Month: January 2026

  • চলতি সপ্তাহে ইরানে হামলার আশঙ্কা জোড়ালো যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে

    চলতি সপ্তাহে ইরানে হামলার আশঙ্কা জোড়ালো যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে

    চলতি সপ্তাহে ইরানে মার্কিন সেনা হানার সম্ভাবনা আবারও জোড়ালো হয়ে উঠেছে। এ হামনায় উচ্চপদস্থ ইরানি কর্মকর্তাদের-target করা হতে পারে বলে সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যম মিডেল ইস্ট আই জানিয়েছে। গতকাল সোমবার (২৬ জানুয়ারি) মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের বিভিন্ন কর্মকর্তা এই সতর্কতা জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, সম্ভাব্য হামলা এই সপ্তাহেই হতে পারে, তবে সময় একটুখানি পরিবর্তিত হতে পারে।

    ইরানে যদি যুক্তরাষ্ট্রের হামলা হয় তবে পাল্টা আঘাতের পরিকল্পনাও গড়ে উঠছে। সরকারি সূত্রের মতে, এই বিষয়ে মার্কিন ট্রাম্প প্রশাসনে আলোচনা চলছে, যা এখন বেশ উত্তপ্ত অবস্থানে পৌঁছেছে।

    প্রায় এক মাস আগে, ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। কঠোরভাবে দমনপীড়নের মাধ্যমে ওই আন্দোলন চাপে রাখা হয়। এরপর থেকেই বিক্ষোভকারীদের হত্যার অজুহাতে ইরানে হামলার হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

    যখন ইরানে বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে চলে আসে, তখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সরকারী প্রতিষ্ঠান ও দমন-পীড়ণ নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন। শুরুতে তিনি জনিয়েছিলেন, বিক্ষোভকারীদের হত্যা করছে ইরানি সরকার। তবে দুই দিন পরে বললেন, সরকার এখন আর বিক্ষোভকারীদের হত্যা করছ না। এই পরিবর্তনটি মূলত হামলা পরিকল্পনা বাতিলের জন্য ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প এই মন্তব্য দিয়ে ইরানের ওপর হামলার পরিকল্পনা আড়াল করতে চেয়েছিলেন। আবার কেউ কেউ মনে করেন, তিনি আসলে হামলা এড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

    এই সময়ে, সৌদি আরব, কাতার এবং ওমান ইরানে সরাসরি হামলার বিরোধিতা করে আলোচনা চালাচ্ছে। তবে মার্কিন একটি গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, মূলত এই সময় হামলা স্থগিত রাখা হয়েছিল, তবে ট্রাম্প এখনও ইরানের শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তনের পরিকল্পনা বাতিল করেননি। সূত্রের দাবি, এই অবস্থান এখনও পরিবর্তন হয়নি।

    সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এখনও অন্দরে সিদ্ধান্ত আসেনি; তবে পরিস্থিতি যে খুবই উত্তপ্ত, তা স্পষ্ট।

  • আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিএনপি’র দেশ গড়ার নির্বাচন

    আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিএনপি’র দেশ গড়ার নির্বাচন

    খুলনা মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এড. শফিকুল আলম মনা বলেছেন, আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি দেশের উন্নয়ন ও পরিবর্তনের মুখ্য ধারক হিসেবে কাজ করবে। তিনি বলছেন, এই নির্বাচনে বিএনপি সাহসিকতার সঙ্গে রাজনীতিতে অংশ নিয়ে দেশের মানুষের কল্যাণই হবে প্রধান লক্ষ্য। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে যদি বিএনপি সরকারে আসে, তবে দেশের সমাজে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে একসাথে কাজ করা হবে। কালেক্টিভ উদ্যোগের মাধ্যমে পরিবার পরিকল্পনা, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্যের উন্নতি, শিক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালীকরন, খেলাধুলা ও সংস্কৃতির বিকাশ, পরিবেশের সংরক্ষণ, উচ্চ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা, এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো—মসজিদ, মাদ্রাসা ও অন্যান্য ধর্মীয় সংগঠনের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

