Blog

  • একদিনের ব্যবধানে স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড

    একদিনের ব্যবধানে স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড

    বাংলাদেশে স্বর্ণের মূল্য আবারও নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে, যা গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বাজারে সর্বোচ্চ। বাংলাদেশ জুয়েলার্স এ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এ ঘোষণা দিয়ে জানিয়েছে যে, এবার ভরিতে ৩ হাজার ৬৬৩ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৫৯ টাকা। এটি দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ মূল্য, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। মঙ্গলবার রাতে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে এবং নতুন দাম বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হবে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশের বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের মূল্য বেড়েছে, যার ফলশ্রুতিতে স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দামে, ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৫৯ টাকা। এর পাশাপাশি, ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৮৬ হাজার ৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৫৯ হাজার ৪২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির (অর্থাৎ, সাধারণ বা পুরোনো ধরনের) স্বর্ণের প্রতি ভরি দরে নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ৩২ হাজার ৩৫১ টাকা।

    বাজুস আরও জানিয়েছে, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যে অবশ্যই সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও সংগঠনের নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরির ৬ শতাংশ সংযুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানের ভেদে মজুরির পরিমাণে পার্থক্য থাকতে পারে।

    গত ২২ সেপ্টেম্বর দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস, তখন ভরিতে ১ হাজার ৫৭৪ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৯১ হাজার ১৯৬ টাকায় নির্ধারিত হয়েছিল, যা এখন পর্যন্ত দেশের সর্বোচ্চ দাম। এর আগে, বিভিন্ন ক্যারেটের স্বর্ণের দামও নির্ধারিত হয়েছিল, যার মধ্যে ২১ ক্যারেট ছিল ১ লাখ ৮২ হাজার ৪৯৫ টাকা, ১৮ ক্যারেট ছিল ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪২৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতিতে ছিল ১ লাখ ২৯ হাজার ৭৯৭ টাকা। এই দামের সমন্বয় কার্যকর হয়েছে ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে।

    এ বছর মোট ৫৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে, যেখানে দাম বেড়েছে ৪০ বার আর কমেছে ১৭ বার। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে মোট ৬২ বার, যার মধ্যে দাম বাড়ানো হয়েছে ৩৫ বার এবং কমানো হয়েছে ২৭ বার।

    এসবের পাশাপাশি, রুপার দরেও ব্যাপক বৃদ্ধি হয়েছে। ভরিতে ১৫২ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৬২৮ টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি। এর পাশাপাশি, ২১ ক্যারেটের রুপা প্রতি ভরি বিক্রি হবে ৩ হাজার ৪৫৩ টাকায়, ১৮ ক্যারেটের ২ হাজার ৯৬৩ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতিতে ২ হাজার ২২৮ টাকায়।

  • ক্ষমতায় এলে শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারে কঠোর হওয়ার প্রতিশ্রুতি জামায়াতের আমিরের

    ক্ষমতায় এলে শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারে কঠোর হওয়ার প্রতিশ্রুতি জামায়াতের আমিরের

    জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দল যদি ক্ষমতায় আসে, তাহলে দেশের সার্বিক সেবা ও জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করতে তিনটি মূল অগ্রাধিকার ভিত্তিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে। এগুলো হলো শিক্ষার সংস্কার, কর্মভিত্তিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতির মুক্ত সরকারি সেবা প্রদান। শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কাকরাইলের আইডিইবি ভবনে আয়োজিত ফোরাম অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (এফডিইবি) এর বার্ষিক কাউন্সিলের অনুষ্ঠানে তিনি এসব প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ক্ষমতায় গেছে হলে কেউ পথে নামে না; বরং ইনসাফের ভিত্তিতে প্রত্যেকে তার পাওনা সরাসরি পাবে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, আমাদের প্রথম অঙ্গীকার হলো ভাঙাচোরা শিক্ষাব্যবস্থা পুনর্গঠন, যেখানে অখণ্ডতা ও মূল্যবোধের শিক্ষা দেওয়া হবে, এমন শিক্ষাদান নিশ্চিত করা হবে যা মানুষকে অনৈতিকতা থেকে মুক্ত করে এবং তাকে সম্মান ও মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে।

