Blog

  • ক্যালিফোর্নিয়ায় শিশুর জন্মদিনে বন্দুক হামলায় নিহত ৪

    ক্যালিফোর্নিয়ায় শিশুর জন্মদিনে বন্দুক হামলায় নিহত ৪

    যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি ব্যাঙ্কোয়েট হলে ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনায় চারজন নিহত হয়েছেন এবং আরও ১০ জন আহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে স্থানীয় সময় শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে স্টকটন শহরে একটি শিশু জন্মদিনের অনুষ্ঠানে। ওই সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন মোট ১৪ জন। খবর রয়টার্সের মতে, এই হামলার সময় হঠাৎ করে একজন বন্দুকধারী গুলিবর্ষণ শুরু করে।

    সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে স্টকটনের ভাইস মেয়র জেসন লি জানিয়েছেন, এটি একটি শিশুর জন্মদিনের অনুষ্ঠান ছিল, যেখানে এত অল্প সময়েই এ রকম ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটে গেছে। তিনি জানান, ঘটনার সব তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

    পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যা ছয়টার কিছুক্ষণ আগে লুসিল এভিনিউ ১৯০০ ব্লক এলাকায় গুলির খবর পাওয়া যায়। এর পরে জানা যায়, এক্স (আগের টুইটার) থেকে জানানো হয় যে, বর্তমানে প্রায় ১৪ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, যার মধ্যে চারজনের মৃত্যু হয়েছে।

    অধিকাংশ ধারণা অনুযায়ী, এই হামলাটি পরিকল্পিত ছিল বলে মনে করা হচ্ছে। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং হামলাকারীর পরিচয় বা অন্য কোনো তথ্য এখনও প্রকাশ করেনি। তদন্তকারীরা এই ঘটনায় জড়িত সকল দিক খতিয়ে দেখছেন, যেন দ্রুত সত্যতা জানতে পারে সমাজের শান্তি ফিরে আসে।

  • ইন্দোনেশিয়ায় ভারী বৃষ্টি, বন্যা ও ভূমিধসে মৃত্যু ৩০০ ছাড়ালো

    ইন্দোনেশিয়ায় ভারী বৃষ্টি, বন্যা ও ভূমিধসে মৃত্যু ৩০০ ছাড়ালো

    ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব পড়ার পর ব্যাপক বৃষ্টি, বন্যা ও ভূমিধসের কারণে মৃতের সংখ্যা এখন ৩০৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এর সাথে নিখোঁজ রয়েছেন আরও প্রায় ৩০০ জন। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার প্রধান সুহারিয়ান্তো এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গত শনিবার সকালে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১৭৪, যা এখন বেড়ে গেছে।

    এক সপ্তাহ ধরে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বঙ্গোপসাগর ও সমতল অঞ্চলে প্রবল বর্ষণ চলছে, যার ফলে ইন্দোনেশিয়া, মালাউই, শ্রীলঙ্কা এবং থাইল্যান্ডের বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সময়ে, মালাক্কা প্রণালির মাঝে এক বিরল ক্রান্তীয় ঝড়ের সৃষ্টি হয়েছে, যা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছে।

    দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার মুখপাত্র সাংবাদিকদের জানান, অন্তত ২৭৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন। দেশটির প্রায় ৮০ হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সুমাত্রার তিনটি প্রদেশে এখনো শত শত মানুষ আটকা পড়ে আছেন।

    উত্তর সুমাত্রায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বন্যা, বৃষ্টি ও ভূমিধসের কারণে। এই এলাকা অনেকটা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, সড়ক পথ ভেঙে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে। দেশটির পরিস্থিতি সামাল দিতে উড়োজাহাজের মাধ্যমে ত্রাণ ও অন্যান্য সহায়তা পাঠানো হচ্ছে।

    প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাপনুলি থেকে সিবোলগা পর্যন্ত যোগাযোগের জন্য সড়ক পুনরুদ্ধার কাজ চলছে। গত তিন দিন ধরে সেসব এলাকায় যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। উদ্ধারকারীরা ভূমিধসের ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, এবং আটকা পড়া মানুষদের জন্য খাদ্য ও জরুরি সহায়তা প্রয়োজন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার প্রধান আরও জানান, রোববার থেকে ত্রাণ কার্যক্রমে সেনাবাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি আরও বাড়ানো হবে। তবে কিছু স্থানীয় মানুষ ত্রাণসামগ্রী লুট করতে চেষ্টা করছে।

