Month: November 2025

  • বিশ্বব্যাংকের রিপোর্ট: দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাওয়ার ঝুঁকিতে বাংলাদেশের ৬ কোটি মানুষ

    বিশ্বব্যাংকের রিপোর্ট: দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাওয়ার ঝুঁকিতে বাংলাদেশের ৬ কোটি মানুষ

    বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় একতৃতীয়াংশ, অর্থাৎ প্রায় ৬ কোটি ২০ লাখ মানুষ, দারিদ্র্যসীমার নিচে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। এই তথ্য প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংকের নতুন একটি প্রতিবেদনে, যা বুধবার প্রকাশিত হয়। তথ্য অনুযায়ী, করোনাভাইরাস মহামারি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অসুস্থতা বা কোনো অপ্রত্যাশিত বিপর্যয় হলে এই মানুষগুলো আবারও দারিদ্র্যক্লিষ্ট জীবনযাত্রায় ফিরতে পারে।

    বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০১০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের দারিদ্র্য উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। সেই সময়ে দুই কোটি ২০ লাখ মানুষ দারিদ্র্য থেকে উত্ত freedewassaqf০ত বর ndপইৃ0Ltেক ে? রבסაბিরেরো: ৯০ লাখ মানুষ অতি দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পেয়েছে। তাদের জীবনমানের উন্নতি হয়েছে, বিদ্যুৎ, শিক্ষা, পয়ঃনিষ্কাশনসহ গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলি সহজে পাওয়া গেছে। তবে, ২০১৬ সাল থেকে দারিদ্র্য কমার গতি ধীর হয়ে এসেছে এবং অর্থনৈতিক বৃদ্ধি যথাযথভাবে সমতাসম্পন্ন হয়নি।

    প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে চরম দারিদ্র্য ১২.২ শতাংশ থেকে কমে ৫.৬ শতাংশে পৌঁছেছে, এবং মাঝারি দারিদ্র্য ৩৭.১ শতাংশ থেকে কমে ১৮.৭ শতাংশে নেমেছে। তবে, ২০১৬ সাল থেকে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে, যার ফলে ধনী ও দরিদ্রদের আয় বৈষম্য বেড়ে গেছে। গ্রামীণ এলাকাগুলো দারিদ্র্য হ্রাসে বেশ গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা দেখিয়েছে, তবে শহরগুলোতে দারিদ্র্য কমানোর হার খুবই ধীর। ২০২২ সালের মধ্যে শহরে বসবাসকারী নাগরিকের প্রায় এক চতুর্থাংশ বাংলাদেশের জনসংখ্যা রয়েছে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদী দারিদ্র্য হ্রাসে অনেকটাই সফলতা এসেছে। তবে, বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি কমে যাওয়ায় শ্রম বাজারের পরিস্থিতি মনোভাবাপন্ন হয়েছে। বিশেষ করে যুবক, নারী এবং ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীর জন্য কাজের সুযোগ কমে এসেছে। দেশের দরিদ্র ও ঝুঁকিপ্রাপ্ত জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাই গুরুত্বপূর্ণ সমাধান বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

    অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য দরিদ্রবান্ধব জলবায়ু সহনশীল নীতি গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞেরা। উৎপাদনশীল খাতে কর্মসংস্থান বাড়ানো, দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য আরও কাজের সুযোগ সৃষ্টি, আধুনিক শিল্পে বিনিয়োগ ও ব্যবসায় সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা, এগুলো হলো মূল কৌশল। এছাড়া, শক্তিশালী রাজস্ব নীতি ও কার্যকরী সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির মাধ্যমে ঝুঁকি মোকাবিলা সম্ভব বলে উল্লেখ করেন তারা।

