Category: জাতীয়

  • কারাবন্দিদের প্যারোলে মুক্তি: নতুন নীতিমালা জারি

    কারাবন্দিদের প্যারোলে মুক্তি: নতুন নীতিমালা জারি

    সরকার কারাবন্দিদের প্যারোলে মুক্তি সংক্রান্ত নতুন নীতিমালা জারি করেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কারা-২ শাখা থেকে প্রকাশিত এই নির্দেশিকায় প্যারোলে মুক্তির শর্ত, সময়সীমা এবং মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন) মো. জান্নাত-উল ফরহাদ সোমবার (২৬ জানুয়ারি) একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছেন।

    নতুন নীতিমালার মূল দিকগুলো প্রতিবেদনটিতে নিম্নরূপ উপস্থাপিত করা হয়েছে:

    1. সাধারণ নীতি:

    – ভিআইপি বা অন্যান্য শ্রেণির কয়েদি/হাজতি বন্দিদের নিকট আত্মীয়—যেমন বাবা-মা, শ্বশুর-শাশুড়ি, স্বামী/স্ত্রী, সন্তান এবং আপন ভাইবোন—মৃত্যু হলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া যাবে।

    – এছাড়া কোনো আদালতের আদেশ বা সরকারের বিশেষ সিদ্ধান্ত থাকলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমে অতিরিক্ত পরিস্থিতিতেও প্যারোল মঞ্জুর করা যেতে পারে। উভয় ক্ষেত্রেই প্যারোল মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা ও দূরত্ব বিবেচনায় সময় নির্ধারণ করবেন।

    2. পুলিশ প্রহরা:

    – প্যারোলে মুক্ত থাকা অবস্থায় বন্দিকে সার্বক্ষণিক পুলিশ প্রহরায় রাখতে হবে।

    3. সময়সীমা:

    – প্যারোলের অনুমোদিত সময়সীমা সাধারণত ১২ ঘণ্টার বেশি হবে না। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে সরকার সময়সীমা বাড়ানো বা কমানোর ক্ষমতা সংরক্ষণ করবে।

    4. ভ্রমণ ও মঞ্জুরির এলাকা:

    – কোনো বন্দি যদি তার নিজের জেলার কেন্দ্রীয়/জেলা/বিশেষ কারাগার বা সাব-জেলে আটক থাকেন, তবে মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ ঐ জেলার ভেতরে যেকোনো স্থানে প্যারোল মঞ্জুর করতে পারবেন।

    – যদি বন্দি তার নিজের জেলায় না থেকে অন্য জেলায় আটক থাকেন, তাহলে গন্তব্যের দূরত্ব বিবেচনায় মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ প্যারোল মঞ্জুর করতে পারবেন। তবে দুর্গম এলাকা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, দূরত্ব ও নিরাপত্তাসহ অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় নিয়ে কর্তৃপক্ষ প্যারোল মঞ্জুর বা না-মঞ্জুর করার সিদ্ধান্ত নেবেন।

    5. কারাগারে ফেরত পাঠানো:

    – কারাগারের ফটকে পুলিশ প্যারোলে মুক্ত বন্দিকে গ্রহণ করে অনুমোদিত সময়সীমার মধ্যে তাকে পুনরায় কারাগারে ফিরিয়ে আনবেন।

    6. প্যারোল মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ:

    – সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট প্যারোল মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।

    7. পূর্বের নীতিমালার বাতিল:

    – ২২-০৯-২০০৭ ও ০৪-০৩-২০১০ তারিখে কারা-২ শাখা থেকে জারি করা পূর্ববর্তী নীতিমালা দুটি বাতিল করা হয়েছে (স্মারক নং যথাক্রমে স্ব: ম:(কারা-২)/বিবিধ-১৬/২০০৭/৩৮৮ ও স্ব: ম:(কারা-২) বিবিধ-১৬/২০০৭/৭৭)।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বর্ণিত নতুন নীতিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন নির্দেশনাটি নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক বিবেচনা মাথায় রেখে প্যারোল প্রক্রিয়া আরও সুসংগঠিত করবে বলে মন্ত্রণালয় আশা করছে।

  • ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকদের বাধা নিষেধ, নিরাপত্তা নিশ্চিতের নির্দেশ ইসির

    ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকদের বাধা নিষেধ, নিরাপত্তা নিশ্চিতের নির্দেশ ইসির