    আওয়ামী লীগ সরকারের পরিবর্তে দেশের উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিএনপি’প্রার্থী হিসেবে খুলনা-1 আসনের মনোনয়নপ্রাপ্ত আলহাজ্ব আমীর এজাজ খানের ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দাবি করেছেন। এলাকায় অবহেলিত দুটি উপজেলা ঝাঁপঝপিয়া ও চুনকুড়ি, বটবুনিয়া-টু-নলিয়ানে ঢাকী নদীর ওপর সেতু নির্মাণ, গল্লামারী-বটিয়াঘাটা দিয়ে দাকোপের নলিয়ান-কালাবগী পর্যন্ত মহাসড়ক উন্নয়নের জন্য আপনারা ভোট প্রদান করতে অনুরোধ জানিয়েছেন।

    তিনি বলেন, বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে আঠারো কোটি মানুষের হৃদয়ে দেশের গণতান্ত্রিক স্পন্দন জারি রয়েছে। ধানের শীষ প্রতীকের বিজয় দেশের উন্নয়নের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব আপনারাদের হাতে, আর দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির দায়িত্ব দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের। তিনি গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় দাকোপ উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্র আর বিভিন্ন স্থানে সাধারণ ভোটারদের মাঝে ধানের শীষ প্রতীকের লিফলেট বিতরণ, কুশল বিনিময় ও দলীয় কার্যালয়ে এক সংক্ষিপ্ত কর্মসভায় এসব কথা বলেন।

    সাহায্যকারী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা কৃষক দলের সভাপতি সজীব তালুকদার, কেন্দ্রীয় যুবদলের নেতা পার্থ দেব মন্ডল, দাকোপ উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব আব্দুল মান্নান খান, শেখ শাকিল আহমেদ দিলু, চালনা পৌরসভা বিএনপি’র সাবেক আহবায়ক মোজাফফর হোসেন শেখ, সদস্য সচিব আল-আমীন সানা, মশিউর রহমান লিটন, উপজেলা ও চালনা পৌরসভার বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম আহবায়ক শেখ শহিদুল ইসলাম, এস এম মোস্তাফিজুর রহমান রমাস্তাক, মহিদুল ইসলাম হাওলাদার, কামরুজ্জামান টুকু, এস এম গোলাম কাদের, চালনা পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আইয়ুব আলী কাজী, শেখ রফিকুল ইসলাম, উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা, আজিম হাওলাদার, উপজেলা যুবদল নেতা আব্দুর রাজ্জাক শেখ, চালনা পৌরসভার যুবদল নেতা হাসমত খলিফা, উপজেলা ছাত্রদল সভাপতি জি এম রুমন, হালিম সানা প্রমুখ।

  • খুলনা-৪ আসনে বিএনপি নির্বাচনি প্রচারণায় মৎস্য শিল্পের উন্নয়নের প্রত্যাশা

    খুলনা-৪ আসনে বিএনপি নির্বাচনি প্রচারণায় মৎস্য শিল্পের উন্নয়নের প্রত্যাশা

    খুলনা-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী ও তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেন, রূপসা, তেরখাদা ও দিঘলিয়া জেলা মৎস্য সম্পদে সমৃদ্ধ একটি কেন্দ্রীয় এলাকা। এই অঞ্চলের নদী, খাল ও জলাশয়কে সঠিকভাবে কাজে লাগানো গেলে খুলনা-৪ আসনকে দেশের অন্যতম প্রধান মৎস্য উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি উল্লেখ করেন, যদি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ ভোট দিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করতে সক্ষম হন, তাহলে খুলনা-৪ এর মৎস্য খাতকে আধুনিক ও টেকসই শিল্পে রূপান্তর করা তার অন্যতম অগ্রাধিকার হয়ে উঠবে। মৎস্য শিল্প আমাদের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। এই শিল্পকে কোনোভাবেই অবহেলা বা ধ্বংস হতে দেওয়া যাবে না। অসাধু ব্যবসায়ীদের হাত থেকে মৎস্য শিল্পকে রক্ষা করে উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে, যাতে মানসম্পন্ন মাছের উৎপাদন বাড়ানো যায়। মঙ্গলবার সকালে রূপসা উপজেলা চর রূপসায় বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টস অ্যাসোসিয়েশনের খুলনা অঞ্চলের আয়োজনের দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএফএফইএ সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোঃ তরিকুল ইসলাম জহির। এরপর রহিমনগর ও জাবুসা এলাকায় নির্বাচনী আলোচনা সভায় আজিজুল বারী হেলাল বলেন, রূপসাকে শান্তির উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিএনপি কখনো চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী বা মাদক কারবারিদের প্রশ্রয় দেয় না এবং প্রতিহিংসার রাজনীতি করে না। অতীতের ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়ে তিনি বলেন, আপনারা ভালোবাসা ও সমর্থন দিয়ে আমাকে খুলনা-৪ কে একটি শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ ও উন্নত জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে চান। এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি কঠোর পরিশ্রম করে যাবেন। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন খুলনা জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক মোল্লা খায়রুল ইসলাম, উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ, উপজেলা বিএনপি সদস্যরা, বিভিন্ন শ্রমিক, কৃষক ও স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনের নেতারা। বিকেলে খুলনা জেলা কৃষকদলের আয়োজনে রহিমনগরে দোয়া মাহফিল ও সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আজিজুল বারী হেলাল। এতে সভাপতিত্ব করেন সাধারণ সম্পাদক শেখ মোঃ আবু সাঈদ। বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দিঘলিয়া ও রূপসা উপজেলা বিএনপি নেতারা, শ্রমিক, কৃষক এবং স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনের সদস্যরা। অনুষ্ঠান শেষে দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন মুফতি আবুল হাসান হামেদি।

