Category: জাতীয়

  • ২০২৭ সালের এসএসসি চলতি বছরের ডিসেম্বরে নেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী

    ২০২৭ সালের এসএসসি চলতি বছরের ডিসেম্বরে নেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষামন্ত্রী ড. এহছানুল হক মিলন বলেছেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় সেশনজট শেষ করার লক্ষ্যে ২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষাগুলো নির্ধারিত সময়ের আগেই—চলতি বছরের ডিসেম্বরেই—নাগাদ করা হবে। তিনি এই কথা বলেন শনিবার (২৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বদলি নীতিমালা নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে।

    মন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে সেশনজটের কষ্ট আমরা নিরসন করার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। করোনা পরবর্তী সময়ে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থা পরীক্ষার সময়সূচিতে বিঘ্ন ঘটিয়েছে। সেই অনিয়মী ছন্দকে স্বাভাবিক রাখতে আমরা এখনই পদক্ষেপ নিচ্ছি। ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা চলতি বছরের ডিসেম্বরেই সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছি।’

    তিনি আরও জানান, একই উদ্দেশ্যে ২০২৭ সালের উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষাও সময়ভাবে এগিয়ে আনা হবে। তবে এইচএসসি পরীক্ষা ঠিক কবে থেকে শুরু হবে—সেটি চূড়ান্ত করার বিষয়ে এখনই বিস্তারিত ঘোষণা করা হয়নি। বিএসএম ইত্যাদি প্রয়োজনীয় সমন্বয় ও কারিগরি প্রস্তুতি শেষে সময়সূচি প্রকাশ করা হবে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেছেন।

    এই সংবাদ বিবৃতির আগে মন্ত্রী মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি হওয়া বদলি নীতিমালা নিয়ে আলোচনা করেন। এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান বলতে সাধারণত এমন স্কুল-কলেজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বোঝানো হয়, যেগুলোর শিক্ষক-কর্মচারীরা 정부 থেকে বেতনভাতা পান।

    বৈঠকের পরে মিলন বলেন, ‘শিক্ষকদের বদলি প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, দ্রুত এবং জনবান্ধব করা হবে। নতুন বদলি নীতিমালা দ্রুতই কার্যকর করা হবে যাতে শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধান হয় এবং শিক্ষা কর্মমণ্ডলীর জনস্বার্থ রক্ষিত থাকে।’

    শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় এডজাস্টমেন্ট, একাডেমিক ক্যালেন্ডার সংশোধন এবং ইন্টার-শিক্ষাগত সমন্বয় করবে—এবং সেটি জনগণের জানামতে করা হবে বলে মন্ত্রীর বক্তব্যে আশা করা যায়।

  • ফেসবুকে ছড়ানো ৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের পূর্বাভাস ভারতের, বাংলাদেশে তা সত্য নয়

    ফেসবুকে ছড়ানো ৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের পূর্বাভাস ভারতের, বাংলাদেশে তা সত্য নয়

    ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ৪৫–৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার সতর্কবার্তাটি বাংলাদেশের জন্য নয় — এটি ভারতের পূর্বাভাস বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। প্রশাসনিক ও আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে এ ধরনের তাপমাত্রা ওঠার সম্ভাবনা নেই।

    আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির শনিবার (২৫ এপ্রিল) ঢাকা মেইলকে জানিয়েছেন, সামাজিক মাধ্যমে যে ৪৫ থেকে ৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধির তথ্য ছড়িয়েছে, সেটি সম্ভবত ভারতের কোনও বেসামরিক সংস্থার দেওয়া এবং কেউ বাংলা অনুবাদ করে শেয়ার করেছে। আবহাওয়া অধিদফতরও তা নিশ্চিত করেছে।

    তরিফুল নেওয়াজ আরও বলেন, বাংলাদেশের রেকর্ড তাপমাত্রা ১৯৭২ সালে রাজশাহীতে রেকর্ডকৃত ৪৫.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চলতি বছরেও এমন চরম তাপমাত্রা হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এ বছর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা এখন পর্যন্ত রাজশাহীতে প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছে।

    তিনি বলেন, আগামী দিনগুলোতে সারাদেশে মোটামুটি বৃষ্টি হবে। উত্তরের অংশে ইতোমধ্যেই বৃষ্টির প্রবণতা শুরু হয়েছে এবং ধীরে ধীরে দক্ষিণ ও সিলেট অঞ্চলে অতি ভারী থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রা কিছুটা সহনীয় থাকবে এবং এ অবস্থা আগামী মাসের চতুর্থ-পঞ্চম তারিখ পর্যন্ত থাকতে পারে। তাই ফেসবুকে ছড়ানো ওই চরম তাপমাত্রার পূর্বাভাস বাংলাদেশে প্রযোজ্য নয়।

