Blog

  • নড়াইলে আধিপত্যের দ্বন্দ্বে সংঘর্ষ, বাবাসহ চারজন নিহত

    নড়াইলে আধিপত্যের দ্বন্দ্বে সংঘর্ষ, বাবাসহ চারজন নিহত

    নড়াইল সদর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষে বাবা-ছেলেসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় কমপক্ষে ছয় থেকে সাতজন আহত হন। ঘটনা ঘটে সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর সাড়ে पांचটার দিকে উপজেলার বড়কুলা গ্রামে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নড়াইল সদর থানার ওসি ওলি মিয়া।

    নিহতরা হলেন— বড়কুলা গ্রামের খলিল গ্রুপের রহমান খলিল ও তার ছেলে তাহাজ্জুদ হোসেন, একই গ্রুপের ফেরদৌস হোসেন এবং সাবেক চেয়ারম্যান খায়ের গ্রুপের ওসিবুর মিয়া।

    পুলিশ ও স্থানীয়সূত্রে জানা গেছে, সিংগোশোলপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খায়ের গ্রুপ ও খলিল গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্যের জন্য দ্বন্দ্ব চলছিল। এর জের ধরে সোমবার ভোরে বড়কুলা এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ شروع হয়। সংঘর্ষে দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে রহমান খলিল, তার ছেলে তাহাজ্জুদ হোসেন ও ফেরদৌস হোসেন ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহত অন্য পক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান খায়ের গ্রুপের ওসিবুর মিয়াকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    নড়াইল সদর থানার ওসি ওলি মিয়া জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনার স্থান বরাবর অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

  • নড়াইলে আধিপত্য বিস্তার ঘিরে সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫

    নড়াইলে আধিপত্য বিস্তার ঘিরে সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫

    নড়াইল সদর উপজেলার বড়কুলা গ্রামে আধিপত্য বিক্ষোভের জের ধরে সোমবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে দুটি পক্ষের মধ্যে ভয়ঙ্কর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই সংঘর্ষে বাবা-ছেলেসহ মোট পাঁচজন নিহত ও অন্তত সাত থেকে আটজন আহত হন। ঘটনাস্থলটি ছিল সিংগোশোলপুর ইউনিয়নের বড়কুলা গ্রাম, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে সাবেক দুই চেয়ারম্যানের মধ্যে ক্ষমতা ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল।

    নড়াইল সদর থানার ওসি ওলি মিয়া এ খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহতরা হলেন, উজ্জ্বল শেখ গ্রুপের রহমান খলিল ও তার ছেলে তাহাজ্জুদ হোসেন, ফেরদৌস হোসেন ও তার ছেলে মুন্না শেখ, পাশাপাশি সাবেক চেয়ারম্যান খায়ের মোল্যার পক্ষের ওসিবুর মিয়া।

    সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে এই দুই গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য ও প্রভাব বিস্তার নিয়ে চলছিল বিরোধ। এরই জেরে সোমবার ভোরে বড়কুলা এলাকায় উভয় পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বাঁধে। এতে দেশীয় অস্ত্রের ব্যবহারে উজ্জ্বল শেখের দলের রহম্ন খলিল, তাহাজ্জুদ হোসেন ও ফেরদৌস হুসেন ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহত হন আরও কয়েকজন। গুরুতর আহত সাবেক চেয়ারম্যান খায়ের মোল্যার ওসিবুর মিয়াকেও উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে দুপুরের দিকে আহত মুন্না শেখ মৃত্যু বরণ করেন।

    অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে মোতায়েন করে পরিস্থিতি রব—তবুও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। বর্তমানে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা চেষ্টা চলছে।

