Blog

  • ফ্রান্সের নিকন শর্ট ফিল্ম উৎসবে বাংলাদেশি ছবি ‘আনসিন’ নির্বাচিত

    ফ্রান্সের নিকন শর্ট ফিল্ম উৎসবে বাংলাদেশি ছবি ‘আনসিন’ নির্বাচিত

    ফ্রান্সের জনপ্রিয় নিকন শর্ট ফিল্ম উৎসবের ১৬তম আসরে একমাত্র বাংলাদেশি সিনেমা হিসেবে অফিসিয়াল সিলেকশনে স্থান পেয়েছে নির্মাতা সৈয়দ সাহিলের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘আনসিন’।

    প্রতিযোগিতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৬ হাজার চলচ্চিত্র জমা পড়ে। প্রথম ধাপে এগুলোর মধ্যে থেকে প্রায় ২ হাজার ৫১১টি সিনেমা শর্টলিস্টে নাম ওঠে এবং সেই তালিকায় জায়গা করে নেয় ‘আনসিন’। পরে দর্শক ভোটে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে ১ হাজার ১৫৮টি শর্ট ফিল্মের মধ্যে ব্যাপক সমর্থন পাওয়ার পর ছবিটি দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে।

    এবারের উৎসবের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘বিউটি’ বা সৌন্দর্য। পরিচালক সৈয়দ সাহিল তার ছবিতে প্রচলিত দৃশ্যমান সৌন্দর্যের বাইরে মানবিক আবেগ, অস্পষ্ট অনুভূতি ও অদৃশ্য বাস্তবতাকে কেন্দ্র করে নির্মাণ করেছেন। তাঁর ভাষ্য, “’আনসিন’-এর মাধ্যমে এমন এক সৌন্দর্য খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হয়েছে, যা চোখে দেখা যায় না — সেই অনুভূতিগুলো যেগুলোকে আমরা প্রায়ই উপেক্ষা করি এবং যেসব মানুষকে প্রকৃত অর্থে দেখতে পাই না।”

    চলচ্চিত্রটি প্যারিসে নির্মিত; সংলাপ পুরোপুরি ফরাসি ভাষায় হলেও আন্তর্জাতিক দর্শকদের জন্য এতে ইংরেজি সাবটাইটেল সংযুক্ত করা হয়েছে। প্রযোজনা করেছেন সাবরিনা ইসলাম। ছবিতে অভিনয় করেছেন ফরাসি শিল্পী জঁ-লুক জ্যাকো, জুলিয়েত পিরোত্তে ও এলিজাবেথ সেলেমের পাশাপাশি বাংলাদেশি অভিনেতা ইমতিয়াজ রনি।

    জানা গেছে, বর্তমানে ‘আনসিন’কে নিয়ে ইউরোপের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে জমা দেয়ার প্রস্তুতি চলছে। উৎসবে এই প্রতিধ্বনি নির্মাতা ও প্রযোজক দলের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • ক্যান্সারে মারা গেলেন কৌতুক অভিনেতা তারিকুজ্জামান তপন

    ক্যান্সারে মারা গেলেন কৌতুক অভিনেতা তারিকুজ্জামান তপন

    চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা তারিকুজ্জামান তপন আর নেই। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন — তিনি শুক্রবার রাত সাড়ে আটটার দিকে মৃত্যু বরণ করেন।

    অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশ তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। সংগঠনটির শোকবার্তায় বলা হয়েছে, সম্মানিত সদস্য ও প্রিয় সহকর্মী তারিকুজ্জামান তপন না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন; সংগঠন তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছে।

    পরিবারসূত্রে জানা গেছে, তপন দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন। গত ডিসেম্বরে তাঁর খাদ্যনালিতে ক্যানসারের সন্ধান পাওয়া যায় এবং চিকিৎসকরা জানান যে রোগটি চতুর্থ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। এর পর তিন দফা কেমোথেরাপি নেওয়া হয়। সম্প্রতি শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজধানীর এক বেসরকারি হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়েছিল; এ তথ্য জানিয়েছেন তাঁর ছেলে তাছফিক।

    দীর্ঘ কর্মজীবনে তপন টিভি নাটক ও চলচ্চিত্রে মানুষের মুখে-ঠোঙায় উঠে আসা কৌতুক চরিত্রে সমাদৃত ছিলেন। সাবলীল অভিনয় ও আর্তহাস্যসম্পন্ন চরিত্রে তিনি দর্শকদের মন জয় করেছিলেন। ‘আলতা বানু’, ‘ঠিকানা’, ‘জোড়া শালিক’, ‘হাতছানি’সহ অসংখ্য নাটক ও চলচ্চিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শক মনে বিশেষ ছাপ রেখে গেছে।

