Category: জাতীয়

  • ১৭ বছরের ওয়াকিমুলের ‘এ টু আই স্মার্ট কারে’ চড়লেন প্রধানমন্ত্রী

    ১৭ বছরের ওয়াকিমুলের ‘এ টু আই স্মার্ট কারে’ চড়লেন প্রধানমন্ত্রী

    বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন তরুণ ওয়াকিমুল ইসলাম যে গাড়িটি বানিয়েছেন—‘এ টু আই স্মার্ট কার’—সেই ছোট ব্যাটারি চালিত বাহনে কিছু সময়ের জন্যই correct প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বসে প্রদর্শনী চালিয়ে দেন তিনি। শনিবার (৯ মে) সকালে তেজগাঁওস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ওয়াকিমুলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে উষ্ম অভ্যর্থনা জানান এবং এই কৃতিত্বকে উৎসাহিত করেন।

    ওয়াকিমুল সামান্য ডিহবিল্ট শিশুর মতো নয়—তিনি নিজেই গাড়িটি সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেন এবং মুহূর্তেই প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে গাড়ি চালিয়ে দেখান। প্রধানমন্ত্রীর পেছনে বসে গাড়িটির কার্যকারিতা পরীক্ষা করে তিনি ১৭ বছর বয়সী এই তরুণকে দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে এরকম সৃজনশীল উদ্যম প্রকাশ করার জন্য প্রশংসা করেন।

    প্রধানমন্ত্রী একই সঙ্গে কম খরচে আরও আধুনিক ও ব্যবহারবান্ধব স্মার্ট কার তৈরির পরামর্শ দেন এবং এমন সৃজনশীল উদ্যোগে সরকারের পক্ষ থেকে সমর্থনের আশ্বাসও দেন।

    ওয়াকিমুল সাক্ষাৎকালে জানান, আগে সারাদিন বাড়িতেই থাকতেন, একা বাইরে যেতে পারতেন না—এই সমস্যা থেকেই তিনি নিজেভাবে চলাফেরার উপায় খুঁজতে গিয়ে গড়েছেন এই স্মার্ট কার। তিনি প্রয়োজনে সহায়তা পেলে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আরও উন্নত মডেল তৈরি করতে পারবেন এবং সেই গাড়ি কেবল বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদেরই নয়, বয়স্কদের জন্যও ব্যবহার উপযোগী হবে বলেও জানান।

    ওয়াকিমুল যশোরের চৌগাছা সরকারি কলেজে একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র। তাঁর পিতা একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। তাঁর পাশে ছিলেন বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির (বিপিকেস) প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক আবদুস সাত্তার দুলাল, যিনি জানান—গাড়িটি একবার চার্জে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারে এবং সর্বোচ্চ গতি প্রায় ৪৫ কিমি/ঘণ্টা।

    সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

    ওয়াকিমুলের পরিচ্ছন্ন ও পরিষ্কার ধারণা, সহজগতির ডিজাইন ও দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি—সব মিলিয়ে এই উদ্যোগ থেকে ভবিষ্যতে আরও সাশ্রয়ী ও বহুমুখী স্মার্ট ট্রান্সপোর্ট গড়ে ওঠার সম্ভাবনা থাকলে সরকারিভাবে সহযোগিতা দিলে তা দ্রুত বাস্তবে রুপ নেবে, এটাই অনুষ্ঠানের মূল প্রেক্ষাপট ছিল।

  • নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে ‘নতুন সংগ্রামে’ নামার আহ্বান

    নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে ‘নতুন সংগ্রামে’ নামার আহ্বান

    বিএনপি চেয়ারেন তারেক রহমান দলের মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে সক্রিয় সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছিলেন, দলের সমর্থন ও সমন্বয় ছাড়া সরকারের কাজ সফল হবে না—তাই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের জন্য এখনই ‘নতুন সংগ্রামে’ নামতে হবে।

    শনিবার (৯ মে) সকালে রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন (কেআইবি) মিলনায়তনে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। সভায় দলের যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতারা অংশগ্রহণ করেন।

    তারেক রহমান বলেন, ‘‘এক যুদ্ধ শেষ হয়েছে, এখন আরেকটি যুদ্ধ শুরু হয়েছে—এটা হলো আমরা জনগণকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সেগুলো বাস্তবায়ন করা।’’ তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মাঠে থাকা নেতাকর্মীরা নির্বাচনটি কতটা কঠিন ছিল তা প্রত্যক্ষ করেছেন এবং মানুষ আমাদের ম্যানিফেস্টো ও ইশতেহারের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

