Blog

  • নতুন নির্দেশনায় ক্রেডিট কার্ডের ঋণসীমা বাড়ল

    নতুন নির্দেশনায় ক্রেডিট কার্ডের ঋণসীমা বাড়ল

    বাংলাদেশ ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড পরিচালনাকে আরও সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ ও গ্রাহকবান্ধব করে তোলার উদ্দেশ্যে নতুন গাইডলাইন জারি করেছে। রোববার ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানান। গাইডলাইনে ঋণসীমা বৃদ্ধি ছাড়াও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, গ্রাহক অধিকার সুরক্ষা ও বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যাপারে নতুন নির্দেশনা রাখা হয়েছে।

    দৈনন্দিন জীবনে নগদ বহনে যেসব অসুবিধা দেখা যায়, সেগুলোকে কাটিয়ে উঠতে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার বাড়ছে। সার্ভিসের পরিধি আরও বিস্তৃত হওয়ায় এই খাতে বিদ্যমান জটিলতা কমানো এবং নিরাপত্তা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার প্রয়োজন দেখা দেয়। সেই প্রেক্ষিতে পুরনো নীতিমালা হালনাগাদ করে একটি পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন তৈরি করা হয়েছে।

    নেতৃত্বের কথায় নতুন নির্দেশনায় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে, গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য ও অধিকার রক্ষায় কঠোর বিধান আনা হয়েছে এবং দায়িত্বশীল ঋণ প্রদানকে উৎসাহিত করে নগদহীন লেনদেনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গাইডলাইনে যে বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে—প্রযোজ্যতা ও সংজ্ঞা, ক্রেডিট কার্ডের ধরন, গ্রাহকের যোগ্যতার মানদণ্ড, ক্রেডিট সীমা ও সুদের হার নির্ধারণ, কার্ড ইস্যু ও বিপণন নীতি, বিলিং ও আদায় প্রক্রিয়া, গ্রাহকের তথ্য গোপনীয়তা, বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

    গাইডলাইনের প্রধান পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে প্রদেয় সর্বোচ্চ ঋণসীমা বৃদ্ধি। আগের সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা থেকে তা এখন ৪০ লাখ টাকা করা হয়েছে। অনিরাপদ (আনসিকিউরড) ঋণের সীমাও ১০ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    এছাড়া গ্রাহকের অভিযোগ, অনিয়ম বা জালিয়াতি, কার্ডভিত্তিক লেনদেনের পরিশোধে যে জটিলতা দেখা দিতে পারে এবং বিরোধ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া—এসব বিবেচনা করে গাইডলাইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী ও স্পষ্টীকরণ আনা হয়েছে। ব্যাংকটি বলছে, নতুন নির্দেশনা গ্রাহক সুরক্ষা জোরদার করবে, ব্যাংক ও সার্ভিসদাতাদের দায়িত্বশীলতা বাড়াবে এবং দেশে নগদবিহীন আর্থিক লেনদেনকে সহজ ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলবে।

  • আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ সময় ৩১ মার্চ

    আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ সময় ৩১ মার্চ

    ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ব্যক্তি করদাতাদের আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা শেষ হতে আর মাত্র সাত দিন বাকি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানিয়েছে, সকল রিটার্ন আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে সুষ্ঠুভাবে জমা দিতে হবে।

    সাধারণত রিটার্ন জমার শেষ সময় ৩০ নভেম্বর থাকলেও এইবার সময় তিন দফায় বৃদ্ধি করে চূড়ান্ত সময়সীমা ৩১ মার্চ নির্ধারণ করা হয়েছে। এনবিআর আরও জানিয়েছে যে এবার অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, ফলে করদাতারা বাড়িতে বসেই নির্ধারিত পোর্টালে ই-রিটার্ন পূরণ ও জমা দিতে পারবেন। অনলাইন সার্ভিস সাপ্তাহিক এবং সরকারি ছুটির দিনেও চালু থাকবে।

    এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখের বেশি টিআইএনধারী রয়েছেন। করযোগ্য আয় থাকলে এই করদাতাদের রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। এখন পর্যন্ত প্রায় ৪১ লাখ রিটার্ন দাখিল হয়েছে এবং ৫০ লাখের বেশি করদাতা অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন।

    অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার নিয়ম সহজ। করদাতাদের প্রথমে এনবিআরের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে গিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। পরে ব্যবহারকারীর নাম ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করে রিটার্ন সাবমিট করতে হবে। অনলাইনে রিটার্ন দেওয়ার সময় সাধারণত কোনো কাগজপত্র আপলোড করার প্রয়োজন হয় না; প্রয়োজনীয় হিসাব-তথ্য পূরণ করলেই চালিয়ে দেয়া যায়।

    একই সঙ্গে অনলাইনে কর পরিশোধের সুবিধাও আছে। ব্যাংক ট্রান্সফার, ডেবিট/ক্রেডিট কার্ডের পাশাপাশি বিকাশ, রকেট, নগদসহ বিভিন্ন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহার করে আয়কর চুকানো যাবে।

    বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়া করে রিটার্ন জমা দিলে ভুলের সম্ভাবনা বেশি থাকে এবং সেটি জরিমানা বা আইনি জটিলতায় পরিণত হতে পারে। তাই সময় আছে এখন থেকেই রিটার্ন প্রস্তুত করে ধাপে ধাপে জমা দেওয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

    রিটার্ন জমার পূর্বে করদাতাদের করতে হবে — আয়-ব্যয়ের হিসাব আগেই প্রস্তুত রাখা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করা, অনলাইন সিস্টেমে লগইন করে তথ্য যাচাই করা এবং জমা দেওয়ার আগে সব তথ্য একবার ভালোভাবে পরখ করা। প্রয়োজনবোধে কর পরামর্শকের সঙ্গে যোগাযোগ করে সহায়তা নেওয়াও স্মার্ট সিদ্ধান্ত।

    কর প্রশাসন বলছে, সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই রিটার্ন জমা দিলে করদাতারা ঝামেলা থেকে রেহাই পাবেন এবং অনলাইন ব্যবস্থার সুবিধা পুরোপুরি উপভোগ করতে পারবেন।

  • পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পর ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি

    পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পর ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি

    ইরানের একটি পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার খবরের পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র হয়েছে। হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সংশ্লিষ্ট শিল্প ও অবকাঠামোতে সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক হামলার ব্যাপারে সতর্কতা জারি করেছে।

    আইআরজিসি–এর নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের দ্রুত তাদের কর্মস্থল ছাড়ার অনুরোধ করা হয়েছে বলে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম প্রতিবেদনে জানিয়েছে। এমনকি ওই কারখানাগুলোর আশপাশের এক কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে বসবাসরত সাধারণ মানুষকেও নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে।

    আইআরজিসি জানিয়েছে, তাদের যোদ্ধারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ভারী শিল্পকারখানা এবং অন্যান্য লক্ষ্যস্থলকে টার্গেট করে প্রতিশোধমূলক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

    আইআরজিসি–এর অ্যারোস্পেস কমান্ডার সাইয়েদ মজিদ মুসাভি সামাজিক মাধ্যমে (এক্স) দেওয়া একটি পোস্টে কড়া সুরে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘‘তোমরা আবারও আমাদের ধৈর্যের পরীক্ষা নিয়েছো। বিশ্ব দেখেছে, তোমরাই আগুন নিয়ে খেলা শুরু করেছ এবং অবকাঠামোর ওপর হামলা চালিয়েছ। এবার প্রতিক্রিয়া ‘চোখের বদলে চোখ’ থাকবে না—অপেক্ষা করো, সবাই দেখবে কী হয়।’’ তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নবাদী শাসকদলের সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মরত মানুষের দ্রুত নিরাপদ স্থান নিউজ্ব্যাগ করার পরামর্শও দিয়েছেন।

    তবে ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থা জানানোয় আরদাকান শহরের ওই পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পর কোনো তেজস্ক্রিয় পদার্থ পরিবেশে ছড়িয়ে পড়েনি। সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় মূলত ‘ইয়েলোকেক’ নামে পরিচিত ইউরেনিয়ামের ঘনীভূত গুঁড়া উৎপাদিত হতো—যা পরবর্তীতে বিভিন্ন রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমৃদ্ধ করে পারমাণবিক জ্বালানি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।

    এই হামলা ও ইরানের পাল্টা হুমকির ফলে এক বিস্তৃত সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ ধারণ করেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও অঞ্চলীয় শক্তিগুলো এখন সতর্ক নজর রাখছে।

  • ইরান দাবি: মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ১৭টি ঘাঁটি ধ্বংস

    ইরান দাবি: মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ১৭টি ঘাঁটি ধ্বংস

    ইরানের সশস্ত্র বাহিন্যের এক জ্যেষ্ঠ মুখপাত্র বলেছেন, পশ্চিম এশিয়া বা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ১৭টি সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস করা হয়েছে। এই দাবি করেছে আইআরজিসি‑সংশ্লিষ্ট মেহর নিউজ এজেন্সি।

