Month: November 2025

  • যুদ্ধবিরতির মধ্যেই গাজায় বড় হামলা ইসরায়েলের, নিহত ২৮

    যুদ্ধবিরতির মধ্যেই গাজায় বড় হামলা ইসরায়েলের, নিহত ২৮

    চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেও অব্যাহত থাকলো ইসরায়েলের গাজা অবরুদ্ধ অঞ্চলে ব্যাপক হামলা। এই হামলায় এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ২৮ জন নিহত হয়েছে এবং আহত হয়েছে অন্তত ৭৭ জন। ঘটনাটি ঘটেছে গাজার দক্ষিণের শহর খান ইউনিসের আল-মাওয়াসি এলাকার তিনটি লক্ষ্যে, যেখানে গাজা শহরের পূর্বাঞ্চলীয় এলাকা শুজাইয়া এবং জয়তুনেও ইসরায়েলের বিমান হামলা চালানো হয়। আলজাজিরার গাজা প্রতিনিধি হানি মাহমুদ জানিয়েছেন, এই হামলায় এক পরিবারের বাবা, মা এবং তিন সন্তানের মতো পরিবারের সব সদস্যের প্রাণ গেছে। এই পরিস্থিতিতে গাজার সাধারণ মানুষ ভয়ঙ্কর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন, কারণ এখনও যুদ্ধ পরিস্থিতি অব্যাহত রয়েছে এবং প্রতিদিনই ফিলিস্তিনিরা हिंস্নতায় মারা যাচ্ছেন।

    ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বুধবার যেসব লক্ষ্যবস্তুতে তারা হামলা চালিয়েছে, সেগুলো হামাসের সম্পৃক্ত ছিল। তারা দাবি করে, এই হামলার মাধ্যমে তারা কোনো ধরনের যুদ্ধ বিরতির লঙ্ঘন করেনি বরং চলমান যুদ্ধবিরতির শর্তের মধ্যে থেকেই এই আঘাত প্রদান করেছেন। আইডিএফের দাবি, গাজার খান ইউনিস ও গাজা শহরের অন্যান্য লক্ষ্যবস্তুতে মোট পাঁচটি হামলা চালানো হয়েছে, এবং ভবিষ্যতেও এই ধরনের অভিযান চালাবে তারা। তারা বলেছে, ইসরায়েলের জন্য হুমকি হয়ে উঠা যে কোনও অস্ত্র বা লক্ষ্য ধ্বংস করা তাদের দায়িত্ব।

    অন্যদিকে, হামাস এই হামলার ন্যায্যতা অভিযোগ করে বলে, এই হামলা যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন এবং এটি গভীরভাবে উদ্বেগজনক। হামাসের ভাষ্য, ইসরায়েলের এই পদক্ষেপ গাজায় গণহত্যা চালানোর চেষ্টার অংশ, এবং প্রধানমন্ত্রী নাথানিয়াহুস গাজায় নতুন করে হিংসা সৃষ্টি করতে চাইছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপগুলোতে গাজার পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়ে উঠতে পারে।

    বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১০ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী, গাজায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি শুরু হয়। তবে, ৪০ দিনে এই সময়ের মধ্যে ইসরায়েলি বাহিনী মোট ৩৯৩ বার এই বিরতি ভঙ্গ করেছে। ফলে, পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য অবনতি ঘটছে, যা পুরো অঞ্চলের জন্য উদ্বেগজনক।

  • ট্রাম্পের দাবি, ভারত-পাকিস্তানকে ৩৫০ শতাংশ শুল্কের হুমকি দিয়েছিলাম

    ট্রাম্পের দাবি, ভারত-পাকিস্তানকে ৩৫০ শতাংশ শুল্কের হুমকি দিয়েছিলাম

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছেন যে, তিনি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্ভাব্য পারমাণবিক যুদ্ধ বন্ধ করতে খুব কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। তিনি জানান, গতকাল ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত ইউএস-সৌদি ইনভেস্টমেন্ট ফোরামের সম্মেলনে বক্তৃতা দিতে গিয়ে এই তথ্য প্রকাশ করেন।

