Month: December 2025

  • পাকিস্তান সেনাবাহিনী বলেছে, ইমরান খান ‘জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি’

    পাকিস্তান সেনাবাহিনী বলেছে, ইমরান খান ‘জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি’

    পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান Tehreek-e-Insaf (পিটিআই) দলের প্রধান ইমরান খানকে দেশের সেনাবাহিনী এক বিশ্লেষণে উল্লেখ করেছে, তিনি ‘জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি’ হিসেবে বিবেচিত। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) রাওয়ালপিন্ডিতে এক সংবাদ সম্মেলনে সেনাবাহিনী ও সেনা সম্প্রদায়ের প্রধান মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী এ কথা বলেন।

    আইএসপিআর প্রধান উল্লেখ করেন যে, ইমরান খান ও তার দল নানা উপায়ে সেনাবাহিনী বিরোধী প্রচার চালাচ্ছে, বিদেশি কূটনীতির সঙ্গে সমন্বয় করছে এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইমরান খান এমন এক অহংবোধে ভুগছেন যে মনে করেন, তার ছাড়া কোন উপায় নেই। এই আত্মকেন্দ্রিক ও বিভ্রান্ত মানসিকতা বর্তমানে জাতিগত নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে বলে মনে করেন তিনি।

    চৌধুরী জানান, জেল থেকে বের হওয়ার পর থেকে ইমরান খান বারবার সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে মন্তব্য করছে, তাদের বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রল ও বদনাম চালাচ্ছে। পাশাপাশি, ভারত ও আফগানিস্তানের কিছু সংবাদ মাধ্যম ইমরানের বক্তব্য প্রচার করছে যাতে দেশীয় রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়ে।

    সংবাদ সম্মেলনে তিনি যুক্ত করেন, সেনাবাহিনীসহ স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে সরকারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আক্রমণ চালানো মানে হলো, একটি নতুন সেনাবাহিনী সৃষ্টি করার মতো ব্যাপার।

    আইএসপিআর প্রধান আরও বলেন, ইমরানের সাম্প্রতিক টুইটগুলো আত্মবিশ্বাসের অমূলক অহংকারের প্রকাশ এবং এই অহংকার জাতির স্বার্থের জন্য বিপজ্জনক। তিনি নিজের তুলনাও করেন, শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে ইমরান খানের তুলনা ‘অযৌক্তিক’ বলে মন্তব্য করেন।

    সেনাবাহিনীর জন্য তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, দেশের নিরাপত্তার প্রশ্নে সব সময় প্রধান কর্তৃপক্ষ হলো রাষ্ট্র ও নির্বাচিত সরকার। সেনাবাহিনী তাদের অধীনস্ত, এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকলেও সেটা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা যাবে না বলে তিনি দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন।

    তিনি আধুনিক সংবাদ মাধ্যমগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সংবাদ প্রকাশের আগে অবশ্যই সত্যতা যাচাই করা উচিত। কোনো ষড়যন্ত্র বা দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকে সফল হতে দেওয়া হবে না। পাকিস্তান থাকবে, সেনাবাহিনী থাকবে, এই প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করেন তিনি।

    সূত্র: জিও নিউজ

  • পাকিস্তানের নতুন আঞ্চলিক জোট প্রস্তাব: ভারতের বাইরে অন্য দেশগুলোর উপরে জোর

    পাকিস্তানের নতুন আঞ্চলিক জোট প্রস্তাব: ভারতের বাইরে অন্য দেশগুলোর উপরে জোর

    পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ইশহাক দার বলেছেন, বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং চীনকে কেন্দ্র করে একটি ত্রিদেশীয় জোট গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই জোটে আরও অন্যান্য দেশকে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা ভবিষ্যতে আঞ্চলিক পরিধি আরও বাড়াতে সহায়ক হবে বলে তিনি মনে করেন। এ ছাড়া, তিনি জানান, এই অঞ্চলের বাহিরে অন্য কোনও দেশের অংশগ্রহণও সম্ভব হতে পারে।