    তার প্রয়াণে বিনোদন অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শিল্পী সমিতি, সহকর্মী ও অনুরাগীরা সোশ্যাল মিডিয়ায় শোক বার্তা দিচ্ছেন এবং পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছেন। আমরা তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করছি এবং শোকগ্রস্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।

  • ফেসবুকে ছড়ানো ৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের পূর্বাভাস ভারতের, বাংলাদেশে তা সত্য নয়

    ফেসবুকে ছড়ানো ৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের পূর্বাভাস ভারতের, বাংলাদেশে তা সত্য নয়

    ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ৪৫–৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার সতর্কবার্তাটি বাংলাদেশের জন্য নয় — এটি ভারতের পূর্বাভাস বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। প্রশাসনিক ও আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে এ ধরনের তাপমাত্রা ওঠার সম্ভাবনা নেই।

    আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির শনিবার (২৫ এপ্রিল) ঢাকা মেইলকে জানিয়েছেন, সামাজিক মাধ্যমে যে ৪৫ থেকে ৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধির তথ্য ছড়িয়েছে, সেটি সম্ভবত ভারতের কোনও বেসামরিক সংস্থার দেওয়া এবং কেউ বাংলা অনুবাদ করে শেয়ার করেছে। আবহাওয়া অধিদফতরও তা নিশ্চিত করেছে।

    তরিফুল নেওয়াজ আরও বলেন, বাংলাদেশের রেকর্ড তাপমাত্রা ১৯৭২ সালে রাজশাহীতে রেকর্ডকৃত ৪৫.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চলতি বছরেও এমন চরম তাপমাত্রা হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এ বছর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা এখন পর্যন্ত রাজশাহীতে প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছে।

    তিনি বলেন, আগামী দিনগুলোতে সারাদেশে মোটামুটি বৃষ্টি হবে। উত্তরের অংশে ইতোমধ্যেই বৃষ্টির প্রবণতা শুরু হয়েছে এবং ধীরে ধীরে দক্ষিণ ও সিলেট অঞ্চলে অতি ভারী থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রা কিছুটা সহনীয় থাকবে এবং এ অবস্থা আগামী মাসের চতুর্থ-পঞ্চম তারিখ পর্যন্ত থাকতে পারে। তাই ফেসবুকে ছড়ানো ওই চরম তাপমাত্রার পূর্বাভাস বাংলাদেশে প্রযোজ্য নয়।

    ভাইরাল পোস্টে ২৯ এপ্রিল থেকে ১২ মে ও ২৫ মে থেকে ৪ জুন পর্যন্ত সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত খোলা আকাশে বের হওয়ার বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছিল। সেই পোস্টে আরও কিছু পরামর্শ ও সতর্কতা দিয়ে মানুষের কাছে ছড়ানো হয়েছিল — যেমন ঘরে থাকলে দরজা খুলে বায়ু চলাচল নিশ্চিত করা, শরীর খারাপ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া, ঠাণ্ডা পানীয় গ্রহণ ইত্যাদি।

    অন্যদিকে, ভাইরাল পোস্টে ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল ডিফেন্সের যেনো সাবধানবার্তাও সংযুক্ত ছিল— যেখানে ৪৭–৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের সম্ভাব্য তাপমাত্রা ও গাড়ি থেকে গ্যাস, লাইটার, কাগজপত্র সরানো, গাড়ির জানালা সামান্য খোলা রাখা, ইত্যাদি বিষয় উল্লেখ ছিল। কিন্তু এসব সতর্কতা সম্ভবত অন্য দেশের পরিস্থিতি নিয়ে করা হয়েছিল এবং বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য তা সরাসরি প্রযোজ্য নয়, বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইঙ্গিত দিয়েছেন।

    তবে সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ ও সাধারণ সতর্কতাগুলো মেনে চলা সবসময়ই জরুরি। বিশেষত:

    – প্রচুর পানি ও তরল পানীয় নিয়মিত খেলেই রাখুন।

    – সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলুন, বিশেষ করে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টার মধ্যে।

