল সাই, পলিটিক্যাল অফিসার মি. জেমস স্টুয়ার্ট ও পলিটিক্যাল স্পেশালিস্ট ফিরোজ আহমেদ।

    বৈঠকে তারা বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, শিল্প ও বাণিজ্য, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন, রাষ্ট্রীয় সংস্কার, রোহিঙ্গা ইস্যুসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

    অতিথিরা উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় জামায়াতের ইতিবাচক ভূমিকার প্রশংসা করছেন। তারা ভবিষ্যতেও দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    বৈঠকে জামায়াতের আমিরের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মো. মোবারক হোসাইন এবং জামায়াতের আমিরের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মাহমুদুল হাসান।

  • ইসির নির্দেশ: ভোটের পোস্টার না মুদ্রণে প্রিন্টিং প্রেসকে অনুরোধ

    ইসির নির্দেশ: ভোটের পোস্টার না মুদ্রণে প্রিন্টিং প্রেসকে অনুরোধ

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচনি প্রচারণায় পোস্টার ব্যবহারে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের ফলে দেশের সব প্রিন্টিং প্রেসকে দ্রুত এই ধরনের পোস্টার মুদ্রণ না করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হলো। এই সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন সকল রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের উপ-সচিব মনির হোসেন এই চিঠি পাঠান। এতে জানানো হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এরই মধ্যে বিভিন্ন প্রার্থী নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেছেন। তবে, নির্বাচন আচরণ বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী, নির্বাচনি প্রচারণায় কোনো ধরনের পোস্টার ব্যবহার করার অনুমতি নেই।

    বিধি-৭(ক) অনুযায়ী বলা হয়েছে, ‘নির্বাচনি প্রচারণায় কোনো প্রকার পোস্টার ব্যবহৃত হবে না।’ সংগত কারণেই, নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে যেন তারা পদক্ষেপ নেন এবং এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন নিশ্চিত করেন। একই সঙ্গে, প্রিন্টিং প্রেসগুলোরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে বলা হয়েছে যাতে তারা কোনও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আচরণ বিধি লঙ্ঘন করতে না পারেন।

    এভাবে, নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগ প্রতিদ্বন্দ্বীদের আচরণ বিধিমালা মানায় উৎসাহ প্রদান করছে এবং নির্বাচনি পরিবেশে সুষ্ঠুতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

  • নির্বাচনে নেই যারা, তাদেরকেই গণ্ডগোলের কথা বলছে: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

    নির্বাচনে নেই যারা, তাদেরকেই গণ্ডগোলের কথা বলছে: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

    পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, এখনও দেশে কোনো গণ্ডগোল বা বিশৃঙ্খলা দেখা যাচ্ছে না এবং এই ধরনের কথা যারা বলছে, তারা মূলত আসন্ন নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না এমন দলগুলোই।

    বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য নির্বাচনী পরিবেশ শৃঙ্খলাবদ্ধ রাখা এবং রাজনৈতিক দলগুলো আপাতত সংযত আচরণ করছে। তবুও নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো সহিংসতা ঘটলে তার দায়ভার মূলত ভোটে না থাকা দলগুলোকেই নিতে হবে।

    নির্বাচনী পর্যবেক্ষক ও সংবাদিকদের বিষয়ে তিনি জানান, সরকার চাইবে যত বেশি সম্ভব পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক আসুক, তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিজের উদ্যোগে কোনো অতিরিক্ত ব্যবস্থা করে অগ্রগতি জনাবে না। ভারত থেকে কেউ ভোট পর্যবেক্ষণের জন্য আসতে চাইলে তাদের ভিসা দেওয়ার ওপর সরকার সহায়তা করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    ভারতীয় কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের দেশে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে তৌহিদ হোসেন বলেন, এটি তাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তও হতে পারে। এতে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই, তবে এর পেছনে কোনো বিশেষ রাজনৈতিক সংকেত রয়েছে কি না সেটি তিনি নিশ্চিত করে বলেননি।