    গত বুধবার (৩ ডিসেম্বর) ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত কনক্লেভ ফোরামে এক বক্তৃতায় ইশহাক দার বললেন, “আমরা আন্দোলিত হয়ে অন্যের ক্ষতি নয়, বরং সহযোগিতার মাধ্যমে পুরো অঞ্চলকে এগিয়ে নেওয়ার পক্ষে। আমরা সবসময় সংঘাতের বদলে সম্প্রীতির দিকে এগোতে পছন্দ করি।” তিনি উল্লেখ করেন, নতুন এই জোট পাকিস্তানের জন্য সার্কের বিকল্প কিছু প্রতিষ্ঠার চেষ্টার অংশ, কারণ ভারতে বিরাজমান উত্তেজনার কারণে সার্ক কার্যকর থাকতে পারেনি।

    জানা গেছে, 지난 জুনে চীন-পাকিস্তান ও বাংলাদেশের কর্মকর্তারা একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক করেছিলেন, যেখানে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়ে আলোচনা হয়। তারা স্পষ্ট করে বলেছিলেন, এ আলোচনা কোনও অন্য দেশের লক্ষ্য নয়।

    অবশ্য, ইশহাক দার এই কথাবার্তার সময় আঞ্চলিক উত্তেজনা চলমান থাকাকালে সেই আলোচনাগুলোর গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দেন। ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে কলহ-সংঘাত চলে আসছে, যার মধ্যে মে মাসে দুই দেশের মধ্যে চারদিনের যুদ্ধও হয়েছিল। এছাড়া, গত বছর বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের অবনতি ঘটে, বিশেষ করে শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ায় সম্পর্কের তিরি ডুবতে থাকে। মানবতাবিরোধী অপরাধে হাসিনার মৃত্যুদণ্ড হলেও ভারতের পক্ষ থেকে এখনো তাকে ফেরত পাঠানোর কোনও উদ্যোগ দেখা যায়নি।

    পাকিস্তানের এই প্রস্তাব বা উদ্যোগ কেমন ফলপ্রসূ হবে, তা নিয়ে বিশেষভাবে আলোচনা চলছে। ইসলামাবাদ কনক্লেভে ইশহাক দার বললেন, “আমাদের নিজের জাতীয় উন্নয়ন ও আঞ্চলিক স্বার্থ বড়, সুতরাং কোনও রাজনৈতিক অচলাবস্থা আমাদের অগ্রগতি রুখে দেবে না। আমি জানি, ভারতের সাথে সম্পর্ক আরও আরও ভালো করার ওপর আমাদের গুরুত্ব দেওয়া দরকার।”

    তিনি আরও মন্তব্য করেন, “দক্ষিণ এশিয়ার সীমাবদ্ধ সম্পর্কের কারণে আমাদের অর্থনৈতিক অঙ্গনে অনেক সম্ভাবনা অপচয় হচ্ছে। তবে, সার্কের বদলে আমরা আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন পথ খুঁজে বের করতে চাই।” তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, পাকিস্তানের এই উচ্চাকাঙ্খী পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জটিল হবে এবং চীন-ভারত সম্পর্কেও চাপ সৃষ্টি হবে।

    সাধারণত, দক্ষিণ এশিয়া বড় আঞ্চলিক সংগঠনের ব্যর্থতা, উচ্চ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংকটের কারণে স্বল্প পরিসরে উঠে আসা এই প্রস্তাব নতুন আঞ্চলিক জোটের সম্ভাবনা উজ্জ্বল করে তোলে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই উদ্যোগ কার্যকরী হলে এর ফলাফল আরেকবার দেখাতে পারে আঞ্চলিক সংঘর্ষ ও দ্বন্দ্বের বাড়বাড়ন্ত। সবকিছুর উপর নির্ভর করছে এই জোট কেমনভাবে গড়ে ওঠে ও দেশের স্বার্থে কতটা কার্যকর হয় সেটাই দেখার বিষয়।

  • ফোনে আড়িপাততে মরিয়া ভারত সরকার, এবার স্যাটেলাইট ট্র্যাকিংয়ের পরিকল্পনা

    ফোনে আড়িপাততে মরিয়া ভারত সরকার, এবার স্যাটেলাইট ট্র্যাকিংয়ের পরিকল্পনা

    ভারত সরকার নজরদারির আধুনিকীকরণে নতুন একটি পদক্ষেপ নিতে চাচ্ছে, যেখানে আরেকধাপে স্মার্টফোনগুলোতে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে স্থানে থাকার খবর বা স্থান নির্ধারণের সেবা সবসময় চালু থাকবে। এই প্রস্তাবের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর অনুমতি বা সেটি বন্ধ করার সুযোগ থাকবে না, যা অধিকতর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন সৃষ্টি করছে। প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ব্যবস্থা চালু হলে সরকার বা প্রভাবশালী সংস্থাগুলির জন্য ব্যবহারকারীকে নিখুঁতভাবে ট্র্যাক করাও অনেক সহজ হয়ে যাবে।

    খবরের সূত্র অনুযায়ী, বিভিন্ন নথি, ইমেল এবং মোট পাঁচটি স্বতন্ত্র সূত্রের ভিত্তিতে রয়টার্স এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, যদি এই প্রস্তাব কার্যকর হয়, তাহলে স্মার্টফোনে থাকা লোকেশন পরিষেবাগুলোর উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে, এবং ব্যবহারকারী চাইলে সেই পরিষেবাগুলো ডিঅ্যাকটিভেট বা বন্ধ করতে পারবেন না। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, সাধারণত এই-জিপিএস প্রযুক্তি তখনই সক্রিয় হয় যখন ব্যবহারকারী কোন অ্যাপ চালু করে বা জরুরি কল করে, কিন্তু নতুন প্রস্তাব এড়াতে পারবে না। ফলে, সরকারের জন্য ব্যবহারকারীর অবস্থান প্রায় নিখুঁতভাবে জানতে পারা সহজ হবে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্রিটেনের ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির ডিজিটাল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ জুনাদে আলী এই নতুন পরিকল্পনাকে ‘একটি সম্পূর্ণ নজরদারি ডিভাইস’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, যদি এটি বাস্তবায়িত হয়, তবে ফোনগুলো সম্পূর্ণরূপে বর্তমানের থেকে আলাদা একটি নজরদারির যন্ত্র হয়ে উঠবে।

    এর আগে, মোদি সরকার সকল ডিভাইসের মধ্যে একটি রাষ্ট্র পরিচালিত সাইবার নিরাপত্তা অ্যাপ প্রি-লোড করার নির্দেশ দিলেও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে বিতর্কের মুখে সেটি বাতিল করতে বাধ্য হয়েছিল। এই পরিস্থিতি কাটতে না কাটতেই নতুন পরিকল্পনার কথা উঠে এসেছে।

    অতিরিক্ত তদন্তে দেখা যায়, টেলিকম সংস্থাগুলোর কাছে আইনি অনুরোধ করেও তারা ব্যবহারকারীর সঠিক অবস্থান নির্ধারণে অক্ষম। বর্তমান ব্যবস্থায়, সংস্থাগুলো কেবলমাত্র সেলুলার টাওয়ার ডেটা ব্যবহার করে থাকে, যা আনুমানিক এলাকা নির্দেশ করে। এই ডেটা অনেকাংশে ব্যবহারকারী থেকে কিছু মিটার দূরে দেখায়। অন্যদিকে, এই-জিপিএস প্রযুক্তি এক মিটারের মধ্যেই অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম।

    প্রস্তাবিত এই প্রযুক্তির ব্যাপারে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ টেলিযোগ সংস্থা যেমন রিলায়েন্সের জিও ও ভারতী এয়ারটেল-এর প্রতিনিধিরা বলছেন, সরকারের যদি নির্দেশনা থাকে, তবে তারা এ-জিপিএস প্রযুক্তিক সক্রিয় করতে পারে।

    বিশেষ করে, লবিং সংস্থা ইন্ডিয়া সেলুলার অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স অ্যাসোসিয়েশন (আইসিইএ), যা অ্যাপল ও গুগলের প্রতিনিধিত্ব করে, তাদের এক গোপন চিঠিতে জানিয়েছে, এই ধরনের স্থান ট্র্যাকিং ব্যবস্থা অন্য কোথাও দেখা যায় না এবং এতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার ক্ষমতা সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে।

    অপরদিকে, মার্কিন ভিত্তিক নিরাপত্তা গবেষক কুপার কুইন্টিন এমন পরিকল্পনাকে ‘সত্যিই ভয়ানক’ বলে অভিহিত করেছেন, কারণ এই ধরনের নজরদারি ব্যবস্থা ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও গোপনীয়তা লঙ্ঘনের 위험 বাড়াতে পারে।

    এখনো ভারতের সরকার এই বিষয়ে কোনও নীতিগত সিদ্ধান্ত নেনি, তবে বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানি ও লবিং সংস্থা এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে সোচ্চার। তারা মনে করছে, এই ব্যবস্থা সাধারণ মানুষ ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ পেশাজীবী যেমন সামরিক অফিসার, বিচারক, কর্পোরেট কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠবে, কারণ তাঁদের সংবেদনশীল তথ্য থাকায় তাঁদের নিরাপত্তা ঝুঁকির সম্ভাবনা বাড়বে।

    অন্যদিকে, টেলিযোগাযোগ সংস্থাগুলোর দাবি, পুরোনো ট্র্যাকিং পদ্ধতিগুলোর কারণে অনেক সময় সমস্যা হয়, বিশেষ করে যখন মোবাইল প্রস্তুতকারীরা ব্যবহারকারীদের সতর্ক করার জন্য পপ-আপ বার্তা দেখায়। সেই বার্তাগুলোতে লেখা থাকে যে, তাদের নেটওয়ার্কের দ্বারা তাঁদের স্থানাঙ্কের তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে। এতে ব্যবহারকারীরা সহজেই বুঝতে পারে যে তাদের স্থান ট্র্যাক করা হচ্ছে। ফলে, সংস্থাগুলো সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছে, এই পপ-আপ ফিচারটি ডিঅ্যাকটিভেট করার সুযোগ দিতে। তবে আইসিইএ বলছে, ব্যবহারকারীর স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে এই ধরনের সতর্কতা সংবিধান ও গোপনীয়তা নীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।

  • পাকিস্তানে কারাগারে ইমরান খানের সাক্ষাৎ নিষেধাজ্ঞা আরোপ

    পাকিস্তানে কারাগারে ইমরান খানের সাক্ষাৎ নিষেধাজ্ঞা আরোপ

    কারাগারে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে দর্শনার্থীদের সাক্ষাৎ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করে দিয়েছে পাকিস্তান সরকার। তিনি বর্তমানে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দি রয়েছেন। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারা এই বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন। তিনি ইমরানকে ‘যুদ্ধ উন্মাদনায় মগ্ন চরমপন্থি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এর আগে, দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেনেন্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী ইমরানকে ‘মানসিক রোগী’ ও দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। এর কিছু সময়ের মধ্যে সরকার তার সঙ্গে দর্শনার্থীদের সাক্ষাৎ নিষিদ্ধ করে। তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারা জিও টিভির ‘নয়া পাকিস্তান’ অনুষ্ঠানে বলেছেন, “কয়েদিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় আইন এবং নিয়মানুযায়ী। এখন আর কোনো সাক্ষাৎ হচ্ছে না। সব ধরনের সাক্ষাৎ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।” তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন, যদি কেউ জোরপূর্বক ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করতে চায় বা এ নিয়ে আন্দোলন করে, তাহলে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেল থেকে শত্রুদের কোনো এজেন্ডা বাস্তবায়নের অনুমতি দেওয়া হবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি। উল্লেখ্য, দুই দিন আগে ইমরান খান তার বোন উজমা খানকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে গিয়ে দেখা করেন। এরপর তিনি জানাতে পারেন, সেনাপ্রধান অসীম মনিরের কর্মকাণ্ডে তিনি ক্ষুব্ধ। ৭৩ বছর বয়সী এই নেতা ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে কারাগারে থাকছেন। গত সপ্তাহে তার সঙ্গে কারাগারে কারো যোগাযোগ হয়নি বলে সমালোচনাও উঠেছিল। এরই মধ্যে পিটিআই প্রতিষ্ঠার জন্য বিক্ষোভও শুরু হয়েছিল। তবে তার বোন উজমা খানকে দেখা করতে দেওয়া হয় ক্ষণিক সময়ের জন্য।

