Category: জাতীয়

  • মসজিদের নামে রাস্তায় বা যানবাহনে চাঁদা তোলা নিষিদ্ধ

    মসজিদের নামে রাস্তায় বা যানবাহনে চাঁদা তোলা নিষিদ্ধ

    অর্থসাহায্য আসতে পারবে — কিন্তু রাস্তায় চাঁদা তোলা যাবে না। গত ২১ জানুয়ারি অন্তর্বতী সরকার ‘মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ২০২৫’ গেজেট আকারে প্রকাশ করে। নীতিমালায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে মসজিদ নির্মাণ ও পরিচালনার খরচ জনগণের স্বেচ্ছায় দেওয়া দান, অনুদান, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বিদেশি সংস্থা বা অন্য কোনো বৈধ উৎস থেকে বা্থিকভাবে নির্বাহ করা যাবে। তবে যানবাহন ও রাস্তাঘাটে চাঁদা আদায় করা, উত্তোলন করা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

    নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগটি আসে ২০২৪ সালের ২৬ জানুয়ারি এক জাতীয় সংসদের বৈঠকের সময় তৎকালীন ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির পরিপ্রেক্ষিতে। ধর্ম মন্ত্রণালয় বলছে, দেশের মসজিদগুলো সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ ও সমন্বিতভাবে পরিচালিত হওয়া জরুরি—এমন লক্ষ্য থেকেই এই নীতিমালা আনা হয়েছে।

    মসজিদ নির্মাণ সংক্রান্ত প্রধান বিধানগুলো

    নীতিমালায় বলা হয়েছে, মসজিদ নির্মাণ করতে হবে শারিয়াহ সম্মত স্থানে এবং সেসব জমিতে যেখানে মসজিদের নামে ওয়াকফ, দান, ক্রয়কৃত বা আইন অনুযায়ী যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বরাদ্দকৃত জমি রয়েছে। এই নিয়ম লঙ্ঘন করে যেখানেই মসজিদ তৈরি করা হবে, সেই মসজিদকে উচ্ছেদ করা হবে এবং নির্মাণে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

    ধর্ম মন্ত্রণালয়ের আইন শাখা জানিয়েছে, শারীয়ত সংক্রান্ত শর্ত পূরণ না করা বা ওয়াকফ/অনুমোদন বহির্ভূত জমিকে ‘অবৈধ’ মনে করা হবে। সরকারের অনুমতি ছাড়া কোনো ব্যক্তিগত বা অন্যান্য ধরনের সম্পত্তিতে মসজিদ করা যাবে না।

    নারীদের জন্য পৃথক ব্যবস্থাসহ সামাজিক নিয়ম

    নীতিমালায় নারীদের জন্য আলাদা সালাতের কক্ষ বা স্থান ব্যাবস্থার কথাও বলা হয়েছে। মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটি—শরীয়ত সম্মতভাবে—নারীদের জন্য পৃথক সমতল বা কক্ষ করে দেবে যাতে তারা শান্তিতে নামাজ আদায় করতে পারেন।

    রাজনীতি ও মসজিদ কর্মী

    নীতিমালায় নির্ধারিত হয়েছে, মসজিদে কর্মরতরা কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। এই বিধান মসজিদকে অরাজনৈতিক রাখতে ও সামাজিক একতা রক্ষা করতে সাহায্য করবে।

    অরাজনৈতিক ধর্মীয় প্রাসঙ্গিক কর্মসূচি

    মসজিদে অরাজনৈতিক দ্বীনি দাওয়াত, তাবলিগের মত ধর্মীয় কার্যক্রম এবং নিয়মিত ওয়াজ পরিচালনা করা যাবে—তবে তা মসজিদের ভেতরে এমন একটি পৃথক স্থানে মাত্রা ও নিয়ম মেনে করা হবে যাতে মসজিদের সালাতকারীদের নামাজ বিঘ্নিত না হয়। এই ব্যবস্থার তদারকিতে সাধারণ সম্পাদক ও মসজিদ কমিটি সমন্বয় করবেন।

    ইমামদের দায়িত্ব ও বেতন কাঠামো

    নীতিমালায় পেশাদার ইমামদের কাজের পরিধি নির্ধারণ করা হয়েছে—তাফসির, দারুল কোরআন, দারুল হাদিস ও ওয়াজ পরিচালনা করার সুযোগ থাকবে এবং কমিটির সহযোগিতায় এগুলো নিয়মিত চালানো যাবে।

    বেতনের ক্ষেত্রে পেশাদার ইমাম ও অন্যান্য কর্মীদের জন্য জাতীয় বেতন স্কেলের নির্দিষ্ট গ্রেড উল্লেখ করা হয়েছে। সিনিয়র পেশাদার ইমাম পাবেন ২০১৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেলের ৫ম গ্রেড অনুযায়ী বেতন; পেশ ইমাম ৬ষ্ঠ গ্রেড; ইমাম ৯ম গ্রেড; প্রধান মুয়াজ্জিন ১০ম গ্রেড; মুয়াজ্জিন ১১তম গ্রেড; প্রধান খাদিম ১৫তম গ্রেড। নিরাপত্তা প্রহরী (দিবা/নৈশ) ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা তেন-ভাতা পাবেন ২০তম গ্রেড অনুযায়ী। আর্থিকভাবে অসচ্ছল বা পঞ্জেগানা মসজিদে করণীয় সামর্থ্য অনুসারে বেতন নির্ধারণ করা যাবে। এই কাঠামো সরকার কর্তৃক জারিকৃত জাতীয় বেতন স্কেলের পরিবর্তনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে আপডেট হবে।

    কমিটি ও সময়সীমা

    প্রতি মসজিদে ‘মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটি’ থাকবে। সরকারি বা বেসরকারি সংস্থা পরিচালিত মসজিদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংস্থা কমিটি নিয়োগ করবে; সাধারণ মসজিদে কমিটি নির্বাচন করবে মসজিদের মুসল্লিরা। কমিটির মেয়াদ থাকবে তিন বছর; যুক্তিসঙ্গত কারণে এক বছর পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে।

    অবৈধ মসজিদ উচ্ছেদ ও আইনগত পদক্ষেপ

    অবৈধ স্থানে নির্মিত মসজিদ উচ্ছেদের প্রসঙ্গে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আ.ফ.ম. খালিদ হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘অবৈধ জায়গায় মসজিদ নির্মাণ হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তা উচ্ছেদ করা হবে। ব্যক্তিগতভাবে কেউ উচ্ছেদ করলে তা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘কেউ বন বিভাগের জায়গা, রেলের জায়গা বা অন্য কারও সম্পত্তিতে মসজিদ করে দিলো—এইটা গ্রহণযোগ্য নয়। জমির মালিকানার ব্যাপারে স্পষ্ট না থাকলে সামাজিক সংঘর্ষও দেখা দিতে পারে।’’

    ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (সংস্থা ও আইন অনুবিভাগ) মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘‘শরিয়াহ সম্মত স্থানে মসজিদ করা না হলে এবং যদি কোনো মসজিদ অবৈধ স্থানে নির্মিত হয়, তাহলে দক্ষ কর্তৃপক্ষ সেটি উচ্ছেদ করতে পারবে; যে কেউ নিজে উচ্ছেদ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে পারে। নির্মাণকারী সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’’

    মোটকথা, নতুন নীতিমালা মসজিদের আর্থিক স্বচ্ছতা, প্রশাসনিক নিয়ম ও সামাজিক সমন্বয় নিশ্চিত করতে উদ্দীপ্ত—সাথে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজির মতো অনৈতিক প্রথা বন্ধ করার কঠিন বার্তাও দিয়েছে।

  • সদর দপ্তরের কড়া নির্দেশ: ইউনিট প্রধানরা ছাড়া ছাড়বেন না কেন্দ্রীয় কর্মস্থল

    সদর দপ্তরের কড়া নির্দেশ: ইউনিট প্রধানরা ছাড়া ছাড়বেন না কেন্দ্রীয় কর্মস্থল

    পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে, অগ্রিম অনুমতি ছাড়া কোনো ইউনিট প্রধানকে কর্মস্থল ত্যাগ করা শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসাবে ধরা হবে। এটি নিশ্চিত করতে পার্সোনাল ম্যানেজমেন্ট-১ শাখার অতিরিক্ত ডিআইজি খন্দকার শামিমা ইয়াছমিন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে কড়াকড়ি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

    চিঠিতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে কোনো কোনো ইউনিট প্রধান পুলিশ সদর দপ্তরের পূর্বানুমতি ছাড়া তাদের কক্ষে বা প্রতিষ্ঠিত কর্মস্থল ত্যাগ করছেন, যা শৃঙ্খলা পরিপন্থী। তাই ছুটি বা অন্য কোনো কোনও ব্যক্তিগত বা শ অফিসগত কারণে কর্মস্থল ছাড়ার আগে অবশ্যই আইজিপির (ইন্সপেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ) পূর্বানুমতি নিতে হবে বলে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

    এই নির্দেশনা ডিএমপি কমিশনার, র‌্যাব মহাপরিচালক, বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ইউনিটের প্রধান, সকল রেঞ্জের ডিআইজি, মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার এবং দেশের প্রতিটি জেলার পুলিশ সুপারদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

    পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, বাহিনীর শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীল কার্যক্রম বজায় রাখার জন্য ইউনিট প্রধানদের যথাযোগ্যভাবে আচরণ করা জরুরি। ভবিষ্যতে নির্দেশনা অমান্য করে কর্মস্থল ত্যাগ করলে তাকে শৃঙ্খলাভঙ্গ মনে করে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    আরও বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বৃহস্পতিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়েছে। এই حساس সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষভাবে নির্দেশনা দিয়ে বলা হয়েছে যে, নির্বাচনের শেষ পর্যায় পর্যন্ত পুলিশের সব ইউনিট প্রধানদের কর্মস্থল ত্যাগ না করতে হবে।

  • নির্বাচনের আগে ব্রিটিশ নাগরিকদের তিন পার্বত্য জেলায় না যাওয়ার পরামর্শ

    নির্বাচনের আগে ব্রিটিশ নাগরিকদের তিন পার্বত্য জেলায় না যাওয়ার পরামর্শ

    যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও) জাতীয় নির্বাচন ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ ভ্রমণে থাকা বা ভ্রমা পরিকল্পনা করা ব্রিটিশ নাগরিকদের সতর্ক করেছে। বিশেষত পার্বত্য তিন জেলা — রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান — জরুরি কাজ ছাড়া এ সময়ে ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে এফসিডিও।

    এফসিডিও জানায়, বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ এবং নির্বাচনী প্রচারণা ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে। নির্বাচনী অস্থিরতার প্রেক্ষিতে পার্বত্যাঞ্চলে নিয়মিত সহিংসতা এবং অপরাধমূলক ঘটনা হওয়ার কয়েকটি খবর পাওয়ার কারণে ব্রিটিশ নাগরিকদের সতর্ক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।দূরবর্তী ও দুর্গম এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা ঝুঁকি বেশি থাকতে পারে, বলে সতর্ক করেছে অফিসটি।

    এফসিডিও আরও বলেছে, সন্ত্রাসবাদ, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও রাজনৈতিক অস্থিরতা পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ করছে এবং এই সময়ে সন্ত্রাসী বা সহিংস গ্রুপগুলো হামলা চালানোর চেষ্টা করতে পারে। সম্ভাব্য লক্ষ্যস্থল হিসেবে সরকারের বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ভবন, রেস্তোরাঁ ও ক্যাফে, গণপরিবহন, জনসমাগম স্থান, ধর্মীয় কেন্দ্র এবং রাজনৈতিক সমাবেশ চিহ্নিত করা হয়েছে।

    অফিসটি অতীতের উদাহরণ হিসেবে ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে দেশটিতে ব্যাপক বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনার কথা উল্লেখ করেছে, যার ফলে তখন নিয়মিত সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে এবং মানুষ হতাহত হয়েছিল—এ সময়কার অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে এ ধরনের সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।

    এফসিডিও ব্রিটিশ নাগরিকদের কাছ থেকে কয়েকটি সাধারণ পরামর্শ দিয়েছে: বিক্ষোভ বা বৃহৎ জনসমাগম এড়িয়ে চলুন; কোথাও বিক্ষোভ শুরু হলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যান; স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলুন; স্থানীয় সংবাদ ও সরকারি নির্দেশাবলী নিয়মিত দেখুন; এবং ভ্রমণ সতর্কতা হালনাগাদ হলে ইমেইল নোটিফিকেশন গ্রহণ করুন।

    এছাড়া অফিসটি বলেন, মাঝেমধ্যে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর হামলা এবং পুলিশ বা নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে; বড় শহরগুলোতে ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) ব্যবহারের খবরও আছে—তাই অতিরিক্ত সতর্ক থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    স্থানীয় পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল হওয়ায়, ভ্রমণকারীদের প্রয়োজন ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না যাওয়া, নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে আগেভাগে অবগত থাকা এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

  • ভারতে বাংলাদেশি সন্দেহে হামলা-হত্যা: নিরাপত্তা শঙ্কা বাস্তব, আইসিসিকে দায় দিলেন মোস্তফা সরয়ার

    ভারতে বাংলাদেশি সন্দেহে হামলা-হত্যা: নিরাপত্তা শঙ্কা বাস্তব, আইসিসিকে দায় দিলেন মোস্তফা সরয়ার

    আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের গ্রুপ পর্বের চারটি ম্যাচ খেলতে বলা হয়েছিল ভারতের মাটিতে। কিন্তু নিরাপত্তার উদ্বেগ নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) mehrfach আইসিসিকে চিঠি পাঠিয়ে সেই ম্যাচগুলো স্থানান্তর করার অনুরোধ জানায়। বারবার আলোচনার পরও আইসিসি থেকে সন্তোষজনক সাড়া না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ভারত যেয়ে খেলতে দেখা যাবে না—এ সিদ্ধান্তই নিয়েছে বিসিবি।

    যদিও অতিথি দেশ হিসেবে বাংলাদেশের নাম এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে টুর্নামেন্ট থেকে সরানো হয়নি, পাল্লা দিলে বলা যায় এবারের বিশ্বকাপে দেশের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা প্রায় শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। বিষয়টির দায় আইসিসিকে দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।

    আজ শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফারুকী লেখেন, ‘ভারত ও পাকিস্তানের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়েছে আইসিসি, কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ভিন্ন মনোভাব দেখা গেছে।’ তিনি আরো লিখেছেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে ভারতে বাংলাদেশি সন্দেহে মানুষকে পিটিয়ে হত্যার একাধিক ঘটনার খবর প্রকাশিত হয়েছে। ঠিক গতকালই পশ্চিমবঙ্গে জন্ম নেওয়া এক মুসলিম—মঞ্জুর লস্কর—কে বাংলাদেশি সন্দেহ করে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে, এমনটাই জানিয়েছে দ্য টেলিগ্রাফ অব ইন্ডিয়া।’

    বিশ্বকাপ ইস্যুর শুরুটা মূলত আইপিএলে মুস্তাফিজকে দল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায়। ভারতের কিছু চরমপন্থী নেতার হুমকির পরে সেখানে মুস্তাফিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা যায় এবং ওই কারণেই তাকে আইপিএল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়— এরপরই বিসিবি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতের যাত্রা নিয়ে নিরাপত্তার চিন্তা উত্থাপন করে।

    এইসব ঘটনার প্রেক্ষিতে সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, ‘যদি এসব ঘটনা দীর্ঘদিন ধরে চলমান বাংলাদেশবিরোধী ঘৃণা প্রচারণার সঙ্গে যুক্ত করা হয় — যার ফলে মুস্তাফিজকে আইপিএল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে — তাহলে মানতেই হবে ভারতে বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের জন্য নিরাপত্তা হুমকি বাস্তব ও গুরুতর।’

    বিষয়টি নিয়ে বিসিবি, আইসিসি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে চলমান যোগাযোগ ও ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত কি হবে, তা নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠছে। খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়গুলো এখনই আলোচ্য ও গুরুত্ব পাচ্ছে।

  • বহু প্রার্থী ও দুটি ব্যালটে ভোট গণনায় সময় বেশি লাগতে পারে

    বহু প্রার্থী ও দুটি ব্যালটে ভোট গণনায় সময় বেশি লাগতে পারে

    এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের দুটি ব্যালটে ভোট দিতে হবে। এছাড়া, সারাদেশে নির্বাচনে প্রার্থীর সংখ্যাও বেশি হওয়ায় ভোট গ্রহণ এবং গণনা প্রক্রিয়ায় আগের চেয়ে কিছুটা বেশি সময় লাগতে পারে বলে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন। তিনি আরও জানান, এই নির্বাচনে বিদেশ থেকে প্রায় ৫০০ পর্যবেক্ষক ও সংবাদদাতা অংশ নেবেন।

    বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে মোবাইল অপারেটর, ব্যাংক ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় কমিশন (বিএনসিসি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য দেন ইসি সচিব।

    সচিব বলেন, এবারে প্রবাসী ভোটার এবং অভ্যন্তরীণ ভোটার উভয়ের জন্য আলাদা ধরনের ব্যালট ব্যবহার করা হচ্ছে। দুটি ব্যালট ও প্রার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণে ভোট গণনাও সময়সাপেক্ষ হবে। বিশেষ করে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে পোস্টাল ব্যালট গণনায় বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারেন।

    এমনই এক পরিস্থিতির উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ফেনী-৩ আসনে ১৬ হাজার ৩৮ জন, চট্টগ্রাম-১৫ আসনে ১৪ হাজার ২৭৪ জন এবং কুমিল্লায় ১৩ হাজার ৯৩৯ জন পোস্টাল ভোটার হিসাবে নিবন্ধিত। যদিও এক কেন্দ্রে সাধারণত ৩ হাজার ভোটার থাকলেও পোস্টাল ব্যালটের চাপ বেড়ে ৫-৬ গুণ হতে পারে, যা ফলাফল প্রকাশে বিলম্ব সৃষ্টি করতে পারে।

    আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি বাড়তে থাকা নিয়ে সচিব জানান, ইসি ৮৩টি সংস্থাকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। এর মধ্যে ৩৬টি সংস্থা এখন নিশ্চিত করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৫৬ জন প্রতিনিধি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন, যা পরে ২৭৫ থেকে ৩০০ জনে পৌঁছাতে পারে। পাশাপাশি, কমনওয়েলথের ১০ জন এবং তুরস্কের ৯ জন প্রতিনিধি আসার কথা রয়েছে। সর্বমোট প্রায় ৫০০ বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক এই নির্বাচনী পর্যবেক্ষণে অংশ নেবেন। তাঁদের জন্য অপ্রত্যাশিত হলো ভিসার সুবিধা প্রদান।

    নির্বাচনে কালো টাকার অপব্যবহার রোধে মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহারে আলোচনা হয়েছে বলেও সচিব জানান। তিনি জানান, পুরোপুরি বন্ধের পরিকল্পনা আমাদের নেই, তবে লেনদেনের ওপর একটি সীমা নির্ধারণের চিন্তা চলছে। আই-ব্যাংকিং সেক্টরেও একই নীতি কার্যকর করা হতে পারে।

    সচিবের তথ্যমতে, গতকাল রাত পর্যন্ত প্রার্থীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৯৮১ জন। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৪৯ জন এবং নারী প্রার্থী ৭৬ জন। রাজনৈতিক দলগুলো সর্বোচ্চ প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি, যা মোট ২৮৮ জন। ঢাকা-১২ আসনে সবচেয়ে বেশি ১৫ প্রার্থী থাকলেও পিরোজপুর-১ আসনে দুইজন প্রার্থীই শেষ।

    ভোটারদের জন্য সতর্কতাও দেওয়া হচ্ছে, যেন তারা তাদের এনআইডি কার্ড অন্য কারো কাছে হস্তান্তর না করে। সচিব বলেন, মিরপুরে এনআইডি কার্ড নেওয়ার ঘটনাটি আচরণবিধি লঙ্ঘন। ভোটারদের সচেতন থাকতে উপদেশ দেন।

    টিআইবির দ্বৈত নাগরিকত্ব বিষয়ক উদ্বেগের বিষয়ে বলেন, নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রক্রিয়া ধীর গতির। তবে, কেউ যদি গোপনে প্রার্থী হন এবং পরে তা উঠে আসে, তবে আইন অনুযায়ী স্বক্রিয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    অন্যদিকে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তার জন্য এবার ১৬,০০০ এর বেশি বিএনসিসি ভলান্টিয়ার কাজ করবে। তারা এর ডেপ্লয়মেন্ট স্ট্রাকচার ও পরিকল্পনা শুরুর জন্য প্রস্তুত। জানানো হয়, আগামী রোববার তাদের কার্যক্রম চূড়ান্ত হবে।

  • সেনাপ্রধানের ঘোষণা: সুষ্ঠু নির্বাচন ও গণভোটে সর্বাত্মক সহযোগিতা নিশ্চিত করবো

    সেনাপ্রধানের ঘোষণা: সুষ্ঠু নির্বাচন ও গণভোটে সর্বাত্মক সহযোগিতা নিশ্চিত করবো

    সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের শান্তিপূর্ণ এবং সুষ্ঠু আয়োজনের জন্য সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করার জোরালো ঘোষণা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এই কথা বলেন।

    সেনাপ্রধান বলেন, দেশের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত। নির্বাচন নিরপেক্ষ, স্বাধীন ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার জন্য তারা সর্বাত্মক সহযোগিতা চালিয়ে যাবে। পাশাপাশি দায়িত্বের ক্ষেত্রে সৌহার্দ্যপূর্ণ ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন নির্বাচনী সংস্থার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় ও কার্যকর যোগাযোগ ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। সবাইকে একযোগে কাজ করে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সব প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে আহ্বান জানান।

    সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, যারা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬-এর জন্য চট্টগ্রাম জেলার সামগ্রিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জের উপর একটি বিস্তারিত প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন। তিনি এই পরিকল্পনার ওপর সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, চট্টগ্রামে নির্বাচনী পরিস্থিতি ইতিমধ্যে বেশ শুভ এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ।

    সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ, ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশ, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁনসহ বিভাগীয়, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ।

    এছাড়াও, তিন পার্বত্য জেলার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপাররা অংশ নেন। এই সভায় নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার ও বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। পক্ষান্তরে, প্রত্যাশিত শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সফল করতে সংশ্লিষ্ট সকলের অবদান ও দায়িত্বের ব্যাপারে আলোচনা চলমান থাকে।

  • নির্বাচনী প্রার্থীদের মধ্যে কোটিপতি ও বিতর্কিত সংখ্যা উদ্বেগজনক

    নির্বাচনী প্রার্থীদের মধ্যে কোটিপতি ও বিতর্কিত সংখ্যা উদ্বেগজনক

    ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আজ শুক্রবার ঢাকার ধানমন্ডিতে এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে, এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের সম্পদের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট ৮৯১ জন প্রার্থী কোটিপতি। এর মধ্যে ২৭ জন অর্থাৎ প্রায় ৩ শতাংশ সবথেকে বেশি সম্পদবিশিষ্ট প্রার্থী, অর্থাৎ শতকোটিপতি।মূলত হলফনামার মাধ্যমে প্রার্থীদের অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদের মূল্যায়ন করে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়। টিআইবির আউটরিচ এন্ড কমিউনিকেশন বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, এই নির্বাচনে মোট প্রার্থীর প্রায় ২৫ শতাংশেরই কোনো না কোনো ঋণ বা দায় রয়েছে। এই ঋণের পরিমাণ মোট ১৮ হাজার ৮৬৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা। তুলনামূলকভাবে, গত পাঁচ নির্বাচনের মধ্যে এবার ঋণ বা দায়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে কম সংখ্যক প্রার্থী থাকলেও, তাদের মোট ঋণের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।এছাড়াও, এবারের নির্বাচনে অংশ নেওয়া ৫৩০ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে বর্তমানে মামলা রয়েছে, যা মোট প্রার্থীর ২২.৬৬ শতাংশ। অতীতে, অর্থাৎ গত পাঁচ নির্বাচনে মোট ৭৪০ জন বা সাড়ে ৩১ শতাংশ প্রার্থী বিরুদ্ধে মামলা ছিল।প্রসঙ্গত, এই নির্বাচনে অংশ নেওয়া ৫ টি রাজনৈতিক দলের পূর্ণাঙ্গ প্রার্থী সংখ্যা ১১,৯৮১ জন। এর মধ্যে ১৩ শতাংশ প্রার্থী স্বতন্ত্র। প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীর সংখ্যা ১৬৯৬ জন।শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকে দেখা যায়, প্রার্থীদের মোট ৭৬.৪২ শতাংশ হাইস্কুল বা তার বেশি ডিগ্রিধারী, যার মধ্যে স্নাতক ডিগ্রিধারী ২৮.৩৭ শতাংশ এবং সবচেয়ে বেশি, ৪৭.৯৮ শতাংশ, স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী। উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেছেন ৮.৯৪ শতাংশ এবং মাধ্যমিক পাস করেছেন কিছু বেশি। গত নির্বাচনের তুলনায় এবার এই ডিগ্রিধারীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। বিগত নির্বাচনের তুলনায়, নবম নির্বাচন ৭১.২৩%, দশম নির্বাচন ৭১.৯১%, একাদশ ৬৭.৩০%, দ্বাদশ ৫৯.৩৩%, আর এবারে ৭৬.৪২ শতাংশ প্রার্থী শিক্ষাগত দিক থেকে উচ্চমানের।প্রারম্ভিক অংশগ্রহণের মধ্যে নারীর অংশগ্রহণ খুবই কম। এবার মোট প্রার্থীর মাত্র ৪.০২ শতাংশ নারী, যেখানে নারীর প্রতিনিধিত্বের বাধা হিসেবে প্রাথমিকভাবে দেখা হয়েছে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নারীর সংখ্যা কম থাকাকে। জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বধীন জোটের ৬ জন প্রার্থী এবং বিএনপির নেতৃত্বধীন জোটে মোট ২৪ জন নারী প্রার্থী রয়েছেন।প্রার্থীদের বয়সের ভিত্তিতে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি প্রার্থী ৪৫-৫৪ বছর বয়সী, মোট ৬৫১ জন। এরপর ৫৫-৬৫ বছর বয়সী প্রার্থী ৫৩১ জন, ৩৫-৪৪ বছর বয়সী ৪১৪ জন, ৬৫ বছরের বেশি ৩৭৮ জন, এবং ২৫-৩৪ বয়সী প্রার্থী ২০৫ জন। কোন কোন প্রার্থীর বয়স উল্লেখ নেই বা অস্পষ্ট।প্রার্থীদের মূল পেশার মধ্যে ব্যবসায়ীরা সর্বাধিক, মোট ৪৮ শতাংশ। এরপরই থাকছে আইন ও শিক্ষকদের পেশা, যথাক্রমে ১২.৬১% ও ১১.৫৬%। এছাড়া চাকরিজীবী ও কৃষিজীবীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। নতুন করে দেখা যায়, এবারের নির্বাচনে পেশা হিসেবে রাজনীতিকে দেখিয়েছেন মাত্র ২ শতাংশ প্রার্থী।

  • এবার ব্যালট ছিনতাইয়ের কোনো সুযোগ নেই: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

    এবার ব্যালট ছিনতাইয়ের কোনো সুযোগ নেই: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

    আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুষ্কৃতকারীদের ভোটকেন্দ্র থেকে ব্যালট ছিনতাইয়ের কোনো সুযোগ থাকবে না বলে জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি এ কথা বলেন বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদর দপ্তরে আয়োজিত ‘ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা ও মতবিনিময় সভায়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, যেখানে সভাপতিত্ব করেন সিআইডি প্রধান ও বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি মোঃ ছিবগাত উল্লাহ।

    তিনি জানান, অতীতে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে শুধুমাত্র একজন অস্ত্রধারী পুলিশ দায়িত্ব পালন করলেও এবারই প্রথমবারের মতো প্রতিটি কেন্দ্রের নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত হবে। প্রত্যেকটি ভোটকেন্দ্রে অন্তত পাঁচজন অস্ত্রধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। এর মধ্যে কমপক্ষে দু’জন পুলিশ ও তিনজন আনসার থাকবেন। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে আরও বেশি সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হবে, যেখানে তিনজন পুলিশসহ মোট ছয়জন অস্ত্রধারী সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।

    তিনি আরও জানান, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ছয়জন পুরুষ ও চারজন মহিলা আনসার সদস্য লাঠিসহ মোতায়েন থাকবেন। তিনি বলেন, এবারের জাতীয় নির্বাচন হবে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে অবাধ, স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর। এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি রোল মডেল হয়ে থাকবে। এজন্য নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সততা, নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

    উপদেষ্টা আরও জানান, এবারের নির্বাচনে প্রযুক্তির ব্যবহার আরও ব্যাপক হবে। প্রথমবারের মতো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন, বডি ওর্ণ ক্যামেরা, সিসিটিভি, ড্রোন ও ডগ স্কোয়াডের ব্যবহারে। প্রবাসী ভোটার, সরকারি কর্মকর্তারা ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মীরা ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ মোবাইল অ্যাপে নিবন্ধন করে ভোট দিতে পারবেন।

    তিনি উল্লেখ করেন, জানুয়ারি থেকে প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এর পাশাপাশি বিএনসিসি, গার্লস গাইড ও স্কাউট সদস্যরাও নির্বাচনী সহায়তায় অংশ নেবেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে দুই ধাপে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হবে। প্রথমে চলমান দায়িত্বশীল বাহিনী থাকবেন, আর দ্বিতীয় পর্যায়ে ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভোট কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন।

    সঙ্গে তিনি জানান, অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্তরের সিআইডি কর্মকর্তাদের মধ্যে কৃতিত্বের ভিত্তিতে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

  • সাবেক প্রেস সচিব নাঈমুল ইসলাম ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট

    সাবেক প্রেস সচিব নাঈমুল ইসলাম ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট

    দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব মোঃ নাঈমুল ইসলাম খান এবং তার স্ত্রী সাংবাদিক নাসিমা খান মন্টির বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলায় চার্জশিট দাখিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বৃহস্পতিবার এই চার্জশিট অনুমোদন দেওয়া হয় দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে। সংস্থাটির মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মামলাগুলোর বিষয়কতালিকা জানান, ২০২৫ সালের ৩০ অক্টোবর, দুদকের সহকারী পরিচালক বিলকিস আক্তার তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন এবং তদন্তের দায়িত্ব পালন করেন সহকারী পরিচালক এমরান হোসেন। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, আসামি নাঈমুল ইসলাম খান ও তার স্ত্রী নাসিমা খান মন্টির বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের উৎসের বাইরে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ কারণেই ২০২২ সালে ১৭ জুলাই দুদক আইন, ২০০৪ এর ২৬(১) ধারায় তাদের বিরুদ্ধে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ দেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত ২১ কার্যদিবসের মধ্যে তারা সম্পদ বিবরণী দাখিল করেননি এবং সময় বৃদ্ধির জন্য কোনো আবেদনও করেননি। উল্লেখ্য, এসময় তারা যথাযথ নিয়মে সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন করেননি। এ কারণে, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল না করাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করে দুদক এই মামলার ব্যবস্থা নেয় ও চার্জশিট দাখিলের সিদ্ধান্ত নেয়।

  • কুমিল্লায় আদালতের এজিপি ও এক যুবক অস্ত্রসহ আটক

    কুমিল্লায় আদালতের এজিপি ও এক যুবক অস্ত্রসহ আটক

    কুমিল্লায় পুলিশ কুমিল্লা আদালতের এক সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এজিপি) ও এক যুবককে অস্ত্র, ম্যাগাজিন ও গুলিসহ আটক করেছে। অভিযানে উদ্ধার হয়েছে ১টি বিদেশি পিস্তল, ২টি ম্যাগাজিন এবং মোট ১০টি গুলি।

    আজ বৃহস্পতিবার সকালে নগরের টমছমব্রিজ এলাকা থেকে প্রথমে আরিফুল ইসলাম (৩৬) নামে এক যুবককে আটক করা হয়। আটককালে তাঁর কাছ হতে পাঁচটি গুলি এবং একটি ছুরি পাওয়া যায়। পরে আরিফুলের মোবাইল তল্লাশি করে অস্ত্রের ছবি শনাক্ত করা হলে তিনি তদন্তে জানান যে ছবিটি কুমিল্লা আদালতের এজিপি আই এম মাসুদুল হক ওরফে মাসুমের বাসায় রয়েছে।

    আরিফুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের দ্রুত অভিযান চালিয়ে মাসুদুল হক (৫১)-এর বাড়ি তল্লাশি করা হয়। ওয়ার্ডরোব থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন এবং আরও পাঁচটি গুলি উদ্ধার করা হয়। উভয় ব্যক্তিকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এভাবে মোট ১০টি গুলিই উদ্ধার হয়েছে—৫টি আরিফুলের কাছ থেকে এবং ৫টি মাসুদুলের বাড়ি থেকে।

    মাসুদুল হককে জামায়াতপন্থী আইনজীবী হিসেবে পরিচিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি কুমিল্লা মহানগর জামায়াতে ইসলামের নায়েবে আমির এ কে এম এমদাদুল হকের ছোট ভাই। আরিফুল ইসলাম কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার ধর্মপুর এলাকার বাসিন্দা।

    কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ইপিজেড পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, টমছমব্রিজ এলাকা থেকে সকাল ছয়টার পর আরিফুলকে আটক করা হয় এবং পরে মাসুদুলের বাড়ি থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়। তিনি বলেন, তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।

    অভিযোগ ও ঘটনার বিষয়ে জানাতে কুমিল্লা মহানগর জামায়াতে ইসলামের নায়েবে আমির এ কে এম এমদাদুল হকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোনে সাড়া দেননি।

    কুমিল্লা আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) কাইমুল হক জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থেকে বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবহিত হয়েছেন। থানার মামলার নথিপত্র পেলেই সরকারি কৌন্সিলরের সঙ্গে পরামর্শ করে এই বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে লিখবেন; এরপর মন্ত্রণালয় এজিপি হিসেবে মাসুদুলের দায়িত্বসংক্রান্ত পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।

    সূত্র: প্রথম আলো