    চেয়ারম্যান বলেন, নির্বাচনের আগে তাদের দেওয়া ইশতেহার এখন জনগণের ইশতেহারে রূপ নিয়েছে। ‘‘নির্বাচনের আগ পর্যন্ত এটা ছিল বিএনপির ম্যানিফেস্টো; নির্বাচন ও সরকার গঠনের পরে এটা বাংলাদেশের জনগণের ইশতেহারে পরিণত হয়েছে,’’ তিনি যোগ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে দেশব্যাপী ভোটারদের প্রায় ৫২ শতাংশ ম্যানিফেস্টোর পক্ষে ভোট দিয়েছেন, তাই সেই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাতে হবে।

    তারেক রহমান আরও বলেন, নির্বাচনের আগে তারা সুশাসন, শিক্ষার উন্নয়ন এবং নারী-পুরুষ-শিশু সবাইকে নিরাপদ পরিবেশ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এক সময়ে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিজমের বিরুদ্ধে লড়াই চলাকালে যে অত্যাচার-নির্যাতন, গুম-হত্যার ঘটনা ঘটেছে, সেই পরিস্থিতি বদলে Debated ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ফিরে আনাই তাদের লক্ষ্য ছিল।

    তিনি বলেন, সরকার আছে, কিন্তু বিএনপি যদি সহযোগিতা না করে many ক্ষেত্রেই সরকার সফল হবে না। বিএনপির সাফল্য নির্ভর করে এখানে উপস্থিত প্রত্যেকের সরকারের পাশে দাঁড়ানোর ওপর—তারই জন্য মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।

    সকাল পৌনে ১১টায় শুরু হওয়া মতবিনিময় সভাটি দিনব্যাপী রুদ্ধদ্বারের আয়োজন ছিল। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সভার সভাপতিত্ব করেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহ উদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান ও এজেডএম জাহিদ হোসেনও ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন।

    এটি ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ওই সংসদীয় নির্বাচনের পর দলের মাঠ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে চেয়ারেন তারেক রহমানের প্রথম বড় মতবিনিময় সভা বলে জানানো হয়েছে।

  • আইজিপির মত, সরকার পুলিশের প্রতি গভীর আন্তরিকতা ও সহানুভূতি প্রদর্শন করছে

    আইজিপির মত, সরকার পুলিশের প্রতি গভীর আন্তরিকতা ও সহানুভূতি প্রদর্শন করছে

    পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির বলেছেন যে, বর্তমান সরকার পুলিশের প্রতি অত্যন্ত আন্তরিক ও সহানুভূতিশীল। দেশের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী আইনশৃংখলা পরিস্থিতির উন্নয়নে পুলিশকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে। শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকায় নতুন নির্মিত ৩০০ ফুট এলাকা পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

    আইজিপি উল্লেখ করেন, নির্বাচনী ইশতেহারে বর্তমান সরকার দেশের আইনশৃংখলা পরিস্থিতি উন্নয়নের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছিল। তিনি উল্লেখ করেন আগে পুলিশ ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রয়োজনীয় কাজের মধ্যে আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে অনেক সময় সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হতো, তবে এখন এই পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এসেছে। নতুন সরকার তৎপরভাবে কাজ করছে এবং জনতার প্রত্যাশা অনুযায়ী আইনশৃংখলা পরিস্থিতি উন্নয়নে সম্পূর্ণভাবে সহযোগিতা করছে।

    পুলিশ বাহিনীতে জনবল সংকটের ব্যাপারে আইজিপি জানান, নতুন বাজেটের আওতায় এই সমস্যা সমাধানে সরকার আশ্বাস দিয়েছে। জনগণ ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন তিনি, যেখানে বাংলাদেশ পুলিশ এখন আরও আধুনিক, জনবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিং ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। জনগণের দোরগোড়ায় সার্বক্ষণিক সেবা পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়ে তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এক্ষেত্রে জনতা ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা ছাড়া টেকসই আইনশৃংখলা পরিস্থিতির উন্নয়ন সম্ভব নয়।