    শিক্ষা খাতে তার পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি জানান, নৈতিকতা এবং বিজ্ঞানমুখী পাঠ্যক্রমের সমন্বয় ঘটিয়ে কর্মদক্ষতা বাড়ানো হবে। যাতে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষ করে সোজা কাজ পায় বা নিজের উদ্যোগে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে, আর ফলস্বরূপ বেকারত্ব কমে আসবে।

    দ্বিতীয় অঙ্গীকারে তিনি বলছেন, সমাজে একজনের মর্যাদা নির্ধারণ হবে তার ডিগ্রির ভিত্তিতে নয়, বরং তার কাজের মাধ্যমে, কাজে দক্ষতা ও প্রযুক্তির মাধ্যমে। তিনি বলেন, ‘শুধু সার্টিফিকেট বা ডিগ্রির ওপর ভিত্তি করে মানুষের মূল্যায়ন চলবে না; বরং প্রযুক্তি, দক্ষতা এবং কাজের ভিত্তিতে তার মর্যাদা নির্ধারিত হবে।’

    তৃতীয় অঙ্গীকার হিসেবে তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, ‘দুর্নীতির জোয়ার ঠেকাতে হবে। সেবা প্রদান ও দায়িত্বের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে এর জন্য উপযুক্ত বেতন কাঠামো নির্ধারণ হয় এবং সেবা ও দায়িত্বের জন্য কর্মীদের পুরস্কৃত করা হয়।’ এই প্রতিশ্রুতি পেয়ে সভায় উপস্থিত অনেকেই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    সভায় তিনি স্পষ্ট করেন, এসব কার্যকর করতে হলে রাজনৈতিক দৃঢ়তা, প্রশাসনিক সংস্কার ও সামাজিক সমঝোতা জরুরি। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এই উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের নাগরিকদের জীবনে সুশাসন, দক্ষ কর্মসংস্থান ও অন্যায্য সুযোগ কার্যকরভাবে প্রতিষ্ঠা গণ্য হবে।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফোরাম অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (এফডিইবি) এর অভিজ্ঞরা। আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্বে উপস্থিত সদস্য ও অতিথিরা তাদের মতামত ও পরামর্শ ব্যক্ত করেন।

  • আদর্শিক দল হিসেবে বিএনপিকে দেখতে চান মানুষ: আমীর খসরু

    আদর্শিক দল হিসেবে বিএনপিকে দেখতে চান মানুষ: আমীর খসরু

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দেশে রাজনীতিতে ধ্যানধারণা বদলানোর সময় এসেছে। এখন দেখা উচিত, মানুষ কী চায়, কী প্রত্যাশা করে—সেটা ধারণ করে এগোতে হবে। বিএনপিকে মানুষ একজন আদর্শিক দল হিসেবে দেখতে চায়, আর এই বিশ্বাসই আমাদের তাগিদ দেয়। যদি আমরা সেই আদর্শিক দৃষ্টিভঙ্গিকে ধারণ করতে না পারি, তবে দেশ গড়ার মধ্যে আমাদের অক্ষমতা থেকে যাবে বলে মনে করেন তিনি।

    আজ শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আয়োজিত জিয়া স্বর্ণমধু কার্নিভাল উপলক্ষ্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    আমীর খসরু বলেন, বর্তমানে রাজনীতিতে ভিশন থাকা দরকার, দূরদৃষ্টি দিয়ে ভেবে এগোতে হবে। গৎবাঁধা, সাধারণ চিন্তা দিয়ে আর চলবে না। আমাদের উচিত নতুন নতুন ধারণা নিয়ে জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করা, তরুণ প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করা।