    নির্বাচন কমিশন (ইসি) সোমবার একটি পরিপত্র জারি করে জানিয়েছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণমাধ্যমকর্মীদের সংবাদ সংগ্রহে কোনোভাবে বাধা দেওয়া যাবে না এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে সাংবাদিকদের নির্বিঘ্নে কাজ করার সুযোগ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সম্পূর্ণ সহযোগিতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিপত্রের কপি বিভাগীয় কমিশনার, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকদের পাঠানো হয়েছে।

    পরিপত্রে মূল নির্দেশনাগুলো সংক্ষেপে এমন—

    ১) অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য নির্বাচনী সংবাদ সংগ্রহে নিয়োজিত সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের সুবিধার্থে ইসি সাংবাদিক নীতিমালার নিয়ম অনুযায়ী পরিচয়পত্র জারি করবে।

    ২) গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের অনুচ্ছেদ ২৯(গ) অনুযায়ী রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমোদনপ্রাপ্ত সাংবাদিকরা তাদের পরিচয়পত্রসহ নির্বাচনী সংবাদ সংগ্রহের দায়িত্ব পালন করবেন।

    ৩) নীতিমালা-২০২৫ অনুযায়ী ইসি প্রদত্ত বৈধ কার্ডধারী সাংবাদিকরা সরাসরি ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন।

    ৪) সাংবাদিক পরিচয়পত্র ও গাড়ির স্টিকারের জন্য প্রার্থী/গণমাধ্যমকর্মীরা https://pr.ecs.gov.bd/ পোর্টালে আবেদন করতে পারবেন। অনুমোদিতরা অনলাইনে নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সম্বলিত কিউআরকোড/হলোগ্রামযুক্ত পরিচয়পত্র ও গাড়ির স্টিকার ডাউনলোড করে মুদ্রণ করতে পারবেন; এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত নোটিফিকেশনের মাধ্যমে জানানো হবে।

    ৫) নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ পরিচয়পত্র ও গাড়ির স্টিকারের যথার্থতা যাচাই করার অধিকার রাখবেন।

    ৬) গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের অনুচ্ছেদ ৮৪(ক) অনুযায়ী, নির্বাচনী সংবাদ সংগ্রহে নিয়োজিত অনুমোদিত কোনো সাংবাদিককে কেউ বাধা দিলে বা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে, তাকে শারীরিক বা সরঞ্জামগত ক্ষতি করলে/কোরে করার চেষ্টা করলে সে ব্যক্তি অপরাধী বিবেচিত হবে এবং যথাযথ শাস্তিতে দণ্ডিত হবেন।

    ৭) ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে সাংবাদিকদের কাজ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ভোটকেন্দ্রে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করবে।

    ৮) ভোটকেন্দ্রে সংবাদ সংগ্রহের সময় জায়গার সীমাবদ্ধতা বিবেচনা করে প্রিজাইডিং অফিসার সংবাদকর্মীদের সঙ্গে সমঞ্জসতা রেখে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের অনুকূল পরিবেশ বজায় রাখতে সহায়তা করবেন।

    ইসি উল্লেখ করেছে যে সাংবাদিকরা নির্দিষ্ট পরিচয়পত্র বহন করলে তাদের কাজ করতে বিবিধ অপ্রত্যাশিত বাধার মুখে পড়তে হবে না এবং বাধা প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

  • দুই সন্তানসহ ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিলেন মা, তিনজনের মৃত্যু

    দুই সন্তানসহ ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিলেন মা, তিনজনের মৃত্যু

    গাজীপুরের পূবাইল রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় এক নারীর ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু হয়েছে, সঙ্গে তার দুই সন্তানসহ মোট তিনজনের হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহগুলো উদ্ধার করে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে সোমবার ২৬ জানুয়ারি সকাল ১১টার দিকে।

    নরসিংদী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন জানান, প্রতিবেদন অনুযায়ী, তখন ওই নারী তার দুই সন্তানকে নিয়ে রেললাইনের ওপর হাঁটছিলেন। এ সময় সামনে থেকে একটি ট্রেন আসতে দেখেন। ছেলে সন্তানটি দৌড়ে অন্যদিকে যেতে চেষ্টা করে, কিন্তু মা তাকে ধরে রাখেন। এরপর, দুই সন্তানসহ নিজেও ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দেন। মুহূর্তে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মা ও তার মেয়ে ও এক ছেলে নিহত হন।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, এই সময় পাশেই দায়িত্বে থাকা এক লাইনম্যান ট্রেনের আগমনের বিষয়ে বাঁশি বাজিয়ে সতর্ক করার চেষ্টা করেন, কিন্তু তারা সম্ভবত তা লক্ষ্য করেননি।

    পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তবে হতাহতদের পরিচয় জানা যায়নি এবং এটি পারিবারিক মনোবলের দিক থেকেও আত্মহত্যার কারণ সীমান্তে তদন্ত চলছে। পুলিশ নিশ্চিত করে বলেছে, ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • নির্বাচনী প্রচারে ড্রোন ব্যবহার শোভন নয়: ইসি নির্দেশ

    নির্বাচনী প্রচারে ড্রোন ব্যবহার শোভন নয়: ইসি নির্দেশ

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মত গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন পর্বে প্রচুর জনসমাগম ও গণসঙ্গীতের জন্য নানা ধরনের আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার হয়। তবে নির্বাচন কমিশন (ইসি) নির্বাচন কার্যক্রমের জন্য জারি করা ‘নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫’ এর মধ্যে নতুন নির্দেশনা দিয়ে নিশ্চিত করেছে যে, নির্বাচনি প্রচার, ভোটগ্রহণ ও আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের সময় কোনো প্রকার ড্রোন বা কোয়াডকপ্টার ব্যবহার করা যাবে না। এই নির্দেশনা নির্বাচন কেন্দ্রিক সব ধরনের কার্যক্রমে বাস্তবায়ন হবে।

    বিশেষত, বিধিমালার ৯ অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, নির্বাচনী প্রচারণার সময় যানবাহন, মিছিল, জনসভা কিংবা শোডাউনের জন্য কোনো ড্রোন, হেলিকপ্টার বা অন্য কোনও আকাশযান ব্যবহার করতে Hinduযোগ্য নয়। তবে, দলীয় নেতৃত্ব বা উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা নিজের যানবাহনে যোগে পারিপার্শ্বিক নিরাপত্তার জন্য হেলিকপ্টার ব্যবহার করতে পারেন, কিন্তু সেই সময় লিফলেট, ব্যানার বা অন্য প্রচার সামগ্রী আকাশপথে নিক্ষেপ বা প্রদর্শন করা যাবে না।

    অতিরিক্তভাবে, বয়ান অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় বা ভোটের সময় কোনো ধরনের মিছিল বা শোডাউন চলবে না, এবং মনোনয়ন দাখিলের সময়ে নির্দিষ্ট সংখ্যা থেকে বেশি ব্যক্তি উপস্থিত থাকতে পারবে না। নির্বাচনকালীন সময়ে ভোটকেন্দ্রের ভেতর ও বাইরে নির্ধারিত অনুমোদিত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ মোটরসাইকেল বা যান্ত্রিক বাহন চালাতে পারবে না।

    সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নির্বাচনী প্রচার ও ভোটগ্রহণের সময় কোনো ড্রোন, কোয়াডকপ্টার বা অনুরূপ যন্ত্র ব্যবহার করতে বারণ করা হয়েছে। এর ফলে পর্যবেক্ষক জরিপ, প্রচারণা বা অন্য কোনও কাজের জন্য এই প্রযুক্তির ব্যবহার বন্ধ থাকবে।

    অন্যদিকে, ১১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীর পক্ষে দেয়াল লেখালেখি বা অংকন করে প্রচারণা চালানো নিষেধ। আরও বলা হয়েছে, নির্বাচনী প্রতীকের জন্য জীবন্ত প্রাণী ব্যবহার করা যেতে পারবে না।

    নির্বাচনী এই বিধিমালাগুলোর বাস্তবায়ন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার পরিকল্পনা অনুযায়ী, সব রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। নির্বাচন কমিশন এই নিয়মগুলো কঠোরভাবে পালন করার জন্য তৎপর। এটাই এখন মূল দায়িত্ব যেন শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন হয়।

  • অভ্যন্তরীণ পোস্টাল ভোটের পাঠানো শুরু, ফলাফল নিয়ে ইসি সচিবের আপডেট

    অভ্যন্তরীণ পোস্টাল ভোটের পাঠানো শুরু, ফলাফল নিয়ে ইসি সচিবের আপডেট

    দেশের ভেতরে যারা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন, তাদের জন্য ব্যালট পেপার পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পক্ষ থেকে। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকালে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইসির সচিব আখতার আহমেদ এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