    – প্রয়োজনে ছায়ায় অবস্থান করুন বা এয়ার কন্ডিশনিং সুবিধা থাকলে ব্যবহার করুন।

    – গরমে অসুস্থতা লেগে থাকলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।

    – গ্যারেজ বা গাড়িতে আগে থেকে আলো-গ্যাসজাতীয় বিপজ্জনক পদার্থ সরিয়ে রাখুন এবং শিশু বা পোষা প্রাণী কখনোই গরম গাড়িতে ছেড়ে রাখবেন না।

    সংক্ষেপে, ফেসবুকে ছড়ানো ৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের পূর্বাভাসটি ভারতের বলে সচেতন করা হয়েছে, এবং আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে বাংলাদেশে এমন চরম তাপমাত্রার আশঙ্কা নেই। সরকারি ও স্থায়ী উৎস থেকে প্রকাশিত আবহাওয়া ও সতর্কতা-ই অনুসরণ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।

  • ২০২৭ সালের এসএসসি চলতি বছরের ডিসেম্বরে নেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী

    ২০২৭ সালের এসএসসি চলতি বছরের ডিসেম্বরে নেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষামন্ত্রী ড. এহছানুল হক মিলন বলেছেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় সেশনজট শেষ করার লক্ষ্যে ২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষাগুলো নির্ধারিত সময়ের আগেই—চলতি বছরের ডিসেম্বরেই—নাগাদ করা হবে। তিনি এই কথা বলেন শনিবার (২৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বদলি নীতিমালা নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে।

    মন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে সেশনজটের কষ্ট আমরা নিরসন করার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। করোনা পরবর্তী সময়ে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থা পরীক্ষার সময়সূচিতে বিঘ্ন ঘটিয়েছে। সেই অনিয়মী ছন্দকে স্বাভাবিক রাখতে আমরা এখনই পদক্ষেপ নিচ্ছি। ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা চলতি বছরের ডিসেম্বরেই সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছি।’

    তিনি আরও জানান, একই উদ্দেশ্যে ২০২৭ সালের উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষাও সময়ভাবে এগিয়ে আনা হবে। তবে এইচএসসি পরীক্ষা ঠিক কবে থেকে শুরু হবে—সেটি চূড়ান্ত করার বিষয়ে এখনই বিস্তারিত ঘোষণা করা হয়নি। বিএসএম ইত্যাদি প্রয়োজনীয় সমন্বয় ও কারিগরি প্রস্তুতি শেষে সময়সূচি প্রকাশ করা হবে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেছেন।

    এই সংবাদ বিবৃতির আগে মন্ত্রী মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি হওয়া বদলি নীতিমালা নিয়ে আলোচনা করেন। এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান বলতে সাধারণত এমন স্কুল-কলেজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বোঝানো হয়, যেগুলোর শিক্ষক-কর্মচারীরা 정부 থেকে বেতনভাতা পান।

    বৈঠকের পরে মিলন বলেন, ‘শিক্ষকদের বদলি প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, দ্রুত এবং জনবান্ধব করা হবে। নতুন বদলি নীতিমালা দ্রুতই কার্যকর করা হবে যাতে শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধান হয় এবং শিক্ষা কর্মমণ্ডলীর জনস্বার্থ রক্ষিত থাকে।’

    শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় এডজাস্টমেন্ট, একাডেমিক ক্যালেন্ডার সংশোধন এবং ইন্টার-শিক্ষাগত সমন্বয় করবে—এবং সেটি জনগণের জানামতে করা হবে বলে মন্ত্রীর বক্তব্যে আশা করা যায়।

  • বিএনপি ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে: জামায়াতের আমির

    বিএনপি ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে: জামায়াতের আমির

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমান বৃহস্পতিবার বলেন, বিএনপি এখন পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিবাদের পথ ধরে হাঁটা শুরু করেছে। তিনি এই মন্তব্য করেন শনিবার (২৫ এপ্রিল) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত সমাবেশে।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একসময় বিএনপির সঙ্গে তারা একই দুর্দশার শিকার ছিলেন, কিন্তু এখন বিএনপি সেই আওয়ামী লীগেরই কপিল হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, যত চেষ্টা করুক, তারা কখনই প্রকৃত আওয়ামী লীগ হতে পারবে না—ঐতিহাসিক নৈতিকতা আর কর্তৃত্বহীনতা ফিরে আনা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। যারা এককালে জাতিকে কিংবা বিরোধী দলকে নিয়ে ব্যঙ্গ করত, আজ তাদেরই নকল করছে বিএনপি।