    তিনি আরও বলেন, দেশের মনোজগতে পরিবর্তন আসছে, এই বাস্তবতাকে আমাদের স্বীকার করতে হবে। যদি এই পরিবর্তনকে বোঝা না যায়, তবে ভবিষ্যতে রাজনীতি চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।

    আমীর খসরু বলেন, আমরা গণতন্ত্রায়নের কথা বলি, কিন্তু স্পোর্টস ক্ষেত্রেও গণতন্ত্র চালু করতে হবে। বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিকের স্পোর্টসে অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে যাতে দেশের ক্রীড়া বিকাশ ঘটে।

    তিনি আরও বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকারের মধ্যে আমরা রাজনীতি ও অর্থনীতিকে গণতন্ত্রের আওতায় এনে সবাইকে সমান অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিতে চাই। অর্থনীতিতে সব মানুষ যেন অবদান রাখতে পারে, এই লক্ষ্য আমাদের। স্পোর্টসকেও এই গণতন্ত্রের আওতায় আনতে হবে, যাতে প্রত্যেকে নিজের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পায়।

    তিনি উল্লেখ করেন, তারেক রহমানের পরিবারের স্পোর্টসপ্রেমের কথা সকলের জানা। বর্তমান সময়ে তিনি বিভিন্ন ধরনের স্পোর্টস কার্যক্রম পরিচালনা করছেন যেমন সুইমিং, ক্রিকেট ও ফুটবল টুর্নামেন্ট। ভবিষ্যতে উনি দেশের সকল অঞ্চলে স্পোর্টস সেন্টার প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নিয়েছেন, যেখানে প্রতিটি ব্যক্তি তার যোগ্যতা অনুযায়ী অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে।

    স্পোর্টস দেশের ভাবমূর্তি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন আমীর খসরু। তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তাদের স্পোর্টসের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ভিত্তিতে স্বীকৃতি পেয়েছে। স্পোর্টসের মাধ্যমে উন্নত দেশগুলোর মতো ভাবমূর্তি গড়ে তুলতে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। স্পোর্টস হচ্ছে দেশের শক্তির নয়, বরং সফট পাওয়ার—এমন এক শক্তি, যার মাধ্যমে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়।

    তিনি আবহমান বাংলার গর্বের সঙ্গে যোগ করেন, ভবিষ্যতে তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা স্পোর্টসের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী ও মর্যাদাকর দেশ হিসেবে বিশ্বের কাছে পরিচিত করবে বলে বিশ্বাস। এর জন্য দেশের সকলের সহযোগিতা ও সমর্থন একান্ত প্রয়োজন।

    সন্ধ্যার এই অনুষ্ঠানে এর নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ক্রীড়া সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আয়োজক আমিনুল হক, এবং সভাপতিত্ব করেন সদস্য সচিব মোস্তফা জামান।

  • আনিসুল ইসলাম ঘোষণা করলেন, আমরাই লাঙল প্রতীকের বৈধ মালিক

    আনিসুল ইসলাম ঘোষণা করলেন, আমরাই লাঙল প্রতীকের বৈধ মালিক

    জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) গুলশানে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ফের জোর দিয়ে বললেন, আমরাই লাঙল প্রতীকের বৈধ মালিক। তিনি জানান, গঠনতন্ত্র ও নির্বাচনী আদর্শ অনুযায়ী এই প্রতীকের মালিক আমাদের দল, এবং এটি শুধুমাত্র বৈধ নেতৃত্বের অধিকারেই যেতে পারে।

    প্রথমে, বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন কমিশনের ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ. এম. এম. নাসির উদ্দিন বলেছিলেন, ‘‘জাতীয় পার্টির লাঙল প্রতীকের দাবি দাখिलকারীদের মধ্যে বেশ কয়েকটি, কিন্তু মালিক কার, তা খুঁজে পাচ্ছি না।’’ এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে দলটি আবার তাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে।

    আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, ‘‘আমরা দেখছি কিছু পক্ষ নির্বাচন কমিশনে ভিন্ন ভিন্ন আবেদন দিচ্ছে যাতে বিভ্রান্তি তৈরী হয়। তবে, নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের প্রতীকের জন্য গঠনতান্ত্রিক ও আইনি ভিত্তিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃত্বই বৈধ।’’ তিনি আরও জানান যে, ৯ আগস্ট অনুষ্ঠিত তার দলের দশম জাতীয় কাউন্সিলে তিনি ও মহাসচিব এ. বি. এম. রুহুল আমিন হাওলাদার সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচিত হয়েছেন এবং কোথাও অন্য কোনও ব্যক্তিই জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান পদে থাকতে পারবে না।

    প্রচারে, তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘‘লাঙল প্রতীক কখনোই ব্যক্তির নয়, এটি দলের ঐতিহ্য, জনগণের আস্থা এবং গণতান্ত্রিক রাজনীতির প্রতীক। এই প্রতীকের জন্য শুধুমাত্র বৈধ নেতৃত্বই দাবী করতে পারে। বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী আবেদনগুলো সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি জানাই।’’

    আনিসুল আরও মন্তব্য করেন যে, জিএম কাদেরের সাম্প্রতিক বক্তব্যের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে, যেখানে তিনি একদিকে বলছেন যে, শেখ হাসিনার ফাঁসি চান, আর অন্যদিকে বলছেন, আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচন সম্পন্ন হবে না—এটা একজন দ্বৈতনীতিকের স্বর।

    আপনাদের জোরদার করতে, মাহমুদ বলেন, ‘‘নির্বাচন কমিশন দ্রুত ও সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, বৈধ নেতৃত্বকে লাঙল প্রতীকের স্বীকৃতি দিবে বলে আমাদের বিশ্বাস। এই সিদ্ধান্তই হবে গণতন্ত্রের ধারাকে অব্যাহত রাখার অন্যতম ভিত্তি।’’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘‘আমাদের লক্ষ্য, জাতীয় পার্টির মালিকানা আবার তৃণমূল নেতাকর্মীদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া। কোন একক ব্যক্তি নয়, পল্লীবন্ধু এরশাদের প্রতিষ্ঠিত দলটি থাকবে যৌথ নেতৃত্বে।’’

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দলের বিদ্যমান সিনিয়র নেতারা, সহ-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশিদ, নির্বাহী চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চুন্নু, কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, সাহিদুর রহমান টেপা, সফিকুল ইসলাম সেন্টু, লিয়াকত হোসেন খোকা, জহিরুল ইসলাম জহির, ও মোস্তফা আল মাহমুদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

  • ঐক্যবদ্ধ থাকতেই হবে দেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য: তারেক রহমান

    ঐক্যবদ্ধ থাকতেই হবে দেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য: তারেক রহমান

    দেশে গভীর ষড়যন্ত্রের পেছনে লাগামহীন রাজনৈতিক গোপন ষড়যন্ত্র চলছে মন্তব্য করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলের নেতাকর্মীসহ সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে একত্র হয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক শক্তিগুলো যদি এক হয়ে না দাঁড়ায়, তবে আরও একবার গুপ্ত স্বৈরতন্ত্রের উত্থান ঘটতে পারে। মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী দেশের উন্নতি ও অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হলে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে।’ শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকালে কুমিল্লার টাউনহল মাঠে জেলা বিএনপির ১৬ বছর পর অনুষ্ঠিত সম্মেলনে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা দক্ষিণ বিএনপির নেতারা ও গণতান্ত্রিক দলের অন্যান্য নেতা-কর্মীরা। এই সম্মেলনে ১০টি উপজেলা, চারটি পৌরসভা ও ১০৭টি ইউনিয়নের নেতা-কর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। এ প্রতিষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাকারিয়া তাহের সুমন। আলোচনায় বক্তারা বলেন, অতীতে দেশের মানুষ তিনটি স্বৈরশাসনী সরকারকে হটিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে ifশনের অশুভ ষড়যন্ত্র আবার শুরু হয়েছে। বিএনপির বরাবরই জনগণের বিপদের সময় পাশে ছিলো, এখনো থাকছে। বিএনপির নেতা তারেক রহমান আরও বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্যগুলো বজায় রাখতে হবে, কারণ বিভক্তি থাকলে ইতিহাসে বারবার স্বৈরাচার ফিরে আসে। অতীতের মতোই এবারও যদি সবাই এক হয়ে না দাঁড়ায়, তবে আবারও গুপ্ত স্বৈরাচার প্রতিষ্ঠার আশংকা রয়েছে। তাই দরকার পরিবর্তনশীল সময়ে সচেতন থাকা। নেতাকর্মীদের শুধু মিছিল-মিটিং করে নয়, জনগণের কাছে গিয়ে তাদের সমস্যা সমাধানে সচেষ্ট হতে হবে। তিনি জনগণের সঙ্গে যুক্ত হয়ে প্রতিটি ঘরে ঘরে যেতে এবং জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করার আহ্বান জানান। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু। বিএনপির এই নেতারা যুগোপযোগী নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক শক্তির মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে একযোগে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