  • পাকিস্তানি সেনাদের হামলায় আফগানিস্তানে চারজন নিহত

    পাকিস্তানি সেনাদের হামলায় আফগানিস্তানে চারজন নিহত

    আফগানিস্তানের বোলদাক বিভাগের সীমান্তে পাকিস্তানি ও আফগানি সেনাদের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে চারজন বেসামরিক নাগরিক মারা গেছেন। কাবুলের পক্ষ থেকে জানা গেছে যে, এই চারজনে সাধারণ নাগরিক ছিলেন। ঘটনাটি ঘটে গত রাতের প্রায় সাড়ে ১০টার দিকে, যখন দুই দেশের সেনাদের মধ্যে গুলির শব্দে ভágioপ্রাপ্ত হয় পুরো এলাকাটি। বেশ কিছুক্ষণ ধরে এই গোলাগুলি চলতে থাকায় আকাশে ও জমিতে ব্যাপক চাপ তৈরি হয়।

    উত্তেজনাপূর্ণ এই পরিস্থিতি গত অক্টোবর থেকে অব্যাহত আছে। ঐ মাসে দেশের সীমান্তে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়, যেখানে দুই শতাধিক মানুষ নিহত হন। আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় সেই সংঘাত কিছুটা কমে আসলেও সম্প্রতি আবার সেটি জোরদার হয়েছে।

    কিছুদিন আগে সৌদি আরবে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হলে আবারও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। তবে কে আগে গুলি চালিয়েছে তা স্পষ্ট নয়; উভয় পক্ষই একে-অপরের উপর দোষারোপ করছে।

    কান্দাহার প্রদেশের গভর্নর জানান, চারজনের মৃত্যুর তথ্যটি তারা নিশ্চিত করেছেন। পাকিস্তানের মুখপাত্র মোশারফ জাইদি দাবি করেছেন, চামান সীমান্তে পূর্বাভাসবিহীনভাবে আফগান সেনারা প্রথমে গুলি চালিয়েছে। অন্যদিকে, আফগানিস্তানের কান্দাহারের তথ্য বিভাগের প্রধান আলী মোহাম্মদ হাকমাল বলেছেন, পাকিস্তানি সেনারা হালকা ও ভারী কামান দিয়ে হামলা চালিয়েছে, যার ফলস্বরূপ কামানের গোলা বেসামরিক মানুষের বাড়িতে আঘাত হেনেছে।

    দুই পক্ষই সংঘর্ষ বন্ধের জন্য আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠলেও আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ শান্তি বজায় রাখতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

  • নগরীতে দোয়া ও প্রার্থনা: মসজিদ, মন্দির ও গীর্জায় স্বাস্থ্য কামনা

    নগরীতে দোয়া ও প্রার্থনা: মসজিদ, মন্দির ও গীর্জায় স্বাস্থ্য কামনা

    খুলনায় বিএনপি নেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা ও আরোগ্যের জন্য ব্যাপক ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। গতকাল জুমাতের নামাজের পর নগরীর নিউমার্কেটের বায়তুল নূর জামে মসজিদে এ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এই বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন ও দলের অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী, সাধারণ মুসল্লি, ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ী এতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।

    দোয়া অনুষ্ঠানের আগে মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন এক সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় উল্লেখ করেন, বেগম খালেদা জিয়া শুধু একজন রাজনৈতিক নেত্রীই নন, তিনি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের, মানবাধিকার ও ভোটাধিকার সংগ্রামের এক অনন্য প্রতীক। বর্তমানে তিনি গুরুতর অসুস্থ। তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করে দেশের সকলের দোয়া সবচেয়ে বড় শক্তি। তিনি আল্লাহর কাছে তার দ্রুত আরোগ্য ও সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রার্থনা করেন।