    ট্রাম্প বলেছেন, যখন তিনি জানতে পারেন যে ভারত ও পাকিস্তান পরমাণু যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নেয়ার দিকে যাচ্ছিল, তখন তিনি তাদের বলেন, ‘ঠিক আছে, আপনি যদি যুদ্ধ চালিয়ে যান, তবে আমি আপনার ওপর ৩৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করব। আপনারা একে অপরের উপর পরমাণু বোমা ছুড়তে পারবেন, মানুষের জীবন হারাবেন, আর সেই ধুলোবালি লস অ্যাঞ্জেলেস পর্যন্ত পৌঁছে যাবে— এটা অবশ্যই উচিত নয়।’

    তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি যখন এই হুমকি দিলাম, তখন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ আমাকে ফোন করে জানিয়েছেন যে, পাকিস্তান সংঘাত বন্ধ করতে রাজি। এরপর ভারতের প্রধানমন্ত্রীও আমাকে বলে যে, তারা যুদ্ধ বন্ধ করতে প্রস্তুত।’

    অভিনন্দনজনকভাবে, এই হুমকি দেওয়ার কিছুক্ষণ بعد পাকিস্তানের পক্ষ থেকে শান্তি ফেরানোর জন্য তারা আলোচনা করে এবং পাকিস্তানের সাথে সংলাপে বসে। পাকিস্তান প্রথমে ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে এক ছোট সেনা অভিযান চালায়, যেখানে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যালয় ও ব্যাটেলিয়নের ওপর হামলা হয়, যার ফলে পাকিস্তানের ১৩ সেনাসদস্যসহ মোট ৫১ জন নিহত ও ৭৮ জন আহত হন। এরপর পাকিস্তান পাল্টা ‘বুনিয়ান উন মারসুস’ নামে এক অভিযান পরিচালনা করে। এর ফলে ভারতে ৫ সেনা ও ১৬ জন বেসামরিক নিহত হন। এই পরিস্থিতির মধ্যে ১২ মে ভারতের ও পাকিস্তানের সামরিক কর্মকর্তারা টেলিফোনের মাধ্যমে বৈঠক করে, এবং যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন। সেই সময় থেকে এখনও দক্ষিণ এশিয়ার দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশ যুদ্ধবিরতিতে রয়েছে।

    এখনো পর্যন্ত, ট্রাম্প আবার দাবি করেছেন যে, তিনি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার সম্ভাব্য পারমাণবিক যুদ্ধ বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। পাকিস্তানের সরকার এ দাবির সত্যতা স্বীকার করেছে, তবে ভারত এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা মন্তব্য প্রদান করেনি।

  • বিহারে রেকর্ড গড়ে দশমবারের মতো মুখ্যমন্ত্রীর শপথ নিলেন নীতিশ কুমার

    বিহারে রেকর্ড গড়ে দশমবারের মতো মুখ্যমন্ত্রীর শপথ নিলেন নীতিশ কুমার

    ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন জনতা দল ইউনাইটেড (জেডিইউ)-এর প্রেসিডেন্ট নীতিশ কুমার। এর মাধ্যমে তিনি দশমবারের মতো রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন, যা ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অদ্বিতীয় রেকর্ড। এর আগে কোনো ব্যক্তিই এতবার মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেননি।

    প্রত্যাশা করা হচ্ছে, যদি ভবিষ্যতে বিহারের সরকার পতনের কোনো ঘটনা না ঘটে, এবং নীতিশ কুমারের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন তার ৫ বছরের মেয়াদ সম্পন্ন করে, তবে তিনি দেশের সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের জন্য মুখ্যমন্ত্রী থাকার রেকর্ডের মালিক হবেন।

    বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) বিহারের রাজধানী পাটনার ঐতিহাসিক গান্ধী ময়দানে এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ৩০ জন মন্ত্রীসহ মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার শপথ গ্রহণ করেন। এই মন্ত্রীদের মধ্যে ১৬ জনই বিজেপির পক্ষ থেকে, এবং বাকিরা জেডিইউ-সহ অন্যান্য দল থেকে। নীতিশ কুমার নিজে জোটের নেতৃত্বদানকারী ভূমিকা পালন করেন।

