Month: January 2026

  • সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার আবার কমে গেছে

    সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার আবার কমে গেছে

    জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর পরিচালিত বিভিন্ন সঞ্চয় পরিকল্পনার মুনাফার হার আবারও কমিয়েছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সঞ্চয়পত্রের সর্বোচ্চ মুনাফার হার নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন হার রাখা হয়েছে ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ। উল্লেখ্য, এ হার আবারও কমানো হয়েছে গত জুলাই মাসেও।

    বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ এ সংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, যা ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কম বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার হার বেশি থাকছে, অর্থাৎ ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার বা তার কম বিনিয়োগ করলে মুনাফার হার বেশি হবে। আর বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার হার কমে আসবে।

    বিশেষ করে, এই পরিবর্তনের প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে জনপ্রিয় পরিবার সঞ্চয়পত্রে। এই সঞ্চয়পত্রে, পূর্বে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষে মুনাফার হার ছিল ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ। এখন তা কমে ১০ দশমিক ৫৪ শতাংশে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে মুনাফার হার আগে ছিল ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ, যা এখন কমে ১০ দশমিক ৪১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

    পেনশনার সঞ্চয়পত্রে, সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগের জন্য মেয়াদকাল শেষে মুনাফার হার ছিল ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ; এখন তা কমে ১০ দশমিক ৫৯ শতাংশে নামানো হয়েছে। আবার, সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে মুনাফার হার ছিল ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ, যা এখন থেকে ১০ দশমিক ৪১ শতাংশে পরিবর্তিত হয়েছে।

    পাঁচ বছরের মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রেও একই রকম হারে পরিবর্তন এসেছে। এখানে, সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে মেয়াদ শেষে মুনাফার হার এখন ১০ দশমিক ৪৪ শতাংশ; আগে ছিল ১১ দশমিক ৮৩ শতাংশ। আর, বেশি বিনিয়োগের জন্য, মুনাফার হার আগে ছিল ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ, এখন সেটা ১০ দশমিক ৪১ শতাংশে নেমে এসেছে।

    আরো জানিয়ে গেলে, তিন মাসের ভেতরে মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করলে, মুনাফার হার কমে এসেছে। এই সঞ্চয়পত্রে, সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে, মেয়াদ শেষে মুনাফার হার ছিল ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ; এখন তা কমে ১০ দশমিক ৪৮ শতাংশ হয়েছে। একইভাবে, সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে আগে ছিল ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ, এখন তা পড়ে ১০ দশমিক ৪৩ শতাংশে।

    আগামী ১ জুলাই ২০২৫ এর আগে ইস্যু হওয়া সব জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের ক্ষেত্রে, সেই সময়ে নির্ধারিত মুনাফার হারই কার্যকর থাকবে। তবে পুনর্বিনিয়োগের ক্ষেত্রে, নতুন তারিখের মুনাফার হারই প্রযোজ্য হবে, এবং ছয় মাস পরে আবারো মুনাফার হার পুনর্নির্ধারণ করা হবে।

  • বছরের প্রথম দিনেই সোনার দাম ভরিতে কমল ১৪৫৮ টাকা

    বছরের প্রথম দিনেই সোনার দাম ভরিতে কমল ১৪৫৮ টাকা

    নতুন বছরের শুরুতে দেশের বাজারে আবারও সোনার মূল্য হ্রাস করা হয়েছে। এই প্রথম দিনের ঘটনায়, বিশেষ করে ২২ ক্যারেটের সর্বোচ্চ মানের সোনার প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) দাম কমেছে ১ হাজার ৪৫৮ টাকা। ফলে এই ধরনের সোনার নতুন মূল্যে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৭২৪ টাকা।

    বাজুস (বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি) জানিয়েছে, দেশের বাজারে তেজাবি সোনার দামের পরিবর্তনের জন্য নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। এই দাম কার্যকর হবে শুক্রবার, ২ জানুয়ারি থেকে।

    বাজুসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ১ জানুয়ারি সংগঠনের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের বৈঠকে এই মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে, কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীনের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

    নতুন মূল্য অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতিটি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম নির্ধারিত হয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৭২৪ টাকা। এর পাশাপাশি, অন্যান্য মানের সোনার মূল্যও নির্ধারিত হয়েছে। ২১ ক্যারেটের জন্য প্রতি ভরি ২ লাখ ১২ হাজার ৬৩৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৮২ হাজার ২৫০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির জন্য ১ লাখ ৫১ হাজার ৮০৭ টাকা।

    বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে আসতে হবে সরকারের নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুসের নির্ধারিত 6 শতাংশ মূল্য সংযোজন। তবে গহনার ডিজাইন ও মান অনুসারে মজুরির হার পরিবর্তিত হতে পারে।

    উল্লেখ্য, এর আগে, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর দেশের বাজারে সোনার দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। তখন, ভরিতে ২৭৪১ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের সোনার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা। একই সময়ে, ২১ ক্যারেটের প্রকারের মূল্য ছিল ২ লাখ ১৪ হাজার ৩৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৮৩ হাজার ৪১৬ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির জন্য ১ লাখ ৫২ হাজার ৮৫৭ টাকা।

    ২০২৫ সালে, দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যেখানে দাম বাড়ানোর সংখ্যা ছিল ৬৪ বার এবং কমানোর ছিল ২৯ বার।

    এছাড়া, রুপার দামেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। ভরিতে ৫২৫ টাকা কমিয়ে, দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের রুপার ভরি নির্ধারিত হয়েছে ৫ হাজার ৫৪০ টাকা। অন্যান্য মানের জন্য দাম যথাক্রমে, ২১ ক্যারেটের ৫ হাজার ৩০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৪ হাজার ৫৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির জন্য ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা।

    এটি ছিল দেশের বাজারে প্রথম রুপার দাম সমন্বয়। গত বছর, রুপার দাম ১৩ বার পরিবর্তন করা হয়েছিল, যার মধ্যে ১০ বার বাড়ানো এবং ৩ বার কমানো হয়েছিল।

  • ডিসেম্বরে প্রবাসী আয়ে রেকর্ড ৩৯ হাজার কোটি টাকা

    ডিসেম্বরে প্রবাসী আয়ে রেকর্ড ৩৯ হাজার কোটি টাকা

    দিন দিন দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ছে। এর ধারাবাহিকতায়, সদ্য সমাপ্ত ডিসেম্বর মাসে বৈধ পথে প্রবাসী বাংলাদেশিরা মোট ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন। এই অঙ্কে দেশের মুদ্রায় পরিণত করলে হয় প্রায় ৩৯ হাজার ৩৬৫ কোটি ৬১ লাখ টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকাসহ)। এটি এখন পর্যন্ত নয় মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রবাসী আয়ের রেকর্ড। এর আগে, ২০২৫ সালের মার্চ মাসে এটি ছিল ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংক বৃহস্পতিবার এই হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ করেছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে প্রবাসী আয়ের মোট পরিমাণ পৌঁছেছে ১ হাজার ৬২৬ কোটি ৩৯ লাখ টাকায়। যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স ছিল ১ হাজার ৩৭৭ কোটি ৫৮ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স বেড়েছে ৬৯ কোটি ডলার, যা মোট ৩১ শতাংশের বেশি। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২২০ কোটি ডলার, আর এই সময়ে মোট রেমিট্যান্স বেড়েছে ২৪৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার বা ১৮ শতাংশের বেশি।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্যোগ, প্রণোদনা কর্মসূচি ও ব্যাংকিং চ্যানেলের উন্নতিতে অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে, যা দেশের রেমিট্যান্স আয় বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এর ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও আরও স্থিতিশীল হয়েছে।

    পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের মাসভিত্তিক প্রবাসী আয়ের প্রেরণা ছিল যথাক্রমে: জুলাইতে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ডলার, সেপ্টেম্বর ২৬৮ কোটি ৫৫ লাখ ডলার, অক্টোবর ২৫৬ কোটি ২৪ লাখ ডলার এবং নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলার।

    গোটা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে রেকর্ড প্রবাহ দেখা গেছে। ওই অর্থবছরের শেষে দেশে মোট রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ২৭ শতাংশ বেশি। এর আগে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রেমিট্যান্স ছিল ২৩ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার।

  • মুহাম্মদ মুরসালীন ও মুশফিক উস সালেহীন এনসিপি থেকে পদত্যাগ

    মুহাম্মদ মুরসালীন ও মুশফিক উস সালেহীন এনসিপি থেকে পদত্যাগ

    দুই ঘণ্টার ব্যবধানে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে আরও দুই কেন্দ্রীয় নেতা পদত্যাগ করেছেন। বুধবার বিকেলে দলের যুগ্ম-সদস্য সচিব and মিডিয়া সেলের সম্পাদক মুশফিক উস সালেহীন অনলাইনে নিজের পদত্যাগপত্র দলের আহ্বায়কের কাছে পাঠিয়েছেন। এর মাধ্যমে একদিনে দলের দুইজন নেতা পদত্যাগ করলেন। একই দিনে, দুপুরের দিকে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকের ভিডিও বার্তায় এনসিপির যুগ্ম-মুখ্য সমন্বয়ক খান মুহাম্মদ মুরসালীনও দল থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, দলের কিছু নেতার সঙ্গে পুরোনো উপনিবেশিক শাসন ব্যবস্থার অংশীদারিত্বের মতো আপসের চেষ্টা চলছে, যা দলের ভেতরে বিভেদ তৈরি করছে। এই আট দিনে মোট আটজন নেতা দলত্যাগ করেন।

    জামায়াতে ইসলামীর পাশাপাশি জোটের খবর প্রকাশের পর থেকেই এনসিপির কিছু অংশ এই জোটের বিরোধিতা শুরু করে। দলের ৩০ কেন্দ্রীয় নেতা আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বরাবর জোটের বিরোধী একটি স্মারকলিপি দেন, যেখানে স্বাক্ষর করেন মুশফিক ও মুরসালীন। এছাড়াও, ২৫ ডিসেম্বর দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বাড়িতে ছয় নেত্রী বৈঠক করেন, যেখানে তারা জামায়াতের সঙ্গে জোটের আসন তালিকা নিয়ে আপত্তি জানান।

    এই পদত্যাগের ধারা শুরু হয় তখন, যার মধ্যে তারেক রহমানের দেশে ফেরার দিন বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। তাকে সমর্থন জানিয়ে সেই দিনই পদত্যাগ করেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সদস্য সচিব মীর আরশাদুল হক। এরপর দুদিনের মধ্যে দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-সদস্য সচিব ডাঃ তাসনিম জারা ও আসেন। স্বতন্ত্র নির্বাচনের ঘোষণা দেন আরও একজন, তাজনূভা জাবীন। ৩০ ডিসেম্বর আরও দুই নেতা – কেন্দ্রীয় সদস্য আসিফ মোস্তফা জামাল (নেহাল) ও কৃষক উইংয়ের প্রধান সমন্বয়কারী আজাদ খান ভাসানী – দল থেকে পদত্যাগ করেন। ৩১ ডিসেম্বর রাতে, এনসিপির হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে নিজের পদত্যাগ জমা দিয়ে, যুগ্ম-আহবায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ নিজেকে দলত্যাগের ঘোষণা দেন।