  • গৃহবধূ থেকে গণতন্ত্রের নেত্রী: খালেদা জিয়ার সংগ্রামী জীবনকাহিনী

    গৃহবধূ থেকে গণতন্ত্রের নেত্রী: খালেদা জিয়ার সংগ্রামী জীবনকাহিনী

    সাধারণ একজন গৃহবধূ থেকে শুরু করে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী হিসেবে নিজের অবস্থান গড়ে তোলার গল্পটি একটি জীবন্ত ইতিহাস। এই সংগ্রাম, ত্যাগ ও নেতৃত্বের মহান দিকপাল খালেদা জিয়ার জীবনকে হৃদয়স্পর্শী আবেগের মাধ্যমে তুলে ধরতে খুলনায় আয়োজন করা হয়েছে দুটি দিনব্যাপী আলোকচিত্র প্রদর্শনী। এই আয়োজনটি করেছেন বগুড়া মিডিয়া ও কালচারাল সোসাইটি, যা শুক্রবার খুলনার শহীদ হাদিস পার্কে শুরু হয়েছে।

    প্রদর্শনীটিতে খালেদা জিয়ার পারিবারিক জীবন, রাজনৈতিক উত্থান, আন্দোলন-সংগ্রাম, কারাবন্দি সময়, রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রামের নানা ধাপের প্রায় শতাধিক ছবি স্থান পেয়েছে। প্রতিটি চিত্র যেন একেকটি ইতিহাসের গল্প, যা দেখলে চোখে জল আসে। পাশাপাশি পার্কের মুক্তমঞ্চে সেখানে প্রদর্শিত হয়েছে দুর্দান্ত এক ভিডিও ডকুমেন্টারি, যা তাঁর জীবনের সংগ্রাম ও সংগ্রামী অভিযানের ওপর নির্মিত। এই প্রামাণ্যচিত্রটি দর্শকদের হৃদয় ছুঁয়ে যায় এবং নতুন প্রজন্মের জন্য বাংলার এই নেত্রীর জীবন ও সংগ্রামের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করতে অনুপ্রেরণা দেয়।

    প্রদর্শনীটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সকাল সাড়ে ১১টায় মূখ্য আলোচক হিসেবে ছিলেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদ। তিনি বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া শুধু একজন রাজনীতিবিদ নন, তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতীক। তাঁর সংগ্রামী জীবন তরুণ প্রজন্মের জন্য এক অসাধারণ প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।”

    আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক রাকিবুল হাসান, খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন, সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা নার্গিস আলী, বগুড়া মিডিয়া ও কালচারাল সোসাইটির ঢাকা শাখার সভাপতি মারুফ রহমান ও সাধারণ সম্পাদক সুজন মাহমুদ। বক্তারা উল্লেখ করেন, দীর্ঘ সময়ের স্বৈরশাসন, নির্যাতন ও কারাবরণের মধ্যেও বেগম খালেদা জিয়া কখনো আপস করেননি। তাঁর এই সংগ্রাম দেশ resistorতন্ত্র, ভোটাধিকার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ছিল অপ্রতিরোধ্য।