  • দেশ পুনর্গঠনে প্রবাসীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান বিএনপি মহাসচিবের

    দেশ পুনর্গঠনে প্রবাসীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান বিএনপি মহাসচিবের

    বাংলাদেশ পুনর্গঠনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি গত শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের স্থানীয় একটি হোটেল, মেরিয়ট মার্কুইস (১৫৩৫ ব্রডওয়ে), অনুষ্ঠিত ‘এনআরবি কানেক্ট ডে: এমপাওয়ারিং গ্লোবাল বাংলাদেশিজ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের একটি সেশনে এই বক্তৃতা দেন। এই অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। মির্জা ফখরুল তাঁর বক্তব্যে বলেন, সবাই একসঙ্গে আকাশে উড়তে চান—সুতরাং আসুন, আমরা সবাই একটিমাত্র লক্ষ্য নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হই, আর তা হলো বাংলাদেশ। আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে, আমাদের স্বপ্ন দেখার দরকার আছে। অধ্যাপক ইউনূস যে স্বপ্ন দেখিয়েছেন, সেটি বাস্তবায়নে আমাদের সচেষ্ট হতে হবে। তার মতে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অঙ্গীকারবদ্ধ থাকা। স্বৈরশাসনের সময়কাল জনগণের আস্থা ভেঙে দেয় এবং দেশের সমৃদ্ধি ব্যাহত করে। এছাড়া তিনি জানান, বিএনপি জাতীয় স্বার্থে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের জন্য প্রণয়ন হওয়া সংস্কার কমিশনের কার্যক্রমে সহযোগিতা করছে। তিনি পরিষ্কার ভাষায় বলেন, বিএনপি এমন কাজ করবে যা দেশের মানুষ ও দেশের জন্য কল্যাণকর। মির্জা ফখরুল আরও বলেন, দেশের তরুণ প্রজন্ম আধুনিক চিন্তা-ভাবনা করে এবং বিএনপি তাদের আধুনিক মনোভাব গ্রহণের জন্য প্রস্তুত। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, তরুণরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন।

  • ডাকসু নির্বাচন নিয়ে বিতর্কের মাঝেই বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের বক্তব্য

    ডাকসু নির্বাচন নিয়ে বিতর্কের মাঝেই বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের বক্তব্য

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেছেন, ব্যালট পেপার ছাপানোর স্থান বা পরিমাণ কোনোভাবেই সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে না। তিনি ব্যাখ্যা করেন, ব্যালট পেপার তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ধাপগুলি সম্পন্ন করা হয়, যা নির্বাচন প্রক্রিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

