Month: January 2026

  • ভারতীয় বোর্ডের নির্দেশনা: মুস্তাফিজকে কলকাতা দল থেকে বাদ দিতে বলা হয়েছে

    ভারতীয় বোর্ডের নির্দেশনা: মুস্তাফিজকে কলকাতা দল থেকে বাদ দিতে বলা হয়েছে

    ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক বর্তমানে তীব্র উত্তেজনা ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনে জর্জরিত। এই পরিস্থিতির মাঝেই আইপিএল ২০২৬-এর মিনি নিলামে বাংলাদেশের তারকা পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে ৯.২০ কোটি টাকায় কিনে নিয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর। বাংলাদেশ থেকে প্রথমবারের মতো কোনো ক্রিকেটার এই নিলামে দল পেয়েছেন।

    নিলাম শেষে থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে। অনেক ভারতীয় ক্রিকেট সমর্থক ও কিছু ধর্মীয় নেতার অভিযোগ, মুস্তাফিজকে আইপিএলে খেলার অনুমতি দেওয়া ঠিক নয়। এরই ধারাবাহিকতায় কেকেআরকে বয়কটের ডাকও দেওয়া হয়েছে। কিছু ধর্মীয় নেতার উজ্জয়িনে এমনকি ম্যাচের পরিস্থিতি অশান্ত করতে পPitch আক্রমণের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। আবেগে বিপ্লবীরা কেকেআর মালিক শাহরুখ খানকেও সমালোচনার মুখে ফেলেছেন।

    এ পরিস্থিতিতে ভারতের বিভিন্ন কঠোরপন্থী সংগঠন ও রাজনৈতিক পক্ষের চাপের কারণে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। তারা মোটা অঙ্কের চাপের মুখে মুস্তাফিজকে দলে রাখা বা খেলানোর অনুমতি না দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছে। একজন বোর্ডের মুখপাত্র সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন, ‘সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে কেকেআরকে মুস্তাফিজকে দল থেকে বের করে দিতে বলেছে বিসিসিআই। চাইলে দলের বদলি হিসেবে অন্য কোনো ক্রিকেটার নিতে পারবে কেকেআর।’

    অর্থাৎ, যদি কেকেআর অন্য কোনো ক্রিকেটারকে নিয়োগ করতে চায়, তবে বিসিসিআই সেই অনুমতিও দেবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

    বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, ‘ভারতে মুস্তাফিজের খেলার ব্যাপারে চলমান বিতর্ক ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যে বোর্ড এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। আরম্ভে তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করলেও, শেষমেশ কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়।’

    তিনি আরও জানিয়েছে, ‘বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক অস্থিরতা ও অন্তর্ঘাতমূলক পরিস্থিতি প্রভাব ফেলছিল। কট্টর হিন্দুত্ববাদী ও রাজনৈতিক চাপের কারণে অবশেষে বিসিসিআই নতি স্বীকার করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

  • শশী থারুরের মুস্তাফিজে সমর্থন, কাইফের মন্তব্য ও আইপিএল বিতর্ক

    শশী থারুরের মুস্তাফিজে সমর্থন, কাইফের মন্তব্য ও আইপিএল বিতর্ক

    কলকাতা নাইট রাইডার্সের (কেকেআর) Recently, their decision to inclusion মুস্তাফিজুর রহমান নিয়ে দেশজুড়ে বেশ চরম সমালোচনার মুখে পড়েছে।.owner শাহরুখ খান। পাশাপাশি, বাংলাদেশের ক্রিকেটার মুস্তাফিজের জন্য ভারতে নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে, কিছু কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের নিষিদ্ধের দাবি উত্থাপনের ধারাবাহিকতায় নানা প্রতিবাদ করছে। এই পরিস্থিতিতেই কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর মুখে উঠে আসে তার মন্তব্য, যেখানে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, ক্রিকেট ও রাজনীতি একসঙ্গে মেশানো ঠিক নয়। তিনি আরও বলেছিলেন, ওরা একজন ক্রিকেটার; তার প্রতি ঘৃণা বা বিদ্বেষ প্রকাশের কোনও মানে হয় না। এটা ওর ব্যক্তিগত জীবন বা কর্মের সঙ্গে কোন সম্পর্ক রাখে না। বরং, যদি ভারত প্রতিবেশী দেশগুলোকে এভাবে দূরে সরিয়ে দেয়, তাহলে খেলাধুলার ভবিষ্যত অনিশ্চয়তায় পড়বে এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা কমে যাবে। একথা বলাই হয়, এই ধরনের পরিস্থিতিতে আমাদের উদারচিত্ত থাকা উচিত বলে মনে করেন তিনি।