    প্রদর্শনীতে বিভিন্ন পেশার মানুষ, শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ দর্শনার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। অনেকেই আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, এই আলোকচিত্র প্রদর্শনী নতুন প্রজন্মের জন্য দেশের নেত্রীর জীবন ও আদর্শ জানা সহজ করে দেয়। আয়োজকদের মতে, এই দুই দিনব্যাপী প্রদর্শনী মূলত বেগম খালেদা জিয়ার সংগ্রামী জীবনকে আরো বেশি মানুষের হৃদয়ে পৌঁছে দিতে চায়।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন বেগম রেহানা ঈসা, এডভোকেট তছলিমা খাতুন ছন্দা, কে. এম. হুমায়ুন কবির, হাফিজুর রহমান মনি, শরিফুল ইসলাম টিপু, আশরাফুল ইসলাম নূর, জাকির ইকবাল বাপ্পি, নাসিরুদ্দিন, ইসহাক আসিফ, মো: রাকিবুল হাসান, মাসুদুল হক হারুন, নুরুল হুদা পলাশ, শেখ সরোয়ার, শাহিন মল্লিক রাজু ইত্যাদি।

  • গোপালগঞ্জে বাসু হত্যা মামলায় পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড

    গোপালগঞ্জে বাসু হত্যা মামলায় পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড

    দশ বছর আগে গোপালগঞ্জের মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি সাইদুর রহমান বাসু খুনের ঘটনায় গুরুতর মামলার বিচার শেষ করেছে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল। আজ বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মো. রহিবুল ইসলাম এই রায় ঘোষণা করেন। একইসঙ্গে চার আসামির জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অন্য ১১ জনের জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ডও ঘোষণা করা হয়। সৌজন্যে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর আব্দুর রশীদ মোল্লা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— বুলবুল শেখ, হেদায়েত শেখ, তফসির শেখ, কিবরিয়া আল কাজী এবং ঝন্টু শেখ। মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি রাতে গোপালগঞ্জের কুয়াডাঙ্গা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের অফিস থেকে বাসু দেওয়ার পথে মৌলভীপাড়ার বাসায় ফিরছিলেন। এ সময় একদল হামলাকারী বাসুকে কুপিয়ে এবং পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। চিকিৎসাধীন থাকাকালীন পরদিন তাকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তার ছোট ভাই জাসু শেখ গোপালগঞ্জ সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। তদন্তে ২৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয় ২০১৬ সালের ১২ জুলাই। ২০১৭ সালের ২৯ আগস্ট গোপালগঞ্জ দায়রা জজ মো. দলিল উদ্দিন অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু করেন। এরপর ২০১৮ সালের ১৬ আগস্ট মামলাটি ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এ পাঠানো হয়, যেখানে এখন বিচার সম্পন্ন হয়েছে।

  • ভোট বিপ্লবে বেগম জিয়ার প্রতি অন্যায়ের বিচার হবে

    ভোট বিপ্লবে বেগম জিয়ার প্রতি অন্যায়ের বিচার হবে

    বিএনপি’র কেন্দ্রীয় ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে দীর্ঘদিন ধরে যে চরম অবিচার ও জুলুম করা হয়েছে, তার জবাব এবার হবে ভোটের মাধ্যমে। খুলনা-৩ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের এই প্রার্থী আরও বলেন, সংগ্রামী নেত্রী খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে সরাতে নানা ষড়যন্ত্র করা হয়েছে, যা এখন দেশের মানুষ স্পষ্টভাবে দেখতে পাচ্ছেন। তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়, শুধুমাত্র তার দৃঢ় নেতৃত্বের জন্য। গণতন্ত্রের পতাকাকে উচ্চ শিখরে পৌঁছে দিতে তার ত্যাগ ও সংগ্রাম দেশের সব নাগরিকের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। গতকাল মঙ্গলবার ১নং ওয়ার্ডে এলাকাবাসীর উদ্যোগে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

  • সোনার দাম এক দিনেই ২ লাখ ৫০ হাজার ছাড়াল

    সোনার দাম এক দিনেই ২ লাখ ৫০ হাজার ছাড়াল

    এক দিনের ব্যবধানে আবারও দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। এদিকে, প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৮ হাজার ৩৪০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়ে এখন সোনার মূল্য দুই লাখ ৫২ হাজার ৫০৭ টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পর্যায়।