    ভাইরাল পোস্টে ২৯ এপ্রিল থেকে ১২ মে ও ২৫ মে থেকে ৪ জুন পর্যন্ত সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত খোলা আকাশে বের হওয়ার বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছিল। সেই পোস্টে আরও কিছু পরামর্শ ও সতর্কতা দিয়ে মানুষের কাছে ছড়ানো হয়েছিল — যেমন ঘরে থাকলে দরজা খুলে বায়ু চলাচল নিশ্চিত করা, শরীর খারাপ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া, ঠাণ্ডা পানীয় গ্রহণ ইত্যাদি।

    অন্যদিকে, ভাইরাল পোস্টে ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল ডিফেন্সের যেনো সাবধানবার্তাও সংযুক্ত ছিল— যেখানে ৪৭–৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের সম্ভাব্য তাপমাত্রা ও গাড়ি থেকে গ্যাস, লাইটার, কাগজপত্র সরানো, গাড়ির জানালা সামান্য খোলা রাখা, ইত্যাদি বিষয় উল্লেখ ছিল। কিন্তু এসব সতর্কতা সম্ভবত অন্য দেশের পরিস্থিতি নিয়ে করা হয়েছিল এবং বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য তা সরাসরি প্রযোজ্য নয়, বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইঙ্গিত দিয়েছেন।

    তবে সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ ও সাধারণ সতর্কতাগুলো মেনে চলা সবসময়ই জরুরি। বিশেষত:

    – প্রচুর পানি ও তরল পানীয় নিয়মিত খেলেই রাখুন।

    – সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলুন, বিশেষ করে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টার মধ্যে।

    – প্রয়োজনে ছায়ায় অবস্থান করুন বা এয়ার কন্ডিশনিং সুবিধা থাকলে ব্যবহার করুন।

    – গরমে অসুস্থতা লেগে থাকলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।

    – গ্যারেজ বা গাড়িতে আগে থেকে আলো-গ্যাসজাতীয় বিপজ্জনক পদার্থ সরিয়ে রাখুন এবং শিশু বা পোষা প্রাণী কখনোই গরম গাড়িতে ছেড়ে রাখবেন না।

    সংক্ষেপে, ফেসবুকে ছড়ানো ৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের পূর্বাভাসটি ভারতের বলে সচেতন করা হয়েছে, এবং আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে বাংলাদেশে এমন চরম তাপমাত্রার আশঙ্কা নেই। সরকারি ও স্থায়ী উৎস থেকে প্রকাশিত আবহাওয়া ও সতর্কতা-ই অনুসরণ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।

  • ঢাকা থেকে ৭ বিভাগীয় শহরের বাসভাড়া বেড়েছে — নতুন ভাড়া কত হয়েছে?

    ঢাকা থেকে ৭ বিভাগীয় শহরের বাসভাড়া বেড়েছে — নতুন ভাড়া কত হয়েছে?

    সরকার জ্বালানি তেলের দামের সঙ্গে সমন্বয় করে দূরপাল্লার বাসভাড়া বাড়িয়েছে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এক প্রজ্ঞাপনে প্রতি কিলোমিটার ভাড়া ১১ পয়সা করে বাড়িয়ে তা ২.২৩ টাকা করেছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী নতুন ভাড়া টোলসহ সাবধানে নির্ধারণ করা হয়েছে।

    বিআরটিএ ৪০ সিটের বাসের ভাড়া নিরূপণের জন্য যে সূত্রটি ব্যবহার করে তা হলো: (প্রতি কিলোমিটার ভাড়া × দূরত্ব × ৫১) ÷ ৪০। রুটভিত্তিক দূরত্ব নির্ধারণে রোডসেন, সেতু কর্তৃপক্ষ, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন এবং সওজের দেওয়া তথ্য অনুসরণ করা হয়েছে।

    নতুন ঘোষিত ভাড়ায় ঢাকা থেকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রুটের পরিবর্তনগুলো হলো —

    – ঢাকা (গাবতলী) — পঞ্চগড় (রুট-৯৩), দূরত্ব ৪২৪ কিমি: আগে ভাড়া ছিল ১,১৮০ টাকা। ৬০ টাকা বাড়িয়ে নতুন ভাড়া হয়েছে ১,২৪০ টাকা।