    অন্যদিকে, ভারতের সাবেক ক্রিকেটার মোহাম্মদ কাইফও মুস্তাফিজের আইপিএল খেলাকে কেন্দ্র করে এক গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, “সব সিদ্ধান্ত বোর্ডের হাতে। তারা ভালোই জানে কি করা উচিত। এই বিষয়গুলো খুব স্পর্শকাতর। তাই মিডিয়ার উচিত ধৈর্য ধরা এবং পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করা।” কাইফের এই মন্তব্যের মাধ্যমে বোর্ডের সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করা হয়েছে।

    এবং এই সময়ে, ভারতের ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই এখনো পর্যন্ত মুস্তাফিজকে কেকেআর থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। বৃহস্পতিবার, সংস্থার সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া জানিয়েছেন, “দেশজুড়ে চলমান অশান্তির কারণে কেকেআর একটি ক্রিকেটারকে দলের থেকে সরিয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশি এই অলরাউন্ডার এখন থেকে অন্য কোনো ক্রিকেটার দিয়ে পরিবর্তন করা হবে, এবং এর জন্য আমরা অনুমোদন দিয়েছি।” এই সিদ্ধান্তের ফলে, বর্তমানে মুস্তাফিজের ভবিষ্যত কতটা অনিশ্চিত, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

  • কলকাতা আইপিএল স্কোয়াড থেকে মুস্তাফিজকে বাদ দিলো আনুষ্ঠানিকভাবে

    কলকাতা আইপিএল স্কোয়াড থেকে মুস্তাফিজকে বাদ দিলো আনুষ্ঠানিকভাবে

    ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) এর আসন্ন মৌসুমের প্রস্তুতি চলাকালীন কলকাতা নাইট রাইডার্সের স্কোয়াড থেকে বাংলাদেশের তারকা পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে সরানোর নির্দেশ দিয়েছে ভারতের ক্রিকেট বোর্ড, বিসিসিআই। এই নির্দেশনা পাওয়ার পরে কলকাতা কর্তৃপক্ষ মুস্তাফিজকে তাদের স্কোয়াড থেকে বাদ দিয়েছে।

    বিসিসিআইয়ের এই সিদ্ধান্তের পেছনে বেশ কিছু সাম্প্রতিক ঘটনাকে কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে, যেখানে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতার খবর উঠে এসেছে। এই বিষয়টি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া, তিনি বলেছেন, ‘‘সাম্প্রতিক পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে বিসিসিআই কলকাতা নাইট রাইডার্সকে নির্দেশ দিয়েছে, বাংলাদেশের খেলোয়াড় মুস্তাফিজুর রহমানকে তাদের স্কোয়াড থেকে সরাতে।’’

    আন্তর্জাতিক বাজারে আবুধাবির मिनি নিলামে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে মুস্তাফিজকে দলে নেয় কলকাতা। এই নিলামে চেন্নাই সুপার কিংসের সঙ্গে তীব্র লড়াইয়ের পর অবশেষে তাকে দলে নেওয়া হয়।

    সাইকিয়া আরও বলেছেন, ‘‘বর্তমান পরিস্থিতিকে বিবেচনা করে বিসিসিআই কেকেআরকে বলেছেন যে, তারা যেন মুস্তাফিজকে স্কোয়াড থেকে বাদ দেয়। পাশাপাশি, তারা চাইলে তার পরিবর্তে অন্য কোনও খেলোয়াড়কেও দলে নেওয়ার অনুমতি দেবে।’’’

    কলকাতা তাদের প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছে, বিসিসিআই কর্তৃপক্ষ আগেভাগে আইপিএল মৌসুমের আগে এই নির্দেশ দিয়েছে। এ জন্য তাদের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এবং পরামর্শ অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে।

    আইপিএলের নিয়ম অনুযায়ী, কলকাতা নাইট রাইডার্স এখন অন্য কোনও খেলোয়াড় নিতে পারবে, যাতে করে তারা নিজেরা ক্ষতিপূরণ বা পরিবর্তন করতে পারে। এই সংক্রান্ত আরও বিস্তারিত তথ্য প্রয়োজন হলে পরবর্তীতে জানানো হবে।