    বুধবার (২১ জানুয়ারি) বাজুসের প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। নতুন এই দাম আগামীকাল, ২২ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

    সংগঠনটি জানিয়েছে, বৈশ্বিক বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দাম বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারেও স্বর্ণের দামে বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা গেছে।

    বিশ্বজুড়ে স্বর্ণ ও রুপার দাম সম্পর্কিত সবচেয়ে বিশ্বস্ত ওয়েবসাইট গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি’র তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স বেড়ে হয়েছে ৪ হাজার ৮০০ ডলার ছাড়িয়ে।

    নতুন দাম অনুযায়ী, সবচেয়ে মানসম্পন্ন বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের মূল্য দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ৫২ হাজার ৪৬৭ টাকা, অন্যদিকে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি গিয়ে দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ৪০ হাজার ৯৭৮ টাকা। ১৮ ক্যারেটের ভরি মূল্য হয়েছে দুই লাখ ৬ হাজার ৫৬৯ টাকা আর সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের এক ভরি দাম ১ লাখ ৬৯ হাজার ৬৫৩ টাকা।

    সোনার দামের সঙ্গেই বেড়েছে রুপার দামও। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার মূল্য ৬ হাজার ৮৮২ টাকা, ২১ ক্যারেটের ভরি রুপা ৬ হাজার ৫৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ভরি রুপা ৫ হাজার ৫৯৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৪ হাজার ২০০ টাকা।

  • চীনের বিশাল বাণিজ্য উদ্বৃত্ত: আশীর্বাদ না অভিশাপ?

    চীনের বিশাল বাণিজ্য উদ্বৃত্ত: আশীর্বাদ না অভিশাপ?

    ২০২৬ সালের মাত্র দুই সপ্তাহ পেরুতেই চীনের অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান বিশ্বকে驚িত করে দিয়েছে। ২০২৫ সালজুড়ে চলা আন্তর্জাতিক শুল্ক যুদ্ধের চাপ সত্ত্বেও, দেশের রপ্তানি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছরে চীনের বার্ষিক বাণিজ্য উদ্বৃত্ত রেকর্ড ১.২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে—যা এখনো পর্যন্ত বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি।

    এই তথ্য প্রকাশের একদিনের মধ্যেই নিউ ইয়র্ক টাইমসে এক বিশ্লেষণে ব্রুকিংস ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো ও ইউনিভার্সিটি অফ কর্নেলের অধ্যাপক ঈশ্বর প্রসাদ খোলাসা করেছেন, এই বিশাল বাণিজ্য উদ্বৃত্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্কের চেয়েও বড় বিপদের সংকেত। তাঁর ভাষায়, এই অত্যধিক উদ্বৃত্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থার জন্য আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    অধ্যাপক প্রসাদ যুক্তি দিয়েছেন যে, চীনের সস্তা পণ্য শুধুমাত্র উন্নত দেশগুলোর উৎপাদন শিল্পের জন্য নয়, বরং নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতেও প্রতিযোগিতাকে কঠিন করে তুলছে। তিনি বলেন, ‘‘বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হিসেবে নিজেকে এমনভাবে নির্ভরশীল করা, এটি আন্তর্জাতিক নীতিমালা ও সুবিধাজনক বাণিজ্য পরিস্থিতি ভেঙে ফেলতে পারে।’’

    অন্যদিকে, চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসের سابق প্রধান সম্পাদক হু সিজিন এক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ১৬ জানুয়ারি এক পোস্টে বলেছেন, চীনের বিশাল বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ওয়াশিংটনের উচ্চবর্ণের লোকজনকে আতঙ্কিত করে তুলেছে। কারণ তারা বুঝতে পারছেন যে, চীনের অর্থনীতি অত্যন্ত স্থিতিশীল ও টেকসই—কোনো বাণিজ্য যুদ্ধের মাধ্যমে এই অর্থনীতিকে দমিয়ে রাখা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, চীন একান্তই সততা, পরিশ্রম ও বিশ্বস্ততার ভিত্তিতে ব্যবসা করে যাচ্ছে, কোনও শক্তির জোর বা অন্যায় চাপের মাধ্যমে নয়।

