Month: January 2026

  • প্রাণ দুধের উদ্যোগে দেশের খাঁটি খামারিদের সম্মাননা

    প্রাণ দুধের উদ্যোগে দেশের খাঁটি খামারিদের সম্মাননা

    দুগ্ধশিল্পে বিশেষ অবদান রাখার জন্য প্রতিশ্রুতিশীল ও নির্ভ trusted খাঁটি খামারিদের সম্মাননা দিচ্ছে দেশের অন্যতম শীর্ষ তরল দুধের ব্র্যান্ড ‘প্রাণ দুধ’। আজ মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানে সম্মেলন কেন্দ্রে ‘প্রাণ দুধ-খাঁটি খামারি সম্মাননা ২০২৬’ ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়।

    এই ক্যাম্পেইনের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের দুগ্ধশিল্পের উন্নয়নে নিবেদিত আপনারা যারা খাঁটি খামারি তাদের ত্যাগ ও অবদানকে স্বীকৃতি জানানো। পাশাপাশি, তাদের সফলতার গল্প সমাজের সব স্তরে পৌঁছে দিয়ে অন্যদের মধ্যে দুগ্ধ খামারী হওয়ার আগ্রহ বাড়ানোর দিকে নজর দিচ্ছে সংস্থা। অনুষ্ঠানে ইলিয়াছ মৃধা, প্রাণ গ্রæপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ‘প্রাণ দুধ খাঁটি খামারি সম্মাননা ২০২৬’ এর স্মারক উন্মোচন করেন।

    এদিকে, জানানো হয়, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশব্যাপী বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত প্রাণ ডেইরীর ১২৪টি গ্রামীণ দুধ সংগ্রহ কেন্দ্র থেকে স্পট রেজিস্ট্রেশনের কাজ শুরু হবে। সেখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ১৬ হাজারের বেশি খামারিরা প্রয়োজনীয় তথ্যাদি দিতে পারবেন।

    রেজিস্ট্রেশনকৃত খামারিদের তথ্য যাচাই-বাছাই করে বিশেষ একটি জুরিবোর্ড গঠন করা হবে, যার মাধ্যমে তারা ১০ জন ‘খাঁটি খামারি’ নির্বাচন করবেন। এরপর ভোক্তার ভোট এবং জুরির সিদ্ধান্তে সেরা তিন খামারি নির্বাচিত হবেন, যাদের জন্য থাকছে সম্মাননা স্মারক এবং লাখ টাকা সমমূল্যের পুরস্কার। আরও সাতজনের জন্য বিশেষ সম্মাননা দেওয়ার পরিকল্পনা আছে।

    ইলিয়াছ মৃধা বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে দুগ্ধশিল্পে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় খাঁটি খামারিদের সম্মাননা দেওয়া এবং তাদের অনুপ্রেরণা জোগানো। পাশাপাশি, গাভি লালন-পালনের গুরুত্ব ও মানসম্পন্ন দুধ নিশ্চয়তার বিষয়গুলো জনসাধারণের মাঝে তুলে ধরাই এই উদ্যোগের বড় উদ্দেশ্য।”

    প্রাণ ডেইরীর চিফ অপারেটিং অফিসার মাকসুদুর রহমান জানান, “দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রাণ দুধ দেশের অসংখ্য খামারিকে সমর্থন দিয়ে আসছে। তাদেরকে ন্যায্য মূল্য, প্রশিক্ষণ, ভেটেরনারি সেবা ও অন্যান্য সহযোগিতা দিয়ে উন্নত জীবনে নিয়ে আসার কাজ করে যাচ্ছে।”

    এছাড়াও, অনুষ্ঠানে প্রাণের সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার (মার্কেটিং) মো. আলী হাসান, এর মার্কেটিং হেড সৈয়দ মুস্তায়িন কাদের ও ব্র্যান্ড ম্যানেজার ফজলে এলাহি নাঈমসহ অন্যান্য নির্বাহীদের উপস্থিতি ছিল।