    এই সরকারের মোট সদস্য সংখ্যা ৩০ জন। এর মধ্যে ১৬ জনই বিজেপির পদধারী, আর জেডিইউ পেয়েছে ১৪টি মন্ত্রণালয়।

    বিহারের মোট আসন সংখ্যা ২৪৩। গত ৬ ও ১১ নভেম্বর দু’দফায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ভোটের ফলাফলের মাধ্যমে জানা যায়, মোট ৬৭ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। নির্বাচনের ফলাফল ১৪ নভেম্বর প্রকাশিত হয়।

    বিহারের নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল বিজেপি-জেডিইউ জোট এবং কংগ্রেস-আরজেডি নেতৃত্বাধীন মহাগাঠবন্ধনের মধ্যে। ফলাফলে দেখা গেল, ২৪২ আসনে জয় লাভ করেছে এনডিএ জোটের প্রার্থীরা, যেখানে বিরোধী জোট জয়ী হয়েছে ৩৫টি আসনে।

    অর্থাৎ, বিজেপি জয় পেয়েছে ৮৯টি আসনে এবং জেডিইউ ৮৫টি। অন্য অংশীদাররা হলেন, জনশক্তি পার্টি (চিরাগ পাসওয়ানের নেতৃত্বে) জিতেছে ১৯টি আসনে, এবং আওয়াম মোর্চা পার্টি ৫টি।

    একই সময়ে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গান্ধী ময়দানে এই শপথের অনুষ্ঠানে। এছাড়া, ভারতের বিজেপি শাসিত বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং অন্ধ্রের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডুও এই অনুষ্টানে উপস্থিত ছিলেন।

    সূত্র: এনডিটিভি

  • নেপালে আবারো জেন জি আন্দোলন ও বিক্ষোভ, বন্দিঃ কারফিউ জারি

    নেপালে আবারো জেন জি আন্দোলন ও বিক্ষোভ, বন্দিঃ কারফিউ জারি

    সেপ্টেম্বর মাসে প্রাণঘাতী ‘জেন জেড’ আন্দোলনের কারণে ক্ষমতাচ্যুত অন্তর্বর্তী সরকারপন্থীদের বিরুদ্ধে তরুণ বিক্ষোভকারীদের নতুন উদ্যোগে দেশটিতে অস্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পায়। এরই ফলশ্রুতিতে নেপালের কিছু এলাকায় গ্রেফতার ও কারফিউ জারি করা হয়েছে।

    বিশেষ করে বারা জেলায় গণজমায়েত নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে জেন জেড সদস্যদের সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির দল কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল–ইউনিফায়েড মার্কসিস্ট–লেনিনিস্ট (সিপিএন-ইউএমএল) সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। জেলার প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য বৃহস্পতিবার রাত ৮টা পর্যন্ত কঠোর আরোপ করা হয়েছে।

    বুধবার পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, যখন বারা জেলার সিমারা এলাকায় তরুণ বিক্ষোভকারীরা এবং সিপিএন-ইউএমএল কর্মীরা আলাদাভাবে মিছিল বের করে। অল্প কিছু সময়ের মধ্যে তাদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়, যা বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকায়ও ছড়িয়ে পড়ে। এরপর পুলিশ প্রশাসন কারফিউ জারি করে।

    প্রশাসনের দাবি, ‘এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে… কেউ গুরুতর আহত হয়নি।’ দেশটির পুলিশের মুখপাত্র আবি নারায়ণ কাফলে এএফপিকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান সুশীলা কার্কি শান্তি বজায় রাখতে সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা এড়ানোর জন্য সবাইকে অনুরোধ করেছেন। তিনি আরও বলেন, ২০২৬ সালের ৫ মার্চের আগ পর্যন্ত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী ও বিশ্বাসযোগ্য রাখতে হবে।

    বুধবার তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষা করতে স্বরাষ্ট্র ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।’

    তিনি আরও বলেন, ‘সব রাজনৈতিক নেতাদের নিরাপদে চলাচল নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য এবং সামনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের জন্য একটি শান্ত ও নিরপেক্ষ পরিবেশ স্থাপন করা গুরুত্বপূর্ণ।’

