Blog

  • ব্যালট বিপ্লবেই খালেদা জিয়ার প্রতি অন্যায় বিচার হবে: রকিবুল ইসলাম বকুল

    ব্যালট বিপ্লবেই খালেদা জিয়ার প্রতি অন্যায় বিচার হবে: রকিবুল ইসলাম বকুল

    বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৩ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল বলেছেন, আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ওপর যে দীর্ঘকালীন চরম অবিচার ও নিপীড়ন করা হয়েছিল, তা জনগণ ভোট দিয়ে দাঁতভাঙা জবাব দেবে।

    গতকাল মঙ্গলবার ১নং ওয়ার্ডের স্থানীয় আয়োজনে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় অনুষ্ঠিত দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। বকুল বলেন, বঙ্গদেশের সাধারণ মানুষ এখন স্পষ্টভাবে দেখে ফেলেছে যে, দেশনেত্রীকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখার জন্য নানা ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। তাকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে কারারুদ্ধ রাখা হয়েছে শুধুমাত্র তার আপোষহীন নেতৃত্বের কারণে।

    রকিবুল বকুল আরও বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে বেগম খালেদা জিয়ার ত্যাগ ও সংগ্রাম প্রতিটি দেশপ্রেমিক নাগরিকের জন্য অনুপ্রেরণা। গত ১৭ বছর শাসকগোষ্ঠী জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে যে দুর্নীতি ও দুঃশাসন কায়েম করেছিল, তার সমাপ্তি হবে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে।

    তিনি উপস্থিত নেতা-কর্মী ও ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, ব্যালটই হচ্ছে সবচেয়ে বড় শক্তি; সেটিই ব্যবহার করে স্বৈরাচারী শক্তির অবসান ঘটানো সম্ভব। খুলনা ও সারাদেশের মানুষ আজ ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকায় বেগম জিয়ার মুক্তি এবং গণতন্ত্রের বিজয় সুনিশ্চিত করা মাত্রই সম্ভব হবে। জনগণ যদি ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের অধিকার প্রয়োগ করে, তখনই ব্যালট বিপ্লব ঘটবে এবং সেই বিপ্লবের মাধ্যমে খালেদা জিয়ার প্রতি করা সকল অন্যায়ের বিচার নিশ্চিত হবে।

    দোয়া মাহফিলে খুলনা মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদী, সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক মোঃ চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেনসহ অঙ্গসংগঠনের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এর পাশাপাশি ১নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বেলায়েত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মাইনুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ কবির হোসেন টিটু, ওয়ার্ড নেতারা সৈয়দ হুমায়ুন কবীর, কাজী নেহিবুল হাসান নেইম ও মাসুদ মাসুদ কবীর প্রমুখও উপস্থিত ছিলেন। থানা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও পথসভায় উপস্থিত ছিলেন।

  • গৃহবধূ থেকে গণতন্ত্রের অটল নেতা: বেগম খালেদার সংগ্রাম আলোকচিত্রে

    গৃহবধূ থেকে গণতন্ত্রের অটল নেতা: বেগম খালেদার সংগ্রাম আলোকচিত্রে

    সাধারণ এক গৃহবধূ হয়ে গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী হয়ে ওঠার সেই দীর্ঘ পথকে ফিরে দেখার জন্য খুলনায় অনুষ্ঠিত হয়েছে দুই দিনব্যাপী আলোকচিত্র প্রদর্শনী। শহীদ হাদিস পার্কে আয়োজন করা এ প্রদর্শনীতে বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্থান, ব্যক্তিজীবন, আন্দোলন-সংগ্রাম, কারাবন্দি সময় ও রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন—এসব অধ্যায়ের প্রায় একশোর মতো স্থিরচিত্র স্থান পেয়েছে। প্রতিটি ছবি যেন সংগ্রাম আর ত্যাগের একেকটি জীবন্ত দলিল।

    প্রদর্শনীর উদ্বোধনকালে পার্কের মুক্তমঞ্চে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জীবন ও সংগ্রাম নিয়ে নির্মিত একটি বিশেষ ভিডিও ডকুমেন্টারি দেখানো হয়, যা অনেক দর্শকের চোখে জল এনে দেয় এবং নতুন প্রজন্মকে তাঁর জীবনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়।

    উদ্বোধনী দিনে বেলা সাড়ে ১১টায় আয়োজিত আলোচনা সভার প্রধান আলোচক ছিলেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদ। তিনি বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া শুধু একজন রাজনীতিবিদ নন—তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের একটি প্রতীক। তাঁর জীবন ও সংগ্রাম নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হবে।”