    অপরদিকে, মালাক্কা প্রণালির পাশের থাইল্যান্ডে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬২ জনে পৌঁছেছে। সরকারের মুখপাত্র সিরিপং আংকাসাকুলকিয়াত বলেছেন, আগের হিসাবে মৃতের সংখ্যা ছিল ১৪৫।

    সূত্র: রয়টার্স।

  • খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় সকল কর্মসূচি স্থগিত

    খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় সকল কর্মসূচি স্থগিত

    বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক পরিস্থিতি বর্তমানে সংকটাপন্ন বলে তার চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। তিনি এখন রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের করোনা কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন আছেন। এই অবস্থায় তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে সরব হয়েছেন নেতাকর্মীরা। খুলনা-২ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বর্তমান পরিস্থিতি দেখে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, খালেদা জিয়া সব শঙ্কা কাটিয়ে আবার হাসি মুখে ফিরবেন। তিনি সবাইকে দোয়া ও prayers এর আহ্বান জানিয়ে বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। এর ফলে বর্তমানে তার পক্ষ থেকে সকল নির্বাচনী কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে, যেন তার এই সময়টা পরিবারের সঙ্গে থাকতে পারেন এবং দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন।

  • খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কারণে খুলনা-৩ আসনে বিএনপি’র নির্বাচনী কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ

    খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কারণে খুলনা-৩ আসনে বিএনপি’র নির্বাচনী কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ

    সাবেক তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি’র চেয়ারপারসন ও গণতন্ত্রের কঠোর রক্ষক বেগম খালেদা জিয়া শারীরিকভাবে গুরুতর অসুস্থ এবং জীবন-মরণসংকটের মুখোমুখি হওয়ায়, খুলনা-৩ আসনে বিএনপি’র নির্বাচনী প্রচারণা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। তার বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

    অতীতের মতোই, আজ রোববার থেকে নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ড, থানাসহ ইউনিয়ন এলাকাগুলোতেও খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া ও প্রার্থনা কার্যক্রম আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সব ধর্মের উপাসনালয়ে—মসজিদ, মন্দির, গীর্জা ও প্যাগোডায় এই দোয়া অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে। নগরী আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য ব্যাপক আগ্রহ ও প্রত্যাশা দেখা যাচ্ছে।

    এ তথ্য নিশ্চিত করে মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন বলেন, খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য ও সুস্থতার জন্য সকলের কাছে দোয়া চাওয়া হচ্ছে এবং পরিস্থিতি অনুকূলে ফিরে এলে নির্বাচনী কার্যক্রম আবার শুরু করা হবে।

  • খুলনায় নারী পুলিশ সদস্যের আত্মহত্যা

    খুলনায় নারী পুলিশ সদস্যের আত্মহত্যা

    খুলনায় হাইওয়ে পুলিশের এক নারী সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে খুলনা মহানগরীর খালিশপুর থানাধীন মুজগুন্নি হাউজিং এস্টেটের নারী পুলিশ ব্যারাক থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃত কনস্টেবল মিমি খাতুন (২৭) কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার সাত নম্বর ফুলবাড়ি এলাকার নবীন বিশ্বাসের মেয়ে এবং ইমরান হোসেনের স্ত্রী। পুলিশ জানায়, দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে সহকর্মীরা তার কক্ষে গিয়ে দেখতে পান, তিনি সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছেন। খবর পেয়ে ব্যারাকের কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল সম্পন্ন করে সন্ধ্যায় রাত ৭টা ১৫ মিনিটের দিকে মরদেহ খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। বর্তমানে মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনাস্থলে থাকা কর্মকর্তারা জানান, মিমি হাইওয়ে রিজিওনের একজন নারী পুলিশ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন এবং ওই ব্যারাকে থাকতেন। তবে, তার আত্মহত্যার কারণ এখনো পরিষ্কার নয়। কোনো সুইসাইড নোট মৃতদেহের কাছে পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর প্রাথমিক প্রতিবেদনে আত্মহত্যা উল্লেখ করা হয়েছে। খুলনা কোতোয়ালি থানার ওসি কবির হোসেন বলেন, এটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে।

  • খুলনায় আদালতের সামনে প্রকাশ্যে দুজনকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা

    খুলনায় আদালতের সামনে প্রকাশ্যে দুজনকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা

    খুলনায় আজ রোববার (৩০ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে আদালতের সামনে এক ভয়ঙ্কর হত্যাকাণ্ড ঘটে। প্রকাশ্যে দুজনকে ধারালো অস্ত্র ও গুলির মাধ্যমে মারাত্মকভাবে আঘাত করে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। ঘটনাটি ঘটে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সামনে, যা পুরো এলাকাকে আতঙ্কে ঢেকে দিয়েছে।

    নিহত দুজনের নাম হল ফজলে রাব্বি রাজন (২৮) এবং হাসিব (২৯)। রাজন রূপসার বাগমারার দক্ষিণ ডাঙ্গা এলাকার ইজাজ শেখের ছেলে এবং হাসিব নতুন বাজার এলাকার মান্নান হাওলাদারের সন্তান। এই দুজনই খুলনার স্পষ্টভাবে পরিচিত সন্ত্রাসী শেখ পলাশের অনুসারী বলে জানানো হয়েছে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, আদালতে একটি অস্ত্র মামলায় হাজিরা দিতে এসে বিচারপ্রার্থী দুজনকে কয়েকজন দুর্বৃত্ত গুলি করে ও চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। এরপর তারা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাদের মৃত্যু ঘোষণা করেন।

    আদালত চত্বরে হত্যাকাণ্ডের পর কেন্দ্রীয় পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা ও অন্যান্য কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। পুলিশ নানা সরঞ্জামাদি দিয়ে স্থানটি স্যানিটারাইজ করেছে।

    খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার শিহাব করীম এ সম্পর্কে বলেন, আচমকা এই ঘটনা ঘটেছে এবং নিহত দুজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তিনি আরো জানান, ঘটনাস্থলে রক্তের দাগ, চাপাতি ও দুটি মোটরসাইকেল পড়ে আছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের কারণ ও ষড়যন্ত্র তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    অপর দিকে, মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার রোকনুজ্জামান জানান, আহতদের মধ্যে হাসিব ঘটনাস্থলে নিহত হন, আর রাজনকে হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত্যুবরণ করেন। এই দুজনেই সন্ত্রাসী পলাশের বাহিনীর সদস্য বলে জানা গেছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলাও রয়েছে। তারা আদালতে হাজিরা দিতে গিয়েছিলেন বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

    এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো আদালত চত্বরের পরিবেশ আতঙ্কে ভরে যায়। আইনজীবীরা এই প্রকাশ্য হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, এ ধরনের ঘটনায় সাধারণ জনমনে আতঙ্ক বেড়ে গেছে।

  • বড় ভাই আইসিইউতেই, দেখার পথে ছোট ভাইসহ দুইজনের মর্মান্তিক মৃত্যু

    বড় ভাই আইসিইউতেই, দেখার পথে ছোট ভাইসহ দুইজনের মর্মান্তিক মৃত্যু

    যশোরের একটি হাসপাতালে বড় ভাই আইসিইউতে ভর্তি থাকা অবস্থায় তাকে দেখতে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ছোট ভাইসহ দুইজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে যশোর-চৌগাছা সড়কের জগহাটি জোড়াপুল ব্রিজের কাছে (বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা) এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন— মহেশপুর উপজেলার আলিসা গ্রামের আফিল উদ্দিন বিশ্বাসের ছেলে সেলিম রেজা (৪৫) ও একই গ্রামের মো. তাহাজ্জেলের ছেলে ইব্রাহিম হোসেন (৪২)। এর মধ্যে সেলিম রেজা শহীদুল ইসলামের ছোট ভাই, যিনি বর্তমানে আইসিইউতে ভর্তি আছেন।