  • জামায়াতের মহাসমাবেশ স্থগিত করে ইসলামী আন্দোলন

    জামায়াতের মহাসমাবেশ স্থগিত করে ইসলামী আন্দোলন

    নির্বাচনের আগে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বৃহৎ মহাসমাবেশের পরিকল্পনা থেকে পিছিয়ে গেল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটি জানিয়েছে, প্রাথমিক শিক্ষার নিয়োগ পরীক্ষা ও নির্বাচনী পরিবেশের প্রতি সম্মান জানিয়ে তারা এই কর্মসূচি স্থগিত করেছে। শুক্রবার দুপুরে দলের আমির ও চরমোনাই পীর মোফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির নিয়মিত বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    এর আগে, গত ২৫ ডিসেম্বর দলের এক মিটিংয়ে ঘোষণা করা হয়েছিল যে, শহীদ ওসমান হাদীর হন্তারকের ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে তারা ৯ জানুয়ারি রাজধানীতে মহাসমাবেশ করবে। তবে, নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং প্রাথমিকের নিয়োগ পরীক্ষার কারণে, সংশ্লিষ্ট মহাসমাবেশটি স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

    বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম, শায়খে চরমোনাই, প্রেসিডিয়াম সদস্য মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুস আহমদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, অধ্যক্ষ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমাদ আব্দুল কাইয়ুম, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ ইফতেখার তারিক সহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা।

    উল্লেখ্য, গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে আসেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পরে রাজধানীর তিনশ ফিট এলাকায় ব্যাপক জনসমাগম হয়, যা বিএনপির শক্তিশালী উপস্থিতির পরিচয় দেয়। নির্বাচনের আগে দলটির এই শোডাউন ছিল প্রচার ও শক্তি প্রদর্শনের একটি কৌশল।

    এর পরে, জামায়াত ঘোষণা দেয় তারা ৩ জানুয়ারি রাজধানীতে মহাসমাবেশ করবে। শুধু তাই নয়, জামায়াতের এই কর্মসূচিরও স্থগিত ঘোষণা আসলে, এরপর ইসলামী আন্দোলনও একই সিদ্ধান্ত নিলে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়। জামায়াত বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার কারণে মহাসমাবেশ স্থগিত করে, আর ইসলামি আন্দোলনও এই কর্মসূচি স্থগিত করল।

  • তারেক রহমানের একান্ত সচিব হলেন আব্দুস সাত্তার, প্রেস সচিব সালেহ শিবলী

    তারেক রহমানের একান্ত সচিব হলেন আব্দুস সাত্তার, প্রেস সচিব সালেহ শিবলী

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির বর্তমান নেতা ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দপ্তর নতুন নেতৃত্বে ঝলমলে উঠছে। দলের গুরুত্বপূর্ণ এই দুজন পদে নতুন নিয়োগের মাধ্যমে তাদের দায়িত্ব আরও শক্তিশালী ও কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    আজ শনিবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাবেক সরকারি সার্ভিসের কর্মকর্তা এ বি এম আব্দুস সাত্তারকে তারেক রহমানের একান্ত সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি তারেক রহমানের সকল ব্যক্তিগত ও দপ্তরীয় কাজকর্ম দেখাশোনা করবেন।

    অন্যদিকে, জনপ্রিয় সাংবাদিক ও সাবেক ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক এ এ এম সালেহ (সালেহ শিবলী) কে দলের প্রেস সচিব হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। তিনি দলের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

    দুটি নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করে আজ থেকেই এই দুই কর্মকর্তার দায়িত্বভার গ্রহণের কথা জানানো হয়েছে। এর মাধ্যমে বিএনপি তারেক রহমানের দপ্তর আরও দক্ষ ও গতিশীল হবে বলেই প্রত্যাশা প্রকাশ করেছে দলের নেতারা।