    – ঢাকা (সায়দাবাদ) — টেকনাফ (রুট-৫০), দূরত্ব ৪৬২ কিমি: আগে ভাড়া ছিল ১,২৭০ টাকা। ৬৫ টাকা বাড়িয়ে নতুন ভাড়া হয়েছে ১,৩৩৫ টাকা।

    – ঢাকা (সায়দাবাদ) — চট্টগ্রাম (রুট-৪৮), দূরত্ব ২৪২ কিমি: আগে ভাড়া ছিল ৬৭০ টাকা। ৩৪ টাকা বাড়িয়ে নতুন ভাড়া ৭০৪ টাকা।

    – ঢাকা (গাবতলী) — রাজশাহী (রুট-৮২), দূরত্ব ২৪৭ কিমি: আগে ছিল ৭০০ টাকা। ৩৮ টাকা বাড়িয়ে নতুন ভাড়া ৭৩৮ টাকা।

    – ঢাকা (সায়দাবাদ) — খুলনা (রুট-৯৬), দূরত্ব ২০৫ কিমি: আগে ছিল ৬৫০ টাকা। ৩০ টাকা বাড়িয়ে নতুন ভাড়া ৬৮০ টাকা।

    – ঢাকা (সায়দাবাদ) — বরিশাল (রুট-৩৫), দূরত্ব ১৭১ কিমি: আগে ছিল ৫৬৫ টাকা। ২৬ টাকা বাড়িয়ে নতুন ভাড়া ৫৯১ টাকা।

    – ঢাকা (সায়দাবাদ) — সিলেট (রুট-৫৭), দূরত্ব ২৫৭ কিমি: আগে ছিল ৭০০ টাকা। ৪০ টাকা বাড়িয়ে নতুন ভাড়া ৭৪০ টাকা।

    – ঢাকা (গাবতলী) — রংপুর (রুট-৮৮), দূরত্ব ৩০৮ কিমি: আগে ছিল ৮৭০ টাকা। ৪১ টাকা বাড়িয়ে নতুন ভাড়া ৯১১ টাকা।

    – ঢাকা (মহাখালী) — ময়মনসিংহ (রুট-১৫), দূরত্ব ১১৬ কিমি: আগে ছিল ৩১৫ টাকা। ১৫ টাকা বাড়িয়ে নতুন ভাড়া ৩৩০ টাকা।

    এ ছাড়াও যে রুটগুলোতে ভাড়া বাড়তি পরিবর্তন হয়েছে —

    – ঢাকা (সায়দাবাদ) — কক্সবাজার (রুট-৪৯), দূরত্ব ৩৯৬ কিমি: আগে ভাড়া ছিল ১,০৯০ টাকা। ৫৭ টাকা বাড়িয়ে নতুন ভাড়া ১,১৪৭ টাকা।

    – ঢাকা (সায়দাবাদ) — কুমিল্লা (রুট-১৮), দূরত্ব ১০২ কিমি: আগে ছিল ২৯০ টাকা। ১৬ টাকা বাড়িয়ে নতুন ভাড়া ৩০৬ টাকা।

    – ঢাকা (গাবতলী) — বগুড়া (রুট-৮৪), দূরত্ব ১৯১ কিমি: আগে ছিল ৫৫০ টাকা। ২৮ টাকা বাড়িয়ে নতুন ভাড়া ৫৭৮ টাকা।

    – দিনাজপুর — টেকনাফ (অন্যান্য রুট-১৬৮), দূরত্ব ৮৪৪ কিমি: আগে ছিল ২,৩৪০ টাকা। ১১৭ টাকা বাড়িয়ে নতুন ভাড়া ২,৪৫৭ টাকা।

    বিআরটিএর গত বছরের (২০২৫ সালের মে) হিসাব এবং সড়ক পরিকাঠামোর তথ্যের ভিত্তিতেই এই ভাড়া হালনাগাদ করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, উল্লিখিত প্রতিটি ভাড়া টোলসহ আদায়যোগ্য। যাত্রীদের সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনায় ভবিষ্যতে আরও সমন্বয় হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

  • ২০২৫ সালে তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় দেড় কোটিরও বেশি মানুষ

    ২০২৫ সালে তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় দেড় কোটিরও বেশি মানুষ

