Blog

  • নতুন সরকার এলডিসি উত্তরণ পেছানোর উদ্যোগ নেবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

    নতুন সরকার এলডিসি উত্তরণ পেছানোর উদ্যোগ নেবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

    নতুন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের সময়সীমা পেছানোর জন্য নতুন সরকার উদ্যোগ নেবে। তিনি জানান, এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন ডেফার করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

    বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রথম দিনের অফিস শুরু করতে এসে সাংবাদিকদের তিনি এসব বলেন। বাণিজ্যমন্ত্রী আরও জানান, সরকার এই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে আর জন্যে শ্রম দিচ্ছে। তিনি বলেন, এই উদ্যোগটি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে শুরু হয়েছে এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় তথ্য ও কার্যপ্রক্রিয়া দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।

    ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবি স্বীকার করে তিনি বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের সময়সীমা পেছানোর বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রথম সপ্তাহেই এই বিষয়ে চিঠি পাঠানোর প্রয়োজন নেই, তবে সরকার এখন থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছে।

    রপ্তানির বর্তমান সময়ের ধীরগতির বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি প্রক্রিয়া এখনো সংকীর্ণ। দেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮৫ শতাংশ একমাত্র কিছু পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। এই দুর্বলতা কাটাতে হলে রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনতে হবে, নতুন পণ্য সংযুক্ত করতে হবে এবং নতুন বাজারের সন্ধান চালাতে হবে। এছাড়া, বেসরকারি খাতে যারা ব্যবসা ও বিনিয়োগ করতে চান, তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া সরকারের লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

    বিশ্ব বাণিজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ নীতিতে পরিবর্তনের কারণে বিশ্বে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ একটি দরিদ্র দেশ হিসেবে সীমিত সুযোগ-সুবিধা নিয়ে টিকে থাকছে। তিনি বলেন, দেশের মার্জিন অব এরোর খুবই ক্ষুদ্র, যেখানে ভুলের সুযোগ কম। ফলে, গত কয়েক মাসে যে মন্থর গতিচলন দেখা গেছে, তা থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসার জন্য সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে।

    রমজান উপলক্ষে বাজার পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে বাজার স্থিতিশীল থাকবে। সরকার রমজান ও পরবর্তী সময়ের জন্য নিত্যপ্রয়োজনে ব্যবহৃত পণ্য পর্যাপ্ত মজুত ও পাইপলাইনে পণ্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন, ফলে বাজারে কোনো আতঙ্কের সময় না।

    রমজান মাসে বাজারে সিন্ডিকেটের প্রসঙ্গ উঠলে তিনি বলেন, তিনি শুধু বক্তব্য নয়, কাজের মাধ্যমে ফলাফল দেখাতে চান। এ জন্য তিনি বলেন, ‘আমি সাউন্ড বাইট দিচ্ছি না, ইনশাআল্লাহ কাজ করে দেখাব।’

    বাজারে কিছু পণ্যের দাম বাড়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি অনেক ক্ষেত্রে এককালীন চাহিদা বৃদ্ধির কারণে হয়। সাধারণত পুরো মাসের বাজার একসঙ্গে করে, ফলে ভোগের প্রয়োজন বাড়ে, এবং এর প্রভাব খুচরা বাজারে পড়ে। তবে বলে থাকেন, এই চাহিদা বৃদ্ধির প্রভাব খুব বেশি সময় স্থায়ী হয় না।

    বিদেশি ও দেশীয় বিনিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, কোনো অনিশ্চয়তা থাকলে বিনিয়োগ অনিরাপদ হয়। স্থিতিশীল পরিবেশ ছাড়া বিনিয়োগ আসবে না। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক নিশ্চয়তা থাকলে বিনিয়োগকারীরা তাদের পুঁজি ও শ্রমের জন্য সুবিধাজনক পরিস্থিতি প্রত্যাশা করে। তিনি আরও জানান, দেশে বড় সংখ্যক জনশক্তি রয়েছে, প্রতিদিন ২০ থেকে ২২ লাখ তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। পুরনো বিনিয়োগ দীর্ঘদিন ধরে স্থবির থাকায় দেশের জন্য বড় চাপে পড়েছে, এবং এই পরিস্থিতি দ্রুত সমাধান না হলে কর্মসংস্থান ও অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি হবে।

    নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় রমজান শুরু হওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন তিনি। তিনি বলছেন, রমজান কার্যক্রম সুসম্পন্ন করতে হলে সরকারকে সফল হতে হবে। দেশের স্বার্থে কাজ করতে গিয়ে সবাই একত্রে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছেন। তিনি বলেন, এটি ব্যক্তিগত নয়, দেশের স্বার্থের বিষয়। এই কাজে সকলের সহযোগিতা চান, যদি কোথাও ভুল হয় তখন তা ধার করে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন, মিলেঝুলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

  • খুলনা অঞ্চলে কাঁচা পাটের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে পাটকলগুলো উৎপাদন বন্ধ

    খুলনা অঞ্চলে কাঁচা পাটের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে পাটকলগুলো উৎপাদন বন্ধ

    খুলনা অঞ্চলের বেশ কিছু ইজারা দেওয়া ও বেসরকারি পাটকলের কার্যক্রম স্থগিত হয়ে পড়েছে কাঁচা পাটের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির কারণে। শেষ কয়েক সপ্তাহে কাঁচা পাটের দাম হঠাৎ করে দ্বিগুণের বেশি বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ অনেকটাই বেড়ে গেছে। এর ফলে বেশিরভাগ মিলই এখন কাজ বন্ধ করে দিয়েছে, এবং এতে হাজার হাজার শ্রমিকের জীবন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। শ্রমিকেরা বলছেন, শ্রমিকেরা প্রতিদিন সামান্য সময় বসে থাকছেন, কারণ কাঁচা পাটের সংকটের কারণে মালিকরা উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। এর ফলে শ্রমিকদের কর্মসংস্থান হুমকির মুখে পড়েছে।

    খুলনার দৌলতপুর এলাকার দৌলতপুর জুট মিল গত দেড় মাস ধরে কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে। শ্রমিকরা বলছেন, কাঁচা পাটের অভাবে মিলগুলোতে কাজ নেই, তাই তারা কাজ করতে আসছেন না। শ্রমিকদের একজন আসাদুজ্জামান বলেন, “আমি গত দেড় মাস ধরে এখানে আসছি, কাজের জন্য হালকা আশায় থাকি, কিন্তু কোনো কাজ নেই। কাঁচা পাটের অভাবে মালিকরা মিল চালাতে পারছেন না, আর যদি যত দ্রুত সম্ভব এই সংকট সমাধান না হয়, তবে কেবল কাজ হারানোর আশঙ্কাই বেড়েই চলবে।” অন্য শ্রমিক হাবিবুল্লাহ বলেছেন, “আমাদের দিয়ে মালিকরা খুব কম টাকা আয় করেন, আর আমরা সেই টাকা নিতে পারি না। এই তিন বছর আমাদের জীবন ভালো চলছিল, কিন্তু এখন দেড় মাস ধরে আমরা বিনা কাজের মাঝে আছি। মালিকেরা যদি সরকারি নীতিনির্ধারণে সক্রিয় না হন, তবে এই সংকট আরও দীর্ঘস্থায়ী হয়ে যেতে পারে।”

