Blog

  • কলাপাড়ায় নারী কনস্টেবলের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

    কলাপাড়ায় নারী কনস্টেবলের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

    পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় শনিবার ভোরে ২৮ বছর বয়সী নারী পুলিশ কনস্টেবল মেহেরুন্নেছা ঊর্মির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার সূত্রপাত টিয়াখালী ইউনিয়নের পশ্চিম বাদুড়তলী এলাকায় একটি তিনতলা ফ্ল্যাট থেকে আসে।

    নিহত মেহেরুন্নেছা ঊর্মি বাউফল উপজেলার ইন্দ্রপুর গ্রামের বহিষ্কৃত পুলিশ সদস্য মহিব্বুর রহমানের স্ত্রী ও বরগুনার আমতলীর শাহজাহান মিয়ার মেয়ে। তিনি কলাপাড়া থানায় কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং প্রায় আট মাস আগে নিয়োগ পান।

    পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, দাম্পত্য জীবনে ঝগড়াঝাটি ছিল নিয়মিত। স্ত্রী–স্বামীর মধ্যে পারিবারিক বিষয়ে বৈরিতা থাকায় স্থানীয়রা একাধিকবার তাদের ঝামেলা মীমাংসা করেছিল। দম্পতির দেড় বছরের এবং চার বছরের দুই মেয়েসন্তান রয়েছে।

    কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে একটা থেকে দুইটার দিকে মেহেরুন্নেছার স্বামী থানায় এসে জানান, তার স্ত্রী ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। পরে বুধবার ভোরে ওই ফ্ল্যাট থেকে মেহেরুন্নেছার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    ওসি আরো জানান, ঘটনায় নিহত কনস্টেবলের স্বামী এবং তাদের দুই শিশুকে থানায় আনা হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে আইনানুগ তদন্ত চলছে; ময়নাতদন্ত ও অন্যান্য অনুসন্ধান প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

  • ডিএসসিতে ইঙ্গিত দিলেন আসিফ মাহমুদ, দিলেন দুই প্রতিশ্রুতি

    ডিএসসিতে ইঙ্গিত দিলেন আসিফ মাহমুদ, দিলেন দুই প্রতিশ্রুতি

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েমকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী হিসেবে নিয়েছেন নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে থাকা অবস্থায় একই আসনে প্রার্থী হতে ইঙ্গিত দিলেন সাবেক উপদেষ্টা ও এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।

    শনিবার (২ মে) বিকেলে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া একটি পোস্টে তিনি এ ব্যাপারে সরাসরি বক্তব্য দেননি, তবে দুইটি বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। পোস্টে তিনি লিখেছেন— নির্বাচিত হলে ঢাকা দক্ষিণের বাসিন্দাদের আর ময়লার বিল দিতে হবে না। পাশাপাশি এমনভাবে বাস্তবায়ন করা হবে যে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরাও কোনো আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হবেন না।

    আসিফ মাহমুদ ছিলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা। সেই সময় তার এবং তার ব্যক্তিগত সহকারীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ওঠার তথ্য ছিল, যা তিনি ইতোমধ্যেই অস্বীকার করেছেন।

    রাজনৈতিক মহলে আগে থেকেই আলোচনা চলে আসছিল যে তিনি এনসিপি থেকে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে লড়তে পারেন।今回は তিনি সরাসরি প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা না দিলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা নির্বাচনী জলবায়ু আরও উত্তপ্ত করতে পারে।

  • দুর্নীতি-অনিয়ম আর স্বজনপ্রীতিই চোখে পড়ে: মির্জা ফখরুল

    দুর্নীতি-অনিয়ম আর স্বজনপ্রীতিই চোখে পড়ে: মির্জা ফখরুল

    স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, সরকারে ঢুকার পর থেকেই তিনি যেখানে যান সেখানে দুর্নীতি, অনিয়ম এবং স্বজনপ্রীতি দেখতে পান। এসব বিষয় আগামী পথচলায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।

