Month: November 2025

  • নাহিদ ইসলাম: হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে ভারত জুলাই গণহত্যাকে সমর্থন করছে

    নাহিদ ইসলাম: হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে ভারত জুলাই গণহত্যাকে সমর্থন করছে

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ার মাধ্যমে ভারত জুলাই গণহত্যাকে সমর্থন করছে। তিনি বলেন, যদি ভারত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আশ্রয় না দেয় এবং তার অবস্থান পরিবর্তন না করে, তাহলে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আরও শীতল হয়ে পড়বে। রোববার (০২ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ সব কথা বলেন।

    নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, জুলাই সনদ স্বাক্ষর হলে দেশের ঐক্য ভেঙে গেছে। তিনি বলেন, নিরপেক্ষতা না দেখিয়ে দলীয় স্বার্থে সনদে স্বাক্ষর দেওয়ায় তারা জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে। তবুও এখনও ঐক্য ধরে রাখতে সম্ভব, বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    তিনি আরও বলেন, এক দল সংস্কারকে নস্যাৎ করার চেষ্টা করছে, অন্যরা চায় নির্বাচন পেছাতে। তার মতে, যদি জুলাই সনদ আইনি ভিত্তি তৈরি হয়, তাহলে গণভোটের দিনও সমস্যা হবে না। তবে, প্রয়োজন হলে অবশ্যই ড. ইউনূসের জন্য এই সনদ জারি করতে হবে। প্রেসিডেন্ট চুপ থাকলে সংস্কারের জন্য এটি ক্ষতিকর হবে।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, যদি সংস্কারের পক্ষে কেউ না থাকে, তাহলে তাদের সঙ্গে জোটে যাওয়া সম্ভব নয়। সরকার নানা চাপের কারণে বারবার টেক্সট পরিবর্তন করছে। প্রথম খসড়ায় উল্লেখ ছিল যে, ২৭০ দিনের মধ্যে সংস্কার প্রস্তাব স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধানে যুক্ত হবে, যা আমরা সমর্থন করি। এর ব্যত্যয় হওয়া মানে আমরা সেই আদেশের সমর্থন না করাও বিবেচনা করব।

    তিনি বলেন, ২৭০ দিনের বাধ্যবাধকতা নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই, বরং অপ্রয়োজনীয়ভাবে এই বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি ও ভীতি ছড়ানো হচ্ছে।

    নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, শেখ মুজিবের ছবি ব্যবহার করে তাকে ফ্যাসিবাদের আইকন হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যা সংবিধানে থাকতে পারে না। বাস্তবায়ন আদেশে যদি পরিবর্তন আনা হয়, তাহলে এনসিপি সেটি সমর্থন করতে সক্ষম নয়।

    প্রতীকের ইস্যুতে তিনি বলেন, নতুন দল হিসেবে সহযোগিতা না করে নির্বাচন কমিশন আমাদের কাজে বাধা দিচ্ছে। শাপলা আলোচনার সিদ্ধান্ত তারা এত দিন দিতে পারেনি, অথচ আমাদের সেটা এখন চাই। আমরা শাপলার জন্যই চাচ্ছি।

  • ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও দেশপ্রেমিক শক্তির প্রতিফলন

    ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও দেশপ্রেমিক শক্তির প্রতিফলন

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের জন্য এক ঐতিহাসিক এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। আজকের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যখন জনগণ অনিশ্চয়তা ও হতাশার মাঝে ডুবে রয়েছে, তখন আবারো দেশের শত্রুদের মাথা তুলে দাঁড়ানোর চেষ্টাকে রোধ করতে এবং নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে সোশ্যাল মিডিয়ায় মিথ্যা প্রচারণা চালানোর অপচেষ্টা প্রতিহত করতে ৭ নভেম্বরের ঐক্যের চেতনা আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। তিনি আজ রোববার (২ নভেম্বর) নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, ৭ নভেম্বর দিনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৭৫ সালে এই দিনই সেনা ও জনগণের যুগপৎ সফল বিপ্লবের মাধ্যমে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দী অবস্থা থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। দেশকে বন্দিশৃঙ্খল থেকে মুক্ত করতে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে সৈনিক-জনতা একযোগে কাজ করে। এরপরই বাংলাদেশে নতুন এক ইতিহাস সৃষ্টি হয়, যেখানে দেশের স্বাধীকারের লড়াই আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে।

    তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক অপূরণীয় চিহ্ন রেখে গেছেন। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর আক্রমণে নিরস্ত্র বাঙালির রক্ষা ও মুক্তির জন্য তিনি চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে ঘোষণা দিয়েছিলেন, “I hereby declare the independence of Bangladesh.” এরপরের পাঁচ বছর ছিল দুঃশাসন আর অন্ধকারের ইতিহাস। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে তখন একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যার ফলে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ১৯৭৪ সালে মহাদুর্ভিক্ষের কারণ হয়। সেই সময়ে শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি তীব্র অস্তমিতির Facing।

    মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন, ১৯৭৫ সালের পর জিয়াউর রহমান এই পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য নতুন রাজনৈতিক সংস্কার আনেন। তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেন, বিচার বিভাগকে স্বাধীনতা দেয়ার জন্য নানা পদক্ষেপ নেন। অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত সূচনা করেন, গার্মেন্টস শিল্পের বিকাশের বহিঃপ্রকাশ ঘটে, বিদেশে শ্রমিক প্রেরণের মাধ্যমে রেমিট্যান্সের ভিত্তি স্থাপন হয়। নারী শিক্ষায় ও নারীর ক্ষমতায়নে তিনি এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনা শুরু করেন। কৃষিতে খাল খনন και উচ্চফলনশীল বীজনের আমদানি, সার ব্যবস্থার সংস্কার তার উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ। এইসব উদ্যোগের ফলে দেশে শিল্পের বিকাশ ঘটে এবং কর্মসংস্থান বাড়তে থাকে।

    তিনি আরো বলেন, দুর্ভাগ্যবশত, ১৯৭৫ সালে শহীদ জিয়াউর রহমানকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে। তবে তার দর্শন ও আদর্শ আজও অম্লান। বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী দর্শন কোনও শক্তিই পরাজিত করতে পারেনি। সেই জন্য বিএনপি বারবার ধ্বংসের মুখ থেকেও নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে ও পুনরুজ্জীবিত হয়েছে।

    মির্জা ফখরুল বলেন, আজকের দিনেও জাতিকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে শহীদ জিয়াউর রহমানের অনুসারী তারেক রহমান দেশের প্রবাসে থেকেও প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছেন তারেক রহমান, যা নতুন দিশার আলো দেখাচ্ছে। অনুতাপ নয়, বরং দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে তিনি আগামী দিনগুলোতে দেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের জন্য কাজ করে যাবেন।শেষে তিনি আবারও উল্লেখ করেন, ৭ নভেম্বর আমাদের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ দিন। এই দিনটি স্মরণ করে আমরা বুঝতে পারি, জাতির স্বপ্ন ও চেতনা জেগে ওঠে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সেই দর্শনকে উৎসাহিত করে, আমরা সামনের দিকে এগিয়ে চলব—একটি স্বাধীন, গণতান্ত্রিক ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়তে।

  • ফের নির্বাচিত হলেন ডা. শফিকুর রহমান, জামায়াতের আমির

    ফের নির্বাচিত হলেন ডা. শফিকুর রহমান, জামায়াতের আমির

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ২০২৬–২০২৮ কার্যকালের জন্য পুনরায় আমির হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার (১ নভেম্বর) রাতে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছুম ফলাফল ঘোষণা করেন।

    অভ্যন্তরীণ নির্বাচনের মোট ভোটগ্রহণ গত ৯ অক্টোবর শুরু হয়ে ২৫ অক্টোবর শেষ হয়। এই সময়ের মধ্যে সারাদেশের জামায়াত সদস্যদের গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়া হয়। পরবর্তীতে, নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত টিম গোপন ভোট গণনা সম্পন্ন করে এবং শনিবার রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন।

    প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, ডা. শফিকুর রহমান সর্বোচ্চ ভোট পান এবং সেই মোতাবেক তিনি আগামী ২০২৬–২০২৮ কার্যকালের জন্য জামায়াতের আমির হিসেবে নির্বাচিত হন। জানা গেছে, ডা. শফিকুর রহমান ২০১৯ সাল থেকে জামায়াতের আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন।

    বিশেষ করে ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে জামায়াতের রাজনৈতিক কার্যক্রম ব্যাপকভাবে উদ্বেলিত হয়। এর পেছনে ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্ব ও বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তার কিছু বক্তব্য ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকলেও, তার উপস্থিতি ও নেতৃত্ব জামায়াতের শক্তি আরও বৃদ্ধি করেছে।

  • গাইবান্ধায় গরু চুরির সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত ৩

    গাইবান্ধায় গরু চুরির সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত ৩

    গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় গরু চুরির অভিযোগে সন্দেহভাজন তিনজনকে গণপিটুনিতে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনাটি শনিবার (১ নভেম্বর) গভীর রাতের দিকে উপজেলার কাটাবাড়ি ইউনিয়নের নাসিরাবাদ গ্রামে ঘটেছে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, রাতে তিনজন ব্যক্তি গ্রামবাসীর চোখে দেখা গেছে গোয়ালঘর থেকে তিনটি গরু চুরি করে নিয়ে যাচ্ছিল। এলাকাবাসী এগিয়ে গেলে চোরচক্রের সদস্যরা দ্রুত পালানোর চেষ্টা করে। প্রাণ বাঁচাতে তারা রাস্তার পাশের একটি পুকুরে লাফ দেয়। কিন্তু এলাকাবাসী তাদের ধাওয়া করে এবং ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তাদের উপর হামলা চালানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুইজন নিহত হন।

    খবর পেয়ে সকালে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

    স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নিহত ব্যক্তিরা সবাই পার্শ্ববর্তী বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার একটি সংঘবদ্ধ গরু চোর চক্রের সদস্য।

    গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি বুলবুল ইসলাম জানান, মরদেহগুলি বর্তমানে থানায় রাখা হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় এখনো জানা যায়নি। তাদের পরিচয় নিশ্চিত হলে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। ঘটনার বিস্তারিত তদন্তের মাধ্যমে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • নির্বাচনের আগে তাবলিগের ইজতেমা হচ্ছে না

    নির্বাচনের আগে তাবলিগের ইজতেমা হচ্ছে না

    প্রতি বছর জানুয়ারি মাসে তাবলিগ জামাতের বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হলেও এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন থাকায় এই বর্ষাকালীন ধর্মীয় সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। সরকার ও তাবলিগ জামাত কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, নির্বাচনের আগে ইজতেমা আয়োজন করা উচিত নয়। বিকল্প হিসেবেআরেকটি সুবিধাজনক সময়ে, অর্থাৎ নির্বাচন পরবর্তী সময়ে, এই আয়োজনে ফিরে আসা হতে পারে।

    আজ রোববার (২ নভেম্বর) সকালে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাবলিগের দুই পক্ষের মুরব্বিদের উপস্থিতিতে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে, নির্বাচনের প্রকোপের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    বৈঠকপ্রধানরা আরও জানিয়েছেন, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, শিল্প ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    ড. খালিদ বলেন, “চলমান নির্বাচনি পরিস্থিতি ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজের বাধ্যবাধকতা বিবেচনায়, এই বড় ধরনের সমাবেশের জন্য ঝুঁকি বেশি। বিদেশি মেহমানরাও আন্তর্জাতিক এই ইজতেমায় অংশ নেন, তাই এই সময়ে অনুষ্ঠিত না করাই সবার জন্য উত্তম হবে।”

    তিনি আরও বলেছেন, দুটি পক্ষের সঙ্গেই আলোচনার মাধ্যমে তারা সম্মত হয়েছেন যে, নির্বাচনের পরে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে। যদি নির্বাচন ফেব্রুয়ারির প্রথম ১৫ দিনের মধ্যে হয়, তবে রমজান মাসের পরে ইজতেমা হতে পারে বলে তাঁদের মত প্রকাশ। তবে, ঠিক কবে ইজতেমা হবে, সেটা নির্ধারিত হয়নি; এর জন্য দুই পক্ষের সাথে আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে।

    সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে তিনি জানান, পরিস্থিতির অবনতি হলে আলাদা আলাদা ইজতেমার বিষয়টিও বিবেচনা করা হতে পারে। আরেক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, নির্বাচনের তারিখ পেছানোর পরিকল্পনা এই মুহূর্তে নেই। পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে, তারা আশ্বাস দিয়েছেন যে, নির্বাচন সময়ে সম্পন্ন হবে এবং এই লক্ষ্যে তারা কাজ চালিয়ে যাবেন।

  • আওয়ামী লীগের ৪ নেতার বিরুদ্ধে বিচার শুরু, গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

    আওয়ামী লীগের ৪ নেতার বিরুদ্ধে বিচার শুরু, গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

    ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যা এবং aantal আহতের ঘটনা নিয়ে আলোচনায় আইনি পদক্ষেপ শুরু হয়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ এ ব্যাপারে আদেশ দেন। এতে জানানো হয়, আওয়ামী লীগ의 যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফসহ মোট চারজনের বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগ যথাযথভাবে প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় বিচার শুরুর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এরপর তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

    আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর আবদুস সোবহান তরফদার এবং আবদুস সাত্তার পালোয়ান। এর আগে, ২৮ অক্টোবর হানিফসহ পলাতক চার আসামির পক্ষে অভিযোগপত্র পড়েন আইনজীবী মো. আমির হোসেন। তিনি শুরুতেই অভিযোগের ব্যপারে সমালোচনা করেন এবং আসামিদের জন্য অব্যাহতির আবেদন করেন। পরে, সুনির্দিষ্ট তিনটি অভিযোগ পড়ে আদালত অভিযোগ গঠনের জন্য আজকের দিন ঠিক করেন।

    উল্লেখ্য, হানিফ ছাড়াও চারজনের বিরুদ্ধে এ ফরমাল চার্জ গঠন প্রক্রিয়া চলছিল। তারা হলেন, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী, এবং শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা।

    গত ২৩ অক্টোবর হানিফসহ চারজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি এবং তাদের হাজিরার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হলেও, পলাতক থাকায় তা বাস্তবায়ন করা যায়নি। ট্রাইব্যুনাল এই চারজনের জন্য স্টেট ডিফেন্স নিয়োগ দেয়। এদের বিরুদ্ধে ৬ অক্টোবর প্রথম অভিযোগপত্র জমা পড়ে এবং ৫ অক্টোবর অভিযোগ গঠনের জন্য আনুষ্ঠানিক শুনানি হয়।

    অভিযোগে তুলে ধরা হয়, উসকানিমূলক বক্তব্য, ষড়যন্ত্র ও কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার অভিযোগ। এই আন্দোলনের প্রেক্ষিতে কুষ্টিয়ায় ছয়জন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হন। এর জের ধরে জাসদের একাংশের সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলার অভিযোগ দায়ের হয়। তদন্ত প্রতিবেদন ও আনুষ্ঠানিক অভিযোগের মাধ্যমে এই বিষয়গুলো আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

  • যমুনা অভিমুখী শিক্ষকদের লংমার্চে পুলিশ বাধা দিল

    যমুনা অভিমুখী শিক্ষকদের লংমার্চে পুলিশ বাধা দিল

    জাতীয়করণসহ পাঁচ দফা দাবিতে শিক্ষকদের নেতৃত্বে একটি বড় লংমার্চ রোয়ানা করে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের দিকে যমুনা অভিমুখে রওনা হন। তবে এই কর্মসূচির মধ্যে পুলিশ হাইকোর্ট মোড়ে ব্যারিকেড দিয়ে তাদের আটকে দেয়। 이에 বাধ্য হয়ে রাস্তায় বসে পড়েন ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষকরা।

