Month: January 2026

  • এনসিপির ২৭ আসনে প্রার্থী ঘোষণা, কারা কোথায় লড়ছেন

    এনসিপির ২৭ আসনে প্রার্থী ঘোষণা, কারা কোথায় লড়ছেন

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে, তরুণ নেতৃত্বের গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩০টি আসনের মধ্যে ২৭টিতে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। তারা এই নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০ দলে থাকা অন্যান্য কোটার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। রোববার (১৮ জানুয়ারি) তাদের নিজস্ব ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রার্থীদের নাম ও ছবি সংবলিত পোস্টার আপলোড করে এনসিপি। এর পাশাপাশি তারা ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে ভোট চেয়েছে।

    প্রার্থীদের তালিকা থেকে জানা যায়, ঢাকা–১১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দলের আহ্বায়ক ও সাবেক তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম। রংপুর–৪ আসনে আছেন সদস্যসচিব আখতার হোসেন, কুমিল্লা–৪ আসনে দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, পঞ্চগড়–১ আসনে উত্তরের সংগঠক সারজিস আলম, ঢাকা–৮ আসনে মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও নোয়াখালী–৬ আসনে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম প্রধান সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ।

    আরও থাকছেন, ঢাকা–১৮ আসনে আরিফুল ইসলাম আদীব, লক্ষ্মীপুর–১ আসনে মাহবুব আলম, সিরাজগঞ্জ–৬ আসনে এস এম সাইফ মোস্তাফিজ, নরসিংদী–২ আসনে সারোয়ার তুষার, নারায়ণগঞ্জ–৪ আসনে আবদুল্লাহ আল আমিন, পার্বত্য বান্দরবান আসনে এস এম সুজা উদ্দিন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ আসনে মাওলানা আশরাফ মাহদী, চট্টগ্রাম–৮ আসনে জোবাইরুল হাসান আরিফ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া–৩ আসনে মোহাম্মদ আতাউল্লাহ।

    অন্য আসনগুলো হলো, দিনাজপুর–৫, নোয়াখালী–২, ঢাকা–১৯, ঢাকা–২০, কুড়িগ্রাম–২, ময়মনসিংহ–১১, টাঙ্গাইল–৩, ঢাকা–৯, গাজীপুর–২, মুন্সিগঞ্জ–২, পিরোজপুর–৩ ও নাটোর–৩। এই সব আসনে বিভিন্ন প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে এনসিপি।

    এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন জানান, এখনও বাকি তিন আসনের প্রার্থী চূড়ান্ত হয়নি, তবে খুব দ্রুত তা সম্পন্ন হবে।

    উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতসহ ১০ দলে লড়ার জন্য মোট ২৫৩টি আসনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে। বাকি ৪৭টি আসনের জন্য আলোচনা ও সমঝোতাধীন প্রক্রিয়া চলছে।

    এই জোটের মধ্যে জুনাইল বিপ্লবীরা গঠিত এনসিপি ৩০টি আসন পেয়েছে, যেখানে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে থাকা দলটি সবচেয়ে বেশি ১৭৯টি আসনে লড়বে। আর বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২০টি, খেলাফত মজলিস বিভিন্ন পর্যায় ১০টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ৭টি, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) ৩টি, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি ও বাংলাদেশ ডেভলপমেন্ট পার্টি প্রতিটিতে ২টি করে আসনে নির্বাচন করবে।

    প্রাথমিকভাবে এই জোটে ছিল ১১ দল, তবে আসন ভাগাভাগি সমঝোতা না হওয়ায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সম্প্রতি দলটি থেকে বের হয়ে গেছে। এখন তারা এককভাবে ২৬৮ আসনে নির্বাচন করবে এবং বাকি ৩২ আসনে তারা সমর্থন দেবে।

  • বিভিন্ন এলাকা থেকে ভোটার ঢাকায় স্থানান্তর করে ভোটারদের পরিবর্তন করা হচ্ছে দাবি বিএনপি’র