    মুস্তাফিজকে দলে নেওয়ার পর থেকেই একদিকে তার সমর্থকদের পাশাপাশি কিছু রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের মধ্যে সমালোচনার ঝড় ওঠে। বিজেপি ও শিব সেনার মতো রাজনৈতিক দলগুলো অভিযোগ তোলে, এই সিদ্ধান্ত দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে পারে। তবে, ভারতের ক্রিকেট বোর্ডের সচিব এই পরিস্থিতিতে কোনও মন্তব্য করেননি।

    অন্যদিকে, কলকাতা মোস্তাফিজকে দলে নেওয়ার আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) থেকে অনাপত্তিপত্র নিয়েছিল। এর ফলে তিনি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠের সিরিজটি মিস করে আইপিএলের জন্য প্রস্তুতি নিতে পেরেছিলেন।

    মুস্তাফিজুর রহমানের আইপিএল অভিজ্ঞতা খুবই মূল্যবান। তিনি এখন পর্যন্ত ৬০টি ম্যাচে ৬৫টি উইকেট নিয়েছেন। তিনি এই লিগে খেলেছেন সানরাইজার্স হায়দরাবাদ, মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স, রাজস্থান রয়্যালস, দিল্লি ক্যাপিটালস ও চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে। এই বাঁহাতি পেসার স্পিডের পাশাপাশি তার দক্ষতার জন্য খুবই জনপ্রিয়, যা আইপিএলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

  • খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সৌদি বাদশাহ ও যুবরাজের শোক প্রকাশ

    খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সৌদি বাদশাহ ও যুবরাজের শোক প্রকাশ

    বিএনপি’র সাবেক সভাপতি ও দেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন সৌদি আরবের রাণী সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ এবং যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ। বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বাংলাদেশ প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে পাঠানো শোক বার্তাগুলোতে এই অনুভূতি জানানো হয়।

    বাদশাহ সালমান তার বার্তায় বলেছেন, ‘বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু সংবাদ আমরা গভীর দুঃখের সঙ্গে গ্রহণ করেছি। এই শোকের মুহূর্তে আমরা বাংলাদেশের জনগণ ও মরহুমার পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা ও সহানুভূতি প্রকাশ করছি। আমি প্রার্থনা করি, আল্লাহ تعالى যেন তাকে অসীম রহমত ও ক্ষমার চাদরে ঢেকে রাখেন, জান্নাতে তার জন্য উচ্চ স্থান নির্দেশ করেন এবং আপনাদের সবাইকে সব ধরনের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করেন। নিশ্চয়ই আমরা সকলেই আল্লাহরই কাছে প্রত্যাবর্তনকারী।’

    যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানও তার শোক বার্তায় উল্লেখ করেন, ‘বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। এই দুঃখজনক সময়টি উপলক্ষে আমরা আপনাদের ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি। আমি প্রার্থনা করি, আল্লাহ তাকে তার রহমত ও ক্ষমার চাদরে ঢেকে রাখুন, জান্নাতে আরোহণের স্থান দান করুন এবং আপনাদের সবাইকে সব ধরনের ক্ষতি থেকে রক্ষা করুন। তিনি তার শ্রোতা ও প্রার্থনা কবুলকারী।’

    খালেদা জিয়া এক চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩০ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। এর পর翌দিন, ৩১ ডিসেম্বর, লাখ লাখ মানুষের অংশগ্রহণে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তাকে এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ জিয়াউর রহমান উদ্যানে তার স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কাছের কবরের পাশে সমাহিত করা হয়।

    এর আগে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও মানিক মিয়া এ্যাভিনিউ সংলগ্ন বৃহৎ এলাকায় খালেদা জিয়ার ঐতিহাসিক জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

  • ৫০০ দিনের কম সময়ের মধ্যেই শুরু হতে পারে রমজান

    ৫০০ দিনের কম সময়ের মধ্যেই শুরু হতে পারে রমজান

    পবিত্র রমজান মাস অনেক কাছের বিষয়। মহিমান্বিত এই মাসের আগমন এখন শতকেরও কম সময় দূরে। এ বছর রমজান শুরু হবে ফেব্রুয়ারির মধ্যভাগে। মহাকাশের জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারিই হতে পারে রমজানের প্রথম দিন। এর অর্থ, মাত্র ৪৬ দিনের মাথায় শুরু হবে ১৪৪৭ হিজরি বছরটির পবিত্র এই মাস। তাঁরা আরও বলছেন, এ সময়েই উদযাপিত হতে পারে ঈদুল আযহা বা কোরবানির ঈদ, যা সম্ভবত ২৭ মে হতে পারে। খবর সূত্র: দ্য ন্যাশন।