    পুলিশ সপ্তাহের আয়োজন প্রসঙ্গে আলী হোসেন ফকির বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অন্যান্য কারণে গত সময়ে পুলিশ সপ্তাহের আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। তবে এবার নতুন সরকারের অধীনে এক নতুন আঙ্গিকে পুলিশ সপ্তাহ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, একসময় পুলিশ একটু বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে ছিল, কিন্তু এখন পরিস্থিতি অনেকটাই গুছিয়ে আনা হয়েছে।

  • প্রধানমন্ত্রীর দেখা পেলেন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন তরুণের চমৎকার স্মার্ট কার

    প্রধানমন্ত্রীর দেখা পেলেন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন তরুণের চমৎকার স্মার্ট কার

    বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন তরুণ ওয়াকিমুল ইসলাম তার তৈরিকৃত ‘স্মার্ট কারে’ চড়ে দেশব্যাপী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছেন। শনিবার (৯ মে) সকালে তেজগাঁওস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করেন। এই সুযোগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ওয়াকিমুলের তৈরি ছোট এই বৈদ্যুতিন বাহনটি দেখেন এবং পরে তাকে নিয়ে স্বচালিত স্মার্ট কারটি চালিয়ে দেখান। এই ব্যাটারিচালিত স্মার্ট যানটির নাম ‘এ টু আই স্মার্ট কার’ রাখা হয়েছে। ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​   ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​   ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলদেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে তরুণের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ খুব সহজে ও কম খরচে আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধা পেতে পারবেন। তিনি আরও বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে এই ধরনের সৃজনশীল প্রকল্পগুলোর জন্য সব ধরনের সহায়তা ও সহযোগিতা দেওয়া হবে। ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ তিনি তরুণের কাজের গল্প শুনে মুগ্ধ হন এবং বলেন, দেশীয় প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে সমাজে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হচ্ছে। ​ ​ ​ দূরদর্শী এই তরুণ নিজেই জানান, একসময় তিনি সারাদিন বাসায় বসে থাকতেন, বাইরেযাত্রা করতে পারতেন না। এই সমস্যার সমাধানে তিনি নিজ উদ্যোগে ছোট এই স্মার্ট কার বানানোর সিদ্ধান্ত নেন। যশোরের চৌগাছা সরকারি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ওয়াকিমুল ইসলাম পিতা একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, যদি সরকারের সহযোগিতা পায় তিনি আরও উন্নতমানের ও সহজে ব্যবহারের উপযোগী স্মার্ট কার তৈরি করতে পারবেন। এতে বয়স্ক ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি সহজে চলাফেরা করতে পারবে। ​ ​ ​ বিপিকেসের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক আবদুস সাত্তার দুলাল জানান, এই যানটি একবার চার্জ দিয়ে প্রায় ৫০ কিলোমিটার চলতে পারে এবং সর্বোচ্চ গতিবেগ ৪৫ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা। ​ ​ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সাথে উপস্থিত ছিলেন তার প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।

  • কাপাসিয়ায় পরিবারের পাঁচজনের নির্মম হত্যাকাণ্ড

    কাপাসিয়ায় পরিবারের পাঁচজনের নির্মম হত্যাকাণ্ড

    গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়েছে এলাকাজুড়ে। সকালে স্থানীয়রা বাড়ির ভেতরে রক্তাক্ত অবস্থায় তিন শিশু, একজন নারী ও একজন যুবকের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহগুলো উদ্ধার করে বিশ্লেষণের জন্য পাঠায়।

    শুক্রবার (৮ মে) রাতের কোনো এক সময় এই নিদারুণ হত্যাকাণ্ডটি ঘটে বলে প্রথমে ধারণা করা হচ্ছে। কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর আলম নিশ্চিত করে জানান, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার সন্দেহে পলাতক স্বামী ফুরকান মিয়া ঘটনায় জড়িত থাকতে পারেন।

    নিহতরা হলেন— ফুরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন বেগম (৩২), শ্যালক রসুল মিয়া (২২), তাদের মেয়ে মিম (১৪), হাবিবা (১০) ও ফারিয়া (২)। তারা গোপালগঞ্জ জেলা থেকে জীবিকার সন্ধানে গাজীপুরের কাপাসিয়া রাউৎকোন গ্রামে ভাড়া থাকা বাসায় বাস করতেন।