  • ময়মনসিংহে জনসভায় তারেক রহমানের উপস্থিতি, মানুষের ঢল রাজপথে

    ময়মনসিংহে জনসভায় তারেক রহমানের উপস্থিতি, মানুষের ঢল রাজপথে

    ময়মনসিংহের ঐতিহাসিক সার্কিট হাউস ময়দানে বিএনপির চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেল ৪টায় তিনি তারেক রহমান মঞ্চে উপস্থিত হন। তার উপস্থিতির সঙ্গে সঙ্গে পুরো এলাকা স্লোগানে সরগরম হয়ে ওঠে।

    জনসভা শুরু হওয়ার আগে থেকেই নেতাকর্মীরা অনেক আগে থেকেই সভাস্থলে আসতে শুরু করেন। দুপুরের মধ্যে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ মূল অনুষ্ঠানের জন্য যোগদান করেন। তারা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সভায় উপস্থিত হন।

    এবারের জনসভাকে ঐতিহাসিক হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ দীর্ঘ ২২ বছর পর এই প্রথমবারের মতো ময়মনসিংহে তারেক রহমানের এ আগমন। ইতোমধ্যে ৬৪ ফুট দীর্ঘ এবং ৪৪ ফুট চওড়ার বিশাল একটি সভামঞ্চ প্রস্তুত করা হয়েছে। মঞ্চের মাঝে রয়েছে এলইডি স্ক্রিন এবং পাশে বিশাল ব্যানার। অবস্থা অনুযায়ী একটি ব্যানারে লেখা রয়েছে ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’ এবং অপর পাশে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’।

    সুরক্ষার জন্য পুরো সভাস্থল কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে সিএসএফ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন থাকছেন, এছাড়া ২০টি সিসিটিভি ক্যামেরা থেকে নজরদারি চালানো হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

    দলের সূত্র জানিয়েছে, ২০০৪ সালে ময়মনসিংহে তারেক রহমানের প্রথম নির্বাচনী সভায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। এরপর দীর্ঘ বিরতিতে এই প্রথম তিনি আবারো ময়মনসিংহের মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে থাকছেন। তার এই জনসভাকে কেন্দ্র করে নগরজুড়ে পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুনের দেখা মিলছে, যা তার আগমনকে স্বাগত জানাতে দেয়া হয়েছে।

    ফুলবাড়িয়া উপজেলার ছোট একজন ধানের শীষের চা দোকানি আব্দুল খালেক জানান, ‘আমি রাজনীতি করি না, তবে তারেক রহমানকে দেখতে এসেছি। আমি বিশ্বাস করি, তিনি প্রধানমন্ত্রী হয়ে দেশের ভাগ্য পরিবর্তন করবেন।’

    একই সঙ্গে, বিএনপি ময়মনসিংহ বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবু ওয়াহাব আকন্দ বলেন, ‘আজকের জনসভায় মানুষের উপস্থিতি এতটাই বেশি যে অতীতের রেকর্ড ভেঙে গেছে। নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষের আগমন দেখে বোঝা যাচ্ছে, তারা তারেক রহমানের পরিকল্পনা জানতে আগ্রহী।’

  • নাহিদ ইসলামের হুঁশিয়ারি, আঘাত এলেই পাল্টা আঘাত

    নাহিদ ইসলামের হুঁশিয়ারি, আঘাত এলেই পাল্টা আঘাত

    ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার অভিযোগ তুলে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘যদি আমাদের প্রার্থীসহ দলের কেউ আঘাতের শিকার হয়, তাহলে এখন থেকে পাল্টা আঘাত আসবে।’ মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ঢাকার ফকিরাপুলে দলের স্থানীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

    নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আজ হাবীবুল্লাহ বাহার কলেজে অতিথি হিসেবে গিয়েছিলেন, সেখানে তার ওপর বাধা দেওয়া হয় এবং ইট-পাটকেল ছোড়া হয়। তিনি আরও জানান, গতকাল ঢাকা-১৮ আসনের প্রার্থী আরিফুল ইসলাম আদিবের ওপরও বিএনপি নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে।

    নাহিদ ইসলাম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘যদি হামলা হয়, তাহলে পাল্টা আঘাত দেওয়া হবে। একটি দলের প্রার্থীর ওপর ডিম নিক্ষেপ করলে অন্য দলের প্রার্থীরাও রেহাই পাবে না। আমরা এই ধরনের পরিবেশ চাই না। তবে নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ যদি নীরব থাকে, তাহলে আমাদের করণীয় যা-ই হোক, করবই।’