    বিভিন্ন এলাকা থেকে ভোটার ঢাকায় স্থানান্তর করে ভোটারদের পরিবর্তন করা হচ্ছে দাবি বিএনপি’র

    দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ভোটারদের ঢাকায় স্থানান্তর করে এনে তেলআবাদের বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় আনুকূল্য লাভের জন্য একটি রাজনৈতিক দল কৌশলগত পরিকল্পনা করছে বলে অভিযোগ তুলেছে বিএনপি। বুধবার (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে এক প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনে উপস্থিত হয় এবং কমিশনের সদস্যদের সাথে আলোচনা করে।

    সাংবাদিকদের সামনে তিনি বলেন, ঢাকার বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকার ভোটার তালিকা পরিবর্তন করে কিছু দল তাদের মনোনীত প্রার্থীকে জয়ী করার জন্য বেআইনি কৌশল অবলম্বন করেছে। দেশের নানা স্থান থেকে ভোটারদের ঢাকায় স্থানান্তর করে তাদের নামে নতুনভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে, যা ষড়যন্ত্রের অংশ বলে বিএনপি মনে করে।

    বিনীতভাবে তারা আমাদের কাছে জানতে চেয়েছে, কতজন ভোটার কোথা থেকে এসেছে, কোন এলাকাগুলি থেকে তাদের নাম বদলি করা হয়েছে এবং কেন এই পরিবর্তনগুলো করা হয়েছে। এই ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য দ্রুত সরবরাহ করার জন্য আমরা অনুরোধ জানিয়েছি।

    এছাড়াও বিএনপি আরও কিছু অসৌজন্য অভিযোগ তুলে ধরেছে। মহাসচিব জানিয়েছেন, জামায়াতের কিছু নির্বাচন কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিকাশ নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি সংগ্রহ করছে, যা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন ও অপরাধমূলক কাজ। এই বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন বিএনপি।

    বিএনপি স্বচ্ছ ও ন্যায্য নির্বাচনের প্রতি অঙ্গীকার করে, এই কারণেই তাদের চেয়ারম্যান ব্যক্তিগত সফর বাতিল করেছেন। তবে অন্য রাজনৈতিক দলের নেতারা বরং অভিযোগের তোয়াক্কা না করে প্রচার চালাচ্ছে বলে মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন।

    মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকার রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, পুলিশ সুপার এবং ওসিসহ কিছু কর্মকর্তারা একতরফা কাজ করছে বলে অভিযোগ করেছেন। এই কর্মকর্তাদের মধ্যে কিছুজনের বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি আহ্বান জানান।

    নির্বাচন কমিশনের কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে hatua নেওয়ার জন্যও বিএনপি অনুরোধ জানিয়েছে।

    পোস্টাল ব্যালটের বিষয়ে তিনি বলেন, বিএনপির মার্কা ঠিকঠাকভাবে ছাপানো হয়নি এবং সেগুলোর বিতরণেও নৈর্ব্যক্তিকতা দেখা যাচ্ছে। নির্বাচনী বিভিন্ন পর্যায়ে এই ধরনের ব্যালট বিতরণে অসঙ্গতি থাকায়, প্রতীক অনুপযুক্ত বা ভুলভাবে মুদ্রিত ব্যালটের যথাযথ প্রতিকার দাবি জানান তিনি।

    সর্বশেষে, বিএনপি ভোটারদের নিকট পৌছানোর জন্য পাঠানো পোস্টাল ব্যালটগুলো ত্রুটিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। তাদের উদ্দেশ্য হল নির্দিষ্ট কিছুলোকের জন্য সুবিধা সৃষ্টি করা, যা স্বচ্ছ ভোটের প্রক্রিয়াকে ক্ষুন্ন করে। এজন্য তিনি সঠিক ও স্বচ্ছ প্রতীক সংবলিত ব্যালট দ্রুত সরবরাহের দাবি জানান। পাশাপাশি, ভোটারদের এনআইডি, বিকাশ নম্বর ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহের পদ্ধতিক যুক্তিরও তীব্র সমালোচনা করেন, যা ব্যক্তিগত গোপনীয়তার লঙ্ঘন এবং দুর্বৃত্তায়নের সম্ভাবনা সৃষ্টি করে।

  • নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর হুমকি দিল এনসিপি

    নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর হুমকি দিল এনসিপি

    নির্বাচন কমিশনের আপিলের রায়ে বিএনপি প্রার্থীদের অনৈতিক ও নিয়মবহির্ভূত সুবিধা দিচ্ছে বলে cáoит এনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির মুখপাত্র ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া আজ রোববার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

    সংবাদ সম্মেলনটি রাজধানীর বাংলামোটরের রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে (অস্থায়ী) নির্বাচন কমিশনের আপিলের রায় ও নির্বাচন পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।

    আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের সন্দেহ এখন আরও দৃঢ় হয়েছে। যদি এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকে, তাহলে নির্বাচনে অংশ নেওয়া নিয়ে আমাদের শঙ্কা শুরু হবে। আমাদের দল ও অন্যান্য স্টেকহোল্ডাররা পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হবে। তবে আমরা চাই নির্বাচন সময়মতো অনুষ্ঠিত হোক। আমরা ন্যায্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চাই এবং বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক উত্তরণ যেন সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়, সেটাই আমাদের মূল লক্ষ্য।’

    দলের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নিতে তারা রাজনৈতিক পর্ষদ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবেন বলে জানান আসিফ। তিনি আরও বলেন, ‘আগামীকাল (সোমবার) আমরা আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য অন্তর্ভুক্ত সরকারের প্রধান ও অন্যান্য জোটসঙ্গীদের সঙ্গে বৈঠক করবো। ব্যবসায়িক নেতাকর্মী, নাগরিক সমাজের সদস্য এবং যারা গণআন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন, সবকিছুর উপস্থিতি ও আলোচনা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত জানানো হবে।’

    আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন ও বিএনপির বিরুদ্ধে অভিযোগের পাশাপাশি তারা নিজেদের প্রার্থীদের বৈধতা নিয়েও নানা প্রতিবাদ করছে। নির্বাচনের শেষ দিন বিএনপির পক্ষ থেকে বাইরে মিছিল ও ধোৱাধুড়ে পরিস্থিতি তৈরি করা হয়, যা নির্বাচন পরিবেশের জন্য হুমকি।’

    তিনি উল্লেখ করেন, রায় ঘোষণের মুহূর্তে নির্বাচন কমিশন ১৫ মিনিটের বিরতিতে বললেও তারা দেড় ঘণ্টা সময় নিয়ে বিএনপি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করে। যেসব প্রতিনিধির মধ্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও রাজনৈতিক স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ছিলেন, সেটিও গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

    আসিফ মাহমুদ মন্তব্য করেন, নির্বাচন কমিশনের এই রায় কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়, এটি গণতন্ত্রের জন্য সন্দেহজনক সংকেত। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিএনপি বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে কমপক্ষে ২০ জন দ্বৈত নাগরিকত্বের প্রমাণ পরিপূর্ণভাবে মেনে না নিয়ে প্রার্থী হচ্ছেন, বিশেষ করে ঢাকা-১১ আসনের এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের ব্যাপারে ব্যাপক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে।

    তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন বিএনপির দ্বৈত নাগরিক ও ঋণখেলাপি প্রার্থীদের বাধা না দিয়ে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করছে।’

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক्रেটারি মনিরা শারমিন, যুগ্ম সদস্যসচিব জহিরুল ইসলাম মুসা প্রমুখ।

  • জামায়াতের সিদ্ধান্ত: ফয়জুল করিমের সম্মানে বরিশাল-৫ আসনে প্রার্থী দেবে না জামায়াত