    মিলের মালিকেরা জানাচ্ছেন, মৌসুমের শুরুতে তাঁরা যদি পাটের দাম প্রতি মণ ৩২০০ টাকা কিনে থাকেন, এখন দেড় মাস পরে দাম বেড়ে ৫২০০ টাকায় উঠেছে। দ্বিগুণের কাছাকাছি দাম বৃদ্ধির ফলে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে, আবার বাজারে পণ্য বিক্রি দরও বেড়েছে না। ফলে উৎপাদনে উদ্যোক্তারা আগ্রহ হারাচ্ছেন। দৌলতপুর জুট মিলের উৎপাদন কর্মকর্তা মোঃ ইসরাফিল মোল্লা জানান, “অতিরিক্ত দামে পাট কিনে এখন সামর্থ্য থাকছে না, আগে যেখানে প্রতি মণে ৩২০০ টাকায় পাট কিনে ৮০ টাকা দরে চাদর বিক্রি করতাম, এখন ৪০০০ টাকা দরেও কিনে মিল চালানোর কথা ভাবা যায়। তবে এখন খরচ এত বেশি যে বিক্রির মূল্য তার চেয়ে কম। ফলে বাধ্য হয়ে দেড় মাস থেকে উৎপাদন বন্ধ রেখেছি।”

    তিনি আরও বলেন, “কাঁচা পাটের এই সংকট তৈরি হয়েছে ভুয়া সংকট দেখানোর জন্য। আসলে, গত দুই বছরে এই অঞ্চলের উৎপাদন মাত্রই হয়েছে, কিন্তু ব্যবসায়ীরা দাম artificially বৃদ্ধি করেছে। সরকার যদি তদারকি না করে, তাহলে এই মিলগুলো চালানো সম্ভব নয়।”

    অন্যদিকে, কৃষি বিভাগের তথ্য অনুসারে, গত দুই বছর ধরে এই অঞ্চলের কাঁচা পাটের উৎপাদন স্থিতিশীল ছিল, যেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৯৪,৬৬৬ মে. টন এবং ২০২৫-২৬ সালে ৯১,১৩৫ মে. টন উৎপাদন হয়েছিল। কৃষি অধিদফতরের গড় হিসেবেও দেখা যায়, এই দুই বছর জেলাগুলোর উৎপাদন খুব একটা পরিবর্তন হয়নি।

    বাজারের অস্থিতিশীলতা ও উর্ধ্বমুখী দামের জন্য কিছু সিন্ডিকেট মূলত পাট মজুত করে রাখছে এবং দাম artificially বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে। বাংলাদেশ জুট মিল এ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক মোঃ জহির উদ্দিন বলছেন, “নতুন সরকারকে বাজার নিয়ন্ত্রণ, ভর্তুকি আর তদারকি আরও বাড়ানো দরকার। অসাধু ব্যবসায়ীরা কাঁচা পাট মজুত করে চকচকে করে দিচ্ছে, যার ফলে বাজারের স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ব্যাংক ঋণের সংকটও রয়েছে, যা এই খাতে বড় সমস্যা। তাই সরকারকে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে।”

    পাট অধিদফতর জানিয়েছে, বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছে এবং নিয়মিত নজরদারির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। খুলনা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সরজিত সরকার বললেন, “আমরা আহ্বান জানিয়েছি, একজন আড়তদার বা ডিলার সর্বোচ্চ এক মাসে ৫০০ মণ পাট মজুত রাখতে পারবেন, এই নিয়মের যথাযথ প্রয়োগের জন্য নজরদারি চালাচ্ছি। দাম যাতে স্বাভাবিক থাকে, তার জন্য নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। আশা করছি শিগগিরই এই সংকট কেটে যাবে এবং বাজার স্বাভাবিক হবে।”

    খুলনা অঞ্চলে ইজারাকৃত ও বেসরকারি মিল মিলিয়ে মোট ২০টি পাটকল রয়েছে। এখানে প্রায় প্রতি মাসে ২৫,০০০ মেট্রিক টন পাটপণ্য উৎপাদিত হয়, যার বড় অংশই বিদেশে রপ্তানি হয়। তবে বর্তমানে এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে, উৎপাদন ও রপ্তানিতে বিরূপ প্রভাব পড়ে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

  • ফেব্রুয়ারির ১৮ দিনে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স পৌঁছাল দুই বিলিয়ন ডলার

    ফেব্রুয়ারির ১৮ দিনে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স পৌঁছাল দুই বিলিয়ন ডলার

    জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং আসন্ন pবিত্র রমজান মাসের প্রভাবের কারণে দেশের মানুষের মধ্যে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা অতীতের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে চলতি ফেব্রুয়ারির প্রথম ১৮ দিনে দেশের বৈধ পথে প্রবাসীরা মোট ২ বিলিয়ন ডলাকার বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে। এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে ফেব্রুয়ারি মাসের শেষে রেমিট্যান্সের মোট পরিমাণ ৩ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করার আশার কথা বলা হচ্ছে।

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জনপ্রতিনিধি নির্বাচন ও রমজান মাসের জন্য পরিবারের খরচ বাড়ার কারণে প্রবাসীরা বেশি করে অর্থ প্রেরণ করছেন। এই রেমিটেন্স প্রবাহের বৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করছেন।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারিতে দেশের প্রবাসীরা মোট ৩১৭ কোটি ডলার বা অর্থাৎ ৩ দশমিক ১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাঠিয়েছেন। এটি দেশের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ একক মাসের রেকর্ড। এর আগে গত ডিসেম্বর মাসে রেমিট্যান্স ছিলো ৩২২ কোটি ডলার, যা দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। দেশের রেকর্ড অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছিল মার্চ মাসে, তখন ঈদের কারণে ৩২৯ কোটি ডলার পাঠানো হয়েছিল।

    ২০২৫ সালের অর্থোব্দে দেশের মোট প্রবাসী আয় দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২৮২ কোটি ডলার। মাসভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, জুলাইয়ে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৯ লাখ ডলার, সেপ্টেম্বরতে ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলার, октябрে ২৫৬ কোটি ৩৫ লাখ ডলার, নভেম্বর ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলার, ডিসেম্বর ৩২২ কোটি ডলার এবং জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ডলার প্রেরিত হয়েছে।

    এদিকে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে এখনো পর্যন্ত প্রবাসীরা মোট ২ হাজার ১৫৬ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৭৬৩ কোটি ডলার, অর্থাৎ প্রবৃদ্ধি ২২ শতাংশের বেশি।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ১৭ ফেব্রæয়ারি পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন ৩৪ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলার। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এর মানদণ্ডে প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ হচ্ছে ২৯ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার।

    বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে প্রবাসী আয়ের গতি ফিরে আসতে শুরু করে। ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, অর্থ পাচার কমে যাওয়ায় অবৈধ হুন্ডি ব্যবসার প্রভাব কমেছে। পাশাপাশি ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের বিনিময় হার গত কিছু মাস ধরে স্থিতিশীল থাকায় প্রবাসীরা বৈধ মতো অর্থ পাঠাতে উৎসাহিত হচ্ছেন।

  • সোনার দাম প্রতি ভরি ৩ হাজার টাকা বেড়ে গেছে

    সোনার দাম প্রতি ভরি ৩ হাজার টাকা বেড়ে গেছে

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) নতুন করে সোনার মূল্য বৃদ্ধি ঘোষণা করেছে। এর ফলে এখন থেকে প্রতিটি ভরির দাম সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৬৬ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এই মূল্য বৃদ্ধির ফলে মানসম্পন্ন (২২ ক্যারেট) সোনার ভরি বর্তমানে দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা, যা পূর্ববর্তী দিনে ছিল ২ লাখ ৫৫ হাজার ৫৫৮ টাকা।

    সোমবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা ১৫ মিনিট থেকে এই নতুন দামের কার্যকারিতা শুরু হয়েছে বলে সংগঠনটি জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশে সোনার দামও আপডেট হয়েছে।

    প্রসঙ্গত, নতুন দামের মধ্যে সর্বোচ্চ মানের ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের ডেলিভারির জন্য প্রতি ভরি দামের ঘোষণা হয়েছে ২ লাখ ৪৭ হাজার ১০২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার জন্য একই ভরি দাম নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।

    এছাড়া, সোনার সঙ্গে রুপার দরেও বৃদ্ধি আনা হয়েছে। এখন ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৬ হাজার ৭০৭ টাকা, ২১ ক্যারেটের জন্য ৬ হাজার ৪১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ৫ হাজার ৪৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ৪ হাজার ৮২ টাকা।