    তিনি আরও জানান, দেশে কয়েক দিনেই ছয়-সাতটি জেলায় ১১ দলের শরিক জামায়াতে ইসলামীর নারীকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন ও পুলিশের নীরবতার সুযোগে একটি বিশেষ দল ও জোট আচরণবিধি লঙ্ঘন করে সুবিধা নিচ্ছে, যা নির্বাচন ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করছে।’

    বিএনপির দিকে ইঙ্গিত দিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘তারা যদি আওয়ামী লীগের মতো সন্ত্রাসী কায়দায় প্রতিদ্বন্দ্বীদের মাঠ থেকে সরাতে চায়, তাহলে তাদের পার্থক্য কী? তারা ভোটের সময় জয় বাংলা স্লোগান দেয়, কিন্তু মনে রাখতে হবে, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে জনগণ কোনও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড মেনে নেবে না।’

    বিএনপির ২০১৮ সালের নির্বাচন ও ২৮ অক্টোবরের আন্দোলনের ব্যর্থতার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তখন আপনি মাঠে উঠতে পারেননি, তিন মিনিটও দাঁড়াতে পারেননি। আমরা তখন আপনার প্রতি সহানুভূতি দেখিয়েছিলাম। কিন্তু এখন আপনি সমালোচনাও সহ্য করতে পারছেন না। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে আপনি বেয়াদব বলছেন, তবে ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণই ব্যালটের মাধ্যমে ঠিক করে দেবে— কে বেয়াদব আর কে গ্যাংস্টার।’

    সংবাদ সম্মেলনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, তিনি ও তার দল শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশে প্রচারণা চালাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু হাবীবুল্লাহ বাহার কলেজে গিয়ে দেখে তাকে বাধা দেওয়া হয় এবং ইট-পাটকেল ও ডিম ছোড়া হয়।

    তিনি বলেন, ‘পুলিশের সামনেই আমাদের ভাইদের ওপর উপর্যুপরি কিল, ঘুষি ও লাথি মারা হয়েছে। আমাদের নারী সদস্যদের ওপর বরফ নিক্ষেপ করা হয়েছে, যার ফলে একজনের মাথায় চারটি সেলাই দিতে হয়েছে।’

    নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এই হামলার জন্য মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে মির্জা আব্বাসের ভাগনে আদিত্যের নাম উল্লেখ করেন। এছাড়া, হামলায় হাবীবুল্লাহ বাহার কলেজের ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান মাসুদ, সাবেক সদস্য শাহিন উদ্দিন মল্লিক এবং সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শরিফকে সরাসরি নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ করেন।

    তিনি আরও জানান, ‘মির্জা আব্বাস তার ভাগনে আদিত্যের মাধ্যমে সন্ত্রাসীদের ভাড়া করে এনে আমাদের ওপর এই হামলা চালিয়েছেন। আমি দেশবাসীর কাছে এর বিচার চাই।’

    নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, ‘ইসি একটি নির্দিষ্ট দলের পক্ষে কাজ করছে এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা না দিয়ে প্রার্থীকে খালি মাঠে ছেড়ে দিয়েছে। ভোটের আগে ৫০ জন ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিককে প্রার্থী হিসেবে অনুমোদন দেওয়া, যা দেশের জন্য লজ্জাজনক।’

  • তারেক রহমান: বিএনপি জানে দুর্নীতির মোকাবিলার কৌশল

    তারেক রহমান: বিএনপি জানে দুর্নীতির মোকাবিলার কৌশল

    বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, জনসাধারণের উন্নয়নের জন্য একটি রাজনৈতিক দল কীভাবে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারে তা বিএনপির রয়েছে। তার মতে, বিএনপির কাছে দেশের সরকার পরিচালনার অভিজ্ঞতা, শিক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার বিভিন্ন দিকের জ্ঞান রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর সংগ্রাম চালানোর জন্যও তাদের পরিকল্পনা সুদৃढ़।

    মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে ময়মনসিংহের সার্কেট হাউসে তাকে কেন্দ্র করে আয়োজিত বিএনপির নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ সব কথা বলেন। প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি বলেন, ‘গত ১৫ বছর দেশের সাধারণ মানুষ ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। এর ফলে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা ও রাস্তাঘাটের মতো মৌলিক বিষয়গুলো সমস্যায় পড়েছে। যদি ভোটের অধিকার থাকত, তবে এসব সমস্যা দ্রুত সমাধান সম্ভব হত। মানুষ তাদের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় সচেতন হওয়া দরকার।’

    তিনি আরও বলেন, ‘অসুস্থ হলে চিকিৎসা সুবিধা পেতে হবে, শিক্ষার উন্নতি করতে হবে, মানুষের জীবন মান উন্নত করতে হবে—এই সবই জনগণের মৌলিক অধিকার। এর জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে দায়িত্বশীল হতে হবে।’

    এসময় তিনি জামায়াতে ইসলামীর উদ্দেশ্যে বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দল বিএনপির দ وم ক্ষির রব স্ত্রির ভেরুর་ནطويرnoun��nnn���1300��PP��নssd��Sh

  • অন্যায়ভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার চিন্তা করলে কঠোর প্রতিরোধ হবে

    অন্যায়ভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার চিন্তা করলে কঠোর প্রতিরোধ হবে

    নির্বাচনপ্রক্রিয়া যদি ২০১৪, ২০১৮ বা ২০২৪ সালের মতো পুনরাবৃতি হয়, তবে সেগুলো কখনোই গ্রহণযোগ্য হবে না। বাংলাদেশের মানুষ এমন নির্বাচন মানবে না বলে মনে করছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডাঃ সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি জানান, যদি কেউ অন্যায়ভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার পরিকল্পনা করে, সেটি কেবল দুঃস্বপ্নের মতোই রইবে। জনগণ সেই অপতৎপরতার বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলবে এবং আন্দোলনের মাধ্যমে শৃঙ্খলা ফেরানোর নিশ্চয়তা দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার রাজধানীর মগবাজারে দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

    ডাঃ তাহের আরো বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একমাত্র দল যেখানে নারীর সংখ্যা দেড় কোটিরও বেশি, যা দেশের মোট ভোটারদের অন্তত ৪৩ শতাংশ। আমাদের আর্চিওর মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক দলসমূহে ৩৩ শতাংশ নারী সদস্যের বাধ্যবাধকতা, যা শুধু জামায়াতে ইসলামী সেনেটই পূরণ করেছে। তিনি দাবি করেন, অনেকের ধারণা হয়ত, জামায়াতে নারীদের গুরুত্ব কম, কিন্তু বাস্তবে যারা নারী সদস্য বেশি, তারা দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অপপ্রচারে কিছু মানুষ এই বিষয়টিকে ভুলভাবে প্রচার করার অপচেষ্টা করছে।

    ডাঃ তাহের বলেন, নির্বাচন খুবই কাছাকাছি। এই নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মী-সমর্থকরা খুবই সক্রিয়। তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ভোট চাচ্ছেন। পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সারাদেশে নারী ভোটাররা জামায়াতকে বেশি ভোট দিতে পারেন, কারণ তারা শান্তিময় এবং বিশৃঙ্খলা পছন্দ করেন না। নিজ নির্বাচনী এলাকা চৌদ্দগ্রামেও তিনি মনে করেন, পুরুষের চেয়ে নারীরা বেশি ভোট দেবে ইনশাআলাহ। তারা সক্রিয়ভাবে কাজ করছে এবং বিপুল ভোটে জয় লাভ করতে পারবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    তাহের অভিযোগ করেন, নেতা-প্রতিপক্ষরা বুঝতে পেরেছেন যে নারীদের এ সক্রিয়তা তাদের জন্য ঝুঁকি বৃদ্ধি করছে। এ কারণেই সারাদেশে নারীদের ওপর আক্রমণ, হেনস্তা ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। অপপ্রচারের মাধ্যমে ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, নারীরা আমাদের মা-বোন-কন্যা, তাদের সম্মান ও নিরাপত্তা রক্ষা আমাদের সকলের দায়িত্ব। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে, যারা নারী অধিকার ও স্বাধীনতার কথা বলে চিৎকার করেন, তারাই এখন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নারীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। দেশের কোথাও কোথাও ইতোমধ্যে হামলার ঘটনা ঘটছে, এমনকি জিহ্বা কেটে দেওয়ার হুমকিও দেয়া হচ্ছে। জামায়াতে ভোট দিলে হাত নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয় দেখানোও হচ্ছে।