    বিশ্বব্যাংকের অর্থনৈতিক বিশ্লেষক সার্জিও অলিভিয়েরি বলেন, বাংলাদেশ প্রাকৃতিক বৈষম্য কমিয়েছে, বিশেষ করে পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে। তবে জলবায়ু পরিবর্তন শহর ও গ্রামাঞ্চলের মধ্যে বৈষম্য বাড়িয়ে দিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, উদ্ভাবনী নীতি, যোগাযোগ ও বৈচিত্র্যপূর্ণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষিতে দরিদ্রবান্ধব মূল্য-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশের দারিদ্র্য হ্রাসের গতি নতুন করে ত্বরান্বিত হতে পারে। ফলে, সবাই সমৃদ্ধির অংশীদার হিসেবে এগিয়ে আসতে পারবেন।

  • ব্যাংক কর্মকর্তাদের জন্য নতুন বিদেশ ভ্রমণ নির্দেশনা

    ব্যাংক কর্মকর্তাদের জন্য নতুন বিদেশ ভ্রমণ নির্দেশনা

    বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংক কর্মকর্তাদের জন্য কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে। এ নির্দেশনা অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ব্যাংক-কোম্পানির কর্মকর্তাদের অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কোনো প্রকার বিদেশ ভ্রমণে যেতে নিষেধ করা হলো। এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য হলো নির্বাচনের সময় ব্যাংকিং খাতে কোনও অস্থিরতা বা অসুবিধা সৃষ্টি না হয় তা নিশ্চিত করা। বুধবার (২৬ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি) এ সংক্রান্ত এই নির্দেশনা প্রকাশ করে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে যাতে নির্বাচনের কারণে ব্যাংকিং কার্যক্রমে কোনো বিঘ্ন বা অপ্রয়োজনীয় পরিস্থিতি না তৈরি হয়। নির্দেশনায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, নির্বাচনের সময়ে ব্যাংকিং ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখতে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং অন্যান্য কর্মকর্তাদের দেশের বাইরে আসল প্রয়োজনে বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হবে। এছাড়া, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারা অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এই চ Restrictions আগামীতেই কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন।

  • বাংলাদেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি ছাড়িয়েছে

    বাংলাদেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি ছাড়িয়েছে

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ব্যাংকখাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বছরে আরও বেড়ে গেছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের শেষে এই ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের लगभग ৩৫.৭৩ শতাংশ। এক বছর আগে, অর্থাৎ ডিসেম্বরের শেষে, এই খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা। ফলে মাত্র নয় মাসে খেলাপি ঋণ বেড়ে গেছে প্রায় ২ লাখ ৯৮ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা।

    আজ বুধবার (২৬ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক ও মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাংক থেকে নানা নামে ছড়ানো অর্থগুলো এখন খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আসছে। এছাড়া, আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সমন্বয় করতে গিয়ে দেশে খেলাপি ঋণের সংখ্যা বাড়ছে। এর পাশাপাশি, নবায়ন করা ঋণের অনেকগুলোই আদায় না হওয়ার কারণে পরিস্থিতি আরো গুরুতর হচ্ছে। অব্যবস্থাপনা এবং আড়ালে থাকা অনিয়মের কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অনেক ঋণ খেলাপি হিসেবে তালিকাভুক্ত করছে, যার ফলশ্রুতিতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এই বছরের সেপ্টেম্বরে মোট বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ ছিল ১৮ লাখ ৩ হাজার ৮৪০ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণের সংখ্যা ছিল ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা, যা সমগ্র ঋণের ৩৫.৭৩ শতাংশ। আগের বছর সেপ্টেম্বরে এই সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৮৪ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ, এক বছরে এই খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েছে ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৭১৮ কোটি টাকা।

  • সোনার ভরির দাম দুই লাখ ১০ হাজার টাকার ওপরে

    সোনার ভরির দাম দুই লাখ ১০ হাজার টাকার ওপরে

    দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। আজ শনিবার (২৯ নভেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রতি ভরিতে মূল্যবৃদ্ধির পরিমাণ সর্বোচ্চ দুই হাজার ৪০৩ টাকা পর্যন্ত হয়েছে। এর ফলে, উচ্চ মানের (২২ ক্যারেট) সোনার ভরির দাম এখন দুই লাখ ১০ হাজার টাকার বেশি। নতুন মূল্য আগামী রোববার (৩০ নভেম্বর) থেকে কার্যকর হবে।

    সংগঠনটির দাবি, এই মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম মূল কারণ হলো, আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম বেড়ে যাওয়া। দেশের বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম ইতিমধ্যে ৪ হাজার ২০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা বেশ উদ্বেগের संकेत।

    নতুন দাম অনুযায়ী, সবচেয়ে মানসম্পন্ন ২২ ক্যারেটের এক ভরির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১০ হাজার ৫৭০ টাকা, ২১ ক্যারেটের জন্য ২ লাখ ১ হাজার ৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৭২ হাজার ২৮৯ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম হচ্ছে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৩২৭ টাকা।

    এছাড়া, রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ২২ ক্যারেটের রুপা এক ভরি দাম ৪ হাজার ২৪৬ টাকা, ২১ ক্যারেটের জন্য ৪ হাজার ৪০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৩ হাজার ৪৭৬ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ২ হাজার ৬০১ টাকা।

    প্রসঙ্গত, এর আগের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল ২০ নভেম্বর। সেই সময়ে ভরি প্রতি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৩৫৩ টাকা কমে, ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছিল দুই লাখ ৮ হাজার ১৬৭ টাকায়।

    অন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম এখন দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ আগামী মাসে সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা থাকায়, শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) স্বর্ণ ও রুপার দামের উত্থান হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্পট গোল্ডের মূল্য ১.৩ শতাংশ বাড়ে এবং ১ আউন্সে দাঁড়ায় ৪,২১০.৯৪ ডলার, যা ১৩ নভেম্বরের পরে সর্বোচ্চ। এ মাসে ধাতুটির মূল্য মোট ৫.২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা টানা চতুর্থ মাসের মতো ঊর্ধ্বমুখী ধারা।

    ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য মার্কিন ফিউচার সোনার দাম ১.৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্সে ৪,২৫৪.৯ ডলার স্থির হয়েছে।

  • মোট ঋণের এক তৃতীয়াংশ খেলাপি: গভর্নর বললেন, সমাধানে ৫-১০ বছর সময় লাগবে

    মোট ঋণের এক তৃতীয়াংশ খেলাপি: গভর্নর বললেন, সমাধানে ৫-১০ বছর সময় লাগবে

    বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর মন্তব্য করেছেন যে ব্যাংকিং খাতের দীর্ঘদিন ধরে থাকা খেলাপি ঋণের সংকট কাটিয়ে উঠতে অন্তত ৫ থেকে ১০ বছর লাগবে। তিনি বলেন, খেলাপি ঋণ কোন ছোটোখাটো সমস্যা নয়। বর্তমানে দেশের ব্যাংক খাতের মোট ঋণের এক-তৃতীয়াংশই খেলাপি হয়ে গেছে। বাকি দুই-তৃতীয়াংশের ওপর নির্ভর করে ব্যাংকগুলো চালাতে হচ্ছে, যা পুরো আর্থিক খাতের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

    আজ শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত চতুর্থ ‘বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্মেলন-২০২৫’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে এসব কথা বলেন তিনি। এই সম্মেলনের শিরোনাম ছিল ‘অর্থনীতির ভবিষ্যৎ পথরেখা ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার’, যা আয়োজন করেছে দৈনিক বণিক বার্তা। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা পরিষদের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক এ কে এনামুল হক, হা-মীম গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ. কে. আজাদ, বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসএমএ) সভাপতি ও জিপিএইচ গ্রুপের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম, এবং সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মাসরুর আরেফিন।

    গভর্নর উল্লেখ করেন, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি দ্রুত হচ্ছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তিকে যখন নতুন তথ্য ও নতুন ক্লাসিফিকেশন নিয়ম কার্যকর হয়, তখনই দেখা যায় খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়ছে। কিছু বছর আগে ধারণা ছিল, ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার ২৫ শতাংশের মতো হতে পারে; তখন সরকারের ধারণা ছিল এটি ৮ শতাংশ। কিন্তু বর্তমানে তা ইতিমধ্যে ৩৫ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে।