  • নিউইয়র্কের নতুন মেয়র মামদানির সামনে চারটি বড় চ্যালেঞ্জ

    নিউইয়র্কের নতুন মেয়র মামদানির সামনে চারটি বড় চ্যালেঞ্জ

    ২০২৬ সালের প্রথম দিনটি ছিল তীব্র শীতের মধ্যে হাজারো উচ্ছ্বসিত নিউইয়র্কবাসী ও প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট মিত্রদের উপস্থিতিতে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। এই দিন নিউইয়র্ক সিটির নতুন মেয়র হিসেবে শপথ নেন জোহরান মামদানি, যিনি শহরের ভবিষ্যৎকে নতুন করে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। শহরের জন্য তিনি একটি নতুন গল্প বলার অঙ্গীকার করেন।

    নিজের অভিষেক ভাষণে মামদানি বলেন, সিটি হলের সিদ্ধান্তগুলো যেন জনসম্পৃক্ত ও জনগণের মতো করে নেওয়া হয়। তাঁর লক্ষ্য হলো শহরে নিরাপত্তা, সাশ্রয়ী জীবনযাপন ও সমৃদ্ধির উন্নয়ন, যেখানে সরকার হবে সাধারণ মানুষের সেবা ও প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে কাজ করবে। তিনি মন্তব্য করেন, শহরের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনতে তিনি সর্বজনীন শিশু যত্ন, বিনামূল্যের গণপরিবহন এবং সিটি পরিচালিত মুদি দোকানের মতো বৃহৎ উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।

    তবে এই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে বেশ কিছু বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে মামদানিকে। প্রথমদিকে, গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে চলতে হবে, কারণ বিশাল ও জটিল নিউইয়র্ক শহর প্রয়োজন সর্বাত্মক সহযোগিতা। পল্লী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি ও জননীতি বিভাগের অধ্যাপক প্যাট্রিক ইগান বলেন, মামদানি তার সমস্ত রাজনৈতিক শক্তি ব্যবহার করবেন, তবে সব কিছুই কি সম্ভব হবে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

    প্রথমত, বাজেটের সমস্যা এবং অর্থায়ন: মামদানির মূল লক্ষ্য হলো জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো। এর মধ্যে রয়েছে ভর্তুকিপ্রাপ্ত বাসভবনে ভাড়া নিয়ন্ত্রণ ও বিনামূল্যের শিশু যত্ন। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু সিদ্ধান্ত তিনি নিজে নিতেই পারবেন, যেমন ভাড়া নিয়ন্ত্রণ বোর্ডে প্রভাবশালী সদস্য নিয়োগ। তবে রাজ্য ও সিটির বাজেট ঘাটতি থাকায় বড় প্রকল্পগুলো নির্দয় অর্থায়নের জন্য চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করবে। কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রবার্ট শ্যাপিরো বলেন, বিনামূল্যের বাস ও শিশু যত্নের জন্য পর্যাপ্ত অর্থের প্রয়োজন এবং সেই অর্থ সংগ্রহের মূল চাবিকাঠি হলো রাজ্যের আর্থিক সক্ষমতা ও গভর্নরের আকাঙ্ক্ষা।

    তাহলে, ধনীদের ওপর নতুন কর আরোপের মাধ্যমে অর্থ তোলার পরিকল্পনা করেন মামদানি, তিনি বলেছিলেন, ধনীদের ওপর কর বাড়িয়ে প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করা সম্ভব। করপোরেট করহার বাড়ানো হয়ার পরিকল্পনা থাকলেও, এই উদ্যোগে রাজ্য গভর্নর ক্যাথি হকুলের সমর্থন দরকার। বর্তমানে তিনি কিছুটাই সহমত নয় বলে ইঙ্গিত দেন।

    দ্বিতীয়ত, হোয়াইট হাউজের হস্তক্ষেপ এড়ানো: নির্বাচনের আগে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে ও সংবাদ সম্মেলনে মামদানিকে কমিউনিস্ট বলে আক্রমণ করেন এবং শহরের ফেডারেল অর্থ সহায়তা বন্ধের হুমকি দেন। তবে নির্বাচনের পর ট্রাম্প ও মামদানির প্রথম সাক্ষাৎ শান্তিপূর্ণ ছিল। ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি মামদানির কাজের ওপর আশাবাদী। তবে, বিভিন্ন নীতিতে দুইজনের ভিন্নমত ভবিষ্যতে সংঘাতের কারণ হতে পারে, বিশেষ করে অভিবাসন ইস্যুতে। নিউইয়র্কে ট্রাম্প এখনো ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করেননি, কিন্তু শহরে অভিবাসনবিরোধী অভিযান বাড়ছে।

    তৃতীয়ত, ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা: জুনের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে মামদানির অপ্রত্যাশিত বিজয় someWall Street নেতাদের উদ্বিগ্ন করে তোলে। কিছু ব্যবসায়ী শহর ছাড়ার হুমকি দেয়, আবার কেউ কেউ অন্য প্রার্থীদের পক্ষে বিপুল অর্থ ব্যয় করেন। তবে, মামদানির জয় দৃঢ় থাকায় পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। তিনি ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেন এবং জেপি মরগ্যান চেসের সিইও জেমি ডাইমনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার প্রতিশ্রুতি দেন, যারা বলেছেন তিনি সহযোগিতা করতে চান। তবে অনেকের সন্দেহ, তাঁর অভিজ্ঞতা কম, তাই কর বাড়ালে ধনী ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো হয়তো শহর ছাড়তে পারে।

    চতুর্থত, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করণ: অপরাধ কমানো এবং শহরকে নিরাপদ করে তোলা প্রতিটি মেয়রের জন্য অপরিহার্য। কোভিড মহামারির সময় অপরাধের হার বেড়েছিল, তবে ২০২৫ সালে হত্যা ও গুলির ঘটনা রেকর্ড নিম্নে এসে দাঁড়ায়। এ পরিস্থিতি মামদানিকে সমাজসেবা ও সহায়তা ব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন ভাবনা ভাবার সুযোগ করে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তিনি কমিউনিটি সেফটি বিভাগ গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যা মানসিক স্বাস্থ্য ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা করবে। সাবওয়ে স্টেশনে সামাজিক কর্মী মোতায়েনের পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দেখা গেছে, এর কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। শহরের পুলিশিং ও ছোটখাটো অপরাধ দমনই মূলত সফলতার মূল চাবিকাঠি বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। হাওয়ার্ড উলফসন বলেন, যদি মানুষ নিরাপদ বোধ করে, তারা অন্যান্য সমস্যাগুলোও সহ্য করবে। আর নিরাপত্তা যদি না থাকে, তবে অন্য যেকোনো চ্যালেঞ্জ তারা মানবে না।

  • ভেনেজুয়েলার কারাকাসে একের পর এক বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড

    ভেনেজুয়েলার কারাকাসে একের পর এক বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড

    ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে শুক্রবার রাত থেকে শুরু হওয়া একের পর এক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সময় শেষ রাতে ও ভোরের দিকে রাজধানীর প্রধান সামরিক ঘাঁটির বিভিন্ন অংশে সম্প্রতি বিস্ফোরণ ও আগুনের ঘটনা ঘটেছে। সামরিক স্থাপনাগুলোর কিছু অংশে প্রবল আগুন জ্বলে উঠে এবং সেখানে কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়েছে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বিস্ফোরণগুলো মূলত কারাকাসের দক্ষিণে অবস্থিত ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনীর প্রধান ঘাঁটি ফরচুনা থেকে এসেছে। আল জাজিরার প্রতিনিধি লুসিয়া নিউম্যান জানিয়েছেন, গত রাত থেকে শুরু করে ভোর পর্যন্ত ফরচুনার ভেতর ও তার আশপাশে দফায় দফায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে চলেছে।

    বিস্ফোরণের ফলে সেই এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। নিউম্যান বলেছেন, “ফরচুনা ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষা বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি। আমরা এখন পর্যন্ত জানাতে পারছি না, এই বিস্ফোরণের পেছনে কী কারণ রয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত মেক্সিকোতে সামরিক অভিযান শুরু করেছে। আবার অনেকে বলছেন, প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে সরানোর জন্য দেশটির আভ্যন্তরীণ শক্তি বা সেনাবাহিনী সরকারবিরোধী নাশকতা চালাচ্ছে। তবে, এখানো পুরো সত্য pieces তথ্য পাওয়া যায়নি।