    জাতিসংঘের সমর্থিত ‘গ্লোবাল রিপোর্ট অন ফুড ক্রাইসিস’–এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী খাদ্য সংকটে থাকা মানুষের দুই-তৃতীয়াংশ মাত্র ১০টি দেশে concentrated—তার মধ্যে বাংলাদেশের নামও আছে। শুক্রবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে এই তথ্য উপস্থাপিত হয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় থাকা মানুষের বড় অংশ আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, মিয়ানমার, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, দক্ষিণ সুদান, সুদান, সিরিয়া ও ইয়েমেনে অবস্থান করছিল। এর মধ্যে শুধুমাত্র সুদান, নাইজেরিয়া ও কঙ্গো—এই তিন দেশেই মোট আক্রান্ত মানুষের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ রয়েছে।

    সামগ্রিকভাবে ২০২৫ সালে বিশ্বে প্রায় ২৬ কোটি ৬০ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগেছে, যা ২০১৬ সালের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। বিশ্লেষকরা বলছেন চলমান সংঘাত ও চরম জলবায়ু ঘটনার কারণে খাদ্য সঙ্কটও এতটাও জটিল ও বিস্তৃত হয়েছে।

    প্রতিবেদন সতর্ক করে যে ২০২৬ সালে পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতির সম্ভাবনা সীমিত; অনেক দেশে সংকট আরও গভীর হতে পারে। চলমান যুদ্ধ, অস্থিতিশীলতা ও সরবরাহ শৃঙ্খলের বিঘœত ছাড়াও আন্তর্জাতিক অনুদান কমে যাওয়ার আশঙ্কা সমস্যা বাড়াচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

    তথ্য অনুযায়ী, কিছু দেশে—যেমন বাংলাদেশ ও সিরিয়ায়—কিছু প্রগতি লক্ষ্য করা গেলেও আফগানিস্তান, কঙ্গো ও মিয়ানমারে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে গিয়েছে। আন্তর্জাতিক সহায়তার সংকোচন অনেক দুর্বল জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রায় সরাসরি প্রভাব ফেলবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে।

    জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিলের প্রধান আলভারো লারিও সংবাদমাধ্যমে বলেন, রোপণের মৌসুমে জ্বালানি ও সারের দাম বাড়লে খাদ্য উৎপাদন সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি স্থানীয়ভাবে সার উৎপাদন বাড়ানো, মাটির উর্বরতা উন্নত করা এবং জলবায়ু সহনশীল ফসলের দিকে বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর জোর দেন।

    সংক্ষিপ্তভাবে, প্রতিবেদনটি সতর্ক করছে যে সংঘাত ও জলবায়ু ঝুঁকি কমিয়ে আনতে ও স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে দ্রুত ও সমন্বিত সহায়তা প্রয়োজন।

    সূত্র: এএফপি।

  • বিচার বিভাগের দুর্নীতির সব শিকড় উচ্ছেদ করতে চাই: আইনমন্ত্রী

    বিচার বিভাগের দুর্নীতির সব শিকড় উচ্ছেদ করতে চাই: আইনমন্ত্রী

    আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, বিচার বিভাগের ভেতরে যে দুর্নীতির শিকড় রয়েছে তা পুরোদমে উঠে না এলে নিরাপদ ও স্বাধীন বিচার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে না। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির নবনির্মিত ভবন উদ্বোদন ও মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

    মন্ত্রী বলেন, ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কথা অনেক বলা হয়। কিন্তু আমরা এমন একটি দুর্নীতিগ্রস্ত পদ্ধতি চাই না, যার উদাহরণ হিসেবে প্রতারণা ও অনিয়মকারী বিচারকদের নাম আসে। বিচার বিভাগের দুর্নীতির সকল শিকড় উচ্ছেদ করতে হবে।’

    আইনমন্ত্রী আরও বলেন, জুলাই সনদ, মানবাধিকার কমিশন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং বিচারবিভাগীয় সচিবালয় সংক্রান্ত আইনের বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। তিনি জানান, এসব বিষয়ে সরকার প্রস্তাবিত আইনগুলো খুঁটিয়ে দেখে, যাচাই-বাছাই করে সংসদে বিল আকারে আনবে।

    জানিয়ে বলেন, কিছু মহল জুন/জুলাই সনদ বিষয়ে নানা বক্তব্য দিচ্ছে। তবে তার ভাষ্য, আইনগত দিক থেকে এই ধরনের আদেশের সাংবিধানিক ও আইনী ভিত্তি নেই; ১৯৭৩ সালের পর রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে এ ধরনের আদেশ জারি করার ক্ষমতা পরীক্ষাধীন। (তিনি এসব বিষয়ে স্পষ্ট আইনগত অবস্থান তুলে ধরেন।)

    আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর। সভায় বক্তব্য রাখেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগমসহ অন্যান্যরা।

    অনুষ্ঠানের আগে মন্ত্রী বিএনপির প্রাক্তন মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের কবরে ফাতেহা পাঠ করেছেন। পরে তিনি পুরনো জেলা জজ আদালত ভবন পরিদর্শন করেন।

  • জ্বালানি সমন্বয়ে ঢাকা থেকে ৭ বিভাগীয় শহরের বাসভাড়া কত বেড়েছে

    জ্বালানি সমন্বয়ে ঢাকা থেকে ৭ বিভাগীয় শহরের বাসভাড়া কত বেড়েছে

    সরকার জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করে দূরপাল্লার বাসভাড়া বাড়িয়েছে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ও বিআরটিএ এক প্রেস নোটিফিকেশন জারি করে কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া ১১ পয়সা বাড়িয়ে এখন করে দিয়েছে ২ টাকা ২৩ পয়সা।

    বিআরটিএ ভাড়া নির্ধারণে যে সূত্রটি মেনে চলে তা হচ্ছে: (প্রতি কিলোমিটার ভাড়া × দূরত্ব × ৫১ সিটের বাস) ÷ ৪০ = ভাড়া। রুটভিত্তিক দূরত্ব ও টোল-ফেরিসহ অন্যান্য চার্জ নির্ধারণে সড়ক ও জনপথ অধিদফতর (সওজ), বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের তালিকা অনুসরণ করে বিআরটিএ।

    নিচে বিভিন্ন রুটের দূরত্ব, আগের ভাড়া, বাড়তি পরিমাণ ও নতুন ভাড়া সংক্ষেপে দেওয়া হল (সবই ৪০ সিটের নন-এসি বাসের টোলসহ আদায়যোগ্য ভাড়া):

    – ঢাকা (গাবতলী) — পঞ্চগড় (রুট-৯৩): দূরত্ব ৪২৪ কি.মি। আগের ভাড়া ছিল ১ হাজার ১৮০ টাকা; ৬০ টাকা বাড়ায় নতুন ভাড়া হয়েছে ১ হাজার ২৪০ টাকা।

    – ঢাকা (সায়দাবাদ) — টেকনাফ (রুট-৫০): দূরত্ব ৪৬২ কি.মি। আগের ভাড়া ছিল ১ হাজার ২৭০ টাকা; ৬৫ টাকা বাড়ায় নতুন ভাড়া হয়েছে ১ হাজার ৩৩৫ টাকা।

    – ঢাকা (সায়দাবাদ) — চট্টগ্রাম (রুট-৪৮): দূরত্ব ২৪২ কি.মি। আগের ভাড়া ছিল ৬৭০ টাকা; ৩৪ টাকা বাড়ায় নতুন ভাড়া হয়েছে ৭০৪ টাকা।

    – ঢাকা (গাবতলী) — রাজশাহী (রুট-৮২): দূরত্ব ২৪৭ কি.মি। আগের ভাড়া ছিল ৭০০ টাকা; ৩৮ টাকা বাড়ায় নতুন ভাড়া হয়েছে ৭৩৮ টাকা।

    – ঢাকা (সায়দাবাদ) — খুলনা (রুট-৯৬): দূরত্ব ২০৫ কি.মি। আগের ভাড়া ছিল ৬৫০ টাকা; ৩০ টাকা বাড়ায় নতুন ভাড়া হয়েছে ৬৮০ টাকা।

    – ঢাকা (সায়দাবাদ) — বরিশাল (রুট-৩৫): দূরত্ব ১৭১ কি.মি। আগের ভাড়া ছিল ৫৬৫ টাকা; ২৬ টাকা বাড়ায় নতুন ভাড়া হয়েছে ৫৯১ টাকা।

    – ঢাকা (সায়দাবাদ) — সিলেট (রুট-৫৭): দূরত্ব ২৫৭ কি.মি। আগের ভাড়া ছিল ৭০০ টাকা; ৪০ টাকা বাড়ায় নতুন ভাড়া হয়েছে ৭৪০ টাকা।

    – ঢাকা (গাবতলী) — রংপুর (রুট-৮৮): দূরত্ব ৩০৮ কি.মি। আগের ভাড়া ছিল ৮৭০ টাকা; ৪১ টাকা বাড়ায় নতুন ভাড়া হয়েছে ৯১১ টাকা।

    – ঢাকা (মহাখালী) — ময়মনসিংহ (রুট-১৫): দূরত্ব ১১৬ কি.মি। আগের ভাড়া ছিল ৩১৫ টাকা; ১৫ টাকা বাড়ায় নতুন ভাড়া হয়েছে ৩৩০ টাকা।

