দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ভোটারদের ঢাকায় স্থানান্তর করে এনে তেলআবাদের বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় আনুকূল্য লাভের জন্য একটি রাজনৈতিক দল কৌশলগত পরিকল্পনা করছে বলে অভিযোগ তুলেছে বিএনপি। বুধবার (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে এক প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনে উপস্থিত হয় এবং কমিশনের সদস্যদের সাথে আলোচনা করে।
সাংবাদিকদের সামনে তিনি বলেন, ঢাকার বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকার ভোটার তালিকা পরিবর্তন করে কিছু দল তাদের মনোনীত প্রার্থীকে জয়ী করার জন্য বেআইনি কৌশল অবলম্বন করেছে। দেশের নানা স্থান থেকে ভোটারদের ঢাকায় স্থানান্তর করে তাদের নামে নতুনভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে, যা ষড়যন্ত্রের অংশ বলে বিএনপি মনে করে।
বিনীতভাবে তারা আমাদের কাছে জানতে চেয়েছে, কতজন ভোটার কোথা থেকে এসেছে, কোন এলাকাগুলি থেকে তাদের নাম বদলি করা হয়েছে এবং কেন এই পরিবর্তনগুলো করা হয়েছে। এই ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য দ্রুত সরবরাহ করার জন্য আমরা অনুরোধ জানিয়েছি।
এছাড়াও বিএনপি আরও কিছু অসৌজন্য অভিযোগ তুলে ধরেছে। মহাসচিব জানিয়েছেন, জামায়াতের কিছু নির্বাচন কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিকাশ নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি সংগ্রহ করছে, যা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন ও অপরাধমূলক কাজ। এই বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন বিএনপি।
বিএনপি স্বচ্ছ ও ন্যায্য নির্বাচনের প্রতি অঙ্গীকার করে, এই কারণেই তাদের চেয়ারম্যান ব্যক্তিগত সফর বাতিল করেছেন। তবে অন্য রাজনৈতিক দলের নেতারা বরং অভিযোগের তোয়াক্কা না করে প্রচার চালাচ্ছে বলে মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন।
মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকার রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, পুলিশ সুপার এবং ওসিসহ কিছু কর্মকর্তারা একতরফা কাজ করছে বলে অভিযোগ করেছেন। এই কর্মকর্তাদের মধ্যে কিছুজনের বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি আহ্বান জানান।
নির্বাচন কমিশনের কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে hatua নেওয়ার জন্যও বিএনপি অনুরোধ জানিয়েছে।
পোস্টাল ব্যালটের বিষয়ে তিনি বলেন, বিএনপির মার্কা ঠিকঠাকভাবে ছাপানো হয়নি এবং সেগুলোর বিতরণেও নৈর্ব্যক্তিকতা দেখা যাচ্ছে। নির্বাচনী বিভিন্ন পর্যায়ে এই ধরনের ব্যালট বিতরণে অসঙ্গতি থাকায়, প্রতীক অনুপযুক্ত বা ভুলভাবে মুদ্রিত ব্যালটের যথাযথ প্রতিকার দাবি জানান তিনি।
সর্বশেষে, বিএনপি ভোটারদের নিকট পৌছানোর জন্য পাঠানো পোস্টাল ব্যালটগুলো ত্রুটিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। তাদের উদ্দেশ্য হল নির্দিষ্ট কিছুলোকের জন্য সুবিধা সৃষ্টি করা, যা স্বচ্ছ ভোটের প্রক্রিয়াকে ক্ষুন্ন করে। এজন্য তিনি সঠিক ও স্বচ্ছ প্রতীক সংবলিত ব্যালট দ্রুত সরবরাহের দাবি জানান। পাশাপাশি, ভোটারদের এনআইডি, বিকাশ নম্বর ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহের পদ্ধতিক যুক্তিরও তীব্র সমালোচনা করেন, যা ব্যক্তিগত গোপনীয়তার লঙ্ঘন এবং দুর্বৃত্তায়নের সম্ভাবনা সৃষ্টি করে।
