জনগণের স্বেচ্ছাসেবায় দান, অনুদান, সরকার, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা বিদেশি সংস্থাগুলোর আর্থিক সহায়তায় মসজিদ নির্মাণ ও পরিচালনা সম্ভব। তবে, মসজিদের নামে যানবাহন বা রাস্তায় চাঁদা আদায় বা উত্তোলন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই সিদ্ধান্ত সহ অন্তর্বতী সরকার গত ২১ জানুয়ারি ‘মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ২০২৫’ জারি করেছে। এর পাশাপাশি বিধিমালায় বলা হয়েছে, অবৈধ স্থানে মসজিদ নির্মাণ হলে তা উচ্ছেদ করা হবে, এবং যারা অবৈধভাবে নির্মাণ করবেন তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ২০২৪ সালের ২৬ জানুয়ারি অষ্টম জাতীয় সংসদের একাদশ অধিবেশনের মধ্যে এক জরুরি নোটিশের প্রেক্ষিতে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ‘মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা’ প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি দেন, যাতে দেশের মসজিদ ব্যবস্থাপনা শৃঙ্খলাপূর্ণ ও সুষ্ঠু হয়। গেজেটের মাধ্যমে ২১ জানুয়ারি এটি প্রকাশিত হয়।নীতিমালার মধ্যে বলা হয়েছে, ‘শরিয়াহ্ সম্মত স্থান’ এবং ওয়াকফ, দান, ক্রয়কৃত বা আইনসিদ্ধ জমিতে মসজিদ নির্মাণ করা যাবে। এই নিয়ম লঙ্ঘিত হলে, নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অবৈধ স্থানে নির্মিত মসজিদ উচ্ছেদ করতে পারবে। এছাড়া, শরিয়াহ্-সম্মত স্থান বা ওয়াকফ, দান বা কেনাকৃত সম্পত্তি ছাড়া অন্যান্য স্থানে মসজিদ নির্মাণের অনুমতি নেই।ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, অবৈধ স্থানে নির্মিত মসজিদগুলো উচ্ছেদের জন্য সরকারি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নীতিমালায় বলা হয়েছে, নারীদের জন্য আলাদা সালাতের স্থান থাকাও অনুমোদিত, যেখানে নারীরা স্থান করে সালাত আদায় করতে পারবেন।প্রতিষ্ঠান বা মসজিদ পরিচালনা কমিটি তিন বছর মেয়াদে নির্বাচন হবে, তবে প্রয়োজনে এক বছর বেশি করা যেতে পারে। এই কমিটিতে নেতৃত্বের দায়িত্ব থাকবে মুসল্লিদের ভোটে নির্বাচিত ব্যক্তিদের।মসজিদে কর্মরত ইমাম-খতিবরা বিভিন্ন ধরনের বেতন-ভাতা পাবেন ধরন ও গ্রেড অনুযায়ী, যা সরকার নির্ধারিত জাতীয় বেতন স্কেলের ভিত্তিতে। এছাড়া, আর্থিকভাবে দুর্বল বা পাঞ্জেগানা মসজিদগুলো তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী বেতন-ভাতা পেতে পারেন।তবে অবৈধ জায়গায় মসজিদ নির্মাণের ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন জানিয়েছেন। তিনি জানান, অবৈধভাবে নির্মিত মসজিদ উচ্ছেদের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। সরকারি বা বেসরকারি সংস্থাগুলোর মাধ্যমে স্থান নির্ধারণ করে নিতে হবে, যেন সামাজিক অস্থিতিশীলতা ও সমস্যা না সৃষ্টি হয়।কর্মকর্তারা মনে করেন, অবৈধ জায়গায় মসজিদ নির্মাণ বন্ধ করে সামাজিক শান্তি ও নিয়মানুবর্তিতা নিশ্চিত করা জরুরি, যা এই নীতিমালার মূল অঙ্গীকার।
Category: জাতীয়
-

কারওয়ান বাজারে আধিপত্য ও চাঁদাবাজির দ্বন্দ্বে মুছাব্বির হত্যাকা-
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, কারওয়ান বাজারের এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান মুছাব্বিরকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর মিন্টু রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য প্রকাশ করেন।
শফিকুল ইসলাম জানান, এই এলাকায় বিভিন্ন গ্রুপ প্রকাশ্যে ও গোপনে চাঁদার দাবি জানিয়ে থাকে। এদের মধ্যে আট থেকে নয়টি সিন্ডিকেট সক্রিয়, যারা চাঁদার টাকা ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে। এই দ্বন্দ্বের জের ধরে, দিলীপ ওরফে বিনাশ নামে এক চাঁদাবাজ এই হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। পুলিশের ধারণা, এই সিন্ডিকেটগুলো ভেঙে দেওয়ার জন্য তারা অভিযান চালাতে যাচ্ছে।