    এছাড়াও, তিনি ১০০টির বেশি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমরা চাই এই দেশ নতুন প্রজন্মের হাতে তুলে দিতে এবং দূরদৃষ্টি সম্পন্ন মানুষ দ্বারা পরিচালিত হোক।’

  • পাকিস্তানের অভিযান, ২৩ জঙ্গি হত্যা: ভারতের সমর্থন রয়েছে অভিযোগ

    পাকিস্তানের অভিযান, ২৩ জঙ্গি হত্যা: ভারতের সমর্থন রয়েছে অভিযোগ

    পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী আজ বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) দুটি লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান চালিয়ে আফগানিস্তানের সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় ২৩ জন সন্দেহভাজন জঙ্গিকে হত্যা করেছে। এই খবরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এক বিবৃতি জানিয়েছে যে, এই অভিযানগুলো আফগানিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার কুররাম জেলায় পরিচালিত হয়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই এলাকার জঙ্গি তৎপরতা ২০২১ সালে তালেবান আফগানিস্তানে ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করার পর থেকে বেড়ে গেছে।

    সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিহতরা পাকিস্তানি তালেবান (টিটিপি) বা এর সহায়ক গোষ্ঠীর সদস্য এবং তাদের পেছনে ভারতের সমর্থন রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। যদিও কাঠগড়ায় ওঠা এই অভিযোগগুলো কাঠামোগতভাবে অস্বীকার করেছে কাবুল ও দিল্লি। পাকিস্তানের সেনাবাহিনী বর্ণনা করেছে, এই জঙ্গিদের মধ্যে খাওয়ারিজ গ্রুপ, এবং অন্যান্য যারা আফগানিস্তান ও ভারতের সমর্থনে পরিচালিত, তারা এই সব অভিযান চলাকালে ধরা পড়েনি।

    অভিযানগুলো ২০২১ সালের পর থেকে বিশেষত বাড়তে থাকা জঙ্গি তৎপরতা মোকাবেলায় পরিচালিত হয়েছে। পাকিস্তান মিডিয়া জানিয়েছে, দেশটি বিদেশি পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত সন্ত্রাসবাদ নির্মূলের লক্ষ্যে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে। এই অভিযানগুলো আফগানিস্তান সীমান্তের পাশে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ দমন করার জন্য গুরুত্ব পাচ্ছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।