    দেশে নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি জানান, এখনও তেমন কোনো বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটেনি এবং এ বিষয়ে ভারত সরকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আনুষ্ঠানিক কোনো নোটিশও দেয়নি। যখনই নিরাপত্তার অনুরোধ এসেছে, তা পূরণে চেষ্টা করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

    রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা মূলত মিয়ানমারের রাজ্য রাখাইনের বাসিন্দা। কিছু রোহিঙ্গা বাংলাদেশী পাসপোর্ট নিয়ে সৌদি আরবে গেছেন; তবে পাসপোর্ট বা অন্যান্য ছোটখাটো প্রশাসনিক জটিলতা থাকলেই প্রত্যাবাসন আটকে থাকবে—এমনটা হবে না বলে তিনি আশ্বাস দেন।

    চীনের সহায়তায় ড্রোন কারখানা স্থাপনের বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ প্রয়োজন অনুযায়ী যে কোনো দেশের সাহায্য নিতে পারে এবং এ বিষয়কে কেউ যদি নিন্দা করে তাতেই আমরা বিরক্ত থাকব না। একই সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশ নিজস্ব স্বার্থ বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেবে।

    মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দেখা করতে ব্যস্ততার কারণে তিনি যেতে পারেননি বলেও জানান তৌহিদ। পাশাপাশি তিনি নিশ্চিত করেন, ওসমান হাদির ভাই ওমর হাদির যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে দ্বিতীয় সচিব হিসেবে নিয়োগ বহাল থাকবে।

  • দুদক অনুমোদন: প্রিমিয়ার ব্যাংকের ইকবাল ও সালাম মুর্শেদীসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে ১১টি মামলা

    দুদক অনুমোদন: প্রিমিয়ার ব্যাংকের ইকবাল ও সালাম মুর্শেদীসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে ১১টি মামলা

    দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বুধবার (২৮ জানুয়ারি) প্রিমিয়ার ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান হেফজুল বারী মোহাম্মদ ইকবাল (এইচ বি এম ইকবাল) ও ব্যাংকের সাবেক পরিচালক ও সাবেক সংসদ সদস্য আবদুস সালাম মুর্শেদীসহ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে ১১টি মামলার অনুমোদন দিয়েছে। মামলাগুলোতে প্রিমিয়ার ব্যাংকের বিজ্ঞাপনের নামে মোট ১৫ কোটি ১৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

    দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন জানিয়েছেন, অনুমোদিত মামলাগুলো শিগগিরই আদালতে দাখিল করা হবে। তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেছে যে অভিযুক্তরা বিজ্ঞাপনী ভেন্ডর প্রতিষ্ঠান মাইন্ডট্রি লিমিটেডের সঙ্গে যোগসাজশ করে ২০২১-২০২২ সালে বিজ্ঞাপন প্রচারের নামে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।

    তদন্তে দেখা গেছে, প্রিমিয়ার ব্যাংক বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য মাইন্ডট্রি লিমিটেডকে ১১টি কার্যাদেশে মোট ১৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা প্রদান করে। চুক্তি অনুযায়ী প্রতিটি চ্যানেলে ১০০ মিনিট করে বিজ্ঞাপন প্রচার করার কথা থাকলেও টেলিভিশনগুলোর ট্রান্সমিশন সার্টিফিকেটে বাস্তবে প্রতিটি চ্যানেলে মাত্র ৫০ মিনিট করে বিজ্ঞাপন প্রচার দেখানো হয়েছে।

    আরও খতিয়ে দেখা গেলে পাওয়া গেছে, উল্লিখিত ১১টি কার্যাদেশের বিপরীতে মাইন্ডট্রি লিমিটেডকে আসলে ৪ কোটি ৬৭ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। বাকি ১৫ কোটি ১৩ লাখ টাকা আত্মসাত হওয়া হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

    দুদকের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০১১ সালের ৪ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ পর্যন্ত সময়ে এইচ বি এম ইকবালের নির্দেশে মাইন্ডট্রি লিমিটেডকে বিজ্ঞাপন প্রচারের নামে অগ্রিম হিসেবে মোট ৪৩৮ কোটি ৭১ লাখ ২৮ হাজার ৪৪৪ টাকা নেওয়ার হিসেব পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ২০১১ সালের আগস্ট থেকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩৪২ কোটি ২৯ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪৪ টাকা সমন্বয় দেখানো হলেও ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত ৯৬ কোটি ৪১ লাখ ৪১ হাজার টাকা এখনো অসমন্বিত রয়েছে।

    এই ঘটনার প্রেক্ষিতে দুদক সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারায়, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে।

  • ড. মুহাম্মদ ইউনূস না আসায় ৩৩২ নম্বর এআইকে পাঠালেন প্রধান উপদেষ্টা

    ড. মুহাম্মদ ইউনূস না আসায় ৩৩২ নম্বর এআইকে পাঠালেন প্রধান উপদেষ্টা

    “প্রথমেই মাফ চাইছি—প্রধান উপদেষ্টা মহোদয় আজ উপস্থিত হতে পারেননি, কর্মে ব্যস্ত থাকায় তিনি ৩৩২ নম্বর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)কে পাঠিয়েছেন। আপনাদের সামনে হাজির আছি আমি। আমি চেষ্টা করব তিনি যা বলতে চেয়েছিলেন সেটা যেন আপনাদের কাছে তুলে ধরতে পারি, আশা করি তিনি সন্তুষ্ট হবেন।” — এভাবে শুরু করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পক্ষ থেকে পাঠানো বক্তব্য, রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র (বিসিএফসিসি) এ আজ বুধবার অনুষ্ঠিত একটি অনুষ্ঠানে।

    ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধান উপদেস্টার নাম প্রকাশ করে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। একই সঙ্গে তিনি উদ্ভাবনী প্রতিভা উৎসাহিত করার লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ’-এর ওয়েবসাইট ও লোগো উন্মোচন করেন।

    এই আয়োজনটি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ, বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ (বিএইচটিপিএ) এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস) যৌথভাবে বাস্তবায়ন করেছে। এক্সপোটি চার দিনব্যাপী চলবে এবং আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

    অনুষ্ঠানের শুরুতে ‘ক্রিয়েট হিয়ার, কানেক্ট এভরিহোয়ার’ শিরোনামে ভবিষ্যৎ কেন্দ্রিক একটি আকর্ষণীয় প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হয়। বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টা প্রযুক্তিখাতে উদ্ভাবন, দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিনিয়োগ এবং বৈশ্বিক পর্যায়ে আকর্ষণ ক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন। পরে তিনি প্রদর্শনীর বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং তরুণ উদ্ভাবকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন—তাতে নতুন আইডিয়া ও সম্ভাবনার আলাপচারিতা দেখতে পাওয়া যায়।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। সভার সভাপতিত্ব করেন আইসিটি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী। বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামও এতে বক্তব্য দেন।

    চার দিনব্যাপী এই এক্সপোতে উদ্ভাবনী ডিজিটাল ডিভাইস, মোবাইল প্রযুক্তি, ই-স্পোর্টসসহ বিভিন্ন সেক্টরের প্রদর্শনী রয়েছে। দর্শনার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় ছাড় ও বিশেষ অফার থাকায় ব্যবসায়িক যোগাযোগ সৃষ্টির সুযোগও পাওয়া যাবে। প্রদর্শনীর সময়ে ডিজিটাল রূপান্তর, স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম, ডিপ-টেক এবং উৎপাদন ও রপ্তানির ভিশন নিয়ে মোট পাঁচটি সেমিনার ও চারটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

    অনলাইনে অথবা স্থলীয়ভাবে নিবন্ধনের মাধ্যমে প্রদর্শনীটি সকলের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। দর্শকদের সুবিধার্থে পুরো ভেন্যুতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট প্রযুক্তির মাধ্যমে উচ্চগতির ওয়াই-ফাই সেবা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিভিন্ন শিল্পখাত ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, স্টার্টআপ ও উদ্ভাবকরা এখানে তাদের প্রযুক্তি ও ধারণা বিনিময়ের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার দিক নির্ধারণ করবেন—যা এই এক্সপোকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম করে তুলেছে।