    স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এক সাক্ষাত্কারে সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুলফজল শেখারচি বলেন, পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ১৭টি ঘাঁটি স্থাপন করেছিল এবং তাদের ওই সব ঘাঁটিই ইরানের শক্তিশালী বাহিনী ধ্বংস করেছে। তিনি দাবি করেন, “আমেরিকানরা তাদের ঘাঁটি ও সৈন্যদের রক্ষা করতে পারেনি।”

    শেখারচি আরও বলেছিলেন, ২০২৫ সালের ১৩ জুন ইসরায়েলের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া ১২ দিনের যুদ্ধে ইরান তার কৌশলগত নীতিতে পরিবর্তন এনেছে — প্রতিরক্ষামূলক নীতিকে আক্রমণাত্মক প্রতিরোধে রূপান্তর করা হয়েছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘‘গত ৪৭ বছরে ইরান কোনো দেশকে আক্রমণ করেনি এবং ভবিষ্যতেও নিজের ইচ্ছায় অন্য দেশের ওপর আগ্রাসন চালাবে না।’’ তার ভাষ্য, ‘আক্রমণাত্মক নীতি’ মানে হলো যদি কেউ ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালায়, ইরান পাল্টা আঘাত করবে যতক্ষণ না আঘাতকারীকে পরাজিত বা শাস্তি দেয়া হয়।

    মুখপাত্র বলেন, ইরানের প্রতিরক্ষা নীতি বিজয় অর্জন এবং শত্রুকে শাস্তি দেয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও বললেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ওপর থেকে যুদ্ধের ছায়া চিরতরে দূর না হওয়া পর্যন্ত আগ্রাসনকারীদের শাস্তি ও তাড়ানোর কর্মসূচি চালিয়ে যাবে।

    শেখারচি যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্দেশ্য করে এও অভিযোগ করেন, নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার অজুহাতে তারা গত কয়েক দশক ধরে পশ্চিম এশিয়ায় ব্যাপকভাবে বিনিয়োগ ও হস্তক্ষেপ করে অঞ্চলটির জনগণকে শোষণ ও দেশগুলোকে প্রতারণা করেছে। তিনি বললেন, যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিক দেশগুলোর কাছে নিরাপত্তার নামে সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি করে এবং ওই দেশগুলোর অর্থায়নে সেখানে ঘাঁটি স্থাপন করেছে।

    হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি সতর্কবার্তা দিয়েছেন — জোর দিয়ে বলা হয়েছে, ‘‘হরমুজ প্রণালির অবস্থা আর আগের মতো থাকবে না।’’ যুদ্ধ শেষ হলেও ইরান কিছু শর্ত রেখেছে এবং অন্যান্য দেশগুলোকে তা পূরণ করতে হবে, তার ভাষ্য।

    শেখারচি আঞ্চলিক মুসলিম দেশগুলোর প্রতি আবেদন জানিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার বাহিনীকে আশ্রয় দেওয়া বন্ধ করুন। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ভাবেন ইরান পিছিয়ে যাবে, তারা ভুল করছে; ইরানের সংকল্প আগের চেয়ে আরও দৃঢ় এবং তাদের উদ্দেশ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চলবে।

    উপসংহারে তিনি ইরানের সার্বভৌমত্ব রক্ষার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ইরান অঞ্চলটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং অন্যদেশের সার্বভৌমত্ব সম্মান করে। কিন্তু তিনি উল্লেখ করেন, যদি কোনো দেশ তাদের ভূখণ্ড বা বায়ু সীমা ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে বিদেশি শক্তিকে আমন্ত্রণ জানায়, তাহলে তার পরিণতি ওই দেশকেই বহন করতে হবে।

  • বাগেরহাটে কিশোরী রিয়া মনি হত্যায় গ্রেপ্তার ৩; এক আসামি আদালতে দায় স্বীকার

    বাগেরহাটে কিশোরী রিয়া মনি হত্যায় গ্রেপ্তার ৩; এক আসামি আদালতে দায় স্বীকার

    বাগেরহাটের শরণখোলায় কিশোরী রিয়া মনি হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ; এর আগে একজনকে আটক করার ফলে মোট গ্রেপ্তার হল ৩ জন।

    গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন শরণখোলা উপজেলার রাজৈর গ্রামের মাসুম হাওলাদারের ছেলে ও রায়েন্দা বাজারের কসমেটিক ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম রুবেল (৪০) এবং কদমতলা গ্রামের আউয়াল সরদারের ছেলে মিজানুর রহমান সরদার (২৩)। আগে রাজাপুর এলাকার তুহিন (২৫)কে আটক করে পুলিশ।

    পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার মিজানুর রহমান রিয়া মনি হত্যা কাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকা স্বীকার করেছেন। শুক্রবার (২৭ মার্চ) সন্ধ্যায় বাগেরহাট জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জেবুন্নেছার আদালতে ১৬৪ ধারায় তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন। মিজানুরের দাবি, মাদককে কেন্দ্র করে রিয়া মনির সঙ্গে বিরোধ চলছিল। বিরোধের জেরে তিনি ও তার কয়েকজন সহযোগী পরিকল্পিতভাবে রিয়া মনিকে গলাকেটে হত্যা করেছেন।

    শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সামিনুল হক বলেন, কিশোরী রিয়া মনি হত্যা মামলায় সরাসরি জড়িত থাকার কারণে এ দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মিজানুর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। অন্য অভিযোগপ্রাপ্তদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের বেশ কয়েকটি টিম অভিযান চালাচ্ছে।

    ঘটনায় তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, (২৪ মার্চ) ভোরে শরণখোলার রাজৈর গ্রামে রিয়া মনি (১৫) নামের ওই কিশোরীর গলাকেটে মারা যাওয়া অবস্থায় লাশ উদ্ধার করা হয় এবং ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।翌দিন নিহত কিশোরীর বাবা আজিম শেখ শরণখোলা থানায় অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জনকে আসামী করে এক হত্যা মামলা দায়ের করেন।

    পুলিশ ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে এবং শীঘ্রই অন্যান্য অভিযুক্তদেরও গ্রেপ্তার করার চেষ্টা করছে।

  • চিতলমারীতে সংঘর্ষের পর হামলা-অগ্নিসংযোগ: প্রায় ৪০ বসতবাড়ি ধ্বংস, নিহত ১

    চিতলমারীতে সংঘর্ষের পর হামলা-অগ্নিসংযোগ: প্রায় ৪০ বসতবাড়ি ধ্বংস, নিহত ১

    বাগেরহাটের চিতলমারী থানা এলাকার চিংগড়ী গ্রামে জমি-আধিপত্য বিরোধকে ঘিরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে রাতে স্বল্প তরঙ্গের সংঘর্ষে পরিণত হয়ে ব্যাপক হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত এক যুবক নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন; স্থানীয়রা জানাচ্ছেন প্রায় ৪০টি বাড়িঘর ও দোকান ভাঙচুর-লুটপাট ও অগ্নিদগ্ধ হয়ে ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে।

    স্থানীয় তথ্যের বরাতে জানা যায়, সংঘর্ষের মূল সূত্রপাত ছিল মধুমতি নদীর চর জমি নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে বিশ্বাস গ্রুপ ও শেখ গ্রুপের পুরোনো বিদ্বেষ থেকে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত চিংগড়ী গ্রামে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে। সংঘর্ষের পর এক দফায় সশস্ত্র ও সংগঠিত হামলায় অনেক বাড়িতে petrol ও পিচ ঢেলে আগুন দেওয়ার, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

    এই সহিংসতায় নিহত হয়েছেন রাজিব শেখ (২৫)। আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন বলে সূত্রে জানা গেছে। শনিবার সকাল পর্যন্ত এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে; স্থানীয়রা বলছেন যেকোনো সময় উত্তেজনা আবার ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    ভেতরের দিকে গিয়ে দেখা গেছে, চিতলমারী-পাটগাতি সড়কের চিংগড়ী ও মচন্দপুর গ্রামের মাঝামাঝি এলাকায় সড়কজুড়ে ইটখোড়া ছড়িয়ে আছে। শেখ বাড়ির দিকে গেলে পোড়ার গন্ধ ছড়িয়ে, ধ্বংসস্তূপ আর অর্ধদগ্ধ বসতবাড়ি চোখে পড়ে। অনেক পরিবারের শেষ সম্বলকেও পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে; অনেকের একবেলা খাবারের জোগাড় নেই। নিহত রাজিবের বাড়ির পেছনে দুই ডেক্সিতে একসঙ্গে সবাই মিলে খাবার রান্না করা হচ্ছিল।

    ক্ষতিগ্রস্তরা অভিযোগ করেছেন, ঘটনার দিন বিকেলে আরিফ শেঠ নামে এক যুবক মোটরসাইকেলে গেলে বিশ্বাস পরিবারের কিছু লোক দায়ের করে তাকে ফুলকুচি দিয়ে আঘাত করে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে শেখ ও বিশ্বাস পরিবারের লোকজনের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়ে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। স্থানীয়দের দাবি অনুসারে সাইদ বিশ্বাস ও সোহাগের নেতৃত্বে একদল লোক শেখ বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ চালায়।

    ক্ষতিগ্রস্ত লিয়াকত শেখ বলেন, “আগুন দিয়ে আমার সব শেষ করে দিয়েছে, কি খাবো জানি না। আমরা তো কারও সঙ্গে মারামারি করিনি।” মনোয়ারা বেগম জানিয়েছেন, স্ত্রী-স্বামীর অসুস্থতার মধ্যেও তাদের ধান ও অন্যান্য জিনিসপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। জয়নব বেগম বলেন, বাড়ি মেরামত করতে নেওয়া ৫০ হাজার টাকার ঋণ আর কিছু পশু ছিল, তা পুড়ে গেছে; প্রাণভয়ে আইনের আশায় আছেন।

    আবার কিছু স্থানীয়রা পুলিশ কর্তাদের আচরণকে নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। মোবাইল ফোনে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলার সময় পুলিশ ও কিছু দুর্বৃত্তের সঙ্গে সংঘর্ষে তাদের ওপরও নির্যাতন হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে; তারা পুলিশের বিরুদ্ধে নুরে আলম দারগা (এসআই) নামের এক কর্মকর্তার নেতৃত্বে তাঁরা সহায়ক ভূমিকা নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন। এসব অভিযোগ পুলিশ অস্বীকার করেছে না-এমনভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

    পুলিশ জানায়, সংঘর্ষের ঘটনাস্থলে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিস দ্রুত পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অভিযোগের কারণে সৌরভ বিশ্বাস (১৯) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিহত রাজিবের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাগেরহাট অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ শামীম হোসেন বলেছেন, কয়েকটি বসতবাড়ি ও দোকানে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট হয়েছে; অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে।

    চিতলমারী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আব্দুল ওয়াদুদ জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছানোর চেষ্টা করা হলেও আগুন নেভাতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে; তাদের হিসাব অনুসারে আনুমানিক ২০-২৫টি বসতঘর পুড়েছে। একযোগে চারটি ইউনিট কাজ করে প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।

    স্থানীয়দের অনেকে তাদের মূল্যবান জিনিসপত্র নিকটাত্মীয়দের বাড়িতে পাঠাচ্ছেন; তাতে করে অস্থায়ীভাবে অনেকেই নিরাপত্তা সংকটে পড়েছেন। পুরোনো জমি-সংক্রান্ত বিরোধ ও হত্যা-ঘটনার কারণে দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা ছিল বলে স্থানীয়রা জানান। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও জনজীবন অস্বস্তিতে আছে এবং দ্রুত আইনি তদন্ত ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানাচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।

  • পদ্মা বাসডুবিতে নিহতদের ঘটনায় সাকিব-তামিমসহ ক্রিকেটারদের শোকপ্রকাশ

    পদ্মা বাসডুবিতে নিহতদের ঘটনায় সাকিব-তামিমসহ ক্রিকেটারদের শোকপ্রকাশ

    পদ্মা নদীতে ঘটেছে সেই মর্মান্তিক বাসডুবি—ঘটনায় পুরো দেশ শোকাগ্রস্ত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্ধারকাজ ও স্বজনদের আহাজারির করুণ দৃশ্য দেখা যাচ্ছে; স্বাধীনতা দিবসের আগের দিন ঘটে যাওয়া এই ঘটনার ছবি ও বার্তা এখন অনেকের টাইমলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে।

    দেশের সাবেক ও সক্রিয় ক্রিকেটাররাও হতাহতদের জন্য শোকপ্রকাশ করেছেন। tamim ইকবাল তাঁর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দুর্ঘটনার একটি ছবি পোস্ট করে শোকশিবিরের কার্ডের মতো চিত্রটি শেয়ার করেছেন। ছবিতে কালো আবহ ও লেখা দেখা গেছে—’আমরা শোকাহত ও ২০২৬ সালের ২৫ মার্চকে স্মরণ করব।’ ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক মানুষকে দোয়ায় রাখছি। আল্লাহ তাদের পরিবারকে ধৈর্য ও আরোগ্য দিন।’

    সাকিব আল হাসানও ব্লগিং করেছেন, ‘গতকালকের মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গভীরভাবে মর্মাহত। নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকাহত পরিবারগুলোর প্রতি আন্তরিক সমবেদনা। নিখোঁজদের দ্রুত সন্ধান ও উদ্ধার হোক—এই প্রার্থনা রইল। আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেফাজত করুন।’

    নুরুল হাসান সোহানও ফেসবুকে শোক প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘ফেরিঘাটে আজকের মর্মান্তিক ঘটনাটি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। এই রাস্তাই আমারও চলাচলের—আজ হয়তো আমি সেখানে থাকতে পারতাম। আল্লাহ সবাইকে হেফাজত করুন। যারা স্বজন হারিয়েছেন, আল্লাহ তাদেরকে সহ্যের শক্তি দিন।’

    এলাকার বাজে খবরগুলো কেবল এটিই নয়—সম্প্রতি রেল ও লঞ্চ দুর্ঘটনার খবরও এসেছে, ফলে অনেকের ঈদযাত্রার আনন্দ কাঁদায় মিলেছে। লিটন দাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘দেশজুড়ে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার খবর দেখে গভীরভাবে মর্মাহত। এত মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে—এটা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। নিহতদের পরিবারের কষ্ট কল্পনাতীত।’ আর ক্রিকেটার রুবেল প্রশ্ন তুলেছেন, ‘কেন আমাদের দেশে এত দুর্ঘটনা? ঈদে কেন শোকের ছায়া মিশে যায়—এটা আমাদের অসচেতনতাই কি, নাকি অন্য কিছু?’

    প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছে, কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস গতকাল রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় পল্টুন ছিঁড়ে নদীতে পড়ে যায়। অনেক যাত্রী ফেরিতে ওঠার আগে বাস থেকে নেমে যাবায় তারা বেঁচে গেছেন; কেউ কেউ সাঁতরে তীর পর্যন্ত পৌঁছাতে পেরেছেন। তবুও অনেকে তাঁদের মা-বাবা, ভাই-বোন হারিয়েছেন। বর্তমানে উদ্ধারকর্মী ও স্থানীয়রা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত ২৩টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

    স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে তল্লাশি অব্যাহত রেখেছে এবং নিখোঁজদের সন্ধানে কাজ চালাচ্ছে। শোকস্তব্ধ এই মুহূর্তে দেশের মানুষের দোয়া ও সহমর্মিতা নিহত ও আহতদের পরিবারের প্রতি জমা হচ্ছে।

  • ইরান ঘোষণা: শত্রু বলে বিবেচিত দেশে কোনো ক্রীড়াবিদ বা দল পাঠানো হবে না

    ইরান ঘোষণা: শত্রু বলে বিবেচিত দেশে কোনো ক্রীড়াবিদ বা দল পাঠানো হবে না

    যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার পর ইরানের পাল্টা হামলা এখনও চলছে। প্রায় এক মাস ধরে চলমান এই উত্তেজনার মধ্যে ইরান কড়া সিদ্ধান্ত নিয়েছে — যেসব দেশের সঙ্গে শত্রুভাবাপন্ন সম্পর্ক আছে, সেসব দেশে তারা আর কোনো ক্রীড়াবিদ বা দল পাঠাবে না।

    ইরানের ক্রীড়া মন্ত্রণালয় গত রাতে জানায়, এটা কোনো একাধিক খেলায় সীমাবদ্ধ নয়; সব ধরনের জাতীয় ও ক্লাব স্তরের ক্রীড়াবিদ এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘যারা শত্রু এবং ইরানের খেলোয়াড় ও দলের সদস্যদের নিরাপত্তা দিতে পারবে না, সেসব দেশে জাতীয় ও ক্লাব দল পাঠানো হবে না। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বলবৎ থাকবে।’’

    এই ঘোষণার প্রেক্ষিতে একাংশ আন্তর্জাতিক ম্যাচের ভবিষ্যত অনিশ্চিত। উদাহরণস্বরূপ, সৌদি আরবে আগামী মাসে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি ক্লাবের মুখোমুখি হওয়ার কথা আছে। এমন সময়ে ইরানের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ম্যাচগুলো অন্যত্র সরানোর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব কি না, সে বিষয়টি এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনকে জানানোর দাবি করা হয়েছে। তবে ‘শত্রু দেশ’ বলতে কাকে বোঝানো হচ্ছে, তা বিবৃতিতে নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করা হয়নি।

    বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ নিয়েও শঙ্কা বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের সম্পর্ক ক্রমেই তাড়াতাড়ি খারাপ হচ্ছে বলে বিশ্বকাপ লাইভ ভেন্যু সম্পর্কে অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত মিলেছে। এবারের বিশ্বকাপে ইরানের তিনটি ম্যাচের দুইটি লস অ্যাঞ্জেলেসে এবং একটি সিয়াটলে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা আছে। লস অ্যাঞ্জেলেসে বহুলসংখ্যক প্রবাসী ইরানি থাকার কারণে মাঠের ভেতর-বাইরে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরির আশঙ্কা করা হচ্ছে—এই নিয়েই ইরান মেক্সিকোতেও খেলতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ ইস্যুতে এক সময় একোরকম এবং পরে অন্যোরকম বক্তব্য দিয়েছেন—কখনোwelcoming, কখনো অংশ না নেওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন। তাতে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। অন্যদিকে ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ানি ইনফান্তিনো বলছেন সূচি অনুযায়ী বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে, তবে ইরানের অংশগ্রহণ কবে নিশ্চিত হবে তা সময়ই বলবে। এবারের বিশ্বকাপ প্রথমবার ৪৮ দল নিয়ে আয়োজন করা হচ্ছে।

    ইরানের সম্পর্ক শুধু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে খারাপ নয়; অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গেও সম্পর্কstrained রয়েছে। এছাড়া নারী ফুটবলে গত ৮ মার্চ ফিলিপাইনের কাছে হেরে ইরানের এশিয়ান কাপের পথচলা শেষ হয়। সেইসময় যুদ্ধ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে—নারীরা বাড়ি ফিরলেও কি নিরাপদে ফিরবেন? তখন অস্ট্রেলিয়ার প্রবাসী ইরানি সমর্থকরা তাদের সেখানে আশ্রয় দেওয়ার আহ্বান জানায় এবং কিছু জায়গায় ইরান সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভও হয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টও অস্ট্রেলিয়া সরকারের কাছে ইরানের ফুটবলারদের আশ্রয় দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। পরে সাত নারী ফুটবলার আশ্রয় নিলেও পাঁচজনই দেশে ফিরে যান।

    সংক্ষেপে, বর্তমান কূটনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত উত্তেজনা আন্তর্জাতিক ক্রীড়া স্পর্ধা ও বিভিন্ন ম্যাচের ভেন্যু নির্ধারণে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। ইরানের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা ও দলীয় ভ্রমণের পরিকল্পনায় নতুন অনিশ্চয়তা যোগ করেছে।

  • বিয়ের আট মাসেই প্রতারণা, আলাদা হলেন মৌসুমী

    বিয়ের আট মাসেই প্রতারণা, আলাদা হলেন মৌসুমী

    জনপ্রিয় অভিনেত্রী মৌসুমী হামিদের সংসার ভেঙে গেছে। দুই বছর আগে লেখক-নাট্যকার আবু সাইয়িদ রানার সঙ্গে পারিবারিক সিদ্ধান্তে বিয়ে করলেও পরকীয়ার অভিযোগে দাম্পত্য টিকিয়ে রাখা যায়নি—এই খবরটি সংবাদমাধ্যমকে নিজেই নিশ্চিত করেছেন মৌসুমী।

    প্রাথমিকভাবে বিষয়টি অনস্বীকার করলেও পরে তিনি মুখ খুলে জানান, ‘‘বিয়ের আট মাসের মাথায় প্রথম প্রতারণা করে। এরপর আরও কয়েকবার রানার প্রতারণা ধরা পড়ে। সংসারের কথা ভেবে আমি সেগুলো এড়িয়ে যাই। কিন্তু এবারের বিষয়টা বেশ সিরিয়াস, প্রমাণসহ ধরা পড়েছে। তাই এবার আর আমার পক্ষে মানা সম্ভব ছিল না। আমার মনে হয়েছে, যথেষ্ট। আর নয়। এর চেয়ে বরং আলাদা থাকাই ভালো।’’

    অভিনেত্রী জানান, শেষবারের ঘটনা এমন প্রমাণসহ সামনে আসে যে সম্পর্ক চালিয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল না। অপর দিক থেকে, রানা সম্পর্কিত বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘মাস চারেক ধরে আমরা আলাদা থাকছি। একসঙ্গে থাকতে পারছি না, তাই আলাদা থাকা। এর বাইরে আপাতত এ বিষয়ে কিছুই বলতে চাইছি না।’’

    রানা ও মৌসুমীর বিবাহ হয় ২০২৪ সালের ১২ জানুয়ারি। তখন মৌসুমী জানিয়েছিলেন, রানার সঙ্গে তার পরিচয় ছিল দুই বছরের, এরপর দুই পরিবারের সম্মতিতে তারা বিয়ে করেছেন।

    জানালা খুলে বললে মৌসুমী বিনোদন জগতে লাক্স সুপারস্টার প্রতিযোগিতার মাধ্যমে পরিচিত হন। পরবর্তী সময়ে ছোটপর্দা, চলচ্চিত্র ও ওটিটি প্রযোজনায় কাজ করে তিনি পরিচিতি ও প্রশংসা অর্জন করেন।

  • হলে প্রযুক্তিগত বিঘ্নের পরে অনলাইনে ছড়াচ্ছে শাকিব খানের ‘প্রিন্স’

    হলে প্রযুক্তিগত বিঘ্নের পরে অনলাইনে ছড়াচ্ছে শাকিব খানের ‘প্রিন্স’

    নাটকীয় প্রেক্ষাগৃহ বিঘ্ন কাটাতেই নতুন সংকটে পড়েছে শাকিব খান অভিনীত আলোচিত সিনেমা ‘প্রিন্স: ওয়ানস আপন আ টাইম ইন ঢাকা’। হলগুলোতে প্রদর্শনী বন্ধ কিংবা বিঘ্নের কারণে দর্শকরা অসন্তুষ্ট হয়ে উঠেছেন, আর এবার বিভিন্ন দৃশ্য অনলাইনে ভাইরাল হয়ে সিনেমাটির পাইরেসির আশঙ্কা বাড়িয়েছে।

    সার্ভার এবং প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে দেশের কয়েকটি হলে নির্ধারিত সময়ে সিনেমা প্রদর্শন করা সম্ভব হয়নি। ফলত টিকিট কেটে আসা দর্শকরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন; কোথাও কনফিউশন থেকে উত্তেজনা এবং সংবাদ অনুযায়ী কিছু স্থানে ভাঙচুরের ঘটনা পর্যন্ত ঘটেছে।

    এই অবস্থার মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুকে সিনেমাটির একাধিক দৃশ্য ছড়াতে দেখা গেছে। এসব ভিডিও মূলত প্রেক্ষাগৃহে বসে মোবাইল ফোনে ধারণ করা ‘হল প্রিন্ট’, যা আইনি কিংবা নৈতিকভাবে অননুমোদিত এবং পাইরেসির ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায়। অনলাইনে দ্রুত ছড়ানোর ফলে ছবিটির বাণিজ্যিক স্বার্থ ও শিল্পীর প্রতিশ্রুতিই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

    পরিচালক আবু হায়াত মাহমুদের এই সিনেমাটি মুক্তির আগে থেকেই দর্শকদের মধ্যে খুবই অপেক্ষিত ছিল। এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি নির্মাতা, প্রযোজক এবং প্রদর্শক মহলের জন্য বড় ধাক্কা বলে বিবেচিত হচ্ছে। আনুষ্ঠানিক ভাবে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা এখন দেখার বিষয়।

    চলচ্চিত্রটি নব্বইয়ের দশকের ঢাকার গ্যাংস্টার কালা জাহাঙ্গীরের জীবন থেকে অনুপ্রাণিত। মেজবাহ উদ্দিন সুমনের গল্প ও চিত্রনাট্যে তৈরি এই ছবিতে শাকিব খান কেন্দ্রীয় ভূমিকায়। প্রযোজক শিরিন সুলতানার বড় বাজেটের প্রযোজনায় শাকিব খানের বিপরীতে প্রথমবারের মতো এতে দেখা গেছে তাসনিয়া ফারিণকে। এছাড়া জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু, ইন্তেখাব দিনার, রাশেদ মামুন অপু ও ড. এজাজ গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ছবিতে আন্ডারওয়ার্ল্ড ও সেই সময়ের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট উভয়কেই তুলে ধরা হয়েছে।

    বর্তমানে প্রয়োজন প্রেক্ষাগৃহে প্রযুক্তিগত তত্ত্বাবধান জোরদার করা এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোতে দ্রুত তদন্ত করে পাইরেসি প্রতিহত করা, যাতে ছবি দেখতে আগ্রহী দর্শকদের অভিজ্ঞতা বজায় থাকে এবং নির্মাতা-প্রযোজকদের অর্থনৈতিক ক্ষতি রোধ করা যায়।