    জামায়াতের সিদ্ধান্ত: ফয়জুল করিমের সম্মানে বরিশাল-৫ আসনে প্রার্থী দেবে না জামায়াত

    নির্বাচনী রাজনীতিতে পারস্পরিক সৌজন্য এবং রাজনৈতিক শিষ্টাচারের শক্তিশালী উদাহরণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে এই সিদ্ধান্তকে। ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করিমের সম্মান বজায় রাখতে এবং তার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের জন্য, জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটের পক্ষ থেকে বরিশাল-৫ আসনে কোনো প্রার্থী দেওয়া হবেন না। এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ হলো, শান্তিপূর্ণ এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখা, যা ইসলামী আন্দোলনের ঐক্য গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করেন জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের।

    রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাতে, রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মাদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক শেষ করে, রাত ৮টার দিকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই কথা জানান ডা. তাহের। তিনি বলেন, মূলত ১১টি রাজনৈতিক দল নিয়ে একটি ঐক্য গড়ে উঠলেও বর্তমানে একজন দল আলাদা হয়ে যাওয়ায় এখন বাকি ১০টি দল ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনী মাঠে রয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির (চরমোনাই পীর) এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না। তবে তাদের নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করিম একটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই পরিস্থিতিতে, পারস্পরিক সম্মান ও ঐক্যের বিষয় বিবেচনা করে ওই আসনে দলের প্রার্থী প্রত্যাহার করা হয়েছে।

    ডা. তাহের আরও জানান, আমরা নির্বাচন সফল করতে চাই। তিনি বলেন, রাজনৈতিক ঐক্য কেবল আসন ভাগাভাগির বিষয় নয়, বরং এটি পারস্পরিক সম্মান, বিশ্বাস ও শুভেচ্ছার সম্পর্কেও।

    প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি আরও বলেন, বর্তমানে অন্তত ১৫টি রাজনৈতিক দল এই জোটে যুক্ত হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে মনোনয়নপত্রের জমা দেওয়ার সময়সীমা শেষ হওয়ায় তাদের জন্য কোনো আসন নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তবে, এই দলগুলো অবদান রাখতে ও ঐক্যের সঙ্গে থাকতে আগ্রহী।

    অন্য দিকে, প্রশাসনিক বৈষম্যকে দেশপ্রেম ও স্বরাষ্টের বিষয় হিসেবে তুলে ধরে, ডা. তাহের বলেন, কোনো বিশেষ রাজনৈতিক নেতার জাতীয় পরিচয়পত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তৈরি হচ্ছে, তবে সাধারণ নাগরিকদের মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হয়, যা নাগরিক অধিকার ও প্রশাসনিক নীতি বিরোধী।

    নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, জামায়াত বা জোটের পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে কোনও অতিরিক্ত নিরাপত্তা চাওয়া হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, আমরা আল্লাহর ওপর ভরসা করি। তবে, নির্বাচনের পরিস্থিতি ও জনসাধারণের ধারণার কারণে নিরাপত্তা বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

    ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে, ডা. তাহের বলছেন, যারা ক্ষমতায় গেলে, তারা নিশ্চিত করবেন যে, সব নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ, নিরাপত্তা এবং প্রশাসনের সমান আচরণ নিশ্চিত হবে।

    সূত্রের জানা যায়, বরিশাল-৫ ও বরিশাল-৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ফয়জুল করিম। এর মধ্যে, বরিশাল-৬ আসনে জামায়াত প্রার্থী দেবে না।

  • নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা রেখেছে বিএনপি, মির্জা ফখরুল বললেন

    নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা রেখেছে বিএনপি, মির্জা ফখরুল বললেন

    নির্বাচন কমিশনের প্রতি ইতিবাচক আস্থা রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন তাদের যোগ্যতা ও নৈতিকতার ভিত্তিতে সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাজধানীর জিয়া উদ্যানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে এ কথা বলেন তিনি।

    মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা একদিকে উদার ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার_b গিয়েছি। ১২ ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ আসন্ন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা হয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে মুক্তি ও স্বাধিকার আদায়ের পর আমাদের লক্ষ্য একটাই: ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পুনরুদ্ধার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা। শহীদ জিয়ার আদর্শকে সামনে রেখে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।

    নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমে কিছু সমস্যা থাকলেও তারা যথাযথভাবে কাজ করছে বলে মনে করে বিএনপি। তারা বিশ্বাস করে, এই নির্বাচন কমিশন যোগ্যতার সাথে দায়িত্ব পালন করবে। এর পাশাপাশি, বিএনপি মহাসচিব উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে জিয়াউর রহমানের অবদান সারাজীবন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি দেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন, বিচার বিভাগ ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছিলেন এবং তলাবিহীন ঝুড়ি বলে সমালোচিত অর্থনীতি সমৃদ্ধ আর উন্নত দেশে রূপান্তর করেছিলেন। এ জন্য তারা প্রতি বছর তাকে স্মরণ করেন এবং তার দেখানো পথে এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন।

    ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, ছাত্রজনতার ঐ সংগ্রাম থেকেই ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের ঘোষণা এসেছে। তিনি বলেন, এই আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট হাসিনা পালিয়ে গেছেন। এখন আমাদের মনোভাব, ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং গণতন্ত্রের ভিত্তি সুদৃঢ় করার জন্য নতুনভাবে কাজ শুরু করেছি। এই সংগ্রামই জিয়াউর রহমানের আদর্শকে বাস্তবায়িত করবে।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খাইরুল কবির খোকন, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ, মইর্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান সহ ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির বিভিন্ন নেতা-কর্মী।

  • অর্থ আত্মসাৎ: এস আলম-পি কে হালদারসহ ১৩ জনের বিচার শুরুর আদেশ

    অর্থ আত্মসাৎ: এস আলম-পি কে হালদারসহ ১৩ জনের বিচার শুরুর আদেশ

    প্রায় ৩২ কোটি টাকা অর্থ আত্মসাৎ ও ঋণ জালিয়াতির মামলায় আদালত অভিযোগ গঠন করে এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম, রিলায়েন্স ফাইন্যান্সের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার (পিকে) হালদারসহ মোট ১৩ জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরু করার আদেশ দিয়েছেন। আজ সোমবার (১৯ জানুয়ারি) ঢাকার নবম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. আব্দুস সালাম এই নির্দেশ দেন। future কা জানানো হয় যে, আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে। দুদকের পক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান হাফিজ জানান, আদালত এই মামলায় অভিযোগ গঠন করে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে কার্যক্রম শুরু করেছেন। অভিযোগকারীদের মধ্যে আরও রয়েছেন এস আলম গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ, পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ হাসান ও শাহানা ফেরদৌস, রিলায়েন্স ফাইন্যান্সের (বর্তমানে আভিভা ফাইন্যান্স) সাবেক ইভিপি রাশেদুল হক, সাবেক ম্যানেজার নাহিদা রুনাই, সাবেক এসভিপি কাজী আহমেদ জামাল ও সাবেক ডেপুটি ম্যানেজার জুমারাতুল বান্না। এছাড়া, মেরিন ভেজিটেবল অয়েলসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহির আহমেদ, পরিচালক টিপু সুলতান, মো. ইসহাক ও মো. আব্দুল্লাহ আল মামুনও এই মামলার আসামি। অপর দিকে, নাহিদা রুনাই ও রাশেদুল হক কারাগারে আছেন, আর অন্যান্য আসামিরা পলাতক। আদালত শুনানির সময়ে এই দু’জনকেই হাজির করা হয়। দুদকের পক্ষ থেকে আইনজীবী হাফিজ আরও জানান, নাহিদা রুনাইয়ের জন্য অব্যাহতির আবেদন করেন ঢাকা বারের সভাপতি খোরশেদ মিয়া আলম, আর রাশেদুল হকের পক্ষে ছিলেন নিয়াজ মোর্শেদ। অন্য আসামিরা পলাতক থাকায় তারা শুনানিতে অংশ নিতে পারেননি। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত অভিযোগ গঠন করে, যেখানে আসামিদের দোষ বা নির্দোষতা জানার প্রক্রিয়া শুরু হলো। তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার চেয়ে আবেদন করেছেন। উল্লেখ্য, গত ১১ জানুয়ারি মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করে ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ সাব্বир ফয়েজ। মামলার তদন্ত ও প্রস্তুতির পর এতে উপস্থিত হয়ে অভিযোগ গঠনের জন্য এই দিন নির্ধারিত হয়। মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের ১২ অগাস্ট একটি নামসর্বস্ব কোম্পানি মেসার্স মোস্তফা অ্যান্ড কোং’র মাধ্যমে ৩২ কোটি ৫০ লাখ টাকার একটি ঋণের অনুমোদন দেওয়া হয়, যা ২০১৩ সালের ৯ অক্টোবরে ছাড়তেও হয়। এরপর এই অর্থ এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেডের কাছে স্থানান্তর করা হয়। এই ঘটনাবলী নিয়ে গত বছরের ২ জুলাই দুদকের সহকারী পরিচালক মাহমুদুল হাসান ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে, ১৬ অক্টোবর, এই ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হয়।

  • মানিকগঞ্জে গরুচোর সন্দেহে দুই যুবককে পিটিয়ে হত্যা

    মানিকগঞ্জে গরুচোর সন্দেহে দুই যুবককে পিটিয়ে হত্যা

    মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় গরুচোর সন্দেহে দুই ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। সোমবার, ১৯ জানুয়ারি সকালে পুলিশ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ঘটনাটি ঘটে উপজেলার জয়মন্টপ ইউনিয়নের ইমাননগর গ্রামে, যেখানে রাতের অন্ধকারে এই ঘটনা ঘটে।

    নিহত দুজন হলো, সিংগাইর উপজেলার দশআনি গ্রামের তোতা মিয়ার ছেলে ৩৫ বছর বয়সী মজনু এবং একই উপজেলার ছয়আনি গ্রামের বান্দু মিয়ার ছেলে ২৩ বছর বয়সী দ্বিন ইসলাম।

    সিংগাইর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাজহারুল ইসলাম জানান, রাত সোয়া ২টার দিকে ইমামনগর গ্রামের শাকিলের বাড়িতে গরু চুরির জন্য প্রবেশ করে মজনু ও দ্বিন ইসলাম। ঠিক ওই সময় পরিবারের লোকজন তাদের চিহ্নিত করে চিৎকার শুরু করলে গ্রামের অন্য কাউকে ধরতে দৌড়ায়। গ্রামবাসীরা এগিয়ে এসে তাদের ধাওয়া করে। সংঘর্ষের মাঝে উত্তেজিত গ্রামবাসী চোরদের গণপিটুনি দেয়, যার ফলস্বরূপ তারা মারাত্মকভাবে আহত হন।

    খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুজনকে উদ্ধার করে সিংগাইর উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে আসে। চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে রেফার্ড করে। রাতের মধ্যে আহত দুজন ঢাকায় পাঠানো হয় এবং ভোর ৬টার দিকে তারা মৃত্যুবরণ করেন।

    অভিযোগ রয়েছে যে, মজনু ও দ্বিন ইসলামের বিরুদ্ধে বেশ কিছু চুরির মামলা রয়েছে সিংগাইর থানায়। মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ছাড়াও, এই ঘটনায় পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন ওসি।

  • বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য নতুন মার্কিন ভিসা নির্দেশনা: ভিসা বন্ড পরিশোধ বাধ্যতামূলক from জানুয়ারি ২১

    বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য নতুন মার্কিন ভিসা নির্দেশনা: ভিসা বন্ড পরিশোধ বাধ্যতামূলক from জানুয়ারি ২১

    আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশের নাগরিকরা যদি ব্যবসা বা পর্যটনের উদ্দেশ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বি১/বি২ ভিসা পান, তাহলে তাদের ওপর নতুন এক শর্ত আরোপ করা হয়েছে। এখন থেকে, এই ভিসার জন্য অনুমোদিত হলে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হবে। মার্কিন দূতাবাসের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    এ নতুন নিয়ম ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে ইস্যু হওয়া সব বি১/বি২ ভিসার জন্য প্রযোজ্য হবে। তবে, এই তারিখের আগে ইস্যু করা বৈধ বি১/বি২ ভিসাধারীদের ওপর এই নিয়ম কার্যকর হবে না।

    দূতাবাসটি সতর্ক করে বলেছে যে, ভিসা সাক্ষাৎকারের আগে কোনোভাবেই বন্ড পরিশোধ করা যাবে না। আগাম বন্ড পরিশোধ করলে ভিসা পাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা থাকবেনা। এছাড়া, তৃতীয় পক্ষের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বন্ডের প্রস্তাব দেওয়া প্রতারণামূলক হতে পারে বলে তারা উল্লেখ করেছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভিসার শর্তাবলী ঠিকভাবে মানলে বন্ডের অর্থ পরবর্তীতে ফেরত দেওয়া হবে। তবে, সাক্ষাৎকারের আগে অর্থ পরিশোধ করলে কোনো অর্থই ফেরত পাওয়া যাবে না। ফলে, ভিসা প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্টরা সতর্ক থাকা দরকার বলে মনে করা হচ্ছে।

  • অন্তর্বর্তী সরকার আইসিইউ থেকে কেবিনে অর্থনৈতিক উন্নয়ন এনেছে: অর্থ উপদেষ্টা

    অন্তর্বর্তী সরকার আইসিইউ থেকে কেবিনে অর্থনৈতিক উন্নয়ন এনেছে: অর্থ উপদেষ্টা

    অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা এখন আর ভঙ্গুর নয়। তিনি জানান, দেশের সরকারি রিজার্ভ এখন ৩২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা ছিলো মাত্র ১৮ বিলিয়ন ডলারে। এই দেড় বছরে অন্তর্বর্তী সরকার দেশের অর্থনীতিকে আইসিইউ থেকে কেবিনে স্থানান্তর করতে সক্ষম হয়েছে।

    আজ সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে চাঁদপুরের হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি, পাশাপাশি ভোটের জন্য গাড়ির প্রচারণার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

    অর্থ উপদেষ্টা বলেন, দুর্নীতি এবং অর্থ পাচার কারণে দেশের অর্থনীতি অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তবে এখন সরকারের কার্যক্রমের মাধ্যমে সেই ক্ষত কাটিয়ে উঠছে দেশের অর্থনীতি। তিনি বলেন, মাত্র দেড় বছরের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে খাদের কিনারা থেকে তুলে আনতে সফল হয়েছে এই সরকার।

    তার বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন, বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা, দ্রুত বিচার কার্যক্রম এবং আইন-শৃঙ্খলার উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন সংস্কার প্রয়োজন। আমরা কয়েকটি সংস্কার কার্যকর করেছি এবং তার বাস্তবায়নের জন্য জনগণের কাছে ভোটে হ্যাঁ ভোটের আহ্বান জানাচ্ছি।

    ভোটের পরিস্থিতি সম্পর্কে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এখন আর রাজনৈতিক চাপ নেই, তাই ভোট দেওয়ায় কোনও বাধা নেই। টাকা দিয়ে কোনও নির্দিষ্ট দল আসবে না। আপনি যদি সবাই সহযোগিতা করেন, তাহলে সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ ভোট হবে। আমরা চাই, সমাজে সততা ও ত্যাগের মানুষ ভোট দিতে আসুক।