    নির্বাচন কমিশনের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার একজন নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে কাজ করছে। যদি নির্বাচন সুষ্ঠু না হয়, তবে তার ফলাফল দেশের বাইরেও গ্রহণযোগ্যতা পাবে না। এর ফলে দেশের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ডুবে যেতে পারে। তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলসহ সরকারের বড় দায়িত্ব হচ্ছে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন। এতে ব্যর্থ হলে দেশ সঠিক পথে আর ফিরে আসতে পারবে না। যদি কেউ মনে করেন, জোরপূর্বক ক্ষমতায় গেলে সব কিছু শেষ, তা একদম ভুল। এটি একটি মারাত্মক ভুল ভাবনা, যা দেশের জন্য বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

    তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক সংঘর্ষে নারী কর্মীরা আহত হচ্ছেন, দলীয় কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণে বাধা পাচ্ছেন। উত্তেজনা ও হামলার ঘটনা রোজই ঘটছে। কেন্দ্র দখলের জন্য হুমকি, মারধর এবং অ승ত্মান দখলদারির মহড়া চলছে। প্রতিপক্ষের মূল কৌশলই হলো কেন্দ্র দখল এবং শক্তি দেখানো, যা তাদের বিজয়ের মূল মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

    ডাঃ তাহের স্পষ্ট করে বলেন, সব মিলিয়ে আমাদের বার্তা হলো, নারী হোক বা পুরুষ, সবাইকে দায়িত্বশীল ও শান্তিপ্রিয় পরিবেশ রক্ষার জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। এই জন্য প্রয়োজন সবার সচেতনতা এবং দায়িত্বশীলতা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এড. এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

  • তারেক রহমানের প্রশ্ন: বিএনপি সংকটে থাকলে দুই মন্ত্রী কেন পদত্যাগ করেননি?

    তারেক রহমানের প্রশ্ন: বিএনপি সংকটে থাকলে দুই মন্ত্রী কেন পদত্যাগ করেননি?

    বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, অনেকেই দেখতে পাচ্ছেন, একটি রাজনৈতিক দল এখন স্বৈরাচারী শাসকদের ভাষা ব্যবহার করে বিএনপির বিরুদ্ধে কথা বলছে। তাদের দাবি, বিএনপি দুর্নীতিতে শীর্ষ ছিল। তবে আমি প্রশ্ন করতে চাই, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি সরকারে থাকাকালীন ওই দলের দুইজনমন্ত্রী ছিলেন। তাহলে, যদি বিএনপি এতখানি খারাপ হতো, তারা কেন তখন পদত্যাগ করে চলে আসেননি?

    মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে ময়মনসিংহের সার্কিট হাউস মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। এর আগেও দুপুর ৪টা ৩ মিনিটে স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমানসহ মঞ্চে ওঠেন তারেক রহমান।

    বক্তব্যের মাঝপথে তিনি ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪টি সংসদীয় আসনের ধানের শীষের প্রার্থীদের মঞ্চে দাঁড়িয়ে তাদের পরিচয় করিয়ে দেন। ৪টা ২৬ মিনিটে সালাম জানিয়ে বক্তব্য শুরু করেন এবং ৫২ মিনিটে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চান। এরপর তার গাড়িবহর গাজীপুরের দিকে রওনা দেয়।

    তারেক রহমান বলেন, তারা পদত্যাগ করেনি কারণ তারা জানত, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কঠোর হাতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়ছিলেন। তৎকালীন সরকারের দুই মন্ত্রীও বুঝতেন, বেগম জিয়া দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেননি। আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানও δείছে, স্বৈরাচারী সরকারের সময় দেশ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত ছিল। কিন্তু ২০০১ সালে খালেদা জিয়া ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দেশ দুর্নীতির ভয়ংকর চক্র থেকে মুক্ত হতে শুরু করে।

    তিনি আরও বলেন, যে দল আজ বিএনপিকে দোষারোপ করছে, তাদের প্রথমদিক থেকে শেষ দিন পর্যন্ত দুই মন্ত্রীর বহাল থাকা থেকেই বোঝা যায়, তারা আসলে মিথ্যা বলছে।

    নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভোটের দিন তাহাজ্জু্দের নামাজ পড়ে সবাই কেন্দ্রে গিয়ে ফজরের নামাজ পড়বেন। এরপর লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেবেন। শুধু ভোটদানই যথেষ্ট নয়, ফলাফল বুঝে নিতে হবে যেন কেউ আমাদের ভোট নিতে না পারে।

    তিনি আগামী ১২ তারিখ ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানান এবং বলেন, ভোটের পর আবার দেখা হবে খনন কর্মসূচীতে। সবাই কোদাল নিয়ে আসবেন, আমি সেদিন থাকছি।

    স্লোগানে স্লোগানে স্থানীয় নেতাকর্মীরা তাকে স্বাগত জানায়। তারা ‘তারেক রহমানের আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম’, ‘আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান’ বলতে বলতে হাসি-উল্লাসে আঘাত করে। ময়মনসিংহের পক্ষ থেকে তাকে লাল গোলাপ উপহার দেওয়া হয়।

    তারেক রহমান মঞ্চে ওঠার আগে ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪টি আসনের ধানের শীষের প্রার্থীরা বক্তব্য রাখেন। তাঁদের মধ্যে বক্তব্য দেন ইকবাল হোসেন, সুলতানা আহমেদ বাবু, মোতাউর হোসেন বাবু, মাহমুদুল হক, ফরিদুল কবির তালুকদার, সিরাজুল হক, মাহমুদুল হক, মোস্তাফিজুর রহমান বাবলু ও লৎফুরজ্জামান বাবর।

    বক্তব্যে প্রার্থীরা নিজেদের মধ্যকার দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ভুলে কার্যকরভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তারা স্লোগান দেন—‘নৌকা গেছে ভারতে, ধানের শীষ গদিতে’।

    লুৎফুজ্জামান বাবর বলেন, ‘আমরা ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪টি আসন তারেক রহমানকে উপহার দিতে চাই এবং আগামীদিনে তাকেই প্রধানমন্ত্রী দেখতে চাই।’

  • ৫০তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা স্থগিতের জন্য রিট দাখিল

    ৫০তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা স্থগিতের জন্য রিট দাখিল

    নির্বাচনকালীন সময়ে ৫০তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা স্থগিতের দাবি নিয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) এটি নিশ্চিত করেছেন রিটকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট নাজমুস সাকিব। এই রিটটি মূলত পরীক্ষার্থীদের পক্ষে দাখিল করা হয়েছে। আসন্ন ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে ৫০তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার।

    পিএসসির পাঠানো বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পরীক্ষা রাজধানী ঢাকাসহ দেশের আটটি বিভাগীয় শহর—রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ—একযোগে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পরীক্ষার হল, আসনের ব্যবস্থা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা সময়মতো সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে (www.bpsc.gov.bd ও http://bpsc.teletalk.com.bd) প্রকাশ করা হবে।

    প্রসঙ্গত, এর আগে গত বছর ২৬ নভেম্বর পিএসসির ওয়েবসাইটে ৫০তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। আবেদন শুরু হয় ৪ ডিসেম্বর এবং শেষ হয় ৩১ ডিসেম্বর। এখন পরীক্ষার তারিখ নির্ধারিত থাকলেও, চলমান সাংবিধানিক বা প্রশাসনিক পরিস্থিতির কারণে এই পরীক্ষাটি স্থগিতের জন্য একটি রিট দায়ের করা হয়েছে।

  • অ্যামনেস্টির মহাসচিবের খোলা চিঠি প্রধান উপদেষ্টার কাছে

    অ্যামনেস্টির মহাসচিবের খোলা চিঠি প্রধান উপদেষ্টার কাছে

    অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব আেগনেস কালামার্ড। এই চিঠিতে তিনি বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি, নির্বাচনকালীন পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে ধরেছেন।