    চীনের এই রেকর্ড বাণিজ্য উদ্বৃত্তের মূল কারণগুলো জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর পেছনের মূল কারণ হলো শক্তিশালী রপ্তানি এবং নিম্ন গতি সম্পন্ন আমদানির বিপরীতে। গত বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে শুল্ক যুদ্ধের কারণে চীনের রপ্তানি ২০ শতাংশ কমলেও, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা, আসিয়ান অঞ্চল ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে রপ্তানি বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। বিশেষ করে আফ্রিকায় রপ্তানি দৈনিক ২৫.৮ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতা, ঐতিহ্যবাহী চাহিদা ও ইউয়ানের দাম কমে যাওয়া এর পেছনের কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা চীনা পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে আকর্ষণীয়তাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

    বাণিজ্য অংশীদারদের জন্য ঝুঁকি সংকেত
    তুলনামূলকভাবে দেখা গেছে, ২০২৫ সালজুড়ে চীনের মোট আমদানির পরিমাণ মাত্র ০.৫ শতাংশ বৃদ্ধির মধ্যে ছিল, যা রপ্তানি বৃদ্ধির ৬.১ শতাংশের তুলনায় অনেক কম। ফলে, বাণিজ্য উদ্বৃত্তের পরিমাণ আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। এর কারণ হিসেবে বিশ্লেষকরা বলছেন, চীনের অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদার অভাব। ভোক্তা পণ্যের খুচরা বিক্রয়ে ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধে ধারাবাহিকভাবে কম প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে; নভেম্বর মাসে এই হার সবচেয়ে কম হয়েছে, যা গত তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। পাশাপাশি, স্থিতিশীল সংকটের কারণে এখনো উপযুক্ত বিনিয়োগের অভাব দেখা দিয়েছে। এক কথায়, অভ্যন্তরীন অর্থনীতির এই দুর্বলতা দৃষ্টিগোচর হয়ে উঠেছে, যার ফলে আমদানি বাড়ানো কষ্টকর হয়ে পড়ছে।

    চীনের মাসিক বাণিজ্য উদ্বৃত্ত গত বছর সাত মাসেই ১০০ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে, যদিও ২০২৪ সালে মাত্র একবারই এরকম ঘটনা ঘটেছিল। এই পরিস্থিতি বুঝতে আমাদের জানায় যে, শক্তিশালী রপ্তানি ও দুর্বল আমদানির এই ভারসাম্যহীনতা কোনও অপ্রত্যাশিত বা এককালীন ধারা নয়। এটি চীন ও বিশ্ব অর্থনীতির জন্য দুটিই গুরুত্বপূর্ণ সংকেত এবং সম্ভাব্য সুফল ও পাশাপাশি ঝুঁকি বহন করে।

    বিশাল এই উদ্বৃত্তের কারণে বোঝা যায়, চীনের উৎপাদন অবস্থা কতটা শক্তিশালী। এর ফলে চীনের অর্থনীতি সচল থাকছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক দিক। এ ছাড়া, বর্তমানে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও সরবরাহ শৃঙ্খল পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায়, চীন অন্য দেশগুলোকে সাশ্রয়ী মূল্যে উন্নত মানের পণ্য সরবরাহ করে চলেছে, যা বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতির উপর নিয়ন্ত্রক ভূমিকা রাখছে।

    তবে, এই বিশাল বাণিজ্য উদ্বৃত্তের পেছনে কিছু সমস্যা ও ঝুঁকিও লুকানো রয়েছে। অত্যধিক রপ্তানি নির্ভরশীলতা দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে, চীন এক অর্দ্ধ-বন্ধন চক্রে আটকে যেতে পারে, যেখানে বৈশ্বিক চাহিদা শক্তিশালী থাকলেও অভ্যন্তরীণ চাহিদা দুর্বল থাকবে। এতে করে আন্তর্জাতিক সম্পর্কেও চাপ বাড়বে এবং চীনা পণ্যের বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপের সম্ভাবনা তৈরি হবে।

