Blog

  • বিএনপি ক্ষমতায় গেলে প্রতিষ্ঠান, স্থাপনাগুলোর নামকরণ শহীদদের নামে করা হবে: তারেক রহমান

    আজ সোমবার (১৮ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ আয়োজিত চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে পঙ্গুত্ববরণকারী ছাত্র-জনতা ও দুস্থদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের সমর্থন নিয়ে বিএনপি আবারো ক্ষমতায় এলে– শহীদদের নামে বিভিন্ন এলাকার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নামকরণ করা হবে।

    তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে ইনশাআল্লাহ জনগণের সমর্থন নিয়ে বিএনপি সরকার গঠনে সক্ষম হবে। যারা শহীদ হয়েছেন, যারা স্বৈরাচারদের বিদায় করার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন– এরকম প্রতিটি মানুষের নামে বিভিন্ন এলাকায় রাষ্ট্রের যে প্রতিষ্ঠান, স্থাপনাগুলো তৈরি হবে, এই মানুষগুলো যাতে হারিয়ে না যায় – তাই এই শহীদদের নামে নামকরণ করার প্রস্তাব করা হবে।’

    আজ সোমবার (১৮ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ আয়োজিত চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে পঙ্গুত্ববরণকারী ছাত্র-জনতা ও দুস্থদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    তারেক রহমান বলেছেন, “আমরা সকলে যদি সকলের সহযোগিতায় এগিয়ে আসি— তাহলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আজ নাহলে কাল, কাল না হলে পরশু –- আমরা যেরকম একটি বাংলাদেশ নিজেদের মনে কল্পনা করি, সেরকম স্বপ্নের একটা বাংলাদেশের সূচনা দেখতে সক্ষম হব।”

    আন্দোলন বাদেও সামাজিকভাবে বহু মানুষ আছেন — যাদের বিভিন্নভাবে জন্মগত কারণেই হোক বা অসুখেই হোক পঙ্গুত্ববরণ করতে হয়েছে। তাঁদের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের সামাজিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে যদি পরিবারের কোন মানুষ পঙ্গু হয়ে থাকে, সে ব্যক্তি পরিবারের কাছে একটি বোঝার মতো হয়ে থাকে। সেই পরিবারের কষ্ট অনেক বেড়ে যায়। জনগণের সমর্থনে বিএনপি ইনশাআল্লাহ আগামীতে সরকার গঠনে সক্ষম হলে– সরকারের পক্ষ থেকে আলাদাভাবে আমাদের একটা উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য থাকবে। সমগ্র বাংলাদেশে, সে যে পরিবারের সদস্য হোক, স্বচ্ছল বা অস্বচ্ছ্ল হোক, আমাদের পক্ষ থেকে চেষ্টা করব– যেসকল পরিবারে এরকম সদস্য আছে, তাদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে। যাতে করে সে পঙ্গু মানুষগুলো নিজেরা যতটুকু সম্ভব স্বাবলম্বী হতে পারে।

    নেতাকর্মীসহ দেশবাসীকে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সকল মানুষকে আমি বলতে চাই, কারো মাধ্যমে যাবার দরকার নাই; আপনি নিজে যদি মনে করেন, আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী একজন হোক, দুইজন হোক, পাঁচজনকে হোক — আপনি কিছুটা হলেও সাহায্য করতে পারবেন – সে মানুষটাকে চলাফেরায় হোক বা অন্যভাবে হোক স্বাবলম্বী করে দেয়ার, দয়া করে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিবেন। কোন সংগঠনের সাথে জড়িত হবার দরকার নেই। আপনি নিজ উদ্যোগে, নিজ অবস্থান থেকেও করতে পারেন। আমরা সকলে যদি সকলের সহযোগিতায় এগিয়ে আসি তাহলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। আজ নাহলে কাল, কাল নাহলে পরশু আমরা যেরকম একটি বাংলাদেশ নিজেদের মনে কল্পনা করি— সেরকম একটা বাংলাদেশের সূচনা দেখতে সক্ষম হব।

    তারেক রহমান বলেন, এই মুহুর্তে দেশ যে স্বৈরাচারমুক্ত বা এটি অর্জন করার জন্য সমগ্র বাংলাদেশে দলমত নির্বিশেষে অনেক মানুষ, অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক কর্মী অনেক ক্ষেত্রে অরাজনৈতিক কর্মী বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সকল মানুষকে কতটুকু সাহায্য করা সম্ভব ব্যক্তিগতভাবে আমি জানি না। আমরা হয়তো কেউই জানি না। কিন্তু যে মানুষগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, যারা শহীদ হয়েছেন- যারা শহীদ হয়েছেন তারা তো চলেই গেছেন, তাদের পরিবারের মানুষরা রয়ে গেছেন; যারা বিভিন্নভাবে আহত হয়েছেন, পঙ্গুত্ববরণ করেছেন তাদের পাশে কতটুকু দাঁড়াতে পারব— আমি বলতে পারবো না। কিন্তু, আমি মনে করি তারা দেশের জন্য, আমাদের জন্য আত্মত্যাগ করেছেন; আমাদের দ্বায়িত্ব আমাদের কর্তব্য যতটুকু সম্ভব তাদের পাশে দাঁড়ানো।

    অনুষ্ঠানে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ সংগঠনের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমনের সভাপতিত্বে এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও বিএনপি পরিবারের প্রধান পৃষ্ঠপোষক এডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, বিএনপির কোষাধ্যক্ষ ও বিএনপি পরিবারের উপদেষ্টা এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত প্রমুখ।

  • রাজনৈতিক ঝুঁকি ও অস্থিরতার কারণে বাংলাদেশের ঋণমান কমাল মুডিস

    রাজনৈতিক ঝুঁকি ও অস্থিরতার কারণে বাংলাদেশের ঋণমান কমাল মুডিস

    বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি ঋণমান আবার কমিয়েছে মুডিস রেটিংস। সরকারের ইস্যুয়ার ও সিনিয়র আনসিকিউরড রেটিংস ‘বি১’ থেকে ‘বি২’–এ নামিয়ে আনা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের অর্থনীতির পূর্বাভাসে পরিবর্তন এনে ‘স্থিতিশীল’ থেকে ‘ঋণাত্মক’ করেছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই ঋণমান যাচাইকারী কোম্পানি। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণে এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছে মুডিস।

    সিঙ্গাপুর থেকে আজ সোমবার প্রকাশিত রেটিংস প্রতিবেদনে মুডিস আরও জানিয়েছে, বাংলাদেশের স্বল্পমেয়াদি ইস্যুয়ার রেটিংস ‘নট প্রাইম’ বা শ্রেষ্ঠ গুণসম্পন্ন নয় হিসেবে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

    বিশ্বের প্রধান তিনটি ঋণমান যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানের একটি মুডিস। গত ৩১ মে প্রতিষ্ঠানটি সর্বশেষবার বাংলাদেশের ঋণমান কমিয়েছিল। সেবার তারা ঋণমান এক ধাপ কমিয়ে বিএ৩ থেকে বি১-এ নামায়। এর কারণ হিসেবে মুডিস জানিয়েছিল, বৈদেশিক লেনদেনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে উঁচু মাত্রার দুর্বলতা ও তারল্যের ঝুঁকি রয়েছে।

    মুডিস জানিয়েছে, তাদের ঋণমানের সিদ্ধান্ত মূলত বাংলাদেশে রাজনৈতিক ঝুঁকি বৃদ্ধি ও নিম্ন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বিষয়টিকে প্রতিফলিত করছে। এই বিষয়গুলো এসেছে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা থেকে, যার ফলে দেশটিতে একটি সরকারের পরিবর্তন ঘটেছে। এসব বিষয় সরকারের নগদ অর্থপ্রবাহের ঝুঁকি, বহিঃস্থ দুর্বলতা ও ব্যাংকিং খাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে।

    চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও দুর্বল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশকে ঘাটতি পূরণে আরও বেশি স্বল্পমেয়াদি ঋণের ওপর নির্ভরশীল করে তুলবে বলে মনে করে মুডিস। এ ছাড়া সম্পদের গুণগত মানের ঝুঁকির কারণে ব্যাংকিং ব্যবস্থার পুঁজি ও তারল্যসংক্রান্ত দুর্বলতা বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে রাষ্ট্রের দায়সংক্রান্ত ঝুঁকিও বেড়েছে।

    মুডিস বলছে, প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বৃদ্ধি ও বিদেশি উন্নয়ন সহযোগীরা আরও বেশি ঋণ দিলেও বহিঃস্থ দুর্বলতাসংক্রান্ত ঝুঁকি আগের মতই রয়েছে। এর কারণ গত কয়েক বছর ধরেই দেশের রিজার্ভ কমছে, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। সামাজিক ঝুঁকি বৃদ্ধি, একটি পরিষ্কার পথনির্দশকের অনুপস্থিতি, আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং জনগোষ্ঠীভিত্তিক উত্তেজনার পুনঃআবির্ভাবের কারণে রাজনৈতিক ঝুঁকি বেড়েছে।

    অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক করার কারণ হিসেবে মুডিস জানিয়েছে, তাদের প্রত্যাশার চেয়েও এবার কম প্রবৃদ্ধি হবে। ফলে তা দেশটির দুর্বল রাজস্ব পরিস্থিতি ও বহিঃস্থ খাতের চাপ আরও বাড়াতে পারে। এই ঝুঁকি তৈরি হয়েছে দুর্বল অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং সাম্প্রতিক বিক্ষোভ ও আইনশৃঙ্খলার কারণে পণ্য সরবরাহের সমস্যার কারণে। এর ফলে রপ্তানি ও তৈরি পোশাক খাতের সম্ভাবনা মেঘাচ্ছন্ন হয়েছে।

    মুডিস বলেছে, অন্তর্বর্তী সরকার একটি বিস্তৃত সংস্থার কর্মসূচি পরিচালনা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে তা বাস্তবায়ন করার সক্ষমতা সম্পর্কে অনিশ্চয়তা রয়েছে। যদি অন্তর্বর্তী সরকার মূল্যস্ফীতির রাশ টেনে ধরা ও উচ্চ বেকারত্ব কমানোসহ দ্রুত ফলাফল না দিতে পারে, তাহলে সংস্কারের পেছনে যে রাজনৈতিক পুঁজি রয়েছে তা দ্রুতই চলে যেতে পারে।

    মুডিস আরও জানিয়েছে, ঋণমান কমানোর পাশাপাশি বাংলাদেশের স্থানীয় মুদ্রা (এলসি) ও বিদেশি মুদ্রার (এফসি) ঊর্ধ্বসীমা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এলসির জন্য ঊর্ধ্বসীমা বিএ২ থেকে বিএ৩ এবং এফসির ঊর্ধ্বসীমা বি১ থেকে বি২–তে নামানো হয়েছে।

    বিনিয়োগকারীরা সাধারণত বিশ্বের প্রধান তিনটি ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি বা ঋণমান যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদন দেখে কোনো দেশে বিনিয়োগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন। অর্থাৎ তাদের রেটিং প্রতিবেদন বিনিয়োগের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে। মুডিসের মতো প্রভাবশালী বাকি দুটো প্রতিষ্ঠান হলো ফিচ রেটিংস এবং এসঅ্যান্ডপি।

    আর্থিক খাতের বিশ্লেষকেরা মনে করেন, মুডিসের মতো প্রতিষ্ঠান ঋণমান কমালে তা ব্যবসা-বাণিজ্যের খরচ ও বিদেশি ঋণের সুদের হার বাড়তে দিতে পারে। এ ছাড়া বিদেশি বিনিয়োগও বাধাগ্রস্ত হতে পারে, কারণ খরচ বেশি হলে বিদেশিরা এ দেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত হবেন না। সাধারণত এ ধরনের ঋণমানের প্রভাব বাণিজ্যিক ঋণের ক্ষেত্রে বেশি দেখা যায়।

  • আবারও সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন তিতুমীরের শিক্ষার্থীরা

    রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা মহাখালী এলাকায় আজ সোমবার আবারও সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন। প্রথম দফায় সড়ক ছাড়ার প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে তাঁরা মহাখালীতে কলেজের সামনের সড়ক অবরোধ করেছেন।

    শিক্ষার্থীরা বলছেন, সরকারি তিতুমীর কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় করার দাবিতে আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা কলেজ ক্যাম্পাস থেকে মিছিল নিয়ে এসে মহাখালী রেলক্রসিং এলাকায় সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করেছিলেন। পরে ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সচিবালয়ে আলোচনার জন্য গেলে তাঁরা বিকেল ৪টার দিকে সড়ক ছেড়ে দেন। এই প্রতিনিধিদলের সদস্যরা আলোচনা শেষে সচিবালয়ের সামনে আমরণ অনশনের ঘোষণা দেন। এ খবর পেয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় কলেজের অন্য শিক্ষার্থীরা মহাখালীতে সড়ক অবরোধ করেন।