    সচিবের মতে, এবার দেশের অভ্যন্তরে যারা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে চান, তাদের ঠিকানায় আজ থেকেই ব্যালট পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এতে রয়েছেন নির্বাচন দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী, পুলিশ ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এবং কারাগারে থাকা কয়েদিরা।

    তিনি জানান, ব্যালট পেপার পাওয়ার পর দ্রুত ভোট দিয়ে তা নির্বাচনী কর্মকর্তার কাছে ফেরত পাঠানোর প্রয়োজন রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে, অর্থাৎ বিকেল ৪:৩০ মিনিটের মধ্যে এই ব্যালট পৌঁছাতে হবে, যাতে ভোট গণনা করা যায়। অন্যথায়, নির্বাচনের দিন এই ব্যালট গণনায় নেওয়া হবে না। অভ্যন্তরীণ পোস্টাল ব্যালটে প্রার্থীর নাম ও তার প্রতীক উভয়ই থাকবে।

    এছাড়াও, গতকাল বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। তারা ফলাফল প্রকাশের সময়সীমা নিয়ে জানতে চান। ইসির সচিব জানান, মূল কেন্দ্রীয় ফলাফল ৩ থেকে ৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ করা সম্ভব। তবে বিদেশে ভোটগণনা একটু বেশি সময় নেবে কারণ প্রবাসীদের জন্য ব্যবহৃত ব্যালটের দুই পাশে ১১৯টি মার্কা রয়েছে, যা ম্যানুয়ালি স্ক্যান করতে হয়। এটি দ্রুত ফলাফল নিশ্চিতের জন্য প্রয়োজনীয়। কত ভোট জমা পড়ছে, তার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ সম্ভব হবে।

    বিদেশে অবস্থানরত ভোটারদের আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে, সচিব স্পষ্ট করেন, যদি কেউ বিদেশে আচরণবিধি লঙ্ঘন করে থাকেন, তবে তা ব্যক্তিগত অপরাধ হিসেবে দেখা হবে।

  • সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের ভাইয়ের দেশে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ

    সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের ভাইয়ের দেশে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ

    বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অবঃ) আজিজ আহমেদের ভাই আনিস আহমেদের দেশের বাইরে যাওয়ার ওপর আদালত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে যখন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, আজিজ আহমেদ自身 ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও বিদেশে অর্থ পাচার করেছেন। এই প্রসঙ্গে আদালত রোববার ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মোঃ সাব্বির ফয়েজের আদালত এই আদেশ দেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মোঃ রিয়াজ হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। দুদকের পক্ষে সহকারী পরিচালক সাজ্জাত হোসেন বলেন, আনিস আহমেদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল। আদালতে নির্ধারিত আবেদনে বলা হয়, আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে রয়েছে দীর্ঘ দিনের অভিযোগ—তিনি ব্যাংক, হুন্ডি পদ্ধতি ও অন্যান্য মাধ্যমে বিদেশে বিপুল অর্থ পাচার করেছেন। এর পাশাপাশি মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও দুবাইয়ে অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা এবং বাড়ি নির্মাণের অভিযোগও তদন্তাধীন। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, আজিজের সহযোগী তার ভাই আনিস আহমেদ দেশের বাইরে পালানোর চেষ্টা করছেন। সম্প্রতি এ ব্যাপারে তদন্তের স্বার্থে তাঁকে দেশের বাইরে যেতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া জরুরি বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

  • দুই মামলায় চার্জশিট গ্রহণ; প্রধানসহ ৪১ জনের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

    দুই মামলায় চার্জশিট গ্রহণ; প্রধানসহ ৪১ জনের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

    বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সময় রাজধানীর মোহাম্মদপুরে দুটি হত্যাকাণ্ডের মামলায় আদালত দুইটি চার্জশিট গ্রহণ করেছেন। এতে অভিযুক্ত ৬৪ জনের মধ্যে ৪১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি হিসেবে পলাতক রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম সোমবার (২৬ জানুয়ারি) এ কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। মামলাগুলোর শুনানি ব্যক্তিগতভাবে পরিচালনা করেন প্রসিকিউটর হারুন অর রশীদ ও কাইয়ুম হোসেন নয়ন।