    অর্থনৈতিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার জন্য জরুরি
    বর্তমানে, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুল্ক যুদ্ধ কিছুটা শীতল হলেও, এই অপ্রয়োজনীয় বাণিজ্য উদ্বৃত্তের পটভূমি আবারও ট্রাম্পকে সুযোগ দিতে পারে, ক্ষতিকর ‘শুল্ক আর্টিলারি’ ব্যবহারের। অন্যদিকে, অন্যান্য বাণিজ্যিক অংশীদাররাও সতর্ক হয়ে উঠেছে। গত বছরের প্রথম ১১ মাসে, চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল, যা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) একটি উদ্বেগজনক হুঁশিয়ারি উত্থাপন করে। আইএমএফের প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যদি চীন রপ্তানি নির্ভরশীল প্রবৃদ্ধিতে এখনও অবিচল থাকে, তবে তা বিশ্ব বাণিজ্য পরিস্থিতিকে উত্তেজিত করে তুলবে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁও একই মঞ্চে বলেছেন যে, চীনা বাণিজ্য ভারসাম্য না ঠিক হলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে।

    অন্টার্ভু পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে, চীনের সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা এসেছে যে, ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে তারা সৌরবিদ্যুৎ পণ্য রপ্তানির ভ্যাট ফেরত বা কর ফেরত ব্যবস্থা বাতিল করবে। ব্যাটারি ও অন্যান্য পণ্যের ক্ষেত্রে এই সুবিধাগুলো ধীরে ধীরে কমিয়ে আনবে এবং আগামী বছর থেকে পুরোপুরি বন্ধের পরিকল্পনা রয়েছে। এমনকি, চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মাঝে বৈদ্যুতিক গাড়ির শুল্কের ব্যাপারে একটি সমঝোতা হয়েছে, যা চীনা গাড়ি নির্মাতাদের জন্য একটা নতুন পথ খুলে দিয়েছে।

    সবশেষে, প্রশ্ন হলো—এই বিশাল বাণিজ্য উদ্বৃত্ত আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ? সব কিছু নির্ভর করছে, এই অর্থনীতির আয় দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে ফিরে আসে কি না, রপ্তানির রূপান্তর ও আমদানির মধ্যে সুষম ভারসাম্য নিশ্চিত হয় কি না, এবং বাজারগুলো আরও উন্মুক্ত হয় কি না—তার উপর। তবে, বাস্তবতা দেখাচ্ছে যে, এই পরিস্থিতি এমন কিছু নয় যা খুবই আশাব্যঞ্জক বা খুবই উদ্বেগজনক—মাঝপথে রয়েছে নানা দিক।

  • স্বর্ণের দামে রেকর্ড ভাঙল ইতিহাস

    স্বর্ণের দামে রেকর্ড ভাঙল ইতিহাস

    দেশের বাজারে আবারও সোনার দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। এই মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম বাড়ানো হয়েছে ১ হাজার ৫৭৪ টাকায়, ফলে নতুন দাম দাঁড়াল ২ লাখ ৫৭ হাজার ১৯১ টাকা। এই বাড়তি মূল্য যুক্ত হওয়ায় সোনার সর্বশেষ দামগুলো ইতিহাসের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে।

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবী বা পাকা সোনার দাম বৃদ্ধি পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই দাম বাড়ানো হয়। আগামী সোমবার (২৬ জানুয়ারি) থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।

    রোববার বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং এর বৈঠক শেষে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা: দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    নতুন মূল্যবৃদ্ধির ফলে, এখন সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের সোনার ভরি মূল্য ২ লাখ ৫৭ হাজার ১৯১ টাকা, যা আগে থেকে ১ হাজার ৫৭৪ টাকা বেশি। একইভাবে, ২১ ক্যারেটের সোনার দাম ১ হাজার ৫১৬ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৫২৭ টাকা। ১৮ ক্যারেটের সোনা এখন ২ লাখ ১০ হাজার ৪১৯ টাকা, যেখানে দাম বেড়েছে ১ হাজার ২৮৩ টাকার। এছাড়া, সনাতন পদ্ধতির সোনার প্রতি ভরি দাম বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭২ হাজার ৯১৯ টাকা, বাড়েছে ১ হাজার ৫০ টাকা।

    সোনার পাশাপাশি রুপার দামে भी বৃদ্ধি হয়েছে। ২২ ক্যারেটের রুপার দাম ৩৫০ টাকা বাড়িয়ে এখন ৭ হাজার ২৩২ টাকা, ২১ ক্যারেটের রুপার দাম হয়েছে ৬ হাজার ৪০৮ টাকা (বাড়ে ৪০৮ টাকা), ১৮ ক্যারেটের রুপার দাম ৩৫০ টাকা বাড়িয়ে ৫ হাজার ৯৪৯ টাকা, পাশাপাশি সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম বেড়ে ৪ হাজার ৪৩২ টাকা হয়েছে, বৃদ্ধি হয়েছে ২৩৩ টাকা।