    রোববার (২ নভেম্বর) দুপুর প্রায় ২টার সময় তারা জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে যাত্রা শুরু করেন। এর আগে, তারা টানা ২১তম দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন।

    অদৃশ্য, তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দেশের বিভিন্ন অজুহাতে ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে, দীর্ঘ মাসের বিরতিতে থাকা এই আন্দোলনের সফলতা এখনো অধরা। নানা দাবির মধ্যে মূল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, ইবতেদায়ি মাদরাসাগুলোর জাতীয়করণের গেজেট প্রকাশ। শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, এই প্রক্রিয়া নানা অজ্ঞতা ও প্রতিহিংসার কারণে আটকে রয়েছে। বহু সময় অতিক্রম হলেও হয়তো এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

    শিক্ষকদের আরও অভিযোগ, বিভিন্ন অজুহাতে তাদের দাবি দমনের চেষ্টা চলছে। এ কারণে তারা আবারও এই কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। তারা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, যতক্ষণ না তাদের দাবি পূরণ হচ্ছে, তারা অব্যাহত আন্দোলন চালিয়ে যাবে।

  • জাতীয় নির্বাচনের ক্যাম্পেইন শুরু, প্রথম টিজার প্রকাশ

    জাতীয় নির্বাচনের ক্যাম্পেইন শুরু, প্রথম টিজার প্রকাশ

    আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ এর জন্য প্রাক্কালের প্রচারণা শুরু হয়েছে। আজ, রোববার (২ নভেম্বর), অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই নির্বাচনের প্রথম টিজার প্রকাশিত হয়। ৪৮ সেকেন্ডের এই ভিডিও টিজারে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের গুরুত্ব এবং উন্নয়নশীল দেশের স্বপ্নের কথা তুলে ধরা হয়েছে।

    প্রকাশনাকালে ক্যাপশনে বলা হয়, ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের ক্যাম্পেইন আজ থেকেই শুরু হলো। এই প্রথম টিজারে বিডিআর হত্যাকাণ্ডের তদন্তের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত ক্যাপ্টেন (অব) ড. খান সুবায়েল বিন রফিক অংশগ্রহণ করেন। তিনি সবাইকে আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে সবাই প্রস্তুত हो। দেশের মালিকানা তাদের হাতে, এটাই হবে তাদের সুযোগ দেশের আসল চিত্রটি বোঝার।

    রোববার দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার সহকারী প্রেস সচিব সুচিস্মিতা তিথি এই তথ্য প্রকাশ করেন।

    প্রসঙ্গত, টিজারের শুরুতেই দেখা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেনকে বলতে শোনা যায়, আমি ভারতের কাছে বলেছি, শেখ হাসিনাকে টিকিয়ে রাখতে যা যা প্রয়োজন, তা করতে আমি অনুরোধ করবো। তার এই বক্তব্যটিই পরবর্তীতে ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং নির্বাচনের প্রথম প্রচারনায় প্রভাব ফেলে।

    ক্যাপ্টেন (অব) ড. খান সুবায়েল বিন রফিক বলেন, আজ বাংলাদেশের সামনে ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের সুযোগ। এই নির্বাচন দ্বারা জনগণ দেশের ভবিষ্যৎ এবং ক্ষমতার দখল বুঝে নেবে। তিনি যোগ করেন, ভোটের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে কেমন বাংলাদেশ হবে। নির্বাচন ২০২৬, দেশের ভবিষ্যৎ আপনার হাতে।

    প্রসঙ্গত, এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্রের ভিত্তি শক্তিশালী হবে এবং জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথ সুগম হবে।

  • শাবনূর: আমি জানি না সালমান শাহ কীভাবে মারা গেছেন

    শাবনূর: আমি জানি না সালমান শাহ কীভাবে মারা গেছেন

    ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ ১৯৯৬ সালে ৬ সেপ্টেম্বর আকস্মিকভাবে মৃত্যুবরণ করেন। তার রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে তখন থেকেই নানা জল্পনা-কল্পনা এবং প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে অভিনেত্রীর সাবেক স্ত্রী সামিরা হক তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলেই দাবি করেন। সম্প্রতি, সালমান শাহর মৃত্যুর প্রায় তিন দশক পর আদালতের নির্দেশে তার অপমৃত্যুর মামলাকে হত্যা মামলার রূপ দিয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