প্রাথমিক তদন্তের পর জানা গেছে, স্বেচ্ছাসেবক দলের ঢাকা উত্তর সিটি ইউনিটের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুছাব্বিরকে গত ৭ জানুয়ারি কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউয়ের পাশের একটি গলিতে গুলি করে হত্যা করা হয়। তার স্ত্রী তেজগাঁও থানায় চার থেকে পাঁচজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
এছাড়া, গত ২৩ জানুয়ারি নরসিংদীর মাধবদী পৌরসভার মনোহরদী থানার শাহজাহান খলিফার ভাড়া বাড়ি থেকে দুইটি বিদেশি পিস্তল, দুইটি ম্যাগাজিন এবং ১২ রাউন্ড গুলিসহ, হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া অন্যতম শ্যুটার মো. রহিমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওই ঘটনায় মাধবদী থানায় অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, কারওয়ান বাজারের বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দখলবাজি ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। শফিকুল ইসলাম বলেন, এই অঞ্চলে বিভিন্ন নামে ৮-৯টি চাঁদাবাজি সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে ডিবি কাজ করছে এবং শিগগিরই অভিযান চলবে।
ঘটনার পেছনে অন্যতম নাম, বিনাস, যারা দীর্ঘদিন দেশের বাইরে থাকছেন, চাঁদা তোলার জন্য এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে একজন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা সবাই চাঁদাবাজ হিসেবেই পরিচিত এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যানারের আড়ালে এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেছেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, ধৃতরা ভাড়াটে খুনি এবং কারওয়ান বাজারের চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, রহিম ও জিন্নাত দ্রুত দৌড়াচ্ছে এবং গুলি চালাচ্ছে।
বিনাসের সম্পর্কে জানতে চাইলে, শফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি এক অন্ডারওয়ার্ল্ড সন্ত্রাসী, দেশের বাইরে থাকেন। তবে তার রাজনৈতিক পরিচয় এখনও জানা যায়নি। তিনি আরও বলেন, সামনে নির্বাচন, এবং দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির জন্য অনেকেই সক্রিয়। প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, এ মাসে প্রায় ১৩টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে, এবং অন্যান্য সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
অগ্রবর্তী তথ্য অনুযায়ী, ১১ জানুয়ারি নিহতের ঘটনায় জড়িত চারজন—জিন্নাৎ, আবদুল কাদির, মো. রিয়াজ ও মো. বিলালকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। এরপর গতকাল নরসিংদী থেকে আরও একজন শুটার রহিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই ঘটনায় মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন শফিকুল ইসলাম।
অভিযুক্তদের পরিচয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তারা সবাই চাঁদাবাজি এবং দখলবাজির জন্য পরিচিত এবং কোনো রাজনৈতিক আদর্শের সঙ্গে তারা যুক্ত নয়। চাঁদাবাজির জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যানার ও ছদ্মনাম ব্যবহার করে থাকেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এখন চলছে তীব্র অভিযান, অচিরেই তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
-

পুলিশের সদর দপ্তর থেকে কঠোর নির্দেশনা
পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সম্প্রতি একটি জরুরি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে, যেখানে ইউনিট প্রধানদের ক্ষেত্রে কঠোর শৃঙ্খলার adherence নিবার্চনোত্তর সময়ে আরও কঠোরভাবে পালন করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনও ইউনিট প্রধান অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করলে তা শৃঙ্খলাবিরোধী কার্যকলাপ হিসেবে গণ্য হবে। যা শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ও পুলিশি কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে কর্তৃপক্ষের একান্ত প্রয়োজন। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক চিঠিতে জানানো হয়েছে, সম্প্রতি নজরে এসেছে যে কিছু ইউনিট প্রধান অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করছেন। এ কারণেই একে শৃঙ্খলা লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করে, ছুটি বা অন্য কোনও কারণে কর্মস্থল ত্যাগ করার আগে আইজিপির অনুমতি নেওয়া একান্ত বাধ্যতামূলক। এই নির্দেশনা ডিএমপি কমিশনার, র্যাব মহাপরিচালক, পুলিশ সদর দপ্তর, সব রেঞ্জ ডিআইজি, মেট্রোপলিটন পুলিশ, এবং দেশের অন্যান্য জেলার পুলিশ সুপারদের কাছে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, পুলিশের শৃঙ্খলা এবং কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এই নির্দেশনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে যদি কেউ এই নির্দেশনা অমান্য করে কর্মস্থল ত্যাগ করে, তাহলে তা শৃঙ্খলাভঙ্গের দোষে গণ্য হবে। আশা করা যাচ্ছে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা আরও শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার থেকে, যেখানে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এ সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সচল রাখতে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এজন্য নির্বাচনের আগে পর্যন্ত পুলিশের সব ইউনিট প্রধানদের কর্মস্থল ত্যাগের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যেন নির্বাচন আলাদা স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হয়।
-

ফরিদপুরে বাস-ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় একটি ভয়াবহ বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত এবং অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনা ঘটে শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ভাঙ্গা প্রাণিসম্পদ অফিসের সামনে।
নিহতরা হলেন, ফরিদপুর সদর উপজেলার ধলার মোড় এলাকার শেখ মজিদের ছেলে নবীন শেখ (২২) এবং ট্রাকের হেলপার রাশেদ (৩০)। এই ব্যক্তিদের বিস্তারিত ঠিকানা এখনো জানা যায়নি।
প্রথমিক তদন্তে জানা গেছে, বরিশাল থেকে ছেড়ে আসা কুষ্টিয়াগামী লিজা পরিবহনের একটি বাস ও একটি ইটভাটার ট্রাকের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এই দুর্ঘটনায় ট্রাকের হেলপার ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান, এবং গুরুতর আহত হন ট্রাকের চালকও বাসের অনেক যাত্রী। আহতের সংখ্যা এখন ১৫ জনের বেশি বলে জানানো হয়েছে।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ওসি হেলাল উদ্দিন জানান, এই ভয়াবহ সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে ট্রাকের হেলপার নিহত হন, পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ট্রাকের চালক মারা যান। এখন এই ঘটনায় প্রাসঙ্গিক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান।
-

ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিধসে ৭ জনের মৃত্যু, ৮২ জন নিখোঁজ
ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাভা প্রদেশের পশ্চিম বানদুং অঞ্চলে ভয়াবহ ভূমিধসে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এই মারাত্মক প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ৮২ জন।স্থানীয় সময় শনিবার (২৪ জানুয়ারি) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই घटनাটি ঘটেছে শুক্রবার ভোররাত ২টার দিকে পাসিরলাঙ্গু গ্রামে। স্থানীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার মুখপাত্র আব্দুল মুহারি জানিয়েছেন, নিখোঁজ ব্যক্তিদের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে, তাই উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হচ্ছে।সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ভারী বর্ষণের কারণে পাসিরলাঙ্গুসহ আশপাশের এলাকা প্লাবিত হয়। ফলে ধসের শিকার এলাকাগুলোর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নিখোঁজ ও নিহতের সংখ্যা নিরূপণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলো থেকে মানুষকে দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন, কারণ আরও প্রানহানির আশঙ্কা রয়েছে।এলাকার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ৩০ হেক্টর (প্রায় ৭৪ একর)। আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, কম্পাস সংবাদমাধ্যমের সূত্রে জানা গেছে যে, ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পরিমাণ খুবই ব্যাপক। এর পাশাপাশি, ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া সংস্থা পূর্বাভাস দিয়েছে যে, আগামী এক সপ্তাহ জোড়া ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলতে পারে।
-

মসজিদের নামে রাস্তায় বা যানবাহনে চাঁদা তোলা নিষিদ্ধ
অর্থসাহায্য আসতে পারবে — কিন্তু রাস্তায় চাঁদা তোলা যাবে না। গত ২১ জানুয়ারি অন্তর্বতী সরকার ‘মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ২০২৫’ গেজেট আকারে প্রকাশ করে। নীতিমালায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে মসজিদ নির্মাণ ও পরিচালনার খরচ জনগণের স্বেচ্ছায় দেওয়া দান, অনুদান, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বিদেশি সংস্থা বা অন্য কোনো বৈধ উৎস থেকে বা্থিকভাবে নির্বাহ করা যাবে। তবে যানবাহন ও রাস্তাঘাটে চাঁদা আদায় করা, উত্তোলন করা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগটি আসে ২০২৪ সালের ২৬ জানুয়ারি এক জাতীয় সংসদের বৈঠকের সময় তৎকালীন ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির পরিপ্রেক্ষিতে। ধর্ম মন্ত্রণালয় বলছে, দেশের মসজিদগুলো সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ ও সমন্বিতভাবে পরিচালিত হওয়া জরুরি—এমন লক্ষ্য থেকেই এই নীতিমালা আনা হয়েছে।
মসজিদ নির্মাণ সংক্রান্ত প্রধান বিধানগুলো
নীতিমালায় বলা হয়েছে, মসজিদ নির্মাণ করতে হবে শারিয়াহ সম্মত স্থানে এবং সেসব জমিতে যেখানে মসজিদের নামে ওয়াকফ, দান, ক্রয়কৃত বা আইন অনুযায়ী যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বরাদ্দকৃত জমি রয়েছে। এই নিয়ম লঙ্ঘন করে যেখানেই মসজিদ তৈরি করা হবে, সেই মসজিদকে উচ্ছেদ করা হবে এবং নির্মাণে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের আইন শাখা জানিয়েছে, শারীয়ত সংক্রান্ত শর্ত পূরণ না করা বা ওয়াকফ/অনুমোদন বহির্ভূত জমিকে ‘অবৈধ’ মনে করা হবে। সরকারের অনুমতি ছাড়া কোনো ব্যক্তিগত বা অন্যান্য ধরনের সম্পত্তিতে মসজিদ করা যাবে না।
নারীদের জন্য পৃথক ব্যবস্থাসহ সামাজিক নিয়ম
নীতিমালায় নারীদের জন্য আলাদা সালাতের কক্ষ বা স্থান ব্যাবস্থার কথাও বলা হয়েছে। মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটি—শরীয়ত সম্মতভাবে—নারীদের জন্য পৃথক সমতল বা কক্ষ করে দেবে যাতে তারা শান্তিতে নামাজ আদায় করতে পারেন।
রাজনীতি ও মসজিদ কর্মী
নীতিমালায় নির্ধারিত হয়েছে, মসজিদে কর্মরতরা কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। এই বিধান মসজিদকে অরাজনৈতিক রাখতে ও সামাজিক একতা রক্ষা করতে সাহায্য করবে।
অরাজনৈতিক ধর্মীয় প্রাসঙ্গিক কর্মসূচি
মসজিদে অরাজনৈতিক দ্বীনি দাওয়াত, তাবলিগের মত ধর্মীয় কার্যক্রম এবং নিয়মিত ওয়াজ পরিচালনা করা যাবে—তবে তা মসজিদের ভেতরে এমন একটি পৃথক স্থানে মাত্রা ও নিয়ম মেনে করা হবে যাতে মসজিদের সালাতকারীদের নামাজ বিঘ্নিত না হয়। এই ব্যবস্থার তদারকিতে সাধারণ সম্পাদক ও মসজিদ কমিটি সমন্বয় করবেন।
ইমামদের দায়িত্ব ও বেতন কাঠামো
নীতিমালায় পেশাদার ইমামদের কাজের পরিধি নির্ধারণ করা হয়েছে—তাফসির, দারুল কোরআন, দারুল হাদিস ও ওয়াজ পরিচালনা করার সুযোগ থাকবে এবং কমিটির সহযোগিতায় এগুলো নিয়মিত চালানো যাবে।
বেতনের ক্ষেত্রে পেশাদার ইমাম ও অন্যান্য কর্মীদের জন্য জাতীয় বেতন স্কেলের নির্দিষ্ট গ্রেড উল্লেখ করা হয়েছে। সিনিয়র পেশাদার ইমাম পাবেন ২০১৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেলের ৫ম গ্রেড অনুযায়ী বেতন; পেশ ইমাম ৬ষ্ঠ গ্রেড; ইমাম ৯ম গ্রেড; প্রধান মুয়াজ্জিন ১০ম গ্রেড; মুয়াজ্জিন ১১তম গ্রেড; প্রধান খাদিম ১৫তম গ্রেড। নিরাপত্তা প্রহরী (দিবা/নৈশ) ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা তেন-ভাতা পাবেন ২০তম গ্রেড অনুযায়ী। আর্থিকভাবে অসচ্ছল বা পঞ্জেগানা মসজিদে করণীয় সামর্থ্য অনুসারে বেতন নির্ধারণ করা যাবে। এই কাঠামো সরকার কর্তৃক জারিকৃত জাতীয় বেতন স্কেলের পরিবর্তনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে আপডেট হবে।
কমিটি ও সময়সীমা
প্রতি মসজিদে ‘মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটি’ থাকবে। সরকারি বা বেসরকারি সংস্থা পরিচালিত মসজিদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংস্থা কমিটি নিয়োগ করবে; সাধারণ মসজিদে কমিটি নির্বাচন করবে মসজিদের মুসল্লিরা। কমিটির মেয়াদ থাকবে তিন বছর; যুক্তিসঙ্গত কারণে এক বছর পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে।
অবৈধ মসজিদ উচ্ছেদ ও আইনগত পদক্ষেপ
অবৈধ স্থানে নির্মিত মসজিদ উচ্ছেদের প্রসঙ্গে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আ.ফ.ম. খালিদ হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘অবৈধ জায়গায় মসজিদ নির্মাণ হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তা উচ্ছেদ করা হবে। ব্যক্তিগতভাবে কেউ উচ্ছেদ করলে তা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘কেউ বন বিভাগের জায়গা, রেলের জায়গা বা অন্য কারও সম্পত্তিতে মসজিদ করে দিলো—এইটা গ্রহণযোগ্য নয়। জমির মালিকানার ব্যাপারে স্পষ্ট না থাকলে সামাজিক সংঘর্ষও দেখা দিতে পারে।’’
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (সংস্থা ও আইন অনুবিভাগ) মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘‘শরিয়াহ সম্মত স্থানে মসজিদ করা না হলে এবং যদি কোনো মসজিদ অবৈধ স্থানে নির্মিত হয়, তাহলে দক্ষ কর্তৃপক্ষ সেটি উচ্ছেদ করতে পারবে; যে কেউ নিজে উচ্ছেদ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে পারে। নির্মাণকারী সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’’
মোটকথা, নতুন নীতিমালা মসজিদের আর্থিক স্বচ্ছতা, প্রশাসনিক নিয়ম ও সামাজিক সমন্বয় নিশ্চিত করতে উদ্দীপ্ত—সাথে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজির মতো অনৈতিক প্রথা বন্ধ করার কঠিন বার্তাও দিয়েছে।
-

সদর দপ্তরের কড়া নির্দেশ: ইউনিট প্রধানরা ছাড়া ছাড়বেন না কেন্দ্রীয় কর্মস্থল
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে, অগ্রিম অনুমতি ছাড়া কোনো ইউনিট প্রধানকে কর্মস্থল ত্যাগ করা শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসাবে ধরা হবে। এটি নিশ্চিত করতে পার্সোনাল ম্যানেজমেন্ট-১ শাখার অতিরিক্ত ডিআইজি খন্দকার শামিমা ইয়াছমিন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে কড়াকড়ি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে কোনো কোনো ইউনিট প্রধান পুলিশ সদর দপ্তরের পূর্বানুমতি ছাড়া তাদের কক্ষে বা প্রতিষ্ঠিত কর্মস্থল ত্যাগ করছেন, যা শৃঙ্খলা পরিপন্থী। তাই ছুটি বা অন্য কোনো কোনও ব্যক্তিগত বা শ অফিসগত কারণে কর্মস্থল ছাড়ার আগে অবশ্যই আইজিপির (ইন্সপেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ) পূর্বানুমতি নিতে হবে বলে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এই নির্দেশনা ডিএমপি কমিশনার, র্যাব মহাপরিচালক, বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ইউনিটের প্রধান, সকল রেঞ্জের ডিআইজি, মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার এবং দেশের প্রতিটি জেলার পুলিশ সুপারদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, বাহিনীর শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীল কার্যক্রম বজায় রাখার জন্য ইউনিট প্রধানদের যথাযোগ্যভাবে আচরণ করা জরুরি। ভবিষ্যতে নির্দেশনা অমান্য করে কর্মস্থল ত্যাগ করলে তাকে শৃঙ্খলাভঙ্গ মনে করে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আরও বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বৃহস্পতিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়েছে। এই حساس সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষভাবে নির্দেশনা দিয়ে বলা হয়েছে যে, নির্বাচনের শেষ পর্যায় পর্যন্ত পুলিশের সব ইউনিট প্রধানদের কর্মস্থল ত্যাগ না করতে হবে।
-

ভারতে বাংলাদেশি সন্দেহে হামলা-হত্যা: নিরাপত্তা শঙ্কা বাস্তব, আইসিসিকে দায় দিলেন মোস্তফা সরয়ার
আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের গ্রুপ পর্বের চারটি ম্যাচ খেলতে বলা হয়েছিল ভারতের মাটিতে। কিন্তু নিরাপত্তার উদ্বেগ নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) mehrfach আইসিসিকে চিঠি পাঠিয়ে সেই ম্যাচগুলো স্থানান্তর করার অনুরোধ জানায়। বারবার আলোচনার পরও আইসিসি থেকে সন্তোষজনক সাড়া না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ভারত যেয়ে খেলতে দেখা যাবে না—এ সিদ্ধান্তই নিয়েছে বিসিবি।
যদিও অতিথি দেশ হিসেবে বাংলাদেশের নাম এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে টুর্নামেন্ট থেকে সরানো হয়নি, পাল্লা দিলে বলা যায় এবারের বিশ্বকাপে দেশের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা প্রায় শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। বিষয়টির দায় আইসিসিকে দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।
আজ শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফারুকী লেখেন, ‘ভারত ও পাকিস্তানের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়েছে আইসিসি, কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ভিন্ন মনোভাব দেখা গেছে।’ তিনি আরো লিখেছেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে ভারতে বাংলাদেশি সন্দেহে মানুষকে পিটিয়ে হত্যার একাধিক ঘটনার খবর প্রকাশিত হয়েছে। ঠিক গতকালই পশ্চিমবঙ্গে জন্ম নেওয়া এক মুসলিম—মঞ্জুর লস্কর—কে বাংলাদেশি সন্দেহ করে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে, এমনটাই জানিয়েছে দ্য টেলিগ্রাফ অব ইন্ডিয়া।’
বিশ্বকাপ ইস্যুর শুরুটা মূলত আইপিএলে মুস্তাফিজকে দল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায়। ভারতের কিছু চরমপন্থী নেতার হুমকির পরে সেখানে মুস্তাফিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা যায় এবং ওই কারণেই তাকে আইপিএল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়— এরপরই বিসিবি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতের যাত্রা নিয়ে নিরাপত্তার চিন্তা উত্থাপন করে।
এইসব ঘটনার প্রেক্ষিতে সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, ‘যদি এসব ঘটনা দীর্ঘদিন ধরে চলমান বাংলাদেশবিরোধী ঘৃণা প্রচারণার সঙ্গে যুক্ত করা হয় — যার ফলে মুস্তাফিজকে আইপিএল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে — তাহলে মানতেই হবে ভারতে বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের জন্য নিরাপত্তা হুমকি বাস্তব ও গুরুতর।’
বিষয়টি নিয়ে বিসিবি, আইসিসি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে চলমান যোগাযোগ ও ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত কি হবে, তা নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠছে। খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়গুলো এখনই আলোচ্য ও গুরুত্ব পাচ্ছে।
-

নির্বাচনের আগে ব্রিটিশ নাগরিকদের তিন পার্বত্য জেলায় না যাওয়ার পরামর্শ
যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও) জাতীয় নির্বাচন ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ ভ্রমণে থাকা বা ভ্রমা পরিকল্পনা করা ব্রিটিশ নাগরিকদের সতর্ক করেছে। বিশেষত পার্বত্য তিন জেলা — রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান — জরুরি কাজ ছাড়া এ সময়ে ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে এফসিডিও।
এফসিডিও জানায়, বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ এবং নির্বাচনী প্রচারণা ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে। নির্বাচনী অস্থিরতার প্রেক্ষিতে পার্বত্যাঞ্চলে নিয়মিত সহিংসতা এবং অপরাধমূলক ঘটনা হওয়ার কয়েকটি খবর পাওয়ার কারণে ব্রিটিশ নাগরিকদের সতর্ক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।দূরবর্তী ও দুর্গম এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা ঝুঁকি বেশি থাকতে পারে, বলে সতর্ক করেছে অফিসটি।
এফসিডিও আরও বলেছে, সন্ত্রাসবাদ, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও রাজনৈতিক অস্থিরতা পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ করছে এবং এই সময়ে সন্ত্রাসী বা সহিংস গ্রুপগুলো হামলা চালানোর চেষ্টা করতে পারে। সম্ভাব্য লক্ষ্যস্থল হিসেবে সরকারের বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ভবন, রেস্তোরাঁ ও ক্যাফে, গণপরিবহন, জনসমাগম স্থান, ধর্মীয় কেন্দ্র এবং রাজনৈতিক সমাবেশ চিহ্নিত করা হয়েছে।
অফিসটি অতীতের উদাহরণ হিসেবে ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে দেশটিতে ব্যাপক বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনার কথা উল্লেখ করেছে, যার ফলে তখন নিয়মিত সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে এবং মানুষ হতাহত হয়েছিল—এ সময়কার অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে এ ধরনের সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।
এফসিডিও ব্রিটিশ নাগরিকদের কাছ থেকে কয়েকটি সাধারণ পরামর্শ দিয়েছে: বিক্ষোভ বা বৃহৎ জনসমাগম এড়িয়ে চলুন; কোথাও বিক্ষোভ শুরু হলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যান; স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলুন; স্থানীয় সংবাদ ও সরকারি নির্দেশাবলী নিয়মিত দেখুন; এবং ভ্রমণ সতর্কতা হালনাগাদ হলে ইমেইল নোটিফিকেশন গ্রহণ করুন।
এছাড়া অফিসটি বলেন, মাঝেমধ্যে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর হামলা এবং পুলিশ বা নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে; বড় শহরগুলোতে ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) ব্যবহারের খবরও আছে—তাই অতিরিক্ত সতর্ক থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
স্থানীয় পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল হওয়ায়, ভ্রমণকারীদের প্রয়োজন ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না যাওয়া, নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে আগেভাগে অবগত থাকা এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
-

বহু প্রার্থী ও দুটি ব্যালটে ভোট গণনায় সময় বেশি লাগতে পারে
এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের দুটি ব্যালটে ভোট দিতে হবে। এছাড়া, সারাদেশে নির্বাচনে প্রার্থীর সংখ্যাও বেশি হওয়ায় ভোট গ্রহণ এবং গণনা প্রক্রিয়ায় আগের চেয়ে কিছুটা বেশি সময় লাগতে পারে বলে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন। তিনি আরও জানান, এই নির্বাচনে বিদেশ থেকে প্রায় ৫০০ পর্যবেক্ষক ও সংবাদদাতা অংশ নেবেন।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে মোবাইল অপারেটর, ব্যাংক ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় কমিশন (বিএনসিসি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য দেন ইসি সচিব।
সচিব বলেন, এবারে প্রবাসী ভোটার এবং অভ্যন্তরীণ ভোটার উভয়ের জন্য আলাদা ধরনের ব্যালট ব্যবহার করা হচ্ছে। দুটি ব্যালট ও প্রার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণে ভোট গণনাও সময়সাপেক্ষ হবে। বিশেষ করে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে পোস্টাল ব্যালট গণনায় বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারেন।
এমনই এক পরিস্থিতির উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ফেনী-৩ আসনে ১৬ হাজার ৩৮ জন, চট্টগ্রাম-১৫ আসনে ১৪ হাজার ২৭৪ জন এবং কুমিল্লায় ১৩ হাজার ৯৩৯ জন পোস্টাল ভোটার হিসাবে নিবন্ধিত। যদিও এক কেন্দ্রে সাধারণত ৩ হাজার ভোটার থাকলেও পোস্টাল ব্যালটের চাপ বেড়ে ৫-৬ গুণ হতে পারে, যা ফলাফল প্রকাশে বিলম্ব সৃষ্টি করতে পারে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি বাড়তে থাকা নিয়ে সচিব জানান, ইসি ৮৩টি সংস্থাকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। এর মধ্যে ৩৬টি সংস্থা এখন নিশ্চিত করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৫৬ জন প্রতিনিধি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন, যা পরে ২৭৫ থেকে ৩০০ জনে পৌঁছাতে পারে। পাশাপাশি, কমনওয়েলথের ১০ জন এবং তুরস্কের ৯ জন প্রতিনিধি আসার কথা রয়েছে। সর্বমোট প্রায় ৫০০ বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক এই নির্বাচনী পর্যবেক্ষণে অংশ নেবেন। তাঁদের জন্য অপ্রত্যাশিত হলো ভিসার সুবিধা প্রদান।
নির্বাচনে কালো টাকার অপব্যবহার রোধে মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহারে আলোচনা হয়েছে বলেও সচিব জানান। তিনি জানান, পুরোপুরি বন্ধের পরিকল্পনা আমাদের নেই, তবে লেনদেনের ওপর একটি সীমা নির্ধারণের চিন্তা চলছে। আই-ব্যাংকিং সেক্টরেও একই নীতি কার্যকর করা হতে পারে।
সচিবের তথ্যমতে, গতকাল রাত পর্যন্ত প্রার্থীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৯৮১ জন। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৪৯ জন এবং নারী প্রার্থী ৭৬ জন। রাজনৈতিক দলগুলো সর্বোচ্চ প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি, যা মোট ২৮৮ জন। ঢাকা-১২ আসনে সবচেয়ে বেশি ১৫ প্রার্থী থাকলেও পিরোজপুর-১ আসনে দুইজন প্রার্থীই শেষ।
ভোটারদের জন্য সতর্কতাও দেওয়া হচ্ছে, যেন তারা তাদের এনআইডি কার্ড অন্য কারো কাছে হস্তান্তর না করে। সচিব বলেন, মিরপুরে এনআইডি কার্ড নেওয়ার ঘটনাটি আচরণবিধি লঙ্ঘন। ভোটারদের সচেতন থাকতে উপদেশ দেন।
টিআইবির দ্বৈত নাগরিকত্ব বিষয়ক উদ্বেগের বিষয়ে বলেন, নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রক্রিয়া ধীর গতির। তবে, কেউ যদি গোপনে প্রার্থী হন এবং পরে তা উঠে আসে, তবে আইন অনুযায়ী স্বক্রিয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তার জন্য এবার ১৬,০০০ এর বেশি বিএনসিসি ভলান্টিয়ার কাজ করবে। তারা এর ডেপ্লয়মেন্ট স্ট্রাকচার ও পরিকল্পনা শুরুর জন্য প্রস্তুত। জানানো হয়, আগামী রোববার তাদের কার্যক্রম চূড়ান্ত হবে।