    শনিবার (২ মে) দুপুরে রাজধানীর শের-ই বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘‘সরকারের ভেতরে যতই ঢুকছি, ততই আতঙ্কিত হচ্ছি। তদবির ছাড়া কাজ হয় না—গত ১৫ বছরে এটা যেন নিয়ম হয়ে উঠেছে। বহু মানুষ ভাইস চ্যান্সেলর হতে তদবির করেছেন। এটি সিস্টেমের ব্যর্থতা; মেধা ও বুদ্ধিমত্তার জায়গা অনেকটাই হারিয়ে গেছে।’’

    তিনি আরও বলেন, বর্তমানে জুলাই সনদ ও সংবিধান নিয়ে যে আলোচনা-বহস চলছে, তা ভালো; তবে রাজনৈতিক স্বার্থে এসবকে ব্যবহার করা ঠিক হবে না। ‘‘জুলাই সনদের প্রতিটি ধাপে আমরা ছিলাম, কিছু জায়গায় নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছি,’’ জানান তিনি।

    বিএনপির একজন নেতা হিসেবে মির্জা ফখরুল বলেন, উচ্চকক্ষের পিআর বিষয়ে তারা একমত হয়নি এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদেও তাদের সমর্থন ছিল না। তিনি বলেন, ‘‘এখন অনায়াসে বলা হচ্ছে সবকিছুই করতে হবে—এতে আমরা একমত নই।’’

    সামাজিক মাধ্যমে প্রচলিত অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেকেই বলছেন বিএনপি সংস্কারের পক্ষে নেই; অথচ বিএনপিই সংস্কারের জনক। কেউ ভুল ধারণা ছড়াচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াতও এই বিষয়ে আন্দোলন করছে যার উদ্দেশ্য দেশে আবার অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করা।

    এ সময় মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের অর্থনীতিকে ঠিক করাই এখন প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত এবং এর জন্য জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ‘‘ফ্যাসিস্ট আমলে ৮০ লাখ কোটি টাকা ঋণ রেখে গেছে; তাদের অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে পুনর্গঠনই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত।’’

    মন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপির ইতিমধ্যেই অনেক অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন রয়েছে; আরেকটি সহযোগী সংগঠনের প্রয়োজন নয়। তিনি বলেন, ‘‘জিয়া পরিষদের নামে দোকান খোলা হোক—এটি আমরা চাই না। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’’

  • এপ্রিলের প্রথম ২৯ দিনে প্রবাসীদের রেমিট্যান্স ৩.০০২ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

    এপ্রিলের প্রথম ২৯ দিনে প্রবাসীদের রেমিট্যান্স ৩.০০২ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

    চলতি এপ্রিলে দেশের কাছে প্রথম ২৯ দিনে প্রবাসীরা মোট ৩.০০২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে, যা ৩০০ কোটি ২০ লাখ ডলারের সমান। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসাইন খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই ২৯ দিনে দেশে গড় দৈনিক রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ১০ কোটি ৩৫ লাখ ডলার। শুধু ২৯ এপ্রিলেই দেশে এসেছে ৯৪ কোটি ডলার রেমিট্যান্স। গত বছরের একই সময়ে (এপ্রিল ২০২৫) দেশের কাছে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৬০ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

    এর আগে মার্চে দেশ ইতিহাসে এক মাসে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স পৌঁছিয়েছিল। ওই মাসে ৩১ দিনে প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন মোট ৩.৭৫ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার)। চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতেও রেমিট্যান্স তিন বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে—গত জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার এবং ফেব্রুয়ারিতে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।

    মোটেমুটে, বছরের শুরু থেকেই ধারাবাহিকভাবে উচ্চ পর্যায়ের রেমিট্যান্স প্রবাহ দেখায় বৈদেশিক মুদ্রার জোগান শক্তিশালী থাকার ইঙ্গিত মিলছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখানকার প্রবণতা পর্যবেক্ষণ করছে।

  • বাংলাদেশ–ভারত: পূর্ণমাত্রায় ভিসা সেবা পুনরায় চালুর পথে

    বাংলাদেশ–ভারত: পূর্ণমাত্রায় ভিসা সেবা পুনরায় চালুর পথে

    প্রায় দেড় বছর সংগ্রাম পর সীমিত হওয়া কূটনীতিক যোগাযোগ মেরামতের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও ভারত এখন পূর্ণমাত্রায় ভিসা সেবা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। শনিবার (২ মে) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে এই খবর জানানো হয়।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য সব ধরনের ভিসা পুনরায় চালু করেছে এবং ভারতের পক্ষ থেকে ধাপে ধাপে ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশি কর্মকর্তারা বলছেন এই পদক্ষেপ দুদেশের সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

    সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ভারতের সফরে ভিসা স্বাভাবিকীকরণকে ঢাকার অন্যতম প্রধান অগ্রাধিক্য হিসেবে তুলে ধরেন। সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, বর্তমানে নয়াদিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশনসহ কলকাতা, আগরতলা, মুম্বই ও চেন্নাইর ভিসা কেন্দ্রগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু রয়েছে।

    দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে জানান, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে সাময়িকভাবে ব্যাহত হওয়া ভিসা কার্যক্রম ফেব্রুয়ারি থেকেই পুনরায় শুরু হয়েছে। ওই সময়ে প্রায় ১৩ হাজার ভারতীয় নাগরিককে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে—ব্যবসা, পর্যটন, চিকিৎসা ও পারিবারিক ভ্রমণ—ভিসা দেওয়া হয়েছে।

    দুই দেশের কূটনৈতিক মোড় ঘোরানোয়ার অংশ হিসেবে গত ফেব্রুয়ারিতে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বিক্রম মিশ্রিসহ ঢাকা সফর করেন এবং কর্মকর্তারা বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় অংশ নেন। ওই সফরে ভিসা ব্যবস্থার স্বাভাবিককরণ বিষয়ে সমন্বয় বাড়ানো হয়।

    প্রতিবেদনে পুরানা প্রসঙ্গও উল্লিখিত হয়েছে — ২০২৪ সালের আগস্টে দেশের রাজনৈতিক ঘটনাবলীর ফলে দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যেই উত্তেজনা দেখা দেয় এবং পরবর্তী সময়ে কূটনৈতিক সম্পর্ক মেরামতের অভিপ্রায়ে পদক্ষেপ শুরু করা হয়। এরপর নতুন সরকার দুই দেশের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে উদ্যোগ নেয়।

    ভারতের সরকারি সূত্র জানিয়েছে, নিরাপত্তা সংশয় থাকায় তারই মধ্যে ভিসা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত ছিল, তবুও জরুরি চিকিৎসা বা পারিবারিক প্রয়োজনের কেসগুলো কেস-বাই-কেস ভিত্তিতে চালান হয়েছে এবং পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়নি। এখন ধীরে ধীরে কার্যক্রম সম্প্রসারণ করে পূর্ণমাত্রায় ভিসা সেবা পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

    ভিসা ব্যবস্থা স্বাভাবিক হলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, জ্বালানি ও অন্যান্য বহুমুখী সহযোগিতা বাড়বে বলে কূটনৈতিক মহলের দর্শন। দুই দেশের ব্যবসায়ী, পর্যটক ও পরিবারের জন্য যাতায়াত সহজ হলে পারস্পরিক যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন: লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ১৩ জন নিহত

    যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন: লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ১৩ জন নিহত

    লেবাননের নাবাতিয়েহ জেলার হাব্বুশ ও টাইরসহ কয়েকটি এলাকায় শুক্রবার ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত ও বহু আহত হয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারি সূত্র জানিয়েছে, নাবাতিয়েহর হাব্বুশ এলাকায় একক হামলায় নয়জন মারা গেছে এবং আরও অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন; আহতদের মধ্যে একজন নারী ও একটি শিশু রয়েছেন।