    তিতুমীর কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শাফায়েত শফিক সন্ধ্যা ৭টার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, সচিবালয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের দুই উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদের সঙ্গে কথা বলেছেন তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে যাওয়া প্রতিনিধিরা। সেখানে কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত আসেনি। উপদেষ্টারা জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে কী করা হবে, সেটি বিবৃতি দিয়ে জানানো হবে। এখন সরকার কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং সেটি বিবৃতি দিয়ে না জানানো পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ধোঁয়াশার মধ্যে আছেন। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত বিবৃতির দাবিতে তাঁরা সড়ক অবরোধ করেছেন। একই দাবিতে প্রতিনিধিদলের ১২ সদস্য এখন সচিবালয়ের সামনে আমরণ অনশনে বসেছেন।

    বনানী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মেহেদী সন্ধ্যা ৭টার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, তিতুমীর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা আবারও সড়কে নেমেছেন, এমন সংবাদ পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে বিস্তারিত জানাতে পারবেন।

    এর আগে একই দাবিতে আজ বেলা সোয়া ১১টার দিকে দেড় থেকে দুই হাজার শিক্ষার্থী তিতুমীর কলেজ ক্যাম্পাস থেকে মিছিল বের করেন। মিছিলটি আমতলী মোড় হয়ে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মহাখালী রেলক্রসিং এলাকায় অবস্থান নেয়। এতে মহাখালী থেকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দিকের সড়কে দুই পাশেই সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। চরম ভোগান্তিতে পড়ে সাধারণ মানুষ। বিকেল চারটা পর্যন্ত এ অবরোধ চলে। বিকেল চারটার দিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে কলেজ ক্যাম্পাসের দিকে চলে যান। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার পর শিক্ষার্থীরা আবারও সড়কে নেমে আসেন।

  • ৪৪তম বিসিএসে আগের ভাইভা বাদ নতুন করে শুরু হবে ভাইভা

    ৪৪তম বিসিএসে আগের ভাইভা বাদ নতুন করে শুরু হবে ভাইভা

    ৪৪তম বিসিএসে আগের ভাইভা বাদ নতুন করে শুরু হবে ভাইভা। আজ সরকারি কর্ম কমিশন এ সিদ্ধান্ত নেয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে পিএসসি জানায়, ৪৪তম বি.সি.এস. এর লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১১,৭৩২ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩,৯৩০ জন প্রার্থীর মৌখিক পরীক্ষা বিগত ১৮ জুলাই ২০২৪ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়েছিল। বিগত ২৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখে মৌখিক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। ০৮ অক্টোবর তারিখে তৎকালীন কমিশন পদত্যাগ করে। মৌখিক পরীক্ষায় সমমান বজায় রাখার জন্য পূর্বের কমিশন কর্তৃক গৃহীত ৪৪তম বি.সি.এস.-২০২১ এর আংশিক অর্থাৎ ৩,৯৩০ জন প্রার্থীর গৃহীত মৌখিক পরীক্ষা বাতিল করে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সকল প্রার্থী অর্থাৎ ১১,৭৩২ জন প্রার্থীর মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। যথাশিগগির মৌখিক পরীক্ষার তারিখ জানানো হবে।

  • ৪৬তম বিসিএসের ফল পুনরায় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল পিএসসি

    ৪৬তম বিসিএসের ফল পুনরায় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল পিএসসি

    ৪৬তম বিসিএসের ফল আবার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল সরকারি কর্ম কমিশন( পিএসসি)। আজ সোমবার সরকারি কর্ম কমিশন এ সিদ্ধান্ত নেয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে পিএসসি জানায়, ৪৬তম বি.সি.এস. এর প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফলাফল বিগত ৯ মে ২০২৪ তারিখে প্রকাশিত হয়। এ পরীক্ষায় ১০,৬৩৮ জন প্রার্থীকে লিখিত পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়। এ ক্ষেত্রে সম্ভাব্য বৈষম্য দূরীকরণের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে নির্বাচিত প্রার্থীদের সাথে আরও সমসংখ্যক প্রার্থী লিখিত পরীক্ষার জন্য যোগ্য বিবেচনা করে পুনরায় ফলাফল ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

  • ‘সবাই হাসেন আর আনন্দ করেন’, আদালত চত্বরে ইনু

    ‘সবাই হাসেন আর আনন্দ করেন’, আদালত চত্বরে ইনু

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া সাবেক ৯ মন্ত্রীসহ ১৩ জনকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

    সোমবার কড়া নিরাপত্তায় সকাল ১০টার দিকে প্রিজন ভ্যানে করে আসামিদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। পরে তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

    আসামিরা হলেন- সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, ফারুক খান, ডা. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, তৌফিক-ই-ইলাহী, শাজাহান খান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, গোলাম দস্তগীর গাজী, আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম। অন্য একটি মামলায় রিমান্ডে থাকায় আব্দুর রাজ্জাককে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়নি।

    ট্রাইব্যুনাল থেকে কারাগারে নেওয়ার সময় আসামিদের অনেককেই হাসি মুখে দেখা যায়। তবে এর মধ্যে সাংবাদিকদের দিকে হাত নাড়িয়ে হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘ সবাই হাসেন আর আনন্দ করেন।  এর বাইরে আর কোনো কথা বলতে দেখা যায়নি ইনুকে।’

    এদিকে হাতজোড় করে দোয়া চাইতে দেখা গেছে সাবেক ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে। এসময় সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে হাত দিয়ে মোনাজাত ইঙ্গিত করে করে দোয়া চেয়েছেন সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী।

    এর আগে গত ২৭ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায় কারাবন্দি সাবেক দুই উপদেষ্টা, সাবেক ১০ মন্ত্রী, এক সেনা কর্মকর্তা ও সাবেক এক সচিব, এক বিচারপতিসহ ২০ জনকে হাজির করতে নির্দেশ দেন। এর মধ্যে ১৪ জনকে ১৮ নভেম্বর হাজির করতে বলা হয়।

  • পাকিস্তানের সঙ্গে ছিন্ন সম্পর্ক জোড়া লাগালো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

    পাকিস্তানের সঙ্গে ছিন্ন সম্পর্ক জোড়া লাগালো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

    দীর্ঘ ৯ বছর পর পাকিস্তানের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্কে ফিরল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। অর্থাৎ ২০১৫ সালে ঢাবির সিন্ডিকেট সভায় পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কছেদের যে সিদ্ধান্ত হয়েছিল তা তুলে নেওয়া হলো।

    গত ১৩ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের ফলে পাকিস্তানের শিক্ষার্থীদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আর কোনো বাধা থাকছে না। আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও পাকিস্তানে উচ্চশিক্ষা নিতে পারবেন। এছাড়াও পাকিস্তানের সঙ্গে শিক্ষা, সংস্কৃতিসহ নানা সহযোগিতা বিনিময়ও করতে পারবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

    ২০১৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক এক জরুরি সিন্ডিকেট ডেকে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

    এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) সায়মা হক বিদিশা যুগান্তরকে বলেন, ‘২০১৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটে একটা সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে, পাকিস্তানের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখা যাবে না। এখন আমরা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সার্বিক স্বার্থে ২০১৫ সালের আগে যেভাবে সম্পর্ক ছিল সেটি থাকবে। কারণ শিক্ষার্থী, শিক্ষকরা বিভিন্ন কনফারেন্সে যান, বৃত্তির জন্য বিভিন্ন আবেদন উপাচার্যের কাছে আসেন। আর এটার ভিত্তিতে উপাচার্য স্যার আজকের সিন্ডিকেটে বিষয়টা আলোচনা করেছেন এবং সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ২০১৫ সালের আগে যেই সম্পর্ক ছিল সেটি থাকবে।’

    ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গত ৫ আগস্ট স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা পালিয়ে ভারতে যান। এতে আওয়ামী লীগের সাড়ে ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটলে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক হয় পাকিস্তানের।

    এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সিন্ডিকেট সভায় পাকিস্তানের সম্পর্ক পুনরায় স্বাভাবিক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    সিন্ডিকেট সভায় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক সায়মা হক বিদিশা, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মামুন আহমেদসহ সিন্ডিকেট সভার সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।

    এর আগে ৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার সৈয়দ আহমেদ মারুফ প্রায় এক দশক পরে ঢাবি উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

  • মহাখালী সড়ক ছাড়লো শিক্ষার্থীরা, সচিবালয়ে প্রতিনিধিদল

    মহাখালী সড়ক ছাড়লো শিক্ষার্থীরা, সচিবালয়ে প্রতিনিধিদল

    রাজধানীর মহাখালীতে সড়ক ও রেলপথে অবরোধ তুলে নিয়েছেন সরকারি তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা। সোমবার (১৮ নভেম্বর) বিকাল ৪টার দিকে তারা সবগুলো সড়ক ছেড়ে দেয়। এদিকে শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধিদল সচিবালয়ে সরকারের উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করতে গেছেন। 

    অনেকদিন ধরেই সরকারি তিতুমীর কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় করা এবং তিতুমীর বিশ্ববিদ্যালয় কমিশন গঠনেরর দাবি জানিয়ে আসছিল সেই কলেজের শিক্ষার্থীরা। এই দাবিতে বেশ কয়েকবার সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছিলেন তারা। সেই ধারাবাহিকতায় পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী সোমবার সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত তারা অবরোধ কর্মসূচি পালন করে।

    সকাল সোয়া ১১টার দিকে তিতুমীর কলেজ ক্যাম্পাস থেকে শিক্ষার্থীরা বিশাল এক মিছিল বের করেন। মিছিলটি আমতলী মোড় হয়ে সাড়ে ১১টার দিকে মহাখালী রেলক্রসিং এলাকায় অবস্থান নেয়। এর কিছুক্ষণ পরেই কমলাপুর স্টেশনের দিকে যাচ্ছিল নোয়াখালী থেকে আসা আন্তনগর ট্রেন উপকূল এক্সপ্রেস। মহাখালী রেলক্রসিং অতিক্রম করার সময় শিক্ষার্থীরা সেটি থামানোর চেষ্টা করে।

    কিন্তু ট্রেনটি না থেমে গতি কমিয়ে চলতে থাকলে শিক্ষার্থীরা সেটি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করন। এতে ট্রেনের কয়েকটি জানালার কাচ ভেঙে যায়। আহত হন এক শিশুসহ ৫ যাত্রী।

    এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা রেলপথ অবরোধ করলে ঢাকার সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। একই কারণে মহাখালী ফ্লাইওভারেও যান চলাচল করেনি। এতে রাজধানীতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। অনেককেই পায়ে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে।

    হাসান নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবিতে গত কয়েকদিন ধরে আন্দোলন করে আসছি। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আজ বিকেল ৪টা পর্যন্ত আমাদের সড়কে থাকার কথা ছিল। আমরা ৪টা পর্যন্ত কর্মসূচি পালন করেছি। আমাদের শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল সচিবালয় আলোচনার জন্য গেছেন। তারা সচিবালয় থেকে যে কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে আসবেন। তবে আমরা ঘোষণা অনুযায়ী সড়কটি ছেড়ে দিয়েছি।

    বিকেলে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে তিতুমীর কলেজের ক্যাম্পাসে ফিরে গেছেন। এরপর ওই সড়কে যান চলাচল শুরু হয়।

  • বাইডেনের ‘বিস্ফোরক সিদ্ধান্তের’ প্রতিক্রিয়া জানালো রাশিয়া

    বাইডেনের ‘বিস্ফোরক সিদ্ধান্তের’ প্রতিক্রিয়া জানালো রাশিয়া

    বিদায় বেলায় জো বাইডেনের ‘বিস্ফোরক সিদ্ধান্ত’ নিয়ে গণমাধ্যমে খবর আসার পর এ নিয়ে কথা বলেছেন ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ। তিনি বলেন, রাশিয়া মনে করে আমাদের ভূমির গভীরে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সিদ্ধান্তের অর্থ হলো- উত্তেজনা বৃদ্ধির নতুন দফা।

    সম্প্রতি খবর এসেছে, রুশ ভূখণ্ডের গভীরে আঘাত হানার জন্য ইউক্রেনকে দূরপাল্লার মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন বাইডেন।

    এমন খবরে চটেছেন স্বয়ং নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্টের বড় ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র। ডেমোক্র্যাটরাও এর তীব্র সমালোচনা করছেন। ট্রাম্প জুনিয়র এক্স-এ লিখেছেন, ‘মিলিটারি ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্স মনে হয় এটা নিশ্চিত করতে চায় যে, আমার বাবা শান্তি প্রতিষ্ঠা ও জীবন বাঁচানোর সুযোগ পাওয়ার আগেই তারা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু করবে।’ তিনি বাইডেনের সিদ্ধান্ত নিয়ে অকথ্য ভাষায় কিছু কথাও লিখেছেন।

    এদিকে ক্রেমলিনের মুখপাত্র বলেন, যদি এ জাতীয় সিদ্ধান্ত প্রকৃতপক্ষে প্রণয়ন করা হয় এবং কিয়েভ সরকারকে জানানো হয়, তবে অবশ্যই এটি গুণগতভাবে উত্তেজনা বৃদ্ধির একটি ‘নতুন দফা’। সংঘাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জড়িত থাকার ক্ষেত্রটির নতুন পরিস্থিতি এটি।

    তিনি জোর দিয়ে বলেন, মস্কোর অবস্থান সবার কাছে একেবারে পরিষ্কার হওয়া উচিত। এসব সংকেত সম্মিলিত পশ্চিমারা ইতিমধ্যে পেয়েছে।