    জামায়াত আমির বলেন, আওয়ামী লীগ সময়ে পোষা লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে সমাজে কর্তৃত্ব কায়েম করেছিল; কিন্তু আজ সেই লাঠিয়াল সহায়করা তাদের পাশে নেই। বিএনপি আজ একই কৌশল অবলম্বন করছে—এটাই ফ্যাসিবাদের লক্ষণ।

    তিনি আদালত করেন যে রাষ্ট্রের মৌলিক স্থানে পরিবর্তন না আলে সুশাসন ও প্রকৃত স্বাধীনতার স্বাদ জনগণ পাবে না; কিন্তু বিএনপি প্রতিটি পরিবর্তনবিরোধী অবস্থান গ্রহণ করছে। নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া ৩১ দফা কর্মসূচির বিরোধিতা করাটাই তাদের প্রকৃত চরিত্র প্রকাশ করছে, যোগ করেন তিনি।

    ডা. শফিকুর আরও বলেন, যদি না হত জনবিরৃষ্টি ও ত্যাগ—মা-বাবা, ভাই-বোনেরা যদি জীবন না দিয়ে থাকত—তাহলে আজকার মতো ক্ষমতা অবাধে উপভোগ করা সম্ভব হতো না। ৫ আগস্টের পরে ৭ আগস্ট পার্টি অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে ক্ষমতা দাবি করার সময় তারা শহীদ পরিবারদের কষ্টকে উপেক্ষা করেছে বলে তিনি সমালোচনা করেন। আহতদের জন্য তেমন কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি, অথচ তারা বিপ্লবের সুফল ভোগ করছে।

    তিনি জেলের সময়কার এক কাহিনি বলেন—জেল খুলে তার সহকর্মী আল্লামা মামুনুল হক জানিয়েছিলেন যে বিএনপির শীর্ষ নেতারা জেলেই ছিলেন এবং তারা হতাশা প্রকাশ করত যে স্বৈরাচারী বিরোধী ছাড়া ক্ষমতাকে সরানো সম্ভব ছিল না। ২৪-এর অভ্যুত্থানের পরে যখন উপদেষ্টারা বঙ্গভবনে শপথ নেন, তখনও অনেকে এটিকে খোদার দান বলে অভিহিত করেছিলেন; পরে সেই দান ভুলে যাওয়া দুর্ভাগ্যজনক। কিছু মানুষ কোনো আন্দোলনের ‘মাস্টারমাইন্ড’ দাবি করে—এগুলো তিনি মিথ্যা বলেছেন বলে আখ্যা দেন।

    জুলাই আন্দোলনের নায়কদের সম্মান করতে তিনি আহ্বান জানান। আন্দোলনে ছাত্র, শ্রমিক, মায়েরা—সবাই জীবন বাজি রেখেছিল; তখন তাদের তুচ্ছভাবে না দেখা এবং তাদের ভূমিকা ভুলে না যাওয়ার অনুরোধ জানান তিনি। ছাত্র সমাজ, শ্রমিক সংগঠন, পরিবারগুলো—সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশমুক্তির সংগ্রামে শরিক হয়েছিল।

    পার্লামেন্ট পর্বে জামায়াত দাবি করেছে সংস্কার পরিষদ গঠনের; কিন্তু শপথ ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে সরকার প্রতারণা করেছে, বলে অভিযোগ করেন তিনি। তারা আইন সংশোধন না করলেই, অধ্যাদেশ কার্যকর না হলেই ফ্যাসিবাদী শাসনের বদল সম্ভব হবে না—এধরনের অবস্থানে বিএনপি রয়েছে, যুক্তি দেন তিনি।

    শফিকুর আরও অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিককালে বিভিন্ন জায়গায়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, এমনকি সমাবেশস্থলের নিকটস্থ এলাকায় দুষ্কৃতিমূলক ঘটনার মধ্যে ডাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর হামলারও সংবাদ এসেছে; তিনি বললেন, এসব ঘটনার ফলে পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে যে বিএনপি গণভোটের ফল অস্বীকার করে ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে।