    বিশ্ব বাজারে সোনার দামও ক্রমশ বৃদ্ধির পথে। গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্র জানায়, বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টা ২৫ মিনিটে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনা বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ১০৬ ডলারে, যা এর আগের দিনে ছিল ৪ হাজার ৯৭৮ ডলার। এর আগে, জানুয়ারি মাসের শেষদিকেও আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম রেকর্ড পরিমাণ বেড়ে যায়। ৩০ জানুয়ারি দাম ছিল ৫ হাজার ২০০ ডলার, এবং ২৯ জানুয়ারিতে তা উঠে যায় ৫ হাজার ৫৫০ ডলারে।

    গত মাসে বিশ্ববাজারে সোনার দাম কিছুটা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে যাওয়ার ফলে দেশের বাজারেও বিপুল পরিমাণ দাম বৃদ্ধির ঘটনা ঘটে। ২৯ জানুয়ারি সকালেই বাজুস ডেবলভারের জন্য ১৬ হাজার ২১৩ টাকা দাম বাড়িয়ে ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায় পৌঁছে দেয়, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এই মূল্যবৃদ্ধি আর কোনো সময় এতটা বেড়ে যায়নি।

  • দুই দিনের ব্যবধানে ফের বাড়ল সোনার মূল্য

    দুই দিনের ব্যবধানে ফের বাড়ল সোনার মূল্য

    দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন দরে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার মূল্য দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা। এই মূল্য সম্প্রতি সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে এবং সকাল ১০টার পর থেকে কার্যকর হয়েছে।

    বাজুস সূত্র জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনা বা পিওর গোল্ডের দাম বৃদ্ধির কারণে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের মূল্যে সমন্বয় করা হয়েছে।

    নতুন দামের ভিত্তিতে, ২২ ক্যারেটের প্রতিভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) মূল্য ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ৪৯ হাজার ১৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ১৩ হাজার ৫৬৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের ভরি নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকায়। তবে, এই দামের সঙ্গে সরকারের নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুসের নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যোগ হবে। গহনার নকশা ও মানভেদে মজুরির পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে বলে জানা গেছে।

    এর আগে, ২১ ফেব্রুয়ারি বাজুস স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল। সেদিন ২২ ক্যারেটের ভরিতে ৩,২৬৬ টাকা বৃদ্ধি করে দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকায়।

    চলতি বছরের প্রথম দিকে, যেকোনো সময়ের তুলনায়, এখন পর্যন্ত ৩২ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০ দফায় দাম বেড়েছে, আর ১২ দফায় কমেছে। ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় হয়, যার মধ্যে ৬৪ দফায় দাম বৃদ্ধি পায় এবং ২৯ দফায় কমে।

    অপরদিকে, সোনার দাম বাড়লেও রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের রুপার ভরি বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৭০৭ টাকায়। অন্যান্য ক্যাটাগরির রুপার মূল্য হলো ২১ ক্যারেটের জন্য ৬ হাজার ৪১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ৫ হাজার ৪৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৪ হাজার ৮২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    চলতি বছরে রুপার দাম ১৮ দফায় সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১ বার দাম বেড়েছে, এবং ৭ বার কমেছে। গত বছর মোট ১৩ দফায় দাম সমন্বয় হয়, যার মধ্যে ১০ বার বেড়েছে ও ৩ বার কমেছে।

  • দীর্ঘদিন কঠোর শাসনের মাঝে একুশ ছিল অবরুদ্ধ: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

    দীর্ঘদিন কঠোর শাসনের মাঝে একুশ ছিল অবরুদ্ধ: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

    স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দীর্ঘ বছর ধরে চলে আসা ফ্যাসিস্ট শাসনের ফলে একুশের চেতনা ছিল অবরুদ্ধ। তবে এবার পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়েছে, এবং একুশের এই দিনটি আমরা নতুনভাবে অনুভব করছি। শুক্রবার রাতের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে যাওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

    বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান রয়েছেন। এই পরিবর্তনের ফলে আমাদের প্রত্যাশার পরিমাণ অগণিত বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা এখন চাই, দেশের মানুষের প্রত্যাশা বাস্তবায়িত হয়ে সত্যিকার অর্থে একটি ইনসাফপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও সমবেত সমাজ প্রতিষ্ঠিত হোক।

    মির্জা ফখরুল আরও বলেন, একুশের মূল চেতনাই ছিল একটি বৈষম্যহীন, সমৃদ্ধ ও আধুনিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা। ভবিষ্যতে এই চেতনা থেকেই এগিয়ে যেতে চান তারা। তিনি বলেন, নতুন এই একুশের অনুপ্রেরণায় আমরা জনগণের কল্যাণে কাজ করতে সক্ষম হবো। মাতৃভাষা ও সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করার যাত্রায় আমরা এগিয়ে যাবো। আমাদের লক্ষ্য, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে তোলা।

  • ‘জয়বাংলা’ স্লোগানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অফিসে পতাকা উত্তোলন

    ‘জয়বাংলা’ স্লোগানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অফিসে পতাকা উত্তোলন

    মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে জামালপুরের বকশীগঞ্জের বকশিগঞ্জ ইউনিয়নের বগারচর এলাকায় এক হৃদয়স্পর্শী অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। তারা জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে ভাষা আন্দোলনে শাহাদতবরণকারী মহান শহীদদের স্মরণ করেন এবং ওই দিনটির গৌরবময় ইতিহাসের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। এই অনুষ্ঠানে বক্তারা ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া-মোনাজাত পরিচালনা করেন।

    অভিনন্দন এই কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করতে দলের নেতাকর্মীরা ‘জয়বাংলা’ স্লোগান দিয়ে পতাকা উত্তোলন করেন। তবে এই প্রাণবন্ত মুহূর্তের সময় একদল চেয়ারম্যানের গোপনীয়তা রক্ষা করতে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। পতাকা উত্তোলন ও মোনাজাতের এই আয়োজনের পরে, স্থানীয় জনগণের মধ্যে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

    ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ কাদির সাজু, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য রেজাউল করিম, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আইয়ুব আলী, তাঁতী লীগের যুগ্ম সম্পাদক রেজাউল এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি নিয়ামত উল্লাহসহ বেশ কিছু নেতাকর্মী এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। তবে পতাকা উত্তোলনের পর নেতাকর্মীরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করে।

    এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে বিষয়টি। বকশিগঞ্জের গণঅধিকার পরিষদের শাখার আহ্বায়ক শাহরিয়ার আহমেদ সুমন তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘আজ ভোরে বগারচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা পতাকা উত্তোলন ও বিভিন্ন স্লোগান দেয়। এই ধরনের কর্মকাণ্ডের জন্য আওয়ামী রাজনীতি ও নেতাদের বিচার হওয়া জরুরি। গত এক বছরে বেশিরভাগ দোষী নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করতে ব্যর্থ হয়েছেন পুলিশ। তিনি যোগ করেছেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই অপরাধীদের গ্রেফতার করা না হলে, ছাত্রজনতা জবাব দেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

    অভিযোগের বিষয়ে বকশিগঞ্জ থানার ওসি মকবুল হোসেন বলেন, ঘটনা শুনে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গেছে, কিন্তু নেতাকর্মীরা পালিয়ে যায়। তিনি আরও জানান, তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ঘটনার পর শিক্ষার্থী, সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক দলের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

  • হৃদরোগে আক্রান্ত সেলিমা রহমান, হাসপাতালে ভর্তি

    হৃদরোগে আক্রান্ত সেলিমা রহমান, হাসপাতালে ভর্তি

    রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী বেগম সেলিমা রহমান, হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার কারণে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন। এ খবর রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিএনপির মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক পোস্টে জানানো হয়। ওই পোস্টে জানানো হয়, সেলিমা রহমানের পরিবারের সদস্য들과 বিএনপির পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে তার দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা করা হচ্ছে। সেলিমা রহমান ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তৎকালীন বিএনপি সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ভাইস- চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন তার নানা চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে গেছে; তিনি বিভিন্ন অত্যাচার ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বেশ কয়েকবার কারাবরণও তাকে করতে হয়েছে।