    এর আগে, ২২ জানুয়ারি ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম বাড়ানো হয় ৮ হাজার ৩৯৯ টাকা, আগের দিন ৫ হাজার ২৪৯ টাকা, ২০ জানুয়ারি ৪ হাজার ১৯৯ টাকা, ১৫ জানুয়ারি ২ হাজার ৬২৫ টাকা, ১৩ জানুয়ারি ৪ হাজার ১৯৯ টাকা এবং ১১ জানুয়ারি ১ হাজার ৫০ টাকার মতো মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছিল।

  • স্বর্ণের দাম রেকর্ড উচ্চতায়, ভরিতে ৫ হাজার ২৪৯ টাকা বৃদ্ধি

    স্বর্ণের দাম রেকর্ড উচ্চতায়, ভরিতে ৫ হাজার ২৪৯ টাকা বৃদ্ধি

    এক দিনের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) থেকে। এই নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভরিতে প্রায় ৫ হাজার ২৪৯ টাকার বেশি মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা স্বর্ণের সর্বোচ্চ দাম ইতিহাসে কোনো সময় এত বেশি নয়।

    বাজুসের পক্ষ থেকে সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নতুন দাম আগামী মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) থেকে কার্যকর হবে। দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের বাজারে দামে ব্যাপক বৃদ্ধি। এই পরিস্থিতিতে, স্বর্ণের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

    নতুন দামের তালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের এক ভরি (প্রায় ১১.৬৬৪ গ্রাম) এখন কিনতে পাওয়া যাবে ২ লক্ষ ৬২ হাজার ৪৪০ টাকায়, যা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি। অন্য ক্যারেটের স্বর্ণের মূল্যও উঠেছে, যেখানে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি বিক্রি হবে ২ লাখ ৫০ হাজার ৪৮৪ টাকায়। ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারিত হয়েছে ২ লাখ ১৪ হাজার ৭৩৪ টাকা, আর সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণেরএক ভরি এখন বিক্রি হচ্ছে ১ লক্ষ ৭৬ হাজার ৫৯৩ টাকায়।

    বাজুস জানিয়েছে, এই দাম অনুযায়ী বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকারের নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুসের নির্ধারিত কমপক্ষে ৬ শতাংশ মজুরি যোগ করতে হবে। তবে গহনা তৈরির নকশা ও মানের উপর নির্ভর করে মজুরির পরিমাণ আলাদা হতে পারে।

    অতীতে, ২০২৩ সালের ২৫ জানুয়ারি সর্বশেষ স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। তখন ভরিতে ১ হাজার ৫৭৪ টাকা বৃদ্ধির মাধ্যমে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের মূল্য নির্ধারিত হয়েছিল ২ লক্ষ ৫৭ হাজার ১৯১ টাকায়। সেই সময় এটি ছিল সর্বোচ্চ দাম। অন্য ক্যারেটগুলোতেও দাম বাড়ানো হয়েছিল।

    এ অবস্থায় চলতি বছর মোট ১৪ দফায় স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১ দফা দাম বাড়ানো হয়েছে, আর ৩ দফা দাম কমানো হয়েছে। ২০২৫ সালের মধ্যে মোট দফা দাম সমন্বয় হয়েছে ৯৩ বার—যার মধ্যে দাম বেড়েছে ৬৪ বার আর কমেছে ২৯ বার।

    বাজারে রুপার দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। ভরিতে ৫২৫ টাকা বাড়িয়ে রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ হাজার ৭৫৭ টাকায়, যা দেশের ইতিহাসে রুপার সবচেয়ে উচ্চ মূল্য। নতুন দামে ২১ ক্যারেটের রুপা বিক্রি হবে ৭ হাজার ৪০৭ টাকায়, ১৮ ক্যারেটের জন্য ধার্য হয়েছে ৬ হাজার ৩৫০৭ টাকা, আর সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম নির্ধারিত হয়েছে ৪ হাজার ৭৮২ টাকায়। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ১১ দফায় রুপার দামও সমন্বয় করা হয়েছে।