Blog

  • বিএনপি বহিষ্কার করল ৫৯ বিদ্রোহী প্রার্থী

    বিএনপি বহিষ্কার করল ৫৯ বিদ্রোহী প্রার্থী

    দলীয় সিদ্ধান্ত না মানায় আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় বিএনপি ৫৯ জন বিদ্রোহী প্রার্থীকে দল থেকে বহিস্কার করেছে। বুধবার এই সিদ্ধান্তের তথ্য প্রকাশ করা হয় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বহিষ্কৃত নেতাদের দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব স্তরের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। এর আগেই ৩০ ডিসেম্বর বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় ১১ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।

    নীচে বিভাগভিত্তিক বহিষ্কৃত তালিকা দেওয়া হল:

    রংপুর বিভাগ: দিনাজপুর-২ আ ন ম বজলুর রশিদ, দিনাজপুর-৫ এ জেড এম রেজয়ানুল হক এবং নীলফামারী-৪ রিয়াদ আরাফান সরকার রানা।

    রাজশাহী বিভাগ: নওগাঁ-৩ পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনি, নাটোর-১ তাইফুল ইসলাম টিপু ও ডা. ইয়াসির আরশাদ রাজন, নাটোর-৩ দাউদার মাহমুদ, রাজশাহী-৫ ইসফা খাইরুল হক শিমুল ও ব্যারিস্টার রেজাউল করিম, পাবনা-৩ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম এবং পাবনা-৪ জাকারিয়া পিন্টু।

    খুলনা বিভাগ: কুষ্টিয়া-১ নুরুজ্জামান হাবলু মোল্লা, নড়াইল-২ মনিরুল ইসলাম, যশোর-৫ অ্যাডভোকেট শহিদ ইকবাল, সাতক্ষীরা-৩ ডা. শহীদুল আলম, বাগেরহাট-১ ইঞ্জিনিয়ার মাসুদ এবং বাগেরহাট-৪ প্রার্থী খায়রুজ্জামান শিপন।

    বরিশাল বিভাগ: বরিশাল-১ আব্দুস সোবহান এবং পিরোজপুর-২ মোহাম্মদ মাহমুদ হোসেন।

    ঢাকা বিভাগ: নারায়ণগঞ্জ-১ (সাবেক সদস্য ও জেলা বিএনপি নেতা) মোহাম্মাদ দুলাল হোসেন, নারায়ণগঞ্জ-২ মো. আতাউর রহমান খান আঙুর, নারায়ণগঞ্জ-৩ অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম, টাঙ্গাইল-১ মোহাম্মাদ আলী, টাঙ্গাইল-৩ লুৎফর রহমান খান আজাদ, টাঙ্গাইল-৫ ফরহাদ ইকবাল। এছাড়া নরসিংদী-৫ মো. জামাল আহমেদ চৌধুরী, মুন্সিগঞ্জ-১ মো. মুমিন আলী ও মুন্সিগঞ্জ-৩ প্রার্থী মো. মহিউদ্দিনকেও বহিষ্কার করা হয়েছে।

    ময়মনসিংহ বিভাগ: কিশোরগঞ্জ-১ রেজাউল করিম চুন্নু, কিশোরগঞ্জ-৫ শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল, ময়মনসিংহ-১ সালমান ওমর রুবেল, ময়মনসিংহ-১০ এবি সিদ্দিকুর রহমান, ময়মনসিংহ-১১ মো. মোর্শেদ আলম, নেত্রকোণা-৩ মো. দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া, শেরপুর-৩ মো. আমিনুল ইসলাম বাদশাহ। মাদারিপুর-১ থেকে লাভলু সিদ্দিকী ও কামাল জামাল নুরুউদ্দিন মোল্লা, মাদারিপুর-২ মিল্টন বৈদ্য, রাজবাড়ী-২ নাসিরুল হক সাবু, গোপালগঞ্জ-২ এম এস খান মঞ্জু ও সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, গোপালগঞ্জ-৩ হাবিবুর রহমান হাবিবও বহিষ্কার তালিকায় 名前।

    সিলেট বিভাগ: সুনামগঞ্জ-৩ আনোয়ার হোসেন, সুনামগঞ্জ-৪ দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন, সিলেট-৫ মামুনুর রশীদ (চাকসু), মৌলভীবাজার-৪ মহসিন মিয়া মধু এবং হবিগঞ্জ-১ শেখ সুজাত মিয়া।