    প্রথমত, হোসেন হত্যা মামলায়, ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুরে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সময় মো. হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। আহত হন দুই ব্যক্তি, সাজ্জাদ ও শাহিন। নিহতের মা মোসা. রীনা বেগম ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট শেখ হাসিনা ও আরও ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তদন্ত শেষে, ২০২৩ সালের ২৩ নভেম্বর মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক মো. আকরামুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এখন পর্যন্ত ২০ জন পলাতক রয়েছেন।

    আরও অভিযুক্তরা মধ্যে রয়েছেন- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খান, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান, আসিফ আহমেদের, তারেকুজ্জামান রাজিব, শেখ বজলুর রহমান ও নুর মোহাম্মদ সেন্টু। এই অভিযুক্তবর্গের মধ্যে কিছু ব্যক্তি কারাগারে রয়েছেন, অন্যরা জামিনে মুক্ত।

    দ্বিতীয়ত, সবুজ হত্যার মামলায়, ৪ আগস্ট মোহাম্মদপুরে ময়ূর ভিলার সামনে গুলিবিদ্ধ হন ২২ বছর বয়সী সবুজ। রাত সাড়ে ১১টার দিকে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ঘটনায়, ১ সেপ্টেম্বর মোহাম্মদপুর থানায় সবুজের ভাই মনির হোসেন ৯৮ জনের নামসহ অজ্ঞাতপরিচয় ৪৫০-৫০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। প্রথমে মামলায় শ্রীযুক্ত শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরের নাম ছিল না, তবে তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ২৭ নভেম্বর শেখ হাসিনা ও আরও ৩০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক মো. মাজহারুল ইসলাম। অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত ২১ জন পলাতক রয়েছেন।

    অভিযোগের মধ্যে আছেন- ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, নুরনবী চৌধুরী শাওন। কয়েকজন কারাগারে রয়েছেন এবং ছয়জন জামিনে আছেন।

  • আজিজ আহমেদের ভাই আনিস আহমেদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

    আজিজ আহমেদের ভাই আনিস আহমেদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

    রোববার ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মোঃ সাব্বির ফয়েজের আদালত সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব:) আজিজ আহমেদের ভাই আনিস আহমেদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। এই আদেশ দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দেয়া হয়েছে বলে আদালতের বেঞ্চ সহকারী মোঃ রিয়াজ হোসেন তথ্য নিশ্চিত করেন।

    দুর্নীতির মাধ্যমে নিজ ও পরিবারের সদস্যদের নামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ সংক্রান্ত তদন্তের স্বার্থে আদালত এই নিষেধাজ্ঞার নির্দেশ দেন। দুদক সূত্রে জানা যায়, সংস্থাটির পক্ষে সহকারী পরিচালক সাজ্জাত হোসেন আনিস আহমেদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন।

    আবেদনে বলা হয়েছে, জেনারেল (অব:) আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে নিজ নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং বিভিন্ন ব্যাংক ও হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে উঠেছে যে তিনি মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও দুবাইয়ে ব্যবসা পরিচালনা ও বাড়ি ক্রয়সহ কয়েকটি লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

    বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, আজিজ আহমেদের সহযোগী হিসেবে পরিচিত তাঁর ভাই আনিস আহমেদ বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। সুষ্ঠু ও অবাধ তদন্ত নিশ্চিত করতে আদালত আনিসের দেশত্যাগ রাখা অপরিহার্য বলে বিবেচনা করেছেন। তদন্তকারীদের পর্যবেক্ষণ অনুসারে এই নিষেধাজ্ঞা আইনানুগ প্রক্রিয়া বজায় রেখে অনুসন্ধান সহজতর করবে।

  • গবেষণা: দেশের প্রায় ৪.৮৮ শতাংশ মানুষ মাদক ব্যবহার করে

    গবেষণা: দেশের প্রায় ৪.৮৮ শতাংশ মানুষ মাদক ব্যবহার করে

    সম্প্রতি এক জাতীয় গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে প্রায় ৮২ লাখ মানুষ এক বা একাধিক ধরনের মাদক ব্যবহার করছে — যা দেশের মোট জনসংখ্যার আনুমানিক ৪.৮৮ শতাংশ। গবেষণায় মাদক ব্যবহারকারীদের বড় অংশ তরুণ এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ ১৮ বছর হওয়ার আগেই মাদক গ্রহণ শুরু করে।