    তুহিন আরো বলেন, এই সময়টি জাতির জন্য একটি কঠিন পরীক্ষা। দেশের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় বেগম জিয়ার অবদান অস্বীকার করা যায় না। তার সুস্থতা এখন লাখো মানুষের প্রত্যাশা ও উদ্বেগের বিষয়।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন সোনাডাঙ্গা থানা বিএনপির সভাপতি হাফিজুর রহমান মনি, সাধারণ সম্পাদক মোঃ আসাদুজ্জামান আসাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির ইকবাল বাপ্পি, নেতা নজরুল ইসলাম, মোহাম্মদ কাজী নজরুল ইসলাম, মোস্তফা কামাল, শওকাত আলী বিশ্বাস লাবু, আবু আরা, ইয়াসিন শেখ, আবু বক্কার মীর, শেখ ফারুক হোসেন, ইশতিয়াক উদ্দিন লাভলু, সাঈদ হাসান লাভলু, ইয়াজুল ইসলাম অ্যাপোলো, গাজী আনিস, বেল্লাল হোসেন, মীর সুমন, মোহাম্মদ রনি, আ. সুলতান মাহমুদ সহ অসংখ্য নেতা-কর্মী।

    দোয়া মাহফিল চলাকালে নিউমার্কেট এলাকায় বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেন। দোয়া শেষে নেতা-কর্মীরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, তাদের প্রিয় নেত্রীর দ্রুত সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করছেন।

    অতিরিক্ত হিসেবে, খুলনা মহানগর, সদর, সোনাডাঙ্গা, খালিশপুর, দৌলতপুর, খানজাহান আলী থানাসহ বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়েও পৃথক দোয়া-মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এসব কর্মসূচিতে বেগম জিয়ার রোগমুক্তি, সুস্থতা ও দীর্ঘায়ুর জন্যে প্রার্থনা করা হয়; এমনকি বিভিন্ন মন্দির, গীর্জা ও প্যাগোডাতেও বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সবাই একসাথে মানত করেন নেত্রীর দ্রুত আরোগ্য কামনায়।

  • দিঘলিয়ায় নৌবাহিনীর অভিযান—মাদক ব্যবসায়ী আটক

    দিঘলিয়ায় নৌবাহিনীর অভিযান—মাদক ব্যবসায়ী আটক

    দেশের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে বাংলাদেশ নৌবাহিনী নিয়মিত অভিযান চালিয়ে আসছে। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে দিঘলিয়া উপজেলার বারাকপুর ইউনিয়নের ক্যাবল ঘাট এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়। এই অভিযানে নৌবাহিনী চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী মর্জিনা বেগম (৪০) কে এক কেজি গাঁজাসহ আটক করতে সক্ষম হয়। তারপরের পদক্ষেপে, আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জব্দকৃত মাদক ও আসামিকে দিঘলিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়। জানাযায়, এই নারী মাদক ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত।

    উল্লেখ্য, বর্তমান সরকারের দিকনির্দেশনায় নৌবাহিনী দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায় মাদক, সন্ত্রাস দমন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা জন্য কঠোর অভিযান ও টহল অব্যাহত রেখেছে। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে তারা সমাজের স্বাভাবিকতাকে বজায় রাখতে ও অপরাধ রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

  • বাংলাদেশের উন্নয়নে সকলের জন্য অপরিহার্য খালেদা জিয়া

    বাংলাদেশের উন্নয়নে সকলের জন্য অপরিহার্য খালেদা জিয়া

    জেলা বিএনপি’র আহবায়ক মোঃ মনিরুজ্জামান মন্টু বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়া শত প্রতিরোধ, নির্যাতন সত্ত্বেও কখনো মাতৃভূমি ছেড়ে যাননি এবং বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদে সম্পূর্ণ অবিচল ছিলেন। তার এই অবিচল দৃঢ়তা তাকে সাধারণ জনগণের কাছে অনন্য উচ্চতায় স্থান করে দিয়েছে। তিনি আজ দলীয় মতের উর্ধ্বে উঠে বাংলাদেশের সম্পদে নিজেকে মেলে ধরেছেন। মাতৃভূমির স্বার্থে তাঁর প্রয়োজন অনুভব করছেন সবাই। বাংলাদেশ গড়ার কাজে খালেদা জিয়ার ভূমিকা অপরিহার্য, এবং তাঁর নেতৃত্বে সব নাগরিকের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ।

    গতকাল জুম্মাবাদ বটিয়াঘাটা উপজেলার জলমা ইউনিয়নে মোহাম্মদ নগর বায়তুল মিরাজ জামে মসজিদে বিএনপি চেয়ারপারসন, তিনবারের সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় মোঃ মনিরুজ্জামান মন্টু এসব কথা বলেন।