    কুমিল্লা বিভাগ: ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ কামরুজ্জামান মামুন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ কাজী নাজমুল হোসেন তাপস, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ কৃষিবিদ সাইদুজ্জামান কামাল, কুমিল্লা-২ আব্দুল মতিন, কুমিল্লা-৭ আতিকুল আলম শাওন এবং চাঁদপুর-৪ এম এ হান্নান।

    চট্টগ্রাম বিভাগ: চট্টগ্রাম-১৪ মিজানুল হক চৌধুরী, শফিকুল ইসলাম রাহী, চট্টগ্রাম-১৬ লিয়াকত আলী চেয়ারম্যান, নোয়াখালী-২ কাজী মফিজুর রহমান, নোয়াখালী-৬ ফজলুল আজীম ও নোয়াখালী-৬ প্রার্থী তানবীর উদ্দীন রাজীব।

    বিএনপির বিজ্ঞপ্তিতে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা ও সিদ্ধান্ত মানার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। দল জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ বা নিয়মভঙ্গ করলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হবে।

  • ইতিহাসের সর্বোচ্চ দামে সোনা: এক ভরি ২,৪৪,১২৮ টাকা

    ইতিহাসের সর্বোচ্চ দামে সোনা: এক ভরি ২,৪৪,১২৮ টাকা

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) জানিয়েছে, দেশের স্থানীয় বাজারে সোনার দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। সংগঠনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৫,২৪৯ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ানো হয়েছে, ফলে সবচেয়ে ভালো মানের সোনা (২২ ক্যারেট) এক ভরিতে ২,৪৪,১২৮ টাকা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি দেশের ইতিহাসে সোনার সর্বোচ্চ রেকর্ড দাম।

    বাজুসের বিজ্ঞপ্তি মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) প্রকাশ করা হয় এবং নতুন এই দাম বুধবার (২১ জানুয়ারি) থেকে কার্যকর হবে। সংগঠনটি বলেছে, বৈশ্বিক বাজারে বিশুদ্ধ স্বর্ণ (পিওর গোল্ড) এবং অন্যান্য বাজারগত চাপের কারণে স্থানীয় বাজারে দাম বাড়ার this প্রভাব পরেছে।

    গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি-র তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৪,৭৪৫ ডলারের ওপরে উঠে গেছে, যা স্থানীয় মূল্য বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

    নতুন ঘোষিত দর অনুযায়ী এক ভরি সোনার মূল্য:

    – ২২ ক্যারেট: ২,৪৪,১২৮ টাকা

    – ২১ ক্যারেট: ২,৩২,৯৮৮ টাকা

    – ১৮ ক্যারেট: ১,৯৯,৭৪৬ টাকা

    – সনাতন পদ্ধতি অনুযায়ী: ১,৬৩,৮২১ টাকা

    সোনার সঙ্গে সঙ্গে রূপার দামও বেড়েছে। নতুন দর অনুযায়ী রূপার মূল্য প্রতিভর:

    – ২২ ক্যারেট: ৬,৫৯০ টাকা

    – ২১ ক্যারেট: ৫,২৯৯ টাকা

    – ১৮ ক্যারেট: ৫,৪২৪ টাকা

    – সনাতন পদ্ধতি অনুযায়ী: ৪,০৮২ টাকা

    বাজুস ভবিষ্যতে বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী আবার দামে পরিবর্তন আনার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেছে। সাধারণ ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে এই শক্তিশালী উঠানামা মাথায় রেখে লেনদেন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

  • রেকর্ড: ভরিতে সোনার দাম ছুঁল ২ লক্ষ ৫২ হাজার ৪৬৭ টাকা

    রেকর্ড: ভরিতে সোনার দাম ছুঁল ২ লক্ষ ৫২ হাজার ৪৬৭ টাকা

    দেশের বাজারে একদিনের ব্যবধানে আবারও সোনার দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। বাজুস জানিয়েছে, প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ 8,340 টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি হওয়ায় সবচেয়ে ভালো মানের সোনার দাম 252,467 টাকা ছুঁয়ে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

    বাজুসের এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বুধবার, ২১ জানুয়ারি, এবং নতুন মূল্য বৃহস্পতিবার ২২ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। সংগঠনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে যে বৈশ্বিক বাজারে বিশুদ্ধ সোনার (পিওর গোল্ড) দামের উত্থানের প্রভাব স্থানীয় বাজারে পড়ে এই মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে।

    গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি নামের বিশ্বস্ত ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ীও বৈশ্বিকভাবে স্বর্ণের দর বেড়েছে; সেখানে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম 4,800 ডলারের উপরে উঠে গেছে, যা স্থানীয় স্থিতি নিয়েও প্রভাব ফেলেছে।

    নতুন ঘোষণা অনুযায়ী বিভিন্ন মানের সোনার সর্বশেষ মূল্যগুলো হলো:

    – ২২ ক্যারেট (সর্বোচ্চ মান): প্রতি ভরি 252,467 টাকা

    – ২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি 240,978 টাকা

    – ১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি 206,569 টাকা

    – সনাতনী পদ্ধতির সোনা: প্রতি ভরি 169,653 টাকা

    সোনা ছাড়াও রুপার দামও বাড়িয়েছে বাজুস। রুপার নতুন মূল্য হলো:

    – ২২ ক্যারেট: প্রতি ভরি 6,882 টাকা

    – ২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি 6,532 টাকা

    – ১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি 5,599 টাকা

    – সনাতনী পদ্ধতির রুপা: প্রতি ভরি 4,200 টাকা

    বাজুসের এই নতুন মূল্য তালিকা ২২ জানুয়ারি থেকে ঢাকাসহ দেশের স্থানীয় বাজারগুলোতে কার্যকর হবে। ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের জন্য মূল্য ওঠানামা সম্পর্কে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

  • করাচির গুল প্লাজার দোকান থেকে ৩০ দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬১

    করাচির গুল প্লাজার দোকান থেকে ৩০ দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬১

    পাকিস্তানের বাণিজ্যিক রাজধানী করাচির বিখ্যাত গুল প্লাজার একটি দোকান থেকে ৩০ জন দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। করাচি পুলিশ জানিয়েছে, এদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৫ জনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

    করাচির দক্ষিণ জোনের উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক আসাদ রাজা বুধবার এক ব্রিফিংয়ে বলেন, “গুল প্লাজার দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত ‘দুবাই ক্রোকারিজ’ নামের দোকান থেকে ৩০টি মরদেহ পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে ১৫ জনের নাম-পরিচয় জানা গেছে; বাকিদের পরিচয় উদ্ধারে কাজ চলছে।”

    এই ৩০টি মরদেহ উদ্ধার হওয়ার ফলে গুল প্লাজায় মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬১-এ। তিনি আরও জানান, এখনও ৪০-এর বেশি লোক নিখোঁজ রয়েছে এবং হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    ঘটনাটি ঘটেছিল গত ১৭ জানুয়ারি শনিবার। প্রথমে প্লাজার বেসমেন্টে আগুন লাগে এবং এরপর তা অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে পুরো পাঁচতলা শপিং কমপ্লেক্সে ছড়িয়ে পড়ে। প্রধান সূত্রগুলো বলছে, আগুনের সূত্রপাত বড় সম্ভাব্যতায় বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের প্রায় ২৪ ঘণ্টা সময় লেগেছে।

    ১৯৮০ সালে নির্মিত এই পাঁচতলা শপিং কমপ্লেক্সটির আয়তন একটি ফুটবল মাঠের চেয়েও বড় এবং এখানে প্রায় ১,২০০টিরও বেশি দোকান ছিল। আগুনে এসব দোকানের অধিকাংশই ভস্মীভূত হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সূত্রে বলা হচ্ছে, করাচিতে এত ব্যাপক মাত্রার আগুন আগে দেখা যায়নি।

    ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ ওই কমপ্লেক্স পরিচালনায় উদাসীনতাকেই বড়হারে দায়ী করেছে হতাহতের কারণ হিসেবে। করাচি ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গুল প্লাজায় মোট ফটক বা গেটের সংখ্যা ছিল ২৬টি, কিন্তু চলাচলের জন্য নির্ধারিত দুটি বাদে বাকি সব গেট প্রায় সবসময় বন্ধ রাখা হতো। আগুন লাগার সময়ও ওই多数 ফটক খোলা ছিল না, ফলে শত শত মানুষ ভবনটিতে আটকা পড়ে। পাশাপাশি মার্কেটের অগ্নি নির্বাপক যন্ত্রপাতিও ব্যবহারের অনুপযোগী ছিল।

    ব্রিফিংয়ে উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক আসাদ রাজা আরও বলেন, “প্রাথমিক অনুসন্ধানে আমরা জানতে পেরেছি কেউ কেউ আগুন থেকে বাঁচার চেষ্টা করে দোকানের শাটারগুলো বন্ধ করে দিয়েছিলেন; পরে সেটিই তাদের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। নিহতদের মধ্যে দোকান মালিক ও কর্মচারীরাও রয়েছেন।”

    করাচি পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গুল প্লাজা অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার তদন্তে সিন্ধ রাজ্য সরকার একটি তদন্তকমিটি গঠন করেছে এবং সেই কমিটিই ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে, জানিয়েছেন করাচি পুলিশ প্রধান ও কমিশনার সৈয়দ হাসান নাকভি।

    এই ঘটনার খবর প্রথম এসেছিল এএফপি সূত্রে। উদ্ধারকার্য এবং তদন্ত চলছে, বর্তমান তথ্য সংগ্রহের ওপর ভিত্তি করে সংখ্যা ও বিবরণ পরিবর্তিত হতে পারে।

  • শিনজো আবের হত্যায় অভিযুক্তকে আজীবন কারাদণ্ড

    শিনজো আবের হত্যায় অভিযুক্তকে আজীবন কারাদণ্ড

    জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবেকে গুলি করে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত তেতসুইয়া ইয়ামাগামিকে নারা ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট আজীবন কারাদণ্ড দিয়েছে, বুধবার রায় ঘোষণা করে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

    ঘটনাটি হয়েছিল ২০২২ সালের জুলাইয়ে। জাপানের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর নারা-য়ে এক নির্বাচনী জনসভায় বক্তৃতার সময় হাতে তৈরি বন্দুক দিয়ে আবে-কে লক্ষ্য করে গুলি করেন ইয়ামাগামি; ঘটনাস্থলেই তাকে গ্রেফতার করা হয়। আবে মারা যান; মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৬৭।

    বিচালনার শুরুতেই—অক্টোবরে—ইয়ামাগামি হত্যার দায় স্বীকার করেন, ফলে দোষী সাব্যস্ত হওয়া অনস্বীকার্য ছিল। কিন্তু শুনানিতে সবাই যে ব্যাপারে নজর রেখেছিল তা ছিল ঘটনাটির তীব্রতার ওপর দিতে হবে কি না। রায় ঘোষণার সময় বিচারক শিনিচি তানাকা গুলির ঘটনায় ‘জঘন্য’ শব্দটি ব্যবহার করে বলেন, বড় জনসমাবেশে বন্দুক ব্যবহার করা অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং এটি একটি দুষ্কৃতিমূলক অপরাধ।

    পক্ষে থাকা কৌঁসুলিরা মৃত্যুদণ্ড চেয়ে নয়—তারা ইয়ামাগামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়ার দাবি করেছিলেন। তারা আবে—জাপানের দীর্ঘসময় ক্ষমতায় থাকা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী—কে নৃশংসভাবে হত্যাকে ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর যুগের এক বহুল পরিমাণে মারাত্মক ও নজিরবিহীন ঘটনা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

    অপরদিকে ইয়ামাগামির আইনজীবীরা আদালতে তার কাজের পেছনে পারিবারিক সমস্যাসহ ইউনিফিকেশন চার্চ সম্পর্কিত সমস্যা থাকার কথা তুলে ধরে ২০ বছরের কম রাজনৈতিক কারাদণ্ড দাবি করেন।

    রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে কি না—তা নিয়ে আইনজীবীরা জানিয়েছে, তারা ইয়ামাগামির সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে পরে সিদ্ধান্ত নেবেন। হত্যাকান্ডটি তখন দেশটিকে দীর্ঘ সময় স্তব্ধ করে দিয়েছিল এবং রাজনৈতিক নিরাপত্তা ও জনসাধারণের নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক ছড়িয়ে দিয়েছিল।

  • রকিবুল বকুল: আধুনিক প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণ দিয়ে তরুণদের বেকারত্ব দূর করা হবে

    রকিবুল বকুল: আধুনিক প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণ দিয়ে তরুণদের বেকারত্ব দূর করা হবে