    নিহতদের প্রতিবেশী মো. আব্দুল হাকিম জানান, যশোরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে আহত মহেশপুরের সেলিমের বড় ভাই শহীদুল ইসলাম আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। তার মারাত্মক অবস্থা দেখে হঠাৎ করে সেলিমকে ফোন করে হাসপাতালে আসার জন্য বলা হয়। সেলিম দ্রুত মোটরসাইকেলে করে তার ছোট ভাই ইব্রাহিমসহ হাসপাতালে ছুটে যান।

    এমন সময়, জগহাটি জোড়াপুল এলাকায় একটি বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় ঘটনাস্থলেই সেলিম ও ইব্রাহিম মারা যান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার কারণ এখনও নিশ্চিত নয়, তবে ট্রাফিক পুলিশ পরিস্থিতি তদন্ত করছে।

    সাজিয়ালী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আব্দুর রউফ বলেন, দুর্ঘটনার কারণ স্পষ্টভাবে জানা যায়নি। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ দুটি উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। দুর্ঘটনাকারী বাসটি শনাক্ত করা হয়েছে, এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

  • বিশ্বব্যাংকের রিপোর্ট: দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাওয়ার ঝুঁকিতে বাংলাদেশের ৬ কোটি মানুষ

    বিশ্বব্যাংকের রিপোর্ট: দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাওয়ার ঝুঁকিতে বাংলাদেশের ৬ কোটি মানুষ

    বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় একতৃতীয়াংশ, অর্থাৎ প্রায় ৬ কোটি ২০ লাখ মানুষ, দারিদ্র্যসীমার নিচে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। এই তথ্য প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংকের নতুন একটি প্রতিবেদনে, যা বুধবার প্রকাশিত হয়। তথ্য অনুযায়ী, করোনাভাইরাস মহামারি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অসুস্থতা বা কোনো অপ্রত্যাশিত বিপর্যয় হলে এই মানুষগুলো আবারও দারিদ্র্যক্লিষ্ট জীবনযাত্রায় ফিরতে পারে।

    বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০১০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের দারিদ্র্য উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। সেই সময়ে দুই কোটি ২০ লাখ মানুষ দারিদ্র্য থেকে উত্ত freedewassaqf০ত বর ndপইৃ0Ltেক ে? রבסაბিরেরো: ৯০ লাখ মানুষ অতি দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পেয়েছে। তাদের জীবনমানের উন্নতি হয়েছে, বিদ্যুৎ, শিক্ষা, পয়ঃনিষ্কাশনসহ গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলি সহজে পাওয়া গেছে। তবে, ২০১৬ সাল থেকে দারিদ্র্য কমার গতি ধীর হয়ে এসেছে এবং অর্থনৈতিক বৃদ্ধি যথাযথভাবে সমতাসম্পন্ন হয়নি।

    প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে চরম দারিদ্র্য ১২.২ শতাংশ থেকে কমে ৫.৬ শতাংশে পৌঁছেছে, এবং মাঝারি দারিদ্র্য ৩৭.১ শতাংশ থেকে কমে ১৮.৭ শতাংশে নেমেছে। তবে, ২০১৬ সাল থেকে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে, যার ফলে ধনী ও দরিদ্রদের আয় বৈষম্য বেড়ে গেছে। গ্রামীণ এলাকাগুলো দারিদ্র্য হ্রাসে বেশ গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা দেখিয়েছে, তবে শহরগুলোতে দারিদ্র্য কমানোর হার খুবই ধীর। ২০২২ সালের মধ্যে শহরে বসবাসকারী নাগরিকের প্রায় এক চতুর্থাংশ বাংলাদেশের জনসংখ্যা রয়েছে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদী দারিদ্র্য হ্রাসে অনেকটাই সফলতা এসেছে। তবে, বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি কমে যাওয়ায় শ্রম বাজারের পরিস্থিতি মনোভাবাপন্ন হয়েছে। বিশেষ করে যুবক, নারী এবং ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীর জন্য কাজের সুযোগ কমে এসেছে। দেশের দরিদ্র ও ঝুঁকিপ্রাপ্ত জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাই গুরুত্বপূর্ণ সমাধান বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

    অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য দরিদ্রবান্ধব জলবায়ু সহনশীল নীতি গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞেরা। উৎপাদনশীল খাতে কর্মসংস্থান বাড়ানো, দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য আরও কাজের সুযোগ সৃষ্টি, আধুনিক শিল্পে বিনিয়োগ ও ব্যবসায় সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা, এগুলো হলো মূল কৌশল। এছাড়া, শক্তিশালী রাজস্ব নীতি ও কার্যকরী সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির মাধ্যমে ঝুঁকি মোকাবিলা সম্ভব বলে উল্লেখ করেন তারা।

    বিশ্বব্যাংকের অর্থনৈতিক বিশ্লেষক সার্জিও অলিভিয়েরি বলেন, বাংলাদেশ প্রাকৃতিক বৈষম্য কমিয়েছে, বিশেষ করে পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে। তবে জলবায়ু পরিবর্তন শহর ও গ্রামাঞ্চলের মধ্যে বৈষম্য বাড়িয়ে দিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, উদ্ভাবনী নীতি, যোগাযোগ ও বৈচিত্র্যপূর্ণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষিতে দরিদ্রবান্ধব মূল্য-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশের দারিদ্র্য হ্রাসের গতি নতুন করে ত্বরান্বিত হতে পারে। ফলে, সবাই সমৃদ্ধির অংশীদার হিসেবে এগিয়ে আসতে পারবেন।

  • ব্যাংক কর্মকর্তাদের জন্য নতুন বিদেশ ভ্রমণ নির্দেশনা

    ব্যাংক কর্মকর্তাদের জন্য নতুন বিদেশ ভ্রমণ নির্দেশনা

    বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংক কর্মকর্তাদের জন্য কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে। এ নির্দেশনা অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ব্যাংক-কোম্পানির কর্মকর্তাদের অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কোনো প্রকার বিদেশ ভ্রমণে যেতে নিষেধ করা হলো। এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য হলো নির্বাচনের সময় ব্যাংকিং খাতে কোনও অস্থিরতা বা অসুবিধা সৃষ্টি না হয় তা নিশ্চিত করা। বুধবার (২৬ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি) এ সংক্রান্ত এই নির্দেশনা প্রকাশ করে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে যাতে নির্বাচনের কারণে ব্যাংকিং কার্যক্রমে কোনো বিঘ্ন বা অপ্রয়োজনীয় পরিস্থিতি না তৈরি হয়। নির্দেশনায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, নির্বাচনের সময়ে ব্যাংকিং ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখতে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং অন্যান্য কর্মকর্তাদের দেশের বাইরে আসল প্রয়োজনে বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হবে। এছাড়া, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারা অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এই চ Restrictions আগামীতেই কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন।

  • বাংলাদেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি ছাড়িয়েছে

    বাংলাদেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি ছাড়িয়েছে

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ব্যাংকখাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বছরে আরও বেড়ে গেছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের শেষে এই ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের लगभग ৩৫.৭৩ শতাংশ। এক বছর আগে, অর্থাৎ ডিসেম্বরের শেষে, এই খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা। ফলে মাত্র নয় মাসে খেলাপি ঋণ বেড়ে গেছে প্রায় ২ লাখ ৯৮ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা।

    আজ বুধবার (২৬ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক ও মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাংক থেকে নানা নামে ছড়ানো অর্থগুলো এখন খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আসছে। এছাড়া, আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সমন্বয় করতে গিয়ে দেশে খেলাপি ঋণের সংখ্যা বাড়ছে। এর পাশাপাশি, নবায়ন করা ঋণের অনেকগুলোই আদায় না হওয়ার কারণে পরিস্থিতি আরো গুরুতর হচ্ছে। অব্যবস্থাপনা এবং আড়ালে থাকা অনিয়মের কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অনেক ঋণ খেলাপি হিসেবে তালিকাভুক্ত করছে, যার ফলশ্রুতিতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এই বছরের সেপ্টেম্বরে মোট বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ ছিল ১৮ লাখ ৩ হাজার ৮৪০ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণের সংখ্যা ছিল ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা, যা সমগ্র ঋণের ৩৫.৭৩ শতাংশ। আগের বছর সেপ্টেম্বরে এই সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৮৪ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ, এক বছরে এই খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েছে ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৭১৮ কোটি টাকা।