Category: জাতীয়

  • বহু প্রার্থী ও দুটি ব্যালটে ভোট গণনায় সময় বেশি লাগতে পারে

    বহু প্রার্থী ও দুটি ব্যালটে ভোট গণনায় সময় বেশি লাগতে পারে

    এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের দুটি ব্যালটে ভোট দিতে হবে। এছাড়া, সারাদেশে নির্বাচনে প্রার্থীর সংখ্যাও বেশি হওয়ায় ভোট গ্রহণ এবং গণনা প্রক্রিয়ায় আগের চেয়ে কিছুটা বেশি সময় লাগতে পারে বলে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন। তিনি আরও জানান, এই নির্বাচনে বিদেশ থেকে প্রায় ৫০০ পর্যবেক্ষক ও সংবাদদাতা অংশ নেবেন।

    বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে মোবাইল অপারেটর, ব্যাংক ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় কমিশন (বিএনসিসি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য দেন ইসি সচিব।

    সচিব বলেন, এবারে প্রবাসী ভোটার এবং অভ্যন্তরীণ ভোটার উভয়ের জন্য আলাদা ধরনের ব্যালট ব্যবহার করা হচ্ছে। দুটি ব্যালট ও প্রার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণে ভোট গণনাও সময়সাপেক্ষ হবে। বিশেষ করে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে পোস্টাল ব্যালট গণনায় বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারেন।

    এমনই এক পরিস্থিতির উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ফেনী-৩ আসনে ১৬ হাজার ৩৮ জন, চট্টগ্রাম-১৫ আসনে ১৪ হাজার ২৭৪ জন এবং কুমিল্লায় ১৩ হাজার ৯৩৯ জন পোস্টাল ভোটার হিসাবে নিবন্ধিত। যদিও এক কেন্দ্রে সাধারণত ৩ হাজার ভোটার থাকলেও পোস্টাল ব্যালটের চাপ বেড়ে ৫-৬ গুণ হতে পারে, যা ফলাফল প্রকাশে বিলম্ব সৃষ্টি করতে পারে।

    আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি বাড়তে থাকা নিয়ে সচিব জানান, ইসি ৮৩টি সংস্থাকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। এর মধ্যে ৩৬টি সংস্থা এখন নিশ্চিত করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৫৬ জন প্রতিনিধি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন, যা পরে ২৭৫ থেকে ৩০০ জনে পৌঁছাতে পারে। পাশাপাশি, কমনওয়েলথের ১০ জন এবং তুরস্কের ৯ জন প্রতিনিধি আসার কথা রয়েছে। সর্বমোট প্রায় ৫০০ বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক এই নির্বাচনী পর্যবেক্ষণে অংশ নেবেন। তাঁদের জন্য অপ্রত্যাশিত হলো ভিসার সুবিধা প্রদান।

    নির্বাচনে কালো টাকার অপব্যবহার রোধে মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহারে আলোচনা হয়েছে বলেও সচিব জানান। তিনি জানান, পুরোপুরি বন্ধের পরিকল্পনা আমাদের নেই, তবে লেনদেনের ওপর একটি সীমা নির্ধারণের চিন্তা চলছে। আই-ব্যাংকিং সেক্টরেও একই নীতি কার্যকর করা হতে পারে।

    সচিবের তথ্যমতে, গতকাল রাত পর্যন্ত প্রার্থীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৯৮১ জন। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৪৯ জন এবং নারী প্রার্থী ৭৬ জন। রাজনৈতিক দলগুলো সর্বোচ্চ প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি, যা মোট ২৮৮ জন। ঢাকা-১২ আসনে সবচেয়ে বেশি ১৫ প্রার্থী থাকলেও পিরোজপুর-১ আসনে দুইজন প্রার্থীই শেষ।

    ভোটারদের জন্য সতর্কতাও দেওয়া হচ্ছে, যেন তারা তাদের এনআইডি কার্ড অন্য কারো কাছে হস্তান্তর না করে। সচিব বলেন, মিরপুরে এনআইডি কার্ড নেওয়ার ঘটনাটি আচরণবিধি লঙ্ঘন। ভোটারদের সচেতন থাকতে উপদেশ দেন।

    টিআইবির দ্বৈত নাগরিকত্ব বিষয়ক উদ্বেগের বিষয়ে বলেন, নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রক্রিয়া ধীর গতির। তবে, কেউ যদি গোপনে প্রার্থী হন এবং পরে তা উঠে আসে, তবে আইন অনুযায়ী স্বক্রিয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    অন্যদিকে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তার জন্য এবার ১৬,০০০ এর বেশি বিএনসিসি ভলান্টিয়ার কাজ করবে। তারা এর ডেপ্লয়মেন্ট স্ট্রাকচার ও পরিকল্পনা শুরুর জন্য প্রস্তুত। জানানো হয়, আগামী রোববার তাদের কার্যক্রম চূড়ান্ত হবে।

  • সেনাপ্রধানের ঘোষণা: সুষ্ঠু নির্বাচন ও গণভোটে সর্বাত্মক সহযোগিতা নিশ্চিত করবো

    সেনাপ্রধানের ঘোষণা: সুষ্ঠু নির্বাচন ও গণভোটে সর্বাত্মক সহযোগিতা নিশ্চিত করবো

    সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের শান্তিপূর্ণ এবং সুষ্ঠু আয়োজনের জন্য সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করার জোরালো ঘোষণা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এই কথা বলেন।

    সেনাপ্রধান বলেন, দেশের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত। নির্বাচন নিরপেক্ষ, স্বাধীন ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার জন্য তারা সর্বাত্মক সহযোগিতা চালিয়ে যাবে। পাশাপাশি দায়িত্বের ক্ষেত্রে সৌহার্দ্যপূর্ণ ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন নির্বাচনী সংস্থার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় ও কার্যকর যোগাযোগ ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। সবাইকে একযোগে কাজ করে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সব প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে আহ্বান জানান।

    সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, যারা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬-এর জন্য চট্টগ্রাম জেলার সামগ্রিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জের উপর একটি বিস্তারিত প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন। তিনি এই পরিকল্পনার ওপর সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, চট্টগ্রামে নির্বাচনী পরিস্থিতি ইতিমধ্যে বেশ শুভ এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ।

    সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ, ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশ, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁনসহ বিভাগীয়, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ।

    এছাড়াও, তিন পার্বত্য জেলার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপাররা অংশ নেন। এই সভায় নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার ও বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। পক্ষান্তরে, প্রত্যাশিত শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সফল করতে সংশ্লিষ্ট সকলের অবদান ও দায়িত্বের ব্যাপারে আলোচনা চলমান থাকে।

  • নির্বাচনী প্রার্থীদের মধ্যে কোটিপতি ও বিতর্কিত সংখ্যা উদ্বেগজনক

    নির্বাচনী প্রার্থীদের মধ্যে কোটিপতি ও বিতর্কিত সংখ্যা উদ্বেগজনক

    ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আজ শুক্রবার ঢাকার ধানমন্ডিতে এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে, এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের সম্পদের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট ৮৯১ জন প্রার্থী কোটিপতি। এর মধ্যে ২৭ জন অর্থাৎ প্রায় ৩ শতাংশ সবথেকে বেশি সম্পদবিশিষ্ট প্রার্থী, অর্থাৎ শতকোটিপতি।মূলত হলফনামার মাধ্যমে প্রার্থীদের অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদের মূল্যায়ন করে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়। টিআইবির আউটরিচ এন্ড কমিউনিকেশন বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, এই নির্বাচনে মোট প্রার্থীর প্রায় ২৫ শতাংশেরই কোনো না কোনো ঋণ বা দায় রয়েছে। এই ঋণের পরিমাণ মোট ১৮ হাজার ৮৬৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা। তুলনামূলকভাবে, গত পাঁচ নির্বাচনের মধ্যে এবার ঋণ বা দায়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে কম সংখ্যক প্রার্থী থাকলেও, তাদের মোট ঋণের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।এছাড়াও, এবারের নির্বাচনে অংশ নেওয়া ৫৩০ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে বর্তমানে মামলা রয়েছে, যা মোট প্রার্থীর ২২.৬৬ শতাংশ। অতীতে, অর্থাৎ গত পাঁচ নির্বাচনে মোট ৭৪০ জন বা সাড়ে ৩১ শতাংশ প্রার্থী বিরুদ্ধে মামলা ছিল।প্রসঙ্গত, এই নির্বাচনে অংশ নেওয়া ৫ টি রাজনৈতিক দলের পূর্ণাঙ্গ প্রার্থী সংখ্যা ১১,৯৮১ জন। এর মধ্যে ১৩ শতাংশ প্রার্থী স্বতন্ত্র। প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীর সংখ্যা ১৬৯৬ জন।শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকে দেখা যায়, প্রার্থীদের মোট ৭৬.৪২ শতাংশ হাইস্কুল বা তার বেশি ডিগ্রিধারী, যার মধ্যে স্নাতক ডিগ্রিধারী ২৮.৩৭ শতাংশ এবং সবচেয়ে বেশি, ৪৭.৯৮ শতাংশ, স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী। উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেছেন ৮.৯৪ শতাংশ এবং মাধ্যমিক পাস করেছেন কিছু বেশি। গত নির্বাচনের তুলনায় এবার এই ডিগ্রিধারীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। বিগত নির্বাচনের তুলনায়, নবম নির্বাচন ৭১.২৩%, দশম নির্বাচন ৭১.৯১%, একাদশ ৬৭.৩০%, দ্বাদশ ৫৯.৩৩%, আর এবারে ৭৬.৪২ শতাংশ প্রার্থী শিক্ষাগত দিক থেকে উচ্চমানের।প্রারম্ভিক অংশগ্রহণের মধ্যে নারীর অংশগ্রহণ খুবই কম। এবার মোট প্রার্থীর মাত্র ৪.০২ শতাংশ নারী, যেখানে নারীর প্রতিনিধিত্বের বাধা হিসেবে প্রাথমিকভাবে দেখা হয়েছে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নারীর সংখ্যা কম থাকাকে। জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বধীন জোটের ৬ জন প্রার্থী এবং বিএনপির নেতৃত্বধীন জোটে মোট ২৪ জন নারী প্রার্থী রয়েছেন।প্রার্থীদের বয়সের ভিত্তিতে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি প্রার্থী ৪৫-৫৪ বছর বয়সী, মোট ৬৫১ জন। এরপর ৫৫-৬৫ বছর বয়সী প্রার্থী ৫৩১ জন, ৩৫-৪৪ বছর বয়সী ৪১৪ জন, ৬৫ বছরের বেশি ৩৭৮ জন, এবং ২৫-৩৪ বয়সী প্রার্থী ২০৫ জন। কোন কোন প্রার্থীর বয়স উল্লেখ নেই বা অস্পষ্ট।প্রার্থীদের মূল পেশার মধ্যে ব্যবসায়ীরা সর্বাধিক, মোট ৪৮ শতাংশ। এরপরই থাকছে আইন ও শিক্ষকদের পেশা, যথাক্রমে ১২.৬১% ও ১১.৫৬%। এছাড়া চাকরিজীবী ও কৃষিজীবীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। নতুন করে দেখা যায়, এবারের নির্বাচনে পেশা হিসেবে রাজনীতিকে দেখিয়েছেন মাত্র ২ শতাংশ প্রার্থী।

  • এবার ব্যালট ছিনতাইয়ের কোনো সুযোগ নেই: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

    এবার ব্যালট ছিনতাইয়ের কোনো সুযোগ নেই: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

    আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুষ্কৃতকারীদের ভোটকেন্দ্র থেকে ব্যালট ছিনতাইয়ের কোনো সুযোগ থাকবে না বলে জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি এ কথা বলেন বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদর দপ্তরে আয়োজিত ‘ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা ও মতবিনিময় সভায়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, যেখানে সভাপতিত্ব করেন সিআইডি প্রধান ও বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি মোঃ ছিবগাত উল্লাহ।

    তিনি জানান, অতীতে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে শুধুমাত্র একজন অস্ত্রধারী পুলিশ দায়িত্ব পালন করলেও এবারই প্রথমবারের মতো প্রতিটি কেন্দ্রের নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত হবে। প্রত্যেকটি ভোটকেন্দ্রে অন্তত পাঁচজন অস্ত্রধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। এর মধ্যে কমপক্ষে দু’জন পুলিশ ও তিনজন আনসার থাকবেন। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে আরও বেশি সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হবে, যেখানে তিনজন পুলিশসহ মোট ছয়জন অস্ত্রধারী সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।

    তিনি আরও জানান, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ছয়জন পুরুষ ও চারজন মহিলা আনসার সদস্য লাঠিসহ মোতায়েন থাকবেন। তিনি বলেন, এবারের জাতীয় নির্বাচন হবে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে অবাধ, স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর। এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি রোল মডেল হয়ে থাকবে। এজন্য নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সততা, নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

    উপদেষ্টা আরও জানান, এবারের নির্বাচনে প্রযুক্তির ব্যবহার আরও ব্যাপক হবে। প্রথমবারের মতো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন, বডি ওর্ণ ক্যামেরা, সিসিটিভি, ড্রোন ও ডগ স্কোয়াডের ব্যবহারে। প্রবাসী ভোটার, সরকারি কর্মকর্তারা ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মীরা ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ মোবাইল অ্যাপে নিবন্ধন করে ভোট দিতে পারবেন।

    তিনি উল্লেখ করেন, জানুয়ারি থেকে প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এর পাশাপাশি বিএনসিসি, গার্লস গাইড ও স্কাউট সদস্যরাও নির্বাচনী সহায়তায় অংশ নেবেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে দুই ধাপে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হবে। প্রথমে চলমান দায়িত্বশীল বাহিনী থাকবেন, আর দ্বিতীয় পর্যায়ে ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভোট কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন।

    সঙ্গে তিনি জানান, অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্তরের সিআইডি কর্মকর্তাদের মধ্যে কৃতিত্বের ভিত্তিতে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

  • সাবেক প্রেস সচিব নাঈমুল ইসলাম ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট

    সাবেক প্রেস সচিব নাঈমুল ইসলাম ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট

    দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব মোঃ নাঈমুল ইসলাম খান এবং তার স্ত্রী সাংবাদিক নাসিমা খান মন্টির বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলায় চার্জশিট দাখিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বৃহস্পতিবার এই চার্জশিট অনুমোদন দেওয়া হয় দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে। সংস্থাটির মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মামলাগুলোর বিষয়কতালিকা জানান, ২০২৫ সালের ৩০ অক্টোবর, দুদকের সহকারী পরিচালক বিলকিস আক্তার তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন এবং তদন্তের দায়িত্ব পালন করেন সহকারী পরিচালক এমরান হোসেন। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, আসামি নাঈমুল ইসলাম খান ও তার স্ত্রী নাসিমা খান মন্টির বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের উৎসের বাইরে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ কারণেই ২০২২ সালে ১৭ জুলাই দুদক আইন, ২০০৪ এর ২৬(১) ধারায় তাদের বিরুদ্ধে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ দেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত ২১ কার্যদিবসের মধ্যে তারা সম্পদ বিবরণী দাখিল করেননি এবং সময় বৃদ্ধির জন্য কোনো আবেদনও করেননি। উল্লেখ্য, এসময় তারা যথাযথ নিয়মে সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন করেননি। এ কারণে, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল না করাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করে দুদক এই মামলার ব্যবস্থা নেয় ও চার্জশিট দাখিলের সিদ্ধান্ত নেয়।

  • কুমিল্লায় আদালতের এজিপি ও এক যুবক অস্ত্রসহ আটক

    কুমিল্লায় আদালতের এজিপি ও এক যুবক অস্ত্রসহ আটক

    কুমিল্লায় পুলিশ কুমিল্লা আদালতের এক সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এজিপি) ও এক যুবককে অস্ত্র, ম্যাগাজিন ও গুলিসহ আটক করেছে। অভিযানে উদ্ধার হয়েছে ১টি বিদেশি পিস্তল, ২টি ম্যাগাজিন এবং মোট ১০টি গুলি।

    আজ বৃহস্পতিবার সকালে নগরের টমছমব্রিজ এলাকা থেকে প্রথমে আরিফুল ইসলাম (৩৬) নামে এক যুবককে আটক করা হয়। আটককালে তাঁর কাছ হতে পাঁচটি গুলি এবং একটি ছুরি পাওয়া যায়। পরে আরিফুলের মোবাইল তল্লাশি করে অস্ত্রের ছবি শনাক্ত করা হলে তিনি তদন্তে জানান যে ছবিটি কুমিল্লা আদালতের এজিপি আই এম মাসুদুল হক ওরফে মাসুমের বাসায় রয়েছে।

    আরিফুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের দ্রুত অভিযান চালিয়ে মাসুদুল হক (৫১)-এর বাড়ি তল্লাশি করা হয়। ওয়ার্ডরোব থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন এবং আরও পাঁচটি গুলি উদ্ধার করা হয়। উভয় ব্যক্তিকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এভাবে মোট ১০টি গুলিই উদ্ধার হয়েছে—৫টি আরিফুলের কাছ থেকে এবং ৫টি মাসুদুলের বাড়ি থেকে।

    মাসুদুল হককে জামায়াতপন্থী আইনজীবী হিসেবে পরিচিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি কুমিল্লা মহানগর জামায়াতে ইসলামের নায়েবে আমির এ কে এম এমদাদুল হকের ছোট ভাই। আরিফুল ইসলাম কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার ধর্মপুর এলাকার বাসিন্দা।

    কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ইপিজেড পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, টমছমব্রিজ এলাকা থেকে সকাল ছয়টার পর আরিফুলকে আটক করা হয় এবং পরে মাসুদুলের বাড়ি থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়। তিনি বলেন, তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।

    অভিযোগ ও ঘটনার বিষয়ে জানাতে কুমিল্লা মহানগর জামায়াতে ইসলামের নায়েবে আমির এ কে এম এমদাদুল হকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোনে সাড়া দেননি।

    কুমিল্লা আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) কাইমুল হক জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থেকে বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবহিত হয়েছেন। থানার মামলার নথিপত্র পেলেই সরকারি কৌন্সিলরের সঙ্গে পরামর্শ করে এই বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে লিখবেন; এরপর মন্ত্রণালয় এজিপি হিসেবে মাসুদুলের দায়িত্বসংক্রান্ত পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।

    সূত্র: প্রথম আলো

  • হাদি হত্যা: ফয়সালের ‘ঘনিষ্ঠ সহযোগী’ রুবেলকে ৬ দিনের রিমান্ড

    হাদি হত্যা: ফয়সালের ‘ঘনিষ্ঠ সহযোগী’ রুবেলকে ৬ দিনের রিমান্ড

    ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় পুলিশের দাবির প্রেক্ষিতে ঢাকা আদালত ফয়সাল রুবেল আহমেদ (৩৩) কে ছয় দিনের রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

    তদন্ত কর্মকর্তার আবেদন মোকাবেলায় বৃহস্পতিবার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম রিমান্ডের আদেশ দেন। প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই মো. রুকনুজ্জামান এই তথ্য জানিয়েছেন।

    সিআইডি জানিয়েছে, বুধবার রাতে দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জের আটি নয়াবাজার এলাকা থেকে ডিবি পুলিশের সহায়তায় রুবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের বক্তব্যে রেজিস্টার অনুযায়ী তিনি প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের ‘ঘনিষ্ঠ সহযোগী’ বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।

    গ্রেপ্তারের পর আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, সিআইডি পুলিশের ঢাকা মেট্রোর (পূর্ব) সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর কাদির ভূঞা তার ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর জামাল উদ্দিন মার্জিন রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। রুবেলের পক্ষে আদালতে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।

    আদালতে রুবেল বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আমি কোনোভাবেই জড়িত নই, আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ। তিনি দাবি করেন, তথ্য যাচাই-বাছাই করলে সেও নির্দোষ প্রমাণিত হবে এবং সামাজিক মাধ্যমে নিজেই হাদির হত্যার বিচার দাবি করেছিলেন।

    রুবেল আরো বলেন, ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী তার বন্ধু। করোনার সময় টিম পজিটিভ বাংলাদেশে যোগ দিয়েছিলেন এবং মানবিক কাজ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, তিনি কোনও রাজনৈতিক দলের সক্রিয় সদস্য নন, বর্তমানে একটি কোম্পানিতে চাকরি করেন এবং মোটেই দোষী নন। হত্যাকাণ্ডের তিন মাস আগে লাইসেন্স বিক্রির বিষয়ে ফয়সালের সঙ্গে মাত্র তিন মিনিটের কথোপকথন হয়েছে, বলে দাবি করেছেন তিনি।

    তদন্ত কর্মকর্তার রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে লক্ষ্য করে নির্বাচনী পরিপ্রেক্ষিতে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা এবং প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীদের মনোবল দুর্বল করা লক্ষ্যে রুবেল ও তার সহযোগীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে শরীফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করে বলে তথ্য রয়েছে। একই সময়ে পুলিশের অভিযোগে ঘটনার পর রুবেল আত্মগোপনে চলে যান এবং তিনি ফয়সাল করিম মাসুদের কাছে ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। তদন্তে রুবেলের নাম-ঠিকানা যাচাই-বাছাই চলছে, মামলার মূল রহস্য উদঘাটন ও সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে গুরুত্বসহকারে জিজ্ঞাসাবাদ করতে রিমান্ড প্রয়োজন, এমনটাই আদালতে বলা হয়েছিল।

    আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত রুবেলকে ৬ দিনের হেফাজত দেয়।

    ঘটনার পটভূমি: ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজ শেষে পল্টন থানার বক্স কালভার্ট রোডে দুর্বৃত্তরা শরীফ ওসমান হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায়। গুরুতর অবস্থায় ঢামেকে নেওয়া হলে অপারেশনের পর তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেয়ার কথা বলা হয় এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানেই ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।

    হাদির গুলিবিদ্ধ হবার পর ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের এ বিষয়ে মামলা করেন। পরে হাদির মৃত্যুতে মামলাটি হত্যা হিসেবে রূপান্তরিত হয়।

    মামলাটি প্রথমে ডিবি তদন্ত করে। ডিবি ৬ জানুয়ারি প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ (রাহুল/দাউদ)সহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে। চার্জশিটভুক্ত ১৭ আসামির মধ্যে বর্তমানে ১১ জন কারাগারে রয়েছে, আর প্রধান ফয়সালসহ ৬ জন পলাতক বলে পুলিশ জানিয়েছে।

    ডিবির দেওয়া চার্জশিটকে না মেনে মামলার বাদী ১৫ জানুয়ারি নারাজি আবেদন করেন। ওইদিন শুনানি শেষে আদালত নারাজি আবেদন মেনে সিআইডিকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। আগামী ২৫ জানুয়ারি অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য রয়েছে।

  • ৪৮তম বিশেষ বিসিএসে ৩২৬৩ জনকে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ

    ৪৮তম বিশেষ বিসিএসে ৩২৬৩ জনকে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ

    ৪৮তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষার মাধ্যমে ৩ হাজার ২৬৩ জন প্রার্থীকে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় একটি প্রজ্ঞাপনে জানায়।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নিয়োগের সিদ্ধান্ত সরকার ও বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের বিভিন্ন চিঠির (২৯ সেপ্টেম্বর ও ২৭ অক্টোবর) তথ্যের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্তরা জাতীয় বেতনস্কেল-২০১৫ অনুযায়ী ২২,০০০ থেকে ৫৩,০৬০ টাকা পর্যন্ত বেতন পাবেন।

    নিয়োগপ্রক্রিয়ার শর্ত হিসেবে უწყি বলা হয়েছে, নতুন নিয়োগপ্রাপ্তরা বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বা সরকার নির্ধারিত কোনো প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন। প্রশিক্ষণ শেষে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে পেশাগত ও বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতেই হবে।

    শুরুতে তাদেরকে দুই বছরের শিক্ষানবিশ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে সরকার এই শিক্ষানবিশকাল আরও সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত বাড়াতে পারবে। শিক্ষানবিশকালে যদি কোনো কর্মকর্তাকে চাকরিতে থাকার অনুপযোগী মনে করা হয়, তবে তাকে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সঙ্গে পরামর্শ ছাড়াই চাকরি থেকে অপসারণ করা যাবে।

    বিভাগীয় (ডিপার্টমেন্টাল) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ও শিক্ষানবিশকাল সন্তোষজনকভাবে উত্তীর্ণ হলে তাকে স্থায়ী কর্মচারী করা হবে। একই সঙ্গে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ফলাফলের ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ করা হবে এবং পরে যদি কোনো কর্মকর্তা সম্পর্কে বিরূপ বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া যায়, সংশ্লিষ্ট নিয়োগ আদেশ সংশোধন বা বাতিলের ক্ষমতা কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করবে।

    আপাতত একাধিক শর্তও জোর দেওয়া হয়েছে। কোনো কর্মকর্তা বিদেশি নাগরিককে বিয়ে করলে বা এ বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ থাকলে তার নিয়োগপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে। চাকরিতে যোগদানের সময় ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে যৌতুক না নেওয়া ও না দেওয়ার অঙ্গীকারবদ্ধ বন্ড দিতে হবে। যোগদানের সময় ও পরবর্তীতে নির্ধারিত মেয়াদে স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির বিবরণী দাখিল করতে বলা হয়েছে।

    মুক্তিযোদ্ধা কোটা থেকে নিয়োগপ্রাপ্তদের সনদ যাচাইতে জাল প্রমাণিত হলে তাদের নিয়োগ বাতিল করা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে; এ ক্ষেত্রে চাকরিতে যোগদানের জন্য কোনো ভ্রমণ বা দৈনিক ভাতাও দেওয়া হবে না।

    আরও বলা হয়েছে, চাকরি থেকে ইস্তফা দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকার কর্তৃক ইস্তফা গ্রহণের আগে যদি কোনো কর্মকর্তা দায়িত্বে অনুপস্থিত থাকেন, তখন তার সরকারের প্রাপ্য সব অর্থ আদায় করা হবে এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    শেষপর্যন্ত প্রজ্ঞাপনে যোগদানের শেষ তারিখ হিসেবে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ নির্ধারণ করা হয়েছে; নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগদান না করলে নিয়োগ বাতিল বলে গণ্য হবে।

  • মানবতাবিরোধী অপরাধ: কাদের, পরশ, সাদ্দামসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরু

    মানবতাবিরোধী অপরাধ: কাদের, পরশ, সাদ্দামসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরু

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করার আদেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। একই সঙ্গে মামলার সূচনা বক্তব্য ও প্রথম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ১৭ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন আদালত।

    বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ট্রাইব্যুনাল-২ এর তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে, আসামিদের আব্যাহতির (অব্যাহতি) আবেদনের চেয়ার খারিজ করে এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

    পূর্বে ১৮ জানুয়ারি প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামীম। শুনানিতে তারা আসামিদের ব্যক্তিগত দায় ও অভিযোগের বিষদ ব্যাখ্যা দেন এবং কাদেরের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ পড়ে শোনান। প্রসিকিউশনের প্রতি দাবি ছিল—জুলাই ও আগস্টে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে হত্যার নির্দেশ দেয়া, উসকানি ও প্ররোচনার মাধ্যমে সহিংসতা বাধানোর অভিযোগ রয়েছে। শুনানি শেষে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করার আবেদন করেন।

    আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী লোকমান হাওলাদার ও ইশরাত জাহান। তারা প্রসিকিউশনের অভিযোগের সঙ্গে তাদের মক্কেলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই দাবি করে যথাযথ তথ্যপ্রমাণ ছাড়া আসামিদের অভিযোগ থেকে অব্যাহতির অনুরোধ জানান। উভয়পক্ষের যুক্তি-তর্ক শুনে আদালত ২২ জানুয়ারি এ বিষয়ে আদেশ দেন।

    এই মামলায় আটজন আসামির মধ্যে সাতজনকে আদালতে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে; পলাতক অপর আসামিদের তালিকায় রয়েছেন—আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগ সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান।

    আগে এই মামলার জন্য আসামিদের আত্মসমর্পণের দিন গত ৮ জানুয়ারি ধার্য করা হয়েছিল, কিন্তু তারা হাজির হননি। পরে ট্রাইব্যুনাল পলাতক বিবেচনায় তাদের পক্ষের জন্য স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী নিয়োগ দেন। এছাড়া পরোয়ানা জারির পর ২৯ ডিসেম্বর গ্রেফতারের চেষ্টা করা হয়; আইন প্রয়োগকারী সংস্থা স্থায়ী ও অস্থায়ী ঠিকানায় গিয়ে কাউকে খুঁজে পায়নি। এরপর ৩০ ডিসেম্বর পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেয়া হয়।

    আদালতের এই আদেশের ফলে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচারিক কার্যক্রম শুরু হলো এবং আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে সূচনা বক্তব্য ও প্রথম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ।

  • ৮ ইউএনওর বদলি বাতিল

    ৮ ইউএনওর বদলি বাতিল

    দেশের আটটি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) কে বদলি করার আদেশ দেশের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বাতিল করে দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে এক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ২০ জানুয়ারি সরকারের পক্ষ থেকে জারি করা বদলির আদেশটি বাতিল করা হয়েছে। এর আগে, নির্বাচন কমিশনের সম্মতি নিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ৮ ইউএনওর বদলি আদেশ জারি করেছিল। তবে এখন তা বাতিল করা হলো।এনওগলির মধ্যে রয়েছে বরগুনার পাথরঘাটার ইউএনও ইসরাত জাহানকে ভোলার চরফ্যাশন, চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের ইউএনও মো. আল-আমীনকে ফরিদপুরের নগরকান্দা, পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ার ইউএনও রেহেনা আক্তারকে বগুড়ার ধুনট, হবিগঞ্জের বাহুবল ইউএনও লিটন চন্দ্র দেকে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর ইউএনও হিসেবে বদলি করা হয়েছিল।এছাড়াও, বগুড়ার ধুনটের ইউএনও প্রীতিলতা বর্মনকে হবিগঞ্জের বাহুবল, ফরিদপুরের নগরকান্দার ইউএনও মেহরাজ শারবীনকে নেত্রকোণার কলমাকান্দা, নেত্রকোণার কলমাকান্দার ইউএনও মাসুদুর রহমানকে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া এবং ভোলা জেলার চরফ্যাশনের ইউএনও মো. লোকমান হোসেনকে বরগুনার পাথরঘাটার ইউএনও হিসেবে বদলি করা হয়েছিল। উল্লেখ্য, এসব অফিসারকে ২২ জানুয়ারির মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে বলা হয়েছিল। তবে যদি তারা নির্ধারিত সময়ে যোগদান না করেন, তবে বোঝা হবে যে তারা বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবিলম্বে অবমুক্ত হয়েছেন। তবে এই সব নির্দেশনা বৃহস্পতিবার বাতিল করা হয়েছে।