    উপাচার্য জানান, নির্বাচনের সময় বিভিন্ন পর্যায়ে যে অভিযোগ পাওয়া গেছে, তার প্রতিটির জন্য তারা যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছেন। মোট ৪৮টি সাধারণ অভিযোগের উত্তর প্রদান করা হয়েছে এবং ১৬টি অভিযোগের জন্য ব্যক্তিগত পর্যায়ে সরকারি সংস্থা ও অফিসিয়াল চিঠির মাধ্যমে নিশ্চিতকরণ করা হয়েছে। তারপরও নির্বাচনের কর্মপদ্ধতিকে কেন্দ্র করে কিছু অস্পষ্ট প্রশ্ন ও সন্দেহ সৃষ্টি করতে চায় আসরগুলো, যা তিনি বন্ধ করতে চান। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে নির্বাচনের পদ্ধতিগত দিক নিয়ে নানা ধরনের প্রশ্ন উঠছে, যা সম্ভবত বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে করা হচ্ছে।

    আজ রোববার ২৮ সেপ্টেম্বর, বিশ্ববিদ্যালয়ের আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন উপাচার্য।

    বক্তব্যে তিনি জানান, নির্বাচনের জন্য ব্যালট পেপার তৈরির জন্য একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। একটি নিরপেক্ষ ও অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানকে এই কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়, যা নিয়ম অনুযায়ী করা। ভোটার ও প্রার্থীর সংখ্যা বেশি বিবেচনায় রেখে একই টেন্ডারের অধীনে অতিরিক্ত একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান যোগ করা হয়, যদিও এই বিষয় সম্পর্কে মূল ভেন্ডর কর্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়কে অবহিত করেনি।

    উপাচার্য জানিয়েছেন, সহকারী ভেন্ডরের ব্যাখ্য অনুযায়ী, নীলক্ষেতের কারখানায় ২২ রিম কাগজ ব্যবহার করে মোট ৮৮,০০০ ব্যালট ছাপানো হয়। পরে প্রিন্টিং, কাটা ও প্রি-স্ক্যানের মাধ্যমে ৮৬,০০০-এর কিছু বেশি ব্যালট প্যাকেটে ভরে সিলগালা করে সরবরাহ করা হয়। অবশিষ্ট ব্যালট কাগজ ধ্বংস করা হয়। জানানো হয়, কাটিং শেষে ব্যালটগুলো তাদের অফিসে নিয়ে গিয়ে প্রি-স্ক্যান করে প্রয়োজনীয় সমাপ্তি কার্যক্রম শেষ করে, এরপর সেগুলো সিলগালা করে বিশ্ববিদ্যালয়কে দেয়া হয়। এই প্রক্রিয়ায় তারা সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে থাকে। তবে কাজের ব্যস্ততার কারণে, নীলক্ষেতে ব্যালট ছাপানোর বিষয়টি প্রক্রিয়া চালাকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়কে জানানো হয়নি বলে স্বীকার করেছেন ভেন্ডর।

    উপাচার্য আরও বলেন, শুধু ব্যালট ছাপানো যথেষ্ট নয়; তা ভোটের জন্য প্রস্তুত হওয়ার জন্য যথাযথ মানদণ্ড পূরণ করতে হয়। এর মধ্যে রয়েছে যথাযথ কাটিং, নিরাপত্তা কোডের ব্যবহার, ওএমআর স্ক্যান, চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তার স্বাক্ষর ও সিল, এবং সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার স্বাক্ষর। এসব ধাপ সম্পন্ন করেই ভোট গ্রহণের জন্য ব্যালট প্রস্তুত হয় এবং সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

    তিনি জানান, মোট ২ লাখ ৩৯ হাজার ২৪৪টি ব্যালট ভোটের জন্য প্রস্তুত করা হয়। মোট ভোটার ছিলেন ৩৯,৮৭৪ জন, প্রত্যেকে ৬টি করে ব্যালট পান। ভোট দিয়েছেন ২৯,৮২১ জন, যার ফলশ্রুতিতে ব্যবহার করা হয় ১ লাখ ৭৮ হাজার ৯২৬ ব্যালট। অবশিষ্ট থাকে ৬০ হাজার ৩১৮ ব্যালট।