  • নতুন বাংলাদেশ গড়তে পুরনো জরাজীর্ণ ব্যবস্থার পরিবর্তনের অঙ্গীকার বিএনপি

    নতুন বাংলাদেশ গড়তে পুরনো জরাজীর্ণ ব্যবস্থার পরিবর্তনের অঙ্গীকার বিএনপি

    বিএনপি’র নির্বাহী কমিটির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন, ‘যদি অনভিজ্ঞ দল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেয়, তবে বাংলাদেশ একটি মক্কেল রাষ্ট্রে পরিণত হবে।’ তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার রূপসা উপজেলায় বিভিন্ন কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে এসব কথা বলেন। সকালেই রূপসা আল আকসা মাদ্রাসায় ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে তিনি ‘একটি বাড়ি একটি গাছ’ প্রকল্পের অঙ্গীকার হিসেবে বৃক্ষরোপণ করেন। এরপর তিনি সামছুর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বৃক্ষ রোপণ করেন। বিকালে জাবুসায় মহিলা দলের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় ও নির্বাচনী সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন হেলাল। তিনি বলেন, ‘প্রিয় মানুষেরা, আপনারা ঘরে ঘরে গিয়ে আমার সালাম পৌঁছে দেবেন। আমি হয়তো সবার বাড়িতে পৌঁছাতে পারবো না, তাই আমি চাই দলের সকল নেতা-কর্মী তা করেন।’ তিনি অভিযোগ করেন, ‘গত ১৭ বছরে মানুষ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেনি। একটি দল সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে দেশ থেকে পালিয়ে গেছে, মানুষ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। আমরা চারবার দেশ পরিচালনা করেছি, আমাদের অভিজ্ঞতা রয়েছে।’ এছাড়া তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘আমরা পুরনো জরাজীর্ণ ব্যবস্থা বিনাশ করে নতুন বাংলাদেশ গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিএনপি সরকার গঠনে যদি সুযোগ হয়, তবে এক কোটি বেকারকে কর্মসংস্থান, মাতাদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালু করবে। এসব কার্ডের মালিকানা পরিবারের মূল মহিলাদের হাতে থাকবে। দেশের মানুষের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “এখন দেশে নির্বাচন অমেজ বিরাজ করছে। মানুষ ভোট দানে উৎসাহী। আগে কখনো এমন উৎসাহ দেখিনি।” ইউনুস সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, “নির্বাচনী কর্মকর্তাকে রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে হবে। বিএনপি বিশ্বাস করে, ইউনুস সরকার একটি ঐতিহাসিক নির্বাচন উপহার দিতে পারে; তবে যদি ব্যর্থ হয়, জনগণ ক্ষমা করবে না।” অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি’র আহবায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু, যুগ্ম-আহবায়ক খান জুলফিকার আলী জুলু, মোল্লা খায়রুল ইসলাম, শেখ আব্দুর রশিদ, আনিসুর রহমান, মোল্লা রিয়াজুল ইসলাম, কামরান হাসান, উপজেলা বিএনপি’র নেতা মোল্লা সাইফুর রহমান সাইফ, বিকাশ মিত্র, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আতাউর রহমান রনু, আবু সাঈদ, মহিলা নেত্রী শাহানাজ, মনিরা, মর্জিনা সহ অন্যান্যরা। এর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন হাবিবুর রহমান বেলাল, আবুল কাশেম, রেজাউল ইসলাম রেজা, মহিউদ্দিন মিন্টু, তারেক, নয়ন মোড়ল, শফিকুল ইসলাম বাচ্চু, মোশারেফ শিকদার, রুবেল মীর ও আসাদুল ইসলাম বিপ্লব প্রমুখ।

  • দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে ইসলামী আইন প্রতিষ্ঠা করুন: পরওয়ার

    দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে ইসলামী আইন প্রতিষ্ঠা করুন: পরওয়ার

    জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, দেশের শান্তি ও সুখী জীবন নিশ্চিত করতে হলে ইসলামী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত জরুরি। তিনি মনে করেন, যদি দেশের সব স্তরে ইসলামী আইন চালু হয়, তবেই সকল ধর্মের মানুষ শান্তি ও সমৃদ্ধি পাবে। তিনি আর বলেন, ন্যায়নিষ্ঠা ও ইনসাফের ভিত্তিতে দেশ পরিচালিত হবে। চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, টেন্ডারবাজি ও দখলদারিত্বের মতো ঘৃণিত কর্ম ও অসাধুতা বন্ধ হয়ে যাবে। তিনি বলেন, ইসলামই একমাত্র সঠিক পন্থা যাতে সকল মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করা যায়। এজন্য তিনি সব ইসলামপন্থী আলেম-ওলামা ও ভীরু মুসল্লিসহ জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, আগামী নির্বাচনে সকল ইসলামপ্রর্থী প্রার্থীকে ভোট দিয়ে দেশের উন্নয়ন ও শান্তি আনতে হবে।

    বৃহস্পতিবার বিকেলে খুলনা-৫ আসনের আটরা-গিলাতলা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে মহিলা ভোটার সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ওয়ার্ড সভাপতি মোঃ শফিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মুন্সী মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি প্রিন্সিপাল গাওসুল আযম হাদী, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য এড. আবু ইউসুফ মোল্যা, এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এ ছাড়া, অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন খানজাহান আলী থানার আমীর ডাঃ সৈয়দ হাসান মাহমুদ টিটো, জামায়াত নেতা মোঃ সুলতান মাহমুদ, মোঃ মোশারফ হোসেন, নূর ইসলাম গাজী, মোঃ রানা আকুঞ্জীসহ অনেকেই।