    প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে জানা গেছে, পারিবারিক কলহের কারণে শুক্রবার গভীর রাতে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। অভিযুক্ত স্বামী ফুরকান পালিয়ে গেছে। তবে শনিবার ভোরে নিহতের স্বজনরা ফোন করে জানান, তারা ফুরকানকে খুঁজছেন—সে নিহতের পরিবারের সদস্যদের মোবাইলে যোগাযোগ করেছে। এরপর সকালে পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় মরদেহগুলো দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন। স্থানীয় লোকজন এসে পুলিশে খবর দেন, এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহগুলো উদ্ধার করে।

    ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা গভীর শোক ও শোকের ছায়ায় আছেন। একজন স্থানীয় বাসিন্দা, আমান উল্লাহ বলেন, মাঝে মধ্যেই পারিবারিক ছোটোখাটো ঝগড়া-বিবাদ হতো। কিন্তু ফুরকান মিয়া এত বড় অপরাধ করবে, এটা কেউ বিশ্বাস করতে পারত না। তিনি আরও বলেন, তার শ্যালক এই পরিবারের সঙ্গে থাকতেন এবং তিনটি ফুটফুটে বাচ্চাকে এভাবে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে, যা ভাবতেও কষ্ট হয়।

    একইভাবে একজন প্রতিবেশী, জাহানারা আক্তার বলেন, গতকাল বিকেলে বাচ্চারা বাড়ির উঠানে খেলাধুলা করছিল। কে জানতো যে, এই রাতে তাদের এমন নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটবে। সকালে মানুষ চিৎকার শুনে এসে দেখেন, একেকটি মরদেহ একেক দিকে পড়ে আছে।

    অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, এই খুনের পেছনে স্বামী ফুরকান মিয়া জড়িত। তবে তার সঙ্গে আরও কেউ থাকতে পারেন—এমন একটি সন্দেহ রয়েছে। তিনি আরও জানান, ফুরকানকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান চালানো হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের জন্য কাজ চলছে।

  • ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহত

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহত

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার সীমান্তে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (৮ মে) রাত সোয়া ১১টার দিকে, কসবা উপজেলার ধজনগর সীমান্তের ভারতীয় অংশে। বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষা বাহিনী (বিজিবি) এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

    নিহতদের মধ্যে একজনের নাম জানা গেছে, তিনি হলেন মো. মোরছালিন (২২), যিনি কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের ধজনগর বাতানবাড়ি এলাকার হেবজু মিয়ার ছেলে। মোরছালিন স্থানীয় শাহআলম ডিগ্রি কলেজের একজন শিক্ষার্থী ছিলেন। অন্য একজনের নাম এখনো জানা যায়নি। বিজিবি বলছে, নিহতরা চোরাকারবারির সঙ্গে জড়িত ছিল।

    নিহত মোরছালিনের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, রাতে স্থানীয় কয়েকজন এসে তাদের ছেলে-মেয়েকে ডেকে সীমান্তে নিয়ে যায়। সীমান্তের ভারতের অংশে পৌঁছানোর পর বিএসএফের সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে মোরছালিন ঘটনাস্থলেই মারা যান, পরে বিএসএফ তার মরদেহ ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যায়।

    বিজিবি জানায়, গত রাত বাংলাদেশের অায়ুর কাছে প্রায় ১৫ জন চোরাকারবারি ভারতীয় চোরাকারবারিদের সহযোগিতায় সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করে চোরাচালানের জন্য। পরে, মালামাল নিয়ে ফেরার সময় বিএসএফের পাথারিয়াদ্বার ক্যাম্পের টহলরত সদস্যরা তাদের বাধা দিলে, চোরাকারবারিরা বিএসএফের ওপর হামলা করে। এ সময় গুলির ঘটনায় দুই বাংলাদেশি – মো. মোরছালিনসহ অন্য একজন – গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।

    বিজিবি আরও জানিয়েছে, তারা বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিহতদের মরদেহ ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা চালাচ্ছে। এ বিষয়ে স্বতন্ত্রভাবে নোট পাঠানো হয়েছে এবং পতাকা বৈঠকের প্রক্রিয়াও চলছে। এ ঘটনার পর উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

  • ফখরুল, তামিম ও ফাতেমাসহ ১৫ বিশিষ্ট ব্যক্তিকে ‘খালেদা জিয়া স্মৃতি স্বর্ণপদক’ প্রদান