    সংবাদ বক্তব্যের শেষভাগে জামায়াত আমির আবিদ করেন—তারা এমন একটি বাংলাদেশ চায় যেখানে শিশু-কিশোর-যুবক-যুবতীরা নিরাপদে বাইরে বেড়াতে পারবে, যেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছিদ্র-হিংসা, অস্ত্রদিয়ে পথ আটকে দেওয়া বা বড় জবরদস্তি থাকবে না। যদি এ সংস্কৃতি বন্ধ না করা যায়, তবে ‘জুলাই’ শুধুই ২৪ সালে ছিল না—প্রতি বছরই মানুষ প্রতিবাদে বেরিয়ে আসবে এবং একদিন ফ্যাসিবাদের চিরস্মরণীয় কবর রচনা হবে। যদি গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করা হয়, তাহলে আন্দোলন সংসদেও এবং খোলা মাঠেও চলবে, ইনশাআল্লাহ।

  • তরুণদের উদ্দেশে নাহিদ: সারাদেশে নির্বাচন প্রস্তুতি নিন — এনসিপি থাকবে আপনার পাশে

    তরুণদের উদ্দেশে নাহিদ: সারাদেশে নির্বাচন প্রস্তুতি নিন — এনসিপি থাকবে আপনার পাশে

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন যে ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করছে। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি সারাদেশের তরুণদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনারা সারাদেশে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন। এনসিপি আপনাদের সমর্থন জানাবে।”

    অনুষ্ঠনায় যোগদানরতদের স্বাগত জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এনসিপির সমর্থনে তরুণদের শক্তির জয় গড়বে বলেই তার আশাবাদ। এই কর্মসূচিটি বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা ইসহাক সরকারের, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতনি ফেরসামিন হক ইকবালসহ কয়েকজনের এনসিপিতে যোগদানের পরিপ্রেক্ষিতে আয়োজন করা হয়েছিল।

    বক্তৃতায় নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, জাতীয় নির্বাচনে সরকার গঠনের পর জনগণের গণভোটকে অস্বীকার করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, গত জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানপরবর্তী ঐতিহ্য (‘লিগ্যাসি’) থেকে বিচ্ছিন্ন করে নির্বাচনের আচরণকে একটি সাধারণ ক্ষমতার হস্তান্তরের পর্যায়ে নামিয়ে আনা হয়েছে। সংবিধান ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারমূলক অধ্যাদেশগুলো এই সরকার একে একে বাতিল করে দিচ্ছে এবং ব্যাংক লুটেরাদের জন্য সুবিধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। পাশাপাশি দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নানাভাবে দলীয়করণ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

    বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও পেশিশক্তি ও ক্ষমতার রাজনীতির নবোৎপত্তি ঘটছে বলে সতর্ক করে নাহিদ বলেন, ‘‘ফ্যাসিবাদ বা কোনো নতুন কিংবা পুরাতন স্বৈরশাসন ফিরে এলে জনগণ আবারো সংগঠিত হবে। জনগণ এনসিপির ছায়াতলে ঐক্যবদ্ধ হবে—আমরা এর প্রমাণ সারা দেশ থেকেই পাচ্ছি।’’

    দেশজুড়ে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথা তুলে ধরে এনসিপি আহ্বায়ক আরও বলেন, ‘‘প্রতি সপ্তাহে আমাদের যোগদান কর্মসূচি চলবে। আমরা সারাদেশের রাজনীতিসচেতন মানুষ ও তরুণদের আহ্বান জানাচ্ছি — আমাদের সবারই দায়িত্ব আছে। যারা রাজনীতি করতে চান, যারা পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেন, তারা ঐক্যবদ্ধ হোন। এনসিপি আপনাদের ধারণ করে সামনে এগিয়ে যেতে চায়।’’

    বক্তৃতায় নাহিদ বর্তমান সরকারকে ক্রমে ব্যর্থতার পথে আখ্যায়িত করে বলেন, ‘‘অর্থনীতি টালমাটাল, দেশের গণতন্ত্র নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে ঐক্যবদ্ধভাবে জনগণের পাশে না দাঁড়ালে আমাদের আর কোনো উপায় থাকবে না। আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি, ইনশাআল্লাহ।’’

    যোগদানসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা ইসহাক সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগদান করেছেন। এ ছাড়া শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতনি ফেরসামিন হক ইকবাল (ফ্লোরা), কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা ও রেলের অনিয়ম নিয়ে আন্দোলনকারী মহিউদ্দিন রনি এনসিপিতে যোগদান করেছেন। ফেরসামিন বিদেশে থাকায় অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত থাকতে পারেননি; অন্যরা মঞ্চে ছিলেন এবং নাম ঘোষণার পর ইসহাক সরকার, নুরুজ্জামান কাফি ও মহিউদ্দিন রনিকে ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে নাহিদ ইসলামসহ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

  • জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় পোশাক খাতে ক্রয়াদেশ স্থগিত, উদ্বেগ বাড়ছে

    জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় পোশাক খাতে ক্রয়াদেশ স্থগিত, উদ্বেগ বাড়ছে

    দেশে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকটকে কেন্দ্র করে বিদেশি ক্রেতারা নতুন ক্রয়াদেশ দেওয়া স্থগিত করছেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম (পারভেজ) চৌধুরী। তিনি সতর্ক করেছেন যে, এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে তৈরি পোশাক খাতসহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান খাত বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

    বিসিআই সভাপতি বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় বলেন, বিশ্ববাজারের অস্থিরতা এবং দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে আগামী জুলাই ও আগস্ট মাসের জন্য যে অনেক ক্রয়াদেশ থাকত, তা ইতোমধ্যেই ধীরগতির হয়ে পড়েছে। বড় ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো নেতিবাচক সঙ্কেত দিচ্ছে এবং কিছু অর্ডার ভারতসহ অন্য দেশে স্থানান্তরের প্রক্রিয়াও দেখা যাচ্ছে।

    তিনি আরও জানান, যেসব বিদেশি প্রতিষ্ঠানের ঢাকা অফিস পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করলেও তাদের শীর্ষ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীরা নতুন অর্ডার দেওয়ার বিষয়ে এখন অনেক বেশি সতর্ক। এর ফলে সরবরাহ চেইন এবং রফতানি আয় দুটোই ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

    আনোয়ার-উল আলম বর্তমান কর কাঠামোকে ব্যবসাবান্ধব বলেননি। তিনি বলেন, লাভ-লোকসান নির্বিশেষে এক শতাংশ হারে ন্যূনতম কর পরিশোধের বাধ্যবাধকতা অনেক প্রতিষ্ঠানের ওপর বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে, বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে। কোনো সময়ে লাভ না থাকলেও কর দিতে হচ্ছে, যা ব্যবসা চালিয়ে যেতেই কঠিনতা সৃষ্টি করছে। সেই কারণেই তিনি ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস এবং রপ্তানি আয়ের ওপর উৎস কর কমানোর আবেদন জানিয়েছেন।

    তবে এনবিআর চেয়ারম্যান মোঃ আবদুর রহমান খান প্রস্তাবিত উৎস কর কমানোর পরামর্শ ফিরিয়ে দিয়েছেন। এছাড়া আয়কর আইন ২০২৩-এর ১৪৭ ধারা প্রসঙ্গে বিসিআই সভাপতি বলেন, কর যাচাইয়ের নামে প্রতিষ্ঠানগুলোর কম্পিউটার সিস্টেম বা নথিপত্র জব্দ করার অবারিত ক্ষমতা ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করছে এবং ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে।

    প্রাক-বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) দাবি জানিয়েছে ব্যাংক আমানতের মুনাফার ওপর বর্তমান উৎস কর ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হোক এবং নিট সম্পদের ওপর আরোপিত সারচার্জ ধাপে ধাপে বাতিল করা হোক। প্রসঙ্গত, ব্যবসায়ীরা করের বোঝা বাড়ানো না করে ব্যবসা-সহায়ক কাঠামো গড়ে তুলতে সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়েছে।

    শিল্প উদ্যোক্তারা মনে করেন, যদি জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল না থাকে এবং কর কাঠামো সহজীকরণ না করা হয়, তাহলে দেশের রপ্তানি খাতের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা আরও দুর্বল হবে। ফলে সরাসরি প্রভাব পড়বে কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক মুদ্রা আয়েও। তাঁরা বলেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সেক্টরের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

  • এপ্রিলের প্রথম ২২ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ২.৪২ বিলিয়ন ডলার

    এপ্রিলের প্রথম ২২ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ২.৪২ বিলিয়ন ডলার

    রেমিট্যান্স প্রবাহের ইতিবাচক ধারা চলতি এপ্রিলেও অব্যাহত রয়েছে। চলতি মাসের প্রথম ২২ দিনে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন প্রায় ২.৪২ বিলিয়ন (২৪১ কোটি ৭০ লাখ) মার্কিন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংক বুধবার (২৩ এপ্রিল) এই তথ্য জানিয়েছে।