    গবেষণার ফলাফল রবিবার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের কনফারেন্স হলে প্রকাশ করা হয়। ‘বাংলাদেশে মাদক অপব্যবহারকারী ব্যক্তিদের সংখ্যা, ধরন ও সংশ্লিষ্ট কারণসমূহ’ শীর্ষক এই গবেষণা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অর্থায়নে বিএমইউ ও রিসার্চ অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট কনসালটেন্টস লিমিটেড (আরএমসিএল) যৌথভাবে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত পরিচালনা করে।

    গবেষণায় দেশের আট বিভাগ থেকে ১৩ জেলা ও ২৬ উপজেলা মিলিয়ে ৫ হাজার ২৮০ জনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এ গবেষণায় পরিমাণগত (কোয়ান্টিটেটিভ) এবং গুণগত (কোয়ালিটেটিভ)অনুমোদিত পদ্ধতি দুটোই ব্যবহার করা হয়েছে।

    বিভাগভিত্তিক তুলনায় ময়মনসিংহে মাদক ব্যবহারের হার সবচেয়ে বেশি (৬.০২ শতাংশ), তার পর রংপুর (৬.০০ শতাংশ) ও চট্টগ্রাম (৫.৫০ শতাংশ)। তুলনামূলকভাবে রাজশাহী (২.৭২ শতাংশ) ও খুলনায় (৪.০৮ শতাংশ) হার কম। সংখ্যার বিচারে সবচেয়ে বেশি মাদক ব্যবহারকারী বাস করেন ঢাকায় — প্রায় ২২.৮৭ লক্ষ; এরপর চট্টগ্রাম (প্রায় ১৮.৭৯ লক্ষ) ও রংপুর (প্রায় ১০.৮০ লক্ষ)। বিভাগের আনুমানিক সংখ্যা দেয়া হয়েছে: বরিশাল ৪,০৪,১১৮, চট্টগ্রাম ১৮,৭৯,৫০৩, ঢাকা ২২,৮৭,৯৭০, খুলনা ৭,২৬,২১০, ময়মনসিংহ ৭,৬০,৮১২, রাজশাহী ৫,৬৬,৫০৯, রংপুর ১০,৮০,৫৮৮ ও সিলেট ৪,৮৮,১৪১।

    প্রকারভেদের বিশ্লেষণে দেখা গেছে গাঁজা সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত—প্রায় ৬১ লক্ষ মানুষ গাঁজা ব্যবহার করে। এরপর রয়েছে ইয়াবা/মেথামফেটামিন (প্রায় ২৩ লক্ষ), মদ (প্রায় ২০ লক্ষ), এবং কোডিনযুক্ত কাশির সিরাপ, ঘুমের ওষুধ ও হেরোইনসহ অন্য পণ্য। গবেষণার প্রধান গবেষক, বিএমইউ’র ডিন অধ্যাপক ডাঃ সাইফউল্লাহ মুন্সী জানান, দেশের মাদক ব্যবহারে গাঁজার দখল সবচেয়ে বেশি, তার পরে ইয়াবা, হেরোইন, ফেন্সিডিল ও কোডিনজাত সিরাপের ব্যবহার লক্ষ্য করা গেছে।

    গবেষণায় আরও দেখা গেছে ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদকগ্রহণকারীর সংখ্যা প্রায় ৩৯ হাজার — এ ধরনের ব্যবহারকারীরা এইচআইভি, হেপাটাইটিসসহ সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হওয়ার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছেন।

    স্থানভিত্তিক বিশ্লেষণে বোঝা গেছে, যদিও শহরে মাদক ব্যবহারকারীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি, গ্রামাঞ্চলেও মাদকের বিস্তার দ্রুত বেড়েছে। গবেষকরা সতর্ক করেছেন, গ্রামীণ এলাকাতেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনকভাবে খারাপ হচ্ছে।

    বয়সভিত্তিক তথ্য বলছে, মাদক ব্যবহারকারীর বেশিরভাগই তরুণ। প্রায় ৩৩ শতাংশ ব্যক্তি ৮ থেকে ১৭ বছর বয়সে শিশু অবস্থায় প্রথম মাদক গ্রহণ শুরু করেছে, আর ৫৯ শতাংশ প্রথম মাদক গ্রহণ শুরু করেছে ১৮–২৫ বছর বয়সে।