    চিঠিটি ২৬ জানুয়ারি লেখা হয় এবং এটি সম্পূর্ণরূপে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে। লেখক উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের আওয়ামী রাষ্ট্রক্ষমতা গঠনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দাঁড়িয়ে, এই সময়টি দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন, সুশাসন এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন যে, অতীতে দীর্ঘসময় ধরে বিভিন্ন সরকার গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, অত্যাচার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হ্রাস এবং সাংবাদিকসহ নাগরিক সমাজের ওপর নিপীড়নের মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন চালিয়েছে। এসবের মাধ্যমে নাগরিক স্বাধীনতা সংকুচিত হয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা দুর্বল হয়ে পড়েছে।

    অ্যামনেস্টি আজকের বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় বলে মনে করে, যখন জাতীয় আস্থা পুনরুদ্ধার, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং মানবাধিকার রক্ষার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। সংগঠনটি স্বীকৃতি দেয় যে, কিছু অগ্রগতি হয়েছে, যেমন গুম থেকে নিরাপত্তা, কিন্তু কাঠামোগত পরিবর্তনের জন্য সময় লাগবে এবং অর্জিত মানদণ্ড বাস্তবায়নে নানা বাধা রয়ে গেছে।

    চিঠিতে আরও বলা হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন দেশের জন্য একটি বিকল্পের দ্বারপ্রান্ত। এই নির্বাচন দেশের নতুন পথের সূচনা করতে পারে, যেখানে মানুষ এর অধিকার ও মর্যাদাকে সম্মাননা জানানো হবে এবং তাদের অধিকারের বিকাশ ঘটবে। যদিও বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চুক্তিগুলোর অংশ হয়ে থাকলেও, আইনী প্রক্রিয়া ও বাস্তব প্রয়োগে এখনো নানা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। বিশেষ করে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার এবং সংগঠনের স্বাধীনতা রক্ষায় আরও মনোযোগী হতে হবে। এসব অধিকার অযোগ্যভাবে হস্তক্ষেপ বা বিধিনিষেধ আরোপ হলে, নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা কমে যাবে।

    অ্যামনেস্টি চায়, অন্তর্বর্তী সরকারতাড়াতাড়ি এই বিষয়গুলো নিশ্চিত করবে, যেন অনলাইন ও অফলাইন, দুটো ক্ষেত্রেই মানুষের মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত হয়। সংগঠনটি বিশেষ করে সন্ত্রাসবিরোধী আইন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা, মানবাধিকার ও স্বাধীনতা পরিপন্থী নানা আইন অপব্যবহার বন্ধের জন্য সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানায়। বিভিন্ন আস্ফালন ও হামলার ঘটনা যেমন ২০২৫ সালে ঘটে, সেটিরও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে অ্যামনেস্টি। এতে যুদ্ধাপরাধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের উল্লেখ রয়েছে, যেখানে অনেক নিরীহ নাগরিকের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।

    সুতরাং, এই নির্বাচনের সময়কালে সরকারের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুতর। তাদের দায়িত্ব হলো, স্বাধীন ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা, সাংবাদিক ও নাগরিকদের অধিকার রক্ষা করা, বিরোধীদলের স্বচ্ছ অবস্থান নিশ্চিত করা এবং হামলার ঘটনার দ্রুত বিচার করা। এই সময়ে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার মান দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়নের ভিত্তি রচনা করবে। অ্যামনেস্টি মনে করে, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ উন্নয়নের জন্য এই সময়ের সিদ্ধান্তগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত, এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে, এমন নেতৃত্ব দেখানো যাতে দেশের সবাই স্বাধীনভাবে, নিরাপদে এবং ভয়হীনভাবে তাদের অধিকার ও দায়িত্ব পালন করতে পারে, এবং দেশের ভবিষ্যৎ গ democrতিতার পথে এগিয়ে যায়।

  • ঢাকা-করাচি সরাসরি ফ্লাইট শুরু হচ্ছে কাল থেকে

    ঢাকা-করাচি সরাসরি ফ্লাইট শুরু হচ্ছে কাল থেকে

    আগামীকাল ২৯ জানুয়ারি থেকে ঢাকা-করাচি রুটে সরাসরি ইউরোপে পৌঁছানোর জন্য নতুন Flug চালু হচ্ছে। এই নতুন পরিষেবাটি ট্রানজিটের প্রয়োজন না থাকায় যাত্রীরা সময় এবং টাকা দুটোই বাঁচাতে পারবেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস আজ মঙ্গলবার জানিয়েছে যে, আপাতত সপ্তাহে দুটি দিন এই ফ্লাইট পরিচালিত হবে।