  • খুলনায় মাদকমুক্ত সমাজ গঠন, পরিবেশ ও প্রকৃতি রক্ষায় শিশুশিক্ষকদের শাহব

    খুলনায় মাদকমুক্ত সমাজ গঠন, পরিবেশ ও প্রকৃতি রক্ষায় শিশুশিক্ষকদের শাহব

    আজ সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) খুলনা পিটিআই অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হলো ‘মাদকমুক্ত সমাজ গঠনসহ পরিবেশ ও প্রকৃতি রক্ষায় শিক্ষক-শিক্ষিকার ভূমিকা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভা। মূল আলোচনায় উঠে আসে সমাজকে সুস্থ ও সত্ম উন্নত করতে শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত বিভাগের কমিশনার (সার্বিক) আবু সায়েদ মো: মনজুর আলম। এ আয়োজনে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোবারক আলী ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর উপস্থিত ছিল।

    প্রধান অতিথি বক্তব্যে বলেন, মাদকাসক্তি একটি সমাজে মারাত্মক ব্যাধি হিসেবে বিকাশ লাভ করছে। নারী-পুরুষ উভয়ের মধ্যে এর প্রভাব বাড়ছে, যা সমাজের জন্য উদ্বেগজনক। তিনি আরও বলেন, সুস্থ, উন্নত জাতি গঠনের জন্য আমাদের মাদকদ্রব্য থেকে দূরে থাকতে হবে। এটা সম্ভব সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে। পরিবার থেকেই মানুষের মধ্যে শিক্ষার চর্চা শুরু হয়, যেখানে শেখানো হয় সঠিক মূল্যবোধ এবং আচরণ। শিক্ষকরাই আসল গাইড, যারা কোমলমতি শিক্ষার্থীদেরকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারেন।

    অতিরিক্তভাবে তিনি বলেছিলেন, পরিবেশ রক্ষায় আমরা বিশ্বকের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সচেতন না থাকায় নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছি। তাই পরিবেশ রক্ষা ও মাদকদ্রব্যের মতো ভয়ঙ্কর সমস্যার সমাধানে সচেতন হতে হবে। একজন শিক্ষিত ব্যক্তির জন্য এটি অত্যন্ত জরুরি।

    অনুষ্ঠানে অন্য অতিথিরা বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও ডিভাইসের কারণে মাদকের মতো ভয়াবহ সমস্যা ভয়ানক জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। শিশুরা আসক্ত হয়ে পড়ছে এই ডিভাইসগুলোর প্রতি, যার ফলে তাদের মনোভাব ও স্বভাব বিকৃত হচ্ছে।

    খুলনা পিটিআই এর সুপারিনটেডেন্ট মোহা: তোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে এই আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এসকে ইফতেখার মোহাম্মদ উমায়েন, পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো: হারুন অর রশীদ, বিএল কলেজের সাবেক ভিপি অ্যাড. শেখ জাকিরুল ইসলাম ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোবারক আলী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মো: রকিবুজ্জামান। অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন পিটিআই এর সহকারী সুপারিনটেডেন্ট আব্দুল আল মামুন খান।

    অতিথির মধ্যে জায়গা করে নেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধি রুমা মন্ডল। অনুষ্ঠানের সার্বিক পরিচালনা করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোবারক আলী ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা অ্যাড. শেখ অলিউল ইসলাম। এ আলোচনা সভা মূলত সমাজের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।

  • কালীগঞ্জে পরিচিতি সভায় মাদক, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে এমপির যুদ্ধ ঘোষণা

    কালীগঞ্জে পরিচিতি সভায় মাদক, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে এমপির যুদ্ধ ঘোষণা

    ঝিনাইদহ-৪ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মাওলানা আবু তালিব আজ কালীগঞ্জে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচিতি ও মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন। সেখানে তিনি স্পষ্টভাবে ঘোষণা দেন যে, মাদক, সন্ত্রাস, দুর্নীতি এবং চাঁদাবাজির বিরুদ্ধেই তাঁর মূল যুদ্ধ চলবে। তিনি বলেন, এলাকায় অপরাধ দমনে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করবেন এবং কোনো অপশক্তিকে তিনি ছাড় দেবেন না।

    সোমবার সকাল ১১টায় এই সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বিভিন্ন দপ্তর ও গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মাওলানা আবু তালিব। শুরুতেই উপজেলা ও উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ফুলের শুভেচ্ছা উপহার দেওয়া হয়। তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাধারণ জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

    সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজোয়ানা নাহিদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল ফারুক ও থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জেল্লাল হোসেন। এ ছাড়া বিভিন্ন দপ্তর ও স্থানীয় সংগঠনের প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

    বক্তব্যে এমপি আবু তালিব জানান, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হিসেবে তাঁর মূল অঙ্গীকার হল আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা। তিনি মাদক, চাঁদাবাজি ও অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করবেন। এ জন্য তিনি প্রশাসনের সকল পর্যায়ের অফিসার ও কর্মচারীদের সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

    সভায় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ভূমি ব্যবস্থাপনা, সেবা প্রদান, স্বচ্ছতা এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অগ্রগতি। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংসদ সদস্যের সহযোগিতা কামনা করা হয়। সভার সমাপ্তিতে উপস্থিত সবাই একসঙ্গে ঐক্যবদ্ধ ও সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

  • আলমডাঙ্গায় ঘরের আড়ায় ঝুলতে দেখা গেল যুবকের অর্ধগলিত মৃতদেহ

    আলমডাঙ্গায় ঘরের আড়ায় ঝুলতে দেখা গেল যুবকের অর্ধগলিত মৃতদেহ

    চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় নিজ বাড়ির ঘরের আড়ায় ঝুলন্ত অবস্থায় এক যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনা ঘটে আজ সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে আলমডাঙ্গা উপজেলার আসাননগর গ্রামে। মৃত যুবকের নাম সুজন আলী (৩৮), তিনি ওই এলাকার মুক্তিযোদ্ধা মহব্বত আলীর ছেলে। পেশায় তিনি রংমিস্ত্রি। তিন সন্তানের জনক সুজন আলীর স্ত্রী পারিবারিক কলহের কারণে নির্বাচনপূর্ণ সময়ের আগে সন্তানদের নিয়ে তার বাবা-মা’দের বাড়ি চলে যান। এরপর থেকে তিনি একাই থাকতেন। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বনি ইসরাইল জানিয়েছেন, সোমবার সকালে বড় ছেলে লিমন তার বাবার খোঁজ করতে বাড়িতে যায়। বাড়ির প্রবেশদ্বার বন্ধ থাকায় সে ভেতরে যাওয়ার জন্য প্রাচীর টপকে ভিতরে প্রবেশ করে। দরজা খোলা দেখে ভেতরে ঢুকে দেখেন, তার বাবাকে আড়ার সঙ্গে ঝুলতে। চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে থানায় খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ওসি আরো জানান, মরদেহ কিছুটা গলাগলে ছিল, ধারণা করা হচ্ছে তিনি কয়েক দিন আগে গলায় ফাঁস দেন। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানার জন্য ময়নাতদন্তে প্রতিবেদন আসার অপেক্ষায় রয়েছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের প্রক্রিয়া চলছে।

  • নতুন সরকার এলডিসি উত্তরণ পেছানোর উদ্যোগ নেবে বাণিজ্যমন্ত্রী

    নতুন সরকার এলডিসি উত্তরণ পেছানোর উদ্যোগ নেবে বাণিজ্যমন্ত্রী

    নতুন বাণিজ্য, শিল্প ও বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, সরকার সরকার স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের সময়সীমা পেছানোর জন্য উদ্যোগ নেবে। তিনি বললেন, এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন ডেফার করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং ইতোমধ্যে এই কাজ শুরু হয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে তার প্রথম দিন অফিসে এসে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

    বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার এলডিসি উত্তরণে দেরি করানোর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং এ লক্ষ্য পূরণের জন্য যা দরকার, তা দ্রুতই বাস্তবায়ন করা হবে। বিষয়টি মূলত বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে শুরু হয়েছে এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ও প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে। বহুমুখী চাপ ও ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে নিয়ে, সরকার আজ থেকেই এই বিষয়ে কাজ করছে।