    গভর্নর আরও বলেন, এই পরিস্থিতি রাতারাতি সমাধান সম্ভব নয়। দেশের ব্যাংক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে আরও অনেকদিন এই সমস্যার সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে। ধাপে ধাপে ব্যাবস্থা গ্রহণ করে আগালেই এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ খোলা যাবে। তিনি আশার কথা জানিয়ে বলেন, দেশের ডলার পর্যাপ্ত রয়েছে, এবং এ বছর রমজানে ঋণপত্র খোলা ও পণ্য আমদানি নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই। গত বছরের তুলনায় এই সময়ের মধ্যে ঋণপত্র খোলা ২০ থেকে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

    বিআইডিএস মহাপরিচালক এ কে এনামুল হক বলেন, এখনকার অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা অনেকটাই ‘চোর ধরা’ মনোভাবের মতো। এতে ব্যবসা-বাণিজ্যে আস্থার সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি指出 করেন, দেশে অনেক নিয়ন্ত্রক সংস্থা থাকলেও তাদের পরিচালনা ও দায়বদ্ধতার কাঠামো দুর্বল। দেশের কর ব্যবস্থাও এখন যেন জমিদারি শাসনের মতো আচরণ করছে, যেখানে কর সংগ্রহের লক্ষ্যটাই যেন শুধু রাজস্ব আদায়। তিনি আরও জানান, বর্তমানে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি উদ্বেগজনক পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। অন্যান্য বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যাংকের কঠোর মুদ্রানীতির কারণে সুদের হার বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি খুব কম, তাই শিল্পায়ন ধিরেগামীতে চলেছে।

    জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ও অন্যান্য মাশুল দেওয়ার পাশাপাশি, অগ্রীম আয়করও আরোপ করা হয়েছে। সম্প্রতি টার্নওভার করের হার বাড়িয়ে ১ শতাংশ করা হয়েছে, যা বড় কোম্পানিগুলোর জন্যও burdensome হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন উল্লেখ করেন, ব্যাংকগুলোতে শাসন ও শৃঙ্খলা ফিরছে। আগে অনুমোদনপ্রক্রিয়া সহজ ছিল, এখন নিয়ম অনুযায়ী ঋণের অনুমোদন দেওয়া হয়। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, নির্বাচনের পরে বিনিয়োগ পরিস্থিতি উন্নত হবে এবং দেশের অর্থনীতি ধীরে ধীরে আরও শক্তিশালী হবে।

  • খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর উক্তি

    খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর উক্তি

    বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা কামনায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শেহবাজ শরীফ একটি উষ্ণ ও আন্তরিক চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে তিনি খালেদা জিয়ার অপ্রত্যাশিত অসুস্থতার কথা জানতে পেরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পাকিস্তানের এই রাজনীতিবিদ উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের জনগণ, সরকার এবং ব্যক্তিগতভাবে তার পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার দ্রুত ও সম্পূর্ণ সুস্থতার জন্য আন্তরিক প্রার্থনা ও শুভকামনা পাঠাচ্ছেন।

  • হাসপাতালে ভিড় না করে খালেদা জিয়ার জন্য দোয়ার আহবান বিএনপি’র

    হাসপাতালে ভিড় না করে খালেদা জিয়ার জন্য দোয়ার আহবান বিএনপি’র

    বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন বিএনপি’র জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি জানান, হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে অন্যান্য রোগীদের এবং খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। রিজভী বলেন, অনেকের মধ্যে আবেগে বিভোর হয়ে দ্রুত দেখতে স্বেচ্ছায় এই ভিড় করছে, যা অন্য রোগীদের জন্য সমস্যার সৃষ্টি করছে। তিনি সবাইকে অনুরোধ করেছেন, যেন তারা নিজ নিজ অবস্থান থেকে খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন এবং হাসপাতালের আশপাশে ভিড় কমিয়ে দেন। শনিবার এক জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে রিজভী এই আহবান জানান। এ ছাড়াও জানান, খালেদা জিয়ার পরিবার ও বিএনপি’র পক্ষ থেকেও এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে বেশি ভিড় না হয় আর চিকিৎসা কার্যক্রম শান্তিপূর্ণভাবে চলতে পারে।

  • দেশে ফিরতে তারেক রহমানের বাধা কোথায়?