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক রাকিবুল হাসানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন, তৎকালীন সংসদ সদস্য সৈয়দা নার্গিস আলী, বগুড়া মিডিয়া অ্যান্ড কালচারাল সোসাইটি ঢাকার সভাপতি মারুফ রহমান ও সাধারণ সম্পাদক সুজন মাহমুদ।

    বক্তারা মিলিতভাবে বলেন, দীর্ঘ স্বৈরাচার, নির্যাতন ও কারাবরণের মধ্যেও বেগম খালেদা জিয়া আপস করেননি; গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁর আদর্শ ও সংগ্রাম বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অম্লান হয়ে থাকবে।

    প্রদর্শনীতে বিভিন্ন পেশা ও বয়সের মানুষ—শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ দর্শনার্থীর উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে বলছিলেন, এমন আয়োজন নতুন প্রজন্মকে দেশনেত্রীর জীবন ও আদর্শ জানতে এবং উপলব্ধি করতে সহায়ক হবে।

    আয়োজকরা জানান, দুই দিনব্যাপী এই প্রদর্শনীর মূল লক্ষ্য বেগম খালেদা জিয়ার সংগ্রামী জীবনের গল্প মানুষের হৃদয়ে গভীরভাবে পৌঁছে দেওয়া। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেগম রেহানা ঈসা, এডভোকেট তছলিমা খাতুন ছন্দা, কে এম হুমায়ুন কবির, হাফিজুর রহমান মনি, শরিফুল ইসলাম টিপু, আশরাফুল ইসলাম নূর, জাকির ইকবাল বাপ্পি, নাসিরুদ্দিন, ইসহাক আসিফ, মো. রাকিবুল হাসান, মাসুদুল হক হারুন, নুরুল হুদা পলাশ, শেখ সরোয়ার ও শাহিন মল্লিক রাজু।

  • ভারতে নিপাহ ছড়ায়, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে উদ্বেগ

    ভারতে নিপাহ ছড়ায়, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে উদ্বেগ

    টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ শুরু হতে আর چند সপ্তাহ বাকি—৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত মূল আয়োজক ভারত ও সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কায় মোট ৫৫টি ম্যাচ হওয়ার কথা। ভারতের আহমেদাবাদ, দিল্লি, কলকাতা, চেন্নাই ও মুম্বাইয়ের পাঁচটি ভেন্যু এবং শ্রীলঙ্কার কলম্বো ও ক্যান্ডির তিনটি ভেন্যুতে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু ভারতের কিছু জেলায় নতুন করে নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ায় টুর্নামেন্ট আয়োজন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

    স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো ইতোমধ্যেই উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে এবং সংবাদমাধ্যমে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো পরামর্শও উঠে এসেছে। জিও সুপার, ট্যাপম্যাড, হেলথ মাস্টার ও খাইবার নিউজসহ একাধিক গণমাধ্যম এই উদ্বেগ তুলে ধরেছে। অন্যদিকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বলছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে এবং ওই আউটব্রেকটি সীমিত মাত্রার। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এ নিয়ে এখনও কোনো অফিসিয়াল ঘোষণা দেয়নি।

    বিশেষত কলকাতার কাছাকাছি বারাসাত এলাকায় জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে নিপাহের একটি ক্লাস্টার শনাক্ত হয়েছে। সেখানে এখন পর্যন্ত পাঁচটি সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে, যাদের মধ্যে নার্স ও ডাক্তারসহ স্বাস্থ্যকর্মীরাও রয়েছেন। কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলা হচ্ছে। সংক্রমণ বেশিরভাগ হাসপাতাল-রিলেটেড (নোসোকোমিয়াল) ট্রান্সমিশনের মাধ্যমে ছড়িয়েছে বলে রিপোর্ট করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ ১০০-২০০ জনেরও বেশি সম্ভাব্য কন্টাক্টকে কোয়ারেন্টিনে রেখেছে এবং শতাধিক নমুনা পরীক্ষায় বেশিরভাগ নেগেটিভ পাওয়া গেছে। ওই ক্লাস্টারে এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যু হওয়া খবর পাওয়া যায়নি, এবং জাতীয় ও রাজ্য পর্যায়ের স্বাস্থ্য দল ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।

    পূর্বদিকে ২০২৫ সালে কেরালায় নিপাহের চারটি কেস রিপোর্ট হয়েছিল, যার মধ্যে দুইজন মারা গিয়েছিলেন। পশ্চিমবঙ্গে এই উপকেন্দ্রটি ২০০৭ সালের পর প্রথম বড় আউটব্রেক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

    নিপাহ একটি জুনোটিক ভাইরাস—প্রধান উৎস ফলের বাদুড় (ফ্রুট ব্যাট)। সাধারণভাবে সংক্রমণ ছড়ায় কাঁচা খেজুরের রস বা অন্য জৈবপদার্থ, সংক্রমিত প্রাণীর সংস্পর্শ কিংবা মানুষ থেকে মানুষে (বিশেষ করে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগে) সংক্রমণের মাধ্যমে। রোগীর লক্ষণগুলোর মধ্যে জ্বর, মাথা ব্যথা, শ্বাসকষ্ট এবং মস্তিষ্কের প্রদাহ (এনসেফালাইটিস) উল্লেখযোগ্য। পরীক্ষা ও চিকিৎসায় মৃত্যুর হার ৪০–৭৫ শতাংশ পর্যন্ত রিপোর্ট করা হয়েছে। বর্তমানে নির্দিষ্ট কোনো ভ্যাকসিন বা নিশ্চিত চিকিৎসা নেই; কিছু ক্ষেত্রে অ্যান্টিভাইরাল ও সমর্থনমূলক চিকিৎসা ব্যবহার করা হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নিপাহকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ সতর্কতার একটি রোগ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

    সংক্রমণ যদি আরও ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার, ম্যাচ অফিসিয়াল, স্টাফ ও দর্শকদের চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করা হতে পারে—বায়োসিকিউরিটি বিধি জোরদারি, এয়ারপোর্ট স্ক্রিনিং বৃদ্ধি, কোয়ারেন্টিন বা ট্র্যাভেল রেস্ট্রিকশন আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ (সেমিফাইনালসহ) হওয়ার কারণে ওই অঞ্চলকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত সতর্কতা নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। এসব নিয়ম খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি ও দর্শকসুবিধায় প্রভাব ফেলতে পারে।

    আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। আয়োজক সংস্থা ও ক্রিকেট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত, এবং ফেরত থাকা বা বাড়তি নিরাপত্তা বিধি কেমন হবে—এসবই নির্ধারণ করবে টুর্নামেন্টে কীভাবে এগোনো হবে। জনগণকে শান্ত থাকতে, সরকারি নির্দেশনা মেনে চলতে এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

  • আইসিসি র‍্যাংকিংয়ে সুখবর পেলেন বাংলাদেশি ব্যাটাররা

    আইসিসি র‍্যাংকিংয়ে সুখবর পেলেন বাংলাদেশি ব্যাটাররা

    নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে এখন পর্যন্ত চার ম্যাচ খেলেই চারটিতেই জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। দলের সাফল্যের সঙ্গে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সও দারুণ—তাই র‍্যাংকিং-লিস্টেও বড় অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। একাধিক টাইগারেসের অবস্থান উল্লেখযোগ্যভাবে উঠে এসেছে।

    সর্বশেষ ম্যাচে আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে এসেছে বাংলাদেশ। ওই ম্যাচে ফিফটি করে দলের জয় নিশ্চিত করেছেন শারমিন আক্তার। এই ইনিংসের সুবাদে তিনি টি-টোয়েন্টি ব্যাটারদের র‍্যাংকিংয়ে ২২ ধাপ আগিয়ে গিয়ে এখন ৩৫তম স্থানে অবস্থান করছেন, যা তার ক্যারিয়ারের সেরা পজিশন।

    অভিজ্ঞ শারমিন ছাড়াও ওপেনারে দুর্দান্ত ব্যাট করছেন দিলারা আক্তার। নামিবিয়ার বিপক্ষে ২৫ রান করা পর আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৩৫ রান করেছেন তিনি। এই ধারাবাহিকতায় দিলারা প্রথমবারের মতো সেরা একশে জায়গা করে নিয়েছেন—৩৩ ধাপ এগিয়ে এখন তিনি যৌথভাবে ৭০তম স্থানে আছেন।

    সবশেষ দুই ম্যাচে ২৭ ও ৩০ রান করে সোবহানা মোস্তারি র‍্যাংকিংয়ে ১১ ধাপ উন্নতি করে যৌথভাবে ৫২তম স্থানে উঠে এসেছেন। এ ছাড়া স্বর্ণা আক্তারও ১৭ ধাপ এগিয়ে এখন ৮৩ নম্বরে অবস্থান করছেন।

    বোলিং দিকেও বাংলাদেশের কিছু মুখ উজ্জ্বল হয়েছেন। নামিবিয়ার বিপক্ষে ৩ উইকেট নেওয়ার পর ফাহিমা খাতুন র‍্যাংকিংয়ে ৬ ধাপ করে উঠে ৩০তম স্থানে এসেছেন। একই ম্যাচে চার উইকেট নেন সানজিদা আক্তার মেঘলা, যার ফলে তিনি ৬ ধাপ এগিয়ে ৫৪তম স্থানে পৌঁছেছেন। লেগ স্পিনার রাবeya খান নামিবিয়ার বিপক্ষে ৩টি ও আয়ারল্যান্ড ম্যাচে ১টি উইকেট নিয়ে ১ ধাপ এগিয়ে এখন ১৪তম স্থানে রয়েছেন।

    বাছাইপর্বে এই ধারার সঙ্গে দলের আত্মবিশ্বাস বাড়ছে; র‍্যাংকিংয়ে এগোনো খেলোয়াড়রা দলকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

    ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

    ঢালিউডের স্বর্ণযুগের প্রখ্যাত নায়ক ও কোরিওগ্রাফার ইলিয়াস জাভেদ আর নেই। দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে সংগ্রাম করার পরে ৮২ বছর বয়সে আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

    মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য সনি রহমান। ১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের পেশাওয়ারে জন্মগ্রহণ করেন ইলিয়াস জাভেদ। পরবর্তীতে পাঞ্জাবে অবস্থান করার পর জীবনের পথে তিনি ঢাকার চলচ্চিত্র অঙ্গনে আসেন।

    জানা গেছে, জাভেদ দীর্ঘ দিন ক্যানসারে ভুগছিলেন এবং বিভিন্ন শারীরিক জটিলতাও ছিল। গত বছরের এপ্রিল মাসে একবার হাসপাতালে রক্ষণাবেক্ষণে ছিলেন। আজ সকালে তার শারীরিক অবস্থার গুরুতর অবনতি ঘটে এবং পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    সংবাদমাধ্যমকে ইলিয়াস জাভেদের স্ত্রী ডলি চৌধুরী বলেন, ‘‘আজ সকালে তাঁর শারীরিক অবস্থা চরমভাবে খারাপ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে বাসাতেই চিকিৎসাসেবা চলছিল; হাসপাতাল থেকে চিকিৎসক ও দুজন নার্স এসে কয়েকদিন ধরে দেখাশোনা করছিলেন। আজ সকালে নার্সরা জানান, তাঁর সারা শরীর ঠান্ডা। এরপর দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স ডেকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানে চিকিৎসক মৃত্যু ঘোষণা করেন।’’

    জাভেদের চলচ্চিত্রজীবন ছিল বহুমাত্রিক। ১৯৬৪ সালে উর্দু সিনেমা ‘নয়ী জিন্দেগি’র মাধ্যমে নায়ক হিসেবে রুপালি পর্দায় অভিষেক ঘটে। কিন্তু প্রকৃত পরিচিতি মেলে ১৯৬৬ সালে ‘পায়েল’ ছবির মাধ্যমে, যেখানে তার সহঅভিনেত্রী ছিলেন শাবানা। পরিচালক মুস্তাফিজই পরবর্তীতে তাকে ‘জাভেদ’ নামে পরিচিত করেন।

    নৃত্য ও অভিনয়ের যোগফলেই তিনি দর্শকদের মনে ‘ড্যান্সিং হিরো’ হিসেবে অমলিন এক স্থান করে নেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ১৯৮৪ সালে জনপ্রিয় নায়িকা ডলি চৌধুরীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। আসল নাম ছিল রাজা মোহাম্মদ ইলিয়াস; কোরিওগ্রাফার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে পরে নায়ক হিসেবে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন এবং শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।

    সত্তুর ও আশি দশকের দর্শকদের কাছে ইলিয়াস জাভেদ মানেই ছিল ঝাঁপিয়ে পড়ার মত নাচ এবং তড়িঘড়ি এক অ্যাকশন মিশ্রণ। তাঁর প্রয়াণ বাংলা চলচ্চিত্রের এক যুগের সমাপ্তি হিসেবে মনে করা হচ্ছে।

    জাভেদের উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের তালিকায় রয়েছে — ‘মালেকা বানু’, ‘নিশান’, ‘পাপী শত্রু’, ‘রক্ত শপথ’, ‘সাহেব বিবি গোলাম’, ‘কাজল রেখা’, ‘অনেক দিন আগে’, ‘আজও ভুলিনি’, ‘কঠোর’, ‘মা বাবা সন্তান’, ‘রাখাল রাজা’, ‘রসের বাইদানী’, ‘জীবন সঙ্গী’ ও ‘আবদুল্লাহ’।

    দীর্ঘদিন চিহ্নিত অসুস্থতা ও নিভৃতে চিকিৎসা চলার পর বাংলা চলচ্চিত্রের এই গুণী শিল্পীর বিদায় শিল্পীসহ ভক্ত-দর্শক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

  • ওশিওয়ারায় গুলি চালানোর অভিযোগে বলিউড অভিনেতা কেআরকে গ্রেফতার

    ওশিওয়ারায় গুলি চালানোর অভিযোগে বলিউড অভিনেতা কেআরকে গ্রেফতার

    মুম্বাইয়ের ওশিওয়ারা এলাকার একটি আবাসিক ভবনে গুলিবর্ষণের ঘটনায় বলিউড অভিনেতা ও চলচ্চিত্র সমালোচক কামাল আর খান (কেআরকে)কে মুম্বাই পুলিশ গ্রেফতার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) তাকে আদালতে তোলা হবে।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চলতি সপ্তাহের শুরুতে ওই এলাকায় চার রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ সংগ্রহ করে ঘটনাস্থল থেকে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কেআরকে স্বীকার করেছেন যে গুলিগুলো তার লাইসেন্সপ্রাপ্ত বন্দুক থেকেই ছোড়া হয়েছিল। তিনি দাবি করেছেন যে কাউকে আঘাত করার উদ্দেশ্য ছিল না—বন্দুক পরিষ্কার করার পর সেটি ঠিকভাবে কাজ করছে কি না তা পরীক্ষা করতে বাড়ির সামনে থাকা ম্যানগ্রোভ বনের দিকে গুলি ছোড়া হয়েছিল। কেআরকের কথায়, বাতাসের কারণে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে গুলিগুলো পাশের একটি আবাসিক ভবনে গিয়ে লাগে।

    স্থানীয়রা এবং পুলিশ ঘটনার সিসিটিভি ও সাক্ষীদের বক্তব্য যাচাই করছে। মুম্বাই পুলিশ কী ধরনের মামলা হবে এবং কী অভিযোগ নেয়া হবে তা চূড়ান্ত করেছে বলে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।

    কামাল আর খান দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। ২০২২ সালে এক যৌন হেনস্তার মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং সামাজিক মাধ্যমে তারকাদের নিয়ে কটাক্ষমূলক ও উসকানিমূলক মন্তব্য করার কারণে তার বিরুদ্ধে একাধিক মানহানি ও আইনি মামলা রয়েছে। এই ঘটনার পর তাঁর বিরুদ্ধে নতুন আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে, পুলিশ তদন্ত চালিয়ে দেখছে।

  • কোনো কারাবন্দিকে বৈষম্যের শিকার হতে দেওয়া যাবে না: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

    কোনো কারাবন্দিকে বৈষম্যের শিকার হতে দেওয়া যাবে না: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

    কারাবন্দিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের মৌলিক মানবাধিকারও অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে—এটাই জরুরি। এমন আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

    মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) গাজীপুরের কাশিমপুর কারা ক্যাম্পাসে অবস্থিত কারা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্যারেড গ্রাউন্ডে ৬৩তম ব্যাচ মহিলা কারারক্ষী বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথাগুলো বলেন।

    তিনি বলেন, ‘‘আধুনিক বিশ্বে কারা প্রশাসনে নিরাপত্তা ও মানবাধিকার পরস্পরের পরিপূরক। কারাগারে বন্দিদের মৌলিক অধিকার রক্ষা করে তাদের সংশোধিত নাগরিক হিসেবে সমাজে ফিরিয়ে দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব। বন্দিদের প্রতি মানবিক আচরণ, ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা, বৈষম্যহীনতা ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা কেবল আইনগত নির্দেশনা নয়—এটি রাষ্ট্রের নৈতিক দায়বদ্ধতার পরিস্ফুটন।’’

    উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘‘এ লক্ষ্যে প্রশিক্ষিত ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পন্ন কারারক্ষীদের ভূমিকা অপরিসীম। কারাগার হলো স্পর্শকাতর একটি প্রতিষ্ঠান এবং এটি অপরাধ দমন, অপরাধীর সংশোধন ও সামাজিক পুনর্বাসনের মাধ্যমে যুক্তব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ।’’

    তিনি বললেন, বৈষম্যহীন, ন্যায্য, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক কারা প্রশাসন গঠনে কারারক্ষীদের সততা, পেশাদারিত্ব ও দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশপ্রেমের মননে নতুন প্রশিক্ষণার্থীরা এই আদর্শগুলো বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে—এমনটাই তার আশা প্রকাশ করেন।

    লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘‘দুর্নীতি রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শত্রু। এটি কেবল আর্থিক ক্ষতি করেনা, বরং প্রতিষ্ঠানের ভিত নষ্ট করে এবং জনগণের প্রতি আস্থাকে ধ্বংস করে।’’ তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো কারা সদস্য যদি ব্যক্তিস্বার্থ, লোভ বা রাজনৈতিক সুবিধার জন্য কাজ করে, তাহলে সে শুধু আইন ভাঙে না—সে রাষ্ট্রের ভিত্তিকেও আঘাত হানায়। কারার প্রতি সংযুক্ত প্রত্যেক কর্মকর্তা ও কর্মচারী জনকল্যাণকেই সর্বোচ্চ ব্রত ধরে কাজ করবেন।

    অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা প্যারেড পরিদর্শন করেন এবং প্রশিক্ষণে কৃতিত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ সেরা মহিলা কারারক্ষীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। সেখানে প্রশিক্ষণার্থীরা বিভিন্ন শারীরিক কসরত, ড্রিল ও প্রদর্শনী ক্যাপনেস দেখান।

    ৬৩তম ব্যাচের কৃতিত্ব তালিকায় ড্রিলে প্রথম স্থান অধিকার করেন লিজা খাতুন, পিটিতে (শারীরিক ফিটনেস) প্রথম হয়েছেন মোছা. রায়হানা আক্তার সুবর্ণা, আন-আর্মড কমব্যাটে প্রথম স্থান পেয়েছেন জুথি পারভীন এবং ফায়ারিংয়ে প্রথম হয়েছেন মানসুরা। একাডেমিসহ সর্ববিষয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন মোছা. রায়হানা আক্তার সুবর্ণা।

    অনুষ্ঠানটি কারা প্রশাসনে মানবিকতা, পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহিতার গুরুত্বকে সামনে রেখে আয়োজিত হয়—যা ভবিষ্যতে কারারক্ষীদের দায়িত্বপূর্ণ ভূমিকার দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

  • নির্বাচনি কর্মকর্তারা গণভোটে পক্ষে বা বিপক্ষে প্রচারণা চালাতে পারবেন না: ইসি

    নির্বাচনি কর্মকর্তারা গণভোটে পক্ষে বা বিপক্ষে প্রচারণা চালাতে পারবেন না: ইসি

    নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সমবেত গণভোটে দায়িত্বে থাকা কোনো নির্বাচনি কর্মকর্তা গণভোটের ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’—কোনো পক্ষেই প্রচারণা চালাতে পারবেন না। তবে ভোটারদের ভোট দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করা যাবে।

    কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) নির্বাচন ভবনের নিজ দফতরে সাংবাদিকদের বলেন, রিটার্নিং অফিসার কমিশনের লোক; মাঠ পর্যায়ে রিটার্নিং অফিসার, ভ্রাম্যমাণ আদালত, ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি ও বিচারক কমিটি—সবগুলো আসনে কাজ করছে। জয়েন্ট ডিস্ট্রিক্ট জাজসহ বিচারকরা তাত্ক্ষণিকভাবে অভিযোগ গ্রহণ ও বিচার করছেন। মোবাইল কোর্ট নিয়মিত চালু আছে এবং প্রতিদিনই কমিশনে রিপোর্ট আসছে; প্রতিদিনই ন্যূনতম ৫০–৭০টি মামলা দায়ের হচ্ছে, কোথাও জরিমানা হচ্ছেনা কোথাও শোকজ করা হচ্ছে—মোটকথা কার্যক্রম জোরালোভাবে চলছে।

    গণভোট সংক্রান্ত নির্দেশনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের বক্তব্য হচ্ছে—we are encouraging voter participation. নির্বাচনি কাজে যারা নিয়োজিত, তারা আইনগতভাবে কোনো পক্ষের হয়ে কাজ করবে না। রিটার্নিং অফিসার (জেলা প্রশাসক), অ্যাসিস্ট্যান্ট রিটার্নিং অফিসার (ইউএনও) ও অন্যান্য নির্বাহী কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে এটা প্রযোজ্য—তারা প্রচারণা করতে পারবেন না; পক্ষে-বিপক্ষে যেতে পারবেন না।’

    সরকারি কর্মকর্তারা যদি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ পক্ষে প্রচারণা চালান, সেটা কতটা আইনসঙ্গত—এ প্রশ্নে কমিশনার মন্তব্য করতে চাননি। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, আমরা কারও কাছে দায়বদ্ধ নই।

    সিসিটিভি সংক্রান্ত আপডেট এখনও কমিশন পায়নি। তিনি জানান, মাঠ পর্যায়ে কোন কোন কেন্দ্রে সিসিটিভি সরঞ্জাম দেওয়া হয়েছে এবং কোথায় দেওয়া হয়নি তার তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে; সময় থাকা পর্যন্ত প্রয়োজনীয় তথ্য এসে গেলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হবে।

    ভোটারদের উদ্দেশে তিনি সরলভাবে আবেদন রাখেন—সবাই ভোট দিন, আপনার গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করুন। নির্বাচন কমিশন নিশ্চিত করেছে যে ভোট পর্যবেক্ষণ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, পুলিশ, আনসারসহ সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা ইউনিট ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে, যাতে ভোটার নিরাপদে ভোট কেন্দ্রে এসে সুষ্ঠুভাবে ভোট দিয়ে বাড়ি ফিরতে পারে এবং ভোটপরবর্তী সময়ে কোনো বিশৃঙ্খলা না ঘটে।

    জাতীয় পার্টি বা অন্য কোনো দলের নিষেধাজ্ঞা বিষয়ক কোনো সরকারি আদেশ কমিশনের কাছে পৌঁছায়নি বলেও তিনি জানান। তাই কমিশন মনে করে, যারা নিবন্ধিত দল এবং যাদের মনোনয়নপত্র গৃহীত হয়েছে, তারা ভোটে অংশগ্রহণ করতে পারবে।

    রিটার্নিং অফিসাররা প্রার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের আচরণবিধি মেনে চলার অঙ্গীকার গ্রহণ করিয়েছেন—কমিশন বলছে, এ অঙ্গীকার কার্যকর হয়েছে এবং এর কারণে চলমান নির্বাচনী পরিবেশ তুলনামূলকভাবে পরিষ্কার ও শান্তিপূর্ণ রয়েছে। তিনি যোগ করেন, অতীতের তুলনায় আচরণবিধি রক্ষা প্রায় শতভাগ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে এবং সামগ্রিকভাবে নির্বাচনি পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত ভাল রয়েছে।

  • বিএনপি এতই খারাপ হলে দুই মন্ত্রী কেন পদত্যাগ করেননি: তারেক রহমান

    বিএনপি এতই খারাপ হলে দুই মন্ত্রী কেন পদত্যাগ করেননি: তারেক রহমান

    বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমান বলেছেন, যদি বিএনপি সত্যিই এতটাই দুর্নীতিপর ছিল, তাহলে ২০০১-২০০৬ সময়ে সরকারের ক্যাবিনেটে থাকা ওই দলের দুই মন্ত্রী কেন তখনই পদত্যাগ করেননি। ময়মনসিংহে মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) জেলা সার্কিট হাউস মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ প্রশ্ন তোলেন এবং পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচারদের অভিযোগকে খাটো করে বলেন যে তারা মিথ্যা দাবি করে চলেছে।

    বিকাল ৪টা ৩ মিনিটে স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমানসহ মঞ্চে উঠে তিনি ৪টা ২৬ মিনিটে উপস্থিত সমর্থকদের কাছে সালাম জানান এবং ৪টা ৫২ মিনিটে ধানের শীষ প্রতীরকের পক্ষে ভোট চাইবার মধ্য দিয়ে বক্তব্য শেষ করেন। সভার শেষকালে তার গাড়িবহর গাজীপুরের উদ্দেশে রওনা হয়।

    তারেক রহমান বলেন, ওই দুই মন্ত্রী পদত্যাগ করেনি কারণ তারা জানতেন বঙ্গবন্ধুকন্যা বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোরভাবে কাজ করতেন। তিনি যোগ করেন, আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানও জানিয়েছে যে পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচারী সরকারের সময় দেশের দুর্নীতি প্রকট ছিল, কিন্তু ২০০১ সালে বেগম খালেদা জিয়ার সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে দুর্নীতি দমনে কাজ শুরু হয়।

    বক্তব্যের মাঝপথে তিনি ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪টি সংসদীয় আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীদের মঞ্চে তুলে পরিচয় করিয়ে দেন। তিনি নেতাকর্মীদের নির্বাচনী উদ্দেশ্য পরিষ্কারভাবে বলেন — ভোটের দিন তওবার নামাজ (তাহাজ্জুদ) পড়ে সবাইকে নিয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ফজরের নামাজ আদায় করতে হবে, এরপর লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিতে হবে এবং যে কোনো অনিয়ম হলে তা লক্ষ্য করে ফলাফল রক্ষা করতে হবে যাতে কেউ আমাদের ভোট লুট করতে না পারে।

    তিনি আগামী ১২ তারিখ নির্ধারিত ভোটে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভোটের পর খাল খনন কর্মসূচিতে আবার সবাইকে নিয়ে দেখা করবেন; সেই দিনে সবাই কোদাল নিয়ে উপস্থিত হবে এবং তিনি নিজেও থাকবেন।

    সভায় স্থানীয় নেতাকর্মীরা স্লোগানে তাকে স্বাগত জানান। অংশগ্রহণকারীরা ‘তারেক রহমানের আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম’ এবং ‘আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান’ শীর্ষক স্লোগান দেন। মঞ্চে ওঠার সময় তাকে লাল গোলাপও তুলে দেওয়া হয়। স্থানীয় নেতারা তারেক রহমানকে বসতি থেকে টারাকান্দাকে পৌরসভায় রূপান্তরের দাবি জানান।

    তারেক রহমান মঞ্চে ওঠার আগেই ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪টি আসনের ধানের শীষপ্রার্থীরা বক্তব্য রাখেন। তাদের মধ্যে ছিলেন— ইকবাল হোসেন, সুলতানা আহমেদ বাবু, মোতায়ের হোসেন বাবু, মাহমুদুল হক, ফরিদুল কবির তালুকদার, সিরাজুল হক, মাহবুব রহমান লিটন, মোস্তাফিজুর রহমান বাবলু ও লতফুরজ্জামান বাবর।

    প্রার্থীরা নিজেদের মধ্যে সব দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করার জন্য দলীয় কর্মীদের কাছে আহ্বান জানান এবং স্লোগান দেন— ‘নৌকা গেছে ভারতে, ধানের শীষ গদিতে’। লতফুরজ্জামান বাবর বলেন, “আমরা ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪টি আসন তারেক রহমানকে উপহার দিতে চাই এবং ভবিষ্যতে তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই।”

  • দুর্নীতির লাগাম টানতে বিএনপির স্পষ্ট পরিকল্পনা আছে: তারেক রহমান

    দুর্নীতির লাগাম টানতে বিএনপির স্পষ্ট পরিকল্পনা আছে: তারেক রহমান

    বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের জন্য কাজ করতে হলে একটি স্থির রাজনৈতিক পরিকল্পনা প্রয়োজন এবং সেই পরিকল্পনা আছে বিএনপির। ‘বিএনপির পরিকল্পনা ও অভিজ্ঞতা রয়েছে কীভাবে দেশ চলবে, কীভাবে শিক্ষার আলো ছড়ানো যাবে, আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা যাবে এবং দুর্নীতির লাগাম টানা যাবে,’ তিনি বলেন।

    মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে ময়মনসিংহ সার্কেট হাউস ময়দানে অনুষ্ঠিত দলের নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তারেক রহমান।

    তিনি আরও বলেন, ‘গত ১৫ বছর সাধারণ মানুষ ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। সেই কারণে জনগণের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও রাস্তাঘাটের মতো মৌলিক সমস্যার পূর্ণতা হয়নি। যদি ভোটের অধিকার থাকতো, এসব সমস্যার সমাধান হত। মানুষ চায় অসুস্থ হলে সময়মতো চিকিৎসা পেতে এবং তাদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত থাকবে।’

    এ সময় তিনি জামায়াতে ইসলামিকে উদ্দিষ্ট করে বলেন, একটি রাজনৈতিক দল বিএনপির বিরুদ্ধে স্বৈরাচারী ভাষায় কথা বলছে এবং অভিযোগ করছে বিএনপি দুর্নীতিতে পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন ছিল। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ২০০১-২০০৬ সালের বিএনপি সরকারের সময় তাদের দুজন মন্ত্রীও ছিলেন—তাহলে তারা কেন পদত্যাগ করেননি? কারণ তারা জানতেন খালেদা জিয়া দুর্নীতি দমন করেছে, এমনই বক্তব্য রাখেন তিনি।

    বিকেলের জনসভায় তার বক্তব্যের আগে জেলা ছাড়াও বিভিন্ন স্থান থেকে আসা নেতাকর্মীরা বাস ও মাইক্রোবাসে মিছিল করে মঞ্চে উপস্থিত হন। অনেকে বলেন, তারা চেয়ারম্যানকে চোখে দেখতে আগেভাগে জনসভায় জমায়েত হয়েছেন।

    এর আগে সকাল ১১ঃ০৫ মিনিটে রাজধানীর গুলশান থেকে ময়মনসিংহে নির্বাচনি জনসভায় অংশ নেয়ার উদ্দেশ্যে তারেক রহমানের গাড়িবহর রওনা হয়।