    বক্তব্য শেষে উপদেষ্টা ও সরকারি কর্মকর্তারা মাঠে থাকা গণভোটের স্টলগুলো পরিদর্শন করেন এবং উপস্থিত ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেন।

    এর আগে, চাঁদপুরের বিভিন্ন সরকারি অফিস এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে সকালে সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে হ্যাঁ ভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ অনুষ্ঠান হয়। এতে অর্থ উপদেষ্টাকে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রশাসক মো. নাজমুল ইসলাম সরকার এই অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন।

    সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম এন জামিউল হিকমার বিষয়ভিত্তিক আলোচনা পরিচালনা করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান এবং চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. রবিউল হাসান।

  • থানার পাশেও থাকতেন ছদ্মবেশে, ৭ মাসে করেছেন ৬ খুন

    থানার পাশেও থাকতেন ছদ্মবেশে, ৭ মাসে করেছেন ৬ খুন

    সাভার মডেল থানার কাছাকাছি থাকা একটি পরিত্যক্ত পৌর কমিউনিটি সেন্টার হলো recent কয়েক মাসের নৃশংস খুনের কেন্দ্রবিন্দু। এই স্থানটির ঠিক পাশেই থাকতেন এক ব্যক্তিকে, যিনি ছিলেন সাধারণ মানুষের চোখে ভবঘুরে, কিন্তু তার প্রকৃত পরিচয় ছিল এক ভয়ঙ্কর সিরিয়াল কিলারের। গত সাত মাসে এই স্থান থেকে ছয়টি লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, যার মধ্যে বেশ কয়েকটি ঘটনায় পোড়ানো মরদেহ উদ্ধার হয়েছে।

    রোববার (১৮ জানুয়ারি) সকালে আধা পুড়ে যাওয়া দুটি মরদেহ উদ্ধার হওয়ার পর অনেক তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, খুনি নিজেকে সাধারণ ভবঘুরে বলে পরিচয় দিতেন, কিন্তু আসলে তিনি ছিলেন এক মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিত্ব, যাকে পুলিশ মশিউর রহমান খান সম্রাট হিসেবে চিহ্নিত করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি মানসিকভাবে বিকৃত ছিলেন এবং সাত মাসের মধ্যে ছয়টি নৃশংস খুন করেছেন।

    সোমবার আদালতের মাধ্যমে জবানবন্দি নেওয়া হবে তাকে। পুলিশ জানিয়েছে, তার কাছে উদ্ধার হওয়া সিসিটিভি ফুটেজ এবং একজন সাংবাদিকের ধারণ করা ভিডিও এই ঘটনার আসল রহস্য উন্মোচন করেছে। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, সম্রাট একটি নারীকে কাঁধে নিয়ে যাচ্ছে, এরই মধ্যে ওই নারী নিজেকে সোনিয়া বলে পরিচয় দেন। কিন্তু দু’দিন পরই সোনিয়ার পোড়া মরদেহ উদ্ধার হয়। এই ভিডিও ও ফুটেজের বিশ্লেষণে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে, সম্রাটই মূল খুনি।

    পুলিশের মতে, সম্রাট একজন মানসিকভাবে অস্থির, ‘সাইকোপ্যাথিক’ কিলার। তার মূল টার্গেট ছিল ভবঘুরে মানুষ। বিভিন্ন তদন্তে জানা গেছে, সে লালটেক বা ব্যাংক কলোনি এলাকায় ছদ্মবেশে ঘোরাফেরা করত এবং ওই সকল স্থান থেকে বিভিন্ন সময় অপরাধ চালাত।

    এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এ ধরনের নৃশংস সিরিয়াল কিলিংয়ের খবর শুনে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন,