Category: জাতীয়

  • আজিজ আহমেদের ভাই আনিস আহমেদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

    আজিজ আহমেদের ভাই আনিস আহমেদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

    রোববার ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মোঃ সাব্বির ফয়েজের আদালত সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব:) আজিজ আহমেদের ভাই আনিস আহমেদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। এই আদেশ দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দেয়া হয়েছে বলে আদালতের বেঞ্চ সহকারী মোঃ রিয়াজ হোসেন তথ্য নিশ্চিত করেন।

    দুর্নীতির মাধ্যমে নিজ ও পরিবারের সদস্যদের নামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ সংক্রান্ত তদন্তের স্বার্থে আদালত এই নিষেধাজ্ঞার নির্দেশ দেন। দুদক সূত্রে জানা যায়, সংস্থাটির পক্ষে সহকারী পরিচালক সাজ্জাত হোসেন আনিস আহমেদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন।

    আবেদনে বলা হয়েছে, জেনারেল (অব:) আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে নিজ নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং বিভিন্ন ব্যাংক ও হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে উঠেছে যে তিনি মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও দুবাইয়ে ব্যবসা পরিচালনা ও বাড়ি ক্রয়সহ কয়েকটি লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

    বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, আজিজ আহমেদের সহযোগী হিসেবে পরিচিত তাঁর ভাই আনিস আহমেদ বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। সুষ্ঠু ও অবাধ তদন্ত নিশ্চিত করতে আদালত আনিসের দেশত্যাগ রাখা অপরিহার্য বলে বিবেচনা করেছেন। তদন্তকারীদের পর্যবেক্ষণ অনুসারে এই নিষেধাজ্ঞা আইনানুগ প্রক্রিয়া বজায় রেখে অনুসন্ধান সহজতর করবে।

  • গবেষণা: দেশের প্রায় ৪.৮৮ শতাংশ মানুষ মাদক ব্যবহার করে

    গবেষণা: দেশের প্রায় ৪.৮৮ শতাংশ মানুষ মাদক ব্যবহার করে

    সম্প্রতি এক জাতীয় গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে প্রায় ৮২ লাখ মানুষ এক বা একাধিক ধরনের মাদক ব্যবহার করছে — যা দেশের মোট জনসংখ্যার আনুমানিক ৪.৮৮ শতাংশ। গবেষণায় মাদক ব্যবহারকারীদের বড় অংশ তরুণ এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ ১৮ বছর হওয়ার আগেই মাদক গ্রহণ শুরু করে।

    গবেষণার ফলাফল রবিবার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের কনফারেন্স হলে প্রকাশ করা হয়। ‘বাংলাদেশে মাদক অপব্যবহারকারী ব্যক্তিদের সংখ্যা, ধরন ও সংশ্লিষ্ট কারণসমূহ’ শীর্ষক এই গবেষণা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অর্থায়নে বিএমইউ ও রিসার্চ অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট কনসালটেন্টস লিমিটেড (আরএমসিএল) যৌথভাবে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত পরিচালনা করে।

    গবেষণায় দেশের আট বিভাগ থেকে ১৩ জেলা ও ২৬ উপজেলা মিলিয়ে ৫ হাজার ২৮০ জনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এ গবেষণায় পরিমাণগত (কোয়ান্টিটেটিভ) এবং গুণগত (কোয়ালিটেটিভ)অনুমোদিত পদ্ধতি দুটোই ব্যবহার করা হয়েছে।

    বিভাগভিত্তিক তুলনায় ময়মনসিংহে মাদক ব্যবহারের হার সবচেয়ে বেশি (৬.০২ শতাংশ), তার পর রংপুর (৬.০০ শতাংশ) ও চট্টগ্রাম (৫.৫০ শতাংশ)। তুলনামূলকভাবে রাজশাহী (২.৭২ শতাংশ) ও খুলনায় (৪.০৮ শতাংশ) হার কম। সংখ্যার বিচারে সবচেয়ে বেশি মাদক ব্যবহারকারী বাস করেন ঢাকায় — প্রায় ২২.৮৭ লক্ষ; এরপর চট্টগ্রাম (প্রায় ১৮.৭৯ লক্ষ) ও রংপুর (প্রায় ১০.৮০ লক্ষ)। বিভাগের আনুমানিক সংখ্যা দেয়া হয়েছে: বরিশাল ৪,০৪,১১৮, চট্টগ্রাম ১৮,৭৯,৫০৩, ঢাকা ২২,৮৭,৯৭০, খুলনা ৭,২৬,২১০, ময়মনসিংহ ৭,৬০,৮১২, রাজশাহী ৫,৬৬,৫০৯, রংপুর ১০,৮০,৫৮৮ ও সিলেট ৪,৮৮,১৪১।

    প্রকারভেদের বিশ্লেষণে দেখা গেছে গাঁজা সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত—প্রায় ৬১ লক্ষ মানুষ গাঁজা ব্যবহার করে। এরপর রয়েছে ইয়াবা/মেথামফেটামিন (প্রায় ২৩ লক্ষ), মদ (প্রায় ২০ লক্ষ), এবং কোডিনযুক্ত কাশির সিরাপ, ঘুমের ওষুধ ও হেরোইনসহ অন্য পণ্য। গবেষণার প্রধান গবেষক, বিএমইউ’র ডিন অধ্যাপক ডাঃ সাইফউল্লাহ মুন্সী জানান, দেশের মাদক ব্যবহারে গাঁজার দখল সবচেয়ে বেশি, তার পরে ইয়াবা, হেরোইন, ফেন্সিডিল ও কোডিনজাত সিরাপের ব্যবহার লক্ষ্য করা গেছে।

    গবেষণায় আরও দেখা গেছে ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদকগ্রহণকারীর সংখ্যা প্রায় ৩৯ হাজার — এ ধরনের ব্যবহারকারীরা এইচআইভি, হেপাটাইটিসসহ সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হওয়ার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছেন।

    স্থানভিত্তিক বিশ্লেষণে বোঝা গেছে, যদিও শহরে মাদক ব্যবহারকারীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি, গ্রামাঞ্চলেও মাদকের বিস্তার দ্রুত বেড়েছে। গবেষকরা সতর্ক করেছেন, গ্রামীণ এলাকাতেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনকভাবে খারাপ হচ্ছে।

    বয়সভিত্তিক তথ্য বলছে, মাদক ব্যবহারকারীর বেশিরভাগই তরুণ। প্রায় ৩৩ শতাংশ ব্যক্তি ৮ থেকে ১৭ বছর বয়সে শিশু অবস্থায় প্রথম মাদক গ্রহণ শুরু করেছে, আর ৫৯ শতাংশ প্রথম মাদক গ্রহণ শুরু করেছে ১৮–২৫ বছর বয়সে।

    গবেষণাপত্রে মাদকসেবনের প্রধান ঝুঁকিকর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বেকারত্ব, বন্ধুমহলের প্রভাব, আর্থিক অনিশ্চয়তা, পারিবারিক অস্থিরতা, মানসিক চাপ ও অনানুষ্ঠানিক পেশায় যুক্ত থাকা। প্রায় ৯০ শতাংশ ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, মাদক তাদের কাছে সহজলভ্য।

    প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মাদক সমস্যা শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়—এটি একটি বড় জনস্বাস্থ্য সংকট। প্রতিরোধ, চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও সামাজিক পুনঃঅন্তর্ভুক্তির ওপর জোর দেয়া জরুরি। বিএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডাঃ মোঃ শাহিনুল আলম বলেন, মাদক প্রতিরোধে রাজনৈতিক দলগুলোরও বহুমুখী অঙ্গীকার প্রয়োজন; কোনো পরিবারের কেউই নিরাপদ নয়—সবারই ঝুঁকি রয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ হাসান মারুফ জানান, সামাজিক আন্দোলন ও সম্মিলিত উদ্যোগের মধ্য দিয়েই দেশের মানুষকে মাদক মুক্ত করা সম্ভব।

    অনুষ্ঠানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ গোলাম আজম, কো-ইনভেস্টিগেটর অধ্যাপক ডাঃ মোঃ তাজুল ইসলাম, কো-ইনভেস্টিগেটর ফোরকান হোসেন, বিএমইউ’র পরিচালক (হাসপাতাল) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইরতেকা রহমান, অতিরিক্ত পরিচালক (সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল) ডাঃ মোঃ শাহিদুল হাসান বাবুল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

    গবেষকরা শেয়ার করেছেন, অপরাধমূলক কড়া শাস্তি ছাড়াও ব্যাপক জনসচেতনতা, তরুণদের লক্ষ্য করে শিক্ষামূলক কার্যক্রম, সহজলভ্য চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সেবা, এবং মাদক সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত নীতি জরুরি—তবেই এই ক্রমবর্ধমান জনস্বাস্থ্যঝুঁকি সামাল দেয়া সম্ভব হবে।

  • সাবেক ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান ও পরিবারের ২২.৬৫ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ

    সাবেক ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান ও পরিবারের ২২.৬৫ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ

    অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ অন্যত্র হস্তান্তরের চেষ্টা করার অভিযোগে সাবেক ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের মোট ২২ কোটি ৬৫ লাখ ৫২ হাজার ৩৩০ টাকার সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়েছে।

    দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এই আবেদন করলে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ আজ রোববার ওই নির্দেশ দেন বলে দুদকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) তানজির আহমেদ জানিয়েছেন।

    দুদকের আবেদনে বলা হয়, আছাদুজ্জামান মিয়া, তাঁর স্ত্রী আফরোজা জামান, দুই ছেলে আসিফ শাহাদাৎ ও আসিফ মাহদিন, মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকা, শ্যালিকা পারভীন সুলতানা ও শ্যালক হারিচুর রহমানের নামে ঢাকার রমনা, জোয়ার সাহারা, মোহাম্মদপুরের রামচন্দ্রপুর, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প, গাজীপুরের কালীগঞ্জ, ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা এবং ভাঙ্গায় মোট ২২ কোটি ৬৫ লাখ ৫২ হাজার ৩৩০ টাকার বাড়ি, ফ্ল্যাট ও জমি রয়েছে।

    দুদক জানিয়েছে, আয়ের উৎস-বহির্ভূত এসব সম্পদ অর্জন সংক্রান্ত অভিযোগের অনুসন্ধান করতে একটি তিন সদস্যবিশিষ্ট দল কাজ করছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য ও বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, তদন্তের বাইরে রেখে এসব সম্পদ অন্যত্র স্থানান্তর বা হস্তান্তর করে ঝটপট বেহাত করার চেষ্টা চলছে।

    তাই অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও পরবর্তী বিচারে রাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা করার উদ্দেশ্যে অবিলম্বে ওই সমস্ত সম্পদ ক্রোক করা প্রয়োজন—এই ছিলেন আদালতে দুদকের যুক্তিগ্রহণের মূল কারণ। আবেদনকালে দুদক জানিয়েছে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বিচারের সময় এসব সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা সম্ভব নাও হতে পারে এবং এতে রাষ্ট্রের অপূরণীয় ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    অদ্যাবধি মামলার সূত্র ধরে দুদক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আরও তদন্ত করবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে জানানো হয়েছে।

  • সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির কোনো আবেদন হয়নি: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

    সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির কোনো আবেদন হয়নি: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির কোনো আবেদন করা হয়নি। মন্ত্রণালয় এই তথ্য রবিবার (২৫ জানুয়ারি) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা ফয়সল হাসান বলেন, সাদ্দামের স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যু প্রসঙ্গে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে যশোর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষের কাছে কোনো লিখিত বা আনুষ্ঠানিক প্যারোল আবেদন করা হয়নি। পরিবার শুধুমাত্র মৌখিকভাবে জানতে চেয়েছিল যে তারা কি কারাগারের গেটে গিয়ে মৃত স্ত্রী ও সন্তানের লাশ দেখতে পারবে কি না, এবং মানবিক দিক বিবেচনা করে সেই সুযোগ প্রদানে যশোর জেলা প্রশাসন ও কারাগার কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে শোর করা হয়, এ ঘটনার বিষয়ে কিছু গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘প্যারোলে মুক্তির আবেদন’ করা হয়েছে বলে যে তথ্য ছড়িয়েছে তা সঠিক নয়। মন্ত্রণালয় অনুরোধ করেছে, গণমাধ্যমগুলো যেন সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করে জনগণের তথ্য অধিকার রক্ষা করে।

  • জাহাঙ্গীর আলম: ‘আ.লীগ বা ছাত্রদল নয়, সরকার ক্রিমিনালদের জামিনের বিরুদ্ধে’

    জাহাঙ্গীর আলম: ‘আ.লীগ বা ছাত্রদল নয়, সরকার ক্রিমিনালদের জামিনের বিরুদ্ধে’

    লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ বা ছাত্রদল নয়, সরকার ক্রিমিনালদের জামিনের বিরুদ্ধে।’

    রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাজধানীর সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে কৃষি সংক্রান্ত ব্রিফিংয়ের সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। সভায় বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধির তথ্য তুলে ধরা হয় এবং কৃষির উন্নয়ন নিয়ে উপদেষ্টা বিস্তারিত প্রজননা দেন।

    তবে ব্রিফিংয়ের সময় সাংবাদিকরা বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামের পারোলে মুক্তি না পাওয়া বিষয়েও প্রশ্ন করেন — তাঁর স্ত্রী ও নয় মাসের শিশু সন্তানের মৃত্যুসহ ঘটনার পটভূমি সম্পর্কে জানতে চাইলে উপদেষ্টা স্পষ্টভাবে জানান, তিনি কেবল কৃষি নিয়ে প্রশ্নের উত্তর দেবেন।

    এক সাংবাদিক তাকে স্মরণ করিয়ে দেন, ‘আপনি তো স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাও’। এসময় জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘না, স্বরাষ্ট্রের সময় আমি ডাকব।’ পরে আরেক সাংবাদিক ‘আপনি তো দায়বদ্ধ’ বললে তিনি বলেন, ‘না, আমি দায়বদ্ধ না। আজকে আমি কৃষির জন্য ডেকেছি। কৃষি ছাড়া বলব না। আপনারা কৃষির ওপর জিজ্ঞেস করবেন।’

    পরবর্তীতে একই ঘটনায় আরও প্রশ্ন উঠলে সভাকক্ষে থেকে চলে যান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।

    পটভূমি: সম্প্রতি বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামকে নিয়ে বাড়িতে ঘটানো ঘটনায় তার স্ত্রী ও নয় মাসের শিশুর মৃত্যুর পাশাপাশি তিনি নিজেও নিহত হয়েছেন—এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। অভিযোগ উঠেছে, লাশ দেখতে পারোলে সাদ্দামকে মুক্তি দেওয়া হয়নি।

    তবে বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে বাগেরহাট জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, সাদ্দামের পরিবার পারোলে মুক্তির জন্য আবেদন করেনি; বরং তারা জেলগেটে লাশ দেখানোর অনুরোধ করেছেন। ঘটনার সম্পূর্ণতা ও তদন্ত চালু আছে এবং আলোচনা এখনও চলছে।

  • সাবেক ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান ও পরিবারের ২২ কোটি ৬৫ লাখ ৫২ হাজার ৩৩০ টাকার সম্পদ ক্রোক

    সাবেক ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান ও পরিবারের ২২ কোটি ৬৫ লাখ ৫২ হাজার ৩৩০ টাকার সম্পদ ক্রোক

    অবৈধভাবে সংগৃহীত সম্পদ হস্তান্তর ও গোপনের চেষ্টা করার অভিযোগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া এবং তাঁর পরিবারের বিভিন্ন সদস্যদের বেশ কিছু সম্পদ ক্রোক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ওই সকলের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়েছে।

    দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এই আবেদন করলে, ঢাকার মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ রোববার এসব নির্দেশ দেন বলে দুপুরে দুদকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) তানজির আহমেদ জানিয়েছেন।

    দুদকের আবেদনে বলা হয়েছে, আছাদুজ্জামান মিয়া, তাঁর স্ত্রী আফরোজা জামান, দুই ছেলে — আসিফ শাহাদাৎ ও আসিফ মাহদিন, মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকা, শ্যালিকা পারভীন সুলতানা এবং শ্যালক হারিচুর রহমান— এ পরিবারের নাম করে ঢাকার রমনা, জোয়ার সাহারা, মোহাম্মদপুরের রামচন্দ্রপুর, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প, গাজীপুরের কালীগঞ্জ, ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা ও ভাঙ্গায় মোট ২২ কোটি ৬৫ লাখ ৫২ হাজার ৩৩০ টাকার বাড়ি, ফ্ল্যাট ও জমি রয়েছে।

    দুদক জানায়, আয়ের উৎসের বাইরে থাকা এই সম্পদের বিষয়ে অভিযোগ অনুসন্ধান করতে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি দল গঠন করা হয়েছে। তদন্তে তাদের কাছে তথ্য মিলেছে যে পরিবারের সদস্যরা অবৈধভাবে অর্জিত এসব সম্পদ অন্যত্র হস্তান্তর বা স্থানান্তর করার, কিংবা গোপন বা নাশ করার চেষ্টা করছিলেন। বিশ্বস্ত সূত্রে জানায়, এসব কারণে তৎক্ষণাত ক্রোক করে রাখাই অনুসন্ধানের স্বার্থে জরুরি বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    দুদক কর্মকর্তারা বলছেন, যদি সম্পদগুলো ক্রোক না করা হয় তবে ভবিষ্যতের বিচারে রাষ্ট্রের অনুকূলে তা বাজেয়াপ্ত করা কঠিন হবে এবং ফলে রাষ্ট্রকে অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে। তাই অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও সম্ভাব্য প্রক্রিয়া থেকে সম্পদের অপচয় রোধ করতে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

  • সরকারের কঠোর বার্তা দুর্নীতি ৩০ শতাংশ কমাতে পারে: তারেক রহমান

    সরকারের কঠোর বার্তা দুর্নীতি ৩০ শতাংশ কমাতে পারে: তারেক রহমান

    দুর্নীতি সহ্য করা হবে না সরকারের পক্ষ থেকে যদি কঠোর বার্তা প্রদান করা হয়, তাহলে দেশের অনিয়ম-দুর্নীতি প্রায় ৩০ শতাংশ কমে যেতে পারে বলে মনে করছেন বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমান। রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকালে চট্টগ্রামের হোটেল রেডিসন ব্লুতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীর সঙ্গে এক যুব পলিসি টক-এ তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাপচারিতায় দেশের শিক্ষা, কর্মসংস্থান, কৃষি, নারীর ক্ষমতায়ন এবং দেশের সমग्र উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন। শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের জবাব দেন এবং তরুণদের সততা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করার পরামর্শ দেন। তারেক রহমান বলেন, দোষারোপের রাজনীতি থেকে বের হয়ে আসতে তরুণদের আহ্বান জানিয়ে, রাজনীতি করতে গিয়ে একে অন্যকে দোষারোপের প্রবণতা পরিহার করতে হবে। এর পরিবর্তে, দেশের জন্য সুস্থ ও নির্মল উন্নয়নের ধারণা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। পাশাপাশি, বিদেশে পড়াশোনা করতে গিয়ে আর্থিক সংকটে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য স্টুডেন্ট লোনের পরিকল্পনাও প্রস্তুত করছে বিএনপি। তিনি আরও বলেন, খাল খনন করলে বৃষ্টির পানি ধারণের পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানির স্তরও বাড়বে। বিএনপি নেতার মতে, ‘ক্ষমতায় গেলে দেশের ২০ হাজার কিলোমিটার জলাধার তৈরি করার পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে।’ প্রতিশ্রুতি ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্যই কার্যকরতা থাকে, যা না করলে জনগণের আস্থা হারাবে। তারেক রহমান জানান, আইনশৃঙ্খলা শক্তিশালী করতে ও দুর্নীতি রোধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি বলেন, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির প্রভাব সমাজে গভীরভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। একমাত্র সরকার যদি জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন করে, তাহলে এই অপরাধ অনেক কমে যাবে। বিএনপি ভবিষ্যতে ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটগুলোর উপর বিশেষ নজর দিতে চায়, যেখানে আগামী ৫-১০ বছরে বৈশ্বিক দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ হয় এমন কারিগরি শিক্ষার নতুন ধারনা যুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ শ্রমশক্তি গড়ে তোলা যাবে। পলিসি টক শেষে তারেক রহমান সাড়ে ১১টায় চট্টগ্রাম পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে অংশ নেন। এরপর তিনি ফেনীর পাইলট স্কুল খেলার মাঠ, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম হাইস্কুল মাঠ, সোয়াগাজী ডিগবাজারে ও দাউদকান্দি উপজেলার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে পৃথক নির্বাচনী সমাবেশে বক্তৃতা করবেন। দিনশেষে তিনি নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর বালুর মাঠে অনুষ্ঠিত সমাবেশে উপস্থিত থাকবেন এবং ঢাকার গুলশানে নিজস্ব বাসভবনে ফিরে যাবেন। এই সফরেও তার সঙ্গে বিএনপির বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

  • বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করলেন ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা

    বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করলেন ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা

    শান্তিপ্রিয় বাংলাদেশের আসন্ন উন্নয়নকে সমর্থন ও গভীর বন্ধনকে পুনঃপ্রকাশ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা। তিনি আশ্বাস দেন, ভারত একটি গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল, শান্তিপ্রিয়, প্রগতিশীল এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশকে অব্যাহতভাবে সমর্থন করবে। শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ভারতের ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসের এক শুভেচ্ছা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

    প্রণয় ভার্মা আরো বলেন, ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি, সদ্য স্বাধীন ভারতের জনগণ নিজেদের জন্য একটি নতুন সংবিধান তৈরি করেন এবং দেশটিকে একটি সার্বভৌম প্রজাতন্ত্র হিসেবে ঘোষণা করেন। তারা সকলের জন্য ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা, সমতা এবং মর্যাদার অঙ্গীকার দ্বারা আবদ্ধ হন। এর পর থেকেই বিগত ৭৬ বছরে ভারত এক দরিদ্র দেশ থেকে বৈশ্বিক গণতন্ত্রের অন্যতম বৃহৎ শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে, যেখানে আধুনিকতা, আত্মবিশ্বাস ও অগ্রগামিতা স্পষ্ট। আজ বিশ্বের অর্থনীতি ও সামাজিক উন্নয়নে ভারত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, বৈশ্বিক সমস্যার সমাধানে অগ্রসর হচ্ছে।

    তিনি উল্লেখ করেন, এই যাত্রায় বাংলাদেশ ভারতের জন্য একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় একত্রে যে ত্যাগ আর সংগ্রামের ইতিহাস গড়া হয়েছে, তা আজও আমাদের সম্পর্কের গভীরতা ও দৃঢ়তা অবিচ্ছিন্ন করে রেখেছে।

    ভারতের এই কূটনীতিবিদ উল্লেখ করেন, সাহিত্য, সংগীত ও শিল্পকলার মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর হচ্ছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে কাজী নজরুল ইসলাম— এ ধরনের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা দুই দেশের মধ্যে এক গভীর সত্তা স্থাপন করে দিয়েছেন। নৃত্য, নাটক ও চলচ্চিত্রের বৈচিত্র্যময় ঐতিহ্যও এই সম্পর্ককে আরও সমৃদ্ধ করে।

    প্রণয় ভার্মা বলেন, আন্তর্জাতিক আর্থিক ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রেও ভারত ও বাংলাদেশের দ্রুত সমন্বয় সাধন করছে। আন্তঃসীমান্ত পাইপলাইন, বিদ্যুৎ সংযোগ লাইন এবং জ্বালানি ব্যবস্থার উন্নয়ন এই সম্পর্কের শক্তিশালী দৃষ্টান্ত। এসব উদ্যোগ বাংলাদেশে তৈরি পোশাক ও ফার্মাসিউটিক্যালস শিল্পের সক্ষমতা বাড়াচ্ছে, পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করে তুলছে।

    তিনি ভবিষ্যতের জন্য উপসংহার টেনে বলেন, এই সফল অংশীদারিত্ব আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে, যেখানে স্বার্থে-সুবিধায়, টেকসই উন্নয়নে এবং সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠায় নিয়োজিত রয়েছে। টেকসই অর্থনীতি ও উদ্ভাবনীপ্রিয় তরুণ জনগোষ্ঠী দুই দেশের জন্য ভবিষ্যতের পথ সুগম করছে।

    ভারতীয় হাইকমিশনার উল্লেখ করেন, যৌথ ডিজিটাল ইকোসিস্টেম, আঞ্চলিক মূল্য শৃঙ্খল ও জ্বালানি করিডোর নির্মাণের মাধ্যমে উভয় দেশের অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হবে। পরিবেশগত স্থায়িত্ব, জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলা এবং উভয় দেশের বাস্তুতন্ত্রের সংরক্ষণে কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্বারোপ করেন।

    অবশেষে, তিনি আজকের এই ভারতীয় প্রজাতন্ত্র দিবসের উপলক্ষে বাংলাদেশিদের সঙ্গে এই সম্পর্কের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের এই বন্ধন একত্রে বিশ্বের জন্য শান্তি, সমৃদ্ধি এবং অগ্রগতির পথ প্রশস্ত করবে বলে আশা প্রকাশ করেন, যদিও ভবিষ্যত চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় এ অংশীদারিত্ব শক্তিশালী হতে থাকবে।

  • নির্বাচন প্রস্তুতিতে সন্তুষ্ট কূটনীতিকরা: সিইসি

    নির্বাচন প্রস্তুতিতে সন্তুষ্ট কূটনীতিকরা: সিইসি

    আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত করার ব্যাপারে বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশি কূটনীতিকরা নির্বাচনী পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেছেন, নির্বাচন কমিশনের সমগ্র প্রস্তুতির ব্যাপারেও তারা আত্মবিশ্বাসী। গত রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুর সোয়া ১২টার সময় রাজধানীর গুলশানে দ্য ওয়েস্টিন হোটেলে কূটনীতিকদের সঙ্গে এক সভা শেষে সাংবাদিকদের জানান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি জানান, নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য নেওয়া সব ধরনের পদক্ষেপ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে, এবং এতে কূটনীতিকরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা কমিশনের কাজের প্রশংসাও করেছেন। সিইসি আরো বলেন, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনও ধরণের অনিয়ম বা দুর্নীতির সুযোগ থাকছে না, যা তারা নিশ্চিত করেছেন। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলের মধ্যে আস্থা তৈরি করতে নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি সম্পর্কে সচেতন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, নির্বাচন চলাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও কূটনীতিকরা আগ্রহী হওয়ায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, পুলিশ, সেনাবাহিনী ও আনসারসহ নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন থাকবে। সিইসি আরও বলেন, কূটনীতিকরা নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা বুঝতে পেরেছেন এবং তারা ভবিষ্যতেও সহযোগিতা দেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও একটি সুন্দর নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশন উৎসাহী থাকবেন। এর আগে, সকাল ১০টার দিকে দ্য ওয়েস্টিন হোটেলের বক্তব্যে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাতিসংঘের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের সময় নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি, নির্বাচনী প্রক্রিয়া, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নিয়োগ, স্বচ্ছতা ও আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক আলোচনাও হয়। নির্বাচন কমিশনের জিএস আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, এই বছর ৮৩টি বিদেশি পর্যবেক্ষক সংস্থাকে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, যার মধ্যে ৩৬টি সংস্থা ইতিমধ্যে নিশ্চিত করেছে। এছাড়াও, প্রায় ৫০ জন বিদেশি সাংবাদিক ও ৭৮ জন পর্যবেক্ষক আসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে অবস্থান করবেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষকদের সংখ্যা প্রায় ৫৮ জন বলে জানা গেছে, যা মোট বিদেশি পর্যবেক্ষকদের সংখ্যা প্রায় ৩০০-এর কাছাকাছি হতে পারে। ভোটের আগে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশি ও বৈদেশিক সাংবাদিকসহ বিদেশি পর্যবেক্ষকদের আবেদন করার সুযোগ ছিল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি নির্দেশনা জারি করে বিদেশি নাগরিকদের ভিসা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য ও নির্দেশনা দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের ভিসার জন্য বাংলাদেশ সরকারের অনুমতি ও বিশেষ নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।

  • প্রধান নির্বাচ কমিশনারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি

    প্রধান নির্বাচ কমিশনারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি

    আদালতের আদেশ অমান্য করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে হাইকোর্ট একটি রুল জারি করেছেন। রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল স্থাপন করেন। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ। শুনানি শেষে তিনি বলেন, গত বছর ২৭ আগস্ট হাইকোর্ট একটি রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের বিষয়ে একটি আবেদন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু সিইসি সেই আদেশ বাস্তবায়ন করেননি। এই কারণেই তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হয়েছে। এর আগে, ‘কৃষক শ্রমিক জনতা পার্টি’ নামে একটি রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের জন্য অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ প্রধান নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু সেই আবেদন নিষ্পত্তি না করায় তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন।