Blog

  • মন্ত্রিসভায় ডাক পেলেন যারা নির্বাচিত হন

    মন্ত্রিসভায় ডাক পেলেন যারা নির্বাচিত হন

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের পরই জাতীয় সংসদে শপথ নেন বিএনপির নির্বাচিত সদস্যরা। আজ সকাল থেকেই তারা শপথ গ্রহণ করেছেন, এবং বিকেলে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেবেন। সংসদ সদস্যদের শপথ সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ তাদের জন্য নতুন মন্ত্রিসভায় যোগদানের আমন্ত্রণ জানানো শুরু করেছে। এর মধ্যেই জানা গেছে, কিছু ছাড়া আরও কিছু নেতাকে শপথে অংশগ্রহণের জন্য ডাক পাওয়া হয়েছে।

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও আব্দুল আউয়াল মিন্টু মূলত মন্ত্রিসভায় শপথ নেওয়ার জন্য ডাক পেয়েছেন।

    অপরদিকে, চাঁদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলনও শপথ গ্রহণের জন্য ডাক পেয়েছেন বলে তিনি নিজেই গণমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন।

    শপথের দিন, টেলিফোনের মাধ্যমে বেশ কয়েকজন নেতা শপথের জন্য আমন্ত্রণ পেয়েছেন। শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ফোন পেয়েছেন।

    এছাড়া, পরবর্তী সময়ে শপথ নিতে প্রত্যাশিত বেশ কিছু নেতার নাম জানা গেছে, যেমন নুরুল হক নুর, বগুড়া জেলা বিএনপির সহসভাপতি মীর শাহে আলম, যিনি বগুড়া-২ আসনের প্রার্থী, এবং কিশোরগঞ্জ–৬ আসনের শরীফুল আলম, যিনি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন বলে জানা গেছে।

    এছাড়া জামালপুর–১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) আসনের এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাতও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ডাক পেয়েছেন।

    সাবেক ফুটবলার ও প্রার্থী আমিনুল হকও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন, যদিও তিনি ঢাকা-১৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হারেছেন।

    প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথের জন্য আরও ফোন পেয়েছেন পঞ্চগড়–২ (বোদা ও দেবীগঞ্জ) আসনের বিএনপি প্রার্থী ফরহাদ হোসেন, যিনি জাতীয় নির্বাহী পরিষদের পল্লী উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক এবং জেলা বিএনপির সদস্যসচিব।

    তিনি ছাড়া, হাজি আমিনুর রশীদ ইয়াছিন টেকনোক্রেট প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন।

    কুমিল্লা-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদও মন্ত্রী হবেন। তিনি এই আসনে ছয় বার নির্বাচন করেছেন এবং প্রতিবারই বিজয়ী হয়েছেন।

    সিলেট-৪ আসনের বিএনপি সদস্য আরিফুল হক চৌধুরীও শপথ নেওয়ার জন্য ফোন পেয়েছেন।

    নবগঠিত মন্ত্রিসভায় পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে ডাক পাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে সিলেট-১ (মহানগর ও সদর) আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আবদুল মুক্তাদীরের।

    অতিরিক্ত, বরিশাল–১ আসনের সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপনও ডাক পেয়েছেন।

  • নতুন মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে কাজ শুরু করলেন নাসিমুল গনি

    নতুন মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে কাজ শুরু করলেন নাসিমুল গনি

    নতুন মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে দেশের জনস্বার্থে সেবা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত বলে জানান ড. নাসিমুল গনি। তিনি বলেন, অতীতে যেভাবে কাজ করেছেন, সেভাবেই ভবিষ্যতেও কাজ করবেন। সোমবার সচিবালয়ে অপারেশনাল দায়িত্ব গ্রহণের সময় তিনি এই কথা জানান।
    প্রথমে দুপুরে এ পদে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি হয়, যা অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়। এর আগে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হিসেবে চুক্তিভিত্তিতে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এখন তাকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে নতুন করে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
    দুপুর সোয়া ১টার দিকে তিনি সচিবালয়ের নতুন ভবনে এসে উপস্থিত হন। তখন গণমাধ্যমের কাছে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে নাসিমুল গনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমি আনন্দিত ও গর্বিত এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসতে পেরে। দেশের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য আমরা একসাথে কাজ করব, ইনশাআল্লাহ। আমি জানি, আমি অতীতে যেমন কাজ করেছি, তেমনি দেশের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাব।’
    তিনি আরও জানান, বর্তমানে তিনি নতুন মন্ত্রিসভায় যোগদান করছেন, যা আগামীকাল মঙ্গলবার সংসদ সদস্যের শপথ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হবে। সোমবার সকালে দুই দফায় সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন, এর পর বিকেলে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের শপথ অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যেই এই প্রক্রিয়ার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছি। পরিস্থিতি অনুযায়ী সদস্য সংখ্যা কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে, তবে মূল প্রক্রিয়াটি অন্য কোনও নতুনায়নের মতো নয়।’
    উল্লেখ্য, ট্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর গত শনিবার মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দায়িত্বে থাকা শেখ আবদুর রশিদের চুক্তি বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারি হয়। তার পরিবর্তে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দায়িত্বে আনা হয় প্রধান উপদেষ্টা ও মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়াকে, যিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার দায়িত্বের পাশাপাশি এই নতুন দায়িত্ব পালন করবেন।
    নাসিমুল গনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ সচিবালয়ের কর্মকর্তা, বিসিএস ১৯৮২ ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডার। তার মেধা তালিকায় তিনি ষষ্ঠ স্থান অধিকার করেছিলেন। ১৯৮৩ সালে তিনি সহকারী কমিশনার হিসেবে চাকরি জীবন শুরু করেন, পরবর্তীতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯০ সালে তিনি সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরের উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে নিয়োগ পান। এরপর তিনি ভূমিমন্ত্রীর একান্ত সচিব, শিক্ষামন্ত্রীর একান্ত সচিব, ইরাকের বাগদাদের বাংলাদেশের প্রথম শ্রম সচিব, বিভিন্ন জেলা প্রশাসক, উপ-পরিচালক, যুগ্ম-পরিচালক, উপসচিব, মহাপরিচালক, অতিরিক্ত সচিব এবং রাষ্ট্রপতির সচিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৩ সালে চাকরি থেকে অবসর নেন।
    বর্তমানে, তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আছেন এবং দেশের সার্বিক প্রশাসনিক কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের কল্যাণে অবিচল থাকবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

  • বিএনপি নেতাদের বাসায় তারেক রহমানের সাক্ষাৎ

    বিএনপি নেতাদের বাসায় তারেক রহমানের সাক্ষাৎ

    রোববার সন্ধ্যা ৮টার পর রাজধানীর মগবাজারে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান নাহিদ ইসলাম নামে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়কের বাসায় পৌঁছান। এই সাক্ষাৎকালে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপি নেতা আখতার হোসেন, সারজিস আলম, বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, নজরুল ইসলাম খানসহ অন্য নেতা নেত্রীরা।

    এর আগে, একই দিন সন্ধ্যা ৭টায় তিনি জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের বসুন্ধরা আবাসিক কার্যালয় পরিদর্শন করেন। সেখানে ডা. শফিকুর রহমান তারেক রহমানকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান এবং তাকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অভিষিক্ত করেন। তিনি বলেন, তারেক রহমানের এই আগমন রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ একটি মুহূর্তের সূচনা করতে যাচ্ছে। সংলাপ, দায়িত্বশীলতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার মাধ্যমে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নতুন কালো সৃষ্টির আশাবাদ প্রকাশ করেন জামায়াতের আমির।

    প্রথমে শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, তারেক রহমান সংবাদ সম্মেলনে দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বী সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান এবং ভবিষ্যত দেশ পরিচালনায় সহযোগিতা কামনা করেন। তারেক রহমান রোববার বিকেলে নিউজ সেলে আরও বলেন, আগামীতে দেশের জন্য সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে।

    নির্বাচন প্রক্রিয়ায়, ২০২৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মূল প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যবদ্ধ মোর্চার সঙ্গে, যার মধ্যে রয়েছে এনসিপি। নির্বাচনে সরকার গঠন করতে ইতিমধ্যে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয় লাভ করেছে বিএনপি, যা মোট ২০৯টি আসনে পৌঁছেছে।

    প্রতিদ্বন্দ্বী দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী ও মিত্র দলগুলো ৭৭টি আসনে জয়ী হয়ে বিরোধীদলে যাচ্ছেন। এই ফলাফলের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা পরিবর্তনের আভাস দেখা যাচ্ছে।

  • নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষ প্রথম, জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা দ্বিতীয়, এনসিপির শাপলা কুঁড়ি তৃতীয়

    নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষ প্রথম, জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা দ্বিতীয়, এনসিপির শাপলা কুঁড়ি তৃতীয়

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুযায়ী ভোটের ফলাফল প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এতে দেখা গেছে, বিএনপি ধানের শীষ প্রতীকে মোট ৪৯.৯৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে। তাদের মোট ২৯০টি আসনে প্রার্থী ছিল। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে পেয়েছে ৩১.৭৬ শতাংশ ভোট, তাদের প্রার্থী ছিল ২২৭টি আসনে।

    নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী, তৃতীয় স্থান দখল করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), যারা ৩২টি আসনে প্রার্থী দিয়ে পেয়েছে ৩.০৫ শতাংশ ভোট। উল্লেখ্য, এনসিপি জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলের ঐক্যের অংশ।

    গত তিন সংসদে বিরোধী দলে থাকা জাতীয় পার্টি (জাপা) ১৯৯টি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল, লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছে মাত্র ০.৮৯ শতাংশ ভোট। এবারের নির্বাচনে মোট ৫০টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করে।

    চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মোট ২৫৭ আসনে প্রার্থী দেয়, তাদের ভোটের হার ২.৭০ শতাংশ। এছাড়া, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস হাতে পাখা প্রতীকে ৩৪টি আসনে প্রার্থী দেয় এবং তাদের প্রাপ্ত ভোটের হার ২.০৯ শতাংশ।

    অন্য দলের মধ্যে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), গণসংহতি আন্দোলন, বাসদ, মার্কসবাদী বাসদ, গণফোরাম এবং নাগরিক ঐক্যর প্রাপ্ত ভোটের হার ১ শতাংশের নিচে। এসব দলের মধ্যে রয়েছে।

  • নাহিদ-সারজিসকে ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণ করলেন তারেক রহমান

    নাহিদ-সারজিসকে ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণ করলেন তারেক রহমান

    বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চেয়ারম্যান নাহিদ ইসলাম ও তার সহযোগী সারজিস আলমের বাসায় সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এই সাক্ষাৎকালে দেখা যায়, তারেক রহমান নাহিদ ও সারজিসকে উষ্ণভাবে আলিঙ্গন করে বুকে জড়িয়ে ধরেন। রোববার রাতে রাজধানীর বাড্ডায় নাহিদ ইসলামের বাসায় এ মিলনমেলা হয়। মূলত, নির্বাচনের পর দেশে একটি ইতিবাচক রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য নেওয়া উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুর নবী খান সোহেল, হুমায়ুন কবির এবং দলের অন্য নেতা-নেত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি, এনসিপির পক্ষে সদস্য সচিব আখতার হোসেন, উত্তরাঞ্চলীয় সংগঠক সারজিস আলমসহ আরও নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • সন্ধ্যায় চরমোনাই পীরের বাসায় যাচ্ছেন তারেক রহমান

    সন্ধ্যায় চরমোনাই পীরের বাসায় যাচ্ছেন তারেক রহমান

    আজ সোমবার সন্ধ্যায় বিএনপি চেয়ারম্যান বেগম খালেদা জিয়ার ছেলে এবং দলের শীর্ষ নেতা তারেক রহমান চরমোনাই পীরের বাসায় যাচ্ছেন। নিশ্চিত করেন বিএনপির কেন্দ্রিয় মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান। তিনি জানান, আজ সন্ধ্যায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার কাছে উপস্থিত হবেন।

    এর আগে, গতকাল রোববার সন্ধ্যায় বিএনপি চেয়ারম্যান জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের বাসায় যান। পরে তিনি পৌঁছেন বেইলি রোডে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসায়। এমন বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার সাথে এর আগে তাঁর সাক্ষাতের খবর প্রকাশ পেয়েছে। এই সফরগুলোর মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দলীয় কার্যক্রমের নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা চলেছে বলে ধারণা করছে।

  • তারেক রহমান বগুড়া-৬ আসন ছাড়ছেন

    তারেক রহমান বগুড়া-৬ আসন ছাড়ছেন

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঢাকায় ঢাকা-১৭ আসন থেকে এবং বগুড়া-৬ আসন থেকে নির্বাচিত হন। আইন অনুযায়ী, একাধিক আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ব্যক্তির জন্য একটি আসনই ধরে রাখা সম্ভব, আর অন্য আসনগুলো স্বেচ্ছায় ছেড়ে দিতে হবে। এই পরিস্থিতিতে, তিনি বগুড়া-৬ আসন থেকে পদত্যাগ করে ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

    সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। আইনের দৃষ্টিকোণে, একজন প্রার্থী যদি একাধিক আসনে নির্বাচিত হন, তাহলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তিনি একটি আসন স্থির করে অন্যগুলো ছেড়ে দিতে বাধ্য। আরপো (অভ্যন্তরীণ প্রতিপত্তি আদেশ) অনুযায়ী, ধারা ১৯(১)(খ) অনুসারে, একই সাধারণ নির্বাচনে একাধিক আসনে প্রার্থী হওয়া এবং নির্বাচিত হওয়া সম্ভব। এছাড়াও, ধারা ১৯(২) অনুযায়ী, নির্বাচিত হয়ে থাকলে গেজেট প্রকাশের পর ৩০ দিনের মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে হবে কোন আসনে তিনি থাকতে চান।

    অধিনিষ্ট সময়ে এই সিদ্ধান্ত না জানালে নির্বাচন কমিশন আইনের দৃষ্টিকোণে ব্যবস্থা নিবে এবং অবশিষ্ট আসনগুলো শূন্য ঘোষণা করতে পারে।

    ঢাকা-১৭ আসনের ফলাফল অনুযায়ী, তারেক রহমান ৭২,৬৯৯ ভোট পেয়েছেন, যেখানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এস এম খালিদুজ্জামান পেয়েছেন ৬৮,৩০০ ভোট। ফলে, তিনি ৪,৩৯৯ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন। মোট ভোটার ছিলেন ৩ লক্ষ ৩৩ হাজার ৮১৩ জন, আর ভোট পড়েছে ১ লক্ষ ৪৭ হাজার ৮৮৮টি। বাতিল হয় ২,২১১ ভোট, ফলে বৈধ ভোটের সংখ্যা ছিল ১ লক্ষ ৪৫ হাজার ৬৭৭।

    অন্যদিকে, বগুড়া-৬ আসনের নির্বাচনের ফলাফলে, বিএনপি প্রধান তারেক রহমান প্রায় সাড়ে দুই লাখ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। ১৫০টি কেন্দ্রের ফলাফলে তিনি ২ লাখ ১৬ হাজার ২৮৪ ভোট পেয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯৭ হাজার ৬২৬ ভোট।

  • প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সেনাপ্রধানের সাক্ষাৎ

    প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সেনাপ্রধানের সাক্ষাৎ

    সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কার্যালয়ে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেছেন সেনা প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। এই_brief সাক্ষাৎকারে তারা একে অন্যের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং দায়িত্বকালীন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন।

    প্রধান উপদেষ্টা তার দায়িত্ব পালনকালে বিশেষ করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালীন সময়ে সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতার জন্য সেনাপ্রধানকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এই সাক্ষাৎকারটি দুজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা এবং একে অন্যের প্রতি সম্মান ও আস্থা বৃদ্ধির এক সুন্দর উদাহরণ।

  • সংসদ সদস্যরা একদিনে দুটি শপথ নেবেন

    সংসদ সদস্যরা একদিনে দুটি শপথ নেবেন

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা একদিনে দুইটি শপথ গ্রহণ করবেন। প্রথমে সংসদ সদস্য হিসেবে, এরপর আলাদাভাবে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন তারা। এ ঘটনা খুব শিগগিরই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যাতে সব প্রস্তুতি নিয়েছে জাতীয় সংসদ সচিবালয়। সচিব কানিজ মওলা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। শপথের এই কার্যক্রমের পাশাপাশি, একইদিন বিকেলে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় সংসদ মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

    জাতীয় ভোটাভুটিতে ‘হ্যাঁ’ ভোটে জয়ী হওয়ায় এখন সংবিধান সংস্কার সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের জন্য জুলাই মাসে সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত একটি বিশেষ সনদ প্রকাশ করা হয়। এই সনদের ভিত্তিতে, নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা একসাথে দু’টি শপথ নেবেন—একটি হিসেবে তারা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিবেন, অন্যটি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে।

    সংসদ শপথ গ্রহণের জন্য নির্ধারিত ফরম প্রস্তুত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। শপথের এইসময়, সংসদ সদস্যরা শপথবইয়ে সই করবেন। এ জন্য প্রস্তুতিপত্র তৈরি হচ্ছে। এছাড়া, জুলাই সনদে থাকা সংবিধান সংশোধনের জন্য প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের জন্যে সংসদ সদস্যদের দ্বিতীয় শপথের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

    জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা জানান, মঙ্গলবার নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা প্রথমে সংসদ সদস্য হিসেবে, এরপর সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন। এর ফলে, সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবগুলো কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।

    জুলাই সনকের বিরুদ্ধে বিএনপি কিছু প্রস্তাবে ভিন্ন মত পোষণ করেছে, তবে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এই প্রস্তাবের অধিকাংশ অংশে একমত। তারা পুরো সংবিধান সংস্কার প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নে আগ্রহী।

    বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দীর্ঘ আলোচনা শেষে মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের জন্য ঐকমত্য গড়ে ওঠে। এর মধ্যে ৪৮টি প্রস্তাব সরাসরি সংবিধান সংশ্লিষ্ট যা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটে পাস হয়।

    সংবিধান সংশ্লিষ্ট এই প্রস্তাবগুলোর বাস্তবায়নের জন্য তিন ধাপে কার্যক্রম চালানো হয়। প্রথম ধাপে, গত বছর ১৩ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি এই সংক্রান্ত আদেশ জারির মাধ্যমে আইনি ভিত্তি তৈরি করেন। এরপর, ২০২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট হয়, যেখানে প্রস্তাবগুলোতে সমর্থন পায়। এখন, তৃতীয় পর্যায়ে, সংসদ সদস্যদের দ্বারা সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও কার্যক্রম শুরু হবে।

    সংস্কারকাজের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা কিছুটা কমানো, রাষ্ট্রপতির কিছু নিয়োগের ক্ষমতা বাড়ানো, সংসদ দ্বি-নক্ষত্রবিশিষ্ট করা, এবং সংবিধানে নিয়োগ প্রক্রিয়া সোজা করে দেওয়া।

    তবে, উচ্চকক্ষের গঠন ও কিছু সংবিধানবিরোধী প্রস্তাবের ক্ষেত্রে বিএনপি নোট অব ডিসেন্ট বা ভিন্নমত প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে থাকা বেশ কিছু সংবিধান সংস্কারে তাদের মতামত একাত্মতা দেখায়।

  • এনসিপি সন্ধ্যায় যমুনায় যাবেন জুলাই সনদে স্বাক্ষর করতে

    এনসিপি সন্ধ্যায় যমুনায় যাবেন জুলাই সনদে স্বাক্ষর করতে

    অবশেষে সম্প্রতি জুলাই সনদে স্বাক্ষর কর_confirmation করছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আজ সোমবার সন্ধ্যায় দলটির একজন প্রতিনিধি দল প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনায় উপস্থিত হয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ স্বাক্ষর কার্যক্রমে অংশ নেবে। দুপুর দেড়টার দিকে এনসিপির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ খবর জানানো হয়।

    বিবৃতিতে বলা হয়, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল আজ সন্ধ্যা ৬টায় যমুনায় যাবে। এই দলে থাকবেন— সদস্য সচিব আখতার হোসেন, যুগ্ম সদস্য সচিব জহিরুল ইসলাম মূসা, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, মনিরা শারমিন ও জাবেদ রাসিন।

    উল্লেখ্য, গত বছর ১৭ অক্টোবর জুলাই সনদে স্বাক্ষর করা হয়, যেখানে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ নেন। পাশাপাশি, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজসহ কমিশনের অন্য সদস্যরাও এই সনদে স্বাক্ষর করেন।

    তবে, চলতি সময় পর্যন্ত এনসিপি জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেনি। এর পাশাপাশি, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাসদ (মার্ক্সবাদী) এবং বাংলাদেশ জাসদও এই সনদে স্বাক্ষর করেনি।

    উল্লেখ্য, এই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর কার্যক্রমে অংশ নেয় ২৫টি রাজনৈতিক দল। এর মধ্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, নাগরিক ঐক্যের মহাসচিব মাহমুদুর রহমান মান্না, গণসংহতি আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) শীর্ষ নেতা, খেলাফত মজলিসের নেতৃবৃন্দ ও অন্যান্য দলের প্রতিনিধি থেকে শুরু করে বিভিন্ন মনোভাবাপন্ন নেতারা উপস্থিত ছিলেন এই অনুষ্ঠানে। এই স্বাক্ষর কার্যক্রম আগামী দিনগুলোয় দেশব্যাপী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং জাতীয় ঐকমত্য বাড়ানোর লক্ষ্যে অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।