    এর আগে সকালে সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার শিরোমণির ডাকাতিয়া গ্রামে গণসংবাদিক ও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস, খানজাহান আলী থানার আমীর ডাঃ সৈয়দ হাসান মাহমুদ টিটোসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরে রাতে সাজিয়াড়া শামসুল উলুম মাদরাসার ১০৫তম বার্ষিক মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন তিনি।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার জানিয়েছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট চাচ্ছেন। বলেছেন, “এবার সুযোগ এসেছে, দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিন। যেখানে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী রয়েছে সেখানে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থীকে, আর যেখানে ইসলামী জোটের প্রার্থী রয়েছে সেখানে জোটের প্রার্থীকে ভোট দিন।” তার এই আহ্বানে দেশের উন্নয়ন ও ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার জন্য সাধারণ মুসল্লি ও ভোটারদের আগ্রহ ও সমর্থন কামনা করেছেন।

  • তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষকে বিজয়ী করব: নজরুল ইসলাম মঞ্জু

    তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষকে বিজয়ী করব: নজরুল ইসলাম মঞ্জু

    বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে দেশের গণতন্ত্রের জন্য তিনি সুস্থ ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন। সাধারণত, তাঁর সুস্বাস্থ্য ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-২ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, “তারেক রহমান আমাদের জন্য দেশের গণতন্ত্রের আশার প্রতীক। আল্লাহ তাঁর দীর্ঘ জীবন ও সুস্থতা দান করুন। তাঁর নেতৃত্বে আমরা যেন সব ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারি, সেটাই আমাদের প্রার্থনা।” তিনি আরও বলেন, “আমরা দল হিসেবে একসঙ্গে কাজ করে ধানের শীষকে বিজয়ী করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করছি। তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী ঐক্য অটুট রেখে ভবিষ্যতে নির্বাচনে সব সময় জয়লাভের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ২টায় বেসিক ব্যাংক ও মেঘনা ব্যাংকের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে এক শুভেচ্ছা বিনিময়কালে এই কথা বলেন মঞ্জু। পাশাপাশি তিনি আসন্ন নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীদের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া চান। এরপর তিনি বলেন, “বিএনপি আগামী নির্বাচনের জন্য জনগণের কাছে নিজের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছে। বিগত অপসংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আমরা ইতিবাচক রাজনীতি চালুর পক্ষে। মানুষের পাশে দাঁড়ানো শুধু দলের দায়িত্ব নয়, এটি বিএনপি’র ঐতিহ্য। তারেক রহমানের দিক নির্দেশনায় এই মানবিক উদ্যোগগুলো দেশব্যাপী আরও বিস্তৃত হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।” সাক্ষাৎকালে আরও উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপু, নজরুল ইসলাম বাবু, আসাদুজ্জামান মুরাদ, ইকবাল হোসেন খোকন, আনোয়ার হোসেন, ইউসুফ হারুন মজনু, শামসুজ্জামান চঞ্চল, শেখ জামিরুল ইসলাম জামিল, রবিউল ইসলাম রবি, আনিসুর রহমান আরজু, মেহেদী হাসান সোহাগ, ইকবাল হোসেন, মিজানুজ্জামান তাজ, আলমগীর হোসেন আলম, মোস্তফা কামাল, মোস্তফা জামান মিন্টু, ওহেদুর রহমান বাবু, পারভেজ মোড়ল, নাদের উদ্দিন খান, রাজিবুল আলম বাপ্পি, সুলতান সালাউদ্দিন সুমن, সেলিম বড় মিয়া, শামীম রেজা, রাজু আহমেদ রাজ, আসমত হোসেন, জুয়েল রহমান, সজল আকন নাসিব, শাহনেওয়াজ, মামুনুর রহমান রাসেল, গিয়াসউদ্দিন, বাইজিদ হাসান, ওহেদুজ্জামান শিমুল, তামিম হাসান, শফিউদ্দিন আহমেদ, এএম মাহমুদ, ইনামুল কবির, আলমগীর হোসেনসহ থানা, ওয়ার্ড ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

  • মানুষের মুখে হাসি ফুটানোর স্বপ্ন দেখছেন তারেক রহমান, বাস্তবায়নে জনগণের পাশে থাকবেন বকুল