    লেবাননের সরকার জানিয়েছে, টাইর জনপদ ও আশপাশের কয়েকটি এলাকায় পৃথক হামলায় আরও চারজন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনা মিলিয়ে সোমবার পর্যন্ত লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় মৃতের সংখ্যা ১৩-এ পৌঁছেছে।

    আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া নতুন আবাদের পরে লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় মৃতের মোট সংখ্যা ২৬০০ ছাড়িয়েছে — চলমান সংঘর্ষে হতাহতের ধাক্কাও ক্রমাগত বেড়েই চলেছে।

    পটভূমি হিসেবে উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের মাটিতে ইসরায়েলি হামলার পর তেহরান-সমর্থিত শিয়াগোষ্ঠী হিজবুল্লাহ প্রত্যাঘাত চালায়। জবাবে তেলআবিব থেকে লেবাননের প্রধান শহর বৈরুতসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা অব্যাহত রাখে। এসব উপদ্রবে এখন পর্যন্ত প্রায় ৮ লাখ মানুষ ঘরছাড়া হয়েছে, বলে সরকারি ও জাতিসংঘ সূত্র জানিয়েছে।

    সংকটের মধ্যে লেবাননে মোতায়েন জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তার প্রশ্নও উত্থাপিত হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ফ্রান্সসহ বিশ্বের তিন দিনেরও বেশি সংখ্যক দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। পরিস্থিতি শান্ত রাখার জন্য গত ১৬ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মাধ্যমে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করা হয়েছিল; তাতে সাধারণ নাগরিকদের নিরাপদে ফিরে আসার সুযোগ করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।

    তবে যুদ্ধবিরতি ভেঙে এধরনের আঘাত নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। ইরান বারবার বলেছে, যদি সমঝোতা চাইলে লেবাননে ইসরায়েলের আগ্রাসন বন্ধ করতে হবে; সেই দাবিকে কেন্দ্র করে কোনো পক্ষের নতুন হামলা‐প্রতিহামের ঘটনা ঘটলে পরিস্থিতি দ্রুত সংকটগ্রস্ত হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন।

    উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় হামাস ও ইসরায়েলের সংঘাত দ্রুত পরিধি বাড়ায় এবং দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহ তেল আবিবের বিরুদ্ধে সক্রিয় হয়; এরপর ব্যাপক সংঘর্ষ চলে। এক বছর ধরে চলা উত্তেজনার পরে আমেরিকা ও ফ্রান্সের মধ্যস্থতায় গত বছর গোড়ায় প্রয়োজনভিত্তিক ও সাময়িক যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে কিছুটা স্থিতিশীলতা আসে। কিন্তু সাম্প্রতিক হামলার ফলে ওই শান্তি ফের অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

  • খুলনা প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ

    খুলনা প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ

    খুলনা প্রেসক্লাবে নবনির্বাচিত কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত সভাপতি মো. মোস্তফা সরোয়ার ও সাধারণ সম্পাদক মো. তরিকুল ইসলাম ক্লাবের বিদায়ী অন্তর্বতীকালীন কমিটির আহবায়ক এনামুল হক ও সদস্য সচিব রফিউল ইসলাম টুটুলের কাছ থেকে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

    দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠানটি প্রেসক্লাবের হুমায়ুন কবীর বালু মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত ছিলেন নির্বাচিত কমিটির সহ-সভাপতি সোহরাব হোসেন ও মো. জাহিদুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ বিমল সাহা, যুগ্ম-সম্পাদক মো. বেল্লাল হোসেন সজল, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোহাম্মদ মিলন, পাঠাগার, প্রকাশনা ও তথ্য প্রযুক্তি সম্পাদক বশির হোসেন। এছাড়া কার্যনির্বাহী সদস্য ছিলেন মো. মাকসুদুর রহমান মাকসুদ, কাজী মোতাহার রহমান, মহেন্দ্রনাথ সেন, সোহেল মাহমুদ ও কে এম জিয়াউস সাদাত।

    অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. সাহেব আলী ও হাসান আহামেদ মোল্লা, ক্লাবের সদস্য ও দৈনিক পূর্বাঞ্চল সম্পাদক মোহাম্মদ আলী সনি, সিনিয়র সদস্য মুহাম্মদ আবু তৈয়ব, সদস্য আতিয়ার পারভেজ, মাহবুবুর রহমান মুন্না, এস এম কামাল হোসেন, এস এম নূর হাসান জনি, গাজী মনিরুজ্জামান, শেখ আল এহসান, উত্তম মন্ডল, দীলিপ কুমার বর্মন, ইয়াসীন আরাফাত রুমী, মো. হেলাল মোল্লা, আব্দুর রাজ্জাক রানা, খলিলুর রহমান সুমন, নাজমুল হক পাপ্পু, আলমগীর হান্নান, সুনীল কুমার দাস, মো. জাকারিয়া হোসেন তুষার, শেখ জাহিদুল ইসলাম, মো. সোহেল রানা, এস এম সাইফুল ইসলাম, মোহাম্মদ মাসরুর মুর্শেদসহ অন্যান্য সাংবাদিকবৃন্দ।

  • রামপালে প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে চন্ডিতলা খাল থেকে আরও এক অবৈধ বাঁধ অপসারণ

    রামপালে প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে চন্ডিতলা খাল থেকে আরও এক অবৈধ বাঁধ অপসারণ

    বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলামর নির্দেশে শনিবার (২ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চন্ডিতলা এলাকায় একটি অবৈধ বাঁধ অপসারণ করা হয়েছে। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিজিৎ চক্রবর্তীর নেতৃত্বে অভিযানে খালে নির্মিত ওই পাচঁানো বাঁধ ভেঙে ফেলে ভাঙা হয়েছে এবং খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।

    অভিযান শেষে অভিজিৎ চক্রবর্তী সাংবাদিকদের জানান, রামপাল উপজেলার প্রবাহমান খাল ও নদীতে নির্মিত সব অবৈধ বাঁধ পর্যায়ক্রমে সরিয়ে ফেলাই হবে। যারা আইন ভঙ্গ করে এসব বাঁধ নির্মাণ করবেন, তাদের বিরুদ্ধে কড়া আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘‘খাল ও নদীর অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’’

    স্থানীয়রা জানান, খালের বাঁধ অপসারণের ফলে কৃষি ও মৎস্য খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা কমবে। একাধিক কৃষক বলছেন, গত কয়েক বছরে অবৈধ বাঁধের কারণে অনেক জমি পানিতে ডু্বে যেত; এখন সমস্যা অনেকটাই কমবে এমন আশা করছেন তাঁরা।

    উপজেলা প্রশাসন বলছে, এসব অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং পানিাভাবে, কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় খাল-নদীর অবৈধ ব্যবহার প্রতিহত করতে ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।

  • শেষ ম্যাচ জিতে সিরিজ ১-১ ড্র করল নিউজিল্যান্ড

    শেষ ম্যাচ জিতে সিরিজ ১-১ ড্র করল নিউজিল্যান্ড

    চট্টগ্রামের বৃষ্টিবিঘ্নিত সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টি জিতে সিরিজ ড্র করেছে নিউজিল্যান্ড। তৃতীয় টেস্ট নয়, টি-টোয়েন্টি সিরিজে কিউইরা শেষ ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে সিরিজ ১-১ এ আটকে দিল। বৃষ্টি আক্রান্ত ম্যাচটি ১৫ ওভারের করে নেওয়া হয়েছিল এবং বাংলাদেশের শরেফুল ইসলামকে ছাড়া ব্যাটিং ব্যর্থতাই ছিল ম্যাচের মোড় ঘড়ানো মূল কারণ।

    বিপক্ষে ১০৩ রানের টার্গেট রাজ্য করে বাংলাদেশ ব্যাটিংয়ে বড় সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয়। শুরু থেকেই উইকেট হারাতে থাকে টাইগার্সরা। সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান তামিম ও পারভেজ হোসেন ইমন লড়াই করার চেষ্টা করলেও ধারাবাহিক আঘাত সামলে রাখতে পারেননি। দ্রুতই তিন ওপেনার ফিরলে চাপ বাড়ে; সাইফ ১০ বলে ১৬ রান করে জেইডন লেনক্সের বলে আউট হন, তানজিদ ১০ বল করে ৬ রান করে ডিন ফক্সক্রফটের বলে ফিরে যান, আর পারভেজ ইমন কেবল এক বল খেলে বিদায় নেন।

    লিটন দাস মাঝের সময় কিছু আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে দলকে তোলার চেষ্টা করলেও বৃষ্টি প্রভাব ফেলায় খেলা অস্থায়ীভাবে বন্ধ হয়। বৃষ্টির পর খেলা শুরু হলে লিটন আউট হয়ে গেলে (১৭ বলে ২৬) বাংলাদেশ আরও সংকটকালে পড়ে। তাওহিদ হৃদয় কিছুটা লড়াই দেখান—২৪ বল থেকে ৩৩ রানে ফিফটি না হলেও দলের সংগ্রহ বাড়াতে চেষ্টা করেছিলেন—তবুও দলের মধ‍্যমপন্থা ভেঙে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ১৪.২ ওভারে সব পাঁচ উইকেট হারিয়ে ১০২ রানে থামে।

    নিউজিল্যান্ডের প্রতিপক্ষের ব্যাটিং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও টাইগার ব্যাটিং যথেষ্ট বড় সংগ্রহ করতে না পারায় কিউই বোলিং ও মিডল-অর্ডারে সহজেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। মিলিতভাবে ফিরে এসেছে শরিফুল ইসলাম ও শেখ মাহেদীর আগুন—বিশেষ করে বাঁহাতি পেসার শরিফুল ভারতের মতো সাড়ে কথা বললেন। ম্যাচের শুরুতেই তিনি কেটেন ক্লার্ক ও ডেন ক্লেভারকে তুলে দিলে কিউইদের উইকেটপতন শুরু হয়; একই ওভারের মধ্যে টিম রবিনসনকেও বোল্ড করে তৃতীয় উইকেট নেন শরিফুল। কয়েক বলের মধ্যে নেয়া ওই তিন উইকেট নিউজিল্যান্ডকে নড়বড়ে করে তুলে। মেহেদি বা মেহেদিও (বোলিং লাইন-আপ থেকে) পরে নিক কেলিকেও ঢোকান, ফলে কিউইরা ৩৩ রানে ৪ উইকেটে পড়ে যায় এবং বাংলাদেশের জয় আশা জাগে।

    তবে এরপর দলের ভাগ্য বদলে দেন বেভান জ্যাকবস। ডিন ফক্সক্রফটের সঙ্গে মিলে তিনি একটি জোড়াদার অটুট জুটি গড়েন—দুইজন মিলে ৭১ রানের অবিচ্ছিন্ন যোগ দিয়েছেন—যেটি কিউইদের জয় নিশ্চিত করে। বেভান জ্যাকবস মাত্র ৩১ বলেই অপরাজিত ৬২ রান করে ম্যাচটিকে সিদ্ধান্ত রূপে পরিণত করেন; তাঁর ইনিংসে ছিল ৫ চার ও ৩ ছয়। অপরপ্রান্তে ফক্সক্রফট ১৫ বল থেকে অপরাজিত ১৫ রান করে। ৪.২ ওভার হাতে রেখে নিউজিল্যান্ড নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণ করে ছয় উইকেটে জয় প্রাপ্ত হয়।

    সংক্ষেপে, বাংলাদেশের ইনিংসে দ্রুতীয় উইকেটপাত ও বৃষ্টি-প্রভাব ম্যাচের রঙ পাল্টে দেয়। শুরুতে কিছু আক্রমণাত্মক ইঙ্গিত মেলে সাইফ ও লিটনের ব্যাটিংয়ে, কিন্তু ধারাবাহিক উইকেট হারায় তারা বড় স্কোর গড়তে পারেননি। নিউজিল্যান্ডের শুরুতেই গভীর সমস্যা থাকলেও জ্যাকবস ও ফক্সক্রফটের যোগ্য জুটি শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি কিউইদের দিকে টেনে নেয়।

    এই জয়টিতে নিউজিল্যান্ড সিরিজ টার্ন আউট করে ১-১ ড্র করলো, কারণ চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি বৃষ্টির কারণে বাতিল হয়ে গিয়েছিল এবং সিরিজ তিনটি ম্যাচের মধ্যে বাংলাদেশ প্রথমটি জিতেছিল।

  • নতুন দিগন্তের সূচনা: সিলেটে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

    নতুন দিগন্তের সূচনা: সিলেটে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

    সিলেট জেলা স্টেডিয়াম আজ সার্বিকভাবে অংশগ্রহণ-উৎসবের রূপ ধারণ করেছিল। সাধারণত সুনসান স্টেডিয়াম আজ যেন জীবন্ত হয়ে উঠল—কানায় কানায় ভরা গ্যালারি, মাঠে খুদে ক্রীড়াবিদদের প্রাণবন্ত প্রদর্শনী, সতর্ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সংবাদকর্মীদের ব্যস্ত ভিড়। সবকিছু মিলিয়ে ছিল একটাই উপলক্ষ্য: নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন।

    শনিবার (০২ মে) বেলা ৩টা ৪০ মিনিটে সিলেটে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিকেল ৫টা ৮ মিনিটে নিজে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানটির শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। উদ্বোধন ছাড়া শুধু সিলেট নয়—দেশের জেলা স্টেডিয়ামগুলোতেও ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন হাজারো খুদে ক্রীড়াবিদ।

    উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শিশু-কিশোরদের উদ্দেশে বলেন, আগামী দিনের দায়িত্ব নিতে হবে তাদেরই; তাই পড়াশোনা ও খেলাধুলা দুটোই সমান গুরুত্ব পাবে। খেলাধুলার মাধ্যমে দেশের সুনাম বাড়ানোর আহ্বানও জানান তিনি।

    সরকার এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সারাদেশে শিশু-কিশোরদের মধ্যে প্রতিভা অন্বেষণ শুরু করেছে। তৃণমূল পর্যায় থেকেই মেধাবী ক্রীড়াবিদদের শনাক্ত করে গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

    এ প্রসঙ্গে স্মরণ করানো হয়—নতুন কুঁড়ি ধারাবাহিক অনুষ্ঠানটি ১৯৭৬ সালে যাত্রা শুরু করে; বাংলাদেশের টেলিভিশনের আশির দশকে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং বহু প্রতিভা তখনই দেশের সামনে আসে। বহু বছর পর এই পরিচিত নাম ফিরে এসেছে—তবে এবার মঞ্চ নয়, সবুজ মাঠ-গালিচায় নতুনত্ব নিয়ে। নতুন আঙ্গিকে আত্মপ্রকাশ করলো ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’।

    ঢাকা থেকে ছুটে এসেছেন বিভিন্ন বিভাগের দেশের সেরা ৩২ জন খেলোয়াড়, যারা এই অনুষ্ঠানের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে অংশ নিয়েছেন। তারা বিভিন্ন খেলায় দেশের নাম করে চলা খেলোয়াড়—ক্রিকেট, ফুটবল, কাবাডি সহ নানা খেলার প্রতিনিধিরা সবাই এক ছাতার তলে এনেছেন আগামীর তারকাদের প্রতি উৎসাহ।