  • প্রতারণার অভিযোগে এনসিপি থেকে পদত্যাগ করলেন আরেক নেত্রী

    প্রতারণার অভিযোগে এনসিপি থেকে পদত্যাগ করলেন আরেক নেত্রী

    জুলাই মাসে গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তার নেতৃত্বের মধ্যে পদত্যাগের নেমে এসেছে ব্যাপক গতি। এই তালিকায় এখন নতুন করে যুক্ত হয়েছেন নেত্রী নীলিমা দোলা, যিনি দলের কেন্দ্রীয় সদস্য হিসাবে প্রতারণার অভিযোগ তুলে নিজের পদত্যাগ ঘোষণা করেছেন।

    শনিবার (৩ জানুয়ারি) তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের একটি পোস্টে এই পদত্যাগের ঘোষণা দেন। পোস্টে তিনি লিখেছেন, আমি সমস্ত দায়িত্ব ও পদ থেকে অবসরে যাচ্ছি। আমার মনে হয়, এনসিপির মধ্যপন্থী রাজনৈতিক ধারাকে এখন আর ধরে রাখা সম্ভব নয়। এতদিন আমি দলের সঙ্গে ছিলাম কারণ ভাবতাম, দলটি ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সংস্কার চালু করবে। কিন্তু সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের পর আমি অনুভব করেছি, দলটি ডানপন্থী দৃষ্টিভঙ্গির দিকে ঝুঁকছে এবং সেই নীতির পৃষ্ঠপোষকতায় এগোচ্ছে।

    তিনি আরও বলেন, জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির যে নির্বাচনী জোট, তা কৌশলগত নয়। যদি হতো, তাহলে এত নেতাকর্মী পদত্যাগ করত না। এই জোটটি মূলত দলবদলের মাধ্যমে ভোটের জন্য গড়ে তোলা হয়েছে, যা অনেকটাই প্রতারণাপূর্ণ।

    নীলিমা লিখেছেন, পদত্যাগের পর অনেকেই বলছেন, আমরা ক্ষমতা এবং গুরুত্ব পাওয়ার পরেও দল থেকে গেলাম কেন। কিন্তু তিনি স্পষ্ট করেছেন, তার কাছে দলের কোনো ক্ষমতা ছিল না। বরং তাঁর প্রগতিশীল মানসিকতা এবং ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারই দলের জন্য শক্তি হিসেবে কাজ করেছে।

    তিনি আরও বলেছেন, যারা পদত্যাগ করছেন তাঁদের বামপন্থী হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা একটি গেমপ্ল্যানের অংশ। এতে করে জামায়াতের কাছে দল বিক্রি সহজ হয়। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, তাহলে কি এত দিনে যারা দল ছেড়ে গেছে, তারা সবাই ডানপন্থী? নাকি একটি কেন্দ্রীয় আদর্শ ভিত্তিক দলই আছেন?

    নীলিমা বলেন, আমি এনসিপিতে যোগ দেওয়ার আগে অনেক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কাজ করেছি। এবং এই দলের সঙ্গে থাকাকালীনও করেছি।

    বিশ্লেষকদের মতে, এর আগে এই বছরের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট করে দলের কিছু নেত্রী নিজেকে পদত্যাগ করেন। এর মধ্যে ছিলেন ডা. তাসনিম জারা, তাজনূভা জাভীন ও সামান্তা শারমিন।

    প্রসঙ্গত, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটের পর থেকে কয়েকদিনের মধ্যে রাজনৈতিক জোটের অনেক নেতাই দলের বিভিন্ন পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন নাহিদ, সারজিস, হাসনাতরা ও দলের যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহসহ আরও কয়েকজন নেতা।

  • খালেদা জিয়ার প্রতি জাতির সম্মান অসাধারণ, আমরা কখনোই ভুলবো না

    খালেদা জিয়ার প্রতি জাতির সম্মান অসাধারণ, আমরা কখনোই ভুলবো না

    বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জন্য তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক শেষ হয়েছে। এই শোকের সময় দেশের বিভিন্ন স্থান এবং বিদেশে অবস্থানরত শুভাকাঙ্ক্ষীরাও গভীর ভালোবাসা, সমবেদনা ও দোয়া প্রকাশ করেছেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এসব কথা বলেন।