    মানুষের মুখে হাসি ফুটানোর স্বপ্ন দেখছেন তারেক রহমান, বাস্তবায়নে জনগণের পাশে থাকবেন বকুল

    বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, দেশের shining নেতা তারেক রহমানের ৬১তম জন্মদিন উপলক্ষে বিশেষ এক আয়োজনের আয়োজন করেছেন খুলনা-৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল। বৃহস্পতিবার খালিশপুর ৩নং ক্যাম্পে দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়, যা ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) খুলনার সহযোগিতায় আয়োজিত। এই ক্যাম্পে অসংখ্য অসুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষ চিকিৎসা, পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় ওষুধ গ্রহণের সুযোগ পান। ডা. সালেহ আহমেদ পলাশের সভাপতিত্বে, সঞ্চালনায় বেলাল হোসেন সুমন এবং ড্যাবের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা— ডাঃ আবুল কালাম আজাদ, ডাঃ আবু বকর, ডাঃ জুয়েল, ডাঃ জাকারিয়া, ডাঃ নিশান, ডাঃ হাসান ও ডাঃ প্রমিস— অবদান রাখেন। এসময় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নগর বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদী, খালিশপুর থানা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান বিশ্বাস, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি মাহমুদুল হাসান পলাশসহ দলের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ। বক্তৃতায় রকিবুল ইসলাম বকুল বিশ্বাস করেন, বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন। তিনি যোগ করেন, “মানুষের মুখে হাসি ফুটানোর যে স্বপ্ন তারেক রহমান দেখছেন, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমরা জনগণের সঙ্গে আছি এবং থাকবো।” ক্যাম্পে আসা রোগীদের উদ্দেশে বকুল ঘোষণা করেন, “যেসব ওষুধ তাৎক্ষণিকভাবে দেওয়া সম্ভব হয়নি বা যেসব টেস্টের প্রয়োজন, সবকিছুর দায়িত্ব আমাদের। প্রতিটি টেস্ট ও ঔষধ বিনামূল্যে সরবরাহ করা হবে।” তিনি আরও জানান, প্রতিটি ওয়ার্ডে ধারাবাহিকভাবে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প চালু করা হবে, এবং শীঘ্রই চক্ষু শিবিরও পুনরায় চালু করা হবে। শিক্ষার্থীদের ছাত্রদের উন্নতির কথা উল্লেখ করে বকুল বলেন, “পয়সার অভাবে কোনো ছেলে- মেয়ে যেন স্কুলে ভর্তি হতে না পারে বা বইয়ে অপ্রাপ্ত হয়, এটা আমরা হতে দেবে না।” মেডিকেল ক্যাম্প শেষে বকুল ৩নং ক্যাম্পের এলাকায় গণসংযোগ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মধ্যে খাদ্য বিতরণ করেন। অনুষ্ঠানে বলার সময় তিনি বলেন, তারেক রহমান বাংলাদেশকে নতুন ভাবে গড়ে তুলতে নিরলস পরিশ্রম করছেন, দেশের প্রতিটি মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে কাজ করছেন। তিনি বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা ও দীর্ঘায়ুতার জন্য দোয়া চান, এবং সকলের কাছে আশীষ পরিচালনা করেন। শেষে অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সহযোগিতায় কার্যক্রম শেষ হয়।