    সরকারিভাবে ক্রীড়া পেশাকে প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতির কথাও আনা হয়েছে। সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনের দলীয় ইশতেহারে ক্ষমতাসীন সরকার ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল; কর্তৃপক্ষ দাবি করছেন, এখন সেই অঙ্গীকারটি বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে দেশসেরা খেলোয়াড়দের মাঝে ক্রীড়া কার্ড বিতরণ করা হয়েছে এবং ক্রীড়াভাতা চালু করা হয়েছে—যা অ্যাথলেটদের আর্থিক সহায়তা দেবে এবং ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারিত হবে।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচনের আগেই ইশতেহারে প্রধানমন্ত্রীর স্পোর্টসকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল এবং তা বাস্তবায়নের কাজ এখন চলছে। তিনি উল্লেখ করেন যে সরকার ক্রীড়া কার্ড ও ক্রীড়াভাতা চালু করেছে।

    উদ্বোধন অনুষ্ঠান ঢাকার বাইরে সিলেটে আয়োজন করার পেছনে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘ঢাকার বাইরে থেকে শুরু করাই চাই—সবসময়ই ঢাকার মাধ্যমেই বড় আয়োজন শুরু হয়; diesmal আমরা বাইরে থেকে শুরু করছি।’ নেতৃত্বের এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সিলেটে অনুষ্ঠান শুরু করা হয়েছে।

    প্রতিযোগিতার কাঠামো সম্পর্কে জানানো হয়েছে—১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের নিয়ে মোট ৮টি জনপ্রিয় ইভেন্টে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। কর্মসূচি উপজেলা পর্যায় থেকে শুরু করে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়ে শেষ হবে। আঞ্চলিক পর্বের খেলা ১৩-২২ মে’র মধ্যে শেষ হওয়ার কথা।

    দেশকে ১০টি শক্তিশালী অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে—ঢাকা, ফরিদপুর, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, রংপুর, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ। প্রতিটি অঞ্চলের বিভিন্ন জেলা অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং প্রতিটি পর্যায়ে শক্তিশালী প্রশাসনিক ও বাস্তবায়ন কমিটি পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকি করবে, যাতে কোনো মেধা অবমূল্যায়িত না হয়।

    খেলা-প্রকরণের বর্ণনা অনুযায়ী ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি ও ব্যাডমিন্টন দলের ক্ষেত্রে নকআউট পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। দাবায় আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী সুইস লিগ পদ্ধতি থাকবে। ব্যক্তিগত ইভেন্ট—অ্যাথলেটিক্স, সাঁতার ও মার্শাল আর্টে প্রাথমিক বাছাই (হিট/নকআউট) ও ফাইনাল রাউন্ডের মাধ্যমে বিজয়ী নির্ধারণ করা হবে। এক খেলোয়াড় সর্বোচ্চ দুটি খেলায় অংশ নিতে পারবে।

    রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ ছিল অল্প—১২ থেকে ২৬ এপ্রিল। তত্ক্ষণাত সারা দেশ থেকে আট ইভেন্টে মোট ১,৬৭,৬৯৩ জন প্রতিযোগী নাম লিখিয়েছেন। এদের মধ্যে ছেলে ১,২০,৯৪৯ জন এবং মেয়ে ৪৬,৭৪৪ জন। অঞ্চলভিত্তিতে ঢাকা থেকে সর্বোচ্চ রেজিস্ট্রেশন—২৫,৩৮৭ জন; সবচেয়ে কম রেজিস্ট্রেশন হয়েছে ময়মনসিংহে, সেখানে ৭,৯৬৬ জন নাম রেখেছেন।

    উদ্বোধনী দিন স্টেডিয়ামে উৎসাহ-উদ্দীপনা স্পষ্ট ছিল; অনেক অভিভাবক ও স্থানীয়রা পরবর্তী রাউন্ডে তাদের সন্তানদের অংশগ্রহণের জন্য আশা ও প্রত্যাশা নিয়ে ফিরেছেন। আয়োজনকারীরা জানিয়েছেন, এই প্রতিযোগিতা থেকে উঠে আসা প্রতিভারাই ভবিষ্যতে দেশের ক্রীড়া অঙ্গনকে সমৃদ্ধ করবে—এটাই এবারের মূল লক্ষ্য।