দুই দিনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র দুই কেন্দ্রীয় নেতা নিজেদের পদত্যাগ করেছেন। বুধবার দুপুরে দলের যুগ্ম-সদস্য সচিব ও মিডিয়া সেলের সম্পাদক মুশফিক উস সালেহীেন নিজের ফেসবুক লাইভে এসে অভিযোগ করেন যে, দলটি পুরোনো উপনিবেশিক শাসন ব্যবস্থা ও অবৈধ চক্রের সঙ্গে আপস করে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, দলের নেতারা মতের verschillen ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত চাপের কাছে নতিস্বীকার করেছেন, যা দেশের স্বার্থের পরিপন্থী। এর ফলে তিনি সিদ্ধান্ত নেন, দল থেকে পদত্যাগ করবেন। একই সময়ে, আরেক নেতা মুহাম্মদ মুরসালীন এনসিপির পক্ষ থেকে অনলাইনে তার পদত্যাগপত্র পাঠান দলটির আহ্বায়কের কাছে। তিনি দলের বিরুদ্ধে ‘বিরোধীদলীয় অপপ্রচার এবং অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য পশ্চিমা শক্তির ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার’ অভিযোগ তোলেন। এই দুই নেতার পদত্যাগের মাধ্যমে একদিনের মধ্যে এনসিপি থেকে মোট আটজন নেতা তাদের পদত্যাগের ঘোষণা দেন। এর আগে, গত ঠিক একই দিন দুপুরে নেতাদের মধ্যে জোটের সমালোচনা ও বর্তমান নীতির বিরুদ্ধে মুখ খোলেন, ও দলের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর জোটের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে একাধিক কেন্দ্রীয় নেতারা আহ্বায়কের কাছে স্মারকলিপি দেন। উল্লেখ্য, এই পদত্যাগের হিড়িক শুরু হয় যখন দলের কেন্দ্রীয় নেতা তারেক রহমান দেশে ফেরেন। তার সমর্থনে একই দিন পদত্যাগ করেন দলের যুগ্ম-সদস্য সচিব মীর আরশাদুল হক, এরপর অন্যান্য নেতারাও নিজেদের পদত্যাগের ঘোষণা দেন। ৩০ ডিসেম্বর আরও দুই নেতা—কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আসিফ মোস্তফা জামাল ও কৃষক উইংয়ের প্রধান সমন্বয়কারী আজাদ খান ভাসানী—নিজেদের দলে থাকাকালীন পদত্যাগ করেন। এরপর ৩১ ডিসেম্বর রাতে, যুগ্ম-আহবায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে নিজের পদত্যাগের ঘোষণা দেন। এই ধারাবাহিক পদত্যাগের ঘটনায় এনসিপির ভবিষ্যৎ অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে, আর দলের ভিতরে অবস্থিতির সংকট আরও গভীর হতে পারে বলে উৎকণ্ঠা প্রকাশ করছে বিশ্লেষকরা।
Blog
-

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধা জানালেন
ইসলামাবাদে বাংলাদেশ হাইকমিশনে গিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। শনিবার (৩ জানুয়ারি) তিনি বাংলাদেশ হাইকমিশনে উপস্থিত হয়ে খালেদা জিয়াকে সমবেদনা জানান এবং তার স্মরণে রাখা শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন। পাকিস্তানের এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল ব্যক্তি এই সফরে খালেদা জিয়ার প্রতি সম্মান জানানোর পাশাপাশি তার জীবনী ও অবদানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
এদিকে, খালেদা জিয়ার মৃত্যু সংবাদে গভীর শোক প্রকাশ করে পাকিস্তানের সংসদের স্পিকার সরদার আইয়াজ সাদিক বুধবার ঢাকায় এসে তার জানাজায় অংশ নেন। তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গেও একটি বৈঠক করেন, যেখানে তারা পারস্পরিক সমবেদনা ও সম্মানের কথা ব্যক্ত করেন। তাঁর এই সফর ও শোক প্রকাশ দুই পক্ষের স্বতঃস্বভাব সম্পর্ককে আরো গভীর করে তুলেছে এবং দুদেশের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার বার্তা পৌঁছে দিয়েছে।
-

ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াত আমিরের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৫ (মিরপুর-কাফরুল) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের মনোনয়নপত্রকে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (ইটিআই) এ মনোনয়নপত্রের যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং অফিসার ও ঢাকা অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ইউনুচ আলী তার প্রার্থিতা বৈধ বলে ঘোষণা করেন। অফিস সূত্র জানিয়েছে, ভুক্তভোগী প্রার্থী ডা. শফিকুর রহমানের দাখিলকৃত হলফনামা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র বিচ্ছিন্নভাবে যাচাই করে কোনো ত্রুটি পাওয়া যায়নি। ফলে, তার মনোনয়নপত্র গ্রহণে কোনো আইনি বাধা নেই। উল্লেখ্য, গত ২৯ ডিসেম্বর জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধি দল এই মনোনয়নপত্র জমা দেয়। দীর্ঘ সময় পরে ২০০৮ সালে নিবন্ধন ফিরে পাওয়ার পরে এবারই প্রথম জামায়াতে ইসলামী নিজস্ব প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। মনোনয়নপত্রের এই তারিখে জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল এবং প্রার্থীদের বাছাই প্রক্রিয়া ৪ জানুয়ারির মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর, তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্রের যাচাইয়ের পরে যদি কোনও আপত্তি থাকে, তবে ৫ থেকে ৯ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন কমিশনের কাছে আপিল করা যাবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট।
-

রাজশাহীতে ৬ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে রাজশাহীতে। শনিবার (৩ জানুয়ারি) ভোর ১০টায় রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আফিয়া আখতার। সভায় রাজশাহী-১ ও রাজশাহী-২ আসনের প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
মনোনয়ন যাচাই-বাছাই শেষে দেখা গেছে, রাজশাহী-১ আসনের ছয় প্রার্থীর মধ্যে তিনজনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। অন্য তিনজনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া, রাজশাহী-২ আসনে মোট নয়জন প্রার্থী ছিলেন। এর মধ্যে তিনজনের মনোনয়ন বাতিল হয় এবং ছয়জনের মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। এ দুটি আসন থেকে মোট ১৫ জন মনোনয়ন দাখিল করেছিলেন, যার মধ্যে ৯ জনের মনোনয়ন বৈধতা পেয়েছে এবং ছয়জনের বাদ পড়ে বাতিল হিসেবে ঘোষিত হয়েছে। ভবিষ্যতে তারা আপিল করতে পারবেন।
জানা গেছে, রাজশাহী-১ আসনে মনোনয়ন বৈধ পেয়েছেন বিএনপি থেকে মনোনীত প্রার্থী মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) শরিফ উদ্দিন, আমার বাংলাদেশ পার্টির আব্দুর রহমান, এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের মুজিবুর রহমান। বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন- আল সাআদ, যিনি স্বাক্ষর থাকা স্বত্ত্বেও তার সমর্থকদের মধ্যে ২ জন মৃত এবং চারজনকে পাওয়া যায়নি। স্বাক্ষর থাকা সত্ত্বেও উপযুক্ত প্রমাণ দিতে পারেননি তার স্বাক্ষরকারীরা। অন্যদিকে, স্বতন্ত্র প্রার্থী সুলতানা ইসলাম তারেকের আয়-ব্যয়ের নথিতে স্বাক্ষর অনুপস্থিত। তাঁর সমর্থকদের মধ্যে ছয়জনকে পাওয়া যায়নি, এবং সংগঠনের স্বাক্ষরেও মিল থাকা হয়নি। গণ অধিকার পরিষদের মীর মোহাম্মদ শাহজাহানের ক্ষেত্রে সংগঠনের সভাপতি নূরের স্বাক্ষর জমা থাকা স্বত্ত্বেও স্বাক্ষরের সঙ্গে মিল খুঁজে পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, রাজশাহী-২ আসনে মোট নয়জন প্রার্থী ছিলেন। এর মধ্যে তিনজনের মনোনয়ন বাতিল হয়। বাকি ছয়জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা। মনোনয়ন বৈধ প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন- বিএনপির মিজানুর রহমান মিনু, জামায়াতে ইসলামের ডা. জাহাঙ্গীর, আমার বাংলাদেশ পার্টির অ্যাডভোকেট সাঈদ নোমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ফজলুল করিম, বাংলাদেশ লেবার পার্টির মেসবাউল ইসলাম, এবং নাগরিক ঐক্যের শামসুল আলম। বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন- স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহাবুদ্দিন, যাঁর আয়-ব্যয়ের তথ্য ও স্বাক্ষর না থাকার পাশাপাশি মৃত ভোটারের সংখ্যা পাওয়া গেছে। তার সমর্থকদের মধ্যে আটজনই জানেন না যে তাদের স্বাক্ষর জমা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কর ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে। লেবার ডেমোক্রেটিক পার্টির ওয়াহিদুজ্জামানের বিভিন্ন ব্যাংকে ঋণ খেলাপি থাকার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া, স্বতন্ত্র প্রার্থী সালেহ উদ্দিনের আয়কর তালিকা না থাকা ও ১ শতাংশ ভোটার তালিকায় গরমিল থাকা’s কারণে তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
-

হাদী হত্যাকাণ্ড: পুলিশের তদন্তে ফয়সালের দুই ভিডিওবার্তা পরীক্ষা চলছে
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বলেছেন, হাদী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ফয়সাল নামে একজন শ্যুটার জড়িত থাকায় তিনি সন্দেহ করেছেন। সম্প্রতি ফয়সালের দুটি ভিডিও বার্তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন তিনি। এই ভিডিওগুলি পুলিশ পেয়েছে এবং শনাক্তকরণ ও যাচাইবাছাই করার 작업 অব্যাহত আছে বলে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী নিশ্চিত করেছেন।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে ক্রাইম রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড ২০২৫ এর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
হাদী হত্যাকাণ্ডের মূল সন্দেহভাজন ফয়সালের দুটি ভিডিও বার্তা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে, ডিএমপি কমিশনার জানান, এই বিষয়টি তারা নিঃশর্তে অপ্রকাশিত রেখেছেন। ভিডিওগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্যে রয়েছে। পরীক্ষা শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করবেন।
আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের ১২ তারিখে জাতীয় নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে পুলিশ বিভাগ ব্যাপক রদবদল এবং নতুন रणनीতি গ্রহণ করেছে, যা লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছে।
নির্বাচনকালীন প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে, তিনি জানান, যাচাই-বাছাই শেষে যদি অভিযোগ আসে যে কেউ জীবন ঝুঁকিতে রয়েছে, তাহলে সংশ্লিষ্ট সংস্থার নির্দেশে সদস্য বা গার্ড দিয়ে নিরাপত্তা সেবা দেয়া হবে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন প্রার্থীকে গার্ড দেওয়া হয়েছে এবং বিশেষ করে নির্বাচন কমিশনারদের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। ভবিষ্যতেও যদি কারো জীবনের ঝুঁকি দেখা যায়, তখনও নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণে আমরা প্রস্তুত।
বিশাল জনসমাগম, যানজট এবং বিভিন্ন ধরনের প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের কারণে নাগরিক জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠছে বলে মন্তব্য করে ডিএমপি কমিশনার বলেন, রাস্তায় পথেঘাটে মানুষের ভিড়, গোষ্ঠীগত চাপা-চাপা ও দাবি-দাওয়া নিয়ে অপ্রয়োজনীয় ঝামেলা ও যানজটের কারণে সাধারণ মানুষ কষ্টে জীবন যাপন করছে। বিশেষ করে জরুরি পরিস্থিতিতে হাসপাতালে অথবা ইমার্জেন্সি সার্ভিসে যেতে পারছে না কেউ। তিনি উল্লেখ করেন, বিভিন্ন মিডিয়া সংস্থা থেকে অনুরোধ সত্ত্বেও এ ধরনের পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছেন না, যা খুবই দুঃখজনক। শহরবাসীর এই দুর্ভোগ কমাতে একে অপরের ওপর আস্থা ও সহানুভূতি বাড়ানোর পাশাপাশি সচেতনতা জরুরি।
তিনি জানান, জানুয়ারির ২১ বা ২২ তারিখের দিকে এই বছর একটি বড় নির্বাচনী ক্যাম্পেইন শুরু হবে, যেখানে অরাজকতা বা সংঘর্ষের আশঙ্কাও রয়েছে। এই জন্য সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে নিরপেক্ষতা রক্ষা করে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করা।
অতিরিক্ত হিসেবে, কমিশনার মন্তব্য করেন, বর্তমানে ঢাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ছিনতাই ও অন্যান্য সাধারণ অপরাধের সংখ্যা কমে এসেছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সকলের সহযোগিতা ও সতর্কতায় ভবিষ্যতেও এই পরিস্থিতি বজায় রাখতে পারা সম্ভব। সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন, যেন এই পরিস্থিতি সুন্দরভাবে পরিচালিত হয়।
-

ঢাকা-১১ আসনে নাহিদ ইসলামের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা
আজ শনিবার (৩ জানুয়ারি) ঢাকার ঢাকা-১১ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তামিম আহমেদ।
আসলে চলতি সময়ে এই আসনে প্রার্থী ছিলেন অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান, যা জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হয়। তবে পরে দশ দলীয় জোট গঠন হওয়ার ফলে এই আসনে নিয়োগ পান এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
অ্যাডভোকেট আতিক দলীয় সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বিদায় নিতে সম্মত হয়েছেন এবং নাহিদ ইসলামের জন্য শুভকামনা প্রকাশ করে নির্বাচনে থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। ফলে এই আসনে আর প্রার্থীর কোনও প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে না বলে আশা করা যাচ্ছে।
-

ব্রিটিশ কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী ক্রিস রিয়া ইন্তেকাল করেছেন
ব্রিটিশ কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী ও গীতিকার ক্রিস রিয়া মঙ্গলবার (২২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। তার পরিবারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয় bahwa অল্প কিছুদিন অসুস্থতার পর তিনি অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে জীবনযাত্রা শেষ করেছেন।
ক্রিস রিয়া ১৯৫১ সালে ইংল্যান্ডের মিডলসবরোতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ব্লুজ, পপ ও সফট রক সংগীতের জাদুকর হিসেবে বিশ্বজোড়া পরিচিত ছিলেন। চার দশকের বেশি ক্যারিয়ারে তিনি মোট ২৫টি স্টুডিও অ্যালবাম রেকর্ড করেন, যা বিশ্বজুড়ে ৩০ মিলিয়নেরও বেশি কপি বিক্রি হয়েছে। তার কিছু কালজয়ী সংগীতের মধ্যে রয়েছে ‘দ্যা রোড টু হেল’, ‘অন দ্য বিচ’, ‘জোসেফিন’ এবং ‘লেটস ড্যান্স’।
বিশ্বের শিরোনাম ছিলেন তার ক্রিসমাস সংগীত ‘ড্রাইভিং হোম ফর ক্রিসমাস’ এর জন্য। ১৯৮৬ সালে লেখা এই গানটি এখন বড়দিনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। যখন তিনি এটি লিখেছিলেন, তখন তার হাতে কোনো রেকর্ডিং চুক্তি ছিল না। এমনকি ট্রেনের টিকিটের জন্যও তার টাকা ছিল না, তবুও তিনি স্টেশন থেকে মিডলসবরো ফিরছিলেন স্ত্রীসহ গাড়ি চালিয়ে।
২০০১ সালে ক্যানসার ধরা পড়ার পর তিনি অসুস্থতাজনিত জীবন-মরণের সন্ধিক্ষণে পড়েন। পরে ২০১৬ সালে তিনি স্ট্রোকের শিকার হন। জীবনের নানা বাধা উপেক্ষা করে তার গানপ্রেম কখনো কমে যায়নি। শেষের দিকে তিনি পপ সংগীত থেকে সরে গিয়ে ‘ডেল্টা ব্লুজ’ ব্যান্ডে মনোযোগ দেন।
তার মৃত্যুতে বিশ্ব সংগীত অঙ্গনে গভীর শোক প্রকাশ করা হচ্ছে। তিনি সুরের মাধ্যমে কোটি ভক্তের হৃদয়ে অমর হয়ে থাকবেন। তার পরিবারের সদস্যরা জানান, মৃত্যুকালে তিনি রেখে গেছেন একমাত্র স্ত্রী জোয়ান ও দুই মেয়ে জোসেফিন ও জুলিয়া।
-

ফরিদপুরে কনসার্টে বিশৃঙ্খলা, জেমসের প্রতিক্রিয়া আসলো
ফরিদপুরের জিলা স্কুলের ১৮৫তম বার্ষিকী ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের শেষ দিনে আনন্দের পরিবর্তে দেখা দেয় দারুণ অস্থিরতা। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় দেশের অন্যতম জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী জেমসের গানের আসরটি দেখার জন্য স্কুলের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা হুমড়ি খেয়ে অপেক্ষা করছিলেন, ঠিক সে মুহূর্তেই বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। এই অশান্তির জন্য আয়োজকদের পক্ষ থেকে দায়িত্বপ্রাপ্তরা অব্যবস্থাপনা ও দক্ষতার অভাবে দুষেছেন। জেমস নিজেও মনে করেন, এই সমস্যা পুরোপুরি আয়োজকদের অবহেলা ও ব্যর্থতার ফল।
সংবাদমাধ্যমে রুবাইয়াৎ ঠাকুর রবিন নামের একজন মুখপাত্র জানালেন, তারা সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ফরিদপুরে পৌঁছান। তখনই তারা জানতে পারেন, পরিস্থিতি বেশ অস্থির। গেস্ট হাউসে থাকার সময়ই তারা বিশৃঙ্খলার খবর পান। রাত সাড়ে দশটার দিকে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠলে আয়োজকরা অনুষ্ঠান বাতিলের ঘোষণা দেন এবং তারা ঢাকায় ফিরে যান।
জেমস নিজেও এই বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন। তিনি বলেছেন, “এটি সম্পূর্ণই আয়োজকদের অব্যবস্থাপনা ও ব্যর্থতার ফল।” এক ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি কড়া মেজাজে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের হয়ে দ্রুত গাড়িতে ওঠেন। তার সঙ্গীদের মধ্যে অনেকেই শিল্পীর সুরক্ষা ও নিরাপত্তার বিষয়টি দেখছেন।
আয়োজক কমিটির সূত্রে জানা যায়, এই অনুষ্ঠানটি মূলত নিবন্ধিত দর্শকদের জন্য ছিল। কিন্তু জেমসের আসার খবর পেয়ে হাজারো অনিবন্ধিত দর্শক ছুটে যান। গেটে বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে তারা ভিড় করে, দেয়াল টপকে প্রবেশের চেষ্টা করে এবং স্কুলের প্রাঙ্গণ ও মঞ্চের দিকে ইট-পাটকেল ছুঁড়ে মারতে শুরু করে। এর ফলে আয়োজকদের ঘোষণা অনুযায়ী, প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন আহত হন এবং কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। কিছু দর্শক ও অতিথির নিরাপত্তার জন্য বিশৃঙ্খলায় আরও ব্যাপক ক্ষতি হয়, যা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও আয়োজকদের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
-

সালমান খানের ষাটতম জন্মদিন উদযাপন এলো একান্তে
বলিউডের অন্যতম প্রভাবশালী তারকা সালমান খান এই ২৭ ডিসেম্বর জন্মদিনে পা রাখলেন ৬০ বছরে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ব্যক্তিগত আবহে নিজের পরিবারের সদস্য, ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সিনেমার কাছের কিছু মানুষজনের সঙ্গে জন্মদিন উদযাপন করে থাকেন। এবারের জন্মদিনও তার ব্যতিক্রম হলো না, পাঞ্জাবে পানভেলের একটি ফার্মহাউসে খুবই সরল এবং ঘরোয়া পরিবেশে এই শুভক্ষণটি কাটাচ্ছেন।
জাঁকজমকপূর্ণ বড় ধরনের পার্টির বদলে এবার তার জন্মদিনের আয়োজন হয়েছে খুবই স্বাভাবিক, বন্ধুত্বপূর্ণ ও আত্মীয়স্বজনের মাঝে। অতিথি তালিকা কেবলমাত্র পরিবারের সদস্য, কাছের বন্ধু এবং তার সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করা কিছু পরিচালকের মধ্যে সীমিত রাখা হয়েছে। জানা গেছে, এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য হলো একসঙ্গে আরামদায়ক সময় কাটানো, স্মৃতিচারণা এবং দারুণ কিছু আড্ডায় বিভোর হওয়া। বড় ধরনের আয়োজন বা অতিথি সমাগমের পরিকল্পনা নেই।
অভিনেতার জন্মদিনে এক বিশেষ আকর্ষণ ছিল একটি ট্রিবিউট ভিডিও, যা স্বপ্রনোদিতভাবে তৈরি করা। এই ভিডিওতে সালমান খানের তিন দশকের ক্যারিয়ারে তার সঙ্গে কাজ করা বেশ কিছু পরিচালক ও কলাকুশলী তার ব্যক্তিগত স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। তারা বলেছেন কাজের সময় কাটানো গল্প, এর মধ্যে সফলতা, চ্যালেঞ্জ, এবং সালমানের অভিনয় জীবনের বিবর্তন ও ভারতীয় সিনেমায় তার দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবের কথা।
প্রশান্ত ও পুষ্পিত এই দিনে ভক্তরা তাকে নানা নামে ডাকে—‘ভাইজান’। এটি শুধু একটি ডাকনাম নয়, বরং এক ধরনের সম্পর্কের প্রতীক। বড় ভাইয়ের মতো তিনি সহশিল্পী, তরুণ অভিনেতা, এমনকি প্রবীণ সহকর্মীদেরও পাশে থাকেন। অনেকেরই বলিউডে প্রবেশের পেছনে মাথা তুলে দাঁড়ানোর সাহস ও অনুপ্রেরণা তিনি। এই ভাইজানের পেছনে রয়েছে কর্তৃত্বের বদলে দায়িত্ববोध, যা তাকে এক প্রজন্মের নেতা, অভিভাবকের মতো করে তুলেছে।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এবারের জন্মদিনে সালমান খান বলিউডের ‘খান’ ত্রয়ীর মধ্যে প্রথম ব্যক্তি যিনি ৬০ বছর পূর্ণ করলেন। এর আগে, এই বছরই ৬০তম জন্মদিন উদযাপন করেছেন তার দুই বন্ধু—অ Amir Khan ও Shah Rukh Khan। এই ঘটনা এক ধরনের প্রতীকী বার্তা দেয় বলিউডের এক যুগের অবসান বোঝাতে, যেখানে গত তিন দশকের বেশি সময় এই তিনজনের প্রভাব সিনেমা জগতে অটুট ছিল। এই সময়ের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, বয়স বাড়লেও সালমানের প্রাসঙ্গিকতা ও জনপ্রিয়তা অটুট রয়েছে; তিনি এখনো বলিউডের একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম।
-

প্রিন্স মামুনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি
ওমরাহ হজ পালন করতে সৌদি আরবে রয়েছেন টিকটকের জনপ্রিয় তারকা আব্দুল্লাহ আল মামুন, المعروفে প্রিন্স মামুন। তবে দেশের মাটিতে এখন তাঁর জন্য অপেক্ষা করছে কঠিন দুঃসংবাদ। নারীর গায়ে মারধর ও হুমকির অভিযোগে লায়লা আখতার ফরহাদের মামলায় আদালত তার জামিন বাতিল করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন। বৃহস্পতিবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সেফাতুল্লাহ এই আদেশ দেন।
মামলার অভিযোগনুযায়ী, বৃহস্পতিবার অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ছিল। ওই সময় মামুন ওমরাহ পালনের জন্য আদালতে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তার পক্ষের আইনজীবী আশিকুল ইসলাম সময়ের আবেদন করলে আদালত কিছুটা সময় দান করেন। তবে বাদী লায়লা আখতার ফরহাদ আদালতে হাজির হয়ে মামুনের জামিন বাতিলের জন্য আবেদন করেন। বাদী এ সময় বলেন, মামুনের বিরুদ্ধে অন্য একটি ধর্ষণের মামলাও বিচারাধীন রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, মামুন তার বাসায় প্রবেশ করে ছুরি দিয়ে আঘাত করে হত্যার হুমকি দিয়েছেন। তদন্তে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন।
আদালত শুনানির পর মামুনের জামিন বাতিল করে তাকে গ্রেফতার করতে নির্দেশ দেন। পাশাপাশি, তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো গঠন করে বিচার কার্যক্রম শুরু করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালত আগামী ৫ মার্চ মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেছেন।
মামলার তথ্যানুযায়ী, ফেসবুকের মাধ্যমে প্রথমে প্রিন্স মামুনের সঙ্গে লায়লার পরিচয় হয়। এরপর ১০ মে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মামুন তার ক্যান্টনমেন্টের বাসায় যান। সেখানে তিনি লায়লার আগের মামলা ও জিডি তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দেন। লায়লা তা অস্বীকৃতি জানালে, মামুন ফেসবুক লাইভে গিয়ে তাকে ও তার পরিবারের কাউকে গালিগালাজ করেন। এরপর লাইভ বন্ধ করে লায়লাকে মারধর শুরু করেন। এমনকি হত্যার জন্য ছুরি দিয়ে আঘাত করলে, লায়লা তার হাত দিয়ে রক্ষা করার সময় আহত হন। এ ঘটনায় ওই দিনই ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন লায়লা। তদন্ত শেষে ৩০ সেপ্টেম্বর উপ-পরিদর্শক আতিকুর রহমান সৈকত আদালতে মামুনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