    দোয়া মাহফিলে বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের সংকল্প ও নেতৃত্ব এবং দেশের জন্য তার অসামান্য ত্যাগের কথা শ্রে
    ্ধচিত্তে স্মরণ করা হয়।

    খুলনা জেলার নয়টি উপজেলা ও দুইটি পৌরসভায় ‘মাদার অফ ডেমোক্রেসি’ খ্যাত এই নেত্রীর সুস্বাস্থ্য ও রোগমুক্তির জন্য কেন্দ্রীয় ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে মসজিদে মসজিদে ও বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে দোয়া প্রার্থনা ও ভক্তি পূজার আয়োজন করা হয়। এসব অনুষ্ঠানে দলের নেতা-কর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ছিল ব্যাপক, যা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও জনগণের আস্থা ও অনুরাগের প্রকাশ।

  • রূপসায় পুলিশ কনস্টেবলের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

    রূপসায় পুলিশ কনস্টেবলের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

    খুলনার রূপসা উপজেলার শিয়ালী পুলিশ ফাঁড়ির বাথরুমে গলায় কাপড় পেঁচিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় এক পুলিশ কনস্টেবলের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। তার নাম হিসেবে পরিচিতি পাওয়া গেছে ফেরদৌস হোসেন নামে এক পুলিশ কনস্টেবলের। ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) মধ্যরাতে।

    ফেরদৌস হোসেন যশোর জেলার সদর উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে। তিনি শিয়ালী পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত ছিলেন।

    পুলিশের সূত্র জানিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকেই ফেরদৌস হোসেনকে ক্যাম্পে দেখা যায়নি। বিভিন্নক্ষেত্রে খোঁজাখুঁজি চালানো হয়, এ সময় রাতের কিছু আগে ক্যাম্পের বাথরুমের ভিতর তাকে ঘরের সিলিংয়ের সঙ্গে গলায় কাপড় পেঁচিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    রূপসা থানার ওসি মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান জানান, তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি দেখেছেন। মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট নয়। মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চালানো হচ্ছে।

  • চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রা ১১.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামে

    চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রা ১১.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামে

    দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গায় শীত এখন গভীর পর্যায়ে পৌঁছেছে। আজ শনিবার (৬ ডিসেম্বর) সকালে জেলার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৮১ শতাংশ। রাত থেকে ভোর পর্যন্ত একের পর এক ঘন কুয়াশা ও ঠান্ডা বাতাসের কারনে এলাকাজুড়ে শীতের প্রখরতা অনুভূত হচ্ছে। গত কয়েক দিন ধরে সকাল ও সন্ধ্যার তাপমাত্রায় বড় ধরনের পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। সকাল ৬টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয় ১২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৬ শতাংশ। পরে সকাল ৯টার মধ্যে তাপমাত্রা আরও কমে দাঁড়ায় ১১.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যার সাথে বাতাসে আর্দ্রতা ছিল ৮১ শতাংশ। এই তাপমাত্রা এখন পর্যন্ত চলতি মৌসুমের সবচেয়ে নিন্ম। আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা আরও কমে ১০ থেকে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামার আশঙ্কা রয়েছে, যা শীতপ্রবাহের পরিস্থিতি আরও তীব্র করবে। শীতের এই আগমনে জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়ছে খেটে-খাওয়া সাধারণ মানুষের জন্য। ভোরে রাস্তায় হাঁটলে তীব্র হিম বাতাসে অস্বস্তি চাপছে। রিকশাচালক, ভ্যানচালক ও দিনমজুররা বলছেন, শীতের কারণে কাজের আশার আলো কমে গেছে। এদিকে শীতের কারণে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে অসুস্থ রোগীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে ডায়রিয়া, সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টের রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত সপ্তাহের তুলনায় এসব রোগের প্রকোপ আরও বেড়েছে, বিশেষ করে রোটা ভাইরাসজনিত ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা মারাত্মক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি, শীতের উপস্থিতির সাথে সাথে গ্রাম বাংলায় খেজুর গাছিরাও ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। উৎসাহ ও তৎপরতায় তারা ঝোড়ো গতিতে খেজুরের রস সংগ্রহ করে চলেছেন।