    গত ২০ অক্টোবর রাতে সালমান শাহর মামা আলমগীর কুমকুম রমনা থানায় একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এর মধ্যে অন্যতম প্রধান আসামি হলেন সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা হক। এরই মধ্য দিয়ে বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসছে এবং বিভিন্ন গুজব ও অপপ্রচারের ঝড়ও তুঙ্গে উঠেছে। এ ঘটনায় প্রভাব পড়েছে সিনেমা অঙ্গনেও।

    অভিনেত্রী শাবনূর নিজের ফেসবুক পেজে ‘আবারো সালমান শাহ প্রসঙ্গ নিয়ে কিছু কথা’ শিরোনামে একটি স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি বলেন, “২৯ বছর আগে কিংবদন্তি নায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় আদালতের মাধ্যমে ২১ অক্টোবর রমনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। আমি তখন বিদেশে থাকাকালীন এই খবর জানতে পেরেছি।”

    শাবনূর আরও বলেন, “বিভ্রান্তকর গুজবের বিরুদ্ধে আমি স্পষ্টভাবে প্রতিবাদ জানাচ্ছি। বর্তমান সময়ে কিছু ব্যক্তি অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে সালমান শাহের মরদেহের মৃত্যুর সঙ্গে আমার নাম জড়ানোর অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে। এসব ভিত্তিহীন গুজব এবং ভ্রান্ত তথ্য প্রচার বন্ধের আহ্বান জানাচ্ছি।”

    অভিনেত্রী স্মরণ করেন সালমান শাহর সঙ্গে তার কাজের স্মৃতি। তিনি বলেন, “সালমান শাহ আমার অত্যন্ত প্রিয় সহ-অভিনেতা। আমরা бірге ১৪টি চলচ্চিত্র üzerinde কাজ করেছি। সে একজন জনপ্রিয়, শক্তিশালী ও প্রতিভাবান অভিনেতা, যার সঙ্গে কাজ করে আমার ক্যারিয়ার রঙিন হয়েছে।”

    সালমান শাহর মৃত্যুর বিষয়ে নিজের অজ্ঞতা প্রকাশ করে শাবনূর বলেন, “আমি জানি না কিভাবে সালমান শাহ মারা গেছেন, তবে তার অকাল মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। আমাদের জুটি অনেকের অনুভূতিতে ঈর্ষার সৃষ্টি করেছিল। তার মৃত্যু 이후 কিছু মানুষ অন্যায়ভাবে আমার ওপর দোষ চাপিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে, যা আমাকে মানসিকভাবে অনেক আঘাত করেছে। তবে আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই— আমি সত্যিই জানি না কিভাবে তিনি মারা গেছেন। আমি শুধু চাই তদন্তের ফলাফল সত্য প্রকাশ হোক এবং দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হোক।”

    সালমান শাহর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে শাবনূর বলেন, “সালমানের মায়ের আহাজারি দেখে আমি অনুভব করতে পারি বাবা-মা হারানোর বেদনার কষ্ট। আমি সালমানের পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাই এবং তার আত্মার শান্তি কামনা করছি।”

    গত ২০ অক্টোবর রাতে, রাজধানীর রমনা থানায় সালমান শাহর মামা আলমগীর কুমকুম একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে, যার মধ্যে প্রধান আসামি তার সাবেক স্ত্রী সামিরা হক। অন্য আসামি হিসেবে রয়েছেন—প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, ডন খ্যাত খলনায়ক, লতিফা হক লুসি, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, বিউটি সেন্টারের রুবি, আবদুস সাত্তার, সাজু ও রিজভী আহমেদ ফরহাদ।

    সালমান শাহ ও শাবনূর প্রথম একসঙ্গে জুটি বেঁধেছিলেন জহিরুল হক পরিচালিত ‘তুমি আমার’ সিনেমায়। মাত্র চার বছরের ক্যারিয়ারে তিনি ২৭টি সিনেমা উপহার দিয়েছেন, যা ব্যবসায়িক সফলতা অর্জন করেছে। তার উল্লেখযোগ্য সিনেমাগুলোর মধ্যে রয়েছে—‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ (১৯৯৩), ‘তুমি আমার’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘সুজন সখী’, ‘বিক্ষোভ’, ‘স্নেহ’, ‘প্রেম যুদ্ধ’ (১৯৯৪), ‘কন্যাদান’, ‘দেনমোহর’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘আঞ্জুমান’, ‘মহামিলন’ ও ‘আশা ভালোবাসা’ (১৯৯৫), পাশাপাশি ‘বিচার হবে’, ‘এই ঘর এই সংসার’, ‘প্রিয়জন’, ‘তোমাকে চাই’, ‘স্বপ্নের পৃথিবী’, ‘সত্যের মৃত্যু নেই’, ‘জীবন সংসার’, ‘মায়ের অধিকার’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’ (১৯৯৬), এবং ‘প্রেমপিয়াসী’, ‘স্বপ্নের নায়ক’, ‘শুধু তুমি’, ‘আনন্দ অশ্রু’ ও ‘বুকের ভিতর আগুন’ (১৯৯৭)।

  • গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি অভিনেতা হাসান মাসুদ

    গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি অভিনেতা হাসান মাসুদ

    জনপ্রিয় অভিনেতা ও সাংবাদিক হাসান মাসুদ গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সোমবার (২৭ অক্টোবর) রাতে তাকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে সূত্রে জানা গেছে, হঠাৎ প্রচণ্ড মাথাব্যথা ও খিঁচুনি দেখা দেওয়ার পর তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। চিকিৎসকদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তারা নিশ্চিত করেন, তিনি ইস্কেমিক স্ট্রোকে আক্রান্ত। পাশাপাশি তার মাইল্ড হার্ট অ্যাটাকও হয়েছে। হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্তী বলেন, হাসান মাসুদ ইস্কেমিক স্ট্রোক করেছেন এবং তার হালকা হার্ট অ্যাটাকও হয়েছে। তিনি বর্তমানে নিউরোলজিস্ট, কার্ডিওলজিস্ট এবং ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটের চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। সাধারণত এই ধরনের রোগীদের ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়, এরপর পরবর্তী চিকিৎসা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দীর্ঘদিন ধরে অভিনয় থেকে দূরে থাকা হাসান মাসুদ সম্প্রতি আলোচনায় আসেন অভিনেত্রী হানিয়া আমিরকে নিয়ে করা মন্তব্যের জন্য। পরে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, এখন আর অভিনয়ে ফিরতে আগ্রহী নন, বরং কোনো স্থায়ী চাকরি খুঁজছেন। তাঁর ভাষ্য, আমি এখন একটা চাকরি খুঁজছি। সেটা যেকোনো ক্ষেত্র—সাংবাদিকতা, প্রশাসন বা অন্য কিছু। আমি হারিয়ে যেতে চাই একেবারে। ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ সেনা বাহিনীতে যোগ দেন হাসান মাসুদ। সাত বছর পর, ১৯৯২ সালে তিনি ক্যাপ্টেন পদ থেকে অবসর নেন। এরপর ক্রীড়া সাংবাদিকতা শুরু করেন এবং ২০০৪ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত বিবিসি বাংলায় কাজ করেন। সাংবাদিকতা ছাড়ার পরে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘ব্যাচেলর’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তার অভিনয় জীবন শুরু হয়। এরপর তিনি ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ সিনেমায় অভিনয় করেন এবং একের পর এক জনপ্রিয় টেলিভিশন নাটকে কাজ করে দর্শকদের মন জয় করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে রয়েছে – হাউসফুল, ট্যাক্সি ড্রাইভার, এফডিসি, বউ, খুনসুটি, গ্র্যাজুয়েট, রঙের দুনিয়া, আমাদের সংসার, গণি সাহেবের শেষ কিছুদিন, বাতাসের ঘর ও প্রভাতী সবুজ সংঘ।