    অভিযোগের প্রসঙ্গে ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেন, ভোটার তালিকা ও সিসিটিভি ফুটেজ সংক্রান্ত বিষয়ে যদি কোনো প্রার্থী সুনির্দিষ্ট সময় বা ঘটনা অনুসারে ফুটেজ দেখার আবেদন করেন, তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সেটি দেখানোর ব্যবস্থা করবে। পাশাপাশি, ভোটারদের স্বাক্ষরযুক্ত তালিকা বা অন্য কোনো তথ্য দেখার জন্য প্রয়োজন হলে, যথাযথ প্রক্রিয়ায় আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা অনুমোদন দিয়ে দেখানোর ব্যবস্থা করবে।

  • প্রধান উপদেষ্টার বললেন, গ্যালারির দিন শেষ, এখন নিজে খেলবেন সবাই

    প্রধান উপদেষ্টার বললেন, গ্যালারির দিন শেষ, এখন নিজে খেলবেন সবাই

    প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘আগের মতো গ্যালারিতে দাঁড়িয়ে খেলা দেখার দিন শেষ। এখন আমাদের নিজে খেলতে হবে।’ শনিবার নিউইয়র্কে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন, যেখানে উপস্থিত ছিলেন দেশের গঠন ও উন্নয়নে সবার অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রবাসীরা বাংলাদেশের ‘অবিচ্ছেদ্য অংশ’ এবং দেশের স্বাধিকার এবং উন্নয়নে সক্রিয়ভাবে অবদান রাখতে পারেন, বিশেষ করে সম্প্রতি গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখছি, তা বাস্তবায়নে প্রবাসীরা তাদের সক্ষমতা অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

    প্রবাসী বাংলাদেশিদের এই অংশগ্রহণের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে ড. ইউনূস বলেন, জাতিসংঘের বিভিন্ন সফরে রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতি আশা যোগায় এবং এতে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়। তিনি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

    অনুষ্ঠানের শুরুতেই বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন, যেখানে তিনি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, বিশেষ করে জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে ১৫ মাসে অর্জিত উন্নয়নের বদল তুলে ধরেন। তিনি রেমিট্যান্সে ২১ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধির জন্য প্রবাসীদের ধন্যবাদ জানান এবং সরকারি উদ্যোগে বিনিয়োগের পরিবেশ আরও উন্নত করার পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

    পরবর্তী সময়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল ভোট দায়ীত্ব সংক্রান্ত তথ্য ও প্রক্রিয়া বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেন।

    এ অনুষ্ঠানে ‘ব্রিজিং বর্ডারস: কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড ডায়াস্পোরা এনগেজমেন্ট’ শীর্ষক একটি ইন্টারেক্টিভ প্যানেল আলোচনাও অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন। তদ্ব্যতীত, প্রবাসী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং অংশগ্রহণকারীরা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় করেন।

    বিশেষ আলোচনায় বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা তাদের দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন। নানান দিক থেকে দেশের ভবিষ্যৎ ও প্রবাসীদের অবদান নিয়ে গভীর আলোচনা হয়।

    অতিরিক্ত, এই আয়োজনের অংশ হিসেবে প্রধান উপদেষ্টা একটি নতুন মোবাইল অ্যাপ ‘শুভেচ্ছা’ উদ্বোধন করেন, যা প্রবাসীদের জন্য প্রয়োজনীয় সেবা, দিকনির্দেশনা এবং বিনিয়োগের সুযোগ প্রদান করবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রবাসীরা আরও সহজে দেশের সঙ্গে সংযুক্ত হতে পারবেন।

  • মার্কিন নাগরিক এনায়েত তৃতীয় দফায় ৪ দিনের রিমান্ডে

    মার্কিন নাগরিক এনায়েত তৃতীয় দফায় ৪ দিনের রিমান্ডে

    পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদের পরিবারের অর্থপাচার মামলায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পতনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া মার্কিন নাগরিক এনায়েত করিম চৌধুরীর তৃতীয় দফায় চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়ার ১২টার দিকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ সাব্বির ফয়েজের আদালত এ আদেশ দেন।

    আদালতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক মো. হাফিজুল ইসলাম রিমান্ডের জন্য পাঁচ দিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডের কিছু মুহূর্ত পরে অসুস্থ হয়ে তিনি কাঠগড়ায় থাকা বেঞ্চে পড়ে যান। একে অবশ্য পরে পুলিশ সদস্যদের সহযোগিতায় কাঁধে তুলে নিয়ে হাজতখানায় নেয়া হয়।

    প্রকৃত ידע থেকে জানা যায়, চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১ এ পুলিশ বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী জীশান মীর্জা, জ্যেষ্ঠ কন্যা ফারহীন রিশতা ও মেঝো কন্যা তাহসীন রাইসাকে সন্দেহজনক লেনদেনের মাধ্যমে অবৈধভাবে বিদেশে ১১ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা পাচার করার অভিযোগে মামলা করে। মামলার তদন্তের সময় দুদক বেনজীরের অর্থপাচার ও এনায়েতের সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পায়।

    এর আগে, ১৭ সেপ্টেম্বর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে বাংলাদেশের বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক এনায়েত করিম চৌধুরী ও তার সহযোগী গোলাম মোস্তফা আজাদের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।

    অন্যদিকে, গত ১৩ সেপ্টেম্বর এনায়েতকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে ১৫ সেপ্টেম্বর তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুটি দিনের রিমান্ডও ঘোষণা করা হয়।

    মামলার সূত্রে জানা যায়, ১৩ সেপ্টেম্বর সকালে মিন্টো রোডের মন্ত্রিপাড়া এলাকায় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করার সময় এনায়েত করিম চৌধুরীকে আটক করে পুলিশ। তার কাছ থেকে দুটি আইফোন জব্দ করা হয়। তদন্তে প্রাথমিকভাবে জানা যায় ফোনগুলোতে সরকারের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য লুকানো রয়েছে।

    আটক সে সময় এনায়েত জানান, তিনি একজন বিশেষ দেশের গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ট। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উৎখাত করে একটি নতুন সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য বাংলাদেশে এসেছেন। তিনি আরও জানান, ৬ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক থেকে দেশে এসে উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছেন।

  • এবার নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠিত হবে দুর্গাপূজা, নিশ্চিত স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

    এবার নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠিত হবে দুর্গাপূজা, নিশ্চিত স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

    চলতি বছর সারাদেশে শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। আজ রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠকের শেষে তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। তিনি বলেন, এ বছর পূজাকে কেন্দ্র করে গুজব ও অপপ্রচেষ্টার চেষ্টা চলছে, তবে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি গভীরভাবে নজরদারি করছে এবং কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে।

    স্বাস্থ্য উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করে বলেন, এবারের দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠিত হবে। কোনো ভয় বা শঙ্কার কারণ নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু উসকানি দেওয়ার চেষ্টা চলছে, তবে আমরা সতর্ক রয়েছি এবং কোথাও কোনো সমস্যা হবেই না। তিনি আরও জানান, এবারের পূজামণ্ডপের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, তাই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

    উপদেষ্টা বলেন, দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় ৭০ হাজার পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছে। এর বাইরে আরও এক লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, যার মধ্যে সশস্ত্র বাহিনীও রয়েছে, মাঠে অবস্থান করছে। দেশজুড়ে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত সবাই সতর্ক ও সক্রিয়।

    পূজার আগে বিভিন্ন সময় ঘটে যাওয়া সহিংসতার প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আরও বেশি সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। কোথাও বিশৃঙ্খলার সুযোগ নেই।

    অতীতের কিছু অরাজকতার প্রসঙ্গে, পার্বত্যাঞ্চলে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ধর্ষণ সংক্রান্ত উত্তেজনায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক উপদেষ্টা সুপ্রদান চাকমা সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করছেন।

    তিনি আরও বলেন, সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। দুর্গাপূজা কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অংশ। তাই সবাইকে নিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপনে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।