    প্রায় দেড় দশকেরও বেশি সময় পর আবারও পাকিস্তানে নিয়মিত যাত্রীবাহী বিমান চালু হচ্ছে, যা বাংলাদেশের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এই নন-স্টপ ফ্লাইটের মাধ্যমে ঢাকা থেকে করাচি যাত্রা এখনও খুবই সহজ ও দ্রুত হবে, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর ও অনেক বাস্তবমুখী হবে বলেও আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।

    ঢাকা থেকে করাচির দূরত্ব ১৪৭১ মাইল, যেখানে ১৬২ আসনের বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজ ব্যবহার হবে। এই ফ্লাইটটি সপ্তাহে বৃহস্পতিবার এবং শনিবার পরিচালিত হবে। প্রথম ফ্লাইটের সব টিকিট ইতোমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে এবং দ্বিতীয় ফ্লাইটের ৮০ শতাংশ আসন বুকিং সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিমান কর্তৃপক্ষ।

    বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলাম জানান, সরাসরি ফ্লাইট চালুর ফলে যাত্রীরা তিন ঘন্টার মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন এবং ট্রানজিটের জটিলতা থেকে মুক্ত থাকতে পারবেন, যা ভ্রমণকে স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তুলবে।

    এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই রুট চালুর ফলে শুধু যাত্রী পরিবহন নয়, কার্গো পরিবহনেও নতুন দিগন্ত খুলবে। দ্য বাংলাদেশ মনিটরের সম্পাদক কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেছেন, এই পরিষেবা দুই দেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করবে।

    উল্লেখ্য, নিরাপত্তাজনিত কারণে ২০১২ সালে ঢাকা-করাচি রুটে ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যায়। এতদিন যাত্রীরা দোহা, দুবাই অথবা মধ্যপ্রাচ্যের অন্য ট্রানজিট হাব ব্যবহার করে আসছিলেন, যা সময় ও খরচ বাড়ায়। এখন থেকে রাউন্ড ট্রিপের খরচ হবে সর্বনিম্ন ৫১ হাজার টাকা, যা আগে থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে কম। এতে করে যাত্রীরা আরও স্বাচ্ছন্দ্য ও সাশ্রয়ী দামে যাতায়াত করতে পারবেন।

  • যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচনে কোনো পক্ষ নেবে না: রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনস

    যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচনে কোনো পক্ষ নেবে না: রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনস

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনস বললেন, বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্র কোনও পক্ষেরই সমর্থন দেব না। বাংলাদেশের জনগণ যারাই ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন, আমরাও সেই সরকারের সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

    রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের নির্বাচনে কোনও পক্ষের পক্ষ নেয় না। এর মূল কর্তৃত্ব এবং সিদ্ধান্তের অধিকার বাংলাদেশের জনগণের, এবং তাদেরই ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারকেই সমর্থন জানানো হবে। তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশের জনগণ যাকে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচন করবে, তার সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।

    আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচন নিয়ে নিজের আগ্রহের কথা জানিয়ে ক্রিস্টেনসেন বলেন, আমি এই নির্বাচন নিয়ে খুবই উৎসাহিত। আমি এই উৎসবমুখর নির্বাচনের ফলাফল দেখতে মুখিয়ে আছি।

    তিনি আরও বলেন, গত সপ্তাহে আমি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জানতে পারলাম, তিনি আশাবাদী যে নির্বাচনের দিনটি একটি আনন্দময় ও উৎসবমুখর দিন হবে। আমি আশা করি, ভোটাররা স্বাধীনভাবে তাদের মতামত প্রকাশ করবেন।

    প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে এই আলোচনায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন উল্লেখ করেন, সিইসি যে তথ্যগুলো শেয়ার করেছেন, তাতে আমি খুবই খুশি। আমি আশাবাদী, আপনি এবং আপনার সংস্থার মাধ্যমে একটি সফল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আমি ১২ ফেব্রুয়ারির ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করছি এবং নিশ্চিত আছি, এই নির্বাচনটি সফলভাবে সম্পন্ন হবে।