    বর্তমান বাজারদর প্রতি ডলার ১১২ টাকা ধরে হিসাব করলে এ রেমিট্যান্সের পরিমাণ প্রায় ২৯ হাজার ৪৮৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা বলে দেখায় ব্যাংকের হিসাব। গত বছরের একই সময়ে প্রাপ্ত রেমিট্যান্স ছিল ২০৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার, তাই এবারের এপ্রিলের প্রথম ২২ দিনে গত বছরের একই সময়ের চেয়ে বর্ধিত হয়েছে ৩৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার বা প্রায় ৪ হাজার ৪৪০ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

    দেশে ইতিহাসের সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় এসেছিল চলতি বছরের মার্চে; ওই মাসে প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এর আগে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছে গত বছরের মার্চে (৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলার), তৃতীয় সর্বোচ্চ ছিল ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে (৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার) এবং চতুর্থ উচ্চতম আয় ছিল চলতি বছরের জানুয়ারিতে (৩১৭ কোটি ডলার)।

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকট দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়া সম্ভব। তাই তারা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্ত অবস্থানে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন, যাতে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলা করা যায়।

  • ফ্লোরিডায় নিখোঁজ নাহিদা ‘মারা গেছেন’ দাবি ভাইয়ের; আরেক শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার

    ফ্লোরিডায় নিখোঁজ নাহিদা ‘মারা গেছেন’ দাবি ভাইয়ের; আরেক শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার

    যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে নিখোঁজ থাকছেন বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা (বৃষ্টি)। তার পরিবার—বিশেষত ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত—ফেসবুক পোস্টে দাবি করেছেন, পুলিশ তাদের জানিয়েছে নাহিদা মারা গেছেন।

    শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে ফেসবুকে দেয়া পোস্টে প্রান্ত লিখেছেন, ‘আমাদের বোন আর আমাদের মাঝে নেই, ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।’ বিবিসি বাংলাকে প্রান্ত বলেন, পুলিশ তাকে ফোন করে মৃত্যুর খবর জানায়। তিনি বলেন, বাসার ভেতরে রক্তে ভেজা একটি মৃতদেহের অংশের সঙ্গে ডিএনএ মিল পেয়েছে। তবে কি পূর্ণাঙ্গ মরদেহ পাওয়া যাবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়—এই তথ্যও প্রান্ত জানিয়েছেন।

    হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় যে ভিডিও প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড সেতু এলাকায় তল্লাশি কাজ চলছে এবং ডুবুরি দল সেতুর আশপাশের পানিতে অনুসন্ধান চালাচ্ছে।

    পূর্বে নিখোঁজ আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল হাসান লিমনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) হিলসবোরোর আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ফ্লোরিডার টাম্পার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ থেকে জামিলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

    নিহত জামিল ছিলেন ইউএসএফ (ইউনিভার্সিটি অফ সাউথ ফ্লোরিডা)-এর ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি শিক্ষার্থী। নাহিদা কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং–এ পিএইচডি করছিলেন। তাদের দুজনকেই সর্বশেষ ১৬ এপ্রিল দেখা গিয়েছে বলে পরিবার জানিয়েছে।

    জামিল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একটি অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে শেরিফের দফতর জানিয়েছে। পুলিশ গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম হিশাম আবুঘরবেহ বলে উল্লেখ করেছে। তার বিরুদ্ধে প্রমাণ নষ্ট করা এবং অনুমোদনহীনভাবে মরদেহ সরানো বা লুকানোর মতো অভিযোগ আনা হয়েছে।

    শেরিফের দফতর জানায়, গ্রেফতার হিশামের বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, সাধারণ প্রহার, কাউকে অনায়ে আটক রাখা, তথ্য-প্রমাণ নিধনের চেষ্টা, পুলিশের কাছে কারও মৃত্যুর খবর না জানানো ও বেআইনি ভাবে মৃতদেহ সরানো বা নাড়াচাড়া করার মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ পদক্ষেপ হিসেবে করা হয়েছে।

    এই দুই শিক্ষার্থীর নিখোঁজ ও একের মৃত্যুর খবরে ফ্লোরিডায় থাকা প্রবাসী সমাজে শোক এবং উদ্বেগের ছায়া নেমে এসেছে। কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত ঘটনার অন্যান্য তথ্য প্রকাশ করেছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। পরিবার ও কমিউনিটির মানুষ দ্রুত এবং পুরো সত্য উদঘাটনের প্রত্যাশা করছে।