    এদিকে, এই বিস্ফোরণে কারাকাসের আশপাশের এলাকাগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আল জাজিরার প্রতিনিধির কাছে একথা জানিয়ে নিউম্যান বলেছিলেন, “ফরচুনা ভেনেজুয়েলার সামরিক বাহিনীর মূল ঘাঁটিপ্রধান। এখন পর্যন্ত এই বিস্ফোরণের প্রকৃত কারনে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে ধারণা করা হচ্ছে, এর পেছনে রাজনৈতিক বা সামরিক ষড়যন্ত্র থাকতে পারে।”

    অন্যদিকে, কারাকাসে এই ঘটনাক্রমের খবর পেয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পেন্টাগনের সাথে যোগাযোগ করে। তবে পেন্টাগনের কোনো কর্মকর্তা এই বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি বিভিন্ন সময়ে ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালানোর পক্ষে কথা বলেছেন। বিশেষ করে ২৯ ডিসেম্বর তিনি বলেছিলেন, প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অবিলম্বে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে এবং দেশ ছেড়ে চলে যেতে।

    প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে যখন ট্রাম্প প্রথমবারের মত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন, তখন থেকেই তিনি ভেনেজুয়েলার বর্তমান প্রেসিডেন্টকে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করতেন। দ্বিতীয় মেয়াদে রাষ্ট্র পরিচালনার পরও তার ভেনেজুয়েলার ব্যাপারে মনোভাব পরিবর্তিত হয়নি।

    অতঃপর, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের সময়ে ভেনেজুয়েলার ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। গত ডিসেম্বরে তিনি ঘোষণা দেন, বেশ কিছু ভেনেজুয়েলার ট্যাংকার জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা জাহাজগুলোকে দেশের বন্দরে প্রবেশ বা থেকে বের হওয়ার সময় জব্দ করা হবে।

    নির্বাচনের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার চারটি ট্যাংকার জাহাজ জব্দ করেছে, যা মূলত তেল রপ্তানি কাজে ব্যবহৃত হতো। এইসব পদক্ষেপের মাধ্যমে ওিং দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উপর চাপ সৃষ্টি করতে চাচ্ছে।

    সূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা

  • মেক্সিকোয় ৬.৫ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত ২, ব্যাপক নিখোঁজ ও ক্ষয়ক্ষতি

    মেক্সিকোয় ৬.৫ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত ২, ব্যাপক নিখোঁজ ও ক্ষয়ক্ষতি

    মেক্সিকোর রাজধানী মেক্সিকো সিটি এবং প্রশান্ত মহাসাগর উপকূলের একটি জনপ্রিয় পর্যটন এলাকায় সম্প্রতি শক্তিশালী ৬.৫ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এই ভয়াবহ ভূমিকম্পের প্রভাবে অন্তত দুইজন নিহত হয়েছে। এর পাশাপাশি, এর কেন্দ্রের কাছাকাছি ছোট এক শহরে মাঝারি ধরনের ক্ষয়ক্ষতি দেখানো হয়েছে।

    মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, এই ভূমিকম্প স্থানীয় সময় ভোর ৮টার ঠিক আগে আকাপুলকো এলাকায় আঘাত হানে। আকাপুলকো দরিদ্র এক গুরুত্বপূর্ণ বন্দরের পাশাপাশি জনপ্রিয় সমুদ্রসৈকত হিসেবে পরিচিত।

    আন্দোলনের কম্পন প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মেক্সিকো সিটিতেও অনুভূত হয়। সেখানে সতর্কতামূলক অ্যালার্ম বাজায় স্থানীয় প্রশাসন, ফলে রবিবারের ছুটির দিনে মানুষ আতঙ্কে রাস্তায় নেমে আসে।

    মেক্সিকো সিটির একটি সূত্র জানায়, করোনার পরিস্থিতিতে দ্বিতীয় তলার একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বের হওয়ার সময় ৬০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি পড়ে গিয়ে প্রাণ হারান। শহরটির মেয়র ক্লারা ব্রুগাদা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানান, এ ঘটনায় আরও ১২ জন আহত হয়েছেন। তবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

    অপরদিকে, প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শেইনবাম তাঁর নিয়মিত সকালবেলার সংবাদ সম্মেলন চলাকালে প্রেসিডেনশিয়াল প্যালেস থেকে জরুরি ভিত্তিতে বহিষ্কার হন।

    মেক্সিকোর জাতীয় ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ সংস্থা জানায়, এই ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল গুয়েরেরো অঙ্গরাজ্যের সান মার্কোস শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে। প্রেসিডেন্ট শেইনবামের ভাষ্য, ওই ভূমিকম্পে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির সংবাদের কোনো তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি, তবে সান মার্কোসের আকাশে ধ্বংসের ছাপ স্পষ্ট মনে হচ্ছে।

    গুয়েরেরোর গভর্নর এভেলিন সালগাদো জানান, একটি পঞ্চাশোর্ধ্ব নারী তাঁর বাড়ি ধসে পড়ে প্রাণ হারান।

    সান মার্কোসের মেয়র মিসায়েল লোরেনসো কাস্তিয়ো জানিয়েছেন, প্রায় ৫০টি বাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং অধিকাংশ বাড়িতেই ফাটল দেখা দিয়েছে।

    স্থানীয় বাসিন্দারা এক সংবাদদাতাকে বলে, তাদের বাড়ির দেয়ালে অনেক ফাটল ও ধস দেখা দিয়েছে। একজন ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা রোগেলিও মোরেনো নিজের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে বলেন, সান মার্কোস মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, পুরোপুরি বিপর্যস্ত।

    এই দুর্যোগের প্রভাব নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের আশা, তারা দ্রুত প্রয়োজনীয় সহায়তা পাবেন এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও স্পষ্ট হবে। সূত্র: এএফপি

  • খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাতের জন্য খুলনায় দোয়া অনুষ্ঠিত

    খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাতের জন্য খুলনায় দোয়া অনুষ্ঠিত

    বেগম খালেদা জিয়া, বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, গণতন্ত্রের জন্য অগ্রণী নেত্রী, এর রুহের মাগফিরাত কামনা করে খুলনায় বিভিন্ন মসজিদে বিশেষ দোয়া ও মাহফিল আয়োজন করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বাদ জুমা, খুলনার ঐতিহ্যবাহী টাউন মসজিদে খুলনা মহানগর বিএনপি এর উদ্যোগে এই দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। মুসল্লিরা প্রিয় নেত্রীর জন্য অন্তরের আন্তরিকতা ও গভীর শোকের অনুভূতি প্রকাশ করে চোখের জল দিয়ে দোয়া করেন। এ সময় তাদের মধ্যে এক আবেগময় পরিবেশ সৃষ্টি হয়, যা সকলের মনকে স্পর্শ করে।

    দোয়াকে উদ্বোধন করে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে খুলনা মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এড. শফিকুল আলম মনা বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর মাধ্যমে দেশের গণমানুষের প্রতি যা ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও আবেগ প্রকাশ হয়েছে, তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরল। এই ভালোবাসা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে আরও ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী করবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন বাস্তবায়নে বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন জীবন উৎসর্গ করেছেন। আজ তারেক রহমানের হাতে পতাকা ওঠার পর, জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণে দেশকে স্বাধীন, সার্বভৌম ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ার অঙ্গীকার যুগান্তকারী।

    মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন বলেন, নীতির প্রশ্নে, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের মাপকাঠিতে বেগম খালেদা জিয়া কখনো আপোস করেননি। তিনি জীবনের শেষ মুহূর্তেও গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম ও লড়াই চালিয়ে গেছেন, বারবার কারাবরণ করেছেন। তার গভীর দেশপ্রেম ও জনগণের প্রতি ভালোবাসাই আজ সকলকে আবেগাপ্লুত করেছে। তিনি আরও বলেন, জীবনের শেষ সময়েও অসুস্থতা সত্ত্বেও তিনি দেশ থেকে দূরে যাননি, কারণ দেশের মাটি, মানুষ ও সার্বভৌমত্বের প্রতি তার গভীর ভালোবাসা অমোঘ।

    দোয়ায় উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগর বিএনপি’এর সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ পারভেজ বাবু, মোল্লা ফরিদ আহমেদ, নাসিরউদ্দিন, আব্দুর রশিদ, আশরাফুল ইসলাম নূর, আশরাফুল আলম নান্নু, সজীব তালুকদার, ইশতিয়াক আহমেদ ইস্তি, কাজী জলিল, রকিবুল ইসলাম মতি, এড. মশিউর রহমান নান্নু, নাজমুস সাকিবসহ মহানগর ও জেলা বিএনপি ও তার অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

    এদিকে, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করে খুলনা মহানগর ও জেলার প্রতিটি মসজিদে জুমার নামাজের শেষে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। এসব দোয়াতে মুসল্লি ও সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। এই দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে শোক ও শ্রদ্ধার পাশাপাশি, মানুষের মনে মনে দেশের গণতন্ত্র ও মুক্তির জন্য অঙ্গীকার আরো দৃঢ় হয়। প্রমাণ হয়, গণতন্ত্রের প্রতীক বেগম খালেদা জিয়া আজও মানুষের হৃদয়ে অমলিন অঙ্গীকার হিসাবে থাকবেন।

  • মোংলা সমুদ্রবন্দর ভবিষ্যতের নৌবাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দু হতে যাচ্ছে

    মোংলা সমুদ্রবন্দর ভবিষ্যতের নৌবাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দু হতে যাচ্ছে

    রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও দেশের সংগ্রামের মাঝে মোংলা সমুদ্রবন্দর পণ্য আমদানি ও রপ্তানিতে বেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। চলতি অর্থবছরে ১ কোটি ৩০ লক্ষ মেট্রিক টন পণ্য আমদানি-রপ্তানির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে এই বন্দরটি, যা দেশের অর্থনৈতিক পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। যদি ব্যবসায়ীরা এই সম্ভাবনাময় ভৌগোলিক সুবিধাকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে সফল হন, তাহলে মোংলা শুধু বাংলাদেশ নয়, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌবাণিজ্য কেন্দ্র ও অর্থনৈতিক কেন্দ্রস্থলে পরিণত হবে।

    বন্দর সূত্র জানায়, সময়ের সাথে সাথে ব্যবসায়-বাণিজ্যের ব্যাপক সম্ভাবনা সৃষ্টি হওয়ায় দেশের পাশাপাশি বিদেশি আমদানি-রপ্তানিকারকরা এখন মোংলা বন্দরের দিকেই ঝুঁকছেন। অন্যান্য বন্দরের তুলনায় এখানে পণ্য পরিবহন খরচ কম, এবং নৌ, সড়ক ও রেল পথে পণ্য পরিবহন সহজ হওয়ায় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের শুরুতেই কন্টেইনারসহ অন্যান্য জাহাজের আগমন ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশের পাশাপাশি বিদেশ থেকে আসা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পোশাক ও যন্ত্রপাতি মোংলা বন্দরে এসে বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে, বিশেষ করে ইউরোপ ও আমেরিকায়।

    চলতি অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে মোংলা বন্দরে ৪৪০টি বাণিজ্যিক জাহাজ আগমন ঘটে, এর মধ্যে ২৭টি কন্টেইনার বহীজ জাহাজ বিদেশী পণ্য নিয়ে এসেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোংলা বন্দরে মোট ২১,৪৫৬ টিইউজ কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করা হয়েছিল, যার মধ্যে চলতি বছর প্রথম ৬ মাসে ১৭,৪০০ টিইউজ কন্টেইনারের পরিচালনা হয়েছে। পাশাপাশি, ৬ মাসে ১৬টি জাহাজে করে আমদানি হয়েছে ৫ হাজার ৫২২টি জাপানি রিকন্ডশন কার, যা মোংলা বন্দরে খালাস করা হয়েছে।

    মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ঘিরে তৈরি হয়েছে অর্ধশতাধিক শিল্পকারখানা, ইপিজেড এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, যেখানে কর্মসংস্থান হয়েছে অন্তত ৩০ থেকে ৩৫ হাজার মানুষের। বন্দরের পণ্য আমদানি-রপ্তানি বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বন্দরের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

    বন্দরটির উপ-পরিচালক মোঃ মাকরুজজ্জামান জানান, মোংলা বন্দরে এখন বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচি চালু হচ্ছে। বর্তমান সরকারের প্রচেষ্টায় বন্দরের উন্নয়ন, অগতির অগ্রগতি এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলমান বেশ কিছু বৃহৎ মেগা প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে, যেগুলির সমাপ্তি হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে; জাহাজের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে, পণ্য আমদানি-রপ্তানির পরিমাণ বাড়বে এবং দেশীয় রাজস্বেও অবদান রাখবে মোংলা বন্দর। এই সব উন্নয়ন সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনীতিতেও বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।