    – ঢাকা (সায়দাবাদ) — কক্সবাজার (রুট-৪৯): দূরত্ব ৩৯৬ কি.মি। আগের ভাড়া ছিল ১ হাজার ৯০ টাকা; ৫৭ টাকা বাড়ায় নতুন ভাড়া হয়েছে ১ হাজার ১৪৭ টাকা।

    – ঢাকা (সায়দাবাদ) — কুমিল্লা (রুট-১৮): দূরত্ব ১০২ কি.মি। আগের ভাড়া ছিল ২৯০ টাকা; ১৬ টাকা বাড়ায় নতুন ভাড়া হয়েছে ৩০৬ টাকা।

    – ঢাকা (গাবতলী) — বগুড়া (রুট-৮৪): দূরত্ব ১৯১ কি.মি। আগের ভাড়া ছিল ৫৫০ টাকা; ২৮ টাকা বাড়ায় নতুন ভাড়া হয়েছে ৫৭৮ টাকা।

    – দিনাজপুর — টেকনাফ (অন্যান্য রুট-১৬৮): দেশের সবচেয়ে দীর্ঘ রুট, দূরত্ব ৮৪৪ কি.মি। আগের ভাড়া ছিল ২ হাজার ৩৪০ টাকা; ১১৭ টাকা বাড়ায় নতুন ভাড়া হয়েছে ২ হাজার ৪৫৭ টাকা।

    বিআরটিএ ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের এই সাম্প্রতিক প্রজ্ঞাপন গ্রাহক ও পরিবহন খাতকে সরাসরি প্রভাবিত করবে। ভবিষ্যতে জ্বালানি মূল্য বা অন্যান্য খরচে আরও পরিবর্তন ঘটলে অতিরিক্ত সমন্বয় করা হতে পারে—তার আগে প্রদত্ত সূত্র ও সরকারি তালিকা অনুযায়ী ভাড়া নির্ধারণই চলবে।

  • জ্বালানি দামের বাড়তি প্রভাব মূল্যস্ফীতিতে বড় থাকবে না: বাণিজ্যমন্ত্রী

    জ্বালানি দামের বাড়তি প্রভাব মূল্যস্ফীতিতে বড় থাকবে না: বাণিজ্যমন্ত্রী

    বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ফলে পণ্যের এক কিলোগ্রামে সর্বোচ্চ প্রায় ৩০ পয়সা পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধি হতে পারে, যা সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করবে না। তিনি এই মন্তব্য করেন শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সিলেট সদর উপজেলার মাসুকগঞ্জ বাজারে বাসিয়া খাল পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে।

    মন্ত্রী বলেন, দেশে ডিজেলের দাম মাত্র ১৫ শতাংশ বেড়েছে। আশেপাশের দেশে জ্বালানির মূল্য আমরা보다 অনেকটাই বেশি; তাই আমরা সতর্কতা বজায় রেখে মূল্যবৃদ্ধি করেছি যাতে সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত প্রভাব না পড়ে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, যদি একটি ট্রাক ২০০ কিলোমিটার পণ্য পরিবহন করে, তাহলে কেজি প্রতি পণ্যের মূল্য প্রায় ৩০ পয়সা বাড়তে পারে — যা মোট মূল্যস্ফীতিতে সামান্য অংশই।

    মুক্তাদির আরও বলেন, যদি বাড়তি মূল্যে জ্বালানি আমদানি করতে হয় তবুও সরকারের ব্যবস্থা থাকায় তার নেতিবাচক প্রভাব সাধারণ মানুষকে প্রত্যক্ষভাবে কষ্ট দেবে না; সরকার সেটি ম্যানেজ করবে।

    বিদ্যুত্‌ হকার প্রসঙ্গ উত্থাপিত হলে মন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকারের মেয়াদ দু’মাস মাত্র হলেও বিভিন্ন অব্যবস্থা ও অরাজকতা উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া গেছে, যার ফলেই কিছু চ্যালেঞ্জ দেখা দিচ্ছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো বিদ্যুৎ উৎপাদন এখনও গ্যাসনির্ভর — দেশের উৎপাদিত গ্যাস মাত্র ১৭ মিলিয়ন ঘনফুট, বাকিটুকু আমদানি করা হয় (প্রায় ৯ মিলিয়ন ঘনফুট)। অর্থের ব্যবস্থা থাকলেও কিছু কারনে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস আমদানি করা সম্ভব হচ্ছে না, ফলে লোডশেডিং বাড়েছে। সরকার এই সমস্যার সমাধানে কাজ করছে বলেও তিনি জানান।

    বাসিয়া খাল খননের বিষয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, এই খালের পুরো দৈর্ঘ্য ৪০ কিলোমিটার; তার মধ্যে ২৩ কিলোমিটার খনন করা হবে। কাজটি সদর উপজেলার মাসুকগঞ্জ বাজার থেকে শুরু হয়ে ওসমানীনগর উপজেলা হয়ে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। খালটি খননের ফলে প্রায় ৯০ হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবে এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হওয়ায় আনুমানিক ২০ হাজার হেক্টর জমিতে অতিরিক্ত ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে।

    মন্ত্রী ও পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ উপস্থিত ছিলেন। আগামী ২ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাসিয়া খাল খননের উদ্বোধন করবেন বলে তিনি জানান।

    খাল পরিদর্শনকালে সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মালিক, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ও সিলেট জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমসহ অন্যান্য সার্বিক কর্মকর্তাগণও উপস্থিত ছিলেন।

  • লোডশেডিংয়ে জনান্তর: সংসদে সরকারের আন্তরিক দুঃখপ্রকাশ

    লোডশেডিংয়ে জনান্তর: সংসদে সরকারের আন্তরিক দুঃখপ্রকাশ

    চলমান তীব্র গরমে লোডশেডিংয়ের কষ্টের জন্য সংসদে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে কার্যপ্রণালী বিধির ৩০০ অনুচ্ছেদের প্রতিবেদনে প্রতিমন্ত্রী এই ব্যাখ্যা ও ঘোষণা করেন।

    প্রতিমন্ত্রী অবশ্য বললেন, বর্তমান নির্বাচিত সরকারের নয়, আগের সরকারের অব্যবস্থাপনার ফলেই এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে বলে তাদের দায়িত্ব নিতে হচ্ছে। তিনি জানান, কাগজে-কলমে উৎপাদন ক্ষমতা বেশি দেখালেও বাস্তবে তা মিলছে না। গতকাল দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদা ছিল প্রায় ১৬ হাজার মেগাওয়াট; তবে উৎপাদন হয়েছে মাত্র ১৪ হাজার ১২৬ মেগাওয়াট। ফলে প্রায় ২ হাজার ৮৬ মেগাওয়াটের ঘাটতির কারণে বাধ্য হয়ে লোডশেডিং করা হচ্ছে।

    গ্রাম-বিশেষ করে কৃষকের সেচের সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং শহর-গ্রামের মধ্যে বৈষম্য কমানোর লক্ষ্যে সরকার পরীক্ষামূলকভাবে রাজধানীতে ১১০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে—যার ফলে সেই শক্তি গ্রামের সেচ কাজে সরবরাহ করা হবে। সিদ্ধান্তটি প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে আলাপের পর নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিমন্ত্রী জানান।

    গ্যাস সংকটের পরিসংখ্যানও তিনি তুলে ধরেন: দেশে দৈনিক গ্যাস চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট; দেশীয় কূপ থেকে উৎপাদিত হচ্ছে ২ হাজার ৬৮৬ মিলিয়ন ঘনফুট এবং আমদানি হচ্ছে ৯৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে দৈনিক ঘাটতি দাঁড়ায় ১ হাজার ১৬৪ মিলিয়ন ঘনফুট। অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে তৎক্ষণাৎ আমদানি বাড়ানো সম্ভব নয়, তবে গ্যাস অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকারের তালিকায় স্থিতিশীল অগ্রগতি থাকবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

    বর্তমান লোডশেডিং কমানোর ব্যাপারে প্রতিমন্ত্রী জানান, কিছু রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কারণে একটি আমদানিচালিত ও একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ ক্ষমতায় চালু নেই। কয়েক দিনের মধ্যেই এসব কেন্দ্র পূর্ণ উৎপাদনে গেলে বর্তমানে প্রায় ২ হাজার মেগাওয়াটের মতো যেটুকু লোডশেডিং হচ্ছে, তা আগামী সাত দিনের মধ্যে কমে আসবে।

    সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি জনগণের কষ্টের জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করে বললেন, সরকার এ সমস্যার সমাধান ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ-জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সব রকম চেষ্টা চালিয়ে যাবে। এছাড়া সংকট নিরসনে সরকারি ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে গঠিত ১০ সদস্যের কমিটির প্রশংসা করে তিনি বলেন, ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা ভবিষ্যতে দেশের জন্য দিশা হবে।