    রপ্তানির নিম্নগতি নিয়ে মন্তব্য করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি কাঠামো এখনও সংকীর্ণ। দেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮৫ শতাংশ এক পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনতে, নতুন পণ্য অন্তর্ভুক্ত করতে এবং নতুন মার্কেটের দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি, ব্যক্তিগত খাতে যারা ব্যবসা ও বিনিয়োগ করতে আগ্রহী, তাদের যথাসত্ত্ব সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

    বিশ্ব বাণিজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে, বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ নীতিতে অপ্রত্যাশিত পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশ, যেহেতু দরিদ্র দেশ, খুব সীমিত সুযোগের মধ্যে টিকে থাকছে। তার মতে, দেশের মার্জিন খুবই কম, ভুলের কোনো জায়গা নেই। তাই, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে লক্ষ্য করা মন্থর গতি থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসার পরিকল্পনা করছে সরকার।

    রমজানের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, সব কিছু ঠিক থাকলে বাজারের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত থাকবে। রমজান মাস এবং পরবর্তী সময়ের জন্য প্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ ও পাইপলাইনে পণ্য রয়েছে। এ কারণে বাজার নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই বলে তিনি আশ্বাস দেন।

    রমজানে বাজারে সিন্ডিকেটের প্রসঙ্গ উঠলে তিনি বলেন, তিনি শুধু বক্তব্য দিতে চান না, কাজের মাধ্যমে ফল দেখাতে চান। বলেন, “আমি সাউন্ড বাইট দেব না, ইনশাআল্লাহ কাজ করে দেখাব।”

    প্রথম দিকে কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে, সেই বিষয়টি জানিয়ে তিনি বললেন, এটি সাধারণত এককালীন চাহিদা বৃদ্ধির ফল। মাসের প্রথম থেকেই মানুষ একসঙ্গে বেশি কিনতে শুরু করে, ফলে দাম অস্থির হয়ে ওঠে। তবে এ অবস্থা সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী নয় বলে আশা প্রকাশ করেন।

    বিবিধ বিনিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে বিনিয়োগ আসেনা। স্থিতিশীল পরিবেশই বিনিয়োগের শর্ত। দেশের শ্রমবাজারে প্রতিবছর ২০ থেকে ২২ লাখ নতুন মানুষ প্রবেশ করছে। তবে, বিগত দুই-তিন বছর বিনিয়োগের চাপ কম থাকায় কর্মসংস্থান ও অর্থনীতি পড়তেছে সংকটের মুখে। এই পরিস্থিতি দ্রুত উন্নতি না হলে বড় ঝুঁকি তৈরি হবে।

    নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর রমজানকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন, বলেন, রমজান প্রস্তুতি এবং বাজার নিয়ন্ত্রণ এখন সরকারের বড় পরীক্ষা। সংশ্লিষ্ট সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সফল হতে হবে। এসব কাজ দেশের স্বার্থের জন্য, বলেন তিনি। সবাইের সহযোগিতা চেয়ে বলেন, ভুল হলে তা দুঃখের বিষয় নয়, বরং ভুল ধরিয়ে দেওয়াই উত্তম। সবাই একসঙ্গে কাজ করলে দেশ দ্রুত এগিয়ে যাবে।

  • খুলনা অঞ্চলে কাঁচা পাটের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির কারণে পাটকলগুলো উৎপাদন বন্ধ

    খুলনা অঞ্চলে কাঁচা পাটের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির কারণে পাটকলগুলো উৎপাদন বন্ধ

    খুলনা অঞ্চলের বিভিন্ন ইজারা পাওয়া ও বেসরকারি পাটকলগুলোতে বর্তমানে উৎপাদন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। এর মূল কারণ হলো কাঁচা পাটের অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া দাম। যেখানে আগে সহজে পাট সংগ্রহ করা যেত, এখন কাঁচা পাটের খুচরা মূল্য দ্বিগুণের বেশি উঠেছে। এর ফলে উৎপাদন খরচ ব্যাপকভাবে বেড়ে গিয়েছে এবং অনেক মিলের পাটপণ্য উৎপাদন বন্ধ করে দিতে হয়েছে। এতে হাজার হাজার শ্রমিক কাজ হারানোর শঙ্কায় বসে রয়েছেন, পাশাপাশি মিলগুলোর অর্থনৈতিক ক্ষতিসহ বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা চোখে পড়ছে।

    দৌলতপুরে অবস্থিত দৌলতপুর জুট মিলের শ্রমিক আশাদুজ্জামান জানিয়েছেন, গত দেড় মাস ধরে মিলটি বন্ধ রয়েছে কারণ কাঁচা পাটের সংকট। তারা প্রতিদিন মিলের সামনে এসে অপেক্ষা করেন, কিন্তু কাজের জন্য কাঁচা পাটের অভাব থাকায় কর্মহীন থাকছেন। একই পরিস্থিতি অন্যান্য মিলগুলোতেও দেখা যাচ্ছে। শ্রমিকরা উদ্বিগ্ন, যদি এভাবে চলতে থাকে তাহলে কাজ থেকে ছাঁটাই হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা বলেন, মালিকরা পাটের জন্য এখন দ্বিগুণের বেশি দামে কিনছেন, কিন্তু বাজারে পণ্যের দাম বাড়েনি তবে উৎপাদন চালানো সত্যিই কঠিন হয়ে পড়ছে।

    মিল মালিকরা বলছেন, মৌসুম শুরুতে প্রতি মণ পাটের মূল্য ছিল প্রায় ৩২০০ টাকা। এখন তা বেড়ে দাড়িয়েছে প্রায় ৫২০০ টাকায়। এর ফলে উৎপাদন খরচ অনেক বাড়ছে। ট্রান্সপারেন্সির মাধ্যমে তারা বলছেন, আগে যেখানে ৩২০০ টাকায় পাট কিনে ৮০ টাকায় বিক্রি করতেন, এখন ৪০০০ টাকায় কিনে হলেও লাভের জন্য কেউ তেমন সুবিধা পাচ্ছেন না। এখন পাটের দাম skyrocket হওয়া এবং বাজারে মূল্য স্থিতিশীল না থাকায় তারা উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন।

    তারা অভিযোগ করেছেন, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে কিছু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে পাটের মজুত রাখার মাধ্যমে দাম বাড়াচ্ছে। কৃষি বিভাগের তথ্যে দেখা যাচ্ছে, গত দুই বছর ধরে খুলনা ও আশপাশের जिलাগুলিতে পাটের উৎপাদন মোটেও কমেনি। তবে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ানোর কারণে বাজারে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ জুট মিল এ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক মোঃ জহির উদ্দিন সরকারের ভাষ্য, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির মাধ্যমে মূলত অবৈধভাবে পাট মজুত করে বাজার অস্থিতিশীল করা হচ্ছে। ফলে দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যাংক ঋণ সুবিধাও ব্যাহত হচ্ছে। তিনি সরকারের দ্রুত কার্যক্রম গ্রহণের আহ্বান জানান।

    পাট অধিদপ্তর জানিয়েছে, তারা নিয়মিত বাজার পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। তাদের খুলনা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সরজিত সরকার উল্লেখ করেন যে, একজন আড়তদার বা ডিলার সর্বোচ্চ এক মাসে ৫০০ মণ পাট মজুত করতে পারবে এবং এ বিষয়টি তদারকি করা হচ্ছে। দাম নিয়ন্ত্রণে রোজ নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে, যাতে পরিস্থিতি সহনীয় পর্যায়ে আনা যায়।

    খুলনা অঞ্চলে মোট ২০টি পাটকল রয়েছে, যার মধ্যে কয়েকটি সরকারি ও বেসরকারি। এসব মিলগুলোতে প্রতি মাসে প্রায় ২৫ হাজার মেট্রিক টন পাটপণ্য উৎপাদন হয়, যার বড় অংশই বিদেশে রফতানি করা হয়। তবে চলমান সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশের অর্থনীতি ও রফতানি খাতে বড় ধাক্কা লাগার আশংকা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সময়মত সরকার যদি বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনতে পারে, তবে পাট শিল্পের অর্থনৈতিক ক্ষতি হাত থেকে রেহাই পাবে না।

  • ফেব্রুয়ারির প্রথম ১৮ দিনে রেমিটেন্স ছাড়ালো দুই বিলিয়ন ডলার

    ফেব্রুয়ারির প্রথম ১৮ দিনে রেমিটেন্স ছাড়ালো দুই বিলিয়ন ডলার

    প্রবাসীরা দেশের জন্য অর্থ পাঠানোর হার বাড়ছে, বিশেষ করে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও আসন্ন পবিত্র রমজান মাহাত্ম্যকে কেন্দ্র করে। এর ফলে ফেব্রুয়ারির প্রথম ১৮ দিনেই দেশে মোট ২ বিলিয়ন (২০ হাজার কোটি) ডলার से বেশি রেমিট্যান্স প্রবাহ হয়েছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। যদি এটি অব্যাহত থাকে, মাস শেষে এই পরিমাণ ৩ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচন ও রমজান মহুমা ঘিরে বাড়তি খরচের জন্য প্রবাসীরা বেশি করে অর্থ পাঠাচ্ছেন। এই প্রবণতা দেশের অর্থনীতির জন্য আনন্দের খবরে পরিণত হয়েছে, কারণ এটি প্রতিপাদন করছে যে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারিতে প্রবাসীরা মোট ৩১৭ কোটি ডলার (প্রায় ৩৮ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা) পাঠিয়েছেন। এটি দেশের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ একক মাসের রেকর্ড। এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ডলার পাঠানো হয়েছিল, যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। সর্বোচ্চ ছিল মার্চ মাসের ৩২৯ কোটি ডলার, যা ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে ছিল।

    ২০২৫ সালে দেশীয় প্রবাসী আয়ের মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২৮২ কোটি ডলার। মাসভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, জুলাইয়ে ২৪৭ কোটি, আগস্টে ২৪২ কোটি, সেপ্টেম্বর ২৬৮ কোটি, অক্টোবর ২৫৬ কোটি, নভেম্বর ২৮৮ কোটি, ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি এবং জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ডলার রেমিট্যান্স প্রবাহ হয়েছে।

    ইতিমধ্যে চলতি অর্থবছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট প্রবাসী আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ১৫৬ কোটি ডলার, যা গত অর্থবছর একই সময়ের তুলনায় ২২.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সময়ে আগের বছর প্রবাসী আয় ছিল ১১৫ কোটি ডলার কম।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪.৫৪ বিলিয়ন ডলার। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করলে এখনকার প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ ২৯.৮৬ বিলিয়ন ডলার।

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে প্রবাসী আয়ের গতি বেড়ে গেছে। ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলেন, অর্থ পাচার কমে যাওয়ায় অবৈধ হুন্ডি ব্যবসার প্রভাব কমতে শুরু করেছে। পাশাপাশি, ডলারের বিনিময় হার গত কয়েক মাস ধরে স্থিতিশীল থাকায় প্রবাসীরা বৈধ পথেই অর্থ পাঠাতে উৎসাহিত হচ্ছেন। এই সব উদাহরণ দেখাচ্ছে যে, দেশের অর্থনীতি গতিশীল হতে সক্ষম হচ্ছে।

  • সোনার দাম ভরিতে আরও ৩ হাজার টাকা বৃদ্ধি

    সোনার দাম ভরিতে আরও ৩ হাজার টাকা বৃদ্ধি

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) আজ নিশ্চিত করেছে যে তারা সোনার দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে প্রতিভরি (ভরি) সোনার দাম সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে ভালো মানের (২২ ক্যারেট) সোনার বিক্রি মূল্য দাঁড়াল ২ লাখ ৫৮ হাজার টাকায়, যা আগের তারিখে ছিল ২ লাখ ৫৫ হাজার ৫৫৮ টাকা।

    বাজুসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে এই নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। সংগঠনটির মতে, তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দামের ব্যাপক বৃদ্ধির কারণে স্বর্ণের বাজারে দাম বাড়ানো বাধ্য হয়েছে।

    নতুন নির্ধারিত দামে দেখা গেছে, ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম এখন ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। অন্যদিকে, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৪৭ হাজার ১০২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।

    এছাড়াও, স্বর্ণের সঙ্গে সমানভাবে দাম বাড়ানো হয়েছে রূপার ক্ষেত্রেও। ২২ ক্যারেটের রূপার এক ভরি এখন ৬ হাজার ৭০৭ টাকা, ২১ ক্যারেটের ৬ হাজার ৪১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৫ হাজার ৪৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির ৪ হাজার ৮২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    বিশ্ব বাজারের পরিস্থিতিও ক্রমাগত স্বর্ণের দাম বাড়ছে। গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টা ২৫ মিনিটে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছিল ৫ হাজার ১০৬ ডলার, যা আগের দিন ছিল ৪ হাজার ৯৭৮ ডলার।

    গত মাসে, অর্থাৎ জানুয়ারির শেষে, স্বর্ণের আন্তর্জাতিক দাম আরও বেড়ে গিয়েছিল। ৩০ জানুয়ারি ছিল ৫ হাজার ২০০ ডলার এবং ২৯ জানুয়ারিতে এটির মূল্য ছিল ৫ হাজার ৫৫০ ডলার।

    বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকায় দেশের বাজারেও রেকর্ড পরিমাণ মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে। বিশেষ করে ১৯ জানুয়ারি, বাজুস এক ভরি স্বর্ণের দাম ভেঙে ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায় নিয়ে আসে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ মূল্য। এ ধরনের অপ্রত্যাশিত দর वृद्धि আগে কখনো দেখা যায়নি, যা স্বর্ণের বাজারে এক নতুন রেকর্ড স্থাপন করেছে।

  • দুই দিনের ব্যবধানে ফের বেড়ে গেল সোনার দাম

    দুই দিনের ব্যবধানে ফের বেড়ে গেল সোনার দাম

    দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম এখন ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা। এটি গত দুই দিনের মধ্যে আবার বেড়ে গেল, যা পূর্বে ২১ ফেব্রুয়ারিতে সমন্বয় করা হয়েছিল। সে সময় ২২ ক্যারেটের ভরিতে ৩,২৬৬ টাকা বেশি করে দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল।

    সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে বাজুস এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য প্রকাশ করে জানিয়েছে যে, দেশের বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দাম বৃদ্ধির কারণে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এ সমন্বয় করা হয়েছে। চালু হিসেবে, নতুন দামে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২৭ শিল্পের মূল্যে নির্ধারিত হয়েছে। অন্যান্য ক্যারেটের জন্য দামও সংশোধন করা হয়েছে। যেমন, ২১ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ৪৯ হাজার ১৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ২ লাখ ১৩ হাজার ৫৬৮ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের ভরি ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    তবে এসব মূল্যের উপর সরকারের নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস-এর ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরির যোগ হবে। গহনার নকশা ও মান অনুসারে মজুরির পরিমাণ আলাদা আলাদা হতে পারে বলে জানা গেছে।

    এর আগে, ২১ ফেব্রুয়ারিতে বাজুস ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম আরও ৩,২৬৬ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করেছিল ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ৩২ দফায় সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০ দফায় দাম বেড়েছে এবং ১২ দফায় কমেছে। ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার দাম সমন্বয় হয়েছিল, যেখানে ৬৪ বার বৃদ্ধি ও ২৯ বার কমেছিল।

    অপরদিকে, রুপার দাম স্থির রয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের রুপার ভরি বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৭০৭ টাকায়। অন্যান্য ক্যারেটের রুপার দামও যথাক্রমে ২১ ক্যারেটের ৬ হাজার ৪১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৫ হাজার ৪৮২ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির ৪ হাজার ৮০২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চলতি বছর রুপার দাম ১৮ দফায় সমন্বয় করা হয়েছে, এর মধ্যে ১১ দফায় বেড়েছে এবং ৭ দফায় কমেছে। গত বছর মোট ১৩ দফায় সমন্বয় হয়েছে, যেখানে ১০ বার দাম বৃদ্ধি এবং ৩ বার হ্রাস পেয়েছিল।