  • সরকারের অনুমতি নেই আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলায়: মির্জা ফখরুল

    সরকারের অনুমতি নেই আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলায়: মির্জা ফখরুল

    আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হলেও তাদের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্থানে দলীয় কার্যালয় খুলে থাকেন। এই বিষয়টি নিয়ে দেশের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই প্রসঙ্গে স্পষ্ট করে বলেছেন, সরকারের অনুমতি ছাড়া আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলা সম্ভব নয়। তিনি উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট বিভাগ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।

    সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। এটি বিএনপি মহাসচিবের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এই প্রথম তিনি দলীয় কার্যালয়ে যান।

    সাক্ষাৎকালে তিনি বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতিচারণ করে বলেন, এই কার্যালয়েই তিনি তার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি পালন করেছিলেন। তিনি তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।

    মির্জা ফখরুল স্পষ্ট করে বলেন, এখন সারাদেশে আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলার ক্ষেত্রে সরকারের অনুমতি নেই। কারণ, আইনি প্রক্রিয়ায় তারা এই কার্যক্রমের জন্য সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা পেয়ে থাকেন। তিনি আশাকরেন, সংশ্লিষ্ট বিভাগ এই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।

    অন্তর্বিরোধে দেশের মানুষের সমর্থন অব্যাহত থাকবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের জনগণ এক নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, বিএনপি ও সরকার তার নেতৃত্বে একসঙ্গে কাজ করে সমন্বিতভাবে সফল হবেন।

    গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য সাংবাদিকদের ভূমিকা ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে বলেও মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল।

    স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে তিনি জানান, কিছু প্রথাগত প্রক্রিয়া রয়েছে, সেগুলো শেষ হলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়াও, বিএনপি নারীদের মনোনয়ন দেবে বলে তিনি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

    পূর্বলিখিত তথ্যের সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা মুনির হোসেন ও মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান প্রমুখ।

  • সারজিস আলমের নতুন দায়িত্ব: স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে

    সারজিস আলমের নতুন দায়িত্ব: স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে नई কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক, নেতা সারজিস আলম। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি দ্রুত কার্যক্রম শুরু করার ঘোষণা প্রদান করেন।

    সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে এনসিপির দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই কমিটি গঠনের তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, এনসিপির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম এবং সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্দেশনায় এই ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটি’ গঠন করা হয়েছে।

    কমিটিতে সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ। এছাড়া আরও দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন আরিফুল ইসলাম আদীব, আলাউদ্দীন মোহাম্মদ, তাহসীন রিয়াজ এবং অ্যাডভোকেট মনজিলা ঝুমা। সব বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকরা ওই কমিটির এক্স-অফিসিও সদস্যের দায়িত্বে থাকবেন।

    বিজ्ञপ্তিতে আরও জানানো হয় যেন কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এই কমিটিকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করবেন।

    দায়িত্ব গ্রহণের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে সারজিস আলম বলেন, ‘শহরাঞ্চল, পৌরসভা, উপজেলা, ইউনিয়ন থেকে শুরু করে ওয়ার্ডে প্রার্থীরা প্রস্তুতি নিন। আমরা আপনার খোঁজে আসছি।’ এই বার্তার মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চান যে, মানুষের নির্বাচনী আগ্রহের জন্য দল দ্রুত কাজ শুরু করছে।

    কমিটির দ্রুত কার্যক্রম এবং প্রার্থী সঙ্কলনের এ উদ্যোগ স্থানীয় সরকারের নির্বাচনের প্রস্তুতিকে আরও ত্বরান্বিত করবে বলে দলের একটি সূত্র জানিয়েছেন।