  • নির্বাচন ও নাগরিক প্রত্যাশা: শঙ্কা ও উপায়ে সমাধান

    নির্বাচন ও নাগরিক প্রত্যাশা: শঙ্কা ও উপায়ে সমাধান

    নির্বাচনের আয়োজন কেন্দ্র করে নাগরিকদের মধ্যে গভীর শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ও জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে দ্রুত ও যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ও নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। বৃহস্পতিবার খুলনায় নাগরিক প্ল্যাটফর্মের উদ্যোগে আয়োজিত প্রাক-নির্বাচনী আঞ্চলিক পরামর্শ সভার শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, আগামী নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য সাধারণ মানুষের মতামতের ভিত্তিতে নাগরিক ইশতেহার প্রস্তুত হচ্ছে। কিন্তু শুধু ইশতেহারে অংকিত উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নের জন্যও সকলকে নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। তিনি এ ব্যাপারে আরও বলেন, নাগরিকদের কণ্ঠস্বর উপেক্ষা করা হলে দেশ গণতান্ত্রিক ধারায় অগ্রসর হবে না। তাই সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও স্বচ্ছতা অপরিহার্য। চট্টগ্রামের বন্দর ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশ্নে ড. ভট্টাচার্য বলেন, দেশের অর্থনীতির বিকাশের জন্য এই বন্দর ব্যবস্থাপনায় উন্নয়ন জরুরি। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের মাধ্যমে এটি আরও সক্রিয় ও স্বচ্ছ করে তুলতে হবে। তবে সংস্কার যদি বেঠিক পদ্ধতিতে হয়, তাহলে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জিত হবে না। বন্দরের অস্বচ্ছতা ও ধীরগতির কারণে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ নেন এবং খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা তাঁদের প্রত্যাশাগুলো তুলে ধরেন। তারা কর্মসংস্থান, উপকূলীয় মানুষের সুবিধা, সুন্দরবন সংরক্ষণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের পাশাপাশি বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন। এ সমস্ত বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক নেতারা তাদের করণীয় নির্ধারণে মতবিনিময় করেন এবং সাধারণ মানুষের চাহিদা পূরণে আগামী সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করেন। এর আগে, বৃহস্পতিবার খুলনায় এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম ও বাংলাদেশ আয়োজিত আঞ্চলিক পরামর্শ সভায় ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, জনগণের আস্থা না থাকলে নির্বাচন প্রকৃত গণতান্ত্রিক রূপ পায় না। তাই স্বচ্ছতা, মুক্ত আলোচনা ও সততার ভিত্তিতে আস্থা ফিরিয়ে আনাই একমাত্র সমাধান। দেশ বর্তমানে নির্বাচনমুখী হলেও, কেমন নির্বাচন হবে এই প্রশ্ন এখনো উদঘাটিত হয়নি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আগামী নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত হবে সাধারণ মানুষের মতামতের ভিত্তিতে নাগরিক ইশতেহার প্রস্তুত করার ব্যাপারে মনোযোগী হওয়া। নাগরিকের কণ্ঠস্বর নেতাদের কাছে পৌঁছানো জরুরি, কারণ শুধু ইশতেহারে লেখা বা সংযুক্ত করলেই তা বাস্তবায়িত হয় না—সবারই নিজের স্বীয় দায়িত্ব পালন করতে হবে। সভায় বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নের সম্ভাবনা দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকলেও তার বাস্তবায়ন এখনও দৃশ্যমান নয়। পদ্মা সেতুর চালু হওয়ার পরও সেই প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না, জমির মূল্য বৃদ্ধি পেলেও কর্মসংস্থান বা শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি জোগানো এখনও ব্যর্থ। তিনি আরও বলেন, যারা এই অঞ্চল থেকে নির্বাচিত হবেন, তারা অবশ্যই আঞ্চলিক উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রতিশ্রুতি ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করবেন। ভোটাধিকার প্রয়োগের পরদিন থেকেই গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজ নিশ্চিত করবে তার যথাযথ বাস্তবায়ন। সভার সমাপনী বক্তব্যে সিপিডির ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান উল্লেখ করেন, জোট বা দল যা কিছু করুক না কেন, সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন না করলে নির্বাচন মানেই ন্যূনতম গণতন্ত্রের প্রতীক হয় না। অতএব, স্বচ্ছতা ও সততার সঙ্গে আস্থা ফিরিয়ে আনা আমাদের দেশের জন্য সময়ের দাবি। এ সম্মেলনে রাজনৈতিক নেতা, সচেতন নাগরিক, শিক্ষক, গবেষক, আইনি প্রতিনিধি, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন পেশাজীবী অংশগ্রহণ করেন। এখানে উল্লেখ্য, খুলনা ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের সাধারণ মানুষ প্রত্যাশা রাখেন উন্নত কর্মসংস্থান, উপকূলীয় এলাকার সুবিধার সম্প্রসারণ, সুন্দরবন সংরক্ষণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন এবং অন্যান্য মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য।