  • নাট্যকর্মী তনু হত্যায় সাবেক সেনা হাফিজুরুর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ

    নাট্যকর্মী তনু হত্যায় সাবেক সেনা হাফিজুরুর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ

    বহুল আলোচিত কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় তদন্তে নতুন মোড় এসেছে। শুক্রবার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ঢাকা সদর দপ্তর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করেছে, যা এই মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। এই নমুনা সংগ্রহের বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মোঃ তরিকুল ইসলাম। তিনি জানিয়েছেন, নমুনা সংগ্রহের পর সেটা মেলানোর কাজ চালানো হচ্ছে, যার মাধ্যমে আসামীদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

    প্রথমে, ২০১৭ সালে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তনুর মরদেহের জামা থেকে তিনজনের ডিএনএ সংগ্রহ করেছিল, কিন্তু তা-matching সম্ভব হয়নি। এরপর, ২০২৩ের ৬ এপ্রিল মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই নতুন করে ডিএনএ ম্যাচ করার জন্য আদালতে আবেদন করেন। আদালত সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে ডিএনএ পরীক্ষা পরিচালনার অনুমোদন প্রদান করেন।

    ডিএনএ পরীক্ষায় মিল পাওয়া তিনজনই সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য—সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান, এবং সৈনিক শাহিনুল আলম। এসব তথ্যের ভিত্তিতে, মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর কেরানীগঞ্জে তার বাসা থেকে হাফিজুর রহমানকে গ্রেফতার করে পিবিআই। এরপর, বুধবার (২২ এপ্রিল) তাকে কুমিল্লার আদালতে হাজির করা হয়। তখন তদন্ত কর্মকর্তা তাঁর ৭ দিন রিমান্ড আদেশের জন্য আবেদন করেন, but আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বর্তমানে হাফিজুর রহমান রিমান্ডে রয়েছেন, এবং আগামী শনিবার তার রিমান্ড শেষ হবে। এরপর, শনিবার বা রোববার তাকে আবার আদালতে হাজির করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    অতীতের ইতিহাস অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের এলাকায় টিউশনি থেকে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হন সোহাগী জাহান তনু। পরের দিন, সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের সংলগ্ন জঙ্গলে তার মরদেহ উদ্ধার হয়। এই ঘটনায় অজ্ঞাতনামা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের হয়।

    শুরুতে, থানা পুলিশ ও জেলা পুলিশ গোয়েন্দা বিভাগের অবিরাম তদন্ত করেও কোনো সুরাহা করতে পারেনি। এই দীর্ঘ তদন্তের পর, পুলিশ সদর দপ্তর ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে মামলার নথি পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করে। এরপর থেকে, প্রায় চার বছর ধরে পিবিআই এই মামলার তদন্ত চালাচ্ছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে দায়িত্বে আছেন পিবিআইয়ের পরিদর্শক মোঃ তরিকুল ইসলাম।

    তদন্তে দেখা গেছে, তনুর মরদেহের কাপড়ে তিন ব্যক্তির ডিএনএ ছিল, যার মধ্যে হাফিজুর রহমানের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে ডিএনএ মিলানোর কাজ বন্ধ থাকলেও, এখন নতুন করে সেটি সমাধানের পথে এগুচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় আসামীদের অপরাধমূলক সম্পর্ক ও সঠিক পরিচয় নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছে পুলিশ।

  • ফ্লোরিডায় দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ৭ দিন ধরে নিখোঁজ

    ফ্লোরিডায় দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ৭ দিন ধরে নিখোঁজ

    সাউথ ফ্লোরিডা ইউনিভার্সিটির ডক্টরেট শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি শনিবার সাত দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের সন্ধান না পাওয়ায় স্থানীয় পুলিশ গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে সাধারণের সহায়তা চেয়েছে। ফ্লোরাডা স্টেট ও ফেডারেল কর্মকর্তাদের ডাটাবেজেও দুজনের নাম ও ছবি যুক্ত করা হয়েছে।

    ২৭ বছর বয়সী লিমন এবং বৃষ্টি একে অপরের বন্ধু। তারা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে দু’বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে আসে এবং ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। ১৬ এপ্রিল সকাল থেকে তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

    বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশের জনসংযোগ কর্মকর্তা ল্যারি ম্যাককিনন জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে ঐ শিক্ষার্থীদের নিখোঁজের খবর ১৭ এপ্রিল বিকালে জানানো হয়। তিনি বলেন,