    দেশে ফিরতে তারেক রহমানের বাধা কোথায়?

    দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফিরবেন বলে অনেক দিন ধরেই গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে তারেক রহমানের। গত বছর ৫ আগস্ট হাসিনা সরকার পতনের পর থেকেই এই খবর প্রবলভাবে শোনা যাচ্ছিল। বিএনপির বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা একাধিকবার বলছেন, তিনি শিগগিরই দেশের মাটিতে ফিরে আসবেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে।

    তবে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের খুব কাছাকাছি আসার সঙ্গে সঙ্গে তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত খবর পাওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে, তার মায়ের অবস্থা খুবই সংকটজনক—বেগম খালেদা জিয়া পঞ্চম দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

    এর মাঝেও তারেক রহমান ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেছেন, ‘সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ অবারিত ও একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়,’ যা বেশ আলোচনার ঝড় তুলেছে। কেন তিনি দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না এবং এই সিদ্ধান্তের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে, তা নিয়েই উঠছে নানা প্রশ্ন।

    শনিবার (৩০ নভেম্বর) দিনভর রাজনৈতিক জল্পনা-কল্পনার মধ্যে বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জোর দিয়ে বলেছেন, ‘তারেক রহমানের ফেসবুক স্ট্যাটাসেই সব ব্যাখ্যা রয়েছে। এ বিষয়ে আর কিছু বলার অপেক্ষা রাখে না।’ পাশাপাশি, তারেক রহমানের ফেসবুক স্ট্যাটাসের কয়েক ঘণ্টা পর প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ফেসবুকে জানিয়ে দেন, ‘এ বিষয়ে সরকারের কোনো বাধা বা আপত্তি নেই।’

    অতীতে, অক্টোবরের প্রথমদিকে বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, ‘দ্রুতই দেশে ফিরে নির্বাচনে অংশ নেবেন’। তবে, নভেম্বরের শেষের খুব কাছাকাছি আসার আগে তিনি নিজেই জানান, এই সিদ্ধান্তের নিয়ন্ত্রণ তার হাতে নয়।

    বিএনপির একজন স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, ‘দলের অনেক বিষয়ের সাথে যুক্ত হয়ে তার দেশে ফেরার বিলম্ব হচ্ছে।’ তবে, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর তিনি অবশ্যই দেশে ফিরবেন এমন আভাসও রয়েছে নেতাদের বক্তব্যে।

    প্রচলিত ইতিহাস অনুযায়ী, বাংলাদেশে ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দুর্নীতির অভিযোগে তিনি জেল খেটেছিলেন। ২০০৮ সালে মুক্তি পেয়ে লন্ডনে চলে যান। বিএনপির একজন প্রবীণ নেতা বলেছেন, তারেক রহমানের দেশে ফিরতে নানা ধরনের রাজনৈতিক এবং আইনি বাধা রয়েছে, যার মধ্যে অনেকটাই influence করে থাকতে পারে কিছু প্রভাবশালী দেশের আপত্তি।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ মনে করেন, তারেক রহমানের এই ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে বোঝা যায়, মূলত দেশের পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক চাপের কারণে তিনি সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। তিনি বলেন, ‘উইকিলিকসের ফাঁস হওয়া প্রতিবেদনে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তির বিষয়টি তার দেশে ফেরার পথে বড় বাধা। বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বড়ই নির্ভর করছে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের নীতির ওপর।’

    অন্যদিকে, বিবিসি বাংলার এক সাক্ষাৎকারে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় মন্তব্য করেন, ‘বাংলাদেশে বড় দুটি দলের নেতৃত্ব পরিবর্তনের জন্য একটি অগণতান্ত্রিক চক্রান্ত চলমান।’ এই মন্তব্যের পাশাপাশি তারেক রহমানের দেশে ফেরার গুঞ্জন এবং ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’ সম্পর্কিত আলোচনা আবারও জোরদার হয়েছে।

    বিরোধী দুই পরিবারের শাসনের উদ্দেশ্যে, অনেকের কাছে ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’ পরিচিত, যেখানে শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে সরানোর পরিকল্পনা ছিল। তবে, মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, এই অঙ্গীকার বা পরিকল্পনা এখনো শেষ হয়নি, আর তারেক রহমানের দেশে ফেরার অনিশ্চয়তা কি ‘মাইনাস ফোর’ তে গড়াবে, সেটাই এখন সময়ই বলবে।

    অন্যদিকে, কিছু নেতা ইঙ্গিত দিয়েছেন, নির্বাচনের তফসিল কার্যকর হলে কোনও পরিস্থিতিতেই তিনি দেশে ফিরে আসবেন এবং দলের নেতৃত্ব হবেন। বেগম খালেদা জিয়া অসুস্থ থাকলে, বিএনপি নির্বাচনে জিতলে, তারেক রহমানই প্রধানমন্ত্রী হবেন—এ ধারণাও দুর্বারভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

  • ক্ষমতায় গেলে আন্দোলন প্রয়োজন হবে না: জামায়াত আমির

    ক্ষমতায় গেলে আন্দোলন প্রয়োজন হবে না: জামায়াত আমির

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যদি ক্ষমতায় আসা সম্ভব হয়, তাহলে আর আন্দোলনের প্রয়োজন পড়বে না। বরং, সরকার সরাসরি নাগরিকদের দোরগোড়ায় প্রয়োজনীয় সেবা পৌঁছে দেবে। এই মন্তব্য তিনি রোববার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে করেন, যেখানে ‘প্রান্তিক পর্যায়ে স্বাভাবিক প্রসব সেবা প্রদানে কমিউনিটি হেলথকেয়ার প্রোভাইডারদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা হয়।

    জামায়াতের আমির বলেন, অতীতের সরকারগুলো শুধু আশ্বাস দিয়ে গেছে, কিন্তু বাস্তবে কিছুই করেছ না। তিনি আরও যোগ করেন, আমরা এক ভাষায় কথা বলি, এক জাতির অংশ; আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশ উন্নতির দিকে এগিয়ে যাবে।

    তিনি দেশের মানুষের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে বলেন, খারাপ রাজনীতিবিদদের কারণে অনেক সময় উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়। তবে, তিনি আশ্বাস দেন, আমরা মূল ধারণা ধরে দেশের উন্নয়নে টেকসই উদ্যোগ নেবো।

    শিক্ষাব্যবস্থার সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশে মানসম্পন্ন শিক্ষার অভাব রয়েছে। তিনি জানান, সন্তানের পড়াশোনার বিষয়টি মা-বাবাদের নয়, বরং শিক্ষকদের কাছে যাওয়া উচিত। আমাদের লক্ষ্য, প্রতিটি শিশুকে সম্পদে রূপান্তর করা।

    বিচারব্যবস্থার উপর মত প্রকাশ করে তিনি বলেন, বর্তমানে ন্যায়বিচার পেতে অনেক সময় টাকা দিতে হয়, যা বদলে যেতে হবে।

    আমির আরও বলেন, ‘সরকারে গেলে, কোনো নাগরিককেই তার দাবির জন্য দফতর দফতরে ঘুরতে হবে না। আন্দোলন ছাড়াই সরকার সরাসরি সেবা দিতে সক্ষম হবে।’ এছাড়াও, তিনি জানান, জামায়াতের উদ্যোগে বর্তমানে ১০০টি ক্লিনিকে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হচ্ছে, যা দেশের অগ্রগামী উদ্যোগের একটি।

  • বিএনপি বিজয় মশাল রোড শো ও মহাসমাবেশের ঘোষণা

    বিএনপি বিজয় মশাল রোড শো ও মহাসমাবেশের ঘোষণা

    দেশব্যাপী সাড়ম্বরে গৌরবের ৫৫তম মহান বিজয় দিবস উদযাপন করতে নানা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। এ উপলক্ষে তারা ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় একটি বিশাল মহাসমাবেশের পরিকল্পনা করেছে। শনিবার বিকেলে গুলশানে চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই তথ্য জানান।

    মির্জা ফখরুল বলেন, দেশ ও জনগণের জন্য বিজয় অর্জনের এই অনন্দময় দিবসটিকে আরও রঙিন ও অর্থবহ করে তোলার জন্য বিএনপি এবারও সারাদেশে নানা ধরনের কার্যক্রম চালাবে। এর মধ্যে রয়েছে আলোচনা সভা, বিজয় মশাল রোড শো এবং মাসব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি। এর অংশ হিসেবে, ১ ডিসেম্বর থেকে শুরু করে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ‘বিজয়ের মাসে বিজয় মশাল রোড শো’ আয়োজন করা হবে৷

    তিনি আরো বলেন, ২০২৫ সালের মহান বিজয় দিবসের আগত এই মুহূর্তে আমি সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। এই দিবস আমাদের জন্য গৌরবের মুহূর্ত, যা আমাদের পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্তির স্বপ্নের বাস্তবায়ন। দীর্ঘ দেড় দশক ধরে জনগণ গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত থাকলেও, স্বাধীনতার জন্য শহীদদের আত্মত্যাগের ফলে ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে। এখন আমাদের লক্ষ্য মুক্তিযুদ্ধের স্বক্ষমতা ও ইতিহাসকে স্মরণ করে নতুন আরেকটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়।

    বিজয় দিবসের শুরু থেকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান এই কালুর ঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। এই ঐতিহাসিক স্থানকে কেন্দ্র করে বিএনপি এবারের বিজয় মাসের কর্মসূচি শুরু করবে। ১ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের কালুর ঘাট থেকে বিজয় মশাল যাত্রা শুরু হবে, যা চট্টগ্রামের বিপ্লব উদ্যানে সমাপ্ত হবে। ঐতিহাসিক এই মশাল বহন করবেন এক মুক্তিযোদ্ধা, যার মধ্যে একজন ১৯৭১ সালের মুক্তিযোদ্ধা ও অন্যজন ২০১৪ সালে যোদ্ধা। এই মশাল র‌্যালির মাধ্যমে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি রক্ষার পাশাপাশি বর্তমান পাকিস্তানবিরোধী সংগ্রামের ধারাবাহিকতাও তুলে ধরা হবে।

    পরবর্তী পর্যায়ে এই বিজয় মশাল রোড শো কুমিল্লা, সিলেট, ময়মনসিংহ, বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও ফরিদপুরে অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি অঞ্চলে একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং একজন জুলাই যোদ্ধা এই মশাল বহন করবেন। এছাড়া, রোড শো চলাকালে ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শন, জাতীয় সঙ্গীত, মুক্তিযুদ্ধের গান ও দেশাত্মবোধক গান পরিবেশিত হবে। নেতাদের বক্তব্য, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী হবে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে বিএনপি তাদের ৩১ দফা কর্মসূচি তুলে ধরবে, যার মূলテーマ হলো ‘সবার আগে বাংলাদেশ’।

    সর্বশেষ, এই বিজয় মশাল রোড শো ঢাকায় এসে শেষ হবে ১৬ ডিসেম্বর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে বিশাল মহাসমাবেশের মাধ্যমে। এর পাশাপাশি বিজয় মাস জুড়ে আরও নানা কর্মসূচি পালন হবে।