    তিনি লিখেছেন, এই তিন দিনে আমরা আরও বুঝতে পেরেছি, আমার মা বিভিন্ন মানুষের কাছে বিভিন্নভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন; কখনো কখনো তার উপস্থিতি ছিল এতই প্রভাবশালী যে আমরা স্বচক্ষে সবটাই বুঝতে পারিনি। তিনি ছিলেন আপসহীনতার প্রতীক, সাহসের সঙ্গে নিজের বিশ্বাসের পক্ষে দাঁড়ানো এক অনুপ্রেরণা। রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে সেটি আমাদের সকলের হৃদয়ে গভীরভাবে স্থাপন করেছে। বড় একটা বিষয় হলো, তিনি পরিচয়, আদর্শ বা অবস্থানের ঊর্ধ্বে উঠে সকলের অনুপ্রেরণা হয়েছেন।

    তিনি আরও জানান, আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাদের উপদেষ্টা পরিষদের প্রতি কৃতজ্ঞ। তাদের নেতৃত্ব ও দ্রুত সমন্বয়ের কারণে এ বিরল ও সম্মানজনক অন্তিম কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।

    তারেক রহমান আন্তর্জাতিক মহলেও বাংলাদেশের আত্মীয় ও বন্ধু রাষ্ট্রের নেতৃবৃন্দ, কূটনীতিবিদ এবং বিভিন্ন দেশের অংশীদারদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। দেশের বাইরে থেকে আসা সমবেদনা ও সংহতি প্রকাশ, বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধানের সহমর্মিতা, সম্মানিত ব্যক্তিদের উপস্থিতি, সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত অনুভূতি—এসবই ছিল এক অপূর্ব অনুভূতির প্রকাশ।

    তিনি বলেন, আমি আবারও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি সশস্ত্র বাহিনী, নিরাপত্তা বাহিনী, প্রশাসন ও মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সকল সদস্যকে। মায়ের শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে তাদের দায়িত্ববোধ ও শ্রদ্ধা আমাদের গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। এই শোকের মুহূর্তগুলো যেন মর্যাদা ও সম্মান সহকারে শেষ হয়, এ জন্য যারা উদ্যোগ নিলেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের সম্মানসূচক গার্ড অব অনার এবং শেষ সালাম মায়ের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে। এতে জাতীয় সম্মান ও ভালোবাসার প্রকাশ ঘটেছে এবং শেষ সময়েও তার জীবনের মূল্যায়ন হয়েছে।

    তারেক রহমান আরও জানান, অনেক মানুষ আছেন, যাদের নাম বা ভূমিকা সবসময় উল্লেখ সম্ভব নয়, কিন্তু তারা নির্বিঘ্নে, কথায় কথায় এই প্রক্রিয়াকে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সহায়তা করেছেন। তাঁদের জন্যও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, আপনাদের প্রচেষ্টা এবং সহযোগিতায় আমাদের পরিবার ও জাতি মর্যাদার সঙ্গে মায়ের স্মৃতিকে ধারণ করতে পেরেছে।

    তিনি বাংলাদেশের জনগণের প্রতি গভীর সম্মান ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন। দেশের প্রতিটি প্রান্ত থেকে উপস্থিত লাখো মানুষের সমবেত উপস্থিতি দেশনেত্রীর প্রতি গভীর অনুভূতি ও সহমর্মিতা বোঝায়। এই শক্তিশালী ঐক্য এমন একটি মানবিক ও গণমানুষের অনুভূতির প্রতিফলন। পরিবার ও বিএনপির পক্ষ থেকে যারা এই শোক ও স্মরণে আমাদের পাশে ছিলেন, তাদের সবাইকেই আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই। আপনারা দেখিয়েছেন যে ভালোবাসা ও সংহতি আমাদের নির্লিপ্ত ও দৃঢ় রাখে, এবং এর মাধ্যমেই আমরা আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তুলবো, ইনশাআল্লাহ।

  • আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের আইনি ভিত্তি পরীক্ষা করছে বাংলাদেশ

    আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের আইনি ভিত্তি পরীক্ষা করছে বাংলাদেশ

    ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) বাংলাদেশে সম্প্রচারে বন্ধে প্রস্তাবনার আইনগত ভিত্তি পর্যালোচনা করছে বাংলাদেশ। এই বিষয়ে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, তারা এই প্রক্রিয়াটি যাচাই-বাছাই করছে এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য প্রস্তুত। রোববার (০৪ জানুয়ারি) সচিবালয়ে গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) এর সঙ্গে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান। এ সময় তিনি বলেন, আইপিএল থেকে বাংলাদেশের ক্রিকেটার মুস্তাফিজকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যা আমাদের জন্য একদিকে দুঃখজনক ও অন্যদিকে ভাবনা-চিন্তার বিষয়। অভিযোগ ওঠে, আইপিএল দেখানো বা না দেখানোর পেছনে রাজনৈতিক স্বার্থ জড়িত। তিনি ব্যাখ্যা করেন, সাধারণত দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েন থাকলেও খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মাধ্যমে এই সমস্যা কমানো সম্ভব। কিন্তু বিএনপি বা ভারতসহ কিছু দেশে এই সম্পর্কের উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, বাংলাদেশের একজন জনপ্রিয় ক্রিকেটার মুস্তাফিজের পরিবর্তে অন্য কাউকে নিয়োগের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে অনেকের মনে প্রশ্ন উঠছে, এর পেছনে কি রাজনীতি কাজ করছে। তিনি বলেন, এই ধরনের সিদ্ধান্তের কারণে দেশের জনগণের মধ্যে আঘাত লেগেছে এবং তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এখন আমাদেরই উচিত এই পরিস্থিতিতে সচেতন ও সজাগ থাকা এবং আইনী ভিত্তিতে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া। রিজওয়ানা হাসান আরও জানিয়েছেন, মোস্তাফিজকে কেন এবং কোন কারণে বাতিল করা হয়েছে, সেই যুক্তি সম্পর্কে তারা স্পষ্ট নয়। তিনি বলেন, যেসকল যুক্তি দিয়ে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে, সেগুলো আমাদের গ্রহণযোগ্য নয়। তাই তারা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে তারা এখন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, কারণ তারা জানেন, এই পরিস্থিতি তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে এবং এই পরিস্থিতির অবশ্যই মোকাবিলা করতে হবে।

  • 2025 সালে সড়ক-রেল-নৌপথে নিহতের সংখ্যা বেড়েছে, ঝরেছে প্রায় ১০ হাজার প্রাণ

    2025 সালে সড়ক-রেল-নৌপথে নিহতের সংখ্যা বেড়েছে, ঝরেছে প্রায় ১০ হাজার প্রাণ

    উৎসবমুখর বিদায়ী ২০২৫ সালে সড়ক, রেল ও নৌ-পথে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ার চিত্র দেখা গেছে। গত বছর এই পথে মোট ৯ হাজার ৭৫৪ জনের জীবন হারিয়েছে এবং ১৫ হাজার ৯৬ জন আহত হয়েছে। এসব দুর্ঘটনার মোট সংখ্যা হয়েছে ৭ হাজার ৩৬৯টি। এর মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা সবচেয়ে বেশি, যেখানে ৬৭২৯টি দুর্ঘটনায় ৯ হাজার ১১১ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় প্রায় ছয় দশমিক নয় চার শতাংশের বৃদ্ধি। আহতের সংখ্যা ছিল ১৪ হাজার ৮১২।

    বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী রোববার (৪ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২০২৫ সালে সড়ক পথে ৬ হাজার ৭২৯টি দুর্ঘটনায় ৯ হাজার ১১১ জন ও আহত হয়েছেন ১৪ হাজার ৮১২ জন। রেলপথে ৫১৩টি দুর্ঘটনা ঘটেছে যেখানে ৪৮৫ জন মারা গেছেন ও ১৪৫ জন আহত হয়েছেন। নৌ-পথেও ১২৭টি দুর্ঘটনায় ১৫৮ জনের মৃত্যুসহ আরও ১৩৯ জন আহত এবং ৩৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

    সড়ক দুর্ঘটনার প্রবণতা বিশ্লেষণে তিনি বলেন, দেশের মোট দুর্ঘটনার ৩৮.২২ শতাংশ ঘটে জাতীয় মহাসড়কে, ২৭.১৩ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ২৮.৮৩ শতাংশ ফিডার রোডে। এছাড়াও, ঢাকা মহানগরীতে ঘটেছে ৪.২২ শতাংশ দুর্ঘটনা, চট্টগ্রাম মহানগরীতে ০.৯০ শতাংশ এবং রেলক্রসিংয়ে ০.৬৮ শতাংশ দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।

    মোজাম্মেল হক চৌধুরী আরও মন্তব্য করেন, অন্তর্বর্তী সরকার সড়ক পরিবহন খাতের যথাযথ সংস্কার না করা পর্যন্ত দেশের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাত্রা, সড়কের নিরাপত্তা এবং ভাড়ার অরাজকতা এখনও কাটেনি। তিনি বলেন, ২০২৫ সালে মোট ৭ হাজার ৩৬৯টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৯ হাজার ৭৫৪ জন, আহত হয়েছেন ১৫ হাজার ৯৬। গত বছরের তুলনায় এই সংখ্যা যথাক্রমে ৬.৯৪ শতাংশ, ৫.৭৯ শতাংশ ও ১৪.৮৭ শতাংশ বেড়েছে।

    এছাড়াও রেলপথে ৫১৩টি দুর্ঘটনায় ৪৮৫ জন ও নৌ-পথে ১২৭টি দুর্ঘটনায় ১৫৮ জন মৃত্যুর পাশাপাশি ১৩৯ জন আহত এবং ৩৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। সড়ক দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাই সবচেয়ে বেশি, যেখানে ২ হাজার ৪৯৩টি দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৯৮৩ জন নিহত ও ২ হাজার ২১৯ জন আহত হয়েছেন, যা মোট দুর্ঘটনের ৩৭.০৪ শতাংশ, নিহতের ৩৮.৪৬ শতাংশ ও আহতের ১৪.৯৮ শতাংশ।

    সংগঠনটি সরকারে জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশও উপস্থাপন করে। এতে বলা হয়, প্রতিটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহারে পরিবহন খাতের সংস্কার, সড়ক নিরাপত্তা, উন্নত গণপরিবহন ও যাত্রী অধিকার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। নির্বাচনী এলাকার প্রার্থীদের জন্য এই বিষয়গুলো অর্ন্তভুক্ত করা জরুরি। এছাড়াও, সড়ক নিরাপত্তার জন্য বাজেট বৃদ্ধি, সড়ক নিরাপত্তা উইং চালু, ক্ষতিগ্রস্ত নাগরিকদের ত্বরিত অর্থপ্রদান, ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য উন্নতমানের প্রশিক্ষণ এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

    এছাড়াও, দেশের মূল শহরগুলোতে আধুনিক ইলেকট্রিক বাসের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, ট্রাফিকের স্বচ্ছতা ও দুর্নীতিমুক্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, আলাদা লেন ব্যবস্থা চালু এবং যানবাহনের নিবন্ধন ও লাইসেন্স প্রদান প্রক্রিয়া আধুনিক প্রযুক্তিতে উন্নীত করার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। সবমিলিয়ে, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে সড়ক ও নৌপথে দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।