  • ২০ বছর পর দেইর আল-বালাহে স্থানীয় নির্বাচন শুরু

    ২০ বছর পর দেইর আল-বালাহে স্থানীয় নির্বাচন শুরু

    ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার দেইর আল-বালাহ শহরে শনিবার সকাল থেকে পৌরসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। এটি গাজায় দুই দশক ধরে প্রথম কোনো নির্বাচন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    গাজায় সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছিল ২০০৬ সালের ২৫ জানুয়ারি। সেই নির্বাচনে সামাজিক-রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতাসীন হয়েছিল সশস্ত্র ইসলামি গোষ্ঠী হামাস। ক্ষমতায় বসার পর ২০০৭ সালে গাজা থেকে প্রতিপক্ষ ফাতাহকে বিতাড়িত করে হামাস মূলত একতরফা শাসন চালায় এবং পরোক্ষভাবে দীর্ঘদিন যাবৎ উপত্যকায় কোনো নির্বাচন হয়নি।

    রয়টার্সসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর দু’বছরের তীব্র সামরিক অভিযানের পর ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়। ওই যুদ্ধবিরতির এক শর্তে গাজার আধাসামরিক বা রাজনৈতিক শাসন তুলে দিয়ে অরাজনৈতিক একটি টেকনোক্র্যাট প্রশাসন গঠনের কথা বলেছিল বলে রিপোর্টে উল্লেখ আছে। কয়েক মাস আগে সে ধরনের একটি টেকনোক্র্যাট সরকার গঠিত হয় এবং তার অধীনে এই স্থানীয় নির্বাচন আয়োজন করা হচ্ছে।

    পশ্চিম তীরের সরকারে অংশ নেওয়া ফিলিস্তিনি জাতীয় কর্তৃপক্ষ (পিএ) ও তার জোট এই নির্বাচনের মাধ্যমে গাজার রাজনীতিতে পুনরায় প্রবেশের সুযোগ হিসেবে এটি দেখে। ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কিছু দেশের সরকারও গাজার এই স্থানীয় নির্বাচনের পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে এসেছে। তাদের মতে, নির্বাচিত স্থানীয় প্রতিনিধিত্ব শক্তিশালী হলে ফিলিস্তিনি স্বশাসন ও ভবিষ্যত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়াও ত্বরান্বিত হবে।

    কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, দেইর আল-বালাহে নির্বাচন সফল হলে পুরো গাজায় নির্বাচনের সুযোগ ফিরে আসতে পারে এবং দুই দশক পর নির্বাচিত সরকার গঠনের সম্ভাবনা জোরালো হতে পারে।

    গাজার তত্ত্বাবধায়ক টেকনোক্র্যাট প্রশাসন এবং নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে তারা চাইছিল পুরো উপত্যকাতেই স্থানীয় নির্বাচন করাতে, কিন্তু ইসরায়েলি অভিযান শেষে শহরগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ায় ও মलबা-পতন এখনও অপসারণ না হওয়ায় আপাতত এই শহরটিকেই নির্বাচনমঞ্চ হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। দেইর আল-বালাহে অন্যান্য শহরগুলোর তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম ক্ষতি হয়েছে বলে কমিশন জানিয়েছে।

    নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেইর আল-বালাহ পৌর নির্বাচনে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা ৭০,৪৪৯। শহরজুড়ে ১২টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছে; বেশিরভাগ কেন্দ্রই জাতিসংঘের সহায়তায় তাবু স্থাপন করে করা হয়েছে।

    হামাস এই নির্বাচন বয়কট ঘোষণা করেছে, তবে রয়টার্স বলেছে—হামাসের সঙ্গে সম্পর্কিত কয়েকজন ব্যক্তি এ প্রক্রিয়ায় প্রার্থী হয়েছেন।

    স্থানীয়রা সাধারণত এই নির্বাচনকে স্বাগত জানাচ্ছে। এক ভোটার, আদহাম আল-বারদিনি, রয়টার্সকে বলেছেন, “আমি জন্মের পর থেকে নির্বাচন কথাটা শুনে এসেছি; আজ নিজের চোখে দেখতে পারলাম নির্বাচন কী ও কেমন হয়।” অন্যরা বলছেন, দীর্ঘ সময়ে চাপিয়ে দেওয়া বাস্তবতার পরিবর্তনের প্রত্যাশা তাদের ভোটে অংশ নেওয়ার কারণ।

    রয়টার্সকে উল্লিখিত সূত্রের তথ্যকে চিকিৎসা করে এই প্রতিবেদন আয়োজন করা হয়েছে।