    দেশের উন্নয়ন এবং সমৃদ্ধির অন্যতম চালিকা শক্তি তরুণ সমাজ — এই বিশ্বাস ব্যক্ত করেছেন বিএনপি কেন্দ্রীয় ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৩ (ধানের শীষ) প্রার্থী আলহাজ্ব রকিবুল ইসলাম বকুল। তিনি বলেন, তরুণদের খেলাধুলায় উদ্বুদ্ধ করে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ রাখা এবং আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষতায় প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের সফল কর্মজীবনে পরিণত করা হবে। এর মাধ্যমে বেকারত্ব কমানো সম্ভব হবে।

    গতকাল (বুধবার) আড়ংঘাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সেন্টারবাসীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রকিবুল ইসলাম বকুল এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য ছিল বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করা।

    আয়োজক সদস্য শেখ মনিরুল ইসলাম সভাপতিত্ব করেন। দৌলতপুর থানা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক মতলেবুর রহমান মিতুল মাহফিলটির সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ শেখ সাদী, সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক মোঃ চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেন এবং সাবেক ইমাম মাওলানা মোঃ মোদাছের হোসেন।

    অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক শিক্ষক দুলাল চন্দ্র সরদার, বিশিষ্ট সমাজসেবক এস এম সফিক, শেখ আবু তালেব, শেখ জাফর ইমামসহ থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের বিএনপি নেতারা এবং এলাকার বিপুল সংখ্যক সাধারন মানুষ।

    সমাবেশ শেষে বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। রকিবুল বকুল অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া সকলের সঙ্গে কথা বলে তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে তার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

  • গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে: নজরুল ইসলাম মঞ্জু

    গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে: নজরুল ইসলাম মঞ্জু

    বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক, ভোটাধিকারভিত্তিক, নিরাপদ ও সশ্রদ্ধ সা¤প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়া দলের মূল লক্ষ্য। দেশের গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও বাকস্বাধীনতা পুনরুদ্ধার করতে স্বকীয় শহীদ সহযোদ্ধাদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হবে—তারা যে ত্যাগ করেছেন তা বৃথা যেতে দেয়া হবে না, তিনি বলেন।

    নজরুল ইসলাম মঞ্জু গত বুধবার দিনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন। সকাল ১০টায় তিনি খুলনা মডেল স্কুলের প্রধান শিক্ষক সহ সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং মতবিনিময় করেন। এরপর বেলা সাড়ে ১১টায় খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা প্রশাসক আ. স. ম. জমশেদ খোন্দকার তাকে খুলনা-২ আসনের জন্য ধানের শীষ প্রতীক প্রদান করেন।

    দুপুর ১২টায় হোটেল ক্যাসেল সালামে তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক প্রতিনিধির সঙ্গে মতবিনিময় করেন। বিকেলের পর রূপসা স্ট্যান্ড রোডে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের আয়োজনে অনুষ্ঠিত শ্রমিক সমাবেশ ও মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন তিনি। দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা মুজিবর রহমান।

    বাদ মাগরিব খুলনা বড় বাজার ব্যবসায়ী ঐক্য সমন্বয় পরিষদের আয়োজিত মতবিনিময় সভায় (সভাপতি: গোপী কিষণ মুন্ধড়া, পরিচালনায়: মনিরুল ইসলাম মাসুম) প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মনজু জানান, জনগণ দীর্ঘ ১৭ বছর ভোটকেন্দ্রে নিরাপদে গিয়ে ভোট দেয়নি; এখন মানুষ নির্ভয়ে ভোট দিতে চায় এবং পছন্দমতো প্রার্থী বেছে নিতে চায়। অতীতের মতো ভোটাধিকার হরণকে তিনি ভাষায় তীব্র সমালোচনা করেন এবং বলেন, তা ফিরিয়ে আনতে হবে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে।

    নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছিল; যারা হত্যা করেছেন, তারা বিএনপিকে ধ্বংস করতে চাইছিল—তারা বাংলাদেশকেও ধ্বংসের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু বেগম জিয়া তাদের চেষ্টা ব্যর্থ করে বিএনপিকে দেশে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করে জনগণের নির্বাচিত সরকার গঠন করাই তাদের এই মুহূর্তের প্রধান লক্ষ্য, তিনি জানান।

    অনুষ্ঠানগুলিতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন রফিক মোড়ল এবং গীতা পাঠ করেন আকাশ ব্যনার্জী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগর বিএনপি সভাপতি এড. শফিকুল আলম মনা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুজ্জামান মনি, মহানগর সাধারন সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন, নার্গিস আলী ও জাফরউল্লাহ খান সাচ্চু সহ অনেকে। এছাড়া শহরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা কর্মীবৃন্দও সভাগুলোতে অংশ নেন।

    অপর দিকে দুপুর সাড়ে ১২টায় মহানগর বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে খুলনা-২ আসনের নির্বাচনী কার্যক্রম সুচারুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে গঠিত উপ-কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সভাপতিত্ব করেন মহানগর বিএনপি সভাপতি এড. শফিকুল আলম মনা এবং পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন। সভায় উপ-কমিটির আহ্বায়ক, যুগ্ম আহ্বায়ক, সদস্য সচিব ও অন্যান্য সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    সভায় সিদ্ধান্ত হয় আগামী ২২ জানুয়ারি সকাল ১১টায় নগরীর ফেরিঘাট মোড় থেকে প্রচার কার্যক্রম শুরু করে ধানের শীষ প্রতীকের লিফলেট বিতরণ করা হবে এবং সকল স্তরের নেতাকর্মীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সবাইকে আহ্বান জানানো হয়।

  • উপ-প্রেস সচিব: একটা বিশ্বকাপ না খেললেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বন্ধ হবে না

    উপ-প্রেস সচিব: একটা বিশ্বকাপ না খেললেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বন্ধ হবে না

    বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক চলছে। নিরাপত্তার উদ্বেগ উত্থাপন করে বিসিবি আগেই ঘোষণা দিয়েছে যে দল ভারত যাওয়া থেকে বিরত থাকবে। আইসিসি সেই সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ — তারা স্পষ্ট জানিয়েছে, খেলতে হলে ম্যাচগুলোই ভারতেই হবে এবং সূচিতে পরিবর্তন গ্রহনযোগ্য নয়। আশানুরূপ প্রতিক্রিয়া না পালে আইসিসির পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে এক দিনের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে বলা হয়েছে; তা না হলে দলকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দিয়ে অন্য কেউ (যেমন স্কটল্যান্ড) নেওয়ার কথাও চলছে।

    এই প্রেক্ষাপটে টেলিভিশন আলোচনায় প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার কড়া অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘অস্ট্রেলিয়া ২০০৩ বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কা খেলতে যায়নি, ইংল্যান্ড জিম্বাবুয়েতে খেলতে যায়নি, নিউজিল্যান্ড কানাডায় খেলতে যায়নি — তাতে তাদের ক্রিকেট থেমে গিয়েছে কি? যদি বাংলাদেশ একটা বিশ্বকাপ না খেলেই, তাহলে আমাদের ক্রিকেট বন্ধ হয়ে যাবে?’’ তাঁর এই বক্তব্যে তিনি নিরাপত্তার স্বার্থে সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার নিয়ে জোর দেন এবং দেশীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পক্ষে মত প্রকাশ করেন।

    সরকারও বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে দেখছে। যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল আজ বিকেল ৩টায় রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বিশ্বকাপ দলে থাকা ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। সেখানে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে এবং অবশেষে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে তা নির্ধারণের চেষ্টা করা হবে।

    বিসিবি আগেই আইসিসিকে একটি চিঠি পাঠিয়ে জানিয়েছে যে নিরাপত্তার কারণে ভারতে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ এবং বাংলাদেশের ম্যাচগুলো অন্যত্র (যেমন শ্রীলঙ্কা) আয়োজনের অনুরোধ করেছে। তবে আইসিসি আত্মবিশ্বাসী; তাদের নিরাপত্তা মূল্যায়নে কোনো বড় ঝুঁকি পাওয়া যায়নি, ফলে পুরো সূচি বদলানো সম্ভব নয় বলে তারা জানিয়েছে। তাদের যুক্তি ছিল, সূচি বদলালে টুর্নামেন্টের নিরপেক্ষতা ও মর্যাদা হুমকিতে পড়বে।

    বিসিবি ও সরকারের মধ্যে যে বিতর্ক ও বৈঠক চলছে, তার ফলটাই আগামী কয়েক ঘণ্টায় খুলে যাবে — চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কাকে অনুসরণ করবে, বিসিবি ও খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগ নাকি আইসিসির অনমনীয় সময়সীমাই চূড়ান্ত করবে। সেক্ষেত্রে দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরাও অনিশ্চয়তার মধ্যে থেকে সিদ্ধান্তের প্রতীক্ষায় রয়েছেন।

  • বাংলাদেশ খেলতে না পারলে পাকিস্তানও বিশ্বকাপ বর্জনের ইঙ্গিত

    বাংলাদেশ খেলতে না পারলে পাকিস্তানও বিশ্বকাপ বর্জনের ইঙ্গিত

    পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের খবরে বলা হয়েছে—বাংলাদেশ যদি ২০২৬ সালের আইসিসি পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য ভারতে যাওয়ার অনুরোধ প্রত্যাহার করে টুর্নামেন্ট বর্জন করে, তাহলে পাকিস্তানও একই পথে হাঁটতে পারে।

    জিও নিউজের সূত্রে জানা গেছে, নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাদের ম্যাচগুলো ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় সরানোর আবেদন করেছিল। যদি সেই অনুরোধ মেনে নেওয়া না হয়, তাহলে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়াতে পারে এবং সেই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানও টুর্নামেন্ট বর্জনের সিদ্ধান্ত নিতে পারে—এমন ইঙ্গিত পাঠানো হয়েছে।

    বিসিবি বৃহস্পতিবার জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে আলোচনা করে ভারতের বিরুদ্ধে দল পাঠানো নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। সূত্রের খবর, খেলোয়াড়দের বড় অংশ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের পক্ষে, কিন্তু শেষ মুহূর্তে বোর্ড যদি সরে যায় তবে পাকিস্তানও একই সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে বলা হচ্ছে।

    বিগত সময়ে রাজনীতিকভাবে ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্কের উত্তেজনা ক্রিকেটেও প্রভাব ফেলেছে। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়—আগামী আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের সঙ্গে চুক্তি থাকলেও বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে পরে স্কোয়াড থেকে বাদ দেয়া হয়েছিল; এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে আইপিএলের সম্প্রচার স্থগিত করা হয়। এসব ঘটনার প্রেক্ষিতেই বিসিবি নিজেদের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের দাবি জানিয়েছে।

    আইসিসি জনপ্রতিনিধিদের এক বোর্ড সভায় বিসিবির আবেদন খারিজ করে বলে জানানো হয়েছে। আইসিসি বলেছে—নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী টুর্নামেন্টই অনুষ্ঠিত হবে; কোনো বিশ্বাসযোগ্য নিরাপত্তা হুমকি না থাকলে সূচি পরিবর্তন ভবিষ্যৎ টুর্নামেন্টগুলোর জন্য বিপজ্জনক নজির গড়বে। আইসিসি জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়—৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ—ই ভারত ও শ্রীলঙ্কায় বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে এবং বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারতেই আয়োজন করা হবে।

    আইসিসি বোর্ডের ভিডিও কনফারেন্স হওয়ার একদিন পরই এই সিদ্ধান্ত উত্থাপিত হয়। সংস্থাটি বলেছে, বাংলাদেশ তাদের ম্যাচগুলো ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় সরানোর অনুরোধ করেছিল, কিন্তু বোর্ড নিয়মিত সূচি বজায় রাখার পক্ষে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    আইসিসির সিদ্ধান্তের পর বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, তিনি সরকারের সঙ্গে ‘‘আর একবার শেষ আলোচনার’’ জন্য আইসিসির কাছে সময় চেয়েছেন। আমিনুলের কথায়, আইসিসি বিষয়টিকে যৌক্তিক মনে করেছে এবং তাকে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা সময় দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘আমি সরকারকে চাপ দিতে চাই না। আমাদের অবস্থান পরিষ্কার—আমরা শ্রীলঙ্কায় খেলতে চাই, কারণ আমরা মনে করি ভারত আমাদের জন্য নিরাপদ নয়।’’

    তিনি আরও বলেন, আইসিসির সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে সরকারকে পরামর্শ দেয়া হবে। ‘‘আমি এখনও আইসিসির কাছ থেকে কোনো অলৌকিক সমাধানের আশা করছি। খেলোয়াড়রা এবং সরকার চায় বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলুক। কিন্তু সরকার সিদ্ধান্ত নেবার সময় কেবল খেলোয়াড়দের ইচ্ছাই নয়, সামগ্রিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক বিষয়গুলো বিবেচনায় নেবে,’’ যোগ করেন আমিনুল ইসলাম।

    বর্তমান পরিস্থিতিতে বিসিবির সামনে দুটি পথ খোলা—নিজেদের দাবি প্রত্যাহার করে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করা অথবা টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ানো। আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হচ্ছে ৭ ফেব্রুয়ারি। সূচি অনুযায়ী, গ্রুপ ‘সি’-তে থাকা বাংলাদেশ ৭ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে, ৯ ফেব্রুয়ারি ইতালির বিপক্ষে এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটি ১৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ে নেপালের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত হবে।

    পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে পারে—বিসিবি ও সরকারের সিদ্ধান্ত এবং আইসিসির চূড়ান্ত বার্তার ওপরই ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে।

  • ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

    ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

    ঢালিউডের জনপ্রিয় নায়ক ও কালজয়ী নৃত্যশিল্পী ইলিয়াস জাভেদ আর নেই। দীর্ঘদিন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করার পর সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। খবরটি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য সনি রহমান।

    ১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের পেশাওয়ারে জন্মগ্রহণ করেন ইলিয়াস জাভেদ। পরবর্তীতে পরিবারসহ পাঞ্জাবে চলে গেলেও পরমপ্রেমে চলচ্চিত্রের দিকে পা বাড়ান—and শেষ পর্যন্ত জীবন কাটে ঢাকার চলচ্চিত্র অঙ্গনে। দীর্ঘ সময় ধরে ক্যান্সারসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি; গত বছরের এপ্রিলে একবার হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসাধীন ছিলেন।

    জাভেদের স্ত্রী দলি চৌধুরী সংবাদমাধ্যমকে জানান, আজ সকালেই তাঁর স্বামীর শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হয়। তারা কয়েক দিন ধরে বাসাতেই চিকিৎসা চালাচ্ছিলেন; হাসপাতালে থেকে চিকিৎসক ও দুজন নার্স এসে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছিলেন। আজ সকালে দুজন নার্স এসে জানান, তাঁর সারা শরীর ঠান্ডা হয়ে গেছে। এরপর অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    শিল্পী হিসেবে ইলিয়াস জাভেদের যাত্রা শুরু হয়েছিল নৃত্যপরিচালক হিসেবে; পরে অভিনয় করেই তিনি দর্শকদের মনে জায়গা করে নেন। ১৯৬৪ সালে উর্দু সিনেমা ‘নয়ী জিন্দেগি’র মাধ্যমে নায়ক হিসেবে প্রথমবার রুপালি পর্দায় আবির্ভূত হন তিনি। কিন্তু প্রকৃত প্রতিষ্ঠা পান ১৯৬৬ সালের ছবী ‘পায়েল’ দিয়ে, যেখানে শাবানার বিপরীতে অভিনয় করে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন। পরিচালক মুস্তাফিজই পরবর্তীতে তাকে ‘জাভেদ’ নামেই পরিচিত করেন।

    একগুচ্ছ ব্যবসাসফল ছবি এবং ঝলমলে নাচের হাতখড়ি দিয়ে ৭০-৮০ দশকের দর্শকদের কাছে তিনি ‘ড্যান্সিং হিরো’ হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ১৯৮৪ সালে নায়িকা দলি চৌধুরীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। আসল নাম রাজা মোহাম্মদ ইলিয়াস—পেশায় তিনি নৃত্যপরিচালনা থেকেই ক্যারিয়ার শুরু করেন এবং পরে নায়ক হিসেবে শতাধিক চলচ্চিত্রে কাজ করেন।

    জাভেদের উল্লেখযোগ্য কিছু চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে: মালেকা বানু, নিশান, পাপী শত্রু, রক্তশপথ, সাহেব বিবি গোলাম, কাজল রেখা, অনেক দিন আগে, আজও ভুলিনি, কঠোর, মা বাবা সন্তান, রাখাল রাজা, রসের বাইদানী, জীবন সঙ্গী ও আবদুল্লাহ।

    ইলিয়াস জাভেদের প্রস্থান বাংলা চলচ্চিত্রের জন্য এক দুঃখজনক অধ্যায়বন্দি—একসময় পর্দা কাঁপানো নাচ ও অ্যাকশনের এক অবিস্মরণীয় মিশ্রণ আজ স্মৃতিতেই সীমাবদ্ধ হয়ে গেল। দীর্ঘ সময় নীরবে চিকিৎসা নেয়ার পরও শেষপর্যন্ত তিনি না ফেরার দেশে চলে গেলেন।