    ফখরুল, তামিম ও ফাতেমাসহ ১৫ বিশিষ্ট ব্যক্তিকে ‘খালেদা জিয়া স্মৃতি স্বর্ণপদক’ প্রদান

    সম্প্রতি চালু করা নতুন বছর ২০২৬-এর জন্য ‘আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি স্বর্ণপদক’ দেওয়ার জন্য দেশের ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে নির্বাচন করা হয়েছে। এই ঘোষণা শুক্রবার একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়। পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে স্থান পেয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি তামিম ইকবাল, আরেকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি বেগম জিয়ার ব্যক্তিগত সহকারী ফাতেমা বেগম, এবং বিভিন্ন খাতের সরকারী উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও গুণী ব্যক্তিরা।

    পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে আরো রয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ড. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল­াহ, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। এছাড়া গণমাধ্যম ও সমাজসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য উপস্থিত হয়েছেন বাসসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামাল উদ্দিন সবুজ, জনপ্রিয় সংগঠক সানজিদা ইসলাম তুলী, সাহিত্যিক ড. মাহবুব হাসান, যুগান্তর সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার এবং সাংবাদিক আশরাফ কায়সার।

    শিল্প ও বাণিজ্যক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই তালিকায় স্থান পেয়েছেন শিল্পপতি ড. আবুল কাশেম হায়দার এবং ব্যবসায়ী আবদুল হক। উল্লেখযোগ্য যে, এই পুরস্কারটির প্রবর্তন করেছে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত সংগঠন ‘বাংলাদেশ প্রবাসী নাগরিক কমিটি, ইনক’। এই সংগঠনটি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে, দেশের উন্নয়নমূলক বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য ব্যক্তিদের সম্মানিত করতে চলতি বছর থেকে এই পুরস্কারটি প্রতি বছর নিয়মিতভাবে প্রদান করা হবে। এর মাধ্যমে দেশের স্বার্থে কাজ করা ব্যক্তিদের উৎসাহিত ও সম্মাননা জানানো হবে, যা দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।

  • বিরল মশাবাহিত রোগে সিভাসু’র অধ্যাপক ড. জাকিয়া সুলতানা জুথির মৃত্যু

    বিরল মশাবাহিত রোগে সিভাসু’র অধ্যাপক ড. জাকিয়া সুলতানা জুথির মৃত্যু

    চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস ইউনিভার্সিটি (সিভাসু)-র ফুড সায়েন্স ও টেকনোলজি অনুষদের অধ্যাপক ড. জাকিয়া সুলতানা জুথি বিরল মশাবাহিত ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (৭ মে) ভোরে নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

    পারিবারিক ও হাসপাতালের সূত্রে জানা যায়, গত ৪ মে ড. জুথি সামান্য জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা ও বমি নিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। শুরুতে এটি সাধারণ ফ্লু হিসেবে ধরা হলেও দ্রুত তার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে। প্রথমে তাকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে তাঁর শরীরে মারাত্মক পরিবর্তন দেখা দেয়; চিকিৎসকরা ‘মাল্টিপল স্ট্রোক’ নির্ণয় করে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।

    উন্নত চিকিৎসার জন্য পরে তাকে চট্টগ্রামের এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেখানে পৌঁছানোর সময় তিনি ক্লিনিক্যালভাবে ‘ব্রেইন ডেড’ অবস্থায় ছিলেন। হাসপাতালে চিকিৎসা কেন্দ্রীক একজন চিকিৎসক, ডা. কাউসারুল আলম জানান, ভর্তির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রোগীর স্নায়বিক জটিলতা এবং স্ট্রোক দেখা দেয়; ক্লিনিক্যাল পরিস্থিতি বিশ্লেষণের পর চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা ছিল এটি জাপানিজ এনসেফালাইটিস হতে পারে।

    জাপানিজ এনসেফালাইটিস মূলত কিউলেক্স নামক মশার মাধ্যমে ছড়ায় এবং সরাসরি মানুষের মস্তিষ্কে আক্রমণ করে। এটি তুলনামূলকভাবে বিরল হলেও গুরুতর জটিলতা ও মৃত্যুর কারণ হতে পারে। হাসপাতাল ও পরিবারের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ড. জুথির ক্ষেত্রেও ভাইরাসজনিত ঘনিষ্ঠ স্নায়বিক জটিলতার ফলে দ্রুত অবনতি ঘটে।

