Category: জাতীয়

  • র‍্যাব তৈরি করছে নিরপেক্ষ চাঁদাবাজদের তালিকা, অভিযান যেকোনো সময়ে

    র‍্যাব তৈরি করছে নিরপেক্ষ চাঁদাবাজদের তালিকা, অভিযান যেকোনো সময়ে

    র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) চাঁদাবাজদের একটি নিরপেক্ষ তালিকা প্রস্তুত করছে এবং তালিকা শেষে তাদের বিরুদ্ধে যেকোনো সময় দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে। র‍্যাব বলছে, চাঁদাবাজির সঙ্গে যারা জড়িত তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

    শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় চাঁদাবাজদের একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।

    ইন্তেখাব চৌধুরী জানান, র‍্যাবের ১৫টি ব্যাটালিয়ন ইতোমধ্যে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। তালিকাভুক্তদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি জোর দিয়ে বলেন।

    র‍্যাবের তথ্য অনুযায়ী, চাঁদাবাজি কোনো এক খাতে সীমাবদ্ধ নয়—এটি মহাসড়ক কেন্দ্রিক পরিবহন খাত, বাজারে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাপ সৃষ্টি সহ বিভিন্নভাবে হয়ে থাকে। ছোট স্তরের থেকে বড় পর্যায়ের সব ধরনের অপরাধীরাই তালিকার মধ্যে থাকবে।

    বক্তা আরও জানান, অনেক ভুক্তভোগী ভয় বা নিরাপত্তাজনিত কারণে অভিযোগ করেন না, তাই তালিকা তৈরিতে গোয়েন্দা তথ্য, মাঠ পর্যায়ের অনুসন্ধান এবং বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করে নেয়া হচ্ছে।

    তালিকায় যদি রাজনৈতিক ব্যক্তির নাম আসে কি হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, তালিকা হবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ; কোনো ধরনের পক্ষপাত থাকবে না। যাঁরা অপরাধ করবেন, তাদের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান বা পরিচয় নির্বিশেষে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরও বলেন, তালিকা প্রস্তুত হলেই দ্রুত মাঠে অভিযান শুরু করা হবে এবং তা আজ থেকেই হতে পারে।

  • লন্ডন হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার আকবর হোসেন পদত্যাগ

    লন্ডন হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার আকবর হোসেন পদত্যাগ

    লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার হিসেবে দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন আকবর হোসেন। তিনি একান্ত ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণ দেখিয়ে স্বেচ্ছায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

    শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। স্ট্যাটাসে আকবর হোসেন বলেন, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণে লন্ডনে দীর্ঘমেয়াদীভাবে দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না এবং তাঁর এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে অন্য কোনো বিষয়ের সম্পর্ক নেই বলে স্পষ্ট করে উল্লেখ করেছেন।

    আগে ২০২৪ সালের নভেম্বরে অন্তর্বর্তী সরকার তাকে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার হিসেবে নিয়োগ দেয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল, দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক এই নিয়োগ কার্যকর হবে। প্রজ্ঞাপনে নিয়োগপ্রাপ্তদের অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা বা সরকারি/আধা সরকারি/বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগ করে দায়িত্ব গ্রহণের শর্তও উল্লেখ ছিল।

    লন্ডনে নিয়োগ পাওয়ার আগে আকবর হোসেন বিবিসি বাংলা সার্ভিসের ঢাকা অফিসে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক হিসেবে কাজ করছিলেন।

  • সৈয়দপুরে হঠাৎ অসুস্থ ত্রাণমন্ত্রী, ঢাকায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে নেওয়া হবে

    সৈয়দপুরে হঠাৎ অসুস্থ ত্রাণমন্ত্রী, ঢাকায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে নেওয়া হবে

    দুই দিনের সফরে নিজ জেলা লালমনিরহাটে যাচ্ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। হঠাৎ করে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছানোর সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এই ঘটনার পরই দ্রুত তার চিকিৎসার জন্য ঢাকায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সৈয়দপুরের রাজনৈতিক সংগঠন বিএনপির সভাপতি আব্দুর গফুর সরকার। তিনি জানান, শনিবার সকালে ঢাকা থেকে বিমানযোগে এসে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে নামেন আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি রেস্টরুমে বসে নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলছিলেন, তখনই হঠাৎ মাথা ঘুরে অস্বস্তি অনুভব করেন। পরে দ্রুত তাকে সৈয়দপুর সেনানিবাসের সিএমএইচ হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে প্রাথমিক চিকিত্সা দেওয়া হয়।

    গফুর সরকার আরও বলেন, নেতাকর্মীদের পরামর্শে তাকে দুপুর ১২টা ১০ মিনিটের বিমানে ঢাকায় পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়। তবে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় সংশ্লিষ্টরা সিদ্ধান্ত নেন, তাকে সরাসরি এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় নেওয়া হবে। এয়ামুহূর্তে সৈয়দপুরে অবস্থানরত এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি ঢাকার জন্য রওনা দিয়েছে, যেখানে তাকে সুচিকিৎসার্থে পৌঁছে দেওয়া হবে।

  • শিক্ষামন্ত্রী মনোযোগ দিলেন পলিটেকনিকের শিক্ষার্থীদের সমস্যায়

    শিক্ষামন্ত্রী মনোযোগ দিলেন পলিটেকনিকের শিক্ষার্থীদের সমস্যায়

    পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা বারবার অভিযোগ করছে যে, তাদের ক্লাস নিয়মিত হয় না এবং হাতে-কলমে শেখার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ ও রসদ নেই। ল্যাবের যন্ত্রপাতি পুরোনো হয়ে গেছে এবং বিজ্ঞানগত দক্ষ শিক্ষকও পাওয়া যায় না। এসব সমস্যা শুনে শনিবার (১১ এপ্রিল) রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে এক অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, পরীক্ষা আসছে, যদি শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা না করতে পারে, তবে ফলাফল তেমন সুইসFbNa হবে না।তবে, পরীক্ষায় না পারলে তুমিও ফেল করবে আর ছয় মাস পরে আমিও ফেল করব। তারা যেন বোঝে, কাউকেই এই পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করা যাবে না। নিজের মুক্ত আলোচনায় এই মন্তব্য করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলো ভালোভাবেই শুনে গিয়ে শিক্ষকদের কাছ থেকে বিস্তারিত জানার জন্য নির্দেশ দেন।কিছু শিক্ষার্থী জানান, ক্লাস হয় না, প্র‍্যাকটিক্যাল কাজ আটকে যায় এবং বোঝার সুবিধা হয় না। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী নিহাল উদ্দীন সরকার বলেন, ‘আমাদের কোনও পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি বা আধুনিক সুবিধা নেই। ১৯৬৩ সালে নির্মিত ভবনে ক্লাস ও ল্যাব পরিচালনা করা হয়, ফলে আধুনিক মানের শিক্ষাদানের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও সুযোগ-সুবিধা নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্র্যাকটিক্যাল কাজ ও প্রশিক্ষণ ঠিকভাবে দেওয়া সম্ভব হয় না।’ অন্য এক শিক্ষার্থী আবু জার গিফারি অভিযোগ করেন, অষ্টম সেমিস্টারে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে পাঠানোর কথা থাকলেও সেটি হয় না বা ঢাকার ভালো প্রতিষ্ঠানেও তার শিক্ষার্থীরা নেওয়া হয় না। শিক্ষামন্ত্রী এ বিষয়ে রাজশাহী পলিটেকনিকের প্রিন্সিপালের কাছে জানতে চান। প্রিন্সিপাল জানান, ইন্ডাস্ট্রির লোকজন শিক্ষার্থীদের নিতে চায় না। এ ব্যাপারে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকারের সঙ্গে ইন্ডাস্ট্রির চুক্তি রয়েছে, তাই শিক্ষার্থীদের অবশ্যই প্রতিষ্ঠানে নেওয়া উচিত। মেশিনারি ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। কেনো এটা হচ্ছে না, তার কারণ খুঁজে বের করতে বলেন।তিনি আরও বলেন, কারিগরি শিক্ষার উন্নয়নে সরকার অনেক কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় শিক্ষায় প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ হচ্ছে এবং আমরা এই প্রকল্পের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করব। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমি সমস্যা শুনে নিশ্চিত করছি, যেখানে যেখানে সমস্যা আছে, সেখানে দ্রুত কাজ শুরু করব। এর জন্য নতুন প্রকল্প গ্রহণ করব।’ শিক্ষার্থীদের চাহিদা ও সংকটের ব্যাপারে সচেতন হতে পারে এটাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য।একজন শিক্ষক জানান, পলিটেকনিকের ৪৪ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে, তাদের এই হার কমানোর জন্য সরকারের উদ্যোগ প্রয়োজন বলে উত্‍কলন প্রকাশ করেন। অন্যদিকে, ১৯ জন শিক্ষক অভিযোগ করেন, সাত বছর চাকরি করে তাদের এখনও বেতনের টাকা পাননি। শিক্ষামন্ত্রী আশ্বাস দেন, তাদের পুনরায় পরীক্ষা নিয়ে তাঁদের নিয়োগের ব্যবস্থা করবেন।উপস্থিত ছিলেন কারিগরি শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক আবুল খায়ের মো. আক্কাস আলী, রাজশাহী বিভাগের কমিশনার বজলুর রশীদ এবং বিভিন্ন শিক্ষাবিষয়ক পর্যায়ের কর্মকর্তারা। সমগ্র অনুষ্ঠানে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও সমস্যা সমাধানে জোর দেওয়া হয়, যাতে ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের জন্য আরও ভালো শিক্ষা পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

  • মার্চে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫৩২ জন: রোড সেফটি ফাউন্ডেশন

    মার্চে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫৩২ জন: রোড সেফটি ফাউন্ডেশন

    গত মার্চ মাসে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মোট ৫৭৬টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এসব দুর্ঘটনায় মোট নিহত হন ৫৩২ জন এবং আহত হন ২ হাজার ২২১ জন। নিহতদের মধ্যে নারী ৬৬ জন এবং শিশু ৯৮ জন। এছাড়াও এই সময়ে ১৪টি নৌ-দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত, ২৭ জন আহত এবং ৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। অন্যদিকে, ৪৮টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ৬৭ জন নিহত এবং ২২৪ জন আহতের খবর পাওয়া গেছে।

    রোড সেফটি ফাউন্ডেশন সূত্রে জানানো হয়েছে, আজ (শনিবার) সকালে পাঠানো এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। এই প্রতিবেদনটি তৈরি করতে তারা ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জনপ্রিয় অনলাইন সংবাদপোর্টাল, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং তাদের নিজস্ব তথ্যের ওপর নির্ভর করে তথ্য সংগ্রহ করেছে।

    নিহতদের বা আহতদের তালিকায় যানবাহনের ভিত্তিতে দেখা যায়, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ২০৪ জন, বাসে যাত্রী ৪৫ জন, ট্রাক-পিকআপ-ট্রাক্টরের আরোহী ২৮ জন, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসের ৪৬ জন, তিন চাকার যানবাহনের (ইজিবাইক, সিএনজি, অটোরিকশা, অটোভ্যান, লেগুনা) ৯৪ জন, স্থানীয় যানবাহন (নসিমন, পাখিভ্যান, ভটভটি, টমটম, মাহিন্দ্র) ২৩ জন এবং সাইকেল আরোহী ১৩ জন নিহত হয়েছেন।

    এছাড়াও, রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে বেশির ভাগ ঘটে দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে—যেমন: ১৭১টি সংঘটিত হয়েছে জাতীয় মহাসড়কে, ২৬৪টি আঞ্চলিক সড়কে, ৭০টি গ্রামীণ সড়কে, ৬২টি শহরের সড়কে এবং ৯টি অন্যান্য স্থানে। দুর্ঘটনার ধরন অনুযায়ী বলতে হয়, মুখোমুখি সংঘর্ষ ১৬৬টি, নিয়ন্ত্রণ হারানো ২৩১টি, পথচারীকে চাপা বা ধাক্কা মারা ৮৬টি, যানবাহনের পেছনে আঘাত ৮২টি এবং অন্যান্য কারণে ১১টি দুর্ঘটনা ঘটেছে।

    দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহনের মোট সংখ্যা ছিল ১,৮০০টির বেশি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি, ২৪৪টি মোটরসাইকেল আরোহী, বাস ১৩৩টি, ট্রাক ১২০টি, কাভার্ড ভ্যান ৩৭টি, পিকআপ ৪১টি, ট্রাক্টর ১৬টি, ট্রলি ৬টি, লরি ৭টি, ড্রাম ট্রাক ১৬টি, হ্যান্ড ট্রলি ৩টি, পর্যটন জিপ ২টি, মাইক্রোবাস ১৯টি, প্রাইভেটকার ৪২টি, অ্যাম্বুলেন্স ২টি, পাজেরো জিপ ৮টি, সড়কের মোট অজ্ঞাত যানবাহন ৩২টি এবং কাঠামোগত অজানা যানবাহন ৩২টি।

    বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১২৬টি দুর্ঘটনা ঘটেছে যেখানে ১৩৭ জন নিহত হয়েছে। অন্যদিকে, সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম ২৭টি দুর্ঘটনা নেমে এসেছে যেখানে ২৬ জন নিহত হন। রাজধানী ঢাকা শহরেও গত মার্চে ৪৬টি দুর্ঘটনায় ২৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং আহত হন ৬৯ জন।

    এটি লক্ষ্য করা গেছে, ফেব্রুয়ারি মাসে দৈনিক গড়ে ১৫.৪২ জনের প্রাণহানি ঘটলেও মার্চে এটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রতি দিন গড়ে ১৭.১৬ জন। অর্থাৎ, এই দুমাসের তুলনায় সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কোথায় কোথায় বেড়েছে। মূল কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, বেশি গতি ও নিয়ন্ত্রণের অভাব। বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে গতি নিয়ন্ত্রণ ও চালকদের প্রশিক্ষণ অপরিহার্য হয়ে উঠছে।

    রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের মতে, বাংলাদেশের সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণগুলো হলো—ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, খারাপ সড়ক পরিস্থিতি, বেপরোয়া গতি, চালকদের মানসিক বেপরোয়া মনোভাব, অদক্ষতা এবং শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা। এসব কারণে প্রতিনিয়ত প্রাণ হারাচ্ছেন সাধারণ মানুষ, এবং এর মোকাবেলায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি।

  • লন্ডন হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার পদ থেকে আকবর হোসেনের পদত্যাগ

    লন্ডন হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার পদ থেকে আকবর হোসেনের পদত্যাগ

    লন্ডনে বাংলাদেশের হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার পদ থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আকবর হোসেন। ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক কারণ দেখিয়ে তিনি স্বেচ্ছায় এই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাতে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে এই খবর নিশ্চিত করেছেন। আকবর হোসেন জানান, তার ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক পরিস্থিতির কারণে লন্ডনে তার পক্ষে দায়িত্ব পালন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তিনি স্পষ্ট করেছিলেন, এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে অন্য কোনো বিষয়ের সম্পর্ক নেই।

    ২০২৪ সালের নভেম্বরে তাঁকে অন্তর্বর্তীকার্যক্রমে লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনে প্রেস মিনিস্টার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, এই নিয়োগ দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক। নিয়োগপ্রাপ্তদের অন্য পেশা, ব্যবসা বা কোন সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক পরিত্যাগ করতে হবে, সেটা শর্ত।

    আকবর হোসেন এর আগে বিবিসি বাংলার ঢাকা অফিসে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার এই সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যক্তিগত কারণে তিনি এই পদ থেকে অব্যাহতি নিচ্ছেন।

  • বাজার থেকে সিন্ডিকেট শব্দটি সরিয়ে দিচ্ছে সরকার

    বাজার থেকে সিন্ডিকেট শব্দটি সরিয়ে দিচ্ছে সরকার

    বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, বাংলাদেশের বাজার নিয়ন্ত্রণে এখন থেকে কোনও সিন্ডিকেটের ব্যাপার থাকবে না। তিনি বলছেন, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণের ধারণাটি সম্পূর্ণভাবে চিরতরে বন্ধ করা হবে। এর পরিবর্তে, বাজার পরিচালনার জন্য আরও স্বচ্ছ, আধুনিক ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে সিলেটের টিলাগড় এলাকায় জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে দেশের প্রথম সরাসরি বিক্রয় কেন্দ্র ‘কৃষকের হাট’ উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে আমদানির ওপর নির্ভরশীল পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে দেশের পুরো সাপ্লাই চেইনকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’ প্রযুক্তির সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে। এর ফলে বাজারের তদারকি আরও সহজ হবে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের কারসাজি বন্ধ করা সম্ভব হবে।

    এর পাশাপাশি তিনি জানান, সরকার প্রতিবছর টিসিবির মাধ্যমে প্রায় ৩২ থেকে ৩৩শ কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়। এই ভর্তুকির চাপ কমানোর জন্য এবং সেবার উন্নত মান বজায় রাখতে টিসিবির কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত করা হবে।

    সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সিলেটের টিলাগড়ে নির্ধারিত স্থানে এই ‘কৃষকের হাট’ প্রতিদিন সকালে পরিচালিত হবে। এখানে সিলেটের প্রান্তিক কৃষকরা দালাল বা মধ্যস্থতাকারীর সহায়তা ছাড়াই সরাসরি ভোক্তাদের কাছে তাদের পণ্য বিক্রি করতে পারবেন। বর্তমানে এক পণ্য কৃষকের মাঠ থেকে ভোক্তার হাতে পৌঁছাতে বেশ কয়েকবার হাতবদল হয়, যার ফলে দাম বাড়লেও কৃষক ন্যায্য মূল্য পান না। ‘কৃষকের হাট’ এই চিত্রটি পরিবর্তন করে কৃষক এবং ভোক্তার মধ্যে সরাসরি সংযোগ তৈরি করবে।

    বাণিজ্যমন্ত্রী এক घोषणा করেন, দেশের সব জেলাতেই কৃষকরা অন্তত এক দিন সরাসরি ক্রেতাদের কাছে পণ্য বিক্রির সুযোগ পাবেন। এই জন্য প্রতিটি জেলার জেলা প্রশাসকদের উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ক্রেতারা সাশ্রয়ী মূল্যে বিষমুক্ত, সতেজ সবজি পাবেন এবং কৃষকরাও তাদের শ্রমের ন্যায্য মূল্য পান।

    সিলেট জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বাজারে সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা সময়োপযোগী এবং ব্যতিক্রমী।

  • বিরোধীদলীয় নেতার প্রশ্ন: সংসদের কার্যপ্রক্রিয়া কোথা থেকে পরিচালিত হচ্ছে?

    বিরোধীদলীয় নেতার প্রশ্ন: সংসদের কার্যপ্রক্রিয়া কোথা থেকে পরিচালিত হচ্ছে?

    জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তাদের ওঠানো যে সব আপত্তি ছিল সেগুলোকে সঠিকভাবে বিবেচনা করা হয়নি। পরে কিছু সংযোজন করা হলেও তা কোনো স্বচ্ছ ও মানসম্মত প্রক্রিয়ায় করা হয়নি—এ থেকেই সমস্যা শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিই যে কর্মকাণ্ডগুলো দেখা যাচ্ছে, সেগুলোকে সামনে রেখে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন: সংসদের প্রক্রিয়া কোথা থেকে পরিচালিত হচ্ছে?

    শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, ২০২৬’ পাসের পর সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে সাংবাদিকদের এসব মন্তব্য করেন ডা. শফিকুর রহমান। চলতি সংসদে এ ছিল বিরোধী দলের চতুর্থবারের মতো ওয়াকআউট।

    তিনি বলেন, বিল পাসের অন্তত এক দিন আগে কাগজগুলো আমাদের দেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু অধিবেশনে আমরা বসার পরই একে একে বিলগুলো আসে এবং রিপোর্টগুলো বিভিন্ন অংশে ভাগ করে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তারা কার্য উপদেষ্টা কমিটিতে তোলেন এবং জানান, ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপিত হয়েছে। এসব অধ্যাদেশ পর্যালোচনার জন্য যে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে, তাদের কাজ হচ্ছে সুপারিশসহ সংসদে উপস্থাপন করা—বাদ বা সংযোজন করার এখতিয়ার তাদের নেই, কারণ এটি সংসদের সম্পত্তি।

    তিনি আরও বলেন, বাস্তবে দেখা গেছে এমন কথাও শোনা গেছে যে মন্ত্রী ছাড়া এই প্রক্রিয়া কার্যকর হবে না। এমনকি তাদের বোঝানো হয়েছে, আজ তারা বিরোধী দলেই থাকলেও ভবিষ্যতে সরকারি দলে গেলেই এ সুবিধা নেবেন। এ ধরনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ডা. শফিক জানান, তারা এখানে কোনো সুবিধা নিতে আসে নি; তারা এসেছে জনগণের অধিকার রক্ষার জন্য।

    স্বাভাবিক নিয়মে এক দিন আগেই ডকুমেন্ট সরবরাহ করা হয়নি, বলে অভিযোগ করেন তিনি। অধিবেশনে বসে আতঙ্কভাজনভাবে একের পরে এক প্রস্তাব সামনে আনা হলে, যা তারা দেখেনি বা বিবেচনা করার সময় পায়নি—এসবের ওপর কিভাবে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে?—তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে বলেন।

    বিশেষ কমিটির ব্যাপারেও তাদের আস্থা ভঙ্গ হয়েছে বলেও জানান জামায়াত আমির। শুরুতে সরকারি ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে গঠিত ওই কমিটিতে তারা আস্থাশীল ছিলেন, কিন্তু শেষ মুহূর্তে সেই আস্থা ভেঙে যায়। কিছু লোক দাবি করেছেন মন্ত্রী ছাড়া অন্যরা ‘বেসরকারি’ সদস্য; তাহলে সংস্কৃতি মন্ত্রী কেন এটি গ্রহণ করলেন—গ্রহণের পর তো আর তা বেসরকারি থাকবে না। বিষয়টি তোলার পর সংস্কৃতি মন্ত্রী বলেছেন তিনি নিজে নাকি জানতেন না। একজন মন্ত্রী এমন কথা বললে আত্মপ্রশ্ন জাগে: এই প্রক্রিয়া কোথা থেকে পরিচালিত হচ্ছে?

    স্পিকারের কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চাওয়ার পর তাঁদের বলা হয় ‘আপাতত এভাবে পাস করে নেওয়া যাক, ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে আপনাদের বিল আনার সুযোগ থাকবে’। কিন্তু যারা নিজেরাই নিজেদের বিল ও প্রতিশ্রুতিতে আস্থা রাখতে পারে না, তাদের ভবিষ্যৎ আশ্বাস বিরোধী দল গ্রহণ করবে না—এই বক্তব্যও তিনি দেন।

    অধ্যাদেশ সংক্রান্ত প্রসঙ্গ তুলে ডা. শফিক বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপিত হয়েছে এবং নিয়ম অনুযায়ী ৩০ ক্যালেন্ডার দিনের মধ্যে এগুলোর নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। সেই দিন সংসদে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন সরকারি দলের সদস্য অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। সরকারি ও বিরোধী উভয় দলের সদস্যরা সেখানে ছিলেন। একাধিক বৈঠকের পর হঠাৎ করেই একটি রিপোর্ট তৈরি হয়।

    বিরোধী দলের সদস্যরা ওই রিপোর্ট যৌথভাবে চূড়ান্ত করা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্ন করলে তারা জানান, এ ধরনের কোনো চূড়ান্ত বৈঠক হয়নি। তখনই তাদের সন্দেহ আরও জোরালো হয়।

    সব মিলিয়ে ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্ট করে বলেছেন, প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও সংসদের স্বত্ব রক্ষার দাবি নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলছে এবং এসব বোধগম্য ব্যাখ্যা না পেলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর অবস্থান নেবেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।

  • দুর্নীতি ও লাগামহীন লুটপাটে অর্থনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে: অর্থমন্ত্রী

    দুর্নীতি ও লাগামহীন লুটপাটে অর্থনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে: অর্থমন্ত্রী

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, গত ১৬ বছরে ফ্যাসিবাদী সরকারের অসীম দুর্নীতি ও লাগামছাড়া লুটপাটের ফলে দেশের অর্থনীতি ধ্বংসের প্রান্তে পৌঁছেছে। তিনি সেমসঙ্গে সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক খাতগুলোও কার্যকরতা হারাচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন।

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৩তম দিনে (শুক্রবার) সকালে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বিবৃতিতে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। ওই দিন সংসদের সভাপতিত্ব করছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

    বিজ্ঞপ্তিতে অর্থমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে দায়িত্ব নেয়ার পর দেশ পরিচালনার সাংঘাতিক বাস্তবতা তুলে ধরা হয়েছে। জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে সরকার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতায় বিশ্বাস করে; সেই দায়বোধ থেকেই ২০০৫–০৬ অর্থবছর, বিগত ২০২৩–২৪ অর্থবছর এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় হওয়া ২০২৪–২৫ অর্থবছরের সামষ্টিক অর্থনীতির সূচক ও প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থার তুলনামূলক চিত্র পরিবেশন করা হয়েছে।

    অর্থনৈতিক সূচকে ধস লক্ষ্যযোগ্য: ২০০৫–০৬ সালে স্থির মূল্যে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৬.৭৮ শতাংশ, যা ২০২৩–২৪ সালে নেমে এসেছে ৪.২২ শতাংশে। সেইসাথে মূল্যস্ফীতি ৭.১৭ শতাংশ থেকে बढ़ে ৯.৭৩ শতাংশে পৌঁছেছে। শিল্পখাতের বৃদ্ধিও ১০.৬৬ শতাংশ থেকে কমে ৩.৫১ শতাংশে এবং কৃষিক্ষেত্রের প্রবৃদ্ধি ৫.৭৭ শতাংশ থেকে ৩.৩০ শতাংশে নেমে এসেছে।

    শিল্প ও সেবা খাতে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান না হওয়ার কারণে তরুণ প্রজন্ম বাধ্য হয়ে কৃষি বিভাগে ফিরে যাচ্ছেন; এতে ছদ্মবেকারত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং তরুণদের উৎপাদনশীলতা ও আয় বৃদ্ধির সুযোগ সীমিত হচ্ছে। বর্তমানে কৃষি খাতে মোট কর্মসংস্থানের ৪১ শতাংশ থাকলেও জাতীয় জিডিপিতে তার অংশ মাত্র ১১.৬ শতাংশ—এটি শ্রমের নিম্ন উৎপাদনশীলতা ও ‘জবলেস গ্রোথ’ বা কর্মসংস্থানহীন প্রবৃদ্ধির সংকেত দেয়।

    সঞ্চয় ও বিনিয়োগের ভারসাম্যও ঠেকেছে: ২০০৫–০৬ সালে জাতীয় সঞ্চয় ছিল ২৯.৯৪ শতাংশ, যা ২০২৩–২৪ সালে কমে ২৮.৪২ শতাংশে নেমেছে। মুদ্রাস্ফীতি ও মুদ্রার দর বাড়ার প্রভাব স্পষ্ট; ২০০৫–০৬ সালে ডলারের বিপরীতে টাকার মান ছিল ৬৭.২ টাকা, যা ২০২৪–২৫ সালে বেড়ে ১২১ টাকায় দাঁড়িয়েছে—ফলে আমদানি ব্যয় ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে।

    মুদ্রা সরবরাহ, রিজার্ভ ও ক্রেডিট প্রবৃদ্ধিও উদ্বেগজনকভাবে কমেছে। বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ১৮.৩ শতাংশ থেকে হ্রাস পেয়ে ২০২৪–২৫ সালে ৬.৫ শতাংশে নেমে এসেছে; এটি ব্যাংকিং সেক্টরের তারল্য সংকট ও বিনিয়োগ মন্থরতার বহিঃপ্রকাশ। রাজস্ব আদায় প্রত্যাশিত মাত্রায় হয়নি এবং রাজস্ব ফাঁকি ও অপচয় সরকারের আয় সংগ্রহ ক্ষমতা সীমিত করেছে। বাজেট ঘাটতি ২০০৫–০৬ সালের ২.৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪.০৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

    বৃহৎ প্রকল্পগুলোতে অতিমূল্যায়ন এবং সম্ভাব্যতা যাচাই ছাড়াই বাস্তবায়নের কারণে সাধারণ মানুষ সেগুলোর সুফল পাচ্ছে না; বরং অনিয়ম ও লুটপাটের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে বলে দাবি করেন অর্থমন্ত্রী।

    ঋণ ব্যবস্থাপনায় বিশেষ উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ২০০৫–০৬ সালে সুদ পরিশোধে সরকার ব্যয় করত মাত্র ৮৫ বিলিয়ন টাকা; কিন্তু ২০২৩–২৪ সালে তা ১৩ গুণ বাড়িয়ে ১১৪৭ বিলিয়ন টাকায় পৌঁছেছে। অভ্যন্তরীণ ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা বেসরকারি উদ্যোক্তা, বিশেষ করে এসএমই খাতের জন্য ঋণ প্রাপ্তি জটিল করে তুলেছে—যাকে ‘ক্রাউডিং আউট’ বলা হয়। রপ্তানি ও আমদানি প্রবৃদ্ধিও পূর্বের তুলনায় নেতিবাচক পর্যায়ে নেমে এসেছে। অবৈধ অর্থচক্র, হুন্ডি ও অর্থপাচারের কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বিপজ্জনকভাবে নেমে আনুমানিক ২০ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে তিনি উল্লেখ করেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় প্রবাসী আয় বা রেমিটেন্স উল্ল্Éেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

    অর্থমন্ত্রী তার বিবৃতিতে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক দুরবস্থার পুঞ্জীভূত কারণগুলো সমাজ ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে গভীর ঘাটতি, অনিয়ম ও দুর্নীতি বলে উপসংহার টানেন এবং জনস্বার্থ রক্ষায় তা দ্রুত সংশোধন করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।

  • দুর্নীতি ও লাগামহীন লুটপাটে অর্থনীতি ধ্বংসের পথে: অর্থমন্ত্রীর সতর্কবার্তা

    দুর্নীতি ও লাগামহীন লুটপাটে অর্থনীতি ধ্বংসের পথে: অর্থমন্ত্রীর সতর্কবার্তা

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, গত ১৬ বছরে বিরামহীন দুর্নীতি ও লাগামহীন লুটপাটের ফলে দেশের অর্থনীতি ধ্বংসের মুখে পৌঁছেছে এবং সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক খাত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। তিনি এটি উল্লেখ করে সতর্ক করেছেন যে এসব সমস্যা সমাধান না হলে সামনের দিনের উন্নয়ন ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।

    এ কথা তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৩তম দিনে (শুক্রবার) সকালে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বিবৃতিতে বলেন। ১৩তম দিনে সংসদের উপস্থিত ছিলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

    বিবৃতিতে অর্থমন্ত্রী জানান, বর্তমান প্রশাসন একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ফলাফল হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে এবং তারা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতায় বিশ্বাস করে। এ প্রেক্ষাপটেই তিনি ২০০৫-০৬ অর্থবছর, ২০২৩-২৪ অর্থবছর এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সামষ্টিক অর্থনীতির প্রধান সূচকগুলো তুলে ধরে দেশবাসীর সামনে একটি তুলনামূলক চিত্র উপস্থাপন করেছেন।

    তথ্যগুলোতে দেখা যায়, যদিও মোট জিডিপির আকার বাড়ছে, ততটাই প্রকট হচ্ছে গভীর কাঠামোগত দুর্বলতা। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে স্থির মূল্যে জিডিপি বৃদ্ধির হার ছিল ৬.৭৮ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ৭.১৭ শতাংশ; কিন্তু ২০২৩-২৪ শেষে প্রবৃদ্ধি কমে ৪.২২ শতাংশে নেমে এসেছে এবং মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯.৭৩ শতাংশ হয়েছে। শিল্পখাতের প্রবৃদ্ধি ১০.৬৬ শতাংশ থেকে কমে ৩.৫১ শতাংশে নেমেছে এবং কৃষিক্ষেত্রের প্রবৃদ্ধিও ৫.৭৭ শতাংশ থেকে ৩.৩০ শতাংশে নামিয়েছে।

    অর্থমন্ত্রী বলছেন, শিল্প ও সেবা খাতে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হওয়ায় তরুণরা বাধ্য হয়ে কৃষি খাতে ফিরে যাচ্ছেন—যার ফল হিসেবে ছদ্ম বেকারত্ব বাড়ছে এবং যুবজনের আয় ও উৎপাদনশীলতা বাড়ার সম্ভাবনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বর্তমানে কৃষি শেয়ার মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৪১ শতাংশ হলেও জাতীয় আয়তে তার অংশ মাত্র ১১.৬ শতাংশ, যা শ্রমের নিম্ন উৎপাদনশীলতা ও কর্মসৃজনবিহীন বৃদ্ধির সতর্ক সংকেত।

    সঞ্চয় ও বিনিয়োগের অনুপাতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—২০০৫-০৬ সালে জাতীয় সঞ্চয় ছিল ২৯.৯৪ শতাংশ, যা ২০২৩-২৪ সালে ২৮.৪২ শতাংশে নেমে এসেছে। মুদ্রাস্ফীতির পাশাপাশি টাকার অভ্যন্তরীণ মানও উল্লেখযোগ্যভাবে ঘাটতি দেখা দিয়েছে; ২০০৫-০৬ সালে ডলারের বিপরীতে টাকার মান ছিল প্রায় ৬৭.২ টাকা, যা ২০২৪-২৫ সালে প্রায় ১২১ টাকায় দাঁড়িয়েছে—ফলশ্রুতিতে আমদানি ও সাধারণ জীবনের ব্যয় বাড়েছে।

    অর্থ মন্ত্রীর ভাষ্য, মুদ্রা সরবরাহ ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের প্রবৃদ্ধিও চিন্তার বিষয়। বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ১৮.৩ শতাংশ থেকে কমে ২০২৪-২৫ সালে মাত্র ৬.৫ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ব্যাংকিং খাতের তারল্য সংকট ও বিনিয়োগের মন্থরতার প্রকাশ। রাজস্ব আদায় কাঙ্ক্ষিতভাবে বাড়েনি; রাজস্ব ফাঁকি ও অপচয় সরকারের আয় সংগ্রহের ক্ষমতা সীমিত করে রেখেছে। বাজেট ঘাটতি বেড়ে ২০০৫-০৬ সালের ২.৯ শতাংশ থেকে ৪.০৫ শতাংশে উঠেছে।

    অতিরিক্তভাবে, অর্থমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন বিগত সরকারের সময় বাস্তবায়িত অনেক মেগা প্রকল্প অতিমূল্যায়িত এবং যথাযথ সম্ভাব্যতা যাচাই ছাড়াই এগুলো বাস্তবায়ন করা হয়েছে; ফলে নৈতিক খাত থেকে লক্ষ কোটি টাকা অবৈধভাবে বহির্গমন হয়েছে। ঋণ ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলতার ফলে সুদ পরিশোধের খরচ বাড়েছে—২০০৫-০৬ সালে যা ছিল প্রায় ৮৫ বিলিয়ন টাকা, তা ২০২৩-২৪ সালে বাড়ে ১১৪৭ বিলিয়ন টাকায়, এবং অভ্যন্তরীণ ঋণের ওপর নির্ভরতা বেসরকারি খাত, বিশেষ করে এএসএমই উদ্যোগে ঋণগহ্বর সৃষ্টি করেছে (‘ক্রাউডিং আউট’)।

    রপ্তানি ও আমদানির প্রবৃদ্ধি ২০০৫-০৬ সালে ইতিবাচক থাকা সত্ত্বেও ২০২৩-২৪ সালে তা নেতিবাচক হয়েছে এবং আর্থিক দুৰ্নীতি, হুন্ডি ও অর্থ পাচারের কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ মাত্র প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। তবুও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে—এটাই বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি ইতিবাচক দিক বলে অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন।

    অর্থমন্ত্রী এসব পরিসংখ্যান ও বিশ্লেষণ উপস্থাপন করে জোর দিয়ে বলেছেন—দেশকে সঠিক পথে ফেরাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও কার্যকর অর্থনৈতিক নীতি জরুরি।