    গবেষণাপত্রে মাদকসেবনের প্রধান ঝুঁকিকর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বেকারত্ব, বন্ধুমহলের প্রভাব, আর্থিক অনিশ্চয়তা, পারিবারিক অস্থিরতা, মানসিক চাপ ও অনানুষ্ঠানিক পেশায় যুক্ত থাকা। প্রায় ৯০ শতাংশ ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, মাদক তাদের কাছে সহজলভ্য।

    প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মাদক সমস্যা শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়—এটি একটি বড় জনস্বাস্থ্য সংকট। প্রতিরোধ, চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও সামাজিক পুনঃঅন্তর্ভুক্তির ওপর জোর দেয়া জরুরি। বিএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডাঃ মোঃ শাহিনুল আলম বলেন, মাদক প্রতিরোধে রাজনৈতিক দলগুলোরও বহুমুখী অঙ্গীকার প্রয়োজন; কোনো পরিবারের কেউই নিরাপদ নয়—সবারই ঝুঁকি রয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ হাসান মারুফ জানান, সামাজিক আন্দোলন ও সম্মিলিত উদ্যোগের মধ্য দিয়েই দেশের মানুষকে মাদক মুক্ত করা সম্ভব।

    অনুষ্ঠানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ গোলাম আজম, কো-ইনভেস্টিগেটর অধ্যাপক ডাঃ মোঃ তাজুল ইসলাম, কো-ইনভেস্টিগেটর ফোরকান হোসেন, বিএমইউ’র পরিচালক (হাসপাতাল) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইরতেকা রহমান, অতিরিক্ত পরিচালক (সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল) ডাঃ মোঃ শাহিদুল হাসান বাবুল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

    গবেষকরা শেয়ার করেছেন, অপরাধমূলক কড়া শাস্তি ছাড়াও ব্যাপক জনসচেতনতা, তরুণদের লক্ষ্য করে শিক্ষামূলক কার্যক্রম, সহজলভ্য চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সেবা, এবং মাদক সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত নীতি জরুরি—তবেই এই ক্রমবর্ধমান জনস্বাস্থ্যঝুঁকি সামাল দেয়া সম্ভব হবে।

  • সাবেক ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান ও পরিবারের ২২.৬৫ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ

    সাবেক ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান ও পরিবারের ২২.৬৫ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ

    অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ অন্যত্র হস্তান্তরের চেষ্টা করার অভিযোগে সাবেক ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের মোট ২২ কোটি ৬৫ লাখ ৫২ হাজার ৩৩০ টাকার সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়েছে।

    দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এই আবেদন করলে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ আজ রোববার ওই নির্দেশ দেন বলে দুদকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) তানজির আহমেদ জানিয়েছেন।

    দুদকের আবেদনে বলা হয়, আছাদুজ্জামান মিয়া, তাঁর স্ত্রী আফরোজা জামান, দুই ছেলে আসিফ শাহাদাৎ ও আসিফ মাহদিন, মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকা, শ্যালিকা পারভীন সুলতানা ও শ্যালক হারিচুর রহমানের নামে ঢাকার রমনা, জোয়ার সাহারা, মোহাম্মদপুরের রামচন্দ্রপুর, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প, গাজীপুরের কালীগঞ্জ, ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা এবং ভাঙ্গায় মোট ২২ কোটি ৬৫ লাখ ৫২ হাজার ৩৩০ টাকার বাড়ি, ফ্ল্যাট ও জমি রয়েছে।

    দুদক জানিয়েছে, আয়ের উৎস-বহির্ভূত এসব সম্পদ অর্জন সংক্রান্ত অভিযোগের অনুসন্ধান করতে একটি তিন সদস্যবিশিষ্ট দল কাজ করছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য ও বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, তদন্তের বাইরে রেখে এসব সম্পদ অন্যত্র স্থানান্তর বা হস্তান্তর করে ঝটপট বেহাত করার চেষ্টা চলছে।

    তাই অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও পরবর্তী বিচারে রাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা করার উদ্দেশ্যে অবিলম্বে ওই সমস্ত সম্পদ ক্রোক করা প্রয়োজন—এই ছিলেন আদালতে দুদকের যুক্তিগ্রহণের মূল কারণ। আবেদনকালে দুদক জানিয়েছে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বিচারের সময় এসব সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা সম্ভব নাও হতে পারে এবং এতে রাষ্ট্রের অপূরণীয় ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    অদ্যাবধি মামলার সূত্র ধরে দুদক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আরও তদন্ত করবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে জানানো হয়েছে।