    ড. জাকিয়া সুলতানা জুথি ছিলেন ২০০৭-০৮ সেশনের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের একজন। তিনি জাপানের হিরোশিমা ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি ও কিউশু ইউনিভার্সিটি থেকে পোস্ট-ডক্টরাল গবেষণা সম্পন্ন করে সম্প্রতি দেশে ফেরেন। চলতি বছরের শুরুতে সিভাসুতে তিনি অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পান।

    ব্যক্তিগত জীবনে তার স্বামী ড. শাহরিয়ার হাসেম অর্ণবও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং তাদের একটি পাঁচ বছরের সন্তান রয়েছে।

    সিভাসু উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান এক শোকবার্তায় বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় একজন নিবেদিতপ্রাণ বিজ্ঞানীকে হারাল; ড. জুথির মৃত্যু দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা খাতের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।

  • ডিএনএ পরীক্ষায় ধরা পড়ল আসল পিতা, ধর্ষণ মামলায় বিনাদোষে কারাভোগ করেন ইমাম

    ডিএনএ পরীক্ষায় ধরা পড়ল আসল পিতা, ধর্ষণ মামলায় বিনাদোষে কারাভোগ করেন ইমাম

    ফেনীর পরশুরামের বক্সমাহমুদ ইউনিয়নে এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে জড়িয়ে এক ইমাম মাসখানেক জেলে কাটাতে বাধ্য হন — পরে ফরেনসিক ডিএনএ পরীক্ষায় প্রকাশ পায় আসল দোষী ওই কিশোরীর বড়ভাই।

    অভিযুক্ত ইমাম মোজাফফর আহমদ (২৫)কে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের পর মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। ফরেনসিক পরীক্ষায় কিশোরীর ভূমিষ্ঠ সন্তানের সঙ্গে মোজাফফরের ডিএনএ মেলেনি। বরং তদন্তে ধরা পড়েছে শিশুটির পিতা ছিলেন কিশোরীর বড়ভাই মোরশেদ (২২)।

    মোজাফফর অভিযোগ করেন, মিথ্যাচারের জের ধরে তিনি সামাজিক ও পারিবারিকভাবে প্রতারিত হয়েছেন। মসজিদের ইমামতি ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চাকরি হারাতে হয়; এক মাস দুই দিন কারাবন্দি ছিলেন; মানহানি ও আর্থিক ক্ষতির ফলে মামলার খরচ চালাতে বাড়ির পাশে থাকা মূল্যবান ৫ শতক জমি বিক্রি করতে বাধ্য হন। তিনি কারাভোগ, মানহানি ও অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।

    পুলিশ ও ফরেনসিক প্রতিবেদনের বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৯ সালে মক্তবের পাঠ শেষ করার পর ওই কিশোরী পাঁচ বছর পর অন্তঃসত্ত্বা হন এবং পরে সন্তান প্রসব করেন। ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর কিশোরীর পরিবার মক্তব শিক্ষক মোজাফফর আহমদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করে। মোজাফফর আপত্তি করলেও তাতে কাজ হয়নি; ২৬ নভেম্বর আদালতে মিথ্যা অভিযোগের মামলা দাখিল করতে গেলে তাঁকে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয় এবং তিনি এক মাস দুই দিন কারাভোগ করেন। ২৮ ডিসেম্বর জামিনে বেরিয়ে আইনি লড়াই চালান তিনি।

    প্রাথমিক ফরেনসিক তদন্তে কিশোরীর সংরক্ষিত ভ্যাজাইনাল সোয়াবে পুরুষ বীর্যের উপাদান শনাক্ত না হওয়ায় মোজাফফরের ডিএনএ প্রোফাইলের সঙ্গে তুলনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। এরপর কিশোরী ও তার সদ্য ভূমিষ্ঠ হওয়া শিশুটিকে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য আদালতের মাধ্যমে পরীক্ষাাগারে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    ফরেনসিক রিপোর্ট ফেনীতে আসার পর পুলিশ কিশোরীকে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি জানান, আক্রমণকারী ছিলেন তার সহোদর ভাই মোরশেদ। পুলিশ তদন্ত করে ২০২৫ সালের ১৯ মে মোরশেদকে গ্রেপ্তার করে; তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ২০ মে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়া হয়।

    পরবর্তীকালে কিশোরী, তার শিশু সন্তান ও মোরশেদকে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ঢাকার ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়। ৯ আগস্ট প্রকাশ হওয়া ডিএনএ প্রতিবেদনে মোরশেদের ও শিশুটির ডিএনএ মিলেছে—পরীক্ষায় ৯৯.৯৯ শতাংশের মত মিল পাওয়া যায়, যা মোরশেদকে শিশুটির পিতা হিসেবে নিশ্চিত করে। অপরদিকে মোজাফফরের ডিএনএ শিশুটির সঙ্গে মেলেনি।

    এমতাবস্থায় তদন্ত কর্মকর্তা গত ১৭ এপ্রিল আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন, যার মাধ্যমে মোজাফফরকে মামলায় অব্যাহতি দেয়া হয় এবং প্রাথমিকভাবে মোরশেদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে মোরশেদ ফেনী জেলা কারাগারে রয়েছেন।

    মোজাফফর বলেন, ‘‘অবশেষে সত্যের জয় হয়েছে। কিন্তু আমার জীবনে ক্ষতিটা ফিরে পাওয়া যাবে না — সামাজিক অপবাদ, চাকরি হারা, আর্থিক ক্ষতি সব কিছুই হয়েছে।’’

    তাঁর আইনজীবী আবদুল আলিম মাকসুদ বলেন, এমন ঘটনাগুলো দুর্লভ, কিন্তু উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নিরপরাধ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে; ডিএনএ পরীক্ষায় সঠিক তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

    জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের পরশুরাম উপজেলার সাধারণ সম্পাদক মুফতি আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘‘তিনি একজন মজলুম ইমাম ও তালেবে ইলম। তাকে যে মানসিক ও আর্থিক কষ্ট হয়েছে, সেটার ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা এবং আইনগত সহায়তা করা উচিত।’’

    পরশুরাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আশ্রাফুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘‘পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করেছে। ডিএনএ রিপোর্টের পর মোজাফফরের নাম চার্জশিট থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ ধরনের মিথ্যা বা ভুল অভিযোগ সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।’’

    এই ঘটনার সূত্র ধরে স্থানীয়রা বলছে—সত্যি বেরোলে নিরপরাধরা বাঁচবে, কিন্তু মিথ্যা অভিযোগের দরুন একজন মানুষের জীবন ও সম্মান কতটা বিধ্বস্ত হতে পারে, তা ভাবতে বাধ্য করে।

  • ডিএনএ-র জবাবে মুক্তি: ধর্ষণ মামলায় বিনাদোষ ঘোষণা, আসল অভিযুক্ত কিশোরীর বড়ভাই

    ডিএনএ-র জবাবে মুক্তি: ধর্ষণ মামলায় বিনাদোষ ঘোষণা, আসল অভিযুক্ত কিশোরীর বড়ভাই

    ফেনীর পরশুরামের বক্সমাহমুদে এক কিশোরীর ধর্ষণ মামলায় ইমাম মোজাফফর আহমদ (২৫) বিনাদোষী ঘোষণা করা হয়েছে। ফরেনসিক ডিএনএ পরীক্ষায় খুঁজে পাওয়া গেছে বাস্তব আসল অভিযুক্তের ডিএনএ — কিশোরীর বড়ভাই মোরশেদের — ফলে মোজাফফরকে ওই মামলায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

    ঘটনাটি আনুষ্ঠানিকভাবে উঠে আসে দীর্ঘ তদন্ত ও একাধিক ফরেনসিক পরীক্ষার পর। অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর। মামলার প্রাথমিক পর্যায়ে মক্তব শিক্ষক ও ইমাম হিসেবে পরিচিত মোজাফফরকে অভিযুক্ত করা হয়। তিনি শুরু থেকেই নিজেকে সংযুক্ত না বলে দাবি করলেও গ্রামে ও সামাজিকভাবে তার ওপর নানান অপবাদ ছড়ায় এবং এক মাস দুই দিন জেলের নাজেহাল জীবন কাটাতে হয় তাকে।

    মোজাফফর জানিয়েছেন, এই সময় তিনি মসজিদের ইমামতির পদ ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চাকরি হারান। সামাজিক কলঙ্ক, মানহানি ও মামলার খরচ আঞ্জাম দিতে বাড়ির পাশে থাকা গুরুত্বপূর্ণ জায়গা—৫ শতক—বিক্রি করে দিতে হয়। তিনি বলেন, “অবশেষে সত্যের জয় হয়েছে। আমি সামাজিক ও পারিবারিকভাবে অত্যধিক হেনস্তার শিকার হয়েছি। আমি কারাভোগ, সামাজিক মর্যাদাহানি ও আর্থিক ক্ষতিপূরণের দাবি করছি।”

    ফরেনসিক পরীক্ষার প্রথম দফায় কিশোরীর সংরক্ষিত ভ্যাজাইনাল সোয়াব পরীক্ষা করে কোনো বীর্যের উপাদান শনাক্ত করা যায়নি। এরপর তদন্ত আরও গভীর করে পুলিশ। কিশোরীর ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে সে এক পর্যায়ে স্বীকার করে যে তাকে ধর্ষণ করেছে তারই সহোদর ভাই মোরশেদ। তদন্তের এক পর্যায়ে ২০২৫ সালের ১৯ মে মোরশেদ (২২) গ্রেপ্তার হন এবং পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেন; পরদিন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দেন।

    পরে কিশোরী, তার সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশু কন্যা এবং অভিযুক্ত মোরশেদের নমুনা ঢাকার ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হলে ২০২৫ সালের ৯ আগস্ট প্রদত্ত ডিএনএ রিপোর্টে বলা হয়—শিশুটির পিতা হিসেবে মোরশেদের ডিএনএ নমুনা ৯৯.৯৯ শতাংশ মিলেছে। মোজাফফরের ডিএনএ শিশুটির সঙ্গে মিলেনি। এ রিপোর্টের ভিত্তিতেই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে মোজাফফরের নাম অভিযোগপত্র থেকে প্রত্যাহার করে মোরশেদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। গ্রেপ্তারের পর থেকে মোরশেদ ফেনী জেলা কারাগারে রয়েছেন।

    পুলিশ ও তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, কিশোরী ২০১৯ সালে মক্তবের পাঠ শেষ করার পর বাড়িতে থাকা অবস্থায় পাঁচ বছর না যাওয়া পর্যন্ত পরে অন্তঃসত্ত্বা হন এবং পরবর্তীতে সন্তান প্রসব করেন। ঘটনার প্রথম দফায় পরিবারের চাপ কিংবা প্রয়োজনে প্রকৃত দোষীর ওপর নজর রাখতে গিয়ে মোজাফফরের ওপর অভিযোগ চাপানো হয়—যার ফলে এক নির্দোষ মানুষ সমাজে, কাজ ও সংসারে বড় ক্ষতির মুখে পড়েন।

    মোজাফফরের আইনজীবী আবদুল আলিম মাকসুদ বলেন, “এ ধরনের ঘটনা বিরল হলেও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নির্দোষকে ফাঁসানো হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষায় সত্য উদঘাটিত হয়েছে।”

    জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের পরশুরাম উপজেলার সাধারণ সম্পাদক মুফতি আমিনুল ইসলাম বলেন, “তিনি জেনুইন একটি মজলুম ইমাম ও তালেবে ইলম। ক্ষতিগ্রস্ত ইমামের ক্ষতিপূরণ কে দেবে? তাকে মানসিকভাবে সাহসসঞ্চয় করার পাশাপাশি আর্থিক ও আইনগত সহায়তা দেওয়া উচিত।”

    পরশুরাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশ্রাফুল ইসলাম বলেন, “মামলাটি নিয়ে পুলিশ গভীরভাবে তদন্ত করেছে। ডিএনএ রিপোর্টের আলোকে তদন্তে পাওয়া তথ্য-প্রমাণ দেখে অভিযোগপত্র সংশোধন করা হয়েছে। নিরপরাধ একজনকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে—এ ধরনের ঘটনা সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।”

    কাহিনীর এই মোড় অত্যন্ত স্পর্শকাতর—একদিকে একটি কিশোরী ও তার শিশু সঠিক বিচার ও সুরক্ষা পাওয়ার দাবি, অন্যদিকে একজন নিরপরাধ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক কলঙ্ক, কর্মহীনতা ও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। বিচারপ্রক্রিয়া ও ফরেনসিক পরীক্ষার স্বচ্ছতা এই ধরনের ভুল বুঝাবুঝি রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে তদন্তকারীরা মন্তব্য করেছেন।

    সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন